Monday, July 13, 2026

শিশুকে ঘন ঘন অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ালে কী হয় by ডা. মানিক মজুমদার

জ্বর হলে দোকানি বা প্রতিবেশীর পরামর্শে শিশুকে কয়েক ডোজ অ্যান্টিবায়োটিক দিলেই তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যায়—এই প্রবণতা বাংলাদেশে খুবই পরিচিত। কখনো জ্বর তিন–চার দিনের বেশি হলে মা–বাবারাই চিকিৎসককে অ্যান্টিবায়োটিক লিখতে চাপ দেন। তবে এই প্রবণতা কি ভালো?

রোগ প্রতিরোধক্ষমতায় প্রভাব

শিশুকে অপ্রয়োজনে বারবার অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো তার দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। এতে অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো শিশুর হজমশক্তি স্বাভাবিক রাখা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলতে জরুরি। বারবার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে শিশু ঘন ঘন অসুস্থ হয়। সাধারণ সর্দি-কাশির সঙ্গেও শিশুর ইমিউন সিস্টেম লড়াই করতে পারে না।

ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি হলো ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স। অপ্রয়োজনে বা অসম্পূর্ণ কোর্সে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ালে শিশুর শরীরের ব্যাকটেরিয়া ধীরে ধীরে সেই ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরে যখন শিশু সত্যিকারের মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে আক্রান্ত হয়, তখন অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করে না। বাংলাদেশে এখন এমন শিশু নিয়মিতই পাওয়া যায়, যাদের শরীরে ছয়-সাত ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক আর কোনো প্রভাব ফেলছে না। এ পরিস্থিতি কতটা ভয়ংকর তা কল্পনারও অযোগ্য।

মস্তিষ্কের বিকাশে প্রভাব

অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পর ডায়রিয়া, বমি, অ্যালার্জি বা ত্বকে র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। গবেষণায় উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য—শিশুর জীবনের প্রথম দিকে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা দিতে পারে। মনোযোগের ঘাটতি, অতিরিক্ত চঞ্চলতা ও নানা আচরণগত সমস্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

করণীয়

প্রথমত, কখনো নিজ থেকে বা দোকানির পরামর্শে শিশুকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াবেন না। কেবল নিবন্ধিত চিকিৎসক বা শিশুবিশেষজ্ঞের পরামর্শে খাওয়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, মনে রাখবেন—ভাইরাসজনিত সাধারণ সর্দি, কাশি বা জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই। সঠিক যত্নে এসব কিছুটা সময় নিয়ে এমনিতেই সেরে যায়। শিশুর পুষ্টি ও বিশ্রামের দিকে নজর দিন। তৃতীয়ত, চিকিৎসক যদি অ্যান্টিবায়োটিক দেন, পুরো কোর্স শেষ করুন। মাঝপথে বন্ধ করলে ড্রাগ রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়ে। চতুর্থত, স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে শিশুকে সঠিক সুষম পুষ্টিকর খাবার দিন। সংক্রমণ এড়াতে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি ও হাঁচি–কাশির শিষ্টাচারের দিকে লক্ষ রাখুন।

* ডা. মানিক মজুমদার, কনসালট্যান্ট (শিশুরোগ) পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লি. ময়মনসিংহ

বাংলাদেশে এখন এমন শিশু নিয়মিতই পাওয়া যায়, যাদের শরীরে ছয়-সাত ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক আর কোনো প্রভাব ফেলছে না
বাংলাদেশে এখন এমন শিশু নিয়মিতই পাওয়া যায়, যাদের শরীরে ছয়-সাত ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক আর কোনো প্রভাব ফেলছে না। ছবি: পেক্সেলস

সূর্যের সামনে স্কাইডাইভার, তৈরি হয়েছে এক অলীক আলোকচিত্র by জাহিদ হোসাইন খান

প্রাচীন গল্পে আছে, ইকারাস মোমের ডানা নিয়ে সূর্যের খুব কাছে উড়ে গিয়েছিল। তখন মোম গলে গেলে ইকারাস নিচে পড়ে যায়। সৃজনশীল এক ফটোগ্রাফার সম্প্রতি সূর্যের দারুণ এক ছবি তুলে সেই দৃশ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় একজন স্কাইডাইভার মাত্র এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশের জন্য সূর্যের সামনে দিয়ে নেমে যান। ঠিক তখনই তাঁকে ক্যামেরাবন্দী করেন অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফার অ্যান্ড্রু ম্যাককার্থি। জ্বলন্ত সূর্যের মুখের ওপর দিয়ে যেন এক মানব প্রতিকৃতি নিচে নেমে গেল, এমন দৃশ্য ধরা পড়ে ক্যামেরা লেন্সে। দৃষ্টিবিভ্রমের এক অসাধারণ কীর্তি তৈরি করেছেন অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফার অ্যান্ড্রু ম্যাককার্থি।

অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফার অ্যান্ড্রু ম্যাককার্থি নিখুঁতভাবে তাঁর ক্যামেরা দিয়ে একজন স্কাইডাইভারকে ক্যামেরার সংকীর্ণ ফিল্ড অব ভিউয়ের মধ্য দিয়ে নেমে যাওয়ার সময় ধারণ করেন। ছবিটি বেশ পরাবাস্তব এক অনুভূতি তৈরি করেছে। ইকারাসকে নিয়ে প্রাচীন মিথের সঙ্গে ছবিটি তুলনা করেছেন অনেকেই।

অ্যান্ড্রু ম্যাককার্থি চাঁদ ও সূর্যের অত্যন্ত সূক্ষ্ম ছবি তোলার জন্য পরিচিত। তিনি সূর্যের সামনে স্কাইডাইভারের এই একটি মাত্র ছবির জন্য কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। সূর্যের ছবি তোলা এমনিতেই কঠিন কাজ। সেখানে সূর্যের সামনে গতিশীল একটি বিমান বা একজন পতিত মানবকে একই ফ্রেমে আনা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। বিমানটির গতিপথ, সূর্যের কোণ, ক্যামেরার অবস্থান ও স্কাইডাইভারের অবতরণের মতো সব বিষয়কে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে এক করে কাজটি হয়েছে।

অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফার অ্যান্ড্রু ম্যাককার্থি বলেন, ‘বলা যায়, একেবারে অযৌক্তিক একটি কাজ করেছি। যদিও চূড়ান্ত ছবিটি দারুণ এক অনুভূতি দেয়। স্কাইডাইভার ছিলেন ইউটিউবার ও সংগীতজ্ঞ গ্যাব্রিয়েল সি ব্রাউন। সে সূর্যের উত্তাল হলুদ পৃষ্ঠের বিপরীতে একটি কালো সিলুয়েট বা ছায়ামূর্তি হিসেবে ছবিতে চলে এসেছে। সূর্যের অবস্থান ৯ কোটি ৩০ লাখ মাইল দূরে হলেও ক্যামেরায় দারুণভাবে দেখা যাচ্ছে সব। ইকারাসের সঙ্গে তুলনা করা ছবি অসম্ভব বলে মনে হয়। আগুনের মতো সৌর ক্রোমোস্ফিয়ারের আবহের বিপরীতে একটি সত্যিকারের মানব চিহ্ন আমাদের মুগ্ধ করে। দেখে মনে হবে যেন, মহাকাশে কেউ নিচে পড়ে যাচ্ছে।’

স্কাইডাইভাররা ব্রাউনের ৩ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতা থেকে পতন শুরু করলে প্রায় ১০ সেকেন্ড সময় ব্যয় করে প্যারাসুট খোলার আগে ছবি তোলার সুযোগ মেলে। ম্যাককার্থি একটি লুন্ট ৬০ মিলিমিটার এইচ–আলফা ক্যামেরায় তার ফ্রি ফলের ছবি তোলেন। একটি এএসআই ১ হাজার ৬০০ মিলিমিটারে একক এক্সপোজার ধারণ করা হয়। আসলে এই বিভ্রমের মূল কারণ হচ্ছে দূরত্বের সামঞ্জস্য। ব্রাউন একটি ছোট বিমান থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ ফুট ওপর থেকে লাফ দেন। আর ম্যাককার্থি প্রায় আট হাজার ফুট দূরে অবস্থান করেছিলেন। স্কাইডাইভার অবশ্যই সূর্যের কাছে ছিলেন না। শুধু ক্যামেরার দৃষ্টিকোণ থেকে নিখুঁত অবস্থানের কারণে স্কাইডাইভারকে অসম্ভব কাছাকাছি দেখাচ্ছিল। আসলে লাফ দেওয়ার আগে বিমানটিকে সঠিক অবস্থানে আনার জন্য ছয়বার চেষ্টা করতে হয়েছে। স্কাইডাইভারকে ফ্রেমে ধরার জন্য মাত্র একবারের সুযোগ ছিল। ম্যাককার্থি তাঁর মনিটরে সেই ক্ষুদ্র অবয়বটিকে সূর্যের আলোর সঙ্গে মিলিয়ে একটি নিখুঁত অবয়ব ধারণ করেন।

এই ছবিকে অনেকেই পৌরাণিক রূপকথার সঙ্গে তুলনা করছেন। গ্রিক মিথের ইকারাসের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ম্যাককার্থির এ ছবিটি সেই আখ্যানকেই একটি আধুনিক ও স্পষ্ট রূপে যেন তুলে ধরছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

সূর্যের সামনে স্কাইডাইভারের আলোকচিত্র
সূর্যের সামনে স্কাইডাইভারের আলোকচিত্র। ছবি: অ্যান্ড্রু ম্যাককার্থি