Monday, October 21, 2024

১১ সন্তান থাকলেও ভাত জোটে না শতবর্ষী বাবার

প্রথম স্ত্রীর ঘরে চার সন্তান এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে সাত সন্তানের বাবা শতবর্ষী তাফের আলী। মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয়স্থল নেই তার। যৌবনে যিনি সন্তানদের চাহিদা পূরণ করেছেন, করেছেন নিরাপদ আশ্রয়ের ব‍্যবস্থা। তারাও আজ তার পাশে নেই। নেই খাবারের কিংবা অসুখের চিকিৎসার নিশ্চয়তা। বর্তমানে ছোট ছেলে আয়নাল হোসেনের পরিবারের সঙ্গে বসবাস করলেও পরিবারের কেউই খবর রাখেন না শতবর্ষী এই বাবার।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের লক্ষ্মীরামপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা তফের আলী। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স ৯৫ বছর। কিন্তু তিনি দাবি করেন তার বয়স ১০৮ থেকে ১১০ বছরের মধ্যে হবে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট সন্তানের কাছে ভরণপোষণ চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে অত্যাচার ও মারধর এবং হত্যার চেষ্টা করে। এ ছাড়াও বাবার সম্পত্তি ভোগ দখল ও ঘর থেকে টাকা চুরি করে। পরে ভুক্তভোগী বাবা এসব অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আদালতের দ্বারস্ত হয়। এরপর আদালত তাফের আলীর কষ্টের কথা শুনে ছেলে আইনালের বিরুদ্ধে গত ২০ আগস্ট আদলতে মামলা হয় এবং একই তারিখে সমন জারি করে গত ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করে।

প্রথম স্ত্রীর ঘরে চার সন্তান এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে সাত সন্তানের বাবা শতবর্ষী তাফের আলী। মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয়স্থল নেই তার। যৌবনে যিনি সন্তানদের চাহিদা পূরণ করেছেন, করেছেন নিরাপদ আশ্রয়ের ব‍্যবস্থা। তারাও আজ তার পাশে নেই। নেই খাবারের কিংবা অসুখের চিকিৎসার নিশ্চয়তা। বর্তমানে ছোট ছেলে আয়নাল হোসেনের পরিবারের সঙ্গে বসবাস করলেও পরিবারের কেউই খবর রাখেন না শতবর্ষী এই বাবার।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের লক্ষ্মীরামপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা তফের আলী। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স ৯৫ বছর। কিন্তু তিনি দাবি করেন তার বয়স ১০৮ থেকে ১১০ বছরের মধ্যে হবে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট সন্তানের কাছে ভরণপোষণ চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে অত্যাচার ও মারধর এবং হত্যার চেষ্টা করে। এ ছাড়াও বাবার সম্পত্তি ভোগ দখল ও ঘর থেকে টাকা চুরি করে। পরে ভুক্তভোগী বাবা এসব অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আদালতের দ্বারস্ত হয়। এরপর আদালত তাফের আলীর কষ্টের কথা শুনে ছেলে আইনালের বিরুদ্ধে গত ২০ আগস্ট আদলতে মামলা হয় এবং একই তারিখে সমন জারি করে গত ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করে।

তাফের আলী জানান, সন্তানরা তাকে দেখেন না। নিজেরা ভালো বাড়িতে থাকেন আর তাকে রেখেছেন ভাঙা জরাজীর্ণ বাড়িতে। ভাত খেতে দেয় না। অনেক কষ্ট করে অন্যের বাড়িতে চেয়ে ভাত খান। এ ছাড়া ওষুধের জন্য অন্যের দ্বারস্থ হতে হয় তাকে। ছেলে আয়নাল ও তার স্ত্রী তাকে খাবার পর্যন্ত দেয় না। এসব সহ্য করতে না পেরে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আবার সেই সন্তানের চাপেই আপস করতে আদালতে গিয়েছেন তিনি। তারপরও সেই সন্তানরা তাকে খেতে পর্যন্ত ডাকেননি।

ছেলে আয়নালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক সময় বাজার করে বাসায় নিয়ে গেলে রান্না করতে দেরি হয়। তখন রাগ করে খবার খেতে চায় না। এ ছাড়াও সকালের খবার খেতে বললে বলে, বাজার থেকে খেয়ে আসছি। এসব প্রায়ই ছোট-খাটো বিষয় নিয়ে মামলা মোকদ্দমা করে থাকে এবং এর আগে জেলও খেটেছি। তবে আমাদের ভুল হয়েছে সঠিক সময়ে খবার দেওয়া ও যত্ন নেওয়া উচিত ছিল। আমারও তো দুটো ছেলেমেয়ে আছে। তবে যেটুকু সামর্থ্য রয়েছে চেষ্টা করি বাবাকে ভরণপোষণ দেওয়ার জন্য।

আয়নালের স্ত্রীর জানান, দেখাশোনার কাজ তিনি ও তার স্বামী করেন। মাঝে মাঝে ঠুনকো বিষয় নিয়ে ঝামেলা ছাড়া বড় কোনো ঘটনাই ঘটে না। শ্বশুরের প্রতি যত্নের কোনো কমতি নেই।

এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশী মো. খোকা বলেন, তাফের আলীর ৯ জন ছেলে আটজন বাইরে থাকেন বাকি একজন ছেলে মো. আয়নাল তিনি তার বাবার সঙ্গে আলাদা থাকেন। অনেক সময় ছেলে তার বাবাকে খাবার দেয় কখনো দেয় না। তবে মামলা হয়েছে কি না তা জানি না। যেহেতু তার বাবার অনেক বয়স হয়েছে সেক্ষেত্রে ভরণপোষণ দেওয়া উচিত বলে মনে করছি।

তাফের আলীর আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এর আগে ছেলের নামে আরেকটি মামলা ছিল। এরপরও গত ১৮ আগস্ট তাফের আলী তার ছেলে আইনাল হোসেনের বিরুদ্ধে সন্তানরা ভাত না দেওয়া ও মারপিটসহ অন্যান্য অভিযোগে এ বছরের ২০ আগস্ট নওগাঁর আমলি আদালতে মামলা করেন। আদালত তাফের আলী কষ্টের কথা শুনে ছেলের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। এটা অমানবিক একটা মামলা। এতগুলো সন্তান থাকার পরও বৃদ্ধ বাবাকে ভাত দেয় না। এটা অমানবিকতার পরিচয়। তবে মামলাটি এখন পেন্ডিং রয়েছে। 
১১ সন্তানের বাবা শতবর্ষী তাফের আলী। ছবি : কালবেলা
১১ সন্তানের বাবা শতবর্ষী তাফের আলী। ছবি : কালবেলা

জম্মু-কাশ্মীরে ‘সন্ত্রাসী’ হামলায় ৬ শ্রমিকসহ এক চিকিৎসক নিহত

ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীরের হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এতে ৬ শ্রমিক ও এক চিকিৎসক নিহত হয়েছেন। রোববার রাতে অঞ্চলটির গান্দেরবাল জেলায় এই হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। তারা একটি বেসরকারি কোম্পানির ক্যাম্প হাউজিং শ্রমিকদের ওপর গুলি চালায়। গুন্ড নামক এলাকায় একটি টানেল নিমার্ণের কাজ করছিলেন ওই শ্রমিকরা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

এতে বলা হয়, ওই ক্যাম্পে স্থানীয় এবং অস্থানীয় উভয় পক্ষকে লক্ষ্য করেই গুলি চালানো হয়। দুই বন্দুকধারী এই হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করতে অভিযান শুরু করেছে তারা।

জম্মু-কাশ্মীরের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ শ্রমিকদের ওপর নৃশংস এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, শ্রমিকরা এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ কাজ করছিল। যে হামলা হয়েছে তাতে শ্রমিকদের বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। এমন নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি । জানিয়েছেন নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা।

এখনও পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে যারাই এই হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দ্রুত কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। তিনি বলেছেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। জনগণকে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এমন ঘৃণ্য কাজের পেছনে যারাই থাকুক তাদের উপযুক্ত শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে।

কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতীন গড়করী এমন ‘ভয়াবহ’ সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তার এক্সের এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, নিরীহ শ্রমিকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। নিতীন গড়করী বলেন, আমি এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

নিরাপরাধ নাগরিকদের হত্যা এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে সহিংসতা ও সন্ত্রাস ছড়ানোর মতো কাজ মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তিনি বলেছেন, গোটা দেশ এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ।

গত শুক্রবার কেন্দ্রশাসিত এই অঞ্চলের শোপিয়ান জেলায় গুলিবিদ্ধ এক শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই শ্রমিকের সাথে কাজ করা অন্য এক শ্রমিক পুলিশকে জানায়, ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করার সময় একটি ফোন কল আসে। কলটি ছিল নিহত ওই শ্রমিকের। তিনি জানিয়েছিলেন যে, তিনি কোথাও যাচ্ছেন। পরে দীর্ঘ সময় পরেও তিনি ফিরে না এলে তাকে খুঁজতে যায় অন্য শ্রমিকরা। তার নাম্বারে কল দেয়া হয়, কিন্তু কেউ কল রিসিভ করছিলনা বলে জানিয়েছেন ওই শ্রমিক। পরে আমরা তার মৃতদেহ খুঁজে পাই।

সম্প্রতি সময়ের মধ্যে জম্মু-কাশ্মীরের গতকালের ওই হামলা ছিল সবচেয়ে মারাত্মক। কেন্দ্রশাসিত এই অঞ্চলটিতে নতুন সরকার শপথ নেয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই ঘটল এই ঘটনা।

mzamin

হাসিনার পদত্যাগ ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি মিথ্যাচার করেছেন: আসিফ নজরুল

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ইস্যুতে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মিথ্যাচার করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। সোমবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার অফিস কক্ষে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার কথা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি যে বলেছেন-উনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র পাননি। এটা মিথ্যাচার। এটা উনার শপথ লঙ্ঘনের শামিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘উনি (রাষ্ট্রপতি) নিজেই ৫ই আগস্ট রাত ১১টা ২০ মিনিটে পেছনে তিন বাহিনীর প্রধানকে নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী উনার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং উনি তা গ্রহণ করেছেন।’

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘এরপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে জানতে চাওয়া হয়, এই পরিস্থিতিতে করণীয় কী। সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, উপদেশমূলক এখতিয়ার প্রয়োগ করে জানতে চাওয়া হয়। সেটার পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও সব সব বিচারপতিরা মিলে ১০৬ অনুচ্ছেদের অধীনে মতামত দেন, রাষ্ট্রপতির রেফারেন্সের ভিত্তিতে। এর প্রথম লাইন ছিল, দেশের বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যেহেতু প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, তারপর অন্যান্য কথা।’

তিনি বলেন,‘ প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়েছেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা যায়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এই মতামতের ভিত্তিতে একটি নোট আমরা মন্ত্রণালয় থেকে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠিয়েছি।’

নোটে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর দেখিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি এই মতামতটা দেখেছেন এবং গ্রহণ করেছেন। এরপর উনি নিজে অন্তর্বর্তীকালীন গঠন করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘৫ই আগস্ট রাত ১১টা ২০ মিনিটে নিজের মুখে ভাষণে বলেছেন, উনাকে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগপত্র দিয়েছেন এবং উনি গ্রহণ করেছেন। পরবর্তীতে একের পর এক কার্যাবলীর মধ্য দিয়ে এটা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, উনি পুরো জাতির কাছে বিভিন্নভাবে নিশ্চিত করেছেন, আবারও নিশ্চিত করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগপত্র দিয়েছেন এবং তিনি গ্রহণ করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে যদি উনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগপত্র দেননি। এত দিন পরে, প্রায় আড়াই মাস পরে, তাহলে এটা এক ধরনের স্ববিরোধিতা হয়। উনার শপথ লঙ্ঘন হয় এবং এই পদে থাকার যোগ্যতা উনার আর আছে কি না প্রশ্ন আসে। কারণ আমরা জানি বাংলাদেশের সংবিধানে বলা হয়েছে, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা না থাকলে বা গুরুতর অসদাচরণ করলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে থাকতে পারে কি না সেটা নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আমাদের দেশের সংবিধানে আছে।’

রাষ্ট্রপতি পদে থাকার যোগত্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন উনার স্ববিরোধী কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। যদি উনি এই বক্তব্যে অটল থাকেন, তাহলে উনার রাষ্ট্রপতি পদে থাকার যোগ্যতা আছে কি না সেটা আমাদের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় ভেবে দেখা হবে।’

উল্লেখ্য, এর আগে গতকাল রোববার মানবজমিন পত্রিকার সাপ্তাহিক রাজনৈতিক ম্যাগাজিন ‘জনতার চোখ’—এ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ঐ প্রতিবেদনে দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে আলাপকালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি শুনেছি তিনি পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু আমার কাছে কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। বহু চেষ্টা করেও আমি ব্যর্থ হয়েছি। তিনি হয়তো সময় পাননি।’

প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘৫ই আগস্ট সকাল সাড়ে দশটায় বঙ্গভবনে ফোন এলো প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে। বলা হলো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসবেন মহামান্য প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য। এটা শুনেই প্রস্তুতি শুরু হলো বঙ্গভবনে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ফোন এলো তিনি আসছেন না।’

ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে গত ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি অবস্থান করছেন। পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ভারত সরকার তাকে ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট দিয়েছে। তা দিয়ে তিনি অন্য কোনো দেশে যেতে পারবেন। যদিও তার রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। বলা হচ্ছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত তাকে নিরাপত্তাজনিত কারণে আশ্রয় দিতে রাজি হচ্ছে না। কাতার ও সৌদি আরব আগেই অপারগতা জানিয়েছে। শুরুতে বেলারুশের কথা বলা হয়েছিল। কি কারণে সেটা হয়নি তা এখনো অজানা।

mzamin

ইসরাইল গাজায় গণহত্যা করছে : কমলা হ্যারিস

ইসরাইল গাজায় গণহত্যা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কমলা হ্যারিস। রোববার (২০ অক্টোবর) জেরুসালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার মিলওয়াকিতে ভাষণের আগে হ্যারিস বলেন, ইসরাইল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। এটি একটি বাস্তব বিষয়।

ওই ভাষণের ভিডিও শনিবার সন্ধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত হয়। ভিডিওতে দেখা গেছে, উইসকনসিন-মিলওয়াকি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র হ্যারিসকে গাজার গণহত্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। এরপর সে হ্যারিসকে জিজ্ঞেস করলেন যে আপনি গণহত্যায় বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন? জবাবে হ্যারিস বলেছিলেন যে তিনি ওই ছাত্রের কথা বলার অধিকারকে সম্মান করেন। তিনি আরো বলেন, আমি এখনই বলছি, আমি জানি আপনি কী বলছেন। আমি যুদ্ধবিরতি চাই। আমি যুদ্ধের অবসান চাই।

কেফিয়েহ পরা পুরুষ ছাত্রটি ভিড়ের মধ্য দিয়ে হ্যারিসের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে গণহত্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে থাকে। এ সময় তাকে নিরাপত্তাকর্মীরা বের করে দেন। তখন হ্যারিস ওই ছাত্রের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘শোন, সে যা বলছে, এটা বাস্তব। আমি তার সোচ্চার কণ্ঠকে সম্মান জানাই।’

সূত্র : জেরুসালেম পোস্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কমলা হ্যারিস। - ছবি : জেরুসালেম পোস্ট

ডালিম পেকে ফেটে গেলেও তুলতে পারছেন না লেবাননের কৃষকরা

গাছেই পেকে ফেটে গেছে ডালিম। কিন্তু ইসরায়েলি হামলায় সেগুলো আহরণ করতে পারছেন না লেবাননের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের কৃষকরা। বিস্ফোরণের ধোঁয়ায় যেন মিলিয়ে যাচ্ছে ডালিমের স্বাদ আর ঘ্রাণ।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাসবায়ার ডালিমের বাগানগুলোয় এখন ফসল তোলার সময়। কিন্তু এ বছর, কৃষকরা শুধু প্রকৃতির সঙ্গেই নয়, লড়ছেন যুদ্ধের আতঙ্কের সঙ্গেও। সীমান্তবর্তী এ এলাকায় প্রতিদিনের গোলাবর্ষণ তাদের জীবনকে করে তুলেছে ভীষণ অনিশ্চিত।

আবুধাবি ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ভায়েরিকে স্থানীয় ডালিম বিক্রেতা জামাল খায়ের আল দীন বলেন, আমরা এখন খুব ভোরে কাজে আসি। কারণ তখন গোলাবর্ষণ কম হয়। তবুও কাছের খিয়াম এবং মারজায়ুনের মতো এলাকাগুলো থেকে মাঝে মাঝে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসে। আগে পুরো জমিতে চাষাবাদ করতাম। এ বছর শুধু বড় গাছগুলোর ফলনের ওপর নির্ভর করছি।

জামাল খায়ের নামের এই লেবানিজ নাগরিক একজন অভিজ্ঞ কৃষক। তিনি বলেন, তারা তাদের জমি ছাড়বেন না, কারণ এটাই তাদের পূর্বপুরুষদের মাটি।

এই কৃষক বলেন, আমরা এখন খুব বিপদের মধ্যে আছি। কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষরা এই জমিতে কাজ করেছেন, আমরাও এই মাটিকে আঁকড়ে ধরে থাকব।

তিনি বলেন, শুধু ফসল তোলাই নয়, গোলাবর্ষণের কারণে ডালিম থেকে মোলাস তৈরি করাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগে এই মোলাস বিদেশে রপ্তানি করা হতো। কিন্তু যুদ্ধের কারণে এখন বাজারে পাঠানোও বন্ধ হয়ে গেছে।

খায়ের আল দীন বলেন, ডালিমের রস থেকে মোলাস তৈরি করতে সময় লাগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কিন্তু এখন এসব পণ্যের কোনো বাজার নেই। লেবাননের অভ্যন্তরেও বিক্রি কমে গেছে, আর বিদেশে পাঠানো সম্পূর্ণ বন্ধ।

যুদ্ধের মাঝেও লেবাননের হাসবায়ার কৃষকরা নিজেদের জমি ছাড়তে রাজি নন। কারণ, ডালিম তাদের কাছে শুধু ফসল নয়, বেঁচে থাকার সংগ্রামের প্রতীকও। তাদের প্রত্যাশা, একদিন এই সংকট কেটে যাবে এবং তারা আবার আগের মতোই তাদের ফসল বাজারে পাঠাতে পারবেন।

লেবাননের অন্যতম প্রধান ফসল ডালিম। ছবি : সংগৃহীত

মনি কিশোরের মৃত্যু: গতকাল যা ঘটেছিল রামপুরার পপি ভবনে

রামপুরা বিটিভি ভবনের পাশেই টিভি রোড। ছোট্ট একটি গলি ধরে দুই মিনিট এগোতেই বেশ পুরোনো একটি বাসা ‘পপি ভবন’। বাসার সামনে কেউ নেই। পাশের বাসার দারোয়ান প্রশ্ন করলেন, ‘শিল্পী মনি কিশোরের বাসা খুঁজছেন?’ জানা গেল, পপি ভবনের তিনতলায় থাকতেন একসময়ের জনপ্রিয় শিল্পী মনি কিশোর।

ছোট একটি গেট। সংকীর্ণ সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে হয়। তিনতলায় গিয়ে দেখা গেল মনি কিশোর যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, সেই রুমে তালা দেওয়া। ‘প্রবেশ নিষেধ’ চিহ্ন দিয়ে রেখেছেন পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তারা। তালার একপাশে তখনই আগরবাতি জ্বালিয়ে রাখলেন পাশের রুমের প্রতিবেশী তাজুল মিয়া। এই প্রতিবেদককে দেখে তিনি বললেন, ‘স্যার তো এখানে একা থাকতেন। তাঁর কেউ নেই। আগরবাতি দেবে, দেখতে আসবে, তেমন কেউ ছিল না মনি স্যারের। কোনো দিন কাউকে আসতে দেখিনি।’

তাজুল জানান, ছয় দিন আগেও মনি কিশোরকে দেখেছিলেন। দেখা হলে সৌজন্য বিনিময় হয়। মাঝেমধ্যে মনিই খোঁজখবর নিতেন। কিন্তু তিন–চার দিন ধরে বাসার ভেতর থেকে লক করা দেখছেন তাঁরা। এটা কিছুটা কৌতূহলী করেছে তাঁদের। কারণ, মনি কিশোর প্রতিদিন বেলা ১১টার দিকে বাসা থেকে বের হতেন। বাসায় ফিরতেন রাত ১২টার দিকে। কিন্তু এই কয়েক দিন সব সময় রুমে লাইট জ্বালানো দেখে পরবর্তী সময়ে তাঁরা ধরে নিয়েছিলেন কোনো কাজ করছেন। কারণ, বাসায় থাকলে অনেকটা নীরবেই থাকেন। কখনো মৃদুস্বরে কিছুটা গানের শব্দ শোনা যেত। তবে চার থেকে পাঁচ দিন তাঁরা কোনো গান শোনেননি।

গত শুক্রবার তাজুল ও অন্যদের সন্দেহ হয়। সেটাও তেমন আমলে নেননি। তাজুলের স্ত্রী পাশ থেকে বললেন, ‘একা মানুষ থাকতেন, হয়তো ভেতরে কিছু করছেন, এই ভেবে আমি ডাকিনি। তিনি গানের মানুষ, গান আর অফিস নিয়ে থাকতেন। কিন্তু শুক্রবার রাত থেকেই গন্ধ পাচ্ছিলাম। হঠাৎ গতকাল শনিবার দুপুরের পরে গন্ধ বাড়তে থাকে।’

গতকাল দুপুর থেকেই পপি ভবন ও পাশের লাগোয়া ভবনের বাসিন্দারা গন্ধ নিয়ে সচেতন হন। সন্ধ্যার দিকে বাসার মালিকও বুঝতে চেষ্টা করেন, কোথা থেকে গন্ধ আসছে। কিন্তু কোথা থেকে, সেটা কেউই বুঝতে পারছিলেন না। পরে তাঁর সন্দেহ হয় মনি কিশোরের রুম বন্ধ। পাশের প্রতিবেশী ও মনি কিশোরের রুমের জানালার পাশে ভাড়াটেরাও একই কথা বলেন।

বাসার মালিক শামসুদ্দোহা তালুকদার নিচতলায় থাকেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক পরিচালক। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মনি কিশোরের মুঠোফোন নম্বরে কল করেন। এক দিন আগেও তিনি ফোন করেছিলেন বকেয়া ভাড়ার জন্য, তখনো ফোন রিসিভ করেননি মনি কিশোর। ভেবেছিলেন, হয়তো কোনো কারণে ফোন ধরছেন না। কোনো অনুষ্ঠানে হয়তো ঢাকার বাইরে গিয়েছেন। কিন্তু নম্বরটি শুক্রবারে চালু থাকলেও পরে গতকাল সন্ধ্যার পর বন্ধ পান।

গতকাল সন্ধ্যার পর পপি ভবনের সামনে ভিড় জমে। পরিস্থিতি বোঝার জন্য শামসুদ্দোহা আরও কয়েকজনকে নিয়ে চলে যান মনি কিশোরের দরজার সামনে। তখন গন্ধে তাঁরা দাঁড়াতেই পারছিলেন না। ধরে নেন, মনি কিশোরের কিছু একটা হয়েছে। অনেক ডাকাডাকি করেন। শামসুদ্দোহা আজ রোববার দুপুরে প্রথম আলোকে জানান, সন্দেহ হলে তিনি মনি কিশোরের বন্ধু আদনান বাবুকে প্রথম ফোন দিয়ে দ্রুত আসতে বলেন। তখন আদনান পরামর্শ দেন দ্রুত ৯৯৯–এ ফোন করতে।

রাত ৯টা ৪৫ এর দিকে ৯৯৯ ফোন দিয়ে পুলিশকে ঘটনা জানান। রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে বাড়ির মালিক ও পাশের বাসার প্রতিবেশীসহ আরও কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দরজা খোলা হয়। তাঁরা দেখতে পান বিছানায় হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে আছেন মনি কিশোর। তিনি খালি গায়ে ছিলেন। পরনে ছিল প্যান্ট। তাঁর শরীর ফুলে গেছে। কিছু জায়গায় পচন ধরেছে। রাতেই লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

পাশের বাসার প্রতিবেশী তাজুল মিয়া জানান, মনি কিশোর বেশির ভাগ সময় বাইরে থেকেই খেয়ে আসতেন। আর মাঝেমধ্যে কাঁচাবাজার করে নিয়ে আসতেন। তবে সেগুলো তিনি নিজে তেমন রাখতেন না। এগুলো প্রতিবেশী অনেককেই দিয়ে দিতেন। তাঁদেরকেও অনেক সবজি দিয়েছেন। তাজুলের স্ত্রী পাশ থেকে বলেন, ‘মনি স্যারকে আমরা তিন বছর ধরে দেখছি এই বাসায়। এ সময় তাঁকে কখনোই খারাপ পাইনি। তিনি নিজের জন্য ফল কিনে আনতেন। একা মানুষ কত আর ফল খাবেন, অনেক ফল এটা–ওটা আমাদের দিয়ে দিতেন।’ এ সময় আফসোস করে তিনি আরও বলেন, ‘অনেকেই দেখতে আসছেন কিন্তু তাঁর আপন কেউ এখনো আসেনি। একটা মানুষ মরে গেল। কোথায় থাকত, কী অবস্থা কেউ দেখতে এল না। এমন মৃত্যু যেন কারও না হয়।’

বাসার মালিক শামসুদ্দোহা জানান, তিনি বিটিভির প্রযোজক হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। সেই নব্বইয়ের দশকের সময় থেকে তরুণ অনেককে দিয়ে গানের অনুষ্ঠান করিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছিল মনি কিশোর। সেই থেকে পরিচয় হলেও তিন বছর আগে তেমন যোগাযোগ ছিল না। তাঁর ওই বাসায় তিন বছর আগে থাকতেন আদনান। তিনি একদিন জানালেন, বাসায় তাঁর সঙ্গে থাকবে মনি কিশোর।
‘মনি কিশোর থাকবে শুনে খুশি হয়েছিলাম। আমাদেরই ছেলে। আমি মানা করিনি। মনিকে আমি সেই আগে থেকেই তুই বলতাম। সে আমাকে আব্বা বলত। ওকে মাঝেমধ্যে দেখতাম তিন-চার দিন কোনো খবর নেই। পরে বলত, শো করতে গিয়েছিল। সেটাও খুবই কম। এবার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও ভাড়া দিচ্ছিল না। আমি নিয়মিত ফোন দিতাম। কিন্তু ধরত না। পরে ব্যাকও দিত না। ধরে নিয়েছিলাম এবারও শো করতে গেছে। প্রতিদিনই ফোন দিতাম। পরে কাল রাতে যখন ফোন বন্ধ পাই, তখন মনে হয় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে। এভাবে ওর চলে যাওয়াটা খুবই দুঃখজনক’, বলেন শামসুদ্দোহা।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন মনি কিশোর। এ ছাড়া মানসিক চাপেও থাকতেন। পরিবারের সঙ্গে তাঁর তেমন যোগাযোগ ছিল না। আগেই বিচ্ছেদ হয়। পরে তাঁর সাবেক স্ত্রী শামীমা চৌধুরী ও একমাত্র কন্যা নিন্তি চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। শামসুদ্দোহা বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে তেমন একটা যোগাযোগ ছিল না, যত দূর জানি। মাঝে কিছু সময় মানসিকভাবেও চিন্তিত ছিল। আবার কয়েক দিন আগেই শোনাল, আবার নিয়মিত গানে ফিরছে। এটা নিয়ে কিছু সাক্ষাৎকারও দেখলাম। এর মধ্যেই ছেলেটি মারা গেল। বিটিভিতে থাকা অবস্থায় তরুণদের নিয়ে অনেক প্রোগ্রাম করেছি। সেসব আয়োজন দিয়ে তৈরি হয়েছিল মনি কিশোর। এখনো সেই সম্মান করত।’

জানা গেল, মনি কিশোর সম্প্রতি একটি টেলিভিশনে যোগদান করেছিলেন। সেই কাজেও তাঁকে ব্যস্ত দেখেছেন বন্ধু ও সহকর্মীরা। শামসুদ্দোহা জানান, মনি কিশোর রামপুরা বাজারের পাশে ‘তাল তরঙ্গ’ নামের একটি দোকানে নিয়মিত আড্ডা দিতেন। সেই আড্ডার এক সহকর্মী মুঠোফোনে বলেন, ‘মনি একসময় যে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, পরে সেভাবে ক্যারিয়ার দাঁড় করাতে পারেনি। এর জন্য বিভিন্নভাবে রাজনীতিরও শিকার হয়েছেন। এই নিয়ে মন খারাপ থাকত। পরে বিচ্ছেদ, আবার মেয়েটিও দেশের বাইরে থাকত। তার সঙ্গে তেমন কথা হতো না। সে অনেকটাই একা হয়ে গিয়েছিল। নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করত। কিন্তু বাইরে থেকে কাউকে বুঝতে দিত না। চেয়েছিল গান নিয়ে আবার ফিরতে। সেটা আর হলো না। নিঃসঙ্গভাবেই মরে গেল।’

এই সময় আড্ডার ওই সহকর্মী আরও বলেন, ‘আজ মনি কিশোরকে আঞ্জুমান মুফিদুলের মাধ্যমে দাফন করতে হয় কেন? অথচ শিল্পীদের সংগঠনের কেউ কোনো খবরও রাখেননি। কেউ বলেনি লাশটা দায়িত্ব নিয়ে দাফন করা হোক। এর চেয়ে হতভাগ্য আর কোনো শিল্পীর হয়েছে। মনি নিজেও জানত, সে মরে গেলে এমনই হবে। শিল্পী হয়েই আমরা শিল্পীদের সম্মান দিতে পারি না।’

‘কী ছিলে আমার বলো না তুমি’, ‘মুখে বলো ভালোবাসা’, ‘আমি মরে গেলে তুমি জানি কাঁদবে না’, এমন বহু গানের এই শিল্পী নীরবেই থাকতে পছন্দ করতেন। চলতেন সাধারণ যেকোনো মানুষের মতো। ভক্তরাও তাঁকে চিনতে পারতেন না। পপি ভবনের পাশের বাসার দারোয়ান আসাদ আলী আফসোসের সুরে বলেন, ‘মনি স্যারকে বহুদিন ধরেই চিনি। কিন্তু তিনি যে গায়ক সেই মনি কিশোর, এটা জানতাম না। কলেজে পড়ার সময় তাঁর গান নিয়মিত শোনতাম। তাঁর অ্যালবাম কিনেছি। তিনি আমার পছন্দের শিল্পী। কিন্তু গতকাল জানতে পারলাম, তিনি সেই মনি কিশোর। আগে জানলে তো ছবি তুলে রাখতাম।’ 

মরদেহ কী করতে হবে মনি কিশোর জানিয়ে গেছেন

নব্বই দশক থেকেই গান গেয়ে শ্রোতার মন মাতিয়েছেন মনি কিশোর। সেই কবে গেয়েছিলেন ‘কী ছিলে আমার, বলো না তুমি’; তা আজও অনেক সংগীতপ্রেমী গেয়ে ওঠেন আপন মনে। সেই গানের স্রষ্টা মনি কিশোর দীর্ঘ সময় ধরে ছিলেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। অনেকটা অভিমান থেকে নিজেকে আড়াল করে রেখেছিলেন। শেষ দিকে তো এমনও হয়েছে, কেউ যাতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারে, নিজের ব্যবহৃত পুরোনো মুঠোফোন নম্বর বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

রামপুরা টেলিভিশন ভবনের পাশে একটি ভাড়া বাসায় একা থাকতেন। গতকাল শনিবার রাতে চিরদিনের জন্য তাঁর শেষ পৃথিবী ভ্রমণের খবর পাওয়া যায়। পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন। মারা যাওয়ার পর মরদেহ কী করতে হবে, তা বলে গিয়েছিলেন একমাত্র মেয়ে নিন্তিকে।

মনি কিশোর পাঁচ শতাধিক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। রেডিও-টিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী হলেও গান গেয়েছেন অল্প। সিনেমায়ও তেমন গাননি।

মূলত অডিওতে চুটিয়ে কাজ করেছেন। তাঁর জনপ্রিয় গানের মধ্যে ‘কী ছিলে আমার’, ‘সেই দুটি চোখ কোথায় তোমার’, ‘তুমি শুধু আমারই জন্য’, ‘মুখে বলো ভালোবাসি’, ‘আমি মরে গেলে জানি তুমি’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তাঁর সবচেয়ে শ্রোতাপ্রিয় গান ‘কী ছিলে আমার’ তাঁরই সুর করা ও লেখা। মাঝে দীর্ঘদিন নতুন গান প্রকাশ থেকে দূরে ছিলেন এই গায়ক। চলতি বছর এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি আবারও গান করছেন। জানিয়েছিলেন, পুরোনো গানগুলো ইউটিউবে দিচ্ছেন পর্যায়ক্রমে। জনপ্রিয় গান ‘কী ছিলে আমার’ নতুন করে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য ছিল, এ প্রজন্মের শ্রোতারা গানটি শুনেছেন।

ইউটিউবে প্রচুর ভিউ। স্টেজে গেয়ে থাকেন তরুণেরা। কিন্তু গানের মূল গায়ককে তাঁরা চেনেন না। গানটির সুরকার ও গীতিকার কে, তা জানেন না। এ রকম জায়গা থেকে ভেবেছেন, এ প্রজন্মের কাছেও গানটি পরিচিত হোক। তাঁদের মধ্যে এটি ছড়িয়ে দেওয়া দরকার। এ ছাড়া আলাদা করে দেড় শ গান তৈরি করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘গানগুলো আমার জীবদ্দশায় প্রকাশ করতে চাই না। কিছু গান মৃত্যুর পরও প্রকাশ পাবে।’ জীবদ্দশায় মনি কিশোর তাঁর এই গানগুলো প্রকাশের আগেই চলে গেলেন অনন্তযাত্রায়। এই শিল্পী যেমনটি চেয়েছিলেন, হয়তোবা সেই ইচ্ছা পূরণ করবে তাঁর পরিবার। তাঁর তৈরি হওয়া গানগুলো হয়তোবা সামনে প্রকাশিত হবে।

আজ রোববার সকালে কয়েক দফায় কথা হয় মনি কিশোরের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা অশোক কুমার মণ্ডলের সঙ্গে। তিনি জানালেন, মনি কিশোর তাঁর পোশাকি নাম। প্রকৃত নাম অরুণ কুমার মণ্ডল। পুলিশ কর্মকর্তা বাবা অনিল কুমার মণ্ডলের ছেলে অরুণ কুমার মণ্ডল ছিলেন কিশোর কুমারের ভক্ত। ডাকনাম ছিল মনি। কিশোর কুমারের ভক্ত ছিলেন বলে নামের সঙ্গে ‘কিশোর’ জুড়ে নিয়েছিলেন। জীবিত থাকা অবস্থায় মনি কিশোর প্রথম আলোকে মজা করে বলেছিলেন, ‘কুমার শানু নিয়েছেন “ওস্তাদের” নামের একাংশ। আমি নিয়েছি তাঁর নামের আরেক অংশ।’

নব্বই দশকের শুরুতে বিয়ে করেন মনি কিশোর। দেড় যুগ আগে তাঁদের দাম্পত্যজীবনের ইতি ঘটে। বিয়ের সময়ই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন মনি কিশোর। সে হিসেবে তাঁর মরদেহের দাফন করা হবে বলে জানালেন ভাই অশোক কুমার। তিনি জানালেন, মনি কিশোর বেঁচে থাকা অবস্থায় তাঁর দাফনের বিষয়টি একমাত্র মেয়ে নিন্তিকে জানিয়েছিলেন। অশোক কুমার বললেন, ‘মেয়ে আমার বড় ভাইকে জানিয়েছে, তাঁর বাবাকে যেন দাফন করা হয়। এটা নাকি ওর বাবা ওকে বলে গিয়েছিল। মেয়েকে যেহেতু বলে গিয়েছে, তাই তার ইচ্ছামতো দাফনের কাজটাই করা হবে। এটা নিয়ে আমরা অন্য কোনো ধরনের সিদ্ধান্তে যাব না।’

কোথায় দাফন করা হবে, জানতে চাইলে অশোক কুমার মণ্ডল বললেন, ‘আমাদের সেভাবে কোনো চাওয়া নেই। আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এরপর ওরাই সিদ্ধান্ত নেবে, কোথায় মরদেহ দাফন করা হবে। থানা থেকে এটা যোগাযোগ করা হয়েছে বলে শুনেছি। মেয়ে শুধু এটুকু বলেছে, ওর বাবাকে যেখানে কবর দেওয়া হচ্ছে, সেখানে যেন একটা চিহ্ন রাখা হয়।’
অশোক কুমার মণ্ডল জানান, মনি কিশোর নানা রোগে ভুগছিলেন। এর মধ্যে হার্টের সমস্যা যেমন ছিল, তেমনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্টের সমস্যাও। কয়েক মাস ধরে এ সমস্যা আরও প্রকট হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা বাবার সাত সন্তানের মধ্যে মনি কিশোর চতুর্থ সন্তান। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভাই মারা গেছেন। দেড় যুগ আগে মনি কিশোরের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর বিচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে একা থাকতেন। তাঁর একমাত্র মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। নড়াইল জেলার লক্ষ্মীপুরে মামাবাড়িতে ১৯৬১ সালের ৯ জানুয়ারি জন্ম মনি কিশোরের। পুলিশ কর্মকর্তা বাবার চাকরিসূত্রে দেশের বিভিন্ন জেলায় থাকা হয়েছে তাঁর।

নব্বই দশকের শুরুতে ‘চার্মিং বউ’ অ্যালবামের ‘কী ছিলে আমার’ শিরোনামের একটি গান মনি কিশোরকে প্রতিষ্ঠিত ও ব্যাপক পরিচিত করে দেয় সংগীতাঙ্গনে। একে একে ৩০টির বেশি একক অ্যালবাম করে ফেলেন। তারপর একসময় অডিও জগৎ নানা উত্থান–পতনের মধ্য দিয়ে যেতে থাকল। একটা সময় মনি কিশোরের আর নিয়মিত দেখা মেলেনি।

মনি কিশোর। ছবি: সংগৃহীত
মনি কিশোর। ছবি: সংগৃহীত

মনি কিশোর পাঁচ শতাধিক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন
মনি কিশোর পাঁচ শতাধিক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ছবি: সংগৃহীত

মনি কিশোর। ছবি: সংগৃহীত
মনি কিশোর। ছবি: সংগৃহীত



শেখ হাসিনা রাজনীতি করার জন্য আর দেশে ফিরতে পারবেন না: উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা দেশে থাকা সমর্থকদের সরকারবিরোধী আন্দোলন করার জন্য উসকানি দিচ্ছেন। আমি তাঁদের বলতে চাই, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে রাজনীতি করার জন্য আর ফিরতে পারবেন না। শুধু ফাঁসির কাষ্ঠে দাঁড়ানোর জন্যই ফিরবেন। যাঁরা এখনো পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উসকানিতে জনজীবন দুর্বিষহ করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের সাবধান করে দিতে চাই।’

রোববার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যত পুলিশ মারা গেছে, তার দায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনাকে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি তা না করে দেশে রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন। ৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর স্নাইপার দিয়ে গুলি চালানো হয়েছে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা তাঁর সব নেতা-কর্মী এবং পুলিশ বাহিনীকে মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়ে কাউকে না জানিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যান। তাঁর এই সিদ্ধান্তের কারণে সে দিন অনেক পুলিশ সদস্য মারা যান। এ আন্দোলনে যত পুলিশ মারা গিয়েছেন, এর দায় শেখ হাসিনার।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন লড়াই-সংগ্রামের কথা জানি। আবার এর উল্টো দিকে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের দালালির কথাও জানি। আমরা জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘গণমাধ্যম থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা (স্পিরিট) এবং আকাঙ্ক্ষা পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুঃখের কারণ। এখনো আমাদের অনেক ভাই-বোন আহত অবস্থায় হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন। এখনো অনেকে শহীদ হচ্ছেন। অথচ গণমাধ্যমগুলোতে সেই শহীদ এবং আহতদের কথা দিন দিন কমে আসছে। জনগণের স্মৃতি থেকে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বেশ কিছু গণমাধ্যম জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের নিহত হিসেবে উল্লেখ করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের সব প্রজ্ঞাপনে তাঁদের শহীদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশবাসী তাঁদের শহীদ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে, সেখানে গণমাধ্যম তাঁদের শহীদ বলতে কার্পণ্য করছে। গণমাধ্যমে তাঁদের মৃত এবং নিহত হিসেবে দেশবাসীর কাছে উপস্থাপন করছে। এই গণ-অভ্যুত্থান রক্তের মাধ্যমে ঘটেছে, রক্ত দিয়েই নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে। যতই ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন, এই ইতিহাস মুছে যাওয়ার নয়।’

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় অনেক সাংবাদিক শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন। প্রেসক্লাবের অনেক সদস্য গণ-অভ্যুত্থানে সমর্থন জুগিয়েছেন। তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। তিনি বলেন, ‘সেই সময় আমরা শুনেছি আমাদের সংবাদ প্রচার করতে দেওয়া হয়নি। সংবাদ সংগ্রহের কারণে মিডিয়া হাউসগুলোতে সাংবাদিকেরা নির্যাতিত হয়েছেন। এখনো সেই সাংবাদিকদের নানা প্রকার চাপের মধ্যে রাখা হয়েছে বলে জেনেছি। সে হাউসগুলোতে ফ্যাসিবাদের এজেন্টরা রয়ে গেছে। তাদের বিতাড়িত করতে হবে।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা স্বাধীন গণমাধ্যমের কথা বলছি, সেই গণমাধ্যমের মধ্য থেকে ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিতাড়িত করে জনগণের সামনে চিহ্নিত করতে হবে। কারণ, আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত গণমাধ্যম চাই। ফ্যাসিবাদমুক্ত গণমাধ্যম ছাড়া নতুন বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব হবে না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এক জিনিস আর ফ্যাসিবাদের পক্ষে কথা বলা অন্য জিনিস। আবারও বলতে চাই, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করুন, কিন্তু জনগণের বিপক্ষে দাঁড়াবেন না, ছাত্র-জনতার রক্তের বিপক্ষে দাঁড়াবেন না।’

জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটেন উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া প্রমুখ।

জাতীয় প্রেসক্লাবের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে
জাতীয় প্রেসক্লাবের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে। ছবি: সংগৃহীত

মুরাদনগরে যত অপকর্মে জড়িত সাবেক এমপি হারুন

কোম্পানীগঞ্জ বাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল, চট্টগ্রাম বন্দরে ৪০০ কোটি টাকার ৮ একর জমি দখল, ঢাকা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আট ট্রাস্টি বোর্ডের প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, টেন্ডারবাজি, জমি দখল, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ ও বালু উত্তোলনসহ নানা অপকর্মে জড়িত ছিল কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে পরপর দু’বারের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন (এফসিএ)। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক পেয়েও হেরে যান আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সরকারের কাছে। ১০ বছরে তিনি অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন শত শত কোটি টাকা। আওয়ামী সরকারের পতনের পর সাবেক এই এমপি আত্মগোপনে আছেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বিদেশে পালিয়ে গেছেন তিনি। ভুক্তভোগীরা বর্তমানে হারুন ও তার স্বজনদের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন তার স্ত্রী ও ছেলের নামেও দেশে-বিদেশে গড়েছেন কয়েকশ’ কোটি টাকার সম্পদ। তার কথার বাইরে মুরাদনগরে টুঁ শব্দ করা যেতো না। কেউ প্রতিবাদ করলে হামলা-মামলার শিকার হতে হতো। থানা পুলিশ, প্রশাসন সব কিছু চলতো তার হাতের ইশারায়।

বালু মহাল নিয়ন্ত্রণ: হারুন ২০১৪ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর মুরাদনগর উপজেলা ২২টি ইউনিয়নের ৫ শতাধিক ড্রেজার মেশিন দিয়ে ২ হাজার একর জমির বালু উত্তোলন নেয়। তার বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ করতো সাবেক মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সরকার ওরফে টিয়া রফিক, ধামঘর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাদের, নজরুল মেম্বার, আরিফুল ইসলাম শাহেদ, রুহুল আমিন, জে আই জুয়েল ও বেলালসহ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট বালু উত্তোলনের নামে কৃষকের তিন ফসলি জমির মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করতো। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানায়, ২০১৪ সালে মুরাদনগর উপজেলায় ২৪ হাজার হেক্টর জমি ছিল। এখন আছে ২১ হাজার হেক্টরের একটু উপরে। এ এলাকায় ২ হাজার হেক্টর জমি বিলীন হয়ে গেছে। এই বালু মহাল থেকে প্রতিদিন ৫ লাখ টাকা পেতেন হারুন।

টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ: মুরাদনগর উপজেলার সব ধরনের টেন্ডার ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনের কব্জায় ছিল। এসব ধামঘর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাদের তার একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী দেখভাল করতেন।
সরকারি অফিস নিয়ন্ত্রণ: নিয়োগ, বদলিসহ সরকারি অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হতো তার নির্দেশমতো। দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকায় উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ, ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকায় প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিতেন তিনি। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যক্রমও নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি।
নির্বাচনে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়: আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে নিতেন ৮ কোটি, ভাইস চেয়ারম্যান থেকে নিতেন ৫ কোটি ও ইউপি চেয়ারম্যানদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ও একক প্রার্থী ঘোষণা করে ৩০ লাখ টাকা নিতেন ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন।

বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা:
২০১৪-২০২৪ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর অসংখ্য মামলা দিয়েছেন হারুন। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটি ভাইস চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা-৩ আসনের ৫ বারের এমপি আলহাজ শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদকে ২০০৪ সালে ঢাকায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে গ্রেনেড হামলা মামলার সঙ্গে জড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া তার ৫ ভাইয়ের বিরুদ্ধে গাড়ি ও বাড়িতে হামলা-মামলা, উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মোল্লা মজিবুল হকের বাড়িতে হামলা-মামলা, ইউপি সদস্য বাদশা, যুবদল নেতা মাসুদ রানা ও আলমগীর হোসেনকে মারধর করে হাত-পা ভেঙে দিয়েছেন।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা-মামলা: দৈনিক মানবজমিন সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ, ইত্তেফাক পত্রিকার সাংবাদিক মোশাররফ হোসেন মনির, কালের কণ্ঠ সাংবাদিক ও প্রফেসর আজিজুল হক রনি, আমাদের সময় সাংবাদিক হাবিবুর রহমান, ভোরের পাতা সাংবাদিক শামীম আহমেদ, দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার সাংবাদিক রায়হান চৌধুরী, এশিয়ান টিভির সাজ্জাদ হোসেন শিমুল ও ঢাকা প্রতিদিন পত্রিকার সাংবাদিক ফয়জুল ইসলাম ফয়সালের ওপর হামলা-মামলা দিয়ে হারুনের নির্দেশে তার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীরা কোণঠাসা করেছেন। কোম্পানীগঞ্জ বাজারের ভুক্তভোগী আলম আমিন, হাবিব, হোসেন, শাহ জাহান, পিন্টু, মহিউদ্দিন, কামাল আশিক ও নজরুলের অভিযোগ, কোম্পানীগঞ্জ গোমতী বেড়িবাঁধের সামনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে ১ বছরের জন্য ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় ইজারা নিয়ে ১৩৫টি দোকান তৈরি করে প্রতিটি দোকান ১৪-১৫ লাখ টাকা বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন হারুন ও তার সন্ত্রাস বাহিনী ভুবনঘর গ্রামের নজরুল ইসলাম মেম্বার। এ ছাড়া উপজেলা সদরে গোমতী মার্কেটে শতাধিক দোকান বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে কর্ণফুলী নদীর তীরে লালদিয়ার চরে ‘মেসার্স ইনকন ট্রেড লিমিটেড’ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যান্ড কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন ৮ একর জমি দখল করে হারুন গড়ে তুলে।

চাঁদাবাজি মামলা: কুমিল্লা বিজ্ঞ-আদালতে আলমগীর হোসেন ও এডভোকেট মো. মহসিন বাদী হয়ে সংসদ সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন (এফসিএ) সহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও  মুরাদনগর সদর ইউনিয়নের দরিকান্দি ৪০০ একর জমিতে মাছের প্রজেক্ট দখলের প্রায় ১৭ লাখ টাকা চাঁদা নেয়ার অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।

দুদকের প্রতিবেদন: নর্থ সাউথ আট ট্রাস্টির বিরুদ্ধে দুদকে মামলা হয়েছে। মামলার সূত্রে জানা গেছে, নর্থ সাউথ আট ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হারুনের ছেলে তানভীর হারুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে ব্যয় না করে নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বিলাসবহুল ১০টি গাড়ি কিনেন। পরবর্তী এগুলো বিক্রির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ কোটি ৬৪ লাখ ৩৭ হাজার ২৫৫ টাকা এবং জ্বালানি ও চালকের বাবদ ৮৩ লাখ ২৮ হাজার ৫০৩ টাকাসহ মোট ১০ কোটি ৪৭ লাখ ৬৫ হাজার ৭৫৮ টাকা আত্মসাৎ করেন। এসব বিষয়ে জানতে আলহাজ ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তার মোবাইল নম্বর দুটি বন্ধ আছে।

mzamin


বিহারি ক্যাম্পে অস্থিরতা, ৪ খুন by সুদীপ অধিকারী

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প। গত ৫ই আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর হঠাৎ করে অস্থির হয়ে উঠেছে এই বিহারি পল্লী। দু’গ্রুপের অস্ত্রের মহড়ায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৪ জন। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ছোড়া গুলিতে আহত হয়েছেন আর অন্তত শতাধিক ব্যক্তি। আর এই সব কিছুই ঘটছে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে চলা মাদকের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে।

সরজমিন জানা গেছে, ১৯৭১ সালে বাস্তুহারা বিহারিরা যারা মোহাম্মদপুরের রাস্তা, মসজিদ, স্কুলে অবস্থানরত ছিল তাদের জন্য ’৭২ সালে লিয়াকত হাউজিং সোসাইটির সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে অস্থায়ী ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর কলেজগেটের অদূরে গজনবী রোড ও বাবর রোডের মাঝের ১৭ একর জায়গা নিয়ে ক্যাম্প তৈরি করা হয়। সেখানেই বছরের পর বছর ধরে বসবাস করে আসছেন এই বিহারিরা। বর্তমানে নয়টি ব্লকে ভাগ হওয়া এই ক্যাম্পে প্রায় ৩৫ হাজার উর্দুভাষী লোকের বসবাস। ছোট্ট ছোট্ট খুপড়ি ঘরে ১৫-২০ জন করে থাকেন। দিনে-রাতে পালা করে ঘুমাতে হয় তাদের। মূলত রাজধানীর বিভিন্ন সেলুনে নরসুন্দরের কাজই তাদের প্রধান পেশা। তবে এই সরু গলির ঘরগুলোকে অনেকেই আবার মাদকের অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তুলেছে। বছরের পর বছর হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকের কারবার চলছে এই ক্যাম্পের  ভেতর। আর এই সিন্ডিকেট এতটাই বেপরোয়া- তাদের ভয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনও ক্যাম্পের ভেতরে ঢুকতে অনেক সময় সাহস করে না। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই মাদকের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতেই ৫ তারিখের পর থেকে মরিয়া হয়ে উঠে ভূঁইয়া সোহেল, চুয়া সেলিম, আরমান, পলু কসাই, সৈয়দপুরিয়া, ছটু মাসুদ, মনু, চারকু, রাজ সহ একাধিক গ্রুপ। এদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন ভূঁইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল। তার হয়ে কাজ করেন তার ভাই টুনটুন, রানা, রাজন ওরফে কালু, কলিম জাম্বু, মোহাম্মদ আলী, আহম্মদ আলী ও বানর আরিফ। আর চুয়া সেলিমের পক্ষে রয়েছেন আরমান, আকরাম, মোল্লা আরশাদ, পেলু, কোপ মনু, পিস্তল নাঈম, শাহজাদা গেইল হীরা, সালাম, শান্ত, পিচ্চি রাজা, ফাট্টা আবিদ। সৈয়দপুরিয়া গ্রুপে আছেন তিল্লি শাহিদ, কামাল বিরিয়ানি, ইরফান বিরিয়ানি, মোল্লা জাহিদ, সাজ্জাদ, আমজাদ আলী বাবু। ভূঁইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, চুয়া সেলিম, সৈয়দপুরিয়া গ্রুপের বাবু ওরফে আমজাদ আলী বাবু, আসলাম ওরফে মেন্টাল আসলাম ও শেখ গোলাম জিলানি মূলত পারিবারিকভাবে ইয়াবা ও হেরোইনের কারবারে জড়িত। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশের কারণে বিগত বছরগুলোতে ক্যাম্পে শক্ত অবস্থান ছিল সোহেলের। আর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিরোধীদের সাপোর্টে রাজত্ব করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন চুয়া সেলিম চক্র। আগে এসব দ্বন্দ্বে লাঠি, চাকু, দাউ, বঁটি, ছুরি ব্যবহার হলেও এখন যোগ হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র। আর এই আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতেই নিহত হয়েছেন সনু, শাহেনশাহ্‌, সাগর ও শাহনেওয়াজ কাল্লু।
গত ১৬ই অক্টোবর এই মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বে নিহত হন ক্যাম্পের ৮ নম্বর ব্লকের প্রয়াত আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে শাহনেওয়াজ কাল্লু (৩৮)। তার বোন নাসরিন আখতার জানান, আমার ভাই স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন। সেদিন রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ক্যাম্পের জালাল ডেকোরেটরের সামনে দুই গ্রুপের গোলাগুলির মধ্যে পড়েন। ওই সময় আমার ভাইয়ের গায়ে গুলি লাগে। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ভাইয়ের কথা বলতে বলতে অশ্রুশিক্ত হয়ে বলেন, আমার ভাইয়ের নামে কেউ কখনো কোনো অভিযোগ দিতে পারবে না। আমার ভাই কাজ করে খায়। আর তাকে এইভাবে গুলি করে মারা হলো। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। এর আগে গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন ক্যাম্পের বাবুল হোসেনের ছেলে অটোরিকশাচালক সানু। মাদক ব্যবসা নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে একপর্যায়ে সনুকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় প্রতিপক্ষ। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া তার প্রতিবেশী শামীম হোসেন ও সাজিদ আহমেদ বলেন, সনু জেনেভা ক্যাম্পের ৫ নম্বর সেক্টরে থাকতেন। সেদিন সকালে জেনেভা ক্যাম্পের মাদক কারবারি বুনিয়া সোহেলকে সনু ভাই বলেছিলেন, ‘তুমি মাদক বিক্রি করছো, এতে এখানকার ছেলেরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’ পরে বিষয়টি নিয়ে দু’জনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে সোহেলসহ কয়েকজন গুলি চালালে সনুর বুকে-পেটে গুলি লাগে। সে সময় বেল্লাল, শাহ আলম, শুভ, জানে আলম, শাওন নামে আরও বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। একইদিনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শাহেন শাহ নামের আরও একজন। মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বে ক্যাম্পের মো. ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো. সাগর নামে আরও একজন মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। মো. সাগরের প্রতিবেশী মো. শহিদ কুরেশি বলেন, এই সেদিনের কথা। সাগর ক্যাম্পের মধ্যে ওদের বাথানে (গরু রাখার জায়গা) গরু আনতে গিয়েছিল। এরমধ্যেই চুয়া সেলিম ও ভূঁইয়া সেলিম গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। তাদের ছোড়া গুলি এসে লাগে সাগরের মাথায়। সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। তিনি বলেন, আগে লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষ হতো। গত ৫ই আগস্ট থানা থেকে এরা সব অস্ত্র লুট করেছে। সেই অস্ত্রই এখানে ব্যবহার হচ্ছে। আর এই অবৈধ অস্ত্রের গুলিতেই এত প্রাণহানি হচ্ছে। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান হলেও তেমন কেউ ধরা পড়ে না। অস্ত্রও উদ্ধার হয় না।

এসব বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হাসান বলেন, জেনেভা ক্যাম্পের দ্বন্দ্ব মূলত মাদক বেচাকেনা নিয়ে। আমরা এসব সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। কিন্তু আমাদের লোকবল কম হওয়ায় তেমন ফলাফল পাচ্ছি না। তিনি বলেন, এরা অনেক আধুনিক। তারা ওয়াইফাই ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। মোবাইল ফোনে সিম থাকে না। আবার ক্যাম্প গিঞ্জি এলাকা হওয়ায় কোথায় মাদক ও অস্ত্র রেখে দেয় তাও পাওয়া যায় না। আর তাদের লোক ক্যাম্পের চারপাশে ছড়ানো থাকে। আমরা ঢোকার আগেই তারা খবর পেয়ে পালিয়ে যায়। এরপরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে, কয়েকজনকে আমরা গ্রেপ্তারও করেছি। তিনি বলেন, আসলে মাদক নির্মূল করা পুলিশের একার কাজ না। এজন্য সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
mzamin

পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে ভারতীয় দূতের একঘণ্টা বৈঠক

পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিনের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা করেছেন ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। রোববার বিকালে সেগুনবাগিচায় ওই আলোচনা হয়। ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া শেখ হাসিনার অবস্থা ও অবস্থানের বিষয়টি আলোচনায় স্থান পেয়েছে কিনা- তা নিয়ে ধূম্রজাল  তৈরি হয়েছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের যেকোনো আলোচনায় কোনো না কোনো ফর্মে ‘হাসিনা ইস্যুটি উঠবে এটাই কাঙ্ক্ষিত। কিন্তু না, আলোচনা শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তে ভারতীয় দূত সাংবাদিকদের বলেছেন, তাদের আলোচ্যসূচিতে অন্য অনেক কিছু ছিল। এ বিষয়ে তাদের কথাবার্তা বলার সুযোগ হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, মেডিকেলের ভিসার পাশাপাশি তৃতীয় দেশের ভিসাপ্রার্থীদের ভারতের ভিসা দেয়ার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রয়োজনীয় জনবল কাজে যোগ দিলে ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হবে।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাতে জানানো হয়, ভারতীয় ঋণে বাংলাদেশে বাস্তবায়নাধীন কিছু প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মীদের কাজে ফেরত আনা, ভারতীয় ভিসা কার্যক্রমের সর্বশেষ অবস্থা, রিভাইজড ট্রাভেল অ্যারেঞ্জমেন্ট রিনিউয়াল, গত সপ্তাহে বাংলাদেশের জলসীমা থেকে আটক হওয়া ভারতীয় জেলেদের আইনি প্রক্রিয়া শুরুর জন্য কনস্যুলার অ্যাকসেস, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে আটকা পড়া বাংলাদেশি জেলেদের দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি)সহ রুটিন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকাদি নিয়মিতভাবে আয়োজন বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব ও ভারতীয় দূতের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। স্মরণ করা যায়, গত সপ্তাহে বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ ধরা অবস্থায় ৭১ জন ভারতীয় জেলেকে আটক করে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। তাদের সঙ্গে দেখা করে নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই করতে দ্রুত কনস্যুলার অ্যাকসেস চায় ভারতীয় হাইকমিশন। এদিকে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে ১২ জন বাংলাদেশি জেলে আটক রয়েছেন, তাদের ভারতীয় জলসীমা থেকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তাদের দ্রুত ফেরাতে চায় বাংলাদেশ। উল্লেখ্য, গত নির্বাচনের আগে নয়াদিল্লিতে সর্বশেষ এফওসি হয়েছে ভারতের সঙ্গে। এ বছর শেষে অথবা আগামী বছরের শুরুতে পরবর্তী এফওসি ঢাকায় হওয়ার কথা রয়েছে। প্রসঙ্গত জুলাই-আগস্টের নারকীয় ও বীভৎস হত্যাকাণ্ডের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সারা দেশে দুই শতাধিক মামলা হয়েছে। শুধু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেই অভিযোগ জমা পড়েছে ৬৪টি। এরইমধ্যে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া। তদন্ত করছে জাতিসংঘও। গত ১৭ই অক্টোবর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। তাকে হাজির করতে বলা হয়েছে ১৮ই নভেম্বরের মধ্যে। এ অবস্থায় রোববার পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় দূত। বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় শেখ হাসিনাকে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় ফেরত দিতে বাধ্য ভারত। তাদের মতে, জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ড দেশে-বিদেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছেন। তাই এখন আর রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা বলে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। ভারত বন্দি বিনিময় চুক্তি মানবে কিনা; সেটির ওপরই শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো পুরোপুরি নির্ভর করছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

mzamin


ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে তুলকালাম: ফল পরিবর্তনের আন্দোলন

এইচএসসি’র সাতটি বিষয়ে অটোপাসের দাবিতে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কার্যালয়ে গতকাল চেয়ারম্যান, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। একপর্যায়ে তারা ভেতরে ঢুকে পড়েন। ভাঙচুরও করেন। সে সময় তাদের ওপর হামলা হয়। এতে ১১ জন শিক্ষার্থী আহত হন। বেলা সাড়ে ১২টার পর ‘এইচএসসি ব্যাচ-২০২৪’ এর ব্যানারে একদল শিক্ষার্থী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিল নিয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বেলা ১টার দিকে মিছিলটি বোর্ডের ফটকের সামনে পৌঁছায়। তাদের মধ্যে পাস করা ও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা ছিলেন।  একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বোর্ডের ভেতরে ঢুকে পড়েন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, বোর্ডের ভেতরে তাদের ওপর হামলা হয়। এই হামলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তারা এই হামলার বিচার চান। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের নানা অসঙ্গতি নিয়ে অভিযোগ জানাতে বোর্ডে এসেছিলেন। তবে, বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের ওপর হামলা করেন। যদিও বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, হুড়োহুড়িতে কিছু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীরা বোর্ডের নানা সম্পদ বিনষ্টের চেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, বাতিল ৬টি পরীক্ষা যে পদ্ধতিতে ম্যাপিং করে ফলাফল তৈরি করা হয়েছে তাতে চরম বৈষম্য তৈরি হয়েছে। সিলেট মাদ্রাসা বোর্ডের মাত্র ৩টি পরীক্ষা হয়েছে, কিন্তু তাদের সাবজেক্ট ম্যাপিং করায় রেজাল্ট ভালো হয়েছে। অথচ আমরা ভালো পরীক্ষা দিয়েও ফেল করেছি। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান।

চট্টগ্রাম থেকে আন্দোলনে আসা শাফিন মাহমুদ বলেন, চরম বৈষম্যের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার যত বেশি পরীক্ষা হয়েছে সে বোর্ডের শিক্ষার্থীরা তত বেশি পরীক্ষা দিয়েছে, তারা তত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনো বোর্ডে ৬ পরীক্ষা দিয়েছে, কেউ ৩টি পরীক্ষা দিয়েছে। অথচ রেজাল্টের ক্ষেত্রে কম পরীক্ষা দেয়া বোর্ডের রেজাল্ট ভালো হয়েছে। এই বৈষম্য আমরা মানি না। অবিলম্বে ঘোষিত ফলাফল বাতিল করে নতুন পদ্ধতিতে রেজাল্ট প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

এক পর্যায়ে সেখানে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তারা আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, যারা এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি তারা অনুষ্ঠিত হওয়া পরীক্ষাগুলোতেও অটোপাস দাবি করেছেন। আমার রুমসহ বেশ কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুর করেছেন।

এদিকে মেডিকেল রিপোর্টার জানান, বৈষম্যহীন রেজাল্টের জন্য প্রতিবাদ করায়, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় ঘটনায় ১১ জন আহত হন। তাদের মধ্যে অন্যতম- মোসা. তাহমিনা, মো. সাগর, মো. শাহরিয়ার, মো. ওয়াহিদ, মোসা. ফাহমিদা আক্তার, আশুতোষ। গতকাল দুপুর তিনটার দিকে আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।

আহত এক শিক্ষার্থী জানান, আমাদের বৈষম্য করে রেজাল্ট প্রকাশ করেছে। আমাদের এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্টের মূল্যায়ন করে এইচএসসি রেজাল্ট দেয়ার কথা। কিন্তু সব সাবজেক্টে এ+ পেয়েছে কিন্তু একটি সাবজেক্টে সে ডি গ্রেড পেয়েছে, এটা কেন করলো। আমাদের কথা হচ্ছে যেহেতু আমাদের এসএসসি রেজাল্ট দেখে মূল্যায়ন করার কথা ছিল, সেটা বিবেচনা করে এইচএসসি রেজাল্ট প্রকাশ করা উচিত ছিল। কিন্তু আমাদের রেজাল্ট অনেক খারাপ হয়েছে। তাই আমরা শান্তিপূর্ণভাবে শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান করছিলাম। কিন্তু শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারী-কর্মকর্তারা লাঠিসোটা দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমরা আহত হই।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে আহত হয়ে মোট ১১ জন এসেছিল- তাদের মধ্যে ৬ জনকে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে আরও ৫ জনকে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
mzamin

সাকিব ইস্যুতে রণক্ষেত্র মিরপুর by ইশতিয়াক পারভেজ

লস অ্যানজেলেস থেকে দুবাই চলে এলেন সাকিব আল হাসান। দেশের মাটিতে টেস্ট ক্যারিয়ারের  ইতি টানার স্বপ্ন পূরণ হওয়া যেন সময়ের ব্যাপার। কিন্তু হলো না, দেশ থেকে বার্তা দেয়া হলো তাকে নিরাপত্তা দেয়া যাবে না। দেশে এলে তার দায়িত্ব নেবে না সরকার। বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারের জন্য এ যেন বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। গেল বুধ ও বৃহস্পতিবার ক্ষণে ক্ষণে হলো নাটক। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা সংকটের কারণে তিনি নিজেই দেশে না আসার সিদ্ধান্ত নিলেন। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সামনে বৃহস্পতিবার অবস্থান নিয়েছিলেন সাকিব-বিরোধীরা। তারা সেখানে বিক্ষোভ করেন। জানিয়ে দেন সাকিব দেশে ফিরলে প্রতিহত করা হবে। এরপরই সাকিবের ভক্তরা ঘোষণা দিলেন লং মার্চের। গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামের সামনে এসে তারা অবস্থান নিলেন। কিন্তু সেখানে বিপত্তি, তাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে আক্রমণ করেন কে বা কারা। তাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই। তারা পালন করলেন রহস্যময় নীরব ভূমিকা। তাতেই গতকাল মিরপুর স্টেডিয়াম এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। সারা দিন মাঠের  ভেতরে অনুশীলন করে গেল বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা দল। প্রথম টেস্টে সাকিবের খেলা হচ্ছে না কিন্তু এই ঘটনাতে না থেকেই যেন থাকলেন সাকিব! এমনকি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সংবাদ সম্মেলনে যতটা না ম্যাচ নিয়ে আলোচনা তার চেয়ে বেশি সাকিব নিয়ে প্রশ্ন। অধিনায়ক নিজেও জানালেন সাকিবের এই ভাবে বাদ পড়া দুঃখজনক। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই পরিকল্পনা ছিল আমাদের। বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় সাকিব। শুধু বাংলাদেশ বলবো না। খুবই দুর্ভাগ্যজনক যেকোনো কারণেই হয়নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, প্রত্যেকটা খেলোয়াড় মনে করে এটা পেন্ডিং থেকেই গেল।’

সাকিবের শেষ ইচ্ছা ছিল তিনি দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলে ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন। অনেক নাটকীয়তার পর তাকে রেখে স্কোয়াড ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দেশের বিমানও ধরেছিলেন তিনি। কিন্তু তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জানায় দেশের ক্রিকেট সমর্থকগোষ্ঠীর একটি অংশ। ওই পরিস্থিতিতে সবুজ সংকেত না পেয়ে দুবাই থেকে ফিরে যান বাংলাদেশের বাঁহাতি অলরাউন্ডার। তাকে বাদ দিতে বাধ্য হন নির্বাচকরা। পরদিন সাকিবকে ফেরানোর দাবিতে মিরপুরে স্টেডিয়ামের সামনে বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকগোষ্ঠী।

গতকাল দুপুরে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উদ্দেশ্যে লং মার্চ করার কথা সাকিব ভক্তরা আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন। দুপুর ২টার দিকে স্টেডিয়ামের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন তারা। সংখ্যায় তারা খুব বেশি ছিলেন না। শ’খানেক লোক মিরপুর স্টেডিয়ামের সামনে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। তারা দীর্ঘক্ষণ ধরে মিছিল করতে থাকেন ও দুই নম্বর গেটের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। যদিও পুলিশ তাদের যেতে দেয়নি। দুই নম্বর গেট থেকে প্রশিকার মোড় পর্যন্ত ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছিলেন আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা। তাদের দাবি, সাকিব দেশের হয়ে অনেক সম্মান বয়ে এনেছেন। তাকে তাই দেশের মাঠ থেকে বিদায় নেয়ার সুযোগ দেয়া হোক।
এরপর প্রধান ফটকের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। স্টেডিয়ামে থাকা সেনাবাহিনী এবং পুলিশ স্টেডিয়ামে অবস্থান করেছিলেন। ফলে শ’খানেক সাকিব ভক্তের জন্য স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকের সামনে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। এ সময় হুট করেই অবস্থান কর্মসূচি চলার একপর্যায়ে বাঁশ ও লাঠি নিয়ে কয়েকজন লোক এসে তাদের ওপর হামলা চালায়, তারা লাঠিপেটা করেন। এতে করে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায় সাকিব ভক্তদের। দু’পক্ষের মারামারির একপর্যায়ে সানি মিয়া নামের এক সাকিব-ভক্ত সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে সানির দাবি, তিনি সাকিবের জন্য এসেছিলেন। বলেন, ‘আমি কেবল চেয়েছি সাকিব শেষ ম্যাচটি খেলুক। কিন্তু সাকিববিরোধীরা আমাকে ধাওয়া দেয়। আমি দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করি। তখন আমাকে ধরে নিয়ে এসেছে। আমি কোনো অন্যায় করিনি। বাংলাদেশকে যে ক্রিকেটার সম্মান এনে দিয়েছে, তার সম্মানজনক বিদায় দেখতে চাওয়া তো অপরাধ নয়।’

এই সাকিব বিরোধিতা হতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ক্ষতির কারণ। সারা বিশ্বে এই ঘটনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে হতে পারে ভুল ধারণা। দক্ষিণ আফ্রিকা দল নিরাপত্তার অজুহাত দিয়ে বাতিল করতে পারে সিরিজ। এমনকি অন্য দলগুলোও বাংলাদেশ সফর বাতিল করতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে নারী বিশ্বকাপ দুবাইয়ে আয়োজন করতে হয়েছে বিসিবিকে। এমন চলতে থাকলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ওপর পড়তে পারে বড় ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব।

mzamin

দুদকে থমকে গেছে পুরনো অনুসন্ধান by মারুফ কিবরিয়া

গণঅভ্যুত্থানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পালাবদল হয় ৫ই আগস্ট। ১৫ বছরের আওয়ামী শাসনের অবসান ঘটে। ক্ষমতার পালাবদলে নতুনত্ব আসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যক্রমেও। সংস্থাটি নেমে পড়ে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে। একের পর এক নতুন অনুসন্ধানের ফাইলের স্তূপ কর্মকর্তাদের টেবিলে। ফলে ৫ই আগস্ট পূর্ববর্তী সময়ের অনুসন্ধানের ফাইলগুলোর কাজে নেমে আসে স্থবিরতা।

সংশ্লিষ্ট দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক বছরে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, রাজস্ব বোর্ডের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছিল সংস্থাটি। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার দুর্নীতি অনুসন্ধানও শুরু হয়। কিন্তু গত  আড়াই মাসে সে অর্থে এসব অনুসন্ধানের কাজ খুব বেশি এগোয়নি। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পর দলটির এমপি-মন্ত্রীদের নিয়ে ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায় কমিশনের।

এক দুদক কর্মকর্তা মানবজমিনকে জানান, তার  হাতে ৫ই আগস্টের আগে একাধিক অনুসন্ধান ও তদন্তের ফাইল ছিল। কিন্তু সরকার পতনের পর নতুন আরও দু’টি অনুসন্ধান করতে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি বলেন, আগের কাজগুলো অর্ধেকের বেশি শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এখন নতুন ফাইলের কাজের জন্য আগেরগুলো বন্ধই আছে।

অন্য এক কর্মকর্তা জানান, বিগত সময়গুলোর চেয়ে দুদকের কর্মকর্তাদের কাজের চাপ বেশি। তবে এই চাপ শুধু পতিত সরকারের প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের কারণে। আগের অনুসন্ধানগুলোর খবর তো নেই। সেগুলোতে হাতই দেয়া যাচ্ছে না।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে ঢাকা ওয়াসার ছয়টি প্রকল্পে অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুদক। এ ছাড়া নিয়োগ সংক্রান্ত একটি অনিয়মের অনুসন্ধানও করে সংস্থাটি। দু’টি অনুসন্ধান এক কর্মকর্তার অধীনে একাধিক কর্মকর্তা কাজ শুরু করেন। কিন্তু দুই বছর পার হওয়ার পরও তা শেষ হয়নি। এর মধ্যে শুধু নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে গত বছর মে মাসে ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানসহ ১০ জনকে আসামি করে মামলার সুপারিশ দেয়া হয়। কিন্তু সেটিও দুদকের এক কমিশনারের অনাগ্রহে করা যায়নি। শুধু তাই নয়, আইন অনুবিভাগের অনাপত্তি সত্ত্বেও অনুসন্ধানের কার্যক্রমে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানের এক কর্মকর্তা বলেন, ওয়াসার প্রকল্পে দুর্নীতি অনুসন্ধানটি অনেক বড়। কয়েকশ’ নথি সংগ্রহ করতে হয়েছে। তবে এর মধ্যে নতুন করে সরকার পরিবর্তন হওয়ায় এখন কমিশনের পক্ষ থেকে কাজের ধরন পাল্টেছে। কমিশন নতুন করে সাবেক এমপি-মন্ত্রীদের ফাইল ওপেন করেছে। ফলে আগের অনুসন্ধানগুলোর কাজ আপাতত করা হচ্ছেই না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউজার ফি (রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ নেয়া অর্থ) তহবিলে জমা না দেয়া, বিল-ভাউচার ছাড়া ব্যয়, যন্ত্রপাতি না কেনা সত্ত্বেও ঠিকাদারকে অর্থ পরিশোধসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ধরে অন্তত ২৪৬ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগে গত বছর অনুসন্ধানে নামে দুদক। এক বছরের বেশি সময় হয়ে গেছে তা শেষ হয়নি।  এর মধ্যে বিএসএমএমইউ’র একাধিক কর্মকর্তাকে তলবও করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি সরকার পতনের কারণে নতুন ফাইল তৈরি হওয়ায় এই অনুসন্ধানটিও করতে পারছেন না বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র আরও জানায়, চলতি বছর সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। এর মধ্যে বেনজীরের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলা করলেও মূলত সম্পদের অনুসন্ধানের কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি সংস্থাটি। দুদকের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগস্ট মাস থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত শতাধিক প্রভাবশালীর সম্পদের খোঁজ শুরু করায় বেনজীরের ফাইলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছে কমিশন। অন্যদিকে রাজস্বের সাবেক কর্মকর্তা মতিউরের ফাইলের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এ মুহূর্তে যাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে: গত ১৩ই আগস্ট থেকে আওয়ামী লীগ আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী (জাভেদ), নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রহমান, রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে। এর মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে দুদক।

এ ছাড়াও আছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমানের নামও রয়েছে অনুসন্ধান তালিকায়।
অন্যদিকে সাবেক সংসদ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, ধীরেন্দ্রনাথ শম্ভু, নিজাম উদ্দিন হাজারী, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, বেনজীর আহমেদ, ড. জান্নাত আরা তালুকদার হেনরী, অসীম কুমার উকিল, অপু উকিল, শাহে আলম তালুকদার, ডা. মনসুর আহমেদ, আবুল কালাম আজাদ, সোলায়মান হক জোয়াদ্দার (ছেলুন), ইকবালুর রহিম, মো. সাইফুজ্জামান শেখর, তানভীর ইমাম, এনামুল হক, মো. আখতারুজ্জামান বাবু, শফিকুল ইসলাম শিমুল, নাঈমুর রহমান দুর্জয়, মোহাম্মদ হাবিব হাসান, মো. নুরুল ইসলাম তালুকদার, আব্দুল ওদুদ, আয়শা ফেরদৌস, রণজিৎ কুমার রায়, সাদেক খান, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, নাছিমুল আলম চৌধুরী, মাহফুজুর রহমান মিতা, মো. আবু জাহির, এইচ বি এম ইকবাল, সোলায়মান জোয়ার্দার, শাহীন চাকলাদার, এইচ এম ইব্রাহিম ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে তমাল মুনসুরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

অনুসন্ধান তালিকায় আরও আছেন- নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র জহুরুল ইসলাম চাকলাদার। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব শাহ কামাল, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার প্রধান হারুন অর রশীদ, সাবেক ডিআইজি আব্দুল বাতেন, এনএসআই’র সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) টি এম জোবায়ের, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক এপিএস-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু, বিএফআইইউ’র সাবেক প্রধান মাসুদ বিশ্বাস, বিসিআইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান হাইয়ূল কাইয়ূম ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দ্বিতীয় সচিব আরজিনা খাতুনের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। অন্যদিকে বিএসএমএমইউ’র সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মুনাজ আহমেদ নূর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য শিরীণ আখতারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

mzamin

অধ্যাদেশ দিয়ে চলবে সংসদ সচিবালয় by কাজী সোহাগ

সংসদ সচিবালয় আইনের পরিবর্তে এখন থেকে অধ্যাদেশ দিয়ে চলবে সংসদ সচিবালয়। ফলে আর্থিক ও প্রশাসনিক সব ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে সংসদ সচিবকে। আগের আইন অনুযায়ী সংসদ সচিবের দায়িত্ব ছিল প্রশাসনিক এবং নীতিগত বিষয়ে স্পিকারকে পরামর্শ দেয়া। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগের প্রেক্ষিতে আইনি জটিলতায় পড়ে ১২শ’ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংসদ সচিবালয়। ৫ই আগস্টের পর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়িত্ব পাওয়া সংসদ সচিবকে সরিয়ে নতুন সচিব নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু স্পিকারের পদ খালি থাকায় বিদ্যমান আইনে সচিব কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত মিটিং ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছেন না। অনেক কিছু সংস্কারের বিষয় থাকলেও আর্থিক ক্ষমতা না থাকায় উদ্যোগ নিতে পারছেন না। সংসদ সচিবালয় আইন-১৯৯৪ অনুযায়ী স্পিকার সব ক্ষমতার অধিকারি। কোনো কারণে স্পিকারের পদ শূন্য হলে ডেপুটি স্পিকার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংসদে ডেপুটি স্পিকারও নেই। তিনি বর্তমানে হত্যা মামলায় কারাগারে আটক আছেন। এ অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে সংসদ সচিবের ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে সংসদ সচিবের দায়িত্বে আছেন ড. মো. আনোয়ার উল্যাহ। গত ১৫ই সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশে, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিবকে সচিব হিসেবে পদোন্নতি প্রদান করে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে পদায়ন করা হয়। ১৭ই সেপ্টেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। তিনি ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (প্রশাসন) ক্যাডারে যোগদান করেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও মাঠ প্রশাসনের উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পদে তিনি কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ (বাজেট অনুবিভাগ), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে তার কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সচিবের ক্ষমতা বাড়ানো প্রসঙ্গে সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের কাছে এ নিয়ে একটি অধ্যাদেশ-এর খসড়া পাঠানো হয়েছে। পরে এটা আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ে পাঠানো হবে।  সম্ভবত এ সপ্তাহে জারি হবে। এটা হলে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা সচিব পাবেন। বর্তমানে সংসদ সচিবালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কিছু কম্পিউটার থেকে শুরু করে সরঞ্জামাদি কিনতে হবে। সচিবের এখন যে ক্ষমতা রয়েছে সেই ক্ষমতা বলে তা করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনের তাগিদেই আসলে বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের কর্ম-বণ্টন আদেশ-২০১২ অনুযায়ী সচিবের ১৫টি ক্ষমতা রয়েছে। এর বেশির ভাগই রুটিন ওয়ার্ক ও স্পিকারকে পরামর্শ দেয়া। অধ্যাদেশ জারি হলে সচিবের ক্ষমতা এর থেকে বাড়বে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের ২৭ দিনের মাথায় জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি, পদ সৃজন, বিলুপ্তিসহ বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন ও অর্থ ব্যয় সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় সংসদের জন্য চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করে সংসদ সচিবালয় কমিশন। পাশাপাশি আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৮২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪২০ কোটি ৯৭ টাকার বাজেট প্রক্ষেপণ অনুমোদন করা হয়। কিন্তু চলতি অর্থবছরের বাজেটের বেশিরভাগ টাকা এখন ব্যয় করতে পারছে না সংসদ সচিবালয়। অধ্যাদেশের বলে বাজেটের টাকা দিয়ে লুট হওয়া মালামাল কেনা ও সংসদ ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খসড়া অধ্যাদেশে যা বলা হয়েছে
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, উপদেষ্টা পরিষদে পাঠানো প্রস্তাবিত খসড়ায় বলা হয়েছে- যেহেতু সংসদ ভেঙে গেছে। রাষ্ট্রপতির কাছে মনে হয়েছে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান আছে। তাই সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদ সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ প্রণয়ন ও জারি করলেন। এতে জাতীয় সংসদ সচিবালয় আইন-১৯৯৪-এর (১৯৯৪ সালের ৮ নম্বর আইন) ধারা ২১-এর পর নতুন ধারা ২২ সংযোজিত হবে। ‘ক্রান্তিকালীন বিশেষ বিধান’ নামে নতুন ধারায় বলা হয়েছে: (১) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যা কিছুই থাকুক না কেন, জাতীয় সংসদ ভঙ্গ থাকলে এবং ভঙ্গকালীন সময়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার সংবিধানের ৭৪(২)(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ করলে এবং রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলে ও সংসদ সচিবালয় কমিশন বিদ্যমান বা বলবৎ না থাকলে, জাতীয় সংসদে স্পিকার নির্বাচন ও কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ সচিবালয় আইন এবং এর অধীন প্রণীত বিধিমালা ও নীতিমালাসমূহে সব ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা (সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিয়োগ, নিয়োগ বিধি সংশোধন, পদোন্নতি, পদ সৃজন ও বিলুপ্তি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংখ্যা নির্ধারণ ও তাহাদের হ্রাস-বৃদ্ধি, সচিবালয়ের বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন ও বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়সহ অন্য সব বিষয়) সংসদ সচিবের ওপর ন্যস্ত হবে। এ ছাড়া (২) উপধারা (১)-এ উল্লিখিত (ক) পদ সৃজন ও বিলুপ্তি, (খ) কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা নির্ধারণ, (গ) কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধিকরণ, (ঘ) যুগ্ম সচিব ও তদূর্ধ্ব পদে পদোন্নতি এবং (ঙ) নিয়োগ বিধি সংশোধন সংসদ সচিবের সভাপতিত্বে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং অর্থ বিভাগের সচিবের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সম্পন্ন হবে। এদিকে আইনে অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে- বাংলাদেশে অধ্যাদেশ হলো এমন আইন যা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি দ্বারা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সুপারিশে জারি করা হয়, যা সংসদের আইনের মতোই ক্ষমতাসম্পন্ন এবং সংসদের অধিবেশন না থাকলেই কেবল অধাদেশ জারি করা যেতে পারে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদ ভেঙে গেলে অথবা সংসদ অধিবেশন না থাকলে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে অধ্যাদেশ জারি করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তবে অধ্যাদেশের মাধ্যমে এমন কোনো বিধান করা যাবে না যা বাংলাদেশ সংবিধানের অধীন সংসদের আইন দ্বারা আইন সঙ্গতভাবে করা যায় না কিংবা এর মাধ্যমে সংবিধানের কোনো বিধান পরিবর্তিত হয়। কোনো অধ্যাদেশ জারি হওয়ার পর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকে এটি উপস্থাপিত হবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ কর্তৃক পাস হলে আইনে পরিণত হবে অন্যথায় অধ্যাদেশের কার্যকারিতা বিলুপ্ত হবে।

আন্দোলনের প্রভাবে শিশুদের আচরণিক পরিবর্তন

সাম্প্রতিক আন্দোলনের ফলে প্রাথমিক স্তরের শিশুদের মধ্যে নানা প্রভাব পড়েছে। পরিবর্তন ঘটেছে আচরণিক। শিশুদের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক, দুঃখবোধ, অস্থিরতা, উৎকণ্ঠা, অশান্তি, চমকে ওঠা/বাকরুদ্ধ হওয়া, বিচ্ছিন্নতাবোধ, অসহায়ত্ববোধ, অপরাধবোধ, ক্লান্তিবোধ, রাগ এসব প্রকাশ পাচ্ছে।

এসবের কারণে শিশুদের মধ্যে কিছু দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্রেও নানা পরিবর্তন এসেছে। এরমধ্যে- ঘুমের সমস্যা ও দুঃস্বপ্ন হওয়া, স্কুলে না যাওয়ার প্রবণতা, পড়ালেখায় অনীহা, ভয়-ভীতিতে থাকা, বিষণ্নতা-হতাশাগ্রস্ত থাকা, মোবাইল ফোনে আসক্তি, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, উচ্ছৃঙ্খলতা-সহিংস আচরণ করা, কারিকুলাম পরিবর্তনে ভীতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি-খবর দেখে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হওয়া, শিশুসুলভ চঞ্চলতা নষ্ট হওয়া, একাকিত্ববোধ, বন্যার কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়া, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি বেড়ে যাওয়া।

গতকাল ‘প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। গণসাক্ষরতা অভিযান ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট (ব্র্যাক-আইইডি)-এর যৌথ আয়োজনে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে মতবিনিময় সভায় শিশুদের আচরণিক পরিবর্তনের নানা কারণ তুলে ধরা হয়। যেমন, সরাসরি ঘটনাস্থলে সহিংসতা দেখা বা ভীতিকর অভিজ্ঞতা হওয়া, করাও কাছ থেকে জানা, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় দেখা, পত্রিকায় পড়া এবং তা কল্পনা করা, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, গুরুতর অসুস্থতা বা আঘাত ও অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু।

শিশুদের মনে দীর্ঘ সময়ের প্রভাব হতে পারে সহিংসতা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, মারামারি, রাজপথে যারা গুলি ছোড়া দেখেছে ও পরিবারে বা আশেপাশে শিক্ষার্থীদের গুরুতর আহত হওয়া বা মৃত্যু দেখেছে।
এতে অভিভাবকদের জন্য নানা ভূমিকা পালনের কথা বলা হয়। এরমধ্যে অন্যতম- শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বন্ধুত্বসুলভ আচরণ, পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে খাওয়া, পর্যাপ্ত খেলাধুলার উপাদান সরবরাহ করা, অন্যান্য শিশু বা বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে দেয়া, মোবাইল থেকে দূরে রাখা বিশেষ করে মারামারি ও হিংস্রতা বিষয়ক গেম, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার দেয়া ও স্থানীয়ভাবে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা।

বিদ্যালয় যেসব উদ্যোগ নিতে পারে- কো-কারিকুলাম ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করা, খেলার মাঠ ও সরঞ্জাম দেয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ ক্লাব, ডিবেট ক্লাব ও স্বাস্থ্যসেবা ক্লাবের মতো প্ল্যাটফরম তৈরি করা, নিয়মিত শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা, শ্রেণিকক্ষে আনন্দময় পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।

সরকার যেসব উদ্যোগ নিতে পারে- টেলিভিশনে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা, বারবার পাঠ্যবই পরিবর্তন না করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতির প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার উদ্যোগ নেয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা, পাঠ্যক্রমে ‘মানসিক স্বাস্থ্য’ যুক্ত করা ও ‘ট্রমা কাউন্সেলিং’ কর্মসূচি আয়োজন করা।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধূরীর সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অতিথি প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মোহিত কামাল, সদস্য, প্রাইমারি এডুকেশন কনসাল্টেশন কমিটির সদস্য চৌধুরী মুফাদ আহমেদ, ব্র্যাক-আইইডি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইরাম মারিয়াম, প্রফেসর এম. নাজমুল হক, ডিরেক্টর। এ ছাড়াও উপস্থিত অতিথিদের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত আলোচনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, এসএমসি সদস্য, উন্নয়নকর্মী, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, অভিযান সদস্য সংগঠন, এডুকেশন ওয়াচ, আইএনজিও, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশ নেন।

এসময় ড. এম এ মোহিত কামাল বলেন, শিশুদের জন্য সবকিছু নরমভাবে ব্যবহার করতে হবে। তাদের কোনো কিছু করতে জোর করা যাবে না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের মনের যত্ন নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।  বলেন, সাম্প্রতিক এ আন্দোলনের ফলে শিশুদের ওপর প্রভাব পড়েছে। ক্ষমতা কাঠামো শিশুদের আবেগ বা মানসিক অবস্থাকে বুঝতে পারেনি বা চায়নি। ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেরা নিজেরা সংগঠিত হয়েছে। সে জন্য শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে রাশেদা কে. চৌধূরী বলেন, শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিতের জন্য তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হবে। সে জন্য আমরা মতবিনিময় সভা থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরবো, যাতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহাল

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের বিধান সংক্রান্ত সংবিধানের বহুল আলোচিত ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা রিভিউ আবেদন পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ থেকে বাতিল ২ থেকে ৮ উপ-অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল (রিস্টোর) করে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় দেন। এই রায়ের ফলে কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে অসমর্থতা ও পেশাগত অসদাচরণের কোনো অভিযোগ উঠলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া যাবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। বিচারপতি অপসারণ প্রক্রিয়া নিয়ে গত সরকারের সময় যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, এই রিভিউ রায়ের মধ্যদিয়ে তার অবসান ঘটলো।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতি অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করা হলে সর্বোচ্চ আদালতের সঙ্গে টানাপড়েন তৈরি হয়। এরপর এক রিট মামলার রায়ে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে আপিল বিভাগ।
২০১৭ সালের ওই রায়েই বিচারপতি অপসারণে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলা হয়। তখনকার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চের ওই রায় সরকারের সঙ্গে সর্বোচ্চ আদালতের টানাপড়েনে নতুন মাত্রা দেয়। রাষ্ট্রপক্ষ ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করলেও পরে আর শুনানির উদ্যোগ নেয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ের পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে বিচারপতি অপসারণে কোনো বাধা ছিল না। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এবং রিভিউ আবেদন ঝুলে থাকায় গত সাত বছরে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল আর গঠন হয়নি। ফলে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরও হাইকোর্টের তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত ঝুলে রয়েছে পাঁচ বছর ধরে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাদের ‘দোসর’ বিচারকদেরও অপসারণের দাবি তোলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তাদের সুপ্রিম কোর্ট ঘেরাও কর্মসূচির মধ্যে গত সপ্তাহে ১২ জন বিচারককে আপাতত বেঞ্চ না দেয়ার সিদ্ধান্ত দেন প্রধান বিচারপতি। তখনই ষোড়শ সংশোধনী মামলা ফের আলোচনায় আসে। আন্দোলনের সূত্র ধরে ষোড়শ সংশোধনী মামলার রিভিউ আবেদনটি রোববার আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় আসে। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ শুনানিতে অংশ নেন। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস আদালতের অনুমতি নিয়ে শুনানি করেন।

২০১৪ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস করা হয়। ওই বছরের ২২শে সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশ হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ন্যস্ত করে সংবিধানের এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ই নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ৯ জন আইনজীবী হাইকোর্টে একটি রিট করেন। সে রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ৫ই মে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। হাইকোর্টের দেয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ২৮শে নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। সে আপিলের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৩রা জুলাই তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে রায় দেন। বহুল আলোচিত ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে, দেশের গণতন্ত্র, রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, সুশাসন, দুর্নীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। তবে আপিল বিভাগের দেয়া সে রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রাষ্ট্রপক্ষ ৯০৮ পৃষ্ঠার এ রিভিউ আবেদনে ষোড়শ সংশোধনীর পক্ষে ৯৪টি যুক্তি দেখিয়ে আপিল বিভাগের রায় বাতিল চাওয়া হয়েছিল।

আপিল শুনানিতে আদালতে মতামত উপস্থাপনকারী ১০ অ্যামিকাস কিউরির (আদালতের বন্ধু) মধ্যে শুধু ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর পক্ষে মত দেন। অপর ৯ অ্যামিকাস কিউরি ড. কামাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আই ফারুকী, আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, এ এফ এম হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার এম. আমিরুল ইসলাম, বিচারপতি টিএইচ খান, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, ফিদা এম কামাল, এ জে মোহাম্মদ আলী সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বিপক্ষে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
২০১৬ সালের ৫ই মে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ বলে রায় ঘোষণা করেন। ২০১৬ সালের ১১ই আগস্ট সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

সিলেটে কার্যক্রম শুরু দুই পিপি’র: একাংশের ক্ষোভ

সিলেটে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত দুই পিপিকে নিয়ে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা গত বৃহস্পতিবার থেকে দুই পিপি’র নিয়োগকে প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে রয়েছেন। দু’জনেরই কক্ষে দিয়েছেন তালা। এই অবস্থায় রোববার দুই পিপি যোগদান করে কাজ শুরু করেছেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর সিলেটের আদালতে নতুন করে পিপি, এডিশনাল পিপি ও এপিপি নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গত সপ্তাহের শেষ দিকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন সিলেটে এসে পৌঁছে। এরপর থেকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যদের একটি অংশ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি ও জেলা আইনজীবী সমিতির দুইবারের সাবেক সভাপতি এটিএম ফয়েজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি এডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিবের নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করেন। বৃহস্পতিবার তারা এ নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন। গতকাল সকালে পিপি’র রুমের সামনে অবস্থান নেন তারা। একপর্যায়ে তারা দু’জনের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারা জানিয়েছেন- সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর পদে নিয়োগপ্রাপ্ত এডভোকেট এটিএম ফয়েজ আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে বিএনপিতে আসলেও বিগত খুনি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দীর্ঘ আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল রহস্যজনক।

দলে তার সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তা, অনুপস্থিতি ও দলীয় নেতাকর্মীদের আইনি সেবা প্রদানে তার বিতর্কিত ভূমিকার কারণে এক সময় আইনজীবী ফোরামের সভাপতির পদ থেকে তাকে অব্যাহতি  দেয়া হয়। তিনি দীর্ঘ দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রান্ট হয়ে সপরিবারে স্থায়ীভাবে আমেরিকায় পাড়ি জমান। গত ৫ই আগস্টের খুনি হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর পর দেশে তিনি পিপি হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন এবং সংশ্লিষ্টদের ভুল বুঝিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদটি বাগিয়ে নেন। যা সিলেটের আইন অঙ্গনের সর্বস্তরের আইনজীবীদের মর্মাহত করেছে। নেতৃবৃন্দ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি বিবেচনা করে সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর পদে নিয়োগপ্রাপ্ত এটিএম ফয়েজকে পরিবর্তনের দাবি জানান। বিকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আইন ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়; দুটি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার পর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে বিক্ষোভ করেন তারা। একপর্যায়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্বিতীয়তলায় এডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিবকে দেখে আইনজীবীরা ক্ষেপে যান এবং তাকে লাঞ্ছিত করেন। আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের হস্তক্ষেপে স্থান ত্যাগ করেন মুজিব। পরে আয়োজিত এক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন; জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র সহ- সভাপতি এডভোকেট মুহিবুর রহমান। সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট বদরুল আহমদ চৌধুরীর পরিচালনায় বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সাবেক জিপি সিনিয়র এডভোকেট আক্তার হোসেন খান, মহানগর বিএনপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম আহমদ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ আশরাফুল ইসলাম, মহানগর বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব, জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হাসান আহমদ পাটওয়ারী রিপন প্রমুখ।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা ও বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে নিয়োগ পাওয়া পিপি এডভোকেট হাসান পাঠওয়ারী রিপন জানিয়েছেন- সিলেট থেকে আইনজীবী ফোরামের যে তালিকা পাঠানো হয়েছিল সেখানে সিনিয়র, জুনিয়রটি রক্ষা করে আইন পেশায় অভিজ্ঞ আইনজীবীদের একটি তালিকা প্রেরণ করেছিলাম। কিন্তু সেই তালিকা পুরোপুরি অনুসরণ না করায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে ক্ষোভ দেখাচ্ছেন আইনজীবীরা। তিনি জানান- সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট আশিকুর রহমানকে এডিশনাল পিপি করা হয়েছে। অথচ তার থেকে অনেক জুনিয়র একজনকে তার উপরে এডিশনাল পিপি করা হয়েছে। এটা কোনো ভাবে মেনে নেয়া যায় না। এদিকে; আইনজীবী ফোরামের নেতৃত্বে একাংশের আইনজীবীরা ক্ষোভ দেখালেও সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজে যোগদান করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এডভোকেট এটিএম ফয়েজ এবং নারী ও নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি এডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিব। কাজে যোগ দিয়ে তারা আদালতের কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন নারী ও নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি এডভোকেট মুজিব। তিনি জানান- সকালেই আমরা কাজে যোগদান করেছি। এ ছাড়া সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকদের সঙ্গে দেখাও করেছি। তিনি বলেন- বঞ্চিত হওয়ার কারণে মুষ্টিমেয় কয়েকজন আইনজীবী ক্ষোভ দেখাচ্ছেন। এটা সাময়িক। আমরা বসে এ ক্ষোভের প্রশমন করতে পারবো। এ ক্ষোভ থাকবে না। তিনি বলেন- আদালত প্রাঙ্গণে আমার সঙ্গে কেউ কোনো খারাপ আচরণ করেননি। বরং সবাই সহযোগিতা করছেন।