Thursday, May 18, 2023
কোষ্ঠকাঠিন্য চিরতরে দূর করতে যেসব খাবার খাবেন

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মানবজীবনে ট্র্যাজেডি by মোজাফফর হোসেন

দুঃখ কমবেশি অধিকাংশ মানুষের জীবনেই ঘটে থাকে। সেই দুঃখ যখন ভয়াবহ রূপে মানব জীবনে অনুপ্রবেশ করে তখন মানুষ শিউরে ওঠেন; বিহবল হয়ে পড়েন দুঃখ থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য। নানান কৌশল অবলম্বন করেও যখন দুঃখকে প্রতিহত করতে ব্যর্থ হন তখন মানবজীবনকে ভোগ করতে হয় দুঃখের করুণ পরিণতি। এমন পরিস্থিতিতে মানুষ হতাশার সাগরে নিমজ্জিত হতে থাকেন; ধীরে ধীরে দুঃখ সাগরের অতলগহ্বরে তলিয়ে যেতে যেতে একসময় নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়েন। দুঃখের শুরু থেকে ধাপে ধাপে এগিয়ে গিয়ে নিশ্চিহ্ন হওয়া পর্যন্তু যে অসহ্য যন্ত্রণা ও নিদারুণ দুঃখ-কষ্ট তিলে তিলে ভোগ করতে গিয়ে মানব মনে যে অনুভূতির সৃষ্টি হয় সেই অপ্রত্যাশিত অনুভূতিই হলো ট্র্যাজেডি। এরিস্টটলের মতে, ট্র্যাজেডি হলো অন্তর্দ্বন্দ্ব ও বহির্দ্বন্দ্বে পরাভূত মানবজীবনের করুণ কাহিনী। অর্থাৎ মানুষের দুঃখময় জীবনের করুণ পরিণতি বা ইতিবৃত্তকেই বলা হয় ট্র্যাজেডি। মানবজীবনে ট্র্যাজেডি সৃষ্টি হয় তখনই যখন কোনো শক্তিমান এবং প্রবল ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ অন্তর্ঘাত ও বহির্ঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে করুণ পরিণতি ভোগ করে। এই আঘাত যেকোনো স্থান থেকে আসতে পারে। হতে পারে স্ত্রী-পুত্র-কন্যা, মা-বাবা কিংবা আপনজন অথবা প্রিয়জনের কাছ থেকে। হতে পারে নিজের কোনো ভুলের কারণে অথবা পারিপার্শ্বিক কোনো ঘটনার জন্য কিংবা অদৃষ্টের প্রভাবেও মানবজীবন তিলে তিলে বিনষ্ট হতে পারে।
দুঃখ মানবজীবনে কীভাবে বাসা বাঁধতে পারে এবং সেই দুঃখে মানুষ কীভাবে ট্র্যাজিক চরিত্রে উপনীত হতে থাকে তার দৃষ্টান্ত সাহিত্যের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করা যেতে পারে। বলা হয় সাহিত্য হলো মানবজীবনের আয়না। সাহিত্যের মাধ্যমে মানবজীবনের ট্র্যাজেডিকে অবলোকন করতে হলে নাট্যসাহিত্যকে অগ্রাধিকার দিতে হয়। একমাত্র নাটকই পারে ট্র্যাজিক চরিত্রকে পরিপূর্ণরূপে বিকশিত করতে। ট্র্যাজেডি নাটকের রূপরেখা দিতে গিয়ে এরিস্টটল বলেন, Tragedy, then, is an imitation of an action that is serious, complete, and of a certain magnitude;in language embellished with each kind of artistic ornament, the several kinds being found in separate parts of the play; in the form of action, not of narrative; through pity and fear effecting the proper purgation of these emotions. তাই ট্র্যাজেডিকে স্পষ্ট করে তুলতে পারে নাটক। মানবজীবনে ট্র্যাজিডি কিভাবে ঘনীভূত হতে থাকে সেটা স্বল্প সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে পরিবেশন করতে হলে নাটকের বিকল্প আশা করা যায় না। সেজন্যে ট্যাজেডিকে বুঝতে ও বুঝাতে নাটকের শরণাপন্ন হতে হয়। ট্র্যাজিডির স্বরূপ উদ্ঘাটন করতে গিয়ে গ্রিক নাট্যকার সফোক্লিস (খ্রি.পূ ৪৯৬-৪০৬) রচনা করেছিলেন ‘দি কিং ইডিপাস’ নাটক। ইংরেজি সাহিত্যের বিখ্যাত নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়ার (১৫৬৪-১৬১৬ খ্রি.) রচনা করেছিলেন ‘হ্যামলেট; ম্যাকবেথ’ এবং নরওয়েতে জন্ম নেয়া হেনরিক ইবসেন (১৮২৮-১৯০৬) রচনা করেছিলেন ‘আ ডলস্ হাউজ’।
মানুষ নানাভাবে ট্র্যাজেডির শিকার হতে পারেন। সফোক্লিসের ধারণা মতে, মানুষ নিয়তির ক্রীড়নক। দৈবশক্তির প্রভাবে মানবজীবনে দুঃখের প্রবেশ ঘটতে পারে। তিনি তার নাটক দি কিং ইডিপাসে দেখানোর চেষ্টা করেছেন যে, মানুষ নিয়তির বাইরে একধাপও এগোতে পারেন না। মানুষের অদৃষ্টে যা লেখা রয়েছে তা যেকোনোভাবে ঘটবেই। ‘ইডিপাস’ নাটকের কাহিনীও সেদিকেই অগ্রসর হয়েছে। ইডিপাস রাজা হয়েছেন ঠিকই কিন্তু যখন তিনি জানতে পেরেছেন; যে রাজাকে হত্যা করে তিনি রাজ্যের অধিপতি হয়েছেন সেই রাজা ছিলেন তারই জন্মদাতা পিতা আর যে রানী তার সংসার করছেন তিনিই হলেন ইডিপাসের মা। এই সত্য জানার কারণে ইডিপাসের মধ্যে এক ধরনের ঘৃণা, দুঃখ, কষ্ট, ক্ষোভ ও হতাশার উদ্রেগ ঘটে। ধীরে ধীরে ইডিপাসের জীবনে নেমে আসে কঠিন দুর্যোগ। রাজ্যসিংহাসনচ্যুত হয়ে ইডিপাস নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে থাকেন এবং আত্মগ্লানিতে ভুগতে ভুগতে ইডিপাস একসময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যান। নিয়তিকে উপেক্ষা করার লক্ষ্যে ইডিপাসের জন্মের পরপরই তার বাবা ইডিপাসকে হত্যার উদ্দেশ্যে মেষপালক ভৃত্যের হাতে তুলে দেন; কিন্তু মেষপালক ইডিপাসকে হত্যা না করে ভিন্ন রাজ্যের শিকারিদের কাছে হস্তান্তর করেন। ইডিপাসের বেঁচে যাওয়ার কারণে দৈববাণীকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা সম্ভব হয়নি আর নিয়তিও ইডিপাসের পিছু ছাড়েনি।
শেক্সপিয়রের ধারণা মতে, মানবজীবনে ট্র্যাজেডি শুধু গ্রিক ট্র্যাজেডির মতো নিয়তির প্রভাবে ঘটে না; অন্যভাবেও ঘটতে পারে। মানুষ তার নিজের কোনো একটি ভুল বা চারিত্রিক দুর্বলতা সৃষ্টিকরত ট্র্যাজেডির শিকার হতে পারেন। এই মন্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে শেক্সপিয়র তার নাটকের চরিত্র ও ঘটনা গ্রহণ করেছিলেন ইতিহাস থেকে। ইতিহাসের বিখ্যাত চরিত্রগুলোর দুর্বল কোনো বৈশিষ্ট্যের কোটর গলিয়ে ছোট্ট একটি ভুল ঢুকে পড়লে তা ধীরে ধীরে মহীরুহে পরিণত হতে থাকে। সেই ছোট্ট ভুল চরিত্রটিকে পরে ভেতর ও বাহির থেকে তছনছ করে তোলে। নৌকার ক্ষুদ্র একটি ছিদ্র বেয়ে পানি উঠতে উঠতে একসময় সমগ্র নৌকাটিকে যেভাবে নিমজ্জিত করে ফেলে ঠিক তেমনিভাবে একটি ভুল একটি চরিত্রের অনায়াসে ধ্বংস ডেকে আনতে পারে। শেক্সপিয়র তার ওথেলো ও ম্যাকবেথ নাটকে সে অবস্থার রূপায়ণ ঘটিয়েছেন। ম্যাকবেথ নাটকে দেখা গেছে রাজা ডানকানের রাজ্যে জাতীয় বীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ম্যাকবেথ। তিনি ছিলেন প্রধান সেনাপতি। বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করতে পারেন একমাত্র প্রধান সেনাপতি বীর ম্যাকবেথ। দেশ রক্ষা করার সব কৃতিত্বই তার। কিন্তু রাজ্যের যাবতীয় সুনাম ও সুবিধা ভোগ করেন রাজা ডানকান। এটি লেডি ম্যাকবেথের ভালো ঠেকল না। লেডি ম্যাকবেথ ভাবল তার স্বামী রাজ্যের প্রধান সেনাপতি এবং জাতীয় বীর। রাজা ডানকানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া তার পক্ষে ক্ষণিকের ব্যাপার। লেডি ম্যাকবেথ আরো ভাবল যদি রাজা ডানকানকে রাজ্যক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া যায় তাহলে খুব সহজেই ম্যাকবেথ রাজা হতে পারবেন আর তিনি হবেন রানী। রানী হওয়ার স্বপ্ন লেডি ম্যাকবেথকে পেয়ে বসল। ডানকানকে হত্যা করতে সে প্রতিনিয়ত স্বামী ম্যাকবেথকে প্ররোচিত করতে লাগলেন। স্ত্রী অনুরক্ত ম্যাকবেথ স্ত্রীর রানী হওয়ার সাধ পূরণ করতে নিরস্ত্র রাজা ডানকানকে হত্যা করে রাজ্যভার গ্রহণ করলেন। কিন্তু বিবেকের কাছে পরাজিত হলেন ম্যাকবেথ। প্রতি রাতে ডানকানের প্রেতাত্মা ম্যাকবেথকে ধিক্কার জানাতে লাগলেন। বিবেকের দংশনে ম্যাকবেথ রাজ্যক্ষমতা ত্যাগ করলেন। ভাবলেন স্ত্রীর কথা শুনে যে ভুল তিনি করলেন তা ক্ষমার অযোগ্য; এ অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত হয় না। ম্যাকবেথ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেললেন। একসময় আত্মহত্যা করে মুক্তি খুঁজলেন। নাটকে লেডি ম্যাকবেথের অবৈধভাবে গ্রণী হওয়ার বাসনা সেনাপতি ম্যাকবেথকে নিদারুণ দুঃখ-কষ্টে ফেলে ধ্বংস করেছে।
গ্রিক নিয়তি ও শেক্সপিয়রের চারিত্রিক দুর্বলতা ব্যতিরেকেও মানবজীবন যে ট্র্যাজেডি আক্রান্ত হতে পারে তার পরিচয় দেয়ার চেষ্টা করেছেন ইবসেন। নরওয়ে নাট্যকার হেনরিক ইবসেন তার ‘আ ডল হাউজ’ নাটকে সফোক্লিস ও শেক্সপিয়রের ধারণা ছাড়াও ট্র্যাজেডি সঙ্ঘটিত হওয়ার উপায় দেখিয়েছেন। হেনরিক ইবসেন ছিলেন সমকালীন সমাজ ও সমসাময়িক মানবজীবনের বিশ্লেষক। তিনি দেখালেন পারিপার্শ্বিক একটি ঘটনা কীভাবে মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে ট্র্যাজেডিতে রূপান্তরিত করতে পারে। তার ‘আ ডল হাউজ’ নাটকের নোরা চরিত্রটি সে ট্র্যাজেডির শিকার হয়েছে। দ্বন্দ্ব আর সঙ্ঘাতের মধ্য দিয়ে সংসার বেশি দিন টেকে না। নোরার জীবনেও তাই ঘটেছিল। স্বামী, সন্তান ত্যাগ করে পুরুষতান্ত্রিক পৃথিবীতে নোরা মুক্তির আশায় বেরিয়ে পড়েছিল। এতে সমাজের তির্যক দৃষ্টি এসে পড়েছে তার ওপর। তাকে কটাক্ষ্য সহ্য করতে হয়েছে। উপর্যুপরি কটাক্ষ্যের কারণে নোরা মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে উঠেছেন। এতে যে দুঃখ তিনি পেয়েছেন তা ট্র্যাজেডির কোনো অংশে কম নয়। সমাজ তাকে পাগল বলেছে।
স্বামী সন্তান সংসারের মায়া ত্যাগ করে একজন নারী যখন অজানাকে জানার উদ্দেশ্যে সংসার ধর্ম ত্যাগ করতে বাধ্য হন তখন কতটা ক্ষত তাকে বিচলিত করে তুলতে পারে তা অনুধাবনের বিষয়। এরকম একটি প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবেলাকে হেনরিক ইবসেন ট্র্যাজেডির কোনো অংশে কম বলে মনে করেন না।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মৃত্যু উপত্যকা: কাশ্মিরের তরুণ ও দুরন্ত দল by ফাহাদ শাহ
২০১৬ সালের ৯ জুলাই সকাল সাড়ে নয়টার দিকে যখন ওয়ানির লাশের জানাজা হচ্ছিল তখনো জানাজার মাঠের দিকে ছুটে আসছিলো হাজার হাজার মানুষ। দুপুর নাগাদ কমব্যাট পোশাকে সজ্জিত স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে সজ্জিত একদল তরুণকে জনতার সমুদ্রে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
শ্রীনগরের ৪২ কি.মি. দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত তিরল গ্রামে ওয়ানি ছিলো মাত্র ২১ বছরের এক তরুণ। ভারত শাসিত কাশ্মিরে সশস্ত্র স্বাধীনতাকামী সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিন নেতা ওয়ানি ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনের ডাক দিতে সামাজিক গণমাধ্যম ব্যবহার করেন। তার ছবি ও শানিত বক্তব্যগুলো সবাইকে উদ্বুদ্ধ করে। ছবিগুলোতে দেখা যায় কোরআন সামনে আর কালাশনিকভ রাইফেল পাশে নিয়ে সহযোদ্ধ পরিবেষ্টিত ওয়ানি ক্যামেরার সামনে বসে আছেন। সেখান থেকে তিনি ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ এবং তরুণ কাশ্মিরিদের অস্ত্র হাতে তুলে নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। সামাজিক গণমাধ্যমে ওয়ানির ডাক তাকে তরুণদের আইকনে পরিণত করে। প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগ দিতে এগিয়ে আসে নতুন নতুন তরুণ।
ওয়ানি’র জীবনযাত্রাও তার অনুসারিদের কাছে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়। অথচ একসময় সে ছিলো তিরলের অন্যসব শিশুর মতোই সাধারণ এক শিশু। ছোটদের মতো পথে ঘাটে খেলা করতো। ২০১০ সালে নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্য তাকে, তার ভাই খালিদ ও আরো তিনজন পথচারিকে অহেতুক মারধর করে। ওই বছরই বিদ্রোহীদের দলে যোগ দেয় সে। তখন সে মাত্র ১৬ বছর বয়সী এক বালক।
কাশ্মিরিদের সঙ্গে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর এটা নিত্যনৈমিত্তিক আচরণ। শুধু ২০১০ সালেই নিরাপত্তা বাহিনী ১২০ বেসামরিক কাশ্মিরিকে গুলি করে মেরেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাচারে কাশ্মিরি তরুণরা আজ অতিষ্ঠ। একদিকে ভারতপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতার অপব্যবহারে লিপ্ত, অন্যদিকে স্বাধীনতাপন্থী দলগুলোর জোট হুরিয়াত কনফারেন্সের আগের সেই বলিষ্ঠতা ও ঐক্য নেই।
এতদিন কাশ্মিরের বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর প্রতিও জনসমর্থন ছিলো কম। কারণ সেগুলোর বেশিরভাগ যোদ্ধা ছিলো উপত্যকার বাইরে থেকে আসা। এর অনেকগুলোর ঘাঁটি পাাকিস্তানে। নয়াদিল্লি ও পাকিস্তান দু’দেশই তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার দাবার ছকে কাশ্মিরকে ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছে।
এই সমস্যার একটি সমাধান খুঁজে পেয়েছিলো ওয়ানি ও তার সহযোদ্ধারা। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা ও সরকারি স্থাপনাগুলোকে টার্গেট করা। ২০১৩ সাল শেষ হওয়ার আগেই একজন ভয়ংকর ও নির্ভিক যোদ্ধা হিসেবে ওয়ানির নাম কাশ্মিরবাসীর মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। ১৮ বছর বয়সে সে কাশ্মিরের আজাদি আন্দোলনের প্রতীক বা ‘পোস্টার বয়’-এ পরিণত হয়। রাজ্যের তরুণদের কাছে সে হয়ে ওঠে প্রতিরোধ আন্দোলনের কাক্সিক্ষত মুখ।
ওয়ানির বিদ্রোহ জীবনকাল ছিলো ছয় বছর। এসময় সে অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ ও প্রতিরোধ দর্শনের অনুরক্ত হয়ে ওঠে।
২০১৬ সালের ৮ জুলাই বিকেলে ভারতীয় সেনারা তাকে গুলি করে হত্যা করে। সরকার সেদিন কাশ্মিরে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়। এমনকি মোবাইল ফোনের যোগাযোগও বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু এতে ওয়ানির মৃত্যু ও জানাজার খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো যায়নি। কাশ্মিরের বিভিন্ন শহর, নগর ও গ্রামে বিক্ষোভ শুরু হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ওই দিন আরো ১৬ কাশ্মিরি জীবন দেয়।
ওয়ানি’র মৃত্যুর পরের দিনগুলোতে বিক্ষোভ ও মৃত্যুর মিছিল আরো দীর্ঘ হয়। কাশ্মিরের মানবাধিকার গ্রুপ ‘জম্মু-কাশ্মির কোয়ালিশন অফ সিভিল সোসাইটি’র এক হিসাবে বলা হয়, ২০১৬ সালে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী ১৪৫ বেসামরিক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে। আরো ১৫ হাজারের মতো মানুষ আহত হয়েছে। এদের মধ্যে এমন ১০০০ আছে ভারতীয় বাহিনীর পেলেট-বুলেটের ঘায়ে যাদের চোখ নষ্ট হয়ে গেছে।
সহিংসতা শুধু বিক্ষোভে জায়গাগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। মানবাধিকার গ্রুপটির হিসাব মতে গত বছর ১৩৮ বিদ্রোহী ও ১০০ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও নিহত হয়। তবে, ভারত সরকারের হিসাবে বিদ্রোহী নিহতের সংখ্যা ১৬৫। যা বিগত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ওয়ানির মৃত্যু উপত্যকার চিত্র পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। তরুণ কাশ্মিরিরা এখন আর প্রকাশ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদিদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করতে ভয় পায় না। তারা বলে, এই বিচ্ছিন্নতাবাদিরাই আমাদের হিরো।
তরুণ বিচ্ছিন্নতাবাদিরা আজ প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করে। হাতে কালাশনিকভ রাইফেল। তারা ফাঁকা গুলি ছুড়ে জনগণকে স্বাগত জানায়। প্রকাশ্যে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে যোগ দিচ্ছে। রাতের বেলা গ্রামে গিয়ে থাকতেও ভয় পাচ্ছে না।
বিচ্ছিন্নতাবাদি আছে জানার পরও তাদের পাকরাও করতে ভারতীয় বাহিনীর পক্ষে কোথাও অভিযান চালানো দুরুহ হয়ে উঠেছে। সেনা অভিযান শুরু হলে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় বেরিয়ে আসে। তারা বিদ্রোহীদের পক্ষে স্লোগান দেয়, তাদেরকে নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়। বিদ্রোহীদের সহায়তার জন্য তরুণরা একটি নিজস্ব গোয়েন্দা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এর ফলে বিদ্রোহীরা নিরাপদে চলাফেরা করার সুযোগ পাচ্ছে।
ওয়ানির পর আরো বেশ কয়েকজন স্বাধীনতাকামীকে হত্যা করেছে ভারতীয় সেনারা। প্রতিটি হত্যার পর উপত্যকা আগের চেয়ে আরো বেশি উত্তাল হয়ে ওঠে। প্রতিটি তরুণ কাশ্মিরির অন্তর এখন স্বাধীনতাকামী হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় পরিপুষ্ট।
[লেখক একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, লেখাটি ‘দি হেরাল্ড’ পত্রিকার জুলাই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে]
![]() |
| কাশ্মিরের পুলওয়ামা জেলায় গাছে চড়ে হিজবুল মুজহিদিন নেতার দাফন দেখছে মানুষ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1426)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
