Sunday, October 27, 2013
সরল গরল- আজ থেকে সিইসি ‘সুপার প্রধানমন্ত্রী’ by মিজানুর রহমান খান
About: mid tip
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দেবতা না দানব
About: mid tip
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নগর দর্পণ: চট্টগ্রাম- মন তো দখল করা যায় না by বিশ্বজিৎ চৌধুরী
About: mid tip
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নাশকতার মধ্য দিয়ে হরতাল শুরু
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মন তো দখল করা যায় না
![]() |
| হরতালের আগে চট্টগ্রামের লালখান বাজার |
বিশ্বজিৎ চৌধুরী: কবি, লেখক ও সাংবাদিক।
bishwabd@yahoo.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাজ্যে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র
ড. মুশফিকুর রহমান: খনি প্রকৌশলী, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হাসিনা-খালেদা টেলি সংলাপ
আজ থেকে যে হরতাল শুরু হতে যাচ্ছে, সেই কর্মসূচিকে সংঘাত ও সহিংসতামুক্ত রাখার কোনো নিশ্চয়তা কি হরতাল আহ্বানকারী দল বা জোট দিতে পারবে? ২৫ অক্টোবর কয়েকজনের মৃত্যুর পর আমরা কি তবে আরও মৃত্যু ও সহিংসতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি? অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সংঘাত ও সহিংসতার আশঙ্কাই বাড়ছে এবং অসহায় জনগণ এক দমবন্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে আটকে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক শাসনে একটি সরকার তার মেয়াদ পূর্ণ করার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ তাদের পছন্দের সরকার বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে। কিন্তু প্রতিটি নির্বাচনের আগেই যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, তা আর যা-ই হোক, গণতান্ত্রিক রীতিনীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। গণতান্ত্রিক সমাজে যেকোনো বিরোধ মেটানোর পথ হচ্ছে আলাপ-আলোচনা। দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে পারস্পরিক আস্থাহীনতা এবং আন্তরিকতার অভাব দেশকে আজ এ ধরনের অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার অবসান হোক by বিমল সরকার
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গত তিন সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষাসহ একাডেমিক কার্যক্রম, সেই সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তি, অস্থিরতা, সমস্যা আমাদের দেশে নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে যে সময়ে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা সবার জন্যই গভীর উৎকণ্ঠার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেড় মাস আগে এইচএসসির ফল প্রকাশিত হয়েছে। এ পরীক্ষায় প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষার্থী এ প্লাস পেয়ে পাস করেছে। ভালো ফলাফলধারীদের বরাবরই লক্ষ্য থাকে খ্যাতিমান একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া। ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসন সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। ফলে ভর্তির ক্ষেত্রে কেবল হাজার নয়, কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর মূল আগ্রহ বা উৎসাহ ঘুরপাক খেতে থাকে ঐতিহ্যবাহী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেন্দ্র করে।
এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। দুর্গাপূজা ও ঈদুল আজহার ছুটি শেষে, বিশেষ করে নভেম্বরের শুরু থেকেই শুরু হবে ভর্তি পরীক্ষা। দিনক্ষণ ঘনিয়ে এলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাই রয়েছে অন্ধকারে। ঈদের আগে পত্রপত্রিকায় জাহাঙ্গীরনগরে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা বা জটিলতা সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়েছে। সপ্তাহকাল অবরুদ্ধ থাকার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার শর্তসাপেক্ষে ছাড়া পেয়েছেন। লাঞ্ছিত করা হয়েছে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনকে। পক্ষ-বিপক্ষের অবতারণা না করেও বলা যায়, কয়েকজন সম্মানিত শিক্ষকও লাঞ্ছিত হয়েছেন। এজন্য পরস্পর পরস্পরকে দায়ী করেছেন। পদত্যাগ করেছেন একে একে তিনজন সহকারী প্রক্টর।
এ প্রেক্ষাপটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা নিরসনের যে চেষ্টা চলছে, আমরা আশা করব তা ফলপ্রসূ হবে। একের পর এক ঘটে যাওয়া অনভিপ্রেত ঘটনার পরিধি কোনোভাবেই আর যেন বিস্তৃত না হয়। ভাগ্যবিড়ম্বিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সবার মন থেকে যাতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দূরীভূত হয়। নৈসর্গিক শোভামণ্ডিত চিরচেনা ক্যাম্পাস যেন শিক্ষার্থী-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সবার পদচারণা ও কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মর্যাদা আর যেন ক্ষুণœ না হয়। দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার এ আকুলতা।
দেশের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সময়োচিত পদক্ষেপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারে। এখানে বঙ্গবন্ধু আমলের একটি ঘটনার উল্লেখ প্রাসঙ্গিক বলে মনে করি। ১৯৭২ সালের জুলাই মাস। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের কাজে সবাই ব্যস্ত। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স শেষবর্ষ ও মাস্টার্স প্রথমপর্বের কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী দাবি করে বসে, প্রস্তুতি না থাকায় তারা পরীক্ষার আসনে বসতে পারবে না, তাদের অটোপ্রমোশন দিতে হবে। কর্তৃপক্ষ রাজি না হওয়ায় এ দাবিতে তারা আন্দোলন শুরু করে। তাদের যুক্তি, টানা নয় মাসের যুদ্ধের কারণে পড়াশোনা হয়নি। অনেককেই জীবন বাঁচাতে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল। কেউ কেউ সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণও করেছে। অটোপ্রমোশনের দাবিদাররা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করতে থাকে। এ আন্দোলনে ডাকসুসহ কোনো ছাত্রসংগঠনেরই শীর্ষ স্তরের কোনো নেতার কিংবা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা ছিল না। এ ছিল কেবল অনার্স শেষবর্ষ ও মাস্টার্স প্রথমপর্বের শিক্ষার্থীদের একাংশের আবদার। ১৮ জুলাই ডাকসুর উদ্যোগে টিএসসিতে এক ছাত্রসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডাকসু নেতারা অটোপ্রমোশনের বিষয়টিকে আত্মঘাতী বলে অভিহিত করে এ ধরনের অযৌক্তিক দাবি থেকে শিক্ষার্থীদের সরে আসার আহ্বান জানান। পরদিন টিএসসিতেই শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অন্য এক সভায় উপাচার্য অধ্যাপক মোজাফফর আহম্মদ চৌধুরীও একই বক্তব্য রাখেন এবং আন্দোলনের পথ পরিহার করে ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান। এদিকে আন্দোলনকারীরা ক্রমে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ২০ জুলাই বেলা ১১টায় তারা বটতলায় সভা করে। সভাশেষে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে মিছিল সহকারে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে তার কার্যালয়ে যায় এবং কোনোরকম পরীক্ষা ছাড়াই ১ আগস্ট থেকে শেষবর্ষে তাদের ক্লাস শুরু করার দাবি জানায়। উপাচার্য এ সময় বিভাগীয় প্রধান ও প্রভোস্টদের সঙ্গে এ বিষয় নিয়েই বৈঠক করছিলেন। বৈঠকে আন্দোলনকারীদের অযৌক্তিক দাবি না মেনে তাদের পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ছাত্ররা সেখানে গেলে উপাচার্য বের হয়ে আসেন এবং বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও অবহিত করেছেন বলে জানান। এ সিদ্ধান্ত শোনার পর ছাত্ররা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা স্লোগান দিতে দিতে উপাচার্যের কার্যালয়ের সব দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়। টেলিফোন ও বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেয়া হয়। উপাচার্যসহ ৩০ জন বিভাগীয় প্রধান ও প্রভোস্টকে সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ করে রাখে। দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত প্রায় ৬ ঘণ্টা চলে এ অবরোধ। উপাচার্য এবং সিনিয়র শিক্ষকরা মাঝেমধ্যে অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। অবশেষে স্বয়ং বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেন। তিনি আকস্মিকভাবে উপাচার্যের কার্যালয়ে এসে উপস্থিত হলে ক্যাম্পাসের সবাই বিস্মিত হয়ে পড়েন। প্রথমেই তিনি অনাকাক্সিক্ষত জিম্মিদশা থেকে শিক্ষকদের উদ্ধার করেন এবং ছাত্রদের অবরোধ তুলে নিতে নির্দেশ দেন। শিক্ষকদের প্রতি ছাত্রদের এহেন অশ্রদ্ধা প্রদর্শনে চরম অসন্তোষ ও দুঃখ প্রকাশ করে বঙ্গবন্ধু বলেন, তোমাদের মতো আমিও ছাত্র ছিলাম। জীবনে ছাত্র রাজনীতি করেছি। কিন্তু শিক্ষকদের সঙ্গে কখনও এরূপ ব্যবহার করিনি। এভাবেই শেষ হয় আন্দোলনকারীদের সেদিনের কর্মসূচি। পরে শিক্ষকদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিলেবাসের কলেবর কিছুটা কমিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছিল।
বলে রাখা দরকার, স্বাধীনতা লাভের মাত্র ছয় মাস পরের ঘটনা। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের কাজে বঙ্গবন্ধুর কর্মব্যস্ততা তখন ভাবনার অতীত। মাত্র দুমাস আগে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ও হল সংসদ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে তার প্রিয় ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একেবারে শীর্ষ স্তরের নেতারা প্রতিপক্ষ ছাত্র ইউনিয়ন প্রার্থীদের কাছে বলতে গেলে গোহারা হেরেছেন। এমন পরিস্থিতিতেও শিক্ষাঙ্গনগুলোর প্রতি ছিল তার তীক্ষ্ম দৃষ্টি ও মনোযোগ। তাই ক্যাম্পাসে কোনো রকম অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেনি। কেবল মানতে হবে, মেনে নাও ধরনের স্লোগান আর থেমে থেমে মিছিল ছাড়া তেমন কিছুই করেনি আন্দোলনকারীরা। তবু উপাচার্য ও সিনিয়র শিক্ষকরা ৫-৬ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ আছেন- এ কথা শোনামাত্র সবকিছু ফেলে রেখে বঙ্গবন্ধু ছুটে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বঙ্গবন্ধুর প্রতুৎপন্নমতিত্ব, দূরদর্শিতা এবং সময়োচিত হস্তক্ষেপের ফলে হয়তোবা বড় ধরনের কোনো অবাঞ্ছিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছিল সেদিন। ৪০ বছর আগের এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ঘন ঘন অচলাবস্থার কবলে পড়া থেকে রক্ষা পেতে পারে।
বিমল সরকার : কলেজ শিক্ষক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুই নেত্রীর নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা by মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার

সংশোধিত নতুন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করতে গেলে ওই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে হয় না এবং নির্বাচনটিও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের বৈশিষ্ট্য হারাবে বলে প্রতীয়মান হয়। কারণ নতুন সংবিধান অনুযায়ী সংসদ বহাল রেখে, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা বহাল রেখে, সংসদ সদস্যরা স্বীয়পদে বহাল থেকে নির্বাচন করলে যে সে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয় না, সে বিষয়টি ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ে না। এসব প্রসঙ্গ বিবেচনায় নিয়ে প্রধান বিরোধী দল নির্দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলন করে আসছে। এ লক্ষ্যে প্রথম দিকে হরতালের মতো কর্মসূচি ব্যবহৃত হলেও পরে বিরোধী দল জনসমর্থন পক্ষে রাখতে হরতাল বা সহিংস কর্মসূচি পরিহার করে অহিংস মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ প্রভৃতির মধ্য দিয়ে তাদের দাবির পক্ষে সফলভাবে জনমত তৈরি করে। নির্বাচন আসন্ন হওয়ার পর দৈনিক পত্রিকা থেকে শুরু করে অন্যান্য সংস্থা পরিচালিত বিভিন্ন জরিপে দেখা যায়, দেশের প্রায় শতকরা ৮০-৯০ ভাগ নাগরিক মনে করেন, দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন করলে সে নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে না। তারা এও মনে করেন, সাংঘর্ষিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির দেশে এখনও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি। এ জন্য বেশিরভাগ নাগরিক নির্দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবির প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। উল্লেখ্য, তাদের অনেকেই বিএনপিকে ভালোবেসে এ সমর্থন দেননি। বরং তারা সরকারি দলের প্রতি অবিশ্বাস এবং স্বচ্ছ ও অবাধ সংসদ নির্বাচনের স্বার্থেই এ সমর্থন প্রদান করেন।
এ রকম অবস্থায় নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় সরকারদলীয় ব্যবস্থাধীনে স্বনিয়োজিত নির্বাচন কমিশনের অধীনে সংসদ নির্বাচনের আয়োজনে কাজ শুরু করলে বিরোধী দল ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণে অসম্মতি জানিয়ে নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি সাংঘর্ষিক হয় ওঠে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখে। চীনের মতো দেশ, যে কখনও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতো না, সেই চীনও এবার বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন সংকটে নিজেকে জোরালোভাবে সম্পৃক্ত করে। ফলে সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলের নেতা ও সুশীল সমাজের সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন ফর্মুলা উপস্থাপিত হতে থাকে। তবে এসব ফর্মুলা সরকারি ও বিরোধী দলের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেনি। এমতাবস্থায় নির্বাচন আরও সন্নিকটে এলে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা এ ব্যাপারে রূপরেখা প্রদান করলে তাদের প্রদত্ত রূপরেখা নিয়ে নাগরিক সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা হয়। সবচেয়ে ভালো হতো যদি সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনের বেশ কয়েক মাস আগেই নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা প্রদান করে এ সম্পর্কে আলোচনার সূত্রপাত করা হতো। কিন্তু তা না করে ওই সময় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রীরা ‘সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে’, ‘সংবিধানের বাইরে যাওয়া যাবে না’ প্রভৃতি রকমের বক্তব্য প্রদান অব্যাহত রেখে সময়ক্ষেপণ করেন।
নির্বাচনকালীন রূপরেখা প্রদানের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী গতানুগতিক ভঙ্গিমায় তার সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি প্রদান করে, বিরোধীদলীয় শাসনকালের দুর্নীতি-দুঃশাসনের বর্ণনা দিয়ে নিজ পরিবারের সদস্যদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনকালীন সরকারের যে রূপরেখা উপস্থাপন করেন, সেখানে তিনি একটি সর্বদলীয় নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাব করে ওই সরকারের সদস্য হিসেবে বিরোধী দলের কাছে নাম আহ্বান করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তার রূপরেখায় নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কে হবেন সে সম্পর্কে কোনো আলোকপাত না করায় প্রতীয়মান হয়, প্রধানমন্ত্রীই হবেন ওই অন্তর্বর্তীকালীন সর্বদলীয় সরকারের প্রধান। এ রকম একটি প্রস্তাব যে বিরোধী দল মেনে নেবে না, তা শুনেই বলে দেয়া যায়। কারণ বিরোধী দল এতদিন ধরে যে আন্দোলন করে আসছে তার মূল দাবিই হল নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। তাছাড়া বিরোধী দল প্রস্তাবিত সরকারে কতজন সদস্য দিতে পারবে, সে সম্পর্কেও আলোচ্য রূপরেখায় কোনো আলোকপাত করা হয়নি। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগও জামায়াত-জাপাকে পাশে নিয়ে একই প্রকৃতির আন্দোলন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের দাবি আদায় করতে সক্ষম হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিচারপতি কেএম হাসান অনেক আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে আওয়ামী লীগ তাকে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের প্রধান হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছিল। আর এখন যদি সরকারি দলের প্রধানকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে রাখা হয়, তাহলে বিএনপির পক্ষে সে প্রস্তাব কীভাবে মানা সম্ভব? তবে প্রধানমন্ত্রী উপস্থাপিত রূপরেখা গ্রহণ করা হোক বা না হোক, এ রূপরেখা সরকারি দলের কঠোর অবস্থানকে অনেকটাই নমনীয় পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে সরকারের ‘সংবিধানের বাইরে যাব না’, ‘সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে’, ‘একচুলও নড়ব না’ প্রভৃতি বক্তব্য এ রূপরেখা প্রদানের মধ্য দিয়ে অসার প্রমাণিত হয়। কারণ এ রূপরেখাটি সংবিধানসম্মত নয়। নতুন সংবিধানে সর্বদলীয় সরকার বলে কিছু নেই। এখন প্রধানমন্ত্রীর রূপরেখা শুনে অনুধাবন করা যায় যে, সরকার সংবিধানের বাইরে আসতে সম্মত আছে। এদিক থেকে বিচার করে প্রস্তাবিত রূপরেখা বিরোধী দল কর্তৃক অগ্রাহ্য করা হলেও সরকারের কিছুটা নমনীয় অবস্থান ব্যাখ্যা করে আলোচ্য রূপরেখার ইতিবাচকতা তুলে ধরা যায়।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর রূপরেখা প্রদানের মাত্র দু’দিন পরই বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনালীন সরকারের একটি ভিন্ন রূপরেখা প্রদান করেন। বিরোধীদলীয় নেতা রূপরেখা প্রদানের বক্তব্যে সরকারের দেশ পরিচালনার ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের চিত্র উপস্থাপন করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি শেয়ারবাজারের লুটপাট, হলমার্ক, পদ্মা সেতু দুর্নীতি, সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ড, বিচার ব্যবস্থার দুরবস্থা, আইন-শৃংখলার অবনতি এবং খুন-গুম বৃদ্ধির চিত্র উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া তিনি দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য সহিংস আন্দোলন-কর্মসূচি না দেয়ার কথা বলেন। তিনি এ সরকারের আমলে হিন্দু-বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ হলেও তার বিচার না হওয়ার কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাবে পাল্টা আক্রমণ না করার নীতি গ্রহণ করে প্রতিহিংসার রাজনীতিতে পরিবর্তন আনার সূচনা করার প্রতিশ্র“তি প্রদান করেন। বিএনপির আমলে সন্ত্রাস হলেও ওই সব সন্ত্রাস আওয়ামী আমলে সৃষ্ট সন্ত্রাসের ধারাবাহিকতার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। বিএনপি নেত্রী নিজেদের অতীত ভুলত্র“টি স্বীকার করে ভবিষ্যতে প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে যোগ্য ও দক্ষ লোকদের সমাবেশ ঘটিয়ে ঐকমত্যের সরকার গঠনের প্রতিশ্র“তি দেন। নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা প্রদান করে বিরোধীদলীয় নেতা ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে যথাক্রমে দশজন করে যে ২০ জন নিরপেক্ষ ব্যক্তি কাজ করেছিলেন, তাদের মধ্য থেকে সরকারি ও বিরোধী দলকে যথাক্রমে ৫ জন করে সদস্যের নাম প্রস্তাব করার প্রস্তাব দেন। এই ১০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে নির্বাচনকালীন সরকার এবং সবাই মিলে আলোচনা করে একজন নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য, সম্মানিত নাগরিককে এ সরকারের প্রধান করার প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতার রূপরেখায় দেয়া হয়। এ ১১ জনের সরকারকে সংসদের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারে রূপান্তরিত করার সুযোগ রয়েছে বলে বিরোধীদলীয় নেতা উল্লেখ করেন। কাজেই তুলনামূলক বিচারে দুই নেত্রী প্রদত্ত রূপরেখার মধ্যে বিরোধীদলীয় নেতার রূপরেখাটি প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত রূপরেখার চেয়ে অধিকতর স্পষ্ট ও সুসংহত। কে প্রধান হবেন, কারা, কীভাবে এ সরকারের সদস্য হবেন, তাদের নির্বাচিত করা সম্ভব কি-না, সে সম্পর্কে এ রূপরেখায় সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। তবে এ প্রস্তাবেরও কিছু দুর্বলতা চিহ্নিত করা যায়। যেমন, উল্লিখিত দুটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ২০ জন উপদেষ্টার মধ্য থেকে যদি ১০ জন আলোচ্য প্রস্তাবে সাড়া দিতে রাজি না হন, সে ক্ষেত্রে কীভাবে নিরপেক্ষ সদস্য চয়ন করা হবে সে সম্পর্কে এ প্রস্তাবে কোনো ইঙ্গিত দেয়া হয়নি। তাছাড়া সরকারপ্রধান মনোনীত করার ক্ষেত্রে একমত হতে না পারলে করণীয় বিকল্প সম্পর্কেও এ প্রস্তাবে বক্তব্য নেই। প্রস্তাবটি বিরোধী দল সংসদেও উপস্থাপন করে। আলোচ্য প্রস্তাব গহণ ও বাস্তবায়ন করা হলে বিরোধীদলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্দলীয় সরকারের দাবি পূরণ হয়ে যায়। নাগরিক সম্প্রদায়ও যে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করবে- এমনটি মনে করার কারণ না থাকলেও সরকারি দল থেকে অতি দ্রুত এ প্রস্তাবকে ‘পশ্চাতমুখী’, ‘ষড়যন্ত্রমূলক’, ‘এতে নতুন কিছু নেই’ বলে নাকচ করা হয়েছে। বন ও পরিবেশ মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ আলোচ্য রূপরেখা সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, ‘তার বক্তব্যে নতুন কিছু নেই। তারা আগে থেকে অসাংবিধানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে দাবি করে আসছেন, আজকে তা নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। এটা সংবিধানসম্মত নয়, বহির্ভূত। এটার কোনো গ্রহণযোগ্যতা আছে বলে আমরা মনে করি না।’ তবে বিরোধীদলীয় নেতার আলোচ্য রূপরেখাকে ‘অসাংবিধানিক’ বললেও হাছান মাহমুদ কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর উপস্থাপিত সর্বদলীয় সরকারের রূপরেখাকে অসাংবিধানিক বলেননি।
এক দল আরেক দলের রূপরেখাকে যদি আলোচনা না করেই অযৌক্তিকভাবে সরাসরি নাকচ করে দেয়, তাহলে পরিস্থিতি নিশ্চিত সংঘাত ও রক্তপাতের দিকে যাবে, যা কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। এখন শোনা যাচ্ছে, সরকারি দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলকে আলোচনার জন্য চিঠি দেয়া হবে। এর আগেও একবার এমন উদ্যোগ গ্রহণের কথা শোনা গিয়েছিল, যদিও তা পরে বাস্তবায়িত হয়নি। তবে এখন নির্বাচন কাছাকাছি আসায় সরকারের যদি এ বিষয়ে বোধোদয় হয়, তা ভালো। তবে আলোচনা করলেই কিন্তু সমস্যার সমাধান হবে না। সমস্যা সমাধানের সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনা করলেই কেবল তা থেকে ফললাভ করা যেতে পারে। পরস্পরকে কোণঠাসা করে নিজে জয়ী হওয়ার মানসিকতা নিয়ে আলোচনায় বসলে তা হবে সময়ের অপচয় মাত্র। বিরোধীদলীয় নেতার সহিংস আন্দোলন-কর্মসূচি ঘোষণার পরিবর্তে নির্বাচনকালীন রূপরেখা প্রদানের পর সরকারকেই এখন পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। ইতিমধ্যে সরকারপ্রধান সংবিধান থেকে সরে এসে কিছুটা নমনীয় হয়ে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছেন। এখন দেখার বিষয়, সরকারদলীয় নিপীড়ন বা বিরোধীদলীয় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন-কর্মসূচি ঘোষিত হওয়ার আগেই সরকার ও বিরোধী দল আরও কিছু ছাড় দিয়ে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করতে পারে কি-না।
ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আগের দিন বাঘে খাইছে- অঘাট ঘাট হইছে by মোকাম্মেল হোসেন

: সুন্দরী! সেদিন তোমার হাত ধরেছিলাম বলে প্রিন্সিপালের কাছে নালিশ করেছিলে। আজ শুধু হাত নয়, পুরো বডি তুলে নিয়ে যাব। হাঃ-হাঃ-হাঃ, এসো...
নায়িকাকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলতেই সে চিৎকার দিল-
: বাঁচাও- কে আছ, আমাকে বাঁচাও!
নায়ক মোটরবাইকে চড়ে কলেজে আসছিল। নায়িকার চিৎকার তার কানে পৌঁছতেই সে ভিলেনের পিছু ধাওয়া করল। মাঠ-ঘাট, পথ-প্রান্তর পেরিয়ে ভিলেনকে হাতের নাগালে পাওয়া গেল। ঢিসুম-ঢাসুম মারধর হল। নায়কের হাতে মার খেয়ে ক্ষত-বিক্ষত, রক্তাক্ত ভিলেন পালিয়ে গেলে নায়িকা দাঁত দিয়ে ওড়না কামড়ে ধরে বলল-
: আমার নাম আঁখি। আজ তুমি না এলে, স্যরি- তুমি বলে ফেললাম!
নায়িকার ভাবভঙ্গি দেখে নায়ক আবেগে অবশ হয়ে গেল। মনে মনে বলল-
: আঁখি! আমার মনের পাখি...
দু’জন দু’জনের চোখে চোখ রাখল। দৃষ্টিতে গভীর প্রেম। এ প্রেম তাদের নিয়ে গেল কল্পনার জগতে। সেই জগতের বাসিন্দা হয়ে তারা নাচতে নাচতে গান গাইতে লগল-
: বন্ধু, এতদিন তুমি কোথায় ছিলা...
হঠাৎ পশ্চাৎদেশে ছারপোকার কামড় খেলাম। মনে হল, পর্দার গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছারপোকাটা আমাকে জিজ্ঞেস করছে-
: ও ভাইজান, এতদিন কই আছিলেন?
আক্রান্ত স্থানে চুলকাতে চুলকাতে উত্তর দিলাম-
: এতদিন দেশেই ছিলাম রে পাগলা!
আবার ছারপোকার কণ্ঠ শোনা গেল। পুটপুট শব্দ তুলে সে বলল-
: দেশে থাকলে দেখা দেন নাই কেন?
দেখা না দেয়ার কারণ একটাই- সিনেমা হলে না আসার ব্যাপারে মনের মধ্যে তৈরি হওয়া প্রবল অনিচ্ছা। এক সময় সিনেমা দেখার খুব নেশা ছিল। হঠাৎ একদিন আবিষ্কার করলাম, সিনেমা হলে আধাঘণ্টার বেশি বসে থাকা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোত্থেকে কী হল, রহিমদ্দি-কলিমদ্দি আর কালু-জালুরা এ দেশের সিনেমা জগতের দখল নিয়ে নিল। তাদের মাথা থেকে যেসব জিনিস বের হতে লাগল তা সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ নয়। সিনেমার তথাকথিত কারিগররা অশ্লীলতার চর্চা করতে করতে এক সময় দেশীয় ‘ইনস্ট্রুমেন্ট’-এর ওপর ভরসা রাখতে পারলেন না, বিদেশের দিকে ঝুঁকলেন। একবার একটা গবেষণার কাজে নোয়াখালীর বসুরহাট গেছি। সন্ধ্যার পর কোনো কাজ-কর্ম নেই। ভাবলাম- সিনেমা দেখে সময় কাটাই। টিকিট কেটে হলে ঢুকলাম। সিনেমা শুরু হল। কিছুক্ষণ পরই পর্দায় ভেসে ওঠা দৃশ্য দেখে চমকে উঠলাম। অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কেউ এ দেশীয় নন। সাদা চামড়ার মানব-মানবী। এসব মানব-মানবীর কারবার দেখে সিনেমা হলের মহিলা দর্শকরা নাকে-মুখে কাপড় চেপে ছিটকে বের হয়ে গেল। তাদের পিছুুপিছু আমিও বের হয়ে এলাম।
এ ঘটনার অনেক বছর পরে আজ আবার সিনেমা হলে প্রবেশ করেছি। এটা ময়মনসিংহ শহরের প্রাচীন সিনেমা হলগুলোর একটি। দর্শকশূন্যতার কারণে ইতিমধ্যে এখানকার ৪টি সিনেমা হলের একটি বহুতল শপিং কমপ্লেক্স ও আবাসিক ভবনে রূপান্তরিত হয়েছে। অন্য একটিও একই ভাগ্য বরণ করতে চলেছে। বাকি দুটি ধুঁকে ধুঁকে চলছে। ইন্টারভেলের সময় লবণ বেগম বলল-
: পান খাইতে ইচ্ছা করতেছে।
লবণ বেগমের ইচ্ছের কথা শুনে বললাম-
: একটা কিছু খাইয়া তার পরে পান খাও!
- না, আর কিছু খামু না।
: ঠাণ্ডা খাও। ঠাণ্ডা খাওয়ার পর পান মুখে দিয়া দেখ- কী টেস্ট!
- না। ঠাণ্ডা-মাণ্ডায় ভেজাল। তুমি শুধু পানওয়ালারে ডাক দেও।
: এইখানে পানওয়ালা পাবা কই?
- তাইলে!
: নিচে যাওন লাগব।
- ঠিক আছে। এক দৌড়ে যাবা, আরেক দৌড়ে আসবা।
: আইচ্ছা।
সিনেমা হলের সামনেই পান-বিড়ির দোকান। দুই খিলি পানের অর্ডার দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি- হঠাৎ কাঁধে স্পর্শ অনুভব করলাম। তাকিয়ে দেখি আবু বকর সাহেব। তিনি টেনে টেনে বললেন-
: একলা-একলা কোনোকিছু খাওয়া ঠিক না। একটু দিয়া-থুইয়া খাইন যে!
দোকানদারকে আরেক খিলি পানের কথা বলতেই আবু বকর সাহেব মাথা নেড়ে বললেন-
: ভাই, অনেক ধন্যবাদ। আমি পান খাই না।
- তাইলে বললেন যে!
: আপনের সঙ্গে মশকরা করলাম। খবর কী বলেন।
- চলছে গাড়ি বাইগন বাড়ি। নতুন কোনো খবর নাই।
: সিনেমা দেখতে আসছেন নাকি?
- জি। ঈদের সময় আপনের ভাবী একটা সিনেমা দেখার আবদার জানাইছিল। তার আবদার উপেক্ষা করতে পারি নাই।
: এতদিন পরে আবদার রক্ষা করতে আসছেন!
- এতদিন তো তেল-চর্বি লইয়াই কাটল। আইজ একটু টাইম পাইছি।
আবু বকর সাহেব হঠাৎ উদাসীন হয়ে গেলেন। সিনেমা হলের চারপাশ পর্যবেক্ষণ করে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন-
: এক সময় এই হলে সিনেমা দেখার জন্য খাবার-দাবার সঙ্গে লইয়া টিকিটের জন্য লাইন দিছি। হাঃ! সেই সিনেমা হলে এখন মাছি উড়ে!
দোকানদার পানের পোটলা এগিয়ে দিল। সেগুলো হাতে নিয়ে বললাম-
: বর্তমানে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হইছে। আজকাল অনেক তরুণ নির্মাতা মানসম্পন্ন ছায়াছবি তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিভার সাক্ষর রাখতেছে।
-সেইটা তো হাতেগোনা এক-দুইটা।
: এক-দুইটা করতে করতে এক সময় এই ধারাটাই প্রতিষ্ঠিত হবে। বাতাসে চিটাগুলা উইড়া যাবে। থাকবে শুধু ধান।
আবু বকর সাহেব মাথা নেড়ে বললেন
: আশাবাদী হওয়া ভালো। কিন্তু...
হাতে সময় কম। আলাপ সংক্ষেপ করার জন্য বললাম-
: আপনে কই গেছিলেন?
- গাঙ্গিনারপাড়।
: কী জন্য?
-লাইব্রেরিতে।
: ঠিক আছে, আমি তাইলে যাই।
আবু বকর সাহেব বাঁধা দিলেন। বললেন-
: আরে দাঁড়ান দাঁড়ান। লাইব্রেরিতে কী জন্য গেছিলাম- সেইটা জানতে চাইলেন না!
লাইব্রেরিতে মানুষ যায় বইপত্র কেনার জন্য। এটা নিয়ে রহস্য করার কী আছে- বুঝতে পারছি না। বিরস মুখে বললাম-
: কী জন্য গেছিলেন?
- আরে, কঠিন অবস্থার মধ্যে পইড়া গেছি!
: কী রকম!
- গত শুক্রবার আমার ছোটছেলে আবু তালেবরে সঙ্গে লইয়া জুমার নামাজ আদায় করতে গেছি। মসজিদ থেইক্যা বাইর হওয়ার পর সে আমারে প্রশ্ন কইরা বসল-
: আব্বা, কেয়ামত সম্পর্কে ইমাম সাহেব হুজুর যা বললেন, তা কি সত্য?
ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে আমি বললাম-
: অবশ্যই সত্য। কোরআন-হাদিস তো আর মিথ্যা বলার জিনিস না।
- কিন্তু কয়েকদিন আগে আমি পত্রিকায় পড়েছি, একজন নেতা বলেছেন- কেয়ামত হলেও তারা নির্বাচন করবেন। ইমাম সাহেব হুজুরের কথা সত্য হলে এটা কীভাবে সম্ভব?
বুঝলেন, ছেলের কথা শুইন্যা আমি থ হইয়া গেলাম। ছোট্ট একটা মানুষ, সেও কথাটা ধইরা ফেলছে। কেয়ামত ও পরকাল সম্পর্কে ছেলের নানারকম প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়া দেখলাম- এই বিষয়ে আমার জ্ঞান খুবই সীমিত। ছেলের কাছে যাতে লজ্জা পাইতে না হয়, সেই জন্য এই বইটা কিইন্যা আনলাম।
: কী বই?
- কেয়ামতের পরে হাশরের আগে।
: আপনে এক কাজ করেন। এই বই আরও এক কপি কিইন্যা প্রীতি উপহার হিসেবে ডাকযোগে ওই নেতার কাছে পাঠাইয়া দেন।
আবু বকর সাহেব হো-হো করে হেসে উঠলেন। বললেন-
: ভালো কথা বলছেন তো! আমি এই কাজটা করব। অবশ্যই করব। রাজনীতিকরা যাত্রা-সিনেমার জোকারদের মতো ফজুল কথাবার্তা বলবে কেন? তাদের শিক্ষা হওয়া দরকার।
রাজনীতির প্রসঙ্গ উঠতেই মনের পর্দায় একজন মানুষের মুখ ভেসে উঠল। তার নাম তাজউদ্দীন আহমদ। ঢাকায় নিয়মিত তাজউদ্দীন আহমদ পাঠচক্রের আয়োজন করা হয়। এই পাঠচক্রের সদস্য হয়ে আমি দেখতে পেলাম- মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ তার রাজনৈতিক জীবনে এমন কোনো কথা উচ্চারণ করেননি, যা অপ্রাসঙ্গিক কিংবা বাহুল্য। অথচ আজকাল নেতারা সারাক্ষণ এমন সব ফালতু ও অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলে বেড়ান, যা শুনলে মানুষের বমির উদ্রেক হয়। আবু বকর সাহেবের কথার রেশ ধরে বললাম-
: শিক্ষা কীভাবে হবে? বর্তমানে রাজনীতি তো আর রাজনীতির জায়গায় নাই। এখন যারা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের দিকে তাকাইলে মনের মধ্যে আশার বদলে হতাশা, নির্ভরতার বদলে ভয়-ভীতির উদ্রেক হয়। আগে এইরকম ছিল না।
আবু বকর সাহেব বিষণ্নকণ্ঠে বললেন-
: আগের দিন বাঘে খাইছে- অঘাট ঘাট হইছে।
তার কথার সঙ্গে একমত পোষণ করে বললাম-
: একেবারে ঠিক কথা বলছেন।
আবু বকর সাহেবের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সিনেমা হলে ঢুকলাম। ততক্ষণে সিনেমার পরের অংশ শুরু হয়েছে। অন্ধকার হাতড়ে সিটে বসার পর লবণ বেগমের হাতে পানের খিলি তুলে দিতেই ফিসফিস করে সে বলল-
: পান দোকান থেইক্যা আনলা, না চাষ কইরা আনলা?
- দোকান থেইক্যাই আনছি।
: দোকান থেইক্যা আনতে এত সময় লাগে?
- আর বইল্য না! পানের দোকানে বক্কর ভাইয়ের সঙ্গে দেখা...
: বক্কর ভাই, না কোনো বান্ধবী?
- বান্ধবীদের সঙ্গে দেখা হইয়া লাভ নাই। তারা অলরেডি মা-খালার স্টেইজে চইল্যা গেছে।
: পুরান চাইল ভাতে বাড়ে।
- দেখি তো কী রকম বাড়ছে!
একপাশে সরে গিয়ে লবণ বেগম বলল-
: তাসিনের আব্বা- চারপাশে লোকজন আছে! ডোন্ট মুভ...
মোকাম্মেল হোসেন : সাংবাদিক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির আতংকবাদী রাজনীতি কোন পথে? by বদরুদ্দীন উমর

বিএনপির প্রতিষ্ঠা এবং আওয়ামী লীগের পুনরুজ্জীবন ঘটার পর আশির দশক থেকেই এ দুই দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব-বিবাদ চলে আসছে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় এই দ্বন্দ্ব-বিবাদ বেশ শক্তভাবে দানা বাঁধে। এর ফলে সে সময় সামরিক শাসনবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনও দ্বিধাবিভক্ত হয়। এ দুই দলের নেতৃত্বে ১৫ দল ও ৭ দল নামে দুটি জোট গঠিত হয়। পরে এই জোট ভেঙে গেলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে শত্র“তা কমে আসার পরিবর্তে বৃদ্ধি পায়। এদের এই শত্র“তা এবং আপসহীনতার মধ্যেই সৃষ্টি হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শর্ত। আশির দশকের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পর এ কারণেই একটি জাতীয় সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালের নির্বাচন পরিচালিত না হয়ে সেটা হয় একটি অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। এ কারণেই ১৯৯৬ সালে সংবিধান সংশোধন করে ব্যবস্থা করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের।
যে কারণে এভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উদ্ভব হয়, সে কারণ এখন আর নেই- এটা কোনো সৎ ও সুস্থ লোকের পক্ষেই বলা সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে যে দ্বন্দ্ব-বিবাদ ও শত্র“তা আশির দশকে শুরু হয়েছিল, সেটা এখন বাংলাদেশের শাসকশ্রেণীর রাজনীতির একটা ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এই দেউলিয়া ঐতিহ্যই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতির একটা নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। এজন্য অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে বিদ্যমান সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করে থাকে, বাংলাদেশে সেটা সম্ভব নয়। কৃপণের টাকা হারানোর আশংকার মতো ক্ষমতা হারানোর ভয়ে ক্ষমতাসীন সরকারের অবস্থা হয় উন্মাদের মতো। কাজেই তারা সব বিরোধী দলের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক স্বাধীনতা খর্ব করতে দাঁড়িয়ে দেশে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে। এই ত্রাসের রাজত্বই এখন বাংলাদেশে চলছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের মনে আতংক ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে। সরকার নিজের কার্যকলাপের মাধ্যমে হরতালের শর্ত তৈরি করছে এবং বিরোধী দল হরতালের পর হরতাল ডেকে চারদিকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। হরতাল আহ্বান করার ক্ষেত্রে বিরোধী দলের কোনো বিবেচনা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় কখনোই পাওয়া যায় না। এটা আগে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে এবং এখন বিএনপির ক্ষেত্রে নতুন করে দেখা যাচ্ছে। হরতাল দিয়ে এই রাজনৈতিক দলগুলো জনজীবনে, বিশেষত খেটে খাওয়া দিনমজুর, হকার, রিকশা, স্কুটার, ভ্যানচালক ইত্যাদির জীবনে কী দুর্দশা সৃষ্টি করে তার হিসাব নেই। এই হিসাবের কোনো প্রয়োজনও হরতাল দেনেওয়ালা দলের মধ্যে দেখা যায় না। কাজেই জনগণকে তাদের দেয়া হরতালের ধকল সহ্য করতে হয়। বিএনপি এখন ২৭ তারিখ সকাল থেকে ২৯ তারিখ সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬০ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে। এভাবে ৬০ ঘণ্টার হরতালে দিন আনা দিন খাওয়া লোকদের যে সপরিবারে পেটে পাথর বেঁধে বসে থাকতে হবে, এ চিন্তা ও বিবেচনা কি তাদের কারও আছে? এত গেল হরতালের একদিক। এর অন্যদিক হল হরতালের সময়। এমনকি হরতালের আগের দিনও রাস্তায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, গাড়ি ভাংচুর, বাসে ও স্কুটারে আগুন, খুনখারাবি সবকিছুই চলে হরতালের সময়। সরকারের পুলিশ ও র্যাবও মারমুখী অবস্থায় বিরোধী দল ও সেই সঙ্গে জনগণের ওপর আক্রমণ চালায়। তাদের হাতেও মানুষ রাস্তাঘাটে নিগৃহীত হয়, নিহত ও আহত হয়। এক কথায়, যেসব সমস্যা পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব, সেসব সমস্যা এভাবে সমাধানের কোনো চেষ্টা না করে সন্ত্রাসের দ্বারা এবং ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেই সরকার ও বিরোধী দল তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এদিক দিয়ে বিচার করলে এদেরকে আতংকবাদী বললে সত্যের অপলাপ হয় না। বস্তুতপক্ষে পরস্পরের প্রতি হুমকি-ধামকি এবং সাধারণভাবে জনগণের মধ্যে আতংক সৃষ্টির মাধ্যমেই বাংলাদেশের শাসকশ্রেণীর প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এখন তাদের ক্ষমতার রাজনীতি চর্চা করছে।
বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন আসন্ন। এ নির্বাচন কীভাবে ও কার পরিচালনায় হবে এটাই এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজনীতির এক নম্বর এজেন্ডা। এর থেকেই বোঝা যায়, এদেশে নির্বাচন কমিশনের কোনো স্বাধীন ভূমিকা নেই, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনার মতো অবস্থা নেই। সাধারণ প্রশাসন থেকে নিয়ে আদালত পর্যন্ত যেভাবে সরকারের দ্বারা প্রভাবিত ও পরিচালিত হচ্ছে, সেভাবেই নির্বাচন কমিশন যে কাজ করবে এ বিষয়ে কোনো নিরপেক্ষ লোকেরই সন্দেহ নেই। এই পরিস্থিতিতে একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন এখনও নিঃশেষিত হয়নি। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে যেভাবে এর প্রয়োজন ছিল, এখনও তা-ই আছে। কিন্তু সরকারি দল আওয়ামী লীগ যেভাবে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরিবর্তে বিদ্যমান সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে, তার সঙ্গে দেশের বাস্তব পরিস্থিতির কোনো মিল নেই। শুধু তাই নয়, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে এ সিদ্ধান্তের দ্বন্দ্ব আছে। এই দ্বন্দ্বই এ মুহূর্তে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে এক চরম বিশৃঙ্খল অবস্থা এবং ব্যাপক আতংক সৃষ্টির জন্য দায়ী।
এই সংকটজনক পরিস্থিতির মধ্যেও হাস্যকর ব্যাপার হচ্ছে এই যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের নেত্রীর সঙ্গে আলোচনার জন্য তাকে টেলিফোন করবেন এমন কথা বলার পর সংবাদপত্র এবং তথাকথিত সুশীল সমাজের লোকজনের মধ্যে বেশ চাঙ্গাভাব সৃষ্টি হয়েছে! এর মধ্যে তারা আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন!! কিন্তু ২৬ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সেই টেলিফোন কলের কোনো দেখা নেই। যে কোনো গণতান্ত্রিক দেশে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধী দলের নেতাদের টেলিফোনে বা সাক্ষাতে আলাপ-আলোচনা এক স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু বাংলাদেশে যেহেতু এদিক দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যেই এক চীনের প্রাচীর তৈরি হয়েছে, সে কারণে এই টেলিফোনের কথায় অনেকের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে! টেলিফোন না হলেও এ নিয়ে তাদের মধ্যে উত্তেজনা আছে!!
২৬ অক্টোবর সন্ধ্যা পর্যন্ত সরকার পক্ষ আলোচনার ব্যাপারে কোনো অর্থপূর্ণ পদক্ষেপ না নিলে বিরোধী দল ২৭ তারিখ সকাল থেকে ৬০ ঘণ্টার হরতাল পালন করবে। রাজনীতি ক্ষেত্রে সরকারি দল আওয়ামী লীগ এবং বিরোধী দল বিএনপির এই খেলা জনগণের দিক থেকে কৃপণের টাকা হারানোর মতোই অন্তঃসারশূন্য ব্যাপার। এ বিষয়ে কিছু লেখা, এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে এটা নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ধারণা করা কৃপণের টাকা হারানো নিয়ে গান গাওয়ার মতোই এক দুঃসাধ্য ব্যাপার।
বদরুদ্দীন উমর : সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মার্কেলের মোবাইলে আড়িপাতার অভিযোগ অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1427)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
October
(362)
-
▼
Oct 27
(12)
- সরল গরল- আজ থেকে সিইসি ‘সুপার প্রধানমন্ত্রী’ by মি...
- দেবতা না দানব
- নগর দর্পণ: চট্টগ্রাম- মন তো দখল করা যায় না by বিশ্...
- নাশকতার মধ্য দিয়ে হরতাল শুরু
- মন তো দখল করা যায় না
- যুক্তরাজ্যে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র
- হাসিনা-খালেদা টেলি সংলাপ
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার অবসান হোক b...
- দুই নেত্রীর নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা by মুহাম...
- আগের দিন বাঘে খাইছে- অঘাট ঘাট হইছে by মোকাম্মেল হোসেন
- আওয়ামী লীগ ও বিএনপির আতংকবাদী রাজনীতি কোন পথে? by ...
- মার্কেলের মোবাইলে আড়িপাতার অভিযোগ অস্বীকার যুক্তরা...
-
▼
Oct 27
(12)
-
▼
October
(362)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

