Saturday, March 11, 2017

পাঁচ রাজ্যের দুটি বিজেপির দখলে

ভারতের পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপি দুটি রাজ্যে জয় পেয়েছে। বিপরীতে একটিতে বিরোধী দল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে। আর দুটি রাজ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। খবর এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়ার। শনিবার এই নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, দেশটির সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতাসীন সমাজবাদী পার্টির প্রার্থীদের বিরাট ব্যবধানে পরাজিত করে নরেন্দ্র মোদির দলই ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে। রাজ্যের ৪০৩ আসনের মধ্যে সবক'টির ফলাফল পাওয়া গেছে।
এতে ৩০৬টিতে বিজেপি, সমাজবাদী পার্টি ৬০টি ও কংগ্রেস ১১টি আসনে জয়ী হয়েছে। এখানে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করে। এখানে মায়াবতীর বহুজন সমাজবাদী পার্টি ২০টি, আরএলডি দুটি ও অন্যান্যরা চারটি আসনে বিজয়ী হয়েছে। উত্তরাখণ্ডেও বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। ৭০টি আসনের মধ্যে ৫৩টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিজেপির প্রার্থীরা। আর কংগ্রেস ১২টি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা ৫টি আসনে জয় পেয়েছে। তবে পাঞ্জাব রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে কংগ্রেস। ১১৭টি আসনের মধ্যে ৭৫টিতে জয় পেয়েছে কংগ্রেস। আর কেজরিওয়ালের আম আদমির প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ২২টি আসনে। আকালি পার্টি ১৫টি, বিজেপি ৩টি ও অন্যান্যরা দুটি আসনে বিজয়ী হয়েছে। এদিকে পশ্চিমের দুটি রাজ্য গোয়া ও মনিপুরে কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির প্রার্থীদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। বিজেপিশাসিত গোয়ায় ৪০টি আসনের মধ্যে ২০টির ফলাফল এসেছে। এতে কংগ্রেস ৮টিতে এবং বিজেপি ৭টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। এমজিপি একটি ও অন্যান্যরা ৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। আর ৬০ আসনের মনিপুরে ৪৯টির ফল এসেছে। এতে কংগ্রেস এগিয়ে ২১টিতে। বিজেপির প্রার্থীরা জয়ের পথে ১৫টি আসনে। এনপিএফ ৩টি এবং অন্যান্য দলের প্রার্থীরা ১০টিতে এগিয়ে রয়েছে।

অল্পের জন্য বিমানের ২৪৯ আরোহীর প্রাণ রক্ষা

নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে ভারতীয় একটি বিমানের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তবে হাঙ্গেরীয় একটি যুদ্ধ বিমানের তৎপরতায় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন তার ২৪৯ আরোহী। শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে বলে এয়ার ইন্ডিয়ার বরাতে খবর দিয়েছে এনডিটিভি। এতে বলা হয়, ২৩১ জন যাত্রী ও ১৮ জন ক্রু নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার AI 171 বিমানটি শুক্রবার সকাল ৭টায় মুম্বাই থেকে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করে। হাঙ্গেরি পর্যন্ত যাওয়ার পর ফ্রিকুয়েন্সি ওঠা-নামা করায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিমানটির।
এরপরেই বিমানটি উদ্ধারে এগিয়ে আসে হাঙ্গেরিয়ান কর্তৃপক্ষ। তাদের পাঠানো একটি যুদ্ধবিমান ভারতের বিমানটিকে স্কট করে নিরাপদে নিয়ে যায়। এয়ার ইন্ডিয়ার এক কর্মকর্তা জানান, নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন হলে বিমানটি বেলা ১১টা ৫ মিনিটে নিরাপদে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারিতে ভারতের আরেকটি বিমানে এ ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় জার্মানির যুদ্ধবিমান ৩০০ জনের বেশি যাত্রীবাহী বিমানটিকে স্কট করে বিপদমুক্ত করে।

খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় আইএমএফের উদ্বেগ

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলেছে, ব্যাংকিং খাতে মন্দ ঋণ বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক। অবশ্যই এটা কমাতে হবে। কারণ খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোকে দুর্বল করছে। এজন্য ব্যাংকগুলোর ওপর তদারকি ও নজরদারি বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের সহযোগিতা করতে আইএমএফ প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া সংস্থাটি নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে আইএমএফের এশিয়া-প্যাসিফিক বিভাগের প্রধান ব্রায়ান এইতকেন বলেন, খেলাপি ঋণ এখন ব্যাংকিং খাতের বড় সমস্যা। এর পরিমাণ সরকারি ব্যাংকগুলোতে বাড়ছে। কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে সেভাবে বাড়ছে না। এরপরও নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দিচ্ছে সরকার। এ জন্য দরকার শক্ত পর্যবেক্ষণ। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশে বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রয়োজন। জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়াতে পুঁজিবাজার উন্নয়ন করতে হবে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়াতে বন্ড মার্কেটকে সচল করতে হবে।
এক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো বন্ড ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বেশি উল্লেখ করে আইএমএফ বলেছে, দেশের জাতীয় বাজেটের অর্থায়নের জন্য সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছে সরকার। এ নীতির পরিবর্তন করতে হবে। এছাড়া বাজেটের অর্থায়নের দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ প্রয়োজন। এজন্য সরকারকে বন্ডের প্রতি জোর দিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, টেকসই সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য সরকারি বিনিয়োগ বাড়িয়ে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, প্রতিযোগিতা তৈরি এবং উৎপাদনমুখী খাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা দরকার। এসব বিষয় নিয়ে আইএমএফ প্রতিনিধি দল সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করেছে। আরও বলা হয়, কর আহরণ পদ্ধতি আরও আধুনিকায়ন করতে হবে। রাজস্ব আয় বাড়াতে নতুন নতুন খাতের সন্ধান করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এতে রাজস্ব আদায় বাড়বে। জিডিপির প্রবৃদ্ধিও বাড়বে। আগামী পহেলা জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে রাজস্ব আয় বাড়বে। নতুন এই আইন কর প্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ করবে। পাশাপাশি করদাতাদের খরচ কমাতে সহায়তা করবে। এশিয়া-প্যাসিফিক বিভাগের প্রধান ব্রায়ান এইতকেন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রফতানি আয় এবং রেমিটেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অবস্থা পবিরর্তন করে দিচ্ছে। এছাড়া একটি দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রয়োজন আছে। বর্তমান বাংলাদেশের রিজার্ভ গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এটি অর্থনীতিতে স্যালাইন হিসেবে কিভাবে কাজ করবে তা নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া আইএমএফ মনে করছে, বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য কম, রেমিটেন্স প্রবাহ ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির কারণে অর্থনীতিতে সুফল আনবে। এর সুবিধা হিসেবে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়বে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। চলতি অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি ও জিডিপির প্রবৃদ্ধি ঠিক থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিগত অর্থবছরের তুলনায় জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়ানো একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হবে। তবে মধ্যমেয়াদি দেশে পৌঁছতে হলে সামষ্টিক অর্থনীতির নীতি আরও সংস্কার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার দরকার হবে। অনেক ব্যাংক থাকা সত্ত্বে সরকার নতুন দুটি ব্যাংক দিচ্ছে আপনি কি মনে করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক দেশে ব্যাংকের সংখ্যা বেশি আছে। এক্ষেত্রে সরকারকে আর্থিক খাতে শক্তভাবে মনিটরিং করতে হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণে ব্রায়ান অ্যাটকিনের নেতৃত্বে আইএমএফের ৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আসে। ১১ দিনের এই সফরে প্রতিনিধি দলটি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সেই সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ছত্তিসগড়ে মাওবাদী হামলায় ৯ সৈন্য নিহত



একদিকে যখন পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ফলাফলের দিকে তাকিয়ে গোটা ভারত, তার মধ্যেই ফের প্রাণঘাতী আঘাত হানল মাওবাদীরা। ছত্তিসগড়ের সুকমা জেলার ভেজ্জিতে শনিবার সকালে সিআরপিএফ জওয়ানদের ওপর হামলা করে মাওবাদীরা। অতর্কিত হামলায় ৯ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও তিন জন।
ভেজ্জি থেকে কুট্টাচেরু যাওয়ার পথে সিআরপিএফ-এর একটি টহলদারি দলের ওপর আড়াল থেকে গুলিবৃষ্টি করে মাওবাদীরা। আঘাত সামলে পাল্টা জবাব দেয় সিআরপিএফ-ও। শনিবার সকাল ৯টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হামলার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যায় অতিরিক্ত বাহিনী। তারাই উদ্ধারকাজ চালিয়ে মৃত ও আহত জওয়ানদের ক্যাম্পে ফিরিয়ে আনেন। সিআরপিএফ জওয়ানদের অস্ত্রশস্ত্র এবং ওয়্যারলেস রেডিও সেট লুঠ করে নিয়ে গিয়েছে মাওবাদীরা।

ভারতীয় রাজনীতিতে আঞ্চলিক দলগুলো বিলীন!

ভারতের পাঁচ রাজ্যের ভোটে উত্থান ২ প্রধান জাতীয় দলের। কার্যত হারিয়ে গেল আঞ্চলিক দলগুলো। উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে গেরুয়া ঝড়। পাঞ্জাব ছিনিয়ে নিয়েছে কংগ্রেস। গোয়ায় ভালো ফল কংগ্রেস। মনিপুরেও তীব্র লড়াই কংগ্রেস ও বিজেপির। সপা, বসপা, অকালি দল, আম আদমি পার্টি সবাই ধরাশায়ী।
এর পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় জয় পার্লামেন্টেও শক্তিশালী করল বিজেপিকে। রাজ্যসভাতেও কংগ্রেসকে ছাপিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে উঠে আসা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। এর ফলে একাধিক বিল পাস করাতে এখন অনেক শক্তিশালী জায়গায় থাকবে বিজেপি।

পাঞ্জাবে ১০ বছর পর ক্ষমতায় ফিরছে কংগ্রেস, হার অকালি-বিজেপির



জন্মদিনের সেরা উপহার পেলেন ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংহ। তার হাত ধরেই ১০ বছর পর ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস। ১১৭ সদস্যের রাজ্য বিধানসভায় ৫৯-এর ম্যাজিক ফিগার ইতিমধ্যেই টপকে গিয়েছে তারা। পাঞ্জাবে সাধারণত ৫ বছর অন্তর অন্তর ক্ষমতার হাতবদল হয়। কিন্তু ২০১২-য় সব হিসেবনিকেশ উলটে দিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য মসনদে বসে ক্ষমতাসীন শিরোমণি অকালি দল ও বিজেপি জোট। ফলে ১০ বছর এক জোট ক্ষমতায় থাকায় প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া এবার সেখানে ছিল তীব্র। পাশাপাশি আচমকা বড় মুখ হিসেবে উঠে আসে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি। পাঞ্জাবের ড্রাগ সমস্যা নিয়ে জোরদার প্রচার চালায় তারা।
ফলে পঞ্চনদের রাজ্যে ভোটের লড়াই এবার ছিল ত্রিমুখী। এক্সিট পোল বলছিল, হয় কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরবে নয়তো প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসবে আপ। মিরাকল ছাড়া তৃতীয়বারের জন্য অকালি-বিজেপির ফেরার কথা ছিল না। ক্ষমতাসীন জোটের ওপর মানুষের অসন্তোষও ছিল স্পষ্ট। রাজ্য কংগ্রেসের সবচেয়েঙ বড় ভরসা ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংহ তীব্র নরেন্দ্র মোদি হাওয়ার মধ্যেও অমৃতসরে হারিয়েছিলেন হেভিওয়েট বিজেপি প্রার্থী অরুণ জেটলিকে। তা ছাড়া দীর্ঘ টালবাহানার পর ভোটের কিছুদিন আগে বিজেপির একমাত্র পরিচিত শিখ মুখ নভজ্যোত সিংহ সিধু কংগ্রেসে যোগ দেন। ফলে ক্যাপ্টেনের হাত আরো শক্ত হয়। কিন্তু খোদ অরবিন্দ কেজরিওয়াল ঝোড়ো প্রচার চালানো সত্ত্বেও আম আদমি পার্টির ফল আশানুরূপ হয়নি। সব মিলিয়ে পরিষ্কার, রাহুল গান্ধীর মুখের হাসি সম্পূর্ণ মুছে যাওয়ার এখনো কারণ নেই। অমরিন্দর সিংহের হাত ধরে ১০ বছর পর পাঞ্জাবে ক্ষমতায় ফিরছে কংগ্রেস।

চীনের সর্বোচ্চ যুদ্ধপ্রস্তুতি, টার্গেট যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রকে সামনে রেখে এবার যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য চীনা সামরিক বাহিনীকে ঢেলে সাজাচ্ছে বেইজিং৷ সামরিক ক্ষমতায় প্রায় আমেরিকাকে ছুঁয়ে ফেলে এবার চীনা বিমানবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হলো ‘J-20’ স্টেলথ ফাইটার জেট৷ রাডারে অদৃশ্য এই যুদ্ধবিমানটি টেক্কা দেবে অত্যাধুনিক মার্কিন ‘F-22’ যুদ্ধবিমানকে৷
এছাড়াও মহাসাগরে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে ও মার্কিন নৌসেনাকে জবাব দিতে প্রথমসারির নৌবাহিনী ও মেরিন কর্পস তৈরি করছেন শি জিনপিং৷ ক্ষমতায় এসেই জিনপিং চীনা সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণে মন দিয়েছেন৷ তাই বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই সেনা এবার পেতে চলেছে স্যাটেলাইট বিধ্বংসী মিসাইল, অত্যাধুনিক সাবমেরিন ও এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার৷ বৃহস্পতিবার, J-20 যুদ্ধবিমানের অন্তর্ভুক্তির কথা জানিয়েছে চীনা সংবাদমাধ্যম৷ এই বিমানটি প্রথম নজরে আসে ২০১০ সালে৷ মার্কিন F-22 ও F-35 যুদ্ধবিমানগুলিকে টক্কর দিতে এই বিমান বানানো হয়েছে৷ এছাড়াও, J-31 নামের আরেকটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বানাচ্ছে চীন৷ ২০১৪ সালে একটি বিমান প্রদর্শনীতে দেখা যায় এই বিমানটি৷ এছাড়াও, মার্কিন সেনাকে টক্কর দিতে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী নৌসেনার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে চীন৷ তাই এবার চীন মন দিয়েছে অত্যাধুনিক এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ও সাবমেরিন বানাতে৷ ইতিমধ্যে, স্বশাসিত তাইওয়ানের পানিসীমায় ঢুকে পেশিশক্তি প্রদর্শন করেছে চীনা সামরিক বাহিনীর বিমানবাহী রণতরী লিয়াওনিং৷ এছাড়াও দক্ষিণ চীন সাগর ও পূর্ব চীন সাগরে টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে চীনা রণতরী৷ চিনা নৌসেনার কর্মকর্তা ওয়াং ওয়েইমিং জানিয়েছেন, একটি মেরিন কর্পস বানানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে চীন৷ নাম না করে আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরো জানিয়েছেন, ওই পানিসীমায় থাকা প্রত্যেকটি যুদ্ধজাহাজের উপর নজর রাখছে চীনা রণতরীগুলি৷ এবং তারা যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত৷ ২০২০ সালের মধ্যেই দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পেতে চলেছে চীনা বাহিনী৷ চীনের এই দ্রুত উত্থানে উদ্বিগ্ন ভারত৷ সম্প্রতি, করাচি বন্দরে দেখা গিয়েছে চীনা সাবমেরিন৷ এছাড়াও, ভারত মহাসাগরে একাধিকবার দেখা গিয়েছে চীনা রণতরী৷ তাই এবার আগ্রাসী বেইজিংকে রুখতে হাত মিলিয়েছে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন৷ দুদেশের মধ্যে সম্পাদিত এক চুক্তির মাধ্যমে এবার ভারতের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে মার্কিন সেনা৷ তবে যাই হোক না কেন নিজের শক্তি সংহত করে এবার চীন খোলা চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে মহাশক্তিগুলোকে।

‌উত্তরপ্রদেশে বিজেপির বিপুল জয়



ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তরপ্রদেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি বিপুল জয় পেয়েছে। বুথ ফেরত সমীক্ষার হিসেবে উত্তরপ্রদেশে এগিয়ে ছিল বিজেপি। কিন্তু একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা তারা পাবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। এগজিট পোলের হিসেব থেকে অনেকটা বাইরে গিয়ে একাই প্রায় ৩০০ আসনে এগিয়ে বিজেপি। ৪০৩ আসনের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় এখন পর্যন্ত ৩০৭ আসনে এগিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি। যেখানে সরকার গড়তে প্রয়োজন ২০২ আসন। সেখানে এই ঐতিহাসিক সাফল্যে হোলির দু-দিন আগেই মেতে উঠলেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা।
এখন পর্যন্ত ৪০৩ আসনের মধ্যে ৩০৭ আসনে এগিয়ে বিজেপি, কংগ্রেস-সপা জোট এগিয়ে ৬৯ আসনে, মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি পেয়েছে মাত্র ২০টি আসন, অন্যান্যরা এগিয়ে আটটি আসনে। এলাহাবাদ, লখনৌ, কানপুর, বেনাসর-সহ উত্তরপ্রদেশের সবকটি বড় শহরেই জয়ের মুখে বিজেপি প্রার্থীরা। লখনৌ ক্যান্টনমেন্ট আসনে বিজেপির রিতা বহুগুণা যোশির কাছে পরাজিত হয়েছেন মুলায়ম সিং যাদবের পুত্রবধূ অপর্ণা যাদব। নয়ডা আসনে জয় পেয়েছেন রাজনাথ সিং-এর ছেলে পঙ্কজ সিং-ও। ২০১২-য় যেখানে উত্তরপ্রদেশে মাত্র ৪৭টি আসন পেয়েছিল বিজেপি, সেখানে ২০১৭-য় ৩০০ টিরও বেশি আসন পকেটে পুরতে চলেছে গেরুয়া দল। নোট বাতিলের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপির গ্রহণযোগ্যতা অনেকটা কমেছে বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের ফল তা ভুল প্রমাণ করল।

রাজশাহীতে ৫ উগ্রবাদী আটক

রাজশাহীতে ৫ উ্গ্রবাদীকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে রাজশাহীর বাগমারা থানর পুলিশ তাদের আটক করে। তারা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশের (জেএমজেবি) তালিকাভুক্ত পাঁচ সদস্য বলে পুলিশ জানায়। আটক ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের আবুল হোসেন (৫৫), আবদুল মান্নান (৪৫), আবদুস সাত্তার (২৮),
উদপাড়া গ্রামের লুৎফর রহমান (৪৯) ও ভবানীগঞ্জের রহিদুল ইসলাম (৩৯)। এর মধ্যে রহিদুল ইসলাম ভবানীগঞ্জ কারিগরি কলেজের শিক্ষক।বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিম আহম্মেদ জানান, জঙ্গিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে রাতে পুলিশ তালিকাভুক্ত এই ‘জঙ্গিদের’ বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় নিজ নিজ বাড়ি থেকে এদের আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালে ফাঁসির আদেশ কার্যকর হওয়া জঙ্গি নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের সঙ্গে বিভিন্ন অপারেশনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পাবনায় পিয়াজের দরে ধস

পাবনায় জেলায় চলতি মওসুমে গোটা পিয়াজের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে মুলকাটা পেঁয়াজের বাজার দরে ধস নেমেছে। মুলকাঁটা পেঁয়াজ প্রতি মাণ ৮০০ টাকা থেকে কমে সাড়ে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গোটা পেঁয়াজ বাজারে উঠলে দাম আরো কমতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। দেশে পেঁয়াজ চাহিদার ৩০ ভাগ পুরণ করে থাকে পাবনায় উৎপাদিত। পাবনা কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ১৯ লাখ টন। সেখানে উৎপাদন হয় মাত্র ১২ লাখ টন। ঘাটতি থাকে সাত লাখ টন। এই পেঁয়াজ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। চলতি বছর পাবনা জেলায় ২৫ হাজার কৃষক ফরিদপুরি, তাহেরপুরী ও মিটকা জাতের পেঁয়াজ আবাদ করেছেন। তবে তাহেরপুরী জাতের আবাদ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। প্রায় ৪৭ হাজার ৯২২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রতি হেক্টরে গড়ে সাড়ে ১৩ টন হিসেবে প্রায় ছয় লাখ ৪৬ হাজার ৯৪৭ টন। আবহাওয়া অনুকুুলে থাকায় পেঁয়াজ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্র ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।দেশে পেঁয়াজ চাহিদার ৩০ ভাগ পুরণ করে থাকে পাবনায় উৎপাদিত। পাবনার সুজানগর উপজেলায় ১৮ হাজার হেক্টরে দুই লাখ ৪৩ হাজার টন, সাঁথিয়ায় ১৬ হাজার হেক্টরে দুই লাখ ১৬ হাজার টন, পাবনা সদরে পাঁচ হাজার হেক্টরে ৬৭ হাজার ৫০০ টন, ঈশ্বরদীতে দুই হাজার ২১০ হেক্টরে ২৯ হাজার ৮৩৫ টন, বেড়ায় দুই হাজার হেক্টরে ২৭ হাজার টন, ফরিদপুরে এক হাজার ১০০ হেক্টরে সাড়ে ১৪ হাজার ৮৫০ টন, চাটমোহরে এক হাজার ১০০ হেক্টরে সাড়ে ১৪ হাজার ৮৫০ টন, ভাঙ্গুড়ায় এক হ্াজার হেক্টরে ১৩ হাজার ৫০০ টন ও আটঘড়িয়ায় এক হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সাড়ে ২০ হাজার ২৫০ টন পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। প্রায় ৪৭ হাজার ৯২২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রতি হেক্টরে গড়ে সাড়ে ১৩ টন হিসেবে প্রায় ছয় লাখ ৪৬ হাজার ৯৪৭ টন। সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয় সুজানগর। তবে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবছর পেঁয়াজ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে কৃষকরা আশা প্রকাশ করেছেন।
পাবনার বিভিন্ন হাটÑবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ বছর জেলায় মুলকাটা পিয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছ্।ে প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ মন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। বর্তমানে হাটবাজারে মুলকাটা পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। গোটা পেঁয়াজ হাটবাজারে আমদানি শুরু হলে দাম আরো কমে যেতে পারে বলে র্কষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজের অবাধ আমদানি কারণে দেশি পেঁয়াজের দাম কমে গেছে। তাছাড়া চাহিদার চেয়ে হাট-বাজারে বেশি আমদানি হওয়ায় পেঁয়াজের দাম কমেছে। আজ শনিবার বেড়া সিঅ্যান্ডবি চতুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটে প্রায় পাঁচ থেকে সাত হাজার মন মুলকাটা পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। চট্রগ্রাম, সিলেট, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেপারী, পাইকার ও বাঁধাই ব্যবসায়ীরা আরৎদারের মাধ্যমে চাহিদা অনুয়ায়ী পেঁয়াজ কিনছেন। পরে পেঁয়াজ বস্তায় ভরে ট্রাকে করে সড়ক পথে নিজ নিজ গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছেন। সপ্তাহের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার এই দুই দিন হাট বসে। হাটে মান ভেদে প্রতি মন পেঁয়াজ ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চতুরহাটে সুজানগর ও সাঁথিয়া এলাকার কৃষক আজিম, আহাদ আলী, অমল দাস, রজব আলী অনেকেই জানান, পেঁয়াজ আবাদে প্রতিদিন একজন কৃষি শ্রমিককে দিতে হয় ৪০০ টাকা। এছাড়া তিন বেলা খাবারও দিতে হয়। খাকছাড়া গ্রামের রমজান আলী জানান, প্রতি বিঘা জমিতে বীজ আড়াই হাজার টাকা, চারা তৈরি এক হাজার ৫০০ টাকা, চারা রোপন থেকে পেঁয়াজ তোলা পর্যন্ত ৪০ জন শ্রমিক প্রয়োজন হয়। এই ৪০ জন শ্রমিকের শ্রমমূল্য ও খাবার বাবদ খরচ হয় ১৮ হাজার টাকা। রাসায়নিক সার ও কম্পোষ্ট সার এক হাজার ২০০ টাকা থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা, এবং সেচ খরচ লেগেছে ৫০০ টাকা। নিড়ানীতে লেগেছে এক হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া পরিবহন খরচসহ প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদন খরচ পড়েছে প্রায় ২৮ হাজার টাকা। পেঁয়াজ চাষিরা জানান, প্রতি বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে মুলকাটা পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ মন। প্রতি মন পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। অর্থাৎ কৃষকেরা প্রতি বিঘা জমির পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় খরচ বাদে লোকসান হয়েছে ১২ হাজার হাজার টাকা। মহাজনের ঋণ ও কৃষি শ্রমিকের মজুরী পরিশোধ করতে মওসুমের শুরুতেই প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের শ্রমে-ঘামে ফলানো পেঁয়াজ লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। অবশ্য তারা প্রতিটি ফসলেরই ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। অন্যদিকে গোটা পিয়াজ আবাদ খরচ যেমন বেশী, ফলনও বেশী পাওয়া যায়। এই গোটা পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। ক্ষিদির গ্রামের পেঁয়াজ চাষি ওয়াজেদ মন্ডল জানান, মুলকাটা পিয়াজে প্রতি বিঘায় তার লোকসান হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামীতে পেঁয়াজ আবাদ অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে বলে কৃষরা জানিয়েছেন।

পল্টনে যুবদ‌লের বি‌ক্ষোভ

বিএন‌পি চেয়ারপারসন বেগম খা‌লেদা জিয়ার বিরু‌দ্ধে মিথ্যা মামলায় চার্জশীট প্রদা‌নের প্র‌তিবা‌দে রাজধানী‌র পল্টনে বি‌ক্ষোভ মি‌ছিল ক‌রে‌ছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। আজ শ‌নিবার সকাল এগারোটার দি‌কে রাজধানীর নাই‌টে‌ঙ্গেল মোড় থে‌কে পুরানা পল্টন মোড় পযর্ন্ত বি‌ক্ষোভ মি‌ছিল ক‌রে যুবদল। এ সময় যুবদ‌লের সভাপ‌তি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহ উ‌দ্দিন টুকু, সি‌নিয়র সহ সভাপ‌তি মোরতাজুল ক‌রিম বাদরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠ‌নিক সম্পাদক মামুন হাসান, ঢাকা মহানগর যুবদল উত্ত‌রের সভাপ‌তি এসএম জাহাঙ্গীর হো‌সেন, সাধারণ সম্পাদক শ‌ফিকুল ইসলাম মিল্টন, সি‌নিয়র সহ সভাপ‌তি মোস্তফা কামাল রিয়াদ,
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ‌রিফ উ‌দ্দিন জু‌য়েলসহ যুবদ‌লের প্রায় পাচঁশতা‌ধিক নেতাকর্মী মি‌ছি‌লে উপ‌স্থিত ছি‌লেন। এ সম‌য়ে যুবদ‌লের নেতাকর্মীরা খা‌লেদা জিয়ার ভয় নাই রাজপথ ছা‌ড়ি নাই। খা‌লেদা জিয়ার কিছু হ‌লে জ্বল‌বে আগুন ঘ‌রে ঘ‌রে। খা‌লেদা জিয়ার মিথ্যা মামলা তু‌লে নাও, নি‌তে হ‌বে। ‌বি‌ভোক্ষ মি‌ছিল শে‌ষে ঢাকা মহানগর উত্ত‌রের সভাপ‌তি এসএম জাহাঙ্গীর সং‌ক্ষিপ্ত সমা‌বে‌শে ব‌লেন, বিএন‌পি চেয়ারপারসন বেগম খা‌লেদা জিয়ার বিরু‌দ্ধে রাজ‌নৈ‌তিক প্র‌তি‌হিংসায় মামলা করা হ‌য়ে‌ছে। এ মিথ্যা মামলা তু‌লে নি‌তে হ‌বে। জিয়া প‌রিবা‌রের বিরু‌দ্ধে চক্রান্তকারী‌দের এ‌দে‌শে ঠাই হ‌বে না।

কুমিল্লা নামেই বিভাগ করতে হবে : ড. মোশাররফ

ময়নামতি নয়, কুমিল্লা নামেই বিভাগ বাস্তবায়ন করার অাহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, কুমিল্লা একটি সুপ্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী জেলা। এ জেলার সাথে বহু ইতিহাস ঐতিহ্য জড়িত। সুতরাং কুমিল্লা বাদে অন্য কোনো নামে বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লার জনগণ মেনে নেবেনা। আজ শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন।
কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই মানববন্ধনে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা মোরতাজুল করিম বাদরু, বিএনপি নেতা মারুফ হোসেন সহ বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, যারা কুমিল্লা বিভাগের নাম পরিবর্তন করতে চান তারা আসলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন। পাকিস্তান আমলে বৃহত্তর কুমিল্লার লোকজন শিক্ষা, সংস্কৃতিেত গুরুত্ববহ অবদান রেখেছেন। আজকের বাংলাদেশেও এখানকার লোকের সেসব ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে। সুতরাং কুমিল্লা নামেই বিভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্য কোনো নাম মেনে নেয়া হবেনা। তিনি বলেন, যদি নাম পরিবর্তন করা হয়, মনে রাখবেন আপনারাই শেষ সরকার নন। আগামীদিনে যে সরকার ক্ষমতায় আসবে তারা ওই নাম পরিবর্তন করে কুমিল্লা নামেই বিভাগের নামকরণ করবে। সাবেক মন্ত্রী ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, ময়নামতি হলো কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার একটি ইউনিয়নের নাম। তো বিভাগের নাম তো ইউনিয়নের নামে হতে পারেনা। সরকার অযৌক্তিকভাবে ময়নামতি নামে বিভাগ করতে চাচ্ছে। যা ওই এলাকার মানুষের মনে ক্ষোভের সঞ্চার করবে। সরকারকে এধরনের হঠকারি সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

চট্টগ্রামেে উগ্রবাদীদের স্থানীয় নেটওয়ার্ক খুঁজতে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জঙ্গী আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ২৯টি গ্রেনেড ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে চট্টগ্রামের পুলিশ প্রশাসন। এসব অস্ত্রের সাথে স্থানীয় পর্যায়ের কোনো জঙ্গী যোগসূত্র আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বিশেষ করে পুলিশ এখন অন্যান্য মাধ্যম থেকে বেশি জোর দিচ্ছে মোবাইল নেটওয়ার্কের দিকে। পুলিশের মিরসরাই সার্কেলের এএসপি মাহবুবুর রহমান জানান, পুরো ঘটনাটি কুমিল্লার চান্দিনা থেকে সৃষ্ট।
তবে এখানে এসে কেন পৌছালো, লক্ষ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছি আমরা। মিরসরাইয়ে কোনো প্রকার আসামির সূত্র না পাওয়ায় আমরা মোবাইল নেটওয়ার্কের দিকেই বেশি নজর দিচ্ছি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরসরাই থানার ওসি (তদন্ত) জাকির হোসেন বলেন, মিরসরাইয়ে মূলত কোনো আসামি নেই। তবু আমরা মোবাইল নেটওয়ার্কের সূত্র ধরে এগুচ্ছি। জঙ্গীদের এখানে কোনো প্রকার যোগসাজোশ আছে কিনা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ওদের টার্গেটও চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। আশা করছি, অবশিষ্ট আসামিদের শীঘ্রই ধরা সম্ভব হবে। মিরসরাইয়ে নতুন করে জঙ্গী আস্তানার সন্ধান পাওয়ার পর সতর্কতা বাড়িয়েছে চট্টগ্রামের পুলিশ। বিভিন্ন এলাকায় ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি এলাকায় এলাকায় ‘রেইড’ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা। মিরসরাইয়ের ঘটনার পর এ অঞ্চলে নতুন কোনো আস্তানা আছে কিনা তা জানতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে পুলিশ সুপার জানান। কুমিল্লার চান্দিনায় গত মঙ্গলবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি বাসে তল্লাসীর সময় পুলিশের দিকে বোমা ছোড়ে দুই জঙ্গি। পরে তাদের গুলি করে ও ধাওয়া দিয়ে আটক করা হয়। দুই জঙ্গীর মধ্যে মাহমুদুল হাসান নামের একজনকে নিয়ে ওই রাতেই মিরসরাইয়ের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ২৯টি হাতবোমা, নয়টি চাপাতি, ২৮০ প্যাকেট বিয়ারিংয়ের বল এবং ৪০টি বিস্ফোরক জেল। রিদওয়ান মঞ্জিল নামে দোতলা ওই বাড়ির মালিক পুলিশকে বলেছেন, ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে মাহমুদুলই গত ফেব্রুয়ারি মাসে তার বাড়ির নিচ তলা ভাড়া নেন। নব্য জেএমবির সদস্যরা ওই বাড়িতে বিস্ফোরক তৈরি করত বলে প্রাথমিক তথ্য প্রমাণ পাওয়ার কথা বলেছেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার মহিবুল ইসলাম। পুলিশ সুপার মিনা বলেন, আগে থেকে নজরদারি থাকলেও সাম্প্রতিক ঘটনার পর সব থানাকে নতুন করে সতর্ক করেছেন তারা।
‘এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলা একদিকে দুর্গম পাহাড়, ঝিরি ঝরনা আর অন্যপাশে বিশাল চরাঞ্চল, পরে ভারত সীমান্ত। এই মিরসরাইয়ের বুক চিরে ছুটে গেছে দেশের প্রধানতম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। তবে ভৌগলিক অবস্থানের সুযোগ নিয়েছে অপরাধী চক্র। একদিকে পাহাড়ের দূর্গম পরিবেশ, অন্যপাশে মহাসড়ক। ইচ্ছে করলেই অপরাধ করে সন্ত্রাসীরা লুকিয়ে পড়তে পারে। আইন-শৃংখলাবাহিনীর চোখ এড়াতে পারে। চাইলে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতও চলে যাওয়া যায়। আর ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গেও যোগাযোগ সহজ। এখানের নিরিবিলি পাহাড়ি পরিবেশে খুব সহজেই তারা আস্তানা তৈরি করতে পারছে। এর আগে কুমিল্লার চান্দিনায় একটি পুলিশ চেক পয়েন্টে হামলার চালিয়ে এক পুলিশ সদস্যকে আহত করে জঙ্গিরা। এ সময় গ্রেফতার হওয়া দুই জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদের পরেই ফের উঠে আসে মিরসরাইয়ের নাম। আটককৃতদের বক্তব্যের সূত্র ধরেই চালানো হয় অভিযান।

গণপরিবহন সঙ্কটে রাজধানীবাসী

পুরনো যানবাহন পাকড়াওয়ের অভিযানে নগরবাসী পড়েছেন গণপরিবহন সঙ্কটে। অভিযান এড়াতে অনেক মালিক বাস রাস্তায় নামাচ্ছেন না। তবে কয়েকজন মালিক অভিযোগ করেছেন, যাদের ক্ষমতার দাপট রয়েছে তারা ঠিকই লক্কড়ঝক্কর গাড়ি রাস্তায় নামাচ্ছে। পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা বলেছেন, সঙ্কট কাটাতে নতুন গাড়ি নামানোর কোনো বিকল্প নেই। নতুন গাড়ি না নামিয়ে পুরনো গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান চালালে অবশ্যই পথচারীরা ভোগান্তিতে পড়বেন। কিছু দিন ধরেই রাজধানীতে পুরনো গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। বিশেষ করে ২০ বছরের পুরনো গাড়ির বিরুদ্ধে এ অভিযান। ঢাকা সিটি করপোরেশন, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি, জেলা প্রশাসন এবং মহানগর পুলিশ কখনো যৌথভাবে, আবার কখনো কখনো পৃথক অভিযান চালাচ্ছে পুরনো গাড়ির বিরুদ্ধে। যেসব গাড়ির বৈধ কাগজপত্র নেই সেগুলোর বিরুদ্ধেও অভিযান চলছে। একই সাথে যেসব চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, বিআরটিএ আইন অনুযায়ী ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই, তাদের বিরুদ্ধেও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন গাড়িচালককে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলেছেন, অসচেতন চালকদের বেপরোয়া আচরণ এবং যেখানে সেখানে পার্কিংয়ের কারণে রাজধানীতে যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে। পুরনো বাসগুলো নাগরিকদের জীবন হুমকির মুখে ফেলেছে। প্রায়ই দুর্ঘটনায় সাধারণ মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন সম্প্রতি এক অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের বলেন, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা না ফেরা পর্যন্ত এ অভিযান চলবে। এ দিকে রাজধানীতে এ অভিযানের কারণে পুরনো গাড়িগুলো চলাচলে সাবধানতা অবলম্বন করছে পরিবহন মালিক-শ্রমিকেরা। যে এলাকায় যে দিন অভিযান চলে ওই এলাকায় সে দিন পুরনো গাড়ি চলে না। ফলে ওই এলাকায় সে দিন পরিবহন সঙ্কটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েন নাগরিকেরা। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরের চার দিকে কয়েক হাজার মানুষকে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন জানালেন,
কয়েক দিন ধরেই এভাবে গাড়ির জন্য তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গাড়ি না পাওয়ায় অনেক সময় তাদের হেঁটে বাসায় যেতে হচ্ছে। পরিবহন মালিক নেতা রুস্তুম আলী খান বলেছেন, কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে এ অভিযানের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। তিনি বলেন, অভিযানের কারণে অনেক মালিক তাদের গাড়ি বন্ধ রেখেছেন; যে কারণে রাজধানীতে পরিবহন সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, অভিযানের আগেই গাড়ি রিপ্লেসেমেন্ট করা উচিত ছিল। গত কয়েক বছরে রাজধানীতে কোনো গাড়ি নামেনি। যানজটের কারণে পরিবহন ব্যবসা আগের মতো নেই, যে কারণে এ সেক্টরে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না। তিনি বলেন, পুরনো গাড়ি উচ্ছেদ করতে হলে আগে নতুন গাড়ি নামাতে হবে। বিপ্লবী সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা বলেন, এভাবে অভিযান চললে গণপরিবহনের তীব্র সঙ্কট হবে। অভিযানের কারণে অনেক গাড়ি চলছে না। এভাবে চলতে থাকলে শ্রমিকেরাও বেকার হয়ে পড়বেন। আলী রেজা বলেন, স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থ হাসিলের জন্য অনেক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একটি মহলের অর্থ উপার্জনে এসব সিদ্ধান্ত সহায়ক হয়। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র পরিবহন ব্যবসায়ী; যাদের দু-চারটি গাড়ি আছে তারা অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়বেন। আর শ্রমিকদের লাইসেন্সের ব্যাপারে তিনি বলেন, লাইসেন্স তো বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের কারণে অনেকে নিতে পারে না। তিনি বলেন, অনেক সময় বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় লাইসেন্সের জন্য; যে কারণে চালকেরা বাধ্য হয়ে ভুয়া লাইসেন্স সংগ্রহ করে। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় এই ভুয়া লাইসেন্স প্রদানের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরই অসৎ কর্তারা জড়িত থাকে।

শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় : খন্দকার মাহবুব

দেশের মানুষে ধৈর্য্যের সীমার শেষ প্রান্তে পৌঁছেছে মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ছলচাতুরি করলে বেগম জিয়ার আহ্বানে আবারো রাজপথে নামবেন। তারা আপনাদেরেক প্রমাণ করে দেবে জনগণ কার পক্ষে। আজ শনিবার দুপুরে এক সভায় তিনি বলেন, আসুন সংবিধান সংশোধন করুন। নির্বাচনের জন্য একটি সর্বদলীয় সরকার গঠন করুন। হানাহানি আর যেন না হয়। ৫ জানুয়ািরর মতো দেশে আর কোনো নির্বাচন হবেনা। হতে পারেনা।
কারণ জনগণই তাদের ভোটাধিকার আদায় করবে। মাহবুব হোসেন বলেন, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারেনা। তাদের অধীনে আমরা বিগত নির্বাচনে তা দেখেছি। বেগম খালেদা জিয়া নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। অবিলম্বে আপনারা সে দাবি মেনে নিন। প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করুন। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন এবং বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই আলোচনা সভা হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিঙ্কন, বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ। সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাহবুবুল হক চৌধুরি।

বৃটেনের সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক সংলাপে নিরাপত্তা ও ব্রেক্সিট মুখ্য আলোচ্য by মিজানুর রহমান

বৃটেনের সঙ্গে প্রথমবারের মতো স্ট্র্যাটেজিক বা কৌশলগত সংলাপে বসছে বাংলাদেশ। আগামী ২৮শে মার্চ ঢাকায় ওই সংলাপ হবে। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক আর বৃটেনের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি স্যার সাইমন ম্যাকডোনাল্ড নেতৃত্ব দেবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন সংলাপে ঢাকার তরফে বৃটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বিশেষত ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে দেশটির বেরিয়ে যাওয়া (ব্রেক্সিট) প্রশ্নে গণরায় এবং তা কার্যকর হওয়ার পর ইইউ’র মতো বৃটেনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের বাণিজ্য সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসবে। বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকা থেকে সরাসরি লন্ডনে কার্গ পরিবহন নিষিদ্ধ করে বৃটেন। নিষেধাজ্ঞা জারির পর বৃটেনসহ বৈশ্বিক উদ্বেগ নিরসন এবং হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নে চটজলদি বৃটেনের প্রতিষ্ঠান ‘রেডলাইন’কে দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশ। তাদের সুপারিশ মতে বিমানবন্দরে নিরাপত্তাও ঢেলে সাজানো হয়। একই সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে দেশটির সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে দেন-দরবার অব্যাহত রয়েছে। সেগুনবাগিচার কর্মকর্তারা ঢাকা-লন্ডন স্ট্র্যাটেজিক বা কৌশলগত সংলাপে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও উদ্বেগ প্রশ্নে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ আলোচনা হওয়ার আভাস দিয়েছেন। এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মানবজমিনকে গতকাল বলেন, ‘এটি স্ট্র্যাটেজিক সংলাপ। সুতরাং এখানে উভয়ের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং আকাঙক্ষার বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হবে।’ সংলাপের তিনটি সেশন থাকবে। প্রথম সেশনে রাজনৈতিক, পররাষ্ট্র নীতি ও ২০৩০ সাল পর্যন্ত উন্নয়ন এজেন্ডা; দ্বিতীয় সেশনে ব্রেক্সিট ও এর প্রভাব, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, বিনিয়োগ, অভিবাসন এবং তৃতীয় সেশনে নিরাপত্তা, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা, সামরিক সহযোগিতা, সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে আলোচনা করা হবে জানিয়ে ওই কূটনীতিক বলেন, গত দেড় দশক ধরে অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বৃটেনসহ বিভিন্ন দেশের। কয়েক মাস আগে ডিপি রেল নামে বৃটেনের একটি কোম্পানি পায়রাবন্দরের সঙ্গে ঢাকার রেল সংযোগের কাজ পেয়েছে। এ নিয়ে শুরুতে খানিক বিতর্ক ওঠলেও উভয় সরকারের চেষ্টায় তা নিরসন সম্ভব হয়েছে। এছাড়া গত বছর বৃটেনের রোলস রয়েস ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক যৌথভাবে তাদের কাছ থেকে বিমানের ইঞ্জিন কেনার প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে, যা বাংলাদেশ সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। ব্রেক্সিট পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ন পর্যবেক্ষণ রয়েছে ঢাকার এমন এক কূটনীতিক বলেন, ইইউ জোটের সদস্য হিসেবে বৃটেনের বাজারে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা ভোগ করে আসছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বৃটেন বেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ  যেন এ সুবিধা পায়, বরং সেই সুবিধা যেন আরো বাড়ে সেই চেষ্টাই চালাচ্ছে ঢাকা। বৃটেনে ‘অবৈধভাবে’ যাওয়া কিংবা বৈধভাবে গিয়ে কোনো কারণে ‘অবৈধ’ হয়ে পড়া বাংলাদেশের ফেরানোর চাপ রয়েছে ঢাকার ওপর। সংলাপে সেই বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করেন এখানকার কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে আচমকা ঢাকা সফর করেন বৃটেনের এশিয়া ও প্রশাস্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক মন্ত্রী অলোক শর্মা। এখানে তার সফরটি ছিল ৩ দিনের। ওই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী,  সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী সমপ্রদায়ের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ, সংখ্যালঘুসহ নানা ধর্ম-বিশ্বাসের লোকজনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। শিভেনিং অ্যান্ড কমনওয়েলথ অ্যালামনাই প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ হয়েছে তার। ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে কোনো ধরনের আগাম ঘোষণা ছাড়াই বৃটিশ মন্ত্রী ঢাকা সফর করেছেন। তার সফরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে অগ্রগতি হয়েছে তা হলো বাংলাদেশ ও বৃটেন কৌশলগত সংলাপে সম্মত হওয়া। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে ওই সংলাপের কাঠামোও চূড়ান্ত করেন বৃটিশ মন্ত্রী। মন্ত্রীর সফরের সিদ্ধান্ত মতে ঢাকা ও লন্ডনের মধ্যে নিয়মিতভাবে সেই সংলাপ হবে। প্রথম সংলাপটি হবে ঢাকায়। পরবর্তীতে অল্টারনেটিভ ভেন্যুতে (একবার লন্ডনে অন্য বছর ঢাকায়) সংলাপটি হবে। বৃটিশ মন্ত্রী ঢাকা সফর এবং বৃটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিন্ন ইতিহাসের অংশীদার বাংলাদেশ ও বৃটেনের সম্পর্ক শক্তিশালী বন্ধুত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যমান সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় ও সমপ্রসারণে নিয়মিত সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বৃটিশ মন্ত্রীও সেই আশাবাদ ব্যক্ত করে গেছেন।