Friday, October 23, 2015

স্থানীয় নির্বাচন সরকারের অগ্নিপরীক্ষা: এরশাদ

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেছেন, দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সরকারের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে মানুষ সরকারের সব ‘অপকর্ম’ ভুলে যাবে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না—তা নিয়ে তিনি সন্দিহান।
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে এরশাদ এসব কথা বলেন। ‘উপজেলা দিবস’ উপলক্ষে জাপা ওই সমাবেশের আয়োজন করে।
দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এরশাদ বলেন, সরকার কেন স্থানীয় নির্বাচন দিচ্ছে তার উদ্দেশ্য তিনি জানেন না। গ্রামাঞ্চলে নির্বাচনে কারচুপি করা কঠিন হবে। তারপরও অনেক সন্দেহ আছে। ক্ষমতায় থাকলে দিনকে রাত করা যায়। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে সরকার অগ্নিপরীক্ষায় পাস করবে। আর সকাল নয়টার মধ্যে নির্বাচন শেষ হয়ে গেলে পরীক্ষায় ফেল করবে।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরশাদ অভিযোগ করেন, দেশে এখন বিচারহীনতা চলছে। নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি), বিচার বিভাগ—সব প্রতিষ্ঠান অচল হয়ে গেছে।
বিএনপি বা আওয়ামী লীগ কারও কাছেই সুবিচার পাননি দাবি করে এরশাদ বলেন, ‘কোথাও সুবিচার পাইনি। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি একলা নির্বাচন করব। মানুষ পরিবর্তন চায়।’ এরশাদ মনে করেন, ভবিষ্যতে নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলেই কেবল তিনি সুবিচার পাবেন। আর ক্ষমতায় যাওয়াটা অসম্ভব কিছু না। কারণ মানুষ এখন নিশ্বাস নিতে পারছে না।
এরশাদ এবং তাঁর দল জাপাকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন, এমন অভিযোগ করে এরশাদ দাবি করেন, এখন বিএনপির অস্তিত্ব ধ্বংসের মুখে। নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার মতোও কেউ নেই।
সাবেক স্বৈরশাসক এরশাদ বলেন, ১৯৮৪ সালের ২৩ অক্টোবর তিনি উপজেলা গঠন করেছিলেন। এতে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিপ্লব হয়েছে। অর্থনীতিও সুদৃঢ় হয়েছে।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে জাপার মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, জাপা ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ: বাংলাদেশ-ভুটানকে নিয়ে এগোতে চায় ভারত by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

ব্রহ্মপুত্র নদে চীন বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত করায় এখনই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত নয় ভারত। তবে ভবিষ্যতে নিম্ন অববাহিকার দেশ হিসেবে আশঙ্কা দেখা দিলে ভারত অবশ্যই তার মোকাবিলা করবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভুটানের সঙ্গে একযোগে কিছু করা যায় কি না তা তখন ভেবে দেখা হবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র আজ শুক্রবার প্রথম আলোকে এই কথা জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ এই বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ভারতের সঙ্গে একযোগে বিষয়টির মোকাবিলা নিয়ে বাংলাদেশ এখনো কোনো আগ্রহ দেখায়নি। ভুটানও দেখায়নি। তিনি জানান, ব্রহ্মপুত্রের প্রবাহ নিয়ে ভারতকে যেসব তথ্য চীন দিয়ে আসছে তাতে ভারত খুশি। ভারত চাইবে চীন তথ্যের পরিধি আরও বাড়াক।
সরাসরি প্রকাশ না করলেও চীনের এই উদ্যোগ ভারতকে চিন্তায় রেখেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রটির ভাষ্য মতে, প্রথম চিন্তা ব্রহ্মপুত্রে জলপ্রবাহে হেরফের ঘটবে কি না, দ্বিতীয় চিন্তা নিম্ন অববাহিকায় ভবিষ্যতে ব্রহ্মপুত্র অস্বাভাবিক আচরণ করবে কি না। তিনি বলেন, চীন সময়ে সময়ে এই নদের জলপ্রবাহ, তার সম্ভাব্য গতি-প্রকৃতি এবং অন্যান্য বিভিন্ন তথ্য ভারতকে দিয়ে আসছে। তাতে ভারতের উপকারই হচ্ছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতে ভারতের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ দেখা দেবে না। দিলে ভারত দ্বিপক্ষীয় স্তরে তার মোকাবিলা করবে।
চীন থেকে বেরিয়ে ব্রহ্মপুত্র ভারত, ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ভারতের কোনো আশঙ্কা থাকলে সেই আশঙ্কায় ভুটান ও বাংলাদেশও ভুগবে। কাজেই তিন দেশ একযোগে বিষয়টি নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে কি না জানতে চাওয়া হলে সূত্রটি বলেন, এখনই বহুপক্ষীয় তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। ভারত দ্বিপক্ষীয় স্তরে বিষয়টি নিয়ে চীনের সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথা শুরু করেছে। চীন সময়-সময় যেসব তথ্য দিয়েছে এতে ভারত সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, ভারত অবশ্য চায় তথ্যের বহর চীন আরও বাড়াক। ব্রহ্মপুত্র প্রতি বছরেই আসামকে ভাসিয়ে দেয়। এই জলোচ্ছ্বাস ও দুর্গতির আগাম আভাস আরও নিখুঁতভাবে পেতে ভারত আগ্রহী। পাশাপাশি ভারত চায়, এই বিস্তীর্ণ নদের জলপ্রবাহ যেন না কমে। সূত্রটি জানান, বাংলাদেশও প্রয়োজন হলে নিশ্চিতই দ্বিপক্ষীয় স্তরে চীনের সঙ্গে আলোচনা করবে। বিকাশ স্বরূপ জানান, এই নিয়ে ভারতের সহযোগিতা বাংলাদেশ চেয়েছে বলে তিনি কিছু এখনো শোনেননি।
ব্রহ্মপুত্র নিয়ে বাংলাদেশেও চর্চা শুরু হয়েছে। এই কথা জানিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি সূত্র আজ প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ বিষয়টি নিয়ে তার মতো করে ভাবছে। তিন দেশের সম্মিলিত কোনো উদ্যোগের কথা বাংলাদেশ এখনই ভাবছে না। সূত্রটি বলেন, ক্ষতির আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশের। কারণ, চীন, ভারত ও ভুটান হয়েই ব্রহ্মপুত্র বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

বাল্যবিবাহে পশ্চাদযাত্রা by হিথার বার

বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ প্রতিশ্রুতি দেয়ার ১৫ মাস পর মনে হচ্ছে তিনি বিয়ের বয়স কমাতে সংকল্পবদ্ধ। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে লন্ডনে অনুষ্ঠিত গার্ল সম্মেলনে শেখ হাসিনা বাল্যবিবাহ বন্ধে তার পরিকল্পনা ঘোষণা দিয়েছিলেন। এতে তিনি বলেছিলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ১৫ বছরের নিচে বিয়ে বন্ধ করবেন। আর ১৮ বছরের নিচে বিয়ে বন্ধ করবেন ২০৪১ সাল নাগাদ। বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের উচ্চহার বিবেচনায় এসব প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছিল। বাংলাদেশে ২৯ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয় ১৫ বছরের মধ্যে। বিশ্বে এ হার সব থেকে বেশি। ১৮ বছর হতে হতে, যখন মেয়েদের হাইস্কুল পাস করার কথা, তখন ৬৫ ভাগ মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। আর ভয়াবহ দুই শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয় ১১ বছরের মধ্যে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ যখন বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ নিয়ে গবেষণা করেছিল, তখন আমি সর্বকনিষ্ঠ যে বধূর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম তার বয়স ছিল ১০। ওইসব প্রতিশ্রুতির কয়েক সপ্তাহের মধ্যে, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করার জন্য নতুন আইন প্রস্তাব করে। মানবাধিকার কর্মী আর আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীর তীব্র প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার জনসমক্ষে এবং একান্তে বারবার নিশ্চয়তা দিয়েছে যে বিয়ের বয়স কমানো হবে না। অথচ, পর্দার আড়ালে ১৮ বছরের নিচে অন্তত কিছু বিয়ের অনুমোদন দেয়ার নানা প্রস্তাব নিয়ে কাজ এগিয়ে গেছে। সব থেকে সাম্প্রতিক খবর হলো, খসড়া আইনটি পর্যালোচনার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আর আইনের এ ভার্সনে অসংজ্ঞায়িত ‘বিশেষ ক্ষেত্রগুলোতে’ ১৬ বছর থেকে মেয়েদের বিয়ে দেয়ার অনুমতি রয়েছে। এক মাস আগে গণমাধ্যমে রিপোর্ট আসে যে, প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছেন, ১৬ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে মেয়েদের বিয়ে তাদের পিতা-মাতা বা আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে হতে পারে। বাল্যবিবাহ বন্ধের এটা কোন পথ নয়। যে দেশে বেশির ভাগ বিয়ে পিতা-মাতা আয়োজন করে থাকেন, সেখানে পিতা-মাতার অনুমতি সাপেক্ষে ১৬ বছরে বিয়ের অনুমতি দেয়ার অর্থ হবে বৈধ বিয়ের কার্যত সর্বনিম্ন বয়স ১৬। যে পরিবারগুলো ১৬ বছরের নিচে তাদের মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে, তারা এটাকে এভাবে দেখবে যে সরকার এসব বিয়ের অপরাধগুলোও ক্ষমা করে দেবে। বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ বন্ধে অসংখ্য মানবাধিকার কর্মী, পিতা-মাতা, শিশু, কমিউনিটি নেতারা এবং স্থানীয় সরকার কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তাদের এত প্রচেষ্টা এখন প্রধানমন্ত্রীর একটি কলমের খোঁচায় বৃথা যাওয়ার ঝুঁকিতে।
[হিথার বার লিখিত ‘গোয়িং ব্যাকওয়ার্ডস অন চাইল্ড ম্যারেজ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক নিবন্ধের অনুবাদ। হিথার বার নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নারী অধিকার বিভাগের সিনিয়র গবেষক।]

হিন্দুরা কেন দেশ ছেড়ে যাচ্ছে

বাংলাদেশে সরকারি আদমশুমারি অনুযায়ী হিন্দু জনসংখ্যা প্রতি বছরই কমছে। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে ধর্মীয় বৈষম্য এবং নির্যাতনের মুখে এদের বেশিরভাগই ভারতে চলে যাচ্ছেন। হিন্দুদের দেশ ছাড়ার কারণ খুঁজতে গোপালগঞ্জের এক হিন্দু অধ্যূষিত গ্রামে গিয়েছিলেন বিবিসির আবুল কালাম আজাদ। গোপালগঞ্জ জেলার উলপুর গ্রামের কালীমন্দিরের পুরোহিত সন্তোষ কুমার ভট্টাচার্য। জমিদার হিমাংশু রায়ের রেখে যাওয়া বাড়িতেই জন্ম তার। সপরিবারে এই পুরোনো বাড়িতেই এখনো বসবাস করছেন। সন্তোষ কুমার ভট্টাচার্য বলছিলেন, “এক সময় উলপুর গ্রামটি ছিল শত ভাগ হিন্দু অধ্যুষিত। কিন্তু এখন হিন্দুদের সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে, গ্রামের জনসংখ্যার বেশিরভাগই মুসলিম।” “হিন্দুদের যাওয়ার গতি দেখে মনে হচ্ছে এখনো অনেকে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও যাবে”, বলছিলেন তিনি। কিন্তু কারণটা আসলে কি? কেন হিন্দুরা দেশ ছাড়ছেন? “কারণ... হয়তো এখানে তাদের স্বাধীনতা নেই। সেটাই মনে করে।” গ্রামের বাজারে কাঁচি হাতে চুল কাটায় ব্যস্ত ক্ষৌরকার নিখিল সরকার। গত ৪০ বছর ধরে এটাই তার পেশা। তিনি বলছিলেন, মূলত নিরাপত্তার কথা ভেবেই অনেকেই ভারতে পাড়ি জমানোর একটা পথ খোলা রাখেন। “মনে করেন যে এই পাশেও আছে, আবার হয়তো ওই পাশেও (ভারতে) ছেলে-পেলে পাঠায়ে দেছে, ভাই-বেরাদার পাঠায়ে দেছে। অহনে এখানে যারা আছে, তারা শান্তিতে নাই, একটা দোটানার মধ্যে আছে।” এই শান্ত সবুজ গ্রামটার বিভিন্ন পাড়ায় চোখে পড়বে অনেক পুরনো দালান-কোঠা। আভিজাত্যের ছাপ স্পষ্ট এসব বাড়ি ঘরে। এক সময়ের হিন্দু জমিদার এবং সম্ভ্রান্ত অনেক হিন্দু পরিবার তাদের এসব ভিটে-বাড়ি ফেলে একদিন পাড়ি জমিয়েছিলেন ভারতে। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর এই দেশ ছাড়ার হিড়িক শুরু হয়েছিল। সেই ধারা এখনো থামেনি। বাংলাদেশ সরকারের সর্বশেষ আদম শুমারির হিসেবেই গোপালগঞ্জ জেলায় গত দশ বছরে হিন্দু জনসংখ্যা কমেছে প্রায় ১৮ হাজার। সারা দেশে এই সংখ্যায় প্রায় নয় লাখ। উলপুর দক্ষিণপাড়ার রায় বাড়িতে বসে এই সমস্যা নিয়ে কথা হচ্ছিল কয়েকজন গৃহিণীর সঙ্গে। “ভবিষ্যতে চলে যাওয়ার ইচ্ছে আছে। ছেলে-মেয়ে বড় হচ্ছে। এদের ছেলে-মেয়েদের আর এদেশে রাখার ইচ্ছে নাই।” বলছিলেন একজন। “আমারও ওই একই কথা। আমাগো দিন তো চলি গেল। কিন্তু আমাগো যে নাতি-পুতি, এগো ভবিষ্যত তো এই জায়গায় হবি না,” বললেন তার সঙ্গে থাকা আরেক জন। আলাপে আলাপে উঠে আসে তাদের নিরাপত্তাহীনতা আর আতংকের বিষয়গুলি। দেশ ছাড়ার এরকম ইঙ্গিত থাকলেও ভারতে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার আগে কেউই বিষয়টি প্রকাশ করতে চান না। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা কাজল দেবনাথ বলছিলেন কিভাবে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যার হার কমছে। “১৯৫১ সালে যে আদমশুমারি ছিল তাতে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ২২ শতাংশ। ১৯৭৪ সালের আদমশুমারিতে এটা নেমে আসলো ১৪ শতাংশে। আর সর্বশেষ ২০১১ সালের আদমশুমারিতে এটা নেমে এসেছে ৮ দশমিক ৪ শতাংশে।” “দেশ ছাড়া কোন সমাধান নয়। আমাকে আমার মাতৃভূমিতে শক্ত করে দাঁড়াতে হবে। আমার কথাটি শক্ত করে বলতে হবে।” পুজার ঢোল বাজছে, সারা দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দূর্গোৎসবে সামিল হয়েছেন। এবার পুজা মন্ডপের সংখ্যাও বেড়েছে অনেক। কিন্তু এই উৎসবের আনন্দের মাঝেও সবাই জানেন, প্রতি বছর মণ্ডপে পুজারির সংখ্যা কমছে, হারিয়ে যাচ্ছে অনেক চেনা মুখ। -বিবিসি

দেবী বিসর্জনে শেষ হলো সারদীয় দুর্গোৎসব

দেবী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার শেষ হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এক দিকে আনন্দ অন্যদিকে বিষাদের সুর আর চোখের জলে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মা দূর্গা তার সন্তান কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, স্বরস্বতীসহ কৈলাসে শশুর বাড়ি ফিরে গেছেন। পিতৃগৃহে এই ধরণীতে তিনি আবার আসবেন এক বছর পর।
রাজধানীর অধিকাংশ মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন হয় সদরঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীতে। ৪ টায় বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটের বিনাস্মৃতি স্নানঘাটে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিমা বিসর্জন প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিসর্জনের আগে সকাল ৯ টায় থেকে ঢাকার মন্দিরে মন্দিরে চলে সিঁদুর খেলা আর আনন্দ উৎসব। শিশু কিশোর যুবক যুবতি থোক শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠরাও সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠে।
দেবী দুর্গাকে বিদায় দেয়ার জন্য শেষ প্রস্তুতি হিসেবে রাজধানীর প্রায় সব মন্দির প্রাঙ্গণেই দেখা মিলেছে নানা কর্মসূচি উদযাপনের দৃশ্য। শেষবারের মতো মাকে দর্শন, পূজা করার পাশাপাশি বিদায় দেয়ার জন্য পূজামণ্ডপগুলিতে ভিড় জমান ভক্তরা। জীবনের পঙ্কীলতা থেকে মুক্তির আশায় দেবীকে প্রণাম নিবেদন করেন ভক্তরা। নারীরা দেবীর ললাটের সিঁদুর আপন ললাটে এঁকে নেন। আগামী শরতে আবার বাঙালি হিন্দুর ঘরে ঘরে মা দুর্গা ফিরে আসবেন, সে কামনায় থাকবেন ভক্তরা।
রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে কেন্দ্রীয় বিজয়া শোভাযাত্রা বের হয় ৩টায়। নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিমা জড়ো করা হয় পলাশী মোড়ে। শোভাযাত্রাটি জগন্নাথ হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, প্রেস ক্লাব, পল্টন, জিরো পয়েন্ট, গোলাপ শাহ মাজার, গুলিস্তান মডেল থানা, নবাবপুর, রায় সাহেবের বাজার, বাহাদুর শাহ পার্ক বাংলাবাজার হয়ে সদর ঘাটের ওয়াইজ ঘাটে গিয়ে শেষ হয়। এরপর বিকেল ৪টা থেকে পর্যায়ক্রমে বিসর্জন শুরু হয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে জাইলে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির গণসংযোগ সম্পাদক অ্যাডভোকেট স্বপন রায় নয়া দিগন্তকে বলেন, এ পর্যন্ত (সাড়ে ৮টা) ৬৮ দেবী বিসর্জন দেয়া হয়েছে। বাকী প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হতে রাত ১২টা থেকে ১টা বেজে যেতে পারে। এসময় ঘাট এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে পর্যপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে শোভাযাত্রার সময়, শঙ্খ আর উলুধ্বনি, খোল-করতাল-ঢাক-ঢোলের সনাতনি বাদ্যের সাথে আধুনিক উচ্চস্বরের সাউন্ড সিস্টেমে দেবী বন্দনার গানের মধ্য দিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক দিয়ে কয়েক হাজার মানুষের এ শোভাযাত্রার সময় বিভিন্ন সড়কে সৃষ্টি হয় যানজটের।
ঢাক, ঢোল, করতাল ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রসহ শোভাযাত্রায় যোগ দেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ-শিশু- কিশোর। নাচতে নাচতে ক্লান্ত হলেও আনন্দের যেন কমতি ছিল না তাদের। বিশাল এ শোভাযাত্রা এগিয়ে চলার সাথে সাথে লোক সমাগম ও ট্রাকে প্রতিমার সংখ্যাও বাড়তে থাকে। বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিমা নিয়ে মিছিলে যোগ দিতে থাকেন ভক্তরা। তারা এসময় নেচে গেয়ে মুখে সিন্দুর (রং) মেখে আনন্দে মেতে ওঠেন। পলাশী থেকে পুরান ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বুড়িগঙ্গা তীরে শেষ হয় শোভাযাত্রা।
প্রতিমা ঘাটে নিয়ে আসার পর শেষবারের মতো ধুপধুনো নিয়ে আরতিতে মেতে ওঠেন ভক্তকূল। সবশেষে পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের মধ্যদিয়ে মা দূর্গা ও তার সন্তান কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, স্বরস্বতীকে নৌকায় তুলে বিসর্জন দেয়া হয়। বিসর্জনের সময় ‘দুর্গা মা কী, জয়’, ‘আসছে বছর আবার হবে’ বলে ধ্বনি দেয়া হয়। হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে ঢাকের শব্দের সাথে কাঁসার ঘণ্টা বাজিয়ে নৌকাযোগে প্রতিমাগুলো নদীতে বিসর্জন দেয়া হয়। আজ রাতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
হিন্দু ধর্ম মতে শান্তি, সংহতি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য এবং দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনে বিশ্বব্যাপী মঙ্গল বার্তা নিয়ে মা দুর্গা এ সময়ে লোকালয়ে আসেন। পঞ্জিকা মতে, এবার মা কৈলাস থেকে বাবার বাড়ি বসুন্ধরায় আসেন ঘোড়ায় চড়ে। আর ফিরে যাচ্ছেন দোলায় (পালকি) চড়ে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের হিসেব মতে, এবার সারাদেশে ২৯ হাজার ৭৪টি পূজা মণ্ডপ। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ২২২টি মণ্ডপের হিসাব থাকলেও পরে হিসেবে আরো ৩টি যুক্ত হয়।

ইসরাইলে মানসিক রোগী দ্বিগুন বেড়েছে

গত কিছু দিনে ইসরাইলের হাসপাতালগুলোতে মানসিক রোগীদের লাইন লেগেছে। দেশটির জনপ্রিয় পত্রিকা মা'রিব গত বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতলগুলো মানসিক চিকিৎসার জন্য যাওয়া লোকজনে সংখ্যা ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর কারণ হিসেবে পত্রিকাটি মনে করছে ফিলিস্তিনিদের সাথে চলমান সংঘর্ষ ও উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহই দায়ী। গত প্রায় এক মাস ধরে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও পুলিশ নিরিহ ফিলিস্তিনিদের হত্যা ও নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়ার জবাবে ফিলিস্তিনরাও চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে। গত কিছুদিনে কয়েকজন ইসরাইলি ইহুদী নাগরিকসহ অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ইসরাইলের সশস্ত্র বাহিনীর হামলার জবাবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনিরা ছুরি-হামলা চালাচ্ছে। ছুরি-আতংত এত প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে যে, গত এক সপ্তাহে ফিলিস্তিনি মনে করে দুইজন ইসরাইলি নাগরিক এবং একজন বিদেশী নাগরিককে গুলি করে হত্যা করেছে দখলদার বাহিনী।
ইসরাইলের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা সব ধরনের রোগী পাচ্ছি। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর সদস্য, কিশোর থেকে বৃদ্ধ সবাই। সবাই বলছেন, তারা ছুরি-হামলা বৃদ্ধির ঘটনায় চরমভাবে আতংকিত।
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর

মসলার বাজার দখলের লড়াইয়ে ২২ দেশ by মাসুদ মিলাদ

খাবার সুস্বাদু করতে মসলার জুড়ি নেই। আর ভোগ্যপণ্যের মধ্যে এই মসলায় বৈচিত্র্য সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিন রান্নায় ব্যবহৃত হচ্ছে নানা জাতের নানা দেশের মসলা। এই মসলার বাজার দখলে প্রতিযোগিতা করছে ২২টি দেশ।
বন্দর ও কাস্টমসের হিসাবে, গত বছর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশে যত মসলা আমদানি হয়েছে, তা এসেছে বিশ্বের ২২টি দেশ থেকে। পাশের দেশ ভারত থেকে শুরু করে হাজার মাইল দূরের দেশ থেকেও ব্যবসায়ীরা মসলা এনে তুলে দিচ্ছেন ভোক্তার হাতে। এই ২২ দেশ থেকে গত অর্থবছরে ১ লাখ ২৬ হাজার টন মসলা আমদানি হয়। বাজারমূল্য ১ হাজার ১৮১ কোটি টাকা। সরকার রাজস্ব পায় ২৬৫ কোটি টাকা। বন্দর ছাড়াও স্থলপথে ভারত থেকে মসলা আমদানি হয়।
একসময় মসলার লোভে ভারত ও পূর্ব ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল ইউরোপীয় শক্তি। নানা দুর্লভ মসলার খোঁজে যুদ্ধও বেধেছিল। মসলার যুদ্ধ নিয়ে আস্ত একটি বইও লিখেছেন সাংবাদিক-সাহিত্যিক সত্যেন সেন। তবে এখন আর মসলার জন্য যুদ্ধ না হলেও মসলা রপ্তানিকারক দেশগুলো নানা দেশের বাজার দখলে ঠিকই লড়ছেন।
প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে একসময় মসলা আমদানি হলেও এখন হচ্ছে কম। ভারতের মসলা বোর্ডের হিসাবে, ২০১০-১১ অর্থবছরে ৫৩ হাজার ৫৮৪ টন মসলা রপ্তানি হয় বাংলাদেশে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এসে তা দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৯৬৯ টনে। এখন বিশ্বের নানা দেশ থেকে সাশ্রয়ী দামে মসলা নিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে মসলার বাজারে বৈচিত্র্য বাড়ছে।
বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া গোলমরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচি, জিরা, আদা, হলুদ, রসুন ও গুঁড়া মসলা—এই নয় ধরনের মসলার বাজার দখলে শীর্ষে আছে চীন। গত বছর এই দেশ থেকে আমদানি হয় ৮৫ হাজার ৮৯৪ টন মসলা। এরপর বাজার দখল করে আছে মসলার দেশ ইন্দোনেশিয়া। ভারতের অবস্থান ৩ নম্বরে।
দেশে সব মসলা উৎপাদিত হয় না। এলাচি, দারুচিনি, লবঙ্গ ও জিরা আমদানি করেই মেটানো হয়। আবার আদা, রসুন ও হলুদ দেশে উৎপাদন হলেও চাহিদার তুলনায় কম।
মসলা আমদানিকারক সমিতির সহসভাপতি ও এ বি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী অমর কান্তি দাশ গত বুধবার খাতুনগঞ্জে নিজ কার্যালয়ে বলেন, ‘দেশে সাধারণত পঞ্চম থেকে সপ্তম গ্রেডের মসলা বেশি আমদানি হয়। দাম বেশি হলে বাজারে চলে কম। মসলা আনার সময় দাম ও মোটামুটি মান—এ দুটি বিষয় বিবেচনা করা হয়।’
এলাচি: ব্যবসায়ীরা জানান, বিশ্বে ১৭ জাতের এলাচি রয়েছে। দেশে আমদানি হয় অন্তত ১৩ জাতের। বন্দর দিয়ে সবচেয়ে বেশি বা ৯৯ শতাংশই এলাচি আমদানি হয় গুয়াতেমালা থেকে। বাকি এক শতাংশ ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি হয়। অর্থবছর আমদানি হয় ১৬৭ কোটি টাকার ২ হাজার ৬৯৭ টন এলাচি।
জিরা: ভারত থেকে অবৈধপথে জিরা আসছে—ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগ আছে। তবে বৈধপথেও সবচেয়ে বেশি জিরা আসছে ভারত থেকে। বন্দরের হিসাবে, জিরার বাজারের ৬১ শতাংশ ভারতের দখলে। তুরস্কের দখলে ৩২ শতাংশ। মিসর, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়া থেকেও আমদানি হয়। গত অর্থবছর ১১৪ কোটি টাকার ৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকার জিরা আমদানি হয়।
দারুচিনি: দারুচিনির বাজারে চীন ও ভিয়েতনামের আধিপত্য। মোট আমদানির ৫৬ শতাংশই আসে চীন থেকে। ভিয়েতনাম থেকে আসে প্রায় ৪৩ শতাংশ। গত বছর প্রায় ৮৮ কোটি টাকার ১১ হাজার ৬২ টন দারুচিনি আমদানি হয়েছিল।
লবঙ্গ: লবঙ্গ আমদানির পরিমাণ খুবই কম। বছরে আমদানি মাত্র ৩১০ টন। পরিমাণে অল্প হলেও লবঙ্গের বাজার ছয় দেশের দখলে। আমদানির ৩৯ শতাংশই আসে ব্রাজিল থেকে। এরপরই আছে মাদাগাস্কার, ২৩ শতাংশ। শ্রীলঙ্কা, কমোরোজ দ্বীপ, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার লবঙ্গও ঢুকছে দেশের বাজারে।
রসুন: দেশীয় রসুনের কোয়া ছোট। গুণগত মানও ভালো। তবু গৃহিণীদের পছন্দ আমদানি করা রসুনের দিকে। কারণ, এসব রসুনের কোয়া বড়। আমদানি করা রসুনের বাজারে ৯৯ শতাংশ চীনের দখলে। বাকিটা ভারত, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া থেকে।
আদা: দেশীয় আদার বাইরে বাজারে শুধু চীনা আদার কথাই বলেন ব্যবসায়ীরা। তবে আমদানির তথ্য বলে ভিন্ন কথা। আমদানি করা আদার ৬৫ শতাংশই আসে ইন্দোনেশিয়া থেকে। চীন থেকে আসে ৩২ শতাংশ। মাত্র ৩ শতাংশ আসে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মাদাগাস্কার থেকে।
হলুদ: ভারত, মিয়ানমার ও ইথিওপিয়া থেকে হলুদ আমদানি হয়। গত অর্থবছর প্রায় দুই হাজার টন হলুদ আমদানি হয়।
গোলমরিচ: গোলমরিচের চাহিদা মেটানো হয় মূলত ভিয়েতনাম থেকে। মোট আমদানির ৬১ শতাংশ আসে এই দেশ থেকে। এ ছাড়া ভারত, মাদাগাস্কার, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড থেকে আমদানি হয়। গত বছর আমদানি হয় ৬৯৮ টন।
অন্যান্য মসলা: রসুনের গুঁড়া ও গুঁড়া মসলা আমদানি হয় নয়টি দেশ থেকে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভারত ও পাকিস্তান থেকে আমদানি হয় প্রায় ৯৪ শতাংশ। এর বাইরে চীন, নেদারল্যান্ডস, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপ ‘সেন্ট বার্থেলেমি’ থেকেও আমদানি হচ্ছে।

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীকে লুট করা হয় by সাঈফ ইবনে রফিক

১. ‘ভুল চিকিৎসা’ নিয়ে সাংবাদিকদের রিপোর্টে ডাক্তারদের ক্ষ্যাপা স্বাভাবিক। চিকিৎসাটা যে ভুল হইছে, এটা কেবল অন্য কোনো ডাক্তারই শনাক্ত করতে পারেন। কোনো সাংবাদিক নয়। মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল ভাংচুরের ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা বড়জোর লিখতে পারেন, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। ‘ভুল চিকিৎসা’য় রোগীর মৃত্যু, এটাও ভুল সাংবাদিকতা।
২.
ডাক্তার নয়, কসাই অন্য কেউ।
উনাদের আপনি দেখবেন না। উনারা বেশিরভাগই ডাক্তার নন। চিকিৎসা ব্যবসায়ী।
ওয়ার্ডে ডাক্তার না থাকাটা ডাক্তার সাহেবের দোষ না, ম্যানেজমেন্টের দোষ। যে সব ডাক্তার ম্যানেজমেন্টের অংশ হয়ে যান, তারা আসলে আর ডাক্তার থাকেন না। তাদের চেহারা রোগীরা সচরাচর দেখে না।
ডাক্তার আসলে কসাইখানার সেলসম্যান।
৩.
যে কোনো ডেলিভারির পর (নরমাল বা সিজার) পর নবজাতককে এনআইসিইউতে ঢুকানোর একটা রেওয়াজ চালু হয়েছে। এটা প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ বা ক্লিনিকের একটা ব্যবসায়িক উদ্যোগ। কারণে-অকারণে নানা অজুহাত দেখিয়ে শিশুদের এনআইসিইউতে নেয়া হয়। অনেক হাসপাতালেই ভূমিষ্ঠ শতভাগ শিশুকেই এনআইসিইউ ঘুরে আসতে হয়েছে। অনেক হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ড না থাকলেও এনআইসিইউ আছে। ধরুন, একটা শিশুর এনআইসিইউতে থাকার দরকার নাই, কিন্তু স্যালাইন-অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স শেষ করার জন্য হাসপাতালে থাকা দরকার। তখন শিশুটিকে কোথায় রাখা হবে?
একাধিক ক্লিনিক ও হাসপাতালের নার্সদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এনআইসিইউতে শিশু ভর্তি না করাতে পারলে পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডের নার্স-স্টাফদের জবাবদিহিতা করতে হয়। জন্মের পর সামান্য হাঁচি, দুয়েকবার বমি হইলেই হাতে ক্যানোলা দিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন শুরু করে দেয়া হয়। ৫ দিনের অ্যান্টিবায়োটিক ডোজ, মানে আপনি অশিক্ষিত বা সচেতন না হইলে ৫ দিন বাচ্চাটাকে এনআইসিইউতে রাখবেন। বিল আসবে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।
৪.
রাজধানীর এনআইসিইউসমৃদ্ধ হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো চিকিৎসাখাতের সনাতন দালালিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টিটিভদের ‘মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ’ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এনআইসিইউ নাই, এমন হাসপাতাল থেকে নবজাতক সংগ্রহ করাও এই মার্কেটিং এক্সিকিউটিভদের দায়িত্ব। একটা হাসপাতালে যদি ১৪টা এনআইসিইউ বেড থাকে, প্রতি রাতে তার আয় কমপক্ষে ৭০ হাজার টাকা। মাসিক ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতনের এক জন জুনিয়র ডাক্তার ও দুই জন নার্স এই ওয়ার্ড সামলান। বুঝতেই পারছেন লাভের পরিমাণ কতো হতে পারে।
৫.
বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের এই বাটপারি নিয়ে মূলধারার মিডিয়ায় অনুসন্ধানী রিপোর্ট নেই। নিন্দুকরা বলে থাকেন, অনেক সাংবাদিকই লাভজনক এই হাসপাতাল ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন।
চ্যানেল আই অনলাইন

রাকাবের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি : গ্রেফতার ৮

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি চক্রের আটজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৫। আজ শুক্রবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকাবের ১৩৩টি পদে এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায় ৪৭ হাজার শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে।
র‌্যাব-৫ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৫ রাজশাহীর উপ-পরিচালক মেজর আব্দুস সালামের নেতৃত্বে একটি অপারেশন দল অভিযান চালিয়ে হাতে নাতে নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির সাথে জড়িত চক্রের ৪ জন মূল হোতা ও ৪ জন ভুয়া পরীক্ষার্থীকে ৩টি মাইক্রোবাস ও পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট দলিলাদি ও নগদ টাকাসহ গ্রেফতার করেছে।
এরা হলেন, সিন্ডিকেট পরিচালনাকারী চক্রের সদস্য ঢাকা কলেজের অনার্সের ছাত্র নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পানিয়াল পুকুর গ্রামের হাছিম উদ্দিনের পুত্র জাকির হোসেন (২৫), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার তালুক দুলালী গ্রামের এলাহী রবাবানীর পুত্র জাকির হোসাইন (২৫), জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার মঞ্জুর রহমানের পুত্র আল-মামুন (২৭) ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকল্প কর্মকর্তা দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার রিয়াজনগর গ্রামের মোফাখখারুল ইসলামের পুত্র মোস্তফা কামাল (২৯)।
এ চক্রের মূল হোতা ঠাকুরগাঁও জেলার সোহেল রানা বর্তমানে ঢাকার ফার্মগেটে জনতা ব্যাংক কর্পোরেট শাখায় কর্মরত আছে বলে র‌্যাব দাবি করেছে। এছাড়াও র‌্যাব চারজন ভুয়া পরীক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে। এরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গাজী রহমানের পুত্র মাইদুল ইসলাম (২৪), একই বিভাগের ছাত্র টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার আব্দুল গফুর মিয়ার পুত্র সাইম আহমেদ (২৫), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ বিভাগের ছাত্র চাঁদপুর জেলা সদরের দালাদী গ্রামের জাফর তালুকদারের পুত্র ওসমান গনি (২৫) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার আংগারপাড়া গ্রামের আব্দুল মালেকের পুত্র নূর আলম (২৪)।
র‌্যাব জানায়, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে সিন্ডিকেটটি প্রার্থীদের চাকরি দেয়ার আশ্বাসের ভিত্তিতে মূল প্রার্থীর পরিবর্তে ভুয়া মেধাবী প্রার্থী ব্যবহার করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। অভিযানকালে র‌্যাব ৩টি মাইক্রোবাস, ১১টি মোবাইল সেট, ১২টি ভুয়া প্রবেশপত্র ও নগদ এক লাখ ১১ হাজার ৬৬০ টাকা উদ্ধার করেছে।

তিনি সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা by নেহাল করিম

কে এ এম সা’দউদ্দিন
আজ অধ্যাপক কে এ এম সা’দউদ্দিন স্যারের ৮০তম জন্মবার্ষিকী, এই বয়সেও অবসর নেই তাঁর। তিনি এখনো শিক্ষকতা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগে। উল্লেখ্য, ৫৫ বছরের বেশি সময় ধরে যাঁরা সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পড়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাঁর ছাত্র।
অন্য অনেকের মতো আমিও তাঁর ছাত্র। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক এলাকায় বসবাস করতেন এবং আমিও। ২৫০ ফুটের দূরত্বে ছিল আমাদের বসবাস। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে জানতাম না তিনি কোন বিভাগের শিক্ষক। চেনা মানুষকে দেখলাম আবার নতুন রূপে। তিনি দৃঢ়চিত্তের অধিকারী। ছাত্রজীবনে তাঁকে গম্ভীর বা রাশভারী মনে হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সহকর্মী হওয়ার সুবাদে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
শিক্ষকদের বিষয়ে জানার কৌতূহল বরাবরই শিক্ষার্থীদের থাকে। কিন্তু স্যারকে জানার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল অনেকটা সময়। যখন তিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণ করেন, তখন তাঁর ও অধ্যাপক ড. রংগলাল সেনের বিদায় অনুষ্ঠান একসঙ্গে হয়েছিল।
অধ্যাপক সা’দউদ্দিনের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২৩ অক্টোবর। তাঁর আদি নিবাস বৃহত্তর ফরিদপুরের বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলায়। তবে তিন পুরুষ ধরে বরিশাল শহরে স্থায়ী নিবাস গড়ে তুলেছেন। সব পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রাখেন। অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে তিনি বরিশাল জিলা স্কুল থেকে ১৯৫১ সালে ম্যাট্রিক ও ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৫৩ সালে আইএ পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএ (সম্মান) ও এমএ ডিগ্রি লাভ করেছিলেন যথাক্রমে ১৯৫৬ ও ১৯৫৭ সালে।
উল্লেখ্য, ছাত্রাবস্থায় তিনি প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (ইপসু) জন্মলগ্ন থেকে জড়িত ছিলেন এবং কালক্রমে ১৯৫৬ সালে ইপসুর যুগ্ম সম্পাদক এবং ১৯৫৭ সাল থেকে সামরিক শাসনের আগ পর্যন্ত তিনি সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর তৎকালীন পাকিস্তানে প্রথম সামরিক আইন জারি হওয়ার পর মাস তিনেক সা’দউদ্দিন আত্মগোপনে ছিলেন এবং এর মধ্য দিয়ে তাঁর ছাত্ররাজনীতির পরিসমাপ্তি ঘটে।
সা’দউদ্দিন মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন পরবর্তী জীবনেও। ১৯৫৯ সালে তিনি পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সুপিরিয়র সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সমগ্র পাকিস্তানে ‘সপ্তম স্থান’ অধিকার করেছিলেন। লিখিত, মৌখিক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অত্যন্ত ভালো মেধার পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও তাঁর ছাত্ররাজনীতি, বিশেষ করে সেই সময়ে নিষিদ্ধঘোষিত ‘কমিউনিস্ট পার্টির’ সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় তিনি আর পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দিতে পারেননি।
১৯৫৯-৬০ সালে তিনি নাটোর কলেজে অধ্যাপনা করেন এবং ষাটের শেষের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়ে একনাগাড়ে ৪২ বছর শিক্ষকতায় নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৬৪-৬৯ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি শিক্ষকতাও করেছিলেন। ১৯৬৬ সালে তিনি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন, এরপর ১৯৬৬-৬৯ পর্যন্ত মোরটন বিশ্ববিদ্যালয় ও পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে ১৯৬৯ সালের শেষের দিকে দেশে ফেরেন। পরে পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে যোগ দিয়ে ২০০২ সালে এই বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
অধ্যাপক সা’দউদ্দিন শিক্ষকদের সংগঠনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৭০-৭১ সাল পর্যন্ত দুবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্লাবের সম্পাদক ছিলেন। উল্লেখ্য, ১৯৬৯-৭১-এর উত্তাল দিনগুলোতে তিনি স্বাধীনতার পক্ষে রাজনৈতিক আন্দোলন ও স্বাধীনতার সপক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ছিলেন এবং দেশের ভেতরে থেকেই মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য-সহযোগিতা করেন। ফলে তিনি কালো আইনের তালিকাভুক্ত হন এবং একাত্তরের আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা সেনানিবাসে অন্তরীণ ছিলেন। অন্তরীণ অবস্থায় অমানুষিক নির্যাতনে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং স্বাস্থ্যও ভেঙে যায়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্লাবের সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
উল্লেখ করা অপ্রাসঙ্গিক হবে না, স্যার একজন দক্ষ দাবাড়ু। অধ্যাপনা জীবনে তিনি একাধিকবার সিনেটের সদস্য ছিলেন। ১৯৭৮-৮২ পর্যন্ত পরপর দুবার তিনি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের নির্বাচিত ডিন ছিলেন। ডিন থাকাকালীন বর্তমানে প্রচলিত কোর্স-পদ্ধতি পরীক্ষা সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবর্তন করার ক্ষেত্রে অন্যতম পুরোধা ছিলেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির তিনবার (১৯৮০-৮১) ও (১৯৮৬-৮৭) নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন এবং একই সঙ্গে তিন-তিনবার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সামরিক আইন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন বিষয়ে যেসব কালো আইন প্রবর্তন করা হয়েছিল, তা তাঁর সভাপতিত্বকালে আন্দোলন ও প্রতিবাদের মাধ্যমে সরকারকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়।
এ ছাড়া লেখালেখিতেও সা’দউদ্দিন সক্রিয় ছিলেন। সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে তাঁর অনেক মনস্বী নিবন্ধ সুধী মহলে সমাদৃত হয়। ১৯৬০ থেকে এ পর্যন্ত তিনি অনেক সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে মূল প্রবন্ধকার হিসেবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। তাঁর রচিত গবেষণামূলক নিবন্ধ কিছু প্রকাশিত হয়েছে এবং বেশির ভাগই অপ্রকাশিত ও অগ্রন্থিত রয়ে গেছে।
অধ্যাপক সা’দউদ্দিন একজন নিবেদিত ও সার্থক শিক্ষক। পাশাপাশি সমাজসচেতন ও বড় মাপের মানুষ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক সমস্যার সমাধানে তিনি কখনো দলীয়ভাবে, কখনো এককভাবে কাজ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চূড়ান্তভাবে অবসর গ্রহণ করার পরও তাঁর প্রয়াস থেমে নেই, তিনি ‘ফিলিস্তিনি জনগণের’ মুক্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশে যে সংহতি আন্দোলন হয়েছে, তাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং একই সঙ্গে ইরাকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
অধ্যাপক সা’দউদ্দিনের উপস্থিতি আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। ৮০তম জন্মদিনে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
নেহাল করিম: অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ফ্রান্সে বাস-লরির সংঘর্ষে নিহত ৪২

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি লরির সঙ্গে যাত্রীবাহী একটি বাসের সংঘর্ষে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লিবোর্ন শহরের কাছে একটি লরির সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় বাসের ৪১ জন যাত্রী ও লরির চালক নিহত হয়েছেন। এদিকে প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ফ্রান্সের স্থানীয় একটি সংবাদ মাধ্যম বলছে, শুক্রবার সকালে লিবোর্ন শহরের পুইসেগুইন এলাকার কাছে ১২৩ নম্বর বিভাগীয় সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ওই সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, সংঘর্ষের পরপরই বাস ও লরিতে আগুন ধরে যায়।

২০২৫ সালেই পঞ্চম শক্তিধর দেশ হচ্ছে পাকিস্তান!

২০২৫ সালের মধ্যেই পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে প্রথম পাঁচে উঠে আসবে পাকিস্তান। নিউক্লিয়ার নোটবুকের সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
গতকালই পাকিস্তানের বিদেশসচিব আজিজ চৌধুরি পরমাণু অস্ত্র বানানোর কথা স্বীকার করেন। এবং ভারতের কথা মাথায় রেখে তারা যে স্বল্প-দূরত্বের ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছেন তা-ও জানানো হয়। আজিজের এই স্বীকারোক্তির পরপরই নিউক্লিয়ার নোটবুকের সম্প্রতিক রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
অ্যাটোমিক সায়েন্টিস্টেদের এই রিপোর্টে জানানো হয়, পাকিস্তানের কাছে এই মুহূর্তে ১১০-১৩০টির মতো পরমাণু অস্ত্র মজুদ রয়েছে। ২০১১ সালে এই পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা ছিল ৯০-১১০ এর মতো। মজুদ বৃদ্ধির এই আঙ্কিক হারের তুলনা করে রিপোর্টে দাবি করা হয়, ২০২৫ সালের মধ্যে পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে পাঁচে থাকবে পাকিস্তান। অনুমান, সেসময় পাকিস্তানের কাছে মজুদ পরমাণু অস্ত্র দাঁড়াবে ২২০ থেকে ২৫০-এর মধ্যে।
বিশ্বাসযোগ্যতার দিক থেকে কখনোই নিউক্লিয়ার নোটবুকের এই রিপোর্টকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না। এই রিপোর্টে এটাও জানানো হয়, পাকিস্তান তার পরমাণু অস্ত্রের ভাণ্ডার ক্রমশ বাড়িয়েই চলেছে।
ভারতের কথা মাথায় রেখেই যে তারা স্বল্পপাল্লার পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে, এটাও প্রথমবার প্রকাশ্যে ঘোষণা করে পাকিস্তান। এটা যে নেহাত কথার কথা নয়, দুই পরমাণু বিশেষজ্ঞ হান্স ক্রিস্টেনসেন ও রবার্ট নরিসের রিপোর্টেও তার উল্লেখ রয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীকে জবাব দিতেই স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রে জোর দিয়েছে পাকিস্তান।
পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম পাকিস্তানের এই মিসাইলের মধ্যেই রয়েছে বিতর্কিত NASR (Hatf-9), যার পাল্লা হল মাত্র ৬০ কিলোমিটার ( ৩৭ মাইল), এটি সলিড-ফুয়েল মিসাইল। লক্ষ্য যে ভারতই, তা স্পষ্ট। গত বৃহস্পতিবারই এই রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়েছে আমেরিকায়।
জানা গিয়েছে, প্রতিবেশী এই দেশটির কাছে এই মুহূর্তে ছয় ধরনের পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক মিসাইল রয়েছে। আর দুটি মিসাইলের পরীক্ষা চলছে।
সূত্র : ইকোনোমিক টাইমস

“মহররমের চেতনা ধারণ করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে” -খালেদা জিয়া

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, “অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে ১০ মহররমের আত্মত্যাগের চেতনা বুকে ধারণ করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।” শুক্রবার পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে বেগম খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়া বলেন, “অন্যায়, অবিচার, অন্যায্য, অবৈধ অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়া প্রতিটি মানুষের কর্তব্য। ইসলাম আমাদের সে শিক্ষাই দেয়। মহানবী (সা.)ও অন্যায়কে প্রতিহত করতে নির্দেশ দিয়ে গেছেন। তাঁর উম্মত হিসেবে আমাদের কর্তব্য—যেকোনো গণবিরোধী ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর কৃত অনাচার আর অবৈধ ক্ষমতার দাপটে মানুষকে দমিয়ে রাখার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।” বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, “বাংলাদেশে এখন অন্যায়, অবিচার আর অনাচারের দুঃসময় বয়ে চলেছে। এ দেশে মানুষের সুবিচার পাওয়ার সম্ভাবনা এখন সম্পূর্ণরূপে তিরোহিত হয়ে গেছে।” খালেদা জিয়া আরো বলেন, “১০ মহররম সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি অত্যন্ত তাৎপর্যময় দিন। পবিত্র আশুরার এ দিনে ঘটেছিল এক শোকাবহ ঘটনা। অন্যায় আর অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) এই দিনে শাহাদাত বরণ করেন। কারবালা প্রান্তরে সেই হৃদয়বিদারক ঘটনা আজও মানুষকে কাঁদায় এবং বেদনার্ত করে। সত্য ও ন্যায়ের জন্য তাঁর আত্মত্যাগ বাংলাদেশসহ মানবজাতির জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

‘গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন’

সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, “গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্যই তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে সরকার।এতে তৃণমূলে গণতন্ত্রের চর্চা হবে। এই নির্বাচন থেকে গণতন্ত্রের অভিযাত্রা প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রের পথে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।” বৃহস্পতিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ শহরের শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালিবাড়ি মন্দিরে দুর্গা প্রতিমা পরিদর্শন ও পূজারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে জেলা প্রশাসক রশিদা ফেরদৌস, পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালামসহ হিন্দু মহাজোট ও পূজা উদযাপন পরিষদ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী বলেন, “সারা দেশে ২৯ হাজার পূজা মন্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব চলছে। কোথাও শান্তি বিঘ্নিত হয়েছে এমন খবর নেই। দুর্গোৎসবই প্রমাণ করে দেশের নিরাপত্তায় কোনো ঝুঁকি নেই। তাই বিদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ, সংশয় তা অযৌক্তিক।” দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বিএনপির আপত্তির বিষয়ে মন্ত্রী আরো বলেন, “আন্দোলনে হেরে গেলে নির্বাচনে হেরে যায়, আন্দোলনে বিজয়ী হলে নির্বাচনে বিজয়ী হয় এটাই রাজনীতির ইতিহাস। নির্বাচন ঠিক মত হবে না,  নিরক্ষেপ হবে না, বিরোধীদের নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা চলছে এসব কথা যারা বলছেন, তারা কিন্তু আন্দোলনে ব্যর্থ। আর আন্দোলনে ব্যর্থ বলেই সামনে যে কোনো নির্বাচনে তারা ব্যর্থ হবে। এজন্যই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এমন মন্তব্য করছেন।”

‘দেশে আওয়ামী লীগ জঙ্গি শব্দ চালু করেছে’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ বলেছেন,‘দেশে আওয়ামী লীগ জঙ্গি শব্দ চালু করেছে’। বর্তমান সরকারের অত্যন্ত সস্তা বক্তব্য জঙ্গি।সরকারের একপক্ষ বলছে দেশে জঙ্গি নেই, আরেক পক্ষ বলছে জঙ্গি আছে। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধে ‘বর্তমান সরকারের অব্যাহত ষড়যন্ত্র এবং গণমাধ্যমের ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে’ এক সমাবেশে তিনি এ সব কথা বলেন।স্বেচ্ছাসেবক দল এ সমাবেশের আয়োজন করে। হান্নান শাহ বলেন,  নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকেও তারা বলে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। জঙ্গির সঙ্গে সরকারের একটি অংশ ও সরকারের একটি বিশেষ বাহিনীর লোক জড়িত। তিনি বলেন, দুই বিদেশী নাগরিক হত্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এগুলো চলবে না। তিনি আরো বলেন, ‘দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে দেশকে অস্থিতিশীল করছে। সরকারের এমপি, মন্ত্রীরা কত শান্তশিষ্ট লেজবিশিষ্ঠ তা সবাই জানে। এক এমপি শিশুদের গুলি করেছে। আরেক এমপির গাড়িতে লাশ পাওয়া গেছে। প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে জনগণকে ভয় দেখান। এটা শুধু গাইবান্ধা-গফরগাঁওয়ে নয়, সারাদেশে একই চিত্র। এগুলো হচ্ছে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কর্মকাণ্ড। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘জঙ্গি, জঙ্গি করেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে যে সব জঙ্গি আছে তাদের ধরে ফেলেন। তার পর বিদেশীদের বলেন আমরা জঙ্গি ধরে ফেলেছি। উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করবেন না। ডাল মে কুচ কালা হে।’ সরকারকে উদ্দেশ করে হান্নান শাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মিথ্যাচার করে নিজেদের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপাতে এক্সপার্ট। মিথ্যাচার বন্ধ করুন। ব্লগার হত্যায় এফবিআই আনা হয়, পুলিশ ও দুই বিদেশী হত্যায় এখন পর্যন্ত এফবিআই আনার খবর নেই। দেশের পুলিশ, মানুষ এমনকি বিদেশীরাও নিরাপদ নয়।’ তিনি বলেন, সরকারকে আহ্বান জানাব দেশকে টেনশনমুক্ত করুন। বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করুন। অন্যথায় ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছি। স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুনির হোসেনের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, যুববিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ।

কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী নেতা আটক

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী রাজনৈতিক সংগঠন জম্মু-কাশ্মীরের হুরিয়ত কনফারেন্সের জ্যেষ্ঠ নেতা সৈয়দ আলী শাহ গিলানিকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কাশ্মীর পুলিশ ৮৫ বছর বয়স্ক এ নেতাকে আটক করে। এর আগে গত ২৩ আগস্ট ভারত ও পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের (এনএসএ) বৈঠক বাতিল হওয়ার পরেই তাঁকে গৃহবন্দি করা হয়েছিল।
সৈয়দ গিলানিকে আটকের পর তাঁকে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরের হামাহামা পুলিশ স্টেশনে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হুরিয়তের আরেক প্রভাবশালী নেতা আহমেদ আসিফ। আসিফ আরো জানান, গত রোববার ট্রাকে বোমা হামলায় নিহত ট্রাকের সুপারভাইজার জাহিদ রসুল বাটের শোকার্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলেন গিলানি। জাহিদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরপরই তাঁকে আটক করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ৯ অক্টোবর কাশ্মীরের উধামপুর এলাকার বাসিন্দা জাহিদ রসুল তিনটি গরু জবাই করেছে—এমন অভিযোগে তাঁর ট্রাক লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা ছুড়েছিল দুর্বৃত্তরা। এ সময় বোমার আগুনে গুরুতর দগ্ধ হন রসুল বাট ও চালক শওকত আহমেদ। এর পর তাঁদের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রোববার মারা যান রসুল বাট। শওকত এখনো চিকিৎসাধীন।

সুবিচারের সম্ভাবনা তিরোহিত: খালেদা জিয়া

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, বাংলাদেশে এখন অন্যায়, অবিচার আর অনাচারের দুঃসময় বয়ে চলেছে। এ দেশে মানুষের সুবিচার পাওয়ার সম্ভাবনা এখন সম্পূর্ণরূপে তিরোহিত হয়ে গেছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে ১০ মহররমের আত্মত্যাগের চেতনা বুকে ধারণ করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
আজ শুক্রবার পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘অন্যায়, অবিচার, অন্যায্য, অবৈধ অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়া প্রতিটি মানুষের কর্তব্য। ইসলাম আমাদের সে শিক্ষাই দেয়। মহানবী (সা.)ও অন্যায়কে প্রতিহত করতে নির্দেশ দিয়ে গেছেন। তাঁর উম্মত হিসেবে আমাদের কর্তব্য—যেকোনো গণবিরোধী ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর কৃত অনাচার আর অবৈধ ক্ষমতার দাপটে মানুষকে দমিয়ে রাখার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।’
খালেদা জিয়া বলেন, ১০ মহররম সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি অত্যন্ত তাৎপর্যময় দিন। পবিত্র আশুরার এ দিনে ঘটেছিল এক শোকাবহ ঘটনা। অন্যায় আর অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) এই দিনে শাহাদাত বরণ করেন। কারবালা প্রান্তরে সেই হৃদয়বিদারক ঘটনা আজও মানুষকে কাঁদায় এবং বেদনার্ত করে। সত্য ও ন্যায়ের জন্য তাঁর আত্মত্যাগ বাংলাদেশসহ মানবজাতির জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

আইএসের ‘গণহত্যার’ ষড়যন্ত্র নস্যাৎ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের সেনারা আইএসের কাছ থেকে বেশ কিছু
জিম্মিকে উদ্ধার করেছে বলে দাবি পেন্টাগনের। ছবি: এএফপি
ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিদের সম্ভাব্য গণহত্যার যড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেওয়ার দাবি করেছে পেন্টাগন। আজ শুক্রবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
পেন্টাগন জানিয়েছে, আইএসের কাছ থেকে বেশ কিছু জিম্মিকে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের সেনারা। ওই জিম্মিদের হত্যা করার মতলব এঁটেছিল আইএস। এই তথ্য জানার পর তাদের উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে আহত হয়ে এক মার্কিন সেনা মারা গেছে। গত বছর আইএসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান শুরু করে। এরপর এই অভিযানে প্রথম দেশটির কোনো সেনা মারা গেল।
পেন্টাগনের ভাষ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার খুব সকালে উত্তর ইরাকের হাওয়াইজা শহরে ওই অভিযান চালানো হয়। আইএসের পাঁচ জঙ্গিকে ধরা হয়েছে। বেশ কিছু জঙ্গি নিহত হয়েছে।
প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭০ জন জিম্মিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে এক কুর্দি গোয়েন্দা সূত্রের ভাষ্য, ১৭ জন জিম্মিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা সবাই আইএসের সাবেক সদস্য।

নাটোরে আ'লীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আব্দুল হান্নান (৪০) নামে এক কর্মী নিহত হয়েছে। আজ সকাল আটটার দিকে সিংড়া উপজেলার ইটালী ইউনিয়নের তিরোইল গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উত্তেজিত আওয়ামী লীগ কর্মীরা অপর পক্ষের প্রায় ৩০টি বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালায়। এ সময় ১০ জন আহত হয়।
সিংড়া উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিকের পোষ্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে গত সোমবার উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ১০জন আহত হয়। এ ঘটনার জের ধরেই আজ সকালে নুতন করে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই সংঘর্ষ, হামলা, ভাংচুর ও হত্যাকান্ডের ঘটনায় একজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ইটালী ইউপি চেয়ারম্যান ও সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান আরিফ ও আরিফের প্রতিদ্বন্দী চেয়ারম্যান প্রার্থী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ জিন্নার সমর্থকরা এই ঘটনায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে ধারালো হাসুয়ার আঘাতে আব্দুল হান্নান মারা যায়। নিহত আব্দুল হান্নান আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ জিন্নার সমর্থক এবং তিরোইল গ্রামের আব্দুর করিমের ছেলে।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন মন্ডল জানান, নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুন্সি শাহাবুদ্দীনসহ ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ রয়েছে। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।
নাটোরের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার মুখার্জী নাটোরের সিংড়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষে আব্দুল হান্নান নামে এক কর্মী নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নাটোরে মন্দিরের দূর্গাসহ ছয়টি প্রতিমা ভাংচুর ॥ বিক্ষোভে উত্তাল গুরুদাসপুর by মোঃ শহীদুল হক সরকার

নাটোরের গুদাসপুরের কাচারীপাড়া কালি মন্দিরে গতরাত দুইটার দিকে পাহারারত একমাত্র আনসার সদস্যকে মারপিট করে মন্দিরের দূর্গাসহ ছয়টি প্রতিমা ভাংচুর করেছে মুখোসপরা অজ্ঞাত পাঁচ সন্ত্রাসী। এই ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবীতে শুক্রবার সকাল থেকে এলাকার হাজার হাজার হিন্দু নারী-পুরুষ ও শিশু লাঠি হাতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা গুরুদাসপুর ও চাঁচকৈড় বাজারের প্রতিটি রাস্তার মোড়ে মোড়ে আগুন জ্বালিয়ে এবং গাছ ফেলে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাজার হাজার হিন্দু নারী-পুরুষ ও শিশু লাঠি হাতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে গিয়ে গুরুদাসপুর থানা ঘেরাও করে। এ সময় কিছু হিন্দু ধর্মীয় নেতা বিক্ষোভকারীদের থানায় প্রবেশ করতে বাঁধা দিলে তারা লাঠি হাতে থানার গেটের সামনে অবস্থান নেয়। ঘটনার সময় পুলিশ থানার বাহিরের ও ভিতরের সব গেট ও দরজা বন্ধ করে ভিতরে অবস্থান নেয়।
বিক্ষোভকারীরা জানায়, বৃহস্পতিবার রাত দুইটার দিকে পাহারারত আনসার সদস্য মোঃ রজিব প্রামানিককে মারপিট করে মন্দিরের দূর্গাসহ ছয়টি প্রতিমা ভাংচুর করেছে অজ্ঞাত কয়েক সন্ত্রাসী। এর বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন বন্ধ করবেন না এবং রাস্তা থেকে অবরোধ তুলবেন না।
এদিকে দায়ীদের আটক ও আন্দোলন থামাতে সকাল ৯টার দিকে চাঁচকৈড় হরিবাসরে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের মধ্যস্ততায় হিন্দু ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে জরুরী সভা শুরু হয়। নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুন্সি শাহাবুদ্দীন ও গুরুদাসপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ এবং পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ মোল্লা বৈঠকে বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা শুরু করেন। সুরাহা না হওয়ায় পরে নাটোরের জেলা প্রশাসক মোঃ মশিউর রহমান ও পুলিশ সুপার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুরে যান। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই রিপোর্ট লেখার সময় সেখানে তাদের উপস্থিতিতে সভা চলছে।
প্রাথমিক ভাবে থানা পুলিশ ধারনা করলে বৃহস্পতিবার বিকেলে এই মন্দিরে একটি ইভটিজিংএর ঘটনা ঘটেছিল। তার জের ধরেই এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এ ব্যাপারে তাৎক্ষনিক বিস্তারিত জানা যায়নি।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় সাধারণ মন্ডপে ২ জন করে মহিলা ও পুরুষ আনসার সদস্য, গুরুত্বপূণ মন্ডপে ২ জন মহিলা ও ৪ জন আনসার সদস্য এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ মন্ডপে ২ জন মহিলা ও ৬ জন পুরুষ আনসার সদস্যের পাশাপাশি ১ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও এই মন্দিরে ঘটনার সময় কেন মাত্র একজন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন তা রহস্যজনক।

কালো তালিকাভুক্ত হচ্ছে পচা গম আমদানিকারী প্রতিষ্ঠান

ব্রাজিল ও ফ্রান্স থেকে পচা গম আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ইমপেক্স কনসালট্যান্ট লিমিটেডকে কালো তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানটিই ব্রাজিল থেকে তিন লাখ টন গম আমদানি করে সারা দেশে হইচই ফেলে দিয়েছিল। তখন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। এটার রেশ কাটতে না কাটতেই মংলা বন্দর দিয়ে ২১ হাজার ৫০০ টন গম খালাসের চেষ্টা করেছে একই কোম্পানি। খাদ্য অধিদপ্তরের পরীক্ষায় গমগুলো নিম্নমানের হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ কারণেই প্রতিষ্ঠানটিকে ব্ল্যাক লিস্টেড করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রবি বা সোমবারের মধ্যে তাদের এ-সংক্রান্ত চিঠি দেয়া হতে পারে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইমপেক্স কনসালট্যান্ট নামের প্রতিষ্ঠানটি গত মার্চে ৫২ হাজার ৫০০ টন গম আমদানির কার্যাদেশ পায়। এর ভিত্তিতে ২৪শে মার্চ ঠিকাদারি কোম্পানির সঙ্গে খাদ্য অধিদপ্তরের চুক্তি হয়। এরপর তড়িঘড়ি করে ফ্রান্স থেকে তারা গম নিয়ে আসে। এ বছরের ২১শে মে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৩০ হাজার ১৬৪ টনের প্রথম চালান দেশে আসে ও খালাস হয়। কিন্তু গত ১২ই অক্টোবর মংলা বন্দর দিয়ে চালানটি দেশে আসতেই বিপত্তি বেধে যায়। মংলা বন্দর গম খালাস তদারক কমিটি তা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকে। শেষ পর্যন্ত খাদ্য অধিদপ্তরের পরীক্ষাগারে পরীক্ষার মাধ্যমে তা খাবার অনপুযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নানাভাবে ওই গম খালাসের চেষ্টা চালিয়ে যায়। এরই মধ্যে গম না নেয়ার বিষয়টি জানিয়ে খাদ্য অধিদপ্তর গম আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছে। এ ছাড়া সর্বশেষ গত বুধবার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্ল্যাক লিস্টেড করার পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে খাদ্য অধিদপ্তরকে।

সিলেট আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানোর তাগিদ অর্থমন্ত্রীর

সিলেট আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানোর তাগিদ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। একই সঙ্গে তৃণমূলেও দলকে শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বুধবার রাতে সিলেটের হাফিজ কমপ্লেক্সে সিলেট আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী এ তাগিদ দেন। এ সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সুখ-দুঃখের অনেক কথাও শুনেন। প্রতি বছর অর্থমন্ত্রী একবার হলেও দলীয় নেতাদের সঙ্গে এভাবে বৈঠক করেন। ২০১১ সালের ২১শে নভেম্বর ৭০ সদস্যের সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়াত নেতা আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানকে সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন। ওই সময় কমিটি গঠন নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ দেখা দিলেও এক পর্যায়ে তা থেমে যায়। একসঙ্গে ওই সময়ই সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে সভাপতি ও আসাদ উদ্দিন আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ওই দুটি কমিটি এখন মেয়াদোত্তীর্ণ। দলীয় নেতারা জানান, আলোচনায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে ৬ মাসের মধ্যে সম্মেলনের প্রস্তুতির নির্দেশ দেন অর্থমন্ত্রী। নেতারা মহানগরের সব কটি ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ছয় মাসের বদলে এক বছর সময় চান। তবে, অর্থমন্ত্রী বলেছেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেটি করতে হবে। তৃর্ণমূলে দলকে চাঙ্গা করতে এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র জানায়, আলোচনা সভায় সংগঠনের অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন। সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সহসভাপতি ইমরান আহমদ, মহানগরের সহসভাপতি সিরাজ বখত, মফুর আলী, যুগ্ম সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার, বিজিত চৌধুরী, মহানগরের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপন মিত্র, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ, সুজাত আলী রফিক প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে সদ্য প্রয়াত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক মরহুম আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দলীয় নেতারা জানান, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানের মৃত্যুতে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ শূন্য হয়ে গেছে। বর্তমান লুৎফুর রহমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে এখনও দল থেকে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। এসব বিষয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে অবগত করা হয়েছে।
সিলেট ছাত্রলীগে অস্থিরতা: বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে সিলেট ছাত্রলীগে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ছাত্রলীগের বেপরোয়াভাব, সংঘর্ষ ও অস্ত্রের ব্যবহার সিলেট নগরবাসীকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সর্বশেষ হামলার শিকার হয়েছেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম. রায়হান চৌধুরী। রোববার রাতে টিলাগড়ে ক্যাডারদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন তিনি। শনিবার রাতে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ শাখার কমিটি ঘোষণা করেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ ও সাধারণ সম্পাদক এম. রায়হান চৌধুরী। এই কমিটি মেনে নিতে পারেনি ছাত্রলীগ টিলাগড় গ্রুপের একাংশের নেতাকর্মীরা। এর জের ধরে টিলাগড় পয়েন্টে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম সমর্থকরা রায়হানের ওপর হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হন রায়হান। রায়হানের ওপর হামলার খবর পেয়ে তার সমর্থকরা টিলাগড় পয়েন্টে আসলে কামরুল সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন আহত হন। পুলিশ গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করে। সংঘর্ষ চলাকালে টুটুল নামের এক ছাত্রলীগকর্মী গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক এইচএম কামরুল ইসলাম, সঞ্জয় চৌধুরী ও ছাত্রলীগ নেতা মিঠু তালুকদারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে সোমবার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিয়ানীবাজার কলেজে ছাত্রলীগের মূলধারা ও পাভেল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। শনিবার ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মদনমোহন কলেজে নিজ দলের ক্যাডারদের হামলায় ছুরিকাহত হন রুমেল আহমদ। গত মাসের শেষের দিকে আধিপত্য নিয়ে নগরীর খাসদবীরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ৫নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মোহন মিয়াসহ অন্তত ৫ জন আহত হন। আগস্টে মদনমোহন কলেজে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান আবদুল আলী নামের এক ছাত্রলীগ কর্মী। একটি ভুয়া জিডির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম তুষারও আলোচনায় আসেন।

লন্ডনে বিচারপতি শামসুদ্দিনের ওপর হামলা by তানজির আহমেদ রাসেল

সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের ওপর আবারও লন্ডনে হামলা চালিয়েছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। বুধবার সন্ধ্যায় লন্ডনের হিথ্রো এয়ারপোর্টে নেমে বাসায় যাওয়ার আগে পূর্ব লন্ডনের ইয়র্ক হলে দুর্গাপূজা পরিদর্শনে যান বিচারপতি শামসুদ্দিন। পরিদর্শন শেষে বাসায় যাবার জন্য গাড়িতে ওঠার সময় হামলার ঘটনা ঘটে। এবার হামলার সময় বিচারপতির মেয়ে তানিয়া চৌধুরী তার সঙ্গে ছিলেন। এর আগে ২০১২ সালের ২৭শে জুন ব্যায়ামাগার থেকে পূর্ব লন্ডনের বিকনট্রি এলাকায় নিজ বাসায় ফেরার পথে হামলার শিকার হন হাইকোর্টের এই বিচারপতি। হামলার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তারা এ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীকে হামলার পাশাপাশি অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে মনে করেন তার মেয়ে নাদিয়া চৌধুরী। তিনি বৃহস্পতিবার তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি লিখেছেন তার বাবাও একই ধারণা পোষণ করেন। কারণ, হামলার সময় তাদের সঙ্গে একটি সাদা গাড়ি  ছিল। তারা আব্বুকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে। হামলাকারীদের পরিচয় জানা না গেলেও বিএনপিকে দায়ী করে বিচারপতি শামসুদ্দিনের মেয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, “এই মোটাসোটা চেহারার বখাটে হামলাকারীরা আমার আব্বুকে চেনে না। কোন সন্দেহ নেই, বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনীর নির্দেশনা পেয়েই তারা এসেছিল।” ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর মেয়ে নাদিয়া চৌধুরী ফেসবুকে লিখেন ‘বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বাসায় না গিয়ে পূর্ব লন্ডনের ইয়র্ক হলে দুর্গাপূজা পরিদর্শনে যান আব্বু। সেখানে পরিদর্শনের সময় সকলের অনুরোধে আব্বু বক্তব্যও রাখেন। তখন অনেকে আব্বুর সঙ্গে  ছবি তুলেন। অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হয়ে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন কর্তৃক বরাদ্দকৃত গাড়িতে ওঠার পথে এই হামলা হয়। নাদিয়া লিখেন “হঠাৎ টের পেলাম এক লোক বাবার গা-ঘেঁষে হাঁটা শুরু করল।  একজন আব্বুর কাছে এসে জানতে চাইলো ‘আপনি  জাস্টিস শামসুদ্দিন চৌধুরী কি না’? “জবাব না দিয়ে আব্বু সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে আরও কয়েকজন আমাদের দিকে এগিয়ে এলো এবং আব্বুকে মারতে শুরু করল। ‘অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে আমরা দুজন লোক প্রায় ৩০ সেকেন্ড ধরে সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও আশেপাশের কেউ এগিয়ে আসেনি। এমনকি হাইকমিশনের দুজন লোক হামলা থেকে সরে দাঁড়ায়। যদিও অনুষ্ঠানস্থলে অনেকে আব্বুর সঙ্গে ছবি তুলেছেন”।
ঘটনার একপর্যায়ে বিচারপতি শামসুদ্দিনের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় হামলাকারীরা। তার মেয়ে হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করলেও হামলাকারীদের লাথি আর ঘুষিতে একপর্যায়ে রাস্তায় পড়ে যান শামসুদ্দিন চৌধুরী। পরে তিনি দৌড়ে ইয়র্ক হলে ফিরে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। ঘটনার ব্যাপারে বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিকের বক্তব্য জানতে তার লন্ডনের মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
বিএনপিকে জড়িয়ে বিচারপতির মেয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক বলেন, এটা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ। বিএনপি কখনও এ ধরনের হামলায় বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অনেকে তার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কি কারণে হামলা হয়েছে তা পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

সাবধান ব্লেড হাতে ছিনতাইকারী by আল আমিন

দুই মাস আগের কথা। দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। রাস্তায় অত্যধিক যানজট। সিএনজি চালিত অটোরিকশাটি দাঁড়িয়ে ছিল কাওরান বাজারে তিতাস ভবনের সামনে। গাড়িতে এক মহিলা যাত্রী বসা ছিলেন। কথা বলছিলেন মোবাইলে। এ সময় এক দুবর্ৃৃত্ত গাড়ির বাম্পারে উঠে ধারালে ব্লেডজাতীয় কিছু দিয়ে ছাদের পলিথিন কেটে ফেলে। এরপর ওই দুর্বৃত্ত যাত্রীর মোবাইলটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। তখন ওই মহিলাটি চিৎকার দেয়। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির গ্রিলের দরজা খোলা হলে ওই দুর্বৃত্ত কোথায় হাওয়া হয়ে যায়। মহিলার ডান কানের এক কোণ দিয়ে রক্ত ঝরছিল। কথাগুলো জানালেন ঢাকা মেট্রো-থ (১৩-০৩৯৭) অটোরিকশার চালক আসগার আলী। তিনি রামপুরার আলী হোসেনের গ্যারেজের ওই অটোরিকশাটি চালান। তিনি জানালেন, শুধু তার অটোরিকশা নয়, ঢাকার প্রায় সব অটোরিকশাই কখনো না কখনো এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দুর্বৃত্তরা ব্যবহার করে ব্লেড। এই দুর্বৃত্তদের কাছে চালক ও যাত্রীরা অসহায় বলে তিনি জানান।
এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন এমন প্রায় ২০ জন চালকের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়।  দুবর্ৃৃত্তরা ছাদ কেটে মোবাইল ফোন, হ্যান্ড ব্যাগ, স্বর্ণের চেইনসহ অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। ঢাকা মেট্রো-থ (১৪-৩৮৮৮) নম্বরের অটো রিকশার চালক আবদুল জব্বার, ঢাকা মেট্রো-থ (১৪-১৭২১) এর চালক রফিক উদ্দীন আহমেদ, ঢাকা মেট্রো-থ (১১-৫৯১৪) এর চালক আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা মেট্রো-থ (১৪-৩৪২১) এর স্বপন আহমেদ, ঢাকা মেট্রো-থ (১৩-১২১৭) এর চালক করিম হোসেন, ঢাকা মেট্রো-থ (১৪-০৫৫১) সোহেল আহমেদ, ঢাকা মেট্রো-থ (১২-৯৮৪৪) এর চালক আবদুল আজিজ, ঢাকা মেট্রো-থ (১৩-৩৯৮২) এর রিপন হোসেন, ঢাকা মেট্রো-থ (১৩-২৫৫০) এর চালক শাহাদাত হোসেন ও ঢাকা মেট্রো-থ (১২৯৩-৫৬) এর চালক রাজিব হোসেন জানিয়েছেন, তাদের অটোরিকশার যাত্রীরা দুর্বৃত্তদের কবলে পড়েছেন।
পান্থপথের মোড়ের রাস্তায় কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা মেট্রো-থ (১৭-৩৭৩৬) নম্বরের অটো রিকশার চালক আরিফ হোসেন, ঢাকা মেট্রো-থ (১৪-১২২১) এর চালক আরমান আলী, ঢাকা মেট্রো-থ (১৩-৩৭২৩) এর দেলহাজ আলী, ঢাকা মেট্রো-থ (১৩-২৩৯২) এর চালক সাইফুল হোসেন, ঢাকা মেট্রো-থ (১২-৭৫৩৭) এর চালক আব্দুর রহমান তাদের গাড়ি গুলো ছাদ কাটা পার্টির চক্রের কবলে পড়েছে বলে জানিয়েছে। এ ছাড়াও রূপসী বাংলা ক্রসিংয়ে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা মেট্রো-থ (১৪-২৬৬৭) এর চালক আবদুর রকিব, ঢাকা মেট্রো-থ (১২-৭৬০৬) এর কাওসার হোসেন, ঢাকা মেট্রো-থ (১২-৬৮৩১) এর জাহিদ হোসেন,  ঢাকা মেট্রো-থ (১৩-১২৩৫) এর চালক সাদিকুল ইসলাম ও ঢাকা মেট্রো-থ (১৩-০৩৫৫) এর চালক মো. রেজাউল ওই চক্রের কবলে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ডিএমপির ডিবি (দক্ষিণ) গাড়ি চুরি, ছিনতাই ও প্রতিরোধ টিমের ইন্সপেক্টর হাবিল হোসেন মানবজমিনকে জানান, ছাদ কেটে চুরির ঘটনা ঘটে থাকে। তবে আমাদের কাছে এই অভিযোগগুলো কম আসে। ভিকটিমের অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সরজমিনে দেখা গেছে, ঢাকার পান্থপথে সিএনজি (অটো রিকশা) গুলো সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। গাড়ির চালকেরা যাত্রীদের ডাকাডাকি করছেন। অধিকাংশ গাড়ির ওপর নীল রংয়ের পলিথিন দিয়ে ঢাকা। প্রায় গাড়িরই ছাদ, গলা বরাবর অথবা পিট বরাবর সেলাই করানো। অথবা কোন কোন গাড়ির ডান বা বাম পাশ কাটা। কাটা পলিথিনগুলো সেলাই করা আছে অথবা বড় বিভিন্ন রংয়ের টেপ মারা আছে। আবার কোন কোন গাড়িতে বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন দেয়া আছে। অথবা বিজ্ঞাপন দেয়ার হট লাইনের অনেক নম্বর দিয়ে ঢাকানো। সেলাই করা কাটা পলিথিনগুলোর অবস্থা দেখে মনে হবে পলিথিনের ওপর বিজ্ঞাপনের পলিথিন। কিন্তু, গাড়ির ভেতর দেখলে ওই কাটার স্থানে নীল রংয়ের পলিথিন চোখে পড়বে না। দেখা যাবে, বিজ্ঞাপনের পলিথিন। আর চারপাশে নীল রংয়ের পলিথিন। সাম্প্রতিক সময়ে ওই ছাদ কাটা পার্টির রাজধানীতে একাধিক চক্র গড়ে উঠেছে। কোন কোন সিএনজি চালকেরাও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ছাদ কাটা পার্টির সদস্যরা অধিকাংশই বয়সে কিশোর ও যুবক। রাজধানীর বাংলামটর, পান্থপথ, বিজয় সরণির মোড়, বনানী ক্রসিং, গুলশান লিংক রোড, পল্টন মোড়ে, গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড, রাসেল স্কোয়ার, মিরপুর গোলচত্বর এলাকায় এরা ওত পেতে থাকে। ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টরা জানান, দিনের বেলায় কম হলেও সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে সবচেয়ে বেশি। সিএনজি চালকেরা জানান আগে অধিকাংশ সিএনজির গেট খোলা থাকতো। যানজটে আটকা পড়লে দুর্বৃত্তরা যাত্রীদের কাছ থেকে অথবা সিএনজিতে থাকা মালপত্র ছিনিয়ে নিয়ে চলে যেতো। এই চুরি ও ছিনতাইকে প্রতিরোধ করার জন্য সিএনজির দুদিকের দরজায় গ্রিল লাগানো হয়েছে। শুধু যাত্রীদের দুইপাশে নয় চালকের পাশেও গ্রিল দেয়া হয়েছে। পুরো সিএনজিটিতে পলিথিন দিয়ে মোড়ানো হয়ে থাকে। এরপরও দুর্বৃত্তরা সিএনজির ছাদ কেটে চুরি করছে। এমন ঘটনার শিকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ইয়াসিন আলী জানান, তিনি ব্যক্তিগত কাজ করেন উত্তরা থেকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় যাচ্ছিলেন। দুপুরে তার বহনকারী সিএনজিটি বনানীর রেলক্রসিংয়ের জ্যামের কারণে দাঁড়িয়ে ছিল। ওই সময় মোবাইল ফোনে কথা বলছিলাম। তখন এক  দুর্বৃত্ত ওই মাথার ছাদের ফুটো দিয়ে আমার মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর ওই সিএনজির গেট খুলে দেখি যে, ওই দুর্বৃত্ত দ্রুত কোথাও উধাও হয়ে যায়। তিনি আরও জানান, ওই ছাদের ফুটো তিনি দেখতে পাননি। পরে বাধ্য হয়ে ওই সিএনজিতে করেই গন্তব্যে পৌঁছাই।
পান্থপথের মোড়ে দেখা যায়, ঢাকা মেট্রো থ-(১৩-৫৫৫৮) নম্বরের গাড়ি গাড়ি চালক রাসেল হোসেন জানান, তিনি গেণ্ডারিয়ার ফরিদাবজারের সুমনের গ্যারেজের গাড়ি চালান। সিএনজির ছাদ কেটে যাত্রীর জিনিসপাতি ছিনিয়ে নেয়ার একটি চক্র গড়ে উঠেছে। এর সঙ্গে আবার কিছু অসৎ চালকও জড়িত আছে। দুর্বৃত্তদের সঙ্গে তাদের লিয়াঁজো আছে। তিনি আরও জানান, রাজধানীর কোন সিগনালে গাড়ি জ্যামে পড়লে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওই চালকেরা তার গাড়ির অবস্থান দুর্বৃত্তদের জানিয়ে দেয়। তেজগাঁওয়ের বিজয় সরণির মোড়ে সিগনালে অপেক্ষারত ঢাকা মেট্রো (থ) ১৩-১০৬৫ নম্বরের গাড়ির চালক দুলাল হোসেন জানান, ছাদ কাটা পার্টির দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। তার এই গাড়িও ওই চক্রের কবলে পড়েছিল।

সৌদিতে বেতন দিতে বিলম্ব হলে নিয়োগকারীকে জরিমানা

শ্রমিকের পাসপোর্ট নিজের কাছে রেখে দেয়ার দায়ে সৌদি আরবে এক নিয়োগকারীকে জরিমানা করা হয়েছে ২০০০ রিয়াল। শুধু তা-ই নয়, যদি শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করতে বিলম্ব করে কোন কোম্পানি বা ব্যক্তি তাহলে তার জন্যও রয়েছে শাস্তির বিধান। নিয়োগকর্তা শ্রমিক নিয়োগের চুক্তিপত্রের কোন কপি দেখাতে না পারার জন্য তাকে জরিমানা করা হচ্ছে ৫ হাজার রিয়াল। শাস্তিমূলক এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের নতুন বিধানের অধীনে। আবার যদি নিয়োগের শর্তে নেই এমন কোন কাজ শ্রমিককে দিয়ে করানো হয় তাহলে এমন নিয়োগকর্তাকে জরিমানা করা হবে ১৫ হাজার রিয়াল। যদি কোন শ্রমিককে এমন কোন কিছু এনে দিতে বলা হয় যাতে ওই শ্রমিককে অর্থ খরচ করতে হবে তার জন্যও এই একই সাজা হবে। এখানেই শেষ নয়, শ্রম মন্ত্রণালয় যে নতুন বিধান চালু করেছে তাতে কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধেও রয়েছে বেশকিছু শাস্তিমূলক পদক্ষেপ। যেমন শ্রমিকের মজুরি পরিশোধে বিলম্ব করলে, তাদের ওভারটাইমের বিল না দিয়ে অতিরিক্ত সময় কাজ করালে, সপ্তাহান্তে ছুটির দিনে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করালে অথবা সাধারণ ছুটির সময়ে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করালে ওই কোম্পানির বিরুদ্ধেও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। শ্রমিকদের দিয়ে যদি অতিরিক্ত গরমে বা খারাপ আবহাওয়ায় কাজ করানো হয় তাহলেও এক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে ধরা হবে। এছাড়া যদি কোন কোম্পানি যদি সৌদি আরবের কর্মচারীদের কমপক্ষে শতকরা ১২ ভাগকে প্রশিক্ষণ না দেয় তাহলেও তাদের জরিমানা করা হবে। কোন কোম্পানি যদি স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে সৌদিকরণের আওতায় সৌদি আরবের শ্রমিকদের নিয়োগের ভুয়া তথ্য দেয় তাহলে তাদেরকে ২৫ হাজার রিয়াল জরিমানা করা হবে। আবার যদি সৌদিকরণের জন্য সৌদি আরবের নাগরিকদের জন্য যে কোটা আছে সেখানে বিদেশী শ্রমিক নেয়া হয় তাহলেও শাস্তির বিধান আছে। এমন সব কোম্পানিকে ৫ দিনের মধ্যে বন্ধ করে দেয়া হবে। বিদেশী শ্রমিকদের কাছে ভিসা বিক্রি করা হলে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে ৫০ হাজার রিয়াল। লাইসেন্স ছাড়া কোন বিদেশীকে নিয়োগ করলে জরিমানা করা হবে ৪৫ হাজার রিয়াল। নারীদের জন্য কর্মক্ষেত্রে যদি পুরুষ নিয়োগ করা হয় তাহলে প্রতিজন পুরুষ শ্রমিকের বিপরীতে জরিমানা করা হবে ১০ হাজার রিয়াল। যদি নারী-পুরুষকে একই সঙ্গে একই কর্মক্ষেত্রে কাজ করতে হয়, তাদের দিয়ে নিষিদ্ধ এমন সময়ে কাজ করানো হয় তাহলে এক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। যদি কোন কোম্পানি নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত মান বজায় রাখতে না পারে বা লঙ্ঘন করে তাহলে তাদের ২৫ হাজার রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রেখেছে শ্রম মন্ত্রণালয়। নিয়োগ করার আগে যদি কোন অফিসারের লাইসেন্স না থাকে এবং তাকে নিয়োগ করা হয় তাহলে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। শ্রমিকদের সম্পর্কে যদি কোন ব্যবসায়ী শ্রম মন্ত্রণালয়ে মিথ্যা তথ্য দেন তাহলে তাকে বা তাদের ২৫ হাজার রিয়াল জরিমানা করা হবে। যদি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তদন্তে সমস্যা সৃষ্টি করা হয় তাহলে জরিমানার অঙ্ক ১০ হাজার রিয়াল। প্রতিটি ক্ষেত্রে একই ভুল যদি দ্বিতীয়বার ধরা পড়ে তাহলে জরিমানার অঙ্ক দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। জরিমানা করার এক মাসের মধ্যে তা পরিশোধ করতে হবে অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আবারও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ বিবেচনা করা হবে।