Sunday, January 9, 2011

পাকিস্তানের সহিংস পথচলা by মশিউল আলম

মালিক মমতাজ হুসেইন কাদরি নামের দেহরক্ষীটি যাঁকে রক্ষা করার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন, তাঁকেই হত্যা করলেন। পাকিস্তানের পাঞ্জাব রাজ্যের গভর্নর সালমান তাসিরকে তিনি গুলি করেছিলেন খুব কাছে থেকে। সাব-মেশিনগান থেকে গুলি করেছেন একটি নয়, পর পর নয়টি। দুটি ম্যাগাজিনের সব কটি বুলেট শেষ করেই কেবল ক্ষান্ত হয়েছেন। বোঝা যায়, কী প্রচণ্ড ঘৃণা থেকে তিনি এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন। গুলি শেষ করে অস্ত্র ফেলে দিয়ে তিনি দুই হাত ওপরে তুলেছেন, আত্মসমর্পণ করে স্বীকার করেছেন যে তিনি গভর্নরকে হত্যা করেছেন। কেন? কারণ গভর্নর সালমান তাসির পাকিস্তানের ব্লাসফেমি আইনকে কালাকানুন বলে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি আইনটি সংশোধনের দাবি তুলেছিলেন এবং আসিয়া বিবি নামের এক খ্রিষ্টান নারীকে ধর্মদ্রোহের অভিযোগে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। পুলিশের গাড়িতে আটক মালিক কাদরির একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি দেখা যাচ্ছে, যেন তিনি এক মহান কাজ করেছেন। তিনি এক টিভি চ্যানেলকে বলেছেন, ‘সালমান তাসির একজন ধর্মদ্রোহী। তাঁর শাস্তি এটাই।’
হিলারি ক্লিনটন থেকে শুরু করে বান কি মুন পর্যন্ত বিশ্বের বড় বড় নেতারা সালমান তাসিরের হত্যাকাণ্ডের কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। কিন্তু খোদ পাকিস্তানের নাগরিক সমাজ অতি সতর্ক, প্রকাশ্যে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানাতে তাঁরা ভয় পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামাবাদের বিবিসির সংবাদ-বিশ্লেষক ইলিয়াস খান। উল্টো দিকে বরং সালমান তাসিরের হত্যাকাণ্ডের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন অনেক ধর্মীয় নেতা। অনেকে হত্যাকারী মালিক কাদরির প্রশংসা করেছেন। সালমান তাসিরের হত্যাকাণ্ডের পরপরই ফেসবুকে হত্যাকারী মালিক কাদরির নামে একটি পাতা খোলা হয়েছে, সেখানে প্রায় দুই হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কাদরির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
শুধু তা-ই নয়, লাহোরে সালমান তাসিরের জানাজা বর্জন করার ডাকও দিয়েছে কয়েকটি ধর্মীয় গোষ্ঠী। সুন্নি মুসলমানদের একটি গোত্রের ৫০০ জন আলেম এক বিবৃতি দিয়ে সবাইকে সাবধান করেছেন: সালমান তাসিরের হত্যাকাণ্ডে কেউ শোক প্রকাশ করলে তারও একই পরিণাম হবে। জামায়াত-এ-আহলে সুন্নাত পাকিস্তান নামের এক সংগঠন বিবৃতি দিয়েছে, কোনো মুসলমান যেন সালমান তাসিরের জানাজায় শরিক না হয়, কেউ যেন তার জন্য দোয়া করার চেষ্টা না করে, কেউ যেন তার জন্য কোনো ধরনের আফসোস বা অনুকম্পা প্রকাশ না করে। সালমান তাসিরকে একজন ধর্মদ্রোহী আখ্যা দিয়ে তারা বলেছে, কেউ যদি কোনো ধর্মদ্রোহীর হত্যাকাণ্ডে সমবেদনা প্রকাশ করে, তাহলে সেও তার মতোই ধর্মদ্রোহী বলে গণ্য হবে।
সালমান তাসির পাকিস্তান পিপলস পার্টির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। আধুনিক, অসাম্প্রদায়িক উদারপন্থী রাজনীতিক হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল, বিশেষ করে নারীসমাজের ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর অধিকার রক্ষার পক্ষে তিনি সোচ্চার ছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেছেন, তাঁর মৃত্যু একটি ‘বিরাট ক্ষতি’। ষাটের দশকে ছাত্রজীবন থেকে তিনি পাকিস্তান পিপলস পার্টির সঙ্গে জড়িত, জুলফিকার আলী ভুট্টোর একজন ভক্ত, ভুট্টো: এ পলিটিক্যাল বায়োগ্রাফি নামে একটি বইও লিখেছেন। তিনি লন্ডনে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি পড়েছেন এবং পরবর্তীকালে রাজনীতির পাশাপাশি একজন সফল ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন। জেনারেল জিয়াউল হকের সামরিক শাসনামলে ভুট্টোর মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে জেল খেটেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন। পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডেইলি টাইমস ও উর্দু দৈনিক আজকাল-এর প্রকাশক, দুটি ইংরেজি টিভি চ্যানেলের মালিক এই ভদ্রলোক ইন্টারনেটে ফেসবুক ও টুইটার ব্যবহার করতেন। জীবনযাপনে ছিলেন শৌখিন, আধুনিক ও কেতাদুরস্ত। ডানপন্থী ও ধর্মীয় মনোভাবাপন্ন গণমাধ্যমে তাঁর ও তাঁর পরিবারের বিলাসী জীবনযাপনকে অনৈসলামিক আখ্যা দিয়ে নানা ধরনের প্রচারণা চলে এসেছে।
অকপটে নিজের রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ করতেন সালমান তাসির। সে জন্য তাঁকে বিতর্কিত ব্যক্তিও বলা হয়। গত বছর আসিয়া বিবি নামের এক খ্রিষ্টান নারীর বিরুদ্ধে ইসলামের নবীর অবমাননার অভিযোগে ব্লাসফেমি আইনে মামলা হয়, পাঞ্জাবের এক নিম্ন আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। আসিয়া বিবি সেই থেকে কারারুদ্ধ। উচ্চ আদালতে তিনি আপিল করেছেন। এই সংখ্যালঘু নারী ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার বলে উল্লেখ করে সালমান তাসির তাঁর দণ্ড মওকুফের আবেদন জানান, একই সঙ্গে ব্লাসফেমি আইন সংশোধনের দাবি তোলেন। তখন থেকেই তিনি উগ্রপন্থী ধর্মীয় সংগঠনগুলোর রোষানলে পড়েন, তাঁকে ধর্মদ্রোহী আখ্যা দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি নিজেও একাধিকবার বলেছেন যে তাঁর জীবনের ঝুঁকি আছে, কিন্তু তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসবেন না। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির খুব ঘনিষ্ঠ তিনি; ধারণা করা হয়, উচ্চ আদালতের রায়ে যদি আসিয়া বিবির মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে, তাহলে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাবলে তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। সালমান তাসির এটা করিয়ে নেবেন। তাই তিনি উগ্রপন্থীদের ঘৃণার পাত্র।
জেনারেল জিয়াউল হকের জারি করা ব্লাসফেমি আইনটির বিরুদ্ধে কেউ কোনো কথা বলতে ভয় পায়। সালমান তাসিরের নিজের দল পাকিস্তান পিপলস পার্টিও এ ব্যাপারে বরাবর নীরবতা পালন করে আসছে। শুধু সালমান তাসির ও শেরি রেহমান নামের একজন জাতীয় পরিষদের সদস্য ছাড়া পিপিপির কোনো নেতা ব্লাসফেমি আইন বাতিল বা সংশোধনের কথা তোলেননি। এর আগে এ আইনটি বাতিল বা সংশোধনের কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো। উগ্রপন্থা ও তালেবানীকরণের বিরুদ্ধেও বেনজির অবস্থান নিয়েছিলেন। ধারণা করা হয়, এসব কারণেই তাঁকে প্রাণ দিতে হয়েছে। সুতরাং সালমান তাসিরও যে হত্যার শিকার হতে পারেন, এমন আশঙ্কা অনেকেই প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু তাঁরই দেহরক্ষী দলের কোনো সদস্য যে কাজটি করতে পারেন, এটা বোধ হয় কেউ ভাবেনি।
সালমান তাসিরের হত্যাকাণ্ডটি মালিক কাদরির একার কাজ, নাকি তাঁর পেছনে আরও কেউ আছে, এ বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক বিবিসিকে জানিয়েছেন। পাঞ্জাব এলিট ফোর্স নামের বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর যে দলটি সেদিন সালমান তাসিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল, তার সব সদস্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাকিস্তানের ডেইলি টাইমস পত্রিকায় ৪ জানুরির সম্পাদকীয় নিবন্ধে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে, মালিক কাদরির পেছনে আরও কোনো ব্যক্তি বা মহলের হাত থাকতে পারে। মালিক কাদরির মতো একজন উগ্র মানসিকতার ব্যক্তিকে গভর্নরের নিরাপত্তারক্ষীর দলে কেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, এই প্রশ্নটিও ডেইলি টাইমস তুলেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কাদরি গভর্নরের নিরাপত্তারক্ষী দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে পত্রিকাটি লিখেছে, হত্যাকাণ্ডটি যদি একান্তই মালিক কাদরির একার কাজ হয়ে থাকে, তাহলে এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি রাষ্ট্র ও সমাজের এক ভয়াবহ চরিত্র ফুটে ওঠে। প্রমাণিত হয় যে ধর্মীয় উগ্রতা ও অসহিষ্ণুতা পাকিস্তানের সমাজকে নৈরাজ্য ও বর্বরতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর অর্থ, বুদ্ধিবিবেচনার কোনো জায়গা আর এ সমাজে থাকছে না, হিংস্র অন্ধবিশ্বাস পুরো সমাজকে গ্রাস করে ফেলছে, এমনকি একটি প্রদেশের গভর্নরের মতো উচ্চ পদে আসীন ব্যক্তিও ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের ক্রোধের আগুন থেকে আজ নিরাপদ নন।
পাকিস্তানে ধর্মদ্রোহের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি জেলখানায় বন্দী অবস্থায়ও খুন হয়ে যায়। অন্য কয়েদিরা তাদের খুন করে। আসামিদের আত্মীয়স্বজনও খুন হয়, ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়ে পালিয়ে বেড়ায়। পাকিস্তানের জাস্টিস অ্যান্ড পিস কমিশন নামের এক বেসরকারি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী ১৯৮৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩৪ জন মানুষ এভাবে খুন হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে একজন বিচারকও ছিলেন। আদালতে মামলার শুনানি চলা অবস্থায় আসামিদের গুলি করে হত্যার মতো ঘটনাও ঘটেছে। আসিয়া বিবি নামের খ্রিষ্টান নারীর মৃত্যুদণ্ড উচ্চ আদালতে মওকুফ হলে বা প্রেসিডেন্ট তাঁকে ক্ষমা করে দিলেও তিনি মুক্তভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ পাবেন না। কারণ ইতিমধ্যে এক মোল্লা ঘোষণা করেছেন, জেলের ভেতরে বা বাইরে যেখানেই হোক, আসিয়া বিবিকে যে হত্যা করতে পারবে, তাকে তিনি পাঁচ লাখ রুপি পুরস্কার দেবেন। এক মসজিদের ইমাম আগাম বলে রেখেছেন, ‘আইন যদি কোনো ধর্মদ্রোহীকে সাজা দেয়, আর তাকে যদি ক্ষমা করে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নেব।’
পাকিস্তানে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ধর্মীয় ব্যাপারে সব ধরনের ভিন্নমতকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দমন করার প্রবণতা বাড়ছে, জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো আর ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো এতে মদদ দিচ্ছে। ‘অরাজনৈতিক’ আলেম সমাজে যাঁরা অপেক্ষাকৃত উদার ও সহনশীল, তাঁদের অনেকেই আক্রমণের শিকার হচ্ছেন, ইতিমধ্যে অনেকে আত্মঘাতী বোমা হামলায় মারা গেছেন, অনেকে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। শিয়া সম্প্রদায়ের অনেক সুফি সাধকের মাজার বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছে ওহাবি উগ্রপন্থীরা। প্রগতিশীল উদার গণতান্ত্রিক চিন্তাভাবনার মানুষেরা ক্রমশ আরও বেশি করে কোণঠাসা হচ্ছে। সালমান তাসিরের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তাদের অবস্থান আরও ভঙ্গুর হয়ে পড়বে।
যে পাকিস্তানে ধর্মভিত্তিক দলগুলো কখনো নির্বাচনে জয়ী হয় না বা সরকার গঠন করতে পারে না, সেখানে সমাজের বিভিন্ন স্তরে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও উগ্রপন্থা হিংস্রতার পর্যায়ে উঠে যাচ্ছে। এর কারণ কী? প্রচণ্ড আমেরিকা-বিদ্বেষ; পশ্চিমা ভাবধারা ও সভ্যতা-সংস্কৃতি বলে যা কিছু পরিচিত, তার সবকিছুর প্রতিই প্রচণ্ড ঘৃণা। ইসলামাবাদের কায়েদে আজম ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক পারভেজ হুদভয় মনে করেন, পাকিস্তানি সমাজে আমেরিকা-বিদ্বেষ ভারত-বিদ্বেষকেও ছাড়িয়ে গেছে। মালিক কাদরি ও তাঁর মতো মনোভাবাপন্ন রাজনৈতিক-অরাজনৈতিকনির্বিশেষে সব ধর্মীয় উগ্রপন্থী ব্যক্তির কাছে সালমান তাসির ছিলেন পাশ্চাত্য ভাবধারা ও সংস্কৃতির প্রতিনিধি। উপরন্তু তিনি পক্ষ নিয়েছেন একজন খ্রিষ্টান নারীর, যিনি নবীর অবমাননা করেছেন।
আমেরিকানরা যত দিন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, নারী স্বাধীনতা ইত্যাদি পশ্চিমা ভাবপণ্য রপ্তানি করার সশস্ত্র অভিযান চালিয়ে যাবে, তত দিন সেখানে মালিক কাদরির মতো উগ্রপন্থীদের জন্ম হতে থাকবে। তালেবানীকরণ প্রতিহত করতে গিয়ে আমেরিকা, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পুরো সমাজকে মনেপ্রাণে তালেবান বানিয়ে ফেলছে, এটা তারা নিজেরাই হয়তো বুঝতে পারছে না।
মশিউল আলম: সাংবাদিক।
mashiul.alam@gmail.com

ক্লিনটনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে চান শাভেজ

রাষ্ট্রদূত নিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সংকটের একটি সমাধান বাতলে দিয়েছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ। মার্কিন প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, অভিনেতা শ্যন পেন, চলচ্চিত্র পরিচালক অলিভার স্টোন অথবা দার্শনিক নোয়াম চমস্কিকে কারাকাসে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া হলে সমস্যার সমাধান হতে পারে।সম্প্রতি কারকাসে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কিন্তু তাঁকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান হুগো শাভেজ। জবাবে গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূতের ভিসা বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র।
এক টেলিভিশন ভাষণে শাভেজ জানান, তাঁর কাছে একটি সমাধান আছে। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, তারা অলিভার স্টোনের নাম ঘোষণা করবে। শ্যন পেন অথবা নোয়োম চমস্কির নামও আমি বলতে পারি। এ ছাড়া সেখানে আমাদের আরও অনেক বন্ধু আছে, যেমন বিল ক্লিনটন।’

স্বাধীনতার প্রশ্নে দক্ষিণ সুদানে কাল গণভোট

দক্ষিণ সুদানে আগামীকাল রোববার গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ অঞ্চলটি সুদানের সঙ্গে থাকবে, নাকি একটি আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, সে প্রশ্নে এই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা দক্ষিণ সুদানের বাসিন্দারা শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দেবেন এবং বিশ্ব-মানচিত্রে একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ ঘটবে।
সবকিছু শেষ পর্যন্ত ঠিকঠাক থাকলে কাল সকাল নয়টা থেকে ভোট গ্রহণ শুর হবে। ভোট নেওয়া হবে দুই হাজার ৬৩৮টি কেন্দ্রে। মোট ৪০ লাখ নিবন্ধিত ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এর মধ্যে উত্তর সুদানে বসবাসরত দক্ষিণ সুদানের এক লাখ ১৬ হাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ৬০ হাজার ভোটারও রয়েছেন।
জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই গণভোট পর্যবেক্ষণ করবেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১০৪ জন পর্যবেক্ষক।

ইরান ২০১৫ সালের আগে পারমাণবিক বোমা বানাতে পারবে না: মোসাদ

ইরান ২০১৫ সালের আগে পারমাণবিক বোমা বানাতে সক্ষম হবে না বলে মনে করছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। মোসাদের পরিচালক মির ডাগান ইরানে শিগগিরই সামরিক হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত মোসাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মির ডাগান ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিবৃত্ত করতে মার্কিনদের নেওয়া পদক্ষেপের প্রতি ইসরায়েলকে আস্থা রাখার পরামর্শ দেন। এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ২০১৫ সালের আগে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে পারবে না। এর আগে ২০০৯ সালের জুনে ডাগান বলেছিলেন, ২০১৪ সাল নাগাদ ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে সক্ষম হবে।
সেনাবাহিনীর সাবেক জেনারেল মির ডাগানকে ২০০২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অ্যারিয়েল শ্যারন মোসাদের পরিচালক নিযুক্ত করেন। দীর্ঘ আট বছর মোসাদের পরিচালক থাকাকালীন ডাগান শত্রু দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের প্রচ্ছন্ন যুুদ্ধকে উসকে দিয়ে আসছেন।
ডাগান ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সরাসরি হামলা চালানো হলে এর প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, সে ব্যাপারটি পর্যবেক্ষণ করেন। ডাগান জানান, এ ধরনের হামলা চালানো হলে ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে এককভাবে পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। কাজেই শিগগিরই ইরানে হামলা চালানো ঠিক হবে না।
মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে একমাত্র ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। এটা সত্ত্বেও বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ইসরায়েলের বিমানবাহিনী এতই ছোট যে তার একার পক্ষে ইরানে হামলা চালিয়ে সফল হওয়া দুরূহ ব্যাপার। এ ছাড়া ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকির ব্যাপারেও ইসরায়েল পূর্ণ সচেতন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা নতুন করে কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধ চায় না।

হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হলেন ডেলি

সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও জেপিমর্গান চেজের নির্বাহী উইলিয়াম ডেলিকে গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ নিয়োগ করা হয়েছে। দেশের কর্মসংস্থান খাতকে চাঙা করতে তাঁকে এ পদে বসিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। রাজনীতি ও ব্যবসা—দুই ক্ষেত্রেই বিস্তর অভিজ্ঞতা আছে ডেলির।
২০১২ সালের নির্বাচনে ওবামার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে বেকারত্ব। যুক্তরাষ্ট্রের বেকারত্বের হার বর্তমানে ৯ দশমিক ৮। ওবামা জানিয়েছেন, মার্কিন অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কাজ করবেন ডেলে।
ওবামা বলেন, কর্মসংস্থানের হার ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কীভাবে বাড়াতে হবে, সে বিষয়ে ডেলির বেশ ভালো ধারণা আছে।
চিফ অব স্টাফ পদে ডেলির নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে মার্কিন ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের দ্বিতীয় মেয়াদের সময় ১৯৯৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন। এরপর ২০০০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী আল গোরের প্রচার ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন।

পশ্চিমবঙ্গের লালগড়ে গুলিতে নিহত ৮, আজ মেদিনীপুরে বন্ধ্

পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী প্রভাবিত মেদিনীপুরের লালগড়ের নেতাই গ্রামে গতকাল শুক্রবার গুলিতে আট গ্রামবাসী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১৮ জন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই ঘটনায় জাতীয় কংগ্রেস আজ শনিবার পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ১২ ঘণ্টা বনেধর ডাক দিয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, এ ঘটনার জন্য সিপিএম দায়ী। তবে সিপিএম বলেছে, এটা মাওবাদীদের কাণ্ড। তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে বলা হয়, নেতাই গ্রাম দিয়ে তাদের একটি মিছিল যাচ্ছিল। এ সময় একটি বাড়ি থেকে সিপিএমের সশস্ত্র ক্যাডাররা গুলিবর্ষণ করে। ওই বাড়িটি সিপিএমের নেতা রথিন দন্ডপাতের।
অন্যদিকে সিপিএমের দাবি, তাদের একটি দলীয় সভার আয়োজন করা হয়েছিল নেতাই গ্রামে। মাওবাদীরা ওই সভায় ঢুকে একপর্যায়ে গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে সিপিএমের এক কর্মীও আহত হয়।
পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিব জ্ঞানদত্ত গৌতম বলেছেন, এটা সিপিএম-তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক সংঘর্ষ।
এই ঘটনার জেরে জাতীয় কংগ্রেস আজ পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ১২ ঘণ্টা বনেধর ডাক দিয়েছে। একই ডাক দিয়েছে জঙ্গলমহলের পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনসাধারণের কমিটিও। অন্যদিকে সিপিএম আজ লালগড়ে ধিক্কার দিবস পালনের ডাক দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস, এসইউসিআই সোমবার পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুয়ায় বনেধর ডাক দিয়েছে।
এদিকে এই ঘটনা জানার পর তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি মানস ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে গেছেন।

ভারতে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছে পাকিস্তান

পাকিস্তান স্থলপথে প্রতিবেশী ভারতে পেঁয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। দেশে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরতে পাকিস্তান এ উদ্যোগ নিয়েছে।অমৃতসরে ভারতের শুল্ক বিভাগের উপকমিশনার আর কে ডুগাল বলেন, পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করার পর বৃহস্পতিবার থেকে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ কোনো ট্রাককে পেঁয়াজ নিয়ে অমৃতসরে প্রবেশ করতে দেয়নি। হঠাৎ করে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ভারতে কংগ্রেস পার্টির জনপ্রিয়তা কমেছে

ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস পার্টির জনপ্রিয়তা কমেছে। এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে দলটি ৪০টির মতো আসন কম পাবে। কোটি কোটি ডলারের কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির অভিযোগ কংগ্রেসের জনপ্রিয়তা কমার কারণ বলে একটি জরিপ থেকে জানা যায়।
এসি নেইলসেন ও ইন্ডিয়া টুডে ম্যাগাজিন যৌথভাবে এই জরিপটি পরিচালনা করে। এতে বলা হয়, ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের টেলিকম কেলেঙ্কারি ও গত বছরের আগস্টে কমনওয়েলথ গেমসে দুর্নীতির অভিযোগের ফলে ক্ষমতাসীন দলের প্রতি জনগণের আস্থা কমে গেছে।
জরিপে দেখা গেছে, ৪৪ ভাগ লোক মনে করেন কেলেঙ্কারির কারণে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ভাবমূর্তি এখন হুমকির মুখে। এই জরিপে ভারতের ১৯টি রাজ্যের ১২ হাজার ৩৪৯ জন অংশ নেন।

ইউপিএ সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণা বাড়াচ্ছে বিজেপি

ভারতের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক আজ শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের গুয়াহাটিতে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠক থেকে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে জর্জড়িত ক্ষমতাসীন জোট সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চার (্ইউপিএ) বিরুদ্ধে প্রচারণা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেবে দলটি।দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল লাইসেন্স দেওয়া নিয়ে বড় ধরনের দুর্নীতির বিষয়টি সম্প্রতি ফাঁস হওয়ায় চরম বেকায়দায় পড়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। পদত্যাগে বাধ্য হন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী। বিরোধীরা দাবি তুলেছে, ঘটনা তদন্তে যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠন করতে হবে।বিষয়টি নিয়ে সরকার এবং বিরোধীরা একেবারে মুখোমুখী অবস্থানে। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রথম বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বিজেপির নির্বাহী কমিটির সদস্যরা। ২০১০ সালে কয়েকটি দুর্নীতির ঘটনা ফাঁস হওয়ায় এই বৈঠক থেকে সরকারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কৌশল নির্ধারণ করা হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বেশি বেশি সভা-সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। দুর্নীতির এই বিষয়গুলো তারা আগামী বাজেট অধিবেশন পর্যন্ত চাঙা রাখতে চায়। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই অধিবেশন শুরু হবে।এ ছাড়া সরকারের মধ্যে দুর্নীতি রুখতে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল লাইসেন্স দেওয়া নিয়ে দুর্নীতির বিষয়ে তিনি কেন দীর্ঘ দিনেও ব্যবস্থা নেননি সে সম্পর্কিত সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ—এই দুটি বিষয় ধরে মনমোহন সিংয়ের ওপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে বিজেপি।
বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা যশোবন্ত সিংকে দলের জন্য নতুন নতুন মিত্র জোগাড় করা এবং যেসব দল ইতিমধ্যে এনডিএ জোটে আছে তাদের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির দায়িত্ব দেওয়ার পর এটাই দলের নির্বাহী কমিটির প্রথম বৈঠক।
বিজেপির প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিমধ্যে এক বছর পূর্ণ করেছেন নিতিন গাদকারি। নির্বাহী কমিটির বৈঠকে লোকসভায় দলের নেতা সুষমা স্বরাজ, রাজ্যসভায় দলের নেতা অরুণ জেটলি এবং জ্যেষ্ঠ নেতা এলকে আদভানির সঙ্গে পরামর্শ করে সরকারবিরোধী কৌশল আরও জোরদার করার সুযোগ পাবেন গাদকারি।আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, তামিল নাড়ু, কেরালা ও পণ্ডিচেরিতে নির্বাচন আসন্ন। কাজেই এ সময় নির্বাহী কমিটির এই বৈঠক বিজেপির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।আসামে নির্বাচনে জিতে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করবে কংগ্রেস। কিন্তু এবার অবৈধ অভিবাসন প্রশ্নে বিজেপি বেশ ভালো অবস্থানে আছে। দলটি আশা করছে, এবার অভিবাসন প্রশ্নেও কংগ্রেসের সঙ্গে তাদের লড়াই হবে। কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়ারাপ্পার বিষয়টিও বৈঠকে আলোচিত হতে পারে। তারা দুর্নীতি এবং সরকারি জমি বরাদ্দে স্বজনপ্রীতির অভিযোগে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় আছে বিজেপি। তা ছাড়া দলের অভ্যন্তরীণ ও সাংগঠনিক অনেক বিষয়েও সিদ্ধান্ত হবে বৈঠকে।সোনিয়া আক্রমণের লক্ষ্য নয়: এদিকে নয়াদিল্লি থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বিজেপির নির্বাহী কমিটির বৈঠকে সরকারের দুর্নীতির বিষয়ে দলটি আরও সোচ্চার হওয়ার কৌশল নির্ধারণ করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধীকে তারা সরাসরি আক্রমণের লক্ষ্য স্থির করছে না। শনি ও রোববারের দুই দিনের বৈঠকে একটি রাজনৈতিক প্রস্তাবনা গ্রহণের লক্ষ্যে গত বুধবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।বিজেপি নেত্রী সুষমা স্বরাজ বলেন, ‘সারা দেশে আমাদের দুর্নীতিবিরোধী প্রচারণার অংশ বোফোর্স কেলেঙ্কারি।’

প্রতিরক্ষা ব্যয় ও সেনা হ্রাসের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশটি সামরিক খাতে ব্যয় সাত হাজার ৮০০ কোটি ডলার কমাবে। সেনা সংখ্যা হ্রাস করবে ৪৭ হাজার। ব্যয়বহুল সামরিক প্রযুক্তি খাতেও খরচ কমিয়ে দেবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস গত বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা বাজেট কমানোর এ ঘোষণা দেন।
নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে ২০০১ সালে আল-কায়েদার সন্ত্রাসী হামলার পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিল। মন্দার কবলে পড়া মার্কিন অর্থনীতিকে চাঙা করতে ওবামা প্রশাসন আগামী পাঁচ বছরে বিভিন্ন খাতে সরকারি ব্যয় ১০ হাজার কোটি ডলার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে এ প্রতিরক্ষা ব্যয় কমানো হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রবার্ট গেটস বলেন, মন্দার কবলে পড়া দেশের অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনীকেও ভূমিকা রাখতে হবে । তাই তারা আগামী পাঁচ বছরে প্রতিরক্ষা ব্যয় ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছেন। গেটস জানান, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তাঁরা ১০০-এর বেশি জেনারেল ও পতাকাধারী কর্মকর্তার পদ বিলুপ্ত করবেন অথবা তাঁদের অবসরে পাঠাবেন। এ ছাড়া জননিরাপত্তায় নিয়োজিত আরও ২০০ জন কর্মকর্তার পদ বিলুপ্ত করা হবে। এতে যে ব্যয় সংকোচন হবে তা তাঁদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।গেটস জানান, নতুন পরিকল্পনার আওতায় আগামী পাঁচ বছরে সেনা সংখ্যা ছয় শতাংশ হ্রাস করা হবে। অত্যাধুনিক এফ-৩৫ জঙ্গি বিমান নির্মাণের পেছনে যে ভতুর্কি দেওয়া হয় সেটা কমানো হবে। এ ছাড়া উভচর যান নির্মাণ, সেনাবাহিনীর ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, জাহাজ নির্মাণ প্রভৃতি খাতেও খরচ কমিয়ে আনা হবে।গেটস বলেন, ৯/১১ পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক খাতে বেহিসেবি খরচ করার যে সংস্কৃতি শুরু করেছিল সেটা থেকে তাঁরা বের হয়ে আসতে চান।তবে কংগ্রেস সামরিক খাতে ব্যয় হ্রাসের ওবামা প্রশাসনের এ উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত সমর্থন করবে কি না তা স্পষ্ট নয়। মার্কিন আইন প্রণেতারা সচরাচর প্রতিরক্ষা বাজেট কমানোর বিষয়টি সমর্থন করেন না।এদিকে ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতের জন্য ওবামা প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে ৫৫ হাজার ৩০০ কোটি চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগের বছরের চেয়ে এ অর্থের পরিমাণ এক হাজার ৩০০ কোটি ডলার কম। এর মধ্যে অবশ্য ইরাক, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ব্যয়ভার ধরা হয়নি।
প্রতিরক্ষা ব্যয় কমানোর বিষটিকে ভালো চোখে দেখছেন না অনেক মার্কিন নীতিনির্ধারক। প্রতিনিধি পরিষদের আর্মড সার্ভিস কমিটির চেয়ারম্যান হাওয়ার্ড ম্যাককোয়েন এরই মধ্যে বলেছেন, ওবামা প্রশাসনের এ উদ্যোগে তিনি খুশি নন। ব্যয় কমানোর যে পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে তা ধারণার চেয়ে অনেক বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলা করার মতো শক্তি অর্জন করতে যাচ্ছে চীন

চীনের একটি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বলেছে, চীনের সামরিক শক্তি বাড়ানোর বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মেনে নেওয়া না-নেওয়াকে চীন পাত্তা দিচ্ছে না। খুব শিগগিরই চীন যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলা করার মতো সামরিক শক্তি অর্জন করবে। চীন আন্তর্জাতিক নজরদারি এড়িয়ে প্রতিরক্ষা খাতে দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় করছে বলেও খবর বেরিয়েছে। অন্যদিকে, বাজেট ঘাটতি পোষাণোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র এ খাতে বিপুল পরিমাণ ব্যয় সংকোচনের ঘোষণা দিয়েছে।মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস আগামীকাল রোববার চীন সফরে আসছেন। তাঁর সফরের আগেই গত বৃহস্পতিবার সে দেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস চীন রাডার ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম জে-২০ জঙ্গি বিমান (স্টিলথ ফাইটার জেট) তৈরি করেছে বলে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে। চীন সরকার এ খবরকে ‘গুজব’ বলে আখ্যায়িত করলেও বেশির ভাগ প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ওই খবরকে সত্য বলে মনে করছেন।গত সপ্তাহে মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ডের প্রধান রবার্ট উইলার্ড জাপানি একটি দৈনিককে বলেন, চীন রণতরী বিধ্বংসী ‘ক্যারিয়ার কিলার’ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি এবং নিজেদের জলসীমার বাইরেও সামরিক প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এসব বিষয় উল্লেখ করে গতকাল শুক্রবার গ্লোবাল টাইমস তাদের সম্পাদকীয়তে বলেছে, নতুন অস্ত্র সরঞ্জামের (জে-২০) খবর সত্য হোক বা না হোক চীন যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলা করার মতো প্রথম শ্রেণীর সমরাস্ত্র শিগগিরই অর্জন করতে সক্ষম হবে।এদিকে গতকাল শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার সংবাদপত্র সিডনি হেরাল্ড মর্নিং উইকিলিকসের নথির ফাঁস করা মার্কিন নথির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, সেনাশক্তি বাড়ানোসহ সামরিক খাতের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি গোপন করছে চীন। অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এ কথা বলেছেন বলে ওই নথিতে বলা হয়েছে।নথিতে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার কৌশলগত মূল্যায়নে দেখা গেছে, চীন ২০০৬ সালে তিন হাজার কোটি মার্কিন ডলার খরচ করেছে বলে ঘোষণা দিলেও তাদের প্রকৃত ব্যয় ছিল সাত হাজার কোটি মার্কিন ডলার। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় মূল্যায়ন দপ্তর ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা মনে করে আত্মরক্ষার জন্য ও তাইওয়ানকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে চীন সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে।নাইন-ইলেভেনের পর এই প্রথম প্রতিরক্ষা ব্যয় কমাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ খাতে ব্যয় আগামী পাঁচ বছরে প্রায় আট হাজার কোটি ডলার কমিয়ে আনা হবে। সেই সঙ্গে সেনাসংখ্যা কমছে ৪৭ হাজার।

টি-টোয়েন্টিকে ক্লার্কের বিদায়

টি-টোয়েন্টির ধরনের সঙ্গে তাঁর ব্যাটিংটা ঠিক যায় না। মাইকেল ক্লার্ক তবু লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন, নিজেকে মানিয়ে নিতে মাত্র ২৮ ইনিংসে ব্যাটিং করেছেন সাতটি পজিশনে! ১টি ফিফটি আর মাত্র ১০৩ স্ট্রাইক রেটই জানান দিচ্ছে, ক্লার্ক পারছিলেন না। অ্যাশেজ হারের পরপরই টি-টোয়েন্টিকে তাই বিদায় বলে দিলেন অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। ক্যামেরন হোয়াইটকে করা হয়েছে অধিনায়ক, এত দিন যিনি ছিলেন ক্লার্কের ডেপুটি। নতুন ডেপুটি উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান টিম পেইন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে নতুন মুখ ব্যাটসম্যান অ্যারন ফিঞ্চ ও পেসার জেমস প্যাটিনসন। ওয়েবসাইট।অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি দল: ক্যামেরন হোয়াইট (অধিনায়ক), টিম পেইন (সহ-অধিনায়ক), অ্যারন ফিঞ্চ, ডেভিড হাসি, মিচেল জনসন, ব্রেট লি, স্টিভ ও’কিফি, জেমস প্যাটিনসন, স্টিভেন স্মিথ, শন টেইট, ডেভিড ওয়ার্নার, শেন ওয়াটসন।

জয়াসুরিয়া-ভাস নেই শ্রীলঙ্কার চূড়ান্ত দলে

টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না সনাৎ জয়াসুরিয়ার। থাকছেন না ১৯৯৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য চামিন্ডা ভাসও। শ্রীলঙ্কার চূড়ান্ত বিশ্বকাপ দলে ঠাঁই হয়নি এই দুজনের। বিশ্বকাপ শিরোপার স্বাদ পাওয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে আছেন কেবল একজনই—মুত্তিয়া মুরালিধরন।
শ্রীলঙ্কাই প্রথম ঘোষণা করল ১৫ জনের চূড়ান্ত দল। প্রাথমিক ৩০ জনের মধ্য থেকে জয়াসুরিয়া আর ভাস যে বাদ পড়তে পারেন, সেই ইঙ্গিত আগেই দিয়ে রেখেছিলেন ১৯৯৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের মূল কারিগর অরবিন্দ ডি সিলভা। নির্বাচক কমিটির প্রধান হিসেবে আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বোনা দল বেছে নেওয়ার দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধেই।
সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ওয়ানডে সিরিজ জিতে আসা দলটির ১১ জনই এতে ঠাঁই পেয়েছেন। চমক বলতে অফ স্পিনার সুরাজ রণদিভের বদলে বাঁহাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথকে নেওয়া।
ওয়ানডেতে ১৩৪২৮ রান ও ৩২২ উইকেটের মালিক জয়াসুরিয়া আর ৪০০ উইকেটশিকারি ভাসের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই, তাঁদের কণ্ঠে থাকবে গভীর হতাশা। টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে দুজন তাকিয়ে ছিলেন বিশ্বকাপের দিকে। বিশ্বকাপ খেলেই চূড়ান্ত অবসর নিতে চেয়েছিলেন।
শ্রীলঙ্কা দল: সাঙ্গাকারা (অধিনায়ক), জয়াবর্ধনে, দিলশান, থারাঙ্গা, সামারাবীরা, চামারা সিলভা, কাপুগেদারা, ম্যাথুস, পেরেরা, কুলাসেকারা, মালিঙ্গা, ফার্নান্দো, মুরালিধরন, মেন্ডিস ও হেরাথ।

ইংল্যান্ডের অপেক্ষার অবসান

৪৫ মিনিট অপেক্ষায় রাখল সিডনির আকাশ। বিরক্তি বাড়িয়ে দিল স্মিথ-সিডলের ৮৬ রানের জুটি। সেই মাহেন্দ্রক্ষণ অবশেষে এল কাল খেলা শুরুর ঠিক ১ ঘণ্টা ৫৩ মিনিট পর। যে ক্ষণটাকে পাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ৬৮ দিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় পা রেখেছিলেন স্ট্রাউসরা। ২৪ বছর ধরে যে ক্ষণটির অপেক্ষায় ইংল্যান্ড। ক্রিস ট্রেমলেটের বাড়তি লাফিয়ে ওঠা বল মাইকেল বিয়ারের ব্যাট ছুঁয়ে ভেঙে দিল স্টাম্প। অ্যাশেজ ইংল্যান্ডের, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে!
এবার ‘স্প্রিঙ্কলার’ হলো না, দেখা যায়নি নতুন কোনো আনন্দনৃত্যও। তবে কাঁধে কাঁধ, কাঁধে হাত মিলিয়ে একসঙ্গে লাফাল-ঝাঁপাল পুরো ইংল্যান্ড দল। যেন বুঝিয়ে দিল স্বপ্নপূরণে কতটা একতাবদ্ধ ছিল এই দল। হঠাৎ কয়েকজনের মনে পড়ে গেল, দীর্ঘদিনের এক সঙ্গীর এটাই যে শেষ টেস্ট। সবাই জড়িয়ে ধরলেন পল কলিংউডকে। ‘পলি’ অভিনন্দন পেলেন প্রতিপক্ষ ক্রিকেটারদের কাছ থেকেও। কলিংউডের চোখে টলমল করছে পানি, কিন্তু মুখের হাসিই বলে দিচ্ছে বিদায়টা কতটা আনন্দময় হলো!
অস্ট্রেলিয়া সিরিজ জিতবে, ইংল্যান্ড জিতবে বড়জোর একটা ম্যাচ—প্রায় বছর বিশেক ক্রিকেটের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী লড়াইটার চিত্র ছিল এই। ২০০৫ সালে দেশের মাটিতে জিতে অ্যাশেজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফিরিয়ে এনেছিল মাইকেল ভনের ইংল্যান্ড। কিন্তু পরের দুটো সিরিজে আবার দেখা গেল যারা স্বাগতিক, জয় তাদের। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আগের সিরিজেই ইংল্যান্ডের ৫-০ হোয়াইটওয়াশ হওয়াটা একটা বড় ক্ষত। অ্যাশেজকে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ চেহারায় ফিরিয়ে আনায় তাই একরকম বৃত্তপূরণই করল স্ট্রাউসের দল। যে যন্ত্রণা তারা দীর্ঘদিন পেয়ে আসছে, এবার পারল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের সেটি ফিরিয়ে দিতে।
মুগ্ধ, অভিভূত স্ট্রাউস এই অর্জনকে বলছেন বিশেষ কিছু, ‘একটা দলের এতজন ক্রিকেটার যখন একসঙ্গে পারফর্ম করতে শুরু করে, তখন সেই দলকে থামানো মুশকিল। নিশ্চিতভাবেই অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ জয় দারুণ এক অর্জন। এই অর্জন এটাও প্রমাণ করছে, একজন অধিনায়ক ততটাই ভালো, যতটা ভালো তাঁর দল। খেলা ছাড়ার পর যখন ক্যারিয়ারের দিকে ফিরে তাকাব, নিশ্চিতভাবে এটাকেই মনে হবে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বিশেষ মুহূর্ত।’
স্ট্রাউসরা একটা বড় অর্জন মানতে পারেন ক্লার্কের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াকেও, ‘ইংল্যান্ডের কাছ থেকে আমাদের শেখার আছে শতভাগ। শুধু ব্যাটিং-বোলিং নয়, পাঁচ টেস্টে মাঠেও ওরা ছিল অসাধারণ।’
ভস্মাধারের রেপ্লিকা আর ক্রিস্টাল ট্রফি স্ট্রাউস পেলেন তাঁর সাবেক অধিনায়ক ভনের হাত থেকে। উত্তরসূরিদের সাফল্যে হয়তো কিছুটা ঘুচল নিজেদের না পারার ব্যর্থতাও। ৮ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় ৬৩৩ রান করেও পেতে হয়েছিল ৪-১-এ হারের যন্ত্রণা। এবার ৭৬৬ রান করে সিরিজ-সেরার কম্পটন-মিলার মেডেলটা কুককে পেতে দেখে হয়তো ভনের ব্যক্তিগত কষ্টেও একটা সান্ত্বনার প্রলেপ পড়ল। পুরস্কারের মঞ্চে থাকা আরেকজন, গ্লেন ম্যাকগ্রার হয়তো মনে পড়ছিল চার বছর আগের সিডনির কথা। শেষ বলে উইকেট নিয়ে ইংলিশদের হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন, আর এবার! ম্যাকগ্রার দৃষ্টিতে কেমন যেন অনিশ্চয়তা, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের সামনেও নয় কি?
 পতন
১৯৫৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের পর এই প্রথম ৫ ম্যাচ সিরিজে তিনবার ইনিংসে হারল কোনো দল, অস্ট্রেলিয়ার নিজেদের ইতিহাসে প্রথম।

সবাইকে ছাড়িয়ে সোহেল

আবাহনী কোচ আলী আকবর পোরমুসলিমি দ্রুতই মাঠ ছাড়লেন। পরাজয়ের জ্বালা সয়ে স্বাভাবিক হতে সময় দরকার। ফরাশগঞ্জ কোচ কামাল বাবু সাংবাদিক ভিড়ের মধ্যে ‘ছেলেদের জেদ ছিল জিততে হবে’—বলে যাচ্ছেন। সোহেল রানা তখন কোথায়?
সতীর্থরা কেউ এসে ঘাড়ে লাফিয়ে পড়ছেন। কেউ তাঁকে কাঁধে তুলে নিতে চাইছেন। ফটো সাংবাদিকেরা সেই ছবি তুলতে ব্যস্ত। যাঁর একমাত্র গোলে আবাহনীর টানা চতুর্থ পেশাদার লিগ শিরোপা মিশন তৃতীয় ম্যাচেই বড়সড় ধাক্কা খেল, নারায়ণগঞ্জের সেই ২১ বছর বয়সী তরুণ স্ট্রাইকারকেই তো তখন ক্যামেরার লেন্স খুঁজবে!
তাঁর ওপর চোখটা প্রথম পড়ল মাচের নবম মিনিটে। স্টেডিয়ামের চতুর্থ তলায় বসে জাতীয় দলের কোচ রবার্ট রুবচিচসহ গোটা স্টেডিয়াম নড়েচড়ে বসল। আবাহনীর বিপক্ষে গোল করে ফেলেছেন রুবচিচের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের এই স্ট্রাইকার। তখনো প্রায় পুরো ম্যাচই বাকি। কিন্তু আবাহনী ওই গোল শোধ তো দিতে পারলই না, উপরন্তু শেষ দিকে সোহেল সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে আকাশি-নীলদের পরাজয়ের ব্যবধান ২-০ হয়ে যায়!
একটা পাল্টা আক্রমণ থেকে সর্বনাশ ঘটবে, আবাহনী হয়তো ভাবতেও পারেনি। গত কয়েক বছর দক্ষতার সঙ্গে দেশসেরা দলের রক্ষণ সামলে আসা ঘানার বিশ্বস্ত সৈনিক সামাদ ইউসুফ এই প্রথম বড় একটা ভুল করে বসলেন। মাঝবৃত্ত থেকে খোকন দাসের ঠেলে দেওয়া বল জনসনের সঙ্গে ওয়াল করে বেরিয়ে গেলেন সোহেল। ওই সময় শেষ ডিফেন্ডার সামাদের উচিত ছিল সোহেলকে আটকে দেওয়া। কিন্তু বল কাড়তে গিয়ে সোহেলের গতির সঙ্গে পেরে ওঠেননি লিংকন-মামুনবিহীন আবাহনীর রক্ষণের এই স্তম্ভ।
পরের দৃশ্যটা ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতো। রকেটগতিতে আগুয়ান সোহেলকে আটকাতে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসেও আবাহনী গোলরক্ষক জিয়া বলের নাগাল পেলেন না। জিয়াকে আসতে দেখে বক্সের মাথা থেকে দারুণ শটে লক্ষ্য ভেদ করলেন সোহেল (১-০)।
পেশাদার লিগে এটি আবাহনীর ৬৭তম ম্যাচে পঞ্চম হার—প্রথম লিগে খুলনা আবাহনী, দ্বিতীয় লিগে রহমতগঞ্জ-ব্রাদার্স, গতবার মোহামেডানের কাছে পরাজয়। চারটি পরাজয় নিয়েও আবাহনীই শিরোপা জিতেছে তিনবার। শেখ জামাল ধানমন্ডির সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, চট্টগ্রাম আবাহনীকে অতিকষ্টে ১-০ গোলে হারিয়ে ফরাশগঞ্জের কাছে এই পরাজয়—হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নদের এবার কোথায় দাঁড় করায় কে জানে!
অধিনায়ক প্রাণতোষ দুবার, ঘানাইয়ান স্ট্রাইকার ফ্রাঙ্ক অন্তত তিনবার গোলের কাছে গিয়েও কিছু করতে পারেননি। ফ্রাঙ্ক তো খালি পোস্টেই বল ঠেলতে পরেননি। তার ওপর ৬৫ মিনিটে ফরাশগঞ্জ স্ট্রাইকার কালু জনসনের সঙ্গে সংঘর্ষে মাঠ ছাড়া গোলরক্ষক জিয়ার ডান হাত ভেঙে গেছে। এশিয়াডে ব্যথা পাওয়া আরেক গোলরক্ষক হিমেল দলের সঙ্গেই নেই। তৃতীয় গোলরক্ষক আনকোরা তরুণ সোহেলই ছিলেন ভরসা! দিনটাই আসলে বাজে গেছে আবাহনীর।
এসব নিয়ে ভাবনায় পড়ে যাওয়া আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস ম্যাচের পর সামাদকে দাঁড় করালেন কাঠগড়ায়, ‘ফ্রাঙ্ক-প্রাণতোষ মিস তো করেছেই, কিন্তু সামাদের ভুলটা মেনে নেওয়া কঠিন। এমন মিস ওকে মানায় না!’
ফরাশগঞ্জ: সুজন, রাজীব, আমাদি, জাকির (জুয়েল), মোখলেস, খোকন, সোহেল, হামিদ, বিপ্লব, সৈকত (মামুন), কালু জনসন।
আবাহনী: জিয়া (সোহেল), সামাদ, নজরুল, সিরাজী, অরূপ, আমিনু, চৌমিন (জিতু/সোহাগ), প্রাণতোষ, উজ্জ্বল, ইব্রাহিম, ফ্রাঙ্ক।

আলোচনা- ট্রানজিট নিয়ে সবে গবেষণা শুরু by ফারুক মেহেদী

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মধ্যে সই হওয়া যৌথ ইশতেহারের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামী ১২ জানুয়ারি। প্রায় এক বছর পরও ওই ইশতেহারের মূল ইস্যু ট্রানজিট বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেই। সবে শুরু হয়েছে গবেষণা, গঠন করা হয়েছে হিসাব-নিকাশ কমিটি। বাস্তবে ঠিক কবে থেকে ট্রানজিট শুরু করা যাবে, তা সরকারের কোনো পর্যায়ের কেউ নিশ্চিত করতে পারেননি।

ভারতের একতরফা সেচ প্রকল্পঃ বাংলাদেশের আপত্তিতে বিশ্বব্যাংকের সাড়া

শ্চিমবঙ্গের বিশাল এলাকাজুড়ে সেচ প্রকল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বেশ কয়েকটি জেলাসহ ভারতের ১৮ জেলায় ছোট-বড় সাড়ে ছয় হাজার সেচ স্কিম তৈরি করা হবে। দুটি যৌথ নদীসহ আটটি নদী থেকে পানি প্রত্যাহার করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত। অবশ্য বাংলাদেশ সরকারের আপত্তির পর