Monday, November 16, 2009

সিডরের ক্ষত কি শুকানোর মতো -এইদিনে by মিজানুর রহমান

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যায় প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’। এতে হাজার হাজার ঘরবাড়ি ভেসে যায়, আশ্রয়হীন হয় অনেক মানুষ। আমার বাড়ি যেখানে, বাগেরহাটের সেই শরণখোলায়ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আমাদের বাড়িটি ভেসে যায়। ইতিমধ্যে আমরা নতুন একটি ঘর তৈরি করেছি। মানুষের জীবন আবার অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। মনোযোগ দিয়ে না দেখলে সিডরের ক্ষতও তেমন চোখে পড়ে না। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। ক্ষত তৈরি হয়, আবার শুকিয়ে যায়। কিন্তু আমার মনের ক্ষতটা শুকাচ্ছে না কেন? এ ক্ষত কি কোনো দিন শুকাবে?
সিংহলিজ ভাষার শব্দ ‘সিডর’-এর আভিধানিক অর্থ ‘চোখ’। তবে আমার কাছে এর অর্থ ‘চোখের জল’। দুই বছর আগে আজকের দিনে ‘সিডর’ নামের সর্বনাশা ঘূর্ণিঝড় আমাকে ও আমাদের পাঁচ ভাই-বোনকে চোখের জলে ভাসিয়েছিল। দানবীয় এই ঘূর্ণিঝড় আমার জীবন থেকে প্রিয় বাবা মো. আদম আলী খান ও মা আনোয়ারা বেগমকে কেড়ে নিয়েছে। কেড়ে নিয়েছে আরও অনেক নিকটাত্মীয়কে।
বাবা বা মাকে স্মরণ করে অনেকেই অনেক সুন্দর স্মৃতিচারণা করেন। আমি মুগ্ধ হই, ভালো লাগে। কিন্তু আমার বাবা-মায়ের সুন্দর স্মৃতিচারণা করার মতো কিছুই আমার মনে নেই। যেই দিনটিতে, আমার বাবা-মা উভয়কেই কেড়ে নিল সিডর, সেদিন থেকে আমার স্মৃতি থেকে বাবা-মায়ের সব সুন্দর সুন্দর ঘটনা মুছে গেছে। আমার বাবার বয়স ছিল ৫৫ ও মায়ের ৫০। তবে বয়সের তুলনায় তাঁরা অনেক বেশি তরুণ ছিলেন।
শরণখোলার সাউথখালী গ্রামে আমাদের বাড়ি। বলেশ্বর নদের একেবারে কোল ঘেঁষে। আমাদের ঘরটি ছিল খুব বড়, খুব মজবুত। ১৯৮৮ সালের বন্যায় কিছুই হয়নি এ ঘরের। সিডরও কিছু করতে পারবে না—এমনটা ভেবে আমাদের পাশের বাড়িরও অনেকে এসে আমাদের ঘরে আশ্রয় নেয়। কিন্তু বাতাসের তীব্রতা যখন ভয়াবহ রূপ নেয়, তখন তাদের সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেন বাবা-মা। বলেছিলেন, ‘তোরা যা, আমরা আসতেছি।’ এর পরও কেন তাঁরা ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে গেলেন না, এ প্রশ্নের উত্তর কার কাছে চাইব? রাত সাড়ে ১০টা বা পৌনে ১১টায় সিডর মহাশক্তি নিয়ে আবির্ভূত হলে এ প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম দুই ব্যক্তিই হারিয়ে যান মহাকালে।
বাবার সঙ্গে শেষ কথা হয় সিডর আঘাত হানার দিন দুপুরে। আবহাওয়ার খারাপ অবস্থার কথা শুনে বলেছিলাম আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে। তাঁদের কাছে তখন মোবাইল ফোন ছিল না। সন্ধ্যার পর নিকটাত্মীয়দের কারও মোবাইল ফোনেও আর সংযোগ পাইনি। ১৬ নভেম্বর খুব ভোরে আমার মোবাইল ফোনে কল করে এক আত্মীয় জানান যে, আমাদের ঘরবাড়ির কোনো অস্তিত্ব নেই এবং বাবা-মাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সকালে বিবিসি বাংলার সংবাদে শুনতে পাই শরণখোলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে।
খবর শুনেই মুহসীন হল থেকে বেরিয়ে সদরঘাটে গিয়ে বড় ভাইকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হই। দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে কোনো রকমে যখন শরণখোলা উপজেলা সদরে পৌঁছাই, তখন রাত ১০টা। আমার মেজো বোনের বাড়িতে গিয়ে দেখি, আমার তিন বোনই কোরআন শরিফ তিলাওয়াত করছেন। আমার ছোট বোনটি ইডেন কলেজে পড়ে। সিডরের দুই দিন আগে ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিল সে। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকায় সে মেজো বোনের বাড়িতেই থেকে যায়। আমি জানতাম, বাবা-মাকে পাওয়া যাচ্ছে না। বোনেরা জানেন, বাবাকে পাওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু মা সুস্থ আছেন। রাত ১১টার দিকে দুই ভগ্নিপতি বাবা-মায়ের মৃত্যু সংবাদ নিয়ে উপস্থিত হন। তবে তাঁদের লাশ কোথায় আছে, কেউ জানে না। পরের দিন খুব ভোরে ট্রলার নিয়ে বলেশ্বর নদ দিয়ে আমরা সাউথখালীতে যাই। গিয়ে দেখি, আমাদের বাড়ির চিহ্নমাত্র নেই। বাড়ির কোনো ঘরেরই অবশিষ্টাংশও সেখানে ছিল না। বাড়ির জায়গা থেকে আধা কিলোমিটারও দূরে আমাদের বাড়ির ধ্বংসাবশেষ পাই। এর প্রায় চার ঘণ্টা পর পাওয়া যায় বাবার মৃতদেহ। সারা দিন খুঁজেও মায়ের মৃতদেহ পাইনি। অনেক খোঁজাখুঁজি শেষে সিডর আঘাত হানার চার দিন পর ১৯ নভেম্বর মায়ের মৃতদেহ পাওয়া যায়। চার দিন পরও মায়ের চেহারা একেবারে অক্ষত ও অবিকৃত ছিল। মাকে বাবার পাশেই দাফন করা হয়। এখন ভাবলে বিস্মিত হই, অমন কষ্টের বোঝা বুকে নিয়ে কীভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাবা-মায়ের মৃতদেহ খুঁজে বেড়িয়েছি! পৃথিবীতে কোনো সন্তানকে যেন তাঁর বাবা-মায়ের মৃতদেহ খুঁজতে না হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার শিক্ষক ও বন্ধুরা সেই দুর্যোগের সময়ে আমাকে অনেক সাহস জুগিয়েছেন। কারও প্রতিই মৌখিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়নি। আমাদের তখন মাস্টার্স পরীক্ষা চলে। এর মাঝেই সহপাঠীরা আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। সবার এ মানবতাবোধই আমাকে বাঁচার সাহস জুগিয়েছে। মনে ঝড় আর বুকে কষ্ট নিয়েই ২৩ নভেম্বর পরীক্ষায় অংশ নিই। পরীক্ষা শেষ করে এখন চাকরিও করছি। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবনের সবকিছুই যেন স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। আসলেই কি সব স্বাভাবিক হয়ে গেছে? তাহলে কেন কোথাও সিডর সম্পর্ক কথা শুনলে, লেখা পড়লে আমার চোখে পানি চলে আসে? ‘সিডর’ অর্থ চোখের পানি না তো কী!

মানসিকতার বদল না হলে দেশ বদল হবে না -সুশাসন by বদিউল আলম মজুমদার

‘বদলে যাও, বদলে দাও’—স্লোগানটি সামনে রেখে প্রথম আলো তার একাদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। পত্রিকার সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। একই সঙ্গে তাঁদের ধন্যবাদ জানাই স্লোগানটির জন্য। স্লোগানটি অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ, কারণ সারা পৃথিবী বদলে যাচ্ছে আর আমরা যদি না বদলাই, তাহলে জাতি হিসেবে আমরা পেছনে পড়ে থাকব। এমনকি আমরা সংকটের মুখোমুখি হব, যা আমাদের ভবিষ্যেক বিপন্ন করে তুলতে পারে।
বস্তুত ইতিহাসের শিক্ষা হলো, পরিবর্তনের সঙ্গে অগ্রগতি-সমৃদ্ধি, এমনকি টিকে থাকাও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। নিজেদের পরিবর্তন করতে পারেনি বলেই অনেক সভ্যতা অতীতে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। প্রকৃতিতেও তা-ই ঘটছে। চার্লস ডারউইনের ভাষায়, ‘It is not the strongest species that survived, nor the most intelligent, but the ones most responsive to change.’ অর্থাত্ প্রাণিকুলে সবচেয়ে শক্তিশালী কিংবা সবচেয়ে বুদ্ধিমানেরা টিকে থাকেনি, বরং পরিবর্তনের সঙ্গে যারা খাপ খাওয়াতে পেরেছে, তারাই টিকে রয়েছে।
আর্থসামাজিক অগ্রগতির জন্যও পরিবর্তন আবশ্যক। এমনকি রাজনীতির ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য—আমাদের এ উপমহাদেশেই এককালের পরাক্রমশালী বেশ কিছু রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে কিংবা বিলুপ্তপ্রায়, যার মূল কারণ তাদের পরিবর্তনে অনাগ্রহ। আর এসব ক্ষেত্রে পরিবর্তনের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মানসিকতার পরিবর্তন। মানসিকতার বদল হলেই প্রেক্ষাপট বদলে যায় এবং পরিবর্তনের দ্বার উন্মোচিত হয়। বস্তুত মানসিকতার বদল সংশ্লিষ্টদের জীবন বদলে দেয়, ফলে বদলে যায় অর্থনীতি, রাজনীতি তথা পুরো সমাজ।
আর্থসামাজিক পরিবর্তনের কথায় আসা যাক। অর্থনীতির ক্ষেত্রে সনাতন ধারণা হলো যে বিনিয়োগ বাড়লে প্রবৃদ্ধি বাড়বে, কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে, দারিদ্র্য দূরীভূত হবে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে। সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক অঙ্গনেও পরিবর্তন আসবে। নিঃসন্দেহে বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আমাদের মতো দেশে বিশেষত আইনের শাসন তথা সুশাসনের অভাবে উত্পাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা দুরূহ এবং উত্পাদনের ফলও অনেক ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক নয়। আর অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেও প্রয়োজনীয় সামাজিক উন্নয়ন দ্রুততার সঙ্গে ঘটবে তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তাই এ ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির বদল করতে হবে।
মানুষ প্রতিনিয়ত যেসব সমস্যার সম্মুখীন, সেগুলো চারভাবে বিভাজন করা যায়: জীবন-জীবিকার সমস্যা, সামাজিক সমস্যা, স্বচ্ছতা-জবাবদিহি-অংশগ্রহণ বা সুশাসনের সমস্যা এবং অবকাঠামোগত সমস্যা। সামাজিক ও সুশাসনের সমস্যা জনগণকে সংগঠিত করে সামাজিক আন্দোলন-প্রতিরোধ গড়ে তুলে বহুলাংশে সমাধান সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ক্যাটালিস্ট বা অনুঘটকের ভূমিকা পালন করতে পারে যথাযথভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি এবং সমাজসচেতন নাগরিকেরা। সামাজিক আন্দোলন-প্রতিরোধ গড়ে তোলার কাজ বিনা বা স্বল্প খরচেই করা সম্ভব। আর সামাজিক আন্দোলন-প্রতিরোধ সৃষ্টিতে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে জনগণের চেতনার উন্মেষ ঘটলে অর্থনৈতিকসহ অন্যান্য দুরূহ সমস্যা সমাধানের পথ উন্মোচিত হয়।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অবশ্যই উত্পাদনশীল বিনিয়োগ আবশ্যক। তবে আমাদের মতো দেশে, যেখানে জনসংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে, আত্মকর্মসংস্থানের ব্যাপক বিস্তার ছাড়া দারিদ্র্য দূরীভূত হবে না এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও ত্বরান্বিত হবে না। আর এ কাজের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধি ও পুঁজির সংস্থান আবশ্যক। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ এ কাজে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। জনগণকে সংগঠিত করে এবং স্থানীয় সংগঠন গড়ে তুলেও পুঁজির জোগান দেওয়া যায়। নিঃসন্দেহে এ ক্ষেত্রেও স্থানীয় সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো কাজে লাগিয়ে স্বচ্ছতা-জবাবদিহির সঙ্গে কৃষিঋণ, শস্যবীমা এবং বিভিন্ন ধরনের উপকরণ ও ভর্তুকি বিতরণ করে কৃষি খাতেও গতিশীলতা আনা যেতে পারে।
দারিদ্র্য দূরীকরণের ক্ষেত্রেও আমাদের মানসিকতা বদলাতে হবে। আমাদের স্বীকৃতি দিতে হবে যে শুধু আয়ের অভাবই দারিদ্র্য নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পয়োনিষ্কাশন ইত্যাদির অভাবও দারিদ্র্যের অংশ। আত্মমর্যাদা হনন, নিগ্রহ-বঞ্চনা প্রভৃতির উপস্থিতিও দারিদ্র্য অবস্থারই প্রতিফলন। তাই দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য প্রয়োজন সার্বিক অবস্থা পরিবর্তনের উদ্যোগ। আর আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্রযন্ত্র এ কাজের জন্য উপযোগী নয়।
দারিদ্র্য দূরীকরণ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত কবিতার কয়েকটি লাইন স্মরণ করা যেতে পারে: ‘তোরা পারবি নে কেউ ফুল ফোটাতে,/ যতই তোরা পাপড়ি টানিস, আঘাত করিস বোঁটতে/ তোরা পারবি নে কেউ ফুল ফোটাতে।’ ফুলের ধর্মই ফোটা, ফুলকে জোর করে ফোটানো যায় না—ফুল গাছকে আগাছা এবং মানুষের হাত থেকে রক্ষা ও পরিচর্যা করলে ফুল আপনা থেকেই ফুটবে। আর এ কাজটি করার জন্য প্রয়োজন মালীর। অর্থাত্ ফুল ফোটার ব্যাপারে মালীর ভূমিকা সহায়কের।
ফুল যেমন স্বাভাবিকভাবেই ফোটে, তেমনিভাবে আত্মশক্তিতে বলীয়ান প্রত্যেক মানুষের পক্ষেও তার নিজের পায়ে দাঁড়ানো সম্ভব। নিজ জীবনের হাল ধরার মতো প্রয়োজনীয় সৃজনশীলতা ও কর্মক্ষমতা দিয়েই তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকার ও সামাজিক সংগঠনগুলো মালীর কাজ করতে পারে। তারা জনগণের সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে, যাতে সাধারণ মানুষের পক্ষে তাদের নিজেদের ভাগ্য গড়ার কারিগরে পরিণত হওয়া সম্ভব হয়।
আর্থসামাজিক উন্নয়নের ব্যাপারে আমাদের চেতনায় আরও পরিবর্তন ঘটাতে হবে যে উন্নয়ন শুধু টাকা-পয়সার বিষয় নয়, যদিও অবকাঠামো সৃষ্টির জন্য অর্থের প্রয়োজন। বরং টাকা-পয়সার ছড়াছড়ি অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রচেষ্টা ব্যাহত করতে পারে। রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে অর্থের ছড়াছড়ি দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের জন্ম দিতে পারে। ব্যক্তি আত্মপ্রত্যয়ী না হলে, অর্থের আধিক্য তাকে অসফল ও তার মধ্যে পরনির্ভরশীলতার মানসিকতা সৃষ্টি করতে পারে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে এভাবে অর্থ অনর্থের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আমাদের উপলদ্ধিতে আনতে হবে যে বাংলাদেশ দরিদ্র দেশ নয়। একটি দেশের বড় সম্পদ তার জনগণ এবং জনগণের মেধা-সৃজনশীলতা। আর মেধা-সৃজনশীলতার আমরা কোনো অংশেই কারও থেকে কম নই। বিদেশের মাটির সহায়ক পরিবেশে আমাদের ছেলেমেয়েরা তাদের শ্বেতাঙ্গ বন্ধুদের প্রতিনিয়ত পরাভূত করছে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়। তারা প্রমাণ করছে, নজরুলের ভাষায়: ‘বাঙ্গালী তুমি ক্ষুদ্র নও, তুমি তুচ্ছ নও। একবার জেগে উঠ, দেখবে তুমিও বিশ্ববিজয়ী হতে পার।’ এ ছাড়া আমাদের মিষ্টিপানি, উর্বর মাটি ও সম্ভবত গ্যাস-তেলের মতো সম্পদও রয়েছে। আমাদের অভাব মূলত একতার, শৃঙ্খলার, সহিষ্ণুতার ও দৃষ্টিভঙ্গির। এগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে আমরাও সম্পদশালী হতে পারব। আমাদের প্রতিবেশীদের অনেকেই তা করতে পেরেছে।
রাজনীতি সম্পর্কেও আমাদের মানসিকতা বদলাতে হবে—রাজনীতির উদ্দেশ্য জনসেবা ও মানুষের কল্যাণ, ব্যক্তির স্বার্থসিদ্ধি নয়। মানুষের সঙ্গে শান্তি-সমপ্রীতি গড়ে তোলা, দ্বন্দ্ব-হানাহানি সৃষ্টি নয়। তাদের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করা, বিভক্তি নয়। সমস্যার সমাধান করা, সমস্যা সৃষ্টি করা নয়। মানুষের মধ্যে আশা-ভরসা জাগ্রত করা, তাদের হতাশ-নিরাশ করা নয়। কারণ চোখের বদলে চোখ নিলে, অন্ধের এবং হাত-পায়ের পরিবর্তে হাত-পা নিলে, পঙ্গুত্বের রাজত্ব সৃষ্টি হয়। আর লুটপাট ও হানাহানির সংস্কৃতিতে এবং হতাশা ও নেতিবাচক পরিবেশে ভালো কিছু ঘটে না; বরংযথেচ্ছাচারের সৃষ্টি হয় এবং সমাজ অধঃপতনের দিকে ধাবিত হয়।
এ ছাড়া রাজনীতিবিদদের মনে রাখতে হবে যে ক্ষমতায় যাঁরা থাকেন, সমাজকে একত্র করার ক্ষেত্রে তাদের প্রয়োজনীয়তা ও দায়িত্ব সর্বাধিক। যত বেশি ব্যক্তি ক্ষমতাসীনদের কর্মসূচি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসে, ততই তাদের সফলতা। তাই তাদেরই হতে হবে অনেক বেশি উদার ও সহিষ্ণু। এ ছাড়া বিরোধীদের দোষারোপ করে কিংবা তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের অভিযোগ করে কোনো লাভ নেই—অনেক নাগরিকই মনে করেন, এসব করা হয় সরকারের নিজের অপারগতা ঢাকার জন্য। সরকারের হাতে ক্ষমতা আছে এগুলো উদ্ঘাটন করার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার এবং সত্যিকার অর্থেই ষড়যন্ত্র-চক্রান্তে থাকলে সরকার তা করত।
আন্তরিকভাবে জনগণের কল্যাণ চাইলে বিরোধীদেরও সরকারের কাজে সহায়তা করতে এগিয়ে আসতে, অন্তত জনকল্যাণমূলক কাজে বাধা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতার সংস্কৃতি নিঃসন্দেহে কারও জন্যই মঙ্গলকর নয়, এমনকি বিরোধীদের জন্যও তা সুবিধাজনক পরিণতি সৃষ্টি করে না। আকাশের দিকে থুতু ছুড়লে তা নিজের গায়ে এসেই পড়ে। ঢিল ছুড়লে পরবর্তী সময়ে পাটকেল খেতে হয়। আর রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় আগুনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করলে পরবর্তী সময়ে ছাই নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
রাজনীতির ক্ষেত্রে মানসিকতা বদলের আরও প্রয়োজন যে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। বাংলাদেশ সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে জনগণকে রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে এর উল্টো—জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারাই তাদের প্রভুর আসনে অধিষ্ঠিত। আর এই প্রভুরা জনগণকে ভেড়ার পাল হিসেবেই গণ্য করে এবং তাদের পদে পদে বঞ্চিত করে। আর জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত না হলে এবং তাদের বঞ্চনার অবসান না ঘটলে সত্যিকারের গণতন্ত্র কায়েম ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জিত হবে না।
এ ছাড়া রাজনীতিকদের উপলব্ধিতে আনতে হবে যে ভোট দিয়ে জনগণ সরকার গঠন করে তাদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য, ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়। রাজনৈতিক দল হলে উদ্দেশ্য হওয়া উচিত কোনো সুস্পষ্ট নীতি-আদর্শ বা জনস্বার্থকর কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সিন্ডিকেটের মতো দলের সঙ্গে জড়িতদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান নয়। আর এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিলে দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব-হানাহানিই সৃষ্টি হয়, কারণ সুযোগ-সুবিধার পরিমাণের তুলনায় প্রত্যাশীদের সংখ্যা অনেক বেশি—ফায়দার লোভে অনেকেই দলের খাতায় নাম লেখায়। উপরন্তু ফায়দাবাজির সংস্কৃতিতে আদর্শভিত্তিক রাজনীতি গড়ে উঠতে পারে না।
রাজনীতিকদের মানসিকতায় আরও পরিবর্তন প্রয়োজন যে দলীয়করণের ফলাফল মঙ্গলকর নয়। দলীয়করণের সংস্কৃতিতে অযোগ্য-অদক্ষরাই সাধারণত লাভবান হন এবং যোগ্য-দক্ষ ও নিরপেক্ষরা বঞ্চিত হন। ফলে সরকারের কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয় না। এ ছাড়া দলবাজির সংস্কৃতিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরস্পরকে ল্যাং মারার এক অশুভ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। নিয়োগ, পদায়ন, পদোন্নতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে যোগ্যতা-দক্ষতা বিবেচনায় না নেওয়ার এবং পক্ষপাতিত্বের ফলে প্রশাসন মেধাশূন্য হয়ে পড়ে। তাই দলীয়করণের ফলে হিতের চেয়ে বিপরীতই বেশি হয়। বস্তুত লাগামহীন দলীয়করণের ফলে আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই ভবিষ্যতে চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
রাজনীতিবিদদের স্বীকার করতে হবে যে তাঁদের প্রশ্রয়েই এ দেশে উগ্রবাদের উদ্ভব ঘটেছে। আর রাজনীতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় না পেলে এবং এর বিস্তার সম্ভব নয়। এ ছাড়া দুর্নীতি ও বঞ্চনা সাধারণ মানুষকে এদিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই উগ্রবাদ রোধ করতে হলে দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের অবসান ঘটাতে হবে, দারিদ্র্য দূরীকরণ করতে হবে এবং সাধারণ মানুষকে তাদের ন্যায্য অধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে রাজনীতিকে নৈতিকতার ওপর দাঁড় করাতে হবে এবং উগ্রবাদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অবসান ঘটাতে হবে।
আমাদের সরকারি কর্মকর্তাদের মানসিকতারও বদল হওয়া দরকার। অনেক দিন আগে আমাদের একজন বিখ্যাত ব্যক্তি আফসোস করে বলেছিলেন, সরকার যেন চারদিকে দোকান পেতে বসে আছে জনগণরূপী মক্কেল ধরে হেনস্থা করার জন্য। বস্তুত বাধা দেওয়া, সমস্যা সৃষ্টি করা, হয়রানি করা যেন আমলাতন্ত্রের আজ ধর্ম হয়ে পড়েছে। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এ ধরনের আবহ সৃষ্টি করে উেকাচ আদায় করেন কিংবা অন্যভাবে লাভবান হন। দলবাজির সঙ্গে দুর্নীতির এ সংমিশ্রণ আমাদের আমলাতন্ত্রকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।
পরিশেষে, এ কথা সুস্পষ্ট যে সমাজ ও রাষ্ট্রে পরিবর্তন আনতে হলে—যা করা আমাদের জন্য অতি জরুরি—আমাদের নিজেদের বদলাতে হবে এবং অন্যদের বদলাতে সহায়তা করতে হবে। প্রত্যেককেই পরিবর্তনের রূপকারে পরিণত হতে হবে। তবে স্মরণ রাখতে হবে, সবার পক্ষেই হয়তো মস্ত বড় পরিবর্তন ঘটানো সম্ভবপর নয়—কেউ হয়তো পর্বতের পাদদেশের নুড়িপাথর সরাতে পারবে, অন্য কেউ হয়তো পর্বতকেই ঠেলা দিতে পারবে। অসাধারণ কাজ করা অনেকের জন্য সাধারণ ব্যাপার, আর অনেকে অল্পতেই গলদধর্ম। তবু সবাইকেই নিজেদের বদলাতে উদ্যোগী হতে হবে। আশার কথা, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনের আগে আমাদের দিনবদলের স্বপ্ন দেখিয়েছে। কিন্তু দিনবদলের জন্য প্রয়োজন মনমানসিকতার পরিবর্তন। তারা কি তা করবে? তাদের কথা রাখবে?
ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক।

পার পেলেন না ফার্গুসনও

ছোট্ট একটা শব্দ—‘আনফিট’। এই একটা শব্দের খেসারত দিতে গিয়ে চার ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা আর প্রায় ২৩ লাখ টাকা (২০ হাজার পাউন্ড) জরিমানা গুনতে হচ্ছে অ্যালেক্স ফার্গুসনকে। ৩ অক্টোবর সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করার পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ ওই ম্যাচের রেফারি অ্যালান উইলিকে ‘আনফিট’ বলেছিলেন। ফার্গুসনের সেদিনের মন্তব্যে আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে রায় দিয়েছে ইংলিশ ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা এফএ।
চার ম্যাচের এই নিষেধাজ্ঞা ‘টাচলাইন ব্যান’ হওয়ায় ডাগআউটে না থাকতে পারলেও গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে পারবেন ফার্গুসন। চার ম্যাচের দুটি স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। অর্থাত্ আপাতত দুই ম্যাচে শাস্তি পাবেন। ২০১০-১১ মৌসুমের মধ্যে আবারও আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কার্যকর হবে বাকি দুটো ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। ফার্গুসনের অবশ্য এই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করার অধিকার আছে। তবে শাস্তি মেনে নিলে এ মাসে প্রিমিয়ার লিগে এভারটন আর পোর্টসমাউথের বিপক্ষে ডাগআউটে থাকতে পারবেন না এই বর্ষীয়ান কোচ।
বরাবরই রেফারিকে ফার্গুসন চাপে রাখেন, কিন্তু কখনোই তাঁর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না—এমন একটা অভিযোগ তাঁর প্রতিপক্ষ শিবির থেকে তোলা হয়। এ ঘটনার পর হয়তো তারা কিছুটা হলেও ‘খুশি’ হবে। যদিও এফএর শাস্তিটা খুশি করতে পারেনি ইংলিশ ফুটবলের রেফারিদের সংগঠনকে। তাদের মতে, শাস্তির মাত্রাটি অনেক কম হয়ে গেছে।

টেস্টে ফিরতে দেরি হবে লি-ক্লার্কের

ব্রেট লি আর স্টুয়ার্ট ক্লার্কের টেস্টে ফেরা তাহলে গ্যাবাতেই হচ্ছে না! ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান নির্বাচক অ্যান্ড্রু হিলডিচ আভাস দিলেন সে রকমই। অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণে তিন তরুণ তুর্কিকেই দেখতে চাওয়ার অর্থ তো ওটাই—জায়গা হচ্ছে না লি-ক্লার্কের।
আগামী অ্যাশেজের কথা মাথায় রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টগুলোকে কাজে লাগাতে চাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার নীতিনির্ধারকেরা। ২৬ নভেম্বর গ্যাবায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টের জন্য তাই মিচেল জনসন, পিটার সিডল আর বেন হিলফেনহসের দিকেই দৃষ্টি সবার। তবে দলে চার পেসার রাখার পরিকল্পনা হলে চতুর্থ পেসার হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা হতে পারে লি-ক্লার্কের মধ্যে।
লি ও ক্লার্কের সামর্থ্য নিয়ে সংশয় নেই হিলডিচের। কিন্তু গত অ্যাশেজে ওই তিন তরুণের সাফল্যকেও ভুলে যেতে রাজি নন তিনি। দ্য অস্ট্রেলিয়ান পত্রিকাকে বলেছেন, ‘অ্যাশেজের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ওই তিন বোলার। একজন (জনসন) তো মাত্রই বর্ষসেরা ক্রিকেটার হলো, হিলফেনহস অ্যাশেজের সেরা বোলার এবং পিটার সিডল বর্ষসেরা তরুণ ক্রিকেটার।’ দল ঘোষণার আগে কে থাকবেন, কে থাকবেন না বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলতে রাজি না হলেও এই তিন পেসারকে ধরে রাখার সব রকম ইঙ্গিতই আছে হিলডিচের কথায়, ‘দল নির্বাচন সভার আগে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারব না। তবে আমি তো আগেও বলেছি, এই বোলারদের থেকে সরে যাওয়া এখন কঠিন।’
হিলডিচের কথা হয়তো ঠিক। কিন্তু এটাও তো ঠিক যে, জনসন-হিলফেনহস-সিডলের ওই সাফল্যও অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার পরাজয় রুখতে পারেনি। বরং লর্ডস আর ওভালের পরাজয়ের পেছনে জনসনের পারফরম্যান্সটাও ছিল বড় কারণ।
লি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। আর ক্লার্ক খেলেছেন গত অ্যাশেজেই।

টি-টোয়েন্টি সিরিজ পাকিস্তানের

দুবাই আর জোহানেসবার্গে গতকাল একই সময়ে শুরু হয়েছে দুটি টি-টোয়েন্টি। এই প্রতিবেদন লেখার সময় মরু শহরটিতে যখন রেকর্ড ছোঁয়ার উত্সব করছে পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় শহরটিতে তখন আরও একবার বৃষ্টি-ট্র্যাজেডির শিকার হওয়ার অপেক্ষায় স্বাগতিকেরা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৩ রানের কঠিন লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত সূচনা করেছিল দুই প্রোটিয়া ওপেনার অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ (২৩ বলে ৪১) ও লুটস বসম্যান (৩১ বলে ৫৮)। মাত্র ৮.৩ ওভারের বিস্ফোরক জুটিতে ৯৭ রান তুলেছেন এই দুজন। তবে এর পরই ম্যাচে ফেরে ইংলিশরা। বৃষ্টির জন্য যখন খেলা বন্ধ হলো, দক্ষিণ আফ্রিকার রান তখন ৩ উইকেটে ১২৭। ডার্কওয়ার্থ-লুইস আইনে জয়ের জন্য ওই সময় প্রয়োজন ১২৮! বৃষ্টির জন্য আর খেলা না হলে ১ রানে হারতে হবে স্মিথের দলকে।
দুবাইতে নিউজিল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টিতে টানা সাত ম্যাচ জয়ের দক্ষিণ আফ্রিকার রেকর্ড স্পর্শ করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের করা ৫ উইকেটে ১৫৩ রানের জবাবে কিউইরা করতে পারে ১৪৬ রান। ওয়ানডে সিরিজে হারলেও টি-টোয়েন্টিতে কিউইদের ২-০ তে হারাল পাকিস্তান।
জোহানেসবার্গে ইনিংসের প্রথম বলেই আউট হন জো ডেনলি, দলীয় ২৫ রানে নেই আরেক ওপেনার অ্যালিস্টার কুকও। ইংল্যান্ডের ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু জোনাথন ট্রট (২৫ বলে ৩৩) ও অধিনায়ক পল কলিংউডের ৪৬ রানের জুটিতে। আর চতুর্থ উইকেট জুটিতে প্রোটিয়া বোলারদের নাস্তানাবুদ করে ছাড়েন কলিংউড ও মরগান। মাত্র ৯.১ ওভারে ৯৮ রানের জুটি গড়েন এই দুজন। কলিংউড ৩২ বলে ৫৭ করে আউট হলেও ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৪৫ বলে ৮৫ রানের অপরাজিত এক ইনিংস খেলে ইংল্যান্ডকে ২০২ রানের পাহাড়ে তুলে দেন মরগান। পরিস্থিতি, প্রতিপক্ষের বোলারদের বিবেচনায় নিলে মরগানের ৭ চার ও ৫ ছক্কার ইনিংসটি নিঃসন্দেহে টি-টোয়েন্টির ১২৪ ম্যাচের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ইনিংস।
দুবাইতে পাকিস্তান দেড় শ পেরোয় মূলত উমর আকমলের ৪৯ বলে ৫৬ রানের ইনিংসে । ৪.৩ ওভারে ৪০ রান তুলে পাকিস্তানকে ভালো একটা সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার ইমরান নাজির (১২ বলে ১৯) ও কামরান আকমল (২২ বলে ২৬)। অধিনায়ক আফ্রিদি করে ১৭ বলে ২২। তবে বড় কোনো জুটি গড়ে না ওঠায় আরও বড় হয়নি পাকিস্তানের স্কোর।

অনূর্ধ্ব-১৯ দলের শুরু জয় দিয়ে

কদিন আগে বাংলাদেশ থেকে সিরিজ হেরে গেছে জিম্বাবুয়ে। এসেছে দেশটির অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। জিম্বাবুয়ের যুবাদেরও কি একই পরিণতি হবে? পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শুরুটা কিন্তু তেমন ইঙ্গিতই দিল। প্রথম ম্যাচটায় ৬ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশের যুবারা। কাল খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ৪৯.৪ ওভারে ২০৪ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দল। কামরুল ইসলাম নেন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট। জবাবে ওপেনার আশরাফুল (৫২) ও মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান মমিনুলের (৬৩*) হাফ সেঞ্চুরিতে ৪৫.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়েই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ম্যান অব দ্য ম্যাচ বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কামরুল ইসলাম।

নিউজিল্যান্ড না বাহরাইন

ওয়েলিংটনের স্পোর্টস শপগুলোতে বেজায় ভিড়, দেদার বিক্রি হচ্ছে ‘অল হোয়াইট’ জার্সি। পত্রপত্রিকা-টেলিভিশনের শিরোনামেও তারা। এমন পরিস্থিতির সঙ্গে খুব একটা পরিচিত নন নিউজিল্যান্ডের ফুটবলাররা। রাগবি-পাগল দেশটিতে ফুটবলের খোঁজখবর রাখার লোক বেশ কম। কিন্তু দল যখন দাঁড়িয়ে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এ জায়গা করে নেওয়ার পথে, তখন তো আর মুখ ফিরিয়ে থাকা যায় না। হঠাত্ করেই তাই আলোচনার কেন্দ্রে ফুটবল।
ওয়েলিংটনে আজ স্বপ্নপূরণের লড়াইয়ে মুখোমুখি নিউজিল্যান্ড-বাহরাইন। বিশ্বকাপ বাছাই প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগে ওশেনিয়া চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে এশিয়ার পঞ্চম দলের লড়াই। মানামায় (বাহরাইন) প্রথম লেগের খেলা হয়েছে গোলশূন্য ড্র। সুতরাং যা করার তা করতে হবে আজই। বাহরাইন দাঁড়িয়ে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপের সামনে। নিউজিল্যান্ড অবশ্য একবার বিশ্বকাপে খেলেছে, তবে সেটাও ২৭ বছর আগে, ১৯৮২ সালে। বিশ্বকাপটা তাই তাদের জন্যও একরকম অচেনা ভুবন। আজ একদল ভাসবে ওই ভুবনে যাত্রার আনন্দে, আর এক দলের জন্য অপেক্ষা করছে স্বপ্নভঙ্গের বেদনা। ২০০৬ বিশ্বকাপটা বাহরাইনের জন্য ছিল স্বপ্নভঙ্গের বেদনা। প্লে-অফে তাদের বুক ভেঙে দিয়ে জার্মানির টিকিট পেয়েছিল ত্রিনিদাদ ও টোবাগো। আরেকটি বিশ্বকাপ এসে দাঁড়িয়েছে সামনে, আবারও বাহরাইনের সামনে প্লে-অফের বাধা। এবার কি বাহরাইন সইতে পারবে স্বপ্নভঙ্গের বেদনা?
সাড়ে ৩৫ হাজার ধারণক্ষমতার ওয়েলিংটনের ‘কেক টিন’-এর গ্যালারিতে আজ তিল ধারণের ঠাঁই থাকবে না। ঘরের মাঠ, পরিচিত পরিবেশ আর গ্যালারি-ভর্তি দর্শকের অকুণ্ঠ সমর্থন, এসব বিবেচনায় কিছুটা এগিয়ে নিউজিল্যান্ড। সাবেক নিউজিল্যান্ড গ্রেট ও ফিফা জরিপে বিংশ শতাব্দীতে ওশেনিয়া অঞ্চলের সেরা ফুটবলার উইন্টন রুফেরি তো নিউজিল্যান্ডেরই জয় দেখছেন, ‘আমরাই জিততে চলেছি! ওয়েলিংটনের গ্যালারি-ভর্তি দর্শক, পুরো দেশ আছে দলের সঙ্গে। আমি সত্যি পরাজয়ের কোনো কারণই দেখছি না।’ দলের কোচ রিকি হার্বাট ১৯৮২ বিশ্বকাপে খেলা নিউজিল্যান্ড দলে ছিলেন। প্রতিনিয়ত শিষ্যদের উদ্বুদ্ধ করছেন বিশ্বকাপের গল্প শুনিয়ে। তবে স্বপ্ন, প্রত্যাশা শব্দগুলোর সঙ্গেই আছে চাপ। এই চাপই আজ হতে পারে অল হোয়াইটদের বড় বাধা। নিউজিল্যান্ডের রাগবি দলকে ‘অল ব্ল্যাকস’, ক্রিকেট দলকে ‘ব্ল্যাক ক্যাপস’ বলা হলেও ফুটবল দল কিন্তু ‘অল হোয়াইট’!
দর্শক, আবহাওয়া সবই বাহরাইনের বিপক্ষে। তবে আরব দেশটি অনুুপ্রেরণা পেতে পারে প্রথম লেগ থেকে। নিজেদের মাটিতে পুরো ম্যাচটি নিয়ন্ত্রণ করলেও শুধু গোলই করতে পারেনি। আজ তাদের প্রথম লক্ষ্য ওই গোল করা। তাহলেই নিউজিল্যান্ডের জয় ছাড়া উপায় থাকবে না। ম্যাচটা গোল নিয়ে ড্র হলেও বাহরাইন চলে যাবে বিশ্বকাপে। গোলশূন্য ড্র হলে খেলা গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে, এর পরও না হলে টাইব্রেকার।

রফিকের ব্যাটে আবাহনীর উদ্ধার

কী বলবেন এটিকে? বুড়ো হাড়ে ভেল্কি নাকি স্রেফ অভিজ্ঞতা? নামটা মোহাম্মদ রফিক বলেই এতকিছু বলার প্রয়োজন পড়ে না। রফিক তো এমনই, দিনটা যদি তাঁর হয় তাহলে তুচ্ছ হয়ে যায় দলের অবস্থা, ম্যাচের পরিস্থিতি। খুব বেশি অতীতে যেতে হবে না, এই তো সেদিন প্রিমিয়ার টি-টোয়েন্টির ফাইনালেই ঝড় তুলেছিলেন ব্যাট হাতে। বিকেএসপিতে কাল দলের বিপর্যয়ে আরও একবার চওড়া এই বাঁহাতির ব্যাট। রফিকের ৭২ বলে ৯০ রানের অপরাজিত ইনিংসটিই ক্রিকেট কোচিং স্কুলের বিপক্ষে খাদের কিনারা থেকে ফিরিয়ে জয় এনে দিয়েছে আবাহনীকে।
ইনজুরি থেকে ফিরে প্রথম ম্যাচেই সৈয়দ রাসেল নিয়েছিলেন ৩ উইকেট, কালও তিনিই ৪ উইকেট নিয়ে কাঁপিয়ে দিলেন আবাহনীকে। রফিক যখন উইকেটে এলেন, দলের রান তখন ৬ উইকেটে ৮১। একটু পরই সেটা হয়ে গেল ৭ উইকেটে ৯০। এর পরই আরাফাত সানির সঙ্গে রফিকের ম্যাচের মোড় ঘুড়িয়ে দেওয়া ১০১ রানের জুটি। ৬টি চার ও ৪টি ছয়ে সাজানো রফিকের ইনিংসটি আবাহনীকে এনে দিল ২০৮ রানের মাঝারি স্কোর। এই স্কোরই পাহাড়সম হয়ে গেল সিসিএসের সামনে। তাদের ১১৬ রানেই অলআউট করে গত তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা পেয়ে গেল টানা ষষ্ঠ জয়।
ফতুল্লায় সূর্যতরুণ তুলেছিল ২২৭ রান। জাতীয় দলের সাবেক পেসার তাপস বৈশ্যর বোলিং তোপে পারটেক্স অলআউট জয়ের লক্ষ্য থেকে ২৫ রান দূরে থাকতেই। ৩৯ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন তাপস, এবারের লিগে কোনো বোলারের ৫ উইকেট নেওয়ার মাত্র দ্বিতীয় ঘটনা।

যুক্তরাষ্ট্রে সোয়াইন ফ্লুতে চার হাজার লোকের মৃত্যু

সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে গত এপ্রিল মাস থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় চার হাজার মানুষ মারা গেছেন। এর মধ্যে ৫০০-র বেশি শিশু। মৃতের এই সংখ্যা আগে ঘোষিত সংখ্যার ছয়গুণ বেশি। গণনার নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনের পর ভয়াবহ এই চিত্র বেরিয়ে এল।
দ্য সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইমুনাইজেশন অ্যান্ড রেসপিরেটরি ডিজিজের পরিচালক অ্যান স্যুচাট বলেন, ‘মহামারির প্রথম ছয় মাসে ঠিক কী ঘটেছিল, প্রাণহানির নতুন এই সংখ্যা তারই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।’ এর আগে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৬৭২ জন।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যান স্যুচাট বলেন, প্রাথমিকভাবে মৃতের সংখ্যা হিসাব করা হয়েছিল হাসপাতালে ভর্তি ও নিশ্চিত মৃত্যুর ঘটনার ওপর ভিত্তি করে। এ কারণেই মহামারির খণ্ডিত চিত্র প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটা প্রথম ছয় মাসের চিত্র। আমি আশঙ্কা করছি, দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে থাকবে। প্রতি তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে হিসাব হালনাগাদ করা হবে।’
সিডিসির নতুন তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে দুই কোটি ২০ লাখ মানুষ সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৮ হাজার।
নতুন হিসাব অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে সোয়াইন ফ্লু সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছে তিন হাজার ৯০০ জন। মৃতদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সীর সংখ্যা ৫৪০ জন, যা আগে ঘোষিত সংখ্যার চারগুণ।
যুক্তরাষ্ট্রে এই ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছে মোট ৮০ লাখ শিশু।
স্যুচাট জানান, ১০টি অঙ্গরাজ্যের হাসপাতালগুলোর দেওয়া যথার্থ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নতুন এই হিসাব করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশজুড়ে চার কোটি ১৬ লাখ সোয়াইন ফ্লু টিকা বিতরণ করা হয়েছে।

চীন সফরে ওবামা তাঁর সত্ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন

চীন সফরের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর সত্ভাই মার্ক এনদেসানজো এবং মার্কের চীনা স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচেম) গতকাল শুক্রবার এ কথা জানায়।
হংকংয়ে সাউথ চায়না অ্যামচেমের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থাকে বলেন, ওবামার সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে মার্ক ও তাঁর চীনা স্ত্রী দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত শহর শেনঝেন থেকে ইতিমধ্যে বেইজিং ছুটে গেছেন। ওই সাক্ষাতেই স্ত্রীকে মার্ক এই প্রথম প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন।
মার্ক চীনের রাষ্ট্রীয় সিনহুয়া বার্তা সংস্থাকে বলেন, তাঁর স্ত্রী পূর্বাঞ্চলীয় হেনান প্রদেশের বাসিন্দা। তিনি ওবামার একজন দারুণ ভক্ত। তাঁর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য তিনি এখন উদগ্রীব হয়ে আছেন।
তিনি আরও বলেন, ওবামা তাঁর প্রথম এশিয়া সফরে এসে চীনা সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হবেন—এ খবরে অনেকের মতো তিনিও উচ্ছ্বসিত।
দীর্ঘ সাত বছর ধরে মার্ক চীনে বসবাস করছেন। শেনঝেন শহরে তাঁর বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি স্থানীয় ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন।
সম্প্রতি মার্ক আত্মজীবনীমূলক একটি উপন্যাস লেখেন। ওই বইয়ে তিনি শৈশব ও কৈশোরে তাঁর বাবার দ্বারা নির্যাতিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। মার্ক তাঁর বাবার তৃতীয়স্ত্রীর সন্তান। বারাক ওবামার বয়স যখন দুই বছর তখন তাঁর মার্কিন মায়ের সঙ্গে বাবার ছাড়াছাড়ি হয়েযায়।

ব্রিটেনে উপনির্বাচনে লেবার পার্টির জয়

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের লেবার পার্টি পার্লামেন্টের গ্লাসগো আসনের উপনির্বাচনে জয়লাভ করেছে। পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আগে এটাই সম্ভবত গর্ডন ব্রাউনের সর্বশেষ নির্বাচনী পরীক্ষা।
সরকারি ফলাফলে দেখা যায়, স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শহর গ্লাসগোর উত্তর-পূর্ব আসনে লেবার পার্টির প্রার্থী উইলি বেইন খুব সহজেই স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছেন।
৭৪ বছর ধরেই আসনটি লেবার পার্টির দখলে রয়েছে। উপনির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন ১২ হাজার ২৩১ ভোট, যা প্রদত্ত ভোটের শতকরা ৫৯.৩৯ ভাগ। দ্য স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন চার হাজার ১২০ ভোট। কট্টর ডানপন্থী দল ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন এক হাজার ১৩ ভোট।

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা নিদালের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ -ফোর্ট হুড সেনা ঘাঁটিতে হত্যাকাণ্ড

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল মালিক হাসানের বিরুদ্ধে ১৩ ব্যক্তিকে হত্যার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। সেনাবাহিনীর অপরাধ তদন্ত বিভাগের মুখপাত্র জানান, বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তদন্ত চলছে। মেজর নিদাল হাসানের বিরুদ্ধে হত্যা ছাড়াও একাধিক অপরাধজনিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হতে পারে। সেনা আইনে তাঁর বিচার হবে।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ফোর্ট হুড সেনা ঘাঁটিতে ৫ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ডের নিবিড় তদন্তের পুনঃনির্দেশ জারি করেছেন। ওই দিন মেজর নিদাল এলোপাতাড়ি গুলি করে ১৩ জনকে হত্যা করেন। নিহত একজন ছাড়া সবাই মার্কিন সেনাসদস্য। এ ছাড়া গুলিতে আরও ৪০ জন আহত হয়।
ইরাক-আফগানিস্তানে যুদ্ধে যাওয়া-আসার প্রস্তুতির জন্য সেনা সদস্যদের ফোর্ট হুড ঘাঁটিতে অবস্থান করতে হয়। যুদ্ধে যাওয়া এবং প্রত্যাবর্তনের পর মানসিক প্রস্তুতির জন্য এ ঘাঁটিতে মনোচিকিত্সা দেওয়া হয়। মেজর নিদাল হাসানও আফগানিস্তানে যাওয়ার প্রাক্কালে প্রস্তুতি কেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার দিন প্রস্তুতি কেন্দ্রে সমবেত নিরস্ত্র সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করে আচমকা গুলিবর্ষণ শুরু করেন নিদাল। তাঁকে নিরস্ত্র করতে বাইরে থেকে আসা পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ নিদাল হাসান গুরুতর আহত অবস্থায় বেঁচে যান।
এ ঘটনার পর নিদাল হাসানের ব্যাপারে ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়। এফবিআইসহ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের সর্বশেষ তদন্তে বলেছে, মেজর নিদাল একাই ঘটনা ঘটিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে কোনো জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতা বা বাইরের কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। নিদাল হাসান মুসলমান হওয়ায় বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। মার্কিন মুসলমানরাও তাঁর এ কর্মকাণ্ডে হতবিহ্বল ও বিব্রতবোধ করতে থাকেন।
এফবিআইয়ের তদন্তে দেখা যায়, এক বছর আগে মেজর নিদাল ইয়েমেনভিত্তিক এক উগ্র ধর্মীয় নেতার সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগ করেছেন। তাঁর এ ই-মেইল বিনিময় তখনই গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে। প্রাথমিক তদন্তে ই-মেইল বার্তায় কোনো হুমকিমূলক কিছু না থাকায় এ নিয়ে গোয়েন্দা বিভাগ আর নাড়াচাড়া করেনি। রিপাবলিকান দলের একাধিক আইনপ্রণেতাসহ রক্ষণশীল আমেরিকানদের মতে, সন্দেহজনক ই-মেইল বার্তা পাওয়ার পরও মেজর নিদাল হাসানের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
সহপাঠী এবং সহকর্মীদের ভাষ্যমতে, নিদাল হাসান ইরাক-আফগান যুদ্ধ নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করতেন। এসব ভিন্ন মতে কখনো উগ্রতা ছিল না বলে তাঁরা উল্লেখ করছেন। নিকটাত্মীয়রা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগ করার চেষ্টা করছিলেন মেজর নিদাল। যদিও সেনাবাহিনী থেকে বলা হয়েছে, মেজর নিদাল কখনো সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগের আবেদন করেননি।
এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে বলা হচ্ছে, মনোচিকিত্সক মেজর নিদাল মালিক হাসান নিজেই মনোবৈকল্যে ভুগছিলেন। ৩৯ বছর বয়সের সুদর্শন এ সেনা চিকিত্সক কয় বছর ধরে বিয়ের জন্য কনে খুঁজছিলেন। তিনি যে মসজিদে নামাজ পড়তেন, সেখানকার ইমামরাও নিদাল হাসানের জন্য পাত্রী খুঁজে ব্যর্থ হচ্ছিলেন।
ফিলিস্তিনি অভিবাসী পরিবারে জন্ম নেওয়া নিদাল হাসান যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলেই লেখাপড়া করেছেন। এখানকার সমাজে বড় হয়ে তাঁর সঙ্গে জঙ্গিবাদের যোগসূত্র দাঁড় করাতে পারেনি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। মা-বাবার মৃত্যুর পর একাকিত্ব এবং স্বজনহীনতাকে তাঁর এ ঘটনার জন্য দায়ী করছেন অনেকেই। মায়ের মৃত্যুর পর নিদাল হাসানের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ করেছেন তাঁর নিকটাত্মীয়রা। যদিও তাঁর আচরণ এবং মনোভাবে কখনো উগ্রতার চিহ্ন ছিল না বলে তাঁরা জানান।
মেজর নিদাল মালিক হাসানের বিষয়ে কোনো গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত মুসলমানরা কোনো বিদ্রূপ-বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন কি না এ নিয়েও বিস্তর তদন্ত শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনীতে কর্মরত একাধিক মুসলমান সেনাসদস্য তাঁদের বক্তব্যে এ ধরনের কোনো বৈষম্যের কথা অস্বীকার করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, সব ধর্ম, জাতি ও বিশ্বাসের সমন্বয়ে মার্কিন সেনাবাহিনী প্রতিদিন দেশের জন্য গৌরবের কাজ করে আসছে। এশিয়া সফরের প্রাক্কালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের জঙ্গি দমন এবং নিরাপত্তাবিষয়ক সহকারী জন ব্রেনানকে পুরো তদন্তটি তত্ত্বাবধান করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

সেনাবাহিনী সতর্কাবস্থায় নেপালে দ্বিতীয় দিনের মতো মাওবাদীদের সচিবালয় অবরোধ

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে গতকাল শুক্রবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কেন্দ্রীয় সচিবালয় অবরোধ করেছে মাওবাদীরা। সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের সহিংসতা ঠেকাতে রাজধানীতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। সেনাবাহিনীকে রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায়।
মাওবাদী বিক্ষোভকারীরা গতকালও মন্ত্রী ও আমলাদের সচিবালয়ে প্রবেশ করতে দেয়নি। যদিও অল্প কয়েকজন মন্ত্রী সকালে অবরোধ শুরু হওয়ার আগেই দপ্তরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন।
বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল লাল পতাকা। মুখে সরকারবিরোধী স্লোগান। অবরোধের ফলে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সচিবালয়ের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড অচল হয়ে পড়ে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভিম রাওয়াল বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের পর রাজধানীতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।’ বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষে কয়েকজন মাওবাদী আইনপ্রণেতাসহ ২০ জন আহত হন।
সাংবাদিকদের ভিম রাওয়াল বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য পুলিশকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছি আমরা। যতক্ষণ পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা শান্ত থাকবে, আমরা শক্তি প্রয়োগ করব না। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা যদি নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করে, তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেব।’
মাওবাদী নেতা কৃষ্ণ বাহাদুর মাহারা বলেন, ‘আমাদের দাবি পরীক্ষা করে দেখার জন্য আমরা সরকার ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সময় দিচ্ছি।’

দুই সপ্তাহে ২০ কোটি ডলার আয় করেছে দিস ইজ ইট

পপতারকা মাইকেল জ্যাকসনের তথ্যচিত্র দিস ইজ ইট তাঁর ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মুক্তির দুই সপ্তাহ না পেরোতেই এটি বিপুল পরিমাণ আয় করেছে। সনি পিকচারস জানিয়েছে, দিস ইজ ইট ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী ২০ কোটি ডলার আয় করেছে।
সনি পিকচার্স স্টুডিও গত বৃহস্পতিবার জানায়, মুক্তির দুই সপ্তাহে তথ্যচিত্রটি উত্তর আমেরিকায় আয় করেছে ছয় কোটি ডলারেরও বেশি। আর বাকি বিশ্বে আয় করেছে ১৪ কোটি ডলার।
লন্ডনে জ্যাকসনের বহুল কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাবর্তন কনসার্টের প্রস্তুতির গান ও নাচের দৃশ্য নিয়ে তথ্যচিত্রটি তৈরি করা হয়েছে।
সনি পিকচার্সের বাজারজাতকরণ ও বিতরণ বিভাগের চেয়ারম্যান জেফ ব্লেইক এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সারা বিশ্বের দর্শক ও চলচ্চিত্র সমালোচকেরা জ্যাকসনের ওপর তৈরি তথ্যচিত্রটি গ্রহণ করেছে।’
উত্তর আমেরিকার বাইরে জাপানে সবচেয়ে বেশি আয় করেছে দিস ইজ ইট। সেখানে পৌনে তিন কোটি ডলার আয় হয়েছে। ব্রিটেনে দেড় কোটি, জার্মানি ও ফ্রান্সে এক কোটি ১০ লাখ ডলার করে এবং অস্ট্রেলিয়ায় ৭২ লাখ ডলার আয় হয়েছে।

পরমাণু বোমা তৈরির জন্য পাকিস্তানকে ইউরেনিয়াম দিয়েছিল চীন

দুটি পরমাণু বোমা তৈরির জন্য পাকিস্তানকে ৫০ কেজি ইউরেনিয়াম সরবরাহ করেছিল চীন। পাকিস্তানের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান মাও সে তুংয়ের মধ্যকার সমঝোতার ভিত্তিতে ১৯৮২ সালে ওই ইউরেনিয়াম সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি পাকিস্তানকে পরমাণু বোমা তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় নকশা ও সরঞ্জাম দিয়েও সহায়তা করেছে সমাজতান্ত্রিক দেশটি। গতকাল শুক্রবার পাকিস্তানের পরমাণু বিজ্ঞানী আবদুল কাদির খানের একটি চিঠির বরাত দিয়ে প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট এ কথা জানায়। তবে পাকিস্তান সরকার এ তথ্যকে ‘ভিত্তিহীন’ উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
ওই চিঠির বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, ১৯৭৬ সালে ভুট্টো চেয়ারম্যান মাওয়ের কাছে পরমাণু বোমা তৈরি করার ব্যাপারে সাহায্য চান। সে অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে এই লেনদেন হয়। চিঠিতে কাদির খান লিখেছেন, ‘আমার ব্যক্তিগত অনুরোধে চীনের মন্ত্রী আমাদের ৫০ কেজি বোমা বানানোর উপযোগী ইউরেনিয়াম দেন।’ তিনি জানান, মূলত ভারত ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠতা এবং পাকিস্তানের পরমাণু স্থাপনার ওপর এই দুই দেশের হামলার আশঙ্কা থেকে পাকিস্তান চীনের কাছে এ ব্যাপারে সাহায্য চেয়েছিল। চিঠিতে কাদির খান লেখেন, ‘আমাদের কাজের গতি ও সাফল্য দেখে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় শত্রু ও তাদের পরামর্শদাতারাও বিস্মিত হবে এবং পশ্চিমা বিশ্ব অসহায়ভাবে দেখবে, সাইকেলের চেইন বা সূচ বানাতে পারে না, এমন একটি তৃতীয় বিশ্বের দেশ কীভাবে স্বল্পতম সময়ে বিশ্বের সর্বাধুনিক পরমাণু প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠেছে।’
পরমাণু অস্ত্রবিস্তার রোধ চুক্তি ভঙ্গ করে চীন পাকিস্তানকে পরমাণু বোমা বানাতে সাহায্য করেছে—ওয়াশিংটনের এমন দাবিকে প্রতিষ্ঠিত করল কাদির খানের এই চিঠি। ২০০৪ সালে তত্কালীন পাকিস্তান সরকার আবদুল কাদির খানকে গৃহবন্দী করার পর গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জন্য এসব নথি প্রস্তুত করেন তিনি। তার আগে স্ত্রীকে চিঠি লিখে এ ব্যাপারে জানান কাদির খান। ওই চিঠিই ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিকের হাতে পড়ে।
এদিকে পত্রিকাটিতে প্রকাশিত ওই তথ্য প্রত্যাখ্যান করে এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ওই প্রতিবেদনে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে কঠোরভাবে তা প্রত্যাখ্যান করছে পাকিস্তান। পাকিস্তান ও চীনের মধ্যকার সম্পর্কে চিড় ধরাতেই এমন তথ্য রটানো হচ্ছে। দুই দেশই আন্তর্জাতিক রীতি ও আইন এবং অস্ত্রবিস্তার রোধসংক্রান্ত নিয়মকানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

রাশিয়ার অস্ত্রভাণ্ডারে বিস্ফোরণ, নিহত ২

রাশিয়ার মধ্যাঞ্চলে একটি অস্ত্রভাণ্ডারে পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুজন নিহত হয়েছে। বিস্ফোরণের পর অস্ত্রভাণ্ডারটিতে আগুন ধরে যায়। রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা আজ শনিবার এ খবর প্রকাশ করেছে।
রাজধানী মস্কো থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে উলিয়ানোভস্কোতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন নৌবাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডারে এই বিস্ফোরণের দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় সেনা সদস্যরা ওই ভাণ্ডার থেকে গোলাবারুদ আলাদা করছিলেন। স্থানীয় সময় ভোর চারটার দিকে প্রথম বিস্ফোরণ হয়। পরে আরও কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটে আগুন ধরে যায়। এ সময় আগুনের ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে ওপরের দিকে উঠে চারপাশ ধোঁয়াচ্ছন্ন করে ফেলে।
উলিয়ানোভস্কোর গভর্নর সার্জেই মরোজভ জানান, আগুন লাগার পর আর্সেনাল ৩১ অস্ত্রভাণ্ডারের দুই দমকল কর্মী নিহত হন। এর আগে তিনি জানান, এ দুর্ঘটনায় আহত ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হয়েছিল, এ ঘটনায় ৪৩ জন নিহত হয়েছে। অবশ্য পরে তাদের দুর্ঘটনাস্থলের কাছ থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ঘটনার পর পরই অস্ত্রভাণ্ডারটির আশপাশের এলাকা থেকে তিন হাজারেরও বেশি লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা বলছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে তারা উলিয়ানোভস্কোবাসীকে ঘন জালের তৈরি মাস্ক ব্যবহার এবং পানি মজুদের পরামর্শ দিয়েছে।