Wednesday, February 5, 2014

একটি দ্বিধান্বিত গল্প by তাওহিদ মিলটন

এক দেশে এক ব্যাংক ছিল। ব্যাংকটির নাম গোল্ডেন ব্যাংক। এই ব্যাংক নিয়ে প্রচলিত ছিল অদ্ভুত সব গল্প। এই ব্যাংক থেকে যে কেউ যখন খুশি টাকা আত্মসাৎ করতে পারত, চাইলে চুরিও করতে পারত। একদিন সেই গোল্ডেন ব্যাংকের দ্য গোল্ডেন ম্যান খ্যাত সোহেল দুই বছর পরিশ্রম করে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে প্রায় ১৭ কোটি টাকা চুরি করলেন পুরো বিদেশি স্টাইলে। কিন্তু ধরা পড়লেন পুরোপুরি দেশি স্টাইলে। কিন্তু তার মাথায়ও বুদ্ধি কম ছিল না। ধরা পড়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন তিনি। সেখানে বেশ দম্ভের সঙ্গে বললেন, ‘আমার এত দিনের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। আমি আমার এক বন্ধুর সঙ্গে বাজি ধরেছিলাম। বলেছিলাম, “আমাদের ব্যাংকের ভল্টের সিকিউরিটি ব্যবস্থা খুবই দুর্বল।” সে তখন কথাটা মানেনি। আমারও জেদ চেপে গেল। এরপর আমি নেমে পড়ি আমার অভিযানে। দীর্ঘদিন পরিশ্রম করে দুটো জিনিস প্রমাণ করে দিলাম আমি। প্রথমটি হলো—সত্যি সত্যি আমাদের দেশের সরকারি ব্যাংকের সিকিউরিটি ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। আর দ্বিতীয়টি হলো, এ দেশের প্রশাসন যদি চায়, তাহলে কোনো অপরাধীই কারও চোখে ধুলো দিয়ে পালাতে পারে না। আমার মিশন শেষ।’

এরপর তো দেশের সংবাদমাধ্যমে তাকে নিয়ে শুরু হলো ঝড়। এখন সোহেল কি আসলে একজন চোর, নাকি জাতীয় বীর—বিতর্ক এবং দ্বিধা এটা নিয়েই।

ক্যানসারের ‘জলোচ্ছ্বাসের’ মুখোমুখি বিশ্ব: জাতিসংঘ

বিশ্বজুড়ে ক্যানসারে আক্রান্তের হার ২০৩০ সালের মধ্যে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাবে৷ গত সোমবার প্রকাশিত জাতিসংঘের বৈশ্বিক বিশ্লেষণমূলক এক প্রতিবেদনে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, পৃথিবী এখন ক্যানসারের ‘জলোচ্ছ্বাসের’ মুখোমুখি৷ বিশ্ব ক্যানসার দিবসের প্রাক্কালে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থার (আইএআরসি) ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে (২০১২ সালের হিসাব অনুযায়ী) প্রতিবছর এক কোটি ৪০ লাখ মানুষ ক্যানসার আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হচ্ছে৷ ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা দুই কোটি ১৬ লাখে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে৷ আর ক্যানসারে মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিবছর ৮২ লাখ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে এক কোটি ৩০ লাখে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে৷ জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপনের অভ্যাসকে ক্যানসারের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ ক্যানসারের হাত থেকে বাঁচতে ধূমপান, স্থূলতা ও পানাসক্তি নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)৷ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ক্যানসারের বিস্তারের হার আশঙ্কাজনক বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়৷ আইএআরসির পরিচালক ক্রিস ওয়াইল্ড বলেন, ক্যানসার চিকিৎসার খরচ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে৷
এমনকি উচ্চ আয়ের দেশগুলোতেও এই রোগের চিকিৎসা ব্যয় সীমাহীন৷ ক্যানসার প্রতিরোধের ব্যাপারটি বেশ জটিল এবং কখনো কখনো বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে৷ ডব্লিউএইচওর চলতি বছরের বিশ্ব ক্যানসার প্রতিবদনে বলা হয়, প্রতিরোধযোগ্য ক্যানসারের মূল কারণের মধ্যে রয়েছে ধূমপান, সংক্রমণ, অ্যালকোহল, স্থূলতা ও কর্মবিমুখতা, তেজস্ক্রিয়তা (সূর্য এবং চিকিৎসার্থে স্ক্যান উভয় উৎস থেকে), বায়ুদূষণ ও অন্যান্য পরিবেশগত কারণ৷ নারীদের দেরিতে সন্তান নেওয়া, অল্প সন্তানধারণ ও শিশুদের বুকের দুধ না দেওয়া তাঁদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সাধারণ কারণ৷ আর গলায় ক্যানসারের হার সবচেয়ে বেশি দেখা যায় আফ্রিকা অঞ্চলে৷ তা ছাড়া, ক্যানসার আক্রান্তদের মধ্যে ৫৩ শতাংশই পুরুষ এবং এই রোগে মৃত্যু হওয়া ৫৭ শতাংশই পুরুষ৷ ২০১২ সালে নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে চীনে৷ প্রতিবেদনটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এবং অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বার্নার্ড স্টুয়ার্ট বলেন, আগামী দিনগুলোতে বিশ্বজুড়ে ক্যানসারের ‘জলোচ্ছ্বাস’ মোকাবিলার ক্ষেত্রে এই রোগ প্রতিরোধের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে৷ এএফপি ও বিবিসি৷

হফম্যানের বাড়িতে ‘৭০ ব্যাগ হেরোইন’

ফিলিপ হফম্যান
সদ্যপ্রয়াত অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেতা ফিলিপ হফম্যানের বাড়িতে প্রায় ‘৭০ ব্যাগ হেরোইন’ পেয়েছে নিউইয়র্ক নগর পুলিশ৷ মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে৷ এদিকে, হফম্যানের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হেরোইন ব্যবহারের বিস্তৃতির বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা৷ ৪৬ বছর বয়সী হফম্যানকে গত রোববার নিউইয়র্কে নিজ বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়৷ এ সময় তাঁর বাহুতে একটি সিরিঞ্জ ছিল৷ গত সোমবার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে৷
পুলিশের সন্দেহ, অতিরিক্ত মাদক নেওয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে৷ পু​ি​লশ বলছে, ময়নাতদন্তের পরই কেবল বলা যাবে, সিরিঞ্জের মাধ্যমে হেরোইন নেওয়ার কারণে নাকি অন্য কোনো কারণে হফম্যানের মৃত্যু হয়েছে৷ হফম্যানের অ্যাপার্টমেন্টে যেসব মাদক পাওয়া গেছে, তার মধ্যে রয়েছে কয়েক প্যাকেট এইস অব হার্টস এবং এইস অব স্পেডস৷ এগুলো হেরোইনের ব্র্যান্ড৷ হফম্যানের মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রে হেরোইন ব্যবহারের বিস্তৃতি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা৷ দেশটির ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মুখপাত্র জোসেফ মোজেজ জানান, অতিরিক্ত মাত্রায় হেরোইন নেওয়ার কারণে মানুষের মৃত্যুর হার ২০০৬ সালের তুলনায় ২০১০ সালে ৪৫ শতাংশ বেড়েছে৷ আর এটা হেরোইন গ্রহণ কেবল শহর এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়, গ্রামীণ জনপদেও ছড়িয়ে পড়েছে৷ এএফপি ও বিবিসি৷

৩৯ বিল পাস অনিশ্চিত

সাধারণ নির্বাচনের আগে ভারতীয় সংসদের শেষ অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে বিভিন্ন বিষয়ে কংগ্রেস-বিজেপি দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে উঠেছে৷ প্রধান এই দুই দলের টানাপোড়েনের অবসানে গতকাল মঙ্গলবার সংসদীয় মন্ত্রী কমলনাথ ও লোকসভার স্পিকার মীরা কুমারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠক খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি৷ বিরোধীরা এমন কোনো আশ্বাস দেননি, যাতে সংসদের বাজেট অধিবেশন নির্বিঘ্নে কাটবে এবং সরকার যে ৩৯টি বিল পাস করাতে চাইছে, তা সম্ভব হবে৷ আজ বুধবার ​েলাকসভার দুই সপ্তাহের অধিবেশন শুরু হচ্ছে৷ প্রধানত চারটি বিষয় নিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে বিজেপিসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের মতপার্থক্য চরমে৷ এক বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন বিলটি ঝুলে আছে৷ সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে জবরদস্তি সেটি রাজ্যসভায় পেশ করা হয়৷ প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বাংলাদেশ সরকারকে বারবার বিলটি পাস করানোর বিষয়ে আশ্বাস দিলেও সফল হননি৷ নির্বাচনের আগে কংগ্রেসকে দ্বিপক্ষীয় কোনো বিষয়ে কৃতিত্ব দিতে চায় না বিজেপি৷ সরকারের মূল লক্ষ্য এই অধিবেশনে তেলেঙ্গানা বিলে সংসদীয় অনুমোদন আদায় করা৷ বিজেপি পৃথক তেলেঙ্গানার পক্ষে হলেও অন্ধ্র প্রদেশে যেভাবে সব রাজনৈতিক দল এর বিরোধিতা করছে, তাতে বিজেপি কিছুটা ধীরে চলো নীতি নিতে চায়৷ লোকসভার নির্বাচনের আগে তেলেঙ্গানা হয়ে গেলে কংগ্রেস অন্তত নতুন রাজ্যের ১৭টি লোকসভা আসন নিজেদের দিকে টেনে নিতে পারে৷ এই সুবিধা কংগ্রেসকে দিতে চায় না বিজেপি৷ তারা মনে করছে,
ভোট পর্যন্ত তেলেঙ্গানা ঠেকিয়ে রাখতে পারলে কংগ্রেসের দুই কূলই যাবে৷ তাই গতকাল মনমোহন সিং তেলেঙ্গানা নিয়ে সবার সহযোগিতা চাইলেও বিজেপি স্পষ্ট কিছু বলেনি৷ লোকপাল নিয়োগের কমিটি গঠন নিয়েও কংগ্রেস-বিজেপি বিরোধ তীব্রতর৷ বিল অনুযায়ী দেশে লোকপাল নিয়োগ করবে পাঁচ সদস্যের এক কমিটি৷ সেই কমিটিতে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার স্পিকার, লোকসভার বিরোধী নেতা বা নেত্রী, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি অথবা তাঁর মনোনীত অন্য কোনো বিচারপতি এবং এমন একজন আইনজ্ঞ, যাঁকে এই চারজন বেছে নেবেন৷ পঞ্চম ব্যক্তির মনোনয়ন নিয়ে কমিটির অন্যদের সঙ্গে লোকসভার বিরোধী নেত্রী সুষমা স্বরাজ একমত হতে পারেননি৷ বিজেপি সূত্রের খবর, গত সোমবার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পি পি রাওয়ের নাম পঞ্চম সদস্য হিসেবে প্রস্তাব করেন৷ সুষমা আপত্তি জানিয়ে বলেন, পি পি রাও কংগ্রেসেরই লোক৷ পঞ্চম প্রার্থী হিসেবে সুষমা তিনজনের নাম প্রস্তাব করেন৷ সুষমা বৈঠকে বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছর পর দেশে লোকপাল গঠিত হচ্ছে৷ দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে তা করতে হবে৷ কিন্তু তাঁর প্রস্তাব ১-৩ ভোটে নাকচ হওয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির শরণাপন্ন হচ্ছেন৷ ভোটের আগে জনমত জরিপ নিয়েও কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির বিরোধ শুরু হয়েছে৷ গতকাল সব দলকে নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনসংক্রান্ত এক আলোচনায় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ভোটের আগে জনমত জরিপ নিষিদ্ধ করার জোরালো দাবি তোলা হয়৷ বিজেপিসহ অনেক দল তাতে আপত্তি জানায়৷ বামপন্থীরা আবার শর্তাধীন অনুমতি দেওয়ার কথা বলেন৷ সংসদে এই দ্বন্দ্বের প্রতিফলন প্রথম দিন থেকেই ঘটে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়৷

একটি ত্রিপক্ষীয় বাস্তবায়ন কমিটি করুন

অনেক দেন-দরবারের পর তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরিকাঠামো পোশাকমালিকেরা মেনে নিয়েছেন বটে, কিন্তু সে অনুযায়ী শ্রমিকদের মজুরি প্রদানে ব্যাপক গড়িমসির খবর পাওয়া যাচ্ছে। তৈরি পোশাকমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ নিজেই স্বীকার করেছে, ঢাকা অঞ্চলের ৩৮ শতাংশ মালিক নতুন মজুরিকাঠামো এখনো কার্যকর করেননি। আর চট্টগ্রামে এ হার ৬০ শতাংশ, অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি। মালিকদের তরফে এই হিসাব প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরে না বলে দাবি করছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। তাদের দাবি অনুযায়ী, নতুন মজুরিকাঠামো মানছে না এমন পোশাকমালিকের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। সংখ্যা যা-ই হোক না কেন, সব পক্ষের গৃহীত নতুন মজুরিকাঠামো এভাবে এড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। পোশাকমালিকেরা এটি মেনে চলতে বাধ্য। নতুন মজুরিকাঠামো বাস্তবায়নে এই গড়িমসির ব্যাপারে বিজিএমইএর কোনো পদক্ষেপ নেই। অথচ মজুরি বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষতি দেখিয়ে সংগঠনটি পোশাকমালিকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নিয়েছে, আরও কিছু সুবিধা প্রক্রিয়াধীন। এমন অবস্থায় নতুন মজুরিকাঠামোর শতভাগ বাস্তবায়নে কারখানার মালিকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা বিজিএমইএর নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এই দায়িত্ব সংগঠনটি পালন করছে না। সরকারের তরফ থেকেও এই ক্ষেত্রে কোনো তদারকি নেই। সরকার যদি ভেবে থাকে, নজরদারি ছাড়াই শতভাগ পোশাকমালিক নতুন মজুরিকাঠামো অনুযায়ী শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করবেন, তবে সেটা যে বিরাট এক ভুল, তা প্রমাণিত। জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী লীগের সভাপতি,
যিনি পোশাকশ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি বোর্ডে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি ছিলেন, তিনি যথার্থই বলেছেন যে সরকার ও বিজিএমইএর তদারকি ছাড়া নতুন মজুরিকাঠামোর বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।  খানে বিজিএমইএর সক্রিয়তা যে অত্যন্ত জরুরি, তা সংগঠনটির নেতাদের উপলব্ধি করা উচিত। কারণ, পোশাকমালিকদের জন্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা আদায়ে তৎপরতার সঙ্গে সঙ্গে তাদের নৈতিক বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয় শ্রমিকদের স্বার্থ, বিশেষত তাদের কাছে প্রতিশ্রুত প্রাপ্তিগুলো নিশ্চিত করার। তৈরি পোশাকশিল্পের স্বার্থ মানে তো কেবল মালিকদের স্বার্থ নয়, শ্রমিকদের স্বার্থও। শুধু নৈতিক বাধ্যবাধকতা নয়, নতুন মজুরিকাঠামো বাস্তবায়নের আইনি দিকও রয়েছে। পোশাকমালিকেরা এটি বাস্তবায়নে বাধ্য আইনিভাবেই; কিন্তু তাঁরা সেটা না করলে তার প্রতিকার চাইতে শ্রমিকেরা ব্যক্তিগতভাবে আদালতের শরণাপন্ন হবেন, এমন বাস্তবতা দুঃখজনকভাবে অনুপস্থিত। এ ক্ষেত্রে বিজিএমইএ মালিকদের ওপর চাপ দিয়ে সেটা করতে পারে এবং তা করাই তাদের দায়িত্ব। পোশাকমালিকদের উপলব্ধি করা উচিত যে শ্রমিকদের প্রতি ন্যায্য আচরণের বিকল্প নেই। নতুন মজুরিকাঠামো অনুযায়ী মজুরি পাওয়া তাঁদের ন্যায্য অধিকার। যেসব মালিক এখনো নতুন মজুরিকাঠামো অনুযায়ী শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করেননি, তাঁদের উচিত বকেয়াসহ তা পরিশোধ করা। আর সিপিডি যেমন বলেছে, সরকার, পোশাকমালিক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করে নতুন মজুরিকাঠামোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন তদারকির দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।

বেআইনি ও ক্ষতিকর নির্মাণ বন্ধ করুন

আইন অমান্য করে, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নালার ওপর বিপণিবিতান বানাচ্ছে। ঘটনাটি ছোট মনে হলেও এ ধরনের গাফিলতির ফলেই রানা প্লাজার মতো ঘটনা ঘটে। সুতরাং গোড়াতেই এসব বন্ধ করায় কোনো শিথিলতার সুযোগ নেই। চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটের যে জায়গায় বিপণিবিতান উঠছে, সেই জায়গাটিতে নালা রয়েছে। নালার ওপরে অবকাঠামো নির্মাণ করা মানে বর্ষার সময় অতিরিক্ত পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়া। জায়গাটির আশপাশে আগে থেকেই বড় বড় বিপণিবিতান থাকায় নতুন বিপণিবিতান হলে এলাকাটিতে চলাচলের রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবারের প্রথম আলোয় এ বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ থেকে দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও লোকজন মনে করছেন, অনুমোদনহীন দোকানগুলো নির্মিত হলে বিদ্যমান বিপণিবিতানগুলোর অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা হুমকিতে পড়বে। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশের পথও সংকীর্ণ হয়ে যাবে বলে তাঁরা মনে করছেন। তা ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও থাকছে। এত সব কারণ থাকায় উচ্চ আদালতও নির্মাণকাজে নিষেধাজ্ঞা দেন। তার পরও সিটি করপোরেশন কিসের ভিত্তিতে অবৈধ নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে?
উল্লেখ্য, তারা এভাবে আরেকটি জায়গায় নালার ওপর বিশ্ববিদ্যালয় ভবনও নির্মাণ করেছে। ব্যবসার উদ্দেশ্যে এভাবে আইনের লঙ্ঘন ও জনস্বার্থ উপেক্ষা করা যায় না। যেখানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষেরও অনুমোদন নেই, সেখানে এই প্রকল্প কোনোভাবেই চলতে পারে না। এ রকম উপেক্ষা ও অনিয়মের ফলে দেশে অনেকগুলো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে এসব দেখার দায়িত্ব ছিল স্বয়ং মেয়রের। কিন্তু তিনি যখন আইন মানছেন না, তখন সরকারের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাকেই এগিয়ে আসতে হবে। রানা প্লাজা ধসে পড়ার কারণ ছিল অননুমোদিত নির্মাণ এবং ভুল নকশা। এরপর আশা করা গিয়েছিল যে, নির্মাণকাজে আইনি ও কারিগরি ত্রুটির সুযোগ অন্তত সরকারি প্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই রাখবে না। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে অতীতে নিজেদের ও অন্যদের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

অনুগত বিরোধী দলের অবিচল আস্থা

দশম সংসদের উদ্বোধনী দিনে বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ সরকারের প্রতি অবিচল আস্থার কথা বলেছেন তাঁর সূচনা বক্তব্যে। তাঁর নেতৃত্বে বিরোধী দল স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেয়নি। ‘হ্যাঁ’ ধ্বনি তুলে সমর্থন জানায় সরকারি দল-প্রস্তাবিত প্রার্থীদের। তাঁরা নির্বাচিত হলে টেবিল চাপড়ে উল্লাসও করেন সরকারি দলের সঙ্গে। বিরোধী দলের নেতা বলেছেন, কোনো দল না এলে তাদের জন্য নির্বাচন থেমে থাকতে পারে না। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতার জন্য নির্বাচন প্রয়োজন ছিল। এটা সম্পন্ন করতে পারার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান। সরকারে তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী আছেন তাঁর দল থেকে। আছেন মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। তাঁরা আসন নিয়েছেন ট্রেজারি বেঞ্চে নয়, বিরোধী দলের সারিতে। বিরোধী দলের নেতা এটাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার মতোই ‘নিউ কনসেপ্ট’ বলে মন্তব্য করেছেন। আরও বলেছেন, এভাবেই তিনি সরকারকে সহযোগিতা আর আবশ্যক হলে সমালোচনা— উভয়টাই করতে সক্ষম হবেন। সেটা কীভাবে কতটা পারেন, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী। কৌতূহলী অনেকেই। এটা অনেকটাই অচেনা আর ব্যতিক্রমী এক সংসদ। প্রথমত বলতে হয়, এ সংসদের অধিকাংশ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। এটা অভূতপূর্ব। বাকি আসনগুলোয় খুব কম ক্ষেত্রেই কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। মনে হয়েছে যেন ‘ফ্রেন্ডলি ম্যাচ’ চলছে ক্ষেত্রবিশেষে ওয়াকওভার। দেশের বৃহত্তর দুটো দলের একটির নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে অংশ নেয়নি। সুতরাং, ভোট দেওয়ার উৎসাহ ছিল খুব কমসংখ্যক লোকেরই।
তদুপরি, ব্যাপক সন্ত্রাস হয়েছে, বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে। হতাহত অনেক। ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল চার শতাধিক কেন্দ্রে। ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত পাঁচ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করা হয় আগের রাতে। ভোটকর্মী নিহত হয়েছেন একাধিক। সুতরাং, একে ব্যতিক্রমী একটি সংসদ বলা যেতেই পারে। তারপর আসছে বিরোধী দলের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত জাতীয় পার্টির সরকারি দায়িত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে। রওশন এরশাদ সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিমালা অনুসারে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। আবার আসন বিন্যাসে তাঁর পাশাপাশি বসছেন সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত এ দলের সদস্যরাও। কিন্তু তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতাও বটে। বিরোধী দলের নেতার বক্তব্য অনুসারেই এটা ‘নিউ কনসেপ্ট’। তাই আমাদের অনেকের কাছেই অচেনা ঠেকছে। এমনকি সরকারি দলের কারও কারও কাছেও। সে দলের একজন প্রবীণ সাংসদের (যিনি গেল মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন) মতে, জাতীয় পার্টির এ আচরণ গাছেরটি খাওয়া আর তলারটি কুড়ানোর মতো। কাঁঠালের আমসত্ত্ব হয় না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এ নিউ কনসেপ্টের ভবিষ্যৎ আমাদের অজানা। তবে আপাতত আমরা সংসদে সক্রিয় বিরোধী দলের অবস্থান থেকে বঞ্চিত হলাম। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, ১৯৯১ সালের পর পালাক্রমে সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। তাদের যখন যারা বিরোধী দলে ছিল, তারা সংসদীয় দায়িত্ব পালন করেনি বললেই চলে। অথচ বেতন-ভাতাসহ সব সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে। উপভোগ করেছে মর্যাদা।
সংসদ বর্জন একটি স্বাভাবিক সংস্কৃতি হয়ে পড়েছিল। বর্তমান বিরোধী দল হয়তো তা করবে না। কিন্তু তারা প্রকৃত বিরোধী দল কি না, সেটা নিয়েই সংশয় রয়েছে। তদুপরি যারা নির্বাচনে অংশ না নিয়ে সংসদের বাইরে রইল, তারা কিন্তু এ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশীদার নয়। অংশীদার নয় তাদের সমর্থক জনগোষ্ঠী। এ অবস্থায় একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। আপাতত পরিস্থিতি শান্ত। একে স্থিতিশীল রাখতে হলে সংলাপের মাধ্যমে প্রধান দলগুলোকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশীদার হতে হবে। ‘বন্দুকযুদ্ধ’ আর ‘ক্রসফায়ার’ সাময়িক সমাধান দিলেও স্থায়ী স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক হবে না। তবে দলমত-নির্বিশেষে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারি পদক্ষেপের আবশ্যকতা অস্বীকার করা যায় না। স্বার্থান্ধ ব্যক্তি ব্যতীত কেউ নৈরাজ্য সমর্থন করে না। তবে এর নামে বিরোধী দল দমনও সমর্থনযোগ্য নয়। এ কার্যক্রম পক্ষপাতহীন হলে ব্যাপক জনসমর্থন পাওয়া যাবে। সংসদের বর্তমান বিরোধী দল সব জাতীয় সমস্যাতেই সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে বলে জানিয়েছে। এটাই হওয়ার কথা এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশেও তাই হয়। মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে যোগাযোগ হয়। হয় না শুধু আমাদের এ দুর্ভাগা দেশে। বর্তমান বিরোধী দলের নেতার এ মনোভাব গুরুত্বের সঙ্গে গৃহীত হতো, যদি তিনি প্রকৃতই বিরোধী দলে অবস্থান নিতেন। এ ছাড়া তাঁর দলটি ব্যাপক জনসমর্থিতও নয়।
ভাগাভাগির নির্বাচন না হয়ে সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে এ দলের আসন সংখ্যা বর্তমানের ধারে-কাছেও আসবে না বলে অনেকে মনে করেন। তাই তাদের সহযোগিতার প্রস্তাবটি শিষ্টাচারের বিবেচনায় প্রশংসনীয় হলেও রাজনৈতিকভাবে তেমন মূল্য বহন করে না। এতে উৎসাহিত হওয়ার কোনো কারণও লক্ষণীয় হয় না। দলটি ১৯৯০ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দ্বৈত নীতি নিয়ে চলছে। এমনকি ক্ষমতায় থাকাকালেও প্রধান দুটো দলকে বিপরীতমুখী রাখতে সদা সচেষ্ট ছিল। সেটা যখন সম্ভব হয়নি, তখনই ক্ষমতা হারায়। শুরুতে তাদের পতিত স্বৈরাচার বলত উভয় প্রধান দল। সে পতনের দিনটিও উদ্যাপন করত। দুমুখো নীতির জন্য দলটির এখন কিন্তু বেশ কদর। বড় শরিকেরা এখন ‘পতিত’ আর ‘স্বৈরাচার’ শব্দগুলো মুখেও তোলে না। অবশ্য গেল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলটি আরেক দফা ভেঙেছে। যেটুকু আছে, সেখানেও নেতৃত্বের মেরুকরণ লক্ষণীয়। শেষতক কোথায় দাঁড়ায়, এটাও দেখার বিষয়। এ দেশ ১৯৮৮ আর ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেখেছে। দেখেছে এ বছরের জানুয়ারির নির্বাচন। প্রতিটি নির্বাচনের ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষিত রয়েছে। তবে মাত্রার হেরফের হলেও কোনোটিই জনসমর্থিত এমন দাবি করা যাবে না। এখানে ‘ফ্রেন্ডলি ম্যাচ’-এর জন্য জাতীয় পার্টিকে নেওয়া হয়েছে। আর তারা যখন গেছেই, শুধু বিরোধী দলের নেতার পদ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকার কথা নয়। মন্ত্রিত্ব আর বিশেষ দূতের পদও চেয়েছে। পেয়েছেও। তাই তাদের কোনো নেতা সরকারের সমালোচনা করলেও তা ‘ফ্রেন্ডলি’ হবে। তির্যক হবে না—এটা অন্তত বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে জোর দিয়ে বলা যায়। সরকারের কাছে এ বিরোধী দলের নেতার কদর কিন্তু অনেক। নির্বাচন নিয়ে এরশাদ যখন একপর্যায়ে বিগড়ে যান বা তা করার ভান করেন, তখন হাল ধরেন এ নেতাই। এরশাদ ‘র‌্যাবের সহায়তায়’ সিএমএইচে ভর্তি হন।
মাস খানেক তথায় থাকেন। মাঝেমধ্যে খেলেন গলফ। জনৈক মুখপাত্রের মাধ্যমে নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানাতে থাকেন। তখন রওশন এরশাদ নির্বাচনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, এরশাদের নির্দেশেই তা করা হচ্ছে। তাই সরকারি দল তাদের একজন প্রবীণ নেতার আসন ছেড়ে দেয় তাঁকে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসেন তিনি। ওই প্রবীণ নেতাকেও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করে সব দিক সামাল দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের নেতার পদ ছাড়াও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি আর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত পদে নিয়োগ দলটিকে ক্ষমতার অংশীদার করেছে। সুতরাং, সরকারের প্রতি তাঁর আস্থা অবিচল থাকারই কথা। এরশাদ বর্তমান প্রধান দুটো দলের সঙ্গেই সময়ে সময়ে জোট করেছেন। কখনো তারা তাঁকে ঠকিয়েছে। কিংবা তিনি তাদের। কারাবাস করেছেন দুটো দলের সরকারের সময়েই। তাঁর দলের মধ্যেও এ দুই দলের প্রতি চিহ্নিত অনুরাগী কয়েকজন নেতা আছেন। হুমকি-ধমকি যা-ই দিক, একা তাঁরা এগোতে পারবেন না। এটা এরশাদ ও রওশন এরশাদ উভয়ই ভালোভাবে বোঝেন। বোঝেন দলের অন্যরাও। তাই যখন যেদিকে সুবিধা, সেদিকেই ঝুঁকে পড়েন। অতীতের অবজ্ঞা, অবহেলা আর কথা না রাখার বিষয়গুলোও উপেক্ষা করেন নিজেদের গরজেই। আর তা করতে গিয়ে চৈতন্য মহাপ্রভুর শিষ্য ও বন্ধু নিত্যানন্দ রচিত একটি গানের কলি হয়তো বা স্মরণে আনেন। সে গানের কলিটি হচ্ছে:
মেরেছিস কলসির কানা,
তাই বলে কি প্রেম দেব না?
চৈতন্য মহাপ্রভু আর তাঁর শিষ্য সেই প্রেম বিলিয়েছিলেন নিছক সদিচ্ছায়। আর আমাদের বর্তমান সংসদের বিরোধী দলের প্রেম কিন্তু অনেক চড়া মূল্যে কেনা।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com

ক্যান্সার মহামারীর পথে বিশ্ব

বিশ্বে ক্যান্সার মহামারী আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক বার্তা জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিজ্ঞানীরা। পাশাপাশি মদ এবং চিনির ব্যবহার কমানোর প্রতিও জোর দিয়েছে সংস্থাটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ২৪ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে। যাদের মধ্যে অর্ধেক নিরাময়যোগ্য। ধূমপান, মেদ এবং মদ পান কমিয়ে ক্যান্সার প্রতিরোধে এখনই সময় সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার। ক্যান্সার নিয়ে এখনও সহজ-সরল মন্তব্যই প্রচলিত আছে বিশ্বজুড়ে। প্রতি বছর ১৪ মিলিয়ন মানুষের ক্যান্সার ধরা পড়ে। কিন্তু বিশ্ব ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা ধারণা করছে, আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ১৯, ২০৩০ সাল নাগাদ ২২ এবং ২০৩৫ সাল নাগাদ ২৪ মিলিয়নে দাঁড়াবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যান্সার রিসার্চ এজেন্সি প্রধান ড. ক্রিস ওয়াইল্ড জানান,
বিশ্বে ক্যান্সারাক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে এবং ঠিক যে হারে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্যান্সারও বাড়ছে। ক্যান্সার হওয়ার মূল কতগুলো কারণের কথা উল্লেখ করা হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশ্ব ক্যান্সার রিপোর্ট ২০১৪-এ। সেখানে ধূমপান, ক্ষত, মদ, স্থূলতা এবং কম কর্মক্ষমতা, সূর্য অথবা মেডিকেল স্ক্যানার থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয় পদার্থ, বায়ু দূষণসহ আরও বেশকিছু কারণকে ক্যান্সার রোগের জন্য দায়ী করা হয়। বেশিরভাগ দেশেই নারীদের স্তন ক্যান্সারের হার বেশি। যদিও আফ্রিকার বিশাল অংশেই গর্ভাশয় ক্যান্সারের হার সবচেয়ে বেশি। বিশ্ব ক্যান্সার রিসার্চ ফান্ড সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের দুই হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর এক সমীক্ষা চালায়। তাতে দেখা যায়, শতকরা ৪৯ জন মানুষ জানেনই না যে, অতিরিক্ত খাদ্যসংযম আসলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। তৃতীয় একদল মানুষ আছে যারা মনে করে, ক্যান্সার মূলত জিনবাহী রোগ। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে, মাত্র ১০ শতাংশ ক্যান্সার হয় জিনগত কারণে।

ভারতরত্ন টেন্ডুলকার

ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি সে দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘ভারতরত্ন’ তুলে দিলেন শচীন টেন্ডুলকারের হাতে। ভারতের বিশিস্ট বিজ্ঞানী অধ্যাপক সিএনআর রাওকেও ‘ভারতরত্ন’ উপাধিতে সম্মানিত করা হল। শচীনের বাবা ছেলের নাম রেখেছিলেন বিশিষ্ট বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী শচীন দেব বর্মণের নামে। স্বভাবতই শচীনের সম্মানপ্রাপ্তিতে উচ্ছ্বসিত বাঙালিরাও। শচীন যখন পুরস্কার নিচ্ছেন, রাষ্ট্রপতি ভবনের দর্শকাসনে তখন স্ত্রী অঞ্জলি, মেয়ে সারা। শচীনের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে করতালি। পরনে কালো স্যুট। প্রথম ক্রীড়াবিদ হিসেবে ‘ভারতরত্ন’ শচীন। সর্বকনিষ্ঠও।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি ভবনের দরবার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ইউপিএ চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী। শচীন ২০০৮ সালে সে সময়ের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির সঙ্গে পদ্মবিভূষণ উপাধিতে সম্মানিত হয়েছিলেন। এদিন তিনি সেই প্রণব বাবুর হাত থেকেই সম্মান নিলেন। ভারতরত্ন পুরস্কার একটি স্বর্ণপদক ও মানপত্র। এই পদকটি কলকাতার টাকশালে তেরি করা হয়। ২০০০ সালে শচীন যখন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক পদ থেকে সরে যান, তখনই এই পদক তৈরি করা হয়েছিল। পদকটি তৈরি করতে দুই লাখ রুপি খরচ হয়। স্বর্ণপদকটির মধ্যে হিন্দিতে ‘ভারতরত্ন’ শব্দগুলো খোদিত রয়েছে। পুরস্কার দেয়ার সময় রাষ্ট্রপতি শচীনকে বলেন, ‘আপনাকে পুরস্কৃত করায় গোটা দেশ আনন্দিত। আপনার আরও সাফল্য কামনা করি।’ পরে শচীন সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘আমি ২২ গজে ব্যাট করা ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু ভারতের জন্য ব্যাট করেই যাব। সারা জীবন যে সম্মান, সহযোগিতা পেয়ে এসেছি তার জন্য সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’ শচীন আরও বলেন, ‘আমার এই পুরস্কার আমার মা এবং ভারতের সব মায়ের জন্য উৎসর্গ করছি। যারা নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে পুত্র-কন্যার জন্য জীবন নিবেদিত করেন।’

নিলয়ের চোখে তিশার ভালোবাসা

নিলয়ের চোখে প্রেমের প্রদীপ দেখেছেন তিশা! দেখেছেন বললে ভুল হবে। বলা যায় জ্বালিয়ে দিয়েছেন। চোখে প্রেমের আগুন নিয়ে রীতিমতো তিশার জন্য পাগল হয়ে উঠেছেন নিলয়। সম্প্রতি এমন ঘটনাই ঘটেছে। তবে বাস্তবে নয়, নাটকে। ফারিয়া হোসেনের রচনা ও আরিফ খানের পরিচালনায় ‘চোখে চোখ’ শিরোনামের একটি খণ্ড নাটকে জুটি বেঁধে অভিনয় করলেন এ দুই তারকা। নাটকে তিন্নী চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিশা ও রাসেল চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিলয়। মূলত তিন্নী ও রাসেলের মধ্যকার ভালোবাসার গল্প নিয়েই নাটকটি নির্মিত হয়েছে। পরিচালক আরিফ খান বলেন,
‘ভালোবাসার গল্প নিয়ে অনেক নাটকই এর আগে নির্মিত হয়েছে। ভালোবেসে ভালোবাসার মানুষকে পাওয়াটাই সবচেয়ে বড় বিষয় নয়। ভালোবাসার মানুষটির জন্য ত্যাগ স্বীকার করাটাও ভালোবাসা। এ বিষয়টিই নাটকে তুলে ধরা হয়েছে।’ নিলয়ের সঙ্গে কাজ করা প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘নিলয় এ সময়ে অভিনয়ে অনেক ভালো করছেন। নাটকটি নিয়ে আমার আশা অনেক বেশি।’ নিলয় বলেন, ‘তিশার সঙ্গে নতুন কাজটি অনেক ভালো হয়েছে। দর্শকেরও ভালো লাগবে।’ ভালোবাসা দিবসে নাটকটি দেশ টিভিতে প্রচার হবে বলে নির্মাতা সূত্রে জানা যায়।