Sunday, November 29, 2015

নেপালে ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ

নেপালের কেবল টিভি ব্যবসায়ীরা সেখানে ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। ফেডারেশন অফ নেপাল কেবল টেলিভিশন অ্যাসোসিয়েশন শনিবারই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারত-নেপাল সীমান্তে পণ্য নিয়ে ঢোকার ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, তার প্রতিবাদেই অনির্দিষ্টকালের জন্য ভারতীয় চ্যানেলগুলির প্রদর্শন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে নেপালে।
এদিকে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্কের মধ্যে ২ ভারতীয় এসএসবি জওয়ানকে নেপাল পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নেপাল প্রশাসন সূত্রে দাবি, অস্ত্র নিয়ে সেদেশে ঢোকার জন্যই গ্রেফতার করা হয়েছে দুই এসএসবি জওয়ানকে।
ভারত-নেপাল সীমান্তে পণ্য নিয়ে ঢোকার ক্ষেত্রে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মাধেশি ফ্রন্ট। এই সংগঠন মূলত নয়া সংবিধানের সাতটা প্রদেশের মডেল নিয়েই আপত্তি তুলেছে।
নেপালে এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কিছু দিন আগেই সেখানে নিয়োজিত ভারতের রাষ্ট্রদূত রঞ্জিত রাই বলেন, সে দেশে ভারতবিদ্বেষী মনোভাব তৈরি হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই ধরণের মানসিকতা তৈরির পিছনে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে রয়েছে। ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রে এধরণের পরিস্থিতি তৈরি হওয়া দুই দেশের কারোর পক্ষেই ভাল নয় বলে মতপ্রকাশ করেন তিনি।
নেপালে বেড়ে চলা অসন্তোষ নিয়ে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বলেন, ভারতের এই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। সেই সমস্যাকেই ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে কিছু সংখ্যক মানুষ ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। সেই সমস্যার মোকাবিলা করতে অবিলম্বেই আলোচনায় বসা উচিত্ বলে মন্তব্য করেন রঞ্জিত রাই।

আকাশপথে হামলার আশঙ্কায় নয়াদিল্লী

আকাশপথে আইসিস হামলার লক্ষ্য হতে পারে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। সম্প্রতি এমনই সতর্কবার্তা জারি করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে রাজধানীর ১৫টি জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। ড্রোন অথবা প্যারা মোটর থেকেই হামলা হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ভারতীয় বিমান বাহিনী 'সন্দেহজনক' আখ্যা দিলেই, এই ধরনের যে কোনও উড়ন্ত বস্তুকে গুলি করে নামানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে নিরাপত্তা কর্মীদের।
এ বিষয়ে সম্প্রতি নর্থ ব্লকে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানে দিল্লি পুলিশ, সেন্ট্রাল ইনডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স, কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রণালয় এবং ভারতীয় বিমান বাহিনীর আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে জঙ্গি নিশানায় রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, রাষ্ট্রপতি ভবন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপ-রাষ্ট্রপতির বাসভবন, রাজপথ ও ইন্ডিয়া গেটের পার্শবর্তী এলাকা এবং সিবিআই, সিআইএসএফ ও বিএসএফ-এর হেডকোয়ার্টার যেখানে রয়েছে সেই সিডিও কমপ্লেক্স।
সরকারি এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের কথায়, "দেশের সব শহরের মধ্যে সবচেয়ে স্পর্শকাতর হল দিল্লি। বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের নিশানায় রয়েছে দেশের রাজধানী। তার মধ্যে আইসিসও রয়েছে। এখন আকাশপথে হামলার বিষয়টি নতুন। কীভাবে এর মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে কথাবার্তা চলছে।" দিল্লির আকাশে কোনও উড়ন্ত বস্তুকে বিমান বাহিনী 'সন্দেহজনক' আখ্যা দিলেই গুলি করে তা নামানোর জন্য বিভিন্ন নিরাপত্তা এজেন্সিগুলিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে বলে জানানো হয়।
সূত্র : এই সময়

নেপালে ১৩ ভারতীয় জওয়ান আটক

নেপালে ঢুকে পড়া ১৩ ভারতীয় জওয়ানকে আটক করেছে নেপাল সীমান্ত পুলিশ বাহিনী।
ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) দুই জওয়ানকে আটক করা হয়েছিল। তবে অন্যান্য মিডিয়ার খবরে বলা হয়, নেপালের ভেতরে ঢুকে পড়ায় এসএসবির ১৩ সদস্যকে আটককরা হয়েছিল।
ভারতীয় সূত্র জানায়, রোববার সকালে চোরাচালানিদের ধাওয়া করার সময় বিহারের কিষাণগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে তারা নেপালে ঢুকে পড়ে।
এসএসবি ডিজি বিডি শর্মা বলেন, ভারতীয় জওয়ানদের নিরাপদে ফিরিয়ে দেয়া নিয়ে এসএসবি ও নেপাল সীমান্ত পুলিশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এরপর বিকেলে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়।
নেপাল বৃহস্পতিবার তাদের নাগরিকদের ওপর গুলি করার জন্য এসএসবিকে দায়ী করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারত পরে স্বীকার করে, চোরাচালানি ও তাদের বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে গোলা বিনিময় হয়েছে।
এদিকে ক্ষমতাসীন নেপালি সিপিএন (ইউএমএল)-এর সিনিয়র নেতা প্রদীপ গাইওয়ালি রোববার বলেছেন, তার দেশ ভারতের বড়ভাইসুলভ আচরণ মেনে নেবে না।
তিনি বরেন, নরেন্দ্র মোদি সরকারের উচিত নেপালের সাথে তার দেশের বর্তমান জটিলতা 'অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মিটিয়ে' ফেলা।
তিনি বলেন, আমরা ভারতের সাথে সম্পর্ক চাই সমতার ভিত্তিতে, ঠিক যেমন তা প্রযোজ্য চীনের ক্ষেত্রে। আমরা বড়ভাইসুলভ মনোভাব মেনে নেব না।
নেপালে নতুন সংবিধান প্রণয়নের পর থেকে আরো অধিকার দাবি করে ভারতীয় বংশদ্ভূত মধেশীরা আন্দোলন করছে। এর জের ধরে নেপালের ওপর ভারত অঘোষিত অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। এর ফলে নেপালে নিত্যপণ্যের মারাত্মক সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

বাইরে কলঙ্কমোচন আর ভেতরে কালিমালেপন! by মলয় ভৌমিক

ছবিটি ছাপা হয়েছে ২২ নভেম্বর প্রথম আলোর বিশাল বাংলা পাতায়। সাদা-কালোয় চার কলামজুড়ে প্রকাশিত ওই ছবিতে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভেতরের চেহারাটা ধরা পড়ে।
কী আছে ছবিতে? যাঁরা দেখেননি, তাঁদের উদ্দেশে ছবির বিষয়বস্তু তুলে ধরছি। নাটোর শহরের জিরো পয়েন্টের সড়কদ্বীপে সরকারি উদ্যোগে স্থাপিত হয়েছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ। এতে রয়েছে নাটোর অঞ্চলের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা। রাজনৈতিক দলের নেতাদের ছবিসংবলিত বিলবোর্ড-পোস্টারে গোটা চত্বরটি এমনভাবে ঢেকে ফেলা হয়েছে যে ভেতরের স্মৃতিস্তম্ভটির কোনো নিশানাই বাইরে থেকে আর অনুমান করা যায় না।
বিলবোর্ড আর পোস্টারগুলো দেখে বোঝা যায়, ক্ষমতাসীন দলের নেতারাই কাজটি করেছেন। সবার জানা যে যেদিন ওই ছবি ছাপা হয়েছে, অর্থাৎ ২২ নভেম্বর প্রথম প্রহরেই কার্যকর হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত সাকা-মুজাহিদের ফাঁসি। প্রত্যাশিত রায় কার্যকর হওয়ায় দেশবাসী সেদিন স্বস্তি প্রকাশ করেছে এবং আওয়ামী লীগসহ অনেক রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা রাস্তায় নেমে বিজয় মিছিল করেছেন। আমরা নিশ্চিত যে যেসব নেতা ব্যক্তিগত অভিলাষ পূরণের জন্য নাটোরের জিরো পয়েন্টে বিলবোর্ড-ব্যানার ঝুলিয়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ ঢেকে ফেলেছেন, সেসব নেতাও সেদিন রাস্তায় নেমেছিলেন। অভ্যন্তরীণ বিশ্বাস ও আদর্শের বৈপরীত্যের এই চিত্র কেবল নাটোর নয়, সারা দেশের নেতা-কর্মীদের ক্ষেত্রেই কম-বেশি দৃশ্যমান।
প্রকাশিত ছবিতে আরও একটি চরম পরিহাসের নমুনা লক্ষ করা যায়। শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভ ঢেকে ফেলা একটি বড় ব্যানারে লেখা আছে ‘শহীদদের মৃত্যু নেই’। স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে বীর শহীদদের প্রতি কেবল লোকদেখানো শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নয়, প্রজন্মপরম্পরায় শহীদদের বীরত্বগাথা তুলে ধরার জন্য। সেই স্মৃতিস্তম্ভ যদি ঢেকেই রাখা হয়, তাহলে শহীদদের বীরত্ব মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে কীভাবে? এ ক্ষেত্রে ‘শহীদদের মৃত্যু নেই’—এই বাণী দিয়ে শহীদদের প্রতি পরিহাস করা হলো নাকি?
স্মৃতিস্তম্ভ ঢেকে ফেলা ব্যানার-পোস্টারে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক পৌরসভা নির্বাচনের জন্য দোয়া-শুভেচ্ছা চাওয়ার বিষয়টি চিত্রিত হয়েছে। আগস্টের পোস্টার থেকে বোঝা যায়, কমপক্ষে চার মাস আগে ঢাকা পড়েছে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি। জিরো পয়েন্টের সড়কদ্বীপ নাটোরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত। এর পাশ দিয়েই গেছে ঢাকা ও বগুড়া-রংপুর মহাসড়ক। এই চার মাসে এসব সড়ক দিয়ে নিশ্চয়ই ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই যাতায়াত করেছেন। শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ ঢেকে ফেলার ঘটনাটি তাঁদের চোখে পড়েনি—এ কথা বিশ্বাস করা কঠিন। এমনও হতে পারে, ওই সড়কদ্বীপে তাঁদের আগমনকে কেন্দ্র করে ‘শুভেচ্ছা-স্বাগতম’ গোছের ব্যানার দেখে তাঁরা বরং খুশিই হয়েছেন। সব নেতা-কর্মীর ক্ষেত্রে এ কথা হয়তো প্রযোজ্য নয়, কিন্তু আজকের গড় চিত্রটা এমনই। স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী বা নাগরিক সমাজও কিন্তু এ ব্যাপারে ছিল নির্বিকার। আসলে ব্যক্তি আকাঙ্ক্ষা, ভোগ-লোভ-দুর্নীতি ইত্যাদি আজ আদর্শ ও দেশপ্রেমকে ছাপিয়ে দৃষ্টিকটুভাবে সামনে চলে এসেছে। ক্ষমতাবলয়ের মধ্যে এমন লোকজন ঢুকে পড়েছে যে চারদিকে তাকালে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে আজ বড়ই অচেনা মনে হয়।
সব থেকে ভয়াবহ হলো, পূর্বসূরিদের এই বিচ্যুতি দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে উত্তরসূরিরা। বাইরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে ভেতরে কালিমালেপনের মতো আরেকটি ঘটনার খবর ছাপা হয়েছে আলোচ্য ছবিটি প্রকাশের ঠিক পরদিনই। ২৩ নভেম্বর প্রথম আলোয় প্রকাশিত ওই খবর থেকে জানা যায়, আগের দিন শহীদ হবিবর রহমান হল মাঠে ছাত্রলীগের হল সম্মেলনের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে ছাত্রশিবিরকে প্রশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারটি দৃঢ় হাতে মোকাবিলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন। এর কিছু সময় পরই কাজলা গেটে একদল দুর্বৃত্ত তাঁর ওপর ককটেল নিক্ষেপ করে। খালিদ হাসানের বক্তব্য ও তাঁর ওপর হামলার ঘটনা থেকে দুটি সত্য বেরিয়ে এসেছে। প্রথমত, ছাত্রলীগে যে শিবির প্রশ্রয় পাচ্ছে, এই সত্যটি খালিদ হাসান স্বীকার করেছেন। দ্বিতীয়ত, প্রশ্রয় পাওয়া শিবিরের কর্মীদের প্রভাব সেখানে এত বেশি যে তাঁরা খোদ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদককে আক্রমণ করতেও দ্বিধা করছেন না। এ কথা প্রচলিত যে নানাভাবে বিভক্ত উপদলীয় নেতারা নিজেদের দল ভারী করতে ছাত্রশিবিরকে দলে ভেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি এ কথাও প্রচলিত যে এই প্রক্রিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে কোণঠাসা শিবিরের কর্মীদের কাছ থেকে মাসোয়ারা আদায় করছেন একশ্রেণির ছাত্রনেতারা। আমরা এ ব্যাপারেও একমত হতে পারি যে এই কালিমা নিয়েই সাকা-মুজাহিদের ফাঁসির পর ২২ নভেম্বর ক্যাম্পাসে কলঙ্কমোচনের মিছিল করা হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের পেছনে রয়েছে একটি বধ্যভূমি। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় জোহা হল ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর কনসেনট্রেশন ক্যাম্প। প্রতিদিন এই ক্যাম্পে শত শত নিরপরাধ বাঙালিকে ধরে এনে নির্যাতনের পর হত্যা করা হতো। এরপর জোহা হলের পেছনের বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে রাখা হতো লাশগুলো। মনে করা হয়, এটিই বাংলাদেশের সব থেকে বড় গণকবর। কয়েক বছর আগে এই স্থানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। স্তম্ভের স্থানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল চত্বর থেকে বিচ্ছিন্ন ও নিরিবিলি। এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে একজন প্রবাসী বাঙালিকে স্থানটি দেখানোর জন্য আমি স্মৃতিস্তম্ভে নিয়ে যাই। স্তম্ভের বেদিতে জুতা পায়ে উঠে আড্ডায় মেতে থাকতে দেখা যায় অন্তত এক ডজন তরুণ-তরুণীকে। স্মৃতিস্তম্ভের পাশে পুলিশের দুজন কনস্টেবল দায়িত্বরত ছিলেন। বিষয়টি নজরে আনলে কনস্টেবলরা তাঁদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, এঁরা নিজেদের ছাত্রলীগ হিসেবে পরিচয় দিয়ে উল্টো চোটপাট দেখান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও নাকি বিষয়টি অবগত করেছেন তাঁরা। ফল হয়নি। ঘটনাটি আমি ওই দিনই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসানকে জানাই। যথারীতি বিষয়টি দেখার আশ্বাসও দেন তিনি। কিন্তু এতে অবস্থার হেরফের হবে বলে মনে হয় না। কেননা, তিনি নিজেই দুর্বৃত্তদের দ্বারা আক্রান্ত।
আমার বিশ্বাস, কেবল ছাত্রলীগের কর্মীরাই এমনটি ঘটান, তা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্থানেও তরুণদের মধ্যে আগের মতো সেই চেতনা আজ আর কাজ করে না। মুক্তমনা লোকদের একের পর এক হত্যার ঘটনার পরও চোখে পড়ে না সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে কোনো প্রতিবাদ। বরং এর পরিবর্তে নানা অপপ্রচারের সঙ্গে যুক্ত হতে দেখা যায় অনেককেই। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে যখন মিথ্যা গুজব ছড়ানো এবং সেই গুজবে বিশ্বাস করার লোকের অভাব হয় না, তখন সাধারণের অবস্থাটা অনুমান করা যায়। এ ক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও উচ্চশিক্ষার মান যে প্রশ্নবিদ্ধ, তাতে আর সন্দেহ কী।
আসলে দোষ আমাদের তরুণ ছাত্রসমাজের নয়, আমরা শিক্ষক-বুদ্ধিজীবীরা, রাজনীতিবিদেরা, ক্ষমতার ভাগ নিয়ে নানা স্থানে জেঁকে বসা মানুষেরা নিজেদের কৃতকর্ম দ্বারাই তাঁদের বিপথে পরিচালিত করে চলেছি। সাম্প্রতিক সময়ে আমি বেশ কয়েকবার রাজশাহী রেলস্টেশনে ছাত্রলীগের শত শত কর্মীকে ট্রেন থেকে নেমে আসা একজন স্থানীয় নেতার পেছনে ‘অমুক ভাই এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে’ বলে স্লোগান দিতে দেখেছি। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, ভালোবাসা থেকে ছাত্ররা সেখানে যাননি, গেছেন নির্দেশিত হয়ে। অর্থাৎ, এখন কোনো ছাত্রসংগঠনের নেতা হওয়ার প্রধান যোগ্যতাই হয়েছে ওপরের নেতাদের তোয়াজ করা এবং তাঁদের বন্দনাগীত গাওয়া।
এই ১৫ নভেম্বর কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হককে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার পরদিন কেবল ছাত্র ইউনিয়ন হাতে গোনা কয়েকজন কর্মী নিয়ে রাস্তায় প্রতিবাদ জানিয়েছিল। শিক্ষক সমিতি দিয়েছিল একটি বিবৃতি। অন্য কোনো কর্মসূচি তারা দেয়নি। ছাত্রলীগসহ অনেকেই রাস্তায় নামেনি। আমি ছাত্রলীগের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেনেছি, তারা হল সম্মেলন নিয়ে ‘ব্যস্ত’ ছিল। হাসান আজিজুল হক একসময় যে সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ছিলেন, সেই জোটকে রাস্তায় নামাতে সময় লেগেছিল তিন দিন। তা-ও মাত্র শ খানেক কর্মী সমবেত হয়েছিলেন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে। গত কয়েক বছরে এই কথাশিল্পীকে অতিথি করে যে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান-সংগঠন নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে, তাদের কাউকেই ঘটনার পর খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমরা জানি, ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে হুমকি দেওয়ার পরের চিত্রও ছিল প্রায় একই।
সামগ্রিক এই অবস্থা থেকে এ দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভবিষ্যৎটা সহজেই আঁচ করা যায়।
মলয় ভৌমিক: অধ্যাপক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়; নাট্যকার।

শান্তিরক্ষী শিবিরে হামলায় নিহত ৩

রাজধানী বামাকোর র্যাডিসন ব্লু হোটেলে জঙ্গি হামলায় ২০ জন নিহত হওয়ার মাত্র আট দিনের মাথায় মালিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর শিবিরে রকেট হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। শান্তিরক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মালির জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর (মাইনুসমা) এক কর্মকর্তা বলেছেন, নিহত দুই সদস্য গিনির নাগরিক। বাকি একজন স্থানীয় ঠিকাদার। গতকাল শনিবার সকালে কাইডালে শিবিরে সন্ত্রাসীরা রকেট হামলা চালায়। হামলা চালিয়েই ওরা পালিয়ে যায়।’
এএফপি

বৈষম্যহীনতা ও সাম্যের বার্তা নরেন্দ্র মোদির

কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পরদিন বৈষম্যহীনতা ও সাম্যের আহ্বান জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ‘দিওয়ালি (দীপাবলি) মিলনে’ গতকাল শনিবার এ আহ্বান জানান ‘অসহিষ্ণুতা’ ইস্যুতে চাপে থাকা মোদি। খবর দ্য হিন্দুর। দিল্লিতে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় দীপাবলি-পরবর্তী এই অনুষ্ঠান। এতে মোদি বলেন, ‘আলোর উৎসব (দীপ প্রভা) এই উৎসবের একটি অংশ। এখানে কোনো বৈষম্য নেই। এর মাধ্যমে সাম্যের চেতনা উজ্জীবিত হয়।’ মোদি ভারতীয় উৎসবগুলোতে জনমানুষের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘আমাদের সমাজে উৎসবের একটি বড় শক্তি আছে। এটি মানুষের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি করে, নতুন শক্তিতে বলীয়ান করে তোলে।’ বক্তব্য দেওয়ার পর মোদি মঞ্চ থেকে নেমে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে হাত মেলান। অনুষ্ঠানে মোদি চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কিছু বলেননি। তবে সেখানে উপস্থিত বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ লোকসভার চলমান অধিবেশনে সংবিধান গৃহীত হওয়ার দিবস ও বি আর আম্বেদকারের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ বিতর্কের প্রসঙ্গ তোলেন। অমিত বলেন, ‘পার্লামেন্ট দল-মতনির্বিশেষে দেশের সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্বকে অক্ষুণ্ন রেখেছে। আমাদের প্রচেষ্টা হবে এই চেতনাকে জনসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। যার মাধ্যমে সমাজের সবচেয়ে দুর্বল মানুষটিও তার সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে জানতে পারে।’ দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতার প্রেক্ষাপটে এর আগে শুক্রবার পার্লামেন্টে ভাষণ দেন মোদি। ধারণা করা হচ্ছিল, অসহিষ্ণুতা বিতর্ক নিয়ে মোদি সরাসরি কিছু বলবেন। তবে এ নিয়ে সেদিন সরাসরি একটি কথাও বলেননি তিনি।

এমপিদের জন্য সু চির কঠোর ‘আচরণবিধি’

শৃঙ্খলা রক্ষায় দলীয় আইনপ্রণেতাদের আচরণবিধি বাতলে দিলেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি। সম্প্রতি দেশটিতে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়ী হয়েছে। খবর এএফপির।সু চি গতকাল শনিবার দলের নবনির্বাচিত এমপিদের সতর্ক করে বলেন, শৃঙ্খলার ঘাটতি বা কোনো ত্রুটি তিনি সহ্য করবেন না।নির্বাচনে বিপুল বিজয় লাভের পর এনএলডির কাছে মিয়ানমারের গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রত্যাশা এখন আকাশচুম্বী। এ প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টার অংশ হিসেবেই সু চি এমন নির্দেশনা দিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।গতকাল এনএলডির এমপিরা বলেন, সু চি এক দলীয় বৈঠকে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে এমপিদের শৃঙ্খলা ও আচরণগত ঘাটতি বা ত্রুটিতে সাজার মুখোমুখি হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে দেন।দলটির প্রভাবশালী নেতা ও এমপি থেট থেট খাইন বলেন, সু চি চান না, দলের মধ্যে কেউ ছোট আরেকটি দল গড়ে তুলুক।

আয়লানের স্বজনদের নিচ্ছে কানাডা

মা-বাবার সঙ্গে গ্রিসে পাড়ি জমাতে গিয়ে সাগরে ডুবে মারা যাওয়া সেই সিরীয় শিশু আয়লান কুর্দির স্বজনদের অভিবাসী হিসেবে গ্রহণ করছে কানাডা। দেশটি থেকে আয়লানের ফুফু সিবিসি টেলিভিশনকে এ কথা জানিয়েছেন। খবর বিবিসির।আয়লানের ফুফু তিমা কুর্দি অনেক আগে থেকেই কানাডায় বাস করছেন। তিনি সিবিসিকে বলেন, আয়লানের চাচা (তিমার ভাই) মোহাম্মদ, চাচি ঘুসুন এবং তাঁদের পাঁচ ছেলেমেয়ে অভিবাসন চেয়ে আবেদন করেছিলেন। এ মাসের গোড়ার দিকে তাঁদের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে বলে কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে ই-মেইল করে জানানো হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা সিবিসিকে জানিয়েছেন, আয়লানের স্বজনদের অভিবাসন-প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে এগোচ্ছে। হাফিংটন পোস্ট জানিয়েছে, আয়লানের চাচা কানাডায় অভিবাসনের জন্য আবেদন করলেও তার শোকাহত বাবা আবদুল্লাহ সেখানে যাচ্ছেন না। আবদুল্লাহ তাঁর স্ত্রী, আয়লানসহ দুই শিশুপুত্রকে নিয়ে তুরস্ক থেকে নৌকায় করে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু সাগরে নৌকাটি ডুবে গেলে আবদুল্লাহ ছাড়া বাকি তিনজনই মারা যান। আয়লানের লাশের ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন ওঠে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কানাডার বাড়তি সহায়তা

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার অংশ হিসেবে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা করতে অতিরিক্ত ২৬৫ কোটি ডলার দিতে চেয়েছে কানাডা। মাল্টার রাজধানী ভ্যালেট্টায় শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর বার্ষিক সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এই ঘোষণা দেন।এদিকে সম্মেলনে কমনওয়েলথের নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন ব্রিটিশ আইনজীবী ব্যারোনেস প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড। তিনি এ সংগঠনের ৬৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম ব্রিটিশ মহাসচিব। এ পদে প্রথম নারীও তিনি। খবর দ্য ইনডিপেনডেন্ট ও হাফিংটন পোস্ট-এর।
এবারের কমনওয়েলথ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর আলোচনা প্রাধান্য পাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ কমনওয়েলথ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। আগামীকাল সোমবার থেকে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনের প্রাক্কালে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা এল। আন্তর্জাতিক জলবায়ু পরিবর্তন তহবিলে ২০২০ সাল নাগাদ বছরে ১০ হাজার কোটি ডলার করে সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্মেলন উদ্বোধনের পর জাস্টিন ট্রুডো অতিরিক্ত অর্থ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিলে উপস্থিত নেতারা তাঁকে অভিবাদন জানান। আগামী পাঁচ বছরে এই অর্থ দেওয়া হবে। ট্রুডো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নিজের ভূমিকা রাখার জন্য কানাডা প্রস্তুত রয়েছে। বিশ্বের দরিদ্রতম ও অরক্ষিত দেশগুলোর সহায়তায় তাঁর দেশ পাশে থাকবে। ২০০৯ সাল থেকে কানাডা জাতিসংঘের জলবায়ু তহবিলে প্রতিশ্রুত আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে তিনি তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেন।
তরুণদের ভূমিকাটি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে রাখা হয় কমনওয়েলথভুক্ত ৫৩টি দেশের একজন করে শিশুকে। সাবেক ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত দেশগুলোকে নিয়ে কমনওয়েলথ গঠিত। এই দেশগুলো বিশ্বের মোট আয়তনের এক-চতুর্থাংশ এবং মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করে। আজ এ সম্মেলন শেষ হওয়ার কথা।

তুরস্কের ওপর রাশিয়ার অবরোধ আরোপ

সিরিয়ায় রাশিয়ার যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার জের ধরে তুরস্কের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে মস্কো। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার চার দিনের মাথায় গতকাল শনিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অবরোধ আরোপের সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করেন। এ ছাড়া ভূমধ্যসাগর দিয়ে সিরিয়ার উপকূল অভিমুখে একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পাশাপাশি দেশটিতে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে রাশিয়া। এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গতকাল বলেছেন, রুশ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় তিনি ‘ব্যথিত’। পশ্চিমাঞ্চলীয় বালিকশেহির শহরে এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘এটি না ঘটলেই ভালো হতো। তবে এটা ঘটে গেছে। আমি আশা করি, ভবিষ্যতে আর এমনটি ঘটবে না।’ এর আগে এরদোয়ান এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছিলেন। খবর বিবিসির। খবরে বলা হয়, ‘মস্কোভা’ যুদ্ধজাহাজের দূরপাল্লার বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটসহ (আইএস) প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরোধীদের বিরুদ্ধে রুশ বিমান হামলায় অংশগ্রহণকারী যুদ্ধবিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া যুদ্ধবিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত বৃহস্পতিবার সিরিয়ায় অত্যাধুনিক এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র পাঠায় রাশিয়া। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মোতায়েন করা হয় সেখানকার হেইমিম বিমানঘাঁটিতে। তুরস্ক সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে এই ঘাঁটির অবস্থান। বাশারবিরোধীদের ওপর হামলা চালাতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে রাশিয়ার যুদ্ধবিমান এই বিমানঘাঁটি ব্যবহার করছে। গত মঙ্গলবার তুরস্কের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সিরিয়ার ভেতর রুশ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে প্রবল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। দুই পক্ষের মধ্যে চরম বাগ্যুদ্ধ চলছে। এর আগে গত শুক্রবার টেলিভিশন ভাষণে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ‘আগুন নিয়ে না খেলার জন্য’ রাশিয়াকে সতর্ক করে দেন। সিরিয়ায় চলা রুশ অভিযানকে কেন্দ্র করে এ কথা বলেন তিনি। একই দিন তুর্কি নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত সুবিধা আগামী ১ জানুয়ারি থেকে স্থগিতের ঘোষণা দেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। তিনি বলেন, তুরস্ক কোনো কোনো বিষয়ে গ্রহণযোগ্যতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। রুশ বিমান ভূপাতিত করার ঘটনা তুরস্কের জাতীয় ও আঞ্চলিক স্বার্থ ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন করতে পারে বলে তিনি সতর্ক করে দেন। ভিসামুক্ত ভ্রমণসুবিধা স্থগিত রাখার ওই ঘোষণার আগে পুতিন নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলে তাঁর দেশের নাগরিকদের তুরস্ক ভ্রমণের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। তুরস্কে যাওয়া বিদেশি পর্যটকদের এককভাবে সবচেয়ে বড় অংশ রাশিয়ার। গত বছর তুরস্ক ভ্রমণ করেন ৩০ লাখেরও বেশি রুশ পর্যটক। সে কারণে রাশিয়ার এই মনোভাব দেশটির পর্যটনশিল্পকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। দুই দেশের সম্পর্কে এমন তীব্র টানাপোড়েন চলার মধ্যে প্রেসিডেন্ট পুতিন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে কোনো কথা বলার আগে তাঁর যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় তুরস্কের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরদোয়ান তা প্রত্যাখ্যান করেন। তবে তিনি প্যারিসে শুরু হতে যাওয়া বিশ্ব জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনের অধিবেশনের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। আর এ জন্য ক্রেমলিনের কাছে সময় চেয়ে ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠিয়েছে আঙ্কারা।

ইয়াজিদিদের আরেকটি গণকবরের সন্ধান

ইরাকের উত্তরাঞ্চলে আরও একটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। এতে দেশটির সংখ্যালঘু ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের অন্তত ১১০ জনের লাশ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই গণকবরটি সিনজার শহরের কাছে।চলতি মাসের শুরুর দিকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিদের কাছ থেকে শহরটি পুনর্দখল করা হয়। ২০১৪ সালের আগস্টে সিনজার দখল করে আইএস। সেখানে গণহত্যা ছাড়াও ইয়াজিদি নারী-মেয়েদের ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও সিনজার ও এর আশপাশে গণকবর পাওয়া গেছে। সবশেষ পাওয়া এই গণকবরটি সিনজার থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। সিনজারের মেয়র মাহমা খলিল বলেছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া গণকবরের মধ্যে যথাসম্ভব এটাই সবচেয়ে বড়। আরও গণকবর পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শান্তিরক্ষী বাহিনীর ঘাঁটিতে রকেট হামলা, নিহত ৩

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ঘাঁটিতে রকেট হামলা চালিয়েছে বন্দুকধারীরা। এতে শান্তিরক্ষী বাহিনীর দুই সদস্য ও একজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। আজ শনিবার স্থানীয় সময় ভোরের দিকে দেশটির উত্তরাঞ্চলের কিদাল এলাকার একটি ঘাঁটিতে ওই হামলা চালানো হয়। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।  জাতিসংঘের সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, শান্তিরক্ষী বাহিনীর নিহত দুই সদস্য গিনির নাগরিক। আর বেসামরিক ব্যক্তি একজন ঠিকাদার। পৃথক সূত্রের বরাত দিয়ে এএফ​পি জানায়, ওই হামলায় অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। মালিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের মুখপাত্র ওলিভিয়ার সালগাদোরের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ভোর চারটার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। বন্দুকধারীদের ছোড়া চার থেকে পাঁচটি রকেট ঘাঁটির অভ্যন্তরে এসে পড়ে। এতে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে।  ইসলামি কট্টরপন্থীদের ঠেকিয়ে মালিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দেশটিতে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠিয়েছে জাতিসংঘ। ফ্রান্সও তার সাবেক উপনিবেশ এই দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সেনা পাঠিয়েছে। এর মধ্যেও বিভিন্ন সময় কট্টরপন্থীদের হামলা চলছে।  ২০ নভেম্বর মালির রাজধানী বামাকোর র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে বন্দুকধারীদের গুলিতে অন্তত ২০ জন নিহত হন। দেশটিতে আল-কায়েদা ইন ইসলামিক মাগরেব (একিউএমআই), আল-মুরাবিতুন ও ম্যাসিনা লিবারেশন ফ্রন্টসহ (এমএলএফ) বেশ কয়েকটি কট্টরপন্থী সংগঠন অত্যন্ত সক্রিয়।  ২০১২ সালে অধিকাংশ সময় কট্টরপন্থীরা মালির উত্তরাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। পরে ফরাসি সামরিক বাহিনী তাদের হটিয়ে দেয়। তারপরও ওই সব এলাকায় কট্টরপন্থীদের প্রভাব রয়ে গেছে।

বৈঠকে উপস্থিত হতে দেরি করায় ছয় কর্মকর্তার দণ্ড

বৈঠকের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হওয়ায় তানজানিয়ার ছয়জন সরকারি কর্মকর্তাকে কারাদণ্ড ​দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ওই কর্মকর্তাদের ছয় ঘণ্টা করে কারাবাস করতে হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।তানজানিয়ার উহুরু সংবাদপত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, শুক্রবার জেলা কমিশনারের নির্দেশে ওই কর্মকর্তাদের ছয় ঘণ্টা করে কারাবাস করতে হয়। সংবাদপত্রটি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিষয়টি সম্পাদকীয় আকারে প্রকাশ করে।তানজানিয়ার প্রধান শহর দারুস সালামের শহরতলির কমিশনার তাঁর সহকর্মী ওই ছয় কর্মকর্তাকে কারাদণ্ডাদেশ দেন। পাশাপাশি পরদিন নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা আগে নিজ নিজ দপ্তরে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিশনার ওই কর্মকর্তাদের ‘দায়িত্বহীন’ বলেও আখ্যা দেন। স্থানীয় সময় সকাল আটটায় বৈঠকের সময় নির্ধারিত থাকলেও ওই ছয় কর্মকর্তা তিন ঘণ্টারও বেশি সময় দেরিতে উপস্থিত হন। জনগণের জমিজমা নিয়ে সৃষ্ট হাজারো বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে ওই বৈঠক ডাকা হয়েছিল।তানজানিয়ার প্রেসিডেন্ট জন মাগুফুলি চলতি মাসের শুরুর দিকে জনগণের জমিজমা নিয়ে সৃষ্ট হাজারো বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নিতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ দেন। এসব বিরোধ অনেকাংশেই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদেরই তৈরি বলে অভিযোগ রয়েছে। ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়লাভের পর চলতি মাসেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন মাগুফুলি। দায়িত্ব নিয়েই তিনি দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ও ব্যয় সংকোচনের ঘোষণা দেন।

এরদোয়ানের ‘মন খারাপ’

তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে গুলি করে রাশিয়ান বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ‘মন খারাপ’ হয়েছে। এরদোয়ান বলেন, এমন ঘটনা ঘটবে বলে আশা করেননি তিনি। ভবিষ্যতেও যেন তা আর না ঘটে। আজ শনিবার বিবিসি অনলাইনের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়।এ ঘটনায় এরদোয়ান রাশিয়ার কাছে দুঃখ প্রকাশে অস্বীকৃতি জানান। বরং সিরিয়া অভিযানে রাশিয়া ‘আগুন নিয়ে খেলছে’ বলে অভিযোগ করেন।এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মস্কোতে তুর্কি দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজ দেশের জনগণকে ‘যতক্ষণ না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়’ ততক্ষণ পর্যন্ত রাশিয়া সফরে না যেতে সতর্ক করেন।গতকাল শুক্রবার রাশিয়া তুরস্কের সঙ্গে ভিসামুক্ত যাতায়াত-ব্যবস্থা স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে দেশটি তুরস্কের ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে।

ব্রিটিশ মন্ত্রীর পদত্যাগ

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির সাবেক কো-চেয়ারম্যান গ্র্যান্ট শ্যাপস আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রীর পদ থেকে গতকাল শনিবার পদত্যাগ করেছেন। দলের একজনকে হুমকি প্রদর্শনের অভিযোগের ব্যাপারে তিনি যথাযথ পদক্ষেপ নেননি, এমন অভিযোগ ওঠায় পদত্যাগ করেন শ্যাপস। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন নিক হার্ড।
রয়টার্স

যুদ্ধবিমান সংগ্রহ

দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মিত দুটি অত্যাধুনিক এফএ-৫০ যুদ্ধবিমান গতকাল শনিবার গ্রহণ করেছে ফিলিপাইন। সমুদ্রসীমা নিয়ে শক্তিশালী প্রতিবেশী চীনের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এসব যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করল দেশটি। এর মাধ্যমে প্রায় এক দশক পর শব্দের চেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন যুদ্ধবিমান পেল ম্যানিলা। ফরমায়েশ করা ১২টি যুদ্ধবিমানের মধ্যে প্রথম দুটি গ্রহণ করল ফিলিপাইন। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে মূলত ম্যানিলার সামরিক কর্তৃত্ব প্রদর্শনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলছে।
এএফপি

আমিরের সমর্থনে পাকিস্তানি শিখরা

এবার পাকিস্তানের শিখ সম্প্রদায়ের নেতারা বলিউড অভিনেতা আমির খানের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ভারতে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা নিয়ে আমিরের অবস্থান সমর্থন করেছেন তাঁরা। খবর ডন পত্রিকার।ওয়ার্ল্ড শিখ-মুসলিম ফেডারেশনের প্রধান সরদার মনমোহন সিং গত শুক্রবার লাহোরের গভর্নরস হাউসে গুরু নানকের বিভিন্ন উপদেশ নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে বলেন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের স্বাধীনতাকে ভারত কখনোই মেনে নেয়নি। সেখানে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য উগ্রপন্থী শিবসেনা দায়ী। মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তারা নানা রকম উসকানি দিচ্ছে।শিখ সম্প্রদায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যুক্তরাজ্য থেকে লাহোরে এসেছেন শিখ নেতা মনমোহন। তিনি বলেন, এটা স্পষ্ট যে ভারতে সরকারের কিছু নীতির কারণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও বিভিন্ন ব্যক্তি মনঃকষ্টে রয়েছেন। গোমাংস খাওয়া বাদ দিতে না পারলে মুসলিমদের ভারত ছেড়ে যেতে বলা হচ্ছে। চলচ্চিত্র তারকা শাহরুখ খান ও আমির খান চরমপন্থার শিকার হচ্ছেন।শিখ তীর্থযাত্রী সংগঠনের উপপ্রধান সরদার অমরজিৎ সিং বলেন, ‘ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) অসহিষ্ণুতাকে মদদ দিয়ে নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থীদের সমর্থন পেতে চাইছে।’তীর্থযাত্রী সংগঠনটির নেতা সরদার গুরুমিৎ সিং শিবসেনা এবং তালেবানের সন্ত্রাসবাদ ও অসহিষ্ণুতার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সহাবস্থানের পক্ষে।’আমিরের বিজ্ঞাপনমূল্য বৃদ্ধি: বিজ্ঞাপনের জগতে আমির খানের মূল্য গত এক বছরে ৪৪১ শতাংশ বেড়েছে। নয়াদিল্লিভিত্তিক অনলাইন বাজার স্ন্যাপডিল এ তথ্য দিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, আরেক তারকা সালমান খানের পরেই বিজ্ঞাপন থেকে সবচেয়ে বেশি আয় করেন আমির।এদিকে ভারতের গণমাধ্যম বলছে, চিকিৎসার জন্য শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে নয়াদিল্লি ত্যাগ করেছেন অভিনেতা আমির খান।

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গুলিতে নিহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের একটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে গত শুক্রবার বন্দুকধারীর হামলায় পুলিশের এক সদস্য এবং দুজন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে। এতে নয়জন আহতও হয়েছে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালানোর পর ওই বন্দুকধারী পুলিশের কাছে ধরা দেন। খবর এএফপির।স্থানীয় পত্রিকা দ্য ডেনভার পোস্ট জানায়, কলোরাডো স্প্রিংস এলাকায় ওই হামলা চালানো ব্যক্তির নাম রবার্ট লুইস ডিয়ার (৫৭)। তাঁর বাড়ি সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে।
পুলিশ ভেবেছিল, বন্দুকধারী ডিয়ারের কাছে বিস্ফোরকও থাকতে পারে। তাই সতর্কতার সঙ্গে পুরো স্বাস্থ্যকেন্দ্র এলাকাটি ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। ডিয়ার প্রথমে বন্দুকযুদ্ধ শুরু করলেও একপর্যায়ে আত্মসমর্পণ করেন।
গোলাগুলির সময় বেশ কয়েকজন মানুষ প্ল্যানড প্যারেন্টহুডের ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে ছিলেন। আচমকা হামলার পর তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করেন। হামলার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। প্ল্যানড প্যারেন্টহুডের ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মূলত নারীদের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাবিষয়ক সেবা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সেখানে গর্ভপাত করানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ধর্মীয় রক্ষণশীলরা প্ল্যানড প্যারেন্টহুডের কার্যক্রমের বিপক্ষে। তাঁদের অনেকে যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী। তদন্ত কর্মকর্তারা ওই বন্দুকধারীর একটি মোটরগাড়ি উদ্ধার করেছেন। বিবিসি জানায়, নিহত পুলিশ সদস্যের নাম গ্যারেট সোয়াসে (৪৪)। তিনি বিবাহিত ও দুই সন্তানের বাবা। কলোরাডো স্প্রিংসের পুলিশপ্রধান পিটার কেয়ারি বলেন, হামলায় আহত ব্যক্তিরা আশঙ্কামুক্ত। তাঁদের মধ্যে পুলিশের পাঁচ সদস্য রয়েছেন। তাঁরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির প্রধান নির্বাহী ভিকি কাওয়ার্ট সিএনএনকে বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানটি হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল বলে মনে হয় না। ডেনভার এলাকায় প্ল্যানড প্যারেন্টহুডের আরও তিনটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। সেগুলোর সুরক্ষার জন্য বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন আলোচনায় বহুল ব্যবহৃত শব্দগুচ্ছ

জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আগামীকাল সোমবার শুরু হচ্ছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ২০১৫। সম্প্রতি সন্ত্রাসী হামলায় রক্তাক্ত প্যারিসে অনুষ্ঠেয় এ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা প্রায় ২০০ দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের। দশকের পর দশক এমন পরিবেশসংক্রান্ত সম্মেলন ও আলোচনায় বহুল প্রচলিত হয়ে উঠেছে কিছু শব্দ। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এ রকম কিছু শব্দ তুলে ধরা হলো:ইউএনএফসিসিসি: দ্য ইউনাইডেট নেশনস ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ। ১৯৯২ সালে সই হওয়া একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি এটি। বিশ্ব জলবায়ুব্যবস্থাকে মানুষের বিপজ্জনক তৎপরতা থেকে রক্ষা করাই এর লক্ষ্য।কপ-২১: সিওপি বা কপের পূর্ণাঙ্গ রূপ দ্য কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস। ইউএনএফসিসিসির সর্বোচ্চ সংস্থা এটি। কপের প্রথম বৈঠক হয় জার্মানির বার্লিনে ১৯৯৫ সালে। কপ-২১ বা কপের ২১তম বার্ষিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে প্যারিসে। নানা কারণেই এ বছর অনুষ্ঠেয় এ বৈঠককে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়।এডিপি: দ্য অ্যাডহক ওয়ার্কিং গ্রুপ অন দ্য ডারবান প্ল্যাটফর্ম ফর অ্যাডভান্সড অ্যাকশন। পরিবেশবিষয়ক একটি সহায়ক সংস্থা। গঠিত হয় ২০১১ সালে। ২০১৫ সালের মধ্যে একটি নতুন জলবায়ু চুক্তিতে উপনীত হতে কাজ করছে এটি। যে চুক্তিটি কার্যকর হবে ২০২০ সাল থেকে।মিটিগেশন অ্যান্ড অ্যাডাপটেশন: বায়ুমণ্ডল থেকে ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস অপসারণ বা এর নিঃসরণের উৎস দূর করতে মানুষের তৎপরতা বোঝায় মিটিগেশন। আর জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিরূপ প্রভাবের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে গৃহীত পদক্ষেপকে বোঝায় অ্যাডাপটেশন।আইএনডিসিএস: একটি পরিকল্পনা। যার পূর্ণ রূপ ইনটেনডেড ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কনট্রিবিউশনস। এর অধীন কপ ২১ বৈঠককে সামনে রেখে প্রকাশ্যে বিশ্বনেতাদের এক রূপরেখা ঘোষণা করতে হয়েছে। যে রূপরেখায় নতুন বৈশ্বিক চুক্তির আওতায় ২০২০ সালের পর তাঁরা পরিবেশগত কী কার্যক্রম নিতে ইচ্ছুক, সে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।অ্যানেক্স ১, অ্যানেক্স ২, নন-অ্যানেক্স ১: ১৯৯২ সাল পর্যন্ত শিল্পোন্নত দেশ বলে বিবেচিত দেশগুলো বোঝাতে ব্যবহৃত হয় অ্যানেক্স ১। গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনের জন্য প্রধানত এসব দেশকে দায়ী করা হয়ে থাকে। অ্যানেক্স ১-ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যারা অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) সদস্য, তাদের বোঝাতে ব্যবহৃত হয় অ্যানেক্স ২। আর নন-অ্যানেক্স বলতে প্রধানত উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বোঝায়।এওএসআইএস, আমব্রেলা: কোনো আলোচনায় একই রকমের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পোষণকারী দেশগুলোর জোট বোঝাতে ব্যবহৃত শব্দগুচ্ছ। এর মধ্যে এওএসআইএস হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন ক্ষুদ্র দ্বীপ দেশগুলোর জোট।
সূত্র: রয়টার্সআ

পণের পণ্য থেকে অন্য ভুবনে

আফগানিস্তানের মেয়ে সোনিয়া আলীজাদেহ। এখন ইরান হয়ে এখন তাঁর বসবাস যুক্তরাষ্ট্রে। বয়স ১৯ বছর, কাজ করছেন র‍্যাপশিল্পী হিসেবে। শৈশবে তাঁর জীবনে ঘটে যায় একটা বাজে ঘটনা। ভাইয়ের বিয়ের খরচ জোগানোর জন্য শিশু সোনিয়াকে ওই বয়সে কনে হিসেবে বিক্রি করতে চেয়েছিল তার পরিবার। নিজেকে পণ্য হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে সোনিয়া এখন র‍্যাপশিল্পী। লন্ডনে অনুষ্ঠিত ‘উইমেন ইন ওয়ার্ল্ড’ সম্মেলনে নিজের এমন অভিজ্ঞতা আর অর্জনের কথা সবাইকে জানালেন সোনিয়া। তাঁর সে গল্পই তুলে ধরেছে বিবিসি অনলাইন ও ডেইলি মেইল। সেসব খারাপ দিনের কথা প্রসঙ্গে সোনিয়া বলতে থাকলেন, তাঁর বয়স যখন আট, তখন তাঁর পরিবার আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে ইরানে চলে যায়। ১০ বছর বয়সে তিনি অবাক করার মতো একটি বিষয় লক্ষ করেন—তাঁর প্রতি হঠাৎ করে বাবা-মায়ের অতি মনোযোগ। তাঁকে নতুন কাপড় কিনে দেওয়া হলো। একদিন মা তাঁকে সাজগোজ করে তৈরি হতে বললেন এবং জানালেন, কনে হিসেবে দেখানো হবে তাঁকে। যা-ই হোক, সে যাত্রায় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়নি তাঁকে। তবে ১৬ বছর বয়সে তিনি আবার একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। সে সম্পর্কে সোনিয়া বলেন, ‘আমার বয়স তখন ১৬। আমি তেহরানে কাজ করি। আমার মা একদিন দেখা করার জন্য আমার কাছে এলেন। বললেন, আমাকে আফগানিস্তানে ফিরে যেতে হবে। অচেনা এক পুরুষকে বিয়ে করতে হবে। কারণ হিসেবে মা বললেন, বিয়ের জন্য আমার ভাইয়ের মোটা অঙ্কের (সাত হাজার ডলার) পণ দরকার। আর আমাকে বিয়ে দিয়ে আমার পরিবার পণ হিসেবে নয় হাজার ডলার পাবে। আমার ভাইয়ের বিয়ের খরচের পরও দুই হাজার ডলার বাড়তি পাবে আমার পরিবার। এ কথা শুনে আমার দম আটকে গেল, আমি বাকরুদ্ধ। মায়ের এই কথা শুনে আমি বুঝতে পারলাম, ভাইয়ের তুলনায় আমি কতটা মূল্যহীন।’ সোনিয়ার ভাষায়, ‘আমার মা যখন আমাকে বিক্রি করার কথা বললেন, শুনে আমার হৃদয়টা ভেঙে গেল।’ সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর উপলব্ধি, ‘অল্প বয়সে জোর করে যেসব মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হয়; তাদের শৈশব হারিয়ে যায়। তারা হয়ে পড়ে আশাহীন।’ কষ্ট পেলেও হাল ছাড়েননি সোনিয়া। তিনি তাঁর মায়ের সঙ্গে আফগানিস্তানে ফিরে যাননি। বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে তিনি গান লিখতে শুরু করেন। সেসব র‍্যাপ গান গেয়ে তা রেকর্ড করেন। তবে কাজের বৈধ অনুমতিপত্র না থাকায় তিনি বেশি দিন ইরানে থাকতে পারেননি। ইরানে থাকার সময় তিনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্নানাগার পরিষ্কারের কাজ করতেন। ২০১৪ সালে সোনিয়া ইউটিউবে ‘বিক্রির জন্য কনেরা’ শিরোনামে একটি ভিডিও আপলোড করেন। এখানে তিনি তুলে ধরেন, আফগানিস্তানে প্রতিবছর ১৫ শতাংশ মেয়ের অল্প বয়সে বিয়ে হয়। বিয়ের নামে পণ্য হিসেবে বিক্রি হয় কন্যাশিশুরা। এই র‍্যাপ গান করতে করতে ভাগ্য খুলে যায় সোনিয়ার। যুক্তরাষ্ট্রে সংগীত বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ পান তিনি। এখন পড়াশোনা করছেন, চালিয়ে যাচ্ছেন র‍্যাপ গানও। নারীদের বিশ্ব সম্মেলনে আফগানিস্তানে নারীর জীবন কেমন, সে বিষয়ে সোনিয়া বলেন, ‘আমার দেশে ভালো মেয়ে মানে যে চুপ থাকবে, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলবে না, পরিবারের কথা মেনে চলবে। ভালো মেয়ে মানে তাকে পুতুলের মতো থাকতে হবে, আর সবাই তাকে নিয়ে খেলবে।’ তাঁর জীবনটা আফগানিস্তানের অন্য মেয়েদের মতো না হওয়ার কারণ বেশ স্পষ্ট করে বললেন সোনিয়া। তাঁর ভাষায়, ‘সুন্দর একটা জীবনের স্বপ্ন আমার ছিল। তাই আমি হাল ছাড়িনি। আমি আমার স্বপ্নের কথা কখনো ভুলিনি

নেপালে ভারতের সব টিভি চ্যানেল বন্ধ

নেপালের ক্যাবল টিভি অপারেটররা দেশটিতে ভারতের সব টিভি চ্যানেল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছেন।
আজ রোববার বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, সীমান্ত দিয়ে নেপালে পণ্য আসার ক্ষেত্রে ভারতের ‘অনানুষ্ঠানিক অবরোধ’ আরোপের প্রতিবাদে এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন তাঁরা। ওই ‘অনানুষ্ঠানিক অবরোধ’ আরোপের ফলে ভারত-নেপাল সীমান্তে পণ্যবাহী অনেক ট্রাক আটকে আছে। নেপালের অভিযোগ, নতুন সংবিধানের বিরুদ্ধে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের তরাই অঞ্চলে থারু ও মদেশীয়দের বিক্ষোভের কারণেই ওই অবরোধ আরোপ করা হয়েছে।  অন্যদিকে, এ অভিযোগ অস্বীকার করে ভারত বলছে, নিরাপত্তার কারণে ট্রাকচালকেরা যেতে চাইছেন না বলেই পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এদিকে নেপালে ভারতবিরোধী মনোভাব বাড়ার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত। নেপালে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত রঞ্জিত রাই গত শুক্রবার বলেন, ‘ভারতবিরোধী মনোভাব বাড়ায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই ধরনের মনোভাব উৎসাহিত করা ভারত ও নেপাল উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। নেপালের পার্লামেন্টে সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয় নতুন সংবিধান। ওই সংবিধান প্রণয়ন-প্রক্রিয়া দেশটিতে ব্যাপক মতবিরোধের সৃষ্টি করে। সংবিধান নিয়ে প্রভাবশালী প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গেও নেপালের তিক্ততা সৃষ্টি হয়। নেপালের নতুন সংবিধানের বিষয়ে ভারতের মত, এটা যথেষ্ট ব্যাপকতার ভিত্তিতে হয়নি। সংবিধানকে কেন্দ্র করে দেশটিতে বিশেষত সীমান্তের তরাই অঞ্চলের সহিংসতার আঁচ ভারতেও লাগবে। এদিকে তরাইয়ের বাসিন্দা জাতিগত মদেশি ও থারু সংখ্যালঘুদের আশঙ্কা, নতুন সংবিধানের অধীনে নেপাল বিভিন্ন প্রদেশে ভাগ হলে তারা রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক হয়ে পড়বেন, যদিও তাঁরা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ। মদেশিদের সঙ্গে ভারতের কিছু জায়গায় জাতিগত ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।

কড়াইল বস্তিতে দুই পক্ষে সংঘর্ষ তিনজন আহত

টাকা তোলাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বনানী বেলতলার কড়াইল বস্তিতে গতকাল শনিবার দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক পক্ষের ছুরিকাঘাতে অপর পক্ষের তিনজন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, হিজড়াদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটেছে। আহত ব্যক্তিরা হলেন আল-আমিন (১৯), ঝুমা (২৫) ও হৃদয় (১৮)। এদের মধ্যে আল-আমিনের অবস্থা গুরুতর। পুলিশ জানায়, বেলা দেড়টার দিকে সুমি, মাসুদা ও মানিক নামের তিনজন কড়াইল বস্তিতে চাঁদা তুলতে যান। তখন বস্তির বাসিন্দা ঝুমা, আল-আমিন ও হৃদয় বাধা দেন। বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয় পক্ষে হাতাহাতি হয়। পরে সুমি, মাসুদা ও মানিক ছুরিকাঘাত করে ওই তিনজনকে গুরুতর আহত করে পালিয়ে য

দোষীদের বিচারের আওতায় আনলে দুর্ঘটনা কমবে’

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জগলুল আহমেদ চৌধূরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াদির বিশ্লেষক। সর্বশেষ ইংরেজি দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। গত বছরের এই দিনে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেল ক্রসিংয়ে বাসের ধাক্কায় তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।দুর্ঘটনার পরদিন জগলুল আহমেদ চৌধূরীর ছেলে নাভিদ আহমেদ চৌধূরী অজ্ঞাতনামা বাসচালককে আসামি করে কলাবাগান থানায় মামলা করেন। বাসচালকের অবহেলার কারণেই জগলুল আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যু হয়েছিল। তদন্তে প্রমাণিত হলেও ওই বাসচালককে চিহ্নিত করতে না পারায় ঘটনার ছয় মাসের মাথায় মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ।এ বিষয়ে নাভিদ আহমেদ গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি মনে করি, এসব দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দোষীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমে আসবে।’ এ বিষয়ে সচেষ্ট হওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে নাভিদ আহমেদ জানান, জগলুল আহমেদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী শুক্রবার বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে তাঁর স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও সহকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন।

সামাজিক পুঁজি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন করতে হবে

সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকেরা বলেছেন, সম্প্রীতি রক্ষায় সামাজিক পুঁজি গড়ে তোলা জরুরি। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ও আলোচনা-সংলাপ এ ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান দিতে পারে।গতকাল শনিবার ‘হোয়াট মাস্ট উই ডু টু অ্যাচিভ সোশ্যাল হারমনি’ (সামাজিক সম্প্রীতি অর্জনে আমাদের অবশ্যই কী করতে হবে) শীর্ষক বৈঠকে তাঁরা এ কথা বলেন। ডেইলি স্টার সেন্টারে এ বৈঠকের আয়োজন করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট ও ডাইভারসিটি সেন্টার। সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় সামাজিক পুঁজি গড়ে তোলার ওপর জোর দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান। রাজনীতিকদের আক্রমণাত্মক ভাষা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক উত্তাপ অনেক কমে যেত যদি রাজনীতিকেরা গালাগাল না করে ভদ্র ভাষায় কথা বলতেন। কলামলেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, বাঙালির মধ্যে যে ধর্মনিরপেক্ষ মানসিকতা ছিল, তা ধ্বংস করা হয়েছে। ওই মানসিকতা পুনরুদ্ধার করতে হবে। সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী।অনুষ্ঠান জানানো হয়, ‘এমপাওয়ারিং সিটিজেনস টু প্রমোট সোশ্যাল হারমনি’ প্রকল্পের আওতায় ৫২টি উপজেলা ও ১১২টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৭৩৯টি ‘সামাজিক সম্প্রীতি ও নাগরিকত্ব’ বিষয়ক কর্মশালার মাধ্যমে ৬২ হাজার ২৪৩ জনকে সম্প্রীতি রক্ষার আন্দোলনে যুক্ত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিরোধ নিষ্পত্তির কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হয়।আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে উদ্ধৃত করে মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন বলেন, গণতন্ত্র মানে সংলাপ, গণতন্ত্র মানে আলোচনা। যেকোনো সমস্যা সমাধানে সংলাপের বিকল্প কিছু নেই।বেসরকারি সংস্থা উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার বলেন, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলেও আমাদের বলে যেতে হবে। খনার জিহ্বা কেটে ফেলা হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো পরে বচন হয়ে গেছে। এ জন্য কথা বলা বন্ধ রাখলে চলবে না।’সামাজিক সম্প্রীতি নষ্টের জন্য রাষ্ট্র ও রাজনীতিকে দায়ী করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি রানা দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর পরে দেখা গেল সংবিধানে ধর্মতন্ত্রও আছে, ধর্মনিরপেক্ষতাও আছে। তাহলে সংবিধান থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কোথায় গেল?গোলটেবিল সঞ্চালনা করেন হাঙ্গার প্রজেক্টের দেশীয় পরিচালক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, চলমান রাজনীতি সমাজে বিভাজন তৈরি করেছে।

প্রকাশ্যে মাদক সেবন বখাটেদের আড্ডা

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও দোলাইরপাড় এলাকার ফুসফুস হিসেবে পরিচিত ওয়াপদা কলোনি। পুকুর-গাছপালা-খেলার মাঠ নিয়ে থাকা এই কলোনিতে স্থানীয় মানুষ সকাল-সন্ধ্যা বেড়াতে যায়। কিন্তু দিনে দিনে কলোনিতে বাড়ছে বখাটেদের আড্ডা ও মাদক সেবনের প্রবণতা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে পারছেন না এখানকার নিরাপত্তায় থাকা আনসার সদস্যরা।পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ২১টি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ২২টি ভবন নিয়ে ওয়াপদা কলোনি। যাত্রাবাড়ী ওয়াপদা কলোনি হিসেবেই বেশি পরিচিত এটি। এখানে বসবাস প্রায় ৪০০ পরিবারের। এ ছাড়া কলোনির মধ্যে পাউবোর তিনটি স্টাফ কোয়ার্টারে প্রায় ৩০০ জন কর্মচারী বসবাস করেন।
স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ, কলোনিতে অবাধে মাদক সেবন করছে বহিরাগত বখাটেরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় কলোনির অনেক তরুণ।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলোনির একাধিক বাসিন্দা বলেন, কলোনির খেলার মাঠ, পাউবোর শ্যামলী ভবন, স্টাফ কোয়ার্টার, পুকুরপাড় ও পিডিবির বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর নিয়মিত মাদক সেবন করে বহিরাগতরা। সন্ধ্যার পরেই দল ধরে এসব জায়গায় মাদক সেবন চলে। দিনের নানা সময়েও বিশেষ করে পুকুরপাড়ে মাদক সেবন করতে দেখা যায়।সরেজমিনে গতকাল শনিবার দেখা যায়, ওয়াপদা কলোনিতে প্রবেশে বিডিআর মার্কেট, দোলাইরপাড় ও পিডিবি এলাকায় তিনটি ফটক বা সড়ক আছে। দোলাইরপাড় ফটক দিয়ে ঢুকতেই দুটি বড় পুকুরের মাঝ দিয়ে একটি সড়ক। এর দুপাশ ভরা গাছগাছালিতে। এখানে তিন ফটকে নিরাপত্তায় আছেন দুজন করে আনসার সদস্য। এসব ফটক দিয়ে অনায়াসে কলোনিতে চলাচল করছে মানুষ। আর কলোনির বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে পাহারা দিচ্ছেন আরও পাঁচ থেকে ছয়জন আনসার সদস্য। পূর্ব পাশের পুকুরের উত্তরে কলোনির মাঠে খেলাধুলা করছে কিছু তরুণ। শিশু-কিশোরেরাও কলোনির বিভিন্ন স্থানে খেলাধুলা করছে। বিকেলে হাঁটতে বের হয়েছে অনেক বাসিন্দা।
গতকাল বিকেলে দোলাইরপাড় এলাকা থেকে সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে শামিম আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে ওয়াপদা কলোনিতে বেড়াতে আসেন জামান আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় বিকেলে বেড়ানোর মতো তেমন কোনো জায়গা নেই। তাই প্রায়ই কলোনির পুকুরপাড়ে বেড়াতে আসি। কিন্তু সড়কে চলার সময় প্রায়ই গাঁজার গন্ধ পাওয়া যায়।’জানতে চাইলে ওয়াপদা কলোনি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক রোস্তম মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, ‘কলোনিতে কাউকে মাদক সেবন করতে দেখি না। খেলেও তা আমাদের চোখের বাইরে। কাউকে মাদক সেবন করতে দেখলে থানা বা আনসারদের জানানো হবে। তবে কলোনিতে মহল্লার ছেলেদের একসঙ্গে বসে সিগারেট খাইতে দেখি।’কলোনির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, কলোনিতে প্রবেশে বহিরাগত কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন না আনসার সদস্যরা। তাঁরা সচেষ্ট হলে বহিরাগতদের আনাগোনা কমে যেত।তবে কলোনির আনসারদের প্লাটুন কমান্ডার আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কলোনির বাসিন্দাদের নিরাপত্তায় আনসার সদস্যারা সব সময় সচেতন আছেন। এলাকার কোনো স্থানে মাদক সেবন চলে না। প্রতিনিয়ত কলোনির বিভিন্ন স্থানে পাহারা দেওয়া হচ্ছে।’ এই কলোনিতে মোট ১৮ জন আনসার সদস্য আছেন বলে জানান তিনি।

শরিকেরা সুযোগ চায়, একক প্রার্থী নিয়েই হিমশিম আ.লীগ : আনোয়ার হোসেন ও আবদুর রশিদ

১৪-দলীয় জোটের প্রধান অংশীদার আওয়ামী লীগ আলাদাভাবে পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে জোটের শরিক দলগুলো সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন করার চেষ্টা করছে। এই লক্ষ্যে একটি বৈঠকে বসার জন্য কয়েকটি শরিক আওয়ামী লীগের কাছে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে। কিন্তু প্রত্যাশিত সাড়া তারা পায়নি।  আওয়ামী লীগের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের প্রার্থী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতৃত্ব হিমশিম খাচ্ছে। আগামীকাল সোমবারের মধ্যে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের মনোনয়ন বোর্ডের মাধ্যমে একক প্রার্থী নির্বাচন করে দলীয় সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর তালিকা আসেনি। তৃণমূল নেতৃত্ব অধিকাংশ পৌরসভারই একক প্রার্থী ঠিক করতে পারছে না বলে খবর আসছে। এই নেতারা বলছেন, এ অবস্থায় ১৪ দলের সঙ্গে সমঝোতা করা তো কঠিন। আর নিকট-অতীতে ১৪ দলের শরিকদের কারও প্রার্থী পৌর নির্বাচনে জয়ী হওয়ার রেকর্ড নেই। ফলে জোটগত নির্বাচন করলে আওয়ামী লীগের কোনো লাভ নেই। তারপরও এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা ১৪ দলের প্রধান ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার মনোভাব জানার চেষ্টা করছেন। তাঁর ইতি বাচক মতামত পেলে প্রয়োজনে ১৪ দলের বৈঠকও হতে পারে। ১৪ দলের একাধিক শরিক প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৃহস্পতিবারের বৈঠকে এককভাবে নির্বাচনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। এরপরও তাঁরা চাইছেন একটা বৈঠকের মাধ্যমে যেন আওয়ামী লীগ অবস্থান পরিষ্কার করে। গতকাল একটা বৈঠক হওয়ার কথাও ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি।  ১৪ দল সূত্র জানায়, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন তাঁর দলের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন এমন ছয়-সাতজন প্রার্থীর বিষয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে জোটের মুখপাত্র আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। জাসদের পক্ষ থেকেও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়েছে। অন্য শরিকেরা নিজেরা বসে কথা বলেছেন। তবে সবার বক্তব্য হলো, ১৪ দলের বৈঠক হলে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন এবং কার কোন পৌরসভায় ভালো প্রার্থী আছে তা তুলে ধরে একটা জায়গায় পৌঁছানো যেত।  জানতে চাইলে মোহাম্মদ নাসিম প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ১৪ দলের শরিকেরাও যোগাযোগ করছেন। কোথায় কার সম্ভাবনা আছে সেগুলো বলছেন তাঁরা। তবে সময় খুব কম। দলের সভানেত্রীর সঙ্গে কথা বলে একটা সমাধানে আসার চেষ্টা করা হবে। তবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচন করলেও শরিকদের কোনো খেদ থাকবে না। ১৪ দলের শরিকদের একজন শীর্ষ নেতা বলেন, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন করলে ১৪ দলেরও ভাবা উচিত। ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন না হলেও কৌশলে পরিবর্তন আনা যেতে পারে। যেমন কেন্দ্রীয়ভাবে সম্ভব না হলে জয়ী হতে পারেন এমন শরিক দলের প্রার্থীর বেলায় আওয়ামী লীগ থেকে ছাড় দেওয়া যেতে পারে। নতুবা অনেক স্থানে ১৪ দলের শরিকেরা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে যাবেন। এর সুফল নেবে ২০-দলীয় জোট। জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী ও জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, তাঁর দল এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থানীয় নেতাদের সেভাবেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে জোটগতভাবে নির্বাচন করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। শেষ পর্যন্ত যেভাবেই হোক, প্রস্তুতি রয়েছে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, দেশের সব পৌরসভায় আওয়ামী লীগের শক্ত প্রার্থী রয়েছেন। শেষ মুহূর্তে এসে জোটগতভাবে নির্বাচনের চেষ্টা করলে তৃণমূল সামাল দেওয়া কঠিন হবে। এটা বাস্তবসম্মতও নয়। তবে তৃণমূল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড যদি মনে করে, কোথাও শরিকদের দলের ভালো প্রার্থী রয়েছে, জয়ের স্বার্থে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া প্রয়োজন, তাহলে তা দলীয় প্রধানের দৃষ্টিগোচর করা যেতে পারে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার তাঁর ওপর ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত জোটগতভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেই। হওয়ার সম্ভাবনাও কম। জানতে চাইলে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘পৌরসভা নির্বাচন জোটগতভাবে না এককভাবে করা হবে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তাই যেসব এলাকায় সাংগঠনিক অবস্থা ভালো, সেসব এলাকায় আমাদের প্রার্থী দেওয়া হবে।’ আর গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নূরুর রহমান সেলিম বলেন, কিশোরগঞ্জ, নোয়াখালী ও কুষ্টিয়ায় তাঁর দলের সম্ভাবনাময় প্রার্থী রয়েছেন। সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন হলে ভালো হতো। তা না হলে কিছু কিছু স্থানে জোটের প্রার্থী একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবে। বিষয়গুলো খোলাসা করার জন্য ১৪ দলের একটি বৈঠক হওয়া জরুরি। কোন্দল ঠেকাতে শেখ হাসিনার সইয়ে মনোনয়ন: মেয়র পদে একক প্রার্থী মনোনয়নের জন্য আওয়ামী লীগ জেলা, উপজেলা ও পৌরসভার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে বোর্ড গঠন করে দিয়েছে। স্থানীয় সাংসদের পরামর্শে একক প্রার্থী মনোনয়ন করে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্তত পাঁচটি জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৃণমূল বোর্ড অধিকাংশ পৌরসভাতেই একক প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারছে না। তাই তারা তিনের অধিক প্রার্থী ঠিক করে তাদের রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্তসহ কেন্দ্রে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।
একটি জেলার সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনজনের কম নাম পাঠাতে গেলে সব সদস্য সই করবেন না। কিছু কিছু পৌরসভায় পাঁচ-সাতজনেরও নাম যাবে। ওই নেতা বলেন, ‘আমরা বড়জোর এক নম্বরে কে থাকবে আর দুই-তিন নম্বরে নাম কার থাকবে সেটা ঠিক করতে পারি। সব পৌরসভার জন্য একজনের নাম পাঠানো খুবই কঠিন।’
রাজশাহী জেলায় এবার ১৩টি পৌরসভার নির্বাচন হবে। এখন পর্যন্ত কাকনহাট ও তাহেরপুরে একক প্রার্থী ঠিক করা গেছে। এই দুই পৌরসভায় আওয়ামী লীগের দুই বর্তমান মেয়রকেই প্রার্থী হিসেবে পাঠানো হবে।
জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ১১টি পৌরসভায় একক প্রার্থী মনোনয়নে চেষ্টা চলছে। একান্ত না পারলে একাধিক প্রার্থীর নাম পাঠানো হবে।
ময়মনসিংহের নয়টি পৌরসভায় নির্বাচন হবে। ওই জেলার একজন নেতা জানান, একটিতেও একক প্রার্থী ঠিক করা যায়নি।
আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা প্রথম আলোকে বলেন, প্রার্থীর জন্য দলীয় সভানেত্রী সই করে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেবেন—এই কথা শোনার পর তৃণমূল থেকে একাধিক প্রার্থী প্রস্তাব করার তোড়জোড় শুরু হয়। এখন স্থানীয় সাংসদেরাও খবরদারি করতে সংকোচ বোধ করছেন। সাংগঠনিক সম্পাদকেরাও হস্তক্ষেপ কমাচ্ছেন।
ওই নেতা দাবি করেন, দলীয় সভানেত্রীর কাছে সারা দেশের সম্ভাব্য প্রার্থীদের গোয়েন্দা প্রতিবেদন আছে। তিনি নিজেও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রার্থীদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে রেখেছেন। ফলে যেসব এলাকায় একক প্রার্থী ঠিক করা যাবে, সেগুলো অনুমোদন করে দেওয়া হবে। একাধিক প্রার্থীর ক্ষেত্রে গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও দলীয় সভানেত্রীর নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে।
আরেকজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, দলীয় সভানেত্রী নিজের সইয়ে প্রার্থীর নাম নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কয়েকটি বিবেচনা থেকে। প্রথমত. প্রধানমন্ত্রী নিজে সই করবেন বলে মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নেওয়ার সাহস পাবেন না। তাহলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শাস্তি পেতে হবে। দ্বিতীয়ত. মনোনয়ন নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে যে বাণিজ্যের অভিযোগ ও আশঙ্কা থাকে, এর মাধ্যমে তার রাশ টেনে ধরা যাবে।

গোপন ব্যালটে প্রার্থী বাছাই

গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নাটোরের বড়াইগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে। ১০ দিন স্থগিত থাকার পর গতকাল শনিবার বড়াইগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে ওই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য ও বর্তমান কাউন্সিলর আবদুল বারেক সরদার ৮৩টি ভোট পেয়ে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। সাংসদ আবদুল কুদ্দুস ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন। পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক সরকার বলেন, গণতান্ত্রিক পন্থায় দলীয় প্রার্থী নির্ধারণের জন্য ওয়ার্ড ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতারা সরাসরি ভোটের তাগিদ দেন। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড থেকে ১৩৫ জন ও পৌর কমিটির ১৫ জন ভোটার মেয়র পদে প্রার্থী নির্বাচনে ভোট দেন। এর আগে ১০ হাজার টাকা করে মনোনয়ন ফি জমা দিয়ে মেয়র পদে প্রার্থিতা চান পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবু উল হক ও সদস্য আবদুল বারেক সরদার। আবদুল বারেক সরদার ৮৩টি ভোট পান। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মাহাবুব উল হক পান ৬২ ভোট। ভোট নেওয়ার সময় নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সাংসদ আবদুল কুদ্দুস, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল জলিলসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সাংসদ বলেন, ‘ফলাফল মেনে নিয়ে আমাদের একযোগে দলীয় প্রার্থীকে মেয়র পদে জয়ী করতে হবে।’ ফলাফল ঘোষণার পর উভয় মনোনয়ন-প্রত্যাশী পরস্পর আলিঙ্গন করে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা আসার আগেই ১৭ নভেম্বর এই পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের জন্য সরাসরি ভোটের আয়োজন করা হয়। সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত হওয়ার পর স্থানীয় সাংসদের নির্দেশে ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে প্রথম আলোতে ১৮ নভেম্বর ‘মনোনয়নের জন্য ভোট, টাকাসহ দরখাস্ত আহ্বান’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ—দুজনেরই পৈতৃক বাড়ি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়। এ কারণে এখানে পৌরসভা নির্বাচন জমবে বলে চায়ের দোকানগুলোতে আলোচনা হচ্ছে। এদিকে একসময় বিএনপির ঘাঁটি ছিল ভেড়ামারা। তাই বিএনপিও নড়েচড়ে বসেছে। ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমুল ইসলাম ওরফে ছানা পৌরসভার বর্তমান মেয়র। এর আগে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। একসময় ভেড়ামারা বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও এখন আওয়ামী লীগ ও জাসদের ভোট বেড়ে যাওয়ায় বিএনপির সেই অবস্থান নেই। তিন দলের নেতা ও কয়েকজন পৌরবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে মেয়র পদে নির্বাচন করতে বেশ কয়েকজন আগ্রহী। মেয়র শামীমুল ইসলাম ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আহাদুজ্জামান রানা প্রচারণা চালাচ্ছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আক্তারুজ্জামান বলেন, শামীমুল ও আহাদুজ্জামান মতবিনিময় করছেন। তবে কেন্দ্র যাঁকে মনোনয়ন দেবে, তাঁকে জেতানোর চেষ্টা করা হবে। সেটা পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। এদিকে বিএনপির প্রার্থীরা নীরবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপির হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম রেজা ও শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল আলম ওরফে ডাবলু। জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম ওরফে আলম মালিথা বলেন, একাধিক প্রার্থী নির্বাচন করার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাঁরা কাজ করছেন। শনিবার (আজ) আলোচনা সভা হবে। সেখানে কেন্দ্রের নির্দেশে একজনকে মনোনীত করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রার্থী এক জিনিস আর ভোট আরেক জিনিস। ভেড়ামারা আগের মতোই সরব আছে। সময়-সুযোগ ভালো হলে সব ভোট পাবেন তাঁরা।
সম্প্রতি অন্য উপজেলার চেয়ে ভেড়ামারায় জাসদ বেশ তৎপর হয়ে উঠেছে। তারা দলীয় প্রার্থী নিশ্চিত করে ফেলেছে। উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক এস এম আনছার আলী বলেন, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম ওরফে স্বপন তাঁদের দলীয় প্রার্থী। তাঁকে জেতানোর জন্য সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

‘ফাউ’ না খাওয়ানোর জের!

রাজধানীর ফকিরাপুলে ফুটপাতে এক চা-নাশতা বিক্রেতাকে গরম পানি দিয়ে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কথিত হামলাকারী নিজেও সামান্য ঝলসে গেছেন। গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে ঘটনাটি ঘটে। ঝলসে যাওয়া দুজনকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঝলসে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—চা-নাশতা বিক্রেতা বাবুল (৩০) ও কথিত হামলাকারী রাজু (২৫)। বাবুলের শরীরের ১৮ শতাংশ এবং রাজুর ৫ শতাংশ ঝলসে গেছে। হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোজাম্মেল হক বলেছেন, রাজুকে আটক করা হবে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আরেক চা-নাশতা বিক্রেতা জাকিরের ভাষ্য, ‘ফাউ’ খাওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটে। রাজু ফাউ খেতে চাইলে আপত্তি তোলেন বাবুল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাজু গরম পানি দিয়ে বাবুলকে ঝলসে দেন। এ সময় তিনি (রাজু) নিজেও সামান্য ঝলসে যান। পরে দুজনকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়।

অপেক্ষায় ১২ হাজার গ্রাহক, সাত কারখানা

বিনা নোটিশে বন্ধ হয়ে গেছে রাজশাহীর শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে গ্যাস-সংযোগ। উৎপাদনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে উভয়সংকটে পড়েছে সাতটি শিল্পকারখানা। একইভাবে পড়ে আছে ১২ হাজার আবাসিক গ্রাহকের আবেদন। এর মধ্যে ১ হাজারেরও বেশি গ্রাহক চাহিদাপত্রের টাকা জমা দিয়েছেন। এখন তাঁরা সবাই হতাশ।  কারখানায় গ্যাসের সংযোগের বিষয়টি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা কমিটিতে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পশ্চিমাঞ্চল  গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম ফারুক। তবে সরকারি সিদ্ধান্তে আবাসিক সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ‘করার কিছু নেই’ বলে জানান তিনি।  চলতি অর্থবছরের শুরুতে আবাসিকে গ্যাস-সংযোগ দেওয়ার জন্য কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। আর শিল্পে সংযোগ বন্ধ রয়েছে গত বছরের মে মাস থেকে।  পিজিসিএল সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে রাজশাহীতে সাতটি কারখানায় গ্যাস-সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আরও সাতটি কারখানা গ্যাস-সংযোগের অনুমতি পেয়ে উৎপাদনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। এখন তাদের আর সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া আরও নয়টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। গ্যাস-সংযোগের অনুমতি নিয়ে রাজশাহী নগরের বিসিক এলাকায় পণ্য উৎপাদনে যাওয়ার প্রস্তুতি শেষ করে এক বছর ধরে বসে আছে প্রাণ এগ্রো লিমিটেড। তারা এখানে বাদাম ও মটরশুঁটিসহ নানা উপাদান থেকে ১০ ধরনের খাদ্যপণ্য উৎপাদন করার প্রস্তুতি নিয়েছে। কোম্পানির ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপক রায়হানুল ইসলাম বলেন, ‘কারখানা পুরোদমে চালু করতে পারলে এখানে দেড় থেকে দুই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এক বছর ধরে অপারেশন, প্রকৌশল ও নিরাপত্তা বিভাগের লোকজনকে বসিয়ে রেখে বেতন দিতে হচ্ছে। অথচ গ্যাস পেলে কারখানাটি আরও বড় করা যেত। রাজশাহীর মানুষের আরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো।’  এসিআই-গোদরেজ এই রকম একটি কোম্পানি। তারা মাছের ভাসমান খাবার তৈরি করবে। এ জন্য পবা উপজেলার ধুতরাবন গ্রামে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তারা একটি কারখানা তৈরি করেছে। কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, পিজিসিএলের প্রধান লাইন থেকে কারখানা পর্যন্ত চার কিলোমিটার গ্যাসলাইন তৈরি করতে তাদের ৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তারা গ্যাস-সংযোগ পেলে যেকোনো দিন কারখানা চালু করতে পারে। কারখানা চালু হলে এখানে সাত থেকে আট শ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। গ্যাস-সংযোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা দেখে নিশ্চিত হয়ে তারা এখানে বিনিয়োগ করেছেন। এখন সব কাজ বন্ধ হয়ে আছে।  রাজশাহীর বিসিক এলাকার এমএইচ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড মিনারেল ওয়াটার, বিস্কুট, লজেন্স, জুস উৎপাদনের জন্য কারখানা করেছে। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফিজ উদ্দিন বলেন, তাঁকে গ্যাস সরবরাহ করা হবে মর্মে সম্মতিপত্র দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয় করে কারখানা তৈরি করেছেন। হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘এখন সীমিত আকারে ডিজেল দিয়ে কারখানা চালু রেখেছি। এই কাজ করতে গিয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছি।’  রহমান জুট স্পিনার্স প্রাইভেট লিমিটেড পাট থেকে বিদেশে রপ্তানিযোগ্য সুতা উৎপাদন করবে। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, ‘গ্যাস পাব—এই আশায় কারখানায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। গ্যাস না পেলে এখন কী করব, ভেবে পাচ্ছি না।’  শিল্পকারখানার পাশাপাশি রাজশাহীতে বাসাবাড়ির গ্যাস-সংযোগও থেমে গেছে। চলতি অর্থবছরে কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। ২০১৩ সালের ৭ জুন থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার বাসায় গ্যাস-সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আরও ১২ হাজার আবেদন পড়ে রয়েছে। তার মধ্যে ১ হাজারেরও বেশি গ্রাহক চাহিদাপত্রের টাকা জমা দিয়েছেন। এমন একজন গ্রাহক রাজশাহী নগরের সাগরপাড়া এলাকার পপি রায় বলেন, ‘আমার বাড়ির ওয়্যারিং পর্যন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এত কিছু করার পরে সংযোগ না দিলে কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব।’  চাহিদাপত্রের জমা টাকা ফেরত দেওয়া প্রসঙ্গে পিজিসিএলের রাজশাহী অঞ্চলের ব্যবস্থাপক তোফায়েল আহমেদ গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘চাহিদাপত্রে যে টাকাটা গ্রাহকেরা দিয়েছেন, তা আমরা ফেরত দিতে পারব। তবে সংযোগ পেতে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে সিটি করপোরেশনকে দেওয়া টাকা বা ওয়্যারিংয়ের টাকার বিষয়ে আমার করণীয় কিছু নেই।’  এ বিষয়ে রাজশাহী শিল্প বণিক সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘গ্যাস-সংযোগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি পেয়েই এখানে শিল্প স্থাপন হয়েছে। যাঁরা সেই প্রতিশ্রুতিতে শিল্প স্থাপন করেছেন, তাঁদের গ্যাস দিতে হবে। আর আবাসিক গ্যাসের সংযোগের জন্য যাঁরা ইতিমধ্যে চাহিদাপত্রের টাকা জমা দিয়েছেন, তাঁদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সরকারকেই।’

প্রথমবার বাজল সরস্বতী বীণা by : প্রণব ভৌমিক

জয়ন্তী কুমারেশ গতকাল যখন তাঁর সরস্বতী বীণা নিয়ে মঞ্চে উঠলেন, তখনো দর্শকসারি বেশ ফাঁকা। রাতের দ্বিতীয় পরিবেশনা বলে সেটাই ছিল স্বাভাবিক। তবে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা সৌভাগ্যবান। শ্রোতামন জয় করে নিজ নামের সার্থকতা প্রমাণ করেন এ শিল্পী। বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব ২০১৫’-এর দ্বিতীয় রাতের দ্বিতীয় পরিবেশনায় ছিল জয়ন্তীর বীণাবাদন। প্রথমে তিনি আদি তালে স্বামী ত্যাগরাজের একটি কম্পোজিশন, পরে দক্ষিণ ভারতীয় রাগ কাফি ও বেহাগ পরিবেশন করেন।  এমনিতে বীণাবাদক হিসেবে জয়ন্তীর বেশ সুনাম আছে। সময়ের শীর্ষস্থানীয় বীণাশিল্পী তিনি। নিজের গুরু ওস্তাদ জাকির হোসেন ও আর. কুমারেশের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়ার বিরল সম্মান তাঁর ঝুলিতে। তবে সংশয় ছিল, কেমন শোনাবে সরস্বতী বীণার সুর? প্রাচীন দক্ষিণ ভারতীয় এ বাদ্যযন্ত্রটি এর আগে ঢাকার শ্রোতারা তো শোনেনি! জয়ন্তীর বাদ্যযন্ত্র শুনে চোখ-কানের বিবাদ ঘুচেছে।
জয়ন্তীর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন মৃদঙ্গমে আর শংকরনারায়ণন, ঘটমে এস কৃষ্ণস্বামী। পরিবেশনার একপর্যায়ে পাল্টাপাল্টি মৃদঙ্গম ও ঘটমের তালে তাঁরা শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। দ্বিতীয় দিনের পরিবেশনা শুরু হয় যথারীতি সন্ধ্যা সাতটায়, বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থী অভিজিৎ কুণ্ডুর ধ্রুপদ দিয়ে। পণ্ডিত উদয় ভাওয়ালকরের তত্ত্বাবধানে এখন শিখছেন তিনি। প্রায় ২৫ মিনিটের সংক্ষিপ্ত পরিবেশনায় তিনি রাগ ভূপালি পরিবেশন করেন। তৃতীয় পরিবেশনায় খেয়াল গাইতে মঞ্চে ওঠেন বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের আরেক শিক্ষার্থী সুস্মিতা দেবনাথ। তিনি শিখছেন পণ্ডিত উলহাস কশলকরের কাছে। সুস্মিতার খেয়ালটি ছিল ২০ মিনিটের। রাগ বেহাগে রচিত খেয়ালটি সুস্মিতা খুব সুন্দর করে গাইলেন। এরপর মঞ্চে ওঠেন ধ্রুপদ পণ্ডিত উদয় ভাওয়ালকর। তিনি রাগ ইমনের ধ্রুপদ গাইলেন। গম্ভীর ধ্রুপদ শ্রোতাদের পরিচয় করিয়ে দিল শাস্ত্রীয় সংগীতের আদিরূপের সঙ্গে। এ প্রতিবেদন লেখার সময় মঞ্চে মাত্রই উঠেছিলেন পণ্ডিত সুরেশ তালওয়ালকর। প্রথম দিনটিও ছিল বর্ণিল: পাঠকেরা এরই মধ্যে প্রথম আলোর পাতায় পড়েছেন উৎসবের প্রথম দিনের প্রথম ভাগের পরিবেশনার বিবরণ। এরপর রাহুল শর্মা সেদিন সন্তুরের সুরে মাতিয়ে দিয়ে প্রমাণ করলেন, পণ্ডিত শিবকুমার শর্মার যোগ্য উত্তরসূরি তিনি। মঞ্চে বসে একটি কথাও বললেন না, মনের আনন্দে একটানে বাজিয়ে গেলেন দক্ষিণ ভারতীয় রাগ বাচস্পতির আলাপ, জোর, ঝালা, ঝাপতাল ও তিনতালের অনবদ্য সব কম্পোজিশন।
এরপর রাগ মালকোষে কৌশিকী চক্রবর্তী ধরলেন গান ‘কোয়েলিয়া বোলে’। এ দিনে চেনা কৌশিকীকে যেন পাওয়া গেল না। সকালে হোটেলের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রতিবারই এখানে এসেছি। এখন এটা আর আসা নয়, ফিরে আসা। কিন্তু মুশকিল হলো, ঘন ঘন এলে দর্শকপ্রত্যাশা বেড়ে যায়।’ সেই চাপই কি প্রথম দিনের পরিবেশনার সময় তিনি অনুভব করছিলেন? কৌশিকী মঞ্চেই বলেন, ‘কিচ্ছু হচ্ছে না’। পাতিয়ালা ঘরানার গায়কি আসলে পুরুষালি। একজন নারীর পক্ষে সেটা হুবহু অনুসরণ করা সম্ভব হয় না। কৌশিকী গায়কি ও নান্দনিকতার সমন্বয় করার চেষ্টা করেন। মালকোশের পর একটি দাদরা, তারপর কৌশিকী গাইলেন রাগ মান্দের একটি বন্দিশ ‘সাভরা মারি’। একই সঙ্গে গাইলেন একটি রবীন্দ্রসংগীত ‘বঁধু, মিছে রাগ কোরো না’। কৌশিকীর পর মঞ্চে এলেন পণ্ডিত কুশল দাস। হেমন্ত রাতে রাগ হেমন্ত দিয়েই শুরু করলেন তিনি। সেতারের সুরে হেমন্তের বাতাস যেন বয়ে যাচ্ছিল আর্মি স্টেডিয়ামজুড়ে। একমনে বাজিয়ে গেলেন। শেষ করলেন রাগ পাহাড়ির ধুন দিয়ে। শেষ পরিবেশনার জন্য মঞ্চে ওঠেন বিদুষী বোম্বে জয়শ্রী। অস্কার মনোনয়নপ্রাপ্ত এ সংগীতজ্ঞের জন্য সমঝদার শ্রোতারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। পরপর শোনালেন অনেকগুলো রাগ-রাগ হংসধ্বনি, মায়া মল্লব গৌড়া, কলাবতী, হংসনন্দী। শ্যাম কল্যাণ রাগে মীরাবাঈয়ের একটি ভজন ও রাগ দেশ-এ তিল্লানা শুনিয়ে প্রথম রাতের সমাপ্তি টানেন তিনি। এ দিনটি ছিল সুরের কারুকাজে বর্ণিল। আয়োজনের তৃতীয় দিনে আজ সন্ধ্যা সাতটায় উৎসবের পর্দা উঠবে শাস্ত্রীয় মণিপুরি নৃত্য দিয়ে। পরিবেশনা করবেন ওয়ার্দা রিহাব ও তাঁর দল। ধ্রুপদ শোনাবেন ওস্তাদ ওয়াসিফউদ্দিন ডাগর। সরোদ শোনাবেন ইউসুফ খান, বেহালায় থাকবেন ড. এন রাজম। খেয়াল গাইবেন বিদুষী শ্রুতি সাদোলিকর। গতবার গুরু করাইকুড়ি মানির অসাধারণ মৃদঙ্গমবাদ্য শুনে এবারও নিশ্চয়ই শ্রোতারা তাঁর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
আজকের দিনের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু বিদুষী শুভা মুদগালের খেয়াল শুনতে শ্রোতাদের অপেক্ষা করতে হবে অনেক রাত পর্যন্ত। অন্য সব পরিবেশনার পরই তিনি উঠবেন মঞ্চে।

ইন্টারনেট ব্যবহার নয়, আসক্তিই সমস্যা’

ইন্টারনেটের অপব্যবহারের কারণে শিশু-কিশোরেরা নানা ধরনের ঝুঁকিতে থাকে। সমস্যা সমাধানে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়ে অভিভাবক ও শিক্ষকদের আরও বেশি করে আলোচনা করা উচিত। এ ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়ার জন্যও যোগ্য লোকজন দরকার।‘নিরাপদ ইন্টারনেট: আগামী প্রজন্ম ও আমাদের দায়িত্ব’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে। গতকাল শনিবার সকালে ডেইলি স্টার ভবনে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। গ্রামীণফোন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার যৌথভাবে এই আলোচনার আয়োজন করে। সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-উপাচার্য সালেহ উদ্দিন আহমেদ।আলোচনার শুরুতে গ্রামীণফোন পরিচালিত একটি গবেষণার তথ্য দিয়ে বলা হয়, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩০ শতাংশেরও বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার অথবা এরা ইন্টারনেটে উত্ত্যক্তকারীদের অশোভন বার্তা পেয়েছে। এদের বেশির ভাগই ছাত্রী।
গবেষণায় বলা হয়, ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করে, ইন্টারনেটে কোনো সমস্যায় পড়লে তাদের সাহায্য বা দিকনির্দেশনা দেওয়ার কেউ নেই। কারণ বিদ্যালয়, শিক্ষক বা অভিভাবকেরা এ বিষয়ে যথেষ্ট সক্ষম নন। ফলে শিক্ষার্থীরা এসব বিষয়ে তাদের বাবা-মা ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করার চেয়ে বেশির ভাগ সময়ই বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরেরা কীভাবে ইন্টারনেটে আসক্ত হয়ে পর্নোগ্রাফিসহ নানা বাজে সাইটে ঝুঁকে পড়ছে, সেসব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ইন্টারনেটে যেমন খারাপ দিক আছে, তেমনি ভালো দিকও আছে। কিন্তু অভিভাবকেরা বেশির ভাগ সময়েই এগুলো বুঝতে চান না।
আলোচনায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিরুদ্ধে যেসব অপরাধ হয়, তাতে নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। মাত্র ২৬ শতাংশ ক্ষেত্রে তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান। তারানা হালিম বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন কাউন্সেলর থাকলে শিক্ষার্থীরা তাঁদের সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে পারত। কিন্তু সেটি নেই। এখন যদি মোবাইল অপারেটরগুলো স্বাস্থ্য, কৃষির মতো এমন একটা নম্বর রাখত, যেখানে ফোন করে এই সমস্যার সমাধান করা যেত। ফোন কোম্পানিগুলোকে তিনি এ ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইন্টারনেটে কিছু লোক সাম্প্রদায়িকতা ও উসকানি ছড়াচ্ছে। এসব প্রতিরোধে সরকার কাজ করছে। দেশের বাইরে থেকে যেসব আপত্তিকর উপাদান আসে, সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজও চলছে।সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহার নয়, আসক্তিই সমস্যা। সেই আসক্তি দিন দিন বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতা জরুরি। প্রতিটি স্কুলে বাচ্চাদের এসব বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার অন্তত একজন শিক্ষক থাকা দরকার।ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহার একটি স্বাধীনতা। এটি বন্ধ করার সুযোগ নেই। কাজেই এর ভালো ও মন্দ দিক সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে হবে।প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, ‘ইন্টারনেট আর সাইবার অপরাধ দমনে আমাদের রাষ্ট্রকে যোগ্য ও দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিতেও প্রয়োজনে এটি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’
গ্রামীণফোনের প্রধান করপোরেট কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেন, গ্রামীণফোন বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের জীবন উন্নত করতে এবং একই সঙ্গে সেখানে নিরাপদে থাকতে সহায়তা করতে চায়।
সানিডেল স্কুলের উপাধ্যক্ষ ইয়াসমিন হাবিব বলেন, ফেসবুক, অনলাইন, ইন্টারনেট—এসব ব্যবহার করতে করতে বাচ্চাদের অনুভূতিই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে। ব্র্যাকের জ্যেষ্ঠ পরিচালক আসিফ সালেহ, ইউনিসেফের কর্মকর্তা জামিলা আক্তার ও বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টারের কর্মকর্তা এজাজ আহমেদসহ অনেকেই বললেন, মূল্যবোধের অবক্ষয়সহ সমাজের যেসব সমস্যা আছে, সেগুলোই ইন্টারনেটে প্রতিফলিত হয়। কাজেই সমাজটা ঠিক করতে হবে। শিশুদের শুধু খেলনা আর যন্ত্রপাতি কিনে না দিয়ে তাদের সময় দিতে হবে। তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।সেভ দ্য চিলড্রেনের ব্যবস্থাপক লায়লা করিম বলেন, ‘আমরা আমাদের শিশুদের সময় দিচ্ছি না। তাদের কথা শুনছি না। কিন্তু সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক অভিভাবকত্ব দরকার।’সিএসআর সেন্টারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহমীন এস জামান, গ্রামীণফোনের হেড অব করপোরেট রেসপনসিবিলিটি দেবাশীষ রায়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের গর্বের বিষয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেছেন, ‘আমাদের জানতে ইচ্ছে করে জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটি কটি দেশে উদ্যাপিত হয়। কারণ জাতিসংঘ ঘোষিত দিবস কোনো দেশ সাড়ম্বরে পালন করে, কোনো দেশে তা নীরবে চলে যায়।’ গতকাল শনিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘দি মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভারস অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ আয়োজিত আলোচনা সভায় আনিসুজ্জামান এ কথা বলেন। ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার ১৬তম বর্ষপূর্তি ও দিবসটির অন্যতম রূপকার রফিকুল ইসলামের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনার আয়োজন করা হয়। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘জাতিসংঘ ঘোষিত বছরের তিন শ দিনই বোধ হয় দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গেছে। আমরা দেখি জাতিসংঘ ঘোষিত দিবস কোনো দেশ সাড়ম্বরে পালন করে, কোনো দেশে নীরবে চলে যায়। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতেও বাংলাভাষী অঞ্চলের বাইরে এটি পালিত হয় বলে জানা নেই। হয়তো আমরা কিছু উদ্যোগ নিতে পারি, কিছু প্রচার করতে পারি। এখন আমার মনে হয়, জাতিসংঘ যেটুকু আনুষ্ঠানিক প্রচার করে, এর বাইরে বেশি তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছায় না। যা হোক, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যে ঘোষিত হয়েছে, এবং সেটা আমাদের ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে, এটি আমাদের গর্বের বিষয়। আশা করি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট দিবসটি পালনে ক্রমেই অগ্রসর হবেন।অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রূপকার প্রয়াত রফিকুল ইসলাম এবং তাঁর সহযোগী আবদুস সালামের অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তাঁদের উদ্যোগের পাশাপাশি সরকার যদি অত্যন্ত দ্রুত ব্যবস্থা না নিতেন, তাহলে ১৯৯৯ সালে এটা হতো না। আমরা সে জন্য খুবই সন্তুষ্ট এবং রফিকুল ও আবদুস সালামের কাছে কৃতজ্ঞ। রফিকের কাছে বিশেষ করে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।’ আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সৈয়দ রেজাউর রহমান, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জীনাত ইমতিয়াজ আলী, সঞ্জীব দ্রং, নাজমুল হাসান ও এম এইচ কবীর মেহরাব।

অস্থিরতা ও নিরাপত্তার হুমকি বাড়ছে?

সন্ত্রাসবাদ নাকি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব—কোনটি বিশ্ববাসীর জন্য বড় হুমকি? কোনো কোনো রাষ্ট্র এখন এই দুই সমস্যার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছে। তবে এই দুই হুমকি বা ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বনেতারা যে এখনো একমত হতে পারেননি, তা স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে আগামীকাল ৩০ নভেম্বর ফ্রান্সের প্যারিস শহরে বসছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন বা কপ-২১। এই শহরেই গত ১৩ নভেম্বর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ১৩০ জন নিহত হন। প্যারিস সম্মেলনে ১৬৬টি দেশের নেতারা অংশ নিতে পারেন।  ইতিমধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের বক্তব্যে এই সম্মেলন নিয়ে উঠে এসেছে আশাবাদ ও হতাশার কথা। গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সম্মেলনে বান কি মুন বলেন, কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিশ্বনেতাদের অঙ্গীকার পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলেও চলতি শতাব্দী শেষে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে। কিন্তু বিশ্বকে সহনীয় রাখতে হলে তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বাড়তে দেওয়া যাবে না।  জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে এমন শঙ্কার পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে সন্ত্রাসবাদ ও রাজনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গও।  ১০ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওল্ড ডমিনিওন বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া এক বক্তৃতায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, ২০১১ সালে সিরিয়ায় ভয়াবহ খরার কারণে প্রায় ১৫ লাখ বাসিন্দা গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে যায়। এর প্রভাব শহরে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকে এবং পরে তা গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। অবশ্য জন কেরি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে সিরিয়া সংকটের প্রাথমিক কারণ হিসেবে মানতে নারাজ। তাঁর মতে, প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ নিজ দেশের জনগণের ওপর হামলা, নির্যাতন, বোমাবর্ষণ করে। এতে তৈরি হয় অস্থিতিশীলতা। তবে এই পরিস্থিতি তৈরিতে খরার একটা ভূমিকা ছিল।  রাজনৈতিক সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের যোগসূত্রের প্রসঙ্গ এসেছে ঝুঁকি বিশ্লেষণ-বিষয়ক ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ম্যাপলক্রফটের প্রতিবেদনেও। এ বছর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে সামাজিক অস্থিরতা ও খাদ্যনিরাপত্তার ঘাটতির সম্পর্ক রয়েছে।  এ বিষয়ে বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজের (বিসিএএস) নির্বাহী পরিচালক ও জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত প্যানেলের (আইপিসিসি) সদস্য আতিক রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্বের যে কটি দেশে সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে, সেসব দেশে এর আগে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ হয়েছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনকে সন্ত্রাসবাদ ও সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।  প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের সমঝোতাকারী দলের প্রধান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ ২০০৯ সালের কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলন থেকেই এই শতাব্দীর মধ্যে বিশ্বের মোট গড় তাপমাত্রা যাতে দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না বাড়ে, সেই দাবি করে আসছে। তাপমাত্রা এর চেয়ে বেশি বাড়লে বাংলাদেশসহ উপকূলীয় এবং দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর বড় অংশ ডুবে যাবে। ফলে বাংলাদেশেও উদ্বাস্তু সমস্যা বেড়ে বড় ধরনের সংকট দেখা দেবে।

দেড় বছরে কোনো সাক্ষী হাজির হননি

সাক্ষীরা হাজির না হওয়ায় ১০ বছর ধরে ঝুলে আছে চট্টগ্রাম আদালত ভবনে জঙ্গিদের বোমা হামলায় পুলিশ কনস্টেবলসহ দুই ব্যক্তি হত্যার ঘটনায় করা মামলার বিচারকাজ। খোদ মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও সাক্ষ্য দেননি। গত দেড় বছরে একজন সাক্ষীকেও আদালতে হাজির করা যায়নি। শুধু পুলিশ সাক্ষীরাই নন, সাক্ষ্য দিতে আসছেন না র্যাবের কর্মকর্তাসহ চিকিৎসকেরাও। ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবনের প্রবেশপথে পুলিশের তল্লাশিচৌকির সামনে বোমা হামলা চালায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) জঙ্গিরা। ঘটনাস্থলে মারা যান পুলিশ কনস্টেবল রাজীব বড়ুয়া ও শাহাবুদ্দীন নামের এক ব্যক্তি। আহত হন পুলিশ কনস্টেবল আবু রায়হান, সামসুল কবির, রফিকুল ইসলাম, আবদুল মজিদসহ ১০ জন। আজ রোববার এ মামলার ১০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। আদালত সূত্র জানায়, গত ১০ বছরে এ মামলার ৭৭ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ২৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সর্বশেষ ১ নভেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও কোনো সাক্ষী হাজির হননি। বর্তমানে প্রথম অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌসের আদালতে মামলাটির বিচার চলছে।
সমন জারি করার পরও সাক্ষীরা অনুপস্থিত থাকায় ১ নভেম্বর আদালত এক আদেশে বলেছেন, সাক্ষীদের হাজির করতে না পারায় মামলাটি নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না। সাক্ষীদের আদালতে হাজির করার দায়িত্ব পুলিশের। আগামী বছরের ১১ জানুয়ারি ধার্য দিনে সাক্ষীদের হাজির করতে নগর পুলিশ কমিশনারের মাধ্যমে আদালতের আদেশের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট থানার ওসির কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। বোমা হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় করা মামলার প্রায় ছয় মাস পর ২০০৬ সালের ১৮ মে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক হ্লা চিং প্রু জেএমবির চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমান্ডার জাবেদ ইকবাল ওরফে মোহাম্মদ ও বোমা তৈরির কারিগর জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজানকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। জাবেদ ইকবাল কারাগারে আটক আছেন। বোমারু মিজান ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে পলাতক রয়েছেন। আদালত সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন হাজির না হওয়া পুলিশ সাক্ষীরা হলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক হ্লা চিং প্রু, কোতোয়ালি থানার সাবেক ওসি মঈন উদ্দিন, কোতোয়ালি থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) জাবেদ মাসুদ, মোফাজ্জল হোসেন, আবু বকর সিদ্দিক, সানাউল্লাহসহ ১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা।
র্যাব ও পুলিশ কর্মকর্তারা বোমা হামলার পর ঘটনাস্থলে আসায় মামলায় তাঁদের সাক্ষী রাখা হয়েছে। হামলায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও নিহত দুজনের ময়নাতদন্ত করায় কয়েকজন চিকিৎসককেও সাক্ষী রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ, র্যাব ও চিকিৎসকদের অনেকেই এখন চট্টগ্রাম থেকে বদলি হয়ে অন্য জেলায় কর্মরত।  মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সাক্ষী হ্লা চিং প্রু বর্তমানে খাগড়াছড়িতে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত। গত বৃহস্পতিবার রাতে মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সমন না পাওয়ায় সাক্ষ্য দিতে পারছি না। এর আগে ২০০৮ সালে একবার সমন পেয়ে সাক্ষ্য দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বিচারক না থাকায় সাক্ষ্য হয়নি।’ আরেক সাক্ষী মো. মঈন উদ্দিন বর্তমানে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি অঞ্চল) হিসেবে কর্মরত। চট্টগ্রাম আদালত ভবন থেকে তাঁর কার্যালয়ের দূরত্ব মাত্র ৩০০ গজ। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সমন পাইনি। কীভাবে সাক্ষ্য দিতে যাব?’ এ মামলায় সাক্ষীদের তালিকায় রয়েছেন র্যাব-৭-এর সাবেক উপসহকারী পরিচালক হান্নান হোসেন চৌধুরী ও সোহরাব হাছান। জানতে চাইলে র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, র্যাব-৭-এ বর্তমানে ওই দুজন কর্মরত নেই। তারা নিজ নিজ বাহিনীতে ফেরত গেছেন। আদালত থেকে কারও সমন পেলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। চিকিৎসক সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক সহকারী অধ্যাপক জুবাইদুর রহমান, সাবেক প্রভাষক ফজলে রাব্বী, চিকিৎসক এন এম সাইফুদ্দিন, ইয়াকুব হোসেন ও হাছানুর রহমান, জাবেদ জাহাঙ্গীরসহ আট চিকিৎসক।
জানতে চাইলে এই মামলার সরকারি কৌঁসুলি অশোক কুমার দাশ প্রথম আলোকে বলেন, ‘র্যাব, পুলিশ, চিকিৎসক ও তিন বিচারক সাক্ষীকে হাজির করতে না পারায় মামলাটি ঝুলে আছে। পুলিশ তাঁদের হাজির করতে পারছে না।’
বিভিন্ন মামলায় সাক্ষী হাজির না হওয়ার বিষয়টি গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি সভায় আলোচনা হয়েছে। মামলার ধার্য দিনে সাক্ষীদের হাজির করতে অভিযোগপত্রে সাক্ষীদের মুঠোফোন নম্বর লিখে রাখতে তদন্ত কর্মকর্তাদের ওই সভায় তাগিদ দেন চট্টগ্রামের মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. মুন্সী মশিয়ার রহমান। জানতে চাইলে পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী জানান, পুলিশ সাক্ষীসহ এই মামলায় হাজির না হওয়া সব সাক্ষীর পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। আশা করা যায় পরবর্তী ধার্য দিনে তাঁদের হাজির করা যাবে। ইতিমধ্যে কয়েকজন সাক্ষীর সঙ্গে কথাও হয়েছে।

ওষুধের দোকানে ধর্মঘট, রোগীদের দুর্ভোগ

চট্টগ্রাম মহানগরে ওষুধের দোকানে ধর্মঘট চলছে। এতে জরুরি ওষুধের জন্য দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগীরা। গ্রেপ্তার হওয়া ওষুধের দোকান মালিক ও কর্মচারীদের মুক্তি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে চট্টগ্রাম কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি আজ রোববার সকাল থেকে এই ধর্মঘটের ডাক দেয়। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রির অভিযোগে গত ২৪ নভেম্বর নগরের কে সি দে রোডে ওষুধের দোকানে অভিযান চালানোর সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি ওষুধের দোকানের ১২ জন মালিক-কর্মচারীকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ওই দিনের শেষে রাতে নগরের কোতোয়ালি থানায় মামলা করে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি মানববন্ধন এবং সমাবেশ করে। সমাবেশ থেকে বক্তারা গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি জানান। তা না হলে আজ (রোববার) সকাল ছয়টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত আধাবেলা ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ভোর ৬টা থেকে ধর্মঘট শুরু হয়। এতে বন্ধ রয়েছে নগরের প্রায় পাঁচ হাজার ওষুধের দোকান। সরেজমিন ঘুরে নগরের জামালখান, হাজারি গলি ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের দোকানগুলো বন্ধ দেখা গেছে। এতে জরুরি ওষুধের জন্য এসেও ফিরে যেতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে তপন হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি জামালখান থেকে ওষুধের দোকান খুঁজতে খুঁজতে মেডিকেল এলাকায় এলাম। এখানে এসেও দেখি সব দোকান বন্ধ। পরে হাসপাতালের ভেতরের দোকান থেকে বাবার জন্য ওষুধ কিনে এখন বাসায় যাচ্ছি।’ একইভাবে হাসপাতালের রোগীদেরও জরুরি ওষুধের জন্য দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন কালাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার আত্মীয়র অস্ত্রোপচারের জন্য কিছু গজ, ব্যান্ডেজ এবং ইনজেকশন দিয়েছেন ডাক্তার। হাসপাতালের ভেতরের দোকানে সব পাওয়া যায়নি। কিন্তু বাইরের সব দোকান বন্ধ থাকায় কোথাও সেগুলো পাচ্ছি না।’ ড্রাগিস্ট সমিতির চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি সমীর কান্তি সিকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া মালিক-কর্মচারীদের মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহার করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

সিবিএ নির্বাচনের দাবিতে যমুনা সার কারখানায় বিক্ষোভ

স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে সিবিএ নির্বাচনের দাবিতে আজ রোববার বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন যমুনা সার কারখানার শ্রমিকেরা। আর শ্রমিক অসন্তোষ এড়াতে কারখানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানা কর্তৃপক্ষ, শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) নির্বাচনের দাবিতে শ্রমিকেরা সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কারখানার শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসলেম উদ্দিনসহ অন্য শ্রমিক নেতারা। একই দাবিতে গত পাঁচ দিন ধরে কারখানার ভেতর ও আবাসিক এলাকায় চলা বিক্ষোভ ঘিরে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সিবিএ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক শাহজাহান বলেন, ‘প্রশাসন নির্বাচনের ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলনের মাধ্যমে কারখানা অচল করে দেওয়া হবে।’ কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান শ্রমিকদের বিক্ষোভের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘শিগগিরই নির্বাচন দেওয়া হবে।’ সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বিল্লাল উদ্দিন বলেন, সহিংসতা এড়াতে কারখানা এলাকায় পাঁচ দিন ধরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

মনোনয়ন দাখিলের সময় ১০ দিন পেছানোর দাবি জাপার

পৌরসভা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় ১০ দিন পেছানোর দাবি জানিয়েছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা)। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারে সাংসদদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখারও দাবি দলটির। আজ রোববার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দলের পক্ষ থেকে এই দাবি জানায় জাপা।ইসির সঙ্গে এই সাক্ষাতে জাপার পক্ষে নেতৃত্ব দেন দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। সাক্ষাৎ শেষে বাবলু সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা ইসিকে বলেছেন, প্রার্থী মনোনয়নসহ অনেক প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় প্রয়োজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটগ্রহণের বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়েছে ইসি। পৌরসভা নির্বাচনে সাংসদদের প্রচার চালানোর সুযোগ দেওয়ার দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে জাপা মহাসচিব বলেন, এ ব্যাপারে তাঁরা জাতীয় সংসদে কথা বলেছেন। এখন ইসিকেও বলছেন। বাবলু বলেন, নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসিকে বলেছেন তাঁরা। এ ছাড়া বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলেও তাঁরা কমিশনের কাছে অভিযোগ করেছেন। জাপা মহাসচিব বলেন, জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে কমিশন বলেছে, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সবকিছুই করবে ইসি। জাপা প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন—সাংসদ কাজী ফিরোজ রশিদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, তাজুল ইসলাম ও সালমা ইসলাম।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বৈঠক চলছে

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত বৈঠক চলছে দিনাজপুরে। এতে অংশ নিচ্ছেন দুই দেশের সীমান্তবর্তী জেলা প্রশাসক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সেক্টর কমান্ডার ও কমান্ড্যান্ট পর্যায়ের কর্মকর্তারা। দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কাঞ্চন সম্মেলন কক্ষেÿবৈঠকটি শুরু হয়েছে গতকাল শনিবার সকাল ১০টায়। বৈঠকে বাংলাদেশের ৯টি ও ভারতের ৬টি জেলার কর্মকর্তারা যোগ দিয়েছেন। দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, বৈঠকে ভারত-বাংলাদেশ অংশের হিলি স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য ত্বরান্বিতকরণ, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, মাদক ও চোরাচালান বন্ধ, বিএসএফ কর্তৃক অহেতুক গুলি করে মানুষ হত্যা বন্ধ করা, বন্দী প্রত্যর্পণ, বর্ডার হাট স্থাপন, সিএস রেকর্ড হস্তান্তর ও জমিজমা সংক্রান্ত প্রায় ২০টি বিষয় নিয়ে উভয় দেশের সীমান্ত সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের লক্ষ্যে সুপারিশ প্রণয়ন নিয়ে আলোচনা হবে।তিনি আরও বলেন, কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে চলছে দুই দেশের এই সীমান্ত বৈঠক। তিন দিনের এই বৈঠক শেষে আগামীকাল সোমবার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।

সাংসদদের প্রচারের সুযোগ চায় আ. লীগ

পৌরসভা নির্বাচনের আচরণবিধিতে পরিবর্তন এনে নির্বাচনী প্রচারে সাংসদদের অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে দাবি জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি সচিবালয়ে কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দলের পক্ষ থেকে এই দাবি জানায় আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল। সাক্ষাৎ শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ সাংবাদিকদের বলেন, সাংসদদের কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই। সরকারের নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাংসদদের মিলিয়ে তাঁদের (সাংসদ) নির্বাচনী প্রচারের সুযোগ না দেওয়া সংবিধানবিরোধী। এ জন্য তাঁরা নির্বাচন কমিশনকে আচরণবিধি থেক সাংসদদের নাম বাদ দিতে বলেছেন। হানিফ বলেন, নির্বাচন কমিশন তাঁদের বলেছে, আইনের মধ্য থেকে তারা বিষয়টি বিবেচনা করবে। নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে কয়েকটি দলের দাবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হানিফ বলেন, যাতে সব দল নির্বাচনে আসে, আইনে যদি সম্ভব হয়, সব দাবি নির্বাচন কমিশনকে আমলে নিতে হবে। আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা চাই, নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করুক।’  আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলে আরও দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আফজাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

রাজধানীর তেজগাঁওতে ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদে আজ রোববার দুপুর একটার দিকে অভিযান শুরু হয়। এ সময় মারমুখী হয়ে ওঠেন ট্রাকচালকসহ সংশ্লিষ্ট শ্রমিকেরা। বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের কার্যালয়ে গেলে ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হককে অবরুদ্ধ করে রাখেন তাঁরা। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবরুদ্ধ মেয়র বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাস্তানি চলবে না।’ প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দুপুরে সিটি করপোরেশনের লোকজন ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদের অভিযান শুরু করেন। এ সময় সেখানে ছিলেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক ও ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক। উচ্ছেদ অভিযান শুরুর কিছুক্ষণ পরই চালক ও স্থানীয় লোকজন উচ্ছেদকারীদের ওপর ইট পাটকেল ছুঁড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ও মন্ত্রী-মেয়রকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলি চালায়। এতে এক ট্রাকচালক আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আহত ট্রাক চালকের নাম জসিমউদ্দিন। তাঁকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ভাঙচুরের শিকার হয়েছে চ্যানেল আইয়ের গাড়ি। ওই গাড়ির চালক আজহার আহত হন। এ ছাড়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের ফটোসাংবাদিক তানভীর আহমেদের মাথায় ইটের আঘাত লেগেছে তাঁর ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সেন্টু চন্দ্র দাস প্রথম আলোকে বলেন, জসিমউদ্দিনের শরীরের বিভিন্ন অংশে ছররা গুলি লেগেছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য মেয়র আনিসুল হক বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের কার্যালয়ে যান। তখন তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা মাস্তানি করছেন, তাদের বলছি—এসব মাস্তানি চলবে না। আমার পেছনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর, মানুষের সমর্থন আছে। ঢাকা শহরে এসব অবৈধ কাজ হবে না।’ বেলা তিনটায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শ্রমিক-পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলছে। বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ চলছে। বাইরে মেয়রের প্রটোকলের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন ট্রাক চালক শ্রমিকেরা। কিছু শ্রমিক সাত রাস্তা থেকে তেজগাঁও ঢোকার মুখে রাস্তা বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছেন।

হত্যা মামলায় আরও একজনের সাক্ষ্যগ্রহণ

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সমাবেশে ২০০১ সালে বোমা হামলার ঘটনায় হত্যা মামলায় আসলাম মাতব্বর নামে একজন আজ রোববার সাক্ষ্য দিয়েছেন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এস এম জিয়াউর রহমানের আদাল​ত এ সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।এ নিয়ে এই মামলায় ১০৭ জনের মধ্যে সাতজনের সাক্ষ্য নেওয়া হলো। তবে একই ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় কোনো সাক্ষীকে আদালতে উপস্থিত করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। দুটি মামলাতেই পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী বছরের ১৪ জানুয়ারি।২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলায় ঘটনাস্থলেই সিপিবি নেতা হিমাংশু মণ্ডল, আবদুল মজিদ, আবুল হাশেম ও মুক্তার হোসেন নিহত হন। আহত হওয়ার ১৩ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রদাস। এ ছাড়া আহত হন আরও অর্ধশতাধিক লোক এ ঘটনায় সিপিবির তৎকালীন সভাপতি মনজুরুল আহসান খান ওই দিনই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ওই হামলার প্রায় ১৩ বছর পর ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর মুফতি হান্নানসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগপত্র দেন পুলিশের সিআইডি বিভাগের পরিদর্শক মৃণাল কান্তি সাহা। গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই দুটি মামলার বিচার শুরু হয়।এ মামলায় কারাগারে আটক আছেন আবদুল হান্নান, মুফতি মাঈনুদ্দিন শেখ, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান, ও আরিফ হাসান সুমন। এ ছাড়া অভিযোগপত্রভুক্ত মশিউর রহমান, আবদুল হাই, শফিকুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, নুরুল ইসলাম, মহিবুল মুস্তাকিম, আনিসুল মুরসালিন ও রফিকুল ইসলাম সিরাজী পলাতক।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে

যথাসময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরখাস্ত হওয়া এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করছে দুর্নীতি দমন কমি​শন (দুদক)। আজ রোববার কমিশন এ মামলার অনুমোদন দেয় বলে জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য।দুদক সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের এসএএস সুপার (বর্তমানে বরখাস্ত) মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে এ মামলা হচ্ছে।দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আনোয়ার হোসেনকে সম্পদের বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি তা দাখিল করেননি। ​তাই কমি​শন তাঁর বিরুদ্ধে ‘নন সাবমিশন’ মামলার অনুমোদন দেয়।সম্পদ বিবরণী দাখিল না করা দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬(২) ধারা অনুসারে অপরাধ।

নির্বাচন পেছানো ও আটক নেতাদের মুক্তির দাবি বিএনপির

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে আজ রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রতিনিধিদলের নেতা ওসমান ফারুক বলেছেন, তাঁরা কমিশনের কাছে পৌরসভা নির্বাচন ১৫ দিন পেছানোর দাবি করেছেন।এ ছাড়া বিএনপির সেসব নেতা-কর্মী আটক রয়েছেন, তাঁদের ছেড়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে বাইরে থাকা নেতা-কর্মীদের ধরপাকড় বন্ধের ব্যবস্থা নিয়ে সব দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।সাংসদদের প্রচারের সুযোগের দাবিতে করা আওয়ামী লীগের দাবির ব্যাপারে ওসমান ফারুক বলেন, আওয়ামী লীগের দাবি অনুযায়ী প্রচারের সুযোগ দিলে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।

ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, টাকা লুট

রাজধানীর সায়েদাবাদে জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যবসায়ী ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে নগদ টাকা ও দুটি মোবাইল সেট খুইয়েছেন। ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে তিনি এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আজ রোববার ভোর পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।জাহাঙ্গীরের ভাষ্য, তিনি বংশাল এলাকায় থাকেন ও ব্যবসা করেন। লক্ষ্মীপুর যাওয়ার উদ্দেশে আজ ভোরে বাসা থেকে বের হয়ে রিকশায় করে সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে যাচ্ছিলেন। সায়েদাবাদ রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে কয়েক ছিনতাইকারী তাঁকে বহনকারী রিকশাটির গতিরোধ করে। এরপর ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁর সঙ্গে থাকা দুটি মোবাইল ফোন সেট ও আট হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর চলে যাওয়ার সময় ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গোপনাঙ্গে আঘাত করে।সাইফুল নামে এক পরিচিতজন জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন। তিনি বর্তমানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে, হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীরের অবস্থা গুরুতর।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-১ এর পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জাহাঙ্গীরের আহত হয়ে ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সরকারের সিদ্ধান্তে তোয়াক্কা নেই বহু চালকের by:একরামুল হুদা

ঢাকা মহানগরে পয়লা নভেম্বর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া বাড়ায় সরকার। ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হওয়ার পর সরকার জোরগলায় ঘোষণা দেয়, এখন থেকে ঢাকায় সব অটোরিকশা মিটারে চলবে। ওই দিন থেকে তারা কিছু ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করে। কিন্তু ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর মাস না পেরোতেই অনেক চালকই তা মানছেন না।সরজমিনে দেখা যায়, অটোরিকশাগুলো দিনে মোটামুটিভাবে মিটারে চলছে কিন্তু সন্ধ্যার পর যাত্রীদের যেতে হয় চুক্তিতে। এ ছাড়া দিনে স্বল্পদূরত্বে অনেক চালকই মিটারে চলতে রাজি হন না। আবার যাঁরাও মিটারে নির্ধারিত ভাড়ায় চলছেন, তাঁদের দাবি মিটারের চেয়ে ১০ বা ২০ টাকা বেশি।প্রথম কয়েক দিন সঠিক নিয়মে মিটারে নির্ধারিত ভাড়া মেনে চললেও ধীরে ধীরে তা চালকেরা আর মানছেন না বলে অনেক যাত্রীর অভিযোগ। কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনে চালকেরা মিটারে নির্ধারিত ভাড়ায় যেতে রাজি হন। তবে তাতেও একটি ‘কিন্তু’ থাকে। অটোরিকশায় ওঠার আগে অথবা নামার সময় চালকের দাবি থাকে, ‘২০টা টাকা বাড়াইয়া দিয়েন।’ তবে সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত বেশির ভাগ চালক আর মিটারে যেতে রাজি হন না। তাঁদের দাবি, ‘মিটারে গেলে পোষায় না।’দেখা গেছে, যেসব সড়কে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট বা চেকপোস্ট থাকে, ওই সড়কগুলোতে সিএনজি চালকেরা যাত্রী পরিবহনের সময় মিটারে যান। আর সন্ধ্যার পর সাধারণত ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকেন না। পুলিশ মামলাও করে কম। এ কারণে ওই সময়ে অনেক চালক বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। মিটারে যেতে চান না। পান্থপথ সিগন্যালে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সার্জেন্ট কে এম সবুর প্রথম আলোকে বলেন, বেশির ভাগ সময়ই যাত্রীরা অভিযোগ করেন না। কেননা তাঁদের ব্যস্ততা থাকে বা কোনো ঝামেলায় পড়তে চান না। এ কারণে চালকেরা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা মিটারে যেতে না চাওয়ার বিষয়ে যাত্রীদের যেকোনো অভিযোগে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টা। ধানমন্ডি ২৭ নম্বর থেকে মিরপুর ১ নম্বর যাবেন মিরপুরের বাসিন্দা সালমান সাদেকীন। কোনো সিএনজিচালিত অটোরিকশা মিটারের ভাড়ায় যেতে রাজি নয়। আবার চুক্তিতে ২০০ থেকে ২২০ টাকার কমেও কেউ যেতে রাজি হচ্ছেন না। চালকদের দাবি, ‘প্রাইভেটে’ নিবন্ধিত সিএনজি অটোরিকশাগুলোতে মিটার না থাকায় চুক্তিতে যাত্রী পরিবহন করছেন। তাই মিটারে চালকদের ক্ষতি হচ্ছে। সালমান সাদেকীন বলেন, এ সময় আশপাশে কোনো ট্রাফিক পুলিশও ছিল না যে অভিযোগ করা যাবে। আবার পুলিশ কন্ট্রোল রুমে অনেকবার ফোন করা হলেও কেউ সেটি ধরেননি।সন্ধ্যার পর অটোরিকশার মিটারে না যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ খোকন। তিনি বলেন, তাঁর নিজেরও এ ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে। বাবুবাজার, গুলিস্তান, কমলাপুর ও সদরঘাটসহ কয়েক জায়গায় চালকদের একটি সিন্ডিকেট আছে। তাঁরা এ কাজটি করেন। যদি ওই সব এলাকায় সন্ধ্যার পর কয়েক দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যায়, তাহলে তা কমবে। তিনি বলেন, ‘এখনো মিটারে যাওয়াটা ১০০ ভাগ নিশ্চিত করা যায়নি। তবে আমরা চেষ্টা করছি। এ ছাড়া চালকেরা যেন স্বল্পদূরত্বেও মিটারে যান, সে জন্য তাঁদের বারবার বলছি।’ সিএনজিচালকদের এই নেতা প্রাইভেটে নিবন্ধিত অটোরিকশাগুলোর যাত্রী পরিবহন বন্ধ করার দাবিও জানান।রাজধানী ঢাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার নতুন ভাড়ার হার ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়। তবে প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় চট্টগ্রাম মহানগরে অটোরিকশার নতুন ভাড়া কার্যকর হবে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে। নতুন ভাড়া অনুযায়ী অটোরিকশার প্রথম দুই কিলোমিটারের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ টাকা। পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ১২ টাকা। প্রতি এক মিনিট ওয়েটিংয়ের (যাত্রাবিরতি, যানজট ও সিগন্যাল) জন্য দুই টাকা। মালিকের জমা ৯০০ টাকা। ভাড়া বাড়ানোর পরও মিটারে যেতে চান না অনেক চালক।ব্যক্তিগত কাজে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসা দুই বন্ধু রশিদুজ্জামান ও শামসুর রহমান অটোরিকশার মিটারে নির্ধারিত ভাড়ায় যাতায়াতের বিষয়টি জানতেন না। ফকিরাপুল থেকে মগবাজার যাওয়ার জন্য অটোরিকশা ঠিক করে ভাড়া কত জানতে চাইতেই, চালক বললেন, ‘মিটারে যাবেন।’ কিছুটা অবাক হয়ে দুজনই অটোরিকশায় চেপে বসলেন। গন্তব্যে পৌঁছে ভাড়া দিতে গেলে চালক বাড়তি ২০ টাকা দাবি করেন। এরপর থেকে ঢাকায় যতবারই অটোরিকশায় যাতায়াত করেছেন প্রতিবার চালক ১০ থেকে ২০ টাকা দাবি করেছেন। একই অভিজ্ঞতা হয়েছে কারওয়ান বাজার থেকে বনানী যাওয়া ব্যাংক কর্মকর্তা আফরোজা আনসারীর। কারওয়ান বাজারে একটি অটোরিকশার চালক গন্তব্যে যেতে তাঁর কাছে মিটারের চেয়েও ২০ টাকা বেশি ভাড়া দাবি করেছেন। তিনি দিতে রাজি না হওয়ায় ওই চালক বনানী যেতে রাজি হননি। আফরোজা বলেন, ‘১০-২০ টাকা বেশি দেওয়া যায়। কিন্তু সেটা যেন নিয়মে পরিণত না হয়ে যায়।’যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, অটোরিকশার নৈরাজ্যের শুরু এই বকশিশের হাত ধরেই। ২০০১ সাল থেকে তাঁরা বেপরোয়া হতে শুরু করে। প্রথমে ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ টাকা পর্যন্ত আসে বকশিশ। তারপর বলে মিটারে যাব না, চুক্তিতে আসেন। এইবারও এ রকম চলতে থাকলে তেমন কিছুই হবে।তবে অনেক যাত্রী আবার সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অটোরিকশার মিটারে যাওয়া নিয়ে। আকবর আলী নামে এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন যেভাবে মিটারে অটোরিকশাগুলো চলছে তাতে সুবিধা হচ্ছে যাতায়াতে। অনেক সময় তাঁরা চায়, বা নিজেরাই ১০-২০ টাকা বাড়িয়ে দিই মিটার থেকে। তবে এই মিটারে যাওয়াটা যেন চালু থাকে। এ জন্য সরকারের কড়া নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার।’এসব বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সচিব মুহাম্মদ শওকত আলী বলেন, এই মুহূর্তে বিআরটিএর এনফোর্সমেন্ট শাখার ছয়জন ম্যাজিস্ট্রেট আছেন যাঁরা নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ ছাড়া বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বিআরটিএতে ফোন করে বা অনলাইনে অটোরিকশার নিবন্ধন নম্বরসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে। প্রাইভেট নিবন্ধিত অটোরিকশার যাত্রী পরিবহন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরাও শুনেছি এই অভিযোগটি। প্রাইভেট সিএনজি যাত্রী পরিবহন বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার হতে পারবে না। তবে প্রাইভেট সিএনজিতে যাঁরা চড়েন, তাঁদের কে যাত্রী আর কে মালিক—সেটা নির্ণয় করাও কঠিন। সিএনজির নম্বর দিয়ে কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কাল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন খালেদা

নাইকো দুর্নীতি মামলায় আগামীকাল সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।তাঁর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া আজ রোববার প্রথম আলোকে এ কথা জানান।
দুর্নীতি দমন কমিশনের করা এই মামলাটি বর্তমানে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৯ এর বিচারক আমিনুল ইসলামের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।এই মামলার বৈধতা নিয়ে খালেদা জিয়ার রিট আবেদন গত ১৮ জুন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে মামলার ওপর থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে দুই মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন আদালত।বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ওই বেঞ্চের ওই নির্দেশনা অনুযায়ী পুরান ঢাকায় অবস্থিত নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করবেন খালেদা জিয়া।