Wednesday, December 25, 2013
খ্রিস্ট জন্মোৎসবের আহ্বান by ফাদার বেঞ্জামিন কস্তা

যিশুর জন্ম হয়েছিল একটি গোশালায়, দীনবেশে। জীবনভর তিনি দরিদ্র জীবনযাপন করেছেন এবং দরিদ্রদের ধন্য বলে আখ্যায়িত করেছেন। তার এই দীনতার জীবনটাই ছিল মানুষের কাছে সুখবর। ‘প্রভুর আত্মা আমার উপর অধিষ্ঠিত, কেননা তিনি দীনদুঃখীদের কাছে শুভসংবাদ দেয়ার জন্য আমাকে অভিষিক্ত করেছেন’ (লুক ৪:১৮)। দীনদরিদ্রদের সঙ্গেই তিনি একাত্ম হয়েছেন। এ কারণে তিনি বলেছেন : অন্তিম বিচারের দিনে মানুষের মূল্যায়নের মাপকাঠি হবে ক্ষুদ্রতম ভাইবোনদের প্রতি আমাদের আচরণ। তিনি নিজেই ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত, আশ্রয়হীন প্রবাসী, বস্ত্রহীন, পীড়িত ও কারারুদ্ধ মানুষ- অর্থাৎ ক্ষুদ্রতমদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, তোমরা এই ক্ষুদ্রতম মানুষদের একজনের প্রতি যা কিছু করেছ, তা আমারই প্রতি করেছ। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘আত্মায় দীনহীন যারা, তারাই সুখী, কারণ স্বর্গরাজ্য তাদেরই’ (মথি ৫:৩)। তিনি গরিবের বন্ধু। দীনদুঃখীদের ভালোবাসা ছিল তার জীবনের ব্রত। বড়দিনের আহ্বান হচ্ছে ঈশ্বরকে জীবনের একমাত্র অভীষ্ট লক্ষ্য হিসেবে জানার ও পাওয়ার সাধনা করার আহ্বান।
যিশু জন্ম নিয়েছিলেন ছোট্ট শিশু হয়ে। এটি নম্রতার প্রতীক। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের যদি মন পরিবর্তন না হয় ও তোমরা শিশুদের মতো না হয়ে ওঠো, তবে স্বর্গরাজ্যে কখনও প্রবেশ করতে পারবে না’ (মথি ১৮:৩)। ‘যে কেউ শিশুরই মতো ঈশ্বরের রাজ্য গ্রহণ না করে, সে তার মধ্যে কখনও প্রবেশ করতে পারবে না’ (মার্ক ১০:১৫)। বড়দিনের আহ্বান হচ্ছে শিশুর মতো হওয়ার আহ্বান। সেই শিশু যিশুরই প্রতীক হচ্ছে গোশালায় যাবপাত্রে শায়িত শিশুটি।
প্রবক্তা যিশাইয়া যিশুখ্রিস্টের জন্মের প্রায় ৭৪০ বছর আগে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন: ‘‘একটি শিশু আমাদের জন্য আজ জন্ম নিয়েছেন, একটি পুত্রকে আমাদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। তার স্কন্ধের ওপর ন্যস্ত রয়েছে সবকিছুর আধিপত্যভার। তার নাম :‘অনন্য মন্ত্রণাদাতা, শক্তিমান ঈশ্বর, শাশ্বত পিতা, শান্তিরাজ!’ এবার শুরু হবে... অন্তবিহীন শান্তির যুগ!... ন্যায় ও ধর্মিষ্ঠতার ভিত্তিতে, আজ থেকে চিরকালের মতো” (যিশাইয়া ৯:৬-৭)। প্রবক্তা যিশাইয়া আরও বলেছিলেন, “শোন, কুমারী কন্যাটি হবে গর্ভবতী; সে এক পুত্র-সন্তানের জন্ম দেবে। একদিন সবাই তাকে ইম্মানুয়েল নামে ডাকবে (নামটির অর্থ হল : ‘ঈশ্বর আমাদের সঙ্গেই আছেন’।” (যিশাইয়া ৭:১৪)। যিশুখ্রিস্টের মধ্যে এই ভবিষ্যদ্বাণীর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন বলে খ্রিস্টানদের বিশ্বাস। যিশুর জন্মের আগে মহাদূত গাব্রিয়েল মারিয়ার কাছে দেখা দিয়ে বলেছিলেন, ‘ভয় পেয়ো না, মারিয়া! তুমি পরমেশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করেছ। শোনো, গর্ভধারণ করে তুমি একটি পুত্রের জন্ম দেবে। তার নাম রাখবে যিশু। তিনি মহান হয়ে উঠবেন, পরাৎপরের পুত্র বলে পরিচিত হবেন। প্রভু পরমেশ্বর তাকে দান করবেন তার পিতৃপুরুষ দাউদের সিংহাসন’ (লুক ১:৩০-৩২। যিশুর জন্মের পর স্বর্গদূত রাখালদের কাছে দেখা দিয়ে বললেন, ‘ভয় পেয়ো না! আমি এক মহা আনন্দের সংবাদ তোমাদের জানাতে এসেছি; এই আনন্দ জাতির সমস্ত মানুষের জন্যই সঞ্চিত হয়ে আছে। আজ দাউদ-নগরীতে তোমাদের ত্রাণকর্তা জন্মেছেন- তিনি সেই খ্রিস্ট, স্বয়ং প্রভু। এই চিহ্নে তোমরা তাকে চিনতে পারবে : দেখতে পাবে কাপড়ে জড়ানো, যাবপাত্রে শোয়ানো এক শিশুকে’ (লুক ২:১০-১২)। যিশুতে ঐশ-প্রতিশ্র“তির এই বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করেই বড়দিনের উৎসব পালিত হয়। প্রতীকী ভাষায় ঘটনার নাটকীয় বর্ণনার অন্তর্নিহিত এই ভাব ও তাৎপর্য হৃদয়ঙ্গম করাই বড়দিন উৎসব পালনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। যিশু নিজেই আনন্দ। যিশুর জন্মলগ্নে স্বর্গদূত বললেন, ‘আমি এক আনন্দের সংবাদ তোমাদের জানাতে এসেছি। এই আনন্দ জাতির সমস্ত মানুষের জন্যই সঞ্চিত হয়ে আছে’ (লুক ২:১০)। বড়দিনের আনন্দ তখনই সার্থক হয় যখন আমরা শুধু মৌখিক প্রচারের মাধ্যমে নয়, বরং অপরের সঙ্গে সহভাগিতার মাধ্যমে তা প্রচার করি। যিশু বলেন, ‘পিতা যেমন আমাকে ভালোবেসেছেন, আমিও তেমনি তোমাদের ভালোবেসেছি। তোমরা আমার ভালোবাসার আশ্রয়ে থেক। যদি আমার সমস্ত আদেশ পালন করো, তবেই তোমরা আমার ভালোবাসার আশ্রয়ে থাকবে, আমিও যেমন পিতার সমস্ত আদেশ পালন করেছি আর আছি তার ভালোবাসার আশ্রয়ে। এসব কথা তোমাদের বললাম, যাতে আমার আনন্দ তোমাদের অন্তরে থাকতে পারে এবং তোমাদের আনন্দ যেন পরিপূর্ণ হতে পারে’ (যোহন ১৫:৯-১১)। এ জগতে মানুষ মাত্রই সুখ ও আনন্দ পেতে চায়, কিন্তু প্রকৃত ও স্থায়ী আনন্দের উৎস একমাত্র ঈশ্বর। তিনি মানুষকে সুখ ও আনন্দের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু অপরকে কষ্ট দিয়ে, অপরকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে আমার পক্ষে প্রকৃত আনন্দ লাভ করা সম্ভব নয়। বড়দিনের আহ্বান হচ্ছে প্রতিদিনের যাত্রায় জীবন-সহভাগিতার মাধ্যমে সেই অকৃত্রিম ও অকপট আনন্দ আস্বাদন করার।
যিশুই শান্তি। যিশু ঈশ্বরের প্রতিশ্র“তি ‘শান্তিরাজ’ (যিশাইয়া ৯:৬)। যিশুর জন্মের রাতে স্বর্গের দূতবাহিনী গেয়ে উঠেছিল : ‘জয় ঊর্ধ্বলোকে পরমেশ্বরের জয়! ইহলোকে নামুক শান্তি তার অনুগৃহীত মানবের অন্তরে’ (লুক ২:১৪)। ঈশ্বর প্রদত্ত এই শান্তি অন্তরে গ্রহণ করতে পারলেই মানুষের মন থেকে সব রকম ঘৃণা-বিদ্বেষ দূর হতে পারে। যে সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ মানুষের একান্ত কাম্য, তা-ই বড়দিন উৎসবের অন্যতম প্রধান আশীর্বাদ। মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের পরে শিষ্যদের দেখা দিয়ে যিশু দু’বার বলেছিলেন, ‘তোমাদের শান্তি হোক’ (যোহন ২০:১৯-২১)। তবে যিশুর দেয়া শান্তি আর মানুষের দেয়া শান্তির মধ্যে অনেক পার্থক্য। যিশু বলেন, ‘তোমাদের জন্য শান্তি রেখে যাচ্ছি, তোমাদের দিয়ে যাচ্ছি আমারই শান্তি; অবশ্য এ সংসার যেভাবে শান্তি দেয়, সেভাবে আমি তোমাদের তা দিয়ে যাচ্ছি না’ (যোহন ১৪:২৭)। যিশুর দেয়া শান্তি হচ্ছে পবিত্র আত্মা বা পাক্ রুহের বশে চলার ফল (গালাতীয় ৫:২২)। এর বিপরীতে হচ্ছে রিপু বা পাপ-স্বভাবের বশে চলা। এর ফলে মানুষের ব্যক্তিজীবন ও সমাজে নেমে আসে অশান্তি ও অরাজকতা। বড়দিন উৎসবে শান্তি-শুভেচ্ছা বিনিময় যদি কেবল মৌখিক শিষ্টাচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে আমরা আমাদের কাক্সিক্ষত শান্তি-আশীর্বাদ পেতে পারি না। বড়দিনের আহ্বান হচ্ছে সেই প্রকৃত ও স্থায়ী শান্তি লাভ করার আহ্বান।
মঙ্গলসমাচারে যিশুর জন্মকাহিনীর বর্ণনায় অনেক প্রতীক ও রূপক ব্যবহার করা হয়েছে। বড়দিন উৎসবের সময় এই প্রতীকগুলোর অর্থ ব্যাখ্যা করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, আকাশে উদিত উজ্জ্বল তারকা প্রকাশ করে যে যিশু হচ্ছেন জগতের আলো। জগতের অন্ধকার দূর করতেই তিনি ইম্মানুয়েল বা আমাদের নিত্যসঙ্গী ঈশ্বর। পূর্বাদেশের তিন পণ্ডিত বলতে বোঝায় অযিহুদি। অর্থাৎ যিশু কেবল কোনো এক জাতি বা গোষ্ঠীর ত্রাণকর্তা নন, তিনি সব মানুষেরই মুক্তিদাতা। বেথলেহেমের গোশালায় দীনবেশে জন্মগ্রহণ করার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, ‘তিনি তো স্বরূপে ঈশ্বর হয়েও ঈশ্বরের সঙ্গে তার সমতুল্যতাকে আঁকড়ে থাকতে চাইলেন না; বরং নিজেকে তিনি রিক্ত করলেন; দাসের স্বরূপ গ্রহণ করে তিনি মানুষের মতো হয়েই জন্ম নিলেন’ (ফিলিপ্পীয় ২:৬-৭)। কোনো রাজনৈতিক কূটচাল, তরবারি, অস্ত্রবল, সৈন্যবল বা অশ্বারোহী সেনাবাহিনী দিয়ে প্রকৃত শান্তির রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা কখনও সম্ভব নয়। পক্ষান্তরে কষ্টভোগী সেবক যিশুর মতো পরার্থে সম্পূর্ণ আÍদানের মাধ্যমেই প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। প্রেম-প্রসূত এই নম্রতা বা দীনতার মধ্য দিয়েই ঈশ্বরের সর্বময় ঐশ-ক্ষমতার প্রকাশ ঘটে। খ্রিস্ট জন্মোৎসব পালনের মধ্য দিয়ে সবার মাঝে প্রতিষ্ঠিত হোক সেই অক্ষয় ও প্রকৃত শান্তি, সুখ ও আনন্দ।
ফাদার বেঞ্জামিন কস্তা সিএসসি : উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত), নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশ্ব উপলব্ধি করছে এখানে ধর্মীয় জঙ্গিবাদ নেই, আছে রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদ by মইনুল হোসেন

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাইরের প্রভাবের অনিবার্য পরিণতি হিসেবেই গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের মৃত্যু ঘটেছে। আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, আর এখন সেই দল সংসদের আসন ভাগাভাগি করছে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করার জন্য। এটা আমাদের এবং সেই সঙ্গে প্রবীণ আওয়ামী লীগারদের বেদনাবিদ্ধ করছে। নির্বাচন কারসাজির মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের যেটুকু অবশিষ্ট ছিল তাও বিলুপ্তির দিকে যাচ্ছে।
তার চেয়ে বেশি পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, এ দেশের জনগণের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে, সরকার তার পরিকল্পনায় সফল হলে যা আর সহজে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। আওয়ামী লীগের গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের ওপর দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর থেকে আওয়ামী লীগ দলটির সাংগঠনিক শক্তি বাইরের অদৃশ্য রাজনৈতিক শক্তির দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। তা না হলে আওয়ামী লীগের মতো একটি দল স্বাধীনতা লাভের অব্যবহিত পর এবং বঙ্গবন্ধু যখন শুধু আওয়ামী লীগের নয়, গোটা জাতির অবিসংবাদিত নেতা তখন অর্থাৎ ১৯৭৫ সালে গণতন্ত্র ধ্বংস করতে যাবে কেন? এ প্রশ্ন আওয়ামী লীগের প্রকৃত নেতা-কর্মীদের করতে হবে। জানতে হবে এর উত্তর।
এখন এটা সবার কাছে পরিষ্কার হচ্ছে যে, বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর থেকে বামপন্থীরা আওয়ামী লীগ দখল করার একটা প্রক্রিয়া শুরু করে এবং তারপর থেকে আওয়ামী লীগ জনগণের কাছে আবেদন সৃষ্টি করার মতো কোনো কর্মসূচি বা ইস্যু হাজির করতে পারেনি, যেমনটি আওয়ামী লীগের গণতান্ত্রিক চরিত্র থাকার সময়ে করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের কথা শোনানো জনগণের কাছে নতুন কিছু নয়। এই অধিগ্রহণকে বামপন্থী অধিগ্রহণ না বলে তারা একে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত নেতৃত্ব হিসেবে চালিয়ে দিল। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে বামপন্থী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বড় হয়ে দেখা দিল এবং গণতান্ত্রিক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে গেল।
রাতারাতি কিছু লোককে রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হওয়ার সুযোগ করে দেয়া হল। এটা আমরা বলছি না, তথ্যই উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করছে যে গত পাঁচ বছরে কিছু দলীয় অনুসারী চুনোপুঁটি থেকে রুই-কাতলা বনে গেছে। তাদের মধ্যে কিছু লোকের প্রত্যেকে কম করে হলেও ২০০ কোটি টাকার মালিক হয়েছে এবং সেটাই পরিপূর্ণ সত্য নয়। এ রকম কাহিনী তথ্য-প্রমাণ দিয়েই সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে এবং টেলিভিশনের বিভিন্ন টকশোতেও বলা হচ্ছে। এ কারণে যারা দুর্নীতি করেছে, তাদের মধ্যে ক্ষমতা হারানোর জবাবদিহির সর্বনাশা ভীতি ঢুকেছে। তাই তারা ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিরুদ্ধে প্রাণপণ যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। দেশে যা হচ্ছে তা আসলে জনগণের বিরুদ্ধে কঠিন রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াই, ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের কোনো লড়াই হচ্ছে না।
আমাদের দেশের রাজনৈতিক শক্তির বিচারে জামায়াতে ইসলামীকে বড় শক্তি হিসেবে গণ্য করার কোনো কারণ নেই। প্রধান রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে দলটি প্রকাশ্য রাজনীতি করে আসছে, জামায়াতে ইসলামী গোপন কোনো দল নয়। যদি দলটির ৪২ বছর আগেকার অবিভক্ত পাকিস্তানের জন্য সহানুভূতি থেকে থাকে, তাহলে নতুন প্রজন্মের জামায়াতিদের কি বাংলাদেশবিরোধী বলা সমীচীন হবে, যতক্ষণ না তাদের কার্যক্রম দ্বারা তা প্রমাণিত হয়? এ প্রশ্নের একটা সদুত্তর থাকা দরকার।
জামায়াতে ইসলামীর অনুসারীরা বরাবরই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আসছে। গত নির্বাচনে দলটি সংসদে মাত্র ২টি আসন পায়। তারপরও বর্তমানে দলটিকে ইসলামী সন্ত্রাসবাদী দল হিসেবে বড় করে দেখানো হচ্ছে। জামায়াতের বিরুদ্ধে মৌলবাদী জঙ্গিত্বের অভিযোগ আনা হয়েছে, যাতে বিরোধী জোটের নেতৃত্বদানকারী প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ দুটি দলকেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে আওয়ামী লীগ সরকারের নিশ্চিত পরাজয় এড়ানো সম্ভব হয়।
এই কুটিল ধারণা ভেতর থেকে আসুক আর বাইরে থেকে সরবরাহ করা হোক, আওয়ামী লীগের ভেতরকার বামধারার লোকেরা একে লুফে নেয় এই আশায় যে, ইসলামী সন্ত্রাসের ব্যাপারে সন্দেহপ্রবণ বিশ্ব প্ল্যানটিকে সমর্থন করবে। কেবল ভারত ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশে এ পরিকল্পনাটি বাজার পায়নি।
অগণতান্ত্রিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করার এই কূটকৌশল কেবল ভারতের দৃঢ় সমর্থন লাভ করেছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লন্ডনের সাপ্তাহিক ইকোনমিস্ট এই সেদিনও এ বিষয়ে তার ভারতীয় সমর্থনের ধারণা পুনর্ব্যক্ত করেছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন লাভের ক্ষেত্রে এই ব্যর্থতা আওয়ামী লীগের জন্য বিরাট হতাশার কারণ। তারা জামায়াতকে আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডের (যেমন আল কায়দা) সন্ত্রাসবাদী দল হিসেবে দেখাতে পারেনি। বরং জামায়াত পরিকল্পিত লবিং ও নানা তৎপরতায় বিশ্বের সহানুভূতি লাভে সক্ষম হয়েছে। ক্ষমতায় থাকার জন্য জনগণের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিকে পাশ কাটাতে গিয়ে দেশে যে গৃহযুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছে, তা থেকে বিশ্বের দৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে সরানোর জন্য সরকার এই বিভেদমূলক কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে বলেই সবাই ধারণা করছে। নানামুখী প্রচার-অপপ্রচার সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশকে মডারেট মুসলিম দেশ হিসেবেই দেখছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি বাংলাদেশকে সক্রিয়ভাবে সাহায্যদানের পরিবর্তে সন্ত্রাস আর জীবনহানির নিন্দা করে, তাহলে দেশের মানুষকে বাঁচানো যাবে না, দেশের অর্থনীতির ধ্বংসও ঠেকানো যাবে না। বাংলাদেশে ধর্মীয় সন্ত্রাস নেই, আছে রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদ। দেশে জনমতের রাজনীতি থাকলে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদ এ মাটিতে স্থান পাবে না। মধ্যপন্থী মুসলিম দেশ হিসেবে বিশ্বে আমাদের যে ভাবমূর্তি রয়েছে, তাকে বিকৃত হতে দিলে তা হবে জাতির জন্য চরম বিপজ্জনক।
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন : আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সরকারকে আলোকিত আত্মস্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে হবে by ড. মাহবুব উল্লাহ্

সংবাদ সম্মেলনে মিস্টার তারানকো দুটি প্রণিধানযোগ্য উক্তি করেন। সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, যদি আলোচনার মধ্য দিয়ে সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে কী কী হবে বা হতে পারে? জবাবে তিনি বলেছিলেন, কী হতে পারে, সেটা আপনারা ভালো করেই বোঝেন। তার দ্বিতীয় মন্তব্যটি ছিল বাংলাদেশের গণমাধ্যম সম্পর্কে। তিনি গণমাধ্যমকে ভারসাম্যপূর্ণ ও পক্ষপাতমুক্ত আচরণ করার আহ্বান জানান। তার এ শেষ মন্তব্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারসাম্যপূর্ণ ও পক্ষপাতমুক্ত আচরণের প্রশ্নটি তখনই উঠতে পারে যখন আচরণ হয় ভারসাম্যহীন ও পক্ষপাতদুষ্ট। একজন ভিনদেশী বোদ্ধা ও বিশেষজ্ঞ যখন এরকম মন্তব্য করেন, তখন গণমাধ্যমের দায়িত্ব হয়ে পড়ে গভীর আÍজিজ্ঞাসা ও আÍবিক্ষণে নিয়োজিত হওয়া। কিন্তু সে কাজটি কতটুকু করা হয়েছে, সেটা গণমাধ্যমের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ ভালো করে বলতে পারবেন।
তারানকোর উপস্থিতিতে দুই দফা বৈঠকের পর তৃতীয় দফায় আরেকটি বৈঠক হবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন। তার কাছে দেয়া প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী তৃতীয় বৈঠকটি হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো ফলোদয় হয়নি। সরকার পক্ষ তার লক্ষ্য অনুযায়ী দশম সংসদ নির্বাচনের পক্ষে আছে। অপরদিকে ১৮ দলীয় জোট এই নির্বাচন প্রতিহত করার লক্ষ্যে রাজপথ, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধের আন্দোলনে আছে। এ মুহূর্তেও অবরোধ চলছে। অবরোধের ফলে এরই মধ্যে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যা বড়ই মর্মান্তিক! এদেশে একটা সময় ছিল যখন একটি কিংবা দুটি মৃত্যু ক্ষমতাসীনদের ভিত কাঁপিয়ে দিত। এখন শত মৃত্যুতেও তেমন কিছু আসে যায় না। আমরা যেন অনুভূতিহীন হয়ে নিঃসাড় হয়ে পড়েছি। একসময় বঙ্গদেশে একটি প্রবচন প্রচলিত ছিল। প্রবচনটি হল, মরা ছেলে নিয়ে কান্না করে লাভ নেই। আসলে তখন শিশু মৃত্যুহার এত বেশি ছিল যে, সন্তানের মৃত্যু নিয়ে শোক না করার পরামর্শ দেয়া হতো। মধ্যযুগের ইউরোপেও এমন একটি পরিস্থিতি ছিল। তখন সন্তানের মৃত্যুতে মায়েরা কদাচিতই শোকাশ্র“ বর্ষণ করত। কারণ একই, শিশু মৃত্যুর উচ্চহার। এমন মৃত্যুকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে ধরে নেয়া হতো। বাংলাদেশ-উত্তরকালে রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংঘাতে জীবননাশের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। কিন্তু সেই তুলনায় জনপ্রতিক্রিয়ার ধার ক্রমশ ভোঁতা হয়ে যাচ্ছে। আমরা মর্মান্তিক কিংবা লোমহর্ষক ঘটনায় নির্বিকার থাকছি। নিজে বেঁচে থাকতে পারলেই স্বস্তিতে থাকি, অন্যদের যত বড় সর্বনাশই হোক না কেন। এ ধরনের জনমনস্তত্ত্ব অত্যন্ত বিপজ্জনক। এ মানসিকতার সুযোগেই অত্যাচারী শাসকরা দুর্বিনীত হয়ে ওঠে। রাষ্ট্র ও সমাজে ফ্যাসিবাদ শেকড় গেড়ে বসে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী অবলোকন করে সে রকম কিছু মনে করা অযৌক্তিক নয়।
এবারকার অবরোধ আন্দোলনে যে বৈশিষ্ট্যটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সেটি হল রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের মফস্বল বা গ্রামাঞ্চলের পার্থক্য। যারা গ্রামাঞ্চল সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন তাদের কাছ থেকে শুনেছি, এমনকি গ্রামাঞ্চল থেকে এসেছেন এমন মানুষদের কাছ থেকেও শুনেছি যে, গ্রামাঞ্চলে বিরোধী দলের আন্দোলনে জনসম্পৃক্তি অত্যন্ত প্রবল। এ বিভাজনের ব্যাখ্যা কী? প্রথমত, রাষ্ট্রের নিপীড়ন যন্ত্র ঢাকায় অত্যন্ত প্রবল, কিন্তু গ্রামাঞ্চলে ততটা নয়। দ্বিতীয়ত, ঢাকার নাগরিকরা অর্থনৈতিকভাবে অনেক সুবিধা ভোগ করে, যা গ্রামের মানুষ করে না। অর্থনৈতিকভাবে অধিকতর সুবিধাপ্রাপ্ত ঢাকাবাসী কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না। কারণ তাতে করে তাদের বিত্ত ও সম্পদহানির আশংকা থাকে। তৃতীয়ত, গ্রামাঞ্চলের মানুষ দৈনন্দিন জীবনে যেভাবে শাসক দলের অত্যাচার, অবিচার ও নিপীড়নের ভুক্তভোগী হয়েছে, সে রকম অভিজ্ঞতা ঢাকাবাসীর হয়নি। ছোটবেলায় জর্জ এলিয়টের লেখা উপন্যাস ‘Silas Marner’ পড়েছিলাম। সেই উপন্যাসে insect-like existence-এর কথা জেনেছিলাম। অর্থাৎ সুড়ঙ্গের মধ্যে কীট যেভাবে তার অস্তিত্ব বজায় রাখে। আমরা ঢাকাবাসী সে রকম বিচ্ছিন্ন জীবনে অভ্যস্ত। প্রতিবেশীর কী হল তা নিয়ে মাথা ঘামাই না। আমাদের জীবনে যৌথভাবে বাঁচার চাহিদা বলতে গেলে অনুপস্থিত। আমরা দিনে দিনে আত্মসর্বস্ব হয়ে পড়ছি। এ অবস্থায় কোনো collective action-এ আমরা নামতে চাই না। এসব কারণে ঢাকা শাসকগোষ্ঠীর জন্য অনেকটাই নিরাপদ। তার মানে এই নয় যে, ঢাকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ শাসকগোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডকে অনুমোদন করে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারাও শাসকগোষ্ঠীকে প্রত্যাখ্যান করবে।
তৃতীয় দফা সংলাপের পর আর কোনো সংলাপ হয়নি। হবে বলেও মনে হয় না। এরই মধ্যে ১৫৪ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। এরকম ঘটনা অতীতে এদেশে বা অন্য কোনো দেশে ঘটেনি যাতে পঞ্চাশ শতাংশেরও বেশি ভোটার তাদের পছন্দ ব্যক্ত করতে পারেনি। বিরোধী দলের আন্দোলনে অনেক দুর্বলতা রয়েছে। শাসক দল আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছিলেন, বিরোধী দলের আন্দোলন করার মুরোদ নেই। যেমন মুরোদ আমরা লক্ষ্য করেছি ’৯৬ সালে এবং ২০০৭ সালে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী দলগুলোর অসহযোগ ও লগি-বৈঠার আন্দোলনে। এখন বিরোধী দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ হল সহিংসতার। বর্তমান আন্দোলনে সহিংসতা একটি বড় উপাদান। কিন্তু কেন এ অনাকাক্সিক্ষত সহিংসতা ঘটছে, সে কথা শাসক দল ও গণমাধ্যম বলছে না। নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদের পথ রুদ্ধ করার ফলেই যে দুর্ভাগ্যজনক সহিংসতার উদ্ভব ঘটেছে সে কথাটি স্বীকার না করলে অর্ধসত্য বলা হয়।
যা হোক, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনটি ডামাডোলের মধ্য দিয়ে হয়ে যাবে। কিন্তু কত শতাংশ লোক সত্যিকার অর্থে ভোট দিতে যাবে সেটি বড় ধরনের প্রশ্ন। এরই মধ্যে বিদেশীরা তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে শুরু করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত রাষ্ট্রদূতরা বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। সাভারের স্মৃতিসৌধে তারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেননি। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিনিধি পাঠানো হবে না বলে তারা জানিয়ে দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কবুল করেছেন এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বীকার করেছেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারটি সুখকর নয়। এখন প্রধানমন্ত্রী বলছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের ব্যাপার নিয়ে কথা হতে পারে, তবে শর্ত হল বিএনপিকে সহিংসতা ত্যাগ করতে হবে এবং জামায়াতকে ছাড়তে হবে। বাস্তবতা হল, দশম সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে সরকার গঠিত হবে সেটি ভয়ানক বৈধতার সংকটে পড়বে। নির্বাচনে গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে প্রবলভাবে প্রশ্ন উঠবে। যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা ব্যাপারটি কত গভীরভাবে উপলব্ধি করেন সেটাই প্রশ্ন। তারা যদি সংকটের ভয়াবহতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা চিন্তা করে সুমতিতে আসেন তাহলে দেশটি বেঁচে যায়। শুধু একটি বিদেশী শক্তির সহায়তার ভরসায় তারা যদি একগুঁয়েমির পথ বেছে নেন, তাহলে দেশের মানুষের ক্ষতি যেমন আরও বাড়বে, তাদেরও অনেক ক্ষতি হবে। তাই তাদেরও আলোকিত আÍস্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারা ভালো করেই জানেন সেই সিদ্ধান্তটি কী। তাদের একজন মন্ত্রী এরই মধ্যে আরও পাঁচ বছর চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। কিন্তু এরকম ভয়াবহ ইঙ্গিত কারও জন্যই মঙ্গলকর হবে না।
ড. মাহবুব উল্লাহ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মন্ত্রী-সাংসদদের ব্যবসায় বেআইনি
দুই তিন-চার দিন ধরে বিভিন্ন পত্রিকায় মন্ত্রী-সাংসদদের গত পাঁচ বছরে ফুলে-ফেঁপে ওঠার অনেক রসাল খবর ছাপা হচ্ছে। এর আগে এক-এগারোর পর ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ থেকে অনেক রসাল খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছিল। এখানে ভবন, ওখানে বাড়ি, খুঁটি-খাম্বা, হরিণ-সেতু, ভর্তি ভর্তি বাক্স বিমানে করে বিদেশে যাওয়া—এ রকম অনেক খবর ভাসা ভাসা মনে পড়ছে। সেযাত্রায় অনেকেই চলে গিয়েছিলেন বিদেশে। এখনো কেউ কেউ ফিরে আসেননি। কারও কারও হদিসই পাওয়া যাচ্ছে না, যেমন হারিছ চৌধুরী। মন্ত্রী-সাংসদদের ফুলে-ফেঁপে ওঠার প্রথম খবর নজরে পড়েছিল ১৯ ডিসেম্বরের দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার প্রথম পাতায়। প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খানের ধন বেড়েছে ১০৭ গুণ, অন্য এক মন্ত্রী হাছান মাহমুদের সম্পদ বেড়েছে পাঁচ বছরে ৪০ গুণ। দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার এই তালিকায় ছিলেন আরও ছয়জন। পরের দিন ২০ ডিসেম্বরের প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠার শিরোনাম ছিল ‘ফুলে-ফেঁপে উঠেছে সম্পদ’। এখানে শ্রেষ্ঠাংশে ছিলেন সেই আব্দুল মান্নান খান, মন্ত্রীগোত্রীয় জাহাঙ্গীর কবির নানক, দীপংকর তালুকদার, অধমের এলাকার সাংসদ ফজলে নূর তাপস ও অন্যরা। প্রথম আলো বলছে, সাংসদ আবদুর রহমান বদির আয় বেড়েছে ৩৫১ গুণ। বাপের ব্যাটা! ২১ ডিসেম্বরের প্রথম আলো বলছে, মাহবুব উল আলম হানিফ মন্ত্রীও নন, সাংসদও নন, তবু পাঁচ বছরেই সম্পদের পাহাড়। ২১ ডিসেম্বর যুগান্তর পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠার দ্বিতীয় প্রধান শিরোনাম ছিল ‘সেনা নামছে ২৬ ডিসেম্বর’। যুগান্তর-এর প্রতিবেদনের হিরো নয়জন, যাঁদের অনেকেই নামই জায়গা পেয়েছে দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলোতেও। ২১ ডিসেম্বরের কালের কণ্ঠ দেখলাম ঝুঁকেছে আঞ্চলিকতার দিকে। পত্রিকাটির শিরোনাম ‘অর্থ-সম্পদ বেশ বেড়েছে চট্টগ্রামের মন্ত্রী-এমপিদের’। সম্পাদকীয়ও হয়েছে প্রত্যাশিত শিরোনামে ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ (কালের কণ্ঠ ২১ ডিসেম্বর)। সব পত্রিকা তো আর পড়া হয় না, তবু ধরেই নিচ্ছি, অন্যান্য পত্রিকাও সম্পদের কেচ্ছায় আকৃষ্ট হবে, খবর ছাপিয়েছে বা ছাপাবে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরাবরের মতো নির্বাচনের প্রার্থীদের সম্পদ, আয়-ব্যয় ইত্যাদির তুলনামূলক তথ্য বিশ্লেষণ করে অচিরেই প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
তিন মন্ত্রী-সাংসদেরা কি ধনী হতে পারেন না? যদি বৈধভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করে সম্পদ বাড়ান? আইন বলে, মন্ত্রীরা তাঁদের বেতন-ভাতাদি ছাড়া আর কোনো উপায়-অর্জন করতে পারবেন না। কোনো বৈধ ব্যবসাও করতে পারবেন না। এটা সংবিধান নিষেধ করে দিয়েছে। সবার পুরো সংবিধান পড়া জরুরি নয়। তবে যাঁরা সাংবিধানিক পদ পেয়ে যান, তাঁদের তো সংবিধানে লেখা শপথবাক্য পাঠ করতে হয়। সেই সঙ্গে সংবিধানে যে যেই পদ পেয়েছেন, সে পদ বা দায়িত্ব সম্পর্কে কী বলা আছে, অন্তত সেটুকু তো পড়া উচিত। এমনটিও না যে ওই পদগুলো সম্পর্কে সংবিধানে অনেক অনেক কথা বলা আছে। পড়তে পড়তে গুলিয়ে ফেলার ভয় নেই। যেমন অ্যাটর্নি জেনারেলের কথা বলা আছে, শুধু ৬৪ অনুচ্ছেদে। ৬৪ অনুচ্ছেদে সর্বসাকল্যে বাক্য আছে চারটি। কঠিন বা জটিল কিছুই নেই। ৬৪টি অনুচ্ছেদে বলা আছে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের কথা। দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল, সরকারের নয়; ঠিক যেমন প্রধান বিচারপতি। অন্য সব বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, কিন্তু প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশের। অর্থাৎ শুধু সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি নন, সংবিধানবলে তিনি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি। যা হোক, মন্ত্রীদের বৈধ আয়-উপার্জনের কথায় ফিরে আসি। আট ধরনের সাংবিধানিক পদের বেতন-ভাতাসংক্রান্ত বড় একটা অনুচ্ছেদ আছে সংবিধানে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আওয়ামী লীগ জিতলেও হারবে না দেশ
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাদুরো সামাল দিতে পারবেন?
![]() |
| নিকোলাস মাদুরো |
খলিলউল্লাহ্: সহকারী সম্পাদক, প্রতিচিন্তা।
khalil_irdu@yahoo.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দিল্লির গদিতে বসছেন আম আদমি-অরবিন্দ
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শিশু কারখানা অভিযানে আটক ১৯ মা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিসরে আরব বসন্তের ৩ আহ্বায়কের কারাদণ্ড
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
থাই নির্বাচনী নিবন্ধন কেন্দ্র ঘেরাও
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
December
(526)
-
▼
Dec 25
(10)
- খ্রিস্ট জন্মোৎসবের আহ্বান by ফাদার বেঞ্জামিন কস্তা
- বিশ্ব উপলব্ধি করছে এখানে ধর্মীয় জঙ্গিবাদ নেই, আছে ...
- সরকারকে আলোকিত আত্মস্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে হবে by ...
- মন্ত্রী-সাংসদদের ব্যবসায় বেআইনি
- আওয়ামী লীগ জিতলেও হারবে না দেশ
- মাদুরো সামাল দিতে পারবেন?
- দিল্লির গদিতে বসছেন আম আদমি-অরবিন্দ
- শিশু কারখানা অভিযানে আটক ১৯ মা
- মিসরে আরব বসন্তের ৩ আহ্বায়কের কারাদণ্ড
- থাই নির্বাচনী নিবন্ধন কেন্দ্র ঘেরাও
-
▼
Dec 25
(10)
-
▼
December
(526)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...





