Wednesday, September 7, 2011

পাকিস্তানের ভরসা এখন চীন-সৌদি আরব?

জঙ্গিদের নিয়ে পাকিস্তান দ্বৈত খেলা খেলছে বলে যুক্তরাষ্ট্র যে দোষারোপ করে আসছে, তা বন্ধ করতে হবে। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি রয়টার্সের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
গিলানি চীনকে ‘সব সময়ের বন্ধু’ অভিহিত করে বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে লড়াইয়ে এই প্রতিবেশী দেশকে সর্বোচ্চ সহায়তা দেবে তারা। সম্পর্কের অবনতির জের ধরে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দিতে পারে—এই আশঙ্কায় এখন পাকিস্তান কেবল চীন নয়, সৌদি আরবের সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদারে তৎপর।
সাক্ষাৎকারে গিলানি বলেন, হাক্কানি নেটওয়ার্কের জঙ্গিদের দমনে পাকিস্তানের ভেতর যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সেনা অভিযান হবে তাঁর দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের বিদায়ী চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন বলেন, হাক্কানি নেটওয়ার্ক পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের ‘সত্যিকারের শাখা’।
এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের নেতিবাচক বার্তা আমাদের জনগণের শান্তি নষ্ট করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি এমন কোনো বার্তা পাঠানো হয়, যা আমাদের বন্ধুত্বের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়, তাহলে এ ব্যাপারে আমার জনগণকে মানানো খুব কঠিন। কাজেই বন্ধুত্বের স্বার্থে তাদের ইতিবাচক বার্তা পাঠাতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করে পাকিস্তানের সমালোচনায় এমন মুখর হলো কেন, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে গিলানি বলেন, এটি হচ্ছে আফগানযুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটনের হতাশার বহিঃপ্রকাশ। ২০১৪ সালে এ দেশ থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নিতে হবে। কাজেই তারা আরও বেশি সাফল্য আশা করছে সেখানে। কিন্তু বাস্তবে তা আসছে না।
মুলেনের মন্তব্যের পর মুখ খোলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার। শুরু হয় কূটনৈতিক পর্যায়ে পাল্টা আক্রমণ। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে চীনের ব্যাপক প্রশংসা শুরু করেন। এর মধ্যে ইসলামাবাদে আসেন চীনের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী মেং জিয়ানঝু।
পাকিস্তানের প্রতি চীনের ‘দ্বিধাহীন সমর্থনের’ জন্য চীনা মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক কায়ানি।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসান আসকারি রিজভি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রশমনের জন্য পাকিস্তান কূটনৈতিক প্রয়াস চালাচ্ছে। পাকিস্তান আশা করছে, এ সংকট মোকাবিলায় চীন তাঁদের সাহায্য করবে।
জঙ্গিদের ব্যাপারে পাকিস্তানের নীতিকে প্রভাবিত করতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্র খুব হতাশ। তাই চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াং জিচাইয়ের সঙ্গে বৈঠকের সময় হিলারি ক্লিনটন পাকিস্তান নিয়ে আলোচনার জন্য অনুরোধ করেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। যেখানে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হচ্ছে, সেখানে পাকিস্তানের শাসকদের মুখে চীনের প্রশংসা ঝরে পড়ছে।
প্রধানমন্ত্রী গিলানি বলেন, ‘পাকিস্তান তীব্র বিদ্যুৎ-সংকটে ভুগছে। এ জন্য সহিংস ঘটনা ঘটছে। বিরোধীরা পার্লামেন্ট গরম করে ফেলছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তিতে রাজি হচ্ছে না। এদিকে ঠিকই ভারতের সঙ্গে একই চুক্তি করছে। তাহলে আমি কীভাবে দেশের মানুষকে বোঝাব, ওরা আমাদের বন্ধু, ভারতের নয়। বিবেচনা বলে একটা কথা তো আছে।’
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ উপেক্ষা করে চীন ঠিকই বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দ্বিতীয় পারমাণবিক চুল্লি বসাচ্ছে পাকিস্তানে। গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণেও বন্ধু পাকিস্তানকে সব ধরনের সাহায্য করছে চীন।
গিলানি বলেন, পাকিস্তান ও চীন প্রকৃত বন্ধু। কাজেই চীনের শত্রু মানে পাকিস্তানের শত্রু। নিরাপত্তার বিষয়ে চীনকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন তাঁরা। এদিকে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি আরব সে দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ইসলামাবাদে পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমে বাড়তে থাকা উত্তেজনা নিয়ে পাকিস্তানের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তাঁরা।

ইংল্যান্ডে শিশুদের প্রতি যৌন অপরাধে দণ্ডাদেশ বাড়ছে

যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে শিশুদের প্রতি যৌন অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা ছয় বছরে শতকরা প্রায় ৬০ ভাগ বেড়েছে।
ব্রিটিশ বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালে শিশুদের প্রতি যৌন অপরাধের দায়ে এক হাজার ৩৬৩ ব্যক্তিকে সাজা দেওয়া হয়, আর ২০১০ সালে একই অপরাধে সাজা দেওয়া হয় মোট দুই হাজার ১৩৫ ব্যক্তিকে। শিশু অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো বলছে, দণ্ডদানের এ সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। এখনো এই অপরাধের ঘটনাই খুব বেশি প্রকাশ পেয়ে থাকে।
বলা হয়েছে, ঘটনা চিহ্নিত করার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সচেতনতা বৃদ্ধিই দণ্ডপ্রাপ্তের সংখ্যা বাড়ার কারণ।
শিশু নিপীড়ন প্রতিরোধ সংগঠন ন্যাশনাল সোসাইটি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলটি টু চিলড্রেনের (এনএসপিসিসি) কৌশল ও উন্নয়নবিষয়ক প্রধান লিসা হারকার বলেন, এ পরিসংখ্যান থেকে এটা বলা কঠিন যে শিশুদের প্রতি যৌন অপরাধ বাড়ছে কি না। হতে পারে, এখন শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক লোকজন এসব অপরাধের ব্যাপারে বেশি সচেতন। অপরাধের ঘটনা তারা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিচ্ছে। লিসা হারকার বলেন, এর পরও বলতে হয়, সমস্যাটির এত বিশাল মাত্রার তুলনায় শাস্তি পাওয়া ব্যক্তির সংখ্যা কম।
এনএসপিসিসির কর্মকর্তা আরও জানান, পুলিশ গত বছর ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে এ ধরনের ২৩ হাজার অপরাধের ঘটনা রেকর্ড করে। এনএসপিসিসি গবেষণা করে দেখেছে, মাধ্যমিক স্কুলের প্রতি ২০টি শিশুর মধ্যে একটি যৌন অপরাধের শিকার হয়।
এনএসপিসিসির মতো আরেকটি সংগঠন লুসি ফেইথফুল ফাউন্ডেশনের ডোনাল্ড ফাইন্ডল্যাটার বলেন, অপরাধের অভিযোগ করা শিশুর সংখ্যা একই থাকলেও দণ্ডাদেশের সংখ্যা বাড়ার একটি কারণ হতে পারে যে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার বাড়ছে। তিনি বলেন, এর অর্থ যদি এই হয় যে, অপরাধের শিকার শিশুরা আগের তুলনায় সাহসের সঙ্গে এই ঘটনার কথা প্রকাশ করতে পারছে, তাহলে তা উৎসাহব্যঞ্জক। তবে এখনো যৌন অপরাধের শিকার হওয়া অধিকাংশ শিশুই বিষয়টি গোপন করে।
ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের একজন মুখপাত্র বলেন, সংশ্লিষ্ট সব কটি সংস্থা তদন্ত ও বিচার-প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে অপরাধীদের সাজা দেওয়ার সংখ্যা বাড়ছে।

আবার দরপতনের ধারায় শেয়ারবাজার

দেশের পুঁজিবাজারে আবার দরপতনের ধারা। ঈদের ছুটির আগের দুই দিন শেয়ারবাজারে দর বেড়েছিল। কিন্তু টানা নয় দিন ঈদের ছুটির পর রোববার দরপতন দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। গতকাল সোমবারও বাজারে এ ধারা অব্যাহত ছিল।
দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই গতকাল অধিকাংশ শেয়ারের দাম কমেছে। তবে ডিএসইতে লেনদেন সামান্য বাড়লেও সিএসইতে কমেছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, ঈদের ছুটির পর গত রোববার পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম।
গতকালও বাজারে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি খুব বেশি লক্ষ করা যায়নি। ফলে বাজারে লেনদেন তেমন বেশি হয়নি।
অন্যদিকে বিনিয়োগকারীরা জানান, ঈদের পর শেয়ারবাজার ভালো হবে বলে তাঁদের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাজারে লেনদেন করলেও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা একেবারেই নিষ্ক্রিয় রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় না হলে বাজার ভালো হবে না।
তা ছাড়া বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ভাব দেখা দিলে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো মার্জিন ঋণের অনুপাত বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু বাজার কমে যাওয়ায় অধিকাংশ মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস ঋণসুবিধা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে বিনিয়োগকারীদের।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। পাঁচ মিনিটের মাথায় সূচক পাঁচ পয়েন্টের মতো বাড়লেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। আধা ঘণ্টা পর সূচক ২১ পয়েন্ট কমে যায়। পরে দুপুর ১২টার দিকে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়।
তবে সূচক কমার মধ্য দিয়ে গতকালের লেনদেন শেষ হয়। এদিন সাধারণ মূল্যসূচক ৫১ দশমিক ২৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৬ হাজার ১৪১ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৫৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ৩৪টির, কমেছে ২০৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। এই স্টক এক্সচেঞ্জে গতকাল ৩৭২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৬৭ কোটি টাকা বেশি।
ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে তিতাস গ্যাস, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, স্কয়ার ফার্মা, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, বেক্সিমকো, সিটি ব্যাংক, মালেক স্পিনিং, যমুনা অয়েল, গ্রামীণফোন ও ওয়ান ব্যাংক।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১৭৭ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৪০৮ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট।
সিএসইতে এদিন মোট ১৭৭টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬টির, কমেছে ১৫৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। এই স্টক এক্সচেঞ্জে গতকাল ৩৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে এক কোটি টাকা কম।

মেসিদের স্বাগত জানাল বিশ্বকাপ ক্রিকেট!

বিশ্বকাপ ক্রিকেট কি তাহলে এখনো শেষ হয়নি! নাকি আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচটাই গেল পিছিয়ে!
কাল সকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি গেটে গিয়ে ধাক্কাই খেতে হলো। আর্জেন্টিনা আর নাইজেরিয়া দল আজই (গতকাল) আসছে তো? ভিআইপি গেটের ওপর এখনো লাগানো ২০১১ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের বিশাল বিলবোর্ড। মেসিদের ঢাকায় আসার দিনও ফুটবলের মোড়কে সেটা ঢাকা গেল না? ঐতিহাসিক এই ম্যাচ কোথায় পুরো ঢাকাতেই ফুটবলের আমেজ ছড়াবে তা নয়, বিমানবন্দরেই কোনো চিহ্ন নেই! না একটা পতাকা, না মেসি বা আর কারও প্রতিকৃতি, পোস্টার বা অন্যকিছু। তা-ও ভালো, উৎ সাহী আর্জেন্টিনা-ভক্তরা কিছু আকাশি-সাদা পতাকা ওড়ালেন। মেসি-মেসি বলে চেঁচালেন। হাত নাড়লেন। তাঁদের সৌজন্যেই ঢাকায় পা দিয়ে মেসি-হিগুইনরা জানলেন, এ দেশের মানুষ তাঁদের চেনে। আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক আছে বাংলাদেশেও।
সৌজন্য দেখিয়ে দুপুরের সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টাইন কোচ বাংলাদেশের আতিথেয়তার প্রশংসা করলেও আজকের প্রীতি ম্যাচ নিয়ে নিরুত্তাপ আর বর্ণহীন ঢাকা বোধহয় বিস্মিতই করেছে আর্জেন্টিনার সাংবাদিকদের। তাঁরা যে ঢাকায় এসেছেন কলকাতা হয়ে! ‘কলকাতার মানুষ তো পাগল হয়ে গিয়েছিল। এয়ারপোর্টে ছিল হাজার হাজার মানুষ। হোটেলের সামনে ভিড় লেগেই ছিল। মেসি-মেসি বলে চিৎ কার, মোটরসাইকেল মিছিল—কি হয়নি!’—রূপসী বাংলা হোটেলে দাঁড়িয়ে বলছিলেন এক আর্জেন্টাইন সাংবাদিক।
আর্জেন্টিনা আসছে। সকাল সকালই তাই বিমানবন্দরে সাংবাদিক-সমর্থকদের ভিড় জমে গেল। কিন্তু কখন আসছে আর্জেন্টিনা, সেটা রহস্য হয়ে থাকল বেলা ১১টা ৫ মিনিটে মেসিদের উড়িয়ে আনা বিমানটি রানওয়েতে নামা পর্যন্ত। সকাল থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ বলছেন, আর্জেন্টিনা আসবে ১০টায়। কেউ বলছেন সাড়ে ১০টায়। এলোমেলো খবর উড়ল নাইজেরিয়া দলের আসার সময় নিয়েও। শেষ পর্যন্ত তারা এল বেলা ৩টা ১০ মিনিটে। তবে স্বপ্নের আর্জেন্টিনা দলের জন্য এমন অপেক্ষায় ক্লান্তি আসেনি কারও। ভিআইপি গেটের দিকে যাওয়া রাস্তার পাশে দাঁড়ানো সমর্থকদের মধ্যে তখন কত না কল্পনা! পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় সবার মুখে শোনা গেল একটা নামই—মেসি! বয়সে তরুণ এক ভক্ত কল্পনা করতে চাইলেন মেসির আসার সময়টা কেমন হবে, ‘মেসি যেসুমকালা আইবো...।’ একটু দূরে আরেকজনকে দেখা গেল দাঁড়ানোর জায়গাটা নিয়ে চিন্তিত, ‘এখান থেকে দেখা যাবে তো মেসিকে!’ ঢাকায় নেমে আর্জেন্টিনা দল কঠোর নিরাপত্তার আড়ালে ঢেকে গেলেও বিফলে যায়নি ভক্তদের অপেক্ষা। মেসিকে স্বচক্ষে দেখার স্বপ্নসাধ কালই পূরণ হয়ে গেল অনেকের।
যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিমানবন্দর থেকে রূপসী বাংলা হোটেলে আসার পুরো রাস্তাটাই যানশূন্য করে দেওয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের প্রচারশূন্যও হয়ে থাকল পথটা। কোথাও কোথাও ছিটে-ফোঁটা কিছু ব্যানার-পোস্টার দেখা গেলেও সেসব মেসিদের দৃষ্টি কেড়েছে বলে মনে হয় না। তার চেয়ে বরং আরেকবার প্রমাণিত হলো, বাংলাদেশের আসল শক্তি এ দেশের মানুষ। নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে থেকেই রাস্তার দুই ধার থেকে আর্জেন্টিনা দলকে হাত নেড়ে স্বাগত জানিয়েছে তারা। হয়েছে ‘মেসি মেসি’ খণ্ড মিছিল। মেসি বসেছিলেন বাসের পেছনের দিকের একটি আসনে। পর্দা সরিয়ে কাচের জানালার ভেতর থেকেই হাত নেড়ে, হেসে ভক্ত-সমর্থকদের অভিনন্দনের জবাব দিচ্ছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসিকে এত কাছ থেকে দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেনি অনেকেই। হোটেলের সামনে আসার পর তো তরুণদের একটা দল দৌড়ে বাসের পিছুই নিতে চাইল!
আসলে এত বড় আসর আয়োজনের অভিজ্ঞতা নেই বাফুফের। ত্রুটি-বিচ্যুতি তাই থাকতেই পারে। সবচেয়ে বড় কথা তো এটাই—স্বপ্নের আর্জেন্টিনা দল এখন ঢাকায়! বাংলাদেশে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন লিওনেল মেসি!

ব্যয়সংকোচন নীতির প্রতিবাদে ইতালিতে সাধারণ ধর্মঘট

সরকারের গৃহীত কৃচ্ছ্রসাধন নীতির বিরুদ্ধে ইতালির ট্রেড ইউনিয়নের লাখ লাখ সদস্য গতকাল মঙ্গলবার দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট পালন করেছেন। এতে বিমান, রেল, বাস চলাচল এবং সরকারি অফিসের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। অচল হয়ে পড়ে দেশ। দেশটির সবচেয়ে বড় শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন সিজিআইএল এ ধর্মঘটের ডাক দেয়।
প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনির ডানপন্থী জোট সরকার সম্প্রতি সাড়ে চার হাজার কোটি ইউরোর একটি ব্যয়সংকোচন প্যাকেজ হাতে নেয় এবং এ নীতি বাস্তবায়নে জরুরি পদক্ষেপ নেয়। সরকারের এ ব্যয়সংকোচন নীতি চলতি সপ্তাহেই পার্লামেন্টে পাস হওয়ার কথা।
রোমে এ সংকোচননীতির প্রতিবাদে গতকাল আয়োজিত শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী সিজিআইএল ইউনিয়নের নেতা সুসানা কামুসো জানান, এটি এমন একটি প্রকল্প (ব্যয়সংকোচন প্যাকেজ) যা ইতালির জনগণ কোনো দিন মেনে নেবে না। সংগঠনটি শ্রমিক ছাঁটাই না করে কর আদায়ে আরও কঠোর হওয়ার দাবি জানিয়েছে সরকারের প্রতি।
এদিকে কিছুটা ছোট ও মধ্যপন্থী ট্রেড ইউনিয়নগুলো এ ধর্মঘট প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলছে, যেসব দাবিতে ধর্মঘট তাতে নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট কোনো অবস্থান নেওয়া হয়নি।

মুগাবে ক্যানসারে আক্রান্ত

জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে (৮৭) অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত এবং ২০১৩ সালের পর তিনি না-ও বাঁচতে পারেন।
উইকিলিকস প্রকাশিত নতুন নথিতে দাবি করা হয়েছে, মুগাবের অগ্ন্যাশয়ে ক্যানসার ধরা পড়েছে এবং ২০০৮ সালে চিকিৎ সকেরা সতর্ক করে বলেছেন, তিনি আর মাত্র পাঁচ বছর বাঁচবেন।
ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুগাবের এই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি ২০০৮ সালে এক গোপন বৈঠকের সময় জিম্বাবুয়ের রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর গিডিওন গনো হারারেতে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস ম্যাকগিকে জানিয়েছিলেন।
ওয়াশিংটনে পাঠানো তারবার্তায় ম্যাকগি লিখেছেন, ‘গনোর দেওয়া তথ্য অনুসারে মুগাবের চিকিৎ সক তাঁকে কর্মতৎ পরতা কমিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং মুগাবে তাঁর চিকিৎ সককে বলেছেন, নির্বাচনের পর তিনি দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেবেন।

ইরাকে এখনো কাজ করছে ব্ল্যাকওয়াটারের সদস্যরা

উইকিলিকসের ফাঁস করা একটি মার্কিন তারবার্তায় বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ হওয়ার পরও মার্কিন নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকওয়াটারের সাবেক সদস্যরা ইরাকে মার্কিন কূটনীতিকদের নিরাপত্তায় অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে। ২০০৭ সালে ১৪ জন বেসামরিক লোককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ব্ল্যাকওয়াটারের সদস্যদের ইরাকে নিষিদ্ধ করা হয়।
২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ইরাক ঘোষণা দেয়, ব্ল্যাকওয়াটারের সদস্যদের নিরাপত্তা-কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে না। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের নাসির স্কয়ারে একজন মার্কিন কূটনীতিকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ব্ল্যাকওয়াটারের সদস্যরা এক ঘটনায় গুলি ছুড়লে ১৪ জন নিহত হয়।
ইরাকের ওই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ব্ল্যাকওয়াটারের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ নবায়ন করেনি। তবে উইকিলিকসের ফাঁস করা মার্কিন তারবার্তা নিশ্চিত করেছে, ব্ল্যাকওয়াটারের সাবেক সদস্যরা ইরাকের বিভিন্ন নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছে।
গত বছর ৪ জানুয়ারি বাগদাদে নিয়োজিত মার্কিন দূতাবাস থেকে ওয়াশিংটনে ওই তারবার্তা পাঠানো হয়। এই তারবার্তাটি গত ৩০ আগস্ট প্রকাশ করা হয়।

চীনকে বিশ্বাস করে না উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতির সবচেয়ে বড় অবলম্বন চীন। দীর্ঘদিন ধরেই দেশটি উত্তর কোরিয়াকে সমর্থন দিয়ে আসছে। অথচ সেই চীনকেই বিশ্বাস করে না উত্তর কোরিয়া।
উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং ইল ২০০৯ সালে সফররত দক্ষিণ কোরীয় এক নারী ব্যবসায়ীর সঙ্গে বৈঠকে চীনের প্রতি তাঁর সন্দেহের বিষয়টি প্রকাশ করেন। উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া মার্কিন গোপন তারবার্তায় এ তথ্য জানা গেছে।
২০০৯ সালের ২৮ আগস্টের ওই তারবার্তায় সিউলে অনুষ্ঠিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং হুন্দাই গ্রুপের চেয়ারম্যান হাইয়ুন জাং-ইউনের মধ্যে বৈঠকের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়। তবে কিম কী কারণে চীনকে বিশ্বাস করেন না, তার বিশদ বিবরণ নেই ওই তারবার্তায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে কিম বলেন, আরিরাং ফেস্টিভ্যালে আমেরিকান স্বাদ আনতে তিনি অনুষ্ঠানের কিছু অংশে পরিবর্তন এনেছেন। আরিরাং ফেস্টিভ্যাল হচ্ছে দেশটির কমিউনিস্ট শাসকদের প্রশংসায় আয়োজিত বিশেষ ধরনের অনুষ্ঠান, যেখানে হাজারো লোকের অংশগ্রহণে বিভিন্ন ধরনের খেলা ও শারীরিক কসরত প্রদর্শিত হয়।
এ ছাড়া মার্কিনরা পছন্দ করে না—এ বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ক্ষেপণাস্ত্র উৎ ক্ষেপণের বর্ণনাসংশ্লিষ্ট একটি স্কেচ বাতিল করেছিলেন বলেও কিম বৈঠকে হাইয়ুনকে জানান।
তবে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক সর্বকালের চেয়ে খারাপ বলে বর্ণনা করেন কিম। এমনকি তিনি পিয়ংইয়ংয়ের রাস্তায় জাপানি গাড়ির চলাচল বন্ধেরও নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে হাইয়ুনের উদ্ধৃতি দিয়ে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

হেডলিকে হস্তান্তরের দাবি লোক দেখানো: নারায়ণন

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল এবং ভারতের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এম কে নারায়ণন বলেছিলেন, ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলায় জড়িত ডেভিড কোলম্যান হেডলিকে হস্তান্তরের ভারতীয় দাবি নেহাত লোক দেখানো। ভারত সরকারের নাকি যুক্তরাষ্ট্রে আটক হেডলির ব্যাপারে কোনো মাথাব্যথা নেই। নারায়ণন ২০০৯ সালে ভারতে নিযুক্ত তৎ কালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত টিমোথি রোয়েমারকে এ কথা বলেছিলেন। উইকিলিকস গত রোববার তথ্যটি ফাঁস করে।
নারায়ণন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে ছিলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। ওই সময় ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে তৎ কালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত টিমোথির সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয় তাঁর। সেই কথার ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রদূত ওই বছরের ১৭ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনের মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে একটি তারবার্তা পাঠান।
ওই বার্তায় বলা হয়, ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বরের মুম্বাই হামলায় জড়িত এবং যুক্তরাষ্ট্রে আটক হেডলিকে হস্তান্তরের ভারতীয় দাবি ছিল নেহাত লোক দেখানো।
বার্তায় টিমোথি বলেন, তিনি হেডলিকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি না করার অঙ্গীকার আদায়ে নারায়ণনের সঙ্গে কথা বলেন।
ওই সময় নারায়ণন তাঁকে জানিয়েছিলেন, ২৬/১১ মামলায় অভিযুক্ত হেডলিকে ভারতে আনার ব্যাপারে সরকারকে প্রকাশ্যে আগ্রহ দেখাতেই হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার যদি তা না করে, তাহলে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে। এতে বেকায়দায় পড়বে সরকার। নারায়ণন আরও জানান, হেডলির প্রত্যর্পণ নিয়ে কেন্দ্র তেমন আগ্রহী নয়। তাই যুক্তরাষ্ট্র যেন অযথা এ ব্যাপারে চিন্তা না করে।
তবে নারায়ণন হেডলির প্রত্যর্পণ নিয়ে উইকিলিকসের ফাঁস করা তথ্য খারিজ করে দিয়েছেন। আর কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘নারায়ণন যদি এই ধরনের কোনো মন্তব্য করেও থাকেন, সেটা তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত মতামত।’
উইকিলিকসের পাস করা আরেকটি বার্তায় বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ২০০৯ সালে তৎ কালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত টিমোথি রোয়েমারের সঙ্গে এক বৈঠকে বলেছিলেন, পুরোনো চিন্তাভাবনা বাদ না দিলে ভারতে কমিউনিস্টদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

স্যান্ডেল আনতে বিমান পাঠান মায়াবতী

একজোড়া স্যান্ডেল আনতে ব্যক্তিগত বিমান পাঠিয়েছিলেন ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী। ফাঁস হয়ে যাওয়া মার্কিন তারবার্তা থেকে এই তথ্য জানা যায়।
মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তায় বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) প্রধান মায়াবতীকে (৫৫) প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ভাবনায় আচ্ছন্ন ‘প্রথম শ্রেণীর অহংসর্বস্ব’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ভারতে মার্কিন দূতাবাসের পাঠানো তারবার্তা সম্প্রতি উইকিলিকসে প্রকাশ করা হয়।
তারবার্তায় বলা হয়, দলের সদস্য, সরকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ ডলারের উপহার নেওয়ার মাধ্যমে প্রতিবছর জন্মদিন পালন করেন দলিত সম্প্রদায়ের মায়াবতী। জন্মদিন পালনের সময় তাঁকে কেক খাওয়ানোর জন্য প্রতিযোগিতা শুরু হয় কর্মকর্তাদের মধ্যে।
২০০৮ সালের ২৩ অক্টোবরের এক তারবার্তায় বলা হয়, যখন মায়াবতীর নতুন স্যান্ডেলের দরকার হয়, তখন তাঁর পছন্দের ব্র্যান্ডের স্যান্ডেল আনতে মায়াবতীর ব্যক্তিগত বিমান মুম্বাইয়ে উড়ে যায়।
তারবার্তায় বলা হয়, মায়াবতী নিজের বাড়ি থেকে অফিস পর্যন্ত একটি ব্যক্তিগত সড়ক নির্মাণ করেছেন।
২০০৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে তাঁর দল বিএসপি প্রত্যাশার চেয়ে খারাপ ফল করে। ৫৪৩ আসনের পার্লামেন্টে তাঁর দল মাত্র ২১টি আসনে জয়লাভ করে। কিন্তু দেশের উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র, নিম্নবর্ণের মানুষের মধ্যে তাঁর জোরালো সমর্থন রয়েছে।
তারবার্তায় তথ্য সম্পর্কে তাৎ ক্ষণিকভাবে মায়াবতীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সোনিয়াকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চেয়েছিল ডিএমকে

২০০৯ সালে ভারতের জাতীয় নির্বাচনের আগে মনমোহন সিংয়ের পরিবর্তে কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চেয়েছিল ইউপিএ জোটের শরিক ডিএমকে পার্টি।
ডিএমকের প্রধান এম করুণানিধির প্রধান কৌশল নির্ধারক শিবা প্রকাসমের বরাত দিয়ে ২০০৮ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে এক তারবার্তা পাঠান ভারতে মার্কিন কনসাল জেনারেল ডেনিস টি হপার। আর ওই তারবার্তা ফাঁস করেছে আলোচিত ওয়েবসাইট উইকিলিকস।
মার্কিন কূটনীতিক ডেনিস প্রকাসমের বরাত দিয়ে বলেন, তামিলনাড়ুতে সোনিয়া গান্ধীর প্রতি সমর্থন সবচেয়ে বেশি। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রাহুল গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এখনো প্রস্তুত নন। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা প্রণব মুখার্জি উত্তর ভারতে সমর্থন পেতে পারেন কিন্তু দক্ষিণ ভারতে তেমন সমর্থন পাবেন না।
মনমোহন সিং প্রসঙ্গে তারবার্তায় বলা হয়, তিনি একজন বাজে প্রার্থী। তিনি মূলত একজন আমলা এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে তাঁর ওপর জনতার ক্ষোভ থাকতে পারে।
তবে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে ডিএমকে হস্তক্ষেপ করবে না বলেও প্রকাসম মার্কিন কূটনীতিককে জানিয়ে দেন।

চালের বিনিময়ে মিয়ানমারের অস্ত্র আমদানি

মিয়ানমারের সামরিক শাসক চালসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া থেকে অস্ত্র আমদানি করত। উইকিলিকসে প্রকাশিত এক গোপন মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তায় এমনটি দাবি করা হয়েছে।
ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে ২০০৯ সালে পাঠানো ওই তারবার্তায় বলা হয়, সামরিক জান্তানিয়ন্ত্রিত কোম্পানি মিয়ানমার ইকোনমিক হোল্ডিংস লিমিটেডের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ায় প্রায় ২০ হাজার টন চাল রপ্তানি করেছে মিয়ানমার।
তারবার্তায় নির্ভরযোগ্য এক ব্যবসায়িক সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, মিয়ানমার পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে কমিউনিস্ট দেশটিতে এই রপ্তানি কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এর বিনিময়ে দেশটি থেকে ক্ষেপণাস্ত্র আমদানি করছে ইয়াঙ্গুন। পাশাপাশি গত বছর উইকিলিকসে প্রকাশিত মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তা থেকে জানা গেছে, পিয়ংইয়ংয়ের সহায়তায় মিয়ানমার গোপনে পারমাণবিক কার্যক্রমও চালাচ্ছে।

বলিভিয়ায় ‘জাতীয় পথচারী দিবস’ পালিত

বড় বড় শহর। শহরের রাস্তায় শুধুই মানুষ আর মানুষ। সবাই পথ চলছে হেঁটে। সেখানে যানবাহনের কোনো ছিটেফোঁটারও দেখা নেই; নেই শব্দদূষণ, কালো ধোঁয়া। দেখে মনে হয়, রাস্তাগুলো শুধুই পথচারীদের জন্য তৈরি। পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে গত রোববার এভাবেই প্রথম ‘জাতীয় পথচারী দিবস’ (ন্যাশনাল ডে অব দ্য পেডেস্ট্রিয়ান) পালন করে বলিভিয়া।
দিবস পালন উপলক্ষে দেশটির বড় নয়টি শহরের রাস্তায় চলাচলকারী প্রায় ২০ লাখ যন্ত্রচালিত গাড়ি নিষিদ্ধ করা হয়।
সরকারি সূত্র জানায়, পরিবেশদূষণ সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

জ্যাক শিরাকের অনুপস্থিতিতেই দুর্নীতির বিচার শুরু

প্যারিসে মেয়রের দায়িত্ব পালনের সময় অবৈধ উপায়ে পার্টির তহবিল সংগ্রহের অভিযোগে গতকাল সোমবার ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাকের বিচারের শুনানি শুরু হয়েছে। তাঁর অনুপস্থিতিতেই প্যারিসের আদালতে শুনানি শুরু হয়।
এক চিকিৎ সা প্রতিবেদন অনুযায়ী শিরাক স্মৃতিভ্রষ্টতায় ভুগছেন। তাই তিনি আদালতে হাজির হতে পারছেন না। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন শিরাক। তাঁর পক্ষে আইনজীবীদের শুনানিতে অংশগ্রহণের অনুমতি চেয়ে আদালতকে অনুরোধ জানান তিনি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম ফ্রান্সের কোনো সাবেক প্রেসিডেন্ট বিচারের মুখোমুখি হলেন। শিরাক ১৯৭৭ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত প্যারিসের মেয়র ছিলেন। ১৯৯৫ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে শিরাক অবৈধ উপায়ে তহবিল সংগ্রহ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিরাকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে তাঁর। এ ছাড়া দেড় লাখ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
বিচারক দোমিনিক পাথের সামনে এখন দুটি পথ খোলা—বিচারকাজ স্থগিত করা কিংবা ওই চিকিৎ সা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শুনানি চালানো। শিরাকের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন চিকিৎ সককে দিয়ে প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দিতে পারেন আদালত।

কর্ণাটকের সাবেক মন্ত্রী জনার্দন রেড্ডি গ্রেপ্তার

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় কর্ণাটক রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী জি জনার্দন রেড্ডিকে গতকাল সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় ৩০ কেজি সোনা ও প্রায় দেড় কোটি রুপি উদ্ধার করা হয়। জনার্ধনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে কোটি কোটি রুপির খনিজ সম্পদ আহরণের অভিযোগ এবং তাঁর মালিকানাধীন ওববালাপুরম মাইনিং কোম্পানির (ওএমসি) বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা রয়েছে।
পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, গতকাল ভোরে হায়দরাবাদ থেকে আসা কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (সিবিআই) একটি দল জনাথন রেড্ডিকে তাঁর বেলারির বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের খোঁজে তাঁর বাড়ি ও দপ্তরে অভিযান চালান। রেড্ডির বিরুদ্ধে পাশের রাজ্য অন্ধ্র প্রদেশ থেকে অবৈধভাবে খনিজ সম্পদ আহরণের অভিযোগ রয়েছে।
সিবিআইয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা রেড্ডির বাড়ি থেকে প্রায় ৩০ কেজি সোনা ও ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় দেড় কোটি রুপি উদ্ধার করেন। এ ছাড়া গোয়েন্দা কর্মকর্তারা রেড্ডির বাড়ি থেকে প্রায় এক হাজার ৫০০ নথিপত্র ও লোহার আকরিকের নমুনা জব্দ করেন।
উল্লেখ্য, রেড্ডির আদিবাস অন্ধ্র প্রদেশের ছিত্তোর জেলায় হলেও পরে রেড্ডি ও তাঁর ভাইয়েরা কর্ণাটকের লোহার খনিসমৃদ্ধ বেলারি জেলায় স্থায়ী নিবাস গড়েন। আর মাত্র ১০ বছরের মধ্যেই ছোট ব্যবসায়ী থেকে তাঁরা কোটি কোটি রুপির সম্পদের মালিক বনে যান। অবৈধভাবে খনিজ সম্পদ আহরণ ও আকরিক লোহার ব্যবসার মাধ্যমে তাঁরা কোটি কোটি রুপির মালিক বনেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত জুলাইয়ের একজন ন্যায়পাল বলেন, ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত খনি থেকে অবৈধভাবে আকরিক লোহা আহরণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন রেড্ডি। ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত কর্ণাটকের অবকাঠামো উন্নয়নমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। খনিবিষয়ক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর গত জুলাইয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।

পাকিস্তানে বন্যায় ৮৮ জনের প্রাণহানি

পাকিস্তানের সিন্ধু ও পাঞ্জাব প্রদেশে বন্যায় কমপক্ষে ৮৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও অন্তত ৮০ লাখ মানুষ। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিএমএ) চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল কাদির এ কথা জানিয়েছেন।
এনডিএমএর চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে চীনা বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো লোকজন বিভিন্ন সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে। তাছাড়া বন্যাদুর্গত এলাকায় খাদ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করা হচ্ছে। ত্রাণ ও উদ্ধার তৎ পরতায় সেনা ও নৌবাহিনীর পাশাপাশি জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাও কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গত এলাকায় ম্যালেরিয়ার মতো পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে সরকার প্রচারণা চালাচ্ছে। তার পরও গত শনিবার পর্যন্ত পাঞ্জাব প্রদেশে দেড় হাজারের মতো মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে বলে প্রচার মাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আরও কয়েক দিন বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে বন্যাদুর্গত এলাকার পরিস্থিতি আরও নাজুক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাকিস্তানে এর আগে ২০১০ সালের বন্যায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় দুই কোটি মানুষ।

অনাগত সন্তানকে আড়ালে রাখতে চান কার্লা ব্রুনি

অনাগত সন্তানকে গণমাধ্যমের দৃষ্টি থেকে রক্ষায় যা যা করার প্রয়োজন, তার সবই করার প্রতিজ্ঞা করেছেন ফরাসি ফার্স্ট লেডি কার্লা ব্রুনি।
অনাগত সন্তান নিয়ে প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমে কথা বললেন ব্রুনি। নয় মিনিটের সাক্ষাৎ কার দেন ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল ‘টিএফ১’কে। গত সপ্তাহে এলিসি প্রাসাদে ধারণ করা ওই সাক্ষাৎ কারটি প্রচারিত হয় রোববার রাতে।
নতুন এই সন্তানটি হবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি ও সাবেক সুপার মডেল কার্লা ব্রুনি দম্পতির প্রথম সন্তান।
সাক্ষাৎ কারে কার্লা ব্রুনি বলেন, ‘এই সন্তানকে রক্ষায় আমি সবকিছু করব। কখনোই তার ছবি দেখাব না, কখনোই তাকে প্রদর্শন করব না।’
কার্লা ব্রুনি বলেন, একবার তিনি তাঁর ১১ বছরের ছেলের ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ করে বড় ধরনের ভুল করেছিলেন। আর এই ভুলটি হয়েছিল ২০০৮ সালে জর্ডানের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পেত্রা সফরের সময়। বিয়ের আগে ওই সময় প্রেসিডেন্ট সারকোজির সঙ্গে কার্লা ব্রুনির প্রেম চলছিল।
ব্রুনি বলেন, তিনি জানেন না তাঁর সন্তানটি ছেলে না মেয়ে হবে। আগামী মাসে নতুন সন্তানের জন্ম হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন সাবেক সুপার মডেল ও গায়িকা কার্লা ব্রুনি। তিনি বলেন, ‘আপনি একজন শিশুকে দর্শকমঞ্চে খেলতে পাঠাতে পারেন না। আমি গণমাধ্যমের আগ্রহ বুঝতে পারছি। আমাকে ও আমার স্বামীকে গণমাধ্যমের পীড়া দেওয়ার ব্যাপারে কোনো সমস্যা দেখছি না। কিন্তু যখন এটি শিশুদের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, তা গ্রহণ করা অসম্ভব।’

গাদ্দাফি বাহিনীর কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল চীনা প্রতিষ্ঠান

লিবিয়ার পলাতক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির অনুগত বাহিনীর কাছে ২০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
কানাডাভিত্তিক গ্লোব অ্যান্ড মেইল পত্রিকায় গত রোববার এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো গাদ্দাফি বাহিনীর কাছে অস্ত্র বিক্রির ওই প্রস্তাব দেয়। ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে গতকাল সোমবার নিউইয়র্কভিত্তিক নিউইয়র্ক টাইমস-এর খবরে বলা হয়, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও চীনের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গাদ্দাফি বাহিনীকে রকেট লঞ্চার, ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামরিক অস্ত্র বিক্রির যে প্রস্তাব দিয়েছিল, এ-সংক্রান্ত প্রচুর নথিপত্র ত্রিপোলিতে পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো আলজেরিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো তৃতীয় একটি দেশের মাধ্যমে লিবিয়াকে ওই অস্ত্রগুলো সরবরাহ করার প্রস্তাব দিয়েছিল। প্রসঙ্গত, চীনসহ ওই সব দেশ লিবিয়ায় জাতিসংঘের অনুমোদিত ন্যাটোর সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করেছিল। তবে এর আগে তারা লিবিয়ার ওপর জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেছিল।
গাদ্দাফি অনুগত বাহিনীর কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিলেও পরে এসব অস্ত্র লিবিয়ায় সরবরাহ করা হয়েছিল কি না, এ ব্যাপারে কোনো তথ্য উল্লেখ নেই নিউইয়র্ক টাইমস-এর ওই প্রতিবেদনে।
তবে লিবিয়ায় বিদ্রোহীদের মুখপাত্র আবদুল রহমান বাসিন নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘গাদ্দাফির অনুগত বাহিনীর কাছে চীনা কোম্পানিগুলোর অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাবসংক্রান্ত সব ধরনের নথি আমাদের হাতে রয়েছে।’
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন ও লিবিয়ার বিদ্রোহীদের মুখপাত্রের দাবি করা নথিপত্রের সত্যতা বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান চালানো সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া জাতিসংঘের কয়েকজন কর্মকর্তা প্রতিবেদনের সত্যতা সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করেছেন। কর্মকর্তারা বলেছেন, তাঁরা এ বিষয়ে নিশ্চিত নন।
ব্রাসেলসে নিযুক্ত ন্যাটোর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রতিবেদন সম্পর্কে বলেন, এ রকমটি হতে পারে না। লিবিয়ার ওপর জাতিসংঘের আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা তদারকি দলের এক সদস্য বলেছেন, গাদ্দাফির সঙ্গে চীনের অস্ত্র বিক্রি কিংবা সরবরাহবিষয়ক প্রস্তাবের কোনো কিছু তাঁদের নজরে আসেনি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারাও এ ধরনের কোনো প্রস্তাবের কথা জানে না।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চীনা সরকারকে না জানিয়েই গাদ্দাফি সরকারের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা গত মধ্য জুলাইয়ে চীন সফর করেছিলেন। তাঁরা সে সময় চীনের অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন। কিন্তু চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো ধরনের ‘সামরিক পণ্য’ লিবিয়ায় সরবরাহ করেনি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিয়াং য়ু গতকাল বেইজিংয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো লিবিয়ায় অস্ত্র বিক্রির কোনো চুক্তি করেনি। প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ উপায়ে লিবিয়ায় কোনো অস্ত্র সরবরাহ করেনি।
গাদ্দাফি বাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহের এই প্রস্তাব সত্য হলে তা হবে লিবিয়ার ওপর জাতিসংঘের আরোপ করা অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।