Tuesday, April 10, 2018

বন্দি করেও মারা গেলো না মশা! by শাহেদ শফিক

নেটের খাঁচায় বন্দি মশা
মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ রাজধানীর বাসিন্দারা। বিভিন্ন এলাকায়, বাসাবাড়িতে ওষুধ ছিটানো হলেও মশা মরছে না। মশা নিধনে ব্যবহৃত ও‍ষুধের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ কারণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নিজস্ব পদ্ধতিতে এই ওষুধের গুণগত মান পরীক্ষা করে। এজন্য ওষুধের নমুনা সংগ্রহ এবং ছোট্ট একটি খাঁচায় অর্ধশত মশাকে বন্দি করা হয়। কিন্তু ফগিং করার পরেও বন্দি মশা সব মরেনি। রবিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে ডিএসসিসি’র নগর ভবনের বারান্দায় এভাবেই মশা নিধনের ওষুধ পরীক্ষা করতে দেখা গেছে।
মশা নিধনের কাজে ডিএসসিসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবদ্ধ খাঁচার মধ্যে অধিক হারে ফগিং করার পরেও যেখানে শতভাগ মশা করছে না, সেখানে মাঠ পর্যায়ের উন্মুক্ত স্থানে কিভাবে মশা মরবে? ফলে মশা নিধনে ব্যবহৃত এসব ওষুধের গুণগত মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন দেখা গিয়েছে।
এত কাছ থেকে ফগিং করা হলেও মশা মরছে না
যেভাবে ওষুধের মান পরীক্ষা করা হয়
ডিএসসিসি’র ভাণ্ডার ও ক্রয় বিভাগ সূত্র জানিয়েছে— নগরীর মশা নিধনের জন্য যে কীটনাশক সংগ্রহ করা হয়, প্রথমে তা ডিএসসিসির নিজস্ব পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা হয়। এজন্য নির্দিষ্ট আকারের ছোট ছোট তিনটি খাঁচার মধ্যে ৫০টি করে মোট ১৫০টি মশা রাখা হয়। খাঁচাগুলোর ৪/৫ ফুট দূরে সাদা কাপড়ের বেড়া দিয়ে এর মধ্যে ফগিং করা হয়। এসময় ওষুধের পাশাপাশি মেশিনের ধোঁয়ায় পুরো এলাকাটি ঢেকে যায়। এভাবে অন্তত তিন মিনিট ওষুধ ছিটানো হয়। এর ২০ মিনিট পর দেখা হয়— কয়টি মশা মরেছে। পরে ফগিং করা খাঁচাগুলো ২৪ ঘণ্টা পর দেখার জন্য নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে যদি বন্দি কোনও মশা ফের জীবিত হয়ে ওঠে, তবে তাদের খাবার দেওয়া হয়। ২৪ ঘণ্টা পর জীবিত মশার সংখ্যা আবারও গণনা করা হয়। তখন যদি মৃত মশার হার ৮০ শতাংশ হয়, তাহলে ধরে নেওয়া হয় যে, ওষুধের গুণগত মান ঠিক আছে।
সূত্রটি আরও  জানায়, ডিএসসিসিতে নিজস্ব পদ্ধতিতে ওষুধের মান পরীক্ষার পর তা  ল্যাবরেটরি টেস্টের জন্য আরও  দুটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে কীটনাশকের মান পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআর ও রাসায়নিক উপাদান পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। সবগুলো পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হলে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে মাঠ পর্যায়ে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়।
তবে ডিএসসিসি’র নিজস্ব এই পদ্ধতি নিয়েও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তারা বলছেন, নির্দিষ্ট ছোট্ট একটি খাঁচার মধ্যে মশাকে বন্দি করে অনেক কাছ থেকে একাধিকবার ফগিং বা স্প্রে করার পরেও কেন মশা মরছে না? অনেকে বলছেন, ওই খাঁচার মধ্যে মশার বদলে যদি মানুষ কিংবা অন্য কোনও প্রাণী রাখা হয়, ওষুধের প্রভাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা মারা যাওয়ার কথা। এরকম কঠোরতা অবলম্বনের পরেও যেখানে মশা মরছে না, সেখানে মাঠ পর্যায়ে উন্মুক্তস্থানে কিভাবে মশা দমন করা যাবে? সেখানে তো এত কাছ থেকে ওষুধ ছিটানো হয় না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করে ডিএসসিসির একজন  ভাণ্ডার কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অনেক আগ থেকেই এই পদ্ধতি চলমান রয়েছে। এটা একটা সিস্টেম। কিন্তু এই সিস্টেম সঠিক নয়। কতটা কার্যকর তাও বলা যাচ্ছে না। একটা সিস্টেমের মধ্যে ফেলে তো ওষধ ক্রয় করতে হবে। সে জন্যই হয়তো কর্তৃপক্ষ এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছে।’
ওই কর্মকর্তা আরও  বলেন, ‘আমরা যে পদ্ধতিতে মশাকে খাঁচায় বন্দি রেখে ওষুধ স্প্রে করি, সেভাবে তো মাঠ পর্যায়ে করা হয় না। এখানে (খাঁচায়) ওষুধ স্প্রে করার পর মশা চলে যেতে পারে না। তাছাড়া, আবদ্ধ করে ওষুধ দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে তো মেশিনের শব্দ কিংবা মেশিন থেকে নির্গত গরম হাওয়ায় মশা মরে যাওয়ার কথা। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে তো ফগার মেশিনের শব্দ শুনেই মশা পালিয়ে যায়। সেখানে তো ওই পরিমাণ মশা মরে না।’ মশার ওষুধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার মনে হয়— ওষুধ পরিবর্তন করা উচিত।’
ওষুধ পাল্টাবে ডিএনসিসি
দীর্ঘদিন ধরে ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড থেকে মশার ওষুধ সংগ্রহ করে আসছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। কিন্তু গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এই ওষুধ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, নিয়ম অনুযায়ী মশার ওষুধ ছিটানোর পরও মশা নিয়ন্ত্রণে না আসায় ওষুধ পরিবর্তন করা হচ্ছে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে এবার ওষুধ ক্রয়ের কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। জানা গেছে,ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবারও ওই প্রতিষ্ঠান থেকেই মশা নিধনের ওষুধ সংগ্রহ করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র মো. ওসমান গণি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মশার উৎপাত একটু বেড়েছে। আমরা নিয়মিত চেষ্টা করে যাচ্ছি। ওষুধ ছিটাচ্ছি। এরপরও মশা কমছে না। আমরা এখন ওষুধ পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
মশা নিধন কাজে ব্যবহৃত দুই সিটি করপোরেশনের ওষুধের গুণগত মান নিয়ে বিভিন্ন সময় নগরবাসীর মধ্যে প্রশ্ন ওঠে। অনেকেই বলেছেন, মশা নিধন কাজে যে ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে তা মানসম্মত নয়। তাদের অভিযোগ, অনৈতিক সুবিধা নিয়ে মানহীন ওষুধ কিনছেন সংস্থা দুটির সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে  ডিএসসিসির প্রধান ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াৎ হোসেনকে একাধিক বার ফোন করলেও তিনি ফোন সিরিভ করেননি।
ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা লিয়াকত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা নতুন কোনও নিয়ম নয়। আমরা অনেক আগ থেকেই এই নিয়মে ওষুধ পরীক্ষা করে আসছি। পরীক্ষায় শতভাগ মশা না মরলেও ফলাফল যথেষ্ট সন্তোষজনক। এই পরীক্ষাটি ছাড়াও দুটি ল্যাবের মাধ্যমে ওষুধের আরও  দুইটি গুণগত মান পরীক্ষা করা হবে। সবক’টি ফলাফল সন্তোষজনক হলে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে ওষুধ কেনা হবে।’
উল্লেখ্য, রাজধানীতে মশা নিধনের জন্য প্রতিবছর অর্ধশত কোটি টাকা বরাদ্দ রাখে দুই সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি)।

সংরক্ষিত নারী আসন ২৫ বছর বহাল রাখার বিল সংসদে

আগামী ২৫ বছর জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে সংসদে। এজন্য সংবিধান সংশোধন করতে ‘সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল-২০১৮’ নামের একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে ১৯৭৩ সাল থেকে সংরক্ষিত আসনের বিধান চালু হয়। এই আসন ১৫টি থেকে বেড়ে এখন ৫০টিতে দাড়িয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দিনের কার্যসূচী শুরু হয়। বিলটি উত্থাপনের বিরোধীতা করেন স্বতন্ত্র এমপি রুস্তম আলী ফরাজী। পরে কন্ঠভোটে তা নাকচ হয়। সংবিধানে নারী আসনের মেয়াদ বাড়িয়ে আনা বিলটি উত্থাপনের পর অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। কমিটিকে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সংসদে উত্থাপিত বিলে সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের (৩) দফায় সংশোধনীর প্রস্তাব করে বলা হয়েছে- ‘সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) আইন-২০১৮ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অব্যবহিত পরবর্তী সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে শুরু করিয়া ২৫ বৎসরকাল অতিবাহিত হইবার অব্যবহিত পরবর্তীকালে সংসদ ভাংগিয়া না যাওয়া পর্যন্ত ৫০টি আসন কেবল মহিলা সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে এবং তাঁহারা আইন অনুযায়ী পূর্বোক্ত সদস্যদের দ্বারা সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হইবেন। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে- সংরক্ষিত মহিলা আসনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকার কারণে সমাজে সকল ক্ষেত্রে মহিলাদের অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ী সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৫ এর দফা (৩) এর বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী বর্তমানে সংরক্ষিত মহিলা আসনের ১০ (দশ) বছর মেয়াদ ২৮ জানুয়ারি ২০১৯ শেষ হবে। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে মেয়াদ বৃদ্ধি করা না হলে উক্ত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য কোন আসন সংরক্ষিত থাকবে না। সংরক্ষিত আসনের প্রয়োজনীয়তা এখনও বিদ্যমান রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ সংরক্ষিত আসনের মহিলা-সদস্যদেরকে নিয়ে গঠন করতে হলে দশম সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় সংবিধানে এ সংক্রান্ত বিধান সংশোধন করা আবশ্যক। আরো বলা হয়েছে, স্বাধীনতার স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আইন প্রণয়নে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তদানীন্তন গণপরিষদ কর্তৃক প্রণীত ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৫ এর দফা (৩) এর বিধানে জাতীয় সংসদে মহিলা সদস্যদের জন্য সংবিধান প্রবর্তন হতে ১০ বছর সময় অতিবাহিত হওয়ার অব্যবহিত পরবর্তী সময়ে সংসদ ভেঙ্গে না যাওয়া পর্যন্ত ১৫টি আসন সংরক্ষণ করা হয়।

রোহিঙ্গা শিবিরে নিখোঁজ স্বজনের সন্ধানে by জন ইমোন্ট

শেষবার নবি হোসেন তার বড় বোনকে দেখেছেন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মেশিনগানের গুলি থেকে বাঁচতে ধানক্ষেত দিয়ে পালানোর সময়। কিন্তু চিৎকার চেঁচামেচির মধ্যে কখন যে দুই ভাইবোন আলাদা হয়ে গেলেন, টেরই পেলেন না তিনি। এই মুহূর্তে নবি হোসেন আছেন বাংলাদেশের একটি শরণার্থী শিবিরে। সঙ্গে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা আরও হাজার হাজার রোহিঙ্গা। শরণার্থী শিবিরে আসার পর দিনের বড় একটি সময় ধুলোমাখা লাল রাস্তা ধরে বড় বোনের সন্ধানে ঘুরে বেড়ান নবি। তার বিশ্বাস, তার বোনও হয়তো নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়তে পেরেছেন।
তিনি বলেন, ‘হয়তো তিনি বাংলাদেশে। আমি হয়তো এখনও খুঁজে পাইনি তাকে।’ নবি হোসেনের রাবারের স্যান্ডেলে বালুতে ভরপুর। হয়তো আজও খুঁজে এসেছেন বোনকে। কিন্তু বোনের কোনো ছবি তার কাছে নেই। আছে শুধু চেহারার ছোট্ট ও অস্পষ্ট এক বর্ণনা: একটু বয়স্ক, কিন্তু এখনও তেজস্বী; হাসিখুশি।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গা গ্রামে তান্ডবলীলা শুরু করার পর ৭ মাস কেটে গেছে। প্রায় ৭ লাখ মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। কিন্তু এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ বা লাপাত্তা।
আসিয়ান পার্লামেন্টারিয়ান্স ফর হিউম্যান রাইটসের গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া শিশুদের মধ্যে ৪৩ হাজার জনের পিতামাতার অন্তত একজন নিখোঁজ। অনেকে আবার শিশু সন্তান হারিয়েছেন। কেউবা হারিয়েছেন ভাইবোন।
নিখোঁজ হওয়া রোহিঙ্গাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে চলমান প্রত্যাবর্তন বিষয়ক আলোচনায় জটিলতা সৃষ্টি করেছে। ব্যাপকভাবে এই অভিযোগ রয়েছে যে, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ নিখোঁজ মানুষদের খুঁজে পেতে সহায়তা করছে না।
মিয়ানমার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে। অনেকে কয়েক প্রজন্ম ধরে মিয়ানমারে বসবাস করলেও সরকার তাদেরকে নাগরিকত্ব দিতে রাজি নয়। জাতিসংঘ বলেছে, মিয়ানমারের এই সামরিক অভিযানে গণহত্যার বৈশিষ্ট্য দৃশ্যমান। তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বলছে, রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসবাদের প্রতিক্রিয়ায় ওই অভিযান চালানো হয়েছে।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, নিহতদের সংখ্যা নিরূপনে সাহায্য করার বদলে, মিয়ানমার নিজেদের সম্পৃক্ততা লুকাতে হত্যাযজ্ঞের ঘটনাস্থল বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, নবি হোসেনের গ্রাম আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মিয়ানমার সরকার বলেছে, সম্ভাব্য অপরাধ ধামাচাপা দিতে ওই গ্রামগুলো বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। বরং, যাদেরকে প্রত্যাবর্তন করা হবে, তাদের জন্য বাড়িঘর বানাতেই তা করা হয়েছে।
বার্মা ক্যাম্পেইন ইউকে’র পরিচালক মার্ক ফার্মানের বলেন, পৃথক হয়ে যাওয়া পরিবারগুলোকে এক করতে মিয়ানমার একেবারে কিছুই করেনি। সরকারের পক্ষ থেকে এটি পুরোপুরি হৃদয়হীন কাজ।
মিয়ানমারের শীর্ষ বেসামরিক নেতা অং সান সু চির মুখপাত্র জ হতায় বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন ব্যতিত নিহত ও নিখোঁজ লোকজনের সংখ্যা নিরূপন করা সম্ভব নয়। কারণ, শুধু শরণার্থীরাই জানবেন তাদের সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে কারা নিখোঁজ হয়েছেন।
রেডক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটির প্রতিনিধি মেলিসা ডামিগনার্ড বলেন, পৃথক হয়ে যাওয়া পরিবারের সদস্যদেরকে একসাথ করতে তার সংগঠন কাজ করছে। তবে কোনো সরকারি তালিকা না থাকায় বেগ পেতে হচ্ছে তাদের।
শরণার্থীরা নিজ চেষ্টায় স্বজনদের খোঁজার চেষ্টা করেছেন। মুখে মুখে কথা ছড়িয়ে চেষ্টা করে দেখেছেন কোনো খোঁজ মিলে কিনা। কিন্তু শরণার্থী শিবিরগুলোতে এখন হাজার হাজার তাঁবু। শিবিরে প্রথমে মাইক সমেত বুথ তৈরি করা হয়েছিল যাতে পিতামাতারা এসে নিখোঁজ সন্তানের শারীরিক গড়নের বর্ণনা দিয়ে সন্ধান চাইতে পারেন। এছাড়া অস্থায়ী মসজিদও এসব বার্তা ছড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
এমন একটি বুথ নির্মাণ করেছিলেন কামাল হোসেন। তার অনুমান, তার বুথের মাধ্যমে অন্তত কয়েকশ’ পরিবার হারিয়ে যাওয়া স্বজনকে খুঁজে পেয়েছে। এই সংখ্যা সাহায্যপ্রার্থীদের প্রায় অর্ধেক। তবে খুঁজে পাওয়ার হার একেবারে কমে যাওয়ায় ফেব্রুয়ারিতেই ওই বুথ বন্ধ করে দেন কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় বাকি যাদেরকে পাওয়া যায়নি তারা জীবিত নেই। অনেক মাসই তো হয়ে গেল।’
তবে নবি হোসেন এখনই হাল ছাড়তে রাজি নন। তিনি একজন কৃষক। বড় দাড়ি গালে। মা মারা যাওয়ার পর বড় বোনই ছিল তার সবকিছু। বোনটির নাম সামারুক। মায়ের মৃত্যুর পর, বাবা যখন দিনের বেলায় ক্ষেতে কাজ করতে যেতেন, বোনই তকে কোলেপিঠে করে মানুষ করেছেন। গোসল করিয়েছেন। চুল আঁচড়ে দিয়েছেন সকালে। রমজান মাস শেষ হলে গুড় পিঠা তৈরি করে খাইয়েছেন। নবি হোসেনের ভাষ্য, ‘তিনি আমাকে বোনের ও মায়ের দু’জনের ভালোবাসাই দিয়েছেন।’
গত সেপ্টেম্বরে যখন তাদের গ্রামে সহিংসতা শুরু হয়, নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকায় অভিযান চালায়। কয়েকজন গ্রামবাসীকে তারা গুলিবিদ্ধ করে। নবী হোসেন বলেন, গুলিবিদ্ধদের মধ্যে তার বোন সামারুকের একমাত্র কন্যাশিশু সন্তানটিও ছিল। বেঁচে ছিলেন নবি হোসেন, তার স্ত্রী, ছেলে, বোন ও বোনের স্বামী। অন্য শ’ শ’ গ্রামবাসীর মত তারাও বাংলাদেশের দিকে পালিয়ে যান।
নবী হোসেন ও তার ছেলে বলেন, পলায়নরত গ্রামবাসীরা যখন সীমান্তবর্তী নাফ নদীর দিকে এগিয়ে আসেন, তখনই তাদেরকে অ্যামবুশে ফেলে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী। সেনারা যখন গুলি ছুড়ছিল, সবাই তখন যেদিকে পেরেছেন পালিয়েছেন। তখন বয়স্করা পিছনে পড়ে যান।
নবি হোসেনের ছেলে কয়েক ঘণ্টা বাদে তাদেরকে খুঁজতে বের হন। কিন্তু সামারুক ও তার স্বামীকে আর পাওয়া যায়নি। সৈন্যরা এগোতে থাকায় খোঁজার চেষ্টা বাদ দিয়ে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পরিবারের অবশিষ্ট সদস্যরা। আশা ছিল, বাংলাদেশে গিয়ে হয়তো আবারও দেখা হবে বোনের সঙ্গে। নবি হোসেন এখন বলছেন, ‘এটাই আমার মধ্যে অপরাধবোধের জন্ম দিয়েছে। মানুষ সেনাদেরকে দেখেই আপন প্রাণ বাঁচানোর জন্য দৌঁড় দিয়েছে।’
নবি হোসেন জানেন যে, শরণার্থী শিবিরে বোনকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তবুও নিজের স্ত্রীর কানের দুল বিক্রি করেও বোনকে খোঁজা অব্যাহত রেখেছেন তিনি।
কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে তিনি একদিন দেখতে পান কিছু বয়স্ক লোক হলুদ তারপুলিনের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছে। নবি হোসেন সিদ্ধান্ত নিলেন তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন তার বোনের মতো বা বোনের জামাইর মতো কাউকে তারা দেখেছেন কিনা। নবি হোসেন জিজ্ঞেস করেন, ‘কেউ কি ওই পাড় থেকে এসেছেন?’ উপস্থিত লোকেরা সম্মতিসূচক মাথা নাড়লেন। তাদের একজন বললেন, নবির সাথে তার আগেও দেখা হয়েছিল। তখনও নবি একই প্রশ্নই জিজ্ঞেস করেছিলেন। অনেকটা স্বান্তনা দেওয়ার সুরে লোকটি বললেন, ‘আমরা সবাইই কাউকে না কাউকে হারিয়েছি।’
(ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন ‘অ্যাজ হোপ ফেইডস, রোহিঙ্গা রিফিউজিস সার্চ ফর দ্য মিসিং’ অবলম্বনে।)

সেক্স রোবট বিপ্লব ও সতর্কতা

প্রযুক্তির ধারাবাহিকতায় মানুষের যৌন জীবনেও এসেছে পরিবর্তন। বিশ্ববাজারে বিভিন্ন দেশে এখন প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে সেক্স রোবট ও যৌন সামগ্রি। এর ফলে মানুষের রুচির পরিবর্তন আসছে। তবে প্রযুক্তিবিদরা ভয়ংকর এক বিপদ সংকেত দিয়েছেন। তারা বলেছেন, এই ধারা চলতে থাকলে সেক্স রোবট পুরো মানবতাকে চিরদিনের জন্য পাল্টে দিতে পারে। কারণ, এর ফলে মানুষের যৌন চাহিদা মেটানো অধিকতর সহজ হয়ে পড়বে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সমাজে। কমপিউটার বিজ্ঞানী নোয়েল শারকি এমন সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। সেক্স রোবট সমাজে এমন পরিণতি ডেকে আনবে এমন সতর্কবাণী সত্ত্বেও কিন্তু বাজারে ক্রমবর্ধমান হারে এর চাহিদা বাড়ছে। ‘সেক্স রোবটস অ্যান্ড আস’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্রে এসব কথা বলেছেন নোয়েল শারকি। তিনি সতর্ক করেন, সেক্স রোবটের যেভাবে চাহিদা বাড়ছে তাতে সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে। কারণ, মানুষের মানবিক, জৈবিক চাহিদা পূরণ খুব সহজ হয়ে যাবে। তখন একজন নারীকে একজন পুরুষের প্রতি বা একজন পুরুষকে একজন নারীর প্রতি আবিষ্ট হতে দেখা যাবে না। নোয়েল শারকি কাজ করেন ফাউন্ডেশন অব রেসপনসিবল রোবোটিকস-এ। তিনি অতীতেও সেক্স রোবট সম্পর্কে বিপদ সংকেত দিয়েছেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা! সেক্স রোবটকে মানবীয় গুণ দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন বিজ্ঞানী বা এ শিল্পে নিয়োজিতরা। গত বছরের শেষের দিকে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়, কিছুদিনের মধ্যে চার ভাগের এক ভাগ মানুষ রোবটের সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক গড়ে তাতেই তৃপ্তি মেটাবে। প্যারিসভিত্তিক মিডিয়া প্রতিষ্ঠান হাভাস থেকে এ বিষয়ে জরিপ করা হয়। তাতে দেখা যায়, ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সসীমার মধ্যে শতকরা ২৭ ভাগ মানুষ এমন সম্পর্ককে বেছে নেবে। এতে আরো বলা হয়, নারীদের তুলনায় এমন সম্পর্কে তিনগুন বেশি আগ্রহী পুরুষরা। এরই মধ্যে জার্মানিতে চালু হয়েছে সেক্স রোবট দিয়ে প্রথম পতিতালয়। গত বছরই তা চালু হয়েছে। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘ডল-অনলি’। জার্মানি ও অস্ট্রিয়াতে পতিতালয়গুলোতে সেক্স রোবট ব্যবহারের বৈধতা রয়েছে। জার্মানির প্রতি ৫ জনের একজন বলেছে, তারা সেক্স রোবট কিনে নেবে। এমন জরিপ প্রকাশিত হয়েছে জানুয়ারিতে। বিশ্বে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫টি প্রতিষ্ঠান এমন সব রোবট তৈরি করে বাজারে ছাড়ছে। এর প্রতিটির দাম পড়ছে ৫৪০০ থেকে ১৫ হাজার ডলারের মধ্যে। আর এর যে ক্রেতা তার প্রায় পুরোটাই হলো পুরুষ। এত বড় বাজার তৈরির পর নির্মাতারা আরো বাস্তবধর্মী রোবট তৈরির পরিকল্পনা করছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে মানুষের প্রকৃত পার্টনারের মতো আচরণ করবে সেক্স রোবট।

মালয়েশিয়ায় নির্বাচন ৯ই মে, মাহাথির-নাজিব লড়াই

মালয়েশিয়ায় আগামী ৯ই মে জাতীয় নির্বাচন। দেশটির নির্বাচন কমিশন আজ মঙ্গলবার এ ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে ওই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোট তাদের ৬১ বছরের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে। ক্ষমতাসীন জোটের প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক এই নির্বাচনে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছেন। তিনি তার বারিসান ন্যাশনাল (বিএন) জোটকে বিজয়ী করতে পারেন কিনা তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। একদিকে মালয়েশিয়ায় সব কিছুর মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তাতে মালয়েশিয়ানদের মধ্যে রয়েক্ষে ক্ষোভ। সেই ক্ষোভ মিটিয়ে তিনি তাদের ভোট পাওয়ার জন্য লড়াই করছেন। অন্যদিকে তাকে ঘিরে ধরেছে কয়েক শত কোটি ডলার অর্থ দুর্নীতির অভিযোগ। রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে তিনি ওই অর্থ তার নিজের ব্যাংক একাউন্টে স্থানান্তর করেছিলেন বলে অভিযোগ আছে। এ অভিযোগ ক্রমশ জোরালো হয়েছে দেশে ও বিদেশে। আর এরই মধ্যে তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে বিরোধীরা। তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার বলে পরিচিত ড. মাহাথির মোহাম্মদ। মাহাথি নাকি নাজিব কাকে বেছে নেন মালয়েশিয়ার নাগরিকরা তা এখন সময়ই বলে দেবে। নাজিব রাজাকের বয়স ৬৪ বছর। তিনি আবারো ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার আশা করছেন। কিন্তু বিশ্লেষকরা কঠিন লড়াইয়ের পূর্বাভাষ দিয়েছেন। এই লড়াইটা আসছে তার মেন্টর বা পথপ্রদর্শক, তার সাবেক গুরু, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। তার বয়স এখন ৯২ বছর। তিনি ২০০৩ সাল পর্যন্ত ২২ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। একটি সাধারণ সমাজ ব্যবস্থাকে তিনি এ সময়ে শিল্পোন্নত জাতিতে পরিণত হয়েছেন। ফলে তার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত। যদি তিনি এবার নাজিবকে পরাজিত হয়ে ক্ষমতার মসনদে ফের বসতে পারেন তাহলে তিনিই হবেন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘ সময় মালয়েশিয়ায় সরব আলোচনা। গত সপ্তাহে যখন পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করেন নাজিব রাজাক তখন গুজবের অনেকটাই স্তিমিত হয়। নিশ্চিত হয়ে যায় মালয়েশিয়া নির্বাচনের পথে রয়েছে। মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান মো. হাশিম আবদুল্লাহ এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি বলিছেন, নির্বাচন কমিশন বৈঠক করেছে এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, পার্লামেন্ট বিলুপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। সেই হিসাবে আগামী নির্বাচন হবে ৯ই মে। প্রার্থীদেরকে ২৮ শে এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। এর ফলে তারা নির্বাচনী প্রচারণার জন্য ১১ দিন সময় পাবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সিরিয়া যুদ্ধে যোগ দেবে বৃটেন!

পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিয়ে সিরিয়া হামলায় যোগ দিতে পারে বৃটেন। সামরিক বিভিন্ন শাখার প্রধানদের এ পরিকল্পনা সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ হামলা হবে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পক্ষকে লক্ষ্য করে। সম্প্রতি পূর্ব ঘৌটায় বেসামরিক জনগণের ওপর বিষাক্ত গ্যাস প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে তার সরকারের বিরুদ্ধে। এর আগে বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানোর অনুমতি চেয়েছিলেন বৃটিশ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। কিন্তু হাউস অব কমন্স তাকে সেই অনুমোদন দেয় নি। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়, সিরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বৃটেনের সেনা বাহিনী। এ জন্য তাদেরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সোমবার। ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে এ বিষয়ে পার্লামেন্টে ভোট চাওয়ার সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করা হয় নি। তবে বিভিন্ন সূত্র বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়াই অভিযানে যোগ দিতে পারেন। এ ইস্যুতে কি পদক্ষেপ নেয়া যায় তা নিয়ে বিতর্কের জন্য ইস্টার উপলক্ষে ছুটিতে থাকা এমপিদেরকে হোয়াইট হলে ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও খবর মিলেছে। তবে এক্ষেত্রে যে সরকারকে অবশ্যই পার্লামেন্টের অনুমোদন নিতে হবে এমন কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। তবু সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন প্রথম দফায়ই এমন পদক্ষেপের বিষয়ে এমপিদের সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন। এখন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র কণ্ঠে একটি সুর শোনা যাচ্ছে। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের প্রধান মদতদাতা হলো রাশিয়া। যদি দামেস্কের কাছে রাসায়নিক গ্যাস হামলার জন্য দায়ী পাওয়া যায় রাশিয়াকে এর জন্য জবাব দিতে হবে। ফলে ঘটনা যে অন্যদিকে মোড় নিতে পারে তা স্পষ্ট। কারণ, রাশিয়ান গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়ার ওপর নার্ভ গ্যাস প্রয়োগের জন্য দায়ী করা হচ্ছে রাশিয়াকে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন এক শীতল যুদ্ধের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এরইড মধ্যে শুরু হয়ে গেছে নতুন ওই শীতল যুদ্ধ। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহ বড় বড় দেশ অবস্থান নিয়েছে। ফলে বৃটেন যে শুধু সিরিয়ায় বাশার আল আসাদকে দমনে ব্যবস্থা নিচ্ছেন তেমনটা ভাবা বোকামি। তিনি এর মধ্য দিয়ে রাশিয়ার লেজও টেনে ধরতে চাইতে পারেন।

ধর্ষণের শাস্তি ক্রসফায়ার! by আমীন আল রশীদ

আমীন আল রশীদ
কিছু বিষয়ে আমরা খুব স্ববিরোধী। যেমন আমরা ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের মতো বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ডের সমালোচনা করি, আবার শিশু ধর্ষণ বা এরকম ন্যক্কারজনক কোনও ঘটনা ঘটলে প্রকাশ্যেই বলি, 'ওকে (অপরাধীকে) ক্রসফায়ারে দেওয়া উচিত'। আমরা দেশে সামরিক শাসন এলে বা সেনাবাহিনী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষমতা নিলে অনেকেই তার সমলোচনা করি, কিন্তু যখন রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হই তখন বলি, এই জাতির জন্য সেনাবাহিনীই ভালো। এমনকি যখন ট্রাফিক পুলিশ যানজট ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হয়, তখনও আমরা রাস্তায় সেনাবাহিনী নামানোর দাবি তুলি।  কারণ সেনাবাহিনীর ওপর আমাদের এক অন্যরকম আস্থা আছে।
সম্প্রতি পরপর কয়েকটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে চার বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার এক আসামি গুলিতে নিহত হয়েছেন। র‌্যাব বলছে,  বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হয়েছেন। বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার মানে দেশের মানুষ জানে। এ জাতীয় ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফে যে বিবৃতি দেওয়া হয়, সেই ভাষাও মানুষের মুখস্থ। র‍্যাব বা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি এবং তারপর পাল্টা গুলিতে আসামির মৃত্যু–এই ‘স্ক্রিপ্ট’ এখন ক্লিশে। কিন্তু তারপরও নির্মম বাস্তবতা হলো, এ জাতীয় মৃত্যুর পক্ষে একটি বড় জনমত তৈরি হয়ে গেছে। বিশেষ করে জঙ্গি দমন, সুন্দরবনে দস্যু নিধন ইত্যাদি কারণে।
আমরা সব সময়ই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা বলি। তো দৃষ্টান্তমূলক বলতে আসলে কী বোঝায়? আইনে যে অপরাধের যে শাস্তির কথা বলা আছে, তার বাইরে গিয়ে ভিন্ন কিছু করার সুযোগ আছে। সেটি কি আইনের লঙ্ঘন হবে না? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ এমন মন্তব্য করেন, ধর্ষণের শাস্তি হওয়া উচিত ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়া। শাস্তি হিসেবে এটি নির্মম। কিন্তু দৃষ্টান্তমূলক। কিন্তু এটি কি আমাদের দেশের প্রচলিত আইন অনুমোদন করে? সৌদি আরবের মতো শরিয়া আইনের দেশে এরকম শাস্তি হতে পারে। সেখান চুরি করলে হাত কাটা, খুন করলে প্রকাশ্যে গলা কাটা আইনসিদ্ধ। কিন্তু বাংলাদেশের আইনে এ ধরনের শাস্তির অনুমোদন নেই। কিন্তু মানুষ চায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। তারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এ কারণে চায়, যাতে ওই শাস্তির ভয়াবহতা দেখে ভবিষ্যতে কেউ ধর্ষণের মতো অপরাধ করার সাহস না পায়। সে কারণে যখন ক্রসফায়ারে (বস্তুত গুলিতে) ধর্ষণ মামলার কোনও আসামির মৃত্যু হয়, তারও পক্ষে কিছু জনমত তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যাকে এভাবে মারা হলো বা এভাবে যার মৃত্যু হলো, আদালতে কি তার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে? যদি আদালতের এই প্রক্রিয়ায় না গিয়ে একজন মানুষকে কথিত অস্ত্র উদ্ধারের নামে গুলি করে মেরে ফেলা হয় সেটি দেশের প্রচলিত বিচারব্যবস্থার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন হয় কিনা?
ক্রসফায়ারের পক্ষে সবচেয়ে বড় যে যুক্তিটি দেওয়া হয় তা হলো, দুর্ধর্ষ অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাক্ষী পাওয়া যায় না। অপরাধ প্রমাণ করা কঠিন। কিন্তু তারা যে অপরাধী তা সবাই জানে। ফলে এই যুক্তিতে এরকম বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডগুলো বৈধতা পায়। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই  ‘বিচারবহির্ভূত’ শব্দটি মানতে নারাজ। তাদের যুক্তি, যদি এসব মৃত্যুকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলে আখ্যা দেওয়া হয় তাহলে বিচারিক হত্যা কোনটি? হত্যা, সেটি বিচারিক কিংবা বিচারবহির্ভূত কোনোভাবেই আইনসিদ্ধ নয়। বরং শব্দটা হবে বিচার। অর্থাৎ একজন লোক যদি অপরাধী হন, প্রচলিত আইন মেনে তার বিচার হবে। সেই বিচারে যদি তার মৃত্যুদণ্ড হয়, সেটিকে বলা হবে শাস্তি। এটি কোনও অর্থেই হত্যা নয়।
সমস্যা অন্য জায়গায়; তা হলো, আমরা যখন একজন দুর্ধর্ষ অপরাধী, খুনি বা ধর্ষককে বিনা বিচারে ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধে মেরে ফেলার পক্ষে কথা বলি, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নিরীহ, নিরপরাধ মানুষকেও টাকার জন্য বা অন্য কোনও ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে মেরে ফেলা জায়েজ হয়ে যায়। এযাবৎ যত লোক বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন, তাদের সবাই কি দুর্ধর্ষ অপরাধী? তাদের মধ্যে নিরপরাধ মানুষ কি নেই? আপনি ১০০ জন অপরাধীকে মেরে ফেলার পরে যদি একজন নিরীহ মানুষকেও মারেন, সেটি অনেক বড় অপরাধ।  শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুলে বহু লোককে এভাবে খুন করা হয়নি? ঝালকাঠির কলেজছাত্র লিমনকে গুলি করে পঙ্গু করে দেওয়া হয়নি? যে র‍্যাব সদস্যরা এই কাজ করেছেন তাদের বিচার হয়েছে আজ পর্যন্ত? উল্টো লিমনের পরিবারের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছিলো এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গণমাধ্যমের অব্যাহত চাপের মুখে সরকারের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপে সেই মামলা থেকে লিমন ও  তার দিনমজুর বাবা মুক্তি পান। মানবাধিকার কমিশন ও গণমাধ্যম সোচ্চার না থাকলে এখন লিমন ও তার পরিবারকে জেলে থাকতে হতো। সৌভাগ্য যে সে এখন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। কৃত্রিম পায়ে ভর দিয়ে হাঁটে।
আমরা যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বেআইনি কাজকে সমর্থন দিই, তখন তারা আরও দশটি বেআইনি কাজ করার সাহস পায় এবং তখন আর মানুষের কিছু বলার থাকে না। একজন ধর্ষককে (যদিও প্রমাণিত নয়) ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার সংবাদ আপাতদৃষ্টিতে সাধুবাদযোগ্য মনে করা হলেও, এটির প্রভাব সুদূরপ্রসারি। ধরে নিচ্ছি নিহত ব্যক্তি সত্যিই ধর্ষক। কিন্তু সেটি আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অপরাধ প্রমাণের আগে  যদি আপনি কাউকে শাস্তি দেন, তখন আপনি নিজেই অপরাধী। আবার অভিযুক্ত লোকটি ধর্ষক হলেও প্রচলিত আইনেই বিচারের সুযোগ ছিল। বিচারক যদি মনে করতেন যে অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডযোগ্য, তাহলে তিনি মৃত্যুদণ্ড দিতেন। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় না গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজেরাই যখন একজন লোককে ধরে নিয়ে মেরে ফেলে, সেটি সম্পূর্ণই আইনের শাসনের পরিপন্থি।
এখান সমস্যা আরেকটা আছে। তা হলো আমাদের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা এবং ত্রুটিপূর্ণ তদন্ত। অনেক বড় বড় অপরাধী আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়। দুর্ধর্ষ জঙ্গিরা জামিনে ছাড়া পেয়ে ফের জঙ্গি তৎপরায় জড়িয়ে পড়ে, এমন খবরও এসেছে। অনেক সময় তদন্ত কর্মকর্তা ঘুষ খেয়ে বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে দুর্বল রিপোর্ট দেন, যাতে অপরাধ প্রমাণ করা কঠিন। ফলে ক্ষমতাবান অভিযুক্তরা বেরিয়ে যায়। এ কারণেও অনেকে ক্রসফায়ারে মৃত্যুকে সমর্থন করেন। কিন্তু এটিই কি সমাধান?
আমাদের বিচার ব্যবস্থার ফাঁকফোকর আছে বলে, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য অসৎ বলে আমরা একটি বেআইনি কাজকে দিনের পর দিন সমর্থন দিয়ে যাব? বিচারিক দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো কীভাবে দূর করা যায়, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার না বানিয়ে তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হোক, দেশের অপরাধ ৮০ শতাংশ কমে যাবে এক বছরের মধ্যে। কিন্তু এর জন্য যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার, তা দেশের কোনও দলের আছে? ক্ষমতায় যারাই যায়, তারাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিজের মতো ব্যবহার করে। সুতরাং সেই বাহিনী যখন অন্য কোনও বেআইনি কাজ করে, তার প্রতিবাদ করা কিংবা তার শাস্তি দেওয়ার নৈতিক অধিকার সরকারের থাকে না। থাকে না বলেই খুব কম ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অপরাধের শাস্তি পায়। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা। সেটিও গণমাধ্যমে খুব ফলাও করে না এলে র‍্যাবের একজন সদস্যও গ্রেফতার হতেন কিনা সন্দেহ।
সুতরাং সাত খুন হোক কিংবা ধর্ষণ–কাউকেই বিনা বিচারে মেরে ফেলা সমর্থনযোগ্য নয়।  এ জাতীয় হত্যাকাণ্ড সমর্থন করার অর্থ হলো বিচারহীনতাকে সমর্থন করা। আইনের শাসনের পথ কণ্টকাকীর্ণ করা। যদি ক্রসফায়ারেই অপরাধীর বিচার করা হবে তাহলে আর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল রেখে লাভ কী?
আমাদের দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এ জাতীয় মৃত্যুর শুরুটা হয়েছিল ২০০২ সালের অক্টোবর মাসে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে পরিচালিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মাধ্যমে। তখন যৌথবাহিনীর অভিযানে ৫৭ জন নিহত হয়। পরে এসবের বৈধতা দেওয়ার জন্য আইন করে বলা হয়েছিল, এই ৫৭ জনের ব্যাপারে কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। বলা হয়, ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ বা এনকাউন্টার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো তাতে কি অপরাধ কমেছে? সেন্ট্রাল আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকায় এ জাতীয় ঘটনার পরিমাণ অনেক বেশি। কিন্তু সেসব দেশে অপরাধ যে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, তা বলা যাবে না। বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এভাবে হত্যার লাইসেন্স দিলে তাদের পেশাদারিত্ব ক্ষুণ্ণ হয়। তারা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে। ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে তারা মোটা অংকের টাকা নেয়—এরকম কথা অসংখ্যবার শোনা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যখন বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করে, তা সে অপরাধী হোক কিংবা নিরপরাধ, তাতে রাষ্ট্রের আইনি কাঠামো ভেঙে পড়ে। সমাজের ভেতরে বর্বরতা ও সহিংসতা বাড়তে থাকে।
লেখক: সাংবাদিক

বয়স ও অভিজ্ঞতার আলোকে বাড়ে মস্তিষ্কের নিউরন: গবেষণা

কৈশোর পেরিয়ে গেলে মানব মস্তিষ্কের ভেতর আর কোনো নিউরনের জন্ম হয়না, পূর্বের এ মতবাদের সঙ্গে খাপ খাচ্ছে না বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণার ফল। এবার তারা জানাচ্ছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে অভিজ্ঞতার আলোকে মস্তিষ্কে আরো অনেক অনেক নিউরন সেল গজিয়ে ওঠে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এমনটিই জানানো হচ্ছে।
নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘মানুষের বয়স বাড়ার ফলে শিক্ষা, স্মৃতি ও আবেগীয় অভিজ্ঞতার আলোকেও জন্ম হয় নতুন নতুন নিউরন সেলের। তবে বেশিরভাগ নিউরন সেলের জন্ম হয় শিশুকালে। আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই জন্মহার কমতে থাকে। মানুষ ছাড়াও ইদুর ও এর কাছাকাছি গোত্রের প্রাণীদের ক্ষেত্রে তাই দেখা গেছে।’ নতুন এই আবিষ্কার এখন থেকে স্মৃতিহারানো মানুষের চিকিৎসায় সহায়ক হবে বলে আশা করছেন তারা।

এছাড়া বিজ্ঞানীদের অপর একটি দল বলছেন, ‘প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে গেলেও মস্তিষ্কের কোনো কোনো অংশে নিউরন সেলের জন্ম হতে থাকে। এমনকি বয়সের তারতম্যের কারণে এর উৎপাদন হারে কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়না। আর এই সূত্র ধরে আরো গবেষণা চালিয়ে ‘আলজেইমারে’র মতো মস্তিষ্কের নানা জটিল রোগের চিকিৎসা করাও সম্ভব হবে।’ দ্য গার্ডিয়ান।

তথ্য ফাঁস: গাদ্দাফির কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছিলেন সারকোজি

লিবিয়ার সাবেক শাসক গাদ্দাফির সঙ্গে ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট সারকোজির সাক্ষাৎ (ফাইল ছবি)
ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি নির্বাচনি প্রচারের কাজে খরচ করার জন্য লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির কাছ থেকে দুই কোটি ইউরো ঘুষ গ্রহণ করেছিলেন বলে তথ্য ফাঁস করেছেন একজন প্রত্যক্ষদর্শী। গাদ্দাফির সঙ্গে সারকোজি’র সাক্ষাতে দোভাষীর দায়িত্ব পালনকারী অনুবাদক মিফতাহ মিসৌরি এ তথ্য ফাঁস করেছেন। গাদ্দাফির অত্যন্ত আস্থাভাজন এই অনুবাদক বলেছেন, ২০০৭ সালে নিকোলাস সারকোজির নির্বাচনি প্রচারদলকে দুই কোটি ইউরো অর্থ সহায়তা দিয়েছিলেন লিবিয়ার সাবেক শাসক কর্নেল গাদ্দাফি। মিসৌরি বলেন, এ উপলক্ষে সারকোজির পক্ষ থেকে পাঠানো নির্বাচনি প্রচার টিমের একটি প্রতিনিধিদল ত্রিপোলিতে লিবিয়ার পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে সারকোজির পক্ষ থেকে পাঁচ কোটি ইউরো অর্থ সহায়তা চাওয়া হলেও গাদ্দাফি সরকার দুই কোটি ইউরো দিতে সম্মত হয়  এবং তা প্রদান করে। গাদ্দাফির সাবেক অনুবাদক তার দপ্তরে ওই অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত চুক্তির একটি কপিও সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। ২০০৭ সালে গাদ্দাফির কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে সম্প্রতি ফ্রান্সে সারকোজিকে আটক করা হয়। পরে অবশ্য জিজ্ঞাসাবাদ ও অভিযোগ গঠন থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
গাদ্দাফির সাবেক অনুবাদক তার দপ্তরে ওই অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত চুক্তির একটি কপিও সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন

সংস্কৃতির দূষণ by তুষার আবদুল্লাহ

তুষার আবদুল্লাহ
বাংলা নববর্ষ বরণে বাণিজ্যের প্রজাপতি উড়ছে দশক দুই ধরে। প্রজাপতির পাখার রঙ ক্রমশ গাঢ় হচ্ছে। ধীরে ধীরে সর্বজনীন এই উৎসবের প্রতীক হয়ে উঠেছে লাল-সাদা। যার পিড়ানের রঙে লাল-সাদা নেই, তার যেন অধিকার নেই উৎসবে যোগ দেওয়ার। পোশাককে ঘিরে বড় বাজার তৈরি হয়েছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে অলঙ্কার, খাবার। উৎসবটি গ্রামীণ। কৃষক ও কৃষি শ্রমিকের উৎসব। এই উৎসবের আচারগুলো বাঙালির আবহমানকালের। বাঙালির অভ্যাসের বাইরে গ্রামীণ উৎসবে কোনও উপকরণ যোগ হয়নি। পান্তা-ইলিশ নিয়ে নগরবাসীর যে হা-পিত্যেস, তার সঙ্গে গ্রামের গৃহস্তের কোনও সম্পর্ক ছিল না। কৃষক পরিবার কখনও বর্ষবরণে পান্তা ইলিশ খায়নি। তার পরিধানে সেদিন ওঠেনি নতুন পিরান। লাল-সাদা রঙ তো অনেক দূর ভাবনা। নগরে মানুষ এসেছে রোজগারে। ফেলে এসেছে তার গ্রামের জীবন। সেই স্মৃতি থেকেই নাগরিক মানুষেরা শহরে বর্ষবরণ আয়োজন করে। অভ্যাসের চৈত্রকে, সংক্রান্তিকে, বৈশাখকে নিজের মতো করে শহুরে বানানো হয়েছে। বিচ্ছিন্ন মানুষদের গানের সুরে বৃক্ষতলে জড়ো করার প্রয়াস। গ্রামের বটতলার মেলা গ্রাম ছেড়ে এসেছে শহরের সাজ পোশাক পরেই। নগর মানুষ গ্রামীণ মনটাকে বদলে ফেলতে চায়নি। নতুন রঙ, পোশাক বদলে দিতে পারেনি মনের রঙ। তাই এই উৎসবকে তারা গ্রামের ঢঙেই সব ধর্মের মানুষের করতে সফল হয়েছে। উৎসব হয়ে উঠেছে সর্বজনীন। একথা এখন স্বীকার না করে উপায় নেই মুসলমান, সনাতন, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান উৎসবগুলোর চেয়ে বর্ষবরণ উদযাপন নিয়ে বাঙালির উন্মাদনা কম নেই। যদি বাণিজ্যিক অঙ্ক মেলাই, দেখবো এই উৎসবে কেনাকাটার পরিমাণও অন্য উৎসব গুলোকে অতিক্রমের পর্যায়ে রয়েছে।
বাণিজ্যের কর্কট রোগ আছে। এই রোগ সংস্কৃতিতে অর্থাৎ মানুষের অভ্যাস চট করে বদলে দেয়। বাড়িয়ে দেয় ভোগের তাড়না। বর্ষবরণ উৎসব এখন পণ্য উৎপাদক ও বাজারজাতকারীদের জন্য একটি মোক্ষম লগ্ন হয়ে উঠেছে। তারা বাঙালিকে একপ্রকার বুঝিয়ে ফেলতে পেরেছে কী কী পরিধান না করলে, জিভে চেখে না দেখলে তাদের পক্ষে ষোলআনা বাঙালি হওয়া সম্ভব নয়। কৃষকের ঘর যে উৎসবের আঁতুড় ঘর, সেই কৃষকও নিজের বটতলার আড়ংয়ের কথা ভুলে গিয়ে লোভাতুর হয়ে তাকিয়ে থাকে নগর থেকে আসা পসরার দিকে। মাটির সানকি, পুতুল, ঘোড়া, হাতির কথা ভুলে সে চমকে ওঠে রকমারি যান্ত্রিক পসরায়। নিজ ঘরে মাটির পুতুল সরিয়ে সেই যন্ত্রকে আলগোছে জায়গা করে দিচ্ছে। উৎসবে এখন নাগরিক জৌলুস।
সংস্কৃতিকে প্রবাহমান নদীর সঙ্গে তুলনা করেন অনেকে। উজান থেকে জল নেমে আসবে,তার সঙ্গে খড়কুটো ভেসে আসবে সঙ্গে। আবার ভেসেও যাবে সেই খড়কুটো। আমাদের সংস্কৃতিতে বরাবরই এমন খড়কুটো ভাসতে দেখা গেছে। আবার সেগুলো ভাসতে ভাসতে চলে গেছে দূর সমুদ্দুরে। তবে এখনকার অবস্থা যেন ভিন্ন। ঠিক বাংলাদেশের নদীর মতোই। নাব্য কমে গেছে। নদী প্রবাহমান না থাকায় খড়কুটো পচে নদীর তলদেশ ভরাট করে ফেলেছে। কমে গেছে আমাদের সংস্কৃতির গভীরতা। নগর মানুষের চলন-বলন যদি দেখে,যদি তাকাই নগরের মধ্যবিত্তের দিকে, উচ্চবিত্তের দেয়াল টপকে চোখ যদি যায় অন্দরে, নগরে যারা বুদ্ধিজীবী বলে আওয়াজ তুলছেন, তাদের দিকে যদি কান পাতি দেখতে পাবো কেমন সংস্কৃতি ও রুচির সংকটে পড়েছি আমরা। একপ্রকার রুচির দূষণে আছি। আমাদের নদী যেমন দূষিত হয়ে পড়েছে। তেমনি সংস্কৃতিও। সেদিন সংবাদপত্রের পাতার সঙ্গে একটি লিফলেট ঢুকে পড়লো বাড়িতে। রঙিন লিফলেটে জানান হয়েছে ঢাকার একটি গ্যালারিতে বৈশাখী মেলা ১৪২৫ আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে যে পণ্য সুলভ হবে বলে তালিকা তুলে দেওয়া হয়েছে, সেখানে রয়েছে–‘জুয়েলারি, কসমেটিক্স, ইন্ডিয়ান ড্রেস, পাকিস্তানি ড্রেস, ক্যাটালগ ড্রেস, শাড়ি, কুর্তি, লেহেঙ্গা,ব্যাগ, জুতা, হিজাব ও আরও ফ্যাশনেবল এক্সসোরিজ’। সংস্কৃতির দূষণের কথা যে বললাম, এই ফর্দে দূষণের কোনও ‘কণা’ কি দেখতে পেলেন? জানি না ১৪২৫ উদযাপনে আমরা প্রবহমান সংস্কৃতিকে কতটা দূষণমুক্ত রাখতে পারবো বা কতটা দূষিত করবো।

সিরিয়ায় হামলার ফন্দি আঁটছে আমেরিকা

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস (মাঝে)
সিরিয়ায় পূর্ব গৌতার দুমা শহরে কথিত রাসায়নিক হামলার অভিযোগ এনে দেশটির ওপর সামরিক আগ্রাসন চালানোর হুমকি দিচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস বলেছেন, সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক হামলার সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
সিরিয়ার দুমা শহরে কথিত রাসায়নিক হামলার বিষয়ে যখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (সোমবার) বৈঠকে বসতে যাচ্ছে তার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী একথা বললেন। রাসায়নিক হামলার জন্য সিরিয়াকে দায়ী করছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্ব। কিন্তু রাশিয়া বলছে, সিরিয়ার বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ করা হচ্ছে এবং গৌতা এলাকায় সিরিয়ার সেনাদের সফলতা ম্লান করার জন্য পশ্চিমারা রাসায়নিক হামলার ভূয়া খবর নিয়ে হইচই করছে।
কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলে সানির সঙ্গে বৈঠকের আগ মুহূর্তে জেমস ম্যাটিস বলেন, “যেখানে রাশিয়ার মতো দেশ রাসায়নিক অস্ত্র নির্মূলের বিষয়ে গ্যারান্টর হিসেবে রয়েছে সেখানে রাাসয়নিক হামলার ঘটনা কেন ঘটবে -আমরা সে বিষয়টির ওপর নজর দিতে চাই।”
প্রচণ্ড সংঘর্ষে ক্ষতবিক্ষত দুমা শহর থেকে সন্ত্রাসীরা চলে যেতে বাধ্য হয়েছে
কথিত রাসায়নিক হামলার জন্য সিরিয়ার সেনাদের ওপর আমেরিকা বিমান হামলা চালাবে কিনা -এমন প্রশ্নের জবাবে জেমস ম্যাটিস বলেন, “আমি ঠিক এ মুহূর্তে কোনো কিছুই উড়িয়ে দিচ্ছি না।”
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুমায় রাসায়নিক হামলার অভিযোগ এনে রাশিয়া ও ইরানকে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের প্রতি সমর্থন দেয়ার সমালোচনা করেছেন। এর আগেও মার্কিন সরকার এ ধরনের অভিযোগ তুলেছে। তবে কোনোবারই অভিযোগ প্রমাণ করতে পারে নি।

বাবা কি কখনও সন্তানের ঘাতক হন? by হারুন উর রশীদ

হারুন উর রশীদ
মামলাটির এখনও তদন্ত চলছে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনও সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি না। আদালতের রায়ও দেখতে হবে। এরপরও হবিগঞ্জের কিশোরী বিউটি আক্তারকে হত্যার ঘটনায় তার বাবা জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। আর তাদের এই দাবির ভিত্তি হলো—বিউটির বাবা সায়েদ আলী ও কথিত চাচা ময়না মিয়ার আদালতে দেওয়া জবানবন্দি। বিউটির নানি ও ময়না মিয়ার স্ত্রীও সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানন্দি দিয়েছেন।
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের কিশোরী বিউটিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা আমি শুরু থেকেই গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এই ঘটনা একসঙ্গে ঘটেনি। অন্তত তিন-চার মাস ধরে এই ঘটনার পরম্পরা আছে। এর সর্বশেষ দৃশ্যে বিউটির লাশ পাওয়া যায় হাওরে। তাই ঘটনাগুলোর পরম্পরা একটু মিলিয়ে দেখা দরকার।
১.বিউটিকে বাবুল গত কয়েকমাস ধরেই যৌন হয়রানি করে আসছিল। এ নিয়ে গ্রাম্য সালিশে গত ডিসেম্বর মাসে অভিযোগ দেয় তার পরিবার। বিচার মেলে না।
২. অভিযোগ দেওয়ায় বিউটিকে বাবুল ও তার সহযোগীরা তুলে নিয়ে যায় ২১ জানুয়ারি। তাকে উদ্ধারে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। না পুলিশ না সমাজিপতিরা। ওই সময় তাকে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।
৩.গত ২১ ফেব্রুয়ারি কৌশলে বিউটিকে তাদের বাড়িতে রেখে যায় বাবুল।
৪. ১ মার্চ বাবুল ও তার মায়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন বিউটির বাবা।  ৪ মার্চ আসামিদের গ্রেফতারে নির্দেশ দেন আদালত।
৫. হাওরে বিউটির লাশ পাওয়া যায় ১৭ মার্চ।
৬. লাশ পাওয়ার পর পুলিশ বাবুলের মা কলম চান ও এক তরুণকে আটক করে।
৭. র‌্যাব বাবুলকে আটক করে ৩১ মার্চ।
এই ঘটনাপ্রবাহ যা, তাতে সাধারণভাবে বাবুলকেই বিউটি হত্যায় সন্দেহভানভাজন বলে অভিযুক্ত করা যায়। বিউটির বাবা সায়েদ আলী  লাশ উদ্ধারের পর মামলাটি সেভাবেই করেছেন। কিন্তু ৬ এপ্রিল আদালতে সায়েদ আলী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ময়না মিয়াসহ চারজনের জবানবন্দি তদন্তে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
৭ এপ্রিল হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা তা সংবাদ মাধ্যমের কাছে তুলে ধরেন। তার কথা, ‘বিউটির বাবা, ময়না মিয়া ও একজন ভাড়াটে খুনি বিউটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত, বাবুল নয়। বিউটিকে হত্যার সময় বিউটির বাবা সায়েদ আলী দূরে দাঁড়িয়ে ছিল। একজন পেশাদার ভাড়াটে খুনি বিউটির হাত-পা চেপে ধরে রাখে। আর ময়না মিয়া বিউটির শরীরে ছুরি দিয়ে আঘাত করে।’

এই হত্যাকাণ্ডের মোটিভ কী? তার জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, ‘গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর ইউপি নির্বাচনে ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নের ২ নম্বর সংরক্ষিত আসনে ময়না মিয়ার স্ত্রী আসমা আক্তার বাবুল মিয়ার মা কলম চানের কাছে পরাজিত হন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবুলের পরিবারকে ফাঁসাতে বিউটিকে হত্যা করে লাশ হাওরে ফেলে দেন তিনি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ময়না মিয়া বাবুলের মা কলম চানকে নির্বাচনে দাঁড়াতে নিষেধও করেছিলেন। ’
কিন্তু সায়েদ আলী  কেন তার কিশোরী মেয়েকে ময়না মিয়ার প্রতিশোধের বলি হতে দিলেন? তার জবাবে পুলিশ সুপার জানান, ‘ময়না মিয়া বিউটির বাবাকে বুঝিয়েছে বিউটি ‘নষ্ট’ হয়ে গেছে। তার আরও দুই মেয়ে আছে বিউটির কারণে তাদের বিয়ে দিতে সমস্যা হবে। এই কথা বলে বিউটিকে হত্যায় প্ররোচিত করে।’
জবানবন্দিতে এই তথ্য কোথাও পাওয়া যায়নি যে, ময়না মিয়ার কাছ থেকে সায়েদ আলী কোনও সুবিধা নিয়েছেন।
৩১মার্চ বাবুলকে সিলেটের বিয়ানি বাজার থেকে বাবুলকে র‌্যাব গ্রেফতার করার পর বিউটি হত্যায় বাবুল জড়িত না থাকলেও ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে বলে র‌্যাব সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে।
এই ঘটনাপ্রবাহ থেকে তিনটি বিষয় খুবই স্পষ্ট। ১. প্রথমবার গ্রাম্য সালিশে অভিযোগ দিয়ে বিচার পাননি বিউটির বাবা। ২. সালিশে বিচার দেওয়ার ‘অপরাধে’ তার মেয়ে বিউটিকে অপহরণ করে একমাস আটেকে রেখে ধর্ষণ করে বাবুল। কেউ তার মেয়েকে উদ্ধারে সহায়তা করেনি। ৩. এরপর ধর্ষণের মামলা দেওয়া হলেও পুলিশ বাবুলকে আটক করেনি।
পুলিশ যে তার দায়িত্ব পালন করেনি, তার প্রমাণ দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শায়েস্তাগঞ্জ থানার তদন্ত কমকর্তা জাকির হোসেনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
ময়না মিয়ার কথায় কেন রাজি হলেন বাবা!
আমরা এখনও জানি না বিউটির বাবা সায়েদ আলী বিউটি হত্যাকাণ্ডে সত্যিই জড়িত কিনা। তবে পুলিশের ব্রিফিং করা আদলতে দেওয়া জবানবন্দি ধরেই বিশ্লেষণের চেষ্টা করছি। ঘটনা যদি সত্য হয়, তাহলে ময়না মিয়া আমাদের সামাজিক পরিস্থিতি ও বিচারহীনতাকে ব্যবহার করেছে।  গ্রাম্য সালিশে বিচার না পেয়ে বিউটির বাবা হতাশ হয়ে পড়েন।   এরপর ধর্ষণ মামলা করেও কোনও ফল না পাওয়ায় তারা হতাশা বেড়ে যায়। আর ময়না মিয়া আমাদের সামাজিক পরিস্থিতির নেতিবাচক দিক তাকে বুঝিয়ে এক ধরনের ভয়ের মধ্যে ফেলে দেয়। তার দু’টি মেয়ের (তিন ও ছয় বছর বয়স) অন্ধকার ভবিষ্যতের ছবি এঁকে দেখায় ধূর্ত ময়না মিয়া। ধর্ষণের শিকার  ‘কলঙ্কিত’ মেয়ে ও তার প্রভাবে পুরো পরিবার যে সমাজে ‘কলঙ্কিত’ হবে, কোথাও ঠাঁই পাবে না, তা বিউটির বাবার মাথায় ঢুকিয়ে দেয় ময়না মিয়া। এই পরিস্থিতি এক ভয়াবহ শূন্যতা ভর করে। সবকিছু অর্থহীন মনে হয়। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে পড়ে। অন্ধকার ভবিষ্যৎ থেকে মুক্তির পথ খোঁজে। বিউটির দরিদ্র ও লেখাপড়া না জানা বাবা সমাজ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে হয়তো ময়না মিয়ার ফাঁদে পা দেন। বেঁচে থাকার উপায় খোঁজেন সন্তানকে ‘বলি’ দিয়ে! আর ময়না মিয়ারা তাদের স্বার্থ হাসিল করার পথ পায়—প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এক অসহায় বাবার ওপর ভর করে!
বিউটির বাবাকে ময়না মিয়া প্ররোচিত করতে পেরেছে তিন কারণে
১. গ্রাম্য সালিশে বিচার না পাওয়া।
২.পুলিশের কোনও সহযোগিতা না পাওয়া। ধর্ষক গ্রেফতার না হওয়া।
৩. ধর্ষণ-পরবর্তী পর্যায়ে ধর্ষককে নয়, ধর্ষণের শিকার নারীর প্রতি সামাজিক নিন্দা। ‘নষ্ট মেয়ে’র প্রচলিত অপবাদ।
৪.পুরো পরিবারটি বিপর্যয়ের মুখে পড়া।

বিউটিকে জীবন দিতে হতো না:
যদি প্রথমে গ্রাম্য সালিশে বিউটির পরিবার বিচার পেতো, যদি অপহরণের পর বিউটিকে দ্রুত উদ্ধার করা হতো, অথবা ধর্ষণ মামলা হওয়ার পর যদি বাবুল গ্রেফতার হতো, তাহলে বিউটিকে হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হতো বলে আমি মনে করি না। সমাজ যদি বিউটির পরিবারকে সাহস জোগাতো, সালিশের মোড়লরা যদি পরিবারটিকে অভয় দিতো, তাহলে হত্যাকাণ্ড নয়, পরিবারটি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারতো। বিউটি হত্যার দায় তাই সমাজের, পুলিশের, গ্রাম্য টাউট ময়না মিয়ার। আর একজন বাবা সায়েদ আলী সন্তানের হন্তারকের পরিচয় পেয়েছেন তাদের জন্যই।
বাবা যদি সত্যিই ঘাতক হন, তাহলে তাকে তো শাস্তি পেতেই হবে। কিন্তু এই সমাজ, পুলিশের দায়িত্বহীনতা ও সুযোগসন্ধানী টাউটদের বিচার করবে কে?
আমিও একজন বাবা। সায়েদ আলীর ‘হন্তারক বাবা’ হওয়ার এই পুলিশি সরল হিসাব, আদালতে দেওয়া জবানবন্দির ‘অকাট্য দলিল’ আমাকে কষ্ট দেয়। কাঁদায়। প্রশ্ন করি নিজেকে , বাবা কি কখনও সন্তানের ঘাতক হন?
লেখক: সাংবাদিক
ইমেইল:swapansg@yahoo.com

বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়া দেখবে ইসরাইল: সিরিয়া

হোমসের টি-ফোর বিমানঘাঁটি
সিরিয়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, হোমস প্রদেশের সামরিক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য ইহুদিবাদী ইসরাইলকে বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে। দামেস্ক আরো বলেছে, আমেরিকার সমর্থন ছাড়া ইহুদিবাদী ইসরাইলের পক্ষে সাম্প্রতিক হামলা চালানো সম্ভব হয় নি।
জাতিসংঘ মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদকে লেখা এক চিঠিতে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সিরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, চিঠিতে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ ও উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে অব্যাহত সমর্থন দেয়ার পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনা লঙ্ঘনের নীতি অনুসরণ করে আসছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। এরা সিরিয়ার অভ্যন্তরে আগ্রাসন চালানোর জন্য লেবাননের আকাশসীমা ব্যবহার করে দুটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান থেকে  হোমসের টি-ফোর বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়।
সিরিয়ার মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরাইল বার বার এ ধরনের হামলা চালিয়ে তার মিত্র সন্ত্রাসীদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া, সিরিয়ার সেনাদেরকে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে ব্যর্থ করতে পারে নি তেল আবিব। চিঠিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের ভেতরে থেকে সিরিয়ার সরকার নিজের ভূখণ্ড, জনগণ ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাবে। 
গতকাল (সোমবার) দুটি ইসরাইলি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান লেবাননের আকাশ থেকে সিরিয়ার টি-ফোর বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়। বিমানগুলো সিরিয়ার আকাশে প্রবেশ করে নি। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, আটটির মধ্যে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
এর আগে সিরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা ‘সানা’ বলেছিল, বিমানঘাঁটিতে হামলার জন্য মার্কিন বাহিনীকে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। পরে সিরিয়ার সরকারি গণমাধ্যম বলেছে, ইহুদিবাদী ইসরাইল এ হামলা চালিয়েছে।

হিজবুল্লাহকে ঘুষের প্রস্তাব দিয়েছিল আমেরিকা: নাসরুল্লাহ

লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ বলেছেন, প্রতিরোধ আন্দোলনকে ধ্বংস করে দেয়ার কয়েকটি মার্কিন পদক্ষেপ ব্যর্থ হওয়ার পর হিজবুল্লাহ যাতে প্রতিরোধ লড়াই থেকে সরে আসে সে জন্য তাকে অর্থ দিতে চেয়েছিল ওয়াশিংটন।
নাসরুল্লাহ গত (রোববার) বলেছেন, ২০০০ সালে দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের কবল থেকে দক্ষিণ লেবানন মুক্ত করার পর থেকেই আমেরিকা, ইসলাইল এবং তাদের কিছু আঞ্চলিক মিত্র হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে। লেবাননের নাবাতিয়ে শহরে একটি নির্বাচনী জনসমাবেশে দেয়া ভাষণে হিজবুল্লাহ প্রধান এ মন্তব্য করেন। তিনি এ সময় আগামী ৬ মে অনুষ্ঠেয় লেবাননের সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ভোটার উপস্থিতির আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ২০০০ সালে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ের পর তেল আবিবের পাশাপাশি আমেরিকাও উপলব্ধি করেছিল যে, প্রতিরোধ সক্ষমতার মধ্যেই লেবাননের প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে। লেবাননের প্রতিরোধকামী মানুষ কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই তাদের নিজ ভূখণ্ড থেকে দখলদার ইসরাইলকে তাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়। 
নাসরুল্লাহ বলেন, যেকোনো কিছুর বিনিময়ে প্রতিরোধ আন্দোলন বন্ধ করতে হিজবুল্লাহকে এ ব্যাপারে রাজি করানোর জন্য সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি লেবাননের সাংবাদিক জর্জ নাদেরকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, "আমাদেরকে প্রচুর অর্থ দেয়ার পাশাপাশি হিজবুল্লাহকে লেবাননের কর্তৃপক্ষের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। একটিই শর্ত ছিল আমরা যেন প্রতিরোধকামী আন্দোলন থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেই।" এখনো হিজবুুল্লাহ এবং লেবাননের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টির জন্য শত্রুরা নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কোটা সংস্কারের আন্দোলন: কিছু জরুরি ভাবনা by রাশেদা রওনক খান

কাল কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে দুটো জঘন্য ঘটনা ঘটে গেলো:
এক. ছাত্রদের আন্দোলনে পুলিশি আক্রমণ। 
দুই. উপাচার্যের বাসভবনে সন্ত্রাসী আক্রমণ ও হামলা। দুটোই খুব নিন্দনীয়।

প্রথমটির ক্ষেত্রে প্রশ্ন আসে মনে, এই ঔপনিবেশিক ও পাকিস্তানি পদ্ধতি হতে স্বাধীন রাষ্ট্রের চরিত্রের কোনও বদল ঘটে না কেন? উত্তর সোজা!
ঔপনিবেশিক নিপীড়ন-দমনের যে চরিত্র তার লিগেসি বহন করছি আমরা। চাটুকারেরা সবসময় নিজেদের স্বার্থ ছাড়া অন্যকিছু ভাবতে পারে না। সামনের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতেই কি কেউ পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে এই কুপরামর্শ দিচ্ছে? কাল বিকালে যখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে, তখন পুলিশি আক্রমণ না চালিয়ে প্রশাসন হতে ছাত্রদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করার একটা চেষ্টা কি আমরা দেখতে চাইতে পারি না?
আবার অন্যদিকে এই আক্রমণের ফলশ্রুতিতে রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসায় সন্ত্রাসী তাণ্ডব! এর উত্তর কিন্তু সহজ নয়, বরং জটিল! কেননা, এটা আমাদের নৈতিক অবক্ষয়কে সামনে এনে দাঁড় করায়। আমাদের মাথা নিচু করে দিয়েছে এই ঘটনা।  এভাবে এতটা ন্যক্কারজনক ঘটনা এই ঐতিহাসিক বাড়িটি ঘিরে আর ঘটেনি কখনও। কীভাবে সম্ভব হলো এই ধরনের জঘন্য কাজ করার? কারা করলো?
জনপ্রশাসনের প্রজ্ঞাপনটি নিয়ে সরাসরি ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলার একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা যেত। আট বছর ধরে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সরকারের পক্ষে কি খুব অসম্ভব একটি পদক্ষেপ নেওয়া? রাষ্ট্র কি তবে ছাত্রদের সঙ্গে আলাপ- আলোচনার চেয়ে দমন নীতিতে বেশি আগ্রহী? কিন্তু স্বাধীন এই রাষ্ট্রে কেন পুলিশ প্রশাসন ছাত্রদের সঙ্গে আলাপে আসতে বরাবরই ব্যর্থ হয়? কেন দমন-নিপীড়নই পুলিশ বাহিনীর একমাত্র কৌশল? তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কেন রাষ্ট্রের সবসময় পুলিশি সহায়তা প্রয়োজন হয়, তা আমার জানা নেই। কখনোই কোনও কালে ছাত্র আন্দোলন কোনও অযৌক্তিক বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সংগঠিত হয়নি। ‘৪৭, ‘৫২, ’৬৯, ‘৭১  এমনকি ’৯০-এর আন্দোলনেও ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস আমরা ভুলে যেতে পারি না। আর এটা তো ২০১৮। ডিজিটাল বাংলাদেশের ফোর-জি প্রজন্ম! তাদের হাতে এখন নিজেদের জন্যই সময় নেই, নিজের ক্লাস, পরীক্ষা, আইসাইনমেন্ট জমা দেওয়াই তাদের জন্য অনেকক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ে। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে একটি আন্দোলনকে চালিয়ে যাওয়া মানেই হচ্ছে এটা তাদের প্রাণের দাবি। রাষ্ট্রকে বুঝতে হবে তার নাগরিকের কোনটি প্রাণের দাবি কোনটি অস্তিত্বের প্রশ্ন। এই সময়ে খুব বেশি যৌক্তিক পাটাতন না হলে এতো ছাত্র একসঙ্গে জড়ো হওয়া সম্ভব নয়। তাই তাদের দাবি দাওয়ার বিষয়টি সরকারের গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় আনা জরুরি।
অন্যদিকে ছাত্রদের জন্য বিবেচ্য বিষয় হলো, রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামোতে যেমন কুপরামর্শদাতা রয়েছে, তেমনি এই আন্দোলনের মাঝেও কিন্তু অনেক অছাত্র এসে ভিড় করতে পারে, হাজির হতে পারে অনেক কুপরামর্শ নিয়ে, অনেক দলের পক্ষ হয়ে ছদ্মবেশে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সেটাও মাথায় রাখা খুব জরুরি। নিশ্চয়ই খুব গুরুত্বসহকারে বিষয়টি বিবেচনায় রাখবে ছাত্ররা। জনপ্রশাসন হতে যে প্রজ্ঞাপনটি দেওয়া হয়েছে, সেখানে পরিষ্কারভাবে নম্বর ‘খ’-তে লেখা আছে, আমি সরাসরি কোট করছি, ‘সকল সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটার কোনও পদ যোগ্য প্রার্থীর অভাবে পূরণ করা সম্ভব না হইলে সে সকল পদ মেধা তালিকার শীর্ষে অবস্থানকারী প্রার্থীদের মধ্য হতে পূরণ করতে হইবে।’ জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনের  এইটুকুতে সন্তুষ্ট না হয়ে কোটা সংস্কারের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অধিকার শিক্ষার্থীদের আছে। কিন্তু লক্ষ রাখতে হবে, আন্দোলনটি কি অন্যদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে কিনা? এই আন্দোলনকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা তৈরি করতে চায় এমন কোনও গোষ্ঠী লাভবান হচ্ছে কিনা। এটা নির্বাচনি বছর। এই সময়ে  নানা স্বার্থানেষী মহল তৎপর আছে, যেকোনও কিছুর বিনিময়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তারা নিজেদের সুবিধার্থে ক্যাম্পাসকে উত্তপ্ত করতে চায়। হঠাৎ করে একজন ছাত্রের মৃত্যুর গুজব কে বা কারা রটালো, সাধারণের মাঝে বিদ্বেষ তৈরি করলো, এসবই কিন্তু চিন্তার উদ্রেক করে।
কোটা সংস্কারের এই আন্দোলনকে ঘিরে নানা সংশয় তৈরি হয়েছে,কিন্তু কেন? সেই দিকগুলো নিশ্চয়ই বিবেচনা করবে আন্দোলনকারী দল এবং সরকার উভয় পক্ষই।

এক. এই আন্দোলন কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, সারাদেশের সকল ছাত্রদের। তাহলে হঠাৎ করে মাঝরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ভবনে আক্রমণ কেন? এটা আসলে আন্দোলনটির চরিত্রকে পাল্টে দিতে সাহায্য করলো কিনা, তা সাধারণ ছাত্রদের ভেবে দেখতে হবে। বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের আন্দোলনের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কীভাবে জড়িত? এই বাড়িটি কি এতটাই সহজলভ্য যে চাইলেই আক্রমণ করা যায়? এই বাড়ির ইতিহাস-ঐতিহ্য কেন এভাবে ভূলুণ্ঠিত করা হলো? এই বাড়িটি কি কেবল একজন উপাচার্যের, নাকি এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের পূর্বপুরুষদের নানা গৌরবের ইতিহাস? এটাকে কি কোনোভাবে প্রতীকী আন্দোলন বলা যায়, যেখানে আমাদের ইতিহাস- আমাদের অস্তিত্ব-আমাদের গৌরব ভূলুণ্ঠিত হয়? এই ধরনের চিন্তাভাবনা আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্রদের ভাবনা থেকে এসেছে, আমি সেটা একেবারেই মানতে নারাজ। আমি কখনোই মনে করি না, আমাদের ছাত্ররা শিক্ষকের বাসা কিংবা শিক্ষককে কিংবা শিক্ষকের পরিবারকে এভাবে আঘাত করতে পারে? এই শিক্ষা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় হতে বের হচ্ছে শিক্ষার্থীরা, আমি তা মানতে পারছি না। নিশ্চয়ই কোথাও কোনও ষড়যন্ত্র হয়েছে বা হচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এখন নিজেদের প্রশ্ন করে দেখতে হবে, কোথা থেকে কারা এই উস্কানিমূলক আচরণ করলো? আমি একেবারেই বিশ্বাস করতে চাই না, সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ধরনের জঘন্য কাজ করতে পারে। তার মানে হচ্ছে আন্দোলনের চাবিটি এখন আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাতে নেই, অন্যদের হাতেও চলে গেছে।  
দুই. এই প্রজ্ঞাপন জারির পরও কিছু বিষয় আছে, যা বৃহৎ স্বার্থে সরকারের এখন ভেবে দেখা দরকার। আমাদের মতো একটি ছোট্ট দেশে ১৭ কোটি মানুষের তিন বেলা খাবার জোগান হওয়াটাই যেখানে প্রাপ্তির, সেখানে বাড়তি প্রাপ্তি হলো, উন্নয়নের দিকে আমাদের দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলা। এজন্য সরকারের ভূমিকা প্রশংসনীয়। বিশ্বও তার স্বীকৃতি দিয়ে চলছে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এটাও সত্য যে একটি দেশের শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেশি হলে তা সরকারের ভাবমূর্তি অনেকটাই ম্লান করে দেয়। তাছাড়া একটি দেশে বেকারের সংখ্যা যত বাড়বে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডসহ অনেক কিছুই বাড়তে থাকবে জ্যামেতিক হারে। শিক্ষিত বেকারের এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ দেখে এখন আমাদের নতুনভাবে কোটা সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। আমাদের দেশে এখন ৫৬ শতাংশ কোটা থাকার দরকার কিনা, সেই প্রশ্নটা কিন্তু কোনোভাবেই অযৌক্তিক নয়। এটাও আমাদের যুক্তি দিয়ে ভাবার সময় এসেছে। যেকোনো নিয়োগ পদ্ধতিই হওয়া উচিত প্রতিযোগিতামূলক। সেখানে সবচেয়ে যোগ্য জনবল থাকা দরকার, এটাই কিন্তু চরম সত্য। এত পরিমাণ কোটা থাকা আসলেই কতটা যৌক্তিক এই মুহূর্তে আমাদের সেটা ভাবা খুব জরুরি।

তিন. আমাদের কাছে এখনো ৭২-এর সংবিধান সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য, এখনো চাই ফিরে আসুক ৭২-এর সংবিধান। বঙ্গবন্ধুই এই মুক্তিযোদ্ধা কোটা চালু করেছিলেন এবং ‘৭৫ পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে গেলেও ’৯৬-এ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তা আবার চালু করেন। খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু তখন বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল কত আর এখন কত? এখন ২০১৮-তে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা কত, এসবও বিবেচনায় আনতে হবে ২০ বছর পরের সরকারকে। এই মুহূর্তে প্রতি বছর শ্রমবাজারে যুক্ত হচ্ছে ১২-১৩ লক্ষ তরুণ, যাদের প্রায় ৪৮ শতাংশ উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বেকার জীবন দিনাতিপাত করছে। আর কোটা সংস্কারের আন্দোলন তো কেবল মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে নয়, অন্যান্য কোটা নিয়েও ভাবনা চিন্তা থাকতে পারে। প্রায় চার লক্ষ বিসিএস পরীক্ষা দিতে পারলেও আসন আছে মাত্র দুই হাজার দুইশটি। তার মাঝে আবার ৫৫ শতাংশই কোটা ভিত্তিতে নিয়োগ পাচ্ছে, যা এই বিরাট সংখ্যক বেকার তরুণদের জন্য হতাশার। যেকোনও দেশেই কোটা সংস্কারের বিষয়টি রয়েছে। অতএব, প্রয়োজন অনুপাতে এর সংস্কার হতেই পারে। সরকার উদ্ভূত পরিস্থিতি, শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ও নির্বাচনি বছর বিবেচনা করে কিছুটা হলেও সংস্কারের কথা ভাবতে পারে।
চার. ছাত্ররা তাদের দাবি নিয়ে আন্দোলন করতেই পারে, এটা তাদের অধিকার। কিন্তু এই অধিকার আদায়ের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পুলিশি হামলা ঘটনাটিকে অন্যদিকে খুব দ্রুত মোর ঘুরিয়ে দিলো। এখন ছাত্রদের হলগুলোতে কারা হামলা করছে? কেন করছে? কারা জামাত-শিবির, কারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এই আন্দোলনে জড়িত, তা নিয়েও ভাবনা চিন্তা করতে হবে। অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের মতোই সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনগুলোও যে ভেতরে ভেতরে অন্তর্দ্বন্দ্বে নেই, তা ভেবে বসে থাকাটাও খুব বিচক্ষণতার পরিচয় দেওয়া হবে না। সামনে ছাত্রলীগের সম্মেলন, আর সে সম্মেলনকে ঘিরেও হতে পারে এই ধরনের কার্যকলাপ। অন্যান্য দল তাতে সমর্থন দিতে পারে যার যার নিজস্ব লাভ বিবেচনায়। তাই কেন, কারা, কীভাবে ছাত্রদের একটি কোটা সংস্কারের আন্দোলনকে অন্যদিকে রূপ দিচ্ছে সেটাও ভেবে দেখা জরুরি।

পাঁচ. এই মুহূর্তে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ সফরে এসেছেন। ঠিক সেই মুহূর্তে এভাবে ছাত্র আন্দোলনটিতে পুলিশি হামলা চালিয়ে ঢাকা শহরকে উত্তপ্ত করার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ঘটনা শেষ পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর করা–এই পুরো প্রক্রিয়াটি খুব আশঙ্কাজনক। উপাচার্যের বাসভবনে নিশ্চয়ই অনেক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা আছে। সেগুলো দেখে খুব শিগগিরই ব্যবস্থা নিতে যেমন হবে, তেমনি দেখতে হবে কারা কেন কীভাবে ঠিক এই সময়টিকেই বেছে নিয়েছে এই ন্যক্কারজনক হামলা চালানোর জন্য। জানা গেলো, হামলাকারীরা সিসি টিভির হার্ডডিস্ক নষ্ট করে ভেঙে দিয়ে গেছে, যা খুবই আশঙ্কাজনক। এভাবে যারা হামলা করে, তারা খুব পরিকল্পিতভাবে এগিয়েছে, তাদের যে ছবি আমরা কিছু দেখতে পাচ্ছি তাতে তাদের খুবই এসব কাজে পারঙ্গম মনে হচ্ছিল, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে এভাবে হামলা সম্ভব বলে আমার মনে হয় না। যারা আন্দোলন করছিল, তাদের চেহারা আর এই চেহারার তফাৎ দিন আর রাতের মতো পরিষ্কার|
ছয়. তাছাড়া ফেসবুকে কিংবা কিছু অনলাইন পোর্টাল  পাশের দেশের আন্দোলনের কিছু ছবি পোস্ট করে তরুণদের বিভ্রান্ত করছে, সেটাও খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। কোনও ছবি দেখেই উত্তেজিত না হয়ে আমাদের ছবিটির উৎস এবং কে বা কারা কোন উদ্দেশ্য নিয়ে এই ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাও লক্ষ রাখা জরুরি। তাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভাবতে হবে, এই পোড়া ঘরে কে বা কারা আলু পোড়া দিয়ে খেতে চাচ্ছে।
রাশেদা রওনক খান
সবশেষে বলতে চাই, বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, এই অহংকার ও আত্মপ্রত্যয় হতেই বলছি, তার প্রতি আস্থা রাখুক শিক্ষার্থীরা। তিনি শিক্ষার্থীদের আবেদন নিশ্চয়ই বিবেচনা করবেন, এটা আমার বিশ্বাস। কোটা বাতিল তো করার কথা বলা হচ্ছে না, কেবল কিছুটা সংস্কার চায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মুক্তিযোদ্ধা কোটা ছাড়াও আরও কিছু কোটা আছে, জেলা কোটাসহ অন্যান্য কোটাগুলোতে সংস্কার করা যেতে পারে। যে চারটি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে তিনি দ্বিতীয় সেরা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, তার একটি হচ্ছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা। আশা করছি, সকল দিক বিবেচনা করে কোটা সংস্কারের বিষয়টি তিনি বিবেচনা করবেন। আমরা সবাই একটি ভালোবাসার বাংলাদেশ চাই, যেখানে থাকবে না ছাত্রদের ওপর পুলিশি আক্রমণ, যার ফলশ্রুতিতে আবার ছাত্রদের নাম ভাঙ্গিয়ে একটি স্বার্থান্নেষী দল উপাচার্যের বাসভবনে হামলার মতো নিষ্ঠুর ও জঘন্য কাজ করতে পারে। সকল রকম ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তি পাক আমার দেশ, ভালো থাকুক আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস।
লেখক: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

গাজা অবরোধের অবসান না হওয়া পর্যন্ত গণ আন্দোলন চলবে: হামাস

হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়া
গাজা অবরোধের অবসান না হওয়া পর্যন্ত গণ আন্দোলন চলবে: হামাস ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, গাজা উপত্যকার ওপর থেকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের অবরোধ তুলে না নেয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে গণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
ইসরাইল সীমান্তে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিবাদ শিবিরে দেয়া বক্তৃতায় ইসমাইল হানিয়া গতকাল (সোমবার) একথা বলেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা ফিলিস্তিনে ফিরব, আমাদের গ্রাম ও বায়তুল মুকাদ্দাস শহরে ফিরব।” 
হামাস নেতা বলেন, “যদিও আমরা চলমান ‘মার্চ অব রিটার্ন’ কর্মসূচি নিয়ে দ্বিতীয় সপ্তাহ পার করেছি এবং শান্তিপূর্ণ ও জনপ্রিয় এই আন্দোলনের অনেক লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে তবু তা এখনো শুরুর পর্যায়ে রয়েছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “প্রয়োজন হলে হামাস আবার ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে প্রস্তুত রয়েছে।”
গত ৩০ মার্চ ফিলিস্তিনের ভূমি দিবস উপলক্ষে গাজা সীমান্তে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সেনারা গুলি চালালে ২০ জন নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি শহীদ হন। এরপর গত শুক্রবার একই ধরনের কর্মসূচিতে ইহুদিবাদী সেনারা গুলি চালিয়ে ১০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। এ নিয়ে সারা বিশ্বে ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে নানামুখী সমালোচনা চলছে।

আফগানিস্তানকে একমাত্র রাশিয়া সাহায্য করতে পারে: কারজাই

আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই
আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেছেন, সন্ত্রাসবাদকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে তার দেশকে একমাত্র রাশিয়া সাহায্য করতে পারে। তালেবানের হাতে রয়েছে প্রচুর অস্ত্র এবং তাদেরকে মোকাবেলা করতে হলে রাশিয়ার সাহায্য দরকার।
এক টিভি সাক্ষাৎকার কারজাই বলেন, “আমি খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছি যে, যদি আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সঙ্গে রাশিয়া নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলে তাহলে মস্কো আমাদেরকে সাহায্য করতে পারবে। যে ব্রিটেনকে আমরা কয়েকবার বের করে দেয়ছি তারা পারবে না; আমেরিকাও পারবে না বরং তারা আমাদেরকে ১৭ বছর ধরে হত্যা করছে; শুধুমাত্র রাশিয়া পারবে।”
রুশ টিভি চ্যানেল এনটিভিকে হামিদ কারজাই আরো বলেন, “সন্ত্রাসীদের জন্য আমরা হলাম শেষ বাধা। আমরা দেড়শ বছর ধরে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে লড়াই করছি।”
আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট বলেন, মস্কো সবসময় আফগানিস্তানকে সাহায্য করেছে এমনকি সোভিয়েত আগ্রাসনের সময়ও। তিনি বলেন, সেসময় আমরা অবশ্যই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি তবে মস্কো তখন বহু স্কুল ও হাসপাতাল তৈরি করে দিয়েছে। সে যুদ্ধের পর আমেরিকা আল-কায়েদা তৈরির কাজ করেছে এবং পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পকে আল-কায়েদা তৈরির কাজে ব্যবহার করে। আফগান যুদ্ধের পর আমেরিকা একমাত্র পরাশক্তি হতে চেয়েছিল; সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর তারা তা হয়েছিল। আফগান যুদ্ধ ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের অন্যতম কারণ বলেও উল্লেখ করেন হামিদ কারজাই।
আফগানিস্তানে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের হাজার হাজার সদস্য রয়েছে বলে জানান তিনি। হামিদ কারজাই বলেন, “আফগানিস্তানের আকাশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে আমেরিকা; তাদের অনুমতি ছাড়া আফগানিস্তানের আকাশে কিছুই উড়তে পারে না। এ অবস্থায় আমি আফগানিস্তান থেকে মার্কিনিদের বের করে দেয়ার চেষ্টা করেছি কিন্তু আমি ব্যর্থ হয়েছি।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তিন চ্যালেঞ্জ: বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন

বিশ্বব্যাংক মনে করে, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে তিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, মূল্যস্ফীতি ও বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা এবং রাজস্ব ঘাটতি। তবে এসব চ্যালেঞ্জ বাড়া-কমা  রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করবে। এছাড়া   ঝুঁঁকির ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে ব্যাংকিং খাতই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। এদিকে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গতকাল শেরেবাংলা নগর বিশ্বব্যাংকের আবাসিক কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট ২০১৮’ প্রতিবেদন প্রকাশকালে সংস্থাটির মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন এসব চ্যালেঞ্জের কথা বলেন। এ সময় বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি চিমিয়াও ফান, জনসংযোগ কর্মকর্তা মেহরীন এ মাহবুব উপস্থিত ছিলেন।
জাহিদ হোসেন বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতিতে আরো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনের হার কম। রপ্তানি প্রথম নয় মাসে ভালো হলেও তা ২০১৬ সালের একই সময়ের চেয়ে ২.৭ শতাংশ কম। রপ্তানির বহুমুখীকরণের কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। ব্যাংকে তারল্য সংকটের কারণে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নেই। বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েই চলেছে। এটা কমার লক্ষণ কম। ভোক্তা ব্যয় বেড়েছে যেটা চ্যালেঞ্জ। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির জন্য বেশ কয়েকটি পরামর্শও দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। জাহিদ হোসেন বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিতে হবে।
এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সাময়িক হিসাব করে বলেছে, চলতি অর্থবছরের ৭.৬৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি হবে। এই হিসাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রবৃদ্ধির হিসাব নিয়ে কিছু প্রশ্ন করেছে বিশ্বব্যাংক।
প্রশ্নগুলো হলো এত প্রবৃদ্ধি কি অর্থনীতির সক্ষমতার অতিব্যবহার নাকি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা? এত প্রবৃদ্ধির জন্য কাঠামোগত পরিবর্তনের কোনো প্রমাণ নেই। সংস্থাটি বলছে, দেশে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ কমেছে, সেবা খাতের প্রবৃদ্ধিও নেতিবাচক। তারপরও প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে, যা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে বিশ্বব্যাংক মনে করে, এ দেশে ৬.৫ থেকে ৬.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের সম্ভাবনা আছে। সরকারি হিসাবে তা অতিক্রম করে ফেলেছে।
জাহিদ হোসেন বলেন, বিশ্বের যে কয়টি দেশ প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের বেশি হয়েছে, তাদের জিডিপির তুলনায় বিনিয়োগ অথবা রপ্তানি বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দুটিই বেড়েছে। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। কেননা বাংলাদেশে সরকারি বিনিয়োগ বাড়লেও ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ স্থবির। কমেছে রপ্তানি আয়। এক্ষেত্রে শুধু ভোগের উপর ভিত্তি করে প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। যা বিশ্বে একেবারেই ব্যতিক্রম। তিনি বলেন, তথ্য-উপাত্ত দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা বিবিএসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। আসলে এর সমপর্যায়ে কেউ নেই। তবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে যে তথ্য দিয়েছে তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন ও সংশয় আছে। বিবিএস সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকলেও এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না বিষয়টা এমনটা নয়। তিনি বলেন, এটা ব্যতিক্রমী প্রবৃদ্ধি, আগামীতে এই নিয়ে ঝুঁঁকি দেখা দেবে।
জাহিদ হোসেন বলেন, প্রতিবছর জিডিপির হার বাড়লেও সেই তুলনায় দারিদ্র্যসীমার হার কমছে না। এ থেকে বোঝা যায় বৈষম্য বেড়েছে। প্রবৃদ্ধি দারিদ্র্যবিমোচনে ভূমিকা রাখতে পারছে না। রংপুরে কিছু এলাকায় দারিদ্র্যের হার বেড়েছে, রাজশাহী ও খুলনায় তেমন অগ্রগতি হয়নি বলে জানান তিনি। প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির সঙ্গে দারিদ্র্যবিমোচন যেভাবে হওয়ার কথা তা হয়নি। দারিদ্র্য কমছে ঠিকই, কিন্তু সেই দারিদ্র্য কমার গতি কমে গেছে। জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের আয়ের প্রবৃদ্ধি ২.৭ এবং কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি ২.২ শতাংশ। আয় ও কর্মসস্থানের প্রবৃদ্ধির চিত্র যদি এমন হয় তবে বছর শেষে সাড়ের ৬ শতাংশের বেশি হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে জাহিদ হোসেন বলেন, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি বৃদ্ধি ও আমানত কমে যাওয়ায় তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। এসব উত্তরণে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে তাতে ব্যাংকখাতে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে।
বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফ্যান বলেন, বাংলাদেশ গত কয়েক বছর ধারাবাহিকভাবে ৭ শতাংশ জিডিপিতে গ্রোথ করছে। তবে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যাংকিং সেক্টরে খেলাপি ঋণ কমানোর ব্যাপারে জোর দিতে হবে। তিনি বলেন, বছরের শুরুতেই দুটি বন্যার পরও উচ্চপ্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। রপ্তানি বাণিজ্য ও রেমিটেন্স প্রবাহের ধারা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরেছে, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। তবে রাজস্ব ঘাটতির কারণে কর জিডিপির অনুপাত ৮.৮ শতাংশেই আছে। শুধু মধ্যম আয়ের দেশ হলে হবে না রাজস্ব আয়ও মধ্যমমানের হতে হবে। মহিলা ও তরুণদের কর্মসংস্থানে যুক্ত করতে হবে। ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে হবে। উচ্চ সুদের হার কমাতে হবে। আর্থিকখাতে উল্লেখযোগ্য সংস্কার আনতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক নেই। ওটা জাতিসংঘের হিসাব। তবে বিশ্বব্যাংক হিসাব করে মাথাপিছু আয়ের ওপর। এই হিসেবে বাংলাদেশের সুদহার নির্ধারণ হবে। আশঙ্কার কোনো কারণ নেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে তিনটি খাতের উপর ভিত্তি করে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হিসাব করা হয়, বিশ্বব্যাংক ও বিবিএস-এর হিসেবের মধ্যে ফারাক আছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, চলতি অর্থবছর কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হবে ৩.৩ শতাংশ, যা বিবিএস-এর হিসাব ৩.০৬ এর চেয়ে বেশি। তবে শিল্প ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি বিবিএস-এর তথ্যের তুলনায় বিশ্বব্যাংকের হিসাব কম হবে। বিশ্বব্যাংকের হিসেবে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হবে ৯.৪ শতাংশ, যা বিবিএস-এর হিসেবে হবে ১৩ শতাংশের বেশি। সেবা খাতে চলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধি হবে ৫.৭ শতাংশ। কিন্তু বিবিএস বলেছেন ৬.৩৩ শতাংশ হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়াবে ৫.৯ শতাংশে, যা গত অর্থবছরে ছিল ৫.৪ শতাংশ। এছাড়া আগামী ২০১৮-১৯ এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে আর বেড়ে গিয়ে দাঁড়াবে ৬.২ শতাংশ।
ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে বৈপরীত্য রয়েছে। অর্থাৎ যদি খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়ে তাহলে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কমে। আবার যদি খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বাড়ে তাহলে খাদ্যে কমে। এভাবে সার্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তা নিয়ে ভাববার বিষয় আছে। এক্ষেত্রে অস্থিতিশীলতাই মূল্যস্ফীতিকে স্থিতিশীল রাখছে।
চলতি অর্থবছর ব্যক্তিখাতের ভোগ কমে দাঁড়াবে ৫.৫ শতাংশ, যা গত অর্থবছর ছিল ৭.৪ শতাংশ। এছাড়া আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে একই থাকবে এবং ২০১৯-২০ অর্থ সামান্য বেড়ে ৫.৬ শতাংশ হবে। অন্যদিকে সরকারি খরচ চলতি অর্থবছরে সামান্য বেড়ে দাঁড়াবে ৮ শতাংশে, যা গত অর্থবছর ছিল ৭.৮ শতাংশ। বলা হয়েছে, মোট স্থায়ী মূলধনী বিনিয়োগ বেড়ে হবে ১১.৯ শতাংশ, যা গত অর্থবছরে ছিল ১০.১ শতাংশ। অবশ্য বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস বলছে, আগামী দুই অর্থবছরে মূলধনী বিনিয়োগের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমবে।
জাহিদ হোসেন বলেন, ব্যাংকে তারল্য সংকটের কারণ হচ্ছে ব্যক্তিখাতে ঋণ প্রবাহ বেড়েছে, অন্যদিকে ডিপোজিট কমেছে। ডলারের বিপরীতে টাকা অবমূল্যায়ন এবং সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বেড়েছে। এ মুহূর্তে করণীয় সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক বলেছে, আর্থিক খাতের দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার, অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা, শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতের বিষয়টি বিশেষ নজর দেয়া, বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া, রপ্তানি শুধুমাত্র তৈরি পোশাকের উপর নির্ভর না করে বহুমুখীকরণ জরুরি।

রাজাকারের বাচ্চাদের দেখে নেবো: কোটা সংস্কার নিয়ে মতিয়া

সরকারি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের তুলোধুনা করেছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। সোমবার সংসদ অধিবেশনে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পরিষ্কার বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধ চলছে, চলবে। রাজাকারের বাচ্চাদের আমরা দেখে নেবো। তবে ছাত্রদের প্রতি আমাদের কোনও রাগ নেই। মতলববাজ, জামায়াত-শিবির, তাদের এজেন্টদের বিরুদ্ধে সামান্য শৈথিল্য দেখানো হবে না।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী কোটা সংস্কারের আন্দোলন নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনার সূত্রপাত ঘটান। পরে বিষয়টি নিয়ে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও কয়েকজন এমপি বক্তব্য রাখেন। কেউ কেউ কোটা সংস্কারকে যৌক্তিক উল্লেখ করে বিষয়টি বিবেচনার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী রাতের আঁধারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসায় হামলার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘এটা শিক্ষার্থীদের জন্য একটা কলঙ্কজনক ইতিহাস। প্রতিবাদ করতে মুখোশ কেন পরতে হবে? মুখোশ কারা পরে? যারা ভণ্ড, প্রতারক তারাই মুখোশ পরে। সাহস থাকলে মুখটা দেখাও। ইতর হওয়ার একটা সীমা আছে।’
কৃষিমন্ত্রী বলেন, জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে বলে বগুড়ায় যে তাণ্ডব হয়েছিল সেটা দেখতে তিনি গিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় বগুড়া আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা ছাদের ওপর দিয়ে অন্য বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। একই স্টাইলে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরের সেই শক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসায় হামলা চালিয়েছে।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, যারা দেশের জন্য জীবন বাজি রাখেন, পৃথিবীর সব দেশে তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ থাকে। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরা সুযোগ পাবে না, রাজাকারের বাচ্চারা সুযোগ পাবে? তাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংকুচিত হবে? রাজধানীকেন্দ্রিক একটি এলিট শ্রেণি তৈরির চক্রান্ত চলছে। তারই মহড়া গতকাল আমরা দেখলাম।
তিনি বলেন, যারা সাঈদীকে চাঁদে নিয়ে যায়, মুখোশ পরে হামলা করে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলব তাদের কোনও ক্ষমা নেই। তাদের ক্ষমা করা যাবে না। এই দেশে হয় তারা থাকবে, না হয় আমরা থাকবো।
রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, কোটা সংস্কারের দাবি যুক্তিসঙ্গত। নাগরিকদের দাবি জানাবার, আন্দোলন করার অধিকার আছে। কিন্তু উপাচার্যের বাড়িতে যে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, তা কি ভুল নাকি অনুপ্রবেশ; সেটা একটা বিষয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমনটা ঘটেনি। সন্ত্রাস, নৈরাজ্য কেন?
স্বতন্ত্র এই এমপি কোটা সংস্কারের দাবির প্রতি নৈতিক সমর্থন জানান। তিনি বলেন, এ নিয়ে মন্ত্রিসভা ও সংসদে আলোচনা হতে পারে। সংসদীয় একটি কমিটি করা যেতে পারে। এই কমিটি সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরর নেতৃত্বে যে আলোচনা চলছে, এর সহায়ক হবে। ন্যায়সঙ্গত একটা সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, উপাচার্যের বাড়িতে রাতে প্রবেশ করে ফ্রিজ, আলমারি ভাঙা মালামাল তছনছ করাকে দাবি আদায়ের আন্দোলন বলতে পারি না।
ইমরান এইচ সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে তারানা হালিম বলেন, একজন ব্যক্তির ফেসবুক পেজে আহত একজনকে নিহত বলে পোস্ট দেওয়া হয়েছে। যিনি মারা গেছেন বলে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া হলো, ওই ব্যক্তি পরে নিজে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন তিনি বেঁচে আছেন।
তারানা হালিম বলেন, দাবি যৌক্তিক বা অযৌক্তিক হতে পারে। তবে সহিংসতা যৌক্তিক হতে পারে না।
বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) এমপি আবুল কালাম আজাদ বলেন, কোটা সংস্কারের আন্দোলন আর স্বাভাবিক আন্দোলনে সীমাবদ্ধ নেই। এটি বহুমাত্রিক ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অতি উৎসাহী পুলিশ এই কার্যক্রমকে বেগবান করেছে। এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করেছে। আন্দোলনকারীদের উত্তেজিত না করে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজ করতে হবে। একইসঙ্গে তিনি একটি সংসদীয় কমিটি গঠনের দাবি জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে সংরক্ষিত নারী আসনের সরকারদলীয় এমপি সাবিনা আক্তার তুহিন বলেন, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকারের বিরুদ্ধে কেন মামলা হচ্ছে না? কেন তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না?
তিনি বলেন, ইমরানের ফেসবুক পোস্টের কারণে সারা দেশে আন্দোলনকারীরা ফুঁসে উঠে। ইমরান একের পর এক সরকারের বিরুদ্ধে নাটক সাজাচ্ছে। আমরা আর ঘরে বসে থাকব না। প্রতিরোধ করবো।

হিন্দু-মুসলিম বিরোধ উস্কে দেয়ার চেষ্টা

ভারতে হিন্দু-মুসলিম বিরোধ উস্কে দেয়ার চেষ্টা করেছেন বিজেপি দলীয় একজন এমএলএ বানওয়ারি লাল সিঙ্গাল। রাজস্থানের এই এমএলএ হিন্দুদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা যেনো কোনো মুসলিমকে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করতে না দেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। সোমবার এই পত্রিকাকে ওই এমএলএ বলেছেন, মুসলিমরা স্বভাবতই সব রকম অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তাই তিনি নিজের বাড়ি, অফিসে কোন মুসলিমের প্রবেশ অনুমোদন করেন না। এমনকি মুসলিমদের ভোটও তিনি চান না। তিনি বলেছেন, মুসলিমরা বিজেপিকে ভোট দেয় না। আমি তাদের কাছে ভোট চাইতেও যাই না। তাদের কাছে ভোট চাওয়ার অর্থই হলো তারা স্বভাবতই যেসব অপরাধ করে থাকে সেই অপরাধের দায় থেকে তাদেরকে সরে আসতে সহায়তা করা। মুসলিমদের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব সব সময়ই আমি বজায় রাখি এবং এটাই হলো তার প্রধান কারণ। উল্লেখ্য, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে অতীতে সম্পর্ক ছিল বিজেপি দলীয় এই এমএলএর। তাদের অভিযোগ, মুসলিমরা গরু হত্যা, ‘লাভ জিহাদ’দের মতো অপরাধে জড়িত। তারা ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করে। প্রতারণা করে। টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, এ বছর জানুয়ারিতে রাজস্থানের আলওয়ার আসনে উপনির্বাচনে পরাজিত হয় বিজেপি। এরপর থেকেই এমন বিতর্কিত মন্তব্য করেই যাচ্ছেন বিজেপির এই এমএলএ। রোববার আলওয়া এলাকায় নিজস্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলেন বানওয়ারি লাল সিঙ্গাল। এ সময়েই তিনি কোনো প্ররোচণা ছাড়াই মুসলিম বিরোধী বক্তব্য দেন। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চায় টাইমস অব ইন্ডিয়া। এ সময় তিনি সোমবার আরো জোরালোভাবে তার বক্তব্য তুলে ধরেন। বলেন, আলওয়ার ও ভরতপুর জেলায় যেসব সুপরিচিত নব্য মুসলিম আছেন তারা বিশেষ প্যাকেজ পেয়েছেন। তারা সেই প্যাকেজের অধীনে ‘লাভ জিহাদ’ চালিয়ে যাচ্ছেন। এর অধীনে মুসলিম যুবকরা হিন্দু মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করছেন। সিঙ্গাল বলেন, ওই এলাকায় নব্য মুসলিমদের (মিও মুসলিম) মধ্যে লাভ জিহাদ রীতিতে পরিণত হয়েছে। তারা ভুয়া আইডি তৈরি করে ফেসবুকে। এর মাধ্যমে হিন্দু মেয়েদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। তারা হিন্দু মেয়েদের বিয়ে করে তাদের জীবনকে নরক বানিয়ে ফেলছে। অন্যদিকে মুসলিম যুবতীরা অশিক্ষিত হওয়ায় তারা হিন্দু যুবকদের ভালবাসেও না, বিয়েও করে না। এ সময় তিনি মুসলিম যুবকদের এমন লাভ জিহাদের ফাঁদে পড়ার জন্য হিন্দু নারীদের তিরস্কার করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা প্রশ্নে মুখ খুললেন কিম জং উন

প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দলীয় সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে ওয়াশিংটন-পিয়ংইয়ং এর মধ্যকার আলোচনার ‘সম্ভাবনা’র কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে কিমের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে সম্মতি প্রকাশ করলেও এ সম্মেলন নিয়ে এতোদিন নীরব ছিল পিয়ংইয়ং।
মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের মধ্যে বৈঠক আয়োজনের জন্য বিভিন্ন প্রস্তুতি চলছে। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তাদের মধ্যে কখনও সরাসরি আবার কখনও গোপন বৈঠক হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তৃতীয় একটি দেশে কয়েকবার মিলিত হয়েছেন এবং কথা বলেছেন। যদি বৈঠক আয়োজনের এ প্রচেষ্টা সফল হয় তবে এটাই হবে কোনও ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতার প্রথম সাক্ষাৎ। সোমবার (৯ এপ্রিল) ট্রাম্প জানান, মে মাসে কিংবা জুনের শুরুর দিকে তিনি কিমের সঙ্গে আলোচনা করতে চান।
এর মধ্যেই উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানায়, দেশটির নেতা সোমবার (৯ এপ্রিল) উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্কের উন্নয়ন এবং উত্তরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। তবে কিম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
এর আগে রবিবার (৮ এপ্রিল) নাম প্রকাশ না করে এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান,সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে হওয়া এক গোপন বৈঠকে পিয়ংইয়ং সরাসরি এ নজিরবিহীন বৈঠকে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনার ব্যাপারেও সরাসরি সম্মতি জানিয়েছে তারা।  দক্ষিণ কোরিয়ার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনার ব্যাপারে পরোক্ষভাবে সম্মতি জানালেও ওয়াশিংটনের দাবি, এবার পিয়ংইয়ং এর কাছ থেকে সরাসরি সম্মতি পেয়েছে তারা। ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, যোগাযোগ এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম বছরেই কিম যুক্তরাষ্ট্রে আঘাতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা করেন। পিয়ংইয়ং দাবি করে,তারা হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করেছে। এরপরই কিম বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে দক্ষিণের সঙ্গে আলোচনায় রাজি হন এবং পরে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দেন। ট্রাম্প বারবার পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতির কথা বলে আসছেন। কিন্তু চীন উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। চীনই এখনও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়নি।
অন্যদিকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে ওয়াশিংটনের সংজ্ঞার সঙ্গে পিয়ংইয়ং একমত কিনা সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ চায় ওয়াশিংটন।  এর আগে আলোচনার সময় ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু পরীক্ষা বন্ধ রেখেছিল উত্তর কোরিয়া। যদিও অধৈর্য হয়ে বা দাবি আদায় হবে না এমন পরিপ্রেক্ষিতে আবার পরমাণু কর্মসূচি শুরু করে পিয়ংইয়ং।

সিরিয়ায় হামলা চালালে ভয়াবহ পরিণতি বরণ করতে হবে: আমেরিকাকে রাশিয়া

রাশিয়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, রাসায়নিক হামলার কথিত অজুহাতে সিরিয়ায় সামরিক হামলা চালালে আমেরিকাকে ভয়াবহ পরিণতি বরণ করতে হবে। জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া গতকাল (সোমবার) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি বলেন, “হামলা করার জন্য সিরিয়ার হাতে কোনো রাসায়নিক অস্ত্র নেই।” তিনি আরো বলেন, “সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের মাধ্যমে আমরা আমেরিকাকে এ তথ্য দিয়েছি যে, সিরিয়া সরকারের অনুরোধে দেশটিতে সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া এবং মিথ্যা অভিযোগে সিরিয়ায় সামরিক হামলা চালালে আমেরিকাকে মারাত্মক পরিণতির মুখে পড়তে হবে।”
নেবেনজিয়া বলেন, রাসায়নিক অস্ত্র বিষয়ক আন্তর্জাতিক নজরদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত মঙ্গলবারের মধ্যেই সিরিয়ায় তদন্তকারী পাঠানো। তিনি বলেন, “আমাদের সামরিক বাহিনী, তেজস্ক্রিয়, জীবাণু ও রাসায়নিক অস্ত্র বিষয়ক ইউনিটগুলো কথিত রাসায়নিক হামলার ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং তারা সেখান থেকে জানিয়েছে যে, রাসায়নিক হামলার মতো কোনো কিছু পাওয়া যায় নি। সেখানে কোনো মৃতদেহ পাওয়া যায় নি। বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত কোনো ব্যক্তিকে হাসাপতালে পাওয়া যায় নি। দুমার ডাক্তাররাও বলেন নি যে, সেখানো রাসায়নিক হামলার শিকার কোনো ব্যক্তি ভর্তি হয়েছে। সিরিয়ার রেড ক্রিসেন্টও এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নি। এ অবস্থায় আমরা আন্তর্জাতিক রাাসয়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ প্রতিষ্ঠান ওপিসিডাব্লিউ-কে সিরিয়ার ঘটনা তদন্ত করে দেখার অনুরোধ করছি।” 
গত শনিবার সন্ত্রাসী অধ্যুষিত পূর্ব গৌতার দুমা শহরে সিরিয়ার সেনাদের বিরুদ্ধে রাসায়নিক হামলার গুজব ছড়ানো হয় এবং ওই হামলায় কয়েক ডজন লোক মারা গেছে বলে দাবি করা হয়। কিন্তু সিরিয়া ও রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জোরালোভাবে নাকচ করে। এ নিয়ে গতকাল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠকে বসে। সিরিয়া ও রাশিয়া দু দেশই বলেছে, দুমায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সিরিয়ার সেনাদের সাফল্য ম্লান করে দিতেই আমেরিকা এ অভিযোগ তুলেছে।