Sunday, October 18, 2009

জলবায়ু বিপর্যয় রোধে একটি বিকল্প কৌশলপত্ by আব্দুল কাইয়ুম

জলবায়ু-বিপর্যয় নিয়ন্ত্রণে এ পর্যন্ত যেসব চিন্তাভাবনা ও প্রযুক্তির প্রবর্তন করা হচ্ছে, তা সবই একমুখী। অর্থাত্ কার্বন নিঃসরণ কমাও, তাহলে উষ্ণায়ন সীমিত রাখা যাবে। এ জন্য বনায়ন বৃদ্ধি ও কয়লা-গ্যাস পোড়ানো হ্রাস বা দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করা। এটা ঠিকই আছে। কিন্তু এসব প্রচেষ্টা একমাত্রিক না হয়ে বহুমাত্রিক হওয়া উচিত। যেমন কার্বন নিঃসরণ কমালেও বায়ুমণ্ডলে ইতিমধ্যে বেড়ে ওঠা কার্বন গ্যাস কমানো যায় কি না? যদি এমন কোনো প্রযুক্তি বের করা যায়, যা বাতাসের কার্বন শুষে নিয়ে অক্সিজেন বাতাসে ফিরিয়ে দেবে, তাহলে তো চিন্তা থাকে না। সবুজ গাছ আসলে এ কাজটিই করছে। কিন্তু জনসংখ্যা যত বাড়ছে, বনায়ন ততই কমছে এবং এটা কমতেই থাকবে। সুতরাং গাছের কাজটা ল্যাবরেটরিতে স্বল্প স্থানে করা যায় কি না?
এ ব্যাপারে গবেষণা চালানোর একটি প্রস্তাব আমি সম্প্রতি কোপেনহেগেন সম্মেলনে উপস্থিত করলে সমবেত বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কারণ, এযাবত্ এ ধরনের প্রস্তাব প্রায় অনালোচিত ছিল। এডিটারস ব্রেকফাস্ট অনুষ্ঠানে বিষয়টি উত্থাপন করি। একজন প্যানেল আলোচক ভারতের রিচি আহুজা ওই প্রস্তাব প্রসঙ্গে বললেন, ল্যাবরেটরিতে সমাধান অসম্ভব। জার্মানির পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফান রামসটরফ আমার পাশে বসে ছিলেন। তিনি প্রথমে বলেন, এটা অসম্ভব। আমিও নাছোরবান্দা। কিছু যুক্তিতর্কের পর তিনি বলেন প্রস্তাবটা ভেবে দেখার মতো।
পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফান বলেন, গাছের কাজ আপনি ল্যাবরেটরিতে কীভাবে করবেন? আমি বললাম, এটা গবেষণার বিষয়। যদি উদ্ভিদের স্টেমসেল বিকশিত করে শুধু ক্লোরোফিল উত্পাদনের প্রত্যঙ্গটি তৈরির উপায় বের করা যায়, তাহলে এটা সম্ভব। সায়েন্স ডেইলিতে (জানুয়ারি ২, ২০০৬) প্রকাশিত এক নিবন্ধে উদ্ভিদের কোন স্টেমসেল কীভাবে বিভিন্ন অঙ্গ তৈরি করে, সে বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। উদ্ভিদের স্টেমসেল নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। সুতরাং একদিন হয়তো ল্যাবরেটরিতে গাছ ছাড়াই তার ক্লোরোফিল তৈরি করা সম্ভব হবে। ওই ক্লোরোফিল হবে এমন যে সূর্যালোকে রাখলে তা বাতাসের কার্বন ডাই-অক্সাইড শুষে নিয়ে অক্সিজেন মুক্ত করবে। স্টিফান বললেন, অক্সিজেন তো বাতাসে ফিরে যাবে, কিন্তু অবশিষ্ট কার্বন দিয়ে কী করবে? আমি বললাম, গাছ কী করে? আমরাও তাই করব। তিনি বললেন, গাছ তো কাঠ বানায়। আমি বললাম, তাহলে তো আরও ভালো, ল্যাবরেটরিতে জৈবিক কাঠও তৈরি হবে। তিনি বললেন, এত কাঠ রাখবে কোথায়? এটা একটা অবাস্তব ও অদক্ষ প্রকল্প। আমি বললাম, এখানেই তো বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে।
আমি পরে যোগ করলাম, যদি আর কিছু না করা যায়, তাহলে অবমুক্ত কার্বন জড়ো করে সমুদ্রের তলদেশে জমিয়ে রাখা যাবে। আসলে এ রকম একটা চিন্তার কথা বছর দুয়েক আগে আমি দি ইকোনমিস্টের সায়েন্স বিভাগে পড়েছি। অবশ্য বিজ্ঞানী স্টিফান বললেন, সেটা আরও ক্ষতি করবে, সমুদ্রের তলদেশ ভরাট হয়ে আরও বিরাট বিপর্যয় দেখা দেবে।
জলবায়ু বিপর্যয় রোধে এটাই আমার বিকল্প কৌশলপত্র। তার মানে এই নয় যে বনায়ন বা সৌরবিদ্যুত্ ব্যবহারের পথ বাদ দিয়ে ওদিকে যেতে হবে। আমার কথা হলো, বহুমাত্রিক সমাধানের কথা চিন্তা করা দরকার। একে বিকল্প প্রস্তাব বলছি এ জন্য যে এযাবত্ অন্যান্য প্রকল্প মূলত কার্বন নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করবে, আর নতুন প্রস্তাবটি বাতাসের কার্বন হ্রাসে সাহায্য করবে। দ্বিমুখী উদ্যোগ আসন্ন জলবায়ু বিপর্যয় এড়াতে বেশি সহায়ক হবে।
কেন বিকল্প সন্ধান দরকার সেটা বোঝার জন্য আমরা দেখব কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলো কেন অনাগ্রহী। সম্প্রতি ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিণতি থেকে বাঁচার উপায় নিয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের বিভিন্ন আলোচনায় এ রকম আশঙ্কা ব্যক্ত হয়েছে, যে উন্নত দেশগুলো হয়তো জলবায়ু পরিবর্তন রোধে একটি চুক্তিতে আসতে ব্যর্থ হতে পারে। সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় ১৯০ দেশের সম্পাদক, গণমাধ্যম নেতারা ও বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীরা আসন্ন জলবায়ু-অপঘাত থেকে কীভাবে পৃথিবীকে রক্ষা করা যায়, এর উপায় নিয়ে কথা বলেছেন। আগামী ডিসেম্বরে ওখানে শীর্ষ সম্মেলন হতে যাচ্ছে। সম্পাদকদের সম্মেলনটি ছিল তারই এক প্রস্তুতি পর্ব। জলবায়ু-রূপান্তর যে পৃথিবীর জন্য কত বড় অভিশাপ ডেকে আনতে পারে, সে সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টি করাই ছিল সম্পাদকদের এ সম্মেলনের একটি উদ্দেশ্য। সেটা কিছুটা হয়েছে। কিন্তু আসল কাজটিই বোধ হয় বাকি রয়ে গেছে। সেটা হলো, বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলো এই সম্ভাব্য বিপর্যয় রোধে গ্রিন হাউস গ্যাস তথা কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে রাজি হবে কি না, সবাই মিলে কোপেনহেগেন শীর্ষ সম্মেলনে (কপ-১৫) এ ব্যাপারে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করবে কি না। এটা অনেকটাই অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
সবার আশঙ্কা, আমেরিকা হয়তো কার্বন গ্যাস নিঃসরণ প্রয়োজনীয় মাত্রায় কমাতে রাজি হবে না। চীন ও ভারতও ইতস্তত করছে। কারণ হলো, কার্বন কমানো মানে তেল-গ্যাস-কয়লা (জীবাশ্ম জ্বালানি) ও বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো। আর সেটা যদি কমাতে হয়, তাহলে তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার কমে যাবে। সোজা কথায় ধনী দেশগুলোর উত্পাদন বাড়িয়ে আরও ধনী হওয়ার গতিতে লাগাম টেনে ধরতে হবে। এতে অবশ্য সামগ্রিকভাবেই সারা বিশ্বের প্রবৃদ্ধি কমবে। এর ধাক্কা আমাদের মতো স্বল্পোন্নত দেশের ওপরও পড়বে। কারণ, শিল্পোন্নত দেশগুলোর বিনিয়োগ, বৈদেশিক সহযোগিতা ইত্যাদি কমে যাবে।
বাতাসে কার্বন গ্যাস নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে যদি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃদ্ধি আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে ধরে রাখা যায়, তাহলে এই পৃথিবী মানুষের বসবাসযোগ্য থাকবে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। সেটা কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে অনেক গবেষণা চলছে। সবচেয়ে ভালো মাঝারি ও কম-ভালো সমাধান বের করার জন্য তিনজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ীসহ পাঁচজন জলবায়ু অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠিত একটি কমিটি হিসাব করে দেখেছে যে, যদি সেই ঈপ্সিত ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উষ্ণায়ন সীমিত রাখতে হয়, তাহলে ২১০০ সালে বিশ্বের মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি) প্রায় ১২ দশমিক ৯ শতাংশ বা ৪০ ট্রিলিয়ন (৪০ লাখ কোটি) ডলার কমে যাবে। জলবায়ু-ক্ষতির চেয়ে এটা হবে ৫০ গুণ বেশি ক্ষতি। আর যদি কার্বন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা না যায়, তাহলে এই ক্ষতি আরও ১০ বা ১০০ গুণ বেশি হবে।
এ অবস্থায় চীন বলছে, তারা কার্বন নিঃসরণ কমাবে কিন্তু প্রবৃদ্ধি ঠিক রেখেই। কীভাবে? তারা এমন প্রযুক্তি বের করবে যেন আগের চেয়ে কম কয়লা পুড়িয়ে বেশি শক্তি পাওয়া যায়। অর্থাত্ আরও দক্ষভাবে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার, পানি বিদ্যুত্, সৌর বিদ্যুত্ প্রভৃতি বেশি করে ব্যবহার ইত্যাদি। ডেনমার্ক ইতিমধ্যেই ‘ক্লিন এনার্জি’ বা ‘গ্রিন এনার্জি’ ব্যবহার বাড়াচ্ছে, এর অন্যতম হলো বায়ু-বিদ্যুত্।
এ ছাড়া বিভিন্ন দেশে ও প্রতিষ্ঠান থেকে নানা প্রস্তাব আসছে। এদের অন্যতম হলো ‘জলবায়ু-প্রকৌশলী-প্রযুক্তি’ (ক্লাইমেট-ইঞ্জিনিয়ারিং-টেকনোলজি)। যেমন— জাহাজ থেকে সমুদ্রের পানি আকাশে এমনভাবে ছিটিয়ে দেওয়া হবে, যেন তা আকাশে মেঘের আস্তরণ সৃষ্টি করে। এই পানির আবরণে সূর্যের কিছু আলো প্রতিফলিত হয়ে মহাকাশে ফিরে যাবে এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমাবে। ডেনমার্কে নতুন প্রযুক্তির ‘লো-এনার্জি হাউজিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যার সাহায্যে কম বিদ্যুত্ ব্যবহার করে বাসার সব কাজ করা যায়।
এসব উদ্যোগের পাশাপাশি যদি বিকল্প কৌশল হিসেবে বাতাসের কার্বন শুষে নেওয়ার অব্যর্থ একটি প্রযুক্তি আবিষ্কার করা যায়, তাহলে জলবায়ু বিপর্যয় রোধ অনেক সহজ হবে। কোপেনহেগেন গ্লোবাল এডিটরস ফোরামে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জোসেফ স্টিগলিত্জ বলেছেন, এ বিশ্ব জগতে যদি মানুষের বসবাসযোগ্য আরও দু-তিনটা গ্রহ থাকত, তাহলে চিন্তা ছিল না, জলবায়ু-অভিশাপ এড়াতে মানুষ এ পৃথিবী ছেড়ে ওই সব গ্রহে চলে যেত। কিন্তু পৃথিবী তো একটাই, বসবাসযোগ্য অন্য কোনো গ্রহ তো নেই। তাই এই পৃথিবীকে বাঁচাতেই হবে।
বিশ্বের প্রতি ৪৫ জনের মধ্যে একজন এবং বাংলাদেশের প্রতি সাতজনের একজন জলবায়ু বিপর্যয়ের শিকারে পরিণত হতে পারে। সুতরাং এখনই তত্পর হতে হবে। অপেক্ষার কোনো সুযোগ নেই।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।

ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা

৪ অক্টোবর ২০০৯ প্রথম আলোয় প্রকাশিত ‘ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যাপীঠ নিয়ে কিছু কথা’ শিরোনামের ফজলুল হকের লেখাটি পড়ে অনুপ্রেরণা লাভ করলাম। ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার ব্যাপক প্রভাবে এ দেশে একটি শ্রেণী ইংরেজিকে মুখের ভাষা হিসেবে প্রয়োগ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। দেশের সংস্কৃতির ওপর ভিনদেশি সংস্কৃতির কিছু বিকৃত রূপ আমাদের মন ও মগজকে গ্রাস করছে দিন দিন! ইংরেজি শেখার বিপক্ষে আমরা নই কিংবা কোনো ভাষাকে হেয় প্রতিপন্ন করাও আমাদের লক্ষ্য নয়; কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, আন্তর্জাতিক ভাষা আয়ত্ত করার নামে আমরা যেন ভিন্ন সংস্কৃতিতে গা ভাসিয়ে না দিই। ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষালাভের মোহে শিশুদের গেলাচ্ছি অজানা ভুবনের মোটাদাগের জ্ঞানবটিকা! জ্ঞান অর্জন করে জাতিকে এগিয়ে নিতে গেলে মাতৃভাষার কোনো বিকল্প নেই! প্রসঙ্গত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কথা স্মরণ করতে পারি—‘আগে চাই বাংলা ভাষার গাঁথুনি, তারপর ইংরেজি শেখার পত্তন।’
সমপ্রতি প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবি উত্থাপন করেছেন। এমন সময়ে আমার ধারণা, ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয় নামের মোহ ও সামাজিক অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিযোগিতা থেকে মুক্তি পাওয়ার একটা পথ অন্তত আমরা খুঁজে বের করতে পারি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়ে প্রায়োগিক ইংরেজি শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা রাখলে তা হবে আমাদের সবার জন্য মঙ্গলজনক। উচ্চশিক্ষায় ইংরেজিকে মাধ্যম হিসেবে গণ্য করার বিষয়টিও বিবেচনা করা যায়। আর বাংলাদেশে সব পর্যায়ে (পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্র ব্যতীত) বাংলাকে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা কিংবা চালু করার কথা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। এটা করা গেলে অহেতুক অস্থিরতা, বাড়তি ব্যয় কমবে বলে আমার মনে হয়।
জান্নাতুল আফসানা
শ্যামপুর সুগার মিল, রংপুর।

স্কুল-কলেজের সময়সূচি

গত ২১ জুলাই সরকার যখন দিনের আলো সংরক্ষণের জন্য ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে আনে, তখন দিনের দৈর্ঘ্য ছিল ১৪ ঘণ্টা। নিজ কক্ষপথে পৃথিবীর বার্ষিক গতির ফলে সূর্য এখন দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে সরে যাচ্ছে। ফলে উত্তর গোলার্ধে প্রতিদিনই দিনের সময়কাল কমে আসছে। ২৩ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ভৌগোলিক নিয়মেই দিনের দৈর্ঘ্য রাতের চেয়ে কমে আসছে। ফলে ছোট শিশুদের স্কুলে যাওয়ার জন্য ঘুম থেকে উঠতে হচ্ছে রাতের অন্ধকারে। যানবাহনের অপেক্ষায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়। স্কুলে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যাচ্ছে। তাড়াহুড়া করতে গিয়ে অনেক শিশু সকালের নাশতা না খেয়েই স্কুলে যাচ্ছে। ইদানীং সকালে কুয়াশা পড়তে শুরু করায় অবস্থার আরও অবনতি হচ্ছে।
সম্ভবত সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ কোনো মন্ত্রী মহোদয়-মহোদয়ারই এ কষ্টকর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে না। যদিও শিশু অধিকার নিয়ে তাঁরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সম্প্রতি অনেক বড় বড় কথা বলেছেন। সারা বিশ্বেই শিশুদের জন্য সরকার অনেক সুবিধা দিয়ে থাকে; আর আমাদের দেশে সরকারি সিদ্ধান্তের ফলে শিশুরা কষ্ট পায়। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে আগের অবস্থায় যাওয়া হবে না। তবে যানজট কমানোর জন্য সরকারি, বেসকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমাসহ স্কুল-কলেজের সময়সূচি পরিবর্তন করা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, মাধ্যমিক স্কুল-কলেজ শুরুর সময় আগের মতোই সকাল সাতটা থেকে সাড়ে সাতটা হবে। এখন সূর্যোদয় হয় বর্তমান সময় সকাল সাতটায়। কিছুদিন পরে সাড়ে সাতটায় সূর্য উঠবে। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি, সরকারি স্কুল-কলেজ যথাশিগগির সম্ভব শুরু করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকার স্কুল-কলেজগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের কিছুই করার থাকে না। এখন যদি সরকার শিশুদের স্কুল শুরুর সময় শীতকালে সকাল সাড়ে আটটাও নির্ধারণ করে, তাহলেও গত বছরের তুলনায় (শীতকালে আগের পৌনে আটটা) একটু আগেই স্কুল শুরু হবে।
যদি সরকার বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোমলমতি শিশুদের কষ্টটুকু বিবেচনায় না নিয়ে সকাল সাতটা বা সাড়ে সাতটায় সরকারি স্কুল শুরুর সময় নির্ধারণ করে, তবে রাতের অন্ধকারেই শিশুদের স্কুলে রওনা হতে হবে। যদিও তাদের অধিকার আছে, পর্যাপ্ত ঘুমের, সকালের নাশতা খেয়ে স্কুলে যাওয়ার।
আমরা অভিভাবকেরা অসহায় সরকারি সিদ্ধান্তের কাছে। কিন্তু আমাদের সন্তানদের কষ্ট দিলে কোনো অভিভাবকই খুশি মনে মেনে নেবে না। এটা আমাদের কাছে খুবই স্পর্শকাতর বিষয়, আমরা সেটা ভুলে যাব না।
আবু নাসের
নয়াপল্টন, ঢাকা।

ভ্রাম্যমাণ আদালত যথেষ্ট নয়, স্থায়ী নজরদারি দরকার -নিরাপদ রক্তের নিশ্চয়তা

দুর্ঘটনা, নানা রোগব্যাধি ও অস্ত্রোপচারকালে জরুরি ভিত্তিতে মানুষের যে রক্তের প্রয়োজন হয়, তা প্রাণ রক্ষা করবে—এটাই প্রত্যাশা। কিন্তু সেই রক্তই যদি হয় নানা প্রাণঘাতী রোগ ছড়ানোর মাধ্যম, তাহলে দুর্ভাগ্যের সীমা থাকে না। রাজধানী ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের বেসরকারি মালিকানাধীন ডোনার ব্লাড অ্যান্ড প্যাথলজি সেন্টারে সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত যে দৃশ্য দেখতে পেয়েছেন তাতে আশঙ্কা হয়, ওই রক্ত বিক্রয়কেন্দ্রটি রোগ ছড়ানোর কেন্দ্র। সেই সঙ্গে এই জিজ্ঞাসাও মনে জাগে, দেশজুড়ে যেসব ‘ব্লাডব্যাংক’ বা রক্ত বিক্রয়কেন্দ্র আছে, সেগুলোর অবস্থাই বা কী?
অন্তত পাঁচ ধরনের ঘাতক ব্যাধি এক ব্যক্তির দেহ থেকে অন্য ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হতে পারে রক্তের মাধ্যমে। সে কারণে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কোনো রোগী বা দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তির দেহে রক্ত দেওয়ার আগে যে ব্যক্তির দেহ থেকে রক্ত নেওয়া হবে, তার রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয় যে তা রোগ-জীবাণুমক্ত এবং তাতে মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় রক্তের উপাদানগুলো স্বাভাবিক মাত্রায় রয়েছে। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালত নাজিমউদ্দিন রোডের ওই প্রতিষ্ঠানটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পেয়েছেন, রক্তের প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো চালানোর কোনো ব্যবস্থাই সেখানে নেই। শুধু তা-ই নয়, সেখান থেকে যে ৭০ ব্যাগ রক্ত আদালত উদ্ধার করেছেন, সেগুলোর গায়ে নিয়মমাফিক রক্তদাতার নাম, রক্ত গ্রহণের তারিখ বা তার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ—এসব অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজনীয় তথ্যের কোনো কিছুই লেখা নেই। আদালত ওই প্রতিষ্ঠানের দুজন অংশীদার মালিককে গ্রেপ্তার করেছেন; তাঁদের একজনকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৬০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন এবং অন্যজনকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করে উভয়কে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত অবশ্যই সমুচিত কাজ করেছেন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই এমন অভিযান চালানো উচিত। এ ধরনের যেসব প্রতিষ্ঠান ব্লাডব্যাংক পরিচালনা-সংক্রান্ত আইনকানুন ভঙ্গ করে অর্থাত্ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই রক্ত নেয়, মাদকাসক্ত পেশাদার রক্তবিক্রেতাদের রক্ত নেয়, সঠিক পদ্ধতিতে রক্ত সংরক্ষণ করে না, মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও সেই রক্ত বিক্রি করে মানুষের প্রাণ ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি করে চলেছে, তাদের শুধু জেল-জরিমানা নয়, এই ব্যবসার অনুমতিই বাতিল করা উচিত। তবে এটা কেবল ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষে সম্ভব নয়, রক্ত বিক্রয়কেন্দ্রগুলোর ওপর প্রতিনিয়ত নজরদারির স্থায়ী ব্যবস্থা কার্যকর করা একান্ত প্রয়োজন।

কোপেনহেগেন শীর্ষ সম্মেলনে মতৈক্য হতে হবে -উষ্ণায়ন ও জলবায়ু-সুবিচার

বিশ্বের গড় তাপমাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে জলবায়ু-বিপর্যয়। এর ফলে পৃথিবী নামের আমাদের এই প্রিয় গ্রহটি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়ের মুখোমুখি। আপাতত হিমালয়ের চূড়ার হিমবাহ এবং মেরু অঞ্চলের হিমশৈলী গলতে শুরু করেছে। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে বাংলাদেশ, মালদ্বীপসহ বিশ্বের অনেক দেশের উপকূলীয় অঞ্চল ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিণামে উপদ্রুত অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ জলবায়ু-উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে। দেখা দেবে জলবায়ু-নিরাপত্তা সমস্যা। বাস্তুচ্যুত মানুষ কোথায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে, কীভাবে বাঁচবে—এসব প্রশ্নে দেশে দেশে দেখা দেবে চরম নৈরাজ্যকর অবস্থা। আসন্ন ঘোর দুর্দিনের কথা চিন্তা করে বিশ্ববাসীকে এখনই সক্রিয় হতে হবে।
এই পটভূমিতে আগামী ডিসেম্বরে কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন (কপ-১৫)। এখানে বিশ্বের প্রায় ১৯০টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, পরিবেশবিজ্ঞানী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধিরা সমবেত হয়ে বিশ্বের উষ্ণায়ন ২০৫০ সালের মধ্যে কীভাবে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করে একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে আসার চেষ্টা করবেন। কিন্তু কাজটা কঠিন। এর আগে ১৯৯৭ সালে কিয়োটো প্রটোকলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের মাত্রা কমিয়ে আনার যেসব চুক্তি করেছিল, তা প্রায় কেউই মেনে চলেনি। কথা ছিল, সবাই ২০১০ সালের মধ্যে কার্বন গ্যাস নিঃসরণ ১৯৯০ সালের মাত্রার চেয়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমিয়ে আনবে। কিন্তু আশঙ্কা করা হচ্ছে, কমানো তো দূরের কথা, বরং ২৫ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। তাই ডিসেম্বরে বিশ্বনেতারা এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন। কার্বন গ্যাস নিঃসরণ আকাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কমিয়ে আনা এবং এর বাস্তবায়ন তদারকির কার্যকর ব্যবস্থা না করতে পারলে কপ-১৫ শীর্ষ সম্মেলন ব্যর্থ হতে পারে। কিন্তু সে রকম কিছু হলে তা সবার জন্য এক বিয়োগান্তক পরিণতি ডেকে আনবে; যা কারও কাম্য নয়।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বছরে মাথাপিছু ১৫-২০ টন, চীনের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো প্রায় দেড় টন আর বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশগুলো মাত্র শূন্য দশমিক ২ টন কার্বন গ্যাস নিঃসরণ করে। সুতরাং এটা পরিষ্কার, উন্নত দেশগুলোর অবিবেচনাপ্রসূত কার্যক্রমের শাস্তি বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে ভোগ করতে হবে। সম্প্রতি কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল এডিটরস ফোরামে জাতিসংঘের মহাসচিব তাঁর ভাষণে এই অসংগতির প্রতি ইঙ্গিত করে ‘জলবায়ু-সুবিচার’-এর আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিল্পোন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ প্রত্যাশিত মাত্রায় কমিয়ে আনতে হবে, আর জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার দেশগুলোকে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সহায়তা দিতে হবে। এ জন্য একদিকে যেমন তেল-গ্যাস-কয়লা প্রভৃতি জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো কমিয়ে আনা, অন্যদিকে তেমনি বিশ্বের বনাঞ্চল রক্ষা, গাছ লাগিয়ে নতুন বন গড়ে তোলা, সৌর ও বায়ুবিদ্যুত্সহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে।
এসব লক্ষ্য অর্জন করতে হলে উন্নত দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কমে যাবে, কারণ জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প উদ্ভাবন ও সহজলভ্যতা এখনো সময়সাপেক্ষ। এখানে ধনী দেশগুলো আপস করতে কতটা রাজি, কপ-১৫ শীর্ষ সম্মেলনে সেই প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দিতে পারে। কিন্তু তথাকথিত সভ্যতার ধার কিছুটা কমিয়ে হলেও পৃথিবীর অস্তিত্ব নিশ্চিত করা সবার কর্তব্য হওয়া উচিত। আমরা আশা করি, বিশ্বনেতারা নিশ্চয়ই একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবেন। বিশ্বের উষ্ণতা আর বাড়তে দেওয়া যায় না।

অস্ট্রেলিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনায় পাঁচজন অভিযুক্ত

অস্ট্রেলিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার দায়ে সিডনির একটি আদালত গতকাল শুক্রবার পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। তাদের মধ্যে চারজন লেবাননি বংশোদ্ভূত এবং একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় নাগরিক।
সরকারি আইজীবীরা জানান, তথ্য প্রমাণ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওই পাঁচ ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ায় বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করেছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, হামলা চালিয়ে আফগানিস্তানে ও ইরাকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার সম্পৃক্ততার প্রতিবাদ করা। ওই পাঁচ ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি।

পাকিস্তানের জন্য সহায়তা বিলে ওবামার সই

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের জন্য মার্কিন সহায়তা বিলে সই করেছেন। আর এর মধ্য দিয়ে বিলটি আইনে পরিণত হলো। নতুন এই বিলের আওতায় মার্কিন প্রশাসন পাকিস্তান সরকারকে বেসামরিক খাতের উন্নয়ন এবং জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমন কর্মসূচিতে পাঁচ বছরের জন্য সাড়ে ৭০০ কোটি ডলারের সহায়তা দেবে।
এ ব্যাপারে এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস বলেন, ‘পাকিস্তানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের যে সমর্থন রয়েছে তার একটি বাস্তব প্রমাণ এই আইন। কারণ মার্কিন কংগ্রেসে বিনা আপত্তিতে সহায়তা প্রস্তাবটি অনুমোদন পেয়েছে।’
এই সহায়তা প্যাকেজের আওতায় বার্ষিক দেড় শ কোটি ডলারের বরাদ্দ থাকবে পাকিস্তানের জন্য। এই অর্থ দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করছে—এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা করা, আইনসভাকে কার্যকর করা ও সুশীলসমাজকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে উত্সাহিত করতে কাজ করবে পাকিস্তান সরকার। পাশাপাশি পাকিস্তানের পুলিশ বাহিনীর উন্নয়নের জন্য এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

বুদ্ধদেবকে গ্রেপ্তারের দাবিতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষোভ

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং দলীয় কর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা মুখ্যমন্ত্রী সচিবালয়ে ঢুকে বিক্ষোভ করেছেন। গতকাল দুপুরে হঠাত্ তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ে ঢুকে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের সামনে বসে পড়েন এবং দাবি তোলেন, মুখ্যমন্ত্রীর গ্রেপ্তার করা না পর্যন্ত তাঁদের এই অবস্থান ধর্মঘট চলবে।
এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলের নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের বিধায়ক অশোক দেব, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, স্বর্ণ কমল সাহা প্রমুখ। সবার একটিই দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টচার্যকে গ্রেপ্তার করতে হবে। তাঁকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তাঁরা সচিবালয় ত্যাগ করবেন না। তাঁরা বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করলেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পরে বিকেলে পার্থচট্টোপাধ্যায়সহ চার নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বালকটি বাড়িতেই ছিল- কলোরাডোতে বেলুন নাটক

বাড়িতে বানানো বেলুনে চড়ে ভ্রমণ করতে গিয়ে সেটা থেকে পড়ে মারা গেছে—এমন একটি আশঙ্কা নিয়ে বৃহস্পতিবার চার ঘণ্টা খোঁজাখুঁজি আর সংবাদ মাধ্যমে ঝড় তোলার পর বালকটিকে পাওয়া গেল বাড়িতেই। সে ছিল নিরাপদ, সুস্থ ও সবল। নাম ফ্যালকন হিন (৬)। বাড়ি যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট কলিন্সে।
ফ্যালকনের ভাইয়ের দেওয়া তথ্য থেকে উত্কণ্ঠার নাটকের শুরু। সে পুলিশকে জানায়, ফ্যালকন তাদের বাড়িতে বানানো একটি হিলিয়াম গ্যাস ভর্তি বেলুনে চড়ার পর সেটা উড়তে শুরু করে। এই খবর জানার পর পরই মার্কিন বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও কলোরাডো ন্যাশনাল গার্ডকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়। পাশাপাশি মার্কিন সংবাদ মাধ্যমগুলোর তত্পরতাও শুরু হয়ে যায়। আকাশে বেলুনটির অবস্থান জানার পর সেটার পেছনে ছোটে স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের হেলিকপ্টারগুলো। দুই ঘণ্টা আকাশে ভেসে থাকার পর বেলুনটি মাটিতে নেমে আসে।
কিন্তু ফ্যালকনকে পাওয়া গেল না। আর এতে আশঙ্কা আরও বেড়ে যায় যে বালকটি বেলুন থেকে পড়ে মারা গেছে। খোঁজাখুঁজি চলতে থাকে। অবশেষে আশঙ্কার অবসান ঘটে যখন ল্যারিমারের কাউন্টি শেরিফ জিম অ্যালডারডের্নকে টেলিফোনে জানানো হয়, ফ্যালকন বাড়িতেই আছে, নিরাপদে আছে।
টেলিফোন থেকে খবরটি শোনার পর অ্যালডারডের্ন সাংবাদিকদের জানান, বালকটি বেলুনেই চড়েনি। সে বাড়িতেই ছিল। বাবার শাস্তির ভয়ে গ্যারেজের ওপরে চিলেকোঠায় লুকিয়ে ছিল। ফ্যালকনের ভয় ছিল, বেলুনে চড়ার চেষ্টা করার কারণে বাবা তাকে শাস্তি দিতে পারেন।
পরে ফ্যালকনের মা মেইউমি বলেন, ফ্যালকন চিলেকোঠা থেকে নেমে আসে এবং বাসায় ঢুকে উত্কণ্ঠায় থাকা পরিবারের সদস্যদের চমকে দেয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে সুস্থ-সবল দেখে আনন্দে চিত্কার করে ওঠে।
অ্যালডারডের্ন জানান, পুলিশ সদস্যরা ফ্যালকনের ভাইকে কয়েকবার জিজ্ঞাসা করেছিল তার ভাইয়ের কী হয়েছে। ভাই প্রতিবারই বলেছে, সে ফ্যালকনকে বেলুনে চড়তে দেখেছে।
ফ্যালকনের বাবা রিচার্ড হিন একজন শৌখিন গবেষক। তিনি আবহাওয়া ও ঝড়ের গতিবিধি নিয়ে গবেষণা করেন। আর এ কাজের জন্যই বেলুনটি তৈরি করেছিলেন তিনি। রিচার্ড জানালেন, ছেলেকে মারধর করার কোনো ইচ্ছা ছিল না তাঁর।

লোকজন আপনাকে ঘৃণা করে কেন?

মার্কিন প্রেসেডেন্ট বারাক ওবামাকে কেন লোকজন ঘৃণা করে—এ প্রশ্ন তাঁরই মুখের ওপর ছুড়ে দিয়েছে এক দুরন্ত বালক। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার নিউ অরলিন্সের এক জনসভায়।
স্বাস্থ্যনীতির প্রশ্নে ওবামা ইদানীং ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছেন। শান্তিতে নোবেল জয়ের পরও এর পক্ষে-বিপক্ষে নানা কথা উঠতে শুরু করেছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, নোবেল জয়ের মতো কোনো যোগ্যতাই অর্জন করেননি ওবামা। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই পুরস্কারের জন্য কী কাজ করেছেন তিনি?
এবার তাঁর দেশেরই একটি নয় বছরের বালকের প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ওবামা। টাইরেন স্কট নামের ওই দামাল ছেলে ওবামাকে জিজ্ঞেস করে, ‘লোকজন আপনাকে ঘৃণা করে কেন? অথচ তারা আপনাকে ভালোবাসবে, এটাই তো ছিল স্বাভাবিক।’
এমন একটা প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন, ওবামা নিজেও কল্পনা করতে পারেননি। তবে তিনিও দমবার পাত্র নন। উত্তরে বলেন, ‘দেখো, আমি এই দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছি। তার মানে সবাই আমাকে ঘৃণা করে না। আমাকে অনেক মানুষ তখন ভোট দিয়েছে। তখন তুমি যদি টেলিভিশন দেখে থাকো, তাহলে তোমার হয়তো মনে আছে, আমাকে ঘিরে মানুষের মধ্যে কেমন উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছিল। এখন তুমি যা দেখছ, হতে পারে, এর নামই রাজনীতি।’

পাকিস্তানে চারটি স্থাপনায় জঙ্গি হামলা: নিহত ৩৯

পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর লাহোরে গতকাল বৃহস্পতিবার জঙ্গিরা তিনটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এতে পুলিশ, জঙ্গিসহ অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছে। এদিকে পেশোয়ারের কাছে কোহাটে একটি থানায় আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা। এতে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছে।
লাহোরে জঙ্গিরা জঙ্গিরা দুটি পুলিশ একাডেমি ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) কার্যালয়ে হামলা চালায়।
গতকালের হামলার পর পাকিস্তানের নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে এ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে যে জঙ্গিরা যেকোনো জায়গায় হামলা চালাতে সক্ষম। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি এসব হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন এবং হতাহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
পাকিস্তানে গত তিন সপ্তাহে জঙ্গি হামলায় এই নিয়ে শতাধিক লোক নিহত হলো।
ওদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক বলেছেন, জঙ্গিরা গেরিলা হামলা শুরু করেছে। তবে এই হামলার পরও পাকিস্তান সরকার জঙ্গিবিরোধী অভিযান থেকে পিছু হটবে না।
পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল সবচেয়ে বড় ধরনের হামলার ঘটনাটি ঘটেছে লাহোরের এফবিআই কার্যালয়ে। কর্মকর্তারা জানান, চারজন বন্দুকধারী এফবিআই কার্যালয়ের একটি ভবনে হামলা চালায়। পরে পুলিশ তাদের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে পুলিশ ও হামলাকারী রয়েছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, একটি লাশের কাছে গ্রেনেড ও আত্মঘাতী হামলায় ব্যবহূত একটি জ্যাকেট পাওয়া গেছে। এফবিআই কার্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে আরও দুটি লাশ পাওয়া গেছে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এফবিআই কার্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানকার কর্মকর্তারা নিরাপদে রয়েছেন। তিনি জানান, এফবিআইয়ের ওই ভবনে ৩০০ থেকে ৫০০ লোক কাজ করতেন।
জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা সাজ্জাদ ভুট্টো জানিয়েছেন, হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশের দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সংঘর্ষ হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে পুলিশ এফবিআই কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। তিনি আরও জানান, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন হামলাকারী, চারজন সরকারি কর্মকর্তা ও একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, নিহত হামলাকারীদের একজন বিস্ফোরকবোঝাই জ্যাকেট পরে ছিলেন।
জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা চৌধুরী শফিক জানান, এই হামলার প্রায় একই সময়ে জঙ্গিরা লাহোরের মানাওয়ান পুলিশ একাডেমিতেও হামলা চালায়। হামলায় তিনজন বন্দুকধারী অংশ নেয়। পরে পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীদের সংঘর্ষ হয়। এতে ১৪ জন মারা যায়। নিহতের মধ্যে ছয়জন পুলিশ ও চারজন বন্দুকধারী রয়েছে। গত এক বছরে জঙ্গিরা এই নিয়ে ওই একাডেমিতে তিনবার হামলা চালাল।
পুলিশের কর্মকর্তা মালিক ইকবাল জানান, মানাওয়ানে হামলা চালানোর কিছুক্ষণ পরই জঙ্গিরা লাহোরের এলিট পুলিশ একাডেমি বেদিয়ায়ও হামলা চালায়। সেখানে জঙ্গিরা হামলা চালায় হাতগ্রেনেড ছোড়ে। এতে পুলিশের একজন কনস্টেবলসহ সাতজন মারা যায়।
এদিকে পেশোয়ারের কাছে কোহাটে এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী থানাপ্রাচীরের সামনে নিজেকে উড়িয়ে দেয়। হামলায় নিহত ১১ জনের মধ্যে বেসামরিক লোকজনসহ পুলিশের সদস্যও রয়েছেন।

দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিনি মৃত্যুদণ্ডের সমর্থক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নাগরিক গুরুতর অপরাধের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া সমর্থন করেন। সে দেশের একটি জরিপ সংস্থা এ কথা জানিয়েছে। সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদন গত মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করেন কি না, এ ব্যাপারে এক হাজার ১৩ জন নাগরিকের ওপর একটি জরিপ চালানো হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৫ শতাংশ গুরুতর অপরাধের দায়ে এই শাস্তি সমর্থন করেন। ৩১ শতাংশ এর বিরোধিতা করেন।

ইরাকে সহিংসতায় পাঁচ বছরে প্রাণহানি ৮৫ হাজার

ইরাকে সহিংসতা ও জাতিগত সংঘাতের কারণে ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কমপক্ষে ৮৫ হাজার ইরাকি প্রাণ হারিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর ইরাক সরকারের প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়। গত মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ইরাকের মানবাধিকার-বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ইরাকের মানবাধিকার পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র নিয়ে তৈরি ওই প্রতিবেদনের এক অংশে বলা হয়েছে, ২০০৪-০৮ সাল সময়ে ৮৫ হাজার ৬৯৪ জন ইরাকি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা এক হাজার ২৭৯ জন এবং নারী দুই হাজার ৩৩৪ জন। আহত হয়েছে আরও এক লাখ ৪৭ হাজার ১৯৫ জন।
২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর থেকে ইরাক অনেক বেশি সংঘাতময় অঞ্চলে পরিণত হয়। আর সেখানে নিরপেক্ষভাবে মৃতের সংখ্যা নির্ধারণ করাও দুষ্কর হয়ে ওঠে। সরকারি এ হিসাব বের করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে দেওয়া মৃত্যু-সনদ বিবেচনায় নিয়েছে সরকার।

সিডনি ও মেলবোর্ন ‘অনিরাপদ’ শহর

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও মেলবোর্ন শহর বসবাসের জন্য ‘সবচেয়ে অবন্ধুসুলভ ও অনিরাপদ’ জায়গা। এক জনমত জরিপ থেকে এই মতামত বেরিয়ে এসেছে। ছয় হাজারেরও বেশি বিদেশি ছাত্রের ওপর এই জরিপ চালানো হয়।
সম্প্রতি এই দুটি শহরে ভারতীয় ছাত্রদের ওপর বর্ণবাদী হামলার ঘটনা ঘটেছিল। শহর দুটিকে বসবাসের জন্য ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক’ ও ‘অবন্ধুসুলভ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জরিপে অংশনেওয়া ছাত্ররা।

কর্ণাটক মন্ত্রিসভার এক বৈঠকের খরচ এক কোটি রুপি!



উত্তর কর্ণাটকের গুলবার্গ শহরে রাজ্য মন্ত্রিসভার এক বৈঠক অনুষ্ঠানে সবকিছু মিলিয়ে খরচ করা হয়েছে প্রায় এক কোটি রুপি। গত সেপ্টেম্বরের ২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে এ ধরনের খরচের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে ভারতের তথ্য অধিকার আইনের (আরটিআই) অধীনে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক অনুসন্ধানে। এ ব্যয়ের বড় অংশ গেছে ফুলের পেছনে এবং মন্ত্রীদের স্বাগত জানাতে বড় বড় তোরণ বানাতে গিয়ে। দুই ঘণ্টার একটি বৈঠকে কেবল সাজসজ্জার পেছনেই খরচ করা হয়েছে প্রায় ২৮ লাখ রুপি।
উত্তর কর্ণাটকের পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে মন্ত্রিসভার ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বেঙ্গালুরু থেকে ৬২৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গুলবার্গ শহরে মন্ত্রিসভার বৈঠক করতে গিয়ে কর্ণাটক রাজ্যের মন্ত্রীরা তাঁদের স্বাগত জানাতে তৈরি করা শত শত তোরণ দেখে হয়তো খুশি হতে পারেন, কিন্তু মন্ত্রিসভার এ খরচান্ত বৈঠক বিলাসিতা আর অর্থ অপচয়ের ন্যূনতম মাত্রা অতিক্রম করেছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
১৯৯৭ সালে বেঙ্গালুরুর বাইরে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় কর্ণাটকের হুবলিতে জে এইচ পাতিলের আমলে। ওই বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল কর্ণাটকের বিভিন্ন অংশের উন্নয়নে ভারসাম্য রক্ষা করা এবং প্রদেশের পিছিয়ে পড়া অংশে জনসাধারণের জীবনমানের উন্নয়ন সাধন। কিন্তু ওই বৈঠকের এক যুগ পরও কর্ণাটক রাজ্য সরকার রাজধানী বেঙ্গালুরুর বাইরে এ রকম খরচবহুল কয়েকটি বৈঠক ছাড়া কাজের কাজ কিছুই করতে পারেনি।
রাজ্যের বিভিন্ন অংশের উন্নয়নে ভারসাম্য আনার লক্ষ্যে ২০০৬ সালে রাজ্যসভার একটি অধিবেশনও কর্ণাটকের বেলগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল বেলগাঁওকে কর্ণাটকের দ্বিতীয় রাজধানী বানানো। এদিকে এ বছরের ডিসেম্বরে বেলগাঁওয়ে বিশ্ব কানাড়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে আরও একটি মন্ত্রিসভার বৈঠক সেখানে হবে বলে জানা গেছে। তবে গুলবার্গের বৈঠকের বিপুল খরচের বিল এখনো বিভিন্ন ঠিকাদারের হাতে পাওয়া বাকি। অতএব আগামী বৈঠকে রাজ্য সরকার কেমন খরচ করবে তা এখনো চূড়ান্ত করে বলা যাচ্ছে না।

শান্তি পুরস্কার পেয়ে ওবামাকে ততটা খুশি মনে হয়নি

নোবেল মনোনয়ন কমিটির সদস্য ইঙ্গার-মারি ইত্তেরহর্ন বলেছেন, ‘পুরস্কার নেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যখন নরওয়ে আসার কথা নিশ্চিত করলেন, তখন টেলিভিশনে আমি তাঁর চেহারা দেখেছি, দেখে তাঁকে তেমন খুশি মনে হয়নি।’ গত মঙ্গলবার নরওয়ের ওসলোতে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
সাধারণত পুরস্কারের জন্য প্রার্থীদের নির্বাচিত করা সম্পর্কে নোবেল কমিটির সদস্যরা মুখ খোলেন না। কিন্তু মঙ্গলবার অনেকটা অস্বাভাবিকভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটির পাঁচজন বিচারকের চারজনই এ ব্যাপারে মুখ খুললেন।
ইত্তেরহর্ন বলেন, ‘বেকারত্ব ও স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার নীতির মতো যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে জর্জরিত ওবামা এবং সেগুলো বাড়ছে বলেই মনে হচ্ছে।’ এই পুরস্কার পাওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ডেকে আনতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরস্কার পাওয়ার কারণে ওবামার প্রতি এখন প্রত্যাশা বেড়ে যাবে। অন্যদিকে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে তাঁর সমালোচকেরা বিষয়টিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ওবামাকে শান্তি পুরস্কার দেওয়া নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে ইত্তেরহর্ন বলেন, ‘আমরা (নোবেল কমিটি) যখনই কোনো পুরস্কার ঘোষণা করেছি, সেটা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। তাই ওবামার বেলায়ও বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল না।’
সময় হওয়ার অনেক আগেই ওবামাকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে—এই বিতর্কের জবাবে পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যান থর্বজর্ন জাগল্যান্ড ফ্রান্স থেকে টেলিফোনে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে (এপি) বলেন, ‘আমরা এই মন্তব্যের সঙ্গে একমত নই। তিনি তাঁর কর্মের ভিত্তিতেই পুরস্কার অর্জন করেছেন।’ এ ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্ব ও পশ্চিমা শক্তিদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনা ও ইউরোপে বুশ আমলে নেওয়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। জাগল্যান্ড বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে তাঁর উদ্যোগ হয়তো বিশ্বে বড় ধরনের শান্তি প্রতিষ্ঠা করেনি, কিন্তু এর মাধ্যমে উত্তেজনা হ্রাস পেয়েছে।’
নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১ ফেব্রুয়ারির মাত্র দুই সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন ওবামা। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর এখনো এক বছর পূর্ণ হয়নি। এরই মধ্যে তাঁকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হলো। এসব বক্তব্যের ব্যাপারে জাগল্যান্ড বলেন, ‘ওবামাকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে এই পুরস্কারের প্রবর্তক আলফ্রেড নোবেলের রেখে যাওয়া নীতিমালা অনুযায়ী। উত্তরাধিকারনামায় আলফ্রেড নোবেল বলে গেছেন, আগের বছর শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কাজ যিনি করেছেন, তিনি ওই বছরের পুরস্কারের জন্য মনোনীত হবেন।’ জাগল্যান্ডের এই বক্তব্যের সূত্র ধরে এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটির বিচারক হিসেবে যোগ দেওয়া নরওয়ের রাজনীতিক আগোট ভ্যালে বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় ওবামার চেয়ে কে বেশি অবদান রেখেছেন?
এ ব্যাপারে কমিটির আরেক সদস্য নরওয়ের রাজনীতিক কাসি কুলমান বলেন, ‘ওবামার পুরস্কার নিয়েও কথা উঠতে পারে বলে আশা করেছিলাম আমরা। তবে আমি যেটা বলতে চাই, এই পুরস্কার দেওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য বিশ্বকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্যের প্রতি আমাদের মনোযোগ বাড়াতে হবে।’ গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।
বিরোধিতা করেছিলেন কমিটির অধিকাংশ সদস্য
নরওয়ের নোবেল কমিটির পাঁচ সদস্যের তিনজনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন। নরওয়ের ট্যাবলয়েড পত্রিকা ভেরডেনস গাং (ভিজি) গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা জানায়।
পত্রিকাটি জানায়, বেশ কয়েকটি সূত্রের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, নোবেল কমিটির অধিকাংশ সদস্য প্রথমে বারাক ওবামাকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। নোবেল কমিটিতে ডানপন্থী পপুলিস্ট প্রগ্রেস পার্টির প্রতিনিধি ইঙ্গার-মারি ইয়েত্তহর্ন ওবামাকে পুরস্কার দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন। প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ওবামার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পত্রিকাটি আরও জানায়, কনজারভেটিভ পার্টির প্রতিনিধি কাসি কুলমান ফাইভ এবং সোশালিস্ট পার্টির প্রতিনিধি আগোট ভ্যালেরও এ বিষয়ে আপত্তি ছিল। ওবামাকে পুরস্কার দেওয়ার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন কমিটির চেয়ারম্যান থর্বজোয়ার্ন জাগল্যান্ড এবং সিসেল রোয়েনবেক। তাঁরা দুজনেই লেবার পার্টির প্রতিনিধি।

পাকিস্তানকে এফ-১৬ জঙ্গি বিমান হস্তান্তর শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১৮টি এফ-১৬ মডেলের জঙ্গি বিমান পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের ফোর্ট ওর্থের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পাকিস্তানের কাছে একটি বিমান হস্তান্তর করা হয়। বাকি বিমানগুলো পর্যায়ক্রমে হস্তান্তর করা হবে। ওই অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের পক্ষে বিমানটি গ্রহণ করেন দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান রাও কামার সুলেমান। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার হুসাইন হাক্কানি, মার্কিন সরকারের পক্ষে আইনসভার সদস্য কে গ্র্যানজার ও অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে প্রতিশ্রুত মার্কিন সহায়তার অংশ হিসেবে পাকিস্তানকে ওই জঙ্গি বিমান দেওয়া হচ্ছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পাঁচ বছরে সাড়ে ৭০০ কোটি ডলার দেবে। পাকিস্তানের জন্য কেরি-লুগার নামের আলোচিত ওই বিলটি সম্প্রতি মার্কিন আইনসভায় অনুমোদন পায়। দু-এক দিনের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ওই বিলে সই করবেন। ওই বিলে ‘আপত্তিকর’ কিছু শর্ত থাকায় এ নিয়ে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে তুমুল বিতর্ক হয়। তাই এ নিয়ে আলোচনার জন্য গত সপ্তাহে পাকিস্তান সরকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশিকে ওয়াশিংটনে পাঠায়। কিন্তু শর্ত বাদ দেওয়া বা শিথিলের ব্যাপারে তেমন কোনো আশ্বাস পায়নি পাকিস্তান।
মঙ্গলবার নতুন বিমান আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের সময় পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর প্রধান সুলেমান বলেন, ‘এ হস্তান্তর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হলো, তাদের কর্মসূচি (পিস ড্রাইভ-১) ঠিক পথেই আছে।’ পিস ড্রাইভ-১ প্রকল্পের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে ১৮টি জঙ্গি বিমান দেবে। এর মধ্যে ১২টি এফ-১৬সি মডেলের ও ছয়টি এফ-১৬ডি মডেলের।
লকহিড মার্টিনের এফ-১৬ প্রকল্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট জন লারসন বলেন, ‘পিস ড্রাইভ প্রকল্পের আওতায় পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর জন্য চতুর্থ প্রজন্মের সবচেয়ে অত্যাধুনিক জঙ্গি বিমান সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০০৯-২০১০ সালের মধ্যে ১৮টি জঙ্গি বিমান পাকিস্তানের কাছে সরবরাহ করা হবে। ১৯৮২ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে প্রথম এফ-১৬ মডেলের বিমান অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রথম চালানটি পৌঁছানোর পর পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে এফ-১৬ জঙ্গি বিমানের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৪।

প্রেসিডেন্ট হলে ওবামাকে মন্ত্রিসভায় নিতেন হিলারি

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, তিনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হতে পারতেন, তাহলে তিনি বারাক ওবামাকে তাঁর মন্ত্রিসভায় স্থান দিতেন। গত নভেম্বর মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বারাক ওবামার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হিলারি ক্লিনটন। ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হিসেবে হিলারি ক্লিনটনেরই রিপাবলিকান প্রার্থী জন ম্যাককেইনের বিপক্ষে লড়ার সম্ভাবনা ছিল বেশি। কিন্তু বারাক ওবামা তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আর ক্যারিশমায় অনেকটা অভাবিতভাবেই হিলারি ক্লিনটনকে পেছনে ফেলে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন লাভ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে হিলারি ক্লিনটন বর্ণনা দেন, কীভাবে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব দেন। বারাক ওবামার জায়গায় হিলারি প্রেসিডেন্ট হলে ওবামাকে এ রকম একটি প্রস্তাব দিতেন কি না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ‘অবশ্যই, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’
বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর কাকে কোন মন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হবে, এ বিষয়ে হিলারি ক্লিনটন কিছুই জানতেন না বলে মন্তব্য করেন। বরং তিনি পুনরায় নিউইয়র্কের সিনেটর হিসেবে সিনেট হাউসে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারেই মানসিকভাবে তৈরি ছিলেন বলে জানান। তাঁকে কখন কীভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার প্রস্তাব বারাক ওবামা দিলেন, সেই মুহূর্তের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘সেদিন আমি বিলের (সাবেক প্রেসিডেন্ট) সঙ্গে হাঁটছিলাম। হঠাত্ আমার মোবাইল ফোনে একটা কল এল, দেখি বারাক ওবামা স্বয়ং আমাকে ফোন করেছেন। তিনি ফোনে আমাকে শিকাগোতে তাঁর প্রশাসন গঠন নিয়ে একটি বৈঠকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। আমি পরের দিনই শিকাগোতে সেই বৈঠকে যোগ দিই। শিকাগোতে ওবামা আমাকে সরাসরিই পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাঁর আসন্ন মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন।’ এ প্রস্তাবে অবাক হয়েছেন কি না, জানতে চাইলে হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘অবশ্যই আমি অবাক হয়েছি। প্রথমে আমি ভদ্রতা করেই ‘না’ বলেছিলাম। কিন্তু সত্যি বলতে কি, ওবামা আমাকে এই প্রস্তাব করায় আমি খুশিই হয়েছিলাম।’ তবে সরল স্বীকারোক্তির এক পর্যায়ে হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘যখন দেশের প্রেসিডেন্ট স্বয়ং আপনাকে কোনো প্রস্তাব দেবেন, তখন তাতে ‘না’ বলার তেমন কোনো যুক্তি আপনার হাতে থাকবে না।’
হিলারি ক্লিনটন মনে করেন, গণতন্ত্র আসলে এমনই। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। গণতন্ত্রে অনেক সময় প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে পরম সুহূদ, সহকর্মী। বারাক ওবামার মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের মেয়াদ শেষ করার পর আবারও হোয়াইট হাউসের সর্বোচ্চ পদটির আকাঙ্ক্ষা রয়েছে কি না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে হিলারি ক্লিনটন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তাঁর এ ব্যাপারে কোনোই আগ্রহ নেই।

মিউচুয়াল ফান্ডসংক্রান্ত মামলার শুনানি শুরু- বুধবার আবার হবে

দীর্ঘদিন স্থগিত থাকার পর মিউচুয়াল ফান্ডসংক্রান্ত মামলার শুনানি আবার শুরু হয়েছে। হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদালতে গত বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এম জহির এবং বিবাদীপক্ষের আইনজীবী মাহমুদুল ইসলাম এতে অংশ নেন। তবে সময়স্বল্পতার কারণে একপক্ষের বক্তব্য শুনেই গতকালের শুনানি শেষ করতে হয়। তাই আদালত ২১ অক্টোবর বুধবার পুনরায় শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) গত বছরের মাঝামাঝি আইন সংশোধনের মাধ্যমে মেয়াদি বা ‘ক্লোজ অ্যান্ড’ মিউচুয়াল ফান্ডে বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা এবং রাইট ইস্যু নিষিদ্ধ করে।
এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে তিনজন বিনিয়োগকারী ওই বছরের ৪ আগস্ট হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলা নিষ্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তালিকাভুক্ত সব মিউচুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ ঘোষণার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেন।
আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে পরপর দুই বছর মিউচুয়াল ফান্ডগুলো কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারেনি। এদিকে দুই বছর ধরে লভ্যাংশ না পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

ভৈরব চেম্বারের বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত

ভৈরব চেম্বারের বিশেষ সাধারণ অধিবেশন গত রোববার ভৈরব প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি মো. সায়দুল্লাহ মিয়ার সভাপতিত্বে অধিবেশনে নতুন কার্যকরী পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের কাজের বিবরণী এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
অধিবেশনে জানানো হয়, নতুন কমিটি দায়িত্ব পাওয়ার সাত মাসের মধ্যে ভৈরবে এক মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলার আয়োজন করে ও সমাজের সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে চলেছে। সভায় ভৈরব-ঢাকার মধ্যে চলাচলের জন্য সদস্যদের সমবায়ের ভিত্তিতে বিলাসবহুল বাস সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অধিবেশনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি বশীর আহমেদ, সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির, সদস্য হাজী সিরাজ উদ্দিন, জিল্লুর রহমান প্রমুখ।

সেমিফাইনালও কি দেখবে টাইব্রেকার?

সেমিফাইনালেও টাইব্রেকারে জিতবেন নাকি? প্রশ্নটা আশাই করেননি মোহামেডান কোচ মারুফুল হক। অনেক ভেবে বললেন, ‘এযাবত্কালের কঠিন প্রশ্ন। আগে থেকে কী করে বলি।’
আগে থেকে বলা যায় না ঠিক, কিন্তু প্রশ্নটা তাঁকে করতেই হলো ফুটবলের গত কয়েক দিনের চালচিত্র দেখে। এবারের সিটিসেল ফেডারেশন কাপের চারটি কোয়ার্টার ফাইনালের তিনটিরই নিষ্পত্তি হয়েছে টাইব্রেকারে। কাল ও পরশু দুটি সেমিফাইনালেও কি টাইব্রেকারের ধারা অব্যাহত রইবে? দুই বড় দল মোহামেডান-আবাহনী সেটা চাইতে পারে না। আবার এটাও ঘটনা, এই টাইব্রেকারই এবার কোয়ার্টার ফাইনালে পার করে দিয়েছে তাদের!
নারায়ণগঞ্জ শুকতারা শেষ মুহূর্তে গোল শোধ করে দেওয়ায় চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল মোহামেডান। কোচ মারুফ টেনশনের সেই মুহূর্তটি এখনো যেন ভুলতে পারছেন না, ‘১-১ হয়ে যাওয়ায় পর একটা কথাই ভেবেছি, এত টাকা দিয়ে দল গড়ার পরও আমাদের কেন টাইব্রেকারে যেতে হবে। আমার হাত-পা কাঁপছিল। জাতীয় দলের ১০-১২ জন খেলোয়াড়ই আমাদের। এই দলটির তো উচিত নির্ধারিত সময়েই ম্যাচ জেতা। তবে না ভাই...আর টাইব্রেকারে যেতে চাই না। সেমিফাইনালে নির্ধারিত সময়েই ফল বের করে নেব ইনশাআল্লাহ।’
আবাহনী অধিনায়ক বিপ্লব টাইব্রেকার শব্দটা আর মনেই আনতে চান না। তার পরও ‘সেমিফাইনালেও টাইব্রেকার?’ প্রশ্নটা শুনে বললেন, ‘ওরে বাবা, আবার টাইব্রেকার?’ তবে শেখ রাসেলের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে দুঃস্বপ্নের ঘোরে ঢুকে পড়া আবাহনীকে উদ্ধার করেছে এই টাইব্রেকারই। তা করুক, বিপ্লব আর টাইব্রেকারে যেতে চান না, ‘এটা তো লটারি। আমরা হেরেও যেতে পারতাম।’ জানালেন ওই সময়ের অভিজ্ঞতাও, ‘প্রতিটা শটের সময়ই পোস্টে দাঁড়িয়ে নিজেকে বলেছি, বিপ্লব তুমি এখন দলকে বাঁচাতে পার। কিছু একটা কর। খুবই টেনশনের ব্যাপার।’
দুই প্রধান দলকে টাইব্রেকারে কেন জিততে হলো? মারুফ বলছেন তাঁর দলের কথা, ‘আমাদের কিছু সমস্যা হয়েছে। বৃষ্টিতে খেলা পেছানোয় দলের ছন্দটা নষ্ট হয়েছে। মাঠও ভালো ছিল না। এসব কারণে স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারিনি আমরা।’ তার পরও ছোট দলগুলোর কি কৃতিত্ব নেই? ‘অবশ্যই আছে। তবে এটা বড় কারণ নয়। বড় দলের মতো আমরা খেলতে পারিনি’—বলেছেন মারুফ। বিপ্লবেরও প্রায় অভিন্ন কথা, ‘আমরা বড় দল, কিন্তু সেভাবে খেলতে পারছি কই। সামাদ ওরকম একটা ভুল করল, গোল খেলাম। আমাদেরই তো দোষ।’
আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টায় মোহামেডানের সামনে ফেনী সকার, পরশু বিকেল পাঁচটায় আবাহনী খেলবে বিয়ানীবাজারের বিপক্ষে। বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত দুই ম্যাচেই নির্ধারিত সময়ে অঘটন ঘটাতে পারলে তো ভালোই, সেটা না পারলে ম্যাচটাকে টাইব্রেকারে নিতে চাইবে ছোট এই দুই দল। কোয়ার্টার ফাইনালে সকার হারিয়েছে রহমতগঞ্জকে, সেই টাইব্রেকারে। দলটির কোচ মিলন মোল্লা বলে দিলেন, ‘ভাগ্য সহায় হলে সেমিফাইনালেও জিততে পারি। নির্ধারিত সময়ে না পারলে ম্যাচটা টাইব্রেকারে নেওয়ার পরিকল্পনা আমাদের থাকবেই।’ এত টাইব্রেকার হচ্ছে কেন? তাঁর উত্তর, ‘ছোট টিমগুলো ভালো খেলছে তাই...।’
বিয়ানীবাজারের কোচ জমিসউদ্দিন জোসিরও একই কথা, ‘আগে ছোট আর বড় দলগুলোর মধ্যে ব্যবধান ছিল ২০-১০। এখন ২০-১৫। এ জন্যই টাইব্রেকার। আমরা সেমিফাইনালটা সহজে হারতে চাইব না। ফাইট করে টাইব্রেকারে গেলেও আমাদের জন্য ভালো।’
দেখাই যাক, ঢাকার বাইরের ছোট দুই দল দেশের সবচেয়ে বড় দুই দলের পরীক্ষা নিতে পারে কি না!

প্রথম দিনেই ৭টি নতুন রেকর্ড- জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতার

চুয়াডাঙ্গা থেকে এসেছে সুমাইয়া, সাবিনা, হেলেনা, মাসুদ রানা, আবদুল খালেক। রাজশাহী থেকে এসেছে বিশ্বজিত্, ফয়সাল, আশিকুল, ইব্রাহিম, হারুনুর রশীদ। ২৫তম জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতারের প্রথম দিনে তাদের কারোরই মন ভালো নেই। চুয়াডাঙ্গার কোচ আশরাফুল হকের অভিযোগ—এক রুমে ধুলা-ময়লা কার্পেটের ওপর কোনোরকমে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। রাজশাহী আলমগীর সুইমিং ক্লাবের অভিযোগ, বয়সের জটিলতায় আটকে পানিতে নামতে দেওয়া হচ্ছে না রাজশাহীর সাঁতারু ফয়সালকে। প্রতিবাদে তাদের কেউই পানিতে নামেনি কাল। তবে প্রতিবছরের মতো অভিযোগের মিছিলে পড়লেও ঠিকই এগিয়ে চলেছে প্রতিযোগিতা। উদ্বোধনী দিনে হয়েছে ৭টি নতুন রেকর্ড।
মিরপুর সাঁতার কমপ্লেক্সে কাল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে বিকেএসপি এবং বাংলাদেশ আনসারের মধ্যে। নিষ্পন্ন হওয়া ৩৬টি ইভেন্টের ১৮টিতে সোনা জিতেছে বিকেএসপির সাঁতারুরা। ১৭টি গেছে আনসারের ঘরে। তবে নতুন রেকর্ডের পাঁচটিই গড়েছে আনসারের সাঁতারুরা। দুটি বিকেএসপির। ১৫-১৭ বছর বয়সী বালক বিভাগে ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে ২ মিনিট ২৪.১৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে নিজের গত বছরের রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন আনসারের জুয়েল আহমেদ। ৪০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলেও রেকর্ড গড়ছেন জুয়েল, তাতে তাঁর সময় ৪ মিনিট ৩৮.৩৩ সেকেন্ড। ১১-১২ বছর বয়সী মেয়েদের বিভাগে আনসারের নাজমা খাতুন রেকর্ড গড়েছে ১০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে (১ মিনিট ২১.৪০ সেকেন্ড)। ২০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে একই দলের লাকী খাতুন ১৩-১৪ বছরের বিভাগে নতুন রেকর্ড গড়েছে (৩ মিনিট ১৫.১৪ সেকেন্ড)। ১৩-১৪ বছরের বালকদের ২০০ মিটারে ব্রেস্ট স্ট্রোকে বিকেএসপির আসিফের রেকর্ডটি হয়েছে ২ মিনিট ৪৮.৭৩ সেকেন্ডে। আর মেয়েদের ১১-১২ বছর বয়সী গ্রুপে ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে রেকর্ড গড়েছে নাজমা আক্তার (১:৩২.০৫ সেকেন্ড)। আনসারেরই ববিতা খাতুন ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে রেকর্ড করেছে ৬ মিনিট ১৫.৬৬ সেকেন্ড সময় করে।
কাল প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেল। এর আগে রাষ্ট্রীয় পদকজয়ী সাঁতারু সেতারা বেগম ও অরুণ নন্দীর স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আগামীকাল প্রতিযোগিতার শেষ দিন।
পাঠকের মন্তব্য

রইল বাকি নয়

৩২ দলের ২৩টি এখন চূড়ান্ত। বাকি ৯টি স্থানের জন্য লড়ছে ১৮টি দল। ইউরোপ থেকে আসবে এর ৪টি, আফ্রিকা থেকে ৩টি এবং এশিয়া-ওশেনিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকা-কনক্যাকাফ প্লে-অফ থেকে বাকি দুটি। আগামী বছরের বিশ্বকাপ ফুটবলের ৩২টি দলের নাম জানতে অপেক্ষা করতে হবে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত।
ইউরোপ থেকে বাছাইপর্বের নয় গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে চূড়ান্ত পর্বে উঠে গেছে ৯টি দল। বাকি ৪টি দল ঠিক হবে সেরা আট রানার্সআপের মধ্যে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে প্লে-অফে। ৯ নম্বর গ্রুপের রানার্সআপ নরওয়ে মাত্র ১০ পয়েন্ট পেয়ে বাদ পড়ে গেছে। বাকি ৮টি দল কে কার মুখোমুখি হবে, তা ঠিক করবে আগামী ১৯ অক্টোবরের ড্র। ১৬ অক্টোবর প্রকাশিতব্য ফিফা র্যাঙ্কিং অনুযায়ী সেরা ৪টি দলকে এক ভাগে রেখে আরেক ভাগে রাখা হবে বাকি চার দলকে। এর পর ড্রয়ের মাধ্যমে ঠিক করা হবে প্রতিপক্ষ। দুই লেগের ম্যাচগুলো হবে ১৪ ও ১৮ নভেম্বর।
ড্রয়ের কোন ভাগে কোন দলগুলো থাকছে, তার একটা ধারণাচিত্র পাওয়া যেতে পারে ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সর্বশেষ র্যাঙ্কিং থেকে। এই র্যাঙ্কিং অনুযায়ী রাশিয়া (৬), ফ্রান্স (১০), গ্রিস (১২) ও পর্তুগাল (১৭) থাকছে এক ভাগে। অন্য ভাগে ইউক্রেন (২৫), আয়ারল্যান্ড (৩৮), বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা (৪৬) এবং স্লোভেনিয়া (৫৪)।
স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আফ্রিকা থেকে ৩টি দল চূড়ান্ত। বাকি ৩টি স্থানের জন্য লড়ছে ৬টি দল। সব দলেরই ম্যাচ বাকি একটি করে, হবে ১৪ নভেম্বর। ‘এ’ গ্রুপে ১০ ও ৯ পয়েন্ট করে নিয়ে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ক্যামেরুন ও গ্যাবন। মরক্কো-ক্যামেরুন ও গ্যাবন-টোগো ম্যাচের ওপর নির্ভর করছে সব। ‘বি’ গ্রুপে নাইজেরিয়া ও তিউনিশিয়ার পয়েন্টের ব্যবধান ২। শেষ ম্যাচে ‘সুপার ইগল’দের প্রতিপক্ষ কেনিয়া, আর ‘কার্থেজ ইগল’দের মোজাম্বিক। ‘সি’ গ্রুপে মিসরের চেয়ে ৩ পয়েন্ট এগিয়ে আলজেরিয়া। শেষ ম্যাচে মুখোমুখিও এই দুদল।
বাকি থাকল দুটি জায়গা, যে দুটির নিষ্পত্তিও হবে প্লে-অফে। দক্ষিণ আমেরিকার পঞ্চম দল উরুগুয়ে মুখোমুখি হচ্ছে কনক্যাকাফের চতুর্থ দল কোস্টারিকার। এশিয়ার পঞ্চম দল বাহরাইন ও ওশেনিয়ার শীর্ষ দল নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার প্লে-অফের প্রথম লেগটি গোলশূন্য ড্র হয়েছে। ওয়েলিংটনে দ্বিতীয় লেগ হবে ১৪ নভেম্বর।
গত পরশু যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জিতলেই সরাসরি বিশ্বকাপে উঠে যেত কোস্টারিকা। নির্ধারিত সময় শেষে ২-১ গোলে এগিয়ে থেকেও বাড়তি সময়ে গোল খেয়ে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলা সংশয়ে পড়ে যায় কোস্টারিকানদের। এল সালভেদরকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৯৮২ সালের পর নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ফেলে হন্ডুরাস।

অতৃপ্তি নিয়ে শেষ ব্রাজিলের

তবে কি আত্মতৃপ্তিতেই ভুগতে শুরু করেছিল ব্রাজিল! নইলে শেষ দুই ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্স এমন ছন্নছাড়া কেন হবে? আগের ম্যাচে বলিভিয়ার কাছে হেরে যাওয়ার পর কাল নিজেদের মাঠে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র। অবশ্য এই দুই ম্যাচের ফলাফলে কিছুই এসে-যায়নি। তিন ম্যাচ হাতে রেখে গত মাসেই বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করা ব্রাজিল দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকেই যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকায়।
তবে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ড্র ব্রাজিলের জন্য এক ধরনের অপমানই। এর আগে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ১৯টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের ১৯টিই জিতেছে ব্রাজিল। এই দুই দলের লড়াইয়ে ব্রাজিলের পক্ষে ৪-০, ৫-০, ৬-০ স্কোরলাইনও যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
কাল একটা গোলও না পাওয়ায় অবশ্য ভাগ্যকে দুষতে পারে ব্রাজিল। দুই দুইবার বল গিয়ে লেগেছে ক্রসবারে। ৫৮ মিনিটে মিরান্ডাকে হারিয়ে বাকি সময় ব্রাজিলকে খেলতে হয়েছে ১০ জন নিয়ে। দুঙ্গা এ কারণেই এই ড্রকে বড় করে দেখছেন না, ‘একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে খেলার পরও কিন্তু আমরাই প্রাধান্য ধরে রেখেছিলাম। সুযোগও তৈরি করেছিলাম। এই ম্যাচে কেবল একটা জিনিসই আমরা পাইনি—গোল।’ তবে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে ঘরের দর্শকদের আনন্দের উপলক্ষ এনে দিতে না পারায় দুঃখ আছে দুঙ্গার, ‘ম্যাচটা জিতলে ভালো হতো। দর্শকদের আমরা বাড়তি কিছু আনন্দ দিতে পারতাম, যারা প্রথমার্ধে আমাদের বাজে খেলার পরও হাততালি দিয়ে উত্সাহ জুগিয়ে গেছে।’
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাও যে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে জায়গা করে নিল, এ নিয়ে কৃত্রিম অসন্তোষ প্রকাশ করে দুঙ্গা বলেছেন, ‘কে তার শত্রুকে জীবিত দেখতে চায় বলুন!’
দুঙ্গার মতো লুইস ফ্যাবিয়ানোও সর্বশেষ দুই ম্যাচের বিবর্ণ ব্রাজিলকে গুরুত্ব দিতে রাজি নন, ‘এই দলটা জিততে পারে, রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। ব্রাজিল ঠিক পথেই আছে। আমাদের এই একতা ধরে রাখতে হবে।’
তবে ফ্যাবিয়ানোর একটা আফসোস অবশ্য আছে। ঘোষণা দিয়েও বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে পারেননি। তাঁর চেয়ে একটা বেশি গোল করে সেই কৃতিত্ব চিলির হামবার্তো সুয়াজোর (১০ গোল)।

‘...শুধু ওরা বাদে’

ডিয়েগো ম্যারাডোনা
মনের ভেতর পুষে রাখা ক্ষোভ উগরে দিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। উরুগুয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপে যাওয়া নিশ্চিত করার পর রেগেমেগে বললেন, ‘এই জয় সব আর্জেন্টাইনের জন্য, শুধু সাংবাদিক ছাড়া।’
সাংবাদিকদের প্রতি তাঁর ক্ষোভের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন আর্জেন্টিনার কোচ, ‘ওরা আমাকে ধুলা-ময়লার মতো বিবেচনা করেছে। কিন্তু আমরা সসম্মানে বিশ্বকাপে উঠে গেছি। আমি এটা আর্জেন্টিনার প্রতিটি মানুষ আর আমার পরিবারকে উত্সর্গ করছি। কিন্তু একটা অংশ এর যোগ্য নয়। কারণ তারা আমাকে আবর্জনার মতো মূল্যায়ন করেছে।’
শুধু ম্যারাডোনার যোগ্যতা নিয়েই নয়, গত কয়েক দিনে পত্রপত্রিকায় ম্যারাডোনার সরে দাঁড়ানোর হুমকি, জাতীয় দলে তাঁর উপদেষ্টা কার্লোস বিলার্দোর সঙ্গে কথিত রেষারেষি, অন্তর্কলহ নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হয়েছে। এই ‘হলুদ সাংবাদিকতা’কেও একহাত নিলেন ম্যারাডোনা, ‘ওরা আরও অনেক কিছুর মতো আমার সঙ্গে বিলার্দোর মারামারি আবিষ্কার করেছে। আমার স্মৃতিশক্তি খুবই প্রখর। আমার দলের ওপর যারা বিশ্বাস রাখতে পারেনি, যারা আমাকে একদম অকর্মা মনে করেছিল তাদের কথা আমি কখনোই ভুলব না।’
পত্রপত্রিকায় কী সব ‘হাবিজাবি’ ছাপা হয় এসব নিয়ে মোটেও মাথা ঘামান না তিনি। তবে তার পরও এসব তাঁর কাজে ব্যাঘাত ঘটায় বলে জানালেন কোচ ম্যারাডোনা, ‘আমি সাধারণত পত্রপত্রিকা পড়ি না। ক্রীড়াবিষয়ক অনুষ্ঠানগুলোও দেখি না। কিন্তু আমার মেয়েরা দেখে। ওরাই আমাকে বলেছে, আমার সম্পর্কে কী সব বলাবলি হচ্ছে। তাই আমি আবারও বলছি, যারাই আমার সম্পর্কে উল্টাপাল্টা মন্তব্য করেছে, এখন তাদেরই নিজেদের কথা গিলতে হচ্ছে।’
গত কয়েকটি ম্যাচের তুলনায় কাল উরুগুয়ের বিপক্ষে তুলনামূলক গোছানো ফুটবল খেলেছে আর্জেন্টিনা। ম্যারাডোনার আত্মবিশ্বাসের পালেও তাই হাওয়া লেগেছে, ‘আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত। নিজেকে এখন সত্যিকারের একজন কোচ মনে হচ্ছে। কারণ ড্রেসিংরুমে আমি যেসব পরিকল্পনা করেছিলাম, তার সবগুলোই সঠিকভাবে আজ আমরা কাজে লাগাতে পেরেছি। এখন ঠান্ডা মাথায় কাজ করার, সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখার অনেক সময় পাব আমি।’
উরুগুয়ের প্রতিও সমবেদনা আর শুভকামনা জানিয়েছেন ম্যারাডোনা, ‘উরুগুয়ে খুবই ভালো একটা দল। কোচ অস্কার তাবারেজকে আমি শ্রদ্ধা আর সমীহ করি। উরুগুয়েও বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার যোগ্য। আমিও এটাই চাই। কারণ এই দেশে আমার অনেক বন্ধু-শুভাকাঙ্ক্ষী আছে।’