Tuesday, July 9, 2019

বান কি মুন ও ডাচ রাণী ম্যক্সিমা ঢাকায়

পৃথক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন   এবং ডাচ রাণী ম্যাক্সিমা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আলাদা ফ্লাইটে তারা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদ্বয়কে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। পরে ভিআইপি লাউঞ্জে জাতিসংঘের প্রধান নির্বাহী হিসাবে দুই টার্মে টানা ১০ বছর দায়িত্ব পালনকারী কোরীয়ান কূটনীতিক বান কি মুনের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন মন্ত্রী হওয়ার আগে জাতিসংঘে ৫ বছরের বেশী সময় প্রতিনিধিত্বকারী ড. মোমেন।  মুন এসেছেন সস্ত্রীক।  কূটনৈতিক ও সরকারী সূত্র জানিয়েছে, গত রাতেই ঢাকায় এসে পৌছেছেন আরেক গুরুত্বপূর্ণ অতিথি মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট ড.হিলদা হেইনি। ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ‘মিটিং অব দ্য গ্লোবাল কমিশন অন এডাপটেশন (জিসিএ)’ সম্মেলনে যোগ দিতে ২ দিনের সফরে এসেছেন তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ দেশটির প্রেসিডেন্টকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে রাতে অভ্যর্থনা জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সকালে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ১ দিনের এই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। এতে জিসিএ’র বর্তমান সভাপতি বান কি মুন ‘ওয়ে ফরওয়ার্ড এন্ড নেক্সট স্টেপ টুওয়ার্ডস ক্লাইমেট চেঞ্জ এডাপটেশন’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একই হোটেলে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের সাবেক প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে জলবায়ু সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, গ্লোবাল কমিশন ফর এডাপটেশন সেন্টারের সিইও ড. পেট্রিক ভি ভারকোইজেন, ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট’র নির্বাহী সহ-সভাপতি এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিশ বাপনা এবং সিজিএ কমিশনার এবং ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মুসা প্রস্তুুতি বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।
বিকালে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের মধ্যে বঙ্গভবনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরে প্রেসিডেন্ট ড. হিলদা হেইনি এবং বান কি মুন হেলিকপ্টার যোগে কক্সবাজার যাবেন। সেখানে তারা উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং খুরুসকূল বিশেষ আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করবেন। ড. হিলদা বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা ত্যাগ করবেন। এদিকে অর্থনীতি বিষয়ক অন্য অনুষ্ঠানে অংশ নিবেন রাণী ম্যাক্সিমা। তিনি ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করবেন।

শান্তির লক্ষ্যে দোহায় আফগানিস্তানের প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনীতিকদের বৈঠক

আফগানিস্তানের এক ডজনের মতো প্রভাবশালী রাজনীতিক রোববার কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব রাজনীতিকের মধ্যে পরস্পরের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী এমন কয়েকজনও রয়েছেন। তারা ১৮ বছরের যুদ্ধ অবসানের জন্য দেশটিতে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মার্কিন-তালেবান আলোচনার পর আফগান রাজনীতিকদের সঙ্গে তালেবানদের আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। আলোচনা রাত পর্যন্ত গড়ায়। বিদেশের মাটিতে তার সবচেয়ে দীর্ঘ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াশিংটন চাচ্ছে সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই তালেবানদের সঙ্গে একটি রাজনৈতিক চুক্তি করতে, যাতে আফগানিস্তান থেকে বিদেশী সেনা প্রত্যাহার করা যায়।
কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাঝে দোহার একটি বিলাসবহুল হোটেলে তালেবান ও আফগান রাজনীতিকদের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ৭০ জনের মতো আফগান প্রতিনিধি যোগ দেন। হলে প্রবেশের আগের সবার ফোন রেখে দেয়া হয়। তারা বিশালাকার অর্ধবৃত্ত ভিডিও স্ক্রিনের সামনে বসে আলোচনা করেন। কাতার ও জার্মানী এই বৈঠকের আয়োজন করে।
জার্মানির বিশেষ আফগান প্রতিনিধি মার্কুস পোতজেল উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, আজ আফগান সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্বকারী কিছু উজ্জ্বল মস্তিষ্ক সমবেত হয়েছেন। আজ আপনাদের সামনে সংঘাতকে শান্তিপূর্ণ বিতর্কে পরিণত করার অনন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সম্মেলনের প্রবেশ মুখে নিরাপত্তা প্রহরীর সঙ্গে আফগান আলোচক আব্বাস স্তানেকজাইয়ের সঙ্গে হালকা বিতণ্ডা হয়।
স্তানেকজাই এক অফিসারকে বলেন, আমরা সংলাপে যেতে চাই কিন্তু তারা আমাদের যেতে দিচ্ছে না। ওই অফিসার জবাবে বলেন: আমরা আপনার সঙ্গে জোক করছি না, আমাদের সঙ্গে চিৎকার করে কথা বলবেন না।
তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনা শুরুর কিছু সময় আগে তালেবান প্রতিনিধি দল বিলাসবহুল বলরুমে তাদের নির্ধারিত আসনে গিয়ে বসেন। তাদের মধ্যে তালেবানদের দোহা অফিসের মুখপাত্র সুহাইল শাহিনও ছিলেন।
মহিলাদের কাজ করার সুযোগ দিতে হবে
কাতার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সন্ত্রাস-দমন বিভাগের বিশেষ দূত মুতলাক আল-কাহতানি বলেন, আফগানিস্তানের ভবিষ্যতের ব্যাপারে একটি রোডম্যাপ চায় দোহা।
যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে ছয় দিন আলোচনা পর এই আন্ত:আফগান আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই আলোচনার জন্য তালেবান-মার্কিন বৈঠক দুইদিন স্থগিত রাখা হয়েছে।
বৈঠকে সবাই যুদ্ধবিরতির উপর গুরুত্ব দেয় বলে একটি সূত্র এএফপি’কে জানিয়েছে।
তাছাড়া নারীদের ভূমিকা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সংখ্যালঘুদের ভূমিকার ব্যাপারে তালেবান অবস্থান নিয়ে কথা বলেন স্তানেকজাই।
আফগান সংস্কৃতি ও ইসলামী মূল্যবোধ অনুযায়ী নারীদের কাজ করা ও শিক্ষা গ্রহণের অনুমতি দেয়া হবে বলে স্তানেকজাই উল্লেখ করন।
আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে তালেবান।
দুই দিনের এই আফগান বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নিচ্ছে না। তালেবানরা আফগান সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে অস্বীকার করায় বৈঠকে কয়েকজন সরকারি কমকর্তা অংশ নিলেও তারা নিজে সামর্থে্য অংশ নিচ্ছেন বলে কাবুল সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়।
আফগান যুদ্ধে তালেবানরা এখন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার মাঝেও আফগান বাহিনীর উপর হামলা অব্যাহত রেখেছে তারা।

জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মের তদন্তে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের দাবি সুজনের

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনিয়ম অভিযোগ এনে তা তদন্তে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের দাবি জানিয়েছে নাগরিক সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে এ কমিশন গঠন করতে প্রেসিডেন্টের প্রতি আহবান জানিয়েছে সংগঠনটি। আজ রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সুজন।  সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। এ সময় তিনি ফলাফল বিশ্লেষনের চুম্বক অংশ তুলে ধরেন।
পরে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমরা নির্দলীয় সংগঠন। আমরা  কোনো দলের পক্ষে বলছি না। আমরা এই দেশের জনসাধারণের পক্ষে।
আমরা দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া রক্ষা করার পক্ষে। কারণ এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াটা যদি ভেঙে যায় তাহলে দেশে আর শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার বদল হবে না। অশান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার বদল হলে তা সবার জন্যই অশনি সংকেত।
বদিউল আলম বলেন, এবার ১০৩টি আসনের ২১৩ কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে। ৫৮৭টি কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী ছাড়া কেউ ভোট পাননি। এর মধ্যে কেবল একটি আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ভোট পেয়েছেন। অর্থাৎ ৫৮৬টি কেন্দ্রে কেবল নৌকার প্রতীক ভোট  পেয়েছে। ৬৮৫টি কেন্দ্রে ঐক্যফ্যন্টের প্রার্থী একটি ভোটও পাননি। বগুড়ার তিনটি আসন ছাড়া একটানা চারটি নির্বাচনে বিএনপি যে সব আসনে জিতেছে সেখানেও এবার তারা সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছে ১৯.৪ শতাংশ।
বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, নির্বাচনি ফলাফল ঘোষণা করা হয় রিটার্নিং অফিসারের স্বাক্ষরের ভিত্তিতে। অথচ ভোটের পর রিটার্নিং অফিসাররা যে ফল দিয়েছিলেন তার সঙ্গে এবার নির্বাচন কমিশন যে ফল দিয়েছে তার মিল নেই বেশ কিছু কেন্দ্রে। এটা কীভাবে সম্ভব?
এসব অভিযোগ তুলে ধরে সুজন সম্পাদক আরও বলেন, নির্বাচনে অনিয়মের যে অভিযোগ ওঠেছে তা সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে গবেষক ও কলামনিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ তার বক্তব্যে বলেন, অতীতেও বাংলাদেশে অস্বচ্ছ নির্বাচন অনেক হয়েছে। ফলাফল নিয়ে অনেক গোঁজামিল আমরা দেখেছি। তবে এবার নির্বাচন কমিশন গোঁজামিলে না গিয়ে সোজামিলে চলে গেছে। সোজামিল শব্দটার অর্থ হলো শতভাগ। শতভাগের চেয়ে  সোজামিল আর হয় না। এই যে সোজামিল ঘটনাটি ঘটেছে এটা মুক্তিযদ্ধের ভিত্তিতে যে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত, রক্তের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত, সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সেজন্য নির্বাচন কমিশনের সোজামিল নিয়ে আমরা যে আলোচনা করছি তা মোটের ওপর অর্থহীন। এ নিয়ে বেশি কথা বলার মানে নেই। একটা কথা বলতে পারি, বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অন্য কোনো ব্যাপারে না হলেও এই নির্বাচনের ফলাফর নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। সহজে এই জিনিস কেউ ক্ষমা করবে না, আল্লাহও ক্ষমা করবেন না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, আগে থেকেই এই নির্বাচন নিয়ে যেসব অভিযোগ ছিল সেগুলো হলো- মনোননয়ন বাণিজ্য, নির্বাচনী প্রচারে বাধা, ঐক্যফ্রন্টের পোলিং এজেন্টদের ভয় দেখিয়ে বের করে দেয়া, আগের রাতে ব্যালট ভরা, কোনো কেন্দ্রে ১১টার মধ্যে ব্যালট শেষ হয়ে যাওয়া, দীর্ঘ সময় লম্বা লাইন করে দাঁড়িয়ে থাকলেও ভেতরে প্রবেশ না করা, জোর করে সিল দিয়ে নেয়া, নির্বাচনী দায়িত্ব নিয়োজিত কর্মকর্তাকে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে ব্যবহার করা।
তবে এবার কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে বহু অনিয়ম ও অসঙ্গতি দেখা গেছে বলে জানান দিলীপ কুমার। তিনি বলেন, ‘১০৩টি নির্বাচনি এলাকায় ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে  শতভাগ ভোট পড়েছে যা কোনোক্রমেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। ৭৫ নির্বাচনী এলাকায় ৫৮৭টি ভোটকেন্দ্রের সব ভোট নৌকা প্রতীকের পক্ষে পড়েছে, যা অস্বাভাবিক। এমনকি মহাজোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে যে ভোটের ব্যবধান তাও স্বাভাবিক নয়। ব্যালট  পেপারে ভোট ও ইভিএমে ভোট গণনার ফলাফলেও যে পার্থক্য দেখা গেছে তাও গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবাদ সম্মেলনে সুজন সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুজনের নির্বাহী সদস্য ড. শাহদীন মালিক উপস্থিত ছিলেন।

৪৪ বছর ধরে রোজা, চলেন গেলেন এক মমতাময়ী মা

আদর্শ মায়ের প্রতীক হয়ে ওঠেছিলেন সখিরণ নেছা ওরফে ভেজিরণ বুড়ি। যিনি সন্তানের মঙ্গলের জন্য প্রায় ৪৪ বছর ধরে রোজা রেখেছেন। সবার প্রিয় সেই সখিরণ নেছা চিরবিদায় নিয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যার দিকে আনুমানিক ৭৫ বছর বয়সী মমতাময়ী এই মা ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহী ওয়া ইন্না ইলাহী রাজেউন)।
সখিরণ নেছা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজারগোপালপুর গ্রামের মৃত আবুল খায়েরের স্ত্রী। প্রতিবেশি মনজুর আহম্মেদ জানান, ১৫ দিন ধরে তিনি অসুস্থ হয়ে বিছানায় ছিলেন। রক্ত তৈরী করা কোষগুলো তার অকেজো হয়ে পড়েছিল। সোমবার রাত ১২টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজারগোপালপুর গ্রামে আদর্শ মা সখিরণ নেছাকে দাফন করা হয়।
এলাকাবাসী জানায়, খুবই হতদরিদ্র ঘরের একজন সাধারণ মা ছিলেন তিনি। কাজ করতেন মানুষের বাড়ি, ভাজা ফ্যাক্টরিতে। কখনো ঝাল আর কলাই তুলে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ৪৪ বছর রোজা পালন করলেও খাওয়ার ব্যাপারে তিনি ছিলেন একেবারেই সাদামাটা। কোন সময় শুধু পানি মুখে দিয়েই রোজা ভাঙতেন। দুনিয়া জোড়া মায়েদের জন্য রোল মডেল সেই মা সখিরণ পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে।
স্থানীয় মধুহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মেদ জুয়েল বলেন, ১৯৭৫ সালে ১১ বছর বয়সে তার বড় ছেড়ে শহিদুল হারিয়ে যান। তখন থেকেই ওই সন্তানের মঙ্গল কামনা করে এক নাগাড়ে রোজা পালন করে আসছিলেন। শহিদুল বাড়ি ফিরে এলেও রোজা রাখা বন্ধ করেননি তিনি। ছেলে শহিদুলের বয়স এখন ৫৫। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে সন্তানের প্রতি তার এ মমতার কথা বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, সখিরণ নেছা ওরফে ভেজিরণ বুড়ির স্বামী আবুল খায়ের ছিলেন একজন বিত্তশালী মানুষ। ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ের জননী ছিলেন সখিরণ। স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারে অভাব-অনটন নেমে আসে। বড় ছেলে শহিদুল জানান, এমন মায়ের গর্ভে জন্ম নেয়া সৌভাগ্য। আমার মা ছিলেন অনুকরণীয় একজন নারী।

শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের জন্য কাতারে আফগান-তালেবান আলোচনা, দেশে তীব্র হচ্ছে যুদ্ধ

আফগান সমাজের উদ্বিগ্ন প্রতিনিধিরা সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো কাতারে তালেবান কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনায় অংশ নেয়। বিদ্রোহীদের রক্তাক্ত হামলার ফলে দীর্ঘ দিন ধরে চলা যুদ্ধ অবসানের প্রয়াসে সন্দেহ সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা চলে।
তালেবান রোববার মধ্য আফগানিস্তানে সরকারের একটি নিরাপত্তা কম্পাউন্ডের বাইরে একটি গাড়িবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ১৪ জন নিহত ও ১৮০ জন আহত হয়।
আফগান নাগরিক ও তালেবান যোদ্ধাদের মধ্যে দু দিনের বৈঠকের প্রেক্ষাপটে এই হামলাটি হয়।
আলোচনায় সম্পৃক্ত এক সিনিয়র আফগান সরকারি কর্মকর্তা বলেন, যারা নির্দোষ আফগানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়োজিত রয়েছে, তাদের সাথে আলোচনায় বসা কঠিন ব্যাপার। তবে এটি শান্তির প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতির পরীক্ষাও।
আফগানিস্তান থেকে সব বিদেশী সৈন্য প্রত্যাহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি এবং আফগানিস্তানকে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় না দেয়ার তালেবানের ঘোষণা নিয়ে দুই পক্ষ এখন আলোচনা করছে।
তালেবান সাধারণ আফগানদের সাথে আলোচনায় বসলেও কাবুল সরকারের সাথে বসতে রাজি হচ্ছে না। তারা কাবুল সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল মনে করে।
কাতারে ৬০ সদস্যের আফগান প্রতিনিধিদলের মধ্যে আফগান সরকারি কর্মকর্তারা থাকলেও তারা সরকারি মর্যাদায় ছিলেন না।
কাতার থেকে পরিচয় না প্রকাশ করার শর্তে এক সরকরি কর্মকর্তা বলেন, আমি এখানে আফগান হিসেবে উপস্থিত রয়েছি। তবে তালেবান সদস্যরা অন্য কিছুর আগে নিজেদের আফগান মনে করে কিনা তা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে।
তালেবান কর্মকর্তারা সাধারণভাবে ইতিবাচক কথা বললেও তারা নারীদের অধিকার, সমাজের স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে রাজি নয়।
মঙ্গলবার তালেবান ও মার্কিন আলোচকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
গত সপ্তাহে প্রধান মার্কিন আলোচক জালমি খালিলজাদ বলেছেন, গত বছরের শেষ দিকে শুরু হওয়া শান্তিপ্রক্রিয়াটি এখন সবচেয়ে ফলপ্রসূ অবস্থায় এসেছে।
>>>হামিদ শালিজি, রুপম জৈন

‘আবিরের লাশটা যেন খুঁজে পাই’ by ওয়েছ খছরু

টগবগে তরুণ আবির। পুরো নাম হাসানুর রহমান আবির। বন্ধুদের নিয়ে সখের বসে সাদা পাথরে গিয়েছিল বেড়াতে। সাঁতার কাটতে গিয়ে আবির হারিয়ে গেল চিরতরে। দুই দিনেও খোঁজ মিললো না তার। বেঁচে থাকার আশা ছেড়েই দিয়েছেন। এখন সবার একটাই চাওয়া- ‘আবিরের লাশটা যেন পাই’। প্রথম দিন প্রশাসন তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ধলাই নদীর জলে।
কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চালানো হয় তল্লাশি অভিযান। কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি আবিরকে। প্রায় ৩ ঘণ্টা তল্লাশির পর প্রশাসন অভিযান শেষ করেছে। কিন্তু বসে নেই আবিরের পরিবার। সঙ্গে বন্ধুরাও। গতকাল আবিরের প্রায় ৫০ জন বন্ধু নৌকা নিয়ে ধলাই নদীর ভাটিতে তল্লাশি শুরু করেছে। দিনভর তল্লাশির পরও তারা আবিরের সন্ধান পায়নি। এরপরও আবিরের জন্য অন্তহীন অপেক্ষায় সবাই। এক নজর পুত্রের মুখ দেখতে অপেক্ষায় রয়েছেন হতভাগা পিতা-মাতা। আর ডুবে যাওয়ার খবর শোনার পর থেকে মাতম চলছে বাসায়। অসুস্থ পিতা নির্বাক। মায়ের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পরিবেশ। হাসানুর রহমান আবির। বয়স ২৩ কিংবা ২৪ বছর। সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। গত বছর একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আবির অনার্স পাস করেছে। পিতা মতিউর রহমান অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। একমাত্র পুত্র আবির। বড় তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। সচ্ছল পরিবার হওয়ার কারণে ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চেয়েছিলেন মতিউর রহমান। পরিবারের সবার ছোট হওয়ায় আদরের ছিল সে। শুক্রবার সিলেটের ভোলাগঞ্জের সাদা পাথরে বেড়াতে গিয়েছিল আবির। ওই দিন বেশিক্ষণ থাকেনি। উজানের স্বচ্ছ জল ও পাথরের সমারোহ আবিরকে টেনেছিল। এ কারণে বাড়ি এসে সাদা পাথরের কথা বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করে। তাদের নিয়ে সাদা পাথর যাওয়ার তারিখও চূড়ান্ত করে। তারিখ অনুযায়ী গত রোববার ইউনিভার্সিটির বন্ধুদের নিয়ে সকালেই সাদা পাথর যায় আবির। দুপুরে তারা সাদা পাথরের জিরো পয়েন্টের কাছে সাঁতার কাটতে নামে। বন্ধুদের নিয়ে সে পানিতে নেমে ঝাপাঝাপি করে। আবিরের বন্ধুরা জানায়- আবির সাঁতার জানতো না। এরপরও সে বন্ধুদের সঙ্গে পানিতে নেমে জলকেলিতে মেতে ওঠে। এক ঘণ্টার বেশি সময় তারা পানিতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা চলে যায় জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি। ওখানে বিজিবির সদস্যরা টহলে ছিল। তারা আবির ও তার বন্ধুদের জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি এলাকা থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তাদের নিষেধ দিয়ে বিজিবির সদস্যরা অন্য এলাকায় টহলে চলে যান। বিজিবির নিষেধ পেয়ে আবির ও তার বন্ধুরা তীরের পথে রওনা দেয়। এ সময় সবার পেছনে ছিল আবির। সে পাথরের উপর দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ করে ঢলের তোড়ে পা ফসকে যায় আবিরের। গভীর পানিতে চলে যায় সে। চিৎকারও দেয়। দৌড়ে গিয়ে বন্ধুরা তাকে ধরাধরি করে। কিন্তু সাঁতার না জানায় এক পর্যায়ে বন্ধুদের হাত ফসকে আবির বন্ধুদের চোখের সামনেই ধলাই নদীতে হারিয়ে যায়। বন্ধুদের চিৎকার শুনে এগিয়ে যান স্থানীয় শ্রমিকরা। তারা গিয়ে ডুবে যাওয়া এলাকায় আবিরের সন্ধান করে। কিন্তু তারা পায়নি। কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ খবর দেয় ডুবুরিকে। সিলেট থেকে ডুবুরিরা গিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত আবিরের খোঁজ করে। তারা সাদা পাথর এবং আশপাশ এলাকায়ও তল্লাশি করে। কিন্তু আবিরকে পায়নি। সন্ধ্যায় অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এদিকে- আবিরের খোঁজে তল্লাশি চলছে। গতকাল সকাল হতেই আবিরের স্বজন ও বন্ধু প্রায় ৫০ জন মিলে কোম্পানীগঞ্জ যায়। তারা গিয়ে নৌকাযোগে কোম্পানীগঞ্জ থেকে নদীর ভাটি ছাতক পর্যন্ত আবিরের সন্ধান করে। বিকাল পর্যন্ত তারা খোঁজ চালালেও খুঁজে পায়নি। এদিকে- আবিরের মুখ একবার দেখতে পাগলপ্রায় তার পিতা-মাতা। একমাত্র ছেলেকে ছায়ার মতো আগলে রাখতেন তারা। চোখে চোখে রাখতেন মা। দুই দিন ধরে পানিতে নিখোঁজ ছেলে। বেঁচে থাকার আশাও নেই। সিলেট নগরীর   সৈয়দ মুগনী আবাসিক এলাকার বাসায় আবিরের জন্য মাতম চলছে। বাইপাস সার্জারি রোগী পিতা মতিউর রহমান নির্বাক হয়ে গেছেন। আর মায়ের আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছে এলাকা। আবিরের পরিবারের স্বজন অ্যাডভোকেট তাজ উদ্দিন জানিয়েছেন- ‘প্রিয়জন হারানোর বেদনা বড়ই ভয়ঙ্কর। তার চেয়ে ভয়ঙ্কর হচ্ছে অপেক্ষা। আবিরকে এখনো পাওয়া যায়নি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা তার লাশটা অন্তত মিলুক। পরম মমতায় তাকে শায়িত যেন  করতে পারি।’ আবিরের প্রতিবেশি সিলেট মহানগর বিএনপি নেতা হুমায়ূন আহমদ মাসুক জানিয়েছেন- আবিরের পিতা-মাতার আর্তনাদ সহ্য করা যাচ্ছে না। যারাই বাড়িতে যাচ্ছেন কাঁদছেন। অসুস্থ পিতাকে সান্ত্ব্তনা দেয়ার ভাষা কারো জানা নেই। আমরা এখন আবিরের লাশের অপেক্ষায় আছি। সবার একটাই চাওয়া- আবিরের লাশটা যেন ফিরে পাই। তা হলে অন্তত একটু সান্ত্বনা পাওয়া যাবে। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন- আবিরের সন্ধান চলছে। আমরা সব জায়গায় বার্তাও পাঠিয়েছি। কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী শামীম আহমদ জানিয়েছেন- আবিরের ঘটনা দুঃখজনক। এতে আমরা মর্মাহত। আবিরের সন্ধানে প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। তিনি বলেন- সাদা পাথর এলাকা ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। এটা খোলামেলা স্পট। সাঁতার না জানলে দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। এজন্য দুর্ঘটনা এড়াতে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। এরই মধ্যে পর্যটকদের সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গ তারেককে ফেরৎ পাঠানো: বৃটিশ দূত বললেন, এটি আদালতের বিষয়

লন্ডনে বসবাসরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফেরানো নিয়ে সরকারের অনুরোধ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকায় নিযুক্ত বৃটিশ হাই কমিশনার রবার্ট চ্যাটারসন ডিকসন বলেছেন বিষয়টি বৃটেনের আদালতের আওতাধীন। এতে দেশটির সরকার বা প্রশাসনের কোন ভূমিকা নেই। পূর্বসূরীদের মত ডিকসনও তারেক রহমানের নাম না নিয়ে বলেন, কোন ব্যক্তি বিশেষের স্ট্যাটাস (বসবাসের অবস্থা বা অবস্থানের) বিষয়ে আমরা মন্তব্য করি না। সোমবার কূটনৈতিক সংবাদদাতা সমিতি ডিকাবের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে হাই কমিশনার ডিকসন এসব কথা বলেন। ডিকাবের ফ্লাগশিপ প্রোগ্রাম ডিকাব-টকে বৃটিশ দূত উল্লেখিত বিষয় ছাড়াও রোহিঙ্গা সঙ্কট, মুক্তমতের চর্চা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগের পরিবেশ এবং প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেন। রাজধানীর ইস্কাটনস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন ডিকাব সভাপতি রাহীদ এজাজ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিব। অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা সঙ্কট এবং চীনসহ বিভিন্ন দেশের অবস্থান সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে হাই কমিশনার বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরতের ক্ষেত্রে সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর ও মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে যে আলোচনা হয়েছে, সেটা উৎসাহব্যঞ্জক।
আমরা পত্র-পত্রিকায় এ নিয়ে পড়েছি। আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে এ বিষয়ে আরও কিছু জানতে চাইবো। এ সমস্যা সমাধানে চীনের সক্রিয়তা প্রত্যাশা করে ডিকসন বলেন, পুঞ্জিভূত ওই সঙ্কটের টেকসই সমাধান হতে হবে এবং দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রশ্নে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। তবে অন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চায়, রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে রাখাইনে ফিরে যাক। আমাদের সবার সেই লক্ষ্যে কাজ করা উচিত। বৃটিশ দূত তার বক্তব্যে মিডিয়া ফ্রিডম বিষয়ে বলেন, এটা গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ। তার ভাষায়Ñ কার্যকর গণতন্ত্রে মুক্ত মতের চর্চা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা জরুরি। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পথে জোর কদমে ধাবমান বাংলাদেশে নাগরিক সমাজের সক্রিয়তা বড় বেশী প্রয়োজন। তাদের কথা বলার সূযোগ অবারিত করা দরকার। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কথা শোনা জরুরি। এর মধ্য দিয়ে তাদের আইডিয়া যেমন পাওয়া যাবে, তেমনি তাদের সক্ষমতার প্রমাণ মিলবে। একই সঙ্গে তাদের হতাশার বিষয়গুলোও ধরা পড়বে। তবে এ মুক্ত মতের চর্চাও হতে হবে আইন মেনে, আইনের আওতায়। হাই কমিশনার বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুক্তমতের চর্চা প্রসঙ্গে বলেন, সরকারগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানানো ও সচেতনভাবে জনগণের সিদ্ধান্ত গ্রহণে যে কোন বিষয়ে মুক্ত আলোচনা এবং বিতর্কের সূযোগ থাকা জরুরি। তিনি উল্লেখ করে স্বাধীন গণমাধ্যমই পারে একটি দেশের জনগণকে সক্রিয়, সচেতন, সৃজনশীল ও সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তুলতে। বৃটিশ দূত বলেন, লন্ডনে আমরা কানাডার সহযোগিতায় মিডিয়া ফ্রিডম নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। ১০ ও ১১ জুলাই’র ওই আয়োজনে বাংলাদেশের সাংবাদিকরাও অংশ নিচ্ছেন।

‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকবে বৃটেন’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বরাবরের মতো বৃটেন বাংলাদেশের পাশে থাকবে। পুঞ্জীভূত এ সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান পেতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব উত্থাপন এবং রাখাইনে গণহত্যার জন্য দায়ীদের   বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক আদালতেও সক্রিয় থাকবে বৃটেন। ঢাকায় নিযুক্ত বৃটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারসন ডিকসন এমনটা জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সরকার প্রধানের আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক খবর বেরিয়েছে। ফলে বৃটেন আশা করে নিরাপত্তা পরিষদেও চীনের অবস্থানে পরিবর্তন আসবে। উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব আনতে বৃটেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্স চেষ্টা করলেও চীনের ভেটোতে তা আটকে যায়। বেইজিং চায় এ নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় সমাধান আসুক। তারা বিষয়টি আন্তর্জাতিকীকরণের বিরোধী।
ঢাকায় কূটনৈতিক সংবাদদাতা সমিতি ডিকাবের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার ডিকসন এসব কথা বলেন। ডিকাব-এর ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম ডিকাব-টকে বৃটিশ দূত রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও মুক্ত মতের চর্চা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগের পরিবেশ এবং প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেন। রোহিঙ্গা সংকট এবং চীনসহ বিভিন্ন দেশের অবস্থান সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরতের ক্ষেত্রে সমপ্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর ও মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে যে আলোচনা হয়েছে, সেটা উৎসাহব্যঞ্জক। আমরা পত্র-পত্রিকায় এ নিয়ে পড়েছি। আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে এ বিষয়ে আরো কিছু জানতে চাইবো। এ সমস্যা সমাধানে চীনের সক্রিয়তা প্রত্যাশা করে ডিকসন বলেন, পুঞ্জীভূত ওই সংকটের টেকসই সমাধান হতে হবে এবং দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রশ্নে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় চায়, রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে রাখাইনে ফিরে যাক। আমাদের সবার সেই লক্ষ্যে কাজ করা উচিত।
রাজধানীর ইস্কাটনস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) মিলনায়তনের ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন ডিকাব সভাপতি রাহীদ এজাজ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিব।
কার্যকর গণতন্ত্রে মুক্ত মতের চর্চা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা জরুরি: বৃটিশ দূত তার বক্তব্যে মিডিয়া ফ্রিডম বিষয়ে বলেন, এটা গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ। তার ভাষায়- কার্যকর গণতন্ত্রে মুক্ত মতের চর্চা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা জরুরি। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পথে জোর কদমে ধাবমান বাংলাদেশে নাগরিক সমাজের সক্রিয়তা বড় বেশি প্রয়োজন। তাদের কথা বলার সুযোগ অবারিত করা দরকার। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কথা শোনা জরুরি। এর মধ্য দিয়ে তাদের আইডিয়া যেমন পাওয়া যাবে, তেমনি তাদের সক্ষমতার প্রমাণ মিলবে। একই সঙ্গে তাদের হতাশার বিষয়গুলোও ধরা পড়বে। তবে এ মুক্ত মতের চর্চাও হতে হবে আইন মেনে, আইনের আওতায়। হাইকমিশনার বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুক্ত মতের চর্চা প্রসঙ্গে বলেন, সরকারগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানানো ও সচেতনভাবে জনগণের সিদ্ধান্ত গ্রহণে যেকোনো বিষয়ে মুক্ত আলোচনা এবং বিতর্কের সুযোগ থাকা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন স্বাধীন গণমাধ্যমই পারে একটি দেশের জনগণকে সক্রিয়, সচেতন, সৃজনশীল ও সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তুলতে। বৃটিশ দূত বলেন, লন্ডনে আমরা কানাডার সহযোগিতায় মিডিয়া ফ্রিডম নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। ১০ ও ১১ই জুলাইয়ের ওই আয়োজনে বাংলাদেশের সাংবাদিকরাও অংশ নিচ্ছেন। লন্ডনে বসবাসরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো সংক্রান্ত সরকারের অনুরোধ বৃটেন বিবেচনা করবে কিনা- এমন প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিষয়টি বৃটেনের আদালতের আওতাধীন। এতে দেশটির সরকার বা প্রশাসনের কোনো ভূমিকা নেই। পূর্বসূরিদের মতো ডিকসনও তারেক রহমানের নাম না নিয়েই বলেন, কোনো ব্যক্তিবিশেষের স্ট্যাটাস (বসবাসের অবস্থা বা অবস্থানের) বিষয়ে মন্তব্য করা আমরা সমীচীন মনে করি না। বাংলাদেশের গণমাধ্যম বৃটেনের চেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে- বাংলাদেশ সরকারের একজন মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বৃটিশ দূত সরাসরি কোনো জবাব না দিয়ে প্রেস ফ্রিডম সংক্রান্ত বৈশ্বিক সূচক বা পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। এ থেকে তার দেশের অবস্থার বিষয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা ভালো ধারণা পেতে পারেন বলে উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, বৈশ্বিক গণমাধ্যম বিষয়ক ইনডেক্সে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম। আর বৃটেনের অবস্থান ৩৩তম। বৃটিশ দূত উল্লেখ করেন বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার বৃটেন। দু’দেশে গত বছর বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। বৃটেনে বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশে বিশেষ সুবিধা রয়েছে জানিয়ে হাইকমিশনার বাংলাদেশে বৃটিশ বিনিয়োগ বাড়াতে প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের আহ্বান জানান। তার মতে, এখানে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। তার দেশের কোম্পানিগুলোরও আগ্রহ রয়েছে। তিনি নিজেও তাদের উৎসাহিত করেন। কিন্তু বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ খুবই জটিল। এ ছাড়া বৃটেন থেকে রেমিটেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। ৬ষ্ঠতম অবস্থানে রয়েছে বৃটেন। সার্বিক বিবেচনায় ঢাকা-লন্ডন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেতাবি কথা: রুমিন ফারহানা

সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করা কেতাবি কথা ছাড়া আর কিছুই নয়, বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সাংসদ রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, সংবিধানের ১১৫ ও ১১৬ নম্বর অনুচ্ছেদের কারণে নিম্ন আদালত কার্যত এখনো সরকারের অধীনে রয়ে গেছে। তাই বাংলাদেশে ‘সেপারেশন অব পাওয়ার’ কেতাবি কথা ছাড়া আর কিছু নয়।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, রাষ্ট্রের তিন অঙ্গ যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তবে তা রাষ্ট্রের জন্য সমূহ বিপদ ডেকে আনতে পারে। আজ সোমবার সংসদে বাতিল নোটিশের ওপর আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া মামলার মেরিট, তাঁর বয়স, সামাজিক অবস্থান, শারীরিক অবস্থা ও জেন্ডার—যেকোনো বিবেচনায় বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী জামিন তাঁর অধিকার। কিন্তু তিনি যাতে সহজে মুক্তি না পান, তাই একটির পর একটি মামলা ও মিথ্যা মামলা নতুনভাবে সামনে আনা হচ্ছে। এক-এগারোর সময় দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের নামে মামলা হয়েছে। এরপর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি কমিটি তাদের নেতা-কর্মীদের মামলা তুলে নেয়। সেই সব মামলার সঙ্গে নতুন করে বিএনপির ২৬ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে হয়েছে এক লাখ মামলা। নির্বাচনের আগে আগে নতুন করে শুরু হয়েছে গায়েবি মামলা নামের এক ধরনের মামলা, যে মামলায় মৃত ব্যক্তি, বিদেশে থাকা ব্যক্তি, পঙ্গু ব্যক্তিরা আছেন।
সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার উদ্ধৃতি দিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি বলেছেন দেশে আইনের শাসন নেই। সরকার নিম্ন আদালতকে কবজা করার পর হাত বাড়িয়েছে উচ্চ আদালতের দিকে। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের কারণে তাঁকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।

এখানেও তাদের আগুন লাগানোর প্রচেষ্টা -প্রধানমন্ত্রী

মিয়ানমারের অস্থিতিশীল রাখাইন রাজ্যকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করতে মার্কিন কংগ্রেসম্যান ব্রাড শেরম্যানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ধরনের  প্রস্তাব গর্হিত কাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা যেখানেই হাত দিয়েছে সেখানেই আগুন জ্বলছে, জঙ্গিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। এখানেও তাদের আগুন লাগানোর প্রচেষ্টা। এটা কখনো গ্রহণযোগ্য না। গতকাল বিকালে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক চীন সফরের বিষয়ে দেশবাসীকে অবহিত করতে প্রধানমন্ত্রী এ সংবাদ সম্মেলন করেন। লিখিত বক্তব্যে চীন সফরের বিস্তারিত তুলে ধরার পাশাপাশি প্রশ্নোত্তর পর্বে রোহিঙ্গা ইস্যু, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করতে মার্কিন কংগ্রেসম্যানের প্রস্তাব নিয়ে খোলামেলা প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রশ্নোত্তর পর্বে একজন সাংবাদিক মার্কিন কংগ্রেসম্যানের প্রস্তাবের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের যে সীমানা, ৫৪ হাজার বর্গমাইল জায়গা আমরা তাতেই খুশি। অন্যের জায়গা আমাদের সঙ্গে যুক্ত করা এটি আমরা সম্পূর্ণ অস্বীকার করি। এটি আমরা চাই না। মিয়ানমার তার সার্বভৌমত্ব নিয়ে থাকবে। সেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে তারা রাখাইন স্টেট জুড়ে দিতে চায় কেন? এই ধরনের কথা বলা অত্যন্ত গর্হিত কাজ, অন্যায় কাজ বলে আমি মনে করি। হতে পারে তারা খুব বড় দেশ। সেই দেশের একজন কংগ্রেসম্যান। কিন্তু তারা ভুলে গেছে তাদের অতীত। তাদের যখন গৃহযুদ্ধ লেগেই থাকত। সেই অতীততো তাদের ভুলে যাওয়া উচিত না। সেই অতীত ভবিষ্যতেও আসবে না সেটা তারা কি করে ভাবে। তিনি বলেন, রাখাইনে প্রতিনিয়ত সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা জেনে-বুঝে ওই ধরনের একটা গোলমেলে জিনিস আমার দেশের সঙ্গে যুক্ত করবো কেন? এটি আমরা কখনো করবো না। তছাড়া আমাদের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার। মিয়ানমারে ঘটনা ঘটছে। সেখানকার মানুষ যখন আশ্রয় চেয়েছে মানবিক কারণে আমরা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছি। আশ্রয় দেয়ার অর্থ এটা না যে একেবারে রাষ্ট্রের একটা অংশ নিয়ে আসব। এই মানসিকতা আমাদের নেই। এটা আমরা চাই না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটা দেশ তার সার্বভৌমত্ব নিয়ে থাকবে সেটাই আমি চাই। এটাও চাই- একথা না বলে বরং মিয়ানমার যাতে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় এই কংগ্রেসম্যান যেন সেটাই করেন। সেটাই হবে মানবিক দিক। এভাবে একটা দেশের ভেতরে গোলমাল পাকানো কোনোমতেই ঠিক না। যেখানে তারা হাত দিয়েছে সেখানেইতো আগুন জ্বলছে। সেখানে শান্তি আসেনি বরং জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হয়েছে। অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের এই অঞ্চলটা আমরা একটু শান্তিপূর্ণভাবে আগানোর চেষ্টা করছি। এখানেও তাদের আগুন লাগানোর প্রচেষ্টা। এটা কখনো গ্রহণযোগ্য না।

তিনি বলেন, চীন সফরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আমরা জোরালোভাবে তুলে ধরেছি। চীনের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছেন এবং এই সমস্যা সমাধানে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

উন্নয়ন চাইলে গ্যাসের দাম মেনে নিতে হবে: গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে হরতাল এবং ১৪ দলের কিছু নেতার সমালোচনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ইস্যুতে বাম আর ডান (বিএনপি) মিলে গেছে। এক সুরে কথা বলছে, এটা তো খুব ভালো কথা। তবে আমার প্রশ্ন, আমাদের কি গ্যাসের প্রয়োজন আছে কি না? দেশের যদি আমরা উন্নয়ন করতে চাই, তবে এনার্জি একটা বিষয়। এলএনজির জন্য খরচ যথেষ্ট বেশি পড়ে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি বলেন, দাম বাড়ানোর পরও বছরে সরকারকে ১০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। তাহলে আমি এক কাজ করি, যে দামে কিনবো সে দামে বিক্রি করি? বহুদিন পর হরতাল পেয়েছেন, এটা পরিবেশের জন্য ভালো। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে আন্দোলন করছে আবার বলেছে, ভারতে দাম কমিয়েছে। এ সময় ভারত ও বাংলাদেশে গ্যাসের দামের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এলএনজি আমদানিতে খরচ বাড়ায় ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৪-০৫ সালে মিয়ানমারের গ্যাস নিতে চীন ও জাপান বিনিয়োগ করেছিল। ভারত সেই গ্যাস বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পাইপ লাইনে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া সেটা হতে দেয়নি। আমি হলে ভারতে গ্যাস নিতে তো দিতাম, আমার ভাগটাও রেখে দিতাম। সেই গ্যাসটা যদি পেতাম তাহলে আজ এলএনজি আমদানি করতে হতো না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আমাদের গ্যাসের প্রয়োজন আছে কি না? ২০০৮ সাল পর্যন্ত জিডিপি কতটুকু বেড়েছে? গ্যাস আমাদের আমদানি করতে হচ্ছে। এলএনজি আমদানিতে খরচ বেশি পড়ে। যেটুকু বাড়ানো হয়েছে, সেটা যদি না বাড়ানো হয় তাহলে এলএনজি আমদানি কমে যাবে। বিদেশে সব দেশে এটা করা হয়, তারা মেনে নেয়। তিনি বলেন, ২০০১ সালে আমাদের কাছে প্রস্তাব ছিল গ্যাস বিক্রি করার। আমি রাজি হইনি। খালেদা জিয়া মুচলেকা দিয়েছিল গ্যাস বিক্রি করবে। যে কারণে ২০০১ সালে ভোট বেশি পেয়েও আমি ক্ষমতায় আসতে পারিনি। আমাকে জানতে হবে গ্যাসের মজুদ কত, বিক্রি করতে পারব কি না? প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, প্রতি ঘনমিটার এলএমজি আমদানি খরচ হয় ৬১ টাকা ১০ পয়সা। ভারতে গৃহস্থালির জন্য স্থানভেদে গ্যাসের দাম ৩০-৩৭ টাকা প্রতি ঘনমিটার। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ দাম মাত্র ১২ দশমিক ৬০ টাকা। শিল্পে আমাদের গ্যাসের দাম ১০ টাকা ৭০ পয়সা, সেখানে ভারতে এটির দাম ৪০ থেকে ৪২ টাকা। গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে আন্দোলন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, যারা আন্দোলনের সময় বলছে ভারত কমিয়েছে, বাস্তবে ভারতে বছরে দু’বার গ্যাসের দাম বাড়ায়, এটাই তাদের নীতি। পয়লা এপ্রিল এবং অক্টোবরে গিয়ে তারা গ্যাসের দাম এ্যাডজাস্ট করে। অর্থাৎ মূল্যটা বাড়ায়। তিনি বলেন, ৬১ টাকা দিয়ে এলএনজি নিয়ে এসে আমরা সেটা বিক্রি করছি মাত্র ৯ টাকায়। তারপরও আন্দোলন! একটা মজার ব্যাপার আছে, বাম আর ডান মিলে গেছে। আমরা জিডিপি ডাবল ডিজিটে নিয়ে যাব। আমাদের গ্যাস লাগবে। তিনি বলেন, গ্যাস খাতে ১০ হাজার কোটি টাকার ওপরে বাড়ানোর পরেও ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। আন্দোলন যখন করছে তখন এক কাজ করি। যে দামে গ্যাস কিনছি সেই দামে বিক্রি করি। ৯ টাকার গ্যাস ৬১ টাকা নিই। তাহলে আর ভতুর্কি দিতে হবে না।
চীন মিয়ানমারের সঙ্গে সবসময় আছে: রোহিঙ্গা সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা (চীন) বলেছেন, বিষয়টা তারা বিবেচনা করবেন, দেখবেন। এটা কি সুখবর মনে হচ্ছে না? না দুঃখের খবর মনে হচ্ছে? এটা ঠিক যে চীন মিয়ানমারের সঙ্গে সব সময় আছে। এই যে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আছে, এটা যে বাংলাদেশের জন্য বিরাট সমস্যা- এই কথাটা তো তারা নিজেরাও উপলব্ধি করতে পারছে। সেই জন্যেই চীনও মনে করছে এই বিষয়টার দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত। এই জন্য তারা যতটুকু করার প্রয়োজন ততটুকু করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারকে সম্মত করতে চেষ্টা করবেন বলে দেশটির রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। তিনি উল্লেখ করেন চীন তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুইবার মিয়ানমারে পাঠিয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনে তারা আবারও মন্ত্রীকে মিয়ানমারে পাঠাবে। তিনি বলেন, আমি উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করি। রোহিঙ্গা সঙ্কটের কারণে এই শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হাতে পারে বলে আমি উল্লেখ করি।

তিস্তার পানি প্রসঙ্গ: এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিস্তার পানি দেননি বলেই ইলিশ পাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। আমরা বলেছিলাম তিস্তায় পানি নেই। তবে ইলিশ আসবে কীভাবে? মমতা ব্যানার্জির ‘জয় বাংলা’ স্লোগান প্রদান প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শেখ হাসিনা বলেন, ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করেছে। শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে। একসঙ্গে যুদ্ধ করে তাদেরও অনেক সৈন্য প্রাণ দিয়েছেন। আর জয় বাংলা স্লোগান এসেছে কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা থেকে। কেউ যদি জয় বাংলা স্লোগান দেয়, তার মুখ থেকে তো কেড়ে নিতে পারি না। মমতা ব্যানার্জি এ স্লোগান বলেছেন, ভালো লেগেছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা দেশের সমস্ত নদী খনন করবো। বর্ষায় পানি সংগ্রহ করে রাখবো। কারোর কাছে আমাদের পানি চাইতে হবে না। আমরা আত্মনির্ভরশীল হতে চাই, পরনির্ভরশীল নয়। তিনি বলেন, গত ১০ বছর আগে দেশের অবস্থা কি ছিল, এখন আমরা কী অবস্থায় দেশকে নিয়ে এসেছি তা একটু বিচার করুন। দেশের এত উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে কারণ আওয়ামী লীগ এ দেশকে স্বাধীন করেছে। সেই দেশই প্রকৃত উন্নত করতে পারে যারা স্বাধীনতার সংগ্রাম করেছে, মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছে। উড়ে এসে জুড়ে বসা কোনো দল দেশের কোনো উন্নয়ন করতে পারে না, অতীতে তা বার বার প্রমাণ হয়েছে।

সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়: বিশ্বের বড় বড় পরাশক্তির মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের পররাষ্ট্র নীতিই হচ্ছে সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারোর সঙ্গে বৈরিতা নয়। কার সঙ্গে কার কী সমস্যা, কার সঙ্গে কার কী যুদ্ধ- সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। এক সময় চীন আমেরিকার বড় বন্ধু ছিল। এখন আবার তাদের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ। আমরা কারো সঙ্গে ঝগড়া করতে যাই না। আমরা কারোর ঘরে আগুন লাগলে আলু পোড়া দিয়ে খাব, এটা চিন্তা করি না। বরং কোনো দেশের সঙ্গে আমরা কতটুকু অর্থনৈতিক সহযোগিতা পাব, সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে পারবো- সে দিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা চলি।

বৈদেশিক ঋণ গ্রহণেও আমরা সতর্ক: অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে আমরা খুব সতর্ক ও সচেতন। আমাদের বাজেটে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ তত বেশি নয়। জিডিপির মাত্র ১৪ ভাগ বৈদেশিক ঋণ। আমরা ঋণ নিয়ে আবার সময়মতো  পরিশোধ করি। বাজেটের ৯৯ ভাগ নিজস্ব অর্থায়নে আমরা বাস্তবায়ন করছি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছে। সকল ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থানে থেকে কাজ করছি বলেই আমরা দেশকে সবদিক থেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি। নিজের দেশের ভালো কাজগুলো বিশ্ববাসীর সামনে ভালোভাবে তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের এবারের প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১ ভাগে উন্নীত হয়েছে। যা বিশ্বের মধ্যে অনেকটাই রেকর্ড। নিজ দেশের এমন ভালো কাজগুলো ভালোভাবে তুলে ধরা উচিত। বাস্তবে দেশের কিছু মানুষ আছে তাদের কোনো কিছুই ভালো লাগে না, তাদের চোখে কোনো কিছুই ধরা পড়ে না।

চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা প্রসঙ্গ: এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন নিয়মিত পড়াশোনা করলে ২৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যেই সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিতে পারে। এ ছাড়া তিনটি বিসিএসে দেখা গেছে, যারা বেশি বয়সী, তাদের পাসের হার খুবই কম। তিনি বলেন, এখন জন্মনিবন্ধন হয়। নিয়মিত পড়াশোনা করলে ১৬ বছরে এসএসসি পাস করে। এরপর ২ বছরে এইচএসসি। এরপর ৪ বছরে অনার্স ও ১ বছরে মাস্টার্স করলে ২৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিতে পারে। তিনটি বিসিএসের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩৫তম বিসিএসে ২৩ থেকে ২৫ বছরের প্রার্থীদের মধ্যে ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ, ২৫ থেকে ২৭ বছরের প্রার্থীদের মধ্যে ৩০ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ২৭ থেকে ২৯ বছরের প্রার্থীদের মধ্যে ১৩ দশমিক ১৭ শতাংশ পাস করেছে। এ ছাড়া ২৯ বছরের বেশি বয়সের প্রার্থীদের পাসের হার মাত্র ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ৩৬তম বিসিএসে ২৩ থেকে ২৫ বছরের প্রার্থীদের ৩৭.৪৫ শতাংশ, ২৫ থেকে ২৭ বছরের প্রার্থীদের মধ্যে ৩৪.৭৮ শতাংশ, ২৭ থেকে ২৯ বয়সের ১৯.৮৯ শতাংশ প্রার্থী পাস করেছেন। এ ছাড়া ২৯ বছরের বেশি বয়সী প্রার্থীদের পাসের হার ৩.২৩ শতাংশ। এ ছাড়া ৩৭তম বিসিএসে ২৩ থেকে ২৫ বছরের ৪৩.৬৫ শতাংশ, ২৫ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে ২৩.৩৫ শতাংশ, ২৭ থেকে ২৯ বয়সের ৭.২০ শতাংশ প্রার্থী পাস করেছেন। এই পরীক্ষায় ২৯ বছরের বেশি বয়সী প্রার্থীদের পাসের হার দশমিক ৬১ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী এ সময় প্রশ্ন রেখে বলেন, এখন আপনারাই বলেন, চাকরির বয়স বাড়ালে কি হবে?’ চাকরি প্রার্থীদের যদি ৩৫ বছর বয়সে চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হয়, ততদিনে তাদের ঘর-সংসার, বউ-বাচ্চা হবে। এই বয়সে এসব সামলে চাকরি পাওয়া কঠিন। এ ছাড়া যদি কোনো প্রার্থী ৩৫ বছরে চাকরিতে প্রবেশ করে তাহলে প্রশিক্ষণের পর চাকরি শুরু করতে করতে তার বয়স হবে ৩৭। এই বয়সে চাকরিতে প্রবেশ করলে তার চাকরির বয়স ২৫ বছর হবে না। এটি না হলে তিনি চাকরিতে পূর্ণ পেনশনও পাবেন না।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরমেন্সে খুশি প্রধানমন্ত্রী: বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পারফরমেন্স প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যথেষ্ট উন্নতি করেছে। বিশ্বকাপ পাওয়া একেকটা নামিদামি দলের সঙ্গে খেলা সেটা কিন্তু কম কথা নয়। কিন্তু সেখানে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স অত্যন্ত চমৎকার ছিল। আমরা যে খেলতে পেরেছি বা এতটা যেতে পেরেছি এটা অনেক বড় কথা। আমাদের যারা খেলোয়াড় যেমন সাকিব আল হাসান সে তো বিশ্বে একটা স্থান করে নিয়েছে। মোস্তাফিজ একটা স্থান করে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলা এমন একটা জিনিস অনেক সময় ভাগ্যও কিন্তু লাগে। সবসময় যে একই রকম হবে তা নয়। খেলায় সাহসী মনোভাব নিয়ে মোকাবিলা করতে পারা- আমি এটা প্রশংসা করি। এতগুলো দল খেললো তার মধ্যে মাত্র চারটি দল সেমিফাইনালে উঠেছে। তার মানে কি বাকিরা সবাই খারাপ খেলেছে? একেকটা জাঁদরেল জাঁদরেল দল, দীর্ঘদিন ধরে যারা খেলে খেলে অভ্যস্ত তাদের সঙ্গে মোকাবিলা করে খেলায় আমাদের ছেলেদের কনফিডেন্সের কোনো অভাব দেখিনি। তিনি বলেন, আমি নিজে খেলা দেখেছি। আমাদের ছেলেদের ধন্যবাদ জানাবো, তারা যথেষ্ট সাহসের পরিচয় দিয়েছে। তাদের ভেতর একটা আলাদা আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে। ধীরে ধীরে আরো উন্নতি হবে। তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন খেলাধুলায় আসে কারা, প্লেয়ার পাচ্ছেন কতজন? ছোটবেলা থেকে ছেলেরা যাতে খেলায় অংশ নিয়ে অভ্যস্ত হয় সে পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। ছোটবেলা থেকে প্র্যাকটিস করে তাদের  তৈরি করেছি। এটা আস্তে আস্তে করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আমার ছেলেদের কখনও নিরুৎসাহিত করি না। আমি বলি, তোমরা ভালো খেলেছো। ৩৮১ রানের টার্গেটে ৩৩৩ করেছে। এটাকে খারাপ বলবেন কি? বলবো না। আমাদের ছেলেদের কেউ খারাপ বলতে পারবে না। আমি নিজে খেলা দেখেছি, যেখানে আমাদের ছেলেরা যথেষ্ট ভালো খেলেছে। খেলোয়াড়দের কনফিডেন্স, তাদের পারফরম্যান্স বাড়াতে আমরা কাজ করছি।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী সারা দেশে বিশাল আকারে পালন করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনে সরকারিভাবে কমিটি গঠন করা হয়েছে, দলীয়ভাবেও পৃথক পৃথক কমিটি করা হয়েছে। ২০২০-২০২১ বর্ষকে আমরা মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছি। রজতজয়ন্তী যেভাবে পালন হয়েছিল, এই বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার জন্মবার্ষিকী তার চেয়ে আরো ব্যাপক ও বিশালভাবে আমরা পালন করবো। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন।

পানির তলে চট্টগ্রাম by ইব্রাহিম খলিল

শুধু নিচু এলাকা নয়। সড়ক-মহাসড়কও খোঁজে পাওয়া মুশকিল। দু’চোখ যেদিকে যায় সেদিকে পানি আর পানি। দালান ছাড়া কোনো চিহ্নই যেন মিলছে না। কোথাও গলা, কোথাও কোমর, আবার কোথাও হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম। যানবাহন তো চলছেই না। দোকানপাটও বন্ধ। মিলছে না হাটবাজারও।
গতকাল সোমবার সকাল থেকে এমনি অচল হয়ে পড়ে দেশের ব্যস্ততম বাণিজ্যনগরী চট্টগ্রাম। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে মাত্র এক রাতের মাঝারি বৃষ্টিতে এমন অবস্থা এই বাণিজ্যনগরী চট্টগ্রামের। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বৃষ্টির পানিতে থই থই করছে বলে স্বীকার করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুদ্দোহা। তিনি জানান, চট্টগ্রাম মহানগরীতে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নগরজুড়ে সড়ক-মহাসড়ক খোঁড়াখুঁড়ি করছে ওয়াসা। এ কারণে নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ফলে সিটি করপোরেশন জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করলেও তা কাজে আসেনি। অন্যদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার ৩টি মেগা প্রকল্প তিন বছর ধরে হাতে নিয়ে বসে আছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো কাজ করেনি তারা। ফলে নগরবাসীকে প্রতি বছরের মতো এবারও জলাবদ্ধতার শিকার হতে হলো। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চউক চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, প্রকল্প হাতে নিয়ে বসে নেই চউক। গত বছর বর্ষা থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। সেই থেকে ১১ খালের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ করেছে চউক। প্রকল্প কাজ অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
চট্টগ্রাম ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) গোলাম হোসেন বলেন, নগরীর কথা বলব কী? ওয়াসা ভবনের নিচতলায়ও পানি ওঠে গেছে। ফলে ব্যাংকসহ সব অফিসের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পামপ বসিয়ে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত শনিবার দুপুর থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে টিপটিপ বৃষ্টি শুরু হয়। যা রোববার দিনভর চলে। কিন্তু রোববার রাত থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতে নগরীর নিচু এলাকা ডুবে এখন সড়ক-মহাসড়কও খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
চট্টগ্রামে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় সড়কের বেহাল দশা
ফলে নগরীতে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ। অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত নগরীর ৫টি ফ্লাইওভারেও পানি জমে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে অফিস-আদালত ও গার্মেন্ট কারখানাসহ বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যাওয়া-আসায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।  
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃষ্টিপাতের ফলে নগরীর বহদ্দারহাট, চকবাজার, মুরাদপুর, কাপাসগোলা, চন্দনপুরা, কোতোয়ালি, অক্সিজেন, ষোলশহর ২নং গেট, ওয়াসা মোড়, হামজারবাগ, মোহাম্মদপুর, শুলকবহর, হালিশহর, আগ্রাবাদ কে ব্লক, প্রবর্তক, বাকলিয়া, মোহরা, পতেঙ্গা, অলঙ্কার, পাহাড়তলিসহ নগরীর দুই তৃতীয়াংশ এলাকা বৃষ্টির পানিতে থই থই করছে।
এসব এলাকার কোথাও গলা, কোথাও কোমর, কোথাও হাঁটু পানি জমে রয়েছে। সড়ক থেকে হাটবাজার, স্কুল কলেজ, সরকারি অফিস, দোকানপাট, মার্কেট, বসতঘর ও বস্তিগুলো ডুবে রয়েছে। দালান ছাড়া কোনো চিহ্নই এখন মিলছে না। ফলে যাতায়াতে মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।  
গতকাল সোমবার কর্মস্থলে যাওয়ার মুহূর্তে মুরাদপুর এলাকায় কোমর সমান পানিতে দাঁড়িয়ে আমিন চৌধুরী নামে এক পথচারী বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই পানি উঠে নগরীর সড়কগুলো ডুবে রয়েছে। সড়ক খোঁজে না পাওয়ায় যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দিয়েছেন। কিন্তু সংস্থাটি কোনো কাজই করছে না। শুধু জলাবদ্ধতার নিরসনের নামে ইটিং, মিটিং ও সিটিং করে যাচ্ছে।
চকবাজার এলাকার বাসিন্দা ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তা মো. মিয়াজি বলেন, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বৃষ্টির মধ্যে কোমর সমান পানিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম একটি রিকশার জন্য। অনেক কষ্টে রিকশা পেলেও সুযোগ বুঝে চারগুণ বেশি ভাড়া নিয়েছে রিকশাওয়ালা।
নগরীর আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা নূরজাহান বেগম জানান, রাতেই তাঁর ঘরের ভেতরে পানি ঢুকেছে। এতে খাটের ওপর বসে ঘরের সবাইকে রাত কাটাতে হয়েছে। রান্নাবান্না করতে না পারায় শুকনো খাবার খেয়ে রোজা রেখেছে পরিবারের সবাই।
নগরীর সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সোহেল বলেন, আগ্রাবাদ এলাকার সবক’টি সড়ক তলিয়ে গেছে। গাড়ি চালানোর সড়ক খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায়, একটি গর্তে পড়ে তাঁর অটোরিকশা নষ্ট হয়ে গেছে। পরে অনেক কষ্টে গর্ত থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করে মিস্ত্রির কাছে দিয়েছেন।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ প্রদীপ কান্তি নাথ জানান, গতকাল সোমবার দুপুর ১টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৩৬ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আরো বৃষ্টিপাত হতে পারে। সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
তিনি জানান, বিকালের দিকে বঙ্গোপসাগরে প্রবল জোয়ার সৃষ্টি হতে পারে। এতে চট্টগ্রাম মহানগরীর আরো নতুন এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে। ফলে ওইসব এলাকায় পানির উচ্চতা আরো বাড়তে পারে। এতে যানবাহন ও মানুষের চলাচলে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া পাহাড় ধসের সতর্কবার্তার কথাও বলেন তিনি।
এদিকে, পাহাড় ধস ঠেকাতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরিয়ে নিতে মাইকিং করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের আশপাশে ৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেন।
তিনি বলেন, বর্ষণে পাহাড় ধসের শঙ্কায় জেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছে। রেড ক্রিসেন্ট নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে। মেডিকেল টিম গঠন করেছে জেলা সিভিল সার্জন অফিস।
এদিকে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হলেও দেশের চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়মত জাহাজ জেটিতে নোঙর করছে। পণ্য ওাঠানামা সচল রয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম।

ছত্রভঙ্গ ‘বন্ড ০০৭’ এখনো আতঙ্ক কাটেনি স্থানীয়দের by মো. মিজানুর রহমান

বরগুনায় প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফ হত্যার মূল আসামি নয়ন বন্ড, রিফাত ও রিশান ফরাজী এবং তাদের সাঙ্গপাঙ্গ ‘০০৭’ মেসেঞ্জার গ্রুপে নিজেদের মধ্যে সর্বদা যোগাযোগ রক্ষা করতো। এ গ্রুপের ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটতে বরগুনার কলেজ শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর। রিফাত হত্যার পর গ্রুপের পরিচালক নয়ন বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়। রিফাত ফরাজীসহ গ্রুপের অনেক সদস্য গ্রেপ্তার হয়ে পুলিশ রিমান্ড ও জেলহাজতে রয়েছে। বাকি সদস্যরা রয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিতে। এ অবস্থায় ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে গ্রুপটি। তবুও আতঙ্ক কাটেনি বরগুনাবাসীর। কারণ, রিশান এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।
নির্যাতিতদের আতঙ্ক, রিফাত-রিশান ছাড়া পেলে তারা কি এলাকায় থাকতে পারবেন!
ঔপন্যাসিক ইয়ান ফ্লেমিংয়ের লেখা বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র জেমস বন্ড। লন্ডনের সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস বা এসআইএসের প্রধান গুপ্তচর হিসেবে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়। ১৯৯৫ সালের পর এসআইএসের নাম বদলে করা হয় ‘এমআই ৬’। জেমস বন্ড ‘০০৭’ সাংকেতিক নম্বর ধারণ করেন। এখানে ডাবল-ও বা ডাবল-জিরো সংকেতের মাধ্যমে তাকে কর্তব্য পালনের প্রয়োজনে যে কাউকে হত্যা করার অনুমতি দেয়া হতো।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জেমস বন্ডকে অনুকরণ করেই বরগুনার বখাটে মাদক ব্যবসায়ী নয়ন বন্ড ‘০০৭’ মেসেঞ্জার গ্রুপ চালিয়ে আসছিল। এমনকি নয়নের প্রকৃত নাম সাব্বির আহম্মেদ নয়ন হলেও নিজেকে পরিচয় দিত ‘নয়ন বন্ড’ হিসেবে। নয়নের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে ০০৭ নামে গ্যাং গ্রুপ বরগুনা শহরের কলেজ রোড, ডিকেপি, দীঘির পাড়, কেজিস্কুল ও ধানসিঁড়ি সড়ক এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে আসছিল। গ্রুপের সদস্যরা ০০৭ কে সংকেত  হিসাবে ব্যবহার করতো। ঘাতক নয়নের মোটরসাইকেল ও বাড়ির দেয়ালে ০০৭ বন্ড লেখা থাকতো। বরগুনা পলিটকেনিক কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্রদের মেসে এরা নিয়মিত হানা দিয়ে মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে টাকা পয়সা আদায়, ছিনতাই, ধানসিঁড়ি এলাকায় একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া ছেলেমেয়েদের অপদস্থ করে টাকা আদায়সহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করতো। এর মধ্যে ২০১৭ সালে রাকিব নামের এক কিশোরকে কুপিয়ে যখম, পরের বছর ক্রোক এলাকার ফারুক পিয়াদার ছেলে জীবনকে কুপিয়ে জখমসহ বেশ কিছু ঘটনার সঙ্গে এই ০০৭ গ্রুপের সম্পৃক্ততা ছিল।
বরগুনা সরকারি কলেজে মেয়েদের উত্ত্যক্ত, নতুন শিক্ষার্থীদের ‘০০৭’ গ্রুপের সদস্য করাসহ ক্যাম্পাসে মাদকের আখড়া বসিয়ে ছিল রিফাত বাহিনী। ছোট ভাই রিশানের দায়িত্ব ছিল বন্ড গ্রুপের নতুন সদস্য যুক্ত করা এবং ওই সদস্যদের পর্যবেক্ষণ করা। রিশান প্রায় প্রতিটি ঘটনায় যুক্ত থাকলেও খুব একটা প্রকাশ্যে আসতো না। কলেজ ক্যাম্পাসে আড্ডা ও বখাটেপনায় অতিষ্ঠ থাকলেও গ্রুপটির ভয়ে কেউ মুখ খুলতো না।
এ গ্রুপের বিষয়ে কলেজের শিক্ষার্থী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, রিফাত বাহিনীর অত্যাচারে শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করলেও তিনি আমলে নিতেন না।
এসব ঘটনার জনক রিফাত ফরাজী ও তার দলের বিরুদ্ধে কেউ মুখ না খোলায় তেমন একটা আইনের আওতায়ও আসেনি তারা। মামলা বা অভিযোগ তো দূরে থাক, কেউ এদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেই সাহস পাননি। যে মুখ খুলেছে তাকেই লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। তবে মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে সদর থানায় রিফাতের বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় আটক হলেও রাতারাতি জামিনে এসে ফের একই কাজ করতো।
সর্বশেষ গত ২৬শে জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে জখম করে ‘০০৭’ গ্রুপের সদস্যরা। গুরুতর অবস্থায় তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
আর ফেসবুক গ্রুপ বন্ড ০০৭-এ রিফাত হত্যার বিষয়ে সদস্যদের মাঝে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে কথোপকথন হয়।
কথোপকথন: ‘০০৭’ গ্রুপের সবাইকে কলেজে দেখতে চাই। রিফাত ফরাজী নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে মেসেঞ্জার গ্রুপে এ আহ্বান জানানো হয়েছিল। ‘মোহাম্মদ’ নামে আরেকটি আইডি থেকে জানতে চাওয়া হয়, কয়টার সময় আসতে হবে। এরপর মোহাম্মদ আরো জানতে চায়, কলেজের কোথায়? উত্তরে রিফাত ফরাজী বলে, ‘৯ টার দিকে।’ এই মেসেঞ্জার গ্রুপের কথোপকথনে একটি চাপাতির ছবি দিয়ে বলা হয় ‘পারলে হেইডাসহ।’ মোহাম্মদ বলে, ‘আমু আনে’। ০০৭ নামে মেসেঞ্জার গ্রুপে এই তথ্য মিলেছে, যেখানে আগের রাতেই বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যায় জড়িতরা নিজেদের মধ্যে কথা চালাচালি করে খুনের চূড়ান্ত ছক ঠিক করে।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়েও বৃষ্টির শঙ্কা by ইশতিয়াক পারভেজ

প্রথম পর্বে ভারত-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল। নকআউট পর্বেও দুই দলের লড়াইয়ে রয়েছে বৃষ্টির সম্ভাবনা। আজ বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটায় আসরের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত-নিউজিল্যান্ড। ব্ল্যাকক্যাপসরা ভারতের জন্য বেশ চেনা প্রতিপক্ষ। বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ডে ৪-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জেতে ভারত। অবশ্য বিশ্বকাপের প্রস্ততি ম্যাচে ছয় উইকেটে জিতেছিল কেন উইলিয়ামসনের দল। তবে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এই সব নিয়ে খুব একটা চিন্তিত দেখালো না ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে। প্রতিপক্ষকে যে ভালভাবেই চেনেন তা জানিয়ে দিলেন অকপটেই।
কোহলি বলেন, ‘এটা খুব বেশি আগের কথা নয় যে আমরা নিউজিল্যান্ডে পুরো একটা সিরিজ খেলেছিলাম।’ আজও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে দুই দলের ম্যাচে। তবে এ নিয়ে চিন্তা একটু বেশি ভারতীয় দলেরই।
ওল্ড ট্রাফোর্ড ভেন্যুতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার সংবাদকর্মীরা ব্যস্ত ছুটে বেড়াচ্ছেন। বিরাট কোহলির সংবাদ সম্মেলন কভার করতে হবে। ভারতীয় সাংবাদিকরাও প্রতিবেশী দেশের সংবাদকর্র্মীদের বেশ সাহায্য করছেন। দল নিয়ে নানা রকম তথ্য দিচ্ছেন। মনে হচ্ছিল যেন ‘সার্ক সম্মেলন’। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে এশিয়ার প্রতিনিধি এখন শুধুই ভারত। উপমহাদেশের একমাত্র  প্রতিনিধি বললেও ভুল হবে না। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার দুই সিনিয়র সংবাদকর্মী বলেন, কাল (আজ) ভারত নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারলে এই আসরে আসলে এশিয়াই টিকে থাকবে। নয়তো আমাদের আর কী থাকে এখানে!
ভারতের পর সেমিফাইনালে বাংলাদেশকেও আশা করা হয়েছিল। মাশরাফিদের এখন ঘরে বসেই দেখতে হবে ভারত-নিউজিল্যান্ড প্রথম সেমিফাইনাল। হয়তো মনে মনে  কেউ আফসোস করবেন, ভেবে ফেলবেন দীর্ঘশ্বাস। আজ ফাইনালে যাওয়ার ওল্ড ট্রাফোর্ড স্টেডিয়ামে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি বলেন, ‘আমরা আগের চেয়ে ভালো করতে মুখিয়ে আছি। এই মুহূর্তে আমরা যা করছি তাই করে যাওয়াটা দরকার।’
ম্যানেচেষ্টারের প্রায় প্রতিটি শহরে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী পাকিস্তানির বসবাস। স্মৃতি শক্তি হারিয়ে গেলে আপনি নির্ধিধায় এটিকে পাকিস্তানের কোন এলাকা বলেও মনে করে বসবেন। এরপরই ভারতীয়দের অবস্থান। বাংলাদেশিদের পর শ্রীলঙ্কানও কম নয়। বলতে পারেন এশিয়ার বড় একটা অংশই এই এলাকাতে ডেরা বেঁধেছে। তাই ট্যাক্সিতে উঠলে বা কোনো হোটেলে খেতে গেলে, এমনকি বাজারগুলোতে গেলেও এই তিন দেশের মানুষ পাবেনই। তাই ফুটবল পাগল এই শহরে ক্রিকেটের গল্প কানে আসবে তাতে কোনো ভুল নেই। হোটেল থেকে ওল্ড ট্রাফোর্ড স্টেডিয়ামে যাওয়ার পথে ট্যাক্সি ড্রাইভার সর্দার আজিজ আলম পাকিস্তানের প্রতি রাগ ঝাড়লেন। বাংলাদেশের জন্য আফসোস করলেন অনেকক্ষণ ও ভারতের জন্য শুভকামনাও জানালেন। বলেন, ‘কি বলবো পাকিস্তান নিয়ে। ভারতের  বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটা হেরে গেল! আগের দিন রাতে সিসা পার্টি করে। করবে না কেন বৃষ্টির কথা ভেবে খেলাতেই মন দেয়নি। শৃঙ্খলা নেই, ঘুরে বেড়াতে এসেছিল ইংল্যান্ডে। সেমিফাইনালে যায়নি শিক্ষা হয়েছে। আর তোমাদের বাংলাদেশতো দারুণ খেলেছে। সাকিব, কী অসাধারণ ক্রিকেটার। একটা সাকিব যদি থাকতো আমাদের। তোমরা মন খরাপ করো না! পাকিস্তান ও ভারতের তুলনাতে  তোমরা কত বছর হলো খেল!  সেই তুলনাতে অনেক ভালো করছো। ভারততো  তোমাদের এখন ভয়ই পায়। যাই হোক এখন সেমিতে ভারত খেলবে। তাদের জন্য শুভকামনা রইলো। জিতলে এশিয়াতে থাকবে অন্তত।
অন্যদিকে ভারতের প্রার্থনা আজ ম্যানচেষ্টারে যেন ফিরে না আসে ১৯৭৫ বিশ্বকাপের স্মৃতি। প্রথম বিশ্বকাপে প্রথম দেখাতে ভারতকে হারিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। এরপর আরো ছয়বার মুখোমুখি হয়েছে ২০০৩ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। সেখানে ভারতের জয় মাত্র ৩টি। সব শেষ জয়টা এসেছে ১২ বছর আগে বিশ্বকাপে শেষ দেখাতেই। তাই আজ শুধু ভারতের জন্য বিশ্বকাপে টিকে থাকার মিশনই নয় মার্যাদার লড়াইও। গতকাল ছিল ভারত দলের ঐচ্ছিক অনুশীলন। সেখানে ভারতের এক প্রবীণ সংবাদিককে মহেন্দ্র সিং ধোনি বলেন, ‘বিশ্বাসতো রাখো, দেখি কি হয়।’ ভারতের অধিনায়কের পিছনে পিছনে তখন চার দেশের সংবাদকর্মীরা ছুটছেন। মাঠে অনুশীলন করতে থাকা কুলদীপ যাদব চিৎকার করে বলেন, সব মিডিয়া নিয়ে মাঠে চলে এলেন!
ভারতের ১৫ ক্রিকেটারের মধ্যে এদিন মাত্র ৯ জনই অনুশীলনে আসেন। যারা আসেননি তাদের মধ্যে অন্যতম রোহিত শর্মা। যাকে নিয়ে ভয় নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনেরও। ভয় পাবেন না কেন! ৮ ম্যাচে ৫টি সেঞ্চুরি করেছেন। সেই সঙ্গে একটি ফিফটি। ৯২.৪২ গড়ে ৬৪৭ রান করে এই বিশ্বকাপে রান সংগ্রাহকের তালিকায় শীর্ষে।

বলাৎকারের অভিযোগে ক্যাথলিক ধর্মযাজক গ্রেপ্তার ভারতে

বালকদের বলাৎকারের অভিযোগে ভারতের কেরালায় এক ক্যাথলিক ধর্মযাজককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কেরালার এরনাকুলাম জেলায় একটি বয়েজ হোমে সংখ্যালঘু বালকদের ওই যাজক ধারাবাহিকভাবে যৌন নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ। এর ফলে বেশ কয়েকজন বালক পালিয়েছে। তাদের অনেকে পিতামাতাকে জানিয়েছে বিষয়টি। ঘটনা যখন ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে তখন রোববার সকালে ওই যাজককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
এতে বলা হয়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ওই বয়েজ হোমে বালকদের ধারাবাহিকভাবে যৌন নির্যাতন করছিলেন ওই যাজক। পুলিশ বলেছে, ওই যাজকের মোবাইল ফোনভর্তি আপত্তিকর সব ম্যাসেজ, ছবি ও পর্নো ওয়েবসাইটে।
তবে তার নাম, পরিচয় প্রকাশ করা হয় নি। এ ঘটনায় বালকদের ওই আবাসন থেকে শনিবার পালিয়ে যায় ১০ জন। তারা তাদের পিতামাতাকে খবর দেয়। তাদেরকে জানায়। দিনশেষে রাতেই পিতামাতাকে সঙ্গে নিয়ে তারা ছুটে যায় পুলিশ স্টেশনে। সেখানেই ওই যাজকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয় তারা। রাত শেষে রোববার সকালে পুলিশ গ্রেপ্তার করে তাকে। পাঠানো হয়েছে ১৪ দিনের রিমান্ডে। তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। এতে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের কঠোর আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী বালকরা অভিযোগ করেছে যে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে তাদের বিরুদ্ধে বার বার ভয়াবহ পদ্ধতিতে যৌন নির্যাতন করতেন তিনি। কিছু বালককে সঙ্গে নিয়ে ঘুমানোর সময় তিনি এমন আপত্তিকর আচরণ করতেন। এ পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করেছে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি। বালকদেরকে তাদের পিতামাতার সঙ্গে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বাড়িতে। তারা খুব গরিব পরিবারের সন্তান। তবে আরো প্রায় ৭ জন বালক ওই বয়েজ হোমে অবস্থান করছে। তারা বলেছে, তাদের কোনো অভিযোগ নেই। তাদের পিতামাতাকে উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ বলেছে, এসব বালকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব এখন তাদের পিতামাতার।
উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে ক্যাথলিক চার্চে যৌন নির্যাতনের ঘটনা একটি উদ্বেগজনক স্ক্যান্ডালে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় পোপ ফ্রাঁসিস মে মাসে একটি নতুন আইন পাস করেন। তাতে বলা হয়, ক্যাথলিক চার্চে কোনো যৌন নির্যাতনের বিষয় কেউ যদি জেনে থাকেন তাহলে তিনি যেন তা ঊর্ধ্বতনদের অবহিত করেন।

বিমানবন্দর থেকেই গায়িকা জোস স্টোনকে ফিরিয়ে দিলো ইরান

বিশ্ব সফরের অংশ হিসেবে ইরানে গিয়েছিলেন খ্যাতনামা ব্রিটিশ গায়িকা জোস স্টোন। তবে দেশ ভ্রমণের বদলে উল্টো সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আটক হয়ে ইরান ছাড়তে হয়েছে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন পাওয়া এ শিল্পীকে। পুরো নাম জোসেলিন ইভ স্টকার হলেও জোস স্টোন নামে সমধিক পরিচিত ৩২ বছরের এ গায়িকা ও গীতিকার।
বিশ্ব ভ্রমণের অংশ হিসেবে ২০১৪ সাল থেকে দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন জোস স্টোন। প্রতিটি দেশেই স্থানীয় শিল্পীদের সঙ্গে নানা আয়োজনে অংশ নেন তিনি। সাধারণত এসব অনুষ্ঠানে তিনি গান পরিবেশন করেন। তবে ইরানে নারীদের প্রকাশ্যে একক কনসার্ট নিষিদ্ধ। এ ধরনের কোনও আইন না থাকলেও দীর্ঘদিন থেকেই অনানুষ্ঠানিকভাবে এর ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। অতীতে এ ধরনের ঘটনায় গায়িকাদের শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি খুব সম্প্রতিও দেশটিতে এমন ঘটনা ঘটেছে।
ইরানের বিমানবন্দর থেকেই জোস স্টোনকে আটক করা হয়। মূলত দেশটিতে অবস্থানকালে তিনি প্রকাশ্য স্থানে কনসার্ট আয়োজন করতে  পারেন; এমন আশঙ্কা থেকেই বিমানবন্দরে তাকে আটকে দেয় কর্তৃপক্ষ। জোস স্টোন-এর দাবি, কর্তৃপক্ষ তাকে এক ধরনের কালো তালিকাভুক্ত করেছে। অথচ ইরানে নারীদের কনসার্টের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তার জানা ছিল। তিনি শুধু দেশটি দেখতে চেয়েছিলেন।
ইন্সটাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জোস স্টোন বলেন, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার পর রাতে তাকে আটক করে রাখা হয় এবং সকালে তারা তাকে দেশটি থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট।

অভিবাসীরা মানুষ, কোনও সামাজিক ইস্যু নয়: পোপ ফ্রান্সিস

ক্যাথলিক ধর্মালম্বীদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, অভিবাসীরা মানুষ। তারা কোনও সামাজিক ইস্যু নয়। সোমবার তিনি বাসিলিকার সেন্ট পিটার্সে অভিবাসীদের জন্য প্রার্থনায় এ কথা বলেন। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এ খবর জানিয়েছে।
পোপ ফ্রান্সিসের ইতালীয় দ্বীপ লাম্পেডুসা সফরের ষষ্ঠ বার্ষিকীতে এই প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। ২০১৩ সালের ৮ জুলাই দ্বীপটিতে প্রথম সফরে গিয়েছিলেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের  চার মাসের মাথায় এই আকস্মিক সফরে যান তিনি।
প্রার্থনায় পোপ বলেন, অভিবাসীরা মানুষ। তারা শুধু সামাজিক অভিবাসী ইস্যু নয়। বিশ্বায়নকৃত আজকের সমাজ যাদের গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে  সেই সব মানুষের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন তারা।
পোপ ফ্রান্সিস বরাবরই অভিবাসীদের প্রতি সহানুভূতিশীল। মেক্সিকোর নদীতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রত্যাশী বাবা ও মেয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তিনি। চলতি বছরেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করতে থাকা মেক্সিকোতে অবস্থানরত অভিবাসীদের পাঁচ লাখ ডলার সহায়তা দেন পোপ ফ্রান্সিস।
এর আগে আগে ১৪ জানুয়ারি বিশ্ব অভিবাসী ও শরণার্থী দিবস উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে শরণার্থীদের দেখে আতঙ্কিত না হয়ে তাদের প্রতি অতিথিপরায়ণ হতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

‘ক্রীতদাস’ প্রথা ভারতে! ৯ বছর পর যেভাবে মুক্তি মিলল তরুণীর

সম্প্রতি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল থেকে এক তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই তরুণীর মুখ থেকেই জানা গেছে তার জীবনের করুণ অভিজ্ঞতার কথা। পূজা নামের এই তরুণী আসামের বাসিন্দা। তাকে ৯ বছর আগে ৭ বছর বয়সে দালালের মাধ্যমে অরুণাচলে বিক্রি করে দেওয়া হয়। আর এই ঘটনার মাধ্যমে জানা গেছে, অরুণাচলে চলছে  শ্রমিক কেনাবেচার বাজার। এতে অরুণাচলসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, বিউটি পার্লারে কাজ দেয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসামের বিশ্বনাথ জেলার বিহালি থেকে চা-শ্রমিক পরিবারের সাত বছরের মেয়ে পূজাকে বাবা-মার কাছ থেকে নিয়ে গিয়েছিল দালালরা। প্রথমে তাকে দাপোরিজোয়ের এক পরিবারে বিক্রি করা হয়। কিছুদিন সেখানে পরিচারিকার কাজ করে পূজা। পরে ওই পরিবার তাকে চীন সীমান্ত ঘেঁষা টাকসিঙে অন্য এক পরিবারের কাছে বিক্রি করে দেয়। দুর্গম ওই এলাকা থেকে পালিয়ে আসা সম্ভব ছিল না। ঘরের কাজের পাশাপাশি জুম চাষ ও সেনাবাহিনীর রসদ পৌঁছনোর কাজ করতে হতো তাকে।
পূজা জানায়, স্থানীয় ঠিকাদাররা ওই এলাকায় সেনা সদস্যদের রেশন পৌঁছে দেওয়া, রাস্তা সারানোর কাজ করা, সেনা-বাঙ্কার তৈরি করার কাজে এমন শ্রমিকদেরই নিয়োজিত করে। এখানে কিশোর ও যুবকদের দর বেশি, ১৭ থেকে ২০ হাজার টাকা। কিশোরী হলে ৫-৬ হাজার। চেহারা বুঝে তরুণীদের দর ৫০ হাজার টাকাও ছাড়ায়। তাদের উপরে যৌন নির্যাতনও চলে। ক্রীতদাস ও ক্রীতদাসীরা কোনও হাতখরচা পায় না, শুধু খেতে পায়। কৈশোর থেকে যৌবন পর্যন্ত ২-৩ বার বিক্রি হয় তারা।
পূজার বক্তব্য, ৯ বছর টাকসিঙে কাজ করেছে সে। আসাম থেকে বিক্রি হওয়া অন্য তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে সেনা শিবিরে রেশন বয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় ‘ক্রীতদাস’ রাজীব গগৈয়ের সঙ্গে আলাপ হয় তার। পূজা তাকে গোপনে বাড়ির ঠিকানা জানায়। সম্প্রতি রাজীব পালিয়ে আসামে চলে আসে। বিশ্বনাথে এসে পূজার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সে। পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশের চেষ্টায় ২ জুলাই পূজাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
পূজা জানায়, ওই এলাকায় আসামের পঞ্চাশেরও বেশি ছেলেমেয়ে এখন কাজ করছে। চা-শ্রমিক সংগঠনের দাবি, লখিমপুর, ধেমাজি, শোণিতপুর, বিশ্বনাথ জেলার বহু ছেলেমেয়ে অরুণাচলে বহু ধনী পরিবারে ‘ক্রীতদাস’ হয়ে আছে জেনেও পুলিশ ব্যবস্থা নেয় না।
পুলিশ বলছে, বেশির ভাগ পরিবারই কোনও এফআইআর করে না। অনেকে স্বেচ্ছায় টাকা নিয়েও ছেলেমেয়েদের অরুণাচলে পাঠায়।
এদিকে, আসাম শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন সুনীতা চাংকাকতি বলেন, যেহেতু দুই রাজ্যের বিষয়, সে কারণে জাতীয় কমিশনকে জানিয়েছি। অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি।

ভারতীয় মুসলমানদের প্রতিরোধ গড়তে মাহমুদ মাদানীর আহ্বান

উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের নির্যাতন প্রতিরোধে মুসলমানদের আত্মরক্ষা ও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতীয় মুসলমানদের সর্ববৃহৎ সামাজিক সংগঠন জমিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী।
মুসলমানদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে জানিয়ে মাওলানা মাহমুদ মাদানী বলেন, উন্মত্তদের কাছে হার মানার কোনও কারণ নেই। এতে তারা আরও উৎসাহিত হয়ে উঠবে। নিজেকে রক্ষা করার অধিকার সবার আছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি টানা দ্বিতীয়বারের সরকার গঠনের পর দেশটিতে মুসলমানদের জোরপূর্বক ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেয়ানো ও মুসলিম যুবকদের পিটিয়ে হত্যার প্রতিক্রিয়ায় এক ভিডিও বার্তায় জমিয়ত সেক্রেটারি এসব কথা বলেন।
কোথাও সমস্যায় পড়লে তা এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে মাহমুদ মাদানী বলেন, হিন্দু উন্মত্তদের হাতে আক্রান্ত হলে প্রথমে সরে যাওয়ার চেষ্টা করুন। না পারলে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।
তিনি বলেন, মুসলিমরা তাদের আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবেন। কঠিন অবস্থার মধ্যে আটকে গেলে মৃত্যু ভয় যেন কোনওভাবে গ্রাস না করে। উন্মত্তদের কাছে হার মানার কোনও কারণ নেই। এতে তারা আরও উৎসাহিত হয়ে উঠবে। নিজেকে রক্ষা করার অধিকার সবার আছে।
ভিডিও বার্তায় মাওলানা মাদানী আরও বলেন, আমি মুসলিম যুবকদের বলব, সাহস সঞ্চয় করুন। দরকারে তাদের সাবধান করে দিন। একা আক্রান্ত হলেও সেখান থেকে পিছিয়ে আসবেন না। যদি সেখানে কোনওভাবে তর্কের মুখে পড়ে যান, তাহলে নিজের পাণ্ডিত্য জাহির করতে দ্বিধা করবেন না।
যে কোনো পরিস্থিতি হাসির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণেরও পরামর্শ দেন তিনি।
জমিয়ত সেক্রেটারি বলেন, এত কিছুর পরেও যদি সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়, তাহলেও মৃত্যুর ভয় করবেন না। ভয় পেয়ে নরম হলেও উন্মত্তরা তার সুযোগ নেবে। তারা জোর পেয়ে যাবে। প্রতিরোধের চেষ্টা করুন। নিজের আত্মরক্ষার অধিকার ছাড়বেন না।
এর আগে বিজেপির বাচাল নেতাদের সামলাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আহ্বান জানান এ মুসলিম নেতা।
নির্বাচনে জয় লাভ করায় পরপরই মুসলমানদের বিষয়ে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী।
ওই চিঠিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে সব নাগরিকদের এক দৃষ্টিতে দেখার জন্য নরেন্দ্র মোদির প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
ধর্মীয় উগ্রতার বিষয়ে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানিয়ে মোদিকে মাওলানা মাদানী বলেন, আমরা আশা করছি আপনি ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখবেন। যাতে মুসলমানরা ভারতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও ধর্মীয় উগ্রতার কারণে মুসলমানরা ভীতসন্ত্রস্ত না হয়।
প্রসঙ্গত,জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ভারতীয় মুসলমানদের সর্ববৃহৎ পুরোনো প্লাটফর্ম। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে এ সংগঠনটির জন্ম। উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এ দলটির ব্যাপক অবদান রয়েছে।
মাওলানা মাহমুদ মাদানী ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের প্রাণপুরুষ সাইয়্যেদ হুসাইন আহমদ মাদানীর দৌহিত্র ও সাইয়্যেদ আসআদ মাদানীর ছেলে।
মিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী। ফাইল ছবি

মার্কিন যুদ্ধবিমান নিয়ে অভিবাসী বন্দিশিবিরে হামলা চালিয়েছে আমিরাত: লিবিয়া

লিবিয়ার অভিবাসী বন্দিশিবিরে ৩ জুলাইয়ের হামলার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতকে দায়ী করেছে দেশটি। লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেদিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান নিয়ে অভিবাসী বন্দিশিবিরে হামলা চালিয়েছে আমিরাত। লিবিয়ার বিদ্রোহী নেতা খলিফা হাফতারের বাহিনীকে সহায়তার উদ্দেশে তারা বন্দিশিবিরটিতে এ প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছিল। তবে এ ব্যাপারে সিএনএন-এর কাছে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি আমিরাতি কর্মকর্তারা। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
৩ জুলাই অভিবাসী বন্দিশিবিরটিতে চালানো ওই হামলায় অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছে। লিবিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফাথি বাশাগা বলেন, এই হামলার জন্য আমরা সংযুক্ত আরব আমিরাতকে দায়ী করছি। তারা যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এ ব্যাপারে আরও বিশদ তদন্ত চলছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতই এ হামলা চালিয়েছে; এমন কোনও প্রমাণ রয়েছে কী? সিএনএন-এর এমন প্রশ্নের উত্তরে লিবিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাইলট ও টেকনিশিয়ানরা বিমানটির আওয়াজ শনাক্ত করেছেন। এর ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষমতা ছিল অনেক বেশি। এটি ২০১৪ সালে নিক্ষেপ করা বিধ্বংসী বোমার মতোই। ওই সময়েও আমিরাত লিবিয়ায় বোমাবর্ষণ করেছিল। লিবিয়ার সংঘাতে তারা হস্তক্ষেপ করে থাকে।
২০১৪ সালে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন জানায়, তাদের বিশ্বাস সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসর লিবিয়ায় গোপন বিমান হামলা চালিয়েছে। এদিকে ৩ জুলাইয়ের হামলায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। ইতোমধ্যেই সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা এমন আভাস দিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে মঙ্গলবারের হামলার নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে জরুরিভিত্তিতে একটি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
জীবনযাপনের মানের দিকে থেকে তেল-সমৃদ্ধ লিবিয়া একসময় আফ্রিকার শীর্ষে ছিল। স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা ছিল পুরোপুরি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে যে রাজনৈতিক এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা ঐ ঐশ্বর্য নিশ্চিত করেছিল, সেটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায় ২০১১ সালে যখন পশ্চিমা সমর্থিত বিদ্রোহীদের হাতে কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন হয়। তারপর থেকে লিবিয়ায় চলছে সীমাহীন সংঘাত। গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যার শিকার হওয়ার পর ত্রিপোলিতে জাতিসংঘ সমর্থিত একটি মনোনীত সরকার রয়েছে। ওই কর্তৃপক্ষকে জাতীয় চুক্তির সরকার বা জিএনএ নামে অভিহিত করা হয়।  তবে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর হাতে রয়ে গেছে।  পশ্চিমাঞ্চলে জিনএনএ’র কর্তৃত্ব থাকলেও পূর্ব ও দক্ষিণের বেশিরভাগ অঞ্চল হাফতার বাহিনী এলএনএ’র দখলে। গত এপ্রিল থেকে এ বাহিনী লিবিয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
প্রায় পাঁচ বছর ধরে লিবিয়ায় দুটি সরকার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এদের মধ্যে একটি সরকারকে সমর্থন দিয়েছে জাতিসংঘ ও অন্যান্য দেশ। আরেকটি ফিল্ড মার্শাল হাফতারের নেতৃত্বাধীন। ত্রিপোলির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে জাতিসংঘ। তুরস্ক, ইতালি ও যুক্তরাজ্যও এ সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে। আর হাফতার বাহিনীর সমর্থনে রয়েছে মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ফ্রান্স। তবে আন্তর্জাতিক সমর্থন স্পষ্ট নয়। যেমন যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে (জিএনএ) সমর্থন করে এবং শান্তি আলোচনার আহ্বান জানায়। কিন্তু গত এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খলিফা হাফতারকে ফোন দিয়ে লিবিয়ার ব্যাপারে ‘যৌথ স্বপ্নের’ কথা বলেন।

ভারতের ২০১৯-২০২০ সালের বাজেট নির্বাচনমুখী by পি কে বালাচন্দ্রন

২০১৯-২০ অর্থবছরের ভারতের জাতীয় বাজেটটি তিনটি কারণে আলাদা: প্রথম পূর্ণাঙ্গ নারী অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এই বাজেট উপস্থাপন করছেন। এটাই প্রথম বাজেট যেখানে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দের বিষয়টি উল্লেখ নেই। এবং তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও ঝাড়খান্ডে রাজ্য অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে জেতার জন্য এই বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে।
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে মহারাষ্ট্রে নির্বাচন হবে, হরিয়ানায় হবে নভেম্বরে এবং ঝাড়খাণ্ডে নির্বাচন হবে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে।
২০১৯-২০ সালের বাজেটকে তাই জনপ্রিয় হতে হবে, কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নিজেদের মধ্যে খুব ভালো করেই জানে যে, সদ্য সমাপ্ত পার্লামেন্ট নির্বাচনে তাদের জয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হলো পুলওয়ামায় পাকিস্তান-প্রভাবিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।
আত্মঘাতী হামলাকারী কর্তৃক ৪৪ জন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ায় মোদি পাকিস্তানে বিমান হামলা চালানোর এবং ৩০০ জঙ্গিকে ‘হত্যার’ সুযোগ পেয়ে যান এবং নিজেকে একজন ‘শক্তিধর’ হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পান, যিনি যে কোন আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে সক্ষম।
রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলগুলোর কেউই এ পরিস্থিতিতে এ ধরনের দাবি করতে পারেননি, বিশেষ করে যে পরিস্থিতিতে জাতীয়তাবাদ উগ্র আকার ধারণ করেছিল। অবাক হওয়ার কিছু নেই, নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন মোদি।
তবে মোদি জানতেন যে, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর যে দীর্ঘ অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, সেগুলো তিনি রাখতে পারেননি। যে ‘আচ্ছে দিনের’ প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, সেটা এখনও অধরাই রয়ে গেছে।
বেকারত্বের হার ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ঋণে জর্জরিত কৃষকরা আত্মহত্যা করছে। তার বহুল উচ্চারিত “মেক ইন ইন্ডিয়া” পরিকল্পনা একটা প্রতারণায় পরিণত হয়েছে এবং খুব সামান্যই বিদেশী বিনিয়োগ এসেছে।
মোদি যদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিদেশী ও অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোন পরিকল্পনা না নেন, তাহলে ভাগ্য হয়তো কয়েক মাস পরের নির্বাচনে মোদির সাথে থাকবে না। বিশ্বাসযোগ্যতার যে বিশাল ফারাক তৈরি হয়েছে, ২০১৯-২০ সালের বাজেটের মাধ্যমে সেটাই পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা
মোদি ও সীতারামন এই সুযোগটা নিচ্ছেন যে, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটে প্রতিরক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়ে গেছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে যে আর্থিক সীমাবদ্ধতার মোকাবেলা করতে হচ্ছে, সেখানে এখন বাড়তি কিছু সংযোগ করতে পারছে না সরকার।
সীতারামন তার বক্তৃতায় প্রতিরক্ষা সম্পর্কে একমাত্র যেটা বলেছেন, সেটা হলো: “প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিকায়ন ও আপগ্রেডের ত্বরিৎ প্রয়োজন রয়েছে। এটা একটা জাতীয় অগ্রাধিকার। এ কারণে ভারতে যে সব সরঞ্জাম তৈরি হচ্ছে না, সেগুলো আমদানির ক্ষেত্রে বেসিক কাস্টমস শুল্ক বাতিল করা হলো”।
১ ফেব্রুয়ারি পার্লামেন্টে ২০১৯-২০ সালের যে অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট পেশ করা হয়, সেখানে প্রতিরক্ষা খাতের জন্য ৪২.৭ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়, আগের বছরের চেয়ে যেটার পরিমাণ ৮% বেশি।
তবে এই বৃদ্ধিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় খুশি হতে পারেনি, কারণ তাদের চাহিদা পূরণের জন্য প্রচুর ঘাটতি রয়েছে তাদের। ২০১৮-১৯ সালে, তিন বাহিনীর জন্য তহবিল ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৩০%, বা ১,১২,১৩৭ কোটি রুপি, যেখানে চাহিদা দেখানো হয়েছিল ৩,৭১,০২৩ কোটি রুপি।
অন্যান্য খাত
সীতারামনের বাজেটে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে যে, ২০২২ সালের মধ্যে প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে এবং ২০১৯ সালের ২ অক্টোবরের পর কোথাও খোলামেলা মলত্যাগ করা চলবে না।
গ্রামীণ যোগাযোগ – যেটার অবস্থা ভারতের বহু জায়গায় খুবই দুর্বল – সেটার উন্নতির জন্য আগামী পাঁচ বছরে ১২৫,০০০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের ঘোষণা দেয়া হয়েছে বাজেটে। যেহেতু শহর ও গ্রাম সবখানেই আবাসনের বিষয়টি একটি সমস্যা, তাই ১৯৫ কোটি ঘর তৈরির ঘোষণা রাখা হয়েছে এতে। বাড়ি নির্মাণের জন্য জনগণ যাতে ঋণ নিতে পারে, সেজন্য ৩.৫ লাখ রুপি সুদ ছাড় দেয়া হয়েছে।
ধনী কোম্পানিগুলোর উপর যেখানে ব্যাপক কর আরোপ করা হবে, কিন্তু নতুন কোম্পানিগুলো যে তহবিল সংগ্রহ করেছে, সেটাকে কর ডিপার্টমেন্টের নজরদারির ভেতর দিয়ে যেতে হবে না। দোকানদার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পেনশান স্কিম থাকবে, যাদের বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ হবে ১.৫ কোটি রুপি।
কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের স্বার্থ রক্ষায় ১০,০০০ নতুন ফার্মার প্রডিউসারস অর্গানাইজেশান গঠন করা হবে। সীতারামন আরও বলেন যে, ‘জিরো বাজেট ফার্মিং’ চালু করা হবে, যেখানে ঋণের উপর কোন নির্ভরতা থাকবে না, এবং পণ্যের উৎপাদন খরচও সেখানে হবে সামান্য। তিনি বলেন, এটা করা সম্ভব, কারণ কিছু রাজ্যে এটা করা হয়েছে। প্রাইভেট কর্পোরেট খাতকে কৃষিতে বিনিয়োগের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হবে।
রেলওয়ে যেহেতু অর্থনীতিতে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, এ জন্য এই খাতের জন্য ২০১৮-২০৩০ সাল সময়কালের জন্য ৫০ লাখ কোটি রুপি সরিয়ে রাখা হয়েছে। এবং সম্ভবত প্রথমবারের মতো নদী পরিবহনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যেটাকে দীর্ঘদিন ধরে অবজ্ঞা করা হয়েছে।
বিনিয়োগের জন্য তহবিল ঘাটতি পূরণের জন্য, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আরও বেশি ধার করা হবে। এটা করা যেতে পারে কারণ ভারতের সার্বভৌম বিদেশী ঋণের পরিমাণ জিডিপির মাত্র ৫%, যেটা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম।
বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য ভালো পরিবেশ তৈরি করবে ভারত। সীতারামন ইঙ্গিত দেন যে, শ্রম আইন সংশোধন করা হবে। ইন্সুরেন্স মধ্যস্থতাকারী, মিডিয়া ও বিমান পরিবহনকে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য খুলে দেয়া হবে। বিদেশী শিক্ষার্থীদের ভারতের লেখাপড়ার জন্য উৎসাহিত করা হবে এখানে অবদান রাখার জন্য উৎসাহিত করা হবে।
ভারত যেহেতু মহাকাশ প্রযুক্তিতে এগিয়ে গেছে, তাই অর্থ উপার্জনের জন্য এর বাণিজ্যিক প্রয়োগকে ব্যবহার করা হবে। এটা বাস্তবায়নের জন্য নিউ স্পেস ইন্ডিয়া লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি তৈরি করা হবে।
মোদির পরিকল্পনা হলো ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে ভারতকে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দেশে পরিণত করা। ২০১৯ সালের শেষ নাগাদ ভারতের অর্থনীতির আকার দাঁড়াবে ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। সীতারামন দাবি করেন যে, অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে নিতে ৫৫ বছর সময় লেগেছে, কিন্তু মোদি সরকার মাত্র পাঁচ বছরে এটার আকার ১ ট্রিলিয়ন ডলার বাড়িয়েছে।
তবে তিনি স্বীকার করেন যে, এখনও বহু কিছু করার রযেছে। মন্ত্রী বলেন, “অবকাঠামো খাতে, ডিজিটাল অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যাপারে আমাদের ব্যাপক বিনিয়োগ করতে হবে”।
প্রাইভেট খাতে সন্দেহের ঘনঘটা
প্রাইভেট খাত অবশ্য সরকারের মতো এতো নিশ্চিন্ত নয়। এনডিটিভিতে এক প্যানেল আলোচনায় প্রাইভেট খাতের বিশেষজ্ঞরা এটা বলেছেন যে, খাবার পরেই কেবল নিশ্চিত হওয়া যাবে যে পুডিং তৈরি হয়েছে। তারা উল্লেখ করেন যে, প্রতিটি সরকার এবং প্রতিটি বাজেটেই বহু কিছুর প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, কিন্তু মিলেছে সেখানে সামান্যই।
বিশেষজ্ঞরা হতাশা ব্যক্ত করেছেন যে, বিচার বিভাগের পুনর্গঠনের কোন উল্লেখ করা হয়নি, যেটা অভ্যন্তরীণ ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদেরকে হতাশ করেছে। কর সংগ্রহ সিস্টেমকে যেখানে আরও উন্নত করতে হবে ঠিক, কিন্তু এর বদলে ‘কর সন্ত্রাস’ হলে চলবে না বলে মন্তব্য করেন তারা।
তারা বলেন, সিস্টেমটা এত দুর্নীতিগ্রস্ত যে বড় বড় কর ফাঁকিদাতারা পার পেয়ে যায় আর ছোট ছোট ব্যক্তিরা ধরা পড়ে। যে সিস্টেমের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা নেই, সেটা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে পারবে না।
বিচার বিভাগকে গতিশীল করার কোন সিস্টেম নেই। ভোডাফোন বিতর্কের এরপরও সমাধান হয়েছে এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এতে অসন্তুষ্ট হয়েছে।
কৃষিখাতে প্রাইভেট কর্পোরেট বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার সরকার ঘোষণাকে স্বাগত জানানো হয়েছে, কিন্তু অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বাস্তবে এই ধরনের ঘোষণার বাস্তবায়ন হয় না। বাস্তবতা হলো কৃষিতে কর্পোরেট খাতকে স্বাগত জানানো হয় না।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতকে উৎসাহিত করা দরকার ঠিক, কিন্তু সেখানে খুব বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হবে না। বেশি কর্মসংস্থান দিতে পারবে বড় কোম্পানিগুলো এবং চীনের অভিজ্ঞতা এটাই বলে। চীন এই বিষয়টাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে এবং এর মাধ্যমে বহু মিলিয়ন মানুষকে দারিদ্রসীমা থেকে তুলে এনেছে।
লোকসভায় ২০১৯-২০ সালের বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন

বসের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, অতঃপর...

বসের যৌন হয়রানির বিষয় প্রকাশ করে উল্টো ফেঁসে গেলেন ইন্দোনেশিয়ার এক নারী বাইক নুরিল মাকনুন। আদালত তাকেই জেল ও জরিমানা করেছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেছিলেন। তাতেও হেরে গেছেন। গত বৃহস্পতিবার তার আপিল প্রত্যাখ্যান করে আদালত। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
এতে বলা হয়েছে, তার বস লোমবাক দ্বীপের মাতারাকের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। মাকনুন তার কাছ থেকে যৌন হয়রানিমুলক ফোন পাওয়ার অভিযোগ করেন।
এই অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়, এমন একটি অডিও কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ জন্য দায়ী করা হয় মাকনুনকে। তাকে গত বছর অশ্লীল তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার অপরাধে ৬ মাসের জেল ও ৩৪০০০ ডলার জরিমানা করা হয়। বলা হয়, তিনি দেশটিতে বিদ্যমান একটি বিতর্কিত আইন লঙ্ঘন করেছেন। তার এই শাস্তির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিলেন মাকনুন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট তার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। বলেছে, তিনি নতুন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে মাকনুনকে এখন ওই শাস্তি ভোগ করতে হবে এবং জরিমানা দিতে হবে।
এ বিষয়ে আদালতের মুখপাত্র আবদুল্লাহ বলেছেন, তার আপিল খারিজ হয়েছে। কারণ, তিনি যে অপরাধ করেছেন তা আইনগতভাবে এবং বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে। উল্লেখ্য, মাকনুনের এ মামলাটি ২০১২ সালের। ওই সময় তিনি ওই স্কুলে চাকরি করতেন। তখন আরেকজন সহকর্মীর সঙ্গে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের প্রেমঘটিত সম্পর্ক নিয়ে রগরগে যৌনতা নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে মাকনুনের। এতে উঠে এসেছে ওই সম্পর্কের বিস্তারিত বিষয়। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে এ কথোপকথন তিনি রেকর্ড করেছেন। প্রথমে এ অভিযোগ থেকে মাকনুনকে দায়মুক্তি দেয় স্থানীয় একটি আদালত। কিন্তু দেশটির শীর্ষ আদালত এই রায়কে পর্যালোচনা করেন। তাতে ইলেক্ট্রনিক তথ্য আইন তিনি লঙ্ঘন করেছেন বলে মাকনুনকে দোষী করা হয়।
ওদিকে বৃহস্পতিবার আইনী লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার পর মাকনুনের আইনজীবী জোকো জুমাদি বলেছেন, সর্বশেষ রায়ে তার মক্কেল হতাশ। তবু তিনি লড়াই বন্ধ করবেন না। কারণ, তিনি যদি লড়াই বন্ধ করেন তাহলে অন্য যারা এমন যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন তাদের কথা বলার সাহস থাকবে না। আইনজীবী আরো বলেন, আমরা আইনি সব ব্যবস্থা অনুসরণ করবো। এখন এ বিষয়ে আমরা প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো’র দ্বারস্থ হবো।
উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে মাকনুনের মামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট উইদোদো। তিনি বলেছেন, যদি সুপ্রিম কোর্টে তার আপিল প্রত্যাখ্যান করেন তাহলে মাকনুনের উচিত হবে ক্ষমাপ্রার্থনা করা। এর মধ্য দিয়ে তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার কথা বুঝিয়েছেন। ওদিকে মাকনুনের শাস্তির বিষয়ে নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো।

নেপাল-চীন বাণিজ্যের জন্য যৌথ উদ্যোগের ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করছে নেপাল

যথার্থ ব্যাংকিং সুবিধাসহ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য পরিচালনার জন্য নেপাল-চীন যৌথ উদ্যোগে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার। এ নিয়ে চীনা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা শুরু করেছে নেপাল।
গত বুধবার নেপাল চেম্বার অব কমার্সের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তদের সাথে মতবিনিময়কালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থসচিব রাজন খানাল বলেন, এ ধরনের ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হলে এলসি খোলা সহজ হবে, আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যে সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, চীনের একটি ব্যাংক শিগগিরই নেপালে আসতে পারে। সরকারি মালিকানাধীন একটি ব্যাংকের সাথে যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান সৃষ্টির সম্ভাবনাও আছে।
খানাল বলেন, দক্ষিণের সাথে বাণিজ্য স্থানীয় প্রকৃতির, কিন্তু উত্তরের সাথে বাণিজ্য হয় ব্যাংকিং চ্যানেলে। চীনা ব্যবসায়ীদের মূল্য পরিশোধের জন্য ব্যবসায়ীরা টিটি (টেলেক্স ট্রান্সফার) বা ড্রাফট ব্যবহার করে থাকেন। এলসি হলো রফতানিকারকদের অর্থ পরিশোধ করার জন্য অন্য কোনো দেশের কোনো ব্যাংককে আমদানিকারকদের কাছ থেকে দেয়া নির্দেশনা। অন্যদিকে টিটি হলো ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে অর্থ হস্তান্তর।
চলতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের প্রথম ১১ মাসে চীনের কাছ থেকে নেপাল ১৮৬.৬ বিলিয়ন রুপির পণ্য আমদানি করেছে। আর চীনে রফতানি করেছে ১.৯৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য।
খানাল বলেন, বেসরকারি খাতের সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার খুবই আন্তরিক। সরকার উৎসাহ প্রদান ও কর ছাড় দিয়ে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি উদ্যেক্তাদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, তবে সবসময় কর সুবিধা নিয়ে ব্যবসা করার কথা ভুলে যান। আমরা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ও দক্ষিণ এশিয়া অবাধ বাণিজ্য এলাকার সদস্য। বিদেশী পণ্য আমদানির কর ধীরে ধীরে কমে যাবে। ফলে আপনাদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় থাকার অবস্থা সৃষ্টি করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, সত্যিকারের কাঁচামাল সৃষ্টির তালিকা তৈরির জন্য ব্যবসায়ী সংস্থার সাথে মতবিনিময় করতে চায় সরকার।
তার মতে, সরকার অভ্যন্তরীণ শিল্প ও পণ্য বিকাশ করতে চায়। কিন্তু কিছু উৎপাদিত পণ্য আসলে অন্য কোনো শিল্পের কাঁচামাল। ফলে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের উদ্বেগ এড়ানো যায় না।
খানাল বলেন, স্থানীয় তৈরী পোশাকের জন্য ৫ ভাগ ইনসেনটিভ ও আমদানি করা বইয়ের ওপর ১০ ভাগ শুল্কের বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করা হবে না।

‘১০ বছরে জাতিসংঘ কর্মীদের ধর্ষণের শিকার ৬০ হাজার’

বিগত এক দশকে জাতিসংঘ কর্মীদের দ্বারা ৬০ হাজারেরও বেশি নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে দাবি করেছেন জাতিসংঘের কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু ম্যাসেলিওড। গত বছর এ বিষয়ক একটি প্রতিবেদন ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক ‍উন্নয়ন বিষয়কমন্ত্রী প্রিতি পাটেলের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তিনি।
সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই সংস্থায় প্রায় ৩ হাজার ৩০০ শিশু নিপীড়কও কর্মরত আছেন। তারা বিশ্বজুড়ে ঝুঁকিতে থাকা নারী ও শিশুদের ধর্ষণ করতেই দাতা সংস্থাগুলোতে চাকরি নেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রায় ২০ বছর ধরে এমন তথ্য গোপন করে রাখা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তার সবার সামনে উন্মোচিত হলো।
এর আগেও ত্রাণকর্মীদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ম্যাসেলিওড বলেন, জাতিসংঘের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের মাত্রা ক্যাথলিক গির্জাগুলোর বিশালত্বের মতোই। এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘সারা বিশ্বে হাজার হাজার ত্রাণকর্মী কাজ করছেন যারা আদতে শিশু নিপীড়ক। আপনি যদি ইউনিসেফের টি-শার্ট পরা থাকেন, তবে কেউ আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে না আপনার উদ্দেশ্য কি? ম্যাসেলিওড বলেন, ‘তখন আপনি যা খুশি করতে পারবেন। আর এ বিষয়টি সারা পৃথিবীতেই ঘটছে। এটা আসলে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। অনেক আগেই এটা বন্ধ করা উচিত ছিল।
জাতিসংঘের ত্রাণ বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ম্যাসেলিওড। বলকান দেশগুলা, রুয়ান্ডা এবং পাকিস্তানে ছিলেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। জাতিসংঘের জরুরি সমন্বয় কেন্দ্রের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ত্রাণকর্মীদের ওপর কড়াকড়ি আরোপের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং তাদের মধ্যে নিপীড়কদের বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করছেন। তিনি চান, এই লড়াইয়ে যেন যুক্তরাজ্য নেতৃত্ব দেয়।
গত বছর জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেসের নিয়োগ দেওয়া তালিকার মধ্যে ৬০ হাজার শান্তিকর্মীর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছেন ম্যাসেলিওড। আর বেসামরিক কর্মীরা ২০১৬ সালে ৩১১ জনকে নিপীড়ন করছেন। জাতিসংঘও স্বীকার করেছে তাদের প্রকাশিত তালিকার তুলনায় প্রকৃত সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। যুদ্ধ এলাকার বাইরের ঘটনার প্রকৃত সংখ্যা তাদের কাছে নেই। অধ্যাপক ম্যাসেলিওডও বলেন, জাতিসংঘ কর্মীদের দ্বারা সংঘটিত ধর্ষণের প্রতি ১০টি ঘটনার মাত্র একটিই রেকর্ড করা হয়।
ম্যাসেলিওডের সরবরাহকৃত প্রমাণের ভিত্তিতে সাবেক মন্ত্রী প্রিতি পাটেল ডিএফআইডি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, তারা তথ্য গোপন করতে চেয়েছিল। তারা পাটেলকে বলেছিলেন যেন যৌন নিপীড়ন নিয়ে এমন বক্তব্য দেওয়া হয়, যেখানে মনে হবে শুধু জাতিসংঘের সেনারাই এর সঙ্গে জড়িত।
তিনি বলেন, এটা খুবই রূঢ় সত্য যে যুক্তরাজ্যের জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়েই এই শিশু ধর্ষণের মতো অপরাধে অর্থায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি জানি জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ে এটা নিয়ে অনেক আলোচনা চলেছে। কিন্তু এটা নিয়ে অবশ্যই কিছু করতে হবে। এখনও কার্যকর কিছুই হয়নি। এই অধ্যাপক বলেন, আমরা এমন এক সমস্যা নিয়ে কথা বলছি, যার বিশালতা প্রায় ক্যাথলিক গির্জার সমান।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের সংসদীয় সহযোগী কনর বার্নস পূর্ব প্রকাশিত অক্সফামের যৌন কেলেঙ্কারির কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, যা দেখা যাচ্ছে তা আসলে বরফ খণ্ডের ওপরের অংশ। আসলেই কী হচ্ছে তা তদন্ত করা দরকার। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি একটি কৌশলগত ও সাংগঠনিকভাবে গোপন করার প্রক্রিয়া অনেক দিন ধরেই চলে আসছিলো।
পেনি মর্ডান্ট জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় এই যৌন নিপীড়ন বন্ধের অঙ্গীকার করেছেন। গত বছর সেপ্টেম্বরে থেরেসা মে বলেছিলেন, বিশ্বাস অর্জন করতে না পারলে তারা জাতিসংঘে অর্থায়ন বন্ধ করে দেবে। তবে পাটেলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এখন পর্যন্ত কোনও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেনি তারা। ডিএফআইডি জানায়, এখনও কোনও তদন্ত শুরু হয়নি।
সূত্র: দ্য সান

নারী ৫ হাজার টাকা আয় করলেও টাকা কাটা হয়

নাজনীন আহমেদ
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদ বলেছেন, যারা ২৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি করেন তাদেরকে আয়কর দিতে হয় না। কিন্তু নারী যখন সঞ্চয়পত্র থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করছে তখন তার কাছ থেকে ঠিকই টাকা কেটে রাখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, নারী যদি সঞ্চয়পত্র থেকে ৫ হাজার টাকাও আয় করে তাহলেও তার কাছ থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়। এটা নারীর জন্য বৈষম্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজধানীর বাংলামোটরের উন্নয়ন সমুন্বয় কার্যালয়ে গত ৩ জুলাই বুধবার আয়োজিত ‘এবারের বাজেট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও উন্নয়ন সমুন্বয়ের চেয়ারম্যান ড. আতিউর রহমান।
নাজনীন আহমেদ বলেন, যুবকদের ব্যবসায় উদ্যোগ, অর্থাৎ 'স্টার্টআপ' সৃষ্টির জন্য ১০০ কোটি টাকা চলতি অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে নারীদের জন্য আগে যে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে তার কোনও ব্যাখ্যা নেই।
তিনি উল্লেখ করেন, যুবকদের 'স্টার্টআপ' সৃষ্টির জন্য যে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে সেখানে নারীকে প্রাধান্য দিতে হবে।
সংলাপে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে আইনি ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করেন ড. আতিউর রহমান। তিনি বলেন, যারা টাকা চুরির জন্য ব্যাংক ঋণ নেয়, তাদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সেই সক্ষমতা আছে। কিন্তু তাদের আইনি ক্ষমতা দেওয়া দরকার।
তথাকথিত বেসরকারি খাতের ব্যাংক মালিকরা ঋণ নিয়ে তা ফেরত দিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন ড. আতিউর রহমান।
লাগামহীন খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকঋণের সুদের হার অনেক বেশি বলে সংলাপে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘কস্ট অব ফান্ড’ কিংবা ‘ম্যানেজমেন্ট কস্ট’ ব্যাংকঋণের সুদের হার বেশি হওয়ার কারণ নয়। খেলাপি ঋণের কারণেই সুদের হার বেশি।
নাগরিক সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ, বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড এস এম জুলফিকার আলী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক কে এম জমসেদ উজ জামান।

মিয়ানমারের সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধাপরাধের তথ্য দিলেন জাতিসংঘ তদন্তকারী

মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনী ও বিদ্রোহীরা উত্তেজনাপ্রবণ পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে যুদ্ধপরাধের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। জাতিসংঘের এক তদন্তকারী মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের এক সামরিক অভিযানের ফলে সাত লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে হয়। জাতিসংঘ তদন্তকারীরা বলছেন, মিয়ানমারের অভিযানের মধ্যে ছিল গণহত্যা, গণধর্ষণ ও ব্যাপকভিত্তিক অগ্নিসংযোগ। এগুলো গণহত্যার মতো অপরাধ।
ইয়াঙ্গুন সরকার ওইসব নৃশংসতায় তাদের সম্পৃক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, রোহিঙ্গা জঙ্গিদের হামলার জবাবে তারা অভিযানটি চালিয়েছিল।
সরকারি সৈন্যরা বর্তমানে রাখাইন ও চিন রাজ্যে জাতিগত বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আরাকান আর্মি বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে যুদ্ধ করছে।
গত ২২ জুন কর্তৃপক্ষ ওই দুটি রাজ্যের ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করার জন্য টেলিকম কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেয়।
মিয়ানমারের মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘ স্বাধীন বিশেষজ্ঞ ইয়াঙহি লি বলেছন, গত সপ্তাহে সেনাবাহিনী রাখাইন ও চিন রাজ্যে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকার সুবিধা নিয়ে ব্যাপক মাত্রায় মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।
তিনি মঙ্গলবার বলেন, উত্তর রাখাইন রাজ্য ও চিন রাজ্যের কিছু অংশে আরাকান আর্মির সাথে কয়েক সপ্তাহ ধরে সঙ্ঘাত চলছে। বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এর বিপর্যয়কর প্রভাব পড়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির অনেক কাজ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন করেছে, এগুলো যুদ্ধাপরাধের সামিল ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
লি জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে বলেন, আরাকান আর্মি পালেতওয়া থেকে ১২ নির্মাণ শ্রমিককে এবং বাংলাদেশী সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকা থেকে ৫২ গ্রামবাসীকে অপহরণ করেছে বলে জানা গেছে।
লি আরাকান আর্মির সাথে সন্দেহজনক সম্পর্ক রাখার দায়ে বেশ কয়েকজন রাখাইন লোককে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকের ঘটনা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তা হেফাজতে তাদের কয়েকজন মারাও গেছে। অক্টোবরে বাঁশ সংগ্রহে নিয়োজিত রোহিঙ্গা পুরুষ ও কিশোরদের ওপর সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার গুলি করে।
তিনি বলেন, সহিংসতা থেকে রক্ষা পেতে চলতি বছর প্রায় ৩৫ হাজার লোক পালিয়ে গেছে।
তবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কেউ মো তুন বলেন যে, সরকার আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে এবং জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।