Friday, July 1, 2011

পাকিস্তানে আরও হামলার হুমকি তালেবানের

ওসামা বিন লাদেনের হত্যার প্রতিশোধ নিতে করাচির মেহরান নৌঘাঁটিতে হামলার মতো পাকিস্তানে আরও নয়টি হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন তালেবানের শীর্ষস্থানীয় এক কমান্ডার। খবর পিটিআইয়ের।
পাকিস্তানের দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে তেহরিক-ই-তালেবানের প্রধান ওয়ালি-উর-রেহমান আল-আরাবিয়া টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘ইতিমধ্যে পাকিস্তান থেকে প্রতিশোধের খেলা শুরু হয়েছে। বিন লাদেনের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে তালেবানের ১০টি হামলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমটি চালানো হয়েছে করাচির মেহরান নৌঘাঁটিতে।’
তালেবান জঙ্গিরা গত মাসে পাকিস্তান নৌবাহিনীর মেহরান বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় এবং একটি নৌ গোয়েন্দা বিমান ধ্বংস করে। হামলায় একজন কর্মকর্তা ও কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী ও দমকলকর্মীসহ ১০ জন নিহত হন।
ওয়ালি-উর-রেহমান যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত বিশেষভাবে চিহ্নিত বিশ্বসন্ত্রাসী। তাঁকে জীবিত ও মৃত অবস্থায় ধরার জন্য ছয় লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
রেহমান বলেন, সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওই স্থাপনাগুলোতে একইভাবে আরও নয়টি হামলা চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে ‘একটি মার্কিন পুতুল’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অন্তত আট বছর লড়াই করার ইচ্ছা আছে তালেবানের।
দক্ষিণ ও উত্তর ওয়াজিরিস্তানের সীমান্তবর্তী শাওয়াল এলাকা থেকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় রেহমান যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নাগরিকদের ওপরও হামলা চালানোর হুমকি দেন। তিনি বলেন, ‘শিগগির আপনি যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ওপর হামলা দেখতে পাবেন এবং আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হবে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য।’
গত ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডো অভিযানে বিন লাদেন নিহত হন।

ফিলিপাইনে শত শত নতুন প্রাণী ও উদ্ভিদের সন্ধান

ফিলিপাইনে শত শত নতুন প্রজাতির জীব ও উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া গেছে। সে দেশের উপকূল, বৃষ্টিপ্রধান ক্রান্তীয় অঞ্চলের জঙ্গল (রেইন ফরেস্ট) এবং পাহাড়ি এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে এসব জীব ও উদ্ভিদের সন্ধান পান মার্কিন নেতৃত্বাধীন একটি জীববৈচিত্র্য জরিপ সংস্থার গবেষকেরা।
দ্য ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস নামের ওই সংস্থা এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা সম্প্রতি ফিলিপাইনের সাগর উপকূলে পানির নিচে এবং দেশটির স্থলভাগের পাহাড়ি ও অরণ্যঘেরা এলাকায় ৪২ দিনের একটি গবেষণা অভিযান চালায়। এ সময় তারা তিন শতাধিক প্রাণী ও উদ্ভিদের সন্ধান পায়, যেগুলো আগে কখনো দেখা যায়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাগরতলে যেসব নতুন প্রাণীর সন্ধান মিলেছে, সেগুলোর মধ্যে এক ধরনের ব্যতিক্রমী হাঙর পাওয়া গেছে। হাঙরগুলোর প্রধান বিশেষত্ব হলো, শিকারিদের ভয় দেখাতে তারা পানি গিলে নিজের শরীরকে অস্বাভাবিক রকম ফুলিয়ে ফেলে। এক ধরনের তারা মাছ (স্টার ফিশ) দেখা গেছে, যারা শুধু ভেসে আসা গাছের গুঁড়ি খেয়ে বাঁচে। তিন ধরনের লবস্টার (চিংড়িজাতীয় প্রাণী) পাওয়া গেছে, যাদের গায়ে সাধারণ লবস্টারের মতো খোলস নেই। এক ধরনের কাঁকড়া পাওয়া গেছে, যার সাঁড়াশিতে সুচের মতো সূক্ষ্ম দাঁত বসানো। এ ছাড়া শামুক, ঝিনুক ও গবলিন স্পাইডার গোত্রের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক প্রাণীর সন্ধান পাওয়া গেছে।

ইরাকে আল-কায়েদা প্রধানের স্ত্রীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আল-কায়েদার ইরাক শাখার প্রধানের বিধবা স্ত্রীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বাগদাদের একটি আদালত। দেশটির বিচার বিভাগের একজন কর্মকর্তা গতকাল বুধবার এই তথ্য জানিয়েছেন।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের যৌথ অভিযানে আল-কায়েদার নেতা আবু ওমর আল-বাগদাদি নিহত হন। ইরাকের আল-কায়েদা-নিয়ন্ত্রিত সংগঠন ইসলামিক স্টেট অব ইরাকের (আইএসআই) প্রধান ছিলেন তিনি।
বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ কাউন্সিলের মুখপাত্র আবদেল সাত্তার আল-বারিকদার জানান, সাজা পাওয়া ওই নারী একজন ইরাকি।
বারিকদারের ভাষ্যমতে, ওই নারী আদালতের কাছে স্বীকার করেছেন যে তিনি স্বামীর সঙ্গে অনেক সশস্ত্র অভিযানে অংশ নিয়েছেন। সংগঠনের অর্থ ও আত্মঘাতী হামলার সরঞ্জাম ছিল তাঁর নিয়ন্ত্রণে। তিনি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করবেন বলে জানান।
২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল বাগদাদে এক যৌথ অভিযানে নিহত হন বাগদাদি।
এ ঘটনার পর ইরাকে নিযুক্ত মার্কিন শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল রেই ওডিয়ারনো বলেন, বাগদাদির হত্যাকাণ্ড ইরাকে আল-কায়েদার জন্য বড় ধরনের একটা ধাক্কা।

সিঙ্গুরে জমি পুনর্বণ্টনের ওপর সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গতকাল বুধবার পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সিঙ্গুরের জমি কৃষকদের মধ্যে পুনর্বণ্টনের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছেন। টাটা মোটরসের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট এ আদেশ জারি করেন।
সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আদেশে বলেছেন, কলকাতা হাইকোর্টে মামলা চলাকালীন সিঙ্গুরের জমি ফেরত দিতে পারবে না রাজ্য সরকার। তবে জমির জরিপসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া চালাতে পারবে। আগামী এক মাসের মধ্যে কলকাতা হাইকোর্ট মূল মামলার শুনানি শেষে টাটার জমি ফেরতের ওপর চূড়ান্ত নির্দেশ দিতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে টাটা মোটরস সিঙ্গুর মামলায় প্রাথমিক জয় পেল।
এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমিত্র পাল সিঙ্গুরের জমি বণ্টনের ওপর টাটার চাওয়া অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের আবেদন সোমবার খারিজ করে দেন। এরপরই মঙ্গলবার টাটা মোটরস কলকাতা হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। গতকাল সকালে সেই আপিলের শুনানি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পি সত্যশিবম ও বিচারপতি এ কে পট্রনায়কের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সিঙ্গুরে ন্যানো গাড়ির কারখানা নির্মাণের জন্য সাবেক পশ্চিমবঙ্গ সরকার টাটা মোটরসকে ৯৯৭ দশমিক ১৭ একর জমি ইজারা দেয়। সেই জমি ফের যাতে কৃষকদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করা না হয়, সেই আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে ২২ জুন অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়েছিল টাটা। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট গত সোমবার সেই আবেদন খারিজ করে দেন। এরপরেই সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চে কলকাতা হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করে টাটা মোটরস। এই আপিলে সিঙ্গুরের জমি পুনরায় বণ্টনের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সিঙ্গুরের জমি দ্রুত কৃষকদের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। সোমবার জমি জরিপের জন্য রাজ্য ৫০ জন সার্ভেয়ারকে সিঙ্গুরে পাঠানো হয়।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুর আন্দোলনকে পুঁজি করে এবার পশ্চিমবঙ্গের শাসনক্ষমতায় আসে। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিমতো মমতা অনিচ্ছুক কৃষকদের প্রায় ৪০০ একর জমি ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। এই লক্ষ্যে সরকার ১৪ জুন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ’সিঙ্গুর পুনর্বাসন ও উন্নয়ন বিল’ নামে একটি আইন পাস করে। ওই আইনবলে ২১ জুন রাতেই সিঙ্গুরের সব জমির দখল নেয় রাজ্য সরকার। তারপর এই জমি অনিচ্ছুক কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে টাটা মোটরস।
এই রায় ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এতে করে নৈতিক বিজয় হয়েছে রাজ্য সরকারের। এই রায় সাধারণ মানুষের পক্ষে যাবে। সুপ্রিম কোর্ট সিঙ্গুর নিয়ে বিধানসভায় পাস হওয়া আইনকে বৈধ নয় বলে ঘোষণা বা জমি বণ্টনের গোটা প্রক্রিয়ার ওপর যে কোনো নির্দেশ দেননি—এ জন্য মমতা স্বস্তি প্রকাশ করেন। তবে তিনি বলেন, সিঙ্গুরে জমি বণ্টন করা না হলেও এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া যথারীতি চলবে।

পাকিস্তানে রেঞ্জার্সের ছয় সদস্য অভিযুক্ত

একজন নিরস্ত্র কিশোরকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার দায়ে পাকিস্তানের আধা সামরিক বাহিনী রেঞ্জার্সের ছয় সদস্যকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দেশটির শক্তিশালী নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিরল এ পদক্ষেপ নিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। বেসামরিক আদালতে ওই অভিযুক্ত সদস্যদের বিচার করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। তবে রেঞ্জার্সের ওই সদস্যদের সবাই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঐতিহ্যগতভাবে পাকিস্তানিরা দেশের সেনাবাহিনী এবং এর শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থার সমালোচনার ব্যাপারে সতর্ক। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত এ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে কঠোর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকেরা বলেন, বিষয়টি অধিক গুরুত্বসহকারে যাচাই করা হবে। এ ধরনের মামলাগুলো সাধারণত সামরিক আদালতে সম্পন্ন হলেও অভিযুক্ত রেঞ্জার্স সদস্যদের বিচার হবে বেসামরিক আদালতে।
চলতি মাসেই সরফরাজ নামের ওই কিশোরকে করাচির একটি পার্কে খুব কাছে থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের ধারণ করা ভিডিও টেলিভিশনে প্রচারিত হলে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এক বেসামরিক ব্যক্তি সরফরাজকে চুল ধরে টেনে নিয়ে যান রেঞ্জার্স সদস্যদের কাছে। নিরস্ত্র সরফরাজ বাঁচার জন্য অনেক অনুনয় করলেও এক রেঞ্জার্স সদস্য তাকে পর পর দুবার গুলি করেন। এরপর দেখা যায়, গুলিবিদ্ধ সরফরাজ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে এবং রেঞ্জার্স সদস্যরা তার পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।

সু চিকে রাজনৈতিক তৎপরতা না চালাতে সতর্কতা

মিয়ানমারের সেনা-সমর্থিত সরকার দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিকে রাজনৈতিক তৎপরতা না চালাতে সতর্ক করেছে। একই সঙ্গে সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার মিয়ানমারের নিউ লাইট অব মিয়ানমার পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়।
গত মঙ্গলবার বিবিসিতে প্রচারিত বক্তব্যে সু চি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক আন্দোলন তাঁর দেশের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নেত্রী সু চিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক চিঠিতে হুঁশিয়ার করা হয়, তাঁর দল দলীয় কার্যালয় চালু রেখে, সভা-সমাবেশ করে এবং রাজনৈতিক বিবৃতি দিয়ে আইন ভঙ্গ করছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সত্যিই যদি তাঁরা কার্যকরভাবে গণতন্ত্র গ্রহণ ও চর্চা করতে চান, তাহলে তাঁদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে, যা শান্তি ও স্থিতিশীলতার ক্ষতি করতে পারে। এ ছাড়া তা আইনপরিপন্থী বলেও বিবেচিত হতে পারে। একই সঙ্গে তা ভিক্ষু সম্প্রদায়, সেনাবাহিনীসহ সাধারণ মানুষের ঐক্যে ফাটল ধরাতে পারে।
একটানা সাত বছর গৃহবন্দী থাকার পর গত নভেম্বরে মুক্তি পান সু চি। ২০ বছরের মধ্যে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সু চিকে মুক্তি দেওয়া হয়। সমালোচকেরা অবশ্য বর্তমান সরকারকে বেসামরিক প্রশাসনের আড়ালে থাকা সেনা শাসক বলে অভিহিত করে থাকেন। পক্ষপাতের দোহাই দিয়ে নির্বাচন বর্জন করায় গত বছর সরকার এনএলডিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
ইংরেজি ভাষার ওই পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে পরামর্শ দেওয়া হয়, সু চির দলটি চাইলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সামাজিক সংগঠনে রূপান্তরিত হতে পারে। একই সঙ্গে সতর্ক করে দেওয়া হয়, সু চির পরিকল্পিত রাজনৈতিক সফর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সু চির পরিকল্পিত সফর নিয়ে আমরা খুব উদ্বিগ্ন। কারণ এতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। বাধতে পারে দাঙ্গাহাঙ্গামা। আগের ঘটনাগুলো এর প্রমাণ।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী সরকার বলেছে, সু চি এখন দেশের সাধারণ একজন মানুষ। কাজেই আইন মেনে তিনি ভ্রমণসহ অন্য যা কিছু করুন না কেন, কোনো বাধা নেই। তবে আইনের ধারা সমুন্নত রাখতে আইনের প্রতি তাঁকে সম্মান দেখাতে হবে।
সু চি রাজনৈতিক সফরের পরিকল্পনা নিলেও এ ব্যাপারে এখনো কোনো সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। এ ধরনের সফরে তাঁর নিরাপত্তা রক্ষা বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়। ২০০৩ সালে সু চির গাড়িবহরে অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। তাঁর জনপ্রিয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী এই হামলার পেছনে ছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে এখন এ ধরনের সফরের প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এতে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তাঁর জনপ্রিয়তার হাল-হকিকত জানা যাবে।

রাহুল প্রধানমন্ত্রী হলে নীতিগত আপত্তি নেই মনমোহনের

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী পদে তরুণ নেতৃত্ব আসুক, সেটা তিনিও চান। তবে এ ক্ষেত্রে তিনি সরাসরি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নাম উল্লেখ করেননি। কিন্তু পরোক্ষভাবে রাহুল গান্ধীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তিনি (রাহুল) প্রধানমন্ত্রী হলে তাঁর নীতিগত কোনো আপত্তি নেই। গতকাল বুধবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে দেশের পাঁচটি প্রভাবশালী পত্রিকা ও বার্তা সংস্থার সম্পাদকদের সঙ্গে আলাপকালে মনমোহন সিং এ কথা বলেন।
কংগ্রেসের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা সম্প্রতি বলেছেন, রাহুল গান্ধীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর পদ নেওয়ার সময় এসে গেছে। দলীয় নেতাদের এ মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে মনমোহন সিং বলেন, এ বিষয়ে তাঁর নীতিগত কোনো আপত্তি নেই। নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গতকাল এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনি যদি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞাসা করেন তাহলে আমি বলব, এই অনুভূতি ঠিকই আছে।’ তবে শিগগির পদ ছেড়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান মনমোহন সিং। তিনি বলেন, ‘দল সিদ্ধান্ত ঠিক করে ফেললে আমি খুশিমনেই পদত্যাগ করব। কিন্তু আমি যতক্ষণ এখানে আছি, আমার কাজ আমি করে যাব।’
ভারতের নেহরু-গান্ধী রাজনৈতিক পরিবারের বংশধর ৪১ বছর বয়স্ক রাহুল গান্ধীকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে কিছুদিন ধরে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় ঢুকতে আগ্রহ প্রকাশ করেননি কংগ্রেসের এই সাধারণ সম্পাদক। বরং তিনি দলে একটি যুব আন্দোলন গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন।
মনমোহন যেসব সম্পাদকের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তাঁরা হলেন: টি এন নিনান (বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড—বাণিজ্যবিষয়ক ইংরেজি দৈনিক), এম কে রাজদান (পিটিআই—বার্তা সংস্থা), রাজ চেনগাপ্পা (ট্রিবিউন—ইংরেজি দৈনিক), অলোক মেহতা (নৈ দুনিয়া—হিন্দি দৈনিক) ও কুমার কেতকার (দিব্য মারাঠি—মারাঠি দৈনিক)।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে রামলীলাতে অনশনকারী যোগগুরুকে রামদেবের ওপর পুলিশি হামলা সম্পর্কে মনমোহন বলেন, ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু এ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।
নিজের মন্ত্রিসভায় নতুন নেতৃত্ব আনা হবে বলে জানান মনমোহন। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় রদবদলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সমতায় বোলারদের ম্যাচ

বৃষ্টিতে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরুই হয়েছিল ৪৫ মিনিট দেরিতে। এরপর লাঞ্চ পর্যন্ত আর বৃষ্টি না হলেও খেলা হয়েছিল মাত্র ১৭ ওভার। লাঞ্চের পর নবম ওভারের সময় আবারও বৃষ্টির হানা ব্রিজটাউনে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর তখন ছিল ৫ উইকেটে ৯৮। ব্যাট করছিলেন চন্দরপল ও স্যামুয়েলস। জুটিতে ৪১ রান করে শুরুর মারাত্মক ধসটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন অভিজ্ঞ এই দুই ব্যাটসম্যান।
এর আগে দিনের শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়েছিল স্বাগতিকরা। আগের দিনের ৩ উইকেটে ৩০ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামা স্বাগতিকরা দিনের শুরুতেই হারায় আরও দুটি উইকেট। দুটি উইকেটই নিয়েছেন ইশান্ত শর্মা। দিনের ষষ্ঠ ওভারে চার বলের মধ্যে বিশু ও সারওয়ানকে ফিরিয়ে দেন ইশান্ত। সারওয়ানকে এই নিয়ে তিনবার আউট করলেন এই ফাস্ট বোলার। সেটাও মাত্র ২৪ বলে।
ভারতীয় পেসাররা ব্রিজটাউনের আর্দ্রতাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন। ইশান্ত বাড়তি বাউন্স দিয়ে ও প্রাভিন ক্যারিবীয়দের ভুগিয়েছেন বলকে দুই দিকেই সুইং করিয়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাঁচটি উইকেটই নিয়েছেন পেসাররা। ইশান্ত তিনটি, প্রাভিন ও মিঠুন একটি করে।
টেস্টের প্রথম দিনে ভারতকে লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন ভিভিএস লক্ষ্মণ। প্রথম টেস্টে ১২ ও ০ রানে আউট হওয়া এই ডানহাতি পরশু খেললেন লড়াকু এক ইনিংস। শেষ পর্যন্ত দেবেন্দ্র বিশুরই শিকার হয়েছেন (কিংস্টনের প্রথম দিনেও তা-ই)। তবে এর আগে ৮৫ রানের ইনিংস খেলেছেন। গাভাস্কার, টেন্ডুলকার, দ্রাবিড়ের পর চতুর্থ ভারতীয় হিসেবে পূর্ণ করেছেন ৮ হাজার টেস্ট রান। লক্ষ্মণের ইনিংসটার মাহাত্ম্য বেড়ে যাচ্ছে এ কারণে, ৪৪ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে প্রথম মধ্যাহ্নভোজটা সেরেছে ভারত। লাঞ্চের আগে আগেই রায়নাকে নিয়ে ইনিংস মেরামত শুরু করেছিলেন। দিনের দ্বিতীয় সেশনে আর উইকেটই পড়তে দেননি। ভারত চা-বিরতিতে যায় ওই ৪ উইকেটেই ১৪৭ রান তুলে। লক্ষ্মণ ব্যাট করছিলেন ৬৯ আর রায়না ৫২ রানে।
চা-বিরতি ফিরে এসেই ধাক্কাটা খায় ভারত। আসাদ রউফের প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্তে আউট হন রায়না। থাই প্যাডে লেগে বল ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে গিয়েছিল। ঝাঁপিয়ে পড়ে বারাথ ক্যাচ নিলেও সে রকম জোরালো আবেদন ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেনি। কিন্তু একটু ভেবেই তর্জনী তুলেছেন রউফ। বেচারা রায়না প্রথম টেস্টেও এমন ব্যাটে ছোঁয়া না লাগিয়েও ক্যাচ আউট হয়েছিলেন!
রায়না আউট হওয়ার দুই ওভার পরেই বিদায় নেন ধোনি। এ নিয়েও হয়েছে নাটক। এডওয়ার্ডসের করা ওই বলে প্রথমে নো বলের সংকেত দেন ইয়ান গোল্ড। কিন্তু এর পর নিশ্চিত হতে তৃতীয় আম্পায়ারের দ্বারস্থ হন। রিপ্লে দেখায় নো বল হয়নি। প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসে ব্যর্থ ধোনি ফিরে যান মাত্র ২ রান করে। এডওয়ার্ডস এরপর হরভজন আর মিঠুনকে দ্রুত ফেরান। বিশু ফিরিয়ে দেন লক্ষ্মণ আর প্রাভিনকে। নতুন কোচ ফ্লেচারের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে ২০১ রানে অলআউট হয় ভারত।
কিন্তু দ্রুতই কোচকে নির্ভার করেন তিন পেসার। পর পর দুই ওভারে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন ইশান্ত ও প্রাভিন। দিনের শেষ ওভারে ব্রাভোকে আউট করে টেস্টে নিজের প্রথম উইকেটটি পেয়ে যান অভিষিক্ত মিঠুন। প্রথম দিনেই ১৩ উইকেটের পতন দেখেছে বারবাডোজ।

কন্ডিশনিং ক্যাম্প শেষ আজ প্রাথমিক দল

ক্রিকেটারদের এক মাসের কন্ডিশনিং ক্যাম্প শেষ হচ্ছে আজই। কক্সবাজার থেকে ক্যাম্প শেষ করে আজ দুপুরে ঢাকায় আসার কথা ক্রিকেটারদের।
ক্যাম্পের বেশির ভাগ সময় ভালোয় ভালোয় কাটলেও শেষ দিকে এসে লেগেছে ইনজুরির ধাক্কা। আগের দিন বিচ ফুটবল খেলতে গিয়ে বাঁ পায়ের বুড়ো আঙুলে ব্যথা পেয়েছেন পেসার শাহাদাত হোসেন। আর কাল শেষ দিনে সার্ফিং করতে গিয়ে বোটের আঘাতে ঠোঁটের নিচে কেটে গেছে শামসুর রহমানের। সপ্তাহের জন্য বিশ্রামে চলে যাওয়া শাহাদাতের ইনজুরির তুলনায় অবশ্য এটা কিছুই না। দিন তিনেক বিশ্রাম নিতে বলা হয়েছে তাঁকে।
কাল সকালে সার্ফার জাফর আলম ও তাঁর দলের কাছ থেকে সার্ফিংয়ের তালিম নিয়ে মিনিট পনেরোর মতো নিজেরাই সার্ফার হয়ে গিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। বিকেলে হয়েছে হিল রানিং। আজ ঢাকায় ফিরে দুই দিন বিশ্রাম। ৩ জুলাই থেকে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হবে জিম্বাবুয়ে সিরিজের প্রাথমিক দলের স্কিল ট্রেনিং। ২২ সদস্যের দল ঘোষণা হবে আজ।

টাকা উড়ছে প্রিমিয়ার ক্রিকেটে!

জাতীয় দলের এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে কদিন আগেও আলোচনা চলছিল। তাঁর দাবি ২৫ লাখ টাকা। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব দিতে চায় লাখ পাঁচেক কম। বিদেশি খেলোয়াড় আনতে কত খরচ হবে, সেটাও নিশ্চিত নয় এখনো। অথচ খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক বাবদ ক্লাবটি এর মধ্যেই খরচ করে ফেলেছে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা!
এই টাকা অগ্রিম দিয়ে তারা চুক্তিবদ্ধ করেছে ১৫ জন স্থানীয় ক্রিকেটারকে। বিদেশি খেলোয়াড়দের পেছনে আনুমানিক খরচ ধরলে তাঁদের পারিশ্রমিক বাবদ খরচ হতে পারে আড়াই কোটি টাকা। গতবার দেড় কোটি টাকায় দল করা গাজী ট্যাংকেরও খেলোয়াড়দের পেছনে খরচ এবার ছুঁতে পারে একই অঙ্ক। ক্লাবটির কর্মকর্তা কামরুজ্জামান হীরার ধারণা, ওপরের দিকের পাঁচ-ছয়টি দলের কেউই এবার দুই কোটি টাকার নিচে দল করতে পারবে না।
ক্রিকেটারদের উচ্চমূল্য হাঁকানো প্রিমিয়ার লিগ শুরুর ছয় মাস আগেই সরগরম করে দিয়েছে ঢাকার ক্লাবপাড়া। সিসিডিএমের প্রস্তাবিত পঞ্জিকা অনুযায়ী, আসন্ন মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের টি-টোয়েন্টি শুরু হওয়ার কথা আগামী বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে, ওয়ানডে ২ ফেব্রুয়ারি।
ধানমন্ডি ক্লাব সর্বশেষ প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ খেলেছে ২০০২-০৩ মৌসুমে। নাম বদলে ‘শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব’ হওয়ার পর প্রিমিয়ারে এবারই প্রথম। ফুটবলের মতো ক্রিকেটেও ভালো দল গড়তে দেদার টাকা ঢালছে ক্লাবটি। না ঢেলে উপায় নেই। ঢাকার ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের মূল্য যে এবার আকাশছোঁয়া!
বিভিন্ন ক্লাবের কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, মূলত দুই ধরনের ক্রিকেটারদের উচ্চমূল্যের কারণেই পারিশ্রমিকের গ্রাফ এতটা ঊর্ধ্বমুখী—এক. ঘরোয়া ক্রিকেটে যাঁরা নিয়মিত পারফরমার। দুই. লিগের বেশির ভাগ ম্যাচে যাঁদের দলে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। শুরুতেই এসব ক্রিকেটারের দাম বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় দল ও তার আশপাশে থাকা ক্রিকেটাররাও বাড়িয়ে দিয়েছেন পারিশ্রমিক। তবে অনেক ক্লাবের অভিযোগ, উঠতি ক্রিকেটারদের মাত্রাতিরিক্ত পারিশ্রমিক দিয়ে গাজী ট্যাংক আর শেখ জামালই বাজার এমন চড়িয়ে দিয়েছে।
শুরুতে শেখ জামালের দল গঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা খালেদ মাহমুদ অবশ্য মানতে চাইলেন না, ‘শেখ জামাল মাঠে নামার আগেই মাঝারি মানের খেলোয়াড়দের বেশি দামে সই করিয়ে নিয়েছে অন্য একটা ক্লাব। বাজার চড়া হয়ে গিয়েছিল তখনই।’ ইঙ্গিতটা যাদের দিকে, সেই গাজী ট্যাংকের কর্মকর্তা কামরুজ্জামান হীরার ব্যাখ্যা, ‘এমন কিছু খেলোয়াড় আছে, ভারসাম্যপূর্ণ দল করতে যাঁদের রাখতেই হয়। ওই সব খেলোয়াড় যখন বলে, অমুক ক্লাব তো আমাকে অত টাকা দিতে চায়, তখন বাধ্য হয়েই তাঁকে বেশি টাকা দিতে হয়।’ শুধু গাজী ট্যাংক নয়, ক্রিকেটারদের এই কৌশলের ‘শিকার’ এবার কমবেশি সব ক্লাবই।
এবার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিকে চুক্তিবদ্ধ হওয়া ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। ২৮ লাখ টাকা নিয়ে বিমান থেকে সই করেছেন শেখ জামালে। মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী ও শামসুর রহমানকে এ ক্লাব টেনেছে ২০ লাখ করে দিয়ে। মেহরাব হোসেন জুনিয়র পাচ্ছেন ১৮ লাখ, তুষার ইমরান ১২ লাখ। এ ছাড়া ডলার মাহমুদ, শুভাশীষ রায়, তাপস বৈশ্যরা ১০ লাখ করে। গতবার ৫ লাখেরও কম পাওয়া একাডেমির দুই ক্রিকেটার মাহমুদুল হাসান ও মাইশুকুর রহমানও নিচ্ছেন ১০ লাখ টাকা করে।
উচ্চমূল্যে খেলোয়াড় কেনার প্রতিযোগিতা মূলত শেখ জামাল আর গাজী ট্যাংকের মধ্যেই। নাসির হোসেনকেই ২২ লাখ টাকা দিচ্ছে গাজী ট্যাংক, মোহাম্মদ মিঠুনও নাকি পাবেন ২০ লাখের কাছাকাছি! শেখ জামালের কাছ থেকে ২৮ লাখ টাকার প্রস্তাব পাওয়া অলক কাপালিকে ধরে রাখা নিয়ে টেনশনে আছে ক্লাবটি। তারা চাচ্ছে ২৫-এর মধ্যে রফা করতে।
তবে চড়া বাজারেও আবাহনী সম্ভবত ধরে রাখতে পারছে ইমরুল কায়েস ও মাহমুদউল্লাহকে। গতবার ১৬ আর ১৮ লাখ টাকা করে নিলেও এবার দুজনই প্রায় ২৫ লাখ করে নিচ্ছেন পুরোনো ক্লাব থেকে।
অন্যদেরই যখন এই অবস্থা, ঘরোয়া ক্রিকেটে গত দুই মৌসুম থেকেই দাম বাড়িয়ে রাখা সাকিব আল হাসান আর তামিম ইকবালের দাম তো আরও চড়ে যাওয়ার কথা! মজার ব্যাপার হলো, সম্ভাব্য দামটা অনেক বেশি হবে ভেবে মোহামেডানের এই দুই ক্রিকেটারকে নাকি কোনো দল প্রস্তাবই দেয়নি!

আবার নিষিদ্ধ মেক্সিকান ফুটবলার

এই মাসেই দ্বিতীয়বারের মতো কলঙ্কের দাগ লাগল মেক্সিকান ফুটবলে। কদিন আগে কনক্যাকাফ গোল্ডকাপ খেলতে গিয়ে ডোপ নেওয়ার অভিযোগে মেক্সিকোর পাঁচ খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধ করা হয়। ওই ঘটনার রেশ না কাটতেই এবার যৌন কেলেঙ্কারি। আর এতে ৮ ফুটবলারকে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করেছে মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশন।
নিষিদ্ধ আট ফুটবলারই মেক্সিকোর কোপা আমেরিকার দলের সদস্য। কোপা আমেরিকা খেলতে আর্জেন্টিনা যাওয়ার পথে ইকুয়েডরের কিটোর হোটেলে কয়েকজন মহিলাকে আমন্ত্রণ করে আনা হয়েছিলেন, যা পরিষ্কার শৃঙ্খলাভঙ্গ। ইকুয়েডরের মিডিয়ায় খবর, ওই মেয়েরা খেলোয়াড়দের কক্ষ থেকে অনেক জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে। ভিডিও ফুটেছে দেখা গেছে, অভিভাবক সেজে ওই মহিলাকে খেলোয়াড়দের রুমে নিয়ে যান মেক্সিকো দলেরই টিম ম্যানেজার! নিষিদ্ধ খেলোয়াড়েরা হলেন মার্কো মোরা, হ্যাভিয়ের কোর্তেস, নেস্টর কালদেরন, জোনাথন দস সান্তোস, হোর্হে হার্নান্দেজ, ডেভিড ক্রাব্রেরা, নেস্টর ভিদ্রিও এবং ইসরায়েল জিমেনেজ।
ছয় মাস নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আট ফুটবলারের প্রত্যেককে ৫০ হাজার মেক্সিকান পেসো জরিমানাও করা হয়েছে।
আগামীকাল (বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোরে) শুরু হওয়া কোপা আমেরিকায় অতিথি দল হিসেবে অংশ নিচ্ছে মেক্সিকো। আর্জেন্টিনায় যাওয়ার পথে কোপার চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে ইকুয়েডরের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে মেক্সিকো। ১-০ গোলে জয়ের পর রাতেই ওই কেলেঙ্কারি। নিষিদ্ধ খেলোয়াড়দের দেশে পাঠিয়ে নতুন খেলোয়াড় নিয়েছে মেক্সিকো।

আনন্দিত-বিস্মিত ইলিয়েভস্কি

মাথায় বাঁধা বাংলাদেশের পতাকা। হাতেও লাল-সবুজ। ভাঙা একটা ছাতা মাথায় নিয়ে মোহামেডান গ্যালারিতে কাকভেজা হয়ে খেলা দেখছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা যুবক লিটন। বৃষ্টিতে ভেজাটা বিফলে যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি-ইচ্ছুক এই যুবক প্রায় হাজার চার-পাঁচ দর্শকের সঙ্গী হয়ে দেখলেন বাংলাদেশের জয়।
বিশ্বকাপ প্রাক-বাছাইপর্বের এই ম্যাচের আগে পাকিস্তান দলের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম ছিল বৃষ্টি। তা বৃষ্টি হলো বটে। ম্যাচ শুরুর ঘণ্টা দুয়েক আগে থেকে শুরু করে প্রায় পুরো ম্যাচের সময়টা জুড়েই। পরাজয়ের অজুহাতও পেয়ে গেলেন পাকিস্তানি কোচ তারিক লুৎফি, ‘এই মাঠে ফুটবল খেলা মোটেও সম্ভব নয়। আমরা ফিফার কাছে লিখিত প্রতিবাদ জানাব। ম্যাচ বাতিল করতে বলব। আমাদের খেলোয়াড়েরা তো বারবারই বলেছে, এই মাঠে খেলা সম্ভব নয়।’
ঢাকায় এসেই ঘোষণা করেছিলেন, বাংলাদেশের কাছে হারলে পদত্যাগ করবেন। পদত্যাগ কি করছেন, নাকি বৃষ্টি-বর্মের আড়ালে আশ্রয়? প্রশ্নটা করার আগেই তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন কক্ষ ছেড়ে গেলেন লুৎফি। তবে তার আগে আশা না ছাড়ার কথাও জানিয়ে গেলেন, ‘আমার মনে হয় এখনো আমাদের ফেরার সম্ভাবনা আছে। আমি আশা করি লাহোরে আমরা ঠিকই ফিরে আসব।’
ঢাকায় এসে লুৎফির বড়-বড় কথার কারণেই তাঁর প্রতিক্রিয়াটা আগে এল। আসলে আসা উচিত বাংলাদেশের তরুণ তুর্কিদের কথা। ছয় মাস টানা লিগ খেলার ধকল, মাত্র দু-তিন দিনের প্রস্তুতি—সব বাধা কী দুর্দান্তভাবেই না উড়িয়ে দিলেন এমিলি-জাহিদরা। কোচ নিকোলা ইলিয়েভস্কি তো স্বীকারই করলেন, ‘এই জয়ে আমি কিছুটা বিস্মিত।’ আনন্দ উপচে পড়ছিল তাঁর কথায়, ‘পাকিস্তান খুব কঠিন প্রতিপক্ষ। ওদের বিপক্ষে এমন জয়ে আমি খুবই খুশি। ছেলেরা দেশের জন্য প্রাণ উজাড় করে খেলেছে।’ গোলরক্ষক বিপ্লবের আনন্দটা একটু বেশিই হওয়ার কথা। অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড পরে অভিষেক ম্যাচেই এমন দারুণ জয়! যে জয়ে বাড়তি তাৎপর্য যোগ করছে পাকিস্তানের সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাস, ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাসের কারণে এই ম্যাচে আমরা আরও বেশি উজ্জীবিত ছিলাম।’ তবে যোগ্য অধিনায়কের মতো উচ্ছ্বাসে লাগাম টেনে রাখলেন, ‘আমি আজই আনন্দে ভেসে যাচ্ছি না। ফিরতি ম্যাচটাও জিততে চাই।’ সেই ম্যাচ পাকিস্তানে, যেখানে পারতপক্ষে এখন কেউ পা রাখতে চায় না। বিপ্লব অবশ্য অকুতোভয়, ‘আমরা নিজেদের সৈনিক বলেই মনে করি। দেশের জন্য না হয় প্রাণই দিলাম।’

ব্রাজিলের ওপরে ইংল্যান্ড

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিল এখন ইংল্যান্ডের পেছনে। কাল প্রকাশিত র‌্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলকে পাঁচে ঠেলে চারে উঠে এসেছে ইংলিশরা। ২০০৭-এর পর এটা তাদের সেরা অবস্থান। ব্রাজিল পিছিয়েছে দুই ধাপ। পাঁচ থেকে দশে নেমে এসেছে আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশের রয়েছে সেই আগের ১৬৩ নম্বরে।

বৃষ্টিভেজা আনন্দের জয়

অধিনায়ক বিপ্লবের নেতৃত্বে খেলোয়াড়েরা বিজয় মিছিল করলেন। কে যেন লাল-সবুজ পতাকা দোলালেন পাশ থেকে। গ্যালারি তখন করতালিমুখর। বৃষ্টিভেজা এই সন্ধ্যায় স্মরণীয় জয় উপহার দেওয়ার জন্য এটি বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের প্রাপ্যই। জয়টা অন্য সব জয়ের চেয়ে আলাদা। প্রতিপক্ষের নাম যে পাকিস্তান।
ঐতিহাসিক শত্রুকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাইপর্বে এক পা সামনে বাড়ল বাংলাদেশ। আগামী ৩ জুলাই লাহোরে পাকিস্তানের সঙ্গে ফিরতি ম্যাচ। দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে ম্যাচটা ৪-০ গোলে জিততে হবে পাকিস্তানকে। লেবাননের বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ড খেলার স্বপ্ন এখন দেখতেই পারে বাংলাদেশ। ২৩ জুলাই প্রথম লেগটা লেবাননে, ফিরতি ম্যাচ ২৮ জুলাই।
নতুন কোচ, নতুন অধিনায়ক...কাল বাংলাদেশও যেন নতুন এক দল। মাঠেও ছিল সেটির ছায়া। নিকোলা ইলিয়েভস্কি পছন্দ করেন আক্রমণাত্মক ফুটবল। ১১ জন একসঙ্গে খেলবে—ঢাকায় নেমেই বলেছেন। প্রথম ম্যাচে তাঁর শিষ্যরা কোচের চাওয়া পূরণ করেছেন। ‘জিতেই হবে’ প্রতিজ্ঞায় একটা দল হয়ে খেলতে পারারই ফসল এই বড় জয়।
লেবানন অভিযানে বাংলাদেশ ম্যাচের প্রথম মিনিটেই এগিয়ে যায়। যাঁরা খেলা দেখেননি, তাঁদের পক্ষে অনুমান করা কঠিনই হবে কতটা স্বপ্নের মতো এই শুরু! এমনিতে দিনভর বৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠ ছিল ভারী। কিক-অফের পর বোঝা গেল, ঘাসের নিচে পানি জমে আছে। বল সরছে না।
কিন্তু এটা নিয়ে তখন আর ভাবার সময় কই! মাঝমাঠ থেকে বল গেল মোনায়েম খান রাজুর কাছে। কোচ ইলিয়েভস্কির ৪-৪-১-১ ছকে এমিলির পেছনেই দায়িত্ব ছিল রাজুর। সেটি ভালোভাবেই পালন করেছেন এবং অনেকের মতেই ম্যাচসেরা খেলোয়াড়। তবে এমন কাদাপানিতে একাকার মাঠে ছক বলতে কিছু আসলে থাকে না।
একজনকে কাটিয়ে রাজুর বক্সে তোলা ক্রসে হেড করলেন এমিলি, পাকিস্তানের বহু লড়াইয়ের নায়ক গোলরক্ষক জাফর খান বল হাতে লাগালেও পিচ্ছিল বল গড়িয়ে গড়িয়ে খুঁজে নেয় জাল। মাত্র ৩৮ সেকেন্ডে গোল! বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের দ্রুততম গোল। আর এই গোল এমিলিকে দিল চাপমুক্তির আনন্দ। ২০০৯ সাফ ফুটবলে ভুটানের বিপক্ষে শেষ গোল করেছেন। গোটা বারো ম্যাচের পর এমিলির গোল গড়ে দেয় জয়ের ভিত।
প্রথম মিনিটেই গোল খেয়ে সোজা হয়ে দাঁঁড়াতেই পারল না অতিথিরা। পাকিস্তান কোচ বলেছিলেন বাংলাদেশকে হারাতে না পারলে চাকরি ছেড়ে দেবেন। তাঁর জন্য দুঃসংবাদ হয়ে এল ম্যাচের ২২ মিনিট। তুমুল বৃষ্টির মধ্যে বাংলাদেশের আক্রমণের তোড়ে ভেসে পাকিস্তান তখন খেয়ে বসেছে দ্বিতীয় গোলটি। এবার গোলদাতা জাহিদ।
শেখ জামালের হয়ে এমিলি তবু কয়েকটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন, কিন্তু রাইট উইঙ্গার জাহিদ দর্শকই ছিলেন এ মৌসুমে। কাল সুযোগ পেয়ে নিজেকে প্রমাণ করলেন। প্রায় মাঝমাঠ থেকে থ্রু পেয়ে একক প্রচেষ্টাতেই করলেন গোলটা।
ইংল্যান্ডের ফুলহামের সাবেক ডিফেন্ডার জেশ রহমানকে নিয়ে গড়া পাকিস্তান রক্ষণ খাবি খেয়েছে।
বাংলাদেশের গোল পাওয়ার কথা অন্তত সাত-আটটি। পাকিস্তান গোলবন্যায় ভাসেনি ১৩০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা জাফর খানের প্রতিরোধে। বাতাসে বেশ কয়েকটি আক্রমণ রুখেছেন। তবে ‘আক্রমণ’ বলাটা ভুল হবে। বল ঠেলেঠুলে সামনে নিয়ে যাওয়া আরকি! আর এই কাজটি বাংলাদেশ দল পাকিস্তানের চেয়ে এত ভালোভবে করল, কোনো প্রশংসা সেজন্য যথেষ্ট নয়।
৫৬ মিনিটে প্রতি-আক্রমণ থেকে ৩-০। পাকিস্তানের একজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ফেলেছেন বদলি ফরোয়ার্ড মিঠুন। বল পায়ে দারুণ সংযোগে এবার লক্ষ্য ভেদ করেন ডিফেন্ডার রেজাউল। তাতেই বড় জয়।
বাংলাদেশ দল আজ রাতেই উড়ে যাচ্ছে লাহোরে। ফেরার সময় হাতে থাকবে পরের রাউন্ডের টিকিট—এই প্রতিশ্রুতি যেন দিয়েই রাখলেন এমিলি, রাজুরা।
বাংলাদেশ দল: বিপ্লব, রেজাউল, মিশু, আরিফুল, নাসির (মামুন মিয়া), লিংকন, জাহিদ (মিঠুন), মামুনুল, শাকিল (কোমল), রাজু, এমিলি।

ফেরার প্রত্যয় ফেদেরারের কণ্ঠে

আগস্টে তাঁর ৩০তম জন্মদিন। জন্মদিনের আগেই পিট সাম্প্রাসের রেকর্ডটা ভেঙে ফেলার প্রত্যয়টা তাঁর ছিলই। কিন্তু কাল, ফরাসি জো উইলফ্রেড সোঙ্গার কাছে হেরে সেই স্বপ্নের সমাধি হয়েছে ফেদেরারের। তবে ফেদেরার ব্যাপারটিকে ‘ক্রীড়াসুলভ’ মানসিকতাতেই মেনে নিতে চান।
‘আমার মনে হয়, জেতার যোগ্যতা আমার ছিল। যদি না থাকত, আমি উইম্বলডন খেলতে আসতাম না।’ ফেদেরারের মন্তব্য। তিনি বলেন, ‘আমি এই পরাজয়ে নিরুত্সাহিত বোধ করছি না। খেলায় তো জয়-পরাজয় থাকবেই।’
ফেদেরার ভবিষ্যতে আরও কঠোর পরিশ্রম করে এ পরাজয়ের জবাব দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বলেছেন, ‘আমি কঠোর পরিশ্রম করব। আমি প্রমাণ করব যে শেষ হয়ে যাইনি।’
যেকোনো গ্র্যান্ড স্লাম প্রতিযোগিতাই এখন আর সহজ কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছেন ফেদেরার। তাঁর মতে, ‘এখন আর কোনো গ্র্যান্ড স্লাম প্রতিযোগিতাই সহজ নেই। এখানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।’
২০০৯ সালে সর্বশেষ উইম্বলডনের শিরোপা জেতা এই তারকা পিট সাম্প্রাসের রেকর্ড ভাঙা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন বলেই জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যেকোনো রেকর্ডের ভাগীদার হওয়াই আনন্দের। আমিও খুশি হব, যদি পিট সাম্প্রাসের রেকর্ড ছুঁতে পারি। তবে, সত্যি বলছি, সাম্প্রাসের রেকর্ড ভাঙতেই হবে—এমন কোনো কিছু নিয়ে আমি ভাবছি না।’
পিট সাম্প্রাসকে নিজের ‘ভালো বন্ধু’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ফেদেরার বলেছেন, ‘তাঁর মতো কিছু করতে পারলে আমি আনন্দিত হব। সাম্প্রাস আমার খুবই ভালো বন্ধু। তবে, আমি কিন্তু উইম্বলডন খেলতে এসেছিলাম সাম্প্রাসের রেকর্ড ভাঙতে নয়, একটা প্রতিযোগিতাই জিততে।