Friday, July 31, 2009

বোর্ডারকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় পন্টিং

সিরিজে সমতা ফেরানোর তাগিদ আছে। সেরা একাদশ কী হবে না হবে, তা নিয়েও একটা দোদুল্যমানতা চলছে। দলে ইনজুরির হানা—অস্ট্রেলিয়ার ঝামেলার শেষ নেই। এখন আবার আবহাওয়া নিয়েও মাথা ঘামাতে হচ্ছে রিকি পন্টিংকে। এজবাস্টনের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, বৃষ্টিতে ভেসে যেতে পারে আজ থেকে শুরু অ্যাশেজের তৃতীয় টেস্টের প্রথম দুটি দিন। বাকি তিন দিনে কি আর চার ইনিংস শেষ হবে? ফলাফল—এজবাস্টন টেস্টে ড্রয়েই বাজির দর সবচেয়ে বেশি।
সিরিজে সমতা ফেরাতে মরিয়া অস্ট্রেলিয়ার জন্য এ নিশ্চয়ই দুঃসংবাদ। এমনিতে টেস্টে এজবাস্টন ফলই দেয় বেশি। এখানে সর্বশেষ ১৭ টেস্টের মাত্র ৩টি হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক হিসাব-নিকাশ আবার অন্য রকম ছবি দেখায়। এ মাঠে সর্বশেষ ২০টি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচের মাত্র চারটি জয় দেখেছে। এ বছর তো জয় মাত্র একটি।
ইংল্যান্ডে পরিবর্তন একটাই, চোটের কারণে বাইরে চলে যাওয়া কেভিন পিটারসেনের জায়গায় আসছেন ইয়ান বেল। অস্ট্রেলিয়া দলেও সম্ভবত একটিই পরিবর্তন। না, মিচেল জনসন বাদ পড়ছেন না বলেই খবর। বাঁহাতি ফাস্ট বোলার আরেকটা সুযোগ পাচ্ছেন। ভেজা কন্ডিশনের কারণে বাদ পড়ছেন স্পিনার নাথান হরিজ। ফিরছেন স্টুয়ার্ট ক্লার্ক।
রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ব্যাটসম্যান পন্টিং। আর ২৫টি রান করলেই অ্যালান বোর্ডারের ১১১৭৪ টেস্ট রানের রেকর্ড ভেঙে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ টেস্ট রান সংগ্রাহক হয়ে যাবেন। তখন তাঁর ওপরে থাকবেন কেবল ব্রায়ান লারা (১১৯৫৩) ও শচীন টেন্ডুলকার (১২৭৭৩)।

বি-লিগ সেরা ওয়ালি

আবাহনীর লেফটব্যাক ওয়ালি ফয়সাল নিজের পজিশনে জাতীয় দলেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ওভারল্যাপ করে আক্রমণে ওঠেন। সময়মতো নেমে আসেন নিচে। মাসুদ রানার পর তাঁর মতো নির্ভরযোগ্য লেফটব্যাক বাংলাদেশে আর আসেনি। ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলে যাওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ কাল পেলেন দ্বিতীয় বি-লিগের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার!
বাফুফের কোচরা সেরা খেলোয়াড় বাছাই করার দায়িত্বে। তাঁদের অভিমত, গত মৌসুমে টানা ভালো খেলেছেন ওয়ালি ফয়সাল। পুরস্কারটা তাঁর প্রাপ্যই। প্রথম বি-লিগের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন আবাহনীরই স্ট্রাইকার এমিলি। তবে এমিলি-ওয়ালি দুজনই কিন্তু এ মৌসুমে গায়ে তুলছেন সাদা-কালো জার্সি। মোহামেডানে যোগ দিচ্ছেন তাঁরা।
জাতীয় দলের ক্যাম্পে অনুশীলন করতে অপারগতা জানানো আট খেলোয়াড়ের একজন ছিলেন ওয়ালি। সমস্যার আপাত সমাধান হয়েছে বটে, তবে বিকেএসপির ক্যাম্পে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে মন খারাপ ছিল নারায়ণগঞ্জের এই তরুণের। তবে এদিন সন্ধ্যায় এনএসসি মিলনায়তনে আসা ওয়ালি ছিলেন হাসিখুশিই। দেশসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হাতে নিয়ে গান গাইলেন মঞ্চে, সতীর্থ ফুটবলাররাও মঞ্চে এসে কিছুক্ষণ নাচলেন-গাইলেন।
গত বি-লিগ এবং জুনিয়র ডিভিশনের পুরস্কার দেওয়ার জন্যই ছিল বাফুফে অ্যাওয়ার্ড নাইট। যেখানে উপস্থিত থাকলে নিশ্চয়ই উচ্ছ্বসিত দেখা যেত বুকোলা ওলালেকানকে। বি-লিগে তাঁর পাওয়া সেরা গোলদাতার পুরস্কারটা গ্রহণ করেছেন মোহামেডানের কোচ মারুফুল হক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার।

বিজয়ানন্দে বাস্তবতার ছোঁয়া by তারেক মাহমুদ

শুধু জেতা নয়, সিরিজ জয়ও। বিসিবি অফিসে নিশ্চয়ই আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে...। কিন্তু কাল সকালে বোর্ডের এক কর্মকর্তা হতাশার খবরই শোনালেন। নাহ্, আনন্দ-টানন্দ কিছু না। শান্ত-নিস্তরঙ্গ ভঙ্গিতেই চলছে তাঁদের দৈনন্দিন কাজ।
কী ব্যাপার? ক্রিকেট বোর্ডের এই বিশাল সাফল্যে চারদিক থেকে অভিনন্দনের জোয়ার, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার খিচুড়িভোজের আয়োজন পর্যন্ত করে ফেললেন, আর খোদ বিসিবিরই কোনো হেলদোল নেই! বিকেলে অবশ্য এক বোর্ড পরিচালকের কথায় স্পষ্ট হলো, জয়ের আনন্দেও এখন মাত্রা রাখতে চাইছেন তাঁরা, ‘আমাদের ক্রিকেট এখন যে অবস্থায় আছে তাতে এমন জয় আসতেই পারে। আমরাও ক্রিকেটারদের সংবর্ধনা দেব, তবে এ নিয়ে বাড়াবাড়ির কিছু নেই।’
বিসিবির মাটিতে পা রাখার চিন্তাটা অভিনন্দনযোগ্য। সাফল্যে আনন্দ হবে, সেই আনন্দের তোড়ে ভেসে গেলে মুশকিল। বিশেষ করে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাই যখন মনে করিয়ে দিচ্ছেন সামনে অপেক্ষমাণ জিম্বাবুয়ে সফরের ‘চ্যালেঞ্জ’টার কথা, ‘জিম্বাবুয়ে এদের (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) চেয়ে অনেক গোছানো দল। ওটা হবে মাইন্ড গেম।’ তবে পরশু রাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৭৪ রান করে ফেলার পরও তাঁর কাছে কখনো মনে হয়নি বাংলাদেশ হারতে পারে, ‘আসলে আমাদের ছেলেদের খেলার ধরন দেখেই মনে হয়েছে জিতবে।’ ইনজুরিতে পড়ে দেশে ফিরে আসা অধিনায়ক টেলিফোনে অভিনন্দন জানিয়েছেন ডমিনিকায় থাকা দলকে।
সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের কাছে মনে হয়েছে উল্টোটা। তামিম ইকবাল আউট হয়ে যাওয়ার পর ২৭৪ অনতিক্রম্যই মনে হচ্ছিল তাঁর কাছে। কিন্তু ভোরের আলো ফোটার আগে যখন জয়ের আলো ফোটাল বাংলাদেশ, হাবিবুল স্বীকার করে নিলেন, ‘আমাদের সময়ের চেয়েও এই দল অনেক পরিণত, অনেক পরিকল্পিত ক্রিকেট খেলে তারা। সবচেয়ে বড় কথা, দলের সবাই পারফর্ম করছে। দলটার আসল চরিত্র ফুটে উঠছে আস্তে আস্তে।’
এ দেশের ক্রিকেটের একটা বহুদিনের রেওয়াজ এই যে, বাংলাদেশ দলের চরিত্রের সঙ্গে স্থানবিচ্যুতি ঘটে যায় তার ভক্ত-সমর্থকদের চরিত্রেরও। খারাপ খেললে ক্রিকেটারদের চেয়ে নিকৃষ্ট আর কিছু হয় না। জিতলে তাঁরাই দেশের শ্রেষ্ঠ নাগরিক। এবার যেন সেটা একটু বদলাল। বিদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের সাফল্যের পিঠাপিঠি ওয়ানডে সিরিজেও বিজয়ের হাসি—কিন্তু কই, টিএসসি থেকে তো বিজয় মিছিলের খবর আসেনি? বৃষ্টিস্নাত সড়কে দেখা কোনো তরুণ-তরুণীর গালে লাল-সবুজ পতাকাও তো আঁকা নেই! তাহলে কি সত্যি সত্যি বাস্তবতায় ভর করল বাংলাদেশের ক্রিকেট?
ভাবনার তাল কেটে যায় মুঠোফোনে এসএমএস আসার শব্দে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর মোহাম্মদ আশরাফুলকে শাপ-শাপান্ত করেছিলেন এমন এক ‘ক্রিকেট-প্রেমিকের’ আবেগি ঘোষণা ভেসে এসেছে, ‘অ্যাশ খেললে দেশ জেতে।’

‘প্রমাণ হলো আমরা ঠিক রাস্তাতেই ছিলাম’

একজন বাংলাদেশ দলের প্রতীক হয়ে আছে অনেক দিন ধরেই। অন্যজনকে বলা যায় নতুন বাংলাদেশের প্রতীক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়েও বড় ভূমিকা দুজনের। ডমিনিকায় সিরিজ জয়ের রাতে মোহাম্মদ আশরাফুল ও সাকিব আল হাসানকে একসঙ্গে বসালেন উত্পল শুভ্র

 ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়—আপনাদের কাছে এর অর্থ কী?
মোহাম্মদ আশরাফুল: আমি বলব, আমাদের ক্রিকেটের জন্য বড় একটা পাওয়া। টোয়েন্টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের কাছে হারার পর যে প্রতিক্রিয়াটা হয়েছিল...সবাই ভেবেছিল আমাদের ক্রিকেট এগোচ্ছে না। তবে আমরা যাঁরা খেলছিলাম সবার ধারণা ছিল আমাদের টিমটা ঠিক রাস্তাতেই আছে। আমি মনে করি, এই রেজাল্টে সেটাই প্রমাণিত হলো।
সাকিব আল হাসান: আমরা জানতাম, আমরা উন্নতি করছি। কিন্তু সেটির একটা প্রমাণ তো লাগবে। এই সিরিজটাকে আমি মনে করি সেই প্রমাণ। আমরা আগেও ভালো ক্রিকেট খেলছিলাম, শুধু রেজাল্টটা আসছিল না। এটা যে এসেছে এটা খুবই বড় ব্যাপার।
তবে সেই রেজাল্টটা যে দলের বিপক্ষে এসেছে, এটা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতেই পারে। এটা তো আসল ওয়েস্ট ইন্ডিজ নয়!
সাকিব: এমন বললে তো বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকার রেকর্ডও গোনায় ধরা উচিত নয়। আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে খেলেছি, কারা খেলেছে এটা আমাদের দেখার বিষয় না। ওরাও ভালো প্লেয়ার। ৫ উইকেট নিলে ওরাও বল উঁচু করে দেখায়, সেঞ্চুরি করলে ব্যাট উঁচু করে।

আশরাফুল: এটা ঠিক, এখানে আসার আগে এমন একটা অবস্থা হবে আমরা কল্পনাও করিনি। তবে আমাদের মধ্যে একটা জেদ ছিল। কে জানে, ক্রিস গেইলরা খেললেও আমরা হয়তো ভালো কিছু করতে পারতাম। আরেকটা ব্যাপার, এ ঘটনার কারণে পুরো চাপটাই কিন্তু আমাদের ওপর চলে এসেছিল। আমরা ভালো কিছু করতে না পারলে অনেক কথা হতো।
শততম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ভারতকে হারিয়েছিল, ২০০ নম্বর ওয়ানডেতে হারাল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। আশরাফুলের ওই ম্যাচের কথা কি মনে পড়ে? আর সাকিব আপনি তখন কোথায় ছিলেন?
আশরাফুল: আফতাব খুব ভালো ব্যাটিং করেছিল মনে আছে। আর মাশরাফি তো ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ে ছিল দুর্দান্ত। ওই ম্যাচের আরেকটা জিনিস মনে পড়ে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে একটুও জায়গা খালি ছিল না। বাইরেও বোধহয় পাঁচ হাজার দর্শক ছিল

সাকিব: আমি ওই ম্যাচটা দেখেছি কি না মনে পড়ছে না। কোথায় ছিলাম তা-ও মনে পড়ছে না। তবে রানা ভাইয়ের (প্রয়াত মানজারুল ইসলাম রানা) কাছে গল্প শুনেছি, স্টেডিয়ামে নাকি অনেক লোক ছিল। অত দর্শক নাকি বাংলাদেশ দেখেনি।
অমন একটা ম্যাচ! অথচ সাকিব, আপনার তা মনে নেই!
সাকিব: আমি আসলে তখন সেভাবে খেলা দেখতাম না। বাংলাদেশের খেলা তো আরও না। দেখলে দেখতাম পাকিস্তানের খেলা। সত্যি কথা! (হাসি)।
 এখানে দুটি ওয়ানডেতেই বাংলাদেশের জয়ে আপনাদের বড় অবদান। এই দুটি ম্যাচে নিজেদের পারফরম্যান্স সম্পর্কে কী বলেন?

আশরাফুল: টেস্ট সিরিজে তো একদমই বাজে খেলেছি। ওয়ানডে সিরিজের আগে প্র্যাকটিস ম্যাচটাও ভালো খেলিনি। আমি তাই একটু ডাউনই ছিলাম। টিমমেট, কোচিং স্টাফ—সবাই আমাকে খুব সাপোর্ট দিয়েছে। বিশেষ করে ম্যাচের আগের দিন জেমি সিডন্সের কথাগুলো আমাকে খুব সাহায্য করেছে। ও বলেছে, ও বিশ্বাস করে আমি বাংলাদেশকে অনেক কিছু দিতে পারব। এই পারফরম্যান্সটা আমার নিজের জন্যই খুবই দরকার ছিল। কারণ আমি টিমকে কিছু দিতে পারছিলাম না। টেস্ট সিরিজে আমরা জিতলাম—সাকিব ভালো খেলল, মুশফিক ভালো খেলেছে, তামিম ভালো খেলেছে, বোলাররাও ভালো করেছে। অথচ এতগুলো ম্যাচ খেলার পরও আমি কিছু করতে পারিনি বলে আমার খুব খারাপ লেগেছে।
সাকিব: দুটি ইনিংসই অনেক হিসাব করে খেলতে হয়েছে। এত হিসাব করে কখনো খেলিনি। তবে যখন যেটা প্রয়োজন ছিল, সেটা করতে পেরেছি। টেস্টে শেষ ইনিংসটায় ৯৬ করলাম, বাংলাদেশ ম্যাচ জিতল। আত্মবিশ্বাসটা ছিল। টেস্টের তুলনায় ওয়ানডের উইকেট ছিল অনেক ভালো। খারাপ উইকেটে রান করে এলে ভালো উইকেটে ভালো করার আত্মবিশ্বাসটা বেড়ে যায়। ওটাই কাজ করেছে।
আশরাফুল, সাকিব তো আপনার অনেক জুনিয়র। ওকে আপনি প্রথম কবে দেখেছিলেন?
আশরাফুল: সাকিবকে প্রথম দেখেছি ২০০৬ সালে সোনারগাঁও-ভিক্টোরিয়া ম্যাচে। ও প্রথম চার বলে তিনটা লাইফ পেয়েছে... (হাসি)।
সাকিব: (হাসি) তাপস ভাই বল করছিলেন। প্রথম বলটা মেরেছি, ফার্স্ট স্লিপে রোকন ভাই (আল-শাহরিয়ার) ক্যাচ ফেলে দিয়েছেন। পরের বলটায় দ্বিতীয় স্লিপে কে যেন ক্যাচ ফেললেন। পরের বলে উইকেটকিপারকে সহজ ক্যাচ, সেলিম ভাই ফেলে দিলেন। পরের বলে বোল্ড!
আশরাফুল: আমি ওই ম্যাচে সোনারগাঁওয়ের ক্যাপ্টেন ছিলাম। ওর নাম অনেক শুনেছি...সাকিব-সাকিব...আমি ওর ব্যাটিং দেখে বললাম, এটা কী ধরনের ব্যাটিং! পরে ওই ম্যাচেই অবশ্য ও ভালো বোলিং করেছিল।
সাকিব, আশরাফুলের সঙ্গে আপনার প্রথম পরিচয় কবে?
সাকিব: টিভিতেই দেখেছি প্রথম, পরে সামনাসামনি। সোনারগাঁওয়ের সঙ্গে ওই ম্যাচেই প্রথম দেখা হয়েছে। সেভাবে পরিচয় হয়নি।
এই প্রশ্নটা সাকিবকে। আশরাফুল ক্যাপ্টেনসি হারালেন আর আপনি হঠাত্ ক্যাপ্টেন হয়ে গেলেন। আপনি যখন খেলা শুরু করেন, আশরাফুল তখনই বড় তারকা। এটা নিয়ে কোনো অস্বস্তি হয়নি?
সাকিব: আমি উনার সঙ্গে খেলা-টেলা নিয়ে খুব কম কথা বলি। আমিও চাই না উনাকে কিছু বলতে, উনিও আমাকে কিছু বলেন না। আমি উনার সঙ্গে মজাই করি, খেলা বিষয়ে খুব একটা আলাপ হয় না।
কিন্তু ক্যাপ্টেনসি করার সময় প্রথম প্রথম একটু অস্বস্তি হয়নি?
আশরাফুল: এটা আমি বলি। আমি যখন ক্যাপ্টেন ছিলাম, তখন ওর সঙ্গেও আলাপ করতাম। আমাদের টিমে এটা সব সময় ছিল। এখন রুবেলও যদি ক্যাপ্টেন হয়, আমাদের সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন হবে না। আমাদের টিমের মধ্যে খুব মিল আছে।
সাকিব: এখনো যা হয়, মুশফিক ভাই হয়তো এসে একটা কথা বলে। একসময় রকিবুল এসে বলে, রিয়াদ ভাই (মাহমুদউল্লাহ) বলে...সবার কথাই কিন্তু নেওয়া হয়। আমাদের দলে এটা খুব ভালো। সমস্যা কখন হয়—কেউ যদি অন্য রকম আচরণ করে। আমাদের টিমে ওরকম কেউ নেই।
ক্রিকেটার হিসেবে একজন আরেকজন সম্পর্কে বলুন।
আশরাফুল: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ঢোকার পর থেকেই সাকিব সাকসেসফুল। ও যা করতে চায়, তা করতে পারে। ওর গেমপ্ল্যানটা বরাবরই একই রকম। আমার যেমন এখনো প্রবলেম, একেক দিন একেক রকম খেলি। আর ক্রিকেটার হিসেবে আমি বলব, একজন ক্রিকেটার হয়তো ভালো ব্যাটিং করে, কেউ ভালো বোলিং, কেউ বা ভালো ফিল্ডিং। ওর আল্লাহর রহমতে তিনটাই ভালো।
সাকিব: ক্রিকেটার হিসেবে উনার সম্পর্কে কী বলব? বাংলাদেশের সব বড় বড় জয়েই উনার অবদান ছিল। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে মানুষ উনাকে দিয়েই চিনেছে। এখনো যেখানেই যাই, প্রথমে সবাই আশরাফুল-মাশরাফিকে খোঁজে। যেদিন উনি ব্যাটিং করেন, বিশ্বের কোনো বোলারকেই বোলার মনে হয় না।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজে এই সাফল্যের প্রভাবটা কী হবে বলে মনে করেন?
সাকিব: এই সাফল্য আমাদের পরের একটা পর্যায়ে নিয়ে যাবে। দলে এখন দারুণ আত্মবিশ্বাস। আগে একটা উইকেট পড়লে সবাই মুখ কালো করে বসে থাকত। এখন গল্প করছে, হাসছে। ক্রিকেটে এই আত্মবিশ্বাসটা খুবই বড় ব্যাপার। ভবিষ্যতে এটা অনেক কাজে আসবে। আমরা যখন পেছনে ফিরে তাকাব, দেখব আমাদের এতগুলো জয় আছে, এমন ভালো ক্রিকেট খেলেছি—নিজেদের তখন বড়-বড় মনে হবে।
আশরাফুল: জয়টা একটা অভ্যাস। ২০০৭ বিশ্বকাপে আমাদের ভালো করার পেছনে বড় কারণ ছিল জিম্বাবুয়ে-কেনিয়ার সঙ্গে অনেক ম্যাচ আমরা জিতেছিলাম। ম্যাচ জেতাটা আমাদের অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল। এই জয়গুলোও এমন কাজে লাগবে। এখন আমরা র্যাঙ্কিংয়ে নয় নম্বরে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেছনে। সেরা আট দল খেলছে বলে এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে পারছি না। এই জয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে আমাদের ব্যবধান কমবে। আশা করব, আগামী বছর আমরা আট নম্বর হয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলব।

হেরে গেলেন ফেল্প্স

গত বেইজং অলিম্পিকে ঝড় তুলে আটটি ইভেন্টে সোনা জিতেছিলেন যার সাতটিতেই হয়েছিল বিশ্ব রেকর্ড। বাকিটিতে অলিম্পিক রেকর্ড। অথচ অলিম্পিক-পরবর্তী ছয় মাসে মাইকেল ফেল্পেসর জীবনে উঠেছিল দুঃসহ ঝড়। সাঁতারপুলের লেন ছিটকে বেপথে চলে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের এই তারকা সাঁতারু। পার্টিতে বন্ধুদের সঙ্গে পাইপ দিয়ে গাঁজা টানছেন ফেল্প্স—পত্রিকায় এমন ছবি ছাপা হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র সাঁতার ফেডারেশন তাঁকে তিন মাসের জন্য নিষিদ্ধও করেছিল। একটু বেপথু হয়ে পড়া ফেল্পেসর গতিও যেন কোথায় আটকে গেছে! পরশু রোমে বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে ২০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলে নিজের মুকুটটা তো হাতছাড়া হলোই, হাতছাড়া হলো বিশ্ব রেকর্ডও।
গত পরশু জার্মানির পল বাইডারমান এই ইভেন্টে হারিয়ে দিয়েছেন ফেল্প্সকে। ১ মিনিট ৪২ সেকেন্ড সময় করে বিশ্ব রেকর্ডও গড়ে ফেলেছেন ২২ বছর বয়সী জার্মান। রুপা জিতে সন্তুষ্ট থাকা ফেল্প্স সময় নেন ১ মিনিট ৪৩.২২ সেকেন্ড। ২০০৫ সালের পর এই প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ বা অলিম্পিকের মতো বড় আসরে পরাজয়ের স্বাদ পেলেন ফেল্প্স। তবে এমন পারফরম্যান্সেও ফেল্প্স মুষড়ে পড়েননি, ‘আপনি যদি খুব ভালোভাবে খেয়াল করেন, দেখবেন সময়টা মন্দ না। ২০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলে এটা আমার দ্বিতীয় দ্রততম টাইমিং। সবচেয়ে দ্রুত সাঁতরেছিলাম গত অলিম্পিকে। আমি ছয় মাস পর সাঁতারে ফিরেছি। সব মিলিয়ে এতে আমি সন্তুষ্টই।’
ফেল্প্স রেকর্ড না গড়তে পারলেও থেমে নেই রেকর্ডের উত্সব। যুক্তরাষ্ট্রের আরেক সাঁতারু ম্যারি ডেসকেনজা রেকর্ড গড়েছেন মেয়েদের ২০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে। ২ মিনিট ৪.১৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে নতুন এই রেকর্ড গড়েছেন তিনি। আগের রেকর্ডটি ছিল চীনের লিউ জিগের (২: ৪.১৮ সেকেন্ড)। ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে মেয়েদের নতুন বিশ্ব রেকর্ডটি জেমা স্পোফোর্থের। ৫৮.১২ সেকেন্ড সময় নেন ব্রিটেনের এই সাঁতারু। সোমবার সেমিফাইনালে রেকর্ড গড়া রাশিয়ার আনাস্তাসিয়া জুয়েভা (৫৮.৪৮ সেকেন্ড) জিতেছেন রুপা।

পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গী বাংলাদেশ by রাজীব হাসান

জিততে হলে ২৭৫ রানের পাহাড় ডিঙাতে হবে, ভাঙতে হবে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার নিজেদের রেকর্ড—এসব নিরেট হিসাব-নিকাশ তো ছিলই; পরশু ম্যাচে বাংলাদেশের না জেতার পূর্বাভাস দিচ্ছিল এই পরিসংখ্যানটাও: এর আগে ৯ দলের সাতটিই যে নিজেদের ২০০তম ম্যাচটা জিততে পারেনি!
অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ বলুন; দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, নিউজিল্যান্ড কিংবা জিম্বাবুয়ে—এই সাত দলই নিজেদের ২০০তম ম্যাচটা বিস্মরণযোগ্য করে দিয়েছে পরাজয় দিয়ে। বেশ। সেই পরিসংখ্যানই আবার কী বলছে দেখুন: বাংলাদেশের আগ পর্যন্ত মাত্র দুটো দল ২০০তম ম্যাচটায় জিতেছে। পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কা। কী কাকতালীয় ব্যাপার, ওই দুটি জয়ই এসেছে একই দলের বিপক্ষে—ওয়েস্ট ইন্ডিজ!
১৯৯০ সালের নভেম্বরে লাহোরে পাকিস্তান ২০০তম ম্যাচটা উদ্যাপন করেছিল ৫ উইকেটের জয়ে। ৫ বছর পর অক্টোবরে শারজায় শ্রীলঙ্কার জয় ৫০ রানের। সিঙ্গার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ওই টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় রোশান মহানামা পরশু ম্যাচ রেফারির দায়িত্বে থেকে কাছ থেকে দেখলেন, কীভাবে ডমিনিকার উইন্ডসর পার্কে পুনরাবৃত্তি হলো ইতিহাসের। শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তানেরই উপমহাদেশীয় প্রতিবেশী বাংলাদেশ সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকেই হারাল ৩ উইকেটে। এই তথ্য জানা থাকলে এর পর ২০০তম ম্যাচ খেলার অপেক্ষায় থাকা কেনিয়া (অপেক্ষাটা অবশ্য দীর্ঘই হবে, ১১৮ ম্যাচ খেলেছে তারা) নির্ঘাত তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজকেই আমন্ত্রণ জানাবে প্রতিপক্ষ হিসেবে!
কেনিয়ার এখনো ২০০ ম্যাচ খেলা হয়নি, কেবল ১০টি টেস্ট খেলুড়ে দেশই এই মাইলফলক পেরিয়েছে। জয়ের দিক দিয়ে এখনো সবার চেয়ে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজই। প্রথম ২০০ ম্যাচের ১৪৩টিই জিতেছিল তারা, যা তাদের স্বর্ণযুগেরও সাক্ষী। দীর্ঘ নির্বাসন থেকে ফিরে আসা দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডে খেলাই শুরু করেছে বাংলাদেশেরও ৫ বছর পর। ২০০ ম্যাচের মাইলফলক অবশ্য তারা পেরিয়ে গেছে সেই কবে। প্রথম ২০০ ম্যাচে জয়ের হিসাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরেই আছে তারা। দাপুটে অস্ট্রেলিয়া ৫ নম্বরে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৭৪ রানের বড় স্কোরের পরেও বাংলাদেশ যে ২০০তম ম্যাচটা জিতবে, সেটা কিন্তু পরিসংখ্যান থেকেই আঁচ করা যাচ্ছিল। বাংলাদেশ শততম ম্যাচটা জিতেছিল। প্রতিপক্ষ ছিল ভারত, ২০০৪ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। জিতেছিল ১৫০তম ম্যাচটাও। এবারও প্রতিপক্ষ ভারত, ২০০৭ ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে। সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজেই এবার ২০০তম জয়ের কীর্তি।
বাংলাদেশের সবচেয়ে সুফলা সময় কেটেছে ১০১ থেকে ১৫০তম ম্যাচের মধ্যে। এই সময় ২৮টি ম্যাচেই জিতেছিল বাংলাদেশ! ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে জয় ১২টি। হোক না একটু কম। এ তো কেবল শুরু! পরিসংখ্যান আসলেই সত্যটা বোঝাতে পারে না!