Wednesday, August 8, 2018
দেখুন নায়িকাদের আসল চেহারা

দীপিকা পাড়ুকোন: মেক আপ ছাড়া দীপিকাকে আর পাঁচ জন সাধারণ ভারতীয় মেয়ের মতোই দেখতে, এমনটাই বলেন অনেকে।
কঙ্গনা রানাওয়াত: মেক আপ ছাড়া, ততটাও কি গ্ল্যামারাস লাগছে ‘তন্নু ওয়েডস মন্নু’ নায়িকাকে? যদিও কোঁকড়ানো চুলের জন্য চিনতে অসুবিধা হচ্ছে না।
কাজল: মেক আপ ছাড়া কাজলকে দেখে অনেকেই চিনতে পারেননি। কেউ বলেছেন, ইনি কাজল হতেই পারেন না!
বিপাশা বসু: ইনি কি বলিউড ডিভা? বিপাশার এই নো মেক আপ লুক দেখে চমকে উঠেছিলেন অনুরাগীরা।
সোনম কপূর: বলিউড ফ্যাশনিস্তা সোনমকে এক্কেবারে পাশের বাড়ির মেয়েটির মতো দেখতে মেক আপ ছাড়া। আলাদা করে চোখে পড়ে না, বলেছেন নিন্দুকেরা!
নেহা ধূপিয়া: মেপ আপ ছাড়া বেশ সাদামাটা লাগে প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়াকে। (২০০২)
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া: পিগি চপসের মেক আপ ছাড়া লুক নাকি এক্কেবারে পছন্দ হয়নি অনেকেরই।
সূত্র- আনন্দবাজার
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দু’টি শব্দের কারণেই কানাডার সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদ সৌদির?

খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহে কানাডা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, সৌদি আরবে পদকজয়ী মানবাধিকার কর্মী সামার বাদাওয়িসহ নারী ও মানবাধিকার কর্মীদের গ্রেপ্তার নিয়ে দেশটি ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’
পরবর্তীতে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বলেন, সামার বাদাওয়িকে গ্রেপ্তারের খবরে কানাডা খুবই উদ্বিগ্ন। সামার আরেক কারান্তরীণ সৌদি ব্লগার রাফি বাদাওয়ির বোন। সামারের সঙ্গে আরেক প্রখ্যাত অ্যাক্টিভিস্ট নাসিমা আল সাদাকেও আটক করে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
ফ্রিল্যান্ড বলেন, ‘কানাডা এই কঠিন সময়ে বাদাওয়ি পরিবারের সঙ্গ আছে। আমরা রাইফ ও সামার বাদাওয়ির মুক্তির জোর দাবি জানাই। আমি সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতি তৎক্ষণাৎ এই দুইজনসহ সকল অ-সহিংস মানবাধিকার কর্মীকে মুক্তির আহ্বান জানাই।’
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে অবশ্য দু’টি শব্দ নিয়ে বিশেষভাবে আপত্তি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘কানাডার বিবৃতিতে ‘তৎক্ষণাৎ মুক্তি’ শব্দদ্বয়ের ব্যবহার দু’ দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুঃখজনক, নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য।’
খবরে বলা হয়, কানাডার সঙ্গে এই কূটনৈতিক অবনমন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন ঘটায়। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টুইট বার্তায় বলেছে, ‘কানাডার অবস্থান সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রকাশ্য ও সরাসরি হস্তক্ষেপ। এটি সৌদি আরবের আইন ও নিয়মনীতির ভয়াবহ ও অগ্রহণযোগ্য লঙ্ঘণ।’
গত সপ্তাহে ওই দুই মানবাধিকারকর্মীকে আটক করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, নারী অধিকার আন্দোলনের ওপর নজিরবিহীন সরকারি দমনপীড়নের ভুক্তভোগী এই দুই অ্যাক্টিভিস্ট। এর আগে প্রায় এক ডজন নারী অধিকার কর্মীকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘণ ও রাষ্ট্রের শত্রুদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ আনা হয়। এদের কয়েকজনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
খবরে বলা হয়, ৩২ বছর বয়সী প্রিন্স মোহাম্মদ ক্রাউন প্রিন্স হওয়ার পর থেকেই তিনি আক্রমনাত্মক পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি, ভিন্নমতের ওপর দমনপীড়ন বৃদ্ধি ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছেন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সমালোচক পশ্চিমা সরকারগুলোর প্রতি কড়া বার্তা পাঠাতেই কানাডার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব।
কানাডার ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বেসমা মোমানি বলেন, ‘অন্যান্য পশ্চিমা দেশের তুলনায় কানাডার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করা সহজ। দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্ক নেই। ফলে ফাঁকতালে বিপদে পড়েছে কানাডায় পড়াশোনারত হাজার হাজার সৌদি শিক্ষার্থী।’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কে এই শহীদুল আলম

বিশ্বের সব বড় বড় পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে তার ছবি ছাপা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে নানা অ্যাসাইনমেন্টের কাজে তাকে নিয়মিত নিয়োগ দিয়ে থাকে খ্যাতনামা সব প্রকাশনা। লন্ডনের দ্য গার্ডিয়ান তার গ্রেপ্তারের সংবাদে লিখেছে, নিজের চারদশকব্যপী ক্যারিয়ারে শহিদুলের ছবি নিউ ইয়র্ক টাইমস, টাইম ম্যাগাজিন ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকসহ প্রত্যেক খ্যাতনামা পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে ছাপা হয়েছে।
মাহফুজ আনাম লিখেছেন, দেশের ফটোসাংবাদিকতায় পেশাদারিত্ব আনয়নে আর যে কারও চেয়ে অনেক বেশি কাজ করেছেন শহিদুল আলম। তার হাতে প্রশিক্ষিত হয়েছেন শ’ শ’ ফটোসাংবাদিক। নিজের ব্যক্তিগত উদাহরণ ও অনুপ্রেরণার মাধ্যমে তিনি হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে এই পেশায় আকৃষ্ট করেছেন। আজ যে বহু বাংলাদেশি ফটোসাংবাদিক বৈশ্বিক প্রকাশনায় নিজের ছবি ছাপানো কিংবা আন্তর্জাতিক পদক লাভের বাসনা লালন করেন, তার কারণ সম্ভবত কেবল তিনিই।
শহিদুল পদকজয়ী ফটোএজেন্সি দৃক প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত ‘পাঠশালা’ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে প্রখ্যাত ফটোগ্রাফি স্কুল। এই স্কুলে পড়তে বিদেশ থেকে শিক্ষার্থী ও অতিথি শিক্ষকরা আসেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক ইন্সটিটিউট ও সাউথ এশিয়ান ইন্সটিটিউট অব ফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠা করেছেন। দৃক ও পাঠশালা - দুই প্রতিষ্ঠানই তিনি গড়েছেন নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে।
তার সবচেয়ে সফল সৃষ্টি হলো ছবি মেলা। এই আন্তর্জাতিক চিত্রপ্রদর্শনীতে বিশ্বের সব জায়গা থেকে কাজ জমা পড়ে। অংশ নিতে ঢাকায় আসেন বিশ্বের সেরা সব ফটোগ্রাফাররা। ২০০০ সালে শুরু হওয়া এই চিত্রপ্রদর্শনীর প্রথম থিম ছিল ‘যেই যুদ্ধ আমরা ভুলে গেছি।’ এটি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও গণহত্যা নিয়ে সবচেয়ে সফল চিত্রপ্রদর্শনীর একটি।
১৯৮৩ সালে তিনি হার্ভে হ্যারিস ট্রফি জেতেন। ১৯৯৩ সালে তথ্যচিত্রের জন্য জিতে নেন মাদার জোন্স পদক। ‘৯৮-এ তিনি আন্দ্রে ফ্রাঙ্ক ফাউন্ডেশন ও হাওয়ার্ড চ্যাপনিক অ্যাওয়ার্ডস লাভ করেন। ২০১৪ সালে শিল্পকলা পদক ও ২০১৭ সালে চীনের ডালি ইন্টারন্যাশনাল চিত্রপ্রদর্শনীতে আজীবন সম্মাননা লাভ করেন। এই বছর তিনি পান লুসি ফাউন্ডেশন হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাওয়ার্ড।
চিত্রগ্রাহক হওয়ার পাশাপাশি তিনি লেখক, কিউরেটর ও অ্যাক্টিভিস্ট। ২০০৭ সালে তিনি কাশ্মীরের ভূমিকম্প নিয়ে ‘নেচার’স ফিউরি’ ও দক্ষিণ এশিয়ায় এইচআইভি/এইডস নিয়ে ‘পোর্ট্রেইট অব কমিটমেন্ট’ শীর্ষক দুটি বই লিখেন। তার লেখা বই ‘মাই জার্নি অ্যাজ অ্যা উইটনেস’ সম্পর্কে লাইফ ম্যাগাজিনের সাবেক পিকচার এডিটর জন মরিস লিখেছেন, কোনো চিত্রগ্রাহকের লেখা সর্বকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বই এটি।
লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্গানিক কেমিস্ট্রি নিয়ে পিএইচডি আছে তার। যুক্তরাজ্যের সান্ডারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইউসিএলএ) তিনি ভিজিটিং প্রফেসর। এছাড়া হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি লেকচারার ছিলেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ দিতে পারেন মোদি by অভিজিৎ মজুমদার

ছোট ছোট স্কুলশিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছে একটি সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে হাসিনা সরকারের ঔদ্ধত্য ও একগুঁয়েমির প্রতিবাদে। ওই দুর্ঘটনায় অন্তত দুই স্কুলশিক্ষার্থী নিহত হয় এক মন্ত্রীর আত্মীয়ের বাসের নিচে চাপা পড়ে। এমন দুঃখজনক ঘটনা ওই মন্ত্রী হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
সরকারের চাপে মৌন গণমাধ্যম পর্যন্ত ভয়াবহ সব ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে, পুলিশ ও ছাত্রলীগের (আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন) কর্মীরা নির্দয়ভাবে শিশুদের লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছে। তাদের চুল ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
এই ধরপাকড়ে শ’ শ’ শিশু আহত হয়েছে। মৃত্যু নিয়েও জল্পনা রয়েছে। ওই মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলার বদলে, রাষ্ট্রযন্ত্র কিশোরদের ওপর আরো বেপরোয়া নির্যাতন কায়েম করেছে। সঙ্গে ছিল ফাঁপা জনসংযোগ (পাবলিক রিলেশন্স) চেষ্টা। ক্রিকেট অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের মতো অনেক প্রখ্যাত নাগরিককে এই প্রচেষ্টায় যুক্ত করে শিশুদের প্রতিবাদ বন্ধ করতে বলা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মানুষের ক্ষোভ ভাইরাল হয়ে যাওয়ার কারণে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়ার খবরও আছে। ফলাফল কী হলো? আরো বেশি শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমেছে। তাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরাও।
স্কুল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই ধরনের পাষাণ আচরণ দুনিয়ার ন্যায়নীতির বালাইহীন কিংবা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশেও নজিরবিহীন। আর হাসিনা ভবিষ্যৎ ভোটারদের গোটা এক প্রজন্মকেই শত্রুভাবাপন্ন করে তোলার ঝুঁকিতে আছেন।
এই ক্ষোভ কিন্তু একদিনে তৈরি হয়নি। তিক্ত দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদ ঘটে যেমন দৃশ্যত ছোট ছোট কারণ থেকে, তেমনে এটাই সম্ভবত বাংলাদেশের চরমসীমা।
হাসিনা সরকারের জনপ্রিয়তা তলানিতে। শিশু আন্দোলনের আগে থেকেই সরকারের প্রতি জনসমর্থনের হার (অ্যাপ্রুভাল রেটিং) ২০ শতাংশেরও কম বলে জানায় ভারতের গোয়েন্দা সূত্রগুলো।
সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো চিন্তা ছাড়াই এক দশক নির্বিঘেœ পার করার পর সরকার দৃশ্যত দুর্নীতি ও আত্মতুষ্টির কাদায় ডুবে গেছে। প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে শুরু করে সাধারণ আমলাতান্ত্রিক কাজে লাগামহীন দুর্নীতির বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে। কিছু ক্ষেত্রে ঘুষের হার ৩০ শতাংশের মতো। আর ভারতীয় সূত্রগুলো বলছে, শাসক পরিবারের একটি অংশের বেছে নেয়া সহযোগীরা সর্বোচ্চ স্তর থেকে এসব নিয়ন্ত্রণ করছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল দুর্নীতির সূচকে ১৭৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে ১৪৩ স্থানে রেখেছে। বিশ্বব্যাংকের বৈশ্বিক সুশাসন সূচকে দুর্নীতি বিরোধী লড়াইয়ে বাংলাদেশ ১০০-তে ২০.৬ নম্বর পেয়েছে।
বিভিন্ন প্রকল্পে চীনের ঋণ আর উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদদের দেয়া ঘুষে রাষ্ট্রযন্ত্র ভেসে গেছে। এসবের পরিণতি কী হয় শ্রীলঙ্কা কিন্তু হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। দেশটি এখন রাজস্বের বিরাট অংশ সুদ দিচ্ছে চীনকে। চীনের এ ধরনের ঋণ পাকিস্তানকে কার্যত দেশটির কলোনিতে পরিণত করেছে।
১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হাসিনা সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে। হলি আর্টিজান বেকারি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। ইসলামী ব্যাংকে জামায়াতের কাঠামো গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে কট্টরপন্থি হেফাজতে ইসলামকে প্রকাশ্যে আলিঙ্গন করা আর জামাতের সঙ্গে গোপন সখ্য এসব সাফল্যকে নষ্ট করেছে।
হাসিনার আমলেই শ’শ’ হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু হত্যা, আক্রমণ, ধর্ষণ, ধর্মান্তরকরণ, ভিটা থেকে উচ্ছেদ হচ্ছেন প্রতি বছর। এসবের পেছনে প্রায়ই আওয়ামী লীগেরই সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকে।
বাংলাদেশে ভারতকে ক্রমেই এমন শক্তি হিসেবে ভাবা হচ্ছে যেটি কিনা হাসিনার সরকারকে অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখছে। মানুষের আশঙ্কা হলো শাসকগোষ্ঠীর ঔদ্ধত্যের নেপথ্যে এই বিষয়টিই রয়েছে যে ভারত নিজের শক্তি ও অর্থ দিয়ে আগামী নির্বাচনগুলোতেও জনরোষ থেকে দলটিকে রক্ষা করবে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, হাসিনা সরকার যতই জনসমর্থন হারাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইমেজও বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষুণœ হচ্ছে।
ভারতের জন্য এটি কি সহনীয় কিছু? একটি ভীষণ অজনপ্রিয় শাসকগোষ্ঠীকেÑ যেটিকে কিনা এখন শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা করতে দেখা যাচ্ছেÑ সেটিকে প্রশ্নহীন সমর্থন দিয়ে যাওয়ার জন্য কেবল পাকিস্তানপন্থি বিএনপি ও জামাতের জুজুই কি যথেষ্ট?
প্রশ্নহীনভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হলেও অসুস্থ ও বার্ধক্যগ্রস্ত খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোটাও শাসক দলের পক্ষে যায়নি। কারণ, মানুষ তাকে এখন সহানুভূতির চোখে দেখছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, ঢাকায় আমাদের সবচেয়ে বড় মিত্রটি আসলে কতটা অঙ্গীকারাবদ্ধ? ভারত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনেকদিন ধরেই হাসিনা সরকারকে দুর্নীতি নিয়ে মানুষের ব্যাপক ক্ষোভ থাকার ব্যাপারে সতর্ক করে আসছে। তবে এতে তেমন সাড়া মিলেনি।
ভারতের উদ্বেগ সত্ত্বেও প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো ও রাজনীতিতে চীনের অর্থের প্রবাহ কমেনি এতটুকু। তবে সম্ভবত শাসকগোষ্ঠীর সবচেয়ে কুটিল বিশ্বাসঘাতকতা হলো জামায়াত, ইসলামী মৌলবাদ ও সংখ্যালঘু সুরক্ষা নিয়ে ডাবল-গেম খেলা। ফলে খুব ধীরে হলেও দৃশ্যমান হচ্ছে অস্বস্তিকর একটি চিত্র।
জানুয়ারিতে স্থানীয় পত্রিকাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট নামে একটি সংখ্যালঘু অধিকার গোষ্ঠী জানিয়েছে, ২০১৭ সালে ১০৭ জন হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে। ৩১ জন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে। ২৩৫টি মন্দিরে ভাঙচুর করা হয়েছে। ২০১৬ সালের চেয়েও এই সংখ্যা অনেক বেশি। ওই বছর ৯৮ জনকে হত্যা ও ১৪১টি মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে। এসব হামলার বেশিরভাগেই সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগ সদস্যদের বিরুদ্ধে।
জামায়াতের বেশ কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীকে ফাঁসিতে ঝোলানোয় প্রশংসার যোগ্য হাসিনা সরকার। তবে মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদির মৃত্যুদ- রহস্যজনকভাবে কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি কারাগার থেকে জামায়াতের কর্মকা- পরিচালনা করছেন।
সাম্প্রতিক সিলেট সিটি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে লড়েছিলেন। কেউ কেউ বলছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে পরোক্ষ বোঝাপড়ার মাধ্যমেই জামায়াতের এক নেতা প্রার্থী হন। যাতে করে ভোট তিনভাগে ভাগ হয়ে বিএনপি পরাজিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য বলা হচ্ছে, নির্বাচন শুরুর আগেই প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি ভুয়া ভোট দেয়া ছিল। এরপরও বিএনপি প্রার্থী জিতে যায়। এতটাই তলানিতে ঠেকেছে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা।
মার্চে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনেও ব্যাপকভাবে জয়ী হন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা। সামনের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি যাতে জামায়াতের আন্ডারগ্রাউন্ড সমর্থন না পায়, সেজন্য কি হাসিনা জামায়াতকে সাধারণ অবস্থায় ফিরতে দিচ্ছেন?
ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম। ঢাকায় অস্থিতিশীল ও খুবই অজনপ্রিয় সরকার টিকিয়ে রাখার সাধ্য আমাদের নেই। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, ভারতের সামনে বিকল্পও খুব কম।
পাকিস্তান প্রীতি বিএনপির ডিএনএতে আছে। জিয়ার নির্বাসিত ছেলে তারেক রহমান হয়তো ভারতের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ চ্যানেল তৈরি করতে চান। তার মায়ের পুরোনো রাজনীতি সহসাই নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হবে এমন সম্ভাবনা কম। সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচএম এরশাদের জাতীয় পার্টিকে ভাবা হয় আওয়ামী লীগের বি-টিম হিসেবে। এরশাদ বয়স্ক। নেই তার সুস্পষ্ট উত্তরসূরি রেখে যাওয়ার পরিকল্পনা। ফলে তার ওপর দীর্ঘমেয়াদে বাজি ধরতে ভারত দু’বার ভাববে।
সকল উদ্বেগ সত্ত্বেও ভারত সব সময় চেয়ে এসেছে হাসিনা সফল হোন। কিন্তু এখন সেটা দূরকল্প মনে হচ্ছে। নব ভারতের উদয় হয়েছে গণআন্দোলন এবং দুর্নীতি ও বংশীয় অভিজাতদের বিরুদ্ধে জনপ্রিয় আন্দোলনের মাধ্যমে। এভাবেই জাতীয় রাজনীতিতে আবির্ভাব ঘটেছে মোদি ও অরভিন্দ কেজরিওয়ালের মতো নেতাদের। তারা পেরেছেন জনমানসকে ধারণ করতে। নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে দাবি করেছেন দেশপ্রেম, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
বাংলাদেশও হয়তো সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি। একটি নতুন, মেধাভিত্তিক ও দেশপ্রেমী ভারতের প্রতিনিধি যেই মোদি, সেই তিনি হয়তো বাংলাদেশে আমাদের প্রভাবকে ব্যবহার করে একটি নতুন নেতৃত্বের উত্থানে সহায়তা করতে পারবেন। পেছনে থেকে যাবে বিবদমান পরিবারতন্ত্র ও এর ফলভোগী দুর্নীতিগ্রস্ত এলিটরা।
এই উত্তাল সময়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা বাইরে থেকে হয়তো সম্পূর্ণ আনকোরা ও গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন নতুন নেতার আবির্ভাব হতে পারে। এখনই ভারতের গোয়েন্দাদের নিজেদের ঘ্রাণ শোঁকার ক্ষমতা সর্বোচ্চ ব্যবহার করার সময়। যাতে করে ভারতের নেতৃত্ব ভবিষ্যৎ নেতাদের চিহ্নিত করতে পারে ও বাংলাদেশকে দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীনতা অর্জনে সহায়তা দিতে পারে।
(অভিজিৎ মজুমদার ভারতের মাইনেশন.কম নামে একটি ডানঘেঁষা সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইটের সম্পাদক। এটি মাইনেশন.কমে প্রকাশিত তার নিবন্ধের অনুবাদ।)
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশ্বজুড়ে ভারতীয়রা চাকরির শীর্ষপদে কেন? by মো. সামসুল ইসলাম

গত ফেব্রুয়ারিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সংসদে জানান, মোট ৮৫ হাজার ৪৮৬ জন বিদেশি বাংলাদেশে বৈধভাবে কাজ করছেন। তার মধ্যে শীর্ষে ভারতীয়রা। যার সংখ্যা ৩৫ হাজার ৩৮৬ জন। এরপরে ১৩ হাজার ২৮৬ জন চাইনিজ নাগরিক বাংলাদেশে কাজ করছেন। এছাড়া জাপানি, কোরিয়ান, মালয়েশিয়ান, শ্রীলঙ্কানরা রয়েছেন। গত মে মাসে একটি ইংরেজি জাতীয় পত্রিকা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে উদ্ধৃত করে জানায়, প্রতিবছর বিদেশিরা পাঁচশ’ কোটি ডলার বাংলাদেশ থেকে তাদের দেশে পাঠান। অন্যদের তুলনায় ভারতীয়দের সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাদের দেশেই যে বেশিরভাগ অর্থ যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।
তবে এখানে আমি শুধু সরকারি হিসাব মতে বৈধভাবে যারা বাংলাদেশে কাজ করছেন, তাদের কথাই উল্লেখ করেছি। বেসরকারি হিসাব মতে, বাংলাদেশে অবৈধভাবে কর্মরত বিদেশিদের সংখ্যা এবং তাদের দেশে পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ আরও অনেক বেশি। তা নিয়ে দেশের মিডিয়ায় নিয়মিত লেখালেখি হচ্ছে।
আমি নিজেও সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় ও ফেসবুকে বাংলাদেশি তরুণদের চাকরি সংকটের কারণ এবং শিক্ষার সঙ্গে চাকরিকে সম্পর্কিত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে লেখালেখি করেছি। তবে এখানে একটু ভিন্ন প্রসঙ্গ আলোচনা করতে চাই। যদিও ভারতীয়রা বাংলাদেশে গার্মেন্টস, আইটি, বায়িং হাউজসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ে উচ্চপদে কর্মরত বা টপ ম্যানেজমেন্টের অংশ, তবে অনেকেই হয়তো জানেন যে, তারা শুধু বাংলাদেশেই উচ্চপদে চাকরি করছেন, তা নয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন বহুজাতিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসহ বহুপাক্ষিক সংস্থার সিইও বা প্রধান নির্বাহীসহ বিভিন্ন উচ্চপদেও ভারতীয়দের জয়জয়কার। তাই আমাদের তো অন্তত জানা উচিত, কেন আমাদের তরুণরা দেশে-বিদেশে চাকরিতে পিছিয়ে অথচ ভারতীয়রা কেন এক্ষেত্রে সফল হচ্ছেন। এ অভিজ্ঞতা তো আমাদের তরুণদের চাকরিপ্রাপ্তিতে কাজে লাগাতে পারি।
ভারতীয়দের প্রধান নির্বাহী বা এ রকম পদে চাকরিপ্রাপ্তির প্রবণতা শুরু হয়েছে কিন্তু বেশ আগে থেকেই। ২০১১ সালের আগস্টে টাইম পত্রিকায় India’s Leading Export: CEOs শীর্ষক এক মজাদার নিবন্ধে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোতে ভারতীয়দের প্রধান নির্বাহীদের তালিকার কারণগুলো অনুসন্ধানের চেষ্টা করা হয়। এ সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। এই মুহূর্তে বিশ্বখ্যাত কোম্পানিগুলোর ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিইও’র তালিকায় রয়েছেন—সুন্দর পিচাই, সিইও গুগল; সত্য নাদেলা, সিইও মাইক্রোসফট; অজয় পাল সিং বঙ্গ, প্রেসিডেন্ট এবং সিইও, মাস্টারকার্ড; রাজীব সুরি, সিইও, নোকিয়া; শান্তনু নারায়েন, সিইও, আডোবে সিস্টেমস; রাকেশ কাপুর, সিইও রেকিট বেংকিসার; জর্জ কুরিয়ান, সিইও, প্রেসিডেন্ট ও ডিরেক্টর নেটএপ; দীনেশ পালিওয়াল, প্রেসিডেন্ট ও সিইও, হারমান ইন্টারন্যাশনাল; সঞ্জয় মেহরোত্রা, সিইও, মাইক্রন টেকনোলজি; ইন্দ্রা নুইয়ি, চেয়ারম্যান ও সিইও, পেপসিকো; ফ্রান্সিস্কো ডি সুজা, সিইও, কগনিজ্যান্ট। এ তালিকা আরও দীর্ঘ ও বিস্ময়করই বটে। আর যারা ইতোমধ্যে তাদের মেয়াদ শেষ করেছেন বা পদত্যাগ করেছেন, তাদের তো এ তালিকায় অন্তর্ভুক্তই করা হয়নি।
শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা দেশগুলোতে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবস্থাপক হিসেবেও ভারতীয়রা শীর্ষে রয়েছেন। ফোর্বস মিডল ইস্টে দেখলাম আরব দেশগুলোতে ২০১৮ সালে বিভিন্ন জাতীয় ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে সিইও, প্রেসিডেন্ট বা সমপর্যায়ের ৫০ জন ভারতীয়দের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এসব তালিকা যেকোনও ভারতীয়কেই গর্বিত করবে। এক্ষেত্রে তারা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী চীনাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছেন।
তবে বিদেশে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিইওদের প্রশংসা করা এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। আমরা দেখতে চাইছি ভারতীয়দের কী গুণ তাদের বিশ্বজুড়ে ব্যবস্থাপক হিসেবে বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করছে, যার ফলে তারা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শীর্ষপদে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন?
তবে কেন যে ভারতীয়রা শীর্ষপদগুলো দখলে এগিয়ে তা নিয়েও আছে বিস্তর বিতর্ক। প্রথমেই যে বৈশিষ্ট্য ভারতীয় সিইওদের মধ্যে দেখা যায়, তা হলো তাদের বেশিরভাগই পশ্চিমা টপ র্যাংকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা। আবার অনেকেরেই রয়েছে আইটি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনও বিষয়ের সঙ্গে এমবিএর ডিগ্রির সমন্বয়। পড়াশোনার কারণে তারা যে চাকরির শীর্ষপদে যাচ্ছেন, তা হয়তো একটি অন্যতম কারণ। কারণ তারা পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালগুলোতে অধ্যাপনাতেও ভালো করছেন। যেমন নীতিন নোহরিইয়ার কথা বলা যায়। যিনি হার্ভাড বিজনেস স্কুলের বর্তমান ডিন।
ইংরেজিতে বিশেষ পারদর্শিতাসহ ভারতীয়দের যোগাযোগ দক্ষতার ব্যাপারে সবাই একমত। ইংরেজি ভাষায় ভারত যেমন এগিয়ে রয়েছে, তেমনি বিশাল ও বহুসংস্কৃতির দেশ হিসেবে তাদের আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগে বেশ দক্ষতা রয়েছে। এমনকী চাইনিজরাও স্বীকার করেন যে, তারা এ বিষয়ে ভারতীয়দের চেয়ে পেছনে পড়ে রয়েছেন। ভারতীয়রা সহজেই পশ্চিমাদের বা অন্য সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে পারেন। বৈচিত্র্য তো ভারতীয় সংস্কৃতির অংশ। ভারতীয় ব্যবস্থাপকরা বলেন, আমরা যখন একটা ওয়েবসাইট বানাই, তখন বুঝি এটি বহু ভাষার হতে হবে। একক সংস্কৃতির কারণে যেটা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার লোকজন করে না।
এক চাইনিজ লেখক ভারতীয়দের ব্যবস্থাপনায় সফলতার এক ভালো ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলছেন, ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ভারতীয়দের জটিল অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে (যেমন ভিন্ন ভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, ভাষা ও ধর্ম) ভয়াবহ ব্যবস্থাপনার সংকট দেখা যায়, যার ফলে তারা ব্যবস্থাপনার দিকে অতিমাত্রায় মনোযোগী হন। তারা এখন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে পেশাগত জ্ঞানের সমন্বয় ঘটাচ্ছেন এবং এর ফলে ভালো করছেন।
এছাড়া বিরূপ পরিস্থিতিতে, স্বল্প বাজেটে কাজ করতে অভ্যস্ত ভারতীয়রা। বিশেষজ্ঞদের মতে তারা ‘বাইফোকাল এপ্রোচে’ কাজ করেন অর্থাৎ একই সঙ্গে তারা প্রতিদিনের আয় থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যান। কোম্পানির লাভের দিকে তাদের থাকে সতর্ক দৃষ্টি। ব্যবসায়ের সব দিকেই তারা খেয়াল রাখেন। তারা প্রকৃত অর্থেই একটি প্রতিষ্ঠান গড়তে পারেন।
যদিও ব্যক্তিগতভাবে আমি ব্যবসায়ী নই, পেশাগতভাবে আমি এ পর্যন্ত গবেষণা বা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে এসেছি, তবু ভারতীয়দের সঙ্গে সাম্প্রতিক একটি ব্যবসায়িক আলোচনার অভিজ্ঞতায় আমি তাদের প্রফেশনালিজম সম্পর্কে কিছুটা আঁচ করতে পেরেছি। বেশ কয়েকমাস আগে এক বিশ্বখ্যাত শিক্ষা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি খ্যাতনামা ভারতীয় প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলাদেশে ফ্রাঞ্চাইজ বা বিজনেস পার্টনার চেয়ে পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। যেহেতু শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যবসা তাই আমি আগ্রহ প্রকাশ করে আমার সিভি পাঠিয়ে দেই। সঙ্গে সঙ্গেই তারা আমাকে ইমেইলে উত্তর দিলো। একদিন ফোন করে দীর্ঘক্ষণ কথা বললো। যেহেতু তারা প্রথমে একটি মাত্র অফিস খুলবে, এবং অর্থ বিনিয়োগের ব্যাপার ছিল, যা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, তাই পরবর্তী সময়ে আমি তাদের না করে দেই। তারপরও তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে বলেছিল।
এক্ষেত্রে আমার যেটা ভালো লেগেছে, তাহলো তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। আমার টাকা-পয়সা বা ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা নেই দেখেও তারা প্রথমেই আমাকে বাতিল করে দেয়নি। আমাকে কীভাবে ব্যবসায়ে কাজে লাগানো যায়, সেটা নিয়ে তারা চিন্তা করেছে। অথচ আমাদের দেশে আমি এ বছর যখন শিক্ষকতা ছেড়ে ব্যবসা করতে চেয়েছি, তখন সহযোগিতা দূরের কথা, সবার কাছে মোটামুটি পাগল আখ্যা পেয়েছি। তাই এখন গবেষণা বা লেখালখি নিয়েই আছি।
আগেই বলেছি, আমার এই লেখার উদ্দেশ্য হচ্ছে ভারতীয় অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমাদের তরুণরা দেশে বিদেশে কীভাবে আরও বেশি চাকরি পেতে পারেন বা শীর্ষপদে যেতে পারেন, সে ব্যাপারে নিজেদের জ্ঞান সমৃদ্ধ করা। শুধু আমাদের দেশেই নয়, পত্রিকায় দেখি মধ্যপ্রাচ্যেও বাংলাদেশিদের বেতন ভারতীয়দের চেয়ে অনেক কম। আমাদের তরুণ-তরুণীরা কিন্তু কম মেধাবী নন। সংখ্যায় অল্প হলেও তাদের অনেকেই বিদেশে ভালোভাবেই প্রতিষ্ঠিত। আমরা যদি বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে আমাদের সন্তানদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত করতে পারি, তাহলে দেশে-বিদেশে তাদের জন্য আরও কর্মসস্থান সৃষ্টি হতে পারে। তারা আমাদের জন্য বয়ে আনতে পারেন আরও সম্মান ও মর্যাদা।
লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট
ইমেইল: shamsulbkk@gmail.com
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কিডনির সমস্যা বুঝবেন যেভাবে by ডা. বাবরুল আলম

কিডনি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে কিছু কিডনি রোগ আছে, সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে কিডনি ফেইলুর হয়ে যায়। অর্থাৎ কিডনি তার স্বাভাবিক কাজ করতে পারে না। কিডনি ফেইলুরের অন্যতম কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস রোগ। মেডিসিন বা অন্য চিকিৎসার পাশাপাশি কিডনি ফেইলুরে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
কিডনি আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সময়মতো চিকিৎসা করা না হলে কিডনি রোগের শেষ পরিণতি দীর্ঘস্থায়ী হয়। পাঁচটি ধাপে কিডনি বিকলের দিকে অগ্রসর হয়। প্রথম চারটি ধাপ পর্যন্ত চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় অথবা যে গতিতে কিডনি ক্ষয় হচ্ছে তা অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু একবার পাঁচ নম্বর ধাপে চলে গেলে তখন বেঁচে থাকার উপায় হলো ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি সংযোজন। এসব পদ্ধতি এতটাই ব্যয়বহুল, আমাদের দেশের শতকরা ১০ ভাগ লোকের পক্ষে এ ধরনের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই এই ঘাতক ব্যাধি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো কিডনি বিকলতা প্রতিরোধ করা।
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথ ডাইজেস্ট জানিয়েছে কিডনি রোগের লক্ষণগুলোর কথা।
প্রস্রাবে পরিবর্তন
কিডনি রোগের একটি বড় লক্ষণ হলো প্রস্রাবে পরিবর্তন হওয়া। কিডনির সমস্যা হলে প্রস্রাব বেশি হয় বা কম হয়। বিশেষত রাতে এ সমস্যা বাড়ে। প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হয়। অনেক সময় প্রস্রাবের বেগ অনুভব হলেও প্রস্রাব হয় না।
প্রস্রাবের সময় ব্যথা
প্রস্রাবের সময় ব্যথা হওয়া কিডনির সমস্যার আরেকটি লক্ষণ। মূলত প্রস্রাবের সময় ব্যথা, জ্বালাপোড়া_ এগুলো ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের লক্ষণ। যখন এটি কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ে তখন জ্বর হয় এবং পিঠের পেছনে ব্যথা করে।
প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া
প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত গেলে এটি খুবই ঝুঁকির বিষয়। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষণ।
ত্বকে দাগ হওয়া
কিডনি অকার্যকর হয়ে পড়লে রক্তে বর্জ্য পদার্থ বাড়তে থাকে। এটি ত্বকে চুলকানি এবং দাগ তৈরি করতে পারে।
বমি বা বমি বমি ভাব
রক্তে বর্জ্য পদার্থ বেড়ে যাওয়ায় কিডনি রোগে বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়ার সমস্যা হতে পারে।
ছোট ছোট শ্বাস
কিডনি রোগে ফুসফুসে তরল পদার্থ জমা হয়। এ ছাড়া কিডনি রোগে শরীরে রক্তশূন্যতাও দেখা দেয়। এসব কারণে শ্বাসের সমস্যা হয়, তাই অনেকে ছোট ছোট করে শ্বাস নেন।
পেছনে ব্যথা
কিছু কিছু কিডনি রোগে শরীরে ব্যথা হয়। পিঠের পাশে নিচের দিকে ব্যথা হয়। এটিও কিডনি রোগের একটি অন্যতম লক্ষণ।
দেহে ফোলা ভাব
কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য এবং বাড়তি পানি বের করে দেয়। কিডনিতে রোগ হলে এই বাড়তি পানি বের হতে সমস্যা হয়। বাড়তি পানি শরীরে ফোলাভাব তৈরি করে।
মনোযোগ দিতে অসুবিধা হওয়া
লোহিত রক্তকণিকা কমে যাওয়ার কারণে মস্তিষ্কে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায়। এতে কাজে মনোযোগ দিতে অসুবিধা হয়।
সবসময় শীত বোধ হওয়া
কিডনি রোগ হলে গরম আবহাওয়ার মধ্যেও শীত শীত অনুভব হয়। আর কিডনিতে সংক্রমণ হলে জ্বরও আসতে পারে।
কিডনি ভালো রাখার উপায়
- ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত রক্তের শর্করা এবং প্রস্রাবের অ্যালবুমিন পরীক্ষা করা ও রক্তের হিমোগ্গ্নোবিন এওয়ানসি (ঐনঅ১ঈ) নিয়ন্ত্রণে রাখা।
- উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। (১৩০/৮০-এর নিচে যাদের প্রস্রাবে অ্যালবুমিন থাকে তাদের ১২০/৭০-এর নিচে)।
- ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের কিডনির কার্যকারিতা প্রতি ৬ মাস অন্তর পরীক্ষা করা।
- শিশুদের গলা ব্যথা, জ্বর ও ত্বকে খোস-পাঁচড়ার দ্রুত সঠিক চিকিৎসা করা উচিত। কারণ এগুলো থেকে কিডনি প্রদাহ বা নেফ্রাইটিস রোগ দেখা দিতে পারে।
- ডায়রিয়া, বমি ও রক্ত আমাশয়ের কারণে রক্ত পড়ে ও লবণশূন্য হয়ে কিডনি বিকল হতে পারে। তাই দ্রুত খাবার স্যালাইন খেতে হবে। প্রয়োজনে শিরায় স্যালাইন দিতে হবে।
- চর্বি জাতীয় খাবার ও লবণ কম খাওয়া এবং পরিমিত পানি পান করা।
- চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত অ্যান্টিবায়োটিক ও তীব্র ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করা।
- প্রস্রাবের ঘন ঘন ইনফেকশনের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া।
মাত্র দুটি পরীক্ষায় জানা যায় কিডনি রোগ আছে কি-না এবং একটি সহজ সমীকরণে বের করা যায় কিডনি শত ভাগের কত ভাগ কাজ করছে। একটি হলো- প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা মাইক্রো অ্যালবুমিন যায় কি-না এবং অন্যটি রক্তের ক্রিয়েটিনিন।
একটু লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে, সচেতন হলেই এবং একটু কষ্ট করে যদি লাইফস্টাইল বা জীবনযাত্রার প্রণালি বদলে স্বাস্থ্যকর উপায়ে চলা যায়, তাহলে কিডনি বিকল হওয়ার এসব কারণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ করা সম্ভব।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সৌদি সমর্থিত ‘সালমান সেন্টার’ বন্ধ করে দিলো মালয়েশিয়া

কুয়ালালামপুরে একটি অস্থায়ী ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল কেএসসিআইপি। শিগগিরই এটি দ্রুত পুত্রজায়ার স্থায়ী ভবনে স্থানান্তরিত হওয়ার কথা ছিল। তবে এর আগেই এটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় মাহাথির সরকার। ঠিক কী কারণে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে তার বিস্তারিত জানা যায়নি।
২০১৭ সালে বর্তমান সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ এ কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন। এটি তৈরিতে তখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন মালয়েশিয়ার তৎকালীন নাজিব রাজাক সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসাম উদ্দীন হুসেইন। তবে গত নির্বাচনে নাজিব সরকারের পতনের পর সৌদি আরবের সঙ্গে মালয়েশিয়ার সম্পর্কে কিছু দৃশ্যমান পরবর্তন লক্ষ্যণীয় হয়।
গত জুনে সৌদি আরবে মোতায়েন মালয়েশীয় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনার কথা জানান মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ সাবু। ইয়েমেনে সৌদি জোটের সামরিক আগ্রাসন বিরুদ্ধেও সোচ্চার হন তিনি।
মোহাম্মদ সাবু জানান, সৌদি আরবে মালয়েশিয়ার যেসব সেনা রয়েছে তারা কোনও দেশের ওপর হামলায় অংশ নেয় না।
মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে সৌদি আরবের দীর্ঘ প্রভাব রয়েছে। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে ২০১৩ সালের নির্বাচনে জিতিয়ে আনতে ৬৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার দিয়েছিল সৌদি আরব। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৭৫৫ কোটি ৫২ লাখ ৯৩ হাজার ৮৫০ টাকা। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে মালয়েশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল মোহামেদ আপানদি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এই অর্থ ছিল মূলত সৌদি অনুদান।
মূলত মালয়েশিয়ায় মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রভাব ঠেকাতেই নাজিব রাজাককে এই অর্থ দিয়েছিল সৌদি আরব। তৎকালীন সৌদি বাদশাহ আব্দুল্লাহ অর্থ প্রদানের বিষয়টি অনুমোদন করেছিলেন।
মালয়েশিয়ার বৃহত্তম ইসলামপন্থী দল প্যান-মালয়েশিয়ান ইসলামিক পার্টি (পিএএস)। এ দলটির উদ্যোক্তারা মুসলিম ব্রাদারহুডের দর্শন দ্বারা অনুপ্রাণিত। ফলে যে কোনওভাবে পিএএস-এর প্রভাব কমাতে নাজিব রাজাকের দ্বারস্থ হয় সৌদি সরকার। তবে মালয়েশিয়ার গত নির্বাচনে নাজিব রাজাকের দল পরাজিত হয়। আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোটের প্রধানমন্ত্রী হন আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার মাহাথির মোহাম্মদ। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসেরও কম সময়ের মাথায় সৌদি আরব থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে। এর দুই মাসের মাথায় এবার সৌদি সমর্থিত ‘সালমান সেন্টার’ বন্ধ করে দিলো মাহাথির প্রশাসন।
মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে এমন এক সময়ে সালমান সেন্টার বন্ধের ঘোষণা এলো যখন উত্তর আমেরিকার প্রভাবশালী দেশ কানাডার সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়ছে। সম্প্রতি সৌদিতে আটক অ্যাক্টিভিস্টদের ‘অবিলম্বে মুক্তি’ দাবির জেরে কানাডার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার ও দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দেয় রিয়াদ। এমনকি টরন্টোগামী সরাসরি ফ্লাইটও বাতিলের ঘোষণা দেয় সৌদি আরব। সূত্র: আল জাজিরা।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কিডনি রোগের ১০ লক্ষণ, জানেন কি?

১. প্রস্রাবে পরিবর্তন
কিডনি রোগের একটি বড় লক্ষণ হলো প্রস্রাবে পরিবর্তন হওয়া। কিডনির সমস্যা হলে প্রস্রাব বেশি হয় বা কম হয়। বিশেষত রাতে এই সমস্যা বাড়ে। প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়। অনেক সময় প্রস্রাবের বেগ অনুভব হলেও প্রস্রাব হয় না।
২. প্রস্রাবের সময় ব্যথা
প্রস্রাবের সময় ব্যথা হওয়া কিডনির সমস্যার আরেকটি লক্ষণ। মূলত প্রস্রাবের সময় ব্যথা, জ্বালাপোড়া- এগুলো ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের লক্ষণ। যখন এটি কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ে তখন জ্বর হয় এবং পিঠের পেছনে ব্যথা করে।
৩.প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া
প্রস্রাবের সাথে রক্ত গেলে এটি খুবই ঝুঁকির বিষয়।এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষণ।
৪. দেহে ফোলা ভাব
কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য এবং বাড়তি পানি বের করে দেয়। কিডনিতে রোগ হলে এই বাড়তি পানি বের হতে সমস্যা হয়। বাড়তি পানি শরীরে ফোলাভাব তৈরি করে।
৫. মনোযোগ দিতে অসুবিধা হওয়া
লোহিত রক্তকণিকা কমে যাওয়ার কারণে মস্তিস্কে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায়। এতে কাজে মনোযোগ দিতে অসুবিধা হয়।
৬. সবসময় শীত বোধ হওয়া
কিডনি রোগ হলে গরম আবহাওয়ার মধ্যেও শীত শীত অনুভব হয়। আর কিডনিতে সংক্রমণ হলে জ্বরও আসতে পারে।
৭. ত্বকে র্যাশ হওয়া
কিডনি অকার্যকর হয়ে পড়লে রক্তে বর্জ্য পদার্থ বাড়তে থাকে। এটি ত্বকে চুলকানি এবং র্যাশ তৈরি করতে পারে।
৮. বমি বা বমি বমি ভাব
রক্তে বর্জ্যনীয় পদার্থ বেড়ে যাওয়ায় কিডনির রোগে বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়ার সমস্যা হতে পারে।
৯. ছোটো ছোটো শ্বাস
কিডনি রোগে ফুসফুসে তরল পদার্থ জমা হয়। এ ছাড়া কিডনি রোগে শরীরে রক্তশূন্যতাও দেখা দেয়। এসব কারণে শ্বাসের সমস্যা হয়, তাই অনেকে ছোট ছোট করে শ্বাস নেন।
১০. পেছনে ব্যথা
কিছু কিছু কিডনি রোগে শরীরে ব্যথা হয়। পিঠের পাশে নিচের দিকে ব্যথা হয়। এটিও কিডনি রোগের একটি অন্যতম লক্ষণ।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
২০ লাখ ফিলিস্তিনির শরণার্থী মর্যাদা প্রত্যাহারে জর্ডানকে চাপ দেন কুশনার

মার্কিন ও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানান, ইউএনআরডব্লিউএ বা আনরওয়া বলে পরিচিত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের দাতব্য সংস্থার কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের সংঘাত নিরসনের আলোচনায় যাতে করে শরণার্থী ইস্যুটি না থাকে সেজন্যই এই পদক্ষেপের দিকে হাঁটছে হোয়াইট হাউস।
ফরেন পলিসি জানিয়েছে, তাদের কাছে কুশনার ও ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কয়েকটি ইমেইল হস্তগত হয়েছে। যেগুলো স্পষ্ট করে কুশনার জানিয়েছেন, আনওয়া’র কাজ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। এই ইমেইলে কুশনার লিখেছেন, এই সংস্থার অবস্থান একপাক্ষিক, দুর্নীতিগ্রস্ত ও অকার্যকর। এটা শান্তি প্রক্রিয়াকে সহযোগিতা করছে না। পরিস্থিতি যে অবস্থায় আছে সেভাবেই রেখে দেওয়া আমাদের লক্ষ্য নয়। অনেক কৌশলগত কারণে ঝুঁকি নিতে হয় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য।
উল্লেখ্য, জ্যারেড কুশনার ও হোয়াইট হাউসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত ও মধ্যস্ততাকারী জ্যাসন গ্রিনব্লাট ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার শান্তি আলোচনা ও সংঘাত সমাধানে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাময়িকিটি জ্যাসনের সিনিয়র রাজনৈতিক উপদেষ্টা ভিক্টোরিয়া কোটসের পাঠানো একটি ইমেইলের কথাও তুলে ধরেছে। হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো ওই ইমেইলে কোটস লিখেছেন, হোয়াইট হাউস ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সংস্থাটি বিলোপ করতে চায়। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1447)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
-
▼
2018
(7025)
-
▼
August
(237)
-
▼
Aug 08
(9)
- দেখুন নায়িকাদের আসল চেহারা
- দু’টি শব্দের কারণেই কানাডার সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদ ...
- কে এই শহীদুল আলম
- বাংলাদেশকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ দিতে পারেন মোদি by ...
- বিশ্বজুড়ে ভারতীয়রা চাকরির শীর্ষপদে কেন? by মো. সাম...
- কিডনির সমস্যা বুঝবেন যেভাবে by ডা. বাবরুল আলম
- সৌদি সমর্থিত ‘সালমান সেন্টার’ বন্ধ করে দিলো মালয়েশিয়া
- কিডনি রোগের ১০ লক্ষণ, জানেন কি?
- ২০ লাখ ফিলিস্তিনির শরণার্থী মর্যাদা প্রত্যাহারে জর...
-
▼
Aug 08
(9)
-
▼
August
(237)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...