Friday, March 1, 2019
একাত্তরের পর পাকিস্তান-ভারত বিমানযুদ্ধ এবারই প্রথম by মাহাদী হাসান

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মিরের পুলওয়ামায় ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশফোর্সের’ গাড়িবহরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় বাহিনীটির অন্তত ৪০ সদস্য প্রাণ হারায়। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ হামলার দায় স্বীকার করে। মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় বিমানবাহিনী ৭১-পরবর্তী ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের আকাশসীমায় ঢুকে বিমান হামলা চালানোর পর জানায়, ভেতরে সেই জইশ-মোহাম্মদের ঘাঁটি ধ্বংসের উদ্দেশ্যেই তারা ওই ‘অসামরিক অভিযান’ পরিচালনা করেছে।
এই হামলাকে ‘অসামরিক ও স্বতঃপ্রণোদিত’ দাবি করে ভারত জানায়, জঙ্গিদের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েই তারা পাকিস্তানি ভূখণ্ডে গিয়ে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের দাবি, ভারতীয় বিমান প্রবেশের পর পাকিস্তানি বাহিনী তাদের পিছু হটতে বাধ্য করেছে। এছাড়া বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) তাদের আকাশসীমায় ভারতের দুটি যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হয়। ভারতের দাবি, তারাও পাল্টা জবাব দিতে একটি পাকিস্তানি ফাইটার জেট ভূপাতিত করেছে। পাকিস্তান অবশ্য তা স্বীকার করছে না।
পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের ইতিহাসে নজর ফেরালে দেখা যায়, দুই দেশের মধ্যকার বৈরী সম্পর্ক ও পাল্টাপাল্টি গুলির ঘটনা ঘটলেও ১৯৭১ সালের পর এমন বিমান হামলার ঘটনা এবারই প্রথম। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের কাছে পরাজয়ের মুখে ৩ই ডিসেম্বর ভারতের ১১টি বিমান ঘাঁটি ও রাডার স্টেশনে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। এছাড়া কাশ্মিরে ভারতীয় অবস্থান লক্ষ্য করে বোমাবর্ষণ করে তারা। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ওই হামলার সাংকেতিক নাম ছিল ‘অপারেশন চেঙ্গিস খান।’
হামলার জবাবে একইদিন মধ্যরাতেই ভারত যুদ্ধ ঘোষণা করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। রাত ৯টায় ২৩টি ভারতীয় বিমান পাকিস্তানের ৮টি বিমান ঘাঁটিতে আক্রমণ করে। এছাড়া তখনকার মতো পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণাধীন ঢাকার তেজগাঁও ও কুর্মিটোলা (শাহজালাল) বিমানবন্দরে বোমাবর্ষণ করা হয়। ধ্বংস হয় তাদের ১৮টি বিমান ও একটি হেলিকপ্টার। মাত্র দুইদিনে তাদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষুণ্ণ করে আকাশে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে ভারতীয় বিমানবাহিনী।
এর মাঝে ১৯৯৯ সালের মে-জুলাই মাসে কাশ্মিরের কার্গিল জেলায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ শুরু হলেও বিমান থেকে বোমা বর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। সেবার নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তানি সেনা সদস্যরা ভারতে ঢুকে কয়েকটি ঘাঁটি দখল করলে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। ধারণা করা হয়, পারভেজ মোশাররফ সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে না জানিয়ে সামরিক সংঘাতের সূচনা করেন। সে বছরই ১২ অক্টোবর একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সেনাপ্রধান পারভেজ মোশাররফ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেন।
যুদ্ধের শুরুতেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে ফেলায় প্রাথমিকভাবে সুবিধা পাচ্ছিলো পাকিস্তানি বাহিনী। স্থানীয়দের কাছ থকে তথ্য নিয়ে ভারত সেই ঘাঁটিগুলো দখলের অভিযান চালায়, যার নাম দেওয়া হয় অপারেশন বিজয়। সেই যুদ্ধে ৫৩০ জন সেনা নিহত হয়েছিলেন। তবে দুইপক্ষের আকাশপথে কোনও বোমাবর্ষণ হয়নি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েল মানবতাবিরোধী অপরাধ করে থাকতে পারে: জাতিসংঘ

গাজাতে প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনির বসবাস। এদের বেশিরভাগই ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ওই স্থান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়া মানুষদের উত্তরসূরী। ইসরায়েলের দখলদারিত্বের অবসান ও ইসরায়েলে থাকা পূর্বপুরুষদের ঘর-বাড়ি ফিরে পাওয়ার দাবিতে ২০১৮ সালের ৩০ মার্চ থেকে ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ কর্মসূচি শুরু করে ফিলিস্তিনিরা। এর অংশ হিসেবে ইসরায়েল সীমান্তে প্রতি সপ্তাহে আয়োজিত হতে থাকে বিক্ষোভ কর্মসূচি।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর কারণে এমন অনেক ফিলিস্তিনি হত্যার শিকার হয়েছে বা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে যাদেরকে গুলি করার সময় তারা কারওর নিশ্চিত মৃত্যুর বা কাউকে গুরুতরভাবে আহত করার ঝুঁকি তৈরি করছিল না বা সরাসরি সহিংসতায় যুক্ত ছিল না।’ ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ১৮৯ জন ফিলিস্তিনি। এদের মধ্যে ১৮৩ জনের মৃত্যুর জন্য ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী দায়ি। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ছয় হাজার ১০৬ জন সরাসরি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। অপর তিন হাজার ৯৮ জন রাবারের আবরণযুক্ত ধাতব গুলি, টিয়ার শেল ও গুলিবর্ষণের কারণে ছিটকে আসা টুকরোর আঘাতে আহত হয়ে হয়েছে।
প্রতিবেদনের ভাষ্য, ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্নে’ নিহতদের মধ্যে রয়েছে ৩৫ জন শিশু। আরও রয়েছে তিন জন চিকিৎসাকর্মী ও দুইজন সাংবাদিক, যারা প্রত্যেকে তাদের পেশাগত পরিচয়সূচক পোশাক পরা অবস্থায় ছিলেন। তদন্ত কমিটি মনে করে, ইসরায়েলি স্নাইপাররা সাংবাদিক, চিকিৎসাকর্মী, শিশু ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি করেছে এমনটা মনে করার যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে। কারণ এরা যে সরাসরি সহিংসতায় জড়িত নয় তা সহজেই আলাদাভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব ছিল।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচসিআর) সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির সভাপতি সান্তিয়াগো ক্যান্টন বলেছেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দ্বারা ‘আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার এবং মানবাধিকার আইন ভঙ্গ হওয়ার অভিযোগ বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ আছে। মানবাধিকার আইন ভঙ্গের এসব ঘটনার মধ্যে কিছু ঘটনা যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ইসরায়েলের উচিত এসব অভিযোগের বিষয়ে অবিলম্বে তদন্ত শুরু করা।’
ইসরায়েল দাবি করে, সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিগুলো বিক্ষোভের আড়ালে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র দলগুলোর ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।’ ইউএনএইচআরসিকে ইসরায়েল ‘উদ্ভট কথার মঞ্চ’ ( থিয়েটার অব দ্য অ্যাবসার্ড) আখ্যা দিয়েছে। দেশটির ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজ মন্তব্য করছেন, জাতিসংঘ ‘ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও একটি শত্রুভাবাপন্ন, অসত্য ও পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন তৈরি করেছে।’
অন্যদিকে ইউএনএইচআরসি মন্তব্য করেছে, ইসরায়েল ও গাজার বিষয়ে বারবার তথ্য চাওয়া হলেও দেশটির কর্তৃপক্ষ তা উপেক্ষা করে গেছে। এমন কি গাজাতে প্রবেশাধিকারের অনুরোধেও তারা সাড়া দেয়নি। ইসরায়েল বলপ্রয়োগের যুক্তি হিসেবে বারবার ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ ও গাজা সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত শহরগুলোতে রকেট হামলার কারণ দেখিয়ে আসছে।
ক্যান্টন বলেছেন, ‘দায়িদের শাস্তি নিশ্চিতের লক্ষ্য নিয়ে বিক্ষোভ সংক্রান্ত প্রতিটি হতাহতের ঘটনার দ্রুত, পক্ষপাতহীন, স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে তদন্ত করাটা এখন ইসরায়েলের দায়িত্ব। তদন্ত করে দেখতে হবে, যুদ্ধাপরাধ বা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠিত হয়েছে কি না। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মিশেল ব্যাশেলের উচিত, তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সামনে হাজির করা।’
ইন্ডিপেন্ডেন্ট লিখেছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটি দাহ্য পদার্থযুক্ত ঘুড়ি ও বেলুন ব্যবহার করে হামলা চালানোর জন্য হামাসের নিন্দা করেছে। এই ধরনের হামলার কারণে দক্ষিণ ইসরায়েলে সম্পত্তির বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। সেখানকার ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যে সঞ্চার হয়েছে ভীতির। তদন্ত কমিটি বলেছে, ‘আমরা একই সঙ্গে গ্রেট মার্চ অব রিটার্নের উদ্যোক্তা, অংশগ্রহণকারী এবং গাজা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যেন কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়।’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জম্মু-কাশ্মিরে নিষিদ্ধ হলো জামায়াতে ইসলামী

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মিরের পুলওয়ামায় ভারতের ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের’ গাড়িবহরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় বাহিনীটির অন্তত ৪০ জন সদস্য প্রাণ হারান। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ হামলার দায় স্বীকার করে। ঘটনার পরপরই কাশ্মিরে শুরু হওয়া গ্রেফতার অভিযানে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা আব্দুল হামিদ ফায়াজসহ তাদের তিন শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার হন।
২৬ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) জইশ-ই মোহাম্মদের ঘাঁটি ধ্বংসের কথা বলেই ৭১-পরবর্তী ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের আকাশসীমায় ঢুকে বিমান হামলা চালায় ভারত। সরকারের দাবি, জম্মু কাশ্মিরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো ওইসব জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে দলটির। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্ত ও জনপরিবেশ বিঘ্ন ও অবৈধ সংশ্লিষ্টতার কারণে জামায়াতে ইসলামিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
১৯৪২ সালে গঠিত এই দলটির ওপর এই নিয়ে তৃতীয় নিষেধাজ্ঞার জারি হলো। দলটির সিনিয়র নেতা বলেন, ভারতের এই ‘আয়রন ফিস্ট পলিসি’ কাজ করবে না। তিনি বলেন, এর আগেও তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা এসেছে। সরকার সেনাশক্তি ব্যবহার করেছে কিন্তু লাভ হয়নি। এবারও হবে না। এক বিবৃতিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটি দাবি করে, তাদের নেতাকর্মীদের কেন গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের কাছে তা স্পষ্ট নয়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত 'খুবই প্রশংসনীয়': পাকিস্তানকে জাতিসংঘ

মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় বিমান বাহিনী পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করে। পরদিন বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত ও এক পাইলটকে আটক করে পাকিস্তান। পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘উত্তেজনা নিরসনে ভূমিকা রাখলে আমরা ভারতীয় পাইলটকে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত’। এরপর পাকিস্তান ঘোষণা দেয় যে শান্তির নিদর্শন হিসেবে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মুক্তি পাওয়ার কথা।
সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, 'ভারতীয় পাইলটের মুক্তির প্রসঙ্গে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রতিশ্রতির খবর খুবই প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। উত্তেজনা নিরসনে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনায় নিতে আমরা দুই পক্ষকেই আহ্বান জানিয়েছি।' তিনি জানান, জাতিসংঘসহ পুরো আন্তর্জাতিক বিশ্ব উত্তেজনা নিরসনে তৎপর।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মহাসচিবের কথা বলেছেন কি না এমন প্রশ্নে জবাবে দুজারিক বলেন, দুই পক্ষেরই বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে গুতেরেসের। চলমান উত্তেজনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন উদ্বিগ্ন মহাসচিব। মঙ্গলবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশির কাছ থেকে ফোনকলও পেয়েছেন তিনি। মহাসচিব দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করবেন কি না এমন প্রশ্নে দুজারিক বলেন, মহাসচিবের দফতরের দরজা সবপক্ষের জন্যই খোলা। পরিস্থিতির ওপর বিবেচনা করে তিনি একমত। তিনি বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে বার্তা পৌঁছাচ্ছেন যেন এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে দুজারিক বলেন, মহাসচিব বিষয়টি নজরে রাখছেন।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মিরের পুলওয়ামায় ভারতের ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের’ গাড়িবহরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় বাহিনীটির অন্তত ৪০ জন সদস্য প্রাণ হারান। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ হামলার দায় স্বীকার করে। মঙ্গলবার সেই জইশ-ই মোহাম্মদের ঘাঁটি ধ্বংসের কথা বলেই ৭১-পরবর্তী ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের আকাশসীমায় ঢুকে বিমান হামলা চালায় ভারত।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাইলটের কাছে পাওয়া গেল কী







About: Bangla Wiki
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যেভাবে ধরা পড়েন ভারতের পাইলট

এ ঘটনায় পাকিস্তানে ‘হিরো’ হয়ে উঠেছেন স্কোয়াড্রন লিডার হাসান সিদ্দিকী। তাঁকে ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঘুরছে, যা দেশটিতে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। তিনিই ভারতের একটি যুদ্ধবিমানকে ভূপাতিত করেছেন। ভারতের ওই বিমানটি পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করেছিল।
পাকিস্তান দাবি করেছে, বুধবার সকালে তারা দিনের আলোতে ভারতের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। এর একটি পড়ে পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে, অন্যটি পড়ে ভারতীয় অংশে। এরপর একজন ভারতীয় বৈমানিককে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়। হাসান সিদ্দিকী করাচির বৈমানিক। সফলভাবে লক্ষ্য অর্জন করায় তাঁর বিমান মাটি ছুঁতেই উষ্ণ অভ্যর্থনা পান তিনি। অন্যদিকে অভিনন্দনকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
পাকিস্তানের ডন অনলাইনে ভারতের বৈমানিক অভিনন্দনের ধরা পড়ার কাহিনি প্রকাশিত হয়। এতে প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ রাজ্জাক চৌধুরী (৫৮) নামের এক ব্যক্তির বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। রাজনৈতিক ও সমাজকর্মী রাজ্জাক নিয়ন্ত্রণরেখার ৭ কিলোমিটার ভেতরে পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বাসিন্দা। বুধবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে দুটি যুদ্ধবিমানের লড়াইয়ের শব্দ শোনেন তিনি। ধোঁয়াও দেখতে পান। দুটি বিমানেই আগুন লেগে গিয়েছিল। একটি নিয়ন্ত্রণরেখা ধরে এগিয়ে গেলেও আরেকটিতে আগুন লেগে দ্রুত নিচে নামতে থাকে। তাঁর বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে ওই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এ সময় তিনি প্যারাস্যুট নিয়ে একজনকে নামতে দেখেন।
বিমানটি যেদিকে বিধ্বস্ত হয় তার উল্টো দিকে ওই প্যারাসুটে নামেন এক বৈমানিক। পরে তিনি দ্রুত একটি পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি কিছু কাগজ গিলে ফেলার ও কিছু কাগজ পানিতে ভিজিয়ে নষ্ট করে ফেলার চেষ্টা চালান। ওই পাইলট প্যারাসুটে নামার সময় নিরাপদ ও সুস্থ ছিলেন। এ সময় ওই বৈমানিককে ধরার জন্য স্থানীয় তরুণেরা ছুটে যান।
কিন্তু ওই বৈমানিকের কাছে পিস্তল ছিল। তিনি তরুণদের ওই জায়গাটি ভারত না পাকিস্তান তা প্রশ্ন করেন। একজন বলেন, এটা ভারত। তখন ওই বৈমানিক স্লোগান দেন। তবে কয়েকজন তরুণ উল্টো স্লোগান দেন। ওই বৈমানিক তখন নিজেকে আহত বলে জানান এবং পানি চান। কিন্তু কয়েকজন তরুণ ভারতীয় বৈমানিকের স্লোগান সহ্য করতে পারেননি। তাঁদের উল্টো স্লোগানে অভিনন্দন পিস্তল বের করেন। তখন ওই তরুণেরা পাথর হাতে তুলে নেন। অভিনন্দন দৌড়ে প্রায় আধা কিলোমিটার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁকে যে তরুণেরা তাড়া করছিলেন, তাঁদের দিকে পিস্তল তাক করে শূন্যে গুলি ছোড়েন অভিনন্দন। পরে তিনি পুকুরে ঝাঁপ দেন। তরুণেরা তাঁকে অস্ত্র ফেলে দিতে বলেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। এ সময় এক তরুণ তাঁর পায়ে আঘাত করেন।
পরে এই বৈমানিক তাঁকে মেরে না ফেলার আহ্বান জানান। কয়েক তরুণ তাঁর দুই হাত ধরে ফেলেন। কয়েকজন তাঁর ওপর চড়াও হন। কয়েকজন তাঁদের থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পাকিস্তানের সেনারা চলে আসে এবং তাদের হেফাজতে নেয়। পরে তাঁকে সেনাবাহিনীর গাড়িতে তুলে ভিমবার এলাকায় সেনা স্থাপনায় নেওয়া হয়।
ভারতীয় যুদ্ধবিমানের ওই বৈমানিককে আটকের পর তাঁর ভিডিও প্রকাশ করে পাকিস্তান। যদিও কিছুক্ষণ পরেই সেই ভিডিও মুছে ফেলা হয়। সেই ভিডিওতে একজন ব্যক্তিকে চোখ বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। শুরুতে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো বৈমানিক ধরা পড়ার কথা অস্বীকার করা হলেও পরে একজন পাইলট নিখোঁজ হওয়ার কথা স্বীকার করে নেওয়া হয়।
বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ওই ভিডিওচিত্রে একজন ব্যক্তিকে চোখ বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। সেই ব্যক্তিকে ভারতীয় যুদ্ধবিমানের পাইলট বলে দাবি করা হয়। তবে কিছু সময় পর মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সেই ভিডিও মুছে ফেলা হয়। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর দাবি, যে দুটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে, তার একটির পাইলট ছিলেন ওই ব্যক্তি। ভিডিওতে ওই ব্যক্তির মুখমণ্ডলে রক্তের ছাপ দেখা যায়। তাঁকে উইং কমান্ডার অভিনন্দন বলে পরিচয় দেওয়া হয়।
তবে ভারতের ওই বৈমানিকের রক্তমাখা ছবি প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই ভারতের দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে। ভারতে নিযুক্ত পাকিস্তানের কার্যনির্বাহী হাইকমিশনারকে ডেকে তীব্র প্রতিবাদ করে নয়াদিল্লি। সেই প্রতিবাদপত্রে ভারতের আকাশসীমায় ঢুকে পাকিস্তানের হানার কড়া ভাষায় নিন্দা করা হয়। বলা হয়, ভারতীয় পাইলটের রক্তাক্ত অবস্থার ছবি কুৎসিতভাবে তুলে ধরছে পাকিস্তান। ভারত এ ঘটনার প্রতিবাদ করছে। এমন ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবতা আইন ও জেনেভা চুক্তি ভঙ্গ হয়েছে। পাকিস্তানকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভারতীয় বিমানবাহিনীর সদস্যের কোনো ক্ষতি যেন না হয়। পাকিস্তান তাঁকে দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফেরাবে বলে আশা করছে ভারত।
এদিকে ভারতীয় যুদ্ধবিমানের পাইলটের আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করে পাকিস্তান। গতকাল বুধবার পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) প্রকাশিত ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ওই বৈমানিক চা পান করছেন আর নিজের নাম-পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছেন।
পাকিস্তানের দৈনিক ডন অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি নিজের নাম অভিনন্দন ও বাড়ি দক্ষিণ ভারতে বলে উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘এখানে আমি সুচিকিৎসা পাচ্ছি।...ভারতেরও উচিত এমন পথ অনুসরণ করা।’
ভিডিওতে কেউ একজন বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করছেন আটক পাইলটকে। ওই ব্যক্তিকে পাইলট বলছেন, তিনি এখানে যে জবানবন্দি দিয়েছেন তা নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পর হেরফের করবেন না। পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে খুব ভালোভাবে দেখাশোনা করছেন। আটক পাইলট প্রশ্নকর্তাকে মাঝে মাঝে ‘মেজর’ বলে সম্বোধন করেন।
যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পরমুহূর্ত সম্পর্কে ভারতীয় পাইলট বলছেন, ‘পাকিস্তানি সেনারা আমাকে বিমান বিধ্বস্তের স্থান থেকে উদ্ধার করে। এরপর সেনা কর্মকর্তাদের একটি ইউনিটে আমাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। আমি আমার সেনাদের কাছেও এমন আচরণ প্রত্যাশা করি। আমি পাকিস্তানি সেনাদের ব্যবহারে অভিভূত।’

ভিডিওতে প্রশ্নকর্তা ও আটক পাইলটের কথোপকথন ছিল এমন—
প্রশ্নকর্তা: আপনার বাড়ি ভারতের কোথায়?
আটক পাইলট: দক্ষিণ ভারতে।
প্রশ্নকর্তা: আপনি বিবাহিত?
পাইলট: হ্যাঁ, বিবাহিত।
প্রশ্নকর্তা: আমার ধারণা, চা আপনার পছন্দ?
পাইলট: এই চা-টা খুবই চমৎকার, ধন্যবাদ।
প্রশ্নকর্তা: আপনি কোন এয়ারক্রাফট চালাচ্ছিলেন?
পাইলট: দুঃখিত মেজর, আমি এ বিষয়টি খোলাসা করতে পারছি না। তবে আমি নিশ্চিত আপনি বিমানের ধ্বংসাবশেষ দেখে ইতিমধ্যেই তা জেনেছেন।
প্রশ্নকর্তা: (এই বিমান হামলায়) আপনার কী উদ্দেশ্য (মিশন) ছিল?
পাইলট: দুঃখিত, আমাদের (সেনা) পক্ষে এ বিষয়টি (যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য) বলা সম্ভব নয়।
আটক পাইলটকে ফেরত দিতে পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ভারত। বুধবার রাতে নয়াদিল্লি থেকে দেওয়া বিবৃতিতে ওই সেনাকে নিরাপদে ভারতে ফেরত পাঠানোর কথা বলা হয়। এই আহ্বানের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানে ভারতীয় যুদ্ধবিমানের পাইলট আটকের বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। বিমান ভূপাতিত করার প্রথম দিক থেকেই পাকিস্তান দাবি করে আসছিল তাদের সেনারা ভারতের এক পাইলটকে আটক করেছে। তবে শুরুতে ভারত বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে নেয়।
আজ বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে৷ পাকিস্তানে আটক পাইলটকে উদ্ধারের বিষয়ে আলোচনা হবে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় দুই দেশকেই ফের সেনা অভিযান না করার আবেদন জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ একই সঙ্গে জঙ্গি মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক জঙ্গিদের কালো তালিকায় আনার জন্য পাকিস্তানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ৷ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স৷ মাসুদকে অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জাতিসংঘে৷ বিদেশযাত্রায়ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব জমা পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা নিয়ে গভীর চিন্তিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ আমরা উভয় পক্ষকেই বলছি, এই উত্তেজনা প্রশমনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হোক৷’
১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় দেশটির আধা সামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলা হয়। এতে অন্তত ৪২ জন জওয়ান নিহত হন। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদ এই হামলার দায় স্বীকার করে। পুলওয়ামা হামলার জবাব দিতেই পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে হামলা চালায় ভারত। এরপর ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হামলায় অন্তত ৩০০ জঙ্গি নিহত হয়েছে। এ ঘটনার পর নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে পাল্টা জবাব দেয় পাকিস্তান।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এত কষ্ট নিয়ে কীভাবে বাঁচবে ছোট্ট রামিম by পিয়াস সরকার

মারা গেছেন ওই রিকশার চালকও। চোখের সামনে প্রিয় মা-বাবা আর ভাইকে পুড়তে দেখেছে রামিম।
তার ছোট্ট শরীরেও আগুনের হল্কা লেগেছে। ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছে সে। প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হলেও এখন ফলোআপ করাতে হচ্ছে। রামিমের বাবা রাশিদুল ইসলাম (৩৯) ছিলেন ব্যবসায়ী। রাজধানীর হাতিরপুলে টাইলসের দোকান আছে তার।
মা সোনিয়া ইসলাম (৩১) গৃহিণী। তারা থাকতেন লালবাগের ৩৬/১ ডুরি আঙ্গুর লেনের পৈত্রিক বাসায়। ২০শে ফেব্রুয়ারি বুধবার রাতে চকবাজারের রামিমের এক বন্ধুর কান ফুটার অনুষ্ঠানে যাচ্ছিল পরিবারটি। চুড়িহাট্টায় পড়েন যানজটের মুখে। রিকশায় ছিলেন তারা। বাবার কোলে ছিল রামিম। মায়ের কোলে সাহির।
রামিমের ভাষ্য অনুযায়ী- হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পায় সে। এরপর দেখে আগুন। আগুন দেখার পর বাবা তাকে রিকশা থেকে নিচে ফেলে দেন। মাথায় আঘাত পায় রামিম। দেখে রিকশায় থাকা তার বাবা-মা-ভাই ও রিকশা চালকের গায়ে আগুন ধরেছে। তাদের চিৎকার কানে আসে অসহায় রামিমের। তার শরীরেও এসে লাগে আগুনের হল্কা। পুড়ে যায় মাথার বাম পাশ। দগ্ধ হয় বাম হাত, পিঠের একাংশ ও বাম পা।
রামিম আরো জানায়- এ সময় কেউ একজন তাকে সেখান থেকে কোলে করে নিয়ে যায়। রামিম তার মামা রায়হান আলমের মোবাইল নাম্বার বলার পর সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে। উদ্ধারকারী ব্যক্তি রামিমের মামাকে জানান- তার ভাগ্নেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে তিনি দ্রুত চলে আসেন ঢামেকে। আগুনে ১৫ শতাংশ পুড়ে যায় রামিমের শরীর। শরীরে করা হয় ব্যান্ডেজ। ঘটনার দিনই রামিমকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ব্যান্ডেজ দিয়ে ছেড়ে দেন চিকিৎসরা।
রামিমের মামাও থাকেন লালবাগে। বোনের বাসার পাশেই। মামার কাছেই পড়তেন রামিম। ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে রামিমের মা ফোন করে বলেন, একটু তাড়াতাড়ি ছাড়তে। বলেন, দাওয়াত খেতে যাবেন। সাড়ে ৮টার দিকে রামিমকে বাসার নিচে দিয়ে আসেন মামা। এই ছিল বোনের সঙ্গে তার শেষ কথা। এই কথা বলতেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন রায়হান। এরপর ১০টার দিকে দাওয়াত খাবার উদ্দেশ্যে বের হন তারা। রায়হান আলম আরো বলেন, এই বছরই রামিম বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়।
এ নিয়ে খুব খুশি ছিল পরিবারের লোকজন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরদিন ২১শে ফেব্রুয়ারি লাশের সন্ধানে ঢাকা মেডিকেল মর্গে যায় স্বজনরা। লাশ শনাক্ত করেন তারা। পরের দিন তাদের সমাহিত করা হয় আজিমপুর কবরস্থানে। গতকাল বুধবার মামা ও খালার সঙ্গে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে এসেছিল রামিম। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন রামিম সুস্থ আছে। তার ক্ষত বৃদ্ধি বা সংক্রমণ ধরা পড়েনি। পোড়া স্থানে নতুন করে ব্যান্ডেজ করে দেয়া হয়েছে।
About: Bangla Wiki
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিমান ছিনতাই নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা- বিমানভ্রমণ: যা কোনোদিন ভুলবো না by মশিউর রহমান

অবসর নেয়ার পর পরই দুবাইয়ে বসবাসরত লিলির বোনদের কাছে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম আমি ও লিলি। এক সময় দীর্ঘদিন দুবাইয়ে বসবাস করেছি। সেখানে কাজ করেছি।
এর ফলে প্রিয়জনদের সঙ্গে আমাকে নতুন করে দেখাসাক্ষাতের সুযোগ করে দিয়েছে এবং আমাকে ভাবার কিছু সময় দিয়েছে যে, পরবর্তীতে আমি কি করতে চাই।
তাই, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি বিকেলে আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাইগামী বিজি১৪৭ ফ্লাইটে আরোহন করি। এক দশকের বেশি সময় আমরা আন্তর্জাতিক যাত্রার জন্য জাতীয় পর্যায়ের বিমানে আরোহন করি নি। কিন্তু জানতে পারলাম গত ৫ বছরে এর যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম বিজনেস ক্লাসে চড়ে দেখার। আমি আর লিলি জানালার পাশে ২ নম্বর সারিতে আসন নিয়ে বসলাম। বিমানের বাম দিকের সামনের সারির পরের সারিই এটি। আমাদের ডানদিকে সামনের সারিতে বসে ছিলেন বয়স্ক একজন ভদ্র মহিলা ও একজন ভদ্রলোক। সম্ভবত তারা ভারতীয়। বিমানটি ঢাকা ছাড়ার অল্প পরেই একজন ভদ্রলোক বিমানের বাম দিকের আসন থেকে উঠলেন কেবিন ক্রুদের অনুমতি নিয়ে। এতে আমার সামনের একটি আসন ফাঁকা হয়ে গেল।
৫০ মিনিটের এই ফ্লাইটের প্রথম ১৫/২০ মিনিট বা ওই রকম সময় তেমন উল্লেখ করার মতো ছিল না এই ভ্রমণ। এরপর আকস্মিকভাবে ইকোনমি ক্লাস থেকে একজন তরুণ উঠে এসে বিজনেস ক্লাসে প্রবেশ করলেন। আমার সামনের ফাঁকা আসনে বসে পড়লেন তিনি। তার সঙ্গে ছিল একটি ব্যাকপ্যাক। এতে কেবিন ক্রু অবাক হলেন। কিন্তু কেউ কোনো প্রতিবাদ জানানোর আগেই তিনি তার ব্যাকপ্যাক খুলে ফেললেন। তার ভিতর হাত দিলেন এবং বের করে আনলেন একটি অস্ত্র, একটি লাইটার ও বিস্ফোরকের মতো দেখতে একটি ডিভাইস। তিনি দাঁড়ালেন। বন্ধ ককপিটের খুব কাছে সামনের সারির গ্যালারিতে চলে গেলেন এবং ইংরেজিতে বললেন- ‘এই বিমানটি ছিনতাই করা হয়েছে! অবিলম্বে ককপিটের দরজা খুলুন। যদি বিমানটি অবতরণ করে তাহলে আমি এটা উড়িয়ে দেবো’।
এ শব্দগুলো কেবিনের সামনে সন্ত্রাসের আবহ ছড়িয়ে দিল। তখনও পর্দা নামানো (পরে তা খুলে দেয়া হয়)। ফলে পিছনের দিকে যারা বসা ছিলেন তারা বুঝতে পারেন নি সামনে কি ঘটছে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, ছিনতাইকারী সশস্ত্র অবস্থায়। তিনি নিজেকে প্রমাণ করতে সামনের একটি ফাঁকা শৌচাগারের দরজায় একবার তার হ্যান্ডগান দিয়ে গুলি করলেন। বারুদের গন্ধ কেবিনের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ল।
যুবকটি চিৎকার করে বলতে লাগলেন- ‘আমি একজন স্কটিশ নাগরিক। আমার মাত্র একটিই দাবি। তাহলো, আমি আমার স্ত্রীকে ফিরে পেতে চাই। সে একজন সেলিব্রেটি...’। যুবকটির আচরণ স্বাভাবিক ছিল না। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি হয়তো মারাত্মকভাবে ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন অথবা মাদকের কারণে এমন করছেন।
বিমানের সামনের সারির একেবারে কাছে বসার কারণে এই ঘটতে যাওয়া সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আমি খুব কাছ থেকে দেখতে পেয়েছি। আমি তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, এই ফ্লাইটে তার স্ত্রী আছেন কিনা। জবাবে তিনি বললেন, ‘না। সে এই বিমানে নেই’।
শিগগিরই ওই তরুণ উত্তেজিত হয়ে উঠতে লাগলেন। তিনি ককপিটের দরজায় লাঠি মারতে শুরু করলেন। দাবি তুললেন ভিতরে প্রবেশের সুযোগ দেয়ার জন্য। কিন্তু ককপিটের ভিতর থেকে কোনো শব্দ এলো না এর জবাবে। কিন্তু পাইলট হয়তো তার জোরালো বার্তা পরিষ্কার শুনতে পেয়ে থাকবেন। বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করলো। উদ্বেগজনক গতিতে ৩০ হাজার ফুট ওপর থেকে মাটির দিকে যেন মুক্তভাবে পড়ন্ত (ফ্রি ফল) বস্তুর মতো নেমে আসতে লাগলো বিমান। নিচে নামার এই পথে বিমানটি ভয়ঙ্করভাবে এপাশ ওপাশ দুলতে লাগলো। এ সময় পাইলটের একটিই লক্ষ্য ছিল। তা হলো, ককপিট ভেঙে ফেলার আগেই তিনি বিমানটিকে চট্টগ্রামে অবতরণ করাতে চান। তিনি জানতেন, তার হাতে প্রায় ১৫০ জন মানুষের জীবন।
তাই তিনি ওই উন্মাদ ব্যক্তির হাত থেকে নিয়ন্ত্রণ নিতে যা পারেন তার সবই করেছেন। তার এমন উদ্দেশ্য ছিল ওই ব্যক্তিকে ভারসাম্যহীন করে দেয়া।
উত্তেজনার বশে ওই তরুণ আবারো তার হাতের অস্ত্র থেকে ফাঁকা গুলি করলেন। এ সময় একজন ক্রু তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, বিপদজনকভাবে কি ঘটাতে যাচ্ছেন ওই যুবক তা অনিশ্চিত। ফলে তিনি পিছনে ইকোনমিক কেবিনের দিকে ছুটে গেলেন।পিছনের দিকের যাত্রীরা যখন পরিস্থিতি পুরোপুরি বুঝতে পারলেন তখন শুরু হলো চিৎকার, চেচামেচি।
আমি আবার কথা বললাম এবং ওই যুবকের উদ্দেশে চিৎকার করলাম যৌক্তিক কারণে। জানতে চাইলাম- ‘আমাদের সবাইকে হত্যা করে কি ভাল কাজ করবেন? আমাদেরকে অবতরণ করতে দিন, যাতে আমাদের ১৫০ জনের সবাই কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাতে পারি যেন, আপনি যা চান তা পূরণ করা হয়’। তিনি ছিলেন নাছোড়বান্দা। বললেন, যদি বিমানটি অবতরণ করে তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং তিনি তা ঘটতে দেবেন না। তিনি বোমা দিয়ে বিমানটি উড়িয়ে দেবেন।
তার এক হাতে বিস্ফোরকের ফিউজ ধরা। তার কাছে আরেক হাতে একটি লাইটার নিয়ে দোলাতে লাগলেন এবং আমাদেরকে হুমকি দিতে লাগলেন যে, আমাদের সবাইকে উড়িয়ে দেবেন। বলতে লাগলেন ‘আমি জানি বিমানটি যখন অবতরণ করবে তখন আমাকে গ্রেপ্তার করা হবে’।
এ সময়ই প্রথম আমার ভিতর ভয় ঢুকে গেল, বিমানের অন্য স্থানগুলোতেও তার সহযোগী থাকতে পারে। কিন্তু তার কথা শুনে এবং তার চলাফেরা দেখে আমার কাছে এটা পরিষ্কার হয়ে গেল যে, তিনি খুব সম্ভবত একা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার মতো দক্ষতা অথবা মানসিক অবস্থা তার নেই। কিন্তু তার কাছে যে বিস্ফোরক ও অস্ত্র তা ভয়ঙ্কর রকম অনিশ্চিতা সৃষ্টি করতে পারে।
তড়িঘড়ি করে অবতরণ করার সময় আমি জানালা দিয়ে বঙ্গোপসাগর দেখতে পাই। সাগরের ওপরেই বিমান চট্টগ্রামমুখী হতে শুরু করে। আমরা কি অবতরণ করার মতো পর্যাপ্ত উচ্চতায় আছি, নাকি পাইলট বিমানটিকে পানিতে অবতরণ করাতে চাচ্ছেন তা আমি নিশ্চিত ছিলাম না। অবশেষে বিমানের চাকা রানওয়ের প্রান্ত স্পর্শ করলো এবং পাইলট ব্রেক চেপে ধরলেন। আমরা যে গতিতে টারমাকে আছড়ে পড়েছি তাতে বিমানের ক্ষয়ক্ষতি বা রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। কিন্তু পাইলট খুব দ্রুত আমাদের গতি কমিয়ে আনতে সক্ষম হন।
আমার নিজের অবস্থা করুণ ছিল। আমি ছিলাম ওই তরুণের দৃষ্টিতে পড়া প্রথম ব্যক্তি। যদি সে কাউকে গুলি করতো, তাহলে সেটা শুরু হতো কেবিন ক্রু বা আমি ও আমার স্ত্রীকে দিয়ে। আর যদি সে বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ ঘটাতো, সবচেয়ে বেশি আঘাত পেতাম আমি। আমাকে সেখান থেকে বের হয়ে বিমানের পেছনের দিকে তুলনামূলক নিরাপদ জায়গায় সরে পড়তে হয়।
এমন পরিস্থিতিতে বিমানের কেবিন ক্রুদের সঙ্গে ওই তরুণের উত্তপ্ত বাক্য-বিনিময় হয়। আমি লিলিকে বাহুতে জড়িয়ে রাখি। আমরা বাহু ও হাঁটুর ওপর ক্রলিং করে নিজেদের সিট থেকে মধ্যবর্তী করিডোরে বের হয়ে আসি। এবং বিমানের পেছনের দিকে অগ্রসর হতে থাকি। বিজনেস কেবিনের অন্য যাত্রীরাও আমাদের অনুসরণ করেন।
যখন আমরা পেছনে পৌঁছাই, ততক্ষণে একটি ইমার্জেন্সি এক্সিট (জরুরি মূহুর্তে বের হওয়ার দরজা) খোলা হয়েছে। সেটির সামনে মানুষের জটলা। এর বিপরীত পাশে যে ইমারর্জেন্সি এক্সিটটি রয়েছে সেটি তখনো খোলা হয়নি। তাই সেটি খোলার চেষ্টা করি। কখনোই আমি বিমানের এক্সিট দরজা খুলি নি। কিভাবে আমি সেটা খুলেছি তাও সঠিক জানি না। কিন্তু আমি দরজাটি খুলেছি এবং বিমানের পাখার ওপর বের হয়ে এসেছি।
পাখা থেকে টারমাক কতটুকু নিচে তখন আমি বুঝে উঠতে পারি নি। অবশ্যই এটা ১২ ফুট বা এর আশেপাশে হবে। আর কোন বিকল্প না থাকায়, আমি টারমাকে লাফিয়ে পড়ি। অনুভব করছিলাম যে, আমি পড়ছিই। আমার পতনটা খুব মসৃণ হয়নি। পরে বুঝতে পারি যে, আমার গোড়ালি বাজেভাবে ছিলে গেছে এবং হাঁটু মুচড়ে গেছে। কিন্তু যখনই চিন্তা করার সুযোগ পেয়েছি, আমি লিলিকে নামতে সাহায্য করার কথা ভেবেছি। আমি ওপরে তাকিয়ে তাকে পাখার কিনারায় বসে কান্না করতে দেখি। আমি উচু হই, কিন্তু পাখায় ঝুলে থাকা তার পায়ের নাগাল পাইনি। তাকে লাফ দিতে বলি, যেন আমি তাকে ধরতে পারি। সে আমার এই কথায় সাড়া দেয়ার আগেই পেছন থেকে কেউ তাকে ঠেলে ফেলে দেয়। বাজেভাবে সে টারমাকে আছড়ে পড়ে, আমি তাকে কিছুটা ধরতে সক্ষম হই। আমি তখনো ওই সন্ত্রাসীর হাতে থাকা বিস্ফোরকের ভয়ে ভীত ছিলাম। বিমান থেকে যতটা সম্ভব দূরে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা দৌড়ানোর মতো অবস্থায় ছিলাম না। যত দ্রুত সম্ভব আমরা দূরের টার্মিনালের দিকে হাঁটতে থাকি।
বিমানটি অতিক্রম করার সময় সেটির ইঞ্জিন তখনো চালু ছিল। ঝড়ো গরম বাতাস আমার ও লিলির পায়ে আছড়ে পড়ে, আমরা আবারো পড়ে যাই। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ যে, আমরা ইঞ্জিনের সামনে দিয়ে হেঁটে যাইনি। এই সময়ে লিলির গলা শুকিয়ে যায়। ও কথা বলতে পারছিলো না। ওকে ফ্যাকাসে বা মৃতপ্রায় দেখাচ্ছিল। এয়ারপোর্ট থেকে কেউ আমাদের দিকে দৌড়ো আসলো। এবং অন্যকারো খাওয়া একটি অর্ধেক পানির বোতল লিলিকে দিলো।
এয়ারপোর্টে ফিরে আসার পর মুক্ত হওয়ার তীব্র অনুভূতি আমাকে গ্রাস করলো। এই সময়ে আমার মনে পড়ে যে, আমরা পাসপোর্ট, বোর্ডিং পাসসহ সব মূল্যবান সামগ্রী বিমানে ফেলে এসেছি। সৃষ্টিকর্তার দয়ায় আমরা বেঁচে গেছি। পূর্বের ৩০ মিনিটে অনেক ক্ষেত্রেই আমি নিজেকে বলেছি যে, এটাই, এভাবেই আমার জীবন শেষ হবে। কিন্তু কি এক কঠিন অবস্থা, মানুষ বলবে যে, তার অবসরের প্রথম দিনই ছিল তার জীবনের শেষ দিন। কিন্তু লিলি ও আমাকে নিয়ে সর্বশক্তিমানের পরিকল্পনা ভিন্ন। সেই পরিকল্পনা কি তা জানি না, কিন্তু আমি জানি এই অভিজ্ঞতার মতো আর কিছু হবে না।
আমি বলতে চাই যে, এয়ারপোর্টের ঢোকার পরই আমাদের অগ্নিপরীক্ষা শেষ হয়। আমাদের ভালোভাবে দেখভাল করা হয়। দুর্ভাগ্যজনক সত্য হলো, পরবর্তী ১২ ঘন্টা আমরাসহ মোট ১৫০ জন যাত্রীর ভোগান্তি চলতে থাকে। এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ বা বিমান এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত ছিল না। কিন্তু সে গল্প অন্য সময় বলা যাবে...
(কাজী মশিউর রহমান, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি গত ২৪ শে ফেব্রুয়ারি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন যাত্রী ছিলেন, যা ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়েছিল। কি ঘটেছিল সেই বিমানের ভিতরে, তার একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন ফেসবুক পেজে। এখানে তারই অনুবাদ প্রকাশ করা হলো)
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রোহিঙ্গা সংকটের রাজনৈতিক সমাধান জরুরি

আমরা মনে করি মানবিক সহায়তা বা পদক্ষেপ বাস্তুচ্যুত ওই জনগোষ্ঠীর কেবল সাময়িক দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করতে। অপর প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ দূতের সঙ্গে সহমত পোষণ করে ইউনিসেফের প্রধান নির্বাহী হেনরিয়েটা ফোর বলেন, বাস্তুচ্যুতদের রাখাইনে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের অধীন সব সংস্থা প্রকাশ্যে এবং আড়ালে উভয় প্রক্রিয়ায় কাজ করছে। এখনো রাখাইনে কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় খানিক হতাশা প্রকাশ করেন গত জানুয়ারিতে মিয়ানমার সফরকারী জাতিসংঘের ওই কর্মকর্তা।
গত ৩০ বছরে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা (ইউনিসেফ)-এর কোনো নির্বাহী পরিচালকের এটাই ছিল প্রথম বার্মা সফর। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকট সামলে ওঠার চেষ্টায় জরুরি তহবিল প্রয়োজন। আশ্রিত রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয় দেয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তায় চলতি বছরের জন্য ১৫ কোটি ২০ লাখ ডলার সহায়তা চেয়েছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ।
ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদনের ২৯ শতাংশ পেয়েছে সংস্থাটি। এ প্রসঙ্গে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা বলেন, বাস্তুচ্যুত শিশুদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে বৈশ্বিক সমাজ হিসেবে আমাদেরও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যেসব শিশু ও তরুণ জনগোষ্ঠীকে বিশ্ব ‘রাষ্ট্রহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছে তাদের সুন্দর জীবন গঠনে শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন প্রয়োজন। ইউনিসেফ প্রধানের কাছে প্রশ্ন ছিল- বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনে সংস্থাটি যতটা সক্রিয়, তাদের জন্মস্থান রাখাইনে কেন ইউনিসেফ এতবছর ততটা ফোকাস বা গুরুত্ব দেয়নি? জবাবে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মিজ ফোর বলেন, আমরা বাংলাদেশ, মিয়ানমারসহ সব জায়গাই সমান ফোকাস বা গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু সর্বত্র সমান সুযোগ পাওয়া যায় না। অনেক এলাকায় প্রবেশেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
৫ লাখ রোহিঙ্গা শিশু হতাশা ও নৈরাশ্যের ঝুঁকিতে আছে: এদিকে সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফের তরফে বলা হয়, কক্সবাজারে অবস্থানরত ৫ লাখ রোহিঙ্গা শিশু রাষ্ট্রহীন শরণার্থী অবস্থায় রয়েছে।
তারা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন এবং হতাশ ও নৈরাশ্যের ঝুঁকিতে আছে। আন্তর্জাতিক সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে ব্যাপক মানবিক প্রচেষ্টা অগণিত শিশুর জীবন রক্ষা করেছে। তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে জনবহুল শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসরত এই রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য এখনো টেকসই কোনো সমাধান দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। ২০১৭ সালে বর্মী বর্বরতার মুখে বিপুল সংখ্যক মানুষ মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়, যার মধ্যে ওই শিশুরাও রয়েছে। মিয়ানমারে তাদের কোনো আইনি পরিচয় বা নাগরিকত্ব নেই। বাংলাদেশেও ওই সব শিশুর জন্মনিবন্ধনের সুযোগ নেই। তাদের বৈধ পরিচয় নেই। তারা শরণার্থীর মর্যাদাও পাচ্ছে না। প্রত্যাবাসন যোগ্য ওই বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর তাদের জন্মস্থান রাখাইনে ফেরানোর নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আনুষ্ঠানিক শিক্ষার পাঠ্যসূচির বাইরে থাকছে। তাদের বিপণযোগ্য দক্ষতাও অর্জিত হচ্ছে না।
ইউনিসেফের মাঠ পর্যায়ের জরিপ ও সরবরাহ করা তথ্যমতে, কক্সবাজার এলাকাজুড়ে “শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে” ভর্তি হওয়া ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা শিশুর ওপর ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে করা এক জরিপে শিক্ষার প্রয়োজনের ব্যাপকতা উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, ৯০ শতাংশেরও বেশি শিশু প্রাক-প্রাথমিক থেকে গ্রেড ১-২ পর্যায়ে পড়াশোনা করার যোগ্য। মাত্র ৪ শতাংশ গ্রেড ৩-৫ পর্যায়ে এবং ৩ শতাংশ গ্রেড ৬-৮ পর্যায়ে পড়ার যোগ্য ছিল। ২০১৮ সালের শেষে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী রোহিঙ্গাদের মাত্র ৩ শতাংশ কোনো ধরনের শিক্ষা বা কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে। সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত ড. আহমেদ আল মেরাইক বলেন, এই প্রজন্মের রোহিঙ্গাদের পেছনে বিনিয়োগের জন্য আমাদের এ মুহূর্তে এবং সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে তারা আজ তাদের জীবনকে আরো ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারে এবং তারা যখন মিয়ানমারে ফিরে যেতে সক্ষম হবে তখন যেন তারা সেখানকার সামাজিক পুনঃনির্মাণে গঠনমূলক অংশ হতে পারে। বর্তমানে তারা আইনি পরিচয় ব্যতীত পাচারকারী এবং মাদক ব্যবসায়ীদের অনুকম্পায় রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- ইউনিসেফ শিক্ষামূলক প্রকল্প নিয়ে ৪-১৪ বছর বয়সী ১ লাখ ৫৫ হাজার শিশুর কাছে পৌঁছেছে। প্রকল্পটিতে ক্রমান্বয়ে উন্নত মান, কাঠামোগত শিক্ষা ও দক্ষতা যুক্ত হচ্ছে। ২০১৯ সালের জন্য অগ্রাধিকার হচ্ছে, বেশি বয়সী কিশোর-কিশোরীদের সাক্ষরতা ও সংখ্যা গণনার প্রাথমিক দক্ষতা এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি দক্ষতা শেখানো। বাংলাদেশের অন্যতম দরিদ্র জেলা কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদানের বিষয়েও বেশ জোরালো প্রচেষ্টা থাকবে বলেও জানানো হয়।
এ প্রসঙ্গে সংস্থাটি সর্বোচ্চ পদে থাকা মিজ ফোর বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কিন্তু এটি প্রয়োজনের বালতিতে পানির একটি ফোঁটা মাত্র। এটি একটি অগ্রহণযোগ্য পরিস্থিতি। রোহিঙ্গা শিশু ও তরুণ জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজেদের জীবন গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও দক্ষতাবিহীন রাখা যায় না। তিনি আরো বলেন, ‘তারা (রোহিঙ্গা শিশু) যদি নিজেরা বেঁচে থাকার যোগ্য হয়ে উঠতে পারে, তাহলে তাদের কমিউনিটিগুলোও নিজে থেকে টিকে থাকতে এবং সমৃদ্ধি লাভ করতে পারবে। সঠিক বিনিয়োগের মাধ্যমে এই রোহিঙ্গারা তাদের কমিউনিটি এবং বিশ্বের কাছে সম্পদ হতে পারে।
About: Bangla Wiki
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মনে হয় সাংবাদিকরা সব দাসানুদাস -কামাল লোহানী

আগে সাংবাদিকরা যে লেখাটি লিখতেন, উপসম্পাদকীয় অথবা সম্পাদকীয়টা লিখতেন। সেগুলো সমস্ত মালিক বা সরকারের কানে পানি যেতো। কিন্তু এখন পানি কেন, কিছুই যায় না। তারা তোয়াক্কাও করে না।
এবং মাঝে মাঝে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে দেখি এমনভাবে কথা বলেন, তাতে করে মনে হয় যে সাংবাদিকরা সব দাসানুদাস...। তার কথা শুনার জন্য সবাই গেছে। রিপোর্ট করার জন্য নয়। অদ্ভুত লাগে আমাদের কাছে, তিনি যেভাবে ধমকান। এ ধমকানোর মতো স্বভাব এটা খুব দুঃখজনক যে সাংবাদিকদের সঙ্গে এই ধরনের আচরণ করেন। অথচ তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজকে আমি একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি, আমরা তখন সাংবাদিক ইউনিয়ন করি। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন। নির্মল সেন, গিয়াস কামাল চৌধুরী, আমি এবং রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ কোনো এপয়নমেন্ট ছাড়া আমরা গিয়ে হাজির হয়ে যেতাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এবং তিনি আমাদের জন্য দরজা খোলা রাখতেন। আর আজকে, চেষ্টা করেও, বহু কষ্ট করে তার সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষায় থাকেন।
তিনি বলেন, আজকে বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার হচ্ছে সর্বত্র। বার বার উচ্চারিত হচ্ছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বলে, জাতির জনক বলে। কিন্তু তার যে সম্মান রাখা দরকার, শ্রদ্ধা নিবেদন করা দরকার, সেটা কি করছেন যথার্থভাবে? একবার নিজেকে জিজ্ঞেস করে দেখেন তো। তিনি তো বলেছিলেন, ধর্মের নামে কোনো রাজনীতিই চলবে না, আজকে দেশে কী হচ্ছে? হেফাজতে ইসলামের যে সমাবেশ সেখানে গিয়ে আপনি জননী হয়ে গেলেন। কাওমি জননী। আমি একটু সান্ত্বনা পেলাম অন্ততপক্ষে ওরা কওমি আম্মা বলেনি। কওমি জননী বলেছে। বাংলা শব্দটা ব্যবহার করেছে। এই যে হেফাজতের কাছে আপনি এমন করে নতজানু হয়ে পাঠ্যপুস্তক থেকে অনেক লেখা বাদ দিয়ে দিলেন।
কুসম কুমারী দাসের লেখা আমরা ছোটবেলায় পড়েছি, আমাদের দেশে কবে সেই ছেলে হবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে। এই কবিতা বাদ হয়ে গেলো? আমরা ছোটবেলায় পড়েছি, আমদের ছেলেরা পড়েছে নাতিরা পড়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে সেই জিনিসটা খুঁজে পাচ্ছি না।
তিনি বলেন, আজকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যদি এটাই হয়, ধর্মনিপেক্ষতাকে নসাৎ করে দিয়ে, বিলুপ্ত করে দিয়ে হেফাজতে ইসলামের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তাহলে কী করে চলবে? আপনি কি করে বলবেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ এই সরকার। এই রাষ্ট্র। সমাজতন্ত্রকে আপনি সমাজের ন্যায়বিচার বলছেন। সামাজিক ন্যায়বিচার আর সমাজতন্ত্র কি এক কথা হলো? সমাজতন্ত্রটা হচ্ছে আদর্শ, অমর আদর্শ, যে আদর্শের কখনোই মৃত্যু হয় না। আজকে সে আদর্শের বিরুদ্ধে আপনি সামাজিক ন্যায়বিচার করলেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের কথা বলবো না। বলে লাভ নেই কারণ গণতন্ত্র বলে কোনো কিছু আছে বলে আমার মনে হচ্ছে না। আর সবচাইতে বড় যে জায়গাটা, সেটা হলো গণমাধ্যমে যে আজকে প্রতিবাদের কথা, লেখার সাহস থাকা উচিত ছিল, আজ সেই সাহসটি আমাদের নেই কেন? আমরা ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে লিখতে পেরেছি, আইয়ুব খানের এরকম কঠিন মার্শাল ল’-এর বিরুদ্ধে আমরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতর জন্য চিৎকার করতে পেরেছি। আমরা মাওলানা আকরাম খাঁ নিয়ে মিছিল করেছি। এখন কোথায় যায় মিছিল। এখান থেকে সেখানে যায়। আর সেই দিনকার মিছিল সাংবাদিকরা করেছিল তার সঙ্গে মানুষ জমা হয়ে প্রেসক্লাব থেকে আরম্ভ করে বায়তুল মোকারম দিয়ে সদর ঘাট হয়ে চকবাজার হয়ে শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়েছিল। ভাবতে পারেন?
আজকে কোনো রাজনৈতিক দল পর্যন্ত সেই মিছিল করে না। কেন এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে? আজকে ইউনিয়ন না থাকলে শ্রমজীবী মানুষের কাছে যাবেন কী করে? কৃষকের কাছে যাবেনটা কী করে?
তিনি বলেন, আজকে আমরা এই প্রেসক্লাবে বসে ২৩শে মার্চ ৭১ সালে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নে আমরা প্রস্তাব দিলাম, আজ থেকে মার্শাল ল’ রিজিমের কোনো সংবাদ এবং ছবি, প্রেসনোট, কোনো কিছুই সংবাদপত্রে ছাপা হবে না। আজকে ভাবতে পারেন এই কথা বলছি...। আজকের ইউনিয়নগুলো সেইভাবে কোনো শক্তিই দেখাতে পারছে না। আজকে নিজেদের লড়াইটাকে নিজেরা এমনভাবে ইয়ে করেছেন যে সংবাদপত্রের মালিক বা সরকারের কাছে তারা একেবারে নতজানু হয়ে আছে। তাই ‘মুক্তিযুদ্ধ ও গণমাধ্যম’ এই দুটোকে রিলেট করে কথা বলা বড় কষ্টকর।
কামাল লোহানী বলেন, লেলিন, স্ট্যালিন এরা যে পথ ধরে এগিয়ে ছিলেন, সেপথগুলোকে যদি আমরা একেবারই ভুলে বসে থাকি, সে পথে যদি চলবার জন্য চেষ্টা না করি তাহলে আমাদের এই অধঃপতন হবে এবং আরো ক্ষতি হবে এবং কষ্টটা বাড়তেই থাকবে।
About: Bangla Wiki
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হওয়ায় কর্তৃত্ববাদ চেপে বসেছে -জাতীয় অধ্যাপক ড.আনিসুজ্জামান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের অব্যবহিত পর গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর সামরিক ও স্বৈরাচারী শাসকরা রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে এমনকি সংবিধানেও কুঠারাঘাত করে। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা হয়। যা সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থি। রাষ্ট্রধর্ম ও ধর্মনিরপেক্ষতা একসঙ্গে চলতে পারে না। কার্যকর জাতীয় সংসদ ও বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে না।
নির্বাচন বর্জন, সংসদ বর্জন এবং জাতীয় সংসদকে একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপ না দেয়ায় রাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গসমূহ যেমন বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ আজও জনবান্ধব হয়ে ওঠেনি।
অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর কিছু মানুষ তাদের ব্যক্তিস্বার্থ লাভের আশায় ব্যস্ত রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের নাম করে ভ্রান্ত ধারণা যেন আমাদের মধ্যে তৈরি না হয়। মনে রাখতে হবে এতে অকল্যাণ বয়ে আনবে।
আমাদের কল্যাণ রাষ্ট্রের কথা ভাবতে হবে। প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানেই মুক্তিযুদ্ধের কোটা থাকতে হবে- এমনটা না। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর এসে কোটা সংরক্ষণের প্রয়োজন আছে মনি করি না। অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যমের অগ্রসর হতে হবে মানুষের কল্যাণে এবং এই গণমাধ্যমেই মুক্তিযুদ্ধের প্রতিফলন ঘটবে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সম্মান যে জায়গাতে যাওয়া দরকার সেখানে নেই, এখানে গণমাধ্যমের বড় ভূমিকা থাকা দরকার। নানা কারণে আজ মুক্তিযুদ্ধের নামে অনেক কিছু ঘটছে যা আমাদের কাম্য নয়। গণমাধ্যম কি এসব জায়গা থেকে সরে যাচ্ছে সেটা দেখতে হবে। ড. আনিসুজ্জামান বলেন, নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার কতটুকু বাস্তবায়ন, তারা কি তাদের মাতৃভাষায় কথা বলতে পারছেন। রাষ্ট্রের উচিত তাদের মাতৃভাষাকে সংরক্ষণ করা। সমাজের শুধু উন্নয়ন করলেই হবে না- এর বৈষম্য কমাতে হবে।
প্রবীণ সাংবাদিক কামাল লোহানী বলেন, বঙ্গবন্ধুই বলেছেন, ধর্মের নামে রাজনীতি করা যাবে না। অথচ আজ হেফাজতের পরামর্শে পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রগতিশীল ও মুক্তচিন্তার পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে। ফলে সমাজে প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক ভাবধারা শেকড় গেড়ে বসেছে। ধর্মনিরপেক্ষতাকে নস্যাৎ করে মুক্তিযুুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। সম্প্রতি গণমাধ্যমও যেন তাদের সাহস হারিয়ে ফেলছে। তারা সরকার ও মালিকপক্ষের নিকট নতজানু হয়ে পড়ছে।
সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, আজকের বাস্তবতায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জায়গায় গণমাধ্যম আছে কিনা সেটাও তাদের দেখতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সাইবার নিরাপত্তা জরুরি। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কিছু ধারা রয়েছে যা অপপ্রয়োগ করা সহজ এবং হচ্ছেও তাই। ফলে গণমাধ্যম নিজেদের ওপর এক ধরনের ‘ সেল্ফ সেন্সর’ আরোপ করে রেখেছে। আজ আমরা ঋণখেলাপিদের টাকার অঙ্কটা জানি, কিন্তু তাদের নাম জানি না। গণমাধ্যম সামাজিক সাম্য, সমতা, ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্য, দুর্নীতি, নিপীড়ন রোধে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম আজ সেখান থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে কিনা সেটাই আমাদের প্রধান প্রশ্ন, সব থেকে বড় উদ্বেগ। তিনি বলেন, অমর্ত্য সেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। তার যে কথাটি আমরা অনেকেই উদ্ধৃত করি, সেটি আজও মিথ্যা হয়ে যায়নি। তার মতে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা স্বাধীন ভারতে দুর্ভিক্ষ হতে দেয়নি।
মতিউর রহমান চৌধুরী আরো বলেন, দেশের উন্নয়ন ও ডিজিটাল যুগের প্রসারতায় আমরা খুশি। কিন্তু সেই খুশির আভা ফিকে হয়ে যেতে বাধ্য যদি আমরা অনুভব করি, আমাদের বাক-স্বাধীনতাকে আর স্বাগত জানানো হচ্ছে না। বিশ্বের সব যুগে সবকালে মুক্ত সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যমের একটা টানাপড়েন লক্ষ্য করা গেছে। পরিণামে কিন্তু মুক্ত সংবাদ মাধ্যমই জয়ী হয়েছে।
তিনি বলেন, দুর্ভাগ্য না সৌভাগ্য জানি না, এরশাদের জমানায় তার লেখা রিপোর্টের কারণে নতুন কথা, ইত্তেহাদ ও খবরের কাগজ নিষিদ্ধ হয়েছিল।
পত্রিকাটির ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক মাহবুবুল আলম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নতুন কথা সম্পাদক হাজেরা সুলতানা।
About: Bangla Wiki
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
March
(458)
-
▼
Mar 01
(11)
- একাত্তরের পর পাকিস্তান-ভারত বিমানযুদ্ধ এবারই প্রথম...
- ইসরায়েল মানবতাবিরোধী অপরাধ করে থাকতে পারে: জাতিসংঘ
- জম্মু-কাশ্মিরে নিষিদ্ধ হলো জামায়াতে ইসলামী
- ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত 'খুবই প্রশং...
- পাইলটের কাছে পাওয়া গেল কী
- যেভাবে ধরা পড়েন ভারতের পাইলট
- এত কষ্ট নিয়ে কীভাবে বাঁচবে ছোট্ট রামিম by পিয়াস সরকার
- বিমান ছিনতাই নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা- বিমানভ্র...
- রোহিঙ্গা সংকটের রাজনৈতিক সমাধান জরুরি
- মনে হয় সাংবাদিকরা সব দাসানুদাস -কামাল লোহানী
- গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হওয়ায় কর্তৃত্ববাদ চে...
-
▼
Mar 01
(11)
-
▼
March
(458)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...