Showing posts with label কানাডা. Show all posts
Showing posts with label কানাডা. Show all posts

Thursday, June 25, 2026

বিশ্বের দীর্ঘতম সীমান্ত কোনটি by শিউলী সুলতানা

বিশ্বের দীর্ঘতম স্থল সীমান্ত কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অবস্থিত। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৮ হাজার ৮৯১ কিলোমিটার। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, এটা বেশ সাধারণ একটা সীমান্ত। পরিষ্কার এবং একদম সোজা। কিন্তু একটু কাছে থেকে দেখলেই বুঝবে, এই আঞ্চলিক সীমানা আসলে অদ্ভুত রকমের জটিল। এর গভীরে লুকিয়ে আছে অদ্ভুত সব ভুল আর মজার ইতিহাস।

আমেরিকা-কানাডা সীমান্তের দুটি প্রধান অংশ আছে। একটা হলো সেই লম্বা সীমান্ত, যার দক্ষিণে আছে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড। আরেকটা হলো উল্লম্ব সীমানা, যা আলাস্কা আর কানাডার মধ্যে মহাদেশের সুদূর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।

অনুভূমিক সীমান্তের একটা বড় অংশ বেশির ভাগ বিশ্বমানচিত্রে অবিশ্বাস্য রকম সোজা দেখায়। বিশেষ করে লেক অব দ্য উডস থেকে বাউন্ডারি বে পর্যন্ত ২ হাজার ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশটা মনে হয় একদম নিখুঁতভাবে ৪৯তম সমান্তরাল অক্ষ রেখা বরাবর চলে গেছে। উত্তর গোলার্ধে পৃথিবীকে ঘিরে যে অনেকগুলো কাল্পনিক বৃত্ত আঁকা থাকে, ৪৯তম সমান্তরাল রেখা সেগুলোর মধ্যে একটি। পৃথিবীর নিরক্ষরেখাকে ধরে ওপরের দিকে ৯০ ডিগ্রি পর্যন্ত ধরা হয়। নিরক্ষরেখা থেকে ৪৯ ডিগ্রি উত্তরে যে অক্ষাংশের রেখা আছে, তাকেই বলে ৪৯তম সমান্তরাল অক্ষ রেখা।

কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটা একদমই আলাদা। মাটির ওপর দাঁড়িয়ে দেখলে দেখা যাবে, সীমানাটা আঁকাবাঁকা। এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে আমেরিকা-কানাডা সীমান্ত আসলে ৪৯তম সমান্তরাল অক্ষ রেখা থেকে কয়েক শ মিটার সরে গেছে। সাধারণত এতে কোনো সমস্যা হয় না, কিন্তু মাঝেমধ্যে জটিলতা তৈরি করে।

একটা মজার উদাহরণ দিই। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে জানা গেল, কানাডার আলবার্টার কাউটস শহরটা আমেরিকার সীমানার ভেতরে প্রায় ৩৬৩ মিটার ঢুকে আছে! এমন ছোটখাটো ভুল পুরো সীমান্তজুড়েই ছড়িয়ে আছে। হিসাব করে দেখা গেছে, ভুল করে কানাডা আসলে আমেরিকার অংশের প্রায় ৬৭ বর্গকিলোমিটার জায়গা দখল করে বসে আছে।

কিন্তু কেন এমন ভুল হলো? এর কারণ লুকিয়ে আছে অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে। তখন স্যাটেলাইট বা জিপিএস ছিল না। ছিল না ওই এলাকার কোনো ভালো মানচিত্রও। ১৮০৩ সালে আমেরিকা যখন লুইজিয়ানা কিনে নিল, তখন ব্রিটিশ আর মার্কিনরা মিলে ঠিক করল, নদীর প্রবাহ দেখে সীমানা ঠিক করবে। কিন্তু বাস্তবে গিয়ে দেখা গেল, ওখানকার জমি এত সমতল যে নদীর পানি কোন দিকে গড়ায়, সেটাই বোঝা দায়!

ভেজাল এড়াতে তারা ঠিক করল, সোজা ৪৯তম প্যারালাল বরাবর দাগ টেনে সীমানা দেওয়া হবে। তারা জানতও না, ওই কাল্পনিক দাগের নিচে আসলে কী আছে? পাহাড়, নদী না জঙ্গল? লন্ডনে বসে ম্যাপ আঁকিয়েরা আন্দাজে দাগ টেনে দিয়েছিল এক অজানা দুনিয়ার ওপর।

পুরোনো আমলের সেই নড়বড়ে যন্ত্র আর আন্দাজে টানা দাগের খেসারত আজও মানুষকে দিতে হচ্ছে।

সেই ভুলের মাশুল দিতে তৈরি হলো অদ্ভুত সব দ্বীপ। ওয়াশিংটনের পয়েন্ট রবার্টসের কথাই ধরো। এটা আমেরিকার অংশ, কিন্তু আমেরিকার মূল ভূখণ্ড থেকে সেখানে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই! নিজের দেশে যেতে হলে আমেরিকানদের আগে কানাডায় ঢুকতে হবে, তারপর সেখান থেকে গাড়ি চালিয়ে যেতে হবে পয়েন্ট রবার্টসে।

একই অবস্থা মিনেসোটার নর্থওয়েস্ট অ্যাঙ্গেলে। লন্ডনের ম্যাপ আঁকিয়েদের সামান্য ভুলে এই জায়গাটা কানাডা দিয়ে পুরোপুরি ঘেরা হয়ে গেছে। তবে ভালো খবর হলো, আমেরিকা আর কানাডা ঐতিহাসিকভাবে বন্ধু দেশ। সীমানা নিয়ে তাদের এই অদ্ভুত জগাখিচুড়ি অবস্থা থাকলেও, এটা নিয়ে তারা যুদ্ধ বাধায় না। মানচিত্রের ওই আঁকাবাঁকা দাগ আর ভুলগুলো তাই ইতিহাসের এক মজার কৌতুক হয়েই টিকে আছে।

সূত্র: আইএফএল সায়েন্স

বিশ্বের দীর্ঘতম সীমান্ত কোনটি

Friday, February 27, 2026

কখনো বরফ, কখনো ঝুম বৃষ্টি, কখনো মিষ্টি রোদ—দেখুন একই জায়গার ১২ মাসের ১২ রূপ

দেশ থেকে কানাডায় আসার পর খুব মন খারাপ থাকত সাখাওয়াত হোসেনের। ম্যানিটোবা অঙ্গরাজ্যের উইনিপেগে তাঁর বাসার পাশ ঘেঁষেই বয়ে গেছে সেইন নামের ছোট্ট এক নদী। মন খারাপ হলেই সেই নদীর ধারে গিয়ে বসতেন। এমনই একদিন একটা গাছের সঙ্গে সাক্ষাৎ তাঁর। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রকৃতি পরিবর্তনের সময়ই এই গাছের বদলে যাওয়া রূপ চোখে পড়ল সাফাত নামে পরিচিত এই তরুণ আলোকচিত্রীর। হুট করে মনে হলো, বছরচক্রে এই গাছের সঙ্গে প্রকৃতির নানা রূপের বদলে যাওয়া ছবি তুলে রাখলে কেমন হয়? সেই ভাবনা থেকেই শুরু করলেন গাছের বছরচক্রের ছবি তোলার। ১২ মাসের ১২ ছবিতে দেখুন সেই গল্পই।

এপ্রিল

প্রথম ছবিটা তোলা এপ্রিল মাসে। উদ্দেশ্যহীন হাঁটাহাঁটির একপর্যায়ে দেখলাম, বরফ সব গলে গেছে, কানাডা গুজ বা কানাডা রাজহংসী ফিরে এসে নদীতে মনের আনন্দে সাঁতার কাটছে। হুট করেই দৃশ্যটা ভালো লাগে, কিন্তু পরেরবার হাঁটতে গিয়ে কী আবিষ্কার করব, সেটা তখনো আমার ভাবনায় আসেনি
প্রথম ছবিটা তোলা এপ্রিল মাসে। উদ্দেশ্যহীন হাঁটাহাঁটির একপর্যায়ে দেখলাম, বরফ সব গলে গেছে, কানাডা গুজ বা কানাডা রাজহংসী ফিরে এসে নদীতে মনের আনন্দে সাঁতার কাটছে। হুট করেই দৃশ্যটা ভালো লাগে, কিন্তু পরেরবার হাঁটতে গিয়ে কী আবিষ্কার করব, সেটা তখনো আমার ভাবনায় আসেনি
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন

মে

খুব সম্ভবত মে মাসের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে তোলা ছবি এটা। ধূসর-মরা গাছ ভেদ করে সবুজ ঘাস নিজেদের রাজত্ব করে নিচ্ছে সদর্পে, গাছটাও সবুজে ভরে উঠেছে, সামনে নদীর জল ছুঁইছুঁই গাছেও দেখা দিয়েছে সবুজ পাতা। হঠাৎ করে দেখলে সত্যিই বোঝার উপায় থাকে না যে প্রকৃতির রূপের পরিবর্তন সবকিছু এত বদলে দিতে পারে। এই সময়ই জায়গাটার বছরচক্র শুরু করার ভূত মাথায় চাপে
খুব সম্ভবত মে মাসের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে তোলা ছবি এটা। ধূসর-মরা গাছ ভেদ করে সবুজ ঘাস নিজেদের রাজত্ব করে নিচ্ছে সদর্পে, গাছটাও সবুজে ভরে উঠেছে, সামনে নদীর জল ছুঁইছুঁই গাছেও দেখা দিয়েছে সবুজ পাতা। হঠাৎ করে দেখলে সত্যিই বোঝার উপায় থাকে না যে প্রকৃতির রূপের পরিবর্তন সবকিছু এত বদলে দিতে পারে। এই সময়ই জায়গাটার বছরচক্র শুরু করার ভূত মাথায় চাপে
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন

জুন

জুন, বছরের সবচেয়ে বড় দিন। উইনিপেগে এই সময় সূর্যাস্ত হয় প্রায় রাত ১০টায়। সূর্যালোক বেশিক্ষণ পেয়েই কি চারদিকে এত প্রাণের সঞ্চার হয়? নদীর ধার ঘেঁষে জংলা বাড়তে থাকে, গাছগুলোও তরতরিয়ে বড় হতে থাকে। এই সময়টায় সত্যিই বিশ্বাস করা কঠিন যে এই জায়গাটাই একসময় বরফের সাদা চাদরে ঢাকা ছিল
জুন, বছরের সবচেয়ে বড় দিন। উইনিপেগে এই সময় সূর্যাস্ত হয় প্রায় রাত ১০টায়। সূর্যালোক বেশিক্ষণ পেয়েই কি চারদিকে এত প্রাণের সঞ্চার হয়? নদীর ধার ঘেঁষে জংলা বাড়তে থাকে, গাছগুলোও তরতরিয়ে বড় হতে থাকে। এই সময়টায় সত্যিই বিশ্বাস করা কঠিন যে এই জায়গাটাই একসময় বরফের সাদা চাদরে ঢাকা ছিল
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন

জুলাই

বৃষ্টি এখানে ঠিক বাংলাদেশের মতো ঝমঝমিয়ে আসে না। কেন যেন এখানে বৃষ্টি এলেই আমার স্ত্রী শিখা আর আমি খুঁজতে বসি যে আজকের বৃষ্টিটা বাংলাদেশের মতো। তেমনই এক ঝুম বৃষ্টির দিন ছাতা মাথায় চলে গেলাম ছবি তুলতে। জুলাই মাস আবার বাংলাদেশের শ্রাবণ মাসের শুরু। মিল খুঁজছিলাম বলেই কি না জানি না, জুলাইয়ের জন্য প্রিয় বৃষ্টির ছবিটাই পেয়ে গেলাম
বৃষ্টি এখানে ঠিক বাংলাদেশের মতো ঝমঝমিয়ে আসে না। কেন যেন এখানে বৃষ্টি এলেই আমার স্ত্রী শিখা আর আমি খুঁজতে বসি যে আজকের বৃষ্টিটা বাংলাদেশের মতো। তেমনই এক ঝুম বৃষ্টির দিন ছাতা মাথায় চলে গেলাম ছবি তুলতে। জুলাই মাস আবার বাংলাদেশের শ্রাবণ মাসের শুরু। মিল খুঁজছিলাম বলেই কি না জানি না, জুলাইয়ের জন্য প্রিয় বৃষ্টির ছবিটাই পেয়ে গেলাম
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন

আগস্ট

আগস্ট। সামারের শেষ কটা দিন, যতটা প্রাণভরে সবুজ দেখা যায়, যতটা সময়টা উপভোগ করা যায়—সেই বার্তাটাই মনে আসে তখন বারবার। সবুজের শেষ কটা দিনের একদিনই তুলে রাখলাম আমার বছরচক্রের ডায়েরিতে
আগস্ট। সামারের শেষ কটা দিন, যতটা প্রাণভরে সবুজ দেখা যায়, যতটা সময়টা উপভোগ করা যায়—সেই বার্তাটাই মনে আসে তখন বারবার। সবুজের শেষ কটা দিনের একদিনই তুলে রাখলাম আমার বছরচক্রের ডায়েরিতে
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন

সেপ্টেম্বর

সামনের পাতা ঝরে যাওয়া গাছটা দেখেই সেপ্টেম্বরের ছবি তুলতে গিয়ে মনটা খারাপ হয়ে গেল। পেছনের গাছটাও হলুদ হতে শুরু করেছে একটু একটু করে। মে মাসে যেমন সবুজ পাতা নিজেদের রাজত্ব গড়ে নিচ্ছিল, এবার যেন সেই রাজত্ব আবার ধূসর ঘাসের হাতে তুলে দেওয়ার পালা
সামনের পাতা ঝরে যাওয়া গাছটা দেখেই সেপ্টেম্বরের ছবি তুলতে গিয়ে মনটা খারাপ হয়ে গেল। পেছনের গাছটাও হলুদ হতে শুরু করেছে একটু একটু করে। মে মাসে যেমন সবুজ পাতা নিজেদের রাজত্ব গড়ে নিচ্ছিল, এবার যেন সেই রাজত্ব আবার ধূসর ঘাসের হাতে তুলে দেওয়ার পালা
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন

অক্টোবর

প্রকৃতি পরিবর্তনের ধাক্কাটা ঠিক মে মাসের মতো অক্টোবরে এসেও খুব ভালোভাবে লাগল। গত মাসের সবুজ-হলুদ গাছটা পুরোটাই হলুদে রূপ নিয়েছে তখন। সবুজ ঘাসের সংখ্যাও যেন হাতে গোনার মতো। শীত আসি আসি করছে...
প্রকৃতি পরিবর্তনের ধাক্কাটা ঠিক মে মাসের মতো অক্টোবরে এসেও খুব ভালোভাবে লাগল। গত মাসের সবুজ-হলুদ গাছটা পুরোটাই হলুদে রূপ নিয়েছে তখন। সবুজ ঘাসের সংখ্যাও যেন হাতে গোনার মতো। শীত আসি আসি করছে...
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন

নভেম্বর

তুষারপাত শুরু হয়ে গেল নভেম্বরে। এখানে যে একটি নদী কিংবা পানির অস্তিত্ব আছে, সেটা ভুলিয়ে দিতেই পুরো নদীই যেন শুভ্র-সাদা চাদরে ঢাকা পরছে। ছবিতে ঠিক বোঝা যাচ্ছে কি না জানি না, কিন্তু যখন এই ছবি তুলছিলাম, তখন একটু একটু করে ঘাসগুলো বরফে ঢেকে পরেছে, দেখতে কেমন যেন এক অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করছিল
তুষারপাত শুরু হয়ে গেল নভেম্বরে। এখানে যে একটি নদী কিংবা পানির অস্তিত্ব আছে, সেটা ভুলিয়ে দিতেই পুরো নদীই যেন শুভ্র-সাদা চাদরে ঢাকা পরছে। ছবিতে ঠিক বোঝা যাচ্ছে কি না জানি না, কিন্তু যখন এই ছবি তুলছিলাম, তখন একটু একটু করে ঘাসগুলো বরফে ঢেকে পরেছে, দেখতে কেমন যেন এক অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করছিল
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন

ডিসেম্বর

ডিসেম্বরের তীব্র ঠান্ডায় যেন গাছটাও কাবু হয়ে গেছে। বরফ জমা হতে হতে ধূসর ঘাসও ঢাকা পরে যাচ্ছে। গাছের ডালপালা, পাতায় সাদা বরফ জায়গা করে নিয়েছে
ডিসেম্বরের তীব্র ঠান্ডায় যেন গাছটাও কাবু হয়ে গেছে। বরফ জমা হতে হতে ধূসর ঘাসও ঢাকা পরে যাচ্ছে। গাছের ডালপালা, পাতায় সাদা বরফ জায়গা করে নিয়েছে
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন

জানুয়ারি

বরফের যেন আর শেষ নেই। সবকিছু বরফের চাদরে মুড়িয়ে দিয়ে আগামী কয়েক মাস শুভ্রসাদা বরফই হবে সবকিছুর রাজা, জানুয়ারির ছবি আর তাপমাত্রা দুটোই এই কথাই বলে
বরফের যেন আর শেষ নেই। সবকিছু বরফের চাদরে মুড়িয়ে দিয়ে আগামী কয়েক মাস শুভ্রসাদা বরফই হবে সবকিছুর রাজা, জানুয়ারির ছবি আর তাপমাত্রা দুটোই এই কথাই বলে
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন
১১

ফেব্রুয়ারি

বরফের স্তূপ জমা হতে হতে এতটাই শক্ত হয়ে গেছে যে হেঁটে নদী পার হওয়া কোনো ব্যাপারই না। ফেব্রুয়ারির ছবি তুলতে গিয়ে জুতার ছাপগুলো যেন সেই কথাই বারবার মনে করিয়ে দেয়। এই সময়টার মজার একটা স্মৃতি হলো, গাড়ি কেনার পর প্রথম গাড়ি নিয়ে গেলাম নদীর ধারে। কিন্তু সেই খুশি খুব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; কারণ, সেখান থেকে আসার পরপরই ঠান্ডায় গাড়ির ব্যাটারি বসে গিয়েছিল
বরফের স্তূপ জমা হতে হতে এতটাই শক্ত হয়ে গেছে যে হেঁটে নদী পার হওয়া কোনো ব্যাপারই না। ফেব্রুয়ারির ছবি তুলতে গিয়ে জুতার ছাপগুলো যেন সেই কথাই বারবার মনে করিয়ে দেয়। এই সময়টার মজার একটা স্মৃতি হলো, গাড়ি কেনার পর প্রথম গাড়ি নিয়ে গেলাম নদীর ধারে। কিন্তু সেই খুশি খুব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; কারণ, সেখান থেকে আসার পরপরই ঠান্ডায় গাড়ির ব্যাটারি বসে গিয়েছিল
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন
১২

মার্চ

মার্চ মাস, তাপমাত্রা একটু একটু করে বাড়তে থাকা আর বরফ একটু একটু করে গলার সময়। দুটোই চলতে থাকে সমানতালে। পাখিরাও ফিরে আসছে বসন্তের আগমনী ঘ্রাণ পেয়ে
মার্চ মাস, তাপমাত্রা একটু একটু করে বাড়তে থাকা আর বরফ একটু একটু করে গলার সময়। দুটোই চলতে থাকে সমানতালে। পাখিরাও ফিরে আসছে বসন্তের আগমনী ঘ্রাণ পেয়ে
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন

Monday, January 26, 2026

চীন এক বছরের মধ্যেই কানাডাকে গিলে ফেলবে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রকল্প প্রত্যাখ্যান করায় কানাডার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত নিরাপত্তার বদলে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বেছে নিলে বেইজিং এক বছরের মধ্যেই কানাডাকে ‘গিলে ফেলবে’। ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, কানাডা গ্রিনল্যান্ডের ওপর ‘গোল্ডেন ডোম’ নির্মাণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অথচ এই গোল্ডেন ডোম কানাডাকেও সুরক্ষা দিত। এর বদলে তারা চীনের সঙ্গে ব্যবসা করার পক্ষে ভোট দিয়েছে- যে চীন এক বছরের মধ্যেই তাদের ‘গিলে ফেলবে’!

যুক্তরাষ্ট্র ও তার উত্তরে অবস্থিত প্রতিবেশী কানাডার মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন। সম্প্রতি দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে (ডব্লিউএফএ) কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনির বক্তব্যের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও টানাপড়েনে পড়েছে। এ খবর দিয়েছে ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই। বুধবার ডব্লিউইএফের ৫৬তম বার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কারনির সমালোচনা করেন ট্রাম্প এবং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া নানা ফ্রি সুবিধা, বিশেষ করে নিরাপত্তা সুরক্ষার জন্য কানাডার আরও কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত।

ট্রাম্প বলেন, কানাডা আমাদের কাছ থেকে অনেক ফ্রি সুবিধা পায়। তাদের কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। কিন্তু তারা তা নয়। আমি তোমাদের প্রধানমন্ত্রীকে দেখেছি, তিনি মোটেও কৃতজ্ঞ ছিলেন না। তাদের আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, তার প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কানাডাকেও সুরক্ষা দেবে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই কানাডা টিকে আছে। মার্ক, পরেরবার যখন তুমি এমন বক্তব্য দেবে, তখন এটা মনে রেখো।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য ছিল মূলত কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনিকে লক্ষ্য করে। ডব্লিউইএফএতে দেয়া কারনি বলেন, বিশ্ব এখন মহাশক্তির প্রতিযোগিতার যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে তিনি শুল্ককে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিরোধিতা করেন, যা গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রশ্নে ওয়াশিংটনের আর্থিক চাপ প্রয়োগের প্রতি এক ধরনের পরোক্ষ ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।

১৭ জানুয়ারি চীনের সঙ্গে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি। তিনি বলেন, এই চুক্তি কানাডার ব্যবসা ও শ্রমিকদের জন্য নতুন বাজার খুলে দেবে। এক্সে দেয়া এক পোস্টে কারনি লিখেছেন, আমরা চীনের সঙ্গে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করেছি। এর মাধ্যমে কানাডার শ্রমিক ও ব্যবসার জন্য ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি বাজার উন্মুক্ত হবে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, একটি আরও বিভক্ত ও অনিশ্চিত বিশ্বে কানাডা একটি শক্তিশালী, আরও স্বাধীন ও স্থিতিশীল অর্থনীতি গড়ে তুলছে। সে লক্ষ্যে নতুন সরকার দ্রুত ও দৃঢ়ভাবে বাণিজ্য অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করছে এবং ব্যাপক বিনিয়োগে গতি আনছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে চীন এই লক্ষ্য পূরণে কানাডার জন্য বিশাল সুযোগ এনে দেয়।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর আরোপিত ১০০ শতাংশ শুল্ক কমানোর বিনিময়ে কানাডা কৃষিপণ্যের ওপর চীনের শুল্ক হ্রাসে সম্মত হয়েছে। কারনি জানান, প্রাথমিকভাবে বছরে সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি কানাডায় আমদানির অনুমতি দেয়া হবে, যা পাঁচ বছরে বেড়ে প্রায় ৭০ হাজারে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে চীন কানাডার গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য ক্যানোলা বীজের ওপর শুল্ক ৮৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে প্রায় ১৫ শতাংশে নামাবে। কারনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীন এখন কানাডার জন্য বেশি পূর্বানুমানযোগ্য অংশীদার।

বর্তমানে কানাডার পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এছাড়া আমদানি করা ধাতুর ওপর ৫০ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে উৎপাদিত গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কের প্রভাবেও পড়ছে কানাডা। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একে অপরের বিরুদ্ধে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর চীনা পণ্যের একটি অংশের ওপর শুল্ক ২০২৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

mzamin

Monday, September 22, 2025

ফিলিস্তিনকে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার স্বীকৃতির গুরুত্ব কতটা

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হলো শিল্পোন্নত দুই দেশ যুক্তরাজ্য ও কানাডা। শিগগিরই এ তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আরেক প্রভাবশালী পশ্চিমা দেশ ফ্রান্স। এটা হলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্যদেশের মধ্যে চারটি দেশেরই স্বীকৃতি পাবে ফিলিস্তিন। এর আগে ১৯৮৮ সালে অন্য দুই স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

আজ যুক্তরাজ্য ও কানাডার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়াও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্যদেশের প্রায় ৭৫ শতাংশের স্বীকৃতি পেল ফিলিস্তিন। এখন প্রশ্ন হলো, এ স্বীকৃতির অর্থ কী বা এটি কি বাস্তবে ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য কোনো পরিবর্তন বয়ে আনতে পারে?

আসলে ফিলিস্তিন এমন একটি রাষ্ট্র, যার বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনের কূটনৈতিক মিশন রয়েছে। অলিম্পিকের মতো ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়ও অংশ নেয় ফিলিস্তিন। জাতিসংঘের স্থায়ী পর্যবেক্ষক সদস্যও তারা। তবে ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান দীর্ঘ সংঘাতের কারণে ফিলিস্তিনের কোনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা, রাজধানী বা সেনাবাহিনী নেই।

ইসরায়েলি দখলদারির মুখে নব্বইয়ের দশকে পশ্চিম তীর শাসনের জন্য ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ (পিএ) গঠন করা হয়েছিল। তবে তাদের পুরো ভূখণ্ডটির ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই। ফিলিস্তিনের গাজা অংশেও প্রায় দুই বছর ধরে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি প্রতীকী ছাড়া কিছু নয়। এর মাধ্যমে শক্তিশালী নৈতিক বার্তা দেওয়া গেলেও বাস্তবে খুব একটা পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তিকে অগ্রাহ্য করে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার এই স্বীকৃতি প্রদান ফিলিস্তিনিদের প্রতি ঐক্য ও সংহতির ক্ষেত্রে একটি বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই তিন দেশই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের মধ্য দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার আশাকে পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলেছে।

তা ছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনে মুখ্য ভূমিকা ছিল যুক্তরাজ্যের। এরপর দীর্ঘকাল ইসরায়েলের মিত্রদেশ হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে লন্ডন। সে কারণে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাজ্যের এই স্বীকৃতির বড় ধরনের প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে।

গত জুলাইয়ে জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেছিলেন, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের সমস্যার দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের প্রতি সমর্থন জানানোর এক বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে যুক্তরাজ্যের। তিনি ১৯১৭ সালের বেলফোর ঘোষণার কথা উল্লেখ করেন। এ ঘোষণায় সই করেছিলেন তাঁরই পূর্বসূরি আর্থার বেলফোর।

বেলফোর ঘোষণায় ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদিদের জন্য একটি আবাস গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল। ডেভিড ল্যামি বলেন, ঘোষণায় এই প্রতিশ্রুতিও ছিল যে ইহুদি বাদে এই ভূখণ্ডে অন্য সম্প্রদায়ের যেসব লোকজন বসবাস করেন, তাঁদের নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এমন কিছু করা হবে না। যদিও ইসরায়েলের সমর্থকেরা বলে থাকেন, ঘোষণায় ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কিছু বলা হয়নি।

এমন সব জটিলতার মধ্যে ফিলিস্তিনিদের সমস্যার সমাধান সামনে এগোয়নি। দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের প্রস্তাব অনুযায়ী ১৯৬৭ সালে আরব–ইসরায়েল যুদ্ধের আগে পশ্চিম তীর ও গাজার যে সীমানা ছিল, তা নিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। রাজধানী হওয়ার কথা ছিল পূর্ব জেরুজালেম। তবে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হলেও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়নি।

এখন যদি যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি ফ্রান্সও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়, তাহলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিনের অবস্থান আরও শক্ত হবে। স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র থাকবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি না দেওয়া দেশ। যুক্তরাষ্ট্রই ইসরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র।

যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন প্রেসিডেন্ট একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছিলেন। তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যতিক্রম। তাঁর প্রশাসন ইসরায়েলের প্রতি এককাট্টা সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বের মূল কারণগুলোর একটি জেরুজালেমে অবস্থিত পবিত্র আল-আকসা মসজিদ
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বের মূল কারণগুলোর একটি জেরুজালেমে অবস্থিত পবিত্র আল-আকসা মসজিদ। ছবি: এএফপি

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিলো বৃটেন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে বৃটেন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া। রোববার পর্যায়ক্রমে এ ঘোষণা দিয়েছে ওই তিন দেশ। এরমধ্যে প্রথম ঘোষণা আসে কানাডার পক্ষ থেকে। এরপর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ও সর্বশেষ বৃটেন ফিলিস্তিনিকে স্বীকৃতি দেয়। এর মাধ্যমে বিশ্ব রাজনীতিতে যোগ হলো নতুন এক অধ্যায়। পশ্চিমা শক্তি তথা যুক্তরাষ্ট্রের রক্তচক্ষু উপেক্ষা জি৭ ভুক্ত এই তিন দেশের স্বীকৃতি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে নতুন পথে পরিচালিত করবে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইউরোপীয় এই দেশগুলোর স্বীকৃতিকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিন। এদিকে এই পদক্ষেপকে ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। পাশাপাশি এই স্বীকৃতিকে ‘সরাসরি সন্ত্রাসবাদকে পুরষ্কৃত’ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। 

স্কাই নিউজের এক খবরে বলা হয়েছে, রোববার ফিলিস্তিনকে প্রথমে স্বীকৃতি দেয় কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, কানাডা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয় এবং আমরা ফিলিস্তিন ও ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্য শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যত গঠনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে কানাডার দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানে দৃঢ় অবস্থান ছিল, কিন্তু এই সম্ভাবনা এখন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্বীকৃতি প্রদানে দ্বিতীয় দেশ হলো অস্ট্রেলিয়া। কানাডা এবং বৃটেনের সঙ্গে সমন্বিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবেনিজি। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তটি একটি আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার অংশ, যা শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকে নিয়ে যাবে। একই দিন পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে বৃটেন। প্রধানমন্ত্রীর স্যার কিয়ের স্টারমার এই পদক্ষেপের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার মুখে আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে জীবিত রাখতে এবং দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এই সিদ্ধান্তকে হামাসের প্রতি কোনো পুরস্কার হিসেবে দেখা যাবে না বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। স্টারমার বলেন, হামাসের কোনো ভবিষ্যৎ নেই, এবং তাদের কোনো সরকারি বা নিরাপত্তা ভূমিকা থাকবে না। হামাসের বিরুদ্ধে আগের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে সামনে নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে, তবে এই প্রক্রিয়ায় আরও আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রয়োজন হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়াকে ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন নেতানিয়াহু। বলেছেন, রাজনৈতিক প্রয়োজনে দেয়া ইউরোপের এই স্বীকৃতিতে আত্মহত্যা করবে না ইসরাইল। দেশটির মুখপাত্র শোশ বদরোসিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহুর মন্তব্য পড়ে শুনিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মিডিয়ায় কিছু রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে যেখানে বলা হচ্ছে, বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার আজ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এই পদক্ষেপকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘সরাসরি সন্ত্রাসবাদের পুরস্কার’ বলে উল্লেখ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে আমাকে জানিয়েছেন যে, তার বার্তা হচ্ছে- গাজায় হামাসের হাতে আটক ইসরাইলি নাগরিকদের দুঃখ-দুর্দশা উপেক্ষা করে যেসব দেশ এই পথ বেছে নিচ্ছে তাদের চাপে আত্মহত্যা করবে না ইসরাইল।

এই বিরোধিতা নতুন নয় এবং ইসরাইল আগেও বৃটেন এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোর এই ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মতামত জানিয়েছে। বদরোসিয়ান আরও নিশ্চিত করেছেন যে, নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণ করতে যাবেন, সেখানে কিছু দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিতে পারে।

mzamin

Sunday, September 21, 2025

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিল যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া। আজ রোববার একযোগে এই তিন দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিল। এর মধ্য দিয়ে শিল্পোন্নত (জি সেভেন) সাত দেশের মধ্যে যুক্তরাজ্য ও কানাডা প্রথম ফিলিস্তিনকে এই স্বীকৃতি দিল।

আজ প্রথম কানাডা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক বিবৃতিতে বলেন, আজ থেকে কানাডা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল উভয় রাষ্ট্রের একটি শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

এরপর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন। এই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রে হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এই দুই দেশের পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহতা বাড়তে থাকার মুখে আমরা দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান ও শান্তির সম্ভাবনাকে জাগিয়ে রাখতে কাজ করছি। এর অর্থ একটি টেকসই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পাশে একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত ইসরায়েল, যার কোনোটি এই মুহূর্তে আমরা দেখছি না।’

এরপর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির সময় এখন এসেছে।

‘তাই আজ দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান ও শান্তির আশা পুনরুজ্জীবিত করতে আমি এই মহান দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্পষ্টত ঘোষণা করছি যে যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।’

ফিলিস্তিনের গাজায় হামাসের হাতে বন্দীদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্যার কিয়ার স্টারমার। একইসঙ্গে তিনি ইসরায়েল সরকারের প্রতি গাজায় আরও ত্রাণ সরবরাহের সুযোগ দিতে এই উপত্যকার সীমান্তে আরোপিত বিধি–নিষেধ শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনে মুখ্য ভূমিকা ছিল ব্রিটেনের। এরপর দীর্ঘকাল ইসরায়েলের মিত্র দেশ হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে যুক্তরাজ্য। সে কারণে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাজ্যের এই স্বীকৃতির প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে।

লন্ডন আজ এই বলিষ্ঠ পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে বিশ্বের আরও ১৪০টির বেশি দেশের কাতারে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে। কিন্তু তাদের এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েল ও তার প্রধান মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরক্তির কারণ হয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সফরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির বিষয়ে নিজের আপত্তির কথা উল্লেখ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর আজ কিয়ার স্টারমারের ঘোষণার পর ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সে এক পোস্টে বলেছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ‘জিহাদি হামাসকে পুরস্কৃত করা ছাড়া আর কিছু নয়’। 

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-09-21%2F9nq33th6%2FWhatsApp-Image-2025-09-21-at-8.22.20-PM.jpeg?rect=0%2C0%2C1600%2C1067&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার পতাকা

Saturday, May 24, 2025

গাজায় আগ্রাসন নিয়ে কানাডা কেন এখন সরাসরি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কথা বলছে

ফিলিস্তিনের গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে সম্প্রতি ইউরোপের দুটি দেশের সঙ্গে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে কানাডা। দেশটির এই বিবৃতি ইসরায়েল প্রশ্নে নতুন সরকারের অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ এক বিবৃতিতে কানাডা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অপ্রত্যাশিতভাবে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছে। গাজাবাসীর দুর্ভোগকে তারা ‘অসহনীয়’ ও ইসরায়েলের দেওয়া সীমিত সহায়তাকে ‘সম্পূর্ণ অপর্যাপ্ত’ বলে উল্লেখ করেছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে হামাসের নেতৃত্বে দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলার জবাবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়াকে ‘অতিমাত্রায় অসম’ ও ‘জঘন্য’ বলে যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরায়েল এখন পর্যন্ত গাজায় প্রায় ৫৪ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সংখ্যার বাইরে আরও অনেক ফিলিস্তিনি রয়ে গেছেন। সুতরাং গাজায় নিহত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এই তিন দেশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা গাজা পরিস্থিতি নিয়ে ‘চুপ করে থাকবে না’ এবং পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলি দখলদারদের হামলা ও ফিলিস্তিনি বাড়িঘর ধ্বংসের প্রতিক্রিয়ায় ‘সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞাসহ আরও পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না’।

তিন দেশের এই বিবৃতি নিয়ে হামাস প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা এটিকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালা পুনরুদ্ধারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেছে। হামাস বলেছে, এই নীতিমালা নেতানিয়াহুর ‘সন্ত্রাসী সরকার’ অগ্রাহ্য করে যাচ্ছে।

গত বুধবার ইউরোপীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে চার কানাডীয় কূটনীতিক অধিকৃত পশ্চিম তীর সফরে গেলে ইসরায়েলি সৈন্যরা তাঁদের ওপর গুলি চালান। এর প্রতিক্রিয়ায় কানাডা ‘পূর্ণাঙ্গ তদন্ত’ ও ‘তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা’ দাবি করেছে। তারা ওই ঘটনাটিকে ‘সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে। ইসরায়েল শুধু এটুকুই বলেছে, ‘এই ঝামেলা তৈরি হওয়ায় তারা অনুতপ্ত।’

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ অনেক দিন ধরেই ইসরায়েলের সমালোচক। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই সপ্তাহে ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছেন এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।

অন্যদিকে কানাডা আগে ইসরায়েলের সমালোচনা করলেও তা সাধারণত খুব সংযত এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে মিল রেখে চলেছে। তবে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন।

কানাডার আইনের অধ্যাপক ও জাতিসংঘের সাবেক বিশেষ প্রতিনিধি মাইকেল লিঙ্ক বলেন, স্বীকার করতে হয়, মধ্যপ্রাচ্যে ‘মধ্য শক্তি’ হিসেবে কাজ করে থাকে কানাডা। মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তাঁর দেশ কাজ করে।

মাইকেল লিঙ্ক আরও বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলের বিষয়ে আমি অনেক দিন ধরে কানাডার কাছ থেকে এ রকম ভাষা শুনিনি। সম্ভবত কখনো না।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কানাডার সাবেক এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, এটি এক নতুন সুর, যা আগে দেখা যায়নি।

এখন কেন এই অবস্থান

কানাডার সাবেক ওই কর্মকর্তা বলেন, কানাডা মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া ঠিক করার আগে সাধারণত ওয়াশিংটনের দিকে তাকিয়ে থাকে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুটি কানাডায় তীব্র জনমত তৈরি করে, যার জন্য তাদের খুব সতর্ক থাকতে হয়।

কিন্তু গাজায় দুই মাসের বেশি সময় ধরে অবরোধ, অবকাঠামো ধ্বংস এবং কানাডায় নতুন নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বদলে গেছে।

নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি একজন ঝানু অর্থনীতিবিদ এবং তিনি রাজনীতির বাইরের মানুষ ছিলেন। এখন এই সংকটময় মুহূর্তে তিনি অনেক বেশি সরাসরি বক্তব্য দিচ্ছেন।

মাইকেল লিঙ্ক বলেন, ‘মানবিক বিপর্যয় এখন এতটাই গভীর ও সংকটপূর্ণ যে সম্ভবত মার্ক কার্নি এই পরিস্থিতিতে নেতৃত্বের জায়গা থেকে এগিয়ে এসেছেন এবং সময়ের দাবি মেনে যথাযথভাবে সাড়া দিয়েছেন।’

মাইকেল লিঙ্ক বলেন, কার্নি এর আগে কখনো নির্বাচনে অংশ নেননি। তিনি ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এবং ব্যাংক অব কানাডার গভর্নর ছিলেন। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, তিনি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইউরোপীয় মিত্রদের কাছাকাছি দেখতে চান।

এই অধ্যাপক বলেন, জাস্টিন ট্রুডোর মতো কার্নির কাঁধে ততটা রাজনৈতিক বোঝা নেই, বিশেষ করে প্রধান প্রধান ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় নিয়ে।

লিঙ্ক ব্যাখ্যা করে বলেন, কানাডা কখনো অর্ধেক পদক্ষেপও নেয়নি, তারা তার চেয়েও কম এক–চতুর্থাংশ পদক্ষেপ নিয়েই সন্তুষ্ট থেকেছে। ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাব মেনে চলতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে কানাডা বরাবরই পিছিয়ে ছিল…আসল পরীক্ষা হবে কতটা শক্তিশালী পদক্ষেপ তারা নেয়, সেটাই।

সরকারের এক কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, কানাডা যখনই অবস্থান নেয়, সেটা প্রায় সব সময়ই আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে মিলিয়ে নেয়, এটিই তাদের পররাষ্ট্রনীতির সাধারণ নিয়ম। তিনি আরও যোগ করেন, কানাডা যখন কথা বলে, তখন একা দাঁড়ায় না।

মাইকেল লিঙ্ক বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, গত সোমবার দেওয়া বিবৃতিটি আংশিকভাবে এসেছে এই কারণে যে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের পাশে থেকে তারা রাজনৈতিকভাবে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে চেয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব-নিকাশ

গাজায় ইসরায়েলের ১৯ মাস ধরে চলা যুদ্ধ আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) সম্ভাব্য গণহত্যা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কিছু কিছু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এটিকে সরাসরি গণহত্যা বলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ, যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার জন্য যাদের ইসরায়েলের ওপর যথেষ্ট প্রভাব আছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন একধরনের ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতিতে চলছে এবং ইসরায়েল থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখছে। এককভাবে তারা হামাস, ইয়েমেনের হুতি ও ইরানের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

ডেমাক্রেসি ফর দ্য আরব ওয়ার্ল্ড নাউ (ডিএডব্লিউএন) সংস্থার অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর রায়েদ জারার মিডল ইস্ট আইকে বলেন, কানাডার এই জোরালো বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি একটি বার্তা পাঠায় যে তারা আর শুধু নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না।

জারার বলেন, অতীতে অনেক মার্কিন মিত্রদেশ ইসরায়েলের সমালোচনা করতে দ্বিধা করত। কারণ, তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের প্রতিশোধের বিষয়ে ভয় পেত।

কিন্তু এখন গাজা এমন এক মানবিক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে, যা আর এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ইসরায়েলপন্থী লবিগুলো কানাডায় প্রভাবশালী হলেও তারা কিন্তু ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় না’।

কানাডার সাবেক কর্মকর্তা বলেন, কানাডার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অর্থ ও অনুদানের বিষয়ে অনেক ভারসাম্য রয়েছে। এটা যুক্তরাষ্ট্রের মতো নয়, যেখানে প্রায় অবারিত স্বাধীনতা রয়েছে।

সবশেষ কথা হচ্ছে, কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। মিডল ইস্ট আইয়ের সঙ্গে যাঁরা কথা বলেছেন তাঁরা সবাই একমত, এখন শুধু কথা নয়, বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন।

রায়েদ জারার বলেন, গাজায় অবশ্যই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কারণ, এখানে শুধু ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা এবং গাজার মানুষের খাবারের অধিকারের প্রশ্ন নয়। এটি আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলারও প্রশ্ন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–পরবর্তী যে বিশ্বশান্তি ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা আজ হুমকির মুখে পড়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–পরবর্তী ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি ছিল জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠা, কানাডা শুরু থেকেই যার সদস্য। কানাডা এখনো ফিলিস্তিনিদের সহায়তাকারী জাতিসংঘ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএকে অর্থায়ন করে যাচ্ছে।

গাজায় ইসরায়েলের নৃশংস হামলায় প্রায় ৫৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে ধুলায় মিশে যাচ্ছে একের পর এক অবকাঠামো
গাজায় ইসরায়েলের নৃশংস হামলায় প্রায় ৫৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে ধুলায় মিশে যাচ্ছে একের পর এক অবকাঠামো। ছবি: রয়টার্স

Wednesday, May 7, 2025

কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে গণভোটের প্রস্তাব দিলেন আলবার্টার প্রধানমন্ত্রী

কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছেন আলবার্টার প্রধানমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথ। পর্যাপ্ত সংখ্যক মানুষের সম্মতি পেলে আগামী বছর একটি গণভোটের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। সোমবার সরাসরি সম্প্রচার হওয়া এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, গত এক দশকে আমাদের প্রদেশের ওপর অটোয়া যেভাবে চেপে বসেছে, সেটা চলতে থাকবে কিনা- সে বিষয়ে আলবার্টার জনগণই সিদ্ধান্ত নেবেন। আমি তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির লিবারেল পার্টি টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসার এক সপ্তাহ পর ড্যানিয়েল স্মিথের এমন ঘোষণা এসেছে। এছাড়া প্রতিবেশী দেশের অর্থনীতির ওপর ক্রমাগত শুল্কারোপের হুমকি দিয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কানাডাকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একান্নতম অঙ্গরাজ্য হিসেবে একীভূত করার কথা জানিয়েছেন।

একটি প্রাদেশিক গণভোটের জন্য আবেদনকারীদের যেসব শর্ত পূরণ করতে হতো, সেই বাধা কমিয়ে আনতে একটি আইন প্রণয়ন করেছে আলবার্টার ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড কনজারভেটিভ। তবে আইনটি এখনো পার্লামেন্টে পাস হয়নি। আইনটি পাস হয়ে গেলে নাগরিকদের নেয়া উদ্যোগে গণভোটের নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি গণভোটের জন্য ১০ শতাংশ ভোটারের সই লাগবে, আগে যেটা ছিল ২০ শতাংশ। এছাড়া আবেদনে এক লাখ ৭৭ হাজার ভোটারের সইয়ের জন্য আগে যেখানে ৯০ দিন সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল, সেটা বাড়িয়ে ১২০ দিন করা হয়েছে।

mzamin

Wednesday, April 30, 2025

কানাডায় কার্নি ও লিবারেল পার্টির অসাধারণ জয়

কানাডার জাতীয় নির্বাচনে জয় পেয়েছে মার্ক কার্নি নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শুল্ক আলোচনায় জোরালো ভূমিকা রাখতে দলটির যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন তা পূরণ হয়নি। ভিন্ন এক রাজনৈতিক পরিবেশে ২৮শে এপ্রিল ভোট দিয়েছে কানাডার জনগণ। জয় পাওয়ার পর মার্ক কার্নি প্রথম ভাষণে সমর্থকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, (যুক্তরাষ্ট্রের) প্রেসিডেন্ট (ডনাল্ড) ট্রাম্প আমাদেরকে (কানাডা) ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছেন, যাতে আমাদেরকে (কানাডা) নিজেদের বলে দাবি করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তা কখনো হতে দেবো না। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স, অনলাইন বিবিসি। নির্বাচনে আগে ধারণা করা হচ্ছিল, কানাডার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন রক্ষণশীল দলের পিয়েরে পোইলিভরে। কিন্তু তিনি নিজের আসনে পরাজিত হওয়ার পথে আছেন বলে প্রক্ষেপণে বলা হচ্ছে। ওদিকে মার্ক কার্নির জয়কে কানাডার রাজনীতির ইতিহাসে অসাধারণ জয় বলে অভিহিত করেছেন বিবিসির সাংবাদিক লিসি ডচেট। কানাডার হাউস অব কমন্সের জন্য মোট নির্বাচনী আসনের সংখ্যা ৩৪৩টি। এর মধ্যে কোনো দল যদি ১৭২টি আসনে জয় পায় তাহলে তারা হাউস কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। এক্ষেত্রে ছোট ছোট দলগুলোর সমর্থন ছাড়াই তারা দেশ শাসনের সুযোগ পায়। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বুথ ফেরত ফলাফল থেকে জানা গেছে- লিবারেলরা ১৬১টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে কনজারভেটিভরা পেয়েছে ১৫০টি আসন। কানাডার সর্বপশ্চিমের প্রদেশ হচ্ছে বৃটিশ কলাম্বিয়া। সবচেয়ে বেশি সময় ধরে এখানে ভোট গ্রহণ হয়েছে। এই প্রদেশের ওপরই লিবারেলদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ভাগ্য ঝুলে আছে। এখানে বলে রাখা ভালো, কানাডার সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে কোনো সরকারই আড়াই বছরের বেশি স্থায়ী হয় না। জরিপকারী সংস্থা অ্যাঙ্গাস রিড ইনস্টিটিউটের  প্রেসিডেন্ট শচি কুর্ল রয়টার্সকে বলেছেন, লিবারেলদের জয়ের পেছনে তিনটি বিষয় কাজ করেছে। সেগুলো হচ্ছে বিরোধী কনজারভেটিভ দল, ট্রাম্পের শুল্ক এবং প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ট্রুডোর সরে যাওয়া। এসব কারণেই অনেক বামপন্থি ও ঐতিহ্যবাহী উদারপন্থি ভোটারদের দলে ধরে রাখতে পেরেছে লিবারেলরা। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে কার্যকরী বিষয় ছিল দিন দিন অজনপ্রিয় হয়ে পড়ায় প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে জাস্টিন ট্রুডোর পদত্যাগ। এ বছরের শুরুতে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেশ কিছু মন্তব্য কানাডার জনগণের মধ্যে দেশপ্রেমের গতি বাড়িয়ে দেয়। তার মধ্যে একটি ছিল- কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার প্রস্তাব। সেসময় এর কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন কার্নি। পাশাপাশি তিনি কানাডার ওপর ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন এবং তা মোকাবিলা করার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে কানাডাকে বিলিয়ন বিলিয়ন অর্থ ব্যয় করতে হবে। তবে সেসময় টানা নয় বছরের উদারপন্থি শাসনের অবসানের জন্য কার্নির কিছুটা বিরোধিতা করেছিলেন রক্ষণশীলরা। মার্ক কার্নি এর আগে ব্যাংক অব কানাডা ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর ছিলেন এবং সমপ্রতি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। লিবারেলদের মধ্যমপন্থি অবস্থানকে সামনে এনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নির্বাচনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ, শুল্ক বৃদ্ধি এবং কৌশলগত হুমকিকে কাজে লাগিয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন তিনি। 

লিবারেল দল এবং মার্ক কার্নির এই জয়কে অকল্পনীয় বলে মন্তব্য করেছেন বিবিসির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক প্রধান প্রতিবেদক লিসি ডচেট। তিনি একে কানাডার রাজনীতির ইতিহাসে অসাধারণ মুহূর্ত বলে অভিহিত করেছেন। ওদিকে মার্ক কার্নির জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়ার পরেই কানাডায় ইউক্রেনের সবচেয়ে বেশি অভিবাসী অবস্থান করেন। তিনি এক্সে দ্ব্যর্থহীন সমর্থন দেয়ার জন্য কানাডা ও এর জনগণকে স্মরণ করেন। তিনি কানাডার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। কানাডার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী চীন। অথচ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সঙ্গে কানাডার ছিল টান টান সম্পর্ক। তারপরও পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে কানাডার সঙ্গে এমন সম্পর্কের কথা জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে কার্নির জয়ে তারা সরাসরি অভিনন্দন জানানো থেকে বিরত থেকেছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং সুযোগ সুবিধার নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠতে এই সম্পর্ক। মার্ক কার্নির জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার, ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন, আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিকায়েল মার্টিন, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। উরসুলা ভন ডার লিয়েন কানাডা ও ইউরোপের শক্তিশালী বন্ধনের উল্লেখ করেন। কার্নির সমর্থনে তিনি মুক্ত ও সুষ্ঠু বাণিজ্যের আশা প্রকাশ করেন। ইমানুয়েল ম্যাক্রন তার আচরিত শব্দ ‘এলবো-টু-এলবো’ অর্থাৎ কনুইয়ের সঙ্গে কনুই মিশিয়ে আপনার সঙ্গে কাজ করতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন। আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আয়ারল্যান্ড ও কানাডার সম্পর্ক অনেক গভীর ও শক্তিশালী। এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে অভিন্ন মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে। অ্যান্থনি আলবানিজ তার কমনওয়েলথ অংশীদার মার্ক কার্নির প্রশংসা করেছেন। বলেছেন, বৈশ্বিক এক অনিশ্চিত সময়ে আপনার সঙ্গে টেকসই বন্ধুত্বের ভিত্তিতে অব্যাহতভাবে কাজ করতে চাই।

mzamin

Sunday, April 27, 2025

খাদ্যের উপর ইসরাইলি অবরোধের নিন্দা কানাডার প্রধানমন্ত্রীর

গাজায় খাদ্য সরবরাহের উপর ইসরাইলি অবরোধের কারণে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মজুদ খাবার শেষ হয়ে গেছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ইসরাইলের প্রতি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)কে কাজ করার অনুমতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, খাদ্যকে ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। কার্নি এক্সে লিখেছেন, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ঘোষণা করেছে যে ইসরাইলি সরকারের অবরোধের কারণে গাজায় তাদের খাদ্য মজুদ শেষ হয়ে গেছে- খাদ্যকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের হামাসের অপরাধের পরিণতি ভোগ করতে হবে কেন তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন।

কার্নি বলেন, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে অবশ্যই তার জীবন রক্ষাকারী কাজ পুনরায় শুরু করার অনুমতি দিতে হবে। আমরা আমাদের মিত্রদের সাথে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং সব জিম্মির অবিলম্বে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ চালিয়ে যাব। উল্লেখ্য, ডব্লিউএফপি শুক্রবার জানিয়েছে, তারা গাজার রান্নাঘরে তাদের অবশিষ্ট সরবরাহ পৌঁছে দিয়েছে। আগামী দিনে খাবারের অভাব দেখা দেবে বলে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

mzamin

Thursday, April 10, 2025

আমেরিকান পণ্য বর্জন করছেন কানাডিয়ান এবং ড্যানিশরা

টড ব্রেম্যান আর তার প্রিয় রেড ওয়াইন কিনছেন না, যা ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আসতো। কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর একজন অভিজ্ঞ সৈনিক ছিলেন ব্রেম্যান। কানাডা, ইউরোপ এবং বিশ্বের অন্যান্য অংশের ক্রমবর্ধমান সংখ্যক লোকেদের মধ্যে তিনিও একজন, যারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক এবং মার্কিন মিত্রদের প্রতি তার আচরণের কারণে মার্কিন পণ্য কেনা এড়িয়ে চলেছেন। নোভা স্কটিয়ায় বসবাসকারী ব্রেম্যান বলেন, ‘আমি আমেরিকান বাহিনীর সাথে কাজ করেছি। আমাদের দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক কোথায় যাচ্ছে তা দেখে আমি খুবই হতাশ। কিন্তু আমার মনে হয় এখনই সময় এসেছে উঠে দাঁড়ানোর। আমার মনে হয়, স্থানীয় পণ্য কেনা এবং কানাডিয়ান ব্যবসাকে সমর্থন করার এটাই সঠিক সময়।’

তার স্ত্রীর সাথে বাজারে বেরিয়ে ব্রেম্যান পছন্দের ওয়াইনসহ যে সমস্ত আমেরিকান পণ্য কিনতেন তার পরিবর্তে এখন কানাডিয়ান ওয়াইন পান করা শুরু করেছেন। ব্রেম্যানের কথায়, তবে কোন পণ্যগুলো কানাডিয়ান তা নির্ধারণ করা সবসময় সহজ নয়। কখনও কখনও লেবেলিং বিভ্রান্তিকর হতে পারে। সাহায্য করার জন্য তিনি এখন তার ফোনে একটি অ্যাপ ব্যবহার করেন যা কোনও পণ্যের বারকোড স্ক্যান করতে পারে এবং এটি কোথা থেকে এসেছে তা শনাক্ত করতে পারে। ম্যাপেল স্ক্যান নামে এই অ্যাপটি কানাডার স্থানীয় পণ্য কেনাকাটা করতে সাহায্য করার জন্য তৈরি করা।

ম্যাপেল স্ক্যানের প্রতিষ্ঠাতা সাশা ইভানভ বলেছেন যে, গত মাসে চালু হওয়ার পর থেকে তার অ্যাপটি ১০০,০০০ বার ডাউনলোড হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে কানাডিয়ানরা এভাবেই নিজের দেশের জিনিস কিনতে থাকবে। ট্রাম্প কর্তৃক আরোপিত আমদানি শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় ব্রেম্যানের মতো কানাডিয়ানরা আমেরিকান পণ্য বর্জন করছেন। ইতিমধ্যেই সমস্ত বিদেশি গাড়ি, ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়ামের উপর ২৫% শুল্ক এবং অন্যান্য কানাডিয়ান এবং মেক্সিকান পণ্যের উপর ২৫% শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। তার জেরেই এই প্রতিক্রিয়া।

এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের উপর ২০% শুল্ক আরোপ করা হবে, যেখানে যুক্তরাজ্য ১০% শুল্ক আরোপের সম্মুখীন হবে।ট্রাম্প বলেছেন যে, এই শুল্ক মার্কিন উৎপাদন বৃদ্ধি করবে। কর রাজস্ব বৃদ্ধি করবে এবং মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি কমাবে। তবে, তারা বিশ্ব বাজারকে আতঙ্কিত করে তুলেছে, যা গত মাসে তীব্রভাবে পতনের সম্মুখীন হয়েছে। ট্রাম্প এমনকি কানাডাকে ৫১তম রাজ্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পৃক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। যা কানাডিয়ান সরকার তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। অটোয়াও পাল্টা শুল্ক হিসেবে ৬০ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার এবং মার্কিন অটো সেক্টরের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। সেইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারী কানাডিয়ানদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

ইউরোপীয় দেশগুলোতেও মার্কিন পণ্য বর্জনের হিড়িক বেড়েছে। মার্কিন পণ্য বয়কটের জন্য বিশেষভাবে জোরালো আন্দোলন শুরু হয়েছে ডেনমার্কে, যেখানে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের ভূখণ্ড অধিগ্রহণ করতে চান বলে জানিয়েছেন। ডেনমার্কের বৃহত্তম মুদি দোকান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান স্যালিং গ্রুপ সম্প্রতি ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলোকে ফোকাস করতে পণ্যের ওপর একটি কালো তারকা প্রতীক যুক্ত করেছে। কোপেনহেগেনের শহরতলির স্কোভলুন্ডে বসবাসকারী একটি স্কুলের অধ্যক্ষ বো আলবার্টাস বলেন, তিনি এই বয়কটে যোগ দিয়েছেন।

তার কথায়, ‘গ্রিনল্যান্ড কিনতে চাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প যে বিবৃতি দিয়েছেন, তা মেনে নেয়া যায় না। আমি আমেরিকান রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে কিছুই হয়তো করতে পারবো না, তবে আমি আমার ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ভোট দিতে পারি।’

আলবার্টাসসের প্রথম পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি ছিল নেটফ্লিক্স, ডিজনি প্লাস এবং অ্যাপল টিভিসহ মার্কিন স্ট্রিমিং পরিষেবাগুলোর সাবস্ক্রিপশন বাতিল করা। আলবার্টাস হলেন ডেনিশ ফেসবুক গ্রুপের প্রশাসক যিনি মার্কিন পণ্য বর্জনে জনগণকে সহায়তা করার জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ৯০,০০০ সদস্য বিশিষ্ট এই গ্রুপে, লোকেরা জুতা থেকে শুরু করে লন মাওয়ার পর্যন্ত মার্কিন পণ্যের স্থানীয় বিকল্পগুলো শেয়ার করে।

কোপেনহেগেনের ব্রডার্স নামক একটি মুদি দোকানের মালিক মেটে হিরুল্ফ ক্রিশ্চিয়ানসেন তার দোকানে চিটোস ক্রিস্পস এবং হার্শি'স চকলেটের মতো আমেরিকান পণ্য মজুদ করা বন্ধ করে দিয়েছেন। ডেনিশ বা ইউরোপীয় পণ্য দিয়ে সেগুলো প্রতিস্থাপন করছেন। তিনি মনে করছেন যে, কিছু পণ্য প্রতিস্থাপন করা সহজ। যেমন কোকা-কোলা ডেনিশ ব্র্যান্ড জলি কোলা দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সহজ। কিন্তু ফেসবুকের মতো প্রযুক্তি এড়ানো বেশ কঠিন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, ডেনমার্কের বয়কট আন্দোলন ট্রাম্পের নীতি এবং বাগাড়ম্বরের প্রতি মানুষের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

মার্কিন বাণিজ্য নীতির ইতিহাসে বিশেষজ্ঞ  যুক্তরাষ্ট্রের ডার্টমাউথ কলেজের অর্থনীতির অধ্যাপক ডগলাস আরউইন  বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য হ্রাসের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের পণ্য বয়কট কতটা অর্থনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে তা বিচার করা কঠিন। অতীতে, বয়কট দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং তা থেকে খুব বেশি কিছু অর্জন করা যায়নি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পদক্ষেপের প্রতি প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া হিসাবে শুরু হয় কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তা ম্লান হয়ে যায়।

যদিও  কানাডায় ‘বাই কানাডিয়ান’ মনোভাব বৃদ্ধির ফলে অনেক স্থানীয় ব্র্যান্ডের বিক্রয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। কানাডিয়ান মুদি দোকানের সিইও লোবলা লিঙ্কডইনে পোস্ট করেছেন যে কানাডিয়ান পণ্যের সাপ্তাহিক বিক্রয় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কানাডার আলবার্টার বাসিন্দা বিয়ানকা পার্সনস, স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্যের প্রচারণার জন্য ‘মেড ইন আলবার্টা’ নামে একটি উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।  তিনি বলেন, ‘শুল্ক আরোপের পর থেকে এই পণ্যের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। আমরা এখন প্রতি দুই সপ্তাহে ২০,০০০ এরও বেশি ভিজিটর পাচ্ছি।’

অন্টারিও এবং নোভা স্কটিয়াসহ বেশ কয়েকটি কানাডার প্রদেশ শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় তাদের মদের দোকানের তাক থেকে আমেরিকার তৈরি অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় সরিয়ে ফেলেছে। জ্যাক ড্যানিয়েলের নির্মাতা ব্রাউন-ফরম্যানে এই পদক্ষেপকে ‘শুল্কের চেয়েও খারাপ’ বলে অভিহিত করেছেন।বয়কটের শিকার হওয়া আমেরিকান ব্যবসাগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যালেডোনিয়া স্পিরিটস, যা কানাডিয়ান সীমান্তের কাছে ভার্মন্টে অবস্থিত একটি ডিস্টিলার। ক্যালেডোনিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান ডিস্টিলার রায়ান ক্রিশ্চিয়ানসেন বলেছেন যে, শুল্ক ঘোষণার পর তার অনেক অর্ডার সরাসরি বাতিল করা হয়েছে। নিউ ইয়র্কে অবস্থিত আমেরিকান মশলা কোম্পানি বার্ল্যাপ অ্যান্ড ব্যারেলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইথান ফ্রিশ, যারা  কানাডাতেও মশলা রপ্তানি করে, বলেছেন যে তিনি ভোক্তা বয়কটের চেয়ে তার কোম্পানির আমদানির উপর শুল্কের প্রভাব এবং যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে বেশি চিন্তিত। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এমন একটি ধারণা আছে যে, যদি আপনি কোনও আমেরিকান কোম্পানি বয়কট করেন, তাহলে এর অর্থনীতির উপর প্রভাব পড়বে। সেইসঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত, আমার মনে হয় এই ধারণাটি সঠিক নয়। কারণ মার্কিন অর্থনীতি এমনিই ভেঙে পড়ছে। আমাদের মতো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকার লড়াই করছে।’

সূত্র: বিবিসি

mzamin

Sunday, March 16, 2025

শপথগ্রহণে স্পষ্ট করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি: কানাডা কোনোদিন আমেরিকার অংশ হবে না

কানাডার নয়া প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে হুঙ্কার দিলেন মার্ক কার্নি। মসনদে বসে প্রথম দিনই সাফ জানিয়ে দিলেন, কানাডা কোনওদিন আমেরিকার অংশ হবে না। কানাডার ২৪তম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেয়ার পরপরই ২০১৫ সাল থেকে অফিসে থাকা জাস্টিন ট্রুডোর স্থলাভিষিক্ত কার্নি বলেছেন যে, ট্রাম্পের শুল্কের মোকাবিলা করা তার কাছে শীর্ষ অগ্রাধিকার। সেইসঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, উভয় দেশের স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তিনি ওয়াশিংটনের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত। তবে কখনও, কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হবে না কানাডা। কর্মকর্তারা বলেছেন যে, তারা আগামী দিনে ট্রাম্প এবং কার্নির মধ্যে একটি সংলাপ আয়োজনের চেষ্টা করছেন।

জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে অটোয়া আন্তঃসীমান্ত সম্পর্কের পতনের কারণে বিপর্যস্ত হয়েছে। দু দেশের মধ্যে শুরু হয়েছে বাণিজ্য যুদ্ধ। কানাডাকে ৫১তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার স্বাধীনতা আত্মসমর্পণের দাবি করেছেন। অটোয়া ট্রাম্পের শুল্কের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। কানাডিয়ান জনগণ ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন যখন ট্রাম্প কানাডাকে আমেরিকার সঙ্গে যুক্ত করার জিগির তোলেন। কার্নি ট্রাম্প প্রশাসনকে একটি প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন এবং কানাডিয়ান পণ্যের উপর মার্কিন শুল্ককে  অযৌক্তিক বলে দাবি করেছেন।

ট্রুডোর স্থলাভিষিক্ত নেতা হিসেবে লিবারেল পার্টির ভোটে বিপুলভাবে জয়ী হওয়ার পর কার্নি প্রধানমন্ত্রী হন। তবে ৬০ বছর বয়সী এই সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকার, একজন রাজনৈতিক নবাগত যিনি কখনও কোনো পাবলিক অফিসে নির্বাচিত হননি। কার্নির প্রচারাভিযানের দক্ষতা শীঘ্রই পরীক্ষার মুখ পড়তে পারে। সরকারি সূত্র এএফপি-কে বলেছে যে, কানাডা শীঘ্রই একটি সাধারণ নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক উন্মোচনের সাথে সাথে বিদেশে কানাডার জোটকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কার্নি পরের সপ্তাহে প্যারিস এবং লন্ডনে রওনা দেবেন। ওই আলোচনায় বাণিজ্য ও নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ স্কোলজ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডের লেয়েন- যিনি বলেছিলেন কানাডা-ইইউ সম্পর্ক এখন ‘আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ’ কার্নিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কার্নিকে।

কার্নি ২০০৮-০৯ সালে আর্থিক সঙ্কটের সময় ব্যাংক অব কানাডার গভর্নর হিসাবে কাজ করার আগে গোল্ডম্যান শ্যাক্সের একজন বিনিয়োগ ব্যাংকার ছিলেন। ব্রেক্সিট ভোটকে ঘিরে অশান্তির সময় ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য যুদ্ধ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘একসময় কানাডার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল আমেরিকা। কিন্তু এখন  আর কানাডা তাকে বিশ্বাস করতে পারে না।’

সূত্র : এনডিটিভি

mzamin

Tuesday, March 11, 2025

কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী কার্নি, ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধে জয়ের প্রত্যয়

কানাডার নুতন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন মার্ক কার্নি। এর মাধ্যমে দেশিটতে জাস্টিন ট্রুডোর অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি হলো। নির্বাচিত হয়েই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধে জয়ী হওয়ার অঙ্গীকার করেছেন কার্নি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক গর্ভনর ছিলেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। তিনজন শক্ত প্রতিদ্বন্দীকে হারিয়ে ভূমিধস বিজয় পেয়েছেন মার্কি কার্নি।

৫৯ বছর বয়সী কার্নি তার বিজয় ভাষণে বেশির ভাগ সময় ট্রাম্পকে আক্রমণ করেছেন। কেননা ক্ষমতায় এসেই কানাডার ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। এছাড়া কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন তিনি। এতে তার বিরুদ্ধে কানাডার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। যা কাজে লাগিয়েছেন কার্নি। তিনি বলেন, হকির মতো বাণিজ্য খেলাতেও কানাডার জয় হবে।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন কার্নি। সামনের সাধারণ নির্বাচনে লিবারেলদের নেতৃত্ব দেবেন তিনি। আশা করা হচ্ছে পরের সপ্তাহতেই সাধারণ নির্বাচনে ভোট দেবে কানাডার সাধারণ জনগণ। কার্নি এখন পর্যন্ত মনোনীত প্রধানমন্ত্রী। এর আগে কখনও তিনি নির্বাচিত পদে দায়িত্ব পালন করেন নি।

প্রায় এক দশক ক্ষমতায় থাকার পর পদত্যাগের ঘোষণা দেন জাস্টিন ট্রুডো। পরে জানুয়ারিতে লিবারেল নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ক্রমাগত আবাসন সংকট এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ভোটারদের কাছে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠেন ট্রুডো। এতে তার ওপর পদত্যাগের চাপ তীব্র হতে থাকে। যার ফলে অনেকটা বাধ্য হয়েই তিনি পদত্যাগ করেন।  

রোববার সদস্যদের ভোটে লিবারেল পার্টির নতুন নেতা বাছাই হয়। সেখানে ৮৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে ভূমিধস জয় পান মার্ক কার্নি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড। তিনি রিতীমতো ধরাসায়ী হয়েছেন। কার্নি মোট ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৭৪ ভোট। পক্ষান্তরে ফ্রিল্যান্ড পেয়েছেন মাত্র ১১ হাজার ১৩৪ ভোট।

ওই দিন দেশটির রাজধানী অটোয়াতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সেখানে প্রায় ১৬০০ দলীয় সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। ফলাফল ঘোষণার পর পরই উল্লাসে ফেটে পড়েন তারা। এই নির্বাচেন এক লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন। এখানে বলে রাখা ভালো কানাডার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় হাউস অব কমন্সের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে যিনি লিবারেল পার্টির প্রধান হবেন তিনিই দেশটির প্রধানমন্ত্রী হবেন। এ হিসেবে মার্ক কার্নি নির্বাচনের আগপর্যন্ত প্রধামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

mzamin

Wednesday, February 26, 2025

ইলন মাস্কের কানাডিয়ান নাগরিকত্ব বাতিলের দাবিতে লাখ লাখ মানুষের স্বাক্ষর

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের কানাডিয়ানি নাগরিকত্ব বাতিলের একটি আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন দেশটির লাখ লাখ মানুষ। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কানাডার উত্তেজনার মধ্যে এ খবর বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, মাস্কের বিরুদ্ধে কানাডার সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ দিন আগে তার নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন জানিয়ে গণস্বাক্ষরের আয়োজন করা হয়। যাতে এ পর্যন্ত আড়াই লাখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেয়া ইলন মাস্কের কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বই রয়েছে। তবে অভিবাসন নীতি অনুযায়ী জালিয়াতি, নিজের পরিচয় গোপন অথবা অবৈধভাবে অভিবাসী হলে যে কারও নাগরিকত্ব বাতিল করতে পারে কানাডা। এই গণস্বাক্ষরের প্রতিক্রিয়ায় মাস্ক তার এক্সের আইডিতে লিখেছেন, কানাডা সত্যিকার অর্থে কোনো দেশ নয়। যদিও ওই পোস্ট পরে মুছে দেন মাস্ক।

ট্রাম্প একাধিকবার কানাডার রাজনৈতিক নেতাদের উপহাস করেছেন এবং যুক্তি দিয়েছেন যে, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য হওয়া উচিত। এই বক্তব্যের জেরে কানাডার অনেক নাগরিক ক্ষুব্ধ হয়ে ইলন মাস্কের নাগরিকত্ব বাতিলের দাবিতে স্বাক্ষর করেছেন। গণস্বাক্ষরের ওই আবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে সম্পদ এবং শক্তি ব্যবহার করেছেন ধনকুবের মাস্ক। যার মাধ্যমে তিনি বর্তমানে কানাডার সার্বভৌমত্বকে মুছে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছেন। মূলত মায়ের দিকের সম্পর্কের জন্য ইলন মাস্কের কানাডিয়ান নাগরিকত্ব পেয়েছেন।   

ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে তিক্ততা সৃষ্টি হয়েছে। কেননা ট্রাম্প বলেছেন, কানাডার যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যে পরিণত হওয়া উচিত। এছাড়া কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক দেয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। যা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের চিড় ধরিয়েছে। ট্রাম্পের হুমকির পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো পাল্টা শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প যে নীতি গ্রহণ করেছেন তা কানাডার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আগের সকল নীতির ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করেছে।

mzamin

Sunday, January 19, 2025

ট্রাম্প শুল্ক আরোপ করলে পাল্টা জবাব দেবে কানাডা

কানাডার পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করলে তার পাল্টা জবাব দেয়া হবে। শুক্রবার এমন মন্তব্য করেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলোনি জলি। এছাড়া কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য বাণিজ্য যুদ্ধ হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি। যা কয়েকযুগের মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যুদ্ধ বলে ধারণা করেন মেলোনি। এ প্রসঙ্গে ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চাপ নিতে প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প যদি অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্তে অটল থাকেন সেক্ষেত্রে কানাডার কাছেও বিকল্প আছে। সরকারি সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপে চিন্তা করছে অটোয়া। তবে, তা কানাডার ভোগ্যপণ্য ও চাকরির বাজারের ওপর প্রভাব ফেলবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন যেসমস্ত  চাকরি আছে তা  হুমকির মুখে পড়বে। এছাড়া দাম বৃদ্ধি পাবে কানাডায় ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের। দাম বৃদ্ধি পেতে পারে  ইস্পাত, টয়লেট ও সিংক (সিরামিকের), কাচের তৈরি জিনিস ও কমলার শরবতের মতো পণ্যের। এতে হুমকির মুখে পড়বে দুই দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তা। এছাড়া এর প্রভাবে পুরো মহাদেশ জুড়ে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাবে। মেলোনি আরও বলেন, ট্রাম্প যে হারে শুল্ক আরোপ করছেন তাতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ‘ট্রাম্প শুল্কের’ মাধ্যমে নিষ্পেষিত হবে।

এদিকে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, কানাডা ও কানাডার জনগণকে রক্ষায় দ্ব্যর্থহীন থাকবে তার সরকার। উল্লেখ্য, স্কটিয়া ব্যাংকের এক দৃশ্যপট বলছে, সম্ভাব্য বাণিজ্য যুদ্ধে কানাডার জিডিপি কমতে পারে শতকরা ৫ শতাংশের বেশি। ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতি। ২০শে জানুয়ারি মার্কিন মসনদে প্রত্যাবর্তন করতে যাচ্ছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষমতায় আসার পর কানাডার ওপর ২৫ শতাংশ কর আরোপ করার অঙ্গীকার করেন তিনি। নিজের অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্র নীতির অধীনে এমন সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কানাডা ছাড়াও মেক্সিকো ও চীনা পণ্যের ওপরও কর আরোপের কথা জানান ট্রাম্প। তার এমন সিদ্ধান্ত  হৈচৈ শুরু হয় কানাডার রাজনীতিতে। এমনিতেই করোনার পর থেকে আবাসন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ার কারণে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করতে থাকে দেশটির সাধারণ জনগণ। এরপর ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের কথা জনসম্মুখে আসার পর ট্রুডোর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন জনগণ। এর পরিপ্রেক্ষিতে পদত্যাগ করেন ট্রুডো। 

mzamin

Friday, December 13, 2024

কানাডায় প্রতি ২০টিতে একটি স্বেচ্ছামৃত্যু, বাড়তে পারে আরও

কানাডায় প্রতি ২০টি মৃত্যুর মধ্যে একটি মৃত্যু ঘটে স্বেচ্ছায়। অর্থাৎ মেডিকেল সহায়তা দেয়া হয়। কিন্তু টানা পঞ্চম বছরের মতো সেখানে এমন মৃত্যু বৃদ্ধির হার বেড়েছে। এ প্রক্রিয়াকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘ইউথানাসিয়া’। ২০১৬ সালে এমন মৃত্যুকে বৈধতা দেয়া হয়। তারপর থেকে পঞ্চমবারের মতো বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে দেশটি। যারা এই প্রক্রিয়ায় মৃত্যুবরণ করতে চাইছেন প্রথমবারের মতো তাদের জাতিগত পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছর এই প্রক্রিয়ায় স্বেচ্ছামৃত্যুবরণ করছেন প্রায় ১৫,৩০০ মানুষ। কানাডায় ওই বছর মোট যে পরিমাণ মানুষ মারা গেছেন তার মধ্যে শতকরা ৪.৭ ভাগ তারা। যেসব মানুষ মানসিকভাবে অসুস্থ তাদেরকে এই সুবিধা নেয়ার জন্য ইউথানাসিয়া’কে ২০২৭ সালের মধ্যে বিস্তৃত করতে চাইছেন আইনপ্রণেতারা। বিশ্বে গত এক দশকে মেডিকেল সহযোগিতায় মৃত্যুর আইনকে বৈধতা দিয়েছে অল্প কয়েকটি দেশ। তার মধ্যে অন্যতম কানাডা। অন্যদের মধ্যে আছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, স্পেন ও অস্ট্রিয়া। বুধবার হেলথ কানাডা যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে মেডিকেল সহযোগিতায় মৃত্যুর হার কানাডায় বেড়েছে শতকরা প্রায় ১৬ ভাগ। তবে এর আগের বছর এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছিল শতকরা ৩১ ভাগ। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে কেন এই সংখ্যা কমেছে, তার কারণ এত অল্প সময়ের মধ্যে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়, যারা মেডিকেল সহযোগিতায় মৃত্যুর জন্য সাহায্য চেয়েছিলেন তার মধ্যে শতকরা ৯৬ ভাগেরই স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। বাকি শতকরা ৪ ভাগকে ইউথানাসিয়া পদ্ধতিতে মৃত্যুবরণ করতে সহযোগিতা করা হয়েছে। কারণ, তারা দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে ভুগছিলেন। দৃশ্যত এসব মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যু অত্যাসন্ন বলেও মনে হচ্ছিল না। যারা মেডিকেল সহযোগিতা চেয়ে মৃত্যুর আবেদন করেছেন তাদের গড় বয়স প্রায় ৭৭ বছর। তাদের বেশির ভাগের ক্যান্সার। যেসব ব্যক্তি এই পদ্ধতিতে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করেছেন তার মধ্যে শতকরা ৯৬ ভাগই শ্বেতাঙ্গ। এর মধ্যে শতকরা প্রায় ৭০ ভাগই কানাডার নাগরিক। দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ গোষ্ঠী হলেন পূর্ব এশিয়ার। তারা শতকরা ১.৮ ভাগ। 
mzamin

Friday, November 8, 2024

নিরাপত্তা দিতে অক্ষম ট্রুডো প্রশাসন, কানাডায় ভারতের যাবতীয় সামাজিক কর্মসূচি বাতিল

বৃহস্পতিবার কানাডার স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, তারা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অক্ষম। এরপরেই টরন্টোতে ভারতের কনস্যুলেট জেনারেল ঘোষণা করেছে দেশ জুড়ে বেশ কয়েকটি নির্ধারিত কনস্যুলার ক্যাম্প বাতিল করা হচ্ছে। টরন্টোতে ভারতের কনস্যুলেট জেনারেল এক্স-এর একটি পোস্টে বলেছেন, ‘কমিউনিটি ক্যাম্পে ন্যূনতম নিরাপত্তা সুরক্ষা প্রদান করতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাদের অপারগতার কথা জানায়। এরপরেই আয়োজকরা  কিছু ইভেন্ট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

টরন্টোর নিকটবর্তী হিন্দু সভা মন্দিরে অনুষ্ঠিত কনস্যুলার ক্যাম্পে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটার কয়েকদিন পর এই খবর সামনে এলো। কানাডায় ভারতীয় হাইকমিশন এই হামলাকে ‘ভারত-বিরোধী’ কাজ বলে নিন্দা করেছে। সেইসঙ্গে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে তবেই ভবিষ্যতে কনস্যুলার কার্যক্রম চলবে। ঘটনার ফুটেজ শেয়ার করে হিন্দু কানাডিয়ান ফাউন্ডেশন অভিযোগ করেছে যে, খালিস্তানিপন্থীরা মন্দিরের বাইরে নারী ও শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করে। ভিডিওটি ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং  ভারতীয় প্রবাসীদের জন্য কড়া সুরক্ষার দাবি তোলা হয়েছে। হামলার প্রতিক্রিয়ায়, এক হাজারেরও বেশি কানাডিয়ান হিন্দু  মন্দিরের বাইরে জড়ো হয়েছিল। কানাডার নেতাদের কাছে এর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।

বিক্ষোভের সময়, আয়োজকরা কানাডার রাজনৈতিক নেতাদের এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে খালিস্তানিপন্থীদের সমর্থন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।  ভারতের  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো উভয়েই ধিক্কার জানিয়েছেন। এক্স-এ ঘটনাকে সম্বোধন করে, প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন, ‘আমি হিন্দু মন্দিরে ইচ্ছাকৃত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। আমাদের কূটনীতিকদের ভয় দেখানোর কাপুরুষোচিত প্রয়াসও সমান আতঙ্কজনক। এ ধরনের সহিংসতা কখনোই বরদাস্ত করা হবে না যা ভারতের সংকল্পকে দুর্বল করে। আমরা আশা করি কানাডিয়ান সরকার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে এবং আইনের শাসন বজায় রাখবে।’

প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোও অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘ব্র্যাম্পটন হিন্দু সভা মন্দিরে সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য। প্রতিটি কানাডিয়ানের  স্বাধীনভাবে এবং নিরাপদে তাদের বিশ্বাস অনুশীলন করার অধিকার রয়েছে।’

সূত্র : টাইমস অফ ইন্ডিয়া

mzamin

Thursday, October 31, 2024

শিখ নেতা হত্যার ষড়যন্ত্রে অমিত শাহ জড়িত: কানাডা

কানাডার মাটিতে খালিস্তানপন্থী শিখ নেতার হত্যার ষড়যন্ত্রে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জড়িতে রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে কানাডার সরকার। অমিত ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একজন খাস লোক হিসেবে বিবেচিত হন। মঙ্গলবার এ বিষয়ে তথ্য দিয়েছে অটোয়া। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এতে বলা হয়, কানাডার মাটিতে শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে ভারতীয়দের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে ভারত। দিল্লি এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং অমূলক বলে দাবি করেছে।

কানাডার মাটিতে শিখ নেতা হত্যা এবং তাদের ভয়-ভীতি দেখানোর পেছনে অমিত শাহের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন খবর প্রথম প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট। গণমাধ্যমটি বলছে, কানাডার সরকার জানিয়েছে খালিস্তানপন্থী শিখদের লক্ষ্য করে সহিংসতা ও তাদের ভয় দেখানোর পিছনে অমিত শাহই কাজ করেছেন।

মঙ্গলবার কানাডার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মরিসন সংসদীয় এক প্যানেলকে বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদপত্রকে বলেছেন এই চক্রান্তের পেছনে ছিলেন ভারতীয় মন্ত্রী অমিত শাহ। ওয়াশিংটন পত্রিকার সাংবাদিক ডেভিড মরিসনকে ভারতীয় ওই মন্ত্রীর নাম ধরে জানতে চাইলে তিনি তার নাম নিশ্চিত করেন। তিনি বলেছেন, আমি নিশ্চিত করেছি যে অমিত শাহই ওই হত্যার মূল ষড়যন্ত্রকারী। তবে অটোয়া এক্ষেত্রে সংসদীয় কমিটিকে কোনো তথ্য প্রমাণ হস্তান্তর করেনি। অটোয়ার এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় হাইকমিশন অথবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা খালিস্তান নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছে, যা নিজেদের জন্য হুমকি স্বরূপ মনে করে দিল্লি। এছাড়া দিল্লির দাবি খালিস্তানপন্থীরা ‘সন্ত্রাসী’ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। ১৯৮০ এবং ১৯৯০ এর দশকে ভারতে এক বিদ্রোহে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল। ১৯৮৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে তার শিখ দেহরক্ষী হত্যা করলে সারা দেশে শিখদের সঙ্গে ভয়াবহ দাঙ্গা হয়। যাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হন। সেসময় শিখদের মন্দিরগুলোতে হামলা চালানো হয় এবং তাদের উচ্ছেদ করতে ভয়াবহ অভিযান চালানো হয়।

কানাডা অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে ভারতীয় কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেছে। কানাডার মাটিতে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জারকে ২০২৩ সালে হত্যার সাথে ভারতীয়দের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কানাডার সরকার। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারতও কানাডার কূটনীতিকদের বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়ে।

mzamin

Friday, October 25, 2024

বাংলাদেশ-কানাডা সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত চান সেনাপ্রধান

রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে কানাডায় আছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সেখানে তিনি কানাডার প্রতিরক্ষা বিভাগের উপ-সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্টিফেন আর কেলসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাতে তারা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত অনুসন্ধানের ওপর জোর দিয়েছেন। এছাড়া কানাড-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের ভাইস চেয়ার এবং সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য সালমা জাহিদ এমপির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন সেনাপ্রধান। যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে বুধবার অটোয়ায় পৌঁছেছেন ওয়াকার-উজ-জামান। কানাডার প্রিভি কাউন্সিল অফিসের পরিচালক অজিত সিং এবং কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাহিদা সোবহান তাকে স্বাগত জানান। এ খবর দিয়েছে ঢাকা ট্রিবিউন।

এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে রাষ্ট্রীয় সফরে কানাডায় পৌঁছে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কানাডার প্রতিরক্ষা বিভাগের উপপ্রধান জনারেল স্টিফেন আর কেলসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাতকালে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। বাংলাদেশের হাইকমিশন জানিয়েছে, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান এবং অটোয়ার প্রতিরক্ষা বিভাগের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আলাপ হয়েছে।

বুধবার সকালে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে  পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈঠক করেন সালমা জাহিদ। ওই বৈঠকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা সহজীকরণ এবং ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেন জেনারেল ওয়াকার। সেইসঙ্গে কানাডায় কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিক এবং সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের ভিসার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

জেনারেল ওয়াকার যুব উন্নয়নে অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়টি তুলে ধরেন। এছাড়া দুই দেশের পারস্পরিক সুবিধার কথা উল্লেখ করে কানাডায় আরও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদানের বিষয়ে অটোয়ার সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের হাইকমিশনার। তবে কানাডায় বিদ্যমান আবাসন ঘাটতির কথা জানিয়ে অধিক ভিসা প্রদানে কিছুটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সালমা জাহিদ। তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়াকরণের জন্য কানাডার মনোনীত প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে উৎসাহিত করেন এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির বর্তমান সীমাবদ্ধতাগুলো মোকাবেলায় সমাধান খোঁজার প্রতি তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

ওই বৈঠকে শিক্ষা খাতে বিনিময় কর্মসূচিতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কানাডিয়ান ও বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া তারা কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। জেনারেল ওয়াকার কানাডার আবাসন সংকট মোকাবেলায় সহযোগিতার প্রস্তাব করেছিলেন। এছাড়াও স্বাস্থ্য খাতে কানাডাকে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন সেনাপ্রধান।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল কেলসির সঙ্গে পৃথক বৈঠকে, জেনারেল ওয়াকার চাকরিরত এবং অবসরপ্রাপ্ত বাংলাদেশি সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার পরামর্শ দেন। তিনি ভিসার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর প্রস্তাব করেন এবং এর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। পৃথক ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণে কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে তা দ্বিপাক্ষিক পরামর্শের মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার প্রস্তাব করেন জেনারেল ওয়াকার। এছাড়া উভয় দেশের সামরিক কর্মীদের পেশাগত উন্নয়ন জোরদার করতে ডিফেন্স কলেজ এবং স্টাফ কলেজগুলোতে অফিসার বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন সেনাপ্রধান।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম আসাদুল হক এবং মেজর মো. শোয়েব রিফাত অউমির সাথে উভয় বৈঠকে অংশ নেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাহিদা সোবহান।

mzamin

Friday, October 18, 2024

ভারত-কানাডা বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা কে এই লরেন্স বিষ্ণোই?

ভারতের আহমেদাবাদের সবরমতি সেন্ট্রাল জেলে বন্দী দুর্ধর্ষ গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই ভারত-কানাডা কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে একটি নতুন কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। কানাডায় অপরাধমূলক কার্যক্রম চালানোর জন্য তার গ্যাংয়ের সঙ্গে ভারত সরকারের যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি)। যদিও তারা কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সরবরাহ করেনি। সালমান খানকে খুনের হুমকি, সিধু মুসেওয়ালার নৃশংস হত্যাকাণ্ড, দক্ষিণ দিল্লির জিম মালিককে গুলি করে খুন এবং এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকি হত্যা, এই সবকটা ঘটনা এক সুতোয় গাঁথা। আর সেই সুতোর নাম লরেন্স বিষ্ণোই। জেল বন্দী হলেও লরেন্স বিষ্ণোইকে কিছুতেই আটকানো যাচ্ছে না। শুধু একটা মোবাইল ফোন আর ভিপিএন কানেকশনই তার হাতিয়ার। জেল থেকেই চালাচ্ছেন পুরো গ্যাং। পুলিশ ও প্রশাসনের ঘুম ছুটিয়ে দিয়েছে জেলবন্দী এই আসামি।

পাঞ্জাবের ফেরজোপুর জেলার ধাতারানওয়ালি গ্রামের এক ধনী কৃষক পরিবারের সন্তান লরেন্স বিষ্ণোই। বর্তমানে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও রাজস্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের অধিবাসীরা। বর্তমানে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের বয়স ৩১ বছর। ২০১০ সালে তিনি চণ্ডীগড় কলেজে ভর্তি হন। কিছুদিনের মধ্যেই যোগ দেন ছাত্র রাজনীতিতে। ২০১১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটির ছাত্র সংগঠনের সভাপতি ছিলেন। ২০১০ সালের এপ্রিলে খুনের চেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রথম ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়। একই সঙ্গে বেআইনি অনুপ্রবেশের অভিযোগে দায়ের হয় এফআইআর। দুটি মামলাই ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০১২ সালে জেল হয় বিষ্ণোইয়ের। মহারাষ্ট্র কন্ট্রোল অব অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যাক্টে তাকে তিহাড়ে স্থানান্তর করা হয়।

২০১৩ সালে তিনি সরকারি কলেজ নির্বাচনের জয়ী প্রার্থী এবং লুধিয়ানা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে গুলি করে খুন করেন। বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নেতাদের খুন, চাঁদাবাজিসহ এক ডজনের বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তার গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে মদ ও অস্ত্র চোরাচালানের কারবার চালানোর অভিযোগও রয়েছে। সীমান্ত চোরাচালানের একটি মামলায় তাকে গুজরাটে নিয়ে যায় এটিএস। এনআইএ-এর বক্তব্য অনুযায়ী, বিষ্ণোইয়ের গ্যাংয়ে ৫টি রাজ্যে ৭০০-এর বেশি শুটার রয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ শুটার পাঞ্জাবের।

২০২২ সালের ২৯ মে পাঞ্জাবি র‌্যাপার সিধু মুজ ওয়ালার হত্যাকাণ্ডে যুক্ত হয়ে প্রথম আলোচনায় আসে বিষ্ণোই। মুজওয়ালা ভারতের বিরোধী কংগ্রেস দলের সদস্যও ছিলেন। বিষ্ণোইয়ের সহযোগীরা হত্যার দায় স্বীকার করে। গত সপ্তাহে মুম্বাইয়ের অভিজাত বান্দ্রা এলাকায় ৬৬ বছর বয়সী মুসলিম রাজনীতিবিদ বাবা সিদ্দিককে হত্যার দায় স্বীকার করেছে বিষ্ণোইয়ের দল। সিদ্দিক মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকারের তিনবারের বিধায়ক এবং প্রাক্তন মন্ত্রী ছিলেন। তিনি বলিউড সেলিব্রিটিদের সাথে ঘনিষ্ঠতার জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে অভিনেতা সালমান খানের সাথে।

সিদ্দিকের হত্যার দায় স্বীকার করে বিষ্ণোইয়ের একজন সহযোগী এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, আমাদের কারো সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। কিন্তু যে কেউ সালমান খানকে সাহায্য করেন ... তারা সাবধানে থাকুন। ১৯৯৮ সালে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাজস্থানে একটি চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের সময় সালমান খান দু’টি হরিণ হত্যা করেছিলেন। সেই থেকে বিষ্ণোইয়ের সঙ্গে তার বিরোধ, সেটি প্রায় ২৬ বছর আগের। বিষ্ণোই ধর্মীয় সম্প্রদায় হরিণকে পবিত্র বলে মনে করে।

ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত ডোভাল সিঙ্গাপুরে তার কানাডিয়ান প্রতিপক্ষের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠক করেছেন। যেখানে তারা কানাডায় খালিস্তানপন্থী হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যায় বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কথিত জড়িত থাকার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। ভারত দৃঢ়ভাবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। নিজ্জার হত্যায় নয়াদিল্লির জড়িত থাকার অটোয়ার দাবিকে ‘রাজনৈতিক লাভের জন্য ভারতকে বদনাম করার একটি ইচ্ছাকৃত কৌশল’ হিসেবে খারিজ করে দিয়েছে তারা। কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, ভারত একটি বড় ভুল করেছে। আমরা কানাডার মাটিতে কানাডিয়ান নাগরিকদের হুমকি এবং হত্যা করার পেছনে বিদেশি সরকারের জড়িত থাকার বিষয়টি কখনই বরদাস্ত করব না। তবে ভারত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে দাবির স্বআঃপক্ষে প্রমাণ চেয়ে অটোয়াকে চ্যালেঞ্জ করেছে।  

শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদ বা তথাকথিত খালিস্তান আন্দোলনের ইস্যুটি কয়েক দশক ধরে ভারত-কানাডার সম্পর্কের কাঁটা হয়ে আছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো জানাচ্ছে, ১৯৮০-এর দশকে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দমন-পীড়ন পাঞ্জাবে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বেসামরিক শিখদের বিচারবহির্ভূত হত্যার দিকে পরিচালিত করেছিল। অনেক শিখ পরিবার সেইসময় কানাডায় চলে যায়। ১৯৮৫ সালে কট্টরপন্থী শিখ বিদ্রোহীরা কানাডার মন্ট্রিল থেকে লন্ডন এবং নয়াদিল্লি হয়ে ভারতের মুম্বাইগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানকে উড়িয়ে দেয়। আটলান্টিক মহাসাগরের উপর মধ্য আকাশে বিমান বিস্ফোরণে ৩২৯ জনের সবাই নিহত হয়েছিলেন। যাদের বেশিরভাগই ছিলেন কানাডিয়ান নাগরিক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খালিস্তান আন্দোলন কানাডাসহ কয়েকটি প্রবাসী শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে মাথাচাড়া দিয়েছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতের তদন্ত সংস্থা একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী সুখদুল সিংকে ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত করে। তালিকভুক্ত করার একদিনেরও কম সময়ের মধ্যে কানাডার উইনিপেগ শহরে বন্দুকের গুলিতে তিনি নিহত হন।

এরপর বিষ্ণোইয়ের দল এই হত্যার দায় স্বীকার করে তাকে ‘মাদক আসক্ত’ বলে উল্লেখ করে। তারা বলে, ‘আমরা আমাদের শত্রুদের খুঁজে বের করব, তারা যেখানেই থাকুক না কেন।’

এদিকে কানাডা সরকার বিষ্ণোইকে তাদের দেশের হত্যাকাণ্ড চালানোর জন্য ভারত সরকারের সঙ্গে যোগসাজশ রাখার দায়ে অভিযুক্ত করেছে। নয়াদিল্লি এই সপ্তাহে ‘দৃঢ়ভাবে’ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা

mzamin