Sunday, June 10, 2018

চোখ এখন চার সিটিতে by লুৎফর রহমান

সব ঠিক থাকলে বছর শেষে জাতীয় নির্বাচন। আপাতত এ লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তার আগে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন করে টেস্ট পরীক্ষা দিয়েছে ইসি। এ পরীক্ষায় পাস-ফেলের হিসাব-নিকাশ কষছে দেশের মানুষ। বিরোধী পক্ষের দাবি খুলনায় ব্যর্থতাকে পুঁজি করেই ফিরেছে নির্বাচন কমিশন। দৃশ্যত নির্বাচন নিয়ে কে এম নূরুল হুদা কমিশন সন্তোষ প্রকাশ করলেও ভেতরের পর্যালোচনা ইসির জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল না। অনিয়মের কারণে তিনটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত এবং ইসির অভ্যন্তরীণ তদন্তে খোদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। অনিয়ম করেছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর লোকজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল তাদের অনেকটা সহযোগী। খুলনার নির্বাচনের মাস পেরুতেই গাজীপুরে আরেক বড় পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ইসি বলছে, খুলনার ভুলের পুনরাবৃত্তি হবে না এ সিটিতে।
জাতীয় নির্বাচনের জন্য গাজীপুরকে তারা একটি মডেল নির্বাচন হিসেবে দাঁড় করাতে চান। এ লক্ষ্য নিয়ে নিজেদের ছক আর কৌশল নির্ধারণ করছে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি। ঈদুল ফিতরের দিন কয়েক পরেই গাজীপুরে ভোট। খুলনার সঙ্গে একই দিনে ভোটের তফসিল হলেও আদালতের আদেশে নাটকীয়ভাবে আটকে যাওয়া ও পরবর্তীতে নতুন নির্ধারণ হওয়া গাজীপুরের ভোট নিয়ে দেশবাসীর রয়েছে আগ্রহ। ঢাকার পাশে বড় এ সিটিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি শক্তিশালী প্রার্থী দিয়েছে। এ সিটির আগের নির্বাচনে বিএনপির দখল করা মেয়র পদটি নিজেদের করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতারা ঘাম ঝরাচ্ছেন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। এখানে আওয়ামী লীগের বড় সমস্যা অভ্যন্তরীণ কোন্দল। দলের জনপ্রিয় নেতা টঙ্গী পৌরসভার সফল মেয়র অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান গত নির্বাচনে হারের পর এবার দলীয় মনোনয়নের দৌড়েও হেরেছেন।
দলীয় প্রার্থী হয়েছে তরুণ প্রজন্মের নেতা জাহাঙ্গীর আলম। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বিরোধ অনেকটা প্রকাশ হয়ে পড়লে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে তা অনেকটা দৃশ্যত প্রশমিত হয়েছে। কিন্তু আদতে সেই বিরোধ মেটার ওপরই নির্ভর করবে এ সিটিতে দলীয় প্রার্থীর জয়-পরাজয়। তবে পরিস্থিতি যাই হোক আওয়ামী লীগ এ সিটিতে দলীয় প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করতে চায়। নেতারা মনে করছেন জাতীয় নির্বাচনের আগে এসব সিটিতে সুষ্ঠু ভোট করে যেমন সরকার পরীক্ষায় পাস করতে চায় তেমনি দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করে দলের জনপ্রিয়তার বিষয়টিও দেশবাসীর কাছে উপস্থাপন করতে চায়। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার শুরু থেকেই নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষপাতের অভিযোগও আছে তার। তবে যেকোনো পরিস্থিতিতে নির্বাচন করে বিএনপি দেশবাসীকে দুটি বার্তা দিতে চায়। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে দলের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে চায় দলটি। আর নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে বর্তমান কমিশন দিয়ে জাতীয় নির্বাচন সম্ভব নয় এমন বার্তা দিতে চাইবে দেশবাসীকে। এমন অবস্থায় গাজীপুরে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় এক চ্যলেঞ্জ। গাজীপুরের নির্বাচনের এক মাসের মাথায় হবে আরো তিন গুরুত্বপূর্ণ সিটি নির্বাচন। ৩০শে জুলাই নির্বাচন হবে সিলেট, রাজশাহী ও বরিশালে। জাতীয় নির্বাচনের অল্প সময় আগে এই তিন সিটির নির্বাচন ইসির জন্য অনেকটা অগ্নি পরীক্ষার মতোই। এ তিন সিটির নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকেই চলবে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি। নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের বিরোধের মধ্যে নির্বাচন কমিশন ইস্যু হিসেবে সামনে আসবে কিনা তাও নির্ধারণ হবে এ তিন সিটির নির্বাচনে। ইতোমধ্যে গাজীপুরসহ চার সিটিতে ভোটের হাওয়া বইছে। মাঝপথে প্রচার প্রচারণা থেমে যাওয়া গাজীপুর সিটির প্রার্থীরা ঈদের পর সাত দিন সময় পাবেন প্রচারের। ইতোমধ্যে অনানুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারণা চলছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে মন্ত্রী-এমপিরা প্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ বিএনপির প্রার্থীর। ভোট বন্ধের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এবং পুলিশের মামলার কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা এখনো পুরোদমে মাঠে ফিরেননি। ঈদের পরে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হলে হয়তো ফিরবেন।
নির্বাচন কমিশন বলছে এ সিটির জন্য তারা আলাদা কৌশল নির্ধারণ করেছেন। নিজস্ব তদারক দল বাড়ানো হবে। বেশি সংখ্যায় ম্যাজিস্ট্রেট দেয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও বাড়ানো হবে। ইসির এ প্রস্তুতি যদি কোনো কারণে বুমেরাং হয় তাহলে পরবর্তী তিন সিটির নির্বাচনেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিএনপি ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়ে রেখেছে গাজীপুরের অবস্থা দেখে পরবর্তী তিন সিটির নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ তিন সিটি নির্বাচনের মাঠে প্রার্থী ঠিক করছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। সিলেটে দুই দলেরই প্রার্থী অনেকটা চূড়ান্ত। এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে লড়তে পারেন এ সিটির সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমেদ কামরান। বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আবারও বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন এটা অনেকটা নিশ্চিত।
এই প্রার্থীকেই এখানে লড়তে হবে দলীয় কোন্দলের বিরুদ্ধে। এখন পর্যন্ত এ সিটিতে পরিবেশ শান্তিপূর্ণ হলেও দলীয় কোন্দল নির্বাচন পরিস্থিতে প্রভাব ফেলতে পারে স্থানীয়দের এমন শঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্যও আওয়ামী লীগ বিএনপির প্রার্থী পুরনো মুখই। বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের হয়ে লড়বেন সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। নগরীতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন তিনি। তবে বিএনপির প্রার্থী এখন চুপচাপ। দলটির নেতারা বলছেন, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী নিয়ম ভেঙে প্রচারণা চালাচ্ছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। বরিশালের অবস্থা অবশ্য একটু ভিন্ন। এ সিটিতে দু্‌ই দলেই প্রার্থী নিয়ে জটিলতা আছে। দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত না হওয়ায় নির্বাচন নিয়েও খুব একটা আলোচনা নেই। তবে প্রার্থী যেই হোন না কেন বিএনপির হাতে থাকা এ সিটির মেয়র পদটি নিজেদের আয়ত্তে আনতে কঠিন লড়াইয়ে নামতে হবে বিএনপিকে। সাধারণ বরিশালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অতীত অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর নয়। নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, সামনে নির্বাচনটি গ্রহণযোগ্য করতে নিজেরে সামর্থ্যের সবটুকু ঢেলে দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। সমানভাবে আইন প্রয়োগের বিষয়ে তাদের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।
উল্লেখ্য, সিলেট সিটিতে সর্বশেষ ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ই জুন। এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৮ই অক্টোবর। একই দিনে রাজশাহী সিটিতেও ভোট হয়। তবে এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৫ই অক্টোবর। একই দিনে ভোট হওয়া বরিশাল সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ২৩শে অক্টোবর। ২০১৩ সালের একই দিনে খুলনা সিটিতেও নির্বাচন হয়েছিল। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের আগে এ চার সিটিতে সুষ্ঠুভাবে ভোট করতে পেরেছিল আগের নির্বাচন কমিশন। চার সিটিতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়ে চমক দেখান বিএনপির প্রার্থীরা।

সন্তানের দিকে নজর দিন: কেন বিপথে কিশোরেরা? by মরিয়ম চম্পা

প্রযুক্তি বদলে দিয়েছে বহুকিছু। গ্রাম থেকে শহর। কিশোর-তরুণদের আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। কমেছে খেলার মাঠ, বিনোদনের জায়গা। যৌথ পরিবার ভেঙে তৈরি হয়েছে একক পরিবার। একই ভবনে বসবাস করা এক পরিবারের কাছে অন্য পরিবার অচেনা। পারিবারিক বন্ধনের শিথিলতা আর প্রযুক্তির আগ্রাসন তৈরি করেছে নানা সংকটের। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ জড়িয়ে   পড়েছে নানা অপরাধে। মাদকাসক্তি, ইভটিজিং, খুনাখুনিসহ নানা অপকর্মে উঠছে তাদের নাম। পশ্চিমা আদলে গড়ে উঠছে কিশোর গ্যাং।
শিশু-কিশোরদের অপরাধ কার্যক্রম থেকে দূরে রাখতে পারিবারিক বন্ধন জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সমাজ ও মনোবিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, মূলত পরিবারের যতেœর অভাবেই শিশু-কিশোররা বিপথে চলে যাচ্ছে। সমাজও এক্ষেত্রে দায় এড়াতে পারে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, সন্তানের সঠিক পরিচর্যা, তাদের হাত খরচ, নিয়মিত স্কুলে যায় কি না, তারা কোথায় কি করছে এসব বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখতে হবে। এক্ষেত্রে বাবা ব্যস্ত থাকলে মাকে দায়িত্ব নিয়ে সন্তানের সব ভালো মন্দের খোঁজ রাখতে হবে। সমাজে যেসব সন্তান আজ প্রতিষ্ঠিত তাদের প্রত্যেকের পেছনে বাবা মায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। যেসব বাবা মা তাদের সন্তানদের পেছনে নিবিরভাবে লেগে থাকেন তাদের সন্তানরা বিপথে যাওয়ার সুযোগ পায় না। একই সঙ্গে ঢাকা শহরের প্রত্যেকটি অ্যাপার্টমেন্টের মালিকদের প্রত্যেকটি ভবনে বাচ্চাদের খেলার জন্য একটি নির্দিষ্ট প্লে গ্রাউন্ড রাখার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, নিজ সন্তানের প্রতি নজর রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্বের ভেতরে পরে। তাই বাবা মায়ের উদ্দেশ্যে একটাই মেসেজ থাকবে সন্তানের সঙ্গে মিশুন, তার কথা শুনুন এবং আপনার ব্যক্তিগত কিছু সুখ দুঃখের গল্প বা বিষয় বন্ধুসুলভ আচরণ নিয়ে শিক্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করুন। এতে করে বাবা মায়ের প্রতি সন্তানের আস্থা ও বিশ্বাস বাড়বে। একইসঙ্গে আপনার সন্তানের যদি ব্যক্তিগত কোনো অভাব, আকাক্সক্ষা, না পাওয়ার বেদনা, ক্ষোভ থাকে সেটাও সে অনায়াসে আপনার সঙ্গে শেয়ার করবে। এতে করে সন্তান বিপথে যাবে না। এক কথায় সন্তান ও বাবা মায়ের মধ্যে কোনো গ্যাপ থাকবে না।
সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক রাশেদা ইরশাদ নাসির বলেন, আমার সন্তানের দিকে আমাকেই নজর দিতে হবে। আপনার সন্তানের দিকে আপনার। এটা অনেক আদি সময় থেকেই চলে আসছে। যার যার সন্তান তার তার সম্পদ। কাজেই নিজের ব্যক্তিগত সম্পদকে আমি কিভাবে নিরাপত্তা দেবো সেটা আমার উপর নির্ভর করে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. নাসরীন ওয়াদুদ বলেন, কিশোর সন্তানকে বিপথ থেকে ফিরিয়ে আনতে বাবা মা দু’জনেরই বাচ্চাকে সময় দিতে হবে। তাদের নিয়ে সপ্তাহ অন্তর ঘুরতে যেতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। তারা কি বলতে চায় সেটা মন দিয়ে শুনতে হবে। কোনটা তাদের জন্য ভালো, কোনটা মন্দ সেটা তাদের বুঝাতে হবে, দেখাতে হবে, শিখাতে হবে। কারণ একটা বাচ্চা মানুষ করা সোজা কথা নয়। সত্যি বলতে আমরা নিজেরাই কনফিউজড যে বাচ্চাকে আমরা বুকে জড়িয়ে ধরে মানুষ করবো, নাকি ডে কেয়ার সেন্টারে রেখে। বর্তমান সময়ে আমরা বাবা মায়েরা এতো বেশি আধুনিক আর ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত থাকি যে বাচ্চাকে প্রপার টাইম দেয়ার মতো যথেষ্ট সময়ই থাকে না। প্রত্যেক বাবা মায়েরই উচিত নিজ নিজ বাচ্চার কাছে একজন মডেলে পরিণত হওয়া। যেন তারা বড় হয়ে বাবা মায়ের মতোই হতে চায়। আর বাচ্চারা যদি কোনো মডেল বা আইডলই না পায় তাহলে তারা বড় হবে কিভাবে, আর স্বপ্নই দেখবে কিভাবে।
সমাজ পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইদানিং শিশু কিশোরদের একটা বিশাল অংশ, যারা ছোট্টবেলা থেকেই স্মার্টফোনে আসক্ত। দেড় দুই বছরের বাচ্চা বাবা মায়ের ফোন নিয়ে গেম ডাউনলোড করে খেলছে। বাবা-মা ভীষণ গর্বিত। সেই বাচ্চারা নিজের বাসায় সারাক্ষণ ফোনে মুখ গুঁজে পড়ে থাকে। এমনকি আত্মীয় বন্ধুর বাড়িতে গিয়েও ফোনখানা নিয়ে নিঃশ্বাস বন্ধ করে খেলতে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তার বদলে বাবা মা কী পায়? পায় নিরবচ্ছিন্ন আড্ডার সুযোগ। সন্তান তাদের বিরক্ত করে না। তার বদলে ভবিষ্যতে বাবা মা এমন একটি ছেলে বা মেয়ে পায় যে প্রযুক্তি ও পণ্য আসক্ত, কল্পনাশক্তিহীন এবং বইপাঠে অনিচ্ছুক। আজ যে স্মার্টফোনটা সে ব্যবহার করে, কাল নতুন ফোনের জন্য তার বায়না খুব স্বাভাবিক। আজ যে বাচ্চাটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করার কোনো কারণ নেই, তারই একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকে ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রামে। অথচ যে বয়সে সন্তানের হাতে তুলে দেয়ার কথা রঙবেরঙের বই, রঙিন পেন্সিল, সেই বয়সে তারা তুলে দেন স্মার্টফোন আর ওয়াইফাই কানেকশন। এখানে অসুবিধা একটাই রঙিন বই, খাতা আর রং পেন্সিল দিয়ে বসিয়ে সেগুলো ব্যবহারের সময় সন্তানের পাশে থেকে তাকে সময় দিতে হয়। কিন্তু স্মার্টফোনে তো তা না করলেও চলে। ফলে ফোনটি তার হাতে দিয়ে নিজেদের জগতে চলে যাওয়া খুব সহজ। কিন্তু তারা জানেনও না, কত বড় ক্ষতি তারা সন্তানের করেন।
নাবিল আল নাহিয়ানের বয়স মাত্র চার বছর। পশ্চিম তেজতুড়ি বাজারের এ্যঞ্জেলস হাইস্কুলের নার্সারির শিক্ষার্থী। সকালে ঘুম থেকে উঠে মায়ের হাত ধরে গুটি গুটি পায়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে পথ চলা তার। ছোট্ট নাহিয়ানের পছন্দের খাবার হচ্ছে দুধভাত আর চকোলেট। চকোলেট খাওয়ার আশির্বাদে মুখের দাঁত প্রায় সবগুলোতেই পোকা ধরেছে। বাবা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মা সরকারি কর্মকর্তা। বড় ভাই খুশবু ক্লাস সেভেনে পড়েন। বাবা মা দু’জনেই চাকরিজীবী হওয়াতে প্রায় সময় দুই ভাই খুশবু আর নাহিয়ানকে একা বাসায় থাকতে হয়। খুশবু সবসময়ই একটু লাজুক ও চুপচাপ প্রকৃতির। এদিকে নাহিয়ান পুরোটাই তার বিপরীত মেরুতে অবস্থান। দুষ্টুমি আর চঞ্চলতা যেন তার রক্তে মিশে আছে। সম্প্রতি তার শখ জেগেছে নিজস্ব একটি ফোন ও সিম চাই। সবার ফোন আছে তাদের ফোনে অনেকেই ফোন দেয় কিন্তু নাহিয়ানের ফোনতো নেই এমনকি তাকে কেউ ফোন দেয় না। সরকারি কর্মকর্তা ছোট মামা তুষারকে একদিন কানে কানে বললো মামা আমার একটি ফোন চাই। ভাগনের ছোট্ট এই আবদার রাখতে মামা কিংবা বাবা মা কেউই না করেনি। এখন নাহিয়ানের নিজস্ব একটি ফোন হয়েছে। পরিচিত কেউ কেউ মাঝে মধ্যে তাকে ফোন দিলে সে রিসিভ করে কথা বলে। বাকিটা সময় সে ফোনে গেমস খেলাতেই ব্যস্ত সময় পার করে। ছোট্ট এই বয়সে নাহিয়ানের রয়েছে আলাদা ডেক্সটপ এমনকি ওয়াইফাই সংযোগ। যেটাতে সে মন চাইলেই কার্টুনসহ বিভিন্নভাবে ভার্চুয়াল জগতে ব্যস্ত থাকতে পারে। একটা সময় বিকাল হলেই তার বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গেলেও আজকাল সে প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকেই বেড় হয় না। হয়তো এমন করে একদিন সে ভুলে যাবে তার প্রিয় খেলার মাঠটিকে। বিকালে মা অফিস থেকে ফিরে হয়তো নাহিয়ানকে যে সময় দেয় সেটা তার জন্য পর্যাপ্ত নয়। রাতে বাবা যখন বাসায় ফিরে তখন হয়তো প্রায় রাতেই ঘুমিয়ে থাকে ছোট্ট নাহিয়ান। নাহিয়ানের মতো অনেক শিশু-কিশোরই বড় হচ্ছে অনেকটা সমাজ বিচ্ছিন্ন মানুষ হিসেবে।

অস্ট্রিয়ায় সরকারি নির্দেশে ৭ মসজিদ বন্ধ ঘোষণা

তুরস্কের অর্থায়নে পরিচালিত ৭টি মসজিদ বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে অস্ট্রিয়ার সরকার। শুক্রবার দেশটির চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ এক নির্দেশে বলেন, অস্ট্রিয়ার আইনে ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ (বৈদেশিক অর্থায়নে পরিচালিত মুসলিম প্রতিষ্ঠান) নিষিদ্ধ। তুরস্কের অর্থায়নে পরিচালিত এই মসজিদগুলো সে আইনের লঙ্ঘন করেছে। এছাড়া, এসব মসজিদের ইমামদের অস্ট্রিয়ায় বসবাস করতে দেয়া হবে কিনা সে বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস ও বিবিসি।
খবরে বলা হয়, অস্ট্রিয়ায় কোন 'সমান্তরাল সমাজ', রাজনৈতিক ইসলাম এবং উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হবার প্রবণতার জায়গা নেই। চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ তার নির্দেশে এই বিষয়টি উল্লেখ করেন। যে মসজিদগুলো বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তার মাধ্যে তিনটিই রাজধানী ভিয়েনাতে অবস্থিত। এ ছাড়া সরকার 'আরব ধর্মীয় কমিউনিটি' নামে একটি সংগঠন ভেঙে দেবার পদক্ষেপ নিয়েছে। কর্তৃপক্ষের সন্দেহ,  কয়েকটি মসজিদের সঙ্গে তুরস্কের জাতীয়তাবাদীদের স¤পর্ক আছে।
এপ্রিল মাসে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি স্কুলের বাচ্চারা তুরস্কের সেনার পোশাক পরে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কার গালিপোলির যুদ্ধ নিয়ে একটি নাটকের দৃশ্যে অভিনয় করছে। এ ছবি ফাঁস হওয়ার পর তা অস্ট্রিয়ায় তীব্র বিতর্ক তৈরি করে। এই স্কুলটি উগ্র তুর্কী জাতীয়তাবাদী গ্রুপ ‘গ্রে উলভস’ দিয়ে পরিচালিত বলে মনে করা যায়। বিভিন্ন দেশে যার শাখা রয়েছে। এছাড়া, অস্ট্রিয়ার ২৬০ জন ইমামের মধ্যে ৬০ জনের ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে। এদের মধ্যে ৪০ জন এআইটিবি নামে তুর্কী সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি মুসলিম গ্রুপের সদস্য।
অস্ট্রিয়া সরকারের মসজিদ বন্ধ করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে তুরস্ক। দেশটির প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, অস্ট্রিয়ার উদ্যোগে ইসলাম-বিদ্বেষ, বৈষম্য এবং বর্ণবাদের প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন - ভিয়েনা মুসলিম জনগোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে সস্তা রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চাইছে।
উল্লেখ্য, অস্ট্রিয়ায় নির্বাচনের সময় কুর্জের প্রচারাভিযানে অভিবাসন এবং মুসলিমদের মূল সমাজের সাথে মুসলিমদের সংযুক্তির বিষয়টি ব্যাপক প্রাধান্য পায়।  দেশটিতে এখন যে কট্টর ডানপন্থী জোট সরকার ক্ষমতায়, তারা নির্বাচনে জিতেছিল অভিবাসন এবং রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার কথা বলে। প্রায় নব্বই লাখ মানুষের দেশ অস্ট্রিয়ায় মুসলিমের সংখ্যা ছয় লাখ। এদের বেশিরভাগই তুরস্ক থেকে আসা অভিবাসী বা তুর্কীদের বংশধর।
অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সেবাস্টিয়ান কুর্জ যখন এর আগে মন্ত্রী ছিলেন, তখন অনেক ইসলাম-বিরোধী আইন করেছিলেন। এবার তিনি আরও একধাপ এগিয়ে সাতটি মসজিদ এবং প্রায় চল্লিশ জনের মতো ইমামকে বহিস্কারের ঘোষণা দিলেন। ভিয়েনায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অস্ট্রিয়ায় পাশাপাশি দুটি ভিন্ন ধারার সমাজ চলতে পারে না। কুর্জ আরো চান যে তুরস্কের ইইউ সদস্যপদ পাবার আলোচনা যেন ভেঙে দেয়া হয় - যার কারণে তুর্কী প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ক্রুদ্ধ হন।

রোহিঙ্গা নিপীড়নের বর্ণনা দিতে গিয়ে কানাডার সিনেটে কাঁদলেন বব রে

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠীটির ওপর চালানো নিপীড়নের বর্ণনা দিতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়েছেন কানাডার রাজনীতিক বব রে। মিয়ানমারে নিযুক্ত কানাডার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত রে দেশটির সিনেট কমিটির কাছে বলেছেন ধর্ষণের কারনে জন্ম নেওয়া শিশুদের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের জেনেটিক প্রমাণ হাজির করা যায়। তিনি বলেন, ধর্ষণ আর নিপীড়নের শিকার হওয়া অনেক রোহিঙ্গা এখন নিজেদের দেশে ফিরতে চায় না। কানাডার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজ জানিয়েছে, কমিটির কাছে বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে নিপীড়িত এক শিক্ষিত মানুষের বর্ণনা দিতে গিয়ে অশ্রু সামাল দিতে পারেননি বব।
রোহিঙ্গাদের নিপীড়নের বর্ণনা দিতে গিয়ে কাঁদলেন বব রে
রোহিঙ্গাদের নিপীড়নের বর্ণনা দিতে গিয়ে কাঁদলেন বব রে
গত বছরের আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানামর সেনাবাহিনী। খুন, ধর্ষণ আর অগ্নি সংযোগের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে জাতিগত নিধনযজ্ঞ আখ্যা দিলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিশেষ দূত হিসেবে বব রেকে নিয়োগ দেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। এই বছরের মার্চে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের কানাডায় আশ্রয় ও চলমান মানবিক সংকটের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির সুপারিশ করেন তিনি।
গত বুধবার (৬ জুন) কানাডার সিনেটের মানবাধিকার কমিটির কাছে স্বাক্ষ্য দেন বব। বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা ছিল খুব কঠিন আর আবেগতাড়িত অভিজ্ঞতা। সেখানকার মানবিক সংকটের পরিধি আপনাদের কাছে বর্ণনা করা আমার পক্ষে সম্ভব না। সে হিসেবে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে হচ্ছে। আমার আশঙ্কা আমাদের প্রাণহানি দেখতে হবে আর তাহলে আমি তা সহজভাবে নিতে পারবো না।’
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের সময় বব
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের সময় বব
বব অভিযোগ করেন সত্যি হলো সেখানে (মিয়ানমারে) কোনও নিয়মকানুন বা আধুনিক যুদ্ধপরিস্থিতির আচরণ চর্চার বালাই নেই-বেসামরিক নাগরিকেরা নিয়মিতভাবে লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে আর ধর্ষণ নিপীড়নের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি জানান, অনেক নারী তাদের গ্রামে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা তাকে বলেছেন।বব বলেন, এই যুদ্ধ বেসামরিক নাগরিকদের আক্রান্ত করেছে আর সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর সবচেয়ে নৃশংস উপায়ে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
ধর্ষণের কারণে অনেক শিশুর জন্ম হচ্ছে জানিয়ে বব বলেন, এদের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের জেনেটিক প্রমাণ হাজির করা যায়। বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর বলেও জানান তিনি। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট বলছে রোহিঙ্গা শিবিরে প্রতিদিন প্রায় ৬০জন শিশুর জন্ম হচ্ছে।
বাংলাদেশের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির
বাংলাদেশের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির
রোহিঙ্গা শিবিরের এক শিক্ষিত ব্যক্তির কথা বলতে গিয়ে সিনেট কমিটির কাছে বব বলেন, তিনি আমাকে জড়িয়ে দীর্ঘসময় ধরে কাঁদতে শুরু করলেন আর বললেন, তাদেরকে বলেন আমরা মানুষ। রোহিঙ্গা শিবিরে অল্প বয়সের শিশুদের দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে নিজের কান্না আটকাতে পারেননি বব রে।  তিনি বলেন, শিবিরগুলো অল্প বয়সী মানুষে ভর্তি আর একজন বাবা ও দাদা হিসেবে যে বিষয়টি আমি তাদের শিশু বলে মনে করেছি।
কানাডার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত বব রে
কানাডার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত বব রে
বাংলাদেশে পালিয়ে আসা সাত লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরাতে গত নভেম্ববরে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে মিয়ানমার। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াায় সম্পৃক্ত করতে  গত মঙ্গলবার  জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তি সআবক্ষর করে মিয়ানমার।  এর পরদিন কানাডার সিনেট কমিটির কাছে স্বাক্ষ্য দেন বব। চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গারা নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী ফেরত যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তবে বব বলেন, যারা নিপীড়নের শিকার হয়েছে, ভূমি আর সম্পদ হারিয়েছে বা ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীরা ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী না। তিনি বলেন, ‘ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ভালো পরামর্শ নয়। আমি এটা বলছি কারণ আমি তাদের কথা শুনেছি। তারা ফেরত যাচ্ছে না। তারা নড়বে না।’
জুনের শেষ নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের মেয়াদ শেষ করবেন বব। সিনেট কমিটির কাছে তিনি আশা প্রকাশ করেন দেশটির লিবারেল সরকার সমমনা দেশগুলোকে সম্পৃক্ত করে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সাড়া দেওয়া অব্যাহত রাখবে।
চলতি সপ্তাহে কানাডায় অনুষ্ঠিত শিল্পোন্নত দেশগুলোর গ্রুপ জি-৭ এর শীর্ষ নেতাদের সম্মেলনে মিয়ানমার ইস্যু তোলা হবে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের ফাইলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে তাদর সরকার। আন্তর্জাতিক সহায়তা ও রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের স্বচ্ছতার জন্য কানাডা চাপ প্রয়োগ করে যাবে বলেও জানান ওই মুখপাত্র। এই সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যোগ দিতে ইতিমধ্যে কানাডার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন তিনি।