Sunday, October 19, 2025

গাজায় আবারও হামলা জোরদার ইসরায়েলের

ফিলিস্তিনের গাজায় আবারও হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। রোববার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রায় দুই বছর ধরে চলা লড়াই বন্ধে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর ফলে উপত্যকাটিতে স্থায়ী শান্তির আশা দেখা দিয়েছিল। তবে এ ঘটনার পর সে আশা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে এসেছে। ইসরায়েল ও হামাস এ হামলার দায় একে অপরের ওপর চাপাচ্ছে।

একজন ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গাজার একাধিক স্থানে ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে হামাস হামলা চালিয়েছে। হামলায় রকেট, গ্রেনেড ও স্নাইপার ব্যবহার করেছে তারা। এটি যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। জবাবে ইসরায়েল রাফায় বিমান হামলা চালিয়েছে।

তবে হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইজ্জাত আল রিশেক বলেন, তাঁরা যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু ইসরায়েল বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে বলে তাঁর অভিযোগ।

আল রিশেক বা ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা কেউই গাজায় ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে কিছু বলেননি। তবে গাজার গণমাধ্যম দপ্তর গতকাল শনিবার জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ইসরায়েল ৪৭ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এ সময় তাদের হামলায় ৫১ জন নিহত ও অন্তত দেড় শ জন আহত হয়েছেন।

হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-কাসেম ব্রিগেডস গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলছে। তাদের কাছে রাফায় সংঘর্ষের কোনো খবর নেই।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা চুক্তিতে থাকা সব বিষয় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো গাজা উপত্যকার সব এলাকায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা। আমাদের কাছে রাফায় সংঘর্ষের কোনো খবর নেই। কারণ, এগুলো দখলদার বাহিনীর (ইসরায়েল) নিয়ন্ত্রণাধীন রেড জোন। গত মার্চ মাস থেকে সেখানে আমাদের অবশিষ্ট গ্রুপগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।’

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য হামাসকে অভিযুক্ত করেছেন।

এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, হামাসের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পর প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। তিনি গাজা উপত্যকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীদের স্থাপনা লক্ষ্য করে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত মিসরের সঙ্গে রাফা সীমান্ত ক্রসিংসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত বন্ধ করে রেখেছে ইসরায়েল। ফলে দুর্ভিক্ষপীড়িত গাজা উপত্যকায় বড় পরিসরে ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

গতকাল শনিবার নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাফা সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ থাকবে। সোমবার থেকে মিসরে ফিলিস্তিনের দূতাবাস আবারও চালু হচ্ছে—এমন ঘোষণা আসার পরপরই ইসরায়েল এ কথা জানিয়ে দেয়।

তবে হামাস বলেছে, রাফা ক্রসিং বন্ধ থাকায় তাদের কাছে থাকা জিম্মিদের মরদেহ হস্তান্তর করতে অনেক দেরি হতে পারে। সংগঠনটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাফা ক্রসিং বন্ধ হলে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের প্রবেশ বন্ধ থাকবে। এর ফলে মরদেহ শনাক্তে ফরেনসিক টিমের প্রবেশ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হবে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল আকস্মিক হামলা চালায় হামাস। এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হন। জিম্মি করা হয় ২৫১ জনকে। এর জেরে ওই দিন থেকেই গাজায় নৃশংস হামলা চালায় ইসরায়েল। তাদের হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হন বলে গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে সম্প্রতি দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ অবসানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর আগে কয়েক ধাপে জিম্মিদের মুক্তি দেয় হামাস।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, হামাসের কাছে থাকা অবশিষ্ট জীবিত ও মৃত জিম্মিদের ইসরায়েলের কাছে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়। বিনিময়ে ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দেওয়া হবে।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২০ জন জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। এখনো হামাসের কাছে ৪৮ জিম্মি রয়েছেন।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-10-19%2Fqc71b3p0%2F2025-10-19T155500Z1626409797RC23FHA72I0ARTRMADP3ISRAEL-PALESTINIANS-GAZA.JPG.JPG?rect=0%2C3%2C5500%2C3667&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের হামলার পর ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। ছবি: রয়টার্স

সানায়ে তাকাইচির পুলসিরাত পার হওয়া এবং কোন জাপানের স্বপ্ন তিনি দেখছেন by মনজুরুল হক

ইংরেজি ভাষায় ‘হর্স ট্রেডিং’ বলে একটি অভিব্যক্তি আছে, ঘোড়ার যেখানে কোনো রকম উপস্থিতি নেই। বরং এই অভিব্যক্তি যে ধারণা তুলে ধরে, তা হলো দুটি গোষ্ঠী বা সংগঠনের মধ্যে চলা অনানুষ্ঠানিক আলোচনা বা দেনদরবার, উভয় পক্ষ যেখানে নিজেদের জন্য সবচেয়ে জুতসই বিবেচিত সুবিধা অন্য পক্ষের কাছ থেকে আদায় করে নিতে সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি বজায় রাখে। প্রধানত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে অন্য পক্ষের কাছ থেকে নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানের সুযোগ গ্রহণ করে ছাড় আদায় করে নেওয়ার জন্য চালানো আলোচনাকেই বরং এই অভিব্যক্তির মধ্য দিয়ে অনেকটা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়।

ফলে রাজনীতির চলমান প্রক্রিয়ায় বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এগিয়ে আসার আগে একাধিক পক্ষের মধ্যে ভিন্নভাবে চলতে থাকা আলোচনার বেলায় এই ‘হর্স ট্রেডিং’ অভিব্যক্তির সবচেয়ে জুতসই প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়। কেননা, জড়িত সব কটি পক্ষ সেখানে নিজেদের ঘোড়া সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হওয়া নিশ্চিত করে নেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যায়। জাপানের রাজনীতিতে অতি সম্প্রতি যা ঘটে চলেছে, এককথায় তা হচ্ছে হর্স ট্রেডিং।

চলতি মাসের শুরুতে সানায়ে তাকাইচি প্রধান ক্ষমতাসীন উদার গণতন্ত্রী দল এলডিপির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ধরে নেওয়া হয়েছিল, জাপানের পরবর্তী এবং দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তিনি হতে চলেছেন। তবে এর ঠিক পরপর তাকাইচির গ্রহণ করা কিছু সিদ্ধান্ত এবং ঘোষিত নীতিগত অবস্থান নিয়ে ক্ষমতাসীন জোটের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয় এবং অবস্থানগত সেই বিভাজন তীব্র হয়ে উঠলে জোটের ছোট অংশীদার জোট ছেড়ে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা প্রচার করলে তীরে এসে তরি ডুবে যাওয়ার মতো আকস্মিকভাবে শেষ মুহূর্তের এক সংকটে সানাইচি এবং তার দল এলডিপিকে পড়তে হয়। এমনকি এ রকম অস্থিরতাও দলের ভেতরে দেখা দিয়েছিল যে অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে ‘পুলসিরাত’ পার হতে পারা তো দূরের কথা, তাকাইচির দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় কল্পনার ফানুসও হয়তো আকাশে ওড়ার আগেই ফেটে যেতে পারে। এ রকম আশঙ্কার পেছনে তাকাইচির নিজস্ব কিছু সিদ্ধান্ত ও মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

কোমেই পার্টি ২৬ বছরের বন্ধন ছিন্ন করে ক্ষমতাসীন জোট ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর দলের নেতৃত্ব শুরুতে ঘোষণা করেছিল যে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের ভোট গ্রহণে দল এলডিপি কিংবা বিরোধী—কোনো পক্ষের প্রার্থীকেই সমর্থন করবে না। তবে তাকাইচির ক্ষোভ অবশ্য এতে দূর হয়নি এবং কোমেই পার্টির বিরুদ্ধে অনেকটা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ হিসেবে তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে নিম্নকক্ষের পরবর্তী নির্বাচনে এলডিপি কোমেই পার্টির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রার্থী মনোনীত করবে।

২৬ বছর ধরে দুই দলের মধ্যে অনেকটা অলিখিত সম্মতি হিসেবে একে অন্যের বিরুদ্ধে প্রার্থীর মনোনয়ন না দিয়ে বরং পরস্পরের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার নিয়ম বলবৎ ছিল। নীতিগত সেই অবস্থান ভেঙে দিয়ে তাকাইচির একতরফা সেই ঘোষণা প্রচারিত হওয়ার পর কোমেই পার্টির নেতা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনার একফাঁকে বলে দিয়েছিলেন যে দল কাউকে সমর্থন না করার ইতিপূর্বে প্রচারিত ঘোষণা থেকে সরে এসে এখন বরং নীতিগত কিছু সমন্বয় করার মধ্য দিয়ে বিরোধী জোটের প্রার্থীকে সমর্থন করবে। ফলে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হতে পারায় তাকাইচির স্বপ্ন হঠাৎ ভেঙে পড়ার মুখে এসে দাঁড়ায় এবং নিম্নকক্ষে বেশ কিছু আসন থাকা দলগুলোর মধ্যে সত্যিকার অর্থের ‘হর্স ট্রেডিং' শুরু হয়, যার জের এখনো চলছে।

জাপানের সংসদে নিম্নকক্ষের মোট আসনসংখ্যা হচ্ছে ৪৬৫। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে নিয়ে সরকার গঠন করতে হলে ২৩৩টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। নিম্নকক্ষে এলডিপির মোট আসন হচ্ছে ১৯৬, এককভাবে সরকার গঠনের জন্য যা যথেষ্ট নয়। সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনের আগে কোমেই পার্টির সমর্থন নিয়ে এলডিপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখতে সক্ষম হলেও সেই নির্বাচনে এলডিপি এবং কোমেই পার্টি উভয় দলকে বেশ কয়েকটি আসন হারাতে হওয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে সংখ্যালঘু সরকারের প্রধান হিসেবে ইশিবা শিগেরু প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কোমেই পার্টি জোট ছেড়ে চলে যাওয়ায় এলডিপিকে এখন সেই দলের ২৪টি আসনের সমর্থন হারাতে হচ্ছে এবং নিজেদের প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থীর পক্ষে নিম্নকক্ষের প্রয়োজনীয় ভোট সংগ্রহ করা দলের পক্ষে কঠিন হয়ে উঠেছে। সে রকম অবস্থান থেকে দল ৩৫টি আসন থাকা জাপান ইনোভেশন পার্টি জেআইপির সঙ্গে হর্স ট্রেডিংয়ে নিয়োজিত হয় এবং বিশেষ কিছু প্রশ্নে ছাড় দিতে সম্মত হওয়ার মধ্য দিয়ে জেআইপিকে দলে ভেড়ানোর জোর তৎপরতা শুরু করে।

জেআইপি অবশ্য কয়েক দিন আগে পর্যন্ত বিরোধী দলগুলোর একক প্রার্থী হিসেবে তাকাইচিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য নিজেদের একক প্রার্থী ঠিক করে নেওয়ার আলোচনায় যোগ দিচ্ছিল। তবে এলডিপির পক্ষ থেকে দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকাইচি এবং জেআইপির শীর্ষ নেতা হিরোফুমি ইয়োশিমুরার মধ্যে বেশ কয়েকটি গোপন বৈঠক ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং দুই দল জোটবদ্ধ হতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। ওসাকা শহর এবং কানসাই অঞ্চলভিত্তিক দল জেআইপি আঞ্চলিক বিষয়াবলির ওপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করে থাকে।

জেআইপির প্রধান দুটি দাবি হচ্ছে সরকারের কেন্দ্রীভূতকরণ হ্রাস করে কিছু সরকারি কর্মকাণ্ড পরিচালনার কেন্দ্র ওসাকায় সরিয়ে এনে বিকেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়ার বাস্তব আকার দেওয়া এবং সামাজিক নিরাপত্তা বিমার প্রিমিয়াম হ্রাস করা। উভয় দাবি মেনে নিতে তাকাইচি সম্মত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পথে তিনি এখন অনেকটা এগিয়ে গেলেও দুই দলের মিলিতভাবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন এখনো সম্ভব হয়নি। ফলে ধারণা করা যায়, ছোট কয়েকটি দল এবং নির্দলীয় সাংসদদের সঙ্গে হর্স ট্রেডিং এখনো চলবে এবং ২১ অক্টোবর নিম্নকক্ষে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত তা হয়তো অব্যাহত থাকবে।

তবে কথা হচ্ছে, ২১ অক্টোবর নিম্নকক্ষের নির্ধারিত ভোটে কষ্টার্জিত জয় নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে সরকারপ্রধানের দায়িত্বে আসীন হওয়ার অর্থ তাকাইচির জন্য অন্যভাবে হয়ে উঠতে পারে সংখ্যালঘু একটি সরকার পরিচালনা করা, যার স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয়মুক্ত হওয়া হয়তো সম্ভব নয়। এবার দেখা যাক কোন জাপানের স্বপ্ন নিয়ে সানায়ে তাকাইচি জাপানকে পরিচালনা করার নেতৃত্বের হাল ধরতে যাচ্ছেন।

দুইবারের ব্যর্থ চেষ্টার পর তৃতীয়বার দলীয় সভাপতি নির্বাচনের বৈতরণি পার হতে সক্ষম হয়েছেন জাপানের উদার গণতন্ত্রী দলের এই নেত্রী। তবে তৃতীয়বারের সর্বশেষ এই চেষ্টাও যে মসৃণ ছিল, তা অবশ্য বলা যায় না। প্রচার অভিযান চলা অবস্থায় বড় একটি সময় ধরে সমর্থন হারের দিক থেকে তিনি ছিলেন পিছিয়ে ২ নম্বরে। এ ছাড়া পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে চলা বিতর্ক অনুষ্ঠানে নিজেকে সত্যিকার অর্থে সাড়া জাগানো নেতা হিসেবে তুলে ধরতে তেমন সাফল্য তিনি দেখাতে পারেননি। তবে তারপরও শেষ সময়ে এসে অগ্রবর্তী প্রার্থী কোইজুমি শিনজিরোকে ভালো ব্যবধানে পরাজিত করতে তিনি সফল হয়েছেন। দলের ভেতরের বিভিন্ন উপদলের নেতাদের কাছে বারবার ধরনা দিয়ে নিজের সমর্থন ভিত্তি পোক্ত করে নেওয়ার চেষ্টা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ায় এই ফলাফল অর্জন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়।

জাপানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম বলছে তাকাইচির জয়ের পেছনে মুখ্য ভূমিকা ছিল তারো আসোর নেতৃত্বাধীন এলডিপির সবচেয়ে বড় উপদলের। প্রথম দফার ভোট গ্রহণের পর পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে তাকাইচির পাশাপাশি কোইজুমি টিকে থাকা অবস্থায় আসোর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে তার সমর্থন তাকাইচি চেয়েছিলেন এবং আসো তার উপদলকে সেই অনুযায়ী নির্দেশ দেওয়ায় তাকাইচির পক্ষে পাল্লা ভারী হয়ে উঠেছিল। ফলে অনুমান করা যায় প্রধানমন্ত্রীর পদে তাকাইচি আসীন হলেও ‘কিং মেকার’ হিসেবে আসো পেছন থেকে ছড়ি ঘুরিয়ে নির্দেশনা দেওয়া অব্যাহত রাখবেন। দলীয় নেতৃত্বের পদে বাছাই করে নেওয়া কয়েকজনের বেলায় এই প্রবণতা ভালোভাবে লক্ষ্য করা গেছে। আসোর আশীর্বাদ পুষ্ট হয়ে এর আগে আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার জন্য অভিযুক্ত দলের কয়েকজন নেতা আবারও প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন, জাপানের রাজনীতির জন্য ভালো লক্ষণ যা অবশ্যই নয়।

দলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্যে দিয়ে জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারার দুয়ার তাকাইচির সামনে খুলে যাওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে নিজের অনুসরণ করতে যাওয়া নীতিমালার কিছু আভাস তিনি তুলে ধরেন। জাপানের আর্থিক দুরবস্থা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করার জন্য সংসদের সব কটি দলের প্রতি আহ্বান জানানো ছাড়াও পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে নিজের কিছু ধারণা সেখানে তিনি প্রকাশ করেছেন।

জাপানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, শুল্ক নিয়ে দেখা দেওয়া সমস্যা যেন পুরোপুরি সমাধান করে নেওয়া যায় সে জন্য দুই দেশের আলোচকদের মধ্য অনুষ্ঠিত বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব রকম পদক্ষেপ নিতে তিনি প্রস্তুত থাকবেন এবং নতুন করে সমস্যা দেখা দিলে দুই দেশের পরামর্শ কমিটি আলোচনায় মিলিত হয়ে সমাধান খুঁজে বের করবে বলে তিনি মনে করছেন। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্রুত বৈঠকে মিলিত হয়ে ভারত  প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে দেখা দেওয়া সমস্যা সামাল দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখার উল্লেখও তিনি করেছেন।

তাকাইচি এলডিপির নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের সম্ভাব্য জাপান সফর নিয়ে দুই দেশ আলোচনা শুরু করে। চলতি মাসের শেষ দিকে মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া সফরের যে পরিকল্পনা ট্রাম্প করছেন, জাপানও এখন সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সরকারি কিছু সূত্রের বরাত দিয়ে জাপানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম বলছে ২৭ অক্টোবর থেকে তিন দিনের জন্য জাপান সফরের পরিকল্পনা ট্রাম্প করছেন। টোকিওতে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে জাপান-মার্কিন সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরার চেষ্টা তাকাইচি অবশ্যই করবেন। তবে শুল্কসহ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনায় মিলিত হয়ে জাপানের স্বার্থ রক্ষায় কিছুটা হলেও ছাড় দিতে ট্রাম্পকে রাজি করাতে তিনি সক্ষম হবেন কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

অন্যদিকে তাকাইচির সামনে দেখা দিতে যাওয়া আরেকটি উদ্বেগ হচ্ছে জাপানের এই সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে চীনের নিজস্ব মূল্যায়ন। সংবাদ সম্মেলনে তাকাইচির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল টোকিওর বিতর্কিত ইয়াসুকুনি মন্দির নিয়মিতভাবে সফর করা প্রধানমন্ত্রী হিসাবেও তিনি অব্যাহত রাখবেন কি না। ১৮৬৮ সালের মেইজি পুনরুত্থানের ঠিক পরপর প্রতিষ্ঠিত ইয়াসুকুনি মন্দিরে যুদ্ধে নিহত জাপানিদের প্রতি সম্মান জানানো হয়, যে তালিকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুদ্ধাপরাধী হিসেবে সাজাপ্রাপ্ত জাপানের সেই সময়ের কয়েকজন নেতাকেও পরবর্তী সময়ে অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। ফলে ইয়াসুকুনি মন্দিরে জাপানের নেতাদের নিয়মিতভাবে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য যাওয়াকে চীন সন্দেহের চোখে দেখে আসছে এবং তাকাইচি হচ্ছেন জাপানের ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মধ্যে প্রথম সারির একজন, নিয়মিতভাবে মন্দিরে গিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে তাকে কখনো পিছপা হতে দেখা যায়নি।

তবে এখন থেকে তার বিভিন্ন পদক্ষেপ ও বক্তব্য অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠায় সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া তিনি এড়িয়ে গেছেন এবং বলেছেন এ রকম এক পরিস্থিতি তৈরি করে নিতে তিনি আগ্রহী হবেন, বিশ্বের যেকোনো দেশের নাগরিকেরা যেখানে নিজ দেশের জন্য জীবন বিসর্জন দেওয়া নাগরিকদের প্রতি কোনো রকম বাধার মুখোমুখি না হয়ে শ্রদ্ধা জানাতে সক্ষম হবেন। অস্পষ্ট এই উত্তরের ব্যাখ্যা দুই দিক থেকেই করে নেওয়া যেতে পারে। ফলে চীন স্বভাবতই এতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি।

জাপানের ক্ষমতাসীন উদার গণতন্ত্রী দল নতুন নেতা বাছাই করে নেওয়ার ঠিক পরপর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন যে চীন আশা করছে জাপানি পক্ষ দুই দেশের মধ্যে সম্মত হওয়া চারটি রাজনৈতিক দলিলে উল্লেখ থাকা নীতিমালা ও সম্মতি মেনে চলবে এবং চীন সম্পর্কে ইতিবাচক ও যুক্তিসংগত একটি নীতি গ্রহণ করবে। খুব বেশি কিছু বলা না হলেও ঠিক হুমকি নয়; বরং পরোক্ষ একধরনের সতর্কতার প্রতিফলন এখানে লক্ষ্য করা যায়, তাকাইচির জন্য যা অনেক বেশি ইঙ্গিতবহ সম্ভবত হয়ে উঠবে। ফলে ধরে নেওয়া যায়, সরকারের বাইরে কিংবা অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে যাওয়া অবস্থায় যেসব পদক্ষেপ তিনি নিয়েছেন এবং যেসব কথা তিনি বলেছেন, এখন থেকে সেই পথে অগ্রসর হওয়ার আগে অনেক বেশি চিন্তাভাবনা করে পদক্ষেপ তাকে নিতে হবে।

তাকাইচি অন্যদিক  থেকে জাপানে বিদেশিদের আগমন নিয়ে উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠা বরাবর প্রকাশ করে গেলেও দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি তিনি সম্ভবত এ কারণে এড়িয়ে গেছেন যে দায়িত্ব গ্রহণের আগে হঠাৎ বিতর্ক আরও সম্প্রসারিত করে নেওয়াকে তিনি হয়তো যুক্তিসংগত মনে করেননি। তবে কিছুটা বিলম্ব হলেও থলের সেই কালো বিড়াল একসময় বের হয়ে এসে নিজের চেহারা ঠিকই দেখাবে বলেও রাজনীতির অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন। বিদেশিদের সামনে  হঠাৎ খুলে যাওয়া জাপানের শ্রমের বাজারের দুয়ার এর ফলে আবারও বন্ধ কিংবা সংকুচিত হবে কি না, আগামী দিনগুলোতে তার আভাস সম্ভবত অনেক বেশি পরিষ্কার হয়ে উঠবে।

জাপানের রাষ্ট্রীয় সীমানার বাইরের এসব বিষয়ের ওপর আলোকপাত করার আগে দেশের ভেতরের যেসব সমস্যা সামাল দেওয়া নিয়ে তাকাইচিকে ভাবতে হবে, তার মধ্যে শীর্ষে আছে জাপানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান তিনি জানালেও কীভাবে তা সম্ভব হবে, সেই পথের নির্দেশনা দেখাতে তিনি সম্ভব হননি।

এ ছাড়া জাপানের প্রতিরক্ষা নীতি নিয়েও কিছু প্রশ্নের জবাব তাকে হয়তো দিতে হবে। জাপানের প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি করে নিয়ে দেশের সামরিক শক্তি আরও সংহত করার পক্ষে বরাবর তিনি যুক্তি দেখিয়ে গেছেন এবং সমর বল বৃদ্ধির সেই ধারণায় শত্রু হিসাবে বিবেচিত দেশের ঘাঁটিতে আগ বাড়িয়ে হামলা চালানোও অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হলে সেই ধারণার সমর্থনে সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ তিনি নেবেন কি না, সেটি তাকে পরিষ্কার করে বলে দিতে হবে।

অন্য যে আরেকটি বিষয় নিয়ে তাকাইচি প্রশ্নবিদ্ধ হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তা হলো জাপানের সমাজে নারী এবং সংখ্যালঘু হিসেবে গণ্য কয়েকটি গোষ্ঠীর বিষয়ে তার অবস্থান। নিজে নারীর প্রতিনিধিত্ব করা সত্ত্বেও নারীর সমান অধিকারের প্রতিফলন তুলে ধরা কয়েকটি বিষয়ে তার অবস্থান অতীতে বিতর্কের সূচনা করে দিয়েছিল। জাপানে স্বামী-স্ত্রীর নিজস্ব পারিবারিক পদবি ব্যবহারের বিরোধিতা তিনি শুরু থেকেই করে গেছেন, এমনকি আইনিভাবে তা স্বীকৃত হওয়ার পরেও। এ ছাড়া সিংহাসনে নারীর উত্তরাধিকার নিশ্চিত করার ঘোরতর বিরোধী তিনি। এসব কিছুর বাইরে সমকামী ও লিঙ্গ পরিবর্তনকারীদের অধিকারকেও সমালোচনার দৃষ্টিতে তিনি দেখেছেন। ফলে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিলে এসব বিষয়ে কোন অবস্থান তিনি গ্রহণ করেন, জাপানের সংবাদ মাধ্যমের পাশাপাশি দেশের নেতৃস্থানীয় বিভিন্ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠানও সেদিকে ঘনিষ্ঠ নজর রেখে যাবে।

* মনজুরুল হক, জাপান প্রবাসী শিক্ষক ও সাংবাদিক
- মতামত লেখকের নিজস্ব

 সানায়ে তাকাইচি
সানায়ে তাকাইচি। ফাইল ছবি

‘নো কিং’: ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বহু শহরে গতকাল শনিবার ‘নো কিংস’ শীর্ষক বিক্ষোভ–সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকেরা বলেন, সারা দেশে ২ হাজার ৬০০–এর বেশি জায়গায় এমন বিক্ষোভ হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন।

দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, এদিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের সবগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে এ বিক্ষোভ–সমাবেশ হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃত্ববাদের দিকে এগোচ্ছে এবং এখানে কোনো রাজা থাকা উচিত নয়।

গার্ডিয়ান আরও বলেছে, এদিন কয়েক লাখ মানুষ ‘নো কিং’ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।

অনেক জায়গায় বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘নাথিং ইজ মোর প্যাট্রিওটিক দ্যান প্রোটেস্টিং’ (বিক্ষোভের চেয়ে বড় দেশপ্রেম আর হয় না) কিংবা ‘রেজিস্ট ফ্যাসিজম’ (ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন) এমন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে।

বিক্ষোভগুলোকে অনেকটা সড়কে হওয়া উৎসবের মতো দেখাচ্ছিল।

এ বছর জানুয়ারিতে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এটি তাঁর বিরুদ্ধে তৃতীয় বৃহৎ গণবিক্ষোভ। এবার এমন এক সময় বিক্ষোভ হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার শাটডাউনে (অচলাবস্থায়) পড়েছে। গতকাল ছিল শাটডাউনের ১৮তম দিন। তহবিলের জোগান না থাকায় শাটডাউনের কারণে বহু ফেডারেল কর্মসূচি ও সেবা বন্ধ হয়ে আছে।

বিক্ষোভকারীরা নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার, বোস্টন কমন, শিকাগোর গ্রান্ট পার্কসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থানে সমবেত হয়ে ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

ট্রাম্পবিরোধী এ বিক্ষোভের সূচনা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে। যেমন, এর আগে লন্ডনে মার্কিন দূতাবাসের বাইরে কয়েক শ বিক্ষোভকারী জমায়েত হন, আর মাদ্রিদ ও বার্সেলোনায় আরও কয়েক শ মানুষ বিক্ষোভ করেন।

ট্রাম্প গতকাল ওয়াশিংটনে ছিলেন না। তিনি ফ্লোরিডায় তাঁর মার-এ-লাগোর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

এর আগের দিন শুক্রবার ফক্স নিউজে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তাঁরা আমাকে একজন রাজা বলছেন। আমি রাজা নই।’

শতাধিক আয়োজক যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শনিবার ওই বিক্ষোভের আয়োজন করেন।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে

এ বছর বসন্তে ট্রাম্পের সাবেক ঘনিষ্ঠ মিত্র ও ধনকুবের ইলন মাস্কের ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে প্রথম যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গণবিক্ষোভ হয়। এরপর গত জুনে ট্রাম্পের সামরিক প্যারেড আয়োজনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়। সেবারও অনেক মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। তবে আয়োজকদের দাবি, শনিবারের সমাবেশ আরও বড় হয়েছে।

১৪ জুন ট্রাম্প ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশাল সামরিক প্যারেডের আয়োজন করেন। মার্কিন সেনাবাহিনীর ২৫০তম বার্ষিকী উদ্‌যাপন ও ট্রাম্পের ৭৯তম জন্মদিন উপলক্ষে এটি আয়োজন করা হয়। এতে হাজার হাজার সেনা, ট্যাঙ্ক, যুদ্ধবিমান ও আতশবাজির প্রদর্শনী ছিল। ১৯৯১ সালের পর প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত সামরিক প্যারেড ছিল এটি।

তবে এই প্যারেডের আয়োজন ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এটি আয়োজনের পেছনে খরচ হয় বিপুল অঙ্কের অর্থ; যা অনেকের মতে অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বিশেষ করে যখন সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কাটছাঁট চলছে, তখন এ খরচকে অপচয় হিসেবে দেখা হয়।

গতকাল গণবিক্ষোভের আয়োজকদের অন্যতম ছিল ‘ইনডিভিসিবল’। এ সংগঠনটির সহপ্রতিষ্ঠাতা এজরা লেভিন বলেন, ‘একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনের জন্য দেশপ্রেমী মানুষের গণশক্তির চেয়ে বড় হুমকি আর কিছু হয় না।’

স্থানীয় সময় শনিবার দুপুরের আগেই নিউইয়র্ক সিটির টাইমস স্কয়ারে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হন। তাঁরা ‘ট্রাম্পকে এখনই ক্ষমতা ছাড়তে হবে’ বলে স্লোগান দেন।

গতকাল শনিবারের বিক্ষোভ ছিল ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ফেরার পর তাঁর বিরুদ্ধে তৃতীয় বৃহৎ গণসমাবেশ
গতকাল শনিবারের বিক্ষোভ ছিল ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ফেরার পর তাঁর বিরুদ্ধে তৃতীয় বৃহৎ গণসমাবেশ। ছবি: রয়টার্স

নবায়নযোগ্য জ্বালানির যুগ কড়া নাড়ছে দরজায় by আন্তোনিও গুতেরেস

জ্বালানিশক্তির হাত ধরেই মানবসভ্যতা এগিয়ে চলেছে। আগুনের ব্যবহার আয়ত্ত করা থেকে শুরু করে বাষ্পশক্তির ব্যবহার, পরমাণু বিভাজনের মতো মাইলফলক অর্জন—সবই জ্বালানিশক্তির অবদান।

আজ আমরা এক নতুন যুগের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের সামনে উঁকি দিচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির এক অপার সম্ভাবনা।

গত বছর নতুন করে যে বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে, তার প্রায় সবটাই এসেছে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ দুই ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে যা জীবাশ্ম জ্বালানির চেয়ে ৮০০ বিলিয়ন ডলার বেশি।

সৌর ও বায়ুশক্তি এখন পৃথিবীর সবচেয়ে সাশ্রয়ী বিদ্যুতের উৎস, নবায়নযোগ্য খাতে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন কর্মসংস্থান, ত্বরান্বিত হচ্ছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন। অথচ জীবাশ্ম জ্বালানির জন্য এখনো অনেক বেশি ভর্তুকি দেওয়া হয়।

যেসব দেশ জীবাশ্ম জ্বালানি আঁকড়ে ধরে আছে, তারা তাদের অর্থনীতিকে সুরক্ষা তো দিচ্ছেই না; বরং ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কারণ, তারা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা হারাচ্ছে এবং একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সুযোগ থেকে নিজেদের বঞ্চিত করছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো মানে জ্বালানি সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। জীবাশ্ম জ্বালানির বাজারমূল্য অনিশ্চিত, এর সরবরাহে বিঘ্ন ঘটা এবং কিংবা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কবলেও পড়তে হতে পারে, যেমনটি আমরা দেখেছি রাশিয়া কর্তৃক ইউক্রেনে আগ্রাসনের সময়; কিন্তু সূর্যালোকের বেলায় মূল্যবৃদ্ধির কোনো আশঙ্কা নেই, বাতাসের ওপরও কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যায় না এবং প্রায় প্রতিটি দেশেই এত নবায়নযোগ্য সম্পদ আছে যে প্রত্যেকেই চাইলে জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে।

সর্বোপরি নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করে। বিদ্যুৎ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত লাখোকোটি মানুষের কাছে দ্রুত, সাশ্রয়ী ও টেকসই বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি। বিশেষত অফ-গ্রিড ও ছোট ছোট সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলগুলো এ ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা এ মুহূর্তে অপ্রতিরোধ্য; কিন্তু এই রূপান্তর এখনো যথেষ্ট গতিশীল বা সবার জন্য সহজলভ্যও নয়। উন্নয়নশীল দেশগুলো এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে।

জ্বালানি খাতে এখনো জীবাশ্ম জ্বালানির আধিপত্য বিরাজ করছে, এবং কার্বন নিঃসরণ এখনো তার ঊর্ধ্বগতি বজায় রেখেছে। অথচ জলবায়ু–সংকটের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি এড়াতে চাইলে এগুলো হ্রাস করা ছাড়া উপায় নেই। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে আমাদের ছয়টি ক্ষেত্রে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রথমত, রাষ্ট্রগুলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি–নির্ভর ভবিষ্যতের প্রতি পুরোপুরি অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে, প্রতিটি দেশ নতুন জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনা জমা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যা জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) নামে পরিচিত।

এনডিসিতে পরবর্তী দশকের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হবে। এ পরিকল্পনাগুলো অবশ্যই বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। যেখানে সব ধরনের কার্বন নিঃসরণ ও সব খাতকে পর্যালোচনায় রাখতে হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুস্পষ্ট রূপরেখা হাজির করতে হবে।

জি–২০ দেশগুলো, যারা বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৮০ শতাংশের জন্য দায়ী, তাদেরই এর গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, আমাদের জ্বালানিব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী করে। আধুনিক গ্রিড ও স্টোরেজ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি তার পূর্ণ সম্ভাবনা বিকশিত করতে পারবে না; কিন্তু নবায়নযোগ্য উৎসে বিনিয়োগ করা প্রতি ডলারের মধ্যে মাত্র ৬০ সেন্ট ব্যয় হয় গ্রিড ও স্টোরেজ বাবদ। এ অনুপাতটিকে ১/১-এ উন্নীত করতে হবে।

তৃতীয়ত, রাষ্ট্রগুলোকে অবশ্যই বিশ্বের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা নবায়নযোগ্য উৎস থেকে মেটানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকেও নিজ নিজ ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসতে হবে।

২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীর সব ডেটা সেন্টারগুলোর সম্মিলিত বিদ্যুৎ খরচ পুরো জাপানের বর্তমান বিদ্যুৎ খরচের সমান হবে। কোম্পানিগুলোর উচিত এ ডেটা সেন্টারগুলোর পরিচালনায় নবায়নযোগ্য উৎস কাজে লাগানোর অঙ্গীকার করা।

চতুর্থত, আমাদের জ্বালানি রূপান্তরে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে। এর অর্থ হলো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি–নির্ভর আগামীর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণে সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করা; এবং সেই সঙ্গে জরুরি খনিজ সরবরাহ-শৃঙ্খল সংস্কার করা।

এ মুহূর্তে এগুলো অধিকার হরণ ও পরিবেশ ধ্বংসের কারণে জর্জরিত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো মূল্য-শৃঙ্খলের তলানিতে বন্দী হয়ে আছে। অবশ্যই এর অবসান ঘটাতে হবে।

পঞ্চমত, আমাদের বাণিজ্যকে জ্বালানি রূপান্তরের সহায়ক হাতিয়ার হিসাবে কাজে লাগাতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরবরাহের শৃঙ্খলটি অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত এবং এ মুহূর্তে বৈশ্বিক বাণিজ্য আর এককেন্দ্রিক থাকছে না। নতুন জ্বালানিব্যবস্থার যুগের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দেশগুলোর উচিত সরবরাহে বৈচিত্র্য আনতে কাজ করা, নবায়নযোগ্য উৎসের পণ্যে শুল্ক কমানো এবং বিনিয়োগ চুক্তি আধুনিকীকরণ করা যাতে তারা এই রূপান্তরকে এগিয়ে নিতে পারে।

ষষ্ঠত ও শেষত, আমাদের উচিত উন্নয়নশীল দেশগুলোর দিকে বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া। আফ্রিকা গত বছর নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগের মাত্র ২ শতাংশ পেয়েছে, যদিও বিশ্বের সেরা সৌর শক্তির ৬০ শতাংশ উৎস এ মহাদেশে রয়েছে। আমাদের কিছু আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে—যাতে ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাজেটে টান না পড়ে এবং বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংকগুলো যাতে তাদের ঋণদান ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে এবং অনেক বেশি বেসরকারি অর্থায়ন নিশ্চিত করতে পারে।

আমাদের ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিগুলো ও বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করতে হবে, যাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতিশ্রুতি, জলবায়ু সংকটের ক্ষতিপূরণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানি সম্পদ বিকল হয়ে পড়ার ঝুঁকির আর্থিক ক্ষতি নিরূপণ করা সম্ভব হয়।

এক নতুন জ্বালানি সম্ভাবনার যুগ আমাদের হাতছানি দিচ্ছে—এমন এক যুগ যেখানে সাশ্রয়ী, নবায়নযোগ্য, প্রাচুর্যময় জ্বালানি এক অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় সমৃদ্ধিশালী পৃথিবীকে শক্তি জোগাবে, যেখানে রাষ্ট্রগুলোর জ্বালানি স্বয়ংসম্পূর্ণতার নিশ্চয়তা থাকবে এবং বিদ্যুৎসেবা থাকবে সব নাগরিকের হাতের মুঠোয়।

ঠিক এ মুহূর্ত আমরা চাইলেই বৈশ্বিকভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে পারি। আসুন, আমরা এই সুযোগকে কাজে লাগাই।

* আন্তোনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের মহাসচিব

জাতিসংঘের মহাসচিব  আন্তোনিও গুতেরেস
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ছবি: রয়টার্স

গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েলের বিক্ষিপ্ত হামলা

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও বিক্ষিপ্তভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত শুক্রবার একটি বাসে হামলা চালিয়ে ইসরায়েলি সেনারা একই পরিবারের ১১ সদস্যকে হত্যা করেছেন।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সাত শিশু ও তিনজন নারী ছিলেন। এ নিয়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ৩৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার গণমাধ্যম দপ্তর।

হামাসের অধীনে কাজ করা জরুরি পরিষেবা বিভাগের মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল গতকাল এএফপিকে বলেন, গত শুক্রবার জেইতুন এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের বহনকারী একটি বাসে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী হামলা চালিয়েছে। পরে বাসের ভেতর থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন তাঁদের কর্মীরা। নিহত ব্যক্তিরা আবু শাবান গোত্রের সদস্য। জেইতুন এলাকায় নিজেদের বাড়ি দেখার চেষ্টা করার সময় তাঁদের হত্যা করা হয়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাসটি ‘হলুদ লাইন’ অতিক্রম করেছিল। হামাসের সঙ্গে অস্ত্রবিরতি চুক্তির আওতায় ওই এলাকায় তাদের সেনারা অবস্থান করছিলেন। বাসটি এমনভাবে এগোতে থাকে, যা সেখানে থাকা সেনাদের জন্য হুমকি তৈরি করে। চুক্তি অনুযায়ী হুমকি দূর করার জন্য সেনারা তখন গুলি চালান।

যুদ্ধবিরতি শুরুর পর হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিজেদের বাড়ি খুঁজতে উত্তর গাজায় ফিরে এসেছেন। কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় ধরে হওয়া যুদ্ধের কারণে সৃষ্টি হওয়া বিশাল ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে বাড়ি খুঁজে পাওয়া অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে উঠেছে। কয়েকজন বাসিন্দা এএফপিকে জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে তাঁরা নিজেদের বাড়ি কিংবা পরিচিত কোনো জায়গা খুঁজে বের করতে পারছেন না।

এদিকে চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলের কাছে আরও এক জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করেছে হামাস। গত শুক্রবার রাতে মরদেহটি ইসরায়েলে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে সম্প্রতি গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় অস্থায়ী তাবু টানিয়ে গাজা নগরীতে বসবাস শুরু করেছেন ফিলিস্তিনিরা।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় অস্থায়ী তাবু টানিয়ে গাজা নগরীতে বসবাস শুরু করেছেন ফিলিস্তিনিরা। ছবি: রয়টার্স

গোপন মর্গে থাকা মরদেহ কি ৫০ বছরের পুরোনো রহস্যের সমাধান করতে পারবে by মইন শারিফ

ইরানের ধর্মীয় নেতা মুসা আল-সাদর নিখোঁজ হয়েছেন ৫০ বছর আগে। কেউ বলছেন, তাঁকে লিবিয়ায় হত্যা করা হয়েছে। সেই ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন করেছেন মইন শারিফ। গতকাল মঙ্গলবার বিবিসির অনলাইনে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলে ব্র্যাডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কম্পিউটারবিজ্ঞানী একটি মরদেহের ছবি নিয়ে গবেষণা করছেন। চেষ্টা করছেন এমন এক রহস্য উন্মোচন করতে, যা প্রায় ৫০ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।

‘(বেঁচে থাকলে) বর্তমানে তাঁর চেহারা কি দেখতে এমন হতো?’ দ্বিধার সুরে প্রশ্ন করলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাসান উগাইল।

বহু পুরোনো পচন ধরা একজনের মরদেহের চেহারার ছবিটিকে প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে। আমাদের বিবিসি অনুসন্ধানী দলের জন্য এটিকে একটি বিশেষ পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা হবে।

মূল ছবিটি তুলেছিলেন এক সাংবাদিক। তিনি ২০১১ সালে লিবিয়ার রাজধানীতে একটি গোপন মর্গে মরদেহটি দেখেছিলেন। তখন তাঁকে বলা হয়েছিল, হতে পারে এটি প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা মুসা আল-সদরের মরদেহ। ১৯৭৮ সালে লিবিয়ায় গিয়ে তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন।

মুসা আল-সদরের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে অসংখ্য ষড়যন্ত্র তত্ত্ব আছে। কেউ কেউ মনে করেন, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। আবার অনেকের দাবি, তিনি এখনো বেঁচে আছেন এবং লিবিয়ার কোথাও বন্দী আছেন।

মুসা আল-সদরের ভক্তদের কাছে তাঁর নিখোঁজের ঘটনা ১৯৬৩ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির হত্যাকাণ্ডের মতোই রহস্যজনক। মুসাকে নিয়ে আমাদের দীর্ঘ অনুসন্ধান এতটাই সংবেদনশীল ছিল যে আমি ও বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের একটি দল কয়েক দিন লিবিয়ায় আটক ছিলাম।

ভক্তদের কাছে মুসা ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র। লেবাননের অবহেলিত শিয়া মুসলিমদের জন্য কাজ করায় রাজনৈতিকভাবে তাঁর সুনাম ছিল। পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা। তাই তাঁকে নিয়ে ভক্তদের আবেগ-অনুভূতিও বেশি।

মুসার অনুসারীরা তাঁকে ‘ইমাম’ উপাধি দিয়েছেন। জীবিত অবস্থায় কোনো শিয়া ধর্মগুরুর জন্য এমন সম্মান বিরল। শিয়া সম্প্রদায়ের কল্যাণে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ খেতাব দেওয়া হয়।

শিয়া মুসলিমদের সবচেয়ে বড় শাখা ইসনা আশারিয়া। এই শাখার অনুসারীরা ১২ ইমামে বিশ্বাসী। তাঁরা মনে করেন, তাঁদের দ্বাদশ ইমাম মারা যাননি। তিনি নবম শতাব্দীতে নিখোঁজ হন। পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার আগে তিনি আবার ফিরে আসবেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। তাঁর সঙ্গে মুসা আল-সদরের নিয়তি অনেকটাই মিলে যায়। তাই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ায় অনুসারীদের কাছে তাঁর প্রভাব আরও বেড়েছে।

এ ছাড়া মুসার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বিশ্বের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতিগতভাবে সবচেয়ে অস্থিতিশীল অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্যও সম্ভবত বদলে দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, ইরানি-লেবানিজ এই ধর্মগুরু তাঁর প্রভাব ব্যবহার করে ইরানকে এবং এর মাধ্যমে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও মধ্যপন্থী মতাদর্শের দিকে পরিচালনা করতে চাচ্ছিলেন। তবে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের ঠিক আগে তিনি নিখোঁজ হন।

তাই মুসা আল-সদরের পরিচয় শনাক্তে ব্র্যাডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচেষ্টার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছিল।

যে সাংবাদিক ওই মরদেহের ছবিটি তুলেছেন, তিনি আমাদের বলেন, মরদেহটি অস্বাভাবিক লম্বা ছিল। মুসা আল-সদরও ছিলেন বেশ লম্বা। তাঁর উচ্চতা ছিল ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি। তবে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করার মতো কোনো বৈশিষ্ট্যই সেটির চেহারায় অবশিষ্ট ছিল না।

আমরা কি শেষমেশ এই রহস্যের সমাধান করতে পারব

১৯৭৪ সালে লেবাননে ‘আমাল মুভমেন্ট’ নামের একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন চালু করেন মুসা। এটি ‘দ্য মুভমেন্ট অব দ্য ডিপ্রাইভড’ বা বঞ্চিতদের আন্দোলন নামেও পরিচিত ছিল। এই সংগঠন শিয়াদের সমান প্রতিনিধিত্ব এবং ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে দরিদ্রদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলে। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তিনি এতটাই দৃঢ় ছিলেন যে গির্জায় ধর্মীয় বক্তব্য দিয়েছিলেন।

মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফির সঙ্গে দেখা করতে তাঁরই আমন্ত্রণে ১৯৭৮ সালের ২৫ আগস্টে মুসা আল-সদর লিবিয়ায় যান।

এর তিন বছর আগে লেবাননে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। সেই সংঘাতে ফিলিস্তিনি যোদ্ধারাও জড়িয়ে পড়েন। তাঁদের অনেকেই সে সময় লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থান নেন। সেখানে মুসা আল-সদরের বেশির ভাগ অনুসারী বাস করতেন।

সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের গোলাগুলি শুরু হয়। মুসা চেয়েছিলেন গাদ্দাফি এই সংঘাতে হস্তক্ষেপ করে লেবাননের সাধারণ মানুষকে রক্ষা করুন।

গাদ্দাফির সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় ছয় দিন লিবিয়ায় থাকার পর ১৯৭৮ সালের ৩১ আগস্ট মুসাকে ত্রিপোলির একটি হোটেল থেকে বেরিয়ে লিবিয়ার একটি সরকারি গাড়িতে উঠতে দেখা গিয়েছিল। এরপর আর কখনো তাঁকে দেখা যায়নি।

গাদ্দাফির নিরাপত্তা বাহিনী পরে দাবি করেছিল, মুসা রোমে চলে গেছেন। তবে পরবর্তী সময়ে এক তদন্তে এ দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

গাদ্দাফিশাসিত লিবিয়ায় স্বাধীন সাংবাদিকতা ছিল কার্যত অসম্ভব। কিন্তু ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় লিবিয়ার মানুষ যখন তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, তখন সত্য উন্মোচনের দরজা খুলে যায়।

লেবানিজ-সুইডিশ সাংবাদিক কাসেম হামাদি সে সময় ত্রিপোলিতে একটি গোপন মর্গের খবর পান। একটি সূত্র তাঁকে জানিয়েছিল, সেখানে হয়তো মুসা আল-সদরের মরদেহ থাকতে পারে।

কাসেম ওই মর্গে গিয়ে দেখলেন, সেখানে একটি হিমায়িত কক্ষে ১৭টি মরদেহ রাখা। এর মধ্যে একটি মরদেহ ছিল শিশুর, বাকিগুলো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের।

কাসেমকে জানানো হলো, তাঁদের প্রায় সবাই আনুমানিক তিন দশক আগে মারা গেছেন, যা মুসার নিখোঁজ হওয়ার সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। এর মধ্যে একটি মরদেহের সঙ্গে মুসার মিল পাওয়া গেছে।

কাসেম আমাকে বলেন, (মর্গের এক কর্মী) একটি ড্রয়ার খুললেন। ড্রয়ারে মরদেহ দেখার সঙ্গে সঙ্গে দুটি বিষয় আমার চোখে পড়ে। একটি হলো মরদেহটির মুখাবয়ব, ত্বকের রং এবং চুলের গঠন—এত বছর পরও সবকিছু মুসার মতোই মনে হচ্ছিল।

অন্যটি হলো এই ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। অন্তত মাথার খুলি দেখে কাসেমের তা–ই মনে হয়েছিল। কপালে প্রচণ্ড আঘাত কিংবা বাঁ চোখের ওপর গুলি লাগার মতো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল।

কিন্তু আসলেই কি এটা মুসার দেহ? আমরা কীভাবে নিশ্চিত হব?

বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য কাসেমের তোলা ওই মরদেহের ছবিটি আমরা ব্র্যাডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দলের কাছে নিয়ে গেলাম। ২০ বছর ধরে এই দল একটি বিশেষ অ্যালগরিদম তৈরি করেছে, যার নাম ‘ডিপ ফেস রিকগনিশন’। এটি দুই বা ততোধিক ছবির মধ্যে জটিল মিলগুলো খুঁজে বের করতে পারে। এই পদ্ধতি বিভিন্ন পরীক্ষায় অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য প্রমাণিত হয়েছে, এমনকি অসম্পূর্ণ ও ঝাপসা ছবির ক্ষেত্রেও।

এই দলের প্রধান অধ্যাপক হাসান উগাইল। তিনি মর্গের ওই ছবি মুসা আল-সদরের জীবদ্দশায় বিভিন্ন সময় তোলা চারটি ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে রাজি হলেন।

‘ডিপ ফেস রিকগনিশন’ সফটওয়্যারে ছবির মিল নির্ধারণে সর্বোচ্চ ১০০ নম্বর দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়। যে ছবি যত বেশি নম্বর পাবে, সে ছবি একই ব্যক্তি বা একই পরিবারের সদস্যের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

মুসার চারটি ছবির সঙ্গে মর্গের মরদেহটির ছবি মেলানোর পর দেখা গেল, সেটি ৬০ নম্বর পেয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করে অধ্যাপক হাসান উগাইল আমাদের বললেন, মরদেহটি মুসা আল-সদরের হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

আরও বিশদভাবে যাচাইয়ের জন্য অধ্যাপক উগাইল একই পদ্ধতি ব্যবহার করে ছবিটির সঙ্গে মুসার পরিবারের ছয় সদস্যের ছবি মেলালেন। এরপর তিনি মরদেহের ছবির সঙ্গে দৈবচয়নের ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের ১০০ জন পুরুষের ছবি মেলালেন, যাঁদের চেহারার সঙ্গে মুসার চেহারার কিছুটা মিল আছে।

পরীক্ষা শেষে দেখা গেল, মুসার পরিবারের সদস্যদের ছবি বেশি নম্বর পেয়েছে। তবে মরদেহের চেহারার সঙ্গে মুসার জীবদ্দশায়ের ছবি সবার চেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছে।

এই ফলাফল থেকে বোঝা যাচ্ছে, মরদেহটি মুসা আল-সদরের হওয়ার বেশ ভালো সম্ভাবনা আছে। আর মাথার ভাঙা খুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে, তাঁকে হয়তো হত্যা করা হয়েছে।

কাসেমের তোলা ওই ছবি দেখার চার বছর পর ২০২৩ সালের মার্চে আমরা সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলতে এবং নিজ চোখে মরদেহটি দেখার জন্য লিবিয়ায় যাই। আমরা জানতাম, বিষয়টি সংবেদনশীল। এরপরও লিবিয়ার প্রতিক্রিয়া আমাদের অবাক করেছিল।

লিবিয়ায় পৌঁছানোর পরদিন ত্রিপোলিতে আমরা গোপন মর্গটি খুঁজতে বের হই। বিবিসির দলটির সঙ্গে ছিলেন সাংবাদিক কাসেম। তিনি ওই মর্গে গিয়েছিলেন ২০১১ সালে। কিন্তু তিনি এটির অবস্থান মনে করতে পারছিলেন না। শুধু মনে আছে, মর্গটির কাছেই একটি হাসপাতাল ছিল।

পরে আমরা জানতে পারলাম, হাঁটাদূরত্বের মধ্যেই একটি হাসপাতাল আছে। সেদিকেই রওনা দিলাম। হঠাৎ কাসেম বলে উঠলেন, ‘এই তো! আমি নিশ্চিত, এটাই সেই ভবন, যেখানে মর্গ ছিল।’

আমরা শুধু ভবনটির বাইরের দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করতে পেরেছিলাম। কারণ, ভেতরে ঢুকে ছবি তোলা বা ভিডিও করার অনুমতি চাইলেও আমাদের তা দেওয়া হয়নি। পরদিন অজ্ঞাতপরিচয় একদল লোক এসে ব্যাখ্যা ছাড়াই আমাদের আটক করে। পরে জানতে পারি, তারা লিবিয়ার গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা।

আমাদের লিবিয়ার গোয়েন্দা বিভাগের একটি কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আলাদা আলাদা কক্ষে বন্দী করে রাখা হয়। অভিযোগ আনা হয় গুপ্তচরবৃত্তির। আমাদের চোখে মুখোশ পরানো হয়, বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং বলা হয়, কেউ আমাদের সাহায্য করতে পারবে না। গোয়েন্দারা বলেছিল, ওই কারাগারে দশকের পর দশক আমাদের বন্দী করে রাখা হবে।

আমরা সেখানে যন্ত্রণাদায়ক ছয়টি দিন কাটালাম। শেষ পর্যন্ত বিবিসি ও যুক্তরাজ্য সরকারের চাপের মুখে আমাদের মুক্তি দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়।

কারাগারের কর্মীরা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, গাদ্দাফির অনুগতরাই লিবিয়ার গোয়েন্দা বিভাগ চালান। তাঁরা চাননি, বিবিসি মুসা আল-সদরের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তদন্ত করুক।

কেউ কেউ বহুদিন ধরে বিশ্বাস করেন, মুসা আল-সদরকে হত্যা করা হয়েছে।

সাবেক লেবানিজ গবেষক ড. হোসেইন কেনান একসময় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতেন। তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালের যে সপ্তাহে মুসা আল-সদর নিখোঁজ হন, ওই সপ্তাহে তিনি ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র দপ্তরে গিয়েছিলেন। তাঁকে জানানো হয়েছিল, মুসাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা একটি প্রতিবেদন পেয়েছে।

এই তথ্য প্রমাণিত হয় লিবিয়ার সাবেক বিচারমন্ত্রী মুস্তাফা আবদেল জালিলের মাধ্যমে। ২০১১ সালে তিনি কাসেমকে বলেছেন, ‘নিখোঁজের দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিন তারা মুসার কাগজপত্র নকল করে দেখান, তিনি ইতালি যাচ্ছেন। আর তারপর তাঁকে লিবিয়ার কারাগারে হত্যা করা হয়।’

মুস্তাফা আবদেল আরও বলেন, গাদ্দাফির সিদ্ধান্তই শেষ কথা।

গাদ্দাফি যদি সত্যিই মুসাকে হত্যার আদেশ দিয়ে থাকেন, তাহলে কেন তিনি এমনটি করলেন?

ইরান–বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু কুপারের মতে, গাদ্দাফির ওপর ইরানের কট্টরপন্থীদের প্রভাব ছিল। তাঁরা উদ্বিগ্ন ছিলেন, মুসা ইরানে বিপ্লবের পরিকল্পনাকে ব্যাহত করতে চলেছেন।

তবে লেবাননের আমাল পার্টি বিশ্বাস করে, মুসা আল-সদর এখনো বেঁচে আছেন। প্রায় প্রতিটি বছর তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বার্ষিকীতে দলটি তাঁর মুক্তির দাবিতে সমাবেশ করে। বিবিসি

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-09-02%2F88kh97g4%2Fmusa-al-sadr.jpg?rect=0%2C50%2C1400%2C933&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ইসনা আশারিয়া শিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মগুরু মুসা আল-সাদর। ফাইল ছবি: এএফপি