Thursday, March 30, 2017

কন্ঠরোধের প্রচেষ্টায় ফেসবুককে ব্যবহার করতে চাইছে বাংলাদেশ: এইচআরডব্লিউ




যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে বাংলাদেশে মত প্রকাশের অধিকারকে আরও খর্ব করার চেষ্টা জোরদার করেছে সরকার।
এমনকি সরকার ফেসবুককে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা করছে বলেও এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।
মীনাক্ষী গাঙ্গুলির নামে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয় ,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার করে সহিংসতাকে উস্কে দেয়ার বিষয়টি মোকাবেলা করা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ কিন্তু প্রায়শই শৃঙ্খলা রক্ষার চেয়ে সমালোচনা বন্ধ করাই হয় রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
এতে বলা হয় যখন ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা অনেকেই খুন হয়েছেন। কিন্তু মত প্রকাশের অধিকার সুরক্ষার বদলে সরকারের পক্ষ থেকে বরং সতর্ক করে বলা হয়েছে ধর্মীয় অনুভূতিতে যেনো আঘাত না দেয়া হয়।
এমনকি সরকার প্রায়ই প্রিন্ট ও ডিজিটাল মিডিয়াও উপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে বলেও অভিযোগ করা হয় ওই বিবৃতিতে।
ফেসবুকে 'মজা লস' নামক একটি ব্যঙ্গাত্মক পেজ -এর পরিচালকের বিরুদ্ধে সরকার বিরোধী পোস্ট দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। আবার গত বছর সেপ্টেম্বরে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে 'অবমাননাকর' মন্তব্যের অভিযোগ আনা হয়েছে দিলীপ রায় নামে একজন ছাত্রের বিরুদ্ধে।
এখন বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ফেসবুককেই সরাসরি সেন্সরশিপ আরোপের ভূমিকায় নিতে চাইছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বাংলাদেশের জন্য ফেসবুককে আলাদা নিয়মাবলী নির্ধারণের প্রস্তাবের কথা বলেছেন, যা তার মতে দেশের সংস্কৃতি, প্রথা, ইতিহাসকে সুরক্ষা দেবে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়াকে নিয়ন্ত্রণ করবে।
ফেসবুক ২০১৩ সাল থেকেই কিছু কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশে ফেসবুক কিছুদিন বন্ধও রাখা হয়েছে। সরকারী কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা হয়েছে ফেসবুক কর্মকর্তাদের।
ফেসবুক কিছু ব্যক্তির সম্পর্কে তথ্যও সরবরাহ করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশের প্রসঙ্গে বললেও তাদের বিবৃতিতে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরা হয়েছে। যদিও বাংলাদেশের সাথে সে উদ্ধৃতির সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই। মি: জাকারবার্গের যে উক্তিটি হিউম্যান নাইটস ওয়াচ ব্যবহার করেছে সেটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সরকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে।
এতে মিস্টার জাকারবার্গ বলেন, "অপ্রয়োজনীয় ও অতিমাত্রায় সরকারী হস্তক্ষেপ থেকে আমাদের কমিউনিটিকে সুরক্ষা দিতে আমরা লড়াই করছি"
মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে প্রস্তাবিত নির্দেশনাগুলো আইন বহির্ভূত হতে পারে এবং অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে যা ফেসবুককে যারা মত প্রকাশের প্লাটফরম হিসেবে ব্যবহার করে তাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
"এখন এটি ফেসবুকের উপর নির্ভর করবে যে তারা সরকারের প্রস্তাবনাগুলো প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য লড়াই করবে কি-না"।
সুত্রঃ বিবিসি বাংলা

ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া শুরু, প্রতিক্রিয়া জানালো ইইউ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার দেন-দরবার এবং ইইউ-র বাইরে ব্রিটেনের অবস্থান নিয়ে আলোচনা একইসাথে চালানোর যে পরিকল্পনা ব্রিটেন নিয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইইউ। ইইউ থেকে বেড়িয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরুর দিনেই ব্রিটেনকে একতরফা কোন উদ্যোগ না নেয়ার জন্য সতর্ক করে দিয়েছেন ইউরোপিয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও তাজানি। দুই বছরের মধ্যে এ জোট ছেড়ে যাওয়ার আগে এ ধরনের কোন উদ্যোগ ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনের পরিপন্থী হবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়া ওলাদ বলেছেন, ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাওয়ার কারণে দেশটিকে কোন শাস্তি দেয়ার ইচ্ছা থাকা উচিত নয়। তবে এটি যুক্তরাজ্যকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া শুরুর জন্য ৫০ নং অনুচ্ছেদ কার্যকরের চিঠির প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যা ক্লড ইয়ুঙ্কার দু:খ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলছিলেন, এপ্রিলের শেষ নাগাদ এই চিঠির প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হবে। ২৯ এপ্রিল তাদের একটি কাউন্সিল বসার কথা রয়েছে।
তার আগে তিনি নিশ্চুপ থাকারই চেষ্টা করবেন। তার কাছে ব্যক্তিগত মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি দু:খ প্রকাশ করেন। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গি ভেহোস্টাট বলেছেন, ব্রিটেনে বসবাসকারী ত্রিশ লাখ ইউরোপিয় ইউনিয়নের নাগরিক এবং ব্রিটেনের বাইরে ইউনিয়নের অন্যত্র বসবাসকারী দশ লাখ ব্রিটিশ নাগরিকদের রক্ষায় একটি চুক্তি চান তিনি। এ বছরের শেষ নাগাদই এই চুক্তিটি সম্পন্নের প্রত্যাশা জানিয়েছেন তিনি। এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে, বিবিসির সাথে এক সাক্ষাতকারে জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইইউ ছাড়ার পরও সেখানকার বাণিজ্যিক সুবিধা ধরে রাখতে পারবে ব্রিটেন। মে বলেছেন, তিনি একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি চান যা ইউরোপের একক বাজারে ব্রিটেনকে স্বাধীনভাবে বাণিজ্য করার সুযোগ করে দেবে। ব্রেক্সিটের কথা উল্লেখ করে ইউরোপিয় ইউনিয়নের কাছে পাঠানো চিঠিতে তিনি ইউরোপীয় মূল্যবোধের প্রশংসা করে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের উপর জোড় দেন।

আফগানিস্তানে বিশেষ অভিযানে ২৭ উগ্রবাদী নিহত

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় নানগড়হড় প্রদেশে দেশটির সামরিক বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে ২৭ জন তালেবান সদস্য নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেনারেল দৌলত ওয়াজিরি টুইটারে এক বার্তায় বলেন, বুধবার রাতে খগিয়ানি জেলার পিরাখিলো এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। সেখানে অভিযান চলাকালে বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা সন্দেহভাজন আরো সাতজনকে গ্রেফতার করে।
তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে তালেবানের স্থানীয় আরো চার কমান্ডারের সাথে মোল্লা জাকির নামের স্থানীয় এক নেতা রয়েছেন। তিনি আরো জানান, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের ১২০ কিলোমিটার পূর্বের এ প্রদেশ থেকে সৈন্যরা বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে।  উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে।

কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে দুইজনের প্রাণহানি

ভারতের কলকাতার দক্ষিণাঞ্চলে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির পুলিশ একথা জানায়। অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর আহত অবস্থায় অনুপ আগারওয়াল ও যুগলকিশোর গুপ্তা নামের ওই দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু তাদের বাঁচানো যায়নি।
সিনিয়র এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয় সময় ভোররাত তিনটার দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। এই ঘটনায় হোটেলের স্টাফসহ ৩০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে দমকল কর্মীরা ছুটে এসে তিন ঘন্টা প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। হোটেলটির নিচতলার রান্নাঘর থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘নতুন সম্পর্ক’ স্থাপনে চেষ্টা মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এররিক পেনা নিয়েতো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘একটি নতুন সম্পর্ক’ স্থাপনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বুধবার তিনি একথা বলেন। মেক্সিকো তার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ী অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে যে কয়েকটি ‘কঠিন চ্যালেঞ্জের’ মুখোমুখি হচ্ছে সে ব্যাপারে সমর্থন দেয়ার জন্য তিনি ল্যাটিন আমেরিকার প্রতিবেশী দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান। কোস্টারিকার রাজধানী সান জোসেতে এক দিনব্যাপী সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
সম্মেলনে মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা ও কলম্বিয়ার নেতৃবৃন্দ যোগ দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মধ্যে সম্পাদিত নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (নাফটা) চুক্তি নিয়ে পুনরায় আলোচনার অঙ্গীকার করেছেন। এছাড়া ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী নীতি ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি মার্কিন- মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন এবং এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। পেনা নিয়েতো ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে একটি নতুন সম্পর্কে গড়ে তোলার মতো কঠিন মুহূর্তে মেক্সিকোর পাশে দাড়িয়ে দেশটির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ ও আস্থা রাখার জন্য’ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান। মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কি ধরনের সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে সে ব্যাপারে পেনা নিয়েতো কিছু বলেননি। তবে কয়েক বছরের মধ্যে প্রতিবেশী দেশদুটি’র মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে।

ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনা : ৮ বগি লাইনচ্যুত, আহত ৬

ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তর প্রদেশে বৃহস্পতিবার একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের অন্তত আটটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ছয় যাত্রী আহত হয়েছে। রেল কর্মকর্তারা একথা জানান। উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনৌ থেকে প্রায় ২৫৪ কিলোমিটার দক্ষিণে মাহোবা জেলার কাছে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়।
রেলওয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আজ মাঝরাতের পর ঝাঁসি-মাহোবা স্টেশনের কাছে জাবালপুর-নিজামুদ্দিন মহাকুশাল এক্সপ্রেস ট্রেনটির আটটি বগি লাইনচ্যুত হয়।’ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযানে অংশ নিতে ভারতের জাতীয় দুর্যোগ প্রতিরোধ বাহিনী’র দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।

নিখোঁজ যুবকের লাশ সাপের পেট থেকে উদ্ধার

একটি অজগর সাপের পেটের ভেতর থেকে ইন্দোনেশিয়ার নিখোঁজ এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পাম তেলের বাগানে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে গত রোববার নিখোঁজ হয়েছিলেন ২৫ বছর বয়সী যুবক আকবর। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার একটি বিশাল পাইথনের পেট কেটে তার লাশ বের করা হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম সুলাওয়েসি প্রদেশ পুলিশের মুখপাত্র মাশুরা জানিয়েছেন, গ্রামবাসী পুলিশকে জানায়, আকবর ২৪ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ রয়েছে। এরপর পুলিশ তল্লাশি অভিযান চালিয়ে আকবরের বাড়ির কাছের পাম তেলের বাগানের কাছে প্রায় ৭ মিটার লম্বা একটি পাইথনের সন্ধান পায়। আকবরকে গিলে খাওয়ার পর অজগরটির পক্ষে আর নড়াচড়া করা সম্ভব হচ্ছিল না বলে সে এটি নালার মধ্যে পড়ে ছিল। কিন্তু তার পেট অস্বাভাবিক মোটা দেখে পুলিশের সন্দেহ হয় যে, এর মধ্যে আকবরের লাশ থাকতে পারে। এ অবস্থায় গ্রামবাসী সাপটির পেট কেটে ফেললে আকবরের লাশ বেরিয়ে আসে। গ্রাম প্রধান সালুবিরো জুনাইদি জানান, আগের রাতে পাম তেলের বাগান থেকে কারো কান্নার শব্দ শুনতে পেয়েছে গ্রামবাসী। পৃথিবীর যেসব লম্বা সরীসৃপ অন্য প্রাণীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর আস্ত গিলে খায় সেগুলোর মধ্যে পাইথন অন্যতম। যদিও এদের মানুষ খাওয়ার দৃষ্টান্ত বিরল, তবুও কখনো কখনো এদের শিশু বা কিশোরদের গিলে খাওয়ার নজীর রয়েছে।

বিনা বেতনে ট্রাম্পের উপদেষ্টা হচ্ছেন ইভাঙ্কা ট্রাম্প

ইভাঙ্কা ট্রাম্প তার বাবা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। তবে এ জন্যে তিনি কোনো বেতন নেবেন না। বুধবার হোয়াইট হাউজ একথা জানায়। ইভাঙ্কার স্বামী জারেড কুশনারও প্রেসিডেন্টের সিনিয়র সহকারি হিসেবে কাজ করছেন। রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কুশনারও কোন বেতন-ভাতা নিচ্ছেন না।
হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইভাঙ্কা ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের প্রথম কন্যা হিসেবে বাবাকে সহযোগিতার জন্যে নজিরবিহীন এ দায়িত্ব নিতে সম্মত হওয়ায় আমরা আনন্দিত।’ উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে নিয়মিতভাবে হোয়াইট হাউজে উপস্থিত থাকতে দেখা যাচ্ছে। সেখানে তিনি ইতোমধ্যে একটি অফিসও নিয়েছেন।

বাগদাদে গাড়ি বোমা হামলায় হতাহত অর্ধশত

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে পুলিশের চেকপয়েন্টে আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির কর্মকর্তারা একথা জানিয়েছেন। রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলে পুলিশের ওই চেকপয়েন্টে এই হামলা চালানো হয়। হামলাকারী বিস্ফোরকভর্তি একটি ট্যাঙ্কারের বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ৪০ জনের বেশি লোক আহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোন গোষ্ঠী বা সংগঠন এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি।
যদিও সাম্প্রতিক সময়ে আইএস ইরাকে এ ধরনের হামলা চালিয়ে আসছে। আইএসের কবল থেকে মসুল নগরী পুনরুদ্ধারে ইরাকি বাহিনীর বড় ধরনের অভিযানের মধ্যেই বুধবারের হামলাটি চালানো হল। ইরাকে এটাই আইএসের সর্বশেষ অধিকৃত এলাকা। এদিকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর বিমান হামলার সহায়তায় ইরাকি বাহিনী উত্তরাঞ্চলীয় এই নগরী ও এর আশপাশের এলাকার একটি বড় অংশ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

সৌদি আরবে ড্রোন তৈরির কারখানা করবে চীন

সৌদি আরবে ড্রোন তৈরির কারখানা নির্মাণ করবে চীন- এমন খবর দিয়েছে প্রতিরক্ষা বিষয়ক ওয়েব সাইট ডিফেন্স নিউজ। সৌদি রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজের দেশটি সফরের পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ জন্য চায়না অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বা সিএএসসি সঙ্গে চুক্তি করেছে সৌদি আরবের কিং আবদুল আজিজ সিটি ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। বেইজিং সফরকালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং সৌদি রাজা ৬৫০০ কোটি ডলারের চুক্তি সই করেছেন। তার অংশ হিসেবে এটি তৈরি করা হবে।
চীনের সিএইচ-৪ ইউএভি ড্রোন তৈরি করে সিএএসসি। একে মার্কিন প্রিডেটর ড্রোনের সমতুল্য বলা হয়। এরই মধ্যে সিএইচ-৪ ড্রোন ব্যবহার করছে সৌদি আরব। কিন্তু এখন এ ড্রোনের বিশাল বহর তৈরি করতে চাইছে দেশটি। এ ছাড়া, আরবীয় অনেক দেশকে ড্রোন সরবরাহ এবং ড্রোন মেরামত করতে চাইছে সৌদি আরব। এআর-৪ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম সিএইচ-৪। এ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সেনা, ট্যাংক এবং ছোট নৌকার ওপর আক্রমণ করা যায়। বর্তমানে চীনের বাইরে পাকিস্তান এবং মিয়ানমারের এ ড্রোনের কারখানা আছে।

মেক্সিকোর খাদ থেকে ১০টি লাশ উদ্ধার

মেক্সিকোর পশ্চিমাঞ্চলের একটি খাদে বুধবার কমপক্ষে ১০টি লাশ পাওয়া গেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ একথা জানিয়েছে। কোলিমার গভর্নর জোস ইগনাসিও পেরালতা বলেন, জালিস্কো ও কোলিমা রাজ্যের সীমান্তবর্তী স্থানে কুয়েসেরিয়া শহরের কাছে গভীর একটি খাদের নিচে লাশগুলো পাওয়া গেছে।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কয়েকটি লাশ ইতোমধ্যেই পচে গেছে। কোন কোনটি কঙ্কালে পরিণত হয়েছে।’ গভর্নর আরো বলেন, ‘এ ব্যাপারে একটি তদন্ত চলছে। এ পর্যন্ত আমরা ১০টি লাশ পেয়েছি। তবে এটি প্রাথমিক খবর।’ ওই এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বি মাদক চক্রগুলোর মধ্যে প্রায়ই খুনের ঘটনা ঘটে।

গোবিন্দপুরে জাল ভোট : ইসিসহ সবাইকে জানিয়েও সহায়তা পাননি প্রিসাইডিং অফিসার

প্রশাসনের সহায়তায় প্রকাশ্যে জালভোট দেয়া হয় গোবিন্দপর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। দুপুর ১২ টা ৩৫ মিনিটে সবগুলো বুথে জোর করে ব্যালট বই চিনিয়ে নিয়ে সীলমারতে থাকে আওয়ামী প্রার্থীর সমর্থকরা। প্রিসাইডিং অফিসার (পিও) বিষয়টি ইসিসহ রাব, পুলিশ, বিজিবি ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়ে কোনো সহায়তা পান নি বলে অভিযোগ করেছেন। দেড়টার মধ্যে ৭০ শতাংশ ভোট হয়েছে। এখন বই দিলে ওভার কাস্টিং হবে বলে জানান পিও দিদারুল ইসলাম ও সহকারী পিও কাজী সেলিম জাহাঙ্গীর। পিওকে জাল ভোটের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ঘটনা সত্য। তিনি বলেন, আমার ৫টি বুথের মধ্যে সবগুণোতেই জোর করে জাল ভোট দেয়া হয়। ১২টা ৩৫ মিনিটে প্রথমে দ্বিতীয় তলায় বুথে প্রবেশ করে জোর করে বই নিয়ে যায়। তাদের সাথে আমার অফিসারের ধাস্তাধস্তি হয়।
গড়ে ৭০ থেকে ৮০টি করে জালভোট দেয়া হয়। তিনি জানান, ১২টা ৩৭ মিনিটে ইসিকে তিনি ম্যাসেজ দিয়ে বলেন হেলপ মি স্যার। তিনি আরো জানান, রাব, পুলিশ, বিজিবি ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে আমি ফোন ও ম্যাসেজ দায়ে সাহায্য চাই। কিন্তু তারা কোনো সাড়া দেন নি। র‌্যাব আসে ২ টার পর। যথন জালভোট দিয়ে তারা চলে যায়। পুলিশ দাঁড়িয়ে ছিল। ২ হাজার ২০টা ভোটের ৭০ শতাংশই দেড়টার মধ্যে শেষ। আর সহকারী পিও কাজী সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, ভোটার সেজে প্রবেশ করে আমার কাছে থেকে বই নিয়ে সীল মারতে থাকে। আমার সাথে ধাক্কাধাক্কি হয়। তারা তার ৪ নং বুথে ৮০টির মতোন ভোট দেয়। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও ভোটার না এমনদের দিয়ে এই সীল মারা হচ্ছে সরকারী দলের প্রার্থীর পক্ষে।

বাগেরহাটে ট্রলারডুবি : আরো ৭ লাশ উদ্ধার

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের পানগুছি নদীতে খেয়া পারাপারের ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ডুবির ঘটনার তৃতীয় দিনে আরো ৭ জনের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-বাহিনীর ডুবরি দল। উদ্ধুরকৃত লাশ গুলোর মধ্যে ৪ জন পুরুষ, ১ জন নারী ও ১ শিশু রয়েছে। বৃহষ্পতিবার বেলা ৭ টা থেকে সকাল সাড়ে ৮ টার মধ্যে এই লাশগুলো উদ্ধার করে। নৌবাহিনী, কোষ্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা এখনও চালিয়ে যাচ্ছে। বুধবার সকাল থেকে ঘটনাস্থলের পানগুছি নদীর দুই দিকে ১০ কিঃ মিঃ ব্যাপী ডুবুরিরা সার্চ শুরু করে। মঙ্গলবার ৪ নারীর লাশ ও বুধবার ১ নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। সব মিলে এখন পর্যন্ত ১২ জনের লাশ উদ্ধার করা হলো।
মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল আলম জানান, থানায় বিভিন্ন সময়ে প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানাগেছে। এরমধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৫ জন শিশু ও বাকীরা মহিলা। নিখোঁজদের এই ১৭ তালিকার মধ্য থেকে এখন পর্যন্ত ৬ টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। বাকী ১১ জনের এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে পানগুছি নদীতে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারনে খেয়া পারাপারের ট্রলার ডুবে গেলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

ঝিনাইদহে ছেলের হাতে বাবা খুন

পারিবারিক কলহের জের ধরে ঝিনাইদহে ছেলের হাতে খুন হয়েছেন এক বাবা। আজ বৃহস্পতিবার ভোররাতে সদর উপজেলার গাগান্না গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ জানায়, রাতে ওই গ্রামের বিশারত আলী মোল্লার কাছে তার থেকে ছেলে আলাউদ্দীন আলা টাকা দাবি করে।
পিতা টাকা না দিলে তার সাথে তার ছেলের বাক-বিতন্ডা হয়। খাওয়া-দাওয়া শেষে রাতে ঘরের বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিল পিতা বিশারত আলী। ভোররাতে ছেলে আলা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নাসিরপুরে ফের অভিযানে থেমে থেমে গুলি-বিস্ফোরণের শব্দ

মৌলভীবাজারের নাসিরপুরে উগ্রবাদী আস্তানায় আজ বৃহস্পতিবার ফের অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের পর থেকে থেমে থেমে গুলির শব্দের পাশাপাশি একবার বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সকালে আবহাওয়ার বৈরী ভাব প্রশমিত হলে নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানায় ফের অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নেয়া হয়। অভিযান শুরুর পর বেলা ১১টা ৫১ মিনিটে থেকে দুটি গুলির শব্দ শোনা যায়। দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে একটা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ হয়। বেলা ১টা ৩ মিনিট থেকে ১টা ৮ মিনিট পর্যন্ত আবার টানা গুলির শব্দ শোনা যায়।
এদিকে আস্তানার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে আসা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেছেন, অনুমানের উপর ভিত্তি করে উগ্রবাদী কে আছে বা কতকজন আছেন তা বলা যাচ্ছে না। এ সময় বড়হাটের জঙ্গি আস্তানার চারপাশ ঘুরে দেখেন মনিরুল। পাশাপাশি সন্ধ্যা থেকে সেখানে অবস্থানরত ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। মনিরুল সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা অবগত আছেন, একই সঙ্গে দুটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চলছে। একটি আস্তানায় গতকাল অভিযান শুরু হয়েছে। সেখানে অভিযান অব্যাহত আছে। সকালে আজ আমরা অভিযান আবার শুরু করতে পারিনি  বৃষ্টির কারণে। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর সেখানে এখন আবার অভিযান চলছে। ওটা (নাসিরপুর) শেষ করেই আমরা এটা (বড়হাট) শুরু করবো। সে পর্যন্ত আপনাদের অপেক্ষা করতে হবে।

১০ বোমা উদ্ধার : বুথে ভোটারের ব্যালট কেড়ে এজেন্টদের নৌকায় সিল

বুথে ভোটারের ব্যালট কেড়ে এজেন্টদের নৌকায় সিল মারছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন নারী ভোটার। ধনাইতরি সরকারি প্রথমিক বিদ্যায় কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তারা এ অভিযোগ করেন।  ভোটার আঙ্গুরুন নেছা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানান, কেন্দ্রের মহিলা বুথে তারা ভোট দিতে ব্যালট নিয়ে প্রবেশ করেন। কিন্তু বুথে থাকা আওয়ামীলীগ প্রার্থীর এজেন্ট আসাদুজ্জামান তাদেরকে ভয় দেখিয়ে তাদের ব্যালট কেড়ে নিয়ে তিনি নৌকা প্রতিকে সিল দিয়ে তা বাক্সে ছেড়ে দেন।
এসময় তারা প্রতিবাদ করলে তাদের বের করে দেয়া হয়।  এমন অভিযোগে ম্যাজিস্ট্রেট আবদুররুফ তালুকদার অভিযুক্ত এজেন্টের কাছে গিয়ে তার সত্যতা জানতে চাইলে এজেন্ট আসাদুজ্জামান তার সত্যতা স্বিকার করেন। পরে ম্যাজিষ্ট্রেট তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দেন।  এদিকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ২৬ নাম্বার ওয়ার্ড বল্লভপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে ১০টি বোমা উদ্ধার করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

সাক্কুর যত অভিযোগ

কেন্দ্রগুলোর সামনে অনেক বহিরাগত, এজেন্টদের বের করে দেওয়া, জাল ভোট ও ভোট গ্রহণে ধীরগতিসহ নানা অভিযোগ করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু।  বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে হোচ্ছামিয়া হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর মনিরুল হক সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন।তিনি জানান, সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে অনেক বহিরাগত রয়েছেন। তাঁরা কেউ এলাকার ভোটার নন। সাক্কুর অভিযোগ, ধনাইছরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শালবন বিহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জাঙ্গালিয়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিদ্যালয় কেন্দ্রে বহিরাগতরা ঢুকে জাল ভোট দিচ্ছেন।
রামকৃষ্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে জোর করে তাঁর এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। মনিরুল হক অভিযোগ করেন, কুমিল্লা সরকারি সিটি কলেজ কেন্দ্রের ভেতরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বসে আছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটাররা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু ধীরগতিতে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে।

নৌকায় সিল, বিস্ফোরণ ও মারধর : এক কেন্দ্রে ভোট স্থগিত

১৫ থেকে ২০ জন কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীকে মারধর, নৌকা প্রতীকে সিল, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর পর কুমিল্লা সরকারি সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে দেখা যায়, ভোট চলাকালে ওই কেন্দ্রের বাইরে তিনটি ককটেল ছোড়া হয়। একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বাকি দুটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় রয়েছে।
এ সময় ১৫ থেকে ২০ জন কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে ব্যালট পেপারে নৌকা প্রতীকে সিল মারা শুরু করে। ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী কাজী মাহবুবুর রহমান ও তাঁর এজেন্ট মো. ফরহাদকে মারধর করা হয়। সেখানে ব্যালট পেপার ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে সে সেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফরিদ আহম্মেদ জানান, পরিস্থিতির কারণে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এসময় র‍্যাব ১১ কুমিল্লার কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মোস্তাফা কায়জার বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের কারণে জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

মৌলভীবাজারে উগ্রবাদী আস্তানায় আবার অভিযান শুরু

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বন্ধ থাকার পর মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ফতেহপুরে জঙ্গি আস্তানায় আবার অভিযান শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সোয়াট সদস্যরা অভিযান শুরু করেন। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় দুটি আস্তানার মধ্যে ফতেহপুরে ‘অপারেশন হিট ব্যাক’ নামে সোয়াটের এই অভিযান শুরু হয়। রাতে অভিযান বন্ধ করে দিয়ে আজ ভোর থেকে শুরু করার কথা ছিল।
কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তা শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টা থেকে। তবে আভিযান শুরুর আগে সকাল সাড়ে ৭টায় সোয়াটের একটি দল ফতেহপুরের আস্তানায় পৌঁছায়। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সেখানে অভিযান শুরু করতে না পারায় তারা চলে আসে শহরের বড়হাট এলাকার অপর জঙ্গি আস্তানায়। পরে সকাল ৮টার দিকে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ফতেহপুরের জঙ্গি আস্তানার বাড়িতে পৌঁছায়। তারা বাড়ির উঠানে অবস্থান নেয়। এদিকে শহরের বড়হাট এলাকায় সন্দেহজনক জঙ্গি আস্তানাটি ঘেরাও করে রেখেছে পুলিশ। সকালে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে। এ এলাকা দিয়ে কাউকে যাতায়াত করতে দেওয়া হচ্ছে না।

বেড়ায় বোমা মেশিন দিয়ে যমুনা থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত

বালুদস্যুরা বেড়ার মোহনগঞ্জ থেকে ঢালারচর পর্যন্ত যমুনা নদীর ৩০ কিলোমিটার এলাকাব্যাপী দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা নদীর বিভিন্ন পেয়েন্টে শতাধিক বোমামেশিনের সাহায্যে প্রতিদিন লক্ষাধিক ঘনফুট বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। যমুনা নদী পাড়ের বিভিন্ন পয়েন্টে বালু বেচা-কেনার হাট বসেছে। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বালু কেনা-বেচা হচ্ছে। প্রশাসন চিহিৃত বালুদস্যুদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। অবৈধ বালু উত্তোলন ঠেকাতে এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচী ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। প্রশাসনের কাছে বার বার লিখিত আবেদন দিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য দুই-একবার লোক দেখানো নামমাত্র অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের আগেই বালুদস্যুরা খবর পেয়ে যায়। বন্ধ হয়নি বালু উত্তোলন। উপজেলার মোহনগঞ্জ থেকে ঢালারচর পর্যন্ত যমুনা নদীর প্রায় ৩০ কিলোমিটার অংশ জুড়েই রয়েছে বালু উত্তোলনকারীদের একচ্ছত্র আধিপত্য। ওই এলাকাজুড়ে প্রতিদিন দেড় শতাধিক বোমামেশিনের সাহায্যে নদীর তলদেশের ২০-৬০ ফুট গভীর থেকে বালু উত্তোলন করে নৌকায় পাড়ে আনা হচ্ছে। কোথাও কোথাও আবার নদী থেকে মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করে পাইপের মাধ্যমে সরাসরি নদী পাড়ে এনে রাখা হচ্ছে। নদী পাড়ের কাজিরহাট, নটাখোলা, হরিরামপুর, বেড়া ডাকবাংলা ও বৃশালিখায় বালু বেচা-কেনার হাট বসেছে। সেখান থেকে শত শত ট্রাক বালু জেলার বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে।
প্রতিদিন লক্ষাধিক ঘন ফুট বালু বিক্রি করে সংশ্লিষ্টরা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। সরেজমিনে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি বালু উত্তোলন করা হচ্ছে নগরবাড়ী ঘাটের পার্শ্ববর্তী যমুনা নদী থেকে। সেখানে অর্ধশতাধিক বোমামেশিনে মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে বড় বড় নৌকা অথবা কার্গো বোঝাই করে নগরবাড়ী ঘাটে নিয়ে আসা হয়। এর পর সেখান থেকে দীর্ঘ পাইপের মাধ্যমে উত্তোলিত বালু এনে রাখা হয় নগরবাড়ী ঘাটের পাশে খোলা জায়গায়। সেখান থেকে ট্রাক বোঝাই করে বালু পাঠানো হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। বালু উত্তোলনে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উত্তোলিত বালুর বেশির ভাগই চলে যাচ্ছে ঈশ্বরদী-ঢালাচর রেলপথ নির্মাণের কাজে। প্রতিট্রাক বালু বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা দরে। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ ট্রাক বালু বিক্রি করা হচ্ছে। বালু বিক্রির টাকা রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ভাগ হয়ে থাকে। এ জন্যই প্রশাসনের পক্ষ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। নগরবাড়ী ঘাট নলখোলা বণিক সমিতির সাধারন সম্পাদক ও পুরাণভারেঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান এ এম রফিকউল্লাহর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। রফিকউল্লাহ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বালু উত্তোলনের ফলে নগড়বাড়ী ঘাট মারাত্মক হুমকীর মুখে পড়েছে। তবে ঈশ্বরদী-ঢালারচর নতুন রেলপথ নির্মাণে প্রচুর বালুর প্রয়োজন হচ্ছে। যেহেতু বেড়া অংশে যমুনা নদীতে বালু মহল নেই, সে জন্য প্রশাসনের উচিত নদী সার্ভে করে নিরাপদ স্থান থেকে বালু উত্তোলনের আদেশ দেয়া। এতে সরকারের বিপুল পরিমান রাজস্ব আয় হবে বলে তিনি জানান। বেড়ার মোহনগঞ্জ থেকে রাকশা পর্যন্ত বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত শরীফুল ইসলাম বলেন, বালু উত্তোলনের ফলে কোন ক্ষতি হচ্ছে না। বরং এতে নদীর নাব্যতা বজায় থাকছে।
একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদীত হয়ে বালু উত্তোলনের ব্যপারে অপবাদ দিচ্ছে। বালুকাটা প্রতিরোধ কমিটি ও নাকালিয়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, বালুদস্যুদের কারণে ইতিমধ্যে সাত-আট শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের হুমকীর মুখে রয়েছে নাকালিয়া বাজারসহ ১২টি গ্রাম। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসকের অফিস পর্যন্ত বালু উত্তোলন বন্ধের আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ এ প্রতিনিধিকে বলেন, যমুনা নদী ভাঙন প্রতিরক্ষ বাঁধের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীর যে কোনো পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন প্রতিরক্ষা বাঁধের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। নদীর যে স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হয় তার চার পাশের এলাকা ধসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে জন্য প্রশাসনকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই সম্ভাব্য ক্ষয়-ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে তিনি জানান। বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামসুন নাহার সুমি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আবার যদি বালু উত্তোলন শুরু হয়ে থাকে তবে দ্রুততম সময়ে তা বন্ধ হবে।

আত্রাইয়ে পাথরের মূর্তি উদ্ধার

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রাম থেকে পাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। পুলিশ জানাযায়, গত মঙ্গলবার উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামের ময়েজ উদ্দিনের পুত্র ময়েন উদ্দিনের জমিতে পুকুর খননের কাজ করছিলেন। পুকুর খননের একপর্যায়ে শ্রমিকেরা মূর্তিটি দেখতে পান। পরে আশপাশের লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মূর্তিটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
মূর্তিটির ওজন ৬৫ কেজি ৫০০ গ্রাম । এলাকাবাসীর ধারণা মূর্তিটি হাজার হাজার বছরের পুরাতন ও কষ্টি পাথরের। আত্রাই থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদরুদ্দোজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রতœতাত্ত্বিক বিভাগে পাঠাব, তারা পরীক্ষা করলে জানা যাবে মূতির্টি কষ্টি পাথরের না কিসের তৈরি।

শারমিনের হাতে সাহসিকতার পুরস্কার তুলে দিলেন মেলানিয়া ট্রাম্প

বাংলাদেশের ঝালকাঠির মেয়ে শারমিন আক্তারের হাতে সাহসিকতার পুরস্কার ‘ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। বুধবার ওয়াশিংটনের ডিন এচেসন মিলনায়তনে মেলানিয়া ট্রাম্প শারমিনের হাতে এ পদক তুলে দেন বলে যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দফতরের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে। নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছেন শারমিন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি থমাস শ্যাননের উপস্থাপনায় ওই অনুষ্ঠানে শারমিনের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আরও ১২ জন নারীকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। এর আগে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাত্র ১৫ বছর বয়সে জোরপূর্বক বিয়ে ঠেকিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার কিশোরীদের জন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করায় এই বছর শারমিন আক্তারকে ‘সাহসী নারী’ পুরস্কার দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের অগাস্টের ওই ঘটনায় শারমিন তার মা এবং ৩২ বছর বয়সী ‘হবু স্বামী’ প্রতিবেশী স্বপন খলিফার বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন। শারমিনের মা গোলনূর মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েও রাজি করাতে পারেনি বলে গণমাধ্যমের খবর। এরপর মিথ্যা কথা বলে খুলনায় নিয়ে গিয়ে স্বপনের সঙ্গে মেয়েকে একঘরে আটকে রাখারও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। পরদিন সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে গেলেও ধরা পড়ে যান শারমিন।
এরপর তাকে ঝালকাঠিতে নিজের বাড়িতে আটকে রাখা হয়। ১৬ অগাস্ট শারমিন ফের বাড়ি থেকে পালিয়ে এক সহপাঠীকে নিয়ে থানায় গিয়ে মামলা করেন। পুলিশ গোলনূর ও স্বপনকে গ্রেফতার করার পর আদালত শারমিনকে দাদির জিম্মায় দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সাহসিকতার জন্য প্রশংসিত শারমিন বর্তমানে রাজাপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী এবং সমাজের ক্ষতিকর প্রথা বাল্যবিবাহ ও জোরপূর্বক বিয়ের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে তিনি ভবিষ্যতে একজন আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। বিশ্বব্যাপী শান্তি, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, লৈঙ্গিক সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নের পক্ষে জোরালো ভূমিকা ও সাহসী পদক্ষেপের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৭ সাল থেকে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর। বিশ্বের ৬০টি দেশে সমাজ বদলে সাহসী ভূমিকা রাখছেন এমন শতাধিক নারীকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। শারমিনের সঙ্গে আরও যাদের সাহসিকতার স্বীকৃতির পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন- বতসোয়ানার মালেবোগো মালেফে, কলম্বিয়ার নাতালিয়া পনসে দো লিয়ো, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রেবেকা কাবুঘো, ইরাকের জান্নাত আল গাজি, নাইজারের আইশাতু ইসাকা উসমানে, পাপুয়া নিউ গিনির ভেরোনিকা সিমোগুন। এছাড়াও আছেন পেরুর সিন্ডি আর্লেট কন্ট্রেরাস বৌতিস্তা, শ্রীলঙ্কার সন্ধ্যা একনেলিগোডা, সিরিয়ার ক্যারোলিন তাহান ফাচাখ, তুরস্কের সাদেত অজকান, ভিয়েতনামের নগুয়েন গক নু কুইন এবং ইয়েমেনের ফাদিয়া নাজিব থাবেত।

নীতিশ কুমারকেই ফারাক্কা বাঁধ ভাঙতে হবে : জাফরুল্লাহ চৌধুরী

ভারতের বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত বিতর্কিত ফারাক্কা বাঁধ পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা সংক্রান্ত বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্ট্রি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত দিয়েছে দিল্লী। এই বাঁধ তো বিহারেই। ফারাক্কা বাঁধ সরাতে হলে বা ভাঙতে হলে তাকেই (নীতিশ কুমার) করতে হবে। নীতিশ কুমার সজ্জন ব্যক্তি হলে কেন্দ্রের দিকে তো তাকিয়ে থাকার দরকার নেই, নিজেরাই এটা সরিয়ে ফেলতে পারেন। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এ কথা বলেন। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে যে, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেন।
বৈঠকের আগে সংবাদমাধ্যমকে নীতিশ কুমার বলেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে গঙ্গায় বিপুল পরিমাণ পলি জমছে। আর এ কারণে প্রতিবছর বিহারে বন্যা হচ্ছে। এর একটা স্থায়ী সমাধান হলো ফারাক্কা বাঁধটাই তুলে দেওয়া। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরো বলেন, পানি, বাতাস, নদী-প্রকৃতিকে যারা বাধাগ্রস্ত করে তারাও মানবতা বিরোধী অপরাধ করছে। পানি-বাতাস বাধাগ্রস্ত করে লাখ লাখ লোকের জীবনহানি করাও মানবতাবিরোধী কাজ। তিস্তাসহ ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়, সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি পরিহার, প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে জোট নিরপেক্ষ নীতির বরখেলাপ ও বাংলাদেশকে ভারতের অস্ত্রের ডাম্পিং সেন্টার বানানোর চক্রান্ত বন্ধ, বাণিজ্য ঘাটতি দূর, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বাংলাদেশি পণ্যের অশুল্ক বাধা দূর করাসহ ভারতের সাথে অমীমাংসিত সকল সমস্যা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা, না হলে আন্তর্জাতিক ফোরামে উত্থাপনের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য রাখেন বজলুর রশিদ ফিরোজ, রাজেকুজ্জামান রকন প্রমুখ।

তিস্তা চুক্তি নিয়ে মমতার বিরোধিতা কেন?

বছর দেড়েক আগে ছিটমহল বিনিময় হয়ে যাওয়ার পরে ভারতের কোচবিহার থেকে ফিরছিলাম এক সিনিয়র সাংবাদিকের সঙ্গে। কোচবিহার থেকে শিলিগুড়ি আসতে রাস্তায় তিস্তা নদী পেরোতে হয়। তিস্তা সেতু পেরোনোর সময়ে ওই সিনিয়র সাংবাদিক বলেছিলেন, ‘ছিটমহলের সমস্যাটা মিটল, কিন্তু এই নদীটা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যে কবে বোঝাপড়া হবে, কে জানে!’ তিস্তার পানিবন্টন নিয়ে ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে সেই বোঝাপড়া এখনও হয়নি। যে বোঝাপড়ার পথে প্রধান আপত্তি তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। কদিন আগেও কলকাতার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এ বি পি আনন্দকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে মিজ. ব্যানার্জী জানিয়েছেন তার আপত্তির মূল কারণটা কী। ‘তিস্তা নিয়ে আমার রাজ্যের স্বার্থে যা করার, আমি তাই করব। ওরা আমাদের না জানিয়ে নিজেদের ইচ্ছে মতো সব করে, একবার জানাবার প্রয়োজন পর্যন্ত মনে করে না। হয়তো সব কিছু সেরেও নিয়েছে। সব কিছু সেরে নিয়ে যদি আমাকে বলো স্ট্যাম্প মারার জন্য, আমি বলব সরি,’ সাক্ষাতকারে জানিয়েছিলেন মিজ. ব্যানার্জী। তিনি আরও বলেছিলেন যে, বাংলাদেশকে তিনি খুবই ভালোবাসেন, যতটা সম্ভব সাহায্য বাংলাদেশকে তিনি করবেন রাজ্যকে বাঁচিয়ে। ‘আমি তো শুনছি ২৫ মে নাকি ঢাকায় তিস্তা নিয়ে চুক্তি সই হবে,’ জানিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। মিজ. ব্যানার্জী বলছিলেন যে, তার রাজ্যের কৃষকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে জলবন্টনে সম্মতি দিতে পারবেন না। কিন্তু শুধুই কি তাই? না কি ঘরোয়া রাজনীতি রয়েছে এর পেছনে? অথবা অন্য কোনও কারণ? এই প্রশ্নের উত্তরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের একাধিক বিশ্লেষক বেশ কয়েকটি কারণ তুলে ধরছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক বিমল শঙ্কর নন্দ ব্যাখ্যা করছিলেন যে, তিনি মমতা ব্যানার্জীর তিস্তা নিয়ে আপত্তিটা কীভাবে দেখেন। ‘মমতা ব্যানার্জীর আপত্তিটা হচ্ছে তিস্তা চুক্তি হলে পশ্চিমবঙ্গ জলের প্রাপ্য ভাগটা পাবে কী না। তিস্তা অববাহিকার ওপরের দিক থেকে সেই পরিমাণ পানি নিশ্চিত করা যাবে কী না।
বাংলাদেশকে যে পরিমাণ পানি দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেটা তখনই সম্ভব যদি পাহাড়ী এলাকায়, সিকিমে, পানি বেশি থাকে। সেটা কিন্তু নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের যেটা করা উচিত, তা হলো পশ্চিমবঙ্গকে এটা বোঝানো যে তিস্তা চুক্তি হলে এ রাজ্যের খুব একটা স্বার্থহানি ঘটবে না। স্বার্থহানি ঘটলে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে মমতা ব্যানার্জী অসুবিধায় পড়বেন, এটা স্বাভাবিক,’ বলছিলেন অধ্যাপক নন্দ। বিশ্লেষকদের কেউ আবার বলছেন যে, তিস্তার পানি কী হিসাবে দুদেশের মধ্যে ভাগ হবে, তার জন্য যা পরিসংখ্যান দরকার, অভাব আছে সেখানেই। যদিও কিছু তথ্যানুসন্ধান করা হয়েছে ভারত সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে। কলকাতার মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইন্সটিটিউট ফর এশিয়ান স্টাডিজের পরিচালক ড. শ্রীরাধা দত্ত বলছিলেন, ‘যে তিস্তা চুক্তি হতে চলেছিল, তখন পানিপ্রবাহের সঠিক পরিমাণ আমাদের তখন জানা ছিল না। সবসময়েই নদীর পানিপ্রবাহের ক্ষেত্রে ৩০ বছরের একটা গড় হিসাব করা হয়। যে হিসাব এখন আছে, সেটা অনেক পুরনো। সেই সময়কার হিসাব নিয়ে এখন এগুতে যাওয়া সমীচীন নয়। জলবায়ু পরিবর্তন হয়েছে, পরিবেশগত বিষয় রয়েছে, পানিপ্রবাহে বদল ঘটেছে। তাই পুরনো নথি বা হিসাবের ওপরে ভিত্তি করে চুক্তি সই করা বোধহয় ঠিক হত না।’ তিনি আরও বলছিলেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার আর পশ্চিমবঙ্গ সরকার নতুন করে তথ্য সংগ্রহ করেছে। কিন্তু তা এখনও জনসমক্ষে আনা হয়নি। ইন্সটিটিউট অফ ফরেন পলিসি স্টাডিজের ভিজিটিং প্রফেসর ও কলকাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক জয়ন্ত রায়ের কথায়- যথেষ্ট তথ্য আর পরিসংখ্যান না থাকলে চুক্তি করা হলেও সেটা কোনো দেশের পক্ষেই ফলপ্রসূ হবে না। তার কথায়, ‘গঙ্গার পানিবন্টন চুক্তি হওয়ার সময়ে আমাদের হাতে প্রচুর তথ্য-পরিসংখ্যান ছিল। কিন্তু তিস্তার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ঠিক উল্টো। খুবই কম তথ্য রয়েছে তিস্তার পানিপ্রবাহ নিয়ে।
কিন্তু আমরা দেখতে পাই যে তিস্তার পানিপ্রবাহ অত্যন্ত ক্ষীণ। এই অবস্থায় পানি বণ্টন হলেও কারো যে লাভ হবে, তা মনে হয় না। শতকরা ৫০ ভাগ পানিও যদি আমরা দিয়ে দিই, তাতে যে বাংলাদেশের সমস্যার সমাধান হবে, তা মনে হয় না। যেটা করা উচিত, তা হলো দুই দেশের প্রতিনিধি - নদী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পর্যালোচনা করা। তাতেই সমস্যা মিটতে পারে।’ অধ্যাপক রায়ের পরামর্শ, উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু মজে যাওয়া নদী বা খাল যদি সংস্কার করা যায়, নতুন করে কিছু খাল খনন করা যায়, তাহলে তিস্তায় পানির প্রবাহ অনেক বাড়বে। পানির অভাব হবে না আর। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক সব্যসাচী বসু রায় চৌধুরী বলছিলেন- তিস্তা সমস্যা সমাধানে ভারত সরকারের উচিত হবে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সিকিমকেও এই আলোচনায় যুক্ত করা উচিত। ‘তিস্তা নদী সিকিম পাহাড় থেকে নেমে এসে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে যায়। এটাই হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল যে, তিস্তার পানি বণ্টনে পশ্চিমবঙ্গ আর সিকিমকে যুক্ত করা। যদি আগাম আলোচনা হয়, তাহলে সমস্যা মিটতে দেরী হওয়ার কথা নয়। এটাই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করছেন। একটা কথা তো ঠিক, এ রাজ্যে যে সরকারই থাকুক, এখানকার কৃষকদের স্বার্থ তো তারা দেখবেই,’ বলছিলেন সব্যসাচী বসু রায় চৌধুরী। কিন্তু শুধুই কি উত্তরবঙ্গের বিপুল সংখ্যক কৃষকদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই মমতা ব্যানার্জীর এই তিস্তা পানিবন্টন নিয়ে বিরোধিতা, যার জেরে বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সম্পর্কে একটা ক্ষত তৈরি হয়েছে? কথা বলেছিলাম বিবিসি’র প্রাক্তন সহকর্মী ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিশেষজ্ঞ সুবীর ভৌমিকের সঙ্গে।
মি. ভৌমিক বলছিলেন, ‘মমতা ব্যানার্জী তিস্তাসহ বেশকিছু ইস্যুতে যে ভূমিকা রাখছেন, তাতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সার্বিক উন্নতি সত্ত্বেও দুই বাংলার বোঝাপড়ায় একটা ক্ষত থেকে যাচ্ছে। মিজ. ব্যানার্জীর বিরোধিতাটা রাজনৈতিক কারণে। এটা কি দিল্লিকে চাপে রাখার জন্য না-কি বাংলাদেশে তার কোনো সমীকরণ আছে যে কারণে উনি চান না শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ লাভবান হোক - এগুলো উনিই জানেন, আমি জানি না। কিন্তু এটা বুঝতে অসুবিধা হয় না কারও যে মমতা ব্যানার্জীর এই ভূমিকাটা দুই বাংলার সম্পর্কের জন্য ভালো হচ্ছে না।’ কিন্তু অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে কি ভারত সরকারের যে বিদেশনীতি - বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, তার সঙ্গে কোথাও আপোস করতে হচ্ছে - যেখানে ভারত-বন্ধু বলে পরিচিত শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকার তিস্তার পানিবন্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে না বলে সেদেশে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন? অধ্যাপক সব্যসাচী বসু রায় চৌধুরীর মতে, ‘পশ্চিমবঙ্গের আর ভারতের রাজনীতির যে পারস্পরিক টানাপড়েন বা বিরোধ, সেটাও তিস্তার পানিবন্টনের ওপরে বা সার্বিকভাবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটা বড় বাধা। অন্যদিকে এটাও ঘটনা যে, ইদানীংকালে আওয়ামী লীগ সরকারে থাকাকালীন ভারতের বহু দাবি বাংলাদেশ মিটিয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে তারা যে তখনই কিছু চেয়েছে, তাও নয়। আরও যেটা নজর করার দরকার, বাংলাদেশে ২০১৮-র শেষে নির্বাচন হওয়ার কথা। স্বাভাবিকভাবে সেই নির্বাচনের আগে শাসক আওয়ামী লীগ চাইবে যে ভারতের দিক থেকে তারা একটা বিশেষ সহযোগিতা তারা পায়। এই স্পর্শকাতর বিষয়টারও ওপরেও ভারত সরকারের নজর দেওয়া উচিত।’ মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইন্সটিটিউট ফর এশিয়ান স্টাডিজের পরিচালক ড. শ্রীরাধা দত্ত বলছিলেন, ‘দিল্লি বা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় যে দলই থাকুক না কেন, সবার সঙ্গেই আওয়ামী লীগ খুব ভালো সম্পর্ক রাখতে পারে, কারণ ওদের রাজনৈতিক চিন্তাধারা আমাদের সঙ্গে মিলে যায়। আমি নিশ্চিত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও সেটা জানেন এবং কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে নিশ্চয়ই তিনি এটা মাথায় রাখেন। সমস্যাটা হচ্ছে, রাজ্য আর কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে যে মনোমালিন্য চলছে, তার জন্যই মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টাকে অন্য চোখে দেখছেন।’ অধ্যাপক বিমল শঙ্কর নন্দ ব্যাখ্যা করছিলেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা পশ্চিমবঙ্গের কাছে খুব জরুরী। ‘এটা ঠিকই যে তিস্তার জলবন্টন চুক্তি হলে শেখ হাসিনার সরকারের রাজনৈতিকভাবে সুবিধা হবে। কিন্তু যদি শেখ হাসিনার সরকার না থাকে, যদি অন্য কেউ আসে, বিশেষত যাদের পেছনে জামাতের মতো একটা শক্তি থাকবে, তাতে মারাত্মক অবস্থা হবে পশ্চিমবঙ্গের। সংখ্যালঘু হিন্দু জনগোষ্ঠী যদি ওখানে আক্রান্ত হয়, তারা এরাজ্যে এসে আশ্রয় নেবে। তাই মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিকভাবে ঠিক হবে না বিষয়টার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ানো। তবে মমতা ব্যানার্জীর কিছু রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতাও রয়েছে, সেটাও আমাদের বুঝতে হবে,’ বলছিলেন অধ্যাপক নন্দ।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করছিলেন, ‘এরাজ্যে যে ২৭% মুসলমান ভোট, তার একটা বিরাট অংশ কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট ব্যাঙ্ক। আবার এটাও ঠিক যে এই ভোট ব্যাঙ্কের একটা বড় অংশ বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থাকে পছন্দ করে না। মমতা ব্যানার্জীকে তাই খুব ব্যাল্যান্স করে এমনভাবে চলতে হয় যাতে ওই মুসলমান ভোট ব্যাঙ্ক কোনোভাবেই চটে না যায়। বিবিসি’র প্রাক্তন সহকর্মী সুবীর ভৌমিকের কথায়, এই পরিস্থিতিতে যদি মমতা ব্যানার্জী তিস্তা পানিবন্টন চুক্তিতে দ্রুত সায় দেন, তাহলে দুই বাংলার কাছেই তিনি প্রশংসিত হবেন - সেই সুযোগ তার আছে। ‘বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি করে ভারতের রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদী কতটা লাভবান হবেন জানি না। কিন্তু মমতা ব্যানার্জীর কিন্তু সেই ক্রেডিটটা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আজ যদি এই তিস্তা চুক্তি না হয় এবং বাংলাদেশে শেখ হাসিনার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে টানাটানি হয় এবং কোনো ইসলামিক শক্তি যদি সেদেশে ক্ষমতায় আসে, তাহলে কি মমতা ব্যানার্জী পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-আরএসএসের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকে যেভাবে আটকানোর চেষ্টা করছেন, তাতে তিনি সফল হবেন?’ প্রশ্ন সুবীর ভৌমিকের। মমতা ব্যানার্জীর আপত্তি সম্প্রতি আবারও প্রকাশ্যে আসায় ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তারা সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে। তাই তিস্তা চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেই এগোনো হবে। কিছু সূত্র বলছে, সেই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এখন দেখার মমতা ব্যানার্জী যে তথ্য দিয়েছিলেন টেলিভিশন সাক্ষাতকারে, সেই অনুযায়ী ২৫ মে ঢাকায় তিস্তার পানিবন্টন চুক্তি হয়, কী না!
প্রতিবেদন : অমিতাভ ভট্টশালী, বিবিসি বাংলা, কলকাতা

কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে শাসক দলের সন্ত্রাস চলছে : রিজভী

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে শাসক দলের সন্ত্রাস চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রিজভীর অভিযোগ, সকাল থেকে ধানের শীষের প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ঢুকলেও বের করে দেওয়া হচ্ছে। ক্ষমতাসীনরা স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবহার করছেন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা এ সব কথা বলেন। রিজভী বলেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল নির্বাচন কমিশন সংবিধান তাঁদের ওপর যে দায়িত্ব দিয়েছে তা পালন করবে।
প্রশাসনকে নানা অনাচার থেকে বিরত রাখবে। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ করবে। সেই শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের কোনো লক্ষণ তাঁরা ফুটে উঠতে দেখছেন না। নির্বাচন থেকে বিএনপি সরে যাবে কি না জানতে চাইলে রিজভী বলেন, আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাব। বিএনপির এই নেতার অভিযোগ, কুমিল্লা সিটির ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের শালবন বিহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাঙ্গালিয়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিদ্যালয়, গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থীর এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। জাঙ্গালিয়া কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্ট আকমত আলীকে বাড়িতে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ইসহাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে বহিরাগতদের জমায়েত, সরকারি সিটি কলেজ কেন্দ্রে ছাত্রলীগের কর্মী কবির ভুঁইয়া ও চঞ্চলের নেতৃত্বে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে সিল মারা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার ২ মামলার শুনানির দিন ধার্য

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা ২ মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। জিয়ার অরফানের ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানি আগামী ৬ এপ্রিল এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানি আগামী ১৩ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সিনিয়র বিশেষ জজ কামরুল ইসলাম মোল্লা জিয়া অরফানের দুর্নীতি মামলার এ দিন ধার্য করেন।
অপরদিকে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানির দিন ধার্য করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদ্দারের আদালত। এ দু’টি মামলায়ই আজ খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির জন্য ধার্য ছিল। আজ খালেদা জিয়ার পক্ষে সময় প্রার্থনা করা হলে আদালত উপরোক্ত আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

এফবিসিসিআই নির্বাচনে বাধা নেই

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর নির্বাচন স্থগিত করে হাইকোর্টের  আদেশ বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে ময়মনসিংহের চেম্বারকে এফবিসিসিআই পর্ষদের অন্তর্ভুক্ত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হাইকোর্টের আদেশ বাতিলে এফবিসিসিআইর পক্ষে  আবেদনের শুনানি শেষে আজ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ এসব আদেশ দেন।
আগামী ১৪ মে এই নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিন ধার্য রয়েছে। বেঞ্চর অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।  আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। এফবিসিসিআইর পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মঈনুল ইসলাম।

হাজারীবাগে ট্যানারি কার্যক্রম ৬ এপ্রিলের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ

রাজধানীর হাজারীবাগে থাকা ট্যানারি কারখানাগুলোর সব কার্যক্রম আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে বন্ধ করে আদালতকে জানাতে বলেছেন আপিল বিভাগ।  আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। ট্যানারি কারখানাগুলোকে জরিমানার বিষয়ে রিভিউ আবেদন ও ১৫৪ ট্যানারিকে ৩০ কোটি ৮৫ লাখ জরিমানার আদেশ স্থগিতের বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন আদালত। আদালতে ট্যানারি মালিকদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস।
রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন মনজিল মোরসেদ। গত ১৯ মার্চ ১৫৪ ট্যানারি মালিককে বকেয়া বাবদ ৩০ কোটি ৮৫ লাখ জরিমানা পরিশোধের আদেশ স্থগিত করে শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন চেম্বার আদালত। এর আগে ২ মার্চ ১৫৪ ট্যানারি কারখানাকে বকেয়া বাবদ ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা জরিমানা দুই সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

ধরিত্রীকে হুমকির মুখে ফেলছেন ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক মিশনে নেমেছেন। বলা যায়- উন্মত্ত তাণ্ডবে মেতেছেন। বারাক ওবামার জলবায়ু সম্পর্কিত গৃহীত পদক্ষেপসমূহ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক হুমকি মোকাবেলায় তার উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো ধুলোয় মেশাতে চান তিনি। এতে ঝুঁকির মুখে পড়ছে আমাদের ধরিত্রী। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, জলবায়ু পরিবর্তন যে প্রকৃতই ঘটছে এবং তা এক ক্ষমাহীন বাস্তবতা। এই সত্যের ওপর আঘাত হানছেন ট্রাম্প। গত সপ্তাহে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে গেছে। গত তিন বছরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এবং বিশ্ব তা অনুভব করছে। বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে, আর্কটিক ও অ্যান্টার্কটিক মহাসাগরের বরফ ব্যাপকভাবে গলে যাচ্ছে।
আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চল এবং মধ্য আমেরিকায় ভয়াবহ খরা দেখা দিয়েছে। প্রতিবেদনে হুশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে যে, পৃথিবী নামক আমাদের এ গ্রহ এখন আসলেই জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত হুমকির মুখে। ট্রাম্প এই হুমকিকে আরও ত্বরান্বিত করছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের পাহাড়সম প্রমাণ সত্ত্বেও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও কর্মকাণ্ড তার অজ্ঞতারই পরিচায়ক। অজ্ঞতা শুধু স্বেচ্ছাচারসুলভ নয়, ধ্বংসাত্মকও। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ক্ষতিকর কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে ওবামার গৃহীত প্রকল্প ‘ক্লিন পাওয়ার প্ল্যান’ বাতিল ও বিদেশী তেলের ওপর আমেরিকার নির্ভরতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন ট্রাম্প। তার প্রস্তাবিত অপ্রতুল বাজেট বৈজ্ঞানিক গবেষণা ধ্বংস করছে। তিনি পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার জন্য এমন একজন প্রশাসক নির্বাচন করেছেন যিনি জলবায়ু ও পরিবেশ বিজ্ঞানের প্রযোজনীয়তাকে অস্বীকার করছেন। ওবামার গৃহীত জলবায়ু নীতিতে পরিবর্তন আনতে ট্রাম্প মঙ্গলবার যে নির্বাহী আদেশ সই করেছেন, তা পরিবেশগত সুরক্ষা নস্যাৎ করে ফেলবে এবং করদাতাদের অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন ডলার অর্থ ক্ষতি করবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড আমাদের সমগ্র বিশ্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। তবে আমরা নিরাশ হতে চাই না। জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ দিকগুলো আমরা এখনও এড়াতে পারি। নির্বাচনে ৩০ লাখ বেশি পপুলার ভোট পেয়েও হোয়াইট হাউস জয় করা সম্ভব হয়নি হিলারির। কিন্তু এই ভোট সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিনির মতের প্রতিনিধিত্ব করে। বিভিন্ন জনমত জরিপে এখনও দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ আমেরিকানই জলবায়ু পরিবর্তনকে বড় ধরনের সমস্যা বলে বিশ্বাস করেন এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর পদক্ষেপকে সমর্থন করেন। এছাড়া অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত নভেম্বরে যে সব রাজ্য হিলারিকে ভোট দিয়েছিল, মার্কিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের দুই-তৃতীয়াংশই এই রাজ্যগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। এটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ স্থানীয় ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের মধ্যপন্থী ও প্রগতিশীল নেতারা এই দুই-তৃতীয়াংশ অর্থনীতি পরিচ্ছন্ন জ্বালানিভিত্তিক করতে সক্ষম হবেন। আমাদের সন্তান ও উত্তর প্রজন্মের নিরাপত্তার স্বার্থে ক্লিন-এনার্জির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে।

ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কে উদ্বেগ থাকতে নেই

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৭ এপ্রিল ভারত সফরে যাচ্ছেন। এ সফর নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশে যথেষ্ট আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। এই সফর অনেক আগেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। দু’দুবার তারিখ নির্ধারিত হলেও তা পিছিয়ে গিয়েছিল। এটা হবে মূলত প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি ভারত সফর। ২০১৫ সালের মে মাসে ভাতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকায় এসেছিলেন। এখন ফিরতি সফরে প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লি যাচ্ছেন।
বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির আলোকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দু’দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে খুব বেশি। এবারে শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফর নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নয়াদিল্লি সফরে যাচ্ছেন এমন একটি সময়ে যখন বাংলাদেশ তার নৌবাহিনীতে দুটি সাবমেরিন সংযাজন করেছে। এই সাবমেরিন সংযোজন নিয়ে ভারতে এক ধরনের ‘অসন্তোষ’ আছে। বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের সময় ভারত থেকে অস্ত্র ক্রয় ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্পর্কে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। যদিও কোনো পক্ষ থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি। অতিসম্প্রতি ভারতের হাইকমিশনার পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, এই সফরে ‘কানেকটিভিটি’ প্রাধান্য পাবে। কিন্তু প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের ব্যাপারে তিনি কোনো কথা বলেননি। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার তালিকায় থাকলেও এবার তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না- এটা মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। একটি পারমাণবিক সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তিও স্বাক্ষরিত হবে। এতে করে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে ভারতের কারিগরি সহযোগিতা নিশ্চিত হবে। বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তালিকায় গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পটিও আছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখার জন্য এই গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে দুটি চীনা কোম্পানি আগ্রহ দেখিয়েছে। প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের এ প্রকল্পে জাপানও আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে ভারতের সম্মতি ও আর্থিক সহযোগিতা না পেলে গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না।
এখনই এ সফরের মূল্যায়ন করা যাবে না। কেননা এখনও স্পষ্ট হয়নি প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে কয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। এ সফরের মধ্য দিয়ে দু’দেশের সম্পর্ক আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া যাবে বটে; কিন্তু প্রশ্ন যে থাকবে না, তা নয়। তবে শেখ হাসিনার পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য এখানেই, তিনি একটি ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছেন। শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারটিকে বেশ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে গঙ্গার পানি বণ্টনের ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি হয়েছিল। যদিও তার আমলে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তিটি তিনি আর নবায়ন করেননি। ভারতে আশ্রিত পাহাড়ি শরণার্থীদের তিনি দেশে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। তার আমলে সার্কের ভেতরে একটি উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল, যদিও তা কার্যকর হয়নি। শেখ হাসিনার সময় বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্য আমদানি বাড়ে ৩ গুণ। ১৯৯৮ সালে ভারত ও পাকিস্তান পরপর কয়েকটি পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটালে তিনি শান্তি স্থাপনের একটি উদ্যোগ নেন, যা প্রশংসিত হয়। তার সময় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বাংলাদেশ সফরে আসেন। তার শাসনামলে বাংলাদেশ সিটিবিটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। একই সঙ্গে ‘হানা’ চুক্তিও (হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাসিসটেন্স নিড্স অ্যাসেসমেন্ট) স্বাক্ষর করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। তিনি ১৯৯৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্ব ক্ষুদ্রঋণ শীর্ষ সম্মেলনেও যোগ দিয়েছিলেন। তিনি তার প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে চীনকে বেছে নিলেও সামরিক ক্ষেত্রে চীনের ওপর পরিপূর্ণ নির্ভরশীলতা তিনি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার আমলে ঢাকায় রাশিয়ার অস্ত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। বাংলাদেশ এ সময় চীনের বদলে রাশিয়া থেকে ৮টি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ক্রয় করেছিল (মূল্য ১২৪ মিলিয়ন ডলার)। চীন মিগ-২৯ বিমান সরবরাহ করতে রাজি হলেও বাংলাদেশ এই বিমান রাশিয়া থেকে সংগ্রহ করেছিল। শেখ হাসিনার সময় বাংলাদেশ দুটি আঞ্চলিক জোট ডি-৮ ও বিমসটেকে যোগ দেয়।
তিনি ওআইসির শীর্ষ সম্মেলনে (ইসলামবাদ, মার্চ, ১৯৯৭) যোগ দিয়ে ইসলামী বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি একটি অভিন্ন বাজার প্রতিষ্ঠারও দাবি জানিয়েছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এবং ২০১৪ সালের সবশেষ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি এখনও সরকার পরিচালনা করছেন। শেখ হাসিনা সরকারের সময় অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বেশি উন্নত হয়েছে। ট্রানজিট (ট্রান্সশিপমেন্ট অথবা করিডোর) নিয়ে বাংলাদেশে বড় বিতর্ক থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফরের সময় এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে তা কার্যকরও হয়েছে, যদিও ট্রানজিট ‘ফি’ নিয়ে একটি বিতর্ক আছে। বলা হচ্ছে, ট্রানজিটের বিষয়টি বহুপাক্ষিকতার আলোকে দেখা হবে। কিন্তু দেখা গেছে, ভারত একপক্ষীয়ভাবে তা ব্যবহার করছে, ভুটান বা নেপাল এখনও ট্রানজিট পায়নি। ভারতের এ দুটো দেশকে ট্রানজিট সুবিধা দেয়ার কথা। কিন্তু ইতিমধ্যে এই সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে- এ তথ্য আমাদের জানা নেই। এমনকি ভারতের ‘সাতবোন’ রাজ্যগুলো কর্তৃক চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাও বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে করে আগামী দিনগুলোয় বাংলাদেশী পণ্য খালাস করতেই হিমশিম খেতে হবে। এ ক্ষেত্রে ‘সাতবোন’ রাজ্যের পণ্য বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। ভারত অবকাঠামো খাতে যে ঋণ দিয়েছে তাও বাংলাদেশে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল। অন্যান্য দাতাগোষ্ঠীর ঋণের মতোই এই ঋণ দিয়ে ভারতীয় পণ্য ও সেবা কিনতে আমরা বাধ্য। মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় যে উন্নয়ন ও সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। ওই চুক্তিতে যে ‘ভাষা’ ব্যবহার করা হয়েছিল তাতে করে ভারতীয় স্বার্থই রক্ষিত হয়েছে বেশি।
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষিত হয়নি। গত ৭ বছর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফর (২০১৫) করে দু’দেশের সম্পর্ককে অনেক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তার আমলে ঐতিহাসিক ছিটহল বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছে। ছিটমহলগুলোতে বসবাসরত (ভারতের ১১১টি, বাংলাদেশের ৫১টি) নাগরিকরা স্বেচ্ছায় নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন। কিন্তু তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে যে সমস্যা তা রয়ে গেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রহ থাকলেও শুধু মমতা ব্যানার্জির কারণে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হচ্ছে না। সীমান্ত হত্যা বন্ধ হয়নি। মোদির ঢাকা সফরের সময় নতুন আঞ্চলিক জোট বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল) আত্মপ্রকাশ করলেও এ নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। সার্ক কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমছে না। ট্যারিফ-প্যারাট্যারিফ কমানোর কোনো উদ্যোগ নেই। ভারত থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে বটে; কিন্তু আঞ্চলিক সহযোগিতার আলোকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। বিবিআইএন জোটের একটি বিশাল সম্ভাবনা থাকলেও অভিযোগ উঠেছে ভারত এটিকে দেখছে তার স্বার্থে। ফলে বাংলাদেশে ভারতকে নিয়ে বিদ্যমান উদ্বেগ কমছে না। প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিল্লি সফর এ উদ্বেগ কতটুকু কমাতে পারে সেটা দেখার বিষয়। প্রতিটি দেশই তার জাতীয় স্বার্থের আলোকে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করে। ভারতও তাই করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থকে উপেক্ষা করতে পারি না।
সুতরাং ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বাংলাদেশ অনেকগুলো বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে পারে।
এক. যেহেতু ভারতেও পানি সংকট আছে, সে কারণে অববাহিকার দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা। এতে করে পানির সুষ্ঠু ব্যবহার সম্ভব হবে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, আগামীতে পানি সমস্যা একটা ভয়াবহ রূপ নিতে যাচ্ছে। চীন ব্রহ্মপুত্রের উজানে বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। ব্রহ্মপুত্রের উৎপত্তি তিব্বতে। ব্রহ্মপুত্র নদটি তিব্বত থেকে অরুণাচল ও আসাম হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ব্রহ্মপুত্রের চীনা নাম হচ্ছে Yarlung Zangbo। এই নদীর উপশাখা Xiabuquতে চীন Lalho Hydroelectric Project করেছে। এতে চীন সরকার ব্যয় করছে ৭৪০ মিলিন ডলার। এই প্রজেক্টে বিশাল এক এলাকা নিয়ে একটি রিজার্ভিয়ার গড়ে তোলা হচ্ছে, যা শেষ হবে ২০১৯ সালে। এই রিজার্ভিয়ারে ২৯৫ মিলিয়ন কিউবিক মিটার পানি ধরে রাখা হবে। এর মাধ্যমে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ কাজ করা হবে। একইসঙ্গে বছরে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে ভারতের। ফলে ভারতের জন্যও একটি সংকট তৈরি হচ্ছে। এটা সমাধানের জন্য এ অঞ্চলের দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি আঞ্চলিক পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে পানি নিয়ে এশিয়ায় যুদ্ধ হতে পারে- এমন আশংকাও ব্যক্ত করা হচ্ছে।
দুই. সাফটার কার্যকারিতা স্থগিত হয়ে গেছে। সফটা বা দক্ষিণ এশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ২০০৬ সালে। এখন ট্রেড লিবারেলাইজেশন প্রোগ্রামের কার্যকারিতার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কার্যত সাফটা এখন অকার্যকর। বাংলাদেশী পণ্যের ভারতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের ব্যাপারে এটা কোনো ভালো খবর নয়।
তিন. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে তার চীন সফরের সময় বিসিআইএম (বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার) অর্থনৈতিক করিডোরের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এই অর্থনৈতিক করিডোর চীনের ইউনান রাজ্যের কুনমিংয়ের সঙ্গে কক্সবাজারকে সংযুক্ত করবে। চীন যে ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, তাতে যে ৬টি অর্থনৈতিক করিডোর রয়েছে, বিসিআইএম করিডোর তার একটি। ক্রমবর্ধমান ভারত-চীন দ্বন্দ্বে প্রস্তাবিত বিসিআইএম করিডোর এখন কাগজ-কলমে থেকে যেতে পারে! এতে করে বাংলাদেশের স্বার্থও ক্ষুণ্ণ হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় বিষয়টি আলোচিত হতে পারে। এই বিসিআইএম করিডোরের সঙ্গে সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের প্রশ্নটিও পরোক্ষভাবে জড়িত। একসময় বাংলাদেশ উদ্যোগ নিলেও তা এখন পরিত্যক্ত। বাংলাদেশ এখন পটুয়াখালীর পায়রাতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করছে। ভারতীয় একটি কোম্পানি এটি করছে। চীন এ প্রকল্পেও জড়িত হতে চায়। এতে ভারতের সম্মতি পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ।
চার. ভারতের দুটি মহাপরিকল্পনার ব্যাপারে বাংলাদেশের উদ্বেগ রয়েছে। এই দুটি মহাপরিকল্পনা হচ্ছে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প ও টিপাইমুখ বাঁধ। মোদির ঢাকা সফরের সময় যৌথ ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল, ভারত এমন কিছু করবে না যাতে বাংলাদেশের ক্ষতি হয়। অথচ গত ১৬ জুলাই (২০১৬) বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকায় বিবিসি বাংলার উদ্ধৃতি দিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ভারতে নদী সংযোগের বিতর্কিত পরিকল্পনার আওতায় এবার মানস-সংকোস-তিস্তা-গঙ্গাকে যুক্ত করার প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যাবে বলে ঘোষণা করেছে সেদেশের সরকার। এটা বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ বড় ধরনের পানিশূন্যতার মধ্যে পড়বে। অথচ এই সিদ্ধান্ত যৌথ ঘোষণার ২১ দফার পরিপন্থী। একই কথা প্রযোজ্য টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্পের ব্যাপারেও। ভারত এখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এক মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। এ ধরনের মহাপরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইন সমিতির হেলসিংকি নীতিমালার ৪ ও ৫নং অনুচ্ছেদ, ১৯৯২ সালের ডাবলিন নীতিমালার ২নং নীতি এবং রামসার কনভেনশনের বরখেলাপ। এমনকি ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির ৯ অনুচ্ছেদেরও বরখেলাপের শামিল। বাংলাদেশের জনগণের এ সংক্রান্ত উৎকণ্ঠা প্রধানমন্ত্রী তার নয়াদিল্লি সফরে ভারতীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন। ভারত বড় অর্থনীতির দেশ। বিশ্ব অর্থনীতিতে বর্তমানে ভারতের অবস্থান ২ দশমিক ৮ ভাগ হলেও (২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার) ২০৫০ সালে ভারত হবে দ্বিতীয় অর্থনীতির (চীন প্রথম, যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয়) দেশ। প্রাইসওয়াটারহাউস কুপার্স তাদের এক গবেষণায় আমাদের এ তথ্য দিয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স বা ইতালির অবস্থান হবে ভারতের অনেক নিচে। তাই সঙ্গত কারণেই ভারতের অর্থনীতি থেকে আমরা উপকৃত হতে পারি। কিন্তু সম্পর্ক যেন হয় সমতার ভিত্তিতে, যা জাতিসংঘের চার্টারে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিল্লি সফর সফল হোক, আমাদের প্রত্যাশা এটাই।
ড. তারেক শামসুর রেহমান : অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
tsrahmanbd@yahoo.com

নামাজ আর সূর্য পুজায় মিল পেলেন আদিত্যনাথ

মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের নামাজ আর হিন্দুদের সূর্য নমস্কারের আসনের ভঙ্গি, মুদ্রা, প্রণামের কৌশলে মিল আছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বুধবার লক্ষৌতে যোগ মহোৎসবের অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। তবে তার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মুসলিম ধর্মের নেতারা। যোগী আদিত্যনাথ বলেন, আপনারা লক্ষ করলে দেখবেন আমাদের মুসলিম বন্ধুদের নামাজের মতোই সূর্য নমস্কারের আসনে বসতে হয়।
তিনি বলেন, সূর্য নমস্কার আর নামাজে মিল থাকলেও এতদিন কেউ তাদের মেলানোর চেষ্টা করেনি। ধর্ম ও বর্ণের ভিত্তিতে যারা দেশকে ভাগ করে তারা কিভাবে যোগে বিশ্বাস করতে পারে? তার এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সদস্য কমাল ফারুকি বলেন, ‘সূর্য নমস্কার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অর্থহীন। মুসলিমরা সর্বশক্তিমান আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও প্রতি প্রার্থনা জানান না।’

কিছু অলিখিত সামাজিক চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়ার সময় এখন

এই পৃথিবীতে লিখিত চুক্তির সংখ্যা যত, অলিখিত সামাজিক চুক্তি তার চেয়ে কোটি কোটি গুণ বেশি। আমরাসহ সমগ্র বিশ্ববাসী যে শৃংখলার সঙ্গে জীবন অতিবাহিত করছি, তা সম্ভব হয়েছে সামাজিক অলিখিত চুক্তিগুলোর কল্যাণেই। প্রকৃতির রাজ্য (State of nature) থেকে ধীরে ধীরে ‘রাষ্ট্র’ নামক যে ভৌগোলিক কাঠামোর উদ্ভব ঘটল, সেটাও অলিখিত সামাজিক চুক্তিরই (Social contract theory of state) ফসল। সে থাক। বস্তুত মানুষ যত না ভয় করে রাষ্ট্রীয় লিখিত আইনকে, তার চেয়ে অনেক বেশি মান্য ও সমীহ করে অলিখিত সামাজিক চুক্তি। সময়ের কথাই ধরা যাক। সময় অখণ্ড, এর কোনো শুরু-শেষ নেই, নেই এককও (unit), থাকার কথা নয়, সময়ের একক তৈরি করলে এর সৌন্দর্যও নষ্ট হয়। কিন্তু আমরা আমাদেরই সুবিধার্থে সময়ের একক বের করে চুক্তি করে তা মেনে চলেছি। বলছি এটা ২০১৭ সাল, আজ বৃহস্পতিবার, এখন দশটা বাজে ইত্যাদি। এতে কত সুবিধা! প্রেমিকাকে বলতে পারছি, তিনটায় শাহবাগে থেকো, সে-ও সময়মতো চলে আসছে। সময়ের একক না থাকলে মিলতাম কীভাবে? অথবা স্ত্রীকে বলতাম কীভাবে- আজ না আমাদের দশম বিয়ে বার্ষিকী! এক রসিক কর্মচারী রোজ দেরি করে অফিসে যায়। একদিন তার বস্ বললেন, কী রফিক সাহেব, সময়মতো অফিসে আসেন না কেন?
তিনি শো’কজের জবাব দিলেন এই বলে- সময়? সময় আবার কী? বলেন তো সপ্তাহ যদি হতো পাঁচ দিনে আর মাস ১৫ দিনে, তাহলে পলাশীর যুদ্ধ কত সপ্তাহ আগে এবং কত সালে সংঘটিত হয়েছিল? ভাষাও একটি সামাজিক অলিখিত চুক্তি। পৃথিবীতে ভাষা ও উপভাষা মিলে যে সংখ্যাটা দাঁড়ায়, তা কয়েক লাখ তো হবেই। পানি বদলায় প্রতি চার মাইল অন্তর আর ভাষা সূক্ষ্মভাবে প্রতি দুই মাইল পরপর। তো প্রতিটি ভাষারই রয়েছে অসংখ্য শব্দ এবং কোন্ শব্দ উচ্চারণ করলে কী বুঝব, সেটারও রয়েছে অলিখিত চুক্তি। যেমন, ‘বুক’ শব্দটি উচ্চারণ করলে বাঙালির চুক্তি অনুযায়ী বুঝতে হবে শরীরের গলা ও পেটের মধ্যবর্তী প্রশস্ত জায়গা আর ইংরেজ জাতি এই মর্মে চুক্তি করেছে যে, বুঝতে হবে দুই মলাটের মধ্যে আবদ্ধ মুদ্রিত কিছু কাগজ। চুক্তি করে মানুষ কত কাণ্ডই না করছে। তার একটি বাজে চুক্তি হচ্ছে, সে যখন খাদ্য কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে গরু-ছাগলের মতো নিরীহ পশুও হত্যা করে, তখন তার সমগোত্রীয়রা অর্থাৎ সমগ্র মানবজাতি তাকে হিংস্র বলে না; কিন্তু কোনো পশুর আগ্রাসী আচরণ দেখলেই একজোটে বলে উঠবে- হিংস্র বাঘ অথবা জংলি হাতি, ওটাকে হত্যা করো অথবা খাঁচায় পোরো। আবার দেখুন, মানুষ ভালো বা মন্দ, সৎ বা অসৎ, নিষ্ঠুর বা দয়ালু- তবে কেউই অদ্ভুত নয়। অদ্ভুত যদি, তাহলে সবাই। গরু তো সব মানুষকেই অদ্ভুত প্রাণী ভাবে। অথচ চুক্তি করে সব ভাষাতেই একটা শব্দ যুক্ত করেছি আমরা- ‘অদ্ভুত’। মানুষকে আমরা ভাগ করেছি এভাবে- নরমাল, সাব-নরমাল, সুপার-নরমাল, প্যারা-নরমাল ইত্যাদি। শেষের তিন শ্রেণীর যে কোনো একটির কাউকে দেখলেই, সেই যে চুক্তি করেছিলাম,
সমস্ব^রে বলে উঠি- লোকটা কী অদ্ভুত! সমকামিতা যেমন জেনেটিক সংকট, কোনো পাপ নয়, ব্যবহারিক অস্বাভাবিকতাও (Behaviorial abnormality) তেমন মানসিক সমস্যা। মানুষ যখন পরিবেশগত কোনো চাপ নিতে পারে না, তখন সে অন্যদের চেয়ে ভিন্ন আচরণ (maladapted behaviour) করে। কিন্তু কোনোক্রমেই সে অদ্ভুত নয়। এমনকি সৌন্দর্যের ব্যাপারেও রয়েছে সামাজিক অলিখিত চুক্তি। ঐশ্বরিয়া যে বিশ্বসুন্দরী হয়ে গেল, সেটা কোন্ মাপকাঠিতে? কে কার সৌন্দর্য মাপে! ঐশ্বরিয়া হতে পারল, আফ্রিকার ওই থ্যাবড়া নাকের কালো মেয়েটি প্রিলিমিনারিতেও যেতে পারল না কেন? অথবা আমার প্রেমিকা? ইন্টেলেকচুয়াল বিউটিতে যে মার্কিং করা হয়েছে, সেটা একটা স্ট্যান্ডার্ডের ভিত্তিতে বুঝলাম। কিন্তু শারীরিক সৌন্দর্যের আবার স্ট্যান্ডার্ড কী! বস্তুতে কি দোষ থাকে, নাকি দোষটা মাথার? আসলে বিচারকরা একটা অলিখিত চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিল যে, সমাজের সাধারণ সৌন্দর্যচেতনার ভিত্তিতেই দিতে হবে নম্বরটা। আমি যদি সেই ক্রাইটেরিয়া না মানি? এক কথায় বললে আমরা একটা অলিখিত চুক্তির অধীনে থেকে ঐশ্বরিয়াকে বিশ্বসুন্দরী মেনে নিয়েছি।
২. হাল্কা কথা বেশি হয়ে যাচ্ছে। আসলে অলিখিত সামাজিক চুক্তিগুলোর রয়েছে অসীম ক্ষমতা। এই চুক্তির সুবাদেই নির্জন রাস্তায় স্বর্ণালংকারশোভিত নারী হেঁটে যায় নির্ভয়ে (চুক্তি ভঙ্গকারীর সংখ্যা নিতান্তই কম), দুর্বল কৃষকের গরু কেড়ে নেয় না শক্তিমান মাতব্বর, যা না করলেও লিখিত আইন দোষ ধরবে না, মানুষ সেই সম্মান দেখায় আরেক মানুষকে। বিয়েটা হল লিখিত চুক্তির মাধ্যমেই; কিন্তু সেটা টিকে আছে অলিখিত অসংখ্য সমঝোতার ভিত্তিতেই। অলিখিত সামাজিক চুক্তির এতই যখন ক্ষমতা, তখন বর্তমান বাংলাদেশে আমাদেরই স্বার্থে আমরা তৈরি করতে পারি বেশ কিছু সামাজিক চুক্তি। সেগুলো লিপিবদ্ধ করে তাতে নাগরিক সম্প্রদায়ের স্বাক্ষর করারও দরকার নেই। হ্যাঁ আমরা দেখতে পাচ্ছি, এই রাষ্ট্রের আইন ও বিচারব্যবস্থা দেশের সার্বিক শৃংখলা রক্ষায় চরমভাবে ব্যর্থ। এই ব্যর্থতা প্রকারান্তরে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর। হজরত মোহাম্মদ (সা.)ই শেষ নবী, যদি তিনি তা না হতেন এবং অন্য কোনো প্রফেট আবির্ভূত হয়ে বলতেন- তোমরা ধৈর্য ধরো, এই ব্যর্থতা সাময়িক- আমরা সেই প্রফেসিকেই অবলম্বন করতাম। কিন্তু না, লক্ষণ বলছে এই ব্যর্থতা সাময়িক নয়, এর নিরাময়ও সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে গুল্লি মারো ধৈর্য-টৈর্য, কিছু সামাজিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বস্ত থাকতে হবে সেগুলোর প্রতি। যেমন ধরুন, সিএনজি আটোরিকশাচালক মিটারে যেতে চাইছে না।
ভাড়া হাঁকছে অস্বাভাবিক। চুক্তিটি হবে এমন, আশপাশের সবাই মিলে ত্রিচক্র যানটিসহ তাকে নিকটবর্তী থানায় নিয়ে গিয়ে সোপর্দ করতে হবে পুলিশের কাছে। সেখানে দায়ের করতে হবে আইন ভঙ্গের মামলা। অথবা ধরুন, বাস-ড্রাইভার বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে ওভারটেক করে চলেছে অথবা কন্ডাক্টর হাঁকছে বেআইনি ভাড়া। এবারের চুক্তিটি হল, দাঁড়িয়ে যেতে হবে সব প্যাসেঞ্জারকে, এরপর বাস থামিয়ে এখানেও থানা-পুলিশ। এক্ষেত্রে সমস্যা দুটি। প্রথমত, এই কার্যক্রমকে অনেকে বিড়ম্বনা ভাবতে পারেন। কিন্তু সইতে হবে এই বিড়ম্বনা এবং তা পরবর্তী নিশ্চিন্ত যাত্রাগুলোর স্বার্থে। ধরে নেয়া যায়, এ ধরনের বেশ কিছু কাণ্ড ঘটাতে পারলে ড্রাইভার সম্প্রদায়ের অনিয়ম কমে আসবে সহনীয় মাত্রায়। দ্বিতীয় সমস্যাটি অবশ্য সংকটে রূপ নিতে পারে। দেখা গেল, সতীর্থের পক্ষ নিয়ে ড্রাইভারকুল গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিয়েছে। নাচুনি বুড়িকে আবার ঢোলের বাড়ি দিয়ে উৎসাহিত করছে পরিবহন শ্রমিক নেতারা। দায়িত্বটা তখন বর্তাবে সরকারের ওপর। যেতে হবে অ্যাকশনে। জনজীবনে বিঘ্ন ঘটানো এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অপরাধে জেলে পুরতে হবে যতসংখ্যক সম্ভব শ্রমিকনেতা ও ধর্মঘটী শ্রমিককে। ভয়টা আসলে বনে নয়, মনে। বলে দেয়া যায়, কয়েকদিনের দুর্ভোগ ছাড়া এই অ্যাকশনে জাতির কোনোই ক্ষতি হবে না। সময়কে যেহেতু আটকে রাখা যাবে না, রাষ্ট্রেরও সম্মুখপানে এগিয়ে যাওয়ায় কোনো সমস্যা হবে না। জনদুর্ভোগের যে সমস্যা, সেটাও থাকবে না কয়েকদিন পর। রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে অনেকে বলতেন ‘বুড়ো সাত্তার’, এই বুড়োই আশির দশকের গোড়ায় রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় যুবকের চেয়ে বেশি সাহস দেখিয়েছিলেন। ব্যাংকিং সেক্টরে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের একটা সময় বেঁধে দিয়ে সেই সময় পার হওয়ার পর পাইকারি হারে বরখাস্ত করেছিলেন এ খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। এতে কি বাংলাদেশে ব্যাংকিং প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে? কয়েকদিন গ্রাহক ভোগান্তির পর সবকিছুই নরমাল। পেটের দায় বড় দায়, এই দায়ের কাছে ফাজলামো বেশিদিন চলে না।
শুধু পরিবহন শ্রমিক নয়, রোগীদের জিম্মি করে ধর্মঘটে যায় যে ডাক্তার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিনের পর দিন বন্ধ রেখে ছাত্রসমাজকে শিক্ষাবঞ্চিত করে যে শিক্ষক, সবার ক্ষেত্রেই কঠোর হতে হবে সরকারকে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থা বলে তেমন কিছু ছিল না, বস্তুত সর্বক্ষেত্রেই ছিল অচলাবস্থা। তাতে কি বাঙালি মরে গেছে? বরং নয় মাসের দুর্ভোগ আমাদের এনে দিয়েছে যুগ-যুগান্তরের স্বস্তি। ভয়টা কীসের? কার কাছে যেন এক পাগলের গল্প শুনেছিলাম। পাকিস্তান আমলে ঢাবির রোকেয়া হলের সামনে সেই পাগল ঘোরাঘুরি করত। তার একটা অশ্লীল খেলা ছিল- বিশ্রী মুখভঙ্গি করে মেয়েদের ডেকে বলত- অ্যাই দেখবি? দেখবি? মেয়েরা ভয়ের চোটে দৌড়ে পালাত। পাগল মজা নিত এই দৌড় দেখে। তো একদিন এক মেয়ে সাহস করে বলেই ফেলল, হ্যাঁ দেখব! যেই না বলা, পাগল ... উল্টোদিকে দে দৌড়! ওই পাগলই শুধু ‘জাতে মাতাল, তালে ঠিক’ নয়, মাতাল মাত্রই তালে ঠিক। এই তাল হল জীবিকা। জীবিকাধর্মের ওপর আছে নাকি কোনো ধর্ম? এই ধর্মের শক্তিবলেই কিছু লোকের শাস্তি দেখে বাকিরা সাইজ হয়ে যাবে। বর্তমান বাংলাদেশে অনেক অনেক সামাজিক চুক্তির সঙ্গে একটি বড় চুক্তি জরুরি ভিত্তিতে সম্পাদন করা দরকার। আমাদের আজকের এজেন্ডা জঙ্গিবাদ নয় কিংবা নয় ’৭১-এর গণহত্যা অথবা জংলিভূমিতে ভদ্রসমাজের কাউকে দেখা গেলে ট্রাইবাল নেতার নির্দেশে যে নরবলি ঘটে তা-ও নয়, আমরা এখন বলব তথাকথিত এই সভ্য সমাজেই নির্দোষ, নিষ্কলংক নর-নারী ও শিশুর অকালমৃত্যুর কথা। পণ্যের আগাম মূল্য পরিশোধের মতো আগাম জীবনশোধ করে যাচ্ছে এদেশের মানুষ একের পর এক।
ড্রেন দিয়ে রক্ত গড়ায়, মানুষ বন্যপ্রাণীর আকার ধারণ করে, কখনও সতেরো-আঠারো বছরের অর্বাচীন, জীবনের মূল্য পরিমাপ করতে শেখেনি যে তরুণ এখনও, তার গুলি কিংবা কোপের আঘাতে মাটিতে লুটায় অনেক রহস্য, অনেক খেসারত দিয়ে গড়া মানবদেহ- আমরা নির্বাক, বড়জোর হতবাক, যেন যন্ত্রণাকাতর সেই দৃশ্য দেখছি সিনেমার পর্দায় টিকিট কেটে। আহ্-উহ্, সে তো নিষ্ঠুরতা দেখলে মানুষ করেই থাকে, এটা তার স্বভাবেরই অন্তর্গত। এর অতিরিক্ত কী এমন করছি এই সুঠাম দেহ নিয়ে? এর চেয়ে একটা সামাজিক চুক্তি করলে হয় না? যখন যেখানেই দেখব কিরিচ অথবা পিস্তল, তা যত চকচকেই হোক, সমস্বরে একটি মাত্র শব্দে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত করব আকাশ-বাতাস- র্ধ! একই সঙ্গে চতুর্দিকব্যাপী তৈরি করা যায় না কি মানবব্যারিকেড? ব্যাটা পালাবি কোথায়? স্বীকার করতেই হয়, আগ্নেয়াস্ত্রের সামনে দেহ কুলোয় না। কিন্তু সেটা একক দেহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। একক যখন সমষ্টি, তখন? দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদে পড়েছিলাম- Quantitative change brings about qualitative change- পরিমাণগত পরিবর্তন গুণগত পরিবর্তন ঘটায়। এক যদি শক্তি হয়ে থাকে, অনেক তাহলে মহাশক্তি। এই শক্তি তৈরি করে নেতৃত্বও। ৭ মার্চে যদি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একজন শ্রোতা বসে থাকত, পারতেন কি বঙ্গবন্ধু অমন একটি বক্তৃতা দিতে? হ্যাঁ, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো যখন ব্যর্থ, তখন আমরাই নিজস্ব নিয়মে গড়ে তুলি না কেন এক নতুন মতবাদ- collectivism অর্থাৎ সমষ্টিতন্ত্র। এই মতবাদে যদি জেগে উঠতে পারি একবার, স্যালাইন খোঁজারও সময় পাবে না সেই দুরাত্মার দল। হতে পারে, সমষ্টিতন্ত্র প্রয়োগ করতে গিয়ে কিছু প্রাণ যাবে। হ্যাঁ, কখনও কখনও এমন সময় আসে, যখন জীবনের দামে কিনতে হয় সুন্দর ভবিষ্যৎ।
’৭১-এ তো আমরা লাখের হিসাবে দিয়েছিলাম প্রাণ, এবার না হয় ডজনের হিসাবে দেব। আমরা দেখতে পাচ্ছি, মরণশীলতার সংস্কৃতিই এখন পার্মানেন্ট বাংলাদেশে, বাকি সব টেমপোরারি। পার্মানেন্টকে তাই এখন বলতে হবে- বাছা, তুমিও টেমপোরারি। অজ্ঞ নিয়ম মেনে চলে আর বিজ্ঞ বানায় নিয়ম। অজ্ঞ থাকার দিন শেষ হয়ে গেছে, এখন জেগে উঠতে হবে বিজ্ঞতায়। কিছু প্রাণের বিনিময়ে অসংখ্য প্রাণ বাঁচবে- এটাই তো ইতিহাসের শিক্ষা। আমরা নিশ্চিত হতে পারি, দু-চার-দশটা সামষ্টিক কীর্তি ঘটাতে পারলে দেশে অন্তত লোকালয়ের নির্বিচার হত্যার সংখ্যা কমে আসতে থাকবে ক্রমেই। একটা তর্ক উঠবেই, প্রথম চিৎকারটা কে দেবে? এত লোক থাকতে সে-ই বা কেন নেবে ঝুঁকি? এটা সেই ‘বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে’-এর মতো কূটতর্ক। এই মানুষই নির্ঘাত মৃত্যু জেনে সায়ানাইডের স্বাদ পরখ করতে চেয়েছে এবং মরেছে। জঙ্গিরা যদি আত্মঘাতী হতে পারে, তাহলে বেঁচে থাকার স্বার্থে এবং বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা সঙ্গে নিয়েই ঝুঁকি নেয়া যাবে না কেন? নাকি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কোথাও লেখা রয়েছে- শুধু স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের আন্দোলনেই ঝুঁকি নেয়া চলবে, নিরাপদ জীবনের লক্ষ্যে তা করা যাবে না? মনোবিজ্ঞানের এক অব্যাখ্যেয় নিয়মে বাঙালি এক অসম্ভব দ্রুততায় সয়ে যাওয়ার ও মানিয়ে নেয়ার অভ্যাস রপ্ত করেছে। তার হৃদয় এখনও অক্ষত আছে বটে, অধিকাংশ অনুভূতিই মরে গেছে। তার অনুভূতি এখন কেবল নিজেকে নিয়ে, পরিবার নিয়ে- রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অনাচারে বৃক্ষের চেয়ে স্থবির, নিশ্চল সে। বুকে থাবা মেরে ঝাঁপিয়ে পড়ার কই গেল সেই দিন! বলতেই হয়, সংসারের অসংগতি, মন খারাপ করা খুঁটিনাটি মানিয়ে চলা মহৎ বটে- তা সেটা স্ত্রী/স্বামীর, সন্তান কিংবা বাবা-মার, এমনকি বন্ধুর আচরণের সঙ্গেও; কিন্তু চতুর্দিকের অন্যায়-অনাচারের সঙ্গে মিলে যাওয়ার যে শিক্ষাটা নিলাম আমরা, সেটা কি সুশিক্ষা?
পুনশ্চ : গত কলামে একটি তথ্য দিয়ে লিখেছিলাম- চন্দ্রবিজয়ের পর দুটি বাদে পৃথিবীর সব ইংরেজি পত্রিকার প্রধান শিরোনামের ভাষায় কোনো তারতম্য ছিল না। এক পাঠক সেই ব্যতিক্রম দুটি জানতে চেয়েছেন। মনে নেই ভাই। সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে চাঁদ নিয়ে কত স্বপ্ন, জ্যোৎস্নার কত রাত! আবার দাদি-নানিরা মধুর মিথ্যা শোনাতেন- সেখানে নাকি এক বুড়ি চরকায় সুতা কাটে! তবে বুড়ি সুতা না কাটলেও শৈশবে আমরা ছড়া কাটতাম- ‘আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা।’ মামা কখনও ভাগ্নে-ভাগ্নির কপালে টিপ দিতে আসেননি। তবে দুষ্ট ভাগ্নে আর্মস্ট্রং তার পিঠে এঁকে দিয়েছেন পায়ের ছাপ! আরেকবার স্যালুট আর্মস্ট্রং তোমায়। হ্যাঁ, ওই সময়টায় আমি দশম শ্রেণীর ছাত্র। তোপখানার আমেরিকান ইনফরমেশন সেন্টারে গিয়ে দেশটির পত্রপত্রিকা পড়তাম নিয়মিতই। টাইম ম্যাগাজিনের লিড আইটেমের শিরোনামটি মনে আছে- A small footprint but a giant leap for mankind- একটি ছোট্ট পদচিহ্ন, কিন্তু মানবজাতির জন্য দৈত্যাকৃতির এক বিশাল লম্ফ!
মাহবুব কামাল : সাংবাদিক
mahbubkamal08@yahoo.com

হজের প্রাক-নিবন্ধনে জটিলতা নিরসনের দাবি হাবের

হজের প্রাক-নিবন্ধনের জটিলতা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত বিজনেস অটোমেশনের অধীনে আইটি ফার্ম চূড়ান্ত নিবন্ধন না করার ঘোষণা দিয়েছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন হাব সভাপতি মো. ইব্রাহিম বাহার। তিনি বলেন, বিজনেস অটোমেশনের অধীনে আইটি ফার্মের তালিকা বাতিল করে নতুন করে নিয়োগ দিতে হবে।
এর পাশাপাশি হজ ব্যবস্থাপনার শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে ধর্মসচিব আব্দুল জলিলের অপসারণ দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশী হজযাত্রীদের কোটা আরও ৫০ হাজার বৃদ্ধি করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। হজ এজেন্সি মালিকদের এই সংগঠনের সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে ইসলামী মহাজোটের আত্মপ্রকাশ

জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে 'ইসলামী মহাজোট' ঘোষণা করলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আনুষ্ঠিকভাবে এই জোটের আত্মপ্রকাশ হয়। অনুষ্ঠানে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে আরেকটি মহাজোট গঠন করা হবে বলেও জানান এরশাদ।

খালেদার সঙ্গে সন্ধ্যায় কানাডীয় এমপির বৈঠক

কানাডিয়ান সংসদ সদস্য নাথানিয়েল এরস্কিনের নেতৃত্বে কানাডার একটি প্রতিনিধিদল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বসছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন তার প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।
বৈঠকে প্রতিনিধিদল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈকি প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভোট দিলেন জয়া- ছায়েদ

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের উপনির্বাচনে  নিজ নিজ কেন্দ্রে  ভোট দিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী ড. জয়া সেনগুপ্ত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেন রেজু। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে উপজেলা সদরের দিরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন ড. জয়া সেনগুপ্ত। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেন রেজু উপজেলার শরিফপুর কেন্দ্র সকাল ১০টার দিকে ভোট দেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে এই আসনের উপনির্বাচনে  ভোটগ্রহণ শুরু হয়। টানা বৃষ্টির কারণে সকালে উপস্থিতি কম থাকলেও ১০টার পর ভোটাদের বাড়তে থাকে। পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশীদ জানান, এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লাপাড়ায় জেএমবি সদস্য আটক

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা থেকে পলাতক জেএমবি সদস্য আমজাদ হোসেন ওরফে ল্যাংড়া আমজাদকে (৩৫) আটক করেছে র‌্যাব। বুধবার মধ্যরাতে উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের নাদা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। র‌্যাব জানিয়েছে, আমজাদ জেএমবির তামিম-সারওয়ার গ্রুপের একজন সক্রিয় সদস্য। সে ওই উপজেলার দহকুলা পূর্বপাড়া এলাকার আনসার আলীর ছেলে।
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে র‌্যাব-১২-এর অধিনায়ক এডিশনাল ডিআইজি শাহাব উদ্দিন খান এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আমজাদকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উল্লাপাড়ায় জঙ্গি কার্যক্রম সংগঠিত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন

দেশবাসীকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হবে। আমরা উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি দিচ্ছি, যাতে উন্নত শিক্ষা পেতে পারে। আমরা আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষা দিচ্ছি, যাতে প্রযুক্তি শিক্ষা তারা নিতে পারে। কাজেই সে শিক্ষা নিতে হবে এবং সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে।’ ফরিদপুরে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে বুধবার জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত যখন জঙ্গিবাদ নিয়ে কাজ করে, তখন আওয়ামী লীগ কাজ করে দেশের উন্নয়ন নিয়ে। বিএনপি জঙ্গিবাদ, বাংলাভাই, শায়খ আবদুর রহমান সৃষ্টি করেছিল। তখন বহু নিরীহ মানুষ হত্যার শিকার হয় এদের হাতে। এদের অত্যাচারে ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুল হাসান লাবলু অসুস্থ হয়ে মারা যান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বেলা ১১টা ৩১ মিনিটে হেলিকপ্টারে ফরিদপুর স্টেডিয়ামে এসে নামেন। প্রথমে সার্কিট হাউসে ওঠেন।
সেখান থেকে গাড়িতে করে যান বদরপুরে মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের শ্বশুর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বাড়িতে। জোহরের নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজ সারেন। সেখান থেকে বেলা ৩টা ১০ মিনিটে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আসেন। জনসভা মঞ্চে ওঠার আগেই তিনি মঞ্চের পাশে ১৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে মঞ্চে ওঠেন। বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামাতের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তারা কী অত্যাচারই না মানুষের ওপর করেছে। ৫০৮ জন মানুষকে তারা এই ৩ বছরে হত্যা করেছে। অন্তঃসত্ত্বা নারী পর্যন্ত তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অভিভাবক, শিক্ষক, ইমাম-মুয়াজ্জিন, ওলামা-মাশায়েখ, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, প্রশাসনসহ সবার কাছে আমার আহ্বান থাকবে- সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে, একটা ছেলেমেয়েও যেন সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকের পথে না যায়। কোনো স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়ের অনুপস্থিতির হিসাব নিতে হবে। বাবা-মাকে, নিজের ছেলেমেয়ে কার সঙ্গে মেশে, কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করে, কার সঙ্গে চলাফেরা করে তা খেয়াল রাখতে হবে। নিরীহ মানুষকে হত্যা করা আর আত্মহননের পথ বেছে নেয়া কখনও ইসলাম সমর্থন করে না। ফরিদপুরবাসীর কাছে ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ এলাকায় যখনই আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন তখনই আপনাদের উন্নতি হয়েছে। কাজেই আমি আপনাদের কাছে ওয়াদা চাই- আগামী নির্বাচন সামনে, ২০১৯ সালে নির্বাচন হবে। ... সেই নির্বাচনে আমাদের উন্নয়নের কাজ যেন অব্যাহত রাখতে পারি তার জন্য নৌকা মার্কায় আপনাদের ভোট চাই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ ঢাকা বিভাগ ভেঙে আমরা নতুন আরেকটা বিভাগ করব। ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ নিয়ে আরেকটি বিভাগ আমরা করব- সেই পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। জাতির পিতার পদাংক অনুসরণ করে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে সরকার নতুন নতুন বিভাগ করে দিচ্ছে। জনগণ যাতে বেশি সেবা পায়, যাতে আরও বেশি কাজ পায় সেই সুযোগ আমরা সৃষ্টি করে দিচ্ছি।’ দক্ষিণাঞ্চল এবং পদ্মাপারের মানুষ চিরদিন অবহেলিত ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলে এ অঞ্চলের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা জনসভায় সভাপতিত্ব করেন এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রহমান সভা পরিচালনা করেন। বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, এলজিআরডিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কাজী জাফর উল্লাহ, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বাহাউদ্দিন নাসিম প্রমুখ। সভায় প্রধানমন্ত্রীর জামাতা খন্দকার মাশরুর হোসেন মিতুকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে ফরিদপুর জেলা শহর ও সমাবেশস্থল উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতিতে বর্ণিল হয়ে ওঠে পুরো শহর। চৈত্রের প্রচণ্ড দাবদাহ অগ্রাহ্য করে দুপুরের পরপরই জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার জন্য সব বয়সী মানুষকে রাস্তার দু’ধারে, বাড়ির ছাদ বা উঁচু স্থাপনার ওপরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করা প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, পল্লীকবি জসিমউদ্দীন সংগ্রহশালা, ফরিদপুর ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি, শিশু একাডেমি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ফরিদপুর, ফরিদপুর ৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট, কুমার নদীর ওপর ৯৬ মিটার ব্রিজ, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস ফরিদপুর, ৩৩/১১ কেভি হারুকান্দি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী কুমার নদ পুনর্খনন প্রকল্প, পুলিশ হাসপাতাল, রাজেন্দ্র কলেজছাত্রী নিবাস, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নির্মাণ ইত্যাদি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ৫টা ১০ মিনিটে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। এইডস, যক্ষা ও ম্যালেরিয়া নির্মূলে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা : বাসস জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশ থেকে এইচআইভি/এইডস, যক্ষা ও ম্যালেরিয়া- এ ৩টি প্রধান ব্যাধি নির্মূলে সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বুধবার সকালে গণভবনে সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ডা. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এ আশ্বাস দেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

বৃষ্টিতে ভাঙল ব্রিজের পিলার, ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ

ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে হবিগঞ্জের মাধবপুরের রেলব্রিজের মাটি সরে একটি পিলার ভেঙে গেছে।এতে সারা দেশের সঙ্গে সিলেটের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বুধবার রাতে উপজেলার ইটাখোলা রেল স্টেশনের অদূরে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে, ব্রিজ মেরামতের কাজ করতে গিয়ে রেলের কি-ম্যান শাহাব উদ্দিন আহত হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ওই ব্রিজের গোড়া থেকে মাটি সরে গিয়ে পিলাটি পড়ে যায় বলে যুগান্তরকে জানান নয়াপাড়া রেলস্টেশনের সহকারী মাস্টার মনির হোসেন।
তিনি বলেন, ব্রিজ ধসার কারণে ভোর ৬টা থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। কখন চালু হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বিভিন্ন স্টেশনে এ লাইনে চলাচলকারী ট্রেন আটকা পড়েছে। তবে রেলওয়ের প্রকৌশলীরা ব্রিজটি মেরামত করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করে যাচেছন। রেলের প্রধান প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, গোড়ার মাটি সরে গিয়ে ব্রিজটির পিলার দুর্বল হয়ে ধসে গেছে। মেরামতের করতে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

সিলেটে বোমা আতংক, দোকান ঘিরে পুলিশ

সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহের পাশে বালুচর রোডের একটি দোকান ঘিরে রেখেছে পুলিশ। দোকানের শার্টারে কসটেপ দিয়ে মোড়ানো বোমা সদৃশ একটি বস্তু দেখার পর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। আতংক ছড়িয়ে পড়ে ওই এলাকার ব্যবসায়ী ও লোকজনের মধ্যে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ এসে ওই এলাকা ঘেরাও দিয়ে রাখে। এরপর পিবিআইয়ের টিমও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে বস্তুটি কোনো বিস্ফোরক কি না তা পরীক্ষা ও উদ্ধারের জন্য বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদের তলব করা হয়েছে।
এসএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বিভুতি ভুষণ ব্যানার্জী যুগান্তরকে বলেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দুপুর পর্যন্ত বস্তুটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, এনাম এন্টারপ্রাইজ নামের দোকানের শার্টারে বোমা সদৃশ বস্তুটি ঝুলানো রয়েছে। দোকানটি কর্ডন করে রেখেছে পুলিশ। এনাম এন্টারপ্রাইজের মালিক এনামুল হক যুগান্তরকে জানান, সকালে দোকান খুলতে এসে এই বস্তুটি দেখে পুলিশকে জানাই। আতংকে শত শত লোক এলাকায় ভিড় করছেন।

সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আশ্বাস প্রশাসনের

শ্রেণীকক্ষে দুষ্টামি করার অপরাধে মাদারীপুরের কালকিনিতে মুরাদ হোসেন (১২) নামের এক প্রতিবন্ধী ছাত্রকে পিটিয়ে জখম করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে প্রধান শিক্ষক। আহত ওই প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রমজানপুর মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র। এ ঘটনায় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি আপোষ-মিমাংসার জন্য আহত ছাত্রের পরিবারকে একের পর এক চাপ প্রয়োগ করছে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রমজানপুর এলাকার দক্ষিণ রমজানুপর গ্রামের রহমাতুল্লাহর স্কুল পড়ুয়া মানষিক প্রতিবন্ধী ছেলে মুরাদ শ্রেণী কক্ষে সহপাঠিদের সঙ্গে দুষ্টামি করে। এ অপরাধে মঙ্গলবার বিকালে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলামীন হাওলাদারের সহযোগিতায় প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান ছায়েদ ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থী মুরাদ হোসেনকে জোড় বেত দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
পরে খবর পেয়ে ছাত্রের মা রুমা বেগম তাকে উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ হলে উপজেলার সর্বত্রই সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শরীফুল ইসলাম ওই ছাত্রকে দেখতে হাসপাতালে যান। তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমানকে সঠিক বিচারের আওতায় আনা হবে বলে আহতের পরিবারকে আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, তদন্ত রিপোর্ট মোতাবেক প্রধান শিক্ষককে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে। শিক্ষার্থীর মা রুমা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে মারার ঘটনায় আমি সঠিক বিচার চাইলে আপোষ-মিমাংসার জন্য প্রধান শিক্ষককের পক্ষের লোকজন তাকে চাপ প্রয়োগ করে আসছে।কালকিনি থানার উপপরিদর্শক এসআই মোঃ জুয়েল বলেন, আহত ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বনদস্যু ছোট রাজু বাহিনীর আত্মসমর্পণ

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভির মধ্যস্থতায় এবার সুন্দববনের বনদস্যু ছোট রাজু বাহিনীর সদস্যরা আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার বরিশালের রূপাতলীতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র জমা তারা আত্মসমর্পণ করেন।
বাহিনী প্রধান রাজু মোল্লার নেতৃত্বে ১৫ সদস্য আজ আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তারা ২১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক হাজার ২৩৭ রাউন্ড গুলি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জমা দেন। এর আগে সুন্দরবনের জাহাঙ্গীর, মাস্টার, মজনু, ইলিয়াস ও খোকা বাবু বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী যমুনা টিভির মধ্যস্থতায় আত্মসমর্পণ করে।

রাত জেগে পড়ালেখায় শিশুর ঘুম রোগ

রাত জেগে লেখাপড়া করায় শিশুরা ঘুম রোগ আক্রান্ত হচ্ছে। এতে তাদের মানসিক সমস্যাসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ারও আশংকা করা হচ্ছে। এছাড়া রাত পর্যন্ত মোবাইল ফোন এবং ট্যাবলেট ব্যাবহারও শিশুদের স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য দায়ী। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের শিশু ও পরিবার মন্ত্রী এডওয়ার্ড টিম্পসন বলেন, শিশু ও তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার প্রতিরোধে শিক্ষার ভূমিকা বিষয়টি জোর দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে বুধবার যুক্তরাজ্যের কমন্স স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কমিটি বসে। সেখানে এ সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাও হয়। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। টম্পসন বলেন, গভীররাত পর্যন্ত পড়ালেখার কারণে শিশুর ঘুম কম হয়।
এভাবে রাত জেগে পরিশ্রমের তুলনায় বিশ্রাম অর্থাৎ ঘুম কম হলে যেমন শরীর ভেঙে যেতে পড়ে এতে দেখা দিতে পারে নানা সংকট। তিনি বলেন, শিশুদের স্কুলে ঘুমিয়ে পড়াটা একটি বড় ইস্যু। রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার তারা এমনটা করছে। এতে তারা পড়ালেখায়ও মনোযোগী হতে পারছে না দেখা দিচ্ছে স্বাস্থ্য সমস্যা। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ সালে ঘুম রোগে আক্রান্ত ১৪ বছরের নিচের প্রায় আট হাজার শিশু হাসপাতালে আসে। যা ২০০৫-০৬ সালে ছিল প্রায় তিন হাজার।