Thursday, June 15, 2017

লন্ডনের আগুন ভাঙল তানিমার বিয়ের স্বপ্ন

"চাচাতো বোনের ফোন পেয়ে তখন সবেমাত্র ওই টাওয়ার ভবনের নিচে গাড়ি নিয়ে পৌঁছেছি। কয়েক মিনিট বাদেই দেখি আঠারো তলার ফ্ল্যাটের জানালা খুলে চাচা পরিত্রাহি চিৎকার করছেন আমাদের বাঁচাও, আমাদের বাঁচাও। আগুন আমাদের ফ্ল্যাটের ভেতর ঢুকে পড়ছে!"
"তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার চাচাতো বোন তানিমার ফোন এল, ওই শেষবারের মতো। বলল, আগুন পুরো ফ্ল্যাট ছেয়ে ফেলেছে - বাথরুমটা শুধু এখনও বাকি। আমরা সবাই মরে যাচ্ছি, শুধু দোয়া করবেন যেন বেশি কষ্ট না-পেয়ে মরি!
"ব্যাস - আর কোনও কথা বলতে পারিনি। আমার দুচোখ পানিতে ভিজে এল। তারপর যতবারই তানিমার নম্বর মিলিয়েছি, সেই কল শুধু বারবার ভয়েস মেলেই গেছে।"
লন্ডনের লাটিমার রোডের কাছে গ্রেনফেল টাওয়ারের ভয়াবহ আগুনে স্বজনদের হারানো কেনসিংটনের আবদুর রহিম এভাবেই বিবিসির মানসী বড়ুয়ার কাছে বর্ণনা করছিলেন কীভাবে ভয়াবহ আগুন গ্রাস করে নিয়েছে তার চাচা কমরু মিঞার পরিবারকে।
ওই বহুতলের আঠারো তলার একটি ফ্ল্যাটে দশ-বারোমাস আগে সাময়িকভাবে এডমন্টন থেকে সরিয়ে আনা হয়েছিল বাংলাদেশি ওই পরিবারটিকে।
নব্বই-ঊর্ধ্ব কমরু মিঞার অত ওপরে চলাফেরায় কষ্ট হত, তিনি আর্জিও জানিয়েছিলেন নিচের তলার কোনও ফ্ল্যাটে তাদের সরিয়ে নিতে।
তার ভাতিজা আবদুর রহিমের ভাষ্য অনুযায়ী, তার আবেদনে 'দেখছি, দেখছি' বললেও কর্তৃপক্ষ শেষমেশ কিছুই করেনি।
হয়তো নিচের কোনো ফ্ল্যাটে থাকলে তারা বেঁচেও যেতে পারতেন, এই ভাবনাটাই এখন কুরে কুরে খাচ্ছে আবদুর রহিমকে। তবে তাঁকে সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণা দিচ্ছে চাচাতো বোনটার বিয়ের স্বপ্ন চুরমার হয়ে যাওয়াটা।
"জুলাইয়ের ২৯ তারিখ তানিমার বিয়ের সব ঠিকঠাক হয়ে গিয়েছিল। ওর ভাল নাম হুসনা বেগম, তবে আমরা আদর করে সবাই তানিমা বলেই ডাকতাম। পড়াশুনো করত, সঙ্গে একটা মোবাইল ফোন কোম্পানিতে পার্টটাইম কাজও করত বাইশ বছরের মেয়েটা।"
"বিয়ের জন্য হল-টলও সব বুক করা হয়ে গিয়েছিল। পাত্র ছিল লেস্টারের - খুব ভাল ছেলে পেয়েছিলাম আমরা। বিয়ে নিয়ে গত কয়েক দিন তানিমার সঙ্গে আমাদের কত ঠাট্টা মশকরাও হয়েছে।"
"আগুন লাগার খবর পেয়ে সেই ছেলেও মাত্র দেড় ঘন্টার মধ্যে লেস্টার থেকে ড্রাইভ করে চলে এসেছিল লন্ডনে। বুধবার সারাদিন ধরে আমরা এই হাসপাতাল, ওই হাসপাতাল খুঁজে বেরিয়েছি যদি তানিমাদের কোনও খবর মেলে। ছেলেটাও ভীষণ ভেঙে পড়েছে, জানেন!"
এত সুন্দর একটা সম্পর্ক তৈরি হওয়ার আগেই এমন করুণ পরিণতির মধ্যে দিয়ে শেষ হয়ে গেল - এটা ভেবেই দীর্ঘশ্বাস ফেলেন কেনসিংটনের বাসিন্দা আবদুর রহিম। আবারও চোখ ভিজে আসে তার, গলা ভারি হয়ে আসে।
বুধবার মধ্যরাতের পর ঠিক রাত ১টা ৩৭ মিনিটে চাচাতো বোন তানিমার ফোনেই ধড়ফড় করে ঘুম থেকে ওঠেন তিনি।
"আমাদের বিল্ডিংয়ে আগুন লেগেছে। আমরা বেরোতে পারছি না, কোন রাস্তায় যাব বুঝতে পারছি না। আপনে জলদি আসেন", মেয়েটা ভয়ার্ত গলায় বলেছিল তাকে।
"আমি যখন গ্রেনফেল টাওয়ারের দিকে ড্রাইভ করছি, তখনও ব্লু-টুথ দিয়ে ফোনে ওকে বলছিলাম সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামো তোমরা। তানিমা খালি তখন বলল ধোঁয়ায় সব অন্ধকার - কিছুই ওরা দেখতে পাচ্ছে না!"
আবদুর রহিম ঊর্ধ্বশ্বাসে গাড়ি চালিয়ে সেখানে গিয়েও চাচার পরিবারকে বাঁচানোর জন্য শেষ পর্যন্ত কিছুই করতে পারেননি। অসহায়ভাবে তাঁকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে হয়েছে আগুন কীভাবে গ্রাস করে নিয়েছে ওই মানুষগুলোকে।
রাগে-দু:খে তার মনে হচ্ছে, দমকল বিভাগও হয়তো টাওয়ারের ওপরতলার বাসিন্দাদের বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট তৎপরতা দেখায়নি।
"হেলিকপ্টার থেকে ওরা ভিডিও তুলতে পারল, আর উপরের তলাগুলোয় পানি ছুঁড়তে পারল না? আসলে আমার ধারণা ওই টাওয়ারের ৮৫ শতাংশ বাসিন্দাই মুসলিম, তাই উদ্ধার অভিযানেও বর্ণবাদ করা হয়েছে!" - শোকে আর ক্ষোভে বিবিসিকে না-বলে পারেন না তিনি।
আর এই প্রবল শোকের মধ্যেও আবদুর রহিমের চোখে বারবার ভেসে উঠছে আদরের বোন তানিমার মুখটা - মাত্র দেড় মাস বাদেই যাকে কনের সাজে দেখার জন্য তারা সবাই অপেক্ষা করে ছিলেন।
সূত্র : বিবিসি

গাড়ির ভেতরে আটকে মরল যমজ বোন

একসঙ্গে পৃথিবীতে এসেছিল তারা। নিয়তি তাদের একসঙ্গেই পৃথিবী থেকে নিয়ে গেল। গতকাল বুধবার ভারতের গুরগাওয়ের জামালপুরে বদ্ধ গাড়ির মধ্যে আটকা পড়ে মারা যায় পাঁচ বছরের যমজ দুই বোন হারসা ও হারিসীতা। এনডিটিভির খবরে এ তথ্য জানানো হয়।
বাবা–মায়ের সঙ্গে ভারতের মিরাটে থাকত হারসা ও হারিসীতা। তাদের বাবা একজন সেনা কর্মকর্তা। গ্রীষ্মের ছুটিতে জামালপুরের পাতৌদি এলাকায় দাদার বাড়িতে বেড়াতে যায় তারা। সেখানে খেলতে গিয়ে পুরোনো একটি গাড়ির মধ্যে আটকা পড়ে দুই বোন। ধারণা করা হচ্ছে, আটকে পড়ার দুই ঘণ্টা পর গরমে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যায় তারা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, হারসা ও হারিসীতা দাদার পুরোনো মডেলের একটি হুন্দাই গাড়ি রয়েছে। গাড়িটির দরজার লক নষ্ট ছিল, জানালাও আটকে যেত প্রায়। তবে গাড়িটি শিশু দুটির খুব প্রিয় ছিল। প্রায় সময়ই ওই গাড়িতে খেলতে যেত তারা।
গতকাল বিকেল চারটার দিকে বাড়ির লোকেরা যখন শিশু দুটি আশপাশে কোথাও নেই টের পেলেন, তখন প্রথমেই তাঁরা ছুটে যান গাড়ির কাছে। গাড়িটি বাড়ির সামনে পার্ক করে রাখা ছিল। ভেতরে তাঁরা অচেতন অবস্থায় দুই বোনকে পড়ে থাকতে দেখেন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
গাড়িটির লক দেখে বোঝা যায় শিশু দুটি গাড়ি থেকে বের হতে লকটি খোলার চেষ্টা চালিয়েছিল।
শিশুদের বাবা বলেন, গতকালই তার মেয়েদের মিরাটে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের স্কুল খুলবে। স্কুলে তারা খুবই বুদ্ধিমান ও চৌকস হিসেবে জনপ্রিয় ছিল।
এর আগে ২০১৫ সালেও গুরগাঁওয়ে গাড়ির ভেতর আটকা পড়ে মারা যায় দুই বোন। সম্প্রতি দিল্লিতে বাড়ির গ্যারেজে পার্ক করা গাড়ির ভেতর আটকে পড়ে মৃত্যু হয় ছয় বছরের এক শিশুর।

কোন মডেলের নির্বাচনের পথে হুদা কমিশন?

এ এক বিরাট রহস্য। বাংলাদেশের ইতিহাসে অতীতে এমন ঘটনা আর ঘটেনি। ভোটের দেড় বছর আগেই শুরু হয়ে গেছে ছায়া প্রচারণা। ভোট বাতচিত চলছে রাজনীতিতে। উঠছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। তৎপর বিদেশি অতিথিরাও। সরব নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। সেখানে হাজির হচ্ছেন বিদেশি কূটনীতিকরা। বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষার কথা ব্যক্ত করেছেন তারা।
হরেক কিসিমের নির্বাচন দেখেছেন বাংলাদেশের মানুষ। অপেক্ষাকৃত ভালো ভোট যেমন হয়েছে, তেমনি গায়েবি ভোটও কম হয়নি। গণতন্ত্রের সংজ্ঞাও এখানে বদলেছে ক্ষণে ক্ষণে। সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের অতীতের দুটি নির্বাচন বিশেষ আলোচনায় এসেছে। ১৯৯৬  সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি এবং ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়। এমন নির্বাচন যেন আর না হয় এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সর্বশেষ রোববার নির্বাচন কমিশনার মাহাবুব তালুকদার বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আত্মমর্যাদার প্রতীক। প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করে আত্মমর্যাদা বিসর্জন দেয়ার অবকাশ নেই। লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত আগামী নির্বাচন কেমন মডেলে হবে। ওই নির্বাচন কি অংশগ্রহণমূলক হবে? নির্বাচনে কি জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন? তাদের দেয়া ভোট কি গণনা হবে। সাম্প্রতিক কালে দেখা গেছে, বাংলাদেশের জনগণের ভোটের প্রতি আগ্রহ অনেকটা কমে গেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মূলত ভোটে ভোটারদের মতামতের প্রতিফলন না হওয়াতেই তারা এ ব্যাপারে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে পুরোদমে ভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। রোববারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জনগণ উন্নয়নের সুফল ধরে রাখতে নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করবে।’ আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ দলীয় অনেক বর্তমান এমপিই টেনশনে রয়েছেন। তাদের ব্যাপারে একাধিক জরিপ পরিচালিত হয়েছে। তবে গত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের অনেকেই এবার বাদ পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিএনপি নির্বাচনে আসলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এমনটা ধরেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।
বিএনপির ভেতরেও কিছুটা নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে ভোট নিয়ে দলটির মধ্যে এখনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রয়েছে। রোববারও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছেন, সরকার বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে চায়। যদিও এ ধরনের নির্বাচন আর হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। বিএনপিতে নির্বাচনের ইশতেহার তৈরির কার্যক্রম চলছে। প্রার্থী নিয়ে অবশ্য দলটিতে এখনো তেমন কোনো কাজ শুরু হয়নি। আগামী নির্বাচনে জামায়াত ও হেফাজতের অবস্থান কেমন হবে তাও হবে দেখার বিষয়।
বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন হচ্ছে, কেমন হবে আগামী নির্বাচন। একতরফা? অংশগ্রহণমূলক? প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই যে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা হলফ করেই বলা যায়। বিএনপি এরইমধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে সরে এসেছে। দলটি এখন নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের কথা বলছে। তবে সে সরকারের রূপরেখা কেমন হবে সে ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা এখনো পাওয়া যায়নি। ঈদের পর বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সহায়ক সরকারের রূপরেখা উপস্থাপন করতে পারেন। তবে সে দাবি পূরণের সম্ভাবনা ক্ষীণ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে পূর্ণমাত্রায় বহাল রেখে বিএনপি কি নির্বাচনে অংশ নেবে। দলটি কি নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে। বেগম খালেদা জিয়ার মামলার ভবিষ্যৎ ভাগ্য এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। খালেদা জিয়ার দুটি মামলা দীর্ঘদিন ধরেই চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মামলা দুটি ঘুরছে। কখন রায় হয় আর কী রায় হয় সেদিকেই দৃষ্টি আপাত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। শুধু খালেদা জিয়া নয়, বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতার এসব মামলার বেশিরভাগেরই রায় ঘোষণা হয়নি। এসব মামলায় রাজনীতির ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে। বিএনপির পক্ষ থেকে এরইমধ্যে মামলা প্রত্যাহারের দাবি উঠেছে। কিন্তু সরকারি দলের এক শীর্ষ নেতা অবশ্য সাফ বলেছেন, মামলার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। নানা থিওরি আলোচিত। বলা হচ্ছে, আগামী নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। আবার নির্বাচনে বিএনপি কোনরূপে অংশ নেয় বা নেয়ার সুযোগ পায় তাও আলোচনায় রয়েছে। মামলার কারণে বিএনপির সব নেতারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন কি-না তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। আগামী নির্বাচনে জামায়াতের প্রকাশ্যে অংশগ্রহণ থাকবে না। দলটির কোনো কোনো নেতা হয়তো স্বতন্ত্র কৌশলে নির্বাচনে অংশ নেবেন। হেফাজতে ইসলাম কোন পক্ষে থাকবে? সংগঠনটি যেন সরাসরি সরকার বিরোধিতায় না যায় তা নিশ্চিত করতে নানা কার্যক্রম চলছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশি অতিথিরা সবসময়ই তৎপর। তবে গত কয়েক বছরে তাদের তৎপরতা অনেকটাই কমে এসেছে। পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে কূটনীতিকরা আগের মতো গুরুত্বও পাচ্ছেন না। তবে আগামী নির্বাচন নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি দূতেরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পর বৃটিশ হাইকমিশনারও বৈঠক করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কোন জুতায় পা ঢুকাবেন সিইসি কেএম নূরুল হুদা। তিনি কি ১৫ই ফেব্রুয়ারির গায়েবি ভোটের দিকে হাঁটবেন? নাকি ১২ই জুনের অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুসরণ করবেন। পর্যবেক্ষকরা অবশ্য বলছেন, নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে সব করা সম্ভব নয়। কিন্তু তাদের প্রচেষ্টা থাকে কোনদিকে তাও হবে দেখার। কোন মডেলের নির্বাচন আয়োজন করেন কেএম নূরুল হুদা তা দেখতে অপেক্ষায় থাকতে হবে। তবে রাজনীতিতে ভারসাম্য না আসলে তার হয়তো খুব বেশি কিছু করার থাকবে না।

বিচার হয় না পাহাড়খেকোদের by মহিউদ্দীন জুয়েল

প্রতিটি প্রতিবেদনেই ঘুরেফিরে এসেছে প্রভাবশালী মহলের নাম। তুলে ধরা হয়েছে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় পাহাড়খেকোদের সিন্ডিকেটের কথা। কখনও পাহাড় দখলের মহোৎসবের চিত্র কিংবা পাহাড়ের পাদদেশে লোকজনকে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে ঘর ভাড়া দেয়ার রমরমা বাণিজ্যকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আবার অনেক তদন্ত কমিটির সদস্য সরাসরি বলেছেন, রাতের আঁধারে গাছ কেটে নেয়ার কারণে মাটির উর্বরতা কমে যাওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই খসে পড়ছে বিশাল মাটির টুকরো। বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য আর মাটি কেটে নেয়ার কারণে এক দশকে আরো ১০/১২টি পাহাড় যেকোনো সময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। 
চট্টগ্রামে গত ১৫ বছরে ঘটে যাওয়া একাধিক পাহাড় ধসে লোকজনের প্রাণহানির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনগুলো কখনই আলোর মুখ দেখেনি। অথচ সবক’টি প্রতিবেদনেই সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকজন কাজ করেছেন। তারা গড়ে ২০/৩৬টি করে সুপারিশও করেছেন।
তাদের দেয়া সেই সব সুপারিশের প্রতিবেদনগুলোর বেশির ভাগই এখন ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার কিংবা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ের স্টোররুমে। কোনো প্রতিবেদনের আলোকেই আজ পর্যন্ত নেয়া হয়নি পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক, কর্মী, পরিবেশবিদ ও সমাজের নানা স্তরের লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, প্রশাসনের দুর্বলতার কারণেই প্রতিবছর পাহাড় ধসে প্রচুর লোকের মৃত্যু হচ্ছে।
তারা জানান, পাহাড় ধসের ঘটনার পর প্রতিবছর প্রশাসন থেকে গঠিত হয় একাধিক তদন্ত কমিটি। কিছুদিন এই নিয়ে হাঁকডাক শোনা যায়। কিন্তু মাস ফুরালেই আর আলোর মুখ দেখে না এসব তদন্ত প্রতিবেদন। ফলে পাহাড়খেকোরা পার পেয়ে যাওয়ায় আবারো তারা নানা ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। পাহাড় নিয়ে বাণিজ্য শুরু করে।
এ বিষয়ে পরিবেশ আন্দোলন কর্মী ও অধ্যাপক ইদ্রিস আলী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি চিহ্নিত করা ও তাদের স্থায়ীভাবে উচ্ছেদের সুপারিশগুলো কবে বাস্তবায়িত হবে আমাদের প্রশ্ন। দখল হওয়া পাহাড়গুলোর অধিকাংশের মালিক সরকারি সংস্থা। চট্টগ্রামে এখন ১১ মাসই পাহাড় কাটা চলে। এক মাসের উচ্ছেদে কি আর সমস্যার সমাধান হয়?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১১ই জুন ভয়াবহ পাহাড় ধসে ১২৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে চট্টগ্রামে। সেই ঘটনায় তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার এম এন সিদ্দিকের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ২৮টি কারণ নির্ধারণ করে ৩৬টি সুপারিশ প্রণয়ন করে।
২০১৭ সালের চলতি জুন মাস পর্যন্ত সেই সুপারিশের একটিও বাস্তবায়িত হয়নি। পরিবেশ আন্দোলন কর্মীরা জানান, ওই প্রতিবেদনে তদন্ত কমিটির সদস্যরা যেসব সুপারিশ করেছিলেন সেগুলো বাস্তবায়িত করতে গেলে খোদ প্রশাসনের লোকজনের নামই বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
 কেবল তাই নয়, প্রতিবেদনে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরতদের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছিলো। বর্তমানে এই কাজটি করতে গিয়ে জেলা প্রশাসনকে বেশ হিমশিম খেতে হয় বর্ষা আসলে।
কেননা, নগরীর খুলশী, বায়েজীদ, পাহাড়তলী, মতিঝর্ণা, লালখান বাজারসহ একাধিক এলাকার পাহাড়গুলো রাজনৈতিক নেতাদের হাতে বন্দি হয়ে আছে। সেখান থেকে তারা লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। পাহাড় থেকে বসতি উচ্ছেদ করতে গিয়ে তারা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।  
অন্যদিকে ২০১১ সালের জুন মাসে বাটালি হিলে পাহাড় ধসে মারা যান ১৭ জন। ২০১২ সালে নগরীর চার স্থানে পাহাড় ধসে ১৮ জন মারা যান। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে মারা যায় আরো ৯ জন।
এসব ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা উল্লেখ করেছেন, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করতে পাহাড়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত থাকতে হবে। পাহাড়ে কাঁটাতারের ঘের  দেয়া ও সামাজিক বনায়নের আওতায় আনা জরুরি। উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জন্য আধুনিক ও উন্নতমানের সরঞ্জামাদি ক্রয় করতে হবে।
কিন্তু কোনো প্রতিবেদনের সুপারিশই আলোর মুখ দেখেনি। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার ভেড়া পাহাড় ও খুলশী থানা এলাকার পাহাড়টির বেশির ভাগ অংশ কেটে ফেলা হয়েছে।
চট্টগ্রামের পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক শরীফ চৌহান বলেন, যারা পাহাড় কেটে বাণিজ্য করছে তারা বহাল তবিয়তে আছে। ওদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার খবর কেউ জানে না। পাহাড় থেকে সাময়িকভাবে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হয়। পরবর্তীতে আবারো সেখানে বসতি গড়ে উঠে।
পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল বলেন, অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। তবে সত্যি কথা কী কিছু সমস্যা আছে। সেগুলো ওভারকাম করলে আমি মনে করি বিষয়টি স্থায়ীভাবে নিরসন করা সম্ভব।

প্রাণ বাঁচাতে জানালা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে শিশুদের...

পশ্চিম লন্ডনে গ্রেনফেল টাওয়ার নামে বহুতল ভবনটিতে যখন আগুন লাগে তখন সেখানকার বেশিরভাগ মানুষই ঘুমিয়ে ছিলেন। লন্ডন সময় বুধবার প্রথম প্রহর, অর্থাৎ রাত ১টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই জানালা দিয়ে নিচে লাফিয়ে পড়েছেন। এমনকি শিশু সন্তানকেও নিরাপদে রাখার জন্য জানালা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে। সামিরা লামরানি নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, অনেকের মতো এক নারীও তার শিশু সন্তানকে বাঁচাতে 'নয় বা দশ তলা থেকে' ছুঁড়ে ফেলেছিলেন। "সে সময় নিচেও ভিড় জমেছিল, এক নারী জানালা থেকে চিৎকার করছিল যে সে তার সন্তানকে ছুঁড়ে ফেলবে। কেউ যেন শিশুটিকে নিচে থেকে ধরে সেই আহ্বানও জানাচ্ছিল ওই নারী।" "নিচের ভিড় থেকেই একজন দৌড়ে গেল এবং জানালা থেকে ছুঁড়ে ফেলা শিশুটিকে ধরতে সক্ষম হলো ওই ব্যক্তি"-বলছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী সামিরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভবনটির অনেক বাসিন্দা জানালায় দাড়িয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিল। "তাদের আশ্বস্ত করছিলাম যে যতটা সম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করছি আমরা, ৯৯৯ -এ কল করেছি। কিন্তু তাদের চোখেমুখে আতঙ্ক আর মৃত্যুর ভয়তো ছিলোই"- বলছিলেন সামিরার মা মিস লামরানি। একজনকে ঘরে তৈরি প্যারাসুট নিয়ে ভবনের জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়তেও দেখেছেন লামরানি। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা তামারা জানান, তিনিও দেখেছেন এক নারী তার শিশুকে জানালা থেকে ছুঁড়ে ফেলেছে। "খুব সম্ভবত পাঁচ বা ছয়তলা থেকে তাকে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে। শিশুটি হয়তো বেঁচে গেছে। আমরা দেখেছি মানুষ কিভাবে উড়ে উড়ে পড়ছিল জানালা দিয়ে'-বলছিলেন তামারা। জর্ড মার্টিন নামেও একজন জানান, "শিশু কোলে এক নারীকে দেখেছি জানালার ধারে চিৎকার করছিল....।" পশ্চিম লন্ডনের ওই ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জন নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে। ভবনের অনেকে এখনো নিখোঁজ। পুলিশ বলছে, উদ্ধার অভিযান শেষ হলে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। ৭০ জনেরও বেশি মানুষকে শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে ১৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আগুন লাগার আগে নর্থ কেনসিংটনের ওই ভবনটিতে সংস্কার কাজ চলছিল। সেসময় ভবনের বাসিন্দাদের অনেকেই গুরুতর অগ্নিকান্ডের ঝুঁকির ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে সাবধান করেছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। তবে, ঠিক কী কারণে এবং কিভাবে সেখানে আগুন লাগলো সে নিয়ে এখনো পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কিছু জানাতে পারেনি। সূত্র : বিবিসি

কাতারের কাছে এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র

উপসাগরীয় রাজনীতিতে ট্রাম্প সরকারের অবস্থান আদতে কী?‌ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ধাঁধায় বিশেষজ্ঞরাও। সন্ত্রাসে মদত দেয়ার অভিযোগে সম্প্রতি কাতারকে একঘরে করেছে কয়েকটি আরব দেশ। তাদের সঙ্গে সব রকম কূটনৈতিক যোগাযোগ ছিন্ন করেছে সৌদি আরব, মিসর, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেই নিয়ে সম্প্রতি দোহাকে তুলোধনা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কাতার সন্ত্রাস এবং ইসলামি চরমপন্থার সমর্থক বলে ঘোষণা করেছিলেন। এমনকী তার রিয়াদ সফরের সময়ই কাতারের ভবিষ্যত নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু এক সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই ভোল বদল ট্রাম্প প্রশাসনের। কাতারকে কোণঠাসা করার বদলে, তাদের সঙ্গে ১২০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের যুদ্ধবিমান চুক্তি স্বাক্ষর করতে চলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তি অনুযায়ী কাতারকে ৩৫টি এফ–১৫ যুদ্ধ বিমান বিক্রি করবে তারা। একটি বিবৃতি জারি করে জানালেন পেন্টাগন মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল রজার ক্যাবিনেস। তিনি বলেছেন, ‘‌বুধবার কাতারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ আল–আতিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস। মার্কিন প্রযুক্তিতে তৈরি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহের শেষ ধাপগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ১২০০ কোটি টাকার যুদ্ধবিমানগুলি সরবরাহ করা গেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কাতারের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে।’‌ উপসাগরীয় রাজনীতিতে স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনতে, জঙ্গি সংগঠন আইএসকে উচ্ছেদ করা নিয়েও দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে দাবি ক্যাবিনেসের। কাতার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তরফেও একটি বিবৃতি জারি করা হযেছে।
তাতে বলা হয়েছে, ‘‌কাতার যে বন্ধু রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে, এই চুক্তিই তার প্রমাণ। বহু বছর ধরে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়ছে কাতার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে সামরিক সহযোগিতার পথ আরো প্রশস্ত হবে।’‌ ইরান এবং সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে সমর্থনের অভিযোগে, কাতার উপসাগরীয় রাজনীতিতে একঘরে হওয়ার আগে, গত বছর ২১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিময়ে কাতারকে ৭২টি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করায় অনুমোদন দিয়েছিল মার্কিন কংগ্রেস। নতুন চুক্তিতে বিমানের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে বটে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাতারকে যুদ্ধবিমান সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত ভালো চোখে দেখছে না আন্তর্জাতিক মহল। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আইএসকে হটাতে বর্তমানে দোহার ‘‌আল উদেইদ’‌ বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন যৌথ বাহিনীর প্রায় ১১,০০০ সেনাকর্মী আস্তানা গেড়েছেন। তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই কি কাতারকে সমঝে চলছে ট্রাম্প প্রশাসন?‌ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ওয়াশিংটনের জর্জটাউন ইউনিভআর্সিটির মধ্যপ্রাচ্য বিভাগের অধ্যাপক পল সালিভানের মতে, ‘‌খুবই গোলমেলে বিষয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে কাতারকে যুদ্ধবিমান বিক্রির সিদ্ধান্ত অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।’‌ তবে তা মানতে নারাজ কাতার। তাদের দাবি, এই চুক্তির ফলে মার্কিন ৪২টি মার্কিন রাজ্যে প্রায় কর্মসংস্থানের সংখ্যা বেড়ে ৬০,০০০–এ দাঁড়াবে। যুদ্ধবিমানগুলো হাতে পেলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নেয়া সম্ভব হবে।

সোমালিয়ায় সন্ত্রাসী হামলা : নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে বৃহস্পতিবার পাশাপাশি অবস্থিত দুটি রেস্তোরাঁয় শাবাব গোষ্ঠীর আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। সরকারি মুখপাত্র একথা জানিয়েছে। সোমালিয়ার নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মাদ আহমেদ আরাব বলেন, ‘সরকারি বাহিনীর অভিযানে বন্দুকধারীরা নিহত হয়েছেন। অভিযান এখন শেষ হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘উগ্রবাদীরা ওই দুই রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে নিরীহ লোকজনকে হত্যা করেছে। তাদের বর্বর এ হামলায় ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে সিরিয়ার এক নাগরিক রয়েছে। এ হামলায় ১০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

ধর্ষণের পর কিশোরী রোকসানা হত্যায় ৩ আসামির যাবজ্জীবন

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার কাউয়ারেখা গ্রামে কিশোরী রোকসানা আক্তারকে (১৫) অপহরণ, ধর্ষণ এবং হত্যার পর লাশ গুম করার চাঞ্চল্যকর মামলায় ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ পৃথক মেয়াদে দ-াদেশ এবং জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক শেখ আবু তাহের মামলার এক আসামি স্বপনের উপস্থিতিতে ও অপর ৫ আসামির অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে অপহরণের অপরাধে প্রধান আসামি স্বপন হাওলাদারকে ১৪ বছর কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া হত্যার অপরাধে স্বপন হাওলাদার, সমীর হাওলাদার ও গৌরাঙ্গ বৈরাগীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং লাশ গুম করার অপরাধে ৩ আসামির প্রত্যেককে ৫ বছর কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অপরদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার ৩ আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এরা হলো, স্বপনের বাবা রফিকউদ্দিন হাওলাদার, রফিকের ভাই মোকসেদ হাওলাদার এবং স্থানীয় বাসিন্দা সফিজউদ্দিন। ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, ঘটনার শিকার রোকসানা আক্তারের বাড়ি গৌরনদী উপজেলার কসবা এলাকায়।
ঘটনার কয়েকদিন আগে সে উজিরপুরের কাউয়ারেখা গ্রামে নানার বাড়ি বেড়াতে যায়। ২০০০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার পর নানার বাড়িতে অন্যদের সাথে ভিসিআর দেখছিলো রোকসানা। ভাত খেতে ডাকার অজুহাতে নিকটাত্মীয় স্বপন তাকে ডেকে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে স্বপনসহ তার দুই সহযোগী সমীর ও গেরাঙ্গা তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ পার্শ্ববর্তী বাড়ির অতুল হালদারের বাড়ির টয়লেটের স্লাবের নিচে ট্যাংকিতে ফেলে দেয় তারা। সবাই ভিসিআর দেখায় ব্যস্ত থাকায় ওই রাতে রোকসানার কোনো খোঁজ পড়েনি। পরদিন সকালে রোকসানার খোঁজ পড়ে। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজির পর অতুল হালদারের বাড়ির টয়লেটের স্লাব এলোমেলো দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। এরপর টয়লেটের স্লাব তুলে ট্যাংকির ভেতর থেকে রোকসানার লাশ উদ্ধার করে এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় একই বছরের ৬ মার্চ রোকসানার বড় ভাই লালন ফকির বাদী হয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যা এবং লাশ গুমের অভিযোগে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ২০০৩ সালের ২৬ জানুয়ারি ৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন উজিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হাকিম। পরে ট্রাইব্যুনালে ২৫ জনের মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক ওই রায় দেন।

পাহাড়ের কোল ছাড়তে পারছে না ঝুঁকিতে থাকা মানুষ

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশে প্রতিনিয়ত মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বাস করছেন অর্ধ লাধিক মানুষ। এরই মধ্যে গত ১০ বছরে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে নিহত হয়েছেন নারী ও শিশুসহ তিন শতাধিক মানুষ। কিন্তু স্থায়ী পুনর্বাসনের অভাবে মৃত্যুঝুঁকি নিয়েও পাহাড়ের কোল ছাড়ছেন না সেখানে বসতি স্থাপনকারীরা। জানা গেছে, অন্যত্র গিয়ে বসবাসের কোনো জায়গা না থাকার কারণেই মূলত তারা পাহাড়ের কোলে ঝুঁকি নিয়ে হলেও বসবাস করছেন। সরকারি প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা না থাকায় তাদের অন্যত্র সরানো যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। তবে চট্টগ্রাম সিটি কনপোরেশন তাদের মালিকানাধীন টাইগারপাস পাহাড়ের কোলে বসবাসকারী প্রায় ২০০ পরিবারকে স্লাম অ্যাপার্টমেন্টে পুনর্বাসনের মাধ্যমে সরিয়ে নেয়া উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। নগরীর কৈবল্যধাম, বাটালিহিল, এ কে খান, মতিঝর্না, আরেফিননগর, রৌফাবাদ, আমিন কলোনি, বনপাহাড়, টাইগারপাস পাহাড়, কুসুমবাগ পোড়া কলোনি, ফিরোজশাহ পাহাড়, ক্যান্টনমেন্টসংলগ্ন লেবুবাগান পাহাড়সহ বিস্তীর্ণ পাহাড়ের কোলে অর্ধলাধিক মানুষ বাস করে। বাংলাদেশ রেলওয়ে, চট্টগ্রাম ওয়াসা, গণপূর্ত বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এসব পাহাড়ের মালিক। ইতোমধ্যে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি কাজ করলেও তা মূলত তেমন কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারছে না। জেলা প্রশাসনের প থেকে অভিযান চালানো হলেও অভিযানের পর আবারো সেখানে বসবাসকারীরা ফিরে যান। মূলত কোনো স্থানে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করা না হলে এই মৃত্যুর মিছিল যেন থামানো যাবে না। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী ১৩টি পাহাড়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেখানে প্রায় দেড় হাজার পরিবার মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে। গত মঙ্গলবারের পাহাড়ধসে নিহতরা ছাড়াও গত ১০ বছরে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে পাহাড়ধসে। এর আগে সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটে চট্টগ্রাম সেনা নিবাসের দুধুরে লেবুবাগান পাহাড়ে ২০০৭ সালের ১১ জুন ১২৭ জনের প্রাণহানির ঘটনায়।
২০১১ সালের ১ জুলাই নগরীর বাটালিহিলে পাহাড়ের মাটি কেড়ে নেয় ১৭ বনি আদমের জীবন। ২০১২ সালের ২৬ জুন নগরীর চার স্থানে পাহাড়ধসে ২৮ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে ইস্পাহানি মোড় এলাকায় ও ২৯ জুলাই লালখান বাজার ট্যাংকির পাহাড় এলাকায় পাহাড়ধসে তিনজনের মৃত্যু ঘটে। ২০১৪ সালের নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসে তিনজনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া ২০১৫ সালে লালখান বাজার ও বায়েজিদ এলাকায় দেয়াল চাপায় এবং পাহাড়ধসে মা-মেয়েসহ ছয়জনের করুণ মৃত্যু ঘটে। প্রতি বছরই পাহাড়ধসে চট্টগ্রামে জীবনহানির ঘটনা ঘটে। জীবনহানির বাইরে সম্পদহানিও ঘটছে প্রতিনিয়ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ের মাটিচাপায় মৃত্যুর মিছিল থামাতে হলে পাহাড়কে যথাসম্ভব বসতিমুক্ত রাখা, পাহাড় কর্তন রোধে জোরদার মনিটরিং, পাহাড় কাটার শাস্তির বিধানে কঠোরতা, পাহাড়ের ভারসাম্য অুণœ রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা, পাহাড়ের আশপাশে আর যেন বসতি কিংবা স্থাপনা গড়তে না পারে সে বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া এবং পুনর্বাসনের মাধ্যমে এসব এরিয়ায় অবস্থানরতদের সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এ দিকে বন্দরনগরীসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে তেমন কোনো কার্যকরী উদ্যোগ নেই এমন অভিযোগ উঠেছে। ২০০৭ সালে পাহাড়ধসে ১২৭ জনের প্রাণহানির ঘটনায় উচ্চমতাসম্পন্ন একটি কমিটি করা হয়েছিল। ওই কমিটি পাহাড়ধসের ২৮ কারণ চিহ্নিত করে ৩৬টি সুপারিশ দিয়েছিল। কিন্তু সেসব সুপারিশ কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকল, বাস্তবায়ন হয়নি ১০ বছরেও। ওই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নিলে হয়তো সোমবার মধ্যরাত ও মঙ্গলবার ভোরে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে মৃত্যুর মিছিল কিছুটা হলেও থামানো যেত। ওই কমিটি কর্তৃক পাহাড়ধসের অন্যতম কারণের মধ্যে ভারী বর্ষণ, চট্টগ্রামের পাহাড়ে বালুর আধিক্য, গাছ কেটে ভারসাম্য নষ্ট করা, পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস গড়ে তোলা, পাহাড় থেকে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রাখা অন্যতম। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের বক্তব্য : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের প থেকে বলা হয়েছেÑ বিগত দুই দিন ধরে ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধস হয়েছে। জেলা প্রশাসন ভারী বর্ষণের আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেয়েই চট্টগ্রাম মহানগরীর এবং উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাসরত লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে ক্রমাগতভাবে ব্যাপক মাইকিং করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ ছাড়া স্থানীয় ক্যাবল টিভি চ্যানেলে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে আহ্বান জানানো হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)’গণদের সমন্বয়ে গঠিত ২ টিম চট্টগ্রাম মহানগরীর মতিঝর্না, এ কে খান ও বায়েজিদ এলাকাসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি বসতি থেকে দেড় শতাধিক পরিবার বা ৭৫০ জনকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। উপজেলাগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, রাঙ্গুনিয়ায় ৫৮০টি পরিবারের ২০০০ জন, চন্দনাইশে ৫০টি পরিবারের ২৫০ জনসহ মোট প্রায় তিন হাজার জনকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও এর আশপাশ থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। বান্দরবান সংবাদদাতা জানান, বান্দরবান শহরের কাছে লেমুঝিড়ি আমতল ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়া মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী ও স্থানীয় লোকজন তল্লাশি চালিয়ে লাশ দু’টি উদ্ধার করেন। মঙ্গলবার ভোরে প্রবল বৃষ্টির সময় লেমুঝিড়ি আমতল ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে কৃষক মো: আজিজুর রহমানের স্ত্রী কামরুন্নাহার বেগম (৪০) ও তার সাত বছরের মেয়ে সুখিয়া বেগম মাটিচাপা পড়ে। দুই দিন তল্লাশির পর গতকাল লাশ দু’টি উদ্ধার করা হয়। বান্দরবান দমকল বাহিনীর স্টেশন অফিসার তরিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার ভোর থেকেই তল্লাশি চালানো হয়। পরে বুধবার সকালে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অনেক মাটি সরিয়ে লাশ দু’টি উদ্ধার করা হয়। এ দিকে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দুপুরে বান্দরবানের পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরে তিনি শহর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। জেলা পুলিশের পক্ষ হতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এ দিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি না হওয়ায় বান্দরবানের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। নি¤œাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। শহরের ১২টি আশ্রয় কেন্দ্র থেকে লোকজন তাদের বসতবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে বসতঘরগুলো কাদাপানিতে সয়লাব হয়ে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাকখালী নদীর পানি কমতে থাকায় জেলা সদরের সাথে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙ্গামাটির সড়ক যোগাযোগ চালু হয়েছে। এ ছাড়া রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানছি উপজেলার সাথেও সড়ক যোগাযোগ চালু হয়েছে। তবে এসব এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ নেই। বান্দরবানের আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে সেনাবাহিনী, জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও খিচুড়ি দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোরে প্রবল বর্ষণের সময় বান্দরবানে তিন স্থানে পাহাড়ধসে একই পরিবারের তিন শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়।
লক্ষীছড়ি (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা জানান, টানা বর্ষণে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দুর্গম বর্মাছড়ি ইউনিয়নে মঙ্গলবার পাহাড়ধসে এক নারীসহ দু’জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র চাকমা এ প্রতিনিধিকে বলেন, বর্মাছড়ি ইউনিয়নের ফুত্যাছড়া পাড়ার প্রাণকৃত্য চাকমার ছেলে পরিমল চাকমা (৩০) পাহাড়ধসে মাটিচাপায় নিহত হন। একই পরিবারের শিশু ও নারীসহ সাতাত্বক আহত হন। ঘটনাটি মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ঘটলেও ছড়া ও খাল পানিতে ভরে হয়ে যাওয়ায় তাদেরকে হাসপাতালে আনা সম্ভব হয়নি। বুধবার সকালে তাদের লক্ষ্মীছড়ি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। লক্ষ্মীছড়ি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা হলেন, মধ্যম বর্মাছড়ি পাড়ার সজিব চাকমার স্ত্রী রজমালা চাকমা (২৪), তার ৯ বছরের মেয়ে পার্কি চাকমা ও ৬ বছরের শিশু তুষি চাকমা। সড়ক যোগাযোগ না থাকায় মারাত্মক আহত অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন একই গ্রামের ধনঞ্জয় চাকমা (৬৫), তার স্ত্রী তিতুর বালা চাকমা (৫৫), মেয়ে সাবেত্রী চাকমা (৪০) ও সাবেত্রীর ছেলে এপিন চাকমা। তাদেরকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিবারের একমাত্র সুস্থ সদস্য সজিব চাকমা বলেন, আমি এখন নিরুপায়, বাড়ির সবাই পাহাড়ের মাটিচাপা পড়ে আহত হয়েছে। আহত আরো দুজনের নাম জানা যায়নি। এ দিকে বর্মাছড়ির কালুখালী সীমান্তে হলুদ্যা পাড়ার বড়ইতলী এলাকার পতুল্যা চাকমার স্ত্রী কালেন্দ্রী চাকমা (৪৫) মাটিচাপায় নিহত ও পতুল্যা চাকমা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ ইকবাল বলেন, পাহাড়ধসে দুজন নিহত হবার খবর তিনি শুনেছেন। ঘটনাস্থল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান। তবে অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, এ দুর্ঘটনা কাউখালী উপজেলায় ঘটেছে। লক্ষ্মীছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ আরিফ ইকবাল পাহাড়ধসের ঘটনায় মৃত্যুর খবর শুনেছেন বলে জানান। কক্সবাজার (দক্ষিণ) সংবাদদাতা জানান, কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড় ধ্বসে বাবা-মেয়ে নিহত হয়েছে। গতকাল ভোরে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সাতঘরিয়াপাড়ার মোহাম্মদ সেলিমের বসতবাড়ির ওপর পাহাড় ধসে পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় গৃহকর্তা সেলিম ও তার শিশুকন্যা তিশামণির মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা পাহাড়ের মাটি সরিয়ে বাবা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছেন। হোয়াইক্যং মডেল ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী জানান, ভোররাতে ভারী বর্ষণ ও বজ্রপাতের সময় পাহাড়ের অংশবিশেষ ধসে সেলিমের বসতবাড়ির একটি অংশের ওপর পড়ে। এতে সেলিম ও তার শিশুকন্যা তিশামণি নিহত হয়েছে। স্থানীয় লোকজন মাটি সরিয়ে বাবা-মেয়েকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন।

বালিয়াকান্দিতে কৃষকের লাশ উদ্ধার : আদম ব্যাপারী আটক



রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের বৃ-মাগুরা গ্রামের এক আদম ব্যবসায়ীর বাড়ীর পার্শ্ববর্তী গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে এক বিদেশ ফেরত যুবকের পিতার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় পুলিশ ওই আদম ব্যাপারীকে আটক করেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালে বৃ-মাগুরা গ্রামের মতিয়ার মাষ্টারের মেহগনি বাগানের রেইন্ট্রি গাছে গলায় লাইলনের রশি পেচানো ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাওয়া যায়। খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারের লোকজন এসে লাশটি জামালপুর ইউনিয়নের বেতেঙ্গা গ্রামের মৃত কহিল উদ্দিন শেখের ছেলে কৃষক আদেল উদ্দিন শেখের (৫০) বলে সনাক্ত করেন। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করা ছাড়াও বৃ-মাগুরা গ্রামের ইবাদত মোল্যার ছেলে আদম ব্যাপারী মজিবর মোল্যা ভুলেকে (৫৫) আটক করে থানায় নিয়ে যায়। নিহত আদেল শেখের পুত্রবধূ হোসনে আরা, ভাইয়ের স্ত্রী জেলেখা বেগম জানান, আদেল শেখের ছেলে ছলিম শেখকে কাতার পাঠানোর জন্য সাড়ে ৬ লাখ টাকা নেয় বৃ-মাগুরা গ্রামের আদম ব্যাপারী মজিবর মোল্যা ভুলে। এরকম আরো ৮জনের নিকট থেকে টাকা নিয়ে কাতার পাঠায়।
সেখানে কোনো কাজ না পেয়ে খেয়ে না খেয়ে সবাই দেশে ফেরত আসে। ফেরত আসার পর থেকেই উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ ও গ্রাম্য শালিস হলেও টাকা ফেরত না দিয়ে ঘুরাতে থাকে। উল্টো টাকা দাবি করে মজিবর মোল্যা আদালত থেকে উকিল নোটিশ পাঠায়। এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে বুধবার বিকাল ৩টার দিকে মজিবর মোল্যা ভুলে ফোনে আদেল শেখকে জামালপুর বাজারে ডেকে আনে। জামালপুর বাজারে চায়ের দোকানে চা-বিস্কুট খেতে দেখে লোকজন। তারপর আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। বৃহস্পতিবার সকালে খবর পেয়ে এসে দেখি লাশ ঝুলছে। তাদের ধারণা মজিবর মোল্যা ভুলে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গাছের সাথে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে। তারা এর বিচার দাবি করেন। মজিবর মোল্যা ভুলে জানান, তিনি ৮জনকে কাতায় পাঠান। ৩-৪ মাস করে কাজ করে দেশে ফিরে আসে। বুধবার আদেলের সাথে তার কোনো দেখা বা কথা হয়নি। আদেল কিভাবে মারা গেছেন তা তার জানা নেই। থানার এসআই দিপন কুমার মন্ডল জানান, খবর পেয়ে এসআই অলোক কুমার ঘোষ সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মজিবর মোল্যা ভুলে নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ হাসিনা বেগম জানান, লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। মূল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

কক্সবাজারে দেয়ালচাপায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডী পশ্চিম হিন্দুপাড়ায় বসতঘরের মাটির দেয়াল চাপায় ভক্তিরানী দে (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত ভক্তিরানী দে ওইএলাকার নুনুরাম দে’র মেয়ে। সে স্থানীয় সাগরমনি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী বলে জানান প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিক স্কুল তহবিল থেকে ৩ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। জানা যায়, ভক্তিরানী দে প্রতিদিনের ন্যায় তার শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। এক সময় পার্শ্ববর্তী ঝন্টু দে’র বাড়ির মাটির দেয়াল ধসে তার ঘরের উপর পড়ে। এতে দেয়াল চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: খাইরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পিরোজপুরে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

পিরোজপুর জেলা বিএনপি’র সভাপতি গাজী নূরুজ্জামান বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে জড়িয়ে গত ১২ জুন দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পিরোজপুর জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় পিরোজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শুনান জেলা কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুস ছালাম (বাতেন কমিশনার)। এ সময় জেলা ও সদর উপজেলা বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। ‘বিএনপির নেতৃত্বে ঘুরেফিরে বাবুল গাজী, ফলাফল শূন্য’ শিরোনামে প্রথম আলোতে যে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে তারা এটি মিথ্যা, কাল্পনিক ভিত্তিহীন ও অসত্য বানোয়াট বলে দাবি করছেন।

কর্তব্যরত অবস্থায় ৯ বছরে ৬৪৯ পুলিশ সদস্য নিহত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেছেন, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিগত ৯ বছরে কর্তব্যরত অবস্থায় ৬৪৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য পিনু খানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে আরও বলেন, একই সময়ে দায়িত্ব পালনের সময় ৩ হাজার ৯৬৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ২০০৯ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্বরত অবস্থায় তিন বিজিবি সদস্য নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে ২৮ জন পুলিশ সদস্য নিহত ও ১২৫ জন আহত হন। ২০১০ সালে নিহত হন ৪০ জন ও আহত ১৭৬ জন। ২০১১ সালে ১৯০ জন আহত ও ৫১ জন নিহত হন। ২০১২ সালে ২০৫ জন আহত ও ৩৮ জন নিহত হন। ২০১৩ সালে ২ হাজার ২১০ জন আহত ও ১০৯ জন নিহত হন। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে ২৮১ জন আহত ও ১০২ জন নিহত হয়েছেন। ২০১৫ সালে ৩৭২ জন আহত ও ১২৬ জন নিহত হন। ২০১৬ সালে ২৫৯ জন আহত ও ১২৮ জন নিহত হন।
২০১৭ সালের মে পর্যন্ত ১৫০ জন আহত এবং ২৭ জন নিহত হয়েছেন। আসাদুজ্জামান খাঁন জানান, ২০১৩ সাল থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্তব্যরত অবস্থায় বিএনপি, জামায়াত-শিবির, হেফাজত, দর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসী জঙ্গিদের হামলায় বিভিন্ন পদবীর নিহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে দু’জনের পরিবারকে ১৬ লাখ করে, ১৭ জনের পরিবারকে এককালীন ১০ লাখ টাকা করে, ৪ জনের প্রতিটি পরিবারকে ৮ লাখ এবং দু’জনের প্রত্যেক পরিবারের অনুকূলে ৫ লাখ টাকা করে অনুদান দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মের হেফাজতের তাণ্ডবে তাদের কর্মীরা ঢাকায় কর্মরত কনেস্টবল মোহাম্মদ পিয়ারুল ইসলামকে আহত করে। তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে তার চিকিৎসা বাবদ প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ ও ত্রাণ তহবিল থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৬ মে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজ থেকে দেড় কিলোমিটার পশ্চিমে হেফাজত কর্মীদের আকস্মিক হামলায় নিহত বিজিবির দুই সদস্যের প্রতিটি পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা, বিজিবি মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা ও বিজিবির উত্তরা মার্কেটে প্রতিটি পরিবারকে একটি করে দোকান দেয়া হয়েছে। এছাড়া পরিবার দু’টিকে বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকেও এক লাখ টাকা করে দেয়া হয়েছে। সূত্র : বাসস

হাজিরা দিলেন খালেদা জিয়া : পরবর্তী শুনানি ২২ জুন

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আজ আদালতে হাজির হয়েছিলেন। মামলা ‍দু’টিতে পরবর্তী শুনানির জন্য ২২ জুন দিন ধার্য করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসার মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান এ দিন ধার্য করেন। বেগম খালেদা জিয়া আজ বেলা পৌনে ১২টার দিকে আদালতে উপস্থিত হন। এদিন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাকে পুনরায় জেরা করেন আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক খান।
তার জেরা শেষ না হওয়ায় পরবর্তী জেরার জন্য ২২ জুন দিন ধার্য করেন। অপরদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষের সমর্থনের জন্য একই দিন ধার্য করেন আদালত। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক। এছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুদক।

ভ্যাট আরোপে এলপি গ্যাসের উদ্যোক্তারা আতঙ্কে

গ্যাসের মজুদ কমে আসায় পাইপলাইন গ্যাসের চাপ কমাতে সরকার সিলিন্ডার গ্যাস সম্প্র্রসারণ উৎসাহিত করছে। গত কয়েক বছরে এ খাতে বেসরকারি উদ্যোক্তারা এর উপকরণ তৈরি করতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগও করেছেন। কিন্তু আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট ভোক্তাপর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করায় উদ্যোক্তারা তাদের বিনিয়োগ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এর কারণ ভ্যাট আরোপের ফলে সিলিন্ডার প্রতি দেড় শ’ টাকা থেকে তিন শ’ টাকা দাম বেড়ে যাবে। এতে গ্রাহকেরা সিলিন্ডার ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বেন। ফলে এ খাতে বিনিয়োগও ঝুঁকির মুখে পড়বে। একক ভ্যাট হারে শুধু এলপি গ্যাসেরই দাম বাড়বে না, বিদ্যুৎ ও পাইপলাইনের গ্যাসের দামও বেড়ে যাবে। বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিলের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। একক হার হলে এখন ১৫ শতাংশ হারেই ভ্যাট দিতে হবে। ফলে মোট বিলের ওপর গড়ে ১০ শতাংশ হারে দাম বেড়ে যাবে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট হার কার্যকর হবে। এ কারণে দাম বাড়ার দুশ্চিন্তায় ভুগছেন এলপি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পাইপ লাইনের গ্যাসের গ্রাহকেরা। ভ্যাট আরোপের ফলে ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শামসুল হক আহমেদ এ বিষয়ে গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, পাইপ লাইনের গ্যাসের মজুদ কমে যাচ্ছে। এ কারণে সরকার পাইপ লাইনে গ্যাসের চাপ কমানোর জন্য এলপি গ্যাসের সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে সিলিন্ডার গ্যাসের সম্প্রসারণের ফলে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর চাপ কমে যাচ্ছে। গৃহস্থালির পাশাপাশি অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানও বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর ঝুঁকেছিল। এ উদীয়মান খাতকে উৎসাহিত করতে যেখানে সরকার আরো সহযোগিতার হাত বাড়াবে, তা না করে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে এ খাত সঙ্কোচিত হয়ে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
কারণ ভ্যাটের চাপ পুরোপুরি যাবে ভোক্তাদের ওপর। সিলিন্ডার প্রতি দেড় শ’ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে যাবে, যা অনেক গ্রাহকের ক্ষেত্রে বহন করা কষ্টকর হবে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি এড়াতে ও এলপি গ্যাসের মূল্য সাধারণের সাধ্যের মধ্যে রাখতে এর ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে তিনি অনুরোধ করেন। বিএম এনার্জির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর (এমডি) মোহাম্মদ নূরুল আলম বলেন, এলপি গ্যাসের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের ফলে ৯০০ টাকার গ্যাস ১১ শ’ টাকায় উঠে যাবে। দাম বেড়ে যাওয়ায় সরাসরি চাপ পড়বে গ্রাহকদের ওপর। এতে এলপি গ্যাসের ব্যবহার কমপক্ষে ২০ শতাংশ কমে যাবে। এখানেই তাদের উদ্বেগের কারণ। তিনি বলেন, যেখানে সরকার পাইপ লাইন গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলপি গ্যাসের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সেখানে এ খাতের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ সরকারের নীতি বিরোধী উদ্যোগ বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য তারা এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। একই সাথে জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকেও অর্থমন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। তিনি আশা করেন উদীয়মান এ খাতকে উৎসাহিত করতে ভ্যাট প্রত্যাহার করে নেবে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষক আখতার হোসাইন সান্নামাত বলেন, পাইপ লাইনের গ্যাসের মজুদ কমে আসছে। এ কারণে সরকার বোতলজাত গ্যাসের ব্যবহার বাড়ানোর জন্য উৎসাহিত করছে। ফলে গৃহস্থালিসহ কিছু কিছু শিল্পকারখানায়ও বিকল্প হিসেবে এলগি গ্যাসের ব্যবহার বেড়ে গেছে। এ থেকে সরকার দুই দিক থেকে লাভবান হচ্ছে। প্রথমত, পাইপ লাইন গ্যাস সরবরাহ করা হয় ভর্তুকির মাধ্যমে। কারণ উৎপাদন ব্যয় ও বিদেশী কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে যে দরে গ্যাস কেনা হয়, সরবরাহ করা হয় তুলনামূলক কম দামে। এলপি গ্যাস ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পাইপ লাইন গ্যাসের চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারের ভর্তুকিও কমে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত গৃহস্থালিতে পাইপ লাইনের গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ গ্যাস শিল্প কারখানায় ব্যবহার হচ্ছে। এতে অর্থনীতিতে কাক্সিত হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করছে। এখন এলপি গ্যাসের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের ফলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ভোক্তাপর্যায়ে। এতে ভোক্তারা নিরুৎসাহিত হলে পাইপ লাইনের গ্যাসের ওপর চাপ আবার বেড়ে যাবে। এতে সরকারের ভর্তুকির পাশাপাশি গ্যাসের মজুদের ওপরও চাপ বেড়ে যাবে। এ কারণে বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন কোনো ত্রে আবিষ্কৃত না হয় তাহলে গ্যাসের বর্তমান মজুদ ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। সরকার পাইপ লাইনের গ্যাস শুধু শিল্পকারখানার জন্য মজুদ রাখতে চায়। এ কারণে বাসাবাড়িতে পাইপ লাইনের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে এবং এলপি গ্যাসের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও নিয়েছে। এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ায় এলপি গ্যাস সম্প্রসারণ হচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে বছরে ১০ লাখ টন এলপি গ্যাসের চাহিদা থাকলে ব্যবহৃত হচ্ছে মাত্র পাঁচ লাখ টন। দেশে বিপিসির পাশাপাশি দেশী-বিদেশী ১০টির মতো প্রতিষ্ঠান এলপিজি প্ল্যান্ট স্থাপন করে উৎপাদন শুরু করেছে। এ খাতে বিনিয়োগ করা হয়েছে কোটি কোটি টাকা, যার বড় একটি অংশ ব্যাংক ঋণ নেয়া হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন মতার মাত্র ৪০ শতাংশ কাজে লাগাতে পারছে। ভ্যাট আরোপের ফলে এ খাতের সম্প্রসারণের পরিবর্তে সঙ্কোচিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। ফলে বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা। এদিকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলের সাথে রেয়াতি হারে ৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ করতে হচ্ছে। কিন্তু আগামী মাস থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলে একক হার হিসেবে সব ক্ষেত্রেই ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। এতে বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাবে। আর বিদ্যুতের দাম বেড়ে গেলে চাপে পড়বে ভোক্তারা। তবে এনবিআরের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন ভ্যাট আইনে একক হার হিসাবে থাকলেও বিদ্যুৎ ও গ্যাসে উপকরণ কর রেয়াদ দেয়া হতে পারে। ফলে সেবা খাত হিসেবে কর রেয়াত দেয়া হলে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বাড়বে না। এ বিষয়ে বিবেচনা করা হতে পারে বলে ওই কর্মকর্তা গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন। এদিকে শিল্প উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলে তাদের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দেবে। নতুন মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আইন প্রযুক্তি ও রেয়াতনির্ভর। এ আইনে হিসাব সংরণসহ ভ্যাটের যাবতীয় কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে। অথচ বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এখনো অনলাইনে ব্যবসায় পরিচালনা করে না। একই সাথে নতুন এ আইনে অনেক েেত্র উপকরণে কর রেয়াত নেয়া সম্ভব হবে না। ফলে আইনটি কার্যকর হলে দ্রব্যমূল্য বাড়বে। সামগ্রিকভাবে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ভোক্তাপর্যায়ে।

ভারতের সাথে ট্রানজিটসহ তিনটি পদ্ধতিতে পণ্য পরিবহন হচ্ছে

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে আন্তঃদেশীয়, ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট তিনটি পদ্ধতিতে পণ্য পরিবহন হচ্ছে। তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের এ কে এম শাহজাহান কামালের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশী নৌ-যান দ্বারা ২২ লাখ ৫০ হাজার ৯৭৪ মেট্রিক টন পণ্য এবং ভারতীয় নৌযান দ্বারা ৮ হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন পণ্যসহ মোট ২২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৫৪ মেট্রিক টন পণ্য পরিবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশী নৌ-যান দ্বারা ৪ হাজার ৪৯৯ মেট্রিক টন ট্রানজিট পণ্য পরিবাহিত হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই পণ্য পরিবহনকালে বাংলাদেশী নৌযানসমূহ ভাড়া বাবদ ১ কোটি ৩৬ লাখ ৭৬ হাজার ৯৬০ টাকা অর্জন করেছে। আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, এছাড়া বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাত্রীবাহী অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌপথে নৌযান চলাচলের জন্য উভয় দেশের নৌ-সচিব কর্তৃক ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বরে নয়াদিল্লীতে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, আলোচ্য প্রটোকলের আওতায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহ ‘ট্রান্স-শিপমেন্ট’র মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের লক্ষ্যে আশুগঞ্জ নদী বন্দরে একটি ‘ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনাল (আইসিটি) নির্মাণের পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, আইসিটি নির্মিত হলে নৌপথে পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্যকে সমৃদ্ধশালী ও প্রসার ঘটানো সম্ভব হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালের ১৬ জুনে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থায় আশুগঞ্জ বন্দর দিয়ে ‘বাই-মডেল’ পদ্ধতিতে নিয়মিতভাবে ‘ট্রান্স-শিপমেন্ট’ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। মন্ত্রী বলেন, এছাড়া ট্রানজিট মাশুল বাবদ প্রতি মেট্রিক টন পণ্যের জন্য ১৯২ দশমিক ২২ টাকা রাজস্ব অর্জিত হচ্ছে যা জাতীয় অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের নৌপথ অতিক্রম ও বাণিজ্য প্রটোকল ‘পিআইডব্লিউটি এন্ড টি)-এর অনুচ্ছেদ ৩ দশমিক ৩ থেকে ৩ দশমিক ৫ অনুযায়ী নৌরুট সংরক্ষণ বাবদ ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে প্রতি বছর ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ভারত সফরে দু’দেশের মধ্যে বাংলাদেশের যাত্রী পরিবহন সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে যাত্রী ও পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের মাধ্যমে দুদেশের পর্যটন খাত আরো শক্তিশালী হবে। মন্ত্রী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ২০১৫ সালের জুনে বাংলাদেশ সফরকালে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিটিতে নতুন কিছু প্রবিধি সংযুক্ত হয়, যার প্রেক্ষিতে ভারতের ভূখন্ড ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানের সাথে পানিপথ, স্থলপথ ও রেলপথ তিন পথেই বাংলাদেশের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। মাহমুদ আলী বলেন, এ প্রবিধানগুলো অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল ও বাণিজ্য প্রটোকলেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের সঙ্গে যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিতকল্পে বর্তমান সরকারের সময়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এতে করে বাণিজ্য ও জনযোগাযোগ বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ফলশ্রুতিতে দেশ ও জনগণ উপকৃত হচ্ছে। তিনি বলেন, যোগাযোগ সুবিধা বৃদ্ধিকল্পে এসব অব্যাহত বা গৃহীত কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার অধিকতর সুবিধা পাবে। সূত্র : বাসস

'বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সম্পত্তি জব্দে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে'

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের স্থাবর সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব জব্দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংসদে বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। তবে সম্পত্তি জব্দ করার জন্য সুনির্দিষ্ট কী কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দুই দেশে ‘ল ফার্ম’ নিয়োগ করার পাশাপাশি সাজাপ্রাপ্ত খুনিদের অবস্থান চিহ্নিত করতে ছবি সম্বলিত তথ্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে।

আমার রুশ সংযোগের খবর জঘন্য মিথ্যাচার : সেশনস

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ‘গোপন’ বৈঠকের কথা অস্বীকার করেছেন মার্কিন এটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস। মঙ্গলবার কংগ্রেসের সিনেট গোয়েন্দা কমিটির এক শুনানিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কথাবার্তাবিষয়ক প্রশ্নের উত্তর দিতেও রাজি হননি তিনি। খবর বিবিসির। গত বছরের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা চলাকালে রিপাবলিকান শিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ বিষয়ে সিনেট গোয়েন্দা কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেয়ার ঘোষণা দেন সেশনস। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর দাবি, গত বছরের ২৭ এপ্রিল ওয়াশিংটনের মেফ্লাওয়ার হোটেলে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতে সের্গেই কিসলিয়াকের সঙ্গে গোপনে দেখা করেছিলেন সেশনস। রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা স্বীকার করেছেন সেশনস। তবে সেই সাক্ষাৎকার ‘গোপনে’ হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। ওই সময়ের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ট্রাম্পের পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে মেফ্লাওয়ার হোটেলের হওয়া ২৭ এপ্রিলের অনুষ্ঠানে না অন্য কোথাও রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তার দেখা হয়েছে তা মনে করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি দাবি করেছেন, ওই হোটেলে কিসলিয়াকের সঙ্গে তার ‘হয়তো দেখা হয়েছিল’ কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে কোনো বৈঠক হয়নি এবং হোটেলটিতে রাশিয়ার কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কোনো আলাপচারিতার কথা তিনি মনেও করতে পারছেন না। শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনালের আরও বলেন, ক্রেমলিনের সঙ্গে তার আঁতাতের বিষয়ে যে কোনো ইঙ্গিত ‘সাংঘাতিক ও জঘন্য মিথ্যাচার’।
এমন ‘কুৎসিত ও মিথ্যা অভিযোগ’ এর বিরুদ্ধে সম্মান বাঁচাতে লড়ে যাবেন বলেও অঙ্গিকার করেছেন তিনি। গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ছিলেন সেশনস। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী প্রচার কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে এমন কোনো রুশ বা বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে তার দেখা বা কথা হয়নি। তবে এসব কথা পাশাপাশি ট্রাম্পের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কথাবার্তার বিষয়ে করা প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে বারবার অস্বীকার করেন সেশনস। এর আগে একই কমিটির সামনে সাবেক এফবিআই প্রধান জেমস কমি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে রাশিয়ার প্রভাব বিষয়ে তদন্ত করার কারণেই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। সেশনসের পরামর্শেই কমিকে তার পদ থেকে বরখাস্ত করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও বিশ্বাস, ট্রাম্পের বিজয়ী হওয়ার পেছনে রাশিয়ার হাত আছে। যদিও রাশিয়া এবং রিপাবলিকান শিবির শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এ যেন ‘ভৌতিক সিনেমা’

লন্ডন শহরের নর্থ কেনসিংটনে অবস্থিত ‘গ্রেনফেল টাওয়ার’ নামের একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর বেঁচে যাওয়া বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তারা জানান, পুরো ভবনই এখন আগুনের গোলা। ওই ভবনের সাত তলার বাসিন্দা পল মুনাকর কোনোভাবে ভবন থেকে বাইরে বের হয়ে আসেন। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন সিঁড়ি দিয়ে নামছিলাম, তখন দেখলাম দমকলকর্মীরা ওপরে উঠছে। তারা আগুনের মধ্যে ঢুকে যেভাবে পারছে মানুষকে বের করে আনার চেষ্টা করছে।’ তিনি জানান, ভবনে যে আগুন লেগেছে, সেটা কিন্তু তিনি ফায়ার অ্যালার্মের মাধ্যমে বুঝেননি। রাস্তায় থাকা মানুষ চিৎকার করে বলছিল- ‘ঝাঁপ দিও না, ঝাঁপ দিও না’, তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে ভবনে আগুন লেগেছে। তিনি বলেন, ‘আগুন থেকে বাঁচার জন্য কত মানুষ নিচে ঝাঁপ দিয়েছে আমি জানি না। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এটাই যে ভবনের ফায়ার অ্যালার্ম বাজেনি।’ অন্যদিকে জর্ডি মার্টিন নামে আরেকজন জানান, আগুন দেখার পর প্রথমে তিনি দৌড়ে ভবনটির কাছে গিয়ে বাসিন্দাদের বেরিয়ে আসতে বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি একজনকে পড়ে যেতে দেখেছি, শিশু কোলে এক নারীকে দেখেছি জানালার ধারে চিৎকার করছিল...।’ মার্টিন বলেন, ‘আমি সবাইকে বাইরে বের হতে বললেও ভবনে আটকে থাকা লোকজন চিৎকার করে বলছিলেন তাদের বাইরে বের হওয়ার উপায় নেই। কারণ করিডোরের ভেতরের পুরোটা ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছিল সে সময়।’ অন্যদিকে বিবিসির সংবাদদাতা অ্যান্ডি মুর বলেন, ‘ভবন থেকে ধ্বংসাবশেষ পড়তে দেখছি। আমরা বড় বিস্ফোরণের শব্দও শুনেছি। কাচ ভাঙার শব্দও পেয়েছি।’" জর্জ ক্লার্ক নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসি রেডিও ফাইভকে জানান, ‘আমার সারা গায়ে ছাই লেগে গেছে। আগুনটা কত ভয়াবহ হতে পারে চিন্তা করুন। আমি প্রায় ১০০ মিটার দূরে এবং পুরোপুরি ছাইয়ে ঢেকে গেছি। এটা অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। আমি দেখেছি, ভবনের ওপরের দিকে কেউ টর্চ জ্বালাচ্ছিল। তারা অবশ্যই বের হতে পারেনি। হয়তো তারা বেঁচে নেই।’ ভবনের বাসিন্দা আদিব জানান, তিনি, তার তিন কন্যা ও স্ত্রী নয়তলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসতে সক্ষম হয়েছেন। তার মতে, ‘মনে হয়েছিল এটা যেন কোনো হরর মুভি (ভৌতিক সিনেমা)। সব জায়গা থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল।’ আদিব জানান, তিনি ফায়ার অ্যালার্ম শোনেননি। তার মেয়ে তাকে ঘুম থেকে জাগায়। আদিবের জন্মস্থান সিরিয়ায়। তবে ১৬ বছর ধরে তিনি ব্রিটেনে আছেন। লন্ডনের ফায়ার কমিশনার ড্যানি কটন বলেন, ‘এটা একটা নজিরবিহীন ঘটনা। আমার ২৯ বছরের ফায়ার সার্ভিসের জীবনে এই মাত্রার কোনো অগ্নিকাণ্ড দেখিনি।’
বিবিসির সাইমন লেডারমেন জানান, ভবনটি যেভাবে জ্বলছে, তা কয়েক মাইল দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। লন্ডন ফায়ার ব্রিগেডের অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার ডেন ডেলি বলছেন, পরিস্থিতি ভয়াবহ। এমন জটিল পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছেন দমকলকর্মীরা। তিনি বলেন, ‘অনেক বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এটি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।’ আগুনের এ ঘটনার পর লন্ডন পাতাল রেলের হ্যামারস্মিথ এবং সিটি অ্যান্ড সার্কেল লাইন বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, তারা ছাদের ওপর থেকে আলো নাড়ানো দেখেছেন। ভবনে থাকা লোকজন ছাদের ওপর থেকে টর্চের আলো দিয়ে সাহায্যও চেয়েছেন। আর্তনাদও তারা শুনতে পেয়েছেন। দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, প্রত্যক্ষদর্শীরা এ নিয়ে টুইট করছেন। ফাবিও বেবের লিখেছেন, ভবনটির একপাশে যখন আগুন লাগে তখন অন্যপাশ থেকে সাহায্যের জন্য আর্তনাদ ভেসে আসছিল। কেউ কেউ বেডশিটে শরীর ঢেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। অন্যরা নিজেদের অবস্থান জানান দিতে টর্চ লাইট বা মোবাইল ফোনের লাইট জ্বালিয়ে অগ্নিনির্বাপণকারী বা উদ্ধারকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছিলেন। চ্যানেল ফোরের অ্যামেজিং স্পেসেস অনুষ্ঠানের উপস্থাপক জর্জ ক্লার্ক বলেন, আমি সাইরেনের শব্দ শুনতে পেলাম। মনে হল গাড়ির হর্ন বাজছে। ঘটনাস্থল থেকে আমি প্রায় ১০০ মিটার দূরে। কিন্তু ততক্ষণে ছাইয়ে ঢাকা পড়েছি আমি। আমি দেখতে পাই, কেউ ভবনটির একদম উপরতলা থেকে টর্চ জ্বালিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। নিশ্চয় এ মানুষগুলো সেখান থেকে বেরুতে পারেনি। তাদের কী অবস্থা হয়েছে, কেউ বলতে পারছে না এ মুহূর্তে। অভিনেতা, লেখক টিম ডাউনি বসবাস করেন এই টাওয়ারটির পাশেই। তিনি বলেন, মুহূর্তেই পুরো ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সারাটা ভবন গ্রাস করেছে আগুন। ভয়াবহভাবে পুড়ে গেছে এ ভবন। আমার জীবনে আমি এমন ঘটনা দেখিনি। চারদিকে পোড়া গন্ধ। সব কিছু পুড়ছে। আর তাপ? ধারে-কাছে ঘেঁষা যায় না।

আরও ২৫ লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনায় বুধবার আরও ২৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এনডিআরসিসি) জানিয়েছে, এদিন বিকাল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১৪৯ জনে পৌঁছেছে। শুধু পাহাড় ধসে মারা গেছেন ১৪২ জন। এর মধ্যে রাঙ্গামাটিতে ১০৪, চট্টগ্রামে ২৯, বান্দরবানে ৬, কক্সবাজারে ২ ও খাগড়াছড়িতে একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য কারণে বাকি ৭ জন মারা গেছেন। এর আগে মঙ্গলবার ১২৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। বুধবার ক্ষতিগ্রস্ত রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান পরিদর্শনে যান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ত্রাণ সচিব ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা পাহাড় ধসে নিহতদের স্বজন ও দুর্গতদের পাশে থেকে সরকারের তরফ থেকে সব ধরনের সাহায্য প্রদানের আশ্বাস দেন। পাহাড় ধসে মৃত্যুর ঘটনায় শোক জানিয়েছে জাতীয় সংসদ। বুধবার সংসদ অধিবেশনের শুরুতে সংসদের পক্ষ থেকে শোক জানান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন, যারা নিহত হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা। আর যারা আহত হয়েছেন তাদের দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করছি। যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
রাঙ্গামাটি : বুধবার আরও ৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জেলা শহরের ভেদভেদি ও জুড়াছড়ি উপজেলা থেকে এসব লাশ উদ্ধার করেন। সকালে ভেদভেদিছড়া থেকে উদ্ধার করা হয় মাটিচাপা পড়া কুনতিসোন চাকমা (৩৮), তার মেয়ে সান্ত্বনা চাকমার (৯) লাশ। একই সময়ে উদ্ধার করা হয় রূপালী চাকমা (৩২), তার মেয়ে জুঁই চাকমা (১২) ও ঝুমঝুমি চাকমার (৬) লাশ। আলমগীর (৩৮) ও রুবী (৯) নামে ৯ বছর বয়সী এক শিশুর লাশও উদ্ধার করা হয় ভেদভেদি থেকে। বিকাল ৫টার দিকে জুড়াছড়ি উপজেলা থেকে উদ্ধার করা হয় সতীশ চন্দ্র চাকমা (৫০) ও হ্যাপি তঞ্চঙ্গ্যার (৫) লাশ। বিভিন্ন স্থানে আরও অন্তত ১৫-২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। মাটিচাপায় আটকে পড়াদের উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত আছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ বিপর্যস্ত রয়েছে। পাহাড়ের বাসিন্দারা এক প্রকার অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। দুপুরে রাঙ্গামাটির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তারা জেলা প্রশাসন চত্বরে পৃথকভাবে নিহতদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন। ত্রাণমন্ত্রী এর আগে রাঙ্গুনিয়ায়ও ত্রাণ প্রদান করেন ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে। তিনি ত্রাণ নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না বলে জানিয়ে দেন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের। একইভাবে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দুপুরে ত্রাণ সহায়তা প্রদানকালে বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এরই মধ্যে ২৫ লাখ টাকা ও ১০০ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আরও ২৫ লাখ টাকা ও ১০০ টন চাল বরাদ্দ আসবে।
বান্দরবান : বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে শহরের লেমুঝিরি আগাপাড়া এলাকা থেকে শ্রমিক আলমের স্ত্রী কামরুন্নাহার ও  তার মেয়ে সুফিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। সোমবার ভোররাতে মা-মেয়ে পাহাড় ধসের ঘটনায় মাটিচাপা পড়েছিল। এদিকে জেলা সদরের সঙ্গে চট্টগ্রামসহ সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বুধবার পুনরায় চালু হয়েছে। তবে সদর থেকে রুমা ও রোয়াংছড়ি এবং রাঙ্গামাটি জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এসব এলাকার সড়কপথ পাহাড় ধসের মাটিতে তলিয়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীরা। যানবাহন চলাচল উপযোগী করতে কাজ করছে সওজ। বুধবার দুপুরে বান্দরবানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন ওবায়দুল কাদের, মাহবুবউল আলম হানিফ ও পার্বত্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর। এ সময় তারা  দুর্গতদের মাঝে কিছু ত্রাণ বিতরণ করেন। এর আগে তারা জেলা শহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সভায়  দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ত্রাণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। বাবার বুকে মেয়ের জড়িয়ে ধরা লাশ : মঙ্গলবার সকালে রাঙ্গুনিয়ার হোছনাবাদ ইউনিয়নের কানুরখীল গ্রামে ডুবো সড়ক পার হতে গিয়ে একই গ্রামের আশিষ কুমার মজুমদার, তার স্ত্রী অঞ্জনা মজুমদার (৩০), মেয়ে শ্রেয়া মজুমদার (১১) ও একই গ্রামের ডা. দিলীপ কান্তি দে (৪৭) ও ইয়াসমিন আকতার (১৫) পানির ঢলে তলিয়ে যায়। বুধবার সকালে কানুরখীল ব্রিজের পাশে আশিষ মজুমদার ও তার কন্যা শ্রেয়ার লাশ বুকে জড়িয়ে ধরা অবস্থায় পাওয়া যায়। লাশ হওয়া বাবার বুকে মেয়ের লাশের দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উদ্ধারকারীরা। একই এলাকার একটি বিলের দু’পাশ থেকে ডা. দিলীপ কান্তি দে ও ইয়াসমিন আকতারের লাশ উদ্ধার করা হয়। 
চট্টগ্রাম : জেলা  প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পাহাড় ধসে এবং পাহাড়ি ঢলে নদীতে ভেসে গিয়ে চট্টগ্রামে ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া টর্নেডোতে দেয়াল ও গাছচাপা পড়ে, নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে এবং পাহাড়ি ঢলে নদীতে ভেসে গিয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে মাথাপিছু ২০ হাজার টাকা ও ৩০ কেজি চাল এবং আহতদের পরিবারকে নগদ ৫ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের হাইওয়ে পুলিশ জানায়, মহাসড়কের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাটের পূর্বপাশে নতুন ব্রিজ এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাতে পানি নেমে গেলে চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়। হাইওয়ে পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ জানান, চন্দনাইশের পানি সরে গেছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক পুরোপুরি স্বাভাবিক আছে। রাউজানেও পানি সরে গেছে। তবে সমস্যা আছে রাঙ্গামাটিতে। সেজন্য এই মহাসড়কটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
কক্সবাজার ও টেকনাফ : বুধবার রাত আড়াইটার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পশ্চিম সাতঘরিয়াপাড়া পাহাড় ধসে বাবা-মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন আমির হোসেনের ছেলে মো. সেলিম (৪০) ও তার শিশুকন্যা টিপু মনি (৩)। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো পরিবারের সবাই ঘুমিয়েছিল। সেলিম মেয়ে টিসু মনিকে নিয়ে ঘরের বারান্দায় ঘুমায়। সেহরির সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা সেলিমকে ডাকতে গিয়ে দেখে বারান্দায় বাপ-মেয়ে মাটিচাপা পড়ে আছে।    হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, রাতে ভারি বর্ষণ ও বজ পাতে হঠাৎ করে একটি গাছসহ পাহাড়ের অংশবিশেষ ধসে পড়ে। এতে মাটির ঘরের অংশবিশেষে মাটি ও গাছচাপা পড়ে। ওই অংশে সেলিম তার মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক বলেন, কয়েকদিন ধরে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে মাইকিং করা হলেও তারা শুনছে না। নিহত দু’জনের দাফন সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪০ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে।
জিআর চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এনডিআরসিসি) জানিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামের জন্য ৬১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা জিআর ক্যাশ এবং ৮৫১ টন জিআর চাল বরাদ্দ প্রদান করেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। আহতরা পাবেন ১০ হাজার টাকা করে। প্রত্যেক পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হবে। প্রত্যেক আহত পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এসব জেলার আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মোট ৬ হাজার লোক আশ্রয় নিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ করা হচ্ছে।
‘ভূমিকম্প আসছে’ গুজব : ‘ভূমিকম্প আসছে’ বলে চট্টগ্রামে রাতভর গুজব ছড়িয়েছে একটি পক্ষ। নগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রায় এলাকায় মাইকিং করে বলা হয়, রাত একটা থেকে তিনটার মধ্যে ভূমিকম্প হবে, আপনারা ঘর থেকে বের হয়ে যান। রাত দেড়টা পর্যন্ত এভাবে মাইকিং চলতে থাকে। অথচ ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়ার মতো তেমন কোনো প্রযুক্তিই এখনও আবিষ্কার হয়নি। গুজবের কারণে রাতভর আতঙ্কে কাটে মানুষের। পাশাপাশি কেউ কেউ মানুষজনকে এমন খবরে আতঙ্কিত না হয়ে ঘরে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন লেখা পোস্ট করেন। পটিয়া থানার ওসি নেয়ামত উল্লাহও ফেসবুকে এ বিষয়ে লিখে জনসাধারণকে গুজবে কান না দিতে অনুরোধ করেন।
বাবুগঞ্জ (বরিশাল) : রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে নিহতদের মধ্যে তিনজন বরিশালের বাবুগঞ্জের। তারা হলেন- মো. জিয়াউর রহমান খান, তার স্ত্রী কাজল বেগম ও মেয়ে বৃষ্টি (৫)। এ সময় তাদের ছেলে জিহাদ (১০) আহত হয়। তাকে রাঙ্গামাটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের পূর্ব রহমতপুর গ্রামে তাদের বাড়ি। এ ঘটনায় তাদের স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দেশের ভাবমূর্তি বিরোধী কিছু না করতে প্রবাসীদের আহবান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কিছু না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এক সময় বাংলাদেশ ভিক্ষুকের দেশ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য খারাপ নামে পরিচিত ছিল। আমরা এসব পরিস্থিতি মোকাবেলা করে উন্নয়নে রোল মডেলে পরিণত করেছি। কাজেই আপনারা এমন কিছু করবেন না যাতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়।’ বুধবার সুইডেন যাওয়ার পথে লন্ডনে যাত্রাবিরতির সময় বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের উন্নয়ন অনেক বিদেশি নেতাদের কাছে জাদুর মতো। কিন্তু এটা আমাদের জন্য জাদু নয়, দেশের জনগণের সেবার আন্তরিকতা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনকের কন্যা হিসেবে এমনকি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে সোনার বাংলা গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেয়া তার সর্বোচ্চ প্রয়াস। তিনি বলেন, দেশ-বিদেশের প্রতিটি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর দায়িত্ব দেশের উন্নয়ন, দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেয়ার জন্য আত্মনিবেদিত হয়ে কাজ করা। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৬ সালে দারিদ্র্যসীমার হার ছিল ৫০ শতাংশ। এখন তা কমিয়ে ২২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত বছর বাংলাদেশে অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.২ শতাংশ, যা বাংলাদেশের জন্য ছিল খুবই অসাধারণ সাফল্য। তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ভারি বর্ষণের ফলে সৃষ্ট ধারাবাহিক ভূমি ধসে জীবন ও সম্পদহানি এবং লন্ডনে ভয়াবহ আগুনে গভীর মর্মাহত ও দুঃখ প্রকাশ করেন। শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন কাপ ক্রিকেট ট্রুফিতে সেমিফাইনালে উন্নীত হওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সব সদস্য ও অন্যদের ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন কন্যাকে নির্বাচনে জয়ী হতে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেয়ায় যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ কমিউনিটি জনগণকে ধন্যবাদ জানান। এর আগে নবনির্বাচিত লেবার পার্টি কমন্স সভার সদস্য টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক ও রুশনারা আলী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার হোটেল কক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

খালেদার দুই মামলার পরবর্তী শুনানি ২২ জুন

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২২ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসার মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান এ দিন ধার্য করেন। এদিন বেগম খালেদা জিয়া বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালতে হাজির হন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাকে পুনরায় জেরা করেন আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক খান। তার জেরা শেষ না হওয়ায় পরবর্তী জেরার জন্য ২২ জুন দিন ধার্য করেন। অপরদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষের সমর্থনের জন্য একই দিন ধার্য করেন আদালত। আদালত সূত্র জানায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় অপর মামলাটি করে দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।

দেশে ২৫ লক্ষাধিক মানুষ বেকার: পরিকল্পনামন্ত্রী

দেশে বর্তমানে ২৫ লক্ষাধিক মানুষ বেকার রয়েছে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জাহান আরা বেগম সুরমার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট বেকারের সংখ্যা ২৫ লাখ ৮৭ হাজার জন। চট্টগ্রামের নারী এমপি মাহজাবীন মোরশেদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সর্বশেষ আদমশুমারি ও গৃহগণনা ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সে হিসেবে অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৪ কোটি ৯৭ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৪ জন।
২০২১ সালে ষষ্ঠ আদমশুমারি ও গৃহগণনা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে। সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতার এক প্রশ্নের জবাবে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, দেশ থেকে শতভাগ দারিদ্র্য দূরীকরণ, সবার জন্য খাদ্য নিশ্চিতসহ নিম্ন আয়ের জনগণের ভাগ্যের উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ পেরিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ, সুখী এবং উন্নত জনপদে পরিণত করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।’ এর আগে সকালে স্পিকার ড.শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরুর পর প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উত্থাপিত হয়।

প্রেমিকার সঙ্গে বিয়ে না দেয়ায় আত্মহত্যা

নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রেমিকার সঙ্গে বিয়ে না দেয়ার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এক যুবক। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পৌর সদরের পার-গুরুদাসপুর মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত পিয়াস (২০) একই এলাকার টুটুল খলিফার ছেলে। পারিবারিক সূত্র জানায়, পার্শ্ববর্তী বড়াইগ্রাম উপজেলার এক মেয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে পিয়াসের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বুধবার রাতে পিয়াস ওই মেয়েকে বিয়ে করার কথা পরিবারকে জানাতে তারা বিয়ে দিতে অস্বীকার করে। এ কারণেই সকালে পিয়াস গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। গুরুদাসপুর থানার ওসি দিলিপ কুমার দাস জানান, এ বিষয়ে ইউডি মামলা রুজু করা হয়েছে।

টঙ্গীতে গাড়িচাপায় শিশু নিহত, মা আহত

টঙ্গীর আমতলী এলাকায় অজ্ঞাত একটি গাড়িচাপায় সামিয়া নামের দুই বছর বয়সী এক কন্যাশিশু নিহত হয়েছে। এসময় ওই শিশুর মা সাথী বেগম (২৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় মা সাথী বেগমকে উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত শিশু সামিয়া ব্যাংক মাঠ বস্তি এলাকার জীবন মিয়ার মেয়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাথী বেগম তার মেয়ে সামিয়াকে নিয়ে রিকশায় করে ব্যাংক মাঠ বস্তিতে যাচ্ছিলেন। এসময় দ্রুতগতির একটি গাড়ি (অজ্ঞাত) তাদের রিকশাটি চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশু সামিয়ার মৃত্যু হয় এবং তার মা সাথী বেগম আহত হন। পরে এলাকাবাসী গুরুতর আহত অবস্থায় সাথী বেগমকে উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

সুন্দরবনে জেলে অপহরণের চেষ্টা, অস্ত্রসহ আটক ২

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে জেলেদের অপহরণের চেষ্টাকালে চার অস্ত্রসহ ধরা পড়েছে দুই জলদস্যু। তাদের যৌথ বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে বনের মালঞ্চ নদীর কাছে চালতাবাড়িয়া খালে এ ঘটনা ঘটে। আটক জলদস্যু হলেন- শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনীর মনিরুল ইসলাম ও আশাশুনি উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের গোলাম রসুল। শ্যামনগর থানার ওসি সৈয়দ মান্নান আলি জানান, সকাল ৮টার দিকে চালতাবাড়িয়া খালে একদল জলদস্যু নিরীহ জেলেদের ওপর হামলা চালায়। এসময় তারা জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করছিল। জেলেরা তাদের প্রতিহত করার জন্য পাল্টা হামলা করে। এ নিয়ে দু'পক্ষে প্রায় এক ঘণ্টা হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। পরে জেলেদের হাতে ধরা পড়ে দুই জলদস্যু। তাদের কাছ থেকে ১টি বন্দুক, তিনটি কাটা রাইফেল ও ২৫ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়। পরে আটকদের অস্ত্রসহ যৌথবাহিনীর সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আয়ারল্যান্ডের সমকামী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ

আয়ারল্যান্ডের প্রথম সমকামী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সদ্য নির্বাচিত লিও ভারাদকার। নির্বাচিত হবার তেরো দিন পর বুধবার দায়িত্ব বুঝে নেন দেশটির সর্বকনিষ্ঠ এ প্রধানমন্ত্রী। ৩৮ বছর বয়সী লিও ভারাদকার সমগ্র ইউরোপের সর্বকনিষ্ঠ ও প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভুত আয়ারাল্যাণ্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব বুঝে নিলেন। গত ২ জুন প্রাক্তন আইরিশ প্রধানমন্ত্রী এন্ডা কেনিকে হারিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। নির্বাচনে ভারাদকার পেয়েছিলেন ৫৭ ভোট এবং এন্ডা কেনি পেয়েছিলেন ৫০ ভোট। দায়িত্ব নেয়ার পর ভারাদকার জনসাধারণের উদ্দেশে বলেন, আমি যে সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছ তা ডানপন্থী বা বামপন্থী হবে না। তা হবে নিরপেক্ষ।' ভারাদকার ভারতীয় বংশোদ্ভুত আয়ার‌ল্যান্ডের নাগরিক। তার পিতা ছিলেন একজন ভারতীয় ডাক্তার। তিনি কাজের সন্ধানে আয়ারল্যান্ডে যান। সেখানেই বিয়ে করে ঘর বাধেন ভারাদকারের পিতা। মা একজন আইরিশ নার্স। বিজয়ী হবার পর ভারাদকার বলেন, যখন আমার পিতা ৫ হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে আয়ার‌ল্যান্ডে বসতি স্থাপন করেছিল তখন তিনি হয় চিন্তা করেননি যে, তার সন্তান আয়ারল্যান্ডের নেতা হিসেবে বেড়ে উঠবে। এতে প্রমাণ হয় আয়ার‌ল্যান্ডে কোনো কুসংস্কারের স্থান নেই। ভারাদকার দলের প্রধান এন্ডা কেনির ইস্তফা দেয়ার প্রেক্ষিতে দায়িত্ব নিতে দিলেন। এন্ডা কেনি বিগত ১৫ বছর ওই দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ২০১১ সালে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হন। আর ভারাদকার নির্বাচিত হবার আগে সেখানকার সামাজিক সুরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ভারাদকারের বিজয়ের পেছনে তার অতীত ইতিহাস এবং যৌন জীবনের বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বলে গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে। ২০১৫ সালে আয়ার‌ল্যান্ডে সমকামী বিয়ে নিয়ে অনুষ্ঠিত গণভোটের সময় ভারাদকারের সমকামিতার খবর প্রকাশ পায়। ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত সেখানে সমকামিতা ছিল আইনত অবৈধ।

সোমালিয়ায় জঙ্গি হামলায় নিহত ১৮

সোমালিয়ায় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলায় কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার রাতে দেশটির রাজধানী মোগাদিসুর একটি অভিজাত হোটেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এছাড়া হামলার স্থলের পাশের অপর একটি পিজা হাউজে ২০ জনকে জিম্মি করে রেখেছে হামলাকারীরা। জঙ্গিগোষ্ঠী আল শাবাব হামলায় দায় স্বীকার করেছে। খবর রয়টার্স, বিবিসি। দেশটির পুলিশ মেজর ইব্রাহিম হুসেইনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়, পশ হোটেলে চালানো আত্মঘাতী হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই নারী এবং তারা হোটেলটির কর্মচারী। ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা এখনও পাশের পিজা হাউজটির ভেতরে অবস্থান করছে। সেখানে তারা ২০ জনের মতো লোককে জিম্মি করে রেখেছে। তাদের মধ্যে কতোজন বেঁচে আছে বা কতোজন মারা গেছে তা তারা জানে না। মেজর হুসেইন বলেন, সন্দেহ করা হচ্ছে, পিজা হাউজটির সামনে একটি গাড়িবোমা পার্ক করা আছে, এর পাশাপাশি স্নাইপাররা অবস্থান নিয়ে থাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য রেস্তোরাঁটিতে অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্দুকধারীরা রেস্তোরাঁটিতে হামলা চালানোর আগে এক আত্মঘাতী বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে পশ হোটেলের প্রবেশ পথে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়। এদিকে হামলার দায় স্বীকার করে আল শাবাবের সামরিক মুখপাত্র আব্দিয়াসিস আবু মুসাব রয়টার্সকে বলেছেন, গাড়িবোমা নিয়ে পশ হোটেলে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এক মুজাহিদ (যোদ্ধা) শহীদ হয়েছেন, ওই হোটেলটি একটি নৈশক্লাব। অভিযান অব্যাহত আছে।

মুসলিমদের সেহরি বাঁচাল বহু প্রাণ

পশ্চিম লন্ডনে একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অনেকের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছে মুসলিমরা। রোজা রাখতে শেষ রাতে জেগে উঠে তারাই প্রথমে খেয়াল করে গ্রেনফেল টাওয়ারের ভয়াবহ অগ্নিশিখা। ভবনের অভিবাসীরা জানিয়েছে, ২৭ তলা ভবনটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়লেও তারা কোনো সংকেত শুনতে পাননি। তবে আশপাশের প্রতিবেশীরাই প্রথমে আগুন লাগার ঘটনাটা টের পান।
আর তাদের বেশিরভাগই মুসলিম। শেষ রাতে রোজা রাখার জন্যই তারা সেহরি খেতে জেগে উঠেছিলেন এবং তখনই তাদের কেউ কেউ ওই ভবনটিতে আগুন জ্বলতে দেখতে পান। ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, মধ্যরাতের দিকে ভবনটিতে আগুন লাগে। আর এ সময়টাতেই টাওয়ারে বসবাসকারী অধিকাংশ লোক ঘুমিয়ে ছিলেন। মুসলিমরাই প্রথমে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং টাওয়ার থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিতে সাহায্য করেন। ৩৩ বছর বয়সী আন্দ্রে বারোস বলেন, ‘টাওয়ার থেকে লোকজনতে সরিয়ে নিতে মুসলিমরা বড় একটা অবদান রেখেছেন।’ তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে আমি যাদেরকে দেখতে পাচ্ছিলাম, তাদের বেশিরভাগই মুসলিম। ক্ষতিগ্রস্তদের খাবার ও কাপড়-চোপড় দিয়ে সহযোগিতা করছিল তারাই।’ তিনি জানান, টাওয়ারে অনেকেই আটকা পড়েছিল। বহু লোক টাওয়ারে বসবাসসকারী তাদের বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজ করছে।

নিহত ১২ আহত ৭৪ : বাঙালি পরিবার নিখোঁজ

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে একটি বহুতল ভবনে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগুনে কমপক্ষে ৭৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২০ জনের অবস্থা গুরুতর বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে শহরের পশ্চিম অঞ্চলের ল্যাটিমার রোড এলাকার গ্রেনফেল টাওয়ার নামে ওই ভবনে আগুন লাগে। আগুন লাগার সময় ২৭ তলার ওই আবাসিক ভবনের লোকজন ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। এতে বহু মানুষ ওই ভবনে আটকা পড়েন। আটকে পড়া মানুষসহ ভবনটি যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১৯৭৪ সালে নির্মিত আবাসিক এই ভবন নটিংহিলের কাছে অবস্থিত। ভবনে ১২০টি আবাসিক ফ্ল্যাট রয়েছে। ভবনটির ৪র্থ তলা থেকে গভীর রাতে আগুনের সূত্রপাত হয়। দ্রুত আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে।
এ সময় আবাসিক ফ্ল্যাটগুলোতে অধিকাংশ লোকজন ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন লাগার খবরে তারা ফ্ল্যাট থেকে বের হওয়ার জন্য দিগি¦দিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। দরজার কড়া নেড়ে এক বাসা থেকে অন্য বাসায় আগুন লাগার খবর দেন বাসিন্দারা। দ্রুত কিছু মানুষ নেমে আসতে সক্ষম হলেও অধিকাংশ লোকজন আটকা পড়েন। ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়েছে, আগুন লাগার পর অন্তত ৬০০ বাসিন্দা প্রাণ বাঁচানোর জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। মৃত্যু ও দগ্ধ হওয়া থেকে বাঁচতে বহু বাসিন্দা জানালা দিয়ে লাফ দিয়েছেন। কেউ কেউ শিশু সন্তানদের ছুড়ে মেরেছেন। এ সময় চারদিকে শুধু আর্তনাদ ও বাঁচার আকুতি লক্ষ্য করা গেছে। ‘হেল্প হেল্প’ চিৎকারে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। ৪০টি ফায়ার ইঞ্জিন নিয়ে প্রায় ২০০ দমকল কর্মী আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন। ঘটনাস্থলে ২০টির মতো অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। আগুন নেভাতে এখন পর্যন্ত ৪০টি ফায়ার ইঞ্জিন পাঠানো হয়েছে। আগুন লাগার ১২ ঘণ্টা পর এ রিপোর্ট লেখার সময় আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছিল। চারদিক থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছিল। পুলিশ বলেছে, এখনও বহু লোক ভবনে আটকা রয়েছে। তাদের সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে। ভবনটিতে আগুন জ্বলছিল এবং এটি ধসে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগুন লাগার পর থেকে দমকল কর্মীরা বহু মানুষকে উদ্ধার করেছেন। তবে লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলেছেন, বহু মানুষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এক সংবাদ সম্মেলনে লন্ডন দমকল বাহিনীর কমিশনার ড্যানি কটন বলেন, এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। দমকল কর্মী হিসেবে আমার ২৯ বছরের অভিজ্ঞতায় এ ধরনের ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আমি আর দেখিনি। আগুন লাগার কারণ উদঘাটন করা যায়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মধ্যরাতের পর ভবনটিতে আগুন লাগার সময় সেখানে কয়েকশ’ মানুষ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদেও বেশির ভাগই ঘুমাচ্ছিলেন। মেট্রোপলিটন পুলিশ কমান্ডার স্টুয়ার্ট কান্ডি বলেছেন, তিনি ১২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছেন। কিন্তু এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত আহত ৭০ জনের বেশি মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস। এদের শহরের পাঁচটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তারা। আহতদের অন্তত ২০ জনের অবস্থা গুরুতর। এদের মধ্যে বেশির ভাগই অগ্নিদগ্ধ, শ্বাসনালি পুড়ে যাওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে দগ্ধ হয়েছেন। এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ৩০ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানোর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা ছবি ও ভিডিওতে নিচ থেকে পুরো ভবনটিই জ্বলতে দেখা গেছে। বিবিসির একজন প্রতিবেদক ঘটনাস্থল থেকে জানিয়েছিলেন, জ্বলন্ত ভবনটি থেকে বিভিন্ন অংশ খুলে নিচে পড়ছে। সেখান থেকে বিস্ফোরণ আর কাচ ভাঙার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। ভবনটি ভেঙে পড়তে পারে এই আশঙ্কায় পুলিশ আশপাশ থেকে সবাইকে সরিয়ে দিচ্ছে। চ্যানেল ফোরের উপস্থাপক জর্জ ক্লার্ক বিবিসিকে বলেছেন, ভবনটি থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে দাঁড়ানো অবস্থাতেও তার মনে হচ্ছিল তিনি হয়তো ছাইয়ে ঢাকা পড়ে যাবেন। ক্লার্ক জানান, ভবনে আটকা পড়া একজনকে তিনি ওপর থেকে টর্চের আলো দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করতেও দেখেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার খবর শুনে ছয় মিনিটের মধ্যেই প্রথম অগ্নিনির্বাপক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। আগুনের ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণে র বাইরে চলে যাওয়ায় লন্ডনের বিভিন্ন স্থান থেকে আরও অগ্নিনির্বাপক দল যোগ দেয় আগুন নেভানোর এবং ভেতরে আটকা পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে। এ সময় জানালার কাছে দাঁড়িয়ে আগুন থেকে বাঁচার জন্য হাত নেড়ে বাইরের সাহায্য চেয়ে ‘ হেল্প হেল্প’ বলে চিৎকার করতে থাকেন ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা। সাহায্য না পেয়ে প্রাণভয়ে জানালা দিয়ে নিচে লাফ দেন কেউ কেউ। ভবনটির চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয়। আগুন যতই ওপরের দিকে উঠছিল ততই কালো ধোঁয়া আর ছাই আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। প্লাস্টিক পোড়া দুর্গন্ধ আর বিস্ফোরণের বিকট শব্দ তখন শুনতে আশপাশে থাকা লোকজন। আগুন লাগার সময় বহুতল ভবনটির মেইন গেটটি বন্ধ ছিল। বাইরে থাকা গেট ছিল আটকানো। দমকল বাহিনীর লোকজন এসে তা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
ভবন থেকে লাফ দিয়ে পড়ে গুরুতর জখম হয়েছেন অনেকে। ৯ম তলা থেকে এক বাসিন্দা তার নবজাতককে নিচে জনতার উদ্দেশে ছুড়ে মারেন। শিশুটি প্রাণে রক্ষা পেলেও তার মায়ের অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়নি। ভবনের ১১ তলা দিয়ে উদ্ধারকারী দল প্রবেশ করে আটক পড়া লোকদের বের করে আনেন। আগুন থেকে বাঁচতে ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন অনেকে। তাদের কেউ কেউ লাফিয়ে পড়েন। ভবন থেকে উদ্ধার করা লোকদের স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টার, চার্চ, স্কুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সর্বস্তরের মানুষ তাদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসে। আশপাশের ভবনগুলো থেকে অনেকে কম্বল, বালিশ, পানি, শুকনো খাবার নিয়ে ছুটে এসেছেন ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে। বড় বড় সুপার স্টোরও তাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার পাঠিয়েছে। সরকার আশ্রয় নেয়া লোকদের দ্রুত অন্যত্র বাসা খুঁজে দিতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। লন্ডন মেয়র সাদিক খান বলেছেন, ‘ঘটনাটি ভয়াবহ’। ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে তাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। ভবনটি পশ্চিম লন্ডনের নটিংহিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে। এই এলাকা দিয়ে বেশ কয়েকটি হাইওয়ে অন্য শহরে চলে গেছে। শেফার্ড বোস হাইওয়েটির পাশ দিয়ে গেছে। ঘটনার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই হাইওয়েগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পাতাল রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি লাইন ঘটনার পর থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়। ঘটনাস্থলে শতাধিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
বাঙালি পরিবার নিখোঁজ : লন্ডনে আগুন লাগা গ্রেনফেল টাওয়ারে বসবাসরত একটি বাঙালি পরিবারের খোঁজ মিলছে না। ভবনটির একটি ফ্ল্যাটে কমরু মিয়া, তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন। ভবনটির ১৪২ নম্বর ফ্ল্যাটে কমরু মিয়ার পরিবার থাকে বলে তার স্বজনরা জানিয়েছেন। কমরু মিয়ার ভাতিজা ব্রিটেনের চেলসির বাসিন্দা আবদুর রহিম বুধবার গণমাধ্যমকে বলেন, আগুন লাগার পর রাতে তার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে তার টেলিফোনে কথা হয়েছিল। তখন তিনি বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলেন। আবদুর রহিম বলেন, রাত আড়াইটার দিকে তানিমার (হাসনা বেগম তানিমা) সঙ্গে কথা হয়। তার আকুতি এখনও আমার কানে ভাসে। সে বলছিল, ‘আমরা সবাই এখন বাথরুমে, আমাদের বের হওয়ার কোনো উপায় নেই, দোয়া করেন আমাদের যেন কষ্টে মৃত্যু না হয়।’ ৯০ বছর বয়সী কমরু মিয়া বছরখানেক আগে সপরিবারে ওই ভবনে ওঠেন বলে জানান রহিম। কমরুর বড় ছেলে আবদুল হাকিম তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকেন। অন্য দুই ছেলে আবদুল হামিদ, আবদুুল হানিফ ও মেয়ে তানিমা বাবা-মার সঙ্গে থাকেন। তাদের কারও মোবাইল ফোনেই রাত আড়াইটার পর থেকে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে রহিম জানান। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেই এখনও কোনো খবর পাননি বলে রহিম জানান।
লন্ডনে আগুনে হতাহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে আবাসিক ভবনে আগুনে হতাহতের ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সুইডেনের পথে বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের কাছে পাঠানো এক বার্তায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমি গ্রিনফেল টাওয়ারে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় গভীরভাবে দুঃখিত। ফায়ার সার্ভিসের আপ্রাণ প্রচেষ্টায় এ দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস পাবে বলে আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। তিনি এই সংকটকালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে সমভাবে ব্যথিত।

আপনারা সৌদি আরব নাকি কাতারের সঙ্গে

সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ সফররত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের কাছে জানতে চেয়েছেন, পাকিস্তান সৌদির সঙ্গে রয়েছে, নাকি কাতারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জবাবে নওয়াজ শরিফ বলেন, চলমান কাতার সংকটে তারা কোনো পক্ষ নেবেন না। পাকিস্তানি দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউন এ খবর দিয়েছে। কাতারের সঙ্গে সৌদি আরব ও কয়েকটি আরব দেশের কূটনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে নওয়াজ শরিফ সোমবার সৌদি সফরে গিয়ে বাদশাহ সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সফরে নওয়াজের সঙ্গে ছিলেন পাক সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া, অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ। বৈঠকে বাদশাহ প্রধানমন্ত্রীকে কাতার ইস্যুতে সুস্পষ্ট অবস্থান নেয়ার কথা বলেন। এ সময় কাতারকে আরও একঘরে করে ফেলার জন্য সৌদি আরবের পক্ষে অবস্থান নিতে পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। কিন্তু বাদশাহর এ প্রস্তাবে রাজি হননি নওয়াজ। বৈঠকের পর সৌদি রাজপ্রাসাদে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন,
মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার যে কোনো উদ্যোগকে সমর্থন করবে ইসলামাবাদ। তবে পাকিস্তান এমন কোনো পক্ষ নেবে না যাতে মুসলিমবিশ্বে বিভক্তি বেড়ে যায়। সৌদি আরবকে আশ্বস্ত করার জন্য পাকিস্তান আরও বলেছে, চলমান সংকট নিরসনে কাতারের ওপর পাকিস্তানের প্রভাব কাজে লাগাতে পারে ইসলামাবাদ এবং এজন্য পাক প্রধানমন্ত্রী কাতার, কুয়েত ও তুরস্ক সফর করবেন। পাকিস্তানের আরেক কর্মকর্তা জানান, চলমান সংকটের বর্তমান প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সরাসরি মধ্যস্থতা করতে পারছে না বরং কুয়েতের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন দিয়ে তাকে বেগবান করার চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, যদি কুয়েতের উদ্যোগ সফল না হয়, তখন পাকিস্তান ও তুরস্কসহ অন্য কয়েকটি দেশ বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কাজ করবে। এ কর্মকর্তা আরও বলেন, পাকিস্তান কাতারে সেনা পাঠাচ্ছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর শুভেচ্ছার নিদর্শনস্বরূপ পাক প্রধানমন্ত্রী সৌদি সফর করেন। মিথ্যা ওই খবরের কারণে সৌদি আরবের ভেতরে এমন একটি ধারণা তৈরি হচ্ছিল, ইসলামাবাদ কাতারের পক্ষ নিচ্ছে। এদিকে মঙ্গলবার পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, সৌদি সফরের সময় নওয়াজ শরিফ রিয়াদকে নিশ্চিত করেছেন যে, সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি পাক সরকার ও জনগণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৈঠকে বাদশাহ সালমান সৌদি সফরের জন্য নওয়াজ শরিফকে ধন্যবাদ জানান এবং পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তাসহ সব ধরনের স্বার্থের প্রতি রিয়াদের সমর্থনের কথা উল্লেখ করেন।
‘কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধ অমানবিক’ : কাতারের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেয়া পদক্ষেপকে ইসলামী মুল্যবোধের পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশ কাতারকে যেভাবে একঘরে করার চেষ্টা করছে, তার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, কাতারের ওপর এই অবরোধ অমানবিক এবং অনৈসলামিক। খবর বিবিসির। এরদোগান বলেন, কাতারের ক্ষেত্রে এক গুরুতর ভুল করা হচ্ছে। তাদের বিচ্ছিন্ন করার এই চেষ্টা অমানবিক এবং ইসলামী মূল্যোধের বিরোধী। এটা কাতারকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার শামিল। মঙ্গলবার আঙ্কারার ক্ষমতাসীন একে পার্টির এমপিদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ সব কথা বলেন। উপসাগরীর দেশগুলোর মধ্যে কাতারের সঙ্গে তুরস্কের বেশ উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং কাতারকে তারা ওই অঞ্চলের প্রধান মিত্র বলে গণ্য করে। স্বভাবতই কাতারের বিরুদ্ধে অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অবরোধ আরোপের ঘটনায় তুরস্ক বেশ ক্ষুব্ধ। এদিকে কাতারে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একটি সামরিক বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে তুরস্ক। তুরস্কের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার তিন সদস্যের ওই বিশেষজ্ঞ দল কাতার গেছে এবং তারা সেনা মোতায়েনের বিষয়ে সমন্বয় করবে।

খালেদার দুই মামলার পরবর্তী শুনানি ২২ জুন

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২২ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসার মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান এ দিন ধার্য করেন। এদিন বেগম খালেদা জিয়া বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালতে হাজির হন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাকে পুনরায় জেরা করেন আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক খান। তার জেরা শেষ না হওয়ায় পরবর্তী জেরার জন্য ২২ জুন দিন ধার্য করেন। অপরদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষের সমর্থনের জন্য একই দিন ধার্য করেন আদালত। আদালত সূত্র জানায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় অপর মামলাটি করে দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।

নিখোঁজ সেনা সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে নিখোঁজ সেনা সদস্য আজিজুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মানিকছড়ির ৫০ ফুট গভীরে মাটিচাপা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল। গত মঙ্গলবার মানিকছড়িতে পাহাড় ধসের ঘটনায় উদ্ধার অভিযানে গিয়ে মাটি সরানোর সময় মাটিচাপা পড়ে নিখোঁজ হন সেনাবাহিনীর এই সদস্য। তিনি রাঙ্গামাটির মানিকছড়ি রিজিয়নে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি মাদারীপুরে। ওই দিন পাহাড় ধসে সেনাবাহিনীর দুই কর্মকর্তাসহ চার সেনা সদস্য নিহত হন। নিহতরা হলেন- মেজর মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, ক্যাপ্টেন মো. তানভীর সালাম শান্ত, কর্পোরাল মোহাম্মদ আজিজুল হক ও সৈনিক মো. শাহিন আলম। এছাড়া এ ঘটনায় মাটিচাপা থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল আরও ১০ সেনা সদস্যকে। তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের ঢাকা সিএমইচে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত রোববার থেকে টানা দু'দিন প্রবল বর্ষণে মঙ্গলবার ভোররাত ৪টার পর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই জেলায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত পাহাড় ধসের ঘটনায় ৫ সেনা সদস্যসহ ১৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ও বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এ ঘটনায় ওই সব জেলায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।