Monday, July 13, 2026
ফিফা নিরপেক্ষ নয়, এটি রাজনীতির হাতিয়ার হয়ে গেছে by জাভিয়ের আবু ঈদ
ফিলিস্তিনের অভিজ্ঞতা আরও দীর্ঘ এবং তিক্ত। বহু বছর ধরেই সেখানে ফিফার আচরণকে পক্ষপাতদুষ্ট ও দুর্নীতিগ্রস্ত বলে মনে করা হচ্ছে। অথচ ফিফার নিজস্ব সংবিধানেই স্পষ্টভাবে মানবাধিকার রক্ষার কথা বলা রয়েছে। কিন্তু ফিলিস্তিনি ফুটবলের ক্ষেত্রে সেই নীতির ধার ধারেনি সংস্থাটি।
ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বহুবার দাবি জানিয়েছে, ইসরায়েলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে নিষিদ্ধ করা হোক। কারণ, তাদের লিগের ম্যাচগুলো এমন জমিতে খেলা হয়, যা দখল করা এবং ছিনিয়ে নেওয়া ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, যেখানে অবৈধ বসতিতে থাকা দলগুলো খেলায় অংশ নেয়। কিন্তু ফিফা বারবার সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
শুধু তা–ই নয়, ফিলিস্তিনি ফুটবলারদের ওপর গণহত্যা চালানো, তাঁদের পঙ্গু করে দেওয়া, এমনকি তাঁদের আটক করার ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধেও কোনো অবস্থান নেয়নি ফিফা। সম্প্রতি ফিলিস্তিনি নারী ফুটবল দলের সদস্য র্যান্ড হালাওয়ানি এবং নাতালি আবু দায়্যেহকে আটক করা হলেও সে বিষয়ে কোনো প্রতিবাদ জানায়নি সংস্থাটি।
সম্প্রতি ধ্বংস করা হয়েছে ফিলিস্তিনের ফুটবল স্টেডিয়াম। কিন্তু তাতেও ফিফার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। ফিলিস্তিনি দলগুলোকে যাতায়াতের অনুমতি না দেওয়াসহ নানা নীতির মাধ্যমে তাদের ফুটবলকে বাধাগ্রস্ত করা হলেও সে বিষয়ে কোনো চাপ সৃষ্টি করেনি ফিফা।
ইসরায়েলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন শুধু বর্ণবাদ, দখলদারি ও বর্ণবৈষম্যমূলক ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক করে তোলেনি, বরং গাজা ও লেবাননে যুদ্ধাপরাধে যুক্ত ইসরায়েলি ফুটবলারদের অংশগ্রহণকে অভিনন্দন জানানোর মতো কাজেও যুক্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের একাধিক রায় এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও ফিফা বারবার দাবি করে এসেছে, এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে ‘অত্যন্ত জটিল’ এবং পশ্চিম তীরের চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি।
বাস্তবে এটি ইসরায়েলের বক্তব্যকেই সমর্থন করা, যা ট্রাম্প প্রশাসনও তাদের মিত্র ইসরায়েলকে রক্ষা করতে এবং ফিলিস্তিনি জমি দখলকে বৈধতা দিতে ব্যবহার করেছে।
ইসরায়েল যেমন পর্যটন, প্রত্নতত্ত্ব, ধর্ম বা কৃষিকে ব্যবহার করে তাদের অবৈধ দখলদারি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছে, তেমনই ফিফার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন নিয়ে ফুটবলকেও সেই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।
জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে ফিফার এই ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতিমধ্যেই ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগ জানিয়েছে। তাদের দাবি, তিনি জেনেশুনে এমন কাজ করেছেন, যা মানবাধিকার লঙ্ঘন, বর্ণবৈষম্য এবং যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে যুক্ত। তাদের দাবি, এ বিষয়ে একাধিক রিপোর্ট ও চিঠি তিনি উপেক্ষা করেছেন।
ফিফার নেতৃত্ব শুধু নীরব বা নিষ্ক্রিয় থাকেনি, বরং সক্রিয়ভাবে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে আড়াল করার কাজেও অংশ নিয়েছে।
গত মাসে ফিফা প্রস্তাব দেয়, অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টে শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন করা হোক। তার কয়েক সপ্তাহ আগে ইনফান্তিনো নিজে ফিলিস্তিনি ফুটবল সংস্থার প্রধানকে ইসরায়েলি ফুটবল সংস্থার প্রধানের সঙ্গে করমর্দন করতে বাধ্য করতে চেয়েছিলেন।
ফিফা যে আর নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা নেই, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী রাজনীতি থেকে দূরে থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের পররাষ্ট্রনীতির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
ইনফান্তিনোর কর্মকাণ্ডই তার প্রমাণ। ২০১৮ সালে তিনি কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ওয়াশিংটনে আব্রাহাম চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এই চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল আরব বিশ্বের সম্মিলিত আলোচনায় ফিলিস্তিন প্রসঙ্গকে সরিয়ে দেওয়া। ২০২১ সালে তিনি ডানপন্থী ইসরায়েলি সংবাদপত্র জেরুজালেম পোস্ট আয়োজিত এক সম্মেলনে অংশ নেন। আর ওই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল জেরুজালেমের মামিল্লাহ অঞ্চলের এক মুসলিম কবরস্থানের ওপর নির্মিত স্থানে।
এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফিফা প্রধান তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এই সংস্থার লক্ষ্য জাতিসংঘকে ফিলিস্তিন প্রশ্ন থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং ইসরায়েলি দখলদারি ও গণহত্যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি প্রয়াস বন্ধ করা। সেখানে তিনি ফুটবলের মাধ্যমে শান্তি ও পুনর্গঠনের নামে একটি কৌশলগত অংশীদারত্বের ঘোষণাও করেন।
বিশ্বকাপ ঘিরে চলা বিতর্কগুলোকেও এই প্রেক্ষাপটে দেখা দরকার। ফিফা তার স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছে এবং ফুটবলকে রাজনীতির বাইরে রাখার দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়িয়েছে।
আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবলার, রেফারি এবং দর্শকদের বিরুদ্ধে যে নানা নিয়মভঙ্গ করেছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইনফান্তিনোর প্রতিক্রিয়া ছিল—সবাইকে ‘শান্ত থাকতে’ হবে।
এই সব ঘটনা আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে ফিফার ওপর মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে নষ্ট করছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবল এবং তার সর্বজনীনতার ভাবমূর্তি। ইনফান্তিনো যদি তাঁর পথ আমূল পরিবর্তন না করেন, তবে তাঁর রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার ধ্বংসের এক ইতিহাস হিসেবেই বিবেচিত হবে।
তবে ফিলিস্তিনি ফুটবল হার মানবে না। ১৯০৪ সালে জেরুজালেমে সেন্ট জর্জ স্কুল দলের প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজও চলছে। ফিলিস্তিনের জীবনের প্রতিটি স্তরে ফুটবল জড়িয়ে রয়েছে। আর ফিলিস্তিনের মতোই এই খেলাও দখলদারি, গণহত্যা এবং একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ফিফার বিরুদ্ধেও টিকে থাকার শক্তি রাখে।
* জাভিয়ের আবু ঈদ, ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনের পিএইচডি গবেষক ও ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার সাবেক উপদেষ্টা।
- আল–জাজিরা থেকে নেওয়া। অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
![]() |
| ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফিফা প্রেসিডেন্ট। ছবি: রয়টার্স |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কলকাতা বিমানবন্দর–সংলগ্ন মসজিদে নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা, কী কারণ বলছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার
পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম কোনো মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হলো। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্যের জন্য বিতর্কিত শুভেন্দু অধিকারী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আগাম কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ জমিরউদ্দিন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তবে মসজিদটি স্থানান্তর করতে মসজিদ কমিটির সঙ্গে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। মসজিদটির জন্য আরও প্রশস্ত একটি জায়গা দেওয়া হবে বলেও অতীতে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী বিমান ওঠানামার পথ বা রানওয়ে থেকে কোনো অবকাঠামোর দূরত্ব ন্যূনতম ২৪০ মিটার থাকা প্রয়োজন। ‘বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদ’ নামে এই মসজিদ রানওয়ে থেকে ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত। সে কারণে এটিকে স্থানান্তরিত করা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য যে অঞ্চল চিহ্নিত করা হয়েছে, মসজিদটি তার ভেতরে অবস্থিত। সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ) নামে একটি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে অঞ্চলটি। ভারতে সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তার দায়িত্বে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে সিআইএসএফ। তারাও এই স্থাপন নিয়ে অতীতে আপত্তি জানিয়েছে। তবে এখনো পশ্চিমবঙ্গে বড় মাপের কোনো মসজিদ বন্ধ করা হয়নি বা সেখানে নামাজ পড়ায় বাধা দেওয়া হয়নি। এই প্রথম শনিবার বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদে নামাজ বন্ধ করে দেওয়া হলো।
সমস্যা হলো, কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপিত হয়েছে ১৯২৪ সালে আর মসজিদটি স্থাপিত হয়েছে ১৮৯০ সালে। অর্থাৎ বিমানবন্দর তৈরির ৩৪ বছর আগে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এ অঞ্চল সে সময় অবিভক্ত বাংলার অংশ ছিল এবং গ্রামের মানুষের টাকায় মসজিদটি বানানো হয়।
আজ যেখানে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, একসময় সেখানকার গ্রাম থেকেও মানুষ এসে এই ঐতিহাসিক মসজিদে নামাজ আদায় করতেন, যেমন আসতেন পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর মহকুমার মানুষও। আঞ্চলিক ইতিহাস নিয়ে রচিত প্রবন্ধে মসজিদটির যে উল্লেখ রয়েছে, সেখান থেকেই এ তথ্য পাওয়া যায়।
ওই সময় মসজিদটির নাম ছিল ‘গৌরীপুর জামে মসজিদ’ এবং বর্তমানে এটির নাম ‘বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদ’। বাংলাদেশ–লাগোয়া উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ এ মসজিদে এখনো নামাজ আদায় করেন।
এ ঘটনায় যাতে উত্তেজনা না ছড়ায়, সেদিকে নজর রাখতে মসজিদ কমিটিসহ স্থানীয় সব সামাজিক সংগঠনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ভারতের বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক, কিন্তু এ নিয়ে কেউ রাস্তায় নামবেন না। আমরা বিজেপির সঙ্গে ঝগড়া চাই না। আমরা চাই যেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মসজিদে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে। জোর করে মসজিদের দরজা বন্ধ করে দেওয়া ঠিক কাজ হয়নি।’
বিষয়টি সম্পর্কে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন যেমন দারুল উলুম দেওবন্দ, মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড এবং জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য আবেদন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক গ্রন্থাগারমন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।
![]() |
| পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফাইল ছবি |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের দাবি কি ট্রাম্পের কাছে জানাব: মোদি সরকারকে ওমর আবদুল্লাহর প্রশ্ন
জম্মু শহরে মহারাজা হরি সিং পার্কের ওই জনসভায় ওমর আবদুল্লাহ তাঁদের আন্দোলনকে দিল্লি নিয়ে আসার সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি কটাক্ষ করে বলেন, ‘নির্বাচনের পর দুই বছর কেটে গেল। এখনো সরকার তার প্রতিশ্রুতি পালন করল না। অথচ সেই কবে থেকে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতারা বলে চলেছেন, ঠিক সময়ে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এই প্রতিশ্রুতি তাঁরা সংসদেও দিয়েছিলেন।’
এরপরই ওমর আবদুল্লাহর প্রশ্ন, ‘দাবি আদায়ে আমাদের কি তাহলে এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে যেতে হবে? বিজেপি বলে দিক, দিল্লি না গিয়ে আমরা কি তবে এবার হোয়াইট হাউসের সামনে ধরনায় বসব?’
জম্মু–কাশ্মীর রাজ্য দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট। সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ খারিজও সেই দিনে। সেই থেকে জম্মু–কাশ্মীর ও লাদাখ দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। যদিও বিজেপিশাসিত কেন্দ্রীয় সরকার বলেছিল, জম্মু–কাশ্মীরকে ঠিক সময়ে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
পাঁচ বছর পর ২০২৪ সালে জম্মু–কাশ্মীর বিধানসভার নির্বাচন হয়। নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার রাজ্যের হৃত মর্যাদা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেই প্রতিশ্রুতি এমনকি ভারতীয় সংসদেও দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টকেও সরকারের পক্ষে বলা হয়েছে, ঠিক সময়ে রাজ্যের মর্যাদা ফেরানো হবে। সেই থেকে সাত বছর অতিক্রান্ত। অথচ এখনো সেই প্রতিশ্রুতি পালন করেনি মোদি সরকার।
জনসভায় বিশাল এক ব্যানার লাগানো হয়েছিল। তাতে লেখা, ‘দিল্লি চলো। আমরা আমাদের রাজ্য ফেরত পেতে চাই’। আরও ব্যানারে লেখা ছিল, ‘আমাদের রাজ্য আমাদের গর্ব, আমাদের রাজ্য আমাদের হক’।
মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের অপেক্ষা, আমাদের নীরবতাকে ওরা দুর্বলতা ভাবছে। ওরা আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। আমরা দুর্বল নই। আমরা ধৈর্যের শেষ সীমায় পৌঁছে গেছি।’
জম্মু–কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেন্দ্রকে আমরা অনেক সময় দিয়েছি। দুই বছর ধরে নানাভাবে কথা বলেছি। বিভিন্ন উপায়ের খোঁজ করেছি। আর নয়। এবার অন্য কৌশল নিতে হবে। দিল্লি গিয়ে ধরনা দিতে হবে। ২০ জুলাই থেকে সেই নতুন অধ্যায় শুরু হবে।’
ওমর আবদুল্লাহ আরও বলেন, এই দাবি শুধু ন্যাশনাল কনফারেন্সের নয়; এই দাবি সবার। এমনকি বিজেপিরও। তারাও এই দাবি পূরণ হবে বলে ভোট চেয়েছিল। একজন বিজেপি নেতাকেও পাওয়া যাবে না, যিনি রাজ্যের বিরোধিতা করেছিলেন।
ওমর বলেন, ‘যতবার রাজ্যের কথা জানিয়েছি, প্রতিবার শুনেছি, ঠিক সময়ে তা দেওয়া হবে।’ তাঁর প্রশ্ন, সেই ঠিক সময়টা কবে আসবে? তাহলে কি তারা বিজেপির ক্ষমতায় আসার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে? তা–ই যদি হয়, তাহলে সেটা তারা স্পষ্ট করে জানাক।’
জম্মু–কাশ্মীর বিধানসভার বিরোধী নেতা বিজেপির সুনীল শর্মা গতকাল এ প্রসঙ্গে বলেন, সরকার পরিচালনায় ব্যর্থতা ঢাকতেই মুখ্যমন্ত্রী নতুন এই পথে হাঁটতে চলেছেন।
ওমর আবদুল্লাহ সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন, বিজেপি তাঁর সরকার ফেলে দেওয়ার চক্রান্ত করছে। বলেছেন, তাঁর দলের শীর্ষ নেতাদের ভাঙিয়ে নিতে একেকজনকে ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকার টোপ দিয়েছে।
গত শনিবারও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর দলের এক বিধায়ককে ৩০ কোটি টাকা দেবে জানিয়ে বিজেপি বলেছে, দল ত্যাগ করলে মন্ত্রী করবে এবং বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মর্যাদাও ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
ওমর বলেন, এমন একজন ওই প্রস্তাব দিয়েছেন, যিনি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। কিন্তু একজন বিধায়ককেও ওরা পাবে না। ২০ থেকে ৩০ কোটি কেন, ১০০ কোটি দিলেও কেউ দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেবেন না।
গত নির্বাচনে জম্মু–কাশ্মীর বিধানসভায় ৯০ আসনের মধ্যে ন্যাশনাল কনফারেন্স ৪২ ও কংগ্রেস ৬ আসনে জয়ী হয়। এই জোটের সঙ্গে ছিল সিপিএমও। তারা ১টি আসন জেতে। ৪৯ আসন জিতে সরকার গড়েন ওমর আবদুল্লাহ। বিজেপি জেতে ২৯ আসন। মেহবুবা মুফতির পিডিপি মাত্র ৩টি আসনে জয়ী হয়েছিল।
ওমর আবদুল্লাহর আশঙ্কা, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি এবার নজর দিয়েছে জম্মু–কাশ্মীরের ওপর। তাঁদের দল ভাঙিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসতে চাইছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, রাজ্যের দাবিতে ওমরের দিল্লি অভিযানের সিদ্ধান্ত বিজেপির সেই উদ্যোগ রোখা ও দলকে জোটবদ্ধ রাখা।
![]() |
| শ্রীনগরের হজরত বাল মসজিদে এক অনুষ্ঠানে মোনাজত করছেন জম্মু–কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। ১১ জুলাই ২০২৬, শ্রীনগর। ছবি: এএনআই |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নতুন হামলায় বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর ড্রোনবহর ধ্বংস হয়ে গেছে, দাবি ইরানের
মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, পারস্য উপসাগরের সরু প্রবেশপথ দিয়ে যাওয়ার সময় আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) নিশানা করার পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানের সামরিক–বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
একসময় এই পথ দিয়েই বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হতো। এই প্রণালি দিয়ে সামুদ্রিক যান চলাচল নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান—দুই পক্ষই পরস্পরবিরোধী দাবি করে আসছে। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে এই প্রণালি তেহরানের জন্য একটি বড় শক্তির জায়গা।
এ অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের পাল্টা হামলার মুখে পড়েছে। তেহরান এই সাম্প্রতিক হামলার কথা স্বীকার করেছে, যাতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ভেঙে পড়ার আশঙ্কা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র কী বলেছে
মার্কিন সামরিক বাহিনী গতকাল থেকে ইরানের ওপর আরও হামলা চালানো শুরু করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোতে ইরানের হামলা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা কমিয়ে দিতে বিভিন্ন স্থানে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে গোলাবারুদ দিয়ে ডজন ডজন লক্ষ্যবস্তুতে’ আঘাত হেনেছে।
এসব লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের সামরিক বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার সাইট, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন–সক্ষমতা এবং ছোট নৌকা।
সেন্টকম আরও দাবি করেছে, তারা প্রথমবারের মতো ‘মার্কিন ফাইটার বিমান, নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, একমুখী আত্মঘাতী ড্রোন এবং একমুখী আত্মঘাতী সামুদ্রিক ড্রোন’ ব্যবহার করেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী এর আগে দাবি করেছিল, তারা প্রায় ১৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে—যা গত সপ্তাহের আগের দুই দফার হামলার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘গত রাতে আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমাবর্ষণ করেছি।’
মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা
মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে ইরানি বাহিনী বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান, এমনকি ওমানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে। ওমান ও ইরানের আঞ্চলিক জলসীমায় হরমুজ প্রণালির অবস্থান। ইরানের বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। তেহরান দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে একটি মার্কিন ড্রোনবহর ধ্বংস করেছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের মহাকাশ বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণকেন্দ্র, একটি পি-৮ বিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং একটি মার্কিন সামরিক ড্রোন কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টারে আঘাত হেনেছে।
ইরানি গণমাধ্যম আরও দাবি করেছে, তেহরান কুয়েতে থাকা মার্কিন বাহিনীর ওপরও ‘বিধ্বংসী ড্রোন’ হামলা চালিয়েছে। ওই ঘাঁটিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা, বাংকার ও আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। ইরানের আইআরজিসি এর আগে কুয়েতের আলী সালেম এবং আহমাদ আল-জাবের ঘাঁটিতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই হামলা পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে উত্তেজনা কমাতে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় গত কয়েক মাসের সব প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরও অভিযোগ, ‘হরমুজ প্রণালিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বাস্তবায়নে ইরানের প্রক্রিয়ায় প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ করে মার্কিন প্রশাসন সেখানে আবারও নিরাপত্তাহীনতা ফিরিয়ে এনেছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে।
আল–জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলার আঘাতে ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহর এলাকায় কৃষি পানি পাম্পিং স্টেশনে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগবিষয়ক উপ-গভর্নর ওয়ালিওল্লাহ হায়াতি বলেন, হামলাটি শনিবার ভোরের দিকে হয়েছে। নিহত ব্যক্তি ওই কেন্দ্রের নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন।
মার্কিন বাহিনী ইরানের খুজেস্তান প্রদেশ, হরমোজগান প্রদেশ এবং সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের শহরগুলোতে হামলা চালিয়েছে। হরমোজগান প্রদেশের অন্তত চারটি স্থানে—জাস্ক, সিরিক, কেশম দ্বীপ এবং বন্দর আব্বাসে—বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে রাডার সাইট এবং সামরিক স্থাপনা রয়েছে।
খুজেস্তান প্রদেশের ওমিদিয়েহ, মাহশাহর, বেহবাহান, দেজফুলসহ আহভাজের আশপাশের এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। সিস্তান-বেলুচিস্তানের চাবাহারের কাছাকাছি এলাকায় এবং মারকাজি প্রদেশের খোন্দাব শহরের বাইরে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে পানির শোধনাগাগার রয়েছে।
| ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। মার্কিন সেন্টকম অবশ্য কোথায় হামলা চালানো হয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু বলেনি। ১২ জুলাই ২০২৬, ইরান। ছবি: রয়টার্স |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরান যুদ্ধে ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার, ভবিষ্যতে টিকে থাকা নিয়ে শঙ্কা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ ঘোষণা করার পর এ উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্নেল মার্ক কানসিয়ান বলেন, বর্তমান গতিতে যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত এমন পর্যায়ে নেমে যেতে পারে, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে।
যুদ্ধের প্রথম ধাপেই যুক্তরাষ্ট্র কয়েক হাজার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। সিএসআইএসের হিসাব অনুযায়ী, গত এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তাদের অন্তত অর্ধেক থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর, প্রায় অর্ধেক প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ৩০ শতাংশ টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষক মাইকেল ও'হ্যানলন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত কমে গেছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।
এই ঘাটতি পূরণ করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। বর্তমানে পেন্টাগন প্রতি মাসে গড়ে মাত্র ১৫টি টমাহক ও ২০টি নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে। আর ২০২৬ সালে নতুন কোনো থাড ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই।
সাবেক পেন্টাগন কর্মকর্তা এলেন ম্যাককাসকার বলেন, অধিকাংশ অস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দুই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এদিকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিশেষজ্ঞ জন ফেরারি বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য কংগ্রেস থেকে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ হয়নি। ফলে উৎপাদন এখনো স্বাভাবিক গতিতেই চলছে।
এই পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস যুদ্ধ ব্যয় মেটাতে কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত অর্থ চেয়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে ‘ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট’ ব্যবহার করে উৎপাদন প্রক্রিয়া দ্রুত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে এসব পদক্ষেপের সুফল পেতে সময় লাগবে। কারণ নতুন উৎপাদন লাইন চালু করা সহজ নয়। উদাহরণ হিসেবে জাপানে একটি প্যাট্রিয়ট কারখানা নির্মাণে তিন বছর লেগেছে, আর জার্মানি ২০২২ সালে কাজ শুরু করলেও এখনো উৎপাদন শুরু করতে পারেনি।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল অবশ্য দাবি করেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী এখনো যুক্তরাষ্ট্রেরই এবং যে কোনো সময় প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র ও সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
মাইকেল ও’হ্যানলন মনে করেন, চীন বা উত্তর কোরিয়াকে প্রতিহত করার সক্ষমতা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের আছে। তবে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে এই সক্ষমতা কমে যেতে পারে। সেই পর্যায়টি ঠিক কোথায়, তা হয়তো আমরা জানতে পারব না, কারণ এটি মূলত শত্রুর মনস্তত্ত্বের ওপর নির্ভর করে।'
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মহাকাশে প্রথম সেলফি by জাহিদ হোসাইন খান
১৯৬৬ সালের একটি আনুষ্ঠানিক ফটোগ্রাফকে কখনো কখনো মহাকাশের প্রথম সেলফি হিসেবে দাবি করা হয়। খোলা মহাকাশে কোনো মহাকাশচারীর নিজের তোলা প্রথম সেলফি ক্যামেরাবন্দী করেন কিংবদন্তী নভোচারী এডউইন ই বাজ অলড্রিন জুনিয়র। সেই ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছিল জেমিনি-১২ মহাকাশ অভিযানে। মহাকাশযানের ডকিং কৌশল পরীক্ষা করার লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালের ১১ নভেম্বর সেই মিশন উৎক্ষেপণ করা হয়। অভিযানের কমান্ডার ছিলেন জেমস এ লভেল জুনিয়র ও পাইলট ছিলেন বাজ অলড্রিন।
১৯৬৬ সালের ১৩ নভেম্বর অলড্রিন তার তিনটি স্পেসওয়াকের মধ্যে দ্বিতীয়টি শুরু করেন। এটি ছিল একটি ২ ঘণ্টা ৬ মিনিটের তারযুক্ত টিথারড স্পেসওয়াক। এই স্পেসওয়াক চলাকালীন তাঁর মূল কাজ ছিল দৃশ্যমান তারকাক্ষেত্রের ছবি তোলা। কাজের ফাঁকেই অলড্রিন একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি করেন। তিনি স্পেসস্যুটে থাকা অবস্থায় নিজের একটি ছবি তোলেন। সেই ছবিকেই বলা হয় পৃথিবীর বাইরের প্রথম সেলফি। ছবিতে বাজ অলড্রিনকে মহাকাশের গভীর পটভূমিতে তার স্পেসস্যুট এবং হেলমেটের সম্মুখ অংশসহ দেখা যায়। যদিও ছবিতে মহাকাশযানের কিছু অংশ ও পৃথিবীকে প্রতিফলিত হতে দেখা যায়।
পরবর্তী সময়ে অ্যাপোলো–১১ অভিযানে চন্দ্রভ্রমণ করেন নভোচারী বাজ অলড্রিন। তিনি জানান, তাঁর ঝুলিতে একটি প্রথম কীর্তি রয়েছে। বাজ অলড্রিনের সেই ছবি ১৯৬৬ সালের জেমিনি–১২ অভিযানে দিনের বেলায় তোলা হয়। তিনি একটি আলট্রাভায়োলেট (ইউভি) ক্যামেরা ব্যবহার করছিলেন ছবি তোলার সময়। ছবিতে অলড্রিনকে দেখা যায় তাঁর ব্যবহৃত ইউভি ক্যামেরার পাশে। সেই ক্যামেরা যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও নভোচারী কার্ল হেনাইজের মস্তিষ্কপ্রসূত যন্ত্র ছিল। আলট্রাভায়োলেট বিকিরণ তারা শোষিত ও নির্গত বিভিন্ন ধরনের বিকিরণের মধ্যে একটি। ইউভি বিকিরণ ভিন্ন একধরনের রঙের পরিসর, যা আমরা দেখতে পাই না।
জেমিনি ১২ যানে ব্যবহৃত ইউভি ক্যামেরা দেখতে সাধারণ ক্যামেরার মতোই ছিল। সেখানে একটি বিশেষ ইউভি লেন্স ও ফিল্টার ব্যবহার করা হয়, যেন ক্যামেরায় পৌঁছানো ইউভি রশ্মি ছাড়া অন্য সব বিকিরণ ফিল্টার হয়ে যায়। এই ইউভি রশ্মিকে একটি প্রিজমের মাধ্যমে পাঠানো হয়, যেন আলট্রাভায়োলেট আলোর বর্ণালি তৈরি হয়। মিশনে ব্যবহৃত আসল ক্যামেরাটি বর্তমানে স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামের সংগ্রহে রয়েছে।
সূত্র: অ্যামেচার ফটোগ্রাফার
![]() |
| মহাকাশে স্পেসওয়াকের সময় প্রথম সেলফি তোলেন বাজ অলড্রিন। ছবি: সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শিশুকে ঘন ঘন অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ালে কী হয় by ডা. মানিক মজুমদার
রোগ প্রতিরোধক্ষমতায় প্রভাব
শিশুকে অপ্রয়োজনে বারবার অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো তার দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। এতে অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো শিশুর হজমশক্তি স্বাভাবিক রাখা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলতে জরুরি। বারবার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে শিশু ঘন ঘন অসুস্থ হয়। সাধারণ সর্দি-কাশির সঙ্গেও শিশুর ইমিউন সিস্টেম লড়াই করতে পারে না।
ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি হলো ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স। অপ্রয়োজনে বা অসম্পূর্ণ কোর্সে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ালে শিশুর শরীরের ব্যাকটেরিয়া ধীরে ধীরে সেই ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরে যখন শিশু সত্যিকারের মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে আক্রান্ত হয়, তখন অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করে না। বাংলাদেশে এখন এমন শিশু নিয়মিতই পাওয়া যায়, যাদের শরীরে ছয়-সাত ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক আর কোনো প্রভাব ফেলছে না। এ পরিস্থিতি কতটা ভয়ংকর তা কল্পনারও অযোগ্য।
মস্তিষ্কের বিকাশে প্রভাব
অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পর ডায়রিয়া, বমি, অ্যালার্জি বা ত্বকে র্যাশ দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। গবেষণায় উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য—শিশুর জীবনের প্রথম দিকে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা দিতে পারে। মনোযোগের ঘাটতি, অতিরিক্ত চঞ্চলতা ও নানা আচরণগত সমস্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
করণীয়
প্রথমত, কখনো নিজ থেকে বা দোকানির পরামর্শে শিশুকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াবেন না। কেবল নিবন্ধিত চিকিৎসক বা শিশুবিশেষজ্ঞের পরামর্শে খাওয়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, মনে রাখবেন—ভাইরাসজনিত সাধারণ সর্দি, কাশি বা জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই। সঠিক যত্নে এসব কিছুটা সময় নিয়ে এমনিতেই সেরে যায়। শিশুর পুষ্টি ও বিশ্রামের দিকে নজর দিন। তৃতীয়ত, চিকিৎসক যদি অ্যান্টিবায়োটিক দেন, পুরো কোর্স শেষ করুন। মাঝপথে বন্ধ করলে ড্রাগ রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়ে। চতুর্থত, স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে শিশুকে সঠিক সুষম পুষ্টিকর খাবার দিন। সংক্রমণ এড়াতে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি ও হাঁচি–কাশির শিষ্টাচারের দিকে লক্ষ রাখুন।
* ডা. মানিক মজুমদার, কনসালট্যান্ট (শিশুরোগ) পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লি. ময়মনসিংহ
![]() |
| বাংলাদেশে এখন এমন শিশু নিয়মিতই পাওয়া যায়, যাদের শরীরে ছয়-সাত ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক আর কোনো প্রভাব ফেলছে না। ছবি: পেক্সেলস |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সূর্যের সামনে স্কাইডাইভার, তৈরি হয়েছে এক অলীক আলোকচিত্র by জাহিদ হোসাইন খান
অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফার অ্যান্ড্রু ম্যাককার্থি নিখুঁতভাবে তাঁর ক্যামেরা দিয়ে একজন স্কাইডাইভারকে ক্যামেরার সংকীর্ণ ফিল্ড অব ভিউয়ের মধ্য দিয়ে নেমে যাওয়ার সময় ধারণ করেন। ছবিটি বেশ পরাবাস্তব এক অনুভূতি তৈরি করেছে। ইকারাসকে নিয়ে প্রাচীন মিথের সঙ্গে ছবিটি তুলনা করেছেন অনেকেই।
অ্যান্ড্রু ম্যাককার্থি চাঁদ ও সূর্যের অত্যন্ত সূক্ষ্ম ছবি তোলার জন্য পরিচিত। তিনি সূর্যের সামনে স্কাইডাইভারের এই একটি মাত্র ছবির জন্য কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। সূর্যের ছবি তোলা এমনিতেই কঠিন কাজ। সেখানে সূর্যের সামনে গতিশীল একটি বিমান বা একজন পতিত মানবকে একই ফ্রেমে আনা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। বিমানটির গতিপথ, সূর্যের কোণ, ক্যামেরার অবস্থান ও স্কাইডাইভারের অবতরণের মতো সব বিষয়কে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে এক করে কাজটি হয়েছে।
অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফার অ্যান্ড্রু ম্যাককার্থি বলেন, ‘বলা যায়, একেবারে অযৌক্তিক একটি কাজ করেছি। যদিও চূড়ান্ত ছবিটি দারুণ এক অনুভূতি দেয়। স্কাইডাইভার ছিলেন ইউটিউবার ও সংগীতজ্ঞ গ্যাব্রিয়েল সি ব্রাউন। সে সূর্যের উত্তাল হলুদ পৃষ্ঠের বিপরীতে একটি কালো সিলুয়েট বা ছায়ামূর্তি হিসেবে ছবিতে চলে এসেছে। সূর্যের অবস্থান ৯ কোটি ৩০ লাখ মাইল দূরে হলেও ক্যামেরায় দারুণভাবে দেখা যাচ্ছে সব। ইকারাসের সঙ্গে তুলনা করা ছবি অসম্ভব বলে মনে হয়। আগুনের মতো সৌর ক্রোমোস্ফিয়ারের আবহের বিপরীতে একটি সত্যিকারের মানব চিহ্ন আমাদের মুগ্ধ করে। দেখে মনে হবে যেন, মহাকাশে কেউ নিচে পড়ে যাচ্ছে।’
স্কাইডাইভাররা ব্রাউনের ৩ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতা থেকে পতন শুরু করলে প্রায় ১০ সেকেন্ড সময় ব্যয় করে প্যারাসুট খোলার আগে ছবি তোলার সুযোগ মেলে। ম্যাককার্থি একটি লুন্ট ৬০ মিলিমিটার এইচ–আলফা ক্যামেরায় তার ফ্রি ফলের ছবি তোলেন। একটি এএসআই ১ হাজার ৬০০ মিলিমিটারে একক এক্সপোজার ধারণ করা হয়। আসলে এই বিভ্রমের মূল কারণ হচ্ছে দূরত্বের সামঞ্জস্য। ব্রাউন একটি ছোট বিমান থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ ফুট ওপর থেকে লাফ দেন। আর ম্যাককার্থি প্রায় আট হাজার ফুট দূরে অবস্থান করেছিলেন। স্কাইডাইভার অবশ্যই সূর্যের কাছে ছিলেন না। শুধু ক্যামেরার দৃষ্টিকোণ থেকে নিখুঁত অবস্থানের কারণে স্কাইডাইভারকে অসম্ভব কাছাকাছি দেখাচ্ছিল। আসলে লাফ দেওয়ার আগে বিমানটিকে সঠিক অবস্থানে আনার জন্য ছয়বার চেষ্টা করতে হয়েছে। স্কাইডাইভারকে ফ্রেমে ধরার জন্য মাত্র একবারের সুযোগ ছিল। ম্যাককার্থি তাঁর মনিটরে সেই ক্ষুদ্র অবয়বটিকে সূর্যের আলোর সঙ্গে মিলিয়ে একটি নিখুঁত অবয়ব ধারণ করেন।
এই ছবিকে অনেকেই পৌরাণিক রূপকথার সঙ্গে তুলনা করছেন। গ্রিক মিথের ইকারাসের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ম্যাককার্থির এ ছবিটি সেই আখ্যানকেই একটি আধুনিক ও স্পষ্ট রূপে যেন তুলে ধরছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
![]() |
| সূর্যের সামনে স্কাইডাইভারের আলোকচিত্র। ছবি: অ্যান্ড্রু ম্যাককার্থি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
-
▼
2026
(1462)
-
▼
July
(256)
-
▼
Jul 13
(8)
- ফিফা নিরপেক্ষ নয়, এটি রাজনীতির হাতিয়ার হয়ে গেছে by...
- কলকাতা বিমানবন্দর–সংলগ্ন মসজিদে নামাজ আদায়ে নিষেধা...
- পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের দাবি কি ট্রাম্পের কাছে জানাব: মো...
- নতুন হামলায় বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর ড্রোনবহর ধ্বং...
- ইরান যুদ্ধে ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ড...
- মহাকাশে প্রথম সেলফি by জাহিদ হোসাইন খান
- শিশুকে ঘন ঘন অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ালে কী হয় by ডা...
- সূর্যের সামনে স্কাইডাইভার, তৈরি হয়েছে এক অলীক আলোক...
-
▼
Jul 13
(8)
-
▼
July
(256)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...






