Thursday, May 13, 2010

অক্সফোর্ড অভিধানে ৯৯ বছরের ভুল!

অস্ট্রেলিয়ার পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক স্টিফেন হিউজ অক্সফোর্ড অভিধানের ৯৯ বছরের একটি ভুল শুধরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। এই অভিধানে ‘সাইফন’ নামে একটি বাঁকা নলের সংজ্ঞায় এমন কিছু বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যা একেবারেই ভুল। ১৯১১ সাল থেকে এই ভুল বর্ণনা পড়ে আসছেন অভিধানটির অগণিত পাঠক।
স্টিফেন হিউজ অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির শিক্ষক। তিনি দাবি করেন, সাইফন নিয়ে একটি লেখা তৈরি করার সময় অক্সফোর্ড অভিধানের দীর্ঘ দিনের ভুলটি তাঁর নজরে পড়ে। সাইফন এক ধরনের বাঁকা নল, যার মাধ্যমে একটি আধার থেকে তরল পদার্থ আরেকটি আধারে স্থানান্তর করা হয়। যে শক্তিবলে এই কাজ সাধিত হয়, অভিধানে তা বায়ুচাপ বলে উল্লেখ রয়েছে। আসলে তা হবে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি।
হিউজের উদ্ধৃতি দিয়ে হেরাল্ড সান পত্রিকায় বলা হয়, ‘এ ঘটনায় প্রথমে আমি একটা ধাক্কা খাই। স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম, ৯৯ বছর ধরে এই ভুল টিকে আছে কি করে?’
ই-মেইল বার্তায় ভুলের বিষয়টি অক্সফোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানান স্টিফেন হিউজ। এই ভুল সংশোধন করা হবে বলে অভিধানের পর্যালোচনা দল জানিয়েছে।
অক্সফোর্ড অভিধানের মুখপাত্র মারগট চার্লটন বলেন, ‘১৯১১ সালে সাইফনের সংজ্ঞা লিখতে যেসব সম্পাদক কাজ করেন, তাঁরা কেউ বিজ্ঞানী ছিলেন না

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে এলিনাকে মনোনয়ন দিলেন ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মনোনয়ন নিয়ে আবার চমক দেখালেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি গত সোমবার বিচারপতি হিসেবে এলিনা ক্যাগানের (৫০) নাম ঘোষণা করেছেন। এলিনা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সাবেক ডিন কংগ্রেসে মনোনয়ন অনুমোদিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে সবচেয়ে অল্প বয়সী বিচারপতি হিসেবে তাঁর অভিষেক হবে।
বিচারপতি হিসেবে এলিনা ক্যাগানের নাম ঘোষণার পরই তাঁকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে সর্বত্র। নানা কারণেই প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এ মনোনয়ন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে তিনজন নারী বিচারপতি বিচারকার্য পরিচালনা করবেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের মধ্যে এলিনা ক্যাগানই হবেন বয়সের দিক থেকে সর্বকনিষ্ঠ।
নিউইয়র্কে জন্ম ও বড় হয়ে ওঠা এলিনা ক্যাগান বিয়ে করেননি। পৃথিবীর সেরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রিন্সটন, অক্সফোর্ড এবং হার্ভার্ড থেকে রয়েছে তাঁর আইনবিষয়ক উচ্চতর ডিগ্রি। আগে কখনো বিচারকার্য পরিচালনা করেননি এলিনা ক্যাগান। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের প্রথম নারী ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওবামা প্রশাসনের প্রধান কৌঁসুলি হিসেবে এক বছর থেকে এলিনা দায়িত্ব পালন করছেন। হার্ভার্ড থেকেই প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা। বিচারপতি হিসেবে এলিনা ক্যাগানের নাম ঘোষণার সময় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন দেন। যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রকাশ্য শুনানি হয়ে থাকে আইন সভায়। আইন প্রণেতাদের অনুমোদনের পরই প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তি বিচারপতি হিসেবে শপথ নিতে পারেন। আজীবনের জন্য নিযুক্ত হন মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা। পদত্যাগ বা শারীরিকভাবে অক্ষম না হওয়া পর্যন্ত বিচারপতিরা তাঁদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন। মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে বিচারপতি স্টিভেনের স্থলাভিষিক্ত হবেন এলিনা। ৩৫ বছর ধরে বিচারপতির দায়িত্ব পালনের পর ৯০ বছর বয়সী স্টিভেন অবসরে যাচ্ছেন কিছু দিনের মধ্যেই।

ফুটবল উত্সবে বাংলাদেশ

১৭ থেকে ২৪ মে ইরানে অনুষ্ঠেয় এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবল উত্সবে থাকছে বাংলাদেশ। এটি কোনো প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট নয়। খেলা, শৃঙ্খলা—নানা বিষয়ে থাকছে পয়েন্ট। স্বাগতিক ইরানসহ নয় দলের ফুটবল উত্সবে বাংলাদেশের লক্ষ্য যতটা সম্ভব বেশি পয়েন্ট পাওয়া—কাল সংবাদ সম্মেলনে জানাল দলটির অধিনায়ক রেজাউল ও সহ-অধিনায়ক মিঠু।
তেহরান থেকে ৩৩৬ কিলোমিটার দূরে হামাদান শহরে হচ্ছে খুদে ফুটবলারদের এই মেলা। বাংলাদেশের দলে খেলোয়াড় ২২ জন। প্রস্তুতি কেবল এক মাসের। দলটি যাবে ১৬ মে। এসব তথ্য জানাতে কাল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাফুফে ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ, কমিটির সদস্য সত্যজিত্ দাস (রুপু) প্রমুখ।

টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারল একাডেমি দল

আগের দিন ১৭০ করে হারতে হয়েছিল। আর কাল ১৪২ নিয়েও লড়াই করেছে জিপি-বিসিবি একাডেমি দল, তবে শেষ পর্যন্ত তাদের ৩ উইকেটে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-০ তে জিতে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দল। দুটি চার দিনের ম্যাচ ড্র হওয়ার পর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জিপি-বিসিবি একাডেমি জিতেছিল ২-১-এ। পরাজয়ে জিপি-বিসিবির সান্ত্বনা অলরাউন্ডার সাব্বির রহমানের সিরিজ-সেরা হওয়া।
বিকেএসপিতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে কেশব মহারাজের প্রথম ওভারেই দু উইকেট হারায় জিপি-বিসিবি একাডেমি। টানা চার ওভারের স্পেলে পরের দুই ব্যাটসম্যানকেও আউট করেন ম্যাচ-সেরা কেশব। ৩৯ রানে ৪ উইকেট হারানো জিপি-বিসিবি ২০ ওভারে ১৪২ রান করতে পারে সাব্বির (৩৮), আসিফ (২৩) ও নাসিরের (২৩) কার্যকরী তিনটি ইনিংসের কল্যাণে। তিনে নামা কোবাস পাইনারের ২৮ বলে ৫৭ রানের ইনিংসের পরও দক্ষিণ আফ্রিকা চাপে পড়ে গিয়েছিল সানজামুল ইসলাম তিন উইকেট নেওয়ায়। তবে ১৭ বলে ৩১ রান করে দলকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন ডমিনিক হেনড্রিক্স।

রিয়ালের প্রেরণা ভ্যালাদোলিদ আর ইতিহাস

ম্যাচ দুটি আগামী রোববার। নিজেদের মাঠে বার্সেলোনা খেলবে ভ্যালাদোলিদের বিপক্ষে। আর মালাগার মাঠে খেলবে রিয়াল মাদ্রিদ। বার্সা-রিয়ালের শক্তির বিচারে ম্যাচ দুটি বড় ম্যাচের মর্যাদা পাওয়ার মতো নয়। তবে এই দুই ম্যাচের ফলাফলেই সমাধান হবে স্প্যানিশ শ্রেষ্ঠত্বের। ম্যাচ দুটি নিয়ে আলোচনা তাই শুরু হয়ে গেছে এখন থেকেই।
৩৭ ম্যাচ শেষে শিরোপার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সা-রিয়ালের মধ্যে ব্যবধান এক পয়েন্টের। ৯৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। রিয়ালের পয়েন্ট ৯৫। দু দলই যদি জেতে বা হারে শিরোপা হবে বার্সেলোনার। দু দল ড্র করলেও তাই। একমাত্র বার্সেলোনা হেরে গেলে বা ড্র করলেই মালাগাকে হারিয়ে শিরোপা জিততে পারে রিয়াল।
সমীকরণটা বার্সেলোনার দিকে ঝুঁকে থাকলেও আশা ছাড়ছে না রিয়াল মাদ্রিদ। গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াস ও ডিফেন্ডার সার্জিও রামোসের আশা—শেষ মুহূর্তে বিস্ময়কর কিছু ঘটে গিয়ে শিরোপা জিততে পারে রিয়াল মাদ্রিদ।
বার্সেলোনার প্রতিপক্ষ ভ্যালাদোলিদ—এটাই প্রেরণা জোগাচ্ছে ক্যাসিয়াস-রামোসকে। ভ্যালাদোলিদ দাঁড়িয়ে আছে অবনমন এলাকায়। পরিস্থিতি যখন এই, তখন প্রতিপক্ষ যত বড় নামই হোক জীবন বাজি রেখে লড়বেন ভ্যালাদোলিদের খেলোয়াড়েরা। আর এটাই রিয়ালের ভাগ্যের দরজা খুলে দিতে পারে বলে মনে করেন রামোস, ‘শিরোপা জয় আমাদের জন্য সহজ হবে না। সবকিছুই আমাদের বিপক্ষে। তবে একটা ব্যাপার, ভ্যালাদোলিদের কিছু পাওয়ার আছে। তারা অবনমিত হতে চাইবে না।’
রামোস যখন ভ্যালাদোলিদের অস্তিত্বের লড়াইটাকে পুঁজি করতে ব্যস্ত, ক্যাসিয়াস প্রেরণা খুঁজছেন অতীত ইতিহাস থেকে। প্রায় দেড় যুগ পেছনে চলে গেলেন তিনি, ‘আমাদের জিততে হবে এবং অপেক্ষা করতে হবে। আজ থেকে ১৭-১৮ বছর আগে এ রকম একটা পরিস্থিতিতেই শিরোপা জিতেছিল বার্সেলোনা। আমি তখন খুব ছোট। সেবার টেনেরিফের বিপক্ষে জিততে হতো রিয়াল মাদ্রিদকে। কিন্তু তারা হেরে গেল এবং বার্সেলোনা শিরোপা জিতল।’ এএফপি, ওয়েবসাইট।
রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা দুই দলেই খেলেছেন পর্তুগিজের সাবেক প্লে-মেকার লুই ফিগো। কোন দলের পক্ষে কথা বলবেন তিনি? শিরোপা যেকোনো দল জিততে পারে বলে মাঝামাঝি একটা অবস্থানে থাকলেন ফিগো। তবে বার্সেলোনার সাবেক তারকা ইয়োহান ক্রুইফ বাজি ধরেছেন বার্সেলোনার শিরোপা জয়ের পক্ষেই।

উইন্ডিজ ‘এ’ দলের আরেকটি জয়

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা নয়জন ক্রিকেটার আছেন দলে। শুধু কাগজে-কলমে নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দল প্রমাণ করছে মাঠের পারফরম্যান্সেও তারা ফেবারিট। ড্যারেন ব্রাভোর সেঞ্চুরিতে ফাইনালের পোশাকি মহড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলকে হারিয়েছে তারা ৮১ রানে। ত্রিপক্ষীয় সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেও জিতেছিল ট্রাভিস ডাওলিনের দল।
মিরপুরে কাল টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে ১৫ ওভারের মধ্যেই ফিরিয়ে দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে পরের উইকেটটির জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩৮.১ ওভার পর্যন্ত। তৃতীয় উইকেটে ১৩৩ রানের জুটি গড়েন দুই বাঁহাতি ব্রাভো ও ব্রেন্ডন ন্যাশ। আগের ম্যাচে ৬০ রান করা ন্যাশ কাল করেছেন ৭১। ম্যাচ-সেরা ব্রাভোকে আউট করতে পারেনি কেউই, ১০ চার ও এক ছয়ে ১০৭ করেছেন ১১৯ বলে। চতুর্থ উইকেটে কার্ক এডওয়ার্ডসকে নিয়ে ৮৬ রানের জুটি গড়েছেন মাত্র ৬২ বলে। এডওয়ার্ডস করেছেন ৩১ বলে ৫০।
প্রথম ১০ ওভারেই প্রথম চার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’। আটে নেমে সর্বোচ্চ ৪২ রান অধিনায়ক থামি সোলেকিলের। ৪ উইকেট নিয়েছেন লায়নেল বেকার, ৩টি সফরে প্রথম খেলতে নামা গ্যাভিন টং।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ ৫০ ওভারে ২৯৫/৫ (ব্রাভো ১০৭*, ন্যাশ ৭১, এডওয়ার্ডস ৫০, ফিলিপস ২৫। শাবালালা ২/৪৬, এলগার ১/৪১, তোতসোবে ১/৪৯, বেইলি ১/৫১)। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’: ৪৪.৩ ওভারে ২১৪ (সোলেকিলে ৪২, ফন উইক ৩৪, মিলার ৩১, এলগার ৩০। বেকার ৪/৩২, টং ৩/৪৭, শিলিংফোর্ড ২/৩৯, ইমরান ১/৫৪)।

বাংলাদেশের প্রস্তুতি ম্যাচ ড্র

ম্যাচের ফল আসলে নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল দ্বিতীয় দিনেই। ওভালে সারের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচটা শেষ দিনে ড্রয়ের পথেই এগোচ্ছিল। হলোও তা-ই। দ্বিতীয় ইনিংসে সারে ৩ উইকেটে ৩১৩ রান তোলার পরই শেষ হয়ে যায় ম্যাচ। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগই পায়নি বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় দিনের শেষ বলে শূন্য রানে আউট হন নাঈম ইসলাম। সাকিব আল হাসান তখনো ৫ রানে অপরাজিত। চাইলে সাকিব কাল আবারও ব্যাটিং অনুশীলনটা করে নিতে পারতেন। তবে বাংলাদেশ অধিনায়কের হয়তো মনে হয়েছে, বোলারদের প্রস্তুতিটাও জরুরি। আর তাই তৃতীয় দিনের শুরুতেই ইনিংস ঘোষণা। হাতে ছিল ৫৪ রানের লিড।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ রানের লিড নিতে না নিতেই ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে সারে। ৬১ রানে দুই উইকেট তুলে নেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের ঘাম ছুটিয়ে ছাড়েন সারের দুই ব্যাটসম্যান লরি ইভান্স আর উসমান আফজাল। আফজাল ১৫৯ রানে অপরাজিত থাকলেও ইভান্স মাত্র দুই রানের জন্য বঞ্চিত হন সেঞ্চুরি থেকে। রান আউট হয়ে ইভান্স ফেরার আগে তৃতীয় উইকেটে এই জুটি রান তোলে ২২৫। মাহবুবুল আলম আর শাহাদাত হোসেন একটি করে উইকেট পেয়েছেন। বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচটি ১৪-১৬ মে, প্রতিপক্ষ এসেক্স। ক্রিকইনফো।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: সারে প্রথম ইনিংস: ৮২.২ ওভারে ৩১৮/৭ ডিক্লে.। বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১০২.৫ ওভারে ৩৭২/৬ ডিক্লে. (মুশফিকুর ৫২, মাহমুদউল্লাহ ২৭, নাইম ০, সাকিব অপরাজিত ৫)। সারে দ্বিতীয় ইনিংস: ৭২.২ ওভারে ৩১৩/৩ ডিক্লে. (আফজাল ১৫৯*, ইভান্স ৯৮; মাহবুবুল ১/৩৮, শাহাদাত ১/৭৩)। ফল: ড্র।

রুনির আরেকটি মুকুট

পুরস্কারের হ্যাটট্রিক করলেন ওয়েইন রুনি। না, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ট্রফি-কেসে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আরেকটা ট্রফি জমা পড়েনি। তবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের স্পনসর বার্কলেসের বর্ষসেরা ফুটবলার হয়েছেন ইংলিশ স্ট্রাইকার। এর আগে পিএফএ (প্রোফেশনাল ফুটবলার অ্যাসোসিয়েশন) ও ফুটবল-লেখকদের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ও হয়েছেন তিনিই।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ৩২ ম্যাচে ২৬ গোল করেছেন রুনি। তাঁর এই পারফরম্যান্সের কারণেই চেলসির সঙ্গে শিরোপা লড়াইটা লিগের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত নিয়ে যেতে পেরেছে ম্যানইউ। তবে শেষ দিকে চোটের কারণে নিয়মিত খেলতে পারেননি সময়ের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার। ম্যানইউরও তাই টানা চতুর্থ শিরোপা জেতা হয়নি। লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার অর্জনটাও হাতছাড়া হয়ে গেছে দিদিয়ের দ্রগবার (২৯) কাছে।
বার্কলেসের চোখে বছরের সেরা ম্যানেজার হ্যারি রেডনাপ। টটেনহাম হটস্পারকে শীর্ষ চারে রাখতে পারার পুরস্কারই এটা। তবে এলএমএ (লিগ ম্যানেজার্স অ্যাসোসিয়েশনের) বর্ষসেরার পুরস্কারটা পেয়েছেন ফুলহাম কোচ রয় হডসন। ফুলহামকে ইউরোপা লিগের ফাইনালে তুলেছেন তিনি। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ফুলহামের সেই ফাইনাল আজ। শিরোপা জিততে পারলে এলএমএ বর্ষসেরা হওয়াটা পুরোপুরিই সার্থক হয় হডসনের।

বাসিলে পুত্রকে ম্যারাডোনার জবাব

১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপ দলে নিজের নাম না দেখে কেঁদেছিলেন। আজ সেই ডিয়েগো ম্যারাডোনার হাতে নির্ভর করছে অনেকের হাসি-কান্না। এতক্ষণে আর্জেন্টিনার প্রাথমিক বিশ্বকাপ দল সবার জেনে যাওয়ার কথা। ম্যারাডোনা কাদের নিয়ে বিশ্বকাপ বাজি ধরতে যাচ্ছেন, তার একটা প্রাথমিক ধারণাও পেয়ে যাওয়ার কথা।
দু দিন আগে হুলিও গ্রন্দোনার ছেলে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছিলেন ম্যারাডোনাকে উদ্দেশ করে। একই রকম আক্রমণ করেছেন সাবেক আর্জেন্টাইন কোচ আলফিও বাসিলের ছেলে আলফিতো বাসিলেও। আলফিতোর অভিযোগ, তাঁর বাবাকে সরিয়ে কোচ হওয়ার জন্য ম্যারাডোনা অনেক ষড়যন্ত্র করেছেন। আলফিতোর সেই অভিযোগেরই জবাব দিলেন ম্যারাডোনা।
বাসিলের সমালোচনা বিভিন্ন সময় করেছেন, এটা স্বীকার করেই ম্যারাডোনা বললেন, ‘আলফিও বাসিলের ছেলে অভিযোগ করেছে, আমি কোচ হওয়ার জন্য ওর বাবার বিপক্ষে ষড়যন্ত্র করেছি। হ্যাঁ, আমি সব সময় প্রকাশ্যে জাতীয় দল নিয়ে অভিযোগ করেছি, সমালোচনা করেছি। এটা করেছি আর্জেন্টিনার ভালোর জন্য। আর্জেন্টিনার কোচ হওয়াটা অবশ্যই আমার জন্য স্বপ্নপূরণের মতো ব্যাপার ছিল। তাই বলে কাউকে সরিয়ে কোচ হতে চাইনি।’
এ কথার পরই আবেগভরে মনে করিয়ে দিয়েছেন, বাসিলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথাটা, ‘আমার মনে হয়, আমরা সেই বাসিলের কথা বলছি, যার কারণে আমি ১৯৯৪ সালে অবসর থেকে খেলায় ফিরে এসেছিলাম। আমরা মনে হয়, সেই বাসিলের কথা বলছি, বোকা জুনিয়র্সে যার দুঃসময়ে আমি তার হয়ে লড়াই করেছি। সেই বাসিলের কথাই বলছি, যে আমাকে ফোন করে কান্নায় ভেঙে পড়ত!’
সবকিছুর পর ম্যারাডোনা বলেছেন, তিনি আলফিও বাসিলের সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে যোগাযোগ করে সব পরিষ্কার করে দেবেন। সব পরিষ্কার হলেও মনটা কি ভালো হবে? অথচ ম্যারাডোনার মনটা এই সময়ে খুব ভালো থাকারই কথা ছিল। এতটা দুঃসময়কে পিছু ফেলে আসার বর্ষপূর্তি যে পালন করলেন তিনি! মদ ছেড়ে দেওয়ার ঠিক ছয় বছর পূর্ণ হয়েছে তাঁর। নিজেই বলেছেন, ‘দশ দিন আগে ড্রাগ ছাড়া ছয় বছর পূর্ণ করলাম আমি। এখন চারপাশের সবকিছুই আমার কাছে অনেক মূল্যবান।

বিশেষজ্ঞ খুঁজছে পাকিস্তান

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তান ছিটকে গেছে—এটা ‘নিশ্চিত’ হয়ে সে দেশের কর্মকর্তারা রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন। ‘ব্যর্থতার’ কারণ অনুসন্ধানে একটা তদন্ত কমিটিও তৈরি করে ফেলেছিলেন তাঁরা। এখন সেই তদন্ত কমিটি কিসের তদন্ত করবে? পাকিস্তান কীভাবে সেমিফাইনালে উঠল, সেই তদন্ত!
সে তদন্ত যা নিয়েই হোক পিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিম বারি জানিয়েছেন, দলের পারফরম্যান্স ভালো করতে তাঁরা কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন। এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নয়, জুনে শুরু হতে যাওয়া ইংল্যান্ড সফরে দলের সঙ্গে তাঁরা একজন বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিতে যাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞর ভূমিকা কী হবে বা কে হবেন এই বিশেষজ্ঞ, সেটা পরিষ্কার না করেই বারি বলেছেন, ‘এখনই সবকিছু খুলে বলতে পারছি না। তবে এটা ঠিক যে আমরা বিষয়টা নিয়ে কাজ করছি। সবকিছু চূড়ান্ত হলে তবেই ঘোষণা দেওয়া হবে।’
তবে কিছু সূত্রের দাবি, ‘বিশেষজ্ঞ’ নামে আসলে কোচই খোঁজ করছে পিসিবি। অস্ট্রেলিয়ার গ্রেগ চ্যাপেল ও ইংল্যান্ডের জন এম্বুরিকে নাকি প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুজনের কেউই পাকিস্তানের হয়ে পূর্ণকালীন চাকরি করতে রাজি নন।
জুন মাসে শুরু হওয়া তিন মাসের লম্বা ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান ছয়টি টেস্ট, পাঁচটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে। ধারণা করা হচ্ছে, তার আগেই খোলাসা হবে বিশেষজ্ঞ রহস্যের

দলে নেই রোনালদিনহো পাতো আদ্রিয়ানো

পেলে বলেছিলেন, ‘চমক আসছে।’ চমকটা কার্লোস দুঙ্গা দিলেন ঠিকই। তবে রোনালদিনহোকে দলে নিয়ে নয়, বাদ দিয়ে! দুঙ্গার চমকটা আরও বড় হয়ে এসেছে এসি মিলানের এই প্লে-মেকারের ক্লাব সতীর্থ পাতোকেও দলে না নেওয়ায়। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়নি রোনালদো-আদ্রিয়ানোরও। ব্রাজিল কোচ কাল প্রাথমিক দলের ঝামেলায় না গিয়ে ঘোষণা করে দিয়েছেন ২৩ জনের চূড়ান্ত দল। কাল মাঝরাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আর্জেন্টিনা দল ঘোষণা করা হয়নি।
কাল ছিল বিশ্বকাপের দলগুলোর বিশ্বকাপের প্রাথমিক দল দেওয়ার শেষ দিন। ব্রাজিলের মতো কয়েকটি দল প্রাথমিক দল ঘোষণার জন্য ফিফার বেঁধে দেওয়া শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করেনি। জাপান, নিউজিল্যান্ড আর হন্ডুরাসও ঘোষণা করে দিয়েছে ২৩ জনের চূড়ান্ত দলই।
বিশেষ কোনো চমক উপহার দেননি আর কোনো কোচই। চমক নেই স্পেন, ইংল্যান্ডের মতো বড় দলে অথবা জাপান, কোরিয়া বা হন্ডুরাসের মতো ছোট দলেও। তবে ইতালি দল থেকে ফ্রান্সেসকো টট্টির বাদ পড়াটা বড় খবরই। মার্সেলো লিপ্পি চাইলে অবসর ভেঙে দলে ফিরতে রাজি ছিলেন টট্টি। কিন্তু লিপ্পি জানিয়ে দিলেন, রোমার অধিনায়ককে তাঁর দরকার নেই। তারকাদের মধ্যে বাদ পড়াদের তালিকায় আছেন নেদারল্যান্ডের রুড ফন নিস্টলরয়।
চমক নেই, তবে স্পেন দলটি দেখে অনেকেই হয়তো খুশি হবেন। প্রথমবারের মতো স্পেন দলে ডাক পেয়েছেন ভিক্টর ভালদেজ। গত দুই মৌসুমে টানা ভালো পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেলেন বার্সেলোনা গোলরক্ষক। মৌসুমজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেয়েছেন আরও একজন—ভালদেজের মতো বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড পেদ্রো রদ্রিগেজও এই প্রথম স্পেন দলে ডাক পেলেন। চোট থাকার পরও দলে আছেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও ফার্নান্দো তোরেস। আসলে দেল বস্কের নির্বাচন নিয়ে কোনো অসন্তোষ বা সমালোচনা এখন পর্যন্ত নেই। এমন একটি দল কীভাবে নির্বাচন করলেন বস্ক? তাঁর উত্তর, ‘দল নির্বাচন করেছি আমার হূদয় এবং মাথা দিয়ে।’
চোট নিয়ে দলে আছেন—এমন পরিস্থিতি আছে ঘানা দলেও। চমক-টমক উপহার না দিলেও ঘানার সার্বিয়ান কোচ মিলোভান রাজেভাচ দলে রেখেছেন চোট পাওয়া মাইকেল এসিয়েনকে। ইনজুরি নিয়ে বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়া আরেক খেলোয়াড় পেপে। রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডার মৌসুমের শেষ দিকে এসে পড়েছেন ইনজুরিতে। তবুও তাঁকে দলে রেখেছেন পর্তুগিজ কোচ কার্লোস কুইরোজ।
চোট থাকার পরও ইংল্যান্ড দলে ওয়েইন রুনি যে থাকবেন, সেটা সবার জানাই ছিল। আছেন চোট পাওয়া আরেক খেলোয়াড় ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ডও। ফার্ডিনান্ডই এখন পর্যন্ত দলের অধিনায়ক। যদিও ক্যাপেলো জানিয়ে দিয়েছেন, শতভাগ ফিট না হলে ২৩ জনের তালিকায় ঠাঁই হবে না তাঁর।
দল দেওয়ার সময়সীমা যত ফুরিয়ে আসছিল, ইন্টারনেটে বিভিন্ন ফুটবল ওয়েবসাইটে জটলা ততই বাড়ছিল। মানুষের এমন খোঁজাখুঁজি আর উত্সাহ দেখে মনে হলো—বিশ্বকাপটা কি সত্যিই শুরু হয়ে গেল নাকি!
ব্রাজিল দল
গোলরক্ষক: হুলিও সিজার, দনি, হুরেলহো গোমেজ
ডিফেন্ডার: লুইসাও, লুসিও, হুয়ান, থিয়াগো সিলভা, দানি আলভেজ, মেইকন, মিশেল বাস্তোস, জিলবার্তো
মিডফিল্ডার: জিলবার্তো সিলভা, হসু, এলানো, কাকা, রামিরেস, ফেলিপে মেলো, হুলিও ব্যাপ্টিস্টা, ক্লেবারসন
ফরোয়ার্ড: লুই ফাবিয়ানো, নিলমার, গ্রাফিতে, রবিনহো।

ভারতের বিদায়

জিততে হলে শ্রীলঙ্কাকে করতে হতো ১৬৪। তবে কাজটা আরও সহজ হয়ে ছিল তাদের জন্য। কারণ, শ্রীলঙ্কা ১৪৪ রান করে হারলেও ভারতের বিদায় ছিল নিশ্চিত। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কমপক্ষে ২০ রানের ব্যবধান রেখে জিততেই হতো মহেন্দ্র সিং ধোনির দলকে।
ভারতের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল ১৮.৫ ওভারেই। কাপুগেদারা ছক্কা মেরে শ্রীলঙ্কার স্কোরটাকে নিয়ে গিয়েছিলেন ১৪৫ রানে। সেই কাপুগেদারাই ২০তম ওভারে শেষ বলে ছক্কা মেরে স্মরণীয় এক জয় এনে দিলেন শ্রীলঙ্কাকে। গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে থেকে ক্রিস গেইলরা দেখলেন, তাঁদের জন্য সেমিফাইনালে ওঠার সমীকরণ কতটা কঠিন হয়ে গেল। কারণ, ভারতের বিপক্ষে ৫ উইকেটের এই জয় দিয়ে সেমিফাইনাল প্রায় নিশ্চিতই করে ফেলেছে শ্রীলঙ্কা।
ভারত আফসোসে পুড়েছে রানটাকে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিয়ে যেতে না পারায়। ১১ ওভার শেষে তাদের স্কোর ছিল ৯৬/১। তার পরও শেষ ১০ ওভারে ভারত তোলে মাত্র ৭৩ রান। সুরেশ রায়না করেছেন ৬৩। গৌতম গম্ভীর ৪১

সেই দুই হোটেলেই আবার by উৎপল শুভ্র

নস্টালজিয়ার ঘোর কাটতে না কাটতেই ঘোর দুঃস্বপ্নে!
মঙ্গলবার রাতের অভিজ্ঞতার সবচেয়ে জুতসই বর্ণনা হতে পারে এটাই। বারবাডোজ থেকে রাত সাড়ে সাতটার ফ্লাইটে আবার সেন্ট লুসিয়ায়। মাত্র ত্রিশ মিনিটের ফ্লাইট। কিন্তু লিয়াট এয়ারলাইনসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার এমনই করুণ দশা যে সেটিকেই মনে হলো অনন্তকাল! তার মধ্যেও মনে একটা শান্তি, হোটেল ঠিক করা আছে। এই তো আর কিছুক্ষণ। চেক ইন করে লম্বা একটা স্নান। তারপর ঘুম।
সেন্ট লুসিয়াতেই শুরু হয়েছিল আমার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তখনই দেখে গেছি, সুপার এইটের শেষ দুই দিন আর সেমিফাইনালের সময়টায় সব হোটেলে ‘ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই...’ অবস্থা। সেবার ছিলাম ‘পাম হাভেন’ হোটেলে। সেটিতে খোঁজ নিয়ে জানতে হয়েছে, ‘স্যরি, উই আর ফুলিল বুকড্।’ ইন্টারনেটে ঘেঁটে কাছাকাছিই ‘দ্য ওশেন ভিউ’ নামের একটা হোটেল বুক করেছি।
ইন্টারনেটেই করতে চেয়েছিলাম। স্থানীয় এক সাংবাদিক বন্ধু বলল, হোটেলের নাম্বার দিচ্ছি। ইন্টারনেটের চেয়ে সরাসরি ফোন করে বুক করাটাই ভালো হবে। সেটিই করলাম। নিশ্চয়তা হিসেবে ক্রেডিট কার্ডের বিস্তারিত দিতে হলো। জানানো হলো, ১০ মে রিসেপশনে এসে নাম বললেই হবে।
বারবাডোজে ভারতীয় সাংবাদিকদের অনেককে হোটেল না পেয়ে চুল ছিঁড়তে দেখে কখনো কখনো মনে মনে, বেশির ভাগ সময়ই প্রকাশ্যে হেসেছি। ভারত খেলছে, জানা কথাই এমন হবে। হোটেলে আগে বুকিং দিতে পারিসিন গাধা!
মঙ্গলবার রাতের অভিজ্ঞতাটা ওদের আর বলব না ঠিক করেছি। ওই হাসি ফেরত দেওয়ার সুযোগ কেন দেব? এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সি নেওয়ার পর ট্যাক্সি ড্রাইভার যেখানে নামতে বলল, সেখানে নেমে আমি স্মৃতিকাতরতায় আক্রান্ত। ডানেই গ্লেনক্যাসল রিসর্ট। আরে, ২০০৪ সালে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেন্ট লুসিয়া টেস্টের সময় তো এই হোটেলেই ছিলাম।
কিন্তু ওশেন ভিউ হোটেলটা কোথায়? ট্যাক্সি ড্রাইভার জানাল, এটাই ওশেন ভিউ। কিছুদিন আগে ঋণখেলাপি বলে গ্লেনক্যাসলকে নিলামে তোলা হয়েছে। মালিকানা বদলের সঙ্গে বদল হয়েছে নামও। তবে নামফলকটা এখনো বদলানো হয়নি, সেখানে গ্লেনক্যাসলই আছে।
পুরোনো জায়গায় ফিরে আসায় একটা সুখানুভূতি তো কাজ করেই। রিসেপশনে গিয়েই সেটি উধাও। কৃষ্ণাঙ্গ স্থূলাঙ্গিনী পাথুরে মুখে সুখবরটা দিলেন, এই নামে কোনো বুকিং নেই এবং হোটেল পুরো বুকড্। অন্য কোথাও দেখুন।
হতভম্ব ভাবটা কাটিয়ে ওঠার পরই চিত্কার-চেঁচামেচি শুরু করলাম। ফাজলামো নাকি, দশ দিন আগে রুম বুক করেছি, মোবাইলের কল রেজিস্ট্রার থেকে হোটেলের নাম্বার বের করে প্রমাণও দেখালাম। ওই ভদ্রমহিলা অনড়, এই নামে কোনো বুকিং নেই। তা ছাড়া আমি এখানকার নিরাপত্তাকর্মী। হোটেলের মালিক বারে আছেন, তাঁর সঙ্গে কথা বলো। গেলাম সেখানে। ছোটখাটো শ্বেতাঙ্গ এক লোক। তাঁরও একই কথা। আমার গলা একটু চড়তেই তিনিও তারস্বরে চিত্কার শুরু করলেন। হোটেলের সামনে সুইমিং পুলের পাশে ভারতীয়রা গিজগিজ করছে। ঘটনা শুনে অনেকেই সহানুভূতি প্রকাশের সঙ্গে কত কষ্টে রুম পেয়েছেন সেটির সবিস্তার বর্ণনা দিলেন। সেন্ট লুসিয়ায় যে কোনো হোটেলে জায়গা নেই, সেই দুঃসংবাদও।
রিসেপশনে ফিরে থম ধরে বসে আছি। বডিগার্ডের মতো বিশাল শরীরের এক কৃষ্ণাঙ্গকে নিয়ে ঢুকলেন একজন। তিনিও কৃষ্ণাঙ্গ। সুঠাম শরীর। রিসেপশনে কাউকে না পেয়ে আমার ঘটনা জানলেন। জানার পর সমবেদনার সুরে আমি বড় ভুল করে ফেলেছি, ই-মেইলে হোটেল থেকে একটা কনফারমেশন নেওয়া উচিত ছিল ইত্যাদি বলে ব্যাগ থেকে নিজের কনফারমেশন ই-মেইলটা বের করলেন। ফলাফল অবশ্য একই—হোটেলের কম্পিউটারে তাঁরও নাকি নাম নেই! ‘দেখিয়া জুতার দুঃখ ঘুচিয়া’ যাওয়ার আসল কারণ অবশ্য অন্য। আমি তো ক্রেডিট কার্ডে শুধু বুকিং করেছি, ওই ভদ্রলোকের ক্রেডিট কার্ড থেকে বুকিং করার সময়ই সাড়ে তিন শ ডলারের মতো কেটে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ অনুমিত। ওই শ্বেতাঙ্গ মালিক এলেন, তাঁর সঙ্গে চিত্কার-চেঁচামেচি। ছাপার অযোগ্য চার বর্ণের ইংরেজি শব্দটার ঝড় বইল। ‘জ্যামাইকা হলে এখনই তোর বাপের নাম ভুলিয়ে দিতাম’—সবচেয়ে ভদ্র কথা এটাই মনে পড়ছে।
বুঝতেই পারছেন, অতিথি জ্যামাইকান। জ্যামাইকাতে রাস্তায় ধাক্কা লাগলেও অনেক সময় পকেট থেকে পিস্তল বেরিয়ে আসে। হুমকিটা তাই ফাঁকা বুলি বলে মনে হলো না। হুমকিতে কাজও হলো। রাতের মতো হোটেলের স্টাফদের একটা ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে পরদিন সকালে কিছু একটার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলো তাঁকে। কিন্তু আমরা, বাংলাদেশের দুই সাংবাদিক কোথায় যাই?
পরের দেড় ঘণ্টা যা হলো, সেটির বিস্তারিততে আর না-ই যাই। সংক্ষেপে জানাই, এমজেআই নামে একটা হোটেলে নাকি রুম আছে, খবর পেয়ে সেখানে ছুটে গেলাম। রিসেপশনে ঢুকেই হোটেলটা চরম অপছন্দ হলো। হোটেলের লোকজনকেও। এই বিরক্তির মধ্যেও আমার কেমন যেন লাগতে শুরু করল। হোটেলটা এত চেনা-চেনা লাগছে কেন! সোনার কেল্লার মুকুলের মতো জাতিস্মর হয়ে গেলাম নাকি! পূর্বজন্মে কখনো এসেছিলাম এখানে!
হঠাত্ই বিদ্যুচ্চমকের মতো মনে হলো, পূর্বজন্মে কেন, এই জন্মেরই তো ঘটনা। ২০০৪ সালে সেন্ট লুসিয়ায় এসে প্রথম এই হোটেলটাতেই উঠেছিলাম। রাতটা কোনোমতে কাটিয়ে সকালেই চলে গিয়েছিলাম ওই গ্লেনক্যাসলে। এবারও সেই এমজিআই, সেই গ্লেনক্যাসল—কাকতালীয় বললেও যেন পুরোপুরি বোঝানো যাচ্ছে না।
মিল আছে আরও। এবারও কোনোমতে শুধু রাতটাই পার করলাম এখানে। হোটেলের মূল ভবন থেকে অনেক দূরে প্রায় জঙ্গলের মধ্যে একটা রুম। তার চেয়েও ভয়াবহ, ইন্টারনেট নেই। যে কারণে এই দুর্ভোগের কাহিনি অফিস পর্যন্ত পৌঁছুবে কি না, তা নিয়েও সংশয়ে ভুগছি। এখন ছুটছি প্রথমে ইন্টারনেট, তার পর অন্য কোনো হোটেলের খোঁজে। এসব করে সময়মতো মাঠে যেতে পারলে হয়!
সেন্ট লুসিয়া, ১১ মে