Wednesday, November 24, 2010

খবর- এক দশক পর ছেলের সঙ্গে দেখা হলো সু চির

অবশেষে ১০ বছর পর মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে তাঁর ছোট ছেলে কিম অ্যারিসের সঙ্গে দেখা হলো। গতকাল মঙ্গলবার ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দরে মা-ছেলের দেখা হয়। বিমানবন্দরে অ্যারিসকে স্বাগত জানাতে সু চির সঙ্গে তাঁর আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আবেগতাড়িত কণ্ঠে সু চি বলেন, ‘আমি খুবই আনন্দিত। আমি খুবই খুশি।’ ছেলে কিম অ্যারিস গায়ের জামা খুলে তাঁর বাহুতে আঁকা ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) প্রতীক দেখান। মায়ের বাহু জড়িয়ে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, দেশে প্রায় দুই সপ্তাহ তিনি অবস্থান করবেন। এরপর মা-ছেলে ইয়াঙ্গুনের বাড়িতে যান। ওই বাড়িতেই বছরের পর বছর গৃহবন্দী ছিলেন সু চি।

যুক্তি তর্ক গল্পালোচনা- 'ট্রানজিটঃ অর্থের বাইরে প্রাপ্তিযোগও ভাবতে হবে' by কে এ এস মুরশিদ

ভারতের উত্তর-পূর্ব সাতটি রাজ্যে ভারতের অন্য অংশ তথা পশ্চিমাংশ থেকে পণ্য পরিবহনের জন্য বাংলাদেশ ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। তবে ট্রানজিট দেওয়ার ক্ষেত্রে চারটি বিষয় সবার আগে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, ট্রানজিটযোগ্য পণ্যের চাহিদা নিরূপণ; দ্বিতীয়ত, ট্রানজিটের পণ্য বহনে সবচেয়ে ভালো পরিবহন (রেল, নৌ ও সড়ক) পদ্ধতি নির্ধারণ; তৃতীয়ত, সময় ও ব্যয় সাশ্রয় এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এর লাভ ভাগাভাগি; চতুর্থত, ট্রানজিট পরিচালনা।

খবর- আমনের বাম্পার ফলনেও বাড়ছে চালের দাম by ইফতেখার মাহমুদ

সারা দেশে আমন ধান কাটার ধুম পড়েছে। গত বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত হয়েছে ২৩ শতাংশ কম। প্রতি মাসেই বঙ্গোপসাগরে ছিল একাধিক নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়। এই সবকিছুই উপেক্ষা করে কৃষকের মাঠে এখন সোনারঙা ধানের সমারোহ। তবে কৃষকের মুখের এই হাসি ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে পারছে না। এই সময়টায় সাধারণত ধানের দাম কমে যায়। ফলন ভালো হলে তো কথাই নেই, দাম কমবেই। কিন্তু এবার এর উল্টো চিত্র। আমন ওঠার সঙ্গে সঙ্গে দেশের ধান-চালের প্রধান মোকাম ও হাটগুলোতে ধানের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'বাড়ি নিয়ে বাড়াবাড়ি' by ফজলুল বারী

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখন বাস্তুহারা! ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মঈনুল রোডের ঠিকানাটি তাঁর আর নেই। ৯ বিঘা জমির ওপর বিশাল সেই বাড়ি এখন দেশের সবচেয়ে আলোচিত। যদিও সরকার থেকে পাওয়া তাঁর আরেকটি বাড়ি আছে গুলশানে। পৃথক দুটি বাড়ি আছে সাভার-খিলগাঁওয়ে। শ্বশুরবাড়ির বসতভিটা আছে বগুড়ায়। পিত্রালয় আছে দিনাজপুর-ফেনীতে। ২৯ মিন্টো রোডে আছে বিরোধীদলের নেত্রীর সরকারি বাড়ি। তবু তিনি বাস্তুহারা! ঢাকা সেনানিবাসের বাড়িটি অবশ্য কখনো নিজের টাকায় কেনেননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিছু দিন আগে মহাজোট নেতা এরশাদকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, 'স্বামী হত্যাকারীর কাছ থেকে তিনি বাড়িটি নিয়েছেন।' এর সঙ্গে আরেকটি প্রশ্ন উস্কে দিয়ে রাখলেন শেখ হাসিনা। এর জন্যই কি কখনো জিয়া হত্যার বিচারে উৎসাহ দেখাননি খালেদা জিয়া?

আলোচনা- 'খাদ্যনিরাপত্তা ও পশুসম্পদ' by ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান

মানবসভ্যতার সূচনা হয়েছিল কৃষিকাজের মাধ্যমে। বর্তমানেও কৃষির উন্নয়ন ছাড়া বিশ্বের সিংহভাগ দেশেরই উন্নয়ন কোনোভাবে সম্ভব নয়। কৃষি একদিকে যেমন জনগণের খাদ্য জোগায়, অন্যদিকে শিল্পকারখানার চাকা সচল রাখতে শিল্পের কাঁচামালেরও জোগান দেয়। কৃষির মাধ্যমে বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান, শিল্পের বাজার সৃষ্টি, জাতীয় আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, পরনির্ভরশীলতা হ্রাস, জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, খাদ্য সরবরাহসহ আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি বৃদ্ধি পায়।

আলোচনা- 'আমি বাস্তুহারা'_এ কথার মানে কী?' by এ এন রাশেদা

'বাস্তু' মানে বহুকালের বসতভূমি বা পুরুষানুক্রমে যে বাড়িতে বাস করা হয়; অভিধান সে কথাই বলে। বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির সভানেত্রী খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের বলেছেন, 'আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি আজ বাস্তুহারা।' কোনো এক পত্রিকায় দেখলাম গৃহহারা শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। ১৯৭১ সালে এ দেশের এক কোটি মানুষ প্রাণভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে সীমান্তের ওপারে বাস্তুহারা হয়ে যে কী পরিমাণ দুঃখকষ্টের মধ্যে দিন যাপন করেছেন, কখনো-বা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় বসবাস করে কলেরায় শিশু-সন্তানহারা হয়েছেন, কেউ মাতৃহারা-পিতৃহারা হয়েছেন, কেউবা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চলে গেছেন_খালেদা জিয়া মনে হয় তা কখনোই জানার চেষ্টা করেননি।

গল্পালোচনা- 'বাংলাদেশকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র' by মোস্তফা কামাল

১৯৭৪ সালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে 'তলাবিহীন ঝুড়ি' বলে তিরস্কার করেছিলেন। বাংলাদেশকে নিয়ে এত বড় নেতিবাচক উক্তি এযাবৎকালে আর কেউ করেনি। তাঁর সেই উক্তির জের এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশ। এ ছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুধু এ জনপদকেই ক্ষতবিক্ষত করছে না; বাংলাদেশের ভাবমূর্তির ওপরও মারাত্মক আঘাত হেনে চলেছে। এসব নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণার শেষ নেই। বিগত জোট সরকারের আমলেও পশ্চিমা গণমাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অসংখ্য প্রতিবেদন বেরিয়েছে। সেই নেতিবাচক প্রতিবেদনের ধকল সামলে ওঠার আগেই জঙ্গিবাদ এ দেশে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আর এতে পশ্চিমা গণমাধ্যম যেন মওকা পেয়ে বসে। সুযোগ পেলেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটা প্রতিবেদন করতে পারলে যারা পুলকিত হয় তারা বিএনপিকে বাহবা দিতে কসুর করেনি। কারণ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার তখন আশ্রয়-প্রশ্রয় না দিলে জঙ্গিদের বিস্তার ঘটতে পারত না।

অপ্রতিরোধ্য বখাটেরা

বখাটেদের দৌরাত্ম্য থামছেই না। নাটোরের মিজানুর রহমান ও ফরিদপুরের চাঁপা রানী ভৌমিকের পর এবার বখাটেদের হাতে প্রাণ হারালেন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ৭০ বছরের বৃদ্ধ আবদুস সোবহান। ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া নাতনিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় তাঁকে মেরে ফেলা হলো। অন্যদিকে, রংপুরের বদরগঞ্জে বখাটেদের হামলায় আহত হয়ে এখন হাসপাতালে ছটফট করছে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রী। গত শনি ও রোববার দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্ত্যক্তের অভিযোগে ১১ জনকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় যেমন বখাটেদের অপ্রতিরোধ্য দাপট, তেমনি নারীর জন্য সামাজিক পরিসরে যে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজমান, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
নারীকে উত্ত্যক্ত করা একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যখন নারী ও পুরুষের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাধাগুলো একে একে সরে যাচ্ছে, তখন নারীর প্রতি এ ধরনের সহিংসতা বেড়ে যাওয়া উদ্বেগজনক। একজন পুরুষ যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে পথে চলতে পারে, নারী যদি তার পথচলায় সেই আত্মবিশ্বাস না পায়, তাহলে সামাজিক অর্জনগুলো মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে নারীর পথচলার মতো মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত এই উত্ত্যক্ততা। এটি নারীর প্রতি লিঙ্গীয় সন্ত্রাস ছাড়া কিছু নয়।
এ ধরনের সহিংসতার সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে অল্প বয়সী নারী। বয়সজনিত নাজুকতার কারণে এরা বেশি উত্ত্যক্তের শিকার হয়, অন্যদিকে তাদের ওপর প্রভাবও পড়ে মারাত্মক। তারা সহজে ঘাবড়ে যায়। শারীরিক আঘাতের চেয়ে ভয়াবহ আঘাত লাগে মনে। বখাটেদের নির্যাতন, ত্রাস সৃষ্টিজনিত মানসিক ক্ষতির কারণে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে বেশ কয়েকটি।
যেকোনো সামাজিক ব্যাধির পেছনেই নৈতিকতার প্রশ্ন জড়িত থাকে। তবে যে সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা সেসব ব্যাধির মূলে, সেগুলোর দিকে নজর দেওয়া সমাধানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বখাটেদের দাপটের মূল উৎস সমাজের বিদ্যমান পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব। সুশিক্ষা ও সুষ্ঠু সংস্কৃতিচর্চার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে একে পরাস্ত করতে হবে।
আমাদের সমাজে যত দিন দুর্বৃত্তরা নারীকে লাঞ্ছিত করে, তার জীবন ধ্বংস করে পার পেয়ে যেতে পারে, তত দিন নারীর জন্য সামাজিক পরিসর নিরাপদ হবে না। যারা বখাটেদের অত্যাচারের শিকার, তাদের সুরক্ষা ও সহায়তা দেওয়া এবং অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া সমাজ ও রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের যন্ত্রণা এবং নতুন মুক্তিযোদ্ধা সনদ' by হারুন হাবীব

সরকারি কাজের দীর্ঘসূত্রতা এবং একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর হেঁয়ালিপনা সাধারণ মানুষকে কতটা বিপন্ন বা অসহায় করে তার অসংখ্য প্রমাণ আছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অযোগ্য এবং অসৎ আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি অবস্থানের বিপরীতে কাজ করে। এমনও দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করে গুরুত্বপূর্ণ কাজও তারা ঝুলিয়ে রাখে। আমি জানি না, আমার লেখার বিষয় নিয়ে ঠিক তেমনি কোনো অযোগ্যতা বা নিষ্ক্রিয়তা কাজ করেছে কি না। তবে এটি অবশ্যই অবিশ্বাস করার মতো ঘটনা যে হাইকোর্টের রায়ের পরও মাসের পর মাস ধরে তা বাস্তবায়ন হয়নি! উচ্চ আদালতের রায় পাওয়ার পরও ৪৭১ জন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার বন্ধ ভাতা আজও চালু হয়নি।

১৩ প্রতিষ্ঠানের লেনদেন স্থগিত

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী ১৩টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন স্থগিত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। শেয়ারের মূল্য অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেন স্থগিত করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেন স্থগিত থাকবে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ১. সোনালি আনাস ২. মিথুন নিটিং ৩. তাল্লু স্পিনিং ৪. সিএসসি কামাল ৫. সাফকো স্পিনিং ৬. মিরাকেল ইন্ডাস্ট্রিজ ৭. স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ৮. আজিজ পাইপস ৯. বাংলাদেশ অটোকারস ১০. ইউনাইটেড এয়ার ১১. দেশ গার্মেন্টস ১২. ঢাকা ডাইং এবং ১৩. আম্বি ফার্মা।

দেশবন্ধু পলিমারের আইপিও পেয়েছেন ৩২ হাজার আবেদনকারী

দেশবন্ধু পলিমার লিমিটেডের আইপিও লটারির ড্র আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোট ১৮ লাখ আবেদনকারীর মধ্যে ৩২ হাজার মানুষ শেয়ার পেয়েছেন। লটারির ড্র কার্যক্রম পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির (বুয়েট) অধ্যাপক মোস্তফা আকবর। এ সময় সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল মোস্তফা আকবরকে সহায়তা করেন। বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারীর উপস্থিতিতে এ ড্র অনুষ্ঠিত হয়।
ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশবন্ধু পলিমারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম রহমান, নির্বাহী পরিচালক আশরাফ সালেহীন, কোম্পানি সচিব লিয়াকত আলী খান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রতিনিধি আনিসুর রহমান, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রতিনিধি গোলাম ফারুক ও প্রতিষ্ঠানটির ইস্যু ব্যবস্থাপক ইউনিয়ন ক্যাপিটালের কর্মকর্তা সাইফুদ্দীন এম নাসের। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
দেশবন্ধু পলিমারের আইপিওর জন্য প্রবাসীসহ মোট ১৮ লাখ বাংলাদেশির আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে লটারির মাধ্যমে ৩২ হাজার আবেদনকারী লটারি জেতেন।
অধ্যাপক মোস্তফা আকবর বলেন, লটারি পুরোপুরি স্বচ্ছ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমে ডিজিট বেছে নিয়ে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে এ লটারি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
জানা যায়, দেশবন্ধু পলিমার লিমিটেডের ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৫০০টি শেয়ারে মার্কেট লট নির্ধারণ করা হয়। প্রতি লটের বিপরীতে ৬৮ দশমিক ৩৬ গুণ আবেদন জমা পড়ে। প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজার থেকে ১৬ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য ১ কোটি ৬০ লাখ সাধারণ শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটির ইস্যু ম্যানেজার হলো ইউনিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড।
ইউনিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড সূত্রে জানা যায়, ২৭ নভেম্বর থেকে আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশবন্ধুর রিফান্ড ওয়ারেন্ট ও এলটমেন্ট লেটার বিতরণ করা হবে। অনলাইন ব্যাংকগুলোর হিসাবে রিফান্ড জমা হবে। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে যাঁরা এলটমেন্ট ও রিফান্ড ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হবেন, তাঁদের এলটমেন্ট লেটার ও রিফান্ড ওয়ারেন্ট নিজ নিজ ঠিকানায় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হবে।
এ ছাড়া দেশবন্ধু পলিমারের আইপিও লটারির ড্রয়ের ফলাফল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নিজস্ব ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

আবারও চাঙা শেয়ারবাজার

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময় চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। সর্বশেষ মার্জিন ঋণ অর্ধেকে কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। কমিশনের আশা অনুযায়ী একদিন কিছুটা সংশোধন হলেও আজ মঙ্গলবার আবার চাঙা হয়ে ওঠে শেয়ারবাজার। বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করেন, নতুন শেয়ার বাজারে না এলে বাজার কোনোভাবেই টেনে ধরা সম্ভব নয়। অপরদিকে বর্তমান অবস্থার সুযোগ নিয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ভিত্তির কোম্পানি বাজারে এলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে অব্যাহতভাবে শেয়ারবাজার চাঙাভাব থাকায় চিন্তিত হয়ে পড়ে কমিশন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার বিনিয়োগকারীদের জন্য মার্জিন ঋণ ১ঃ১ থেকে কমিয়ে ১ঃ০.৫ করার সিদ্ধান্ত নেয় এসইসির বাজার পর্যালোচনা কমিটি। কিন্তু এসইসির এই সিদ্ধান্তে গতকাল সোমবার বাজার কিছুটা সংশোধন হলেও আজ আবার চাঙাভাব লক্ষ করা যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও পুঁজিবাজার-বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, এসইসি বিভিন্নভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে, যা বাজার শীতল বা শান্ত রাখার প্রচেষ্টার অংশ। তবে বর্তমানে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা অনেক বেশি। তাঁরা নগদ টাকা নিয়ে বাজারে আসছেন বিধায় এ অবস্থায় বাজার নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার সরবরাহ বাড়ালে বাজার কিছুটা শীতল হবে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে নির্দিষ্ট সময় পার হলেও তালিকাভুক্ত সরকারি শেয়ার ছাড়তে না পারার ব্যাপারে আবু আহমেদ বলেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ঘোষণা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত নয়টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে আসতে না পারার পেছনে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যথায় অব্যাহতভাবে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি চলতে থাকবে। তিনি মনে করেন, সরকারি নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো উদাহরণ হলে তা পরবর্তী সময়ে কাজে আসবে।
আরেক বাজার-বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, নতুন কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে এটা ঠিক। তবে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না, জানা নেই। নতুন কোম্পানি বাজারে আনার ব্যাপারে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) লেগে থাকতে হবে।
বজার পরিস্থিতি: ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ সাধারণ মূল্যসূচক ৩৩ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট বেড়ে ৮৫৫৪ দশমিক ৮২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া মোট ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৬টির, কমেছে ৯৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট তিনটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর।
আজ ডিএসইতে মোট দুই হাজার ৭৩৬ কোটি টাকার কিছু বেশি লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে প্রায় নয় কোটি টাকা কম।
আজ লেনদেনে শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো: বেক্সিমকো, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস, ইউসিবিএল, স্কয়ার টেক্সটাইল, আরএন স্পিনিং, বেক্সটেক্স, এনসিসি ব্যাংক, এনবিএল, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক ও মেঘনা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি।
আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে অ্যাকটিভ ফাইনের শেয়ারের দর। এ ছাড়া সিনোবাংলা, দুলামিয়া কটন, সিএমসি কামাল, আজিজ পাইপ, এম্বি ফার্মা, বিডি ফিন্যান্স, প্রভাতী ইনস্যুরেন্স, ইস্টার্ন ইনস্যুরেন্স ও মেঘনা লাইফ ইনস্যুরেন্স দর বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
এদিকে আজ সবচেয়ে বেশি কমেছে কোহিনুর কেমিক্যালের শেয়ারের দর। এ ছাড়া ফেডারেল ইনস্যুরেন্স, এইমস প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, ইস্টার্ন হাউজিং, স্টাইল ক্রাফট, কে অ্যান্ড কিউ, বিডি ল্যাম্প, আলহাজ টেক্সটাইল ও আরামিট সিমেন্ট দর কমে যাওয়া শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
আজ ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩,৫৮,৮৯৬ কোটি টাকা।

অন্ধত্ব নিরাময়ে যুক্তরাষ্ট্র মানব ভ্রূণ স্টেম সেল ব্যবহার শুরু করছে

অন্ধত্ব নিরাময়ে পরীক্ষামূলকভাবে মানব ‘ভ্রূণ স্টেম সেল’ (ইএস সেল) ব্যবহার শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানি এ ঘোষণা দেয়। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানবদেহে প্রক্রিয়াটি কীভাবে কাজ করে, তা পরীক্ষা করে দেখার জন্যই এই উদ্যোগ নিয়েছে তারা।
মাত্র ১২ জন রোগীর ওপর এই পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হবে। দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার সাধারণ অসুখে ভোগা এসব রোগীর চিকিৎসায় মানব ইএস সেল থেকে নেওয়া চোখের অক্ষিপটের কোষ ব্যবহার করা হচ্ছে।
মার্কিন কোম্পানি অ্যাডভান্স সেল টেকনোলজি (এসিটি) এই পরীক্ষা করছে। কোম্পানির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বব ল্যানজা বলেন, এর আগে ইঁদুরের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এতে দেখা গেছে, কোনো ধরনের টিউমার বা কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না করে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া রোগটি প্রতিরোধ করতে পারে এই চিকিৎসাপদ্ধতি।
বব ল্যানজা আরও বলেন, প্রাণীর ক্ষেত্রে এই কোষ খুব ভালো কাজ দেখিয়েছে। মানবদেহে যদি পদ্ধতিটি একইভাবে কাজ করে, তা হলে এটি হবে একটি বড় সাফল্য। এই পদ্ধতি পরিচালনা ও পরীক্ষার কাজে অর্থায়ন করছে এসিটি। অবশ্য এ ধরনের পরীক্ষা চালানোর আগে কোম্পানিকে যুক্তরাষ্ট্রের এ-সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় সংস্থা ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়েছে।
জারকন গ্রুপ নামের আরেকটি মার্কিন কোম্পানিও গত মাসে একই ধরনের পদ্ধতির পরীক্ষা শুরু করে। সেটি ছিল মানবদেহে স্টেম সেল ব্যবহার করে রোগ প্রতিরোধ করার প্রথম পরীক্ষা। তারা স্পাইনাল কর্ড বা মেরুরজ্জুর আঘাত সারাতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে।
বিজ্ঞনীরা বলছেন, ক্যানসার ও অন্যান্য রোগের চিকিৎসায় ইএস সেলের ব্যবহার যুগান্তকারী সাফল্য বয়ে আনতে পারে। কিন্তু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের চিকিৎসাপদ্ধতির বিরোধিতা করছে। তারা বলছে, ইএস সেলের গবেষণা বিতর্কিত। কারণ এ ধরনের কোষ আহরণ করতে গেলে মানবভ্রূণ ধ্বংস হয়।

‘উত্তর কোরিয়ার পরমাণু স্থাপনা হতাশাব্যঞ্জক ও উসকানিমূলক’

উত্তর কোরিয়ার নতুন পরমাণু স্থাপনা হতাশাব্যঞ্জক ও উসকানিমূলক। তবে এটা কোনো সংকট সৃষ্টি করছে না। উত্তর কোরিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিফেন বসওয়ার্থ গতকাল সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে এ মন্তব্য করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরমাণুবিজ্ঞানী সিগফ্রিড ১২ নভেম্বর উত্তর কোরিয়ার নতুন ইয়ংবিয়ন পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শন শেষে জানিয়েছেন, সেখানে একটি কক্ষে তিনি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ যন্ত্র সেন্ট্রিফিউজ দেখেছেন, যার সংখ্যা হবে সহস্রাধিক। আশঙ্কা করা হচ্ছে, উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে পিয়ংইয়ং আরও শক্তিশালী পরমাণু বোমা বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিম সাং-এইচওয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর স্টিফেন বলেন, এ তথ্য হতাশাব্যঞ্জক হলেও পরিস্থিতি সংকটময় নয়। দূত বলেন, পিয়ংইয়ংয়ের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের লক্ষ্য কী, তা পর্যবেক্ষণ ও বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার নতুন পরমাণু স্থাপনা ২০০৫ সালে করা ছয় জাতির চুক্তির পরিপন্থী।
ছয় জাতির চুক্তির অংশ হিসেবে ২০০৮ সালে একটি গ্যাস গ্রাফাইট স্থাপনা বন্ধ করে দেয় পিয়ংইয়ং। এর আগেই অবশ্য পর্যাপ্ত প্লুটোনিয়াম সমৃদ্ধ করে। ধারণা করা হয়, ওই প্লুটোনিয়াম দিয়ে ছয় থেকে আটটি পরমাণু বোমা বানানো সম্ভব।
পিয়ংইয়ং ২০০৯ সালের এপ্রিলে ছয় জাতির আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসে। ভবিষ্যতে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নাকচ না করে দিয়ে মার্কিন দূত স্টিফেন বলেছেন, তবে কেবল আলোচনার স্বার্থে আলোচনায় বসা হবে না।
যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা করে আসছিল, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক বোমা বানানোর উদ্দেশ্যেই নতুন নতুন পরমাণু স্থাপনা গড়ে তুলছে। পরমাণুবিজ্ঞানী সিগফ্রিড হেকারের দেওয়া তথ্য ওয়াশিংটনের এত দিনের আশঙ্কার সত্যতা নিশ্চিত করে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস।
২০০৯ সালে উত্তর কোরিয়া থেকে আন্তর্জাতিক পরমাণু পরিদর্শকদের বের করে দেওয়ার সময় এ ধরনের পরমাণু স্থাপনা দেশটিতে ছিল না। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে হেকার বলেন, উত্তর কোরিয়ার নতুন পরমাণু স্থাপনা অত্যাধুনিক। তবে এই স্থাপনায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ চলছে, নাকি বোমা বানানোর লক্ষ্যে উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের চেষ্টা চলছে, এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেননি হেকার।
যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল মাইকেল মুলেন বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার স্পর্শকাতর নতুন পরমাণু স্থাপনা নির্মাণ উদ্বেগের বিষয়। ওই স্থাপনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে পিয়ংইয়ং ওই এলাকাকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। অথচ পিয়ংইয়ং বরাবরই বলে আসছে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে না। গত শনিবার এবিসি টেলিভিশনকে এসব কথা বলেন মুলেন।
উত্তর কোরিয়া ২০০৬ ও ২০০৯ সালে দুবার পরমাণু বোমার পরীক্ষা।

বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে জাপানের বিচারমন্ত্রীর পদত্যাগ

নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করার জের ধরে জাপানের বিচারমন্ত্রী মিনোরু ইয়ানাগিদা পদত্যাগ করেছেন। গতকাল সোমবার টোকিওতে একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান ইয়ানাগিদার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।
গত সেপ্টেম্বর মাসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কানের মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসের পর এটাই কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগ করার প্রথম ঘটনা। ইয়ানাগিদা মাত্র দুই মাস বিচারমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তিনি এমন সময়ে পদত্যাগ করলেন, যখন নাওতো কানের নেতৃত্বাধীন জাপানের জোট সরকার অর্থনৈতিক মন্দা এবং চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে ভীষণ চাপের মধ্যে রয়েছে।
গত সপ্তাহে হিরোশিমায় সমর্থকদের উদ্দেশে ইয়ানাগিদা কৌতুক করে বলেছিলেন, ‘বিচারমন্ত্রী হিসেবে আমার কাজটা খুবই সহজ। এ ক্ষেত্রে আমাকে দুটি কথা মনে রাখতে হয়। প্রথমত, আমি কোনো ব্যক্তিগত মামলা সম্পর্কে মন্তব্য করব না। দ্বিতীয়ত, যেকোনো মামলার ক্ষেত্রে আমি আইন ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ওপর জোর দেব।’
এর আগেও বিতর্কিত মন্তব্য করার জন্য জাপানের পর্যটনমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

চীনে আবারও বিষাক্ত মেলামিনযুক্ত দুধ!

চীনে আবারও উচ্চমাত্রার বিষাক্ত মেলামিনযুক্ত দুগ্ধজাত সামগ্রীর খোঁজ পেয়েছে কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গতকাল সোমবার এ কথা জানিয়েছে।
চায়না ডেইলি পত্রিকা জানায়, ৫০ মোড়ক তরল দুধ খুঁজে বের করার জন্য স্থানীয় সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছে হুবেই প্রদেশের জিয়াংফাং শহর কর্তৃপক্ষ। তবে প্রতিটি মোড়কে কী পরিমাণ দুধ আছে তা জানা যায়নি।
পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ওই তরল দুধ উৎপাদনের সময়ই তাতে উচ্চমাত্রার মেলামিন মেশানো হয়েছে।
সাধারণত প্লাস্টিকজাতীয় পণ্য তৈরিতে মেলামিন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ২০০৮ সালে চীনে দুগ্ধজাত পণ্যে মেলামিন মেশানোর বিষয়টি ধরা পড়ে। ওই সময় মেলামিনযুক্ত গুঁড়ো দুধ পান করে দেশটিতে ছয় শিশুর মৃত্যু হয় এবং অসুস্থ হয়ে পড়েছিল প্রায় তিন লাখ শিশু।
দুগ্ধজাত পণ্যে প্রোটিনের মাত্রা বেশি করে দেখানোর জন্য এতে মেলামিন মেশান অসাধু ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এই মেলামিন শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
২০০৮ সালে বিষয়টি ধরা পড়ার পর চীন সরকার জানিয়েছিল, বিষাক্ত মেলামিনযুক্ত সব গুঁড়ো দুধ নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মেলামিন মিশ্রিত পণ্য ধরা পড়ছে। গত জুলাই মাসে এ রকম ২৫ হাজার টন গুঁড়ো দুধ আটক করেছিল চীনা কর্তৃপক্ষ।

কারামুক্তির জন্য আবারও আবেদন করেছেন নলিনী

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজিব গান্ধীকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত নলিনী শ্রীহরণ আবারও মুক্তির জন্য আবেদন জানিয়েছেন।
তামিলনাড়ু সরকারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মাদ্রাজ হাইকোর্ট। নলিনী বর্তমানে তামিলনাড়ু রাজ্যের ভেলোরের একটি কারাগারে রয়েছেন। গত এপ্রিলে একই আদালত নলিনীর একই ধরনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।
নলিনী গত বছরের সেপ্টেম্বরে মুক্তির দাবিতে অনশন করেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমার বয়স ৪৩ বছর। ১৮ বছর কারাভোগ শেষে বেশি দিন বাঁচার আশা নেই। তাই শেষ দিনগুলো নিজের বাড়িতে কাটানোর সুযোগ দিন।’
রাজিব গান্ধী ১৯৯১ সালের ২১ মে তামিলনাড়ুতে আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন। ওই বছরই নলিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৯৯ সালে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন সুপ্রিম কোর্ট। নলিনী কারাগারে কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর রাজিব গান্ধীর স্ত্রী সোনিয়া গান্ধীর মধ্যস্থতায় তাঁর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ রদ করা হয়। পরিবর্তে নলিনীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

নিখোঁজ শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা

নিউজিল্যান্ডের কয়লা খনিতে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হতে থাকায় খনিতে তিনদিন ধরে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারকাজ এখনো শুরু করা যায়নি। কর্তৃপক্ষ আটকে পড়া ২৯ শ্রমিকের অবস্থান জানতে খনিতে রোবট পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে।
খনিতে আটক শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে তাঁদের আত্মীয়স্বজন ও সরকারের মধ্যে মিশ্র অনুভূতি ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী জন কি বলেছেন, তাঁদের বেঁচে থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উদ্ধারকর্মীরা বলেছেন, খনিতে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি এবং ভেতরে খাবার না থাকায় তাঁদের মৃত্যুর আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
উদ্ধারকর্মীরা গতকাল সোমবারও খনিতে নামতে না পারায় শ্রমিকদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, উদ্ধারকাজে বিলম্ব হওয়ায় তাঁদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করার সম্ভাবনা ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছে।
সাউথ আইল্যান্ডের গ্রে মাউথ এলাকার পাইক রিভার কয়লাখনিতে গত শুক্রবার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ২৯ জন শ্রমিক আটকা পড়েন। উদ্ধারকর্মীরা বলেছেন, খনিমুখ থেকে এখনো বিষাক্ত গ্যাসের নিঃসরণ হচ্ছে। এ ছাড়া সেখানে গর্ত খুঁড়ে নামতে গেলে আবারও বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন। সে কারণে গতকালও তাঁরা খনিতে নামতে পারেননি। তবে তাঁরা ১৫ সেন্টিমিটার ব্যাসের একটি গর্ত খোঁড়া শুরু করেছেন। ওই গর্ত দিয়ে দূর নিয়ন্ত্রিত একটি রোবট ও ক্যামেরা পাঠিয়ে শ্রমিকদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। এ ছাড়া ভেতরের গ্যাসের মাত্রা বোঝারও চেষ্টা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জন কি বলেছেন, খনির নিচে অক্সিজেন রয়েছে এবং শ্রমিকেরা কোনো অক্সিজেনপূর্ণ ফোকর খুঁজে নিয়ে সেখানে আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারেন। এ কারণে তাঁদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
গ্রে মাউথে অবস্থানরত বিবিসির সাংবাদিক ফিল মার্কার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ কথা স্বজনদের মনে আশার সঞ্চার করবে। তবে খোদ উদ্ধারকর্মীদের মনেই শ্রমিকদের বেঁচে থাকা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
উদ্ধারকর্মীদের প্রধান সাপ্ট গ্যারি নলেস বলেছেন, হতভাগ্য শ্রমিকেরা মারা যেতে পারেন—এমন আশঙ্কা মাথায় রেখে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েই তাঁরা সর্বোচ্চ চেষ্টায় উদ্ধারের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, খনিতে নামার সময় শ্রমিকেরা যে অক্সিজেন মাস্ক নিয়েছিলেন, তা দিয়ে কয়েক দিন বেঁচে থাকা সম্ভব। তবে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি সেই সম্ভাবনাকে কমিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া খাওয়ার পানি ছাড়া তাঁদের সঙ্গে কোনো খাবার ছিল না। এ কারণে যতই সময় পার হচ্ছে, ততই তাঁদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের আশা কমে যাচ্ছে।

রাজকীয় প্রটোকল ভেঙে অটোগ্রাফ দিলেন প্রিন্স চার্লস

ব্রিটেনের প্রিন্স চার্লস রাজপরিবারের প্রটোকল ভেঙে অটোগ্রাফ (নিজের হাতে স্বাক্ষর) দিয়েছেন। একটি বন্যাদুর্গত পরিবারের অনুরোধে তিনি প্রটোকল ভাঙেন।
ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ভারী বর্ষণে কর্নওয়ালের আবাসিক এলাকার একটি বড় অংশ ডুবে যায়। দুর্গত ব্যক্তিদের অবস্থা দেখতে চার্লস সেখানে যান। কর্নওয়ালের সেন্ট ব্লেজিতে মেগ হেন্ডি ও তাঁর স্বামী টনি হেন্ডির বাড়িতে আসেন চার্লস। ঘরদুয়ার ডুবে যাওয়ায় ওই পরিবারটি দুর্ভোগে পড়েছে দেখে চার্লস তাদের খোঁজখবর নেন ও সান্ত্বনা দেন। ওই বাসা থেকে বের হওয়ার সময় চার্লস তাদের জিজ্ঞেস করেন, তিনি তাদের কোনোভাবে সাহায্য করতে পারেন কি না।
চার্লসের এ কথায় মেগ হেন্ডি জানান, তাঁরা টাকাপয়সা চান না। তবে তাঁর ছেলে টম হেন্ডির জন্য চার্লস যদি একটি অটোগ্রাফ দেন, তাহলে তিনি খুব খুশি হবেন। রাজপরিবারের প্রটোকল অনুযায়ী চার্লস অটোগ্রাফ দেন না। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে তিনি হেন্ডি দম্পতির ছেলের জন্য একটি কাগজে লেখেন ‘চার্লস ২০১০’।

শিগগিরই সু চির কাছে আসছেন ছেলে অ্যারিস

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি ছোট ছেলে কিম অ্যারিসের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাচ্ছেন। গতকাল সোমবার সু চির আইনজীবী জানান, অ্যারিসের (৩৩) মিয়ানমারে যাওয়ার ভিসা অনুমোদন করেছে সামরিক জান্তা। এতে গৃহবন্দিত্ব থেকে সদ্য মুক্তি পাওয়া মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন তিনি।
সু চির আইনজীবী নিয়ান উইন সাংবাদিকদের জানান, এর মধ্যে অ্যারিস ভিসা পেয়ে গেছেন। দ্রুত দেশে আসার চেষ্টা করছেন তিনি। মায়ের মুক্তি পাওয়ার ব্যাপারে আভাস পাওয়ার পর অ্যারিস লন্ডনের বাড়ি থেকে ব্যাংককে গিয়ে অবস্থান করছেন। আইনজীবী জানান, ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দরে ছেলেকে স্বাগত জানানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন সু চি।
সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) সূত্রে জানা গেছে, অ্যারিস কোনো কারণে সোমবার রওনা দিতে না পারলে আজ মঙ্গলবার সকালে মিয়ানমার পৌঁছাবেন।
গৃহবন্দী থাকাকালে সু চিকে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট-সুবিধা দেয়নি জান্তা। বাইরের জগতের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল খুব সীমিত। প্রায় ১০ বছর অ্যারিস ও বড় ছেলে আলেক্সান্ডারের সঙ্গে দেখা হয়নি সু চির। আর নাতি-নাতনির মুখ তিনি কখনো দেখেননি।
এদিকে জান্তা-সমর্থিত রাজনৈতিক দল দ্য ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) সাধারণ নির্বাচনে এক হাজার ৯৬টি আসনের মধ্যে ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ আসন পেয়েছে বলে গতকাল সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। ৭ নভেম্বর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দেশে গত ২০ বছরের মধ্যে এই প্রথম নির্বাচনে পার্লামেন্টের নিম্ন ও উচ্চকক্ষ এবং আঞ্চলিক আসনগুলোতে ৮৪২ আসনে জয়ী হয়েছে ইউএসডিপি।
মিয়ানমারের নির্বাচন কমিশন এখনো নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেনি। তবে ভোট গ্রহণের দিন থেকে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিয়মিত বিজয়ীদের তালিকা প্রকাশ করে যাচ্ছে। সে অনুযায়ী ন্যাশনাল ইউনিটি পার্টি ৫ দশমিক ৭ শতাংশ আসন পেয়ে দ্বিতীয় ও গণতন্ত্রপন্থী শান ন্যাশনালিটিজ ডেমোক্রেটিক পার্টি ৫ দশমিক ২ শতাংশ আসন পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এনএলডি থেকে বের হয়ে আসা নেতা-কর্মীরা মিলে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফোর্স নামের একটি আলাদা দল গড়ে নির্বাচনে অংশ নেয়। ১ দশমিক ৫ শতাংশ আসন পেয়ে তারা ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।
জান্তার বিধিনিষেধের জালে আটকে সু চির দল এনএলডি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। এতে জান্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। তবে সে সমালোচনার ঝড় কিছুটা কমেছে বলে কয়েকজন বিশ্লেষক দাবি করছেন।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সের গবেষক মাউং জারনি বলেন, সু চি মুক্তি পাওয়ায় নির্বাচন নিয়ে জান্তার প্রতি ক্ষোভ কিছুটা কমেছে।
এদিকে নির্বাচনের আগে এনএলডিকে বিলুপ্ত করার বিরুদ্ধে সু চির করা মামলা গতকাল খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। সু চির একজন আইনজীবী জানান, আমরা এ ব্যাপারে বিশেষ আবেদন করা যায় কিনা তা এখন খতিয়ে দেখবো।

চীনের লাও জাপানের চিসাতো

চীনেরই জয়জয়কার চলছে এশিয়ান গেমসে। তবে রাশি রাশি সোনার ভিড়েও লাও ই-র এনে দেওয়া সোনাটা বাড়তি আনন্দের। এশিয়ান গেমসে যে এই প্রথম ছেলেদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে সোনা জিতল চীন। কাল ফটো ফিনিশে সোনা জিতে এশিয়ার দ্রুততম মানব হয়েছেন লাও ই (১০.২৪)। সৌদি আরবের ইয়াসির আল-নাসরি (১০.২৬) জিতেছেন রুপা ও ওমানের বারাকাত আল-হার্থি (১০.২৮) ব্রোঞ্জ।
১১.৩৩ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে গেমসের দ্রুততম মানবী জাপানের চিসাতো ফুকুশিমা। উজবেকিস্তানের গুজেল খুবিয়েভা (১১.৩৪) রুপা ও ভিয়েতনামের ভু থি হৌং (১১.৪৩) ব্রোঞ্জ জিতেছেন।
ছেলেদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে অবশ্য সেমিফাইনাল পর্যন্ত বাংলাদেশও ছিল। হিটে ১১.১৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে চতুর্থ হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিলেন বাংলাদেশের আজহারুল ইসলাম। সেখানে ১১.১৪ সেকেন্ড সময় নিয়েও সপ্তম হয়ে বিদায় নিতে হয়েছে তাঁকে।

পারলেন না টেন্ডুলকার

খেলা শুরুর মিনিট পাঁচেকের মধ্যে শেষ তৃতীয় দিনের সব আকর্ষণ! ম্যাচের গতিপথ পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল দ্বিতীয় দিন শেষেই। শচীন টেন্ডুলকারের ৫০তম টেস্ট সেঞ্চুরির দিকেই তাই তাকিয়ে ছিল পুরো ভারত। ক্রিকেট-বিশ্বও কি নয়? আশায় গুড়ে বালি দিনের নবম আর টেন্ডুলকারের খেলা তৃতীয় বলেই। অ্যান্ডি ম্যাকাইকে প্রথম টেস্ট শিকারের স্মৃতি আজীবন রোমন্থন করার সুযোগ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরলেন লিটল মাস্টার।
টেন্ডুলকার না পারলেও ঠিকই পেরেছেন রাহুল দ্রাবিড়। তবে ৩১তম সেঞ্চুরির আনন্দের সঙ্গে দিন শেষে তাঁর সঙ্গী ষষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরিটা মাঠে ফেলে আসার আক্ষেপ। ৫৭৩ মিনিট মুখ গুজে উইকেটে কাটিয়ে দেওয়ার পর হঠাৎ কী মনে করে যেন ছয় মারার ইচ্ছে জাগল ‘দ্য ওয়ালের’। লংঅন সীমানায় ধরা পড়লেন ২০০ থেকে ৯ রান দূরে। আক্ষেপ কিছু না থেকে পারেই না মহেন্দ্র সিং ধোনিরও। সাত ইনিংস পর পাওয়া ফিফটিটাকে মাত্র দুই রানের জন্য নিয়ে যেতে পারেননি তিন অঙ্কে। দিনের খেলায় যা হওয়ার কথা ছিল হয়েছে তাই। ৩৭৩ রানের লিড পাওয়া ভারত শেষ বিকেলে তুলে নিয়েছে টিম ম্যাকিন্টশকে। কিন্তু টেন্ডুলকার-দ্রাবিড়-ধোনির সৌজন্যে এমন দিনেও ভারতের সঙ্গী হয়েছে কিছু অপূর্ণতা।
যেমন ফর্মে আছেন, ৪৯ সেঞ্চুরি নিয়ে সিরিজ শুরু করা টেন্ডুলকারের ‘৫০’ হওয়া নিয়ে সন্দেহ ছিল না কারও। প্রশ্ন ছিল স্রেফ কখন হচ্ছে। আগের দুই টেস্টে বিস্ময়করভাবে ফিফটিও পাননি। ৫৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করার পর মনে হচ্ছিল এই টেস্টে প্রতীক্ষার অবসান হচ্ছে। কাল নিজের খেলা প্রথম বলে ব্যাটের কানা ছুঁয়ে সীমানার বাইরে যায় বল। এক বল পরে আবার ব্যাটের কানা, এবার উইকেটকিপারের হাতে। ২০০৮ সালে অজন্তা মেন্ডিসের সেই আবির্ভাব সিরিজের পর এই প্রথম একটি সিরিজ সম্ভবত সেঞ্চুরিবিহীন যাচ্ছে টেন্ডুলকারের।
ফর্মের জন্য লড়তে থাকা দ্রাবিড়ের জন্য এই সিরিজটা ছিল এসিড টেস্ট। প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরির পর এই ইনিংস, ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে জয়ী হলেন আরেকটি লড়াইয়ে। পুরো ইনিংসটাই ছিল দ্রাবিড়ের সেই চিরপরিচিত চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞার প্রতিচ্ছবি, ১০০ ছুঁয়েছেন ২৫৬ বলে। টেন্ডুলকার, লক্ষ্মণ ও রায়নাকে দ্রুত হারানোর পর ষষ্ঠ উইকেটে ধোনির সঙ্গে গড়েছেন ১৯৩ রানের জুটি। আক্রমণ আর রক্ষণের মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলা ধোনি কাল আবার নিজেকে ফিরে পেয়েছেন সহজাত আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে।

কুম্বলে-শ্রীনাথদের অন্য বিপ্লব

অনিল কুম্বলে, জাভাগাল শ্রীনাথ, ভেঙ্কটেশ প্রসাদ—নাম তিনটি পাশাপাশি থাকলে কী মনে হয়? নব্বই দশকের ভারতীয় বোলিং আক্রমণ! না, এবার পাশাপাশি এই তিনটি নামের অর্থ অন্যরকম—কর্ণাটক রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার (কেএসসিএ) প্রধান তিন কর্মকর্তা!
কেএসসিএর নির্বাচনে শ্রীকান্তদত্ত নরসিংরাজা ওয়াড়িয়ারকে ৪৩ ভোটে হারিয়ে পরশু সভাপতি পদে জিতে গেছেন সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পিনার অনিল কুম্বলে। একই নির্বাচনে জিতে গেছেন কুম্বলেরই সাবেক দুই সতীর্থ পেসার, সচিব পদে জাভাগাল শ্রীনাথ ও সহসভাপতি পদে ভেঙ্কটেশ প্রসাদ।
কুম্বলে-শ্রীনাথ-প্রসাদের সঙ্গে এই পরিষদ থেকেই বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ক্রিকেটার রজার বিনিও জিতেছেন সহসভাপতি পদে। এই পরিষদের কাছে হেরে গেছে মহীশুরের রাজপরিবারের ওয়াড়িয়ারের পরিষদ।
ভারতীয় ক্রিকেটে এর আগে একসঙ্গে এতজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার কোনো নির্বাচনেই অংশ নেননি; জয়ের প্রশ্ন তো আরও পরে। এবার শীর্ষ পদগুলোয় সাবেক ক্রিকেটাররা তো আছেনই, সঙ্গে কর্ণাটকের বর্তমান খেলোয়াড়দেরও সমর্থন নাকি এই পরিষদের দিকে। বলা হচ্ছে, কুম্বলেদের সতীর্থ রাহুল দ্রাবিড়েরও নির্বাচন করার ইচ্ছা ছিল; কিন্তু খেলা চালিয়ে যাওয়ায় সেটা সম্ভব হয়নি। তবে খুব দ্রুত নাকি সংস্থার কর্মকর্তা হিসেবে দেখা যাবে দ্রাবিড়কে। কুম্বলে-শ্রীনাথদের এই জয়টাকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দেখছে ক্রিকেটারদের বিজয় হিসেবে। গোটা বিশ্বের ক্রিকেট প্রশাসনেই এটি যেন এক নতুন যুগের সূচনা।
কুম্বলে-শ্রীনাথদের তাই সামলাতে হবে প্রত্যাশার চাপ। সেটা মেটাতে তারা প্রস্তুত। ভারতের সাবেক অধিনায়ক কুম্বলে বলছেন, ক্রিকেটারদের সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বপূর্ণ সংগঠন গড়ে তাঁরা ভারতে পরিচিত হতে চান ‘আদর্শ ক্রিকেট সংস্থা’ রূপে। নবনির্বাচিত সচিব ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ রেফারি শ্রীনাথ বলছেন, ‘আমরা সবাইকে বোঝাতে পেরেছি যে যখন আমাদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয় আমরা কোনো দলেই থাকি না। আমরা একটা কথা জোর দিয়ে বলেছি, আমরা ক্রিকেটের পক্ষে।’
অনিল কুম্বলে সংস্থার কাজটাকেও দেখছেন ক্রিকেট দল পরিচালনার মতো করে। তিনি বলছেন, শুরু থেকেই তাঁরা দল হিসেবে কাজ করতে চান, ‘খেলোয়াড়েরা ভালো পারফর্ম না করলে, সবাই বাদ দিতে বলে। সভাপতি হিসেবে আমিও যদি শুধু চেয়ারে বসে থাকি, তাহলে নিশ্চয়ই কোনো কাজ হবে না। আমরা একটা দল হিসেবে কাজ করতে চাই। আমার বিশ্বাস, আমাদের পারফরম্যান্স দেখানোর জন্য তিন বছর যথেষ্ট সময়।

সমস্যা ছাড়াই বল করছেন মাশরাফি

সদ্য ইনজুরি কাটিয়ে চট্টগ্রামের প্র্যাকটিস ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। দুই নির্বাচকের সামনে অনেকক্ষণ বোলিং করলেন। ব্যাটিং-ফিল্ডিংও বাদ যায়নি। সতীর্থদের সঙ্গে মজাও করলেন। তাঁর মুখেও ক্যাম্পের প্রশস্তি। পাশাপাশি জিম্বাবুয়ে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন।
‘এখানকার ক্যাম্প আমরা বেশ এনজয় করেছি। এই মাঠে আগে অনেক খেলেছি। কিন্তু অনেক দিন আসা হয়নি। পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতেই এই ক্যাম্পটি এখানে করা’—বললেন মাশরাফি।
বারবার ইনজুরিতে আক্রান্ত মাশরাফি নিজেকে কতটা খুঁজে পাচ্ছেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে কাল অনেকটা সময় পুরো রানআপে বল করেছেন তিনি। মাশরাফি বলেন, ‘আমি এখন সুস্থ। আজ ফুল রানআপে বল করেছি। কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’
পাশাপাশি দলে ইনজুরি-সমস্যা নেই বলেও জানালেন তিনি। প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলম ও নির্বাচক আকরাম খানও প্র্যাকটিস দেখতে গতকাল সকালে মাঠে আসেন। রফিকুল বললেন, ‘দলে তেমন কোনো ইনজুরি নেই। তবে অনেক দিন পর প্র্যাকটিস করছে সবাই। আগামী পরশু (বুধবার) ইনজুরি সম্পর্কে আপডেট একটা রিপোর্ট পাব।’
জিম্বাবুয়ের সঙ্গে সিরিজ ছাড়াও এই মাঠে বিশ্বকাপের দুটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। তাই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতেই চট্টগ্রামে ক্যাম্পের আয়োজন বলে জানালেন নির্বাচকেরা। তবে তাঁদের চোখে এখন শুধুই জিম্বাবুয়ে সিরিজ, ‘বিশ্বকাপ নয়, এখন পুরোপুরি ফোকাসটা জিম্বাবুয়ে সিরিজের ওপর। তাই সবাই একসঙ্গে হোটেলে থেকে যাতে প্র্যাকটিস করতে পারে তাই চট্টগ্রাম আসা।’
গতকাল সকাল নয়টা থেকে বাংলাদেশ দল জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্র্যাকটিস শুরু করে। টানা বেলা দেড়টা পর্যন্ত ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং প্র্যাকটিস করেন সবাই। বোলিংয়ের পর মাশরাফি ফিল্ডিং ও ব্যাটিং প্র্যাকটিস করেন।
নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ৪-০-তে সিরিজ জয়ের পর মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে। সেটা ঠিকই জানেন মাশরাফিরা। তবে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করা নিয়ে এখনই ভাবছেন না মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের লক্ষ্য সিরিজ জয়। কিন্তু ৫-০ এখনই ভাবছি না। কারণ ওরা অনেক ভালো দল।’
আজ সকালে অনুশীলন করে বিকেলেই ঢাকায় ফিরে আসবে দল। এক দিন বিরতি দিয়ে আগামী পরশু থেকে আবার অনুশীলন শুরু হবে ঢাকায়।

লড়ে যাচ্ছেন মিসবাহ

প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ফলোঅন এড়ানো। সেটি ছুঁতে পাকিস্তানের প্রয়োজন আর মাত্র ৬৮ রান। যদিও পাকিস্তানকে ফলোঅনে ফেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা এখনো চোখ রাঙাচ্ছে, তাদের প্রয়োজন মাত্র ৪ উইকেট। পাকিস্তানের আশা হয়ে উইকেটে টিকে আছেন মিসবাহ-উল হক। সঙ্গী আবদুর রেহমানের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ফিফটি আছে ১১টি, ব্যাটের হাত মন্দ না সামি-গুলদেরও। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা আর ফলোঅনের মাঝে মূল বাধা এখন পাকিস্তান অধিনায়কই।
দক্ষিণ আফ্রিকা রানের পাহাড়ে ওঠার পর চাপটা বেশি ছিল পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের ওপর। এককভাবে কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি, তবে সমন্বিত প্রচেষ্টায় জবাবটা খারাপ দেননি ব্যাটসম্যানরা। দুটি সেঞ্চুরি জুটি এগিয়ে নিয়ে গেছে পাকিস্তানকে এবং দুটি জুটিতেই বড় অবদান দুই তরুণ আজহার ও আসাদ শফিকের। ইনিংসের প্রথম বলেই মোহাম্মদ হাফিজকে হারানোর ধাক্কা আগের দিন বিকেলেই সামলে নিয়েছিলেন তৌফিক-আজহার। জুটিটাকে কালও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যান দুজন। জুটি ভাঙতে পেস বোলিং করেছেন অফ স্পিনার ইয়োহান বোথা, তবে লাভ কিছু হয়নি। ১১৭ রানের জুটিটা ভেঙেছে ক্যালিসের বাউন্সারে তৌফিক উমর লোভ সামলাতে না পারায়। জুটিতে আজহার আলীর অবদান ৬৭।
২০০৬ সালে ইউনুস খানের পর তিন নম্বরে নেমে পাকিস্তানের হয়ে প্রথম টানা তিন ইনিংসে ফিফটি করেছেন আজহার। তবে আরও একবার ব্যর্থ হয়েছেন তিন অঙ্ক ছুঁতে। টানা দুই ওভারে আজহার ও ইউনুসকে ফিরিয়ে দিয়ে পাকিস্তানকে কাঁপিয়ে দেন ডেল স্টেইন। কিন্তু আরেকটি শতরানের জুটিই ম্যাচে ফেরায় পাকিস্তানকে। এই জুটির মূল কারিগর অভিষিক্ত আসাদ শফিক। উইকেটের এক পাশে ছিলেন মিসবাহ, বয়সে এক যুগ ছোট শফিক আরেক পাশে খেলেছেন দারুণ সব শট। পরে আলগা বলকে যোগ্য শাস্তি দিতে তৎপর হয়েছেন মিসবাহও। হ্যারিসের জোড়া আঘাতে শফিক ও আদনান আকমল ফিরে গেলেও আস্থা হয়ে টিকে আছেন মিসবাহ।

প্রথম দিনের ব্যাটিংকেই দুষছেন ভেট্টোরি

প্রথম দুটি টেস্ট ড্র। তবে শেষ টেস্টে ইনিংস ও ১৯৮ রানের বিশাল হারের লজ্জা, ১-০ ব্যবধানে সিরিজ হার। আর এর জন্য প্রথম দিনে ব্যাটসম্যানদের দুর্বল ব্যাটিংকেই দায়ী করছেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক ডেনিয়েল ভেট্টোরি।
প্রথম ইনিংসের প্রথম দিনেই নিউজিল্যান্ড অলআউট হয় ১৯৩ রানে। জবাবে ৮ উইকেটে ৫৬৬ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। ভারতীয়দের রানের পাহাড়কে সামনে রেখে দ্বিতীয় ইনিংসে কিউইরা গুটিয়ে যায় মাত্র ১৭৫ রানে। ক্রিকইনফো জানায়, ইনিংস ব্যবধানে হেরে সিরিজ খোয়ানো সম্পর্কে ডেনিয়েল ভেট্টোরি বলেন, ‘মোটের ওপর বলতে গেলে গত দুটি টেস্টের চেয়ে এ টেস্টে খারাপ করেছি আমরা। আসলে প্রথম ইনিংসই কোনো দলকে খেলায় রাখে। টস জিতে ব্যাট করে মাত্র ১৯৩ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ায় প্রচুর চাপে পড়ে গিয়েছিলাম আমরা।’

প্রকৃতির কবলে কলম্বো টেস্ট

রাতভর বৃষ্টিতে মাঠ ভেজা থাকায় নির্ধারিত সময়ে খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। বল মাঠে গড়ানো সম্ভব হয়নি মধ্যাহ্নভোজনের আগ পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত খেলা শুরু হয়, কিন্তু এবার বাধা হয়ে দাঁড়ায় আলোক স্বল্পতা। ৩৭.২ ওভার পর খেলা প্রাথমিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা না দেখায় দিনের খেলা এখানেই ইতি টানেন আম্পায়াররা।
প্রথম দিন শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রাহ ৮৪ রান। কিন্তু বিদায় নিয়েছেন তিনজন ব্যাটসম্যান। পঞ্চম ওভারেই দিনের প্রথম উইকেটের দেখা পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রোচের বলে বোল্ড হন ৪ রানে থাকা দিলশান। আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান পারানাভিতানাকেও (১৬) ফিরিয়েছেন এই বোলার। ২ রান করে স্যামির শিকার জয়াবর্ধনে। মাত্র ৩৪ রানে তিন উইকেট চলে যাওয়ায় বিপর্যয়ে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। তবে প্রাথমিক এ বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা ও থিলান সামারাবিরা। আলোক স্বল্পতার কারণে দিনের খেলা বন্ধ হওয়ার সময় সাঙ্গাকারা ২৫ ও সামারাবিরা ২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন

রানের পাহাড় গড়তে যাচ্ছে দ.আফ্রিকা

চতুর্থ দিনে ফলোঅনের আশঙ্কা নিয়ে ব্যাট করতে নেমেছিল পাকিস্তান। ফলোঅন এড়াতে তাদের প্রয়োজন ছিল ৬৮ রান। হাতে ছিল চার উইকেট। দিনের শুরুতেই মিসবাহ-উল-হককে হারিয়ে বিপদে পড়লেও শেষ পর্যন্ত আবদুর রেহমানের ৬০ রানের লড়াকু ইনিংসের সুবাদে ফলোঅন এড়াতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। তবে তাদের ইনিংস শেষ হয় ৪৩৪ রানে।
প্রথম ইনিংসে ১৫০ রানে এগিয়ে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা পাকিস্তানের সামনে রানের পাহাড় গড়তে যাচ্ছে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৭৩ রান। পাকিস্তানের চেয়ে এখন পর্যন্ত ৩২৩ রানে এগিয়ে গ্রায়েম স্মিথের দল, হাতে রয়েছে আরও ছয়টি উইকেট।
আজ দিনের প্রথম বলেই পাকিস্তানের অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হককে (৭৭) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ডেল স্টেইন। ২১ রান করে উমর গুল যখন পল হ্যারিসের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান, তখনো ফলোঅন এড়াতে পাকিস্তানের দরকার ৩২ রান। পাকিস্তানকে আবার দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামতে হবে—এভাবেই ম্যাচের হিসাব করা শুরু করেছিলেন অনেকে। কিন্তু নবম উইকেট জুটিতে তানভির আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে ৫৯ রান যোগ করে সেই হিসাব পাল্টে দেন আবদুর রহমান। ৩০ রান করে মরকেলের বলে তানভির আউট হওয়ার পর আরও ২২ রান যোগ করেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকাকে শুভসূচনা এনে দেন দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান পিটারসেন ও হাশিম আমলা। পিটারসেন ৩৫ রানে ফিরে গেলেও আবদুর রেহমানের শিকারে পরিণত হওয়ার আগে আমলা করেন ৬২ রান। এরপর ভিলিয়ার্স ২৫ ও ক্যালিস ১০ রানে আউট হন। পাকিস্তানের হয়ে রেহমান তিনটি ও হাফিজ একটি উইকেট শিকার করেন।

খবর ও ফিচার- কয়েন-কাহিনী

এক টাকার সোনালি কয়েন ১০০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে_এমন খবরে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে সারা দেশে। সিলেটসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে এ কয়েনের বিকিকিনি। গতকাল সেই হুজুগ ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীসহ সারা দেশে। অনেকেই আশপাশের মানুষের কাছ থেকে বেশি দামে কয়েন কিনে নিচ্ছেন আরো বেশি দামে বিক্রি করার আশায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই কয়েন যাচ্ছে কোথায়? আর কী কাজে তা লাগছে_সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি কেউ। গতকাল দুপুরে তেজগাঁও রেলস্টেশনের কাছ থেকে মোকসেদুল নামের এক যুবককে ৬২টি কয়েনসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

প্রকৃতি- 'বৈরিতায় বিপন্ন বাঘ' by বিপ্লব রহমান

নানা বৈরিতায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে বনের রাজা বাঘ। বিশ্বে বাঘের সংখ্যা ১৯০০ সালে ছিল এক লাখ। কিন্তু এখন এ সংখ্যা হ্রাস পেয়ে মাত্র তিন হাজার ৭০০-তে এসে দাঁড়িয়েছে। মহাবিপন্ন প্রাণী হিসেবে বাঘ এখনো টিকে আছে বাংলাদেশসহ মাত্র ১৩টি দেশে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এখনই বাঘ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা না গেলে আগামী শতাব্দীতে এই প্রাণীটি একেবারে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। বন সংরক্ষক (বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি) ড. তপন কুমার দে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, বনের জীববৈচিত্র্য, খাদ্য শৃঙ্খল ও প্রতিবেশ চক্রের প্রধান নিয়ন্ত্রক বাঘ। বনের প্রাকৃতিক বংশ বৃদ্ধি যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য প্রাকৃতিক নিয়মে বাঘ হরিণ, শূকর, বনগরু ইত্যাদি তৃণভোজী প্রাণী শিকার করে বনের প্রতিবেশ চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই প্রতিবেশ চক্র ভেঙে পড়লে বা বাঘের খাদ্য সংকট দেখা দিলে প্রাণীটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে।

প্রকৃতি- 'সুন্দরবন ঘেঁষে রেললাইন!' by পার্থ সারথি দাস

বিশ্বের অন্যতম প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবন ঘেঁষে রেলপথ তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যশোরের নাভারণ থেকে ১০০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এ রেললাইন যাবে সুন্দরবনসংলগ্ন মুন্সীগঞ্জ পয়েন্ট পর্যন্ত। বন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ লাইন বসাতে বনাঞ্চলের অনেক গাছ কাটতে হবে, অসংখ্য চিংড়ি ঘেরও ধ্বংস হয়ে যাবে। নিয়মিত রেল চলাচলের শব্দে বন্য প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়ও ব্যাঘাত ঘটবে। বিপন্ন হবে বনের পরিবেশ-প্রতিবেশ। দেশের পরিবেশবিদরা এ উদ্যোগে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। নজরকাড়া এ বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় চলছে সরকারি-বেসরকারি জোর তৎপরতা। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বের প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনে সুন্দরবনকে ভোট দেওয়ার উন্মাদনাও এখন দেশজুড়ে। এ অবস্থায় যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে এ রেলপথ তৈরির উদ্দেশ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। এ বিষয়ে সর্বশেষ গত ১১ নভেম্বর বৈঠক করেছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়।