Sunday, August 4, 2013
রমজানের শিক্ষা সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য by ড. সুকোমল বড়ুয়া

আমরা জানি, এ দেশ মুসলিম প্রধান। এ দেশের শতকরা নব্বই ভাগ মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী। তাহলে আমরা যে এই পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি করছি, সেটা কার জন্য? বিষয়টি একটু ভেবে দেখা উচিত নয় কি? যারা ব্যবসা করেন, যারা মজুদদার ও আমদানীকারক তাদের উচিত এ পবিত্র মাসে ধনী, গরিবসহ সব শ্রেণীর মানুষ যাতে সহজে সব ধরনের নিত্যপণ্য ও দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা। কিন্তু আমরা কী দেখি? আমরা দেখি এর সম্পূর্ণ উল্টোটা। বিশ্বের অন্যান্য দেশে যখন ধর্মীয় উৎসব, আনন্দ উৎসব ও পূজা-পার্বণ আসে, তখন নিত্যপণ্যসহ সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে দেয়া হয়। সব ধরনের নিত্যপণ্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা হয়, যাতে সব শ্রেণীর মানুষ ওই আনন্দ উৎসবে সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করতে পারে। কারণ ধর্ম পবিত্র। আর আনন্দ উৎসব হল পবিত্রতার প্রতীক। এছাড়া ধর্ম যেমন সবার জন্য সমান, তেমনি ধর্মীয় উৎসব কিংবা আনন্দও সবার জন্য সমান। এখানে বিন্দুমাত্র ভেদাভেদ বা বৈষম্য থাকার কথা নয়।
আমি ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী একজন মানুষ। আমি ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ হয়েও পবিত্র রমজান মাসকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি, সম্মান জানাই এবং সব ধরনের পবিত্রতা রক্ষার জন্য নিজকে সংযত রাখি এবং আমার বিভাগের মুসলিম ছাত্রছাত্রীসহ আমার জানাশোনা অন্য মুসলিম বন্ধু-বান্ধবদেরও সংযত আচরণের জন্য উৎসাহিত করি। এছাড়া আমি নিজেও ধর্মের বিধিবিধান ও সব ধরনের নীতি-নৈতিকতাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করার চেষ্টা করি। শুধু তাই নয়, আমি এ দেশের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণীর মানুষের সঙ্গে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব ও সম্প্রীতিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার সতত চেষ্টা করি। এ পবিত্র মাসে আমাদের জীবনের সব ধরনের নীতি-নৈতিকতার আদর্শকে যেমন মনেপ্রাণে অনুসরণ করা উচিত; তেমনি আমাদের অন্তরকেও নির্মল করে মানবিক সব ধরনের গুণধর্মের চর্চা করা উচিত। এতে একদিকে মাহে রমজানের পবিত্রতা ও মর্যাদা যেমন রক্ষা পাবে, তেমনি দেশ-জাতি-সম্প্রদায়সহ সব মানুষ সমভাবে উপকৃত হবে। এর সুশীতল ছোঁয়া বিশ্ব মানবতাকেও উপকৃত করবে, আলিঙ্গন করবে।
এ রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দেখা যাচ্ছে সরকার বারবার ব্যর্থ হচ্ছে, নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। এ ব্যাপারে তারা যত হাঁকডাক করেন, জিনিসপত্রের দাম তত বেড়ে যায়। নিত্যদিনের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির কথা একবার চিন্তা করুন। নাগরিক জীবনের কী দুর্বিষহ অবস্থা। রাস্তাঘাটের বেহালদশা। সামনে পবিত্র ঈদের ছুটি। এ ছুটিতে সড়ক-মহাসড়কে জনগণের কী ভোগান্তি হবে, সেটা বলে শেষ করা যাবে না। ঢাকার যানজটের কথা নাই বা বললাম। প্রতিদিন গ্রামগঞ্জ ও শহরের খুনখারাবি ও নানা অপরাধের চিত্র আমাদের বিবেককে তাড়িত করে। নিজেকে প্রশ্ন করি, সব জায়গায় কেন এ রকম দুরবস্থা? জনজীবন এ রকম বিপর্যস্ত হবে কেন? এখন তো ক্ষমতায় আছে মহাজোট সরকার। ছোট-বড় সবাইকে নিয়েই তো মহাজোট সরকার গঠন করা হয়েছিল। নিয়ন্ত্রণের সব ক্ষমতা তো তাদের হাতেই আছে; আছে আইন-শৃংখলা বাহিনী, গোয়েন্দা বাহিনী। তাহলে জনগণের এত দুর্ভোগ হবে কেন?
আসুন, আমরা একে অপরকে দোষ না দিয়ে নিজেরা কী করছি সেটি একবার ভেবে দেখি। নিজেকে একবার পরীক্ষা করি বিবেকচক্ষু দিয়ে। নিজের দোষ অন্যের কাঁধে দিয়ে লাভ নেই। চলুন আমরা সবাই মিথ্যা, দুর্নীতি ও অনিয়ম থেকে দূরে থেকে দেশ ও জনগণের সেবায় উদ্বুদ্ধ হই। দেশ বাঁচলে জনগণ বাঁচবে, আমরা বাঁচব- এই নীতিতে বিশ্বাসী হই। চলুন আমরা সবাই রমজানের এ পবিত্র মাসে সব ধরনের অনৈতিকতা পরিহার করে ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী হই এবং রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করি। রমজানের আদর্শের শিক্ষায় আমরা সবাইকে সুখে, শান্তিতে, নিরাপদে ও নির্বিঘেœ বসবাস করার সুযোগ করে দিই। এতে বাংলাদেশ তো সমৃদ্ধময় হবেই, এমনকি বিশ্বেও শান্তির পরশ পড়বে।
ড. সুকোমল বড়ুয়া : প্রফেসর ওসাবেক চেয়ারম্যান, পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সভাপতি, বিশ্ব বৌদ্ধ ফেডারেশন- বাংলাদেশ চ্যাপ্টার
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খাদ্য বহুমুখীকরণ কেন প্রয়োজন by ইকতেদার আহমেদ

পৃথিবীর প্রতিটি অঞ্চলে ওই অঞ্চলের আবহাওয়া উপযোগী খাদ্যশস্য ও ফলমূল উৎপাদিত হয়। হাঁস-মুরগি গবাদিপশু ও মাছ এলাকাভেদে বিভিন্ন প্রজাতির হয়ে থাকে। অঞ্চলভিত্তিক খাদ্যশস্য, ফলমূল, হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু, মাছ প্রভৃতির সহজপ্রাপ্যতার ওপর মানুষের খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠে। এরই প্রভাবে দেখা গেছে প্রাচীনকাল থেকে আমাদের দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য তালিকায় মাছ ও ভাত স্থান পেয়ে আসছে। বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ার অধিকাংশ দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য আদিকাল থেকেই ছিল মাছ ও ভাত। মধ্য এশিয়ার দেশগুলোয় গম ও গবাদিপশুর সহজলভ্যতার কারণে সে অঞ্চলের মানুষের প্রধান খাদ্য ছিল রুটি ও মাংস। অনুরূপভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আলুর সহজলভ্যতার কারণে আলু হয়ে উঠেছিল তাদের প্রধান খাদ্য এবং এর পাশাপাশি তারা তাদের খাদ্য তালিকায় মাছ ও মাংসকে স্থান দিত। আফ্রিকা মহাদেশে এমন অনেক দেশ আছে যেখানে মানুষের প্রধান খাদ্য ছিল কলা। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের পাহাড়ে আদিবাসী হিসেবে প্রাচীনকাল থেকে যারা বসবাস করে আসছিল, তাদের খাদ্য তালিকায় ছিল পাহাড়ে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত ফলমূল এবং সহজে শিকার করা বা ধরা যায় এমন বণ্যপ্রাণী ও প্রাপ্যতা সাপেক্ষে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।
যেসব অঞ্চলে জীবন ধারণ সহজতর ছিল, সেসব অঞ্চলে উৎপাদিত খাদ্যশস্য জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতির সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যর্থ হলে বাধ্য হয়েই জীবিকার সন্ধানে অনেককে এক অঞ্চল ত্যাগ করে অন্য অঞ্চলে চলে যেতে হয়। এভাবে এক অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে অন্য অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ সৃষ্টি হলে একে অপরের খাদ্যাভ্যাস দ্বারা প্রভাবিত হয়। অতঃপর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এক অঞ্চলের মানুষ জীবিকার সন্ধানে অপর অঞ্চলে গিয়ে ব্যাপক হারে বসবাস শুরু করলে অঞ্চলভিত্তিক খাদ্যশস্য ও ফলমূল সহজলভ্য না হওয়ায় পরিবেশগত কারণেই মানুষ খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়।
খাদ্যাভ্যাস একটি জাতির বা অঞ্চলের মানুষের কৃষ্টি, সভ্যতা ও ঐতিহ্যের অংশ। বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের মানুষ তাদের কৃষ্টি, সভ্যতা ও ঐতিহ্যের লালনে নিজ নিজ খাদ্যাভ্যাস ধরে রাখতে পারেনি। এরই ফলে মানুষের চাহিদার আলোকে এবং সবার জন্য সুষম খাদ্য নিশ্চিতকরণের প্রয়োজনে খাদ্য বহুমুখীকরণ ধারণার জন্ম ও ক্রমবিকাশ। বর্তমান পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের মানুষ নিজ নিজ কৃষ্টি, সভ্যতা ও ঐতিহ্য অনুযায়ী সামাজিক ও ধর্মীয় বিশেষ দিনে ঐতিহ্যগত খাবার গ্রহণ করলেও বছরব্যাপী সে খাবারের আর আবেদন থাকে না। খাদ্য বহুমুখীকরণের ধারণার বিকাশের ফলে এখন আর পৃথিবীর কোনো অঞ্চলের মানুষের বছরব্যাপী খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট একটি বা দুটি খাদ্য থাকে না। ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ যেসব দেশের শতভাগ লোক শিক্ষিত ও সচ্ছল, তাদের অধিকাংশই কর্মজীবী হওয়ায় দেখা যায়, তারা মধ্যাহ্নের খাবার কর্মস্থলের ক্যান্টিন বা আশপাশের কোনো হোটেল বা রেস্টুরেন্ট থেকে খেয়ে নিচ্ছে এবং রাতের খাবারের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, ঘরের বাইরে কোথাও আহার সেরে নিচ্ছে অথবা বাইরে থেকে কিনে এনে ঘরে বসে খাচ্ছে। তারা প্রতিদিন একই ধরনের খাবার গ্রহণ করে না। তারা মূলত কী ধরনের খাবার খাবে, এটি তাদের রুচির ওপর নির্ভর করে। খাদ্য বহুমুখীকরণের কারণে কোনো একটি বিশেষ ধরনের খাবার যেমন- ভাত, রুটি, আলু, শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, মাংস, দুগ্ধজাত খাদ্য প্রভৃতির ওপর একক চাপ না থাকায় অনেক দেশ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য উৎপাদন করে একদিকে নিজ দেশের জনগণের খাদ্যের চাহিদা মেটাচ্ছে, অপরদিকে উদ্বৃত্ত বিভিন্ন ধরনের খাদ্য বিদেশে রফতানি করে নিজের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করছে।
বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর বড় অংশ এখনও গ্রামে বসবাস করে। আধুনিকতার ছোঁয়া এখনও তাদের তেমনভাবে প্রভাবিত না করতে পারায় তাদের মূল খাদ্য তালিকা থেকে একবেলার জন্যও ভাতকে বাদ পড়তে দেখা যায় না। একজন সুস্থ সবল লোকের বেঁচে থাকার জন্য সুষম খাবারের প্রয়োজন। এ সুষম খাবারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে ভাত, মাছ, মাংস, ডাল, সবজি, দুধ, দেশে উৎপাদিত বিভিন্ন ফল, রুটি, আলু প্রভৃতি। আমাদের দেশে ধনী-গরিব নির্বিশেষে দেখা যায়, সুষম খাদ্য বিষয়ে জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে যার যতটুকু ও যে ধরনের খাদ্য গ্রহণ প্রয়োজন তা গ্রহণ না করে একই ধরনের বা বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করছে। খাদ্য গ্রহণ বিষয়ে অসচেতনতার কারণে অনেকেই নিজের অজান্তে বা অবহেলায় বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। আমাদের দেশে বর্তমানে ধানের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ শাকসবজি, গম, আলু ও ভুট্টা উৎপাদিত হয়। দেশের প্রত্যেক নাগরিক যদি তার খাদ্য তালিকায় ভাতের পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে এর পরিবর্তে শাকসবজি, আলু, গম ও ভুট্টা সংমিশ্রিত আটার রুটি খাওয়ার অভ্যাস করে, তাহলে বর্তমানে স্বল্প ভূমিতে আমরা যে পরিমাণ ধান উৎপাদন করছি, তা দিয়ে দেশের প্রায় ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের চাহিদা মিটিয়ে বিপুল পরিমাণ চাল বিদেশে রফতানি করে সে আয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ অবকাঠামো খাতে ব্যয় করতে পারি।
আমরা নিত্যনৈমিত্তিক সবজি হিসেবে যেসব খাদ্য গ্রহণ করি, এর মধ্যে অন্যতম হল লাউ, মিষ্টি কুমড়া, পটোল, কাঁচাকলা প্রভৃতি। উপরোক্ত সবজি দিয়ে আমরা খাদ্য প্রস্তুতকালীন এসব সবজির খোসা আবর্জনা হিসেবে ফেলে দিই। আবার অনেকে খোসা দিয়ে উপাদেয় খাবার প্রস্তুত করে। এভাবে খোসা ফেলে না দিয়ে উপাদেয় খাবার প্রস্তুত করা হলে, তা কিছুটা হলেও অন্য খাদ্যের চাহিদা কমাবে।
দেশে শীতকালীন সবজি হিসেবে প্রচুর পরিমাণ ফুলকপি উৎপাদিত হয়। ফুলকপি রান্না বা ভাজি করার সময় আমরা সাধারণত এর ডাঁটা ফেলে দিই। অথচ ফুলকপির ডাঁটা ছোট মাছ, ডাল বা শুঁটকি দিয়ে রান্না করলে উপাদেয় খাদ্যে পরিণত হয়। সুতরাং ফুলকপির ডাঁটা ফেলে না দিয়ে প্রচুর খাদ্যগুণ সমৃদ্ধ এ ডাঁটা যদি আমরা তরকারি হিসেবে খাই, তা নিুবিত্তের সবজির চাহিদা লাঘবে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।
আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এক বিপুল অংশ বর্ষাকালে সবজির অভাবে বিকল্প হিসেবে শাপলা ভাজি বা শাপলা দিয়ে রান্না করা তরকারি খেয়ে জীবন ধারণ করত। সে সময়ে গ্রামের বিত্তবান ও শহুরে জনগোষ্ঠীর কাছে এ শাপলা ফেলনা ছিল। কিন্তু আজ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় শাপলা আর ফেলনা নয়। বিত্তবানদের খাবার টেবিলে রুচিকর খাদ্য হিসেবে এখন শাপলা ভাজি ও শাপলা দিয়ে রান্না করা তরকারি শোভা পায়।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা ছাড়া অবশিষ্ট সব জেলার মানুষ সিদ্ধ চালের ভাত খেয়ে অভ্যস্ত। সিদ্ধ চাল দিয়ে ভাত রান্নার পর এর ফেন বা মাড় ফেলে দিয়ে খাওয়ার জন্য পরিবেশন করা হয়। অপরদিকে আতপ চাল দিয়ে ভাত ও পোলাও রান্না করা হলে মাড়সহ পানি শুকিয়ে খাওয়ার উপযোগী করা হয়। বাংলাদেশ ছাড়া অল্পসংখ্যক দেশের মানুষ সিদ্ধ চালের রান্না করা ভাত খায়। দেশে ’৭৪-এর দুর্ভিক্ষের সময় এবং স্বাধীনতা পূর্ববর্তী বন্যা, খরা, সাইক্লোন প্রভৃতিতে ফসলহানির পর গ্রামাঞ্চলে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছিল। তখন গ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এক বিপুল অংশ অপেক্ষাকৃত সচ্ছল পরিবারের ফেলে দেয়া ভাতের মাড় খেয়ে জীবন ধারণ করেছিল। প্রকৃতপক্ষে ভাতের মাড় ফেলে দেয়ার ফলে ভাতের খাদ্যগুণ অনেকাংশে হ্রাস পায়। আমাদের বিত্তবানদের মধ্যে শখের বসে যারা লবণ, গোলমরিচের গুঁড়া, ডিমের সাদা অংশ, টেস্টিং সল্ট ও সস দিয়ে ভাতের মাড় স্যুপের মতো করে খেয়েছেন, তাদের অভিমত এ স্যুপের স্বাদ কোনো অংশে পাঁচ তারকা হোটেলের ক্রিম স্যুপের চেয়ে কম নয়। তবে কেন আমরা খাদ্যগুণ সমৃদ্ধ মাড় ফেলে দিয়ে অযথা খাদ্য বিনষ্ট করছি? উল্লেখ্য, অন্যান্য উপাদানের পাশাপাশি দুধের ননি মিশিয়ে ক্রিম স্যুপ সুস্বাদু করা হয়। ভাতের মাড় না ফেলে ভাত খেলে অথবা মাড় দিয়ে সুস্বাদু স্যুপ বানিয়ে খেলে যে পরিমাণ খাদ্য সাশ্রয় হবে, তার অবদান জাতীয় অর্থনীতিতে অসীম। এ বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ করে তুলতে পারলে আশা করা যায় ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।
অতীতে যারা নিজেদের সম্ভ্রান্ত হিসেবে দাবি করত, তারা এবং অনেক মধ্যবিত্ত গরু বা ছাগলের ভুঁড়ি, শোল বা গজার মাছ এবং মুরগির পা ভক্ষণকে হীন দৃষ্টিতে দেখত। কিন্তু আজ সে ধারণা পাল্টে গেছে। এখন এ খাবারগুলো অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি সম্ভ্রান্ত ও মধ্যবিত্তের খাবার টেবিলে বেশি শোভা পায়। আর ফাস্টফুডের দোকান থেকে আমরা যে সমুচা, পিৎজা, হটডগ প্রভৃতি খাবার খাই সেসব খাবারে যে ভুঁড়ির অস্তিত্ব নেই, সে নিশ্চয়তা কেউ কি দিতে পারবে? আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল। এ ফলের কোনো কিছুই ফেলনা নয়। কাঁঠালের বাকলসহ কোষ যে অংশ দ্বারা আবৃত থাকে, তা আমাদের পরিত্যাজ্য হলেও গরুর আদর্শ খাবার। গ্রামাঞ্চলে এখনও দেখা যায় গৃহিণীরা বর্ষাকালের জন্য আদর্শ খাবার বিবেচনায় কাঁঠালের বিচি সংরক্ষণ করে রাখেন।
উপরোক্ত সব খাবার আমাদের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্তির উপযোগী। আর অন্তর্ভুক্ত করা গেলে এসব খাদ্য সার্বিকভাবে আমাদের দেহ উপযোগী সব ধরনের খাদ্যের জোগান দেবে, যা খাদ্য বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। দেশের বিভিন্ন পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসাবিদের অভিমত, পৌঢ়ত্ব পদার্পণ পরবর্তী কায়িক পরিশ্রম করে না এমন মানুষ তার সুস্থতা ধরে রাখতে চাইলে তাকে অবশ্যই তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার সম্পূর্ণ পরিহার করে একবেলা স্বল্প পরিমাণ ভাত এবং আরেক বেলা রুটি, শাকসবজি, আলু প্রভৃতি খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের অভিমত অনুযায়ী আমরা আমাদের বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে পারলে এক সময় দেখা যাবে তা কিশোর, যুবক ও বৃদ্ধদেরও প্রভাবিত করছে। আর এভাবে দেশের জনসাধারণের এক বিরাট অংশকে খাদ্য বহুমুখীকরণ ধারণা দ্বারা উদ্বুদ্ধ করে আমরা যদি আমাদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে পারি, তাহলে খাদ্য বহুমুখীকরণ আমাদের দেশে একটি বিপ্লবের সূচনা করবে। দেশ ও জাতি হিসেবে আমাদের সমৃদ্ধির সোপানে পেঁৗঁছাতে হলে সব ক্ষেত্রেই অগ্রগতি আনা প্রয়োজন। সে অগ্রগতি খাদ্য বহুমুখীকরণকে বাদ দিয়ে সম্ভব নয়।
ইকতেদার আহমেদ : সাবেক জজ ও কলামিস্ট
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমার ই-মেইল আইডি হ্যাকড হওয়ার পর... by মোকাম্মেল হোসেন

: মোকাম্মেল, তুমি ঠিক আছো তো!
ট্রেনের পরিবেশ অতি চমৎকার। টিকিট পাওয়া নিয়েও কোনো সমস্যা হয়নি। তাহলে ঠিক-বেঠিক থাকার প্রশ্ন আসছে কেন? ওনার কথা শুনে অবাক হয়ে বললাম-
: হ্যাঁ, ঠিক আছি তো!
- রোজা রাখছ?
: জি।
- তুমি এখন কোথায়?
ট্রেন তখন জয়দেবপুরের আগের স্টেশন ধীরাশ্রম অতিক্রম করছিল। আমি জায়গাটার নাম বলতেই উনি বললেন-
: মোকাম্মেল, তুমি কী জান- তোমার ই-মেইল অ্যাড্রেস হ্যাকড হইছে?
- না তো!
: আমি তোমার ব্যক্তিগত ই-মেইল অ্যাড্রেস- অন্যচিত্র-জিমেইল.কম থেইক্যা একটা মেইল পাইছি। তাতে ভয়াবহ সব কথাবার্তা লেখা! এই ই-মেইলের সঙ্গে তোমার ছবিও সংযুক্ত করা হইছে!
-বলেন কী!
: তোমার অফিসের ই-মেইল অ্যাড্রেস বল- আমি সেই অ্যাড্রেসে এইটা ফরোয়ার্ড কইরা দিতেছি...
আজকাল চলার পথে অনেকেই সঙ্গে ল্যাপটপ রাখে। ল্যাপটপ সঙ্গে থাকলে হাটে-ঘাটে, মাঠে-ময়দানে ইন্টারনেট দুনিয়া বগলে নিয়ে ঘোরা যায়। তাছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুবিধা সংবলিত মোবাইল ফোন সঙ্গে বহন করাটা এখন অনেকের কাছেই পান্তাভাত। আমার সঙ্গে ল্যাপটপ নেই। ইন্টারনেটের সুবিধা সংবলিত মোবাইল ফোন তো পরের ব্যাপার, পারলে শুধু কথা ও এসএমএস আদান-প্রদানকারী হিসেবে সেবা দেয়া আমার এ সাধারণ মোবাইল ফোনসেটটাও আমি বর্জন করার পক্ষে। এ যন্ত্র আমার জীবনে শান্তিহরণকারী একটি বস্তুরূপে আবির্ভূত হয়েছে। এর যন্ত্রণা থেকে আÍরক্ষার উপায় হিসেবে একবার আমি সিদ্ধান্ত নিলাম- দিনে ৩টার বেশি ফোনকল রিসিভ করব না। আর নিতান্ত নিরুপায় না হলে কাউকে সাতদিনেও একটা ফোন করব না। এ নিয়ম চালু করার একদিন পরে দিবসের প্রথম ফোনকল রিসিভ করতেই আমার গ্রামের একজন বলে উঠলেন-
: দাদামিয়া- বড়লোক অইয়া গেছুইন নাকি?
- কেন?
: ফোন করি- কোনো সাড়াশব্দ দেইন না!
দ্বিতীয় ফোনকলটি ছিল আমার এক বন্ধুর। সে বলল-
: কিরে, পাঙ্খা গজাইছে নাকি?
- না তো!
: তাইলে ফোন ধরস না কী জন্য?
দিনের তৃতীয় ফোনটি ছিল লবণ বেগমের। সে রেগেমেগে জানতে চাইল-
: কী হইছে তোমার?
- কিছু হয় নাই তো!
: ফোন ধর না কেন! বিষয় কী?
- কোনো বিষয় নাই। আমি সিদ্ধান্ত নিছি- এখন থেইক্যা অ্যাকরডিং টু সিরিয়াল- দিনে ৩টার বেশি ফোনকল রিসিভ করব না।
: আজব! কোনো দেশের প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীরাও তো এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না! তুমি কি তাদের চাইতেও মোকাব্বর হইয়া গেছ নাকি?
- মোকাব্বর বল, আর আকাব্বর বল- প্রকৃতপক্ষে প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীরা পরাধীন জীবনযাপন করেন। আমি তাদের মতো পরাধীন হইয়া জীবন কাটাইতে চাই না!
: এতই যদি স্বাধীন থাকার শখ- তাইলে বিবাহ করছ কী জন্য? কল দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রিসিভ করবা। মনে থাকব?
- জি, মনে থাকব।
ট্রেন থেকে নামার আগে সহকর্মী তরিক রহমানের ফোন পেলাম-
: মোকাম্মেল ভাই, আপনে কোথায়?
- আমি তো গোয়িং টু মমিসিং।
: আপনের ই-মেইল হ্যাকারের কবলে পড়ছে!
- জানি।
: হ্যাকড হওয়া আপনের সেই ই-মেইল অ্যাড্রেস থেইক্যা আর্জেন্ট শিরোনামে কিছুক্ষণ আগে আমার কাছে একটা মেইল আসছে। আমার ধারণা- এই মেইল আপনের পরিচিত অর্থাৎ যাদের সঙ্গে আপনের ই-মেইলে যোগাযোগ আছে, তাদের সবার কাছেই পাঠানো হবে।
- হায় আল্লাহ, এখন উপায়!
: অসুবিধা নাই। আপনে পাসওয়ার্ড চেইঞ্জ কইরা ই-মেইল অ্যাড্রেসটা রিকভার করেন। তারপর প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে দুই লাইন লেখার পর স্যরি বইল্যা সবার কাছে একটা মেইল সেন্ড কইরা দেন।
বাসায় যাওয়ার পর কথিত সেই ই-মেইলে চোখ রাখার পর আমার চোখ দুটো মার্বেলের মতো গোল হয়ে গেল। ইংরেজিতে লেখা ই-মেইলটির বাংলা করলে যা দাঁড়ায়, সংক্ষেপে তা হল এরকম-
অতি জরুরি। আমি মোকাম্মেল হোসেন। তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে আসার পর বেকায়দা অবস্থার মধ্যে পতিত হইছি। ছিনকাইকারীরা আমার নগদ টাকা-পয়সা তো নিছেই, সেই সঙ্গে পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, ক্রেডিট কার্ডও লইয়া গেছে। এখন আমার খুব বিপদ। দয়া কইরা আমারে কিছু টাকা দিয়া সাহায্য করেন। আমারে সাহায্য করার নিয়ত কইরা আপনে যদি টাকা পাঠাইতে চান- তবে তার সর্বোত্তম মাধ্যম হইল ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন। হে দয়াবান, আগামী তিন অথবা চার কার্যদিবসের মধ্যে আপনে যদি আমার এই আবেদনে সাড়া দেন তবে আমি ফিরতি ই-মেইলে এখানকার ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের কোন শাখায় টাকা পাঠানো যাবে তা আপনাকে জানাইয়া দেব। আমার ওপর বিশ্বাস রাখুন। এই মসিবত থেইক্যা উদ্ধার পাইয়া দেশে ফেরার পর সর্বাগ্রে আমি আপনের ঋণ পরিশোধ করার ব্যবস্থা করব। ইত্যাদি- ইত্যাদি।
হাসব না কাঁদব- বুঝতে পারছি না। ইতিপূর্বে আমি নিজেও অনেকের কাছ থেকে এরকম ই-মেইল পেয়েছি। একবার এক মহিলার একটা ই- মেইল পেলাম। সে নাকি সলোমন দ্বীপের মালিকের মেয়ে। তার বাবা হঠাৎ ইন্তেকাল করায় এখন সে এই দ্বীপটির ‘মালকিন’ হয়েছে। তবে সমস্যা হল, দ্বীপটি ব্যাংকে মর্টগেজ রেখে তার বাবা ঋণ উত্তোলন করেছিল। এসব তথ্য দেয়ার দ্বীপের মালকিন প্রস্তাব দেয়-
: ব্যাংকের সামান্য পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করে তুমি এই দ্বীপের মালিক হওয়ার সুযোগ গ্রহণ করতে পার। সেইসঙ্গে তুমি যদি চাও, তবে আমিও তোমার হতে পারি। কেননা, আমি এখনও কুমারী।
আরেকটা ই-মেইল পেলাম। সেখানে বলা হয়েছে-
: তুমি একটা লটারি জিতেছ। এর মূল্যমান হচ্ছে প্রায় দুই কোটি টাকা। পুরস্কারের এ টাকা পেতে হলে তোমাকে যে কুরিয়ার সার্ভিসে টাকা পাঠানো হবে, তার মাশুল হিসেবে যে টাকা চার্জ ধার্য করা হয়েছে, সেটা অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে। তুমি অগ্রিম চার্জ পরিশোধ করতে রাজি আছ কিনা আমাদের জানাও...
আমার বিশ্বাস, আধুনিক যোগাযোগের মাধ্যম ই-মেইল ব্যবহারকারীরা মাঝে মধ্যেই এ রকম ই-মেইল পেয়ে থাকেন। এগুলোকে বলা হয় স্প্যাম মেইল। স্প্যাম মেইলগুলো ইন্টারনেট সেবাদাতাদের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিহ্নিত হয়ে যায়। তাদের বিবেচনায় স্প্যাম হল ভুয়া, অসত্য কথন বা ভাষণ- যা দূষিত; যা থেকে সাধারণ ই-মেইল ব্যবহারকারীর ক্ষতির আশংকা রয়েছে।
পৃথিবীতে ভুয়া বা মিথ্যার কারবার নতুন কিছু নয়। অনেকেই এ কারবারের সঙ্গে যুক্ত। রাস্তা-ঘাটে, বাসে-ট্রেনে কিংবা স্টিমার-লঞ্চে দেখা যায়- নানা মসিবত বা প্রয়োজনের কথা বলে মানুষ অন্যের কাছে টাকা-পয়সার জন্য হাত পাতছে। একবার রাতেরবেলা মগবাজার থেকে পল্টন যাচ্ছি। কাকরাইল মোড়ে বাস থামার পর বাসে এক মহিলা উঠলেন। মহিলার চোখ দুটি বাদে শরীরের বাদ বাকি সব কাপড় দিয়ে ঢাকা। তিনি সবাইকে সালাম দিয়ে একটা কোরআন শরিফ কেনার জন্য সাহায্যের আবেদন জানাতেই এক ভদ্রলোক সিট থেকে লাফ দিয়ে উঠে বললেন-
: আইজ নয় বছর ধইরা দেখতেছি- তুমি কোরআন শরিফ কেনার জন্য টাকা তুলতেছ! আর কত বছর পার হইলে তুমি একটা কোরআন শরিফ কিনতে সক্ষম হবা- কওছেন আমারে!
ভদ্রলোকের কথা শুনে মহিলা নীরব হয়ে গেলেন এবং কিছুক্ষণ বাদে পরের বাস স্টপেজে চুপচাপ নেমে গেলেন। ইদানীং নতুন একটা স্টাইল শুরু হয়েছে। মুখে কিছু না বলে সবার হাতে একটা করে ছোট্ট কাগজ ধরিয়ে দেয়া হয়। সেই কাগজে একেকজনের একেক রকম দুঃখের ইতিহাস লেখা থাকে। এসব ইতিহাস রচয়িতার মধ্যে কে সৎ আর কে অসৎ, কে আসল আর কে নকল- বোঝা মুশকিল। নিয়তির এমনই খেলা, ধান্ধাবাজির এ কারবারের সঙ্গে আজ আমার নামও যুক্ত করা হয়েছে।
ময়মনসিংহে যাওয়ার একদিন পর লবণ বেগমের ফোন পেলাম। লবণ বেগম উত্তেজিত কণ্ঠে জানতে চাইল-
: তুমি কোথায়?
- মানে? তুমি জান না, আমি কোথায়!
: না, জানি না। আমি তোমার মুখ থেইক্যা শুনবার চাই। বল, তুমি এখন কোথায়?
- আশ্চর্য! আমি এখন মমিসিং আছি- এইটা তুমি জান না?
: তুমি মমিসিংয়ে আছ, না তুরস্কে আছ?
- কী!
: আমার কাছে লোকজন ফোন কইরা জানতে চাইতেছে- তুমি সত্যি সত্যি তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে যাইয়া ধরা খাইছ কিনা! সত্যই তোমারে টাকা-পয়সা দিয়া সাহায্য করন লাগব কিনা! কও, আমার ভাগ্যে এইসবও ছিল! তাসিনের আব্বা, লোকজন তো তোমারে রীতিমতো চিটার বলা শুরু কইরা দিছে!
লেখার এ পর্যায়ে জ্যোতিদার ফোন পেলাম। আমি এক সময় স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান- বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদে (বিইউপি) গবেষক হিসেবে কাজ করতাম। জ্যোতিদা হচ্ছেন বিইউপির চেয়ারম্যান প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ স্যারের পিএস। তিনি উপরোক্ত ই-মেইলের প্রসঙ্গ তুলে বিস্মিত কণ্ঠে জানতে চাইলেন-
: জনাব, আপনার একটা মেইল পেলাম। এসব কী...
আমি বিষণœ কণ্ঠে তাকে জানালাম-
: দাদা, সব মিথ্যা, বানোয়াট। সম্প্রতি আমি তুরস্কে যাই নাই। বাংলাদেশেই আছি। এইসব হইল দুষ্টলোকের বদমাইশি। ধান্ধাবাজি...
- আপনি তাহলে সবাইকে সাবধান করে দেন!
জ্যোতিদার পরামর্শ মেনে আমি আমার ই-মেইল আইডি ব্যবহার করে পাঠানো মেইল সম্পর্কে সবাইকে সাবধান করছি- প্রকৃতপক্ষে এটি সম্পূর্ণ ভুয়া জিনিস। কেবল প্রতারণা করার উদ্দেশ্যেই এটি আপনাদের কাছে প্রেরিত হয়েছে। এ ঘটনা প্রতিরোধ করার জ্ঞান-বুদ্ধি বা এড়ানোর ক্ষমতা আমার নেই। অনাকাক্সিক্ষত এ ঘটনার জন্য তাই আমি সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।
মোকাম্মেল হোসেন : সাংবাদিক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ফ্যাসিবাদী হামলারই এক নগ্ন রূপ by বদরুদ্দীন উমর

গত কিছুদিন থেকে প্রথমে বৌদ্ধ ও পরে হিন্দু মন্দিরের ওপর আক্রমণ হচ্ছে। চট্টগ্রামে বৌদ্ধ মন্দিরের ওপর আক্রমণের কারণ মিয়ানমারে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতির কারণে কিছুটা ভিন্ন হলেও দেশের বহু জায়গায় হিন্দু মন্দিরের ওপর যেভাবে আক্রমণ হচ্ছে, যেভাবে বিগ্রহ থেকে নিয়ে সবকিছু ভাংচুর হচ্ছেÑ এটা দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুনভাবে এক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এ ধরনের আক্রমণের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে কিছুসংখ্যক হিন্দু ইতিমধ্যেই ভারতে চলে গেছেন। বাস্তবত এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন নিরাপত্তার অভাব সৃষ্টি হচ্ছে যা তাদের অনেককে দেশত্যাগের প্রণোদনা জোগাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে এই পরিস্থিতি তাদের জন্য আরও বিপজ্জনক মনে হচ্ছে এ কারণে যে, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার মুখে অসাম্প্রদায়িকতার ঢেঁড়ি পেটালেও আজ পর্যন্ত একটিও হিন্দু মন্দির আক্রমণ, বিগ্রহ ধ্বংস ইত্যাদির ব্যাপারে কোনো তদন্তই তারা করেনি। এ ব্যাপারে তদন্তের কোনো কথা পর্যন্ত তারা বলে না। লক্ষ্য করার বিষয় যে, হিন্দু মন্দিরের ওপর বিভিন্ন স্থানে আক্রমণ হচ্ছে রাতের অন্ধকারে। হিন্দু ঘরবাড়িতে আগুন দেয়ার কাজও হচ্ছে রাতে। কাজেই সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামার সময় যেভাবে সংখ্যালঘুর ওপর আক্রমণ হয় তার সঙ্গে এ ধরনের আক্রমণের পার্থক্য আছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিসেবে হিন্দুদের দুর্বল বিবেচনা করে এখন এই আক্রমণ পরিচালনা করা হলেও সাধারণভাবে বাংলাদেশে এখন ভূমিদস্যুতা যেভাবে ব্যাপকভাবে হচ্ছে, তার সঙ্গেই এর সম্পর্ক বেশি। হিন্দুদের মন্দির, বাড়িঘর আক্রমণ করে তাদের ঘরছাড়া, দেশছাড়া করে তাদের জমি-জায়গা-ভিটেবাড়ি দখল করাই হলো এর মূল উদ্দেশ্য।
তবে এখানে অবশ্যই বলা দরকার যে, এভাবে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ শুধু অর্থনৈতিক কারণ ও সম্পত্তি লুটপাটের জন্যই হচ্ছে না, এর একটা রাজনৈতিক দিকও আছে। কাজেই হিন্দুদের ওপর এই আক্রমণের দ্বারা রাজনৈতিকভাবে কারা লাভবান হচ্ছে সেটা দেখা দরকার। এটা দেখার ক্ষেত্রে কোনো পূর্ব ধারণা বা রাজনৈতিক সংস্কারের বশবর্তী না হয়ে যদি বিষয়টি বিবেচনা করা যায়, তাহলে এটা বোঝার অসুবিধে নেই যে, এই মুহূর্তে হিন্দুদের ওপর এ ধরনের আক্রমণের দ্বারা কোনো প্রকাশ্য ধর্মীয় বা আধা-ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের বিশেষ কোনো লাভ নেই। উপরন্তু এ কাজ করলে তাদের ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি। কারণ অসাম্প্রদায়িক নামের পরিচয় দানকারী বিদ্যমান সরকার এবং সরকারি দল আওয়ামী লীগ এই আক্রমণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রচারণা চালিয়ে তার মাধ্যমে লাভবান হতে পারে। এদিক দিয়ে দেখলে হিন্দুদের ওপর এখন যে আক্রমণ হচ্ছে তার থেকে রাজনৈতিক ফায়দা উঠানো আওয়ামী লীগের পক্ষেই খুব সহজ। কারণ তারা সহজেই বলতে পারে, যেহেতু এটা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ, কাজেই এ কাজ ধর্মীয় দল, বিশেষত সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় মৌলবাদী নামে পরিচিত দলগুলোর দ্বারাই হচ্ছে। এটা কোনো কল্পিত ব্যাপার নয়। বাস্তবত এখন ঠিক এটাই করা হচ্ছে। দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যে আক্রমণ বিভিন্ন স্থানে হচ্ছে তার দায়িত্ব সরকার, সরকারি দল ও তাদের জোটভুক্ত দলগুলো ধর্মীয় এবং আধা-ধর্মীয় দলগুলোর ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। এটা ঠিক যে, এই নতুন পরিস্থিতিতে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী ইত্যাদি দল ও সংগঠনের লোকরা যে নির্লিপ্তভাবে বসে আছে এমন নয়। তারাও এই আক্রমণ ও লুটপাটে অংশগ্রহণ করছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এটা ঠিক যে, এ কাজের মাধ্যমে তাদের লুটপাটের সুবিধা হলেও কোনো রাজনৈতিক সুবিধা নেই। সে সুবিধা আছে আওয়ামী লীগের, যা তারা এক্ষেত্রে ষোল আনা ব্যবহার করছে।
আওয়ামী লীগ সম্পর্কে ব্যাপকভাবে যে ভুল ধারণা বজায় আছে তা হল এই যে, এই দলটি আগের মতো এখনও অসাম্প্রদায়িক। তা যদি হতো তাহলে খেলাফত মজলিসের মতো একটি চরম প্রতিক্রিয়াশীল ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে ২০০৬ সালে তারা এই মর্মে নির্বাচনী চুক্তি করত না যে, জয়লাভ করলে তারা ইসলাম ধর্ম রক্ষার জন্য ব্লাসফেমি আইন করবে। তারা যদি প্রকৃতপক্ষে অসাম্প্রদায়িক হতো, তাহলে সংবিধানে জিয়াউর রহমান যেভাবে বিসমিল্লাহ সংযোজন করেছিলেন সেটা তারা বাদ দিত, ১৯৭২ সালে ঘোষিত সংবিধানের অন্যতম খুঁটি ধর্মনিরপেক্ষতা নাকচ করে এরশাদের সময় ইসলামকে যেভাবে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া হয়েছিল, সে স্বীকৃতি বাতিল করত। এসব তারা কিছুই করেনি। উপরন্তু সংবিধানকে ইসলামী করার জন্য পঞ্চদশ সংশোধনীতে সব রকম ব্যবস্থাই তারা রেখেছে। এটাই হচ্ছে বাংলাদেশের শাসক শ্রেণীর বাস্তব চরিত্র। এসবের মধ্যেই আছে ফ্যাসিবাদের বহিঃপ্রকাশ। এর মধ্যেই আছে ফ্যাসিবাদসহ সব রকম প্রতিক্রিয়াশীলতা রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমোদন ও অনুসরণের উদাহরণ। বাংলাদেশে আজ সব ধরনের জাতিগত, ভাষাগত, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর যে আক্রমণ হচ্ছে এবং বৃহত্তর ও ব্যাপকতর আক্রমণের শর্ত তৈরি হচ্ছে, একে ফ্যাসিবাদের থেকে বিযুক্ত করে দেখা যায় না। সামগ্রিকভাবে এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের সংগঠিত সংগ্রাম পরিচালনার শর্ত ও ক্ষেত্র তৈরি করাই বর্তমানে সাধারণভাবে জনগণের এক গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি রাজনৈতিক কর্তব্য। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে এখন বিভিন্ন জায়গায় মন্দির ভাংচুর, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ইত্যাদির যেসব ঘটনা ঘটছে, তা প্রতিরোধের সংগ্রামের সঙ্গে সাধারণভাবে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম এখন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই সংগ্রামে ব্যাপকভাবে এগিয়ে না এলে বাংলাদেশে অন্যান্য প্রতিক্রিয়াশীলতাসহ সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ ও তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম সংগঠিত করা সম্ভব নয়।
বদরুদ্দীন উমর : সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ▼ 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...