Friday, July 24, 2015

এরশাদের ইউটার্ন by সিরাজুস সালেকিন

একই সঙ্গে বিরোধী দল ও সরকারে থাকায় সমালোচনা আছে শুরু থেকেই। এ সমালোচনা এড়াতে কয়েক দফা তিনি ঘোষণা দিয়েছেন মন্ত্রিসভা থেকে সরে আসার। কিন্তু এখন উল্টো অবস্থানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে চিঠি দিয়ে তিনি দলের অন্তত দুইজন নেতাকে মন্ত্রিসভায় নেয়ার অনুরোধ করেছেন। যদিও এ চিঠির কোন জবাব পাননি তিনি। দলীয় সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভায় রদবদল হলেও জাতীয় পার্টির কাউকে নতুন করে মন্ত্রিসভায় না নেয়ায় অনেকটা হতাশ হয়েছেন দলের চেয়ারম্যান এরশাদ। এ নিয়ে তিনি তার ঘনিষ্ঠজনদের কাছে প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন।
পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জি এম কাদের ও মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে মন্ত্রী করতে সম্প্রতি সরকারের শীর্ষপর্যায়ে চিঠি পাঠান এরশাদ। এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির একজন প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সত্যিকারের বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের জন্য জাতীয় পার্টির মন্ত্রিসভা থেকে বের হয়ে আসা দরকার। অথচ নতুন দুজনকে মন্ত্রী করার জন্য চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছিলেন। তবে এ চিঠির কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। যদিও চিঠি দেয়ার বিষয়ে চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি সুনীল শুভ রায় জানিয়েছেন, এ ধরনের কোন চিঠি দেয়া হয়নি। মন্ত্রিসভায় থাকা না থাকা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে প্রেসিডিয়ামের সভায়। এ পর্যন্ত কোন সভায় এই ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়নি।
বর্তমানে মন্ত্রিসভায় জাতীয় পার্টির তিনজন প্রতিনিধিত্ব করছেন। তারা হলেন, পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু ও স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা। সূত্র জানায়, চলতি মাসে মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদল হয়েছে। দপ্তর বদলেছে দুইজন মন্ত্রীর। মন্ত্রিসভায় নতুন তিন মুখ যোগ হয়েছে। সামনে আরও রদবদল হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। যে কারণে জাতীয় পার্টির আরও দুইজনকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান এরশাদ। এজন্য সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি চলছে।
এর আগে মন্ত্রিসভায় জাতীয় পার্টির থাকা না থাকা নিয়ে ঘনঘন অবস্থান বদলিয়েছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বছরখানেক আগে মন্ত্রিসভা থেকে জাতীয় পার্টির পদত্যাগ করবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। এই ইস্যুতে বিভিন্ন সভায় তিনি বক্তব্য দিয়েছেন। গত বছরের মাঝামাঝি এবং দুই মাস আগেও এরশাদ বলেছিলেন সত্যিকারের বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখতে হলে জাপাকে মন্ত্রিসভা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। তখন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেছিলেন, আগে এরশাদেরই উচিত বিশেষ দূতের পদ ছাড়া। একই দাবি জাপার আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুরও। এরপর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্ব থেকে এরশাদকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য জাতীয় সংসদে কাজী ফিরোজ রশীদও জোর দাবি জানিয়েছিলেন। বর্তমান সরকারের শুরুর দিকে এরশাদ চেয়েছিলেন জাপা দলীয় মন্ত্রীরা মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে আসুক। আর তখন রওশন এরশাদের অবস্থান ছিল বিপরীত। তিনি চেয়েছিলেন দলের নেতাদের মন্ত্রিসভায় রাখতে।
কিন্তু সম্প্রতি হঠাৎ মত পরিবর্তন করেন এরশাদ। নতুন দুজনকে মন্ত্রী করার জন্য চিঠি দিয়ে সরকারকে অনুরোধ করেন। অন্যদিকে এরশাদের নতুন অবস্থানের কারণে সিদ্ধান্ত বদলান রওশন। মন্ত্রীদের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের জন্য তৎপরতা শুরু করেন তিনি। এ নিয়ে গত ৫ই জুলাই রওশন দলীয় এমপিদের নিয়ে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের দুই সিনিয়র নেতার সঙ্গে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের দুই জ্যেষ্ঠ নেতাকে রওশন মন্ত্রিসভা থেকে জাতীয় পার্টির মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের অব্যাহতি দেয়ার বিষয়ে কথা বলেন বৈঠকে। পদত্যাগের ফলে জাতীয় পার্টি ও সরকার উভয়ই বিব্রতকর অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় আওয়ামী লীগের দু’নেতা জানান, এই পর্যায়ে এসে মন্ত্রিসভা থেকে জাপার বের হয়ে যাওয়াটা রাজনৈতিকভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত হবে বলে মনে হয় না। শুরুতে বিতর্ক থাকলে এত দিনে বিষয়টি স্বাভাবিক হয়ে গেছে। আর প্রধানমন্ত্রী নিজেও নাকি এখন চাচ্ছেন না জাপা এই মুহূর্তে মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে যাক। ফলে বিষয়টি নিয়ে আরও চিন্তা ভাবনা করতে তারা রওশনকে অনুরোধ করেছেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা যায়।
এদিকে মন্ত্রিসভায় থাকা না থাকা নিয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের বারবার অবস্থান পরিবর্তন ও সময়ে সময়ে একেক ধরনের বক্তব্য দেয়ায় বিব্রত দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীরা মনে করছেন সার্বিক বিষয়ে দলীয় অবস্থান পরিষ্কার না হলে দলের বড় ধরনের ক্ষতি হবে।

সামিউল হত্যাঃ পুলিশের গাফিলতিতেই পালিয়ে যায় আসামিরা

সামিউল আলম
সিলেটের শিশু শেখ মো. সামিউল আলম রাজন (১৪) হত্যা মামলার আসামিরা পুলিশের গাফিলতির কারণেই পালিয়ে গিয়েছিল। পরে একে একে তারা ধরা পড়ে। পুলিশের করা তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ওই তদন্ত প্রতিবেদন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাজন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি হায়দার আলী ওরফে আলী গতকাল নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। আরেক আসামি বাদল আহমদকে (১৯) পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ এম রুকনউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি আসামিদের পালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের গাফিলতি পেয়েছে। পুলিশের এ ভূমিকার পেছনেও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছিল বলে তদন্ত কমিটি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে।
রাজন হত্যায় অন্যতম অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম ঘটনার এক দিন পরই সৌদি আরবের জেদ্দায় পালিয়ে যায়। সেখানে স্থানীয় বাংলাদেশিরা তাকে আটক করে পুলিশে দেন। ঘটনার পরপর মামলার অন্য আসামিরাও গা ঢাকা দেয়।
শুরু থেকেই রাজনের বাবা অভিযোগ করছিলেন, পুলিশ আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ১৪ জুলাই পুলিশের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একই দিন জালালাবাদ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়। ওই কমিটির তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। পরে তা বাড়িয়ে আরও পাঁচ দিন সময় দেওয়া হয়। প্রতিবেদন দাখিলের শেষ দিন ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার।
তদন্ত কমিটির প্রধান এ এম রুকনউদ্দিন গতকাল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু নিয়ে পুলিশের কোনো কর্মকর্তাই সরাসরি কিছু বলছেন না।
আরও একজনের স্বীকারোক্তি: সিলেট মহানগর হাকিম মো. সাহেদুল করিম গতকাল বিকেলে আসামি আলী হায়দারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। বেলা তিনটা থেকে প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা তার জবানবন্দি নেওয়া হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র আলীর জবানবন্দির বরাত দিয়ে জানায়, রাজনকে খুঁটিতে বাঁধার সময় ঘটনাস্থলে ছিল না আলী হায়দার। চোর আটকের কথা বলে ছোট ভাই কামরুল তাকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডেকে নেয়। আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায় কামরুল, ময়নাসহ কয়েকজন মিলে রাজনকে বেঁধে পেটাচ্ছে। রাজনকে দেখিয়ে কামরুল বলে, এটা চোর। এরপর আলীও মারধরে অংশ নেয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার সাংবাদিকদের জানান, জবানবন্দিতে আলী ঘটনার সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার দায় স্বীকার করেছে।
এ নিয়ে রাজন হত্যাকাণ্ডে আলীসহ মোট পাঁচজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিল। আর গ্রেপ্তার হয়েছ মোট ১১ জন।
পাঁচ দিনের রিমান্ডে বাদল: মামলার তদন্ত সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকা সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. রহমত উল্লাহ জানান, গতকাল সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বাদল আহমদকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত বাদলের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাজনকে নির্যাতনের সময় বাদল (১৯) ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। অন্য আসামিদের জবানবন্দিতে বাদলের নাম আসার বিষয়টি জানার পর বাদলের বাবা সুলতান আহমদ এলাকাবাসীকে নিয়ে গত বুধবার রাত ১০টার দিকে মহানগরের জালালাবাদ থানায় গিয়ে ছেলেকে পুলিশে দেন।
এদিকে সিলেট নগরের তেমুখী এলাকায় আজ শুক্রবার মানববন্ধন ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে এলাকাবাসী। আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তাকারীদের বিচারের দাবিতে ওই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
সিলেট শহরের কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ৮ জুলাই খুঁটির সঙ্গে রাজনকে বেঁধে রোলার দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নির্যাতনকারীরাই রাজনকে নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ধারণ করে। লাশ ফেলতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়ে প্রধান আসামি মুহিত আলম। এ ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।
প্রথম ভিডিওচিত্রের সূত্র ধরে ১২ জুলাই প্রথম আলোর শেষ পৃষ্ঠায় ‘নির্মম, পৈশাচিক!’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে বাদীকে জেরা

আদালত প্রাঙ্গণে গতকাল খালেদা জিয়া
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর পক্ষে বাদীকে জেরা করা হয়েছে। জেরা শেষ না হওয়ায় বাকি জেরার জন্য আগামী ৩ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক আবু আহমেদ জমাদার এ তারিখ ধার্য করেন। একই আদালতে বিচারাধীন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানিও ৩ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। খালেদা জিয়া গতকাল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। কার্যক্রম চলাকালে আইনজীবীদের মধ্য থেকে একজন আদালতকে উদ্দেশ করে কটূক্তি করেন। এতে বিচারক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ ধরনের কথা যাঁরা বলেন, আইনের ভাষায় তাঁরা সন্ত্রাসী।’ খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন এ জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এ দুই মামলায় খালেদা জিয়া, তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ মোট নয়জন আসামি। সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকায় গতকাল সকাল থেকে বকশীবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাস এলাকায় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। সকাল সোয়া ১০টার দিকে খালেদা জিয়া আদালত প্রাঙ্গণে আসেন। সাড়ে ১০টার দিকে মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। বিচারক কার্যক্রমের শুরুতে আইনজীবী, আসামিসহ সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। আইনজীবীরাও বিচারককে শুভেচ্ছা জানান। এ দুই মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালক হারুন অর রশীদকে খালেদা জিয়ার পক্ষে জেরা করেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। খালেদা জিয়া এ সময় হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন।
জেরা: আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন জেরায় বাদীকে বলেন, ‘আপনি মামলার বাদী হিসেবে এজাহার করেছেন। এজাহারে ঘটনার তারিখ ও সময় বলেছেন ২০০৫ সালের ৯ থেকে ১৯ জানুয়ারি। আর আদালতে সাক্ষ্যে বলেছেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল। কোনটি সত্যি?’ জবাবে বাদী বলেন, দুটিই সত্য।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালের ৮ আগস্ট এই মামলাটি করা হয়েছে, সত্য কি না—এ প্রশ্নে বাদী বলেন, সত্য।
মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে—আইনজীবীর এ কথায় বাদী বলেন, এটি সত্য নয়।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে নাইকো, নভো থিয়েটার, মেঘনা পাওয়ার প্ল্যান্ট, মিগ-২৯ ক্রয়সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে ১৫টি মামলা হয়েছিল। দুদক এই মামলাগুলো করেছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলাগুলো ‘আমার ভাষায় হাওয়া হয়ে গেছে’ আর আইনের ভাষায় বাতিল হয়েছে। এই মামলাগুলোর রায়ের বিরুদ্ধে দুদক উচ্চ আদালতে আপিল করেনি। দুদক যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, তার হয়ে কাজ করে। বিএনপির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এ মামলা করা হয়েছে।
জবাবে সাক্ষী হারুন অর রশীদ বলেন, দুদক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এ মামলা করেছে, এটা সত্য নয়। এ সময় খন্দকার মাহবুব হোসেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেনকে বলেন, বিলিয়ন মানে কী?
মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আপনি মামলার বিষয়বস্তুর বাইরে সাক্ষীকে জেরা করছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কয়টি মামলা ছিল, কোন আদালত থেকে কয়টিতে খালাস পেয়েছেন, তা সংশ্লিষ্ট আদালতের বিষয়, এই মামলার বিষয়বস্তু নয়। সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী আপনি মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়—এমন বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারেন না।’
এ পর্যায়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন আদালতকে বলেন, এই প্রশ্ন করার কারণ, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী নূর আলী ও আজম জে চৌধুরী মামলা করেছিলেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁরাই আবার মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এ সময় বিচারক বলেন, একজনের বিষয়ে জেরা করতে অন্যজনকে হেয় করা ঠিক না।
এ পর্যায়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন জেরা মুলতবি রাখার আবেদন জানান। আদালত প্রথমে ৩০ জুলাই তারিখ ধার্য করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তারিখ পরিবর্তনের মৌখিক আবেদন জানান। এ সময় আইনজীবীদের মধ্য থেকে একজন আদালতকে উদ্দেশ করে কটূক্তি করেন। বিচারক এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন আইনজীবীদের পক্ষ থেকে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। পরে আদালত ৩ আগস্ট তারিখ ধার্য করেন।
খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে আরও অংশ নেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, সানাউল্লাহ মিয়া, মহসীন মিয়া, সাজ্জাদ হায়দার প্রমুখ।

কয়েকজন অপঘাতক by নাসিমা আনিস

ভোর ছয়টা তখনো বাজেনি, জীবন্ত রেললাইনের লোহার পাতগুলো টপকে টপকে মৃত লাইনের ওপর বসা বাজারটার দিকে তাক করে হাঁটতে থাকে সে। সেখানে এলোমেলো ছড়ানো-ছিটানো নানা পদের কবুতরের ঝুড়ি ও খাঁচা। ঝুড়ির মালিকেরাও নানা বয়সের, নানা শ্রেণির। বাসিমুখে ক্রেতা-বিক্রেতার সরব দরাদরিতে সকালের মসৃণ হাওয়া কেটে কেটে যায়। কিশোর এক বিক্রেতা আটটা গিরিবাজ নিয়ে বোকার মতো দাঁড়িয়ে আছে ভোর থেকে। তার একটা হাত না থাকায় শার্টের হাতাটা সকালের বাতাসে উড়তে থাকে কিংবা কাঁপে থরথর। সে জানে না, কী দাম চাইতে হয় গিরিবাজের—খদ্দের দাম জিজ্ঞাসা করলে তাকিয়ে থাকে ফ্যালফ্যাল করে। খদ্দেরের সময় নেই তার ভাবালুতায় সময় দেওয়ার। ফড়িয়ারা দুমদাম করে দাম করে করে বাচ্চা কবুতরগুলো ঝুড়িতে তুলতে থাকলে সাধারণ ক্রেতারা হিমশিম খায়, দরাদরিতে কুলিয়ে উঠতে পারে না তারা। আর সাধারণ বিক্রেতারাও জানে, খুচরো ক্রেতাদের ওপর ভরসা করলে গেরস্ত বিক্রেতার মাঝদুপুর পর্যন্ত কবুতর নিয়ে এখানেই বসে থাকতে হবে। ভরসা ঢাকার পার্টি—ফড়িয়া। পার্টিও বেশ, ভাব এমন, ওই তো গাড়ি দাঁড়িয়ে কোচ-স্টেশনে, কিনব আর কোচের ছাদে খাঁচা চাপাব, বেচলে বেচ, হাতে সময় নাই। তো, দুটো পয়সা কম হোক তাড়াতাড়ি বেচে বাড়ি গিয়ে অন্য কাজে লেগে পড়তে পারবে বিক্রেতারা, এটাই তো ভালো! বিশ জোড়া সক্ষম যুবক-যুবতী থাকলে মাসে বিশ জোড়া বাচ্চা বেচা যায়, উড়ুক্কু হওয়ার আগেই বেচতে হয় নইলে পাখনা বাড়ে, তুলতুলে মাংস কমে। মঙ্গলবার হলেই তাই এখানে আসা—কবুতর মঙ্গলের হাট। কবে থেকে এই হাট তা হাটের লোক জানে না, জানার কী-বা দরকার। কবুতরই তো, গরুও নয়, খাসিও নয়। অলোকার নামটা পছন্দ, কবুতরের সঙ্গে মঙ্গল-অমঙ্গল নাকি জড়িয়ে থাকে সব সময়, ছোটবেলা থেকে শোনা।
মঙ্গলবার হলেই অলোকার এই হাটে আসা লাগে। সোমবার ঘড়িতে অ্যালার্ম দেয় ভোর সাড়ে পাঁচটায়। অ্যালার্ম বাজার অনেক আগেই সে উঠে শাড়ি পাল্টায়। স্বামীর পায়ের নিচে দু-মিনিট হাত বোলাতে বোলাতে বলে, ‘আমি বেরোলাম, তুমি দু-ঘণ্টা ঘুমাও।’ স্বামী বলে, ‘কাউকে সঙ্গে নাও।’—‘নাহ, সব ঘুমাচ্ছে, ঘুমাক।’ তারপর কাজের মেয়েকে ডাকে দরজা বন্ধ করতে। রিকশায় উঠলে পাঁচ টাকা, হাঁটলে দশ মিনিট। এই অপূর্ব বাতাসে হাঁটাই পছন্দ, উপরন্তু পাঁচ টাকা বাঁচে। পাঁচ টাকা মানে দুই কেজি ঢ্যাঁড়স কিংবা দেড় কেজি পটোল কিংবা আড়াই কেজি দৌলতপুরের বিখ্যাত কচুমুখী। সস্তাই সব—কৃষক-কৃষির ভাবনা থাকুক না থাকুক, দশ টাকায় চাল খাওয়াবে বলে সরকার যে কথা দিয়েছিল, সে কথা সে রেখেছে। প্রতি মঙ্গলবারই অলোকা চার জোড়া কি তিন জোড়া বাচ্চা কেনে, প্রতি জোড়া আটাশ কিংবা ত্রিশ। খুব পুষ্ট বাচ্চা হলে বত্রিশও হয়। আনাড়ি বিক্রেতার দেখা পেলে পঁচিশেও মেলে; আর প্রতিবারই ফিরে যাওয়ার সময় গিরিবাজের মালিক কিশোরকে খোঁজে, কাছে দাঁড়ায়। দেখে, খাঁচা হাতে মালিক নিজের কবুতরের মতোই কি এক আবেগে কম্পমান। তারপর বাচ্চা-বোঝাই ঝোলা হাতে রিকশায় ওঠে অলোকা, সামনে অনেক কাজ—কবুতর জবাই করানো, পাখনা ছাড়ানো, সুপের জন্য একটা রেখে বাকিগুলো ফ্রিজে রাখা, পুরো সপ্তাহের সুপের জোগান। তিন মাস ধরে এই কবুতর কেনা চলছে, নিরবচ্ছিন্ন। এই ভোরে চেনা লোক নেই, কেউ না। এটা স্বস্তিরই। বাজারে গেলে আত্মীয় কিংবা পরিচিতদের দেখা মেলে, তাদের উৎসুক দৃষ্টি, ঠোঁটে আহা! এই ভোরে এসব নেই।
কিন্তু তিন মাস পর বর্ষার শুরুতে দুই মঙ্গলবার এই লোকটা রেললাইনের ওপর পাশে পাশে হেঁটে চলল। পরিচিত মানুষ, প্রাতর্ভ্রমণে এই প্রভাতে হাঁটতে হাঁটতে রেললাইন অবধি আসতে পারে যদিও। প্রথম দিন, ‘কবুতর কিনবেন?...প্রতি মঙ্গলবার আসেন?’ ইত্যাদি। দ্বিতীয় মঙ্গলবার বলে, ‘আপনার বাবার বাড়ি ঢাকা না! ঢাকায় যান না!’ ইত্যাদি। অলোকার বাসার সামনের রাস্তার ওপারে থাকে লোকটা, টিনের ঘরে। বাজারে তার গেল গেল অবস্থায় ধুলায় ধূসর ছোট্ট একটা ঘড়ির দোকান, চিকন গলির ভেতর। গত বছর স্বামীসহ দু-এক দিন বেল্ট কি ব্যাটারি পাল্টাতে এখানে এসেছিল অলোকা। সে যে প্রতিবেশী, তা জেনেছিল পরে। অলোকা যেদিন অ্যাম্বুলেন্সে আহত স্বামীকে ঢাকার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরিয়ে আনে, তার কয়েক দিন পরেই লোকটা আসে—সেটাই প্রথম। ভারি কষ্ট পেয়েছে সে প্রতিবেশী সজ্জন এই মানুষটার জন্য। আহতের মাথার কাছে বসে কখনো মাথা টেপে, কখনো পায়ের আঙুলে থেরাপি দেয়। থেরাপিস্ট ছেলেটার কাছ থেকে একদিন জেনে নিয়েছিল, কীভাবে থেরাপি দিতে হয়। আহতকে সবাই যেমন দেখতে আসে, সে-ও আসে; একটু বেশি আসে। কেউ ভাবে, অলোকার স্বামী হয়তো বাঁচবেই না, মাথায় চোট বলে কথা। কেউ ভাবে, আহা লোকটা কি কখনো আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারবে! কিংবা অনেকেই ভাবে, লোকটির বেঁচে থাকাটা খুব জরুরি, ছোট ছোট ছেলেমেয়ে। কিন্তু কেউ থেরাপিস্ট ছেলেটার কাছ থেকে থেরাপি দেওয়া দেখে শিখে বিকেল কিংবা রাতে এসে তার পুনরাবৃত্তি করতে পারে না। লোকটা পারে এবং করে। ঘড়িঘর থেকে ফেরার পথে সে আসে—রাত নটা-দশটার দিকেও আসে। মানে রাত নয়টার দিকে থেরাপিস্ট চলে যাওয়ার পর। থেরাপিস্ট ছেলেটা সকালে এক ঘণ্টা আর রাতে এক ঘণ্টা থেরাপি দিয়ে ঘেমে-নেয়ে বাড়ি ফিরে যায়। সে অন্য রকম ছেলে, অতিরিক্ত ভালো। তাই প্রতি মাসেই তার মাসোহারা দিতে বেগ পেতে হয়—কিছুতেই নেবে না। অলোকার পরিবারের সবাইকে সে ভাইবোনের মতো দেখে, বাজার পর্যন্ত করে দিতেও অলসতা নেই। অলোকাও তাকে ছোট ভাইয়ের মর্যাদায় বসিয়েছে।
সে যাক, অলোকাদের পরিবারটা বড়—এগারো সদস্যের। এ ছাড়া বাধা একটা কাজের বুয়া। যে লোকটা মাঝেমধ্যে হিতাকাঙ্ক্ষী বেশে অলোকার স্বামীর ঘরে তার বিছানার পাশে বসে থাকে, ধরা যাক তার নাম বাদশা। তার শরীর আতরের গন্ধে ম-ম। থেরাপিস্ট চলে গেলে কখনো বাদশার উপস্থিতিতেই স্বামীর রাতের খাবার চলে। তারপর পরিবারের অন্যরা যখন খায়দায়, তখনো পরম আত্মীয়ের মতো বসে থাকে লোকটি, যেন আহতের পাশে আতরে ভুরভুর করা প্রতিবেশী নয়, দেবদূতের মতন কেউ বসে আছে। তারপর রাত এগারোটা-বারোটার দিকে চলে যাওয়ার সময় ইতস্তত করতে করতে কাউকে ডাকতে চেষ্টা করে সে। ভাবটা এমন, কে যে তাকে বিদায় করবে সে বুঝতে পারছে না। বাড়ির ছেলেমেয়েরা হইচই করতে করতে তার জন্য মেইন গেট, কলাপসিবল গেট খুলে দিলে চলে যায় সে। এই পর্যন্ত বাদশাকে নিয়ে কারও কোনো আলাদা ভাবনা নেই। সে একজন সদালাপী সেবাপরায়ণ, পরদুঃখকাতর সজ্জন দরিদ্র ঘড়িঘরের মালিক, যার স্ত্রী-সন্তান এবং যে নিজেও দারিদ্র্যক্লিষ্ট, রোগাপটকা ও যথেষ্ট জীর্ণকায়। এপ্রিল-মের গরমের পর বর্ষাটাও যায় যায়। অলোকার স্বামী এখন চিকিৎসকদের সব ভবিষ্যদ্বাণী উপেক্ষা করে অলৌকিকভাবে একা একা উঠে বসতে পারে, হাঁটতে তার তখনো ছয় মাস বাকি। পরিবারের বারোয়ারি খাবার তাকে দেওয়া হয় না—ফল, দুধ, মুরগির ঝোল—সব আলাদা। থেরাপিস্ট দু-বেলা ফিজিওথেরাপি দেয় ঘড়ি ধরে, ফাঁকে ফাঁকে পরিবারের সদস্যরাও। পুরো পরিবার খেয়াল রাখে তার দিকে—ছোট-বড় সব সদস্য। বিকেলে চেয়ারে বসিয়ে দুজন ধরে ধরে বাগানে নামায় তাকে। বাগানে দোলনচাঁপা ঘ্রাণ ছড়ায়, দোপাটির রং চমকায়। সকালের শিউলিতে বিকেলের ভুঁই সাদা। শরতের নীল আকাশ দেখে রোগী পাগলপারা। আহ্, একবার যদি নিজের মতো বাঁচা যেত!
আশ্বিনের ভোরে শিশির পড়ে টুপটুপ। কার্তিকে-অগ্রহায়ণে অলোকার স্বামীর দুই বগলে দুজন হাত দিয়ে হাঁটিয়ে বেড়ায়। থেরাপিষ্ট তো আরেক কাঠি সরেস। কোনো দিন ছাদে নিয়ে হাঁটিয়ে এনে বলে, ‘স্যারের আর এক মাস...তারপর একা একা ব্যাংকে চলে যাবে, কোনো চিন্তা নাই।’ আর লোকটা, মানে বাদশা, বর্ষার পর আর আসেনি। অলোকার বাজারে যাওয়ার পথেও দাঁড়ায়নি। রেললাইনের পাতে তো নয়ই। পরের জ্যৈষ্ঠে অলোকার স্বামী ভদ্রলোক ধীর পায়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করলে পুরো পরিবারে প্রাণ ফিরে আসে। তার কিছুদিন পরে ঘটে একটা ঘটনা—বাদশার মাফলার প্যাঁচানো মৃতদেহটা আবিষ্কার হয় রেললাইনের ধারে হিজড়াদের থানের পেছনে পানাভরা খানাখন্দে। অলোকার স্বামী বিস্ময় নিয়ে তাকে বলেন, ‘কী করে সম্ভব! ও তো খুব ভালো একটা লোক।’ তবে খবরটি শুনে বিস্মিত হয় না অলোকা; বরং কপাল কুঁচকে বিরক্তমুখে বলে, ‘মরেছে...কে মারল লোকটাকে, ওর বাচ্চাগুলো খুব ছোট, বউটাও তো অল্পবয়সী।’ পরদিন সারা মফস্বল শহরে মৃত্যুর সঙ্গে আরেকটি কাহিনিও জানা যায় নতুন করে—বাদশার পূর্বকীর্তি। এ কাহিনি একদমই জানা ছিল না অলোকাদের। কারণ, এখানে তাদের বাড়ি হলেও স্বামীর চাকরিসূত্রে অনেক দিনই তারা ছিল বাইরে। কিন্তু বাদশার কীর্তি শোনার পর নিজেকে আর ধরে রাখতে পারে না অলোকা। চার বছর আগে স্থানীয় অবস্থাপন্ন ঘরের এক বয়স্ক মহিলাকে নিয়ে বাদশা ভেগে গিয়েছিল। পনেরো দিন পর তারা ফিরে আসে। মাঝখানে মহিলা হারায় সম্মান, যাবতীয় গহনা আর টাকাকড়ি। মহিলার ছেলেমেয়েরা তখন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। ব্যাপারটা নিয়ে মানুষ বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করেনি। কারণ, মহিলার পরিবারের রাজনৈতিক প্রতিপত্তি। তার বড় চাচা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। গু ঘাঁটলে গন্ধ ছড়ায়, ছোট শহরে সবাই সবাইকে চেনে। তাই কেউই কথা বাড়ায়নি। কিন্তু এখনো মাঝেমধ্যে দু-একজনের আলোচনা শোনা যায়, ‘ছেলেরা মনে রেখেছে গো...সঙ্গে সঙ্গে তার কোনো সুরাহা করেনি, করলে মায়ের কলঙ্ক বাড়ে বই কমে না যে।’
ভরা বর্ষায় যখন স্কুল-কলেজ গ্রামবাসীর আশ্রয়স্থল, শহরে পানি ঢুকবে ঢুকবে করছে, তখন একদিন রেললাইনের পাতে দাঁড়িয়ে অলোকাকে খুঁজে পেয়ে দৌড়ে এসেছিল বাদশা। তাকে বলেছিল, ‘চলেন ঢাকা থেকে ঘুরে আসি। আপনি তো অনেক দিন বাপের বাড়ি যাননি, আহা মানুষটা এত অসুস্থ! আপনারও কী ধকল! ’ অলোকা প্রথমে বুঝতেই পারে না লোকটা কী বলে। গত রাত এগারোটায় এই লোকটাই না তার স্বামীর সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে আলাপ করছিল পায়ের আঙুল ঘুরিয়ে দিতে দিতে! বলছিল, ‘মাহিদুল জাল সার্টিফিকেট দিয়ে কলেজে চাকরি করলেও ভোটারদের কাছ থেকে কী করে ভোট আদায় করতে হয়, তা ভালোই জানে, সে হলো ভোট মেশিন। বস্তা ভরে শাড়ি আর টাকা নিয়ে গ্রামে চলে যায় ভোটের তিন দিন আগে বউসহ, ব্যস। ধরেন বউটা তো আবার খাসা, দেখতেও দারুণ। শহরের ভোট যে সে পাবে না, তা সে জানে। ধরেন, কুলিনেই তো কন্দল। শহরের শিক্ষিত কুলিনদের ভোট সে পাবে না। তো, শহরের জন্য খেটে লাভ কী বলেন স্যার? মাহিদুল ভোটের জন্য কি আপনার বাড়ি আসছিল? না, আসে নাই। কথা হলো, শহরের ভোট কয়টা নিয়েই শিক্ষিত নেতাকে খুশি থাকতে হবে। তা থাক। মাহিদুল তাকে কোনো ডিস্টার্বই করেনি। কারণ সে জানত, শুধু শহরের ভোটে তো পাস করা যাবে না। কিন্তু কপাল খারাপ মাহিদুলের, সে জিতল, তবে দল জিতল না। দল জিতলে টাটা-বিড়লাকে ঠিক ব্যবস্থা করে দিত নদীর এপারে কি ওপারে।’ আকাশের মেঘের ওপর চোখ রেখে অলোকাকে বাদশা আবার সেদিন বলেছিল, ‘বলছিলাম অনেক দিন ধরে ঢাকায় যান না, যদি যেতে চান আমি আপনাকে নিয়ে যেতে পারি, ঘড়ি আনতে যাব তো। ভাড়া আমার, জাস্ট দু-দিনের জন্য।’ এ কথায় হতভম্ব অলোকা। বলে ‘না, এখন কোথাও যাওয়ার দরকার নাই আমার।’ তারপর কবুতরের দোকানে গিয়ে দেখে বাদশা কবুতরের দাম করে দাঁড়িয়ে আছে। যন্ত্রচালিতের মতো সেই কবুতর বাজারের ব্যাগে পুরে টাকা দিতে দিতে বাদশার বলা কথাগুলোর অর্থ পুরোপুরি বুঝতে পারে সে। এরপর আর কোনো দিন বাদশা তার সামনে পড়েনি। কারণ, সেদিন ওর সামনেই থলেটা সে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল রেললাইনের নোংরা পাথরের ওপর। থলের ভেতরের বাচ্চাগুলোর খবর সে নেয়নি কিন্তু কিশোরের গিরিবাজগুলোর একটিও যে সে দিনও বেচা হয়নি, সেটি সে জানে।
এসব গল্প সদ্য কাজে যোগ দেওয়া স্বামীকে বলে অলোকা। গিরিবাজের মালিক কিশোরের গল্পটা কী কারণে যেন বলতেই থাকে সে, ‘ছেলেটার হাত নেই, তবু ও রোজ আসে, কিন্তু কবুতরগুলো বিক্রি করে না, কেন করে না কে জানে।’ স্বামী অন্যমনস্ক, গিরিবাজের গল্পে তার অল্পই আগ্রহ। কেন যেন তার আগ্রহ বাদশায়—আতরে ম-ম করা কমদামি চকচকে সিল্কের হলুদ পাঞ্জাবি পরা লোকটা—বাদশা—মনে ঘাই মারে প্রায়ই। দিনের পর দিন যার যাতায়াত ছিল, কোনো কোনো দিন যে রাত বারোটা-একটা পর্যন্তও পায়ের কাছে বসে থাকত। রাজনীতির গল্পের ফাঁকে ফাঁকে যে মেয়েদের গহনাপ্রীতি নিয়ে কথা বলতে চাইত বিনা কারণে, ‘বোনের বিয়ে, খালি গহনা গহনা করে...’। সব শুনে অলোকা বলেছিল, ‘গহনা সব মেয়েরই শখ, আমার বাবা আমার শখ মিটিয়ে গহনা দিয়েছেন।’ অলোকা ও বাদশা—কাউকেই যেন ঠিক বিশ্বাস করতে পারে না অলোকার স্বামী। তার মধ্যে সারাক্ষণ একটা অদ্ভুত দোলাচল, দুলতে থাকে সে। রাতে ঘুমাতে গিয়ে অলোকা দেখে ব্যাংক কর্মকর্তা স্বামীটি গম্ভীর, সিলিংয়ের দিকে মুখ। যেন তার ওপর দিয়ে বড় একটা প্রলয় গেছে। পাশ ফিরে শুয়ে পড়ে অলোকা। অভিমানে বুক ভারী হয়ে আসে প্রথমে, তারপর জাগে ক্রোধ। তন্দ্রা এলে সে দেখতে পায়, এক গাট্টি গহনা আর টাকা নিয়ে ট্রেনে চেপে কোথাও যাচ্ছে, পাশেই বাদশা, বসার জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়ছে, ওর গা দিয়ে পচা মাছের গন্ধ বেরোচ্ছে। এরপর অন্য একটা দৃশ্যে সে দেখল, সদ্য সেরে ওঠা ব্যাংক কর্মকর্তার হাতে বাদশার মাফলার, আর বাদশার রোগা বউটা কী করুণ হয়ে ডুকরে ডুকরে কাঁদছে।

বৃটেনে ১৩৭০ বছরের পুরনো কোরআন আবিষ্কার by তানজির আহমেদ রাসেল

বৃটেনে বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালা থেকে বিশ্বের এ যাবৎকালের সবচেয়ে প্রাচীনতম কোরআনের পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে। রেডিও কার্বন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাণ্ডুলিপি পরীক্ষা করে গবেষকরা বলছেন এটি অন্তত ১৩৭০ বছরের পুরনো। তারা বলছেন বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাগারে সংরক্ষিত এই পাণ্ডুলিপি হয়তো পবিত্র  কোরআনের সবচেয়ে পুরনো পণ্ডুলিপির অংশ। কোরআনের এই পৃষ্ঠাগুলো বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাগারে প্রায় একশ বছর ধরে অবহেলিতভাবে পড়েছিল। গবেষকরা বলছেন যিনি এই পাণ্ডুলিপি লিপিবদ্ধ করেছিলেন তিনি সম্ভবত মহানবী (স.)-এর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন অথবা মুখোমুখি তাঁর বাণী শুনেছিলেন। এই আবিষ্কারে গবেষকরা বিস্মিত ও আনন্দিত। এ খবর  দিয়েছে বিবিসি।
বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সংগ্রহশালার পরিচালক  বলেছেন কার্বন ডেটিং পরীক্ষা বলছে যে চামড়ার ওপর এই পাণ্ডুলিপি লেখা হয়েছে তা ৫৬৮ থেকে ৬৪৫ সালের মধ্যে লেখা হয়েছিল এবং এই ফলাফলের নিশ্চয়তা শতকরা ৯৫ ভাগ। তিনি বলেন, গবেষকরা স্বপ্নেও ভাবেন নি তারা কি আবিষ্কার করতে যাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্ম বিষয়ক অধ্যাপক ডেভিড টমাস বলেছেন এর অর্থ হলো এই পাণ্ডুলিপি লিপিবদ্ধ হয়েছিল ইসলাম ধর্ম প্রবর্তনের কয়েক বছরের মধ্যেই। তিনি আরও বলেছেন এই পাণ্ডুলিপির লিপিবদ্ধকারী হয়তো মহানবী (স.)-এর সংস্পর্শে এসে তাঁর মুখ থেকে বাণী শুনেছিলেন। ১৯২০ সালে একজন ইরাকি বংশোদ্ভূত ঐতিহাসিক ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাগারের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের বহু প্রাচীন হাজার হাজার পুঁথিপুস্তক ও নথি সংগ্রহ করেছিলেন। তার মধ্যে এই পৃষ্ঠাগুলো যে পবিত্র কোরআনের অংশ তা তিনি বুঝতে পারেন নি।
শত বছর ধরে পড়ে থাকা এই পাণ্ডুলিপি একজন পিএইচডি গবেষকের নথিটি নজরে এলে তিনি এর বয়স নির্ধারণ করার জন্য রেডিও কার্বন ডেটিং প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিও কার্বন অ্যাক্সিলেরেটর ইউনিটে এই পরীক্ষা চালিয়ে দেখা যায় ভেড়া বা ছাগলের চামড়ার ওপর লেখা এই পাণ্ডুলিপি এযাবৎ বিশ্বে কোরআনের সবচেয়ে পুরনো পাণ্ডুলিপি যা এখনও টিকে আছে। এই পাণ্ডুলিপির লেখা এখনও পরিষ্কার পড়া সম্ভব। বৃটিশ লাইব্রেরির নথি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মদ ইসা ওয়ালি বলেছেন এই আবিষ্কার মুসলমানদের জন্য দারুণ উত্তেজনাময় ও ভীষণ খুশির খবর।

সৈয়দ আশরাফের ফেরা, মধ্যবর্তী নির্বাচনের গুঞ্জন এবং...

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সোহেল তাজ হননি। বঙ্গবন্ধু-তাজউদ্দীন বিচ্ছেদের মতো বিয়োগান্তক ঘটনারও পুনরাবৃত্তি ঘটেনি। এটি সার্বিকভাবেই দেশের রাজনীতির জন্য একটি ভাল খবর। এলজিআরডি মন্ত্রীর পদ থেকে সৈয়দ আশরাফের আকস্মিক প্রস্থান বিস্ময়ের তৈরি করেছিল। যদিও তার বিরুদ্ধে দল এবং মন্ত্রণালয়ের কাজে নিয়মিত উপস্থিত না থাকার অভিযোগ ছিল। তারপরও বিপদের সময় দল এবং সভানেত্রীর পক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এইভাবে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হয়ে যাবেন তা হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেননি। তার অব্যাহতি মিডিয়াতেও আলোচনার ঝড় তুলেছিল। সবাই একবাক্যে বলেছিলেন, সৈয়দ আশরাফ বিতর্কিত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই। তবে দপ্তর হারানোর পরও রাজনৈতিক কর্মকা- থেকে দূরে থাকেননি তিনি। দলীয় সভানেত্রীর সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করেন নিয়মিত। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক থেকেই লন্ডনে ছুটি কাটানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তিনি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও ফেরেন।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের আকস্মিক প্রস্থান ও প্রত্যাবর্তন ঝিমিয়ে পড়া রাজনীতিতে ক্ষণিকের জন্য হলেও চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। রাজনীতি আপাতত শান্ত। কেউ কেউ অবশ্য বলেন, কোথাও রাজনীতি নেই। গ্রামে গেলেই হয়তো সেটা আরও বেশি টের পাওয়া যায়। ভাল অথবা মন্দ যাই হোক গত দুই-তিন দশকে ঈদ শুভেচ্ছায় দেয়াল ভরে যাওয়ার একটি ট্র্যাডিশন তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশে। তবে এবারের ঈদে তেমন কোন ছবি কোথাও দেখা যায়নি। সামান্য যা কিছু শুভেচ্ছা বাণী দেখা গেছে তা একটি দলের নেতাদেরই। তবে উত্তাপহীন বাংলাদেশের রাজনীতির অন্দর মহলে এখন মোটাদাগে দুটি বিষয়ে গুঞ্জন রয়েছে- ১. বিএনপিতে ভাঙন ২. মধ্যবর্তী নির্বাচন।
সাধারণ সমীকরণে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোন সম্ভাবনা দেখা না গেলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে। এতে দুুটি বিষয় যুক্ত রয়েছে। ১. ক্ষমতাসীনরা নিজেদের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন আয়োজন করতে পারে। এর সঙ্গে সরকারের মেয়াদ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রশ্ন রয়েছে। নীতিনির্ধারকদের কারও কারও ধারণা, বিএনপি এখন এতটা দুর্বল অবস্থায় রয়েছে, কোন নির্বাচনে জয়লাভের মতো সাংগঠনিক শক্তি দলটির নেই। ২. জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক দুনিয়ার একটি বড় অংশের মধ্যে এখনও ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সে ব্যাপারে একটা মীমাংসার জন্যও আরেকটি নির্বাচনের আয়োজন হতে পারে। তবে সম্ভাব্য ওই নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আরও বেশ কিছু নাটকীয় ঘটনার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। আলিয়া মাদরাসা মাঠ সংলগ্ন আদালতে বেগম খালেদা জিয়ার বিচারের দিকেও দৃষ্টি রাখছেন পর্যবেক্ষকরা। জিয়া অরফানেজ এবং চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে খালেদা জিয়ার বিচার। এ মামলায় সাজা হলে নির্বাচনে অযোগ্য হতে পারেন বেগম জিয়া। ওই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও কোন মামলায় রায় হতে পারে। যদিও এমনিতেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাসিত রয়েছেন। কোন নির্বাচনের আগে তার বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এর আগে অর্থ পাচারের একটি মামলার রায়ে তিনি খালাস পেয়েছিলেন। কিন্তু ওই রায় ঘোষণাকারী বিচারককে এখন নানারকম হেনস্তার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি-না প্রকাশ্যে এ ব্যাপারে সরকারের নীতিনির্ধারকদের দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। একজন মন্ত্রী পরিষ্কারই বলেছেন, খালেদা জিয়ার স্থান হবে কাশিমপুর কারাগারে। আগামী নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে পারবেন না। তবে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংসদে ইনুর ওই বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘পলিটিক্যাল ডিক্লারেশন দিয়ে কাউকে আনট্রিট করা যায় না। ৫৮ সালে আইয়ুব খান করেছিল, তার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু বাঘের মতো গর্জন কইরা ডাক দিছিলেন, ছাত্রসমাজ দাঁড়াইছিল।’ শুধু বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানই নন, তাদের প্রতি অনুগত হিসেবে বিবেচিত বিএনপির আরও অনেক নেতাই নির্বাচনে অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন। আইনি ক্ষেত্রে একই যাত্রায় দুই ফলও দেখা যেতে পারে। এর কিছু নমুনা অবশ্য এরই মধ্যে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।
এসব প্রেক্ষাপটেই বিএনপিতে ভাঙন নিয়ে প্রকাশ্যে-আড়ালে কিছুদিন ধরেই নানা আলোচনা চলছে। প্রভাবশালী একটি মহল ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছে বিএনপিতে। বিএনপির একটি অংশও এ ভাঙন প্রক্রিয়ায় জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বলাবলি আছে, দলে ভাঙন সৃষ্টির আশঙ্কাতেই খালেদা জিয়া শেষ মুহূর্তে সৌদিযাত্রা স্থগিত করেন। এর আগে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠকেও তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন। তবে ঈদের দিন খালেদা জিয়া বিএনপিতে যে  কোন ধরনের ভাঙনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভাঙন আর মাইনাসের তত্ত্ব অবশ্য নতুন কিছু নয়। ওয়ান-ইলেভেনের সময়ও মাইনাস টু থিওরি ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তা অবশ্য সাফল্যের মুখ দেখেনি। তবে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার কারণে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা রয়েছে। হামলা-মামলার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন দলের একটি বড় অংশ। কিছু কিছু তৃণমূল নেতাকর্মীর এরই মধ্যে আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘটনাও ঘটেছে। পুলিশি চাপ আর মামলা থেকে রক্ষা এক্ষেত্রে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাজনীতিতে নাটকীয় অনেক কিছুই ঘটতে পারে। যার পূর্বাভাস এখনই পাওয়া যাচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে আপাত স্বস্তি বড় কোন ঝড়ের পূর্বাভাস কিনা এ প্রশ্ন কূটনীতিকদের মনেও জাগছে। জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী রবার্ট ওয়াটকিন্স কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর কাছে এ ব্যাপারে জানতেও চেয়েছিলেন। ঝড়ের পূর্বাভাস দেয়া তার সাধ্যের বাইরে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমি আবহাওয়া অফিসে চাকরি করি না।’ একথা সত্য, আমরা কেউই আবহাওয়া অফিসে চাকরি করি না।

দুই শিশুকে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন

এভাবে দড়ি ও শিকল দিয়ে বেধে রাখা হয় দুই শিশুকে।
১৬ জুলাই সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার
জয়নগর গ্রামের ঘটনা এটি। ছবি: সংগৃহীত
সরকারি রাস্তায় খেজুরের কাঁটা দিয়ে তৈরি বেড়া ভেঙে ফেলায় দুই শিশুকে দড়ি ও শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ গোলাম মোস্তফা মোড়ল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে গতকাল বুধবার।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, জয়নগরে গোলাম মোস্তফা মোড়লের বাড়িতে যাতায়াতের জন্য সরকারি সড়কে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সম্প্রতি মাটি ফেলা হয়। বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যাবে—এ অজুহাতে গোলাম মোস্তফা মোড়ল ওই সড়কে খেজুরের কাঁটা দিয়ে বেড়া দিয়ে রাখেন।
১৬ জুলাই সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে গ্রামের আবদুল হামিদ তরফদারের ছেলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র নাছিম তরফদার (৯) ও প্রতিবেশী ইসমাইল তরফদারের ছেলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ইয়াছিন তরফদার (৮) ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় খেজুরের কাঁটা তাদের গায়ে লাগে। নির্যাতনের শিকার শিশু নাছিম ও ইয়াসিন গতকাল প্রথম আলোকে জানায়, তারা ওই বেড়া তুলে ফেলে দেয়। এর পরপরই গোলাম মোস্তফা মোড়ল তাদের ধরে নিয়ে এসে প্রথমে দুই হাত বেঁধে তাঁর বাড়ির ভেতরে নিয়ে যান। পরে শিকল দিয়ে পা বেঁধে ও সারা শরীর দড়ি দিয়ে পেঁচিয়ে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। সকাল সাতটা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাদের বেঁধে রাখা হয়। এ সময় পানি চাইলেও দেওয়া হয়নি।
দুজনই জানায়, পানি খেতে চাইলে পচা শামুক তাদের মুখের মধ্যে ভরে দেওয়া হয়। তাদের মারধরও করা হয়।
ওই দিন (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুই শিশুর নির্যাতনের ঘটনা জানতে পেরে নাছিমের দাদি সবজান্নেছা যান গোলাম মোস্তফার বাড়িতে। তিনি শিশুদের ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন। সবজান্নেছা বলেন, ‘এ সময় গোলাম মোস্তফার স্ত্রী মাহফুজা মারধর করে আমাকে মাটিতে ফেলে দেয়। পরে নাছিমের মা এসে কান্নাকাটি করার একপর্যায়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোলাম মোস্তফা মোড়লের ছেলে গোলাম হোসেন তাদের বাঁধন খুলে দিয়ে গালিগালাজ করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।’
জানতে চাইলে গোলাম মোস্তফা মোড়ল বলেন, ‘বর্ষার সময় লোকজন চলাচল করলে সড়ক নষ্ট হয়ে যাবে এ কারণে বেড়া দিয়ে রেখেছিলাম। ওই ছেলে দুটো দুষ্টামি করে বেড়া তুলে দেওয়ায় বেঁধে রেখেছিলাম। মারধর করিনি।’
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, গতকাল এ বিষয়টি জানতে পারার পরপরই গোলাম মোস্তফা মোড়লকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশু নাছিমের পিতা আবদুল হামিদ তরফদার বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।

শিশু রাজন হত্যাকাণ্ডঃ একে একে ধরা পড়েছে সব আসামি

সিলেটের শিশু শেখ মো. সামিউল আলম রাজনকে (১৪) নির্যাতন করে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত সব আসামিই একে একে ধরা পড়েছে। মামলার এজাহারে নাম ছিল যে চারজনের, এ চারজনকেই জনতা ধরে পুলিশে দিয়েছে। চার আসামিকে পালাতে সহায়তাকারী, ঘটনা প্রত্যক্ষ করা ও নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ধারণকারীসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও ছয়জনকে। গতকাল সোমবার রিমান্ড শেষে অন্যতম আসামি ময়না মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সর্বশেষ পর্যায়ে ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা আলী হায়দার ওরফে আলীকে (৩৪) গত শুক্রবার দুপুরে জনতা ধরে পুলিশে দিয়েছে। আলী এর আগে একইভাবে গ্রেপ্তার হওয়া ঘটনার মূল হোতা কামরুল-মুহিতের ভাই। এর পরদিন শনিবার দুপুরে পুলিশ সিলেটের টুকেরবাজার থেকে আলীর শ্যালক রুহুল আমিনকে (২৯) গ্রেপ্তার করে। এ দুজনকে পৃথকভাবে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে গত রোববার থেকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
ঘটনার মূল হোতাসহ জড়িত একে একে সব আসামি ধরা পড়ায় এবার হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের দাবি উঠেছে। ঈদের আগের দিন গত শুক্রবার দুপুরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সামিউলের বাড়িতে গেলে সামিউলের মা ও বাবা জানান, বিচার না পেলে তাঁরা ঈদ করবেন না। এলাকাবাসীও অর্থমন্ত্রীর কাছে এ দাবি জানান। অর্থমন্ত্রীও দ্রুত বিচার বিষয়ে শুক্রবার বিকেলে সিলেটের পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। গতকাল সোমবার সিলেট নগরের বৃহত্তর বাগবাড়ী এলাকাবাসীর উদ্যোগে হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে।
মামলার তদন্ত সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকা সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. রহমত উল্লাহ গতকাল প্রথম আলোকে জানান, ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত সব আসামিই গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে আর কারও সংশ্লিষ্টতা থাকলে পুলিশ আটক করে তদন্ত করবে। বিচার দ্রুত করার দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা আমরাও চাই। ধরা পড়া সব আসামিই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করায় পুলিশ দ্রুতই তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’
৮ জুলাই ভোরে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের কুমারগাঁও বাসস্টেশনে সামিউল আলম রাজনকে বেঁধে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। ওই দিন দুপুরে লাশ গুম করার চেষ্টার সময় কুমারগাঁও থেকে জনতা মুহিত আলম (৩৫) নামের একজনকে ধরে পুলিশে দেয়। মুহিতের বাড়ি শেখপাড়ায়। শিশু সামিউলের বাড়ি সিলেটের জালালাবাদ থানা এলাকার বাদেয়ালি গ্রামে। তার বাবা মাইক্রোবাসের চালক। সামিউল সবজিবিক্রেতা ছিল। কুমারগাঁও বাসস্টেশনে সবজি বিক্রি করতে গিয়েছিল।
অভিযোগ ওঠে, এ ঘটনায় তাঁর আরও তিন ভাই জড়িত। প্রথমে সামিউলের মরদেহ অজ্ঞাত বলে মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় মামলা হয়। ওই দিন রাতে লাশের পরিচয় উদ্ঘাটন হলে বাবা শেখ মো. আজিজুর রহমান একটি এজাহার দাখিল করলে সেটি মামলা হিসেবে না নিয়ে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। সামিউলকে নির্যাতন করার সময় নির্যাতনকারীরা সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুকে দিতে ভিডিওচিত্র ধারণ করে রেখেছিলেন। ২৮ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের ভিডিওচিত্র দেখে ঘটনার তিন দিন পর ১২ জুলাই প্রথম আলোয় ‘নির্মম, পৈশাচিক!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সর্বত্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরে জালালাবাদ থানা-পুলিশও সামিউলের বাবার দাখিল করা এজাহার মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। পুলিশের বিরুদ্ধে আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করার অভিযোগ ওঠায় মামলার বাদী জালালাবাদ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এরপর মামলাও পুলিশ থেকে গোয়েন্দা পুলিশে স্থানান্তর হয়।
এদিকে শিশু সামিউলকে নির্যাতন করার ভিডিওচিত্র প্রকাশ পাওয়ায় দেশে-বিদেশে তোলপাড় শুরু হয়। ঘটনার পরপরই পালিয়ে যাওয়া মূল হোতা কামরুল ইসলামকে (২৮) সৌদি আরবের জেদ্দায় জনতা ধরে সৌদি পুলিশ হেফাজতে দেয়। এরপর পর্যায়ক্রমে এলাকাবাসী ধরে পুলিশে দেয় চৌকিদার ময়না মিয়া, কামরুলের আরেক ভাই হায়দার আলী ওরফে আলী, ভিডিওচিত্র ধারণকারী নূর আহমদ, ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা শেখপাড়ার দুলাল আহমদকে।
জালালাবাদ থানার পুলিশ মুহিতের স্ত্রী, শ্যালক ইসমাইল হোসেন ওরফে আবলুচ, নির্যাতনের ঘটনা প্রত্যক্ষ করা ফিরোজ মিয়া ও আজমত উল্লাহ এবং সর্বশেষ গ্রেপ্তার হওয়া আলীকে পালাতে সহায়তাকারী তাঁর শ্যালক রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করে।
বাড়িতে অর্থমন্ত্রী, অনুদান: গত শুক্রবার বেলা দুইটায় সামিউল আলম রাজনের বাড়িতে যান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সামিউলের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ও তার ছোট ভাইয়ের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে অর্থমন্ত্রী পাঁচ লাখ টাকার সরকারি অনুদান দেন। এর মধ্যে নগদ ৫০ হাজার টাকা সামিউলের বাবার হাতে তুলে দেন। সামিউলের বাড়িতে অবস্থানকালে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ঘটনায় খুনিদের কোনো ছাড় নেই। একে একে ধরা পড়ছে, দ্রুত বিচারও হবে।’
আদালতে ময়নার জবানবন্দি: জনতার হাতে ধরা পড়ে গ্রেপ্তার হওয়া চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়না আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল বিকেলে ময়নার রিমান্ড শেষে মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে বিকেল সাড়ে চারটা থেকে রাত পৌনে আটটা পর্যন্ত তাঁর জবানবন্দি নেওয়া হয়। আদালতের বিচারক মো. আনোয়ারুল হক ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (আদালত) আবদুল আহাদ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি।
১৪ জুলাই রাতে ময়নাকে তাঁর মা ছমিরুন নেছা বাড়িতে খবর দিয়ে এনে এলাকাবাসীর হাতে তুলে দেন। ওই রাত সাড়ে ১০টার দিকে এলাকাবাসী ময়নাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করলে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শিশু সামিউল আলম রাজনকে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত ধরা পড়া ১০ আসামির মধ্যে ময়না মিয়াই সবার আগে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন।

সাশ্রয়ে, স্বস্তিতে কৃষক by আনোয়ার হোসেন

নিজের বাড়িতে কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরির কৌশল
বলছেন নাসির উদ্দিন l প্রথম আলো
বেশভূষায় গ্রামের আর দশজন সাধারণ কৃষকের মতোই। জীবন-যাপনের ধরনেও অন্য কৃষকদের থেকে আলাদা করা যাবে না তাঁকে। তবে নিজের কাজ দিয়ে নিজেকে অনন্য করেছেন তিনি।
সমাজবিজ্ঞানে সম্মানসহ স্নাতক ও ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে কৃষিকাজকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার ফতেপুর গ্রামের নাসির উদ্দীন (৪৭)। পরিবেশবিরোধী ব্যয়বহুল রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের বদলে সাশ্রয়ী পরিবেশবান্ধব কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরি করছেন তিনি। তৈরি করছেন জৈব কীটনাশকও। সার ও কীটনাশক তৈরির কৌশল শিখিয়ে তা ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছেন কৃষকদের। এভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন জৈব কৃষি আন্দোলন।
কৃষিকে পেশা হিসেবে নেওয়া প্রসঙ্গে নাসির বলেন, ‘ঢাকায় তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি নিয়েছিলাম। শহরের পরিবেশ, খাওয়া-দাওয়া কিছুই ভালো লাগত না। ১০ থেকে ১২ বছর আগে জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে আসি। এই গ্রাম আর কৃষির প্রতি ভালোবাসার টানে কৃষিকেই পেশা হিসেবে নিলাম।’
নাসিরের জৈব কৃষি আন্দোলন শুরুর পেছনে একটা কষ্টের গল্প আছে। সেই গল্পটা শোনালেন তাঁর স্ত্রী আয়েশা খাতুন, ‘প্রায় চার বছর আগে বাড়ির একটি স্বাস্থ্যবান বকনা গরু খেত থেকে চরে এসে অসুস্থ হয়ে পড়ে। গ্রামের মানুষের পরামর্শে গরু জবাই করা হয়। কিন্তু মাংস কাটতে গিয়ে দেখা গেল, মাংস স্বাভাবিক নয়। পরে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। সবার ধারণা, কীটনাশক স্প্রে করা কোনো খেতের ফসল খেয়ে গরুটির এ দশা। গরুটির মৃত্যুতে আমরা মুষড়ে পড়ি।’ আয়েশা জানালেন, ঠিক তখন থেকে নাসির ভাবতে শুরু করলেন জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার কীভাবে বন্ধ করা যায়। আর সেই ভাবনা থেকেই তাঁর মাথায় আসে পরিবেশবান্ধব জৈব কৃষির কথা।
এরপর যোগ দিলেন নাসির। জানালেন, বেশ কিছুদিন আগে রাজশাহীতে চিকিৎসার জন্য গিয়ে পরিচয় হয় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার এক লোকের সঙ্গে। ওই লোকের কাছে জানতে পারেন যে কালীগঞ্জের মহেশ্বচন্দ্রা গ্রামের হেলাল উদ্দীন পরিবেশবান্ধব কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরি করেন। ফোন নম্বর সংগ্রহ করে হেলালের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নিজেই কেঁচো নিয়ে এসে নাসিরকে দেন। শেখান সার তৈরির কৌশল। পরে হেলালের বাড়ি গিয়ে এ প্রক্রিয়া দেখে আসেন। নাসির জানান, হেলাল বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক (প্রযুক্তি হস্তান্তর) কৃষিবিজ্ঞানী গুল হোসেনের কাছ থেকে কেঁচো সংগ্রহ ও সার তৈরির প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
হেলালের কাছ থেকে কেঁচো নিয়ে শুরুর পর গত দুই বছরে নাসির নিজের ইউনিয়ন আকবরপুরসহ আশপাশের প্রায় দুই হাজার কৃষকের কাছে কেঁচো সরবরাহ করেছেন। অনেক কৃষককে শিখিয়েছেন সার তৈরির কৌশল। নাসির জানান, এখন কেঁচো সার ও জৈব কীটনাশক ব্যবহারকারী কৃষকদের নিয়ে একটি সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। সমবায় ভিত্তিতে জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত ফসলের একটি বাজার সৃষ্টির পরিকল্পনা নিয়েও তাঁরা এগোচ্ছেন।
‘পরিবেশবান্ধব জৈব কৃষি সম্প্রসারণকে আমরা একটি আন্দোলন হিসেবে নিয়েছি। এ আন্দোলন একদিন এ এলাকায় সফলতার মুখ তো দেখবেই, এমনকি আশপাশেও ছড়িয়ে পড়বে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’ বললেন, দৃঢ় প্রত্যয়ী নাসির।
ফতেপুর গ্রামে একদিন: সম্প্রতি নাসিরের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল কেঁচো কম্পোস্ট তৈরির আয়োজন। ১০০টি মাটির চাড়িতে সার তৈরি করেন তিনি। নাসির জানালেন, কাঁচা গোবর সংগ্রহ করে দুই দিন মাটির ওপর এবং পরে কয়েক দিন পলিথিনের ওপর রাখি। এরপর প্রতি ৪০ কেজি গোবরের সঙ্গে কলাগাছের এক কেজি পরিমাণ বাকল কুচি কুচি করে কেটে মিশিয়ে পলিথিন দিয়ে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত ঢেকে রাখা হয়। এরপর তা মাটির চাড়িতে তোলা হয়। ওই চাড়িতে কমপক্ষে ২৫০টি বিশেষ প্রজাতির কেঁচো ছেড়ে দেওয়া হয়। এই কেঁচো থেকেই প্রজননের মাধ্যমে অসংখ্য কেঁচোর জন্ম হয়। সাধারণত ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই সার তৈরি হয়ে যায়। তবে কেঁচোর পরিমাণ বেশি হলে সার তৈরিতে আরও কম সময় লাগে।
নাসির জানালেন, পর্যায়ক্রমে প্রতি চাড়ি থেকে ৪০ থেকে ৪৫ দিন পর ২৫ কেজি করে সার পান। গড়ে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ মণ সার বিক্রি করেন ২০ টাকা কেজি দরে। কেঁচো বিক্রি করেন প্রতিটি দুই টাকা করে।
জৈব কীটনাশক তৈরির প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে নাসির বলেন, ২৫০ গ্রাম রসুনের নির্যাস ও ২৫০ গ্রাম গরুর মূত্রের সঙ্গে ৪৮ লিটার পানি মিশিয়ে এক বিঘা জমির ফসলে ছিটাতে হয়। জানালেন, বাড়িতে রসুন বাটা ও গরুর মূত্রের ওপর মশা-মাছি বসে না—বিষয়টি খেয়াল করে এগুলো দিয়ে কীটনাশক তৈরির আগ্রহ জন্মে তাঁর। বেগুন খেতে ব্যবহার করে ভালো ফল পান। পরে তা ব্যবহার করতে থাকেন। কৃষকদেরও এ বিষয়ে পরামর্শ দেন।
সার ও কীটনাশকের গুণাগুণ: নাসিরের তৈরি কীটনাশক সম্পর্কে পত্নীতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান বলেন, রসুনের নির্যাস ও গরুর মূত্রের মধ্যে কীট-পতঙ্গবিরোধী উপাদান আছে। এটা কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। কেঁচো কম্পোস্ট সার সম্পর্কে আক্তারুজ্জামানের মূল্যায়ন, এ সার উৎকৃষ্ট মানের। এতে বালাইনাশক উপাদান আছে। এ সার প্রয়োগে মাটির স্বাস্থ্য ভালো হয়।
বিএআরসির সাবেক পরিচালক কৃষিবিজ্ঞানী গুল হোসেন কেঁচো কম্পোস্ট সারের গুণাগুণ সম্পর্কে বলেন, মাটির খাদ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম। রাসায়নিক সারের তুলনায় এই সারে নাইট্রোজেন পাঁচ গুণ, ফসফরাস সাত গুণ ও পটাশিয়াম ১১ গুণ বেশি রয়েছে। উদ্ভিদ এই সার খুব সহজেই গ্রহণ করতে পারে।
উপকৃতদের প্রতিক্রিয়া: পত্নীতলার বজরুক মোহাম্মদপুর গ্রামের কৃষক পলাশ চন্দ্র বর্মণ বললেন, ‘প্রতিবছর গড়ে ৩০ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করতে গিয়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ হতো কেবল রাসায়নিক সার ও কীটনাশকে। এ বছর কেঁচো কম্পোস্ট সার এবং রসুনের নির্যাস ও গরুর মূত্র দিয়ে তৈরি জৈব কীটনাশক ব্যবহার করেছি। খরচ হয়েছে মাত্র ২৪ হাজার টাকা। ফলনও হয়েছে ভালো।’
নাসিরের গ্রামের কৃষক জয়নাল আবেদিন তাঁর ২০ শতক জমিতে পটোলের চাষ করতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক মিলিয়ে খরচ করেছিলেন সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। কিন্তু এবার কেঁচো কম্পোস্ট ব্যবহার করেছেন ৬০ কেজি। আর ইউরিয়া সার ব্যবহার করেছেন মাত্র পাঁচ কেজি। জয়নাল বললেন, ‘গতবারের তুলনায় খরচ হয়েছে চার ভাগের এক ভাগ। উৎপাদন বেড়েছে প্রায় দেড় গুণ।’
কাশিপুর এলাকার জোসনা অধিকারী জানান, নাসিরের মাধ্যমে কাশিপুরের দত্তপাড়া, কোলপাড়ায় কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরি হচ্ছে। তিনি নিজেসহ ওই এলাকার কয়েকজন এই সার বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করছেন।
স্বীকৃতি: নাসির তাঁর জৈব কৃষি আন্দোলনের স্বীকৃতি পেতেও শুরু করেছেন। জৈব কৃষি সম্প্রসারণে অবদান রাখার জন্য আকবরপুর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে গত ৯ মে তাঁকে সম্মাননা দেওয়া হয়। ওই অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ইউএনও আখতার মামুন।
আকবরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আককাস আলী বলেন, নাসির উদ্দীন তাঁর সার তৈরির প্রক্রিয়া কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর এই আন্দোলনে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

গ্রিসের ঋণসংকটঃ নিজ দলের বিরোধীদের তুলাধোনা করলেন সিপ্রাস

গ্রিসের বামপন্থী প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস দ্বিতীয় দফায় আর্থিক সংস্কারের বিল পার্লামেন্টে তোলার প্রাক্কালে নিজ দলে তাঁর সমালোচনাকারীদের তুলাধোনা করলেন। দলের যেসব এমপি আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের সঙ্গে করা চুক্তির বিরোধিতা করেছেন, সিপ্রাসের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন তাঁরাই। খবর বিবিসি ও এএফপির।
দলের সমালোচক সাংসদের উদ্দেশে সিপ্রাস বলেন, ‘আমি চুক্তি স্বাক্ষর করেছি আর ওঁরা তাঁর পেছনে আশ্রয় নিয়েই গা বাঁচিয়েছেন।’
এবার সংস্কারের প্রস্তাব পাসের আগে সিপ্রাসকে বিরোধী দলের ওপর নির্ভর করতে হবে। কেননা, গেল সপ্তাহে প্রথম দফার প্রস্তাব পাসের আগে নিজ দলের ১৪৯ জন এমপির মধ্যে এক-পঞ্চমাংশই এর বিরোধিতা করেন। এর মধ্যে সাবেক অর্থমন্ত্রী ইয়ানিস ভারফোকিসও ছিলেন। তবে দাতাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুত ৮ হাজার ৬০০ কোটি ইউরো পেতে গেলে এসব সংস্কারের বিকল্প নেই গ্রিসের।
গতকাল বুধবার গ্রিসের পার্লামেন্টে এই সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। দলীয় এমপিদের সমর্থন কমে এখন সিপ্রাসের পক্ষের এমপির সংখ্যা হয়েছে ১২৩। সরকার টিকিয়ে রাখতে অন্তত ১২০ সাংসদের সমর্থন দরকার।
তবে এই দফায় সংস্কার প্রস্তাবে সিপ্রাস খুব বেশি বিরোধিতার সম্মুখীন না-ও হতে পারেন। এবারের প্রস্তাবের মধ্যে বিচার বিভাগ, সরকারি নিলাম ব্যবস্থার সংস্কার এবং গ্রিসের ব্যাংকগুলোর তারল্য ধরে রাখার বিষয় আছে। তিন সপ্তাহ পর গ্রিসের ব্যাংকগুলো খুলেছে গত সোমবার। নতুন বিলে ব্যাংকের সঞ্চয় সর্বোচ্চ এক লাখ ইউরো পর্যন্ত রাখার প্রস্তাব আছে। ঋণদাতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এই শর্ত জুড়ে দেয়। গ্রিসের বিরোধী দল এবারের প্রস্তাবে সমর্থন দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এবারের বিল পাসের আরেক গুরুত্ব হলো, বিলটি পাস হওয়ার পরপরই ঋণদাতা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) এবং ইউইউর সঙ্গে আবার আলোচনা শুরু হবে।
তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, সিপ্রাসের নিজ দলের মধ্যে ভাঙন দেখা দেবে কি না বা এর ফলে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা আছে কি না পার্লামেন্টের সম্ভাব্য উত্তপ্ত আলোচনাই তা বলে দেবে।
গতকাল প্রধানমন্ত্রী সিপ্রাস ব্যাংকগুলোর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। গত ডিসেম্বর মাস থেকে গ্রিসের ব্যাংক থেকে শঙ্কিত গ্রাহকেরা চার হাজার কোটি ইউরো তুলে নেন। এর ফলে এসব ব্যাংক চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে।
গ্রিসের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এএনএ জানায়, সিপ্রাস বলেছেন, ‘আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে স্বাভাবিক করাই এখনকার মূল কাজ। এর পাশাপাশি আমাদের স্বল্প আয়ের মানুষদেরও রক্ষা করতে হবে।’

‘পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম, কংগ্রেস এবং বিজেপি হ-য-ব-র-ল দল’

কলকাতার ধর্মতলায় অনুষ্ঠিত জনসভায়
বক্তব্য দেন মমতা। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘এই রাজ্যে সিপিএম, কংগ্রেস এবং বিজেপি আজ হ-য-ব-র-ল দল হয়ে গেছে। এই দলের ঠাঁই হবে না পশ্চিমবঙ্গে। কারণ, এদের নড়বার শক্তি নেই। এরা যত তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ করবে তত আসন কমবে তাদের। এখন যা আছে তাও থাকবে না।’
২১ জুলাই শহীদ দিবসকে সামনে রেখে মমতার আহ্বানে মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলায় অনুষ্ঠিত এক জনসভায় মমতা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিজেপি দাঙ্গা ও দুর্নীতিতে পুষ্ট দল। বাংলার মানুষ দাঙ্গাকে প্রশ্রয় দেয় না। তাই সাম্প্রদায়িকতার বীজ ছড়ানো এই দলকে বাংলার মানুষ সমর্থন করে না। যারা দাঙ্গা করে তারা রাজনীতি জানে না।
সিপিএমকে উদ্দেশ করে মমতা বলেন, ৩৫ বছর ধরে এই বাংলাকে পিছিয়ে দিয়েছে তারা। বাংলাকে সর্বনাশ করে গেছে। মমতা আরও বলেন, খুনের বদলে খুন এই রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না তৃণমূল। তৃণমূল মানুষকে নিয়ে রাজনীতি করে। আগামী ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল একা লড়ে রেকর্ড সংখ্যক ভোটে জয়ী হবে।
মমতা বলেন, বিগত চার বছরে এই রাজ্যে ৩৯ লাখ মানুষের চাকরি হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘দিল্লির কাছে মাথা নত করব না। মাথা উঁচু করে চলব। কারও দয়া চাই না। ভিক্ষা চাই না। ভিক্ষা চাই মানুষের কাছে।’
মমতা বলেন, বিজেপি সাম্প্রদায়িক দল। পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার স্থান নেই। নিজের দলের নেতাদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, দলে কোনো গোষ্ঠীবাজি বরদাশত করা হবে না। যোগ্য ব্যক্তিরাই দলে ঠাঁই পাবেন।
১৯৯২ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতার নেতৃত্বে রাজ্য সচিবালয় মহাকরণ অভিযানকালীন পুলিশের গুলিতে ১৩ জন নিহত হয়। এই দিনকে স্মরণ করে প্রতি বছর ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেস ও জাতীয় কংগ্রেস শহীদ দিবস পালন করে আসছে।

বাংলাদেশের টেস্ট–আইসিসির পরীক্ষাগার!

কাটুনটি সংগৃহীত
বাংলাদেশের টেস্ট মানেই কি আইসিসির পরীক্ষাগার? এমন প্রশ্ন ওঠার কিন্তু যথেষ্ট অবকাশ আছে! ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা যে নতুন আম্পায়ারদের ‘ব্রেক’ দিতে বেছে নিচ্ছে বাংলাদেশেরই টেস্ট ম্যাচগুলো। ২০০০ সালে টেস্ট অভিষেকের পর থেকে বাংলাদেশের খেলা ৯২টি টেস্ট ম্যাচে অভিষেক হয়েছে ১৮ জন আম্পায়ারের। বাংলাদেশের টেস্ট আইসিসির পরীক্ষাগার, নয়তো কী!
বাংলাদেশের টেস্ট ম্যাচে অভিষেক ঘটেছে তিন বাংলাদেশি আম্পায়ারেরও। ২০০১ সালের ৮ নভেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে প্রথম বাংলাদেশি টেস্ট আম্পায়ার হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছিল আকতারউদ্দিন শাহীনের। এরপর অভিষেক ঘটেছে মাহবুবুর রহমান ও শওকতুর রহমানের। প্রথম দিকে ব্যাপারটা ইতিবাচক মনে হলেও আইসিসির কল্যাণে তা অচিরেই পরিণত হয় ভাবনার বিষয়ে। অতীতে অনভিজ্ঞ কিংবা অদক্ষ অভিষিক্ত আম্পায়ারের কুফল অনেকবারই বাংলাদেশ পেয়েছে বাজেভাবে।
২০০১ সালে যেদিন আকতারউদ্দিন শাহীনের অভিষেক ঘটে, তারপর থেকে এখনো পর্যন্ত ক্রিকেট বিশ্ব দেখেছে ৬০৬টি টেস্ট। এ সময় বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছে ৮৬টি। এই টেস্টগুলোতে যেখানে মোট ২৯ জন আম্পায়ারের অভিষেক ঘটেছে, সেখানে বাংলাদেশের খেলা ৮৬ টেস্টে ১৮ জন আম্পায়ারের অভিষেককে কোনোভাবেই হালকা করে দেখার অবকাশ নেই। বাংলাদেশের টেস্ট ম্যাচগুলোর গুরুত্ব আইসিসির কাছে কম—ব্যাপারটা কি এমনটাই দাঁড়ায় না? গুরুত্ব কম দেখেই বাংলাদেশের টেস্টগুলোকে ‘পরীক্ষাগার’ হিসেবে বেছে নিচ্ছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা।
এই তালিকার সর্বশেষ সংযোজন জোয়েল উইলসন। চট্টগ্রামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই অভিষেক হলো এই ক্যারিবীয় আম্পায়ারের। অর্থাৎ, আরও একজন নতুন, আনকোরা আম্পায়ারের ‘পরীক্ষার হল’ হয়ে গেল বাংলাদেশের একটি টেস্ট ম্যাচ। উইলসন বিতর্কিত কোনো সিদ্ধান্ত না দিলেও প্রোটিয়া বোলারদের কিছু ‘ওভার স্টেপিং’ তাঁর দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। এই ‘দৃষ্টি এড়ানো’র ব্যাপারটা একাধিক হওয়ায় তাঁর দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন কিন্তু উঠতেই পারে।
বাংলাদেশের টেস্টে অভিষেক হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আম্পায়ার হিসেবে নিজেদের শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার উদাহরণও আছে। আলিম দার ও ইয়ান গোল্ড—বাংলাদেশের ক্রিকেটানুরাগীদের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বিতর্কিত এই দুই আম্পায়ার কিন্তু টেস্ট পরিচালনা শুরু করেছিলেন বাংলাদেশের খেলাতেই। ব্যাপারটি নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভাবতে বসার সময় বোধ হয় এসেই গেছে!

ইস্কাটনে জোড়া খুন: অভিযোগপত্র দাখিল- সাংসদপুত্র বখতিয়ারই শুধু আসামি

রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে জোড়া খুনের মামলায় সাংসদপুত্র বখতিয়ার আলম রনিকেই (৪২) একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ডিবি পুলিশ বলেছে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।
অভিযোগপত্রে বখতিয়ারের ব্যবহৃত গাড়ির চালক ইমরান ফকিরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। তাঁকে মামলায় প্রধান সাক্ষী করা হয়েছে। গাড়িটির মালিক সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ ও মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পিনু খান। তিনি বখতিয়ারের মা।
গাড়ির মালিককে আসামি না করার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময় বখতিয়ার এই গাড়িতে থাকলেও অপরাধ করার জন্যই যে গাড়িটি নেওয়া হয়েছিল, তার প্রমাণ মেলেনি। এ কারণে গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সংশ্লিষ্ট সাধারণ নিবন্ধন শাখায় (জিআরও) গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) দীপক কুমার দাস। অভিযোগপত্রের সঙ্গে মোট ১৫টি আলামত আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। আলামতের মধ্যে রয়েছে বখতিয়ারের পিস্তল, ম্যাগাজিন, ২১টি গুলি, রক্তমাখা একটি গুলির অংশবিশেষ, নিহত দুজনের লুঙ্গি। আগামী ১৩ আগস্ট আদালতে এই অভিযোগপত্র উপস্থাপন ও শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে।
বখতিয়ার ও ইমরান এখন কারাগারে। গত ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে নিউ ইস্কাটনে একটি গাড়ি থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হন অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী ও রিকশাচালক আবদুল হাকিম। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে এ দুজন মারা যান।
আদালত সূত্র বলেছে, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় এই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। মামলায় ৩৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ইমরান ছাড়াও বখতিয়ারের বন্ধু আবাসন ব্যবসায়ী কামাল মাহমুদ, মো. কামাল ওরফে টাইগার কামাল ও জাহাঙ্গীর আলম রয়েছেন। কামাল মাহমুদ ও মো. কামাল প্রত্যক্ষ সাক্ষী। ইমরান, কামাল মাহমুদ ও কামাল আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। জাহাঙ্গীর আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। বখতিয়ারের তিন বন্ধু ও গাড়িচালকের বিরুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, সূত্রবিহীন ও আলোচিত এই মামলার খুঁটিনাটি ও চুলচেরা বিশ্লেষণ করে তিন মাসেরও কম সময়ে তদন্ত শেষ করা হয়েছে। গাড়িচালকের জবানবন্দিকে দালিলিক সাক্ষ্য হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এ কারণে তাঁকে মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
এই মামলায় বখতিয়ারকে তিন দফায় মোট ১১ দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি পুলিশ। ডিবি সূত্র বলেছে, তিনি জিজ্ঞাসাবাদে গুলি করার কথা জানালেও আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হননি।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এ মামলায় ৩১ মে গ্রেপ্তার হওয়া গাড়িচালক ইমরান ১ জুন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে (পৌনে দুইটা) বখতিয়ারকে বহন করা প্রাডো গাড়িটি নিউ ইস্কাটন রোডে যানজটে আটকে পড়ে। এতে চালকের পাশের আসনে বসা নেশাগ্রস্ত বখতিয়ার বিরক্ত হয়ে তাঁর লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি চার-পাঁচটি গুলি করেন। বখতিয়ারের বন্ধু কামাল মাহমুদ ও মো. কামাল ওই সময় গাড়িটির পেছনের আসনে বসা ছিলেন। তাঁরাও জবানবন্দিতে বলেন, বখতিয়ার এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছেন। ওই ঘটনার আগে বখতিয়ারের সঙ্গে ছিলেন আরেক বন্ধু জাহাঙ্গীর। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ব্যালাস্টিক প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষদর্শীদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, বস্তুগত প্রমাণ, তদন্ত ও অন্যান্য সূত্র থেকে ডিবি নিশ্চিত হয়েছে, বখতিয়ারের এলোপাতাড়ি গুলিতে দৈনিক জনকণ্ঠ-এর অটোরিকশাচালক ইয়াকুব (৪০) ও রিকশাচালক হাকিম (২৫) আহত হয়েছিলেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাকিম ১৫ এপ্রিল বিকেলে মারা যান। সেদিন রাতে হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, গাড়ির জানালা খুলে একজন লোক এলোপাতাড়ি চার-পাঁচটি গুলি ছুড়েছে। একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইয়াকুব মারা যান ২৩ এপ্রিল রাতে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইয়াকুবের বুকে গুলি বিদ্ধ হয় এবং হাকিমের শরীরের পেছনের অংশে গুলি ঢুকে নাভির নিচ দিয়ে বেরিয়ে যায়।
গতকাল দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ইয়াবা উদ্ধার নিয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম বলেন, সাংসদপুত্র বখতিয়ার তাঁর লাইসেন্স করা অস্ত্র থেকে গুলি ছুড়ে দুজনকে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় বখতিয়ার ছাড়া আর কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। বখতিয়ারের গাড়িচালক ও তাঁর এক বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের এ মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে।
মনিরুল ইসলাম বলেন, গাড়িচালক ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল এমন প্রমাণ মেলেনি। বখতিয়ারের ব্যবহার করা গাড়ির মালিককে কেন আসামি করা হলো না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, গাড়িটি বখতিয়ারের মা সাংসদ পিনু খানের। সেটি জব্দ করা হয়েছে। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময় বখতিয়ার এই গাড়িতে থাকলেও অপরাধ করার জন্যই যে গাড়িটি নেওয়া হয়েছিল—তার প্রমাণ মেলেনি। কারণ, গাড়ির মালিক সাংসদ পিনু খান তাঁর মা। মায়ের গাড়ি ছেলে ব্যবহার করতেই পারেন। এ কারণে গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত—এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। এটি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটেছে, গাড়িটিতে চড়া হত্যার মুখ্য কারণ ছিল না। গাড়িটি কী করা হবে, সে সিদ্ধান্ত আদালতের।
ঘটনার সময় বখতিয়ার মদ্যপ ছিলেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, তাঁকে ঘটনার অনেক পরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সময় তিনি কী অবস্থায় ছিলেন তা জানা যায়নি। বখতিয়ারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি না নেওয়া এই মামলার দুর্বল দিক কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেখানে বস্তুগত সাক্ষ্য আছে সেখানে জবানবন্দি না হলেও মামলার কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। তা ছাড়া এই মামলা প্রমাণের জন্য পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পুলিশের হাতে রয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, জোড়া খুনের এই মামলার তদন্তভার রমনা থানার পুলিশের কাছ থেকে ২৪ মে ডিবির কাছে ন্যস্ত করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে ডিবি জনকণ্ঠ ভবনে স্থাপিত ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজে ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে ওই সড়কে দুবার কালো রঙের একটি প্রাডো গাড়ির (ঢাকা মেট্রো ঘ ১৩-৬২৩৯) বেপরোয়া চলাচল দেখে। ডিবি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নথিপত্র দেখে নিশ্চিত হয়, ওই গাড়ি সাংসদ পিনু খানের। ডিবি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও অন্য সূত্রের মাধ্যমে ঘটনার সময়, এর আগে ও পরে ঘটনাস্থলে বখতিয়ার ও ইমরানের অবস্থানও নিশ্চিত হয়। বখতিয়ার তাঁর মায়ের ওই গাড়ি ব্যবহার করতেন।
ডিবি ৩১ মে ইমরানকে আটক করে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধানমন্ডির বাসা থেকে বখতিয়ারকে গ্রেপ্তার ও তাঁর লাইসেন্স করা পিস্তলটি জব্দ করা হয়। ৪ জুন ডিবি ব্যালাস্টিক পরীক্ষার জন্য পিস্তলটি সিআইডির আগ্নেয়াস্ত্র পরীক্ষা শাখায় পাঠায়। এই পরীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই পিস্তল থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে এবং নিহত ইয়াকুবের শরীরে পাওয়া গুলি ও ওই পিস্তলের গুলির ধরন এক, পয়েন্ট ৩২ বোরের। ১৪ জুন প্রাডো গাড়িটি জব্দ করা হয়। ৫ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকার জেলা প্রশাসকের কাছে বখতিয়ারের পিস্তলের লাইসেন্স বাতিলের আবেদন করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বাড়ৈ সিন্ডিকেট তদন্ত ও বিচার দাবি

দীর্ঘদিন দাপটের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে ছিলেন তিনি। তার দাপট ছিল শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে। ছিল বিস্তৃত সিন্ডিকেট। তিনি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের আলোচিত এপিএস মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈ। তাকে এ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ায় এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে ওই সিন্ডিকেটে। এপিএস বদলির পর শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষাভবন, এনসিটিবি, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি), পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ), নায়েম, সেসিপ ও টিকিউআই, ইএমআইএস সেলের শীর্ষ কর্মকর্তারাও রয়েছেন বদলি আতঙ্কে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার এপিএস বাড়ৈকে অব্যাহতি দেয়ার পর গতকাল তাকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উপ-কলেজ পরিদর্শক পদে পদায়ন করা হয়েছে। উপ-কলেজ পরিদর্শক অদ্বৈত কুমার রায়কে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে পদায়ন করা হয়েছে। এপিএসকে শিক্ষা বোর্ডের পদায়নের ব্যাপারে শিক্ষা সচিবের চরম আপত্তি থাকার পরও শিক্ষামন্ত্রীর অনুরোধে এমনটা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দুর্নীতির দায়ে অব্যাহিত পাওয়া এপিএসকে চাকরি থেকে বরখাস্ত ও তার গড়া সিন্ডিকেট ভাঙা ও দুর্নীতি করে অর্জিত কোটি কোটি টাকা উদ্ধার, দুদকের মাধ্যমে তদন্ত ও তাকে  গ্রেপ্তার দাবি করেছেন শিক্ষকরা। গতকাল বিসিএস শিক্ষা সমিতি ও বেসরকারি কয়েকটি শিক্ষক সংগঠনের নেতারা এ দাবি জানান।
এদিকে মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আলোচনা চলছে। প্রশ্ন উঠছে এতো অভিযোগ থাকার পরও দীর্ঘ দিন কেন তাকে শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস করে রাখা হলো। অভিযোগের বিষয়ে কি শিক্ষামন্ত্রী কিছুই জানতেন না। আর এতো অভিযোগ থাকার ওপর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফের পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেছেন অনেকে।
বাংলাদেশে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি নজরুল ইসলাম রনি বলেন, এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সারা দেশে শিক্ষক-কর্মচারীরা একজন ব্যক্তির কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। তাকে পদ থেকে  শুধু অব্যাহতি নয়, অবিলম্বে চাকরিচ্যুত করে তদন্তের দাবি জানান তিনি। গতকাল শিক্ষাভবনে গিয়ে দেখা যায়, সবার মুখে মুখে এপিএসের বদলি কাহিনী এবং তার সম্পর্কে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। ইইডি, ডিআইএ, এনসিটিবি সবার মাঝেই ছিল বদলি আতঙ্ক। নাম প্রকাশ না করার শর্তের শিক্ষাভবনের একজন ডিডি বলেন, এই শিক্ষাভবনে অনেক দক্ষ, মেধাবী কর্মকর্তারা থাকতে পারেনি কেবল এপিএসের সিন্ডিকেটের সদস্য না হওয়ায়। তিনি পুরো শিক্ষা পরিবারকে জিম্মি করে রাখেন। দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত এপিএসকে সরিয়ে দিতে সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে বার বার তাগাদা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করা হয়নি।
সর্বশেষ ২০১৫ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণীর অনলাইন ভর্তিতে তার সিন্ডিকেটের কারণে গোটা পদ্ধতিতে একটি বিতর্কের মুখে পড়ে। ভর্তির সংকট উত্তরণে ৪ঠা জুলাই রাজধানীর হেয়ার রোডে শিক্ষামন্ত্রী বাসভবনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রকাশ্যে এপিএসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন শিক্ষাসচিব। এরপর থেকে তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার গুঞ্জন উঠে।
সোমবার এপিএস বাড়ৈকে বদলি করার পর তার গড়ে তোলা সিন্ডিকেট পুরোটাই বদলি আতঙ্কে। শিক্ষাসচিব বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি দেশে আসলেই এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানা গেছে। এদিকে শিক্ষাভবন, শিক্ষা বোর্ড, নায়েম, এনসিটিবি, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর, সেসিপ ও টিকিউআই, ইএমআইএস সেলের শীর্ষ কর্মকর্তারাও রয়েছে বদলি আতঙ্কে। সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে আছেন ঢাকা বোর্ডের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। এ ছাড়াও সারা দেশে বাকি ৯টি বোর্ডের সচিব, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, কলেজ, স্কুল পরিদর্শকদের মাঝে একই আতঙ্ক রয়েছে। বোর্ডগুলোর লোভনীয় এ পদগুলোর সবকটির নিয়ন্ত্রণ ছিল এপিএসের কব্জায়। ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছাড়া বাকি সব পদগুলো এপিএসের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ছিল। মাউশির বর্তমান মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুন বোর্ড থেকে আসার পরই তিনি এ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন। যা এখনও আছে। তবে শিক্ষাসচিব এ সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়ার পক্ষে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ঢাকা বোর্ডের বর্তমান সচিব শাহেদুল কবির, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শ্রীকান্ত কুমার চন্দ যখন স্কুল ও কলেজ পরিদর্শক ছিলেন তখনই তাদের বিরুদ্ধে উৎকোচের মাধ্যমে নামে বেনামে স্কুল কলেজ অনুমোদন দেয়ার অভিযোগ উঠে। তারপরও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এপিএসের সিন্ডিকেটের লোক বলে। ভুইফোঁড় প্রতিষ্ঠানকে টাকার বিনিময়ে বোর্ডের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ঢুকিয়ে দেয়ার অভিযোগও উঠে।
প্রায় এক বছর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিয়ে চলছে মাদরাসা বোর্ড। নিজের লোক হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে এমন শঙ্কায় রেজিস্ট্রার ছায়েফ উল্লাকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসীন করে রাখা হয়েছে। তিনি এপিএসের পকেটের লোক বলে প্রচার আছে। এজন্য শিক্ষামন্ত্রীর সাবেক প্রটোকল কর্মকর্তাকে চেয়ারম্যান পদে বসান তিনি। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়মের অভিযোগের কমতি নেই। এ ছাড়া মাদরাসা বোর্ডের সকল কেনাকাটা, টেন্ডারসহ সকল কাজে শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষাভবন মূলত দুটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে। একটি মহাপরিচালকের, অন্যটি এপিএসের সিন্ডিকেট। এরপর আছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি)। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সব উন্নয়ন কাজ করে করে থাকে এ দপ্তর। এভানের চীফ ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে ৩৮ জোনের অধিকাংশ নির্বাহী প্রকৌশলী এপিএসের অনুগত ছিলেন বলে আলোচনা আছে। কোন ধরনের যোগ্যতা না থাকার পরও গত বছর ঢাকা জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় মির্জা নজরুল ইসলামকে। তিনি আসার পর তার আপন ভাই ঢাকা জোনের পুরো টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতে নিজস্ব একটি বলয় তৈরি করেন। অভিযোগ উঠে ৫ থেকে ৭% কমিশন নিয়ে আগেই টেন্ডারের শিডিউল বিক্রি করে দেয়ার। এ ছাড়া কুমিল্লা, সাভার, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ বড় জোনগুলোতে অযোগ্যদের বসিয়েছিলেন এপিএস বাড়ৈ। এসব কর্মকর্তাদের মধ্যে বদলির আতঙ্ক এখন চরমে।
জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)’র গুরুত্বপূর্ণ পদেও এপিএস বাড়ৈর অনুগতরা ছিলেন।
সেসিপ ও টিকিউআইয়ের সকল ঠিকাদারী, গাড়ি কেনাকাটা, বিদেশভ্রমণসহ যাবতীয় বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতেন এপিএস। এ দুটি প্রকল্প থেকে বাৎসরিক মাসোহারা পেতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিতর্ক এখানে শেষ নয়, গত বছর বর্তমান সরকারের শেষ সময় তিনি ছিলেন বিতর্কের কেন্দ্রবিনন্দুতে। বর্তমান সরকারের গত মেয়াদের শেষ সময়ে ৫ বছরের জন্য ছুটির আবেদন করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে একটি কোম্পানিতে চাকরি করবেন সেটি উল্লেখ করেন তার ছুটির আবেদনপত্রে। সেই আবেদন অনুযায়ী ৩ বছরের ছুটি অনুমোদন করেন শিক্ষামন্ত্রী। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পৌঁছালে তার ছুটি বাতিল করা হয়। তখন তাকে ঢাকা বোর্ডে পদায়ন করা হলেও বসতেন মন্ত্রীর দপ্তরে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড়ৈ ১৯৯৫ সালে বি সি এস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সংস্কৃত বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি সহকারী অধ্যাপক।
এপিএসের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈকে এপিএসের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে অন্যত্র পদায়ন করেছে। কি কারণে তাকে সরানো হয়েছে তা সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলতে পারবে। শিক্ষা বোর্ডে পদায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি একজন শিক্ষক। তাকে সেখানে পদায়নে বাধা কোথায়।

মুক্তিযুদ্ধের স্মারকঃ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ‘হকার হান্টার’

মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল ভারতীয় ‘হকার হান্টার’
বিমানটি। ভারতীয় বিমানবাহিনী মুক্তিযুদ্ধের স্মারক
হিসেবে ২০০০ সালে বিমানটি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে দেয়।
স্থান সংকুলান না হওয়ায় এত দিন তা রক্ষণাবেক্ষণ
করে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী। গতকাল বুধবার
আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নির্মাণাধীন
ভবনে বিমানটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরের
কাছে হস্তান্তর করা হয় l ছবি: প্রথম আলো
নিচ থেকে তাকালে মনে হচ্ছিল যেন আকাশে ডানা মেলেছে বিশাল আকৃতির পাখি। আসলে তা পাখি নয়, যুদ্ধবিমান ‘হকার হান্টার’। প্রায় ৪৬ ফুট দৈর্ঘ্যের এই বিমানটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম স্মারক। বর্তমানে তা রাখা হয়েছে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নির্মাণাধীন ভবনের দোতলার ছাদে।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর ‘হকার হান্টার’ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ব্যবহার করেছিল। ভারতীয় বিমানবাহিনীর দেওয়া এই যুদ্ধবিমানটি গতকাল বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে নির্মাণাধীন নতুন ভবনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। অনুষ্ঠানের শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে কবি সব্যসাচী দেবের ‘মনে রেখ’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন রফিকুল ইসলাম।
স্বাগত বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন তারেক আলী বলেন, নতুন যে ভবনে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আসছে, তা সেগুনবাগিচার ভাড়া করা ভবনের চেয়ে বহুগুণ বড়, যা বাংলার মানুষের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ভালোবাসারই প্রকাশ।
অনুষ্ঠানে বিমানবাহিনীর সাবেক দুই কর্মকর্তা শাহাবউদ্দিন বীর উত্তম ও আকরাম আহমেদ বীর উত্তম বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর গঠন, মুক্তিযুদ্ধে বিমানবাহিনীর ভূমিকার স্মৃতিচারণা করেন।
ভারতীয় বিমানবাহিনী মুক্তিযুদ্ধের স্মারক হিসেবে ২০০০ সালে যুদ্ধবিমান হকার হান্টার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে প্রদান করে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের স্থানস্বল্পতার কারণে ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী বিমানটি রক্ষণাবেক্ষণ করেছে। আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নির্মাণাধীন নতুন ভবনে সংরক্ষণ করা মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্মারক এই বিমানটি।
অনুষ্ঠানে বিমানবাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে গ্রুপ ক্যাপ্টেন মঞ্জুর কবির ভূঁইয়া বলেন, ‘যে চেতনায়, যে আশায়, যে উদ্দেশ্যে বিমানবাহিনীর সদস্যরা স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, আমরা পরবর্তী প্রজন্ম নিজেদের তার অংশ মনে করি।’
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই নিদর্শন সবার সামনে আনতে পেরে এবং সফলভাবে হস্তান্তর করতে পেরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী গর্বিত।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি রবিউল হুসাইন, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন একরামুজ্জামান, গ্রুপ ক্যাপ্টেন কাজী মঈন বক্তব্য দেন।
যুদ্ধবিমান হকার হান্টার ১৯৫১ সাল থেকে ভারতীয় বিমানবাহিনী ব্যবহার করত। ১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমানবাহিনী গঠিত হলে এই বিমানটি মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত হয়। চারটি মিসাইল, চারটি ৩০ মিলিমিটার গান আর তিনটি রকেট ছিল এই বিমানের সমরাস্ত্র। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই বিমান ভূমিতে আক্রমণ এবং আকাশ প্রতিরক্ষায় সফল উড্ডয়ন করেছিল।

ছাত্রলীগের গুলি থেকে রক্ষা পেল না অনাগত শিশু

ছাত্রলীগের গুলি থেকে রক্ষা পায়নি মায়ের গর্ভে থাকা এক মেয়ে শিশু। মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় কারিগরপাড়ায় আজ বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূ গুলিবিদ্ধ এবং ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি বোমার আঘাতে জখম হয়েছেন। এ ছাড়া সংগঠনের এক কর্মীকে প্রতিপক্ষ কুপিয়ে জখম করেছে। তিনজনকেই মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জেলা সদর হাসপাতালে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অস্ত্রোপচারের পর নাজমা খাতুন (৩৫) নামের ওই গৃহবধূ একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ওই গৃহবধূ ও নবজাতক দুজনেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মাগুরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শফিউর রহমান বলেন, অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর তলপেটে বিদ্ধ হওয়া বুলেটটি গর্ভে থাকা মেয়ে শিশুকে ভেদ করে মায়ের মাংশপেশির ভেতর ছিল। বুলেটটি শিশুটির বেশ কয়েক জায়গায় আঘাত করে। শিশুটি শ্বাসকষ্টে ভুগছে। মেয়ে এবং মা দুজনের অবস্থা সংকটাপন্ন।
পুলিশ ও ছাত্রলীগ সূত্রের ভাষ্য, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দোয়ারপাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সরকার দলীয় এই ছাত্র সংগঠনের দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় সংঘর্ষও হয়েছে। এক প‌ক্ষের নেতৃত্বে আছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ভুঁইয়া। অন্য পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংগঠনটির সাবেক কর্মী আজিব্বর শেখ ও মুহম্মদ আলী। দুই পক্ষই প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখরের অনুসারী।
কামরুল ভুঁইয়ার সমর্থক আলমগীর হোসেনকে (২৮) গত বুধবার কুপিয়ে জখম করার জের ধরে আজ বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে কামরুল ভুঁইয়ার সমর্থকেরা আজিব্বরের মোটরসাইকেলটি পুড়িয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আজিব্বর শেখ ও মুহম্মদ আলীর সমর্থকেরা কামরুল ভুঁইয়ার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় কামরুলের বড় ভাই বাচ্চু ভুঁইয়ার নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩৫) গুলিবিদ্ধ এবং চাচা মমিন ভুঁইয়া (৬৫) বোমার আঘাতে আহত হন। এ ছাড়া তাঁরা মিরাজ শেখ (২৭) নামে কামরুলের এক সমর্থককেও কুপিয়ে জখম করেন। পরে তিনজনকেই হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মীর মেহেদি হাসান বলেন, তিনি ঘটনাটা শুনেছেন। তবে বিস্তারিত শুনেননি। তিনি বলেন, বিবদমান দুই পক্ষের কেউই বর্তমান ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী নয়। তাঁরা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মী।
এদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান মুন্সী প্রথম আলোকে বলেন, এই ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি।

ফিটনেস ও রুট পারমিট ছিল না সাব্বির পরিবহনের বাসটির -মুলিবাড়িতে সড়ক দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন

ঈদের পরদিন সিরাজগঞ্জের মুলিবাড়িতে দুটি বাসের সংঘর্ষে ১৭ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হওয়ার ঘটনায় সাব্বির পরিবহনের বাসকে দায়ী করেছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনে কমিটি বলেছে, বাসটির রুট পারমিট ছিল না। ছিল না ফিটনেসও। ত্রুটিপূর্ণ এই বাসের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তদন্ত শেষে কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আনোয়ার পাশা গতকাল বুধবার বিকেলে প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসক বিল্লাল হোসেন বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান। জেলা প্রশাসক বলেন, দুর্ঘটনার জন্য দুটি বাসের মধ্যে সাব্বির পরিবহনের বাসকেই দায়ী করেছে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি। কারণ বাসটির কোনো ফিটনেস ছিল না। ২০১২ সালে বাসটির ফিটনেসের মেয়াদ পার হয়েছে। একই সঙ্গে ওই পরিবহনের কোনো রুট পারমিটও ছিল না। কমিটি অবিলম্বে ফিটনেসবিহীন যানবাহন বাতিলের পাশাপাশি মহাসড়কে গতিরোধক ও সড়ক বিভাজক নির্মাণ ও যানবাহনের গতি কমানোসহ ১১টি বিষয়ে সুপারিশ করেছে। গত রোববার সংঘটিত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল।

সালাহ উদ্দিনের বিচার শুরু, নির্দোষ দাবি- ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ by রাহীদ এজাজ

আদালতের পথে সালাহ উদ্দিন আহমদ l ছবি: প্রথম আলো
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদ গতকাল বুধবার শিলংয়ের আদালতে হাজির হয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে অনুপ্রবেশের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এখানকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গঠনের শুনানির সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
এর ফলে সালাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ভারতের ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬ অনুযায়ী, অনুপ্রবেশের মামলার বিচারে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে। আদালত ৩০ জুলাই মামলার শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।
গতকাল বুধবার দুপুরে শিলংয়ের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মুখ্য বিচারক কে এম লিংদো নংব্রির আদালতে শুনানি শেষে সরকারপক্ষের আইনজীবী আই সি ঝা ও সালাহ উদ্দিন আহমদের আইনজীবী এইচ আব্রাহাম প্রথম আলোকে তাঁদের দপ্তরে এ তথ্য জানান।
শুনানির পর সালাহ উদ্দিন আহমদ আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ আদালতে আমার বিরুদ্ধে ভারতে অনুপ্রবেশের মামলার অভিযোগপত্র গঠন করা হয়েছে। বিচারক স্বাভাবিকভাবে অভিযোগপত্র গঠনের সময় জানতে চেয়েছেন, আমি দোষী কি না। আমি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছি।’
শুনানিতে উপস্থিতির জন্য গতকাল সকালে সালাহ উদ্দিন আহমদ আইনজীবীদের নিয়ে আদালতে যান। কিন্তু মামলার জট থাকায় দুপুরে শুনানি হয়। এই আদালত থেকে জামিন নিয়ে শিলংয়ের একটি কটেজে রয়েছেন তিনি।
সালাহ উদ্দিনের আইনজীবী এইচ আব্রাহাম আদালত চত্বরে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমার মক্কেল তাঁর বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এখন তাঁর বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবে।’
জানতে চাইলে সরকারপক্ষের আইনজীবী আই সি ঝা বিকেলে আদালত এলাকায় তাঁর দপ্তরে প্রথম আলোকে বলেন, সালাহ উদ্দিন আহমদ নিজেকে নির্দোষ দাবি করায় ৩০ জুলাই থেকে অনুপ্রবেশের মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে।
ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬-এর ১৪ ধারা সম্পর্কে জানতে চাইলে আই সি ঝা বলেন, এই ধারাতে অনেকগুলো উপ-ধারা রয়েছে। সালাহ উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তাঁকে ভারতের ভূখণ্ডে পাওয়া গেছে। আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, অনুপ্রবেশের মামলায় সাধারণত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী কিংবা নির্দোষের সপক্ষে বলার সুযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগপত্র দাখিল করেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় না। কেউ দোষ স্বীকার করলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তির বিষয়টি সামনে চলে আসে। কেউ যদি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন, তাহলে সাক্ষীর উপস্থিতিতে তাঁকে আদালতে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে সেটি প্রমাণ করতে হবে।
এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা পি লামারেসহ ১১ সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা হবে। ১১ জনের মধ্যে ছয়জন চিকিত্সকও আছেন, যাঁরা শিলংয়ের বিভিন্ন হাসপাতালে সালাহ উদ্দিনের চিকিত্সা করেছেন।
বিনা পাসপোর্টে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
গত মার্চের শুরুতে উত্তরা থেকে অপহৃত হন বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব। এর প্রায় আড়াই মাস পর ১১ মে ভোরে শিলংয়ের গলফ লিংক এলাকায় উদ্ভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরির সময় লোকজনের ফোন পেয়ে পুলিশ সালাহ উদ্দিন আহমদকে আটক করে। এরপর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে পাস্তুর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। পরে তাঁর প্রাথমিক স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য নেওয়া হয় সেখানকার সিভিল হাসপাতালে। এরপর শিলং সদর থানা হয়ে নেওয়া হয় মানসিক হাসপাতাল মিমহানসে। এক দিন পর মিমহানস থেকে আবার তাঁকে পাঠানো হয় সিভিল হাসপাতালে। ২০ মে সিভিল হাসপাতাল থেকে নেগ্রিমসে নেওয়া হয়। নেগ্রিমস হাসপাতালের চিকিত্সকদের ছাড়পত্র পাওয়ার পর পুলিশ ২৬ মে তাঁকে শিলং সদর থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।

কাঠের খুঁটিতে হেলান কংক্রিটের সেতুর

সংযোগ সড়ক ধসে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে সেতুর এক পাশ। ধসে যাওয়া অংশে কাঠের পাটাতন ফেলা হয়েছে। তার ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে মানুষ ও যান চলাচল করছে। নিচে কাঠের খুঁটির ঠেকনা দিয়ে রাখা হয়েছে কংক্রিটের সেতুটি। জোড়াতালির এই সেতুটি রংপুর নগরের সরেয়ারতল এলাকায় অবস্থিত।
গত বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের খোকসা ঘাঘট খালের ওপর সেতুটির এক দিকের সংযোগ সড়ক ভেঙে পড়েছে। চলাচলের সুবিধার্থে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে কাঠের পাটাতন বিছিয়েছেন। সেই পাটাতনের ওপর দিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যানগাড়ি, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল কোনোরকমে চলাচল করছে। সেতুর যে পাশে পাটাতন বিছানো, সেই পাশেই কাঠের খুঁটি দিয়ে কংক্রিটের সেতুটি ঠেকনা দিয়ে রাখা হয়েছে।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরেয়ারতল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা কোনোরকমে পাটাতন পার হয়ে সেতুতে গিয়ে উঠল। এ সময় বিপরীত দিকে একটি মোটরসাইকেল দাঁড়িয়েছিল পাটাতন পার হওয়ার অপেক্ষায়। খানিক পর পাটাতনের ওপর দিয়ে একটি রিকশা ভ্যানকে মালামাল নিয়ে পার হতে দেখা গেল। এ সময় কথা হয় অনেকের সঙ্গে।
অটোরিকশাচালক জহিরুল ইসলাম বললেন, ‘কেমন করি ঝুঁকি নিয়া ব্রিজটি পার হচ্ছি তা তো দেখতেই পারছেন?’ অটোরিকশার আরোহী বেসরকারি সংস্থার কর্মী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অটো থেকে নেমে পড়তে হয়েছে। না নামলে যেকোনো সময় নিচে পড়ে যাওয়ার ভয় আছে।’
এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, চার বছর ধরে সেতুটির এই হাল। এর ওপর দিয়ে নগরের চিনিয়াপাড়া, ডিমলা রাজবাড়ী, রঘু, আবদুল্লাহ, সরেয়ারতল এলাকার প্রায় চার হাজার পরিবার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস ও অন্যান্য গাড়ি যেতে চাইলে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ ঘুরে মাহিগঞ্জ-তাজহাট ও দমদমা দিয়ে এই এলাকাগুলোয় যেতে হবে।
চিনিয়াপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কয়েক বছর থাকিয়া ব্রিজটার মুখ ভাঙা। এলাকাবাসীর উদ্যোগে কাঠ, বাঁশ ঠেকা দিয়া চলাচল করতোছি। তবে রাইতোত খুব ভয় লাগে।’
সেতুর ওপারে অবস্থিত ডিমলা রাজবাড়ী এলাকার বিশ্বজিৎ দেবনাথ বলেন, এই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করতে অনেক দুর্ঘটনাও ঘটেছে। মালামাল নিয়ে কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারে না। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ ঘুরে প্রয়োজনীয় মালামাল আনা-নেওয়া করতে হয়।
সিটি করপোরেশনের ওই এলাকা ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র আবুল কাশেম প্রথম আলোকে বলেন, এই সেতুটি ভেঙে নতুন করে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন বলেন, সেতুটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে এটির নির্মাণকাজ শিগগির শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।
রংপুর নগরের সরেয়ারতল এলাকায় খোকসা ঘাঘট খালের ওপর কংক্রিটের পরিত্যক্ত সেতুর ওপর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে ​মানুষ ও যান চলাচল করছে। ছবিটি গত বুধবার তোলা l প্রথম আলো