Sunday, July 13, 2025
গাজা এবং গণহত্যা অধ্যয়নের বিতর্ক by মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমান
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীভৎসতা থেকে জন্ম নেওয়া এই অধ্যয়নক্ষেত্রটি দীর্ঘদিন হলোকাস্টের ‘ব্যতিক্রমবাদের’ আলাপে মগ্ন ছিল। এর পক্ষের গবেষকদের যুক্তি ছিল, যেহেতু হলোকাস্টের মতো সংগঠিত ধ্বংসযজ্ঞের অন্য কোনো নজির নেই, তাই তা এককভাবে বিশ্লেষণযোগ্য। অন্য কথায়, হলোকাস্টই একমাত্র জেনোসাইড।
হলোকাস্ট গবেষণার ইতিহাসে একটা উল্লেখযোগ্য প্রবণতা হলো, গণহত্যাবিষয়ক অনেক বিখ্যাত পণ্ডিত ইসরায়েলের দৃঢ় সমর্থক ছিলেন। বিশেষ করে ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে, এই অধ্যয়নক্ষেত্রের শুরুর দিকের গবেষকেরা হলোকাস্ট বা শোয়াহর (ধ্বংসযজ্ঞ) পর ইসরায়েলকে ‘তেকুমা’ (একধরনের পুনর্জন্ম বা পুনরুজ্জীবন) হিসেবে দেখিয়েছেন। তাঁদের লেখায় ইসরায়েলকে সব সময় সর্বোচ্চ ভুক্তভোগী ও নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করা হতো, যেখানে ইসরায়েল নিজে কখনোই আক্রমণকারী নয়। এই ধারার সমর্থকদের অনেকে ইসরায়েলকে একটি বিশেষ নৈতিক অবস্থানের অধিকারী মনে করেন এবং এর সমালোচনামূলক যেকোনো পদক্ষেপকে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তবে নব্বইয়ের দশকে বসনিয়া ও রুয়ান্ডার গণহত্যার মতো ঘটনাগুলো হলোকাস্টের সেই ব্যতিক্রমবাদী চিন্তাভাবনায় চিড় ধরায় এবং হলোকাস্টের তুলনামূলক বিশ্লেষণের এক নতুন প্রবণতা দেখা দেয়। অর্থাৎ, হলোকাস্ট অন্যান্য জেনোসাইডের মধ্যে একটি, কাজেই ‘অনন্য’ নয়। এই ধারার অনেকে বরং ইসরায়েলকে একটি বসতি স্থাপনকারী ঔপনিবেশিক কাঠামোর অংশ হিসেবে বিশ্লেষণ করেন, যেখানে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত পদক্ষেপগুলোকে গণহত্যার সংজ্ঞার আওতাধীন ধরা হয়।
তাই স্টকটন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলোকাস্ট ও গণহত্যা বিষয়ের অধ্যাপক রাজ সেগাল যখন ৭ অক্টোবর-পরবর্তী ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপকে গণহত্যার ধ্রুপদি দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যা দেন এবং বলেন যে ১৯৪৮ সালের জাতিসংঘের গণহত্যা কনভেনশনে বর্ণিত ‘অভিপ্রায়’ নিয়েই ইসরায়েল এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, তখন হলোকাস্ট ও গণহত্যাবিষয়ক পণ্ডিতদের দীর্ঘদিনের সুপ্ত বিভেদ যেন নতুন করে সামনে চলে এল। বলা বাহুল্য, রাজ একা নন। একই শিবিরে নিজস্ব মতামতসহ অন্তর্ভুক্ত আছেন ওমের বার্তভ, ডির্ক মোজেস কিংবা অ্যামোস গোল্ডবার্গের মতো প্রভাবশালী ইতিহাসবিদেরাও।
বলে রাখা ভালো, ১৯৪৮ সালের জাতিসংঘের জেনোসাইড কনভেনশন অনুযায়ী জেনোসাইড বা গণহত্যার পেছনে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে একটি জাতীয়, নৃতাত্ত্বিক, বর্ণগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে ধ্বংস করার ‘অভিপ্রায়’ থাকতে হবে। এই ‘বিশেষ অভিপ্রায়’ প্রমাণ করা আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়ায় খুবই জটিল। ডির্ক মোজেস, যিনি ‘জার্নাল অব জেনোসাইড রিসার্চ’-এর সম্পাদক, যুক্তি দেন যে ১৯৪৮ সালের জেনোসাইড কনভেনশনটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রগুলো ‘সামরিক প্রয়োজনের’ নামে কিংবা ‘স্থায়ী নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করার অজুহাতে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরও গণহত্যা বা জেনোসাইডের অভিযোগ থেকে রক্ষা পেয়ে যায়।
মোজেস উল্লেখ করেন, হলোকাস্টের আদলে তৈরি এই কঠোর সংজ্ঞা, যা ‘গোষ্ঠী হিসেবে’ ধ্বংসের অভিপ্রায়কে মূল শর্ত হিসেবে দেখে, তা ব্যাপক বেসামরিক হত্যাকাণ্ডের নানা ঘটনাকেও গণহত্যার সংজ্ঞার বাইরে রেখে দিতে পারে। মোজেসের এই বিশ্লেষণ গণহত্যার আইনি সংজ্ঞা এবং এর বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে এক বিশাল ফারাক তুলে ধরে, যা বর্তমান গাজার পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
আবার অনেক বিশ্লেষক, বিশ্বের বিভিন্ন ভুক্তভোগী গোষ্ঠী কর্তৃক গণহত্যার স্বীকৃতি পাওয়ার অবিরাম দাবি তোলার বিকল্প হিসেবে ক্রাইমস এগেইনস্ট হিউম্যানিটি বা ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ বিষয়ে আরও নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন। কেননা এর আওতায় অপরাধ প্রমাণ করতে, গণহত্যার সংজ্ঞার মতো, অপরাধীর বিশেষ অভিপ্রায় প্রমাণ করার বাধ্যবাধকতা নেই।
এ ছাড়া গণহত্যার সংজ্ঞায় যে নির্দিষ্ট কিছু ভুক্তভোগী শ্রেণি (যেমন জাতীয়, নৃতাত্ত্বিক, বর্ণগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠী) উল্লেখ করা হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত। আর এটি শুধু যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সীমাবদ্ধ নয়, শান্তিকালেও এর প্রয়োগ সম্ভব। ফলে এটি রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন বা ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোকেও আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে অনেক বেশি উপযোগী।
অবশ্য ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য ‘অমানবিক’ মন্তব্য এবং গাজায় সংঘটিত ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞকে গণহত্যার ‘অভিপ্রায়ের’ সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবেই দেখা সম্ভব। স্মরণ করিয়ে দিই, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট ফিলিস্তিনিদের ‘মানবপশু’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ ৭ অক্টোবরের হামলার জন্য সমগ্র গাজাবাসীকেই ‘দায়ী’ বলে দাবি করেছিলেন। এমনকি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিষয়ে কথা বলার সময় বাইবেলের ‘আমলেক’ কাহিনির উল্লেখ করেন, যা মূলত একটি গণহত্যার ঘটনা। অর্থাৎ, ইসরায়েলি পক্ষ থেকে গণহত্যার ইঙ্গিত বহন করে এমন অনেক বিবৃতি এসেছে, যা আইনি প্রমাণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গাজায় ইসরায়েলি হামলার ফলে নতুন করে তৈরি হওয়া এসব তর্কবিতর্কের পটভূমিতে আবদুল ওয়াহাব আল-আফেন্দির মতো গুরুত্বপূর্ণ লেখক গণহত্যা অধ্যয়নের নিষ্ফলতা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, যদি প্রভাবশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো ‘প্রায় গণহত্যামূলক’ কর্মকাণ্ডকেও বৈধ নীতি হিসেবে দেখে, তাহলে এই অধ্যয়নক্ষেত্রটির সংহতি ভেঙে পড়বে এবং এর প্রাসঙ্গিকতা হারাবে।
আল-আফেন্দি জোর দেন যে কোনো পদক্ষেপকে যদি সম্ভাব্য গণহত্যা বলেও বিবেচনা করা হয়, তবে তা প্রশ্নাতীতভাবে নিন্দনীয়, বিশেষ করে যখন তা একটি অন্যায্য ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, যদি প্রভাবশালীরা এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন, তবে এটি শুধু এই অধ্যয়নক্ষেত্রের জন্য নয়, বরং মানবতার জন্য একটি বড় বিপর্যয়। তাই তিনি মনে করেন, গণহত্যা অধ্যয়নকে অবশ্যই অপরাধী এবং তাদের সমর্থকদের বয়ানগুলোকে মৌলিকভাবে প্রশ্ন করে যেতে হবে।
তাহলে গণহত্যা অধ্যয়ন কি হলোকাস্টের ব্যতিক্রমবাদের ধারণায় আটকে থাকবে, নাকি ফিলিস্তিনিদের মতো ‘অযোগ্য ভুক্তভোগীদের’ অভিজ্ঞতাকেও অন্তর্ভুক্ত করবে? গাজাকেন্দ্রিক বিতর্কের ফলে অধ্যয়নক্ষেত্রটির মোড় ঘুরছে বলেই মনে হয়। রাজ সেগাল এবং লুয়িগি ড্যানিয়েলের মতে, গাজার সংঘাত হলোকাস্ট ও গণহত্যা অধ্যয়নের ‘নজিরবিহীন সংকট থেকে নজিরবিহীন পরিবর্তনের’ দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাঁরা মনে করেন, ইসরায়েল প্রশ্নে ব্যতিক্রমবাদ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে।
কাজেই গণহত্যা অধ্যয়নের ক্ষেত্রকে অবশ্যই হলোকাস্টের পাশাপাশি অন্যান্য গণহত্যার তুলনামূলক বিশ্লেষণের জন্য একটি উন্মুক্ত এবং সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করতে হবে। এটি করতে পারলে আন্তর্জাতিক আইনের সীমাবদ্ধতাগুলোকে চিহ্নিত করা এবং রাজনৈতিক অভিপ্রায় ও কর্মের মধ্যে সম্পর্ককে আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।
ফিলিস্তিনিদের অভিজ্ঞতাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা এই অধ্যয়নক্ষেত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নৈতিক অবস্থান পুনর্গঠনের জন্য অপরিহার্য। এটি গণহত্যা অধ্যয়নক্ষেত্রটির জন্য একটি সুযোগও বটে, যা এই বিষয়কে আরও ব্যাপক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং গণহত্যা প্রতিরোধের জন্য আরও কার্যকর করে তুলতে পারে। গাজার রক্তক্ষরণ আমাদের বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার জন্য জ্ঞানজাগতিক নীরবতা কোনো বিকল্প নয়।
● মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমান, পিএইচডি গবেষক, স্ট্রসলার সেন্টার ফর হলোকাস্ট অ্যান্ড জেনোসাইড স্টাডিজ, ক্লার্ক ইউনিভার্সিটি এবং খণ্ডকালীন শিক্ষক, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি)
![]() |
| ইসরায়েলি হামলায় নিহত শিশুর মরদেহ নিয়ে যাচ্ছেন ফিলিস্তিনি বাবা। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘যে ব্যাগে খাবার ভরার আশা ছিল, সেটিই হয়ে গেল কাফনের কাপড়’
হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, নিহত এই ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৪ জন ছিলেন দক্ষিণ রাফায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থনে পরিচালিত ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের’ (জিএইচএফ) ত্রাণকেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ। তাঁরা খাবারের আশায় সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।
এসব হামলা এমন সময় চালানো হলো, যখন গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা নিয়ে কাতারে চলমান আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে এবং উপত্যকার পুরো জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ইসরায়েলি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিন্দা ক্রমে বাড়ছে।
রাফার আল-শাকুশ এলাকায় জিএইচএফের ওই ত্রাণকেন্দ্রের সামনে ইসরায়েলি সেনারা সরাসরি গুলি ছুড়েছেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। ঘটনাস্থলটিকে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো ‘মানব হত্যাযজ্ঞের কেন্দ্র’ ও ‘মৃত্যুফাঁদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
আক্রমণ থেকে বেঁচে যাওয়া সামির শায়াত বলেন, ‘যে ব্যাগে খাবার ভরার আশা ছিল, সেটিই হয়ে উঠেছে মৃতদেহ মুড়িয়ে রাখার কাফনের কাপড়। আল্লাহর কসম, এটা ছিল নিছক একটি মৃত্যুফাঁদ। তারা উন্মত্তভাবে গুলি চালিয়েছে। আমি আমার বন্ধুকে কাঁধে করে নিয়ে এসেছি, শহীদদের ভিড়ের মধ্য দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে।’
আরেক আহত ফিলিস্তিনি মোহাম্মদ বারবাখ জানান, ইসরায়েলি স্নাইপারদের গুলিতে এসব মানুষ নিহত হন। তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের খাবার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডাকে, ব্যাগ ধরিয়ে দেয়। পরে আমাদের ওপর হাঁস শিকারের মতো গুলি ছোড়ে।’
আল–জাজিরার প্রতিবেদক তারেক আবু আজম বলেন, জিএইচএফ রাফায় শুধু একটি ত্রাণকেন্দ্র চালু রেখেছে। ফলে খাবার সংগ্রহ করতে হাজার হাজার মানুষ দক্ষিণ গাজায় ছুটে আসছেন। সেখানেই ইসরায়েলি সেনারা কোনো পূর্বসতর্কতা ছাড়া গুলি চালান। তিনি আরও বলেন, এ হামলা প্রমাণ করে গাজার কোথাও নিরাপদ নয়, এমনকি ক্ষুধার্ত মানুষের ত্রাণের লাইনও ইসরায়েলি হামলা থেকে মুক্ত নয়।
গাজার চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, গত মে মাসের শেষ থেকে এ পর্যন্ত জিএইচএফের ত্রাণকেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলায় আট শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার।
আল–আকসা হাসপাতালের মুখপাত্র খলিল আল-দেগরান বলেন, ‘আহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগের মাথা ও পায়ে গুলি লেগেছে। বিপুলসংখ্যক আহত ব্যক্তিকে সামাল দিতে গিয়ে আমাদের হাসপাতালে তীব্র সংকট চলছে।’
একাধিক স্থানে হামলা, শিশু-নারীসহ অনেকে হতাহত
গতকাল গাজার অন্যান্য এলাকাতেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। গাজা শহরের জাফা স্ট্রিটে এক বাড়িতে বোমা হামলায় ৪ শিশুসহ ১৪ জন নিহত হন। এ সময় আহত হন আরও ১০ জন।
উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকায় দুটি আবাসিক ভবনে বোমা হামলায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানায় হাসপাতাল সূত্র। গাজা শহরের পশ্চিমাংশে শাতি শরণার্থীশিবিরে আরেকটি হামলায় আরও সাতজন প্রাণ হারান।
এ ছাড়া উত্তর গাজার বেইত হানুনে ইসরায়েলি বাহিনী অন্তত ৫০টি বোমা ফেলে পুরো শহর কাঁপিয়ে তোলে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় তারা গাজায় ২৫০ বার হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলের হামলার পাশাপাশি গাজায় খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহেও বাধা অব্যাহত রয়েছে। যদিও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ উপত্যকাকে দুর্ভিক্ষপীড়িত বলে ঘোষণা করেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এতে অন্তত ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। জিম্মি করা হয় অনেককে। ওই দিন থেকেই গাজায় নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এ হামলায় এ পর্যন্ত ৫৭ হাজার ৮৮২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫ জন।
গাজার সরকারি তথ্য দপ্তর জানিয়েছে, অপুষ্টিতে ইতিমধ্যে ৬৭ শিশু মারা গেছে। তাদের তথ্যমতে, ৫ বছরের নিচের ৬ লাখ ৫০ হাজার শিশু বর্তমানে গুরুতর অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ দপ্তরের ভাষ্য, ‘খাদ্য ও ওষুধের অভাবে গত তিন দিনে আমরা বহু মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করেছি। এটা এক নিদারুণ নিষ্ঠুর মানবিক সংকট।’
পরিকল্পিত উচ্ছেদ ও মানবিক বিপর্যয়
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের ফেলো ওমর রহমান আল–জাজিরাকে বলেন, গাজা থেকে বন্দীদের মুক্ত করা নয়, বরং পুরো অঞ্চলকে ধ্বংস করে ফিলিস্তিনি সমাজকে ভেঙে ফেলা ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য।
এই গবেষক বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকেই এটা পরিষ্কার, ইসরায়েলের লক্ষ্য হলো গাজার কাঠামোগত ধ্বংস, ফিলিস্তিনি সমাজ গুঁড়িয়ে দেওয়া ও পুরো উপত্যকা থেকে জনগণকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা।
ওমর রহমান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে জিএইচএফ প্রতিষ্ঠা করেছে মূলত প্রচলিত ত্রাণ বিতরণব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়ে গাজায় বেঁচে থাকা মানুষকে সীমিত এলাকায় কেন্দ্রীভূত করতে। তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ যে ‘মানবিক শহর’ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটি আসলে রাফা ধ্বংস করে ২১ লাখ মানুষকে সেখানে রাখার পরিকল্পনা। এ পরিকল্পনায় মানবিক শহর বলা একধরনের প্রহসন। এটা প্রকৃতপক্ষে একটি ‘কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প’ বা বন্দিশিবির।
ফিলিস্তিনিরা এ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন ও নিজেদের মাতৃভূমি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও কয়েকটি রাষ্ট্রও একে ‘জাতিগত নিধনের পূর্বাভাস’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ইসরায়েলের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আকিভা এলদার আল–জাজিরাকে বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পরিকল্পনা ইসরায়েলিদের বড় অংশকেই ‘বিব্রত ও ক্ষুব্ধ’ করেছে। এটি অবৈধ ও অনৈতিক। এ পরিকল্পনায় যাঁরা অংশ নেবেন, তাঁরা যুদ্ধাপরাধে যুক্ত হবেন।
![]() |
| ত্রাণ নিতে আসা ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে গতকাল শনিবারও অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। ছবি: আল–জাজিরার ভিডিও ফুটেজ থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পুরান ঢাকায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড: বিএনপির ১৬ বছরের ‘ত্যাগ’ কি ধুলায় মিশছে by সেলিম জাহিদ
ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামলা, খুন, দখল, অর্থ দাবি, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাত, দলীয় পদপদবি নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় এমনিতেই বিব্রত দলটির নেতারা।
এরই মধ্যে গত বুধবার সন্ধ্যায় পুরান ঢাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে হত্যা করা হয়। বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামী জাতীয় নির্বাচন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার, জুলাই ঘোষণাপত্রসহ কয়েকটি বিষয়ে যখন অন্য দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির মতবিরোধ চলছিল; সে সময়ে পুরান ঢাকার এ হত্যাকাণ্ড বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে বেশ বেকায়দায় ফেলেছে। এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ইতিমধ্যে জামায়াতে ইসলামী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলনের ছাত্র ও যুব সংগঠন রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন দল ও সংগঠন।
বিএনপি নিজেও এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছে। শুক্রবার রাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবৃতিতে বলেছেন, জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলনে পতিত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর এই নির্মম ঘটনাটি (লাল চাঁদ হত্যাকাণ্ড) দেশের মানুষের বিবেককে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমাজকে আরও গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত করবে।
দুষ্কৃতকারীদের অপরাধের দায় দল নেবে না—বিএনপির নেতারা আগে এ কথা বলে এলেও একশ্রেণির নেতা–কর্মীর বেপরোয়া কর্মকাণ্ড দলটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। যার কারণে লাল চাঁদ হত্যাকাণ্ডের পর বিএনপিকে লক্ষ্য করে ক্ষোভ–বিক্ষোভ ও নিন্দা–প্রতিবাদ বাড়ছে। এর আগে ৩ জুলাই আসামি ছিনিয়ে নিতে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানায় হামলা চালান বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। হামলায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশের আটজন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
৭ হাজার নেতা–কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, তবু থামছে না
এত বহিষ্কার, অব্যাহতি, পদাবনতি ও কমিটি বাতিল করার মতো কঠোর ব্যবস্থা নিয়েও কেন নেতা–কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বিএনপি—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।
এ বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, হয়তো অনেক অপরাধী, সন্ত্রাসী নানা ছিদ্রপথে সংগঠনে ঢুকে যেতে পারে। কিন্তু তাদের দুষ্কর্মের দায় তো বিএনপি নেবে না। বরং এ ব্যাপারে দল খড়্গহস্ত। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত জেলা, মহানগর, থানা এবং কেন্দ্র মিলে প্রায় সাত হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে বিএনপি শাস্তিমূলক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। অপরাধ যে-ই করবে, তাঁকে চরম শাস্তি দিতে দল বদ্ধপরিকর।
বিএনপির একটি সূত্র জানায়, লাল চাঁদ হত্যাকাণ্ডের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। মূল দল বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে শুদ্ধি অভিযান চালানোর কথাও বলা হয়েছে। যেসব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অতীতে খারাপ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আছে বা যাঁদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা রয়েছে, তাঁদের ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপি তো দায় এড়াচ্ছে না; বরং দায়িত্ব পালন করছে। অভিযোগ পাওয়ামাত্র বহিষ্কার করছে, প্রশাসনকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করছে। এরপরও বিভিন্ন মহল এটা নিয়ে হীন রাজনীতির চেষ্টা করছে। তা না হলে তারেক রহমান জবাব দাও, এই মিছিল কেন। তারেক রহমান কি রাষ্ট্রক্ষমতায় আছেন? বিএনপি যদি অপরাধীদের রক্ষা করার চেষ্টা করত, সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিত, তাহলে দোষ দিতে পারত।’
চাঁদাবাজির আরেক ধরন
বিএনপির নেতারা বলছেন, আল ইবাদত নামের এক ব্যক্তি ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ব্যবসায়ী দল’ নামের একটি ভুঁইফোড় সংগঠন গড়ে তোলেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পাশে হোটেল ভিক্টোরিতে তিনি কার্যালয় খোলেন। বিএনপির অঙ্গসংগঠন পরিচয় দিয়ে এই ব্যক্তি বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নেওয়াসহ চাঁদা দাবি করেন। এ খবর জানতে পেরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (দপ্তরে সংযুক্ত) আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী গতকাল শনিবার পল্টন থানায় মামলা করেন।
জানা গেছে, এ ব্যাপারে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর দলীয় প্যাডে একটি চিঠিও দেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে আল ইবাদতকে গ্রেপ্তার করে।
নেতা-কর্মীরা কেন এত বেপরোয়া
একশ্রেণির নেতা-কর্মী বেপরোয়া হয়ে ওঠার বিষয়ে বিএনপির নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যন্ত দলের বড় একটি অংশ রাতারাতি টাকা বানানোর ধান্দায় অস্থির হয়ে পড়েছেন। বিগত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলের সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাট থেকে অনেকে উৎসাহী। তাই যার যেখানে প্রভাব আছে, সে সেখানে অবৈধ অর্থের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এ জন্য এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, দখল, চাঁদাবাজি, ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ—এমন কর্মকাণ্ড চলছে। যেখানেই এসব কাজে বাধা আসছে, সেখানেই অঘটন ঘটছে এবং ঘটনাক্রমে কিছু কিছু প্রকাশ পাচ্ছে।
এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দীর্ঘ অপশাসন ও দুর্বৃত্তায়ন সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে। এগুলোর রেশ এখনো কাটছে না। এর জন্য মোটিভেশনাল প্রোগ্রাম এবং শুদ্ধি অভিযানের বিকল্প নেই।’
তবে বিএনপির নেতাদের কারও কারও অভিমত হচ্ছে, যেসব এলাকায় দলের ভালো নেতৃত্ব নেই, বিশেষ করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে অস্পষ্টতা আছে, সেসব এলাকায় নেতা-কর্মীরা বেশি বেপরোয়া। কারণ, ওই সব এলাকায় মনোনয়নপ্রত্যাশী একাধিক নেতার মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে। তাঁরা দল ভারী করতে যাচাই–বাছাই না করে অনেককে দলে ভেড়াচ্ছেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির একজন গুরুত্বপূর্ণ নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘যাঁরা বিএনপির নামে নানা অপরাধ করছেন, তাঁরা দলের উল্লেখযোগ্য কেউ নন। হয়তো কোনো একটা কমিটিতে কোনো পদে আছেন বা ছিলেন। কিন্তু তাঁদের দায় পুরো দলকে নিতে হচ্ছে। তাঁদের কারণে বিএনপির ১৬ বছরের ত্যাগ, লড়াই–সংগ্রাম সবকিছু ধুলায় মিশে যাচ্ছে। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না।’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘মানব কসাইখানা’ গাজা ‘মৃত্যুকূপ’, আরও ১১০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেনারা সরাসরি ক্ষুধার্ত মানুষের ওপর গুলি চালায়। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসব কেন্দ্রকে ইতিমধ্যে ‘মানব কসাইখানা’ ও ‘মৃত্যুকূপ’ বলে অভিহিত করেছে। হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া সামির শাআত বলেন, যে ব্যাগে খাবার রাখার কথা ছিল, সেটাই হয়ে গেছে কাফনের কাপড়। আল্লাহর কসম, এটা শুধু মৃত্যুফাঁদ। তারা উন্মাদের মতো গুলি চালিয়েছে। তিনি খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে তার বন্ধুর মৃতদেহের পাশে বসে এই কথাগুলো বলেন।
অন্য এক বেঁচে যাওয়া মোহাম্মদ বারবাখ বলেন, ওরা আমাদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে খাবার নিতে ডাকে, ব্যাগ ধরিয়ে দেয়- তারপর আমাদের হাঁস-মুরগির মতো গুলি করে শিকার করে।
আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আযম জানান, ইসরাইলি সেনারা কোনো সতর্কতা ছাড়াই জিএইচএফ কেন্দ্রের সামনে গুলি চালায়। তিনি বলেন, জিএইচএফ কেবল একটি সাহায্যকেন্দ্র চালু রেখেছে। সেখানে পৌঁছাতে গিয়ে লক্ষাধিক মানুষ রাফার দিকে ছুটে যাচ্ছে। ক্ষুধার্ত মানুষের ওপর হামলা প্রমাণ করে গাজায় বেঁচে থাকার কোনও স্থান নেই।
চিকিৎসকদের মতে, মে মাসের শেষ থেকে জিএইচএফ কেন্দ্রগুলোতে ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৮০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫,০০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
আল-আকসা হাসপাতালের মুখপাত্র খালিল আল-দেগরান বলেন, মৃতদের বেশির ভাগেরই মাথা ও পায়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক হতাহত সামাল দিতে আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। শনিবার গাজা শহরের তুফাহ এলাকায় বোমা হামলায় ১৪ জন নিহত হন। এর মধ্যে ৪ জন জাফা স্ট্রিটের একটি বাড়িতে ছিলেন। এছাড়া, জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে দুটি ভবনে ইসরাইলি হামলায় নিহত হন ১৫ জন।
গাজা শহরের পশ্চিমে শাতি শরণার্থী শিবিরে আরও ৭ জন নিহত হন। উত্তর গাজার বেইত হানুন এলাকায় ৫০টির বেশি বোমা ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি ৪৮ ঘণ্টায় ইসরাইলি বাহিনী গাজায় ২৫০ বার হামলা চালিয়েছে। খাদ্য ও মানবিক সহায়তা ঢুকতেও বাধা দিচ্ছে তারা, যদিও অধিকার সংস্থাগুলো দুর্ভিক্ষের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
গাজা মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, অপুষ্টিতে আরও ৬৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ৫ বছরের কম বয়সী ৬.৫ লক্ষ শিশু তাৎক্ষণিক অপুষ্টির চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, গত তিন দিনে খাদ্য ও ওষুধের অভাবে আমরা বহু মানুষের মৃত্যু রেকর্ড করেছি। এ এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।
রয়টার্স ও এএফপির তথ্য অনুযায়ী, হামাস ও ইসরাইলের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি আলোচনা আবারও ভেঙে পড়েছে। ইসরাইল বাহিনীর গাজা থেকে কতটুকু এলাকা ছাড়বে, তা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। এক ফিলিস্তিনি সূত্র জানিয়েছেন, ইসরাইল যে মানচিত্র দিয়েছে তাতে গাজার প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকা- বিশেষ করে রাফাহ ও উত্তর-পূর্ব গাজা- ইসরাইলের দখলে থাকবে। হামাস এটি মানতে রাজি নয়। হামাস চায়, ইসরাইল মার্চের আগের যুদ্ধবিরতির সীমায় ফিরে যাক। এছাড়া তারা আশঙ্কা করছে রাফাহ সীমান্তের কাছে ছোট একটি জায়গায় লক্ষাধিক উদ্বাস্তু ফিলিস্তিনিকে ঠেলে দেওয়া হবে। সূত্র জানায়, ইসরাইলি মানচিত্র বাস্তবে গাজা উপত্যকার পুনরায় দখল বৈধতা দিচ্ছে এবং এটিকে বিচ্ছিন্ন বন্দিশালায় পরিণত করছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জীবন্ত কবরস্তান গাজা, মুসলিমদের ঘুম ভাঙবে কবে! by মোহাম্মদ আবুল হোসেন
তাকে গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) কেন্দ্র থেকে খাবার দেয়ার লোভ দেখানো হচ্ছে। ক্ষুধায় কাতর মানুষ দিগ্বিদিক চিন্তাভাবনা না করে পঙ্গপালের মতো ছুটে যান সেখানে। আশা একটু খাবার হলে ঘরে ক্ষুধায় বেহুঁশ সন্তানের মুখে একটা রুটি তুলে দিতে পারবেন। কিন্তু খাবারের বিপরীতে তাদের কপালে জুটছে গুলি। সরাসরি গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে এসব মানুষকে। বিপরীতে বয়ান দেয়া হচ্ছে, ইসরাইলি বাহিনী হামাসের সদস্যদের উদ্দেশ্য করে গুলি ছুড়েছে। তারা হামাসের আশ্রয়স্থান লক্ষ্য করে হামলা করেছে। কিন্তু মিডিয়ার খবরে, আধুনিক ইন্টারনেটের যুগে জিএইচএফে দৌড়ে যাওয়া মানুষগুলোকে যারা দেখেছেন, তারা কি বলবেন ওইসব মানুষ হামাসের সদস্য? তারা ইসরাইলি বাহিনীর প্রতি হুমকি? তারা ইসরাইলি সেনাদের গুলি করতে গিয়েছে?
প্রায় সব টেলিভিশনে দেখানো দৃশ্যে দেখা গেছে, অনাহারী মানুষগুলো শুধুই একটু খাবারের জন্য হামলে পড়েছে। তারা প্রতিযোগিতায় কার আগে কে সাহায্য পাবেন, তাতে বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়েছে। যদি বলা হতো শৃংখলা ফেরাতে গুলি করা হয়েছে, তাও কি মানানসই হতো? হতো না। কারণ, বিশৃংখল অবস্থায় শৃংখলা ফেরাতে হলে আপনাকে ফাঁকা গুলি ছুড়তে হয়। সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তে হয়। কিন্তু তা কী করা হয়েছে? উত্তর- না। উত্তর হলো সরাসরি মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, হচ্ছে। পরিস্থিতি দেখে সেই কারবালার ময়দানের কথা মনে পড়ে যায়। কারবালার ঘটনা ইসলামী ইতিহাসের এক হৃদয়বিদারক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি ঘটে ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে (১০ মুহাররম, ৬১ হিজরি), বর্তমান ইরাকের কারবালা নামক স্থানে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র (নাতি) ইমাম হুসাইন (আ.) ছিলেন সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক। উমাইয়া খলিফা ইয়াজিদ অত্যাচারী ও ধর্মবিরোধী শাসক হিসেবে পরিচিত ছিল। ইয়াজিদের পথ ইসলামী আদর্শের পরিপন্থী।
ইমাম হুসাইন (আ.) পরিবার-পরিজন ও সাহাবিদের নিয়ে কুফাবাসীদের দাওয়াতে রওনা দেন। কিন্তু পথেই তাকে কারবালায় বাধা দেয়া হয়। সেখানে তাঁকে ও তাঁর পরিবারসহ ৭২ জন সঙ্গীকে পানি ও খাবার থেকে বঞ্চিত করে তিন দিন ঘোরতর পিপাসার মাঝে ফেলে রাখা হয়। ১০ই মুহাররম আশুরার দিনে ইয়াজিদের বিশাল বাহিনী ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর আক্রমণ চালায়। একে একে তাঁর ভাই, সন্তান, আত্মীয় ও সঙ্গীরা শহীদ হন। শেষ পর্যন্ত ইমাম হুসাইন (আ.)-কেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তাঁর মাথা কেটে ফেলা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার মাধ্যমে ইমাম হুসাইন (আ.) ইসলাম, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের জন্য শহীদ হন। তাঁর আত্মত্যাগ আজও মুসলিম বিশ্বে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক।
গাজা পরিস্থিতি সেই কারবালা না হলেও ঠিক যেন তারই প্রতিফলন। কারবালার ময়দানে মুসলিমদেরকে পানি ও খাদ্য থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। খাদ্য ও পানির অভাবে শিশুরা পিতা-মাতার জিহ্বা মুখে নিয়ে চুষে পানির তৃষ্ণা মেটানোর চেষ্টা করেছিল। গাজায় কী হচ্ছে? গাজায়ও খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ, আন্তর্জাতিক সহায়তা, বিদেশি সাংবাদিকের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নিরীহ মানুষকে গণহারে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে না এ যুগের নেতানিয়াহু? গাজায় ত্রাণ দিতে গিয়ে আটক করেছেন ফ্লোটিলা মেডলিনের গ্রেটা থানবার্গরা। মানুষ কি মানুষের সহায়তায় পাশে দাঁড়াবে না? কোন উদাহরণ সৃষ্টি করছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু? তার দেশের প্রভাবশালী পত্রিকা হারেৎজ বলছে, তিনি নিজের রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য গাজা ও ইরান যুদ্ধ শুরু করেছেন এবং তাকে জিইয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু মুসলিম বিশ্ব কী করছে? আর কবে মুসলিমদের ঘুম ভাঙবে? এরই মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়েছে। কারণ, ইসরাইল যা চায়, তা বাস্তবসম্মত নয়। তারা গাজার শতকরা ৪০ ভাগ অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে চায়। অর্থাৎ গাজার প্রায় অর্ধেক অংশে তাদের দখলদারিত্ব বজায় রাখতে চায়। ফলে ছোট্ট উপত্যাকা গাজার অস্তিত্ব বলতে কিছু থাকবে না।
এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক ওমর রহমান বলেন, ইসরাইলের লক্ষ্য শুধু হামাস নয়, বরং গাজার পূর্ণ কাঠামোগত ধ্বংস, ফিলিস্তিনি সমাজের কাঠামোগত পতন এবং গাজা উপত্যকা থেকে জনসংখ্যাকে বলপূর্বক উচ্ছেদ করা। তিনি বলেন, জিএইচএফের মতো প্রকল্প আসলে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মিলে তৈরি করেছে, যাতে সাহায্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করে ফিলিস্তিনিদের এক জায়গায় গাদাগাদি করে রাখা যায়। ইসরাইলের তথাকথিত ‘মানবিক শহর’ পরিকল্পনা আদতে একটি ‘ঘন জনাকীর্ণ কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’ হবে। সেখান থেকে উদ্বাস্তু হিসেবে পরবর্তীতে ফিলিস্তিনিদের বহিষ্কার করা হবে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ইতিহাসবিদ লোরেঞ্জো কামেল বলেন, ১৯৪৮ সালে লিদ্দা গ্রাম থেকে ৭০ হাজার ফিলিস্তিনিকে জোর করে উৎখাত করা হয়েছিল। অনেকেই পরে গাজায় এসে আশ্রয় নেয়। তার মতে, রাফাহ ধ্বংস করে গাজার জনগণকে একত্র করার পরিকল্পনা আসলে আরেকটি জাতিগত উৎখাতের প্রস্তুতি মাত্র।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিউইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট: গাজা যুদ্ধে নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত স্বার্থ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে ইসরাইলি জনগণের জরিপ তুলে ধরেছিলেন। ওই জরিপে দেখা গেছে ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ গাজা যুদ্ধ বন্ধ করে জিম্মি বিনিময় চুক্তি করতে চায়। এর উত্তরে নেতানিয়াহু বলেন, আমার ভোটারদের ৫০ শতাংশ তা চায় না।
আরও একটি উদাহরণ তুলে ধরে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, ৯ জুন ইসরাইল ইরানের উপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং ঠিক তার দুই দিন পর সংসদ ভেঙে দেওয়ার ভোট হওয়ার কথা ছিল। সেদিন নেতানিয়াহু জোট রক্ষা করতে হারেদি (অতিধার্মিক) নেতা মোশে গাফনিকে গোপনে জানান যে, ইরানে শিগগির হামলা চালানো হবে। ডিগেল হাতোরাহ দলের নেতা গাফনিকে তলব করে প্রধানমন্ত্রী তাকে একটি গোপনীয়তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করান এবং এরপর আসন্ন ইরান হামলার তথ্য জানিয়ে দেন। দুই দিন পর গাফনি ও তার দল জোট সরকারের পক্ষে ভোট দেয়। এর ফলে নেতানিয়াহুর সরকার ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা পায়। সেদিন রাতেই ইসরাইলি বিমানবাহিনী ইরানে হামলা চালায়।
ইসরাইলি সাংবাদিক ও গাফনির ঘনিষ্ঠজন ইসরাইল কোহেন নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, এই ইরান হামলাই ছিল একমাত্র জিনিস যা হারেদিদের সরকার ভাঙা থেকে বিরত রেখেছিল। আর বিবি (নেতানিয়াহু) এটা জানতেন।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, গাজা যুদ্ধকালীন নেতানিয়াহু একাধিক সিদ্ধান্ত নেন যেগুলো যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করে। এর পেছনে আছে তার রাজনৈতিকভাবে বাঁচার চেষ্টা, মিত্রদের সন্তুষ্ট করা এবং কৌশলে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবরের পর নেতানিয়াহু লেবাননের হিজবুল্লাহ নেতাদের ওপর আকস্মিক হামলার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে যান। একইভাবে এপ্রিল ২০২৪ সালে যুদ্ধবিরতি আলোচনাও ভেস্তে দেন। এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে তিনি ছয় সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ যখন গুজব শুনে বলেন, আপনি যদি এই আত্মসমর্পণের মতো প্রস্তাব আনেন, তাহলে এই সরকারের আর অস্তিত্ব থাকবে না, তখন নেতানিয়াহু তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাদের প্রস্তাব না দেয়ার নির্দেশ দেন।
রিপোর্টে আরও তথ্য তুলে ধরা হয় যে, অক্টোবর ৭ এর আগের নয় মাসে নেতানিয়াহু তার শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে গেছেন। সাবেক আইডিএফ চিফ হার্জেল হালেভি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট এবং শিন বেত প্রধান রোনেন বার বারবার নেতানিয়াহুকে বলেন, তার সরকারের বিচার ব্যবস্থা সংস্কার পরিকল্পনা ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, ইসরাইল ছিল মারাত্মক ঝুঁকিতে। দেশটি ছিল এক গভীর বিভাজনের মধ্যে- বিচার সংস্কার নিয়ে উত্তাল। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে আইডিএফ-এর এক গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়, ইসরাইলের প্রতিপক্ষ- হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরান-ইসরাইলি সমাজ ও সেনাবাহিনীর ভেতরের ফাটল পর্যবেক্ষণ করছিল। তারা গোপনে আলোচনা করছিল যে, ইসরাইল কি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, এখনই আক্রমণের সময়? এই অনুসন্ধান দক্ষিণ এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত বিশ্বের নেতৃত্বের রাজনৈতিক স্বার্থ বনাম জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে এক গুরুতর বিতর্ক উত্থাপন করে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বৃটিশ ৬০ লেবার এমপির চিঠি: ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন
চিঠিতে তারা আরও উল্লেখ করেন, ইসরাইলি মানবাধিকার আইনজীবী মাইকেল স্ফার্ড এই পরিকল্পনাকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের একটি কার্যকর রূপরেখা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, এটি মূলত গাজার জনসংখ্যাকে দক্ষিণ প্রান্তে ঠেলে সরিয়ে দেয়ার পর তাদের উপত্যকা থেকে স্থায়ীভাবে বিতাড়নের প্রস্তুতি। তবে এমপিরা স্পষ্টভাবে বলেন, এটিকে আরও সরলভাবে বলা যায়- এটি গাজায় জাতিগত নিধন। এই চিঠির আগেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার পক্ষে বক্তব্য রাখেন। এই আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও জোরালো সমর্থন পেয়েছে বৃটিশ এমপিদের ঐক্যবদ্ধ চিঠির মাধ্যমে। চিঠিতে এমপিরা তিনটি মূল দাবি তুলেছেন। তা হলো- ইসরাইলের রাফাহ পরিকল্পনা প্রতিহত করা। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্পষ্ট রূপ এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়া বৃটেনের উচিত দেরি না করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়া, যা মধ্যপ্রাচ্যে ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই শান্তির পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা- ইউরোপীয় ও অন্যান্য মিত্রদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইসরাইলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নোবেল শান্তির জন্য ট্রাম্পের চেয়ে আর ‘যোগ্য’ কে আছেন! by বেলেন ফার্নান্দেজ
গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান গণহত্যায় যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেই লোক এখন এমন এক ব্যক্তিকে শান্তির জন্য বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের প্রার্থী করছেন, যিনি কিনা এই গণহত্যার প্রধান পৃষ্ঠপোষক।
গত মার্চে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি ইসরায়েলকে ‘গাজায় কাজ শেষ করতে যা কিছু দরকার’ তার জন্য সবকিছু পাঠাবেন। সেই ‘সবকিছুর’ মধ্যে রয়েছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের মারাত্মক অস্ত্র ও অন্যান্য সহায়তা। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজার এই ছোট্ট ভূখণ্ডে শুধু আনুষ্ঠানিক নথিপত্রের হিসাবমতে, প্রায় ৬০ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে কত মানুষ চাপা পড়ে আছেন, তার কোনো হিসাব নেই।
বিভিন্ন গণমাধ্যম কীভাবে ট্রাম্পের শান্তির নোবেল পুরস্কারের মনোনয়ন নিয়ে গম্ভীর মুখে সিরিয়াস ভঙ্গিতে খবর পরিবেশন করতে পারছে, সেটিই সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সিএনএন তাদের খবরে বলেছে, এই পুরস্কার এখন ট্রাম্পের একধরনের চূড়ান্ত আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়েছে। তিনি মনে করেন, সারা পৃথিবীতে সংঘাত বন্ধে তাঁর প্রচেষ্টার জন্য তিনি এই পুরস্কারের যোগ্য।
গত সোমবার ট্রাম্পকে জানানো হয়, তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। ওই দিনই নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউসে নৈশভোজে অংশ নিতে হাজির হন। এটি ছিল ২০২৫ সালে তাঁর ওয়াশিংটনে তৃতীয় সফর। নেতানিয়াহুকে ধন্যবাদ জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘বাহ্…বিশেষ করে আপনার কাছ থেকে আসায় এটি সত্যিই অনেক অর্থবহ হলো।’
নেতানিয়াহু যখন ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেন এবং সেটিকে যখন ট্রাম্প ‘অর্থবহ’ বলে উল্লেখ করেন, তখন তা শুনে হাসি পায়। কারণ, যিনি যুদ্ধ আর গণহত্যায় জড়িত, তাঁকে শান্তির জন্য পুরস্কার দেওয়ার কথা বলা—এটা এতটাই অবাস্তব আর মিথ্যা যে ‘অর্থবহ’ শব্দ দিয়ে সেই হাস্যকর বাস্তবতাকে বোঝানো যায় না।
২০০৯ সালে এই সম্মানজনক পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল সদ্য দায়িত্ব নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে, যিনি পরে ‘আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে’ আফগানিস্তান, পাকিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া, ইরাক ও সিরিয়াতে বোমাবর্ষণ করেছিলেন।
নোবেল শান্তি পুরস্কার যাঁদের দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে আরেকজন ছিলেন কলম্বিয়ার ডানপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান মানুয়েল সান্তোস।
২০১৩ সালে ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজ জানায়, সান্তোস গর্ব করে বলেছিলেন, তাঁর দেশকে ‘লাতিন আমেরিকার ইসরায়েল’ বলা হলে তিনি খুশি হন। অথচ সান্তোসের নাম জড়িয়ে আছে বহুল আলোচিত ‘ফলস পজিটিভ’ কেলেঙ্কারির সঙ্গে, যেখানে কলম্বিয়ার সেনারা প্রায় ১০ হাজার বেসামরিক মানুষকে হত্যা করে তাঁদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চালিয়ে দিয়েছিলেন।
নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া আরেকজন হলেন প্রয়াত ইসরায়েলি রাজনীতিক শিমন পেরেজ। ১৯৯৪ সালে তিনি এই পুরস্কার যৌথভাবে পেয়েছিলেন। অথচ এই ঘটনার মাত্র দুই বছর পর, ১৯৯৬ সালে তিনি লেবাননের কানা শহরে জাতিসংঘের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত ১০৬ শরণার্থীকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এখন যখন ফিলিস্তিনে গণহত্যাকেও প্রায় স্বাভাবিক করে ফেলা হয়েছে, ট্রাম্প তখন প্রস্তাব করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন গাজা ভূখণ্ড দখল করে নেয়, সেখানে থাকা ফিলিস্তিনি জনগণকে জোরপূর্বক উৎখাত করে এবং পুরো বিধ্বস্ত অঞ্চলটিকে নতুন করে গড়ে তোলে একেবারে ‘মধ্যপ্রাচ্যের রিভিয়েরা’ (বিলাসবহুল পর্যটনকেন্দ্র) হিসেবে। অর্থাৎ ট্রাম্পের কাছে এই রকম চিন্তা করাও যেন শান্তির নোবেল পুরস্কারের যোগ্যতা।
ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের বৈঠক নিয়ে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল ‘নেতানিয়াহুর চমক: ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন, দুই নেতার গাজাবাসীকে উৎখাতের আলোচনা’ শিরোনামে খবর ছেপেছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা ‘মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা বদলে দিয়েছে’ এবং এর ফলে ‘আব্রাহাম চুক্তি’ আরও সম্প্রসারিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ফিলিস্তিন নামক দেশটিকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়াই হয়তো ‘জাতির মধ্যে ভ্রাতৃত্ব’ প্রতিষ্ঠা করার অর্থ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ট্রাম্প যখন ইরানে চালানো বড় হামলার বিষয়ে কথা বলছিলেন, (যা তাঁকে শান্তির পুরস্কারের মনোনয়ন এনে দিয়েছে) তখন তিনি এটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা ফেলে কয়েক লাখ বেসামরিক মানুষ হত্যা করা হামলার সঙ্গে প্রশংসাসূচকভাবে তুলনা করেছেন।
এটি না বললেও বোঝা যায় যে কেউ যদি কয়েক লাখ নিরীহ মানুষের ওপর পারমাণবিক বোমা ফেলার ঘটনার প্রশংসা করেন, তাহলে তিনি কোনোভাবেই শান্তির মতো কোনো গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারের যোগ্য হতে পারেন না। কিন্তু আজকের এমন এক বিশ্বে, যেখানে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার’ অজুহাতে বারবার যুদ্ধ চালানো হয়, সেখানে ট্রাম্পের এই মনোনয়ন হয়তো তাদের ভাষায় ‘খুব বাস্তব’ ও ‘যথার্থ’।
● বেলেন ফার্নান্দেজ, সাংবাদিক ও লেখক
- আল-জাজিরা থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘জালিবি’ অভিনেত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, ময়নাতদন্তে উঠে এল ভয়াবহ চিত্র
বাড়িওয়ালার অভিযোগেই খোঁজ মেলে
পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও নিউজ জানায়, হুমাইরার মরদেহ করাচির অভিজাত এক অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার করে পুলিশ ও আদালতের নিযুক্ত প্রতিনিধি। ফ্ল্যাট খালি করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, ভেতরে পড়ে আছে একটি সম্পূর্ণ পচে যাওয়া দেহ। এ ঘটনায় শোক ও বিস্ময় ছড়িয়েছে পাকিস্তানের বিনোদন অঙ্গনে।
পুলিশ জানায়, বাড়িওয়ালার অভিযোগ ছিল—হুমাইরা কয়েক মাস ধরে ভাড়া দেননি এবং যোগাযোগবিচ্ছিন্ন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালতের আদেশে ফ্ল্যাটে ঢুকে তারা মরদেহ খুঁজে পায়। যদিও শুরুতে খবর ছড়িয়েছিল, নিয়মিত ভাড়া দিতেন অভিনেত্রী।
মরদেহের ভয়াবহ অবস্থা
ময়নাতদন্তে বলা হয়েছে, হুমাইরার দেহ ছিল ‘অগ্রসর পচনের স্তরে’। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা জানান, শরীরের প্রধান অঙ্গগুলো ছিল অচেনা রূপে এবং মুখমণ্ডলের কোনো বৈশিষ্ট্য বোঝার উপায় ছিল না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘শরীরের বেশির ভাগ অংশে পেশি ছিল না। হাড় স্পর্শ করলেই ভেঙে যাচ্ছিল। মস্তিষ্ক পুরোপুরি পচে গিয়ে দেহের অভ্যন্তরে একটি কালো জৈব পদার্থে পরিণত হয়েছিল।’ আরও উল্লেখ করা হয়, হাড়ে কোনো ভাঙা বা ক্ষতের চিহ্ন নেই, তবে জয়েন্টের কার্টিলেজও ছিল না।
দেহের চুলে পাওয়া গেছে বাদামি রঙের পোকা। তবে ময়নাতদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, ম্যাগট বা শুঁয়াপোকা দেখা যায়নি। এতে ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহ যে পরিবেশে পড়ে ছিল, সেটি অপেক্ষাকৃত শুকনা ছিল এবং তাপমাত্রা দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত ছিল।
মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত নয়
দেহ এতটাই পচে গিয়েছিল যে মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। তবে ফরেনসিক পরীক্ষার পাশাপাশি ডিএনএ বিশ্লেষণ ও টক্সিকোলজি রিপোর্টের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে।
শেষ ফোনকল ২০২৪ সালের অক্টোবরে
আরব নিউজকে করাচির ডিআইজি সৈয়দ আসাদ রেজা জানান, হুমাইরার মুঠোফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড অনুযায়ী সর্বশেষ কল করা হয়েছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে। প্রতিবেশীরাও জানান, শেষবার তাঁকে দেখতে পেয়েছিলেন সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে।
অক্টোবরে বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিল না দেওয়ায়। অ্যাপার্টমেন্টে কোনো জেনারেটর বা বিকল্প বিদ্যুৎ–ব্যবস্থা ছিল না। পানির পাইপ ছিল শুকনা, মরিচা পড়ে গিয়েছিল, খাবারের জারগুলোয় ছয় মাস আগে পচন ধরেছিল। ব্যালকনির একটি দরজা খোলা ছিল, যেখান দিয়ে বাতাস প্রবেশ করত।
ফ্ল্যাটে দুর্গন্ধ টের পাননি কেউ
যেহেতু ওই তলায় হুমাইরার অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়া আর কেউ থাকতেন না, তাই কেউ দুর্গন্ধ টের পাননি। যেসব প্রতিবেশী ফেব্রুয়ারিতে ফিরে আসেন, তাঁরা জানান, তখন দুর্গন্ধ থাকলেও খুব হালকা ছিল এবং তাঁরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি।
পরিবার শুরুতে মরদেহ গ্রহণে অনিচ্ছুক ছিল
পুলিশ শুরুতে জানায়, হুমাইরার পরিবার মরদেহ নিতে চায়নি। তবে পরে ভাই নাভিদ আসগর করাচিতে এসে আইনিপ্রক্রিয়া শেষে মরদেহ গ্রহণ করেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা এখানে এসেছি, সব আইনিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ বুঝে নিয়েছি।’
নাভিদ আসগর জানান, ‘হুমাইরা সাত বছর আগে লাহোর থেকে করাচিতে চলে আসেন এবং পরিবার থেকে দূরত্ব তৈরি হয়। প্রায় দেড় বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ ছিল না। এ কারণেই আমার বাবা বলেছিলেন, যদি কোনো জরুরি অবস্থা হয়, তাহলে সেখানেই দাফন করো।’
কে ছিলেন হুমাইরা আসগর?
লাহোরের মেয়ে হুমাইরা ২০১৫ সালে মিডিয়ায় পথচলা শুরু করেন। ছোট পর্দায় ‘জাস্ট ম্যারেড’, ‘এহসান ফারামোশ’, ‘গুরু’ ও ‘চল দিল মেরে’র মতো সিরিয়ালে অভিনয় করেছেন। বড় পর্দায় কাজ করেছেন ‘জালিবি’ ও ‘লাভ ভ্যাকসিন’ (২০২১) চলচ্চিত্রে।
২০২২ সালে এআরওয়াই ডিজিটালের রিয়েলিটি শো ‘তমাশা ঘর’–এ অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন। ২০২৩ সালে ‘ন্যাশনাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডস’–এ সেরা সম্ভাবনাময় অভিনেত্রীর পুরস্কার পান।
![]() |
| মডেল ও অভিনেত্রী হুমাইরা আসগর। ছবি: ইনস্টাগ্রাম |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজাকে ‘শিশু ও ক্ষুধার্ত মানুষের কবরস্থানে’ পরিণত করছে ইসরাইল: ল্যাজারিনি
শুক্রবার এক্সে দেয়া এক পোস্টে ল্যাজারিনি বলেন, আমাদের চোখের সামনে গাজা শিশু ও ক্ষুধার্ত মানুষের কবরস্থানে পরিণত হয়েছে। ওদিকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ২৩ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিম তীরের দখলকৃত অঞ্চল সিনজিলে শুক্রবার তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, সিনজিল গ্রামসংলগ্ন এলাকায় ইসরাইলি বেসামরিকদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের পর ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলিদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুই ইসরাইলি সামান্য আহত হয়। এর পর সংঘর্ষ ফিলিস্তিনি সম্পত্তি ধ্বংস, অগ্নিসংযোগ, শারীরিক সংঘর্ষ ও পাথর নিক্ষেপে রূপ নেয় বলে জানায় সেনাবাহিনী।
তারা আরও জানায়, আমরা একটি ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুসহ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর সম্পর্কে অবগত। ঘটনাটি তদন্তাধীন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আনাস আবু আল-এজ এএফপিকে জানান, নিহত যুবকের নাম সাইফ আল-দীন কামিল আবদুল করিম মুসালাত (২৩)। তিনি জানান, শুক্রবার দুপুরে রামাল্লার উত্তরে সিনজিল শহরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের নির্মম মারধরের পর তার মৃত্যু হয়।
ওদিকে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির উপপ্রধান কার্ল স্কাউ শুক্রবার জানান, ইসরাইলি কর্মকর্তারা গাজায় মানবিক সহায়তার প্রধান মাধ্যম হিসেবে জাতিসংঘকে ধরে রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বিশেষ করে যদি যুদ্ধবিরতি হয়, তাহলে জাতিসংঘ যেন প্রস্তুত থাকে এবং দ্রুত সহায়তা কার্যক্রম বাড়াতে পারে- এমন আহ্বান জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতার বর্তমানে গাজা যুদ্ধ থামাতে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে।
হামাস জানিয়েছে, মানবিক সহায়তার প্রবাহ এ আলোচনার একটি মূল অন্তরায়। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন নামের এক নতুন মার্কিন সংগঠনের মাধ্যমে সহায়তা দেয়ার পক্ষে থাকলেও, জাতিসংঘ এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কার্ল স্কাউ জানান, তিনি গত সপ্তাহে গাজা ও ইসরাইল সফরের সময় বিভিন্ন স্তরের ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1388)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
July
(186)
-
▼
Jul 13
(10)
- গাজা এবং গণহত্যা অধ্যয়নের বিতর্ক by মোহাম্মদ সাজ্...
- ‘যে ব্যাগে খাবার ভরার আশা ছিল, সেটিই হয়ে গেল কাফনে...
- পুরান ঢাকায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড: বিএনপির ১৬ বছরের ‘ত্...
- ‘মানব কসাইখানা’ গাজা ‘মৃত্যুকূপ’, আরও ১১০ ফিলিস্তি...
- জীবন্ত কবরস্তান গাজা, মুসলিমদের ঘুম ভাঙবে কবে! by ...
- নিউইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট: গাজা যুদ্ধে নেতানিয়াহুর ...
- বৃটিশ ৬০ লেবার এমপির চিঠি: ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্ব...
- নোবেল শান্তির জন্য ট্রাম্পের চেয়ে আর ‘যোগ্য’ কে আছ...
- ‘জালিবি’ অভিনেত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, ময়নাতদন্তে উঠ...
- গাজাকে ‘শিশু ও ক্ষুধার্ত মানুষের কবরস্থানে’ পরিণত ...
-
▼
Jul 13
(10)
-
▼
July
(186)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


