Friday, March 7, 2025

গাজায় হামলা শুরু হলে সকল জিম্মিকে হত্যার হুমকি হামাসের

গাজার বিরুদ্ধে ইসরাইলের হামলা শুরু হলে আটক সকল জিম্মিকে হত্যার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে সংগঠনটির একজন মুখপাত্র। গাজায় আটক জিম্মিদের ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে নিজের ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর ওই বিবৃতিতে দিয়েছে হামাস। এ খবর দিয়েছে এবিসি নিউজ।

এতে বলা হয়, গাজায় যুদ্ধবিরতি চললেও সেখানে সহায়তা প্রবেশে বাধা দিচ্ছে ইসরাইল। দেশটির বিরুদ্ধে গুন্ডামি, সহায়তা প্রবেশে বাধাদান এবং বেপরোয়া হামলার অভিযোগ তুলেছে হামাস।

আল কাসসাম বিগ্রেডের সামরিক মুখপাত্র আবু উবাইদা বৃহস্পতিবার তার রেকর্ড করা বার্তায় বলেছেন, শত্রুরা (ইসরাইল) চুক্তি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কেননা প্রধানমন্ত্রী (বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু) তার বন্দীদের জীবনের চেয়ে রাজনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। ইসরাইলকে দখলদার উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দখলদাররা আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরদার করতে আমেরিকার সবুজ সংকেত তালাশ করছে। ইসরাইলের এই যুদ্ধের হুমকি তাদের ব্যর্থতার কারণ হবে বলে উল্লেখ করেছেন উবাইদা। বলেছেন, ইসরাইলের যুদ্ধের হুমকি তাদের ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনবে না। এর মাধ্যমে তারা জিম্মিদের মুক্ত করতে পারবে না। আমরা ইসরাইলি বন্দীদের পরিবারকে সতর্ক করছি, যারা বেঁচে আছেন তাদের জন্য আমাদের কাছে এখনও জীবনের বহু প্রমাণ রয়েছে। সম্ভাব্য সকল পরিস্থিতির জন্য হামাস প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ওই নেতা। তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনের জনগণের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন বৃদ্ধি হলে, জিম্মিদের হত্যা করা হবে।

বুধবার হামাসকে লক্ষ্য করে হুমকি দেন ট্রাম্প। সংগঠনটিকে তাৎক্ষণিকভাবে সকল জিম্মিকে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, কাজ শেষ করার জন্য ইসরাইলের প্রয়োজন অনুসারে সব পাঠাচ্ছি আমি। সুতরাং আমার কথামতো কাজ না করলে একজন হামাস সদস্যও নিরাপদ থাকবে না। ওই পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যেহেতু আপনার এখনও সময় আছে তাই নেতৃত্বের জন্য গাজা ছেড়ে যাওয়ার এখনই মুখ্য সময়।

এছাড়া উপত্যকার জনগণের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে। তবে আপনারা (হামাস) যদি জিম্মিদের আটকে রাখেন তাহলে তা হবে না। যদি সেটাই করেন আপনাদের জন্য মৃত্যু। বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নিন। এখনই জিম্মিদের ছেড়ে দিন। নইলে হামাসকে নরকসম মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। বুধবার ওয়াশিংটনের ওভাল অফিসে মুক্তি পাওয়া ৮ জিম্মির সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। এখনও ২৪ জন জিম্মি জীবিত অছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত রোববার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেছেন, তাদের ধারণা বাকি ৩৫ জন জিম্মিকে হত্যা করা হয়েছে। এদান আলেকজান্ডার হলেন গাজায় জীবিত থাকা শেষ আমেরিকান-ইসরাইলি জিম্মি।  

mzamin

ট্রাম্পের এক নীতিতেই ওলটপালট বিশ্বব্যবস্থা

বিশ্বে রাজনীতি ও ভূরাজনৈতিক সম্পর্ক এখন এক ভিন্ন মোড়ে চলে এসেছে। আমেরিকার বর্তমান প্রশাসন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি গ্রহণ করেছে। দীর্ঘদিনের পথচলার সঙ্গী ইউরোপের প্রতি অবজ্ঞা ও অবহেলার মনোভাব দেখাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে ইউরোপের জন্য এক নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। মূল কারণ হলো ইউক্রেন যুদ্ধ। এ যুদ্ধের কারণেই ইউরোপীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবস্থান এখন বড় এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

ট্রাম্প প্রশাসনের নেতৃত্বে আমেরিকার ভূমিকা ও প্রভাব ইউরোপের ওপর কমে আসছে। ফলে ইউরোপকে নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে নজর দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সামনে কঠিন প্রশ্ন— তারা কি একলা চলবে, নাকি তাদের উচিত আমেরিকার নেতৃত্বের ওপর ভর করা? অন্যদিকে আমেরিকা কি ইউরোপকে বাদ দিয়ে নিজে ভালো থাকতে পারবে? বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের এই পরিস্থিতি নিয়েই এ প্রতিবেদন।

আমেরিকা ফার্স্ট নীতি

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শুরু থেকেই একপেশে, একক নীতি অনুসরণ করেছে—‘আমেরিকা প্রথম’। এটি ইউরোপের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নয়, বরং তাদের নিজস্ব স্বার্থকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। আমেরিকা এখন ইউক্রেনের সংকটকে গুরুত্ব দিচ্ছে না, বরং নিজের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে দেখছে। আর ইউরোপের জন্য দুশ্চিন্তার বিষয় হলো—এখন তারা কী করবে? ইউক্রেনের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত রাখতে ইউরোপ এখন কার্যকরী পদক্ষেপ খুঁজছে। ইউরোপীয় নেতারা আশঙ্কা করছেন, আমেরিকা তাদের পাশে না থাকলে, নিজেদের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ কারণে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গভীর চিন্তায় পড়ছে।

ইউরোপকে চাপ

ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমেরিকা এখন ইউরোপের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ইউরোপকেই নিতে হবে। কিন্তু ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে সামরিক শক্তির জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বা সমন্বয় নেই। তাদের সেনাবাহিনী, অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক কৌশল যথেষ্ট শক্তিশালী না হওয়ায় ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ইউরোপীয় নেতারা এখন বুঝতে পারছেন, তাদের নিজস্ব ঐক্য, শক্তি ও পরিকল্পনা এখন বেশি প্রয়োজন।

ইউরোপ কী করবে

ইউরোপের এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো নিজেদের সামরিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা ও পারমাণবিক অস্ত্রশক্তি গড়ে তোলা প্রয়োজন। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে এখনও ঐক্যবদ্ধ সামরিক পরিকল্পনা বা কৌশল নেই, যা তাদের জন্য ভবিষ্যতের বড় বিপদ। তারা যদি একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় না করে, তাহলে ইউরোপীয় নিরাপত্তা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে। ইউরোপের প্রতিরক্ষা শক্তি তৈরির জন্য অর্থনৈতিক বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা ছাড়া ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা অন্ধকার হতে পারে।

রাশিয়ার প্রভাব

এখন ইউরোপের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ। ট্রাম্প প্রশাসন আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে চুক্তি করতে চায়, যা ইউরোপের জন্য বড় হুমকি তৈরি করতে পারে। ইউরোপীয় নেতারা জানেন, ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তাদের অংশগ্রহণ না থাকলে রাশিয়ার প্রভাব ইউরোপে বাড়বে। এটি তাদের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ ইউক্রেনের স্বাধীনতা যদি রাশিয়ার সঙ্গে কোনো চুক্তিতে শেষ হয়, এতে ইউরোপের ভূরাজনৈতিক অবস্থান চ্যালেঞ্জে পড়বে।

চীন-ভারতের দৌরাত্ম্য

বৈশ্বিক ভারসাম্য এখন ইউরোপের জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে। চীন ও ভারত দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে আসছে, এখন এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি থেকে লাভবান হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। চীন ও ভারত মনে করছে, ইউরোপের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের ভাঙন ঘটলে তাদের শক্তি আরও দৃঢ় হবে। এ কারণে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন নিজেদের শক্তি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করছে, পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত হচ্ছে।

আমেরিকার ভূমিকা কমছে

আমেরিকা ফার্স্ট নীতির কারণে বিশ্বে আমেরিকার নেতৃত্বের ভূমিকা কমছে। শুধু ইউরোপ নয়, আমেরিকা তাদের এই নীতির কারণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সংহতির প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করা হচ্ছে। যেমন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এবং ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেছে আমেরিকা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বের অন্যান্য দেশ বিশেষ করে চীন ও রাশিয়া তাদের অবস্থান শক্তিশালী করছে।

এই নীতির ফলে ইউরোপের বাইরেও ঐতিহ্যবাহী মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছে। ইউরোপ ও অন্যান্য দেশগুলো এখন একা তাদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করছে। কারণ তারা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে, আমেরিকা তাদের পাশে নেই। এর ফলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। আর এ অস্থিরতার কারণে ভবিষ্যতে আমেরিকার জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। এ ছাড়া আমেরিকা ফার্স্ট নীতি বিশ্ব বাণিজ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। এটি আমেরিকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও বাধা সৃষ্টি করতে পারে। কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষতি হলে, আমেরিকার অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, গার্ডিয়ান, সিইপিএ

ট্রাম্পের ফার্স্ট নীতি
পরিবর্তন হচ্ছে বিশ্বব্যবস্থা। ছবি : সংগৃহীত



সিলেটের ডন রঞ্জিত by মিজানুর রহমান

রঞ্জিত চন্দ্র সরকার। রঞ্জিত সরকার নামেই পরিচিত। উইকিপিডিয়ায় তার পরিচিতি আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। সিলেট জেলা বারের ডকুমেন্টে তার স্থায়ী এবং বর্তমান ঠিকানা গোপালটিলা, টিলাগড়, সিলেট। ‘রঞ্জিত’ নামটি সিলেটের আওয়ামী গ্রুপিং রাজনীতিতে নানা কারণে আলোচিত। এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে নববধূকে গণধর্ষণের ন্যক্কারজনক ঘটনা থেকে প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চাঞ্চল্যকর  ‘পাঁঠা’ লুটের কাণ্ডে- রঞ্জিত সরকার নামটি ঘুরে ফিরে এসেছে। সর্বশেষ সিলেট জজ কোর্টের এজলাসে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায়ও ছিল তার নাম। মানুষের কাছে নানা অভিধায় আখ্যায়িত তিনি। কারও কাছে ‘ইসকন রঞ্জিত’, কারও কাছে তিনি আবাদি। জনশ্রুতি আছে, স্থানীয় চেয়ারম্যান পরিবারের অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর দুঃসাহসই তাকে এতদূর নিয়ে এসেছে।

সিলেটের পূর্বাঞ্চলীয় তামাবিল সড়কে এক সময় একক নিয়ন্ত্রণ ছিল রঞ্জিতের গুরু স্থানীয় টুলটিকর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের। তাদের হাত থেকে বাঁচতে মানুষ আশ্রয় নিতো সিলেটে ‘বাংলা ভাই’ কুখ্যাতি পাওয়া সুনামগঞ্জের তাহিরপুর নিবাসী রঞ্জিত সরকারের কাছে। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে রঞ্জিত এবং তার বাহিনী তামাবিল রোডে এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠে যে, গোটা এলাকা জিম্মি হয়ে পড়ে। রঞ্জিত বাহিনী হয়ে উঠে সিলেট শহরের পূর্বাঞ্চলের মূর্তিমান আতঙ্ক।

টিলাগড়ে উত্থান হলেও জাফলং থেকে তাহিরপুরের শিমুলবাগান পর্যন্ত অপরাধের নেটওয়ার্ক ছিল ৭ মাসের এমপি রঞ্জিত সরকার এবং তার বাহিনীর।

৫ই আগস্টের রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের একেবারে শেষ সময় অবধি মাঠে ছিল রঞ্জিত গ্রুপের অস্ত্রধারীরা। হাসিনার পতনের পরপরই অনেকের মতো রঞ্জিত এবং তার প্রধান সহযোগী কমিশনার জাহাঙ্গীরও পালিয়েছে। ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার তাৎক্ষণিক ক্ষোভের থাবা পড়ে জাহাঙ্গীরের বাড়িতে। কিন্তু সিলেটের রাজনীতির বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য স্মরণে তা নিয়ন্ত্রণে আনেন স্থানীয় মুরব্বিরা। একাধিক মুরব্বির ভাষ্য মতে, গত ক’বছরে রঞ্জিত-জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে যত নারীর সম্ভ্রমহানি ঘটেছে, চলার পথে কতো মানুষ বর্বরতার শিকার হয়েছে সেই তুলনায় এই প্রতিক্রিয়া সামান্যই। একজন বাদাম বিক্রেতাও তাদের চাঁদা না দিয়ে হাঁটতে পারেনি তামাবিল সড়কে। ওই সড়কের দুই পাশের জমি- জিরাত বিক্রি, বিল-ঝিল বন্ধক কিংবা ছড়ার বালু উত্তোলন তো বটেই, মানুষ বাজারঘাট করতেও তাদের সালামি দিতে হতো। না হয় ধরে নিয়ে রঞ্জিত-জাহাঙ্গীর বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন টর্চারশেলে চলতো অমানবিক-অকথ্য নির্যাতন। সিলেট তামাবিল সড়কেই ছিল তাদের ৩টি চর্চার সেল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অপারেশন ডেভিল হান্ট শুরু হওয়ার পর অনেকে বলছেন, সিলেটের নাম্বার ওয়ান ডেভিল ছিল এই রঞ্জিত।

রঞ্জিতের উত্থান যেভাবে? হাওর জনপদ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ছেড়ে ভাগ্য বদলে রঞ্জিতের বাবা মনমোহন সরকার সিলেটে আসেন। তার অন্য আত্মীয়রা ততদিনে শিবগঞ্জের খরাদিপাড়ায় থিতু হয়েছেন। টিনশেডের একটি বাড়িতে ঠাঁই হয় তাদের। রঞ্জিতের বড় ভাই তাপস তখনো স্কুলের ছাত্র। রঞ্জিত তো আরও ছোট। সংসার চালাতে মনমোহন সরকার প্রথমে একটি পানের দোকান দেন, পরবর্তীতে তা মুদি-মনিহারিতে রূপ নেয়। লামাপাড়ার প্রবেশমুখে ছিল দোকানটির অবস্থান। দুই ভাই তাপস-রঞ্জিতকে ভর্তি করেন হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে। স্কুল শেষে তাপস-রঞ্জিত দু’জনই বাবার ব্যবসায় সময় দিতেন। সামনে পানের দোকান, পেছনে মুদি মাল- এভাবেই চলছিল। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে রঞ্জিত ভর্তি হন সরকারি কলেজে। যা তখন এমসি ইন্টারমেডিয়েট কলেজ। কলেজে খুব একটা নিয়মিত ছিলেন না তিনি। পাড়ার অন্য ছেলেদের সঙ্গে তার বেশ সখ্যতা হয়। কিশোরদের নিয়ে তিনি একটি গ্রুপ গড়ে তোলেন। সাহসী কিশোর হন সেই গ্রুপের লিডার। তাদের দলবদ্ধ যাতায়াত শুরু হয় সিলেট সদর উপজেলার ৫ নং টুলটিকর ইউনিয়নের প্রভাবশালী চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মানিকের বাসায়। পরিবহন সেক্টর বিশেষ করে তামাবিল স্থলবন্দর অভিমুখী ট্রাক পরিবহন ব্যবসায়ী মানিক স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী। টিলাগড়ে তাদের বসতি। মানিকের সহোদর আজাদুর রহমান আজাদ। ৪ বারের কাউন্সিলর। গ্রুপিং রাজনীতির কারণে পরিচিতির দিক থেকে এখন মানিককে ছাড়িয়ে গেছেন আজাদ। ’৯৬ থেকে ২০০১ আওয়ামী শাসনামল তো বটেই, পরবর্তীতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এমনকি ওয়ান ইলেভেনের সরকারের আমলেও মানিক-আজাদ ব্রাদার্সের কথাই ছিল টিলাগড় অঞ্চলের শেষ কথা। সম-সাময়িক আজাদের সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে চেয়ারম্যান মানিক পরিবারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বেড়ে উঠেন কিশোর গ্যাং লিডার রঞ্জিত সরকার। টুলটিকর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গুরু আজিজুর রহমান মানিকের জন্য কেন্দ্র দখল করতে গিয়ে পাইপগানসহ ধরা পড়ে কিশোর ক্যাডার রঞ্জিত। তখনো ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তার কোনো অবস্থান নেই। দীর্ঘদিন জেল খাটার পর মুক্তি মিলে। ছাত্র জীবনেই রঞ্জিত রপ্ত করেছিলেন সন্ত্রাসের নানা কলা কৌশল। বোমা বানাতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তার একটি চোখ।

ততক্ষণে পড়াশোনা লাটে। রঞ্জিতের ওপর নজর পড়ে জেলার নেতাদের। চেয়ারম্যান পরিবার তো বটেই। ভাইয়ের জন্য জেলে যাওয়ায় চেয়ারম্যান সহোদর আজাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ে। বলতে গেলে তখন তারা মানিকজোড়। এভাবেই চলছিল ২০০৫ সাল পর্যন্ত। তখন বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায়। তাদের মোকাবিলায়  আজাদ-রঞ্জিত এক থালায় খেয়েছেন। এক সঙ্গে হেঁটেছেন। ছাত্ররাজনীতি থেকে মূল দল। অনেক রজনী এক সঙ্গে পার করেছেন তারা। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে স্বার্থের সংঘাত শুরু হলেও গ্রুপ ভাঙ্গেনি। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় লাভ করে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট। মানিক-আজাদ পরিবার নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্রিয়। তার বিশ্বস্ত এবং ওই পরিবার তথা টিলাগড় গ্রুপের স্বার্থ রক্ষাকারী ক্যাডার রঞ্জিত সরকার ভেতরে ভেতরে অনেক দূর এগিয়ে গেছে নিজস্ব বলয় তৈরিতে। ক্ষমতাসীন দল হিসেবে নানা ইস্যুতে বাড়তে থাকে তাদের বিরোধ, যা অভ্যন্তরীণ সংঘাতে রূপ নেয়। মানিক-আজাদ পরিবারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের সুযোগটা কাজে লাগান রঞ্জিত। ওই অঞ্চলের মানুষজন যারা মানিক-আজাদ পরিবারের রোষের শিকার হতেন তাদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেন তিনি। নিজস্ব ক্যাডার বাহিনীর এক্সটেনশন শুরু করেন। শাহপরান অবধি তখনই বিস্তৃতি ঘটেছে সিলেট মহানগরীর। পাশের এলাকার কাউন্সিলর জাহাঙ্গীরকে নিয়ে শক্ত গ্রুপ গড়ে তোলেন অল্পদিনেই। ধীরে ধীরে রঞ্জিত-জাহাঙ্গীরের অপরাধ সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ঘটতে থাকে। তারা কেবল এমসি আর সরকারি কলেজই নয়, একে একে সব প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন। মহানগরীর এক্সটেনশনের সুবাধে পূর্বাঞ্চলে নতুন নতুন আবাসিক এলাকা গড়ে উঠছে। রঞ্জিত বাহিনীর আয়ের প্রথম উৎস ছিল তামাবিল থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক থেকে চাঁদাবাজি। কিন্তু তাতে তাদের হচ্ছিলো না। পূর্বাঞ্চলে গড়ে ওঠা নতুন নতুন আবাসিক এলাকায় যে বা যারা বাইরে থেকে এসে বাড়িঘর করতেন তাতে বালু-পাথর সাপ্লাইয়ের নামে চাঁদাবাজি শুরু করে রঞ্জিত বাহিনী। ধীরে ধীরে তাদের প্রভাব বলয় বাড়তে থাকে। মেজরটিলা, শাহপরান তথা পূর্বাঞ্চলের চারটি উপজেলা কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট এবং জকিগঞ্জের প্রবাসী ও ব্যবসায়ী পরিবারের বাস। দুর্দান্ত প্রতাপশালী মানিক-আজাদ পরিবারের ক্ষমতা তখন ম্রিয়মাণ। তাদের তখন পড়ন্ত বিকেল। সেই সুবাদে রঞ্জিত-জাহাঙ্গীর কেবলই উড়ছেন।
এলএলবি পরীক্ষা, সনদ এবং... রঞ্জিত সরকারের এলএলবি পরীক্ষা এবং সনদ অর্জন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে তার ঘনিষ্ঠ মহলে। তার এলএলবি পরীক্ষার সেন্টার ছিল এমসি কলেজে। পরীক্ষার হলে বই নিয়ে প্রবেশের অপরাধে তার খাতা আটকে রেখেছিলেন এক সময়ের প্রভাবশালী শিক্ষক আব্দুল মান্নান। কালা মান্নান খ্যাত সেই শিক্ষককে দলবল নিয়ে হুমকি দিয়ে খাতা ছিনিয়ে আনেন ক্যাডার রঞ্জিত। পরবর্তীতে তিনি অর্থকড়ি খরচ করে সনদ নেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এলএলবি সনদ পাওয়ার পর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। রেকর্ড বলছে- ২০০৩ সালের মাঝামাঝিতে সিলেট জেলা বারের সদস্য হন রঞ্জিত।
খরাদিপাড়া থেকে গোপালটিলা: টিলাগড় লাগোয়া গোপালটিলা নিয়ে তখন ভাগ-বাটোয়ারা চলছে। নামমাত্র মূল্যে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে টিলার একটি প্লট কিনে নেন রঞ্জিত সরকার। সিলেট জেলা বারের রেকর্ডে থাকা তথ্যমতে ৯২ গোপালটিলা এখন রঞ্জিতের স্থায়ী এবং বর্তমান ঠিকানা। এই গোপাল টিলায় তিনি গড়েছেন আলিশান ৫ তলা বাড়ি।
শেখ হাসিনার শাসন যত পোক্ত হতে থাকে আওয়ামী লীগ নেতা রঞ্জিত সরকারের অপরাধের সাম্রাজ্য ততই বিস্তৃতি ঘটতে থাকে। স্বর্ণ ও গরু চোরাচালানে ধীরে ধীরে যুক্ত হতে থাকে তার সিন্ডিকেট। জাল বিছাতে থাকেন জাফলং, বিছনাকান্দি, সারি নদীতে।  বালু-পাথর লুট করতে থাকেন দেদারছে। নিজস্ব বাহিনীর এক্সটেনশনও হতে থাকে। ২০১৮ সালের রাতের ভোটের নির্বাচনে বিরোধীরা কোণঠাসা হওয়ায় সিলেট-তামাবিল সড়কে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রঞ্জিত গ্রুপ। ততক্ষণে করোনা চলে আসে। বর্ডার বন্ধ হয়ে যায়, চোরাচালান তো বন্ধই, নিয়মিত বাণিজ্যও মুখ থুবড়ে পড়ে। কিন্তু নিউ নরমাল করোনা সিলেট সীমান্তে এক ভয়াবহ রূপ নিয়ে আসে। তখন রোহিঙ্গা ঢলের মতে নামতে থাকে চিনি। ওই রুট দিয়ে যাতায়াতকারী চিনি চোরাচালানে যুক্ত ট্রাকগুলো রঞ্জিত সিন্ডিকেটকে চাঁদা না দিয়ে শাহপরান বাইপাস বা টিলাগড় পার হতে পারতো না। অবশ্য পরবর্তীতে তামাবিল-সিলেট তথা ঢাকা পর্যন্ত রুটে প্রভাবশালী চিনি চোরাচালান বৃহত্তর সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। হরিপুর হচ্ছে সেই চিনি সিন্ডিকেটের হেডকোয়ার্টার। যেখানে বিরোধী বা ভিন্ন মতের প্রভাবশালী নেতা এবং তাদের ক্যাডারদের ভাগও নিশ্চিত করা হয়। ৭০ দশক থেকে হরিপুর বোঙ্গা রাজ্য। তখনকার পণ্য ছিল ভারতীয় পাতার বিড়ি, যা নাসির বিড়ি নামে পরিচিত। সঙ্গে ইন্ডিয়ান শাড়ি ও জুতো, গরু-মহিষ আসতো যৎসামান্য। এটা ছিল ওপেন সিক্রেট। মদ-ফেনসিডিলের চালান আসলেও তা ছিল অত্যন্ত গোপনে। হরিপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বহুবার অভিযান করেছে। কিন্তু সফলতা এসেছে খুব কমই। এক পর্যায়ে রঞ্জিত গ্রুপের মাধ্যমে রুটের প্রতিটি পয়েন্টে চোরাচালান সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়, যার মাধ্যমে প্রশাসনকেও ম্যানেজের চেষ্টা করা হয়। যারা তাদের ভাগ নিতেন না তাদের নানাভাবে ডিস্টার্ব করা হয়। করোনা পরবর্তী সময়ে সিলেট এয়ারপোর্টকে নিজের আধিপত্য বলয়ের ভেতরে নিয়ে আসেন রঞ্জিত। বিশেষত স্বর্ণ চোরাচালান। দেবাশিসকে দিয়ে এয়ারপোর্টে স্বর্ণ চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করতেন রঞ্জিত। বছরখানেক আগে ঢাকায় ৮০ কেজি স্বর্ণ নিয়ে ধরা পড়া আলী নামক স্বর্ণ চোরাকারবারি ওসমানী রুটে দেবাশিসের নাম বলেছিল।
শাহপরান বাইপাসে রঞ্জিতের নামে- বেনামে শত বিঘা জমি দখল: রঞ্জিত বাহিনীর কাছে জিম্মি ছিল সিলেটের গোটা পূর্বাঞ্চল। শাহপরান বাইপাস এলাকায় একটি জমির দখল নিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিলেন তিনি। নাছোড়বান্দা রঞ্জিত পিছপা হননি। তিনি এই জমির দখল নেন নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী দিয়ে। বাইপাস এলাকায় নামমাত্র মূল্যে বিভিন্ন জনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় অর্ধশত বিঘা জমির মালিক রঞ্জিত।
স্মরণ করা যায়, টিলাগড়ে গত ১৫ বছরে ১০-১২টি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সবই হয়েছে আধিপত্য নিয়ে আজাদ-রঞ্জিতের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। ২০১০ সালে উদয় সিংহ হত্যা দিয়ে টিলাগড়ে রক্তের হলি খেলা শুরু। উদয় সিংহ রঞ্জিত গ্রুপের ছিল। পরবর্তীতে রঞ্জিত গ্রুপের আরও ৩ জন নিহত হন। তখনো টিলাগড়ের নিয়ন্ত্রণ আজাদ গ্রুপের হাতে। রঞ্জিত পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। কয়েক মাসের মধ্যে তিনি ওই তিন খুনের বদলা নেন। পাল্টাপাল্টি খুনে রক্তাক্ত জনপদে পরিণত হয় টিলাগড়। প্রকাশ্য অস্ত্রবাজি শুরু হয় টিলাগড়ে। আশপাশের বহু এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্কের জনপদের পরিচিতি পায় এই এলাকা। আর এরপর থেকেই টিলাগড়ের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে যায় রঞ্জিতের হাতে। নিজে হয়ে উঠেন টিলাগড় রাজ্যের গডফাদার। এক সময়ের মিত্র আজাদকে টেক্কা দিতে নিজের ভাগিনা মিঠু তালুকদারকে দাঁড় করান সিটি নির্বাচনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে। পাশের ৩৫ নং ওয়ার্ডে রঞ্জিতের অপরাধের অন্যতম সহযোগী জাহাঙ্গীর, ৩৩ নং ওয়ার্ডে রুহেল আহমদকে দাঁড় করান। জয়ও পান তারা দুজন। অস্ত্রের মুখে ভোটারদের জিম্মি করে জয় ছিনিয়ে নেয় তারা। ২০১৩ সালে ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে আধিপত্য বিস্তার করে অগ্নিসংযোগ করেছিল রঞ্জিতের লোকজন। ওই ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।

২০২৪ সালের নির্বাচনে রঞ্জিতের পৈতৃক নিবাস সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে নৌকার টিকিট বাগিয়ে নেন রঞ্জিত। ডামি প্রার্থীর বিরুদ্ধে ক্যাডার রঞ্জিত সহজে জয় ছিনিয়ে নেন নিজের পেশিশক্তি খাটিয়ে। রঞ্জিতের অপরাধ রাজ্যের বিস্তৃতি ঘটতে থাকে সুনামগঞ্জ অবধি। সুনামগঞ্জের সাংবাদিকদের ভাষ্য মতে রঞ্জিত ৬ মাসে যা করেছেন তার পূর্বসূরি ওই আসনের ১৫ বছরের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন তা করতে পারেননি। একজন সাংবাদিকের ভাষ্য, ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত অভ্যুত্থানে রঞ্জিতদের পতন হয়েছে, অন্যথায় সুনামগঞ্জ-১ আসনটাই বিক্রি করে দিতেন তিনি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এমপি হওয়ার পর রঞ্জিত নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের বাইরে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। এই বাহিনীর মাধ্যমে চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন রঞ্জিত।
সাত মাসের এমপি রঞ্জিত রাজধানীর গুলশান ও উত্তরাতেও দু’টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিক। এ ছাড়া তিনি তার পৈতৃক নিবাস সুনামগঞ্জের তাহিরপুরেও অনেক সম্পদ গড়েছেন। ৫ই আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আগুনে পুড়েছে রঞ্জিতের গোপালটিলার আলিশান বাড়ি।

mzamin

আওয়ামী লীগকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে চায় কিনা: বিবিসিকে ড. ইউনূস

আওয়ামী লীগকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে চায় কিনা, আমি তাদের হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন তিনি। ৬ই মার্চ ‘বাংলাদেশ ইন্টেরিম লিডার সেইজ হি ইজ ড্যাজেল্ড বাই টাস্‌ক অ্যাহেড’ শিরোনামে করা প্রধান উপদেষ্টার ওই সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত বছর ক্ষমতা থেকে উৎখাতের পর যখন  অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্ব নিতে বলা হয়, তখন তিনি বিস্ময় বোধ করেছিলেন বলে মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সরকার পরিচালনার বিষয়ে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। আমি এর আগে কখনো সরকারি প্রশাসন চালাইনি এবং সঠিকভাবে সবকিছু পরিচালনা করতে অনেক কিছু শিখতে হয়েছে। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর আমরা সবকিছু গুছিয়ে নিতে শুরু করলাম। দেশের আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং অর্থনীতি সংশোধন ছিল প্রধান অগ্রাধিকার। এ বছরের শেষে হতে পারে জাতীয় নির্বাচন। তবে সেই নির্বাচনে ভারতে পালিয়ে যাওয়া হাসিনার দল আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতে দেয়া সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, তাদেরকেই (আওয়ামী লীগ) সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা এটা (নির্বাচনে অংশগ্রহণ) করতে চায় কিনা, আমি তাদের হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। নির্বাচনে কারা অংশগ্রহণ করবে তা নির্বাচন কমিশনই নির্ধারণ করে বলে জানিয়েছেন তিনি। ড. ইউনূস বলেছেন, এখানে শান্তি ও শৃঙ্খলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এরপর অর্থনীতি। কেননা, দেশের অর্থনীতি এখন বিধ্বস্ত এবং প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। অবস্থা এমন যেন গত ১৬ বছর ধরে এর ওপর দিয়ে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে। আর আমরা তার ধ্বংসাবশেষ কুড়ানোর চেষ্টা করছি।

২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশকে লৌহহস্তে শাসন করেন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সদস্যরা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমনপীড়ন চালান। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের হত্যা ও কারাগারে আটকের জন্য হাসিনা ব্যাপকভাবে অভিযুক্ত। গত আগস্টে ছাত্রনেতৃত্বাধীন একটি গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে হাসিনার পতন হয়েছে। সে সময় ড. ইউনূস দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন। পরে বিক্ষোভকারী ছাত্রদের অনুরোধে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালন করতে দেশে ফিরে আসেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে নির্বাচন করার কথা জানিয়েছেন ড. ইউনূস। এ বিষয়টি নির্ভর করবে সরকারের সংস্কারের ওপর। কেননা, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। ড. ইউনূস বলেন, আশানুরূপ সংস্কার যদি দ্রুত শেষ হয় তাহলে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করতে পারবো। কিন্তু সংস্কারে যদি বেশি সময় প্রয়োজন হয়, তাহলে নির্বাচন করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। আগস্টে বাংলাদেশে যে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, তা উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলার মধ্যদিয়ে এসেছি আমরা। তখন মানুষকে গুলি করা হয়েছে, তাদের হত্যা করা হয়েছে।  অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেয়ার সাত মাস পার হলেও ঢাকার মানুষ বলছেন, এখনো আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার হয়নি। পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অধিক ভালো একটি আপেক্ষিক ধারণা।

গত বছরের মানদণ্ডে এটা বিচার করলে এ বছর ভালো মনে হতে পারে। এখন যা ঘটছে তা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা কিছু নয়। এমন ভঙ্গুর পরিস্থিতির জন্য পতিত সরকারকে দায়ী করেছেন ড. ইউনূস। তিনি বলেছেন, আমি এসব ঘটনা ঘটার পক্ষে সমর্থন করছি না। আমি বলছি, আপনাকে বিবেচনা করতে হবে আমরা কোনো আদর্শিক দেশ বা শহর নই যেটা আমরা রাতারাতি তৈরি করে ফেলতে পারবো। এই পরিস্থিতি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া, যা বহু বছর ধরে চলছে। শেখ হাসিনার নৃশংস শাসনে পিষ্ট মানুষ এখনো তার ওপর ক্ষুব্ধ। সামপ্রতিক মাসগুলোতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী তার বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমে এসেছেন। ছাত্র-জনতার ওপর মারাত্মক দমন-পীড়ন চালানোয় হাসিনার বিচারের দাবি করেছেন। বাংলাদেশের আদালত হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তবে তাতে এখনো সাড়া দেয়নি ভারত। ড. ইউনূসের নেতৃত্বে শেখ হাসিনার দলের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে বিবিসি। ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের স্থপতি- হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িসহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার বাড়িতে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়।

ইউটিউবে হাসিনা ভাষণ দেয়ার ঘোষণার পর এমন ঘটনা ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে ন্যায্যতা দেয়ার অভিযোগ এনেছে আওয়ামী লীগ। দলটির সদস্যদের দাবি তারা বাংলাদেশে নিরাপদ নয়, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ড. ইউনূস তার সরকারকে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, এখানে আইন আছে, আদালত আছে, থানা আছে, তারা সেখানে যেতে পারেন এবং অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। বিবিসি’র সংবাদদাতার কাছে অভিযোগ করলে হবে না, থানায় গিয়ে অভিযোগ করুন। দেখুন, আইন তার নিজস্ব পথে চলছে কিনা। মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) কার্যক্রম সংকুচিত করার মাধ্যমে বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ কমিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সংস্থাটির সকল কর্মসূচি কার্যকরভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশে এর প্রভাব পড়তে পারে। এ প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেছেন, এটা তাদের সিদ্ধান্ত। তিনি আরও বলেন, এটা সহায়ক হয়েছে। কেননা, তারা যেটা করছে সেটা আমরা করতে চেয়েছিলাম। যেমন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং এমন আরও অনেক কিছু। তবে সেগুলো আমরা তাৎক্ষণিকভাবে করতে পারিনি। বাংলাদেশে সরকারি উন্নয়ন সহায়তা সরবরাহকারী তৃতীয় বৃহত্তম দেশ যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর বাংলাদেশকে ৪৫ কোটি ডলার বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি। এই ঘাটতি কীভাবে পূরণ হবে তা নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে ড. ইউনূস বলেন, যখন এটা হবে তখন আমরা ব্যবস্থা নেব।

mzamin

‘আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ বিরোধে খুন নেজাম-সালেক’

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে সাতকানিয়ায় খুন হন নেজাম ও সালেক। ঘটনার দিন তারা সাতটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে সেখানে গিয়ে ব্যবসায়ীদের অস্ত্র প্রদর্শন করেছিলেন। তারা চাঁদার জন্য নিয়মিত সেখানে যেতেন বলে পুলিশ তথ্য প্রমাণ পেয়েছে। চার থেকে পাঁচদিন আগেও সেখানে গিয়ে এক ইউপি সদস্যের স্ত্রীকে থাপ্পড় মেরেছিলেন। এ কারণে জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

গতকাল দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। পুলিশ সুপার বলেন, সাতকানিয়ায় নিহত ছালেকের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। তার মধ্যে দু’টি হত্যা মামলা। এ ছাড়া চুরি ও বিস্ফোরক আইনেও মামলা আছে। নেজামের বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে। তাদের গতিবিধি যদি আমরা পর্যবেক্ষণ করি গত তিন মাসে ওই এলাকায় তারা বিভিন্ন কাজে গিয়েছেন অন্তত ৮ বার। ঘটনার দিন তারা ৭টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে গিয়েছিলেন। ওখানে যারা দোকানদার ছিল তাদের কাছে অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন। হত্যাকাণ্ডে  আওয়ামী লীগ সমর্থিত মানিক চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, একটা কথা উঠেছে, একটি বিশেষ দলের চেয়ারম্যান সেখানে ছিল কিনা। আসলে সেখানে বিশেষ দলের কোনো ব্যক্তি বা চেয়ারম্যানকে আমরা খুঁজে পাইনি কিংবা তাদের সম্পৃক্ততা কোথাও পাইনি। বরং নিষিদ্ধঘোষিত একটি ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী এবং তাদের আশ্রয়দাতাদের আমরা অবিরত খুঁজে যাচ্ছি। তাদের ধরা আমাদের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, নেজাম ঘটনার দিন অস্ত্র প্রদর্শন করেছিলেন। তিনি খুন হওয়ার পরে যে অস্ত্রটি পেয়েছি। সেটি সিএমপির কোতোয়ালি থানার লুট হয়ে যাওয়া অস্ত্র। গুলি করতে করতে অস্ত্রের গুলি শেষ হয়ে গিয়েছিল। পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র কীভাবে তাদের কাছে গেল বিষয়টি অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। এগুলো আমাদের খুঁজতে হচ্ছে। এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা হয়েছে। এখানে দু’টি গ্রুপ পেয়েছি। একটা হচ্ছে গ্রামবাসী যারা গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে কোনো মামলা হয়নি। যারা মারা গেছে তাদের পক্ষ হতেও কোনো মামলা হয়নি। যেহেতু আমরা পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করেছি, সেহেতু আইন অনুযায়ী আমরা অস্ত্র আইনে মামলা করেছি। তিনি বলেন, প্রশাসন নির্বিকার হয়ে গেছে কোনো অবস্থায় ভাবার সুযোগ নেই। আমরা আমাদের মতো প্রকৃত সত্য ঘটনা উদ্‌?ঘাটনের জন্য যা কিছু দরকার, সবকিছু করবো। সেজন্য একটু সময় নিচ্ছি।

এদিকে পুলিশের এই বক্তব্য ভিত্তিহীন বলে দাবি করে সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি আইয়ুব আলী বলেন, থানায় এ বিষয়ে কথা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, যেহেতু লুট হওয়া অস্ত্র আদৌ আমাদের কর্মীর কাছে ছিল নাকি যারা হত্যা করছে তারা পরিকল্পিতভাবে দিছে। এটা তারা তদন্ত করছে। অস্ত্র কাদের কাছে ছিল এটা নিয়ে তো এখনো তদন্ত চলছে। আমাদের কাছে তথ্য আছে, মানিক নামে একজন ওই দুজনকে ফোন করে বিচারের কথা বলে ডেকে নিয়েছিল। নেজাম বা ছালেকের মোবাইল নম্বর দিয়ে কে ফোন করেছিল তাদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছি প্রশাসনকে। তিনি বলেন, হয়তো বা উনি (পুলিশ সুপার) ভুল বলেছেন। অস্ত্র প্রদর্শন করেছে সেটি উনি দেখেছেন? উনি তো ঘটনাস্থলে ছিলেন না। এই তথ্য পুলিশকে যারা দিয়েছে তারাই নেজাম-ছালেককে হত্যা করেছে। হত্যার সময় হেলমেট পরা লোক ছিল। প্রশাসনকে তাদের প্রথমে খুঁজে বের করতে হবে। আমাদের কর্মীরা সেখানে বিচারের জন্য গেছে, নাকি চাঁদাবাজির জন্য গেছে আর অস্ত্রটা কার? আগে খুঁজতে হবে হেলমেট পরা ওরা কারা। ওদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই তো সব বেরিয়ে আসবে।’

প্রসঙ্গত, সোমবার রাতে উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের ছনখোলা পশ্চিমপাড়া এলাকায় মসজিদের মাইকে ডাকাত এসেছে ঘোষণা দিয়ে দুই ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই দু‘জন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের মধ্যম কাঞ্চনা এলাকার মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন (৪৫) ও একই ইউনিয়নের গুরগুরি এলাকার মোহাম্মদ সালেক (৩৫)। ঘটনায় স্থানীয় এক দোকানিসহ চার ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

mzamin

তৌহিদী জনতার আড়ালে কারা?

পত্রিকা অফিসের সামনে অবস্থান। বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর। সর্বশেষ ছাত্রী হেনস্তায় অভিযুক্ত ঢাবি কর্মচারীকে ছাড়াতে শাহবাগ থানায় রাতভর তুলকালাম কাণ্ড। কারা জড়িত এসব ঘটনায়? কারা কথিত এ তৌহিদী জনতা? সাংবাদিক কদরুদ্দিন শিশির এ নিয়ে একটি অনুসন্ধান করেছেন। যা তিনি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। ছাত্রী হেনস্তা ও থানায় মব করার ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের নেতারাও এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সংগঠনটি মনে করে, একজন হ্যারাসারকে যখন মুসলমানরাই ইসলামের সিম্বল বানিয়ে ফেলে সেটা ইসলামের জন্য অপমানজনক।

ফ্যাক্টচেকার কদরুদ্দিন শিশির এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে সামপ্রতিক অতীতে আরও কয়েকটি ঘটনার ছবি বিশ্লেষণ করে মনে হচ্ছে, শাহবাগের এই ঘটনাটি (তৌহিদী জনতা’র কাণ্ড বলে চালানো) আরও অনেক ঘটনা রেন্ডম ‘ধার্মিক সাধারণ জনতা’ এর তাৎক্ষণিক ক্ষোভ থেকে উৎসারিত স্বতস্ফূর্ত ঘটনা নয়। বরং এগুলো কো-অর্ডিনেটেড ঘটনা। আমি সামপ্রতিক ৩টি ঘটনার কিছু ছবি/ফুটেজ বিশ্লেষণ করেছি। ঘটনা তিনটি হলো, গত নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রথম আলো পত্রিকার সামনে ২ দিনব্যাপী বিক্ষোভ এবং গরু জবাই কর্মসূচি, ডেইলি স্টার পত্রিকার ভবনের গেট বন্ধ করে বিক্ষোভ এবং জুমার নামাজ আদায় কর্মসূচি এবং গতকাল রাতে শাহবাগ থানায় আটক নারী হয়রানিকারী যুবককে ছাড়িয়ে নেয়ার ঘটনা। এই তিনটি ঘটনায় কয়েকশ’ লোককে জড়ো করে সামনের সারিতে থেকে তাদের নেতৃত্ব দেয়া অন্তত ৩ জন লোক সব জায়গায় কমন।
এদের মধ্যে ২ জনের নাম ও পরিচয় জানা গেছে। একজন আবু সাঈদ শের মোহাম্মদ খান, যার ফেসবুক প্রোফাইল (ঝযবৎ গঁযধসসধফ)। শের মোহাম্মদকে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়ার অর্থ সরবরাহকারী সদস্য হিসেবে আটক করে র‌্যাব। অনলাইন শরিয়াহ গ্রাজুয়েশন ইনস্টিটিউট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সে। ৫ই আগস্টের পর আল-ক্বায়দার কালো পতাকার সমর্থনে প্রচারণা চালাতে দেখা যায় তাকে। ২০১৫ সালে হাটহাজারিতে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা হয়। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের সামনে বিক্ষোভে তাকে নেতৃত্ব দিতে একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে। শাহবাগের বুধবার রাতের ঘটনায় তাকে ‘আমীর‘ হিসেবে ঘোষণা করে একটি ভিডিও বক্তব্য দিয়েছেন আতাউর রহমান বিক্রমপুরী, (যার পরিচয় নিচে দেয়া হলো)।
এতে আরও বলা হয়, দ্বিতীয় ব্যক্তিটি হলেন, আতাউর রহমান বিক্রমপুরী। তিনি প্রথম আলোর সামনের বিক্ষোভে এবং সেখান থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া কয়েকজনকে থানা থেকে জোরপূর্বক ছাড়িয়ে নেয়াতে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং শাহবাগ থেকে নারী হয়রানিকারীকে ছাড়িয়ে নিতেও তিনি যশোর থেকে ঢাকায় এসে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিক্রমপুরী তার ওয়াজ, অনলাইন বয়ান ও ফেসবুকে অতি উগ্র কথাবার্তা প্রচারের জন্য পরিচিত। সম্প্রতি তিনি তার এক ফেসবুক পোস্টে বায়তুল মোকাররমের বর্তমান খতীব মাওলানা আব্দুল মালেককে মুনাফেক এবং ‘তাগুতের কুকুর’ বলে অভিহিত করেন। এ ছাড়া তিনি ‘এন্টি শাতিম মুভমেন্ট’ নামে একটি ফেসবুক পেইজ চালান যেখানে গত ২২শে ফেব্রুয়ারি এক পোস্টে ‘শাতিমে রসুল’ হিসেবে কাউকে চিহ্নিত করা গেলে তাকে হত্যার আহ্বান জানানো হয়। গণতন্ত্র চর্চাকারী মুসলিমদেরকে ‘কাফির’ মনে করে তিনি নিয়মিত পোস্ট করেন এবং বয়ান করেন। নাস্তিকদের হত্যা করার জন্যও তিনি উস্কানি দেন। আইএসকে খারেজি মনে করলেও আল-কায়দা ও তালিবানকে হক্বপন্থি দল বলে প্রচারণা চালান। ২০২১ সালে তাকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম সদস্য হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। আতাউর কারাগারে থাকা জঙ্গিদের মুক্তির জন্য কাজ করা বৈষম্যহীন কারামুক্তি আন্দোলনের একজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক এবং ৫ই আগস্টের পর তিনি তার দলবল নিয়ে কাশিমপুর কারাগার থেকে জঙ্গিদের মুক্ত করে আনার জন্য জড়ো হয়ে কর্মকর্তাদের জেরা করেন। তৃতীয় আরেকজন ব্যক্তি উপরের তিনটি ঘটনাই শের মোহাম্মদের পাশে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে কিন্তু তার পরিচয় জানা যায়নি। অর্থাৎ, ‘তৌহিদী জনতা’র স্বতস্ফূর্ত কাণ্ড বলে প্রচার চালানো হলেও দেখা যাচ্ছে এই ঘটনাগুলোতে মানুষ জড়ো করার পেছনে উগ্রপন্থি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয় ব্যক্তিদের কো-অর্ডিনেশনের বিষয়টি স্পষ্ট।
হ্যারাসারকে ইসলামের সিম্বল বানিয়ে ফেলা ইসলামের জন্য অপমানজনক: ঢাবি শিবির
এদিকে হ্যারাসার  মোস্তাফা আমির অর্ণবের পক্ষ নেয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি মহিউদ্দিন খান এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছেন, একজন হ্যারাসারকে যখন মুসলমানরাই ইসলামের সিম্বল বানিয়ে ফেলে সেটা ইসলামের জন্য অপমানজনক। হ্যারাসারকে ফুল দিয়ে বরণ করে, বীর হিসেবে উপস্থাপন করে যারা এমন হ্যারাসমেন্টে উৎসাহ দিলেন, তাদের কাজের খেসারত এই অঞ্চলের মুসলমানদের দিতে হবে সামনে। সংগঠনটির ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি আবু সাদিক কায়েম বলেন, বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, শক্তিশালী ও গঠনমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই আমাদের লক্ষ্য। তবে, এই অগ্রযাত্রায় বার বার বাধা সৃষ্টি করছে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল, যারা হয় অজ্ঞতাবশত, নয়তো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। একজন অপরাধীকে কেন্দ্র করে সফলতার উচ্ছ্বাস দেখানো শুধু গর্হিতই নয়, বরং তা জাতীয় মূল্যবোধের অবমাননা। হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ যে উর্বর ভূমি আমাদের জন্য তৈরি হয়েছে, সেখানে অযৌক্তিকভাবে শাহবাগকে পুনর্বাসন করার মঞ্চ তৈরি করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছাড়া কিছুই নয়।

অন্যদিকে রাতে শাহবাগ থানায় যাওয়ার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এসএম ফরহাদ। তিনি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, শাহবাগ থানার ওসি রাত ১টার দিকে কল দিয়ে জানালেন- “থানার অবস্থা খুব একটা ভালো না, অপরাধীকে ছাড়িয়ে নিতে কিছু মানুষ থানার সামনে অবস্থান নিয়েছে এবং এই পরিস্থিতি বড় কোনো সংকট ও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।” সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ভিক্টিম বোনটির সঙ্গে যোগাযোগ করার নানা চেষ্টা করি। কিন্তু গভীর রাতে সবাই ঘুমিয়ে থাকাটা স্বাভাবিক ছিল, তাই কাউকেই কানেক্ট করতে পারিনি। সাহরীর সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বোনটির সঙ্গে বিস্তারিত কথা হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রমনা জোনের ডিসি মাসুদ ভাই-এর সঙ্গে আলাপ করে একমত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার অংশ হিসেবে থানায় যাই এবং সেখানে অবস্থানরত  ‘তৌহিদী জনতা’র দাবি ও অবস্থান জানার চেষ্টা করি। তাদের দাবি ছিল- ‘অর্র্ণবকে কোর্টে তোলা যাবে না, এখানেই মুক্তি দিতে হবে।’ এইটা শুধু স্বাভাবিক দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; সেখানে অবস্থানরতরা একসঙ্গে হাতে হাত রেখে নিজেরা শপথও করে ফেলছেন- তারা জীবন গেলেও এখান থেকে সরবে না। অবস্থা ক্রিটিক্যাল দেখে তাদেরকে বোঝানোর বহু চেষ্টা করতে যেয়ে উল্টো একাধিকবার বাকবিতণ্ডার শিকারও হই।
পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সহকারী প্রক্টর স্যার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন সমন্বয়কসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের প্রচেষ্টায় ওনাদের কর্মসূচি পরিবর্তনের ব্যাপারে দীর্ঘ সময় নানা অ্যাপ্রোচে রিকোয়েস্ট করা হয় এবং লিগ্যাল প্রসিডিউর মেইনটেইন করার ব্যাপারে ওনারাও কনভিন্সড হয়। আমাদের আশঙ্কা ছিল- এই বিষয়কে কেন্দ্র করে ঠিক যতটুকু অপরাধীর শাস্তি কিংবা ভিক্টিম বোনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাবার কথা,  সেটা না হয়ে বরং বড় কোনো অস্থিরতা বা সংকট তৈরি হতে পারে এবং এই সুযোগে নানা প্রান্তিক রাজনৈতিক গ্রুপ নিজেদের এজেন্ডা নিয়ে অহেতুক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
সবশেষে আমরা পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করে অর্ণবকে নিয়ে গাড়ি কোর্টে নেয়ার নিশ্চয়তা নিয়ে ফিরি। নোকতা-১. অর্ণবের অ্যাপ্রোচ ও শব্দচয়ন হ্যারাসমেন্টের অ্যাপ্রোচ, এইটারে জাস্টিফাই করবার সুযোগ নাই। ২. অর্ণবের হাতে কুরআন দিয়ে বিজয়ী স্লোগান ও আপনার ‘দ্বীনি’ ভূমিকা এই অঞ্চলের মুসলমানদের কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না; বরং বহুগুণ প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

mzamin

সারজিসকে ঘিরে কী ঘটেছিল

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যাওয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত সাড়ে দশটার দিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভাটারা থানায় পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ করেছেন উভয়পক্ষ। এর আগে সারজিস আলম বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যান। ঘণ্টা তিনেক সেখানে অবস্থান করে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিসহ ওই এলাকার আশপাশের বেশক’টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সঙ্গে আড্ডা দেন। আড্ডা শেষে রাত ১০টার পর ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল নিয়ে সারজিস নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় এনএসইউ এর ৮ নম্বর গেটের সামনে পৌঁছালে হঠাৎ একদল লোক সারজিসের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়া শুরু করে। তার সঙ্গে থাকা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিচু মানের দালাল বলে উক্তি করতে থাকেন। এ সময় সারজিসও দাঁড়িয়ে পড়েন। উভয়পক্ষের মধ্যে তখন চিৎকার-চেঁচামেচি ও উত্তেজনা শুরু হয়। সার্জিসের সঙ্গে থাকা শিক্ষার্থীরা দালাল বলা যুবকদের দিকে তেড়ে যান। বলেন- আমাদের ভাইকে অপমান করিস, তোদের এতো বড় সাহস। দু’পক্ষের মধ্যেই শুরু হয় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়। তখন সাদা রঙের পাঞ্জাবি পরা সার্জিস আলম উভয়পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু মুহূর্তেই উত্তেজনা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। সার্জিস আলম অবস্থার বেগতিক দেখে তখন কিছু দূর হেঁটে তার গাড়িতে উঠে চলে যান। তখন তার পেছনেও ধাওয়া শুরু করে কয়েকজন। এই ঘটনার ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ ওই ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন- জাতীয় নাগরিক পার্টি গঠনের পর সার্জিস আলম বসুন্ধরা এলাকায় শোডাউন দিতে এসেছিলেন। তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।   

এরপর বৃহস্পতিবার ভোররাতে সার্জিস আলম তার ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে লিখেন-‘ইফতারের পর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির সহযোদ্ধাদের সঙ্গে চায়ের আড্ডা দিতে এবং তাদের কথা শুনতে যাই।। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তাদের সঙ্গে গল্প-আড্ডা হয়, তাদের কথা শোনা হয়। এনএসইউ, আইইউবি, এআইইউবি, ইউআইইউ এই ৪ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক সহযোদ্ধাদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে এনএসইউ’র সামনে দিয়ে হেঁটে আসছিলাম। আমার সঙ্গে ১৫-২০জন প্রাইভেটের সহযোদ্ধারা ছিল। পরে এনএসইউ’র গেটের সামনে দেখি ১০-১২ জন ঢাবি সিন্ডিকেট নিয়ে স্ল্লোগান দিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্রদলের সেন্ট্রাল নেতা আহমেদ শাকিল ছিল। আমি এগিয়ে যাই তাদের কথা শুনতে। কিন্তু তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আমার সঙ্গে থাকা প্রাইভেটের শিক্ষার্থীদের গালিগালাজ করতে থাকে। ওদের ১০-১২ জনের মধ্যে ১-২জনকে স্টুডেন্ট মনে হলেও বাকিদের দেখে ভাড়া করা টোকাই দুষ্কৃতকারী মনে হচ্ছিলো। বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করাই এদের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে আমি দুইপক্ষকে চলে যেতে বলি এবং চলে আসি। পরবর্তীতে ছাত্রদলের শাকিল তার নেতৃত্বে তার সঙ্গে থাকা টোকাই দুষ্কৃতকারী সন্ত্রাসীদের নিয়ে আগে আমার সঙ্গে থাকা ওই প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ছেলেদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে  হামলা করে এবং সরাসরি মাথায় ও পিঠে আঘাত করে একাধিক জনকে রক্তাক্ত করে। ছাত্রদলের শাকিল সহ বাকি সন্ত্রাসীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। ১৬ বছর ধরে ছাত্রদল টোকাইলীগের দ্বারা নির্যাতিত হওয়ার পর আজকে যদি ছাত্রদলের কেউ একইভাবে টোকাইলীগের সন্ত্রাসীদের মতো আচরণ করে তাহলে তারও পরিণতি টোকাইলীগের মতো হতে খুব বেশিদিন লাগবে না। শিক্ষা নেন, সময় থাকতে নিকট অতীত থেকে শিক্ষা নেন।’
তবে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মো. শাকিল আহমেদ মানবজমিন’কে বলেন, বুধবার রাতে আমি আমার ভাই-ব্রাদারের সঙ্গে আমার ক্যাম্পাসের (সাবেক ছাত্র) সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। তখন আমাদের সামনে দিয়ে সার্জিস আলম তার দলবল নিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এমন সময় আমাদের পাশ থেকে কেউ একজন বলে ওঠে-ওই দেখ ঢাবি সিন্ডিকেট যাচ্ছে। তখন সার্জিস আলম তার দলবল নিয়ে আমাদের দিকে তেড়ে আসে। এমন একটা ভাব মনে হচ্ছিল তারা আমাদের মেরেই ফেলবে। তাদের ওই মারমুখো আচরণের জন্যই দুইপক্ষের মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। এই ঘটনায় আমরা থানায় অভিযোগ করেছি। একই সঙ্গে দলের কাছেও রিপোর্ট জমা করেছি।  

এ বিষয়ে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম মানবজমিনকে  বলেন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সামনের রাস্তার ওই ঘটনায় সার্জিস আলম ও ছাত্রদল নেতা শাকিল আহমেদ দুইপক্ষই আমাদের থানায় লিখিত অভিযোগ (জিডি) করেছেন। সার্জিস আলমের পক্ষে অভিযোগটি করেছেন মাহমুদুল হাসান মঈন নামে এক শিক্ষার্থী। আর তাদের বিপক্ষে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদল নেতা মো. শাকিল আহমেদ। তারা উভয়পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। ওসি বলেন, আমরা উভয়পক্ষের অভিযোগই গ্রহণ করেছি ও আমরা অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করছি। তদন্ত করছি। তদন্তের পর এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

mzamin

রাতে ডাকাতি দিনে ছিনতাই সিলেটে আতঙ্ক by ওয়েছ খছরু

ভয় আর আতঙ্কের মধ্যদিয়ে রমজানের শুরু করেন সিলেটের মানুষ। আগেই এ নিয়ে শঙ্কা ছিল। রমজানে ঘটতে পারে অনেক ঘটনা। এই ঘটনাবলী সবেমাত্র শুরু। এরই মধ্যে পুলিশে কাজ হচ্ছে না। র‌্যাবের ব্যাকআপও কাজে আসছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে যেতে হচ্ছে সেনাবাহিনীকে। দিনে দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। এই অবস্থায় রমজানের প্রথম দিকেই হাঁপিয়ে উঠেছেন মানুষ। কী ঘটছে, কী হচ্ছে- এ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা। প্রায় প্রতি রাতেই সিলেটে ডাকাত আতঙ্ক বিরাজ করছে। হাজার হাজার মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে রাত জেগে পাহারা দেন। কোথাও কোথাও পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। মঙ্গলবার রাত ১টা। গোলাপগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমার মধ্যবর্তী নিমাদল মোকামবাজার। একটি মোটরসাইকেলে তিনজন অপরিচিত ব্যক্তি ঢুকেন ওই এলাকায়। সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে ডাকাত আতঙ্ক। কয়েকটি মসজিদের মাইকে ডাকাত ডাকাত বলে ঘোষণা দেয়া হয়। লাঠিসোটা নিয়ে পার্শ্ববর্তী কয়েক গ্রামের হাজার হাজার মানুষ অবস্থান নেন সড়কে। আক্রমণ করেন ওই তিন ব্যক্তির ওপর। বহনকারী মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দেন। গণপিটুনিতে আহত হন ওই তিন ব্যক্তি। পরে তাদের নিমাদলের একটি বাজারে আটকে রাখা হয়। রাত ২টায় পুলিশের একটি দল যায় তাদের উদ্ধারে। বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের ওপরও হয় চড়াও। হামলা করা হয় পুলিশের গাড়িতে। কয়েকজন পুলিশ জনতার রোষানল থেকে বাঁচতে দূরবর্তী স্থানের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। মানুষ তখন বিক্ষুব্ধ। কেউ কারও কথা শুনছে না। আটক তিন ব্যক্তিকে ডাকাত দাবি করে বারবার ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয় সালিশ ব্যক্তিরা সামাল দিয়েছেন। রাত ৪টার দিকে নিমাদলে যায় সেনাবাহিনীর টিম। সঙ্গে পুলিশও। এ সময় তারা ওখান থেকে গণপিটুুনির স্বীকার তিনজনকে আটক করে নিয়ে আসেন। আটককৃতরা হলেন- সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে জমির উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ উপজেলার বইটিকর এলাকার ফখরুল ইসলাম ও দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারের জয়নাল। গোলাপগঞ্জের ওসি মো. মনিরুজ্জামান মোল্যা জানান, ঘটনাস্থলে যেতে চাইলে হাজারো উত্তেজিত জনতা গাড়ি লক্ষ্য করে টিল ছুঁড়ে মারেন। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আমরা তিনজনকে আটক করে নিয়ে আসি। তিনি বলেন, গণপিটুনিতে তিনজনই জখম হয়েছে। রাতে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে স্থানীয় এক ব্যক্তি বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওইদিন শুধু নিমাদলেই নয়, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সিলেটের বিশ্বনাথ, ওসমানীনগর, দক্ষিণ সুরমায়ও। ওই তিন উপজেলার হাজার হাজার মানুষ সড়কে অবস্থা নিয়ে পাহারা জোরদার করে। বিশ্বনাথ থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী পরিস্থিতিতে বিশ্বনাথ থানার ফেসবুক আইডিতে এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে স্ট্যাটাস দেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন- সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে সিলেট জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাত প্রবেশ করেছে মর্মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও মসজিদে মাইকিং করে লোকজনকে জড়ো করা হচ্ছে। ফলে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে নিরাপত্তাহীনতা বোধ তৈরি হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা না জেনে এভাবে ফেসবুক লাইভ এবং মাইকিং করে অস্থিরতা সৃষ্টি না করার জন্য সম্মানিত নাগরিকদের বিনীত অনুরোধ করা হচ্ছে। গুজব ছড়াবেন না এবং আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না। সন্দেহজনক কোনো ঘটনা দৃষ্টিগোচর হলে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হলো। এদিকে রাতে যখন ডাকাত আতঙ্ক, তখন সিলেটে দিনে ছিনতাই আতঙ্ক বিরাজ করে। সিলেট নগরে ছিনতাই এখন নিত্যদিনের ঘটনা। চিহ্নিত অপরাধীরা ফিরেছে তাদের নিজের আস্তানায়। সাজিয়ে তুলেছেন অপরাধের ধরন। নিজের একান্ত অনুসারীদের দিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ছিনতাই করে বেড়াচ্ছেন। নগরের রিকশাচালক রমিজ আলী। বুধবার মধ্যরাতে জানন, কাজির বাজার ব্রিজ দিয়ে দক্ষিণ সুরমায় যাওয়া যাবে না। ব্রিজের দক্ষিণ অংশে ছিনতাইকারীরা বসে আছে। সবকিছু ছিনিয়ে নেয়। তিনি বলেন, কয়েকদিন ধরে কাজিরবাজার ও কিনব্রিজের উভয় পাশই ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। কিন্তু পুলিশের দেখা মিলে না। এখন মধ্যরাতের পর রিকশাচালকরাও নিরাপদে নগরে চলাচল করতে পারেন না। সিলেট নগরে প্রতিদিনই ছিনতাই হচ্ছে। সশস্ত্র ছিনতাইকারীরা সবকিছু লুটে নিচ্ছে। সাহায্য চেয়েও পুলিশ আসে না। ফলে থানায় অভিযোগও পড়ছে কম। এই অবস্থায়ও পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও কোনো কাজে আসছে না। ছিনতাই বেড়ে চলেছে। ফলে সামনের ঈদবাজার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সিলেট নগরের ছিনতাই বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে হকারকেই দায়ী করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজের নেতারা। বুধবার বিকালে এ নিয়ে তারা নগরের শহীদ মিনারে মানববন্ধন করেছেন। এই মানবন্ধনে তারা অভিযোগ করেন, সিলেট নগরীর ফুটপাথ অবৈধ দখলমুক্ত করে চলাচল উপযোগী করতে হবে। এখানে ঠিকমতো চলাফেরা করা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিলেট শহরে সংঘটিত ছিনতাই ও চুরিতে হকারদের আশ্রয় প্রশ্রয় রয়েছে। তাই নগরীর ফুটপাথ হকারমুক্ত হলে চুরি-ছিনতাই কমে আসবে।
mzamin

পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করে খালি হাতেই ফিরলেন শাহেদা-রাবেয়ারা by ইমরান আলী

বৃহস্পতিবার দুপুর। মিরপুর ২, ষাট ফিট রোড। সড়কের ডিভাইডারে হেলান দিয়ে বসে আছেন এক নারী। চিন্তিত, চোখে-মুখে বিরক্তি। কেন বসে আছেন? উত্তর দিলেন না। দ্বিতীয়বার প্রশ্ন করায় বললেন, কাকে বলবো? বলে কী লাভ?

তবুও বলেন যদি। বললেন, ‘সকাল ৮টায় আসছি। এখন বাজে বেলা ১টা। ট্রাকের খবর নেই। শুনেছিলাম ন্যায্যমূল্যে মাল (পণ্য) দেবে।’ বলেই কেঁদে ফেললেন তিনি।

নাম শাহেদা বেগম। গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল। রাজধানীতেই থাকেন। স্বামী বৃদ্ধ। ঢাকায় বিএডিসিতে দারোয়ানের চাকরি করতেন। ছাঁটাই হয়েছেন বেশ কদিন আগে। মেলেনি কানাকড়িও।

শাহেদা বেগম বললেন, ‘এখন ইনকাম নেই। বৃদ্ধ মানুষ কী করবে। ছেলে নেই। একটা মেয়ে, সাভারে থাকে। তারই টানাটানির সংসার। ঢাকার বাসাও ছেড়ে দিছি। মাসে ছয় হাজার টাকা ভাড়া। মেয়ের বাসায় গিয়ে থাকবো কয়েকদিন। তারপর আল্লাহ যা লিখে রাখছে কপালে। কিছু টাকা কমে বাজার-সদাই করার জন্য প্রায় আসি এখানে। আজ পর্যন্ত একদিনও নিতে পারি নাই। যেদিন ট্রাকের দেখা পাই সেদিন অনেক ভিড় হয়। ধাক্কাধাক্কি করে। ভালো ভালো অনেক মানুষ আসে। তাদের সঙ্গে পারি না শক্তিতে। কাড়াকাড়ি লেগে যায়। তাছাড়া শরমও লাগে। চোখমুখ ঢেকে আসি। কী করবো! দুইটা খাওয়াতো লাগে। বাঁচবো কী করে! এক সপ্তাহ আগে অটোরিকশা থেকে পড়ে গেছি। হাতটা ব্যথায় নাড়াতে পারি না। ডাক্তার দেখাইনি। বুকেও ব্যথা।’

শাহেদা কথা শেষ করে চোখ মুছে বললেন, ‘আমার বাটন মোবাইল। আপনাদের হাতে তো টাচফোন। একটু সার্চ দিয়েন দেখেন না আশপাশে কোথাও ট্রাক আছে কিনা!’

পাশ থেকে মোনোয়ারা নামের আরেক নারী বললেন, ‘চলো বুবু চলে যাই। আজও পাবো না। ভিক্ষা তো আর করতে পারি না। আগারগাঁও গেছিলাম সেদিন। ধাক্কা দিয়ে একজন ফেলে দিছে। অজ্ঞান হওয়ার মতো অবস্থা। হাসিনার (সাবেক পতিত সরকার) সময় কতবার চেষ্টা করছি। একটা কার্ড করতে পারিনাই। দেয়নাই।’

শাহেদা বা মনোয়ারাই নন শুধু। তাদের মতো অন্তত জনা বিশেক নারী বসে আছেন এই সড়কটার দুই ধারে। বেলা তখন ১টা। মাথার উপর উত্তপ্ত সূর্য। তাদেরই একজন রাবেয়া। বললেন, ‘আপনারা কি কেউ জানাইতে পারেন কখন ট্রাক আসবে? রাবেয়ার চার ছেলে-মেয়ের আলাদা সংসার।’ বললেন, ‘তারাই চলতে পারে না। তাগো কাছে যাই কী কইরা। স্বামী আর আমি। যেইখানে দেখি ট্রাকে বিক্রি করে সেখানেই লাইনে দাঁড়াই। কিন্তু নিতে তো পারি না। বেশিক্ষণ দাঁড়াইতেও পারি না। মাথা ঘুরে। লাইন শেষ হওয়ার আগেই চাল ডাল তেল ফুরায় যায়। কতক্ষণ যুদ্ধ করা যায় বাবা! আজ সকাল ৭-৮টায় আইছি। কেউ কইতে পারে না ট্রাক আইবো কি আয়বো না।’

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে রাবেয়া যখন কথা বলছিলেন তখন আরো সাত-আটজন নারী দৌড়ে আসেন। একের পর এক প্রশ্ন। আপনাদের কাছে কী খবর আছে কখন আসবে ট্রাক? কোন জায়গায় দিচ্ছে (পণ্য)? বেলা দেড়টার দিকে তাদের কয়েকজন হতাশ হয়ে চলে যান খালি হাতে।

শাহেদা নামের সেই নারী ফের ফিরে এসে বললেন, ‘আপনারা আমার ছবি ছাইপেন না। আত্মীয়-স্বজনের সামনে সরমে পড়ে যাব। কিন্তু পেট যে চলে না। যা বললাম লেখেন। আমাদের কষ্ট একটু কমে যেন।’

ওদিকে রাবেয়া বিরক্তিমাখা কণ্ঠে বললেন, ‘আমার ছবি দ্যান। দেখুক মাইনষে। কী আর হইবো! পেটে ভাত নাই শরম কইরা লাভ কী!’ অতঃপর খালি হাতেই ফিরে গেলেন শাহেদা, রাবেয়ারা।

mzamin
ন্যায্যমূল্যের পণ্যের অপেক্ষায় দুই নারী। ছবি: মানবজমিন

ন্যায্যমূল্যের পণ্যের অপেক্ষায়

সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে সংলাপ শেষে রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে সাক্ষর করবে: ড. ইউনূস

ছয় কমিশনের সুপারিশ করা সংস্কার প্রস্তাবগুলো নিয়ে সংলাপ শেষে রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদ (জুলাই চার্টার) স্বাক্ষর করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এই সনদের সুপারিশগুলোর কিছু অংশ বাস্তবায়ন করবে এবং বাকিগুলো বাস্তবায়ন করবে পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘রাইট টু ফ্রিডম’- এর প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম বি মাইলাম ও নির্বাহী পরিচালক জন ড্যানিলোউইচ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় চলতি বছরের বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিবৃতিতে জানায়, সাবেক দুই কূটনীতিক উইলিয়াম বি মাইলাম ও জন ড্যানিলোউইচ প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে রাইট টু ফ্রিডমের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। তারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে সহায়তার অংশ হিসেবে তাদের প্রচেষ্টার পরিকল্পনার কথা প্রধান উপদেষ্টার কাছে তুলে ধরেন। প্রধান উপদেষ্টা রাইট টু ফ্রিডমের কাজ এবং বাংলাদেশের মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে এগিয়ে নিতে সহায়তা প্রচেষ্টার জন্য তাদের প্রশংসা করেন। মাইলাম ১৯৯০- এর দশকের গোড়ার দিকে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূত ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান বাংলাদেশে ব্যাপক সংস্কার এবং একটি সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বড় সুযোগ এনে দিয়েছে। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জন ড্যানিলোউইচ। তিনি বলেন, ভুয়া খবর ও ভুল তথ্যের বিপদ মোকাবিলায় বাংলাদেশের ইতিবাচক বয়ান এবং জোরালো প্রচেষ্টা প্রয়োজন। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে ড. ইউনূস কূটনীতিকদের বলেন, ছয়টি কমিশনের সুপারিশকৃত সংস্কারের ওপর সংলাপ শেষে রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদ স্বাক্ষর করবে।

তিনি বলেন, ‘জুলাই চার্টার আমাদের পথ প্রদর্শন করবে। অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই সনদের সুপারিশগুলোর কিছু অংশ বাস্তবায়ন করবে এবং বাকিগুলো বাস্তবায়ন করবে পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের আগে কম সংস্কারে সম্মত হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন হবে। অথবা আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাবেক দুই কূটনীতিকের সাক্ষাতে বর্তমান বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, আগের আমলে চুরি যাওয়া কোটি কোটি ডলার উদ্ধার, সার্ক পুনরুজ্জীবিত করার প্রধান উপদেষ্টার প্রচেষ্টাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।

mzamin

অস্থির পরিস্থিতিতে এ বছর নির্বাচন কঠিন হবে: রয়টার্সকে নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে কাঙ্ক্ষিত একটি নির্বাচন নিয়ে রাজনীতিতে নানা জল্পনা। ঠিক এরই মাঝে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশে অস্থিরতা চলছে। এর মধ্যে এ বছর নির্বাচন কঠিন হতে পারে। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, নির্বাচন হতে পারে এ বছরের শেষের দিকে।

ওদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, তরুণদের নেতৃত্বে নতুন এই দলটি জাতীয় রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এখনও জননিরাপত্তা পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত করতে সক্ষম নয় অন্তর্বর্তী সরকার। এ বছর জাতীয় নির্বাচন কঠিন হতে পারে।

উল্লেখ্য, নাহিদ ইসলামের মতো ছাত্রদের গণ-আন্দোলনে গত বছর আগস্টে ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তারপর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই সরকার এ মাসে বলেছে, অস্থিরতা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও এ বছরের শেষ নাগাদ হতে পারে জাতীয় নির্বাচন। এ বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, গত সাত মাসে আমরা সবাই আশা করেছিলাম যে স্বল্পমেয়াদি সংস্কারের মাধ্যমে পুলিশি ব্যবস্থা, আইন শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করা হবে। এটা কিছুটা ঘটেছে। কিন্তু তা আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী নয়। ঢাকায় এনসিপির ২৬ বছর বয়সী প্রধান নাহিদ ইসলামকে সরকার একটি বাসা বরাদ্দ দিয়েছে। এরপর প্রথম সাক্ষাৎকারে তিনি রয়টার্সকে বলেন, বর্তমান আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশি ব্যবস্থায় আমি মনে করি না যে একটি জাতীয় নির্বাচন করা সম্ভব। তিনি সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা হিসেবে পদত্যাগ করেছেন। এরপর এই প্রথম উল্লেখযোগ্য একজন রাজনীতিক হিসেবে প্রফেসর ইউনূসের নির্বাচনী সময়সীমা নিয়ে প্রথম সংশয় প্রকাশ করলেন। কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ ও তার ঘোর প্রতিপক্ষ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে তরুণদের নতুন দল জাতীয় রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে। অন্য দলগুলো দ্রুত নির্বাচন দাবি করছে। তাদের যুক্তি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকারের হাতে ক্ষমতা ফিরে যাওয়া উচিত।

ওদিকে হাসিনার সরকারের বিভিন্ন প্রতীকের ওপর হামলা, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষসহ অস্থিরতা আছে। বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগ আছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার এসব রিপোর্টকে অতিরঞ্জিত বলে অভিহিত করেছে। এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে গত সপ্তাহে গঠিত হয়েছে এনসিপি। এ দলটি সম্পর্কে নাহিদ ইসলাম বলেন, যখনই নির্বাচন হবে তার জন্য প্রস্তুত থাকবে এনসিপি। তিনি আরো বলেন, নির্বাচন হওয়ার আগে ‘প্রোক্লেমেশন অব দ্য জুলাই রেভ্যুলুশন’-এর বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছা গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই রেভ্যুলুশন হলো একটি সনদ, যা রাজনৈতিক দলগুলো এবং ছাত্র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শের পর তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে বাংলাদেশের জনগণের উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখা যাবে এবং গত বছর সহিংসতায় যে এক হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে তাদের প্রতি সম্মান জানানো হবে।

অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, তারা জুলাই ঘোষণা প্রস্তুত করবে। এরপরই শিক্ষার্থীরা সংবিধান পরিবর্তনের আহ্বান থেকে সরে এসেছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, যদি এক মাসের মধ্যে ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারি তাহলে আমরা অবিলম্বে নির্বাচনের ডাক দিতে পারি। কিন্তু এ জন্য আরও সময় প্রয়োজন। তাই নির্বাচন পিছিয়ে দেয়া উচিত। নাহিদ আরো বলেন, বাংলাদেশের অনেক ধনী ব্যক্তি দলটিতে (এনসিপি) অর্থায়ন করছেন। তিনি আরো বলেন, একটি নতুন অফিসের জন্য শিগগিরই তহবিল সংগ্রহ করা হবে এবং নির্বাচনের জন্য তহবিল সৃষ্টি করা হবে।

mzamin

কর্নাটকে কথিত বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি আটক, বিজেপি-কংগ্রেস বিতর্ক

ভারতের দক্ষিণের রাজ্য কর্নাটকে আটক করা হয়েছে কথিত, অবৈধ শতাধিক বাংলাদেশিকে। এর পাশাপাশি আটক করা হয়েছে ২৫ জন পাকিস্তানিকে। মোট আটকের সংখ্যা ১৩৭। তবে এই সংখ্যা নিয়ে এই রাজ্যে বিরোধী দল বিজেপি এবং ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের মধ্যে বিতর্ক জমে উঠেছে। আটকের সংখ্যা নিয়ে আপত্তি তুলেছে বিজেপি। অন্যদিকে এসব বিদেশি অভিবাসীকে আটকের কৃতিত্ব দাবি করেছে কংগ্রেস। এ খবর দিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে।

বিধানসভায় নিজের জেলা বিজয়পুরায় অবৈধ অভিবাসীদের উপস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কর্নাটকের বিজেপি দলীয় এমএলএ বাসানাগৌড়া পাতিল ইয়াতনাল। কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর বলেছেন, এ পর্যন্ত ১৩৭ জন অবৈধ অভিবাসী আটক করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দূতাবাসকে এ বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। বিদেশীদের রাখার জন্য যে বন্দিশিবির আছে সেখানে ওই সব অভিবাসীকে রাখা হয়েছে। কোথা থেকে কতজন আটক করা হয়েছে তার বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন জি পরমেশ্বর। বেঙ্গালোর থেকে সবচেয়ে বেশি ৮৪ জন, সেখানকার প্রত্যন্ত এলাকায় ২৭ জন, শিভামোগাতে থেকে ১২ জন ও উদুপি থেকে ১০ জন, হাস্সানে থেকে তিনজন ও মাঙ্গালোর থেকে ১ জনকে আটক করা হয়েছে।

পরমেশ্বর বলেন, বিজয়পুরাতে কোনো অবৈধ অভিবাসী ছিলো না।  তিনি আরো বলেন, ২০১৬ তে বিজয়পুরাতে ৩৩ জন জন কথিত অবৈধ বাংলাদেশীকে শনাক্ত করে তাদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদেরকে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করা হয়। সম্প্রতি যাদের আটক করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত অবৈধ অভিবাসীদের বিষয়ে দূতাবাসগুলোকে অবহিত করি । এছাড়া দূতাবাসগুলোকে যাতে এ বিষয়ে অবগত করা হয় এর জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আমরা নিয়মিত যোগযোগ রাখি। প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া যতক্ষণ না সম্পন্ন হয় ততক্ষণ এসব অবৈধ অভিবাসীকে বিদেশীদের জন্য যে আটককেন্দ্র আছে সেখানে রাখা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে কংগ্রেসের এমএলএ রিজওয়ান বলেন, সরকার অবৈধ অভিবাসীদের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে যেসব অভিবাসীকে শনাক্ত করা হয়েছে তারা ‘বিজেপির’ আমলে ভারতে প্রবেশ করেছেন। এদিকে বিজেপি দল ও কর্নাটকের বিধানসভার সদস্য অরবিন্দ বেল্লাদ বলেন, রাজ্যটিতে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা আরো বেশি। আপনি এখানে হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসী দেখতে পাবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

mzamin

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে বলবেন মমতা

যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রিত হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি সামাজিক উন্নয়ন এবং শিশু ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে ভাষণ দেবেন। আগামী ২১ মার্চ দুবাই হয়ে লন্ডনের উদ্দেশে তিনি রওনা দেবেন। আগামী ২৭ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সামনে ভাষণ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।

জানা গেছে, শুধু রাজনীতিবিদ পরিচয়ে তিনি আমন্ত্রিত নন, তিনি যাচ্ছেন লেখিকা পরিচয়েও। মূল আলোচনা ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসবে রাজনীতি থেকে বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিষয়ও।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণের কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও তিনি অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা। তার নেতৃত্বাধীন সরকার প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষ ও নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য বিশেষ বিশেষ সামাজিক কর্মসূচি নিয়েছে। তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নমূলক কাজ করছে। তাছাড়া মমতা একজন লেখকও। তার লেখা বইয়ের সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি।

নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, লন্ডন সফরের সময় তিনি রাজ্যে বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের শিল্পপতিসহ বিভিন্ন শিল্প সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

mzamin

জুলহাসের প্লেন তৈরির স্বপ্নে সহযোগিতা করবে ইউএস-বাংলা

মানিকগঞ্জের তরুণ উদ্ভাবক জুলহাস মোল্লার তৈরি উড়োজাহাজ দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। এবার তার গবেষণা ও উন্নয়নের কাজে সহযোগিতার হাত বাড়াতে এগিয়ে এসেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। জুলহাসকে বিমান তৈরির ব্যয়সহ সব লজিস্টিক ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বেসরকারি এ এয়ারলাইন্সটি।

ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক-জনসংযোগ কামরুল ইসলাম বলেন, জুলহাসের গবেষণাকে এগিয়ে নিতে তার উড়োজাহাজ নির্মাণে প্রয়োজনীয় সব আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে চায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। এছাড়া, গবেষণা বা প্রশিক্ষণের জন্য যদি তার বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রেও ইউএস-বাংলা তাকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে চায়।

বৃহস্পতিবার ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উত্তরা কার্যালয়ে আসেন জুলহাস মোল্লা। এসময় তিনি ইউএস-বাংলার প্রস্তাব শোনেন। ইউএস-বাংলার সঙ্গে কীভাবে এক হয়ে কাজ করতে পারেন সে বিষয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন জুলহাস। এরপর সিদ্ধান্ত জানাবেন। এর আগে, মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জুলহাসের গবেষণাকে উৎসাহিত করতে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।

জুলহাস মোল্লার মূল বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া এলাকায়। নদী ভাঙনের কারণে তার পরিবার বর্তমানে জেলার শিবালয় উপজেলার ষাইটঘর তেওতা এলাকায় বসবাস করছে। তিনি ছয় ভাই ও দুই বোনের মধ্যে পঞ্চম। ২০১৪ সালে তিনি জিয়নপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। আর্থিক সংকটের কারণে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারেননি। বর্তমানে ঢাকায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ করছেন ২৮ বছর বয়সী এই তরুণ।

জুলহাসের বাবা জলিল মোল্লা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই জুলহাস বিভিন্ন প্লাস্টিকের জিনিস কেটে কিছু একটা তৈরি করতে চাইতো। যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হতো, সে বলতো, একদিন তুমি দেখবে কী বানিয়েছি। তিনি আরও বলেন, গত চার বছর ধরে সে বিমান তৈরি করে উড্ডয়নের চেষ্টা করছিল, তবে সফল হতে পারছিল না। কিন্তু এবার তার বিমানটি সফলভাবে উড্ডয়ন করতে সক্ষম হয়েছে। গত ৩ মার্চ যমুনার চরে তার বিমানটি প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতায় উঠেছিল এবং পরদিন সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানটি ওড়ানো হয়। এই তরুণ উদ্ভাবকের সাফল্য অনুপ্রেরণার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। যা ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বাংলাদেশের প্রতিভাবান তরুণদের জন্য একটি নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।

mzamin


জয়শঙ্করের সামনে খালিস্তানপন্থি আন্দোলনকারী, ভারতের নিন্দা

বৃটেনে খালিস্তানপন্থি আন্দোলকারীদের মুখে পড়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। নিরাপত্তা লঙ্ঘন করে ওই আন্দোলনকারীরা জয়শঙ্করের গাড়ির কাছে পৌঁছে যায়। এক্ষেত্রে তার নিরাপত্তা লঙ্ঘিত হয়েছে-  এমন দাবি করে এর কড়া নিন্দা জানিয়েছে ভারত। অনলাইন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, বৃহস্পতিবার ভারত ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, ভারতের তিন রঙা পতাকার মতো দেখতে লম্বা এক টুকরো কাপড় দুই হাতে মেলে ধরে চিৎকার করতে করতে একটি গাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়ান এক ব্যক্তি। ওই গাড়িতে বসা ছিলেন জয়শঙ্কর।  এ সময় পুলিশ ওই ব্যক্তিকে আটকানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তাকে গাড়ির সামনে থেকে সরিয়ে নেয় পুলিশ। ঘটনার সময় খালিস্তাানপন্থি পতাকা হাতে একদল মানুষ চিৎকার করে স্লোগান দেন।

এ ব্যাপারে ভারতের পররাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৃটেন সফরের সময় তার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ভিডিওচিত্রটি তিনি দেখেছেন। তিনি ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী ও চরমপন্থিদের’ এই ছোট দলটির উসকানিমূলক কার্যকলাপের নিন্দা জানান। তিনি আশা করেন, এ ধরনের ঘটনায় বৃটিশ সরকার তাদের কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণরূপে পালন করবে। উল্লেখ্য, এ বছরের জানুয়ারির শুরুর দিকে একদল খালিস্তানপন্থি লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে জড়ো হয়। এর আগে ২০২৩ সালে লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনে হামলা চালায় তারা।

লন্ডনে জয়শঙ্করের ওপরে হামলার চেষ্টার নিন্দায় সরব ভারত

লন্ডনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ওপরে হামলার চেষ্টার নিন্দায় সরব হল ভারত। লন্ডনে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ওপরে হালমার চেষ্টা করেছিল খালিস্তানিরা। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা এই ধরনের ঘটনা দ্বারা গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার অপব্যবহারের নিন্দা জানাই। আমরা আশা করি এ ক্ষেত্রে সেই দেশের সরকার তাদের কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণভাবে পালন করবে। এই ঘটনা নিয়ে ব্রিটিশ সরকারকে বার্তা দিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, আমরা সেই ঘটনার ভিডিও দেখেছি। সেখানে জয়শংকরের নিরাপত্তা বলয় লঙ্ঘন করা হয়েছিল। বিচ্ছিনতাবাদীদের ছোট্ট একটি গোষ্ঠী এবং কট্টরপন্থীদের এই উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আমরা। আমরা আশা করছি, সেই দেশের সরকার তাদের কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করবে।

বৃহস্পতিবার লন্ডনে চ্যাথাম হাউসে থিঙ্ক ট্যাঙ্কের একটি অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেই অনুষ্ঠান শেষে তিনি যখন ফিরছিলেন, তখন গাড়ি থেকে নামার সময় তার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। তাকে হেনস্থা করা হয়।  ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, জয়শঙ্করের গাড়ির দিকে ছুটে যাচ্ছে এক ব্যক্তি। সেখানে ভারতীয় জাতীয় পতাকা ছেঁড়ে সে। সামনেই লন্ডনের পুলিশ আধিকারিক ছিল। তবে সেই হামলাকারী ব্যক্তিকে সরাতে কিছুই করেনি পুলিশকর্মীরা। এদিকে সেই ভিডিওতে আরও দেখা যায়, কয়েকজন খালিস্তান সমর্থক হলুদ পতাকা ধরে আছে এবং বিক্ষোভ দেখাচ্ছে।

বছরের পর বছর ধরে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলিকে খালিস্তানি সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কয়েকবছর ধরে কানাডা এবং ব্রিটেনে এই খালিস্তানিদের তাণ্ডব আরও বেড়েছে। এর আগে লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনে হামলা করা হয়েছিল। কানাডাতেও ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে দেখা গিয়েছে খালিস্তানিদের।

mzamin

এ বার কি দ্বিতীয় সন্তানের পরিকল্পনা করছেন রণবীর -আলিয়া?

রাহাকে বড় করার সঙ্গে সঙ্গে নাকি দ্বিতীয় সন্তানের পরিকল্পনাও করে রেখেছেন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাট ! সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজেই জানিয়েছেন একথা। চোখের নিমেষে বড় হয়ে যাচ্ছে রাহা। আলিয়া ভাট ও রণবীর কাপুরের কন্যাকে একঝলক দেখার জন্য প্রতি মুহূর্তে মুখিয়ে থাকেন সকলে। রণবীর কাপুরের মা নীতু কাপুর রণবীর-আলিয়া কন্যার নাম রেখেছিলেন রাহা। রাহা শব্দের অর্থ আনন্দ ও শান্তি। একরত্তি তাদের সংসারে এই দু’টিই নিয়ে এসেছে বলে এই নাম বেছে নিয়েছেন আলিয়া ও রণবীর।

তবে রাহার পাশাপাশি আলিয়া দ্বিতীয় একটি নামও ভেবে রেখেছিলেন। যদি তাদের দ্বিতীয় সন্তান ছেলে হয়, তা হলে সেই নাম রাখবেন। আলিয়ার মুখে এই কথা শোনার পর থেকেই শুরু চর্চা। তবে কি দ্বিতীয় সন্তানের পরিকল্পনা রয়েছে দম্পতির? আলিয়া বলেছেন, “বাবা-মা হিসেবে আমরা খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলাম। তাই পরিবারিক হোয়াটস্‌অ্যাপ গ্রুপে আগে থেকেই ছেলে ও মেয়ে, উভয় নামই ঠিক করে রাখতে বলেছিলাম। যাতে আমরা আগে থেকে প্রস্তুত থাকতে পারি, তাই সন্তানের জন্মের আগেই নাম ভেবে রাখতে বলেছিলাম। নানা রকমের নাম সকলে ভাগ করে নিয়েছিলেন। তবে আমাদের একটা নাম খুব পছন্দ হয়েছিল। যদিও সেটা ছেলেদের নাম।” রাহা নামের পাশাপাশি ছেলের নামটাও বেশ মনে ধরেছিল আলিয়ার। তবে কোনও ভাবেই সেই নাম তিনি প্রকাশ্যে আনতে চাননি।

আলিয়ার কথায়, ‘আমার শাশুড়ি অর্থাৎ রণবীরের মা পরামর্শ দিয়েছিলেন, যদি কখনও ছেলে হয়, তা হলে এটা খুব ভালো নাম হবে। এমনকী, রাহার সঙ্গে দারুণ মিল ছিল নামের। তবে মেয়েদের নামের মধ্যে রণবীর আর আমি রাহা নামটাকেই বেশি পছন্দ করেছিলাম।’ ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে বিয়ে করেছিলেন আলিয়া ও রণবীর। তার কয়েক মাসের মধ্যে তারা জানান, সংসারে আসছে নতুন সদস্য। সেই বছরেই ৬ নভেম্বর জন্ম নেয় রাহা কাপুর । আলিয়াকে পরবর্তীতে সঞ্জয় লীলা বনশালির  লাভ অ্যান্ড ওয়ার-এ দেখা যাবে রণবীর কাপুর এবং ভিকি কৌশলের সঙ্গে। শিব রাওয়েল পরিচালিত তার আসন্ন সিনেমা আলফা-তে আলিয়াকে দেখতে পাবেন ভক্তরা। আলফা চলতি বছরের ২৫ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে।

সূত্র : হিন্দুস্থান টাইমস

mzamin

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো যুদ্ধ করতে প্রস্তুত চীন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত চীন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপের তীব্র বিরোধিতা জানিয়ে এ কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস। বুধবার মার্কিন কংগ্রেসে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম ভাষণ দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি এপ্রিলের ২ তারিখ থেকে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। যৌথ অধিবেশনে ট্রাম্পের ওই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর চীনা দূতাবাসের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট দেয়া হয়। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধ চায়, তা শুল্ক যুদ্ধ হোক বা বাণিজ্য যুদ্ধ অথবা অন্য যেকোনো ধরনের যুদ্ধ- অমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এতে বলা হয়, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং। তাদের সঙ্গে একই সুর তুলেছে কানাডা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নিশানার আরেক দেশ মেক্সিকোও তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছে। ট্রাম্পের এমন নীতিতে বিশ্ব কার্যত একটি বাণিজ্য যুদ্ধের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে মত বিশ্লেষকদের। কিন্তু এতে ট্রাম্পের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। তার ঘোষণা অনুযায়ী, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে মেক্সিকো ও কানাডার ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে চীনের ওপর আরোপ করা হয়েছে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক।

এর প্রতিক্রিয়া হিসাবে চীন মার্কিন কৃষি খাদ্যপণ্যে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। যা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কার্যকর হবে। তবে এই সমস্যা সমাধানে অবিলম্বে ওয়াশিংটনকে বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। এদিকে কানাডা জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে। ওয়াশিংটনের শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় সময় সোমবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ নেই। এটি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে বিঘ্ন ঘটাবে। 

mzamin

মিয়ানমারে পরমাণুকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিলেন পুতিন!

সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৪৮ সালে বৃটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা পেয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে। রাশিয়া ও মিয়ানমার দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে একটি ছোট পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে কথা বলে আসছে, যেখানে একটি আরআরইটিএম-২০০ প্রেসারাইজড ওয়াটার রিঅ্যাক্টর থাকবে।

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং রাশিয়া সফরে গিয়ে মঙ্গলবার রাতে ক্রেমলিনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। পুতিনের জন্য উপহার হিসেবে ছ’টি হাতি নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি! জান্তা সরকারের এই উদ্যোগকে ‘হাতি কূটনীতি’ বলে চিহ্নিত করেছে পশ্চিম দুনিয়া। ওই বৈঠকেই মিয়ানমারে ছোট মাপের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য দুই দেশের প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে। তাদের আলোচনার পরে, উভয় নেতাই গণমাধ্যমে যৌথ বিবৃতি দেন। সেই সময় রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট এই তথ্য সামনে আনেন। রাশিয়া মিয়ানমারকে সমর্থন করে আসছে, বিশেষ করে শিল্প ও অর্থনৈতিক খাতে এবং মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির উন্নতিতেও সমর্থন জানিয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। গত বছর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। উভয় দেশই পারস্পরিক বাণিজ্যকে আরও জোরদার করতে প্রস্তুত এবং ঋণ ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া। এমনটাই গণমাধ্যকে জানিয়েছেন পুতিন। গত দেড় বছরের গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহী জোটের হাতে দেশের অর্ধেকের বেশি অংশ হারিয়েছে জান্তা। কিন্তু জানুয়ারিতে বিদ্রোহী জোট ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়্যান্স’-এর দ্বিতীয় বৃহত্তম সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি’ (এমএনডিএএ) চীনের মধ্যস্থতার শান্তিচুক্তি করায় হ্লাইং সরকার কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে।

মিয়ানমার প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, ‘আমাদের আন্তঃসরকারি সহযোগিতা কমিশন সক্রিয়ভাবে একসঙ্গে কাজ করছে। সম্প্রতি, নেপিটাওতে একটি বাণিজ্য কমিশনের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আমরা জ্বালানি খাতে সহযোগিতা করছি এবং কৌশলগত সহযোগিতার পরিকল্পনা করছি। আমরা অন্যান্য ক্ষেত্রেও আমাদের সহযোগিতা প্রসারিত করতে প্রস্তুত বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পদের অগ্রগতিতে এবং মিয়ানমারে একটি ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সম্মত হয়েছি। এটি মিয়ানমারের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। মিয়ানমারে নির্মাণ সংক্রান্ত বেশ কিছু চুক্তি হয়েছে, যা দেশে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াবে। আমরা শিল্প ও উচ্চ প্রযুক্তি খাতে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি।’

উপরন্তু, রাশিয়ার সহায়তায় মিয়ানমারে স্যাটেলাইট তথ্যের জন্য একটি ডেটা বিশ্লেষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। উভয় দেশ সাংস্কৃতিক ও মানবিক ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করার অঙ্গীকার করেছে। মিয়ানমারে একটি রাশিয়ান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং ইয়াঙ্গুনে প্রথম রাশিয়ান অর্থোডক্স খ্রিস্টান গির্জা নির্মিত হবে। একইভাবে, রাশিয়ায় মিয়ানমারের সংস্কৃতি ও বৌদ্ধ ধর্মের দু’টি কেন্দ্র রয়েছে, যেমনটি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেছেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেছেন যে, বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে রাশিয়া ও মিয়ানমার একই অবস্থানে রয়েছে। তারা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে একসঙ্গে কাজ করছে এবং নিরাপত্তা খাতে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে। এসএসি চেয়ারম্যানের এই বছরের সফরে দুই সরকারের মধ্যে দশটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক বিনিময় হয়েছে।

নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিপ্লোমা এবং একাডেমিক ডিগ্রির স্বীকৃতি সংক্রান্ত একটি আন্তঃসরকারি চুক্তি, সেইসঙ্গে মিয়ানমারে একটি ছোট-ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মৌলিক নীতিগুলোর ওপর একটি স্মারকলিপি। পারমাণবিক এবং বিকিরণ সুরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতার একটি স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছিল। দুই দেশ শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ক্রীড়া ও মহাকাশের দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক সম্পর্কেও একটি চুক্তি করেছে। সূত্র: এশিয়া নিউজ

প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে আর্জি তাহা‌উর রানার: 'আমি পাকিস্তানি এবং মুসলিম তাই ভারতে আমাকে নির্যাতন করা হবে'

২০০৮ সালের মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলার অন্যতম অভিযুক্ত, তাহা‌উর রানা ভারতে তার প্রত্যর্পণের উপর জরুরী স্থগিতাদেশ চেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন।রানা তার আবেদনে যুক্তি দিয়েছিলেন যে  ভারতে বিচার প্রক্রিয়া চললে তিনি হয়তো বেশি দিন বেঁচে থাকতে পারবেন না।রানা, একটি আপিলের মাধ্যমে, জানিয়েছেন  যে "যদি স্থগিতাদেশ না দেওয়া হয়, তবে তাঁর মামলাটি নিয়ে কোনও পর্যালোচনা হবে না।   মার্কিন আদালতও এখতিয়ার হারাবে এবং আবেদনকারী শীঘ্রই মারা যাবে।"২৬/১১সন্ত্রাসী হামলার অভিযুক্ত  দাবি করেছেন  যে যদি তাকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়, তাহলে তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হবে কারণ তিনি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত একজন মুসলিম।২০০৮ সালে মুম্বইয়ে জঙ্গি হামলায় তাঁর যোগ পেয়েছিলেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। এর পর থেকেই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কানাডার ব্যবসায়ী রানাকে ভারতে নিয়ে আসার চেষ্টা শুরু হয়। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তাঁকে নিয়ে আসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নয়াদিল্লি। প্রথমে আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তা বিলম্বিত হচ্ছিল। প্রথমে নিম্ন আদালতে, তার পরে ওয়াশিংটনের প্রাদেশিক আদালতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে আবেদন করেন রানা। কোথাও সুরাহা হয়নি। সান ফ্রান্সিসকোর আপিল আদালতেও প্রত্যর্পণের পক্ষেই রায় গিয়েছিল।সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর রানাকে দ্রুত ভারতে এনে বিচারের মুখোমুখি করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে তিনি পুরো প্রক্রিয়াটিকে শ্লথ করে দিতে পারেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রানা তার আবেদনে  হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ২০২৩ ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের উদ্ধৃতি তুলে ধরেছেন।  যেখানে ভারতে  বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকারের পদ্ধতিগত বৈষম্য এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে মুসলমানদের প্রতি অপব্যবহারের কথা  নথিভুক্ত করা হয়েছে ।রানা আরও যুক্তি দিয়েছেন যে ভারতে সরকার ক্রমবর্ধমানভাবে  স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছে এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করলে তিনি নির্যাতনের শিকার হবেন বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।এসবের পাশাপাশি রানা তার অবনতিশীল স্বাস্থ্যের কথা তুলে ধরেন। বলেন, তিনি পেটের অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজম,  পারকিনসন্স রোগ এবং মূত্রাশয়ের  ক্যান্সারে ভুগছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি তাহাউর রানার করা রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দিয়েছে। তাহাওউর রানা পাকিস্তানি-আমেরিকান সন্ত্রাসী ডেভিড কোলম্যান হেডলির একজন পরিচিত সহযোগী। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বই হামলার অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন হেডলি।একজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী, চিকিত্সক এবং অভিবাসন উদ্যোক্তা, রানা লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি) এবং পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)-এর সাথে সংযোগের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় সহায়তা করার জন্য রানার কথিত ভূমিকা বহু বছর ধরে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিতর্কের একটি কেন্দ্র বিন্দু হিসেবে রয়ে গেছে।

সূত্র :  ট্রিবিউন ইন্ডিয়া