Sunday, October 27, 2013

সরল গরল- আজ থেকে সিইসি ‘সুপার প্রধানমন্ত্রী’ by মিজানুর রহমান খান

আজ থেকে অবশ্যই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ‘অবৈধ’ হবে না। কিন্তু আজকের দিনটি সাংবিধানিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যমণ্ডিত। তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সমর্থিত মন্ত্রিসভার আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে এবং তা চোখে পড়তে হবে।

দেবতা না দানব

নিজেকে তিনি ঈশ্বরের প্রতিনিধি বলে দাবি করতেন। ভক্তরাও তাঁকে দেবতার আসনে বসাতে কসুর করেননি। আরাম-আয়েশ, ধন-দৌলত, নাম-যশ সবকিছুই জুটেছে তাঁর বরাতে। তবুও দেবতার আকাশে আজ কালো মেঘের ঘনঘটা।

নগর দর্পণ: চট্টগ্রাম- মন তো দখল করা যায় না by বিশ্বজিৎ চৌধুরী

২০০১ সালের নির্বাচনের সময় বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখেছিলাম। সে সময়কার একটি ঘটনার কথা খুব মনে পড়ে। চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে যাঁরা ভোট দেওয়ার জন্য সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রায় সবারই বুকে সাঁটানো আছে নৌকা মার্কা প্রতীকের ব্যাজ।

নাশকতার মধ্য দিয়ে হরতাল শুরু

বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনার মধ্য দিয়ে আজ রোববার ভোর ছয়টা থেকে শুরু হয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের ডাকা ৬০ ঘণ্টার হরতাল। হরতাল শুরুর আগে ও পরে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় হরতালকারীরা বাসে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ ও মিছিল করেছে।

মন তো দখল করা যায় না

হরতালের আগে চট্টগ্রামের লালখান বাজার
২০০১ সালের নির্বাচনের সময় বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখেছিলাম। সে সময়কার একটি ঘটনার কথা খুব মনে পড়ে। চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে যাঁরা ভোট দেওয়ার জন্য সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রায় সবারই বুকে সাঁটানো আছে নৌকা মার্কা প্রতীকের ব্যাজ। শুধু ভোটারদের সারিতে কেন, কেন্দ্রের আশপাশে যাঁরা ইতস্তত ঘোরাঘুরি করছেন, তাঁদেরও সবাই ধারণ করেছেন ওই একটি প্রতীকেরই ব্যাজ। ব্যাপারটা বিস্ময়কর, তাৎক্ষণিক এর কারণ খুঁজে পাইনি। সন্ধ্যার পর ফলাফল ঘোষণা করা হলো, এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম এ মান্নানকে হারিয়ে জয়লাভ করেছেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা বিএনপির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান। কৌতূহলবশত খোঁজ নিলাম নাসিরাবাদ বালক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কে কত ভোট পেয়েছেন সে হিসাব জানতে। জানা গেল, সেখানে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর প্রায় দ্বিগুণ ভোট পেয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী। কী করে হলো? তাহলে ভোটারদের সারিতে নৌকা প্রতীকের ব্যাজ লাগিয়ে যাঁরা দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁরা কারা?
এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগেরই একজন মাঝারি সারির নেতা। তাঁর ব্যাখ্যাটি খুবই যুক্তিসংগত মনে হয়েছিল। তখন নাসিরাবাদ এলাকায় প্রবল দাপট ছিল যুবলীগের নেতা ও পুলিশের খাতায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত মামুনুর রশীদ ওরফে মামুনের। তাঁর ভয়ে এলাকার কারও পক্ষে সাহস করে তাঁদের পছন্দের দল, প্রার্থী বা প্রতীকের নাম উল্লেখ বা ব্যাজ ধারণ করা ছিল অসম্ভব ব্যাপার, তাই প্রকাশ্যে সমর্থনের ব্যাপারটি না জানিয়ে গোপন ব্যালটেই ব্যক্ত করেছিলেন নিজেদের অভিপ্রায়। আরেকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করি। ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। তখন বিএনপির শাসনকাল। চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্র এলাকায় গিয়ে দেখলাম, বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী মীর নাছিরের সমর্থকেরা ভেঙে দিয়েছেন মহিউদ্দিন চৌধুরীর নির্বাচনী ক্যাম্পটি। ক্যাম্পে বসা ছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরীর সমর্থনে প্রচারের জন্য ঢাকা থেকে আসা জনপ্রিয় নাট্যব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিক আসাদুজ্জামান নূর। যুবদলের কর্মীরা নাজেহাল করেছিলেন তাঁকেও। এ ঘটনার অল্প কিছুক্ষণ পর ওই কেন্দ্র পরিদর্শন করতে এসেছিলেন মীর নাছির। আসাদুজ্জামান নূর তাঁর কাছে ছুটে গিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন।
মীর নাছির কোনো প্রতিকারের চেষ্টা তো করলেনই না, বরং দুর্ব্যবহার করেছিলেন নূরের সঙ্গে। বিমর্ষ নূর একটি চেয়ারে বসে ছিলেন একা, কোনো কর্মী-সমর্থক ছিলেন না তাঁর পাশে। ওই নির্বাচনে বিপুল ভোটে মহিউদ্দিন জিতেছিলেন—এ খবর তো সবার জানা, কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কেন্দ্রটিতে, যেখানে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা দাঁড়াতেই পারেননি, সেখানে মীর নাছিরের প্রায় দ্বিগুণ ভোট পেয়েছিলেন মহিউদ্দিন। এ দুটি ঘটনা মনে পড়ল সম্প্রতি আওয়ামী লীগের লালদীঘি ময়দান দখলের একটি সংবাদ পাঠ করে। ২৫ অক্টোবর লালদীঘি ময়দানে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিল স্থানীয় বিএনপি। একই স্থানে একই দিনে সমাবেশ করার ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগও। মাঠ দখলের প্রস্তুতি হিসেবে ২৩ অক্টোবর যুব সমাবেশের আয়োজন করেছে যুবলীগ। কৌশলটা ভালো, ২৫ অক্টোবর দুই দলই সমাবেশের ঘোষণা দেওয়ায় পুলিশ যদি কাউকে সমাবেশ করতে না দেয়, তাহলে আগেভাগে একটা শোডাউন করা হয়ে গেল। ২২ অক্টোবর মঞ্চ নির্মাণের কাজ যখন চলছিল, তখন পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন খোদ পুলিশ কমিশনার। ক্ষমতায় থাকার এই একটি সুবিধা, ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা তখন কোনো কিছুতেই অনুমতির তোয়াক্কা করেন না। পরে যে এটা ম্যানেজ করা যাবে,
এ রকম একটা ধারণা তাঁদের থাকে। এ ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। পরে অনুমতি মিলেছে। নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু পত্রিকান্তরে বলেছেন, ‘বিরোধী দলের ক্রমাগত হুংকারে নগরবাসীর মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাই আমরা নগরবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত আছি।’ তাঁদের এই উদ্যোগে নগরবাসী কতটা আশ্বস্ত হবেন, জানি না। তবে অভিজ্ঞতা তো বলে, এভাবে মাঠ দখলে নিয়ে মানুষের মন দখল করা যায় না। মানুষের মন জিতে নিতে হয় ভালোবাসা দিয়ে, ভালো কাজ দিয়ে। যুবলীগের আহ্বায়কের কাছে যদি প্রশ্ন করি, কী ভালো কাজ করছেন এই শহরের যুবলীগের নেতা-কর্মীরা, কী হবে তার উত্তর? গত জুন মাসে রেলওয়ের দরপত্র বাগানোর জন্য চট্টগ্রামের প্রকাশ্য রাস্তায় অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধে নেমেছিলেন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা। গোলাগুলিতে প্রাণ গেছে সাজু পালিত নামের যুবলীগের এক কর্মীর। আরমান নামের নিরীহ একটি শিশুও প্রাণ হারিয়েছিল সেদিন। এই সংবাদ পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হলে যুবলীগের নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী ওরফে বাবর,
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক সাইফুল আলম ওরফে লিমনসহ ছাত্রলীগ-যুবলীগের বেশ কয়েকজন ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তবে বেশি দিন আটক রাখতে পারেনি। যথারীতি জামিন পেয়ে গেছেন তাঁরা। জেল থেকে বেরিয়ে আবার সগর্বে ফিরে গেছেন পুরোনো বৃত্তে। ২০ অক্টোবর রাতে নগর যুবলীগের সদস্য শহীদুল ইসলামের কার্যালয় ও বাসার সামনে ফাঁকা গুলি ছুড়েছেন বাবরের অনুসারীরা। এ সময় বাবর নিজেও অস্ত্র হাতে মহড়া দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকেরা। জনগণকে বিরোধী দলের ‘হুংকার’ ও ‘আতঙ্ক’ থেকে রক্ষা করতে, ‘আশ্বস্ত’ করতে যাঁরা লালদীঘিতে সমাবেশ করেছেন, তাঁরা নিজের দলের ক্যাডারদের সৃষ্ট আতঙ্ক থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে কী উদ্যোগ নিয়েছেন, জানতে চাওয়া কি অন্যায় হবে? কয়েক দিন আগে আদালত ভবনে চাঁদাবাজি ও অপহরণ মামলার আসামি যুবলীগের নেতা মশিউর রহমানের ছবি তুলতে গেলে প্রথম আলোর আলোকচিত্রী সৌরভ দাশকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন যুবলীগের কর্মীরা। ক্যামেরার মেমোরি কার্ড ও লক্ষাধিক টাকা মূল্যের লেন্সও কেড়ে নেন এই কর্মীরা। পরে অবশ্য তা ফেরতও দেওয়া হয়।
সাংবাদিকেরাই যখন এ রকম লাঞ্ছনা-নির্যাতনের শিকার, সেখানে নগরবাসী কতটা আতঙ্কমুক্ত, তা সহজেই অনুমেয়। ২৫ অক্টোবর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের অনুমতির জন্য আবেদন করায় চট্টগ্রামের পুলিশ প্রশাসন ২৪ অক্টোবর ভোর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ঢাকায় ২৫ অক্টোবর ঘিরে জনমনে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তাতে ঢাকায় এ ধরনের উদ্যোগের যুক্তি থাকতে পারে, কিন্তু চট্টগ্রামে সে রকম কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন না এখানকার রাজনীতিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাই প্রশাসনের এ উদ্যোগ পক্ষপাতদুষ্ট বলে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। পরে অবশ্য সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মধ্যস্থতায় উভয় দলকে দুটি পৃথক স্থানে সমাবেশের অনুমতি দেয় পুলিশ। দুটি সমাবেশই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু সমাবেশের পর লালখান বাজার ও বহদ্দারহাট এলাকায় বিনা উসকানিতে কিছু দোকানপাট ও গাড়ি ভাঙচুর করে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা।
বিশ্বজিৎ চৌধুরী: কবি, লেখক ও সাংবাদিক।
bishwabd@yahoo.com

যুক্তরাজ্যে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র

২১ অক্টোবর ২০১৩ যুক্তরাজ্য সরকার ফ্রান্সের ‘ইডিএফ কোম্পানির’ নেতৃত্বে গঠিত কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে তিন হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুই ইউনিটের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি অনুমোদন করেছে। দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার ২১ অক্টোবরের খবর অনুযায়ী, বিদ্যমান ‘হিন্কলে-পয়েন্ট বি’ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (১৯৭৬ সাল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনরত কেন্দ্র) কাছাকাছি সমারসেটের ‘হিন্কলে-পয়েন্ট সি’ নামক স্থানে ১৪ বিলিয়ন পাউন্ড (২২ দশমিক ৬৫৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয়ে ইডিএফ এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লি ও আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ করবে। কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র নির্মাণ নয়, এই চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে ২৫ হাজার চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে, যার সিংহভাগ যুক্তরাজ্যের কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্মাণচুক্তির মধ্যে মেয়াদ শেষে স্থাপনা বন্ধ (ডি-কমিশনিং) এবং পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত। চীনের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান (চায়না ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার করপোরেশন ও চায়না জেনারেল নিউক্লিয়ার পাওয়ার করপোরেশন) এই ‘হিন্কলে-পয়েন্ট সি’ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করবে। ২০১১ সালের জাপানের ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্ঘটনার পর, ইউরোপজুড়ে গড়ে ওঠা পরমাণু বিদ্যুৎবিরোধী আন্দোলনের ঢেউ যুক্তরাজ্যকে নাড়া দিলেও সরকার এ কেন্দ্র পরিচালনা থেকে সরে আসা যুক্তিগ্রাহ্য মনে করেনি। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন চুক্তি স্বাক্ষরে স্পষ্টত উচ্ছ্বসিত।
২৪ অক্টোবর ২০১৩ প্রকাশিত ‘মেইল অনলাইন’ চুক্তি স্বাক্ষরের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর উচ্ছ্বাসকে উদ্ধৃত করেছে, ‘অনেক দিন পর আমরা একটি নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছি; আগের সরকারগুলো এ জন্য প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করতে সমর্থ হয়নি।’ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন নিশ্চিত করেছেন, ভবিষ্যতে নির্মিতব্য আরও অনেক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি হতে যাচ্ছে ‘হিন্কলে পয়েন্ট-সি’ বিদ্যুৎকেন্দ্র। ১৯৪৭ সালে যুক্তরাজ্য প্রথম বাণিজ্যিক পরমাণু কেন্দ্রের উপযোগিতা যাচাই এবং ১৯৫৬ সালে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে। এর পর থেকে যুক্তরাজ্য ধারাবাহিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং সেগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কেন্দ্র তাদের ‘জীবনকাল’ শেষে বন্ধ হয়েছে; নতুন কেন্দ্র প্রতিস্থাপন করেছে। ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটেছে, যেমন ১৯৫৬ সালে যুক্তরাজ্যে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্ঘটনায় তেজস্ক্রিয় আয়োডিন-১৩১ আইসোটোপ বেরিয়ে আসে। মানুষজন সরিয়ে না নিলেও ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রসংলগ্ন খামারের দুধ ধ্বংস করা হয়। পরে প্রযুক্তির উন্নয়ন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা বাড়ানো,
পরমাণু বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ অনেক সংস্কার হয়েছে। এখন যুক্তরাজ্য নয়টি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা এবং ইতিমধ্যে আটটি বন্ধ করেছে। ২০২৩  সাল নাগাদ যুক্তরাজ্যে বিদ্যমান অধিকাংশ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল শেষে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে বিদ্যমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে আরও নতুন ১০টি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে ‘হিন্কলে-পয়েন্ট সি’ কেন্দ্র যুক্তরাজ্যের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৭ শতাংশ বা ৫০ লাখ বাড়ির গ্রাহকের চাহিদার বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। এই কেন্দ্রের আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ৬০ বছর। প্রতি মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য যুক্তরাজ্যের সরকার ৯২ দশমিক ৫০ ব্রিটিশ পাউন্ড ব্যয় করবে। বিদ্যমান (২০১৩ সালে) পাইকারি বাজারদর অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রতি মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য ব্যয় করতে হয় প্রায় ৪৮ ব্রিটিশ পাউন্ড। তবে যুক্তরাজ্য সরকারের ২০২০ সাল নাগাদ গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ ৫০ শতাংশ হ্রাস করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে উৎপাদিত বিদ্যুতের ৭৫ শতাংশ কয়লা ও গ্যাস পুড়িয়ে পাওয়া যায়। জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প উৎসগুলো ব্যয়বহুল জেনেও সরকার সেদিকে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
বিদ্যমান বিকল্প নবায়নযোগ্য উৎসের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে যুক্তরাজ্যকে প্রতি মেগাওয়াটে ব্যয় করতে হয় ১২৫ ব্রিটিশ পাউন্ড; স্থলভাগে বায়ুশক্তিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১০০ ব্রিটিশ পাউন্ড, সমুদ্রবক্ষে বায়ুশক্তিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১৫৫ ব্রিটিশ পাউন্ড, সমুদ্রের ঢেউ থেকে ৩০৫ ব্রিটিশ পাউন্ড। সে বিবেচনায় গ্যাস-কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যুক্তরাজ্যকে ব্যয় করতে হয় প্রতি মেগাওয়াটে প্রায় ৫৫ পাউন্ড। বিবিসির রিপোর্ট অনুযায়ী, হিন্কলে-পয়েন্ট সি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণচুক্তির সমালোচকেরা বলছেন, ৩৫ বছরের জন্য ইডিএফ কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে নির্ধারিত মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের চুক্তি করায় গ্রাহকের বিদ্যুতের বিল বাড়বে। কিন্তু যুক্তরাজ্য সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ‘হিন্কলে-পয়েন্ট সি’সহ অন্যান্য নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ২০৩০ সাল নাগাদ প্রত্যেক বিদ্যুৎ গ্রাহকের বিদ্যুতের বিল বছরে গড়ে ৭৭ ব্রিটিশ পাউন্ড কম রাখতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে পরমাণু বিদ্যুৎ যুক্তরাজ্যকে কম কার্বন দূষণপ্রবণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ দেবে বলে সরকার দাবি করছে। যুক্তরাজ্য সরকার দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে বর্ধিত আমদানি ব্যয়ের চাপ নিয়ে নিশ্চয়ই সজাগ।
বিশেষত জাপানের বর্ধিত মাত্রায় জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি বাণিজ্য ভারসাম্যে যে বাড়তি চাপ ফেলেছে, আমদানি জ্বালানিনির্ভর দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্যকে তা বিবেচনায় নিতেই হবে। ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ২০১১ সালের মারাত্মক তীব্রতার ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনার পর জাপান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখতে বাধ্য  হয়েছে। কিন্তু অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে তাকে বর্ধিত হারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), জ্বালানি তেল ও কয়লা আমদানির জন্য বিপুল ব্যয়ের চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। জার্মানিতে জাপানের পরমাণু দুর্ঘটনার অভিঘাতে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন পর্যায়ক্রমে ২০২২ সাল নাগাদ বন্ধ করার ঘোষণা এসেছে। ফলে বিশ্ববাজারে এলএনজির চাহিদা ও দাম বাড়ছে। আপাতত জার্মানি ও যুক্তরাজ্যকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লার ব্যবহার  বাড়াতে হয়েছে। বিষয়টি যুক্তরাজ্য সরকারের জন্য আরও অস্বস্তির। কেননা ২০০৩ সাল থেকে যুক্তরাজ্য তেল ও গ্যাসের নিট আমদানিকারকে পরিণত হওয়ায় তার বাণিজ্য ভারসাম্যে ঘাটতি বেড়েছে। আগামী ১০ বছরে যুক্তরাজ্যে তেল ও গ্যাস উৎপাদন আরও কমার আশঙ্কা তীব্র। ফলে পরমাণু বিদ্যুৎ ছাড়া যুক্তরাজ্যের সামান্য বিকল্পই খোলা আছে।
ড. মুশফিকুর রহমান: খনি প্রকৌশলী, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক।

হাসিনা-খালেদা টেলি সংলাপ

দেশের অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার টেলিফোন সংলাপ জনগণের মনে কার্যত কোনো আশা জাগাতে পারল না। টেলিফোন আলাপে প্রধানমন্ত্রী তিন দিনের হরতাল প্রত্যাহারের অনুরোধসহ বিরোধীদলীয় নেতাকে আগামীকাল সোমবার গণভবনে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানোর পর বিএনপির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। দলটির পক্ষ থেকে হরতাল প্রত্যাহারের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং তিন দিনের হরতাল কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরই নৈশভোজ কিংবা এ ধরনের কিছু হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তাদের এই সিদ্ধান্ত জনগণকে হতাশ করেছে। হরতাল মানেই সংঘাত-সহিংসতা এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা। জনমনে তাই একধরনের আতঙ্কের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গতকাল দিনভর প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার টেলিফোনে আলাপের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে জনমনে এই প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল যে, দুজনের মধ্যে আলাপ হলে হয়তো হরতালের মতো কর্মসূচি প্রত্যাহার এবং আনুষ্ঠানিক আলোচনার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
দিনের শেষে সেই আশাবাদ হতাশাতেই পরিণত হলো। বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে এবং নির্বাচন সামনে রেখে একটি ‘রাজনৈতিক তারিখ’ ছিল ২৫ অক্টোবর। শুক্রবার সেই দিনটি পার হয়েছে ঢাকায় বিরোধী দলের মহাসমাবেশ এবং সারা দেশে সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। সংঘর্ষ ও গুলিতে সারা দেশে এই দিনটির বলি হয়েছেন পাঁচ-ছয়জন। খালেদা জিয়া শনিবারের মধ্যে কোনো আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া না হলে আজ রোববার থেকে টানা ৬০ ঘণ্টার হরতাল এবং এই দিনটি থেকে বর্তমান সরকারকে সম্পূর্ণ ‘অবৈধ’ বলে ঘোষণা করেছেন। শনিবার দুই নেত্রীর মধ্যে টেলিফোন আলাপের পরও বিরোধী দলের হরতাল কর্মসূচি প্রত্যাহার না করা দুঃখজনক। এতে সমঝোতার যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল, তা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ল, যার দায়দায়িত্ব বিরোধী দলের ওপরই পড়বে।
আজ থেকে যে হরতাল শুরু হতে যাচ্ছে, সেই কর্মসূচিকে সংঘাত ও সহিংসতামুক্ত রাখার কোনো নিশ্চয়তা কি হরতাল আহ্বানকারী দল বা জোট দিতে পারবে? ২৫ অক্টোবর কয়েকজনের মৃত্যুর পর আমরা কি তবে আরও মৃত্যু ও সহিংসতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি? অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সংঘাত ও সহিংসতার আশঙ্কাই বাড়ছে এবং অসহায় জনগণ এক দমবন্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে আটকে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক শাসনে একটি সরকার তার মেয়াদ পূর্ণ করার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ তাদের পছন্দের সরকার বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে। কিন্তু প্রতিটি নির্বাচনের আগেই যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, তা আর যা-ই হোক, গণতান্ত্রিক রীতিনীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। গণতান্ত্রিক সমাজে যেকোনো বিরোধ মেটানোর পথ হচ্ছে আলাপ-আলোচনা। দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে পারস্পরিক আস্থাহীনতা এবং আন্তরিকতার অভাব দেশকে আজ এ ধরনের অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার অবসান হোক by বিমল সরকার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা নিরসনে উপাচার্য ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। প্রশ্ন হল, উপাচার্য পরিবর্তন হলেই কি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে? এতে অচলাবস্থার সাময়িক নিরসন হতে পারে মাত্র। স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন নেতৃত্বের দূরদর্শিতা এবং যে কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় সময়োচিত হস্তক্ষেপ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গত তিন সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষাসহ একাডেমিক কার্যক্রম, সেই সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তি, অস্থিরতা, সমস্যা আমাদের দেশে নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে যে সময়ে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা সবার জন্যই গভীর উৎকণ্ঠার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেড় মাস আগে এইচএসসির ফল প্রকাশিত হয়েছে। এ পরীক্ষায় প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষার্থী এ প্লাস পেয়ে পাস করেছে। ভালো ফলাফলধারীদের বরাবরই লক্ষ্য থাকে খ্যাতিমান একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া। ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসন সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। ফলে ভর্তির ক্ষেত্রে কেবল হাজার নয়, কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর মূল আগ্রহ বা উৎসাহ ঘুরপাক খেতে থাকে ঐতিহ্যবাহী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেন্দ্র করে।
এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। দুর্গাপূজা ও ঈদুল আজহার ছুটি শেষে, বিশেষ করে নভেম্বরের শুরু থেকেই শুরু হবে ভর্তি পরীক্ষা। দিনক্ষণ ঘনিয়ে এলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাই রয়েছে অন্ধকারে। ঈদের আগে পত্রপত্রিকায় জাহাঙ্গীরনগরে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা বা জটিলতা সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়েছে। সপ্তাহকাল অবরুদ্ধ থাকার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার শর্তসাপেক্ষে ছাড়া পেয়েছেন। লাঞ্ছিত করা হয়েছে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনকে। পক্ষ-বিপক্ষের অবতারণা না করেও বলা যায়, কয়েকজন সম্মানিত শিক্ষকও লাঞ্ছিত হয়েছেন। এজন্য পরস্পর পরস্পরকে দায়ী করেছেন। পদত্যাগ করেছেন একে একে তিনজন সহকারী প্রক্টর।
এ প্রেক্ষাপটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা নিরসনের যে চেষ্টা চলছে, আমরা আশা করব তা ফলপ্রসূ হবে। একের পর এক ঘটে যাওয়া অনভিপ্রেত ঘটনার পরিধি কোনোভাবেই আর যেন বিস্তৃত না হয়। ভাগ্যবিড়ম্বিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সবার মন থেকে যাতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দূরীভূত হয়। নৈসর্গিক শোভামণ্ডিত চিরচেনা ক্যাম্পাস যেন শিক্ষার্থী-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সবার পদচারণা ও কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মর্যাদা আর যেন ক্ষুণœ না হয়। দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার এ আকুলতা।
দেশের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সময়োচিত পদক্ষেপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারে। এখানে বঙ্গবন্ধু আমলের একটি ঘটনার উল্লেখ প্রাসঙ্গিক বলে মনে করি। ১৯৭২ সালের জুলাই মাস। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের কাজে সবাই ব্যস্ত। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স শেষবর্ষ ও মাস্টার্স প্রথমপর্বের কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী দাবি করে বসে, প্রস্তুতি না থাকায় তারা পরীক্ষার আসনে বসতে পারবে না, তাদের অটোপ্রমোশন দিতে হবে। কর্তৃপক্ষ রাজি না হওয়ায় এ দাবিতে তারা আন্দোলন শুরু করে। তাদের যুক্তি, টানা নয় মাসের যুদ্ধের কারণে পড়াশোনা হয়নি। অনেককেই জীবন বাঁচাতে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল। কেউ কেউ সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণও করেছে। অটোপ্রমোশনের দাবিদাররা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করতে থাকে। এ আন্দোলনে ডাকসুসহ কোনো ছাত্রসংগঠনেরই শীর্ষ স্তরের কোনো নেতার কিংবা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা ছিল না। এ ছিল কেবল অনার্স শেষবর্ষ ও মাস্টার্স প্রথমপর্বের শিক্ষার্থীদের একাংশের আবদার। ১৮ জুলাই ডাকসুর উদ্যোগে টিএসসিতে এক ছাত্রসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডাকসু নেতারা অটোপ্রমোশনের বিষয়টিকে আত্মঘাতী বলে অভিহিত করে এ ধরনের অযৌক্তিক দাবি থেকে শিক্ষার্থীদের সরে আসার আহ্বান জানান। পরদিন টিএসসিতেই শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অন্য এক সভায় উপাচার্য অধ্যাপক মোজাফফর আহম্মদ চৌধুরীও একই বক্তব্য রাখেন এবং আন্দোলনের পথ পরিহার করে ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান। এদিকে আন্দোলনকারীরা ক্রমে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ২০ জুলাই বেলা ১১টায় তারা বটতলায় সভা করে। সভাশেষে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে মিছিল সহকারে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে তার কার্যালয়ে যায় এবং কোনোরকম পরীক্ষা ছাড়াই ১ আগস্ট থেকে শেষবর্ষে তাদের ক্লাস শুরু করার দাবি জানায়। উপাচার্য এ সময় বিভাগীয় প্রধান ও প্রভোস্টদের সঙ্গে এ বিষয় নিয়েই বৈঠক করছিলেন। বৈঠকে আন্দোলনকারীদের অযৌক্তিক দাবি না মেনে তাদের পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ছাত্ররা সেখানে গেলে উপাচার্য বের হয়ে আসেন এবং বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও অবহিত করেছেন বলে জানান। এ সিদ্ধান্ত শোনার পর ছাত্ররা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা স্লোগান দিতে দিতে উপাচার্যের কার্যালয়ের সব দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়। টেলিফোন ও বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেয়া হয়। উপাচার্যসহ ৩০ জন বিভাগীয় প্রধান ও প্রভোস্টকে সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ করে রাখে। দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত প্রায় ৬ ঘণ্টা চলে এ অবরোধ। উপাচার্য এবং সিনিয়র শিক্ষকরা মাঝেমধ্যে অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। অবশেষে স্বয়ং বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেন। তিনি আকস্মিকভাবে উপাচার্যের কার্যালয়ে এসে উপস্থিত হলে ক্যাম্পাসের সবাই বিস্মিত হয়ে পড়েন। প্রথমেই তিনি অনাকাক্সিক্ষত জিম্মিদশা থেকে শিক্ষকদের উদ্ধার করেন এবং ছাত্রদের অবরোধ তুলে নিতে নির্দেশ দেন। শিক্ষকদের প্রতি ছাত্রদের এহেন অশ্রদ্ধা প্রদর্শনে চরম অসন্তোষ ও দুঃখ প্রকাশ করে বঙ্গবন্ধু বলেন, তোমাদের মতো আমিও ছাত্র ছিলাম। জীবনে ছাত্র রাজনীতি করেছি। কিন্তু শিক্ষকদের সঙ্গে কখনও এরূপ ব্যবহার করিনি। এভাবেই শেষ হয় আন্দোলনকারীদের সেদিনের কর্মসূচি। পরে শিক্ষকদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিলেবাসের কলেবর কিছুটা কমিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছিল।
বলে রাখা দরকার, স্বাধীনতা লাভের মাত্র ছয় মাস পরের ঘটনা। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের কাজে বঙ্গবন্ধুর কর্মব্যস্ততা তখন ভাবনার অতীত। মাত্র দুমাস আগে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ও হল সংসদ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে তার প্রিয় ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একেবারে শীর্ষ স্তরের নেতারা প্রতিপক্ষ ছাত্র ইউনিয়ন প্রার্থীদের কাছে বলতে গেলে গোহারা হেরেছেন। এমন পরিস্থিতিতেও শিক্ষাঙ্গনগুলোর প্রতি ছিল তার তীক্ষ্ম দৃষ্টি ও মনোযোগ। তাই ক্যাম্পাসে কোনো রকম অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেনি। কেবল মানতে হবে, মেনে নাও ধরনের স্লোগান আর থেমে থেমে মিছিল ছাড়া তেমন কিছুই করেনি আন্দোলনকারীরা। তবু উপাচার্য ও সিনিয়র শিক্ষকরা ৫-৬ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ আছেন- এ কথা শোনামাত্র সবকিছু ফেলে রেখে বঙ্গবন্ধু ছুটে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বঙ্গবন্ধুর প্রতুৎপন্নমতিত্ব, দূরদর্শিতা এবং সময়োচিত হস্তক্ষেপের ফলে হয়তোবা বড় ধরনের কোনো অবাঞ্ছিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছিল সেদিন। ৪০ বছর আগের এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ঘন ঘন অচলাবস্থার কবলে পড়া থেকে রক্ষা পেতে পারে।
বিমল সরকার : কলেজ শিক্ষক

দুই নেত্রীর নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা by মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার

স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য এবং সব দলের অংশগ্রহণমূলক সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সুধীমহল ও রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান আলোচনা সরকারের মেয়াদান্তে এসে জটিল আকার ধারণ করেছে। এ বিষয়ে ইতিপূর্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের সাংবিধানিক ব্যবস্থা ১৯৯৬ সাল থেকে কাজ করে আসছিল এবং ওই ব্যবস্থাধীনে অনুষ্ঠিত সপ্তম ও অষ্টম সংসদ নির্বাচনে অবহেলাযোগ্য ত্র“টি-বিচ্যুতি থাকলেও তা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়। কিন্তু ২০০৭ সালে এক-এগারোর রাজনৈতিক সুনামির পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ছদ্মাবরণে একটি সেনা সমর্থিত অসাংবিধানিক সরকার কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে দুই বছর ক্ষমতায় থেকে নবম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করলে ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে এবং মহাজোট সরকার গঠন করে। এ সরকার প্রথম থেকেই ভিশন টুয়েন্টি টুয়েন্টি-ওয়ান পলিসি নিয়ে ২০২১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার লক্ষ্যে কাজ শুরু করে। এক পর্যায়ে এ সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা না করে এবং নাগরিক সম্প্রদায়, সুশীল সমাজ এবং এমিকাস কিউরিদের পরামর্শ উপেক্ষা করে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে ফিরে যাওয়ার দোহাই দিয়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়ায় দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
সংশোধিত নতুন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করতে গেলে ওই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে হয় না এবং নির্বাচনটিও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের বৈশিষ্ট্য হারাবে বলে প্রতীয়মান হয়। কারণ নতুন সংবিধান অনুযায়ী সংসদ বহাল রেখে, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা বহাল রেখে, সংসদ সদস্যরা স্বীয়পদে বহাল থেকে নির্বাচন করলে যে সে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয় না, সে বিষয়টি ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ে না। এসব প্রসঙ্গ বিবেচনায় নিয়ে প্রধান বিরোধী দল নির্দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলন করে আসছে। এ লক্ষ্যে প্রথম দিকে হরতালের মতো কর্মসূচি ব্যবহৃত হলেও পরে বিরোধী দল জনসমর্থন পক্ষে রাখতে হরতাল বা সহিংস কর্মসূচি পরিহার করে অহিংস মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ প্রভৃতির মধ্য দিয়ে তাদের দাবির পক্ষে সফলভাবে জনমত তৈরি করে। নির্বাচন আসন্ন হওয়ার পর দৈনিক পত্রিকা থেকে শুরু করে অন্যান্য সংস্থা পরিচালিত বিভিন্ন জরিপে দেখা যায়, দেশের প্রায় শতকরা ৮০-৯০ ভাগ নাগরিক মনে করেন, দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন করলে সে নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে না। তারা এও মনে করেন, সাংঘর্ষিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির দেশে এখনও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি। এ জন্য বেশিরভাগ নাগরিক নির্দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবির প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। উল্লেখ্য, তাদের অনেকেই বিএনপিকে ভালোবেসে এ সমর্থন দেননি। বরং তারা সরকারি দলের প্রতি অবিশ্বাস এবং স্বচ্ছ ও অবাধ সংসদ নির্বাচনের স্বার্থেই এ সমর্থন প্রদান করেন।
এ রকম অবস্থায় নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় সরকারদলীয় ব্যবস্থাধীনে স্বনিয়োজিত নির্বাচন কমিশনের অধীনে সংসদ নির্বাচনের আয়োজনে কাজ শুরু করলে বিরোধী দল ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণে অসম্মতি জানিয়ে নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি সাংঘর্ষিক হয় ওঠে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখে। চীনের মতো দেশ, যে কখনও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতো না, সেই চীনও এবার বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন সংকটে নিজেকে জোরালোভাবে সম্পৃক্ত করে। ফলে সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলের নেতা ও সুশীল সমাজের সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন ফর্মুলা উপস্থাপিত হতে থাকে। তবে এসব ফর্মুলা সরকারি ও বিরোধী দলের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেনি। এমতাবস্থায় নির্বাচন আরও সন্নিকটে এলে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা এ ব্যাপারে রূপরেখা প্রদান করলে তাদের প্রদত্ত রূপরেখা নিয়ে নাগরিক সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা হয়। সবচেয়ে ভালো হতো যদি সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনের বেশ কয়েক মাস আগেই নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা প্রদান করে এ সম্পর্কে আলোচনার সূত্রপাত করা হতো। কিন্তু তা না করে ওই সময় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রীরা ‘সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে’, ‘সংবিধানের বাইরে যাওয়া যাবে না’ প্রভৃতি রকমের বক্তব্য প্রদান অব্যাহত রেখে সময়ক্ষেপণ করেন।
নির্বাচনকালীন রূপরেখা প্রদানের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী গতানুগতিক ভঙ্গিমায় তার সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি প্রদান করে, বিরোধীদলীয় শাসনকালের দুর্নীতি-দুঃশাসনের বর্ণনা দিয়ে নিজ পরিবারের সদস্যদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনকালীন সরকারের যে রূপরেখা উপস্থাপন করেন, সেখানে তিনি একটি সর্বদলীয় নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাব করে ওই সরকারের সদস্য হিসেবে বিরোধী দলের কাছে নাম আহ্বান করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তার রূপরেখায় নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কে হবেন সে সম্পর্কে কোনো আলোকপাত না করায় প্রতীয়মান হয়, প্রধানমন্ত্রীই হবেন ওই অন্তর্বর্তীকালীন সর্বদলীয় সরকারের প্রধান। এ রকম একটি প্রস্তাব যে বিরোধী দল মেনে নেবে না, তা শুনেই বলে দেয়া যায়। কারণ বিরোধী দল এতদিন ধরে যে আন্দোলন করে আসছে তার মূল দাবিই হল নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। তাছাড়া বিরোধী দল প্রস্তাবিত সরকারে কতজন সদস্য দিতে পারবে, সে সম্পর্কেও আলোচ্য রূপরেখায় কোনো আলোকপাত করা হয়নি। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগও জামায়াত-জাপাকে পাশে নিয়ে একই প্রকৃতির আন্দোলন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের দাবি আদায় করতে সক্ষম হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিচারপতি কেএম হাসান অনেক আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে আওয়ামী লীগ তাকে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের প্রধান হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছিল। আর এখন যদি সরকারি দলের প্রধানকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে রাখা হয়, তাহলে বিএনপির পক্ষে সে প্রস্তাব কীভাবে মানা সম্ভব? তবে প্রধানমন্ত্রী উপস্থাপিত রূপরেখা গ্রহণ করা হোক বা না হোক, এ রূপরেখা সরকারি দলের কঠোর অবস্থানকে অনেকটাই নমনীয় পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে সরকারের ‘সংবিধানের বাইরে যাব না’, ‘সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে’, ‘একচুলও নড়ব না’ প্রভৃতি বক্তব্য এ রূপরেখা প্রদানের মধ্য দিয়ে অসার প্রমাণিত হয়। কারণ এ রূপরেখাটি সংবিধানসম্মত নয়। নতুন সংবিধানে সর্বদলীয় সরকার বলে কিছু নেই। এখন প্রধানমন্ত্রীর রূপরেখা শুনে অনুধাবন করা যায় যে, সরকার সংবিধানের বাইরে আসতে সম্মত আছে। এদিক থেকে বিচার করে প্রস্তাবিত রূপরেখা বিরোধী দল কর্তৃক অগ্রাহ্য করা হলেও সরকারের কিছুটা নমনীয় অবস্থান ব্যাখ্যা করে আলোচ্য রূপরেখার ইতিবাচকতা তুলে ধরা যায়।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর রূপরেখা প্রদানের মাত্র দু’দিন পরই বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনালীন সরকারের একটি ভিন্ন রূপরেখা প্রদান করেন। বিরোধীদলীয় নেতা রূপরেখা প্রদানের বক্তব্যে সরকারের দেশ পরিচালনার ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের চিত্র উপস্থাপন করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি শেয়ারবাজারের লুটপাট, হলমার্ক, পদ্মা সেতু দুর্নীতি, সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ড, বিচার ব্যবস্থার দুরবস্থা, আইন-শৃংখলার অবনতি এবং খুন-গুম বৃদ্ধির চিত্র উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া তিনি দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য সহিংস আন্দোলন-কর্মসূচি না দেয়ার কথা বলেন। তিনি এ সরকারের আমলে হিন্দু-বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ হলেও তার বিচার না হওয়ার কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাবে পাল্টা আক্রমণ না করার নীতি গ্রহণ করে প্রতিহিংসার রাজনীতিতে পরিবর্তন আনার সূচনা করার প্রতিশ্র“তি প্রদান করেন। বিএনপির আমলে সন্ত্রাস হলেও ওই সব সন্ত্রাস আওয়ামী আমলে সৃষ্ট সন্ত্রাসের ধারাবাহিকতার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। বিএনপি নেত্রী নিজেদের অতীত ভুলত্র“টি স্বীকার করে ভবিষ্যতে প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে যোগ্য ও দক্ষ লোকদের সমাবেশ ঘটিয়ে ঐকমত্যের সরকার গঠনের প্রতিশ্র“তি দেন। নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা প্রদান করে বিরোধীদলীয় নেতা ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে যথাক্রমে দশজন করে যে ২০ জন নিরপেক্ষ ব্যক্তি কাজ করেছিলেন, তাদের মধ্য থেকে সরকারি ও বিরোধী দলকে যথাক্রমে ৫ জন করে সদস্যের নাম প্রস্তাব করার প্রস্তাব দেন। এই ১০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে নির্বাচনকালীন সরকার এবং সবাই মিলে আলোচনা করে একজন নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য, সম্মানিত নাগরিককে এ সরকারের প্রধান করার প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতার রূপরেখায় দেয়া হয়। এ ১১ জনের সরকারকে সংসদের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারে রূপান্তরিত করার সুযোগ রয়েছে বলে বিরোধীদলীয় নেতা উল্লেখ করেন। কাজেই তুলনামূলক বিচারে দুই নেত্রী প্রদত্ত রূপরেখার মধ্যে বিরোধীদলীয় নেতার রূপরেখাটি প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত রূপরেখার চেয়ে অধিকতর স্পষ্ট ও সুসংহত। কে প্রধান হবেন, কারা, কীভাবে এ সরকারের সদস্য হবেন, তাদের নির্বাচিত করা সম্ভব কি-না, সে সম্পর্কে এ রূপরেখায় সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। তবে এ প্রস্তাবেরও কিছু দুর্বলতা চিহ্নিত করা যায়। যেমন, উল্লিখিত দুটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ২০ জন উপদেষ্টার মধ্য থেকে যদি ১০ জন আলোচ্য প্রস্তাবে সাড়া দিতে রাজি না হন, সে ক্ষেত্রে কীভাবে নিরপেক্ষ সদস্য চয়ন করা হবে সে সম্পর্কে এ প্রস্তাবে কোনো ইঙ্গিত দেয়া হয়নি। তাছাড়া সরকারপ্রধান মনোনীত করার ক্ষেত্রে একমত হতে না পারলে করণীয় বিকল্প সম্পর্কেও এ প্রস্তাবে বক্তব্য নেই। প্রস্তাবটি বিরোধী দল সংসদেও উপস্থাপন করে। আলোচ্য প্রস্তাব গহণ ও বাস্তবায়ন করা হলে বিরোধীদলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্দলীয় সরকারের দাবি পূরণ হয়ে যায়। নাগরিক সম্প্রদায়ও যে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করবে- এমনটি মনে করার কারণ না থাকলেও সরকারি দল থেকে অতি দ্রুত এ প্রস্তাবকে ‘পশ্চাতমুখী’, ‘ষড়যন্ত্রমূলক’, ‘এতে নতুন কিছু নেই’ বলে নাকচ করা হয়েছে। বন ও পরিবেশ মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ আলোচ্য রূপরেখা সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, ‘তার বক্তব্যে নতুন কিছু নেই। তারা আগে থেকে অসাংবিধানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে দাবি করে আসছেন, আজকে তা নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। এটা সংবিধানসম্মত নয়, বহির্ভূত। এটার কোনো গ্রহণযোগ্যতা আছে বলে আমরা মনে করি না।’ তবে বিরোধীদলীয় নেতার আলোচ্য রূপরেখাকে ‘অসাংবিধানিক’ বললেও হাছান মাহমুদ কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর উপস্থাপিত সর্বদলীয় সরকারের রূপরেখাকে অসাংবিধানিক বলেননি।
এক দল আরেক দলের রূপরেখাকে যদি আলোচনা না করেই অযৌক্তিকভাবে সরাসরি নাকচ করে দেয়, তাহলে পরিস্থিতি নিশ্চিত সংঘাত ও রক্তপাতের দিকে যাবে, যা কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। এখন শোনা যাচ্ছে, সরকারি দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলকে আলোচনার জন্য চিঠি দেয়া হবে। এর আগেও একবার এমন উদ্যোগ গ্রহণের কথা শোনা গিয়েছিল, যদিও তা পরে বাস্তবায়িত হয়নি। তবে এখন নির্বাচন কাছাকাছি আসায় সরকারের যদি এ বিষয়ে বোধোদয় হয়, তা ভালো। তবে আলোচনা করলেই কিন্তু সমস্যার সমাধান হবে না। সমস্যা সমাধানের সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনা করলেই কেবল তা থেকে ফললাভ করা যেতে পারে। পরস্পরকে কোণঠাসা করে নিজে জয়ী হওয়ার মানসিকতা নিয়ে আলোচনায় বসলে তা হবে সময়ের অপচয় মাত্র। বিরোধীদলীয় নেতার সহিংস আন্দোলন-কর্মসূচি ঘোষণার পরিবর্তে নির্বাচনকালীন রূপরেখা প্রদানের পর সরকারকেই এখন পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। ইতিমধ্যে সরকারপ্রধান সংবিধান থেকে সরে এসে কিছুটা নমনীয় হয়ে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছেন। এখন দেখার বিষয়, সরকারদলীয় নিপীড়ন বা বিরোধীদলীয় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন-কর্মসূচি ঘোষিত হওয়ার আগেই সরকার ও বিরোধী দল আরও কিছু ছাড় দিয়ে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করতে পারে কি-না।
ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

আগের দিন বাঘে খাইছে- অঘাট ঘাট হইছে by মোকাম্মেল হোসেন

সিনেমা শুরু হল নায়িকার অপহরণ দৃশ্য দিয়ে। মোটাসোটা, গোলগাল চেহারার নায়িকা হেলেদুলে কলেজে যাচ্ছিল। হঠাৎ সেখানে ভিলেনের আবির্ভাব ঘটল। সে অট্টহাসি দিয়ে বলল-
: সুন্দরী! সেদিন তোমার হাত ধরেছিলাম বলে প্রিন্সিপালের কাছে নালিশ করেছিলে। আজ শুধু হাত নয়, পুরো বডি তুলে নিয়ে যাব। হাঃ-হাঃ-হাঃ, এসো...
নায়িকাকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলতেই সে চিৎকার দিল-
: বাঁচাও- কে আছ, আমাকে বাঁচাও!
নায়ক মোটরবাইকে চড়ে কলেজে আসছিল। নায়িকার চিৎকার তার কানে পৌঁছতেই সে ভিলেনের পিছু ধাওয়া করল। মাঠ-ঘাট, পথ-প্রান্তর পেরিয়ে ভিলেনকে হাতের নাগালে পাওয়া গেল। ঢিসুম-ঢাসুম মারধর হল। নায়কের হাতে মার খেয়ে ক্ষত-বিক্ষত, রক্তাক্ত ভিলেন পালিয়ে গেলে নায়িকা দাঁত দিয়ে ওড়না কামড়ে ধরে বলল-
: আমার নাম আঁখি। আজ তুমি না এলে, স্যরি- তুমি বলে ফেললাম!
নায়িকার ভাবভঙ্গি দেখে নায়ক আবেগে অবশ হয়ে গেল। মনে মনে বলল-
: আঁখি! আমার মনের পাখি...
দু’জন দু’জনের চোখে চোখ রাখল। দৃষ্টিতে গভীর প্রেম। এ প্রেম তাদের নিয়ে গেল কল্পনার জগতে। সেই জগতের বাসিন্দা হয়ে তারা নাচতে নাচতে গান গাইতে লগল-
: বন্ধু, এতদিন তুমি কোথায় ছিলা...
হঠাৎ পশ্চাৎদেশে ছারপোকার কামড় খেলাম। মনে হল, পর্দার গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছারপোকাটা আমাকে জিজ্ঞেস করছে-
: ও ভাইজান, এতদিন কই আছিলেন?
আক্রান্ত স্থানে চুলকাতে চুলকাতে উত্তর দিলাম-
: এতদিন দেশেই ছিলাম রে পাগলা!
আবার ছারপোকার কণ্ঠ শোনা গেল। পুটপুট শব্দ তুলে সে বলল-
: দেশে থাকলে দেখা দেন নাই কেন?
দেখা না দেয়ার কারণ একটাই- সিনেমা হলে না আসার ব্যাপারে মনের মধ্যে তৈরি হওয়া প্রবল অনিচ্ছা। এক সময় সিনেমা দেখার খুব নেশা ছিল। হঠাৎ একদিন আবিষ্কার করলাম, সিনেমা হলে আধাঘণ্টার বেশি বসে থাকা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোত্থেকে কী হল, রহিমদ্দি-কলিমদ্দি আর কালু-জালুরা এ দেশের সিনেমা জগতের দখল নিয়ে নিল। তাদের মাথা থেকে যেসব জিনিস বের হতে লাগল তা সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ নয়। সিনেমার তথাকথিত কারিগররা অশ্লীলতার চর্চা করতে করতে এক সময় দেশীয় ‘ইনস্ট্রুমেন্ট’-এর ওপর ভরসা রাখতে পারলেন না, বিদেশের দিকে ঝুঁকলেন। একবার একটা গবেষণার কাজে নোয়াখালীর বসুরহাট গেছি। সন্ধ্যার পর কোনো কাজ-কর্ম নেই। ভাবলাম- সিনেমা দেখে সময় কাটাই। টিকিট কেটে হলে ঢুকলাম। সিনেমা শুরু হল। কিছুক্ষণ পরই পর্দায় ভেসে ওঠা দৃশ্য দেখে চমকে উঠলাম। অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কেউ এ দেশীয় নন। সাদা চামড়ার মানব-মানবী। এসব মানব-মানবীর কারবার দেখে সিনেমা হলের মহিলা দর্শকরা নাকে-মুখে কাপড় চেপে ছিটকে বের হয়ে গেল। তাদের পিছুুপিছু আমিও বের হয়ে এলাম।
এ ঘটনার অনেক বছর পরে আজ আবার সিনেমা হলে প্রবেশ করেছি। এটা ময়মনসিংহ শহরের প্রাচীন সিনেমা হলগুলোর একটি। দর্শকশূন্যতার কারণে ইতিমধ্যে এখানকার ৪টি সিনেমা হলের একটি বহুতল শপিং কমপ্লেক্স ও আবাসিক ভবনে রূপান্তরিত হয়েছে। অন্য একটিও একই ভাগ্য বরণ করতে চলেছে। বাকি দুটি ধুঁকে ধুঁকে চলছে। ইন্টারভেলের সময় লবণ বেগম বলল-
: পান খাইতে ইচ্ছা করতেছে।
লবণ বেগমের ইচ্ছের কথা শুনে বললাম-
: একটা কিছু খাইয়া তার পরে পান খাও!
- না, আর কিছু খামু না।
: ঠাণ্ডা খাও। ঠাণ্ডা খাওয়ার পর পান মুখে দিয়া দেখ- কী টেস্ট!
- না। ঠাণ্ডা-মাণ্ডায় ভেজাল। তুমি শুধু পানওয়ালারে ডাক দেও।
: এইখানে পানওয়ালা পাবা কই?
- তাইলে!
: নিচে যাওন লাগব।
- ঠিক আছে। এক দৌড়ে যাবা, আরেক দৌড়ে আসবা।
: আইচ্ছা।
সিনেমা হলের সামনেই পান-বিড়ির দোকান। দুই খিলি পানের অর্ডার দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি- হঠাৎ কাঁধে স্পর্শ অনুভব করলাম। তাকিয়ে দেখি আবু বকর সাহেব। তিনি টেনে টেনে বললেন-
: একলা-একলা কোনোকিছু খাওয়া ঠিক না। একটু দিয়া-থুইয়া খাইন যে!
দোকানদারকে আরেক খিলি পানের কথা বলতেই আবু বকর সাহেব মাথা নেড়ে বললেন-
: ভাই, অনেক ধন্যবাদ। আমি পান খাই না।
- তাইলে বললেন যে!
: আপনের সঙ্গে মশকরা করলাম। খবর কী বলেন।
- চলছে গাড়ি বাইগন বাড়ি। নতুন কোনো খবর নাই।
: সিনেমা দেখতে আসছেন নাকি?
- জি। ঈদের সময় আপনের ভাবী একটা সিনেমা দেখার আবদার জানাইছিল। তার আবদার উপেক্ষা করতে পারি নাই।
: এতদিন পরে আবদার রক্ষা করতে আসছেন!
- এতদিন তো তেল-চর্বি লইয়াই কাটল। আইজ একটু টাইম পাইছি।
আবু বকর সাহেব হঠাৎ উদাসীন হয়ে গেলেন। সিনেমা হলের চারপাশ পর্যবেক্ষণ করে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন-
: এক সময় এই হলে সিনেমা দেখার জন্য খাবার-দাবার সঙ্গে লইয়া টিকিটের জন্য লাইন দিছি। হাঃ! সেই সিনেমা হলে এখন মাছি উড়ে!
দোকানদার পানের পোটলা এগিয়ে দিল। সেগুলো হাতে নিয়ে বললাম-
: বর্তমানে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হইছে। আজকাল অনেক তরুণ নির্মাতা মানসম্পন্ন ছায়াছবি তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিভার সাক্ষর রাখতেছে।
-সেইটা তো হাতেগোনা এক-দুইটা।
: এক-দুইটা করতে করতে এক সময় এই ধারাটাই প্রতিষ্ঠিত হবে। বাতাসে চিটাগুলা উইড়া যাবে। থাকবে শুধু ধান।
আবু বকর সাহেব মাথা নেড়ে বললেন
: আশাবাদী হওয়া ভালো। কিন্তু...
হাতে সময় কম। আলাপ সংক্ষেপ করার জন্য বললাম-
: আপনে কই গেছিলেন?
- গাঙ্গিনারপাড়।
: কী জন্য?
-লাইব্রেরিতে।
: ঠিক আছে, আমি তাইলে যাই।
আবু বকর সাহেব বাঁধা দিলেন। বললেন-
: আরে দাঁড়ান দাঁড়ান। লাইব্রেরিতে কী জন্য গেছিলাম- সেইটা জানতে চাইলেন না!
লাইব্রেরিতে মানুষ যায় বইপত্র কেনার জন্য। এটা নিয়ে রহস্য করার কী আছে- বুঝতে পারছি না। বিরস মুখে বললাম-
: কী জন্য গেছিলেন?
- আরে, কঠিন অবস্থার মধ্যে পইড়া গেছি!
: কী রকম!
- গত শুক্রবার আমার ছোটছেলে আবু তালেবরে সঙ্গে লইয়া জুমার নামাজ আদায় করতে গেছি। মসজিদ থেইক্যা বাইর হওয়ার পর সে আমারে প্রশ্ন কইরা বসল-
: আব্বা, কেয়ামত সম্পর্কে ইমাম সাহেব হুজুর যা বললেন, তা কি সত্য?
ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে আমি বললাম-
: অবশ্যই সত্য। কোরআন-হাদিস তো আর মিথ্যা বলার জিনিস না।
- কিন্তু কয়েকদিন আগে আমি পত্রিকায় পড়েছি, একজন নেতা বলেছেন- কেয়ামত হলেও তারা নির্বাচন করবেন। ইমাম সাহেব হুজুরের কথা সত্য হলে এটা কীভাবে সম্ভব?
বুঝলেন, ছেলের কথা শুইন্যা আমি থ হইয়া গেলাম। ছোট্ট একটা মানুষ, সেও কথাটা ধইরা ফেলছে। কেয়ামত ও পরকাল সম্পর্কে ছেলের নানারকম প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়া দেখলাম- এই বিষয়ে আমার জ্ঞান খুবই সীমিত। ছেলের কাছে যাতে লজ্জা পাইতে না হয়, সেই জন্য এই বইটা কিইন্যা আনলাম।
: কী বই?
- কেয়ামতের পরে হাশরের আগে।
: আপনে এক কাজ করেন। এই বই আরও এক কপি কিইন্যা প্রীতি উপহার হিসেবে ডাকযোগে ওই নেতার কাছে পাঠাইয়া দেন।
আবু বকর সাহেব হো-হো করে হেসে উঠলেন। বললেন-
: ভালো কথা বলছেন তো! আমি এই কাজটা করব। অবশ্যই করব। রাজনীতিকরা যাত্রা-সিনেমার জোকারদের মতো ফজুল কথাবার্তা বলবে কেন? তাদের শিক্ষা হওয়া দরকার।
রাজনীতির প্রসঙ্গ উঠতেই মনের পর্দায় একজন মানুষের মুখ ভেসে উঠল। তার নাম তাজউদ্দীন আহমদ। ঢাকায় নিয়মিত তাজউদ্দীন আহমদ পাঠচক্রের আয়োজন করা হয়। এই পাঠচক্রের সদস্য হয়ে আমি দেখতে পেলাম- মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ তার রাজনৈতিক জীবনে এমন কোনো কথা উচ্চারণ করেননি, যা অপ্রাসঙ্গিক কিংবা বাহুল্য। অথচ আজকাল নেতারা সারাক্ষণ এমন সব ফালতু ও অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলে বেড়ান, যা শুনলে মানুষের বমির উদ্রেক হয়। আবু বকর সাহেবের কথার রেশ ধরে বললাম-
: শিক্ষা কীভাবে হবে? বর্তমানে রাজনীতি তো আর রাজনীতির জায়গায় নাই। এখন যারা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের দিকে তাকাইলে মনের মধ্যে আশার বদলে হতাশা, নির্ভরতার বদলে ভয়-ভীতির উদ্রেক হয়। আগে এইরকম ছিল না।
আবু বকর সাহেব বিষণ্নকণ্ঠে বললেন-
: আগের দিন বাঘে খাইছে- অঘাট ঘাট হইছে।
তার কথার সঙ্গে একমত পোষণ করে বললাম-
: একেবারে ঠিক কথা বলছেন।
আবু বকর সাহেবের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সিনেমা হলে ঢুকলাম। ততক্ষণে সিনেমার পরের অংশ শুরু হয়েছে। অন্ধকার হাতড়ে সিটে বসার পর লবণ বেগমের হাতে পানের খিলি তুলে দিতেই ফিসফিস করে সে বলল-
: পান দোকান থেইক্যা আনলা, না চাষ কইরা আনলা?
- দোকান থেইক্যাই আনছি।
: দোকান থেইক্যা আনতে এত সময় লাগে?
- আর বইল্য না! পানের দোকানে বক্কর ভাইয়ের সঙ্গে দেখা...
: বক্কর ভাই, না কোনো বান্ধবী?
- বান্ধবীদের সঙ্গে দেখা হইয়া লাভ নাই। তারা অলরেডি মা-খালার স্টেইজে চইল্যা গেছে।
: পুরান চাইল ভাতে বাড়ে।
- দেখি তো কী রকম বাড়ছে!
একপাশে সরে গিয়ে লবণ বেগম বলল-
: তাসিনের আব্বা- চারপাশে লোকজন আছে! ডোন্ট মুভ...
মোকাম্মেল হোসেন : সাংবাদিক

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির আতংকবাদী রাজনীতি কোন পথে? by বদরুদ্দীন উমর

ম্যাক্সিম গোর্কি বলেছিলেন, প্রেমিক-প্রেমিকার প্রেম ও বিরহের ওপর কবিতা লেখা যায়, কিন্তু একজন কৃপণের টাকা হারানোর ওপর কোনো কবিতা লেখা বা গান গাওয়া যায় না। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে তাতে একে কৃপণের টাকা হারানোর মতো অবস্থা ছাড়া অন্য কিছুর সঙ্গে তুলনা করা মুশকিল। কিন্তু এ দেশে শাসকশ্রেণীর দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি রাজনীতি ক্ষেত্রে যা করছে তার ওপর কিছু লেখা শুধু মুশকিল নয়, খুব কষ্টকর হলেও এ কাজ বাধ্য হয়েই করতে হচ্ছে। এর কারণ, উপরোক্ত দুই দলের ক্ষমতা হারানো এবং ক্ষমতা অর্জনের যে লড়াই চলছে, কৃপণের টাকা হারানোর সঙ্গে তার একটা পার্থক্য আছে। কৃপণের টাকা হারিয়ে যাওয়ায় অন্য কারও ক্ষতি হয় না, কিন্তু এ দুই দলের মধ্যে, বিশেষত এ দুই দলের নেতার মধ্যে, যে দ্বন্দ্ব-বিবাদ চলছে তার দ্বারা দেশ ও জনগণের প্রভূত ক্ষতি হচ্ছে। কাজেই এ দুই দল যা করছে, তার বিরুদ্ধে লেখা হয়ে দাঁড়িয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য কাজ।
বিএনপির প্রতিষ্ঠা এবং আওয়ামী লীগের পুনরুজ্জীবন ঘটার পর আশির দশক থেকেই এ দুই দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব-বিবাদ চলে আসছে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় এই দ্বন্দ্ব-বিবাদ বেশ শক্তভাবে দানা বাঁধে। এর ফলে সে সময় সামরিক শাসনবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনও দ্বিধাবিভক্ত হয়। এ দুই দলের নেতৃত্বে ১৫ দল ও ৭ দল নামে দুটি জোট গঠিত হয়। পরে এই জোট ভেঙে গেলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে শত্র“তা কমে আসার পরিবর্তে বৃদ্ধি পায়। এদের এই শত্র“তা এবং আপসহীনতার মধ্যেই সৃষ্টি হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শর্ত। আশির দশকের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পর এ কারণেই একটি জাতীয় সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালের নির্বাচন পরিচালিত না হয়ে সেটা হয় একটি অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। এ কারণেই ১৯৯৬ সালে সংবিধান সংশোধন করে ব্যবস্থা করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের।
যে কারণে এভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উদ্ভব হয়, সে কারণ এখন আর নেই- এটা কোনো সৎ ও সুস্থ লোকের পক্ষেই বলা সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে যে দ্বন্দ্ব-বিবাদ ও শত্র“তা আশির দশকে শুরু হয়েছিল, সেটা এখন বাংলাদেশের শাসকশ্রেণীর রাজনীতির একটা ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এই দেউলিয়া ঐতিহ্যই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতির একটা নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। এজন্য অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে বিদ্যমান সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করে থাকে, বাংলাদেশে সেটা সম্ভব নয়। কৃপণের টাকা হারানোর আশংকার মতো ক্ষমতা হারানোর ভয়ে ক্ষমতাসীন সরকারের অবস্থা হয় উন্মাদের মতো। কাজেই তারা সব বিরোধী দলের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক স্বাধীনতা খর্ব করতে দাঁড়িয়ে দেশে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে। এই ত্রাসের রাজত্বই এখন বাংলাদেশে চলছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের মনে আতংক ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে। সরকার নিজের কার্যকলাপের মাধ্যমে হরতালের শর্ত তৈরি করছে এবং বিরোধী দল হরতালের পর হরতাল ডেকে চারদিকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। হরতাল আহ্বান করার ক্ষেত্রে বিরোধী দলের কোনো বিবেচনা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় কখনোই পাওয়া যায় না। এটা আগে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে এবং এখন বিএনপির ক্ষেত্রে নতুন করে দেখা যাচ্ছে। হরতাল দিয়ে এই রাজনৈতিক দলগুলো জনজীবনে, বিশেষত খেটে খাওয়া দিনমজুর, হকার, রিকশা, স্কুটার, ভ্যানচালক ইত্যাদির জীবনে কী দুর্দশা সৃষ্টি করে তার হিসাব নেই। এই হিসাবের কোনো প্রয়োজনও হরতাল দেনেওয়ালা দলের মধ্যে দেখা যায় না। কাজেই জনগণকে তাদের দেয়া হরতালের ধকল সহ্য করতে হয়। বিএনপি এখন ২৭ তারিখ সকাল থেকে ২৯ তারিখ সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬০ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে। এভাবে ৬০ ঘণ্টার হরতালে দিন আনা দিন খাওয়া লোকদের যে সপরিবারে পেটে পাথর বেঁধে বসে থাকতে হবে, এ চিন্তা ও বিবেচনা কি তাদের কারও আছে? এত গেল হরতালের একদিক। এর অন্যদিক হল হরতালের সময়। এমনকি হরতালের আগের দিনও রাস্তায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, গাড়ি ভাংচুর, বাসে ও স্কুটারে আগুন, খুনখারাবি সবকিছুই চলে হরতালের সময়। সরকারের পুলিশ ও র‌্যাবও মারমুখী অবস্থায় বিরোধী দল ও সেই সঙ্গে জনগণের ওপর আক্রমণ চালায়। তাদের হাতেও মানুষ রাস্তাঘাটে নিগৃহীত হয়, নিহত ও আহত হয়। এক কথায়, যেসব সমস্যা পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব, সেসব সমস্যা এভাবে সমাধানের কোনো চেষ্টা না করে সন্ত্রাসের দ্বারা এবং ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেই সরকার ও বিরোধী দল তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এদিক দিয়ে বিচার করলে এদেরকে আতংকবাদী বললে সত্যের অপলাপ হয় না। বস্তুতপক্ষে পরস্পরের প্রতি হুমকি-ধামকি এবং সাধারণভাবে জনগণের মধ্যে আতংক সৃষ্টির মাধ্যমেই বাংলাদেশের শাসকশ্রেণীর প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এখন তাদের ক্ষমতার রাজনীতি চর্চা করছে।
বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন আসন্ন। এ নির্বাচন কীভাবে ও কার পরিচালনায় হবে এটাই এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজনীতির এক নম্বর এজেন্ডা। এর থেকেই বোঝা যায়, এদেশে নির্বাচন কমিশনের কোনো স্বাধীন ভূমিকা নেই, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনার মতো অবস্থা নেই। সাধারণ প্রশাসন থেকে নিয়ে আদালত পর্যন্ত যেভাবে সরকারের দ্বারা প্রভাবিত ও পরিচালিত হচ্ছে, সেভাবেই নির্বাচন কমিশন যে কাজ করবে এ বিষয়ে কোনো নিরপেক্ষ লোকেরই সন্দেহ নেই। এই পরিস্থিতিতে একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন এখনও নিঃশেষিত হয়নি। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে যেভাবে এর প্রয়োজন ছিল, এখনও তা-ই আছে। কিন্তু সরকারি দল আওয়ামী লীগ যেভাবে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরিবর্তে বিদ্যমান সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে, তার সঙ্গে দেশের বাস্তব পরিস্থিতির কোনো মিল নেই। শুধু তাই নয়, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে এ সিদ্ধান্তের দ্বন্দ্ব আছে। এই দ্বন্দ্বই এ মুহূর্তে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে এক চরম বিশৃঙ্খল অবস্থা এবং ব্যাপক আতংক সৃষ্টির জন্য দায়ী।
এই সংকটজনক পরিস্থিতির মধ্যেও হাস্যকর ব্যাপার হচ্ছে এই যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের নেত্রীর সঙ্গে আলোচনার জন্য তাকে টেলিফোন করবেন এমন কথা বলার পর সংবাদপত্র এবং তথাকথিত সুশীল সমাজের লোকজনের মধ্যে বেশ চাঙ্গাভাব সৃষ্টি হয়েছে! এর মধ্যে তারা আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন!! কিন্তু ২৬ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সেই টেলিফোন কলের কোনো দেখা নেই। যে কোনো গণতান্ত্রিক দেশে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধী দলের নেতাদের টেলিফোনে বা সাক্ষাতে আলাপ-আলোচনা এক স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু বাংলাদেশে যেহেতু এদিক দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যেই এক চীনের প্রাচীর তৈরি হয়েছে, সে কারণে এই টেলিফোনের কথায় অনেকের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে! টেলিফোন না হলেও এ নিয়ে তাদের মধ্যে উত্তেজনা আছে!!
২৬ অক্টোবর সন্ধ্যা পর্যন্ত সরকার পক্ষ আলোচনার ব্যাপারে কোনো অর্থপূর্ণ পদক্ষেপ না নিলে বিরোধী দল ২৭ তারিখ সকাল থেকে ৬০ ঘণ্টার হরতাল পালন করবে। রাজনীতি ক্ষেত্রে সরকারি দল আওয়ামী লীগ এবং বিরোধী দল বিএনপির এই খেলা জনগণের দিক থেকে কৃপণের টাকা হারানোর মতোই অন্তঃসারশূন্য ব্যাপার। এ বিষয়ে কিছু লেখা, এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে এটা নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ধারণা করা কৃপণের টাকা হারানো নিয়ে গান গাওয়ার মতোই এক দুঃসাধ্য ব্যাপার।
বদরুদ্দীন উমর : সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

মার্কেলের মোবাইলে আড়িপাতার অভিযোগ অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, তার যোগাযোগের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কোনো নজরদারি করছে না। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কারনি এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র মার্কেলের মোবাইল ফোনে আড়ি পেতে থাকতে পারে জার্মান সরকারের এমন অভিযোগের জবাবে বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে এ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। মার্কেল ওবামাকে ফোন করে তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা দাবি করেন বলে জার্মান চ্যান্সেলরের মুখপাত্র তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।