Sunday, February 7, 2016

কোলনে এবার লাইভ রিপোর্টিংয়ের সময় যৌন হয়রানির শিকার সংবাদিক

বর্ষবরণের সময় নারীদের যৌন হয়রানির পর আবারও জার্মানির কোলন শহরে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। আর এবারে এই যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন একজন নারী সাংবাদিক। শহরটিতে শুরু হওয়া বার্ষিক স্ট্রিট কার্নিভাল শুরু হলে তার সংবাদ প্রচার করতে গিয়ে তিনি এই হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসময় তিনি টিভিতে লাইভ রিপোর্টিং করছিলেন। এ খবর জানিয়েছে সিএনএন। এ বছরের শুরুতেই জার্মানির কোলন শহর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে বর্ষবরণের উৎসবে নারীদের যৌন হয়রানির ঘটনায়। শতাধিক নারী ওইদিন যৌন হয়রানির শিকার হন। এর মধ্যে কয়েকটি ধর্ষণের অভিযোগও রয়েছে। এরপর থেকেই শহরটিতে নারীদের যৌন হয়রানির ঘটনা রোধে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার ঘটে গেল এমনই আরেক ঘটনা। শহরটিতে ওইদিন শুরু হয় বার্ষিক স্ট্রিট কার্নিভাল নামের এক উৎসব। একে নারীদের উৎসব হিসেবেই অভিহিত করা হয়। বেলজিয়ামে সিএনএনের সহযোগী টিভি চ্যানেল আরটিবিএফের হয়ে এই উৎসবের খবর রিপোর্টিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন এসমেরালদা লেবি। টিভিতে লাইভ রিপোর্টিং করছিলেন তিনি। এমন সময় কেউ একজন তার উদ্দেশ্যে কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি করতে থাকে। লেবি জানান, একজন এসে আচমকা তার ঘাড়ে চুমু দিয়ে বসে। অন্য আরেকজন কানে কানে তাকে বাজে প্রস্তাবও দেয়। শেষ পর্যন্ত তার শরীরে হাতও দিয়ে বসে একজন। এরপর আর মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। টিভির লাইভ রিপোর্টিং চালিয়ে যেতে যেতেই তিনি তখন পিছনে ঘুরে তিন জনকে দেখতে পান। তাদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে তিনি ইংরেজিতে বলেন, ‘এটা আর দ্বিতীয়বার হতে দিব না। আমাকে স্পর্শ করবে না। আমাকে স্পর্শ করবে না।’ শহরজুড়ে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন থাকায় এমন জনবহুল একটি স্থানে পরিস্থিতি এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছে যাবে, তা ভাবেননি লেবি। আরটিবিএফ এই ঘটনার ভিডিও দ্বিতীয়বার প্রচার করবে না বলে জানিয়েছে। তাদের এক বার্তায় বলা হয়, ‘আমরা আমাদের সহকর্মী সাংবাদিকের প্রতি শ্রদ্ধা ও সমর্থন জানাই। একইসঙ্গে আক্রমণকারীদের প্রতি জানাই নিন্দা ও উষ্মা।’ টিভি চ্যানেলটির পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগও করা হয়েছে। আরটিবিএফ জানিয়েছে, এই ঘটনায় শহরটির মেয়রের কার্যালয় থেকে ক্ষমাপ্রার্থণা করা হয়েছে এবং লেবির প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে লেবির জন্য পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছে কোলন মেয়রের কার্যালয়। এদিকে এসমেরালদা লেবি জানিয়েছেন, তাকে হয়রানির ঘটনায় সংশ্লিষ্টরা ইউরোপিয়ান। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে বলে আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, ঘটনাটি যারা ঘটিয়েছে তারা জার্মান ভাষায় কথা বলছিল।’

‘দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন মোদি’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে গুরুত্বর এক অভিযোগ এনেছেন উত্তর প্রদেশের সিনিয়র এক মন্ত্রী আজম খান। তিনি বলেছেন, আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন মোদি। বড়দিনে পাকিস্তান সফর করেন নরেন্দ্র মোদি। তখন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের বাসভবনে ওই সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়। তবে আজম খানের এ অভিযোগ সরকার মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই। আজম খানের ওই বক্তব্যের জবাবে সরকারি এক মুখপাত্র বলেন, বিভিন্ন প্রেসে একটি বিবৃতিতে বলা হচ্ছে ২০১৫ সালের ২৫শে ডিসেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লাহোরে সাক্ষাত করেন নওয়াজ শরীফের সঙ্গে। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুম্বইয়ে সিরিজ বোমা হামলার প্রধান অভিযুক্ত দাউদ ইব্রাহিম। কিন্তু এই দাবি ভিত্তিহীন। এর স্বপক্ষে কোন প্রমাণ নেই। এমন বক্তব্য সম্পূর্ণই মিথ্যা। আজম খানের এ বক্তব্যের কারণে তার ওপর বিজেপি ক্ষুব্ধ হলেও বিরোধী দল কংগ্রেসও এমন বক্তব্যের মধ্যে কোন গুরুত্ব খুঁজে পাচ্ছে না। তারা বলছে, এমন অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য নয়। আজম খান অভিযোগ করেছেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান সফর করেছেন। তিনি সেখানে দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী কি তা অস্বীকার করবেন। আমি এর স্বপক্ষে প্রমাণ দেব। প্রধানমন্ত্রী রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কার সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন? আজম খান অভিযোগ করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের বাসভবনে ওই বৈঠকে নওয়াজ শরীফ ছাড়াও তার মা, স্ত্রী, মেয়েরা ও দাউদ ইব্রাহিম উপস্থিত ছিলেন। এমন অভিযোগের জবাবে মন্ত্রী আজম খানকে অবিলম্বে মন্ত্রিত্ব থেকে বরখাস্ত করতে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিজেপির নেতা সুধাংশু মিত্তাল। তিনি বলেন, অখিলেশ যদি রাজনীতি করতে চান তাহলে তার উচিত হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি নষ্ট করার কারণে, জাতির জন্য লজ্জা বহনকারী এই মন্ত্রীকে অবিলম্বে বরখাস্ত করা। তার বক্তব্যে আমি ভীষণভাবে হতাশ। ওদিকে কংগ্রেস মুখপাত্র টম বাদাখান বলেন, দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন আজম খান। তার উচিত হবে না অলিক কোন বিবৃতি দেয়া। তিনি বলেন, অনেক মানুষের সঙ্গেই আমাদের মতপার্থক্য থাকতে পারে। তাই বলে যা-ই বলা হবে আমাকে তা-ই বিশ্বাস করতে হবে এমন কোন কথা নেই।

সব ধর্মই নারী বিদ্বেষী- তসলিমা নাসরিন

বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন বলেছেন, সব ধর্মই নারী বিদ্বেষী। কেরালা সাহিত্য উৎসবে যোগ দিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। ২০০৫ সালের পর এই প্রথম তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লির বাইরে গেলেন। এ খবর দিয়ে অনলাইন দ্য হিন্দু লিখেছে, তসলিমা নাসরিন বলেছেন: সরকার থেকে ধর্মকে আলাদা রাখতে হবে। ধর্মের ওপর ভিত্তি করে আইন হওয়া উচিত নয়। ৭ম শতাব্দীর আইন এই একবিংশ শতাব্দীতে চলতে পারে না। আইন প্রণয়নে ধর্ম কিভাবে বাংলাদেশে মুসলিম ও হিন্দু নারীদের ওপর নিষ্পেষণ করে তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভারতে সমতার ভিত্তিতে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তাই সেখানে নারীদের অবস্থা তুলনামুলক ভাল। ভারতকে তিনি অসহিষ্ণু দেশ হিসেবেও মনে করেন না। তসলিমা বলেন, আমি মনে করি ভারতের বেশির ভাগ মানুষ একে অন্যের ধর্ম বিশ্বাসের প্রতি সহিষ্ণু। ভারতে অসহিষ্ণুতাকে সমর্থন করে না আইন। তা সত্ত্বেও ভারতে অনেক মানুষ আছেন, যারা অসহিষ্ণু আচরণ করেন। কেরালার কোজিকোড়িতে হচ্ছে এই সাহিত্য উৎসব। সেখানে লেখক কে শচিনানন্দের এক জিজ্ঞাসার জবাবে তসলিমা নাসরিন বলেন, কেন ভারতের ধর্ম নিরপেক্ষরা শুধু হিন্দু কট্টরপন্থিদের নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কেন মুসলিম কট্টরপন্থিদের নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে না।  তিনি বলেন, ভুয়া ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর ভিত্তি করে যে গণতন্ত্র তা মোটেও সত্যিকার গণতন্ত্র নয়। ভারতে প্রকৃতপক্ষে যে সংঘাত চলছে তা হলো ধর্মনিরপেক্ষ ও কট্টরপন্থিদের মধ্যে, নতুন ধ্যানধারণা ও পুরনো প্রথার মধ্যে, মানবতা ও বর্বরতার মধ্যে, স্বাধীনতার মূল্যবোধে বিশ্বাস করে এমন মানুষ ও এর বিপরীত অবস্থানের মানুষের মধ্যে। এ সময় তিনি দাদ্রিতে গরুর মাংস খাওয়া নিয়ে পিটিয়ে আখলাক নামে এক মুসলিমকে হত্যার নিন্দা জানান। এর প্রতিবাদে বুদ্ধিজীবিরা তাদের সম্মাননা ফিরিয়ে দেন। তসলিমা এমন ঐক্যবদ্ধ প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেন। বাংলাদেশে ভাল নারী লেখিকা না থাকায় তিনি অনুতাপ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের সাহিত্য জগতে প্রাধান্য বিস্তার করে আছেন পুরুষরা। তিনি বলেন, নারী লেখিকাদের উচিত হবে না পুরুষ লেখকের ভীতির কারণ হওয়া। তাদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। তাদের অনুভূতি ভিন্ন। নারীরা যদি তার নিজের সঙ্গে কথা বলেন তাহলে তারা বড় লেখিকা হতে পারবেন।

ব্রাজিলে উৎসব, রাজপথে স্বল্প বসনে যুবতী

জিকা ভাইরাস সতর্কতা থাকলেও উৎসবের দেশ ব্রাজিল এখন বর্ণিল। শুরু হয়েছে ৫ দিনের উৎসব। সাম্বার দেশ ব্রাজিলে তাই স্বল্প বসনে, অন্তর্বাস পরে, নানা সাজে রাজপথে নেমে এসেছেন তরুণী, যুবতীরা। এতে রাতের ব্রাজিল অন্য এক রূপ ধারণ করেছে। রাজা মোমোর প্রতি বাৎসরিক অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে এত বড় উৎসব আয়োজন করা হয়। এ উৎসব ভোগ করতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে সেখানে জমায়েত হয়েছে বিপুল সংখ্যক মানুষ। এর সূচনা করেন মেয়র এডুয়ার্ডো পায়েস। তিনি এ উপলক্ষে একটি স্বর্ণের চাবি তুলে দেন এবং সমবেতদের উদ্দেশ্যে প্রতিশ্রুতি দেন এবারের গ্লামারাস এই শো হবে ব্যতিক্রমী। নির্বাচিত ‘ড্যান্সিং কিং’ শুক্রবার ঘোষণা দিয়ে বলেন, খুব খুশির সঙ্গে জানাচ্ছি পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে সেরা উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করছি। আমাদের উৎসব হচ্ছে এক চমৎকার শহরে। উল্লেখ্য, এ উৎসবের সময় খুব ভোরের দিকে ব্রাজিলের রাজপথে দেখা যায় নগ্ন প্রায় নারীদের পদযাত্রা। এ সময় তারা নানা সাজে সজ্জিত থাকেন। সাও পাওলোতে যে প্যারেড হয় তাতে যোগ দেন কম করে হলেও ৫০ লাখ মানুষ। ব্রাজিলের সবচেয়ে বিখ্যাত ড্যান্সার কার্লিনহোস ডি জেসাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে শুরু হয় এ উৎসব। এমন মনোলোভা আয়োজন দেখতে হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ ঘটেছে ওই শহরে। জিকা ভাইরাস আতঙ্ককে তারা পিছনে ফেলে ছুটেছেন।

কথা নয়, ফাইল ফেরতের প্রত্যাশা প্রধান বিচারপতির

গণমাধ্যমে কথা না বলে অনিষ্পন্ন সব রায়ের ফাইল বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ফেরত দেবেন, সেই প্রত্যাশা করেছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।
অবসরের পর রায় লেখা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী রোববার সাংবাদিকদের কাছে নিজের বক্তব্য দেয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান বিচারপতির এই প্রত্যাশার কথা জানানো হয়।
সুপ্রিম কোর্টের ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকাজ চলাকালীন সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অবসরপ্রাপ্ত বিচারতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী একটি প্রেস কনফারেন্স করেন যা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির গোচরীভূত হয়। যদিও সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এ ধরনের প্রেস কনফারেন্স নজিরবিহীন। প্রধান বিচারপতি আশা করেন, বর্তমান ও ভবিষ্যতে মাননীয় বিচারপতিরা কোর্টের পবিত্রতা বজায় রাখার স্বার্থে এরূপ কার্য হতে বিরত থাকবেন।’
‘উক্ত বক্তব্য প্রধান বিচারপতির গোচরে এলে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারক বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করেন যে, সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী তার কাছে লিখিত রায় কিংবা আদেশ গ্রহণ করার জন্য জমা দেননি।’
‘বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি আশা করেন যে, সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মিডিয়াতে মামলার রায় ও আদেশ সংক্রান্ত কোনোরূপ বক্তব্য না দিয়ে তার নিকট যতগুলো অনিষ্পিত্তিকৃত রায়ের মামলার ফাইল রয়েছে তা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল অফিসে অতিস্বত্ত্বর ফেরত প্রদান করবেন, যাতে বিচারপ্রার্থীদের আর ভোগান্তি না হয়।’
এর আগে সকালে আপিল বিভাগের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক অবসরের পর তার লেখা পূর্ণাঙ্গ রায় ও আদেশ গ্রহণ করতে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়েছেন।
রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বরাবর লেখা এ চিঠি জমা দেন বলে বিচারপতি মানিক নিজেই সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
চিঠিতে বিচারপতি মানিক বলেন, ‘আমার প্রিজাইডিং জজ, মাননীয় বিচারপতি জনাব মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিয়াকে আমার লেখা সমাপ্ত হওয়া রায় ও আদেশগুলো গ্রহণ করার অনুরোধ করলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করে বলেন যে, মাননীয় প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে কোনো অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির লিখিত রায় ও আদেশ গ্রহণ করা যাচ্ছে না।’

তেলের সঙ্গে কোকেন- পাঁচ আসামির এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর

চট্টগ্রাম বন্দরে তেলের চালানে কোকেন শনাক্তের মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামির প্রত্যেকের এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আসামিরা হলেন চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খান জাহান আলী লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা, কসকো বাংলাদেশ শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপক এ কে আজাদ, পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান, সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মেহেদি আলম ও আবাসন ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল। র‍্যাবের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম নুরুল আলম মোহাম্মদ নিপু শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি খান জাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, তেলের চালানে কোকেন শনাক্তের মাদক মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‍্যাব-৭-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী দুই দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা র‍্যাব-৭-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী আজ বিকেলে বলেন, আগে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আসামি নূর মোহাম্মদসহ ছয় আসামিকে কয়েক দিনের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কারাগার থেকে নিয়ে যাওয়া হবে। কোকেনের গন্তব্য সম্পর্কে তাঁদের কাছ থেকে তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে।
আসামি গোলাম মোস্তফা ও মেহেদি আলমের আইনজীবী কাজী সানোয়ার আহমেদ বলেন, মামলাটি যখন নগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করেছিল তখনো আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। নতুন করে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা না থাকায় রিমান্ড বাতিলের আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালত তা নামঞ্জুর করে এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
গত বছরের ৬ জুন পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোকেন সন্দেহে চট্টগ্রাম বন্দরে সূর্যমুখী তেলের চালান জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। বলিভিয়া থেকে সূর্যমুখী তেলের এ চালানটি উরুগুয়ের মন্টিভিডিও বন্দর হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয় গত বছরের ১২ মে। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের খানজাহান আলী লিমিটেডের নামে চালানটি আনা হয়। চালানটি ধরা পড়ার পর প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ দাবি করেন, কেউ তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করেছে। এই পণ্য আমদানির সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা নেই। আমদানি করা তেলের চালানের ১০৭টি ড্রামের মধ্যে ২৭ জুন একটি ড্রামের নমুনায় কোকেন শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাসায়নিক পরীক্ষাগারসহ চারটি পরীক্ষাগারে তেলের চালানের দুটি ড্রামের (৯৬ ও ৫৯ নম্বর) নমুনায় কোকেন শনাক্ত করে। কোকেন জব্দের ঘটনায় চট্টগ্রামের বন্দর থানায় ২৭ জুন নূর মোহাম্মদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। তদন্ত শেষে ১৯ নভেম্বর গোয়েন্দা পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামি নূর মোহাম্মদকে বাদ দিয়ে লন্ডনপ্রবাসী দুই বাংলাদেশিসহ আটজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়। ৭ ডিসেম্বর আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ না করে র‍্যাবকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন।

‘বাজেট বাড়ালে নাটকের সমস্যা অনেক কমে যাবে’

টিভি নাটক ও চলচ্চিত্র, দুই মাধ্যমেই সমান আলোচিত জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোহানা সাবা। একসঙ্গে দুই জায়গায় নিয়মিত কাজও করছেন। কখনও নাটকে আবার কখনও চলচ্চিত্রে। বর্তমান ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আজকের ‘আলাপন’-এ কথা বলেছেন তিনি। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মারুফ কিবরিয়া
কেমন আছেন? কেমন চলছে সব?
ভালো আছি। কাজ করছি নিয়মিত। শুটিং, বাসা আর সংসার সামলানোÑ এই তো দিন যাচ্ছে। এর মধ্যে ভালো যতটা থাকা যায়।
এখনকার ব্যস্ততা কি?
খ- নাটকে নিয়মিত অভিনয় করছি। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি নাটকের শুটিং শেষ হয়েছে। আসছে ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে কিছু কাজ করলাম। দারুণ উপভোগ করেছি কাজগুলো করতে গিয়ে। আশা করছি দর্শকের ভালো লাগবে।
নতুন করে ধারাবাহিকে অভিনয়ও শুরু করেছেন...
আফসানা মিমির পরিচালনায় ‘ডলস হাউস টু : সাতটি তারার তিমির’ ধারাবাহিকে অভিনয় করছি। এছাড়া মুরাদ পারভেজের পরিচালনায় ‘রেডিও জকি ও কতিপয় গল্প’ ধারাবাহিকের কাজে হাত দিয়েছি। এর গল্প ভাবনা আমার।
ধারাবাহিকে তো মাঝে উপস্থিতি ছিলেন না অনেক দিন। কারণ কি?
টিভি নাটকে তো দুই বছর যাবৎ এভাবেই যাচ্ছে। কারণ, চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। যখন সময় হাতে থাকে তখনই করি। এছাড়া ধারাবাহিকে তেমন কাজ করা হয় না। আসলে ব্যাপারটা হলো ধারাবাহিকে অভিনয় করতে হলে আমাকে সময় দিতে হয়। তাই খুব একটা কাজ ইচ্ছা থাকলেও করতে পারি না।
আপনার পছন্দের জায়গা কোনটি? খ- না ধারাবাহিক?
অভিনয় করাটা আমার কাজ। আর সেটা যে কোনো ধরনের নাটকেই হতে পারে। আমি অভিনেত্রী হিসেবে সব ধরনের নাটকেই কাজ করি। যেহেতু ধারাবাহিকে সময় বেশি দিতে হয় তাই এখানে কাজ কিছুটা কমিয়ে করি। কারণ, আমাকে টিভি নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও সময় দিতে হয়।
এখনকার নাটক নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কি?
আসলে মূল্যায়ন করার মতো সময় বা পরিপক্বতা আমার হয়েছে কিনা জানি না। তবে এটুকু বলতে পারি, এখন ভালো নাটক নির্মাণ হচ্ছে। অনেক ভালো গল্প আসছে। কিন্তু একটা কারণে দর্শক পর্যন্ত নাটক পৌঁছানো যাচ্ছে না।
কি কারণ সেটা?
মাত্রাতিরিক্ত বিজ্ঞাপন। এর কারণে নাটকের দর্শক বিরক্ত। নাটক দেখা ছেড়ে দিয়েছেন বললেই চলে। বিদেশি চ্যানেলনির্ভর হচ্ছেন তারা। অবশ্য বিজ্ঞাপন না প্রচার হলে আবার চ্যানেলও অচল হয়ে যাবে। সবদিকেই সমস্যা। অবশ্য এ সমস্যার সমাধান আসতে পারে ভালো বাজেটের মাধ্যমে। নাটকে বাজেট বাড়ালে সমস্যা অনেক কমে যাবে।
নতুন একটি ছবিতে অভিনয় করছেন...
এ ছবিতে আমাকে অতিথি চরিত্রে দেখা যাবে। সে সঙ্গে একটি গানের দৃশ্যেও দর্শক দেখবেন আমাকে। এটি আসলে শিশুতোষ চলচ্চিত্র। তবে আমাকে তো নায়িকা হিসেবে অনেক ছবিতেই দর্শক দেখেছেন। এবার না হয় ভিন্নভাবে তাদের সামনে আসি। এ এক নতুন অভিজ্ঞতা বলতে পারেন।
কলকাতার একটি ছবিতেও অভিনয় করেছেন। সেটার কি খবর?
‘ষড়ঋপু’ নামের ওই ছবিটিই কলকাতায় আমার প্রথম কাজ। এটি জীবনের অন্য আরেক অধ্যায় বলতে পারেন। কলকাতার এ ছবিটিতে কাজ করতে গিয়ে দারুণ সব অভিজ্ঞতা হয়েছে। নির্মাতা, সহশিল্পী, সর্বোপরি পুরো শুটিং ইউনিট আমাকে বেশ সহযোগিতা করেছে। এর নতুন খবর হলো আগামী এপ্রিলে ছবিটি মুক্তি পাবে। তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে মুক্তির সব প্রস্তুতি নেয়া হয়ে গেছে।
‘দৌড়’ ছবির শুটিং শুরু হচ্ছে কবে?
ছবিটির কাজ শিগগিরই শুরুর কথা রয়েছে। সহশিল্পী থেকে শুরু করে আমাদের সব প্রস্তুতি নেয়া হয়ে গেছে। শুধু কাজ শুরুর অপেক্ষা। আমি ছাড়াও ঢাকাই ছবির অন্যতম নায়ক শাকিব খান, নায়িকা অপু বিশ্বাস ও কলকাতার ইন্দ্রনীল ছবিটিতে অভিনয় করবেন।
কাজের বাইরে অবসরটা কাটে কীভাবে?
আমরা যারা শোবিজে কাজ করি কেউই তো ফ্রি টাইম পাই না। তবে এর মধ্যে যতটুকু সময় হয় মুভি দেখি, বই পড়ি। আর মাঝে মাঝে ফেসবুক তো আছেই। এছাড়া বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডাও দিই কোনো কোনো সময়।
আপনার চলার পথে স্বামী মুরাদ পারভেজের অবদান কতটুকু?
মুরাদের সঙ্গে আমার বাস্তব জীবনের কেমেস্ট্রিটা যেমন, কাজের ক্ষেত্রে সেটা অনেকটাই আলাদা। কাজের জন্য তার কাছে কোনো ছাড় নেই। আর অনুপ্রেরণার কথা? সেটা শতভাগ। আমার ক্যারিয়ারে তার অনুপ্রেরণার কারণে এতদূর আসা সম্ভব হয়েছে। আমি কোনো কাজে সাহস না পেলে মুরাদ তা জুগিয়েছে।

প্রিয় আইনমন্ত্রী! প্রধান বিচারপতি হতাশ কেন? by গোলাম মাওলা রনি

প্রধান বিচারপতির সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের আইনমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়াটি আমার মোটেও ভালো লাগেনি। ভালো লাগেনি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের প্রতিক্রিয়াটিও। সরকারদলীয় উভয় নেতার বক্তব্যে মেধা-মননশীলতা ও রুচিবোধের কোনো বালাই ছিল না। তারা উভয়েই বিচারাঙ্গনের সিনিয়র সদস্য এবং একই সাথে রাজনীতিবিদও বটে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির পদ-পদবি ও মর্যাদা সম্পর্কে তারা আমজনতার চেয়ে অনেক বেশি ওয়াকিবহাল হবেন, এমনটি ধারণা করাই স্বাভাবিক। তারা আমাদের বিচারাঙ্গনের পবিত্রতা এবং সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে শিক্ষা দেবেন এবং সরকারদলীয় কর্তা হিসেবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটির অতন্দ্র প্রহরী হয়ে বেকুব ও নালায়েকদের বেবোধা কথাবার্তা, আচরণ ও কর্মকাণ্ড থেকে সংশ্লিষ্টদের হেফাজত করবেন। কিন্তু তারা যদি ব্যক্তি-গোষ্ঠী বা দলের স্বার্থ বিবেচনা করে উল্টো পথে চলেন, তবে আমজনতা হিসেবে দুয়েকটি প্রশ্ন করার এখতিয়ার আপনা-আপনিই পয়দা হয়ে যায়।
প্রধান বিচারপতি বলেছেন- অবসরে যাওয়ার পর রায় লেখা সংবিধানসম্মত নয়। দুনিয়ার কোথাও এমন নজির নেই। আমাদের দেশে দীর্ঘকাল ধরে এটি প্রথা হিসেবে চলে এলেও, বর্তমান প্রধান বিচারপতি তার আমলে অতীতের সেই প্রথাটিকে চালু রাখতে নারাজ। অবসরে রায় লেখা কেন এবং কিভাবে অসাংবিধানিক, তা-ও তিনি চমৎকারভাবে অতি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন, যা সাধারণ মস্তিষ্কের অল্প বুদ্ধি এবং বোধসম্পন্ন মানুষের বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। ফলে দেশের সাধারণ মানুষ প্রধান বিচারপতির বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে এবং একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে টেনে আনার জন্য সুধীসমাজ তাকে সাধুবাদ জানিয়েছে। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে অতি চালাক, স্বার্থপর ও দলকানা শ্রেণীর মানুষজনের জন্য। প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের পর সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নড়েচড়ে বসে। তারা বক্তব্যটিতে রাজনৈতিক রঙ লাগান এবং নিজেদের ইচ্ছেমতো বক্তৃতা-বিবৃতি দিতে থাকেন। অনেকে আবার প্রধান বিচারপতিকে টুকটাক খোঁচাও দিতে শুরু করেন।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো প্রধান বিচারপতির বক্তব্যকে একটি বিচারিক রায়ের মর্যাদায় উন্নীত করে বলতে থাকেন, সর্বনাশ হয়ে গেছে। সরকার অবৈধ হয়ে গেছে- প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের পর সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অবৈধ হয়ে গেছে। কারণ, ওই মামলার চূড়ান্ত রায় লিখেছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক তার অবসরে যাওয়ার বহু দিন পর। কিছু অনলাইন পত্রিকা হাল আমলের টকশোজীবী এবং বড়গলায় কথা বলা বিতর্কিত লোকজন ঘটনার গভীরে না ঢুকেই উল্টাপাল্টা বক্তব্য দিয়ে পুরো বিষয়টিকে রাজনীতিকীকরণ করে ফেলেন এবং বক্তব্যদাতা প্রধান বিচারপতিকে বিব্রত করতে থাকেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যাতে সন্দেহপ্রবণ লোকজন প্রপাগান্ডা চালানোর সুযোগ পান এই বলে যে- দেশের আপাত শান্ত রাজনীতি প্রধান বিচারপতির কারণে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ মন্তব্য শুরু করেন, তিনি কোন এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এই সময়ে হঠাৎ করে এমন একটি উদ্ভট কথা বললেন? তিনি কি সরকারের প্রতি বিরূপ ধারণা পোষণ করেন? প্রধান বিচারপতির চেয়ারে বসে এস কে সিনহার সাক্ষ্য সব প্রগাগান্ডার সমুচিত জবাব দেয়া সম্ভব ছিল না। তিনি শুধু ইঙ্গিতে নিজের মনোভাব বোঝানোর জন্য কোনো একটি অনুষ্ঠানে বললেন- পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দশজন বুদ্ধিজীবীর মধ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী অন্যতম।
বিরোধী দলগুলো যখন প্রধান বিচারপতির বক্তব্যকে তাদের প্রয়োজনে রাজনৈতিক রঙ মাখিয়ে নিজ নিজ দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রচার করে যাচ্ছিল, তখন সরকারের উচিত ছিল বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করা। এটা করা মোটেও কঠিন ছিল না। আমার মতো স্বল্পজ্ঞানের একজন আইনের ছাত্রকে যদি দায়িত্ব দেয়া হতো তাহলে আমি বিষয়টিকে এমনভাবে মোকাবেলা করতাম, যাতে প্রধান বিচারপতির সম্মান অক্ষুণ্ন থাকত এবং বিরোধী দলগুলোও চুপ হয়ে যেত। সরকারি দল স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় না এগিয়ে উল্টো প্রধান বিচারপতিকে আক্রমণ করে বসে। অ্যাটর্নি জেনারেল প্রথমে বলেন- এটা প্রধান বিচারপতির ব্যক্তিগত বক্তব্য। এর সাথে আইন-আদালত ও সুপ্রিম কোর্টের কোনো সম্পর্ক নেই। পরে তিনি আবার বলেন- অবসরে গিয়ে রায় লেখা অবশ্যই সংবিধানসম্মত। সরকারি মদদপুষ্ট উকিল নেতারা এলোমেলো পেঁচানো বক্তব্য দিতে আরম্ভ করেন অনেকটা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হিং টিং ছট্ কবিতার মতো করে। আইনমন্ত্রী বলেন- প্রধান বিচারপতি ব্যক্তিগত হতাশা থেকে এ কথা বলেছেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আরো একধাপ এগিয়ে প্রধান বিচারপতিকে নসিয়তের সুরে বলেন- মুখে লাগাম দিন!
আমি সেনগুপ্ত বাবুর বক্তব্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যাবো না। কারণ, মুখে লাগাম দেয়ার পরামর্শটি অত্যন্ত অবমাননাকর। লাগাম শব্দটি মানুষের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা মোটেও রুচিসম্মত এবং বিবেচনাপ্রসূত নয়। কাজেই ওদিকে না গিয়ে আমরা বরং আইনমন্ত্রীর বক্তব্যটি পর্যালোচনার চেষ্টা করি। এ ক্ষেত্রে আমার প্রথম প্রশ্ন- প্রধান বিচারপতি কেন হতাশ হবেন?
দ্বিতীয়ত, আইনমন্ত্রী কি দেশের প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন কিংবা দেয়ার এখতিয়ার রাখেন? আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধি মতে, আইনমন্ত্রী সরকারকে খুশি করতে গিয়েই কথাগুলো বলেছেন, যা প্রকারান্তরে তার নিজের বিরুদ্ধে চলে গেছে। এ বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা অনুধাবনের জন্য প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের কিয়ৎ আগেকার কিছু ঘটনা উল্লেখ করা প্রয়োজন।
পত্রিকায় দেখলাম- প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে তার অফিসে ডেকে নিয়ে বলেছেন, বিচারাঙ্গনে অস্থিরতা চলছে। মূলত বিচারকবৃন্দের বেতনভাতা, নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও স্বাধীনতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এবং মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরেই বিভিন্ন বিষয়ে মতানৈক্য চলে আসছিল। সুপ্রিম কোর্ট চাচ্ছেন বিখ্যাত মাজদার হোসেন মামলার রায় মোতাবেক সব ক্ষমতা তাদের হাতে ন্যস্ত থাকুক। অন্য দিকে, সরকারের নির্বাহী বিভাগ, অর্থাৎ মন্ত্রণালয় কিছুতেই তাদের ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি নয়। এ দিকে অন্য একটি মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জেলা জজদের বেতন ও পদবি নির্ধারণ করে দেন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়কে সেই রায় বাস্তবায়নের নির্দেশ পাঠান। গত কয়েক বছরে বহুবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও সুপ্রিম কোর্টের সেই রায় বাস্তবায়নে অর্থ মন্ত্রণালয় কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সুপ্রিম কোর্টের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যয়, বেতনভাতা ও বিচারপতিগণের চিকিৎসা এবং আবাসন সঙ্কট নিয়ে অতীতে সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রার অফিস এবং আইন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বহু দেনদরবার হলেও কোনো ইতিবাচক সুরাহা হয়নি। দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা বিরোধীয় বিষয়ের সাথে সাম্প্রতিককালে যুক্ত হয়েছে নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলিসংক্রান্ত জটিলতা, যা নিয়ে প্রধান বিচারপতি রীতিমতো বিব্রত অবস্থায় রয়েছেন।
উপরিউল্লিখিত বিষয়গুলোর বাইরে বিচারপতি সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের নানা কর্মকাণ্ড, কথাবার্তা এবং উৎসাহ-উদ্দীপনা পুরো বিচারাঙ্গনকে অস্থির করে তুলেছে। বিচারপতি চৌধুরী নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত এবং কারো কারো কাছে অতীব বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। সরকারবিরুদ্ধ দল-গোষ্ঠী তাকে কট্টর সরকারপন্থী একজন রাগ চণ্ডাল মানুষ হিসেবে জানে। সরকারি দলে তাকে নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতারা প্রায়ই অভিযোগ করেন তার বিরুদ্ধে এবং একান্তে প্রশ্ন তোলেন- কে এই মানিক? সরকারের কার সাথে তার পরিচয়, তার ক্ষমতার উৎস কী ইত্যাদি। নবম সংসদের তৎকালীন স্পিকার এবং বর্তমানের রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে বিচারপতি মানিকের কিছু মন্তব্য সারা দেশে ঝড় তুলেছিল। স্পিকারসহ পুরো জাতীয় সংসদ এবং আওয়ামী ঘরানার তাবৎ রাজনীতিবিদ-বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক একসাথে সমস্বরে চিৎকার-চেঁচামেচি করার পরও বিচারপতি চৌধুরীর যখন কিছু হয়নি, তখন সারা দেশের সাধারণ মানুষের মতো বিচারপতি স্বয়ং হয়তো ভেবেছেন- তিনি সত্যিকার অর্থেই সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী একজন মহা ক্ষমতাধর ব্যক্তি।
বিচারপতি মানিক যখন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে দায়িত্বরত ছিলেন, তখন বিভিন্ন মামলা রিট এবং আদালতের স্যুয়োমেটো রুলের ক্ষমতার প্রয়োগ দেখিয়ে তিনি কয়েক দিন পর পরই সারা দেশে হইচই ফেলে দিতেন। সচিব থেকে চাপরাশি, আইজি থেকে চৌকিদার- সবাই বিচারপতি মানিক আতঙ্কে দিনরাত দুঃস্বপ্ন দেখতেন। রাস্তায় কোনো বিচারপতির গাড়ি দেখামাত্র দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ-জনগণ সন্ত্রস্ত হয়ে ভাবত- ওই বুঝি মানিক এসে গেলেন। তিনি যে দিন আপিল বিভাগে পদোন্নতি পেলেন, সে দিন সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্তাদের ভীতু অংশটি হাঁফ ছেড়ে বাঁচল এবং পণ্ডিত প্রকৃতির লোকজন সমীকরণ খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে গেল, কেন বিচারপতি মানিককে আপিল বিভাগে স্থান করে দেয়া হলো।
বিচারপতি মানিকের ইদানীংকালের কথাবার্তায় মনে হচ্ছে, তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজটি কাক্সিক্ষত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাপক ঝুঁকি নিয়েছিলেন। এ কারণে তিনি কয়েকবার শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার পরও দমেননি, বরং দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গিয়েছেন। তার এই এগিয়ে যাওয়ার পেছনে কী ধরনের স্বার্থ বা ব্যক্তিগত ইচ্ছে-আকাক্সক্ষা ছিল, তা হয়তো তিনি নিজেই ভালো বলতে পারবেন। আমরা সাধারণ মানুষ সব সময়ই ভেবেছি- তিনি মহা ক্ষমতাধর ব্যক্তি, যার অঙ্গুলি হেলনে পুরো বিচারাঙ্গন কেঁপে ওঠে। কিন্তু তিনি যে তা নন এবং তিনিও যে ক্ষমতাহীন অবাঞ্ছিত হয়ে অপমানকর সময় পার করছেন, তা তিনি নিজেই লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে পুরো জাতিকে জানালেন। চিঠিতে তিনি নজিরবিহীনভাবে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে কিছু গুরুতর অভিযোগ আনলেন এবং নিজের বক্তব্যের ব্যাপারে জনমত সৃষ্টির জন্য প্রধান বিচারপতির একটি একান্ত ব্যক্তিগত টেলিফোন সংলাপ সরকারপন্থী বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ৭১ টিভিতে বিরতিহীনভাবে কয়েক দিন ধরে ঢালাওভাবে প্রচারের ব্যবস্থা করলেন। সারা দেশে শুরু হলো নতুন বিতর্ক, নবতর তোলপাড় এবং মহলবিশেষের তির্যক টিটকারি।
সুপ্রিম কোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে ৭১ টিভির কর্তৃপক্ষকে আদালতে তলব করলেন, কিন্তু শেষ অবধি দৃষ্টান্তমূলক কিছু না ঘটার কারণে আপাতদৃষ্টিতে বিচারপতি মানিকের সফলতা ফুটে উঠল। এরই মধ্যে তিনি অবসরে চলে গেলেন এবং প্রধান বিচারপতি তার অবসর সময়ের রায় লেখার ব্যাপারে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন। বিচারপতি মানিক প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্তে বিক্ষুব্ধ হলেন এবং এ ব্যাপারে অতীতের প্রথা এবং নিজের অধিকার বর্ণনা করে প্রধান বিচারপতি বরাবরে পত্র লিখলেন। এই পত্রের অনুলিপি সব মিডিয়ায় প্রকাশিত হলো এবং জনাব মানিক নিজের পক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্য কয়েকটি সরকারসমর্থক টিভির কট্টর সরকারি তাঁবেদার টকশো উপস্থাপকের মাধ্যমে রোজ রাতে টিভি টকশোতে অংশ নিতে শুরু করলেন। চার দিকে শুরু হলো নতুন কানাঘুষা, নতুন বিতর্ক এবং একই সাথে অস্থিরতা। এ অবস্থায় প্রধান বিচারপতি জনাব মানিকের অবসরকালীন সময়ে রায় লেখা নিয়ে মন্বব্য করতে বাধ্য হলেন। উপরিউল্লিখিত অবস্থায় সরকারের উচিত ছিল, গোপনে প্রধান বিচারপতির সাথে বসে একটি সম্মানজনক নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া। অন্য দিকে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য নিয়ে সৃষ্টি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কগুলো রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার উদ্যোগ নেয়া। কিন্তু সরকার সে দিকে না গিয়ে যা করল তাতে এক দিকে যেমন সুপ্রিম কোর্টের মানমর্যাদা ক্ষুণ্ন হলো, অন্য দিকে নিজেদের দৈন্য প্রকাশ করে দিলো। আইনমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়ার মোদ্দাকথা হলো- প্রধান বিচারপতি যা বলেছেন তা হয়তো ব্যক্তিগত হতাশা এবং বিচারপতি মানিকের সাথে পেরে না ওঠার ব্যর্থতার গ্লানি থেকে বলেছেন। আইনমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে এ কথাও প্রমাণিত হয়, বিচারপতি মানিক অবসরে গিয়েও রায় লিখতে পারবেন, যা প্রথা অনুযায়ী আইনগতভাবে বৈধ। অবসরে রায় লেখার বিষয়টি পৃথিবীর কোথাও নেই এবং এটি বাংলাদেশের সংবিধানের পরিপন্থী- প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্যও আইনমন্ত্রীর কথায় পাল্টা চ্যালেঞ্জে পড়েছে, যা সার্বিক বিবেচনায় সরকারের বিপক্ষে যাবে।
আইনের একজন সাধারণ ছাত্র হিসেবে আমার মনে হচ্ছে, প্রধান বিচারপতির বক্তব্যই সঠিক এবং বিরুদ্ধবাদীরা জেনে-শুনে ভ্রান্ত ধারণা প্রচার করছেন। প্রথা অনুসরণের ধারণাটি এসেছে ব্রিটিশ কমন ল থেকে। কোন কোন ক্ষেত্রে প্রথা অনুসরণ করা যাবে এবং কোন ক্ষেত্রে বিধিবদ্ধ আইনের কারণে প্রথা অনুসরণ করা যাবে না, তাবৎ দুনিয়ায় মোটামুটি সেটেলড হয়ে গেছে। কোনো প্রথা অনুসরণ করতে গিয়ে যদি বিধিবদ্ধ কোনো আইনের ব্যত্যয় হয়, তাহলে অবশ্যই সেই প্রথাটির আইনগত অগ্রাধিকার সৃষ্টি হয় না। বিচারপতিগণের শপথ, অবসরে যাওয়ার পর শপথের বাধ্যবাধকতা না থাকা এবং রাষ্ট্রীয় নথির গোপনীয়তাসংক্রান্ত আইনের কারণে অবসর সময়ে রায় লেখা বিধিসম্মত নয়। অন্য দিকে বিষয়টি একেবারেই সংবিধানসম্মত নয়। সংবিধানের কোথাও লেখা নেই যে- অবসরে গিয়ে রায় লেখা যাবে না, এই যুক্তিতে বিষয়টিকে সংবিধানসম্মত বলা যাবে না, কারণ সংবিধানে এ কথাও লেখা নেই যে, অবসরে বসে রায় লেখা যাবে। সংবিধানের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ও রাষ্ট্র, রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা এবং বিচারপতিগণের কার্যকাল সম্পর্কিত ধারাগুলো বিশ্লেষণ করলে অবসরে রায় না লেখার ব্যাপারে একাধিক নির্দেশনা বের করা যাবে। কিন্তু পুরো সংবিধান তন্ন তন্ন করে খুঁজেও একটি অন্তর্নিহিত নির্দেশনা বের করা যাবে না, সেটার বলে বলীয়ান হয়ে বলা যাবে যে, অবসরে বসে যত দিন ইচ্ছে তত দিন সময় নিয়ে আদালতের পুরো নথি নিজগৃহে এনে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তার কার্যকালীন মামলার রায় লিখতে পারবেন এবং আদালতের এজলাসের পরিবর্তে আদালতের সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে পুরো জাতির উদ্দেশ্যে রায়সংক্রান্ত বয়ান পেশ করতে পারবেন।

আইএসের সঙ্গে মিত্রতা আছে ৩৪টি গ্রুপের

কট্টরপন্থি গ্রুপ ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে মিত্রতা রয়েছে বিশ্বের ৩৪টি গ্রুপের। মধ্য ডিসেম্বর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসব গ্রুপ ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর প্রতি তাদের মিত্রতা থাকার কথা বলেছে। এ সংখ্যা এ বছর শুধুই বাড়তে থাকবে। শুক্রবার এক রিপোর্টে এ কথা বলেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। তিনি বলেন, ফিলিপাইন, উজবেকিস্তান, পাকিস্তান, লিবিয়া ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলো থেকে আইএস সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলো হামলা বাড়াতে পারে। এ জন্য জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে প্রস্তুত থাকবে হবে। তিনি বলেন, পশ্চিম ও উত্তর আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় আইসিল তাদের কর্মকা- বিস্তৃত করেছে। এতে গত ১৮ মাসে তাদের হুমকির ব্যাপকতা প্রকাশ পেয়েছে। বান কি মুন বলেন, বিশ্বে সবচেয়ে সম্পদশালী সন্ত্রাসী সংগঠন হলো আইএস। ২০১৫ সালে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তেল ও তেলজাত পণ্য থেকে এই গ্রুপটি সংগ্রহ করেছে ৪০ কোটি থেকে ৫০ কোটি ডলার। ইরাকে জাতিসংঘ মিশনের মতে, আইএসের নিয়ন্ত্রণে যেসব প্রদেশে বিভিন্ন ব্যাংক আছে তা থেকে তারা অর্থ উত্তোলন করেছে ১০০ কোটি ডলার। আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ট্রাক প্রবেশের ক্ষেত্রে যে চাঁদা আদায় করা হয়েছে তা বছরে প্রায় ১০০ কোটি ডলার। কট্টরপন্থি জঙ্গি এই সংগঠনটি দু’বছর আগে সিরিয়া ও ইরাকের বিপুল পরিমাণ সম্পদ নিজেদের আয়ত্তে নিয়েছে। এ সংগঠনটি এ দুটি দেশেই তাদের উপস্থিতি ও বিস্তার বাড়াচ্ছে।

সন্ত্রাসী তৎপরতার কারণে ১২৫০০০ টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ

সন্ত্রাসী তৎপরতা পরিচালনার অভিযোগে মাইক্রোব্লগিংয়ের জনপ্রিয় সাইট টুইটারের ১ লাখ ২৫ হাজারেরও বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া বেশিরভাগ অ্যাকাউন্টই আইএসের সাথে সংশ্লিষ্ট। টুইটারের এক ব্লগে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। খবরে বলা হয়েছে, সোয়া লাখেরও বেশি অ্যাকাউন্ট থেকে সন্ত্রাসী হুমকি প্রদান ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর রেকর্ড পেয়েছে টুইটার কর্তৃপক্ষ। আর এর প্রেক্ষিতেই গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে এসব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। টুইটারের নীতিমালা সম্পর্কিত এক ব্লগে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘চরমপন্থী দলগুলোর নৃশংসতায় বিশ্বের সব মানুষের মতো আমরাও আতঙ্কিত। টুইটারকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর নিন্দা জানাই আমরা। টুইটারের নীতিমালায় এটা স্পষ্ট যে টুইটার ব্যবহার করে এই ধরনের তৎপরতা বা যেকোনো ধরনের সহিংসতা পরিচালনার কোনো নিয়ম নেই।’ যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বেশকিছু দেশের সরকারই সাম্প্রতিক সময়ে এই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এসব মাধ্যম ব্যবহার করে যাতে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো কোনো সহিংসতার পরিকল্পনা না করতে পারে বা নিজেদের সদস্য নিয়োগ না করতে পারে, সে বিষয়ে নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন রাষ্ট্র। টুইটারের বক্তব্য অনুযায়ী তাদের নীতিমালাতেই এই বিষয়গুলোর অনুমোদন নেই। তবে এসব কর্মকা- শনাক্তের সহজ রাস্তা নেই জানিয়ে টুইটার লিখেছে, ‘বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য কোম্পানি যেমন বলেছে, অনলাইনে সন্ত্রাসী তৎপরতা শনাক্তের জন্য কোনো ‘ম্যাজিক অ্যালগরিদম’ নেই। ফলে সীমিত তথ্য ও নির্দেশনার ভিত্তিতে কাজ করা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও আমরা এই ক্ষেত্রে আমাদের নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করে যাব। একইসঙ্গে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাগুলোর সহায়তায় অনলাইনে সন্ত্রাসী তৎপরতা নির্মূলের টেকসই সমাধান বের করতেও কাজ করব।’ উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের মার্চে ফেসবুকও তাদের নীতিমালায় কিছু পরিবর্তন আনে, যাতে করে ফেসবুক ব্যবহার করে কেউ সন্ত্রাসী তৎপরতা পরিচালনা না করতে পারে।

বাবরি মসজিদ ধ্বংস: আদভানির বিরুদ্ধে মামলা করবে হিন্দু মহাসভা

অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙার ২৩ বছর পর এ নিয়ে বিজেপির সিনিয়র নেতা এল কে আদভানির বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময় অযোধ্যায় অবস্থান করছিলেন বিজেপির নেতা মুরলি মনোহর যোশী ও উমা ভারতী। তাদের বিরুদ্ধেও মামলা করার কথা বলেছে হিন্দু মহাসভা। তারা বলেছে, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময় সেখানকার অবকাঠামোর ভিতর রামের একটি মূর্তি ছিল গম্বুজের নিচে। মসজিদ ধ্বংসের সময় তাও ভেঙে ফেলা হয়েছে। রামের মূর্তি ধ্বংসকে রাম মন্দির ধ্বংস বলে অভিহিত করছে হিন্দু মহাসভা। অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভার ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট স্বামী চক্রপানি বলেছেন, ওই গম্বুজটি ছিল প্রভু রামের আশীর্বাদ। এটা সবাই মানেন। তা সত্ত্বেও বিজেপির নেতারা ওই অবকাঠামো ভেঙে ফেলায় ইন্ধন দেন। বাবরি মসজিদের একাংশে মুসলিমরা নামাজ আদায় করতেন। এ অংশ গম্বুজের আওতায় ছিল না। তা সত্ত্বেও পুরো অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। এর অর্থ হলো তারা একই সঙ্গে মসজিদ ও মন্দির দু’টিই ভেঙে ফেলেছে। এ জন্য তাদেরকে শাস্তি পেতে হবে। তারা হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তারা মন্দিরকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে ফেলেছেন। হিন্দু মহাসভার এই নেতা আরও বলেন, মুসলিম ভাইদের সহায়তা ছাড়া বিতর্কিত ওই স্থানে মন্দির নির্মাণ করা সম্ভব নয়। তাই মুসলিমদেরকে একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য আলাদা জমি দেয়া উচিত সরকারের।

উত্তর কোরিয়ার রকেট উৎক্ষেপণ, উত্তেজনা, নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান

উত্তর কোরিয়া দূর পাল্লার একটি রকেটের পরীক্ষা চালিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, নিষিদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির পরীক্ষা এটি। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র সজ বিভিন্ন দেশ। তারা একই সঙ্গে আজ দিনশেষে জরুরি ভিত্তিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক আহ্বান করেছে। তবে আগেভাগেই উত্তর কোরিয়া জাতিসংঘকে এ বিষয়ে জানিয়েছিল। তারা বলেছিল, পৃথিবীতে পর্যবেক্ষণ চালাতে পারে এমন একটি স্যাটেলাইট তারা পাঠাবে পৃথিবীর কক্ষপথে। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি বলছে, উত্তর কোরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি ঘাঁটি থেকে ওই রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছে এবং তা উড়ে গেছে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ওকিনাওয়ার ওপর দিয়ে।  উত্তর কোরিয়া বলছে, বৈজ্ঞানিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণার জন্য তাদের মহাকাশ বিষয়ক কর্মসূচি। কিন্তু তাতে বিশ্বাস করতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, এমনকি মিত্র চীন। তারা মনে করছে, এই রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে ব্যাপক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বহনের পরীক্ষা, যে ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত করতে সক্ষম। গত ৬ই জানুয়ারি উত্তর কোরিয়া চতুর্থ পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালিয়েছে। তখন থেকেই এ বছর আন্তর্জাতিক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে দেশটি। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী ১৬ই ফেব্রুয়ারি উত্তর কোরিয়ার স্বৈরশাসক প্রয়াত কিম জং ইলের জন্মদিন। সেই দিনটিকে সামনে রেখে তারা ওই পরীক্ষা চালিয়ে থাকতে পারে। তবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এ পরীক্ষাকে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, এটা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিয়মনীতির পরিষ্কার লঙ্ঘন। এ পরিষদের প্রস্তাবনায় উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অথবা ব্যাপক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুসান রাইসও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার ব্যাপক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ব্যবহার পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তোলার একটি পদক্ষেপ এবং এর মধ্য দিয়ে প্ররোচণা দেয়া হচ্ছে। তাদের মিসাইল ও পারমাণবিক কর্মসূচি আমাদের স্বার্থের জন্য মারাত্মক হুমকি। বিশেষ করে আমাদের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের নিরাপত্তার জন্য তো বটেই।  এ বিষয়ে এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মতামত জানতে চাওয়া হয়। জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণনিক ইস্যু নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করতে তিনি চীনের সঙ্গে কাজ করবেন। চীনকে এ সমস্যা সমাধান করতে দিন। তারা দ্রুততার সঙ্গে তা করতে পারবে। উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে আমাদের এটাই করা উচিত। উত্তর কোরিয়া গত বছর মে মাসে ঘোষণা দেয় যে, প্রথমবারের মতো তারা সাবমেরিন চালিত একটি মিসাইলের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে তারা তিন স্তরের রটেক উৎক্ষেপণ করে। বলা হয়, সফলতার সঙ্গে তা পৃথিবীর কক্ষপথে একটি স্যাটেলাইট স্থাপন করেছে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিষয়ক কর্মকর্তারা। ২০১২ সালের এপ্রিলে তিন স্তরের একটি রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়। তবে তা উৎক্ষেপণের পর পরই বিস্ফোরিত হয়ে সমুদ্রে পড়ে। ২০০৯ সালের এপ্রিলে একই রকম একটি রকেট উৎক্ষেপণ করে। উত্তর কোরিয়া দাবি করে তা সফল হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলে এ পরীক্ষা ব্যর্থ হয়েছে এবং রকেটটি সমুদ্রে পতিত হয়েছে। ২০০৬ সালের জুলাইয়ে উত্তর কোরিয়া দীর্ঘ পাল্লার টাইপোডং-২ মিসাইল পরীক্ষা চালায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলে, মিসাইলটি উৎক্ষেপণের অল্প সময়ের মধ্যে সে পরীক্ষা ব্যর্থ হয়ে যায়।

সিরিয়ার শরণার্থীদের জন্য সীমান্ত খুলে দিতে তুরস্ককে অনুরোধ ইইউ’র

সীমান্তে আটকে পড়া সিরিয়ার হাজার হাজার শরণার্থীকে আশ্রয়ের জন্য সীমান্ত খুলে দেয়ার জন্য তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সিরিয়ার আলেপ্পোতে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের ফলে ৩৫ হাজারেরও বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটে গিয়েছে তুরস্ক সীমান্তের কাছে কিলিস এলাকায়। সেখানে গিয়ে তারা আটকা পড়েছে। কারণ, তুরস্ক তাদের জন্য সীমান্ত খুলে দেয় নি। এরই প্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মঘেরিনি বলেন, আইনগত না হলেও এসব মানুষকে রক্ষা করা একটি নৈতিক দায়িত্ব। জবাবে তুরস্ক বলেছে, সিরিয়ার ভিতরেই খাদ্য ও আশ্রয় পাচ্ছে ওই শরণার্থীরা। তাদের জন্য তুরস্কের সীমান্ত খুলে দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই। নভেম্বরে তুরস্কের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তাতে বলা হয়, তুরস্কের মাটিতে সিরিয়ার শরণার্থীদের দেখাশোনার জন্য তাদেরকে ৩০০ কোটি ইউরো দেয়া হবে।

‘ক্রিকেট উজ্জ্বল দিগন্তে বাংলাদেশ’ by অধ্যাপক রায়হান আহমেদ

একটা ভালো খবর দিয়েই শুরু করি বর্তমান ক্রিকেট শিল্পের কথা।  বেড়ে ওঠা ইংল্যান্ডে তবে রক্তে কিন্তু তিনিই বাঙালি। আর এই বাংলার এই নারী খুব সম্ভবত ইংল্যান্ডের মেয়েদের ক্রিকেট দলের জার্সিও গায়ে চাপিয়ে ফেলবেন সেদিকেই হাঁটছেন তিনি। তিনি হলেন ভারতের পশ্চিম বঙ্গের মিকি চৌধুরী। বয়স মাত্র পনেরো আর এই বয়সে তিনি এসেক্সের  মেয়েদের অনূর্ধ সতেরো দলের নেতৃত্ব পেয়ে গেলেন। তার বাবাও একজন ভালো ক্রিকেটার ছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে তিনি নাকি জাতীয় দলে সুযোগ পাননি, তাই আশাও পুরণ হয়নি তবে তার সেই আশা তার মেয়েকে দিয়ে পুরণ করলেন। বৃটেন প্রবাসী আমাদের  কমিউনিটির সকল অবিভাবকদের প্রতি বিনীত অনুরোধ থাকবে আপনারা আপনাদের সন্তানদের কে খেলা ধুলার প্রতি মনোযোগি রাখতে সচেষ্ট থাকবেন। মনে রাখবেন খেলা ধুলায় মানুষকে সু পথ দেখায় এবংশরীর সুস্থ রাখতে সহায়ক ও বটে। এবার আমার জিজ্ঞাসা হচ্ছে ইংল্যান্ডে বৃটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রিকেট নেতৃত্বে যারা কাজ করছেন বা আছেন তাদের মধ্যে থেকে তেমন উল্লেখযোগ্য কোন ভুমিকা আমরা দেখতে পাচ্ছি না বিধায় আমাদের ছেলে মেয়েদের কোন অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না। আমার মনে হচ্ছে আমরা কোথায় যেন কিছু ভূল করছি যার কারণে আমাদের প্রজন্মরা বৃটেনের ক্রিকেট শিল্পে এগুতে পারছে না। আর তাই আমার আকুল আবেদন থাকবে এ নেতৃত্বে যারা নিয়োজিত আছেন তাদের কে আরও বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখার জন্য। বাংলাদেশে আমাদের ক্রিকেট অনেক দূর এগিয়ে এসেছে। বৃটিশ বাঙালিরা কেন পিছিয়ে থাকবে। অন্যদিকে টি টুয়েন্টি টুর্নামেন্টে বাঙালি নারী ক্রিকেট টিম বিশাল ব্যাবধানে জিম্বাবুয়ে  কে হারিয়ে বাঙালিদের মুখ উজ্জ্বল করার সাথে সাথে বাংলাদেশের সুনাম বয়ে আনলো। তাহলে ব্যাটে বলের হিসাবে আমরা খুব বেশি দূর এগুতে না পারলেও অনেক টা দূর এগিয়ে এসেছি তা নির্ধিদায় বলতে পারি তাও আমাদের নারী ক্রিকেটেরা। আর টাইগারেরা তো আছেই একটার পর একটা জয় ছিনিয়ে আনছে। বিশেষ করে দুই হাজার পনেরোর ক্রিকেট পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে মনে হয় বিশ্ব সেরা ক্রিকেট নৈপুণ্যের দেশ বাংলাদেশ। বর্তমান ক্রিকেটের দিকে থাকালে মনে হয় বৃটিশ শাসনের যেন অবসান হয়নি। অবসান হয়নি পাকিস্তানি জান্তাদের নিরব তা-ব। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রিয়তম বাংলাদেশের অনাকাঙ্খিত হতাশ ও অসহায় বদন দেখে আমার কাছে তাই মনে হয়েছে। একদিকে বৃটেনের আম্পায়ার অপর দিকে পাকিস্তানের। গোটা ব্যাপারটাই যেন পরিকল্পিত মনে হয়েছে। কয়েকটা দিন বাংলা- দেশের ক্রিকেট ঝড়ে দারুণ এক উৎসবে মেতে উঠেছিল বাঙালি সমাজ। অবাক বিস্ময়ে বিশ্ব তাকিয়ে ছিল উদীয়মান এই ক্রিকেট শক্তির দেশটির দিকে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেট ঝড়ের পর এখন এক অজানা অসুখে ভুগছে এদেশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা দু-হাজার পনেরো সালের ক্রিকেট বিশ্ব কাপের কোয়াটার ফাইনালে বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত খেলা টি বোধহয় ক্রিকেট ইতিহাসে বেশ কিছু কাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই খেলাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে থেকেই নানা রকম গল্প গুজব শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশে এই খেলাটি নিয়ে যত না আলোচনা হয়েছে তার চেয়ে তিনগুণ আলোচনা হয়েছে ভারতের মাটিতে। কিন্তু তা কেন ? তাহলে তারা টাইগারদের কে নিয়ে সংরক্ষিত ছিল। এটাই প্রমানিত সত্য। ক্রিকেটে বড় এক পরাশক্তি ভারত একথা কাউকে স্মরণ করিয়ে দেবার প্রয়োজন পড়ে না। অভিজ্ঞতায় তারা বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে এ বিষয়টি কেউ অস্বীকার করেন না। কিন্তু সমস্যা হয়েছিল যা তাহলো এবারের বিশ্বকাপে বাংলা দেশ ছিল সত্যিকারার্থে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মতোই। অত্যন্দ দাপটের সাথে বাংলাদেশ কোয়াটার ফাইনালে কোয়ালিফাই করেছে। আর এটাই ছিল অনেক বড় বড় ক্রিকেট দলের জন্যে মাথা ব্যথা। সকল জল্পনা কলপনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ ভারত খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ভারতের কাছে পরাজিত হয়েছে বললে ভূল হবে, বরং পরাজিত করানো হয়েছে বলে আমি মনে করি। শুধু আমি কেন বিশ্বের অনেক ক্রিকেট স্টার তারোকারাও এমন মন্তব্য করেছেন। তার পরও বাংলাদেশের কোন সমস্যা নেই। খেলায় হারজিত আছে, থাকবে। আর এটা মেনে নেবার মতো ধৈর্য শক্তি এদেশের মানুষের রয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো খেলার মধ্যে যখন কোন অন্যরকম খেলা হয়,তখন ভীষণ আপত্তি থাকে। খেলা নিয়ে যখন রাজনীতি হয়, তখন ঘোর বিপত্তি। যেকোন খেলায় এই রকম রাজনীতি যেন আর না ঘটে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।
পৃথিবীর বহু দেশের মানুষের মুখে মুখে ঘুরে ফিরছে বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে খেলাটির প্রসঙ্গে নানা গুণীজনের নানান মন্তব্য। অনেক ক্রিকেট তারকারাই মনে করেন বাংলাদেশের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়েছে। বাংলা দেশের অধিনায়ক মাশরাফি অঝুর ধারায় মাঠে কেঁদে ফিরেছেন এমন বিমাতাসুলভ আচরণের জন্যে। আমার জিজ্ঞাসা থাকবে খেলার মাঠে বাংলাদেশের সাথে এই বৈরিতা কেন? মানুষের কাছে ক্রিকেট এক পরিচ্ছন্ন খেলার প্রতিচ্ছবি। যদিও ক্রিকেট খেলা এখন আর তার বিতর্ক এড়াতে পারছে না। তাহলে কি বিশ্ববাসী খেলা নামে খেলার রাজনীতি দেখবে। এটাতো হয় না। এবং হতেও পারে না এমন কি হওয়াটাও উচিত নয় বলে আমি মনে করি। কারণ সবকিছুর মধ্যে রাজনীতি ঢুকে গেলে, স্বার্থ ঢুকে গেলে, খেলা রাজনীতি হয়ে গেলে, মানুষ তাহলে দাঁড়াবে কোথায়?
বাংলাদেশ একটি ছোট ও উন্নয়ন মুখী দেশ বলে এবং একটি ক্রিকেট উজ্জ্বল দেশের বীর সন্তানেরা তাদের ভালো খেলার যোগ্যতাও রাখতে পারবে না! এটি কি ধরনের মানসিকতা। বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রধান কর্মকর্তা এমন কি সরকারের পক্ষ থেকে আইসিসির কাছে এই সমস্ত বিতর্কিত বিষযগুলোকে জোর উচচারণে তুলে ধরা উচিত বলে আমি মনে করি। আমাদের মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ এগিয়েছে, এদেশের ক্রিকেট শিল্পও অনেক এগিয়েছে। সে কারণে এই ক্রিকেট শক্তিকে বিশ্বের দরবারে আমাদের ন্যার্য্য অধিকারের ভিত্তিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ক্রিকেট বিশ্বকে বুঝাতে হবে খেলার যোগ্যতাই আসল, দেশ ছোট কি বড়, ধনী কি গরীব সেটা বিবেচ্য নয়। ক্রিকেটকে গুটি কয়েক দেশ শাসন করতে চায়, এই মোড়লিপনা ও হীন মনোভাব ত্যাগ না করলে ক্রিকেট পিছিয়ে পড়বে। ক্রিকেট তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারাবে। আমরা ক্রিকেট উজ্জ্বল বাংলা দেশ, তা চাই না। কথা একটাই, খেলা হউক  আনন্দের অন্যতম স্থান। আর খেলা নামক জায়গাটি থাকুক রাজনীতি-শক্তি-প্রভাব ও কলঙ্কমুক্ত, তা হউক দেশে কিংবা বিদেশে।
ক্রিকেটে বাংলাদেশের দারুণ প্রত্যাশা ছিল এবং আছে। তাই প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির যোগ অবশ্য সব সময় হয়না কিন্তু একটা ভালো খেলা দেখার আশা অন্তত সকালেই করতে পারে। আমার বিশ্বাস আমাদের দামাল ছেলেরা সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে একদিন কাঙ্খিত জয় ছিনিয়ে আনবে। বাংলাদেশের উদীয়মান ক্রিকেট প্রেমি ছেলে মেয়েদের আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে নতুন বাংলাদেশ যে বাংলাদেশ কে বিশ্বকাপে অবাক বিস্ময়ে দেখেছে সবাই। শুধু তাই নয়, সাকিব, তামিম, মাশরাফি, মুশফিক তাঁরকারাও এ নিয়ে আশাবাদী ভবিষ্যৎ নিয়ে। তাছাড়া বিশ্বকাপের মঞ্চ সৌম্য, সাব্বির ও তাসকিনের মতো নতুনেরা আলো ছড়িয়েছেন। আরও অনেক ক্রিকেট প্রতিভা উঠে আসছে। সাকিবের সাথে সুর মিলিয়ে আমিও বলতে চাই বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। একই ভাবে এই আশাবাদের কথা জানিয়েছেন উইজডেন ইন্ডিয়া কে দেয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে। সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাশরাফি, রুবেল ও মাহমদুল্লাহর মতো ক্রিকেট তাঁরকারাও বলেছেন এখন আমরা আগের চেয়ে বেশি ভালো মনের ও মানের খেলোয়াড় পাচ্ছি। অনেক বেশি খেলোয়াড় থেকে দল বেছে নেয়ার সুযোগ হচ্ছে। তাছাড়া তরুণেরাও দলে আসার পর ভালো খেলছেন। এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বিশ্বকাপে সৌম্য-তাসকিন দলে আসার পর দ্রুত তাদের ভালো খেলাটা আমাদের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত। তবে কেউ এসে মুখে খাবার তুলে দেবে না। আসল কাজটা নিজেদেরই করতে হবে। তার সাথে যদি সমস্ত বিভাগুলোতেও আরও অবকাঠামো তৈরি করলে এবংপ্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অনেক অজানা ক্রিকেটার কে তোলে আনা যায়, যেমন বিপিএল এর মত সূদুর প্রসারি পরিকল্পনা আরও জোরদার করা যায় তবে ক্রিকেট আরও শক্তি শালী হবে বলে আমার বিশ্বাস। তার সাথে জাতীয় ক্রিকেট দলকে আরও বেশি সফরে গিয়ে খেলার সুযোগ করে দিতে হবে।
আরও মনে পড়ে দুই হাজার ছয় সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাকিবের অভিষেক হয়, তখন বিষয়টি এমন ছিল যে, বাংলাদেশ নিজেদের দিনে যে কোন দলকে হারাতে পারে তেমনটি প্রমান হয়েছে। তাছাড়া দুই হাজার নয় সালের জানুয়ারিতে ওয়ানডে তে প্রথম বারের মত বিশ্ব সেরা অল রাউন্ডার নির্বাচিত হলেন সাকিব আল হাসান। পুরো বিশ্ব তখন থেকে বুঝতে শিখলো ক্রিকেট আমরা ও পারি। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জাতীয় ক্রিকেট দল হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে। সুতরাং তারা দি টাইগার নামেও বিশ্বের কাছে পরিচিত। আমি শুধু একজন বাঙালি টাইগার সমর্থক হিসেবে নয়, একজন ক্রিকেট প্রেমী হিসেবেও বলতে চাই উনিশ মার্চ দুই হাজার পনেরো তে ক্রিকেট ইতিহাসে যে কালো অধ্যায় রচিত হয়েছে তা যেন ভবিষ্যতে আর কোন খেলায় রচিত না হয়। এই কামনাই করি। বাংলাদেশকে সমীহ করে না বিশ্ব ক্রিকেটে এমন দেশ হয়তো এখন আর নেই। যা এদেশের ক্রিকেট প্রশাসনসহ সমস্ত জাতির জন্য গর্বের বিষয়। তাই আমি ও আমাদের সবার আকুল আবেদন থাকবে ক্রিকেট প্রশাসন সহ সকল রাজনৈতিক নেতৃবিন্দের প্রতি, বাংলার উজ্জ্বল ক্রিকেট যেন রাজনীতির বাহিরে থাকে। আমি বলতে বাধ্য হলাম এই জন্য যে,আমাদের দেশের রাজনীতি সর্বত্র বিরাজমান। তাই আমার অনুরোধ মাত্র। আর এটাই যদি আমরা মেনে চলতে পারি তবেই ক্রিকেট উজ্জ্বলের সাথে সাথে দেশটাও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দেখা পাবে বলে আমার ও আমাদের সবার বিশ্বাস। বাংলাদেশের অনেক প্রতিভাবান তরুণ যারা নিজেদের আগমনী বার্তা বিশ্ব ক্রিকটে জানান দেবার অপেক্ষায় আছে। যেমন নাঈম, মোস্তাফিজ, মেহেদী, লিমন, সজীব আরও নাম না জানা কত নাম অপেক্ষায় আছে ক্রিকেট উজ্জ্বল লিস্টে। শুধু ক্রিকেট প্রশাসন বিপিএল এর মতো আরও কার্যকরী ভূমিকা অব্যাহত রাখতে হবে।
এক সময় ক্রিকেট স্টার ব্রায়ান লারার শেষ জিজ্ঞাসা ছিল ‘ডিড আই এন্টারটেইন্ড ইউ’ এটাই যেন শেষ পর্যন্ত সত্য হলো। দিন শেষে ক্রিকেট কোন জীবন মরণের ব্যাপার নয়। ক্রিকেট একটা খেলা যার সাথে উচ্চারিত হয় স্পিরিট অব ক্রিকেট। যার সাথে জড়িত আছে নির্মল বিনোদন আর তুখোড় স্কিল এর প্রদর্শনী। ক্রিকেট ছিল, আছে, থাকবে। অপেক্ষায় আছি ক্রিকেটে বাংলাদেশ একদিন বিশ্ব সেরা হবে সেই দিনের। বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন আর হাঁটার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন একটি রেসের ঘোড়া যার দৌড় শুরু হয়েছে মাত্র যেতে হবে আরও বহু দূর একথা সবার মাথায় রেখে দৃঢ় মনোবল নিয়ে কাজ করার প্রত্যয়ে থাকতে হবে। তবেই জয় নিশ্চিত। আর এই নিশ্চিত কে চিনিয়ে আনতে চাই টিম ওয়ার্ক তার সাথে আত্মবিশ্বাস।
দুই হাজার পনেরো সালের অধিনায়ক মাশরাফির শুরুটাই ছিল গৌরবের। শুরুতেই চ্যালেঞ্জ অস্টেলিয়া নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ওয়ান্ডে বিশ্ব কাপ। অধিনায়ক মাশরাফির দল চমকে দিল বিশ্বকে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়াটার ফাইন্যালে খেললো টাইগারেরা। তাও ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম শক্তি ইংল্যান্ডকে হারিয়ে। এই আসরেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অসাধারণ দু’টি বল করে নায়ক হয়েছিলেন বিশ্বকাপের আগে অখ্যাত নায়িকা হেপির সঙ্গে বিতর্কে জড়ানো রোবেল হোসেন। এই বছরেই অভিষেকে ব্যাট হাতে আস্থার মান রাখেন তরুণ সৌম্য সরকারও। তাছাড়া সেই আসরেই পরপর দুই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে মাহমুদুল্লাহ জ্বলজ্বল তারা হয়ে রইলেন। দেশে ফিরে এ যেন অন্য রকম এক বাংলাদেশ। তাছাড়া পাকিস্তানের বিপক্ষে ষোল বছর পর ওয়ান ডে জয় দিয়ে শুরু আর যার শেষ হলো তাদের হোয়াইট ওয়াশ দিয়ে। এর পর ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ান্ডে সিরিজ জয়। বছর টি দলের জন্য কাটে রূপকথার মতোই। কারণ ওয়ান ডে র‌্যাংকিয়ে এখন বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ওযেষ্টইন্ডিজ কে টপকে সাত নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে। টেস্টেও খারাপ নয়, এই বছরই ক্রিকেটে সর্বাধিক চার ড্র। দেশের হয়ে তামিমের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির সঙ্গে  ইমরুলকে নিয়ে ওপেনিংয়ে তিনশত বারো রানের ইতিহাস গড়া জুটি। তাছাড়া পাঁচটি টি ম্যাচ খেলে সারা বছরে দুই জয়ের একটি আবার পাকিস্তানের বিপক্ষে। তাই টেস্ট ও ওয়ান্ডের তুলনায় টি টুয়েন্টি যেন মিটি মিটি আলোর তারা। বাংলাদেশ ক্রিকেট আঁধার কাটিয়ে আলোর পথে ছুটে চলা যেন এক দ্রুতগামী রকেট। যেখানে শেষ ছয় মাসে চমকের পর চমক দেখিয়ে যুক্ত হয়েছেন গতি বালক মুস্তাফিজ। বিশ্বকাপ থেকে ছুটে চলার ফুয়েল টুয়েন্টি ফিফটিন এ বাংলাদেশ দল ছুটে চলার রকেটের ফুয়েল পেরেছিল ওয়ান্ডে বিশ্বকাপ থেকে। যা দেশের মাটিতে ছুটে চলার গতি বাড়িয়ে দিয়েছিল দ্বিগুণ। মনে হচ্ছে টুয়েন্টি ফিফটিন ছিল টাইগারদের দখলে।
পরিশেষে আমি বলতে চাই। ব্যক্তি কোন্দল, সামাজিক কোন্দল, রাজনৈতিক কোন্দল, পারিবারিক কোন্দল এবং দলীয় কোন্দল সবকিছু কে আলতো করে পিছনের দরজা  দিয়ে ঠেলে দিয়ে সামনের দরজা দিয়ে এগিয়ে যান এবং টিম ওয়ার্ক কে শক্তিশালী করুন ইনসাআল্লাহ আপনাদের কঠোর পরিশ্রমে ক্রিকেট ভবিষ্যৎ একদিন বিশ্ব জয়ের মুখ দেখবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। তার সাথে সাথে সকল মিডিয়া কর্মকর্তাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ থাকবে আপনারা বাংলা দেশের ক্রিকেট কে তুলে ধরেছেন ঠিকই কিন্তু আমার ও আমাদের দাবি থাকবে এটাকে আরও বৃহৎ আকারে তুলে ধরবেন তা দেশে কিংবা বিদেশে। আর তাতে করে আমাদের ক্রিকেটাররা যেমন উৎসাহ পাবে তেমনটি দেশ ও জাতির ক্রিকেটের প্রচার হবে সারা বিশ্বে। যা ক্রিকেটের জয়কে ছিনিয়ে আনতে লাঘব হবে। সর্বোপরি আমার ও দেশের মানুষের দোয়া থাকবে আপনাদের সাথে। এগিয়ে যান শক্ত মনোবল নিয়ে, মনে রাখবেন এখন আর পিছন ফিরে তাকানোর সময় নয়। ইনশা-আল্লাহ জয় হবে নিশ্চয়। ষোলো কোটি মানুষের দোয়া তো আছেই। ‘ক্রিকেট দলটা যেন একটি সুখী পরিবার হয়’।
‘সাবাস বাংলাদেশ’ ‘সাবাস ক্রিকেট টিম’ সাবাস। ভূলেও ভেবোনা তোমরা শুধু একা। মনে রেখো তোমরাই ষোলো কোটি মানুষের গর্বের অহঙ্কার।

চা শ্রমিকের ঘাড়েও সরকারের লম্বা হাত! by জয়া ফারহানা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে বেজা (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল) পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছিলেন, ইকোনমিক জোন বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে কৃষি জমি নষ্ট না হওয়ার বিষয়টি সরকার তীক্ষ্ণ নজরে রাখছে এবং যেখানেই ইকোনমিক জোন তৈরি হবে, কৃষি জমি রক্ষা করেই হবে। আর ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন ২০১৫ ধারা ৪-এ বলা হয়েছে, ‘কোনো কৃষি জমি নষ্ট করে আবাসন, বাড়িঘর, শিল্প- কারখানা, ইটভাটা বা অন্য কোনো অকৃষি স্থাপনা কোনোভাবেই নির্মাণ করা যাইবে না...। বাংলাদেশের সব কৃষি জমির ওপর দেশের যে কোনো কৃষক বা কৃষিজীবীর অধিকার থাকবে এবং খরিদসূত্রে বা উত্তরাধিকার সূত্রে বা সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত বন্দোবস্ত সূত্রে তা ভোগদখলে রাখবার অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে...।’ দুই বা তিন ফসলি জমি সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য কোনো অবস্থাতেই অধিগ্রহণ করা যাইবে না। আইন ওয়েবসাইটে রেখে ভূমি মন্ত্রণালয় অবশ্য এরই মধ্যে চাঁন্দপুরের তিন ফসলি ৫১১ একর আবাদি কৃষি জমিকে অকৃষি খাস জমি হিসেবে কাগজে-কলমে প্রমাণ করেছে। তার জন্য রেকর্ডও সংশোধন হয়েছে। তা, রেকর্ড সংশোধন আর এমন কী কঠিন কাজ ভূমি মন্ত্রণালয়ের জন্য! বোঝা যাচ্ছে, বেজার প্রস্তাব অনুমোদনের ব্যাপারে তাদের সহৃদয়তার শেষ নেই। প্রায় একই রকম সহৃদয়তা আছে দেশী-বিদেশী বহুজাতিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের জন্যও। হাজার কয়েক চা শ্রমিক আর তাদের পরিবার বাস্তুভিটা হারাল কী হারাল না অথবা হারিয়ে কোথায় গেল, তাদের ভবিষ্যৎ কী, এসব দেখার দায়িত্ব তো ভূমি মন্ত্রণালয়ের নয়। যদি হতোই, তবে ১৮৯০ সাল থেকে চাঁন্দপুরের যে তিন ফসলি কৃষি জমি চা শ্রমিকরা বংশপরম্পরায় আবাদ করে আসছেন, কোন আইনের ভিত্তিতে সেখানে স্পেশাল ইকোনমিক জোন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হল? হ্যাঁ, ঠিক যে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া আইনটি খসড়া; কিন্তু কৃষি জমি রক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি অথবা কৃষি জমি রক্ষার ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থে কী করা উচিত তার কিছু ঔচিত্যমূলক কথাবার্তা তো খসড়া আইনটিতে আছে। ওই আইন পড়েই আমরা বুঝেছি কৃষি জমি রক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান। মতামত চাওয়া হয়েছিল ওয়েবসাইটে। সেখানে কৃষি জমি রক্ষায় খুবই ভালো ভালো কিছু কথাবার্তা জ্বলজ্বল করছে দেখতে পেলাম। ওয়েবসাইটে বর্ণিত মতামতের সঙ্গে দ্বিতীয় মত বা মতান্তর প্রকাশের সুযোগ কোথায়? হা-হতোস্মি, এখন তো দেখি ভালো কথাগুলো কেবল সেই খসড়া আইনটিতে রয়ে গেছে।
বাস্তবে ‘অশিক্ষিত’, ‘অপদার্থ’, ‘হতদরিদ্র’, ‘নির্বোধ’ চা শ্রমিকদের ডেকে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, জমি রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে চা শ্রমিকদের করা আবেদন আইন অনুযায়ী আমলে আনা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ সেই ১৮৬৫-তেই ব্রিটিশ ডানকান চা কোম্পানির কাছে সরকার এই ৫১১ একর জমি লিজ দিয়েছে। এখন সরকার শ্রমিকদেরই স্বার্থে এখানে ইইজেড (এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন) প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এতে ২০০০ চা শ্রমিকের জায়গায় লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। খুবই ভালো কথা। দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্র আইনের প্রতি যতখানি শ্রদ্ধাশীল, শ্রমিক স্বার্থরক্ষার ব্যাপারে তার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়! কিন্তু ‘বোকাসোকা’ শ্রমিকরা তো বলছেন অন্যরকম। তারা ভাবছেন বংশপরম্পরায় তারা কেবল চা পাতা তোলা অথবা চা সংশ্লিষ্ট কাজগুলোই শিখেছেন। তাদের দক্ষতাও কেবল এ কাজেই। এখন ইকোনমিক জোনের নামে যে মহাযজ্ঞ সাধিত হবে, যে এলাহি কাণ্ড অনুষ্ঠিত হবে, অত মহা মহা কাজে কি তাদের অংশগ্রহণ থাকবে? তারা ভাবছেন, থাকবে না। মহা এ ইইজেড প্রতিষ্ঠা হলে মূলত কাজ পাবে এলাকার বাইরের লোকজন, যারা এসব শিল্পের কাজে দক্ষ। আর ভিটেমাটি থেকে সমূল উচ্ছেদ হতে হবে তাদের। কী জানি, তারা বোধহয় তাদের মূর্খামির কারণেই সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বুঝতে অসমর্থ! বেশি বেশি উন্নয়ন মানে যে, বেশি বেশি মুনাফা, অ..নে..ক মুনাফা, এ বস্তু এখনও তাদের মাথায় ঢোকেনি। এ নগরের রিকশাওয়ালা, ঠেলাগাড়িওয়ালা, গার্মেন্টসহ বিভিন্ন কলকারখানার শ্রমিক, বস্তি-গলিঘুঁজির খেটে খাওয়া মানুষ এরা প্রায় সবাই কিন্তু উদ্বাস্তু, উন্মুল। খোঁজ নিলে দেখা যাবে, ঢাকায় এ ভাসমান অবস্থার আগে এদের প্রত্যেকের না হলেও অধিকাংশেরই উল্লেখ করার মতো ছোটখাটো সামাজিক পরিচিতি ছিল। এক-দু’কানি কৃষি জমি ছিল, দু-একটা গরু কিংবা গবাদিপশু ছিল। গ্রামের সমাজে তাদের মতামতের একটু হলেও মূল্য ছিল। সামাজিক বিবিধ কর্মকাণ্ডে কিছুটা হলেও অংশ ছিল। এখন এ শহরে তাদের একমাত্র পরিচয় রিকশাওয়ালা...। গত জোট সরকারের আমলে খুলনায় পর্যায়ক্রমে পাটকলগুলো লে-অফ ঘোষণা হলে যে মানবেতর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল এবং তার সামাজিক অভিঘাত কী হয়েছিল সেকথা কোথাও লেখা নেই। পাটকলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর শ্রমিকদের চেয়ে বিপদে পড়ল ফোরম্যান বা এ অবস্থানের কর্মচারীদের পরিবার। অধিকাংশ পরিবারের মেয়েদের কাজের অভাবে, নানা পরিস্থিতির পাকে চক্রে শেষ পর্যন্ত আশ্রয় মিলেছিল বানিশান্তা ব্রথেলে। আমরা গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে বড়াই করি। আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাক শিল্প রফতানিতে দ্বিতীয় অবস্থান নিয়েও আস্ফালনের শেষ নেই। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকে আমাদের এক্সেসের কারণ যে অসম্ভব সস্তা শ্রম- হ্যাঁ এ অসম্ভব সস্তা শ্রমের কথাও আমরা প্রায়শই বলি বটে; কিন্তু কতটা সস্তা সেটা, সে বিষয়ে গভীর জানাশোনা কি আমাদের আছে?
চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি উল্লেখ করতে তো সত্যিই সাহসের দরকার। তবু ওই সস্তা শ্রমেই সেখানে থাকতে চাচ্ছেন তারা। চা বাগান তাদের কাছে নিছক বাগান নয়। ওইখানে আসলে তাদের হৃদয়ও পোতা। না, কেবল আলংকারিক অর্থে কথাটা বলা নয়। চা বাগানের ভেতর যারা জীবনযাপন করছেন, চা বাগানকে ঘিরে বেড়ে উঠছেন অথবা বাগানের সংস্কৃতি যাদের রক্তে মিশে আছে, চা তাদের শরীরের অংশের মতো। এ সংস্কৃতি থেকে তাদের উচ্ছেদ করার অর্থ তাদের হত্যা করাই। এ অমানবিক কাজটি না করে অন্তত তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার পরিবেশ তৈরি করা দরকার। পরিবেশ কী, পরিষ্কার কথা বলা দরকার।
রসায়নবিদরা বলেন, প্রমাণিত সত্য পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গন্ধ থাকে চা’য়ে। এমনকি তা শ্যানেল-২৫ বা গোলাপের গন্ধের চেয়েও শ্রেষ্ঠতর।
সকালে দৈনিক পত্রিকার সঙ্গে এক পেয়ালা চা না হলে নগরবাসীর দিন আলুনি হয়ে যায়, সেই চা পানের সময় এখন আপনি ঠিকঠাক সেই গন্ধ পাচ্ছেন তো? জানি পাচ্ছেন। কারণ আপনাকে তো আর ৬৯ টাকা মজুরিতে দিন চালাতে হচ্ছে না।
জয়া ফারহানা : কলাম লেখক

প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে আশা-নিরাশার কথা by রিফাত আফরোজ ও তানজীবা চৌধুরী

বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। ছোটমণিদের ব্যাপক সাফল্যের প্রেক্ষাপটে সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে কিছু কথা বলতেই এ লেখার অবতারণা। শিক্ষার প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে শেষ করা হয়েছে কি-না তা যাচাই করার জন্য মূল্যায়ন একটি কার্যকর পদ্ধতি। অনেকের মতে জাতীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হলে এর নিরপেক্ষতা এবং সার্বজনীনতা বজায় রাখা সহজ হয়। এ ধারণার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে ২০০৯ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্বের শিক্ষা শেষে এ পাবলিক পরীক্ষা পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া শিক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত হয়েছে। এ বছর প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী (ইবতেদায়িসহ) এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষা অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নানা মহলে ব্যাপক সমালোচনা হলেও মূলত এ সমাপনী পরীক্ষার প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকের ওপর। এ বিষয়ে আমরা চার উপজেলার ২০টি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটির ৮ থেকে ১০ শিক্ষার্থী বাছাই করে তাদের এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সুগভীর আলোচনা করি। সেখানে সমাপনী পরীক্ষার গ্রহণযোগ্যতার পক্ষে ও বিপক্ষে দুই ধরনের মতামতই পাওয়া যায়।
অভিভাবকদের একটা বড় অংশ মনে করেন এ পরীক্ষাটি তাদের সন্তানদের পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে। অনেকেই বলেন, ছেলেমেয়েরা এখন আগের চেয়ে বেশি পড়াশোনা করছে। তারা এখন খেলাধুলা, টিভি দেখা কমিয়ে পড়াশোনায় বেশি মনোযোগী হয়েছে। তাদের সন্তানরা এখন নিয়মিত স্কুলে যায়, বাড়ি ফিরে সন্ধ্যায় পড়তে বসে, আবার সকাল হলে স্কুলে যায়। সুতরাং বেশিরভাগ মা’ই মনে করছেন তাদের সন্তানরা অনেক বেশি শিখছে। এ পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন। একজন অভিভাবক বলেন, তার ছেলে চতুর্থ শ্রেণীর চেয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে অনেক বেশি পড়াশোনা করছে। তাদের মতে, ভালো রেজাল্টের আশায় শিক্ষার্থীরা এখন নিজ থেকেই বেশি পড়াশোনা করছে।
একই রকমের চিত্র উপ-আনুষ্ঠানিক এবং অন্যান্য স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও দেখা গিয়েছে। বেশিরভাগ মায়ের মতে, তাদের সন্তানকে এখন আর বকাঝকা দিয়ে পড়তে বসাতে হয় না। একজন অভিভাবক বলেন, তার সন্তানের পড়ার চাপ দেখে তিনি তাকে বিশ্রাম নিতে বললে সে তা উপেক্ষা করে পড়াশোনা চালিয়ে যায় আর কারণ হিসেবে বলে, পড়া মুখস্থ না হলে শিক্ষক বকা দেবেন এবং সে অন্য সবার থেকে পিছিয়ে পড়বে। আরেকজন মায়ের মতে, এ পরীক্ষা চালু হওয়ার ফলে শুধু নিজের স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যেই নয়, অন্য স্কুল ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের সঙ্গেও এ প্রতিযোগিতা চলে। যার ফলে বাবা-মা’র এবং নিজের সম্মানের দিকে তাকিয়ে শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করার চেষ্টা করে।
সমাপনীর আরেকটি সুফল খুব জোরালোভাবে অভিভাবকরা বলেছেন, তারা মনে করেন সমাপনী পরীক্ষার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষাভীতি কমে গিয়েছে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষা দিত। কেবল তারাই বাইরের কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পেত; কিন্তু বর্তমানে সব শিক্ষার্থীই মডেল টেস্ট থেকে শুরু করে সমাপনী পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও তাদের জানাশোনার পরিধি এবং সাহস বাড়ছে।
তবে শিক্ষার্থীরা সমাপনীর ফলে বেশ চাপের মধ্যে পড়ছে এরূপ মন্তব্যও এসেছে। তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণীতে শিক্ষার্থীরা যা পড়েছে, পঞ্চম শ্রেণীতে তার সঙ্গে কোনো মিল নেই বলেই এ সমস্যাটির উদ্ভব হয়েছে বলে অনেকে বলেছেন। পঞ্চম শ্রেণীতে শিক্ষার্থীদের অনেক বেশি পড়ালেখা করতে হচ্ছে। তাছাড়া আগের শ্রেণীগুলোতে পড়াশোনা এত কোচিং বা প্রাইভেটনির্ভর ছিল না। এখন বিদ্যালয়ের ক্লাসের পাশাপাশি কোচিং, প্রাইভেট এবং সবখানেই নিয়মিত পরীক্ষা থাকছে যার প্রস্তুতির জন্য বাড়িতে এসেও অনেক বেশি পড়ার চাপ থাকছে। ফলে পড়াশোনার বাইরে অতিরিক্ত সময় আর থাকছে না। এখন পরীক্ষার আগে প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা পড়তে হয়। অনেক সময় অনিচ্ছা সত্ত্বেও অভিভাবকদের চাপে বই নিয়ে বসতে হয়। একজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে, তার ঘুম পেলে, এমনকি শরীর খারাপ থাকলেও সে পড়া থেকে অব্যাহতি পায় না। শিক্ষার্থীদের কয়েকজন জানায়, সারা দিন ক্লাস, পরীক্ষা, প্রাইভেট শেষে বাসায় ফেরার পর তাদের প্রায়ই মাথাব্যথা করে। কিন্ডারগার্টেন স্কুলের একজন অভিভাবক বলেন, আমার মেয়ে স্কুল ও বাড়ি মিলিয়ে দিনে ১৬ ঘণ্টা পড়াশোনা করে। সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত সব বিষয় না পড়লে সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়া যায় না। একজন মা বলেন, পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের খাওয়া আর ঘুম ছাড়া বাকি সময় পড়াশোনা করতে হয়। ইবতেদায়ি মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণীর অধিকাংশ শিক্ষার্থীই জানায়, পড়ার চাপ এখন মাদ্রাসা এবং বাড়ি দুই জায়গাতেই অনেক বেশি। তারা সকালে ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামাজ পড়ে এবং এক ঘণ্টা বাড়িতে বসে পড়ে। এরপর প্রাইভেট পড়তে যায়। সেখানে পড়া শেষ করে ৯.৩০ থেকে ১২টা পর্যন্ত কোচিং করে। ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত আবার কখনও কখনও ৩টা বা ৪টা পর্যন্ত তারা মাদ্রাসায় ক্লাস করে। এদের মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী বিকালে আবার আরবি পড়তে যায়। ক্লাস, কোচিং, প্রাইভেট এবং বাড়িতে ফিরে এসে পরের দিনের পড়া প্রস্তুত করতে করতে সারাদিন কেটে যায়। বছরের শুরুর দিকে বিদ্যালয়ে পড়াশোনার চাপ কিছুটা কম থাকে; কিন্তু বছরের মাঝামাঝি এসে বিদ্যালয় থেকে অনেক বেশি পড়া দেয়া হয় এবং বাড়িতে এসে সেগুলো মুখস্থ করতে হয়। সব মিলিয়ে বছরজুড়েই তারা পর্যাপ্ত খেলার সময় পায় না, টিভি দেখতে গেলে বাবা-মার বকা খেতে হয় এবং কোনোভাবেই রাত ১০টার আগে ঘুমাতে পারে না। শিক্ষার্থীরা জানায়, আগে তারা অন্তত শুক্রবারে খেলতে, টেলিভিশন দেখতে বা বেড়াতে যেতে পারত যা এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি তারা ভালো রেজাল্ট হবে কিনা সে বিষয়ে দুশ্চিন্তায় থাকে। একজন প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় ক্লাস করায় তাদের মাঝে একঘেয়েমি চলে আসে, ফলে তারা পড়ালেখার প্রতি অনীহা প্রকাশ করে। শারীরিকভাবে দুর্বল কিছু ছাত্র মাথাব্যথায় বা অন্যান্য অসুস্থতায় ভোগে। সরকারি স্কুলের একজন ছাত্র বলে, ‘স্কুলে আমাদের নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট নেয়া হয়। এছাড়া বাসায় খালি বলে পড়তে বস, পড়তে বস, টিভি দেখা ও বেড়ানো প্রায় বন্ধ।’
সমাপনী পরীক্ষার প্রবর্তন হওয়ার ফলে আরেকটি জিনিস বেড়েছে সেটি হল অভিভাবকদের আর্থিক চাপ। কোচিং ফি, বাসার জন্য আলাদা শিক্ষকের বেতন, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের বেতন, গাইড বই কেনা, মডেল টেস্ট, সাজেশন এবং সমাপনীর রেজিস্ট্রেশনের খরচ সবমিলিয়ে একটা বড় ধরনের খরচ হয়ে যায়। সরকারি স্কুলে পড়ছে এমন একজন শিক্ষার্থীর পিতা বলেন, ‘আগে কোচিং এরকম বাধ্যতামূলক ছিল না, হয়তো ছাত্ররা প্রয়োজনে প্রাইভেট পড়ত। কিন্তু এখন কোচিং বাধ্যতামূলক। সেজন্য খরচটাও বেড়েছে। প্রতি মাসে ৫০০ টাকা এ বাবদ খরচ হয়’। কেজি স্কুলের একজন শিক্ষার্থীর পিতা বলেন, ‘সমাপনী পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগের কারণে এ খাতে ব্যয়ও আগের চেয়ে বেড়েছে। স্কুলের কোচিং যেহেতু বাধ্যতামূলক তাই সেখানে প্রতি মাসে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দিতে হচ্ছে। বাইরের কোচিং ফি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার কম নয়। আবার বাসায় শিক্ষক রাখলে আরও ২ থেকে ৩ হাজার টাকা দিতে হয়। এছাড়া খাতা, কলম, গাইড বই ইত্যাদি মিলিয়ে খরচও বেশ বেড়েছে’।
একজন ছাত্রের বাবা বলেন, ‘শুধু আমি না, আমার আত্মীয়দেরও একই অবস্থা। বছরের শুরু থেকেই সবাই খুব চিন্তায় পড়ে। সবাই A+ চায়। সবার একটা চিন্তা থাকে যে ভালো ফলাফল না হলে ভালো স্কুলে ভর্তি হওয়া যাবে না। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তো বাচ্চা মানুষ, ওদের খেলাধুলা করতে এবং টিভি দেখতে ইচ্ছা করে। অনেক সময় পড়তে বসার জন্য জোর করা লাগে। কিছু করারও নেই। পড়া এত বেশি। ভালো ফলাফল করাও ভীষণ জরুরি।’ একজন বাবা বলেন, ‘স্কুলে বলা হয় পুরো বই পড়তে, কোচিংয়ে ২ থেকে ৩টা গাইড বইয়ের ওপর জোর দেয়া হয়। আবার মডেল টেস্টের প্রশ্নপত্র কিছুটা ভিন্ন রকম হয়। তাহলে কীসের ওপর বেশি গুরুত্ব দেব? কোনো রকমের দিকনির্দেশনা পাওয়া যায় না। অনেক সময় শিক্ষকরা মডেল টেস্টের প্রশ্নের যথাযথ উত্তরও দিতে পারেন না। আমার মেয়েকে আমি সবই পড়াচ্ছি। সুতরাং পড়ার চাপ ক্রমশ বাড়ছে।’
এছাড়া পরীক্ষায় বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির প্রভাবও অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে পড়তে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলে দেখাদেখি করে লিখতে পারবে এমন একটি বিশ্বাস নিয়েই যায় এবং অভিভাবকরাও সন্তানকে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন জোগাড় করে দেয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালান। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই স্বীকার করে যে, তারা অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীকে দেখে লেখার সুযোগ করে দেয় যাতে করে সে পাস করে যেতে পারে, শিক্ষকরা এ ব্যাপারে কোনো আপত্তি করেন না। আবার এমন চিত্রও দেখা গেছে, সবচেয়ে ভালো শিক্ষার্থীও সমাপনী পরীক্ষায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, কারণ প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় তার থেকে কম মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা ভালো পরীক্ষা দেয়। এটি শিক্ষার্থীর মনে দুর্নীতির ভিত তৈরি করে দেয় যাতে সাহায্য করে তার পিতামাতা আর শিক্ষকরাই; যাদের কাছ থেকে তার সুনাগরিক হওয়ার শিক্ষা পাওয়ার কথা। অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার খরচ এখন যেমন অনেক বেড়েছে, পাশাপাশি মৌলিক ও আনন্দময় শিক্ষা, শিখনফল অর্জনের মতো লক্ষ্যগুলো কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রেখে বর্তমান প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা ব্যস্ত রয়েছে পরীক্ষা গ্রহণে যার পরিচালনা নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক এবং যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উভয়ের জন্য ফলদায়ক না হওয়ার সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে। শ্রেণীকক্ষে মানসম্মতভাবে শিক্ষাদান করার বিকল্প যে আর কোনো কিছুই হতে পারে না, সে বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।
রিফাত আফরোজ ও তানজীবা চৌধুরী : শিক্ষা গবেষক

নিরাপত্তা চেয়ে আগেই পুলিশের কাছে আবেদন করেছিলেন বাবুল

নিরাপত্তা চেয়ে ও পুলিশি হয়রানি থেকে বাঁচতে প্রায় ছয় মাস আগেই পুলিশের কাছে আবেদন করেছিলেন বাবুল মাতুব্বর। কিন্তু নিরাপত্তা পাওয়া বা পুলিশি হয়রানি থেকে বাঁচা তো দূরের কথা, সেই পুলিশের দেয়া আগুনেই মরতে হলো তাকে। বাবুলের সঙ্গে পুড়ে গেছে পুলিশের কাছে আবেদন করা সেই লিখিত আবেদনপত্রটিও। ওই আবেদনপত্র পকেটে নিয়েই ঘুরতেন তিনি। যাতে পুলিশ তাকে হয়রানি করতে না পারে। ওই আবেদনের একটি অনুলিপি পাওয়া গেছে বাবুল মাতুব্বরের ছেলে রাজু মাতুব্বরের কাছে। তিনিই  জানিয়েছেন এই তথ্য।
রাজু মাতুব্বর জানান, পুলিশের হয়রানি থেকে বাঁচতে ছয় মাস আগে গত বছরের ১৬ই আগস্ট পুলিশের মিরপুর বিভাগের ডিসি’র কাছে আবেদন করেছিলেন তার বাবা। ওই আবেদনে বাবুল লিখেছিলেন, ‘আমি ইলেকট্রিক্যাল কাজসহ যখন যে কাজ পাই, তখন সে কাজ করে কোনোরকমে পরিবার নিয়ে দিন যাপন করে আসছি। আমি কোনো মাদক খাইও না এবং বিক্রিও করি না। লোক মারফত শুনতে পাই, আশপাশের ঘরের লোকজন নাকি মাদক বিক্রয় করে। উক্ত ঘরে মাদক বিক্রেতাদের খুঁজতে এসে পুলিশ আমাকে নানাভাবে হয়রানি করে। গত বছর আমি আপনার অফিসে একটি দরখাস্ত দেয়ার পর গত এক বছর ধরে থানা-পুলিশ আমাকে হয়রানি করেনি। বর্তমানে আবার থানা-পুলিশ আমাকে হয়রানি করে আসছে। ফলে আমি সব সময় পুলিশের ভয়ে থাকি। থানা-পুলিশ অন্যদের খুঁজতে গিয়ে যাতে আমাকে হয়রানি না করে, এই বিষয়ে শাহ্ আলী থানাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান এবং আমাকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করার সুযোগদানে আপনার মর্জি হয়।’ ওই চিঠি দেয়ার পর রাজু বলেন, ‘ডিসি থানায় বলে দিয়েছিলেন। কিছুদিন পুলিশ ডিস্টার্ব করেনি। কিন্তু মাস খানেক ধরে তারা আবার চাঁদা চাওয়া শুরু করে বলে রাজু জানান।
এদিকে চাঁদা না পেয়ে চা বিক্রেতা বাবুল মাতুব্বরকে পুড়িয়ে হত্যার পর অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা। তবে বুধবার এ ঘটনার পর থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত তিন দিনেও পুলিশি তদন্তে পুলিশ সদস্যদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও ঘটনার পরবর্তী দু’দিনে শাহ্ আলী থানার তিন এসআইসহ পাঁচ জনকে সাময়িক বরখাস্ত ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এ দিকে দু’দিনের রিমান্ডে থাকা পারুল বেগমের কাছ থেকেও তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা একই থানার উপ-পরিদর্শক মো. রোকনুজ্জামান। আজ ঘটনাস্থলের পাশে গুদারাঘাটের বাসায় পরিবারের পক্ষ থেকে নিহত বাবুলের কুলখানি আয়োজনের কথা রয়েছে।
এই আলোচিত হত্যাকা-ের পর গতকাল শনিবার সিলেটে এক অনুষ্ঠান শেষে পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক বলেছেন, কোন পুলিশ সদস্য যদি অপরাধ করে থাকে, সে দায়িত্ব তার নিজেরই । কারও ব্যক্তিগত অপরাধের দায় পুলিশ বাহিনীর নয়। তবে তদন্তে যদি কোনো পুলিশ সদস্যের অপরাধ প্রমাণ হয়, সে ক্ষেত্রে আমরা চাকরিচ্যুত করতেও দ্বিধা করি না। প্রায় অভিন্ন হুঁশিয়ারি সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি শেখ হিমায়েত হোসেনের। গতকাল ঝিনাইদহে সিআইডির একটি ক্যাম্প উদ্বোধন শেষে তিনি বলেন, পুলিশের ভাল কাজ সাধারণ মানুষের মাঝে আস্থা বৃদ্ধি করে। মানুষ আশান্বিত হয়। আর পুলিশ খারাপ কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থাও নেয়া হবে। এমনকি মামলা হবে, পুলিশকে জেলহাজতেও পাঠানো হবে। একই ধরণের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার। গতকাল নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের সোর্স পরিচয়ে কেউ চাঁদাবাজি করলে তাদের ছাড় দেয়া হবে না। পুলিশের সোর্স পরিচয়ে কেউ যদি চাঁদাবাজি করে, সেক্ষেত্রে যার কাছে চাঁদা চাওয়া হবে, অথবা বিষয়টি কারও দৃষ্টিগোচর হলে তাৎক্ষণিক পুলিশের কাছে অভিযোগ করবেন। এতে কোন পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলে, তার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বা থানার ওসি ও সংশ্লিষ্ট জোনে উপ-কমিশনারকে জানাতে হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। পুলিশের অভিযানে সোর্স নিয়ে যাওয়া যায় কিনা, জানতে চাইলে মারুফ হোসেন বলেন, এ ধরনের সুযোগ নেই। এটি যদি কেউ করেন, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা  নেবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মোকতারুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, গত দু’দিন আমি মামলা তদন্তে তিন বার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রত্যক্ষদর্শীসহ পাঁচজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ জড়িত থাকার কোন সাক্ষ্য বা প্রমাণ মিলেনি। কয়জন মিলে এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দু’দিনের রিমান্ডে থাকা পারুল বেগমও জিজ্ঞাসাবাদে চাতুরি করে কথা বলছেন। দোষও স্বীকার করেনি।
এদিকে পুলিশ কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি ও তদন্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার মানবজমিনকে বলেন, পৃথক তদন্ত কমিটি ঘটনার তদন্ত করছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও দায়ের করা মামলাটির তদন্ত করছেন। এখনও তেমন বেশি কিছু জানা যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদনও হাতে আসেনি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রত্যাহারকৃত পুলিশ সদস্যদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখনও তেমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ঝাড়ুদার পদের জন্য ১৯হাজার এমবিএ ডিগ্রিধারী’র আবেদন

বেকারত্ব এমন পর্যায় পৌঁছেছে যে ভারতের উত্তর প্রদেশের আমরোহায় ১১৪টি ঝাড়–দার পদের জন্যে এবার চাকরির আবেদন জানাল উনিশ হাজার এমবিএ, বি টেক ছাত্র-ছাত্রীরা। ঝাড়–দারের পদের বেতন সতেরো হাজার টাকা। তবে এই পদের জন্যে কোনও শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই।
ঝাড়–ারের ১১৪টি খালি পদের জন্যে অনলাইনে ফর্ম আপলোডিং এখনও চলছে। এই পদের জন্যে যাঁরা দরখাস্ত জমা দিয়েছেন তাদের মধ্যে অধিকাংশই স্নাতক, স্নাতকোত্তর, বি টেক এবং এমবিএ ডিগ্রিধারীরা রয়েছেন। তবে এই পদের জন্যেও বাছাই প্রক্রিয়া এখন বন্ধ রয়েছে। কারণ ঝাড়–দার সংগঠনের তরফে দাবি তোলা হয়েছে শুধুমাত্র বাল্মীকি কমিউনিটির অন্তর্ভূক্ত সদস্যদেরই এই চাকরি দিতে হবে।
এরআগে পঞ্জাবের ভাতিন্ডায় পিওনের পদের জন্যে এমফিল, এমএসসি ও বি টেক প্রার্থীরা চাকরির আবেদন জানিয়ে ছিলেন। ভাতিন্ডা জেলা আদালতে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী নিয়োগের জন্যে ১৯টি পদ খালি আছে, আবেদন পত্র পড়েছে সাড়ে আট হাজার। সেখানেও এক ছবি। চতুর্থ শ্রেণীর পদের জন্য চাকরিতে আবেদন করেছেন এমফিল, বি টেক, এমসিএ, এমএ ও বিএড প্রার্থীরা।
পিওনের পদের জন্যে নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্কুল ফাইনাল পাস ও সাইকেল চালাতে জানতে হবে।মাসিক বেতন ৪ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ১০ হাজার ৬৮০ টাকা। এছাড়া ১৩০০ টাকা গ্রেড পে পাবে, তবে তাও দুবছরের প্রবেশনারি পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর। শুধুমাত্র কিছু বাছাই করা প্রার্থীকেই ৪ হাজার ৯০০ টাকা দেওয়া হবে প্রবেশনারি পিরিয়ড চলাকালীন।

লন্ডনে কৃতিত্বের স্বাক্ষর অর্থমন্ত্রীর ভাতিজা রাইম সেলিমের

লন্ডনের বাসিন্দা বাংলাদেশী সৈয়দ রাইম সেলিম এ বছর লন্ডনের ইষ্ট লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে আর্কিট্যাক্টে মেধা তালিকায় ফার্ষ্ট ক্লাস সেকেন্ড হয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। বর্তমানে রাইম নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসরের তত্ত্বাবধানে অবৈতনিক শিক্ষক হিসেবে কমর্রত আছেন। এক প্রতিক্রিয়ায় রাইম সেলিম মহান আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করে তার এই সাফল্যের জন্য মা বাবা শিক্ষক শিক্ষিকার অবদান ও নিজের কঠোর অধ্যবসায়ের কথা কথা জানান। রাইমের পিতা সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক আর মাতা সাজমুন নাহার সেলিম গৃহিনী। রাইমের ছোট ভাই রাইয়ান এ-লেভেল করছে, আগামী সেপ্টেম্বরে সে ইউনিভার্সিটিতে যাবে। একমাত্র ছোট বোন রাইসা স্কুলে পড়ছে। বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত রাইমের পিতা সাংবাদিক সৈয়দ শাহ সেলিমের খালাতো ভাই।
রাইমের আদি নিবাস সিলেটের সুবিদ বাজার। বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবী মরহুম সৈয়দ জাহাদার মিয়া রাইমের দাদা আর বৃহত্তর সিলেটের বিখ্যাত জমিদার মরহুম মিয়া সৈয়দ আজমল আলী চৌধুরীর ছেলে আবুল বশর চৌধুরীর ছোট কন্যা ও মরমী কবি সৈয়দ আশহর আলী চৌধুরী প্রপৌত্রী মরহুমা সৈয়দা জুমেয়া খাতুন রাইমের দাদী। রাইমের নানা সমাজসেবী আলহাজ্জ্ব মোহাম্মদ আব্দুল  মোসাব্বির বর্তমানে সিলেটের টুলটিকর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

‘৮ জন মানুষ পুড়ে ছাই হয়া গেল বিচার পাল্যাম না বাহে’

‘আগুনত পুড়িয়া ৮ জন মানুষ ছাই হয়া মরি গেল বাহে, তার বিচার পাল্যাম না। সরকার হামাক ট্যাকা দিছে, কিন্তু মানুষ তো আর ফেরত দিবার পায় নাই। এক বছর গেলো বিচারও হলো না।’- এই কথাগুলো বলছিলেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের চন্ডিপুর গ্রামের নিহত শিশু শিল্পী রানীর হতভাগা বাবা বলরাম দাশ। আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে যাওয়া মেয়ের লাশ না পেয়ে তার যন্ত্রণা কমেনি। এখন মেয়ের ছবি আর গায়ের পোড়া জামা বুকে জড়িয়ে শুধু স্মৃতিচারণ করেন। বছর পেরিয়ে গেলেও দুর্বৃত্তদের আগুন সন্ত্রাসের শিকার ৮ নিহতের পরিবারের কান্না থামেনি। মেডিকেল রিপোর্টের কারণে ঘাতকদের নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়নি এক বছরেও। পেট্রল বোমার আগুনে পুড়ে মারা যাওয়ার পরও জড়িতদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করা সম্ভব না হওয়ায় বিক্ষুব্ধ ওই স্বজনরা। গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মেহেদী হাসান মামলার বর্ণনা করে জানান, আন্দোলনের সময় ২০১৫ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে গাইবান্ধায় ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। পুলিশ প্রহরায় বাস যোগে গাইবান্ধা থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে সাহাপাড়া নামক স্থানে দুর্বৃত্তরা সুন্দরগঞ্জ থেকে আগত ঢাকাগামী নাপু এন্টারপ্রাইজের যাত্রীভর্তি একটি বাসে পেট্রল বোমা ছুড়ে মারে। বোমার আগুনে পুড়ে নারী ও শিশুসহ ঘটনাস্থলে উপজেলার চণ্ডিপুর ইউনিয়নের কালির খামার গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর সৈয়দ আলী, চণ্ডিপুর গ্রামের সুমন মিয়া, শিশু শিল্পী রানী, পশ্চিম সিচা গ্রামের হালিমা বেগম ৪ জন ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চন্ডিপুর পাইকপাড়া গ্রামের শিশু সুজন, সুজনের মা সোনাভান, সাজু মিয়া, গাইবান্ধা সদর উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদসহ ৮ জন মারা যায়। আহত হয় প্রায় ৩৫ জন। আহতরা দীর্ঘদিন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে ফিরে আসে পঙ্গুত্ব নিয়ে। পরে সরকারিভাবে নিহত এবং আহতদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়। এ ব্যাপারে গাইবান্ধা সদর থানার এসআই মাহবুব আলম বাদী হয়ে জামায়াত-বিএনপির ৬০ জনের নাম উল্লেখ করে গাইবান্ধা থানায় মামলা করেন। পুলিশ জানায়, মামলার দীর্ঘদিন অভিযান চালিয়ে ও তদন্ত করে মামলার মূল আসামিসহ অধিকাংশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু ডাক্তারি সার্টিফিকেট না পাওয়ায় দীর্ঘ এক বছরেও বোমা হামলায় ৮ জনের হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল করা যায়নি। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ায় নিহতের স্বজনরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ওই ঘটনায় নিহতদের স্বজনরা জানান, ক্ষতিপূরণ বাবদ টাকা পেয়েছি কিন্তু হত্যার বিচার পাইনি। নিহত শিশু শিল্পী রানীর পিতা বলরাম দাস বলেন, আমার মেয়ে পুড়ে মারা গেছে কিন্তু আগুনে পুড়ে যাওয়া তার লাশও পাইনি। প্রতিবেশী সুমতি রানী, নিহত শিশু শিল্পী দাসের মা সাধনা রানী জানান, আমরা তো রাজনীতি করি না। কাজ করে খাই, গাইবান্ধা থেকে অন্য খানে কাজ করে পেটের খাবার যোগাড় করি। তার পরও আমাদের ওপর হামলা কেন? আমরা ওই সন্ত্রাসী অপরাধীদের বিচার চাই। গাইবান্ধার পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম ডাক্তারি সার্টিফিকেট বিলম্বে পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, মামলার চার্জশিট জমা দিতে দেরি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা গেছে এবং তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।