Monday, July 4, 2011

ভারতের মন্দির থেকে ৫০ হাজার কোটি রুপির ধনরত্ন উদ্ধার

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে একটি হিন্দু মন্দিরে বিপুল পরিমাণ সোনা-রুপার অলংকার, ধাতব মুদ্রা ও মূল্যবান পাথর পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
কেরালার মুখ্য সচিব কে জয়কুমার বলেন, এসব সম্পদের মূল্য ৫০ হাজার কোটি রুপির বেশি হবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
শ্রীপদ্মনাভস্বামী মন্দিরের কমপক্ষে পাঁচটি ভূগর্ভস্থ কুঠুরিতে হাজার হাজার সোনার চেইন, ধাতব মুদ্রা ও মূল্যবান পাথর রক্ষিত ছিল।
জয়কুমার বলেন, এখনো একটি গোপন কুঠুরি খোলা বাকি রয়েছে, যা প্রায় ১৪০ বছর ধরে খোলা হয়নি। তিনি বলেন, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এসব সম্পদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার পরই কেবল এগুলোর প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা যাবে।
কয়েক শ বছর আগে ত্রিবাঙ্কুরের রাজা মন্দিরটি নির্মাণ করেন। নির্মাণের পর থেকে ভক্তদের দেওয়া মূল্যবান উপহারসামগ্রী মন্দিরের ভূগর্ভস্থ কুঠুরিতে রাখা হতো।
গত বৃহস্পতিবার সেখানে পাওয়া একটি সোনার চেইন ছিল ১৮ ফুট লম্বা। এ ছাড়া সেখানে হাজার হাজার সোনার মুদ্রা পাওয়া গেছে।

চাঁদে পাঠানো ক্যামেরা ফিরে পেতে সাবেক নভোচারীর বিরুদ্ধে নাসার মামলা

অ্যাপোলো-১৪ অভিযানে চাঁদে পাঠানো ক্যামেরা ফিরে পেতে সাবেক নভোচারী এডগার মিচেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। খবর এপির।
মিচেল সম্প্রতি ওই ক্যামেরাটি নিলামে বিক্রির চেষ্টা করলে নাসা গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডার আদালতে মামলাটি করে। নাসা জানিয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই যে ওই ক্যামেরাটি চিরদিনের জন্য মিচেলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নাসা তা ফেরত চায়।
১৯৭১ সালে অ্যাপোলো-১৪ অভিযানে গিয়ে চাঁদে হাঁটা ষষ্ঠ ব্যক্তি মিচেল। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা রাজ্যের লেক ওর্থে বাস করছেন।
মিচেলের নামে থাকা ফোন নম্বরটির সংযোগ বর্তমানে বিচ্ছিন্ন। ক্যামেরাটির মালিক তিনি কি না, এ ব্যাপারে তাত্ক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চাঁদে পাঠানো ১৬ মিলিমিটার আকৃতির ওই ক্যামেরাটি ডেটা অ্যাকুইজিশন ক্যামেরা নামে পরিচিত। অ্যাপোলো-১৪ চন্দ্র অভিযানে পাঠানো দুটি ক্যামেরার মধ্যে এটি ছিল একটি।

বাহরাইনে শিয়া নেতাদের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু

বাহরাইনে চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে দেশটির সুন্নি শাসকগোষ্ঠী শিয়া নেতাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য জাতীয় সংলাপের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এতে সরকারবিরোধী প্রধান শিয়া জোট আল উয়িফাক যোগ দেবে বলে জানা গেছে।
গতকাল শনিবার সংলাপের উদ্বোধনী অধিবেশন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এতে বাহরাইনের পার্লামেন্টের স্পিকার খলিফা ধারানি বলেন, ‘সংলাপের আগে কোনো শর্ত আরোপ করা যাবে না। সংলাপে সবার মতামত নেওয়া হবে। সবার কাছ থেকে গ্রহণযোগ্য মত নিয়ে রাজনৈতিক সংস্কারের প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করা হবে।’
সংলাপের প্রসঙ্গে বাহরাইনের বাদশাহ হামাদ বিন ইসা আল খলিফা বলেন, সংলাপে সব ধরনের বিকল্প নিয়েই আলোচনা হতে পারে।
শিয়া জোট আল উয়িফাকের নেতা শেখ আলী সালমান গত শুক্রবার সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্যে বলেন, ‘আল উয়িফাক জনগণের দাবি থেকে সরে আসবে না। নির্বাচিত সরকার, সুষ্ঠু নির্বাচনী আইন ও পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন পার্লামেন্ট জনগণেরই দাবি।’
সুন্নিশাসিত বাহরাইনে সাংবিধানিক সংস্কার, রাজবন্দীদের মুক্তি ও নাগরিক অধিকারের দাবিতে কয়েক মাস ধরে আন্দোলন চলছে। এতে সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। শিয়ারাই দেশটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু বংশপরম্পরায় শাসন চালিয়ে যাচ্ছে সুন্নি আল-খলিফা রাজপরিবার। বর্তমান বাদশাহ হামাদ বিন ইসা আল খলিফা ১৯৯৯ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন।

সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেন মরক্কোর জনগণ

মরক্কোর বাদশাহ মোহাম্মদের একচ্ছত্র ক্ষমতা কমানো নিয়ে আয়োজিত গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন দেশটির জনগণ। গত শুক্রবার সেখানে খসড়া সংবিধান অনুমোদনের জন্য গণভোট হয়।
মরক্কোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তায়েব চেরকাউয়ি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ভোটের ফল ঘোষণা করেন। নির্বাচনে প্রায় ৭৩ শতাংশ ভোট পড়ে। এর মধ্যে প্রায় ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার দেশে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। চেরকাউয়ি জানান, গণভোটে তরুণ ভোটাররা দারুণ সাড়া দিয়েছেন। ভোট দিয়েছেন এমন ভোটারের শতকরা ৩০ ভাগেরই বয়স ৩৫ বছরের নিচে।
গতকাল মরক্কোর স্থানীয় সময় সকাল আটটায় ওই ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত চলে। ভোটের জন্য দেশটির প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ ভোটার নিবন্ধিত হন। আরব বিশ্বে গণতান্ত্রিক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য এ গণভোটের আয়োজন করা হয়।
তিউনিসিয়া ও মিসরে গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর মরক্কোতেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বাদশাহ মোহাম্মদ তাঁর কিছু ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও পার্লামেন্টের কাছে হস্তান্তরের লক্ষ্যে গত মাসে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দেন।
খসড়া সংবিধান অনুসারে পার্লামেন্টে নির্বাচিত প্রধান দল থেকে প্রধানমন্ত্রী বাছাই করা হবে। প্রধানমন্ত্রী হবেন মরক্কো সরকারের প্রধান। সংস্কারে প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসনিক ক্ষমতার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে বাদশাহই রাষ্ট্রপ্রধান থাকবেন। তাঁর হাতেই সেনাবাহিনী, ধর্মীয় কর্তৃত্ব ও বিচার বিভাগ থাকবে।
মরক্কোর প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল, ইউনিয়ন, সুশীল সমাজ, ধর্মীয় নেতা ও সংবাদমাধ্যমগুলো খসড়া সংবিধানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তবে গণতন্ত্রের জন্য কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া মূলত তরুণদের সংগঠন ফেব্রুয়ারি ২০ মুভমেন্ট গণভোটের নিন্দা জানিয়েছে। এই মুভমেন্টের অন্যতম নেতা নাজিব চায়োউকি বলেন, ‘এই গণভোট অবৈধ। কারণ, এতে গণতন্ত্রের মূল্যবোধগুলো লঙ্ঘিত হয়েছে।’ তিনি জানান, এর প্রতিবাদে তাঁরা আজ রোববার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবেন।
মরক্কোয় গণভোটের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মার্ক টোনার বলেন, গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাওয়ার পথে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শান্তিপূর্ণভাবে গণভোট আয়োজনের জন্য মরক্কোর জনগণ ও নেতৃত্বের প্রতি অভিনন্দন।
আরব দেশ মরক্কোয় রাজতন্ত্র চলছে দীর্ঘ সময় ধরে। ১৯৯৯ সালে ষষ্ঠ মোহাম্মদ বাদশাহ হন। গত ফেব্রুয়ারিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, উন্নত অর্থনৈতিক অবস্থা ও দুর্নীতি বন্ধের দাবিতে দেশটিতে কয়েক সপ্তাহ বিক্ষোভ চলে। এরপর মোহাম্মদ রাজনৈতিক সংস্কারের ঘোষণা দেন।
বাদশাহ মোহাম্মদের ১২ বছরের শাসনে এটাই প্রথম গণভোট। তিনি এ সংস্কার উদ্যোগকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেন।

হামা শহরের গভর্নরকে বরখাস্ত করলেন বাশার

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ গতকাল শনিবার হামা শহরের গভর্নরকে বরখাস্ত করেছেন। এর আগে গত শুক্রবার সিরিয়াজুড়ে লাখ লাখ মানুষ বিক্ষোভ করেছে। এই দিন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি ও গোলার আঘাতে ২৮ বিক্ষোভকারী নিহত হয়।
গতকাল সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ হামার গভর্নর আহমেদ খালেদ আবদেল আজিজকে বরখাস্ত করেছেন। শুক্রবার হামায় বাশারের পদত্যাগের দাবিতে কয়েক লাখ মানুষ বিক্ষোভ করে।
ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের প্রধান আম্মার কোরাবি নিকোসিয়া থেকে জানান, শুক্রবার ইদলিব প্রদেশে সেনারা সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন অভিযান চালিয়েছেন। এতে ১৬ জন নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন নারীও রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫০ বছর বয়সী একজন মা ও তাঁর ২০ বছর বয়সী মেয়েও রয়েছেন। আল-বারা গ্রামে মুরগির বাচ্চা উত্পাদনের একটি খামারে সেনাবাহিনীর গোলা নিক্ষেপের ঘটনায় তাঁদের প্রাণহানি ঘটে।
আম্মার কোরাবি আরও জানান, কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গুলি ছুড়ে। এতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল হোমসে আটজন এবং রাজধানী দামেস্কের পার্শ্ববর্তী কাদামে দুজন নিহত হয়। এ ছাড়া সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোতে একজন ও ভূমধ্যসাগরের উপকূলীয় শহর লাটাকিয়ায় অপর একজনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মানবাধিকার সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের প্রধান রামি আবদেল জানান, শুক্রবারের বিক্ষোভে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ অংশ নেয়। গত মার্চে সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এটাই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।

বিহারে মাওবাদী হামলায় নিহত ৬

ভারতের বিহার রাজ্যের উপজাতি-অধ্যুষিত মুঙ্গের জেলার কারেলি গ্রামে গতকাল শনিবার সকালে মাওবাদীদের হামলায় ছয়জন গ্রামবাসী নিহত হয়েছে। অপহরণ করা হয়েছে আরও আটজন গ্রামবাসীকে।
৫০ জন মাওবাদীর সশস্ত্র একটি দল গ্রামটিতে আকস্মিক হামলা চালায়। এতে ছয় গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া যাওয়ার সময় মাওবাদীরা আটজন গ্রামবাসীকে অপহরণ করে। বিহারের রাজধানী পাটনা থেকে এ গ্রামের দূরত্ব ২০০ কিলোমিটার।
বিহার রাজ্য পুলিশের প্রধান নীলমণি জানান, ঘটনাস্থলে ইতিমধ্যে পুলিশ চলে গেছে। মাওবাদীদের গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান চলছে।

সু চির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেভিন রাড গতকাল শনিবার মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইয়াঙ্গুনে দুই নেতার মধ্যে এ বৈঠক দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়।
মিয়ানমারে সেনা-সমর্থিত নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এই প্রথম কোনো অস্ট্রেলীয় প্রতিনিধি দেশটি সফর করছেন। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের সঙ্গে গত শুক্রবার সাক্ষাতের এক দিন পর রাড সু চির সঙ্গে সাক্ষাত্ করলেন। সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) মুখপাত্র জানান, আলোচনায় অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড মিয়ানমারের জন্য তাঁর দেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের দ্বিতীয় প্রধান সাহায্যকারী দেশ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।
মুখপাত্র আরও জানান, অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে কেভিন রাড আলোচনায় মিয়ানমারের মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির নিয়ে তাঁর দেশের মনোভাব ব্যাখ্যা করেন। সেই সঙ্গে এ পরিস্থিতিতে তাঁরা কীভাবে সেনাশাসিত দেশটিকে সহযোগিতা করছেন, তাও ব্যাখ্যা করেন।
দীর্ঘদিন গৃহবন্দী করে রাখার পর গত নভেম্বরে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সু চিকে মুক্তি দেওয়া হয়। এর পরপরই এক টেলিফোনবার্তায় রাড সু চিকে বলেন, আগামী দিনগুলোতে একজন নির্ভরযোগ্য বন্ধু হিসেবে অস্ট্রেলিয়া তাঁর পাশে থাকবে।

কাবুলে পাকিস্তান বিরোধী বিক্ষোভ

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে গতকাল শনিবার দুই শতাধিক আফগান পাকিস্তানবিরোধী বিক্ষোভ করেছে। আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানি রকেট হামলায় ১২ জনেরও বেশি আফগান নিহত হওয়ার প্রতিবাদে তারা এ বিক্ষোভ করে। এদিকে পাকিস্তানি হামলার ঘটনায় আফগান সরকারের নীরব ভূমিকায় আফগান পুলিশ কমান্ডার জেনারেল আমিনুল্লাহ আমারখেইল পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
কাবুলের রাস্তায় বিক্ষোভকারীরা ‘আমাদের মাটিতে পাকিস্তানের আগ্রাসনের নিন্দা জানাই’, ‘পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ‘চেনা শত্রু’ ইত্যাদি লেখা ব্যানার বহন করে। সাম্প্রতিক সময়ে এসব রকেট হামলার ঘটনায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে কিছুটা চিড় ধরেছে। আফগান সরকার জানিয়েছে, ইসলামাবাদের এ ধরনের আচরণে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
পাকিস্তান জানিয়েছে, জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালানোর সময় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া দুই-একটি রকেট অনিচ্ছাকৃতভাবে আফগান ভূখণ্ডে গিয়ে পড়তে পারে। তবে একই সঙ্গে ইসলামাবাদেরও অভিযোগ, আফগানিস্তান থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে জঙ্গিরা প্রায়ই পাকিস্তানি নিরাপত্তা-চৌকিগুলোতে হামলা চালিয়ে থাকে।
এদিকে পাকিস্তানি রকেট হামলায় হতাহতের ঘটনায় কারজাই সরকারের নীরব ভূমিকার প্রতিবাদে পূর্বাঞ্চলীয় আফগান পুলিশের সীমান্ত কমান্ডার আমারখেইল গত বৃহস্পতিবার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিনি এ পদত্যাগপত্র জমা দেন। তিনি আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানি রকেট পড়ার ঘটনাকে “আগ্রাসন” হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁর দাবি, গত ২০ দিনে পাকিস্তান থেকে আফগান ভূখণ্ডে চার শতাধিকবার রকেট হামলা চালানো হয়েছে। এতে ১২ জনেরও বেশি নিরীহ আফগান নিহত হয়।

আল-কায়েদা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন ওসামা বিন লাদেন

জীবনের শেষ দিনগুলোতে আল-কায়েদার নানামুখী সমস্যা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন। সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কটি পুনর্গঠন করতে প্রাণপণ চেষ্টাও করেছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট গতকাল শনিবার এ তথ্য দিয়েছে।
পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে ওসামার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা নথিপত্র পর্যালোচনা করছেন এমন মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, মৃত্যুর আগে আগে আল-কায়েদা নেতা তাঁর অনুসারীদের কাছ থেকে সংগঠনের নানা নেতিবাচক খবর পাচ্ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের চালকবিহীন বিমান হামলায় আল-কায়েদা সদস্যদের মৃত্যু এবং সংগঠনের আর্থিক দুরবস্থার কথা অনুসারীরা তাঁদের নেতাকে জানান।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ওসামার কাছে সংগঠনটির নেতাদের কাছ থেকে এই তথ্য আসে যে আল-কায়েদা ‘গুপ্তচরবৃত্তির যুদ্ধে’ হেরে যাচ্ছে এবং ক্ষুদ্র তহবিল দিয়ে কাজ চালানো যাচ্ছে না।
পত্রিকাটি জানায়, মৃত্যুর আগে ওসামা একটি পাল্টা গোয়েন্দা ইউনিট খোলার অনুমোদন দেন। এই ইউনিটের কাজ হচ্ছে আল-কায়েদার ভেতরে থাকা বিশ্বাসঘাতক ও গুপ্তচরদের চিহ্নিত করে নিশ্চিহ্ন করা।
ওয়াশিংটন পোস্ট আরও জানায়, অনুসারীদের কাছ থেকে হতাশাজনক খবর পাওয়ার পর ওসামা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে তাঁর খেলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কর্তৃত্ব স্থাপনে এমনকি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণেও সংগঠনটির আঞ্চলিক সহায়তা কাঠামোতে ‘পর্যাপ্ত শক্তি’ নেই।
পত্রিকাটি বলেছে, ওসামার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা যাবতীয় নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, এটাই হচ্ছে সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত সবচেয়ে বড় নথিপত্র উদ্ধারের ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাস দমন বিভাগের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, ওসামার কম্পিউটার থেকে উদ্ধার করা সর্বশেষ নথিপত্র থেকে জানা গেছে, ‘আল-কায়েদা নেতার প্রধান লক্ষ্যই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হামলা চালানো। এবং তিনি এটা যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করতে চেয়েছেন।’
গত ২ মে অ্যাবোটাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন কমান্ডো অভিযানে মারা যান ওসামা বিন লাদেন।

ভুয়া ভোটার বাতিল চেয়ে সালিসি বোর্ডে আবেদন

দিনাজপুর চেম্বারের নির্বাচন ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ভোটার তালিকায় অসংখ্য ভুয়া ভোটার রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। আর এসব ভুয়া ভোটার বাতিল করার জন্য নির্বাচনী আপিল বোর্ডে আবেদন করেন তাঁরা। কিন্তু আপিল বোর্ড ব্যবসায়ীদের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে।
জানা গেছে, আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সালিসি বোর্ডে আবেদন করেছেন। গত ২৩ জুন দিনাজপুরের ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এ আবেদন করা হয়েছে।
দিনাজপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি মো. রফিকুল ইসলামসহ শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা প্রথম আলোর কাছে অভিযোগ করে বলেছেন, এক চরম ও লজ্জাজনক ও অরাজকতার ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন চেম্বারের বর্তমান সভাপতি নূরুল মঈন মিনু। ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীদের ঐক্য ধ্বংস হয়ে গেছে। আসন্ন নির্বাচনে জেতার কৌশল হিসেবে চেম্বার সভাপতি শহরের অত্যন্ত নামকরা তিনজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করিয়েছেন। তা ছাড়া নিজের পছন্দমতো নির্বাচনী ও আপিল বোর্ডও গঠন করেছেন।
তবে নূরুল মঈন মিনু ওই অভিযোগ অস্বীকার করে গত বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে জেলা প্রশাসন। ওই ঘটনার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেন তিনি।
চেম্বারের সাবেক সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, চেম্বারের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমদানিকারক হিসেবে ১৫৯ জন ব্যক্তির বাণিজ্যিক সনদ (ট্রেড লাইসেন্স) নিয়ে চেম্বারের সদস্য করেছেন। অথচ ওই ইউনিয়নে একজন আমদানিকারকের অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া একই ইউনিয়নের অধিবাসী হিসেবে আরও ৩২ জন বাণিজ্যিক সনদ নিয়ে চেম্বারের সদস্য হয়েছেন। ওই এলাকায় যাঁদের কোনো অস্তিত্ব নেই। তিনি জানান, এসব অস্তিত্বহীন ব্যবসায়ীদের সদস্যপদ বাতিলের দাবি করে সব তথ্য-প্রমাণসহ নির্বাচনী আপিল বোর্ডে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু আপিল বোর্ড গত ২৩ জুন এক আদেশে তাঁদের সদস্যপদ বহাল রেখেছেন।
অন্যদিকে প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই ৩২ জন সদস্য যে ঠিকানা ব্যবহার করেছেন, সেই বাঁশেরহাট এলাকায় ওই নাম ও টিআইএন নম্বরে কোনো ব্যবসায়ীকে পাওয়া যায়নি।
চেম্বারের সাবেক ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, খসড়া ভোটার তালিকায় একই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ২০ পরিচালক চেম্বারের ভোটার হয়েছে। এ ছাড়া একই টিন নম্বরে দেখিয়ে ১৭ জন ভোটার হয়েছেন। এ ছাড়া আরও আটজন ভুয়া টিআইএন ব্যবহার করে ভোটার হয়েছেন। তাঁদের ভোটার তালিকা থেকে দেওয়ার জন্য তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনী আপিল বোর্ড এ আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে নির্বাচনী আপিল বিভাগের চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ বলেন, ‘আপিল বোর্ডের বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তা ছাড়া কাগজের খুঁটিনাটি দেখার সময় ছিল না। ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স, টিন নম্বরসহ মূল কাগজ আছে কি না, আমরা তা আমলে নিয়েছি। কিন্তু ওই সব কাগজ আসল না নকল তা দেখার প্রয়োজন বা সময় কোনোটাই আপিল বোর্ডের ছিল না।’ এসব কারণে আপিল বোর্ড কোনো সদস্যের সদস্যপদ বাতিল করেনি বলে তিনি জানান।

অর্থবছরের প্রথম দিনে ঊর্ধ্বমুখী পুঁজিবাজার

২০১১-১২ অর্থবছরের প্রথম কর্মদিবসে আজ রোববার দেশের দুই এক্সচেঞ্জেই সূচক ও লেনদেন বেড়েছে। বলা যায়, তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত্-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডাকা অর্ধদিবস হরতালের প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়েনি।
দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই আজ দিনভর সূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এ দিকে প্রায় আড়াই মাস পর ডিএসইতে লেনদেন এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ ডিএসইতে সাধারণ মূল্যসূচক ৪০.২৮ পয়েন্ট বেড়ে ৬,১৫৭.৫১ পয়েন্টে দাঁড়ায়। আজ হাতবদল হওয়া ২৫৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ২০৪টি প্রতিষ্ঠানের দাম। কমেছে ৪৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
আজ সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। পাঁচ মিনিটের মাথায় ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৪৬ পয়েন্ট বেড়ে যায়। দুপুর ১২টায় সূচক বাড়ে ৬৫ পয়েন্ট। এরপর সূচক সামান্য কমলেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়।
ডিএসইতে আজ এক হাজার ১৩৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গত বৃহস্পতিবারের চেয়ে ১৮৫ কোটি টাকা বেশি। এর আগে গত ১১ এপ্রিল সর্বশেষ এক হাজার ২২৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়।
বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঘোষিত বাজেট অনুযায়ী আজ থেকে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ শুরু হওয়ার কথা। বাজার ভালো হবে—এমন আশায় অনেক বিনিয়োগকারী আবারও বাজারে সক্রিয় হতে শুরু করেছেন। এর প্রভাবে বাজারে সূচক ও লেনদেন বেড়েছে। তবে খুব বেশি সূচক না বাড়া বাজারের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা।
ডিএসইতে আজ লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে আফতাব অটো, বেক্সিমকো, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউসিবিএল, এমআই সিমেন্ট, এনবিএল, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, মালেক স্পিনিং, ওয়ান ব্যাংক ও লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৩৬৯.৬৯ পয়েন্ট বেড়ে ১৭২৪৬.৬৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২০০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৫৪টির, কমেছে ৪১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ১৩০ কোটি টাকার, যা গত বৃহস্পতিবারের চেয়ে ১৭ কোটি টাকা বেশি।

অব্যবস্থাপনার লোকসান পুষিয়ে নিতে ৬৯ কোটি টাকা ভর্তুকি!

বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মসুর ডাল গুদামজাত করেছিল সরকারি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সেই মসুর ডাল কম মূল্যে বিক্রি করে সম্প্রতি গুদামের ভার কিছুটা কমিয়েছে সংস্থাটি।
বিস্ময়কর যে এই ডাল কেনা হয়েছিল বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে। ডিলাররা টিসিবি থেকে চিনি ও ভোজ্যতেল নিতে রাজি হলেও পোকামাকড়ে ভরা এই মসুর ডাল নেওয়ার ক্ষেত্রে অপারগতা জানান। কারণ, খুচরা বাজারে যে মসুর ডাল ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, তা টিসিবি ডিলারদের কাছে ৯২ টাকা কেজি দরে গছাতে চাইছিল।
জানা গেছে, শুধু মসুর ডাল নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় আরও কয়েকটি পণ্য সংগ্রহে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে সরকারি অর্থের যে অপচয় হলো, তা পুষিয়ে নিতে এবার আয়োজন করা হয় ভর্তুকির। চার পণ্যে সম্প্রতি ৬৯ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৬৩ কোটি টাকাই মসুর ডালে। আমদানি করা ও স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা—দুই ধরনের মসুর ডালেই ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। বাকি ছয় কোটি টাকা চিনি, সয়াবিন তেল ও ছোলার ক্ষেত্রে দেওয়া হয়।
টিসিবির এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাস হয়ে এসেছে গত ২৯ জুন।
এর আগে ২৬ জুন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, টিসিবি বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে কাজ করে চলেছে। বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে টিসিবি অনেক ক্ষেত্রেই পণ্য বাজারজাত করেছে ক্রয়মূল্য ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বিবেচনায় না রেখেই। এতে টিসিবি যে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, তা পূরণ করা দরকার।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, স্থানীয়ভাবে ক্রয় ও আমদানি করা চার পণ্য টিসিবি সাশ্রয়ীমূল্যে বিক্রির কারণে ৬৯ কোটি টাকার বেশি ভর্তুকির দরকার।
সাধারণত ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রতিবার খুঁটিনাটি বিচার-বিশ্লেষণ করা হলেও অর্থ মন্ত্রণালয় এবার আর তা করেনি। কোনো কাটছাঁট না করেই মাত্র তিন দিনের মাথায় অর্থ মন্ত্রণালয় পুরো অর্থই বরাদ্দ দেওয়ার উদাহরণ তৈরি করেছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, এবারের ভর্তুকির জন্য একটি চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট ফার্ম থেকে নিরীক্ষা করা হয়েছে। তাই তেমন একটা বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়নি।
পণ্যভেদে ভর্তুকির পরিমাণ হচ্ছে: আমদানি করা মসুর ডাল ৩৩ কোটি ২০ লাখ ৭২ হাজার টাকা, স্থানীয়ভাবে ক্রয় করা মসুর ডাল ৩১ কোটি এক লাখ ২৯ হাজার টাকা, স্থানীয়ভাবে ক্রয় করা চিনি তিন কোটি টাকা, আমদানি করা ও স্থানীয়ভাবে ক্রয় করা সয়াবিন তেল ৪৫ লাখ টাকা, আমদানি করা ছোলা এক কোটি ৩৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
তবে টিসিবির কর্মকর্তারা বলছেন, বিপুল অঙ্কের এই টাকা ভর্তুকি দেওয়া হলেও তাতে ভোক্তা সাধারণের কোনো লাভ হবে না। নানা কৌশলে ইতিমধ্যে যাঁরা নিজেদের পকেট ভারী করেছেন, এবারের ভর্তুকির বন্দোবস্তটি করা হয়েছে তা জায়েজ করার জন্য।
উদাহরণ দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, প্রকৃত সমস্যা কোথায়, খুঁজে বের করা দরকার। বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ১০৬ টাকা কেজি দরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কাছে ১৮৩ টন মসুর ডাল বিক্রি করেছিল টিসিবি। এতে টিসিবির কিছু মুনাফা হয়। সংস্থার তৎকালীন চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানকে এ জন্য কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়েছিলেন বাণিজ্যসচিব মো. গোলাম হোসেন। খলিলুর রহমান তখন বাণিজ্যসচিবকে জানিয়েছিলেন, ‘বিক্রি ও বিতরণের ক্ষেত্রে টিসিবিই ক্ষমতাবান। তাছাড়া অতীতে এ রকম ক্ষেত্রে কখনোই মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়া হয়নি।’
গতকাল শনিবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে বাণিজ্যসচিব গোলাম হোসেন ব্যস্ততার কথা জানিয়ে কথা বলতে চাননি।
তবে বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দাম বেশি থাকার কারণেই গত বছর কিছু পণ্য বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়েছিল। বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা পালনের স্বার্থেই তাই ভর্তুকির বিষয়টি এসেছে, অন্য কোনো কারণ নেই।’
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রতিবেশীসহ বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে নিত্যপণ্যের দাম কম। সরকারি নানা উদ্যোগের কারণেই তা সম্ভব হয়েছে।’

ব্যাংকগুলো ছয় মাসে আকর্ষণীয় পরিচালন মুনাফা করেছে

ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবি প্রায় বছরের শুরু থেকেই বলে আসছিল, তারল্যসংকটের কারণে ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে পারছে না। শেয়ারবাজারেও মন্দা চলেছে। মুদ্রাবাজারের নগদ টাকার টানাটানির খবর প্রায়ই সংবাদ শিরোনাম হয়েছে।
তার পরও এসব তথ্যকে যেন ভুল প্রমাণ করে ২০১১ সালের প্রথম ছয় মাসের (জানুয়ারি-জুন) হিসাবে ব্যাংকগুলো আকর্ষণীয় পরিচালন মুনাফা করেছে বলা যায়। হাতে গোনা কয়েকটি বাদে বাকি ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফাও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি বা প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অবশ্য বিএবি সভাপতির ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা গতবারের তুলনায় বেশ কমেছে।
জানা গেছে, এ বছর আমদানি ও রপ্তানি খাতে ব্যাংকের আয় বেশি বেড়েছে। এর কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি। আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে টাকার অঙ্কে পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকের বিভিন্ন ধরনের কমিশন আয় এ সময় বেড়েছে।
বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নিজস্ব উদ্যোগে সংগ্রহ করা সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, বরাবরের মতো অর্ধবার্ষিকীর হিসাবে পরিচালন মুনাফার পরিমাণের দিক থেকে সর্বাধিক আয় হয়েছে ইসলামী ব্যাংকের। ছয় মাসে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৬৫০ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৪৯৫ কোটি টাকা।
তবে ইসলামী ব্যাংকের আমানত ও বিনিয়োগ (ঋণ) পদ্ধতি ভিন্ন। উপরন্তু, ব্যাংকটির আমানতের পরিমাণ বেসরকারি একক কোনো ব্যাংকের চেয়ে অনেক বেশি।
পরিচালন মুনাফার দিক থেকে ইসলামী ব্যাংকের পরই রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক। ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফার পরিমাণ হয়েছে ৪৯০ কোটি টাকা। আগের বছর প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা হয়েছিল ৩৬৫ কোটি টাকা। তারপর রয়েছে প্রাইম ব্যাংক। প্রাইম ব্যাংকের পরিচালন মুনাফার পরিমাণ হয়েছে ৪০৫ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময় ছিল ৩৩৫ কোটি টাকা।
বাংলাদেশে ব্যাংক খাতে পরিচালন মুনাফা প্রকাশের ওপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো পরিচালন মুনাফা প্রকাশ করতে পারে না। এই বিধিনিষেধ এসেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) থেকে। এসইসি মূল্য সংবেদনশীল বিবেচনায় এই তথ্য প্রকাশ করতে দিতে চায় না। আর বাংলাদেশ ব্যাংকও তাতে সম্মতি দিয়েছে। তবে শেয়ারবাজারে যাঁরা প্রতিনিয়ত কেনাবেচা করেন এবং যাঁদের হাতে কোনো ব্যাংকের শেয়ার রয়েছে, তাঁরা ব্যক্তি যোগাযোগের মাধ্যমেই এ তথ্য আগেভাগে পেয়ে থাকেন। সে ক্ষেত্রে সংবাদপত্রে তথ্য প্রকাশিত হলে সব বিনিয়োগকারী একই তথ্য পেতে পারেন।
অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী পরিচালন মুনাফা প্রকাশ একটি সাধারণ নিয়মের বিষয়। তবে নিট মুনাফাই ব্যাংকের প্রকৃত আয়। বছর শেষে পরিচালন মুনাফা থেকে ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ এবং কর (৪২.৫ শতাংশ) বাদ দিয়ে নিট মুনাফার হিসাব হয়। উপরন্তু, প্রাথমিকভাবে পাওয়া এই তথ্য-উপাত্ত কিছুটা কমবেশি হতে পারে। কেননা, কোনো কোনো ব্যাংকের জুন হিসাব শেষ হলেও এর অনেক ধরনের হিসাব চূড়ান্ত করতে আরও কয়েক দিন লেগে যেতে পারে।
ফলে এতে মুনাফার টাকা কমে বা বেড়ে যেতে পারে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীকে অপেক্ষা করতে হয় নিট বা প্রকৃত মুনাফার হিসাব পাওয়া পর্যন্ত।

ব্যাংকগুলোর ষাণ্মাসিক মুনাফা
ব্যাংক ২০১১ ২০১০
ইসলামী ব্যাংক ৬৫০ ৪৯৫
ন্যাশনাল ব্যাংক ৪৯০ ৩৬৫
প্রাইম ব্যাংক ৪০৫ ৩৩৫
সাউথইস্ট ৩২৫ ২৯৫
পূবালী ২৮০ ২৮৪
ইউসিবিএল ২৮০ ২২৬
ইস্টার্ন ব্যাংক ২৫০
ডাচ্-বাংলা ২৪৫ ২২০
ব্র্যাক ব্যাংক ২৩০ ২৫০
ব্যাংক এশিয়া ২১৫ ২১৪
এনসিসিবিএল ২০১ ১৮৫
এবি ব্যাংক ২০০ ২০০
ঢাকা ব্যাংক ১৯৫ ১৮১
আইএফআইসি ১৮৫ ১৪০
ওয়ান ব্যাংক ১৮০ ১৬৪
সিটি ব্যাংক ১৮০
আল আরাফাহ্ ১৭৭ ১৪০
উত্তরা ১৭০ ১৪০
মার্কেন্টাইল ১৫৮ ১৩০
শাহ্জালাল ১৫৬ ১৬০
যমুনা ব্যাংক ১৫০
এসআইবিএল ১৩৫ ১০৫
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ১৩৩ ১৩৯
ট্রাস্ট ব্যাংক ১০৬ ৮০
এক্সিম ব্যাংক ১০২ ২১০
ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ৭৮ ৩০
মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ৬৫ ১০৪
বেসিক ১৩৬ ৬২
রূপালী ১২৫

ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে পার হলো অর্থবছরের শেষ সপ্তাহ

দেশের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী ভাবের মধ্য দিয়ে ২০১০-১১ অর্থবছর শেষ হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শেয়ারবাজারে মন্দাভাব শুরু হয়। কিন্তু জুন মাসের শেষ সপ্তাহে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। এ সময়ে বাজারে মূল্য সূচক, দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ও বাজার মূলধন বেশ খানিকটা বেড়েছে। এ সময় লেনদেন করা বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দামও বেড়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বাজারে তারল্য সংকটের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বাজারে মন্দাভাব ছিল। কিন্তু সদ্য শুরু হওয়া ২০১১-১২ অর্থবছরে ঘোষিত বাজেটে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ায় বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ আমানতের হারের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা দেখানোয় বাজারে তারল্য সংকট কিছুটা কেটে যাবে এমন আশা করছেন বিনিয়োগকারীরা। আর এসব কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আস্থা বেড়েছে। এর ফলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈধ করার সুযোগ দেওয়ায় বাজারে সাময়িকভাবে ঊর্ধ্বমুখীভাব দেখা যেতে পারে। তবে বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হলে তারল্য সংকট কাটানোর পাশাপাশি ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে হবে। তা না হলে দীর্ঘমেয়াদে বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখা যাবে না। তারা বাজারে স্থিতিশীলতা আনার স্বার্থে ধীরে ধীরে সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে যেসব কোম্পানির শেয়ার বাজারে আসার অপেক্ষায় রয়েছে, সেগুলো দ্রুত বাজারে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে পাঁচ দিনে ডিএসইতে চার হাজার দুই কোটি ৭৯ লাখ টাকার ৪১ কোটি ৯০ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা আগের সপ্তাহের মোট লেনদেন দুই হাজার ২১৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকার ২৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকার তুলনায় ৮০ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি। অর্থবছরের শেষ সপ্তাহে অর্থাৎ গত সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। যা আগের সপ্তাহের গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৪২ কোটি টাকা।
সপ্তাহের শুরুর দিন রোববার ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল দুই লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকায়। আর সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ছিল পাঁচ হাজার ৮৪৭ দশমিক ২৬ পয়েন্ট। সপ্তাহের শেষে তা বেড়ে ছয় হাজার ১১৭ দশমিক ২৩ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এ হিসাবে মূল্যসূচক ২৩৪ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট বেড়েছে। শতাংশের হিসাবে যা ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। এ সপ্তাহে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বেড়েছে। এ সময়ে দাম বেড়েছে ২২৩টির, কমেছে ৩৯টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে সাতটি কোম্পানির শেয়ারের দর।
সপ্তাহের লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে ছিল ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, মবিল যমুনা, সাউথইস্ট ব্যাংক, এমআই সিমেন্ট, গ্রামীণফোন, বেক্সিমকো লিমিটেড, আফতাব অটোমোবাইল, ওয়ান ব্যাংক, লংকা বাংলা ফাইন্যান্স ও ন্যাশনাল ব্যাংক।
দাম বাড়ার দিক থেকে শীর্ষে ছিল ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, স্কয়ার টেক্সটাইল, বিচ হ্যাচারি, এমআই সিমেন্ট, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, সাউথইস্ট ব্যাংক এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংক।

ডিএসইর কারণ জানতে চাওয়ার জবাব ৮ কোম্পানির

অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) অনুসন্ধানের জবাব দিয়েছে তালিকাভুক্ত আট কোম্পানি।
কোম্পানিগুলো হলো বিচ হ্যাচারিজ, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, মালেক স্পিনিং, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, অরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড, মেট্রো স্পিনিং, সালভো কেমিক্যাল ও আরএকে সিরামিকস।
ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, ডিএসইর জানতে চাওয়ার জবাবে প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, সম্প্রতি শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য কোম্পানিগুলোর কাছে নেই।

সেরা টেস্ট একাদশ নির্বাচন

আর মাত্র ১৮ দিন। এরপরই টেস্ট ক্রিকেট ছুঁতে যাচ্ছে নতুন মাইলফলক। ক্রিকেট-তীর্থ লর্ডসে ভারত-ইংল্যান্ড প্রথম টেস্ট ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে ক্রিকেট ইতিহাসের ২০০০তম টেস্ট। এই স্মরণীয় মুহূর্তটাকে আরও স্মরণীয় করে রাখতে চায় আইসিসি। তাই বেশ ঘটা করেই নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করতে যাচ্ছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
এরই অংশ হিসেবে সর্বকালের সেরা টেস্ট একাদশ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে তারা। ইন্টারনেটে সমর্থকদের ভোটে বাছাই করা হবে খেলোয়াড়। আইসিসির ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মনোনীত প্যানেল থেকেই বেছে নিতে হবে পছন্দের ক্রিকেটার। একাদশে থাকবে দুজন ওপেনার, তিনজন মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান, একজন অলরাউন্ডার, একজন উইকেটকিপার, তিনজন ফাস্ট বোলার ও একজন স্পিনার। আগামী ১৩ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত ভোট দেওয়া যাবে। নির্বাচিত একাদশ ঘোষণা করা হবে লর্ডস টেস্টের আগেই।
ভোট দেওয়ার জন্য লগইন করতে হবে icc-cricket.yahoo.net এই ঠিকানায়। এরপর ক্লিক করতে ‘গ্রেটেস্ট টেস্ট টিম অব অল টাইম’ লিংকে। এ ছাড়া ভোট দেওয়া যাবে ফেসবুক (www.facebook.com/cricketicc) ও টুইটারেও (www.twitter.com/cricketicc)।

অপেক্ষা শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তার

প্রথম চার দিনই বৃষ্টি বাগড়া দেওয়া বারবাডোজ টেস্ট পঞ্চম দিনের জন্যই যেন জমিয়ে রেখেছিল সব রোমাঞ্চ। কাল পঞ্চম দিনটা শুরুই হয়েছিল অনেকগুলো সম্ভাবনা নিয়ে। ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত ইনিংস ঘোষণা করে বোলারদের পর্যাপ্ত সময় দেবে ভারত? ওয়েস্ট ইন্ডিজ কি রান তাড়া করবে, নাকি বেছে নেবে নিরাপদ পথ? মহেন্দ্র সিং ধোনি ঠিকই ঝুঁকি নিয়ে সকালেই ইনিংস ঘোষণা করলেন।
৮৩ ওভারে ২৮১ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটাও বলছিল, রান তাড়া করার নেশাই তাদের। কিন্তু দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলায় লক্ষ্য পরিবর্তন। পরাজয়ের শঙ্কার কাছে হার মেনে ড্যারেন স্যামির দল ধরেছে ড্রয়ের পথ। সিমন্স (১৪) আর বারাথকে (২৭) ফিরিয়েছেন ইশান্ত, সারওয়ানকে (৮) প্রাভিন কুমার। ৫৫ রানেই ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর হাল ধরেছেন ড্যারেন ব্রাভো (৪৫*) ও অভিজ্ঞ চন্দরপল (১২*)।
তার পরও অবশ্য শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ আছেই। কারণ পর্যাপ্ত ওভার থাকায় সম্ভাবনা এখনো ফুরিয়ে যায়নি। চা-বিরতি পর্যন্ত ৪৬ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১০৮ রান। জয়ের জন্য স্যামিদের দরকার ৩৭ ওভারে ১৭৩ রান। ভারতের দরকার ৭ উইকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজ কি শেষ মুহূর্তে জয়ের চেষ্টা চালাবে? ওয়েস্ট ইন্ডিজ করুক না করুক, শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তার আশায় ভারত সর্বাত্মক চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে।
কাল সকাল থেকেই বারবাডোজের আকাশে চকচকে রোদ। হারানো সময় কিছুটা পুষিয়ে নিতে খেলা শুরু হলো আধঘণ্টা আগে। ভারত প্রত্যাশিত দ্রুততায় রান তুলতে পারেনি। বলা ভালো, তুলতে দেননি এডওয়ার্ডস। দিনের শুরুতেই ফিরিয়েছেন বিরাট কোহলিকে। সেঞ্চুরির ২৮ রান দূরে থেকে দিন শুরু করা ভিভিএস লক্ষ্মণ (৮৬) পারেননি তিন অঙ্ক ছুঁতে। বোলার এবারও এডওয়ার্ডস। এরপর ধোনিকেও ফিরিয়ে ক্যারিয়ারে নবমবারের মতো ৫ উইকেট পেয়েছেন এই ফাস্ট বোলার। কাল ১৩ ওভারে ৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছেন ধোনি।
চতুর্থ দিনেও অবশ্য খুব বেশি বাগড়া দেয়নি বৃষ্টি। খেলা বন্ধ ছিল ‘মাত্র’ ৯০ মিনিট। ভারত দিন শেষ করে ২৪০ রানের লিড নিয়ে। তবে সারা দিনে ৮৩.২ ওভার খেলে তুলেছে ২০৬ রান—জয় তাড়নার চেয়ে নিজেদের নিরাপদে নিয়ে যাওয়ার ভাবনাই বেশি ছিল ধোনির দলের।
চতুর্থ দিনের শুরুতেই মুরালি বিজয়কে হারায় ভারত। অভিনব মুকুন্দকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৬৩ রানের জুটি গড়েন রাহুল দ্রাবিড়। মুকুন্দ প্রথম টেস্ট ফিফটির ঠিক আগে ফিরে যান এডওয়ার্ডসের অসাধারণ এক বাউন্সারে। ক্যারিয়ারে অসংখ্য রান করা কাট শটটা ইদানীং দ্রাবিড়ের সবচেয়ে বড় ‘শত্রু’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৫৫ রান করে পরশুও স্লিপে ধরা পড়লেন কাট করতে গিয়ে।

জাতীয় সাব-জুনিয়র দাবা

ডা. মির্জা আকমল হোসেন স্মৃতি জাতীয় সাব-জুনিয়র দাবায় ২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ইকরামুল হক (সিয়াম), ফাহাদ রহমান, অনিন্দ্য বিশ্বাস, তাহমিনা আক্তার ও তানজিনা আক্তার। মহিলা দাবা: প্রাইম ব্যাংক আন্তর্জাতিক মহিলা রেটিং দাবায় দুই পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদ, শামীমা আক্তার (লিজা), শারমিন সুলতানা, শারমিন সামিহা ও নাজরানা খান (ইভা)।

লাহোর জয়ের অপেক্ষা

বিশ্বকাপ বাংলাদেশের জন্য আলোকবর্ষ দূরের কোনো জায়গা। এখন বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জনই অনেক বড় প্রাপ্তি। সেই পথে ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের প্রাক-বাছাইয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে প্রতিপক্ষ লেবানন। তার আগে চাই প্রথম রাউন্ডে পাকিস্তান-বাধা উত্তরণ। আজ খুব বাজে দিন না কাটলে প্রথম রাউন্ডটা বাংলাদেশ দলের পেরিয়েই যাওয়া উচিত।
পাকিস্তানকে বাংলাদেশ দল গত বুধবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বিধ্বস্ত করেছে ৩-০ গোলে। বৃষ্টিভেজা মাঠে সেদিন সফরকারী দল স্বাগতিকদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। এমিলি, জাহিদরা জল-কাদায় একাকার মাঠে উজ্জীবিত ফুটবল খেলে বুনেছেন আশার বীজ। আজ লাহোরের পাঞ্জাব স্টেডিয়ামে ফিরতি ম্যাচ বাংলাদেশকে দিতে পারে এক ধাপ সামনে এগোনোর তৃপ্তি।
বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায় শুরু এই ম্যাচে বাংলাদেশ ২-০ গোলে হারলেও উঠে যাবে দ্বিতীয় পর্বে। ৩-০ গোলে হারলে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট খেলা। তারপর প্রয়োজনে টাইব্রেকার। বাংলাদেশ একটা গোল করলে পাকিস্তানকে জিততে হবে ৫-১ ব্যবধানে। পাকিস্তান ৪-১ ব্যবধানে জিতলেও অ্যাওয়ে ম্যাচে গোল করার সুবাদে বাংলাদেশ যাবে পরের রাউন্ডে।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আজ বাংলাদেশ খেলছে ৩৮তম ম্যাচ। ৮ জয়, ৩ ড্রয়ের বিপরীতে বাকি সব হার। বাংলাদেশ-পাকিস্তান আগের ১৩ সাক্ষাতে বাংলাদেশ ৬টি, পাকিস্তান ৫টিতে জিতেছে। পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় জয় ২-১ গোলে, বাকি চারটি ১-০। অন্যদিকে বাংলাদেশের কাছে উড়ে যাওয়ার ক্ষত আছে পাকিস্তানের। ১৯৯৯ গোয়া সাফ ফুটবলে ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে লাল-সবুজের জয় ছিল ৪-০।
এবার সেটির পুনরাবৃত্তি না হলেও ম্যাচেটা আগাগোড়াই ছিল বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। ৪-৪-১-১ ছকে দল সাজিয়ে ফল পেয়েছেন বাংলাদেশের নতুন কোচ। ফিরতি ম্যাচের রণকৌশল বদলানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নিকোলা ইলিয়েভস্কি। আজ সকালে দল চূড়ান্ত হওয়ার কথা। লাহোর থেকে ফোনে ম্যানেজার ছাইদ হাসানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ বলেছেন, ‘ঢাকায় সব সময় বৃষ্টি হয় না। কাজেই আমার ছেলেরা শুকনো মাঠেও ভালো খেলবে। আমরা স্বাভাবিক খেলাটাই খেলব। তবে চাপ না নিয়ে ভালো ফুটবল উপহার দিতে চাইব।’
পাকিস্তান কোচ তারিক লুৎফি ঢাকায় এসে বলেছিলেন বাংলাদেশকে হারাতে না পারলে চাকরি ছাড়বেন। হেরে গিয়েও ছাড়েননি, আজই কি তাঁর ইস্তফা দেওয়ার দিন? কাল সংবাদ সম্মেলনে লুৎফির কথার সারমর্ম ছিল, ‘ঢাকায় আমরা বৃষ্টি-কাদা মাঠে ভালো খেলতে পারিনি। আমাদের দুর্ভাগ্য। ফিরতি ম্যাচে বাংলাদেশকে ৪-০ গোলে হারানো কঠিন। তবে হারানোর কিছু না থাকায় আমরা বড় জয়ের জন্য অলআউট খেলব।’
দুই অধিনায়কই গোলরক্ষক। নিজ দলকে টেনে নেওয়ার বাড়তি দায়িত্ব দুজনের কাঁধে। সংবাদ সম্মেলনে দুজনের কথাতেই ছিল সেই প্রত্যয়। সুবিধাজনক অবস্থায় থাকা বাংলাদেশ অধিনায়ক বিপ্লব ভট্টাচার্যের প্রতিশ্রুতি, ‘নেতিবাচক নয়, আমরা জয়ের জন্যই খেলব।’ পাকিস্তান অধিনায়ক জাফর খানের কথা, ‘ঢাকায় বৃষ্টি-কাদা মাঠে আমরা স্বাভাবিক খেলতে পারিনি। এমন কন্ডিশনে খেলতে হওয়ায় আমরা ফিফার কাছে অভিযোগ করেছি। তবে এই ম্যাচ আমরা নিজেদের চেনা কন্ডিশনে চেষ্টা করব ভালো খেলে প্রথম রাউন্ডের বাধা উতরাতে।’
লাহোরের কাল তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি। তবে রাতে তাপমাত্রা ২৫-এ চলে আসবে বলে ধারণা। নিরাপত্তা নিয়েও কোনো ভয় নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার।
পাকিস্তানের মাটিতে গত দুটি ম্যাচেই বাংলাদেশ জিতেছে (দুটিই ১-০)। তার উপর বুধবারের দুর্দান্ত জয়, আজ তাই লাহোর জয়ের প্রতীক্ষাটা বাড়াবাড়ি নয়!

শুরুটা ভালো হলো না তামিমের

‘স্বপ্ন সত্যি হওয়া’ কাউন্টি অভিষেকটা ভালো হলো না তামিম ইকবালের। দল জয় পেলেও ব্যাট হাতে রান পাননি এই বাঁহাতি। পরশু ডার্বিতে ফ্রেন্ডস লাইফ টি-টোয়েন্টিতে তাঁর দল নটিংহ্যামশায়ার জিতেছে ৫ উইকেটে। স্বাগতিক ডার্বিশায়ারের করা ১৭০ রান টপকে যায় ৩ বল হাতে রেখেই। যেখানে ওপেন করতে নামা তামিমের অবদান মাত্র ৮ রান। তাঁর ১২ বলের ইনিংসটা শেষ হয় ইনিংসের তৃতীয় ওভারে থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়ে।
শুধু টি-টোয়েন্টি খেলতে নটিংহ্যামে যোগ দেওয়া তামিম ম্যাচের আগে বিবিসিকে বলেছিলেন এটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো ঘটনা। ‘কাউন্টি ক্রিকেট খেলাটা আমার স্বপ্ন ছিল। যখন শুনলাম নটসে যোগ দিতে পারি সত্যিই দারুণ লাগছিল।’ অস্ট্রেলিয়ান ডেভিড হাসির জায়গায় নটিংহ্যামশায়ারে যোগ দিয়েছেন তামিম।

বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে কোপার খেলা

ক্রীড়া প্রতিবেদক: বাংলাদেশের কোনো টেলিভিশন চ্যানেল কোপা আমেরিকার ফুটবল না দেখালেও খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হয়নি বাংলাদেশের দর্শক। কাল আর্জেন্টিনা-বলিভিয়ার উদ্বোধনী ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করেছে ভারতীয় ক্রীড়া চ্যানেল নিও স্পোর্টস। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল কলকাতা টিভিতেও খেলা দেখা গেছে বাংলাদেশে। প্রথম আলো থেকে যোগাযোগ করা হলে কোপা আমেরিকার সম্প্রচার বিভাগের মুখপাত্র কারিনা আরুজো জানান, নিও স্পোর্টস ও কলকাতা টিভিতে (ফ্রি চ্যানেল) কোপা আমেরিকার খেলা দেখা যাবে।

ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে সতর্ক ব্রাজিল

পেছনে ২০১০ বিশ্বকাপের ব্যর্থতা, সামনে নিজেদের দেশে ২০১৪ বিশ্বকাপ সাফল্যের আশা—এই দুই প্রেরণায় লা প্লাটায় আজ কোপা আমেরিকা অভিযান শুরু করছে ব্রাজিল। হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের অভিযানটা মানো মেনেজেসের নতুন ব্রাজিল শুরু করছে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে।
আজকের ম্যাচের আগে ব্রাজিল-ভেনেজুয়েলা মুখোমুখি হয়েছে ২০ বার। পরিসংখ্যানটা প্রত্যাশিতই। ১৮টি ম্যাচ জিতে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ভেনেজুয়েলার চেয়ে যোজন-যোজন এগিয়ে। বাকি দুটি ম্যাচের ১টি হয়েছে ড্র এবং একটি জিতেছে ভেনেজুয়েলা।
প্রতিভা আর পরিসংখ্যান—দুই দিক দিয়েই আজকের ম্যাচের ফেবারিট ব্রাজিল। সহজ জয় দিয়ে ব্রাজিলের কোপা অভিযান শুরু হবে—ফুটবল-পণ্ডিত থেকে সাধারণ সমর্থক, সবার অনুমান একই। তবে রবিনহো-পাতো-নেইমার ত্রয়ী সমৃদ্ধ এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণ নিয়ে খেলা ব্রাজিল কোচ মেনেজেসের ভাবনাটা একটু ভিন্ন। আত্মবিশ্বাসের কমতি না থাকলেও ভেনেজুয়েলাকে উপেক্ষা করছেন না তিনি, ‘আমরা কঠিন পরিশ্রম করেছি। তাই ভয় নেই। তবে ভেনেজুয়েলাও ভালো খেলে।’
ভেনেজুয়েলাকে মেনেজেস যে সমীহ করছেন, এর কারণ শুধুই নিয়মরক্ষা নয়। দুই দেশের খেলা সর্বশেষ তিনটি ম্যাচের দুটির ফলই হয়তো তাঁকে ভাবাচ্ছে। ২০০৯ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের এক ম্যাচে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ড্র করেছে ব্রাজিল। বাছাইপর্বে এর আগের ম্যাচটি ব্রাজিল ২০০৮ সালে ভেনেজুয়েলাকে ৪-০ গোলে হারালেও একই বছর একটি প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল হেরে গিয়েছিল। ভেনেজুয়েলা তাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারলে কে বলতে পারে, অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটবে না!
এর ওপর ফুটবলের প্রাচীনতম টুর্নামেন্টটি কাল প্রথম দিনেই দিয়েছে চমক। র‌্যাঙ্কিংয়ের ৯৩তম দল বলিভিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে কোপার সফলতম দল আর্জেন্টিনা। ব্রাজিল কোচ সতর্ক কেন থাকবেন না?

জাতীয় মহিলা ফুটবল

নীলার একমাত্র গোলে জাতীয় মহিলা ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে কাল নারায়ণগঞ্জ হারিয়েছে খুলনাকে। চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে অন্য ম্যাচে সাতক্ষীরা ২-০ গোলে হারিয়েছে ঠাকুরগাঁওকে। দুটি গোলই করেছেন জাতীয় দলের স্ট্রাইকার সাবিনা খাতুন।

সিরিজ হারাল না ভারত

ব্রিজটাউন টেস্টে জয়ের অনেকটা কাছাকাছিই চলে গিয়েছিল ভারত। জয়ের জন্য দরকার ছিল আর মাত্র তিনটি উইকেট। কিন্তু পঞ্চম দিনের শেষদিকে কার্লটন বাফের দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিংয়ে হার এড়াতে সক্ষম হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮১ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে সাত উইকেটে ২০২ রান সংগ্রহ করে ইনিংস শেষ করে স্বাগতিকরা। এখন তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে আছে ভারত।
পঞ্চম দিনে মাত্র ১৩ ওভার ব্যাট করেই ইনিংস ঘোষণা করেছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। জয়ের জন্য দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮২ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৫৫ রানেই তিনটি উইকেট হারিয়ে বসেছিল ক্যারিবীয়রা। এরপর জয়ের আশা ছেড়ে দিয়ে হার এড়ানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছিলেন উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা। চতুর্থ উইকেটে ৫৪ রানের পার্টনারশিপ গড়েন ড্যারেন ব্রাভো ও শিবনারায়ণ চন্দরপল। ৮৭ বলে ১২ রানের ধৈর্যশীল এক ইনিংস খেলে হরভজনের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন চন্দরপল। তবে ব্রাভো তার পরও দাঁড়িয়ে ছিলেন উইন্ডিজ শিবিরের নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে। ষষ্ঠ উইকেটে কার্লটন বাফের সঙ্গে আবারও ৬৯ রানের একটা গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ড্র নিশ্চিত করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। অভিমন্যু মিথুনের শিকারে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে তিনি করেছিলেন ৭৩ রান। বাফ শেষপর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৪৬ রানে। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার স্বীকৃতি পেয়েছেন ইশান্ত শর্মা।
৬ জুলাই থেকে শুরু হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। এই টেস্টটাও শুধু ড্র করলেই সিরিজ জিতে নিতে পারবে ভারত। অন্যদিকে ওয়ানডে সিরিজের পর টেস্ট সিরিজেও হার এড়াতে চাইলে জয়ের কোনো বিকল্প নেই স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য।

‘পাতো হতে পারেন নতুন রোনালদো’

আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গন থেকে অনেক আগেই সরে দাঁড়িয়েছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদো। কিছুদিন আগে তিনি খেলে ফেলেছেন তাঁর বিদায়ী ম্যাচটাও। বিশ্বকাপের এই সর্বোচ্চ গোলদাতার অভাবটা হয়তো বেশ ভালোই অনুভব করেন ব্রাজিল সমর্থকেরা। তবে খুব বেশি দিন তাদের হাহুতাশ করতে হবে না বলেই মনে করছেন কোচ মেনো মেনজেস। তরুণ স্ট্রাইকার আলেসান্দ্রো পাতো খুব দ্রুতই ‘নতুন রোনালদো’ হয়ে উঠবেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
লা রিপাবলিকা পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে মেনজেস বলেছেন, ‘সমর্থকেরা সবসময়ই চায়, নতুন কেউ রোনালদো বা রোমারিওর মতো খেলোয়াড়দের অভাব পূরণ করুক। তাদের এখন আমি একটু শান্ত হয়েই থাকতে বলব। কারণ, আমার মনে হয় পাতো খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রোনালদোর জায়গাটা পূরণ করতে পারবে। তার মধ্যে সে ধরনের সব বৈশিষ্ট্যই আছে। সবাই এখন নেইমারকে নিয়েই বেশি কথাবার্তা বলছে। কিন্তু পাতোরও নিজেকে প্রমাণ করার অনেক সুযোগ আছে। আমরা তাকে যেভাবে দেখতে চাই, তার সেই মাপের ফুটবলার হয়ে ওঠার সব যোগ্যতাই আছে।’
নিজেকে প্রমাণের সবচেয়ে ভালো সুযোগ এবারের কোপা আমেরিকাতেই পেতে পারেন পাতো। ৩ জুলাই ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচটি দিয়ে শুরু হবে ব্রাজিলের কোপা আমেরিকা মিশন। এখন তিনি ‘নতুন রোনালদো’ হয়ে উঠতে পারেন কি না, সেটাই দেখার বিষয়।