Wednesday, September 15, 2010

মানুষের কারণেই ঝুঁকি বাড়ছে by জামিলুর রেজা চৌধুরী

বাংলাদেশে ভূমিকম্পের কারণে বড় বিপর্যয়ের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি যদিও নেই, তার পরও ভূমিকম্প হঠাৎ আসতেই পারে। ১০ সেপ্টেম্বর রাতে যে ভূমিকম্প ঢাকা মহানগরসহ বাংলাদেশের দক্ষিণের অনেক এলাকায় অনুভূত হয়েছে, সেটার মাত্রা ও তীব্রতা (magnitude & intensity) খুবই কম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভারে অবস্থিত ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৮ এবং এর কেন্দ্র ছিল ঢাকার ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে—দাউদকান্দির দক্ষিণে মতলব বাজারের উত্তরে। এখানে মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থাপিত ১৮টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে একটি কম্পিউটার প্রোগ্রামের মাধ্যমে ভূমিকম্পের মাত্রা, কেন্দ্র ও গভীরতা নির্ণয় করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, ভূপৃষ্ঠের প্রায় নয় কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তিস্থল। কিন্তু এখানে আমাদের জানামতে, নয় কিলোমিটার গভীরে পলিমাটি থাকার কথা। ভূমিকম্প সৃষ্টি হওয়ার জন্য যে ধরনের ফল্ট বা চ্যুতি থাকা পূর্বশর্ত, তা থাকলেও থাকার কথা আরও গভীরে। সে জন্য উপাত্তগুলো আরও বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে সঠিকভাবে এর উৎপত্তিস্থল নির্ণয় করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ আবহাওয়া বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুসারে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৬ এবং এপিসেন্টার ছিল গোপালগঞ্জের কাছে। কিসের ভিত্তিতে এই মাত্রা ও উৎপত্তিস্থল নির্ণয় করা হয়েছে, তা আবহাওয়া বিভাগের ওয়েবসাইটে এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। আবহাওয়া বিভাগ ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুরে যে চারটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে, তার রেকর্ড বিশ্লেষণ করে আরও সঠিকভাবে এর মাত্রা ও তীব্রতা বিশ্লেষণ করা উচিত।
এ বছরে বিশ্বে বড় দুটি ভূমিকম্প হয় প্রথমে হাইতি ও পরে চিলিতে। বিশ্বে নিকট অতীতের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পও হয় চিলিতে, ১৯৬০ সালে। তারপর গত ৪০-৫০ বছরে চিলি খুবই আধুনিক ইমারত নির্মাণ বিধিমালা প্রণয়ন করেছে এবং স্থাপনার নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণের বেলায় যাতে এটি মেনে চলা হয়, তা নিশ্চিত করায় তারা সফল হয়েছে। ফলে চিলির ক্ষয়ক্ষতি হাইতির তুলনায় কম হয়েছে। কারণ হাইতিতে কোনো ইমারত নির্মাণ বিধিমালাই নেই এবং সেখানকার ভবনগুলোর ভূমিকম্প প্রতিরোধ করার কোনো ক্ষমতাই ছিল না।
ঢাকা যতটা না প্রাকৃতিক কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে, তার থেকে বেশি মানুষের কারণেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে। বলা যায়, আমরাই আমাদের বিপদ ডেকে এনেছি। ঢাকায় যেভাবে নিম্ন জলাভূমি ভরাট করে ভবন নির্মিত হচ্ছে, সেগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ একই মাত্রার ভূমিকম্পে পুরান ঢাকার মাটিতে যে তীব্রতা অনুভূত হবে, নরম মাটিতে তা বেশি অনুভূত হবে।
এ বছর এবারের ভূমিকম্পসহ আগস্ট মাসে আরেকটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল চাঁদপুর অঞ্চলে। তাহলেও চাঁদপুর থেকে বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা নেই। বাংলাদেশে বড় ভূমিকম্পের উৎসস্থল হলো, শ্রীমঙ্গল, মধুপুর ও বগুড়ার ভূগর্ভের ফল্ট-সিস্টেম বা চ্যুতি। যদি মধুপুরে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, ঢাকায় এর তীব্রতা হবে ৬-৭। তাতে অনেক ক্ষতি হতে পারে। তবে মারাত্মক ভূমিকম্প এলে তা আসবে ভুটান ও নেপাল থেকে। সেখানে ৯ অথবা ৯ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকায় তা ৭ অথবা ৮ মাত্রার কম্পন হিসেবে অনুভূত হবে।
সরকার সম্প্রতি ইমারত নির্মাণ বিধিমালা বাধ্যতামূলক করেছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। এর সঙ্গে সংস্লিষ্ট সংস্থাগুলো, যেমন রাজউকের প্রয়োজনীয় জনবল নেই, দক্ষতারও অভাব। জরুরি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই ঘাটতি দ্রুতই পূরণ করতে হবে। বর্তমান ইমারত নির্মাণ বিধিমালা এ বছরের শেষের দিকে সংস্কার করে আরও উন্নত করা হবে। আশা করা যায়, ২০১১ সালে আমরা নতুন বিধিমালা পাব। এটা যাতে কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিনা অনুমতিতে যেভাবে নিচু জমি ও জলাধার ভরাট করে আবাসন-ব্যবসায়ীরা ভবন নির্মাণের জন্য প্লট বিক্রি করছেন, তাতে ঝুঁকি আরও অনেক বেড়ে যাচ্ছে।
ভূমিকম্পে দুর্বল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রচুর প্রাণহানিও হতাহতের আশঙ্কাও থাকবে। এ জন্য প্রয়োজন ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থা। ধসেপড়া ভবনের নিচে কোনো মানুষ জীবিত আছে কি না, তা নির্ণয়ের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা আবশ্যক। এ ছাড়া ধসেপড়া অংশকে সরানোর প্রযুক্তি আমাদের দেশে প্রায় নেই বললেই চলে। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও হাসপাতালকে দ্রুত শক্তিশালী করা দরকার, কারণ এগুলো ভেঙে পড়লে সমগ্র ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার সম্প্রতি যে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে, তার মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে এলাকাভিত্তিক উদ্ধারকাজ করা সম্ভব। তবে বর্তমানে এটি ঢাকা মহানগরের কয়েকটি ওয়ার্ডে সীমিত। এ কার্যক্রম মহানগরের সব এলাকায় এবং ঝুঁকিপূর্ণ বড় শহরে সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
জামিলুর রেজা চৌধুরী: সাবেক অধ্যাপক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সভাপতি, বাংলাদেশ আর্থকোয়েক সোসাইটি।

মনের কথা বলে দেবে যন্ত্র!

যন্ত্র মস্তিষ্কের সংকেত গ্রহণ করবে
এবার যন্ত্রই বলে দেবে মানুষের মনের খবর। একদল গবেষক দাবি করেছেন, তাঁরা এমন একটি যন্ত্র আবিষ্কারের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। ওই যন্ত্র মস্তিষ্কের সংকেত গ্রহণ করে তা পড়তে পারবে। আর এর অর্থ হচ্ছে, ওই সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কী ভাবছেন, যন্ত্রের সাহায্যে তা জানা যাবে।
নিউরাল ইঞ্জিনিয়ারিং সাময়িকীতে এ-সংক্রান্ত গবেষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষকেরা জানান, শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রেই এই যন্ত্র মানুষের মনের সঠিক তথ্য দিতে পারবে। এমনকি কথা বলতে পারে না—পক্ষাঘাতগ্রস্ত এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই যন্ত্র কার্যকর হবে।
গবেষক দলের প্রধান ও যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ব্র্যাডলি গ্রেগার বলেন, আমরা দারুণ শিহরিত, কখন যন্ত্রটি কাজ করতে শুরু করবে। আশা করছি, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের ব্যবহারের জন্য এই যন্ত্র পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, আমরা মস্তিষ্কের বিশেষ সংকেত ব্যবহার করে মানুষের কথাকে সংকেতবদ্ধ করেছি। তারপর কথা বলতে পারেন না পক্ষাঘাতগ্রস্ত এমন এক ব্যক্তির ক্ষেত্রে একটি ডিভাইসের মাধ্যমে তা ব্যবহার করেছি। ব্র্যাডলি বলেন, ‘আমি একে মস্তিষ্কের সংকেত পড়া বলব। তিনি আরও বলেন, এটা প্রমাণিত একটি ধারণা। আমরা প্রমাণ করেছি, একজন ব্যক্তি কী বলতে চায়, যন্ত্রের মাধ্যমে তা জানা সম্ভব। স্ট্রোক, দুরারোগ্য ব্যাধি বা আঘাতজনিত কারণে পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীরা এই যন্ত্রের মাধ্যমে লাভবান হতে পারেন।
গবেষকেরা বলেন, আমরা বলছি না, এর মাধ্যমে সবকিছুই শতভাগ জানা যাবে। এই পদ্ধতি আরও উন্নত করার প্রয়োজন রয়েছে।

কাজাখস্তানে রাশিয়া ও চীনের নেতৃত্বে সামরিক মহড়া শুরু

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত কাজাখস্তানে রাশিয়া ও চীনের নেতৃত্বাধীন সাংহাই কো-অপারেশন অরগানাইজেশনের (এসসিও) তিন সহস্রাধিক সেনাসদস্য গতকাল সোমবার থেকে সামরিক মহড়া শুরু করেছেন। আগামী দুই সপ্তাহ এই মহড়া চলবে। মাদক পাচারকারী চক্র ও ইসলামি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে বলে এসসিওর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মধ্য এশিয়ার শান্তি রক্ষায় রাশিয়া, চীন, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান এসসিও গঠন করে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, সংগঠনটি ভবিষ্যতে ন্যাটোর পাল্টা শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, কাজাখস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী আলমাতি থেকে ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত মাতিব্যুলাক সামরিক ঘাঁটিতে ‘পিস মিশন-২০০০’ নামের ওই মহড়া শুরু হয়। এতে রাশিয়া, চীন ও কাজাখস্তানের এক হাজার করে মোট তিন হাজার সেনাসদস্য অংশ নেন। এ ছাড়া তাজিকিস্তান ও কিরগিজস্তান থেকে ১৫০ জন করে মোট ৩০০ সেনাসদস্য অংশ নেন। উজবেকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা ওই মহড়ায় কোনো সেনা পাঠায়নি।
কাজাখস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, এই মহড়ায় চীন, রাশিয়া ও কাজাখস্তানের ৩০০ সামরিক যান এবং ৫০টি এয়ারক্রাফট ও হেলিকপ্টার অংশ নিচ্ছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, আফগানিস্তানে সক্রিয় ইসলামি জঙ্গি ও মাদক চোরাকারবারিদের তৎপরতা ঠেকাতে তারা এই মহড়ার আয়োজন করেছে।

ইসরায়েলি সেনার গুলিতে তিন ফিলিস্তিনি নিহত

গাজা ভূখণ্ডে গত রোববার ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলার আঘাতে তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হামাস জঙ্গিদের রকেট হামলার জবাবে তারা এ হামলা চালায়। গাজায় মেডিকেল সার্ভিসের মুখপাত্র আদম আবু সালিমা জানান, ইসরায়েলের গোলার আঘাতে ৯১ বছর বয়সী নিরাপত্তাকর্মী ইব্রাহিম আবদুল্লাহ আবু সায়েদ, তাঁর নাতি হোসাম খালেদ আবু সাঈদ (১৭) ও হোমাস খালেদ আবু সাঈদ (২০) নামের অপর এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এর আগে হামাসের জঙ্গিরা ইসরায়েলে রকেট ও মর্টার হামলা চালায়।
সালিমা জানান, ইসরাইল ও হামাসশাসিত গাজা উপত্যকার সীমান্তবর্তী বেইত হানুন শহরে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এ হামলা চালায়। ইসরায়েলি বাহিনী এ হামলা চালানোর খবর নিশ্চিত করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাঁরা ট্যাংকের গোলাবর্ষণের কিছুক্ষণ আগে ওই সীমান্ত অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। পরে পপুলার রেসিস্ট্যান্স কমিটি ইন প্যালেস্টাইনের সামরিক শাখা ইসরায়েলে রকেট ও মর্টার হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে।
এ বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আল-নাসের সালাহউদ্দিন ব্রিগেডের একটি গ্রুপ রোববার সন্ধ্যায় দুটি রকেট ও একটি মর্টার হামলা চালিয়ে সফল হয়েছে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ মিশন বাস্তবায়ন করা আমাদের বীর যোদ্ধারা তাদের ঘাঁটিতে নিরাপদে ফিরে এসেছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গাজা ভূখণ্ডে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরায়েলি হামলার জবাবে এ রকেট ও মর্টার হামলা চালানো হয়।

পাকিস্তানে আবার সামরিক শাসন আসার কোনো সুযোগ নেই: নওয়াজ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান মুসলিম লিগের (পিএমএল-এন) নেতা নওয়াজ শরিফ বলেছেন, পাকিস্তানে আবার সামরিক শাসন কায়েম হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
নওয়াজ আরও বলেছেন, ক্ষমতায় আরোহণের পথে থাকা দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ঈদ উপলক্ষে গত শনিবার খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বন্যাকবলিত চরসাদা জেলায় দুর্গত মানুষকে দেখতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
দেশের সাম্প্রতিক বন্যা মোকাবিলায় পিপলস পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা করে নওয়াজ শরিফ বলেন, ‘সরকারের ব্যর্থতাকে গণতন্ত্রের ব্যর্থতা বলে প্রচার করা যাবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা। আমাদের সম্পদ এতটা সীমিত নয় যে আমরা পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করতে পারব না।’
দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে পার্লামেন্ট ও বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতার ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক করে পিএমএল-এনের নেতা বলেন, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে সমস্যা রয়ে গেছে। ত্রাণের জন্য বহির্বিশ্বের দিকে তাকিয়ে না থেকে এই সমস্যা (বন্যা) সমাধানে সরকারের সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। বেলুচিস্তান প্রদেশে সামরিক অভিযান চালানোর দরকার নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ভারতে মাওবাদীদের ৪৮ ঘণ্টার বনধ শুরু

ভারতে মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির ডাকা ৪৮ ঘণ্টার বনধ গতকাল সোমবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে। মাওবাদী অধ্যুষিত ছয়টি রাজ্য অন্ধ্র প্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ; মহারাষ্ট্রের তিনটি জেলা গড়চিরৌলি, চন্দ্রপুর, ভাণ্ডারা এবং মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলায় এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা চেরুকুরি রাজকুমার ওরফে আজাদ হত্যার প্রতিবাদে ও ঘটনা তদন্তে তিনজন সাবেক বিচারপতির সমন্বয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করার দাবিতে মাওবাদীরা এই বনধ ডেকেছে। আগামীকাল বুধবার সকালে এই কর্মসূচি শেষ হবে।
বনেধর প্রথম দিন গতকাল পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুরা ও পুরুলিয়া জেলার জঙ্গল মহলের বিভিন্ন এলাকার দোকানপাট বন্ধ ছিল। যানবাহন চলাচল করেনি। বনেধর আগের দিন রাতে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঝাড়গ্রামের নাচুপাটিনা গ্রামে সিপিএমের পাঁচজন সমর্থককে হত্যা করেছে মাওবাদীরা। মাওবাদীদের একটি দল ওই এলাকার দুটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে পাঁচজনকে বাড়ি থেকে বের করে গুলি করে হত্যা করে। রোববার ভোরে মাইনের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা লোধাশুলির সিপিএম অফিস উড়িয়ে দেয়। পুরুলিয়ায় গতকাল দুজন মাওবাদীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়া জেলার ভিজ্জি থানায় গতকাল সকালে একদল মাওবাদী অতর্কিতে হামলা চালিয়ে দুই পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে। পুলিশের দাবি, তাদের পাল্টা হামলায় কয়েকজন মাওবাদী নিহত হয়। দুই ঘণ্টা ধরে গুলিবিনিময়ের পর মাওবাদীরা পালিয়ে যায়। গতকাল ছত্তিশগড়ের কাংকের জেলার জঙ্গলে মাওবাদীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর ব্যাপক গুলিবিনিময় হয়েছে। হতাহতের তথ্য জানা যায়নি।
গতকাল ভোর রাতে ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার কর্মভাদ স্টেশনের কাছে রেললাইনে বিস্ফোরণ ঘটায় মাওবাদীরা। এতে রেললাইনের তিন ফুট স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণে একটি মালবাহী গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ৩০টি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে
আটকে পড়ে। এর মধ্যে কলকাতামুখী দুটি রাজধানী এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন রয়েছে। রোববার রাতে মাওবাদীরা ঝাড়খণ্ডের গাড়োয়া জেলার পঞ্চডুমার গ্রামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে।

কাশ্মীরে গুলিতে ১২ বিক্ষোভকারী নিহত

ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে গতকাল সোমবার পুলিশের গুলিতে কমপক্ষে ১২ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের হাতে এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। কর্মকর্তারা বলেছেন, হাজার হাজার বিক্ষোভকারী কারফিউ ভেঙে রাস্তায় নেমে ভাঙচুর শুরু করলে পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালায়।
কর্মকর্তারা বলেছেন, সম্প্রতি কাশ্মীরে এক শিশুকে পুলিশ সদস্যরা গুলি করে হত্যা করার পর সেখানে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঘটনায় কাশ্মীরের মুসলমানেরা গতকাল বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতবিরোধী স্লোগান দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, বাদগাম জেলায় পুলিশের গুলিতে মারা গেছে পাঁচজন বিক্ষোভকারী। ওই এলাকাতেই গণরোষের শিকার হয়ে এক পুলিশ সদস্য প্রাণ হারান। ওই একই জেলার তাংমার্গ গ্রামে বিক্ষোভকারীরা গির্জা পরিচালিত একটি বিদ্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেখানে বাধা দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ গুলি চালালে সেখানেও পাঁচজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়। এ ছাড়া উত্তর বান্দীপোড়া জেলায় একজন এবং দক্ষিণ প্যামপোর জেলায় আরেকজন বিক্ষোভকারী গুলিতে মারা যায়। কর্মকর্তারা বলেছেন, গত তিন মাসের মধ্যে এটিই কাশ্মীরে সবচেয়ে বড় সহিংস ঘটনা।
সাত শহরে কারফিউ: অগ্নিসংযোগ এবং বেশ কয়েকটি সহিংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার শ্রীনগরসহ সাতটি শহরে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়।
সরকারি সূত্র জানায়, শনিবার রাতে বেসামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে রাজ্যের রাজধানী ও অন্যান্য অংশে কারফিউ জারি করা হয়। সমগ্র শ্রীনগর ছাড়াও অন্য যেসব শহরে কারফিউ বলবৎ করা হয়, সেগুলো হলো দক্ষিণাঞ্চলীয় অনন্তনাগ, বিজবেহারা পুলওয়ামা, কাকাপোরা ও গোপোর এবং উত্তর কাশ্মীরের বারামুল্লা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক সিআরপিএফ জওয়ান কারফিউ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।
শহরগুলোতে কারফিউ বলবৎ রাখতে গতকাল নিরাপত্তারক্ষীদের গাড়িতে ভারী অস্ত্র সজ্জিত করে টহল দিতে দেখা যায়।

ইরাকি কারাগারে নির্বিচারে নির্যাতন চলছে

ইরাকি কারাগারগুলোতে বিনাবিচারে হাজার হাজার মানুষ আটক রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থার নতুন একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সেখানে শারীরিক ও মানসিকসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালানো হচ্ছে বন্দিদের ওপর।
গতকাল সোমবার অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, তাদের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বন্দী আছে ইরাকি কারাগারে। কারাগারেই নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেকের মৃত্যু হয়েছে।
অ্যামনেস্টির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা শাখার পরিচালক ম্যালকম স্মার্ট বলেন, ‘ইরাকি নিরাপত্তাবাহিনী বন্দিদের অধিকার লঙ্ঘন করছে এবং দায়মুক্তির কারণে তাঁরা যা খুশি তাই করতে পারছে।’
ম্যালকম স্মার্ট আরও বলেন, মার্কিন বাহিনী তাদের হাতে বন্দী হাজার হাজার মানুষকে এখন ইরাকি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় থেকে মুক্তি পেতে চাইছে। আর এসব বন্দি নতুন করে ইরাকি বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে অন্য অনেক বিষয়ের সঙ্গে এ কথাও বলা হয়েছে যে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য অনেক বন্দিকে নির্যাতন করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইরাকি কর্তৃপক্ষকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে...। তাদের এটা দেখাতে হবে যে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে সব ইরাকি নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষার রাজনৈতিক সদিচ্ছা তাদের আছে এবং কারাবন্দিদের ওপর নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে।’
কারাগারে নির্যাতন এবং মৃত্যুর অনেকগুলো দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা হয়েছে অ্যামনেস্টির ৫৯ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে।
রিয়াদ মোহাম্মদ সালেহ আল-ওকায়বিকে আটক করা হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে। এরপর প্রথমে তাঁকে রাখা হয় বাগদাদের সুরক্ষিত গ্রিন জোনের একটি কারাগারে। সেখান থেকে তাঁকে স্থানান্তর করা হয় বাগদাদেরই গোপন একটি কারাগারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘জিজ্ঞাসাবাদের সময় সালেহ আল-ওকায়বিকে এমনভাবে পেটানো হয় যে তাঁর পাঁজরের হাড় ভেঙে যায় এবং যকৃত নষ্ট হয়ে যায়। রক্তক্ষরণে ১২ অথবা ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান।’
অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, মোটা তার ও লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে হাড়গোড় ভেঙে দেওয়া, ড্রিলমেশিন দিয়ে শরীরে ছিদ্র করা এবং ধর্ষণের হুমকিসহ বিভিন্নভাবে বন্দিদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
ইরাকের বিচার, স্বরাষ্ট্র এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিজেদের আলাদা আলাদা বন্দিশালা আছে এবং সব জায়গাতেই বন্দিদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছে অ্যামনেস্টি।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত এপ্রিলে জানায়, বাগদাদে গোপন কারাগারে বন্দিদের ধর্ষণ, বৈদ্যুতিক শক এবং পেটানোসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে।
গত জুলাইতে মার্কিন বাহিনীর কাছ থেকে সব কারাগার এবং বন্দিশালার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় ইরাকি কর্তৃপক্ষ। ১৫ জুলাই সর্বশেষ কারাগারটির দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইরাকের বিচারমন্ত্রী দারা নূরেদ্দিন দারা বলেছিলেন, ‘কারাগারে বন্দিদের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের দিন শেষ। কারও বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করে তাকে শাস্তি দেব।’

মেক্সিকোয় মাদক পাচারকারী চক্রের নেতা আটক

মেক্সিকোয় একজন তালিকাভুক্ত মাদক পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। গত রোববার দেশটির নৌবাহিনী পূর্বাঞ্চলীয় শহর পুয়েবলা থেকে দুজন সহযোগীসহ সার্জিও ভিলারিয়াল নামে ওই মাদক পাচারকারীকে আটক করে। তবে তিনি এল গ্রান্ডে নামে বেশি পরিচিত। তিনি মেক্সিকোর শক্তিশালী মাদকচক্র বেলট্রান লিভার প্রধান। তাঁকে লেফটেন্যান্ট হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়।
মেক্সিকোর নৌবাহিনী জানায়, এক অভিযানে ভিলারিয়ালকে আটক করা হয়। তবে আটকের সময় কোনো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি। পুলিশের সাবেক সদস্য ভিলারিয়াল মাদকচক্রে যোগ দেওয়ার আগে একাধিক অপরাধী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

উ. কোরিয়ায় সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দক্ষিণ কোরিয়ার

উত্তর কোরিয়ার বন্যাদুর্গত এলাকায় সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এ ছাড়া দেশটির সঙ্গে পুনরায় পরমাণু আলোচনা শুরুর সম্ভাবনার বিষয়ে কথা বলেছেন একজন মার্কিন দূত। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজ ডুবির ঘটনায় সিউল পিয়ংইয়ংকে দায়ী করলে দেশ দুটির মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার রেডক্রস জানায়, উত্তর কোরিয়ায় ৮৩ লাখ ডলারের সহায়তা পাঠানো হবে। সহায়তার মধ্যে থাকবে পাঁচ হাজার টন চাল, ১০ হাজার টন সিমেন্ট ও ৩০ লাখ প্যাকেট নুডলস। দেশটির রেডক্রসের প্রধান ইয়ু চোংহা জানান, চীনের সীমান্তবর্তী বন্যাদুর্গত সিনুইজু শহরে চাল পাঠানো হবে। তবে সহায়তার ব্যয়ভারের বেশির ভাগই সিউল বহন করবে বলে জানান ইয়ু। এ ছাড়া দুই দেশের বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোর মধ্যে পুনর্মিলনীর জন্য আগামী শুক্রবার একটি বৈঠক করারও প্রস্তাব দিয়েছেন ইয়ু। উত্তর কোরিয়াও দক্ষিণের সহায়তা নেওয়ার পাশাপাশি ১৯৫০-৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের সময় দুই দেশের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিবারগুলোর পুনর্মিলনের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং ইলের স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কারণে ক্ষমতাসীন দলের সম্মেলন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলটির নতুন নেতা নির্বাচনের জন্য সম্মেলনটি হওয়ার কথা ছিল। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার ওয়াইটিএন টেলিভিশন জানায়, কিমের অবস্থা অতটা খারাপ নয়, যে কারণে সম্মেলন বাতিল করতে হবে।

ফিলিপাইনে শান্তি আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে এমআইএলএফ

ফিলিপাইনের মুসলিম বিদ্রোহীরা শান্তি আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট বেনিগনো অ্যাকুইনো জানিয়েছেন, পবিত্র রমজান শেষে তিনি মরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্টের (এমআইএলএফ) সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। এ ছাড়া বিদ্রোহীদের প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাখের ইকবাল জানান, আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় বৈঠকটি হতে পারে। এ জন্য তাঁরা একটি প্যানেলের পুনর্গঠন করেছেন। এতে অমুসলিম নৃগোষ্ঠীগুলোরও প্রতিনিধিত্ব থাকবে। চার দশক ধরে চলে আসা মুসলিমদের বিদ্রোহে দেশটিতে এক লাখ ২০ হাজার মানুষ নিহত এবং ২০ লাখ মানুষ বাস্তুহারা হয়।

জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন ইরানে আটক মার্কিন পরিব্রাজক

ইরানে আটক মার্কিন পরিব্রাজক সারাহ শোর্ডকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। আগামী শনিবার তাঁকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গত রোববার এ কথা জনিয়েছেন।
আইনজীবী আব্বাস জাফরি দোলতাবাদী জানান, শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে প্রায় পাঁচ লাখ মার্কিন ডলারের জামানাতের বিনিময়ে শোর্ডকে জামিন দেওয়া হয়েছে। জামানাতের অর্থ জমা দিয়ে শোর্ড জামিন নিতে পারবেন। শোর্ড অসুস্থ বলে আদালত নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।
শোর্ডের মা নোরা গত মাসে জানিয়েছিলেন, তাঁর অসুস্থ মেয়েকে একাকী অবস্থায় বন্দী করে রাখা হয়েছে।
ইরাক থেকে ইরানে ঢুকে পড়ার পর গত বছরের ৩১ জুলাই শোর্ডসহ তিন মার্কিন পরিব্রাজককে আটক করে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, শোর্ডকে শিগগির মুক্তি দেওয়া হবে। তাঁর মুক্তির বিষয়টি প্রথমে জানানো হয় গত বৃহস্পতিবার। কিন্তু গত শনিবার এক আইনজীবী জানান, তাঁর জামিনের বিষয়টি এখনো আইনিভাবে চূড়ান্ত হয়নি। এরপর আবার এ নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়।

জিম্বাবুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের চার স্বাস্থ্যকর্মী গ্রেপ্তার

জিম্বাবুয়ের পুলিশ যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহভাজন চার স্বাস্থ্যকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনিবন্ধিত ক্লিনিক পরিচালনা ও এইডসের অনুমোদনহীন ওষুধ বিতরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। জিম্বাবুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আসা ওই চিকিৎসক দলে একজন চিকিৎসক, দুজন নার্স ও একজন কমিউনিটিকর্মী রয়েছেন। এ ঘটনায় জিম্বাবুয়ের দুই স্বাস্থ্যকর্মীকেও আটক করা হয়।
গতকাল সোমবার তাদের আদালতে হাজির করার কথা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আটক ব্যক্তিরা মূলত এইচআইভি পজিটিভ রোগী ও অনাথ শিশুদের দেখাশোনা করত।
স্থানীয়হেরাল্ড পত্রিকাকে পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেন, বিনা অনুমতিতে চিকিৎসার জন্যব্যবস্থাপত্র দেওয়ায় ছয় স্বাস্থ্যকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

পরিদর্শনে বাধা না দিতে ইরানের প্রতি আইএইএর আহ্বান

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান ইয়োকিয়া আমানো পরমাণু কার্যক্রম পরিদর্শনকাজে বাধা না দিতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত জুন মাসে ইরান দুজন পরমাণু পর্যবেক্ষককে সে দেশে নিষিদ্ধ করায় আমানো গতকাল সোমবার দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে পশ্চিমা বিশ্ব। তবে আমানো আইএইএর ৩৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদের এক সভায় গতকাল বলেন, ইরানের পেশাদারি ও নিরপেক্ষতার ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
পশ্চিমা দেশগুলোর সন্দেহ, ইরান পরমাণু কর্মসূচির আড়ালে পরমাণু বোমা তৈরি করছে। ইরান সব সময় এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। গত জুন মাসে দুজন পর্যবেক্ষকে সে দেশে নিষিদ্ধ করা ছাড়াও ইরান ২০০৬ সালে এক জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষককে সে দেশে ঢুকতে দেয়নি।
এদিকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির প্রধান আলি আকবর সালেহি বলেছেন, সে দেশের পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের কয়েকজন পরিদর্শককে বাধা দেওয়ার অধিকার রয়েছে তেহরানের।

শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে মধ্যপ্রাচ্যে হিলারি

শান্তি আলোচনা আরও এগিয়ে নিতে মধ্যপ্রাচ্য সফরে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। ইসরায়েল ফিলিস্তিনে বসতি স্থাপন সাময়িকভাবে স্থগিত করায় শান্তি আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে আশা জেগেছে।
বসতি স্থাপন বন্ধ রাখার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর। কিন্তু স্থগিতাবস্থা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। শান্তি আলোচনায় আরও বেশি সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি জর্জ মিটশেলকে সঙ্গে নিয়ে হিলারি ক্লিনটন আজ মঙ্গলবার মিসরের শারম আল শেখ অবকাশযাপনকেন্দ্র এবং বুধবার জেরুজালেমে বৈঠক করবেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে আলোচনা করবেন হিলারি। গত ৩ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু ও আব্বাসের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়েছে।
দ্বিতীয় দফার আলোচনায় ইসরায়েলি বসতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হতে পারে বলে মনে করছেন নিকট প্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন সাবেক উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডেনিন।
ডেনিন বলেন, ‘বসতি স্থাপন স্থগিতের বিষয়ে কিছু প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে এবারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। কেননা, এ বিষয় কোনো পরিষ্কার সিদ্ধান্ত ছাড়া তারা যাই করুক না কেন কোনো কাজে আসবে না।’ বসতি স্থাপনের ওপর স্থগিতাবস্থা আর বাড়ানো হবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। তবে ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, বসতি স্থাপন অব্যাহত থাকলে তারা শান্তি আলোচনা ভেঙে দেবে।
ক্লিনটনের সফরের সময় এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে সাবেক কূটনীতিক ডেনিনের। তিনি জানান, বরং চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি নেতানিয়াহু-আব্বাস দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হলে সেখানে আরও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
গাজা সীমান্তে গত রোববার ইসরায়েলি ট্যাংক থেকে ছোড়া গুলিতে তিন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিকেরা এ সফরে যাচ্ছেন।
এদিকে রোববার তিন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর গতকাল সোমবার ইসরায়েলি ভূখণ্ডে রকেট ছুড়েছে ফিলিস্তিনি জঙ্গিরা। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।

তুরস্কে সংবিধান সংশোধনে জনগণের রায়

তুরস্কে অনুষ্ঠিত গণভোটে সে দেশের সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব জয়যুক্ত হয়েছে। ‘হ্যাঁ’ প্রস্তাবে ৫৮ শতাংশ ও ‘না’ প্রস্তাবে ৪২ শতাংশ ভোট পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইপ এরদোগান বলেছেন, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের অগ্রগতি সাধন এবং আইন সমুন্নত করার ক্ষেত্রে তুরস্ক একটি ঐতিহাসিক পর্যায় অতিক্রম করল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভোটের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে বিরোধী দলগুলো এর সমালোচনা করে বলেছে, সরকার এর মাধ্যমে বিচার বিভাগের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের সাত কোটি ৪৮ হাজার লোকের মধ্যে মোট ভোটার চার কোটি ৯৫ লাখ। মোট ভোটারের ৭৮ শতাংশ ভোট দিয়েছেন। মধ্য আনাতোলিয়ায় সর্বোচ্চসংখ্যক ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ‘না’ ভোট পড়েছে রাজধানী ইস্তাম্বুলে।
কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রস্তাবিত সংশোধনী পাস হলে বেসামরিক আদালতের কাছে দেশের সেনাবাহিনীর জবাবদিহিতা ও বিচারক নিয়োগের ব্যাপারে পার্লামেন্টের ক্ষমতা বাড়বে, সরকারি কর্মকর্তারা ধর্মঘট করার আইনগত অধিকার পাবেন এবং ১৯৮০ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী এরদোগান বলেছেন, এর মাধ্যমে গণতন্ত্র ও জনগণের শক্তি একীভূত হবে। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয় এবং ‘কালো ক্ষমতা’ থেকে যারা নিজেদের আখের গোছায়, তারা এই সংশোধনী সমর্থন করে না। তবে এই সংশোধনী গণতন্ত্রের জন্য কাম্য ছিল।
তুরস্ক কয়েক বছর ধরেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যভুক্ত হতে চাইছে। সদস্য হওয়ার জন্য ইইউ যেসব শর্ত দিয়েছে, এই সংশোধনীর মধ্য দিয়ে তা পূরণ করা সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে ইইউ ওই সংশোধনী তুরস্কের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে বলে ঘোষণা করেছে। ইইউ এ জন্য এরদোগানের নেতৃত্বাধীন একেপি পার্টিকে অভিনন্দন জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রধানমন্ত্রী এরদোগানকে টেলিফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে তুরস্কের বিরোধী দলগুলো বলেছে, সংবিধানের প্রস্তাবিত সংশোধনী পাস হলে সরকারের পক্ষে বিচারব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।
তাদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন সরকার ইসলামি ভাবাদর্শে বিশ্বাসী। এ কারণে সংবিধান সংশোধন করে তারা কামাল পাশার ধর্মনিরপেক্ষ ভাবাদর্শভিত্তিক সংবিধানকে বিকৃত করতে পারে।

ব্লেয়ারের ওপর ক্ষুব্ধ ম্যান্ডেলা বললেন, ‘এটা মস্ত বড় ভুল’

ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ইরাক অভিযানে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় নেলসন ম্যান্ডেলা এতটাই রেগে গিয়েছিলেন যে ব্রিটিশ এক মন্ত্রীকে ফোন করে তিনি কড়া ভাষায় এর প্রতিবাদ জানান।
গতকাল সোমবার প্রকাশিত ব্রিটিশ লেবার দলের সাংসদ পিটার হেইনের লেখা দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বর্ণবাদবিরোধী নেতা ম্যান্ডেলার জীবনী গ্রন্থে এ কথা বলা হয়েছে।
পিটার হেইন লিখেছেন, ২০০৩ সালে ইরাক অভিযানের পর ম্যান্ডেলা তাঁকে ফোন করেন। পিটার তখন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ছিলেন। পিটার হেইনের ভাষায়, ‘তিনি (ম্যান্ডেলা) আমাকে বলেন, পিটার এটা বড় ভুল, মস্ত বড় ভুল। এটা ঠিক নয়। টনি ব্লেয়ার আফ্রিকাকে কত সাহায্য-সহযোগিতা করছেন আর তিনিই এমন কেন করছেন। আন্তর্জাতিকভাবে এতে করে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।’
পিটার হেইন আরও লিখেছেন, ‘ম্যান্ডেলার কণ্ঠে এতটা ক্ষোভ ও হতাশা আমি কখনো শুনিনি। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্লেয়ার এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তা চরম ভুল। তিনি আমাকে বললেন, টনি ব্লেয়ার এবং আমাদের সরকার বিশ্বজুড়ে যত ভালো কাজ করেছি, তা সব ধ্বংস হয়ে যাবে এই সিদ্ধান্তে।’
পিটার হেইন লিখেছেন, ‘আফ্রিকার জন্য সাহায্য ও উন্নয়ন-সহযোগিতার জন্য তিনি সব সময় আমাদের সরকারের প্রশংসা করে এসেছেন। সেই তিনি স্পষ্টভাবে বলে দিলেন, ইরাক অভিযানের ফলে আমাদের সব অবদান জলে ধুয়ে যাবে।’
‘নেলসন ম্যান্ডেলাকে আমি ভালোভাবেই চিনি। ফোন ধরার পর থেকে আমার মনে হয়েছে, তাঁর নিঃশ্বাসে আগুন ঝরছে এবং তিনি প্রতারিত বোধ করছেন। এটা খুবই পীড়াদায়ক।’ লিখেছেন পিটার হেইন।
তৎকালীন লেবার মন্ত্রী জানান, ম্যান্ডেলাকে তিনি বলেছিলেন তাঁর এই অনুভূতিকে তিনি সম্মান জানান, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ব্লেয়ার নিজের মর্জিমাফিক সবকিছু করছেন।
পিটার হেইন লিখেছেন, ‘আমার মনে হয়, আমি তাঁকে বলেছিলাম, সিদ্ধান্তটা ভুল না ঠিক, ইতিহাসই এর বিচার করবে। তবে তিনি জোরালো কণ্ঠে জানিয়ে দেন, ইতিহাসের জন্য আমাদের অপেক্ষা করার প্রয়োজন হবে না।’
পিটার হেইন বড় হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকায়ই। তাঁর মা-বাবা ছিলেন বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কর্মী।

ভারতের ২৬ মন্ত্রীর নিজের গাড়ি নেই

ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার ৭৭ জন মন্ত্রীর মধ্যে ২৬ জনের নিজের গাড়ি নেই। তাঁরা সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন। মন্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী হলেন বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী প্রফুল প্যাটেল। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৩১ কোটি রুপি। গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। সুভাষ আগরওয়াল নামে এক ব্যক্তি তথ্য জানার অধিকার আইন বলে মন্ত্রীদের সম্পদের হিসাব সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে ওই সচিবালয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
ধনীর তালিকায় মন্ত্রীদের মধ্যে প্রফুল প্যাটেলের পর রয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। তাঁর সম্পদের মূল্য ২৪ কোটি রুপি। এরপর রয়েছেন যথাক্রমে মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী কপিল সিবাল (২৩ কোটি রুপি), ভূতল পরিবহনমন্ত্রী কমলনাথ (২০ কোটি রুপি), কৃষিমন্ত্রী শারদ পাওয়ার (চার কোটি রুপি), অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি (এক কোটি রুপি), রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ছয় লাখ ৬০ হাজার), শক্তিমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ ( সাড়ে ছয় লাখ রুপি), নগরোন্নয়নমন্ত্রী জয়পাল রেড্ডি (তিন লাখ ৩০ হাজার রুপি) ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী মুকুল ওয়াসনিক (তিন লাখ ৩০ হাজার রুপি)।

আইএমএফ থেকে ১০ টন সোনা কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের (মজুদ) একটা অংশ স্বর্ণে সংরক্ষণ করার পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে কেনাও হয়েছে ১০ মেট্রিক টন সোনা।
রিজার্ভ থেকে ৪০ কোটি ৩০ লাখ ডলার দিয়ে এই সোনা কেনা হয়েছে, বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় দুই হাজার ৮২০ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য ধরে এই সোনা কেনাবেচা হয়েছে।
আইএমএফ তাদের ওয়েবসাইটে ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সোনা বিক্রির তথ্য প্রকাশও করেছে।
এই সোনা বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে সংরক্ষিত থাকবে। যেকোনো সময় প্রয়োজন হলে এই সোনা বিক্রি করা যাবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের বিনিয়োগ ঝুঁকি কমাতে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের রিজার্ভে এত দিন সোনা ছিল না। প্রথমবারের মতো ১০ টন সোনা কেনা হলো, যা হবে রিজার্ভের প্রায় পাঁচ-ছয় শতাংশ।’
গভর্নর বলেন, রিজার্ভের পুরোটাই এত দিন ছিল ডলার-ইউরোর মতো কাগুজে মুদ্রায়। কাগুজে মুদ্রার মান এবং তা কোনো দেশের ব্যাংকে বিনিয়োগ করলে সুদের হার বেশ ওঠা-নামা করে। সে তুলনায় সোনার দাম বরাবরই স্থিতিশীল এবং তা ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী। এ বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের একটা অংশ সোনায় সংরক্ষণের পদক্ষেপ নেয় বলে জানান গভর্নর।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার কারণে মুদ্রাবাজার ব্যাপকভাবে অস্থিতিশীল হয়। একদিকে মুদ্রার দর পতন, অন্যদিকে সুদের হার কমে ওঠা-নামা করতে থাকে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকে সংরক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে ঝুঁকিমুক্ত করতে তা তুলে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষণ করে।
এতে ক্ষেত্র বিশেষে সুদ আয় ছাড়ও দিতে হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত অর্থবছরে রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় অনেক কম হয়েছে। সে তুলনায় সোনার দর অনেকটাই স্থিতিশীল।
বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে বিভিন্ন মুদ্রায় দেশের যে রিজার্ভ বিনিয়োগ করা আছে, তা থেকে কতটুকু আয় হবে, তার অনেকটাই নির্ভর করে সে দেশের রাজস্ব ও মুদ্রানীতি ভঙ্গির ওপর।
অন্যদিকে সোনার দর ওঠা-নামা করে চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে। জানা যায়, এসব বিবেচনায় সোনায় কিছু বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
আতিউর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা কেনার একটা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এখানে কোনো সোনা রিজার্ভ ছিল না। ১৯৭২ সালে কানাডা সরকার বাংলাদেশকে কিছু সোনা অনুদান দেয়, যা দিয়ে আইএমএফের সদস্য হয় বাংলাদেশ।
উল্লেখ্য, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এরই মধ্যে অনেক বেড়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দিয়ে রিজার্ভের একটা অংশ স্বর্ণে বিনিয়োগ করার পরামর্শও দেন।
এ বিষয়ে আতিউর রহমান বলেন, ’৭২ সালে কানাডার কাছ থেকে সোনা অনুদান নেওয়া এবং আইএমএফের সদস্যপদ পাওয়ার সময় বর্তমান অর্থমন্ত্রী সরকারের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি তাঁর সেই অনুভূতির কথা মনে করে এই সোনা কেনার পরামর্শ দেন।
আইএমএফের কাছ থেকে সোনা কেনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, দেশের রিজার্ভকে বহুমুখী করা ও সুসংহত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৯ সেপ্টেম্বর আইএমএফের কাছ থেকে ১০ মেট্রিক টন সোনা কিনেছে। বন্ড, অন্যান্য সিকিউরিটিজ ও বৈদেশিক মুদ্রার তুলনায় সোনায় বিনিয়োগ কম ঝুঁকিপূর্ণ। একই সঙ্গে সোনায় বিনিয়োগ থেকে মুনাফা করা সম্ভব।
বলা হয়েছে, সোনার নিজস্ব ক্রয় ক্ষমতা রয়েছে এবং তা মূল্যস্ফীতির বিপরীতে হেজ ইনস্ট্রুমেন্ট (এক ধরনের আর্থিক উপাদান) হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। কাগুজে মুদ্রার মূল্যমান হ্রাস পেলেও দীর্ঘমেয়াদে সোনার মূল্যমান বজায় রাখতে সক্ষম।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে বিভিন্ন মুদ্রার বিনিয়োগ থেকে আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় সোনায় বিনিয়োগ গুরুত্ব পাচ্ছে। সোনা একই সঙ্গে সহজে বিনিময়যোগ্য (লিকুইড) এবং বিশ্বব্যাপী এর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। মুদ্রা প্রচলনের বিপরীতে সোনার সংরক্ষণ জনমনে আস্থারও সৃষ্টি করে। সম্প্রতি চীন ও ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে সোনার ব্যাপক চাহিদা দেখা যায়। ফলে সার্বিকভাবে সোনার বাজারের সম্প্রসারণ ইতিবাচক মনে করা যায়। এ ছাড়া সোনার মজুদ দেশের ঋণ মান নির্ধারণ (ক্রেডিট রেটিং) এবং স্থিতিপত্রের মৌলিক ভিতকে সুদৃঢ় করে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। যুদ্ধ অথবা সংকটময় পরিস্থিতিতে সিকিউরিটিজ ও মুদ্রাবাজারে ধস নামলেও সোনার মূল্য সে অনুপাতে অস্থিতিশীল নয়। সংকটকালে অনেক ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা ‘ফ্রিজ’ করার নজির রয়েছে। কিন্তু সোনা বিদেশে উচ্চ রেটিং-সংবলিত ব্যাংকে গচ্ছিত থাকে বিধায় এ ক্ষেত্রে ফ্রিজ করার কোনো নজির পাওয়া যায় না।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এ কারণে সোনায় রিজার্ভ সংরক্ষণ নিরাপদ এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণেই বিশ্বের প্রায় সব দেশই রিজার্ভের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সোনায় বিনিয়োগ করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, রিজার্ভের সোনা ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে রক্ষিত বলে এর বেচাকেনার কোনো প্রভাব অভ্যন্তরীণ বাজারে পড়বে না। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্য ওঠা-নামার ফলে বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও মূল্যের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে।

শেয়ারবাজারে লেনদেন অনেক কম হয়েছে

টানা চার দিন ঈদের ছুটির পর গতকাল সোমবার থেকে দেশের শেয়ারবাজারের লেনদেন আবার চালু হয়েছে। কিন্তু লেনদেন চালু হলেও শেয়ারবাজারে ঈদের রেশ এখনো কাটেনি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্য ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। এমনকি এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটা বড় অংশ ঈদের ছুটি কাটিয়ে এখনো কাজে যোগ দেননি।
হাতেগোনা যে কজন বিনিয়োগকারী উপস্থিত ছিলেন, তাঁরাও লেনদেনের পাশাপাশি সময় কাটিয়েছেন পরস্পরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনেও (এসইসি) ছিল প্রায় একই চিত্র। কর্মকর্তাদের অনেকেই এখনো ছুটি কাটিয়ে কাজে যোগ দেননি। যাঁরা এসেছিলেন, তাঁরাও অলস সময় কাটিয়েছেন।
ডিএসইর একজন সদস্য জানান, গতকাল ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতির হার ছিল অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। তবে অনেকেই ঢাকার বাইরে থেকে টেলিফোনের মাধ্যমে লেনদেনের কাজটি ঠিকই সেরে নিয়েছেন।
এদিকে ছুটির আগে শেষ দিনের মতো গতকালও দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই লেনদেন ও মূল্যসূচকে ছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান দুটি সূচক গতকাল কমেছে। তবে অপেক্ষাকৃত ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-২০ ও সিএসই-৩০ সূচক বেশ খানিকটা বেড়েছে। আর লেনদেনের পরিমাণ কমেছে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জেই।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, ঋণসুবিধাবহির্ভূত শেয়ারে আর্থিক সমন্বয় সুবিধা বা নেটিং ফ্যাসিলিটি বন্ধের এসইসির নির্দেশ গতকাল থেকে কার্যকর হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা ঋণসুবিধাবহির্ভূত কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে লেনদেন নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত বিক্রিলব্ধ টাকা দিয়ে অন্য কোম্পানির শেয়ার কেনা যাবে না। তার মানে, শেয়ার বিক্রির পর ঋণসুবিধাবহির্ভূত শেয়ার কিনতে একজন বিনিয়োগকারীকে কোম্পানিভেদে চার থেকে ১০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এ কারণে এ ধরনের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল তুলনামূলক কম। যা শেষ পর্যন্ত সূচক ও লেনদেনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ ছাড়া বিনিয়োগকারীদের কম উপস্থিতিও লেনদেন কমার একটা বড় কারণ।
বাজার পরিস্থিতি: ডিএসইতে গতকাল সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে মাত্র ১০ পয়েন্ট কমে ছয় হাজার ৭৯৬ পয়েন্টে নেমে আসে। আর সার্বিক মূল্যসূচক ১২ পয়েন্ট কমে হয়েছে পাঁচ হাজার ৭০২ পয়েন্ট। আর লেনদেন হয়েছে এক হাজার ২৮ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা কম।
সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ৪২ পয়েন্ট কমে ২০ হাজার ১৩৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে। লেনদেন হয়েছে প্রায় ৯২ কোটি টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১০০টির, কমেছে ৬৯টির ও অপরিবর্তিত ছিল তিনটি কোম্পানির দাম।
ছুটির আমেজে থাকা লেনদেন দিবসেও বাজারে ছড়িয়ে পড়ে গুজব। গুজবটি ছিল, শেয়ারের বিপরীতে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে এসইসি ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেয়ারের বাজার মূল্য ও প্রকৃত সম্পদ মূল্যের (এনএভি) নিয়ম মেনে চলার যে কড়াকড়ি আরোপ করেছে সেটি কিছুটা শিথিল করা হচ্ছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে এই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর করা হতে পারে।
যদিও দিন শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এর কোনো সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, গতকাল থেকে শেয়ারবাজারের লেনদেনের সময়সূচি আবার আগের নিয়মে ফিরে গেছে। বেলা ১১টা থেকে তিনটা পর্যন্ত একটানা চার ঘণ্টা লেনদেন চলেছে। রোজা উপলক্ষে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের সময় সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা দেড়টায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। ফলে পুরো রোজার মাস প্রতিদিন চার ঘণ্টার পরিবর্তে তিন ঘণ্টা করে লেনদেন হয়েছে।

বাংলাদেশ সফরে নেই স্টাইরিস-গাপটিল

পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলার জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এসে পৌঁছবে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। গত পরশু ঘোষিত নিউজিল্যান্ডের ১৫ সদস্যের দলে নেই অলরাউন্ডার স্কট স্টাইরিস ও ব্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিল। পারিবারিক কারণে গত মাসে শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশীয় সিরিজে না খেলা ড্যানিয়েল ভেট্টোরি ও ব্রেন্ডন ম্যাককালাম অবশ্য আসছেন বাংলাদেশে। ফিরেছেন জেসি রাইডারও। দলে চমক বলতে একটাই—নতুন মুখ ফাস্ট বোলার হামিশ বেনেট।
স্টাইরিস আসতে পারছেন না পিঠের চোটের কারণে। সামনে বিশ্বকাপ, বাংলাদেশে এলে সেটির প্রস্তুতিও হতো। তা হচ্ছে না বলে হতাশ স্টাইরিস, ‘বাংলাদেশ সফরের দিকে তাকিয়ে ছিলাম আমি। কিন্তু যাওয়া হচ্ছে না বলে হতাশ আমি।’
ক্যান্টারবুরির ফাস্ট বোলার হামিশ বেনেটের অনুভূতিটা পুরো বিপরীত। প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন নিউজিল্যান্ড দলে, যা বড় একটা বিস্ময় হয়েই এসেছে তাঁর কাছে, ‘আমি খুবই বিস্মিত হয়েছি। মার্ক গ্রেচব্যাচ (দলের কোচ) আমাকে ফোন করার কথা জানিয়ে মেসেজ দিয়েছিলেন। ভেবেছিলাম হয়তো নিউজিল্যান্ড “এ” দলের হয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে যাওয়ার কথা বলবেন। মিনিট দশেক আলোচনার পর তিনি জানতে চাইলেন, আমি বাংলাদেশ সফরে যেতে চাই কি না।’
নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে এমন আহামরি কোনো পারফরম্যান্স নয়। সীমিত ওভারের খেলায় ৩৭.২৯ গড়ে ২৪ উইকেট। নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে গত শীতে অস্ট্রেলিয়া সফরে দুটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টিতে কোনো উইকেটই নিতে পারেননি বেনেট। ডাক পেয়ে তাঁর চমকে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।
যে সিরিজ দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে বেনেটের, সেটিকেই ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে জেসি রাইডারের। কনুইয়ের ইনজুরির কারণে গত মাসে শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশীয় সিরিজে দলে রাখা হয়নি তাঁকে। কিন্তু আসল কারণটা হলো, ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার সময় মদ্যপ হয়ে আবারও নানা কাণ্ড ঘটিয়েছেন! নিজেকে শোধরানোর শেষ সুযোগ বলে দিয়ে বাংলাদেশ সফরের দলে তাঁকে রেখেছেন নির্বাচকেরা।
৫ অক্টোবর প্রথম ওয়ানডের আগে ১ ও ৩ তারিখ দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে নিউজিল্যান্ড। সিরিজের বাকি চারটি ওয়ানডে হবে ৮, ১১, ১৪ ও ১৭ অক্টোবর।
বাংলাদেশের জন্যও এই সিরিজ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। যে সিরিজে যথারীতি ড্যানিয়েল ভেট্টোরিই হবেন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বেশ কিছু দিনের বিশ্রাম এবং সদ্য পাওয়া বর্ষসেরা নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটারের স্বীকৃতিতে চনমনে হয়েই আসছেন ভেট্টোরি। চতুর্থবারের মতো নিউজিল্যান্ডের বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পেয়েছেন ভেট্টোরি, সঙ্গে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট ও ওয়ানডেতে সেরা বোলারের স্বীকৃতিও। ওয়েবসাইট।
নিউজিল্যান্ড দল: ড্যানিয়েল ভেট্টোরি (অধিনায়ক), হামিশ বেনেট, গ্র্যান্ট এলিয়ট, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, নাথান ম্যাককালাম, অ্যান্ডি ম্যাকাই, জেসি রাইডার, অ্যারন রেডমন্ড, টিম সাউদি, শানান স্টুয়ার্ট, রস টেলর, ড্যারিল টাফি, ব্র্যাডলি-জন ওয়াটলিং ও কানে উইলিয়ামসন।

রেহাই চান রুনি দম্পতি

পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে, বিবৃতি দিয়ে ‘গোপনীয়তা’ চাইতে হলো ওয়েইন রুনি ও তাঁর স্ত্রীকে। বিবৃতি না দিয়ে উপায়ও নেই। প্রায় দিন দশেক ধরে ইংলিশ সংবাদমাধ্যমে টানা ঝড় বইছে রুনির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে।
গত রোববারের আগের রোববার অধুনা ক্রিকেটের কল্যাণে আলোচিত ট্যাবলয়েড নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড প্রথম বোমাটা ফাটিয়েছিল। তাদের দাবি, সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে ঘরে রেখে এক পতিতার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন ইংলিশ তারকা।
এই দাবি সত্যি কি না, কে জানে। মাঝে ইংল্যান্ডের হয়ে মাঠে নেমে দীর্ঘদিন পর গোল পেলেও শনিবার এই বিতর্কের জের ধরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে মাঠে নামা হয়নি রুনির। এভারটনের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র হওয়া এই ম্যাচে রুনিকে দর্শকদের দুয়ো থেকে বাঁচাতে মাঠে নামানো হয়নি বলে বলেছেন ম্যানইউ কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন।
ইংলিশ ট্যাবলয়েড দ্য সান দাবি করেছে, ব্যাপারটা আসলে অন্য রকম। রুনির যথেচ্ছাচারে আসলে চটেছেন স্যার ফার্গুসন। তিনি নাকি রুনিকে বাইরে রেখে একটু শিক্ষা দিতে চেয়েছেন। ম্যানইউয়ের প্রতিপক্ষ এভারটনের ম্যানেজার ডেভিড ময়েসেরও ধারণা তা-ই।
এই যার যার মতো ধারণা, মনগড়া গল্পগুলো থামানোর জন্যই কাতর আবেদন জানিয়েছেন রুনি দম্পতি। লিখিত বিবৃতিতে ওয়েইন ও কোলিন রুনি বলেছেন, ‘সংবাদমাধ্যমের তীব্র আলোচনার কেন্দ্রে বসে এবং তাদের বাস্তবতাবর্জিত ও অনাহূত সংবাদের মাঝে কোনো পরিবারের পক্ষেই নিজেদের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়; আমাদের পক্ষেও সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমরা সংবাদমাধ্যমকে এখন আমাদের গোপনীয়তার প্রতি একটু সম্মান দেখানো এবং বিষয়টি নিজেদের মধ্যে সমাধানের সুযোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করছি।’
এই আবেদনে কি কাজ হবে?

ফার্গুসনের ৭০০ ও ওয়েঙ্গার

একজন একটা বলেন তো, অন্যজন সেটির জবাব দেন সঙ্গে সঙ্গে। কথা, পাল্টা কথা। খোঁচা, পাল্টা খোঁচা। সবাই তাঁদের এমন সাপে-নেউলে সম্পর্কের কথাই জানে। তবে অ্যালেক্স ফার্গুসন ও আর্সেন ওয়েঙ্গারের পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধও আছে। কিছু দিন ধরে একটু বেশি করেই এটি দেখা যাচ্ছে। পরশু আর্সেনাল কোচ ওয়েঙ্গার দেখালেন আরেকটি নমুনা। এভারটনের বিপক্ষে শনিবারের ম্যাচটি ছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে ফার্গুসনের ৭০০তম। ব্যাপারটিকে ফার্গুসনের অনন্য কীর্তি হিসেবেই দেখছেন ওয়েঙ্গার, ‘শীর্ষ পর্যায়ে দারুণ ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন তিনি। এর জন্য বিশেষ মান ও আত্মনিবেদন লাগে। ৭০০-এর মানে হলো ম্যাচের আগে ৭০০টি বিনিদ্র রাত। কখনো কখনো ম্যাচের পরও বিনিদ্র রাত!’

কলঙ্কিত ত্রয়ীর পাকিস্তানে ফেরা

ছোট্ট ক্যারিয়ারে যে দুর্দান্ত দাপট দেখিয়েছেন, একদিন দেশে ফিরে সমর্থকদের ফুলের মালা আশা করতে পারতেন। কিন্তু সেই মোহাম্মদ আমিরকে ঈদের দিন দেশে ফিরে শুনতে হলো সমর্থকদের গালিগালাজ।
শনিবার আমিরের সঙ্গেই ইংল্যান্ড থেকে লাহোর বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন ‘কলঙ্কিত’ আরও দুই পাকিস্তানি ক্রিকেটার সালমান বাট ও মোহাম্মদ আসিফ। বাইরে এই তিন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে স্লোগান লেখা ব্যানার হাতে নিয়ে, জুতা উঁচিয়ে অপেক্ষা করছিল কয়েক শ পাকিস্তানি।
অবশ্য বিমানবন্দরের অভ্যর্থনাকক্ষে ভিন্ন চিত্রও ছিল। এই তিন ক্রিকেটারের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ‘সালমান বাট জিন্দাবাদ, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম নিপাত যাক’—এমন পোস্টার হাতে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন! উদ্দেশ্য বিক্ষোভকারীদের জবাব দেওয়া।
সে উদ্দেশ্য খুব একটা সফল হয়েছে বলা যায় না। কারণ, বিক্ষোভকারীদের ভয়ে তিন ক্রিকেটারকে বিমানবন্দরের পেছন দিক দিয়ে গোপনে বের করে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বাড়িতে।
স্পট-ফিক্সিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত তিন ক্রিকেটার অবশ্য অভিযোগ থেকে মুক্তি পাননি। তদন্তের জন্য ডাকলেই লন্ডনে হাজির হবেন—এই মুচলেকা দিয়েই ইংল্যান্ড থেকে বের করে আনা হয়েছে তাঁদের।
ওদিকে এই তিনজনের পর পাকিস্তান দলে সন্ধান মিলেছে কথিত সেই ‘চতুর্থ ক্রিকেটারে’র। বৃহস্পতিবার পিসিবির চেয়ারম্যান ইজাজ বাট নিজেই জানিয়েছেন, ব্রিটিশ পুলিশ এবার জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় তরুণ পেসার ওয়াহাব রিয়াজকে। আজই সেই জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা।

ইরফানের ওপর চটেছেন আফ্রিদি

পাঁচ ম্যাচের সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচেই ইংল্যান্ডের জয়। সিরিজ তো তা হলে শেষই! তবে শহীদ আফ্রিদি আগেই পরাজয় মেনে নেওয়ার লোক নন। বিতর্কে জেরবার দলকে উজ্জীবিত করতে পাকিস্তান-অধিনায়ক বলতে পারেন, ‘হারলেই কী, আমরা তো ক্রমেই উন্নতি করছি।’
তা অবশ্য করছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে লজ্জাজনক পরাজয়ের পর ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে একটু ভালো করেছে, দ্বিতীয় ম্যাচে আরও ভালো। গত শুক্রবার চেস্টার লি স্ট্রিটে প্রথম ওয়ানডেতে বৃষ্টির কারণে ৪১ ওভারে কমে আসা ম্যাচে ইংল্যান্ডের ২৭৪ রান তাড়া করতে নেমে ২৪ রানে হেরেছিল পাকিস্তান। ওপেনিংয়ে নেমে স্টিভ ডেভিসের ৬৭ বলে ৮৭ রানের ইনিংসটিই বড় ভূমিকা রেখেছে ইংল্যান্ডের জয়ে।
রোববার লিডসে দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তান হেরেছে ৪ উইকেটে। তবে এটি যা বোঝাচ্ছে, ম্যাচটি ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। কিছু ব্যাপার একটু এদিক-ওদিক হলে তিন বল বাকি থাকতে শেষ হওয়া ম্যাচটিতে পাকিস্তান এমনকি জিতেও যেতে পারত। কামরান আকমল (৭২ বলে ৭৪) ও মোহাম্মদ হাফিজের (৬৮ বলে ৪৩) ১২২ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ভর করে ২৯৪ রান করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু এটিও জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের সেঞ্চুরির কারণে। ১৩৪ বলে ১২৬ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন স্ট্রাউস। জোনাথন ট্রটের (৫৩) সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে তাঁর ১৪৬ রানের জুটিটিই গড়ে দিয়েছে ইংল্যান্ডের জয়ের ভিত্তি।
তবে ওই যে একটু এদিক-ওদিক হওয়ার কথা বলা হলো, সেটি মূলত স্ট্রাউসের ইনিংস সম্পর্কেই। ৩৮ রানে শোয়েব আখতারের বলে কট বিহাইন্ড হয়েও বেঁচে গেছেন আম্পায়ার বিলি ডকট্রোভের ভুলের কারণে। ম্যাচের পর যেটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ওয়ানডেতেও রিভিউ পদ্ধতি প্রবর্তনের দাবি তুলেছেন আফ্রিদি। ‘ক্রিকেটে এখন এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি জানি, টি-টোয়েন্টিতে যথেষ্ট সময় নেই, কিন্তু ওয়ানডেতে তো সেই সমস্যা নেই।’ স্ট্রাউসের প্রতিক্রিয়া অবশ্য অনুমিতই, ‘বলটা আমার গ্লাভসে লেগেছে কি না, আমি নিশ্চিত নই। তা ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তো আম্পায়ার আছেন।’
এসব কথা অবশ্য উঠতই না, যদি মোহাম্মদ ইরফান শর্ট ফাইন লেগে স্ট্রাউসের সহজ ক্যাচটা ফেলে না দিতেন। স্ট্রাউসের রান তখন মাত্র ২৩। পাকিস্তানের বহুল আলোচিত সাত ফুটি পেসারের অভিষেক হয়েছে সিরিজের প্রথম ম্যাচে। ষষ্ঠ ওভার বোলিং করার সময় পেশিতে টান পড়ায় বেরিয়ে গেছেন মাঠ থেকে। এর আগে ৩৭ রান দিয়ে কোনো উইকেট নেই। দ্বিতীয় ম্যাচে ৭ ওভারে ৪০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য, ওই ক্যাচ ফেলার পর এ দিনও খোঁড়াতে খোঁড়াতে মাঠ ছেড়েছেন। শহীদ আফ্রিদির মেজাজটা রীতিমতো সপ্তমে উঠে গেছে এতেই। কোনো কূটনীতির ধার না ধেরে ম্যাচ-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমি ওর ব্যাপারে সত্যিই খুব হতাশ। ক্রিকেটে শুধু ব্যাটিং আর বোলিং নয়, এখন ফিল্ডিংও খুব গুরুত্বপূর্ণ।’ ফিল্ডিংয়ে উন্নতি না করলে ইরফানকে আর না খেলানোর ঘোষণাও একরকম দিয়ে দিয়েছেন এরপর।
সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটি হবে আগামী শুক্রবার। এএফপি।
প্রথম ওয়ানডে
ইংল্যান্ড: ৪১ ওভারে ২৭৪/৬ (ডেভিস ৮৭, ট্রট ৬৯, স্ট্রাউস ৪১, বোপারা ৩৫*; আজমল ৪/৫৮, আফ্রিদি ১/৫২)
পাকিস্তান: ৪১ ওভারে ২৫০/৯ (কামরান ৫৩, উমর ৪৩, ফাওয়াদ ৩৯, হাফিজ ৩০; অ্যান্ডারসন ২/৩৫, ইয়ার্ডি ২/৪৯, সোয়ান ২/৫০, ব্রেসনান ২/৬১, ব্রড ১/৫৪)
ফল: ইংল্যান্ড ২৪ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: স্টিভ ডেভিস
দ্বিতীয় ওয়ানডে
পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৯৪/৮ (কামরান ৭৪, আসাদ ৫০, ইউসুফ ৪৬, হাফিজ ৪৩; ব্রড ৪/৮১, ব্রেসনান ১/৫৩, অ্যান্ডারসন ১/৩৬, সোয়ান ১/৪৩, কলিংউড ১/২৬)।
ইংল্যান্ড: ৪৯.৩ ওভারে ২৯৫/৬ (স্ট্রাউস ১২৬, ট্রট ৫৩; আজমল ২/৫২, শোয়েব ১/৪৯, গুল ১/৫৯, আফ্রিদি ১/৫৯, ইরফান ০/৪০, হাফিজ ০/৩৩)।
ফল: ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস

ম্যানইউকে জিততে দেয়নি এভারটন

ওল্ড ট্রাফোর্ড রঙে রঙে সাজেনি। তবে এভারটনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের মনে একটু হলেও উদ্যাপনের একটা রং ছিল। এটি যে ছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে তাঁর ৭০০তম ম্যাচ।
তবে ম্যাচ শেষে ফার্গুসনের মনের সবটুকু রং ফিকে হয়ে গেছে। গত শনিবারের ওই ম্যাচে এভারটনের সঙ্গে ৩-৩ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ম্যানইউ। আরও একটা প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতে সর্বোচ্চ লিগ শিরোপা জয়ের রেকর্ড নিতে চায় তারা। অথচ মৌসুমের শুরুর দিকেই কিনা মাঝারি মানের একটি দলের কাছে এমন ধাক্কা!
ড্রটাও আবার মহানাটকীয়। এভারটনের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকান মিডফিল্ডার পিনারের গোলে প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল ম্যানইউ। এর পর ড্যারেন ফ্লেচার, নেমানিয়া ভিদিচ ও দিমিতার বারবেতভের গোলে ৩-১-এ এগিয়ে যায় তারা। ম্যাচের তখন ২৪ মিনিট বাকি। ৯০ মিনিটেও স্কোরলাইনটা ছিল এ রকম। ম্যানইউর সমর্থকেরা তখন জয়োৎসব করতে শুরু করেছে। ম্যাচের মোড় ঘুরে গেল তখনই। ইনজুরি সময়ের দুই মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে ম্যানইউ শিবিরকে স্তব্ধ করে দেন টিম কাহিল ও আরটেটা। ফার্গুসন আর কী বলবেন? ‘এভারটনকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম আমরা। কিন্তু সেটা করতে পারলাম না। আমরা দুটি পয়েন্ট ছুড়ে দিয়ে এলাম।’
লিগ কেবল শুরু। মাত্রই চারটি করে ম্যাচ হয়েছে। এখনই শিরোপা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা মুশকিল। তবে শুরুতেই যে শিরোপা লড়াইয়ে ম্যানইউ পেছনে পড়ে গেল, এটা তো অস্বীকার করার জো নেই! চার ম্যাচে চার চারটি পয়েন্ট হারাল তারা। এর আগে ফুলহামের বিপক্ষেও জয়ের প্রান্তে গিয়ে ফিরে এসেছে ফার্গুসনের দল। ম্যাচ শেষে সেটাই বলেছেন ম্যানইউ কোচ, ‘শেষ দুটি অ্যাওয়ে ম্যাচেই এমন হলো।’
দুটি ম্যাচের শেষ দিকে এমন গোল খাওয়ার ফলে ৪ ম্যাচ থেকে ৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে ম্যানইউ। মাইকেল এসিয়েনের জোড়া গোলের সঙ্গে সলোমন কালুর গোল মিলিয়ে ওয়েস্টহামকে ৩-১-এ হারিয়ে শীর্ষে চেলসি। পূর্ণ ১২ পয়েন্ট তাদের। ১০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আর্সেনাল। পরশু বোল্টনের বিপক্ষে ৪-১ গোলে জিতেছে আর্সেন ওয়েঙ্গারের দল।
তবে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি লিভারপুল আর ম্যানচেস্টার সিটি। লিভারপুল বার্মিংহামের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে। আর ম্যান সিটি-ব্ল্যাকবার্ন ম্যাচটি ড্র হয়েছে ১-১ গোলে।

পর্দা উঠছে চ্যাম্পিয়নস লিগের

দু-তিনটি করে ম্যাচ গড়াতেই জমে উঠেছে স্প্যানিশ লিগ, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, ইতালিয়ান সিরি ‘আ’। চলছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্ব। কিন্তু তার পরও ইউরোপের নতুন ফুটবল মৌসুমে কী যেন অভাব ছিল। অভাবটা আসলে চ্যাম্পিয়নস লিগের। ইউরোপের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে এক লিগের সেরা দলগুলো সত্যিকারের বিশ্বজনীন (সারা বিশ্ব থেকে খেলোয়াড় সংগ্রহের বিবেচনায়) আবেদন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না নামলে হয় নাকি! হ্যাঁ, আজ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বের সূচনা সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগুনই ছড়িয়ে দেবে।
সূচনা পর্বে সবচেয়ে বড় ম্যাচটি অবশ্য আগামীকাল—যাতে মুখোমুখি সাবেক দুই চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ ও আয়াক্স আমস্টারডাম। গতবারের রানার্সআপ বায়ার্ন মিউনিখ বনাম সিরি ‘আ’ রানার্সআপ রোমার ম্যাচটি নিয়েও বাড়তি আগ্রহ থাকবে সবার।
আজ চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলান নতুন কোচ রাফায়েল বেনিতেজের হাত ধরে শুরু করে দিচ্ছে চ্যাম্পিয়নস লিগ। প্রতিপক্ষ নবাগত ডাচ দল এফসি টুয়েন্টে। নিজেদের মাঠে খেলা, তার পরও গত মৌসুমের ট্রেবলজয়ী ইন্টারের সামনে কি আর বাধা হবে টুয়েন্টে! এই ‘এ’ গ্রুপেরই আরেক ম্যাচে মুখোমুখি সাবেক চ্যাম্পিয়ন ভেরডার ব্রেমেন ও নবাগত টটেনহাম হটস্পার। ‘সি’ গ্রুপে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-গ্লাসগো রেঞ্জার্সের ম্যাচটির একটা বাড়তি তাৎপর্য আছে। স্কটিশ যোগসূত্র। ম্যানইউ কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন কৈশোরে ছিলেন রেঞ্জার্সের সমর্থক, খেলেছেনও এই ক্লাবের হয়ে। লড়াইটা দুই বন্ধুরও। রেঞ্জার্সের কোচ ওয়াল্ডার স্মিথ ফার্গুসনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, ২০০৩-০৪ মৌসুমে কিছু দিনের জন্য ম্যানইউতে ফার্গুসনের সহকারী হিসেবেও কাজ করেছেন। ইংলিশ-স্কটিশ চির বৈরিতার কাছে সেই বন্ধুত্ব অবশ্য আজ ছুটি নেবে। তবে এটা এমন কিছু নয়, শুরুর দিন আসল আগুনটা দেখবে বার্সেলোনার ন্যু ক্যাম্প।
আগুন আসলে জ্বলছে বার্সেলোনার মনের মধ্যে। এমনিতে ‘ডি’ গ্রুপে গ্রিক চ্যাম্পিয়ন প্যানাথিনাইকসের পাত্তা পাওয়ারই কথা নয় স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়ন বার্সার কাছে। অতীতের দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাস তা-ই বলে। ২০০২ কোয়ার্টার ফাইনালের দুই লেগ মিলিয়ে ৪-১ গোলে বার্সার কাছে হেরেছিল প্যানাথিনাইকস। ২০০৫ সালের গ্রুপ পর্বে নিজেদের মাঠে গোলশূন্য ড্রয়ের পর ন্যু ক্যাম্পে গিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছিল ৫-০ গোলে।
২০০৫ থেকে ২০১০। পেরিয়ে গেছে পাঁচটি বছর। এই সময়ে আরও বেশি শক্তি সঞ্চয় করেছে বার্সা। প্যানাথিনাইকস বলতে গেলে একই রকম আছে। তা হলে ওই আগুন-টাগুন আসছে কোত্থেকে? আসছে স্প্যানিশ লিগে গত শনিবারের অঘটনের কারণে। হারকিউলিস নামের নবাগত এক দল ন্যু ক্যাম্পে বার্সাকে ২-০ গোলে হারিয়ে স্তম্ভিত করে দিয়েছে ক্লাব ফুটবলের পৃথিবীকে। বিশ্বজয়ী স্পেনের আটজন খেলোয়াড়ের ঠিকানা যে দল, যে দলে রয়েছেন গতবারের ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় মেসি, সেই বার্সাই কিনা দায়িত্ব নিয়ে নিল হারকিউলিস নামের সার্থকতা প্রমাণের! আজ সেই রাগটাই প্যানাথিনাইকসের ওপর ঢালার কথা বার্সার। বার্সার ব্রাজিলিয়ান ফুলব্যাক দানি আলভেজ অবশ্য এটাকে হালকা করেই দেখাতে চাইলেন, ‘মৌসুমটা কীভাবে শুরু হলো, এর চেয়ে কীভাবে শেষ হলো সেটিই আসল। ক্লাবের সফলতম মৌসুমেও (২০০৯) আমাদের খুব সমালোচনা হয়েছে, কিন্তু সেবার আমরা খুব ভালোভাবে শেষ করতে পেরেছি।’
আলভেজ যে ২০০৯ সালের কথা বলছেন, ওই মৌসুমে লিগের শুরুর দিকের এমন হতাশা মুছে বার্সেলোনা শুধু লিগ, কিংস কাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের ট্রেবলই জেতেনি, জিতেছিল মোট ৬টি শিরোপা। বার্সেলোনা কোচ পেপ গার্দিওলা হারকিউলিসের কাছে পরাজয়ের পর বলেছেন, ‘আমরা আমাদের মধ্যে ছিলাম না। তবে চিন্তার কিছু নেই আমাদের। শুধু আমাদের উন্নতি করতে হবে।’ বার্সার এই ‘উন্নতি’ প্রমাণের হাড়িকাঠেই তাহলে আজ মাথা দিচ্ছে প্যানাথিনাইকস?

ফিরলেন শাহরিয়ার নাফীস

সর্বশেষ আন্তর্জাতিক এক দিনের ম্যাচ খেলেছেন প্রায় সোয়া দুই বছর আগে। তারপর বুড়িগঙ্গায় অনেক জল গড়িয়েছে। আইসিএলে গিয়ে নিষিদ্ধ হয়েছেন, আইসিএল থেকে ফিরে ক্ষমাও পেয়েছেন, টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েছেন; কিন্তু ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাননি শাহরিয়ার নাফীস। অবশেষে পেতে যাচ্ছেন সেই সুযোগ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের বাংলাদেশ দলে ডাক পেয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
খবরটা পেয়ে পরপর কয়েকটা শব্দ উচ্চারণ করলেন শাহরিয়ার, ‘আনন্দিত, বিস্মিত, অভিভূত’। এর পরই একটু থমকে বললেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকও’! কেন? কারণ শাহরিয়ার নাফীসও জানেন, তিনি দলে এসেছেন হাতে অস্ত্রোপচার করিয়ে তামিম ইকবাল মাঠের বাইরে ছিটকে পড়ায়। নিজের আনন্দের পাশাপাশি তাই তামিমের জন্য সমবেদনাও জানালেন, ‘তামিম না থাকাটা দলের জন্য খুব দুর্ভাগ্যজনক, কারণ ও এখন দেশের সেরা ব্যাটসম্যান।’
অনুমিতভাবেই কাল ঘোষিত ১৪ সদস্যের দলের অধিনায়ক হিসেবে বহাল আছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা, সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তামিম নেই, নাফীস আছেন—এর বাইরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, মোহাম্মদ আশরাফুলের আবার বাদ পড়া।
আশরাফুল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজেও ছিলেন না। তবে রকিবুল হাসান চোট পাওয়ার পর হঠাৎ ইংল্যান্ডে উড়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে। যুক্তরাজ্য সফরেও বলার মতো কিছু করতে না পারায় এবারও দলে জায়গা হলো না।
আশরাফুলের দলে না থাকার বিষয়ে প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলম ব্যাখ্যা দিলেন, ‘আশরাফুল আমাদের দেশের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তাকে আমরা দলের সঙ্গে চাই। কিন্তু পারফরম্যান্সের কারণেই সে বাদ পড়েছে। আশা করি, সে পারফর্ম করেই দলে ফিরবে।’ মুখে অন্তত প্রধান নির্বাচকের সঙ্গে খুব দ্বিমত পোষণ করলেন না আশরাফুল, ‘আমি বছর দুয়েক ধরে মোটেও ভালো খেলতে পারছি না। সম্ভবত এটাই আমার প্রাপ্য ছিল।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েছেন সৈয়দ রাসেল, ফয়সাল হোসেন ও নাজমুল হোসেন। প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই প্রধান নির্বাচকের বক্তব্য, ‘পারফরম্যান্স ও টিম কম্বিনেশন’ মিলিয়ে দলে জায়গা হয়নি তাদের।
তবে সবকিছু ছাপিয়ে এই সিরিজে তামিম ইকবালকে না পাওয়াটাই হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড়। গত কিছু দিন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের প্রাণভোমরা হয়ে আছেন তামিম। তাঁকে হারিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বড় কিছু করে ফেলার স্বপ্ন বড় একটা ধাক্কাই খেল। মাশরাফিও এটিকে বড় একটা দুঃসংবাদ হিসেবেই দেখছেন, ‘তামিম যে মাপের ব্যাটসম্যান, তাতে যেকোনো দলের অধিনায়কই ওর মতো ব্যাটসম্যান দলে না থাকলে আঁতকে উঠবে। ওর অভাব পূরণ করা সহজ নয়। তবে আমি আশাবাদী, শাহরিয়ার নাফীস তা করতে পারবে। সে এই যোগ্যতা আগেই প্রমাণ করেছে।’
কথাটা বলে মাশরাফি শাহরিয়ার নাফীসের যে সময়ের দিকে ইঙ্গিত করলেন, সেটি যেন এক দূর অতীতের গল্প। নাফীস এবারের পাওয়া সুযোগটাকে কাজে লাগাতে চান। সেই ২০০৬-০৭ সালের রানের ফোয়ারা ছোটানো নাফীসকে ফেরাতে চান, ‘সুযোগটা কোনোভাবেই নষ্ট করা চলবে না। নিজের জায়গাটা শক্ত করতে হবে, আমার ওপর দলের ভরসার প্রতিদান দিতে চাই।’
প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলমের কথাও বুঝিয়ে দিল নাফীসের ওপর তাঁদের কতখানি ভরসা, ‘তামিমের অপারেশনের জন্যই ও সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু ওর নিজের পরিসংখ্যানও কিন্তু অসাধারণ। আশা করি, ও নিজেকে প্রমাণ করবে।’
শুধু নাফীস কেন, বাংলাদেশের সব ক্রিকেটারই এই সিরিজকে নিজেকে প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নেবেন। সামনেই যে বিশ্বকাপ!