Tuesday, June 7, 2011

পুলিশি হামলায় পণ্ড রামদেবের অনশন

ভারতে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির দাবিতে অনশনরত যোগগুরু স্বামী রামদেবের অনশনস্থলে গত শনিবার দিবাগত রাতে হামলা চালিয়ে তা পণ্ড করে দিয়েছে দিল্লির পুলিশ। এ সময় পুলিশসহ ৫২ জন আহত হয়। রামদেবকে আটক করা হলেও পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ১৫ দিনের জন্য তাঁর দিল্লি সফর নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে রামদেব বলেছেন, ‘আমি এখনো অনশন ভঙ্গ করিনি। আমার এ সত্যাগ্রহ চলবে।’
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রাত একটার দিকে সরকার হঠাৎ স্বামী রামদেবের কর্মসূচির অনুমতি বাতিল করে। পুলিশ তাঁকে রামলীলা ময়দান ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। পুলিশ জানায়, সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
যোগগুরুকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে—এ খবর শোনার পর সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রামদেবের সমর্থক একদল নারী মানববর্ম তৈরি করে তাঁকে ঘিরে রাখে। এ সময় পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, পুলিশের হামলায় রামদেবের প্রায় ৩০ জন অনুসারী আহত হয়েছে। অনুসারীদের ছোড়া ইটপাটকেলে ২৩ পুলিশ আহত হয়। তবে তাদের কেউই হাসপাতালে নেওয়ার মতো আহত হয়নি।
পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়, আটকের পর রামদেবকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে বিশেষ বিমানে তাঁর নিজ শহর হরিদুয়ারে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে নিজের আশ্রমে সংবাদ সম্মেলনে রামদেব বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার আমাকে অপহরণ করে হত্যা করতে কিংবা অন্য কোথাও পাঠিয়ে দিতে চেয়েছিল।’ গত শনিবার সকালে নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে শুরু করা অনশন ভঙ্গ করেননি বলেও জানান রামদেব। তিনি বলেন, ‘আমি অনশন ভঙ্গ করিনি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমার সত্যাগ্রহ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’
রামলীলা ময়দানে পুলিশের হামলার ঘটনা ‘অমানবিক’ উল্লেখ করে যোগগুরু বলেন, ‘লাখো মানুষের ওপর হানা দেওয়ার এ ঘটনা বর্বরোচিত। তারা এমনকি শিশু ও নারীদেরও রেহাই দেয়নি।’
সমাজবাদী পার্টির প্রধান মুলায়ম সিং গতকাল লক্ষেৗয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বাবা রামদেবের অনশন কর্মসূচিতে পুলিশি হামলার ঘটনাই প্রমাণ করে, কেন্দ্রীয় সরকার মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে।
রামদেবের কর্মসূচিতে পুলিশি হামলার নিন্দা জানিয়ে মানবাধিকার কর্মী আন্না হাজারে বলেন, এ ধরনের আচরণ গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরার শামিল। তিনি আরও বলেন, সরকারকে শিক্ষা দিতে সুশীল সমাজ সারা দেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে।

যুক্তরাজ্যে নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদেরা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চালু করতে যাচ্ছেন। নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি হবে বছরে ১৮ হাজার পাউন্ড। গতকাল রোববার সানডে টাইমস পত্রিকার প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, লন্ডনে নিউ কলেজ অব দ্য হিউম্যানিটিজ নামের এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হবে। ২০১২ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট কোর্স চালু করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার জন্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোটি কোটি পাউন্ড সংগ্রহ করেছেন প্রখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক এ সি গ্রেইলিং।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এ উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন ১৪ জন শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ। তাঁদের মধ্যে জীববিজ্ঞানী রিচার্ড ডাউকিনস এবং ইতিহাসবিদ ডেভিড ক্যানাডাইন, লিন্ডা কোল ও নিয়াল ফার্গুসন রয়েছেন। তাঁরা নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করবেন।
গত বছর যুক্তরাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টিউশন ফি বাড়ানো হয়। বছরে সর্বোচ্চ নয় হাজার পাউন্ড টিউশন ফি নির্ধারণ করে বিশ্ববিদ্যায়গুলো। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি তিন গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
তবে বেসরকারি হওয়ায় টিউশন ফির সরকার-নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

পাকিস্তানে যাত্রীবাহী বাসে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৬

পাকিস্তানে পেশোয়ারের কাছে গতকাল রোববার একটি পার্ক করা যাত্রীবাহী বাসে বোমা বিস্ফোরণে ছয়জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছে। কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, পেশোয়ারের ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে মাতানি নামক জায়গার একটি বাজারের কাছে একটি বাস টর্মিনালে ওই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন নারী ও এক শিশুও রয়েছে। আহত ব্যক্তিদের পেশোয়ারের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক নারীর অবস্থা গুরুতর।
পেশোয়ারের পুলিশপ্রধান মোহাম্মদ ইজাজ এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে জানান, এক ব্যক্তি ওই বাসটিতে উঠে একটি প্যাকেট রেখে যান। এ সময় তিনি যাত্রীদের বলেন, শিগগিরই তিনি ফিরে আসবেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই প্যাকেটে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের ঘটনায় কেউ দায়িত্ব স্বীকার করেনি।

‘আগস্টে পদত্যাগে প্রস্তুত নাওতো কান’

জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান আগামী আগস্টে পদত্যাগের জন্য প্রস্তুত। সে দেশের ক্ষমতাসীন জোটের এক নেতা গতকাল রোববার এ কথা বলেছেন।
ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দল পিপলস নিউ পার্টির নেতা শিজুকা কামেই গতকাল আশাহি টেলিভিশনকে বলেন, ‘তাঁর (নাওতো কান) ইচ্ছা, আগস্টের শেষ নাগাদ নিজের কাজ সম্পন্ন করা।’ শিজুকা আরও বলেন, এক বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে এ কথা জানান।
গত সপ্তাহে বিরোধীদের অনাস্থা ভোটে অল্পের জন্য রক্ষা পান নাওতো কান। সে সময় তাঁর নিজের দলের সমর্থকেরাও বিপক্ষে ভোট দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। অনাস্থা ভোটের পর প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, আগামী বছর পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচনে বিপর্যয় নিয়ে আলোচনা

পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী জোট বাম ফ্রন্টের প্রধান শরিক সিপিএমের রাজ্য কমিটির দুই দিনব্যাপী এক বৈঠক গতকাল রোববার শেষ হয়েছে। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক পরাজয়ের পর এই প্রথম কলকাতায় সিপিএমের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
বৈঠকে যোগ দেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাত, রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যসহ রাজ্যস্তরের নেতারা। এই বৈঠকে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক বিপর্যয়, পরাজয়ের বিভিন্ন কারণ ও দলের সাংগঠনিক ভিত শক্ত ও দলের অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে গোটা রাজ্যে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকদের হাতে সিপিএমের কর্মী-সমর্থকদের খুন হওয়া ও নির্যাতনের বিষয় নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

আরবে

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ গত শনিবার রাতে পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যকে নিয়ে সৌদি আরব গেছেন। ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রেসিডেন্ট সালেহ চিকিৎসার জন্য সৌদি আরবে গেছেন। গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ভবনে বিরোধীদের ছোড়া গোলার আঘাতে তিনি আহত হন।
তবে সালেহর পতন হয়েছে দাবি করে গতকাল রোববার ইয়েমেনের হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে উল্লাসে মেতে ওঠে। ইয়েমেনের পার্লামেন্টে বিরোধী দল বলেছে, তারা প্রেসিডেন্ট সালেহকে আর দেশে ফিরতে দেবে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইয়েমেনের সরকারি একজন কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট সালেহ তাঁর পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যকে নিয়ে ইয়েমেন ছেড়ে গেছেন। প্রেসিডেন্ট ইয়েমেন ছেড়ে যাওয়ার পর তিনিসহ কয়েকজন কর্মকর্তা বিষয়টি জানতে পারেন। তাই প্রেসিডেন্ট সালেহ ঠিক কখন ইয়েমেন ছেড়েছেন, সুনির্দিষ্টভাবে সেই সময়ের কথা জানা যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সৌদি আরবের একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, প্রেসিডেন্ট সালেহ শনিবার রাতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছান। তিনি চিকিৎসার জন্য রিয়াদে এসেছেন। চিকিৎসা শেষে আবারও ইয়েমেনে ফিরবেন। প্রেসিডেন্ট সালেহ পদত্যাগ করেননি বলেও উল্লেখ করেন ওই কর্মকর্তা।
সৌদি আরবের কর্মকর্তারা জানান, সৌদি চিকিৎসা হেলিকপ্টারে করে প্রেসিডেন্ট সালেহকে রিয়াদে আনা হয়। অন্য একটি বিমানে তাঁর পরিবারের সদস্যরা রিয়াদে পৌঁছান।
প্রেসিডেন্ট সালেহ ইয়েমেন ছাড়ায় কে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আছেন, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। কর্মকর্তারা জানান, ইয়েমেনের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট সালেহর অনুপস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করার কথা ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদেল রাব্বো মনসুর হাদির। রাব্বো এরই মধ্যে সানায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেরাল্ড মাইকেল ফিয়ারস্টেইনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট সালেহ তাঁর ছেলে আহমেদকে নিজের উত্তরসূরি ভাবতেন।
জানা যায়, প্রেসিডেন্ট সালেহর বড় ছেলে আহমেদ ইয়েমেনেই আছেন। তিনি দেশটির অভিজাত বাহিনী রিপাবলিকান গার্ডের প্রধান। বিরোধীদের দাবি, প্রেসিডেন্ট সালেহর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হওয়ার আগে আহমেদ প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
এদিকে প্রেসিডেন্ট সালেহর শাসনের অবসান হয়েছে দাবি করে ইয়েমেনে উল্লাস করছে হাজার হাজার মানুষ। সানা বিশ্ববিদ্যালয় স্কয়ারে উল্লাসরত জনতা ‘আজ ইয়েমেন নবজন্ম লাভ করেছে’ বলে সংগীত পরিবেশন করেন। ‘সরকারের পতন হয়েছে’ বলে স্লোগান দেন বিভিন্ন বয়সী শত শত মানুষ। গত জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনের মূল কেন্দ্র সানা ইউনিভার্সিটি স্কয়ার। এ স্কয়ারকে ‘চেঞ্জ স্কয়ার’ বলা হচ্ছে।
ইয়েমেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর তায়েজে শত শত মানুষ উল্লাস করে। তারা স্লোগান দেয়, ‘স্বাধীনতা, স্বাধীনতা, প্রেসিডেন্ট সালেহ পালিয়েছেন।’
পার্লামেন্টে বিরোধী দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ কাহতান বলেন, ‘সালেহর দেশে ফেরা ঠেকাতে আমরা সবাই সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করব।’
তবে ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রেসিডেন্ট সালেহর গুণকীর্তন করে সংগীত পরিবেশন করা হচ্ছে। বিরোধীদের আন্দোলনের মুখে প্রেসিডেন্ট সালেহ বেশ কয়েকবার পদত্যাগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনোবারই কথা রাখেননি।
রাজধানী সানায় গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের মধ্যে একটি মসজিদে গোলার আঘাতে প্রেসিডেন্ট সালেহসহ কয়েকজন আহত হন। নিহত হন ১১ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা। সরকারবিরোধীরা এই হামলা চালায়। প্রেসিডেন্ট সালেহর ৩৩ বছরের শাসনের অবসানের দাবিতে কয়েক মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধীরা।
ইয়েমেনের নয়জন সেনা নিহত: ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে আবইয়ান অঞ্চলে সন্দেহভাজন আল-কায়েদার জঙ্গিদের পৃথক হামলায় নয়জন সেনা নিহত হয়েছেন। দেশটির সামরিক সূত্র গতকাল এ কথা জানায়।

লিবিয়া অভিযানের কোনো সময়সীমা নেই

ন্যাটো জোটের লিবিয়া অভিযানের কোনো সময়সীমা নেই বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ। তিনি বলেন, লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান চলতে থাকবে।
বিবিসি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হেগ বলেন, ‘আমরা কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করছি না। আপনারা হয়তো এ ক্ষেত্রে বড়দিনের কথা বলতে পারেন। কিন্তু এটা কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ অথবা কয়েক মাসব্যাপী চলতে পারে। সফলতা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।’
এর আগে শনিবার লিবিয়ার বিদ্রোহী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বেনগাজিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিদ্রোহীদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন তাদেরই গড়া সংগঠন ন্যাশনাল ট্র্যানজিশনাল কাউন্সিলের প্রধান মুস্তাফা আল-জলিল।
বৈঠক সম্পর্কে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একটি প্রধান কারণে আমরা মিলিত হয়েছিলাম। তা হলো লিবিয়ার সাধারণ মানুষের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা প্রদর্শন।’ তিনি বলেন, লিবিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
বিদ্রোহী নেতাদের সঙ্গে হেগের এই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ন্যাটো জোটের হামলায় ফের কেঁপে ওঠে ত্রিপোলি। যুদ্ধবিমান ও অ্যাপাচি হেলিকপ্টার থেকে হামলা চালানো হয় বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে।
ন্যাটো জোটের এই হেলিকপ্টার হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। মস্কো বলেছে, ন্যাটো এর মধ্য দিয়ে স্থল অভিযানের দিকে যাচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই লাভরভ বলেন, হেলিকপ্টার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ‘দুঃখজনক’। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, সচেতনভাবে হোক আর অসচেতনভাবে হোক যা ঘটছে তা স্থল অভিযানের দিকে যাচ্ছে।’ মস্কো বরাবরই আলোচনার মাধ্যমে লিবিয়া সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে।
তবে হেগ বলেন, ‘আমরা এটা (অভিযান চালানো) না করলে গাদ্দাফি বাহিনী পুরো লিবিয়ায় দমনপীড়ন চালাত। এতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিত। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ত সব খানে। তিউনিসিয়া ও মিসরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠত।’ রাশিয়ার অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, ন্যাটো জোট স্থল অভিযান চালাচ্ছে না। তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত নীতিতে অটল থাকবে।
হেগ বলেন, ‘অভিযান জোরদারে হেলিকপ্টার ব্যবহার করছি আমরা। তার মানে এই নয় যে আমরা স্থল অভিযান চালাচ্ছি। অভিযানে সফলতা পেতে অভিযানের ধরন পরিবর্তন করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, গাদ্দাফির এক্ষুনি সরে যাওয়া উচিত। তবে তিনি বলেন, ‘যত দিন দরকার হয় তত দিন লিবিয়ার সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে যুক্তরাজ্য।
ন্যাটো জোট রোববার রাতে রাজধানী ত্রিপোলিসহ এর পূর্বাঞ্চলীয় শহরতলি এলাকায় হামলা চালায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় ত্রিপোলির কেন্দ্রস্থলে দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। পরে রাত আড়াইটার দিকে ঘটে আরও চারটি বড় বিস্ফোরণ। এর আগে কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা। তাঁরা বলেন, এই অভিযানের লক্ষ্য কী ছিল তা তাঁরা জানেন না।
উল্লেখ্য, গত শনিবার প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যের অ্যাপাচি ও ফ্রান্সের গ্যাজেল হেলিকপ্টার দিয়ে লিবিয়ায় হামলা চালানো হয়।

চিলিতে ৫০ বছর পর জেগেছে সুপ্ত আগ্নেয়গিরি

চিলির দক্ষিণাঞ্চলে পুয়েহুয়ে আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতের কারণে আশপাশের সাড়ে তিন হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অর্ধ শতাব্দী পর গত শনিবার ওই আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।
অগ্ন্যুৎপাতের ধোঁয়া ও ছাই প্রতিবেশী দেশ আর্জেন্টিনাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে আর্জেন্টিনার একটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অগ্ন্যুৎপাতের কারণে কোথাও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
চিলির রাজধানী সান্টিয়াগো থেকে ৮০০ কিলোমিটার দক্ষিণে পুয়েহুয়ে-কর্ডন-কউলে রেঞ্জের আগ্নেয়গিরি পুয়েহুয়েতে এই অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে। দেশটির ভূতত্ত্ব ও খনিবিষয়ক জাতীয় সংস্থা জানায়, ভয়াবহ বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ওই এলাকায় বড় ধরনের ভূ-কম্পন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
লস রিওস অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা হুয়ান আঁন্দ্রে ভারাস সাংবাদিকদের জানান, আগুন ও ধোঁয়ার বিশাল শিখা সৃষ্টি হয়েছে। আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত লাভায় সালফারের তীব্র গন্ধ রয়েছে।
অগ্ন্যুৎপাতের পর সরকার প্রথমে ৬০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে মোট সাড়ে তিন হাজার মানুষকে ওই নির্দেশ দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে ওই অঞ্চলে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।
নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়া অধ্যাপক ইয়েমি ওবানডো চিলির জাতীয় টেলিভিশনে বলেন, অগ্ন্যুৎপাতের কারণে গবাদিপশু ও অন্যান্য প্রাণীর কী হবে, তা নিয়ে স্থানীয় মানুষ আতঙ্কিত।
অগ্ন্যুৎপাতের কারণে আর্জেন্টিনা ও চিলির নাগরিকদের পারাপারের জন্য ব্যবহূত একটি সীমান্তপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর্জেন্টিনার কর্মকর্তারা জানান, আগ্নেয়গিরি থেকে উদ্গীরিত ছাইয়ের কারণে ১৬ হাজার বাসিন্দার শহর অ্যানডিনে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। ছাইয়ের কারণে আর্জেন্টিনার ব্যারিলোচের আঞ্চলিক বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
পুয়েহুয়ে আগ্নেয়গিরিতে ১৯৬০ সালে সর্বশেষ অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে। ৯ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ওই অগ্ন্যুৎপাত হয়।

মাতৃভূমির জন্য!

দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষ কত কিছুই করে! কসোভোতে জন্মগ্রহণকারী জেমস বেরিশা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশ ঘুরে ফেলে আসা মাতৃভূমির প্রতি স্বীকৃতি আদায় করতে জনসচেতনতা গড়ে তুলবেন। সেই প্রতিজ্ঞা রাখতে গিয়ে মরতে মরতে বেঁচে গেলেন তিনি।
নানা দেশ ঘুরে যুক্তরাষ্ট্রে থিতু হওয়া বেরিশা বিমানচালক হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। লক্ষ্য পূরণে আজ থেকে দুই বছর আগে বেরিয়ে পড়েন চার আসনের একটি ছোট বিমান নিয়ে। কিন্তু গত রোববার আফ্রিকায় এক দুর্ঘটনায় পড়ে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন তিনি। মহাদেশটির মাত্র দুটি দেশ বাকি থাকতে এ বিপত্তির মুখে পড়েন তিনি।
পোর্ট সুদান থেকে খার্তুম যাওয়ার পথে মাটি থেকে আট হাজার ৫০০ ফুট ওপরে বেরিশার বিমানের ইঞ্জিন সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। সুদানের মরুভূমিতে ক্র্যাশ ল্যান্ডিং করতে বাধ্য হন বেরিশা।
মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেও হতোদ্যম হননি ৩৯ বছর বয়সী বেরিশা। ঘটনার পর তিনি বলেন, ‘আমি যা করতে চাই, তা করতে গিয়ে মরলে একাই মরব। আমি আমার দেশ আর দেশের মানুষকে ভালোবাসি। আমি চাই, সারা বিশ্বের মানুষ আমার দেশ সম্পর্কে জানুক।’
বেরিশা বলেন, সম্ভবত প্রচণ্ড গরমে অথবা বিমানটি বেশি পুরোনো হওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাঁর সেসনা ১৭২ বিমানটি ১৯৬৭ সালে তৈরি। বিমানটি প্রচণ্ড গতিতে মাটিতে পড়ার ১০ মিনিট পর তাঁর হুঁশ আসে। দেখেন চারদিকে ধু ধু বালু। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো। একপর্যায়ে জীবনের মায়াই ছেড়ে দেন তিনি। কিন্তু ঘণ্টা দুয়েক পর যেন অলৌকিকভাবে কোত্থেকে একটি ট্রাক এসে হাজির। ট্রাকের লোকজন তাঁকে শুশ্রূষা করে সুস্থ করে তোলে।
১৯৯৯ সালের ১ মার্চ সার্বিয়ার মিলিশিয়া বাহিনীর হাতে মারা যান বেরিশার কৃষক বাবা। বাবার মৃত্যুর এক মাস পর জন্মভূমিতে ফিরে ধ্বংস আর মৃত্যু ছাড়া কিছু দেখেননি। যুদ্ধের ভয়াবহতা বদলে দেয় বেরিশাকে। তখনই সংকল্প নেন মাতৃভূমির জন্য কিছু একটা করার।
বেরিশার মাতৃভূমি কসোভো ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সার্বিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও এ পর্যন্ত জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে মাত্র ৭৫টি তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী আরব আমিরাত

সফররত সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী শেইখা লুবনা বিনতে খালিদ আল কাশিমি বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে উন্নয়নে সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
লুবনা বিনতে খালিদ বলেছেন, ইতিমধ্যে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ, ব্যাংকিং, সিরামিকস, নির্মাণ, আবাসন ও ওষুধশিল্পে সংযুক্ত আরব আমিরাত ২৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এ ছাড়া আরও অনেক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত, সেবা ও পর্যটনশিল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী। বাংলাদেশের বিনিয়োগ বোর্ড ইতিমধ্যে বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিয়ে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের তথ্য পেলে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হবে।
গতকাল রোববার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) দেওয়া এক মধ্যাহ্ন ভোজসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, ঢাকায় নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত খালফান বাত্তাল আলী আল মুনসৌরি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী।
লুবনা বিনতে খালিদ বলেন, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন ব্যবসা চালু বা প্রসারে সহায়তা দেওয়া হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে যেসব বাংলাদেশি কোম্পানি সফল হয়েছে, তারা মূলত অটোমোবাইল সেবা ও মুদি ব্যবসা করছে। এসব ব্যবসা প্রসারের আরও সুযোগ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জ্বালানি খাত ব্যতীত অন্য খাতে ব্যবসা করার প্রস্তাব দেন।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক খুবই ভালো। বর্তমানে বাংলাদেশে স্থানীয় বিনিয়োগ যেমন অনেক বাড়ছে, বিদেশি বিনিয়োগও (এফডিআই) তেমন আসছে বলে তিনি জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, চলতি অর্থবছরের রপ্তানি-আয় ইতিমধ্যে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশের কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়া, জ্বালানি, অবকাঠামো প্রভৃতি খাতে বিনিয়োগ করার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা শিল্প পার্ক, বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা (এসইজেড) ও বেসরকারি বন্দর নির্মাণ করতে আগ্রহী। তিনি এসব শিল্পে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহায়তা কামনা করেন।
এ কে আজাদ আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য কর অবকাশ-সুবিধা ও সহজে মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগসহ নানা ধরনের সহায়তা দিয়ে থাকে।
এ কে আজাদ বলেন, দেশের প্রবাসী-আয়ের উৎস দেশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান দ্বিতীয়। ২০০৯-১০ অর্থবছরে মোট প্রবাসী-আয়ের ১৭ দশমিক ২০ শতাংশ এসেছিল ইউইএ থেকে। ২০০৯ সালে দুই লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৮ জন ইউইএতে কাজ করতে গেছেন। এ ছাড়া ১৯৭৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ইউইএ ২২৩ কোটি ডলার বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে এবং ছয় হাজার ৫১৩ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আরও বলেন, ২০০৯-১০ অর্থবছরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ছয় কোটি ৫৮ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে বাংলাদেশ ২৯ কোটি ১৪ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক: তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান।
গতকাল রোববার সচিবালয়ে ইউএইর বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী শেইখা লুবনা বিন খালিদ আল কাশিমির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
এ সময় অতিরিক্ত বাণিজ্যসচিব এ টি এম মূর্তজা রেজা চৌধুরী, যুগ্ম সচিব মনোজ কুমার রায়সহ বাণিজ্য, কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বিনিয়োগ বোর্ডের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উভয় দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের চিত্র তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনেক সুবিধা রয়েছে। যেমন: বাংলাদেশ একটি স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশ, যেখানে শ্রমবাজার সস্তা। তা ছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশেও রয়েছে একটি বিশাল বাজার। এ ছাড়া এ দেশে বিনিয়োগ করে যে কেউ ইউরোপ, চীনসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য রপ্তানি করতে পারবেন।

কোরীয় দূতাবাস ও বাংলাদেশ ইনডেন্টিং সমিতির চুক্তি

ঢাকার কোরীয় দূতাবাসের বাণিজ্যিক শাখার (কোটরা) সঙ্গে সম্প্রতি বাংলাদেশ ইনডেন্টিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএএ) একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে।
বাংলাদেশ ইনডেন্টিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাহাবুদ্দিন খান এবং বাংলাদেশে কোটরার আবাসিক বাণিজ্যিক প্রতিনিধি স্যাম সিক কিম এ সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এ সময় বাংলাদেশ ইনডেন্টিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালকেরা এবং কোটরার মার্কেট রিসার্চ ম্যানেজার উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি অনুযায়ী বিআইএএ ও কোটরা উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কারিগরি সহযোগিতা ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদার এবং বাণিজ্য মেলার আয়োজন করবে।
এ ছাড়া বিআইএএ ও কোটরা উভয় দেশের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্যাবলি আদান-প্রদানসহ সভা-সম্মেলন-সেমিনার এবং পারস্পরিক মতবিনিময় সভা আয়োজনের উদ্যোগ নেবে।

ইনফোসিস ও টিভিএস একীভূত!

ভারতের শীর্ষস্থানীয় সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ইনফোসিস ও মোটরবাইক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান টিভিএস যেন ‘একীভূত’ হয়ে গেল। এ একীভূত হওয়া ব্যবসায়িক কোনো উদ্দেশ্যে নয়। বরং একে ‘সামাজিক একীভূত’ হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে। ইনফোসিসের প্রধান উদ্যোক্তার ছেলে রোহান ও টিভিএস গ্রুপের চেয়ারম্যানের মেয়ে লক্ষ্মী ভেনু বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম একে দুটি প্রতিষ্ঠানের এক ধরনের ‘মার্জার’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা এল কে আদভানি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদাম্বরম, কামাল নাথ, আনন্দ শর্মা, জি কে ভাসানসহ অনেক শীর্ষ রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী।
২৮ বছরের রোহান মার্থি ইনফোসিসের প্রধান উদ্যোক্তা এন আর নারায়ণ মার্থির ছেলে। তিনি মাইক্রোসফটের একজন ফেলো এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পিএইচডির জন্য লেখাপড়া করছেন। আর ২৭ বছর বয়সী লক্ষ্মী ভেনু টিভিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান ভেনু শ্রীনিবাসের মেয়ে।
গতকাল রোববার স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ১০টার দিকে লক্ষ্মীর গলায় মঙ্গলসূত্র বেঁধে দেন রোহান। কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে এ বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

হরতালে শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক লেনদেন

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে বিএনপি ও জামায়াতের ডাকা হরতালের মধ্যেও গতকাল রোববার দেশের শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই-সিএসই) ব্রোকারেজ হাউসের কোরাম পূর্ণ হওয়ায় যথাসময়ে দিনের লেনদেন শুরু হয়। ঢাকার বাজারে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বাড়লেও কমেছে চট্টগ্রামের বাজারে। দুই বাজারেই মূল্যসূচকের সামান্য হেরফের হয়েছে।
জানা গেছে, ডিএসইতে সকাল ১১টায় লেনদেন শুরুর আগে ২১৩টি ব্রোকারেজ হাউস ট্রেড সার্ভারে লগইন করে। যদিও কোরাম পূর্ণ হতে প্রয়োজন ছিল ৭২টি ব্রোকারেজ হাউসের লগইন। রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে বিএনপির নেতাদের মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউসও লেনদেনে অংশ নেয়।
তবে স্বাভাবিক লেনদেন চললেও গতকাল ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি ছিল কম। বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাঁদের শেয়ার কেনাবেচার আদেশ দেন সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসে।
ঢাকার বাজারে গতকাল শেয়ারের দাম ও মূল্যসূচকের ঊর্ধ্বগতি দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। প্রথম ৪৫ মিনিটে সূচক উত্থান-পতন ছাড়াই আগের দিনের চেয়ে ৮০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় পাঁচ হাজার ৮৪২ পয়েন্টে। এটিই ছিল গতকাল ডিএসইতে মূল্যসূচকের সর্বোচ্চ অবস্থান। এরপর মূল্যসূচকের উত্থান-পতন শুরু হয়। দিনশেষে সেটি পুনরায় আগের দিনের পাঁচ হাজার ৭৬২ পয়েন্টের অবস্থানে নেমে আসে।
ডিএসইতে প্রথম ঘণ্টায় লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দুই শতাধিক কোম্পানিই ছিল দাম বাড়ার তালিকায়। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই তালিকা ছোট হতে থাকে। দিনশেষে ঢাকার বাজারে ২৫৮টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১২৭টির দাম বেড়েছে, কমেছে ১১৬টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৫টির দাম।
মূল্যসূচকের খুব বেশি হেরফের না হলেও ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে। গকতাল রোববার স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৫৬১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ৫৪ কোটি টাকা বেশি।
এদিকে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচকও আগের দিনের চেয়ে দশমিক ২৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় প্রায় ১৬ হাজার ১০ পয়েন্টে। চট্টগ্রামের বাজারে লেনদেন হওয়া ১৮৯টি কোম্পানির মধ্যে ৯৩টির দাম কমেছে, বেড়েছে ৭৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৯টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। রোববার দিনশেষে স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৭২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের প্রায় সমপরিমাণ।

পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী

ভাগ শেয়ারের দাম বেড়েছে। এর ফলে বেড়েছে সাধারণ সূচক। এ ছাড়া লেনদেনও বেড়েছে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে।
বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেশ কয়েক দিন ধরে বাজার ভালো থাকায় অনেক বিনিয়োগকারী আবারও বাজারে সক্রিয় হচ্ছেন। আবার বাজেটে পুঁজিবাজারবান্ধব কোনো ঘোষণা আসতে পারে—এমন আশায় অনেকে বাজারে ফিরতে শুরু করছেন। এর ফলে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, গতকালের মতো আজও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। তবে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে সূচক ১২ পয়েন্ট নেমে যায়। এরপর আবার সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়, যা সারা দিনই অব্যাহত থাকে। দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৮১.৮৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫৮৪৪.৭৩ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
ডিএসইতে হাতবদল হওয়া ২৫৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৭৬টির, কমেছে ৭৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে আটটি প্রতিষ্ঠানের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ মোট ৬৭০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১০৯ কোটি টাকা বেশি।
এ দিকে খাত অনুযায়ী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আজ ব্যাংকিং খাতের ৩০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৯টিরই দাম বেড়েছে। এ ছাড়া সিমেন্ট ও সিরামিক খাতের সবগুলোর, প্রকৌশল খাতের ২৩টির মধ্যে ১৮টির, অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ২১টির মধ্যে ১৫টির, বিমা খাতের ৪৪টির মধ্যে ২০টির এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ৩৫টির মধ্যে ১৯টির দাম বেড়েছে। বস্ত্র, জ্বালানি এবং খাদ্য ও সেবা খাতে মিশ্র অবস্থা দেখা গেছে।
আজ ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ইউনাইটেড এয়ার, ইউসিবিএল, এমআই সিমেন্ট, বিএসআরএম স্টিল, মেঘনা সিমেন্ট, তিতাস গ্যাস, এনবিএল, কনফিডেন্স সিমেন্ট, ইস্টার্ন হাউজিং ও বেক্সিমকো।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক আজ গতকালের চেয়ে ২৩২.৯৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৬২৪২.৪৭ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১২৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া কমেছে ৫৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠানের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৯৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ২২ কোটি টাকা বেশি।

ফুটবল ও ফ্লাডলাইট সমাচার

বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবল কি তাহলে আর ফ্লাডলাইটের আলোয় হবে না? প্রশ্নটি উঠে পড়ছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব শফিক আনোয়ারের কথায়। তিনি বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট এবং অতি জরুরি না হলে ফ্লাডলাইটে খেলা চালানো যাবে না। এ ব্যাপারে হাইকোর্টের নির্দেশনা আছে। এখন ফ্লাডলাইটে খেলার অনুমতি দিলে আমাকে তো হাইকোর্টে গিয়ে দাঁড়াতে হবে।’
প্রসঙ্গটা এসেছে বাংলাদেশ লিগে গতকালের নির্ধারিত শেখ জামাল ধানমন্ডি ও শেখ রাসেল ম্যাচটি একটু পিছিয়ে যাওয়ায়। হরতালের কারণে ম্যাচটি বিকেল সোয়া চারটার পরিবর্তে রাত ৮টায় শুরু করতে চেয়ে ক্রীড়া পরিষদকে চিঠি দিয়েছিল বাফুফে। যেহেতু ফ্লাডলাইট ব্যবহার করতে হবে, সেজন্যই এনএসসির সহযোগিতা প্রয়োজন ছিল। এনএসসি ফ্লাডলাইট ব্যবহার করা যাবে না জানিয়ে দেওয়ায় কাল বিকেল সাড়ে তিনটান ম্যাচটি পরদিন অর্থাৎ আজ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানায় বাফুফে।
ফ্লাডলাইটে এই সেদিনও ঘরোয়া ফুটবলের ম্যাচ হয়েছে। কিন্তু কখনো হাইকোর্টের নির্দেশের ব্যাপারে কিছু শোনা যায়নি। এমনকি গত ২০ এপ্রিল ফ্লাডলাইটের খেলা না চালানোর জন্য বাফুফেকে দেওয়া চিঠিতে এনএসসি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা বলেছিল। এখন হাইকোর্টের রায়ের কথা শুনে বাফুফের পেশাদার লিগ ম্যানেজার আবু নাইম সোহাগ বললেন, ‘হাইকোর্টের এমন কোনো নির্দেশনার ব্যাপার বাফুফে অবগত নয়।’

ব্যাডমিন্টনের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ পণ্ড

প্রথম বিভাগ ব্যাডমিন্টনের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ পণ্ড হয়ে গেছে। এ নিয়ে গত রাতে উডেনফ্লোর জিমনেসিয়াম ছিল বেশ উত্তপ্ত।
শিরোপার জন্য অঘোষিত ফাইনাল জমে উঠেছিল তখন। দুটি এককের একটি জিতেছে নিট কনসার্ন, অন্যটি বাংলাদেশ বিমান। দ্বৈতে প্রথম গেমে হেরেছে নিট। দ্বিতীয় গেমের সময় নিটের অগ্রগামিতা ছিল ৮-৪ পয়েন্টে। ঠিক তখন বিমানের একটা সার্ভিস নিটের মালয়েশিয়ান খেলোয়াড় চ্যাং ছেড়ে দিয়েছেন। আম্পায়ার পয়েন্ট দিয়েছেন বিমানকে। কিন্তু নিটের দাবি, শাটলকক কোর্টের বাইরে পড়েছে। নিটের আপত্তিতে সার্ভিস জাজের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত বদলান আম্পায়ার। এতে বেঁকে বসে বিমান।
শুরু হয় তুমুল হইচই। গ্যালারি থেকে বোতল ছুড়ে মারে কিছু দর্শক। তীব্র বাদানুবাদে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় ফেডারেশন কর্মকর্তাদের। এরপর নিটের খেলোয়াড়-কর্মকর্তারা বেরিয়ে যান উডেনফ্লোর থেকে। নিট কনসার্নের প্রেস সেক্রেটারি সুভাষ সাহার যুক্তি, ‘বিমানকে চ্যাম্পিয়ন করার জন্য পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিং হয়েছে। এ কারণেই আমরা খেলা বর্জন করেছি।’
খেলা আবার শুরু করার চেষ্টায় রাত সাড়ে নয়টায় দুই দলকেই ডাকা হয়। কিন্তু নিট কনসার্ন ততক্ষণে জিমনেসিয়াম ছেড়েই চলে গেছে। তাই উপস্থিত বিমানকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে, নিট কনসার্ন হয়েছে রানার্সআপ। উল্লেখ্য, তিন বছর আগে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ লিগেও বিমান চ্যাম্পিয়ন ও নিট কনসার্ন রানার্সআপ হয়েছিল।

ক্রীড়াঙ্গনে পঞ্চবার্ষিকের হাওয়া

ক্রীড়াঙ্গনে সরকারের দীর্ঘ মেয়াদে পরিকল্পনা থাকা উচিত। কিন্তু বাংলাদেশে এটা এত দিন ছিল যেন সোনার হরিণ। অবশেষে সেই সোনার হরিণ হাতের নাগালে আসতে পারে ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর।
সরকারের আসন্ন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ক্রীড়াঙ্গনও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো কী করতে চায়, কী তাদের চাহিদা—এসব বিষয়ে বিস্তারিত চাহিদাপত্র এরই মধ্যে ফেডারেশনগুলোর কাছ থেকে চেয়ে নিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)।
গতকাল এনএসসির সচিব শফিক আনোয়ার এ বিষয়ে ধারণা দিলেন, ‘আমরা ফেডারেশনগুলোকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছিলাম, আগামী পাঁচ বছর তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা কী? পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে কোন জিনিসগুলো অবশ্যপ্রয়োজন। এটা স্থাপনা, দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ, বিদেশি কোচ হতে পারে। এ জন্য কার কত টাকা প্রয়োজন, সেটি ফেডারেশনগুলোর কাছ থেকে লিখিতভাবে জেনে নিয়েছি আমরা।’
সচিবের দেওয়া তথ্য, ৩৫টি ফেডারেশন এবং ছয়টি অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে ক্রিকেট বোর্ড বাদে আর সবাই তাদের পরিকল্পনা জমা দিয়েছে এনএসসির কাছে। এখন প্রকল্প তৈরির কাজ চলছে, যেটিকে বলা হচ্ছে ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানিং প্রোফর্মা)। এ নিয়ে মূল কাজটা করছেন এনএসসির সহকারী পরিকল্পনা ও গবেষণা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর খান। তিনি কাল জানিয়েছেন, ‘এখন পর্যন্ত পাঁচ-ছয়টি ফেডারেশনের চাহিদাপত্র ঘেঁটে একটা সারসংক্ষেপ তৈরি করেছি। বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে করে একটা বই আকারে তা উপস্থাপন করা হবে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে।’
জানা গেছে, এ বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তাগিদ রয়েছে এনএসসির ওপর। এবং যত দ্রুত সম্ভব কাজটা শেষ করতে চান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এনএসসির সচিব একটু পেছনে ফিরে তাকিয়ে বলেছেন, ‘আমরা ফেডারেশনগুলোকে বলেছিলাম, খোলা মনে প্রয়োজনীয় চাহিদাটা জানাতে। দেওয়া না-দেওয়ার ব্যাপারটা সরকারের। চাইতে সমস্যা নেই। যেমন স্নুকার, বিলিয়ার্ড খেলার টেবিল চেয়েছে, কিন্তু তাদের তো খেলার জন্য জায়গাই নেই। এটা একটা উদাহরণ। এভাবে সরকার চাইছে ফেডারেশনগুলোকে স্বাবলম্বী করতে, যাতে করে তারা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারে।’
কার কেমন চাহিদা, সেটিই বড় ব্যাপার। যেমন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন তিনটি চাহিদার কথা জানিয়েছে। সিলেট বিকেএসপিতে একাডেমি গড়ার জন্য পাঁচ বছরে ৬ কোটি, যুব ফুটবল উন্নয়নের জন্য পৌনে ৪ কোটি এবং মহিলা ফুটবল উন্নয়নে ৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা চেয়েছে তারা। বিস্ময়করই ঠেকছে, মাঠ-সমস্যার এই সময়ে বাফুফে সরকারের কাছে মাঠ চায়নি! সরকার যখন বলছে, চাইতে তো দোষ নেই!
পরিকল্পনা করা সহজ, বাস্তবায়নই আসল চ্যালেঞ্জ। সেটি কতটা হবে তা প্রশ্নসাপেক্ষ। জানা গেল, মূলত প্রশিক্ষণের দিকেই বেশি জোর দেওয়া হবে এই পরিকল্পনায়। অহেতুক কোনো স্থাপনা গড়বে না সরকার। সচিব জানিয়েছেন, এটা অনেক বড় প্রকল্প হওয়ায় ঠিক কত টাকা লাগবে, বলা কঠিন। তবে একেকটি ফেডারেশনে গড়ে ৫-৬ কোটি টাকার চাহিদাপত্র দিলে আনুমানিক ৫০০ কোটি টাকা লাগতে পারে।

কত বেতন ম্যারাডোনার?

আল ওয়াসলের কোচ হওয়ার পর থেকেই গুঞ্জন—কত বেতন পাচ্ছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা? এমনও শোনা যাচ্ছে, ম্যারাডোনার বার্ষিক বেতনের অঙ্কটা ১ থেকে ৩ কোটি ৪৫ লাখ ডলারও হতে পারে। এটাই যদি সত্যি হতো, তাহলে ম্যারাডোনা হতেন হোসে মরিনহোর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া কোচ।
কিন্তু খবরটা সত্যি নয়। পরশু সংবাদ সম্মেলনে যে সাংবাদিক ম্যারাডোনাকে এই বিশাল অঙ্কের বেতন নিয়ে প্রশ্নটা করেছিলেন, তাঁকে ম্যারাডোনা পাল্টা জবাব দেন তাঁর মতো করেই, ‘ইস্, চুক্তিটা যদি আপনার সঙ্গে আমার হতো!’ পরক্ষণেই পরিষ্কার করে দিয়েছেন, ‘আপনি যে অঙ্কটা বলছেন, মূল অঙ্কটা এর ধারেকাছেও নেই। আমি তো এখন আর ফুটবল খেলি না। আর এটা খুবই স্বাভাবিক ফুটবলে খেলোয়াড়দের তুলনায় কোচরা অনেক কম পারিশ্রমিক পায়। তবে আপনি যদি এ ধরনের কোনো প্রস্তাব এনে দিতে পারেন, আপনাকেই আমার এজেন্ট বানাব।’
তাহলে আসল অঙ্কটা কত? সেটিও পরিষ্কার করা হয়নি। এ নিয়ে লুকোছাপা চলছেই। তবে ক্লাবের চেয়ারম্যান মারওয়ান বিন বায়াত ‘ম্যারাডোনা সম্পূর্ণ অন্য মাপের একটা মানুষ’ মন্তব্য করে বলেছেন, তাঁকে তাঁর প্রাপ্যটাই দেওয়া হবে।
নিজের বেতন যা-ই হোক না কেন, খেলোয়াড় কিনতে কোনো কার্পণ্য করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন ম্যারাডোনা। তবে ডিয়েগো ফোরলানদের মতো খেলোয়াড়দের কেনার সিদ্ধান্ত থেকেও সরে এসেছেন, ‘যে খেলোয়াড়কেই নিয়ে আসি, নিজেকে উজাড় করে দিয়ে খেলতে হবে তাকে। আমি যা চাই, সেটাই দিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, দলে তারুণ্য আনতে হবে। আমি বুড়ো খেলোয়াড়দের চাই না। আমি এটাকে শ্বেতহস্তীদের কবরস্থান বানাব না।’

রোনালদো গোল করবেন না যদি...

কেবল স্প্যানিশ লিগেই ৪০ গোল! সব মিলে মৌসুমে ৫৩ গোল। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বলছেন, এই অবিশ্বাস্য গোল করার ক্ষমতাও তিনি হাতছাড়া করতে রাজি আছেন। যদি এর বিনিময়ে কেউ নিশ্চয়তা দেয় রিয়াল মাদ্রিদ জিতবে শিরোপা।
খেলোয়াড় হিসেবে দুর্দান্ত একটা মৌসুম পার করলেও এবার মাত্র একটাই শিরোপা জিতেছেন। সেটিও তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ স্প্যানিশ কাপ। লিগের পর চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপাও জিতেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা। রিয়ালে দুই মৌসুম কাটিয়ে মাত্র একটি শিরোপা জেতা রোনালদো বলছেন, ‘নিজে বেশি গোল করার চেয়ে আমি চাই, দল বেশি শিরোপা জিতুক।’

ফেদেরারকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন নাদাল

ম্যাচ জয়ের পয়েন্টটা নিশ্চিত হলো। রাফায়েল নাদাল দুই হাঁটু মুড়ে বসে পড়লেন রোলাঁ গাঁরোর লাল কোর্টে। যুদ্ধজয়ী গ্ল্যাডিয়েটরের মতো বুকে চাপড় মেরে ঘোষণা করলেন বিজয়বার্তা। উঠে দাঁড়িয়ে শূন্যে হুংকার দিলেন, পরক্ষণেই আবার মাথাটা ঠুকলেন কোর্টে, যেন সেলাম করে নিলেন লাল মাটিকে।
লাল মাটিকে নাদাল সেলাম তো করবেনই। এই লাল কোর্ট ২৫ বছর বয়সী স্প্যানিয়ার্ডকে কাল দিয়েছে অনেক কিছু। রজার ফেদেরারকে ৭-৫, ৭-৬ (৭/৩), ৫-৭ ও ৬-১ সেটে হারিয়ে ষষ্ঠবারের মতো ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতেছেন নাদাল। ওপেন যুগে সবচেয়ে বেশি ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ের বিয়ন বোর্গের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেললেন তিনি। সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের তালিকায়ও ষষ্ঠ স্থান থেকে উঠে এসেছেন পঞ্চমে। এই তালিকায় দশম গ্র্যান্ড স্লাম জেতা নাদালের সঙ্গে পঞ্চমে আছেন বিল টিলডেন। ফ্রেঞ্চ ওপেনের শিরোপা নাদালকে বড় স্বস্তিটা দিয়েছে আরেক দিক দিয়ে—কিছুদিন ধরেই হুমকির মুখে পড়া নাদালের এক নম্বর র্যাঙ্কিংটা তাঁরই থাকছে।
এর আগে ২০০৫ থেকে ২০০৮ ও ২০১০ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ী শীর্ষ বাছাই নাদাল প্যারিসে নিজের জয়ের সংখ্যাটা নিয়ে গেছেন ৪৫-এ। এর বিপরীতে হার মাত্র একটি। এত কিছু পাওয়ার ম্যাচটি নাদাল খেলেছেন একজন গ্ল্যাডিয়েটরের মতোই। ২০০৮ সালে ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে একপেশে ফাইনালে ফেদেরারকে উড়িয়ে দেওয়া নাদালকে এবার লড়াই করতে হয়েছে।
প্রথম সেটটা জিতেছেন ৭-৫-এ। কিন্তু এই সেটটিতে তাঁকে ফিরে আসতে হয়েছে ২-৫-এ পিছিয়ে পড়া থেকে। সেই ঘুরে দাঁড়ানোর পর ফেদেরারকে আর সুযোগই দিতে চাননি নাদাল। এর পরও অবশ্য সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ী ফেদেরার ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন তৃতীয় সেটে। ৭-৫-এ জিতেওছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্লে-কোর্টে অদম্য নাদালের সঙ্গে পেরে ওঠেননি।
২০১০-এর অস্ট্রেলিয়া ওপেনের পর এই প্রথম গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে খেলা ফেদেরারও স্বীকার করে নিয়েছেন নাদালের শ্রেষ্ঠত্ব, ‘ক্লে-কোর্টের সেরা খেলোয়াড় সে। রাফা অসাধারণ খেলেছে। আমাকে সে আবার হারিয়েছে। খারাপ লাগছে, তবে তার সঙ্গে খেলতে পেরে আমার ভালোও লাগছে।’ শিরোপা হাতে নিয়ে নাদাল এই টুর্নামেন্টটিকে স্বীকৃতি দিয়েছেন তাঁর অন্যতম স্মরণীয় বলে, ‘এই টুর্নামেন্টটি আমার জন্য সত্যিই বিশেষ। আমার বড় স্বপ্নগুলোর একটি পূরণ হয়েছে।’

ক্যাপেলোর দুঃখ

ফ্যাবিও ক্যাপেলো এখনো কীভাবে ইংল্যান্ডের কোচ হয়ে নিজের চাকরিটা করে যাচ্ছেন, তা বুঝতে পারছেন না ইংলিশ গণমাধ্যম কর্মীরা। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ইউরো বাছাইপর্বের ম্যাচটি ইংল্যান্ড ২-২ গোলে ড্র করার পর সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেই বললেন, ‘মি. ফ্যাবিও আপনি এখনো কীভাবে ইংল্যান্ডের কোচ হয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন? বিশ্বকাপের ভয়াবহ পারফরম্যান্সেরও পরেও ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কীভাবে আপনার চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করল?’ সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন শুনে হকচকিয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। নিজের অভিব্যক্তি যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রেখেই ক্যাপেলো উত্তর দিলেন, ‘এটা কর্তৃপক্ষের ব্যাপার। তবে আমি ইংল্যান্ডের জন্য নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
ইংলিশ সাংবাদিকদের কাছে মনে প্রশ্ন, বছরে ৬০ লাখ পাউন্ডের যে চাকরিটা তিনি করেন, তাতে এই ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’র ব্যাপারটি কি নৈর্ব্যক্তিক শোনায় না?
ইউরো ২০১২ বাছাইপর্বে দল নিয়েও নানা ধরনের সমস্যায় রয়েছেন ক্যাপেলো। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে উপেক্ষিত হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর কথা বলে দিয়েছেন ইংল্যান্ডের হয়ে ৪২ ম্যাচ খেলে ২২ গোল করা পিটার ক্রাউচ। ক্যাপেলোর সঙ্গে সমস্যার কারণেই ক্রাউচের এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন অনেকেই।
তবে এসব সমস্যা ক্যাপেলোর নিজের তৈরি বলে মনে করেন না অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্দ। তাঁর মতে, ‘হতে পারে এগুলো ভুল বোঝাবুঝি। অবশ্যই তাঁর মধ্যে ভাষাগত যোগাযোগের কিছু সমস্যা রয়েছে।’
নিজের ভাবাবেগের কারণেই ক্রাউচ আন্তর্জাতিক ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ‘এফএ’র ফুটবল পরিচালক স্যার টেওভর ব্রুকিং। তিনি বলেন, ‘সবাই নিজের কথা চিন্তা করে, দেশের কথা চিন্তা করার সময় কারও নেই। জাতীয় দলের সদস্য হওয়াটাই তো একজন খেলোয়াড়ের সবচেয়ে বড় গৌরবের জায়গা হতে পারে।’
তিনি দুঃখ করে বলেন, ‘আমি ক্যাপেলোর সমস্যাটা বুঝতে পারছি। তিনি এমন একটি প্রজন্মকে নিয়ে কাজ করছেন, যাদের কাছে ব্যক্তিগত ভাবাবেগই মুখ্য।’
তবে ক্যাপেলো ইংল্যান্ডের বাজে পারফরমেন্সের জন্য ভালো খেলোয়াড়ের অভাব নয় ভালো খেলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাণশক্তিকেই দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘একটি বড় মৌসুম শেষে খেলোয়াড়েরা ক্লান্ত থাকে। আমাদের সব সময়ই এই ব্যাপারটি ঘটছে। গত বিশ্বকাপেও এমনটিই হয়েছিল।’

`আমি সর্বকালের সেরা নই, তবে তাদের মতোই’

কালই ইতিহাস গড়া সম্পন্ন হয়েছে স্প্যানিশ টেনিস তারকা রাফায়েল নাদালের। ফরাসি ওপেনে সুইস তারকা রজার ফেদেরারকে হারিয়ে ষষ্ঠবারের মতো ফ্রেঞ্চ ওপেন শিরোপা নিজের করে নিয়েছেন তিনি। আর ষষ্ঠবারের এই শিরোপা তাঁকে কিংবদন্তি বিয়ন বোর্গের সঙ্গে একই কাতারে নিয়ে গেছে।
ছয়বার ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতে নাদাল এখন ক্লে কোর্টের রাজা। তিনি সর্বকালের সেরা টেনিস তারকা কিনা এই প্রশ্ন যখন উঠতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই তিনি পুরো আলোচনাতেই জল ঢেলে দিয়ে বলেছেন, ‘আমি বিয়ন বোর্গের সঙ্গে একই কাতারে আসতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। কিন্তু আমি সর্বকালের সেরা নই। আমি অনেক পরিশ্রম করে এই পর্যায়ে আসতে পেরেছি।’
ছয়টি ফ্রেঞ্চ ওপেন, দু’টি উইম্বলডন ও একটি করে অস্ট্রেলিয়ান ও ইউএস ওপেন শিরোপা জিতে রাফায়েল নাদাল এখনই দশটি গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার মালিক। তারপরেও রজার ফেদেরার নাদালের চেয়ে ছয়টি গ্র্যান্ড স্লামে এগিয়ে রয়েছেন। ফেদেরারের অধিকারে ১৬টি গ্র্যান্ড স্লাম।
‘আমি টেনিসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় নই। তবে রেকর্ড বলছে আমি সর্বকালের সেরাদের কাতারেই রয়েছি। এটাই আমার জন্য যথেষ্ট।’ নাদালের মন্তব্য।
নাদালের কোচ ও সম্পর্কে মামা টনি নাদাল ভাগ্নে রাফায়েল সম্পর্কে বলেছেন, ‘ফ্রেঞ্চ ওপেনে নাদাল যতগুলো শিরোপার লড়াইয়ে অংশ নিয়েছে, এবারেরটি ছিল সবচেয়ে কঠিন।’ ফাইনাল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘নাদাল প্রথম তিন রাউন্ড খুবই বাজে খেলেছে।’
তবে, তাঁর ভাগ্নে যে শেষ পর্যন্ত জিততে পেরেছে, সেটাতে প্রচণ্ড আনন্দিত টনি। তাঁর মতে, ‘ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতে সে প্রমাণ করেছে, এবছরটা খুব একটা খারাপ যাবেনা, এই শিরোপার উদ্দীপনা মনের মধ্যে নিয়ে উইম্বলডনে সে ভালো করবে আশা করি। ওখানে না জিতলেও সমস্যা নেই। ভাবব, ফ্রেঞ্চ ওপেনতো সে জিতেছেই।’
ইতিহাস গড়ে নাদাল কিন্তু সত্যিই উদ্দীপ্ত !