Thursday, July 25, 2019
আফগানিস্তান ও কাতারে ফিরছেন শান্তি আলোচনায় নিয়োজিত মার্কিন দূত

আফগানিস্তানবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি জালমি খালিলজাদ আগামী সোমবার তার মিশন শুরু করবেন, যা ১ আগস্ট পর্যন্ত স্থায়ী হবে। এটি হবে আফগানিস্তানের সঙ্ঘাত অবসানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার সর্বাত্মক প্রয়াসের অংশবিশেষ।
রাজধানী কাবুলে তিনি শান্তিপ্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ নিয়ে আফগান সরকারের সাথে আলোচনা করবেন। তালেবানের সাথে আলোচনার জন্য আফগান সরকারি দল কেমন হতে পারে, সফরকালে তা হবে অন্যতম বিষয়।
তালেবান সবসময়ই আফগান সরকারের সাথে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। তারা আফগান সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল মনে করে।
এরপর কাতার যাবেন জালমি খালিলজাদ। সেখানে তিনি তালেবানের সাথে নতুন করে আলোচনা শুরু করবেন।
ওয়াশিংটন আশা করছে, সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই তালেবানের সাথে একটি সমঝোতায় উপনীত হওয়া সম্ভব হবে।
গত বছর থেকে তালেবানের সাথে কয়েক দফা আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের মধ্যে সর্বশেষ দফার আলোচনা হয়েছে ৯ জুলাই দোহায়।
এদিকে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশাবাদ করেন যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আফগানিস্তানের যুদ্ধ অবসানে সহায়তা করবেন।
তিনি বলেন, আমি মনে করি, পাকিস্তান আমাদের সহায়তা করতে যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসের বৈঠক শুরুর আগে ইমরান খানের পাশে বসে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লোককাহিনী নির্ভর নাটক ‘আমিনা সুন্দরী’

কাল ২৬ জুলাই শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর বেইলিরোডস্থ মহিলা সমিতিমঞ্চে প্রদর্শিত হবে আলোচিত এ নাট্যাখ্যান।
নাট্যদল থিয়েটার আর্ট ইউনিট ২০০৭ সালে মঞ্চে নিয়ে আসে নাট্য প্রযোজনা ‘আমিনা সুন্দরী’। এরই মধ্যে দেশ-বিদেশে নাটকটি প্রশংসা কুড়িয়েছে। বাঙালি নারীর প্রেম ও পুরুষ শাসিত সমাজে নারীর প্রতি পুরুষের প্রবঞ্চনা এ নাটকের মূল উপজীব্য।
নাটকের শুরুতেই দেখা যায়, পতিভক্ত নারী আমিনার সঙ্গে। যার স্বামী নছর পেশায় একজন জাহাজের মালুম। ব্যবসার জন্য বার্মার উদ্দেশ্যে যাওয়া স্বামীর অপেক্ষায় দিন কাটতে থাকে আমিনার। সেখানেই নছর বিয়ে করে বার্মা তরুণী এখিনকে। একসময় ফিরে আসে নছর, তখন স্ত্রী আমিনা বন্দী ভোলা সওদাগরের কাছে। আমিনার খোঁজ না পেয়ে ফিরে আসে সে।
এদিকে, নছরকে প্রত্যাখ্যান করে এখিনও। সর্বস্ব হারিয়ে নছর আশ্রিত হয় ভোলা সওদাগরের ঘরে। সেখানেই পুনরায় মিলন হয় নছর ও আমিনার। দশক বাদে এ সাক্ষাতে আবেগাপ্লুত আমিনা আবার প্রত্যাখ্যাত হয় স্বামীর কাছে। প্রেমের কাছে হার মানে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে আমিনার সতীত্ব।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘মোক একটা স্লিপ দেরে বাবা’

শুধু নূর আসমা নন, এ রকম শ’ শ’ অসহায় বন্যার্ত মানুষ এসেছিলেন কিন্তু না পেয়ে ফিরতে হয়েছে খালি হাতে ভারাক্রান্ত মনে। চলমান এই বন্যা হাজার হাজার পরিবারকে দিয়েছে অসহায় করে। শ’ শ’ মানুষ হয়ে পড়েছেন নিঃস্ব। নেই থাকার জায়গা, নেই ঘর তোলার আসবাবপত্র। হয়ে পড়েছেন পথের ফকির। পরিবার-পরিজন নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। অনেকে বউ বাচ্চাকে অন্যের জায়গায় খোলা আকাশের নিচে রেখেই আয়-রোজগারের আশায় পাড়ি দিয়েছেন অজানার উদ্দেশে। অনেকে অভিযোগ করে বলেন, সবাই খালি চরে যায় কিন্তু সদরের আশপাশে শ’ শ’ গ্রাম এখন পানিবন্দি থাকলেও তাদের খোঁজ নিতে কেউ নেই। চলমান ভাঙন ও বন্যাকে কেন্দ্র করে উপজেলা চরাঞ্চলে সরকারি ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ (রিলিফ) বিতরণ শুরু হলেও রয়েছে অনিয়ম আর স্বজনপ্রাীতির অভিযোগ। আবার অনেকে ত্রাণের চাল পেয়েও তাঁদের চোখের পানি থামছে না কারণ থাকার জায়গা নেই। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায় হতদরিদ্র এই মানুষগুলোর পুষ্টিহীন শরীর তাদের কর্মক্ষমতা প্রায় হারিয়ে ফেলেছে। রোগে তাদের শরীর আরো বেশি বয়স্ক করেছে। এদের প্রত্যেকের সন্তান বড় হয়ে আলাদা সংসার করছে। বৃদ্ধ বাবা-মায়ের খোঁজ তারা রাখে না। বাধ্য হয়ে ভিক্ষা, অন্যের বাড়ি অথবা জমিতে কাজ করেই তাদের একমুঠ ভাতের জোগাড় করতে হয়। এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ মো. শামসুজ্জোহা বলেন বর্তমানে আমরা তাদের মাঝে বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা পেলে তাদেরকেও সহযোগিতা করা হবে। এছাড়াও সরকার আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাদ থেকে ফেলে যুবককে হত্যা: আড়াই লাখ টাকায় রফা

এ সময় একই রোডের ঝিলন টি স্টলের মালিক ঝিলন মিয়ার কলেজপড়ুয়া মেয়ে চৈতীর (১৮) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। ঝিলন মিয়া পৌর এলাকার পুরাতন জেল রোডের শাহীন স্কুল সংলগ্ন ১১৪১ নম্বর বাসার (শফিক মঞ্জিল) দোতলায় বসবাস করেন। জেল রোডের ব্যবসায়ীরা জানান, আদিল মিয়ার সঙ্গে চৈতীর দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ১৭ই জুলাই রাতে আদিলকে ফোন করে চৈতীর বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ মিলেছে এরপর তাকে বেধড়ক পিটিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেয়া হয়। রাত ১০টার দিকে মেয়ের বাসার পাশে রাস্তায় তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। ওই সময় জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক মির্জা মো. সাঈফ বলেন- ছেলেটিকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তখন সে অজ্ঞান ছিল। ইন্টারন্যাল ইনজুরির কারণে শরীরের অঙ্গগুলো অকেজো হয়ে পড়েছিল। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করি। লাশ মর্গে নিয়ে যাওয়ার জন্যও বলা হয়েছিল বলে জানান সাঈফ। তবে ছেলের মৃত্যুর বিষয়ে এখনো অন্ধকারে পিতা সালাম মিয়া। তিনি বলেন, আমি এখনো কোনো কিছু জানি না। তবে অনেক কিছু শুনছি। আমার ভাতিজা পাবেল আর ফার্মেসির মালিক জুয়েল সব জানে। তিনি বাড়িতে শয্যাশায়ী আছেন বলে জানান। সালামের ৪ ছেলের মধ্যে জুয়েল ছিলেন সবার বড়। পরে পাভেল ফোন দিয়ে জানান, এটা একটা এক্সিডেন্ট। ঘটনার পরদিন ময়নাতদন্ত ছাড়াই আদিলের লাশ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়। এদিকে ঘটনার এক সপ্তাহ পর মঙ্গলবার বিকালে জুয়েল নামে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাসহ আরো কয়েকজন নেতাকর্র্মী মেয়ের বাবা ঝিলনকে শহরের টেংকের পাড়ে পৌর কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে গিয়ে আড়াই লাখ টাকায় এই খুনের রফাদফা করেন। আগামী রোববারের মধ্যে এই টাকা পরিশোধ করতে হবে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে বন্ধ রয়েছে ঝিলনের চায়ের দোকান। তাকে খোঁজ করে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন বলেন- বিষয়টি তার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মহাপ্লাবনে তছনছ উত্তরাঞ্চল

এদিকে চলমান বন্যায় বাঁধ এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চরম কষ্টে আছে আশ্রিতরা। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন বন্যাদুর্গত এলাকা ঘুরে এসব চিত্রই চোখে পড়ছে।
দেশের চলমান বন্যায় উত্তরাঞ্চলের বেশির ভাগ জেলাগুলো এখনো পানিতে ভাসছে। বন্যা পরিস্থিতি সব চেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, ধুনট উপজেলা এবং গাইবান্ধার সাঘাটা, ফুলছড়ি উপজেলায়। এসব এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেনি এমন গ্রাম নেই বললেই চলে। বাসস্থান পানিতে তলিয়ে যাওয়া লোকজন বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র এবং উঁচু বাঁধে আশ্রয় নিয়ে গাদাগাদি করে আছে। বানভাসিদের সঙ্গে যোগ হয়েছে গবাদি পশু। মানুষ আর পশু এখন এক সঙ্গে বসবাস করছে। ফলে দুর্বিষহ হয়ে উঠছে বানভাসিদের জীবন। বিশেষ করে নারী এবং শিশুদের অবস্থা খুব করুণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে বন্যা পরবর্তী পানি বাহিত রোগ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে। এসব রোগে বেশির ভাগ আক্রান্ত হতে পারে শিশুরা। যদিও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া বন্যার্ত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণের সময় বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন হলেও রোগ মোকাবেলার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি আছে সরকারের।
তবে বন্যার্ত এসব মানুষদের অভিযোগ সরকারের পক্ষ থেকে মেডিকেল টিম গঠনের কথা বলা হলেও সব জায়গায় এই টিমের উপস্থিতি নেই। অনেকের কাছে গোটা বন্যায় একবারো কোনো ডাক্তার আসেনি। পায়নি ওষুধও।
নারী এবং শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে আছে: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বন্যা মোকাবেলা করছে উত্তরজনপদের লাখ লাখ মানুষ। তাদের সঙ্গে আরো বেশি জীবনের ঝুঁকিতে আছে শিশুরা। বানভাসি মানুষদের সরজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বগুড়ার বন্যাদুর্গত ইউনিয়ন সারিয়াকান্দির কুতুবপুর, কামালপুর, চন্দনবাইশা, কর্ণিবাড়ি, সোনাতলা উপজেলার মধুপর, তেকানি চুকাইনগর, পাকুল্লা, ধুনটের ভাণ্ডারবাড়ী, গোসাইবাড়ী ইউনিয়ন, গাইবান্ধার সাঘাটা, ফুলছড়ি, গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাদুল্ল্যাপুর, পলাশবাড়ী, গোবিগঞ্জের একাংশের কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি জীবন কাটাচ্ছে। এদের একটি বড় অংশ বাঁধ এবং উঁচু অঞ্চলগুলোতে অবস্থান নিয়েছে। এসব বানভাসি মানুষের সবাই কমবেশি মানবেতর জীবন কাটালেও নারী এবং শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে আছে। এদের খাদ্য সমস্যার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করছে। শিশু খাদ্য এবং নিরাপদ পানি না থাকার ফলে সহজেই আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। অপর দিকে সবদিকে অথৈ পানি থাকার ফলে প্রতিনিয়তই এসব এলাকায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে।
ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে বন্যার্তরা: চলমান বন্যায় বাঁধে আশ্রয় নেয়া লাখ লাখ অসহায় মানুষ ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে। সরকারি ভাবে যে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে তা সবার কাছে পৌঁছাচ্ছে না। এমন অভিযোগ করছে বন্যার্ত মানুষ।
উত্তরাঞ্চলের বন্যাকে মহাপ্লাবন বলেছে অনেকেই। এই বন্যায় দুর্যোগ চরম আকার ধারণ করেছে পুরো উত্তরাঞ্চলে। পানি ধীর গতিতে কমতে শুরু করলেও এখনো বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে প্রত্যেক নদীর পানি। ফলে বাঁধে আশ্রয় নেয়া বন্যার্তরা সহসাই নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছে না। উত্তরাঞ্চলে বাঁধে বিভিন্ন পয়েন্টে আটকে থাকা এসব বানভাসি মানুষ এখন ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে। চলমান বন্যায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের কথা বলা হলেও বগুড়ার প্রত্যন্ত চরের পানিবন্দি মানুষের অভিযোগ, তাদের কাছে কোনো ধরনের ত্রাণসামগ্রী পৌঁছায়নি। বাঁধের আশেপাশে বসবাসকারী বন্যার্ত মানুষের কাছে ত্রাণের প্যাকেট যাচ্ছে। সেই পরিমাণও কম। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার প্রত্যন্তচরের বানভাসি মানুষের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ত্রাণের কথা শোনা যায় কিন্তু সেই ত্রাণগুলো কাদের দিচ্ছে সেই কথা তারা জানেন না। কথা হয় সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের ঘুঘুমারী গ্রামের জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে। তার ঘরের চাল পর্যন্ত পানি ঠেকেছে। কোনো রকমে বাঁধে একটি ছাপরা ঘর তুলে মাথাগুঁজে আছে। তিনি এখন পর্যন্ত সরকারি বেসরকারি কারো কাছেই ত্রাণ পাননি।
এদিকে যমুনায় অব্যাহত পানি বৃদ্ধির কারণে বগুড়ার নদী তীরবর্তী সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৩০ হাজার পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ। বন্যায় আক্রান্ত এই পরিবারগুলোর মধ্যে ৩ হাজার পরিবার আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে। এ ছাড়াও সাঘাটার জুমারবাড়ি, ডাকবাংলা, কচুয়া, উল্লাভরতখালি, উদয়খালি, বাদিয়াখালি এলাকার বাঁধগুলোতে আশ্রয় নেয়া বন্যার্তদের বেশির ভাগ মানুষ ত্রাণ পায়নি বলে অভিযোগ করেছে। অপরিচিত কোনো ভদ্রমানুষ এসব এলাকায় প্রবেশ করলেই ত্রাণের আশায় তাদের কাছে ছুটে যাচ্ছে বানভাসিরা।
যদিও গাইবান্ধার বিভিন্ন দুর্গত এলাকা পরিদর্শন কালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেছেন, সরকারের হাতে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে। যতদিন প্রয়োজন ত্রাণ দেয়া হবে।
প্রস্তুত ছিল না উঁচু অঞ্চলের মানুষ: সারা দেশের দৃষ্টি এখন গাইবান্ধার দিকে। দেড় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান বন্যায় কয়েকটি সড়ক এবং সেতু ভেঙে গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা, গোবিন্দগঞ্জ ও সাদুল্ল্যাপুর উপজেলায় বন্যা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এই জেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় আট লাখ মানুষ। সেখানকার বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী জাহিদ খন্দকার জানান, বাঁধ ভাঙার ফলে বোনারপাড়া, পদুমশহর, পশ্চিম কচুয়া, পূর্ব কচুয়া, শ্যামপুর, ঘুড়িদহ, কামালেরপাড়া, জুমারবাড়ি, বারকোনা, বটতলা বাজার, মথরপাড়া এলাকায় হঠাৎ করেই বন্যার পানি প্রবেশ করে। মূলত এসব উঁচু এলাকায় সহজে বন্যার পানি প্রবেশ করে না। ফলে এসব এলাকার মানুষ বন্যা মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত ছিল না। ভরতখালি এলাকায় বাঁধ ভাঙার ফলে মূলত এসব এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। আর পানি এতো বেশি যে, রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ এবং ঘরবাড়ি সব কিছু পানির নিচে। এতে পুরো গাইবান্ধার সঙ্গে অন্যা জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এদিকে নতুন করে বাঙ্গালী নদীর পানি বগুড়া পয়েন্টে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে সোনাতলা উপজেলার পশ্চিম অংশে পানি প্রবেশ করছে। উপজেলার সবগুলো সড়কপথ পানির নিচে চলে গেছে।
বিশুদ্ধ পানি এবং পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যা: দিন যাচ্ছে বন্যার্ত মানুষের আর্তনাদও বাড়ছে। পর্যাপ্ত খাবার, ওষুধ এবং জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। চরম সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির। বন্যাদুর্গত এসব এলাকার সবগুলো টিউবওয়েল পানির নিচে তলে যাওয়ায় এই সংকট দেখা দিয়েছে। অপর দিকে পয়ঃনিষ্কাশনের কষ্ট বানভাসিদের বেশি পীড়া দিচ্ছে। থাকার জায়গা সংকুলান হচ্ছে না সেখানে টয়লেট স্থাপনের সুযোগ একেবারেই কম। সরকারিভাবেও কোথাও চোখে পড়েনি বন্যার্তদের জন্য টয়লেট স্থাপন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাশ্মীর নিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাব স্বাগত, জানালেন হুরিয়ত নেতারা

গত কাল ওয়াশিংটনে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকের পরে ট্রাম্প জানান, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তাঁকে কাশ্মীর নিয়ে মধ্যস্থতা করতে অনুরোধ করেছেন। মধ্যস্থতা করতে পারলে তিনি খুশিই হবেন। ট্রাম্পের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান ইমরান। কিন্তু ভারতের তরফে বিবৃতি দিয়ে স্পষ্ট জানানো হয়, এমন কোনও অনুরোধ মোদী করেননি। কাশ্মীর দ্বিপাক্ষিক সমস্যা। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই তার সমাধান করতে হবে।
বরাবরই কাশ্মীর নিয়ে মধ্যস্থতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে এসেছেন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা। এ দিনও হুরিয়ত নেতা মিরওয়াইজ় উমর ফারুক ও সৈয়দ আলি শাহ গিলানি জানান, ট্রাম্পের এই প্রস্তাবের অর্থ বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনা চাইছে। মিরওয়াইজ়ের কথায়, ‘‘কাশ্মীর সঙ্কটের ফলে কাশ্মীরিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনা শুরুর যে কোনও উদ্যোগকেই তাঁরা স্বাগত জানাবেন।’’ গিলানির বক্তব্য, ‘‘আমেরিকার অবশ্যই এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা উচিত। কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলার জন্য আমরা পাকিস্তানের কাছে কৃতজ্ঞ। এই সঙ্কট কাশ্মীরের আর একটি প্রজন্মকে গ্রাস করতে চলেছে।’’
গত কাল ট্রাম্পের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি। আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও প্রাক্তন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা অবশ্য ট্রাম্প ‘বাড়াবাড়ি করছেন’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে ভারত ট্রাম্পকে মিথ্যেবাদী প্রতিপন্ন করে কি না তা তিনি দেখতে চান বলে তির্যক মন্তব্যও করেছিলেন ওমর।
বিদেশ মন্ত্রকের কড়া বিবৃতির পরে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে মূলস্রোতের দলগুলি। ওমরের দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের মুখপাত্র ইমরান দার বলেন, ‘‘বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতির পরে বলার বিশেষ কিছু নেই। প্রাথমিক ভাবে আমরা বিস্মিত হয়েছিলাম। কারণ, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর তরফে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কাশ্মীরে মধ্যস্থতা করতে বলা বিদেশনীতিতে বড় পরিবর্তন। তবে দ্বিপাক্ষিক স্তরে কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা শুরু করা উচিত।’’
অন্য দিকে প্রবীণ পিডিপি নেতা রফি মিরের বক্তব্য, ‘‘আমরা সব সময়েই চাই কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা হোক। ভারত-পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা হতে পারে। কিন্তু আলোচনা ছাড়া পথ নেই।’’ প্রবীণ সিপিএম নেতা এম ওয়াই তারিগামির বক্তব্য, ‘‘বিদেশ মন্ত্রক ব্যাখ্যা দিয়েছে ঠিকই। কিন্তু খোদ প্রধানমন্ত্রীর এ নিয়ে মুখ খোলা উচিত। কারণ, আমেরিকা কাশ্মীরে নাক গলালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। আফগানিস্তান-সহ যে দেশেই ওয়াশিংটন নাক গলিয়েছে সে দেশই বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। দ্বিপাক্ষিক স্তরে শান্তিপূর্ণ ভাবে কাশ্মীর সমস্যা মেটাতে হবে।’’
লাল চকের ব্যবসায়ী মহম্মদ ইউসুফের বক্তব্য, ‘‘৩১ বছর ধরে একটানা রক্তপাত দেখছি কাশ্মীরে। আমাদের আর একটি প্রজন্ম এর মধ্যে দিয়েই যাক এমনটা আমি অন্তত চাইব না। ট্রাম্প বা অন্য কোনও রাষ্ট্রপ্রধানের হস্তক্ষেপে যদি সঙ্কট মেটে তবে আমার অন্তত আপত্তি নেই।’’
শ্রীনগরের বাসিন্দা আশিক কলেজের পড়ুয়া। লাল চকের পাশেই দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, ‘‘এখানে কোনও চাকরির সুযোগ দেখতে পাচ্ছেন? ভারত সরকারের যে অর্থ উপত্যকায় আসে তার বেশির ভাগ অংশই খরচ হয় হতাহতদের ক্ষতিপূরণ দিতে আর বাহিনীর আধুনিকীকরণ করতে। যে কোনও মূল্যে সমস্যা মেটানো উচিত।’’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাসেই চিরনিদ্রায় গেলেন ডেঙ্গু আক্রান্ত ইকরাম by হুমায়ুন কবীর রিন্টু

কিন্তু আজ ভোরে কালনা ফেরিঘাটে পৌঁছে আর সাড়া মেলেনি তার। প্রথমে মনে হয়েছে তিনি ঘুমিয়ে পড়েছেন। কিন্তু এই ঘুমই যে তার শেষ ঘুম, তা কেই-বা জানতো? ডেকেও যখন তার ঘুম ভাঙেনি, তখন গায়ে হাত দেয়া হয় ইকরামের। আর সেসময়ই জানা যায় তিনি আর নেই। কিছুক্ষণ আগেই চলে গেছেন না ফেরার দেশে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় বাসের অন্যান্য যাত্রীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
ইকরাম হোসেন নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামের জব্বার শেখের ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি কোম্পানীতে সিকিউরিটি গার্ডের চাকুরী করতেন এবং একাই থাকতেন। তার স্ত্রী, একটি ছেলে ও একটি মেয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকে।
মৃত ইকরাম হোসেনের চাচাতো ভাই কবির হোসেন জানান, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে দেখাশোনার কেউ না থাকায় তিনি অসুস্থ্য অবস্থায় বুধবার রাতে ঢাকার আবদুল্লাহপুর থেকে হানিফ পরিবহনে উঠেন।
হানিফ পরিবহনের নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ কাউন্টারের ম্যানেজার আকবর মন্ডল বলেন, ডেঙ্গুরোগে আক্রান্ত ওই যাত্রী দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছানোর পরও কথা বলেছেন। কিন্তু কালনা ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর তার কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যান্য যাত্রীরা তার গায়ে হাত দিয়ে দেখেন তিনি মারা গেছেন।
নড়াইল সদর থানার ওসি (তদন্ত) হরিদাস রায় বলেন, সংবাদ শোনার পর মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। তার সঙ্গে কিছু ওষুধ, আনারস ও মোবাইলসহ ব্যাগ ছিল। পরিবারের সদস্যদের কোন আপত্তি না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাত কলেজ নিয়ে উভয় সংকটে প্রশাসন: ১১ সদস্যের কমিটি গঠন by মুনির হোসেন

সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে গত রোববার থেকে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে টানা তিনদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ছাত্রলীগও সাত কলেজের অধিভুক্তিকে একটি ‘আনহ্যাপী ম্যারেজ’ উল্লেখ করে এর ‘পিসফুল ডিভোর্স’ চেয়েছে। অন্যদিকে সেশনজট, ফল বিপর্যয়সহ পাঁচ দফা দাবিতে চলতি মাসের শুরু থেকেই আন্দোলনে রয়েছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে প্রশাসনের আশ্বাসে তারা আন্দোলন স্থগিত করলেও দাবি আদায়ে কালক্ষেপণ হলে ফের আন্দোলনে যাবে তারা। এ অবস্থায় সংকট সমাধানে গতকাল ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন। প্রোভিসি অধ্যাপক ড. মু. সামাদের নেতৃত্বাধীন এ কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও সাত কলেজের প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। গতকাল দুপুরে ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সাত কলেজের অধিভুক্তি হয়েছে। তাই সাত কলেজের সুষ্ঠু সমাধান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষা হয় এই জন্য বৈজ্ঞানিক উপায়ে এটির সমাধান করা হবে। সন্ধ্যায় তিনি মানবজমিনকে বলেন, আমরা বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনায় নিয়ে এগুচ্ছি। সব থেকে বড় কথা আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে আগে প্রাধান্য দিচ্ছি। কারণ এরাই হচ্ছে আমাদের প্রথম পাইওরিটি। উদ্বুদ্ধ সমস্যা সমাধানে সুপারিশ করার জন্য আমরা একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি। কমিটিকে আগামী ১০ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে আমরা পরবর্তী করণীয় ঠিক করবো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, লোকবল সংকটের কারণে সাত কলেজের ফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। যার কারণে তারা কিছুটা পিছিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে প্রশাসনিক ভবনের এমন কিছু শাখা রয়েছে যেগুলোর সঙ্গে সাত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ওইসব শাখায়ও লোকবল সংকট আছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এ কারণে ভুগছে। এমতাবস্থায় লোকবল বাড়াতে হবে বলে মত এ কর্মকর্তার। জানা গেছে, সাত কলেজের অধিভুক্তির কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন ধরনের সংকটের মধ্যে রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ প্রশাসনিক ভবনে যেকোনো কাজ করতে গেলে তাদের কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি বিভাগে ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। যার কারণে তারাও পিছিয়ে পড়ছে। অন্যদিকে শিক্ষকরাও সাত কলেজের উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ভাইবা নেয়াসহ অতিরিক্ত চাপে ক্লাসে ঠিকমতো সময় দিতে পারেন না। তাছাড়া একজন শিক্ষকের ক্লাস নেয়ার বাইরে গবেষণায় যে সময় দেয়ার কথা তা তারা দিতে পারছেন না। যার কারণে শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত হচ্ছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত সনদপত্রের অভিন্নতা তাদের সাত কলেজ বিরোধী করে তুলছে। তারা বলেন, আমরা আসলে সাত কলেজের বিপক্ষে নই, আমরা প্রশাসনের পদ্ধতির বিরুদ্ধে। অন্যদিকে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা আরো বেশি সংকটের মধ্যে রয়েছে। সেশনজট, ফল প্রকাশে বিলম্ব, ফল বিপর্যয়, একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ না করায় ভুগতে হচ্ছে তাদের। বিষয়গুলোর সমাধানে বারবার আন্দোলনে নামলেও এর স্থায়ী সমাধান হয়নি। যার কারণে ফের আন্দোলনে নামতে হচ্ছে তাদের। সমপ্রতি প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলে গণহারে ফেলের অভিযোগ করছে এসব কলেজের শিক্ষার্থীরা। ফেলের চাপ নিতে না পেরে গত ১৬ই জুলাই রাতে বেগম বদরুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল বিকালে বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী সুলতানা পারভীন বৃষ্টি মানবজমিনকে বলেন, সাত কলেজের মধ্যে আমরাই প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হয়েছি। কোন একটি বিষয়ে সবাই ভালো করবে না, খারাপ করতেই পারে। কিন্তু এত খারাপ কিভাবে করে? আবার যখন দেখি আমাদের মধ্যেই অনেক অনিয়মিত শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়ে গেছে, আবার নিয়মিতরা নন-প্রমোটেড। তখন এ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতেই পারে। আমরা মনে করি খাতায় মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গাফিলতি রয়েছে। তারা সঠিকভাবে খাতা মূল্যায়ন করেননি। যার কারণে গণহারে ফেল। তিনি বলেন, তার বিভাগে সাত কলেজের ১ হাজার ৭৭ শিক্ষার্থী প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। যার মধ্যে ৫৩০ জন ছাড়া সবাই নন-প্রমোটেড। আবার যারা প্রমোটেড হয়েছেন তাদেরও অনেককে ইমপ্রুভমেন্ট দিতে হবে। যারা প্রমোটেড হতে পারেননি তাদের বলা হচ্ছে প্রথম বর্ষের সঙ্গে আবার ভর্তি হতে। কিন্তু ফলাফল দিতেই সাত মাস বিলম্ব করায় এখন তারা প্রথম বর্ষের ক্লাসগুলোও মিস করছেন। বৃষ্টি নামে এক ছাত্রী বলেন, আমরা এর প্রতিকার চাই। কলেজটির একই শিক্ষাবর্ষের দর্শন বিভাগের ছাত্রী সালমা আক্তার মিলি মানবজমিনকে বলেন, আমাদের বিভাগের সাত কলেজের যারা প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে তার মধ্যে ২৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ ছাড়া সবাই অনুত্তীর্ণ হয়েছে। ইডেন কলেজে মাত্র ২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এটা কিভাবে সম্ভব? আমরা খারাপ স্টুডেন্ট হতে পারি, কিন্তু এত খারাপ নই। আমি মনে করি শিক্ষকরা খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেননি বলে আজ আমাদের এ অবস্থা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের পরীক্ষার আগে বলা হয়নি যে যারা ২ (স্কেল-৪) পয়েন্টের কম পাবে তারা নন-প্রমোটেড। ফলাফলের পর এমনটা বলা হচ্ছে। এখন আমরা কি করবো? আমরা এমন নিয়ম জানতাম না। আবার ইনকোর্স না থাকায়ও অনেকে ফেল করছেন। সাত কলেজের আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র আবু বকর সিদ্দিক মানবজমিনকে বলেন, আমরা চতুর্মুখী সমস্যার মধ্যে রয়েছি। আমাদের অন্যতম সমস্যা হচ্ছে সেশনজট। এছাড়াও ফল প্রকাশে বিলম্ব, ফল বিপর্যয়, একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ না করা, ঢাবির শিক্ষকদের দিয়ে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন আমাদের সমস্যার মধ্যে ফেলেছে। তিনি বলেন, ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রায় দু’বছর করে সেশনজটে পড়েছেন। সম্প্রতি সাত কলেজের সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেন, সাত কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম আলাদাভাবে পরিচালনা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততা থাকবে না। শিক্ষার্থীদের শিক্ষায়ও কোনো ব্যাঘাত হবে না। তিনি বলেন, পরীক্ষার ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে আমরা এখনও ম্যানুয়েল পদ্ধতি অনুসরণ করছি। তবে শিগগিরই এর ডিজিটালাইজেশন করা হবে। তখন দ্রুত ফল প্রকাশ করতে পারব আমরা।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ চিকিৎসা ও প্রতিরোধে করণীয়?

ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ
ডেঙ্গু প্রধানত দুই ধরনের হয়, যেমন- ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু, ফিভার ও হেমোরেজিক ফিভার।
১. ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গুজ্বরে সাধারণত তীব্র জ্বর এবং সেইসঙ্গে শরীরে প্রচন্ড ব্যথা হয়ে থাকে।
২. জ্বর ১০৫ ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে।
৩. শরীরের বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে মাথায়, চোখের পেছনে, হাড়, কোমর, পিঠসহ অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।
৪. জ্বর হওয়ার ৪ থেকে ৫ দিন পর সারা শরীরে লালচে দানা দেখা যায়, সঙ্গে বমি বমি ভাব বা বমি, রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তবোধ করে, রুচি কমে যায় ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যেতে পারে।
৫. কিছু কিছু ক্ষেত্রে, ২ বা ৩ দিন পর আবার জ্বর আসে।
ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বরে ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গের পাশাপাশি আরও কিছু সমস্যা দেখা যায় যেমন-
১. শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত পড়া,
২. পায়খানার সঙ্গে তাজা রক্ত বা কালো পায়খানা,
৩. মেয়েদের বেলায় অসময়ে ঋতুস্রাব বা রক্তক্ষরণ, বুকে বা পেটে পানি আসা ইত্যাদি।
৪. আবার, লিভার আক্রান্ত হয়ে রোগীর জন্ডিস, কিডনিতে আক্রান্ত হয়ে রেনাল ফেইলিউর ইত্যাদি জটিলতা দেখা দিতে পারে।
৫. ডেঙ্গুজ্বরের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ হলো ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারের সঙ্গে সার্কুলেটরি ফেলিউর যোগ হয়ে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হয়।
ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ
৬. এ ছাড়াও মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা হতে পারে। জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ৪ থেকে ৫ দিনের মাথায় সারা শরীরে লালচে দানা দেখা যায়, যাকে স্কিনর্যাশ বলে। এটা অনেকটা এ্যালার্জি বা ঘামাচির মতো। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব এমনকি বমিও হতে পারে।
৭. ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করে এবং খাবারে রুচি কমে যায়। এই অবস্থাটা অত্যন্ত জটিল হতে পারে, যেমন- অন্যান্য সমস্যার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত পড়া শুরু হতে পারে, যেমন- মাড়ি ও দাঁত থেকে, কফের সঙ্গে, রক্ত বমি, চামড়ার নিচে, নাক ও মুখ দিয়ে, পায়খানার সঙ্গে তাজা রক্ত বা কালো পায়খানা, চোখের মধ্যে ও চোখের বাইরে রক্ত ক্ষরণ ইত্যাদি।
৮. মেয়েদের ক্ষেত্রে, অসময়ে ঋতুস্রাব অথবা রক্ত ক্ষরণ শুরু হলে অনেকদিন পর্যন্ত রক্ত পড়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এই রোগে অনেক ক্ষেত্রে বুকে বা পেটে পানি আসা, লিভার আক্রান্ত হয়ে রোগীর জন্ডিস, কিডনিতে আক্রান্ত হয়ে রেনাল ফেইলিউর ইত্যাদি জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যেহেতু ডেঙ্গুজ্বরের নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই এবং এই জ্বর সাধারণত নিজে নিজেই ভাল হয়ে যায়, তাই উপসর্গ অনুযায়ী সাধারণ চিকিৎসাই যথেষ্ট। তবে কিছু কিছু জতিলতার ক্ষেত্রে যেমন- শ্বাসকষ্ট হলে, পেট ফুলে পানি এলে, শরীরের কোন অংশে রক্তপাত হলে, প্লাটিলেটের মাত্রা কমে গেলে, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা দেখা দিলে, প্রচুর পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি হলে, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে, জন্ডিস দেখা দিলে ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা দেয়া উচিত।
কী কী পরীক্ষা করা উচিত?
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডেঙ্গুজ্বর হলে খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রয়োজন, এতে অযথা অর্থের অপচয় হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে হবে। জ্বরের ৪ থেকে ৫ দিন পর সিবিসি এবং প্লাটিলেট টেস্ট করতে হবে। এর আগে টেস্ট করলে রিপোর্টে ডেঙ্গু রোগের জীবাণু ধরা নাও পরতে পারে। সাধারণত প্লাটিলেট কাউন্ট এক লাখের কম ডেঙ্গু হলে ভাইরাসের কথা মাথায় রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া উচিত। ডেঙ্গু এ্যান্টিবডির পরীক্ষা ৫ থেকে ৬ দিন পর করা যেতে পারে। এটি রোগ শনাক্তকরণে সাহায্য করে। যেহেতু রোগের চিকিৎসায় এর কোন ভূমিকা নেই, তাই এই পরীক্ষা না করলেও কোন সমস্যা নেই। প্রয়োজনে ব্লাড সুগার, লিভারের পরীক্ষা যেমন- এসজিওটি, এসজিপিটি, এলকালাইন ফসফাটেজ ইত্যাদি করাতে হতে পারে। আবার চিকিৎসক যদি মনে করেন রোগী ডিআইসি জাতীয় জটিল কোন সমস্যায় আক্রান্ত সে ক্ষেত্রে প্রোথ্রোম্বিন টাইম, এপিটিটি, ডি-ডাইমার ইত্যাদি পরীক্ষা করাতে হতে পারে।
ডেঙ্গুজ্বরের চিকিৎসা
ডেঙ্গুজ্বরের চিকিৎসা সাধারণ জ্বরের মতোই। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগীই সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই ভাল হয়ে যায়। এমনকি কোন চিকিৎসা না করালেও। তবে রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চলতে হবে যাতে ডেঙ্গুজনিত কোন মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি না হয়। নিম্নে ডেঙ্গুজ্বরের চিকিৎসায় করণীয় কিছু বিষয় উল্লেখ করা হলÑ
১. জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল সেবন করতে হবে, দিনে সর্বোচ্চ ৪ বার।
২. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে।
৩. জ্বর কমানোর জন্য বার বার শরীর মুছে দিতে হবে।
৪. জ্বরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। তাই প্রচুর পানি ও তরল জাতীয় খাবার, যেমনÑ ওরাল স্যালাইন, ফলের জুস, শরবত ইত্যাদি পান করতে হবে।
৫. বমির কারণে যদি কোন রোগী পানি পান করতে না পারেন সেক্ষেত্রে স্যালাইন দিতে হবে।
৬. এ্যান্টিবায়োটিক, এ্যাসপিরিন বা অন্য কোন ব্যথানাশক ওষুধ একেবারেই সেবন করা যাবে না।
৭. ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত হলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করাতে হবে।
সাধারণত ডেঙ্গু আক্রান্ত সব রোগীকেই রক্ত দেয়ার প্রয়োজন হয় না। রক্তের প্লাটিলেটের পরিমাণ ১০ হাজারের কম হলে অথবা শরীরে রক্তক্ষরণ হলে প্লাটিলেট কনসেন্ট্রেশন দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সিরাম এ্যালবুমিন ২ গ্রাম/ডেসিলিটারের কম হলে অথবা আক্রান্ত ব্যক্তি শকে গেলে প্লাজমা বা প্লাজমা সাবস্টিটিউ দিতে হয়। যদি রক্তে প্লাটিলেট কাউন্ট ৫০ হাজারের নিচে নেমে যায় তবে জরুরী ভিত্তিতে রক্ত সংগ্রহ করে রাখতে হবে।
ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধে করণীয়
ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধের জন্য এডিস মশা রোধ করা এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সাধারণত স্বচ্ছ ও পরিষ্কার পানিতে এরা ডিম পাড়ে। ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত অথবা ড্রেনের পানিতে এরা ডিম পারে না। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানসমূহকে পরিষ্কার করতে হবে এবং পাশাপাশি মশা নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
১. বাড়ির আশপাশের জলাশয়, ঝোপঝাড়, জঙ্গল ইত্যাদি থাকলে তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
২. ঘরের বাথরুমে বা অন্য কোথাও জমানো পানি যেন ৫ দিনের বেশি না থাকে। আবার ফ্রিজ, এয়ারকন্ডিশনার বা এ্যাকুয়ারিয়ামের নিচেও যেন পানি জমে না থাকে।
৩. যেহেতু এডিস মশা মূলত এমন স্থানে ডিম পাড়ে, যেখানে স্বচ্ছ পানি জমে থাকে। তাই ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা, ডাবের খোলা, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদি থাকলে তা সরিয়ে ফেলতে হবে।
৪. দিনের বেলায় ঘুমালে অবশ্যই মশারি টানিয়ে অথবা কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমাবেন।
৫. এডিস মশা সাধারণত সকালে বা সন্ধ্যায় কামড়ায় যদিও অন্য যে কোন সময়ও কামড়াতে পারে। তাই দিনের বেলা শরীর ভালভাবে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, প্রয়োজনে মসকুইটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করতে হবে এবং অবশ্যই ঘরের দরজা এবং জানালায় নেট লাগাতে হবে।
৬. ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই সব সময় মশারির মধ্যে রাখতে হবে, যাতে কোন মশা তাকে কামড়াতে না পারে।
৭. মশা নিধনের জন্য স্প্রে, কয়েল, ম্যাট ইত্যাদি ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে মশার কামড় থেকে বাঁচতে দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়?
ডেঙ্গু অথবা ভাইরাল জ্বরে এ্যান্টিবায়োটিক দরকার নেই
বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ অনেক বেড়ে যায়। কখনও মুষলধারে বৃষ্টি আবার কখনও উজ্জ্বল রোদ কিংবা ভ্যাপসা গরম এরকম অস্বস্তিকর পরিবেশে মূলত আবহাওয়ার তারতম্য এবং বাতাসে আর্দ্রতার পার্থক্যের কারণে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাল জ্বর হয়ে থাকে। আবার থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে পানি জমে ডেঙ্গু মশার প্রজনন বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় ডেঙ্গু মশার বিস্তার লাভ সহজ হয়। এ সময়ে জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং আক্রান্ত রোগীর বিশেষ যত্নের ব্যবস্থা করতে হবে। সাধারণত ডেঙ্গু সংক্রমণের নিরানব্বই শতাংশ সংক্রমণই ঘটে বর্ষাকালে আর বর্ষা পরবর্তী সময়ে যখন পানি জমা অবস্থায় থাকে। জ্বর বা ব্যথা হলেই সাধারণত রোগীরা ব্যথানাশক ওষুধ খায় কিন্তু ডেঙ্গু হলে ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না এমনকি ডেঙ্গু রোগীদের জন্য কোন এ্যান্টিবায়োটিক ওষুধেরও প্রয়োজন নেই।
সবশেষে
ডেঙ্গুজ্বর সাধারণত এমনিতেই ভাল হয়ে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি শরীরে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। সাধারণভাবে এই জ্বরে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে সঠিকভাবে চললে কয়েক দিনেই ডেঙ্গু রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। যেহেতু এ রোগের কোন ভ্যাকসিন নেই, তাই মশার সংখ্যা বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ নষ্ট করা, মশার সংখ্যাবৃদ্ধি হ্রাস এবং মশার কামড় থেকে বেঁচে থাকার মাধ্যমে ডেঙ্গুজ্বরের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
>>>ডাঃ অমর বিশ্বাস, সহযোগী অধ্যাপক, রেসপেরিটরি মেডিসিন বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। মোবাইল- ০১৭১২৮৮৬২১৬
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ছেলেধরা চিৎকার শুনেই রেনুর ওপর হামলে পড়ে হৃদয়

গতকাল ঢাকার মিন্টুরোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন এসব কথা জানিয়েছেন। হৃদয় বাড্ডার ওই স্কুলে গণপিটুনি দিয়ে তাসলিমা বেগম রেনুকে হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আসামি।
গ্রেপ্তার হৃদয়ের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাতেন বলেন, হৃদয় জানিয়েছে সে অন্য এক নারীর চিৎকার শুনে প্ররোচিত হয়ে রেনুর উপর হামলা করেছে। ঘটনার দিন রেনু স্কুলে প্রবেশ করলে সেখানে থাকা অন্য এক নারী অভিভাবক তার পরিচয় এবং বাসার ঠিকানা জানতে চান। তখন তিনি ওই নারীকে তার ঠিকানা জানান। সে সময় ওই নারী তাসলিমাকে তাকে দেখিয়ে ছেলে ধরা বলে চিৎকার করেন। বিষয়টি হৃদয় দেখে। এরপর রেনুকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। ততক্ষনে এ খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। যেহেতু স্কুলের কাছে বাজার তাই মুহুর্তে হাজারো মানুষ সেখানে ভিড় জমান। এদের মধ্যে কিছু দুর্বৃত্ত স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করে তাসলিমাকে বের করে এনে গণপিটুনি দেয়। এতে করে তার মৃত্যু হয়।
ছেলে ধরা বলে চিৎকার করা ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হবে জানিয়ে বাতেন বলেন, গ্রেপ্তার হৃদয় একজন সবজি বিক্রেতা। ঘটনার দিন কাজ শেষ করে স্কুলের সামনে দাঁড়ানো অবস্থায় সে রেনুকে স্কুলে প্রবেশ করতে দেখেছে। হৃদয়ের মা-বাবা বেঁচে নেই। নানীর কাছে থাকে। ঘটনার পর সে যখন বুঝতে পারল পুলিশ গ্রেপ্তার করবে তখন নারায়ণগঞ্জে পালিয়ে যায় এবং তার নানীকে বলে যেন তার সব পোশাক পুড়িয়ে দেয়া হয়। ঘটনার সঙ্গে পূর্ব কোন পরিকল্পনা ছিল কিনা সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, রেনুর সঙ্গে ওই নারীর আগে থেকেই কোন যোগাযোগ ছিল কিনা সেটি আমরা খতিয়ে দেখছি। কারণ ওই নারীই প্রথম রেনুকে দেখে ছেলেধরা বলে চিৎকার দিয়েছিলেন।
এদিকে গণপিটুনি দিয়ে তাসলিমা আক্তার রেনুকে হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত হৃদয়ের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিলেটে তোলপাড় খালা-বোনঝির ‘ইয়াবা মিশন’ by ওয়েছ খছরু

ওই চক্রের প্ররোচনায় মাদক বহনেই জড়িয়ে পড়লো তারা। মাত্র ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তারা বহন করছিলো ইয়াবা। জকিগঞ্জ থেকে ৩৮০৫ পিস ইয়াবার চালান নিয়ে তারা আসে সিলেটে। সেখান থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে র্যাব সদস্যরা তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর শহিনুর ও তামান্নাকে নিয়ে তোলপাড় চলছে জকিগঞ্জে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শহিনুর ও তামান্না প্রায় দিনই কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। আর ফেরে রাতে। কোথায় যায়, কী করে সেটি কারো জানা ছিল না। গ্রেপ্তারের পর তাদের পেশা সম্পর্কে এলাকার মানুষ জেনেছে। শহিনুর আক্তার। বয়স ২৮ কিংবা ৩০ বছর। বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামে। পিতা আব্দুর রশিদ। আর তামান্নার পুরো নাম নাজমিন বেগম তামান্না। বয়স ২০ কিংবা ২১ বছর। উপজেলার উত্তরকুল গ্রামের আবদুল জব্বারের মেয়ে সে। র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার মেজর মো. শওকাতুল মোনায়েম প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, গত রোববার রাতে সিলেট নগরীর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় র্যাবের একটি টিম মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তারা রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে থেকে ৩৮০৫ পিস ইয়াবাসহ তামান্না ও শহিনুরকে আটক করে। আটকের পর র্যাব সদস্যরা তাদের তল্লাশি করে অ্যাংলেটের ভেতর থেকে আটক করে ওই ইয়াবার চালান। পরে র্যাব সদস্যরা ইয়াবার চালানসহ রেলওয়ে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। রেলওয়ে পুলিশ জানায়, ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরপর আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণ করেন। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর শহিনুর আক্তার ও তামান্না বেগম নিজেরাই ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করেছে। তারা জানায়, মাত্র ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তারা ওই ইয়াবার চালান জকিগঞ্জ থেকে সিলেটে নিয়ে আসে। সিলেট পর্যন্তই তাদের জার্নি সমাপ্ত ছিল না। এই ইয়াবার চালান নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল ঢাকার মিরপুরে। সেখানে থাকা ইয়াবা চক্রের হাতে তাদের ওই চালান তুলে দেয়ার কথা ছিল। এ কারণে তারা সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে। সেখানে গিয়ে তারা ট্রেনের টিকিটও কেটে ফেলে। এরপর যখন ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিল, তারা তখন র্যাব সদস্যরা তাদের আটক করে। বিশেষ ব্যবস্থায় ওই দুই নারী এই ইয়াবার চালান ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিল। তারা হাঁটুর উপরে বিশেষ অ্যাংলেটের মাধ্যমে এই চালান বেঁধে ফেলে। এরপর তারা জকিগঞ্জ থেকে ঢাকার পথে রওয়ানা দেয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা সিন্ডিকেটের নাম বলতে পারেনি। তবে এবার প্রথমবারের মতো ইয়াবার চালান বহন করতে গিয়ে তারা ধরা পড়েছে বলে আটকের পর জানিয়েছে। র্যাব ও পুলিশের ধারণা- শুধু তামান্না ও শহিনুর বেগম নয়। ইয়াবা বহনে একটি মহিলা চক্র রয়েছে। মহিলাদের দিয়ে নিরাপদে ইয়াবা বহন সম্ভব- এ কারণেই ইয়াবা চক্রের সদস্যরা অসহায় নারীদের দিয়ে ইয়াবা পাচার করছে। সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা এএসপি আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, ইয়াবা বহন ও ইয়াবা বিক্রি এবং সেবনে এখন নারীরাও জড়িয়ে পড়েছে। এ কারণেই পুলিশ অভিযানে নারী পুলিশ সদস্যদের রাখা হয়। তিনি বলেন, নারীদের দিয়ে মাদক বহন নতুন নয়। চোরাকারবারিরা নিরাপদ ভাবে মাদক বহনের জন্য নারীদের ব্যবহার করছে। আর চোরকারবারিদের ফাঁদে পড়ে নারীরা কারাগারে যাচ্ছে, বিচারও হচ্ছে তাদের। জকিগঞ্জের এলাকাবাসী জানায়, শহিনুর আক্তার সম্পর্কে তামান্নার খালা। শহিনুর আক্তারের পিতা আবদুর রশিদ বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি। হাঁটাচলা করতে পারেন না। কয়েক বছর আগে আলমগীর নামের এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়েছিল শহিনুরকে। কিন্তু স্বামীর সংসারে বেশিদিন টিকেনি শহিনুর। পিতার বাড়িই তার শেষ আশ্রয়। ওখানে বসবাস করছিল। তবে, প্রায় দিন সকালে শহিনুর কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। গনিপুর গ্রামের লোকজন জানেন, শহিনুর আক্তার উত্তরকুলে তার বোনের বাড়ি যাচ্ছে। সকালে বের হয়ে সে ফিরতো রাতে। কখনো কখনো সঙ্গে ফিরে তার বোনজি তামান্না। তামান্নার বয়স বেশি নয়। দুই বছর আগে রিয়ান আহমদ নামের এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। ওই বিয়ে বেশিদিন টিকেনি। এরপর থেকে শহিনুরের সঙ্গে তামান্নার জুটি ছিল। তারা একসঙ্গে জকিগঞ্জে চলাফেরা করতো। সিলেটে আসা যাওয়া করতো। এ কারণে তাদের চলাফেরা নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছিল এলাকায়। স্থানীয় গনিপুর গ্রামের বাসিন্দা ময়নুল হক মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ঘটনার আগের দিন তামান্না তার খালা শহিনুরের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। এরপর সকালের দিকে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে বের হয়ে যায়। কোথায় যায় আমি জানি না। পরে শুনলাম তারা গ্রেপ্তার হয়েছে। তারা কী করে, কোথায় যায়, সেটি গ্রামের মানুষ জানতেন না বলে জানান তিনি। স্থানীয় সুলতানপুর ইউনিয়নের মেম্বার আবদুস সুবহান জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে শহিনুরকে চেনেন না। তবে আবদুর রশিদের পরিবার খুবই অভাব অনটনের মধ্যে রয়েছে। রশিদের এক ছেলে ভারতে থাকে। ওখানেই সেটেল্ড হয়ে গেছে। আরেক ছেলে খুনের মামলায় পলাতক। মাঝেমধ্যে গ্রামের লোকজন তাদের সহযোগিতা করে বলে জানান তিনি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
টঙ্গী ও চুয়াডাঙ্গায় দুই শিক্ষার্থীকে গলা কেটে হত্যা

উত্তরার শাহীন ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মুন্না (১৩)। সে পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার তাঁতেরকাঠী গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। নিহত মুন্নার বাবা ঢাকার বনানীতে একটি জনশক্তি অফিসে চাকরি করেন।
টঙ্গী গাজীপুরা কাজীপাড়া এলাকার হাবিবুর রহমানের ৫ম তলা বাড়ির ৪র্থ তলায় সপরিবারে বসবাস করেন। নিহতের খালু শাহাদাত হোসেন জানান, উত্তরা শাহীন ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র মুন্না বেশ কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিল। পরে তাকে হোস্টেল থেকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। সেই থেকে সে বাসায়ই ছিল। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় মুন্নাকে একা বাসায় রেখে তার মা মুকুল বেগম ছোট ছেলে তামিমকে নিয়ে স্কুলে যান। স্কুল থেকে বাসায় ফিরে মুন্নার নিথর দেহ খাটের উপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মুন্নার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে গেছে এবং কণ্ঠনালী ছিল কাটা। খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার এসআই আবদুস সালাম নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর মর্গে প্রেরণ করেন।
খবর পেয়ে মহানগর পুলিশ কর্মকর্তারা বাড়িটি ঘেরাও করে রাখে। তবে কে বা কারা এবং কী কারণে মুন্নাকে হত্যা করেছে এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কেউ কিছু বলতে পারেননি।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং থানায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় উপজেলার একটি ইটভাটার কাছ থেকে আবির হোসাইন (১০) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রের মস্তকবিহীন মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সকাল ৯টায় আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ তার মৃতদেহ উদ্ধার করে। সে কয়রাডাঙ্গা নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার নূরানী বিভাগের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র এবং ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে। নিহতের কাটা মাথাটি এখনো পাওয়া যায়নি।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান মুন্সি জানান, মঙ্গলবার রাতে মাদ্রাসা থেকে ওই ছাত্র নিখোঁজ হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ খোঁজাখুঁজি করেও পায়নি। সকালে মাদ্রাসা সংলগ্ন মশিউরের ইটভাটার পাশে মস্তকবিহীন মৃতদেহ দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, সন্ত্রাসীরা তাকে গলা কেটে হত্যা করেছে।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কানাইলাল সরকার ও মোহাম্মদ কলিমুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে

আইজিপি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় খুঁজতে গিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে সরকারবিরোধী রাজনীতির যোগাযোগ রয়েছে বলে জানতে পেরেছি।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সরকারপক্ষের কাউকে খোঁজে পাওয়া যায়নি। সরকারের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে এ ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। সকল আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে এই সহজ পথটি অর্থাৎ ফেইসবুকে বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ছড়ানোকে বেছে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পিটিয়ে হত্যার যেকটি ঘটনা ঘটেছে সেগুলো আমরা বিশ্লেষণ করে দেখেছি তাদের মধ্যে কেউ অপহরণকারী বা ‘ছেলেধরা’ ছিলেন না। গুজব ছড়ানো হয়েছে ভিন্ন উদ্দেশ্য থেকে। স্বার্থান্বেষী মহল সুপরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলছি না। তবে শুধু দেশে না, দেশের বাইরে থেকেও এ ধরনের প্রপাগান্ডা এবং ফেইসবুক পোস্ট এসেছে।
গণপিটুনি দিয়ে যারা মানুষ হত্যা করছে এবং গুজব ছড়াচ্ছে তাদের ছাড় দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার দিয়ে আইজিপি বলেন, গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনি দিয়ে মানুষ হত্যা করবেন না। তাহলে হত্যা মামলার আসামি হবেন। হত্যা মামলার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হয়ে থাকে। আমাদের ওপর আস্থা রাখুন। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না। যে যত বড় শক্তিশালীই হোক না কেন, আমরা কাউকে ছাড় দেবো না। প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধীরা যেখানেই থাকুক না কেন, আমরা তাকে খুঁজে বের করবো এবং কঠোর শাস্তির আওতায় নিয়ে আসব।
পুলিশ প্রধান বলেন, ‘আজ থেকে একসপ্তাহ দেশজুড়ে গুজববিরোধী সচেতনতা সপ্তাহ পালন করা হবে। এর অংশ হিসেবে প্রতিটি জেলা, থানা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ সদস্যরা উঠান বৈঠক করবেন। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে গুজবে আতঙ্কিত না হওয়ার প্রচারণা চালাবেন।’ তিনি বলেন, সচেতনতার অংশ হিসেবে আগামী শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবার সময় ইমামদের গুজব বিরোধী বয়ান করতে বলা হবে। এছাড়া পুলিশের চৌকস অফিসাররা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আতঙ্কিত হতে নিষেধ করবেন।
গুজব কিভাবে ছড়াচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে আইজিপি বলেন, মূলত দুভাবে গুজব ছড়িয়েছে। কেউ না বুঝে হুজুগে গুজব ছড়িয়েছে। আবার কেউ পরিকল্পিতভাবে ছড়িয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া গণপিটুনির ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে আইজিপি বলেন, পুলিশ প্রতিটি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামি শনাক্ত করছে। এদের প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করা হবে। বাড্ডার ঘটনায় ইতিমধ্যে সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কোমলমতি শিশুদের উদ্দেশ্যে পুলিশ প্রধান বলেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজে শিশুদের মাথা লাগবে-এটি স্রেফ গুজব। তোমরা নিশ্চিন্তে পদ্মা সেতুর স্থাপনা, নির্মাণ কাজ ঘুরে আসো। আইজিপি বলেন, পদ্মা সেতু দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থাপনা, যা দেশি-বিদেশি শ্রমিকরা দিনের আলোতে নির্মাণ করছে। ইতোমধ্যে এই সেতুর ৭২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। যে কেউ কাজগুলো দেখে আসতে পারে, ঘুরে আসতে পারে। শিশুদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমাদের বাড়িগুলো যেমন ইট-সিমেন্ট দিয়ে তৈরি, একইভাবে পদ্মা সেতুও ইট-সিমেন্টে দিয়ে বানানো হচ্ছে। তোমরা যে কোনো সময়ে এগুলো দেখে আসতে পারো। পদ্মা সেতু নিয়ে কেউ তোমাদের বাজে কথা বললে ভয় পাবে না। কাউকে সন্দেহ হলে যে কারও মোবাইল নিয়ে জরুরি সেবা ৯৯৯ ফোন দিয়ে কথা বলবে। এতে কোন টাকাও খরচ হবে না। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, সিআইডির প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম, পুলিশের বিশেষ শাখা এসবির প্রধান মীর শহিদুল ইসলাম প্রমূখ।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছি প্রিয়া সাহাকে গ্রেপ্তারের পরিকল্পনা নেই

আর মামলার বিষয়ে বলেছি, সরকার কেস করবে কি-না? সেটা বলতে পারবো না। মামলা সংক্রান্ত পৃথক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, প্রিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করার কোন চিন্তা সরকারের নেই। সরকারের এতো সময়ও নেই। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মাল্টা সফরের আউটকাম জানান। এ সময় তিনি বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন।
মন্ত্রীর সূচনা বক্তব্য থেকে শুরু করে শেষ অবধি ৪২ মিনিটের ওই ব্রিফিংয়ের বড় অংশজুড়ে ছিল প্রিয়া সাহা প্রসঙ্গ। মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার আয়োজিত মন্ত্রী পর্যায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলাম আমি। বাংলাদেশ সরকার থেকে চার সদস্যের প্রতিনিধি এতে যোগ দেন। সরকারের বাইরে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি সেখানে গেছেন। তাদের সঙ্গে আমার বা সরকারের কোন কিছু ছিল না। দেখাও হয়নি। কে কিভাবে গেছেন তা আমরা জানিও না। তাদের যাওয়ার জন্য যেটা প্রয়োজন ছিল ভিসা আর আমন্ত্রণ। সেটা তারা পেয়েছেন বলেই গেছেন। মন্ত্রী বলেন, কোন কোন মিডিয়ায় এসেছে প্রিয়া সাহার আমার ডেলিগেশনে ছিলেন। না, তিনি আমার ডেলিগেশনে ছিলেন না। সরকারের প্রতিনিধি হিসেবেও এতে যোগ দেননি। অন্তত ৩ দফা প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন এটা স্পষ্ট করেন যে প্রিয়া সাহাকে গ্রেপ্তারে সরকারের কোন পরিকল্পনা নেই। তার বিরুদ্ধে মামলারও চিন্তা নেই। বরং সরকার তাকে নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে গত ১৭ই জুলাই বাংলাদেশি প্রিয়া সাহা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু উধাও হয়ে গেছে। তার ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, জমি কেড়ে নেয়া হয়েছে। মুসলিম উগ্রবাদীরা এটা করছে ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায়। তার এ বক্তব্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের পক্ষ থেকেও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা ক্ষুব্দ প্রকিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে পরবর্তীতে সরকারের প্রতিনিধিরা অবস্থান বদল করেন।
প্রিয়াও তার আত্মপক্ষ সমর্থন করে ট্রাম্পের কাছে দেয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারও পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র সচিব ডেকে পাঠিয়েছিলেন মর্মে গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশের বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি অবশ্য এটা জানেন না বলে এড়িয়ে যান। উল্লেখ্য, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা চর্চায় বাংলাদেশ যে বিশ্বে অনন্য সেটি তিনি ওয়াশিংটন তুলেছেন। এখানে যে সব ধর্মের প্রধান উৎসবের দিনে সরকারি ছুটি থাকে এবং অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে এগুলো পালিত হয় সেটি মোটা দাগে মন্ত্রী তুলেছেন বলে জানান। বাংলাদেশের এমন অবস্থার মধ্যেই প্রিয়া সাহা যে বক্তব্য দিয়েছেন তার প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, জমি দখল এবং ডাকাতির ঘটনায় অনেকে ধর্মীয় ফ্লেভার দেয়ার চেষ্টা করে। প্রিয়ার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। তাছাড়া পলিটিক্যাল অ্যাসাইলামের জন্য তিনি এমন উদ্ভট বক্তব্য দিতে পারেন বলে ধারণা মন্ত্রী। সরকার প্রিয়া সাহার বিষয়ে কি চিন্তা করছে এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি পুরো সরকারের কথা বলতে পারবো না। তবে আমার মনে হয় এটি ইগনর বা এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। কত জনই তো কত কথা বলে। আমরা কি সবাইকে আইনের আওতায় আনি? তবে মন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বাড়ানোর এমন আয়োজনে সম্প্রীতি নষ্ট হয় এমন বক্তব্য প্রদানকারী ব্যক্তিদের দাওয়াত দেয়ার ক্ষেত্রে আয়োজকরা আরও সচেতন থাকবেন এটাই আমরা আশা করি।
সেপ্টেম্বরের আগেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর আশা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর: এদিকে রাখাইনের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না পেলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন আশা করছেন, সেপ্টেম্বরের আগেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে। কিন্তু কিভাবে? এর তো কোন আলামত এখনও দৃশ্যমান নয়- পাল্টা প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, এটা আমার বিশ্বাস, ‘গাট ফিলিং’। প্রত্যাবাসন লোক দেখানো হবে কি-না? এমন প্রশ্ন আসে। জবাবে মন্ত্রী মোমেন বলেন, আমি লোকদেখানো মনে করি না। প্রক্রিয়াটি শুরু হবে এবং আমি সেটাতে বিশ্বাসী। রাখাইনে বর্তমানে অস্থিরতা চলছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি একটি সমস্যা তাদের জন্য। উগ্রপন্থিরা সেখানে তাদের সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। রাখাইনের পরিস্থিতি কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ওখানে যেতেই পারি না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার বারবার আমাদের আশ্বস্ত করছে এবং জাতিসংঘ এখন রাখাইনে কিছুটা কাজ করতে পারছে। তবে সব অঞ্চলে নয়। আব্দুল মোমেন বলেন, আমরা মোটামুটি সব জায়গা থেকে খুব ভালো আশ্বাস পেয়েছি। চীনও আমাদের এ ব্যাপারে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে। এ জন্য আমার বিশ্বাস প্রত্যাবাসন শুরু হবে। তবে এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে মিয়ানমারের ওপর। মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই এটা হবে বলে আমার বিশ্বাস। সাধারণ অধিবেশনে এটি নিয়ে আমরা বকাবকি করি, এটা হয়তো তারা চায় না। মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের বিতাড়িত করেছে এবং নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। এজন্য রোহিঙ্গাদের একটা সন্দেহ আছে। এই বিশ্বাসের ঘাটতি দূর করতে সরাসরি না হলেও নিজেদের বন্ধু-বান্ধবের মাধ্যমে বলা হয়েছে বলে তিনি জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন, আসিয়ান দেশের লোকজন যদি রাখাইনে থাকে এবং দেখভাল করে তবে রোহিঙ্গারা স্বস্তিবোধ করতে পারে। রোহিঙ্গারা যেতে না চাইলে কী করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এবার কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলেন সিনহা

কোরিয়েরে কানাডিজ পত্রিকায় সিনহার এই সংবাদ একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদক জো ভোলপে লিখেছেন, আপনারাও নিশ্চয়ই আমার মতো এই সংবাদ শুনে মেঝে থেকে লাফ দিয়ে উঠছেন! কেননা, তিনি কোনো সাধারণ নাগরিক নন। তিনি একটি দেশের সর্বোচ্চ বিচারপতি ছিলেন।
এতে বলা হয়, সিনহার দেশ, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি।
কিছুদিন আগেও বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে এখনও এটি বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। এখানে সহিংসতা কোনো অস্বাভাবিক কিছু নয়। নিজ দেশের এমন বর্ণনা এই বিচারপতিকে কষ্ট দেয়। কিন্তু সত্য হলো, দেশের অপরিপক্ব আর্থ-সামাজিক অবকাঠামোকে ব্যক্তিগত বা কর্পোরেট বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার মতো লোকের অভাব সেখানে নেই। খোদ কানাডার এসএনসি লাভালিন কোম্পানিও এই গোষ্ঠীগুলোর একটি।
সংবাদে বলা হয়, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা ভারতীয় উপমহাদেশের এক উত্তাল সময়ের মধ্যে বড় হয়েছেন। সেখানে বিদেশি দখলদারিত্ব তিনি যেমন দেখেছেন। তেমনি দেখেছেন, স্থানীয়, জাতিগত ও ধর্মীয় বিভেদ। বৃটিশ ও পাকিস্তানি দখলদারিত্ব শেষ হলেও, বাংলাদেশে এখনো এমন পরিস্থিতি আছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামোর বর্ণনা দিয়ে পত্রিকাটিতে লেখা হয়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এখনও অতটা পরিপক্ব নয়। ফলে সরকারের বিভিন্ন শাখা, অর্থাৎ আইনসভা, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ এখনও সম্পূর্ণ পৃথক হতে পারেনি। আইনসভা ও নির্বাহী বিভাগ নির্বাচনের ভিত্তিতে ঠিক হয়। তবে খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যমগুলো সাহসের সঙ্গে প্রতিবেদন প্রচার করে দেখিয়েছে, কীভাবে ভয়ভীতি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও দলীয় নেতাকর্মীদের গুণ্ডামির মাধ্যমে নির্বাচন প্রভাবিত হয়।
এমন এক পরিস্থিতিতে ২০১৫ সালের ১লা জানুয়ারি এসকে সিনহা প্রথম হিন্দু হিসেবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের সাংবিধানিক বিচারালয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আপিল বিভাগে পদোন্নতি পাওয়ার পর থেকেই সিনহা সরকারের বিভিন্ন শাখার পূর্ণাঙ্গ পৃথক্করণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন প্রয়োগ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন। এরপর থেকেই তিনি সরকারের মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠেন। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে প্রধান বিচারপতি ও শাসক দলের বিভেদ প্রকাশ্যে চলে আসে যখন সিনহা ৭৯৯ পৃষ্ঠার একটি বিচারিক মতামত প্রকাশ করেন, যার মাধ্যমে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করা হয়। এতে করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অপসারণে পার্লামেন্টের ক্ষমতা বাতিল হয়। এরপর সরকার থেকে সিনহার বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু হয়। তার পরিবার ও বন্ধুরাও চাপে পড়ে যান। ২ সপ্তাহের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সম্মান ও শান্তির কথা চিন্তা করে সিনহা সাময়িক ছুটিতে যান। কিন্তু তারপরেও অশান্তি তার পিছু ছাড়েনি। ১৭ই নভেম্বর তিনি বিদেশ থেকে পদত্যাগপত্র দাখিল করেন। বাংলাদেশ থেকে প্রথমে তিনি সিঙ্গাপুরে যান, এরপর অস্ট্রেলিয়া ও পরে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি ও তার স্ত্রী কানাডায় আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে সিনহা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় প্রার্থনা করেন, তবে তার স্ত্রী করেননি। কিন্তু সিনহার সাক্ষাৎকার কখনওই নেয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে, পত্রিকাটি কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ হোসেনের (যিনি নিজেও সাবেক শরণার্থী) কাছে প্রশ্ন রেখেছে, ‘তার কাছেও কী (সিনহার আবেদন) সমস্যা মনে হবে?’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিনিটে মিনিটে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী

সরকারি হিসাবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫৬০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি জুলাই মাসেই আক্রান্ত হয়েছে ৬ হাজার ৪২১ জন। আর এবছর আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ৫৬৫ জন। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মারা যাওয়ার হিসাব আটজন দিলেও বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা অন্তত ২৮ ছাড়িয়ে যাবে। বেসরকারি হিসাবে আক্রান্তের সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি হবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
ঢাকার বাইর থেকে ১৭৯ জন আক্রান্তের খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এদিকে, ডেঙ্গু ক্রমেই ভয়ঙ্কর রূপ নেয়ায় জ্বর হলে ডেঙ্গু আতঙ্ক নিয়ে হাসপাতালে ছুটছেন রোগীরা। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ঠাঁই মিলছে না অনেক রোগীর।
পরিস্থিতি মহামারী আকার ধারণ করেছে বলে মনে করছেন হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এল ই ফাতমী। ডা. এল ই ফাতমী আরও বলেন, এবার শুধু সংখ্যায়ই বেশি না। এবার প্রায় সবাই ডেঙ্গু হেমারজিক ফিভারে আক্রান্ত। আগে ছিল ক্লাসিকাল ডেঙ্গু রোগী। এদের পঞ্চাশ ভাগেরই শক সিন্ড্রোম। শক সিন্ড্রোম অর্থ হচ্ছে পালর্স (নাড়ির গতি) পাওয়া যায় না। এবার ডেঙ্গুর প্যাটার্নটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এদের সবার প্ল্যাটিলেট কমে যাচ্ছে, সবাই শকে চলে যাচ্ছে। আগে সামান্য ডেঙ্গু হয়েই ভালো হয়ে যেত। এবার সবারই রক্ত লাগছে। পেটে ও ফুসফুসে পানি চলে আসে। এই পরিস্থিতিতে জ্বর হলে গাফিলতি না করার পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি জানান, তাদের হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে যে রোগী আসছে তার ৮০ শতাংশই শিশু। এদিকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা পরিস্থিতিকে বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পরিসংখ্যান মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৬০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে। জুলাই মাসে গড়ে প্রতিদিন ২৬৭জনের উপরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এবছর রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নারী-পুরুষ ও শিশু রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৫৬৫ জন। ঢাকার বাইরে গাজীপুর থেকে ৪২জন,চট্টগ্রাম থেকে ৭১ জন, কুষ্টিয়া থেকে ১৬ জন, খুলনায় ২৪জন, যশোরে ৫ জন, বরিশালে ২১ জনের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ২৪শে জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের মধ্যে এপ্রিলে দু’জন, জুনে দু’জন ও জুলাই মাসে চারজন মারা যান। তবে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্র বলছে মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত ২৮ হবে। দু’জন চিকিৎসকও মারা গেছেন। বেসরকারি হিসাবে আক্রান্তের সংখ্যা তিন থেকে চার লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
জ্বর না কমা বা অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকা, বমি হওয়া, পেটে তীব্র ব্যথা, রক্তক্ষরণ, মাথা ধরা, চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা প্রস্রাব না হওয়া বা কম হওয়া, খুব বেশি দুর্বল হয়ে পড়া, নিদ্রাহীনতা ও আচরণের আকস্মিক পরিবর্তন ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ। অন্তঃসত্ত্বা, বৃদ্ধ, শিশু, সদ্যোজাত এবং ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, লিভার ও কিডনির রোগীরা ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে তাদের চিকিৎসায় বিশেষ নজর দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২ হাজার ৫৮ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ হাজার ৪৯৯ জন। চিকিৎসা নিচ্ছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪০৬ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ২১১ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৬৫ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ১৩০ জন, বারডেম হাসপাতালে ২৯ জন, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ৭৪ জন, মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ১২৩ জন, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১৪২ জন, বিজিবি হাসপাতালে ১৬ জন, কুর্মিটোলায় ২৭ জন, রাজধানীর ধানমন্ডি সেন্ট্রাল হাসপাতালে ৬৩ জন, ইবনে সিনা হাসপাতালে ৪৬ জন, বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে ৮৫ জন, স্কয়ার হাসপাতালে ৪৩ জন, গ্রীন লাইফ হাসপাতালে ৯ জন, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল কাকরাইলে ৬৮ জন, ইউনাইটেড হাসপাতালে ৬৬ জন, খিদমা হাসপাতালে ২৫ জন, সিরাজুল ইসলাম মেডিকেলে ৯২ জন, এ্যাপোলো হাসপাতালে ৪৭ জন, আদ্ব-দীন হাসপাতালে ৪৪ জন, সালাউদ্দি হাসপাতালে ৪২ জন, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ জন, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ৬৬ জন, বিআরবি হাসপাতালে ১৯ জন, আজগর আলী হাসপাতালে ৩৩ জন, উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে ১৩ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন।
কন্ট্রোল রুম সূত্র জানা গেছে, জানুয়ারিতে ৩৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফের্রুয়ারিতে এই সংখ্যা ছিল ১৮ জন, মার্চে ১৭ জন, এপ্রিলে ৫৮ জন, মে মাসে ১৮৪ জন, জুন মাসে এক হাজার ৮২৯ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গণপিটুনির ভয়ে আইডি কার্ড সঙ্গে রাখছেন সাতক্ষীরার ভিক্ষুকরা
সাতক্ষীরা শহরের রাজার বাগান এলাকায় ভিক্ষা করতে আসা মর্জিনা বেগম ও আয়েশা খাতুনের কাছে দেখা গেছে এনআইডি কার্ড। আয়েশা খাতুন বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকায় ছেলেধরা বলে পিটিয়ে মারা হচ্ছে। সে কারণে আমরা ভয়ে আছি। কখন ছেলেধরা বলে মারা শুরু করে। আগের তুলনায় কম বের হচ্ছি। পরিচিত এলাকার বাইরে ভিক্ষা করতে যাচ্ছি না। সঙ্গে আইডি কার্ড রাখছি। যাতে বিপদে পড়লে এটা দেখিয়ে বাঁচতে পারি।’
![]() |
| আইডি কার্ড হাতে এক ভিক্ষুক |
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের ফেসুবক পেজে সচেতনতামূলক পোস্ট দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, গুজব ছড়াবেন না, আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে ছেলেধরা সন্দেহে কাউকে গণপিটুনি দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। এই পর্যন্ত গণপিটুনির ফলে যতগুলো নিহতের ঘটনা ঘটছে, তার প্রত্যেকটি ঘটনা আমলে নিয়ে পুলিশ তদন্তে নেমেছে এবং জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। গুজব ছড়ানো ও গুজবে কান দেওয়া থেকে বিরত থাকতে এবং কাউকে সন্দেহ হলে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার ইলতুৎমিশ বলেন, ‘ছেলেধরা গুজবের বিষয়ে সবাইকে সচেতন করতে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে সভা করা হয়েছে। গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।’
![]() |
| আইডি কার্ড হাতে এক ভিক্ষুক |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তিন চিকিৎসক ডেঙ্গু আক্রান্ত by মোহাম্মদ ওমর ফারুক

সরেজমিনে বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী রয়েছে এখানে। ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালটিতে যেন তিল ধারনের ঠাঁই নেই। গতকাল পর্যন্ত সব মিলিয়ে সাত’শ রোগীর মতো ভর্তি রয়েছে। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন ,শুধু মাত্র ডেঙ্গু রোগীর কারণে এই পরিস্থিতি হয়েছে। আর এসব চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জানা যায় ,জনবল সংকটের কারণে এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। হাসপাতালটিতে ২০১১ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও এখানে আছেন ৭৪৪ জন। সরেজমিনে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় , ওয়ার্ডটি ৬০ শয্যার হলেও এখানে চিকিৎসা নিচ্ছে ৮০ জন। কেউ মেঝেতে, কেউ বারান্দায় শুয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে। তবে হাসপাতালের পক্ষ থেকে সব ডেঙ্গু রোগীকে মশারি দিলেও কাউকে ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। এই নিয়ে হাসপাতালের পক্ষ থেকে বার বার সর্তক করা হলেও কেউ শুনছেন না সর্তক বার্তা।
মেডিসিন ওয়ার্ডের ডেঙ্গু রোগী হাওলাদার বলেন, সবসময়ই মশারির নিচে থাকলে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। যার কারনে মশারির নিচে থাকতে ইচ্ছে হয় না। তবে এখানকার চিকিৎসা সেবা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন।
পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এই হাসপাতালটিতে রাজধানীর উত্তরে মুগদা, মানিকনগর, সায়েদাবাদ, ধলপুর, গোবিন্দপুর, রায়েরবাগ এবং দক্ষিণে বাসাবো, মাদারটেক, খিলগাও, শাহজাহানপুর, নন্দীপাড়া, নাসিরাবাদ, দক্ষিণগাঁও, ত্রিমোহনি, রামপুরা, বনশ্রী এলাকার রোগী সবচেয়ে বেশি।
সায়েদাবাদ থেকে আসা ডেঙ্গু রোগী আল আমিন হোসেন বলেন, আমার ডেঙ্গু হয়েছে গত পাঁচ দিন আগে। টের পাইনি। গতকাল সোমবার টেস্ট করিয়ে দেখি আমার ডেঙ্গু। তবে এখানে আসার পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছি। ডাক্তারও খুব আন্তরিক। শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় সেখানে চিকিৎসাধীন অন্তত পঁচিশ জন ডেঙ্গু রোগীকে। পাঁচ বছর বয়সী ডেঙ্গু রোগী সামিহার মা বলেন, দুই দিন আগে বিকালে দেখি হঠাৎ করে সামিহার চোখ ফুলে যাচ্ছে। কান্নাকাটি করছে। শরীরেও জ্বর অনেক। সাথে সাথে বাসার পাশে ডাক্তার দেখাই। তখন ডাক্তারই বললো বাবুর ডেঙ্গু হয়েছে। তাই ওইদিনেই এখানে এসে ভর্তি হই। হাসপাতালটির পরিচালক ডা.আমিন আহমেদ খান বলেন, আমাদের এখানে জনবল সংকট থেকে শুরু করে নানা সংকট রয়েছে। তারপরও আমরা রোগীদের সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করছি। কারো ছুটি দিতে পারছি না। আমাদের একজন নার্সের সন্তানও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অথচ আমি তাকে ছুটি দিতে পারছি না। সে তার বাচ্চা নিয়ে এসে রোগীদের সেবা দিচ্ছে। আমরা একটা ভয়াবহ সময় পার করছি। এখানে বেশির ভাগই রোগী খুব শিক্ষিত। কিন্তু তাদের সচেতনতার অভাব আছে। তাদেরকে বার বার মশারি টানানোর জন্য বললেও তারা কেউ সেটা করে না। ফলে হাসপাতালেও ভয়াবহ হারে ডেঙ্গু ছড়ানোর একটা সম্ভবনা থাকে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
১০০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরেঃ -বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন ২০১৮

• সারা বিশ্বে বাস্তুচ্যুত সাড়ে ছয় কোটি মানুষ।
• ২৭০ কোটি নারীর পছন্দের চাকরিতে বিধিনিষেধ।
• নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের ঋণের পরিমাণ তিন গুণ।
• ৯১ শতাংশ মানুষ নির্মল বায়ু পায় না।
• অর্ধেক শিক্ষার্থীই যথাযথ শিক্ষাবঞ্চিত।
বিশ্বের দারিদ্র্যহার সর্বনিম্ন পর্যায়ে আছে। গত তিন দশকে বা ৩০ বছরে ১০০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠেছে। বিশ্বে অন্য অঞ্চলে দারিদ্র্য কমলেও আফ্রিকার সাব সাহারা এলাকায় বাড়ছে। অন্যদিকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৬ কোটি। বিশ্বের ৯১ শতাংশ মানুষ নির্মল বায়ু পায় না।
২০১৮ সালের বিদায় উপলক্ষে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক একটি পর্যালোচনা প্রকাশ করেছে। সেখানে এই চিত্র পাওয়া গেছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে যত বর্জ্য তৈরি হয়, তার ৩৩ শতাংশই খোলা জায়গায় ফেলা হয়। আবার ২৭০ কোটি নারী নিজের পছন্দমতো চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে আইনি বিধিনিষেধ।
অতিদারিদ্র্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে চলতি বছরে বিশ্ব দারিদ্র্য পরিস্থিতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে আছে। ১৯৯০ সালে পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ মানুষ যেখানে অতিদরিদ্র ছিল, যাদের আয় দৈনিক ১ ডলার ৯০ সেন্টও ছিল না, সেখানে ২০১৫ সালের হিসাবে সারা বিশ্বের মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ অতিদরিদ্র। গত তিন দশকে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠেছে। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক দেশই তাঁদের দারিদ্র্যহার ৩ শতাংশের নিচে নামিয়ে এনেছে।
তবে বিশ্বের অন্য অঞ্চলে গরিব মানুষের সংখ্যা কমলেও ভিন্ন চিত্র আফ্রিকার সাব সাহারা এলাকায়। সেখানে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ১৯৯০ সালে ওই অঞ্চলে ২৭ কোটি ৮০ লাখ হতদরিদ্র ছিল। ২০১৫ সালে তা বেড়ে ৪১ কোটি ৩০ লাখে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র ২৮টি দেশের মধ্যে ২৭টিই সাব সাহারা এলাকায়। সাব সাহারা এলাকায় এখন যত দরিদ্র মানুষ আছে, সারা বিশ্বেও এত দরিদ্র মানুষ নেই।
বাস্তুচ্যুত সাড়ে ছয় কোটি
দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও ধর্মীয় কারণে বিভিন্ন দেশ থেকে দেশের অভ্যন্তরে কিংবা দেশের বাইরে বাস্তুচ্যুত হয় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী। ২০১৭ সালের হিসাবে দেশের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা চার কোটি। আর দেশের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে, এমন বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২ কোটি ৫৪ লাখ। সারা বিশ্বে যত বাস্তুচ্যুত মানুষ আছে, তাদের ৮৫ শতাংশই উন্নয়নশীল দেশে অবস্থান করছে। বাকি বাস্তুচ্যুত মানুষ থাকে ৫৫টি উচ্চ আয়ের দেশে। এর মধ্যে ৯ লাখ ৭০ হাজার মানুষের বাস জার্মানিতে।
৯১ শতাংশ মানুষ নির্মল বায়ু পায় না
বিশ্বের প্রতি ১০ জন মানুষের মধ্যে ৯ জনই দূষিত বায়ুতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়। এই হিসাব করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ১০৮ দেশের ৪ হাজার ৩০০ শহর ও বসতির ওপর গবেষণায় এই ফল পাওয়া গেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে এই ধরনের দূষিত বায়ু বেশি প্রবাহিত হয়।
৩৩ শতাংশ বর্জ্য খোলা জায়গায়
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বেহাল চিত্রও তুলে ধরে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক বলছে, বিশ্বের ৩৩ শতাংশ বর্জ্য খোলা জায়গায় ফেলা হয়। শুধু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অপ্রতুলতার কারণে খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলা হয়। নিম্ন আয়ের দেশের ৯৩ শতাংশ বর্জ্য রাস্তার পাশে, খোলা জায়গায় কিংবা পানিতে ফেলা হয় কিংবা পোড়ানো হয়। অন্যদিকে উচ্চ আয়ের দেশের মাত্র ২ শতাংশ বর্জ্য এমন জায়গায় থাকে। ২০১৬ সালের হিসাবে সারা বিশ্বে ওই বছর ২৪ কোটি ২০ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়েছে।
২৬০ কোটি লোকের পয়োব্যবস্থা সন্তোষজনক নয়
সারা বিশ্বের ২৬০ কোটি মানুষের উন্নত টয়লেট-সুবিধা বা হাত ধোয়ার পরিষ্কার পানি ব্যবহারের সুযোগ নেই। দুর্বল পয়োব্যবস্থার কারণে প্রতিবছর ১৬ লাখ শিশু খর্বাকৃতির হয়। এসব কারণে সারা বিশ্বে এখন ১৫ কোটির বেশি খর্বাকৃতির শিশু আছে।
অর্ধেক শিক্ষার্থীই যথাযথ শিক্ষাবঞ্চিত
যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন সারা বিশ্বে শিক্ষিত মানুষ বেশি। কিন্তু ভিন্ন চিত্রও আছে। সারা বিশ্বের শিক্ষার একই মানদণ্ড তুলনা করলে দেখা যায়, অর্ধেক শিক্ষার্থীই যথাযথ মানে শিক্ষা পায়নি। এর কারণ নিম্ন আয়ের দেশের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির অভাব। ২৬ কোটি শিশু ও তরুণ কখনোই স্কুলে যায়নি।
২৭০ কোটি নারীর পছন্দের চাকরিতে বিধিনিষেধ
আইনি বিধিনিষেধ থাকায় ২৭০ কোটি নারী নিজের পছন্দ অনুযায়ী কিছু কাজ বা চাকরি করতে পারেন না। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ১০৪টি দেশে এসব কাজে নারীদের আইনি বিধিনিষেধ আছে। ৫৯টি দেশে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইনি সুরক্ষা দুর্বল। ১৮টি দেশে স্বামী আইনগতভাবে স্ত্রীর কিছু কাজে যোগদানে বাধা দিতে পারেন।
ঋণের পরিমাণ তিন গুণ
এক বছরের ব্যবধানে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের ঋণের পরিমাণ তিন গুণ হয়েছে। ২০১৬ সালে এসব দেশের ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ১০০ কোটি ডলার। ২০১৭ সালে এসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৭০০ কোটি ডলার, যা যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ।
গ্রামের চেয়ে দ্বিগুণ লোক শহরে
২০৫০ সালে গ্রামের চেয়ে দ্বিগুণ লোক শহরে বাস করবে। ১৯৬০ সালে পৃথিবীর মাত্র এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী শহরে বাস করত। ২০১৮ সালে ৫৫ শতাংশ মানুষ শহরে বাস করে। ২০৫০ সালে উন্নয়নশীল দেশের শহরের জনসংখ্যা ৯০ শতাংশ বাড়বে। তখন সারা বিশ্বের যত লোক শহরে থাকবে, তাদের ৩৫ শতাংশই ভারত, চীন ও নাইজেরিয়ার।
বছরে প্রায় ১২ কোটি মানুষ বিদ্যুৎ পাবে
প্রতিবছর গড়ে ১১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ-সুবিধার আওতায় আসবে। বিশ্বব্যাংক বলছে, বিদ্যুৎ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি দেশ সফল হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। এই তালিকায় আছে ইথিওপিয়া, কেনিয়া, তানজানিয়া। ভারত প্রতিবছর গড়ে তিন কোটি মানুষকে বিদ্যুৎ-সুবিধার আওতায় আনছে।
![]() |
| বিশ্বে বিভিন্ন অঞ্চলে দারিদ্র্যহার কমলেও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। মধ্য আমেরিকার দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রমুখী অভিবাসনপ্রত্যাশীর ঢল নেমেছে এ বছর। হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মেক্সিকোতে অবস্থান করছে। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আন্দোলন ঠেকাতে পাহারায় ছাত্রলীগ দুই শিক্ষার্থীকে মারধর

তাই সাত কলেজের সুষ্ঠু সমাধান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষা হয় এই জন্য বৈজ্ঞানিক উপায়ে এটির সমাধান করা হবে। ভিসি ১৫ দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। গতকাল বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র শাকিল মিয়া। তিনি বলেন, আমাদের দাবী হচ্ছে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল। আমরা আমাদের দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো। তিনি আরও বলেন, আমাদের দাবি যদি না মানা হয় এবং আবার যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তার সমুচিত জবাব দেবে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
পাহারায় ছাত্রলীগ: চলমান আন্দোলন দমাতে গতকাল ভোর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনে ভবনে অবস্থান নেয় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন, সামাজিক বিজ্ঞান ভবন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদসহ সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ছাত্রলীগের হলগুলোর নেতাকর্মীরা গ্রুপে গ্রুপে অবস্থান নিয়েছে। এছাড়া খুব ভোরেই বাইক নিয়ে ক্যাম্পাসে মহড়া দিতে দেখা গেছে অনেক নেতাকর্মীকে। যদিও এ সময় আন্দোলনকারীদের কাউকে দেখা যায়নি। এর আগে গত মঙ্গলবার সাত কলেজ সংকটের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ভিসি বরাবর স্মারকলিপি দেয় ছাত্রলীগ। স্মারকলিপি দেয়ার আগে দুপুরে অপরাজেয় বাংলায় এক সমাবেশে ক্লাস-পরীক্ষায় বাধা সৃষ্টিকারীদের ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেয়ার ঘোষণা দেন সংগঠনের নেতারা। আর আন্দোলনকারীরা তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
একাধিক বিভাগে ক্লাস বর্জন: চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ছাত্রলীগের পাহারা থাকায় একাডেমিক ভবনে তালা দিতে পারেনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। কিন্তু একাডেমিক ভবন খোলা থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ বিভাগে ক্লাস বর্জন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল বেলা সাড়ে এগারটায় সরেজমিন বিভিন্ন অনুষদে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্লাস ফাঁকা। চলমান আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থন থাকায় তারা ক্লাস বর্জন করেছেন। তবে কিছু কিছু বিভাগে ক্লাস চললেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। কয়েকটি বিভাগে পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি বলে জানা গেছে।
দুই আন্দোলনকারীকে পেটাল ছাত্রলীগ: এদিকে, গতকাল সকালে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের আন্দোলনে যাওয়ার সময় ঢাবির দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। জানা যায়, সকালে কর্মসূচিতে অংশ নিতে দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি অভিমুখী সড়কে হাঁটছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের চার ছাত্রী ও আরবী বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবু রায়হান। একপর্যায়ে পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সামনে সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল শাখা ছাত্রলীগের ১৩-১৪ জন নেতা-কর্মী তাঁদের আটকান। নানা প্রশ্ন করে তাঁদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করতে থাকেন তারা। এক পর্যায়ে রায়হানকে মারতে থাকে ছাত্রলীগের কর্মীরা। আহনাফ তাহমিদ নামের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্র ওই রাস্তা দিয়ে রিকশায় যাচ্ছিলেন। ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের কাছে গিয়ে ঘটনা জানতে চাইলে আন্দোলনকারী ভেবে তাকেও ব্যাপক মারধর করা হয়। এতে তাঁর চোখের কর্নিয়া আঘাতপ্রাপ্ত হয়। তাকে চিকিৎসার জন্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মারধরকারীদের মধ্যে একজনকে শনাক্ত করেছেন আন্দোলনকারীরা। তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এবং এসএম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নাবিল হায়দার। তবে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। হামলার শিকার আবু রায়হান এ বিষয়ে বলেন, আমি আর চারজন আপু আন্দোলনে যাওয়ার সময় পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সামনে আমাদেরকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আটকায় এবং আমাকে মারধর করে। সেসময় তাহমিদ আমাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিবাদ করলে তাকে তারা মেরে জখম করে।
১৫ দিনের মধ্যে অধিভুক্তি সমস্যা সমাধানের আশ্বাস ভিসির: আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সাত কলেজের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। গতকাল দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সাত কলেজের অধিভুক্তি হয়েছে। তাই সাত কলেজের সুষ্ঠু সমাধান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষায় বৈজ্ঞানিক উপায়ে এর সমাধান করা হবে। এছাড়া সাত কলেজের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান ভিসি। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে বলে আশা করেন তিনি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বর্ষায় কিডনির সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয়

বর্ষায় কিডনি সুস্থ রাখতে কিছু বিষয় অনুসরণ করতে পারেন। যেমন-
১. আপনার চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখুন। যেসব জায়গা ঘনঘন ব্যবহার করতে হচ্ছে, বারবার পরিষ্কার করুন।
২. বর্ষাকালে পানি থেকে সংক্রমণ বেশি হয়। এ কারণে নিরাপদ পানি পানের চেষ্টা করুন।
৩. এই সময়ে বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন। বাড়িতে রান্না করা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।
৪. খাবার খাওয়ার আগে এবং পরে ভালো করে হাত ধোবেন।কারণ যেকোনো সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছড়ায় হাত থেকে।
৫. বৈদ্যুতিন গ্যাজেট থেকেও খুব বেশি সংক্রমণ হয়, তাই গ্যাজেট সবসময় পরিষ্কার রাখবেন।
৬. কাটা ফল খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। ফল কাটার সঙ্গে সঙ্গেই খেয়ে নিন। আর এই সময়ে ফলের খোসা ছাড়িয়ে খাবেন। বর্ষাকালে ফলের বাইরে প্রচুর জীবাণু থাকে, পানি দিয়ে ধোয়ার পরেও অনেকসময় যায় না।
৭. বৃষ্টিতে ভিজে বাড়িতে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে গোসল করে নিন।
৮. বাইরে থেকে ঘরে ঢোকার সময় অবশ্যই জুতা খুলে নিন। এই সময় বাইরের জুতা পরিষ্কার না করে কোনও অবস্থাতেই ঘরে আনবেন না।
৯. বর্ষাকালে সুগার লেভেল নিয়মিত নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। শরীরের গ্লুকোজ লেভেল বেড়ে গেলে এই সময় কিডনির ভয়ঙ্কর ক্ষতি হয়।
>>>সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সড়কে পৌনে ৫ লাখ ফিটনেসবিহীন গাড়ি: দুই মাসের মধ্যে নবায়নের নির্দেশ

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়ম মামুন মাহবুব। বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মঈন ফিরোজী ও মো. রাফিউল ইসলাম।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক সাংবাদিকদের বলেন, ফিটনেস নবায়ন না করলে আদালত এসব গাড়ি বন্ধে প্রয়োজনীয় আদেশ দেবেন।
শুনানিতে হাইকোর্ট বলেন, বিদেশে গাড়িগুলোতে কোনো দাগ নেই, রং জ্বলে যায় না। কিন্তু আমাদের দেশের গাড়িগুলোতে দাগ, রং জ্বলে গেছে, দুই পাশ চ্যাপ্টা হয়ে গেছে। লুকিং গ্লাস নেই- এমন কেন? জবাবে বিআরটিএ’র আইনজীবী বলেন, প্রাইভেট গাড়িগুলোতে তেমন সমস্যা নেই। কিন্ত গণপরিবহণগুলো দুর্ঘটনাসহ নানা কারণে আর ঠিক থাকে না।
এরপর আদালত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) উদ্দেশ করে বলেন, আপনাদের নাকের ডগার ওপর দিয়ে কীভাবে লাখ লাখ ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলে। রাস্তায় আর কোনো ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলতে দেয়া হবেনা। আমরা যদি এসব গাড়ি জব্দের নির্দেশ দেই, তাহলে আপনারদের কোনো সমস্যা আছে? তখন বিআরটিএ’র আইনজীবী বলেন, তাহলে বিআরটিএ রেভিনিউ থেকে বঞ্চিত হবেন। আদালত বলেন, প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ নিবন্ধিত গাড়ি রয়েছে, ফিটনেস নবায়ন করছেনা। বলেন, কতদিন সময় দিলে এসব নিবন্দ্বিত গাড়ির ফিটনেস নবায়ন সম্পন্ন হবে। একমাস সময় দিলে হবে ? জবাবে বিআরটিএ’র আইনজীবী বলেন, সামনে কোরবানীর ঈদ। দুই মাস সময় দেয়া হোক। তখন আদালত দুই মাস সময়ের মধ্যে নিবন্ধ্বিত গাড়ির ফিটনেস নবায়ন সম্পন্ন করতে বলা হয়। এই দুই মাস পর যথাযথ কর্তৃপক্ষ অভিযান পরিচালনা করবে, যাতে গাড়ির মালিক বলতে না পারেন , লাইসেন্স নবায়নের জন্য তাদের সময় দেয়া হয়নি। আমরা কারও পক্ষে বা বিপক্ষে নই। বিষয়টি আমরা শক্তভাবে দেখবো। আমরা মানুষের পক্ষে কাজ করি।
এর আগে বিআরটিএ’র আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম লাইসেন্স নিয়ে ফিটনেস নবায়ন না করা গাড়ির বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তিনি জানান, ঢাকাসহ সারাদেশে লাইসেন্স নিয়ে ফিটনেস নবায়ন না করা গাড়ির সংখ্যা ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩২০টি। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২ লাখ ৬১ হাজার ১১৩, চট্টগ্রাম বিভাগে ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৮৮, রাজশাহী বিভাগে ২৬ হাজার ২৪০, রংপুর বিভাগে ৬ হাজার ৫৬৮, খুলনা বিভাগে ১৫ হাজার ৬৬৮, সিলেট বিভাগে ৪৪ হাজার ৮০৫ এবং বরিশাল বিভাগে ৫ হাজার ৩৩৮টি গাড়ি মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেসবিহীন রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সারাদেশে লাইসেন্সধারী ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানোর দায়ে চলতি বছর ৬ কোটি ৭২ লাখ ২৩ হাজার ৩৯২ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ৩৯ হাজার ৮৩৭টি মামলা করা হয়েছে। একই সময়ে ফিটনেসবিহীন ২১৪টি গাড়ি ডাম্পিং করা হয়েছে। কারাদন্ড দেয়া হয়েছে ৭২৮ চালককে।
উল্লেখ্য, গত ২৩শে মার্চ একটি ইংরেজি পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর গত ২৭শে মার্চ ওই প্রতিবেদনটি নজরে আনা হলে হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারিসহ অন্তবর্তীকালীন আদেশ দেন। একইসঙ্গে লাইসেন্সবিহীন চালক ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন যানের সংখ্যা-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন এক মাসের মধ্যে বিআরটিএকে প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে বলেছিলেন আদালত।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
July
(817)
-
▼
Jul 25
(36)
- আফগানিস্তান ও কাতারে ফিরছেন শান্তি আলোচনায় নিয়োজিত...
- লোককাহিনী নির্ভর নাটক ‘আমিনা সুন্দরী’
- ‘মোক একটা স্লিপ দেরে বাবা’
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাদ থেকে ফেলে যুবককে হত্যা: আড়াই ল...
- মহাপ্লাবনে তছনছ উত্তরাঞ্চল
- কাশ্মীর নিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাব স্বাগত, জানালেন হু...
- বাসেই চিরনিদ্রায় গেলেন ডেঙ্গু আক্রান্ত ইকরাম by হু...
- সাত কলেজ নিয়ে উভয় সংকটে প্রশাসন: ১১ সদস্যের কমিটি ...
- ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ চিকিৎসা ও প্রতিরোধে করণীয়?
- ছেলেধরা চিৎকার শুনেই রেনুর ওপর হামলে পড়ে হৃদয়
- সিলেটে তোলপাড় খালা-বোনঝির ‘ইয়াবা মিশন’ by ওয়েছ খছরু
- টঙ্গী ও চুয়াডাঙ্গায় দুই শিক্ষার্থীকে গলা কেটে হত্যা
- উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে
- যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছি প্রিয়া সাহাকে গ্রেপ্তারের পরি...
- এবার কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলেন সিনহা
- মিনিটে মিনিটে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী
- গণপিটুনির ভয়ে আইডি কার্ড সঙ্গে রাখছেন সাতক্ষীরার ভ...
- তিন চিকিৎসক ডেঙ্গু আক্রান্ত by মোহাম্মদ ওমর ফারুক
- ১০০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরেঃ -বিশ্বব্যাংকের...
- আন্দোলন ঠেকাতে পাহারায় ছাত্রলীগ দুই শিক্ষার্থীকে ম...
- বর্ষায় কিডনির সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয়
- সড়কে পৌনে ৫ লাখ ফিটনেসবিহীন গাড়ি: দুই মাসের মধ্যে ...
- ওষুধ প্রতিরোধী ম্যালেরিয়া পরজীবী ছড়িয়ে পড়ছে দক্ষিণ...
- প্রিয়া সাহা আমার নাম জড়িয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন...
- কূলভূষণ যাদবের পুনঃবিচার: ভবিষ্যৎ ভারতের হাতে by এ...
- 'মানুষ কতটা নির্মম হলে এভাবে একটা মানুষকে মারতে পা...
- বছরজুড়েই পানির জন্য হাহাকার by শাহনেওয়াজ বাবলু
- এ বছরই চালু হচ্ছে শস্যবীমা by সৈয়দ সামসুজ্জামান নীপু
- দেশজুড়ে খ্যাতি কুড়াচ্ছে ঘোড়াশালের আনারস
- কেলেঙ্কারি-জালিয়াতিতে ডুবছে ২২ ব্যাংক ও আর্থিক প্র...
- রাশিয়া ও ভারত কি যৌথভাবে ‘স্টিলথ’ সাবমেরিন নির্মাণ...
- মার্কিন-আফগান যুদ্ধে মারাত্মক ক্ষতি স্বীকার করেছে ...
- সিরিয়ার অখণ্ডতা রক্ষায় আসাদের পাশে থাকবে রাশিয়া: প...
- ব্রেস্ট ক্যান্সারে নতুন ওষুধ
- আইএস-এর ঝোঁক এখন গেরিলা যুদ্ধে
- আমেরিকার ওপর চীন ‘বদলা’ নেবে কীভাবে? by অর্ণব সান্যাল
-
▼
Jul 25
(36)
-
▼
July
(817)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


