Thursday, June 27, 2019

ডেমোক্র্যাটদের প্রথম বিতর্কে প্রধান বিষয় অভিবাসন

২০২০ সালে কে হবেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, সে প্রশ্নে নিজেদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বিতর্ক শুরু করেছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। বুধবার মায়ামিতে ডেমোক্রেটিক পার্টির মোট ১০ জন সম্ভাব্য প্রার্থী নিজেদের মধ্যে দুই ঘণ্টা স্থায়ী এক টিভি বিতর্কে অংশ নেন। আরও ১০ জন একই বিতর্কে অংশ নেবেন আজ বৃহস্পতিবার। এর বাইরে রয়েছে আরও চারজন প্রার্থী, তাঁরা বিতর্কে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি।
অস্কার মার্টিনেজ রামিরেজ ও তাঁর মেয়ে ভ্যালেরিয়া। এল সালভাদরের নাগরিক অস্কার যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চেয়েছিলেন। ছবি: রয়টার্স
স্বাস্থ্যবিমা ও অভিবাসনের প্রশ্ন ছিল বিতর্কের প্রধান দুই বিষয়। তিন দিন আগে এল সালভাদরের অস্কার মার্টিনেস ও তাঁর বছর দু–একের কন্যা ভ্যালেরিয়া মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে আসার চেষ্টা করে খরস্রোতা রিও গ্রান্দে নদীতে ডুবে নিহত হন। তাঁদের মৃতদেহের ছবি দেশের সব পত্রিকায় ফলাও করে প্রকাশিত হলে অনেকে এই মৃত্যু ২০১৫ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে পালানোর চেষ্টায় সমুদ্রে ডুবে নিহত কুর্দি বালক আয়লানের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করছেন। অভিবাসননীতির কারণে এই মৃত্যু, সে কথা স্বীকারের বদলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব দোষ চাপান বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের ওপর। তাঁদের কারণেই অভিবাসন প্রশ্নে কোনো সংস্কার প্রস্তাব গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না, তিনি অভিযোগ করেন।
বিতর্কে অংশগ্রহণকারী ডেমোক্রেটিক প্রার্থীরা অস্কার ও ভ্যালেরিয়ার মৃত্যুর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বহিরাগত প্রশ্নে তাঁর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকে দায়ী করে অভিবাসন প্রশ্নে দ্রুত সংস্কারের পক্ষে মত দেন। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আগত আশ্রয়প্রার্থী বহিরাগত ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে আসতে অনুমতি দেওয়ার বদলে তাদের মেক্সিকোতে রাখার যে ব্যবস্থা চালু হয়েছে, এই মৃত্যুর সেটাই কারণ। বারাক ওবামা আমলের সাবেক গৃহায়ণমন্ত্রী হুলিয়ান কাস্ত্রো বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে প্রথম দিনই এক নির্বাহী আদেশে এই নিয়মের পরিবর্তন করবেন।
২০২০ সালের নির্বাচনে দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে ডেমোক্রেটিক পার্টির মোট ২০ জন সম্ভাব্য প্রার্থী নিজেদের মধ্যে টিভি বিতর্কে অংশ নেবেন। ছবি: সংগৃহীত
অন্য প্রার্থীরাও ট্রাম্পের অভিবাসননীতি রদের দাবি সমর্থন করেন। সিনেটর কোরি বুকার বলেন, ট্রাম্পের হাতে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। তারা যখন এ দেশে প্রবেশ করে, তাদের কেউ নিজেদের মানবাধিকার সীমান্তে ফেলে রেখে আসে না। বুকার ও অন্য প্রার্থীরা ‘ডাকা’ কর্মসূচির অন্তর্গত তরুণ বহিরাগতদের বৈধতা প্রদানেরও অঙ্গীকার করেন।

রিফাতের দুই হত্যাকারীর যত অপকর্ম by মো. মিজানুর রহমান

রিফাতের দুই হত্যাকারী
বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রিফাত শরফিকে কুপিয়ে হত্যাকারী কারা- এ প্রশ্ন এখন মানুষের মুখে মুখে। হঠাৎ করেই কি দুর্ধর্ষ হয়ে ওঠেছে, নাকি পূর্বেও অপরাধ জগতের সঙ্গে সখ্যতা ছিলো তাদের। অনুসন্ধানে ওঠে এসেছে তাদের অপকর্মের নানা খতিয়ান। ছিনতাই, মাদক, হামলাসহ নানা অপকর্মের হোতা এই দুই খুনী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র বলছে, হত্যাকারী দুই জনের একজন রিফাত ফরাজী, আরেকজন নয়ন (২৫) বন্ড। দু’জনই অনেক আগে থেকেই অপরাধ জগতের পরিচিত মুখ। তাদের কারণে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ।
এদিকে রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ। আজ সকাল ৯টার দিকে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে বরগুনা সদর থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন তিনি।
মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে খুনের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন নয়নকে যিনি এলাকায় ‘নয়ন বন্ড’ নামেও পরিচিত। দুই নম্বর আসামি রিফাত ফরাজি, তিন নম্বর আসামি রিশান ফরাজি, চার নম্বর আসামি চন্দন। এর মধ্যে চন্দনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
এলাকাবাসী জানান, মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে যুক্ত ছিলেন খুনী রিফাত ফরাজী। এ কারণে স্থানীয়দের কাছে আতঙ্ক সে। রিফাতের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন, এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের ওপর হামলা, মারধর খুনী রিফাতের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এসব অপকর্মে কয়েকবার গ্রেপ্তার হলেও অজ্ঞাত এক কারণে খুব স্বল্প সময়েই মুক্তি পেয়ে সে। ২০১৭ সালের ১৫ই জুলাই সন্ধ্যায় তরিকুল ইসলাম (২১) নামে এক প্রতিবেশীকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে রিফাত ফরাজী।
ঘটনার শিকার তরিকুল জানান, একদিন সামান্য কথা কাটাকাটি হয় রিফাত ফরাজীর সঙ্গে। তখন রিফাত ফরাজী তাকে কুপিয়ে জখম করার হুমকি দেন। রিফাত ফরাজীর ভয়ে তিনি দেড় মাস রিফাত ফরাজীর বাসার সামনে দিয়ে না গিয়ে আধা কিলোমিটার পথ ঘুরে তার বাসায় যাওয়া আসা করতেন। হুমকি দেয়ার দেড় মাস অতিবাহিত হওয়ার পর একদিন সন্ধ্যায় রিফাত ফরাজীর বাসার সামনে দিয়ে যাওয়ার পথে তাকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মাথায় গুরুতর জখম করেন। এ ঘটনায় তরিকুলের বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।
একই বছর রিফাত বরগুনার হোমিও চিকিৎসক ডা. আলাউদ্দিন আহমেদের ডিকেপি রোডের বাসার ছাত্র মেসে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের মুখে সব ছাত্রদের জিম্মি করে ১৪টি মোবাইল ছিনতাই করে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ রিফাতের বাবা দুলাল ফরাজীকে আটক করে মোবাইলগুলো উদ্ধার করেন।
বরগুনার বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা মারজানা মনি বলেন, ২০১৭ সালের রমজানে আমার একমাত্র ছোট ভাই হাফেজ মো. মেহেদী হাসান বরগুনার হোমিও চিকিৎসক আলাউদ্দিন ডাক্তারের বাসা সংলগ্ন মসজিদে তারাবির নামাজ পড়াতো। ওই সময় একদিন রিফাত ফরাজী মেহেদীর কাছ থেকে স্যামস্যাং গ্যালাক্সি কোর প্রাইম মডেলের বিদেশ থেকে আনা একটি ফোন ছিনিয়ে নেন। বিষয়টি রিফাত ফরাজীর মা-বাবাসহ স্থানীয় অনেককে জানানোর পরও মোবাইলটি কেউ উদ্ধার করে দিতে পারেনি। পরে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করার পর সাড়ে সাত হাজার টাকার বিনিময়ে মোবাইলটি ফিরিয়ে দিয়ে হুমকি দেন রিফাত ফরাজী। তার হুমকিতে ওই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আসে আমার ভাই।
অপর খুনী নয়ন বন্ডের (২৫) বাসা বরগুনা সরকারি কলেজের দক্ষিণ-পশ্চিমে বরগুনা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে। নয়নের বাবা মৃত মো. ছিদ্দিকুর রহমান। দুই ভাইয়ের মধ্যে নয়ন ছোট। নয়নের বড় ভাই মিরাজ দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুর প্রবাসী হওয়ায় মাকে নিয়েই ওই বাসায় বসবাস করছে নয়ন। ২০১৭ সালের ৫ই মার্চ রাত ১১টার দিকে নয়ন বন্ডের বাসায় অভিযান চালায় বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদক, দুটি দেশীয় অস্ত্র ও এক সহযোগীসহ নয়ন বন্ডকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসব মাদকের মধ্যে ছিল ৩০০ পিস ইয়াবা, ১২ বোতল ফেনসিডিল ও ১০০ গ্রাম হেরোইন।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা করে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগি ইমামের বিরুদ্ধে। পরে তাদের জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে আসেন নয়ন বন্ড। জেল থেকেই বেরিয়ে মূলত এ হত্যাকান্ড ঘটায় সে।
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ওসি আবীর হোসেন মাহমুদ বলেন, নয়ন বন্ডের মাদক বাণিজ্যের কথা আমরা জানি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র মামলাসহ একাধিক মামলার কথাও আমরা জেনেছি। এর আগে নয়ন ও তার সহযোগি জেল খেটেছে। জামিনে তারা বেরিয়ে যায়। রিফাত শরীফ হত্যাকান্ডে জড়িত নয়নসহ সবাইকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
হত্যাকান্ডের শিকার রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বলেন, নয়ন প্রতিনিয়ত আমার পুত্রবধূকে উত্ত্যক্ত করত এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট দিত। এর প্রতিবাদ করায় আমার ছেলেকে নয়ন তার দলবল নিয়ে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, আমার একমাত্র ছেলেকে যারা দিনে-দুপুরে কুপিয়ে হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই।
প্রসঙ্গত, বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তার স্ত্রী আয়শা আক্তার মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। একাধারে রিফাতকে কুপিয়ে বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা। তারা চেহারা লুকানোরও কোনও চেষ্টা করেনি। গুরুতর আহত রিফাতকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্য রাস্তায় মো. শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফ (২৫)কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তীব্র গরমে পুড়ছে ইউরোপ

তীব্র গরমে পুড়ছে ইউরোপের দেশগুলো। জার্মানি, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলোতে বুধবার তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে। চলতি জুনে তাপমাত্রা আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রচণ্ড গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে।
আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফ্রান্স এবং সুইজারল্যান্ডে বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ওপরে উঠবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তর আফ্রিকা থেকে তীব্র গরম বাতাস ইউরোপের দিকে আসছে। সে কারণেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে এবং ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে দাবদাহ দেখা দিয়েছে।
এই তীব্র গরমকে জীবনের জন্য হুমকি বলে সতর্ক করেছেন ফ্রান্সের কর্মকর্তারা। বুধবার ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যাগনেস বুজিন জানিয়েছেন, পুরো পরিস্থিতির বিষয়ে তারা সতর্ক রয়েছেন।
এর আগে ২০০৩ সালেও ভয়াবহ দাবদাহের অভিজ্ঞতা হয়েছে ফ্রান্সের। সে সময় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য তীব্র গরমকেই দায়ী করা হয়েছিল।
ইউরোপের প্রায় সব দেশেই কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। লাল সতর্কতার পরে এটাই সর্বোচ্চ সতর্কতা। একই সঙ্গে কিভাবে এই তীব্র গরমেও ঠাণ্ডা থাকা যাবে সে বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রচণ্ড গরমের কারণে বিভিন্ন এলাকায় দাবানলের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন ফ্রান্সের কর্মকর্তারা। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। তবে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে সবচেয়ে গরম পড়বে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বুধবার জার্মানির ব্র্যান্ডেরবার্গের কোচেনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি বছরের জুনে এটাই জার্মানির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
পোল্যান্ডের রেডজিন এবং চেক প্রজাতন্ত্রের দোকসানিতেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছে। রেডজিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দোকসানিতে ৩৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ফ্রান্স এবং সুইজারল্যান্ডেও চলতি মাসের তাপমাত্রা আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। সেখানকার বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রেকর্ড হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে অস্বাভাবিক গরমের কারণে বিভিন্ন স্কুলের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে এবং অনেক স্কুলই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্যারিস, লিওনসহ বেশ কিছু শহরের রাস্তায় ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তীব্র দাবদাহের মধ্যে বায়ুদূষণের প্রভাব কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইমরান বিরোধী আন্দোলন, নেই জামায়াতে ইসলামি

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হয়ে মাঠে নামছে বিরোধী দলগুলো। কিভাবে তার সরকারকে ঘায়েল করা যায় তা নিয়ে বুধবার রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠক করেছেন বিরোধী দলগুলোর নেতারা। এতে নানা রকম প্রস্তাব এসেছে। কোনো কোনো নেতা বলেছেন, সব পরিষদ থেকে বিরোধী দলীয় সব সদস্যকে পদত্যাগ করতে হবে। এর ফলে ইমরান খান সরকারের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হবে। কেউ কেউ সিনেট চেয়ারম্যান সাদিক সানজরানিকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার কৌশল খুঁজেছেন। এ খবর দিয়েছে ভারতীয় বিভিন্ন মিডিয়া। এতে বলা হয়েছে, এমন একটি সম্মেলনের সিদ্ধান্ত গত মাসে হয়েছিল পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির বাসভবনে।
বুধবারের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জমিয়তে উলেমায়ে ইসলাম (ফজল)-এর নেতা মাওলানা ফজলুর রেহমান। এতে বিরোধী দলীয় নেতারা সিনেট চেয়ারম্যান সাদিককে তার পদ থেকে সরিয়ে দিতে কৌশল নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করে একমত হন। এতে মাওলানা ফজল সুপারিশ করেন, একযোগে বিরোধী দলগুলোকে সব পরিষদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। এতে সরকারের ওপর প্রচ- চাপ সৃষ্টি হবে। তবে বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো এতে আপত্তি উত্থাপন করে। বৈঠকে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএলএন) ও পিপিপি নেতারা জানান, এর চেয়ে তাদের যুক্তি পার্লামেন্টে তুলে ধরা অধিক উত্তম।
গত বছর ২৫ জুলাই পাকিস্তানে জাতীয় নির্বাচন হয়। ওই দিনটিকে কালোদিবস হিসেবে পালন করতে সম্মত হয় বিরোধী দলগুলো। একই সঙ্গে ওই দিন তারা প্রতিবাদ র‌্যালি বের করতে সম্মত হয়েছে। তারা বলেছেন, ইমরান খান নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই) সরকার জাতীয় অখন্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। তার সরকারের বিপর্যয়মূলক ধারাবাহিক নীতির মূল্য দিতে হচ্ছে দরিদ্র মানুষদের। তা ছাড়া যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে তার ফলে একটি সহিংস বিপ্লবের পথ রচিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করা হয়।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিল না বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টি-মেঙ্গালের (বিএনপি-এম) কোনো প্রতিনিধি। তারা বৈঠক শুরুর কয়েক ঘন্টা আগে এতে যোগ দেয়া থেকে বিরত থাকে। এখানে উল্লেখ্য, এই দলটি ক্ষমতাসীন পিটিআই সরকারের জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিএনপিএমের প্রধান আখতার মেঙ্গাল ওই বৈঠকে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তাকে বুধবার বিকেলে বৈঠকে আহ্বান জানানোর কারণে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে বলা হচ্ছে। শুধু বিএনপিএম’ই নয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিল না আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দল। তারা হলো জামায়াতে ইসলামি। মাওলানা ফজলের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত আমন্ত্রণ জানানো হলে তা প্রত্যাখ্যান করেন এ দলটির প্রধান সিরাজুল হক।
বুধবারের ওই বৈঠকে যেসব নেতা উপস্থিত ছিলেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, পিএমএলএনের সভাপতি শাহবাজ শরীফ, পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসী, জাতীয় পরিষদের সাবেক স্পিকার আয়াজ সাদিক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি, সিনেটর শেরি রেহমান, সিনেটের সাবেক চেয়ারম্যান রাজা রাব্বানি, আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির প্রধান আসফান্দিয়ার ওয়ালি খান, পখতুনখাওয়া মিল্লি আওয়ামী পার্টির চেয়ারম্যান মেহমুদ খান আচাকজাই প্রমুখ।

খুনিরা যেন দেশত্যাগ করতে না পারে: আইজিপিকে হাইকোর্ট

বরগুনায় দিন-দুপুরে স্ত্রীর সামনে স্বামী রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আসামিরা যেন দেশত্যাগ করতে না পারে, বর্ডার ক্রস করতে না পারে সেজন্য সীমান্তে রেড অ্যালার্ট জারির কথা বলেছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন আদালত।
আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী উদ্দেশ্যে করে বলেন, আইজি সাহেবকে বলেন আসামিরা যেন দেশত্যাগ করতে না পারে, বর্ডার ক্রস করতে না পারে। কারণ বরগুনার পাশে পিরোজপুর। সুন্দরবন। সমুদ্র এলাকা। সীমান্তের কাছে। এজন্য সীমান্তে রেড অ্যালার্ট জারি করতে বলবেন।
এর আগে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনলে হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আদালত বলেন, রাস্তায় প্রকাশ্যে এভাবে কুপিয়ে হত্যা করল অথচ স্ত্রী ছাড়া তাকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে এলে না। সবাই পাশে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে দেখল আর ভিডিও করল। এটা আমাদের জনগণের ব্যর্থতা। দেশের মানুষ তো এমন ছিল না। সামাজিকতা এখন কোথায় দাঁড়িয়েছে?
দুপুর ২টার পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার আদালতে বলেন, আমি এরই মধ্যে বরগুনার ডিসি এসপি ও সংশ্লিষ্ট থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাকে জানিয়েছেন- এ ঘটনায় আজ একটি হত্যা মামলা হয়েছে। নিহতের বাবা আব্দুল আলিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় মামলাটি করেছেন। মোট আসামি ১২ জন। এদের মধ্যে চার নম্বর আসামি চন্দনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রত্যেকের বাড়ি ও সম্ভাব্য সব জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে।
এসময় আদালত বলেন, মূল আসামি তো গ্রেফতার হচ্ছে না। যেহেতু গতকাল দুপুরে ঘটনাটি প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটেছে তাই এর অ্যাকশন দ্রুত হওয়া উচিত ছিল।
পরে রুহুল কুদ্দুস কাজল এ বিষয়ে আদেশ চাইলে আদালত বলেন, আমরা আদেশ দিচ্ছি না। কিন্তু কোনো অনিয়ম বা অবহেলা আছে কিনা আমরা নজরে রাখবো ও এ বিষয়টি আগামী বৃহস্পতিবার আবার আসবে, আমরা অগ্রগতি জানাবো।
এর আগে সকালে আদালত বলেছেন, সারা দেশের সবাই এ ঘটনায় মর্মাহত। সমাজটা কোথায় যাচ্ছে? প্রকাশ্য রাস্তায় মানুষটাকে মারলো। একজন ছাড়া কেউ এগিয়ে এলো না। জনগণকে আপনি কী করবেন? বাংলাদেশের পরিস্থিতি এমন ছিল না। ভিডিও করলো, কিন্তু কেউ এগিয়ে এলো না। এটি জনগণের ব্যর্থতা।
‘তাই এই সামাজিক সচেতনতা তৈরি করবে কে? দাঁড়িয়ে দেখেছে, কেউ প্রতিবাদ করলো না। পাঁচজন মানুষ অন্তত এগিয়ে আসলে হয়তো তারা সাহস পেতো না। হয়তো তারা (সন্ত্রাসীরা) পাওয়ারফুল, হয়তো মানুষ ভয়ে এগিয়ে আসেনি।’
প্রতিবেদনগুলো আদালতের নজরে এনে আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস বলেন, এমন অপরাধের ঘটনার বিচার যদি কোনো কারণে বিলম্ব হয় ও বিচারহীন হয়, তাহলে আরও এমন ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। তবে বিচার হবে আশা করছি।
এদিকে প্রকাশ্যে সড়কে রিফাত শরীফ (২৩) নামে এক যুবককে তার স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ও সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ কথা জানান।
গতকালকের ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কি-না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে এটা কি বলা যায়? এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা।’
অন্যদিকে বরগুনায় দিনে দুপুরে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে আদালত বিস্ময় প্রকাশ করেন।
আদালত বলেন, একটা মানুষকে প্রকাশ্যে কোপানো হলো, কিন্তু একটা মানুষও এগিয়ে আসলো না? সবাই দাঁড়িয়ে ভিডিও করলেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসলেন না? প্রত্যেকটা জনগণের ব্যর্থতা।
আদালত বলেন, সবাই এগিয়ে আসলে তো খুনিরা সাহস পেত না। তবে খুনিরা পাওয়ারফুল বলে কেউ এগিয়ে আসেনি বলেও মন্তব্য করেন আদালত।
এ ঘটনায় বরগুনার ডিসি ও এসপি কী পদক্ষেপ নিয়েছেন তা জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
অন্যদিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় চন্দন নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ জুন) রাতে চন্দনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন।
তিনি বলেন, বুধবার রাতে নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ মামলার ৪ নম্বর আসামি চন্দন। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বুধবার বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সকাল ১০টার দিকে নয়নের নেতৃত্বে ৪-৫ জন সন্ত্রাসী রিফাতকে দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যায়। এ সময় বারবার সন্ত্রাসীদের হাত থেকে স্বামীকে বাঁচাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। নিহত রিফাত শরীফের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবণগোলা গ্রামে। তার বাবার নাম আ. হালিম দুলাল শরীফ। মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন রিফাত।
এদিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে যে নৃশংস দৃশ্য দেখা যায়, যা কারও কাম্য নয়। কিন্তু যে দুই যুবক এই হত্যালীলা চালালেন, তারা কারা? এ প্রশ্ন এখন দেশবাসীর। সবাই জানতে চাচ্ছেন, এদের শক্তির উৎস কী?
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকারী দুই জনের একজন রিফাত ফরাজী। আরেকজনের নাম নয়ন (২৫) বন্ড।
দুইজনই অনেক আগে থেকেই অপরাধ জগতের পরিচিত মুখ। তাদের কারণে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানান, মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে যুক্ত ছিলেন রিফাত ফরাজী। এ কারণে স্থানীয়দের কাছে একটি আতঙ্কের নাম রিফাত ফরাজী।
রিফাতের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন, এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের ওপর হামলা, মারধর রিফাতের কাছে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এসব কারণে কয়েকবার গ্রেফতার হলেও অজ্ঞাত এক কারণে খুব স্বল্প সময়েই মুক্তি পান তিনি। ২০১৭ সালের ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় তরিকুল ইসলাম (২১) নামে এক প্রতিবেশীকে কুপিয়ে মারাত্মক যখম করেন রিফাত ফরাজী।
তরিকুল জানান, একদিন সামান্য কথা কাটাকাটি হয় রিফাত ফরাজীর সঙ্গে তার। তখন রিফাত ফরাজী তাকে কুপিয়ে যখম করার হুমকি দেন। রিফাত ফরাজীর ভয়ে তিনি দেড় মাস রিফাত ফরাজীর বাসার সামনে দিয়ে না গিয়ে আধা কিলোমিটার পথ ঘুরে তার বাসায় যাওয়া আসা করতেন। হুমকি দেয়ার দেড় মাস অতিবাহিত হওয়ার পর একদিন সন্ধ্যায় রিফাত ফরাজীর বাসার সামনে দিয়ে তরিকুল তার বাসায় যাওয়ার পথে রিফাত ফরাজী দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার মাথায় গুরুতর যখম করেন। এ ঘটনায় তরিকুলের বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।
একই বছর রিফাত বরগুনার হোমিও চিকিৎসক ডা. আলাউদ্দিন আহমেদের ডিকেপি রোডের বাসার ছাত্র মেসে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের মুখে বাসায় থাকা সব ছাত্রদের জিম্মি করে, তাদের ১৪টি মোবাইল ছিনতাই করে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ রিফাতের বাবা দুলাল ফরাজীকে আটক করে মোবাইলগুলো উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে ডা. আলাউদ্দিন আহমেদের ছেলে ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ‘ডিকেপি রোডের আমাদের ভাড়া দেয়া বরগুনা পলিট্যাকনিক ইনিস্টিটিউটের মেসে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের মুখে ১৪টি মোবাইল ছিনতাই করেন রিফাত ফরাজী। এ ঘটনা জানার পর আমি বরগুনা সদর থানায় গিয়ে অভিযোগ করায় রিফাত ফরাজীর বাবা দুলাল ফরাজীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে তিনি রিফাতের কাছ থেকে ছিনতাই করা ১৪টি মোবাইলের মধ্যে ১১টি উদ্ধার করেন। আর বাকি তিনটি মোবাইল উদ্ধার করতে না পেরে নতুন মোবাইল কিনে দিয়ে থানা থেকে মুক্তি পান।’
২০১৭ সালে বরগুনায় ইয়াবা, ফেন্সিডিল, হেরোইন ও দেশীয় অস্ত্রসহ নয়নসহ দুইজনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ
বরগুনার বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা মারজানা মনি বলেন, ‘২০১৭ সালের রমজানে আমার একমাত্র ছোট ভাই হাফেজ মো. মেহেদী হাসান বরগুনার হোমিও চিকিৎসক আলাউদ্দিন ডাক্তারের বাসা সংলগ্ন মসজিদে তারাবির নামাজ পড়ায়। তখন রিফাত ফরাজী একদিন মেহেদীর কাছ থেকে স্যামস্যাং গ্যালাক্সি কোর প্রাইম মডেলের বিদেশ থেকে আনা একটি ফোন ছিনিয়ে নেন। বিষয়টি রিফাত ফরাজীর মা-বাবাসহ স্থানীয় অনেককে জানানোর পরও আমার ভাইয়ের মোবাইলটি কেউ উদ্ধার করে দিতে পারেনি। পরে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করার পর সাড়ে সাত হাজার টাকার বিনিময়ে মোবাইলটি ফিরিয়ে দিয়ে হুমকি দেন রিফাত ফরাজী। পরে রিফাত ফরাজীর হুমকিতে ওই এলাকা ছেড়ে একপ্রকার পালিয়ে আসে আমার ভাই।’
বরগুনা সরকারি কলেজের দক্ষিণ-পশ্চিমে বরগুনা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে নয়ন বন্ডের (২৫) বাসা। নয়নের বাবা মৃত ছিদ্দিকুর রহমান। দুই ভাইয়ের মধ্যে নয়ন ছোট। নয়নের বড় ভাই মিরাজ দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুর প্রবাসী হওয়ার কারণে মাকে নিয়েই ওই বাসায় বসবাস করছেন নয়ন।
২০১৭ সালের ৫ মার্চ রাত ১১টার দিকে নয়ন বন্ডের বাসায় অভিযান চালায় বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদক, দুটি দেশীয় অস্ত্র ও এক সহযোগীসহ নয়ন বন্ডকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসব মাদকের মধ্যে ছিল ৩০০ পিস ইয়াবা, ১২ বোতল ফেনসিডিল ও ১০০ গ্রাম হেরোইন।
এ ঘটনায় দেশের প্রধান প্রধান গণমাধ্যমে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগী ইমামের গ্রেফতারের সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা করে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগী ইমামের বিরুদ্ধে। পরে তাদের জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে আসেন নয়ন বন্ড। জেল থেকেই বেরিয়ে মূলত এ হত্যাকাণ্ড ঘটান তিনি।
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবীর হোসেন মাহমুদ বলেন, নয়ন বন্ডের মাদক বাণিজ্যের কথা আমরা জানি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র মামলাসহ একাধিক মামলার কথাও আমরা জেনেছি। এর আগে নয়ন ও তার সহযোগী জেল খেটেছে। জামিনে তারা বেরিয়ে যায়। রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয়নসহ সবাইকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন আফগান প্রেসিডেন্ট by আশফাক আহমেদ

আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি
আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি বৃহস্পতিবার পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন। এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ঘানি ইতোপূর্বে ইসলামাবাদের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও তাদের মধ্যে উত্তেজনা বহাল রয়েছে। দুই দেশই সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও হামলা চালানোর সুযোগ দেয়ার জন্য একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে।
পাকিস্তান সফরে প্রেসিডেন্ট ঘানির সাথে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ীরাও থাকছেন। তারা প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের আমন্ত্রণে পাকিস্তান সফর করছেন।
ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ঘানির এটিই প্রথম পাকিস্তান সফর। তালেবানের সাথে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা ও আফগানিস্তানে দীর্ঘ দিন ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে উচ্চপর্যায়ের প্রয়াসের মধ্যে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি আফগান শান্তি সম্মেলনের সময় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ইসলামাবাদে প্রেসিডেন্ট ঘানির সফরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক উন্নত হবে। এটা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন যুগের সূচনা করবে।
দুই দিনের সফরকালে ঘানি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ড. আরিফ আলভি, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই সফরের সময় নিরাপত্তা, শান্তি ইত্যাদি বিষয়ে সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে। তাছাড়া বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও সামনে আসবে।
বুধবার পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার জন্য দুই পক্ষই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে।
প্রেসিডেন্ট ঘানি লাহোর সফরকালে উভয় দেশের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত এক সম্মেলনে অংশ নেবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের জনগণ ইতিহাস, ধর্ম, ভাষা ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে ভ্রাতৃপ্রতীম সম্পর্কে আবদ্ধ।
এতে আরে বলা হয়, নেতাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক আরো জোরদার করবে।
এটি হবে আফগান প্রেসিডেন্ট ঘানির তৃতীয় পাকিস্তান সফর। এর আগে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে পাকিস্তান সফর করেছিলেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি আফগানিস্তান-পাকিস্তান অ্যাকশন প্লান ফর পিস অ্যান্ড সলিডারিটি সম্মেলনও হয়েছে।
কাবুলে ঘানির মুখপাত্র হারুন চাখানসুরি বলেন, পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক দেশগুলো কতটা প্রস্তুত এবং আফগানিস্তানের শান্তিপ্রতিষ্ঠায় তারা কতটা সাহায্য করতে পারে, তা দেখার বিষয়।
এদিকে তালেবান ও মার্কিন কর্মকর্তারা কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। তারা আফগানিস্তান থেকে বিদেশী সৈন্য প্রত্যাহার এবং আফগানিস্তানের মাটি সন্ত্রাসীদের জন্য ব্যবহৃত হতে না দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে চূড়ান্ত মতৈক্যে পৌঁছাতে চায়।
তবে তালেবান বারবার আফগান সরকারের সাথে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানানোর সমালোচনা করেছে কাবুল প্রশাসন।
চলতি বছরের প্রথম দিকে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য পাকিস্তানকে অভিযু্ক্ত করেছিলেন ঘানি। তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধের চাবিকাঠি ইসলামাবাদ আর রাওয়ালপিন্ডিতে।
তবে তালেবানকে সমর্থন করার কথা অস্বীকার করে আসছে পাকিস্তান। তারা বলছে, তারা আফগান সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান কামনা করেন।
এদিকে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জালমি খালিলজাদ কয়েক দফা বৈঠক করেছেন পাকিস্তান কর্মকর্তাদের সাথে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, আফগানিস্তানের সাথে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা বাড়লে উভয় দেশই ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।

২০১৫ থেকে ১৯টি জঙ্গিবিমান ও কপ্টারসহ ৩৩টি আকাশযান হারিয়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনী

২০১৫-১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ১৯টি জঙ্গি বিমানসহ ৩৩টি আকাশযান হারিয়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনী। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
লোকসভায় এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন যে, রাশিয়ায় তৈরি এএন-৩২ বিমান বিমানবাহিনীতে পরিবহনের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং যেহেতু ‘এগুলো এখনও ভালো কাজ দিচ্ছে’, তাই এগুলো এখনই বাতিল করার কোন পরিকল্পনা নেই।
৩ জুন অরুণাচল প্রদেশে একটি এএন-৩২ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বিমান বাহিনীর ১৩ সেনা নিহত হয়।
তিনি বলেন, ২০১৫-১৬ সময়কালে, বিমান বাহিনীর চারটি জঙ্গি বিমান, একটি হেলিকপ্টার, পরিবহন ও প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছয়টি জঙ্গি বিমান, দুটো হেলিকপ্টার, একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। ২০১৭-১৮ সালে বিমান বাহিনী দুটো জঙ্গি বিমান ও তিনটি প্রশিক্ষণ বিমান হারায়।
২০১৮-১৯ সালে এ সংখ্যাটা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। বিমান বাহিনী এ সময় সাতটি জঙ্গি বিমান, দুটো হেলিকপ্টার ও দুটো প্রশিক্ষণ বিমান হারিয়েছে।
এর মধ্যে মিগ-২১ জঙ্গি বিমানের হিসাবও রয়েছে, যেটা নিয়ে উইং কমান্ডার অভিনন্দন ভার্তামান ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নিয়েছিল এবং পাকিস্তান যেটাকে ভূপাতিত করে।
একই দিন একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টারও বিধ্বস্ত হযে ছয় বিমান সেনা নিহত হয়।
২০১৯-২০ সালে চলতি মাসের শুরুর দিকে অরুণাচল প্রদেশে একটি এএন-৩২ পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৩ বিমান সেনা নিহত হয়েছে।
এএন-৩২ বিমানের পক্ষ নিয়ে সিং বলেন, এই বিমান তেমন ঘন ঘন দুর্ঘটনায় পড়েনি।
তিনি বলেন, “গত চার বছরে, ৩ জুনের বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনার পাশাপাশি ২০১৬ সালের ২২ জুলাই আর একটি মাত্র এএন-৩২ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল। বিমানটি সে সময় বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল”।
সিং আরও বলেন যে, এএন-৩২ বহরের একটি অংশকে আরও আধুনিক উন্নত বিমান দিয়ে বদলে ফেলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “বাকি বিমানগুলোকে ধাপে ধাপে আপগ্রেড করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে”।

‘আদালত আমাকে খালাসও দেয় না, শাস্তিও দেয় না’ -রাবেয়া খাতুন

প্রায় ১৮ বছর আগে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় বৃদ্ধ রাবেয়া খাতুন হাইকোর্টে হাজির হয়েছেন। উচ্চ আদালতের আদেশ অনুসারে আজ বুধবার সকালে তিনি তাঁর নাতি আলমগীর হোসেনের হাত ধরে লাঠিতে ভর দিয়ে আদালতে আসেন।
বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ এ–সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার দিন রয়েছে।
‘অশীতিপর রাবেয়া: আদালতের বারান্দায় আর কত ঘুরবেন তিনি?’ শিরোনামে গত ২০ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। এটি যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আশরাফুল আলম গত ২৮ এপ্রিল হাইকোর্টে একটি আবেদন করেন। এর শুনানি গ্রহণে ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট রাবেয়া খাতুনের বিরুদ্ধে থাকা মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত করেন। মামলার নথি তলবের পাশাপাশি নিম্ন আদালতে থাকা মামলাটি কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেওয়া হয়।
এরপর গত ১৫ মে হাইকোর্ট এক আদেশে ২৬ জুন রাবেয়ার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তাঁর আইনজীবীকে নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় গত কাল ২৬ জুন অশীতিপর রাবেয়া আদালতে হাজির হন।
আবেদনকারী আইনজীবী আশরাফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ২০০২ সালে করা ওই মামলায় রাবেয়ার বয়স ৬০ বছর বলা হয়। সে অনুসারে তাঁর বয়স হয় ৭৭ বছর। তবে রাবেয়ার ভাষ্য, তাঁর বয়স ১০৪ বছর।
জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮ বছর ধরে আদালতে হাজিরা দেন রাবেয়া। মামলা শেষ হয় না। কবে শেষ হবে তাও জানেন না। রাবেয়া বলেন, ‘পুলিশেরে শরবত, মোরব্বা বানাই খাওয়াইছি। তারপরও মামলায় আমারে আসামি বানাইছে। আমি আর বাঁচতে চাই না, মরতে চাই। অনেক দিন ধরে এই মামলায় হাজিরা দেই। আদালত আমাকে মামলা থেকে খালাসও দেয় না, শাস্তিও দেয় না।’
অবৈধ অস্ত্র ও গুলি নিজ হেফাজতে রাখার অভিযোগে ২০০২ সালের ২ জুন রাবেয়া খাতুনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ওই মামলা করা হয়।
হাইকোর্টে হাজির রাবেয়া খাতুন। ঢাকা, ২৬ জুন। ছবি: হাসান রাজা

জ্বালানি দক্ষতায় নেতৃত্ব দেয়া উচিত বাংলাদেশের -তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ সংকটের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ২০০৮ ও ২০০৯ সালে এখানে বিদ্যুৎ সংকট ছিল সবচেয়ে খারাপ। রিপোর্ট বলছে, ২০১৪ সালে এক ‘ব্ল্যাকআউটে’ ১০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬০ ভাগেরও বেশি। এখানে রয়েছে বর্ধিষ্ণু অর্থনীতি এবং বৃহৎ জনগোষ্ঠী। এ অবস্থায় দেশটি সব সময়ই উন্নয়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে। এ অবস্থা মোকাবিলায়, বিদ্যুৎ চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধান মিটাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে বাংলাদেশ। এখানকার বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করেছে বৃটেন, চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো।
দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ এখন বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। এই যখন অবস্থা তখন বিশ্বজুড়ে জলবায়ু ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আর বাংলাদেশ মনোযোগ দিয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির দিকে। কীভাবে ২০২১ সালের মধ্যে পুরো দেশবাসীর কাছে বিকল্প পরিবেশবান্ধব জ্বালানিসহ বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবে বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশ সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরীর একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ভয়েস অব আমেরিকার (ভিওএ) শতরূপা বড়ুয়া। এখানে তা তুলে ধরা হলো-
ভিওএ: ২০১৮ সালে বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার সামিটে আপনি বক্তব্যে বলেছিলেন, বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে হলে বড় যে দুটি বিষয়ে অধিক অগ্রাধিকার দিতে হবে তা হলো বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির উন্নয়ন। এটা অর্জনের জন্য এখন পর্যন্ত আপনারা কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন।
উত্তর: ২০০৯ সাল থেকে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন বিষয়ক প্রকল্পগুলোতে ২০০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছি। এসব প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে এবং বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই ২০০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের অর্ধেক এসেছে বেসরকারি খাত থেকে। আমরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এখানে আসতে এবং আমাদের বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করছি। অভ্যন্তরীণ অথবা বিশ্বব্যাংক ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মতো বহুজাতিক এজেন্সির কাছ থেকে বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করা থেকে আমরা সরে এসেছি। আমাদের সরকার এক্ষেত্রে মার্কেট ও জড়িত বেরসরকারি খাতের দিকে হাত বাড়িয়েছে, বিশেষ করে বিদেশি কোম্পানিগুলোর দিকে, যারা বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিষয়ক প্রকল্পের দরপত্রে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যদিয়ে তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে।  উদ্ভাবনী প্রযুক্তির উন্নয়নের ক্ষেত্রে, আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্স কাউন্সিল। তাদের কাজ হলো প্রযুক্তিগত সমাধানের উন্নয়ন করা, যেসব প্রযুক্তি হবে পরিবেশবান্ধব। এই কাউন্সিল আরো গবেষণা ও টেকসই নবায়নযোগ্য জ্বালানির উদ্ভাবন অনুমোদন করে।
ভিওএ: ২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে ১৮০০০ মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে তা ৬০০০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য আছে আপনাদের। কিন্তু এই ৬০০০০ মেগাওয়াটের মধ্যে কতটুকু হবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি?
উত্তর: আমি বলবো শতকরা ১০ ভাগ একটি ভালো টার্গেট। আমরা ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতাসম্পন্ন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছি। আধুনিকায়ন করে এখান থেকে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। আমরা দেশের ৫ থেকে ৬টি স্থানে উইন্ড এনার্জি টার্বাইন ব্যবহারের সম্ভাব্যতার দিকে যাচ্ছি এবং এক্ষেত্রে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে প্রস্তাবনা আহ্বান করেছি।
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সৌরশক্তি চালিত বিদ্যুতের ব্যবস্থা রয়েছে বাসাবাড়িতে। এমন বাড়ির সংখ্যা ৬০ লাখের ওপরে। এই সংখ্যাকে প্রতিটি বাড়ির ৫ জন সদস্য দিয়ে গুন করুন। তাহলে আপনি পাবেন তিন কোটি মানুষ। তারা সৌরবিদ্যুৎ পাচ্ছে, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানি। এসব সৌর বিদ্যুৎ গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার হচ্ছে। ব্যক্তিবিশেষের বাড়িতে বসানো হয়েছে সৌরবিদ্যুতের ছোট ছোট প্যানেল। এসব বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত নয়। ফলে এর ব্যবহারকারীদের একটি সীমাবদ্ধতা আছে। আমি মনে করি, এভাবে এই রুটের মাধ্যমেও আমরা যতদূর সম্ভব এগিয়েছি। ভারত, মিয়ানমার, ভুটান ও নেপালের মতো দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে আমাদের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে তাদের জাতীয় গ্রিডের সংযুক্তির একটি সম্ভাব্যতা আমরা খুঁজছি। নেপাল এবং ভুটানের রয়েছে বড় আকারের পানিবিদ্যুৎ বিষয়ক বড় বড় প্রকল্প। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে পারে। আর সেই বিদ্যুৎ আমাদের জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে ভারত, নেপাল ও ভুটানের জাতীয় গ্রিডের সংযুক্তির মাধ্যমে রপ্তানি করতে পারে বাংলাদেশে।
ভিওএ: ভয়েস অব আমেরিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এম এ মোমেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে সাম্প্রতিক সাক্ষাতে বাংলাদেশের উপকূলে অফসোর ব্লকগুলোতে মজুদ হাইড্রোকার্বন উত্তোলনের যুক্তরাষ্ট্র বিনিয়োগ করবে অথবা যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের সঙ্গে বিনিয়োগ করবে। এ বিষয়ে আমরা এখন কোন অবস্থায় আছি?
উত্তর: নতুন অনুসন্ধানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো। আমাদের কাছে এসেছে মোবিল। তারা আমাদের দেশের উজান ও ভাটিতে হাইড্রোকার্বন শিল্পে তাদের আগ্রহ দেখিয়েছে। আমরা তাদেরকে আমন্ত্রণ জানাবো এবং গভীর সমুদ্রে (মজুত থাকা হাইড্রোকার্বন) অনুসন্ধানের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা করতে বলবো।
ভিওএ:  বিদ্যুৎ বা জ্বালানি খাতে আর কি কোনো এলাকা আছে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র অথবা যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করার সম্ভাব্যতা রয়েছে?
উত্তর: সম্প্রতি আমরা জেনারেল ইলেকট্রিক ও তাদের স্থানীয় অংশীদারের সঙ্গে ২০০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ দেয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর করেছি। আমরা সামিট পাওয়ার এবং জেনারেল ইলেকট্রিকের সঙ্গেও একটি চুক্তি করেছি ৫৮৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো বিপুল আগ্রহ দেখাচ্ছে। আমরা আশা করছি, তারা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে আসবে।
আর অ্যান্ড ডি (রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট)-এর প্রতিও আমাদের আশা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে আমাদের কিছু সহযোগিতা রয়েছে। এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্স কাউন্সিল থেকে আমরা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাদেরকে দেশে ফিরে আমাদের প্লাটফরমে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছি। আহ্বান জানিয়েছি তাদের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ দিতে। মার্কিন শিক্ষা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা নেয়া হতে পারে গবেষণায়।
ভিওএ: আপনার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারে রয়েছে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের কাছে ‘নিরাপদ নেটওয়ার্ক’ পৌঁছে দেয়া। বেশি ভাগ মানুষের কাছে সাধ্যের মধ্যে গ্যাস পৌঁছে দিতে আপনারা ভর্তুকি দিচ্ছেন। নিকট ভবিষ্যতে কি আস্তে আস্তে এই ভর্তুকি তুলে নেয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে আপনাদের?
উত্তর: আমরা গ্রামে গ্রামে কম দামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। আমরা এক্ষেত্রে বিষয়টিকে ভর্তুুকি হিসেবে দেখি না। আমরা এটাকে অধিক ‘হিউম্যান ক্যাপিটালে’ বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। বিদ্যুৎ গ্রামীণ পরিবেশে জীবন পাল্টে যাওয়ার একটি উপাদান। এতে শিক্ষা, ক্ষুদ্র মাপের উৎপাদন ও বয়স্কদের দেখাশোনা করায় সহায়ক হচ্ছে। এতে নবজাতকদের মৃত্যুহার কমে যাবে। মাতৃ মৃত্যুহার কমে যাবে। এটাকে দেখা হয় সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে।
ভিওএ: শেষ করার আগে, আমি জানতে চাই, আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কি? আপনি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতকে, ধরুন পরবর্তী ২০, ৩০ বছরে কেমন দেখতে চান?
উত্তর: খুবই ভালো কথা। আমি দেখতে চাই প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। বিদ্যুতে দক্ষতায় আমাদের নেতৃত্ব দেয়া উচিত। জ্বালানি সংরক্ষণে আমাদের নেতৃত্ব দেয়া উচিত। জ্বালানি ইস্যুতে দায়িত্ববোধে আমাদের নেতৃত্ব দেয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী যে বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন তা হলো দায়িত্ববোধ। বিদ্যুৎ ব্যবহারে আমাদেরকে দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ খরচ করুন। সামর্থ্য থাকলেই অধিক বিদ্যুৎ খরচ করবেন না।

টিকে রইলো পাকিস্তান

অবশেষে হারের তেতো স্বাদ পেলো নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম হার দেখলো দলটি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০ উইকেট জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা নিউজিল্যান্ড কঠিন পরীক্ষার পরে মুখোমুখি হয় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওই ম্যাচে হারতে হারতে দুই উইকেটের জয় পায় কিউইরা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচে প্রত্যাশিত জয় পায় তারা। ভারতের বিপক্ষের তাদের বাঁচিয়ে দেয় বৃষ্টি! দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভাগ্যগুনে জয় পায় ব্ল্যাক ক্যাপসরা। তবে সপ্তম ম্যাচে আগের ভাগ্যের সহায়তা মেলেনি। এজবাস্টনে বাবর আজমের সেঞ্চুরিতে নিউজিল্যান্ডের করা ২৩৭ রান পাকিস্তান টপকে গেছে ছয় উইকেট হাতে রেখেই।
পাকিস্তানের এ জয়ে আরো চাপে পরে গেল ইংল্যান্ড। নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে এখন জিততেই হবে স্বাগতিকদের। এ জয়ে ৭ ম্যাচে মোট ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ছয়ে উঠে এল পাকিস্তান। তাদের (-০.৯৭৬) সমান পয়েন্ট পেলেও রানরেটে এগিয়ে থাকায় টেবিলের পাঁচে বাংলাদেশ (-০.১৩৩)। তবে পাকিস্তানের এ জয়ে বাংলাদেশ দলের ওপর চাপ কিছুটা হলেও বাড়ল। দুই দলেরই পয়েন্ট সমান, হাতেও রয়েছে সমান দুটি করে ম্যাচ। অর্থাৎ সেমিতে ওঠার দৌড়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করতে হবে দুই দলকে। আর গতকালের হারে সেমিফাইনালে ওঠার অপেক্ষা বাড়ল নিউজিল্যান্ডের। ৭ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে কেন উইলিয়ামসনের দল। আগামী ২ জুলাই ভারতের সঙ্গে খেলবে বাংলাদেশ, শনিবার আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। আগামী ৫ জুলাই একের অপরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।
জয়ের জন্য পাকিস্তানকে ২৩৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। উইলিয়ামসন ও গাপটিলদের ব্যাটিংয়ের সময়ই পাকিস্তানের দুই স্পিনার শাদাব খান ও ইমাদ ওয়াসিমদের বল বেশ বাঁক নিয়েছে। তাতে বিশ্লেষকেরা বার বার বলছিলেন নিউজিল্যান্ডের স্কোর মোটামুটি হলেও তাড়া করা সহজ হবে না পাকিস্তানের। নিউজিল্যান্ডের করা ২৩৭ রান তাড়া করে জয় তুলে নিতে ভালোই বেগ পেতে হয়েছে পাকিস্তানের। ২৪.৫ ওভারের মধ্যে ১১০ রান তুলতে ৩ উইকেট হারিয়েছিল সরফরাজ বাহিনীর। এরপর চতুর্থ উইকেটে বাবর-হারিসের ১২৬ রানের জুটি পাইয়ে দেয়। বাবর আজমের সেঞ্চুরি এবং হারিস সোহেলের ৬৮ রানে ভর করে ৫ বল হাতে রেখেই জয় তুলেনেয় ১৯৯২ সালের চ্যাম্পিয়নরা। ১২৭ বলে ১০১ রান করে অপরাজিত ছিলেন বাবর।
যদিও শুরুতে কিন্তু ভালোই শঙ্কায় পড়েছিল উপমহাদেশের দলটি। তৃতীয় ওভারে ফখর জামানকে (৯) তুলে নেন ট্রেন্ট বোল্ট। ১১তম ওভারে লকি ফার্গুসনের বলে ইমাম-উল-হকের (১৯) দুর্দান্ত ক্যাচ নেন মার্টিন গাপটিল। এরপর বাবরের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৬৬ রানের জুটি গড়েছিলেন মোহাম্মদ হাফিজ। জুটি ভাঙতে শেষ পর্যন্ত বল হাতে তুলে নিয়েছিলেন কিউই অধিনায়ক উইলিয়ামসন। ‘পার্ট টাইম’ এ স্পিনারকে অযথাই উড়িয়ে মারতে গিয়ে উইকেট উপহার দেন হাফিজ (৩২)। এদিন এজবাস্টনে বৃষ্টির কারণে খেলা শুরু হয়েছে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে। মাথার ওপরেও ভর করেছিল কালো মেঘ। কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন এর মধ্যে টস জিতে কেন আগে ব্যাটিং করলেন, সে প্রশ্ন থাকবে। অবশ্য খেসারতও দিতে হয়েছে ভালোই।
টপ অর্ডারের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যান প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন দলীয় সংগ্রহ ১০০ রানের কোটা ছোঁয়ার আগেই। এখান থেকে খোঁড়াতে খোঁড়াতে শেষ পর্যন্ত উঠে দাঁড়িয়ে পুরো ৫০ ওভারই খেলতে পেরেছে নিউজিল্যান্ড ; সংগ্রহ করে ৬ উইকেটে ২৩৭। এর পুরো কৃতিত্ব দুই অলরাউন্ডার কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ও জিমি নিশাম। ষষ্ঠ উইকেটে ১২৮ বলে ১৩২ রানের জুটি গড়েন দুজন। গ্র্যান্ডহোম ৬৪ রান করে ফিরলেও নিশাম খেলেছেন ইনিংসের শেষ পর্যন্ত। সেঞ্চুরির সুবাস ছড়িয়ে অপরাজিত ছিলেন ৯৭ রানে। পাকিস্তানের হয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন শাহিন আফ্রিদি। আমির ১ উইকেট নিলেও ১০ ওভারে ৬৭ রান দিয়েছেন। শাদাব খান ১০ ওভারে ৪৩ রান খরচায় নিয়েছেন ১ উইকেট।

প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে যুবককে কুপিয়ে হত্যা by মো. মিজানুর রহমান

শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্য রাস্তায় মো. শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফ (২৫) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এরই মধ্যে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
নিহত রিফাত শরীফের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবণগোলা গ্রামে। তার বাবার নাম আ. হালিম দুলাল শরীফ। মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন রিফাত। বুধবার সকালে গুরুতর অবস্থায় রিফাতকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ধারালো দা দিয়ে রিফাতকে একের পর এক কোপ দিতে থাকে দুই যুবক। ওই সময় রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি দুই যুবককে বারবার প্রতিহতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ঘটনাটি পুলিশের সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল।
রিফাতের স্বজনরা জানায়, দীর্ঘদিন প্রেমের পরে দুই মাস আগে বরগুনা সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়ানের মো. দুলাল শরীফের ছেলে রিফাত শরীফের সঙ্গে বিয়ে হয় আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির। পরে বরগুনা পৌরসভার ধানসিরি এলাকার আবুবকর সিদ্দিক এর ছেলে নয়ন বন্ড মিন্নিকে তার স্ত্রী বলে দাবী করেন। এ নিয়ে বিরোধ শুরু হলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় একাধিকবার। পরে আয়সার ফেইসবুক আইডি হ্যাক করে আয়শার ছবি দিয়ে ফেইসবুকে আপত্তিকর পোষ্ট দেয় নয়ন বন্ড। এ বিষয় নিয়ে রিফাতের সাথে তুমুল ঝগড়া হয় নয়নের। পরে বুধবার সকালে কলেজের সামনে রিফাতকে পেয়ে তাকে নয়ন ও তার প্রতিবেশী রিফাত ফরাজী, রিশান ফরাজী ও রাব্বি আকনসহ কয়েকজন প্রকাশ্যে কুপিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়।
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ওসি আবির মোহাম্মাদ হোসেন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তারা। ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে সেখানে থানা পুলিশের সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে খুনিদের শনাক্ত করা হয়েছে।

তিউনিশিয়ায় আটকা অভিবাসীদের দেশে ফিরতে বাধ্য করার অভিযোগ

তিউনিশিয়া উপকূলে আটকে পড়া বাংলাদেশীরা দেশে ফিরতে না চাইলে তাদেরকে খাদ্য ও পানি থেকে বঞ্চিত রাখার হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এমন হুমকির প্রেক্ষিতে কমপক্ষে ৩০ জন বাংলাদেশী দেশে ফিরতে সম্মতি দিতে বাধ্য হয়েছেন। মঙ্গলবার তাদের একটি দল দেশে এসেছেন। তবে তাদেরকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এসব বাংলাদেশী স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে রাজি হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে ল্যাতিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলাভিত্তিক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টেলিসুর অনলাইন।
এতে বলা হয়েছে, কমপক্ষে ৩০ বাংলাদেশী অভিবাসীকে জোর করে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এমন অভিযোগ করেছেন তাদের অভিভাবকরা ও দাতব্য সংগঠনগুলো। ওইসব অভিবাসী লিবিয়া থেকে নৌপথে ইউরোপ যাত্রা করেছিলেন।
তাদেরকে গত ৩১ শে মে চীনা মালিকানাধীন মেরিডাইভ ৬০১ নৌযান উদ্ধার করে অবস্থান করে তিউনিশিয়া উপকূলে। এই নৌযানটি অফসোর তেল কোম্পানিতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। ওইসব অভিবাসীকে উদ্ধার করা হলেও তিউনিশিয়া তাদেরকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে কয়েক সপ্তাহ তারা তিউনিশিয়া থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের ভিতরে আটকা পড়ে ভাসতে থাকেন। এভাবে কেটে যায় আরো ২০ দিন।  এরপরে ১৮ই জুন তাদেরকে তিউনিশিয়ার একটি বন্দিশিবিরে নিয়ে রাখা হয়। কয়েক দিনের মধ্যে তাদের ১৭ জনকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। অন্য ১৫ জনকে মঙ্গলবার দেশে পাঠানো হয়।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) বলছে, প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশী দেশে ফিরে যেতে চেয়েছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অন্য অভিবাসীরাও ফিরে যাবেন। কিন্তু এসব অভিবাসীর আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় দাতব্য সংগঠনগুলো বলছে, বাংলাদেশী একজন কর্মকর্তা ওইসব অভিবাসীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন। তিনি তাদেরকে ভয় দেখান। বলেন, যদি তারা সেখানে অবস্থান করতেই চান তাহলে তারা খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন। এর ফলে তারা দেশে ফেরার অনুরোধ মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন। একজন আত্মীয় দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, যখন সবাই উদ্ধারকারী বোটে ছিলেন তখন বাংলাদেশী ওই কর্মকর্তা তাদেরকে বলেছেন যে, যদি তারা দেশে ফিরতে রাজি না হন তাহলে কোনো খাদ্য ও পানি দেয়া হবে না তাদেরকে। এতে ওই বোটে মারা যাওয়ার ভয় পেয়ে বসে তাদেরকে। ফলে তাদেরকে দিয়ে জোর করে দেশে ফেরার সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়েছে।
তিউনিশিয়ায় অভিবাসীদের অধিকার বিষয়ক নিরপেক্ষ সংগঠন দ্য ফোরাম তিউনিসিয়েন পোর লেস ড্রোইটস ইকোনোমিকস এট সোসিয়াউক্স বা তিউনিসিয়ান ফোরাম ফর ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল রাইটস (এফটিডিইএস) বলছে, তারা বিশ্বাস করে না যে, এসব অভিবাসী স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে রাজি হয়েছেন। গ্রুপটি আরো বলেছে, যেখানে অভিবাসীদের আটক রাখা হয়েছে আমরা সেখানে বার বার ভিজিট করার চেষ্টা করেছি, জানার চেষ্টা করেছি তাদের ইচ্ছা সম্পর্কে। কিন্তু বার বার এমন অনুরোধ করা সত্ত্বেও আমাদেরকে বলা হয় নি, এসব অভিবাসীকে কোথায় রাখা হয়েছে।
তবে অভিবাসীদের কাউকে জোর করে দেশে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে আইওএম। তারা বলেছে, এসব অভিবাসীর সবাই স্বেচ্ছায় তাদের দেশে ফিরতে রাজি হয়েছেন। তিউনিশিয়ায় আইওএমের মিশন প্রধান লোরেনা ল্যান্ডো বলেছেন, সমুদ্রের ভিতর বসে থাকা কোনো সমস্যার সমাধান নয়। যদি তারা মনে করেন দেশে ফিরলে তাদের ওপর নিপীড়ন চালানো হবে তাহলে আশ্রয় প্রার্থনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির। অথবা তারা দেশে ফিরতে চাইতে পারেন। অথবা সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সময় নিতে পারেন।
ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপমুখী শরণার্থীদের উদ্ধার বিষয়ক হটলাইন হলো অ্যালার্ম ফোন। এর মুখপাত্র বলেছেন, আইওএম স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার কথা বলছে, যখন স্বেচ্ছায় ফেরার কিছুই ঘটে নি।

পশ্চিমবঙ্গের কেউ নেই বিশ্বকাপে! by আনিসুল হক

‘ক্রিকেটের বিশ্বযুদ্ধে এক বাংলার আলোর ঝলক, অন্য বাংলা অন্ধকারে।’ লিখেছে আনন্দবাজার পত্রিকা। বাংলাদেশের ১১ বাঙালি যখন বিশ্বকাপের আসর দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, তখন পশ্চিমবঙ্গের একজনও কেন নেই ভারতীয় একাদশে! সৌরভ গাঙ্গুলীর বিদায়ের পর কেন একজনও নেই পশ্চিম বাংলার, যাঁকে অন্তত জাতীয় দলের জন্য ভাবা যেতে পারত! কেন এমন হচ্ছে, আনন্দবাজার পত্রিকায় কৃশানু মজুমদার তা অনুসন্ধান করার চেষ্টা করেছেন। ওই লেখায় কবি জয় গোস্বামীর উক্তি, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জেদ, তারুণ্য, তেজ, সাহস, সবটাই অবাক করে। এপার বাংলায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সেটা দেখা যায় না।’
কৃশানু বলছেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে, হারুক বা জিতুক, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা মাঠে অন্য এক খিদে অনুভব করেন। অসম্ভবকে সম্ভব করার এক প্রবল তাগিদ বারবার ফুটে বেরোতে দেখা যাচ্ছে সাকিব, মাশরাফি, তামিম, মুশফিকদের। সেই মানসিক তেজ কি এপার বাংলার খেলোয়াড়দের মধ্যে কম?’ সাহিত্যিক স্মরণজিৎ চক্রবর্তী বলছেন, ‘(ভারতের) বিভিন্ন প্রদেশের মানুষের চেহারা বিভিন্ন। প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে কর্মক্ষমতার বিভিন্নতা দেখা যায়। কিন্তু বাংলাদেশ তেমনটা নয়। সেখানকার তরুণদের ভিন্ন চেহারার ও তুলনামূলকভাবে বেশি কর্মক্ষম প্রতিযোগীদের সঙ্গে লড়তে হয় না।’
কথাটার অন্য একটা মানে আছে। বাঙালিরা শারীরিকভাবে ছোটখাটো, কম বলশালী। যোদ্ধা জাতি হিসেবে বাঙালির কোনো ঐতিহাসিক সুনাম নেই।
সে কারণে ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রে পশ্চিম বাংলার বাঙালিরা পিছিয়ে পড়ছে।
কিন্তু বাংলাদেশের বাঙালিরাও তো ভাতই খায়। বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা যখন অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ান, তখন উচ্চতা ও স্বাস্থ্যের তারতম্য খুবই চোখে পড়ে। কিন্তু খেলা কেবল লম্বা-চওড়া মানুষদের ব্যাপার নয়। তা যদি হতো, মেসি কিংবা ম্যারাডোনা ফুটবলে পৃথিবীসেরা হতেন না, শচীন টেন্ডুলকার হতেন না বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যান। অনুশীলন, প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা, দূরদর্শিতা, অবকাঠামোর সঙ্গে প্রতিভা যোগ হলে যেকোনো বিষয়েই ভালো করা যায়। আর জয়ের জন্য লাগে জিগীষা! জয় করার প্রচণ্ড আকাঙ্ক্ষা।
ক্রিকেট কেবল শারীরিক খেলা নয়, মনেরও খেলা। বোলার আর ব্যাটসম্যান দ্বৈরথ হতে থাকে, কে কার ওপরে চড়াও হতে পারে। ফিল্ডিংয়ে লাগে অতন্দ্র মনঃসংযোগ। বাঙালির কাছে এসব ব্যাপারে বেশি প্রত্যাশা করা বোধ হয় বাড়াবাড়ি হবে। আমরা সবাই কবিতা লিখি, কারণ তাতে পরিশ্রম কম হয়, আমাদের উপন্যাস হয় ৬০ পৃষ্ঠার। আমাদের ধৈর্য কম।
তবু মাশরাফি বাহিনী লড়ে যাচ্ছে। হারাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা আর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। অতীতে বিশ্বকাপে হারিয়েছে পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ডের মতো দলকে। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে পশ্চিম বাংলার সাবেক অধিনায়ক লক্ষ্মীর উক্তি, ‘বাংলাদেশ একটা দেশ। পশ্চিমবঙ্গ একটা রাজ্য। এভাবে তো তুলনা হয় না।’
আসলে বাংলাদেশ যে ভালো করছে, তার কারণ নবীন এবং তারুণ্যপ্রধান এই দেশটা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জয়ের জন্য ক্ষুধার্ত হয়ে আছে। তা যেমন ক্রিকেটে, যেমন মেয়েদের ফুটবলে, তেমনি অর্থনীতিতে, ব্যবসা-বাণিজ্যে। ক্রিকেটের বিশ্বদরবারে যে ১১ বাঙালি দাপট দেখাচ্ছেন, তার কারণ যুদ্ধজয়ী একটা স্বাধীন দেশের নাছোড় বিজয়-আকাঙ্ক্ষা।
এই বিজয়-আকাঙ্ক্ষার তীব্র স্রোতকে যদি ঠিক চ্যানেলে প্রবাহিত করা যায়, তা আমাদের দেবে আলো, দেবে শক্তি। দেশনায়কদের কাছে আমাদের সেইটাই চাওয়া।
আর খেলার অধিনায়কের কাছে চাওয়া, হারার আগে হারবেন না। শেষ বল পর্যন্ত লড়ে যেতে হবে। খেলায় জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু নামতে হবে জয়ের জন্য। বিজয় মহান, কিন্তু বিজয়ের জন্য সংগ্রাম মহত্তর।

শেরপুরে গারো পাহাড়ে যত্রতত্র বালু উত্তোলন, রাজস্ববঞ্চিত সরকার by মুগনিউর রহমান মনি

শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ে যত্রতত্র চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার অন্তত ১০টি স্থানের পাহাড়ি ছড়া, খাল ও নদীতে শ্যালো মেশিন বসিয়ে দিনরাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেই সাথে বনের গাছপালা ও পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করে প্রতিদিন ট্রাক, ট্রলি ভর্তি করে এসব বালু দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। বন ও পরিবেশের ক্ষতি হলেও এদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। প্রভাবশালী মহল হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেও সাহস দেখায় না কেউ। এদিকে যত্রতত্র অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের কারণে লোকসানের মুখে পড়েছেন বালুমহাল ইজারাদাররা।
সরেজমিন দেখা গেছে, গারো পাহাড়ের সোমেশ্বরী, মহারশি, কালঘোষা, ভোগাই চেল্লাখালী নদীসহ বিভিন্ন নদী ও ছড়ায় শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। শ্রীবরদী উপজেলার কর্ণঝোড়া, বাবেলাকোনা এবং ঝিনাইগাতী উপজেলার তাওয়াকুচা, ছোট গজনী, রামেরকুড়া, বাকাকুড়া, ফুলহারী, গান্ধিগাঁওসহ অন্তত ১০টি স্পটে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় নদী তীরবর্তী এলাকার বসতি, শাল গজারি বনের গাছপালা ও আবাদি জমি ভাঙনের কবলে পড়েছে। সেই সাথে দিনরাত শ্যালো মেশিনের বিকট আওয়াজে বন্যপ্রাণী ও পাখিসহ পাহাড়ি পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। কিছু এলাকার গ্রামীণ সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া উপজেলার সন্ধ্যাকুড়ায় মহারশি নদীর সেতু, বাকাকুড়া সেতুসহ কয়েকটি সেতু-কালভার্ট ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
গারো পাহাড়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং ইরি-বোরো মওসুমে নদীর উজানে বাঁধ দেয়ায় বালু উত্তোলন করতে না পেরে লোকসানের মুখে পড়েছে সওদ বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী ইজারাদার আসাদুজ্জামান স্বপনসহ বালুমহালের ইজারাদাররা। ইজারাদার আসাদুজ্জামান স্বপন জানান, অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা বালু উত্তোলন করে কম দামে বিক্রি করায় তাদের বালু অবিক্রিত পড়ে রয়েছে। তিনি জানান, গত বছর ঝিনাইগাতীর সোমেশ্বরী নদীর তাওয়াকুচা এলাকায় ৬.৫১ একর জমির বালুমহাল ১ কোটি ২০ লাখ টাকায় ইজারা নিয়ে মাত্র ৬০ লাখ টাকার বালু বিক্রি করতে পেরেছিলেন। এ বছর ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশী নদীর ফাখরাবাদ বালু মহাল ৩৮ লাখ ৬০ হাজার টাকায় ইজারা নেয়া হলেও অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে তাদের বালু অবিক্রিত রয়ে যাচ্ছে। এবারো তিনিসহ ইজারাদাররা লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন। এ বালুমহালটি ইতঃপূর্বে ছামিউল ফকির মাত্র ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে আদালতে একটি রিটের দোহাই দিয়ে ১৪ বছর ধরে বালু উত্তোলন করায় সরকার প্রায় ৬ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে ছামিউল ফকিরের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা হয় এবং তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন রিট নিষ্পত্তির ভিত্তিতে সওদ বিল্ডার্সকে ৩৮ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বালুমহাল ইজারা দিলে সওদ বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী আসাদুজ্জামান স্বপন হাইকোর্টে ছামিউল ফকিরের রিটের নিষ্পত্তি চাইলে আদালতের নির্দেশে তা নিষ্পত্তি হয়।
বালুমহাল ইজারাদার স্বপন আরো জানান, গত বছর তাওয়াকুচায় বালুমহাল ইজারা নিয়ে ৬০ লাখ টাকা লোকসান গুনে জেলা প্রশাসনের কাছে সুবিচার না পেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন, যা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়াও তিনি মহারশী নদীর ফাখরাবাদে বালু মহাল ইজারা পেয়েছেন; কিন্তু অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে এবারো তাদের লোকসান গুনতে হবে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কেউ আর বালুমহাল ইজারা নিতে আসবে না বলে তিনি জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গান্ধিগাঁও, ভালুকা, পশ্চিম বাকাকুড়া গ্রামের অনেকে জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় বনের ক্ষতি এবং তারা নিজেরাও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
কাংশা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনার উল্লাহ জানান, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে পাহাড়ের বিভিন্ন ছড়া ও নদী থেকে পাথর ও বালু উত্তোলন করছে। এতে করে সংরক্ষিত গজারি বন, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ব্যাপারে ঝিনাইগাতীর রাংটিয়া রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা ইলিছুর রহমান বলেন, বন বিভাগে লোকবল কম থাকায় রাতের বেলায় গহিন বনে অভিযান চালানো অনেকটাই অসম্ভব। তবে দিনের বেলায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি শ্যালো ইঞ্জিন জব্দও করা হয়েছে। বর্তমানে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে।
এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ জানান, তাদের কাছে অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর এলেই তারা তা বন্ধ করে দিচ্ছেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে দেয়া হবে না। এ বিষয়ে কেউ ছাড় পাবে না।
ঝিনাইগাতীর শইরাচালি এলাকার গজারি বনের ভেতরে শ্যালো মেশিনে অবৈধভাবে তোলা হচ্ছে বালু :নয়া দিগন্ত

তেহরান-ওয়াশিংটন উত্তেজনা বিপজ্জনক পরিণতির দিকে যাচ্ছে: রাশিয়া

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ
ইরানের ওপর আমেরিকার আরোপিত নয়া নিষেধাজ্ঞাকে ‘আশঙ্কাজনক’ আখ্যায়িত করে রাশিয়া বলেছে, এ নিষেধাজ্ঞা এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরান-ওয়াশিংটন উত্তেজনা একটি বিপজ্জনক পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।
মালদ্বীপ সফররত রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সিনিয়র কর্মকর্তাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে টার্গেট করে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ২০০৩ সালের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যখন আমেরিকা ইরাকে আগ্রাসন চালানোর জন্য একটি অজুহাত খুঁজছিল।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সে সময় ওয়াশিংটন দাবি করেছিল, ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণ-বিধ্বংসী অস্ত্র আছে। কিন্তু পরবর্তীতে ইরাক দখলের পর এ ধরনের কোনো অস্ত্রই পাওয়া যায়নি।
ল্যাভরভ বলেন, “আমরা সবাই পরিণতিটা জানি। ২০০৩ সালের মে মাসে আমেরিকা ইরাকে ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ ঘোষণা করে। কিন্তু গত ১৬ বছর ধরে আমরা সে গণতন্ত্রের স্বরূপ হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, তার কার্যালয় ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র আট শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।  মার্কিন অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে। এ সম্পর্কে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার মাধ্যমে আমেরিকা আলোচনার দরজা চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছে।

ট্রেন দুর্ঘটনা, স্থানীয়দের ময়নাতদন্ত: ব্রিজ নয় লাইন-জয়েন্ট পয়েন্টেই ছিল সমস্যা by ইমাদ উদ দীন

ট্রেন দুর্ঘটনা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কেন কি কারণে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার নেপথ্যের বিষয় নিয়ে চলছে স্থানীয় বাসিন্দাদের ময়নাতদন্ত। ব্রিজ নয়, ব্রিজের ওপর ও আগে-পরের  রেললাইন ছিল চরম ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘদিন থেকে ত্যানা (পুরানো কাপড়) আর সুতলি পেঁচিয়ে কোন রকম জোড়াতালি দিয়ে আটকানো হয়েছিল ফিসপ্লেট ও জয়েন্ট নাট। আর রেললাইন সংযোগ স্থাপনের ওই স্থানে নাট-বল্টুও ছিল কম। যেগুলো ছিল সেগুলোরও ছিল না কার্য ক্ষমতা। থ্রেটহীন ওই নাট-বল্টুর সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছিল পুরানো কাপড় ও সুতলি পেঁচিয়ে।
রেললাইনের সঙ্গে সংযুক্ত ক্লিপ-হুক ছিল কম। কাটের স্লিপারের অবস্থাও ছিল দুর্বল। কুলাউড়ার বরমচালের ইসলামাবাদ বড়ছড়ার ওই ব্রিজটি দুর্ঘটনা কবলিত হওয়ায় আগে ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইন নিয়ে এমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের। পুরানো ওই ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ না হলেও এর আশপাশের চরম ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইন মেরামত ও নতুন সরঞ্জামাদির দাবি ছিল এলাকাবাসীর। জানা যায়, দুর্ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী ইসলামাবাদ, নন্দনগর, ফুলেরতল (কালামিয়া বাজার), মহলাল গ্রামের বাসিন্দারা প্রায়ই ট্রেন আসা-যাওয়ার পরপরই খুলে যাওয়া নাট-বল্টু নিজেরাই টাইট দিতেন। অনেক সময়ই এই দুরবস্থার কথা স্থানীয় স্টেশন মাস্টার ও সংশ্লিষ্টদের জানাতেন। কিন্তু জানানোর পরও কোন পরিবর্তন হতো না ওই পুরাতন ফিসপ্লেট, স্লিপার, নাট-বল্টুর। মাঝে মধ্যে রেল বিভাগের লোকজন পুরাতন কাপড় বা সুতলি পেঁচিয়ে জোড়াতালি দিতেন। রেল বিভাগের এমন উদাসীনতায় স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকতেন চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠায়। ব্রিজের আগে ও পরের প্রায় ২শ’ গজ চরম ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইন নিয়ে তারা একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের অবগত করেছেন। তা মেরামত কিংবা পরিবর্তনের দাবিও করেছেন। গতকাল বিকেলে কথা হয় দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশ গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে। তারা ক্ষোভের সঙ্গে জানালেন- আগে থেকেই আমাদের যেমনটি ধারণা ছিল এমনটিই হলো। যদি আমাদের অভিযোগগুলো রেল বিভাগের লোকজন আমলে নিতেন তাহলে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা হতো না। নন্দনগর গ্রামের ফারুক মিয়া, ফয়ছল আহমদ, মো. জহির আলী, কনা মিয়া, মোতাহের মিয়া, আব্দুল মন্নান, সুমেন আহমদ ও রুহিত পাচী জানান, এই চরম ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটির রেললাইন ও যন্ত্রাংশ মেরামতের জন্য একাধিকবার বলা হলেও কোনো গুরুত্বই দেননি রেল বিভাগের লোকজন। তারা বলেন- সেদিন গ্রামবাসী আর প্রশাসনসহ অন্যান্যদের সহযোগিতায় হতাহতের পরিসংখ্যান বড় হয়নি। এত বড় ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর এতো কম হতাহতের সংখ্যা। এটা নিচক সৃষ্টি কর্তার অশেষ কৃপা। তারা জানান, ওই ব্রিজটি পুরানো হলেও তেমন ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হয় না। চরম ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় যেমনটি ছিল ওই ব্রিজের আশপাশের রেললাইন ও তার ছোট-বড় যন্ত্রাংশ। ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা শ্যামল শীল, নূর আলী, সালাম ও রিপনসহ কয়েকজন জানান, তখন রাত প্রায় পৌনে বারোটা। দ্রুতগতিতে  কালামিয়া (ফুলেরতল) বাজারের পাশের রেলক্রসিংটির পাশে দাঁড়িয়ে ট্রেন যাওয়ার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করছিলেন তারা। অন্যদিনের চাইতে ওই দিন ট্রেনটি ছিল খুবই দ্রুতগতি সম্পন্ন। চোখের নিমিশেই ট্রেনটি ব্রিজের ওপর পৌঁছায়। এর আগ থেকেই জয়েন্ট রেলক্রসিং লাইনের পাশ থেকেই ট্রেনেটির পেছনের বগিগুলো অনেকটা টেনে হিঁছড়ে সামনের দিকে নেয়া হচ্ছে বলে মনে হয়েছিল। ট্রেনটি ব্রিজের ওপর উঠার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেনের সামনের অংশ ব্রিজ পার হলেও হঠাৎ বিকট শব্দ আর ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠে পুরো এলাকা। সঙ্গে আগুনের ফুলকি আর ধোঁয়া। এরপর যা হলো তা তো মর্মান্তিক ইতিহাস। আমরা সকলেই দৌড়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করি। তারা বলেন, আমাদের ধারণা ব্রিজের আগে যে জয়েন্ট পয়েন্ট আছে তার নাট-বল্টু ট্রেনের সামনের অংশ যাওয়ার পর হয়তো খুলে গিয়েছিল। আর এ কারণে পিছনের বগিটি রেললাইন থেকে সটকে পড়ে সামনে আগাতে পারেনি। তারপর কোন রকম  ব্রিজে ওঠার সঙ্গে ব্রিজ থেকে পড়ে যায়। এতে ট্রেনের ১৭টি বগির মধ্যে ৬টি বগিই ইঞ্জিন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে লাইনচ্যুত ও ব্রিজের নিচে ও রাস্তার পাশে পড়ে যায়। তাদের সকলেরই ধারণা- জয়েন্ট পয়েন্টের নাট-বল্টু ঢিলেঢালা ও খুলে যাওয়াতেই পেছনের বগি লাইনচ্যুত হয়েই এই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বরমচাল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, ব্রিজের ওপর থেকে তার উত্তর ও দক্ষিণের প্রায় দেড়-দু’শ ফুট এলাকার রেললাইন, ফিসপ্লেট, স্লিপার, নাট-বল্টু চরম ঝুঁকিপূর্ণ ছিল দীর্ঘদিন থেকে। স্থানীয় বাসিন্দা এমন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দেখে সংশ্লিষ্টদের অবগতও করিয়েছিল। কিন্তু কে শোনে কার কথা। ইমরান বলেন, সেদিন ট্রেনটি ছিল দ্রুতগতির। আর ব্রিজের আগে পয়েন্টের নাট-বল্টু ছিল দুর্বল ও সংখ্যায় কম। এতে ট্রেনটির সামনের অংশ ওই স্থান পাড়ি দেয়ার পরপরই পেছনের বগিটি লাইনচ্যুত হয়। ইঞ্জিনের শক্তিতে ট্রেনটির পেছনের ওই বগি ব্রিজ উঠতে পারলেও আর সামনে আগাতে পারেনি। তাই নিয়ন্ত্রণ হারানো ওই বগিটি ব্রিজের নিচে পড়ে যায়। তখনই ওই ৬টি বগি ইঞ্জিন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম ক্ষতিগ্রস্ত  ও দুর্ঘটনা কবলিত হয়। তিনি বলেন, ব্রিজ নয় দুর্ঘটনার কারণ হলো চরম ঝুঁকিপূর্ণ  রেললাইন ও তার খুচরা সহযোগী যন্ত্রাংশ। কারণ এর আগে ব্রিজের গার্ডার বা স্পেন ক্ষতিগ্রস্ত ছিল এমনটি কারো নজরে পড়েনি। তবে ব্রিজটি পুরানো তা নির্মাণ কিংবা সংস্কারের প্রয়োজন। গতকাল সরজমিনে দেখা গেল, এখন দুর্ঘটনার ওই ব্রিজ দিয়ে ধীর গতিতে চলছে ট্রেন। পাশে ওই দুর্ঘটনার সাক্ষী হিসেবে পড়ে আছে ক্ষতিগ্রস্ত ৩টি বগি। সোমবার ওই বগিগুলো রেখেই ট্রেন লাইন সচল করা হয়েছিল। এখনো নানা জায়গা থেকে উৎসুক নারী পুরুষ দুর্ঘটনাস্থল দেখতে আসছেন। ওই স্থানটির আশপাশে রয়েছে  আনছার ও রেল পুলিশের সতর্ক পাহারা। তবে সকলের দাবি একটাই- এরকম ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত এ অঞ্চলের চরম ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইন ও ব্রিজ নির্মাণ ও মেরামতের।

পাস্তুরিত দুধে বিপজ্জনক এন্টিবায়োটিক, ডিটারজেন্ট -ঢাবির ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের পরীক্ষা

বাজারে প্রচলিত ৭টি পাস্তুরিত দুধে মানব চিকিৎসায় ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। এছাড়াও পাস্তুরিত দুধের ৭টি নমুনার ৩টিতে ও অপাস্তুরিত দুধের ৩টি নমুনার ১টিতে ডিটারজেন্ট পাওয়া গেছে। ফরমালিনের উপস্থিতি মিলেছে পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধের মোট ১০টি নমুনার একটিতে। গত ২৫ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি লেকচার থিয়েটারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন  প্রকাশ করা হয়। সম্প্রতি খাদ্যপণ্যের গুণগত মান নিয়ে সরকার ও জনগণের উদ্বেগের কথা চিন্তা করে বেশ কয়েকটি পণ্যের ওপর পরীক্ষা চালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদ ও বায়োমেডিকেল রিচার্স সেন্টার। পণ্যগুলো হলো- ঘি, ফ্রুট ড্রিংকস, গুঁড়া মশলা- শুকনা মরিচ, গুঁড়া হলুদ, পাম অয়েল, সরিষার তেল, সয়াবিন তেল এবং পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধ। এসব পণ্যের প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে নামিদামি কোম্পানির ৭ থেকে ১০টি করে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালানো হয়। যেখানে অধিকাংশ নমুনাই বিএসটিআই নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ডে মানোত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করেন ঔষধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ, রায়হান সরকার। পাস্তুরিত দুধের যে ৭টি নমুনার ওপর পরীক্ষা চালানো হয় তাহলো- মিল্কভিটা, আড়ং, ফার্ম ফ্রেশ, প্রাণ, ইগলু, ইগলু চকোলেট এবং ইগলু ম্যাংগো। আর অপাস্তুরিত দুধের ৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে রাজধানীর পলাশী, গাবতলী ও মোহাম্মদপুর বাজার থেকে। এসব দুধে এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের উল্লেখ করে অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, আমাদের পরীক্ষায় পাস্তুরিত দুধের ৭টি নমুনার সবগুলোতেই মানব চিকিৎসায় ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিক লেভোফ্লক্সসিন, এন্টিবায়োটিক সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং এন্টিবায়োটিক এজিথ্রোমাইসিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধের মোট ১০টি নমুনার একটিতে ফরমালিন এবং পাস্তুরিত দুধের ৭টি নমুনার ৩টিতে ও অপাস্তুরিত দুধের ৩টি নমুনার ১টিতে ডিটারজেন্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী দুধে ফ্যাট ইন মিল্ক যা থাকার কথা পাস্তুরিত দুধের ৬টি নমুনাতেই তার কম পাওয়া গেছে। সলিড নট ফ্যাট যে পরিমাণ থাকার কথা রয়েছে বিশ্লেষণে এসব দুধের সবগুলোতেই কম ছিল। এসিডিটি এনালাইসিসে যত থাকার কথা পাস্তুরিত দুধের ১টি ও অপাস্তুরিত দুধের ৩টি নমুনাতে এর পরিমাণ ছিল বেশি। আর টোটাল ব্যাকটেরিয়া কাউন্টও ছিল পাস্তুরিত দুধের সবগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। কলিফর্ম কাউন্ট পাস্তুরিত দুধের ২টি নমুনাতে ছিল বিএসটিআই নির্ধারিত পরিমাণের অনেক বেশি। আর স্টেফাইলোক্কাস স্পেসিজ শূন্য থাকার কথা থাকলেও পাস্তুরিত দুধের ৫টিতে এর জীবাণুর উপস্থিতিতো ছিলই এমনকি এর পরিমাণও ছিল অনেক বেশি। অর্থাৎ বিএসটিআই মানদণ্ডে এসব দুধের সবই বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মানোত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে। ফ্রুট ড্রিংকসের ক্ষেত্রে যেগুলো সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় বলে প্রতীয়মান হয় এমন ১১টি নমুনা সংগ্রহ করে বিএসটিআই এর শর্ত পূরণ করে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়। যেসব পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয় সেগুলো হলো- স্টার শিপ ম্যাংগো ফ্রুট ড্রিংক, সেজন ম্যাংগো ড্রিংক, প্রাণ ফ্রুটো, অরেনজি, প্রাণ জুনিয়র ম্যাংগো ফ্রুট ড্রিংক, লিটল ফ্রুটিকা ম্যাংগো ফ্রুট ড্রিংক, সানড্রপ, চাবা রেড এপল, সানভাইটাল নেকটার ডি ম্যাংগো, লোটে সুইডেন্ড এপল ড্রিংক এবং ট্রপিকানা টুইস্টার। বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ফ্রুট ড্রিংকসে টোটাল প্লেট কাউন্স থাকতে পারে সবোর্চ্চ ৫০টি। কিন্তু বিশ্লেষণে ১১টি পণ্যের ৭টিতে এর পরিমাণ ছিল অনেক বেশি। আর কলিফর্ম না থাকার কথা থাকলেও ১১টি পণ্যের ৩টিতে এর উপস্থিতি ছিল ১০০টি। এছাড়াও কৃত্রিম মিষ্টিকারক সাইক্লামেট ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও ১১টি পণ্যের সবগুলোতেই এর ব্যবহার ছিল অতিমাত্রায়। অর্থাৎ এসব পণ্য নমুনাই মানোত্তীর্ণ হতে পারেনি। তেলের ক্ষেত্রে সরিষার তেলের ৮টি বিভিন্ন নামের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালানো হয়। সেগুলো হলো- রূপচাঁদা, রাঁধুনি, তীর, ফ্রেশ, পুষ্টি, সুরেশ, ড্যানিশ এবং বসুধা। বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী সরিষার তেলের স্যাপনিফিকেশন ভ্যালু যত থাকার কথা তার থেকে বেশি রয়েছে ৮টি নমুনার ৩টিতে। পারক্সাইড ভ্যালু ১০ থাকার কথা থাকলেও ৪টিতে এর পরিমাণ ছিল প্রায় দ্বিগুণ। আর রিলেটিভ ডেনসিটির পরিমাণও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল ৪টিতে। এছাড়া জলীয় উপাদানও বেশি পাওয়া গেছে ৮টি নমুনার সবগুলোতে। অর্থাৎ এসব নমুনা বিএসটিআই মানদণ্ডে মানোত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে। আর সয়াবিনেরও ৮টি নমুনার ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। সেগুলো হলো- রূপচাঁদা, ফ্রেশ, পুষ্টি, তীর, এসিআই পিওর, ভিওলা, মুসকান এবং মিজান। বিএসটিআই স্টান্ডার্ড অনুযায়ী তেলের এসিড ভ্যালু যতটুকু থাকার কথা দুটি নমুনায় তার থেকে বেশি পাওয়া গেছে। স্যাপনিফিকেশন ভ্যালু ৮টির মধ্যে ২টিতে কম এবং ৫টিতে বেশি পাওয়া গেছে। ৫টিতে পারক্সাইড ভ্যালু স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। আয়োডিন ভ্যালু ৮টি নমুনার ৪টিতে কম এবং ১টিতে বেশি পাওয়া গেছে। আর রিলেটিভ ডেনসিটি বেশি পাওয়া গেছে ৩টি নমুনাতে। আর জলীয় উপাদান ৮টি নমুনাতেই স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া মেটাল কনটেন্ট কপারের বেলায় সবগুলো নমুনায় নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি এবং আয়রণের বেলায় ৬টি নমুনাতে বেশি ছিল। ফার্মেসি অনুষদ ও বায়োমেডিকেল রিচার্স সেন্টার পরীক্ষা চালানো আরেকটি পণ্য হলো ঘি। এক্ষেত্রে বাজারে প্রচলিত ৮টি ঘিয়ের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালানো হয়। এগুলো হলো- আড়ং, বাঘাবাড়ি, প্রাণ, মিল্কভিটা, মিল্কম্যান, সমির এবং টিনে বিক্রি হওয়া নামবিহীন দুটি নমুনা। বিএসটিআই স্ট্যান্ডর্ড অনুযায়ী ঘিতে জলীয় উপাদান ও আয়োডিন ভ্যাল যতটুকু থাকার কথা রয়েছে এসব নমুনায় তার থেকে বেশি পাওয়া গেছে। আর তিলের তেলের কোনো উপস্থিতি থাকতে পারবে না উল্লেখ থাকলেও এসব পণ্যের সবগুলোতেই এর উপস্থিতি ছিল। এ বিবেচনায় ৮টি নমুনাই মানোত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে। গুঁড়া মশলা- শুকনা মরিচের ক্ষেত্রে বাজারে প্রচলিত ৮টি বিভিন্ন নামের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালানো হয়। সেগুলো হলো- আরকো, বিডি, ড্যানিশ, ফ্রেশ, প্রাণ, রাঁধুনি এবং প্লাস্টিক ব্যাগে খোলা অবস্থায় বিক্রি হওয়া নামহীন ২টি নমুনা। বিএসটিআই স্টান্ডার্ড অনুযায়ী শুকনা গুঁড়া মরিচে জলীয় উপাদান সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ থাকার কথা থাকলেও এসব নমুনার ২টিতে বেশি ছিল। এসিড ইনসল্যুবল এ্যাশ ছিল সবগুলো নমুনাতেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। আর একই কোম্পানির হলুদের নমুনায়ও বিএসটিআই স্টান্ডার্ড মানা হয়নি। ৮টির ৬টিতে জলীয় উপাদান বেশি পাওয়া গেছে। আর মেটানিল ইয়েলো নামের টেক্সটাইল কালারের উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য না হলেও সবগুলোতে এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আর পাম অয়েলের ক্ষেত্রে বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় বলে প্রতীয়মান এমন ১০টি নমুনার ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। সেগুলা হলো- মিজান এবং টিনে খোলা বিক্রি হওয়া ৯টি নমুনা। বিএসটিআই স্টান্ডার্ড অনুযায়ী পাম অয়েলে স্যাপনিফিকেশন ভ্যালু, ইনসল্যুবল ইমপিউরিটিজ, পারক্সাইড ভ্যালু ও জলীয় উপাদান যা থাকার কথা সবগুলো নমুনাতেই সেগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া গেছে। এই বিবেচনায় ১০টির সব নমুনাই মানোত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, আমরা যে ফলাফল দিয়েছি তা নমুনার ফলাফল। তার মানে এই না যে ঐসব কোম্পানির সব পণ্যই এরকম। তিনি বলেন, আমরা কিন্তু থাকবো না, মরে যাবো- যদি এভাবে যত্রতত্র এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার করা হয়। এন্টিবায়োটিক যে গরুকে খাওয়ানো হলো ওই গরুর দুধ ও মাংস আমরা খেলে তা আমাদের শরীরে প্রবেশ করবে। মানুষকে বাঁচাতে আপনারা ইমেডিয়েটলি গরুকে এন্টিবায়োটিক খাওয়ানো বন্ধ করুন। তিনি বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে বলতে চাই সরকার যে সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব দিয়েছে তারা যদি সঠিকভাবে ও নৈতিকতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করতো তাহলে এ সমস্যা এমন প্রকট আকার ধারণ করতো না।

বিদেশ থেকে সোনা আনতে সুবিধা বাড়ছে

বিদেশ থেকে সোনা আনার ক্ষেত্রে আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে বাড়তি সুবিধা পাবেন যাত্রীরা। এ জন্য শুল্ক সুবিধা দিতে ব্যাগেজ রুলসে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি ভরি সোনা আনার ক্ষেত্রে ৩ হাজার টাকা শুল্ক দিতে হয়। আগামী অর্থবছরে এটি ভরিপ্রতি ২ হাজার টাকা করা হতে পারে। তবে বিদ্যমান অন্যান্য শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ব্যাগেজ রুলসের বিদ্যমান শর্ত অনুযায়ী, অবশ্যই যাত্রীদের বিদেশ থেকে আনা সোনা বার বা স্বর্ণপিণ্ড হতে হবে। একজন যাত্রী একসঙ্গে ১২টির বেশি সোনার বার আনতে পারবেন না। বর্তমানে একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম সোনার গয়না বিনা শুল্কে আনতে পারেন। এ ছাড়া শুল্ক দিয়ে সর্বোচ্চ ২৩৪ গ্রাম বা ২০ ভরি ওজনের সোনার বার আনতে পারেন। এই শর্ত অপরিবর্তিত রেখে শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশের সোনার বাজারে শৃঙ্খলা আনতে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্মকর্তাদের স্বর্ণনীতি নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সেখানে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের ব্যাগেজ রুলস সংশোধন করে ভরিপ্রতি শুল্ক ২ হাজার টাকার সুপারিশ করা হয়েছিল।
যাত্রীদের সোনা আনার ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর বিষয়ে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা প্রথম আলোকে বলেন, ‘সোনা আমদানির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে একাধিক সোনা ব্যবসায়ী আবেদন করলেও তা অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ব্যাগেজ রুলসের আওতায় সোনা আনার ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর বিষয়ে সরকার আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছে।’
বর্তমান ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী, একজন যাত্রী টেলিভিশন, স্বর্ণালংকার ও সোনার বার, হোম থিয়েটার, রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজারসহ ১২ ধরনের পণ্য শুল্ক দিয়ে দেশে আনতে পারেন।
বিদেশ থেকে সোনা আনার ক্ষেত্রে প্রতি ভরির জন্য শুল্ক ৩ হাজার থেকে কমিয়ে ২ হাজার টাকা করা হতে পারে আগামী অর্থবছরে।
এদিকে গত ২৮ মে দেশের সোনা ব্যবসায়ী ও স্বর্ণালংকার প্রস্তুতকারীদের কাছে অঘোষিত বা অবৈধভাবে থাকা সোনার মজুত ঘোষণায় আনার সুযোগ দিয়েছে এনবিআর। এই সুযোগ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে। এ জন্য প্রতি ভরি সোনা ও সোনার গয়নার জন্য ১ হাজার টাকা, প্রতি ক্যারেট কাট ও পোলিশড ডায়মন্ডের জন্য ৬ হাজার টাকা ও প্রতি ভরি রুপার জন্য ৫০ টাকা কর দিলেই হবে। এভাবে মজুত থাকা ‘কালো’ সোনা ‘সাদা’ করা যাবে।
তবে সোনা ব্যবসায়ীরা যাতে সহজেই এই সুযোগ নিতে পারেন, সে জন্য এক অভিনব মেলা করতে যাচ্ছে এনবিআর। ২৩, ২৪ ও ২৫ জুন রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সোনা মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। তিন দিনের ওই মেলায় সোনা ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে পে-অর্ডারের মাধ্যমে কর দিতে পারবেন। অর্থাৎ মেলার মাধ্যমে ‘কালো’ সোনা ‘সাদা’ করার সুযোগ দিতে যাচ্ছে এনবিআর।
এই সুযোগ যেসব ব্যবসায়ী নিতে পারবেন না, তাঁদের জন্য খারাপ খবরও আছে। আগামী জুলাই মাস থেকে কালো বা অবৈধ সোনার মজুত খুঁজতে মাঠে নামবে এনবিআর। কোনো সোনা ব্যবসায়ীর মজুতে কালো সোনা থাকলে ওই সোনার মূল্যের ওপর নির্ধারিত হারে কর ও জরিমানা আদায় করা হবে।
এই বিষয়ে এনবিআরের সদস্য (কর নীতি) কানন কুমার রায় প্রথম আলোকে বলেন, ৩০ জুনের পর কোনো ব্যবসায়ীর কাছে অঘোষিত সোনার মজুত থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্ধারিত হারে কর যেমন আদায় করা হবে, তেমনি জরিমানাও গুনতে হবে।

মুসলিম শিক্ষককে হেনস্থা: হিন্দু সংহতির কড়া সমালোচনা দিলীপের

ঝাড়খণ্ডের পর খোদ বাংলার বুকে এক মুসলিম শিক্ষকে ট্রেন থেকে ফলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল। মুসলিম শিক্ষকের দাবি জয় শ্রীরাম না বলতে চাওয়ার জন্যই তার সঙ্গে এমন ব্যবহার।
পার্ক সার্কাসের এই ঘটনার সঙ্গে অনেকেই বিজেপির নাম জড়াচ্ছে। কিন্তু এই ঘটনার পর দলের সংখ্যালঘু সেলের এক নেতাকে দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন মুসলিম শিক্ষককে হেনস্থার এই ঘটনা কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। সঙ্গেই তিনি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযুক্ত হিন্দু সংহতি নামক সংগঠনের কড়া সমালোচনা করেন।
মঙ্গলবার পার্কসার্কাসের ঘটনাটির পর বিজেপি সংখ্যালঘু সেলের সামসুর রহমান নামের এক নেতা দিলীপ ঘোষকে ফোন করে বিষয়টি বলেন। সামসুর বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে বলেন, “হিন্দু সংহতির মিছিলে কয়েকজন সংখ্যালঘুকে আক্রমণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আপনি যদি একটা বিবৃতি দেন! “
সামসুরের প্রশ্নের উত্তরে বাংলা বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ হিন্দু সংহতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ” আামদের(বিজেপির) সঙ্গে এই ধরণের কোনও সংগঠনের সম্পর্ক নেই। ওরা(হিন্দু সংহতি) গণ্ডগোল বদমায়েশি এসবই করে বেড়ায়। আগে এদের আরও বাড়াবাড়ি ছিল। এখন অনেকটা কমেছে।” এরপরই দিলীপ আরও বলেন, “এই ধরণের কোনও সংগঠনের সঙ্গে দলের বিজেপির) কোনও যোগ নেই। এই ধরণের কাজকে বিজেপিকে সমর্থন করে না।”
দক্ষিণ ২৪ পরগণার বাসন্তীর বাসিন্দা হাফিজ মহম্মদ শাহরুখ হালদার ক্যানিং স্টেশন থেকে শিয়ালদহগামী ট্রেনে উঠেছিলেন শাহরুখের অভিযোগ, ট্রেনটি ঢাকুরিয়া থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর হঠাৎই ওই দলটির কয়েকজন সদস্য তাঁকে ‘জয় শ্রীরাম’ বলার জন্য চাপ দেওয়া শুরু করে। কিন্তু তিনি রাজি না হলে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে পার্ক সার্কাস স্টেশনে ট্রেন ঢোকার পর ধাক্কা দিয়ে তাঁকে প্ল্যাটফর্মে ফেলে দেওয়া হয়৷
এরপর স্থানীয় লোকজন তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে ওই শিক্ষককে৷নিজেকে নিত্যযাত্রী বলে দাবি করে শাহরুখ বলেন, ট্রেনে কামরা ভর্তি লোকের সামনে তাঁকে মারধর করা হলেও কেউ কোনও প্রতিবাদ জানাননি৷ওই মাদ্রাসা শিক্ষকের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার তিনি তোপসিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে সেখানে অভিযোগ নেওয়া হয়নি৷ থানা জানিয়ে দেয়, জিআরপির কাছে অভিযোগ জানাতে হবে-এমনই দাবি শাহরুখের৷

রাখাইন ও চিন রাজ্যে ইন্টারনেট সংযোগ পুনঃস্থাপনে জাতিসংঘ ও সিপিজের আহ্বান

রাখাইন ও চিন রাজ্যে ইন্টারনেট সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ ও সাংবাদিকদের অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর ইয়াংহি লি এবং সিপিজে এমন আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, ভবিষ্যতে যেন এই সংযোগ বিঘ্নিত না হয়। ইয়াংহি লি সোমবার সতর্কতা দিয়েছেন এ বিষয়ে।
মিয়ানমারের ৯টি শহর এলাকায় মোবাইল ফোনের ডাটা নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির সরকার। এতে মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বর প্রভাব পড়তে পারে, রাখাইন ও চিন রাজ্যের মতো যুদ্ধকবলিত রাজ্যগুলোতে মানবিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ওপরও এর গুরুত্বর প্রভাব পড়ছে। ইয়াংহি লি বলেন, ওইসব এলাকায় মিডিয়ার কোনো প্রবেশাধিকার নেই এবং মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলোর ওপর রয়েছে মারাত্মক সব বিধিনিষেধ। ফলে পুরো অঞ্চল রয়েছে অন্ধকারে।
সেখানে অবস্থানকারী সব বেসামরিক জনগণকে নিয়ে আমার ভয় হচ্ছে। ওই এলাকার ভিতরে ও বাইরে অবস্থানরত লোকজন একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তারা বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় যোগাযোগের উপায় নেই।
উল্লেখ্য, টেলিযোগযোগ আইন ২০১৩-এর অধীনে সব রকম মোবাইল নেটওয়ার্কের ইন্টারনেট সুবিধা অস্থায়ীভিত্তিতে বন্ধ করে দিতে ২০শে জুন নির্দেশ দেয় পরিবহন ও যোগাযোগ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। তাদের অভিযোগ, ইন্টারনেট সুবিধা ব্যবহার করে অবৈধ কর্মকান্ড সংগঠিত করা হচ্ছে। এতে শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে। এ জন্য মোবাইলে ইন্টারনেট সুবিধা বন্ধ করে দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট রয়েছে যে, ১৯ জুন মিয়ানমারের সেনাবাহিনী মধ্য রাখাইনের মিনবায়া শহরে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। পরের দিন সিতওয়েতে নৌবাহিনীর একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে আরাকান আর্মি নামের উগ্রপন্থিরা। এতে বেশ কয়েকজন সেনা সদস্য নিহত ও আহত হয়েছে।
ইয়াংহি লি বলেছেন, আমাকে বলা হয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী একটি ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ চালাচ্ছে। এমন অপারেশনে আমরা জানি যে, বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে ভয়াবহভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়। আমাদেরকে এটা ভুলে গেছে চলবে না যে, এই একই বাহিনী দুই বছর আগে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা চালিয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তারা তাদের সেই অপরাধের বিচার থেকে দূরে রয়েছে।
২০১৮ সালের শেষের দিক থেকে আরাকান আর্মি ও সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই চলছে। এর শিকার হচ্ছেন বেসামরিক লোকজন। এতে কমপক্ষে ৩৫০০০ বেসামরিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। শিশু সহ কয়েক ডজন সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে দুষ্কৃতকারীরা ও টার্গেট করে হামলাকারীরা। অন্যদিকে সেনাবাহিনীর হেফাজতে মারা গেছেন অনেক জাতিগত রাখাইন মানুষ। ইয়াংহি লি বলেন, মোবাইলে ইন্টারনেট নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসতে আমি মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। লড়াইয়ে লিপ্ত উভয় পক্ষকে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, বেসামরিক লোকজন ও তাদের সহায় সম্পদ সব সময়ই সুরক্ষিত রাখতে হবে। অনুসরণ করতে হবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক আইন। মিডিয়া ও মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে হবে অবিলম্বে।
ওদিকে ২২ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, মোবাইলে ইন্টারনেট সুবিধা বন্ধ রাখার কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। বার্তা সংস্থা এএফপি এক রিপোর্টে বলেছে, যেহেতু ইন্টারনেট সেবা শুধু মোবাইল ফোনে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, তাই রাখাইন ও চিন রাজ্যের হাতেগোনা কিছু মানুষ কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন।
সিপিজের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র প্রতিনিধি শাওন ক্রিসপিন বলেছেন, মিয়ানমারে মোবাইলে ইচ্ছাকৃতভাবে  ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়ায় সাংবাদিকদের রিপোর্ট পাঠানো, রিপোর্ট পাওয়া ও তা প্রকাশ করায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। ওই অঞ্চলগুলোর লড়াই নিয়ে মুক্তভাবে রিপোর্ট প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষের উচিত সেন্সরশিপমুলক নির্দেশ প্রত্যাহার করা। ওদিকে রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিতওয়েভিত্তিক ইউনিয়ন ডেভেলপমেন্ট মিডিয়া গ্রুপ নামের বার্তা সংস্থায় একজন সাংবাদিক বলেছেন, মঙ্গলবারও ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে সেখানে। সরকার প্রতিশোধ নেবে এই আশঙ্কায় ওই সাংবাদিক তার নাম প্রকাশ করতে রাজি হন নি। পরিবহন ও যোগাযোগ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি সিপিজের ফোনকল রিসিভ করেন। কিন্তু তিনি মোবাইলে ইন্টারনেট সুবিধা বন্ধ করার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উদ্যোগের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনদের প্রতিবাদ

জ্যারেড কুশনার
পশ্চিম তীর এবং গাজায় ফিলিস্তিনরা মঙ্গলবার ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হয় এবং তারা বাহরাইনের মানামায় হোয়াইট হাউজ কর্তৃক অর্থনৈতিক উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যাকে শতাব্দির চুক্তি বলে অভিহিত করেছেন সেটি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি পরিকল্পনারই অন্য নাম আর এর মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনি ও আরব রাষ্ট্রগুলোর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য বহু কোটি ডলারের Peace to Prosperity প্রস্তাব। এই প্রস্তাবের সূচনা করেন তাঁর জামাতা এবং হোয়াইট হাউজের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার।
এই সপ্তাহে হোয়াইট হাউজের ওয়েবসাইটে এই পরিকল্পনা পোস্ট করা হয়। মনে করা হচ্ছে এই প্রস্তাব হচ্ছে এ পর্যন্ত ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য সব চেয়ে উচ্চাকাঙ্খী এক আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা। মানামার এক সম্মেলনে কুশনার
ফিলিস্তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে একটি সরাসরি বার্তায় বলেন যে যারা আপনাদের ছোট করেছে, তার পরেও আমি আপনাদের বলতে চাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমেরিকা আপনাদের উপর আশা ছেড়ে দেননি।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে কুশনার বলেন যে এই পরিকল্পনা পশ্চিম তীর এবং গাজায় এক কোটি চাকরি সৃষ্টি করবে এবং পরিকল্পনাটি সঠিক ভাবে প্রয়োগ করলে তাদের বর্তমান বেকারত্বের হার ৩০ শতাংশ থেকে নেমে আসবে এক অঙ্কের সংখ্যায় এবং তাদের দারিদ্র অর্ধেকে নেমে আসবে।
এই উদ্যোগে, দাতা রাষ্ট্রগুলো এবং বিনিয়োগকারিদের ঐ অঞ্চলে প্রায় ৫ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে দু হাজার আট শ কোটি ডলার যাবে ইসাইরাইলের দখল করা পশ্চিম তীর ও গাজায়। সাড়ে সাত শ ডলার দেয়া হবে জর্দানকে , নয় শ ডলার মিশরকে এবং ছয় শ ডলার লেবাননকে।

মার মুখে গন্ধ, সংক্রমণ থাকায় ঠাঁই হলো না সন্তানের কাছে

মায়ের মুখে ইনফেকশন, দুর্গন্ধ। এ জন্য মাকে এক সন্তান ফেলে এসেছেন বৃদ্ধনিবাসে। না, ওই সন্তান অশিক্ষিত কেউ নন। তিনি একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। ফলে শ্যামালা (৪৭) নামের ওই মা এখন একাকী বসবাস করেন বৃদ্ধনিবাসে। এ ঘটনাটি ভারতের ব্যাঙ্গালোরের। সেখানে ভারতীনগরে নিজেদের বাসিতে একমাত্র ছেলে বিকাশ ও পুত্রবধুকে সঙ্গে নিয়ে বসবাস করছিলেন শ্যামালা। দাঁতে প্রচন্ড ব্যথা নিয়ে এ বছর জানুয়ারিতে তিনি ভর্তি হন একটি বেসরকারি হাসপাতালে।
সেখানে চিকিৎসকরা তার দাঁত তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। অপারেশন হলো। এরপর তার দাঁতে শুরু হলো সংক্রমণ বা ইনফেকশন। ফুলে যেতে থাকে দাঁত, মুখ। ফলে তার চোয়ালে বড় বড় আকারে পুঁজভরা গোটার মতো বের হতে শুরু করে। এ থেকে ভয়াবহ এক দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ব্যাস তার সঙ্গে অসৌজন্যমুলক আচরণ করু করেন বিকাশ ও তার স্ত্রী। এমন কি তার সঙ্গে কথা বলা পর্যন্ত বন্ধ করে দেন তারা। এক সময় মা শ্যামালাকে বলেন বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে। কারণ, তার মুখের দুর্গন্ধে তাদের দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম। তাছাড়া বাড়িতে আত্মীয়রা এলে তারা আরো বেশি বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন।
এমন অবস্থায় অসহায় হয়ে পড়েন শ্যামালা। তিনি ব্যাঙ্গালোর সিটি পুলিশের হেলপলাইন এবং কাউন্সেলিং সেন্টার পারিহার-এ যোগাযোগ করেন এবং নিজের দুর্দশার কথা জানান। বিকাশ ও তার পরিবারের সদস্যদের ডেকে নিলেন পারিহারের সমন্বয়কারী রানী শেঠী। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হলেন। কারণ, শ্যামালার বিষয়ে তারা মন নরম করতে অস্বীকৃতি জানালেন। শ্যামালাও বাড়ি ফিরতে আগ্রহ দেখান নি। ফলে তিনি বিকল্প কোনো একটি ব্যবস্থা করে দিতে অনুরোধ করেন।  রানী শেঠী বলেন, শ্যামালা দাঁতের ব্যথায় কুঁকড়ে যাচ্ছিলেন। আমরা তাকে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিই। মনে করি, তিনি সেখানে মেডিকেল সাপোর্ট পাবেন। কিন্তু সেখানে আগে থেকে যারা অবস্থান করছিলেন তাদেরও নানা অভিযোগ। তারা বলতে থাকেন, শ্যামালা সেখানে থাকলে তারাও সংক্রমিত হবেন। এ ছাড়া দুর্গন্ধ তো আছেই।
কোথাও ঠাঁই খুঁজে না পেয়ে শ্যামালা আবার নারীদের হেল্পলাইনের সহায়তা কেন্দ্রে ফিরে যান। এ সময় রানী শেঠী ভারতীনগর পুলিশের সহায়তা নেন। ফলে পুলিশ খুঁজে বের করে বিকাশকে। তাকে নিয়ে যায় পুলিশ স্টেশনে। তাকে মায়ের বিষয়ে কড়া ভাসায় সতর্ক করা হয়। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন মার ভালমতো দেখভাল করবেন। তবে এক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত জুড়ে দেন বিকাশ। তার মধ্যে অন্যতম- তার মা মাসিক পেনশন হিসেবে যে অর্থ পান তা তার হাতে তুলে দিতে হবে। ছেলের এমন শর্তে রাজি হন নি শ্যামালা। তিনি উল্টো পুলিশের সহায়তা চান। তারা তাকে নিয়ে যায় একটি বৃদ্ধনিবাসে। বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন শ্যামালা। ভারতীনগর পুলিশ ইন্সপেক্টর রমেশ জি বলেছেন, তিনি কয়েক দফায় বিকাশকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কোনো কাজে আসে নি।

‘পাইপ বালক’ নাঈমের মায়ের আকুতি

মায়ের সাথে নাঈম
কেমন দিন কাটছে ‘পাইপ বালক’ নাঈমের? বড় হয়ে একজন আদর্শ পুলিশ অফিসারের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে কতদূরই বা এগিয়েছে সে? এমন নানা প্রশ্ন নিয়ে মহাখালীর করাইল বস্তিতে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এখনো উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে নাঈম। প্রতিদিন সেই স্বপ্নের শক্ত গাঁথুনির চেষ্টাতে কোনো ছেদ পড়তে দেয় না সে। আর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে জোর কদমে এগিয়েও যেতে চায় নাঈম।
গত ২৮ মার্চ বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের দিন ফায়ার সার্ভিসের পানির পাইপের ছিদ্র পলিথিন জড়িয়ে বন্ধ করার প্রাণান্তকর চেষ্টার নাঈমের সেই ছবি নজর কেড়েছে দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও। মিডিয়াতেও শুরু হয় উৎসাহব্যঞ্জক আলোচনা। চলে বেশ কয়েক দিন। এরই মধ্যে আমেরিকা এক প্রবাসী নাঈমের পুলিশ অফিসার হওয়ার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তার লেখাপড়ার খরচ বাবদ পাঁচ হাজার ডলার অনুদান হিসেবে দেয়ারও ঘোষণা দেন। কিন্তু এরই মধ্যে নাঈমের ভুলে রাজনৈতিক একটি বক্তব্যের কারণে ইতিবাচক আলোচনায় ছেদ পড়ে। প্রবাসী ব্যক্তি তার অনুদান দেয়ার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে দাঁড়ান। আশাহত হন নাঈমের মা নাজমা বেগম। কিন্তু ছেলের আশা আর স্বপ্ন কে বাস্তবে রূপ দিতে গায়ে গতরে এখনো পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি।
ছেলের একটি ভুল বক্তব্যকে রাজনীতির কোনো পাল্লাতেই উঠাতে চান না মা নাজমা বেগম। এই প্রতিবেদককে তিনি জানালেন, আমার ছেলে ছোট মানুষ। রাজনীতি বিষয়ে সে কি-ই-বা বুঝে। তারপরেও ভুলে একটি বক্তব্য নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছে। আমি তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছি। তারপরও বলবো আপনারা আমার ছেলের ভবিষ্যতকে বাধাগ্রস্ত করবেন না। অনেকে আমার ছেলের জন্য অনুদান দিয়েছেন। অনেকে দিতে চেয়েছেন। আমার ছেলের পড়ালেখার ব্যয়ভার বহন করার ক্ষমতা আমার নেই। আমি একটি অফিসে রান্নার কাজ করি। কোনোমতে এক ছেলে, এক মেয়ে নিয়ে বস্তিতে একটি খুপরি ঘরে কোনোমতে দিনাতিপাত করি। আমার স্বামী পাঁচ বছর আগেই আমার দুই সন্তানসহ আমাকে ফেলে অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেছেন। কোন খোঁজ খবরও নেয় না।
তিনি বলেন, আমার ছেলে নাঈম ও মেয়ে কাজল করাইল বস্তির বড় নৌকা ঘাট এলাকার আরবান স্লাম আনন্দ স্কুলে পঞ্চম ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। প্রতি মাসে দুই সন্তানের পেছনে অনেক খরচ। আমি একা সামলাতে পারি না। তাই সমাজের বিত্তশালীরা যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে আমার দুই সন্তান মানুষের মতো মানুষ হবে। আমি সবার দোয়া আর সহযোগিতাও চাই।

আরও ১ লক্ষ জনের নাম বাদ অসমের নাগরিক তালিকার খসড়া থেকে, জুলাইয়ে চূড়ান্ত তালিকা

এক লক্ষেরও বেশি মানুষকে অসমের  খসড়া নাগরিক তালিকা  থেকে বাদ দেওয়া হল। বুধবার এই তালিকা  প্রকাশিত হয়েছে। মোট ১.০২ লক্ষ মানুষের নাম প্রকাশিত হল নাগরিক পঞ্জির সংযোজিত বহিষ্কার খসড়া তালিকায়। গত বছরের জুলাইতে প্রকাশিত তালিকায় তাঁদের নাম ছিল। কিন্তু এবার অন্তর্ভুক্তির জন্য অনুপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হলেন তাঁরা। অসমের নাগরিক তালিকা ১৯৫১ সালের পরে আর সংশোধিত হয়নি। বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতেই এই তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে। যাঁদের নাম তালিকায় রয়েছে, তাঁদের আলাদা আলাদা করে জানানো হবে বাড়ির ঠিকানায় চিঠি দিয়ে। তবে বাদ পড়া ব্যক্তিরা সুযোগ পাবেন পুনর্বিবেচনার আবেদনের। ১১ জুলাইয়ের মধ্যে এনআরসি সেবা কেন্দ্রে তাঁরা আবেদন করতে পারবেন।
৩০ জুলাই প্রকাশিত তালিকায় দেখা গিয়েছিল ৪০ লক্ষের উপরে মানুষের নাম ওই তালিকায় নেই। এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক দেখা দেয়। তালিকায় তাঁদের নাম পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। খসড়া তালিকায় ২.৯ কোটি মানুষের নাম রয়েছে। আবেদন জমা পড়েছিল ৩.২৯ লক্ষ মানুষের।
তিন তালাককে কোনও সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত করবেন না, কংগ্রেসকে তোপ দেগে আর্জি মোদির
সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে অসমের নাগরিক পঞ্জি তৈরি হচ্ছে। চূড়ান্ত তালিকা ৩১ জুলাই প্রকাশিত হবে।
তালিকায় নাম নেই এমন যে কোনও ব্যক্তি বহিষ্কারের অর্ডারের প্রত্যয়িত কপি নিয়ে বিচারের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সেই সঙ্গে আবেদনের প্রেক্ষিতটিও পেশ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাগরিক তালিকা নিয়ে নির্বাচনের আগেই তাঁর বক্তব্য জানিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ‘‘একজনও প্রকৃত ভারতীয়র নাম নাগরিক পঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যাবে না।”