Sunday, November 21, 2010

গল্পসল্প- 'মুজিব একবার আসিয়া সোনার বাংলা যাওরে দেখিয়ারে' by মোস্তফা হোসেইন

শাহ মোঃ মোজাম্মেল হোসাইন মুরাদ। পিতা- মৌঃ রেয়াছত আলী ফকির। মা- সরফুলের নেছা। গ্রাম- বাড়ানী (মজুমদার বাড়ি)। ব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল্লা। দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন ১৯৭১ সালে। পড়তেন চান্দলা কে বি হাই স্কুলে। বেশ চটপটে ছিলেন।

গ্রামের এবং ধর্মসচেতন পরিবারে জন্ম নেয়ার পরও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ছিল নিবীড় সম্পর্ক। সত্তরের নির্বাচনের আগে কিশোর কণ্ঠে গাইতেন নজরুল-রবীন্দ নাথের দেশাত্দবোধক গান। বিশেষ করে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট আমির হোসেনের নির্বাচনী প্রচারাভিযানে মুরাদের সঙ্গীত পরিবেশন ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। সেভাবেই রাজনীতি মনস্ক হয়ে ওঠেন সে সময়ের কিশোর মুরাদ।

আন্তর্জাতিক- 'ওবামা কি ক্লিনটনের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করবেন?' by সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী

আমেরিকার মধ্যমেয়াদি নির্বাচনের দিন ক্যালিফোর্নিয়ার সেন ডিয়েগো শহরে পেঁৗছালাম। আমাদের দেশের মতো এ দেশে নির্বাচনের দিন ছুটি থাকে না, যে যাঁর মতো কাজ করে যান_শুধু কাজের ফাঁকে একবার ভোট দিয়ে আসেন।

যাঁরা বেশি ব্যস্ত বা যেতে অপারগ, তাঁরা ডাকযোগে ব্যালট পেপার পাঠান।
সন্ধ্যা থেকে নির্বাচনের ফলাফল আসতে শুরু করল। টেলিভিশনের পর্দায় তা দেখানো হলো প্রায় সারা রাত। ভোটাররা প্রেসিডেন্ট ওবামা ও তাঁর দল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে একটা বড় ধাক্কা দিয়েছেন। ওবামাকে সরাসরি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে ভোটাররা তাঁর রাষ্ট্র পরিচালনা ও বিশেষ করে তাঁর অর্থনৈতিক সংস্কারনীতিতে সন্তুষ্ট নন। এই চরম মন্দার কালে ভোটাররা তাঁদের চাকরি ও বাড়ি হারাচ্ছেন রেকর্ড-গতিতে। সেখানে ওবামার বিভিন্ন পরিকল্পনা তাঁদের কোনো সহায়তা দিতে পারেনি। তাঁরা নিম্নকক্ষ বা হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসের গরিষ্ঠতা রিপাবলিকান পার্টিকে আবারও ফিরিয়ে দিয়েছেন।

কৃষি আলোচনা- 'পোষের শেষ মাঘের বারো' by ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস

'পোষের শেষ মাঘের বারো, এর মধ্যে শাইল বোরো যত পারো।' খনার বচন। বিশেষ এক বোরো ধানের জন্য এটাই ছিল খনার প্রেসক্রিপশন। তিনি এই সময়ের মধ্যে ধানের জাতটি লাগিয়ে ফেলতে বলেছেন।

আমাদের চাষিরাও এ সময় বোরো নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কোথাও লাগানো হয়ে যায়। কোথাও আবার বীজতলায় চারা থাকে। ধান গবেষণার প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী জাতভেদে পৌষের শেষ পর্যন্ত বোরো লাগানো যায়। পৌষের শেষ আর মাঘের আধা; এই সময়ে বেশি শীত পড়ার কথা। তাহলে খনা কেন এ সময়ের ভেতরেই শাইল-বোরো লাগাতে বলেছেন।

মণিপুরি মহা রাসলীলা উৎসবের ইতিকথা by মুজিবুর রহমান

রস শব্দ থেকেই রাস শব্দের উৎপত্তি। রস আস্বাদনের জন্য রাধা-কৃষ্ণের লীলানুকরণে নৃত্যগীতের মাধ্যমে যে উৎসব উদ্যাপন করা হয়, তা-ই রাসোৎসব। নৃত্য-সংগীত্রে

মণিপুরিদের প্রাচীন জাতীয় লোকনৃত্য ‘লাই হারাওবা’ থেকেই রাসনৃত্যের সৃষ্টি। মণিপুরিদের সম্প্রদায়ের মহারাস বলতে প্রেমরসকে বোঝানো হয়। এ লীলার অনেক তাৎপর্য রয়েছে। প্রায় এক মাস আগ থেকেই চলে রাস উৎসবের প্রস্তুতি। মণিপুরি সম্প্রদায়ের বাড়ি বাড়ি কুমারী-কিশোরদের রাসলীলায় অংশ নেওয়ার জন্য নৃত্য ও সংগীতের তালিম নেওয়ার ধুম পড়ে যায়।

প্রকৃতি- সমুদ্রে উষ্ণতা বৃদ্ধি প্রবাল মড়ক

প্রবাল প্রাচীর যেমন মুগ্ধতা আনে পর্যটকের মনে, সমুদ্র ভ্রমণে তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য আর অনেক সামুদ্রিক প্রাণীর অস্তিত্বও এর ওপরেই নির্ভরশীল।

কিন্তু সম্প্রতি সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে মড়ক লেগেছে প্রবাল প্রাচীরে। মাইলের পর মাইল জুড়ে থাকা পরিবেশের রক্ষক এই সমুদ্র দেয়ালের নিযুত নির্মাতার মৃতু্য ঘটেছে। সমপ্রতি অস্ট্রেলিয়ান গবেষকরা জানিয়েছেন, ২০১০ সালটি কোরাল বা সামুদ্রিক প্রবালদের জন্য আক্ষরিক অর্থেই খুব বাজে বছর। তারা বলেছেন, এ বছরে সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে দেখা দেয়া বিবিধ সংকটে 'কোরাল বিস্নচিং' বা প্রবালদের ক্রমশ সাদাটে হয়ে মরে যাওয়ার প্রবণতাটি ভয়াবহ হারে বেড়েছে।

মণিপুরি রাসমেলা উৎসব by আকমল হোসেন নিপু

কার্তিকের হালকা কুয়াশামোড়া ভোর। সেই কুয়াশার চাদর সরিয়ে ভোরের আলো ফোটামাত্রই অন্য এক দিন, অন্য রকম কোলাহল, হইচই। নিভৃত পল্লীর শান্ত পরিবেশে যা সম্পূর্ণ আলাদা।

নানা বয়সের শত শত মানুষ, হাজার হাজার মানুষ একটি স্থির গন্তব্যের দিকে ছুটছেন। ধুলো ওড়া বাতাসে ভাসছে মৃদঙ্গ, ঢোল, কাঁসরঘণ্টা, বাঁশির সুরতরঙ্গ। সম্পূর্ণ নতুন সাজে প্রাণচঞ্চল পুরো এলাকা। আর দিন শেষে রোদের রং মুছে গেলেই গাছের পাতায়, ধানের শীষে, খোলা মাঠে, ঘরের চালে লুটিয়ে পড়বে রাসপূর্ণিমার মন আলাভোলা করা আলো। সেই জোছনায় ভাসবে গ্রাম, ভাসবে মানুষ...। যেন এই একটা দিন, একটা রাত্তিরের জন্যই উত্সবপ্রাণ মানুষের অপেক্ষা ছিল, পথচেয়ে কেটেছে সারা বছর।

যুক্তি তর্ক গল্পালোচনা- 'মডার্ন হাম্মুরাবি এবং কাঠের ঘোড়া' by আলমগীর সাত্তার

১৫-২০ বছর আগে এথেন্স শহরের বিখ্যাত ঐতিহাসিক আত্তিকা ওদিয়ন থিয়েটার প্রাঙ্গণে মডার্ন ইউলিসিস নামের হাস্যরসাত্মক একটি নাটক দেখেছিলাম।

হোমারের ইলিয়াড মহাকাব্যের অন্যতম প্রধান চরিত্র ছিলেন গ্রিসের ইথিকা রাজ্যের রাজা ইউলিসিস। ট্রয়ের যুদ্ধের কাঠের ঘোড়া তৈরি করার পরিকল্পনাটি ছিল সেনাপতি ইউলিসিসের। ইউলিসিস গ্রিকদের কাছে খুব প্রিয় চরিত্র হলেও সে ছিল একজন প্রতারক। সম্মুখযুদ্ধে এবং ১২ বছর অবরোধ করে রেখেও গ্রিকরা ট্রয়ের দুর্গ দখল করতে পারল না। তখন ইউলিসিসের বুদ্ধিতে গ্রিকরা বিশাল একটি কাঠের ঘোড়া তৈরি করল এবং ভান করল, তারা গ্রিসে ফিরে যাচ্ছে। এরপর আর পুরো গল্প লেখার প্রয়োজন নেই।

আলোচনা- 'কারাগার থেকে সংশোধনাগার প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ' by দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু

দেশের অন্ধকার কারা প্রকোষ্ঠগুলোয় অবশেষে মনে হয় কিছু আলোর রেখা ফুটে উঠছে। এমনিতে দেশের কারাচিত্র দীর্ঘকাল ধরেই হতাশাব্যঞ্জক।

'অপরাধীরা নিয়ন্ত্রণ করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার', 'ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মাদক ব্যবসা চলছে প্রকাশ্যে', 'চট্টগ্রাম কারাগারে সন্ত্রাসীদের হাতে মোবাইল!', 'ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অবাধে মাদক ঢোকে, আসক্ত প্রায় এক হাজার', 'জেলখানাগুলোতে কী চলছে?', 'খাবার ও সেলকে ঘিরে কারাগারে রমরমা বাণিজ্য', 'কারা হাসপাতাল ঘিরে হাতবদল হয় লাখ লাখ টাকা' ইত্যাদি শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদগুলো আমাদের বহুল পঠিত।

শিল্প-অর্থনীতি 'ক্ষুদ্রঋণের বিড়ম্বনা' by আহমদ রফিক

ক্ষুদ্র ঋণদান-ব্যবস্থা 'মাইক্রো ক্রেডিট সিস্টেম' নিয়ে অনেক দিন ধরেই লেখালেখি চলছে পত্রপত্রিকায়, সাময়িকীতে, কখনো কথিত 'টক শো'তে। মূলত এর ভালো-মন্দ নিয়ে, পক্ষে-বিপক্ষে।

'বিপক্ষে' কথাটা বোধ হয় ঠিক হলো না। এ সম্বন্ধে আমার প্রাথমিক আগ্রহ ছিল রবীন্দ্রনাথের 'কৃষি ব্যাংকে'-এর কারণে। পরে ভূমিহীন কৃষকদের সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে গঠিত দু-একটি সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, প্রাসঙ্গিক দুটি আন্তর্জাতিক চরিত্রের সেমিনারে উপস্থিতির (অবশ্য ঢাকায়) সুবাদে এ বিষয়ে বিশদ জানার আগ্রহ তৈরি হয়। সে জানার চেষ্টা আমার জন্য হতাশার। আর সেই সঙ্গে দুঃখ প্রগতিবাদী নামের পরিচিত আমাদের কিছুসংখ্যক মানুষের ভোলপাল্টানো চরিত্র দেখে।

আন্তর্জাতিক- 'চীন ও দুর্লভ ধাতু নিয়ে উদ্বেগ' by পিটার কাস্টার্স

ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিবাদের সূত্রপাত। পরে যে আন্তর্জাতিক শোরগোল উঠল, তার সঙ্গে এই ঘটনার প্রত্যক্ষ কোনো সম্পর্ক ছিল না।

গত ৭ সেপ্টেম্বর তাইওয়ানের উত্তর-পূর্বে সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের অদূরে একটি চীনা ট্রলার জাপানের উপকূলপ্রহরীদের নৌকার সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। এখানকার ছোট ছোট দ্বীপ বর্তমানে জাপানের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু ১৯৭০-এর দশক থেকেই চীন দ্বীপগুলোর ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি করে আসছে। সেদিনের ঘটনায় জাপান চীনা ট্রলারটির ক্যাপ্টেনকে আটক করে।

আলোচনা- 'সুশাসন-সহায়ক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো' by এ এম এম শওকত আলী

বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় না। কেন হয় না, তার কারণ কারও জানা নেই। এ ধরনের বৈঠক হয় দাতাগোষ্ঠী ও সরকারের মধ্যে।

বৈঠকে বিদেশি সাহায্যপুষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। ৭ নভেম্বরের বৈঠকে দাতাগোষ্ঠী বলেছে, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তারা অধিকতর অগ্রগতি দেখতে আগ্রহী। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য উন্নয়ন সহযোগীরা দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, জনপ্রশাসনসহ গণতন্ত্র সুসংহত করার প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিকতর শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়েছে। অর্থাৎ সরকারের বাইরে সব ধরনের কমিশন বা প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর সহযোগীরা গুরুত্ব আরোপ করেছে।

খবর ও ফিচার- 'মুক্তি পেল নীলকণ্ঠ পাখি' by শরীফ খান

চিৎকার-চেঁচামেচিতে পটু যে কটি উল্লেখযোগ্য পাখি আছে বাংলাদেশে, তার মধ্যে সেরা বোধ হয় নীলকণ্ঠ পাখি। চমৎকার নীলরঙা এই পাখিটি কারণে-অকারণে উত্তেজনায় ভোগে সর্বক্ষণ।

চরাচর সচকিত করে, চেঁচামেচি করে আর ওড়াউড়ি করে। চোখে এদের সর্বক্ষণ লেগে থাকে একটা ভয়-ভয় ভাব ও সতর্কতা। অতিশয় ধুরন্ধর, প্রখর দৃষ্টিসম্পন্ন এই পাখিটি অনেক উঁচুতে বসেও মাটি-ঘাসবন-ধানখেতে একটি ছোট পতঙ্গের নড়াচড়া দেখতে পায়। তালের পাতা, বিদ্যুতের তার, খুঁটি বা উঁচু কোনো গাছের ডালে বসে নজর বোলায় চারদিকে। শিকার নজরে পড়লেই ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকড়াও করে।

প্রকৃতি- 'বাংলাদেশে জীবিকা হারানো মানুষের ‘অগত্যা বাস্তুচ্যুতি’ by আহসান উদ্দিন আহমেদ ও শরমিন্দ নীলোর্মি

জলবায়ু পরিবর্তন একটি বাস্তবতা। যত সময় গড়াতে থাকবে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত ততই অনুভূত হতে থাকবে এবং তা কেবল কিছু নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমায় আবদ্ধ না থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।

এ কথা আজ সর্বজনবিদিত যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ ওপরের দিকেই অবস্থান করবে। আইপিসিসি বহু গবেষণার ফলাফল উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে দরিদ্র দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সেখানকার দরিদ্র মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হবে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় প্রথম সারির দেশের একটি হলো বাংলাদেশ। প্রশ্ন হলো, জলবায়ুতাড়িত বিপুলসংখ্যক দরিদ্রকে নিয়ে কীভাবে একটি অগ্রসর মধ্য-আয়ের দেশ হবে বাংলাদেশ?