Thursday, June 17, 2010

এক সোনা ফলের দেশ by মৃত্যুঞ্জয় রায়

আষাঢ় এসেছে। ঘন কালো মেঘ ছেয়ে ফেলল নরসিংদীর আকাশ। আমরা চলেছি কাঁঠালের দেশে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে নারায়ণপুর বাজারের মোড় ঘুরতেই রাস্তার দুই পাশে দেখতে পেলাম নানা কিসিমের কাঁঠালগাছ। ছোট-বড় নানা রকম কাঁঠাল ঝুলছে অগুনতি গাছে গাছে। একটি-দুটি নয়, শত কিংবা হাজার বা তারও বেশি। কোনো কোনো গাছে ঝুলছে শতাধিক কাঁঠাল। সোনা রঙের এসব কাঁঠাল দেখে মনে হচ্ছে, সত্যি এ যেন এক সোনা ফলের দেশ। জাতীয় ফল কাঁঠালের তীর্থভূমি। খানিকটা যেতেই অবশ্য ঘোর কাটল। আমরা চলেছি বেলাব উপজেলার দিকে। এই উপজেলার আমলাব ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে যে কাঁঠাল হয়, এত তার কাছে নস্যি। মেঘ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তাই ছুটলাম সেই কাঁঠালের দেশে।
সেখানে পৌঁছাতেই চোখ ছানাবড়া। রাস্তার ধারে, ঘরের পেছনে, বাগানে, উঠানে—কোথায় নেই কাঁঠালের গাছ। আর তার মধ্যে কিছু কিছু গাছে এত বড় বড় কাঁঠাল ধরেছে যে দেখে ভাবতেই হয়, একটা সরু বোঁটায় এই কাঁঠালটা ঝুলছে কেমনে!। ওটার ওজন কত হবে? জিজ্ঞেস করলাম কাঁঠালের দেশের গাইড, সঙ্গে থাকা বেলাব কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাতকে। তিনি বললেন, ‘৬০-৭০ কেজি তো হবেই।’ ৬০-৭০ কেজি? একটা কাঁঠালের ওজন? ‘এত মামুলি ব্যাপার। ৪০-৫০ কেজি ওজনের কাঁঠাল তো যেকোনো সময়ই দেখতে পাবেন এখানে। তবে আমার জীবনে আমি ১০০ কেজি ওজনের কাঁঠালও দেখছি এই এলাকায়। গত বছরই তো জাতীয় ফল প্রদর্শনীতে ৮৪ কেজি ওজনের একটা কাঁঠাল পাঠিয়েছিলাম এখান থেকে।’ মনে পড়ছে, এ রকম একটা ঢাউস কাঁঠাল সেখানে দেখেছিলাম বৈকি। অবশ্য সেটা দেখে বিস্ময়ের সঙ্গে সঙ্গে তখন কেউ কেউ মন্তব্যও করেছিল ‘অখাদ্য’ বলে। তবে এ কথা সত্য যে, জাতীয় ফল কাঁঠাল নিয়ে আমরা অহংকার করতেই পারি। কেননা, এটাই বিশ্বের বৃহত্তম ভক্ষণযোগ্য ফল!
দেশের সব জায়গাতেই কমবেশি কাঁঠালের গাছ আছে, সুন্দরবন ছাড়া। দেশে সবচেয়ে বেশি কাঁঠাল উৎপন্ন হয় ভাওয়াল ও মধুপুরের গড়ের লালচে মাটিতে। উৎকৃষ্ট মানের প্রচুর কাঁঠাল উৎপাদিত হয় গাজীপুর, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল জেলার কিছু অংশে। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা, নরসিংদীর বেলাব উপজেলা, ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা কাঁঠালের জন্য বিখ্যাত। শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, শ্রীপুর উপজেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমি কাঁঠালগাছের আওতায় রয়েছে। তবে তেলিহাটি ইউনিয়নের সাইটালিয়া গ্রামে সবচেয়ে বেশি কাঁঠাল হয়। তেমনি নরসিংদীর বেলাব উপজেলার আমলাব, চর আমলাব, চর বেলাব, পাহাড় বেলাব, চর মরজাল প্রভৃতি গ্রামে প্রচুর কাঁঠালের গাছ আছে। সবচেয়ে বেশি আছে আমলাব ইউনিয়নের লাখপুর গ্রামে।
আমলাবে এত কাঁঠাল দেখে শখ হলো দু-চারটা কিনে ঢাকায় নিয়ে যাই। নিশ্চয়ই এখানে ভীষণ সস্তা। এখানকার ভালো আর বড় কাঁঠালগুলো সব চলে যায় বাইরে, সিলেটে। সেখানে তিন গুণ দামে বিক্রি হয়। আলাপ করে জানা গেল, যাঁদের অনেক কাঁঠালগাছ আছে তাঁরা ফল ধরার পর ব্যাপারিদের কাছে বাগান ধরে বিক্রি করে দেন। কেউ কেউ নিজেরা খাওয়ার জন্য দু-একটা গাছ রেখে বাকি সব বেচে দেন। আয় ও দাম নির্ভর করে কাঁঠাল ধরার ওপর। বেশি ধরলে একটি গাছের কাঁঠাল পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে। শুধু শ্রীপুর উপজেলায়ই প্রতিবছর প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার কোটি টাকার কাঁঠাল উৎপন্ন হয়। স্থানীয় জৈনা ও মাওনা বাজারে এর অধিকাংশ বিক্রি হয়।
কাঁঠালের দেশে কাঁঠাল আছে কত রকম? কাঁঠাল তো কাঁঠালই। তার আবার রকম কী? কিন্তু একটা গাছে দেখলাম, ছোট ছোট কুমড়োর মতো অসংখ্য গোল্লা গোল্লা কাঁঠাল ধরে আছে গাছের সারা গা আর ডালপালা ভরে। এক গাছে এত কাঁঠাল! কতগুলো হবে? গোনা কঠিন। গাছপ্রতি প্রায় এক হাজার কাঁঠাল ধরে। তবে আরও এক নামের জাত পাওয়া গেল ‘এক মণি কাঁঠাল’। এ ছাড়া দেখা হলো বিচিত্র আকারের সব কাঁঠালের সঙ্গে। গোল, ডিমাকার, লম্বা, বেলুনাকার, বোতলাকার, কলসি আকার, ঘটাকৃতি ইত্যাদি। তবে রং আর আকার যা-ই হোক না কেন, আমলাব ইউনিয়নের লাখপুর গ্রামের কাঁঠালচাষি শামসুল হক জানালেন, কাঁঠাল মূলত তিন জাতের—রসা বা গিলা, যেগুলোর কোষ নরম। এগুলো আগে পাকে আর আকারেও ছোট। দোরসা বা আধা গিলা, যার কোয়া নরম বা শক্ত কোনোটাই নয়। মাঝারি আকারের একটু বড় কাঁঠাল। এই জাতের কাঁঠাল পাকে মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে। আর খাজা বা চাউলা কাঁঠালের কোয়া শক্ত। এগুলোর কোয়া কচকচ করে আর মিষ্টিও কম। কাঁঠালের গায়ের কাঁটা ছড়ানো। পাকে দেরিতে। সেসব কাঁঠাল পান্তার সঙ্গে খেতে জব্বর লাগে।

প্রার্থীরা নিজেদের সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছেন by বদিউল আলম মজুমদার

আগামীকাল ১৭ জুন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন। সাংবিধানিক নির্দেশনা (অনুচ্ছেদ ৫৯) অনুযায়ী, রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের তথা গণতান্ত্রিক শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হলে এই নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হতে হবে। একইসঙ্গে এটি হতে হবে অর্থবহ। সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিদের নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমেই নির্বাচন হবে অর্থবহ। আর তা হলেই চট্টগ্রাম মহানগরে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা ও জন-অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা কায়েম এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।
বহু দিন থেকেই ‘সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক’ অর্থবহ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষে প্রার্থীদের সম্পর্কে ভোটারদের তথ্য দিয়ে ক্ষমতায়িত করার কাজ করে আসছে, যাতে তারা জেনে-শুনে-বুঝে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। বহু লড়াই-সংগ্রাম এবং উচ্চ আদালতে আবু সাফা গংদের জালিয়াতি প্রতিহতের পর নাগরিকদের তথ্য প্রাপ্তির এ অধিকার এখন আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আদালত ভোটারদের এ অধিকারকে বাক্স্বাধীনতা তথা তাদের মৌলিক অধিকার বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। কারণ ভোটাররা তাদের বাক্স্বাধীনতা প্রয়োগ করে ভোট প্রদানের মাধ্যমে।
নির্বাচনী বিধিবিধান অনুযায়ী, আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সাত ধরনের তথ্য হলফনামা আকারে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রদান করতে হয়েছে। তথ্যগুলো হলো: প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, তাঁদের বিরুদ্ধে অতীত ও বর্তমান মামলা, পেশা, আয়ের উৎস, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক এবং তাঁদের ওপর নির্ভরশীলদের সম্পদ ও দায়-দেনা ইত্যাদি। একইসঙ্গে তাদের আয়কর রিটার্নের কপিও জমা দিতে হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে আটজন, সাধারণ আসনে কাউন্সিলর পদে ২৫৩ জন এবং নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে ৫৯ জন চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যদিও মেয়র পদে ১৮ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৬৮ জন এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৩২২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। উল্লেখ্য, মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মো. সোলায়মান আলম শেঠ সম্প্রতি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। যেহেতু প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন এবং তাঁর নাম ব্যালটে থাকবে, তাই আমাদের বিশ্লেষণে তাঁর প্রদত্ত তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমরা সব চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীর তথ্য নির্বাচন কমিশন ও কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করেছি।
আমাদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে মোটা দাগে কয়েকটি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। বিষয়গুলো হলো: প্রার্থীদের শিক্ষাগতযোগ্যতা, পেশা, অতীত ও বর্তমান মামলা, আয়, সম্পদ ও দায়দেনা এবং করসংক্রান্ত তথ্য। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় যে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আটজন মেয়র পদপ্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনই (৬৩%) স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির অধিকারী। তিনজনের শিক্ষাগতযোগ্যতা এইচএসসি পাস। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের মধ্যে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর শিক্ষাগতযোগ্যতা স্নাতক এবং মোহাম্মদ মন্জুর আলমের এইচএসসি।
সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে ২৫৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীর মধ্যে এসএসসির নিচে ৮৫ জন (৩৪%), ৪৯ জন (২০%) এসএসসি, ৫৮ জন (২৩%) এইচএসসি এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী যথাক্রমে ৪২ ও ১৭ জন (১৭% ও ৭%)। সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলরদের মধ্যে ৪৮ জনেরই (৮১%) শিক্ষাগতযোগ্যতা এসএসসির নিচে এবং বাকি ১১ জন (১৯%) স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। অর্থাৎ সাধারণ আসনের কাউন্সিলরদের সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের অধিকাংশই অপেক্ষাকৃত স্বল্পশিক্ষিত।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আটজন মেয়র পদপ্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনই (৬৩%) পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া একজন চাকরিজীবী, একজন আইনজীবী এবং একজন (মহিউদ্দিন চৌধুরী) পেশা হিসেবে অন্যান্য উল্লেখ করেছেন। মন্জুর আলমের পেশা ব্যবসা। পেশাগতভাবে সাধারণ আসন থেকে কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের ১৯৪ জনই (৭৭%) ব্যবসায়ী। অর্থাৎ জাতীয় সংসদ ও অন্যান্য নির্বাচনের মতো চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেও ব্যবসায়ীদেরই প্রাধান্য।
লক্ষণীয় যে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩২ জনই (৫৪%) গৃহিণী। তাঁদের মধ্যে মাত্র ছয়জন (১০%) ব্যবসায়ী বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ প্রায় সব সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস নেই এবং সম্ভবত তাঁদের পেছনে হয় কোনো ক্ষমতাধর অথবা বিত্তশালী রয়েছেন।
মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল এবং বর্তমানে একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তার মধ্যে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে ১৪টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ১০টি স্থগিত, তিনটি বিচারাধীন ও একটি তদন্তাধীন। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে আটটি মামলা ছিল, যার সবগুলোই তাঁর পক্ষে নিষ্পত্তি হয়েছে। মন্জুর আলমের বিরুদ্ধে অতীতে কোনো মামলা ছিল না, বর্তমানেও নেই।
সাধারণ আসন থেকে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের মধ্যে ৫১ জনের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল এবং বর্তমানে ৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অর্থাৎ হত্যা মামলা রয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ও দুজনের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল।
হলফনামায় প্রদত্ত সম্পদ ও দায়দেনার বিবরণী বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে দুজনের সম্পদের পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকার নিচে, তিনজনের ১৫ লাখ টাকার মধ্যে এবং তাঁদের দুজন কোটিপতি। মহিউদ্দিন চৌধুরী আয়কর রিটার্নে তাঁর নিট সম্পদের মূল্য প্রায় এক কোটি ২৮ লাখ টাকা দেখিয়েছেন, যদিও হলফনামায় প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী তাঁর নিজের এবং তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের মোট সম্পদের পরিমাণ (স্থাবর সম্পদের মূল্য বাদে) প্রায় ৯৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
উল্লেখ্য, মহিউদ্দিন চৌধুরী তাঁর হলফনামায় নিজের এবং তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রদান করলেও স্থাবর সম্পদের মূল্য দেননি। তাঁর এবং তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের কোনো দায়দেনা নেই। তাঁর কোনো ব্যবসায়িক ঋণও নেই। হলফনামায় প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী, তাঁর এবং তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের নিট সম্পদ প্রায় ৯৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। তবে স্থাবর সম্পদের মূল্য যোগ করলে নিট সম্পদের পরিমাণ আরও বেশি হতে বাধ্য। মন্জুর আলম ও তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের স্থাবর ও অস্থাবর সব সম্পদের মূল্য তাঁর প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী প্রায় ২৫ কোটি ছয় লাখ টাকা। তাঁর ব্যক্তিগত দায়দেনা ৪১ লাখ ছয় হাজার টাকা। তাই হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর ও তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের নিট সম্পদ প্রায় সাড় ২৪ কোটি টাকা, যদিও আয়কর রিটার্নের তথ্যানুযায়ী তাঁর নিট সম্পদ প্রায় ১৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। মন্জুর আলমের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়—তাঁর ব্যবসায়িক ঋণ ১৬৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। হলফনামা এবং আয়কর রিটার্নে প্রদত্ত সম্পদের মূল্য থেকে যা বহুগুণ বেশি।
সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে প্রার্থীর মধ্যে অনেকেই সম্পদের মূল্য উল্লেখ করেননি। তবে ১৬৩ জন (৬৪%) প্রার্থীর সম্পদ পাঁচ লাখ এবং অন্য ৪২ জনের (১৭%) ১৫ লাখ টাকার মধ্যে। এদের মধ্যে পাঁচজন কোটিপতি রয়েছেন। সংরক্ষিত নারী আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে ৪১ জনের (৬৯%) সম্পদ পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে এবং দুজনের এক কোটি টাকার ওপরে সম্পদ রয়েছে। সাধারণ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ১৪ জনের (৬%) দায়দেনা ও ঋণের পরিমাণ পাঁচ লাখ, অন্য ১০ জনের (৪%) ১৫ লাখ এবং ২২ জনের (৯%) ২৫ লাখ টাকার মধ্যে। সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র ছয়জনের দায়দেনা ও ঋণ রয়েছে, যাঁদের মধ্যে পাঁচজনেরই দায়দেনা ও ঋণের পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকার নিচে।
প্রধান দুই মেয়র পদপ্রার্থীর আয়ের উৎস পর্যালোচনা থেকে দেখা যায় যে মহিউদ্দিন চৌধুরীর মোট আয় দুই লাখ ৭৪ হাজার টাকা। তাঁর ওপর নির্ভলশীলদের কোনো আয় নেই। তিনি আয়কর দিয়েছেন ১০ হাজার ৯০০ টাকা।
পক্ষান্তরে হলফনামায় প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী, মন্জুর আলমের মোট আয় ৭০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, যার মধ্যে ব্যবসায়িক সূত্র থেকে আয় মাত্র ১৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের আয়ের পরিমাণ প্রায় ১৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। তবে আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, তাঁর করযোগ্য আয় প্রায় ৫৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা এবং তাঁর প্রদত্ত করের পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। লক্ষণীয় যে অর্জিত আয়ের ওপর তাঁর প্রায় ১৬৩ কোটি টাকার ব্যবসায়িক ঋণের কোনোরূপ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব দেখা যায় না।
মেয়র পদে দুই মূল প্রতিদ্বন্দ্বীর আয়কর রিটার্নে প্রদত্ত তাঁদের জীবনযাত্রা প্রণালির তথ্য থেকে দেখা যায় যে মহিউদ্দিন চৌধুরী বাৎসরিকভাবে মোট এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যক্তিগত ও ভরণপোষণের জন্য ব্যয় করেন। অর্থাৎ ব্যক্তিগত ও ভরণপোষণের জন্য তাঁর গড় মাসিক ব্যয় মাত্র ১২ হাজার টাকার একটু বেশি, যা বিশ্বাস করা দুরূহ। অন্যদিকে মো. মন্জুর আলমের বাৎসরিক ব্যক্তিগত ও ভরণপোষণ ব্যয় প্রায় ২১ লাখ টাকা এবং মাসিক প্রায় এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা, যা অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য।
পরিশেষে, বিখ্যাত আমেরিকান বিচারপতি লুইস ব্রেন্ডাইস বলেছিলেন, সূর্যের আলোই সর্বোত্তম জীবাণুনাশক। অর্থাৎ তথ্যের অবাধ প্রবাহ, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত, সমাজকে কলুষমুক্ত করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রার্থীদের সম্পর্কে ভোটারদের তথ্য প্রদান করলে তাঁরা সজ্ঞানে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যার ফলে সজ্জনেরা নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পান এবং সমাজ থেকে পঙ্কিলতা দূরীকরণের পথ সুগম হয়। সুজনের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা এবং আদালতের নির্দেশে আমাদের জন্যও এ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আশা করি, চট্টগ্রাম মহানগরের সন্মানিত ভোটাররা প্রার্থীদের প্রদত্ত তথ্যগুলো —যা আমরা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে ওয়েবসাইটে (www.votebd.org) প্রকাশ ও গণমাধ্যমের কাছে বিতরণ করেছি—বিবেচনায় নিয়ে এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করবেন।
ড. বদিউল আলম মজুমদার, সম্পাদক, ‘সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক’।

সমস্যা যখন চেয়ারম্যানের পুরুষালি ক্ষমতা -মন্ত্রণালয়ের উচিত অভিযোগ আমলে নেওয়া

জনগণ তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচন করলেও পুরুষ সহযোগীদের ক্ষমতার কাছে তিনি নাস্তানাবুদ হচ্ছেন। গত মঙ্গলবারের প্রথম আলোয় প্রকাশিত সংবাদে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার নারী ভাইস চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘জনপ্রতিনিধি হয়েও আমি নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার’। নির্যাতক হিসেবে এখানে আবির্ভূত হয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান স্বয়ং। এই নারী জনপ্রতিনিধি এখন দায়িত্ব পালন তো দূরের কথা, নিজেকে রক্ষা করতেই অপারগ। সকল স্তরে নারীর জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে তৃণমূল পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়ন ব্যর্থ হবে, যদি না এসব ঘটনার উপযুক্ত বিহিত করা যায়।
ক্ষমতার অপব্যবহারের সামনে যে কেউই বিপন্ন হতে পারে। কিন্তু ক্ষমতাবান পুরুষ হলে নারীর জন্য বিপন্নতার মাত্রা বহু গুণ বাড়ে। বান্দরবানের উপজেলা চেয়ারম্যান পুরুষালি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এভাবে তাঁরই ভাইস চেয়ারম্যানের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছেন বলে অভিযোগ।
অতীতেও দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে নারী জনপ্রতিনিধিদের কাউকে কাউকে ক্ষমতাবান পুরুষ জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা অপমানিত, লাঞ্ছিত ও নির্যাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। নির্বাচিত নারী জনপ্রতিনিধিদের এভাবে হয়রানি করা তৃণমূল গণতন্ত্র বিকাশে ক্ষতিকর। এ বিষয়ে সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নের বিধান থাকা এক জিনিস, আর বাস্তবে নারী জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তার বাস্তবায়ন এক নয়। নারীর ক্ষমতায়নের পথের সব বাধা, পুরুষ সহকর্মীদের অসহযোগিতা, অনৈতিকতা, কুত্সা ও নির্যাতনমূলক আচরণের প্রতিকার করতে হলে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের অধীনে অভিযোগকেন্দ্র থাকতে হবে, থাকতে হবে প্রতিকারের দ্রুত উদ্যোগ। এই কাজে নারী অধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিদেরও জড়িত রাখা যায়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কিংবা মিথ্যা অভিযোগ করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সরকার যদি এ বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ‘সকলি গরল ভেল’ হতে বাধ্য।

ভোট হোক অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ -চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন

কাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে চট্টগ্রামবাসীর পাশাপাশি সারা দেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ থাকা অস্বাভাবিক নয়। চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহানগর ও জাতীয় অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে বিবেচিত। ৪১টি ওয়ার্ডে বিভক্ত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে কাউন্সিলর পদে ১৫৩ এবং ১৪টি সংরক্ষিত নারী আসনে ৫৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মেয়র পদে আটজন প্রার্থী হলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী মোহাম্মদ মন্জুর আলমের মধ্যে। এই নির্বাচন অরাজনৈতিকভাবে অনুষ্ঠিত হলেও এ দুই প্রার্থীর পেছনে রয়েছে যথাক্রমে মহাজোট ও চারদলীয় জোটের সক্রিয় সমর্থন।
ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল এই নির্বাচনকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে নিয়েছে, তাতে আপত্তির কিছু নেই। আমাদের দেশে স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলো অরাজনৈতিক হলেও প্রতিটি নির্বাচনই রাজনৈতিক চেহারা পেয়ে থাকে। দেখার বিষয়, একটি অবাধ নির্বাচনের জন্য যে সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশ থাকা প্রয়োজন, তা আছে কি না। শুরু থেকে নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থানে থাকায় আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা তেমন ঘটেনি। প্রাক-নির্বাচন পরিবেশও মোটামুটি শান্তিপূর্ণ। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে কি না, তা অনেকাংশে নির্ভর করছে ভোটকালীন পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। কোনো রকম গাফিলতি দেখানো চলবে না।
শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিমধ্যে র‌্যাব, পুলিশ, বিডিআরের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভোটারেরা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। ভোট গ্রহণের সময় যাতে কেন্দ্রে কোনো অঘটন না ঘটে কিংবা স্বার্থান্বেষী মহল যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়েও সজাগ থাকতে হবে। নির্বাচনে কে জয়ী বা পরাজিত হলেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নির্বাচনটি অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে কি না।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারচুপি হলে বিরোধী দল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের যে হুমকি দিয়েছে, তার যথার্থ জবাব হবে নির্বাচনটি অবাধ ও সুষ্ঠু করা। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোকেও সব সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীনদের এমন কিছু করা ঠিক হবে না, যাতে বিরোধী দল অভিযোগ করার সুযোগ পায়। একটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে জয়-পরাজয় সরকারের পতন ঘটাতে পারবে না। কিন্তু যেকোনো মূল্যে নির্বাচনী ফল নিজের পক্ষে আনার চেষ্টা দেশের বিবদমান রাজনীতিকে চরম সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে। অন্যদিকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের রায়ও কারও পক্ষে না গেলে তা নিয়ে রাজপথ গরম করার অপসংস্কৃতিও পরিহার করতে হবে। জনগণ যে রায় দেবেন, তা মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থীর। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে, নির্বাচকমণ্ডলী নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে তাঁদের পছন্দসই প্রার্থীকে বেছে নিতে পারবেন, সেই নিশ্চয়তাই চায় চট্টগ্রামবাসী।

সোমালিয়ায় দুই ফুটবল ভক্তকে হত্যা করেছে ইসলামি জঙ্গিরা

সোমালিয়ায় বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলা দেখায় ইসলামি জঙ্গিরা দুই ফুটবল ভক্তকে হত্যা করেছে। রাজধানী মোগাদিসুর বাড়িতে বসে তাঁরা শনিবার আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়ার মধ্যকার খেলা দেখছিলেন। এ সময় হিজবুল ইসলাম গ্রুপের জঙ্গিরা ওই বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করে।
জঙ্গি গ্রুপটির মুখপাত্র শেখ মোহাম্মদ আবদি আরোস জানান, বিশ্বকাপের খেলা না দেখার জন্য তরুণদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘পাগলদের লাফালাফি দেখে সময় ও অর্থ নষ্ট করার কোনো মানে হয় না।’
সোমালিয়ার দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা ইসলামি জঙ্গিরা ওই ঘটনায় ১০ জনকে আটকও করে। তা ছাড়া আফগোয়ি এলাকায় পরদিন রাতে জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার খেলাটি দেখার সময় ৩০ জনকে আটক করা হয়।

নিষিদ্ধ সংগঠনকে সভা-সমাবেশ করতে দেবে না পাকিস্তান

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক বলেছেন, নিষিদ্ধঘোষিত কোনো দল বা সংগঠনকে সরকার এখন থেকে আর প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ, মিছিল বা শোভাযাত্রা করতে দেবে না। এমনকি নিজেদের পক্ষে প্রচার চালানোর জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়ারও সুযোগ দেওয়া হবে না তাদের। নিষিদ্ধ দল বা সংগঠনগুলো নতুন নামে এসব করার চেষ্টা করলে তাও প্রতিহত করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার সিন্ধু প্রদেশের রাজধানী করাচিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনাসংক্রান্ত এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
হাফিজ মোহাম্মদ সাঈদের নেতৃত্বাধীন জামাতুদদাওয়া এবং তাদের সহযোগী আরও কয়েকটি ইসলামি সংগঠন লাহোরের রাজপথে মিছিল করার এক দিনের মাথায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি দিলেন। ইসরায়েলের নিন্দা ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে মিছিলটি বের করা হয়। এতে পাকিস্তানের সবচেয়ে শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সাবেক প্রধান হামিদ গুল উপস্থিত ছিলেন।
আইএসআই আফগানিস্তানের তালেবানদের নানাভাবে সাহায্য করছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের রেশ কাটতে না-কাটতে ওই সংস্থার একজন সাবেক প্রধানের জামাতুদদাওয়ার মতো একটি মৌলবাদী সংগঠনের মিছিলে অংশগ্রহণ সরকারকে কিছুটা হলেও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের সব ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হবে। এমনকি তারা যদি নতুন নামেও কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তাও প্রতিহত করা হবে।
করাচিতে সম্প্রতি সহিংসতার বিভিন্ন দিক নিয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয় বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি যেকোনো মূল্যে দেশে শান্তি বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

দরিদ্রদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার উদ্যোগ শীর্ষ দুই ধনীর

বিশ্বের শীর্ষ দুই ধনী মেক্সিকান ব্যবসায়ী কার্লোস স্লিম ও বিশ্বখ্যাত সফটওয়্যার কোম্পানি মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস দরিদ্র ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। স্পেন সরকারের সহযোগিতায় ১৫ কোটি ডলার ব্যয়ে মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে এই স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার মেক্সিকো সিটিতে এ কথা জানানো হয়।
‘২০১৫ মেসো-আমেরিকান হেলথ ইনিশিয়েটিভ’ নামের ১৫ কোটি ডলারের এই তহবিলে স্লিম, গেটস ও স্পেন সরকার সমান অর্থ সহায়তা দেবে। এই অর্থ আগামী পাঁচ বছর মাতৃস্বাস্থ্য, পুষ্টি, টিকাদান এবং ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়াবিরোধী অভিযানে ব্যয় হবে। বেলিজ, কোস্টারিকা, এল সালভেদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, মেক্সিকো, নিকারাগুয়া ও পানামার দরিদ্র জনগোষ্ঠী এই স্বাস্থ্যসেবা পাবে।
মেক্সিকো সিটিতে গতকাল এই স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ঘোষণা দেন কার্লোস স্লিম, বিল গেটস, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ফেলিপ ক্যালডেরন এবং স্পেনের প্রিন্সেস ক্রিশ্চিনা। বিল গেটস বলেন, বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে মেক্সিকোর কার্লোস ইনস্টিটিউটের এটাই প্রথম কোনো উদ্যোগ।
ফোর্বস ম্যাগাজিনে গত মার্চে প্রকাশিত তালিকায় পাঁচ হাজার ৩৫০ কোটি ডলারের মালিক মেক্সিকোর টেলিকম ব্যবসায়ী স্লিম বিশ্বের শীর্ষ ধনী হিসেবে আবির্ভূত হন।

লাদেনকে ধরতে এসে গ্রেপ্তার

আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনকে ধরতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাকিস্তানে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু বিশ্বের শীর্ষ পলাতক আসামিকে খুঁজে পাওয়ার পরিবর্তে নিজেই আটক হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওই নাগরিকের নাম গ্যারি ব্রুকস ফকনার। গতকাল মঙ্গলবার পাকিস্তানের পুলিশ এ কথা জানায়।
পুলিশ কর্মকর্তা মুমতাজ আহমদ খান বলেন, আফগানিস্তানের সীমান্তের কাছে নুরিস্তান প্রদেশের চিত্রাল জেলা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া নিবাসী গ্যারি ব্রুকসকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি ছোরাসহ বিভিন্ন জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে।
মুমতাজ খান জানান, একজন পর্যটক হিসেবে পাকিস্তানে আসেন গ্যারি। তিনি স্থানীয় একটি হোটেলে ওঠেন। গত রোববার রাতে তিনি হোটেল থেকে উধাও হয়ে যান। এরপর তাঁকে খোঁজার অভিযান শুরু হয়। পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে তাঁকে আটক করা হয়। ওই সময় তিনি নুরিস্তানে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্যারি পুলিশকে জানিয়েছেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে। তাই তিনি লাদেন ও তাঁর সঙ্গীদের খুঁজে বের করতে এসেছেন। মুমতাজ বলেন, তাঁদের ধারণা, এই ব্যক্তি লাদেনকে হত্যা করার উদ্দেশে এখানে এসেছেন।
একজন মার্কিন নাগরিক গ্রেপ্তার হওয়ার খবর নিশ্চিত করে ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।’ বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ওসামা বিন লাদেন আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তের কোনো স্থানে লুকিয়ে আছেন।

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অবরোধ আরোপ করল অস্ট্রেলিয়া

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অবরোধ আরোপ করেছে অস্ট্রেলিয়া। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা আরোপের কয়েক দিন পর অস্ট্রেলিয়া গতকাল মঙ্গলবার এ ঘোষণা দিয়েছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে চতুর্থ দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অবরোধ আরোপের প্রস্তাব করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন স্মিথ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইরানের একটি ব্যাংক, একটি জাহাজ নির্মাণ ও ইসলামিক রেভুলুশনারি গার্ডের মালিকানাধীন একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া এ উদ্যোগ গ্রহণের মধ্য দিয়ে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে চলমান মুখোমুখি অবস্থান থেকে ইরানকে ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
স্মিথ বলেন, অস্ট্রেলীয় সরকারের এ নিষেধাজ্ঞা ইরানের ব্যাংক মিল্লাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিসংশ্লিষ্ট জিনিসপত্র লেনদেনের সঙ্গে ব্যাংকটি জড়িত। পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্রসংশ্লিষ্ট জিনিসপত্র পরিবহনের কারণে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান শিপিং লাইনের (আইআরআইএসএল) বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া ইসলামিক রেভুলুশনারি গার্ডের মালিকানাধীন সে দেশের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘খাতেম ওল-আনবিয়া কনস্ট্রাকশন অর্গানাইজেশন’-এর কমান্ডার জেনারেল রুস্তম কাসেমির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যাংক মিল্লাত ও আইআরআইএসএল এখন থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবসা করতে পারবে না এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া জেনারেল রুস্তম কাসেমি অস্ট্রেলিয়ায় ঢুকতে পারবেন না।
স্মিথ বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগের কারণেই অস্ট্রেলিয়া এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তবে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তেহরান হুমকি হয়ে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
অস্ট্রেলীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে নেওয়ার জন্য আমরা আবারও ইরানের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের প্রস্তাব হলো ইরান যেন তার নীতিতে যত দ্রুত সম্ভব পরিবর্তন এনে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন করে।’
এর আগে অস্ট্রেলিয়া ইরানের আরও ৪০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের গৃহীত সব পদক্ষেপকেও তারা সমর্থন জানায়।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান অভিমুখী সন্দেহভাজন যেকোনো নৌযানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা তল্লাশি চালানোর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলো।

উত্তর আয়ারল্যান্ডে রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন ক্যামেরন by তানভীর আহমেদ

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ১৯৭২ সালে উত্তর আয়ারল্যান্ডে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। ব্লাডি সানডে (রক্তাক্ত রোববার) শিরোনামে প্রকাশিত ওই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের শিকার সবাই ছিলেন নিরপরাধ। এর পরই প্রধানমন্ত্রী হাউস অব কমন্সে বলেন, ওই হত্যাকাণ্ড (ব্লাডি সানডে) ছিল অবিবেচনাপ্রসূত ও ভুল সিদ্ধান্ত। তাঁর সরকার ও ব্রিটেন ওই ঘটনার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি লন্ডনডেরিতে গণতান্ত্রিক আয়ারল্যান্ডের দাবিতে বিক্ষোভরত বেসামরিক নাগরিকের ওপর ব্রিটিশ নিরাপত্তারক্ষীরা সেদিন নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিলেন। এ ঘটনায় নিহত হয়েছিল ১৪ জন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাদের করা প্রথম গুলির সেই রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই উত্তর আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
ক্যামেরন বলেন, ঘটনার দিন সেনারা কোনো প্রকার সতর্ক বা সংকেত না দিয়েই নিরপরাধ আইরিশদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। সেই সময়ে পেট্রলবোমা ব্যবহারকারী ও পাথর ছুড়ে মারা সেনাসদস্যদের কাউকেই চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়নি। এ ছাড়া সেনাদের গুলি করার পেছনে কোনো গ্রহণযোগ্য কারণও উপস্থাপন করা যায়নি। এমনকি দুঃখজনক সেই ঘটনায় সমবেদনা জানাতে সরকারি কোনো উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। ক্যামেরন মনে করেন, সেই সময়ে কিছু ব্রিটিশ সেনার আচরণ ছিল ভুল। এমন ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে কারণেই তাঁর সরকারের এই আনুষ্ঠানিক দুঃখ প্রকাশ।
উত্তর আয়ারল্যান্ডে সংঘটিত ওই রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৯৮ সালে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের সময় হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি লর্ড সেভিলের তত্ত্বাবধানে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল, যা সেভিল কমিশন নামে পরিচিত। কমিশন কয়েক শ প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর ২০০৪ সালে তদন্ত শেষ করলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে তা ২০১০ সালে উপস্থাপন করা হয়। ব্রিটেনের ইতিহাসে এটি ছিল দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল প্রতিবেদন, যা সম্পন্ন করতে খরচ হয়েছে ১৯৫ মিলিয়ন পাউন্ড। আর সময় লেগেছে ১২ বছর।

হাসিমুখে খেটে যায় বখশিশ নেয় না

রেস্তোরাঁয় গিয়ে টেবিলে বসতে না বসতে পরিচারক এসে হাজির। খাবারের ফরমাশ দিতে না দিতে হুকুম তামিল। আদেশ পালনে কোনো খুঁত নেই। খুশি হয়ে কেউ বখশিশ দিতে যাবে, এতে তার প্রবল আপত্তি। খেদমত করে রেস্তোরাঁর গ্রাহকদের খুশি করাই তার একমাত্র কাজ। বখশিশের প্রয়োজন নেই।
গ্রাহকদের মনের মতো এমন পরিচারক রয়েছে থাইল্যান্ডের এক রেস্তোরাঁয়। তবে তারা কেউ রক্তমাংসের মানুষ নয়, যন্ত্রমানব—রোবট। ওই রেস্তোরাঁ সম্প্রতি নিয়োগ করেছে এসব রোবট পরিচারক। এ ধরনের উদ্যোগ এটিই প্রথম।
এসব রোবট খুব চটপটে। কাজকর্মে কোনো ভুল নেই। হাসিমুখে তারা মানসম্পন্ন সেবার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। রোবটের হাসি দেখে যদি গ্রাহকদের মন না ভরে, তাহলে অন্য ব্যবস্থাও আছে। নেচে গ্রাহকদের খুশি করার চেষ্টা করবে রোবটগুলো।
রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব রোবট শ্রমিক খরচ কমাতে সহায়তা করছে। তাদের বিরতিরও প্রয়োজন নেই। কাজের অতিরিক্ত সময়েও এসব রোবট দিয়ে কাজ করানো যাচ্ছে। গ্রাহকদের ব্যয়ও কমাচ্ছে এই রোবট। তাদের কোনো বখশিশ দিতে হয় না। দিলেও নেবে না। কারণ, রোবটে সে ব্যবস্থা নেই। তাই বলে খাবার কিন্তু রোবট তৈরি করছে না। মানুষের হাত না পড়লে কি আর খাবার সুস্বাদু হয়? সে চিন্তা মাথায় রেখেই রেস্তোরাঁয় মানব বাবুর্চির হাতে তৈরি হচ্ছে রকমারি খাবার।

চাঁদে আগের ধারণার চেয়ে বেশি পানি আছে

বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, তাঁরা আগে যা ধারণা করেছিলেন তার চেয়ে ১০০ গুণ বেশি পানির মজুদ রয়েছে চাঁদে। ভারতীয় নভোযান চন্দ্রযান-১ ও অন্যান্য নভোযান এবং উৎস থেকে সংগৃহীত তথ্য ও নমুনা বিশ্লেষণ করে তাঁরা এই তথ্য জানতে পেরেছেন। সোমবার মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এ কথা জানায়।
নাসার অর্থায়নে পরিচালিত নতুন একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, চাঁদের গঠন শুরু হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে সেখানে পানির অস্তিত্ব ছিল। ওই সময় উত্তপ্ত লাভা শীতল হয়ে জমাট বাঁধতে শুরু করে। ওয়াশিংটনে কার্নেগি ইনস্টিটিউশনের জিওফিজিকেল ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানীরা এখন হিসাব করে জানতে পেরেছেন, চাঁদে বিভিন্ন খনিজ পদার্থের সঙ্গে পানির অণু যুক্ত রয়েছে এবং এই পানির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্তে অবস্থিত গ্রেট লেকের জলরাশির চেয়ে বেশি।
প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস নামের সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রের মূল রচয়িতা ফ্র্যান্সিস ম্যাককিউবিন বলেন, ‘৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের ধারণা ছিল চাঁদ একটি শুষ্ক স্থান। এই গবেষণায় অ্যাপোলো (নভোযান) দুটো অভিযানে আনা নমুনা ও চাঁদের একটি উল্কাখণ্ড পরীক্ষা করে হাইড্রোক্সিল (পানিযুক্ত খনিজ) যৌগের সন্ধান পেয়েছি আমরা। এর অর্থ হচ্ছে চাঁদে পানি আগে থেকেই ছিল।’
ম্যাককিউবিনের দলের গবেষকেরা চাঁদের খনিজের নমুনাগুলো অনেক সূক্ষ্ম অংশে বিভক্ত করেন। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ১০ লাখ সূক্ষ্ম কণার পাঁচটিতে এবং প্রতি এক কোটি সূক্ষ্ম কণার ৬২টিতে পানি রয়েছে। এর আগে বিজ্ঞানীদের গবেষণার হিসাবে বলা হয়েছিল, প্রতি এক কোটি সূক্ষ্ম কণার মধ্যে একটিরও কম কণায় পানি রয়েছে।

সাদা চাল খেলে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি

চালের রং ডায়াবেটিস হওয়া বা না হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। সাদা চাল খেলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে লাল চাল খেলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা অপেক্ষাকৃত কম। অবশ্য বিষয়টি টাইপ টু ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রেই বেশি প্রযোজ্য। দীর্ঘদিন গবেষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের বিজ্ঞানীরা গত সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন। সাদা চালের চেয়ে বাদামি চাল বেশি স্বাস্থ্যকর বলেও তাঁরা গবেষণায় পাওয়া ফলাফলে উল্লেখ করেছেন।
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, সাদা চালে বাদামি চালের চেয়ে বেশি পরিমাণে গ্লিক্যামিক নামের একটি রাসায়নিক পদার্থ থাকে। তাই সাদা চাল খেলে রক্তে বেশি পরিমাণে গ্লুকোজ তৈরি হয়, যা দেহে ডায়াবেটিস দানা বাঁধতে সাহায্য করে।
গবেষণায় পাওয়া ফলাফলে জানা যায়, যাঁরা মাসে অন্তত একবার সাদা চাল খান, তাঁদের তুলনায় যাঁরা মাসে পাঁচ বার সাদা চাল খান, তাঁদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ১৭ শতাংশ বেশি।
গবেষণাটির জন্য মার্কিন বিজ্ঞানীরা এক লাখ ৯৭ হাজার লোকের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান, যাঁদের বয়স ছিল সর্বোচ্চ ২২ বছর পর্যন্ত। এতে দেখা যায়, যাঁরা মাসে একবারের চেয়ে কম বাদামি চাল খান, তাঁদের চেয়ে যাঁরা সপ্তাহে দুই বা তিন বার বাদামি চাল খান, তাঁদের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা ১১ শতাংশ কম।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সাদা চাল খাওয়া এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে দিলে ডায়াবেটিস টু হওয়ার ঝুঁকি ১৬ শতাংশ কমে যাবে। এ ছাড়া সাদা চালের পরিবর্তে বার্লি ও গম খেলে এ জাতীয় ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা ৩৬ শতাংশ কমে যাবে।

বাজেট রপ্তানিবান্ধব নয়

২০১০-১১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসাবান্ধব হলেও তা রপ্তানিবান্ধব হয়নি। বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আরোপ করায় তা ব্যবসার ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে।
বাংলাদেশ মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিএমসিসিআই) এই অভিমত ব্যক্ত করেছে। খবর ইউএনবির।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাজেট প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে চেম্বারের পক্ষ থেকে এ অভিমত প্রকাশ করা হয়। চেম্বার সভাপতি খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
এতে তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত ভোক্তারাই করের যাবতীয় ভার বহন করবে। আর তাই সরকারের উচিত করের হার না বাড়িয়ে আগের হার বিদ্যমান রাখা।’
মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘বাজেটে রপ্তানি খাতের জন্য দুই হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তৈরি পোশাক খাতে উৎসে অগ্রিম আয়কর হার দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে চার গুণ বাড়িয়ে এক শতাংশ করা হয়েছে, যা রপ্তানিকে ব্যয়বহুল করে তুলবে।’
চেম্বার সভাপতি আরও বলেন, করের হার না বাড়িয়ে বরং আওতা বাড়িয়ে অধিকসংখ্যক মানুষকে করের আওতায় আনা গেলে তা দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হবে।
মোয়াজ্জেম হোসেন আরও বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) কর্মসূচির আওতায় চলতি বছর সরকার একটি টাকাও খরচ করতে পারেনি। যদি সঠিক নীতিমালা ও দিকনির্দেশনা প্রস্তুত করা না যায়, তাহলে আগামী অর্থবছরেও পিপিপির একই অবস্থা হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার সভাপতি দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে তাঁরা পিপিপির আওতায় বিনিয়োগে এগিয়ে আসেন।

উৎসে আয়কর আগের অবস্থায় রাখার দাবি

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ) ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেটে হিমায়িত খাদ্য রপ্তানির ওপর উৎসে আয়কর এক শতাংশে নির্ধারণের প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তারা এ ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর আগের অবস্থায় অর্থাৎ শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশে বহাল রাখার দাবি জানায়।
বিএফএফইএর সভাপতি মো. মুছা মিয়া গতকাল মঙ্গলবার বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন। সংগঠনের পক্ষে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, উৎসে আয়কর চার গুণ বাড়ানো অযৌক্তিক ও রপ্তানি উন্নয়নের পরিপন্থী।
মো. মুছা মিয়া বলেন, অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে হিমায়িত চিংড়ি ও মাছের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। যে কারণে দেশে সীমিত পরিমাণে চিংড়ি ও মাছ উৎপাদন করে মুনাফা অর্জন করাটা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার এ খাতের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নগদ সহায়তা দিলেও সার্বিকভাবে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার হচ্ছে না। তিন বছর ধরেই এ খাত নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির প্রবণতায় রয়েছে।

পুঁজিবাজার থেকে তহবিল সংগ্রহ করবে রাকিন ডেভেলপমেন্ট

রাকিন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড শিগগির দেশের পুঁজিবাজার থেকে তহবিল সংগ্রহ করবে।
রাকিন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানিকে ইস্যু ব্যবস্থাপনা ও অনান্য সেবা দেবে আইডিএলসি ফিন্যান্স লিমিটেড ও ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড।
এ ব্যাপারে আইডিএলসি ফিন্যান্স লিমিটেড ও ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের সঙ্গে গত রোববার রাকিন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির একটি চুক্তি হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রাকিন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এ কে একরামুজ্জামান, আইডিএলসি ফিন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আর এফ হুসেইন এবং ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাকিন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক রাকিন ডেভেলপমেন্ট পিজেএসসির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান।

মূল্য-আয় অনুপাত ৪০-এর বেশি হলে ঋণসুবিধা নেই

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের বিপরীতে ঋণ বিতরণের সীমায় আবারও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে যেসব কোম্পানির শেয়ারের আয় অনুপাতে দাম বা পিই ৪০ পয়েন্টের বেশি হবে, সেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনার জন্য মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো বিনিয়োগকারীদের ঋণসুবিধা দিতে পারবে না। আগামী রোববার থেকে এ নিয়ম কার্যকর হবে।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) বাজার পর্যালোচনা কমিটির সভায় গতকাল মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে সংস্থাটির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া প্রথম আলোকে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এসইসি বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে তারল্যপ্রবাহ এমনিতেই বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত ঋণসুবিধা বাজারের তারল্যপ্রবাহকে আরও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত যা বাজারের ঝুঁকিই বাড়াবে।
তা ছাড়া অনেক ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক গ্রাহকদের ঋণসুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এসব কারণেই ঋণসুবিধা দেওয়ার জন্য সীমা আরও কমিয়ে আনতে হয়েছে।
এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি একই যুক্তিতে পিই অনুপাত ৫০ পয়েন্টের বেশি হলে ঋণসুবিধা না দেওয়ার আদেশ জারি করেছিল এসইসি। এরও দুই মাস আগে, অর্থাৎ গত ৯ ডিসেম্বর ঋণসুবিধা সীমা হিসেবে পিই অনুপাত ৭৫ পয়েন্ট নির্ধারণ করে দেয় সংস্থাটি।
এসইসি সূত্র বলছে, আগের মতোই কোম্পানির সর্বশেষ ইপিএসের ভিত্তিতে পিই অনুপাত হিসাব করা হবে। এটি নিরীক্ষিত বার্ষিক ইপিএস হতে পারে, আবার অনিরীক্ষিত ত্রৈমাসিক ইপিএসও হতে পারে। এটা নির্ভর করবে কোম্পানিটি সর্বশেষে কোন ইপিএসটি প্রকাশ করেছে, তার ওপর।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাজারে বেশির ভাগ কোম্পানির পিই অনুপাত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলে গেছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বিনিয়োগকারীরা এসব কোম্পানিতে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবেন, যা হয়তো তাদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে।
কিন্তু এতে ব্যাংক ও বিদ্যুৎ খাতসহ বহুজাতিক যেসব কোম্পানির পিই অনুপাত তুলনামূলক কম, বিনিয়োগ সেইদিকে কেন্দ্রীভূত হবে। ফলে সূচক নিয়ন্ত্রণের যে লক্ষ্য নিয়ে এসইসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা কতটুকু কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, কোম্পানির শেয়ারের সর্বশেষ বাজারমূল্যকে শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস দিয়ে ভাগ করলে পিই অনুপাত পাওয়া যায়। যে কোম্পানির পিই যত বেশি সে কোম্পানিকে বিনিয়োগের জন্য তত ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হয়।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ ঘোষিত ত্রৈমাসিক ইপিএসের ভিত্তিতে নির্ণীত পিই প্রকাশ করে থাকে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের দাবি বিসিআইয়ের

বিদ্যুৎ-সংকট দ্রুত সমাধানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। একই সঙ্গে বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়াতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহূত ডিজেলের ওপর সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহার এবং ফার্নেস তেল রপ্তানি বন্ধের প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।
প্রস্তাবিত ২০১০-১১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের ওপর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
উত্তরবঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ডিজেলের পরিবর্তে ফার্নেস তেল ব্যবহূত হয়। তবে বাইরে ফার্নেস তেল রপ্তানি করায় স্থানীয় বাজারে এর দাম বেড়ে গেছে। ফলে সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। এটা মোকাবিলায় ফার্নেস তেল রপ্তানি বন্ধ করা উচিত বলে মনে করে বাংলাদেশ চেম্বার।
বিসিআইয়ের সভাকক্ষে বাজেট প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিসিআইয়ের সভাপতি শাহেদুল ইসলাম, ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এস এম শাহাব উদ্দিন, পরিচালক জিয়া হায়দার, আবুল কালাম ভূঁইয়া, আবদুল তাহিদ মজুমদার, এ কে আজাদ ও মো. জাহাঙ্গীর আলম। বাজেট প্রতিক্রিয়ার মূল বক্তব্য দেন বিসিআইয়ের উপদেষ্টা মনজুর আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে বাজেটে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা সঠিক পদক্ষেপ।
বাজেটে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে জ্বালানি, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার ও সামাজিক বেষ্টনী প্রভৃতিতে বরাদ্দ বাড়ানোকেও স্বাগত জানিয়েছে বিসিআই।
বিসিআই দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর স্বার্থে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়াতে এডিপির সফল বাস্তবায়ন চেয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) কর্মসূচির মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহণের জন্য একটি নীতিমালা চূড়ান্ত করার প্রস্তাব করেছে। তা না হলে
বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা পিপিপিতে বিনিয়োগে আস্থা পাবে না বলে মনে করে বাংলাদেশ চেম্বার।
মনজুর আহমেদ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের কিছু প্রস্তাব পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি প্রাতিষ্ঠানিক মূলধনি মুনাফার ওপর কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নির্ধারণ, শেয়ার লেনদেনের ওপর কমিশন কর দশমিক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে নির্ধারণ এবং উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির ওপর প্রস্তাবিত কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশে নির্ধারণের প্রস্তাব করেন।

ড্রয়ে শেষ হলো রোনালদো-দ্রগবা

ম্যাচের ঘড়িতে তখন দশ মিনিট। ২৫ মিটার দূর থেকে নেওয়া ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শট লাগল বাঁয়ের পোস্টে। হতাশায় মাথায় হাত পর্তুগিজ অধিনায়কের। বেঞ্চে বসা আইভরিকোস্ট অধিনায়ক দিদিয়ের দ্রগবা ফেললেন স্বস্তির নিঃশ্বাস, বুকে ক্রুশ এঁকে কৃতজ্ঞতা জানালেন ঈশ্বরকে। ম্যাচ শেষে এই দ্রগবা কি হতাশায় মাথায় হাত দিয়েছেন, আর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন রোনালদো? গোলশূন্য ড্র ম্যাচে যে জেতার মতোই খেলেছিল আইভরিকোস্ট।
পর্তুগাল বিশ্বের তিন নম্বর দল, আইভরিকোস্ট ২৭। বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলারটি পর্তুগালের। তবে আইভরিকোস্টও ফেলনা নয় মোটেও। বরং কোলো তোরে, সলোমন কালু, ইয়া তোরোর মতো তারকাদের নিয়ে গড়া। এঁদের সঙ্গে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের গত মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা দ্রগবা তো আছেনই। দ্রগবা অবশ্য কাল মাঠে নেমেছেন ৬৬ মিনিটে। ভাঙা হাত পুরো সারেনি। আহত অংশে বিশেষ আবরণ পরে কাল মাঠে নেমেছিলেন। অধিনায়ককে পেয়ে যেন আরও উজ্জীবিত হয়ে ওঠে ‘এলিফ্যান্টস’রা। পর্তুগালও কিছু পাল্টা আক্রমণ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোল পায়নি কোনো দলই।
পর্তুগাল নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করতে পেরেছিল ওই একটাই। শেষ পর্যন্ত পোস্টে লেগে শুধু বলটাই ফেরেনি, জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোর গোলের জন্য সুদীর্ঘ অপেক্ষাটাও আরও প্রলম্বিতই হচ্ছে। মেজাজও হারিয়ে ফেলেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। গাই ডিমেলের দিকে বুনো-ভঙ্গিতে ছুটে গিয়েছিলেন তাঁকে ফাউল করে ফেলে দেওয়ার পর। ফলে হলুদ কার্ড দেখতে হয় দুজনকেই। এই ম্যাচে রোনালদোর সেই ঝলকও দেখা যায়নি। মেসি প্রথম ম্যাচেই গা থেকে বার্সেলোনা-খেলোয়াড়ের তকমা খসে ফেলেছিলেন। রোনালদোকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে আরও।
ম্যাচ শেষে আইভরিকোস্টের কোচ সভেন গোরান এরিকসনের কণ্ঠে দুটো পয়েন্ট না-পাওয়ার হতাশাই ঝরল, ‘জয় আমাদের প্রাপ্য ছিল। কারণ, আমরাই এই ম্যাচে বেশি সুযোগ তৈরি করেছি।’ পর্তুগাল কোচ কার্লোস কুইরোজ অবশ্য দাবি করলেন, ম্যাচের পরিস্থিতির দাবি মিটিয়েই খেলেছে তাঁর দল, ‘এরিকসন এমনভাবে জাল বিছিয়েছিলেন, যেন আমরা কোনো ভুল করি। কিন্তু সেই ফাঁদে আমরা পা দিইনি। মনে রাখবেন, এটা গ্রুপ অব ডেথের লড়াই। উত্তর কোরিয়ার প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, এই গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে ব্রাজিল, পর্তুগাল আর আইভরিকোস্ট—এই তিন যোগ্য দলের মাত্র দুটি।’
কথার লড়াইয়ে দুই কোচই হারতে চাননি। যেমন মাঠে দুই মহাতারকা রোনালদো-দ্রগবার লড়াইটাও হয়েছে ড্র।

মেসি ঠেকাতে পার্ক

নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে গোল পাননি মেসি। আর্জেন্টিনা জিতেছে ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল হেইঞ্জের একমাত্র গোলে। তবে কোচ ম্যারাডোনার গেমপ্লান এবং প্রতিপক্ষের গোলমুখে মেসির ভয়ংকর উপস্থিতি দেখেই দক্ষিণ কোরিয়ান কোচ হু জুং-মু বুঝে গেছেন, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ভালো কিছু করতে হলে আটকাতে হবে মেসিকে।
শুধু বুঝলে তো হবে না, হু জুং-মু ভেবেচিন্তে বের করেছেন মেসি-বধের উপায়ও। আগামীকাল আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়া। কোচ হু জুং-মুর পরিকল্পনামতো এ ম্যাচে পার্ক জি-সুংই পালন করবেন মেসিকে ঠেকানোর গুরুদায়িত্ব।
কিন্তু পার্ক জি-সুং তো মিডফিল্ডার! তিনি কী করে ডিফেন্ডার হয়ে মেসিকে সামলাবেন? কাজটি আগেও একবার করেছেন পার্ক। ২০০৮ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় ম্যাচে রাইট-উইঙ্গার মেসিকে সফলভাবেই সামলেছিলেন লেফট-উইং হিসেবে খেলা পার্ক। ওই ম্যাচে মেসির বার্সেলোনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছিল পার্কের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
পূর্ব অভিজ্ঞতাই শুধু নয়, নাইজেরিয়ার বিপক্ষে মেসি আর গ্রিসের বিপক্ষে পার্কের পারফরম্যান্স-সংক্রান্ত কিছু তথ্য-উপাত্তও কোরিয়ান কোচকে এই সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। নাইজেরিয়াকে মেসির আর্জেন্টিনা হারিয়েছে ১-০ গোলে। বিপরীতে গ্রিসের বিপক্ষে দক্ষিণ কোরিয়া জিতেছে ২-০ গোলে। যার একটি করেছেন পার্ক নিজেই। পরিসংখ্যানবিদেরা জানিয়েছেন, নাইজেরিয়ার বিপক্ষে মেসি মাঠে মোট দৌড়েছেন ৮.৩৫১ কিলোমিটার। রক্ষণভাগ, মাঝমাঠ, আক্রমণভাব মিলিয়ে গ্রিসের বিপক্ষে পার্ক দৌড়েছেন ১০.৮৪৪ কিলোমিটার। অন্য আরেকটি পরিসংখ্যানে অবশ্য বিশ্বসেরা মেসিই এগিয়ে। প্রথম ম্যাচে মেসি সতীর্থদের উদ্দেশে বল পাস করেছেন ৮৪ বার, গোলে শট নিয়েছেন ৮টি। পার্ক সতীর্থদের পাস দিয়েছেন ৩৯ বার, গোলে শট নিয়েছেন ২টি।
শুধু ক্ষিপ্রতাই নয়, অসাধারণ ড্রিবলিং ক্ষমতারও অধিকারী মেসি। মাত্র দশমিক দুই সেকেন্ডের মধ্যে দুবার বলে টাচ করতে পারেন! বলটাও রাখেন পায়ের ৭০ সেন্টিমিটারের মধ্যে। তাঁর পা থেকে তাই ডিফেন্ডারদের পক্ষে বল কেড়ে নেওয়া সম্ভব হয়ে উঠে না। এ কারণেই তো দক্ষিণ কোরিয়ান কোচ মেসিকে ঠেকাতে বাছাই করেছেন ক্ষিপ্তগতির পার্ককে! পছন্দটা খারাপ নয় কোচের। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে পার্ক দারুণ আত্মবিশ্বাসী। কাল জোহানেসবার্গের ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দেওয়াও সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি, ‘আমাদের গ্রুপে আর্জেন্টিনাই সেরা দল। তবে আমরা যদি গ্রিসের বিপক্ষে ম্যাচের মতো একটা দল হয়ে খেলি, ফলাফলটা আমাদের দিকে আনাও সম্ভব।’

চ্যাম্পিয়নদের এই খেলা

আকস্মিক পরিবর্তনের এক বিশ্বকাপই বলতে পারেন এটাকে। একটা ম্যাচ সমতলে হচ্ছে, তো আরেকটা হচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে। ডারবানে বিকেলের পড়ন্ত রোদে পাতলা পোশাক পরে কেউ আড্ডায় মেতে উঠছে আর কেউ কেপটাউনের হিমেল সন্ধ্যায় শীতে কাঁপছে।
এর মধ্যেই একের পর এক ফেবারিট দল শুরু করছে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান। আর্জেন্টিনার শুরুটা ভালোই হয়েছে। জার্মানিকে আর্জেন্টিনার চেয়েও ক্ষুরধার মনে হয়েছে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইতালির অভিযান শুরু হয়েছে পরশু। এ বিশ্বকাপে শুরু থেকেই যেটা বেশি হচ্ছে, ইতালির ম্যাচেও তাই ঘটল—১-১ গোলে ড্র।
ইতালি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন, ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের ৫ নম্বরের দল। আর প্যারাগুয়ে ৩১ নম্বর। এর পরও পরশু প্যারাগুয়ের সঙ্গে ইতালির ১-১ গোলের ড্রকে অঘটন বলবে না কেউ। বলবে না ইতালির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কারণেই। বিশ্বকাপের দুটি প্রস্তুতি ম্যাচের একটিতে হেরেছে, একটি ড্র করেছে। পরশুর ম্যাচটি দেখে মনে হয়েছে, শিরোপা ধরে রাখতে হলে দক্ষিণ আফ্রিকার আবহাওয়া ও কন্ডিশনের মতো ইতালিকেও তাদের খেলায় আনতে হবে আকস্মিক পরিবর্তন। ইতালি অধিনায়ক ফ্যাবিও ক্যানাভারোও ম্যাচ শেষে বললেন জানা সে কথাটাই, ‘পরের দুই ম্যাচে অবশ্যই আমাদের আরও ভালো করতে হবে।’
ড্র ম্যাচেরও একটা সৌন্দর্য থাকে। কিন্তু ইতালি-প্যারাগুয়ের ম্যাচে ফুটবলীয় সৌন্দর্য খুব কমই চোখে পড়েছে। বরং ভুল পাসের ছড়াছড়ি ছিল আর ছিল ভুল গোলকিপিং। ম্যাচের দুটি গোলই হয়েছে সেট পিসের মাধ্যমে। প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল ইতালিই। ৩৯ মিনিটে অরেলিয়ানো তোরেসের লম্বা ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত হেডে গোলটি করেছেন আন্তলিন আলকারাজ। আসলে দুর্দান্ত ওই হেডটি আলকারাজ করতে পেরেছিলেন ক্যানাভারো আর ড্যানিয়েল ডি রসির ভুলের কারণেই। কী যে হয়েছিল রসি আর ক্যানাভারোর! দুজনের মাঝ থেকে লাফিয়ে উঠে আলকারাজ হেড করলেন আর তাঁরা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলেন।
ভুলের দায়টা অবশ্য নিজের কাঁধেই নিয়েছেন রসি, ‘আসলে আমি হঠাৎ করে অমনোযোগী হয়ে পড়েছিলাম। ওকে মার্ক করার দায়িত্ব ছিল আমার ওপর। আমার এটা নিয়ে রাগ হচ্ছে, আমার নিজের ওপরও রাগ হচ্ছে।’ দ্বিতীয়ার্ধে রাগ আর শাপমোচন দুটোই করলেন ডি রসি। কর্নার কিক থেকে সমতাসূচক গোলটি করেছেন রসি। তবে এই গোলটিও হয়েছে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক জাস্তো ভিলারের ভুলে। কর্নার কিকের ফ্লাইট বুঝতে পারেননি, আর এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে মাত্র ৩ গজ দূর থেকে বল জালে ঠেলেছেন রসি।
ভুল করেছেন, ভুল মোচন করেছেন; মন্টেলিভোকে সঙ্গে নিয়ে ইতালির মাঝমাঠটা ঠিকও রেখেছেন রসিই। পুরো ম্যাচেই ছিলেন ইতালির এই মিডফিল্ডার, ম্যাচ শেষেও। সমালোচনা করেছেন নিজের দল আর প্যারাগুয়ের খেলা নিয়ে, ‘প্যারাগুয়ে অতি রক্ষণাত্মক খেলেছে। তবে আমাদের দলও ২০০৬-এর মতো নয়। দলে টট্টির মতো কোনো খেলোয়াড় নেই এবার।’
ইতালিকে গত বিশ্বকাপ জেতানো লিপ্পির এ নিয়ে কোনো ভাবান্তর নেই। জিততে না পারার দুঃখে ডুবে আছেন তিনি, ‘এ রকম ম্যাচগুলো আমাদের জিততে হবে। জিততে পারিনি বলে খারাপ লাগছে।’ আরও একটা কারণে খারাপ লাগছে লিপ্পির—পিঠের ব্যথার জন্য প্রথমার্ধের পর আর মাঠে নামতে পারেননি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফন। তবে বুফন বলেছেন, দুই দিনের মধ্যেই সেরে উঠবেন তিনি। খেলতে পারবেন ২০ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দলের দ্বিতীয় ম্যাচে।
অন্যদিকে, প্যারাগুয়ের আর্জেন্টাইন কোচ জেরার্দো মার্টিনোর এই ম্যাচ নিয়ে কোনো আক্ষেপই নেই। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে ড্র করার আনন্দেই ভাসছেন তিনি, ‘বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটি নিয়ে আমাদের অনেক আশা ছিল। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে ড্র করতে পেরে খুশি আমি।’

মাটিতেই পা রাখছেন হোন্ডা

জাপানের পত্রিকাগুলো রাতারাতি ‘হোন্ডা-বন্দনা’য় মেতে উঠেছে। তা কেউসুকে হোন্ডাকে নিয়ে বন্দনা করারই কথা। নিজের জন্মদিনে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন ক্যামেরুনের বিপক্ষে, নেমেই বাজিমাত। রাশিয়ান লিগে খেলা হোন্ডার গোলে দেশের বাইরে কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে প্রথম জয় পেল জাপান।
হোন্ডাকে নিয়ে এত বেশি হইচই তরুণ স্ট্রাইকারের মাথা বিগড়ে দিতে পারে বলেও ভয় পাচ্ছেন জাপানের সাবেক কোচ ইভিচা ওসিম। অস্ট্রিয়া থেকে ফোনে বলেছেন, ‘সব সংবাদপত্র এভাবে হোন্ডাকে নিয়ে শিরোনাম করতে থাকলে সেটা বিপজ্জনক ব্যাপার হবে। এতে ওর নিজের সম্পর্কে একটা ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।’
অবশ্য হোন্ডার নিজের কথা শুনলে ওসিমের আশঙ্কাকে আর বাস্তব বলে মনে হবে না। হোন্ডা এই প্রশংসা-বন্যায় ভেসে না গিয়ে বরং দলের বাকিদের সতর্ক করছেন, ‘নেদারল্যান্ড মোটেও সহজ কোনো প্রতিপক্ষ না। আমরা যদি নিজেদের খেলার মান না বাড়াই, তাহলে আমরা জীবনেও ওদের হারাতে পারব না। তবে এটাও ঠিক যে উন্নতি করতে থাকলে অসম্ভব বলে দুনিয়ায় কিছু নেই।’
তাহলে হোন্ডা নিজের প্রাপ্তি নিয়ে একটুও আবেগ আপ্লুত নন! তাই কি হয়? জন্মদিনে গোল করে দলকে জেতানোর আনন্দ সংক্ষেপে হলেও জানাতে ভুললেন না, ‘গতকাল (সোমবার) আমার জন্মদিন ছিল। আর এটাই মনে হয় আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।’

প্রশংসায় ভাসছেন ওজিল

বালাক নেই, বালাক নেই বলে কী আক্ষেপটাই না গেল জার্মানদের! গেল বলার কারণ, মাঝমাঠে মাইকেল বালাকের শূন্যতা পূরণের প্রতিশ্রুতি যে দেখা যাচ্ছে একজনের পায়ে! অন্তত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ের ম্যাচে তরুণ তুর্কি মেসুত ওজিল বোঝাতে পেরেছেন, তিনি থাকতে মাঝমাঠ নিয়ে জার্মানদের চিন্তা নেই!
বয়স মোটেই ২১। জার্মান ক্লাব ভের্ডার ব্রেমেনের এই তরুণ অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে নিখুঁত ফুটবল-শৈলী দিয়ে এতটাই আলো ছড়িয়েছেন যে, জার্মান কোচ জোয়াকিম লো ওজিল বলতেই অজ্ঞান। ম্যাচের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ওজিলের পারফরম্যান্সে অভিভূত কোচ লোর কথাতেও তাই মুগ্ধতার সুর, ‘আমার পরিকল্পনার সঙ্গে যায়, মেসুত এমন এক ফুটবলার। সে অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ে খেলে। সহজেই বল নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে এবং দেখেশুনে শট নিতে পারে। সে প্লে-মেকার এবং ডিফেন্স-চেরা অসাধারণ পাস দিতে পারে।’
প্রশংসা পেয়ে শেষে আকাশে চড়ে বেড়ান, তাই শিষ্যকে আগে থেকে কিছু পরামর্শও দিয়ে রেখেছেন লো, ‘পা মাটিতেই রাখা উচিত হবে তার। বিশ্বমানের একজন ফুটবলার হতে অনেক উন্নতির প্রয়োজন এবং কয়েক বছর ধরে নিজেকে গঠন করতে হয়। কোনো সন্দেহ নেই, সে সেটা করেছে।’
কোচ লোর সঙ্গে সতীর্থ মিরোস্লাভ ক্লোসার প্রশংসাও জুটেছে ওজিলের কপালে। কোচের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে অভিজ্ঞ এই স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘১০ নম্বর জার্সিটার জন্য যোগ্য একজনের অন্বেষণ আমরা সব সময়ই করে আসছি। এত দিনে আমরা একজনকে পেয়েছি। জার্মানির জন্য মেসুত নিজেই তার অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। সে অবশ্যই আমাদের দলের জন্য বাড়তি কিছু।’

ক্যাপেলোর সমালোচনায় কাইজার

ফ্যাবিও ক্যাপেলোর মধ্যে নাকি আলফ রামসের ছায়া খুঁজে পাচ্ছে ইংলিশরা। কোন রামসে? ইংল্যান্ডের এখন পর্যন্ত একমাত্র বিশ্বকাপজয়ী কোচ। তবে এই কথা ভুলেও যেন ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের কানে তুলবেন না। ‘কাইজার’ বলছেন, ইংলিশ ফুটবলের মুক্তিদাতা ক্যাপেলো মোটেও নন। বরং ইংল্যান্ডকে তিনি পিছিয়ে দিয়েছেন। তবে শুধু দোষ ক্যাপেলোর একার নয়, ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ফুটবলের কাঠামোতেই গলদ দেখছেন এই সাবেক জার্মান কিংবদন্তি, যে ঘরোয়া ফুটবল থেকে প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসছে না মোটেও। অথচ টাকার অঙ্কে কি জনপ্রিয়তায়, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগই এক নম্বর!
‘ওদের খেলা দেখে আমার মনে হয়েছে ইংলিশরা যে সেই জঘন্য পুরোনো দিনগুলোতে ফিরে গেছে, যেখানে “কিক মারো আর দৌড় দাও”ই ছিল তাদের খেলার ধরন। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১-১ ড্র হওয়া ম্যাচে ওদের যে খেলাটা দেখলাম, এর সঙ্গে ফুটবলীয় সম্পর্ক আছে অত্যল্পই। এবং আমি ঠিক নিশ্চিত নই, ক্যাপেলো এই পরিস্থিতি কতটা পাল্টাতে পারবেন’—ইংলিশদের কাটা ঘায়ে এভাবেই নুন ছিটিয়েছেন বেকেনবাওয়ার। কেন পরিস্থিতি পাল্টাবে না সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন, ‘ওদের প্রিমিয়ার লিগে খুব কম ইংলিশ খেলোয়াড় খেলে। কারণ ক্লাবগুলো সারা বিশ্ব থেকে ভালো ভালো খেলোয়াড় এনে খেলাতেই পছন্দ করে। ইংলিশরা আসলে এখন সেটার ফলই ভোগ করছে।’
এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ড্র করে বিশ্বকাপ শুরু করায় ক্যাপেলো চাপের মুখে আছেন। বিবিসিও কাইজারের সঙ্গে সুর মিলিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, নতুন জাবুলানি বলটি দিয়ে কেন আরও আগে থেকে অনুশীলন শুরু করা হলো না। এই নতুন বলটি গত ফেব্রুয়ারি থেকেই জার্মানি, ফ্রান্স আর আর্জেন্টিনার লিগ ফুটবলে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে বিবিসি।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, অধিনায়ক এবং কোচ—দুই ভূমিকায় বিশ্বকাপ জেতা একমাত্র ব্যক্তিটি হঠাৎ ক্যাপেলোর সমালোচক হয়ে উঠলেন কেন? একটা তো কারণ অনুমান করেই নেওয়া যায়, ১৯৬৬ ফাইনালে বেকেনবাওয়ারদের জার্মানিকে হারিয়েই শিরোপা জিতেছিল ইংল্যান্ড। সেই ক্ষোভ মনের ভেতর নিশ্চয়ই এখনো পুষে রেখেছেন এই ৬৪ বছর বয়সী। ‘ঐতিহাসিক’ কারণের বাইরেও আরও একটি ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। জার্মানি যদি তাদের গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয় আর ইংল্যান্ড যদি হয় রানার্সআপ, দ্বিতীয় রাউন্ডেই মুখোমুখি হবে এ দুই দল। এখন থেকেই তোপটা দাগানো শুরু করে দিয়েছেন জার্মান ফুটবলের অবিসংবাদিত সম্রাট।

‘অনির্দিষ্টকালের’ জন্য ছিটকে গেলেন বুফন

ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করে বিপাকে আছে ইতালি। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জন্য নতুন দুঃসংবাদ—গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফনকেও ‘অনির্দিষ্টকালের’ জন্য পাচ্ছে না ইতালি। পরশু প্যারাগুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামেননি নিতম্বে ইনজুরিতে পড়া বুফন।
বিশ্বের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষকের নিতম্বের ইনজুরিটা পুরোনোই। জুভেন্টাসের হয়ে এ মৌসুমটা ভালোভাবে খেলতেই পারেননি। তার পরও বিশ্বকাপে এসেছেন ‘সমস্যা হবে না’ ভেবে। কিন্তু সমস্যা শেষ পর্যন্ত হয়ে গেল।
কী হয়েছিল তাঁর? হতাশ-ব্যথিত ইতালির কোচ মার্সেলো লিপ্পি জানাচ্ছেন, ‘অনুশীলনের সময় সে নিতম্বে ব্যথা অনুভব করছিল। তার পরও সে খেলতে চেয়েছে। কিন্তু প্রথমার্ধের পর সে বলেছে, আর খেলা চালিয়ে যেতে পারবে না।’ ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের বিবৃতিটা পড়লে বুফনের ফিরে আসাটা অনিশ্চিতই মনে হচ্ছে, ‘তার নিতম্বে বড় একটা সমস্যা আছে। কখন সে খেলার জন্য তৈরি হতে পারবে, এটা আমরা বলতে পারছি না।’
দীর্ঘদিন ধরে ইতালির গোলপোস্ট আগলাচ্ছেন বুফন। গত বিশ্বকাপে ইতালিকে চ্যাম্পিয়ন করতে তাঁর ছিল বড় ভূমিকা। টুর্নামেন্ট জুড়ে গোল খেয়েছেন মাত্র দুটি। সেই বুফনকে হারানো মানে যুদ্ধের ময়দানে একজন বিশ্বস্ত সৈনিককে হারাচ্ছে ইতালি।
ফিরলেন রুনি: ইংল্যান্ড একটা সুখবরই পেয়েছে। চোটের কারণে পরশু অনুশীলন না করা স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনি কাল আবার মাঠে ফিরেছেন। রুনির পাশাপাশি অনুশীলনে ফিরেছেন অ্যাশলি কোলও।

হিজফেল্ডের কপালে ভাঁজ

তাঁর চোখে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দল স্পেন। এই দলটার বিপক্ষে নিজের সেরা দলই তো নামাতে চাইবেন ওটমার হিজফেল্ড। কিন্তু সুইজারল্যান্ড কোচ পড়ে গেছেন মহাসমস্যায়। নিজের সেরা দুই অস্ত্র অধিনায়ক আলেক্সান্ডার ফ্রেই ও মিডফিল্ডার ভালন বেহরামিকে আজ স্পেন ম্যাচে পাচ্ছেন না।
প্রথম জন অ্যাঙ্কেল, দ্বিতীয় জন ঊরুর ইনজুরি থেকে পুরো সেরে না ওঠায় চিন্তার ভাঁজই পড়েছে দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা হিজফেল্ডের কপালে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে সুইজারল্যান্ডের আসা-যাওয়া অনেক দিন ধরেই। সেরা সাফল্য তিনবার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা। গতবার খেলেছে দ্বিতীয় রাউন্ডে। মজার ব্যাপার, সুইজারল্যান্ড গতবার ৪ গোল করলেও একটি গোলও খায়নি। ইউক্রেনের কাছে শেষ ষোলোতে পরাজয় ছিল টাইব্রেকারে। বিশ্বকাপের এক আসরে গোল না খাওয়ার এটা রেকর্ডও।
আপাতত গোল করা নিয়েই বেশি চিন্তা সুইজারল্যান্ড দলে। ফ্রেইকে এক দিকে রাখলে এবং দলটির বাকি সবাইকে আরেক দিকে রাখলে খুব অল্প ব্যবধানেই পিছিয়ে ফ্রেই। ৭৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ফ্রেই গোল করেছেন ৪৪টি। বাকি সবার গোল যোগ করলে দাঁড়াচ্ছে ৫৪। আজ গোলের জন্য যাঁর দিকে তাকিয়ে থাকতেন হিজফেল্ড, তাঁকে না পেয়ে অসহায়ত্বই বোধ করছেন এই জার্মান। ফ্রেইয়ের অভাব পূরণ করবেন কাকে দিয়ে?
ইনজুরি কখনো কখনো কোচদের এমন বিপদে ফেলে দেয়, তখন কিছুই করার থাকে না। ইনজুরিতে পড়া খেলোয়াড়টিকে দ্রুত সারিয়ে তুলে মাঠে নামানোর অপেক্ষাই শুধু করতে পারেন। সেই অপেক্ষাই করছেন ‘দ্য জেনারেল’খ্যাত হিজফেল্ড।

টাকার জন্য কোচ ম্যারাডোনা

ডিয়েগো ম্যারাডোনা কেন আর্জেন্টিনার কোচ হয়েছেন, বলুন তো? সহজ জবাব, আরেকটা বিশ্বকাপ জেতার জন্য। আরে না। আসল কারণ হলো, স্রেফ টাকা কামাতেই আর্জেন্টিনার কোচ হয়েছেন ম্যারাডোনা! এই ‘আসল কারণ’টার আবিষ্কারক আরেক ফুটবল কিংবদন্তি পেলে।
লারা-টেন্ডুলকার, ফেদেরার-নাদাল, ওয়ার্ন-মুরালিধরন—খেলাধুলায় কে যে সেরা, তা নিয়ে ছোট-বড় বিতর্ক চলতেই থাকে। কিন্তু তাতে এসব খেলোয়াড়ের পারস্পরিক সম্পর্কে কি কোনো প্রভাব পড়ে? পেলে-ম্যারাডোনার ব্যাপারটা অন্য রকম। দুনিয়ার মানুষ বিতর্ক করে—পেলে, না ম্যারাডোনা। সঙ্গে এই দুই খেলোয়াড়ও নিজেদের মধ্যে মেতে ওঠেন কথার লড়াইয়ে।
সর্বশেষ লড়াইটা শুরু করছিলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও বর্তমান কোচ ডিয়েগো ম্যারাডোনা। কয়েক দিন আগেই পেলেকে ‘কালো এক ভদ্রলোক’ হিসেবে চিহ্নিত করে অভিযোগ করেছিলেন, পেলে নাকি দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ আয়োজনের সামর্থ্য নিয়ে একসময় প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই পেলে এখন আফ্রিকানদের প্রশংসা করছেন।
এমন আক্রমণ মুখ বুজে সহ্য করার কথা নয় পেলের। সাংবাদিকেরা প্রসঙ্গটা তাঁর কাছে তুলতেই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি উল্টো বললেন, ম্যারাডোনা নাকি তাঁকে খুব ভালোবাসেন, ‘আমি শুনেছি, ও দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েও আমার কথা মনে রেখেছে। তার মানে ও অবশ্যই আমাকে খুব ভালোবাসে।’
এই ভালোবাসা থেকেই পেলে বিভিন্ন সময় ম্যারাডোনাকে বিভিন্ন সাহায্য করেছেন বলেও জানালেন। বলাই বাহুল্য সহায়তাটা অর্থনৈতিক, ‘ও আর্জেন্টিনায় যখন প্রথম টেলিভিশন শো (২০০৫ সালে) শুরু করল, তখন আমার সাহায্য দরকার হয়েছিল। আমি বুয়েনস এইরেসে গিয়ে ওর সঙ্গে ফুটবল খেলে ওকে সহায়তা করেছি। এরপর কিছু বিজ্ঞাপন করেও সাহায্য করেছি।’
এসব কাজে ম্যারাডোনা নিশ্চয়ই অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হয়েছেন। তার পরও ম্যারাডোনার অর্থনৈতিক সংকট কাটেনি বলেই ধারণা পেলের। পেলের দাবি, আর্জেন্টিনার কোচের চাকরিটাও নাকি তিনি টাকার জন্য করছেন, ‘ম্যারাডোনা এই চাকরিটা নিয়েছে কারণ, ওর কাজের দরকার ছিল, টাকার দরকার ছিল।’
আর্জেন্টিনার কোচের চাকরি নিয়ে বাছাইপর্বে ম্যারাডোনা যে খুব ভালো করতে পারেননি, সে দুনিয়ার আর সবার মতো পেলেও দেখেছেন। কিন্তু এই ভালো না করার দায় তিনি ‘স্নেহভাজন’ ম্যারাডোনাকে দিচ্ছেন না, ‘আমি দেখেছি আর্জেন্টিনা কী রকম কষ্ট করে বাছাইপর্ব পার হয়েছে। কিন্তু এটা তো ম্যারাডোনার দোষ না। দোষ যারা ওকে এই দায়িত্বটা দিয়েছে তাদের!’
বুঝুন খোঁচার মাত্রাটা। এবার অপেক্ষা করুন, ম্যারাডোনার কাছ থেকে আরও কিছু আক্রমণ আসার।

মাঠে নামছে ‘সুন্দর’ স্পেন by পবিত্র কুন্ডু,

রোলাঁ গাঁরোর লাল সুরকির কোর্ট নয়। বাদামি মাটির আয়তক্ষেত্রও নয় যে টেনিস-শ্রেষ্ঠ রজার ফেদেরারকে রাফায়েল নাদাল তাঁর রাজ্যপাটে প্রশংসার ফুল দিয়ে নিজের মহত্ত্ব প্রকাশ করবেন। এটা ফুটবল, বিশাল ঘাসের আয়তক্ষেত্র। জোহানেসবার্গ থেকে ডারবানের দূরত্ব যেমন ১৪০০ কিলোমিটার, এখানে স্পেন হয়তো এগিয়ে আছে সুইজারল্যান্ডের চেয়ে।
এখানে জাভি, ইনিয়েস্তা, ভিয়াদের প্লে-স্টেশনের খেলোয়াড় মনে হতে পারে ত্রানকুইলো বারনেত্তা বা স্টেফান লিস্টানিয়ারদের কাছে। যে ‘জার্মান ফক্স’ সুইজারল্যান্ডের বন্ধু, দার্শনিক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে নিয়ে এসেছেন এই বিশ্বকাপে, সেই ওটমার হিজফেল্ড নতমস্তকে স্বীকার করে নিয়েছেন স্পেনের শ্রেষ্ঠত্ব। ‘ওরা এই গ্রহের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। ওদের কোনো দুর্বলতাই নেই’—স্পেন দলটির দিকে তাকিয়ে যেন বিস্ময়ের শেষ নেই সুইজারল্যান্ড কোচের।
তাহলে আজ ডারবানের শীতার্ত বিকেলে গ্রুপ ‘এইচ’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে নেমে স্পেনের দিকে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকবে সুইজারল্যান্ড? তাই হয় নাকি! এটা বিশ্বকাপ, একটা গ্রুপ ম্যাচই শুধু। বর্তমান বিশ্বের সেরা দলটির সঙ্গে লড়তে সুইজারল্যান্ডকেও তাই প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। নিজেরা ন্যূনতম যে লক্ষ্য বেঁধে নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে, সেদিকে পা ফেলতে হবে। সেই লক্ষ্যটা, গত বিশ্বকাপের মতো দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার কড়ি জোগাড় করা। আর তা করতে হলে দরকার একটা পয়েন্ট। তা না পারলেও অন্তত এই আত্মবিশ্বাসটা নিয়ে মাঠছাড়া যে ‘আমরা পারি। স্পেনের মতো দলের সঙ্গে যদি লড়তে পারি, তাহলে হন্ডুরাস, চিলির মতো দলের সঙ্গে কিছু করতে পারবই।’
সুইজারল্যান্ডের আক্রমণের সবচেয়ে বড় ভরসা আলেক্সান্ডার ফ্রেই বলেছেন, ‘আমরা কোনো ইতিবাচক ফলের গ্যারান্টি হয়তো দিতে পারছি না। তবে এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ম্যাচ শেষে অনুতাপে পুড়ব না যে আমরা সবটুকু ঢেলে চেষ্টাটা করিনি।’
ইতালিয়ান ক্লাব লাৎসিওতে খেলা সুইস ডিফেন্ডার স্টেফান লিস্টানিয়ার অবশ্য ফ্রেইয়ের চেয়ে কথাবার্তায় একটু বেশিই আক্রমণাত্মক, স্পেনকে শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েও ভয়হীন আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামতে চান তাদের বিপক্ষে, ‘আমাদের প্রস্তুতিটা এ পর্যন্ত দারুণই বলব। ওরা তো বল পায়ে নিয়ে খেলার বাইরে কিছু করবে না, আমরা আত্মবিশ্বাসী যে ভালো করব। এটা একটা ম্যাচ খেলা ছাড়া তো আর কিছু নয়।’
রজার ফেদেরারের মতো কণ্ঠে নম্রতা মিশিয়ে গোলরক্ষক ডিয়েগো বেনাগ্লিয়ো বলেছেন সবচেয়ে কঠিন কথাটা, ‘আমরা এই টুর্নামেন্টে শুধু অংশ নিতেই আসিনি, আমরা অন্তত দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে চাই।’
এই কথাটার মধ্যে মহাবীর আলেক্সান্ডারের সামনে দাঁড়িয়ে পুঁচকে রাজা পুরুর ঔদ্ধত্য আপনি খুঁজে নিতে পারেন। কিন্তু লড়াইয়ের আগে উদ্বুদ্ধকরণের একটা মন্ত্র তো লাগে। ধরে নিন, ফ্রেই, লিস্টানিয়ার বা বেনাগ্লিয়ো সেই মন্ত্রটাই এভাবে জপছেন।
যুদ্ধের আরেকটা কৌশল হলো আপনি যখন দেখছেন প্রতিপক্ষ অনেক শক্তিশালী, তাদের শুধু নমঃ নমঃ করতে থাকুন। তাহলে প্রতিপক্ষ নিজেদের দুর্বলতা সম্পর্কে ‘অন্ধ’ থেকে যাবে। আর সেই ফাঁকা জায়গা দিয়েই আপনি ঢুকে পড়বেন শত্রুব্যূহে। হিজফেল্ডের কথাগুলোকে তেমন মনে হতে পারে। সুইজারল্যান্ডের কোচ বারবার বলছেন ওরা অসাধারণ, ওরা অন্য পৃথিবীর, ওরা নিখুঁত। তার পরও আশায় আছেন, ‘জয় আমাদের পক্ষেও সম্ভব, যদি আমরা আমাদের সেরাটা খেলতে পারি।’ কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে হিজফেল্ডের বলা এই দূরতর বিশ্বাসের কথাটাও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে প্রায় সবারই। সেরাটা খেলতে হবে, তবে স্পেনের বিপক্ষে সেটিরও যে কোনো মানদণ্ড নেই।
জাভি আলোনসো অকুতোভয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় এসেই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন, ‘আমরা কাউকেই ভয় পাই না।’ তো যারা কাউকেই ভয় পায় না, বরফ জমা আল্পসের পাদদেশে নিভৃতে থাকা ছোট্ট ফুটবলশক্তি সুইজারল্যান্ডকে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই স্পেনের।
ফেবারিটের তকমা গায়ে উঠে গেলে অনেক দলই চাপে পড়ে যায়। ইতিহাসের পাতায় পাতায় এমন উদাহরণ অজস্র। এই স্পেনই তো বারবার সেই পাতায় লিখিয়েছে নাম। ওই চাপের কাছে ঝুরঝুর করে ঝরে পড়ার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন স্পেনের সাবেক বিশ্বকাপ অধিনায়ক ফার্নান্দো হিয়েরো মনে করছেন, এবার স্পেন ‘সত্যিকারের’ ফেবারিট, নকল নয়। কেননা, দুই বছর আগে ৪৪ বছরের অতৃপ্তি ঘুচিয়ে জেতা ইউরোর শিরোপাই তাদের মনের ভঙ্গুর প্রলেপটুকুকে সরিয়ে দিয়েছে।
সোনার জুতা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে আসা স্ট্রাইকার ডেভিড ভিয়ার কথা শুনলে দুঙ্গা-কাকারা একটু বিব্রত হতে পারেন। ব্রাজিলের শিরোপা ষষ্ঠকের দুই স্বপ্ন সারথি ফেবারিট-তত্ত্বের মধ্যে খুঁজে পান ইউরোপের ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব’। কিন্তু ভিয়া একে দেখছেন প্রশংসা বচন হিসেবে, এর মধ্যে খুঁজে পাচ্ছেন প্রেরণা, ‘ফেবারিট-তত্ত্ব কোনো চাপ নয়। এটা বরং একটা প্রশংসা। আমরা কোনো চাপ অনুভব করছি না। আমাদের এই প্রত্যাশার চাপটা নিতেই হবে, কারণ মানুষ জানে আমরা ভালো খেলতে জানি এবং জিততে জানি।’
দুই দল প্রাথমিকভাবে যে ছকটা জানিয়েছে তাতে, আক্রমণাত্মক, সুন্দর ফুটবলের ছবিটাই ভেসে ওঠে চোখের সামনে—৪-৪-২। ইনজুরি থেকে এখনো পুরোপুরি সেরে না ওঠায় আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা নেই এ ম্যাচে। ফার্নান্দো তোরেসের খেলা নিয়েও আছে সংশয়। তোরেস না থাকলে আক্রমণে শুধু ভিয়াকে নিয়ে ৪-৫-১ ফরমেশনে চলে যেতে পারে স্পেন। তার পরও সুন্দর ফুটবলের আশাটা থাকছে। কারণ দলটি যে স্পেন, লা ফুরিয়া রোজা। যারা গোলাপের সুবাস ছড়াতে পারে মাঠে। এ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকাকে সুন্দর ফুটবল দিতে পারেনি বিশ্বকাপ। সুন্দর ফুটবলের জন্য তাই চাতক তৃষ্ণা নিয়েই সবাই যাবে ডারবানের মাঠে।
‘অসহ্য রকম সুন্দর’ এই স্পেন সেই আশাটিকে চোরাবালিতে ছুড়ে না ফেললেই হয়। ফলের চিন্তাটাকে আজ মাথা থেকে একটু সরিয়েই রাখুন!

বাংলাদেশের সামনে আজ ভারত

বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনা শ্রীলঙ্কাতেও আছে। বিশেষ করে, ডাম্বুলার হেরিটেন্স কান্ডেলামা হোটেলে। এশিয়া কাপ ক্রিকেটের চার দল—শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের ঠিকানা আপাতত এই হোটেলই।
হোটেলে বিশ্বকাপ নিয়ে মেতে থাকলেও মাঠে ক্রিকেটটাই খেলতে হচ্ছে সাকিব আল হাসানের দলকে। রনগিরি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আজ এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে তারা মুখোমুখি ভারতের। যে ম্যাচের আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব বলেছেন, ‘ইংল্যান্ডে টেস্ট সিরিজটা ভালোভাবে শেষ করতে না পারলেও আমরা খুবই ভালো ক্রিকেট খেলেছি। আর এই টুর্নামেন্টটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণও। নিজেদের দিনে আমরা যে কাউকে হারাতে পারি।’
শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ দল এরই মধ্যে একটা সমস্যায় পড়ে গেছে। বাবার অসুস্থতার কারণে গত রোববার দুপুরে শ্রীলঙ্কায় পৌঁছে সে রাতেই ঢাকায় ফিরে আসতে হয়েছে সহকারী কোচ খালেদ মাহমুদকে।
কাল টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে শহীদ আফ্রিদির সেঞ্চুরির পরও শ্রীলঙ্কার কাছে ১৬ রানে হেরে গেছে পাকিস্তান। স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে করা ২৪২ রানের জবাবে ৩২ রানে ৪ উইকেট হারালেও আফ্রিদির সেঞ্চুরিতে ৪৭ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ২২৬ রান করেছে তারা। ৭৬ বলে ১০৯ রানের ইনিংসে ৮টি চার ও ৭টি ছক্কা আফ্রিদির। এর আগে শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়াবর্ধনে ৫৪ ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস অপরাজিত ৫৫ রান করেছেন। পাকিস্তানের শোয়েব আখতার ৪১ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

বিশ্বকাপে উড়ছে এশিয়ার পতাকা

উত্তর কোরিয়া কাল রাতে ব্রাজিলের বিপক্ষে যে ফলই করুক না কেন, ইতিহাসে তাদের জন্য বরাদ্দ পাতাটা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। ৪৪ বছর আগে সর্বশেষ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে খেলতে এসেছিল কোরিয়ান দলটি। প্রথম আগমনেই দুনিয়াকে চমকে দিয়ে প্রথম এশিয়ান দেশ হিসেবে পৌঁছে গিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালে।
তারপর থেকে পৃথিবীর মানচিত্র কতবার বদলালো, এশিয়ার সুদিন আসতে আসতে লাগল ২০০২ বিশ্বকাপ। সেমিফাইনালে চলে গিয়েছিল দক্ষিণ কেরিয়া, দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছেছিল জাপানও।
আফ্রিকার বিশ্বকাপ কেমন যেন এশিয়ার সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। জয় দিয়েই এবারের বিশ্বকাপ শুরু এশিয়ার দুই দল জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার। উত্তর কোরিয়া জয় দিয়ে শুরু করতে পারুক আর নাই পারুক, ২০০২-কে ছাড়িয়ে যাওয়ার একটা স্বপ্ন এবার এশিয়রা দেখতেই পারে।
অথচ ২০০২ বিশ্বকাপটা এশিয়ার জন্য বড় শঙ্কা নিয়েই শুরু হয়েছিল। এশিয়ায় প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে শঙ্কা তো ছিলই, শঙ্কা ছিল স্বাগতিক দুই দলের পারফরম্যান্স নিয়েও। মনে করা হচ্ছিল, স্বাগতিক দু দলই হয়তো ছিটকে পড়বে প্রথম পর্ব থেকে। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়া পাঁচবার বিশ্বকাপ খেললেও কখনোই প্রথম পর্ব পার হতে পারেনি। আর জাপান ২০০২-এর আগে একটিই বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯৮ সালে; সেবার তিন ম্যাচের সবগুলোতে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। এমন দুটি দল আবারও সবাইকে হতাশ করবে, এবার সবাই ধরে নিয়েছিল সেরকমই। সব অনুমানের মুখে ছাই দিয়ে জাপান দ্বিতীয়পর্বে পৌঁছে গিয়েছিল। আর পোল্যান্ড, পর্তুগাল, ইতালি ও স্পেনকে হারানোর পর দক্ষিণ কোরিয়ার স্বপ্নযাত্রা থেমেছিল গিয়ে সেমিফাইনালে; জার্মানির কাছে হেরে।
এবারের বিশ্বকাপে এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়াই মাঠে নেমেছিল সাবেক ইউরো চ্যাম্পিয়ন গ্রিসের বিপক্ষে। টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে নয়নজুড়ানো গোল করে এশিয়ার শুভ সূচনা করলেন সেই পার্ক জি সুং। গ্রিসের বিপক্ষে পার্কদের জয়টা খুব বড় কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু জাপান তো প্রায় অঘটনই ঘটিয়ে ফেললো!
আগের দিনই স্যামুয়েল ইতো তার ক্যামেরুনকে ‘বিশ্বসেরা’ দল বলে দাবি করে বিশ্বজয়ের ঘোষনা দিয়েছিলেন। ইতোর ঘোষনাটা হয়তো বাড়াবাড়ি ছিল। তাই বলে জাপানের কাছে হেরে যাওয়ার মত দল তারা না। হলো কিন্তু সেটাই! ইতোদের মুখটা অন্ধকারে ঢেকে দিলেন কিউসুকে হোন্ডা। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে আফ্রিকান দলটিকে নিস্তব্ধ করে দিলেন জাপানী এই স্ট্রাইকার। ক্যামেরুনের নিস্তব্দতায় শব্দমুখর হয়ে উঠেছে জাপানের উৎসব।
দেশের বাইরে কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে এটাই প্রথম জয় জাপানের। আর এই জয়ে আরেকবার দ্বিতীয় পর্বের যাওয়ার স্বপ্নও দেখতে পারছে সূর্যোদয়ের দেশ। জাপানীদের উল্লাস করাটাই স্বাভাবিক। উল্লাসটা টের পাওয়া যাচ্ছে সে দেশের সংবাদমাধ্যমে। দেশটির ক্রীড়াদৈনিক স্পোর্টস নিপ্পন প্রথম পাতায় ‘জাপান জিতেছে!!’ শিরোনামে বিশাল সংবাদ ছেপেছে। দেশের প্রায় সব দৈনিকেই প্রথম পাতায় ছাপা হয়েছে হোন্ডার বিশাল ছবি। ইয়োমিউরি শিমবুন পত্রিকায় লেখা হয়েছে, ‘হোন্ডার প্রথম চাল টিকে গেল শক্ত রক্ষনের কারণে।’
এখন দেখার পালা এশিয়ার তিন দল বিশ্বকাপে নিজেদের কতদূর টিকিয়ে রাখতে পারে।

স্বাগতিকদের টিকে থাকার ম্যাচ

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি চাইছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপে এর আগে কোনো স্বাগতিক দলই প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেয়নি। এবার দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পারবে কি না, অনেকের মনেই আছে এই সংশয়। প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর সঙ্গে ১-১ ড্র, আজ উরুগুয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় ম্যাচে হারলেই দেখা দেবে বাদ পড়ার শঙ্কা।
এমনিতেই গ্যালারির সমর্থন দক্ষিণ আফ্রিকার বড় শক্তি। তার ওপর প্রথম ম্যাচে ড্র করে পাওয়া প্রেরণাটা যোগ করলে দক্ষিণ আফ্রিকার মনোবল বেড়ে যাচ্ছে অনেক।
দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে ৪ পয়েন্টই যথেষ্ট—দক্ষিণ আফ্রিকার ব্রাজিলিয়ান কোচ কার্লোস আলবার্তো পাহেইরার ধারণাটা ঠিকই আছে। এবং সেই ৪ পয়েন্ট আজই নিশ্চিত করতে চাইছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কারণ গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। আজ ড্র হলেও উরুগুয়ের তেমন ক্ষতি নেই। শেষ ম্যাচটা তাদের মেক্সিকোর সঙ্গে। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে কোন দুটি দল যাবে, তার নির্ণায়ক না হলেও এই ম্যাচ স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার ভাগ্য অনেকটা লিখে ফেলতে পারে।
খারাপ কোনো রেকর্ডের পাশে নিজেদের নামটা লেখা হোক, সেটা কেউ চায় না। দক্ষিণ আফ্রিকা মুখিয়ে আছে এই ম্যাচ জিতে দ্বিতীয় রাউন্ডটা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলতে। ডিফেন্ডার সিবোনিসো সে কথাই বলছেন, ‘দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে চাইলে এই ম্যাচে অবশ্যই আমাদের জয় চাই।’
‘জয় চাই’, ‘জয় চাই’—দক্ষিণ আফ্রিকানরা এখন এই দুটি শব্দই জপে যাচ্ছে। এ জন্য অবশ্য নিজেদের আগের পরিকল্পনাটা বদলানোর প্রয়োজন দেখছেন না গোল করে প্রথম ম্যাচের নায়ক শাবালালা, ‘আমাদের কোনো পরিকল্পনাই বদলানোর দরকার নেই। কঠোর পরিশ্রম, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা—ওতেই চলবে।’ এএফপি।

দক্ষিণ আফ্রিকা-উরুগুয়ে
কাটলেগো এমফেলা
একবার তাঁকে গোলবঞ্চিত করেছিল সাইডবার, এ ছাড়া প্রথম ম্যাচে করতে পারেনি বলার মতো তেমন কিছু। দলের মূল স্ট্রাইকারের কাছে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রত্যাশা অনেক বেশি। দক্ষিণ আফ্রিকাকে জিততে হলে জ্বলে উঠতে হবে বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে পাঁচ ম্যাচে ছয় গোল করা স্ট্রাইকারকে।

লুইস সুয়ারেজ
আয়াক্স আমস্টারডামের হয়ে লুই সুয়ারেজের গোল স্কোরিং রেকর্ডটা চমকে দেওয়ার মতো, ৭৪ গোল করেছেন ৯৭ ম্যাচেই! মাত্র ২৩ বছর বয়সেই ডাচ ক্লাবটির অধিনায়ক তিনি। জাতীয় দলে ডিয়েগো ফোরলানের সঙ্গে মিলে গড়েছেন দারুণ এক স্ট্রাইকিং জুটি। প্রথম ম্যাচে গোল না পাওয়া উরুগুয়ে আজ তাকিয়ে এই জুটির দিকে।

ভয়ংকর দুই ‘ছোট ছেলে’ by আরিফুল ইসলাম

দুজনের ডাকনামের অর্থটা জানলে হয়তো প্রতিপক্ষরা বিশ্বাসই করতে চাইবেন না। বল পায়ে পেলেই দুজন যেমন ভয়ংকর হয়ে ওঠেন, কে-ই বা বিশ্বাস করবেন ফার্নান্দো তোরেসের ‘এল নিনো’ নামের অর্থ ‘ছোট্ট ছেলে’ আর ডেভিড ভিয়ার ‘এল গুয়াজে’ নামের অর্থ ‘বাচ্চা’!
বছর তিনেক ধরেই দুজনের যুগলবন্দিটা অসাধারণ। একজনকে ছাড়া আরেকজনকে মনে হয় অপূর্ণ। তা ছাড়া একসঙ্গে খেললে দুজনের কাজটাও বেশ সহজ হয়ে যায়। দুজনকে একসঙ্গে সামলানো অনেক সময় কঠিন হয়ে ওঠে প্রতিপক্ষের জন্য, একজন একটু বাড়তি সুযোগ পেয়েই যায়। ইনজুরির জন্য আজ যদি পাশে না থাকেন তোরেস, ভিয়ার কি মনটা একটুও খারাপ হবে না?
স্পেনের কোনো পজিশনেই অসাধারণ ফুটবলারের কমতি নেই, তবে এই দলকে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে রাখতে হয় ভিয়া আর তোরেসের জন্য। বিশ্ব ফুটবলের সেরা স্ট্রাইকারদের ছোট্ট তালিকাতেও অনায়াসে জায়গা হবে দুজনের। অনেক দিন ধরেই বিশ্বের সবচেয়ে ভীতি-জাগানিয়া স্ট্রাইকিং জুটি ভিয়া আর তোরেস। দুজনের বোঝাপড়াটাও দারুণ। শুনুন ভিয়ার মুখেই, ‘আমাদের জুটিটা অসাধারণ, দুজনেই দুজনের জন্য অনেক সুযোগ সৃষ্টি করে দেই। শুধু মাঠে নয় মাঠের বাইরেও আমাদের সম্পর্ক ভালো।’
একজন স্ট্রাইকারের যা যা থাকা দরকার—দুজনেরই আছে তার প্রায় সবটাই। মৌলিক জায়গাগুলোয় দুজনই প্রায় একই রকম। তবে তোরেসকে অনেকে সামান্য এগিয়ে রাখেন পরিপূর্ণ একটি প্যাকেজের জন্য। গতি, ক্ষিপ্রতা, সুযোগ সন্ধানের চোখ, নিখুঁত ফিনিশিং, দক্ষ হেড—সব মিলিয়ে তোরেস সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে পরিপূর্ণ স্ট্রাইকার। গোলরক্ষক ভাইকে দেখে ছেলেবেলায় হতে চেয়েছিলেন গোলরক্ষক। একবার গোলকিপিং করতে গিয়ে দাঁতও ভেঙে ফেললেন। এর পর মা ফ্লোরির আদেশে বদলালেন পজিশন। একসময়ের গোলরক্ষক এখন গোলরক্ষকদের আতঙ্ক। বয়স মাত্র ২৬, লিভারপুলে যোগ দিয়েছেন তিন বছরও হয়নি। এরই মধ্যে ঢুকে গেছেন ক্লাবের গ্রেটদের তালিকায়। বিদেশি ফুটবলার হিসেবে ইংলিশ লিগে প্রথম মৌসুমেই করেছেন রেকর্ড ২৪ গোল, গড়েছেন অল রেডদের হয়ে দ্রুততম ৫০ গোলের রেকর্ড।
স্পেনের হয়ে রেকর্ডটা এখনো ক্লাবের মতো চোখ-ধাঁধানো নয়, তবে ‘এল নিনো’ বড় মঞ্চের খেলোয়াড়। ২০০৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে করেছিলেন স্পেনের হয়ে সর্বোচ্চ ৭ গোল, পরে বিশ্বকাপেও ৪ ম্যাচে ৩ গোল। ২০০৮ ইউরোর ফাইনালে তাঁর গোলেই ৪৪ বছর পর বড় কোনো শিরোপা জিতেছে স্পেন। আজ খেলতে না পারলে পরের ম্যাচগুলোয় গোলক্ষুধা আরও বাড়বে, সন্দেহ নেই।
বিবেচ্য যদি হয় শুধু গোলসংখ্যা, বিশ্বসেরাদের একজন নয়, ভিয়াকে সরাসরিই বলতে হবে বিশ্বসেরা স্ট্রাইকার। স্পেনের হয়ে ৩৮ গোল এসেছে মাত্র ৫৮ ম্যাচে, ভ্যালেন্সিয়ার হয়ে ১০৮ গোল ১৬৬ ম্যাচে। সবচেয়ে বড় কথা, বর্তমান আন্তর্জাতিক ফুটবলে বিরল প্রজাতির একজন তিনি—নিখাদ স্ট্রাইকার। দারুণ সুযোগসন্ধানী চোখ আর নিখুঁত ফিনিশিং তাঁর বড় গুণ। স্পেনের সর্বকালের সেরাদের একজন রাউল গঞ্জালেস যে জাতীয় দলে শেষ ম্যাচ খেললেন ২৮ বছর বয়সেই, এ জন্য তো ‘দায়ী’ ভিয়াই! রাউলের নিজের করে নেওয়া ৭ নম্বর জার্সিটাও অনেক দিন ধরে ভিয়ার গায়ে। তোরেসের মতো তিনিও বড় মঞ্চে উজ্জ্বল। জার্মানিতে বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচেই করেছিলেন দুই গোল, তিন গোল করেছেন গত কনফেডারেশনস কাপে, গত ইউরোতে জিতেছেন গোল্ডেন বুট।
বিশ্বকাপেও গোল্ডেন বুট জয়েও বাজিকরদের ফেবারিট ভিয়া-তোরেস। বাজিকরদের অনুমানকে সত্যি করার জন্য এখন প্রার্থনায় বসতে পারে পুরো স্পেন। লড়াইটা এই দুজনের মাঝে হলে তো আর কিছু ভাবতেই হবে না স্পেনকে!

স্পেন-সুইজারল্যান্ড
ডেভিড সিলভা
তোরেস-ভিয়া-জাভিদের আড়ালেই পড়ে থাকেন বেশির ভাগ সময়, কিন্তু কার্যকরতায় ডেভিড সিলভা কম যান না কারও চেয়েই। গতি ও ক্ষিপ্রতা তাঁর সবচেয়ে বড় সম্পদ। সমান দক্ষ দুই উইংয়েই, প্রয়োজনে খেলতে পারেন মাঝখানেও। ছোটখাটো গড়নটা তাঁর সম্পর্কে ভুল বোঝাতে পারে, আচমকা গোল করে ফেলতে পারেন দূর থেকে।

ফিলিপ সেন্ডেরস
গত বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করার ম্যাচে গোল করেছিলেন, কিন্তু ওই ম্যাচেই নাক ভেঙে শেষ হয়ে গিয়েছিল বিশ্বকাপ। এভারটন ডিফেন্ডার ফিলিপ সেন্ডেরসকে আজ রাখতে হবে আরও সাহসী ভূমিকা, স্পেনের দুরন্ত আক্রমণের বিপক্ষে সুইস রক্ষণভাগে নেতৃত্ব দিতে হবে তাঁকেই।

জয়ে শুরু ব্রাজিলের

প্রথম আট মিনিটেই চারটি আক্রমণ। কিন্তু সবই নিষ্ফলা। শুধু এই আট মিনিটই নয়, ম্যাচের প্রায় পুরোটাই ব্রাজিলের একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করে গেছে উত্তর কোরিয়া। অবশেষে দ্বিতীয়ার্ধের দশম মিনিটে গোলের সামনের জট খুলে ফেললেন মাইকন। ৭২ মিনিটে স্কোর লাইনটাকে ২-০ বানিয়ে দিয়েছেন এলানো। ৮৯ মিনিটে জি উন-নাম শোধ করে দেন একটি গোল। ২-১-এ জয় নিয়ে ষষ্ঠ শিরোপার মিশন শুরু করেছে ব্রাজিল।
৪৪ বছর পর বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া ‘অচেনা’ উত্তর কোরিয়া ঘাবড়ে দিয়েছিল ব্রাজিলকে। ডাগ-আউটে দাঁড়িয়ে থাকা কোচ কার্লোস দুঙ্গার কপালে ভাঁজ ছিল স্পষ্ট। তবে ব্রাজিল শুরু থেকেই আক্রমণ চালিয়ে গেছে। যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে গোলের। অবশেষে ৫৫ মিনিটে ইন্টার মিলান ডিফেন্ডার মাইকনের পায়ে প্রথম গোল। ১৭ মিনিট পর মিডফিল্ডার এলানোর দ্বিতীয় গোল। কিন্তু ব্রাজিলিয়ানদের উত্সবে দুশ্চিন্তার ছায়া এনে দেন কোরিয়ান ডিফেন্ডার জি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য কোনো অঘটন নয়, যে অঘটনের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছে উত্তর কোরিয়া।