Tuesday, June 30, 2026
হরমুজের নিয়ন্ত্রণ কার?
শুধু স্নায়ুযুদ্ধই নয় একই সঙ্গে সামরিক সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর। এতে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি আবারো স্থবির হয়ে পরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও উভয় পক্ষ উত্তেজনা বাড়াবে না বলে জানিয়েছে তবে যেকোন সময় ফের সংঘাত শুরু হতে পারে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে তা নিয়ে এখন বিশ্বে চলছে টান উত্তেজনা। এই পরিস্থিতিতে ‘স্ট্রেইট অব হরমুজ’ বা হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে প্রথম বৈঠক হয়েছে। ওমানের মাস্কাটে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশ প্রণালিটি পরিচালনার বিষয়ে একটি সাধারণ সমঝোতায় বা যৌথ বোঝাপড়ায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। এ খবর দিয়েছে এএফপি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে কাজেম ঘারিবাবাদি জানান, ওমান একটি উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে এই প্রণালির ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হতে সমর্থন জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা মনে করে যে, প্রণালিতে প্রদত্ত বিভিন্ন সেবার বিপরীতে ফি বা শুল্ক আদায় করা উচিত। এই লজিস্টিকস ও শিপিং রুট নির্ধারণের জন্য আগামী সাত থেকে আট দিনের মধ্যে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কারিগরি কমিটি গঠন করা হবে। হরমুজ প্রণালির এই নতুন সেবা শুল্ক নিয়ে আমেরিকার সাথে ইরানের তীব্র মতবিরোধ চলছে; ওয়াশিংটন যেকোনো ধরনের শুল্ক আরোপের ঘোর বিরোধী। এর আগে ওমান জানিয়েছিল যে, তারা কোনো পারাপার ফি বা প্যাসেজ ফি নেবে না এবং জাতিসংঘের সমন্বয়ে একটি অস্থায়ী সামুদ্রিক করিডোর তৈরি করবে। যার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান তাদের নিজস্ব উপকূলবর্তী রুট ব্যবহারের জন্য জাহাজে হামলা চালিয়ে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল।
এদিকে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন সোমবার ঘোষণা করেছেন যে, হরমুজ প্রণালিকে মাইনমুক্ত করতে এবং নিরাপদ সামুদ্রিক চলাচল নিশ্চিত করতে ফ্রান্স ও ওমান আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের ফ্রান্স সফরের পর ম্যাক্রন সামাজিক মাধ্যম এক্সে এই ঘোষণা দেন। তবে ফ্রান্সের এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছে তেহরান। কাজেম ঘারিবাবাদি এক্সে দেয়া এক পোস্টে স্পষ্ট জানান, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ-এর ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী ইরান এককভাবেই হরমুজ প্রণালি মাইনমুক্ত করার কাজ সম্পন্ন করবে। চুক্তি অনুযায়ী প্রায় ৮০টি মাইন অপসারণের দায়িত্ব সম্পূর্ণ ইরানের। ঘারিবাবাদি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান মাইন অপসারণের এই প্রক্রিয়ায় অন্য কোনো দেশকে অংশ নিতে দেবে না। একই সাথে তিনি হরমুজ প্রণালির সংবেদনশীল ও জটিল পরিস্থিতিকে ফ্রান্সের এমন উসকানিমূলক পদক্ষেপ দিয়ে আরও জটিল না করার জন্য কঠোর বার্তা দিয়েছেন। বিশ্বের পরাশক্তিরা চাইছে এই জলপথে নিজেদের প্রভাব থাকুক। অপরদিকে ইরান চাইছে এর কর্তৃত্ব শুধুই তাদের হাতে থাকবে। এতে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে তা সহসাই মিটবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে না। বিশ্ব অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ করিডোর যত দ্রুত সম্ভব উন্মুক্ত করণে সকল পক্ষকে একটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ আশু প্রয়োজন।

About: Mids
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রামমন্দিরে অর্থ আত্মসাতে কোনো মুসলিম জড়িত থাকলে যোগী সরকার এতক্ষণে এনকাউন্টারে হত্যা করত: ওয়াইসি
গতকাল সোমবার উত্তর প্রদেশের পশ্চিমের বিজনৌর জেলায় এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে হায়দরাবাদের এই আইনপ্রণেতা ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘রামমন্দির ট্রাস্টে যদি কোনো মুসলিম থাকতেন, তাহলে এতক্ষণে সরকার তাঁকে এনকাউন্টারে হত্যা করত এবং তাঁর বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিত।’
অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণে ‘বিলম্ব’ হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওয়াইসি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বহুল আলোচিত এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পুলিশ এমনকি হেফাজতে নেওয়ার আবেদনও করছে না।
এ নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়তে গিয়ে ওয়াইসি বলেন, ‘ট্রাস্টে একজন মুসলিমকে রাখলেই হতো। তারপর তাঁকে এনকাউন্টারে হত্যা করে এবং তাঁর বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়ে মামলাটি শেষ করে দেওয়া যেত। কিন্তু এখন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন।’
এ সময় উপস্থিত জনতা জোরালো করতালির মাধ্যমে ওয়াইসির এ বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান।
অযোধ্যায় বিতর্কিত ভূমিতে রামমন্দির নির্মাণের পক্ষে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় আসার পর ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’ গঠন করা হয়। এই ট্রাস্ট মন্দির নির্মাণকাজ দেখভালের দায়িত্ব পায়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রামমন্দির তৈরির কাজ উদ্বোধন করেন। মন্দির নির্মাণের জন্য ভক্তরা কোটি কোটি রুপি আর্থিক অনুদান ও গয়না দান করেন।
মোদির মন্দির নির্মাণকাজ উদ্বোধনের আড়াই বছর পর এখন সেই অনুদানের কোটি কোটি রুপি নয়–ছয় ও আত্মসাতের অভিযোগে ভারতজুড়ে তোলপাড় চলছে।
অনুদানের অর্থ চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর রামমন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই পদত্যাগ করেছেন।
ওয়াইসি এ নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ সুরে বলেন, ‘চম্পত তো দিব্যি সুখে আছেন।’
কয়েক দিন আগেও ওয়াইসি উত্তর প্রদেশ সরকারকে একই প্রশ্ন করেছিলেন। সেবার তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘এ মামলার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কি গুলি চালানো হবে বা তাদের বাড়ির ওপর কি বুলডোজার চালানো হবে—যেমনটি রাজ্যটিতে মুসলিমদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।’
রামমন্দিরের অনুদানের অর্থ চুরির ঘটনা ভারতজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং তা বড় ধরনের রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলো যোগী আদিত্যনাথ সরকারকে তীব্র সমালোচনার মুখে ফেলেছে।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের জনসমক্ষে তোলা প্রশ্নের মধ্য দিয়ে যে বিষয়টি শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠনের মাধ্যমে তদন্তে রূপ নেয়। এরপর কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাসভবনে তল্লাশি চালানো হয়, অপ্রদর্শিত নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয় এবং মন্দিরের কর্মী ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে, অভিযুক্ত ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এই বিতর্ক রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে এবং মন্দিরের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে ব্যাপক সংস্কারের দাবিও জোরদার করেছে।
চম্পত রাইয়ের পদত্যাগের পর ট্রাস্টি অনিল মিশ্রও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
গত ২৫ জুন ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনের অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় প্রথম এফআইআর দায়ের করা হয়। এফআইআরে আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়। তাঁরা হলেন—অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব ও রাম শঙ্কর যাদব (টিন্নু নামেও পরিচিত)।
তাঁদের সবাই রামমন্দিরের অনুদান গণনার কাজে যুক্ত কর্মী। তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া এফআইআরএ আরও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নামও এতে নেই।
২৬ জুন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করে এমন যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করবে।
অনুদানের ঠিক কী পরিমাণ অর্থ চুরি গেছে তার সঠিক পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, মন্দিরের হিসাব থেকে প্রায় ৭ বা সাড়ে ৭ কোটি রুপি নগদ অর্থের হিসাব মিলছে না। এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ রুপি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
| আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ও যোগী আদিত্যনাথ। ছবি: এএফপি ও এএনআই |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘কালো’ ও ‘মোটা’ বলে কটাক্ষ, সমালোচকদের জবাব মিস ইউনিভার্স পাকিস্তানের
ভিডিওতে রোমা রিয়াজ বলেন, ‘ফরসা হওয়াই সৌন্দর্যের মাপকাঠি—এই “বিষাক্ত বিশ্বাস” থেকেই এমন সমালোচনার জন্ম। তাঁর মতে, বর্ণবাদী মানসিকতার কারণেই আমরা ফরসা হওয়ার পেছনে ছুটি এবং নিজেদের শিকড় ভুলে যাই।’ রোমা আরও বলেন, ‘আমার সবটুকু জুড়ে আমি একজন পাকিস্তানি। আমার এই গায়ের রং তাদেরই পরিচয় বহন করে, যারা আমাদের ঘর আর দেশটাকে গড়ে তুলেছেন।’
রোমা আরও বলেন, তিনি শুধু পাকিস্তানকেই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার সেই নতুন প্রজন্মের নারীদের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যাঁরা সমাজের ঠিক করে দেওয়া সৌন্দর্যের সংকীর্ণ সংজ্ঞায় আটকে থাকতে চান না।
ভিডিওতে কথা বলার সময় রোমা প্রশ্ন তোলেন, কেন মানুষ নিজেদের দেশের নারীদের ছোট করতে এত তৎপর? তিনি বলেন, তিনি সারা বিশ্বকে বলে বেড়াচ্ছেন যে পাকিস্তানের মানুষ কতটা সুন্দর, অথচ সেই মানুষেরাই তাঁকে নিয়ে নেতিবাচক কথা ছড়াচ্ছেন। সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সবারই নিজস্ব মতামতের অধিকার আছে, কিন্তু যদি ভালো কিছু বলার না থাকে, তবে পাকিস্তানের সম্মানের স্বার্থে দয়া করে চুপ থাকুন।’
তরুণীদের উদ্দেশে রোমা রিয়াজ বলেন, ‘যেসব মেয়েকে ‘‘বেশি কালো, অন্যদের চেয়ে আলাদা’’ বলে ট্যাগ দেওয়া হয়েছে, তাঁরাও অন্য সবার মতোই পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন।’
সম্প্রতি একটি ইভেন্টে শাড়ি পরা নিয়েও সমালোচনার শিকার হন রোমা। এর জবাবে তিনি বলেন, ‘শাড়ি, সালোয়ার–কামিজের মতোই পাকিস্তানি।’ তিনি স্পষ্ট করে দেন, পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক ইতিহাস মুছে ফেলা বা নতুন করে লেখার কোনো সুযোগ নেই।
এর আগে দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসবের জবাব দিয়ে রোমা বলেন, ‘আমার গায়ের রং পাকিস্তানের মাটির প্রতীক। আমি এমন এক সময়ের প্রতিনিধিত্ব করি, যখন সৌন্দর্যের প্রচলিত ধারণাগুলো ক্লিশে হয়ে পড়েছে। আমি কালো, আমি বডি পজিটিভিটির অ্যাম্বাসেডর, আমার উচ্চতা খুব বেশি নয়, আর আমি সুন্দর। এতটা সুন্দর যে আমি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করি।’
তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ
![]() |
| রোমা রিয়াজ। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জেন-জিদের হতাশা এবং উত্তরণের সিনেমায় বর্ষণ
‘রবি ইন ঢাকা’ নামের সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। চলতি মাসের শেষে শুটিং শুরু হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে খবরটি নিশ্চিত করে রাজীব সালেহীন বলেন, ‘জেন–জিদের হতাশা এবং তা থেকে উত্তরণ নিয়ে আমার এই ছবি।’
ছবির প্রধান চরিত্রের অভিনয়শিল্পী ইমতিয়াজ বর্ষণ বলেন, ‘সমকালীন জীবনের হতাশা, মানসিক চাপ এবং নানা সংকটের পরও মানুষ কী করে টিকে থাকার শক্তি খুঁজে পায়, ছবিটি সে বাস্তবতাকেই তুলে ধরবে। বেঁচে থাকার জন্য সুন্দর কিছু খুঁজে বের করার মানুষের এই নিরলস প্রচেষ্টা ছবির মূল বার্তা হিসেবে যেভাবে উঠে এসেছে, তা আমার কাছে সত্যিই দারুণ লেগেছে।’
‘রবি ইন ঢাকা’য় আরও অভিনয় করবেন রিচি সোলায়মান, আজাদ আবুল কালাম, আরমান পারভেজ মুরাদ প্রমুখ। রাজীব ২০০৫ সালে ডকু ফিকশন ‘ঠিক বাড়ি নয় বাড়ির মতোন’ দিয়ে তাঁর নির্মাণজীবন শুরু করেন। তানভীর মোকাম্মেলের ‘জীবনঢুলী’ তাঁর অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র।
![]() |
| ইমতিয়াজ বর্ষণ। ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্প-পুতিন-খামেনি-সি-মোদি–নেতানিয়াহু-এরদোয়ান, কার বিদ্যার দৌড় কত দূর
বইয়ের পাতার পাঠ আর বাস্তবের রুক্ষ লড়াই—এই দুইয়ের মিশেলে কীভাবে তাঁরা আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন, ছয় বিশ্বনেতার সেই সংগ্রামী শিক্ষাজীবন ও অজানা জয়গাথা নিয়েই এ বিশেষ আয়োজন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শিক্ষাজীবন এককথায় বৈচিত্র্যময়। জন্ম তাঁর ব্যবসায়ী পরিবারে, ১৯৪৬ সালে নিউইয়র্কের কুইন্সে।
শৈশবে বেশ উদ্ধত স্বভাবের ছিলেন ট্রাম্প। ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ার ‘মিলার সেন্টার’-এর জীবনীসংক্রান্ত তথ্য জানাচ্ছে, তাঁকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে মাত্র ১৩ বছর বয়সে ‘নিউইয়র্ক মিলিটারি একাডেমি’তে পাঠিয়ে দেন বাবা–মা, যা তাঁর পরবর্তী জীবনে শৃঙ্খলার ভিত্তি গড়ে দেয়।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি প্রথমে ফোর্ডহ্যাম ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা শুরু করলেও পরে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার বিখ্যাত ‘হোয়ার্টন স্কুল অব ফিন্যান্স অ্যান্ড কমার্স’-এ স্থানান্তরিত হন। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাফেজখানার তথ্য অনুযায়ী, সেখান থেকে ১৯৬৮ সালে তিনি অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের উত্তাল সময়ে চারবার শিক্ষাবিরতি এবং একবার পায়ের হাড়ের সমস্যার মেডিক্যাল সনদ দেখিয়ে বাধ্যতামূলক সামরিক চাকরিতে যাওয়া এড়িয়েছিলেন ট্রাম্প। ২০১৬ সালে ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এই ড্রাফট এড়ানোর বিস্তারিত তথ্য উঠে আসে, যা নিয়ে পরে রাজনৈতিক মহলে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে।
ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জীবনের একটি অনুপ্রেরণামূলক দিক হলো, তাঁর নেশামুক্ত জীবন। ট্রাম্প বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে (যেমন ২০১৭ সালে নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে কথা বলার সময়) জানিয়েছেন, তাঁর বড় ভাই ফ্রেড ট্রাম্প জুনিয়র অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে ১৯৮১ সালে অকালে প্রাণ হারান। ভাইয়ের সেই করুণ পরিণতি দেখে ট্রাম্প জীবনে কখনোই মদপান, ধূমপান কিংবা মাদক গ্রহণ না করার কঠোর শপথ নেন এবং তা আজ ৮০ বছর বয়সেও মেনে চলেন।
পড়াশোনা শেষে বাবার আবাসন ব্যবসায় যোগ দিয়ে তিনি সেটিকে ‘ট্রাম্প অর্গানাইজেশন’-এ রূপান্তর করেন। এ সময় তিনি ম্যানহাটানের আকাশচুম্বী অট্টালিকা থেকে শুরু করে আটলান্টিক সিটির ক্যাসিনো ব্যবসায় নিজের আধিপত্য বিস্তার করেন। তবে ব্যবসায়িক জীবনের বাইরে তিনি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পান এনবিসির রিয়ালিটি শো ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এর সঞ্চালক হিসেবে, যেখানে তুমুল জনপ্রিয়তা পায় তাঁর ‘ইউ আর ফায়ার্ড’ সংলাপটি।
২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ট্রাম্প। এরপর ২০২০ সালে পরাজয়ের তিক্ততা থাকলেও ২০২৪ সালে কামব্যাক করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের দ্বিতীয় ব্যক্তি (প্রথম জন গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড) হিসেবে বিরতি দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়ার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
ইতিবাচকের পাশাপাশি নেতিবাচক রেকর্ডও রয়েছে তাঁর। মার্কিন কংগ্রেসের রেকর্ড অনুযায়ী, ট্রাম্পই আমেরিকার একমাত্র প্রেসিডেন্ট, যিনি প্রতিনিধি পরিষদে দুবার অভিশংসিত হয়েও দুবারই সিনেটে খালাস পেয়েছেন।
ভ্লাদিমির পুতিন
রাশিয়ার দণ্ডমুণ্ডের কর্তা ভ্লাদিমির পুতিনের শৈশব ও শিক্ষাজীবন পেরিয়েছে এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে। ১৯৫২ সালে তৎকালীন লেলিনগ্রাদে (বর্তমান সেন্ট পিটার্সবার্গ) জন্ম তাঁর। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে তিনটি পরিবারের সঙ্গে একটি সাধারণ ‘কমিউনাল’ অ্যাপার্টমেন্টে তাঁর বেড়ে ওঠা বলে সিএনএন-এর ‘ফাস্ট ফ্যাক্টস’-এ উল্লেখ করা হয়েছে।
পুতিন শৈশবে মোটেও শান্ত ছিলেন না, ছিলেন জেদি প্রকৃতির। পুতিন একবার অ্যাপার্টমেন্টের সিঁড়িতে একটি ইঁদুরকে কোণঠাসা করতে গিয়ে জীবনের বড় এক শিক্ষা পান। ইঁদুরটি একসময় পালানোর জায়গা না পেয়ে পুতিনকেই পাল্টা আক্রমণ করে বসে।
পুতিন তাঁর আত্মজীবনী ‘ফার্স্ট পারসন’–এ সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখেছিলেন এভাবে, ‘কাউকে কখনো এমনভাবে কোণঠাসা করো না যে তার পালানোর পথ বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, তখন সে মরণকামড় দেবেই।’
সিএএনের তথ্য বলছে, বিশৃঙ্খল জীবন থেকে নিজেকে ফেরাতে জুডোর শরণ নেন পুতিন। এরপর তিনি পড়াশোনায় গভীরভাবে মনোযোগী হন।
পুতিনের শিক্ষাজীবন শুরু হয় লেলিনগ্রাদ স্টেট ইউনিভার্সিটিতে, যেখান থেকে তিনি ১৯৭৫ সালে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেন। আয়ারল্যান্ডের রুশ দূতাবাসের নথিপত্র অনুযায়ী, পরবর্তী জীবনে তিনি অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রিও লাভ করেন।
পড়াশোনা শেষ করেই তিনি তৎকালীন সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবিতে যোগ দেন এবং ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত পূর্ব জার্মানিতে গোয়েন্দা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পুতিনের রাজনৈতিক উত্থান অত্যন্ত নাটকীয়। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর তিনি তাঁর আইনের শিক্ষক আনাতোলি সোবচাকের অধীনে সেন্ট পিটার্সবার্গের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। সিএনএনের টাইমলাইন অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে তৎকালীন রুশ প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন তাঁকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন এবং ওই বছরেরই ৩১ ডিসেম্বর ইয়েলৎসিনের আকস্মিক পদত্যাগের পর তিনি রাশিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হন।
ব্যক্তিগত জীবনে পুতিন অত্যন্ত শৃঙ্খলাপরায়ণ। সিএনএনের তথ্যমতে, তিনি জুডোতে ব্ল্যাক বেল্টধারী এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করেন। ট্রাম্পের মতো তিনিও মদপান থেকে দূরে থাকাকেই প্রাধান্য দেন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় সিদ্ধহস্ত এই নেতার দুই মেয়ে মারিয়া ও কাতেরিনাও জনসমক্ষে খুব একটা আসেন না।
মোজতবা খামেনি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনিকে তাঁর বাবার উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে দীর্ঘ ও নিবিড় শিক্ষাজীবনের এক বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। ইরানের জটিল রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কাঠামোতে নিজের অবস্থান সুসংহত করতে তিনি কয়েক দশক ধরে নিভৃতে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন।
১৯৬৯ সালে ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে জন্ম নেওয়া মোজতবার বেড়ে ওঠা ছিল ইসলামি বিপ্লবের ডামাডোলের মধ্যে। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি পড়াশোনা করেন তেহরানের অভিজাত ‘আলাভি’ হাইস্কুলে। ১৯৮৭ সালে রেভোল্যুশনারি গার্ডসে (আইআরজিসি) যোগ দিয়ে ইরান-ইরাক যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেন। সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তাঁর এই নিবিড় সম্পর্ক ক্ষমতারোহণের পথে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোজতবা খামেনি তাঁর প্রাথমিক ও উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেছেন ইরানের পবিত্র শহর কোমের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন সেমিনারিতে। সেখানে তিনি প্রখ্যাত আলেমদের তত্ত্বাবধানে ইসলামি আইন (ফিকহ) এবং দর্শনের ওপর গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। ইরানের ক্ষমতাকাঠামোয় সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার জন্য একজন ব্যক্তিকে অবশ্যই উচ্চপদস্থ ধর্মীয় আলেম হতে হয়। মোজতবা দীর্ঘ সময় ধরে পর্দার আড়ালে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তাঁর ধর্মীয় পদমর্যাদায় এক নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে।
২০২২ সালের শেষের দিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে তাঁকে প্রথমবারের মতো ‘আয়াতুল্লাহ’ হিসেবে সম্বোধন করা হয়। এর আগে তিনি ‘হুজাতুল ইসলাম’ পদবিতে পরিচিত ছিলেন, যা মূলত মাঝারি স্তরের ধর্মীয় আলেমদের বোঝায়।
আয়াতুল্লাহ উপাধিটি পাওয়ার অর্থ হলো তিনি এখন ইসলামি আইনশাস্ত্রে স্বাধীনভাবে মতামত বা ‘ইজতিহাদ’ করার সক্ষমতা রাখেন। বর্তমানে তিনি কোম সেমিনারিতে ‘বাহথ আল-খারিজ’ বা উচ্চতর ফিকহ শাস্ত্রের পাঠদান করছেন। এই স্তরের শিক্ষকতা শুধু শীর্ষস্থানীয় আলেমরাই করতে পারেন।
মোজতবার প্রভাব শুধু ধর্মীয় বা সামরিক খাতে সীমাবদ্ধ নয়। ২০০৫ সালে মাহমুদ আহমাদিনেজাদের অভাবনীয় জয়ের পেছনে তাঁর নেপথ্য ভূমিকা নিয়ে সংস্কারপন্থীরা ব্যাপক সমালোচনা করেছিলেন। এ ছাড়া রক্ষণশীল রাজনীতিক গোলাম-আলী হাদ্দাদ আদেলের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সংহত করেছে।
মোজতবার এই পাণ্ডিত্য ও শিক্ষকতা তাঁকে বাবার উত্তরসূরি হওয়ার পথে তাত্ত্বিকভাবে এবং আইনত বৈধতা দিয়েছে। ফলে ধর্মীয় উচ্চশিক্ষার এই পথ ধরে তিনি ইরানের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার কেন্দ্রে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করছেন।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্ম ১৯৪৯ সালে তেল আবিবে হলেও তাঁর বৌদ্ধিক বিকাশের বড় অংশটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। তাঁর বাবা বেন-জিয়ন নেতানিয়াহু ছিলেন একজন ঐতিহাসিক ও ‘এনসাইক্লোপিডিয়া জুডাইকা’র সম্পাদক। হিব্রু ইউনিভার্সিটিতে বাবার শিক্ষকতা নিয়ে রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হলে ১৯৬২ সালে নেতানিয়াহু সপরিবার আমেরিকার ফিলাডেলফিয়ায় চলে যান। সেখানেই কিশোরের পড়াশোনা সম্পন্ন হয় তাঁর। বাবার পাণ্ডিত্য আর বাড়িতে গবেষণার পরিবেশ নেতানিয়াহুকে শৈশব থেকেই উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও কৌতূহলী করে গড়ে তোলে।
উচ্চশিক্ষার জন্য নেতানিয়াহু ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিকে (এমআইটি) বেছে নেন। তাঁর শিক্ষাজীবন ছিল অত্যন্ত গতিশীল। ১৯৭২ সালে তিনি স্থাপত্যবিদ্যায় (আর্কিটেকচার) পড়াশোনা শুরু করেন। এমআইটির আর্কাইভ রেকর্ড অনুযায়ী, তিনি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাঁর কোর্সগুলো শেষ করতেন। ১৯৭৫ সালে তিনি স্থাপত্যে স্নাতক (বিএস) ডিগ্রি অর্জন করেন।
তবে স্থাপত্যেই তিনি থেমে থাকেননি। এমআইটির বিখ্যাত ‘স্লোন স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট’ থেকে মাত্র এক বছরের মাথায় ১৯৭৬ সালের জুনে তিনি ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর (এমএস) ডিগ্রি লাভ করেন। স্থাপত্যের নান্দনিক নকশা আর ব্যবস্থাপনার কঠিন গাণিতিক হিসাব—এই দুইয়ের সংমিশ্রণ তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনে কৌশল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে।
এমআইটিতে পড়ার পাশাপাশি নেতানিয়াহুর প্রবল আগ্রহ ছিল রাষ্ট্রবিজ্ঞানে। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং এমআইটি—উভয় প্রতিষ্ঠানেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে গভীর পড়াশোনা করেছেন। এই বহুমুখী জ্ঞানের কারণে তিনি পশ্চিমা বিশ্বের কাছে কেবল একজন রাজনীতিক নন, তুখোড় তার্কিক ও কৌশলী কূটনীতিবিদ হিসেবেও পরিচিতি পান। তাঁর ইংরেজি উচ্চারণে মার্কিন ধাঁচ এবং আন্তর্জাতিক আইন ও অর্থনীতির ওপর প্রখর দখল মূলত এই হার্ভার্ড-এমআইটি দিনগুলোরই ফসল।
নেতানিয়াহুর শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো বইয়ের পাতার সঙ্গে বারুদের গন্ধের সহাবস্থান। ১৯৬৭ সালে হাইস্কুল শেষ করেই তিনি ইসরায়েলে ফিরে গিয়ে এলিট স্পেশাল ফোর্স ‘সায়েরেত মাতকাল’-এ যোগ দেন। সেখানে পাঁচ বছর সামরিক জীবন কাটিয়ে ১৯৭২ সালে যখন এমআইটিতে পড়াশোনা শুরু করেন, তার এক বছর পরেই বেজে ওঠে ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর যুদ্ধের দামামা।
একজন প্রতিশ্রুতিশীল শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও তিনি পড়াশোনা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে পুনরায় রণক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যুদ্ধ শেষ করে আবার ক্যাম্পাসে ফিরে এসে তিনি দ্বিগুণ উদ্যমে তাঁর ডিগ্রিগুলো শেষ করেন। পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে দেশের প্রয়োজনে বন্দুক হাতে তুলে নেওয়ার এই অভিজ্ঞতা তাঁকে ইসরায়েলি নাগরিকদের কাছে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
পড়াশোনা শেষে তিনি আমেরিকার বিখ্যাত ‘বোস্টন কনসালটিং গ্রুপ’-এ (বিসিজি) ব্যবস্থাপনা পরামর্শক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। সেখানে তাঁর সহকর্মী ছিলেন বর্তমানে মার্কিন রাজনীতির পরিচিত মুখ মিট রমনি। এমআইটি ও হার্ভার্ডের এই উচ্চতর শিক্ষা এবং বিসিজির করপোরেট অভিজ্ঞতা নেতানিয়াহুকে বিশ্বমঞ্চে স্থান করে নিতে সহায়তা করেছে।
রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বাবা ছিলেন কোস্টগার্ডের একজন সাধারণ কর্মচারী। তাঁর শৈশব ও শিক্ষাজীবন কেটেছে চরম দারিদ্র্য ও কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে। কাসিমপাশার মতো একটি রুক্ষ এলাকায় বড় হওয়া এরদোয়ানকে পড়াশোনার খরচ চালাতে শৈশবে ইস্তাম্বুলের রাস্তায় লেবুর শরবত ও ‘সিমিত’ (একধরনের রুটি) বিক্রি করতে হতো। এই সংগ্রামী জীবনই মূলত তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক দর্শনে ‘সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি’ হওয়ার ভিত্তি গড়ে দেয়।
এরদোয়ানের শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় ইস্তাম্বুল ইমাম হাতিপ স্কুলে। এটি ছিল একটি ধর্মীয় বৃত্তিমূলক উচ্চবিদ্যালয়। ১৯৬৩ সালে কাসিমপাশা পিয়ালে প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করার পর তিনি এই স্কুলে ভর্তি হন এবং ১৯৭৩ সালে এখান থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
ইমাম হাতিপ স্কুলে পড়ার সময় থেকেই তিনি পবিত্র কোরআনের পাঠ, ইসলামি দর্শন এবং তাত্ত্বিক জ্ঞানে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। তাঁর বাগ্মিতা বা চমৎকার ভাষণ দেওয়ার ক্ষমতার হাতেখড়ি হয়েছিল এই স্কুলেই। সেখানে তিনি এক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে চমৎকার বক্তৃতার জন্য সবার নজর কেড়েছিলেন।
সেই সময় তুরস্কে ইমাম হাতিপ স্কুলের মতো ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে অনেক আইনি বাধা ছিল। এই বাধা অতিক্রম করতে এরদোয়ান কঠোর পরিশ্রম করেন এবং আইয়ুপ হাইস্কুল থেকে পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে একটি সাধারণ হাইস্কুল ডিপ্লোমা অর্জন করেন। এই জেদই প্রমাণ করে যে তিনি লক্ষ্য অর্জনে কতটা সংকল্পবদ্ধ ছিলেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য এরদোয়ান ইস্তাম্বুলের আকসারায় স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড কমার্শিয়াল সায়েন্সে ভর্তি হন। এটি বর্তমানে মারমারা বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত। তিনি ১৯৮১ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও জনপ্রশাসনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর অর্থনৈতিক চিন্তাধারা এবং তুরস্কের বর্তমান ‘এরদোয়ানমিকস’ বা অর্থনৈতিক কৌশলের তাত্ত্বিক ভিত্তি মূলত এই মারমারা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোতেই তৈরি হয়েছিল।
এরদোয়ানের ছাত্রজীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল ফুটবল। তিনি কিশোর বয়স থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া পর্যন্ত স্থানীয় ক্লাব ‘কাসিমপাশা এরোকস্পোর’ এবং পরে ‘কামিয়ালতি স্পোর’-এ দাপটের সঙ্গে ফুটবল খেলতেন। এমনকি তুরস্কের নামী ক্লাব ফেনারবাচে তাঁকে দলে নিতে চেয়েছিল, কিন্তু বাবার অনিচ্ছার কারণে তিনি পেশাদার ফুটবলার হতে পারেননি। তবে মাঠের সেই নেতৃত্ব এবং দলগত সংহতির শিক্ষা তিনি পরবর্তীকালে রাজনীতিতে প্রয়োগ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই এরদোয়ান ন্যাশনাল টার্কিশ স্টুডেন্ট ইউনিয়নে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এককথায়, তাঁর শিক্ষাজীবন কেবল ডিগ্রি অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ইমাম হাতিপ স্কুলের ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং মারমারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক জ্ঞান—এই দুইয়ের সমন্বয়েই তিনি আজকের তুরস্কের একচ্ছত্র নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
সি চিন পিং
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের জন্ম ১৯৫৩ সালে বেইজিংয়ে এক প্রভাবশালী পরিবারে। তাঁর বাবা সি ঝংশুন ছিলেন চীনের বিপ্লবী নেতা ও তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী। বেইজিংয়ের অভিজাত পরিবেশে বড় হওয়া সি চিন পিংয়ের শৈশব ছিল নিরাপদ ও রাজকীয়। কিন্তু ১৯৬২ সালে তাঁর বাবার রাজনৈতিক পতন ঘটলে ভাগ্যের চাকা উল্টে যায়। সি চিন পিংয়ের বয়স যখন মাত্র ৯ বছর, তখন তাঁর বাবাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং তাঁর পরিবার পড়ে চরম লাঞ্ছনায়।
মাও সে–তুংয়ের ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব’-এর সময় ১৯৬৯ সালে ১৫ বছর বয়সী সি চিন পিংকে বেইজিং থেকে সুদূর উত্তর-পশ্চিমের শানসি প্রদেশের লিয়াংজিয়াহে গ্রামে পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘ সাত বছর তিনি একটি পাহাড়ি গুহায় বাস করেন।
শিক্ষাজীবনের সেই সময়টি তাঁর জন্য ছিল এক অগ্নিপরীক্ষা। গ্রামের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সারা দিন কায়িক পরিশ্রম, সার বহন এবং চাষাবাদের কাজ করতে হতো তাঁকে। গুহার ভেতরে মাটির ওপর ঘুমাতেন তিনি, যেখানে পোকা-মাকড়ের উপদ্রব ছিল নিত্যসঙ্গী। সি চিন পিং পরবর্তীকালে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এই সাত বছরের গুহাজীবনই তাঁকে ‘সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ বুঝতে শিখিয়েছে’ এবং তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের প্রকৃত ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।
সাংস্কৃতিক বিপ্লবের অস্থিরতা কাটিয়ে ১৯৭৫ সালে সি চিন পিং বেইজিংয়ের ঐতিহ্যবাহী এবং চীনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান। তখন তিনি ‘শ্রমিক-কৃষক-সৈনিক’ কোটায় রসায়ন প্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হন।
এবস্কোর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত তিনি এই বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রকৌশলবিদ্যার এই পাঠ তাঁকে যেকোনো সমস্যাকে গাণিতিক ও প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা দেয়, যা পরবর্তীকালে চীনের আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বড় ভূমিকা রেখেছে।
রাজনীতিতে প্রবেশ করার পরও সি চিন পিং তাঁর পড়াশোনা থামিয়ে দেননি। ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি আবার সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর গবেষণায় যুক্ত হন। এবার তাঁর বিষয় ছিল ‘মার্ক্সীয় তত্ত্ব এবং আদর্শিক-রাজনৈতিক শিক্ষা’।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি এই গবেষণাকর্ম সম্পন্ন করেন এবং আইন বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর এই তাত্ত্বিক জ্ঞানই আজকের ‘সি চিন পিং থট’ বা তাঁর বিশেষ রাজনৈতিক চিন্তাধারার মূল উৎস। এটি বর্তমানে চীনের সংবিধানেও অন্তর্ভুক্ত।
একদিকে শৈশবের আভিজাত্য, অন্যদিকে কৈশোরের চরম কষ্টের শিক্ষা সি চিন পিংকে অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও কঠোর নেতা হিসেবে গড়ে তুলেছে বলে মনে করা হয়। তিনি মদ্যপান বা বিলাসিতার চেয়ে শৃঙ্খলাপরায়ণ জীবনকেই প্রাধান্য দেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে বাবার প্রতি সম্মান এবং কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি অবিচল আস্থা।
নরেন্দ্র মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শৈশব আক্ষরিক অর্থেই এক কঠিন জীবনসংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। ১৯৫০ সালে গুজরাটের এক অতি সাধারণ পরিবারে তাঁর জন্ম। মোদির বাবা ভাদনগর রেলস্টেশনে একটি ছোট চায়ের দোকান চালাতেন। শৈশবে স্কুলে যাওয়ার আগে এবং পরে নরেন্দ্র মোদি তাঁর বাবাকে চা বিক্রিতে সাহায্য করতেন। পিএম ইন্ডিয়ার তথ্যমতে, অভাবের সংসারে বড় হলেও নরেন্দ্র মোদি কখনোই প্রতিকূলতার কাছে হার মানেননি। তাঁর এই শৈশবের অভিজ্ঞতা থেকেই পরবর্তীকালে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর মতো অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক দর্শনের জন্ম হয়েছে।
মোদির শিক্ষাজীবন ছিল জ্ঞানতৃষ্ণা এবং সমাজসেবার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ। ভাদনগরের একটি স্থানীয় স্কুলে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। স্কুলের লাইব্রেরিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে বই পড়া ছিল তাঁর প্রিয় শখ। তাঁর শিক্ষকেরা জানান, নরেন্দ্র মোদি একজন তুখোড় বিতার্কিক ছিলেন। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীকালে তিনি গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তবে তাঁর শিক্ষা কেবল ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি রাজনীতির বিভিন্ন তাত্ত্বিক দিক শিখেছিলেন মাঠে থেকে।
মোদির জীবনের সবচেয়ে রহস্যময় ও অনুপ্রেরণামূলক দিক হলো তাঁর গৃহত্যাগ। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি একাই ভারত ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন। আধ্যাত্মিকতার খোঁজে তিনি হিমালয়ের বিভিন্ন আশ্রমে সময় কাটান, যা তাঁর চরিত্রে কঠোর শৃঙ্খলা ও বৈরাগ্যের বীজ বুনে দেয়। সি চিন পিং যেমন গুহায় থেকে মানুষের কষ্ট বুঝেছিলেন, মোদিও তেমনি হিমালয়ের জনশূন্য পরিবেশে থেকে নিজের আত্মিক শক্তিকে সংহত করেছিলেন।
দুই বছর পর ফিরে এসে তিনি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে নরেন্দ্র মোদি কঠোর শৃঙ্খলাপরায়ণ ও নেশামুক্ত। ডোনাল্ড ট্রাম্প বা পুতিনের মতো তিনিও মদ্যপান, ধূমপান বা কোনো প্রকার মাদক গ্রহণ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। তিনি একজন নিরামিষাশী এবং প্রতিদিন নিয়ম করে যোগব্যায়াম করেন। এই কঠোর নিয়মানুবর্তিতাই তাঁকে দিনে প্রায় ১৮ ঘণ্টা কাজ করার শক্তি জোগায়। তাঁর বাগ্মিতা এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের ক্ষমতা তাঁকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
রাজনৈতিক উত্থানের ক্ষেত্রে মোদি এক অভাবনীয় নজির গড়েছেন। ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর টানা ১৩ বছর তিনি সেই পদে ছিলেন। নানা বিতর্কের পরও ২০১৪ সালে তিনি প্রথমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তারপর টানা দুবার জিতে এক যুগ ধরে ক্ষমতায়।
তথ্যসূত্র: প্রতিবেদনটি তৈরিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কাইভ এবং সংশ্লিষ্ট নেতাদের দাপ্তরিক জীবনী থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প: ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ার ‘মিলার সেন্টার’, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া আর্কাইভ এবং দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর বিশেষ প্রতিবেদন।
ভ্লাদিমির পুতিন: পুতিনের আত্মজীবনী ‘ফার্স্ট পারসন’, সিএনএন ফাস্ট ফ্যাক্টস এবং আয়ারল্যান্ডের রুশ দূতাবাসের দাপ্তরিক নথি।
মোজতবা খামেনি: বিবিসি, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু: ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি আর্কাইভ, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের রেকর্ড।
রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান: মারমারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক রেকর্ড এবং এরদোয়ানের দাপ্তরিক জীবনবৃত্তান্ত।
সি চিন পিং: সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় আর্কাইভ এবং এবস্কোর গবেষণাসংক্রান্ত তথ্য।
নরেন্দ্র মোদি: পিএম ইন্ডিয়ার দাপ্তরিক ওয়েবসাইট এবং গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য রেকর্ড।
![]() |
| ক্ষমতার শীর্ষে আসীন সাত বিশ্বনেতা (বাঁ থেকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভ্লাদিমির পুতিন, মোজতবা খামেনি, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সি চিন পিং ও নরেন্দ্র মোদি। কোলাজ |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ▼ 2026 (1355)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


