Monday, May 5, 2025
নিখোঁজ জীবনের গল্প: ৬৩ বছর পর সন্ধান মিলল এক নারীর
৬৩ বছর। এই দীর্ঘ সময়ের মাঝে কত প্রজন্ম এলো, গেলো। কত প্রযুক্তি বদলালো। কত যুদ্ধ আর শান্তি, কিন্তু অড্রে ব্যাকবার্গের নামটা ঝুলে ছিল নিখোঁজ মানুষদের তালিকায়। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন রাজ্যের পুলিশ জানালো তিনি জীবিত এবং সুস্থ আছেন।
উইসকনসিনের এক উলের কারখানায় কাজ করতেন অড্রে। নিখোঁজ হওয়ার দিন তিনি গিয়েছিলেন নিজের বেতন তুলতে। বাড়ির সবাই ভেবেছিল, সন্ধ্যার মধ্যেই ফিরবে। কিন্তু আর ফিরলেন না। পেছনে ফেলে গেলেন দুটি ছোট সন্তান ও তার দাম্পত্য জীবন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল তার, সেই সংসার বোধহয় তার জন্য সুখের হয়নি। তার স্বামী তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার কিছুদিন আগেই স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করেছিলেন একটি ফৌজদারি মামলা। সেখানে তিনি জানান, স্বামী তাকে মারধরও করতেন।
সেদিন তার শিশুদের দেখভাল করছিলেন এক পরিচারিকা। পুলিশকে তিনি জানান, ব্যাকবার্গকে তিনি হেঁটে যেতে দেখেন উইসকনসিনের রাজধানী ম্যাডিসনের দিকে। সেখান থেকে তিনি উঠেছিলেন একটি বাসে, যার গন্তব্য ছিল প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরের ইন্ডিয়ানা। পরিচারিকা আতঙ্কিত হয়ে চেষ্টা করেন ব্যাকবার্গকে ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু অড্রে ছিলেন দৃঢ়, তাই তাকে ফেরানো যায়নি।
এরপর এক এক করে কেটে গেছে ছয়টি দশক। পুলিশের অগণিত চেষ্টা, ফাইল ঘাঁটাঘাঁটি, সাক্ষাৎকার- সবই যেন ব্যর্থ হয়ে গিয়েছিল। ব্যাকবার্গের কোনো হদিশ মিলছিল না। একটি জীবনের যবনিকা নেমে গিয়েছিল নীরবতায়।
এ বছরের শুরুতে নতুন করে প্রাণ পেল সেই পুরনো কেস। প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া ফাইলগুলো আবার খুলে দেখেন উইসকনসিনের এক গোয়েন্দা, আইজ্যাক হ্যানসন। তার অনুসন্ধান এক সময় খুঁজে পায় অড্রের বোনের একটি অনলাইন অ্যাকাউন্টে। সেখান থেকেই মিলল বহুদিনের অজানা সূত্র।
অবশেষে, জীবনের এই বিশাল পাণ্ডুলিপির পাতায় আবার লেখা হলো নতুন একটি অধ্যায়। অড্রে ব্যাকবার্গের সন্ধান মিলল। ৮২ বছর বয়সে তিনি আছেন উইসকনসিনের বাইরে কোথাও। পুলিশের ভাষ্যমতে, তিনি নিজেই চেয়েছিলেন নিখোঁজ হতে, তবে তার এই দীর্ঘ অদৃশ্য জীবনে কোনো অপরাধ বা দুর্নীতির ছায়া নেই।
গোয়েন্দা আইজ্যাক হ্যানসনের কথায়, অড্রে এখনো আত্মবিশ্বাসী, প্রাণবন্ত। এই সবকিছুর ভেতর থেকেও তিনি তার মতো করে জীবন কাটিয়েছেন। ৬৩ বছর পর, হয়তো একমাত্র ব্যাকবার্গই জানেন, কীভাবে হারিয়ে বেঁচেছেন তিনি।
সূত্র: বিবিসি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরান কেন আমেরিকাকে বিশ্বাস করে না: ইতিহাস, অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতা
আধুনিক ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা রয়েছে, যেগুলো ইরানিদের মনে আমেরিকার প্রতি এক গভীর অবিশ্বাস ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। এই নিবন্ধে আমরা সেই ঘটনাগুলো, তাদের প্রেক্ষাপট, ইরানি জনগণের অভিজ্ঞতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাকে বিশ্লেষণ করব:
১. ১৯৫৩ সালের অভ্যুত্থান: গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে আমেরিকার প্রথম খোঁচা
ইরানে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক ১৯৫১ সালে Anglo-Iranian Oil Company জাতীয়করণ করেন। এতে ব্রিটিশ ও মার্কিন স্বার্থে আঘাত লাগে। এর পরিণতিতে সিআইএ ও ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা MI6 যৌথভাবে " Operation Ajax" নামের এক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১৯৫৩ সালে মোসাদ্দেক সরকারকে পতন করিয়ে শাহ রেজা পাহলভিকে ক্ষমতায় বসায়।
এই ঘটনার মাধ্যমে ইরানিদের মনে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সম্পর্কে এক তীব্র অনাস্থা জন্ম নেয়। ইরানিসমাজ বুঝে যায় যে, আমেরিকা কেবল গণতন্ত্রের মুখোশ পরে আছে, আসলে তাদের আসল উদ্দেশ্য ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা। ইরানের সম্পদ ও রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করা। হাজার বছরের পুরাতন সভ্যতা ও শিক্ষার দেশ ইরানকে সদ্য জন্ম নেয়া বহুজাতিক আমেরিকা পরিচালনা করবে! এটা ইরানিদের আত্মমর্যাদা, আভিজাত্য আর ইতিহাসের নির্মাণের সাথে কেবলই সাংঘর্ষিক।
২. শাহের স্বৈরতন্ত্র ও সাভাক-এর দমন-পীড়ন: মার্কিন সমর্থন
মোসাদ্দেক পতনের পর আমেরিকার সমর্থনে শাহ ইরানে একনায়কতন্ত্র কায়েম করেন। তার শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত হয় সাভাক (SAVAK) নামের ভয়ঙ্কর গোয়েন্দা সংস্থা। মার্কিন প্রশিক্ষণে গড়ে ওঠা এই বাহিনী অসংখ্য রাজনৈতিক কর্মী, বুদ্ধিজীবী ও ছাত্রদের গুম, আটক ও হত্যায় অংশ নেয়।
শাহের পশ্চিমঘেঁষা নীতিতে ইসলামি ঐতিহ্য, পোশাক ও সমাজব্যবস্থা আক্রান্ত হয়। ইরানিরা এই শাসনকে কেবল অভ্যন্তরীণ নয়, বরং মার্কিন আধিপত্যের এক ছায়া সরকার হিসেবে দেখেছিল।
৩. ইসলামি বিপ্লব (১৯৭৯): আত্মপরিচয়ের বিপ্লব
১৯৭৯ সালের বিপ্লব কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়; এটি ছিল একটি জাতির আত্মপরিচয় পুনরুদ্ধারের আন্দোলন। শাহ পালিয়ে গেলে ইরানি জনতা আমেরিকার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে, কারণ তারা মনে করত আমেরিকা তাদের স্বৈরশাসককে রক্ষা করেছিল।
তেহরানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দখল ও ৫২ জন কূটনীতিককে বন্দি রাখা হয় ৪৪৪ দিন। এই ঘটনা ইরান-আমেরিকার সম্পর্ককে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ইরান এই দূতাবাসকে "স্পাই হাউজ" হিসেবে ঘোষণা করে।
৪. ইরান-ইরাক যুদ্ধ ও আমেরিকার পক্ষপাত
১৯৮০ সালে ইরাকের সাদ্দাম হোসেন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এই যুদ্ধে আমেরিকা সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ইরাককে সমর্থন করে। অস্ত্র, গোয়েন্দা তথ্য, এমনকি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারে চুপ থাকার অভিযোগ ওঠে।
যুদ্ধে প্রায় তিন লাখের বেশি ইরানি শহীদ হন। তারা স্পষ্টভাবে দেখে যুদ্ধ ইরানের মাটিতে, কিন্তু পশ্চিমা বিশ্ব সাদ্দামের পাশে দাঁড়িয়েছে। ফলে আমেরিকার প্রতি ঘৃণা আরও গাঢ় হয়।
৫. ইরান এয়ার ৬৫৫ ট্রাজেডি: নিরীহ যাত্রীদের মৃত্যুও মাফ হয়নি
১৯৮৮ সালে আমেরিকার ইউএসএস ভিনসেন্স রণতরী ইরান এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করে। এতে ৬৬ শিশুসহ ২৯০ জন নিহত হন। আমেরিকা এটিকে ভুল আখ্যা দিলেও কোনো দুঃখপ্রকাশ করেনি।
ইরানিদের কাছে এটি ছিল সরাসরি এক গণহত্যার দৃষ্টান্ত, যা আরও একবার প্রমাণ করে দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানি প্রাণের মূল্য নেই।
৬. JCPOA চুক্তি ভঙ্গ: প্রতিশ্রুতি ভাঙার রাজনীতি
২০১৫ সালে ইরান ও পাঁচ+১ গ্রুপের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় যুগান্তকারী পারমাণবিক চুক্তি JCPOA। এতে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করে, আর আমেরিকাসহ পশ্চিমারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মত হয়। কিন্তু ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একতরফাভাবে এই চুক্তি থেকে সরে যান এবং আবারও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
ইরানিদের কাছে এটা ছিল সরাসরি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও বিশ্বাসঘাতকতা। তাদের মতে, আমেরিকার কথা ও চুক্তির কোনো মূল্য নেই। আমেরিকা নিজের ওয়াদাকে নিজেই সম্মান করতে জানেনা।
৭. সোলাইমানি হত্যা: জাতিগত অসম্মানের নতুন অধ্যায়
২০২০ সালে বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় শহীদ হন ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি। তিনি দেশের জাতীয় বীর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডে ইরানিদের মনে প্রতিশোধ ও ঘৃণার আগুন আরো জ্বলে ওঠে।
শুধু একজন নেতাকেই নয়, এই হামলায় ইরান অনুভব করে যে তাদের সার্বভৌমত্বকেও হত্যা করা হয়েছে।
৮. অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা: নিরীহ জনগণকে শাস্তি
মার্কিন নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতি বিধ্বস্ত করে। ওষুধ, খাদ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিতে বাধা সৃষ্টি হয়। সাধারণ নাগরিকদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পর্যন্ত একাধিকবার জানায় এই নিষেধাজ্ঞা মানবিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় ইরানের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে দশকের পর দশক ধরে।
৯. সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক আগ্রাসন
মার্কিন গণমাধ্যম ও চলচ্চিত্র একতরফাভাবে ইরানকে প্রায়শ 'সন্ত্রাসী রাষ্ট্র' হিসেবে মিথ্যা-বানোয়াট উপস্থাপন করে। পশ্চিমা রাজনীতিবিদদের বক্তব্যেও ইরানবিরোধিতা ঘৃণামূলক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
সেই সাথে আমেরিকা ইসরাইল ও সৌদি আরবের সাথে মিলিত হয়ে ইরানবিরোধী সামরিক জোট গঠন করে। এতে ইরান নিজেকে আরও বেশি 'ঘেরাও করা' ও কোণঠাসা মনে করে। ইরান ও আমেরিকার পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ইরানের আচরণ ও বাকশৈলীর শালীনতা লক্ষনীয় যা আমেরিকার বক্তব্যে অনুপস্থিত।
১০. ভবিষ্যতের সম্ভাবনা: পুনরায় বিশ্বাসের সেতু?
ইরান একাধিকবার প্রমাণ দিয়েছে যে, তারা সংলাপ ও সহযোগিতার পথে যেতে চায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তার কথার পেছনে বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণে ব্যর্থ।
বিশ্বাসভঙ্গের ইতিহাস, একতরফা আধিপত্য ও নৈতিক দ্বিচারিতা ইরানিদের মনে মার্কিন বিদ্বেষের বীজ বপন করেছে। শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজন ন্যায়ভিত্তিক, শ্রদ্ধাপূর্ণ ও দ্বিপাক্ষিক কূটনীতি।
পরিশেষ
ইরান কেন আমেরিকাকে বিশ্বাস করে না তার উত্তর ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে লুকিয়ে আছে। এটা কেবল কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব নয়, বরং একটি জাতির সম্মান, স্মৃতি ও স্বকীয়তা রক্ষার সংগ্রাম। আমেরিকা যদি সত্যিই ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন চায়, তবে তাকে শুধু চুক্তি নয় আচরণেও দায়িত্বশীল হতে হবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হাজারো সংরক্ষিত সেনা তলব ইসরায়েলের, গাজায় অভিযান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
সংরক্ষিত সেনা তলব (যাঁরা নিয়মিত বাহিনীতে কর্মরত নন) প্রসঙ্গে আজ ইসরায়েলের একাধিক সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, সেনাবাহিনী সংরক্ষিত সেনাদের তলব করতে শুরু করেছে। তারা ইসরায়েল ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনকারী কনসক্রিপ্ট (বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে যোগদানকারী) ও নিয়মিত সেনাদের স্থলাভিষিক্ত হবে। আর এসব কনসক্রিপ্ট ও নিয়মিত সেনাকে গাজায় মোতায়েন করা হবে।
সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র উল্লিখিত প্রতিবেদনগুলো স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটিই করেননি। তবে বার্তা সংস্থা এএফপির ইসরায়েলি সাংবাদিকদের কিছু আত্মীয় বলেছেন, তাঁদেরও তলব করা হয়েছে।
এমন এক সময়ে এই সব ঘটনা ঘটছে, যখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গতকাল যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী কাতারকে আক্রমণ করে কথা বলেছেন। তিনি কাতারকে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় ‘উভয় পক্ষের সঙ্গে খেলা বন্ধের’ আহ্বান জানিয়েছেন। কাতার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইসরায়েলের সর্বাত্মক হামলার ১৪ মাস পর গত জানুয়ারিতে হামাসের সঙ্গে দেশটি যুদ্ধবিরতিতে যায়। কিন্তু ২ মাস পর গত ১৮ মার্চ তা লঙ্ঘন করে গাজায় নতুন করে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এর পর থেকে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসর নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য চেষ্টা করছে।
কাতারের প্রতি নেতানিয়াহু
নতুন যুদ্ধবিরতি চেষ্টাকে কেন্দ্র করে কাতারকে আক্রমণ করে নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, কাতার ‘দ্বিমুখী বক্তব্য দিয়ে দুই পক্ষকেই খুশি রাখার চেষ্টা করছে’। কাতারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, ‘তারা কি সভ্যতার পক্ষে, নাকি হামাসের বর্বরতার পাশে?’ ‘ইসরায়েল এই ন্যায্য যুদ্ধ ন্যায়সংগত উপায়েই জিতবে’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক্স পোস্টে নেতানিয়াহুর মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি লেখেন, ‘কাতার উসকানিমূলক বক্তব্যকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে... এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্বের ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ’।
গাজায় পূর্ণ মাত্রায় নতুন করে হামলা শুরু আগে ২ মার্চ থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকাটিতে সর্বাত্মক অবরোধ জারি করে ইসরায়েল। ফলে দেশটির ত্রাণসহায়তা আরও সংকুচিত হয়েছে। দেশটিতে বিভিন্ন মাত্রায় দুর্ভিক্ষ চলছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘসহ নানা আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা।
গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গতকাল দিবাগত রাতে ইসরায়েলের হামলায় গাজার বিভিন্ন স্থানে ৩ শিশুসহ আরও ১১ জন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। মধ্যমার্চে ইসরায়েল নতুন করে হামলা শুরুর পর থেকে গাজায় অন্তত ২ হাজার ৩৯৬ জন মারা গেছেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট প্রাণ হারালেন ৫২ হাজার ৪৯৫ জন। তবে নিহত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি বলে মনে করে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা।
এদিকে আজ এক জিম্মির ভিডিও প্রকাশ করেছে হামাস। হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জেদিন আল-কাসেম ব্রিগেডের প্রকাশ করা ওই ভিডিওতে আহত এক ব্যক্তিকে দেখা যায়। তাঁর নাম ম্যাক্সিম হারকিন। চলতি মাসে তিনি ৩৭ বছরে পা দিয়েছেন। তিনি রুশ-ইসরায়েলের দ্বৈত নাগরিক। চার মিনিটের ওই ভিডিওতে হারকিনকে মাথা ও বাঁ হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। তিনি হিব্রু ভাষায় কথা বলেন।
হামাসসহ গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে এখন পর্যন্ত ৫৮ জন জিম্মি রয়েছেন, যাঁদের ৩৪ জন মৃত বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী।
হুতিদের হামলা
ইসরায়েলের বেন গুরিওন বিমানবন্দর এলাকায় আজ একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে ছয়জন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে মাটিতে একটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। হামলার পর সাময়িকভাবে উড়োজাহাজ চলাচল স্থগিত করা হয়েছিল। ইয়েমেনের হুতি দাবি করেছে, তারা একটি ‘হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে’ এই হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েল কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করতে ‘একাধিক চেষ্টা চালানো হয়েছে’। আহত হওয়ার ঘটনা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে হয়েছে, না ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে গিয়ে হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের উন্নত প্রযুক্তিকে ফাঁকি দিয়ে সফল হামলা চালানোর জন্য হুতির প্রশংসা করেছে হামাস। গাজা যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পর থেকে লোহিত সাগরের বিভিন্ন জাহাজ ও ইসরায়েলকে নিশানা করে হামলা চালাচ্ছে হুতিরা। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে ইরানের সহায়তাপুষ্ট গোষ্ঠীটি। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য হুতিদের লক্ষ্য করে ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন স্থানে পাল্টা বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।
| ইসরায়েলের হামলার পর ধ্বংসস্তূপে হতাহত ব্যক্তিদের খুঁজছেন ফিলিস্তিনিরা। গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলের জাবালিয়ায় একটি বাড়িতে, ২ মে ২০২৫ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: মৃত্যু ভয়ে মাটির নিচে আশ্রয় নিল ৩০ লাখ ইসরায়েলি
ইসরায়েলের চতুর্দিকের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চূর্ণ করে দিয়ে হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী একটি হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে তেলআবিবের নিকটবর্তী বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সফল হামলা চালিয়েছে।
এতে সৃষ্ট চাঞ্চল্যে দেশটির অন্তত ৩০ লাখ ইসরায়েলি নাগরিক মাটির নিচে বাংকারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
রোববার (৪ মে) টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়েমেনি ক্ষেপণাস্ত্রটি ইসরায়েলের চার স্তরের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—‘আয়রন ডোম’, ‘ডেভিড’স স্লিং’, ‘অ্যারো’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘থাড’—সবগুলোকে ব্যর্থ করে বিমানবন্দরের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হানে।
এতে প্রায় ২৫ মিটার গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়। আহত হন অন্তত সাতজন। এদের মধ্যে চারজন ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণে এবং বাকি তিনজন আতঙ্কে বাংকারে ছুটতে গিয়ে আহত হন।
ঘটনার পরপরই দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের সমস্ত ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজগুলো বিকল্প রুটে পাঠানো হয় অথবা বাতিল করা হয়। বিমানবন্দর এলাকায় জারি করা হয় সর্বোচ্চ সতর্কতা।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম ইদিয়োথ আহরোনোতের বরাতে জানা গেছে, বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মাটির নিচে তৈরি বাংকারগুলোতে আশ্রয় নেয় লাখো ইসরায়েলি। ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত ৩০ লাখ মানুষ সেসময় আশ্রয়প্রাপ্ত নিরাপদ এলাকাগুলোতে চলে যান।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, আমাদের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে। শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই হামলা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের এই অভিযান ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর অব্যাহত বর্বরতার জবাব।
আঞ্চলিক সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হুতিদের মতো অপেক্ষাকৃত দুর্বল পক্ষের পক্ষ থেকেও এ ধরনের আক্রমণ ইসরায়েল এবং তাদের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও কৌশল নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাইপারসনিক প্রযুক্তি এত দ্রুতগতিতে চলে যে তা সনাক্ত ও ধ্বংস করা এখনো অধিকাংশ দেশের পক্ষেই কঠিন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) স্বীকার করেছে যে তারা ক্ষেপণাস্ত্রটি ঠেকাতে একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মোতায়েনকৃত আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও কোনো কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেনি।
এ হামলার ঘটনায় রোববারের নির্ধারিত মন্ত্রিসভার বৈঠক বাতিল করেছে ইসরায়েল সরকার। জেরুজালেম পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল এখন ইয়েমেন নিয়ে তার সামরিক কৌশল পুনর্বিবেচনা করছে এবং হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি জবাব দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই ঘটনাকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এক ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষত, ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এত গভীরে হুতিদের হামলা পৌঁছে যাওয়া—এটা স্পষ্ট বার্তা দেয় যে আঞ্চলিক প্রতিরোধ শক্তিগুলোর সামরিক সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেকগুণ বেড়েছে।
![]() |
| মৃত্যু ভয়ে মাটির নিচে আশ্রয় নিল ৩০ লাখ ইসরায়েলি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতের যুদ্ধে যাওয়া ও না-যাওয়ার বিপদ by শুভজিৎ বাগচী
সম্প্রতি ভারতের একজন সমরবিশেষজ্ঞ ও ফোর্স পত্রিকার সম্পাদক প্রবীণ সাহানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন, কেন ভারতের পক্ষে এখনই যুদ্ধে যাওয়া সম্ভব নয়। তাঁর ও অন্যদের বক্তব্য থেকে একটা ন্যূনতম মৌলিক বিষয় বেরিয়ে আসছে। বিষয়টি হলো, ভারত এটা বুঝতে পারছে না যে আক্রমণ করে তারা শুধু পাকিস্তানের সঙ্গেই সরাসরি লড়াই করবে, নাকি চীনের সঙ্গে পরোক্ষভাবেও তাদের লড়তে হবে।
সাহানি বলেছেন, চীন পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফলে চীন ও ভারতের সীমান্তে (লাইন অব অ্যাকচ্যুয়াল কন্ট্রোল বা এলএসি) চীনের সেনাবাহিনীর ‘গ্রে জোন অ্যাকটিভিটি’ (সরাসরি যুদ্ধে না গিয়ে এমন কিছু করা, যাতে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সফল হয়, আবার শত্রুপক্ষ বিষয়টিকে যুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত করে পাল্টা আক্রমণে যেতে পারে না। যেমন ভুয়া ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচার চালানো, অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি, সাইবার আক্রমণ প্রভৃতি) বাড়াবে। এর ফলে চীন সীমান্ত, অর্থাৎ এলএসি থেকে যাবতীয় সরঞ্জাম (অস্ত্র ও লোকলস্কর) সরিয়ে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে (লাইন অব কন্ট্রোল) নিয়ে যাওয়ার বিষয় বিভ্রান্তিতে থাকবে ভারত।
সাহানির বক্তব্য, এই যুদ্ধ–পরিস্থিতিতে চীনের যে একটি অপ্রত্যক্ষ ভূমিকা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, তার প্রধান কারণ, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাবিষয়ক ধারাগুলোর প্রত্যাহার। এই পরিবর্তনের কারণে চীন ধারাবাহিকভাবে পাকিস্তানকে তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছে।
চীন মর্যাদা প্রত্যাহারের বিষয়টি যে একেবারেই ভালোভাবে নেয়নি, সেটা তারা ২০১৯ সালের ৬ আগস্টই জানিয়েছিল। কারণ, কাশ্মীর চীন–সংলগ্ন অঞ্চল। এখানে কাশ্মীর নিয়ে ভারতের এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিরোধিতা করেছিল চীন। তাই কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ যদি একবার শুরু হয়, তবে চীন কোন পক্ষ নেবে, সেটা জোর দিয়ে ভারতের পক্ষে বলা সম্ভব নয়। পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন, শুধু যদি পাকিস্তানের সঙ্গে লড়ার বিষয়ে ভারত নিশ্চিত হতো, তবে গত ২২ এপ্রিলের পরই তারা যুদ্ধ শুরু করে দিত।
চীনের পাশাপাশি ভারতের পূর্বে, অর্থাৎ বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে ভারতের উদ্বেগ গত আট মাসে প্রচণ্ড বেড়েছে। এর সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতে চীন ছাড়াও রয়েছে মিয়ানমার সীমান্ত। যে সীমান্তের কারণে ভারতকে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। মণিপুরে আড়াই শতাধিক মানুষ মারা যাওয়ার পরে এবং সেখানেও নানান ‘অ্যাসেট’ (সরঞ্জাম) মজুত রাখতে হচ্ছে। পাকিস্তান সীমান্তের মতোই সেখান থেকেও চট করে সরঞ্জাম ও সৈন্য সরানো যাবে না।
যুদ্ধের খরচ
২০২১ সালে আফগানিস্তান ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় ‘কস্ট অব ওয়ার’ বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে দেখিয়েছিল, ২০ বছরে খরচ হয়েছে ২ দশমিক ৩১ ট্রিলিয়ন ডলার (দৈনিক ৩১৬ মিলিয়ন ডলার)। এই হিসাব করা হয়েছিল, যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাঁদের চিকিৎসার খরচ ও ক্ষতিপূরণ বাদ দিয়ে। যাবতীয় খরচ সুদসহ ধরলে ২০৫০ সালে এই অঙ্ক সাড়ে ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে জানানো হয়েছিল।
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া ঠিক কত খরচ করছে, তা জানা যায়নি। কারণ, মস্কো সবকিছু পার্লামেন্টে জানায় না। তারপরও রাশিয়া বিপদের মধ্যে রয়েছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পর্যবেক্ষক সংস্থা মনে করছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পেন্টাগন জানিয়েছিল, দৈনিক ২৮৯ মিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে প্রেসিডেন্ট পুতিনের।
এরই পাশাপাশি দিল্লিকে মাথায় রাখতে হচ্ছে যে এই সময়ে, যখন বিশ্বব্যাপী ‘রিসেশন’ বা মন্দার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, তখন ভারতের অর্থনীতি বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাংক বলেছে, বৃহৎ অর্থব্যবস্থার মধ্যে ভারতের সবচেয়ে দ্রুত হারে বৃদ্ধি হচ্ছে, চলতি আর্থিক বছরে সম্ভাব্য বৃদ্ধি ৭ শতাংশ। যুদ্ধ করে এই হার ধরে রাখা অসম্ভব। অন্যদিকে ভারত যাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারে, তাদের অবস্থা দেখে নেওয়া যাক।
আফগানিস্তান-পাকিস্তান (আফ-পাক) আন্তর্জাতিক জিহাদ পর্যবেক্ষক আবদুল সৈয়দ জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ২৬২টি হামলা বৃহৎ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানে চালিয়েছিল। এরপরে সর্বোচ্চ আক্রমণ হয়েছে গত মার্চে, ২৬০টি। বেসামরিক নাগরিকের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর কর্মী থেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিপুল সংখ্যায় মারা গেছেন। সোজা কথায়, পাকিস্তানের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে যুদ্ধ চলছে।
অর্থব্যবস্থার প্রশ্নে, পাকিস্তানের ডন পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে গত ২৮ এপ্রিল বলা হয়েছে, ‘৫০ বছর আগে আমরা একটি প্রবল গতিশীল অর্থব্যবস্থায় ছিলাম, আজ সিঁড়ির একেবারে নিচে পৌঁছেছি।’ পাকিস্তান যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ওপর নির্ভরশীল, তা–ও বলা হয়েছে।
তাই যুদ্ধে গেলে পাকিস্তানের কতটা ক্ষতি হবে, বলা মুশকিল; কিন্তু ভারতের যে সবিশেষ ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
ভারতে চাপ বাড়ছে
যুদ্ধ করে যে লাভ হয় না, সেটা ভারত বোঝে। এ কারণেই ক্ষমতায় আসার পরে গত ১১ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনে অন্তত দুবার ‘হট ওয়ার’ বা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ করার সুযোগ এসে গেলেও তিনি করেননি। ২০১৯ সালে কাশ্মীরের পুলওয়ামায় বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা এবং ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে চীনা ফৌজের হাতে ২০ ভারতীয় সৈনিকের মৃত্যুর জেরে যুদ্ধের সুযোগ এসেছিল।
পুলওয়ামায় ঠিক কী হয়েছিল, সেটা ভারতীয়রা ভালো করে বোঝেন না; কিন্তু এটা বোঝেন যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হয়নি। আর লাদাখের গালওয়ানে যে ভারত গোড়া থেকেই যুদ্ধের রাস্তায় হাঁটেনি, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হয়ে যায়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছিলেন (মার্চ, ২০২২), তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দুই বছর ধরে কথা বলছেন; অর্থাৎ গালওয়ান সংঘর্ষের সময় থেকে। এর মানে হলো, ভারত যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়নি।
কিন্তু বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির ওপর সাংঘাতিক চাপ রয়েছে ও তা বাড়ছে। চাপটা হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের দিক থেকে। তাদের দাবি, যুদ্ধ করতে হবে। ভারত সরকারের কট্টর সমর্থক ও দেশের অন্যতম প্রধান এক প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাংবাদিক লিখেছেন, এবারে আর ওই সব সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বা বালাকোট দিয়ে হবে না। এবারে এমন কিছু করতে হবে, যার অর্থ আছে। অর্থাৎ সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বা বালাকোটের কোনো অর্থ নেই। এবারে এমন কিছু করতে হবে, যার অর্থ আছে। অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ করতে হবে।
ভারতের বর্তমান সাম্প্রদায়িক সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক পর্যবেক্ষক বলছেন, উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদ এখন আর শুধু সংখ্যালঘু পীড়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না। এটা এখন অন্য দেশের ওপর কর্তৃত্ব ফলানোর রাস্তায় হাঁটতে চাইছে।
বিশ্ব পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কানাডার সমাজবিজ্ঞানী ইন্দ্রনীল চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রায় সব দেশেই একটা সময় পর্যন্ত জাতীয়তাবাদ মোটামুটিভাবে সংখ্যালঘু পীড়নের মধ্যে দিয়ে পরিতোষ লাভ করে। কিন্তু এমন একটা সময় আসে, যখন এটা আর শুধু দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না, অন্য দেশের ওপর কর্তৃত্ব ফলানোর বা তাকে নিয়ন্ত্রণের রাস্তায় যেতে চায়। অর্থাৎ যুদ্ধে যেতে চায়। একটা সময় ছিল, যখন জাতীয়তাবাদ ঔপনিবেশিকভাবে শোষিত জাতিজুড়ে উপনিবেশবিরোধী সংগ্রামের একটি প্রধান হাতিয়ার ছিল। এর পরিবর্তন হয়েছে। এখন সংখ্যালঘু নিপীড়ন সংখ্যাগরিষ্ঠের অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের যন্ত্র থেকে এটি সাংস্কৃতিক হাতিয়ার ও পরিচয়ের রাজনীতির (আইডেনটিটি পলিটিকস) অংশ হয়ে উঠেছে এবং যুদ্ধের আহ্বানকে চালিত করছে।’
একে ‘সাংঘাতিক বিপজ্জনক’ একটা পরিস্থিতি বলেছেন অধ্যাপক ইন্দ্রনীল চক্রবর্তী। তাই এখন বিজেপিশাসিত সরকারের পক্ষে যুদ্ধ না করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসা মুশকিল নয়, অসম্ভব।
ভূকৌশলগত রাজনীতির সমীকরণ
এখানে আরও একটা ব্যাপার উল্লেখ করা প্রয়োজন। ভূকৌশলগত যে রাজনীতি, সেই রাজনীতিতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে বিরোধ দুই দেশের স্বাধীনতার সময় থেকে চলছে। কাশ্মীরকে পাকিস্তান সব সময় ব্যবহার করেছে ‘লিভারেজ পয়েন্ট’, অর্থাৎ এমন এক বিন্দু হিসেবে, যেটিকে কৌশলগত রাজনীতিতে প্রয়োগ করা যায়।
এখন পেহেলগামে যে ঘটনা ঘটল, সেই ঘটনা সম্পর্কে ভারতের বক্তব্য, এর পেছনে পাকিস্তানের হাত রয়েছে। এবং পাকিস্তানের বক্তব্য, এর পেছনে ভারতের হাত রয়েছে। এটা সম্ভবত কখনোই নির্দিষ্টভাবে প্রমাণ করা যাবে না যে এই ঘটনার পেছনে কার হাত রয়েছে। সাধারণত কাশ্মীরে সেটা করা যায়ও না।
কিন্তু এর একটা ব্যাখ্যা রয়েছে, যেটা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দিচ্ছিলেন কাশ্মীরের এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। তিনি বলেন, ‘আমরা ধরে নিচ্ছি যে এর পেছনে পাকিস্তানের হাত নেই। হতে পারে আবার না–ও হতে পারে। কিন্তু একটা বিষয় নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে এ ঘটনা নিশ্চিতভাবে ভারতকে সমস্যায় ফেলেছে, পাকিস্তানকে সুবিধাজনক অবস্থায় নিয়ে গেছে।’
ওই সাংবাদিকের কথায়, এর ফলে নির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে ‘ভারত গোটা দেশের মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, সেটা যে ভিত্তিহীন, এটা বোঝা গেছে।’
ভারতের দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার পরিসংখ্যান মোতাবেক, ‘২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে শুধু কাশ্মীরে পর্যটকদের সংখ্যা ৪২৫ শতাংশ বেড়েছে (৬ দশমিক ৬৫ লাখ থেকে ৩৪ দশমিক ৯৮ লাখে) এবং ২০২৪ সালে জম্মু-কাশ্মীরে প্রায় ৬৫ হাজার বিদেশিসহ ২ দশমিক ৩৫ কোটি পর্যটক গিয়েছেন।’
ভারতের বৈদেশিক গুপ্তচর সংস্থা ‘র’-এর (রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং) একসময়ের প্রধান এ এস দুলত পেহেলগামের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘সব জায়গায় কনস্টেবল দেওয়া সম্ভব নয়।’ ঠিক কথা, কিন্তু তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, কাশ্মীর নিরাপদ বলে হাওয়া তুলে দেওয়ার জন্য কে দায়ী?
এখানেই পাকিস্তানের একটা বড় সুবিধা হয়ে যাচ্ছে। ভারতের পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করেন, কাশ্মীরকে নিরাপদ রাখতে গেলে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। ভূরাজনীতির খেলায় পাকিস্তানকে একটি পক্ষ হিসেবে দেখা প্রয়োজন, কাশ্মীর ও ভারতের মতো আরও দুই পক্ষের পাশাপাশি। যে পর্যবেক্ষকেরা এ কথা ধারাবাহিকভাবে বলে আসছেন, তাঁদের অন্যতম ওই দুলত।
পেহেলগামের ঘটনার চার দিন আগে এক অনুষ্ঠানে যখন দুলতকে কাশ্মীর সীমান্তে সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে এই সম্পর্ক বন্দুক ও যুদ্ধের মাধ্যমে শেষ হবে না। আমি বলছি না আমাদের কিছু দেওয়া বা নেওয়া উচিত, তবে কথা বলা উচিত। কথা বলতে ক্ষতি কী?’
কিন্তু সমস্যা হলো ওই হিন্দু জাতীয়তাবাদ। ওই জাতীয়তাবাদের হাওয়া তুলে বিজেপি একের পর এক নির্বাচনে জিতেছে ও জিতছে। তাদের পক্ষে রাতারাতি বা হয়তো কখনোই একটি ‘মুসলিম’ দেশের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব নয়, বিশেষত সাম্প্রতিক ঘটনার পরে। সে ক্ষেত্রে তাদের সমর্থকেরা প্রশ্ন তুলবেন যে তাহলে কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির তফাত কোথায়? বিজেপির ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের আঘাত লাগার আশঙ্কাও সে ক্ষেত্রে থাকবে।
এখনই জাতীয় নির্বাচন না থাকলেও আগামী দুই বছরে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে মোট ১৩ জায়গায় নির্বাচন হবে। এর মধ্যে রাজনৈতিক ভাবে ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য উত্তর প্রদেশও রয়েছে। এই অবস্থায় হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রধান বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনায় যাওয়া বিজেপির পক্ষে সম্ভব নয়।
আবার যেমনটা বলা হয়েছে, চট করে যুদ্ধে যাওয়াও অর্থব্যবস্থার জন্য আত্মহত্যার শামিল হতে পারে। ফলে একটা জটিল অবস্থার মধ্যে গিয়ে পড়েছে ভারতের কেন্দ্র সরকার। ‘যুদ্ধ করব না’ এটা বলা যাচ্ছে না, আবার ‘করব’ সেটাও ঘোষণা করা যাচ্ছে না।
এই অবস্থায় সবকিছুই নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর। গত ১১ বছরে বারবার দলকে খাদের কিনারা থেকে বাঁচিয়েছেন মোদি। এই মুহূর্তে সম্ভবত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে তিনি ও তাঁর দল। কীভাবে সামলান, সেটাই দেখার বিষয়।
* শুভজিৎ বাগচী প্রথম আলোর কলকাতা সংবাদদাতা

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চীনকে সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো হারাতে পারবে না আমেরিকা by মোহাম্মদ সোলাইমান
এই ধারণা পুরোনো ছকের সঙ্গে মেলে। ফলে পরিকল্পনা করতে সুবিধা হয়। ভাবা হয় যে আগের মতো করে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখা যাবে, জোটগুলোকে শক্ত করে ব্লকে বাঁধা যাবে আর শেষ পর্যন্ত জয় আসবে মতাদর্শগত লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, চীন আর সোভিয়েত ইউনিয়ন এক নয়।
চীন বিচ্ছিন্ন কোনো সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি নয়। বা অতিরিক্ত সামরিক ব্যয়ের চাপে জর্জরিত কোনো সাম্রাজ্য নয়। চীন একটি বিশ্বায়িত, প্রযুক্তিচালিত, সভ্যতাভিত্তিক রাষ্ট্র। চীনের আছে অর্থনৈতিক শক্তি, দক্ষ প্রশাসন এবং সাফল্যের ধারাবাহিকতা। চীন বিশ্বরাজনীতিতে মস্কোর মতো কোনো ভূমিকা নিতে রাজি নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত নীতিতে ঠান্ডা যুদ্ধের চেয়ে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা এত গভীর ছাপ ফেলেনি। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। কিন্তু সোভিয়েত মডেল অন্তত শেষের দিকে ছিল ভঙ্গুর। বাইরে থেকে একে পরাশক্তি মনে হলেও ভেতরে তার অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছিল। তার রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল কঠোর ও কর্তৃত্ববাদী।
সেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছিল না। প্রযুক্তির দিক থেকেও সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল অনেক পিছিয়ে। উদাহরণস্বরূপ, পশ্চিমা বিশ্ব যখন লাখ লাখ কম্পিউটার বানাচ্ছিল, সেখানে সোভিয়েত ইউনিয়ন উৎপাদন করত মাত্র কয়েক হাজার।
সোভিয়েত জোট ছিল জবরদস্তিমূলক, উদ্ভাবনে পিছিয়ে এবং শিল্পকাঠামো ছিল আত্মবিরোধে ভরা। ১৯৯১ সালে যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ে, তখন যুক্তরাষ্ট্র শুধু সামরিকভাবে নয়, কৌশলগত চিন্তাভাবনাতেও বিজয়ী মনে করেছিল নিজেকে। বিশ্বরাজনীতিতে নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে আমেরিকা তৈরি করেছিল এক নতুন রেসিপি। ঘেরাও, প্রতিরোধ, মতাদর্শ প্রচার এবং ধ্বংসের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করা।
আজ মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা সেই পুরোনো ফর্মুলাই চীনের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করতে চাইছেন। কিন্তু এবার প্রতিপক্ষ সেই আগের মতো নয়। চীন কোনো দুর্বল আদর্শিক জোট নয়। সে বরং একটি টেকসই রাষ্ট্রব্যবস্থা। সেখানে প্রযুক্তি, পুঁজিবাদ এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ একসঙ্গে কাজ করছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন পশ্চিমা অর্থনীতি থেকে একরকম বিচ্ছিন্ন ছিল। আর চীন এখন সেই অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করছে।
চীনের উত্থান কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়। এটা একধরনের ফিরে আসা বলতে পারেন। ইতিহাসের অনেকটা সময়জুড়ে চীনই ছিল বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি। ১৮২০ সালে চীনের হাতে ছিল বিশ্ব অর্থনীতির ৩০ শতাংশের বেশি। এরপর ইউরোপীয় উপনিবেশবাদীদের হাতে তার শতাব্দীকাল অপমানের ভেতর কেটেছে। সেই অপমানের স্মৃতি এখনো চীনের জাতীয় মননে গভীরভাবে আঁকা আছে।
১৯৭৮ সালে দেং শিয়াও পিংয়ের নেতৃত্বে ‘সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ’ নীতি চালু হয়েছে ঠিকই কিন্তু চীন কখনো তার অর্থনীতিকে পশ্চিমা শর্তে পুরোপুরি উন্মুক্ত করেনি। ২০০১ সালে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থায় যোগ দিলেও, বেইজিং তার অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বিদেশি পুঁজির হাতে তুলে দেয়নি।
চীনকে ঠান্ডা যুদ্ধের ছকে ঘেরাও করার মার্কিন কৌশল শুধু ভুল নয়, বিপজ্জনকও বটে। এই কৌশলের পেছনে একটা ধারণা কাজ করছে। আর তা হলো প্রতিপক্ষ একদিন নিজের ভেতরের সমস্যায় নিজেই ধসে পড়বে। আর তার জন্য প্রয়োজন হবে বিশ্বজুড়ে ছড়ানো ও বিপুল ব্যয়ে পরিচালিত কৌশল।
কিন্তু আজকের বাস্তবতা আলাদা। যুক্তরাষ্ট্র এখন আর ১৯৫০ সালের মতো কোনো শিল্পের দিক দিয়ে ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র নয়। আমেরিকার অর্থনীতি এখন অনেকটাই পোস্ট-ইন্ডাস্ট্রিয়াল। অর্থাৎ শিল্পোৎপাদনের চেয়ে ডলার আধিপত্য ও আর্থিক প্রভাবের ওপর তারা নির্ভরশীল। এর বিপরীতে চীন এখন ‘বিশ্বের কারখানা’। আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা, পণ্যপ্রবাহ এবং অবকাঠামো নেটওয়ার্কে চীনের অংশগ্রহণ গভীর ও বিস্তৃত।
সহজ করে বললে, আজকের যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে পুরো দুনিয়াকে প্রতিযোগিতার মঞ্চ বানিয়ে ফেলা আর সম্ভব নয়। এই প্রতিযোগিতা তার আর নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা নেই।
লাতিন আমেরিকা থেকে শুরু করে আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত, চীন শুধু বিশ্বায়নের অংশগ্রহণকারী নয়, তারা এখন বিশ্বপ্রযুক্তি বদলের শর্তই নির্ধারণ করছে। কম খরচে উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে চীন বহু দেশের ডিজিটাল পরিকাঠামো গড়ে দিচ্ছে। হুয়াওয়ের ৫জি নেটওয়ার্ক, ক্লাউড পরিষেবা, ডিপসিকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিওয়াইডির বৈদ্যুতিক গাড়ি কিংবা চীনে তৈরি রোবট—সবকিছু মিলিয়ে চীন আজ এক নতুন ভৌগোলিক ও প্রাযুক্তিক রূপ গড়ে তুলছে। এর নাম দেওয়া যেতে পারে ‘জিও-টেকনোলজি’।
চীনের বিরুদ্ধে একটি বৈশ্বিক জোট গঠনের চিন্তা করার সময় মার্কিন জোটগুলো নিজেদের ভেতরকার অসংগতি বিবেচনায় রাখে না। পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, আরব উপসাগর কিংবা এমনকি আমেরিকার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যেও চীনের প্রতি মনোভাব একরকম নয়। অনেকে চীনের ভূমিকায় উদ্বিগ্ন। কিন্তু তারা যুক্তরাষ্ট্রের মতো করে বৈশ্বিক সংঘাতে যেতে আগ্রহী নয়। কারণ, তাদের নিজেদের অর্থনীতি চীনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
একসময় যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক সুবিধা দিয়ে রাজনৈতিক জোট গড়ে তুলত। সেই নীতি এখন আর কার্যকর নয়। মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এখন নিজের ‘ঘরের শ্রমিক’ আর ‘জাতীয় স্বার্থ’ নিয়েই বেশি কথা হয়। ফলে আগের মতো কৌশলগত উদারতা দেখানো এখন আর রাজনৈতিকভাবে সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বরং এখন নিজের দিকে ফিরে তাকানো দরকার। তার উচিত এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের সময়টিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের শিল্প ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা পুনর্গঠন করা। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব যেমন চীন-ভারত সংঘাত, দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে আসিয়ানের দেশগুলোর সঙ্গে বিরোধ কিংবা বেইজিংয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে আঞ্চলিক উদ্বেগ—এসবকে কাজে লাগিয়ে আমেরিকার নতুন কৌশল সাজানো দরকার।
লক্ষ্য হওয়া উচিত সরাসরি মিত্র তৈরি নয়, বরং এমন পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে অন্য দেশগুলো নিজেরাই চীনের আধিপত্যকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চীন আর আমেরিকার মধ্যকার এই প্রতিযোগিতা কোনো মতাদর্শের নয়। এটি প্রযুক্তি, শিল্প ও ভূরাজনীতির প্রতিযোগিতা। তাই এটিকে কোনো বিশ্বযুদ্ধে পরিণত হতে দেওয়া উচিত নয়।
এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা জেতার উপায় সোভিয়েত ধাঁচের পতনের অপেক্ষা নয়। বরং দরকার যুক্তরাষ্ট্রের নিজের কৌশলগত শক্তি বজায় রাখা। নতুন করে শিল্পায়ন, সামাজিক সহনশীলতা ও একটি ন্যায্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
চীন নতুন সোভিয়েত ইউনিয়ন নয়। আর এখন ১৯৫৫ সাল নয়। এখন ২০২৫ সাল। আগামী দিনের ইতিহাস আগের পথেই হাঁটবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
* মোহাম্মদ সোলাইমান মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের পরিচালক, নিউজউইক থেকে নেওয়া ইংরেজির অনুবাদ
| চীন নতুন সোভিয়েত ইউনিয়ন নয়। আর এখন ১৯৫৫ সাল নয়। এখন ২০২৫ সাল। ফাইল ছবি রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাশ্মীরে হামলার সন্দেহভাজনেরা কি ভারত থেকে পালিয়েছেন
শনিবার চেন্নাই থেকে কলম্বোগামী শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট পৌঁছানোর পর কলম্বো পুলিশ তাতে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। এর আগে চেন্নাই কন্ট্রোল সেন্টার কলম্বো কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে জানায়, পেহেলগাম হামলায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা এই ফ্লাইটে থাকতে পারে।
বিমান সংস্থাটি জানায়, চেন্নাই থেকে আসা ফ্লাইট ইউএল১২২ বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে কলম্বোতে অবতরণ করে এবং অবতরণের পর এটিতে ‘ব্যাপক নিরাপত্তা তল্লাশি’ চালানো হয়।
তারা আরও জানায়, চেন্নাই এরিয়া কন্ট্রোল সেন্টার থেকে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এ তল্লাশি চালানো হয়। বার্তায় বলা হয়, ভারত খুঁজছে এমন এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি ওই ফ্লাইটে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পেহেলগামে হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন পর ভারতের রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের এক নেতা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে হামলাকারীদের ধরার সক্ষমতা নরেন্দ্র মোদি সরকারের আছে কি না। তাঁর এমন মন্তব্যকে সেনাবাহিনীর সমালোচনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। পরে তিনি নিজের বক্তব্য প্রত্যাহারে বাধ্য হন।
৯০ মিনিটের বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন
ভারতের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, পেহেলগামে হামলার স্থলে সেনাবাহিনী পৌঁছাতে ৯০ মিনিটের দেরি করাটা একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত ছিল। এটা করা হয়েছিল যেন নিজেদের মধ্যে অনিচ্ছাকৃত ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু দেশটির আরেকজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্যকে প্রস্তুত করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ায় এ বিলম্ব হয়েছিল।
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যখন বৈসারনে পৌঁছান, ততক্ষণে হামলাকারীরা জঙ্গলে পালিয়ে গিয়েছিল।
হামলার দুই দিন পর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সর্বদলীয় এক বৈঠকে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় আশপাশের হোটেলগুলোকে দোষারোপ করেন। তাঁর ভাষ্যমতে, পুলিশকে না জানিয়েই পর্যটকদের বৈসারনে পাঠিয়েছিল হোটেলগুলো।
তিনি স্বীকার করেছিলেন, হামলার দিন সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন ছিল না। যদিও সাধারণত জুলাই মাসে অমরনাথ যাত্রা শুরুর আগে এই পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকে।
তবে দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, অমরনাথ যাত্রার সময় ছাড়া সারা বছর বৈসারন চারণভূমি উন্মুক্ত থাকে।
![]() |
| পেহেলগামের কাছে বৈসারনে পর্যটকদের ওপর হামলার স্থানে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পাহারা দিচ্ছেন। ২৩ এপ্রিল, ২০২৫ ছবি: রয়টার্স। |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় জোর করে মানুষকে অভুক্ত রাখছে ইসরাইল
গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছতে না দেয়ায় জাতিসংঘ কর্মকর্তা ও অধিকার বিষয়ক কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। নিন্দা জানাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহল থেকে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর থেকে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা কমপক্ষে ৫২,৪৯৫।
ওদিকে গাজা যুদ্ধকে সভ্যতার সুরক্ষা বলে অভিহিত করেছে ইসরাইল। তাদের এমন বিবৃতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। তারা বলেছে, গাজায় নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ ঘটানো হচ্ছে। একই সঙ্গে কাতার উভয় দিকের (ইসরাইল ও হামাস) হয়ে খেলছে বলে যে বিবৃতি দিচ্ছে তাও প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। ইসরাইলের এমন মন্তব্যকে জ্বালাময়ী হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এ বিষয়ে এক্সে একটি পোস্ট দিয়েছেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি। তাতে তিনি বলেছেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে যে জ্বালাময়ী বিবৃতি দেয়া হয়েছে তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করছে কাতার। তাদের ওই বিবৃতিতে মৌলিক রাজনীতির ভিত্তি এবং নৈতিক দায়িত্বের কিছুই নেই। গাজা যুদ্ধকে সভ্যতা রক্ষা হিসেবে আখ্যায়িত করাকে সমালোচনা করে আল আনসারি বলেন, তারা বেসামরিক মানুষদের বিরুদ্ধে অপরাধকে বৈধতা দেয়ার জন্য মিথ্যা কথা বলছে। তিনি পোস্টে প্রশ্ন রাখেন- যে ১৩৮ জন জিম্মিকে মুক্তি দেয়া হয়েছে সেটা কি সামরিক অভিযানে নাকি মধ্যস্থতাকারীর প্রচেষ্টায়? তবুও এ প্রক্রিয়াকে নিয়ে অন্যায়ভাবে সমালোচনা করা হয়েছে। তিনি গাজার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। একে তিনি অবরোধ করে শ্বাসরোধ করা, পর্যায়ক্রমে অনাহারে রাখা, চিকিৎসা ও আশ্রয় প্রত্যাখ্যান করা এবং মানবিক সহায়তাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের নিন্দা জানিয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে ১২ই মে ইসরাইল সফরের পরিকল্পনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটি হেগসেথ। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সফর শিগগিরই শুরু হওয়ার কথা। তার আগেই এই সফর সম্পন্ন করতে চাইছেন তার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ১৩ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের পরিকল্পনা আছে ট্রাম্পের। তবে তিনি ইসরাইল সফর করবেন কিনা তা বলেননি লেভিট।
হাজার হাজার রিজার্ভ সেনাকে তলব করছে ইসরাইল
গাজায় আক্রমণ বৃদ্ধির জন্য হাজার হাজার রিজার্ভ সেনাকে তলব করছে ইসরাইল। বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যম রিপোর্ট করেছে এ নিয়ে। তাতে বলা হয়েছে, রিজার্ভ সেনাদের তলব করতে নির্দেশ পাঠানো শুরু করেছে সেনাবাহিনী। বর্তমানে দখলীকৃত পশ্চিমতীরে যেসব ইসরাইলি সেনা আছে, তাদের তুলে নিয়ে সেখানে মোতায়েন করা হবে এসব রিজার্ভ সেনা। শুধু পশ্চিমতীর নয়, পুরো গাজায় তাদেরকে আবার মোতায়েন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
এতে বলা হয়, বিষয়টি ইসরাইলের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র স্বীকারও করেনি। আবার রিপোর্ট প্রত্যাখ্যানও করেনি। তবে এএফপির সাংবাদিকদের আত্মীয়দের মধ্যে অনেকে এই নির্দেশ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। গাজায় সামরিক অভিযান বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়ে ৪ঠা মে রোববার ইসরাইলের নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক বসার কথা। সেখানেই রিজার্ভ সেনা মোতায়েন অনুমোদন দেয়ার কথা।
এর আগে যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ায় প্রথম দফা শেষে ১৮ই মার্চ পুরো গাজায় নতুন করে হামলা শুরু করে ইসরাইল। নতুন করে হামলা শুরুর পর থেকে এই যুদ্ধ অব্যাহত রাখার পক্ষে জোরালো কণ্ঠে মত দিয়ে যাচ্ছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে তিনি তার উগ্র ডানপন্থি সমর্থকদের পক্ষ থেকে তীব্র চাপে আছেন। এই পক্ষটি যদি নেতানিয়াহুর ওপর থেকে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে তাহলে তার জোট সরকার ভেঙে পড়বে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাশ্মীর সীমান্তে গোলাগুলি অব্যাহত: বিমান বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠক মোদির
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে রোববার ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে শনিবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কল্যাণ মার্গে মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল দিনেশ কে ত্রিপাঠি। এ খবর দিয়ে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই বলছে, এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে একটি বৈঠকে বসেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল অনিল চৌহান। এসব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার একদিন পর নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিএস) একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারত সরকারের তরফে বলা হয়, হামলার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদেরকে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন করা হবে। ইতিমধ্যেই ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে অভিযানের ধরন, লক্ষ্যবস্তু ও সময় নির্ধারণের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন মোদি। এদিকে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকারের যেকোনো পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বিরোধী দল। সিসিএসকে দেয়া ব্রিফিংয়ে, সন্ত্রাসী হামলার আন্তঃসীমান্ত সংযোগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পেহেলগাম হামলা নিয়ে ভারত সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি বাতিল অন্যতম। এর মাধ্যমে সীমান্তবর্তী সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনের অভিযোগে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়েছে দিল্লি।
এদিকে শনিবার রাজস্থান সীমান্ত থেকে পাকিস্তানি এক রেঞ্জারকে আটক করেছে ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী বিএসএফ। অনলাইন এনডিটিভি জানিয়েছে, ২৩শে এপ্রিল বিএসএফের কনস্টেবল পুরনাম কুমার সাহুকে আটক করে পাকিস্তান রেঞ্জার্সরা। তারপরই এ ঘটনা ঘটলো। আটক পাকিস্তানি রেঞ্জারের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাকে বিএসএফের রাজস্থান ফ্রন্টিয়ারে রাখা হয়েছে। বিএসএফ জওয়ানদের আটক করার পরপর তা ফেরত দেয়ার জন্য ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি সুন্দর প্রক্রিয়া আছে। কিন্তু উত্তেজনাকর এই সময়ে পুরনাম কুমার সাহুকে পাকিস্তান ফেরত দেয়নি। ফলে আটক পাকিস্তানি রেঞ্জারকে নিয়ে ভারত কী করবে তা পরিষ্কার নয়। ভারতের মিডিয়া থেকে দাবি করা হয়েছে যে, পাকিস্তানি এই রেঞ্জারকে আটক করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান সেনারা নিয়ন্ত্রণরেখার বিভিন্ন অংশে দশম দিনের মতো উস্কানিমূলক গুলি ছুড়েছে। এর মধ্যে আছে কুপওয়ারা, বারমুলা, পুনচব, রাজুরি, মেন্ধার, নাউশেরা, সুন্দরবানি এবং আখনুর। ভারতের সেনারা দ্রুততার সঙ্গে এবং উপযুক্ত জবাব দিয়েছে এর। তবে এখন পর্যন্ত উভয়পক্ষে গোলাগুলিতে কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। ওদিকে সাহুকে ফেরানোর জন্য কতোগুলো মিটিং হয়েছে। তবে তাকে কখন মুক্তি দেয়া হবে বা তার বর্তমান অবস্থা কী সে সম্পর্কে কোনো সময়সীমা বা তথ্য দেয়নি পাকিস্তান।
অন্যদিকে হামলা বা পানি সরবরাহ বিঘ্নিত করলে পূর্ণাঙ্গ শক্তি ব্যবহার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাকিস্তান। নয়াদিল্লি যদি পানি সরবরাহ বিঘ্নিত করে এবং হামলা চালায় তাহলে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অস্ত্রের ব্যবহার করবে পাকিস্তান। ভারতকে সতর্ক করে এ কথা বলেছেন রাশিয়ায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ খালিদ জামালি। তিনি শনিবার রাশিয়ার সমপ্রচার মাধ্যম আরটি’তে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন। এনডিটিভি বলছে, রাষ্ট্রদূত জামালি বলেন, পাকিস্তানের ভেতরে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে ভারত। এ বিষয়ে ইসলামাবাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য আছে। তিনি আরও বলেন, ফাঁস হওয়া অন্য ডকুমেন্টগুলোতে দেখা যায়, পাকিস্তানের ভেতরে সুনির্দিষ্ট কিছু এলাকায় হামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। এ জন্য আমাদের মনে হচ্ছে এই হামলা হবে এবং তা অত্যাসন্ন। তিনি বলেন, পাকিস্তানে হামলা হলে পূর্ণ শক্তি ব্যবহার করবে। প্রচলিত অস্ত্রের এবং পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার করবে। উল্লেখ্য, ২২শে এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় কমপক্ষে ২৬ জন নিহত হন। এর মধ্যে বেশির ভাগই পর্যটক। ওই ঘটনার পর পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এসব সন্ত্রাসী গ্রুপকে পাকিস্তান লালন করছে এবং তাদেরকে সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ ভারতের। তবে এতে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। ওদিকে হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে সম্পাদিত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করে ভারত। এই পানিচুক্তি স্থগিত করাকে ভারতের পানিযুদ্ধ বলে অভিহিত করেছেন রাষ্ট্রদূত জামালি। তিনি বলেন, ভাটিতে পানি সরবরাহ বিঘ্নিত করা অথবা বন্ধ করে দেয়া অথবা পানির প্রবাহের গতি পরিবর্তন করে দেয়া পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সমান। এমন হলে পূর্ণাঙ্গ শক্তি নিয়ে তার জবাব দেয়া হবে। এর আগে শুক্রবার জিও নিউজকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ঘোষণা করেন, যদি সিন্ধু নদের ওপর কোনো রকম অবকাঠামো নির্মাণের চেষ্টা করে ভারত, তাহলে তা টার্গেট করবে ইসলামাবাদ। অর্থাৎ সিন্ধু নদে কোনো বাঁধ নির্মাণ করলে তাতে হামলা চালানো হবে।
পেহেলগাম ইস্যুতে লন্ডনের অল্ডউইচে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ করেছে পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ)-এর যুক্তরাজ্য শাখার নেতাকর্মীরা। সেখানে বিশাল সমাবেশ করেছেন তারা। সমবেত কয়েক হাজার মানুষ পাকিস্তানের পতাকা হাতে স্লোগান দিয়েছেন। বলেছেন, কাশ্মীর পাকিস্তানের। অনলাইন ডন বলছে, পেহেলগামে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভারত সরাসরি পাকিস্তানকে এ হামলার জন্য দায়ী করলেও, ইসলামাবাদ তা জোর দিয়ে অস্বীকার করেছে। তারা ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) ইউকে সভাপতি আহসান দার জনতার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দিয়ে বলেন, এই সাগরপারে থাকা পাকিস্তানিদের ঢল প্রমাণ করে আমরা আমাদের মাতৃভূমির জন্য কতোটা নিবেদিত! ভারত কোনো প্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তানকে দোষারোপ করেছে। এটি একটি সাজানো নাটক- একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশন। তিনি আরও বলেন, ২৫শে এপ্রিলেও আমরা ভারতের সমর্থকদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিলাম। এবারো পিটিআই, পিএমএল-এনসহ সব দল এক ছাতার নিচে। গোটা জাতি এক হয়েই রুখে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। এই বিশাল মিছিলের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ ছিল সর্বদা সতর্ক।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওয়ারেন বাফেট এক বিস্ময়
তার উত্তরাধিকার: বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে তার কোম্পানি। নেব্রাস্কাভিত্তিক এই কোম্পানিটির আছে বিভিন্ন হোল্ডিং, রয়েছে ডুরাসেল ব্যাটারি থেকে শুরু করে বীমাকারী গেইকো, রঙের ব্র্যান্ড থেকে শুরু করে হীরা পর্যন্ত। কোম্পানিটি কোকা-কোলা এবং শেভরনের মতো মার্কিন কর্পোরেট জায়ান্টগুলোতে সাবধানে অংশীদারিত্ব ধারণ করে। ওয়ারেন বাফেটের বয়স এখন ৯৪ বছর। কতো আর! বয়স তাকে আর সাপোর্ট দিচ্ছে না। তাই তিনি নিজের তৈরি কোম্পানি থেকে সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত। শনিবার ঘোষণা করেছেন, তিনি এ বছরের শেষে পদত্যাগ করার পরিকল্পনা করছেন। তার নির্বাচিত উত্তরসূরি গ্রেগ অ্যাবেলকে বার্কশায়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত করার সুপারিশ করবেন। ফোর্বস ম্যাগাজিনের রিয়েল-টাইম ধনীদের তালিকা অনুসারে, শনিবার পর্যন্ত বাফেটের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৬৮.২ বিলিয়ন ডলার- যা বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম সম্পদ। তবুও তিনি এখনো ওমাহার একটি শান্ত পাড়ায় একই বাড়িতে থাকেন। তিনি ১৯৫৮ সালে ৩১,৫০০ ডলারে কিনেছিলেন এই বাড়ি। তাকে আলিশান স্বপ্ন বিমোহিত করেনি। সেই বাড়িতেই পুরো জীবন কাটিয়ে দিলেন। চাইলে তিনি আকাশচুম্বী অথবা আরও বিলাসী কোনো বাসায় সময় কাটাতে পারতেন। কিন্তু তা করেননি। খাবারের বিষয়ে নিঃসন্দেহে তিনি খুবই বাছাই করে চলেন। সপ্তাহে অন্তত তিনবার ম্যাকডোনাল্ডস চিকেন ম্যাকনাগেটস, স্ন্যাকসের জন্য আলুর কুচি, ডেজার্টের জন্য আইসক্রিম এবং প্রতিদিন গড়ে পাঁচ ক্যান কোকা-কোলা পান করেন। তার শখের মধ্যে রয়েছে ব্রিজ এবং উকুলেলে বাজানো। ২০১৩ সালে সিবিএসকে বাফেট বলেছিলেন, আমার অভিনব পোশাকের দরকার নেই। আমার অভিনব খাবারের দরকার নেই। তবুও ২০০৬ সালে স্বীকার করেন তার একটি ব্যক্তিগত জেট ছিল। এই খাতে যে ব্যয় তা তার জীবনকে আরও সহজ করে তুলেছে।
দানশীলতা: একই বছর, বাফেট ঘোষণা করেন তিনি তার সম্পত্তির ৯৯ শতাংশ জনহিতকর কাজে দান করবেন। তার বন্ধু এবং অংশীদার বিল গেটসের সঙ্গে যোগ দিয়ে পরবর্তীতে অন্য বিলিয়নিয়ারদের তাদের সম্পদের অন্তত অর্ধেক দান করার প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি করান বাফেট। এই ধরনের প্রচারণা বাফেটকে মার্কিন সমাজের একজন প্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। এই ঘটনা প্রতি বসন্তে ওমাহায় বার্কশায়ারের বার্ষিক সভায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে সাহায্য করেছে। এই সমাবেশকে ‘উডস্টক ফর ক্যাপিটালিস্টস’ বলা হয়। বাফেট অতীতে ডেমোক্রেটিক পার্টিকে সমর্থন করার বিষয়ে খোলাখুলিভাবে কথা বলেছেন। প্রায়শই এই মতামত প্রকাশ করেছেন যে, তার সম্পদের কারণে তার কর আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল।
প্রাথমিক ব্যবসায়িক প্রবৃত্তি: তিন সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় হিসেবে ১৯৩০ সালের ৩০শে আগস্ট ওমাহায় জন্মগ্রহণকারী বাফেট ছোটবেলায় ‘ওয়ান থাউজেন্ড ওয়েজ টু মেক ১০০০ ডলার’ বইটি পড়ার পর ব্যবসার প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। বাফেটের শৈশব খুব একটা সহজ ছিল না। তিনি বর্ণনা করেছেন, দোকানপাট চুরির মধ্যদিয়ে যাচ্ছিল তার সময়। তার মা নির্যাতন করতেন। তবু তার সঙ্গে থাকতে হতো। বাফেট তার পড়াশোনা ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু তার পিতা ছিলেন একজন ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিবিদ। কংগ্রেসে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাফেটের পড়া ছেড়ে দেয়ার ধারণার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন তিনি। বাফেট নেব্রাস্কা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হওয়ার আগে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখানে তিনি ব্যবসায় ডিগ্রি অর্জন করেন।
পরে তিনি ১৯৫১ সালে নিউ ইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
বাফেট ১৯৫০-এর দশকে ওয়াল স্ট্রিটে কাজ করেছিলেন। বাফেট পার্টনারশিপ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন- যা ১৯৬৫ সালে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের সঙ্গে একীভূত হয়। এটা তখন ছিল একটি টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠান। তিনি বার্কশায়ারকে একটি সুদূরপ্রসারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। এই প্রতিষ্ঠান জ্বালানি, ব্যাংকিং, বিমান ভ্রমণ এবং খাদ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের জন্য পরিচিত। সিটি গ্রুপ, ক্রোগার, অ্যাপল এবং আমেরিকান এক্সপ্রেসের মতো প্রতিষ্ঠানের মালিকানাও এর মধ্যে রয়েছে।
৯০ এর দশকে সক্রিয়: ক্লাসিক ধূসর স্যুট, চশমা এবং রঙিন টাই পরা সাদা চুলের বাফেট তার ৯০-এর দশকেও মার্কিন ব্যবসায়িক দৃশ্যপটে একজন প্রাণবন্ত মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে তার ভাইস চেয়ারম্যান চার্লি মুঙ্গারের সঙ্গে বার্কশায়ার পরিচালনা করেছেন। তারপর ২০২১ সালে যখন বাফেট ৯০ বছর বয়সে পা রাখেন, তখন বার্কশায়ার আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাবেলকে তার উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করেন। সেই পরিকল্পনা এখন কার্যকর হতে চলেছে। বাফেট ১৯৫২ সালে তার প্রথম স্ত্রী সুসানকে বিয়ে করেন। তাদের তিনটি সন্তান হয়। তবে এই দম্পতি কয়েক দশক ধরে আলাদা বসবাস করেন। তবু ২০০৪ সালে সুসানের মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন।
পরবর্তীতে ২০০৬ সালে দীর্ঘদিনের সঙ্গী অ্যাস্ট্রিড মেনকসকে বিয়ে করেন বাফেট।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অনলাইন জুয়ার নেশায় সর্বস্বান্ত by ফাহিমা আক্তার সুমি
শুধু রবিউল নন, অনলাইন জুয়ার এই সাইটগুলোতে তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক থেকে শুরু করে অসংখ্য বেকার যুবকরা ঝুঁকে পড়েছেন। হকার, দোকানি, দিনমজুর, বাস-ট্রাকের চালক, নির্মাণশ্রমিক থেকে শুরু করে একেবারে নিম্ন আয়ের মানুষ বুঁদ হয়ে থাকছে এই নেশায়। অধিকাংশ সময় ব্যস্ত থাকে অনলাইনে বাজি ধরতে। জুয়ার টাকা যোগাতে কেউ কেউ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। অনেকে নিঃস্ব হয়ে গেছেন অনলাইন জুয়ার আসরে। আবার কোনো কোনো সংসারে ফাটল ধরছে জুয়ার এই ভয়াবহ আসক্তির ফলে। অনলাইনে জুয়ার চটকদার বিজ্ঞাপনের ফলে অধিক আয়ের আশায় ঝুঁকছে মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা করে জুয়া খেলতে আগ্রহ বাড়াচ্ছে। দিন দিন অনলাইন জুয়াড়ির সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
সম্প্রতি অনলাইন জুয়া বন্ধে সাত দপ্তরের সাত কর্মকর্তাকে নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, বিএফআইইউ ও পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এসব সদস্য নিতে হবে। ২৭শে এপ্রিল এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর আদালত এ আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট, লিংক ও গেটওয়েগুলো কারা কীভাবে চালায়, তা এ কমিটি চিহ্নিত করবে। কমিটি প্রয়োজনে আরও বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য কমিটি সময় পাবে ৯০ দিন। রিট আবেদন করেন তানজিম রাফিদ নামের এক ব্যক্তি।
এদিকে, গতকাল অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল প্রকার ইন্টারনেট গেটওয়ে, লিংক, অ্যাপ্লিকেশন এবং বিজ্ঞাপন ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন গুগল, ইয়াহু, ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, বিগোলাইভ, টিকটক, লাইকি, গুগল প্লে-স্টোরসহ সকল ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যম থেকে অপসারণের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে অনলাইন জুয়া বন্ধে এবং জড়িতদের কার্যক্রম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠনের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। বিচারপতি কাজী জিনাত হক এবং বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক মানবজমিনকে বলেন, কোন কোন জেলা বা গ্রামে অধিকাংশ মানুষ বিশেষ করে তরুণরা এই অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এই জুয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে। অর্থ লোভ, এটি তাদেরকে বুঝানো হয় যে এর সঙ্গে যুক্ত হলে সে যত টাকা দিয়ে অংশ নেবে তার চেয়ে বেশি টাকা সে পাবে। চটকদার লোভনীয় বিজ্ঞাপণের মাধ্যমে মানুষকে প্রলোভন দেখানো হয়। অনলাইন জুয়া যারা পরিচালনা করে তারা প্রথমদিকে যারা যুক্ত হয় তাদের প্রলোভন দিয়ে অর্থ ফাঁদের মধ্যে ফেলে দেয়। প্রথম দিকে তাকে কৌশলী হয়ে বেশি টাকা দিয়ে ফাঁদে ফেলে। যাতে পরবর্তীতে সে টাকা দিতে আগ্রহী থাকে। অনেকে আবার অবসর সময় কাটাতে এই জুয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়। পরিচালনাকারী চক্রের উদ্দেশ্য থাকে অর্থ হাতিয়ে নেয়া, মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করে নৈতিকভাবে অধঃপতনের দিকে নিয়ে যাওয়া।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মুক্তগণমাধ্যম দিবসে বক্তারা: স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে না
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বিশ্ব মুক্তগণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে সম্পাদক পরিষদ। সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্য রাখেন, সম্পাদক পরিষদের কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ইংরেজি দৈনিক নিউ এইজের সম্পাদক নূরুল কবীর, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি’র আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারে থাকি আর না থাকি, নির্দ্বিধায়, দৃঢ়চিত্তে, স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, আমরা বরাবরই সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। এ ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিতে পারি। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যে নির্যাতন নিপীড়ন হয়েছে এবং যে সমস্ত আইনকানুন দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল তার বিপক্ষে আমরা লড়াই করেছি। এখনো করছি এবং ভবিষ্যতেও করবো। আমরা কখনো অন্যায়ভাবে অন্যের মতকে চাপিয়ে দেয়া সমর্থন করবো না। আরেকজনের মতের স্বাধীনতাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন দেবো। সেটাতে আমাদের বিশ্বাস থাকুক, আর নাই থাকুক। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আমাদের অন্যতম বিষয়। যেটি আমরা আমাদের ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচিতেও রেখেছি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিএনপিই সর্বপ্রথম কাজ করেছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমার দলই তো প্রথম, যারা সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে ওপেন করেছিল ১৯৭৫ সালে। তার আগে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশালের সময় চারটি ছাড়া সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সব সংবাদপত্রকে স্বাধীন করেছিলেন। তিনি বলেন, আমরা বলছি না যে, আমরা ধোয়া তুলসিপাতা। কিন্তু এ কথা নিশ্চয় বলতে পারি নিঃসন্দেহে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য অনেক বেশি কাজ করেছে বিএনপি। আমাদের সময় সংবাদপত্র ও সংবাদকর্মীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন তুলনামূলকভাবে অনেক কম ছিল। আমরা এখনো পর্যন্ত বিশ্বাস করি।
মির্জা ফখরুল বলেন, কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম বলছে, তারা যা বলছে তা ঠিক অন্যেরা ভুল। তা না হলে সে ফ্যাসিস্ট, ভারত ও আওয়ামী লীগের দোসর। এটা ঠিক না। আমি আগেও বলেছি যে, এতটুকু কথা কেটে প্রচার করে দেয় যে, আমি ভারতীয় দোসর। এটা যেন না হয় সে জন্য আমাদের সজাগ হওয়া উচিত। বিশেষ করে আমরা যারা বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই তাদের দায়িত্বটা অনেক বেশি। তরুণদেরও এটা মাথায় রাখতে হবে। তা না হলে হাজার হাজার তরুণের রক্ত এবং ১৫ বছর ৬০ লাখ মানুষের লড়াই ম্লান হয়ে যাবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, আমাদের উপলব্ধি করতে হবে- গণমাধ্যম জনগণের সেবায় নিয়োজিত। দেশপ্রেমিক, সমাজকে উন্নত করতে চাই, বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করি, মত প্রকাশে বিশ্বাস করি এবং আমাদের সমস্ত কাজ সমাজকে এগিয়ে নেয়ার জন্য। আমাদের গণমাধ্যম মুক্ত না। শেখ হাসিনা রিজিম জনধিকৃত হয়েছিলেন তার অন্যতম কারণ ছিল গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছিল না। আমরা ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ অনেক আইনে ভিকটিম হয়েছিলাম। তবে এখনকার যে ব্যাপারটা সতিকারার্থে আমি উদ্বেগ প্রকাশ করছি। বর্তমানে ২৬৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা অথবা ভায়োলেন্ট মামলা চলছে। এটা কীভাবে সম্ভব? তিনি বলেন, এটা সাংবাদিকতা এবং আমাদের অসম্মানের কারণ। এটার অর্থ এই নয় যে কেউ দোষ করেনি। দোষ করে থাকলে সঠিকভাবে মামলা করে তাকে শাস্তি দেন। আমরা কেউই তার পাশে দাঁড়াবো না। ৬ থেকে ৭ মাস হয়ে গেছে তারা এই মামলায় পড়েছেন। এক কদমও এগোয় নাই ইনভেস্টিগেশনের ব্যাপারে। এই মুহূর্তে ১৩ জন সাংবাদিক জেলে আছেন। আমি আবার বলি তারা যদি অপরাধ করে থাকেন অবশ্যই তার বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু ৭-৮ মাস তারা জেলে কোনো বেইল (জামিন) পাচ্ছেন না। তাদের কোনো আইনি প্রক্রিয়া চলছে না, বিচার হচ্ছে না। তাহলে এইটা কি চলতে থাকবে?
আলোচনা সভায় দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, যে দেশে প্রশ্ন করার জন্য সাংবাদিকের চাকরি যায়, সেই দেশে মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালন করছি। খুব অবাক লাগে, আমি বিস্মিত হই। জানি না আমি কাকে দায়ী করবো। আমি কি সরকারকে দায়ী করবো, না মালিককে দায়ী করবো। না সাংবাদিক ইউনিয়ন কী করেছে সে প্রশ্ন রাখবো। আমি মনে করি আমরা সম্পাদক পরিষদও ব্যর্থ হয়েছি। যাই হোক আত্মসমালোচনা দরকার যে, আমরা কতোটুকু করতে পেরেছি। স্বীকার করতেই হবে যে, পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে অনেকখানি। এক বছর আগে যে অবস্থা ছিল, সেই অবস্থা এখন আর নেই। অনেকখানি পাল্টেছে। তবে আমরা হতাশ হচ্ছি বেশ কিছু অ্যাকশনের কারণে। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ভেতরে যে অনৈক্য, বিভাজন সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে। আমি আশা করবো- পত্রিকায় পত্রিকায়, ইদানীং আবার টেলিভিশনে টেলিভিশনে যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে, এটা অবিলম্বে বন্ধ হবে। তা না হলে আমরা যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে গণমাধ্যমে কাজ করছি, সেটা ব্যাহত হবে। বিচ্যুত হবো সেই উদ্দেশ্য থেকে। মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র হবে না- এটা পরিষ্কার। গণমাধ্যমকে স্বাধীনতা দিতে হবে, আমাদের কথা বলতে দিতে হবে, লিখতে দিতে হবে। আবার এটাও বলতে হবে, আমরা হঠকারিতা চাই না।
নিউএজ-এর সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, যখন সারা দুনিয়ায় প্রতি বছর একবার করে মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালন করা হয় তার মধ্যদিয়ে প্রমাণিত হয় সারা পৃথিবীতে গণমাধ্যম নানা প্রতিকূলতার মধ্যে কাজ করে। বাংলাদেশে আজকে আমরা মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালন করছি। ঠিক এক বছর আগেও এইদিনে আমরা এই দিবসটি পালন করেছিলাম। কিন্তু এই দুটি দিবসের মধ্যে অনেক অনেক পার্থক্য সূচিত হয়েছে। পার্থক্য সূচিত হওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। সেটা আমরা ইতিবাচকভাবে নিয়ে যেতে পারি এটা শুধু গণমাধ্যমকর্মীদের ওপরই নির্ভর করে না। সেটা নির্ভর করে প্রধানত যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, আইন প্রণয়ন করেন। বাংলাদেশ মুক্তগণমাধ্যমের তালিকায় সারা বিশ্বের কয়েকশ’ দেশের নিচে অবস্থান করছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের পরিচালকবৃন্দ আইনকানুনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে খর্ব করে। তার জন্য রাজনীতিকরা প্রধান দায়ী।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জুলাই-আগস্টের পরিবর্তনের পর প্রায় সকল বিষয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করে যেভাবে এগোবার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটা মহত্ত্ব চেষ্টা। গণমাধ্যম আসলে কতোটা মুক্ত বা মুক্ত হতে পারে। গত ৫৩-৫৪ বছরের মধ্যে বর্তমানে যে সরকার ক্ষমতায় আছে এর মতো উদার দৃষ্টিভঙ্গি সরকার আসেনি। আগামীতে আসবে কিনা জানি না। যারাই ক্ষমতায় যাবেন তারা এই নীতিটাকে কীভাবে প্রণয়ন করবেন, কী করে বাস্তবায়ন করবেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যত মামলা হয়েছিল সে মামলাগুলোর অনেকগুলো এখনো রয়ে গেছে। এটা ড. ইউনূসের মতো মানুষ যিনি বলেন ‘আপনারা প্রাণ ভরে সমালোচনা করেন, আমারও সমালোচনা করতে পারেন।’ উনি মামলাগুলো তুললো না কেন? আপনি যদি অবাধ, মুক্ত সাংবাদিকতা চান কোনো ব্যাপারে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কার্যকর প্রতিষ্ঠা করার কিংবা যারা গণতন্ত্রের পক্ষে তাদের অঙ্গীকার রাখতে চাই। আমাদের দলের পক্ষ থেকে সংগ্রাম, অঙ্গীকার আছে যে, আমাদের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য আমরা আমাদের সর্বোচ্চ লড়াইটা করবো। রাষ্ট্রের এমন কোনো আইন থাকা চলবে না, যাতে সরকার গণমাধ্যমের গলা টিপে ধরতে পারে। তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি চাইলেন আর অনেকগুলো গণমাধ্যম খুলে ফেললেন, এ জায়গাটা বন্ধ হওয়া দরকার। গণমাধ্যমের মালিকানার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকার দরকার। যাতে সেখানে কোনো একচেটিয়া স্বার্থ কায়েম না হয় এবং একচেটিয়া স্বার্থের সেবক হিসেবেও গণমাধ্যম না দাঁড়ায়। এটা সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি’র আহ্বায়ক ও সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার গত ১৬ বছর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর যে দলীয়করণ নীতি চালিয়েছে, গণমাধ্যমও তার বাইরে ছিল না। সুতরাং গণমাধ্যমকে এই ফ্যাসিজমের ভেতর থেকে বের করে আনতে আমাদের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রয়োজন। কারণ বিগত সময়ে মিডিয়া ও ফ্যাসিজমের যে সম্পর্ক ছিল, সে আধিপত্য থেকে যদি মিডিয়া বের না হয়, তাহলে জুলাই পরবর্তী যে মুক্তগণমাধ্যমের চিন্তা আমরা করছি, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দেরি হচ্ছে। এই সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত। তাহলেই আমরা বলতে পারবো জুলাই পরবর্তী যে গণমাধ্যম আমরা চেয়েছিলাম, তা দৃশ্যমান হচ্ছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, গণমাধ্যমের মালিকানার বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট হওয়া উচিত বলে মনে করি। কারণ অনেক করপোরেট মালিক বা একটি গোষ্ঠী গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে। ফলে তাতে গণমানুষের কথা না উঠে বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ধারণ করে। তাই করপোরেট মালিকানায় কতোগুলো গণমাধ্যম থাকতে পারবে, তা নিয়ে আমাদের সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আর নেই
এক যুগ আগে চলে গিয়েছিলেন লন্ডনে। গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দেশে ফিরে আইন অঙ্গন থেকেই রাষ্ট্র বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এ যাত্রা আর দীর্ঘ হলো না তার। প্রথিতযশা এ আইনজীবী গতকাল ধানমণ্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাদ এশা ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদে প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। আজ সকাল ১১টায় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তার জুনিয়র আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির।
জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। শোকবার্তায় প্রধান বিচারপতি মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক আলোচিত একুশে টিভি মামলা, ইত্তেফাকের মামলা, অধ্যাপক গোলাম আযমের নাগরিকত্ব মামলা, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সংসদ সদস্যপদ সংক্রান্ত মামলা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ নিয়ে মামলা ও ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া আবদুল কাদের মোল্লা, অধ্যাপক গোলাম আযম ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনা করেন। তিনি বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেলের উপদেষ্টাও ছিলেন। রয়েছে তার বিভিন্ন প্রকাশনা।
দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০২৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরেন ব্যারিস্টার রাজ্জাক। এরপর সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় নিয়মিত হন। শেখ হাসিনার শাসনামলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক জামায়াত নেতাদের প্রধান আইনজীবী ছিলেন। ২০১৩ সালে জামায়াতের তৎকালীন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি হয়। একই বছরের ১৭ই ডিসেম্বর ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ইংল্যান্ডে চলে যান। যুক্তরাজ্যে থাকা অবস্থায় তিনি ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি দল থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর তিনি নতুন দল আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রধান উপদেষ্টা হন। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ১৭ই আগস্ট সেই পদ থেকেও পদত্যাগ করেন। ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ১৯৮৬ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। দলটির সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলও ছিলেন। ১৯৪৪ সালে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়নের শেখলাল গ্রামে তার জন্ম। বিএ (অনার্স) ও এমএ ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮০ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিনি লন্ডনেই আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। দেশে ফিরে ১৯৮৬ সালে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৮৮ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ১৯৯৪ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৯০ সালে তিনি দ্য ল’ কাউন্সেল নামে একটি আইনি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০২ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র আইনজীবী হন। ব্যারিস্টার রাজ্জাকের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দুই ছেলে ব্যারিস্টার এবং সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাশিয়ার পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন পুতিন
বর্তমানে পুতিনের বয়স ৭২ বছর। রাশিয়ার পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে তিনি কি ভাবছেন এমন প্রশ্নের জবাবে পুতিন বলেছেন, আমি প্রতিনিয়ত এ নিয়ে চিন্তা করি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে তার। এ উপলক্ষে ‘রাশিয়া, ক্রেমলিন, পুতিন, ২৫ বছর’ শিরোনামে এক ডকুমেন্টারিতে কথা বলেছেন তিনি। বলেছেন, শেষমেশ এই বিষয়টি জনগণের, রুশ জনগণের। এক্ষেত্রে বেশ কয়েকজন প্রতিদ্বন্দ্বী থাকা উচিত। জনগণের যেন পছন্দ করার সুযোগ থাকে। তবে তার উত্তরাধিকার কে হবেন এ নিয়ে কিছুই বলেননি তিনি। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট যদি তার দায়িত্বপালনে অক্ষম হন, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রেসিডেন্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন প্রধানমন্ত্রী।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওয়াসিম আকরামের কোকেন আসক্তি ও প্রথম স্ত্রী’র হারিয়ে যাওয়ার গল্প
খেলোয়াড়ি জীবনের পর ভয়াবহ মাদকদ্রব্য কোকেনের নেশায় জড়িয়ে যান ওয়াসিম আকরাম। এসবের শুরুটা হয়েছিল ইংল্যান্ডের এক পার্টিতে। সেবারই প্রথম, তবে অল্প অল্প করে আসক্তি বাড়তে থাকে। এক সময় ব্যাপারটা এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায় যে তার স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার জন্যও এটির দরকার পড়তো বলে মনে করতেন তিনি। আকরাম যখন পুরোপুরিভাবে কোকেনের ওপর নির্ভরশীল, তখন হুমা মুফতি (প্রয়াত স্ত্রী) ম্যানচেস্টার ও লাহোরে প্রায়শই একা থাকতেন। হুমার ক্রিকেট নিয়ে বা মাঠের বাইরের খ্যাতি নিয়ে কখনোই আগ্রহ ছিল না। আকরামের সন্দেহ হতো, স্বামীর ওপর ক্রিকেটের প্রভাব দেখেই হয়তো তাদের দুই সন্তান তাহমুর ও আকবরকে সবসময় খেলা থেকে দূরে রাখতেন হুমা।
একপর্যায়ে আকরামকে ধরে ফেলেন হুমা, স্বামীর ওয়ালেটে থাকা কোকেনের একটি প্যাকেট খুঁজে পান তিনি। সে সময় হুমা বলেন, ‘আমি জানি তুমি মাদক নিচ্ছো, তোমার সাহায্যের দরকার।’ খোদ আকরামও রাজি ছিলেন, কেননা কোকেনের পরিমাণ বাড়তে বাড়তে ততদিনে দুই গ্রামে পৌঁছে গিয়েছিল। তখন একটি পুনর্বাসন প্রোগ্রামে ভর্তি হতে রাজি হন আকরাম। তবে লাহোরের সেই রিহ্যাবটি খুব একটা জাতের ছিল না। ডাক্তারাও খুব সুবিধার ছিল না। প্রতি সপ্তাহে চার্জ করা হতো প্রায় ২ লাখ রুপি। সেখানে এক মাস থাকাকালীন স্ত্রী-সন্তানদের একবারের জন্যও দেখতে পাননি আকরাম। একপর্যায়ে তারা দেখা করতে এলে রাগের সুরেই সেখান থেকে বের হওয়ার কথা জানান তিনি। তবে ডাক্তার নিজের খেলাটা খেলেন, হুমাকে বলেন, ‘আমি তো আগেই বলেছিলাম যে, সে এমনই করবে।’ এর আরও সাত সপ্তাহ পর যখন হুমা বুঝতে পারলেন যে, আকরামই ঠিক ছিলেন- তখন বের করে নিয়ে আসেন তার স্বামীকে। একপর্যায়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের পক্ষ থেকে আকর্ষণীয় এক চাকরির প্রস্তাব পান আকরাম। তবে তখনো কোকেনের মোহ থেকে সম্পূর্ণভাবে বের হতে পারেননি তিনি। একপর্যায়ে বিবাহবিচ্ছেদের কথাও ভাবেন। শেষমেশ ২০০৯-এ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে গিয়ে হুমার নজরদারির বাইরে গিয়ে ফের কোকেন নেয়া শুরু করেন আকরাম। অন্যদিকে তাকে ভালো করে তুলতে গিয়ে একপর্যায়ে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েন হুমা। সংক্রামক এন্ডোকার্ডাইটিসে আক্রান্ত হয়ে ইহলোক ত্যাগ করেন তিনি। এর কয়েক বছর পর দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন ওয়াসিম আকরাম। অস্ট্রেলিয়ার শানিয়ারা থম্পসনের সেই ঘরে একটি কন্যাসন্তানও আছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অতীতের মতো এবার কি যুদ্ধপরিস্থিতি থেকে পেছাতে পারবে ভারত–পাকিস্তান
একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল ২০১৬ সালে, উরিতে ১৯ ভারতীয় সেনাকে হত্যার পর। সেবার কাশ্মীরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অবস্থিত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর (এলওসি) জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালিয়েছিল ভারত।
এরপর ২০১৯ সালে পুলওয়ামায় বোমা হামলায় ৪০ জন ভারতীয় আধাসামরিক সেনা নিহত হওয়ার পর আবারও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেবার পাকিস্তানের বালাকোটে বিমান হামলা চালিয়েছিল ভারত। ১৯৭১ সালের পর সেটাই ছিল পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ভারতের প্রথম বিমান হামলার ঘটনা। এর ফলে দুই দেশের প্রতিশোধমূলক অভিযান ও আকাশপথে লড়াই হয়েছিল।
এসব ঘটনারও আগে ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলা—সেবার জঙ্গিরা ভারতের একাধিক হোটেল, একটি রেলওয়ে স্টেশন এবং ইহুদিদের একটি সেন্টার প্রায় ৬০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। ভারতে ওই হামলায় ১৬৬ জন নিহত হন।
এ সব ঘটনায় ভারত প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে অভিযোগ তুলে বলেছে, ইসলামাবাদ কৌশলে এসব হামলায় মদদ দিয়েছে। পাকিস্তান সব সময় ভারতের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে গেছে।
২০১৬ সাল থেকে, বিশেষ করে ২০১৯ সালের পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা নাটকীয়ভাবে বাড়তে থাকে। ভারত এখন তাদের সীমান্তে গোলাগুলি এবং আকাশ হামলার নতুন নাম দিয়েছে। ভারত এখন দাবি করে থাকে, পাকিস্তান থেকে উসকানির জবাব দিতে তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এটি ইতিমধ্যেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তোলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলার পর ভারতকে আবার উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং সংযম প্রদর্শনের সংবেদনশীল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। দেশটিকে পাল্টা জবাব দেওয়া ও প্রতিরোধের মধ্যে ভঙ্গুর এক ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার অজয় বিবিসিকে বলেছেন, ‘পুলওয়ামা বোমা হামলার পরের পরিস্থিতি এবং পেহেলগামে হত্যাকাণ্ডের পরের পরিস্থিতির মধ্যে দারুণ মিল রয়েছে।’
তবে এবারের হামলায় একটি বিষয় উল্লেখ করার মতো বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, পুলওয়ামা বা উরিতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল, এবারের হামলার শিকার হয়েছেন বেসামরিক লোকজন, যাঁরা ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক হিসেবে কাশ্মীর গিয়েছিলেন।
অজয় বিসারিয়া বলেন, ‘এবার পুলওয়ামার মতো হামলা হলেও এর সঙ্গে মুম্বাইয়ের ঘটনার অনেক মিল। এবং আমরা আরও একবার যুদ্ধপরিস্থিতির মধ্যে আছি।’
পেহেলগামে হামলার এক সপ্তাহ পর, দিল্লি দ্রুত প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে: মূল সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে, সিন্ধু পানি বণ্টনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্থগিত করেছে, কূটনীতিকদের বরখাস্ত করেছে, পাকিস্তানের নাগরিকদের দেওয়া অধিকাংশ ভিসা বাতিল করে তাদের ভারত ছেড়ে যাওয়ার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে। পাকিস্তানের সব ধরনের উড়োজাহাজের জন্য ভারতের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ভারতের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়াসহ পাকিস্তানও পাল্টা কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া কয়েক দিন ধরে সীমান্তে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গোলাগুলি চলছে।
২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় হামলার পরের পরিস্থিতির কথা এখনো স্পষ্ট মনে আছে অজয় বিসারিয়ার। তিনি বলেন, পরদিনই তাঁকে দিল্লি ডেকে পাঠানো হয়। ভারত সরকার দ্রুত পাকিস্তানের বাণিজ্য স্থগিত করে। পুলওয়ামা হামলার পর পাকিস্তানকে দেওয়া সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের (এমএফএন) মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেয় ভারত, ১৯৯৬ সালে ওই মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয় এবং ওয়াঘা স্থল সীমান্ত দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরের কয়েক দিনে ভারত আরও বেশ কিছু প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল।
এ বিষয়ে অজয় লিখেছেন, ‘আমার সে সময়ে মনে হয়েছিল, আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলা কতটা কঠিন, আর এটা ভেঙে ফেলা কতটা সহজ।’
এবারের মতো সেবারও হামলার পর কাশ্মীরে অভিযান চালায় ভারতীয় সেনারা, গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ৮০ জনের বেশি মানুষকে।
২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিমানবাহিনী পাকিস্তানের বালাকোটে হামলা চালায়। ১৯৭১ সালের পর সেটাই ছিল আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের প্রথম বিমান হামলা। হামলার ছয় ঘণ্টা পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বালাকোটে হামলায় বহু জঙ্গি এবং কমান্ডার নিহত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। যদিও পাকিস্তান ভারতের ওই দাবি অস্বীকার করে।
পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়।
আকাশপথে লড়াই যখন অবশ্যম্ভাবী ঠিক, সে সময়ে ভারতের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান বিধ্বস্ত উড়োজাহাজ থেকে বের হয়ে পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গিয়ে পড়েন। পাকিস্তানের সেনাদের হাতে আটক হন অভিনন্দন।
২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতীয় পাইলট অভিনন্দনকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দেন। ১ মার্চ অভিনন্দনকে যুদ্ধ বন্দিবিনিময় প্রটোকলে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পাকিস্তান ভারতীয় পাইলট অভিনন্দনকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিকে যুদ্ধপরিস্থিতি প্রশমনের জন্য একটি ‘শুভেচ্ছা বার্তা’ হিসেবে উপস্থাপন করে। এ ঘটনায় ভারতের রাজনীতির মাঠেও উত্তেজনার পারদ নেমে আসে। ৫ মার্চ ভারত পাকিস্তানে আবার তাদের হাইকমিশনারকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানায়।
অজয় লেখেন, ‘আমি ১০ মার্চ ইসলামাবাদে ফিরে যাই, পুলওয়ামায় (হামলার) ঘটনার জেরে ছেড়ে যাওয়ার ২২ দিন পর। কারগিলের ঘটনার পর সবচেয়ে গুরুতর সামরিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এক মাসের কম সময়ে স্বাভাবিক হয়ে আসে।’
সাবেক এই ভারতীয় কূটনীতিক মনে করেন, এর মাধ্যমে ভারত আবারও ঐতিহ্যগত কূটনীতিকে একটি সুযোগ দিতে রাজি হয়েছিল...তা–ও এমন সময়ে, যখন ভারত তার কৌশলগত ও সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং পাকিস্তান তাদের অভ্যন্তরীণ জনমনে একধরনের বিজয়ের ধারণা প্রচার করতে পেরেছে।
আবারও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং এই সময়টিকে কূটনীতিকদের জন্য ‘পরীক্ষার এবং চটুল সময়’ বলে বর্ণনা করেছেন অজয়। তিনি বলেছেন, তবে এবার একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো—পেহেলগামে হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ভারতীয় বেসামরিক নাগরিকেরা। আর হতবাক করা ব্যাপার হলো, এটি এমন একসময়ে ঘটল যখন কাশ্মীরে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে উন্নতি হয়েছিল।
তাই এবারের যুদ্ধপরিস্থিতি তাঁর কাছে অনিবার্য মনে হচ্ছে। তবে অজয় এটাও উল্লেখ করেছেন, উভয় দেশের নীতিনির্ধারকদের কাছে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণের পাশাপাশি তা প্রশমনের কারণও আছে।
অজয় বলেন, এ ধরনের সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যখন ভারতের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভার কমিটি (সিসিএস) বৈঠকে বসে, তখন তাঁরা সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় নেন এবং এমন পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেন, যা পাকিস্তানের ক্ষতি করবে। কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া উসকে দেবে না।
অজয় বলেন, ‘শরীরী ভাষা ও দৃশ্যপট অনেকটাই আগের মতো হলেও, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি হলো—ভারতের সিন্ধু পানি চুক্তি বাতিলের হুমকি। ভারত যদি এটি বাস্তবায়ন করে, তাহলে পাকিস্তানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর পরিণতি বয়ে আনবে।’
সাবেক এই কূটনীতিক আরও বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, আমরা এখনো একটি সংকটের মধ্যেই আছি। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ দেখা যায়নি।’
![]() |
| ২০০৮ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে জঙ্গি হামলায় দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হন। ফাইল ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পকে চোখ নামাতে বাধ্য করার সহজ পথ by পল দো গ্রাউয়ে
প্রথম যে বিষয়টা বোঝা গেছে, তা হলো, আমেরিকার অর্থনীতি যতটা শক্তিশালী বলে মনে হয়, বাস্তবে তা ততটা নয়। কারণ, বাস্তব খাত (যেমন উৎপাদন ও বাণিজ্য) আর আর্থিক খাত (যেমন শেয়ারবাজার, বন্ডবাজার) একে অপরের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। বাণিজ্য ও উৎপাদনের ভবিষ্যৎ সংকট নিয়ে যখন ভয় ছড়ায়, তখন তা শেয়ারবাজার, বন্ডবাজার ও মুদ্রাবাজারে চোখের নিমেষে ছড়িয়ে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার প্রধান দুর্বলতা হলো যখন শেয়ারবাজারে বড় ধস নামে, তখন উচ্চ পরিমাণে ঋণ নেওয়া ও প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন হেজ ফান্ডগুলো টিকতে না পেরে হঠাৎ করে নগদ অর্থ জোগাড়ের জন্য সরকারি বন্ডসহ নানা সম্পদ বিক্রি করে দেয়। এ কারণে বাজারে ব্যাপক আতঙ্ক ও অস্থিরতা দেখা দেয়। এই হঠাৎ অস্থিরতার সম্ভাবনাই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে অন্য অনেক দেশের তুলনায় বেশি দুর্বল করে তোলে। দ্বিতীয় যে শিক্ষা আমরা পেয়েছি, তা হলো ট্রাম্প যতই দাম্ভিক ও হুমকির ভঙ্গিতে কথা বলুন না কেন, বাস্তবে তিনি ভেতরে-ভেতরে দুর্বল। যখন তাঁর আরোপিত শুল্ক তাঁর ধনী বন্ধুদের ব্যবসায়িক স্বার্থে আঘাত হানে, তখন তিনি পিছু হটেন।
এখন প্রশ্ন হলো, অন্যান্য দেশ কীভাবে এই দুই দুর্বলতাকে কাজে লাগাতে পারে?
এ প্রশ্নের জবাব নিশ্চয়ই ওয়াশিংটনে গিয়ে ট্রাম্পের সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়ানোর মধ্যে (যেমনটা ইতিমধ্যে প্রায় ৭৫টি দেশের প্রতিনিধিরা করেছেন বলে জানা গেছে) নেই। এটি শুধু যে মর্যাদাহানিকর তা-ই নয়; বরং তা একেবারেই কোনো কাজে আসবে না। কারণ, এতে ট্রাম্প নিজের ক্ষমতা আরও বেশি করে অনুভব করেন এবং এক দেশের বিরুদ্ধে আরেক দেশকে লাগিয়ে খেলা দেখানোর সুযোগ পান।
আরও খারাপ বিষয় হলো, ট্রাম্প যদি কোনো দেশের দুর্বলতা টের পান, তাহলে তিনি সেই দেশের ওপর আরও কঠিন শর্ত চাপিয়ে দেন। তাঁর সঙ্গে করা চুক্তিগুলো যে কার্যকর হবে, তা নিয়েও সন্দেহ থাকে। কারণ, তিনি নিজে প্রায়ই এসব চুক্তিকে পাত্তা দেন না। সেই অর্থে এসব চুক্তি আসলে কাগজের ওপর সইস্বাক্ষর ছাড়া আর কিছু নয়। আরও সহজ করে বললে ট্রাম্পকে মোকাবিলা করতে হলে মাথা নিচু করে যাওয়ার কোনো মানে হয় না; বরং তাঁর দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে আঘাত করলেই ফল পাওয়া যাবে।
ট্রাম্পকে মোকাবিলার অনেক ভালো কৌশল হলো, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করা। এতে আমেরিকার প্রকৃত দুর্বলতা প্রকাশ পাবে, ট্রাম্পের ধনী বন্ধুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়বে এবং শেষমেশ ট্রাম্পকে তা আবারও পিছু হটতে বাধ্য করবে।
যদি অন্যান্য দেশ কোনো ধরনের আলোচনায় না যায় এবং ট্রাম্পের শুল্কনীতির জবাবে সমান মাত্রায় পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, তাহলে ট্রাম্পের ওপর এই চাপ প্রয়োগ করা সম্ভব। যদি অনেক দেশ একসঙ্গে এই কৌশল নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র একা হয়ে যাবে। মনে রাখতে হবে, বিশ্ববাণিজ্যের মাত্র ১৫ শতাংশের অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র। বাকি ৮৫ শতাংশ যেসব দেশ, তারা যদি একজোট হয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়, তাহলে তাদেরই লাভ হবে।
তবে কিছু অর্থনীতিবিদ পাল্টা শুল্ক আরোপের যুক্তির বিরোধিতা করেন। মুক্তবাণিজ্যের প্রচলিত মত হলো, যে দেশ শুল্ক আরোপ করে, সে দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই অন্য দেশগুলোর একই পথে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত হবে না। কিন্তু এই যুক্তি রাজনৈতিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় নেয় না। বাস্তবতা হলো, যখন অন্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক বসায়, তখন তারা আমেরিকার রপ্তানি খাতে চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে আমেরিকার ভেতরে এমন এক চাপগোষ্ঠী তৈরি হবে, যারা ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ বন্ধের দাবি তুলবে।
যদি দেশগুলো একসঙ্গে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব রপ্তানিনির্ভর খাত (বিশেষত হাইটেক ও ডিজিটাল পরিষেবা খাত) কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোর ওপর সর্বোচ্চ চাপ তৈরি করা সম্ভব। এতে ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে আমেরিকার অভ্যন্তরে সফল বিরোধিতার সম্ভাবনা বাড়বে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন ও বাণিজ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি হবে, যা আবারও আর্থিক বাজারকে নাড়া দেবে। এটিই আগেরবার ট্রাম্পকে পিছু হটতে বাধ্য করেছিল।
তবে যুক্তিপূর্ণ নীতি নির্ধারণ করা যত সহজ, সেটি বাস্তবে সংগঠিত করা তত সহজ নয়। এখানে একটি ক্ল্যাসিক ‘সমষ্টিগত কর্মের সমস্যা’ দেখা দেয়। খুব কম দেশই এগিয়ে এসে ঝুঁকি নিতে চায়; কারণ, এতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের রোষানলে পড়তে পারে। কিন্তু যদি অনেক দেশ একত্র হয়, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে প্রত্যেককে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা আর থাকবে না। কারণ, পুরো বিশ্বকে একসঙ্গে শাস্তি দিতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রেরই বিপুল ক্ষতি হবে।
উল্টোটা যদি হয়, অর্থাৎ অন্য দেশগুলো যদি সহযোগিতা না করে, তাহলে ধরে নিতে হবে তারা কার্যত নিজেদের পিঠে মারার জন্য ট্রাম্পের হাতে লাঠি তুলে দিচ্ছে। প্রশ্ন হলো, বিশ্ববাণিজ্যের মাত্র ১৫ শতাংশ যাঁর দখলে, তিনি কীভাবে বাকি ৮৫ শতাংশকে জিম্মি করে ফেলেন?
এই সমষ্টিগত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজন রাজনৈতিক নেতৃত্ব। চীন ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক বসিয়ে পথ দেখিয়েছে। যদি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এতে যোগ দেয়, তাহলে দুটি বড় শক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে প্রকটভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে এবং অন্য দেশগুলোও এই জোটে যোগ দেওয়ার উৎসাহ পাবে। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসন আরও একঘরে হবে, আমেরিকার অর্থনীতিতে বড় আঘাত আসবে, অথচ বিশ্বের অন্য দেশগুলো কম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তখন আবার ট্রাম্প চোখ নামিয়ে ফেলতে বাধ্য হবেন।
● পল দো গ্রাউয়ে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের ইউরোপিয়ান পলিটিক্যাল ইকোনমির চেয়ারপ্রফেসর
স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
![]() |
| জেলেনস্কিকে চাপ দিয়ে ট্রাম্প খনিজ চুক্তি করতে বাধ্য করেছেন। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘আমরা পরোয়া করি না’: নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সাড়ম্বর বিয়ে
বিয়ের পিঁড়িতে বসা রাবেয়া মাথার ওপর দিয়ে চোখ পর্যন্ত একটি ঝলমলে লাল দোপাট্টা টেনে দিয়েছেন। ফুলের মালা দিয়ে সাজানো পালকিতে বসা ১৮ বছর বয়সী এই কনে এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের শৈশবেও পরিস্থিতি এমনই ছিল। কিন্তু আমরা ভয় পাই না। ভবিষ্যতেও ভয় পাব না।’
হাতে সোনালি কাঁকন, মাথায় গয়না ও সোনালি রঙের সাজে উজ্জ্বল এই কনে বলেন, ‘আমরা শান্তি চাই, যাতে করে আমাদের জীবন আক্রান্ত না হয়।’
স্থানীয় রীতি অনুসারে একটি মোরগ বলিদানের মাধ্যমে শুরু হয় বিয়ের অনুষ্ঠান। বর চৌধুরী জুনায়েদও লাল-সোনালি পাগড়ি ও জমকালো শেরওয়ানিতে সজ্জিত হয়েছেন। তিনিও সব আশঙ্কা উপেক্ষা করে বিয়ে করার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
পেশায় রাঁধুনি ২৩ বছর বয়সী জুনায়েদ বলেন, ‘মানুষ উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত। তবু আমরা [বিয়ের] ঐতিহ্যবাহী কোনো অনুষ্ঠান বাতিল করিনি।’
উত্তেজনা বাড়ছে
গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাঁদের প্রায় সবাই পর্যটক। নয়াদিল্লির দাবি, এই হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কিন্তু ইসলামাবাদ তা নাকচ করেছে। এর পর থেকে উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এরই মধ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীকে ‘অভিযান পরিচালনার পূর্ণ স্বাধীনতা’ দিয়েছেন, যেন তারা পেহেলগাম হামলার জবাব দিতে পারে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরসহ দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা বলেছেন, ভারত হামলা চালালে তাৎক্ষণিকভাবে শক্ত জবাব দেওয়া হবে। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদ শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, ভারত শিগগির পাকিস্তানে হামলা চালাতে পারে বলে তাঁদের হাতে ‘বিশ্বাসযোগ্য তথ্য’ রয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর পাল্টাপাল্টি গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে। গত শনিবার একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তান। এর মাধ্যমে দেশটি নিজেদের ‘অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি’র জানান দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো উত্তেজনা কমাতে পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে, পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মাঠে জরুরি প্রশিক্ষণ চালানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের খাদ্য ও ওষুধ সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে এবং ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) বন্ধ রাখা হয়েছে।
ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ধরতে ব্যাপক অভিযান চলছে। সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের অনেকে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন অথবা সংঘর্ষের আশঙ্কায় তাঁরা বাংকার পরিষ্কার করছেন।
‘আমরা শান্তি চাই’
ভারত ও পাকিস্তান কাশ্মীরের কিছু কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু উভয় দেশ পুরো কাশ্মীর নিজেদের বলে দাবি করে। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর থেকে হিমালয় অঞ্চলের এই ভূখণ্ডকে কেন্দ্র করে দুই দেশ কয়েকবার যুদ্ধে জড়িয়েছে।
কাশ্মীর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল। উভয় অংশে তাদের বসবাস। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদেরই প্রথম মাশুল গুনতে হয়।
ছবির মতো সুন্দর নীলুম উপত্যকার তল্লাশিচৌকিবিহীন একটি কোনায় রাবেয়া-জুনায়েদের বিয়ে হচ্ছিল। গত সপ্তাহ থেকে এখানে পর্যটকদের আনাগোনা কমেছে। পার্বত্য অঞ্চলের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা নদীর ওই পাশেই ভারতের ভূখণ্ড।
স্থানীয় বাসিন্দারা এএফপিকে জানান, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ তাদের সতর্ক করে বলেছে যে সামরিক সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। তাই তাঁদের সজাগ থাকতে হবে।
পাশের আরেকটি গ্রামে যন্ত্র প্রকৌশলী শোয়েব আখতারও বিয়ে করতে যাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যদের দ্বারা পরিবেষ্টিত ২৫ বছর বয়সী এই যুবক বলেন, ‘এটি আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুখের মুহূর্ত। কোনো কিছুকেই আমরা এতে বাদ সাধতে দেব না।’
শোয়েব আখতার বলেন, ‘আমি বিয়ে করতে যাচ্ছি এবং এই মুহূর্তে সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যুদ্ধ শুরু হলে আমরা তা মোকাবিলা করব।’
রাবেয়া বিবি বলেন, ‘আমরা খুশি। যদি ভারতের কোনো সমস্যা থেকে থাকে, আমরা সেটাকে পরোয়া করি না। আমরা আমাদের অবস্থানে অবিচল আছি এবং আমাদের স্বার্থ ও জাতির জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’
![]() |
| ফুলের মালা দিয়ে সাজানো পালকিতে কনে রাবেয়া বিবি (ডানে) ও বর চৌধুরী জুনায়েদ। পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের নীলুম ভ্যালির আশকোট গ্রামে, ৩ মে ২০২৫। ছবি: এএফপি। |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রোমান হলিডের সেই রাজকন্যা, নিজের জীবনটা ছিল এক বিষণ্ন কবিতা by মাসুম অপু
রোমান হলিডের সেই 'রাজকুমারী' অড্রে হেপবার্নের অড্রের জন্মদিন আজ ৪ মে।১৯৯৩ সালের ২০ জানুয়ারি ৬৩ বছর বয়সে সুইজারল্যান্ডে নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। সেখানেই তাঁর সমাধি।
১৯২৯ সালের ৪ মে বেলজিয়ামে জন্মেছিলেন অড্রে। মা–বাবা নাম রেখেছিলেন অড্রে ক্যাথলিন রুস্টন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ছদ্মনাম নেন এডা ভন হেমেস্ট্রা। পরে যখন সিনেমার দুনিয়ায় প্রবেশ করলেন, পরিচিতি পেলেন অড্রে হেপবার্ন নামে। গত শতকের প্রতিভাবান এই অভিনেত্রী ও ফ্যাশন আইকনের অভিনয় যেমন ছিল সাবলীল, তেমনি তাঁর দ্যুতিময় চাহনি সহজে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিল। শৈশবে মা–বাবাকে একসঙ্গে বেশি দিন পাননি অড্রে। মা–বাবার ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর অড্রেকে নিয়ে তাঁর মা চলে যান লন্ডনে।
এক আলোকচিত্রীর মডেল হিসেবে কাজ শুরু করেন অড্রে। ব্রিটিশ থিয়েটারে কোরাস গার্ল হিসেবে কিছুদিন কাজ করার পর সুযোগ পেয়েছিলেন সিনেমায়। তবে অড্রে হেপবার্নের জীবনের মোড় ঘুরে যায় রোমান হলিডেতে অভিনয়ের পর।
সে ছবিতে প্রযোজকেরা প্রথমে এলিজাবেথ টেলরকে নিতে চাইলেও পরিচালক উইলিয়াম উইলারের অড্রেকে স্ক্রিন টেস্টে ভালো লেগে যায়। ছবিতে সাংবাদিক জো ব্রাডলি চরিত্রে অভিনয় করা গ্রেগরি পেক আগেই বলেছিলেন, অড্রে তাঁর এই অভিনয়ের জন্য অস্কার পাবেন। তাই হয়েছিল, অড্রে ১৯৫৪ সালে অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই সেরা নারী অভিনয়শিল্পী হিসেবে প্রথমবারের মতো জিতে নেন অস্কার, বাফটা আর গোল্ডেন গ্লোব—তিনটি পুরস্কার।
এ ছাড়া তিনি অসাধারণ অভিনয় করেছিলেন ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফানিস, শ্যারেড, দ্য চিলড্রেনস আওয়ার, প্যারিস হোয়েন ইট সিজলস, দ্য নানস স্টোরি, ফানি ফেস, হাউ টু স্টিল আ মিলিয়ন, মাই ফেয়ার লেডির মতো ছবিগুলোয়। অভিনয় করেছেন ওয়ার অ্যান্ড পিস সিনেমায়ও। তবে এক রোমান হলিডের জন্যই আলাদা করে মনে রাখতে হবে অড্রে হেপবার্নকে। এই সিনেমার জন্য পারিশ্রমিক হিসেবে তিনি পেয়েছিলেন তখনকার সময়ের ১২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার।
লন্ডনের তরুণ শিল্পপতি জেমস হ্যানসনের প্রেমে পড়ে যান অড্রে হেপবার্ন। কিন্তু বেশি দিন টেকেনি তাঁদের প্রেম। পরে একে একে প্রযোজক মাইকেল বাটলার, উইলিয়াম হোলডেন, অভিনেতা মেল ফেরার, ইতালিয়ান মনোবিদ আন্দ্রে ডট্টির সঙ্গে প্রেম হয়েছিল অড্রের। নিদারুণ এক বিষণ্নতায় ভরা ছিল তাঁর জীবন।
একা থাকতে ভালোবাসতেন। এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, 'প্রায়ই আমাকে একা থাকতে হতো। শনিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত বাসায় যদি একা থাকতে পারতাম, তাতে আমার খুব ভালো লাগত। এভাবেই আমি উজ্জীবিত হই।'
ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে ১৯৮৯ সালের ১৮ অক্টোবর ঢাকায় এসেছিলেন উজ্জীবিত এ নারী। এক সপ্তাহ থেকে ফিরে যান ২৪ অক্টোবর। এর মধ্যে তিনি ঘুরে দেখেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের বিভিন্ন দাতব্য কর্মকাণ্ড। এক ফাঁকে গিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে, এফডিসিতে। মহাখালীর পান্ডা গার্ডেনে এক মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছিলেন অভিনেত্রী কবরী, আসাদুজ্জামান নূর, লাকী ইনামসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে।
এফডিসিতে তাঁর দেখা হয় তখনকার চলচ্চিত্রশিল্পী, প্রযোজক-পরিচালকসহ অনেকের সঙ্গে। সেদিন এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, 'পাশ্চাত্যে বসে আমরা জানি যে বাংলাদেশ বন্যা আর দুর্যোগের দেশ। কিন্তু আমার কাছে বাংলাদেশ মানে কবিতা আর সৌন্দর্যের দেশ।'
অভিনেত্রী ববিতাও ছিলেন সেই আয়োজনে। সেদিনের স্মৃতিচারণা করে ববিতা বললেন, 'অড্রে হেপবার্নের আগমন উপলক্ষে সেদিন এফডিসির ঝরনা স্পটে একটি সুন্দর মঞ্চ করা হয়েছিল। সেদিন আমি ইংরেজিতে আর শাবানা আপা বাংলায় বক্তব্য দিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে কাটানো সেই সময়টা আজও আমার জীবনের অসাধারণ একটা মুহূর্ত হয়ে আছে।'
ববিতা আরও বলেন, 'আমি সেদিন অড্রে হেপবার্নকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, সিনেমা, আর্ট, কালচার—এসব ছেড়ে এখন পৃথিবী ঘুরে ঘুরে ছোট শিশুদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছ, কেমন লাগছে? উত্তরে তিনি আমাকে বলেছিলেন, “হিউম্যানিটি ইজ দ্য বেস্ট অব অল আর্টস।'
জীবন অড্রেকে দিয়েছিল অনেক। কিন্তু না পাওয়ার বেদনাও তাঁর কম ছিল না। সাধ ছিল মা হওয়ার। বেশ কয়েকবার তাঁর গর্ভপাত হয়। এ জন্য ক্যারিয়ার থেকে বিরতিও নিয়েছিলেন। তাঁর বড় ছেলে শান হেপবার্ন ফেরারের জন্মের বেশ কয়েক বছর পর মেল ফেরারের সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। তিনি ইতালীয় মনস্তত্ত্ববিদ আন্দ্রে ডট্টিকে বিয়ে করেন ১৯৬৯ সালে। এক বছর পরই তাঁর আরেক পুত্রসন্তান, লুকা ডট্টির জন্ম হয়।
অড্রে হেপবার্ন সেই নারী, যাঁর নামে তিন রকম টিউলিপ, লিলি ও গোলাপের নামকরণ করা হয়েছিল। ১৯৫৯ সালে তাঁর নামে হলিউডের খুব কাছে লাস ভেগাসে একটি সড়কের নাম রাখা হয়। রূপ আর গুণে অনন্য অড্রে হেপবার্ন রবীন্দ্রনাথের কবিতা ভালোবাসতেন।
১৯৯৩ সালের ২০ জানুয়ারি, অর্থাৎ আজকের দিনে তাঁর শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা গ্রেগরি পেক। অড্রে হেপবার্নের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জনসমক্ষে গ্রেগরি আবৃত্তি করেছিলেন অড্রের প্রিয় রবীন্দ্রনাথের কবিতাটি। 'আই সিম টু হ্যাভ লাভড ইউ ইন নাম্বারলেস ফর্মস, নাম্বারলেস টাইমস.../ ইন লাইফ আফটার লাইফ, ইন এজ আফটার এজ, ফরএভার।' এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা, 'অনন্ত প্রেম।' যার প্রথম দুই পঙ্ক্তি এমন, 'তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি/ শত রূপে শতবার, জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার।'
![]() |
| অড্রে হেপবার্ন। ইনস্টাগ্রাম |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার মধ্যে কাশ্মীরে বিয়ের অনুষ্ঠান
তিনি বলেছেন, আমরা কোনো ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান বাতিল করিনি। ২২ এপ্রিল পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চলমান। ভারত ওই হামলার জন্য কোনো প্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তানকে দায়ী করেছে। পাকিস্তান অবশ্য তা প্রত্যাখান করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হামলার জবাব দিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। ইসলামাবাদ গত সপ্তাহে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের কাছে বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্য আছে যে, ভারত সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছে। উত্তেজনা কমাতে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানে খেলার মাঠে জরুরি মহড়া চালানো হয়েছে।
এছাড়া বাসিন্দাদের খাবার ও ওষুধ মজুদ করে রাখতে বলা হয়েছে। এদিকে ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে হামলাকারীদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত আছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় বাসিন্দারা আরও দূরে সরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ সংঘাতের আশঙ্কায় বাঙ্কার পরিষ্কার করছেন। যাতে যুদ্ধ লাগলে বাঙ্কারে লুকানো যায়। অন্য একটি গ্রামে সোয়েব আখতার (২৫) নামে আরেক প্রকৌশলীরও বিয়ে হতে দেখা যায়। তিনি বলেন, এটি আমাদের জীবনের আনন্দপূর্ণ মুহূর্ত। কোনো কিছুকেই আমরা এই মুহূর্ত নষ্ট করতে দেবো না। এই মুহূর্তে আমি বিয়ে করছি আর এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি যুদ্ধ শুরু হয় আমরা তা মোকাবিলা করবো। যখন যুদ্ধ হবে তখন দেখা যাবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চিকিৎসা ব্যয় বহনে বছরে গরিব হচ্ছে ৫০ লাখ মানুষ -বিএমইউ ভিসি

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1426)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
May
(344)
-
▼
May 05
(21)
- নিখোঁজ জীবনের গল্প: ৬৩ বছর পর সন্ধান মিলল এক নারীর
- ইরান কেন আমেরিকাকে বিশ্বাস করে না: ইতিহাস, অভিজ্ঞত...
- হাজারো সংরক্ষিত সেনা তলব ইসরায়েলের, গাজায় অভিযান স...
- ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: মৃত্যু ভয়ে মাটির নিচে...
- ভারতের যুদ্ধে যাওয়া ও না-যাওয়ার বিপদ by শুভজিৎ ব...
- চীনকে সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো হারাতে পারবে না আমেরি...
- কাশ্মীরে হামলার সন্দেহভাজনেরা কি ভারত থেকে পালিয়েছেন
- গাজায় জোর করে মানুষকে অভুক্ত রাখছে ইসরাইল
- কাশ্মীর সীমান্তে গোলাগুলি অব্যাহত: বিমান বাহিনীর প...
- ওয়ারেন বাফেট এক বিস্ময়
- অনলাইন জুয়ার নেশায় সর্বস্বান্ত by ফাহিমা আক্তার সুমি
- মুক্তগণমাধ্যম দিবসে বক্তারা: স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া...
- ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আর নেই
- রাশিয়ার পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন পুতিন
- ওয়াসিম আকরামের কোকেন আসক্তি ও প্রথম স্ত্রী’র হারিয়...
- অতীতের মতো এবার কি যুদ্ধপরিস্থিতি থেকে পেছাতে পারব...
- ট্রাম্পকে চোখ নামাতে বাধ্য করার সহজ পথ by পল দো গ্...
- ‘আমরা পরোয়া করি না’: নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে পাকিস্তান...
- রোমান হলিডের সেই রাজকন্যা, নিজের জীবনটা ছিল এক বিষ...
- ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার মধ্যে কাশ্মীরে বিয়ের অনুষ...
- চিকিৎসা ব্যয় বহনে বছরে গরিব হচ্ছে ৫০ লাখ মানুষ -বি...
-
▼
May 05
(21)
-
▼
May
(344)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...





