Monday, March 14, 2016

ট্রাম্পের বক্তব্যের কারণেই প্রচারে সহিংসতা বাড়ছে

ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সভায় গোলযোগ লেগেই রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের এগিয়ে থাকা এ মনোনয়নপ্রার্থী শুক্রবার সহিংসতার আশঙ্কায় শিকাগোতে তাঁর জনসভা বাতিল করে দেন। এর পরের দিন শনিবারও ওহাইও অঙ্গরাজ্যে এক সভায় তাঁকে লক্ষ্য করে এক যুবক মঞ্চে উঠে এলে নিরাপত্তাকর্মীদের হস্তক্ষেপে তাঁকে ধরে ফেলা হয়। একই দিন মিসৌরিতে আরেক সভায় বিক্ষোভকারীদের কারণে ট্রাম্পের জনসভা কয়েকবার বাধাগ্রস্ত হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পর্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের প্রচারাভিযানে হিংসাত্মক ভাষা ব্যবহারের ঘটনায় গত শনিবার বিদ্রূপ করে তাঁকে তিরস্কার করেছেন ওবামা। বিতর্কিত ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি বা তাঁর সমর্থকেরা নয়, বিক্ষোভকারীরাই গন্ডগোল পাকানোর জন্য দায়ী। তিনি বলেন, এসব বিক্ষোভকারীর অধিকাংশই ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ‘কমিউনিস্ট বার্নি স্যান্ডার্সের’ সমর্থক। তবে ট্রাম্পের তিন নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী, টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ, ওহাইওর গভর্নর জন কেইসিক ও ফ্লোরিডার সিনেটর মার্কো রুবিও, বিগত কয়েক দিনে ট্রাম্পের বিভিন্ন সভায় সহিংস গোলযোগের জন্য তাঁর উত্তেজক কথাবার্তাকেই দায়ী করেছেন। ইতিপূর্বে ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের মুগুরপেটা করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁর সমর্থকদের। জোর করে সভা থেকে টেনেহিঁচড়ে একজন বিক্ষোভকারীকে নিয়ে যাওয়ার সময় একবার ট্রাম্প বলেন, ‘আগের দিন হলে এসব বিক্ষোভকারীকে স্ট্রেচারে করে সভাস্থল থেকে উদ্ধার করতে হতো।’
গভর্নর কেইসিক শনিবার তাঁর নিজের রাজ্য ওহাইওতে প্রচারের সময় সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ট্রাম্পের উত্তেজক কথাবার্তার দরুন ‘বিষাক্ত পরিবেশের’ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘অনেক হয়েছে, আর নয় আমেরিকায় এমন আচরণের কোনো স্থান নেই’। প্রতিদ্বন্দ্বী রুবিও আরও কঠোর ভাষায় ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমস-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্প যে উত্তেজক ও সহিংস রাজনীতি করছেন, একমাত্র তৃতীয় বিশ্বের একনায়কদের সঙ্গে তার তুলনা চলে। এমন প্রেক্ষাপটেই টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসে শনিবার ডেমোক্রেটিক পার্টির তহবিল সংগ্রহ অভিযানে ট্রাম্পের নিন্দা করেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। রিপাবলিকান মনোনয়নপ্রার্থীর এক স্লোগানকে ইঙ্গিত করে ওবামা বলেন, ‘আমেরিকা এখনই মহান দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।’ ট্রাম্প শুক্রবার শিকাগোয় এক নির্বাচনী অনুষ্ঠানে স্লোগান দিয়ে বলেন, ‘আসুন, আমেরিকাকে আবার মহান করি।’ তাঁকে তিরস্কার করে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ‘যাঁরা প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রতিযোগিতায় নেমেছেন, তাঁদের গুরুত্ব দেওয়া উচিত আমরা কীভাবে আরও দেশটাকে ভালো করতে পারি সেই বিষয়ে। কাউকে অবমাননা এবং স্কুলমাঠের মতো টিটকারি ও কিছু বানিয়ে বলা নয়, বর্ণ ও বিশ্বাস নিয়ে বিভক্তিও নয়। অন্য নাগরিকদের প্রতি সহিংসতা অবশ্যই ঘটতে দেওয়া যাবে না।’ ট্রাম্পবিরোধী প্রচারণা যে ফল দিচ্ছে তার আরেক প্রমাণ মিলেছে শনিবার ওয়াইওমিং ও ওয়াশিংটন রাজ্যের বাছাইপর্বের ভোটে। এই দুই রাজ্যে যথাক্রমে টেড ক্রুজ ও মার্কো রুবিও অধিকাংশ ডেলিগেট সংগ্রহে সক্ষম হয়েছেন।

জার্মানির তিন রাজ্যের ভোটে ম্যার্কেলের নীতির পরীক্ষা

আঙ্গেলা ম্যার্কেল
জার্মানির তিন রাজ্যে গতকাল রোববার আঞ্চলিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনকে ১০ লাখের বেশি শরণার্থীকে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের অভিবাসন নীতির পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ায় নাগরিকদের একাংশের ক্ষোভের ওপর ভর করে ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) নির্বাচনে ভালো করার প্রত্যাশা করছে। জার্মানির তিন রাজ্য বাডেন-ভুয়েটেমবার্গ, রাইনল্যান-প্যালাটিনো এবং স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের আঞ্চলিক পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিন রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ২০ লাখের বেশি। গত বছর শুরু হওয়া শরণার্থীদের ঢলের পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই নির্বাচন। উদার অভিবাসন নীতি অনুসরণ করে চ্যান্সেলর ম্যার্কেল মধ্যপ্রাচ্যে গৃহযুদ্ধের ফলে গৃহহারা হওয়া শরণার্থীদের জন্য তাঁর দেশের দ্বার খুলে দেন।
জার্মান নেতার এই নীতির প্রতি একধরনের গণভোট এই নির্বাচন। জার্মানির ডুসেলডর্ফ ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ইয়েন বালহার বলেন, এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শরণার্থী নিয়ে সরকারের বিতর্কিত নীতির একটি অ্যাসিড টেস্ট এই নির্বাচন। নির্বাচনের আগে পরিচালিত একাধিক জরিপে দেখা গেছে, ম্যার্কেলের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) এবং এর ছোট শরিক সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এসপিডি) সমর্থন পড়তির দিকে। অন্যদিকে এএফডির জনপ্রিয়তা বেশ বাড়ছে। সিডিইউয়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বাডেন-ভুয়েটেমবার্গে পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা যায়, দলটির সমর্থন ১০ শতাংশ কমে গেছে। ১১ শতাংশ জনপ্রিয়তা বেড়েছে এএফডির। রাজ্যে সিডিইউয়ের প্রার্থী গুইডো উলফ গতকালের নির্বাচনকে তাঁর দলের জন্য ‘সবচেয়ে কঠিন নির্বাচন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।