Friday, May 9, 2014

পানির অভাবে নদী মরলে সরকারের লোক খুশি হয় @প্রথম আলো

অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেছেন, আমাদের দেশে যাঁরা সরকারে থাকেন তাঁদের লোকেরা নদীতে পানি না এলে খুশি হন। কেননা এতে নদী মরে গিয়ে জমিতে পরিণত হয়। আর তাঁরা ওই জমি দখল করতে পারেন। ফলে তাঁরা নৈতিকভাবেও ভারতের কাছ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা চাওয়ার শক্তি পান না। আজ শুক্রবার রাজধানীতে এক গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে আনু মুহাম্মদ এসব কথা বলেন। গণসংহতি আন্দোলন আয়োজিত 'অভিন্ন নদীতে ভারতের আগ্রাসী নীতি' শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় প্রেসক্লাবে। যুক্তরাজ্যের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ মুশতাক খান বলেন, বাংলাদেশের উচিত ভারতকে ট্রানজিট দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া; আর ভারত বাংলাদেশকে পানি না দেওয়ায় যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তার জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়া। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসেন বলেন, 'যখন আমরা তিস্তার পানি পেলাম না, তখন ভারতের অনেক পত্রিকা ও নাগরিক সমাজের লোক বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেছেন।' এ ধরনের মিত্রদের খুঁজে বের করে পানির অধিকার বিষয়ে আঞ্চলিক ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর বলেন, 'আমাদের শাসক শ্রেণী মনে করে পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জির জন্য শাড়ি ও ইলিশ পাঠালেই পানি চলে আসবে। কিন্তু ভারতের কাছে পানি ন্যায্য হিস্যা চাওয়ার মতো হিম্মত তাদের নেই।'
পানির হিস্যা পেতে আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে হবে
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, সরকারগুলোর মেরুদণ্ডহীনতার কারণে ভারত থেকে আসা ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করা যাচ্ছে না। পানির হিস্যা পেতে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে হবে। বাংলাদেশকে জাতিসংঘের অভিন্ন নদীবিষয়ক চুক্তি 'কনভেনশন অব দ্য ল অব নননেভিগেশন ইউজেস অব ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটারকোরসেস'-এ স্বাক্ষর করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা। বক্তারা বলেন, বিশ্বের ৩৪টি দেশ জাতিসংঘের এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশ এতে স্বাক্ষর করলে এটি একটি আইনে পরিণত হবে। আর এই আইনের আওতায় বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পেতে চাপ দিতে পারবে। গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, পানি বিশেষজ্ঞ ইনামুল হক, সংস্কৃতিকর্মী অরূপ রাহী প্রমুখ।

পানির অভাবে নদী মরলে সরকারের লোক খুশি হয় @প্রথম আলো

অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেছেন, আমাদের দেশে যাঁরা সরকারে থাকেন তাঁদের লোকেরা নদীতে পানি না এলে খুশি হন। কেননা এতে নদী মরে গিয়ে জমিতে পরিণত হয়। আর তাঁরা ওই জমি দখল করতে পারেন। ফলে তাঁরা নৈতিকভাবেও ভারতের কাছ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা চাওয়ার শক্তি পান না। আজ শুক্রবার রাজধানীতে এক গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে আনু মুহাম্মদ এসব কথা বলেন। গণসংহতি আন্দোলন আয়োজিত 'অভিন্ন নদীতে ভারতের আগ্রাসী নীতি' শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় প্রেসক্লাবে। যুক্তরাজ্যের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ মুশতাক খান বলেন, বাংলাদেশের উচিত ভারতকে ট্রানজিট দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া; আর ভারত বাংলাদেশকে পানি না দেওয়ায় যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তার জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়া। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসেন বলেন, 'যখন আমরা তিস্তার পানি পেলাম না, তখন ভারতের অনেক পত্রিকা ও নাগরিক সমাজের লোক বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেছেন।' এ ধরনের মিত্রদের খুঁজে বের করে পানির অধিকার বিষয়ে আঞ্চলিক ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর বলেন, 'আমাদের শাসক শ্রেণী মনে করে পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জির জন্য শাড়ি ও ইলিশ পাঠালেই পানি চলে আসবে। কিন্তু ভারতের কাছে পানি ন্যায্য হিস্যা চাওয়ার মতো হিম্মত তাদের নেই।'
পানির হিস্যা পেতে আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে হবে
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, সরকারগুলোর মেরুদণ্ডহীনতার কারণে ভারত থেকে আসা ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করা যাচ্ছে না। পানির হিস্যা পেতে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে হবে। বাংলাদেশকে জাতিসংঘের অভিন্ন নদীবিষয়ক চুক্তি 'কনভেনশন অব দ্য ল অব নননেভিগেশন ইউজেস অব ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটারকোরসেস'-এ স্বাক্ষর করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা। বক্তারা বলেন, বিশ্বের ৩৪টি দেশ জাতিসংঘের এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশ এতে স্বাক্ষর করলে এটি একটি আইনে পরিণত হবে। আর এই আইনের আওতায় বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পেতে চাপ দিতে পারবে। গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, পানি বিশেষজ্ঞ ইনামুল হক, সংস্কৃতিকর্মী অরূপ রাহী প্রমুখ।

মুক্তিপণ নিতে গিয়ে ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাসহ আটক ৭ @প্রথম আলো

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর মুক্তিপণ নেওয়ার সময় ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাসহ সাতজনকে আটক করেছে শাহবাগ থানার পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে এই সাতজনকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে অপহূত মুঠোফোনে টাকা ভরার (রিচার্জ) ব্যবসায়ী ফরহাদ ইসলামকেও উদ্ধার করা হয়। এদিকে আটক হওয়া নেতাদের ছাড়িয়ে নিতে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে পুলিশের ওপর ব্যাপক চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান। আটক হওয়া ছাত্রলীগের নেতাদের শাহবাগ থানায় না রেখে রমনা থানার হাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। এর কারণ জানতে চাইলে শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিল হোসেন বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে ছাত্রলীগের ওই নেতাদের রমনা থানার পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন: ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-ক্রীড়া সম্পাদক সৃজন ঘোষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সহসভাপতি তানভীরুল ইসলাম, জগন্নাথ হল কমিটির সহসভাপতি অনুপম চন্দ্র, মুহসীন হল কমিটির ছাত্রবৃত্তিবিষয়ক সম্পাদক মামুন, জসীমউদ্দীন হল কমিটির সাবেক সহসম্পাদক বাপ্পী ও ছাত্রলীগের কর্মী হিমেল। এঁদের সঙ্গে আরফান পাটোয়ারি নামে আরেক ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করেছে। অপহূত ব্যবসায়ী ফরহাদ প্রথম আলোকে বলেন, এই আরফানের নেতৃত্বেই তাঁকে অপহরণ করা হয়েছিল।
শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিল হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের সামনে থেকে ফরহাদকে অপহরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁর পরিবারের কাছে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পরে মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার নামে ফাঁদ পেতে আজ বেলা আড়াইটার দিকে সাতজনকে আটক ও অপহূতকে উদ্ধার করে পুলিশ। রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে হাতেনাতে ধরা পড়া সংগঠনের নেতাদের ছেড়ে দিতে পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টির বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তার আগেই তিনি 'প্রোগ্রামে আছি' বলে ফোনের লাইন কেটে দেন। এরপর এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামানকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। আজ সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় ব্যবসায়ী ফরহাদের। তিনি জানান, তাঁর বাড়ি চাঁদপুরে। ঢাকায় মুঠোফোন রিচার্জের ব্যবসা করেন। অপহরণকারী দলের নেতৃত্বে থাকা আরফান তাঁর ছোটবেলার বন্ধু। ফরহাদ বলেন, তাঁর এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে দেখা করতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চ এলাকায় যান। তখন আরফান ১৫-১৬ জনকে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে অপহরণ করেন। এরপর তাঁকে একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে রাতভর নির্যাতন করা হয়। এ সময় তিনি নির্যাতনের চিহ্ন হিসেবে শরীরে সিগারেটের পোড়া দাগ দেখান। ফরহাদকে অপহরণের এ ঘটনায় তাঁর বাবা তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন।

মুক্তিপণ নিতে গিয়ে ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাসহ আটক ৭ @প্রথম আলো

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর মুক্তিপণ নেওয়ার সময় ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাসহ সাতজনকে আটক করেছে শাহবাগ থানার পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে এই সাতজনকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে অপহূত মুঠোফোনে টাকা ভরার (রিচার্জ) ব্যবসায়ী ফরহাদ ইসলামকেও উদ্ধার করা হয়। এদিকে আটক হওয়া নেতাদের ছাড়িয়ে নিতে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে পুলিশের ওপর ব্যাপক চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান। আটক হওয়া ছাত্রলীগের নেতাদের শাহবাগ থানায় না রেখে রমনা থানার হাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। এর কারণ জানতে চাইলে শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিল হোসেন বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে ছাত্রলীগের ওই নেতাদের রমনা থানার পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন: ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-ক্রীড়া সম্পাদক সৃজন ঘোষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সহসভাপতি তানভীরুল ইসলাম, জগন্নাথ হল কমিটির সহসভাপতি অনুপম চন্দ্র, মুহসীন হল কমিটির ছাত্রবৃত্তিবিষয়ক সম্পাদক মামুন, জসীমউদ্দীন হল কমিটির সাবেক সহসম্পাদক বাপ্পী ও ছাত্রলীগের কর্মী হিমেল। এঁদের সঙ্গে আরফান পাটোয়ারি নামে আরেক ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করেছে। অপহূত ব্যবসায়ী ফরহাদ প্রথম আলোকে বলেন, এই আরফানের নেতৃত্বেই তাঁকে অপহরণ করা হয়েছিল।
শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিল হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের সামনে থেকে ফরহাদকে অপহরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁর পরিবারের কাছে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পরে মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার নামে ফাঁদ পেতে আজ বেলা আড়াইটার দিকে সাতজনকে আটক ও অপহূতকে উদ্ধার করে পুলিশ। রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে হাতেনাতে ধরা পড়া সংগঠনের নেতাদের ছেড়ে দিতে পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টির বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তার আগেই তিনি 'প্রোগ্রামে আছি' বলে ফোনের লাইন কেটে দেন। এরপর এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামানকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। আজ সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় ব্যবসায়ী ফরহাদের। তিনি জানান, তাঁর বাড়ি চাঁদপুরে। ঢাকায় মুঠোফোন রিচার্জের ব্যবসা করেন। অপহরণকারী দলের নেতৃত্বে থাকা আরফান তাঁর ছোটবেলার বন্ধু। ফরহাদ বলেন, তাঁর এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে দেখা করতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চ এলাকায় যান। তখন আরফান ১৫-১৬ জনকে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে অপহরণ করেন। এরপর তাঁকে একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে রাতভর নির্যাতন করা হয়। এ সময় তিনি নির্যাতনের চিহ্ন হিসেবে শরীরে সিগারেটের পোড়া দাগ দেখান। ফরহাদকে অপহরণের এ ঘটনায় তাঁর বাবা তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন।

অভিযুক্ত তিন র‌্যাব কর্মকর্তা- ফৌজদারি আইনেও বিচার হতে হবে

নারায়ণগঞ্জ ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণ ও খুনের সাত দিন পর র৵াবের অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে অকালীন এবং একজনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে সরকার বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে৷ এ পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে অন্তত প্রাথমিকভাবে মেনে নেওয়া হলো যে অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে৷ একটি গণতান্ত্রিক দেশে কোনো নাগরিকই আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারেন না৷ র৵াবের আলোচিত তিন কর্মকর্তা 'ছয় কোটি টাকা ঘুষ' খেয়ে সাতজনকে অপহরণ ও খুন করেছেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেত৷ অবশ্য ঘটনার পরপরই তিন কর্মকর্তাকে নিজ নিজ বাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়েছিল৷ কিন্তু সেটা যথেষ্ট ছিল না৷ এবং এখন যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক৷ অবসর কোনো শাস্তি নয়৷ অপহরণ ও খুনের মতো অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় বিচার হতে হবে৷ সাত খুনের মামলায় যঁাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তঁাদের কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে না পারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরাট ব্যর্থতা৷ এখন যদি অবসরে পাঠানো সাবেক সেনা ও নৌ কর্মকর্তাদেরও আইনের যথাযথ প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়, তাহলে আইনের প্রয়োগের বিষয়টি পরিহাসে পরিণত হবে৷
নারায়ণগঞ্জের রক্ত হিম করা ঘটনায় র৵াব, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবার নির্দিষ্ট পরিসরে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ জরুরি৷ কাউন্সিলর নজরুল আগে থেকেই তঁার জীবনের হুমকি সম্পর্কে সবাইকে জানিয়েছিলেন৷ বিষয়টি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকেও জানানো হয়৷ কিন্তু সবাই কেন নির্বিকার ছিলেন, তার রহস্য উদ্ঘাটিত হওয়া প্রয়োজন৷ এখানে সরকার ও প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে বারবার এ ধরনের ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়৷ অনেক যাচাই-বাছাই করে দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়৷ তাই তাদের প্রতি দেশবাসীর আস্থাও বেশি৷ র৵াব গঠনের সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করায় মানুষ এ জন্যই আশ্বস্ত হয়েছিল৷ কিন্তু বিভিন্ন অনৈতিক ঘটনায় র৵াবে কর্মরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ হতাশাজনক৷ দু-চারজন সদস্যের পদস্খলনের কারণে পুরো বাহিনীর মর্যাদা নষ্ট হতে দেওয়া যায় না৷ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দৈনন্দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত করা উচিত কি না, সে প্রশ্নটিও বিবেচনায় আনা যেতে পারে৷ এতে সমাজে বিরাজমান কলুষতায় কেউ সহজেই প্রলুব্ধ হতে পারে বলে সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন৷ সে ক্ষেত্রে এ ধরনের নিয়োগ সাময়িক হতে পারে৷ অবশ্য জাতিসংঘ শান্তি মিশনে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যদি গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করতে পারেন, তাহলে দেশের ভেতরে পারবেন না কেন, সে প্রশ্নটিও আছে৷ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে জটিল বিষয়টি পুনর্বিবেচনায় আনা যেতে পারে৷ আপাতত ন্যায়বিচারের স্বার্থে অভিযুক্ত সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যদের আইনের আওতায় আনা হোক৷

ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার অঙ্কিত তিওয়ারি @প্রথম আলো

'আশিকি ২' খ্যাত সংগীত তারকা অঙ্কিত তিওয়ারির বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ তুলেছেন এক তরুণী। এ অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশ। আগে ছোট ও বড় পর্দায় সংগীত পরিচালনার কাজ করলেও গত বছর মুক্তি পাওয়া 'আশিকি ২' ছবির 'শুন রাহা হ্যায়' গানটি অঙ্কিতকে (২৪) ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। গানটিতে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি এর সুর ও সংগীত পরিচালনাও করেছেন অঙ্কিত। সম্প্রতি এক তরুণী অভিযোগ তোলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করেছেন অঙ্কিত। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ও ৫০৬ ধারায় অঙ্কিতকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশ। মুম্বাইয়ের ভার্সোভা থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে এ তথ্য জানানো হয়। অভিযোগকারীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অঙ্কিতের ভাই অঙ্কুর তিওয়ারিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অঙ্কুরের বিরুদ্ধে ওই তরুণীর অভিযোগ, স্পর্শকাতর বিষয়টি জনসমক্ষে ফাঁস করলে তাঁকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দেন অঙ্কুর।
আজ শুক্রবার আন্ধেরি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হচ্ছে অঙ্কিত ও অঙ্কুরকে। তদন্তের প্রয়োজনে অভিযুক্ত দুজনকে কয়েক দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে রাখার অনুমতি চাওয়া হবে আদালতের কাছে। মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন পুলিশের হাতে আসার পর মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হবে। 'আশিকি ২' ছবির 'শুন রাহা হ্যায়' গানটি ব্যাপক শ্রোতাপ্রিয়তা পাওয়ার পাশাপাশি ফিল্মফেয়ার, আইফার মতো মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার প্রদান আসরে পুরস্কৃতও হয়। গানটির জন্য সেরা সংগীত পরিচালকের পুরস্কার অর্জন করেন অঙ্কিত। কিন্তু ধর্ষণের মতো জঘন্য অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে তাঁর ক্যারিয়ারে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। ধর্ষণের অভিযোগে অঙ্কিতের আগে গত ২৫ এপ্রিল গ্রেপ্তার হন বলিউডের অভিনেতা ইন্দর কুমার। ২২ বছর বয়সী উঠতি এক অভিনেত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। এ ছাড়া গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০০৯ সালের ১৪ জুন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন 'ভুলভুলাইয়া'খ্যাত বলিউডের তারকা অভিনেতা শাইনি আহুজা। তাঁর সাত বছরের কারাদণ্ডও হয়। পরে অবশ্য জামিনে মুক্তি পান তিনি। বর্তমানে 'ওয়েলকাম ব্যাক' ছবির মাধ্যমে বলিউডে প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ৩৯ বছর বয়সী শাইনি।

ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার অঙ্কিত তিওয়ারি @প্রথম আলো

'আশিকি ২' খ্যাত সংগীত তারকা অঙ্কিত তিওয়ারির বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ তুলেছেন এক তরুণী। এ অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশ। আগে ছোট ও বড় পর্দায় সংগীত পরিচালনার কাজ করলেও গত বছর মুক্তি পাওয়া 'আশিকি ২' ছবির 'শুন রাহা হ্যায়' গানটি অঙ্কিতকে (২৪) ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। গানটিতে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি এর সুর ও সংগীত পরিচালনাও করেছেন অঙ্কিত। সম্প্রতি এক তরুণী অভিযোগ তোলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করেছেন অঙ্কিত। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ও ৫০৬ ধারায় অঙ্কিতকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশ। মুম্বাইয়ের ভার্সোভা থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে এ তথ্য জানানো হয়। অভিযোগকারীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অঙ্কিতের ভাই অঙ্কুর তিওয়ারিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অঙ্কুরের বিরুদ্ধে ওই তরুণীর অভিযোগ, স্পর্শকাতর বিষয়টি জনসমক্ষে ফাঁস করলে তাঁকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দেন অঙ্কুর।
আজ শুক্রবার আন্ধেরি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হচ্ছে অঙ্কিত ও অঙ্কুরকে। তদন্তের প্রয়োজনে অভিযুক্ত দুজনকে কয়েক দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে রাখার অনুমতি চাওয়া হবে আদালতের কাছে। মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন পুলিশের হাতে আসার পর মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হবে। 'আশিকি ২' ছবির 'শুন রাহা হ্যায়' গানটি ব্যাপক শ্রোতাপ্রিয়তা পাওয়ার পাশাপাশি ফিল্মফেয়ার, আইফার মতো মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার প্রদান আসরে পুরস্কৃতও হয়। গানটির জন্য সেরা সংগীত পরিচালকের পুরস্কার অর্জন করেন অঙ্কিত। কিন্তু ধর্ষণের মতো জঘন্য অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে তাঁর ক্যারিয়ারে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। ধর্ষণের অভিযোগে অঙ্কিতের আগে গত ২৫ এপ্রিল গ্রেপ্তার হন বলিউডের অভিনেতা ইন্দর কুমার। ২২ বছর বয়সী উঠতি এক অভিনেত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। এ ছাড়া গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০০৯ সালের ১৪ জুন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন 'ভুলভুলাইয়া'খ্যাত বলিউডের তারকা অভিনেতা শাইনি আহুজা। তাঁর সাত বছরের কারাদণ্ডও হয়। পরে অবশ্য জামিনে মুক্তি পান তিনি। বর্তমানে 'ওয়েলকাম ব্যাক' ছবির মাধ্যমে বলিউডে প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ৩৯ বছর বয়সী শাইনি।

মানবাধিকারের প্রশ্নটি উপেক্ষণীয় নয় by আলী ইমাম মজুমদার

বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিশেষ করে র‌্যাব কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বেশ কিছু অভিযোগ সময়ে সময়ে এসে থাকে। এমনকি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে অপরাধজগতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার। এ ধরনের অভিযোগে নাগরিক সমাজ ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। তারা চায় এমনটা না ঘটুক। তারা আরও চায়, আইন প্রয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই হোক দক্ষ, কর্মতৎপর আর জনপ্রত্যাশার প্রতি সংবেদনশীল। জনগণ এ আশাও সংগত কারণে করে যে তারা হবে মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিপরীত চিত্রটাই দেখা যাচ্ছে অধিক পরিমাণে। আর তা ক্রমবর্ধমান হারে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নাগরিক ভাবনা ও নাগরিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দঁাড়িয়েছে।

আল-সিসি বনাম হামদিন সাবাহি by কামাল গাবালা

মিসরীয়দের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সব সুযোগ গত মাসে শেষ হয়ে গেছে৷ চলতি মাসে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে লড়াই হবে সাবেক সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও বামপন্থী রাজনীতিিবদ হামদিন সাবাহির মধ্যে৷ আগামী ২৬ ও ২৭ মের নির্বাচনে সিসিই জয়ী হবেন বলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকেরা মনে করছেন৷

বিপদের নাম রাজনৈতিক দস্যুতন্ত্র by ফারুক ওয়াসিফ

বাংলাদেশে এখন দুই ধরনের শাসন দেখা যাচ্ছে৷ একটা রাষ্ট্রের শাসন, অন্যটা ভয়ের শাসন৷ রাষ্ট্রীয় শাসনের কেন্দ্র ঢাকায়, আর ভয়ের শাসনের চলতি কেন্দ্র হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ৷ রাজধানী নড়ে না, কিন্তু ভয়ের রাজধানী আজ নারায়ণগঞ্জ, তো কাল নরসিংদী তো পরশু লক্ষ্মীপুরে সরে যাবে৷ যা সবখানেই ঘটতে পারে, তার দেশজোড়া ভিত্তি না থেকে পারে না৷ তাই শুধু নারায়ণগঞ্জকে ভয়ের জনপদ ভাবলে সংকটের বিস্তার ও গভীরতা নজরের বাইরে থেকে যাবে৷

ব্যাংককে ব্যাপক বিক্ষোভ

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আজ শুক্রবার সরকারবিরোধী হাজারো বিক্ষোভকারী বিক্ষোভ করছেন। প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে সাংবিধানিক আদালত অপসারণ করার পর গঠিত নতুন মন্ত্রিসভা বাতিলের দাবিতে তাঁরা এ বিক্ষোভ করছেন। গতকাল বিক্ষোভকারীরা নতুন সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন৷ বিরোধীদের এই ঘোষণা চলমান সংকট আরও ঘনীভূত করতে পারে। আজ রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আশা করছে, আগামী ২০ জুলাই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারা জয়ী হবে। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা এই সরকারের পতন চান। একই সঙ্গে তাঁরা নির্বাচন স্থগিত ও ইংলাকের ভাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার প্রভাব শেষ করে দিতে সংস্কারের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের নেতা সুথেপ থাউকসুবান বিক্ষোভকারীদের পার্লামেন্টের বাইরে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের বাইরে এবং পাঁচটি টেলিভিশন চ্যানেল কার্যালয়ের বাইরে মিছিল করার আহ্বান জানান। সরকার যাতে তাঁদের ব্যবহার করতে না পারে, তাঁরা এ উদ্যোগ নিয়েছেন। সুথেপ বলেন, 'আমরা দেশ থেকে থাকসিন-যুগের সব আবর্জনা ঝেঁটিয়ে পরিষ্কার করব।' ২০১১ সালে থাইল্যান্ডের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান থাবিল প্লিয়েনশ্রিক বদলির ঘটনায় সাংবিধানিক আদালত গত বুধবার ইংলাক ও তাঁর মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যকে অপসারণ করেন। নিজের একজন আত্মীয়কে থাবিলের স্থলাভিষিক্ত করার মাধ্যমে ইংলাক ক্ষমতার অপব্যহার করেছেন বলে আদালত উল্লেখ করেন। পরে মন্ত্রিসভা পুয়ে থাই পার্টির নেতা উপপ্রধানমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী নিওয়াত্তুমরং বুনসংপাইসানকে ইংলাকের স্থলাভিষিক্ত করে৷ ইংলাককে গতকাল ধান ক্রয় খাতে ভতুর্কি দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত করেছে থাইল্যান্ডের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা৷ এ নিয়ে দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে ভোটাভুটি হবে৷ সিনেট ইংলাককে অভিশংসিত করলে তিনি রাজনীতিতে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারেন।

আমি কি একজন বিশ্বাসঘাতক? by হামিদ মির

বিশ্বাসঘাতক দু্ই ধরনের হয়৷ প্রথম ধরনের বিশ্বাসঘাতকেরা বিদেিশ শক্তির সঙ্গে যোগসাজশে স্বজাতির মানুষদের দাসে পরিণত করে৷ এই ধরনের ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম মির জাফর আলী খান, যিনি ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার সেনাবাহিনীর প্রধান৷ এখন তঁার নাম বিশ্বাসঘাতকতার সমার্থক শব্দ হিসেবে উচ্চারিত হয়৷ তঁার বিশ্বাসঘাতকতার কারণে সিরাজউদ্দৌলার সেনাবাহিনী ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে ব্রিটিশ বাহিনীর কাছে পরাজিত হয়৷ ফলে, ভারতবর্ষ ব্রিটিশদের পদানত হয়৷

গণতন্ত্র মৃত, গণতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক by এ কে এম জাকারিয়া

মালয়েশিয়ার বিমানটি হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে পাইলটের যুক্ত থাকার বিষয়টি শুরু থেকেই আলোচিত হচ্ছিল৷ কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে পাইলটের শেষ কথা ছিল ‘সব ঠিক আছে, শুভরাত্রি’৷ এর পরপরই তা হারিয়ে যাওয়ায় মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সন্দেহ, পাইলট সম্ভবত কিছু লুকাতে চেয়েছেন৷ এ সন্দেহ আরও জোরদার হয়, যখন সেই পাইলট জাহারে আহমদের একটি বিশেষ টি-শার্ট পরা ছবি প্রকাশিত হয়৷

ব্যাংককে ব্যাপক বিক্ষোভ @প্রথম আলো

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আজ শুক্রবার সরকারবিরোধী হাজারো বিক্ষোভকারী বিক্ষোভ করছেন। প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে সাংবিধানিক আদালত অপসারণ করার পর গঠিত নতুন মন্ত্রিসভা বাতিলের দাবিতে তাঁরা এ বিক্ষোভ করছেন। গতকাল বিক্ষোভকারীরা নতুন সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন৷ বিরোধীদের এই ঘোষণা চলমান সংকট আরও ঘনীভূত করতে পারে। আজ রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আশা করছে, আগামী ২০ জুলাই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারা জয়ী হবে। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা এই সরকারের পতন চান। একই সঙ্গে তাঁরা নির্বাচন স্থগিত ও ইংলাকের ভাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার প্রভাব শেষ করে দিতে সংস্কারের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের নেতা সুথেপ থাউকসুবান বিক্ষোভকারীদের পার্লামেন্টের বাইরে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের বাইরে এবং পাঁচটি টেলিভিশন চ্যানেল কার্যালয়ের বাইরে মিছিল করার আহ্বান জানান। সরকার যাতে তাঁদের ব্যবহার করতে না পারে, তাঁরা এ উদ্যোগ নিয়েছেন।
সুথেপ বলেন, 'আমরা দেশ থেকে থাকসিন-যুগের সব আবর্জনা ঝেঁটিয়ে পরিষ্কার করব।' ২০১১ সালে থাইল্যান্ডের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান থাবিল প্লিয়েনশ্রিক বদলির ঘটনায় সাংবিধানিক আদালত গত বুধবার ইংলাক ও তাঁর মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যকে অপসারণ করেন। নিজের একজন আত্মীয়কে থাবিলের স্থলাভিষিক্ত করার মাধ্যমে ইংলাক ক্ষমতার অপব্যহার করেছেন বলে আদালত উল্লেখ করেন। পরে মন্ত্রিসভা পুয়ে থাই পার্টির নেতা উপপ্রধানমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী নিওয়াত্তুমরং বুনসংপাইসানকে ইংলাকের স্থলাভিষিক্ত করে৷ ইংলাককে গতকাল ধান ক্রয় খাতে ভতুর্কি দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত করেছে থাইল্যান্ডের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা৷ এ নিয়ে দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে ভোটাভুটি হবে৷ সিনেট ইংলাককে অভিশংসিত করলে তিনি রাজনীতিতে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারেন।

খুন-অপহরণের শেষ কোথায়? by আলী রীয়াজ

নারায়ণগঞ্জে সাতজনের গুম ও গুপ্তহত্যার ঘটনার পর সারা দেশে এই নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। এই সাতজনকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে পোস্টমর্টেম রিপোর্টে বলা হয়েছে, তা পড়ে যেকোনো মানুষই শিউরে উঠবেন। যেকোনো অপমৃত্যুই বেদনাদায়ক, যেকোনো হত্যাই আসলে ওই পরিবার এবং অন্যদের জন্য যেমন বেদনার, তেমনি আতঙ্কেরও। যখন আমরা এ ধরনের রোমহর্ষক বর্ণনা পড়ি, তখন মনে হয় যে অমানবিকতার এক চূড়ান্ত পর্যায়ে না পেঁৗছালে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষে কাউকে এভাবে হত্যা করা সম্ভব নয়। কেবল হত্যাকাণ্ড বলে এসব ঘটনাকে বর্ণনা করলে সামান্যই বলা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে র৵াবের সম্পৃক্ততার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জে র৵াবে কর্মরত তিনজন সেনা অফিসারকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে স্থানীয় একজন আওয়ামী লীগের নেতার বাসায় তল্লাশি চালানো হয়েছে, পলাতক এই ব্যক্তিকে সন্ধানের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে। গত কয়েক দিনে এই নিয়ে আলোচনা, বিতর্ক এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শোনা গেছে বিভিন্নভাবে, অভিযোগের আঙুল উঠেছে বিভিন্ন ব্যক্তির দিকে।

নারায়ণগঞ্জ কী অশনিসংকেত দিচ্ছে by মহিউদ্দিন আহমদ

দেশে খুনখারাবি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। সাধারণ মানুষের মনের ভেতরে বাসা বেঁধেছে ভয় আর অনিশ্চয়তা৷ সবাই বলেন আইনের শাসনের কথা। আইনের শাসন ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর ওপর মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে। অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী কিছুদিন আগে এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, এদের কাজ হলো এখন ‘দুষ্টের পালন ও শিষ্টের দমন’৷ মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসছে না। যারা আসছে, তারাও লাশ হয়ে ফিরছে।

এটা কি একটা জঙ্গল? by আনিসুল হক

মা বলল, টিপরা, এই পাতাটা ছেড়ে কোথাও যাবে না! কেমন?
টিপরা বলল, ঠিক আছে মা, যাব না।
ইপরা বলল, মা, কেন যাব না। আমরা আর ছোট পিঁপড়াটা নেই। বড় হয়ে গেছি।
মা বলল, তোমাদের জন্য মধু আমি নিয়ে আসছি। তোমরা এই পাতাটা ছেড়ে কোথাও যাবে না। এটাই আমার ফাইনাল কথা।
মা পিঁপড়া বেরিয়ে পড়ল। গাছের ডাল বেয়ে ছয় পায়ে গিয়ে পৌঁছাল ফুলের বৃন্তে। জায়গাটা বিপজ্জনক। একটা মাকড়সা এখানে জাল পেতে রেখেছে। খুব মিহি জাল। এটা এড়িয়ে যেতে হবে। জালে পা পেঁচিয়ে গেলেই সর্বনাশ।
জাল এড়িয়ে মা পেঁৗছে গেল ফুলের গোড়ায়। পাপড়ি বেয়ে ঢুকে গেল ফুলের ভেতরে। আরেকটু এগোতেই, উফ্... মধু।
প্রথমে নিজে খানিকটা খেয়ে নিল মা পিঁপড়া।
তারপর মুখের চঞ্চুতে ভরে ফিরতে লাগল নিজের বাসায়। যেখানে তার দুই মেয়ে টিপরা আর ইপরা অপেক্ষা করছে।
এদিকে টিপরার মাথায় দুষ্টুমি বুদ্ধি খেলা করছে। সে বলল, ইপরা চলো, আমরা পাতার ওই পাশে গিয়ে লুকিয়ে থাকি। মা যখন এসে দেখবে আমরা নেই, তখন ভয়ে কান্না জুড়ে দেবে। তখন আমরা মায়ের সামনে এসে হাজির হব। মা আমাদের দেখে খুব খুশি হবে।
ইপরা বলল, তোর শুধু দুষ্টুমি বুদ্ধি। মা কষ্ট করে আমাদের জন্য খাবার নিয়ে আসছে। আমরা তাকে স্বাগত জানাব। পেট ভরে মধু খেয়ে তাকে ধন্যবাদ জানাব। না বাবা, আমরা কোথাও যাব না।
একটা ছোট্ট পাখি এই সময় এসে বসল তাদের খুব কাছে। তারা তাড়াতাড়ি করে পাতার আড়ালে মুখ লুকাল।
মা আসছে। ওদের দুই বোনের মনে খুব আনন্দ। মা আসতেই টিপরা বলল, মা মা, ইপরা বলে, মধু নাকি ভালো খাবার নয়। ও খেতেই চায় না। আমাকে প্রথমে চেখে দেখতে হবে, ভালো কি না, তারপর নাকি ও খাবে।
মা বলল, ইপরা, এটা কী ধরনের কথা। তোমাদের মা কষ্ট করে মধু এনে দিচ্ছে, সেটা আবার খারাপ হয় কী করে। আমি তোমার কাছে এই ধরনের কথা আশা করিিন।
ইপরা বলল, মা, আমি কিছুই বলিিন। সব টিপরা বানিয়ে বলছে।
মা বলল, মুখে মধু নিয়ে এত কথা বলতে পারব না। নে টিপরা, খেয়ে নে।
টিপরা মধু খেল।
ইপরা, তুই কি খাবি?
খাব মা। মধু আমার খুব প্রিয়। ইপরা মধু খেয়ে বলল, খুব ভালো মধু। মা, তুমি এত কষ্ট করে আমাকে মধু এনে দাও। তুমি খুব ভালো। আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।
মা বলল, আমি তোমাদের খুব ভালোবাসি।
টিপরা বলল, আমিও তোমাকে খুব ভালোবাসি।
মা দুজনকে জড়িয়ে ধরল ছয় পায়ে। বাচ্চারা খাচ্ছে, এই দৃশ্য দেখে সে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ল।
এমন সময় উঠল জোরে বাতাস। মনে হয়, কালবোশেিখ।
ওদের বাসা যে পাতায়, সেটা গেল ঝরে।
নিচে একটা ছোট্ট ঝরনা।
পাতাটা পড়ল সেই ঝরনার জলে।
ইপরা বলল, মা, মা বঁাচাও।
টিপরা বলল, মা, আমাদের কী হবে? আমরা কি মরে যাব?
মা ওদের দুজনকে নিজের পিঠে তুলে পাতার ওপরে পা উঁচু করে দঁাড়াল। পাতায় পানির ছিটা লাগছে। এই বুঝি মা ভেসে যায়।
মা কঁাদতে কঁাদতে বলল, প্রভু, আমার বাচ্চা দুটোকে অন্তত বঁাচাও। আমার প্রাণের বিনিময়ে হলেও...
পাতাটা গিয়ে একটা নৌকার গায়ে লাগল। মা বাচ্চা দুটোকে পিঠে করে নৌকার কাঠে উঠে পড়ল। জোরে ঢেউ এল। এই বুঝি তারা ডুবে যায়। এক লহমায় তাদের ওপর দিয়ে বয়ে গেল জলের স্রোত। পরের মুহূর্তে জল সরে গেলে মা তাড়াতাড়ি আরও ওপরে উঠে গেল।
তারা উঠে গেল নৌকার ছইয়ের নিচে। এখন তারা নিরাপদ। মা, টিপরা আর ইপরা। তারা ছইয়ের নিচে বঁাশের বেড়ার ফোকরে আরামেই আছে।
গুড়ের একটা কৌটা আছে নৌকায়।
তারা তিনজন চলল গুড়ের সন্ধানে।
বাচ্চা দুটোও এরই মধ্যে বড় হয়ে গেছে। তিনজনেই নিজের পায়ে হঁাটতে পারে।
কৌটাটা যখন খোলা ছিল, মা আর টিপরা ঢুকে গেল ভেতরে। তারা আরাম করে গুড় খাচ্ছে। খাওয়া শেষে তারা ইপরার জন্য গুড় নিয়ে ফিরবে।
হঠাৎ কৌটার মুখ হয়ে গেল বন্ধ। এখন তারা বেরোবে কী করে?
মা কেঁদে উঠল, আমার ইপরার কী হবে? মা আর টিপরা আসছে না। ইপরাও কঁাদে। নৌকার মাঝি গুড় খাবেন। কৌটার মুখ খুললেন। গুড় নিলেন। তঁার বন্ধুকেও গুড় দিলেন।
মা পড়ল মাঝির পাতে।
টিপরা পড়ল মাঝির সঙ্গীর পাতে।
মাঝি গুড়টা খেতে যাচ্ছেন। দেখলেন, একটা পিঁপড়া। তিনি পিঁপড়াটাকে আলগোছে তুলে নিয়ে ছেড়ে দিলেন।
আর মাঝির সঙ্গী টিপরাকে দেখতে পেয়ে থালার কোনায় রেখে টিপ দিতে লাগল। টিপরার একটা পা ভেঙে যাচ্ছে। আরেকটা পা ভেঙে যাচ্ছে। টিপরা কঁাদছে। আমাকে মেরো না। আমাকে ছেড়ে দাও। শুনে মা ছুটে গেল মাঝির সঙ্গীর দিকে। তার পায়ে দিল কামড়। কামড় খেয়ে সঙ্গী মায়ের দিকে হাত বাড়াল। মাকে টিপে মারতে লাগল। মায়ের পা গেল। পেট গেল। শুধু মাথাটা আছে।
মা বলল, টিপরা তুই পালা।
দুটো ভাঙা পা নিয়ে টিপরা গেল ইপরার কাছে।
বাছারা, তোরা ভালো থাকিস। মা মারা গেল।
টিপরা চুপ হয়ে গেল। সে শুধু বলে, আমার মা নিজের প্রাণ দিয়ে আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
ইপরা বলে, কেঁদো না বোন। তোমার নিজের দুটো পা ভাঙা। আমি অনেক যত্ন করে তোমার এই পা দুটো ভালো করে দেব।
ইপরা টিপরার পায়ে ওষুধ লাগায়। টিপরা বলে, আমরা ভীষণ দুঃখী। আমাদের মা নেই।
ইপরা বলে, তবু আমার একটা বোন আছে।
টিপরা বলে, বোন না পচা, আমার জন্য মা মারা গেছে।
রাতের বেলা টিপরার ঘুম ভেঙে গেল। সে শুনল, ইপরা গান গাইছে, ‘ও তোতা পাখি রে, শেকল খুলে দিতে পারি, আমার মাকে যদি এনে দাও’।
দুজনে গলা জড়িয়ে মা মা বলে কাঁদতে লাগল।

প্রিয় পাঠক। ক্ষমা চাই। আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে আমি পিঁপড়ার গল্প শোনাচ্ছি। কিন্তু গল্পটা পড়ে একটা পিঁপড়ার জন্য আপনার মনে একটুও মায়া জন্মেনি? আপনার মনে হচ্ছে না, পিঁপড়াটা যেন ফিরে আসে তার সন্তানদের কাছে?
এখন মনে করে দেখুন, সাত-সাতজন মানুষ আর স্বজনদের কাছে ফিরে আসতে পারলেন না। তাঁদের অপহরণ করার পর খুন করা হয়েছে। খবরে নানা কথা আমরা জানছি। একজনকে মারতে গিয়ে সাতজনকে মারা হয়েছে।
আমরা একটা পিঁপড়ার মৃত্যুতেও ব্যথা পাই। একজন মানুষকে কেন মানুষ খুন করবে? তারপর তঁার ড্রাইভারের কী অপরাধ?
এখন শোনা যাচ্ছে, পেছনের গাড়ির মানুষগুলো অপহরণের দৃশ্য দেখে ফেলেছিলেন, তঁাদেরও মারা হয়েছে। মানুষের প্রাণ এত সস্তা।
আর শোনা যাচ্ছে, একটা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য এটার পেছনে আছেন! রক্ষকেরা এখন নাগরিকদের প্রাণসংহারে নেমেছেন? আর তঁাদের পেছনে আছেন নেতারা, যাঁদের আমরা ফুলের মালা দিয়ে বরণ করি।
এটা একটা দেশ? এটা একটা রাষ্ট্র? নাকি এটা একটা জঙ্গল?
আর এরা তো কোনো কাজ ঠিকমতো করতেও পারে না। একজনকে মারতে গিয়ে সাতজনকে মারে। এদের নিষ্ঠুরতার সীমা নেই, লাশের মুখ বিকৃত করে, পেট কেটে দেয়।
পিঁপড়ার মৃত্যু আমরা সইতে পারি না। মানুষের এই অপঘাত মৃত্যু আমরা সইব কী করে?

আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

আমি কি একজন বিশ্বাসঘাতক?

গুলিবিদ্ধ হামিদ মিরের ছবি মোবাইল
থেকে দেখাচ্ছেন এক সমর্থক
বিশ্বাসঘাতক দু্ই ধরনের হয়৷ প্রথম ধরনের বিশ্বাসঘাতকেরা বিদেিশ শক্তির সঙ্গে যোগসাজশে স্বজাতির মানুষদের দাসে পরিণত করে৷ এই ধরনের ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম মির জাফর আলী খান, যিনি ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার সেনাবাহিনীর প্রধান৷ এখন তঁার নাম বিশ্বাসঘাতকতার সমার্থক শব্দ হিসেবে উচ্চারিত হয়৷ তঁার বিশ্বাসঘাতকতার কারণে সিরাজউদ্দৌলার সেনাবাহিনী ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে ব্রিটিশ বাহিনীর কাছে পরাজিত হয়৷ ফলে, ভারতবর্ষ ব্রিটিশদের পদানত হয়৷ আরেক ধরনের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বিদেিশ শক্তির সঙ্গে হাত মেলায় না; বরং তারা স্থানীয় শক্তিশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দঁাড়িয়ে বিদেিশদের সঙ্গে তাদের অঁাতাতের বিরোধিতা করে৷ এই স্থানীয় গোষ্ঠী ‘দেশপ্রেমের’ নামে বিদেশিদের সঙ্গে অঁাতাত করে থাকে৷ এই দ্বিতীয় ধরনের বিশ্বাসঘাতকদের হাতে অস্ত্র ও ট্যাংক থাকে না, থাকে না যুদ্ধবিমানও৷ তঁাদের অস্ত্র হচ্ছে জিব, যা দিয়ে তঁারা সত্য কথা বলেন৷ আর থাকে কলম, যেটা দিয়ে তঁারা সত্য কথা লেখেন৷ তঁারা যখন সত্য কথা বলেন বা লেখেন, তখন বন্দুকধারীরা গড়বড় হয়ে যান আর এই সত্যবাদীদের বিশ্বাসঘাতক বলেন৷ আমাদের সমকালীন ইতিহাসে এই দ্বিতীয় ধরনের বিশ্বাসঘাতকদের আধিক্য দেখা যাচ্ছে৷ বর্তমানে আমার মতো মানুষ এবং এই দ্বিতীয় শ্রেণীভুক্ত বিশ্বাসঘাতকদের গায়ে মার্কা মারার চেষ্টা করা হচ্ছে৷ যঁারা বন্দুকের বলে বলীয়ান, তঁারা আমাকে ও আমার প্রতিষ্ঠান জিয়ো টিভির গায়ে মোড়ক লাগানোর চেষ্টা করেই ক্ষান্ত হচ্ছেন না, তঁারা আমার নাগরিকত্বও বাতিল করার চেষ্টা করছেন৷ আমার অপরাধ কী?
করাচিতে কিছুদিন আগে আমার জীবননাশের চেষ্টা হয়েছে৷ আমার শরীরে লেগেছে ছয়টি গুলি৷ জিয়ো টিভিতে আমার পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দেশের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে৷ কারণ, সাম্প্রতিক অতীতে আমি আমার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে বলেছিলাম, কয়েকজন আইএসআই কর্মকর্তা চরমপন্থীদের ব্যবহার করে আমার টুঁটি চেপে ধরার চেষ্টা করছেন৷ আমার পরিবার যখন এই সন্দেহের কথা জানায়, তখন আমি হাসপাতালে অচেতন অবস্থায়৷ হামলার দ্বিতীয় দিন আমার জ্ঞান ফেরার পর আমি আমার পরিবারের অবস্থানের সঙ্গে সহমত পোষণ করি৷ সঙ্গে সঙ্গে আইএসআই সরকারের কাছে আবেদন করে, যাতে জিয়ো টিভিকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে ঘোষণা করা হয়৷ কিছু নিষিদ্ধঘোষিত জিঙ্গ সংগঠনও এর সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসে, তাদের মধ্যে লস্কর-ই-তাইয়েবার (এলইটি) হাফিজ সাঈদও আছেন৷ তঁাদের দাবি, আমাকে ও আমার পরিবারকে যেন বিশ্বাসঘাতক হিসেবে ঘোষণা করা হয়৷ কিছু গোষ্ঠী অনেক দিন থেকেই আমাকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে অভিহিত করার চেষ্টা করছে৷ যঁারা স্বৈরতন্ত্রের বিরোধিতা করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন, তঁাদের বিশ্বাসঘাতক বলা হয়েছে৷ আবার গণতন্ত্রের স্তুতি করে কবিতা লেখাকে দেশদ্রোহী কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে৷ এই বন্দুকধারীরা পাকিস্তানের জাতির পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বোন ফাতেমা জিন্নাহকেও এই অভিধা দিয়েছিল, যদিও তিনি পাকিস্তান আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন৷ সামরিক স্বৈরশাসক আইয়ুব খান গণতন্ত্র নস্যাৎ করার চেষ্টা করলে ফাতেমা জিন্নাহ তার কড়া সমালোচনা করেছিলেন৷ তিনি ওই স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দঁাড়ালে তাঁকে ভারতীয় চর ও বিশ্বাসঘাতক বলা হয়েছে৷ কখনো আমাকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে কবি হাবিব জালিবের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে৷ এই কবি ১৯৭১ সালে ঢাকায় সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে কবিতা লিখেছিলেন৷
জেনারেল ইয়াহিয়ার আমলে তঁাকে বিশ্বাসঘাতক উপাধি দিয়ে জেলে ঢোকানো হয়েছে, যে ইয়াহিয়ার নির্দেশে ঢাকায় ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তািন সেনা আত্মসমর্পণ করে৷ আমাকে পশতু জাতীয়তাবাদী নেতা ওয়ালি খানের মতো বিশ্বাসঘাতক বলা হয়েছে৷ এমনকি বেলুচের জাতীয়তাবাদী নেতা গাউস বক্স, আতাউল্লাহ প্রমুখ মানুষের সঙ্গেও আমার বিশ্বাসঘাতকতার তুলনা করা হয়েছে, যদিও এসব ব্যক্তি ১৯৭৩ সালে পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন এবং তার আলোকে পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন৷ পরবর্তীকালে, আমাকে জুলফিকার আলী ভুট্টোর মতো বিশ্বাসঘাতক বলা হয়েছে, তিনি পাকিস্তানকে ১৯৭৩ সালের সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন৷ ভুট্টোর নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে তঁাকে ভারতীয় চর বলা হয়েছে৷ একটি খুনের মামলায় মিছামিছি জড়িয়ে তঁাকে গারদে ঢোকানো হয়৷ এটা ছিল জেনারেল জিয়াউল হকের সামরিক জামানা, ভারত এ সময় সিয়াচেনের ঊর্ধ্বাঞ্চল দখল করে নেয়৷ এই জিয়াউল হক ভুট্টোকে ফঁাসিতে ঝুলিয়েছিলেন৷ এই আমলে অনেক রাজনীতিবিদ যেমন বেনজির ভুট্টো, মওলানা ফজলুর রেহমান, কবিদের মধ্যে ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ, আহমেদ ফরাজ এবং আমার বাবা ওয়ারিস মির ও অসংখ্য রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক ও লেখককে বিশ্বাসঘাতক উপাধি দেওয়া হয়েছে৷ বিদেশিদের স্বার্থে করা যুদ্ধকে জিয়াউল হক ‘দেশাত্মবোধক’ আখ্যা দিয়েছেন৷ তিনি পাকিস্তানে কালাশনিকভের সংস্কৃতি চালু করেন৷ একই সঙ্গে গোষ্ঠীগত, ভাষাগত ও বর্ণগত বিভাজন ও সংকীর্ণ প্রাদেশিকতার সংস্কৃতি শুরু হয় তঁার আমলেই৷ জিয়াউল হক তঁার বিরুদ্ধে

বিপদের নাম রাজনৈতিক দস্যুতন্ত্র

বিপদের নাম রাজনৈতিক দস্যুতন্ত্র
বাংলাদেশে এখন দুই ধরনের শাসন দেখা যাচ্ছে৷ একটা রাষ্ট্রের শাসন, অন্যটা ভয়ের শাসন৷ রাষ্ট্রীয় শাসনের কেন্দ্র ঢাকায়, আর ভয়ের শাসনের চলতি কেন্দ্র হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ৷ রাজধানী নড়ে না, কিন্তু ভয়ের রাজধানী আজ নারায়ণগঞ্জ, তো কাল নরসিংদী তো পরশু লক্ষ্মীপুরে সরে যাবে৷ যা সবখানেই ঘটতে পারে, তার দেশজোড়া ভিত্তি না থেকে পারে না৷ তাই শুধু নারায়ণগঞ্জকে ভয়ের জনপদ ভাবলে সংকটের বিস্তার ও গভীরতা নজরের বাইরে থেকে যাবে৷ প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারযন্ত্রের শাসন কি ভয়ের শাসনকে দমন বা শক্তিহীন করতে পারবে? পারা সম্ভব ছিল, যদি দুইকে আলাদা করতে পারতাম৷ অপহরণ ও গুম-খুনের ঘটনায় যেসব বাহিনীর নাম আসছে, তারা সবাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন রাষ্ট্রীয় বাহিনী৷ শামীম ওসমান থেকে নূর হোসেনসহ অভিযুক্ত নেতারা সবাই আওয়ামী লীগের লোক৷ অভিযোগের পাহাড় থাকা সত্ত্বেও তঁাদের দায়মুক্তি পাওয়া সরকারের ইচ্ছার বাইরে ঘটছে বলে ভাবা বোকামি৷ এই অবস্থাতেই নারায়ণগঞ্জের নিহত সাতজনের অন্যতম নজরুল ইসলামের স্ত্রী সকাতরে জানতে চান, ‘আমি এখন কী করব, কোথায় যাব?’ আলোচিত সাত খুনের পেছনে বালুমহাল ও ব্যবসা দখলের কোন্দল ছিল৷ গুমের থাবা থেকে ফিরে আসা আবু বকর সিদ্দিককে অপহরণের পেছনেও ভূমিগ্রাসীরা জড়িত বলে অভিযোগ৷ নরসিংদীর পৌর চেয়ারম্যান লোকমান বা নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ নূর হত্যার পেছনেও ছিল ক্ষমতার রেষারেষি৷ প্রকাশ্য খুন আর গুম-খুন মিলিয়ে তাহলে পাচ্ছি দুটি কারণ: ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তথা বিত্তের বাসনা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতিযোগিতা তথা অবৈধ ক্ষমতার অভিলাষ৷ দৃশ্যত এই দুটি শক্তি আলাদা হলেও গত দুই দশকে ভেতরে ভেতরে একই আকার ধারণ করেছে৷ কিছু বিরল ব্যক্তিকে বাদ দিলে প্রায় সব বড় নেতাই বড় ব্যবসায়ী৷ রাজনীতি এখন দ্রুত বড়লোক হওয়ার মাধ্যম৷ অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে অস্বাভাবিক বিত্ত অর্জনে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার থেকে লোভনীয় আর কিছু নেই৷ রাজনীতির মগডাল ধরতে পারলে নামে-বেনামে ব্যাংক লুটও সহজ৷
আর আছে ভূমি গ্রাস, নদী গ্রাস, বালুমহাল গ্রাস, পরিবহন রুট দখল, মাঝারি ও খুদে ব্যবসায়ীদের থেকে লভ্যাংশ আদায়ের ব্যবস্থা৷ এভাবে অর্জিত শত-হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের ব্যবস্থাও এরা গড়ে তুলেছে৷ এরাই আবার পথের কঁাটা সরাতে সরকারি-বেসরকারি ভাড়াটে লোকজন দিয়ে হত্যা, দখল ও লুটপাট চালাচ্ছেন৷ এসব কাজের একটিও আইনের মধ্যে থেকে করা সম্ভব নয়৷ বিপজ্জনক ব্যবসা চালাতে হলে রাজনৈতিক ক্ষমতার ছাতা লাগবেই৷ এই ছাতার তলে বেআইিন উপায়ে সম্পদশালী হওয়া আর জোর-জুলুমের মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষমতাধর হওয়াই হয়ে উঠেছে অর্থনীতি ও রাজনীতির প্রধান ধারা৷ এই দুর্বৃত্ত নেতা ও লুটেরা ব্যবসায়ীরা হলো বাইবেলে কথিত দানব ইয়াজুজ ও মাজুজের মতো৷ লোকবিশ্বাস, একদিন এই দুই দানব একজোট হয়ে মানুষকে ধ্বংস করবে৷ উপকথাকে বাস্তবে অনুবাদ করলে দেখব, এসব দুর্বৃত্ত নেতা ও লুটেরা ব্যবসায়ীদের মিলনে জন্ম হয়েছে নতুন বিপদের৷ এরই নাম রাজনৈতিক দস্যুতন্ত্র৷ এই দস্যুতন্ত্রই বাংলাদেশকে খাবলে খাচ্ছে, জীবন ও সম্পদের বিরুদ্ধে খাড়া করছে হুমকি৷ একসময় অনেকেই একমত ছিলেন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিই আমাদের এক নম্বর জাতীয় সমস্যা৷ কিন্তু এখনকার অপহরণ ও গুম-খুনকে চিরাচরিত সন্ত্রাস ও দুর্নীতির ব্যাকরণে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না৷ সন্ত্রাস ও দুর্নীতি গুরুতর সমস্যা হলেও জীবন ও অর্থনীতিবিধ্বংসী হতে পারেনি৷ সন্ত্রাস করা হয় প্রকাশ্যে, কারা করছে তা জানা যায়৷ দুর্নীতি অর্থনীতির রক্ত শুষে খায়, কিন্তু ঘাড় মটকে দেয় না৷ সন্ত্রাস ছিল হাতিয়ার, কিন্তু এখন দস্যুতন্ত্র নিজের হাতেই তুলে নিচ্ছে ক্ষমতা৷ দুর্নীতি সম্পদের একাংশ হাপিস করত, কিন্তু দস্যুতন্ত্র পুরোটাই গ্রাস কের৷ শত শত গুম-খুনের বাস্তবতা বলছে, সন্ত্রাসের চরিত্র কাঠামোগতভাবেই বদলে গেছে৷ কারণ, এগুলোর ব্যাপকতা ও ভয়াবহতা চিরাচরিত সন্ত্রাস ও দুর্নীতির চেয়ে বহুগুণ বেশি৷ আগে কালা জাহাঙ্গীরদের মতো সন্ত্রাসীরা ছিল অসামাজিক৷ এখন যঁাদের দাপটে জনপদ ত্রাসিত থাকে, তঁারা সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত গণ্যমান্যজন৷ আগে দলগুলোর পুরোটাই সন্ত্রাসীদের কবজায় ছিল না৷
বলা যেত না যে দখল-লুণ্ঠনই রাজনীতির প্রধান উদ্দেশ্য৷ এখন বলা যায়৷ কারণ, সন্ত্রাসী ক্ষমতাবিবর্তিত হয়ে ফুলে-ফেঁপে দস্যুতন্ত্র হয়ে উঠেছে৷ একে টেকাতে গেলে দরকার একচেটিয়া ক্ষমতার রাজনীতি৷ এ অবস্থায় সব প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে একচেটিয়া শাসন কায়েম করার দিকেই যাবে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতি৷ রাষ্ট্রের সব অঙ্গ যখন তাদের হাতিয়ার, তখন রাজনৈতিক দস্যুতন্ত্র রাষ্ট্রের ভেতর রাষ্ট্র হয়ে ওঠে৷ তখনই জন্ম হয় ভয়ের শাসনের৷ জাতীয় জীবন আজ এরই অধীন৷ এর বিরুদ্ধে দঁাড়ানো কঠিন৷ গত রোববারের প্রথম আলোর সংবাদে এক পুলিশ কর্মকর্তা পর্যন্ত বলেছেন, ‘এ নিয়ে কাজ করতে গেলে আমরাও গুম হয়ে যেতে পারি৷’ যোগাযোগমন্ত্রীও বলে ফেলেছেন, ‘এ অবস্থার দায় সরকারও এড়াতে পারে না৷’ গত কয়েক বছরে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, পুলিশসহ এমন কোনো শ্রেণী ও পেশার মানুষ নেই, যঁারা এর শিকার হননি৷ এই দস্যুতন্ত্র দেশজোড়া নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে৷ মধ্যযুগে বঙ্গদেশে কেন্দ্রীয় শাসন দুর্বল হয়ে পড়লে বারো ভূঁইয়া নামের বারোটি ক্ষমতাবান পরিবারের উদয় হয়েছিল৷ এখন এলাকায় এলাকায় এ রকম দাপুটে পরিবারের তাপজ্বালা শিশুও টের পায়৷ এই নব্য জমিদারদের পেছনে আছে অন্ধ দলবাজদের সমর্থন৷ বিনিময়ে তারা কোনো না কোনোভাবে খাতির-সুবিধা পান৷ অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটা অংশ ‘প্রাইভেট প্র্যাকটিসে’র মজা পেয়ে গেছে৷ তাদের অনেকেও হয়ে উঠেছে খুন-অপহরণের ঠিকাদার৷ প্রথম আলোর সংবাদে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এএসএম শাহজাহান তাই বলেন, ‘কাউকে দিয়ে একটি অপরাধ করালে সে নিজের লাভের জন্য আরও ১০টি অপরাধ করবে৷’ বিরোধীদের দমনের জন্য যাদের লাগাম ছাড়া হয়েছে, লাগাম টেনে ধরে তাদের দিয়ে দস্যুতন্ত্রকে মোকাবিলা করা তাই সরকারের জন্য কঠিন৷ এ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সঙ্গে নির্বাচন না হওয়াও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত৷
নির্বাচনের মতো নির্বাচন হলে রাজনীতিকদের জনগণের সামনে যেতে হতো৷ সন্ত্রাস ও লুটপাটের আয়োজন কমাতে হতো৷ রাজনীতিবিদেরা যখন জবাবদিহির মুখে থাকেন, তখন প্রশাসনও রয়েসয়ে চলে৷ নির্বাচন হচ্ছে বানের পানির মতো, তা সাময়িকভাবে ময়লা-আবর্জনা ভাসিয়ে নেয়, ক্ষমতার দৌরাত্ম্য কমায়৷ কিন্তু কেউ যখন ভোটারবিহীন তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকে, তখন তাকে সব কায়েমি শক্তির সঙ্গে আপস করে বা তাদের দিয়ে-থুয়ে চলতে হয়৷ সামরিক ও রাজনৈতিক—দুই শাসনামলেই আমরা তেমনটা দেখেছি৷ ওই উপকথা অনুসারে, ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ জুলকারনাইন ইয়াজুজ ও মাজুজকে দেয়ালবন্দী করে রেখেছিলেন৷ সত্যিকার গণতান্ত্রিক শাসন হলো সেই নিরাপত্তা দেয়াল৷ যদি গণতান্ত্রিক রাজনীতি না থাকে, গণমাধ্যম ও সমাজ সাহস ও স্বাধীনতা হারিয়ে ফেললে মানবতা রক্ষার বঁাধও ভেঙে পড়ে৷ স্বৈরতান্ত্রিক ইয়াজুজ আর লুটেরা মাজুজ তখন দেশকে ধ্বংসলীলার অভয়ারণ্য বানাতে পারে৷ এভাবেই কায়েম হয় কাঠামোগত দস্যুতন্ত্র৷ বাংলাদেশে কি তাই ঘটছে না? আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়া অথবা রাজনৈতিক অস্থিরতা দিয়ে এর ভয়াবহতা পরিমাপ করা যাবে না৷ শত শত মানুষ খুন হলেও, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বাড়াবাড়ি হলেও দেশ ধ্বংস হয় না৷ দেশ ধ্বংস হয় যখন নীতি ও নেতৃত্ব ধ্বংস হয়৷ সেটা হয় তখনই, যখন অশুভ ক্ষমতা ও মাফিয়া অর্থনীতি মাৎস্যন্যায় কায়েম করে৷ এ রকম দশায় বড় ক্ষমতা ছোট ক্ষমতাকে গিলে ফেলে৷ আমরা এখন সেই অবস্থাই পার করছি৷ বিভিন্ন স্থানে জনতা দস্যুতন্ত্রের বিরুদ্ধে সাধ্যমতো প্রতিবাদ করছেন; এইটুকুই আশা৷ শৈশবে শেখানো হয়, ভয় না পাওয়া হলো বড় হওয়ার লক্ষণ৷ দেশের ছোট-বড় সবাই এখন ভীত; সামষ্টিক বিপদের ব্যক্তিগত সমাধান হয় না৷ স্বাভাবিক মাত্রার অপরাধ পুলিশের বিষয়, আদালতে বিচারের বিষয়৷ কিন্তু অপরাধ মহামারি হয়ে উঠলে সমাজবিজ্ঞানী-রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদদের খুঁজতে হয় বিপর্যয়ের কারণ৷ যখন রাজনীতিবিদেরাও ভরসা হারান, তখন জনগণের আরও ঘন হয়ে বসে আলোচনা করা উচিত, এই ভয় মোকািবলার উপায় কী? আমাদের বিপদের সুরাহা নিজেরাই করতে পারছি না কেন?
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক ও লেখক।
bagharu@gmail.com

থাইল্যান্ডে সাংবিধানিক আদালতের রায়

ইংলাক সিনাওয়াত্রা
৩১ অক্টোবর, ২০১৩
পার্লামেন্টে দায়মুক্তি বিেলর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ৷ ১ নভেম্বর নিম্নকক্ষে বিল পাস৷ পরে আন্দোলনের মুখে উচ্চকেক্ষ বাতিল
৮ ডিসেম্বর, ২০১৩
বিরোধী এমপিদের গণহারে পদত্যাগ
৯ ডিসেম্বর, ২০১৩
আগাম নির্বাচনের ঘোষণা ইংলাকের
১৩ জানুয়ারি, ২০১৪
‘ব্যাংকক অচল’ কর্মসূচি শুরু
২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪
বিতর্কিত নির্বাচনে ভোট গ্রহণ
২১ মার্চ, ২০১৪
নির্বাচন বাতিল ঘোষণা আদালতের
৭ মে, ২০১৪
ইংলাক ও তাঁর মন্ত্রিসভার কয়েকজনকে অপসারণ সাংবিধানিক আদালতের
তথ্যসূত্র: এএফপি
ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে গতকাল বুধবার বরখাস্ত করেছেন সাংবিধানিক আদালত৷ তবে তাঁর সরকার টিকে আছে৷ আদালতের রায়ের পর নিওয়াত্তুমরং বুনসংপাইসানকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে মন্ত্রিসভা৷ আদালতের এই রায়ের ফলে থাইল্যান্ডে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় নতুন মাত্রা পেতে পারে৷ ইংলাকের পদত্যাগের দাবিতে ছয় মাস ধরে আন্দোলন করছে বিরোধীরা৷ আদালতের সিদ্ধান্তে তারা খুশি হলেও থাইল্যান্ডে সিনাওয়াত্রা পরিবারের প্রভাব মুছে ফেলতে দেশে সংস্কার বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা রাস্তায় থাকার ঘোষণা দিয়েছে৷ আর ইংলাক বরখাস্ত হওয়ায় তাঁর সমর্থকেরা এবার আটঘাট বেঁধে রাস্তায় নামতে পারে৷ আদালতের রায়ের বিষয়টি মাথায় রেখে চলতি সপ্তাহের শেষে বড় ধরনের বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়ে রেখেছিল ইংলাকের সমর্থকেরা৷ পূর্বনির্ধারিত সেই বিক্ষোভ তারা করবে বলে গতকাল ঘোষণা দিয়েছে৷ অবশ্য, ইংলাকের মামলায় সম্পৃক্ত নন, এমন মন্ত্রীরা দায়িত্বে বহাল থাকতে পারবেন বলে আদালত রায় দেওয়ায় এখনই ইংলাকের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘাত বাধার আশঙ্কা কম৷ গত বছরের অক্টোবরে ইংলাক সরকার একটি সাধারণ দায়মুক্তি বিল পার্লামেন্টে পাস করানোর চেষ্টা করলে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়৷ বিরোধীরা অভিযোগ করছে, ইংলাকের ভাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে নির্বাসিত অবস্থা থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ওই বিল পাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল৷ ইংলাকবিরোধীরা রাজপথে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর তাঁকে অপসারণ করতে আইনি পথে হাঁটে৷ ২০১১ সালে থাইল্যান্ডের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান থাবিল প্লিয়েনশ্রিকে বদলি করেছিল ইংলাক সরকার৷ তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয় ইংলাকের একজন আত্মীয়কে৷ ওই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মামলা করা হয়৷ সাংবিধানিক আদালতের বিচারককেরা সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্তে পেঁৗছান, থাবিলকে সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ইংলাক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন৷
তাঁর আত্মীয় প্রিউপান দামাপোংকে ওই পদে আনতে এটি করা হয়েছিল৷ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত রুলিংয়ে আদালতের বিচারক শারুন ইনতাশান বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর নিজের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য কাজ করেছেন...ওই স্থানান্তর দেশের স্বার্থে করা হয়নি৷’ থাবিলকে বদলির সিদ্ধান্ত যেসব মন্ত্রী অনুমোদন করেছিলেন, তাঁদেরও বরখাস্ত করেন আদালত৷ তবে ইংলাক গত মঙ্গলবার আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে কোনো ধরনের নীতিবহির্ভূত কাজ করার অভিযোগ অস্বীকার করেন৷ গতকাল রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে ছিলেন না৷ রায়ের ব্যাপারে তাঁর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি৷ এমনকি রায়ের বিরুদ্ধে ইংলাক আপিল করবেন কি না, সেটাও স্পষ্ট নয়৷ আবার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালত রুলিং দেওয়ায় দেশটিতে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হবে কি না, সেটি নিয়েও সংশয় ছিল৷ তবে ইংলাককে বরখাস্ত করার পরই তাঁর মন্ত্রিসভা নতুন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ঘোষণা দেয়৷ দেশটির একজন ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ফংথেপ থেপকানজানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘মন্ত্রিসভা নিওয়াত্তুমরং বুনসংপাইসানকে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে৷’ আদালতের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ: থাই সাংবিধানিক আদালতের কাজ হচ্ছে দেশের সংবিধান লঙ্ঘনসংক্রান্ত মামলার দেখভাল করা৷ ২০০৬ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকসিনকে উৎখাতের পর ওই সংবিধান লেখা হয়৷ আদালতের রায়কে থাকসিন পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছে তাঁদের সমর্থকেরা৷ গতকাল রায় ঘোষণার পর ‘রেড শার্ট’ নেতা জতুপর্ন প্রোম্পান বলেন, ‘শত্রুরা যা করছে, তার সবই একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করার জন্য...তবে আমাদের হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়ার কোনো কারণ নেই৷ আমরা আগের পরিকল্পনা মোতাবেক ১০ মে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করব৷’ তবে রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন সরকারবিরোধী আন্দোলনের কর্মীরা৷ এএফপি ও রয়টার্স৷

অষ্টম দফায় পশ্চিমবঙ্গ ও অেন্ধ্র বেিশ ভোট

রাহুল গতকাল আমেথিতে ভোটারদের
সঙ্গে কথা বলেন। এএফপি
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে অষ্টম দফায় সাতটি রাজ্যের ৬৪টি আসনে গতকাল বুধবার ভোট হয়েছে৷ এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ও অন্ধ্র প্রদেশে ভোটার উপস্থিতি ছিল ব্যাপক৷ গতকাল সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ৭৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ ভোট পড়েছে৷ গতকাল অনুষ্ঠিত ৬৪টি লোকসভা আসনের মধ্যে সবার দৃষ্টি ছিল কংগ্রেসের সহসভাপিত রাহুল গান্ধীর আসন উত্তর প্রদেশ রাজ্যের আমেথিতে৷ রাহুলের প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির স্মৃতি ইরানির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সহকারীকে আমেথি ছাড়তে হয়েছে৷ ভোটের আগের দিন আমেথির নিবিন্ধত ভোটার না হওয়ায় আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রার্থী কুমার বিশ্বাসের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের ওই আসন ছাড়তে বলেছিল স্থানীয় প্রশাসন৷ পরে একই কারণে প্রিয়াঙ্কার আমেথিতে অবস্থান নিয়ে এএপি প্রশ্ন তুললে বেকায়দায় পড়ে প্রশাসন৷ এসব বিতর্কের মধ্যে গতকাল রাহুলের আসনে ভোট হলো৷
বেলা তিনটা পর্যন্ত ওই আসনে ৪৩ শতাংশ ভোট পড়ে৷ উত্তর প্রদেশের আরেক আসন সুলতানপুরও ছিল সবার নজরে৷ এই আসনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) হয়ে লড়েছেন রাহুলের চাচাতো ভাই বরুণ গান্ধী৷ এই আসনে কেমন ভোট পড়েছিল জানা যায়নি৷ তবে উত্তর প্রদেশ রাজ্যে বেলা তিনটা পর্যন্ত ৪৪ দশমিক ২২ শতাংশ ভোট পড়ে৷ রাজ্যের ১৫টি আসনে গতকাল ভোট নেওয়া হয়৷ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সব কটি আসনেই ভোটের হার ছিল চোখে পড়ার মতো৷ উপকূলীয় অন্ধ্র ও রায়ালসীমাসহ সীমান্ত এলাকায় বেলা তিনটা পর্যন্ত প্রায় ৬৩ শতাংশ ভোট পড়ে৷ উত্তরাখণ্ড রাজ্যের পাঁচটি আসনে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত প্রায় ৫৬ শতাংশ ভোট পড়েছে৷ একই সময়ে হিমাচল প্রদেশে ৬৬ শতাংশ এবং বিহারে বেলা তিনটা পর্যন্ত ৫০ দশমিক ৩৯ শতাংশ ভোট পড়ে৷ গতকাল ৮৯৭ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেন৷ এঁদের মধ্যে লোক জনশক্তি পার্টির প্রধান রাম বিলাস পাসওয়ান (হাজিপুর), রাবড়ি দেবীর (সরন) মতো প্রভাবশালী প্রার্থীও রয়েছেন৷ হিন্দুস্তান টাইমস ও টাইমস অব ইন্ডিয়া৷

ভোট হেয়ছে, এএনসির জয় প্রায় নিশ্চিত

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের সোয়েেটা এলাকায় গতকাল
ভোট দেন বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নন্দিত নেতা প্রয়াত
নেলসন ম্যান্ডেলার সাবেক স্ত্রী উইনি ম্যান্ডেলা। ছবি: রয়টার্স
বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নন্দিত নেতা ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার মৃত্যুর পর দেশটিতে গতকাল বুধবার প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়েছে৷ এতে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) জয় প্রায় নিশ্চিত৷ ফলে, আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা৷ দক্ষিণ আফ্রিকায় গতকাল অনুিষ্ঠত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আরেকটি মাহাত্ম্য রয়েছে৷ শ্বেতাঙ্গ শাসনের অবসানের ২০ বছর পূর্তিতে এই ভোট হলো৷ বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের মহানায়ক বিদায় নেন গত বছরের ৫ ডিসেম্বর৷ দুর্নীতি দমন এবং অর্থনীতির ব্যাপারে নমনীয় অবস্থান নেওয়ার কারণে জ্যাকব জুমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সমালোচনা রয়েছে৷
করদাতাদের অর্থ থেকে দুই কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় করে ব্যক্তিগত বাড়ির আধুনিকায়ন করায় তিনি সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হন৷ সরকারি দুর্নীতি, বেকারত্বের উচ্চহার এবং মৌলিক সেবায় ঘাটতির কারণে এএনসির প্রতি জনগণের অসন্তোষ রয়েছে৷ তবু এএনসির প্রতিষ্ঠাতা মাদিবার (ম্যান্ডেলার গোষ্ঠীগত নাম) ভাবমূর্তিকে কাজে লাগিয়ে জয়ের আশা করছে দলটি৷ এবারের একটি বিখ্যাত নির্বাচনী পোস্টারে লেখা হয়েছে, ‘মাদিবার জন্যই এএনসিকে ভোট দিন’৷ গতকাল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরুর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিিক্ষপ্ত সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে৷ ভোট গ্রহণ শুরুর প্রাক্কালে একাধিক স্থানে সহিংসতার পর সেনা মোতায়েন করা হয়৷ জোহানেসবার্গের সোয়েতো শহরতিলর কাছাকাছি বেকার্সডাল এলাকায় বিক্ষোভকারীরা একটি ভোটকেন্দ্রে পাথর ছুড়ে মারে এবং একপর্যায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়৷ নিরাপত্তামন্ত্রী সিয়াবোঙ্গা সিওয়েলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দেন৷ প্রেসিডেন্ট জুমা তাঁর নিজ গ্রামে ভোট দেন৷ দেশজুড়ে ২২ হাজার ২৬৩টি ভোটকেন্দ্রে গতকাল ভোট নেওয়া হয়৷ এতে প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ নিবন্ধনকৃত ভোটার ভোট দেন৷ সব বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে এটি দিক্ষণ আফ্রিকায় পঞ্চম নির্বাচন৷ এবারের ভোটে জুমার দল অন্তত ৬০ শতাংশ ভোট পাবে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন৷ এএফপি ও বিবিসি৷

ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইসরায়েলকে ছাড় দিতে হবে: সিসি

আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি
শান্তি আলোচনায় ফিলিস্তিনিদের জন্য ছাড় দেবেন না—এমন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে মিসরে অভ্যর্থনা জানানো হবে না৷ মিসরের সাবেক সেনাপ্রধান ও আসন্ন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী আবদেল ফাত্তাহ-আল সিসি গত মঙ্গলবার এই মন্তব্য করেছেন৷ গত জুলাইয়ে মিসরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করা এই অবসরপ্রাপ্ত ফিল্ড মার্শাল আগামী ২৬-২৭ মে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে জয়ী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে৷ নির্বাচনে তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বামপন্থী রাজনীতিক হামদিন সাবাহি৷
সিসি মঙ্গলবার একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দেন৷ নির্বাচিত হলে তিনি প্রতিবেশী দেশ ইসরায়েলের কোনো প্রধানমন্ত্রীকে মিসর সফরের আমন্ত্রণ জানাবেন কি না বা ইসরায়েল সফরে যাবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিসি বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের জন্য কিছু দিয়ে তারা আমাদের খুশি করুক, তাদের সেই সুযোগ দিন৷’ সাক্ষাৎকারে সিসি ইঙ্গিত দেন, ইসরায়েলকে আগে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে৷ পূর্ব জেরুজালেম হবে ফিলিস্তিনের রাজধানী৷ এএফপি৷

পশুপালক থেকে প্রেসিডেন্ট

জ্যাকব জুমা
নেতৃত্বের সহজাত গুণ রয়েছে তাঁর মধ্যে৷ তবে কেলেঙ্কারিও কম নয় তাঁর৷ কিন্তু সমালোচনা যেন তাঁর গায়েই লাগে না৷ জনপ্রিয়তাও থাকে অটুট৷ এ জন্য তাঁকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে৷ তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা৷ ৭২ বছর বয়সী জুমা এককালে স্বাধীনতাসংগ্রামে লড়েছেন৷ পারিবারিক এক বন্ধুকে ধর্ষণ এবং দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি রাজনীতিতে বেশ দাপটের সঙ্গে আছেন৷
এ ছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে ব্যক্তিগত বাড়ির জৌলুশ বৃৃদ্ধির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে৷ বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নন্দিত নায়ক নেলসন ম্যান্ডেলার স্মরণ অনুষ্ঠানে জুমাকে টিটকারির মুখোমুখি হতে দেখা গেছে৷ তার পরও তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় লোকজনের কমতি নেই৷ এএনসির মিত্র কনফেডারেশন অব সাউথ আফ্রিকান ট্রেড ইউনিয়নসের প্রধান এসদুমো দলামিনি বলেন, একজন গৃহকর্মীর ছেলে জুমার রয়েছে দরিদ্র ও শ্রমিক শ্রেণীর কাছে ‘শক্তিশালী গ্রহণযোগ্যতা’৷ তিনি জনগণের লোক এবং শ্রমিকদের মতোই বড় হয়েছেন৷ বর্ণবাদী শাসনের যুগে ১০ বছর কারাগারে ছিলেন জুমা৷ তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক জনসমর্থনের কারণেই তিনি অশিক্ষিত পশুপালক থেকে দেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তি হয়েছেন৷ এএফপি৷