Sunday, February 13, 2011

উইকেটের সমালোচনায় গ্রায়েম স্মিথ

বিশ্বকাপটা যে স্পিনারদের হতে যাচ্ছে, এ কথা মেনে নিয়েছেন প্রায় সবাই। গ্রায়েম স্মিথও এর বাইরে নন। তবে গতকাল চেন্নাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে তাঁর ধারণা হয়েছে, এবার বিশ্বকাপের অনেক ম্যাচই অপ্রস্তুত উইকেটে অনুষ্ঠিত হবে। চেন্নাইয়ের উইকেটের ভালো রকমেরই সমালোচনা করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘এটা অবশ্যই ক্রিকেটের জন্য ভালো উইকেট হতে পারে না।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে পাওয়া জয়ে প্রোটিয়া স্পিনারদের ভূমিকাটা ছিল বেশ উজ্জ্বল। দক্ষিণ আফ্রিকার তিন স্পিনার ইমরান তাহির, রবিন পিটারসেন ও জোহান বোথা স্পিন ঘূর্ণিতে ধসিয়ে দিয়েছেন জিম্বাবুইয়ান ব্যাটিং। আর তাতেই কোথায় যেন একটা খচখচানি অনুভব করছেন তিনি। মুখে না বললেও, এ কথা বুঝতে কারও বাকি নেই, স্পিনে যে দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যানদেরই বড় ধরনের ভীতি রয়েছে। সেই ভীতি থেকেই কিনা স্মিথ বিশ্বকাপের আয়োজকদের কাছে মূল প্রতিযোগিতায় আরও ভালো উইকেট আশা করছেন।
‘এই উইকেট পুরোপুরিই স্পিনারদের সহায়তা করবে। এমনকি কিছু বাড়তি সুবিধাও এনে দেবে। আমার মনে হয়েছে, এটি এখনো অপ্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।’ কেবল চেন্নাইয়ের উইকেটই নয়, বিশ্বকাপের সব ভেন্যুর উইকেট নিয়েই যেন আশঙ্কা ঝড়ে পড়েছে গ্রায়েম স্মিথের কণ্ঠে। আগামী ৬ মার্চ এই চেন্নাইয়েই গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। সে ম্যাচে এই ভেন্যুর উইকেট আরও ভালো হবে বলেই স্মিথের প্রত্যাশা।

লোভ নয়, লাভের বাজার হোক by আব্দুন নূর তুষার ও হাসান মাহমুদ

২০১০ সালে শেয়ারবাজার রেকর্ড করল। ৮৯১৮ ডিএসইর সাধারণ সূচক। বাজারসংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের কেউ কেউ বলছেন, দেশের দ্রুত আর্থিক উন্নতির লক্ষণ এই বর্ধনশীল বাজার। এ রকম চলতে থাকলে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে। কর্মসংস্থান বাড়বে। জিডিপি বেড়ে দুই অঙ্কের কোঠায় পৌঁছাবে। জানুয়ারি মাসেই তাদের কথার সুর বদলে গেল। সূচক কমে ৬৩২৬-এ ঠেকল। রাস্তায় টায়ার পুড়ল। প্রথমবারের মতো শেয়ারবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে দেশের শেয়াববাজারে লেনদেন বন্ধ করতে হলো। কেন এমন হলো? এ রকম কি আর কোথাও হয়? পৃথিবীতে এমন ঘটনা দেশে দেশে ঘটেছে। কাছের দেশ মালয়েশিয়া থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিমান দেশ যুক্তরাষ্ট্র—এমন ঘটনা সেসব দেশেও ঘটেছিল।
১৯৮০ সাল পর্যন্ত ডাউজোনস ইনডেক্স ছিল এক হাজারের নিচে, যা পরের দুই দশকে বেড়ে ১০ থেকে ১১ হাজারের মধ্যে ওঠানামা করছিল। ২০০৭-এর ৯ অক্টোবর এটি রেকর্ড ১৪১২৬ হয়ে যায়। তারপর হঠাৎ করে লেম্যান ব্রাদার্স নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করে এবং ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১৫০ ডলার ছুঁতে পারে, এই ভয়ে বাজার বেসামাল আচরণ করতে থাকে এবং কমতে কমতে ৯ মার্চ ২০০৯ সালে এটি ১০ বছরে সর্বনিম্ন ৬৫৪৭ দশমিক ৫ সূচকে নেমে আসে। এখানেই শেষ নয়। নানা রকম সরকারি প্রণোদনা ও বাজার সংস্কারের পর এই সূচক আবার বাড়তে থাকে। তার পরও ৬ মে ২০১০ হঠাৎ এক দিনে ৯৯৮ পয়েন্ট পড়ে যায় এই সূচক। তার মানে এক দিনে এক হাজার পয়েন্ট সূচক পতন শুধু বাংলাদেশে নয়, আমেরিকাতেও হয়। আমেরিকার বিনিয়োগকারীরা কি তখন রাস্তায় নামে, টায়ারে আগুন দেয়? ডাউজোনসের প্রধান নির্বাহী আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রধানকে আক্রমণ করে কথা বলেন? বিরোধী দল একেক দিন হাজার হাজার কোটি ডলার চুরি হয়ে গেছে বলে নানা রকম কাল্পনিক হিসাব দিয়ে সেমিনার বা প্রেস কনফারেন্স করে? দুঃখজনক হলেও এটাই সত্য যে বাংলাদেশে এই আচরণগুলো আমরা গত কয়েক মাসে দেখেছি।
আমেরিকার বাজারে এমন হয়েছিল, কারণ আশি ও নব্বইয়ের দশকে উচ্চপ্রযুক্তি নির্মাতা ও প্রযুক্তিসেবা প্রদানকারী ডট কম কোম্পানিগুলোতে মানুষ প্রচুর বিনিয়োগ করে একটি অর্থনৈতিক বুদ্বুদ তৈরি করেন। দুর্বল মৌল ভিত্তির এই কোম্পানিগুলোর দাম হঠাৎ ৭৮ শতাংশ কমে গেলে বিনিয়োগকারীরা পথে বসে যান। তখনকার ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রধান অ্যালান গ্রিনস্প্যান এটি বুঝতে পারেননি। ফলে ২০০১ থেকেই সেখানে মন্দা শুরু হয়। বুশ সাহেব এই সুযোগে বড়লোকদের ওপর কর কমিয়ে দিয়ে বলতে থাকেন, এতে করে বিনিয়োগ বাড়বে। গ্রিনস্প্যান সাহেব সুদের হার কমিয়ে দেন এবং বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বাড়িয়ে দেন। ফলে প্রযুক্তির বুদ্বুদকে প্রতিস্থাপন করে হাউজিং বুদ্বুদ। রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বিরাট বৃদ্ধি ঘটে এবং এই খাতে লেনদেন ও ঋণপ্রবাহ বেড়ে যায়।
২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩২ ডলার থেকে বেড়ে ১৩৭ ডলার হয়ে গেলে প্রতিদিন আমেরিকাকে আগের চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি খরচ করে ১৪০ কোটি ডলারের তেল আমদানি করতে হচ্ছিল। অর্থাৎ শুধু তেল বাবদ আমেরিকার এক সপ্তাহের খরচ ছিল আমাদের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সমান। এরপর রিয়েল এস্টেট ব্যবসার ধস এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বেসামাল সাবপ্রাইম মর্টগেজজনিত মূলধন হারানোর ফলে একে একে এআইজি এবং লেম্যান ব্রাদার্সের মতো নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো দেউলিয়া হয়ে যেতে থাকে। তারা এমনকি পেনশন ফান্ডের টাকা নিয়েও নানা রকম ফাটকাবাজি করেছিল। বারাক ওবামাকে শেষ পর্যন্ত বুশ সাহেবের বেইল আউট প্ল্যানকে টেনে নিয়ে যেতে হয় এবং জনগণের অর্থ জোগান দিয়ে বাজার বাঁচাতে হয়। এখন ১ ফেব্রুয়ারি ডাউজোনস ইনডেক্স ছিল ১২০৪০। কিন্তু এই কাজ করতে গিয়ে ওবামাকে খেসারত দিতে হয়েছে তাঁর জনপ্রিয়তার বিরাট একটি অংশ। তাঁর স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও আমরা গত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনসমর্থনের এমন একটি আলামত দেখেছি।
আমাদের বক্তব্য খুবই সাধারণ। শেয়ারবাজারের এই সাম্প্রতিক ধস নিয়ে উতলা হওয়ার কিছু নেই। বেশ কিছুদিন ধরেই বাজারে অনেকগুলো শেয়ার অতিমূল্যায়িত ছিল। এর পেছনে একটি বড় কারণ ছিল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মাত্রাতিরিক্ত বিনিয়োগ, বাজারে ভালো শেয়ারের অভাব এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বাজার সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা না থাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল এসইসির সমন্বয়হীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বুকবিল্ডিংয়ের মাধ্যমে শেয়ার বাজারে আসার আগেই তাকে অতিমূল্যায়িত হতে দেওয়া। যেমন—বাজারে আসবে এমআই সিমেন্ট ও মবিল যমুনা, যার মূল্য অনুপাত আয় যথাক্রমে ৫০ ও ৭০। অথচ এসইসি বলে দিয়েছে, ৪০-এর ওপরে কোনো কোম্পানির শেয়ারে ক্রেতাকে ঋণ-সুবিধা দেওয়া যাবে না। তাহলে এই শেয়ারগুলো যাঁরা কিনবেন, তাঁদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা কতটুকু? বাজারে মোট শেয়ার লেনদেনের ৬৫ ভাগ প্রাতিষ্ঠানিক হওয়ার কারণে এই অতিমূল্যায়নের দায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীকেই নিতে হবে। আশার বিষয় এই যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের কর্তা অ্যালান গ্রিনস্প্যানের মতো নন। তিনি এই বিষয়টি বুঝতে পেরে নতুন মুদ্রানীতিতে সংকুলানমুখী বা অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি আবাসন ব্যবসা ও শেয়ার ব্যবসায় মুদ্রা সরবরাহে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছেন। তিনি কারসাজিকারী অর্থলোভীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ভবিষ্যৎ প্রপার্টি ক্রাঞ্চ বা আবাসন ব্যবসার বিপদ সম্পর্কে আমাদের সতর্ক করেছেন। তিনি উৎপাদনশীল খাত যেমন—কৃষি, অবকাঠামো, জ্বালানি খাত ও শিল্পে বিনিয়োগকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। সব নেতিবাচক ঘটনার সঙ্গে ইতিবাচক বিষয়ও থাকে। এই বাজারধস আমাদের সামনে নতুন কিছু সুযোগ এনে দিয়েছে। সরকার সৎ ও নিরপেক্ষ মানুষদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং ধস রোধে বাজারসংক্রান্ত নানা ধরনের সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ধস না হলে আমাদের এই বাজারে কুচক্রীরা (তদন্তাধীন বলে নাম বললাম না) চিরদিন এভাবে মানুষের পকেট মারত। সংস্কারের পর আমাদের এই বাজার আরও নিরাপদ হবে বলে আমরা মনে করি।
আমরা ভবিষ্যতে বাজারধস এবং এরপর বিক্ষোভ এড়াতে বিবেচনার জন্য কিছু প্রস্তাব করছি।
বাজারে আইপিওসংক্রান্ত সব প্রচারণায় সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ চালু করতে হবে, যাতে বলা থাকবে যে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে ঝুঁকি আছে এবং বাজার সম্পর্কে না জেনে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ে লাভক্ষতির দায় বিনিয়োগকারীকে নিতে হবে। সেকেন্ডারি বাজারে বিনিয়োগকারীদের ঠিকানায় তাদের ব্রোকাররা চিঠি দিয়ে এটি জানানোকে বাধ্যতামূলক করতে হবে।
সব বিনিয়োগকারীর জন্য একটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশিক্ষণের জন্য বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত এবং প্রশিক্ষণের মান তদারক করতে হবে। মালয়েশিয়ায় এটি রয়েছে।
রেমিট্যান্স কমছে, আমদানি ব্যয় বাড়ছে, খাদ্য ও জ্বালানির দামও বাড়ছে। শেয়ার মার্কেট বাঁচাতে গিয়ে এমন কিছু করা যাবে না, যাতে দেশের সমগ্র অর্থনীতির ওপর চাপ আসে।
আমাদের সনাতনী ব্যাংকব্যবস্থায় ব্যাংকের ক্রেডিট রেটিং আমরা জানি। কিন্তু তাদের সাবসিডিয়ারি মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউস সম্পর্কে কিছুই জানি না। ফলে ব্যাংকগুলো ফাটকাবাজি করতে পেরেছে। আমরা প্রস্তাব করছি, এই সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রেডিট রেটিং বাধ্যতামূলক করা হোক এবং এটি বহুল প্রচারিত গণমাধ্যমে প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হোক।
এসইসিকে ঢেলে সাজানো হোক এবং তাকে যথেষ্ট ক্ষমতায়িত করা হোক, যাতে তারা কারসাজিকারীদের প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে পারে।
বাজারসংক্রান্ত গুজব রটনাকারী, কারসাজিকারী এবং বাজারধসের পর বিক্ষোভের নামে শান্তি বিনষ্টকারী তৎপরতা রোধে আইন ও শাস্তির বিধান করা হোক। ভারতে যেমন হর্ষদ মেহতাকে শাস্তি পেতে হয়েছে।
কোম্পানিগুলোর অতিমূল্যায়নের সঙ্গে জড়িত এবং ভুয়া হিসাব বিবরণী তৈরি করে, এমন অডিট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান করা হোক। যেমন—আমেরিকায় এনরন কেলেঙ্কারির জন্য অ্যান্ডারসনকে চিরকালের জন্য নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
যত দ্রুত সম্ভব দেশে সরকারি যত লাভজনক প্রতিষ্ঠান আছে, তার শেয়ার বাজারে নিয়ে এসে বাজারে শেয়ারের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য তৈরি করতে হবে।
বুকবিল্ডিং পদ্ধতির সংস্কারের আগে বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানকে বুকবিল্ডিংয়ের মাধ্যমে বাজারে আসতে দেওয়া যাবে না।
ইনসাইডার বা বাজারে লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত মালিক বা কর্মচারীদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
সংকট উত্তরণের পর কী করতে হবে, এ বিষয়ে জোসেফ স্টিগলিজ তাঁর ফ্রি ফল বা অনিয়ন্ত্রিত পতন নামের বইটিতে যে সমাধান দিয়েছেন, সেটি বাংলাদেশের উপযোগী করে অনুসরণ করা যেতে পারে। তিনি বলেছেন, বাজারকে একটি আধুনিক বাস্তবসম্মত পদ্ধতির অধীনে নিজের মতো চলতে দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কেবল রেগুলেটরের ভূমিকা পালন করবে এবং বিনিয়োগকারীর আইনগত নিরাপত্তা প্রদান করবে। তাই প্রয়োজনীয় সংস্কারের পর বাজারকে তার নিজের গতিতে চলতে দিতে হবে। দেশে বিদ্যুৎ-সংকট কমে গেলে, নতুন কলকারখানা তৈরি হলে এমনিতেই বাজার শক্তিশালী হতে শুরু করবে।
শেয়ারবাজারে যারা কুকীর্তি করেছে, তারা কেবল নিজের ভালো চেয়েছে। তাদের কাছে দেশ, সরকার, জনগণ, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, দল, আদর্শ সবই তুচ্ছ। এদের কাছে প্রভু কেবল লোভ। কে এল, কে গেল, তাতে এদের কিছু আসে-যায় না। টাকা এলেই হলো। তাই সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, তারা শক্ত সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবে না। বিরোধী দলের কাছে আমাদের চাওয়া, সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা এবং প্রয়োজনে সহযোগিতা। সরকারের তরফ থেকে তাদের সঙ্গে নিয়ে নিলে এটা আরও সহজ হবে। আর গণমাধ্যমগুলোর দায়িত্ব এখানে সবচেয়ে বেশি। কারণ সব পক্ষকে এক জায়গায় নিয়ে আসা সম্ভব না-ও হতে পারে। কিন্তু প্রত্যেকের কথা একে অন্যের কাছে পৌঁছে দিতে পারে কেবল তারাই।
ডা. আব্দুন নূর তুষার: সভাপতি, প্রথম আলো বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদ ও বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশন।
হাসান মাহমুদ বিপ্লব: আইনজীবী ও সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশন।

দার্জিলিংয়ে বন্ধ্ চলছেই

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জনমুক্তি মোর্চার দুজন কর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় গতকাল শুক্রবারও বন্ধ্ পালিত হযেছে।এ ছাড়া পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার ‘পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনগণের কমিটি’ গতকাল ২৪ ঘণ্টার বন্ধ্ কর্মসূচি পালন করে। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
অনির্দিষ্টকালের বন্ধ্ অব্যাহত থাকায় দার্জিলিংয়ে বেড়াতে আসা দেশি-বিদেশি বহু সংখ্যক পর্যটক দুর্ভোগ পোহায়। পশ্চিমবঙ্গের পর্যটনমন্ত্রী মানব মুখোপাধ্যায় পর্যটকদের আপাতত দার্জিলিং ও ডুয়ার্সে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার সকালে জেলার ডুয়ার্সের সিবচুতে পুলিশ ও জনমুক্তি মোর্চার কর্মীদের সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ওই দিন থেকেই দার্জিলিং ও ডুয়ার্সে অনির্দিষ্টকালের বন্ধ্ ডাকা হয়।

মালয়েশিয়ায় সোমালি জলদস্যুদের বিচার শুরু

মালয়েশিয়ার আদালতে সোমালিয়ার সাত জলসদ্যুর বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার তাদের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কয়েকজন জলদস্যুকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। এশিয়ার কোনো দেশে এই প্রথম সোমালি জলদস্যুদের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলো।
কুয়ালালামপুরের একটি আদালতে গতকাল জলদস্যুদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। তবে এ সময় জলদস্যুদের কেউই আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি।সরকারপক্ষের কৌঁসুলি মোহাম্মদ আবা জাফরি জানান, বিচারের সম্মুখীন জলদস্যুদের মধ্যে তিনজনের বয়স ১৫ বছরের মধ্যে। গত জানুয়ারি মাসে মালয়েশিয়ায় একটি ট্যাঙ্কার ছিনতাইকালে তাদের আটক করা হয়। জাফরি বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তিন জলদস্যুর সর্বোচ্চ শাস্তি না-ও হতে পারে।

পাকিস্তানে ২২ জনের মন্ত্রিসভা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি গতকাল শুক্রবার নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছেন। মন্ত্রিসভার আকার অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে আনা হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য ২২ জন। যেখানে আগের মন্ত্রিসভায় ছিলেন ৫৪ জন।
সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং বিরোধীদের দাবিতেই মন্ত্রিসভার আকার ছোট করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী গিলানি।পাকিস্তানের আগের মন্ত্রিসভা ছিল বিশ্বের অন্যতম বড় মন্ত্রিসভা। সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছিল বিশাল আকারের ওই মন্ত্রিসভা। বিশেষ করে দেশটির অর্থনীতি যখন আন্তর্জাতিক সাহায্যের ওপর নির্ভর।আশা করা হচ্ছে, অর্থমন্ত্রী হাফিজ শেখ নিজ পদেই বহাল থাকবেন। এতে করে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সঙ্গে পাকিস্তানের দেনদরবারে ধারাবাহিকতা থাকবে।এ ছাড়া মন্ত্রী হিসেবে নতুন পাঁচজনের নাম ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী গিলানি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশিকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পুনর্নির্বাচনে লড়বেন কাজাখ প্রেসিডেন্ট

কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট নুরসুলতান নজরবায়েভ আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে রাজি হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ক্ষমতাসীন দল নুর ওতানের সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। নজরবায়েভ বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য রাজি হয়েছি আমি।’ আগামী ৩ এপ্রিল সেখানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। সাংবিধানিক সংশোধনের সূত্র ধরে এর আগে একটি ডিক্রি জারির মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ঘোষণা করেন নজরবায়েভ। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট পদে পরবর্তী পাঁচ বছরের মেয়াদে তাঁরই নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

দক্ষিণ সুদানে সংঘর্ষে নিহত ১০৫

দক্ষিণ সুদানের গোলযোগপূর্ণ জংলেই রাজ্যে সেনাদের সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে অন্তত ১০৫ জন নিহত হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র গতকাল শুক্রবার এ তথ্য জানান।ফিলিপ আগুয়ের নামের ওই মুখপাত্র জানান, দক্ষিণাঞ্চলের সেনাবাহিনীর দলত্যাগী জেনারেল জর্জ আতহোর সমর্থকেরা গত বুধবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে সাউথস সুদান পিপলস লিবারেশন আর্মির (এসপিএলএ) ওপর হামলা চালায়। এরপর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। গত মাসেই দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। আগুয়ের জানান, শুধু ফানগাক শহরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সামরিক বাহিনী, এসপিএলএ, পুলিশ, কারারক্ষীসহ ২০ জন এবং বিদ্রোহী ৩০ জন নিহত হয়। এ ছাড়া নারী, শিশুসহ ৩৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। সংঘর্ষে বেসামরিক নাগরিক, এসপিএলএর সদস্যসহ অন্তত ৯৫ জন আহত হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১০৫ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।আগুয়ের আরও জানান, বিদ্রোহীরা আকস্মিকভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তাই হতাহতের সংখ্যা এত বেশি। হামলার ঘটনায় সবাই বিস্মিত। তিনি বলেন, ‘বিদ্রোহীদের যুদ্ধবিরতির বিষয়টি আমরা বিশ্বাস করেছিলাম।’এর আগে জানানো হয়, ফানগাক কাউন্টির ডুর অঞ্চলে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুদান রেডিও সার্ভিসে জেনারেল আতহোর অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় দক্ষিণাঞ্চলের সেনাবাহিনী দায়ী। তারাই প্রথমে হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ সুদানের জনবহুল রাজ্যে গত বছর গভর্নর নির্বাচনে অংশ নিয়ে হেরে যান আতহোর। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে ষড়যন্ত্র করে পরাজিত করা হয়েছে। এর পর থেকে বিদ্রোহ শুরু হয়।উল্লেখ্য, গত ৯ থেকে ১৫ জানুয়ারি দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বাধীনতার পক্ষে প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট পড়ে। সম্প্রতি সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর হাসান আল বশির দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতা মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন।

মঙ্গল গ্রহে অভিযান চালাতে আজ গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা

মঙ্গল গ্রহে অভিযানে যেতে দেড় বছর ধরে পরীক্ষামূলক গবেষণা চালানো স্বেচ্ছাসেবী দলের সদস্যরা আজ শনিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা চালাবেন। লাল রঙের এই গ্রহে অবতরণ করলে কী প্রতিক্রিয়া হবে—এই পরীক্ষার মাধ্যমে তা জানবেন তাঁরা। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি ও মস্কোর ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিকেল প্রবলেমস যৌথভাবে এই পরীক্ষার আয়োজন করেছে। এই পরীক্ষাকে মার্স-৫০০ নামে অভিহিত করা হচ্ছে।
পরীক্ষাটি চালাতে মঙ্গল গ্রহের উপযোগী আবহ তৈরি করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবী ওই দলের ছয় সদস্যের মধ্যে তিনজন আজ কৃত্রিম আবহে মঙ্গল গ্রহে অবতরণ করবেন। সোমবার প্রথমবারের মতো ‘মঙ্গলের উপরিভাগে হাঁটবেন’ তাঁরা।এর মাধ্যমে মঙ্গল অভিযানের জন্য স্বেচ্ছাসেবী দলটির পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ হবে। স্বেচ্ছাসেবীদের ৫২০ দিনের জন্য বাইরের সব ধরনের যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে। মঙ্গল অভিযানে সম্ভাব্য যতটা সময় লাগতে পারে, সেই সময় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার মানসিক চাপ সামলানোর সক্ষমতা তৈরির জন্য এটা করা হচ্ছে।ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির জেনিফার এনগো-আন জানান, সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। বাস্তব অভিযানের মতো সবকিছু করতে হচ্ছে তাঁদের।

পাকিস্তানে ১১ জঙ্গি নিহত

পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকায় গতকাল শুক্রবার ১১ জন জঙ্গিকে হত্যা করেছে সেনারা। সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র এ কথা জানান।মুখপাত্র জানান, সোয়াত উপত্যকায় বিশৃৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে জঙ্গিদের একটি ষড়যন্ত্র সেনারা ব্যর্থ করে দেয়। এ সময় তারা ১১ জন জঙ্গিকে হত্যা করে। সোয়াতের কাছে উপজাতি অধ্যুষিত মোহমান্দ এলাকায় তালেবানের বিরুদ্ধে সেনারা অভিযান জোরদার করে।

নিজেকে রক্ষা করে গেছেন মোবারক, জনগণকে নয়

মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক ১৯৮১ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি দায়িত্ব নেন। এর পর থেকে বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ক্ষমতায় টিকে থাকেন তিনি। ক্ষমতায় থাকাকালে তাঁকে হত্যার জন্য অন্তত ১০ বার বড় ধরনের হামলা চালানো হয়। প্রতিবারই নিজেকে বাঁচাতে সক্ষম হন তিনি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, নিজেকে রক্ষা করতে সমর্থ হলেও নিজ দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
আল-জিহাদ, জামা ইসলামিয়া ও তালায়ে আল-ফাতাহসহ মিসরের বেশ কয়েকটি কট্টরপন্থী সংগঠনের সদস্যরা দেশে ও বিদেশে মোবারককে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। মোবারককে হত্যার উদ্দেশ্যে ইসলামি জঙ্গিরা ১৯৯৩ সালে তাঁর কায়রোর বাসভবনে রকেট হামলা চালায়। এটি ছিল তাঁর ওপর প্রথম সরাসরি হামলা। এটি ব্যর্থ হলেও জঙ্গিরা থেমে থাকেনি। ১৯৯৫ সালে আদ্দিস আবাবায় প্রেসিডেন্টের গাড়িবহর লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। পরের বছর লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফির সঙ্গে বৈঠকের সময় তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। অবশ্য এসব তৎপরতার কোনোটাই সফল হয়নি। তবে ১৯৯৯ সালের সেপ্টেম্বরে পোর্ট সৈয়দে এক ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে মোবারক সামান্য জখম হন।হামলার হাত থেকে বারবার রক্ষা পেলেও অন্য ধরনের আক্রমণের শিকার হন মোবারক। ২০০৪ সালে জার্মানিতে মোবারকের অন্ত্রের অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর গুজব ছড়িয়ে পড়ে, ওই অস্ত্রোপচার ব্যর্থ হয়েছে। মোবারক জার্মান চিকিৎসকদের ছুরি-কাঁচির খোঁচায় মারা গেছেন। জোর গুজবের মুখে ২০০৭ সালে তিনি ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়ে জনসমক্ষে হাজির হন। হোসনি মোবারকের তিন দশকের শাসনাবসানের দাবিতে গত ২৫ জানুয়ারি থেকে মিসরে বিক্ষোভ শুরু হয়। নিরাপত্তা বাহিনী ও মোবারকের সমর্থকদের সঙ্গে সহিংসতায় সেখানে এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার মোবারকের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, মোবারক বারবার নিজের জীবন রক্ষা করতে সমর্থ হলেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। এর পরিণতিতে তাঁর ক্ষমতার আসন টলে ওঠে। জনগণের দাবির মুখে শেষ পর্যন্ত গতকাল সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন এই একনায়ক।
বয়সের ভারে ন্যুব্জ মোবারক তাঁর উত্তরাধিকার হিসেবে ছোট ছেলে গামাল মোবারকের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন—একসময় এমন গুজব লোকমুখে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সরকারের ভেতরের বড় অংশের প্রবল বিরোধিতার কারণে মোবারকের সে উদ্যোগ সফল হয়নি।বিমানবাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে হোসনি মোবারক পেশাগত জীবন শুরু করেন ১৯৫০ সালে। ১৯৭২ সালে বিমানবাহিনীর চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন। কায়রোতে ১৯৮১ সালের ৬ অক্টোবর ইসলামি জঙ্গিদের গুলিতে প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত নিহত হন। এর এক সপ্তাহ পর তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট মোবারক তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। এর পরের মাসে গণভোটে মোবারক প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এর আগে সাদাতই তাঁকে ভাইস প্রেসিডেন্ট করেছিলেন।

উল্টো স্রোতে আশরাফুল-নাফীস

অনুশীলন প্রায় শেষ। অনেকে ড্রেসিংরুমেও ফিরে গেছেন। মোহাম্মদ আশরাফুল আর শাহরিয়ার নাফীসের ব্যাটিং করার সুযোগ মিলল তখন। দলের মূল বোলাররা সব ক্লান্ত, শেষ বিকেলে গুটি কয়েক নেট বোলার নিয়েই তাই চলল দুজনের নেট প্র্যাকটিস। দূরে কোচ জেমি সিডন্স আর ফিল্ডিং কোচ জুলিয়েন ফাউন্টেন মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ প্র্যাকটিস করাচ্ছেন। নেটে কারা ব্যাট করছেন, সেদিকে ফিরেও তাকালেন না কেউ।
দৃশ্যটা গত পরশুর হলেও বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে এ ঘটনা নিয়মিতই। জেমি সিডন্সের অনুশীলনের ছকটাই এমন যে, সেখানে ‘ব্যাকআপ’ খেলোয়াড়েরা দূরের মানুষ। সবাইকে নিয়ে হাঁটার নীতি থেকে একটু যেন দূরে কোচ। কোনো সিরিজের জন্য ১৮-২০ সদস্যের প্রাথমিক দল দিলে সেটাকে ছেঁটে ১৪-১৫ জনে নামিয়ে আনার জন্য অস্থির হয়ে ওঠেন। আর ১৪-১৫ জনের দল পেয়ে গেলে তাঁর মাথায় ঢুকে যায় প্রথম একাদশের চিন্তা। সম্ভাব্য যেসব ক্রিকেটারকে খেলাবেন বলে মনে মনে ঠিক করে রাখেন, অনুশীলনে তাঁদেরই প্রাধান্য। অন্যরা হয়ে যান আশরাফুল-শাহরিয়ারের মতো ‘ব্যাকআপ’ খেলোয়াড়!
বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার পরদিনই এই দুই ব্যাটসম্যানকে ডেকে কোচ বলে দিয়েছেন, অন্যরা খারাপ খেললেই কেবল খেলার সুযোগ মিলবে তাঁদের। টপ-অর্ডারে যেমন তামিম, ইমরুল বা জুনায়েদের বিকল্প শাহরিয়ার, তেমনি মিডল-অর্ডারে রকিবুল ভালো না করলেই শুধু আশরাফুলের দরজা খুলতে পারে। তার পর থেকেই আশরাফুল-শাহরিয়ার দলে ‘ব্যাকআপ’ ক্রিকেটারের ‘মর্যাদা’ পাচ্ছেন। সবার যখন শেষ, তাঁদের তখন শুরু। সিডন্সের অনুশীলনে অবশ্য ‘ব্যাকআপ’ খেলোয়াড়দের জন্য একটা ‘ব্যাকআপ’ ছকও রাখা আছে। অনুশীলনের শুরুতে ৫০ মিনিটের ‘ফ্রি টাইম’ দেওয়া হয় যাঁর যে রকম প্রয়োজন সে রকম অনুশীলন করার জন্য। শাহরিয়ার ওই সুযোগটাকেই দেখছেন বড় পাওয়া হিসেবে, ‘এই ৫০ মিনিট আমি আমার মতো ব্যাটিং করি। এ ছাড়া অন্যদের অনুশীলনের সময় নেট না পেলেও আমরা চাইলে নিজেদের মতো অনুশীলন করতে পারি। আজ (গতকাল) যেমন দুই ঘণ্টা ধরে শুধু নক করলাম। কাজেই এ নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই।’
ক্যারিয়ারে এর চেয়েও খারাপ সময় গেছে। শাহরিয়ার হয়তো সে অভিজ্ঞতা দিয়েই বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছেন। কিন্তু মোহাম্মদ আশরাফুল? সব সময়ই দলের মধ্যে আলাদা গুরুত্ব পেয়ে অভ্যস্ত সাবেক এই অধিনায়কের কাছে মুদ্রার উল্টো পিঠ দর্শন ভালো না লাগারই কথা। বাংলাদেশের অনেক সাফল্যের নায়ককে আজ নেট প্র্যাকটিসের জন্যও অপেক্ষায় থাকতে হয়! জায়গা হয় না অনুশীলন ম্যাচের ১২ জনের দলেও! সময়ের উল্টো স্রোত আশরাফুলের কাছে তিক্তই ঠেকছে, ‘এবার শুরু থেকেই আমি সবার শেষে ব্যাটিং করছি। প্রথম প্রথম খারাপ লাগলেও এখন মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।’
শাহরিয়ার যতই বিষয়টাকে স্বাভাবিকভাবে নেন, আর আশরাফুল মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন, চূড়ান্ত দলের ১৫ জন ক্রিকেটারকে আলাদা করে ফেলাটা চোখে পড়ছে বৈকি। আগে দলের সবাইকে নিয়েই ব্যাটিং-অর্ডার ধরে ধরে নেট প্র্যাকটিস হতো। এখন বেশির ভাগ সময়ই সেটা হয় ১১ জন হিসাব করে। তামিম, ইমরুল, জুনায়েদ, মুশফিকুর (বিশ্বকাপে তাঁকে চার নম্বরে খেলানোর পরিকল্পনা আছে), সাকিব, রকিবুল...এভাবেই এগোতে থাকে নেট প্র্যাকটিস। এরপর সময় থাকলে সুযোগ মেলে ‘ব্যাকআপ’দের।
সিডন্সের এই নীতির সঙ্গে একমত নন জাতীয় দলের সাবেক সহকারী কোচ খালেদ মাহমুদ। জাতীয় দলের সঙ্গে থাকার সময়ও এ নিয়ে দ্বিমত প্রকাশ করতেন, এখনো তাই করছেন, ‘শাহরিয়ার ওপেনিং বা তিন নম্বরে খেলে বলে ওর নতুন বলে ব্যাটিং প্র্যাকটিস দরকার। ওকে সবার শেষে ব্যাটিং দিলে তো ওর লাভ হবে না।’ একাদশে না রাখার সিদ্ধান্তটি কাউকে আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়াটাও তাঁর কাছে ক্রিকেটীয় মনে হয় না, ‘একজন খেলোয়াড় ম্যাচের দিন সকালেও ইনজুরিতে পড়তে পারে। এখন আমি যদি অন্যদের জানিয়ে দিই, তোমরা দলে নেই, তারা তো প্রস্তুত থাকবে না। তা ছাড়া ক্রিকেটাররা অনেক সংস্কার মেনে চলে। কেউ হয়তো খেলার আগের রাতে নয়টার সময় ঘুমিয়ে পড়ে। যদি জানে যে সে দলে নেই, খেলার আগের দিন হয়তো সে রাত জাগবে। পরদিন খেলতে হলে সে তখন কী করবে?’
প্রশ্নটার উত্তর বোধ হয় ভালো দিতে পারবেন জেমি সিডন্সই।

ব্যাটিং অনুশীলনে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৩৫১

হল্যান্ডের দুর্বল বোলিংয়ের বিপক্ষে রীতিমতো ব্যাটিং অনুশীলনই সেরে নিল শ্রীলঙ্কা। থারাঙ্গা, দিলশান, সামারাবীরা, চামারা সিলভা, কাপুগেদারা সবাই ব্যাটিং অনুশীলন করে হয়ত দারুণ খুশি। ব্যাটিংয়ে নামেননি দলের দুই প্রধান ব্যাটসম্যান অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা ও মহেলা জয়বর্ধনে। আর তাতেই শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৩৫১।
হল্যান্ডের পক্ষে মুদাসসর বুখারি ৫২ রানে ২ উইকেট নিয়ে নিজের বোলিং সামর্থ্যের প্রমাণ রেখেছেন। আদিল রাজা ও সিলার ১টি করে উইকেট সংগ্রহ করেন।

সারওয়ানের সেঞ্চুরিতে মান বাঁচাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

বিশ্বকাপ শুরুর একেবারে আগমুহূর্তে ব্যাটিং ব্যর্থতার পরিচয় দিলেন উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা। আজ শ্রীলঙ্কায় কেনিয়ার বিপক্ষে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে সাত উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্কোরবোর্ডে যোগ হয়েছে ২৫৩ রান। শুধু রানের অঙ্কটাই দেখলে হয়তো ব্যাটিং বিপর্যয়ের চিত্রটা পুরোপুরি বোঝা যাবে না। ২০ ওভার শেষে মাত্র ৬৫ রান সংগ্রহ করতেই বিদায় নিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান চার ব্যাটসম্যান। শেষ পর্যন্ত যে তারা ২৫৩ রানের লড়িয়ে পুঁজি সংগ্রহ করতে পেরেছে, তার পুরো কৃতিত্বটা রামনরেশ সারওয়ানের প্রাপ্য। ১২৫ বলে ১২৩ রানের লড়াকু এক ইনিংস খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মান বাঁচিয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। আউট হয়েছেন ইনিংসের শেষ বলে।
টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কেনিয়ান অধিনায়ক জিমি কামান্ডে। মাত্র ৩২ রানের মাথায় দুই ওপেনার ডেবন স্মিথ ও আড্রিয়ান বারাথকে সাজঘরে পাঠিয়েছিলেন টমাস ওডোয়ো। খুব ধীর গতিতে ব্যাট করতে করতে ২০ ওভার শেষে বিদায় নেন ড্যারেন ব্রাভো আর চন্দরপল। স্কোরবোর্ডে তখন যোগ হয়েছিল মাত্র ৬৫ রান। পঞ্চম উইকেটে ৯৪ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয়টা কিছুটা সামাল দেন সারওয়ান আর ডোয়াইন ব্রাভো। ৫৪ রান করে ব্রাভো আউট হয়ে গেলেও একাই রানের চাকা ঘুরিয়ে গেছেন সারওয়ান। এরপর বড় আর কোনো জুটি গড়ে না উঠলেও তাঁর ১২৩ রানের সুবাদে উইন্ডিজ স্কোরবোর্ডে শেষ পর্যন্ত জমা হয় ২৫৩ রান।

সুস্থ হয়ে উঠছেন স্টুয়ার্ট ব্রড

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে স্টুয়ার্ট ব্রডের অনুপস্থিতিটা বেশ ভালোমতোই টের পেয়েছে ইংল্যান্ড। ইনজুরির কবলে পড়ে অ্যাশেজ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের পর থেকেই আর মাঠে নামতে পারেননি এই ইংলিশ পেসার। তবে ইংল্যান্ড সমর্থকদের জন্য সুখবর হচ্ছে, খুব দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বিশ্বকাপটা যে তিনি ভালোমতোই খেলতে পারবেন—সে আশাটা তাঁর রয়েছেই। গতকাল শুক্রবার ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ব্রড বলেছেন, ‘আমি এখন পুরোপুরি সুস্থ। আর বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়ার জন্য আমি উদগ্রীব হয়ে আছি।’ ১৯৯২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের আসরে একেবারেই পাত্তা পায়নি ইংল্যান্ড। শেষ চারটি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের বাধাই পেরোতে পারেনি ক্রিকেটের জনকরা। তবে এবার দীর্ঘদিন পর তারা বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে অন্যতম ফেবারিট হিসেবে। আর গত দুই বছরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবেই সাফল্যের দেখা পেয়েছে ইংল্যান্ড। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজে পেয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বাদ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে সিরিজটা হেরে গেলেও এর আগে তারা জিতেছিল টানা পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজ। এই সাফল্যগুলো নিশ্চিতভাবেই এবারের বিশ্বকাপে একটা বড় প্রভাব রাখবে বলে মনে করেন ব্রড। তিনি বলেছেন, ‘আমরা গত দুই বছরে একদিনের ক্রিকেটে খুবই ভালো খেলেছি। আমরা জানি, আমাদের বর্তমান এই দলটা খুবই শক্তিশালী। এখন শুধু আমাদের চার-পাঁচজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে এলেই আমরা আমাদের পুরো শক্তিটা ফিরে পাব।’

‘অতীত’ নিয়ে ভাবছেন না ভেট্টরি

নিউজিল্যান্ডকে বিশ্বকাপের ফেবারিট হিসেবে কখনোই বিবেচনা করা হয় না। কিন্তু তার পরও বিশ্বকাপের গত তিনটি আসরের দুটিতেই সেমিফাইনালে উঠে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল কিউইরা। ১৯৯২ বিশ্বকাপেও তারা ছিল শেষ চারের লড়াইয়ে। এবারও কি তেমন কোনো চমক দেখাতে পারবে বিশ্বকাপের ডার্ক হর্সরা? সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের আলোকে বিচার করলে অনেকেই হয়তো এমন ভাবনা মনে আনতে চাইবেন না। তবে ড্যানিয়েল ভেট্টরির পরিকল্পনা কিন্তু সেরকমই। অতীত নিয়ে খুব বেশি আক্ষেপ নয়, বরং ভুল শুধরে নিয়ে সামনের দিকে তাকাতেই বেশি আগ্রহী কিউই অধিনায়ক। আর উপমহাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে সাফল্যের ক্ষেত্রে নতুন কোচ জন রাইট অনেকখানি সহায়তা করতে পারবে বলেই বিশ্বাস ভেট্টরির।কিছুদিন আগেই বাংলাদেশ, ভারত সফরে এসে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা নিয়ে ফিরে যেতে হয়েছিল নিউজিল্যান্ডকে। দেশের মাটিতে পাকিস্তানের কাছেও সিরিজটা হেরে গেছে ৩-২ ব্যবধানে। তবে এখন আর সেই গ্লানির বোঝা না টেনে বিশ্বকাপে ভালো করার দিকেই বেশি মনোযোগ দিতে চাচ্ছেন ভেট্টরি। তিনি বলেছেন, ‘আমি সবসময়ই মনে করি যে, অতীত অতীতই। আগে যা ঘটে গেছে, তা নিয়ে এখন খুব বেশি কিছু করার নেই। তবে আশা করছি, আগের ওই ব্যর্থতাগুলো থেকে আমরা ভুলগুলো শুধরে নিতে পারব। আর পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জয়টা আমাদের কিছুটা আত্মবিশ্বাস এনে দেবে।’
বাংলাদেশ আর ভারত সফরে নাকাল হয়ে দেশে ফেরার পর অনেক কিছুরই পরিবর্তন করা হয়েছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে। মার্ক গ্রেটব্যাচের জায়গায় নতুন কোচ হিসেবে এসেছেন জন রাইট। বেশ কিছুদিন ভারতের কোচ হিসেবে কাজ করার সুবাদে উপমহাদেশের কন্ডিশনটাও বেশ ভালো মতোই জানা আছে রাইটের। এটাকে নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ মিশনের ক্ষেত্রে একটা বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন ভেট্টরি। তিনি বলেছেন, ‘উপমহাদেশের উইকেট, কন্ডিশন সম্পর্কে রাইটের একটা ভালো ধারণা আছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তাঁর এই অভিজ্ঞতাগুলো থেকে আমরা অনেক সুবিধা পাব।

ওয়ানডে ছাড়ছেন পিটারসেন !

বিশ্বকাপের পরপরই ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসরে যেতে পারেন কেভিন পিটারসেন। তবে, ওয়ানডে ক্রিকেট ছাড়লেও তিনি টেস্ট, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ‘অর্থকরী’ খেলা চালিয়ে যাবেন বলে খবর বেরিয়েছে। এ খবর অস্বীকার করেছেন পিটারসেন।গতকাল শুক্রবার ব্রিটেনের সংবাদপত্র দ্যা ডেইলি মেইল পিটারসেনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তিনি ওয়ানডে ক্রিকেট ছাড়তে চান, তাঁর পরিবারকে আরো বেশি সময় দেওয়ার জন্য।দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া তিরিশবছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানের অবশ্য ওয়ানডে ফর্মটা গত দুই মৌসুম ধরেই খারাপ যাচ্ছে। এসময়ে তাঁর সাফল্য বলতে রয়েছে একটি মাত্র অর্ধ-শতক। গত দুইবছরের বাজে ফর্ম ওয়ানডেতে পিটারসেনের গড় পঞ্চাশ থেকে ৪১-এ নামিয়ে নিয়ে এসেছে।সম্প্রতি, পিটারসেন বিশ্বকাপের সময়সূচি নিয়ে প্রকাশ্যেই সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, অস্ট্রেলিয়াতে চারমাসের সফর শেষে বিশ্বকাপের আগে মাত্র চারদিন পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কাটানোর সময় পাবে আমরা। এমন সময়সূচিই হয়তো বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ভালো না করার কারণ।
আজ শনিবার ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দলটি বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতিম্যাচ খেলতে নামবে ফতুল্লায়।