Monday, July 19, 2010
গৌড় কোথায় বলতে পারেন by মৃত্যুঞ্জয় রায়
একসময় গৌড় শহরে প্রবেশের একটা তোরণ ছিল। শহরে প্রবেশের সেই মূল তোরণটি পরিচিত ছিল ‘কোতোয়ালি দরওয়াজা’ নামে। সোনামসজিদ স্থলবন্দর সীমান্তে বিশাল বালিয়াদীঘির কাছে বাংলাদেশ চেকপোস্টের উত্তর সীমানায় পৌঁছাতেই সেটা নজরে এল। তবে ইতিহাসে ওই দরজা বা তোরণের যে বর্ণনা পাই, তার এখন আর তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই কথিত যে এই দরজা দিয়েই ১২০৫ খ্রিষ্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন বিন বখতিয়ার খিলজি বাংলায় প্রবেশ করে মুসলিম যুগের সূচনা করেছিলেন। সে জন্য লোকেরা এ দরজাকে ‘দখল দরওয়াজা’ও বলে। এটি এ দেশে প্রথম মুসলিম যুগের স্থাপত্যকীর্তির এক অনন্য নিদর্শন। ভারতের মালদা জেলায় প্রবেশ করতে বা মালদা থেকে এ দেশে আসতে এ তোরণ বা দরজা পার হতে হয়। প্রাচীন গৌড় নগরে প্রবেশ করতে হলে দক্ষিণ নগর উপকণ্ঠের অধিবাসীদের এ তোরণ পার হয়ে সে শহরে ঢুকতে হতো। কোতোয়াল বা নগর দ্বাররক্ষকেরা তোরণটি পাহারা দিতেন বলে এর নাম হয় ‘কোতোয়ালি দরওয়াজা’। জেনারেল কানিংহাম এটিকে প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যের নিদর্শন বলে উল্লেখ করেছেন। বঙ্গের সুলতান নাসিরউদ্দিন মহম্মদ শাহের আমলে বাংলার রাজধানী পাণ্ডুয়া থেকে গৌড় স্থানান্তরিত হওয়ার পর গৌড়ের রাজধানীর নগরদ্বার হিসেবে এটি নির্মিত হয়। এর কাছেই গাছগাছালির মধ্যে অবহেলা-অনাদরে পড়ে আছে গৌড় জনপদের দুটি উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য কীর্তি—দারাসবাড়ি মাদ্রাসা ও দারাসবাড়ি মসজিদ।
মধ্যযুগে গৌড় ছিল ভারতবর্ষের এক গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। গৌড় নগরের অবস্থান ছিল এখনকার মালদা জেলার দক্ষিণে গঙ্গা ও মহানন্দা নদীর মাঝখানে। সেই গঙ্গা ও মহানন্দা নদী আজও বয়ে চলেছে। কিন্তু হারিয়ে গেছে প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো গৌড় নগর। প্রায় কুড়ি মাইল লম্বা ও চার মাইল প্রস্থ নিয়ে ছিল সেকালের গৌড় নগরের অবস্থান। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৪৫০ থেকে ১৫৬৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত গৌড় ছিল তৎকালীন বাংলার রাজধানী। তাই সে সময়ে গৌড় নগরে গড়ে ওঠে নানা রকম স্থাপনা ও স্থাপত্য। কিন্তু ১৫৭৫ সালে এক ভয়াবহ মহামারি প্লেগ রোগে সে নগর পরিত্যক্ত হয়, পরিণত হয় এক মৃত নগরে। আজও সে নগরের প্রাচীন পথে হাঁটলে চোখে পড়ে সেসব প্রাচীন নিদর্শনের ধ্বংসাবশেষ, মাটি খুঁড়লেই পাওয়া যায় ইটের টুকরা ও নানা রকম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।
রাজা বল্লাল সেন আর লক্ষ্মণ সেনের আমলে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষ্মণাবতী। ১২ শতকে মুসলিম শাসন শুরু হলে এর নাম হয় লখ্নৌতি। গৌড়-লখ্নৌতির বাংলাদেশ ভূখণ্ডে সে যুগে দারাসবাড়ি মসজিদটিই ছিল বৃহত্তম মসজিদ। শামসুদ্দিন আবুল মুজাফ্ফর ইউসুফ শাহ কর্তৃক ১৪৭৯ খ্রিষ্টাব্দে এ মসজিদটি নির্মিত হয়। সমৃদ্ধ গৌড় নগরে একসময় এ রকম আরও কত কিছু যে ছিল, সে কথা আজ আর প্রমাণ করার কিছু নেই। মাটিচাপা ইট-পাথরগুলো যেন গৌড়ের এক অভিশপ্ত নিদর্শন। ওগুলো দেখে দেখে ভাবলাম, এভাবে একদিন সবই হারায়। গৌড়ের হারিয়ে যাওয়ার কথা জে সি মার্শম্যান তাঁর হিস্ট্রি অব বেঙ্গল-এ যেভাবে লিখেছেন, তা পড়ে গৌড়ের জন্য আফসোস আরও বেড়ে যায়। তিনি লিখেছেন, দুই হাজার বছর ধরে এ শহরটির অস্তিত্ব ছিল এবং তারপর তা ধ্বংস হয়ে যায়। সারা ভারতের মধ্যে এ শহরটি ছিল সবচেয়ে বেশি জাঁকজমকপূর্ণ। বিরাট বিরাট ইমারতে শহরটি পূর্ণ ছিল। এক শত রাজার রাজধানী এ শহর ছিল সম্পদ ও বিলাসিতার কেন্দ্রস্থল। কিন্তু মাত্র এক বছরের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়। গৌড় হারিয়ে যায় কালের অতল গর্ভে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রহরাবেষ্টিত ‘নিরাপদ’ ক্যাম্পাস by মশিউল আলম
বিনোদপুর গেট দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ঢোকার মুখে তিন তরুণী শিক্ষার্থীকে বেরিয়ে আসতে দেখে তাঁদের জিজ্ঞেস করলাম, কেমন চলছে বিশ্ববিদ্যালয়। একজন বললেন, ভালো। কোনো সমস্যা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘সমস্যা কিসের।’
‘চাপা অস্বস্তি অথবা ভয়, বা অন্ততপক্ষে অনিশ্চয়তা যে কখন আবার কী হয়—এ রকম অনুভব করেন কি?’ আমার এ প্রশ্নের উত্তরে পাশের তরুণী বললেন, কিছু ঘটলে আগে থেকে আভাস পাওয়া যায়। এবং নিশ্চিন্ত সুরে জানালেন, এখন সে রকম কোনো আভাস নেই।
গেটের ভেতরে গাছতলায় কয়েকটি বেঞ্চে বসে গল্প করছিলেন ‘আরএমপি’ লেখা স্টিকার লাগানো পোশাক-পরা রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের আটজন সদস্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে একসঙ্গে কথা বলে উঠলেন তিনজন: ‘ভার্সিটি ঠিক আছে, কোনো গন্ডগোল নাই; কিন্তু আপনারা আমাদের কথা লেখেন না কেন? আমরা সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত এখানে ডিউটি করি, পানি পর্যন্ত খাওয়ার ব্যবস্থা নাই’। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ারও কোনো ব্যবস্থা নেই, ইত্যাদি বলে তাঁরা নিজেদের দুঃখ-দুর্দশা প্রকাশে ব্যস্ত হয়ে উঠলে তাড়াতাড়ি তাঁদের সালাম জানিয়ে ফিরে এলাম গেটে, আমার জন্য অপেক্ষমাণ রিকশাচালক ৭১ বছর বয়সী আশরাফ আলীর কাছে। আগেই তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস আড়াআড়ি পার করিয়ে পুবের বিনোদপুর থেকে নিয়ে যাবেন পশ্চিমের মেহেরচন্ডি নামের পাড়ায়। সেখানেও প্রচুরসংখ্যক বাড়ি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মেস। যেতে যেতে আশরাফ আলী জানালেন, তাঁর জন্ম বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন তালাইমারী মহল্লায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় ভবন নির্মাণের কাজে তিনি রাজমিস্ত্রিদের জোগালির কাজ করেছেন। তাঁর মতে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে ভালো দিনগুলো ছিল শহীদ ড. শামসুজ্জোহার সময়। তখন ছাত্ররা ভদ্র ছিল, শিক্ষকদের কথা শুনত, ভালোভাবে লেখাপড়া করত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিমে রেলস্টেশনের গেটে আবারও দেখি অস্ত্রধারী পুলিশ। জিজ্ঞেস করলাম, নিরাপত্তার কোনো সমস্যা আছে কি না। তাঁরা মাথা নেড়ে বললেন, কোনো সমস্যা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি গেটে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দুই শিফটে পালা করে পাহারা দিচ্ছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা, প্রত্যেক শিফটে আটজন করে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মাঝেমধ্যে ক্যাম্পাসের ভেতরে বোমা-ককটেল ফুটছে, শিবিরের ঝটিকা মিছিল বেরোচ্ছে—এটা কীভাবে সম্ভব হচ্ছে? এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারলেন না তাঁরা। শুধু বললেন, গেট ছাড়াও ক্যাম্পাসে ঢোকার অনেক পথ আছে।
আশরাফ আলী আমাকে নিয়ে গেলেন রেললাইনের পশ্চিম পাশের মেহেরচন্ডি উত্তরপাড়ায়। রিকশায় যেতে যেতে রাস্তার দুই পাশের বাড়িগুলো দেখিয়ে বললেন, এগুলো সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেস। চারতলা একটি বাড়ির সামনে দাঁড়ালাম। রোজি ছাত্রাবাস। চারটি তলা মিলে ঘর আছে ৭০টি। ৭০ জন শিক্ষার্থী সেসব ঘরে ভাড়া থাকেন। মাসিক ভাড়া ঘরের আকারভেদে সাড়ে ৫০০ টাকা থেকে সাড়ে ৭০০ টাকা। বাড়িটির নিচতলায় ছোট্ট একটি দোকান, বাড়ির মালিকের এক আত্মীয় সেটি চালাচ্ছেন। তিনি জানালেন, এই মেসের কোনো শিক্ষার্থী কোনো ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে জড়িত নয়, ঘর ভাড়া দেওয়ার সময় তাদের কাছে এই মর্মে অঙ্গীকারনামায় সই করিয়ে নেওয়া হয়। এ পাড়ায় মেসবাড়ি আছে ৬০-৭০টি। ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা কোন কোন মেসে থাকেন—এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, কিন্তু এখানকার বাসিন্দা নয় এমন কেউ এ পাড়ায় বিয়েশাদি করেছেন কি না জানতে চাইলে একজন বললেন, এ রকম বিয়ে হয়েছে ৭০-৮০টি। আরেকজন তাঁর প্রতিবাদ করে বললেন, সংখ্যাটি অত বেশি হবে না, ৩০-৪০ হতে পারে। কিন্তু আগেরজন তাঁর বক্তব্যে অটল রইলেন এবং জানালেন, এ পাড়ার মেসগুলোতে পুলিশ মাঝেমধ্যে তল্লাশি চালাতে আসে। বলাবাহুল্য, জামায়াত-শিবিরের সন্ধানে।
ক্যাম্পাসের ভেতরেও জামায়াত-শিবিরের জন্য ফাঁদ পাতা আছে। ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম অপু বললেন, তাঁরা রাত জেগে পাহারা দেন, তার মধ্যেও শিবিরের ছেলেরা হঠাৎ হঠাৎ ঝটিকা মিছিল বের করে, বোমা-ককটেল ফাটিয়ে পালিয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন এমন চার যুবকের দেখা পাওয়া গেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের পাশের রাস্তায়। তাঁরা নিজেদের পরিচয় দিলেন জাতীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার লোক বলে। তাঁরা জানালেন, ক্যাম্পাস এখন শান্ত, মোটের ওপর নিরাপদ, তবে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি, কারণ দুষ্কৃতকারীরা সব সময়ই ওত পেতে আছে বিশৃঙ্খলা ঘটানোর জন্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সহযোগী অধ্যাপক বললেন, ক্যাম্পাসে একটা নীরব ত্রাসের অনুভূতি নিরবচ্ছিন্নভাবে বিরাজমান আছে। মাদারবক্স আবাসিক হলের গেটে চার তরুণ শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞেস করলাম, তাঁরা কোনো ভীতি বা অনিশ্চয়তা বোধ করেন কি না। একজন বললেন, অনিশ্চয়তা আছে, কিন্তু ভয়ের কিছু নেই। ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণেরা মারামারি করবে না তো কি প্রাইমারি স্কুলের ছেলেরা মারামারি করবে?’
শহীদুল্লাহ কলাভবনের সামনে আমগাছের নিচে চা-বিস্কুটের একটি দোকান (সুমনের দোকান) ঘিরে তরুণ-তরুণীদের আড্ডা। গিটার বাজিয়ে গান গাইছেন কয়েকজন, একটি বেঞ্চে দাবা খেলতে বসেছেন দুজন, তাঁদের ঘিরে দাঁড়িয়ে খেলা দেখছেন আরও কয়েকজন। কিছুক্ষণ পর এক তরুণী এসে দুই দাবাড়ুর একজনের সঙ্গে শুরু করলেন খুনসুটি এবং সেটা গড়াল এমন পর্যায়ে যে তিনি দাবার ঘুুঁটিগুলো এলোমেলো করে দিয়ে হাসতে হাসতে চলে গেলেন। পাশের দুটি বেঞ্চে মুখোমুখি বসে চা খাচ্ছেন আর গল্পগুজব করছেন আট-দশজন তরুণ। তাঁদের বক্তব্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলগুলো ইসলামী ছাত্রশিবিরের দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত হয়েছে। তাঁরা সবাই ইসলামী ছাত্রশিবিরের নিন্দা করলেন এবং শিবিরের আধিপত্য ও স্বেচ্ছাচারিতা কী ভয়ংকর মাত্রায় বেড়ে উঠেছিল, সাধারণ শিক্ষার্থীরাও তাঁদের দ্বারা কীভাবে নিগৃহীত হতেন, সেসব বিবরণ তাঁরা দিতে লাগলেন। যেমন, একজন বললেন, এই আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরেও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা প্রত্যেকটি আবাসিক হলে রাজত্ব করতেন। কোনো হলে নতুন কোনো ছাত্র এলে তাঁকে আলটিমেটাম পাঠানো হতো, রুমে ওঠার এক ঘণ্টার মধ্যে ওই হল শাখার শিবির সভাপতির কাছে গিয়ে দেখা করতে হবে। শিবির সভাপতি তাঁকে বলবেন, আমরা যেভাবে বলব, সেভাবে তোমাকে চলতে হবে, না-হলে হলে থাকতে পারবে না। শিবিরের নেতা-কর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নানা উপলক্ষে চাঁদা আদায় করতেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারির সহিংসতা ও ফারুক হত্যাকাণ্ডের পর শিবিরের সেই একচ্ছত্র আধিপত্য ও দাপটের অবসান হয়েছে। তাদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এখন তৎপর ছাত্রসংগঠন বলতে আছে শুধু বাংলাদেশ ছাত্রলীগ; আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি তারাও ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলগুলোর দেখভালের দায়িত্ব পালন করছে। ছাত্রশিবির বিতাড়িত, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল অস্তিত্বহীন। এমন অবস্থায় ছাত্রলীগের একক কর্তৃত্ব স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠা বিচিত্র নয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা যে জবরদস্তিমূলক আচরণ করতেন, এখন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সেই ভূমিকা নিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে অবশ্য কাউকে ‘হ্যাঁ’ বলতে শোনা গেল না। শুধু একজন শিক্ষক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বললেন, ক্ষমতা ও দাপটের হাতবদল হয়েছে; ছাত্রলীগ পেয়েছে ছাত্রশিবিরের জায়গা। এবং ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের নামে বোমাবাজিসহ যেসব নেতিবাচক ঘটনা ঘটছে সেগুলো যে ছাত্রশিবিরই করছে, এমন নয়। ছাত্রলীগের মধ্যে কোন্দল আছে, আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের মধ্যেই অন্তত চারজন অধ্যাপক আছেন যাঁরা নিজেদেরকে উপাচার্যের চেয়ারে দেখতে চান। ওদিকে আছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র, যিনি আওয়ামী লীগের একজন স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে তিনিও দেখতে চান তাঁর পছন্দের কোনো অধ্যাপককে।
স্বল্প সময়ে সামান্য দেখেশুনে যা মনে হলো, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় একটা নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে প্রবেশ করেছে, যেখানে সাধারণ অর্থে নিরাপত্তার সংকট নেই, যেখানে ছাত্রশিবিরও আর কোনো বড় সমস্যা নয়। অদূর ভবিষ্যতে সমস্যা হয়ে উঠতে পারে ছাত্রলীগ নিজেই, কেননা নিরঙ্কুশ ক্ষমতা এখন তাদের হাতে। কে না জানে, নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিরঙ্কুশভাবে দূষিত করে।
রাজশাহী থেকে ফিরে
মশিউল আলম: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
mashiul.alam@gmail.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আর্তের পাশে চিরকাল -কপোতাক্ষ-মধুমতীর তীর থেকে by আমিরুল আলম খান
সুদর্শন এক তরুণ ইকরাম। দাকোপ উপজেলার ছুতারখালি ইউনিয়নের গুনারি গ্রামের কলেজপড়ুয়া তরুণ। তার চোখেমুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। আইলা আঘাত হানার পরও অদম্য ইকরাম দুই বছর ধরে টিউশনি করে কোনোরকমে লেখাপড়া করছে খুলনার আযম খান কমার্স কলেজে। সামনেই অনার্স পরীক্ষা। অন্তত মাসতিনেক ভালো করে লেখাপড়া করা দরকার। সে জন্য দরকার নিরুপদ্রব পড়াশোনার সুযোগ। এক বন্ধুর বদান্যে থাকে এক মেসে। সে নিজেও আইলা-দুর্গত। বন্ধুর ভার আর বইতে পারছে না। দুই বছর ধরে সে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে রেখেছে। তাই এখন অন্ধকার দেখছে ইকরাম। মাসে অন্তত হাজার আড়াই টাকা না হলে কী খাবে, আর কী করে পরীক্ষা দেবে? কষ্ট করতে তার আপত্তি নেই। কিন্তু কাজই যদি না পায়, তাহলে? ইকরাম তাই হতাশার সমুদ্রে ভাসছে।
শুধু ইকরাম নয়। তার মতো তারই গ্রামের সমীরণ, দেবব্রত, বিশ্বজিৎ। তারা পড়ে বাগেরহাট আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় (পিসি) কলেজে। আযম খান কমার্স কলেজের ছাত্র বুড়িগোয়ালিনীর আশীষ, বিপুল, ফরহাদও কূল খুঁজে পাচ্ছে না। সবার সমস্যা প্রায় অভিন্ন। কলেজ যতটুকু পারে তাদের সাহায্য করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফি পরিশোধে। কিন্তু কলেজ তো আর তাদের থাকা-খাওয়ার পয়সা জোগাতে পারে না। তেমন বিধান নেই, তহবিলও নেই। কর্তৃপক্ষ তাই নিরুপায়।
তবে কি শেষ হয়ে যাবে এসব প্রতিশ্রুতিশীল তরুণদের স্বপ্ন, দীর্ঘ দুই বছর যারা সংগ্রাম করছে আগামী দিনের জন্য নিজেদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে? কিন্তু এত দিনে, দীর্ঘ দুই বছরে যাদের বাবা-মা-ভাই-বোন ফিরে যেতে পারেনি বসতভিটায়, শুরু করতে পারেনি নতুন করে জীবন, তারা কোন ভরসায় স্বপ্ন দেখবে? তাই এখন তাদের চোখেমুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। জীবন শুরু না হতেই পরাজয়ের গ্লানি। অথচ এই তারুণ্য, এই যৌবন নিয়োজিত হতে পারত এই দেশের উন্নয়নে। পরিবারের স্বপ্ন-জাগানিয়া সন্তানদের এই পরিণতি গোটা পরিবারের জন্য বয়ে এনেছে হতাশার কালো মেঘ। জীবন দুইবার আসবে না। এ জীবনে যদি নিজেকে উপযুক্ত করে গড়ে তোলা না যায়, তবে কি পরজন্মে জীবন গড়বে এসব তরুণ? এসব প্রশ্নের কোনো জবাব জানা নেই তাদের।
কত যুবক এমন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি? তার কোনো পরিসংখ্যান কোথাও আছে কি? যে তরুণ তার জীবন গঠনের এই স্তরে এমন কঠিন সমস্যায় আক্রান্ত, সে কি পারবে নিজেকে আগামী দিনের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে? না যদি পারে, তাহলে তো সে নিজেই এই সমাজে একটি সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হবে। সে যন্ত্রণা তো ভোগ করতে হবে সমাজকেই।
দেশটি ছোট। কিন্তু লোকসংখ্যার বিবেচনায় তো পৃথিবীর গুটিকতক দেশের একটি বাংলাদেশ। এই বিপুল জনসমষ্টিকে আমরা জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে পারছি না। সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে ঠিকই, তার চেয়ে বেশি আছে সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব। আরেকটি বড় সমস্যা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন। অর্থাৎ, আমাদের দক্ষতার প্রশ্নটি বারবার উঠে আসে।
আমাদের উপকূল-ভাগ বহু শতাব্দী ধরে বাঁধের মাধ্যমে সুরক্ষিত। কিন্তু আমরা সে ইতিহাস ভুলতে বসেছি। আমরা শুধু স্মরণে রেখেছি, ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত উপকূলীয় বাঁধের কথা। সেই বাঁধ প্রায় অর্ধশতাব্দী আমাদের সুরক্ষা দিয়েছে। কিন্তু ১৯৮০-এর দশক থেকে নোনাপানিতে বাগদা চিংড়ি চাষে আমাদের দুর্ভাগ্যের আরেক অধ্যায়ের শুরু হয়। একদিকে বিপুল বৈভব গড়ে উঠতে থাকে কিছু মানুষের, অপরদিকে নিঃস্ব হতে থাকে বিপুলসংখ্যক গরিব মানুষ। নিঃস্বায়নের সেই প্রক্রিয়া বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
আইলা যখন আঘাত হানল, তখন দেখা গেল নোনাপানি ঢোকানোর জন্য বাঁধের অসংখ্য ছিদ্রপথের কারণে তা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে গেল। তারপর তা দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা গেল না কিছু স্বার্থবাদী মানুষের কারণে। ফলে দুই বছরেও দুর্গত মানুষের বিপুল অংশ ফিরতে পারছে না ঘরে। যাদের থাকারই জায়গা নেই, তারা কী করে সন্তানের লেখাপড়ার খরচ জোগাবে?
অথচ সন্তানের দিকেই তাকিয়ে বাবা তাঁর ভবিষ্যতের স্বপ্ন বোনেন। এটাই মানুষের ইতিহাস। কিন্তু তাঁরা এখন নিতান্তই অসহায়।
দাকোপ উপজেলার গুনারি ইউনিয়নের দুটো ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ সমাপ্ত করা যায়নি। পুনর্নির্মিত হয়নি বুড়িগোয়ালিনী, গাবুরার বেড়িবাঁধও। অথচ গাবুরার কথা অনেকবার উঠেছে কোপ-১৫ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে।
আমাদের উপকূল-ভাগের মানুষের এই দুঃখের কারণ শুধু আমরা নই, উন্নয়নের পশ্চিমা মডেল সারা দুনিয়াকে যে জলবায়ু বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে, সেটাও অনেকাংশে দায়ী। সাগরের পানির উচ্চতা বাড়ছে মেরু বরফ আর পর্বতশিখরের বরফ গলছে বলে। আর তা গলছে বিশ্বের গড় উষ্ণতা বাড়ার কারণে। মানুষের ভোগবিলাসের জোগান দিতে গিয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির অমিত ব্যবহার, নানাবিধ ক্ষতিকর গ্যাসের উদিগরণ, ওজনস্তরে ছিদ্র এসবের কারণ।
কারণ যা-ই হোক, আসল কথা হলো, আমাদের দক্ষিণ-পশ্চিম জনপদের এক বিপুলসংখ্যক মানুষ আজ জলবায়ু উদ্বাস্তু। তাদের ভবিষ্যতের দায় কে গ্রহণ করবে?
সামাজিক দায় পরিশোধের অঙ্গীকার নিয়ে ইকরাম, আশীষ, বিপুল, ফরহাদ, দেবব্রত, বিশ্বজিৎ, সমীরণদের পাশে তো আমাদের কাউকে না কাউকে দাঁড়াতেই হবে। যেন ওরা ভাবতে শেখে, এই গরিব দেশের মানুষই আর্তের পাশে থাকে চিরকাল।
আমিরুল আলম খান: শিক্ষাবিদ।
Amirulkhan7@gmail.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশের উন্নয়ন-বিভ্রাট by হানিফ মাহমুদ
শুধু সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীল অবস্থা ও প্রবৃদ্ধির হার সমাজের বিপুল অংশের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটায় না। এখনও জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশের প্রয়োজনীয় খাদ্য নেই, স্বাস্থ্য-পরিষেবা নেই, ভালো আবাসন নেই, কর্মসংস্থান নেই, শিক্ষা নেই। অনেকেই এ কথা মানতে নারাজ যে, বিগত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ দারিদ্র্যের হার কমাতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত মৌলিক সুযোগ-সুবিধা পরিবীক্ষণ জরিপে এ চিত্রই উঠে এসেছে। জনগোষ্ঠীর ৪১ শতাংশের বেশি, অর্থাৎ বাংলাদেশের ১৬ কোটির মানুষের মধ্যে ৬ কোটি এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়ে গেছে। ৪০ শতাংশ মানুষ এখনো অক্ষরজ্ঞানহীন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ খাদ্যঝুঁকিতে থাকে। খাদ্যঝুঁকির শিকার মানুষদের অধিকাংশই দীর্ঘমেয়াদি সংকটে আছে। সরকারি জরিপে খাদ্যসংকটে আক্রান্ত পরিবারের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাদের এই করুণ অবস্থার কারণ কী। বেশির ভাগ পরিবার বলেছে দুটি প্রধান কারণের কথা: আয় অপর্যাপ্ত এবং চাষবাসের জমির সংকট।
স্বাধীন বাংলাদেশের এতগুলো বছরে কতগুলো পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা হলো, দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র হলো, অর্থনৈতিক উন্নয়নের কত কথাই তো সরকার বছর বছর প্রচার করে যাচ্ছে। তার পরও জীবনের ন্যূনতম উপকরণ-বঞ্চিত মানুষের সংখ্যা কমছে না।
দেশের সবচেয়ে দারিদ্র্যপীড়িত একটি জেলা কুড়িগ্রামের উদাহরণ উল্লেখ করা যেতে পারে। দারিদ্র্য ও অসচেতনতার মধ্যে কুড়িগ্রামের চরে হাজার হাজার পরিবার আধপেটা খেয়ে অপুষ্টির সঙ্গে লড়াই করছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। সরকার ও অর্ধশতাধিক এনজিও বিপুল অর্থ ব্যয় করে এদের আর্থিক অবস্থা উন্নতির চেষ্টা করেছে। কিন্তু দৃশ্যত তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। কাজের সন্ধানে এখনো হাজার হাজার মানুষ কুড়িগ্রাম ছেড়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় চলে যায়। এখানে উপার্জন এতই কম যে, ক্ষুধা নিবারণ ছাড়া স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বাসস্থান জোটাতে বাড়তি অর্থ থাকে না। ফলে বাধ্য হয়ে নিজ এলাকা ছেড়ে কেউ বা থাকছে মাসের পর মাস, আবার অনেকে থাকছে সপ্তাহ বা ১৫ দিন।
কুড়িগ্রামে গত এক দশকে দারিদ্র্যের হার কমাতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে এলাকাটি ঘুরে দেখা গেছে, প্রকল্পগুলোতে সবকিছু ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা প্রবল। প্রকল্প ব্যবস্থাপনার সঙ্গে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার কোনো সামর্থ্য দেখা যায় না। প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ব্যাপারে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে এসব প্রকল্পে যে সেবা ও সম্পদের লেনদেন হয় তা প্রকৃত দুর্দশাগ্রস্ত পরিবারের কাছে যায় না।
কুড়িগ্রামের সচেতন নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক এনামুল হক চৌধুরীর অভিমত, কুড়িগ্রাম জেলায় গত এক দশকে যে পরিমাণ অর্থ এসেছে, তা মুদ্রা (কয়েন) করে ছেড়ে দিলে কুড়িগ্রাম জেলা তিন ফুট উঁচু হয়ে যেত। কিন্তু এখানে টেকসই কোনো উন্নয়ন হয়নি। রাস্তা মেরামত ও বাঁধ রক্ষার কাজ হয়। কিছুদিন পরই এসব কাজের আর কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। তাঁর মত, কুড়িগ্রামে যেসব প্রকল্প আসছে, সেগুলো যারা নাড়াচাড়া করছে তাদের উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু হতদরিদ্র মানুষ সেই তিমিরেই পড়ে থাকছে।
অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান তাঁর প্রবন্ধ সংকলন আমার সমালোচক আমার বন্ধু গ্রন্থের এক জায়গায় বলছেন, ‘দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে সমস্যা যতটা-না সম্পদের অভাবের কারণে, তার চেয়ে বেশি পরিচালনা-পদ্ধতির দুর্বলতার কারণে, আর পরিচালনা-পদ্ধতির সংকট নিহিত রয়েছে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে আঘাত হানতে পারে এমন দিকনির্দেশনাপূর্ণ একটি ভিশনের অভাবের মধ্যে।’
আলাপকালে স্থানীয় অনেকেই অভিমত দিয়েছেন, এ ধরনের কর্মসূচিভিত্তিক প্রকল্প দিয়ে কুড়িগ্রাম জেলার উন্নয়ন হবে না। ওই অঞ্চলের দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারে পরিবর্তন আনতে হলে মানুষের আয়বর্ধক ভৌত অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু এ রকম দুটি সেচ প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে না পাঁচ বছর ধরে। অনুমোদন থেকে শুরু করে টাকা বরাদ্দ রাখা—সবকিছুই হয়েছে। শুধু কাজের অগ্রগতি শূন্যের কোটায়। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জেলার ৭৫ হাজার হেক্টর এলাকা সেচের আওতায় আসবে। ধান, গম, শাক-সবজি ও মাছের উৎপাদন বাড়বে। নিয়মিত কর্মসংস্থান হবে লক্ষাধিক লোকের। দারিদ্র্য বিমোচনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এ ধরনের ভৌত অবকাঠামোর প্রকল্প অনুমোদনের পাঁচ বছর পরও নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি। শুধু এটিই একমাত্র উদাহরণ নয়। মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও দারিদ্র্য নিরসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এ রকম শত প্রকল্প আছে, যেগুলোর সরকারি অনুমোদন হয়েছে, অর্থ বরাদ্দ আছে, কিন্তু বাস্তব অগ্রগতি নেই।
২০১০-১১ অর্থবছরের যে মধ্যমেয়াদি বাজেটকাঠামোর সরকারি দলিল তৈরি হয়েছে, সেখানেও এই দুরবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, দারিদ্র্য নিরসনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো খাতে (স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, পরিবহন ও যোগাযোগ) বিনিয়োগ ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ছিল মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এটা ২ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে। কারণ হিসেবে সরকারি দলিলেই বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও পানি উন্নয়নের মতো ভৌত অবকাঠামো খাতে গৃহীত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পুরোদমে শুরু না হওয়ার কারণেই ব্যয় হ্রাসের এ ঘটনা ঘটেছে। আরও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তুলনামূলক বিচারে খরচ ক্রমান্বয়ে কমছে।
রেলের মতো একটি মৌলিক খাতকে আমরা পঙ্গু করে রেখেছি দীর্ঘদিন। নতুন কোনো বিনিয়োগ নেই। ব্যবস্থাপনায় কোনো উন্নতি হচ্ছে না। কাগজে-কলমে রেলওয়েতে বর্তমানে ৩৪টি প্রকল্প চালু রয়েছে। কিন্তু রেলওয়ের সেবা সম্প্রসারণ ও যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর জন্য নেওয়া এসব প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়ে আছে।
ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আমাদের দূরদৃষ্টির অভাবে পাটের মতো সম্ভাবনাময় খাতকে অনেকটাই বিদায় করার উদ্যোগ নেওয়া হয় নব্বইয়ের দশকে। অথচ সরকারি মিলের ৫০ বছরের পুরোনো যন্ত্রপাতি কিনে উত্তরবঙ্গের উদ্যোক্তারা স্থাপন করেছেন ছোট ছোট পাটকল। আর এভাবেই বদলাতে শুরু করেছে উত্তরবঙ্গের পাটচাষির ভাগ্য। ২০০১ সালে উত্তরবঙ্গের মাত্র দুটি কারখানায় সারা বছর পাট ব্যবহূত হতো দুই থেকে আড়াই হাজার বেল। আর এখন ব্যবহূত হয় আড়াই লাখ বেল। গড়ে উঠেছে ২০টির বেশি পাটকল। এবার পাটের মূল্য যে অবস্থায় গিয়েছে, শুধু পাট চাষ করেই অনেক কৃষক পরিবার দরিদ্র অবস্থা থেকে উঠে আসতে পারবে। কিন্তু প্রবৃদ্ধিভিত্তিক উন্নয়ন দর্শনের ফাঁদে পড়ে বাংলাদেশ অনেক মৌলিক জায়গা থেকে ছিটকে পড়েছে।
অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মতে, শুধু প্রবৃদ্ধি দিয়েই উন্নয়ন বা দারিদ্র্য বিমোচন হয় না। দারিদ্র্য নিরসন করতে হলে প্রান্তিক মানুষের স্বত্বাধিকার ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। জনসাধারণের সক্ষমতার বিকাশেই উন্নয়ন। সেটি করতে গেলে দারিদ্র্য বিমোচনের কিছু কর্মসূচি এবং রাস্তা মেরামতের কাজ দিয়ে হবে না। কর্মক্ষম জনগণের বেশির ভাগকে প্রয়োজনীয় মজুরি দেওয়া যায় এমন কাজের সংস্থান করতে হবে, যে মজুরি বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় উপকরণের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হবে। প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো, উন্নত যোগযোগ ব্যবস্থা, সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, দেশীয় শিল্পের বিকাশ এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডই জনসাধারণের সক্ষমতার বিকাশ ঘটাতে পারে।
হানিফ মাহমুদ: সাংবাদিক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজধানীতে ছিনতাই বৃদ্ধি -নগরবাসীর জানমালের প্রশ্নে কোনো গাফিলতির সুযোগ নেই
বিদেশি নাগরিক ও পর্যটকেরাও ছিনতাইকারীদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। এদের দৌরাত্ম্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কোরীয় রাষ্ট্রদূত এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শককে চিঠি দিয়েছেন। বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা না দিতে পারলে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। তাই এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনকে অত্যন্ত সজাগ থাকতে হবে।
ছিনতাই, অপহরণ, চুরি, ডাকাতি বা চাঁদাবাজির মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আইনশৃৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই জনগণের প্রধান ভরসাস্থল। মানুষজন যেন নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে, তার ন্যূনতম নিশ্চয়তা বিধান করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। এ কারণে ছিনতাই নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা মহানগর পুলিশি ব্যবস্থার দুর্বলতা বা গাফিলতিরই প্রকাশ। রাজধানীর কতগুলো চিহ্নিত স্থানে প্রতিনিয়ত ছিনতাইয়ের ঘটনা চলতেই থাকবে, এটা তো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাই কিছু ভাসমান অপরাধীর কাছে সাধারণ নগরবাসীর অসহায়ত্ব দূর করতে পুলিশ প্রশাসনকে সব সময় সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
রাজধানীতে কারা নানা রকম দুর্বৃত্তপনার সঙ্গে জড়িত, তা পুলিশ ও গোয়েন্দাদের অজানা নয়। ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বরত পুলিশকে সক্রিয় ও ত্বরিত ভূমিকা নিতে হবে। তারা কঠোর নজরদারি-ব্যবস্থা জারি রাখতে সমর্থ হলে এসব অপরাধ বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। রাজধানীর যে ২৫০টি স্থানে নিয়মিত ছিনতাই হচ্ছে, সেসব জায়গার দিকে বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন। প্রয়োজনে এ ধরনের দুর্বৃত্তদের ধরতে পুলিশের আরও অনেক ভাসমান দল গঠন করা উচিত। পুলিশের লোকবলের অভাব বা অন্য কোনো কারণ দেখিয়ে নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা বিধান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ব্যর্থতার পক্ষে প্রকারান্তরে সাফাই গাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জনগণের জানমালের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো পরিস্থিতিতেই ছাড় দেওয়ার বা গাফিলতির সুযোগ নেই। পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ না থাকলে এই বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নীতিনির্ধারকদের নিতে হবে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পার্বত্য ভূমি কমিশন নিয়ে বিতর্ক - নগরবাসীর জানমালের প্রশ্নে কোনো গাফিলতির সুযোগ নেই
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির পথে প্রধান বাধা বাঙালি অধিবাসীদের সঙ্গে স্থানীয় পাহাড়িদের ভূমি নিয়ে বিরোধ। পার্বত্য চুক্তির শর্ত অনুযায়ী গঠিত ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের কাজ হলো, জমির প্রকৃত মালিককে জমি ফিরিয়ে দেওয়া। তার জন্য জরিপ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পাহাড়িদের আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে পরামর্শ করে যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। সেই অর্থে ভূমি জরিপ বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই হওয়া উচিত। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান জরিপ ও জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিকে আলাদা করে ফেলেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনে আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা, সার্কেল চিফ বা রাজারা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার সদস্যভুক্ত আছেন। বিধি মোতাবেক এই কমিশন দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতাপ্রাপ্ত এবং পার্বত্য অঞ্চলে প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি অনুসারে এর বিচারকাজ পরিচালনা করার কথা।
পার্বত্য চট্টগ্রামের সনাতন ভূমি-ব্যবস্থায় পাহাড়িদের ব্যক্তিগত মালিকানা তথা দলিল ছিল না। তাদের ছিল বংশানুক্রমিক ঐতিহ্যগত মালিকানা। এরই সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় সরকারি ব্যবস্থায় এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগেও পাহাড়িদের জমিতে বাঙালিদের বসিয়ে দেওয়া হয়। অনেক জমিকে সংরক্ষিত বনাঞ্চলও ঘোষণা করা হয়। ভূমিদস্যুরাও এ সুযোগে পাহাড়িদের জমি হাতিয়ে নেয়। এই বঞ্চনাই পাহাড়িদের মধ্যে অসন্তোষের কারণ। ভূমি কমিশনের কাজ হলো জমির ইতিহাস, ঐতিহ্যগত অধিকার, বর্তমান দখলদারের ইতিহাস ইত্যাদি পর্যালোচনা করে বলা যে বিরোধপূর্ণ জমিটির আসল স্বত্বাধিকারী কি বর্তমান দখলদার, না স্থানীয় আদিবাসীরা? এটা করা ছাড়া জরিপ হলে তা মালিকানা নিয়ে বিবাদের কোনো মীমাংসা তো দেবেই না, উল্টো বিরোধকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
মনে রাখা দরকার, ভূমি কমিশনের প্রধান উদ্দেশ্য পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের হারানো জমি ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ভূমি বিরোধের ন্যায্য মীমাংসা করা। কোন প্রক্রিয়ায় তা সঠিকভাবে সম্পন্ন হবে, তার জন্য আইন রয়েছে। কিন্তু তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হলে ভূমি কমিশনের পাহাড়ি প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ আবশ্যক। একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত যে ফলপ্রসূ হবে না, তা পার্বত্য সমস্যার ইতিহাসই তার প্রমাণ।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দারফুরে সংঘর্ষে ৩০০ বিদ্রোহী নিহত
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা নিশ্চিত করেছে, এ সপ্তাহে সুদানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের দুই-তিনবার সংঘর্ষ হয়েছে। তবে সংঘর্ষ ও সেনাবাহিনীর দাবির ব্যাপারে জেইএমের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেনারেল আল-তায়েব আল-মুসবাহ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা নিউজকে জানান, সেনারা বিদ্রোহীদের বহু যানবাহন গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতের সঙ্গে আরও আলোচনার আহ্বান গিলানির
এদিকে চলতি সপ্তাহে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য শাহ মেহমুদ কোরেশিকে দায়ী করেছে ভারতের সংবাদপত্রগুলো।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ভারতের বিরুদ্ধে কোরেশির অভিযোগ সত্ত্বেও ভারত বৈঠকে ফিরে আসবে। লাহোরের কাছে বালোকিতে এক সরকারি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমরা উভয়েই সংলাপ চাই। কাজেই বৈঠকে বসলে সব বিষয়েই আলোচনা হবে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মার্কিন দম্পতির কারাদণ্ড
কেন্ডাল মায়ার্স বলেছেন, গুপ্তচরবৃত্তির মাধ্যমে দেশের কোনো ক্ষতি চাননি তিনি। কিউবার জনগণকে সহায়তার জন্য তিনি এ কাজ করেছেন। কিউবার প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কী মনোভাব, সে দেশের জনগণকে তা তিনি জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হুমকির ব্যাপারেও তিনি কিউবা সরকারকে সতর্ক করেছেন।
তবে বিচারক রিগি ওয়াল্টন বলেছেন, কেন্ডাল মায়ার্স ও তাঁর স্ত্রী গুয়েনডলিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তাঁদের কঠোর শাস্তি পাওয়া উচিত।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণ নির্বাচন ২১ আগস্ট
গিলার্ড বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়াকে আগামী দিনগুলোতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জনগণের সমর্থন চাইছি আমি। শনিবার সকালে প্রতিনিধি পরিষদ ভেঙে দেওয়ার জন্য গভর্নর জেনারেলকে অনুরোধ করেছি আমি, যাতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের অর্ধেক পদের জন্য ২১ আগস্ট শনিবার নির্বাচন আয়োজন করা যায়।’ অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান রাখতেই এ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
তিন সপ্তাহ আগে ক্ষমতাসীন অস্ট্রেলীয় লেবার পার্টির নেতা কেভিন রাড দলীয় চাপের মুখে পদত্যাগ করলে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন গিলার্ড। তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। আসন্ন নির্বাচনে গিলার্ডের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন রক্ষণশীল লিবারেল পার্টির নেতা টনি অ্যাবট। গিলার্ড প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর লেবার পার্টি ও তাঁর নিজের জনপ্রিয়তা বেড়ে গেছে।
নির্বাচিত হলে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে অগ্রাধিকার দেবেন উল্লেখ করে গিলার্ড বলেন, ‘এই নির্বাচন অস্ট্রেলীয়দের সামনে যেকোনো একটি পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ দেবে—আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে যাবে না পিছিয়ে থাকবে। সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ এবং শক্তিশালী জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা।’ রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের সঙ্গে সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে অস্ট্রেলীয় জনগণকে দেখাতে চাই, কীভাবে আমি দেশকে নেতৃত্ব দিতে আগ্রহী।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিমন বলিভারের দেহাবশেষ উত্তোলন
শাভেজ বলেছেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বলিভারের মৃত্যুর আসল রহস্য উদ্ঘাটিত হবে। শাভেজের নির্দেশ অনুযায়ী গত শুক্রবার সাবেক এই সামরিক নেতার দেহাবশেষ সমাধি থেকে তোলা হয়েছে।
১৮৩০ সালে মাত্র ৪৬ বছর বয়সে কলম্বিয়ায় মারা যান বলিভার। একদল ঐতিহাসিকের মতে, যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু হুগো শাভেজসহ অনেকে মনে করেন, বলিভারকে পরিকল্পিতভাবে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে।
সিমন বলিভারকে ‘বিপ্লবের জনক’ আখ্যা দিয়ে শাভেজ বলেন, ‘বলিভার মরেননি। তিনি বেঁচে আছেন। তাঁকে মৃতদের ভিড়ে, কঙ্কালের ভিড়ে খোঁজা ঠিক হবে না। তিনি বিদ্যুচ্চমকের মতো, তিনি অগ্নস্ফুিলিঙ্গ। তিনি আমাদের জাতীয় বীর। স্বাধীনতাযুদ্ধের মহানায়ক।’
সাদা পোশাকের একদল বিজ্ঞানী সমাধি থেকে বলিভারের দেহাবশেষ তোলেন এবং তা কালো কাপড়ে মুড়িয়ে টেবিলের ওপর রাখেন। এ সময় জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। টেলিভিশনে এ দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
সিমন বলিভার ১৮১৯ সালে গ্রান কলম্বিয়া নামে একটি জোট গড়ে তোলেন। বর্তমানে এ জোট ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া, পানামা ও ইকুয়েডরে বহাল আছে।
বলিভারের নেতৃত্বে স্পেনের শাসন থেকে বলিভিয়া, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পানামা ও পেরু স্বাধীনতা লাভ করে। লাতিন আমেরিকায় গণতান্ত্রিক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ায় তাঁকে লাতিন আমেরিকার ‘জর্জ ওয়াশিংটন’ বলে ডাকা হয়।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কলম্বিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি শাভেজের
কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল সিলভা গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, তাঁদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ আছে, কলম্বিয়ার বামপন্থী বিদ্রোহী নেতারা ভেনেজুয়েলায় অবস্থান করছেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শাভেজ শুক্রবার এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, রেভল্যুশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়ার (ফার্ক) পাঁচ নেতা ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী এলাকার জঙ্গলে লুকিয়ে আছেন। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ভেনেজুয়েলার পশ্চিমাঞ্চলে ফার্ক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর একজন নেতা ঘাঁটি স্থাপন করেছেন।
কলম্বিয়ায় কয়েক দশক ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। তবে দুই বছর ধরে এ যুদ্ধের তীব্রতা বেড়ে গেছে। এ জন্য কলম্বিয়া সরকার হুগো শাভেজকে দায়ী করেছে। দেশটি বলেছে, শাভেজ কলম্বিয়ার বামপন্থী গেরিলাদের সমর্থন দিচ্ছেন।
ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কথা তুলে ধরে শাভেজ বলেছেন, আগামী ৭ আগস্ট কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোসের শপথ অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেবেন না। তিনি কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্টকে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট আলভারো ইউরিবের কাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
শাভেজ বলেন, ‘কলম্বিয়া যদি ফের এ ধরনের অভিযোগ আনে, তবে আমি তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেব। এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলে কলম্বিয়ার নতুন সরকারের জন্য তা ফিরিয়ে আনা হবে কঠিন একটি কাজ।’
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, কলম্বিয়া সরকার যতই উসকানিমূলক তৎপরতা চালাক না কেন, সেই ফাঁদে পা দেবে না ভেনেজুয়েলা। তিনি বলেন, নতুন প্রেসিডেন্ট সান্তোস ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করা হয় কি না, তার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিপির কলকাঠি নাড়ার অভিযোগের তদন্ত করা হবে: হিলারি
আগের দিন বৃহস্পতিবার নাইজেল শেইনওয়াল্ড এক বিবৃতিতে বলেন, ব্রিটেনের বর্তমান সরকার মনে করে, মেগরাহিকে মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে স্কটল্যান্ডের বিচার মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।
এর আগে গত মঙ্গলবার ডেমোক্র্যাটদলীয় চারজন সিনেটর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, লকারবি হামলাকারীকে মুক্তি দেওয়ার ঘটনায় বিপির জড়িত থাকার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।
এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, লিবিয়ার সরকারের সঙ্গে বিপির একটি তেল চুক্তিকে কেন্দ্র করে মেগরাহিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ২০০৭ সালে লিবিয়ার সঙ্গে বন্দী বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষর হয়। একই বছর লিবিয়ায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের একটি চুক্তি করে বিপি। বিষয়টি তদন্তের অনুরোধ জানিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কাছে চিঠি দেন সিনেটররা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, হিলারি ক্লিনটন অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন এবং সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটি চলতি মাসেই এ ব্যাপারে বিপির কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। হিলারি এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হগের সঙ্গে আলাপ করেছেন।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে স্কটিশ সরকারের মুখপাত্র বলেছেন, মেগরাহির মুক্তির বিষয়ে বিপির সঙ্গে তাঁদের কোনো যোগাযোগ হয়নি। মানবিক দিক বিবেচনা করেই মেগরাহিকে মুক্তি দিয়েছেন তাঁরা। স্কটিশ আইন মেনেই তাঁকে লিবিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিআইয়ের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করেছেন ইরানের বিজ্ঞানী আমিরি: প্রতিবেদন
ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস ও এপি বলেছে, পরমাণুবিজ্ঞানী শাহরাম আমিরিসহ আরও বেশ কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তা বিভিন্ন গোপন তথ্য সিআইয়ের কাছে পাচার করেছেন। পরবর্তীকালে তাঁরা সবাই যুক্তরাষ্ট্রে বসতি স্থাপন করেন।
সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গণমাধ্যমগুলো আরও জানিয়েছে, বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে ইরানের কর্মকর্তারা সিআইয়ের কাছে তথ্য পাচার করতে রাজি হন। তাঁদের মধ্যে শুধু আমিরির সঙ্গে সিআইয়ের ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের সমঝোতা হয়। ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি সিআইয়ের নিয়ন্ত্রণমুক্ত বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেখাশোনা করে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য আদায় করাই ছিল সিআইয়ের প্রধান উদ্দেশ্য।
গণমাধ্যমগুলো বলেছে, সিআইয়ের কাছে তথ্য পাচারের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর ইরানি কর্মকর্তাদের কয়েকজনকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেসব কর্মকর্তা নিরাপত্তার জন্য দেশ ছাড়তে আগ্রহ প্রকাশ করায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
পত্রিকাগুলো আরও বলেছে, আমিরি ও দ্বিতীয় আরেক তথ্য পাচারকারীর ব্যাপারে ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় সন্দেহ প্রকাশ করেছিল।
ইরানি কর্মকর্তাদের তথ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত সাবেক এক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ইরান সরকারের সন্দেহের পর তথ্য পাচারের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছিল। কেননা, ইরানের এক কর্মকর্তা সিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারেননি।
ওয়াশিংটন পোস্ট বলেছে, আমিরির ইরানে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে গোপনে কোনো ধরনের সমঝোতা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে সিআইএ। তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আমিরির দেওয়া আগের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখতে সময় লাগতে পারে। কেননা, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি নিয়ে ইতিমধ্যে ইরানের বেশ কয়েকটি ঘোষণা পিছিয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিবাস গড়ার পর আমিরি তাঁর পরিবারকে ইচ্ছা করেই সেখানে নিয়ে যাননি। এ ব্যাপারে ওয়াশিংটন পোস্ট বলেছে, সম্ভবত পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো ছিল না।
আমিরি গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইরানে পৌঁছান। ওয়াশিংটনে তিনি পাকিস্তানের দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সিআইএ তাঁকে অপহরণ করে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি জানান, সিআইয়ের হেফাজত থেকে তিনি পালিয়ে এসেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তাঁকে নির্যাতন করা হয়নি।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঢাকায় দুই দিনব্যাপী মেধাসম্পদবিষয়ক আঞ্চলিক সম্মেলন কাল শুরু
সম্মেলনের বিস্তারিত জানাতে শিল্প মন্ত্রণালয় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া সম্মেলনের প্রস্তুতি, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।
সংবাদ সম্মেলনে শিল্পসচিব দেওয়ান জাকির হোসাইন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক জুলফিকার রহমান, বাংলাদেশ মিশন জেনেভার মিনিস্টার এনায়েত মওলা, পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেড মার্কস অধিদপ্তরের নিবন্ধক মো. এনামুল হকসহ শিল্প ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, মেধাসম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখার জন্য দক্ষ জনসম্পদ ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কৌশল নিয়ে সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
তিনি আরও বলেন, এ সম্মেলন বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার প্রেক্ষাপটে স্বল্পোন্নত দেশগুলো, বিশেষ করে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে মেধাসম্পদের সংরক্ষণ ও উন্নয়নে পারস্পারিক সহায়তা প্রদান, প্রযুক্তি হস্তান্তর, পেটেন্ট গ্রান্টিংয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অসুবিধা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সম্মেলনের সফল পরিসমাপ্তি কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম বয়ে আনবে বলে শিল্পমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান, ইয়েমেন, লাওস, কম্বোডিয়া, তিমুরলেস্ট, কিরিবাটি, সামোয়া, ভানুয়াটো, সলোমন আইল্যান্ড ও টোভালো। স্বাধীনতার পর বিশ্ব মেধাসম্পদ সংস্থা আয়োজিত মেধাসম্পদ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, আইন প্রণেতা এবং পদস্থ কর্মকর্তাদের অংশ গ্রহণে এ ধরনের আঞ্চলিক সম্মেলন বাংলাদেশে এটাই প্রথম।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রথম ষাণ্মাসিক সিএসআর প্রতিবেদন এ মাসে জমা দেবে ব্যাংকগুলো
বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো এক সার্কুলারে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো ষাণ্মাষিক প্রতিবেদন পাঠাতে বলেছে। প্রথম দফাতে এ বছরের গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্ধবার্ষিক সিএসআর কার্যাবলির প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সুনির্দিষ্ট ফরম ব্যাংকগুলোকে পাঠিয়েছে। এই ফরম অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে তাদের সিএসআর কার্যক্রমের খতিয়ান তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০৮ সালের জুন মাসে ব্যাংকগুলোর সিএসআর কার্যক্রমের ওপর একটি নীতিমালা জারি করে। এ নীতিমালায় অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে।
সিএসআরের ওপর ষাণ্মাসিক প্রতিবেদনে ব্যাংকের সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যাংকগুলো যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে বিনিয়োগের পরিমাণ, পরিবেশের ওপর ক্ষতিকারক প্রভাব মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তথ্য দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরমে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু কয়েকটি ক্ষেত্রে অনুদান বা দুস্থ-অসহায় মানুষের আর্থিক সহায়তার মধ্যে সিএসআর সীমাবদ্ধ না রেখে এর ব্যাপ্তি বাড়াতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুসারে সিএসআর কার্যক্রমকে ব্যাংকিং কার্যক্রমের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে প্রত্যেক ব্যাংকের নিজস্ব কিছু নীতি থাকতে হবে। সিএসআরের জন্য ব্যাংকগুলোকে বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। এ ছাড়া সিএসআরের গুণগত ও পরিমাণগত কার্যক্রমকে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংকগুলোর সিএসআর উদ্যোগের পর্যালোচনা, ২০০৮ ও ২০০৯’ শীর্ষক প্রকাশনা সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। প্রকাশনায় দেখা যায়, সিএসআর কার্যক্রমে ব্যাংকগুলোর সংশ্লিষ্টতা এবং ব্যয় বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে ২০০৯ সালে ব্যাংকগুলো সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে ৫৫ কোটি টাকা। এর আগে ২০০৭ এবং ২০০৮ সালে এ খাতে ব্যয় ছিল যথাক্রমে ২৩ কোটি এবং ৪১ কোটি টাকা। দেশের মোট ৪৮টি ব্যাংকের মধ্যে ৪৬টি ব্যাংকেরই সিএসআর কার্যক্রম রয়েছে। ব্যাংকগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, শিল্প-সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনা করে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বহলায় শহীদদের গণকবর by সালেক খোকন
দিনাজপুর শহরের পাশেই কাঞ্চন রেলব্রিজ। ব্রিজ পেরোতেই সুনসান নীরবতা। দুই পাশে কোনো জনবসতির লেশমাত্র নেই। পাকা রাস্তার পাশে বড় বড় গাছ। চারপাশে সবুজের হাতছানি। তার ভেতর দিয়ে রাস্তাটি এঁকেবেঁকে চলে গেছে বহলার দিকে।
বহলা বিরল উপজেলার বিজোড়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম। এই গ্রামের আব্দুল গণি সেই হত্যাযজ্ঞের একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী। বয়স সত্তরের মতো। লম্বায় চার ফুটের বেশি নয়। চোখেমুখে তাঁর বার্ধক্যের ছাপ।
বহলার গণকবরে শায়িত আছেন গণির বাবা তসির উদ্দিন, ভাই নুর মোহাম্মদ। গ্রামের একেবারে শেষ প্রান্তে গণকবরটি। জংলাঘেরা পরিত্যক্ত কোনো জায়গার মতো পড়ে আছে। যাঁদের রক্তে দেশ স্বাধীন হলো সেই সব শহীদের গণকবরের এমন অবহেলা-অনাদর আমাদের ব্যথিত করে।
গণকবরটির পাশে দাঁড়িয়ে গণির জবানীতে শুনি ১৯৭১-এ বহলার সেই রোমহর্ষক ঘটনাটি।
২৫ মার্চ ১৯৭১ থেকে পাকিস্তানি সেনারা সারা দেশে আক্রমণ চালালেও দিনাজপুরে ঢুকে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে। এখানকার ইপিআর হেড কোয়ার্টার কুটিবাড়ী ছিল বাঙালিদের দখলে। কুটিবাড়ীর সবচেয়ে নিকটবর্তী ও নিরাপদ গ্রাম ছিল বহলা। ফলে কুটিবাড়ী থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অস্ত্র সরানো হতো বহলার ভেতর দিয়ে। এ নিয়ে বহলা গ্রামের প্রতি পাকিস্তানি সেনাদের একধরনের প্রতিহিংসামূলক মনোভাব ছিল যুদ্ধের শুরু থেকেই।
মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিক। পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে রাজাকার আর আলবদর বাহিনী সারা দেশে চালাচ্ছে বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞ। দিনাজপুর শহর তখনো হানাদারমুক্ত হয়নি।
এ গ্রামের শান্তিপ্রিয় লোকেরা সবাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের। কোনো কোনো পরিবারের যুবকেরা গিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে। অনেক পরিবার গোপনে সহযোগিতা করত মুক্তিযোদ্ধাদের।
কয়েকটি গাড়িতে করে পাকিস্তানি সেনারা ১৩ ডিসেম্বর হানা দেয় বহলায়। ক্যাম্প গড়ার কথা বলে সবাইকে নির্দেশ দেয় গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার। কিন্তু গ্রামবাসী তা আমলে নেয় না। নিজেদের বাপ-দাদার ভিটা ছেড়ে যাওয়ার কথা তারা চিন্তাও করতে পারে না। বিকেল অবধি গ্রাম খালি না হওয়ায় সেনারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
সন্ধ্যা নামে। গ্রামের পুরুষেরা দাঁড়ায় মাগরিবের নামাজে। তিন রাকাত ফরজের পর সুন্নত আদায়ের সুযোগ হয় না কারও। সেনারা মসজিদ থেকে গণিসহ সবাইকে ডেকে নিয়ে যায় গ্রামের শেষ প্রান্তে। দাঁড় করায় লাইন ধরে। গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেয় গ্রামের নিরীহ নিরপরাধ মানুষের বুকগুলো। সবাই লুটিয়ে পড়ে মাটিতে। মৃত্যুযন্ত্রণা আর আর্তচিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে বহলার বাতাস। ছটফট করে সবাই ডাকতে থাকে তাদের আপনজনদের। দূর থেকে অসহায়ের মতো প্রিয়জনদের মৃত্যুযন্ত্রণা দেখছিল গ্রামের নারী ও শিশুরা।
সে সময় পেটে ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েও পালাতে সক্ষম হন আনিসসহ কয়েকজন। আর গুলি না লাগায় দৈবক্রমে বেঁচে যান গণি। হত্যার পর সেনারা লাশগুলোকে স্তূপ করে খড় দিয়ে ঢেকে রাখে।
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১। বিজয় অর্জনের দিন। বহলা ছেড়ে যাওয়ার পথে পাকিস্তানি সেনারা কাঞ্চন রেলব্রিজটি উড়িয়ে দিয়ে কুটিবাড়ীর দিকে চলে যায়। ওই দিন বিকেলে গণি, তমাজ, কালুসহ কয়েকজন মিলে গর্ত করে শহীদদের পচে যাওয়া লাশগুলোকে একত্রে মাটিচাপা দেন।
সেদিন বহলায় শহীদ হন ৩৯ জন। তাঁদের মধ্যে ৩৩ জনকে দাফন করা হয় এই গণকবরে। অন্যদের লাশ পারিবারিকভাবে দাফন করা হয় গ্রামের অন্য জায়গায়।
মুক্তিযুদ্ধের ৩৯ বছর পর বহলায় শহীদদের নামের তালিকা খুঁজতে হয়েছে নতুনভাবে। সঠিকভাবে জানাতে পারেনি বিরল মুক্তিযোদ্ধা সংসদও। শহীদ আমিন আলীর ছোট ভাই আমজাদ হোসেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য নিয়ে বহলার গণহত্যায় ৩৯ জন শহীদের নামের তালিকা তৈরি করেন।
যুদ্ধের পর বহলার শহীদ পরিবারগুলোর বেঁচে থাকার কাহিনি আরও করুণ, আরও বেদনাদায়ক। গোটা গ্রামের অনেক পরিবারই হয়ে পড়ে পুরুষশূন্য। অনাহারে, অর্ধাহারে কাটে অনেকের জীবন। পরনের কাপড়টুকুও কিনতে পারেননি অনেক শহীদের স্ত্রী। এসব কষ্টের কথা বলতে গিয়ে চোখ ভিজে যাচ্ছিল শহীদ রবিতুল্লাহর স্ত্রী জরিনা বেওয়া ও শহীদ সামির উদ্দিনের স্ত্রী লতিফা বেওয়ার। অনেক শহীদের স্ত্রী আজ বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। মেলেনি সরকারের বয়স্ক-ভাতা।
গণি জানালেন, স্বাধীনতার পর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক ইউসুফ আলীর এসেছিলেন বহলায়। সে সুবাদে শহীদদের প্রতিটা পরিবার পায় কিছু টাকা করে। এরপর সময় আরও এগোয়। কিন্তু বহলার শহীদদের কথা কেউ মনে রাখে না। এখন, কোনো সহযোগিতা নয়, সামির উদ্দিনের মেয়ে শামসুন্নাহারের দাবি গণকবরটির সংরক্ষণ, একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও সরকারিভাবে গণহত্যার দিবসটি পালনের।
কয়েক মাস আগে স্থানীয় সাংসদ যান বহলায়। গণকবরটিতে পড়ে শ্রদ্ধার ফুল। শহীদ পরিবারগুলোকে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসেন বহলায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির। শহীদ পরিবারগুলো সেই অপেক্ষায় আছে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চিন্তা ও কর্মে ফারাক কতটুকু by সালমা খান
সম্প্রতি ব্রিটিশ কাউন্সিলের উদ্যোগে দেশব্যাপী এক জরিপে প্রথমবারের মতো দেশের তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গিগত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য উঠে এসেছে, যা এতটাই ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক যে মনে হয় এ যেন আমাদের নিত্যদিনের খবরের কাগজের পাতায় প্রকাশিত বা গ্রাম-গঞ্জে আনাচ-কানাচে ঘটে যাওয়া নারী, শিশু ও দরিদ্রের অধিকার লঙ্ঘন ও দলীয় হানাহানিতে লিপ্ত পরিচিত বাংলাদেশ নয়, এটি সত্যিই এক সোনার বাংলার চিত্র।
এই জরিপকে কেন্দ্র করে প্রথম আলো এবং অন্য কয়েকটি পত্রিকায় ইতিমধ্যেই লেখা হয়েছে। সেসব লেখকের সঙ্গে আমিও কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে চাই যে জরিপের তথ্যগুলো আমাকে আনন্দিত করেছে, দেশের তরুণদের জন্য গর্বিত বোধ করেছি। কিন্তু একজন গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী হিসেবে বিভিন্ন সূত্রে যে তথ্যসমূহ আমাদের কাছে আসে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এ ব্যাপারে কিছু প্রশ্ন উত্থাপন সমীচীন মনে করছি। জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে ১৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সের সাড় পাঁচ কোটি জনগোষ্ঠী রয়েছে, যার মধ্যে দুই হাজার ১৬৭ জন উত্তরদাতার মধ্যে এ জরিপ চালানো হয়েছে। উত্তরদাতাদের দেশের সাতটি বিভাগের প্রতিটির দুটি জেলা থেকে নির্দিষ্ট শ্রেণীভুক্তি হিসেবে বাছাই করা হয়েছে, যার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ ছিল শিক্ষার্থী। বিরাট এক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে মাত্র দুই হাজার ১৬৭ জন বাছাইকৃত উত্তরদাতার সংখ্যা যদিও পরিসংখ্যান তত্ত্বগতভাবে বেঠিক নয়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে জরিপের উদ্দেশ্য যেখানে দৃষ্টিভঙ্গি যাচাই (attitude), বাস্তব ক্ষেত্রে কী করা হয় (practice) তা নয়, এখন এই সংখ্যা প্রতিনিধিত্বকারী বলে মনে করা সংগত নয়। মানুষ নীতিগতভাবে যেকোনো ভালো ধারণাকে সমর্থন করে, কিন্তু প্রায়ই নিজের জীবনে তা চর্চা করে না। উইমেন ফর উইমেনের একটি গবেষণায় দেখা যায় যে বিধবা বিবাহকে নীতিগতভাবে সমর্থনকারী অনেকেই বলেছে কিন্তু তার মায়ের দ্বিতীয় বিবাহ সে সমর্থন করে না। মূল প্রশ্নের সঙ্গে সম্পূরক প্রশ্নগুলো উত্তরদাতার কাছে তুলে না ধরলে কোনো গোষ্ঠী বা শ্রেণীর দৃষ্টিভঙ্গি সম্বন্ধে সিদ্ধান্তে যাওয়া তাই প্রশ্নবিদ্ধ রয়ে যায়।
এই জরিপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্যে দেখা যায়, শতকরা ৮৮ ভাগ তরুণ মনে করে, তারা সুখী অথবা ভীষণ সুখী। এ ক্ষেত্রে সুখের সংজ্ঞা কী ছিল তা বলা হয়নি। যে দেশের সুবৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবনে দারিদ্র্য নিত্যসঙ্গী, যেখানে নিয়ন্ত্রণহীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি (যুগান্তর, ৯ জুলাই), যেখানে তরুণদের চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে সাধারণ জনজীবন বিপর্যস্ত (নয়াদিগন্ত), সেখানে এত গভীর সুখের উৎস কী হতে পারে? প্রশ্নকর্তার আশানুরূপ প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই সংগত হবে এ ধারণা বা সক্ষম তরুণ হিসেবে পারিবারিক দায়িত্বকে এড়িয়ে চলার মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ? এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুটি উত্তর এসেছে যুবগোষ্ঠীর কাছ থেকে, যা তাদের সুখের বোধগম্যতাকে আরও ধোঁয়াটে করে তুলেছে। ৭৯ শতাংশ তরুণ বলছে, তারা দেশের উন্নয়ন ইস্যুতে আগ্রহী কিন্তু একই সঙ্গে ৭০ শতাংশ বলছে, তারা কোনো প্রকার স্থানীয় বা সামাজিক ক্রিয়াকর্মে সম্পৃক্ত নয়, যদিও ৯৮ শতাংশ তরুণ মনে করে, তাদের সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নেওয়া উচিত। আবার দেখা যাচ্ছে, ৯৫ শতাংশ তরুণ যদিও স্থানীয় এবং নিজের পাড়া পর্যায়ে সেবামূলক কাজ করতে আগ্রহী, কিন্তু ৯৪ শতাংশ এ ধরনের কাজ করার জন্য কোনো তরুণদের সংগঠন বা আন্দোলনের খোঁজ পায়নি। এখানে প্রায় সব উত্তরই পরস্পরবিরোধী। তরুণদের সংগঠন তো তরুণরাই করবে—যেখানে ৯৮ শতাংশ তরুণ মনে করে, তাদের সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নেওয়া উচিত। তাহলে তরুণ সংগঠন, তরুণ আন্দোলন কি ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া কিছু হতে পারে? তারুণ্যের ব্যাখ্যাই তো সক্রিয় হওয়া, উদ্যমী হওয়া এবং সর্বোপরি ইচ্ছা আর স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে পরিণত করা। এসব তথ্যের মাধ্যমে সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্বন্ধে তরুণসমাজের ধারণাগত অস্বচ্ছতার দিকটি ফুটে উঠেছে, তা কতটা গ্রহণযোগ্য সেটা ভাবার বিষয়।
দেশের চলমান পরিস্থিতি সম্বন্ধে তরুণদের মনোভাবের মধ্যেও পরস্পর বিরোধিতার আভাস পাওয়া যায়। ৭০ শতাংশ বলেছে, দেশ সঠিক পথে এগিয়ে চলেছে আবার ৬০ শতাংশ শঙ্কিত যে দেশে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দুর্নীতি আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি ধারণ করবে। দেশ যদি ঠিক পথেই চলে, তাহলে দুর্নীতি অবশ্যই ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ গ্রহণ করবে, এ ধরনের দুটো ধারণাই সঠিক হতে পারে না।
এই জরিপে নারী-পুরুষের সংখ্যা সমান সমান ছিল কি না তা বলা না হলেও নারীর অংশগ্রহণ ছিল এবং তরুণদের ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ বলেছে, তারা বিশ্বাস করে যে সমাজকে প্রভাবান্বিত করে এ ধরনের সব সিদ্ধান্তে নারীর অধিক অংশগ্রহণে তারা বিশ্বাসী। এটা আমাদের সমাজ সম্বন্ধে আমাদের ধারণা পাল্টে দিতে বাধ্য করে। এই মনোভাব উন্নত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কিন্তু উত্তরদাতাদের কি প্রশ্ন করা হয়েছিল যে তাদের বোন, স্ত্রী বা মাকে কি তারা একইভাবে পরিবারে ও সমাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমঅংশীদারিত্ব দিয়ে থাকে? আমরা জানি, পরিবার ও সমাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর কোনো ভূমিকা না থাকাই নারী নির্যাতনের মূল কারণ। বাস্তবতায় দেখা যায়, দিন দিনই বাড়ছে নারী নির্যাতন এবং অধিকাংশ নির্যাতক ও নির্যাতিত উভয়েই এই তরুণ সম্প্রদায়ভুক্ত। নারী নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন আজকাল আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মে মাসের প্রথম ১৫ দিনেই বিভিন্ন প্রকার নির্যাতনের কারণে ২০ জন আত্মহত্যা করেছে (মহিলা আইনজীবী সমিতি)। পরিবার নির্যাতন ও সমাজে নারীকে উত্ত্যক্ত হেয় প্রতিপন্ন করার কারণে ইদানীং নারীর আত্মহত্যার প্রবণতা সংকটজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের প্রজননক্ষম বিবাহিত নারী, যাঁরা মূলত তরুণ সম্প্রদায়ভুক্ত, তাঁদের মধ্যে অসহনীয় পারিবারিক নির্যাতনের কারণে ১৪ শতাংশ আত্মহত্যার কথা ভাবেন (প্রথম আলো, ৯ জুলাই)। ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ, তরুণ যাদের মধ্যে অর্ধেকই পুরুষ—যদি নারীকে সমমর্যাদা দিতে আগ্রহী, তাহলে নারীর এই করুণ পরিণতি কেন?
এই জরিপের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ উদ্ঘাটন তরুণসমাজের রাজনীতিতে অনীহা। ৭৪ শতাংশ তরুণ রাজনীতিতে আগ্রহী নয়, এটা জাতির জন্য একটা নেতিবাচক সংকেত। এতে একদিকে যেমন বর্তমানের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধবিবর্জিত সংঘাতময় রাজনীতির পরিবর্তে সমাজসচেতন ও দেশপ্রেমে উদ্ভাসিত তরুণ প্রজন্ম ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে সে সম্ভবনা ক্ষীণ বলে মনে হচ্ছে, অন্যদিকে দেশজুড়ে যেসব তরুণ দলীয় লেজুড়বৃত্তির মাধ্যমে সন্ত্রাসী তাণ্ডব ও বিভিন্ন প্রকার নেতিবাচক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং জাতীয় পর্যায়ে যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতির মূল কারণ, তাদের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলবহির্ভূত বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। তারা তরুণসমাজের শক্তিশালী অংশ হওয়া সত্ত্বেও তাদের রাজনৈতিক চিন্তাধারার কোনো ইঙ্গিত এই জরিপে প্রতিফলিত হয়নি।
জরিপটির উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে—তরুণসমাজের চিন্তাভাবনা, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ উপলব্ধির মাধ্যমে আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদের সুপ্ত সম্ভাবনা বিকাশের পদক্ষেপ নেওয়া। সেই পরিপ্রেক্ষিতে জরিপের কেন্দ্রবিন্দু ইতিবাচক হওয়াটা স্বাভাবিক এবং উত্তরদাতাদের উক্তিতেও সেই সুর প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু তরুণসমাজের এক বৃহদাংশের মধ্যে রয়েছে বঞ্চনা ও না-পাওয়ার বেদনা থেকে উৎসারিত হতাশা ও সমাজবিচ্ছিন্নতা, যার নেতিবাচক প্রভাবসমূহ ক্রমেই ভয়াবহ সামাজিক সমস্যায় রূপান্তরিত হচ্ছে। এ ইস্যুটি তরুণসমাজের জন্য অবশ্যই একটি বিশেষ উদ্বেগ, যা এই জরিপের অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত ছিল। এ প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায় শিক্ষাঙ্গনে অরাজকতা, তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি ও নারীর চলাফেরার নিরাপত্তার বিষয়টি। মাদকাসক্তির ব্যাপকতা ও ভয়াবহ পরিণতির কথা প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পাচ্ছে। মাদকাসক্তি নিরাময়ে নিবেদিত সংগঠন ‘মানস’-এর তথ্যে জানা যায়, দেশে ৭০ লাখের অধিক মাদকাসক্ত রয়েছে, যার মধ্যে ৯০ শতাংশ ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সের এবং ৩৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সের মাদকাসক্তদের শতকরা পাঁচজনই নারী। নারীর চলাফেরার নিরাপত্তার ইস্যুটিও সম্ভবত সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রায় শিশু থেকে কিশোরী ও তরুণ মেয়েদের চলাফেরা, বিদ্যালয় বা কাজে যাওয়ার পথে নিপীড়ন, নির্যাতন থেকে আরম্ভ করে হত্যা বা প্ররোচিত আত্মহত্যা এক ভয়াবহ রূপ গ্রহণ করেছে, যার সংঘটক ও শিকার উভয়ই তরুণ।
সালমা খান: সিডও কমিটির সাবেক চেয়ারপারসন ও উইমেন ফর উইমেন-এর প্রেসিডেন্ট।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গ্রহণযোগ্য ন্যূনতম মজুরির অবস্থান কোথায় by খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম
আগামী দশকে পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি শ্রমিকের অধিকার রক্ষার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে। শ্রমিকদের মজুরি, কর্মপরিবেশ প্রভৃতি নিয়ে যদি অসন্তোষ লেগেই থাকে, তবে বড় ক্রেতারা অনিশ্চয়তা এড়াতে নতুন দেশের সন্ধান করবেন। অন্যদিকে এটাও ঠিক, যেসব ক্রেতা শ্রমিকের পর্যাপ্ত মজুরি এবং মালিকের মুনাফা মিটিয়ে পোশাক তৈরির খরচ (কাটিং ও মেকিংয়ের খরচ, সংক্ষেপে যা সিএম হিসেবে পরিচিত) দিতে অপারগ হবেন, তাঁদের ধরে রাখতে নিম্ন পোশাক তৈরির খরচে কাজ না করাই ভালো। অবশ্য অধিকাংশ বিদেশি ক্রেতারই শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরির নিশ্চয়তাসহ সিএম প্রদানে নীতিগত অবস্থান রয়েছে। চীনে ক্রমবর্ধমান শ্রমব্যয় বৃদ্ধি এবং চীনা মুদ্রা ইউয়ানের মূল্যমান বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ক্রেতারা চীনের পাশাপাশি অন্য দেশগুলোর কাছ থেকে তাঁদের সংগ্রহ বাড়াচ্ছেন। বাংলাদেশ সে ক্ষেত্রে তাঁদের অন্যতম পছন্দ। সুতরাং মালিকদের ‘ক্রেতা হারানোর ভয়’ না পাওয়াই সংগত; বরং সিএম বাড়ানোর ব্যাপারে ক্রেতাদের সঙ্গে দরকষাকষি করা দরকার।
কম সিএমে কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা দিতে অসমর্থ হওয়া শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সেই সঙ্গে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত করার পথেও তা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
অস্বীকার করার উপায় নেই, বিগত তিন দশকে পোশাকশিল্প খাতে উৎপাদনশীলতা, শ্রমদক্ষতা ও ব্যয়দক্ষতা যে হারে বেড়েছে, শ্রমিকদের মজুরি সে হারে বাড়েনি। এর অন্যতম কারণ অত্যন্ত নিম্নপর্যায়ে ন্যূনতম মজুরি হার নির্ধারণ এবং তা পুনর্নির্ধারণে দীর্ঘসূত্রতা। এর সঙ্গে ক্রেতাদের কম সিএম দিয়ে কাজ করানোর প্রবণতাও অংশত দায়ী। ২০০৬ সালে নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি তখনকার বিচারে পর্যাপ্ত ছিল না। সিপিডির এক হিসাবে বলা হয়েছিল, সপ্তম গ্রেডের একজন সাহায্যকারী বা শিক্ষানবিশের বেতন দুই হাজার ১৫৬ টাকার নিচে হতে পারে না, অথচ তা নির্ধারিত হয়েছিল এক হাজার ৬৬২ দশমিক ৫০ টাকায়। এমনকি ডলারের মূল্যমান বিচারে কোনো কোনো গ্রেডে ২০০৬ সালের নির্ধারিত মজুরি আগের ন্যূনতম মজুরি থেকেও কম নির্ধারিত হয়েছিল। ২০০৬ সালের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তিন বছর পর ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় ধার্য হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড মজুরি পুনর্নির্ধারণের কাজ করছে।
মজুরি নির্ধারণে শ্রম আইন অনুযায়ী নির্দেশিত নীতিমালা, আইএলও (১৩১) কনভেনশনের নীতিমালা, বিভিন্ন দেশের ন্যূনতম মজুরি নীতিমালা এবং বিদ্যমান অন্যান্য খাতের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি বিবেচনায় নিয়ে একটি যৌক্তিক গ্রহণযোগ্য ন্যূনতম মজুরি ঘোষিত হবে, এটাই প্রত্যাশা। বলা বাহুল্য, মজুরি পুনর্নির্ধারণে শুধু ২০০৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১০ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের মূল্যস্ফীতির হিসাবটুকু (২৩ দশমিক ৪ শতাংশ) বিবেচনা করাই যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া উচিত দেশজ প্রবৃদ্ধির হিসাবও। এই দুটোর সমন্বয় করলে শ্রমিকের মজুরি কমপক্ষে ৭০ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ানো দরকার। বিশ্লেষণ থেকে প্রতীয়মান হয়, একজন শিক্ষানবিশ শ্রমিকের বেতন কমপক্ষে দুই হাজার ৮৪০ টাকা হওয়া বাঞ্ছনীয়। সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২৮ জুলাই নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষিত হবে।
এ ক্ষেত্রে স্বল্প সময়ে কারখানা পর্যায়ে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলোও বিবেচনায় রাখা দরকার। প্রথমত, সক্ষমতার বিচারে বড় আকারের কারখানাগুলো ন্যূনতম মজুরির বড় ধরনের পরিবর্তন বাস্তবায়নে সক্ষম হলেও ছোট আকারের কারখানাগুলো ততটা সক্ষম নয় বলে প্রতীয়মান হয়। দ্বিতীয়ত, ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেটে আরোপিত রপ্তানি-আয়ের ওপর শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর, ভাড়া করা স্পেসের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর এবং ক্লিয়ারিং-ফরওয়ার্ডিং এজেন্সির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ পোশাক কারখানায় উৎপাদন-ব্যয় বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তার নিট আয় কমাবে। তৃতীয়ত, বিশ্বমন্দা-পরবর্তী পোশাক খাত এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি, যদিও যথেষ্ট ভালো অর্ডারের খবর আসছে। অবশ্য সরকার মন্দা মোকাবিলায় প্রণোদনাও ঘোষণা করেছে নতুন বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য।
মজুরির ব্যয়বৃদ্ধিজনিত সমস্যা মেটাতে সরকারি উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় সংকুলানে প্রচলিত রেশনিং-ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা যেতে পারে, যাতে সর্বোচ্চসংখ্যক শ্রমিক এর সুবিধা পান। শ্রমিকদের আবাসনসমস্যার সমাধানে সরকারের সহযোগিতায় মালিকেরা শ্রমঘন এলাকায় আবাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেন। সর্বোপরি, আগামী দশকের উন্নততর পোশাক খাতের জন্য যে দক্ষ শ্রমিক সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, তাঁদের জন্য একটা কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য ন্যূনতম মজুরিকাঠামো বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম: সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তালেবানের শক্তিবৃদ্ধি ও পেট্রাউসের নতুন কৌশল by আহমেদ রশিদ
এই জেনারেলের পদচ্যুতিকে আফগান তালেবান তাদের সামরিক বিজয় হিসেবে বর্ণনা করছে। তালেবানের গ্রীষ্মকালীন আক্রমণের এক চূড়ান্ত মুহূর্তে এটি ঘটেছে। কাবুল ও ইসলামাবাদের আশপাশে গুজব ছড়িয়েছে, ম্যাকক্রিস্টাল নিজেই চেয়েছিলেন তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হোক। কারণ যে যুদ্ধে পরাজয় অবশ্যম্ভাবী, তার দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে নিতে চাননি। ম্যাকক্রিস্টালের পতনের এক সপ্তাহ পর ব্রিটিশরা দক্ষিণ আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশের অন্তর্গত দুর্গম ও অত্যন্ত ভয়ানক সানজিন এলাকা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেওয়ার পর তালেবানরা আরও এক বিজয়ের দাবি জানাল। অবশ্য সেখানে ব্রিটিশ সেনাদের স্থলাভিষিক্ত হবেন মার্কিন মেরিন সেনারা। ব্রিটেনের মোতায়েন করা নয় হাজার সেনার মধ্যে হেলমান্দে ২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এঁদের মধ্যে সানজিনেই নিহত হয়েছেন প্রায় ১০০ জন।
এসব কারণে আফগানিস্তানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা দ্রুত গতিতে মিইয়ে যাচ্ছে—এমন শঙ্কা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার শুরু করার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ওবামার বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পার হতে এখন এক বছরেরও কম বাকি আছে—এতে কাবুলে ধীরে ধীরে আতঙ্ক বাড়ছে। অন্যদিকে পাকিস্তান রাষ্ট্র নিজ থেকেই ক্রমশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার সত্যিকারের আশঙ্কার মধ্য দিতে যেতে হচ্ছে—সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক অভিজাততন্ত্র পাকিস্তানি তালেবানের ক্রমবর্ধমান ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে অথবা বেসামরিক ব্যক্তিদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
গত ছয় সপ্তাহে আফগানিস্তানে ১২৫ জন মার্কিন ও ন্যাটো সেনা নিহত হয়েছেন। এটি এ সংঘাতে নিহতের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ১১ জুলাইয়েই ছয় মার্কিন সেনা, ১৪ আফগান পুলিশ এবং ১৫ বেসামরিক ব্যক্তি কয়েকটি ঘটনায় নিহত হয়েছেন। অপেক্ষাকৃত শান্ত উত্তর আফগানিস্তানে তালেবান পুলিশের চৌকির দখল নেওয়ার সময় এ পুলিশেরা মারা যান। তালেবান এখন এতটা শক্তি অর্জন করেছে যে দক্ষিণের কুন্দুজ ও বাদাখশান প্রদেশে এবং পশ্চিমের হেরাতে তাদের আক্রমণের আওতা বাড়াতে পারছে।
অন্যদিকে সেই ছয় সপ্তাহের মধ্যে পাকিস্তানে ধারাবাহিক আত্মঘাতী বোমা হামলা ও হত্যাযজ্ঞে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ৮০০ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন; জনগণের মনোবল ভেঙে পড়েছে। ৯ জুলাই আফগান সীমান্তবর্তী উপজাতীয় এলাকায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় বহু নারী ও শিশুসহ মোট ১০৩ জন নিহত এবং আরও ১১৫ জন আহত হয়েছেন। এর পরপর মাত্র কয়েক দিন আগে লাহোরের দাতা গঞ্জ বকশের মাজারে ভয়ানক দুটি বোমা হামলা হয়েছে। দাতা গঞ্জ বকশ এলাকাটির সবচেয়ে প্রসিদ্ধ সুফি সাধক ছিলেন। হামলায় ৩৫ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন শত শত। এই হামলার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে লাহোরে আহমদি সম্প্রদায়ের দুটি মসজিদে বোমা হামলায় নিহত হয়েছিলেন ৯৫ জন।
এসব হামলা এবং এগুলোর বাইরে নানা হামলায় স্পষ্ট হয়েছে, পাকিস্তানি তালেবান তাদের অস্ত্রের নিশানা সেনা ও পুলিশ হত্যার থেকে ঘুরিয়ে দিয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও মধ্যপন্থী মুসলমানদের দিকে। মুসলমান ও অমুসলমান, শিয়া ও সুন্নি এবং সুন্নিদের অভ্যন্তরে তারা নানা ধরনের সাম্প্রদায়িক সংঘাত ছড়িয়ে দিতে মরিয়া। তাদের লক্ষ্য আধুনিক রাষ্ট্রকে উৎখাত করে ইসলামি আমিরাত প্রতিষ্ঠা। আন্তধর্মীয় যুদ্ধ কোনো সীমা, মাত্রা বা মানবিকতার ধার ধারে না। ইউরোপের অভিজ্ঞতায় তেমনটাই দেখা গেছে।
আর পাকিস্তানের অন্য প্রান্ত বন্দরনগর করাচিতে রাজনৈতিক, জাতিগত, সাম্প্রদায়িক ও মাফিয়াদের দ্বারা সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে প্রতিদিন প্রায় ৫-১০ জন নিহত হন। কারও বোঝার সাধ্যি নেই, এসব সহিংসতার পেছনে কী কাজ করছে। উপজাতীয় অঞ্চল এবং ইসলামাবাদ ও লাহোর নগরে জঙ্গি হামলা থেকে এসব সহিংসতার কারণ ভিন্ন বলেই মনে হয়। তবে এসব হামলা নগরবাসীর মনে ক্রমাগত বদ্ধমূল হতে থাকা নৈরাশ্যবাদ ও রোষকেই চাগিয়ে তুলছে।
এমন এক সময়ে সহিংসতাগুলো ঘটছে, যখন কাবুল ও ইসলামাবাদের সরকারগুলোকে দুর্বল মনে হচ্ছে—এরা রাজনৈতিক শত্রু ও প্রতিপক্ষ দ্বারা চারদিক থেকে আক্রান্ত; দুর্নীতির কলঙ্ক, মারাত্মক মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটে অসহায় এবং অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনে দুর্বল। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির কর্মক্ষমতা খর্ব হচ্ছে তাঁর প্রতিপক্ষ নওয়াজ শরিফ, অবাধ্য বিচারবিভাগ ও সেনাবাহিনীর কারণে। সেনাবাহিনী তাঁর বিদেশি নীতি পরিচালনা করে তাঁকে অবহিত না করেই। আর প্রেসিডেন্ট কারজাইয়ের দেশের ভেতর কুখ্যাতি ও ব্যর্থতা এতটাই প্রচারিত যে এখানে নতুন করে আর তার বিবরণ দেওয়ার দরকার নেই।
নতুন মার্কিন কমান্ডার জেনারেল ডেভিড পেট্রাউসের সঙ্গে কারজাইকে এখন বন্ধুত্ব স্থাপন করতে হবে। তালেবানের গ্রীষ্মকালীন আক্রমণে যখন প্রতিদিন হতাহতের ঘটনা ঘটছে, তখন এটা কোনো সহজ কাজ নয়। এখন কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে ভাবনাচিন্তার চেয়ে মাথায় ভর করে থাকে এসব হতাহতের চিন্তা। তালেবানের শক্ত ঘাঁটি কান্দাহার ও হেলমান্দে মার্কিন সেনাদের জড়ো করা কি আসলে কাজে আসছে, নাকি নতুন কৌশল প্রয়োজন—এ ব্যাপারে পেট্রাউসকে শিগগিরই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। এ বিষয়ক নীতি পর্যালোচনা করার জন্য নির্ধারিত ডিসেম্বর মাসের আগেই গোপনে ওবামা এ কাজটি করে ফেলার সম্ভাবনাই অনেক বেশি।
পেট্রাউসের সামনে আরেকটি সম্ভাব্য সংকট আছে। সেপ্টেম্বর মাসে আফগান সংসদের নিম্নকক্ষের ২৪৯টি আসনের জন্য আড়াই হাজার নারী-পুরুষ সংসদীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর প্রভাবে আরও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে। গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যে ব্যাপক জালিয়াতি ও সহিংসতা ঘটেছে, তাতে কারজাই, যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের গ্রহণযোগ্যতা মারাত্মক প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এ নির্বাচনেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটা খুবই সম্ভব। কেননা কারজাই অনেক নমনীয় একটি পার্লামেন্ট পাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এ নির্বাচনেও জালিয়াতির ঘটনা ঘটলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি আবারও নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়, তবে আফগানরা একে পশ্চিমাদের আরেকটি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেই গন্য করবে। আর তালেবান এটিকে তাদের আরেকটি বিজয় হিসেবে দেখাবে। বারবার জালিয়াতির নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না। নির্বাচনে জালিয়াতি না দেখার ভান করে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো এতে তাদের সম্মতির জানান দিয়েছে। তেমনাটা ঘটলে তালেবানের কর্তৃত্বের অধীনেই রয়ে যাবে কান্দাহার ও হেলমান্দ। আর বর্তমানে যেসব আফগান কৃষক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, তাঁরা তালেবানের দিকে ভিড়ে যাবেন।
আফগান সরকারের সুপরিচিত দুর্নীতি ছাড়াও চার বিলিয়নের বেশি ডলার কাবুল বিমানবন্দর হয়ে বাইরে পাচার হয়েছে, যার অধিকাংশ হয়েছে মার্কিন ঠিকাদার, ত্রাণকর্মী ও মাদক ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে—এমন খবরে প্রকাশ পেয়েছে। তাই মার্কিন কংগ্রেস অথবা ইউরোপীয় পার্লামেন্ট আরও সহায়তা দেবে, সে আশাও ক্ষীণ। আফগান অর্থনীতি এখনো অগোছালো; জনগণের কাছে পণ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়ার সামর্থ্য এর নেই।
পাকিস্তানে তালেবান যে হুমকি তৈরি করেছে, তার মোকাবিলা যথাযথভাবে করতে ব্যর্থ হয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। আর এখন তারা কেন উত্তর ওয়াজিরিস্তান বা পাঞ্জাবে অপারেশন চালাতে পারবে না, সে ব্যাপারে নানা অজুহাত খাড়া করছে। আসলে দেশটির সেনাবাহিনী এবং এর ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) বর্তমানে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ে আচ্ছন্ন হয়ে নয়; সংস্থাটির মনোযোগের কেন্দ্রে চলে এসেছে আফগান, ন্যাটো ও আমেরিকানদের টেক্কা দিয়ে কারজাই ও তালেবানের মধ্যে শান্তিচুক্তি সম্পাদনে মধ্যস্থতা করার বাসনা।
আইএসআই কারজাইকে দিয়ে জালালুদ্দিন হাক্কানি ও গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারের নেতৃত্বাধীন দুটি নব্য তালেবান গোষ্ঠীর সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ দুটি নব্য তালেবান গোষ্ঠীকে আইএসআই ২০০১ সাল থেকেই শক্ত পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এসেছে। আফগান জনগণ এদের অপছন্দ করে। পাশাপাশি, আইএসআই গ্রেপ্তার, চাপ প্রয়োগ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে আফগান তালেবান মূলধারাকেও প্রভাবিত করতে চেষ্টা করছে, যাতে তারা কারজাইয়ের সঙ্গে দেনদরবারে আইএসআইয়ের স্বার্থে অনুগত থাকে। আর এভাবে সংস্থাটি আফগানিস্তানে ভারতের উপস্থিতির পথ বন্ধ করতে কিংবা খুব কমিয়ে আনতে চায়।
আইএসআই জানে, আফগানিস্তান প্রশ্নে রাশিয়া, চীন, ভারত, সৌদি আরব, ইরানসহ সব আঞ্চলিক শক্তির চেয়ে পাকিস্তানের হাতে অনেক বেশি কার্ড আছে। আর এই মুহূর্তে আফগানিস্তানে আইএসআইয়ের হস্তক্ষেপের ব্যাপারে এসব শক্তির তেমন কিছু করার নেই। তবুও এদের অধিকাংশই কাবুলে আইএসআই-তালেবান কর্তৃত্বের সরকারের ক্ষমতাসীন হওয়াকে সহ্য করবে না। ফলে তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হবে। এ অঞ্চলে আরও গোলযোগ সৃষ্টি হবে।
তা ছাড়া আইএসআই যে কখনো তালেবানকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, সে সম্ভাবনাও খুব কম। ১৯৯২ সালে কাবুলের পতনের পরিণতি কিংবা ১৯৯৪ সালে তালেবানের উত্থান নিয়ন্ত্রণ করতে সংস্থাটি ব্যর্থ হয়েছিল। আর ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ঠিক আগে আগে এটি তালেবানের ওপর সমস্ত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল। আইএসআই যদি দৃষ্টিভঙ্গি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা একটু সংযত করতে পারত আর কারজাইকে সত্যিকারে সহায়তা করত (উদাহরণস্বরূপ আফগানদের এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে দিন, যা পাকিস্তানের চেয়ে বরং আফগানিস্তানের স্বার্থের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ), তাহলে পাকিস্তানের জন্যই অনেক বড় একটা কাজ করা হতো।
তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া, কারজাইকে ঠেকা দিয়ে রাখা, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রতি ভালো আচরণ এবং ইউরোপীয় মিত্র ও নিজ দেশের কংগ্রেসকে খুশি রাখার পাশাপাশি ওবামা প্রশাসন এসব সমস্যা কীভাবে মোকাবিলা করবে, সে ব্যাপারে তারা মনে হয় কিংকর্তব্যবিমূঢ়। আফগানিস্তানে যে আগুন জ্বলছে, তা মোকাবিলা করতে পেট্রাউসের সাফল্য বা ব্যর্থতাই নির্ধারণ করে দেবে, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ভবিষ্যতে কী হবে।
নিউইয়র্ক রিভিউ অব বুকস থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনূদিত
ড. আহমেদ রশিদ: পাকিস্তানি প্রখ্যাত সাংবাদিক ও লেখক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্পিকারের একটি অসম্পূর্ণ রুলিং by মিজানুর রহমান খান
বিএনপির সাংসদ শহীদ উদ্দীন চৌধুরীর পরে এবার আলোচনায় মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর নাম। মোল্লাহ আওয়ামী লীগদলীয় সাংসদ। প্রথম আলোয় খবর (১৪ জুলাই ২০১০) বেরিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ১৩ জুলাই সমন্বয় কমিটির সভা হয়েছে। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেন, ‘ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ একজন সাংসদ। তাঁর বিরুদ্ধে মামলার আগে যেমন চিন্তা করা উচিত ছিল, তেমনি মামলা নেওয়ার সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা উচিত ছিল।’ জানালে কী হতো? তার জবাবও আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বচনে পাই। তাঁর কথায়, ‘জানালে ওই সাংসদের সঙ্গে কথা বলা যেত।’ কথা বললে কী হতো? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায়, ‘তিনি অন্যায় করলে অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতো।’ এর মানে হলো ন্যায়-অন্যায় ঠিক করে দেবে অভিযুক্ত। আর এর মাধ্যম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিএনপির সাংসদ শহীদ উদ্দীন চৌধুরীর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে ২৯ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আইন অনুযায়ী, কোনো সাংসদকে গ্রেপ্তার করতে হলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দরকার স্পিকারের অনুমতি। সে অনুমতি না নিয়ে অবশ্যই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ওই দিন সংসদ চলছিল। স্পিকার আবদুল হামিদ পাঁচটা ৩৫ মিনিটে হাউসে বললেন, তিনি টিভি খবর শুনেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে অনুমতির কথা বলেছেন তা তিনি দেননি। স্পিকারের কথায়, ‘এই খবর সত্য নয়। সংসদ চত্বর থেকে কোনো সাংসদকে গ্রেপ্তারের দরকার পড়লে স্পিকারের অনুমতি লাগে। কিন্তু বিএনপির সাংসদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সংসদ থেকে বহু দূরে।’
কেউ বিধি অনুযায়ী স্পিকারের কাছে হয়তো আনুষ্ঠানিক রুলিং চাননি। কিন্তু স্পিকার ওই দিন শুধু সাহারা নন, বিএনপির দাবিও নাকচ করেন। ‘সংসদ অধিবেশনের ১৫ দিন আগে ও ১৫ দিন পরে সাংসদকে গ্রেপ্তার করা যায় না’ বলে বিএনপি যে দাবি করছে, তা ঠিক নয়। এ ধরনের কোনো আইন নেই।’ স্পিকারের এই বক্তব্যের যথার্থতা চ্যালেঞ্জ করার অবকাশ ছিল। কিন্তু তা হয়নি। এখন তাঁর বক্তব্য অসম্পূর্ণ থাকল। এমনকি তথ্যগতভাবেও থাকল প্রশ্নবিদ্ধ।
সাংসদদের গ্রেপ্তারসংক্রান্ত বিধিবিধানের মূলে আছে, ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালের দুটি আইন। স্পিকার এর উল্লেখ করেননি। এর একটি দি মেম্বার্স অব দি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি (এক্সেম্পশন ফ্রম প্রিভেনটিভ ডিটেনশন অ্যান্ড পার্সোনেল অ্যাপিয়ারেন্স) অর্ডিন্যান্স। অন্যটি হলো দি ইস্ট পাকিস্তান অ্যাসেম্বলি মেম্বার্স প্রিভিলিজেস অ্যাক্ট। ১৯৮০ সালের ১৪ মে এই আইন দুটি বিলোপ করে একটি স্বতন্ত্র অধ্যাদেশ জারি হয়। কিন্তু সেটি সংসদে অনুমোদিত হয়নি। ১৯৮১ সালে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বনাম নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল মামলায় হাইকোর্ট মত দেন যে ‘ওই দুটি আইনই বহাল আছে।’ এর ফলে একটা সাংঘর্ষিক অবস্থাও চলছে। ’৬৩-র আইনমতে, সংসদের অধিবেশন চলমান (শুরুর আগে ১৪ দিন ও অধিবেশন শেষের পরে ১৪ দিনসহ) থাকলে কোনো সাংসদকে নিবর্তনমূলক আইনে আটক করা যাবে না। এ সময় তাঁরা ওই আইনে আদালতেও হাজির হবেন না। এর মানে এখানে স্পিকারের অনুমতির প্রশ্ন নেই।
’৬৩ ও ’৬৫-র আইন দুটির মধ্যে একটা বিরোধ লক্ষ্যনীয়। কারণ, ’৬৩-র অধ্যাদেশে নির্দিষ্টভাবে নিবর্তনমূলক আইনে আটক করা যাবে না বলা হয়েছে। আবার ’৬৫-র আইনের আট দফায় বলা হয়েছে, ‘কোনো সদস্য ফৌজদারি অভিযোগে বা অপরাধে গ্রেপ্তার হলে বা কোনো নির্বাহী আদেশক্রমে আটক হলে বিচারক বা নির্বাহী কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট ফরমে স্পিকারকে তা জানাবেন।’
নিবর্তনমূলক আটকাদেশ একটি নিরঙ্কুশ নির্বাহী আদেশ। অনধিক ছয় মাস পর্যন্ত আটকানো যায়। জনস্বার্থের ছুতো দিয়ে এমনকি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছেও তার কারণ লুকানোর ফন্দি সংবিধানই বাতলে দিয়েছে।
আমাদের সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধির ১৭২ বিধিটি কিন্তু ’৬৫-র আইনের ওই আট দফারই অনুবাদমাত্র। এখানে আমরা দেখি, সংসদ অধিবেশনের আগে বা পরে বা চলমান থাকা ইত্যাদির মধ্যে কোনো পার্থক্য টানা হয়নি। এখানে শুধু দুটো বাধা। কোনো সাংসদকে সংসদের সীমার মধ্যে গ্রেপ্তার বা সংসদ সীমার মধ্যে পরোয়ানা জারি করতে হলে স্পিকারের আগাম অনুমতি নিতে হবে। এ ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে লাগবে না।
ভারতীয় সংসদ বিশেষজ্ঞ কাউল অ্যান্ড শাকধারের বই বলছে নিবর্তনমূলক আটকাদেশে ভারতে বাধা নেই। একটু বাড়তি সতর্কতা আছে। ১৯৭৩ সালে ভারতীয় সংসদের কমিটি অব প্রিভিলেজ সুপারিশ করে যে এ ক্ষেত্রে স্পিকারকে শুধু অবহিত করলেই চলবে না, কেন গ্রেপ্তার করা হলো তার কারণ ও প্রেক্ষাপট স্পিকারের কাছে বিস্তারিত প্রকাশ করতে হবে। এ রকম একটি বিধান আমাদের এখানে চালু করতে হলে সংবিধানের ৩৩(৫) অনুচ্ছেদটা সংশোধন করতে হবে।
আমরা মনে রাখব, ’৭২-এর মূল সংবিধানে কিন্তু নিবর্তনমূলক আটকাদেশের বিধান ছিল না। ১৯৭৩ সালে দ্বিতীয় সংশোধনীতে এটা আনা হয়। ড. কামাল হোসেন আমাকে বলেন, ‘পাকিস্তানি তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই ওটা আমরা ভেবেচিন্তে বাদ দিয়েছিলাম।’ ’৭২-এর সংবিধানে ফিরতে অনেকে অজ্ঞান। তাদের বলি, ‘যাবে ভাই, যাবে মোর সাথে? নিবর্তনমূলক আইন, জরুরি অবস্থা বুড়িগঙ্গায় বিসর্জন দিতে?’ এ অপ্রিয় প্রসঙ্গ থাক।
আমরা শুনেছি, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মামলাসংক্রান্ত হাইকোর্টের ওই রায় সম্প্রতি স্পিকারের দপ্তরের নজরে নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করব, স্পিকার এ বিষয়ে ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ রুলিং দেবেন। সংবিধানের ৭৮(৫) অনুচ্ছেদ বলেছে, ‘সংসদের আইনের দ্বারা সংসদের, সংসদের কমিটিসমূহের এবং সংসদ সদস্যদের বিশেষ অধিকার (প্রিভিলেজ) নির্ধারণ করতে পারবে।’ বাংলাদেশ সত্যি একটি অদ্ভুত দেশ। অদ্ভুত এর গণতন্ত্র-পাগল রাজনীতিকেরা। গত ৪০ বছরেও তাঁরা এই আইনটি পাস করেননি। এ নিয়ে তাঁদের যে বড় মাথাব্যথা আছে, তারও তেমন লক্ষণ দেখি না। তবে কতিপয় সাংসদের গ্রেপ্তার এড়ানোর আকাঙ্ক্ষা ক্রমেই উদগ্র হতে পারে। কারণ, বেশ কিছু আসনে মনোনয়ন লাভে যে বিনিয়োগ বা টাকা ঢালা হয়, তার সঙ্গে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারার একটা বিবেচনা কাজ করে। তাই সংসদকে এ নিয়ে এখনই ভাবতে হবে।
সাংসদ শহীদ উদ্দীন চৌধুরী শাহবাগে গ্রেপ্তার হলেন। বিএনপি বিশেষ অধিকারের একটা অপব্যাখ্যা দিল। তিনি নিবর্তনমূলক আইনে আটক হননি। তারা স্মরণও করল না যে ১৯৮০ সালে তাদের আমলেই দি মেম্বার্স অব পার্লামেন্ট (এক্সেম্পশন ফ্রম প্রিভেনটিভ ডিটেনশন) বিল সংসদে তোলা হয়। পরে তা পাস হয়নি। এর এক দশকের ব্যবধানে তারা দুই দফায় পুরো এক দশক রাজত্ব করলেও ওই রকম বিল পাসের দরকার তারাও মনে করেনি।
সংসদ বয়কটরত বিরোধী দল বিশেষ সংসদীয় সুবিধা চাইছে। দায়িত্ব না পালন করে বেতন-ভাতা ভোগে তাদের যেমন লজ্জা নেই। তেমনি সাংসদ হিসেবে সুবিধা ভোগ করতেও তাদের কুণ্ঠা নেই। এরাই বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী। ভারতীয় কার্যপ্রণালি বিধিতেও সংসদের সীমানা থেকে গ্রেপ্তারে বাধা-নিষেধ দেখি। পাকিস্তানেও তাই। তবে এই বিধান আর থাকা উচিত নয়। সংসদের সীমা, সংসদের অধিবেশন ও সংসদের বৈঠকরত থাকা ভিন্ন বিষয়। শুধু বৈঠকরত (মূলতবি না করে সংসদ যতক্ষণ ধারাবাহিকভাবে বৈঠকরত থাকেন সেইরূপ মেয়াদ) অবস্থায় কোনো সাংসদকে গ্রেপ্তারে স্পিকারের অনুমতি নিতে হবে। এটা না করা হবে সংসদের অবমাননা। ব্রিটেনে ১৮১৫ সালে সরকারি বেঞ্চে বসে থাকা সাংসদ লর্ড কোচরেন গ্রেপ্তার হন। পুলিশ সেটা পেরেছিল কারণ হাউস অব কমন্সের বৈঠক তখনো শুরু হয়নি। বাংলাদেশ নতুন আইন করুক। কিন্তু সাংসদদের আইনের ঊর্ধ্বে রাখার দরকার নেই। সাংসদ শহীদ উদ্দীন চৌধুরী ও সাংসদ ইলিয়াছ উদ্দিন মোল্লাহকে নিয়ে সরকারি ও বিরোধীদলীয় সাম্প্রতিক প্রবণতা বিপজ্জনক।
সাংসদ ইলিয়াছ উদ্দিন মোল্লাহর বিরুদ্ধে ট্রাফিক সার্জেন্টের মামলার সুষ্ঠু বিচার আমরা দেখতে চাই। একজন আইনপ্রণেতা হয়ে তিনি আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন। ট্রাফিক সার্জেন্টকে প্রহার করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই অবস্থায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৩ জুলাইয়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত দুর্ভাগ্যজনক। এমনকি নিন্দনীয়। এটা গণতন্ত্রের জন্য লজ্জা। কোনো সাংসদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে। এ ধরনের কোনো সার্কুলার জারি করা হলে তা হবে অবৈধ। সংবিধানের পরিপন্থী।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইজিপি নূর মোহাম্মদকে তদন্ত কমিটি গঠনে নির্দেশ দিয়েছেন। এটা অনেকটা জুতা মেরে গরু দানের মতো ব্যাপার হলো না? তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্তের জন্য অনিষ্টকর সিদ্ধান্ত তো আগেই নেওয়া হলো। এখন কী করে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত হবে?
ব্রিটেনে ২০০৮ সালে টোরি সাংসদ দামিয়ান গ্রিন অ্যাশফোর্ড গ্রেপ্তার হন। নয় ঘণ্টা তাঁকে আটকে রাখা হয়। খোদ কমন্সে তাঁর কক্ষে পুলিশ তল্লাশি চালায়। ওই সাংসদ প্রিভিলেজের ধুয়া তোলেন। দারুণ ঝড় ওঠে। লেবার দলীয় তৎকালীন স্পিকার রুলিং দেন। তিনি বলেন, আইনের কোথাও তল্লাশি চালাতে বাধা নেই। আইন পুলিশকে স্পিকারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে বলেনি। স্পিকারের দপ্তর থেকে একটি বাক্যের বিবৃতি বেরোয়। ‘যে প্রক্রিয়া অনুসরণের নিয়ম রয়েছে তা অনুসরণ করা হয়েছে।’ হাউস অব কমন্সের যৌথ কমিটি ১৯৯৯ সালে সর্বশেষ প্রিভিলেজ বিষয়ে বড় প্রতিবেদন দেয়। এতে বলা হয়, সংসদের সীমা ‘নট বি এ হেভেন ফ্রম দ্য ল’ বা ‘আইনের ঊর্ধ্বের কোনো স্বর্গ নয়’। আমাদের সাংসদ ইলিয়াছ উদ্দিন মোল্লাহ-সমর্থক সাহারা খাতুন কিংবা বিরোধীদলীয় চিফ হুইফ জয়নাল আবেদীনের মতো সাংসদ শহীদ উদ্দীন চৌধুরীর মুরব্বিবর্গ স্বর্গবাসে অভ্যস্ত হতে পারেন। সে কারণেই তাঁদের বোলচালে কোনো ফারাক নেই।
সংসদীয় প্রিভিলেজের বাইবেল হলো অ্যারিস্কন মে-র গ্রন্থ। এতে লেখা আছে, ‘সংসদীয় প্রিভিলেজ কখনো ফৌজদারি আইনের কোনো প্রয়োগকে প্রতিরোধ করেনি।’ বড় কৌতূহলী ছিলাম এটা জানতে যে সংসদীয় সীমানায় সাংসদ গ্রেপ্তারে স্পিকারের অনুমতি লাগবে কেন। উপমহাদেশে এটা এল কোথা থেকে। আমার ধারণা ছিল, এর উৎস নিশ্চয় মধ্য যুগীয় ইংল্যান্ড হবে। ১৭৭০ সালে ইংল্যান্ড প্রথম প্রিভিলেজ অ্যাক্ট পাস করেছিল। কিন্তু না, তাদের আইনে কোথাও এমন কিছু দেখলাম না। সেখানে ১৯৮৭ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত পুলিশ যে ১৫ সাংসদকে গ্রেপ্তার করেছে তার তথ্য স্পিকারকে অবহিত করেছে। মোট কথা ফৌজদারি অভিযোগে সাধারণ নাগরিক ও সাংসদের মধ্যে পার্থক্য থাকবে একটি। সাংসদ হলে স্পিকারকে জানাতে হবে। এর বেশি নয়। আমরা অবিলম্বে ’৬৩ ও ’৬৫-র আইন এবং ১৭৪ ও ১৭৫ বিধির বিলোপ দাবি করি।
কিন্তু হায়, এসব করবে কে? আমাদের এখানে এসব কী হচ্ছে? এসব আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে?
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঢাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি নিষিদ্ধ -অনিয়মমুক্ত পরিবহনের জন্য নিয়মিত ও কৌশলী হতে হবে
মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপটি ইতিবাচক। কেননা, এতে ঢাকার অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ কমবে, ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বাস-ট্রাকের প্রাদুর্ভাব থেকেও মুক্ত হওয়া যাবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা জেলা প্রশাসন ও ঢাকা মহানগর পুলিশ যৌথভাবে এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কিন্তু এই পদক্ষেপ সফল করায় কর্তৃপক্ষের আরও কৌশলী ও তৎপর হওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, পূর্বঘোষিত অভিযান হওয়ায় অনেক মেয়াদোত্তীর্ণ বাস-ট্রাক রাস্তায় বের হয়নি। দ্বিতীয়ত, কারচুপির মাধ্যমে পুরোনো গাড়ির নতুন ফিটনেস সার্টিফিকেট হাজির করে পারও পেয়ে যাচ্ছে অনেকে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে গাড়ির নিবন্ধন সার্টিফিকেট না থাকায় বোঝার উপায় নেই, গাড়ির প্রকৃত বয়স কত?
অভিযানটিকে নিয়মিতভাবে চালানো গেলে এ ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়িগুলো কখনো না কখনো ধরা পড়বে। অন্যদিকে ঢাকার জেলা প্রশাসকের পরামর্শ অনুযায়ী, মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই আটক করার নির্দেশ দেওয়া প্রয়োজন। তাহলে গ্যারেজে অভিযান চালিয়েও মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেস না থাকা গাড়িগুলোকে সড়ক থেকে দূরে রাখায় অগ্রগতি আসবে। সবচেয়ে বড় কথা গাড়ির নিবন্ধন, লাইসেন্স, চালকের লাইসেন্স, রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা গাড়িগুলো চিহ্নিত ও আটক করা গেলেই এ ক্ষেত্রে নিয়মের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে। ঢাকার সড়কে গণপরিবহনের নৈরাজ্য কমাতে এটা করা জরুরি। তবে ঘোষণা দিয়ে এই ধরনের অভিযান চালানোর বেলায় যাত্রীদের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হওয়ার বিষয়টিও ভ্রাম্যমাণ আদালত ও প্রশাসনের বিবেচনায় থাকা উচিত। গত বৃহস্পতিবার অভিযান এড়াতে অনেকে রাস্তায় বাস নামায়নি। ফলে দিনের শুরু ও শেষে বিভিন্ন স্থানে অজস্র যাত্রীকে চলাচলের অসুবিধায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। যাত্রীসাধারণের এই ভোগান্তি এড়িয়ে কীভাবে পুলিশ ও আদালত কাজ করতে পারেন, সেটি দেখা প্রয়োজন।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এইচএসসি পরীক্ষার ফল -শিক্ষার মান ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে
এইচএসসি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করলে যে সত্যটি বেরিয়ে আসে তা হলো, শিক্ষাঙ্গনে মোটামুটি ইতিবাচক ধারা ফিরে এসেছে। এ ধারা অক্ষুণ্ন রাখতে পারলে ভবিষ্যতে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ শিক্ষার্থীর উত্তীর্ণ হওয়াও অসম্ভব নয়। পরীক্ষায় ভালো ফল করার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর পাশাপাশি শিক্ষকের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ক্লাস ও সাময়িক পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হলে কোনো শিক্ষার্থীর ফেল করার কথা নয়। এইচএসসিতে যাঁরা পরীক্ষা দেন, তাঁরা সবাই এসএসসি পাস করে দুই বছর পড়াশোনা করেন। তার পরও পাস না করার কী কারণ, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একজন শিক্ষার্থীর পেছনে শিক্ষক ও অভিভাবকের পাশাপাশি জাতির বিনিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনায় আনতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ যথার্থই বলেছেন, শ্রেণীকক্ষের প্রতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আগ্রহ বেড়েছে। এ কথা সত্য, কিন্তু তার চেয়েও কঠিন সত্য হলো, কর্মজীবনে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। ভালো ফল না করলে ভালো চাকরি পাওয়া যাবে না—এই বিবেচনা হয়তো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলেছে। এখন সরকার ও শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব সেই আগ্রহকে সঠিক পথে চালিত করা। শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষকের প্রয়োজনীয়তা সবাই স্বীকার করবেন। উপযুক্ত বেতন-ভাতা না দিলে কিংবা সুযোগ-সুবিধা না বাড়ালে মেধাবীরা এ পেশায় আকৃষ্ট হবেন না।
বর্তমান ও আগের সরকারের আন্তরিক চেষ্টায় পাবলিক পরীক্ষাকে নকলের মহামারি থেকে অনেকটাই মুক্ত রাখা গেছে। শিক্ষার্থীরা তো বটেই, দেশও এর সুফল পেতে শুরু করেছে। এ ধারা অক্ষুণ্ন থাকলে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি পড়াশোনায় মনোযোগী হবে। এইচএসসি পরীক্ষার এই ইতিবাচক ধারা উচ্চশিক্ষায়ও অব্যাহত থাকুক, উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা মেধা অনুযায়ী ভর্তির সুযোগ পান, এটাই প্রত্যাশিত। উচ্চমাধ্যমিকের সাফল্যের এই ধারা উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে তখনই বজায় থাকবে, যখন উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত হবে। সেখানে শিক্ষার্থীদের কল্যাণকামী ছাত্ররাজনীতি থাকবে, কিন্তু পেশিশক্তির দৌরাত্ম্য থাকবে না। কোনো ছাত্রসংগঠনের কর্মীরা প্রতিপক্ষ সংগঠনের কর্মীদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেবেন না। এই নিশ্চয়তা থাকলে কেবল পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হারই বাড়বে না, শিক্ষার সার্বিক মানও বাড়বে। দেশ পাবে সুশিক্ষিত, সমৃদ্ধ ও মেধাবী প্রজন্ম।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ম্যানিলায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক
ফিলিপাইনের উপকূলীয় এলাকায় গত মঙ্গলবার রাতে টাইফুন কনসন আঘাত হানে। বুধবার এটি মূল ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার।
প্রচণ্ড ঝড়ের আঘাতে ম্যানিলার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে সেখানকার এক কোটি ২০ লাখ লোক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, ম্যানিলায় দুই দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার পর গতকাল আবার চালু হয়েছে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কারাবন্দীদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি
অপহরণের দায়ে অভিযুক্ত হয়ে রোনালদোকে ১৪ বছর বন্দী থাকতে হয়েছে। তাই কারাগারের ভেতরের অবস্থা কী সেটা তাঁর খুব ভালোভাবেই জানা। রোনালদো এখন একটি সংস্থা পরিচালনা করছেন, যার মাধ্যমে বন্দীরা কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহার শিখতে পারেন।
সাংবাদিকদের রোনালদো বলেন, ‘আমি অনেক অপরাধ করেছি। এখন প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে সমাজের জন্য কিছু করতে চাই। তাই আমার এই উদ্যোগ।’ রোনালদো মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকের অর্থ জোগাড় করতেই তিনি ধীরে ধীরে ভয়াবহ সব অপরাধ শুরু করেন।
গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিচারের সময় বিচারক রোনালদোর অপরাধের দীর্ঘ একটি তালিকা তুলে ধরলে তিনি এ নিয়ে ভাবতে থাকেন। কারাগারে তাঁর মধ্যে পরিবর্তন আসে। নতুন উপলব্ধি থেকে অন্য কারাবন্দীদের সহায়তা করার চিন্তা করেন তিনি, যাতে মুক্তি পেয়ে তাঁরা সৎ উপার্জন করে বেঁচে থাকতে পারে।
রোনালদো জানান, কারাগারে একজন রক্ষী তাঁদের কয়েকজনকে কম্পিউটার শেখার সুযোগ দিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানার পর তা বন্ধ করে দেয়। তাঁরা সেখানে অনেক কিছুই শিখতে পেরেছিলেন। রোনালদো বললেন, ওইটুকু সময়েই কারাগারে যা শিখেছিলেন তার ওপর ভিত্তি করে কয়েকজন চাকরি করে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কলম্বিয়ার পাঁচ গেরিলা নেতা ভেনেজুয়েলায় অবস্থান করছে
কলম্বিয়ার বিদায়ী প্রেসিডেন্ট আলভেরো ইউরিবের অফিস সূত্র জানায়, রিভ্যুলিউশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়া (ফার্ক) ও ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন) নামে ভেনেজুয়েলার দুটি বামপন্থী সংগঠন গত শতাব্দীর মধ্য ষাটের দশক থেকে কলম্বিয়া সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়ে আসছে।
রাজধানী বোগোটার ইউরিবের অফিস থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এ তথ্য-প্রমাণ দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় চারজন ফার্ক ও একজন ইএলএন নেতা অবস্থান করছেন। ফার্ক নেতাদের মধ্যে আছেন দলটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ইভান মারকেজ ও ফার্কের ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী’ বলে পরিচিত রডরিগো গ্রানাডা। বিবৃতিতে ‘পাবলিতো’ নামে পরিচিত ইএলএন কার্লোস মারিন গুয়েরিনের নামও উল্লেখ করা হয়।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
২০২৯ সালের মধ্যে বিশ্বে ৪০ হাজার বিমান দরকার হবে
আগামী সোমবার লন্ডনে বোয়িংয়ের বিমান প্রদর্শনী হবে। এ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির প্রাক্কালে গত বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়। প্রদর্শনীতে বোয়িংয়ের বিমান তৈরির একটা পরিসংখ্যান তুলে ধরার কথা রয়েছে।
বোয়িংয়ের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা র্যান্ডি টিনসেথ বলেছেন, ‘আমরা যা দেখছি, ২০২৯ সালের মধ্যে বিশ্বে ৩০ হাজার ৯০০ বিমান দরকার। এর মূল্য হবে ২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ইউরো (তিন লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলার)।’ তিনি জানান, ২০০৯ সালে আকাশপথে সবচেয়ে বড় বাজার ছিল এশিয়া। এরপর ছিল উত্তর আমেরিকা।
র্যান্ডি টিনসেথ বলেন, ‘আগামী ২০ বছরে আকাশপথে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখতে পাব। ভবিষ্যতে এশিয়াই নেতৃত্ব দেবে। এরপর থাকবে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ।’
বোয়িং জানায়, গত বছর বিশ্বে ১৮ হাজার ৮৯০টি বিমান ছিল। ২০২৯ সালের মধ্যে এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ৩৬ হাজার ৩০০টি।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন গিলার্ড
টিভি চ্যানেল এবিসি জানায়, প্রধানমন্ত্রী গিলার্ড আজ শনিবার সকালে ক্যানবেরায় দেশের গভর্নর জেনারেল কুয়েনটিন ব্রাইসের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে ২৮ আগস্ট নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করবেন তিনি।
ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এবিসি জানায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী গিলার্ড পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার জন্য গভর্নর জেনারেলের প্রতি আহ্বান জানাবেন। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করারও অনুরোধ জানাবেন তিনি। এ বৈঠকের ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অস্ট্রেলিয়ার সংবিধান অনুযায়ী সে দেশের নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রতিনিধি হিসেবে গভর্নর জেনারেলের অনুমতি নিতে হয়। নির্বাচনের অন্তত ৩৩ দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে এ অনুরোধ জানানোর পর গভর্নর জেনারেল নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করেন।
এ নির্বাচনের মাধ্যমে নিম্নকক্ষের সব সদস্য ও সিনেটের অর্ধেক সদস্যকে নির্বাচিত করা হবে। তবে বিরোধী দল হিসেবে থাকা রক্ষণশীল দলের নেতা টনি অ্যাবটকে টপকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জুলিয়া গিলার্ড টিকে থাকবেন কি না তা হবে নির্বাচনের মূল বিষয়।
ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির অভ্যন্তরে ও সাধারণ জনগণের মধ্যে জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় তিন সপ্তাহ আগে ক্ষমতা থেকে সরে যান প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড। পরে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন জুলিয়া গিলার্ড।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ২৭
সুন্নি বিদ্রোহী গোষ্ঠী জুনদাল্লাহ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, রেভল্যুশনারি গার্ডের সদস্যদের লক্ষ্য করেই আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এ হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তসংলগ্ন এই প্রদেশের রাজধানী জাহেদান শহরের জামিয়া মসজিদে এই হামলার ঘটনা ঘটে। মহানবী হজরত মোহাম্মদের (সা.) নাতি ইমাম হোসেনের (রা.) জন্মদিন উদ্যাপন উপলক্ষে মসজিদের সামনে জড়ো হওয়া লোকজনের ওপর এই হামলা চালানো হয়। একই দিন রেভল্যুশনারি গার্ডেরও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল। প্রদেশের জরুরি বিভাগের প্রধান ফারিবর্জ রাশেদি বলেন, মসজিদের সামনে পরপর দুটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে ২৭ জন নিহত ও ১৬০ জন আহত আহত হয়।
স্থানীয় সাংসদ হোসেইন আলি শাহরিয়ারি জানান, স্থানীয় সময় রাত সাড়ে নয়টার দিকে মসজিদের সামনে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, ‘হামলাকারী নারীর পোশাক পরে মসজিদে প্রবেশের চেষ্টা করে। বাধা দেওয়া হলে হামলাকারী মসজিদের সামনেই বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু হলে আরেকজন আত্মঘাতী হামলাকারী বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি আবদোল্লাহি বলেন, মসজিদে প্রবেশের সময় লোকজনের ওপর আত্মঘাতী ওই হামলা চালানো হয়েছে। এতে রেভল্যুশনারি গার্ডের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন। তিনি বলেন, দ্বিতীয় হামলার কারণে হতাহতের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। প্রাদেশিক গভর্নর আলি মোহাম্মদ আজাদ বলেন, আহত অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
সুন্নি বিদ্রোহী গোষ্ঠী জুনদাল্লাহ নিজেদের ওয়েবসাইটে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে গোষ্ঠী জানায়, রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাদের লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়। রেভল্যুশনারি গার্ডের সদস্যরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করতে জামিয়া মসজিদের সামনে জড়ো হন। বিবৃতিতে বলা হয়, তাঁরা আরও বড় ধরনের হামলা চালানোর ক্ষমতা রাখেন।
জুনদাল্লাহ প্রায় এক দশক ধরে সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে সক্রিয় রয়েছে। গত ২০ জুন এই গোষ্ঠীর শীর্ষস্থানীয় এক নেতার ফাঁসি দেওয়া হয়।
ভয়াবহ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি বলেন, ‘হামলায় হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাই। একই সঙ্গে এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানাই।’
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাকিস্তানে ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা হামলায় জঙ্গিসহ নিহত ১৬
খাইবারের স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেহান গুল খাত্তাক বলেন, ‘জেলার কুকি খেল শহরে একটি পুরোনো গাড়ির বাজারে পেতে রাখা বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। এতে ছয়জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়।’ কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এ হামলার জন্য লস্কর-ই-ইসলাম দায়ী। ২০০৭ সালের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত পাকিস্তানে জঙ্গিদের হামলা ও বোমা বিস্ফোরণে সাড়ে তিন হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছে।
এদিকে আদিবাসী-অধ্যুষিত উত্তর ওয়াজিরিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার জেলার শিরানি মাদা গ্রামে একটি জঙ্গিঘাঁটিতে মানববিহীন মার্কিন বিমান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ১০ জঙ্গি নিহত হয়। আরেক কর্মকর্তা বলেন, তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র সেখানে আঘাত হানে। এতে ১৪ জন জঙ্গি মারা যেতে পারে।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানান, উত্তর ওয়াজিরিস্তানের ওই অঞ্চলটি জঙ্গিনেতা হাফিজ গুল বাহাদুরের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, পাকিস্তানের আফগান সীমান্তসংলগ্ন আদিবাসী এলাকা সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার একটি মূল ঘাঁটি। ২০০৮ সালের আগস্ট থেকে ওই অঞ্চলে শতাধিক মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৯৬০ জন নিহত হয়েছে।
পাকিস্তান সফর করবেন হিলারি: কয়েক দিনের মধ্যে পাকিস্তান সফর করতে পারেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। এ সফরে আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধী লড়াই ও সেখানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ব্যাপারে পাকিস্তানের সমর্থন আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করবেন তিনি।
কর্মকর্তারা জানান, আগামী বৃহস্পতিবার কাবুলে দাতাগোষ্ঠীর একটি সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতি চাপ দেবেন হিলারি, যাতে তারা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত রিচার্ড হলব্রুক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের ভূমিকা অস্পষ্ট ও অস্বচ্ছ মনে হচ্ছে ওয়াশিংটনের কাছে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আলাদা প্রতীক হলো ভারতীয় রুপির
রুপির নতুন এই প্রতীকের নকশা করেছেন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী উদয় কুমার। ভারতীয় লিপি দেবনাগরীর ‘র’ বর্ণ এবং রোমান ‘আর’ বর্ণ মিলিয়ে প্রতীকটি তৈরি করা হয়েছে।
ভারতের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অম্বিকা সোনি বলেন, ‘ভারতীয় মুদ্রার জন্য একটি বড় অর্জন এটি। ভারতীয় অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও বিকাশকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব রাখবে নতুন এই প্রতীক।’ তিনি বলেন, নতুন এই প্রতীক চালু হওয়ার মাধ্যমে রুপি ও রুপিয়া নামে পরিচিত অন্যান্য দেশের মুদ্রাগুলোর সঙ্গে ভারতীয় রুপির পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
এক বিবৃতিতে ভারতীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতীয় রুপি এখন ডলার, পাউন্ডের মতো আন্তর্জাতিক মুদ্রা হিসেবে স্বীকৃতি পেল। নতুন প্রতীকের পুরোপুরি প্রচলন হতে ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগতে পারে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তেল নিঃসরণ বন্ধ করেছে বিপি
গত সোমবার বিপির কর্মীরা দুর্ঘটনাকবলিত তেলক্ষেত্রের ছিদ্রে সফলভাবে নতুন একটি ছিপি আটকে দেন। এরপর তেল বেরিয়ে আসা বন্ধ হয়। তবে নতুন এই ছিপির স্থায়িত্ব ও কার্যকরতা নিয়ে এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
নতুন ছিপির পরীক্ষা শেষ করতে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগবে জানিয়ে কেন্ট বলেন, ‘উপসাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ছে না দেখে আমি খুবই আনন্দিত।’ তেল বেরিয়ে আসা বন্ধ করার খবরকে ‘ইতিবাচক সংকেত’ অভিহিত করে ওবামা বলেন, ‘আমরা এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছি।’
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ভারত আন্তরিক নয়: কোরেশি
আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ার জন্য ভারতকে দায়ী করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নয়াদিল্লি আলোচনার ক্ষেত্র সীমিত করে রেখেছে, যা কোনোভাবেই ইসলামাবাদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতের গুরুত্ব দেওয়া বিষয়গুলোর প্রতি যদি আমরা বেশি নজর দিই এবং পাকিস্তানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে অবহেলা করি, তাহলে আমার মনে হয় না আলোচনায় খুব বেশি অগ্রগতি হবে।’ বৃহস্পতিবারের আলোচনা অচলাবস্থার মধ্যে শেষ হয়েছে—এমন কথাও বলতে রাজি নন তিনি।
কোরেশি বলেন, ‘বৈঠকে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয় উত্থাপন করেছে ভারত। আমরা তাদের বলেছি, বাছাই করা বিষয় নিয়ে এভাবে আলোচনা হতে পারে না। আমরা ভারতের উদ্বেগের বিষয় বুঝতে পেরেছি, এ ব্যাপারে আমরা আলোচনায় আগ্রহী। কিন্তু পাকিস্তানেরও কিছু উদ্বেগের বিষয় রয়েছে এবং জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি আলোচনার বাইরে রাখা সম্ভব নয়।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন কোরেশি ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা। আলোচনা দীর্ঘ হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের ছয় ঘণ্টা পর সংবাদ সম্মেলন হয়। এতে কৃষ্ণা বলেন, ‘মুম্বাই হামলার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রে আটক মার্কিন নাগরিক ডেভিড কোলম্যান হেডলির তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তান সরকার পদক্ষেপ নেবে—এমন আশ্বাস নিয়েই দিল্লি ফিরছি আমি।’ তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে মুম্বাই হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের মুখোশ উন্মোচন করলে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে দুই পক্ষের মধ্যে আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হবে।’
কৃষ্ণা বলেন, ‘বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার ব্যাপারেও একমত হয়েছি আমরা।’ কোরেশিকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।
কোরেশি বলেন, ‘আলোচনায় ভারতীয় পক্ষ অনেকটাই অনড় অবস্থানে ছিল। তারা আলোচনার গণ্ডি সীমিত রাখে।’ পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) মুম্বাই হামলার সমন্বয় করেছে—ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সে দেশের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের এমন মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। দুই দেশের এই বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে দুই দেশের পত্রপত্রিকাতেই বৈঠক নিয়ে হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দণ্ডপ্রাপ্ত মেগরাহিকে ছাড়াতে কলকাঠি নেড়েছিল বিপি
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত নাইজেল শেইনওয়াল্ড বলেছেন, তাঁদের বর্তমান সরকার মনে করে, মেগরাহিকে ছেড়ে দিয়ে স্কটল্যান্ড ভুল করেছিল।
১৯৮৮ সালে ব্রিটেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী একটি বিমান স্কটল্যান্ডের লকারবি বিমানবন্দরে অবতরণের আগমুহূর্তে বিস্ফোরিত হয়। এতে মার্কিন ও ব্রিটিশ নাগরিকসহ মোট ২৭০ জন নিহত হয়। তদন্তে নাশকতার সঙ্গে লিবিয়ার নাগরিক আবদেল বাসেত আল-মেগরাহি জড়িত বলে প্রমাণিত হয়। আদালতে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলেও গত বছরের আগস্টে স্কটল্যান্ডের বিচারমন্ত্রী কেনি ম্যাক আস্কিল অনুকম্পা প্রদর্শন করে মেগরাহিকে ছেড়ে দেন। ক্যানসারে আক্রান্ত মেগরাহি বড়জোর এক-দুই মাস বাঁচবেন বলে চিকিৎসকেরা জানানোর পর স্কটল্যান্ড সরকার তাঁকে অনুকম্পাবশত ছেড়ে দেয়। তবে বর্তমানে লিবিয়ায় বসবাসরত মেগরাহিকে পরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা বলছেন, তিনি আরও ১০ বছর বাঁচতে পারেন।
গত মঙ্গলবার সিনেটর চার্লস স্কুমার, ফ্রাংক লুটেনবার্গ, রবার্ট মেনেন্দেজ ও কিস্টেন ই গিলিব্রান্ড এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে লকারবির ঘটনায় বিপির জড়িত থাকার অভিযোগ এসেছে। তাঁরা বলেন, এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০০৭ সালে তেল অনুসন্ধানের জন্য লিবিয়ার সঙ্গে বিপির ৯০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী লিবিয়ার উপকূলীয় এলাকায় বিপি তেল অনুসন্ধান করবে বলে ঠিক হয়।
সিনেটররা অভিযোগ করেন, ওই সময় বিপির পক্ষ থেকে ব্রিটিশ সরকারের ওপর চাপ দিয়ে বলা হয়, মেগরাহি মুক্তি না দিলে লিবিয়া চুক্তি বাস্তবায়নের সময়সীমা পিছিয়ে দিতে পারে। বিপি ব্রিটিশ সরকারের মাধ্যমে স্কটল্যান্ডকে মেগরাহিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য করে। তবে ব্রিটেন, স্কটল্যান্ড ও বিপি—এ তিন পক্ষই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিপি ও ব্রিটেন বলেছে, স্কটল্যান্ড তাদের নির্বাহী ক্ষমতায় মেগরাহিকে ছেড়ে দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাদের কোনো হাত ছিল না। অন্যদিকে স্কটল্যান্ড বলেছে, চিকিৎসকদের মতামতের ভিত্তিতে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে মার্কিন সিনেটররা বলেছেন, সম্প্রতি মেক্সিকো উপসাগরে তেল দুর্ঘটনায় বিপির উদাসীনতা মেগরাহিকে ছাড়িয়ে আনার ব্যাপারে তাদের জড়িত থাকার সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করেছে। মেক্সিকো উপসাগরের দুর্ঘটনা এড়াতে বিপি যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। মানুষের জীবনের চেয়ে তাঁরা তাঁদের বাণিজ্যিক সাফল্যকেই বড় করে দেখেছেন। এ কারণে তাঁরা সন্দেহ করছেন নিজেদের স্বার্থে তাঁরা মেগরাহিকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। আর সত্যিই যদি তা-ই হয়, তাহলে সেটিকে ‘ব্লাড মানি’ ছাড়া আর কিছুই বলা যাবে না।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এক মাসে ৩২ মার্কিন সেনার আত্মহত্যা
সেনাসদস্যদের আত্মহত্যার কারণ খোঁজার চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক কোনো উত্তর মেলেনি। মার্কিন সেনা সদরে আত্মহত্যা প্রতিরোধবিষয়ক টাস্কফোর্সের প্রধান কর্নেল ক্রিম ফিলব্রিক বলেছেন, ‘সেনাসদস্যদের মধ্যে আত্মহননের এ প্রবণতার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ আমার জানা নেই। ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র স্নায়বিক চাপ, পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা কিংবা কর্মক্ষেত্রে হতাশা সেনাদের আত্মহত্যার প্রবণতাকে উসকে দিয়েছে।’
সেনাদের এই আত্মহননের কারণ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। আত্মহনন-প্রবণতা প্রতিরোধে সম্প্রতি সেনাসদস্যদের মধ্যে একটি ভিডিওচিত্র প্রচার করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রামাণ্যচিত্রটির শিরোনাম, ‘কাঁধে কাঁধ রাখব—কখনোই ছেড়ে যাব না’। এতে দেখানো হয়েছে, জোসেফ স্যান্ডারস নামের এক সেনাসদস্যকে তাঁর স্ত্রী ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এর জেরে স্ত্রীকে বাহুবন্ধনে জড়িয়েই আত্মহননের চেষ্টা করেন জোসেফ। নিজের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ট্রিগার চাপেন তিনি। কিন্তুই কোনো গুলি বেরিয়ে আসেনি। পরে দেখা যায়, জোসেফের আগ্নেয়াস্ত্র থেকে তাঁরই এক বন্ধু গুলি সরিয়ে রেখেছিলেন। বন্ধুটির বক্তব্য থেকে জানা যায়, জোসেফের মতিগতি ভালো ঠেকছিল না। তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করতে পারেন, এমন একটা আশঙ্কা থেকেই গুলি সরিয়ে রাখা হয়।
কর্নেল ক্রিস ফিলব্রিক বার্তা সংস্থা সিএনএনকে বলেছেন, প্রামাণ্যচিত্রে সেনাসদস্যের প্রকৃত ঘটনাকেই তুলে ধরা হয়েছে। সেনাদের মধ্যে এই প্রবণতা প্রতিরোধে প্রচারণার কাজ চলছে পূর্ণোদ্যমে।
গত বছরও বিদেশে দায়িত্বরত সব মার্কিন সেনাকে একদিন কাজ বন্ধ রেখে এরকমই একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। এর পরও সেনাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা কমেনি, বরং বেড়েই চলেছে।
ষাট দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধকালীন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন সেনা আত্মহত্যা করেন। গত বছর ২৪৫ জন মার্কিন সেনা আত্মহত্যা করেন। চলতি বছরের শুরু থেকে জুন মাস পর্যন্ত সেনাসদস্যের আত্মহত্যার এ সংখ্যা ১৪৫।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিহত এক বাংলাদেশির পরিচয় পাওয়া গেছে
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাগদাদ থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে সোলেমানিয়ায় নিরাপত্তাজনিত বিধি-নিষেধ রয়েছে। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশটির রাজধানীর সঙ্গে ওই এলাকার টেলিযোগাযোগও খুব দুর্বল। তাই দুর্ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাটা ইরাকে বাংলাদেশের দূতাবাসের জন্য বেশ দুরূহ ব্যাপার। ইরাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সোলেমানিয়ার স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে হারুনের মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন।
জানা গেছে, কুর্দি অধ্যুষিত ওই অঞ্চলে আগুনে পুড়ে যাওয়া হোটেলটিতে ছয়জন বাংলাদেশি কাজ করতেন। অন্য পাঁচজনের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
-
▼
2010
(9402)
-
▼
July
(862)
-
▼
Jul 19
(44)
- গৌড় কোথায় বলতে পারেন by মৃত্যুঞ্জয় রায়
- প্রহরাবেষ্টিত ‘নিরাপদ’ ক্যাম্পাস by মশিউল আলম
- আর্তের পাশে চিরকাল -কপোতাক্ষ-মধুমতীর তীর থেকে by ...
- বাংলাদেশের উন্নয়ন-বিভ্রাট by হানিফ মাহমুদ
- রাজধানীতে ছিনতাই বৃদ্ধি -নগরবাসীর জানমালের প্রশ্নে...
- পার্বত্য ভূমি কমিশন নিয়ে বিতর্ক - নগরবাসীর জানমালে...
- দারফুরে সংঘর্ষে ৩০০ বিদ্রোহী নিহত
- ভারতের সঙ্গে আরও আলোচনার আহ্বান গিলানির
- মার্কিন দম্পতির কারাদণ্ড
- অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণ নির্বাচন ২১ আগস্ট
- ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিমন বলিভারের দেহাবশেষ উত্তোলন
- কলম্বিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি শাভেজের
- বিপির কলকাঠি নাড়ার অভিযোগের তদন্ত করা হবে: হিলারি
- সিআইয়ের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করেছেন ইরানের বিজ্ঞানী আ...
- ঢাকায় দুই দিনব্যাপী মেধাসম্পদবিষয়ক আঞ্চলিক সম্মেলন...
- প্রথম ষাণ্মাসিক সিএসআর প্রতিবেদন এ মাসে জমা দেবে ব...
- বহলায় শহীদদের গণকবর by সালেক খোকন
- চিন্তা ও কর্মে ফারাক কতটুকু by সালমা খান
- গ্রহণযোগ্য ন্যূনতম মজুরির অবস্থান কোথায় by খন্দক...
- তালেবানের শক্তিবৃদ্ধি ও পেট্রাউসের নতুন কৌশল by ...
- স্পিকারের একটি অসম্পূর্ণ রুলিং by মিজানুর রহমান খান
- ঢাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি নিষিদ্ধ -অনিয়মমুক্ত পরিবহ...
- এইচএসসি পরীক্ষার ফল -শিক্ষার মান ও সুষ্ঠু পরিবেশ ন...
- ম্যানিলায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক
- কারাবন্দীদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি
- কলম্বিয়ার পাঁচ গেরিলা নেতা ভেনেজুয়েলায় অবস্থান করছে
- ২০২৯ সালের মধ্যে বিশ্বে ৪০ হাজার বিমান দরকার হবে
- নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন গিলার্ড
- ইরানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ২৭
- পাকিস্তানে ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা হামলায় জঙ্গিসহ নিহত ১৬
- আলাদা প্রতীক হলো ভারতীয় রুপির
- তেল নিঃসরণ বন্ধ করেছে বিপি
- দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ভারত আন্তরিক নয়: কোরেশি
- দণ্ডপ্রাপ্ত মেগরাহিকে ছাড়াতে কলকাঠি নেড়েছিল বিপি
- এক মাসে ৩২ মার্কিন সেনার আত্মহত্যা
- নিহত এক বাংলাদেশির পরিচয় পাওয়া গেছে
- পলকে লালগালিচা সংবর্ধনা
- মিরপুরের পুল থেকে সিঙ্গাপুরে
- বার্সার ফ্যাব্রিগাস-ধাক্কা
- আবাহনীর শুভ সূচনা
- অবসর ভেঙে ফিরলেন ইব্রাহিমোভিচ
- হেস্কির অবসর
- ১০ মিটারে সেরা আসিফ-শারমিন
- সেরাদের মধ্যে মেসি নেই
-
▼
Jul 19
(44)
-
▼
July
(862)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...