Saturday, February 27, 2010

লেজুড়বৃত্তির অবসান কি একদম অসম্ভব by মশিউল আলম

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কার্যকরী পরিষদের সাধারণ সম্পাদকসহ ২৬ জন কেন একযোগে পদত্যাগ করলেন? ওই খবর প্রকাশের পর দুই দিনে সারা দেশে আরও ১৯৪ জন শিবির-সদস্যের গণপদত্যাগের কারণ কী? পদত্যাগকারীদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমে পদত্যাগের যে কারণ উল্লেখ করা হয়েছে—সেই অভ্যন্তরীণ কোন্দলই কি এসব পদত্যাগের প্রকৃত কারণ, না এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে?
এসব প্রশ্ন আর এ নিয়ে নানা রকমের জল্পনাকল্পনা এখন রাজনীতির অঙ্গনে চলছে। তা চলুক; এই লেখায় আলোচনা করতে চাই এমন একটি প্রসঙ্গ, যা শুধু ইসলামী ছাত্রশিবির নয়, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগকেও স্পর্শ করবে।
প্রথমে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সাধারণ সম্পাদকসহ ২৬ জন নেতার গণপদত্যাগের বিষয়টি লক্ষ করা যাক। এই ছাত্রসংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের মোট সদস্যসংখ্যা ৪১। এর মধ্যে ২৬ জন পদত্যাগ করলেন। অর্থাত্ পদত্যাগ করলেন অর্ধেকেরও বেশি; তাঁদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক, অর্থাত্ দ্বিতীয় শীর্ষস্থানীয় নেতাও আছেন। শিবিরের সভাপতি রেজাউল করিমের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে তাঁরা পদত্যাগ করেছেন বলে পদত্যাগকারী একাধিক নেতার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। সভাপতির স্বেচ্ছাচারিতাই যদি মূল আপত্তির বিষয়, তাহলে তাঁকে ইমপিচ (অভিশংসন) করাই তো ছিল যুক্তিসংগত পদক্ষেপ; এবং সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে সেটা অবশ্যই হতে পারত। কারণ ছাত্রশিবিরের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কার্যকরী পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য মিলিতভাবে এটা করার অধিকার রাখেন। কিন্তু সভাপতিকে অভিশংসন না করে নিজেরাই কেন পদত্যাগ করলেন অধিকাংশ সদস্য? এই প্রশ্নের উত্তরে পদত্যাগকারী তিন নেতা প্রথম আলোর প্রতিবেদককে বলেছেন, তাঁরা শিবিরের সভাপতি রেজাউল করিমের স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের জানিয়েছিলেন, কিন্তু নেতারা তাতে কর্ণপাত করেননি। তাই তাঁরা নিজেরাই সরে এসেছেন। অর্থাত্ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পরিপূর্ণ আনুগত্য ও নির্ভরশীলতা জামায়াতে ইসলামীর ওপর। ছাত্রসংগঠনটির অধিকাংশ সদস্য একজোট হয়েও জামায়াতের নেতাদের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারেন না। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ কয়েকজন নেতা শিবির-সভাপতি রেজাউল করিমকে দিয়ে ছাত্রসংগঠনটিকে নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করছেন—এমন অভিযোগ তাঁরা তুলেছেন; কিন্তু কার্যকর প্রতিকারে সচেষ্ট না হয়ে নিজেরাই সরে গেছেন; খোদ সংগঠন থেকেই বিদায় নিয়েছেন। তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে এই: ইসলামী ছাত্রশিবির স্বতন্ত্র কোনো ছাত্রসংগঠন নয়, প্রকৃতপক্ষে জামায়াতে ইসলামী নামের একটি নিবন্ধিত জাতীয় রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তে পরিচালিত একটি অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন। জামায়াতের ওপরই নির্ভর করে শিবিরের অস্তিত্ব, জামায়াত নেতাদের অঙ্গুলিহেলনেই কাজ করেন শিবিরের নেতা, কর্মী ও সমর্থকেরা।
এটা বেআইনি। সরকার এ বিষয়ে আইনি প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে। তেমন আইন এখন বলবত্ আছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধিত) আইন ২০০৯-এর ৯০ (১) (খ) ধারা অনুযায়ী যদি কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিবন্ধিত হতে চায়, তাহলে তার গঠনতন্ত্রে এই সুস্পষ্ট বিধান থাকতে হবে যে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা ছাত্র বা আর্থিক, বাণিজ্যিক বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী-কর্মকর্তা বা শ্রমিক বা অন্য কোনো পেশার সদস্যদের নিয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনকে অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন হিসেবে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ...। জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত একটি রাজনৈতিক দল। ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওপর কোনো ধরনের কর্তৃত্ব করার এখতিয়ার তাদের নেই। যদিও তাদের গঠনতন্ত্রে অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনের উল্লেখ নেই, কিন্তু শিবিরের একাধিক পদত্যাগী নেতা অভিযোগ করেছেন, মুজাহিদসহ জামায়াতের কয়েকজন নেতা ছাত্রশিবিরকে নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করছেন। তাঁরা এ অভিযোগটি লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে পারতেন।
কয়েক দিন আগে বিএনপির চেয়ারপারসন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাদের তিন সপ্তাহের মধ্যে ছাত্রসংগঠনটির স্থায়ী গঠনতন্ত্র তৈরি করার নির্দেশ দিয়ে বললেন, এখন থেকে শুধু ছাত্ররাই ছাত্রদলের নেতৃত্বে থাকবে, যাঁদের ছাত্রত্বের মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে, তাঁরা যাবেন বিএনপি ও যুবদলে। প্রথম আলোর সম্পাদকীয়তে এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, বিএনপির চেয়ারপারসন ছাত্রদলের নেতাদের এমন নির্দেশ দেওয়ার অধিকার রাখেন কি না। কোনোভাবেই না। বিএনপিও একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। আইনত তার কোনো সহযোগী বা অঙ্গসংগঠন থাকতে পারে না।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিয়েও আওয়ামী লীগ সরকার যারপরনাই বিব্রত। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কয়েকবার ছাত্রলীগের ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একবার আক্ষেপ করে বলেছেন, ছাত্রলীগের ছেলেরা চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি করলে তাঁর দুঃখ হয়। তিনি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক প্রধানের পদটিও ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু ছাত্রলীগ এখনো সরকারি দল আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণেই চলছে, যদিও এই নিয়ন্ত্রণ কতটা কঠোর তা বোঝা যাচ্ছে না। কারণ ছাত্রলীগের নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে সরকারের জন্য বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্বি আদেশ আইন ২০০৯-এর রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনসংক্রান্ত ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটছে ছাত্রদল, ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের ওপর আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রত্যক্ষ কর্তৃত্বের মধ্য দিয়ে। অন্যান্য ছোট ছোট রাজনৈতিক দল ও তাদের অনুসারী ছাত্রসংগঠনগুলোর তত্পরতা ততটা দৃশ্যমান নয় যদিও, কিন্তু তাদেরও বাদ দেওয়া যায় না। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির গঠনতন্ত্রে অঙ্গ/সহযোগী সংগঠনসংক্রান্ত ধারায় আইনের নিবন্ধনসংক্রান্ত শর্ত সুস্পষ্টভাবে লংঘন করা হয়েছে। বিএনপির গঠনতন্ত্রে পরিষ্কার বলা হয়েছে: ‘দলের এক বা একাধিক অঙ্গসংগঠন থাকতে পারে। এই সকল অঙ্গসংগঠনের নিজস্ব ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র, পতাকা ও কার্যালয় থাকবে এবং এইসকল অঙ্গসংগঠন মূল দলের শৃঙ্খলার আওতাধীন থাকবে।’ বিএনপির চেয়ারপারসনকে কার্যত সব অঙ্গসংগঠনের সর্বময় নিয়ন্ত্রকের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে অঙ্গসংগঠনের বদলে আছে সহযোগী সংগঠনের কথা: ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নীতিনির্ধারণ করিবে।...সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সম্পাদক সংশ্লিষ্ট সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম তদারক ও সমন্বয় সাধন করিবেন।’
আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটছে সবার চোখের সামনেই। ছাত্রসংগঠনগুলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর ইচ্ছামতো ব্যবহার করা এমনই চিরাচরিত প্রকাশ্য ব্যাপার হয়েছে যে এর বিরুদ্ধে আইন আছে—এ কথাই কারোর স্মরণে আছে বলে মনে হয় না। নির্বাচন কমিশনও কখনো এ বিষয়ে কোনো কথা বলেছে বলে শুনিনি। তবে জানতে পেরেছি, কমিশন এ বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন, আইনি ব্যাপারগুলো খতিয়ে দেখছে।
আইন আছে, কিন্তু তার প্রয়োগ নেই—তাহলে আইন করার কী মানে দাঁড়ায়? রাজনৈতিক দলগুলো অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনের মাধ্যমে অনুগ্রহ বিতরণ ও তার বিনিময়ে দলের শক্তিবৃদ্ধির যে চর্চা করে আসছে, তার অবসান ঘটানোর জন্য অঙ্গ/সহযোগী সংগঠন রাখাকে নিষিদ্ধ করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আইনে সংশোধনী আনার সময় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশন আলোচনা করেছিল, একতরফাভাবে তাদের ওপর এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়নি। রাজনৈতিক দলগুলো তাতে রাজিও হয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কার সংশোধিত অধ্যাদেশটি তাই নবম সংসদে অপরিবর্তিত অবস্থায় পাস করা হয়েছে। রাজনৈতিক সংস্কৃতি ইতিবাচকভাবে বদলে দেওয়ার জন্য খুব শক্তিশালী এ আইনি হাতিয়ার জাতিকে উপহার দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার প্রশংসা পেয়েছে। কিন্তু এখন আইনটির অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে প্রায় অকার্যকর করে দেওয়া সত্যিই দুঃখজনক। আইন প্রয়োগ করার দায়িত্ব সরকারের, কিন্তু সরকারি দল নিজে ছাত্রসংগঠনকে সহযোগী সংগঠন হিসেবে রেখে তো অন্যদের বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত আইন প্রয়োগ করতে পারে না।
রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করা হয়েছিল তার কিছুমাত্র অংশ পূরণের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এটা খুবই হতাশার কথা। কিন্তু আওয়ামী লীগ এমন একটি ঐতিহ্যবাহী ও শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন, যার কাছ থেকে পরিবর্তন প্রত্যাশা করা উচিত। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যে অভূতপূর্ব বিজয় ঘটেছে, তা কি দলটির প্রতি বিপুল জনসমর্থনের প্রত্যক্ষ প্রমাণ নয়? এই সমর্থনের জোরে আওয়ামী লীগ লেজুড়বৃত্তির রাজনীতির অবসান ঘটাতে প্রথম পদক্ষেপটা অবশ্যই নিতে পারে। সহযোগী সংগঠনের নামে যেসব আপদ আওয়ামী লীগ ও তার সরকারের জন্য বারে বারেই বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে, তাদের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে আওয়ামী লীগ পথ দেখাতে পারে। চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, জবরদখলকারী, সন্ত্রাসীদের ওপর থেকে সব ছত্রচ্ছায়া তুলে নিলে সরকারি দল ও সরকারের প্রতি জনগণের সমর্থন অনেক বেড়ে যাবে। সেই সঙ্গে বাড়বে সরকারের নৈতিক বল, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তখন কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকবে না। নিজেদের যেসব দুর্বলতা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে বাধা হিসেবে কাজ করে, সহযোগী সংগঠনগুলোকে বিলুপ্ত করার মধ্য দিয়ে সরকার সেগুলোর অনেকটাই সরিয়ে ফেলতে পারে। এটা করা আওয়ামী লীগের পক্ষে অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি সহজ। কারণ এ দলের জনভিত্তি খুব গভীর ও বিস্তৃত।
মশিউল আলম: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
mashiul.alam@gmail.com

মাতৃভাষায় ইসলামের প্রচার ও প্রসার by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মাতৃভাষা মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিরাট নিয়ামত ও বিশেষ দান। আল্লাহ তাআলা সৃষ্টির সেরা জীবরূপে মানুষ সৃষ্টি করে তাদের মনের ভাব প্রকাশের জন্য ভাষা শিক্ষা দিয়েছেন। জন্মগতভাবেই মানুষ তার মাতৃভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করে থাকে। মানুষ যা বলে তা-ই ভাষা, যদ্দ্বারা পারস্পরিক মনোভাব প্রকাশিত হয়। কারণ আল্লাহ পাক মানুষের জন্মের পর তাকে মাতৃভাষায় কথা বলতে শিখিয়েছেন। মহান স্রষ্টার অনেক বিস্ময়কর নিদর্শনার মধ্যে ভাষা একটি অন্যতম নিদর্শন। প্রকৃতপক্ষে ভাষা আল্লাহ তাআলার এক অপূর্ব সৃষ্টি। তাঁর সীমাহীন কুদরতের মধ্যে এটি একটি শ্রেষ্ঠ অবদান। আল্লাহর অপরিসীম কুদরত ভাষা ও বর্ণের অনন্য নিদর্শন সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। এতে জ্ঞানীদের জন্য অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে।’ (সূরা আর-রূম, আয়াত-২২)
জগতে বিচিত্র ধরনের অসংখ্য ভাষা রয়েছে। জগত্জুড়ে ভাষাবৈচিত্র্যের এই যে অপরূপ সমাহার, সেটা আল্লাহর মহান কুদরত। ভাষা মানুষের মনের ভাব প্রকাশের সর্বোত্তম মাধ্যম। একজন মানবসন্তান যে জনপদে জন্মগ্রহণ করে, যে পরিবেশ-প্রকৃতিতে বয়োপ্রাপ্ত হয়, যে মায়ের কোলে সে লালিত-পালিত হয়, সেই জনপদে লোকালয়ের মানুষের ভাষা, সেই পরিবেশের ভাষা, সেই মায়ের ভাষা তার আপন ভাষায় পরিণত হয়। ভূপৃষ্ঠে মানবজাতির আগমনের সঙ্গে সঙ্গে ভাষার উত্পত্তি হয়েছে। পৃথিবীতে আগত আদিমানব ও সর্বপ্রথম নবী হজরত আদম (আ.) এবং বিবি হাওয়া (আ.) নিজেদের মনের কথা প্রকাশের জন্য বেহেশত থেকে আরবি ভাষা শিখে এসেছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁদের সবকিছুর নাম শিক্ষা দিয়েই ভূপৃষ্ঠে প্রেরণ করেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তিনি (আল্লাহ) আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিয়েছেন।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-৩১)
ইসলামের শিক্ষা মানুষকে বিভিন্ন ভাষাচর্চায় দারুণভাবে উত্সাহিত করে ও বিশেষ অনুপ্রেরণা জোগায়। ইসলাম মাতৃভাষার উত্কর্ষ সাধনে যথাযথ গুরুত্ব আরোপ করেছে। বিদ্যাশিক্ষা ও জ্ঞানার্জন করতে হলে মানুষের অবশ্যই প্রয়োজনীয় ভাষাজ্ঞান থাকতে হবে। প্রকৃত অর্থে জ্ঞানী-গুণী হতে হলে ভাষা সম্পর্কে ব্যাপক অনুশীলন করা উচিত। পড়াশোনার মাধ্যমে জ্ঞানার্জনের সঙ্গে ভাষাচর্চাও যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। পবিত্র কোরআনের বাণী থেকে ভাষাচর্চার প্রত্যক্ষ ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সর্বপ্রথম নাজিলকৃত আয়াতে জ্ঞানার্জন তথা বিদ্যাশিক্ষার জন্য মানবজাতির প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে সত্পথ প্রদর্শনের জন্য ইসলাম প্রচার ও প্রসারে দুনিয়ায় অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। তাঁরা আল্লাহর অমিয় বাণী মানুষের কাছে সহজভাবে পৌঁঁছে দেওয়ার জন্য পৃথিবীতে এসেছেন। যুগে যুগে আল্লাহ তাআলা যেসব অঞ্চলে নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন, তাঁদের সেই অঞ্চলের মানুষের ভাষাভাষী করেছেন। আল্লাহ তাআলা নবী-রাসূলদের নিজস্ব মাতৃভাষায় আসমানি কিতাব নাজিল করে তাঁদের ভাষাকে সম্মানিত করেছেন। মহান আল্লাহর বাণী সহজ, সুন্দর, সাবলীল ও পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য সংশ্লিষ্ট জাতির ভাষাভাষী করে নবী-রাসূলদের প্রেরণ করা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তার স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য, অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা সত্পথে পরিচালিত করেন এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সূরা ইবরাহীম, আয়াত-৪)
প্রত্যেক জাতির কাছে তাদের স্বীয় মাতৃভাষার মর্যাদা অপরিসীম। ইসলামের দৃষ্টিতে সব ভাষাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সমানভাবে মর্যাদাসম্পন্ন। সব ভাষা মহান আল্লাহর দান। আল্লাহর কাছে সব ভাষাই গ্রহণযোগ্য। মহান সৃষ্টিকর্তা সব ভাষাভাষী মানুষের কথা শোনেন ও বোঝেন। মাতৃভাষার মাধ্যমে যত সহজে মানুষকে কোনো বিষয় বোঝানো যায়, তা অন্য কোনো ভাষায় তত সহজে করা যায় না। তাই আল্লাহ তাআলা নবী-রাসূলদের তাঁদের নিজ নিজ সমপ্রদায়ের ভাষাভাষী করে প্রেরণ করেছেন। প্রত্যেক নবী-রাসূল নিজেদের মাতৃভাষায় মানুষের কাছে তাওহিদ বা আল্লাহর একত্বের বাণী পৌঁছে দিয়েছেন এবং বিপথগামী মানুষকে চিরসত্য ও সুন্দরের পথে আহ্বান করেছেন।
আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক জাতির স্বীয় মাতৃভাষাকে যথাযথ মর্যাদা প্রদান করে স্ব স্ব জাতির নিজস্ব ভাষায় আসমানি কিতাবসমূহ নাজিল করেছেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, প্রধান চারটি আসমানি কিতাবের মধ্যে হজরত মূসা (আ.)-এর প্রতি ‘তাওরাত’ হিব্রু ভাষায়, হজরত ঈসা (আ.)-এর প্রতি ‘ইঞ্জিল’ সুরিয়ানি ভাষায়, হজরত দাউদ (আ.)-এর প্রতি ‘যাবুর’ ইউনানি ভাষায় এবং বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ‘আল-কোরআন’ আরবি ভাষায় নাজিল হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মাতৃভাষা ছিল আরবি। তাঁর কাছে মানবজাতির দিশারী এবং সত্পথের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে সর্বশেষ আসমানি কিতাব ‘আল-কোরআন’ অবতীর্ণ হয়। এ ঐশী ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কোরআনের ভাষা আরবি। বিশ্বনবীর মাতৃভাষায় পবিত্র কোরআন নাজিল হওয়া প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘আমি কোরআনকে তোমার ভাষায় সহজ করে দিয়েছি, যাতে তুমি তা দিয়ে মুত্তাকিদের সুসংবাদ দিতে পার এবং কলহকারী সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পার।’ (সূরা মার্য়াম, আয়াত-৯৭)
আল্লাহর একত্বের আহ্বান সফলভাবে ধর্মপ্রাণ লোকের কাছে পৌঁছাতে হলে সেই জনপদের জনগোষ্ঠীর নিজস্ব মাতৃভাষায় প্রচার কাজ চালানো দরকার। প্রয়োজনীয় ভাষাজ্ঞান না থাকলে সফলভাবে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানো সহজ নয়। যথার্থ ভাষাজ্ঞান না থাকলে এ জাতীয় দায়িত্ব পালন খুবই কঠিন। ইসলামি আদর্শ যেমন সর্বজনীন ইসলামে ভাষা তেমনি সর্বজনীন। এভাবে ভাষা, বর্ণ ও আঞ্চলিকতার সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে ইসলাম চিরন্তন শাশ্বত সত্য-সুন্দর ধর্ম প্রচারে মাতৃভাষা চর্চার জোরালো তাগিদ দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে বুদ্ধিমত্তা ও উত্তম বাক্য দ্বারা দ্বীন ইসলাম প্রচারের আহ্বান জানিয়ে ইরশাদ হয়েছে, ‘তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে হিকমত (বিজ্ঞানসম্মত) ও সদুপদেশ দ্বারা আহবান কর এবং তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে আলোচনা কর।’ (সূরা আন-নাহল, আয়াত-১২৫) তাই নবী করিম (সা.) সুস্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, ‘আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত জানলেও তোমরা তা পৌঁছে দাও।’(বুখারি)
পরবর্তী সময়ে যুগে যুগে ইসলামধর্মের প্রচারকেরা পৃথিবীর যেসব অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করতে গিয়েছেন সেই অঞ্চলের মানুষের ভাষা আয়ত্ত করে সেই ভাষাতেই ইসলামের সুমহান বাণী এতদ্ঞ্চলের মানুষের কাছে সহজ সাবলীলভাবে তুলে ধরেছেন। তাদের মাতৃভাষায় মুসলমানদের অনুসৃত প্রধান ধর্মগ্রন্থ ‘আল-কোরআন’ অনুবাদ করে অনুসারীদের পবিত্র কোরআন-হাদিসের জ্ঞান দান করেছেন এবং ইসলামের বিধি-বিধান ও নিয়মকানুন শিক্ষা দিয়েছেন। মাতৃভাষার ওপর ইসলাম অত্যধিক গুরুত্ব আরোপের কারণে মুসলিম মননে মাতৃভাষা প্রীতি সঞ্চারিত হয়েছে।
সুতরাং নিজ মাতৃভাষা বাংলা ভাষার স্বকীয়তা রক্ষা করা একান্ত অপরিহার্য বিষয়। মহান আল্লাহর দেওয়া এ অপার নিয়ামতকে সার্থক করতে হলে মাতৃভাষাকে জাগতিক ও পারলৌকিক কল্যাণের কাজে লাগাতে হবে। পবিত্র কোরআন ও হাদিস বাংলা ভাষায় অনুবাদের মাধ্যমে পাঠ্যপুস্তকে ইসলামি সাহিত্য সমন্বিত করে মাতৃভাষায় ধর্মের ব্যাপক প্রচার-প্রসারে মুসলমানদের এগিয়ে আসতে হবে। ইসলামের আলোকে ধর্মপ্রাণ মানুষের সত্ মনোভাব প্রকাশের দ্বারা মাতৃভাষার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য, ইসলাম প্রচার ও প্রসারে মাতৃভাষার প্রয়োজনীয়তা এবং সর্বোপরি বিশ্বমানবতার কল্যাণে মাতৃভাষার চর্চা, অনুশীলন, সংরক্ষণ ও উত্কর্ষ সাধনে ভাষাশহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে তাঁদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। এভাবে ইসলামে মাতৃভাষার চর্চাকে উত্সাহিত করা হয়েছে, আর ব্যাপকহারে ভাষাচর্চা বিভিন্ন জাতির মাতৃভাষাকে বিকশিত করবে নিঃসন্দেহে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হযরত মুহাম্মদ (সা.)। dr.munimkhan@yahoo.com

রাজনৈতিক সমস্যাকে সামরিক চোখে দেখা যাবে না by ফারুক ওয়াসিফ

গত কয়েক দিনে বাঘাইছড়ির হিংসার আগুন খাগড়াছড়ি শহর পর্যন্ত ছড়িয়েছে। বাঘাইছড়ির ঘটনায় দুজন পাহাড়ির লাশ উদ্ধার হয়েছে, পাঁচ থেকে আটজন মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর খাগড়াছড়িতে একজন বাঙালির মৃত্যুর খবর এসেছে। আগুনে কেবল শত শত পাহাড়ির বাড়িঘরই ছাই হয়ে যায়নি, পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে শান্তির যে জলপাই চারাটি লাগানো হয়েছিল, আঁচ লেগেছে তারও গায়ে। তাই উদ্বেগ কেবল পাহাড়ি-বাঙালির জান-মাল নিয়েই নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রশ্নটিও গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হচ্ছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টির পেছনে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। যথারীতি বিএনপিও হাঁক দিয়েছে, পাহাড় থেকে সেনা প্রত্যাহার করে ভুল করেছে সরকার। খুবই মূল্যবান দুটি চিন্তা। কিন্তু গত রোববারের প্রথম আলোর সংবাদ বলছে, ‘রাঙামাটির পুলিশ সুপার মাসুদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ভূমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সেনাবাহিনী ও আদিবাসীদের মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে।’ তাঁর এ বক্তব্যেই স্পষ্ট, গুলি কারা ছুড়েছে এবং কারা তাতে নিহত হয়েছে। তাই বিরোধী দলের কাছে প্রশ্ন, পার্বত্য চট্টগ্রামে যদি সেনা প্রত্যাহার হয়েই থাকে, তাহলে ঘটনার সময় তারা এল এবং গুলিগোলা ছুড়ে পাহাড়িদের তাড়িয়ে দিল কোন জাদুবলে? বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বেশ কিছু অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের দাবি করা হয়েছে। তার পরও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সেনা সেখানে ঠিকই অবস্থান করছে। বাঘাইহাটের সেদিনের রক্তাক্ত ঘটনায় তাদেরই জড়িত হতে দেখা গেছে। তাই সরকার অন্ধকারে ষড়যন্ত্রকারীদের কালো হাত খুঁজলে খুঁজতে পারে, কিন্তু ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে যারা জড়িত, তাদের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তা দায় এড়ানোর ছল বলে মনে হবে। নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ভালো কথা, কিন্তু জীবনের কোনো দাম হয় না। বঞ্চিত ও নির্যাতিত মানুষের শোক ও ক্ষোভের একমাত্র সান্ত্বনা হলো ন্যায়বিচার।
বহু বছর ধরে পার্বত্যবাসী ন্যায়বিচার চেয়ে আসছে। রাজধানী ঢাকা ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো অঞ্চল নেই, যেখানে স্থানীয় অধিবাসীদের জোত-জমি ও জীবনের লাগাম অন্য জেলা থেকে আসা লোকেরা নিতে পেরেছে। এ রকম কিছু হলে সেখানে হুলস্থুল লেগে যেত, ‘বহিরাগত তাড়াও’ আন্দোলন হতো। কিন্তু পাহাড়িরা এখন পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্যেই প্রায় সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে। ১৯৪৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিরা ছিল মোট জনসংখ্যার নয় শতাংশ। ১৯৯১ সালের হিসাবে বান্দরবানে বাঙালিরা ছিল ৫২ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ৫১ শতাংশ এবং রাঙামাটিতে ৪৪ শতাংশ। অভিযোগ রয়েছে, এই হিসাবেও বাঙালিদের সংখ্যা কমিয়ে দেখানো হয়েছে। বাস্তবে বর্তমানে বাঙালিরা পাহাড়িদের জনসংখ্যাকে ছাপিয়ে চলে গেছে। এটা করা হয়েছে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমল থেকে। দেশের নানা এলাকার গরিব ভূমিহীনদের প্রশাসনিকভাবে ধরে এনে এনে পার্বত্য জেলাগুলোতে বসত করানো হয়েছে।
এভাবে স্থানীয় জনগণকে ভীতসন্ত্রস্ত করে তাড়িয়ে দিয়ে তাদের জমিতে বাইরে থেকে লোক এনে সংখ্যালঘুতে পরিণত করার চেষ্টা এখনো চলছে। ভূমিহীনদের প্রতি কোনো রকম দরদ বা দায়িত্ব থেকে এটা করা হয়নি। তা যদি হতো, তাহলে সারা দেশে ভূমিদস্যুদের হাতে চলে যাওয়া জমিতেই ভূমিহীনদের আবাসন দেওয়া যেত। এটা করা হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে নিরাপত্তা-সমস্যা মনে করে। কোনো এলাকার স্থানীয় অধিবাসীদের সেই এলাকার নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করার থেকে বাতিল চিন্তা আর কী হতে পারে? তবু তা হয়েছে অপশাসনের জন্য, নিয়ন্ত্রণ করার উদগ্র বাসনার জন্য। একটি জনগোষ্ঠীকে সংখ্যালঘু করে দেওয়ার ফল দুটি। প্রথমত, সংখ্যা কম হওয়ার কারণেই তাদের দমিয়ে রাখা যাবে; দ্বিতীয়ত, বহিরাগত লোকজন নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থেই পাহাড়িদের বিরুদ্ধে কায়েমি শক্তিকে সমর্থন করবে। এই বহিরাগত বাঙালিদের কার্যত সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনীর সহায়ক শক্তি হিসেবে, অঞ্চলটিকে ঔপনিবেশিক কায়দায় শাসন করার জন্য।
সমতলে বাংলাদেশের নাগরিকেরা কখনো সেনাশাসন মেনে নেয়নি। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে গত কয়েক দশক ধরে কার্যত সেটাই চলছে। ‘অপারেশন দাবানলের’ জায়গায় এসেছে ‘অপারেশন উত্তরণ’। অশান্তি জিইয়ে রাখলে সেই সেনা-কর্তৃত্ব জায়েজ করা যায়। বাজেটের কত অংশ সেই সেনা-কর্তৃত্ব বজায় রাখতে ব্যয় হয়, তা কোনো সরকারই প্রকাশ করে না। স্পষ্টত, গরিব বাঙালির করের টাকা ব্যয় হয় গরিব পাহাড়িকে বন্দুকের নলের মুখে শাসন করার জন্য।
পাহাড়ে এই সেনা-কর্তৃত্বের সবচেয়ে বড় সমর্থক বিএনপি-জামায়াত জোট। তাদের যুক্তি, সেনা-উপস্থিতি না থাকলে পার্বত্য চট্টগ্রাম স্বাধীন হয়ে যাবে। অথচ তারা তাদের ভূমির হক দাবি করেছে, স্বাধীনতা নয়। তাই জুজুর ভয় দেখানোয় কারও দলীয় স্বার্থ অর্জিত হতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের এতে কোনো ফায়দা নেই। পিতৃপুরুষের জমি ও বসতভিটা দখলের হাত থেকে ফেরত চাওয়া যদি ‘স্বাধীনতা’ দাবি হয়, তাহলে অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে করা আদালতের সব মামলাকেই তো স্বাধীনতার ষড়যন্ত্র বলতে হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে জমিই শান্তির ওপর নাম। পাহাড়িদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা গেলে পাহাড়ি-বাঙালির শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথে আর বাধা থাকার কথা নয়।
রাষ্ট্র একচোখা হতে পারে না। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মধ্যে বসবাসকারী সব নাগরিকই এই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সদস্য। সেই অর্থে বাংলাদেশ বাঙালি বা বাংলাদেশিদের রাষ্ট্র নয়, রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত এই ভূখণ্ডের সব মানুষের রাষ্ট্র। এবং এই রাষ্ট্রের অধীনে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙালিকে পাহাড়ি বা পাহাড়িকে বাঙালি হওয়ার প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন প্রত্যেককে সমানাধিকার দেওয়ার। বাঙালি ও পাহাড়ির ভাগ্য এক সূত্রেই গাঁথা। তাই বাঙালিদের জন্য এক আইন আর পাহাড়িদের জন্য আরেক আইন চলা মানে তো পাহাড়িদের ভাবতে বাধ্য করা যে, রাষ্ট্র তাদেরকে সমান চোখে দেখে না। বরং পাহাড়ি আন্দোলনকারীরাই রাষ্ট্রের কাছে অধিকার দাবি করার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অভিভাবকত্বের দায়িত্ব পালন করতে বলছে। পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে বিদ্রোহীরা কার্যত বাংলাদেশ রাষ্ট্র, সংবিধান ও সরকারের আনুগত্যই মেনে নিয়েছে। কিন্তু সেই চুক্তি বাস্তবায়ন না করার অর্থ, তাদের বিশ্বাস ভঙ্গ করা। তাদের আবার অশান্তির দিকে ঠেলে দেওয়া। সেই কাজে ইন্ধন জোগানোর লোকের অভাব নেই। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন কেন সেই উসকানিতে মাতলেন? গত মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, ‘প্রয়োজনে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা মোতায়েনের কথা ভাববে সরকার।’ (প্রথম আলো, ২৪ ফেব্রুয়ারি)
পার্বত্য চট্টগ্রামে কি ইতিমধ্যে বাড়তি সেনা মোতায়েন করা নেই? অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিয়ে ঠিক এ কথা বলানোর জন্যই কি বাঘাইহাটে বন্দুকের নল উন্মুক্ত করা হয়েছিল? যারা তা করেছে, তাদের হয়তো জানা ছিল, পাহাড়িরা এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠবে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গড়াবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রধান ব্যর্থতা বা অর্জন হচ্ছে, রাজনৈতিক সমস্যাকে গায়ের জোরে সামরিক সমস্যায় পরিণত করা। পার্বত্য জনগোষ্ঠীর পক্ষে জনসংহতি সমিতি এবং আওয়ামী লীগ সরকারের মধ্যে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে সামরিক সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান আসে। এখন পর্যন্ত এটাই সমাধানের শ্রেষ্ঠ পথ। কিন্তু বাঘাইছড়ির ঘটনা, বিএনপির সেনা মোতায়েনের দাবি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তাতে সায় দেওয়া গরম বক্তব্যে মনে হচ্ছে, আবারও রাজনীতি পিছু হটবে এবং বল প্রয়োগের পথ জায়গা করে নেবে। যারা এই চেষ্টা করছে, তাদের কাছে মানুষ স্বার্থান্বেষী খেলার হাতিয়ার মাত্র। মানুষ মারতে বা মরা মানুষ নিয়ে রাজনীতি করতে তাদের কোনো অসুবিধা হয় না। নতুন করে সেনা মোতায়েনের এই চিকন বুদ্ধিটি যদি সরকারের আপন মস্তিষ্ক থেকে এসে থাকে, তাহলে বলতে হয় যে তারা ভুল পথের উসকানির মধ্যে আছে। প্রথমত, আওয়ামী লীগ সরকারই পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে প্রমাণ করেছিল, রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান রাজনৈতিক পথেই হওয়া সম্ভব। এবং সময়সাপেক্ষ হলেও সেই সমাধানের জমিন তৈরি হচ্ছিল। শান্তিবাহিনী অস্ত্র সমর্পণ করেছিল এবং তারা ফিরে এসেছিল নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে। তারপর প্রয়োজন ছিল পার্বত্য চুক্তির ফসল ভূমি কমিশনের মাধ্যমে জমির বিবাদ মিটিয়ে ফেলা। যার জমি তার কাছে ফেরত দেওয়ার পরে বাঙালি ও পাহাড়ির বাদবাকি বিষয়ের মীমাংসা সহজেই সম্ভব। তাই ভূমি কমিশনকে অকার্যকর রেখে অস্ত্রকে কার্যকর করা রাষ্ট্র, সরকার ও বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের জন্য আত্মঘাতী।
জাত বিচার করা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কাজ নয়। এই জাত বিচার করতে গিয়েই পাকিস্তান রাষ্ট্র ’৪৭ থেকে বর্তমান অবধি ডুবছে। জাতিগত দ্বন্দ্ব ভারতের বিরাট এলাকাকে অশান্ত করে রেখেছে। জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম করা বাংলাদেশ, সব ভাষার সমান অধিকার দাবি করা বায়ান্নর বাংলাদেশ যেন সেই ভুল আর না করে। এই রাষ্ট্রের সব নাগরিক এক ভেলাতেই ভাসছে, ভেলার একাংশ ফুটো হলে বাকি অংশ নিরাপদ থাকবে—এমন ভাবনা আহাম্মকির নামান্তর।
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক
farukwasif@yahoo.com

মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ওয়াশিংটনে বুধবার বলেছেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা ‘শিগগিরই’ আবার শুরু হবে বলে তিনি আশা করেন।
হিলারি আইনপ্রণেতাদের বলেন, ‘এই আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে বলে আমরা আশা করছি। আমার মনে হয়, তাঁদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টিকারী চূড়ান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা জরুরি। তবে সমস্যাগুলো সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত আছি।’
যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োজিত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রয়টার্সকে জানান, এক বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর শান্তি আলোচনা আবার শুরু হলে তাঁরা মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন দূত জর্জ মিচেলের সঙ্গে পরোক্ষভাবে ‘প্রাথমিক আলোচনা’ শুরু করবেন।

৬৩ বছর পর সরকারি কার্যালয়ে পা রাখলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ নেতা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনের সবচেয়ে প্রবীণ নেতা। তিনি হলেন পশ্চিমবঙ্গ ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক অশোক ঘোষ। বাম আন্দোলনের শরিক এই নেতা দীর্ঘ ৬৩ বছর কোনো সরকারি অফিসে পা রাখেননি। প্রবীণ ওই নেতার জেদ ছিল, কোনো দিন তিনি মহাকরণ, বিধানসভা ভবন কিংবা পুরসভায় পা দেবেন না। ৬৩ বছর ধরে এই জেদ বজায় রাখলেও শেষ পর্যন্ত তামিলনাড়ুর নেতাজি অনুগামী ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা প্রয়াত মধুলিঙ্গম থেবরের জন্মশতবর্ষে তাঁর একটি ব্রোঞ্জমূর্তি কলকাতায় বসানোর আরজি নিয়ে অশোক ঘোষ গত বুধবার হাজির হন কলকাতা পুরসভার মেয়রের কার্যালয়ে।
মেয়র অবশ্য প্রবীণ নেতার আরজি মেনে থেবরের ব্রোঞ্জমূর্তিটি কলকাতায় বসানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ঠিক ৬৩ বছর আগে ১৯৪৭ সালে একবার তাঁকে কলকাতা পুরসভায় যেতে হয়েছিল। নেতাজি জন্মোত্সব কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে সেবার হেমন্ত বসুর সঙ্গে মেয়র সুধীর রায়চৌধুরীর ঘরে গিয়েছিলেন।
কিন্তু ৬৩ বছর পর ফের জেদ ভাঙলেন কেন? এর উত্তরে প্রবীণ এই নেতা জানান, বিবেকের তাড়নায়।

গত চার বছরে দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্মহার সবচেয়ে কম

দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। চার বছরের মধ্যে গত বছর সেখানকার জন্মহার ছিল সবচেয়ে কম। গতকাল বৃহস্পতিবার সে দেশের পরিসংখ্যান বিভাগের কর্মকর্তারা এ কথা জানান। তাঁরা বলেছেন, মহামন্দার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়ায় উপযুক্ত পুরুষ ও নারীরা দেরিতে বিয়ে করছেন। অনেকে আবার বিয়েও করছেন না। এ কারণে জন্মহার অস্বাভাবিকভাবে নিম্নগামী হয়েছে। এএফপি।
পরিসংখ্যান বিভাগের জনসংখ্যাবিষয়ক কর্মকর্তা কিম দং হোয় বলেন, ২০০৯ সালে দেশের জন্মহার ছিল মাত্র এক দশমিক ১৫ শতাংশ। সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের মতো নগররাষ্ট্র বাদে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে কম জন্মহারের দেশ হলো দক্ষিণ কোরিয়া। গত বছর সে দেশে বিয়ের হার ৫ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা বেড়েছে ৮ শতাংশ।
জনসম্পদ বাড়ানোর জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে একাধিক সন্তান নিলে সে দেশের নাগরিকদের বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে থাকে সরকার।

আহমাদিনেজাদ আবারও বললেন ইসরায়েল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বলেছেন, ইসরায়েল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। তিনি বলেন, তেহরান থেকে দূরে থাকতে দামেস্কের প্রতি মার্কিন আহ্বান সত্ত্বেও সিরিয়ার সঙ্গে তাঁর দেশের সম্পর্ক আগের মতোই দৃঢ় রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সিরিয়া সফরের আগে ইরানি প্রেসিডেন্ট এসব কথা বলেন।
মাহমুদ আহমাদিনেজাদ তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীর পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ইসরায়েল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। এর আগেও তিনি বলেছিলেন, বিশ্ব মানচিত্র থেকে ইসরায়েলের নাম মুছে যেতে পারে। আহমাদিনেজাদের ওই মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল।
ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, ওই ইহুদিবাদী রাষ্ট্রটি যদি অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চায়, তাহলে তার মৃত্যু অবধারিত। তিনি আরও বলেন, ইরান ও সিরিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক ভ্রাতৃপ্রতিম, গভীর ও স্থায়ী। কোনো কিছুই ওই সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না।
দামেস্কের উদ্দেশে তেহরান ত্যাগের আগে আহমাদিনেজাদ সাংবাদিকদের বলেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তোলার ইসরায়েলি অপচেষ্টা ঠেকানো নিয়ে আলোচনা হবে তাঁর সিরিয়া সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ইরান ও সিরিয়া অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। এ ছাড়া ইরান ও সিরিয়া ইসরায়েলি হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত দেশগুলোর সামনের সারিতে অবস্থান করছে।
আহমাদিনেজাদ বলেন, বর্তমানে ইহুদিবাদীরা ফিলিস্তিনের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর বিরুদ্ধে অবিরাম হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। কাজেই এ ব্যাপারে সিরিয়া ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু করা উচিত বলে তেহরান মনে করছে। দামেস্ক সফরকালে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা নিয়েও তিনি আলোচনা করবেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে অচলাবস্থা নিরসনে ইরানকে অবশ্যই দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। রুশ প্রেসিডেন্টের ওই মন্তব্যকে তেহরানের প্রতি মস্কোর অধৈর্যের নতুন ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করছেন অনেকে।
গতকাল বৃহস্পতিবার একটি ফরাসি সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে মেদভেদেভ বলেন, তিনি মনে করছেন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার উপায় হচ্ছে ইরানের দায়িত্বশীল আচরণ। তিনি আরও বলেন, ইরানের উচিত পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে আইএইএর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার দাবি মেনে চলা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক সমস্যা দেখা যাচ্ছে।
বিরোধীদের মুক্তি: গত কয়েক মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় গ্রেপ্তার হওয়া বেশ কয়েকজন বিরোধী নেতা-কর্মীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সংস্কারপন্থী বাহার পত্রিকায় এই খবর দেওয়া হয়েছে।

মারজাহ এলাকার লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হবে: কনওয়ে

আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনীর অভিযানের মুখে তালেবান যোদ্ধারা মারজাহ এলাকা ছাড়লেও ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে আবার ফিরে এসে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে মার্কিন মেরিন সেনারা।
মার্কিন মেরিন সেনা কোরের কমান্ড্যান্ট জেনারেল জেমস কনওয়ে গত বুধবার মার্কিন কংগ্রেসে এক শুনানিকালে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ন্যাটো ও আফগান সেনারা যদি এলাকাটিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত করেও তবু তালেবান যোদ্ধারা সেখানে ফিরে এসে হামলা চালাতে পারে।
জেনারেল কনওয়ে বলেন, ‘আমরা মনে করছি, তালেবানরা মারজাহ এলাকা চিরতরে ছেড়ে না যাওয়া পর্যন্ত যত দিন আমরা এখানে থাকব তত দিনই এলাকাটি সহিংসতাপ্রবণ থাকবে।’
কনওয়ে বলেন, এলাকাটি মাদক উত্পাদনকেন্দ্র। এটি এমন একটি স্থান, যেখানে তাদের দীর্ঘদিনের উপস্থিতি ছিল। এখানে বিভিন্নভাবে তারা পরিবারও গড়ে তুলেছে।
পেন্টাগন স্বীকার করেছে, মারজাহ থেকে তালেবানদের তাড়ানোর জন্য ১১ দিন ধরে সেখানে যে লড়াই চলছে, তা গত আট বছরে আফগানিস্তানে চলা বড় ধরনের লড়াইগুলোর একটি। এ লড়াইয়ে সাফল্য যতটা তাড়াতাড়ি আসবে বলে মনে করা হয়েছিল, তার চেয়ে বিলম্ব হচ্ছে। এই এলাকায় তালেবান যোদ্ধারা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলছে।
তালেবানদের শক্ত ঘাঁটিগুলো দখলে আনতে এবং দেশটিকে আফগান কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগানিস্তানে আরও ৩০ হাজার সেনা পাঠানোর যে পরিকল্পনা করছেন, তারই প্রাথমিক পরীক্ষা হিসেবে এ অভিযানটি চালানো হচ্ছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী এ অভিযানে অংশ নিচ্ছে।
পপি চাষের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্থান এ মারজাহ থেকে তালেবান একেবারে উত্খাত হবে বলে জেনারেল কনওয়ে আশা প্রকাশ করেন। ন্যাটো বাহিনী তাদের মিশন সফল করতে পারবে বলে তিনি দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেন।
কনওয়ে বলেন, ‘আমরা এ অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি। এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আফগান পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, তালেবানরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে এখানে এসে হামলা চালাতে পারে।

ভারত-পাকিস্তান বৈঠকে যোগাযোগ বজায় রাখার ঘোষণা

ভারত-পাকিস্তান পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে যোগাযোগ বজায়রাখার কথা জানিয়েছে দুপক্ষ। এই বৈঠককে আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে নয়াদিল্লি। অন্যদিকে ইসলামাবাদ বলেছে, মুম্বাই হামলাকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখাটা অযৌক্তিক, অবাস্তব। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাও ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব সালমান বশিরের মধ্যে তিন ঘণ্টাব্যাপী এক বৈঠক হয়। ২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাই হামলার পর পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে এটাই প্রথম সরকারি আলোচনা।
বৈঠক শেষে নিরুপমা রাও সাংবাদিকদের বলেন, ‘পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এই বৈঠক করেছি আমরা। ২০০৪ সালে শুরু হওয়া সার্বিক আলোচনার ফলকে আমরা খাটো করে দেখছি না। তবে ওই সামগ্রিক আলোচনা শুরুর উপযুক্ত সময় এখনো আসেনি। প্রথমে আমাদের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব বশির বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে মুম্বাই হামলাকে (আলোচনার) কেন্দ্রে রাখাটা অযৌক্তিক, অবাস্তব এবং তা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্র বাড়ানোর জন্য নেতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’
কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ৯০ মিনিট একান্ত বৈঠকের পর দুই দেশের সচিব তাঁদের প্রতিনিধি দলের সদস্যদের নিয়ে আলোচনায় বসেন। আলোচনায় পাকিস্তানের ভূমি থেকে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্ব দেয় নয়াদিল্লি। অন্যদিকে পাকিস্তান কাশ্মির সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্থগিত হয়ে থাকা সামগ্রিক আলোচনা আবার শুরু করার বিষয়ে জোর দেয়।
নিরুপমা রাও জানান, পাকিস্তানি পক্ষকে সন্ত্রাসীদের তথ্যসংবলিত তিনটি দলিল-দস্তাবেজ দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে মুম্বাই হামলায় জড়িত পাকিস্তানি জঙ্গিদের বিষয়ে নথিপত্র দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা পারস্পরিক যোগাযোগ বজায় রাখার ব্যাপারে রাজি হয়েছি।’
২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাই হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা বা ‘কম্পোজিট ডায়ালগ’ (সামগ্রিক আলোচনা) ভেঙে দেয় ভারত। মুম্বাই হামলায় ১৬৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। নয়াদিল্লি এ হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিদের দায়ী করে আসছে। ওই হামলার পর দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে দুই পক্ষ আবার আলোচনার টেবিলে ফিরল।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, দুপক্ষকে আলোচনায় ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ বৈঠক থেকে বেশি কিছু পাওয়ার আশাও করেননি তাঁরা। পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডনের কলামিস্ট তারিক ফাতেমি বলেন, দুই পক্ষকেই আলোচনার খাতিরে আলোচনার মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

রুয়ান্ডায় পৌঁছেছেন সারকোজি

ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি এক সফরে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রুয়ান্ডার রাজধানী কিগালি পৌঁছেছেন। রুয়ান্ডা গণহত্যার জেরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকার পর আবারও জোরদারের চেষ্টা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, সারকোজির সফর এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সারকোজি রুয়ান্ডায় ১৯৯৪ সালের গণহত্যার স্মৃতিসমাধি পরিদর্শন করবেন।

পাকিস্তানে ন্যাটোর ট্যাংকার উড়িয়ে দিল জঙ্গিরা

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গিরা গতকাল বৃহস্পতিবার আফগানিস্তান সীমান্ত বরাবর ন্যাটো সেনাদের জন্য জ্বালানি বহনকারী একটি ট্যাংকার উড়িয়ে দিয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা হজরত আলী বলেন, পেশোয়ারের বাইরে ট্যাংকারটিতে স্থাপন করা টাইমবোমাটি বিস্ফোরিত হলে এর চালক রক্ষা পান। তবে তাঁর সহকারী আহত হয়েছেন।
বোমা নিষ্ক্রিয়কারী কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ জানান, টাইমবোমাটি ট্যাংকারের সঙ্গে চুম্বকের সাহায্যে লাগানো ছিল।
এই হামলার দায়দায়িত্ব কেউ স্বীকার করেনি। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্য দিয়ে ন্যাটো সেনাদের জন্য রসদ সরবরাহের এটি একটি প্রধান পথ

আলোচনায় ফেরা নিয়ে উ. কোরিয়া কিছু জানায়নি: বসওয়ার্থ

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর কোরিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিফেন বসওয়ার্থ বলেছেন, উত্তর কোরিয়া আলোচনায় ফেরার আগ্রহের কথা নিশ্চিত করলে দ্রুত ছয় জাতি আলোচনা শুরু হবে। তবে পিয়ংইয়ং আলোচনায় ফিরবে কি না, সে সম্পর্কে তাঁর কিছু জানা নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এদিকে গতকাল চীন বলেছে, আলোচনায় পিয়ংইয়ংকে ফেরাতে ‘গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ’ কাজে লাগাতে হবে বিশ্বশক্তিগুলোকে।
বসওয়ার্থ বলেন, ‘আমরা অদূর ভবিষ্যতে ছয় জাতি আলোচনা আবার শুরু করতে প্রস্তুত।’ দুই কোরিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে শেষবার পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু কর্মসূচি ও নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা করে। গত বছরের এপ্রিলে ছয় জাতি আলোচনাকে মৃত ঘোষণা করে উত্তর কোরিয়া। গত মে মাসে দেশটি দ্বিতীয় পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালায়।
উত্তর কোরিয়ার পরমাণুসংকট নিয়ে আবার আলোচনা শুরু করার ব্যাপারে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান সফর করছেন বসওয়ার্থ। তিনি প্রথমে চীন সফর করেন। এখন দক্ষিণ কোরিয়া সফরে রয়েছেন। এরপর তিনি জাপান যাবেন।
সিউলে পৌঁছে বসওয়ার্থ আরও বলেন, ‘আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। কারণ, ছয় জাতি আলোচনা আবার কীভাবে এগিয়ে যাবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।’
গতকাল চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কিং গ্যাঙ্গ সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছয় জাতি আলোচনা আবার শুরু করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আলোচনা দ্রুত আবার শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখেছে চীন। ২০০৩ সালে শুরু হওয়া ছয় জাতি আলোচনার স্বাগতিক দেশ চীন।

ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে সতর্ক করল অস্ট্রেলিয়া

দুবাইয়ে শীর্ষ এক হামাস কমান্ডার হত্যায় জড়িত সন্দেহভাজন ‘মোসাদ’ সদস্যরা অস্ট্রেলিয়ার তিনটি পাসপোর্ট ব্যবহার করেছিল। ওই ঘটনার জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড বলেছেন, হামাস নেতা মাহমুদ আল-মাবু হত্যার ঘটনায় ১৫ জন নতুন সন্দেহভাজনের মধ্যে একজন নারী ও দুজন পুরুষ অস্ট্রেলীয় নাগরিকের জাল পাসপোর্ট ব্যবহার করে বলে দুবাই পুলিশ নিশ্চিত হয়। এ রকম ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়া চুপ করে বসে থাকতে পারে না। রাড এবিসি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেন, কেবল হত্যার উদ্দেশ্যে কোনো রাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্ট ব্যবহার কিংবা জাল করে থাকলে তা খুবই উদ্বেগজনক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুবাই পুলিশ সন্দেহভাজনদের নতুন তালিকায় অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ডের পাসপোর্টধারীদের নাম উল্লেখ করার পর অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তারা রাতভর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
দুবাই পুলিশ গত বুধবার সন্দেহভাজন ওই ১৫ জনের নাম প্রকাশ করে। নতুন এ তালিকায় পাঁচজন নারী রয়েছেন। তিনজন অস্ট্রেলীয় ছাড়াও তিনজন আইরিশ নাগরিকের জাল পাসপোর্ট ব্যবহার করার কথা জানিয়েছে দুবাই পুলিশ। এর আগে সন্দেহভাজন ১১ জন বিদেশির নাম-পরিচয় প্রকাশ করে পুলিশ। সব মিলিয়ে ওই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ও হত্যাকারীদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন, এমন ২৬ জনের তালিকা প্রকাশ করল দুবাই পুলিশ।
দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলে ২০ জানুয়ারি ওই হামাস নেতাকে হত্যা করা হয়। দুবাই পুলিশ জোর দিয়ে বলছে, এ হত্যাকাণ্ডের ধরন থেকে এটা নিশ্চিত এতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন স্মিথ বলেন, প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্টগুলো জাল ছিল। তিনি ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত জুভাল রোটেমকে তলব করে ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করেন।
স্মিথ বলেন, ‘এ ঘটনা তদন্তে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশকে ইসরায়েল পূর্ণ সহযোগিতা দেবে বলে অস্ট্রেলিয়া আশা করে। তিনি অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্টধারী ইসরায়েলে বসবাসরত তিন নাগরিক হত্যাকাণ্ডে আদৌ জড়িত ছিলেন, নাকি তাঁরা পাসপোর্ট প্রতারণার শিকার হয়েছেন, এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের এক খবরে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলীয় নাগরিক কোরম্যান (৩৪) তেল আবিবের একটি দোকানে কাজ করেন। তাঁর পাসপোর্ট জাল করা হয়েছে, এমন খবরে কোরম্যান দুঃখ করে বলেন, ‘আমার পাসপোর্ট চুরি করে একজন হামাস নেতাকে হত্যা করা হয়েছে—এসব খবর সত্যি অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।’
ইসরায়েল দাবি করে আসছে, মোসাদ ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুবাই পুলিশের এই দাবির পক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই। এর আগে ব্রিটেনের সানডে টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওই হত্যা মিশন অনুমোদন করেন এবং মিশনের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগের আগে হত্যাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ফিদেল কাস্ত্রো সুস্থ হয়ে উঠছেন: লুলা

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা ডি সিলভা বলেছেন, কিউবার অবিসংবাদিত নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রো এখন পুরোপুরি সুস্থ। দিন কয়েক আগে তিনি কাস্ত্রোর সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তাঁকে যথেষ্ট ভালো মনে হয়েছে। গত বুধবার ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে। এপি।
ব্রাজিলের বেসরকারি সংবাদ সংস্থা অ্যাজন্সিকা অ্যাস্তাদো বলেছে, প্রেসিডেন্ট লুলা তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু। কাস্ত্রোর সঙ্গে তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকের পর লুলা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর যেকোনো সময়ের চেয়ে কাস্ত্রোকে এখন অনেক বেশি সুস্থ মনে হয়েছে। গত বুধবার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে তাঁদের বৈঠকের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।
বৈঠকে কাস্ত্রোকে নীল ও সাদা রঙের শরীরচর্চার পোশাক পরা অবস্থায় দেখা গেছে। ওই বৈঠকে রাউল কাস্ত্রো ও লুলার তথ্যমন্ত্রী ফ্রাঙ্কলিন মার্টিনসও ছিলেন। ব্রাজিল সরকারের প্রকাশিত ছবিতে প্রেসিডেন্ট লুলাকে একজন ফটোগ্রাফারের কাছ থেকে ক্যামেরা নিয়ে কাস্ত্রো ও মার্টিনসের ছবি তুলতেও দেখা গেছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় ব্রাজিলের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ খবর প্রচারিত হলেও সে সময় এসব ছবি প্রচার করা হয়নি।
খবরে বলা হয়, কোপেনহেগেনে জলবায়ু সম্মেলনসহ বেশ কিছু বিষয়ে এই দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকের আগে প্রেসিডেন্ট লুলা ও প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো হাভানার পশ্চিমে অবস্থিত বন্দর শহর ম্যারিয়েলে ভ্রমণে যান।
২০০৬ সালে ক্ষুদ্রান্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর কাস্ত্রো আর জনসমক্ষে আসেননি। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়েছে ‘শত্রুমহল’। তবে গুজবের মধ্যেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের সঙ্গে তাঁর কয়েক দফা সাক্ষাতের ছবিও প্রকাশিত হয়। কাস্ত্রোর অসুস্থতার জন্য তাঁর ছোট ভাই রাউল কাস্ত্রো প্রথমে সাময়িক এবং পরে স্থায়ীভাবে কিউবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। জনসমক্ষে না এলেও ফিদেল যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কড়া সমালোচনা করে মাঝেমধ্যে অনলাইনে মন্তব্য প্রতিবেদন লিখে চলেছেন।

গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাবে না চীন

চীনের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক শীর্ষ মধ্যস্থতাকারী সু ওয়েই বলেছেন, এখনই গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণের মাত্রা কমানোর আগ্রহ নেই তাঁর দেশের সরকারের। গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পত্রিকা চায়না ডেইলি এ খবর জানিয়েছে। গত বছর ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলনে চীনের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সু।
সুকে উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি জানায়, বেইজিংয়ের কার্বন নিঃসরণ বাড়াতে হবে, কারণ দেশের অর্থনীতি এখনো উন্নয়নশীল পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমান পর্যায়ে চীনের পক্ষে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণের ক্ষেত্রে কোনো সীমা বেঁধে দেওয়া সম্ভব নয় এবং তা করা উচিতও নয়। তবে তিনি বলেছেন, চীন তার অর্থনীতিকে আরও জ্বালানি-দক্ষভাবে গড়ে তোলার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এর আগে বেইজিং আশ্বাস দেয়, তারা ২০২০ সাল নাগাদ গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ ২০০৫ সালের তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কমিয়ে আনবে। সু বলেন, এ আশ্বাসের বাস্তবায়ন চীনের আগামী দুটি পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও কমিউনিস্ট পার্টির একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার গুরুত্ব অনুধাবন করার ব্যাপারে আহ্বান জানানোর পরদিন সু এই বক্তব্য দিলেন।
তবে গত বুধবার ইন্দোনেশিয়ার বালিতে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) বার্ষিক বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কোপেনহেগেন সম্মেলনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পর্যাপ্ত নয়। ইউএনইপির পরিচালক আদ্রিয়ান স্টেইনার বলেন, ‘কারও ভাবা উচিত নয়, ওই সম্মেলনের প্রতিশ্রুতি পর্যাপ্ত। বৈশ্বিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশগুলোকে কার্বন গ্যাস নিঃসরণের মাত্রা আরও কমিয়ে আনতে হবে।’
কোপেনহেগেন সম্মেলনে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতাযুক্ত চুক্তি করার ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের বিরোধিতার সমালোচনা করে ব্রিটেন ও অন্য দেশগুলো। এ ব্যাপারে চীনের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক রাষ্ট্রদূত ইয়ু কুইংতাইয়ের বরাত দিয়ে গতকাল চায়না মর্নিং পোস্ট পত্রিকা জানায়, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ঠেকাতে নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের মতোবিরোধ কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা কম।

বিএমএফএর নতুন চেয়ারম্যান হলেন এ রউফ চৌধুরী

এ রউফ চৌধুরী বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএফএ) নির্বাহী পর্ষদের ২০০৯-১১ মেয়াদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
সমিতির মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন মো. শাহাজালাল। অন্য পদগুলোর মধ্যে মনওয়ারুল হক সহসভাপতি, শফিকুর রহমান মজুমদার কোষাধ্যক্ষ ও নজরুল ইসলাম যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন।
বিএমএফএর নির্বাহী পর্ষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন নূরুল ইসলাম মনজুর, মমতাজউদ্দীন ভূঁইয়া, এ জে এম সালাহউদ্দীন, মুর্শেদ মুরাদ ইব্রাহীম ও এস লইন।

দেড় শ নলকূপ স্থাপনে দিনাজপুরে ঋণ দিচ্ছে রাকাব ও বিএমডিএ

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প (বিএমডিএ) যৌথ উদ্যোগে দিনাজপুরে ঋণ বিতরণ শুরু করেছে।
এ কার্যক্রমের আওতায় দিনাজপুর জেলায় ১৫০টি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য প্রায় ১০ হাজার কৃষকের মধ্যে আট কোটি ২৪ লাখ টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করা হবে।
রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ম ফজলুল হক গত মঙ্গলবার বিরামপুর ডিগ্রি কলেজমাঠে এই ঋণ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান। এতে সভাপতিত্ব করেন রাকাবের দিনাজপুর দক্ষিণ জোনের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. খোরশেদুল আলম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমডিএর চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম। এতে রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছাড়াও বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক এস এম আবদুল মান্নান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন রাকাবের ঋণ ও অগ্রিম বিভাগের প্রধান খন্দকার গোলাম মোস্তফা, দিনাজপুর দক্ষিণ জোনের কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ, বিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম ও দিনাজপুরে বিএমডিএর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ফিরোজ হোসেন।
খোরশেদুল আলম বলেন, ‘বরেন্দ্রর পানি আর রাকাবের মানি’ স্লোগান সামনে রেখেই কৃষকদের এ ঋণ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকেরা যাতে হয়রানি ছাড়াই সহজ শর্তে কৃষিঋণ পান এবং পরিশোধ করতে পারেন, সে বিষয়ে রাকাব ও বিএমডিএ যৌথভাবে তদারক করবে।

ওসিএলের শেয়ারের লেনদেন সাত কর্মদিবসের মধ্যেই শুরু

সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজারে আসা ওশেন কনটেইনারস লিমিটেডের (ওসিএল) শেয়ার লেনদেন আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে শুরু হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কোম্পানিটি গত বুধবার বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দকৃত শেয়ারের নিলাম-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।
ওসিএলের ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ১৪৫ টাকা দর প্রস্তাব করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সংরক্ষিত ১১ লাখ ৯০ হাজার শেয়ারের বিপরীতে ৮৯ লাখ শেয়ারের জন্য দর প্রস্তাব জমা পড়েছে। লেনদেন শুরুর প্রথম দিন এই দরেই শেয়ার বিক্রির প্রথম প্রস্তাব করতে হবে কোম্পানিকে। পরবর্তী সময়ে চাহিদা জোগানের ভিত্তিতে লেনদেন চলবে।
রাজধানীর একটি হোটেলে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও ওসিএলের যৌথ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গতকাল বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সিএসইর সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ, সহসভাপতি আল মারুফ খান, সাবেক সভাপতি এ কে এম মহিউদ্দিন, পরিচালক বিজন চক্রবর্তী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ মামুন ও সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান উপস্থিত ছিলেন।
ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ বলেন, সিএসই বরাবরই নতুন নতুন ভাবনা পদ্ধতি ও প্রযুক্তির পক্ষে। এই স্টক এক্সচেঞ্জই প্রথম দেশে স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড) পদ্ধতিতে লেনদেন চালু করেছে। বুকবিল্ডিং পদ্ধতির বিষয়টিও তাঁরাই জোরালোভাবে সামনে তুলে এনেছেন। তাই এই পদ্ধতির বাস্তবায়ন সিএসইর মাধ্যমে শুরু করতে পারাটাও খুবই তাত্পর্যময়।
আজিজ খান বলেন, ‘বুকবিল্ডিং পদ্ধতির মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণ করে বাজারে আসতে পারায় আমরা গর্বিত।’ তিনি বলেন, ওসিএলের শেয়ার বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের হিসাবে জমা হবে। আর এই অর্থ কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে ব্যয় হবে। ফলে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন।
আজিজ খান আরও বলেন, শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ নারায়ণগঞ্জে নির্মাণাধীন নৌ-কনটেইনার টার্মিনালের জন্য ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সেখানেও এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।

চ্যাম্পিয়ন ইপিএল

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ চলছে। কে চ্যাম্পিয়ন হবে বলা মুশকিল। তবে এখনই একটা ‘লিগে’র ইউরোপ-সেরার মুকুট ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের (ইপিএল) ক্লাবগুলোর মাথায় উঠছে। যে লিগের নাম দেওয়া যায় ঋণভারে জর্জরিত লিগ! সম্প্রতি উয়েফার এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইপিএলের ক্লাবগুলোর দেনার পরিমাণ ৩৪০ কোটি পাউন্ড, যা ইউরোপের ক্লাবগুলোর মোট দেনার ৫৬ শতাংশ। তবে সবচেয়ে বেশি দেনার মতো ইপিএলের ক্লাবগুলো সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিকও। যার পরিমাণ ৩৮০ কোটি পাউন্ড, যেটি পুরো ইউরোপের ৪৮ শতাংশ।

সেরেনার আরেক জগত্

ডব্লুটিএ শিরোপা কিংবা গ্র্যান্ড স্লাম জয়—কোর্টে সাফল্য পেলে যশ-খ্যাতির পাশাপাশি আসে অর্থও। শুধু টেনিস খেলেই সেরেনা উইলিয়ামসের আয় ৩০,৫০৬,৯৯৩ মার্কিন ডলার। এর বাইরে আছে বিভিন্ন পণ্যের দূতিয়ালি করে পাওয়া বিশাল অঙ্কের আয়। আয়ের একটা অংশ যুক্তরাষ্ট্রের এই টেনিস তারকা ব্যয় করেন সামাজিক কাজে। আফ্রিকার দারিদ্র্যপীড়িত কয়েকটি দেশে তাঁর অর্থায়নেই চলে বেশ কিছু স্কুল।
অভাব যেখানে মানুষের নিত্যসঙ্গী, সেখানে স্কুল নয়, দিন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে খাবারের খোঁজে বেরিয়ে পড়তে হয় শিশুদেরও। কেনিয়া, সেনেগাল এবং দক্ষিণ আফ্রিকার এমন কিছু অঞ্চলে সেরেনার আর্থিক সাহায্যেই চলে স্কুল। নাইরোবির ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মাকুয়েনি গ্রামে এমনি একটি স্কুলের উদ্বোধনের জন্য সেরেনা এখন কেনিয়ায়। তিন দিনের এই সফরে এসে একটা ঘোষণাও দিয়েছেন মেয়েদের টেনিসের এক নম্বর তারকা, আফ্রিকার অনগ্রসর দেশগুলোর প্রত্যন্ত অঞ্চলে বছরে অন্তত একটি করে নতুন স্কুল খুলবেন, ‘যেসব হাজার হাজার শিশু ভালো লেখাপড়ার সুযোগ পায় না, তাদের জন্য অনেক স্কুল তৈরি করাই আমার লক্ষ্য। বছরে একটি করে করার পরিকল্পনা আমার।’
কেনিয়ায় এটাই সেরেনার প্রথম সফর নয়। এর আগেও গিয়েছিলেন ১৯৯৮ সালে। ওই সফরে মাকুয়েনিতে খোলেন তাঁর প্রথম স্কুল, যে গ্রামের ৬৩.২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। তাঁর সৌজন্যেই সেখানে এখন শিশুরা লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে।
শুধু স্কুল খোলাই নয়, অন্যান্য দাতব্য কাজেও জড়িত সেরেনা। যেমন ঘানায় তিনি প্রচারণায় নেমেছেন ম্যালেরিয়ার বিপক্ষে। ‘শিক্ষা ছাড়া জীবন খুবই কঠিন। আমার মা-বাবা সব সময়ই লেখাপড়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন। উই সম্প্রদায়ের জন্য স্কুল খোলাটা আমার মনে হয় তাঁদের সে গুরুত্বারোপেরই ফসল’—বলেছেন সেরেনা।

পিসিএলে আফ্রিদি

আইপিএলের ছোঁয়া বাংলাদেশেও লেগেছে। যার ফসল চট্টগ্রামের বেসরকারি টি-টোয়েন্টি লিগ পিসিএল। প্রথম আসরের সাফল্যের পর বসুন্ধরা কাপ নামে দ্বিতীয় আসরটি হবে শারজায়। সেই আসরে খেলবেন টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে বড় তারকা শহীদ আফ্রিদিও! চট্টগ্রামের ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে খেলবেন পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।
প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টুর্নামেন্ট-সেরা, গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, ফাইনালের ম্যান অব দ্য ম্যাচ হওয়া আফ্রিদি নিজেই জানিয়েছেন এই তথ্য। পাকিস্তানের একটি ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে এই অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘আমি বাংলাদেশি এই টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় খেলার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। বরাবরের মতো আমি আমার দলকে জেতাতে সবটাই উজাড় করে দেব।

মরিনহোর হাসি

ইন্টার মিলান জিতেছে! জিততেই পারে, কিন্তু বিস্ময়সূচক চিহ্নটা কেন? ইন্টারের সমর্থকেরা এর উত্তর ভালো করে জানেন। কী একটা অপয়া ভূত তাড়া করে ফিরছিল ইতালির ক্লাবটিকে। চ্যাম্পিয়নস লিগের ২০০৫-০৬ মৌসুমের পর থেকে দ্বিতীয় রাউন্ড পেরোনো তো দূরের কথা, নক-আউট পর্বে জয়ের দেখাই পাচ্ছিল না। ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে জয়খরা তো আরও পুরোনো—২০০৩ সালের পর থেকেই। সেই ইন্টার অবশেষে ২-১ গোলে জিতল চেলসির বিপক্ষে। ডিয়েগো ম্যারাডোনা নিশ্চয়ই খুব খুশি।
ম্যারাডোনা! ম্যারাডোনা কেন? ইন্টারের কোচ তো হোসে মরিনহো। আর্জেন্টিনার কোচের খুশি হওয়ার ব্যাপারটা আসে কোত্থেকে! স্কোরলাইনের দিকে তাকান। ইন্টারের জয়ের নায়ক তো দুই আর্জেন্টাইন। ৩ মিনিটে ডিয়েগো মিলিতোর গোল উল্লাসে কাঁপিয়ে তুলেছিল সান সিরো। ৫১ মিনিটে সমতা ফেরালেন সলোমন কালু। মাত্র চার মিনিট বাদেই আবারও গ্যালারিকে উল্লাসে ফেটে পড়ার উপলক্ষ এনে দিলেন এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসো।
চ্যাম্পিয়নস লিগ মরিনহোর নিজের জন্যও অপয়া একটা টুর্নামেন্ট। রোমান আব্রামোভিচের অতি আকাঙ্ক্ষিত এই শিরোপাটি এনে দিতে পারেননি বলেই চেলসি ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। সেই চেলসি, তাঁরই হাতে গড়া শিষ্যদের মুখোমুখি হলেন মরিনহো। কার্লো আনচেলত্তির জন্যও ম্যাচটায় স্মৃতিকাতর হয়ে ওঠার যথেষ্ট উপাদান ছিল বৈকি। এসি মিলান ছেড়ে যাওয়ার পর এই প্রথম তিনি ফিরলেন জিউসেপ্পে মিয়াজ্জা স্টেডিয়ামে।
সান সিরো থেকে হতাশা নিয়েই লন্ডনে ফিরলেন আনচেলত্তি। পরাজয়ের হতাশার সঙ্গে যোগ হয়েছে রেফারিং নিয়ে ক্ষোভও। পরিষ্কার একটা পেনাল্টি থেকে চেলসি বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। কালুকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন ওয়াল্টার স্যামুয়েল। শাস্তিটা পেনাল্টি হওয়া উচিত ছিল মনে করেন আনচেলত্তি, ‘আমার মতে, প্রথমার্ধে ওটা পেনাল্টি ছিল। কিন্তু আমি ভাবলে তো হবে না। রেফারি বাঁশি বাজালে তবেই পেনাল্টি।’ আনচেলত্তির জন্য ম্যাচটি বয়ে এনেছে আরেকটি দুঃসংবাদ। চোট নিয়ে মাঠের বাইরে চলে গেছেন গোলরক্ষক পিওতর চেক।
মরিনহো চেলসিতে কী চাপে ছিলেন, সেটা নিশ্চয়ই আনচেলত্তিও টের পেতে শুরু করেছেন। গত তিন বছরে চারজন কোচের অধীনে খেলা দলটি এবারও চ্যাম্পিয়নস লিগে ব্যর্থ হলে আব্রামোভিচের মতিগতি কী হবে কে জানে! যদিও আনচেলত্তি বলছেন, প্রথম লেগে হেরে যাওয়াই সব শেষ নয়, ‘ফলাফলটা হতাশাজনক, কিন্তু ভয়াবহ কিছু নয়। ফিরতি লেগে আমরা শুরু থেকে আক্রমণ করে গোল করার চেষ্টা করব।’
১৬ মার্চের ফিরতি লেগে অবশ্য চেলসিকে গোলের জন্য এতটা মরিয়া না হলেও চলবে। ১-০ গোলে জিতলেও কোয়ার্টার ফাইনালে চলে যাবে তারা। কালুর ‘অ্যাওয়ে’ গোলটাই বাড়তি সুবিধা এনে দিচ্ছে তাদের। জিতেও তাই চাপের মধ্যেই থাকতে হচ্ছে মরিনহোকে।
পোড় খাওয়া পর্তুগিজ কোচ অবশ্য এতে বিচলিত নন। গতবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে নিজেদের মাঠে গোলশূন্য ড্রয়ের পর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে গিয়ে ০-২ গোলের হার ছিটকে দিয়েছিল ইন্টারকে। এবার জয় তো পাওয়া গেল। তাড়ানো গেল নক-আউট পর্বে জিততে না পারার ভূতটাও। মরিনহো তো খুশি হবেনই, ‘আমরা দেখিয়ে দিয়েছি আমরা চ্যাম্পিয়নস লিগের যোগ্য একটি দল। মানের দিক দিয়ে চেলসি অসাধারণ একটা দল। আমরা জিতেছি, কারণ আমরা হূদয় দিয়ে খেলেছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো ম্যাচের ফল আমাদের এগিয়ে রেখেছে।’ সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে এই জয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘অবশ্যই আমি ভেতরে ভেতরে খুবই খুশি।’
পরশুর অন্য ম্যাচে নিজেদের মাঠে সেভিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে সিএসকেএ মস্কো। নেগ্রেডোর গোলে ২৫ মিনিটেই এগিয়ে গিয়েছিল সেভিয়া। কিন্তু ৬৬ মিনিটে মার্ক গঞ্জালেসের অসাধারণ গোলে সমতা ফেরায় রাশিয়ার ক্লাবটি। ৩৫ গজ দূর থেকে নেওয়া শটে গোল করেছেন গঞ্জালেস।

অ্যামিস থেকে টেন্ডুলকার

শচীন টেন্ডুলকারের রেকর্ড ভাঙতে আরেকটি ডাবল সেঞ্চুরি লাগবে। যে ডাবল সেঞ্চুরির অপেক্ষায় ৩৯ বছরেরও বেশি কেটেছে এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের। এই ৩৯ বছরে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডটির হাতবদল হয়েছে মাত্র নয়বার। ১৯৭১ সালে ইতিহাসের প্রথম ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ৮২ রান করে রেকর্ডের প্রথম মালিক ইংল্যান্ডের জন এডরিচ। দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই সেঞ্চুরি করে সেটি কেড়ে নেন তাঁর সতীর্থ ডেনিস অ্যামিস। তবে সেই ম্যাচটি হয়েছিল সাড়ে উনিশ মাস পর! এডরিচের রেকর্ডটি যদি সবচেয়ে স্বল্পায়ু হয়, সবচেয়ে দীর্ঘায়ু পেয়েছে ভিভ রিচার্ডসের অপরাজিত ১৮৯। প্রায় ১৩ বছর রেকর্ডটি ছিল তাঁর। ভিভের রেকর্ডটি যিনি ভেঙেছিলেন, সেই সাঈদ আনোয়ার এটি ভোগ করেছেন এর মাস তিনেক কম।

স্কিট শ্যুটিংয়ে ব্রোঞ্জ

কমনওয়েলথ শ্যুটিংয়ে এই প্রথম স্কিট বিভাগে পদক জিতল বাংলাদেশ। দিল্লিতে অনুষ্ঠানরত প্রতিযোগিতায় কাল ইকবাল ইসলাম (স্কোর ৯০) ও নুরুদ্দিন সেলিম (৮৫) দলগত ব্রোঞ্জ জিতেছেন। ভারত সোনা, ইংল্যান্ড জিতেছে রুপা।
মেয়েদের ৫০ মিটার প্রোনে সাবরিনা সুলতানা ৫৮৫ স্কোর করে ১১তম হয়েছেন। ৫৬৪ স্কোর করে তৃপ্তি দত্ত ২২তম। দলগতভাবে বাংলাদেশ অষ্টম।