Sunday, April 5, 2026
থাইল্যান্ডের ডাবের পানি মাত করল চীনের বাজার
৪৫ বছর বয়সী পংসাকর্ন ব্যাংকক থেকে অনলাইন সাক্ষাৎকারে ফোর্বস ম্যাগাজিনকে বলেন, ‘আমাদের নারকেলের ঘ্রাণ দারুণ। তাই ভাবলাম, কেন এই ভালো জিনিসটা আমরা দুনিয়ার সামনে তুলে ধরব না?’ তাঁর প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি জেনারেল বেভারেজ ১২ বছর আগে আইএফ ব্র্যান্ডের নামে বোতলজাত নারকেলের পানি বাজারে নিয়ে আসে। বর্তমানে তাঁর কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইএফবিএইচের মাধ্যমে এই ব্র্যান্ড বিদেশে বিক্রি হচ্ছে।
চীনের মূল ভূখণ্ডে এখন আইএফ সর্বাধিক বিক্রীত নারকেলের পানির ব্র্যান্ড। সাংহাইভিত্তিক চায়না ইনসাইটস ইন্ডাস্ট্রি কনসালট্যান্সির তথ্য অনুযায়ী, বাজারে তাদের অংশীদারত্ব এক-তৃতীয়াংশের বেশি—আইএফ একাই ২৮ শতাংশ এবং তাদের আরেক পণ্য ইনোসোকো ৬ শতাংশ। প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছে আরও অনেক ব্র্যান্ড, যেমন স্থানীয় ডেলগার্ডেন (যার বাজার হিস্যা ৫ শতাংশের কম), দেশীয় চিংশাং ড্রিংক, মার্কিন ভিটা কোকো ও থাইল্যান্ডের মালি গ্রুপের মালি কোকো।
পংসাকর্ন আত্মবিশ্বাসী, এ অবস্থান টেকসই হবে। তিনি বলেন, ‘নারকেলের পানি বললেই আইএফের নাম আসে।’ ২০২৪ সালে কোম্পানির বিক্রি বেড়ে দাঁড়ায় ১৫৮ মিলিয়ন বা ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার; আগের বছরের চেয়ে যা ৮০ শতাংশ বেশি। নিট মুনাফা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়ায় ৩৩ মিলিয়ন বা ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এই আয়ের ৯৭ শতাংশই আসে চীন থেকে।
চীনের বাজারে এ সাফল্যে উজ্জীবিত হয়ে পংসাকর্ন এবার আরও বিস্তৃত বাজারে চোখ রাখছেন। চলতি বছরের জুন মাসে হংকং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় আইএফবিএইচ। এর মাধ্যমে ১৪৫ মিলিয়ন বা ১৪ কোটি ৫০ ডলার তোলা হয়। এই কোম্পানির শেয়ারের প্রতি আকৃষ্ট হয় বড় বিনিয়োগকারীরা—যেমন চারোয়েন পকফান্ড গ্রুপ, ইউবিএস ও চীনের হংশান ভিসি ফার্মের সহযোগী তহবিল এই কোম্পানির শেয়ার কেনে।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরও পংসাকর্ন পংসাকের হিস্যা ৬০ শতাংশ। বর্তমানে তাঁর শেয়ারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৭০০ মিলিয়ন বা ৭০ কোটি ডলার। ফলে তিনি এখন থাইল্যান্ডের অন্যতম ধনী উদ্যোক্তা। এখানেই থেমে থাকতে চান না তিনি; আইপিও থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ ব্যয় করবেন চীনের বাইরের বাজার সম্প্রসারণে।
বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির কারণে নারকেলের পানি ও উদ্ভিদভিত্তিক পানীয় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যুক্তরাজ্যের ইউরোমনিটরের হিসাবে, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিশ্ববাজারে এ ধরনের পানীয়র বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ শতাংশ। সফট ড্রিংকস শিল্পের গড় প্রবৃদ্ধির (৬.৬%) চেয়ে যা অনেক বেশি।
পংসাকর্নের লক্ষ্য এখন যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করা। বর্তমানে এ দুই দেশ থেকে রাজস্ব আসে অতি সামান্যই। অথচ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় নারকেলের পানির বাজার, যেখানে ২০২৪ সালে বিক্রি হয়েছে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন বা ১৪০ কোটি ডলারের পানীয়। তবে সেখানে প্রবেশ সহজ নয়। কেননা, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ভিটা কোকোর অবস্থান শক্তিশালী।
পংসাকর্ন জানাচ্ছেন, তিনি এখনো থাইল্যান্ডকেই মূল সরবরাহকেন্দ্র হিসেবে ধরে রাখতে চান। এর মধ্য দিয়ে ‘থাই স্বাদকে’ বিশ্বদরবারে তুলে ধরা সম্ভব। তবে প্রয়োজনে অন্যান্য দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশ থেকেও সরবরাহ নেওয়ার পরিকল্পনা আছে।
চীনে কৌশলগত সময়োপযোগী পদক্ষেপ থেকে তারা সফলতা অর্জন করেছে। ২০১৫ সালে প্রথমে হংকংয়ে এই পণ্য বিক্রি শুরু হয়, এরপর ২০১৭ সালে চীনের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করে এই পানীয়—প্রথমে আলিবাবার টিমল ও জেডি ডটকমে অনলাইন বিক্রির মাধ্যমে। পরে যোগ হয় নতুন স্বাদের ভ্যারিয়েশন—যেমন জেসমিন চালের স্বাদযুক্ত নারকেলের পানি কিংবা আম-নারকেলের দুধ। তরুণ ভোক্তাদের টার্গেট করে জনপ্রিয় তারকা শিয়াও ঝানকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করা হয়।
কোম্পানির মডেল হলো অ্যাসেট–লাইট—অর্থাৎ উৎপাদন থেকে বিতরণ পর্যন্ত অনেক কাজ আউটসোর্সে করা হয়, যদিও কঠোরভাবে মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আগামী দুই বছরে তারা সরবরাহের উৎস আরও বহুমুখী করতে চায়।
পংসাকর্নের পথচলা শুরু হয়েছিল পারিবারিক ব্যবসা থেকে। যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক শেষে পরিবারের মালিকানাধীন সুয়ান গ্রুপে কাজ করেন। ২০১১ সালে দেশে ফিরে তিনি গড়ে তোলেন জেনারেল বেভারেজ, প্রথমে বিভিন্ন ফলের জুস দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও ২০১৫ সালে তিনি নারকেলের পানিতে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন। তাঁর নিজের ভাষায়, ‘আমি যখন কোনো কিছুর মধ্যে ডুবে যাই, তখন কোনো পিছুটান থাকে না; পেছনে ফিরে তাকানোর অবকাশ নেই আমার।’
কোভিড মহামারিতে স্বাস্থ্যকর পানীয়র চাহিদা বেড়ে গেলে কোম্পানিটি চাহিদা মেটাতে হিমশিম খায়। তখন আন্তর্জাতিক ব্যবসাকে আলাদা করে আইএফবিএইচ গড়ে তোলা হয়। এখন রাজস্বের প্রায় ৯৮ শতাংশ আসে নারকেলের পানি থেকে। ভবিষ্যতে তিনি ফলের রস, থাই মিল্ক টি, স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস ও বিকল্প প্রোটিন পণ্যে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন।
পংসাকর্ন বলেন, নারকেলের পানি আজ হয়তো ছোট একটি খাত, কিন্তু এর সম্ভাবনা কমলার রসের মতো। সেই সঙ্গে ব্যবসা সম্প্রসারণের চিন্তাও করছেন তিনি। নতুন পানীয় বাজারে আনার পাশাপাশি পংসাকর্ন স্বাস্থ্যকর পানীয়, উদ্ভিদভিত্তিক স্ন্যাকস ও বিকল্প প্রোটিনে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন তিনি। এশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি অধিগ্রহণের জন্য ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার বরাদ্দ রেখেছেন।

Saturday, March 28, 2026
মাছ নিয়ে ফারজানার সফল উদ্যোগ, এখন কর্মী ৭০ by রাহিতুল ইসলাম
সংগ্রামের শুরু যেখানে
ফারজানা আকতারের বড় হয়ে ওঠা কুমিল্লায়। ১৯৯৭ সালে খুব ছোটবেলায় বাবাকে হারান তিনি। মা আর ছোট বোনকে নিয়ে শুরু হয় এক কঠিন জীবনযুদ্ধ। সংসারের হাল ধরতে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন ৩০০ টাকা বেতনে শুরু করেন টিউশনি। পড়াশোনার পাশাপাশি কখনো এনজিওতে কাজ করেছেন, কখনো কিন্ডারগার্টেন স্কুলে পড়িয়েছেন, আবার কখনো দর্জির কাজ করে চালিয়েছেন সংসারের চাকা। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা থামাননি। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে সমাজকর্মে উচ্চশিক্ষা শেষ করে ২০১৪ সালে আসেন ঢাকায়। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর টেলিভিশন সাংবাদিকতার নতুন অধ্যায়।
উদ্যোক্তা হওয়ার ঝোঁক ও ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা
টেলিভিশন সাংবাদিকতা বাইরের মানুষের কাছে আকর্ষণীয় মনে হলেও, ঢাকার আকাশছোঁয়া ব্যয়ের জীবনে টিকে থাকা ফারজানার জন্য ছিল এক নীরব সংগ্রাম। বাড়তি আয়ের আশায় ২০১৮ সালে ‘টুশিস কিচেন’ নামে ফুডপান্ডার মাধ্যমে খাবার সরবরাহ শুরু করেন তিনি। এরপর ‘ফেরিওয়ালা’ নামে একটি অনলাইন পেজ খুলে জামদানি শাড়ি ও রুহিতপুরের লুঙ্গি বিক্রি করতেন।
কিন্তু শাড়ি–লুঙ্গির ব্যবসায় নিজেকে ঠিক মানিয়ে নিতে পারছিলেন না ফারজানা। সাংবাদিকতার ব্যস্ত শিডিউলের কারণে শাড়ির সূক্ষ্ম খুঁটিনাটি—যেমন কুঁচি কিংবা ব্লাউজ পিস সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিল সীমিত। ক্রেতাদের নানা কারিগরি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে না পেরে তিনি দ্রুতই একটি বড় সত্য উপলব্ধি করেন, যে পণ্য সম্পর্কে নিজের গভীর আবেগ বা পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই, সেখানে সফল হওয়া অসম্ভব। এই উপলব্ধি থেকেই ২০১৯ সালে শাড়ির ব্যবসা গুটিয়ে নেন তিনি। তবে দমে যাননি, বরং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার শুরু করেন।
নদী থেকে ব্যবসায় ফেরা
সাংবাদিকতা করার সময় ফারজানা দীর্ঘদিন নদী দখল ও দূষণ নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন। এই কাজের সূত্রেই তিনি গভীরভাবে খেয়াল করেন, রাজধানীর বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য ফরমালিনমুক্ত এবং নদীর তাজা মাছ পাওয়া কতটা দুঃসাধ্য। তিনি লক্ষ করেন, মূলত সঠিক সংরক্ষণের অভাব ও বিক্রেতাদের অসচেতনতার কারণে মাছের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। নাগরিক জীবনের এই বড় সংকটকেই তিনি নিজের নতুন সম্ভাবনায় রূপ দেন। বাজারব্যবস্থার এই ফাঁকটুকু পূরণ করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৯ সালের মার্চে শুরু করেন মাছ নিয়ে তাঁর স্বপ্নের উদ্যোগ।
সফটওয়্যার প্রকৌশলী স্বামী যখন পাশে
বাঙালির চিরন্তন পরিচয় ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ ঐতিহ্যকে ডিজিটাল যুগে আরও সহজলভ্য করে তুলছেন এই দম্পতি। ব্যস্ত নাগরিক জীবনে নদী বা হাওরের টাটকা মাছ খুঁজে পাওয়া যখন দুষ্কর, তখন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরাসরি জলাশয়ের মাছ পৌঁছে দিতে কাজ করছেন ফারজানা আকতার ও তাঁর স্বামী সফটওয়্যার প্রকৌশলী তানভীর আজাদ। তাঁদের যৌথ প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে অনলাইন মাধ্যম ‘রিভার ফিশ’।
শুরু থেকেই ফারজানার উদ্যোগের সঙ্গে ছায়ার মতো ছিলেন তানভীর আজাদ। ফারজানা ঘুরে বেড়ান দেশের বিভিন্ন জেলায়, পরিচয় করিয়ে দেন বিল ও নদীর বিলুপ্তপ্রায় সব দেশি মাছের সঙ্গে। আর সেই মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দী করেন তানভীর। ২০২০ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তাঁদের এই পেশাদার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। বর্তমানে তানভীর তাঁর সফটওয়্যার প্রকৌশল জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল মার্কেটিং এবং ওয়েবসাইটের কারিগরি দিকগুলো সামলাচ্ছেন।
তানভীর আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা মূলত নদী, হাওর, বিল এবং সমুদ্রের প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা মাছ সংগ্রহ করি। আমাদের লক্ষ্য হলো মাছের কৃত্রিমতা দূর করে একদম টাটকা স্বাদ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া।’ তাঁদের সংগ্রহে রয়েছে হাওরের মাছ, ধনু নদীর পাঁচমিশালি মাছ, বাতাসি, গুতুম, বিলের দেশি কই, মাগুর ও শোল। নদীর কাজলি, মধু টেংরা, পাবদা এবং বড় আকারের কাতল, কোরাল। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে আছে কাপ্তাই লেকের পাবদা, হাকালুকি হাওরের বড় মাছ, সুনামগঞ্জের কালো চিংড়ি, প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা গলদা ও ডিমা চিংড়ি।
মাঝরাতে আড়তে আড়তে
ব্যবসা শুরুর আগে ফারজানা একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নেন—তাঁকে আগে মাছ চিনতে হবে। এই সংকল্প থেকে টানা তিন মাস তিনি গভীর রাতে চষে বেড়িয়েছেন রাজধানীর কারওয়ান বাজার কিংবা যাত্রাবাড়ীর বড় বড় মাছের আড়ত। একজন নারীর জন্য রাত ২টা বা ৪টার দিকে ওই পুরুষতান্ত্রিক পরিবেশে যাওয়াটা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। কিন্তু অভিজ্ঞতাটা ছিল একেবারেই ভিন্ন ও ইতিবাচক। সেখানকার তথাকথিত ‘অশিক্ষিত’ শ্রমিক ও মহাজনেরা তাঁকে দেখে কটু কথা বলা তো দূরের কথা, বরং পরম মমতায় মাছ চিনতে সাহায্য করেছেন। ফারজানা আকতার স্মৃতিচারণা করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাকে দেখে আড়তদারেরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করতেন আপা, এত রাতে এখানে কী করেন? আমি যখন বলতাম মাছের ব্যবসা করার জন্য মাছ চিনতে এসেছি, তাঁরা দারুণ উৎসাহ দেখাতেন। বলতেন, আসেন আপা আপনাকে মাছ দেখাই। কাদা-পানিতে মাখামাখি সেই ভিড়েও কেউ আমাকে ধাক্কা পর্যন্ত দিত না। উল্টো মহাজনেরা যত্ন করে শিখিয়ে দিতেন কোন মাছ কোন জেলা বা কোন নদী থেকে এসেছে।’
সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা যখন ব্যবসায়িক কৌশল
একজন দক্ষ সাংবাদিকের গবেষণার অভ্যাসকে ফারজানা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন তাঁর ব্যবসায়। মাছের সঠিক উৎস নিশ্চিত করতে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ করতেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে। এমনকি কোনো নির্দিষ্ট মাছ কোন জনপদে ভালো পাওয়া যায়, তা জানতে সাহায্য নিয়েছেন বাংলাপিডিয়ারও। মাছ যেন ঢাকায় আনার পথে গুণগত মান না হারায়, সে জন্য জেলেদের কাছ থেকে শিখে নিয়েছেন প্যাকিংয়ের বিশেষ কৌশল। মাছের খোঁজে তিনি ছুটে গিয়েছেন দেশের নানা জেলার নদী, খাল আর বিলের পাড়ে।
সাফল্যের জয়গান
শুরুর পথটা ফারজানা পাড়ি দিয়েছেন একদম একা। সারা দিন অফিস করে রাতে নিজেই ক্রেতাদের বার্তার উত্তর দিতেন। ২০১৯ সালের আগস্টে মাত্র দুজন কর্মী নিয়ে শুরু হওয়া সেই ছোট উদ্যোগটি আজ ডালপালা মেলে বিশাল মহিরুহে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন ৭০ জন কর্মী। ২০২০ সালে করোনা মহামারির কঠিন সময়ে যখন চারদিকে কর্মসংস্থানের সংকট, তখন ফারজানা সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। সাংবাদিকতার পেশা ছেড়ে পূর্ণকালীন উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মনিয়োগ করেন নিজের প্রতিষ্ঠান ‘রিভার ফিশ’-এ। দেশ ছাড়িয়ে প্রবাসেও তারা জায়গা করে নিয়েছে।
বিদেশে অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশিই দেশের মাছের স্বাদ মনে মনে খোঁজেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক ভ্রমণে কাঁচা মাছ বহন করা বেশ ঝক্কির ব্যাপার। এই সমস্যার সমাধানে ‘রিভার ফিশ কিচেন’ চালু করেছে এক অভিনব সেবা। তারা গ্রাহকের পছন্দ অনুযায়ী মাছ ঐতিহ্যবাহী বাঙালি স্বাদে ভেজে এমনভাবে প্যাকিং করে দেয়, যা প্রবাসীরা সহজেই সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারেন। এ ছাড়া তারা বিমানবন্দরে সরবরাহের সুবিধাও প্রদান করে থাকে। শুধু মাছই নয়, রিভার ফিশে পাওয়া যাচ্ছে গ্রামের দেশি মুরগি, হাঁস এবং প্রি-অর্ডারের মাধ্যমে খাসির মাংস। যাঁরা শুঁটকিপ্রেমী, তাঁদের জন্য রয়েছে কিশোরগঞ্জের বিখ্যাত চ্যাপা শুঁটকি, নিরাপদ ছুরি ও লইট্টা শুঁটকি ইত্যাদি।
ফারজানা আকতার প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিজেকে কেবল “নারী” ভাবলে চলবে না, ভাবতে হবে মানুষ হিসেবে। জীবনের যেকোনো পরিস্থিতিতে আত্মবিশ্বাস থাকলে সব বাধা জয় করা সম্ভব।’ ফারজানার এই দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প আর রিভার ফিশের সাফল্য এখন অসংখ্য নারীর জন্য সাহসের উৎস। বর্তমানে তিনি নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করছেন; প্রশিক্ষণ আর ক্ষুদ্র বিনিয়োগের মাধ্যমে তাঁদের স্বাবলম্বী করে তোলাই এখন তাঁর লক্ষ্য।
![]() |
| ফারজানা আকতার। ছবি: সংগৃহীত |
Saturday, March 14, 2026
সোনালি মুরগির কেজি ৩৫০ টাকা ছাড়িয়েছে
সোনালির পাশাপাশি দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। আর বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। তবে বাজারে স্থিতিশীল রয়েছে সবজির দাম।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ঈদুল ফিতরের আর মাত্র ৮–৯ দিন বাকি। ঈদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অনেকে এখন থেকেই মুরগি কিনে রাখছেন। এতে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি হওয়ায় দাম বেড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা–বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
রোজার শুরুতে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে ২০০-২২০ টাকা কেজি হয়েছিল। এর কয়েক দিন পর দাম কমতে থাকে। দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকায় কেনা গেছে। এরপর দাম আবার বাড়তে থাকে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা ছাড়ায়। সর্বশেষ গত তিন দিনে সেই দাম আরও বেড়েছে। আজ ঢাকার তিনটি বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ২২০ টাকায়; অর্থাৎ দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ৬০ টাকা বেড়েছে। আর তিন দিনের মধ্যে কেজিতে ২০ টাকা দাম বেড়েছে।
এদিকে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে। আজ রাজধানীতে মানভেদে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩২০–৩৫০ টাকায়। কোনো কোনো বাজারে ৩৬০ টাকা দরেও সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি সোনালির দাম ছিল ২৭০-৩০০ টাকা।
বাজারে অনেক দিন ধরে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম স্থিতিশীল ছিল। এখন সেই দামও বেড়েছে। আজ এক ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১১০–১২০ টাকায়। প্রতি ডজনে দাম বেড়েছে ১০ টাকা।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মুরগি বিক্রেতা মুরাদ হোসেন বলেন, ঈদের আগে আগে মুরগি কেনায় বাড়তি চাপ থাকে। এ কারণে দাম বাড়ছে।
![]() |
| মুরগির বাজার। ফাইল ছবি |
Monday, February 9, 2026
কুল উৎপাদনে রাজশাহী শীর্ষে, এরপরেই ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা by ইয়াহইয়া নকিব
বর্তমানে দেশি জাতের টক–মিষ্টি বরই থেকে শুরু করে আপেল কুল, বাউকুল, থাইকুল, বনসুন্দরীসহ উচ্চফলনশীল বিভিন্ন জাতের মিষ্টি বরইয়ের বাণিজ্যিক আবাদ হচ্ছে। কুলের মৌসুম শুরু হয় জানুয়ারিতে, যা শেষ হয় এপ্রিলে। বছরের এই সময় অন্য দেশি ফল তুলনামূলক কম থাকায় ভালো বাজার পায় কুল।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপযোগী মাটি ও আবহাওয়ার কারণে দেশে সবচেয়ে বেশি কুল উৎপাদন হয় রাজশাহী ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিসিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে কুল উৎপাদন হয় ১ লাখ ১ হাজার ৫২৩ টন। এর ভিত্তিতে বছরব্যাপী ফল উৎপাদন প্রকল্পের সাবেক পরিচালক ও কৃষিবিদ মো. মেহেদী মাসুদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রতি কেজির দাম ১০০ টাকা করে ধরলেও দেশে উৎপাদিত কুলের বাজারমূল্য এক হাজার কোটি টাকার বেশি হবে।
আগের ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ১ লাখ ৮১৮ টন কুল উৎপাদন হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২২–২৩ ও ২০২১–২২ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছিল যথাক্রমে ৯৭ হাজার ও ৯৫ হাজার টন। কৃষিবিদ ও ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলেন, প্রকৃত উৎপাদন সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে।
বাজারদর ও লাভ
মৌসুমের শুরুতে এখন ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কুল (বড়) ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। ছোট আকারের দেশি বরই বিক্রি হয় ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে। কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা নাহিদ হোসেন বলেন, কিছুদিনের মধ্যে সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে।
মাগুরার নাসির অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী নাসির হোসেন প্রথম আলোকে জানান, তিনি এবার পাঁচ বিঘা জমিতে কুল চাষ করছেন। প্রতি একরে খরচ পড়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। প্রতি মণ কুল এখন আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাতে একরপ্রতি ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার কুল বিক্রি হতে পারে। এ থেকে তিনি একরে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছেন।
শীর্ষে রাজশাহী
২০২৩–২৪ অর্থবছরের উৎপাদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজশাহী জেলায় সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৭৫৯ টন কুল উৎপাদন হয়েছে। ৭ হাজার ২২৯ টন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ। এ ছাড়া ৪ হাজার ১২৮ টন উৎপাদন নিয়ে কুমিল্লা আছে তৃতীয় স্থানে। এ ছাড়া কুষ্টিয়া ৩ হাজার ৬৩৬ টন ও চট্টগ্রাম ৩ হাজার ৫৯৪ টন নিয়ে যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, উপযোগী মাটি ও সহজ বাজারজাতের ব্যবস্থার কারণে রাজশাহী ও ময়মনসিংহে কুল চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ জেলার উপপরিচালক মো. এনামুল হক প্রথম আলোকে বলেন, এখানকার মাটি কুল চাষের উপযোগী। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হওয়ায় বাজারজাতকরণ সহজ হয়। ফলে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পান। তাই ফুলবাড়িয়া ও ভালুকায় ব্যাপকভাবে কুলের চাষ হচ্ছে।
বিভিন্ন জাত
কৃষিবিদদের মতে, দেশে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় বনসুন্দরী, আপেল কুল ও স্থানীয় জাত ঢাকা–১৯ ও বাউকুল। ১ ফুট উচ্চতার একটি গাছে এক বছরের মধ্যেই ২০ কেজি পর্যন্ত কুল পাওয়া যায়। প্রতি একর জমিতে গড়ে ৩০০টি গাছ লাগানো যায়। পরের বছর গাছের গোড়া থেকে এক হাত পর্যন্ত রেখে বাকিটা ছেঁটে দিতে হয়। সেখান থেকে নতুন ডালপালা গজায়। তবে ডালপালা সঠিকভাবে ছাঁটাই না হলে ফলন কমে যায়।
দেশে বাণিজ্যিক কুল চাষের সূচনা সম্পর্কে কৃষিবিদ মো. মেহেদী মাসুদ জানান, ২০১৪ সালের দিকে ভারতের মহারাষ্ট্র ও কাশ্মীর থেকে আনা জাত দিয়ে দেশে কুলের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়। পরে স্থানীয় হর্টিকালচার সেন্টার থেকে এসব চারা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
বাউকুলে বিপ্লব
কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে, কুল মূলত বাংলাদেশ, ভারত, চীন ও মিয়ানমার অঞ্চলের ফল। আশির দশকে ভারত থেকে উন্নত জাত আমদানির পর চাষ বাড়তে থাকে। কুল খরাসহিষ্ণু, রোগবালাইও তুলনামূলক কম হয়। অর্থাৎ এটি সহজে উৎপাদন করা যায়। শীতের শেষ দিকে অন্য দেশি ফল না থাকায় কুল ভালো কদর পায়।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) ফল বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মসিউর রহমান বলেন, বারি থেকে পাঁচটি কুলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে নারিকেলি জাতটি কুমিল্লা এলাকায় বেশি চাষ হচ্ছে। আপেল কুল এনেছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) থেকে বাউকুল জাত উদ্ভাবনের পর কুল চাষে বিপ্লব ঘটে।
মো. মসিউর রহমান বলেন, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত অন্য দেশি ফল তেমন থাকে না। জানুয়ারির পর দেশি কমলাও পাওয়া যায় না। বিদেশি আপেল ও কমলার দাম বেশি। এ ছাড়া ফল খাওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বেড়েছে এবং কুলের স্বাদও আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। এসব কারণে কুল জনপ্রিয় ফল হয়ে উঠেছে।
কৃষি তথ্য সার্ভিসের তথ্যমতে, কুল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এটি রক্ত শোধন ও হজমে সহায়ক। পেটের গ্যাস ও অরুচি দূর করতে কুলের ফুল থেকে তৈরি ওষুধও ব্যবহৃত হয়।
![]() |
| মৌসুমের শুরুতেই রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে এখন হরেক রকমের কুল-বরইয়ের সমাহার দেখা যাচ্ছে। ছবি : প্রথম আলো |
Saturday, August 9, 2025
ভারতের সঙ্গে আর কোনো বাণিজ্য আলোচনা নয়, জানিয়ে দিলেন ট্রাম্প
গত কয়েক মাস ধরেই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে দর কষাকষি চালাচ্ছে আমেরিকা। কেন্দ্রের মোদি সরকার জানিয়ে দিয়েছে, কৃষি ও ডেয়ারি প্রোডাক্টের বাজার আমেরিকার জন্য দরজা খুলবে না ভারত। তাতেই ব্যাপক ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। ভারতীয় পণ্যের ওপরে প্রথমে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। তারপর গত বুধবার আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেন। সব মিলিয়ে ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসবে।
মার্কিন আধিকারিকদের মতে, ভারতীয় পণ্যের ওপর প্রথমে যে ২৫ শতাংশ শুল্ক বসেছিল, সেটি কার্যকর হচ্ছে ৭ আগস্ট থেকে। পরবর্তী ২৫ শতাংশ শুল্ক বসবে তারও ২১ দিন পর থেকে। তবে যেসব পণ্য ইতিমধ্যেই ভারত থেকে আমেরিকায় রওনা দিয়েছে তার ওপর শুল্ক বসাবে না মার্কিন প্রশাসন। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছে। এরপরে কি আপনি আশা করেন যে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনা আরও বাড়বে? ট্রাম্পের জবাব, ‘না, যতদিন না এই সমস্যা মিটছে ততদিন আলোচনা হবে না।’ এই সমস্যা বলতে ট্রাম্প ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট নয়।
তবে বিশ্লেষকদের অনুমান, রুশ তেল কেনা বন্ধ করুক ভারত, এমনটাই চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাই ভারতের ‘শাস্তি’ বাড়াতেই এবার বাণিজ্য নিয়ে আলোচনাও বন্ধ করতে চাইছেন তিনি। অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতও। বিদেশমন্ত্রক একটি বিবৃতিতে বলেছে, ‘অন্যায্য, অযৌক্তিক এবং অবিবেচকের মতো সিদ্ধান্ত। ভারত আগেও একাধিকবার স্পষ্ট করে দিয়েছে, বাজারের পরিস্থিতি এবং ১৪০ কোটি ভারতবাসীর জ্বালানির নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করা হয়।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘কৃষকের স্বার্থ আমাদের কাছে সবার আগে।’
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

‘এক ইঞ্চি জমি ছাড়লে, এক মাইল নিয়ে নেবে!’
ব্রাজিলের ওপরেও আমেরিকা কর চাপিয়েছে ৫০ শতাংশ। তার পরেই চীনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইয়ি সমালোচনা করেন মার্কিন নীতির! ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরই ব্রাজ়িল প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি কোনও রকম আলোচনা করবেন না। বরং ভারত, চীনের মতো ‘বন্ধু’ দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলবেন। বৃহস্পতিবার রাতেই (ভারতীয় সময়) ব্রাজ়িলের প্রেসিডেন্টের থেকে ফোন পান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আলোচনা হয় পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে।
উল্লেখ্য, এই আবহে চলতি মাসের শেষে আন্তর্জাতিক জোট ‘সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজ়েশন’ (এসসিও)-এর রাষ্ট্রনেতাদের বৈঠকে যোগ দিতে চীনে যাচ্ছেন মোদি। ২০১৯ সালের পর চীন সফর করবেন তিনি। ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের মধ্যে মোদির এই সফর খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত অনেকের। কীভাবে মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে মোকাবিলা করা সম্ভব, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলেও মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ভারত, চীন ও তুরস্ক হল রাশিয়ার তেলের তিনটি বৃহত্তম আমদানিকারক এবং ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে শুক্রবারের মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ না হলে ‘দ্বিতীয় শুল্ক’ আরোপ করা হবে। এই বছরের শুরুতে চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে যেখানে আমেরিকা চীনের ওপর ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বৃদ্ধি করে।
তবে, চীন শুল্কের পরিমাণ ১২৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রেখে বলেছিল, আমেরিকা যদি আরও উচ্চ স্তরে শুল্ক বৃদ্ধি করে, তবে এটি অর্থনৈতিকভাবে অর্থহীন হবে এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসে হাসির খোরাক হয়ে উঠবে।
সূত্র: এনডিটিভি

Friday, August 1, 2025
ভারতের কাছে তেল বিক্রি করতে পারে পাকিস্তান, খোঁচা দিলেন ট্রাম্প
গতকাল নিজের মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ভারতীয় পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত হননি তিনি। ভারতকে খোঁচা দিতে পাকিস্তানকেও টেনে আনলেন তিনি। আরেকটি পোস্টে জানালেন, পাকিস্তানের মজুত তেলের ভান্ডার নিয়ে কাজ করতে দেশটির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। ফলে এমনও হতে পারে, পাকিস্তান একসময় ভারতের কাছে তেল বিক্রি করবে। স্পষ্টতই রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল কেনার দিকে ইঙ্গিত করে এ কথা বলেছেন ট্রাম্প। খবর ইকোনমিক টাইমস।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প যা লিখেছেন, তার মর্ম এ রকম: আমরা এই মাত্র পাকিস্তান রাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করেছি। এই চুক্তির আওতায় পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে বিশাল তেল মজুত উত্তোলনে কাজ করবে। কোন কোম্পানি এই অংশীদারত্বের নেতৃত্ব দিতে পারে, আমরা এখন সেই কোম্পানি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় আছি। কে জানে, হয়তো একদিন তারা ভারতের কাছেও তেল বিক্রি করবে।
ট্রাম্পের এই পোস্ট নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া দেয়নি নয়াদিল্লি। ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এখনো দর-কষাকষি চলছে; ট্রাম্প শুল্ক ও জরিমানা আরোপ করছেন, ঠিক সেই সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই চুক্তি ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এর আগে বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেলে ট্রুথ সোশ্যালে পাতায় ভারতের ওপর শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। সেখানে ভারতকে ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে অসন্তুষ্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন পণ্যের ওপর ভারতীয় বাজারে চড়া হারে শুল্ক নেওয়া হয়। সে কারণেই আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্য আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প আরও লেখেন, ভারত আমাদের বন্ধু হলেও বছরের পর বছর ধরে তাদের সঙ্গে আমাদের ব্যবসা তুলনামূলকভাবে অনেক কম হয়েছে। তারা অনেক বেশি শুল্ক নেয়, এমনকি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি হারে শুল্ক নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে তারা একটি। ভারতের সঙ্গে ব্যবসা করতে গেলে দেখা যায়, অনেক ধরনের বিরক্তিকর বাধা আছে। যার সঙ্গে আর্থিক কোনো সম্পর্ক নেই। এ ছাড়া ভারত সব সময় সামরিক সরঞ্জামের বড় একটি অংশ রাশিয়া থেকে কেনে। রাশিয়ার জ্বালানিরও অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা ভারত। ট্রাম্পের দাবি, ভারতের মতো চীনও রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, যখন সবাই চাইছে, রাশিয়া ইউক্রেনে হত্যালীলা বন্ধ করুক, তখন এসব কাজ ভালো নয়। তাই ভারত ২৫ শতাংশ শুল্ক দেবে এবং উল্লিখিত বিষয়গুলোর জন্য জরিমানাও নেওয়া হবে ১ আগস্ট থেকে।
ঘটনাচক্রে সপ্তাহ দু-এক আগেই রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে—এমন দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিয়েভের সঙ্গে যুদ্ধ থামানোর জন্য মস্কোকে ৫০ দিন সময় দিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যে রাশিয়া হামলা বন্ধ না করলে মস্কোর বাণিজ্যিক বন্ধুদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। দুদিন আগে ট্রাম্প আবার জানান, যুদ্ধ থামানোর জন্য তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ১০ থেকে ১২ দিন সময় দিচ্ছেন।
বুধবার ট্রাম্প আরও একটি খোঁচা দিয়েছেন ভারতকে। ট্রুথ সোশ্যালের আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, ভারত রাশিয়ার সঙ্গে কী করছে, তা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। ওরা চাইলে নিজেদের মৃতপ্রায় অর্থনীতি একসঙ্গে ডুবিয়ে দিতে পারে। এতে তাঁর কিছু যায় আসে না। ভারতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য অনেক কম, কেননা, তাদের শুল্ক অনেক বেশি, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি শুল্ক আরোপকারী দেশগুলোর মধ্যে তারা অন্যতম। অন্যদিকে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য নেই বললেই চলে।
মঙ্গলবার স্কটল্যান্ড থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার সময়েই ট্রাম্প আভাস দিয়েছিলেন ভারতের ওপর ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। তবে তখনো তা সম্ভাবনার পর্যায়েই ছিল। ওই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টা হতে না হতেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
![]() |
| ডোনাল্ড ট্রাম্প, নরেন্দ্র মোদি এবং শাহবাজ শরীফ। কোলাজ: প্রথম আলো |
Friday, April 4, 2025
বিশ্ববাণিজ্যে শত বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন
এই শুল্ক কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তা বোঝা যায় যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আয়ের চার্টের দিকে তাকালে। চার্টের শুল্ক নির্দেশক রেখাগুলো এক ধাক্কায় এতটা ওপরে উঠেছে, যা বিগত এক শতকের মধ্যে দেখা যায়নি। এমনকি এই রেখাগুলো গত শতকের ত্রিশের দশকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির উচ্চ সংরক্ষণবাদের সময়কেও ছাড়িয়ে গেছে।
ট্রাম্পের আরোপ করা এই বাড়তি শুল্কের প্রভাব এরই মধ্যে পড়া শুরু করেছে। রাতারাতি শেয়ারবাজারে পতন দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা বৈশ্বিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য যেসব পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে, সেগুলোই হবে এই শুল্কের প্রকৃত প্রভাব।
ট্রাম্পের নতুন নীতির কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে সর্বজনীন শুল্ক। আগামীকাল শুক্রবার রাত থেকে এই শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে। এরপর কয়েক ডজন দেশের ওপর অতিরিক্ত হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ওই দেশগুলোর উদ্বৃত্ত রয়েছে।
এশিয়ার দেশগুলোর ওপর যে পরিমাণে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, তা সত্যিকার অর্থেই চমকে দেওয়ার মতো। এই শুল্ক বৃদ্ধি হাজার হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা এবং সম্ভবত পুরো দেশের ব্যবসায়িক কাঠামো ভেঙে দেবে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গড়ে তোলা কিছু সরবরাহব্যবস্থা সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পড়বে। অনিবার্য এই প্রভাব নিশ্চিতভাবে তাদের চীনের দিকে ঠেলে দেবে।
এটা কি শুল্ক ও করের মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরির প্রচেষ্টা? যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন দৃশ্যত দাবি করছে, এই শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে কর কমানোর লক্ষ্যে। তবে এই দুইয়ের মধ্যে দ্রুতই তাল মেলানোর সুযোগ সীমিত। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘এটা সামঞ্জস্য তৈরি নয়, এটা একটি জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি।’
কথিত এই ‘পাল্টা শুল্কের’ পেছনে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের যে সূত্রটা রয়েছে, তা হলো তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে যেসব দেশের বেশি পরিমাণ উদ্বৃত্ত রয়েছে, সেসব দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা। এর অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির চেয়ে ওই দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বেশি রপ্তানি করেছে। যখন কোনো দেশের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত থাকছে না, তখন সেই দেশের পণ্যে ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে।
এর মধ্য দিয়ে সামগ্রিকভাবে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়। এই নীতির লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য–ঘাটতি শূন্যে নামিয়ে আনা। এটা বিশ্ববাণিজ্যের গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য এবং বিশেষ করে এশিয়ার ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।
দ্বিতীয়ত, এটা স্পষ্ট যে দ্বিপক্ষীয় দর–কষাকষি তেমন একটা তফাত তৈরি করেনি অথবা প্রকৃতপক্ষে কোনো তফাতই তৈরি করেনি।
ঘাটতি ও উদ্বৃত্ত বাণিজ্য ব্যবস্থায় একটি স্বাভাবিক বিষয়, যেখানে একেক দেশ একেক জিনিস তৈরিতে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করে। যুক্তরাষ্ট্র এখন দৃশ্যত এই যুক্তিকে নাকচ করছে।
কিন্তু কারখানা সরিয়ে নিতে বছরের পর বছর লেগে যাবে। এশিয়ায় এই মাত্রায় শুল্ক আরোপ, বিশেষ করে ৩০ বা ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার কারণে দ্রুতই পোশাক, খেলনা ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে বাকি বিশ্ব কীভাবে সাড়া দেয়।
ইউরোপ এখন যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ডগুলোর ভোগ্যপণ্য না কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর যে একচ্ছত্র আধিপত্য, সেটা ধাক্কা খেতে পারে।
আর যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষগুলোকে অবশ্যম্ভাবী মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় সুদের হার বাড়াতে হতে পারে।
একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বাণিজ্যযুদ্ধ এড়ানো যাবে না বলেই মনে হচ্ছে।
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটি ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। ছবি: এএফপি |
Wednesday, February 26, 2025
আশঙ্কা বাড়াচ্ছে মার্কিন শুল্ক, বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার মধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্ক স্থাপনে নজর দিচ্ছে ভারত ও ইইউ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইইউর সাথে বাণিজ্য যুদ্ধের হুমকি দিয়েছেন যদি না এই ব্লক আরও আমেরিকান তেল ও গ্যাস কেনে। ভারতের উচ্চ শুল্কের সমালোচনাও শোনা গেছে ট্রাম্পের মুখে। এই মাসের শুরুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওয়াশিংটন সফর করেন, সেই সময় উভয়পক্ষ দ্বিমুখী বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে সম্মত হয়। কিন্তু ট্রাম্পের স্বভাবের কারণে, বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে দিল্লির উচিত তার অংশীদারিত্বকে একজায়গায় না আটকে রেখে বৈচিত্র্যময় করা।
কুমার বলেন, সাম্প্রতিককালে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্বব্যাপী দৃশ্যপট বদলেছে। কোভিড-১৯ মহামারীর পর শুরু হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন ও হামাসের সাথে ইসরায়েলের যুদ্ধ। অধ্যাপক মোহন কুমারের কথায়, 'যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারতের সম্পর্ক ভালোভাবেই শুরু হয়েছে, তবে তাদের বৈশ্বিক সম্পর্ক আরও উন্নত করতে হবে এবং কৌশলগত সমন্বয়ের জন্য ইইউর দিকে তাকাতে হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে একটি মুক্ত-বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করতে হবে। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব একই দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত। তবে যে গতিতে সেই কাজ এগোচ্ছে তাতে হতাশা প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক কুমার। শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বাধা হলো আগামী বছর থেকে শুরু হওয়া কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম বাস্তবায়ন সংক্রান্ত ইইউর পরিকল্পনা, যা কার্বনসমৃদ্ধ পণ্য উৎপাদনের সময় নির্গত কার্বনের উপর চার্জ আরোপ করবে।
ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা এই পরিকল্পনাটিকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন, কারণ দেশটি তার ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে কয়লা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যদিও তার পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিচাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত হয়েছে। কুমার বলেন, ইইউ ভারতকে নির্গমন কমাতে আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু ব্লকের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা ছাড়া এটি সম্ভব হতে পারে না কারণ দিল্লির ৫০ কোটি দরিদ্র মানুষের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারত, ক্রমবর্ধমান খরচ সত্ত্বেও পরিবেশ-বান্ধব ইস্পাত তৈরি করে এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য চার্জিং অবকাঠামোর সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে ইইউ-এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ পরিবেশগত মান পূরণ করতে চেয়েছে। কুমার ইইউকে কার্বন নির্গমন সম্পর্কিত চার্জের বিষয়ে ভারতকে আরও সময় দেওয়ার আহ্বান জানান যাতে একটি এফটিএ দ্রুত সম্পন্ন করা যায় ।
অন্যরা বলেছেন যে, ভারত এবং ইইউ জলবায়ু লক্ষ্যগুলির উপর মনোযোগ দিয়ে তাদের অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার একটি অনন্য সুযোগ পেয়েছে, যা গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে প্রসারিত করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রর পিছিয়ে থাকার কারণে।
ক্লিন টেকনোলজিতে সম্ভাব্য সহযোগিতা
বুলগেরিয়ার প্রাক্তন পরিবেশমন্ত্রী জুলিয়ান পপভ উল্লেখ করেছেন যে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির খরচ কমে যাওয়ার ফলে এটি কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় সস্তা হয়ে উঠেছে, যা ভারতকে ক্লিন এনার্জির দিকে ঝুঁকতে উৎসাহ প্রদান করে।
জুলিয়ান বলেন, ‘আমাদের কেবল বাণিজ্যকে উৎসাহিত করলে চলবে না, শিল্প বিনিয়োগকেও উৎসাহিত করতে হবে। বিশেষ করে ক্লিন এনার্জিতে। এটিই ভবিষ্যৎ যার মধ্যে ইইউ এবং ভারত উভয়ের স্বার্থ নিহিত।’
তিনি আরও বলেন, ক্লিন এনার্জিতে চীন যে দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করেছে, তার সাথে তাল মেলাতে ভারত এবং ইইউর মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে তুলতে হবে। ভারতের ইস্পাত মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন সচিব অরুণা শর্মা একমত পোষণ করেন যে, গবেষণা ও উন্নয়নে সহযোগিতার সম্ভাবনা অপরিসীম। কারণ ভারতে বিপুল সংখ্যক প্রতিভা রয়েছে যা এই দেশকে প্রযুক্তিগত পরিষেবার জন্য একটি বিশ্বব্যাপী কেন্দ্র করে তুলেছে।
তিনি বলেন, এই সহযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো অগ্রণী প্রযুক্তিতেও প্রসারিত হতে পারে। শর্মার মতে, ইইউ ভারতে শিল্প যন্ত্রপাতির একটি প্রধান সরবরাহকারী। আসন্ন আলোচনায় উভয় পক্ষের মধ্যে বৃহত্তর সমন্বয়কে উৎসাহিত করার জন্য পরিবেশগত পণ্যের সরবরাহ সম্প্রসারণের উপর আলোকপাত করা হতে পারে। হাইড্রোজেন জ্বালানির মতো পণ্য তৈরি করা যেতে পারে। ভারতে সেই মস্তিষ্ক রয়েছে। ভারত একটি সফটওয়্যার হাব, অন্যদিকে চীন একটি হার্ডওয়্যার হাব।
সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

Tuesday, February 18, 2025
ইলন মাস্ক: খ্যাপাটে ব্যবসায়ী থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ডান হাত’ by প্রতীক বর্ধন
এই ছবি যেন ভবিষ্যতের কথা বলে। হতে পারে, বিশ্বের একজন শীর্ষ ব্যবসায়ী ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুর দিকে হাঁটছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ইলন মাস্কের ফোনালাপ হয়েছে। এই ঘটনায় ইলন মাস্ক সম্পর্কে বাংলাদেশিদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
বাস্তবতা হলো, ইলন মাস্ক এখন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডান হাত। তাঁর পরিচয় এখন আর নিছক ব্যবসায়ীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ধারণা করা হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদী ও বিশ্বায়নবিরোধী যে ধারার রাজনীতি শুরু হয়েছে, ইলন মাস্ক হয়তো তার ভবিষ্যৎ কান্ডারি।
ট্রাম্প প্রশাসন এই ধনকুবের ইলন মাস্ককে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দপ্তর ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সিতে (ডিওজিই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বসিয়েছেন। এ দপ্তরকে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসা শুরুর ২৫ বছরে সেরা ধনী
প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ইলন মাস্ক। তাঁর ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব বিস্মিত করার মতো। স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন ইলন মাস্ক। এখন বিল গেটস, স্টিভ জবসসহ অন্যদের সঙ্গে তাঁর তুলনা করা হয়। ১৯৯৫ সালে তিনি ব্যবসা শুরু করেন। ২৫ বছরের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের হয়ে ওঠেন তিনি। ২০২০ সাল থেকেই তিনি শীর্ষ পাঁচ ধনীর মধ্যে আছেন। তাঁর বর্তমান সম্পদমূল্য ৩৯৪ দশমিক ২ বিলিয়ন বা ৩৯ হাজার ৪২০ কোটি ডলার। সেই সঙ্গে নিজের খেয়ালি আচরণের জন্যও তিনি বিখ্যাত।
টেসলাসহ ইলন মাস্ক মোট সাতটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন। টেসলার ১২ শতাংশ শেয়ারের মালিক তিনি। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক কোম্পানি এক্সএআইয়ের ৫৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক তিনি।
১৯৯৫ সালে ইলন মাস্ক ও তাঁর ছোট ভাই কিম্বল মাস্ক জিপ ২ নামে একটি কোম্পানি শুরু করেন। জিপ ২ সংবাদপত্রের কাছে লাইসেন্সযুক্ত সফটওয়্যার সরবরাহ করত। ১৯৯৯ সালে কমপ্যাক কম্পিউটার করপোরেশনের কাছে ৩০০ মিলিয়ন বা ৩০ কোটি ডলারে জিপ ২ বিক্রি করে দেন মাস্ক। এ ঘটনা মাস্কের জন্য নতুন সম্ভাবনা খুলে দেয় এবং তিনি এক্স. কম শুরু করেন।
হ্যারিস ফ্রিকার, এড হো ও ক্রিস্টোফার পেইনের সঙ্গে ইলন মাস্ক এক্স. কম প্রতিষ্ঠা করেন। এটা ছিল অনলাইন ব্যাংক। পরবর্তী সময়ে তা কনফিনিটি ইনকরপোরেটেডের সঙ্গে একীভূত হয়। এক্স. কম ও কনফিনিটি ইনকরপোটেডে এক হয়ে পেপালের জন্ম হয়। পেপাল অনলাইন পেমেন্টের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি। কিন্তু কনফিনিটির সহপ্রতিষ্ঠাতা পিটার থিয়েলসহ মাস্ক ও অংশীদারেরা ২০০২ সালে ই-বেতে বিক্রি করে দেন। পেপালকে একপর্যায়ে ১৯৯৯ সালের ‘সবচেয়ে বাজে ব্যবসায়িক আইডিয়া’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। ২০০০ সালে হানিমুনে থাকাকালীন মাস্ককে সিইও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
পেপাল থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর ইলন মাস্ক ভবিষ্যতের বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে দৃষ্টি দেন। ২০০৩ সালে তিনি কোম্পানিটি চালু করেন। টেসলা মোটরসের মূল লক্ষ্য ছিল অটোমোটিভ শিল্পকে জ্বালানি ব্যবহার থেকে বের করে বিদ্যুৎনির্ভর করে তোলা। ২০০৮ সাল থেকে ইলন মাস্ক টেসলার সিইও। টেসলার মডেল-৩ বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় বৈদ্যুতিক গাড়ি। বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ এই মডেলের গাড়ি বিক্রি হয়েছে।
ইলন মাস্কের আরেকটি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। প্রতিষ্ঠানটি মূলত পুনরায় ব্যবহারযোগ্য রকেটের জন্য পরিচিত হয়ে উঠেছে। এই প্রতিষ্ঠানের রকেট ডিজাইনের জন্য মার্কিন বিমানবাহিনী ও নাসার সঙ্গে বড় চুক্তি হয়। ২০২৫ সালের মধ্যে মাস্ক নাসার সহায়তায় মহাকাশে নভোচারী পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন। গত ২০ বছরে স্পেসএক্স রকেট উৎক্ষেপণের ব্যর্থতা ও স্টারশিপ বিস্ফোরণের ঘটনা মোকাবিলা করেছে। স্পেসএক্সের নাম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।
২০০৬ সালে চাচাতো ভাইদের সঙ্গে মিলে মাস্ক সৌরশক্তিভিত্তিক কোম্পানি সোলারসিটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠানে মাস্ক প্রধান অর্থদাতা। গত দশকে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আবাসিক সোলার কোম্পানি হয়ে ওঠে এটি। মাস্ক টেসলার মাধ্যমে ২০১৬ সালে সোলারসিটিকে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বা ২৬০ কোটি স্টকের বিনিময়ে কিনে নেন।
২০২২ সালে ৪৪ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে টুইটার কেনার উদ্যোগ নেন ইলন মাস্ক। পরে দীর্ঘ ছয় মাস নানা নাটকীয়তার শেষে টুইটারের নিয়ন্ত্রণ নেন ইলন মাস্ক। এ ছাড়া মাস্ক ২০১৫ সালে অলাভজনক কোম্পানি ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৬ সালে তিনি নিউরালিংক ও বোরিং কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।
ইলন মাস্ক সামগ্রিকভাবে একজন সফল ব্যবসায়ী। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। উদ্যোক্তাদের জন্য তাঁর পরামর্শ, সফলতার শর্টকাট রাস্তা নেই। সফল হতে পরিশ্রম করতে হবে ও নিজের লক্ষ্য অটুট থাকতে হবে।
কোথায় কোথায় বিনিয়োগ
ইলন মাস্ক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করেছেন, তার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, চীন, কানাডা, জার্মানি ও ফ্রান্স। টেসলা, স্পেসএক্স, নিউরালিঙ্ক ও বোরিংয়ের মতো তাঁর প্রধান কোম্পানিগুলোর মূল কার্যালয় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত। এ ছাড়া তিনি ব্যক্তিগতভাবেও যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছেন। টেসলার একটি বিশাল কারখানা আছে চীনে, যা কোম্পানিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারখানা। চীনের বাজারে টেসলার চাহিদা ব্যাপক, তাই মাস্ক এই বাজারে আরও বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছেন। এ ছাড়া জার্মানির গ্রুয়েনহাইডে টেসলার একটি নতুন ‘গিগাফ্যাক্টরি’ রয়েছে, যেখানে বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করা হয়। মাস্ক জার্মানির বাজারেও বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছেন। পিতৃভূমি কানাডায় তিনি বিনিয়োগ করেছেন। মাস্ক ফ্রান্সের কিছু প্রযুক্তি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন বলে জানা যায়। তবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য খুব বেশি পাওয়া যায়নি।
অগ্রগামী চিন্তক: বৈদ্যুতিক গাড়ির স্বপ্ন দেখান
প্রায় আড়াই দশক আগেই ইলন মাস্ক ইন্টারনেটের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা করতে পেরেছিলেন। ১৯৯৮ সালে সিবিএস সানডে মর্নিং অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাস্ককে ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। তাঁর উত্তর ছিল এমন: এটি হবে বিপ্লবী মাধ্যম; একসময় সব প্রচলিত মাধ্যমই ইন্টারনেটে ঢুকে যাবে। তিনি আরও বলেছিলেন, ইন্টারনেট সব মাধ্যমের যোগফল। এটি হবে যোগাযোগমাধ্যমের সর্বশেষ রূপ। মুদ্রিত, সম্প্রচার ও রেডিও—সবই ইন্টারনেটে মিশে যাবে। এটি প্রথম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন দ্বিমুখী যোগাযোগমাধ্যম, যেখানে ব্যবহারকারীরা নিজের ইচ্ছেমতো কনটেন্ট নির্বাচন করতে পারবেন।
তখন মাস্কের কথা অনেকের কাছে প্রলাপের মতো মনে হলেও শেষমেশ তা-ই সত্য হয়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত স্টার লিংক এখন সারা বিশ্বে উচ্চগতির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা দেয়। সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ইলন মাস্কের ফোনালাপ হয়েছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার দিকে তাঁদের মধ্যে ফোনে কথা হয়। এই ভার্চ্যুয়াল আলোচনায় ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র অন্বেষণ এবং বাংলাদেশে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশ নিয়ে স্টারলিংক আগ্রহ দেখিয়েছেন।
মাস্কের অগ্রগামী চিন্তার আরেকটি দিক হলো বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবসা। ২০০৩ সালেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ভবিষ্যৎ যুগ হবে বৈদ্যুতিক গাড়ির যুগ। সে কারণে টেসলা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। তাঁর টেসলা এখন বৈদ্যুতিক গাড়ি জনপ্রিয় করার পথ দেখাচ্ছে।
অনেক বিশ্লেষকেই মনে করছেন, ট্রাম্পের হাত ধরে যে নতুন জমানা আসছে, ইলন মাস্ক হতে পারেন তার ভবিষ্যৎ কান্ডারি। তাঁর সঙ্গে আছেন বিবেক রামাস্বামীর মতো তরুণ ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী। এই মানুষেরা চিন্তায় আগের যুগের ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকানদের মতো নয়। তাঁরা হবেন নতুন ধারার পথিকৃৎ।
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্র
ইলন মাস্ক ১৯৭১ সালের ২৮ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিন ভাই–বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাঁর বাবা ছিলেন প্রকৌশলী, তাঁর মা মডেল ও পুষ্টিবিদ। তাঁর ভাই কিম্বল মাস্ক পরিবেশবাদী ও ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট এবং বোন টোসকা মাস্ক পুরস্কার বিজয়ী পরিচালক ও প্রযোজক।
ইলন মাস্ক স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় এক বছর আগে স্কুলজীবন শুরু করেন। তাঁর স্কুলজীবন শুরু হয় ওয়াটারক্লুফ হাউস প্রিপারেটরিতে। সেখান থেকে পরে প্রিটোরিয়া বয়েজ হাইস্কুলে যান। ইলন মাস্কের বয়স যখন ১০ বছর, তখন তার মা-বাবার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। অনেক মেধাবী হলেও স্কুলে তাঁকে বেশ কঠিন সময় পার করতে হয়েছিল। আফ্রিকান সংস্কৃতির খুব কম বন্ধু আছে। বড় হয়েও তিনি অনেক প্রতিকূলতার মুখে পড়েন। তবে তিনি মনে করতেন, জীবনে বড় হতে হলে প্রতিকূলতা আসবেই।
হাইস্কুল জীবন শেষে ইলন মাস্ক পদার্থবিজ্ঞান ও অর্থনীতিতে আগ্রহী হন। তিনি কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে দুই বছর পড়াশোনা করেন। এই দুই বছর পর পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। সেখানে তিনি দুটি মেজর বিষয়ে ডিগ্রি নেন। ইলন মাস্ক পেনসিলভানিয়ার ওয়ার্টন স্কুল থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি অর্থনীতিতে ব্যাচেলর অব আর্টস ডিগ্রি অর্জন করেন। এই দুটি ডিগ্রি ইলনের ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
সায়েন্স ফিকশন সিনেমায় আগ্রহ বেশি
ইলন মাস্ক তিনবার বিয়ে করেছেন; এ ছাড়া বিভিন্ন সময় আরও কয়েকজন নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তাঁর মোট সন্তান ১২টি। তাঁর প্রথম স্ত্রী ছিলেন লেখক জাস্টিন উইলসন। প্রথম স্ত্রীর ঘরে পাঁচ সন্তান আছে। তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয় ২০০৮ সালে। এরপর তিনি দুবার অভিনেত্রী তালুলাহ রাইলিকে বিয়ে করেন এবং তাঁদের দুবারই বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বর্তমানে তিনি কারও সঙ্গে সংসার করছেন না। তাঁর তৃতীয় স্ত্রী কানাডীয় সংগীতশিল্পী গ্রাইমসের ঘরের সন্তানের নাম এক্স, যাকে এখন ইলন মাস্কের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যায়। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের সময়ে এক্স উপস্থিত ছিলেন। যা সারা বিশ্বে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
তবে ইলন মাস্কের বিলাস-ব্যসন নিয়ে তেমন কিছু জানা যায় না। তবে রক সংগীতের প্রতি ইলন মাস্কের দুর্বলতা আছে। মাঝেমধ্যেই টুইটারে তাঁকে পছন্দের গানের কিছু অংশ পোস্ট করতে দেখা যায়। চলচ্চিত্র দেখতেও ভালোবাসেন টেসলার এই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। সায়েন্স ফিকশন ঘরানার চলচ্চিত্র তাঁর পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। বইও পড়েন তিনি। ইলন মাস্কের প্রিয় লেখকের তালিকা বেশ দীর্ঘ। এর মধ্যে জে আর আর টলকিন, ডগলাস অ্যাডামস, নিল গেইম্যানের মতো বিখ্যাত লেখকেরা রয়েছেন।
কাজপাগল মানুষ হিসেবে ইলন মাস্কের বেশ পরিচিতি আছে। টেসলার পাশাপাশি স্পেসএক্সসহ নিজের অন্য সংস্থাগুলোতেও তিনি সমান সময় দেন। ঘুমানোর জন্য খুব কম সময় পান বলে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি। মহাকাশ ভ্রমণ, বই পড়া, চলচ্চিত্র দেখা, গান শোনা ও প্রযুক্তিবিষয়ক নতুন কিছু করার চেষ্টাই হলো ইলন মাস্কের প্রধান শখ। নতুন কিছু তৈরি করার ক্ষেত্রে তিনি সব সময় বেশ আগ্রহী।
ইলন মাস্ক বিভিন্ন সময় ভালো লাগা ও মন্দ লাগার কথা জানিয়েছেন। তাঁর অনেক বিষয় পছন্দ হলেও অপছন্দ করেন এমন জিনিসের তালিকাও বেশ দীর্ঘ। তাঁর অপছন্দগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মিথ্যা কথা বলা ও অতিরিক্ত সমালোচনা করা। কোনো কাজ ফেলে রাখাকেও তিনি অপছন্দ করেন।
সূত্র: ফোর্বস, টাইম ম্যাগাজিন, দ্য ইকোনমিস্ট
![]() |
| ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইলন। মাস্ক রয়টার্স ফাইল ছবি |
Tuesday, February 11, 2025
যুক্তরাষ্ট্র-চীন নতুন বাণিজ্য যুদ্ধ
উল্লেখ্য, ২০শে জানুয়ারি ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কানাডা, মেক্সিকো এবং চীনের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপ করেন। প্রথম দু’টি দেশের বিরুদ্ধে শতকরা ২৫ ভাগ এবং চীনের ক্ষেত্রে তা শতকরা ১০ ভাগ। কিন্তু মেক্সিকো এবং কানাডা থেকে তীব্র প্রতিবাদ এবং সমঝোতার পর এ দু’টি দেশের শুল্ক আপাতত স্থগিত রেখেছেন ট্রাম্প। কিন্তু চীনের ওপর শুল্ক বহাল আছে। কানাডা ও মেক্সিকোর বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের ঘোষণা এবং পরে তা স্থগিত করার পর এবার যুক্তরাষ্ট্রে সব রকম স্টিল এবং অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে শতকরা ২৫ ভাগ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এখানে উল্লেখ্য, প্রথম দফায় ক্ষমতার সময়ে একই রকম পদক্ষেপ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি সে সময়ও স্টিল আমদানিকে শতকরা ২৫ ভাগ এবং অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে শতকরা ১০ ভাগ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। কিন্তু পরে কানাডা, মেক্সিকো এবং ব্রাজিলের মতো বেশ কিছু বাণিজ্যিক অংশীদারদেরকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেন। তিনি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বিরুদ্ধেও শুল্ক আরোপ করেছিলেন। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত এর সমাধান মেলেনি। তবে এবার ট্রাম্পের শুল্ক মুক্তির সুবিধা কোনো দেশ পাবে কিনা, তা রোববার পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেয়া তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে। তবে আমদানি করা গাড়িতে শুল্কের বিষয়টি এখনো তার টেবিলে আছে। ট্রাম্প বার বার অভিযোগ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি শুল্ক আরোপ করে। গত সপ্তাহে তিনি বলেছেন, ইউরোপিয়ান পণ্যের ওপর সহসাই শুল্ক আরোপ করা হবে।
ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সর্বশেষ ঘোষণা কার্যকর হওয়ার পর বেইজিং অভিযোগ করেছে। তারা বলেছে, সিনথেটিক অপিয়ড ফেন্টালাইন বাণিজ্য নিয়ে ওয়াশিংটন ভুয়া এবং মিথ্যা অভিযোগ করছে। এ বিষয়ে তারা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় অভিযোগ দিয়েছে। তাতে চীন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র আমদানিতে যে শুল্ক আরোপ করেছে তা বৈষম্যমূলক এবং সংরক্ষণবাদ। এর মধ্যদিয়ে তারা বাণিজ্যিক নিয়ম ভঙ্গ করছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা চীনকে সতর্ক করছেন। তারা বলছেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যে প্যানেল আছে তারা সমস্যার সমাধান দিতে সক্ষম হবেন না। ফলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা থেকে চীনের পক্ষে রায় পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই। এমন অবস্থায় কয়েকদিনের মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কথা বলার কথা ডনাল্ড ট্রাম্পের। তবে ট্রাম্প বলেছেন, এই আলোচনার জন্য তিনি তাড়াহুড়ো করবেন না। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের চায়না ব্যবসা ও অর্থনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ স্কট কেনেডি বলেন, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের চেয়ে চীন অনেক বেশি প্রস্তুত। যদিও তাদের অর্থনীতি পর্যায়ক্রমিকভাবে নিম্নমুখী হয়েছে একটু। কিন্তু তাদের প্রযুক্তি সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তারা ব্যবসাকে বহুমুখী করেছে। বিনিয়োগ করেছে অনেক জায়গায়।

Thursday, January 9, 2025
সস্তায় গরুর মাংস রপ্তানি করতে চেয়েছিল ব্রাজিল, না আসার কারণ জানালেন রাষ্ট্রদূত
আজ বুধবার রাজধানীর বারিধারায় অবস্থিত একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত। আগামী ১৫ থেকে ১৮ জুন ব্রাজিলের সাও পাওলো শহরে অনুষ্ঠিতব্য ‘মেড ইন বাংলাদেশ এক্সপো ২০২৫’ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ব্রাজিল বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিবিসিসিআই)।
বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশে গরুর মাংস রপ্তানিতে আগ্রহ দেখিয়ে আসছিল ব্রাজিল। সর্বশেষ গত এপ্রিলে লাতিন আমেরিকার দেশটি প্রতি কেজি গরুর মাংস সাড়ে চার মার্কিন ডলারে (তখনকার বিনিময় হারে ৪৯৫ টাকা) বাংলাদেশে রপ্তানি করতে প্রস্তাব দিয়েছিল। ওই মাসে ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা দুই দিনের সফরে ঢাকায় এলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়েছিল কূটনীতিক সূত্রগুলো।
ব্রাজিল যখন বাংলাদেশে গরুর মাংস রপ্তানির প্রস্তাব দেয়, তখন ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস কমবেশি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। রাজধানীর বাজারে এখন গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস জানান, ব্রাজিল বিশ্বের সব চেয়ে বড় গরু ও পোলট্রি মাংস উৎপাদনকারী দেশ। বিশ্বের অনেক মুসলিমপ্রধান দেশেই ব্রাজিল থেকে গরুর মাংস আমদানির অনুমতি রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এই অনুমতি নেই। ওই অনুমতি পাওয়ার জন্যই ব্রাজিল চেষ্টা করছিল বলে রাষ্ট্রদূত জানান।
সনদ বা সার্টিফিকেশন পাওয়ার জন্য তিনি কীভাবে দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন, এ সম্পর্কেও কথা বলেন পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস। তিনি জানান, তিনি প্রথমে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলেন এ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য। সেখান থেকে তাঁকে বলা হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যেতে। এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যান ব্রাজিলের প্রতিনিধিরা।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘(তৎকালীন) মন্ত্রীর কাছে যাওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বাংলায় লেখা কাগজপত্র দেখিয়ে নানা ধরনের নীতিমালার কথা জানান। তবে আমি এত নীতিমালা বুঝিনি। এককথায় যেটা বুঝেছি তা হলো, তাঁরা অনুমতি দেননি। তবে বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। আশা করছি শেষ পর্যন্ত অনুমতি পাওয়া যাবে।’
শুধু দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য নয়, ব্রাজিল বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ করতে চায় বলেও জানান পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস। কৃষি, ওষুধশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ নানা খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্রাজিল ও বাংলাদেশ পরস্পরের সঙ্গে কাজ করতে পারে বলে জানান তিনি।
ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত বলেন, কৃষি–বাণিজ্যে তাঁর দেশের অবস্থান অনেকটা পাওয়ার হাউস বা শক্তিকেন্দ্রের মতো। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ব্রাজিল থেকে অভিজ্ঞতা নিতে পারে। তিনি জানান, ব্রাজিলের মানুষেরা বছরে মাথাপিছু ১০০ কেজি গরুর মাংস খায়। বাংলাদেশে এ হার অনেক কম। ব্রাজিলে একটি গরুর থেকে দিনে গড়ে ৪৫ কেজি দুধ পাওয়া যায়; বাংলাদেশে পাওয়া যায় সাত-আট কেজির মতো।
পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস বলেন, ‘সুতরাং শুধু মাংস রপ্তানি নয়, প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমেও বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করতে পারে ব্রাজিল। তবে এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে।’
রাষ্ট্রদূত বলেন, ব্রাজিলে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার কর্মসূচি রয়েছে। এ জন্য ব্রাজিল সরকার প্রচুর পরিমাণে ওষুধ কিনে থাকে। বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো এ সুযোগ নিতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রেও সনদ বা সার্টিফিকেশনের জটিলতা রয়েছে।
বাংলাদেশি পণ্যের বড় প্রদর্শনী
সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল বাংলাদেশ চেম্বারের সহসভাপতি মো. সাইফুল আলম জানান, চলতি বছরের ১৫ থেকে ১৮ জুন ব্রাজিলের সাও পাওলোতে প্রথমবারের মতো ‘মেড ইন বাংলাদেশ প্রদর্শনী ২০২৫’ অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রদর্শনী দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশি আমদানিকারকদের পাশাপাশি রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন বাজারে প্রবেশ ও তাদের ব্যবসাকে সম্প্রসারিত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সাইফুল আলম আরও বলেন, ব্রাজিলের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রতিযোগিতামূলক নয়; বরং সহায়তামূলক। ব্রাজিল থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য, কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিলে রপ্তানি বছরে মাত্র ১০০ কোটি মার্কিন ডলার।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে ১০০-১৫০ জন ব্যবসায়ী প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশি আমদানিকারকদের জন্য ব্রাজিলে ব্যবসায়িক সংযোগ গড়ে তোলার পাশাপাশি সয়াবিন, চিনি এবং শিল্পের যন্ত্রপাতির মতো উচ্চমানের পণ্য খোঁজার সুযোগ সৃষ্টি হবে এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে।
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিবিসিসিআই মহাসচিব মো. জয়নাল আবেদীন।
![]() |
| সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ঢাকায় ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস। ছবি: সংগৃহীত |
Tuesday, December 10, 2024
জিম্মি করে বাড়ানো হলো ভোজ্য তেলের দাম
তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম হবে ১৭৫ টাকা, খোলা সয়াবিন বিক্রি হবে ১৫৭ টাকা দরে। আগে বোতলজাত এই তেলের দাম ১৬৭ টাকা এবং খোলা তেল ১৪৯ টাকা ছিল। মোস্তফা হায়দার বলেন, এক্স বন্ড, ইন বন্ড ভ্যালু এবং গত এক মাসে যে এলসি খোলা হয়েছে, তার ভ্যালু- এই তিনটা ভেল্যু যোগ ও গড় করে একটা দাম ঠিক করতে হয়। এর সঙ্গে বিভিন্ন প্রক্রিয়াকরণ খরচ, বোতলজাতকরণ খরচ যোগ করতে হয়। ২০১১ সাল থেকে এই পদ্ধতি চর্চা হয়ে আসছে। এখন থেকে প্রতি মাসে সরকারের সঙ্গে বসে তেলের দাম ঠিক করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে এখন ভোজ্য তেলের দাম প্রতি টন ১২০০ ডলারের কাছাকাছি চলে গিয়েছে।
এদিকে বৈঠক শেষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, খাতসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং তথ্য বিশ্লেষণ করে বাস্তবভিত্তিকভাবে বোতলজাত সয়াবিনের একটি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করছি, এর মাধ্যমে অনুমাণের ওপর ভিত্তি করে মজুতদারি আজ থেকে বন্ধ হবে।
তেলের দাম বাড়ানোর জন্য কোম্পানিগুলো এতদিন সরবরাহে ঘাটতি তৈরি করেছিল কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমাকে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় ডিলাররা আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য সম্পর্কে সার্বিকভাবে অবহিত থাকেন। তাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল, এই দামটা সমন্বয় হতে পারে। এ কারণে হয়তো অনেকে সরবরাহে বিলম্ব ঘটিয়েছেন, তাতে বোতলজাত সয়াবিনের কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, তেলের সরবরাহ-সংকট নিয়ে প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সবাই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানের জন্য অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এজন্য আমরা ট্যারিফ কমিশনের সহায়তায় জিনিসটাকে বিন্যাস করে দেখেছি।
বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, দেশের বাজারে সর্বশেষ বোতলজাত সয়াবিনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল গত এপ্রিল মাসে। তখন প্রতি লিটারে দাম বাড়িয়ে ১৬৭ টাকা করা হয়। এপ্রিল মাসের পরে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম ২০ শতাংশ বেড়েছে। এ কারণে সবার মধ্যে একধরনের শঙ্কা কাজ করছিল যে বাজারে তেলের দামে পরিবর্তন আসবে। দেশে সয়াবিন তেলের বিদ্যমান যে মজুত আছে, সেটাকে সন্তোষজনক উল্লেখ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছি মজুতে কোনো ঘাটতি নেই।
এদিকে ভোজ্য তেলের সংকটের কথা বলা হলেও দাম বাড়ার খবরে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা মিলছে পণ্যটির। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে এই তথ্য পাওয়া গেছে। এতে পূর্বে কম দামে কেনা তেল বেশি দামে বিক্রি করে ভোক্তাদের পকেট থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা উঠিয়ে নিবে ব্যবসায়ীরা। গতকাল সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ের বিএনপি বাজারের এক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমরা বোতলজাত সয়াবিন তেল পাচ্ছিলাম না। সোমবার থেকে এই তেলের আর কোনো সংকট নেই।

Sunday, November 24, 2024
কিছু মানুষের ব্রেইন সিটিস্ক্যান করে দেখার ইচ্ছা, কীভাবে এত ক্রিমিনাল হতে পারে?
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলে শিল্পকারখানায় গ্যাস–সংযোগের জন্য রাস্তা কাটার অনুমতি পেতে তাকে ২০ কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয়েছিল। এই ঘুষের টাকা পৌঁছে দিতেও এক ব্যক্তিকে ঘুষ দিতে হয়েছিল তাকে।
শনিবার (২৩ নভেম্বর) ‘দেশের শিল্প খাতে জ্বালানি–সংকট সমাধানের পথ’ শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। সেখানে শিল্প কারখানায় বিনিয়োগের পর গ্যাস পেতে নিজের টাকায় ৪০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন প্রসঙ্গে এমন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।
ঘুষ দেওয়ার সে অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সেখ বশির উদ্দিন বলেন, গ্যাসের জন্য জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর বাসার সামনে আমাকে বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। তার কাছ থেকে অনেক লেকচার শুনতে হয়েছে। মিনিমাম ইজ্জত পর্যন্ত পাইনি। তারপরও জ্বি স্যার, জ্বি স্যার বলতে হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী সরকারের আমলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে দেশ নৈরাজ্যের চরম সীমায় পৌঁছেছিল। সে সময় ব্যবসায়ীদের কোনো মর্যাদা না থাকলেও পরিস্থিতি এখন বদলেছে।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অতীতের মতো এখন আর কাউকে চাঁদা কিংবা ঘুষ দিতে হবে না। এখন সুযোগ এসেছে, এ সুযোগ ব্যবহার করুন। সৎ উদ্যোক্তাদের দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে অবদান রাখার বিরাট সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পরে কিছু আর্থিক অপরাধী সম্পর্কে জানতে পারছি। এসব জেনে কিছু কিছু মানুষের সিটিস্ক্যান করে তাদের ব্রেইন দেখার ইচ্ছা হচ্ছে আমার। মানুষ কীভাবে এত ক্রিমিনাল হতে পারে?
ফাওজুল কবির বলেন, ভোলায় ৭০ এমএমসিএফ গ্যাস পাওয়া গেলেও পাইপলাইন না থাকায় ওই গ্যাস ঢাকায় বা শিল্প এলাকায় আনা যাচ্ছে না। ভোলার গ্যাস ঢাকায় আনার জন্য আমরা ডিসেম্বরেই ওপেন টেন্ডার দিচ্ছি। আগ্রহী ব্যবসায়ীরা দরপত্রে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এলএনজি বা সিএনজি ফরম্যাটে এই গ্যাস ঢাকায় আনতে পারবেন। ভোলার গ্যাস ঢাকায় আনা গেলে শিল্পে গ্যাসের সংকট কিছুটা হলেও কমবে।

Tuesday, October 22, 2024
এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ১০ দেশ
সোমবার (২১ অক্টোবর) বেবিচক জানায়, সম্মেলনে বেবিচক চেয়ারম্যান যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ফ্রান্স এবং জাপানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এসব দেশগুলো বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এ ছাড়া তারা বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সহায়তা, সেবা সহজীকরণে এভিয়েশন সেক্টরে নতুন প্রযুক্তির সন্নিবেশ করতে সহায়তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এসব সহায়তা দেশের এভিয়েশন সেক্টরকে আরও আধুনিক, নিরাপদ এবং আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
১৪ অক্টোবর ফিলিপাইনের সেবুতে শুরু হওয়া ওই সম্মেলন গত ১৮ অক্টোবর শেষ হয়। সম্মেলনে এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শেপিং দ্য ফিউচার অব এভিয়েশন : সাস্টেইনেবল, রেজিলেন্ট অ্যান্ড ইনক্লুসিভ।’ এতে বাংলাদেশ ছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ ৩৯টি দেশের সিভিল এভিয়েশন চেয়ারম্যান, মহাপরিচালক ও তাদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এ ছাড়াও ১১টি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিও ছিলেন ওই সম্মেলনে। সম্মেলনে বেবিচক চেয়ারম্যান আইকাও কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট সালভাতোর সাকিতানো এবং মহাসচিব জুয়ান কার্লোস সালাজারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় তারা তারা বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টরের উন্নয়নের প্রশংসা করেন বলে বেবিচকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

Thursday, September 19, 2024
উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে হাজার কোটি ডলার সহায়তার আশ্বাস
বিভিন্ন দেশ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠকের ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাথিউ এ ভারগিসের নেতৃত্বে একটি দল সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন।
প্রায় ১০০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা চেয়ে বিশ্বব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ২ কিস্তিতে ৫০ কোটি ডলার করে এ অর্থ চেয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এ ছাড়া আর্থিক খাত সংস্কারে বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা দিতে পারে বিশ্বব্যাংক। এই ঋণ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের পর্ষদে অনুমোদিত হওয়ার কথা।
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংস্কার কার্যক্রমের জন্য সহায়তা দরকার। তাৎক্ষণিক বাজেট সহায়তাও প্রয়োজন। সেই সঙ্গে দরকার কারিগরি সহায়তা। তারল্য সহায়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আলোচনা ‘মোটামুটি’ ইতিবাচক হয়েছে। তারা উন্মুক্ত মন নিয়েই আলোচনা করতে এসেছিলেন, আরও আলোচনা হবে। তবে আলোচনার মূল নজর ছিল সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন নিয়ে। তিনি বলেন, এ বছর আমরা বাজেট সহায়তা প্রত্যাশা করছি। সালেহউদ্দিন আহমেদ সচিবালয়ে আইএসডিবি’র রিজিওনাল হাব ম্যানেজার নাসিস সোলাইমানের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, আগামী তিন বছরে একটা প্যাকেজের আওতায় বাংলাদেশকে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলার ঋণ দেবে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি)। বিভিন্ন খাতের জন্য এ অর্থ দেবে তারা। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটসহ ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে এ ঋণ দেয়া হবে। প্রান্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণেও ঋণের অর্থ ব্যয় করা যাবে। এ ছাড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ঋণ দেবে তারা। এদিকে গত রোববার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা এডিবি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিংয়ের নেতৃত্বাধীন একটি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বরের মধ্যে বাজেট সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশকে ৪০ কোটি ডলার ঋণ দেবে এডিবি। সংস্থাটি ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি খাতে সংস্কারের জন্য দেবে ৫০ কোটি ডলার। এটা পাওয়া যাবে ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে। এর বাইরে জ্বালানি খাতের উন্নয়নেও এডিবি’র কাছে ১০০ কোটি ডলার চেয়েছে বাংলাদেশ।
সংস্থাটি চলমান প্রকল্পগুলোও অব্যাহত রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশকে ২০ কোটি ডলারের বেশি উন্নয়ন সহায়তা দিচ্ছে। রোববার সে দেশের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) সঙ্গে একটি চুক্তি সই হয়েছে। স্বাস্থ্য, সুশাসন, মানবিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি এবং মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ অর্থ কাজে লাগানো হবে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এক চুক্তির আলোকে এ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
এদিকে আইএমএফের কাছ থেকে বাড়তি ৩০০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী সরকার। আইএমএফের আবাসিক প্রতিনিধি জয়েন্দু দে’র সঙ্গে অনলাইনে বৈঠকের পর অর্থ উপদেষ্টা ১লা সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের জানান, বাড়তি সহায়তা অনুমোদনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমানে ৪৭০ কোটি ডলারের একটি ঋণ কর্মসূচি চলমান। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠেয় আইএমএফের বার্ষিক সাধারণ সভায় এ বিষয়ে বিশদ আলোচনা হবে।
যুক্তরাজ্য, ভারত, চীন ও জাপানের কাছ থেকে বাড়তি বৈদেশিক সাহায্যের আশ্বাস না মিললেও অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করে দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা বলে গেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে তারা আগ্রহী এবং তাদের দেশের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলো অব্যাহত থাকবে।
এদিকে বুধবার ঢাকার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছেন, দাতাগোষ্ঠী হাত খুলে টাকা দিতে চাচ্ছে। ইউএসএডি বলছে, তোমরা প্রকল্প তৈরি করো; আমরা টাকা দেবো। যেসব প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল কিন্তু টাকা নেয়া হয়নি এসব টাকা বাজেট সহায়তায় দিতে চায় বিশ্বব্যাংক।

Monday, September 16, 2024
শাহজালালে কার্গো ব্যয় বেশি, প্রতিবেশী দেশে ঝুঁকছেন ব্যবসায়ীরা by এম এম মাসুদ
দেশি ও বিদেশি ব্যবসায়ীদের অভিযোগে ২০২১ সালে বিমানবন্দরের কার্গো এভিয়েশন পরিদর্শন করার সময় এসব অনিয়ম দেখেছেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান। এ সময় তিনি এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কড়া সমালোচনা করেন এবং এক্সপ্লসিভ ডিডেক্টিভের (ইডিএস) স্ক্যানিং মেশিনের মেরামতের তাগিদ দেন।
গত মার্চ মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের ৮ হাজার টন পণ্য ভারতের বিমানবন্দর হয়ে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে এ ধরনের কার্গো ভারতে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে চললে কার্গো বাজার দিল্লির হাতে চলে যেতে পারে। বর্তমানে ৪০০ টন রপ্তানিযোগ্য পণ্য সংরক্ষণের সক্ষমতা থাকলেও সাধারণ সময়ে দৈনিক শিপমেন্ট গড়ে ৮০০ টন এবং ব্যস্ত সময়ে ১ হাজার ২০০ টনে পৌঁছে যায়। এতে ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পণ্য পাঠানোতেও হয়রানি পোহাতে হয়। কর্তৃপক্ষের অদক্ষতা, দুর্নীতি-লুটপাট দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির গ্রেড উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল ছাড়াই কার্গো শাখার কাজ পরিচালনা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। অনিয়মের কারণে এয়ার কার্গো সিকিউরিটি এসিসি-৩ ও আরএ-৩ সনদ বন্ধ করে দেয়ারও নজির আছে।
রপ্তানিকারকরা বলছেন, ঢাকা বিমানবন্দরে বিলম্ব এবং অত্যধিক হ্যান্ডলিং ব্যয়ের কারণে দেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতাকে হ্রাস করছে এবং প্রতিবেশী ভারতকে উপকৃত করছে। উচ্চমূল্যের বাইরেও ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা অভিযোগ করেছেন, ঢাকা বিমানবন্দরের চারটি কার্গো স্ক্যানারের মধ্যে মাত্র দুটি সচল থাকে। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো হ্যান্ডলিং আরও বেশি মসৃণ করা এবং সেজন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন তারা। এসব বিষয় যদি সমাধান করা যায়, তাহলে প্রতিবেশী দেশ হয়ে কার্গো পাঠানোর প্রয়োজন হবে না বলে মনে করেন তারা।
এ ব্যাপারে বাফার সহ-সভাপতি নুরুল আমিন বলেন, গুদামে জায়গার অভাব ও মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্রপাতির কারণে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। ঢাকা বিমানবন্দরে ইডিএস ত্রুটির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তিনি বলেন, কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ঢাকা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ব্যয়বহুল বিমানবন্দর। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১০০ টনের কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করতে ২০ থেকে ২৫ হাজার ডলার খরচ হয়। অথচ ভারতের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে মাত্র ১২০০ থেকে ২ হাজার ডলার খরচ হয়। দামের এই পার্থক্য এবং অপর্যাপ্ত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কারণে দেশের প্রধান বিমানবন্দরটি রপ্তানিকারক এবং এয়ারলাইন্সগুলোর কাছে বিরক্তির কারণ হয়ে উঠেছে। জরুরি সংস্কার ছাড়া রপ্তানি আয় হারাতে থাকবে দেশ।
এয়ার কার্গো সহজলভ্য করার দাবি এফবিসিসিআইয়ের: জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব তুলে ধরে এফবিসিসিআইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রপ্তানি বাড়াতে বিমান ভাড়া, কার্গো প্রাপ্তি, কাস্টমসসহ সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। পাশাপাশি উপযুক্ত পলিসি এবং নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বিমানবন্দরে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন স্ক্যানার (ইডিএস) মেশিনসহ কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বিমানের ভাড়া বা ফ্রেইট কস্ট যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা উচিত বলে উল্লেখ করা হয়।
বিজিএমইএ’র পরিচালক ও টিএডি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশিকুর রহমান তুহিন বলেন, মাঝে মাঝে পোশাক ক্রেতারা কম লিড টাইম দিয়ে অর্ডার দেয়। তখন লিড টাইম ধরার জন্য বাড়তি খরচ করে এসব পণ্য এয়ারফ্রেইটের মাধ্যমে রপ্তানি করতে হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় ইইউ রুটের জন্য এয়ারফ্রেইটের হার কেজিতে ২.৪ ডলার থেকে বেড়ে ৫-৫.৫ ডলার হয়েছে।
স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, দিল্লি বিমানবন্দর বর্তমানে এয়ার কার্গো ও যাত্রী, উভয় ধরনের ফ্লাইটের জন্য ঢাকা বিমানবন্দরের চেয়ে বেশি সাশ্রয়ী। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে নিউ জার্সি পর্যন্ত এয়ারফ্রেইটের খরচ দাঁড়ায় কেজিতে ৬ ডলার, যেখানে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে মাত্র ৪ ডলার। একইভাবে ঢাকা থেকে নিউ ইয়র্ক পর্যন্ত এয়ারফ্রেইটের খরচ কেজিতে ৮ ডলার, যেখানে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে এটি মাত্র ৫ ডলার। এ ছাড়া ঢাকা থেকে মাদ্রিদ বা লন্ডনে এয়ারফ্রেইট খরচ কেজিতে ৫.৫ ডলার, যা দিল্লি বিমানবন্দর থেকে মাত্র ৪ ডলার।

Friday, September 13, 2024
তরতাজা দেশ গড়তে ব্যবসায়ীদের সহায়তা চাইলেন ড. ইউনূস
শ্রমিক, শিল্প-মালিক এবং সরকারকে এক টিম হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমার একটা আশা, যতদিন থাকি, শ্রমিক-মালিক সম্পর্ককে একটা সুন্দর জায়গায় নিয়ে যাবো। শ্রমিক-মালিক, সরকার একসঙ্গে টিম হয়ে এটা করবে। ব্যবসা করা একটা সংগ্রাম, এ সংগ্রামটা আমরা সহজ করবো। তিনি বলেন, যতটুকু সময় আমরা সরকারে আছি, ততটুকু সময়েই টিম হিসেবে কাজ করবো। সবাই মিলে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবো। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান প্রথাগত আন্দোলন ছিল না। তারা এটা জেনেই রাস্তায় নেমেছিল যে, না-ও ফিরতে পারে বাড়িতে। প্রাণের বিনিময়ে তারা লক্ষ্য অর্জন করেছে। নতুন বাংলাদেশের জন্য তরুণদের লড়াইয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তারা এ সুযোগ না করে দিলে জাতিকে পচনের হাত থেকে রক্ষা করা যেত না। তাই আমাদের সুস্থ-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে এগিয়ে যেতে হবে।
ব্যবসায়ীদের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, চিন্তা করে দেখুন, কী এ সুযোগ। সবকিছু থেকে আপনি মুক্ত। আপনি নতুনভাবে জন্মগ্রহণ করেছেন, নতুনভাবে অগ্রসর হবেন। নতুন করে যে স্বপ্ন তারা আমাদের মনে জাগিয়ে দিয়েছে সেটা যদি আপনার মনে রেখাপাত করে তাহলে সে স্বপ্নপূরণে আপনিও শরিক হবেন। এ সুযোগ আর কখনো আসে কিনা জানি না। এ সুযোগ আমরা যেন হারিয়ে না ফেলি।
জেনেভা কনভেনশনে যোগদান প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটা বহুদিন পড়ে আছে, আমরা জেনেভা কনভেনশনে যোগ দিতে পারিনি। সবাই যখন একটা টিম হলাম; শ্রমিক-মালিক, সরকার সবাই যখন টিম হলাম ওটাও আমরা করে ফেলবো। তিনি বলেন, ওটা না করলে সামনে এগিয়ে যাওয়া কষ্টকর হবে। যেখানেই যাবেন এটা বাধা দেবে। পশ্চিমারা বলছে, তোমরা শ্রমিকদের যা শর্ত, প্রাপ্য এগুলোতে তোমরা সই করছো না। কাজেই যদি আমাদের এগিয়ে যেতে হয় পরিষ্কারভাবে হতে হবে। ড. ইউনূস বলেন, আমাদের সাহস দিন, এগিয়ে আসেন, আমরা সবাই মিলে আইএলও কনভেনশনে স্বাক্ষর করে ফেলি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা আর পচন নয়, সুস্থ-বল জাতি হিসেবে দাঁড়াতে চাই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনারা যদি মন ঠিক করেন, খুব দ্রুত নতুন বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলবো। চলেন একসঙ্গে কাজ করি আমরা। নতুন বাংলাদেশ গড়তে গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ দেয়া শত শত ছাত্র-জনতার কথা স্মরণ করিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজ যারা সামনে বসে আছেন তারা বিশ্বমানের উদ্যোক্তা। আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের জন্য আপনারা কী শপথ নেবেন?
ড. ইউনূস বলেন, যে স্বপ্নের পেছনে গিয়ে তুমি প্রাণ দিয়েছো, যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার, সে নতুন বাংলাদেশ গড়বোই। এ হবে আমাদের শপথ। এ সুযোগ জাতির জীবনে বারে বারে আসে না।
তৈরি পোশাক শিল্পকে বিশ্বের এক নম্বরে নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আজ যে দুই নম্বরে আছি কী করে আমরা এক নম্বর হবো, আমাদের মেয়াদকালে যদি আপনারা এক নম্বরে নিয়ে যেতে পারেন আমরাও স্মরণ করবো, একটা কিছু করেছি তো। সবকিছু আমরা জানি না, আমাদের অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু একযোগে কাজ করলে অভিজ্ঞতা এসে যাবে। সবাই মিলে কাজ করবো।
ইউরোপ-আমেরিকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা আজ ধরনা দিই ব্যবসায়ীদের কাছে, যারা ইউরোপে আছেন, আমেরিকায় আছেন তাদের কাছে আমাদের ফরিয়াদ কী করতে হবে, তারাও কৌতূহল নিয়ে দেখছেন আমাদের এখানে কী হচ্ছে। তাদের আমরা ডেকে আনতে পারি এখানে আসুন তোমরাও শরিক হও এর মধ্যে। আমাদের সুযোগ দাও একবার।
তিনি বলেন, আমরা নিম্নআয়ের দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশে গেলে সুযোগ-সুবিধা হারিয়ে ফেলবো। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতায় শক্ত প্রতিযোগী হওয়ার জন্য আমরা সামর্থ্য অর্জন করতে চাই। আমরা পেছনে থাকতে চাই না। সেজন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য একজন বিশেষ দূত নিয়োগ দিয়েছি, তিনি লুৎফে সিদ্দিকী।
আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের তার পক্ষে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর নাসির হোসেন। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে রপ্তানি খাত দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের অসৎ চর্চা এবং আর্থিক অনিয়মের কারণে দেশের অর্থনীতি আজ হুমকির মুখে পড়েছে। ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সেসব অসাধু ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোরালো আবেদন জানানো যাচ্ছে।
দেশের সিংহভাগ বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তারা যারা সৎভাবে ব্যবসা পরিচালনা করেন, তাদেরকে নিরাপদে ও আস্থার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য একটি ব্যবসা অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়ে আইসিসিবি এই মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে এক নম্বর অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানান।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময় থেকেই দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এই সুযোগে কিছু দুষ্কৃতকারী দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। যার একটি বড় প্রভাব পড়ছে রপ্তানিসহ সব শিল্পকারখানাগুলোর ওপর। শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন বহিরাগতদের উস্কানিতে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে। এমনকি শ্রমিক সংগঠনগুলোও এই কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় বলে বিবৃতি দিচ্ছে। এসব দুষ্কৃতকারীরা ব্যবসায়িক স্থাপনা, শিল্পকারখানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ চালাচ্ছে।
দুষ্কৃতকারীদের হামলার কারণে এপর্যন্ত প্রায় আনুমানিক ১০০টির অধিক কারখানায় ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং অবস্থা বেগতিক দেখে ২০০-এর অধিক কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে আনুমানিক ৫ হাজার কোটি টাকার অধিক ক্ষতি হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশের সীমিত উপস্থিতি, থানা পুলিশের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গরূপে চালু না হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অর্থনৈতিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা প্রত্যক্ষভাবে কর্মসংস্থান হ্রাস করবে। তাই অবিলম্বে সকল শিল্পাঞ্চলে যৌথবাহিনীর অধিকতর উপস্থিতি সর্বক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করার জন্য জোরালোভাবে আবেদন জানানো হয়।
আইসিসিবি বলেছে, তৈরি পোশাক, ওষুধ, খাদ্য ও কৃষি, আদা, চামড়া ও পাদুকা শিল্প, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, পাটজাতদ্রব্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ অন্যান্য অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে প্রায় ৭ কোটি জনবলের কর্মসংস্থান রয়েছে। অস্থিরতার কারণে শিল্পকারখানার চাকা চলমান রাখা না গেলে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য কর্মহীন হয়ে যেতে পারে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করবে। যেসব এলাকায় যৌথবাহিনীর উপস্থিতি দেখতে পাওয়া গেছে সেখানে সার্বিক পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি পরিলক্ষিত হয়েছে। এ পদক্ষেপ পুরো শিল্পাঞ্চলে প্রসারিত হলে অচিরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে বলে ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস।

Friday, August 9, 2024
ইতিহাসের সর্বোচ্চ উত্থান পুঁজিবাজারে
পরিবর্তন এসেছে লেনদেন, দর বৃদ্ধি এবং দর পতনের শীর্ষ তালিকাতেও। লেনদেন এবং দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় উঠে আসতে শুরু করেছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারানো ব্যাংকিং খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন স্বৈরাচারী সরকারের পতনে শেখ হাসিনার স্নেহভাজন মুক্ত হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি আর বাজার থেকে বিদায় হবে কারসাজিকারী দুষ্ট চক্র। ফলে পুঁজিবাজারে আবারো আশা খুঁজে পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।
প্রধান মূল্যসূচক ইতিহাস সৃষ্টির দিনে ডিএসইতে ১৩১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। সেইসঙ্গে লেনদেনেও বড় উত্থান হয়েছে। ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ২রা ফেব্রুয়ারির পর বাজারটিতে সর্বোচ্চ লেনদেন হলো।
লেনদেন শেষে ডিএসইতে ৩৫৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের স্থান হয়েছে দাম বাড়ার তালিকায়। দাম কমেছে ২৭টি প্রতিষ্ঠানের। সাতটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩০৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৯২৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ২০১৩ সালের ২৮শে জানুয়ারি চালু হয় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স। এরপর এ প্রথম সূচকটি একদিনে ৩০০ পয়েন্টের উপরে বাড়লো। এর আগে ২০১৩ সালের ২রা জুন সূচকটি ২৭৩ পয়েন্ট বেড়েছিল। বৃহস্পতিবারের আগে এটিই একদিনে সূচকটি সর্বোচ্চ বাড়ার রেকর্ড ছিল।
দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬০৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৭৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৮৩০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ২রা ফেব্রুয়ারির পর ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন হলো। অপর শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৮৬১ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেয়া ২৮৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৪৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩১টির এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
Wednesday, August 7, 2024
‘আমাদের ঘাড়ে এক মাথাই ছিল’—শেখ হাসিনাকে সমর্থন দেওয়া নিয়ে ব্যবসায়ী নেতা
আজ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মাহবুবুর রহমান। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য জানাতে সব ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আইসিসিবি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইসিসিবি সহসভাপতি এ কে আজাদ ও নাসের এজাজ বিজয়; আইসিসিবি বোর্ড সদস্য তপন চৌধুরী, কুতুবউদ্দিন আহমেদ, আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী, সিমিন রহমান, আব্দুল হাই সরকার ও মোহাম্মদ হাতেম; রহিম টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ মতিন চৌধুরী; ডিবিএল গ্রুপের এমডি এম এ জব্বার; এফবিসিসিআই জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী, বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম; ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রহমান এবং আইসিসিবি মহাসচিব আতাউর রহমান।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে এনে ব্যবসার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। এ ছাড়া অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সমর্থন করবেন বলে জানান তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের পক্ষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন আইসিসিবি সভাপতি। ১৬ বছর ধরে শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি ব্যবসায়ীদের নিরঙ্কুশ সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। তিনি বলেন, ‘আপনারা (ব্যবসায়ীরা) এখন বলছেন যে দেশের ছাত্ররা অনেক বড় কাজ করেছে। আর আপনারা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে নতুন সরকারকে সমর্থন দেবেন। আপনারা এসব কথা বলার নৈতিক অধিকার রাখেন কি না?’
এ প্রশ্নের জবাবে আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘গত বছর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ব্যবসায়ী সম্মেলন করা হয়। সেখানে বলা হয়েছিল, “শেখ হাসিনার সরকার, বারবার দরকার।” তো সেভাবে শেখ হাসিনার সরকার এসেছে। এখন যদি আপনাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় যে আপনি সরকারপ্রধানের সঙ্গে সভা করবেন, আর আপনি ঘরে বসে থাকলেন। আপনার এক ঘাড়ে যদি দুই মাথা থাকে, তাহলে আপনি তা উপেক্ষা করতে পারবেন। আমাদের ঘাড়ে দুই মাথা ছিল না, এক মাথাই ছিল।’
মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের যখন আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, আমরা তা ফিরিয়ে দিতে পারিনি; আমাকে যেতে হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে কেউ যেকোনো দলকে সমর্থন করতে পারেন। এটা নিয়ে ভুল–বোঝাবুঝির কারণ নেই। আমরা দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’
গত বছরের জুলাই মাসে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ব্যবসায়ী সম্মেলন আয়োজন করে এফবিসিসিআই। সেখানে সব মিলিয়ে ৩১ ব্যবসায়ী বক্তব্য দেন। তাঁদের বেশির ভাগ সরাসরি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকে আবারও চান তাঁরা। কয়েকজন স্লোগানে স্লোগানে একই দাবি জানান। স্লোগানটি ছিল, ‘শেখ হাসিনার সরকার, বারবার দরকার।’
আজকের সংবাদ সম্মেলনে আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ব্যবসায়ীরা কয়েক বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার তথা শেখ হাসিনা সরকারের চাপের মধ্যে ছিলেন কি না। এর জবাবে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আপনি যে চাপের কথা বলেছেন, সাংবাদিক হিসেবে আপনিও এত দিন সেই চাপের মধ্যে ছিলেন। যারাই তাদের (আওয়ামী লীগ সরকার) সমর্থন করেনি, তাদের ওপরেই তারা খড়্গহস্ত হয়েছিল। এ রকম যথেষ্ট প্রমাণ আছে। আমরা তখন চাপের মধ্যে ছিলাম।’
আরেকটি প্রশ্ন ছিল, গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর ব্যাপক রাজনীতিকরণ হয়েছে এবং সরকারের সঙ্গে মিলে গেছে—ব্যবসায়ীদের এই নৈতিক পতন কেন হয়েছে? এর জবাবে মাহবুবুর রহমান বলেন, এই সংস্কৃতি বহু পুরোনো। স্বাধীনতার আগে থেকেই তা চলে আসছে। পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে কিছু ব্যবসায়ী তখন সব সুবিধা নিতেন। এ বঞ্চনার কারণেই আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলাম। এখন ৫০ বছর পর আবার নতুন করে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ এসেছে।
যেসব ব্যবসায়ী গোষ্ঠী দুর্নীতি ও পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের এখন ব্যবসায়ী কমিউনিটিতে ‘নো’ বলবেন কি না, এমন প্রশ্ন করেন আরেক সাংবাদিক। এর জবাবে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের নো বা ইয়েসের জন্য তারা অপেক্ষা করে না। যখন যে সরকার থাকে, তারা তার পক্ষেই স্লোগান দেয়। এভাবে রং পরিবর্তন ও ভোল পাল্টায় ওই সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীরা।’
নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে বেসরকারি খাত থেকে কোনো প্রতিনিধি থাকার প্রত্যাশা করেন কি না, তা জানতে চান আরেক সাংবাদিক। এর জবাবে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা কখনোই এ ধরনের দাবি করিনি। আমাদের কাজ হলো ব্যবসা করা। সরকারের কাছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা চাইব; সরকার তা পূরণ করবে। তাহলেই ব্যবসা-বাণিজ্য চলবে।’
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (1801)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...






