Friday, April 13, 2018

নবাবগঞ্জে ২ নারীর লাশ উদ্ধার, অভিযোগ পরিকল্পিত খুন

নবাবগঞ্জে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর নার্গীস আক্তার (৪২) ও ময়না বেগম (৫০) নামে দুই নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার  দুপুর ১টায় উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকার আওনা চকের একটি পুকুর থেকে ওই দুই লাশ উদ্ধার করা হয়। নার্গীসের বড় ছেলে তানভীর আহম্মেদের অভিযোগ তার মা নার্গীস আক্তার ও মায়ের বান্ধবী ময়না বেগমকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক কামরুল হাসান জানান, এটা হত্যাকা- বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। লাশ ফুলে গেছে এবং পচন ধরেছে। ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে সঠিক তথ্য জানা যাবে।
মৃত নার্গীস আক্তার উপজেলার যন্ত্রাইল গ্রামের ইমান আলীর স্ত্রী এবং ময়না বেগম পার্শ¦বর্তী আজিজপুর গ্রামের জামাল খানের স্ত্রী।
নিহত নার্গীসের বড় ছেলে তানভীর আহমেদ জানান, তার মা নার্গীস বেগম ও মায়ের বান্ধবী ময়না বেগমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার মাকে তার বাবা ইমান আলীই হত্যা করেছে বলেও তানভীর অভিযোগ করেন। তানভীর জানায়, ৯ বছর মায়ের সঙ্গে বাবার দ্বন্দ্ব চলছে। সে এ বাড়িতে থাকেন না। পাঁচ বছর আগে বাড়িতে এসে তার মাকে বাবা ইমান আলী বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। এ সময় সে দেখতে পেয়ে মাকে বাঁচায়। বাবা মায়ের এই পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিয়ে লজ্জায় অন্য কাউকে জানান না। তবে, একাধিকবার তার মাকে বাবা হত্যার হুমকী দিয়েছে।
ময়না বেগমের মেয়ে শিপন আক্তার জানান, ৯ই মার্চ সন্ধ্যার দিকে তার মা ময়না বেগম বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যা  ৬টায় মায়ের সঙ্গে তার কথা হয়। এর একঘণ্টা পর একাধিকবার ফোন দিলে তার মা ফোন রিসিভ করেনি। তবে, তার মায়ের সঙ্গে কারো শত্রুতা নেই বলে জানান। তার মাকে যারা হত্যা করেছেন তাদের বের করে ফাঁসি দেয়ার দাবি জানান  শিপন আক্তার।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে শোল্লা ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকার আওনা চকের একটি পুকুরে স্থানীয় এক মহিলা পানি আনতে গিয়ে দেখেন ওই দুই নারীর লাশ ভেসে আছে। এ সময় তিনি এলাকাবাসীকে জানালে তারা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই দুই নারীর লাশ উদ্ধার করে।
জানা যায়, গত ৯ই মার্চ সন্ধ্যার পর নার্গীস আক্তারকে  কে-বা কারা তার মোবাইল ফোনে কল করে। এ সময় নার্গীসের বাড়িতে ময়না বেগম উপস্থিত ছিল। মোবাইল ফোনে কথা বলা শেষে তারা দু’জন ঘর থেকে বের হয়ে যায়। উভয় পরিবার থেকে ফোন করলে নার্গীসের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় ও ময়নার মোবাইল খোলা থাকলেও সে ফেন রিসিভ করেন না। পরিবারের লোকজন তাদের অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ১০ই মার্চ রাতে নার্গীসের ছেলে তানভীর আহম্মেদ তার মা ও মায়ের বান্ধবীর নিখোঁজের বিষয় নিয়ে নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন।

প্রাণ বাঁচাতে ভারতীয় পরিবার বাংলাদেশে

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্তের ওপারে গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একজন পঞ্চায়েত নিহত হওয়ায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফলে বুধবার মধ্যরাতে সীমান্ত সংলগ্ন কাটাঁতারের বেড়ার বাইরে ভাংচুর ও সংঘর্ষের ঘটনার কারণে ১০টি পরিবারের নারী, শিশু ও পুরুষরা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। ভারতীয় নারী পুরুষ ও শিশুরা দলবেঁধে লেপ তোষক থালা বাসন ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চলে আসেন। সহিংসতার ঘটনাটি ঘটে উপজেলার গোরকমন্ডল সীমান্তের ওপারে কোচবিহার জেলা দিনহাটা থানাধীন সীমান্তবর্তি খারিদা হরিদা গ্রামে। বিজিবি টহল জোরদার রেখে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী লোকজনকে শান্ত থাকার আহবান জানানো হয়েছে। ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ ফুয়াদ রুহানী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত লাগোয়া ৯২৯/৫ এস আন্তর্জাতিক পিলারের পাশে বসবাসকারী বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ভারতীয় খারিদা হরিদা গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে শহিদুল হক, একই গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে শাহিন মিয়া, মোহাম্মদ আলীর ছেলে বদরু মিয়া, আব্দুল আজিজের স্ত্রী শফিয়া বিবি, আশরাফ আলীর স্ত্রী বেনু বিবি জানান, আগামী ৫ই মে পঞ্চায়েত নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের এলাকার খারিদা হরিদা গ্রামের তুণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) দলের বর্তমান পঞ্চায়েত মোঃ আবু হোসেন মিয়াকে একই দলের যুব সংগঠনের সশস্ত্র কর্মীরা বুধবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে সেগুন গাছ বাগানে নির্মমভাবে হত্যা করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই টিএমসি কর্মিরা তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। রাতেই তারা জীবনের ভয়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন গোরকমন্ডল এলাকার নামাটারী ও উচাটারী গ্রামে আশ্রয় নেন।
ভারতীয় খারিদা হরিদা ভোরাম জুনিয়র হাইস্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী পিংকি খাতুন, ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আর্বিনা খাতুন বলেন, আমাদের স্কুলে পরীক্ষা চলছে। কিন্ত দেশে যেতে পারছিনা। বাড়িঘরে ফিরলেই তারা আমাদের প্রাণে মেরে ফেলার প্রকাশ্যেই হুমকি দিচ্ছে।
দেগারকমন্ডল সীমান্তের বাংলাদেশী আবেদ আলী, লিলিমা বেগম, আমির আলী জানান, মানবিক কারণে তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন। নাওডাংগা ইউনিয়ন পরিষদের গোরকমন্ডল এলাকার ইউপি সদস্য মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রাণভয়ে যারা রাতেই বাংলাদেশে এসেছে তাদের আমরা সীমান্তের কিছু কিছু বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছি।
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি গোরকমন্ডল বিওপি’র ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার রেজাউল করিম ভারতীয়দের পালিয়ে আসার কথা স্বীকার করে বলেন, সীমান্তে টহল জোরদার করায় নতুন করে আর কেউ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারছেন না। পরিস্থিতি মোকাবেলায় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পত্র দেয়া হয়েছে বিএসএফ কর্তৃপক্ষকে।

আসিফা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড: ফের উত্তাল কাশ্মীর by সামির ইয়াসির

জানুয়ারি মাসের ১৭ তারিখের সকাল। মোহাম্মদ ইউসুফ পুজওয়ালা বসে আছেন ঘরের বাইরে। হঠাৎ এক প্রতিবেশী দৌঁড়ে তার কাছে এল। তিনি ইউসুফের সামনে এসে দাঁড়ালেন। বললেন, তার ৮ বছর বয়সী মেয়ে আসিফা বানুকে পাওয়া গেছে। মাত্র কয়েকশ’ মিটার দূরে আসিফার মৃতদেহ ঝোঁপের মধ্যে পড়ে ছিল। সেদিনের কথা স্মরণ করে ইউসুফ বলেন, ‘আমি জানতাম আমার মেয়ের সঙ্গে ভয়ংকর কিছু একটা ঘটেছে।’ ইউসুফের স্ত্রী নাসিমা বিবি তার পাশেই বসে আছেন। বারবার কাঁদতে কাঁদতে জ্ঞান হারাচ্ছিলেন তিনি। মুখ দিয়ে কেবল গোঙানি বের হচ্ছে: ‘আসিফা’।
ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের গুজার গোত্রের বাসিন্দা ইউসুফ। এই মুসলিম সম্প্রদায় মূলত যাযাবর। ভেড়া, ছাগল ও ষাড় পালন করে। ছোট্ট আসিফার ঘটনা এই ছোট সম্প্রদায়কে ভীষণ নাড়া দিয়েছে। এই একটি ঘটনায় হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জম্মু ও মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীর উপত্যকার মধ্যে বিভেদের বিষয়টি বের হয়ে আসে। কাশ্মীরের সঙ্গে ভারতের রেষারেষি সম্পর্ক। ১৯৮৯ সাল থেকে সেখানে ভারতের শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ জারি আছে।
আসিফার মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ৮ জন পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা, চার জন পুলিশ কর্মকর্তা ও এক কিশোর। তবে এদেরকে আটকের ঘটনায় জম্মুতে বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়। জম্মুর আদালতে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করতে গেলে সেখানকার আইনজীবীদের বাধায় ব্যর্থ হন। হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি’র দুই জন মন্ত্রী অভিযুক্তদের পক্ষে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। কাশ্মীরে আঞ্চলিক দল পিপল’স ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে জোট বেধে ক্ষমতায় আছে বিজেপি।
আসিফার অন্তর্ধান
১০শে জানুয়ারি আসিফা যখন নিখোঁজ হলেন, তখন তার যাযাবর পরিবার বসবাস করছিলেন জম্মু শহর থেকে ৭২ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রামে। তার মা বলেন, সেদিন বিকেলে গৃহপালিত ঘোড়াগুলো ঘরে নিয়ে আসতে বনের দিকে গিয়েছিল আসিফা। ওই ঘোড়াগুলো বাড়ি ফিরেছে ঠিকই, আসিফা ফেরেনি।
নাসিমা বিবি বিষয়টি তার স্বামীকে জানান। ইউসুফ ও কিছু প্রতিবেশী আসিফাকে খুঁজতে বের হন। তাদের হাতে ছিল ফ্ল্যাশ লাইট, হারিকেন ও কুঠার। তারা খুঁজতে খুঁজতে বনের ভেতরে ঢুকে পড়েন।  কিন্তু রাতভর খুঁজেও আসিফাকে পাননি। দুই দিন পর ১২ই জানুয়ারি, তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু ইউসুফ বলেন, পুলিশ তাদেরকে তেমন সহযোগিতা করেনি। তার অভিযোগ, এক পুলিশ কর্মকর্তা বরং পালটা এই কথাও বলেন যে, আসিফা নিশ্চয়ই কোনো এক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে।
আসিফার অন্তর্ধানের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে, গুজার সম্প্রদায় প্রতিবাদ ডাকে। অবরোধ করে মহাসড়ক। তখনই পুলিশ বাধ্য হয়ে দুই কর্মকর্তাকে তদন্তে নিয়োগ দেয়। কিন্তু এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার একজনকেই খোদ পরে এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়। ওই পুলিশ সদস্যের নাম দীপক খাজুরিয়া।
পাঁচদিন বাদে আসিফার লাশ পাওয়া যায়। লাশ পাওয়ার খবর পেয়েই স্বামীর সঙ্গে দৌঁড়ে বনের দিকে যান নাসিমা। তিনি বলেন, ‘আসিফাকে নির্যাতন করা হয়েছে। তার পা ভাঙ্গা ছিল। তার নখ কালো হয়ে ছিল। তার বাহু আর আঙ্গুলে নীল আর লাল ছোপ ছোপ দাগ ছিল।’
তদন্তকারীরা কী মনে করেন?
২৩শে জানুয়ারি, অর্থাৎ আসিফার লাশ উদ্ধারের ছয় দিন পর, জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি রাজ্য পুলিশের বিশেষ ইউনিটকে এই ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তকারীরা বলছেন, আসিফাকে বেশ কয়েকদিন স্থানীয় একটি মন্দীরে বন্দী রাখা হয়। তাকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে অচেতন করে রাখা হয়। চার্জশিটে বলা হয়, আসিফাকে ‘কয়েক দিন ধরে ধর্ষণ, নির্যাতন করে শেষ অবদি হত্যা করা হয়।’ তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে তার মাথায় পাথর দিয়ে দু’বার আঘাত করা হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, সঞ্জি রাম নামে ৬০ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত এক সরকারী কর্মকর্তা পরিকল্পনা করে এই কাজ করেন। তাকে সহায়তা করেন সুরেন্দ্র ভার্মা, আনন্দ দত্ত, তিলক রাজ ও খাজুরিয়া নামে চার পুলিশ কর্মকর্তা। সঞ্জি রাম ছাড়াও তার ছেলে বিশাল, তার ভাতষ্পুত্র ও তার বন্ধু পরবেশ কুমারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আরেক ধরণের। খাজুরিয়া সহ চার পুলিশ কর্মকর্তা আসিফার রক্তাক্ত লাশ ও কর্দমাক্ত কাপড় পরা অবস্থায় পেলেও, তা ধুয়ে মুছে তারপর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠান। তদন্তকারীদের ধারণা, অভিযুক্তরা গুজার সম্প্রদায়কে জম্মু ছাড়তে বাধ্য করতেই এই অপরাধ সংঘটন করেন। যাযাবর এই সম্প্রদায় পশুপালনের কাজে জম্মুর সরকারী ও বনের জমি ব্যবহার করেন। এ নিয়ে সম্প্রতি ওই অঞ্চলের কিছু হিন্দু বাসিন্দার সঙ্গে তাদের বিরোধ হয়েছে।
উপজাতি অধিকার কর্মী ও আইনজীবী তালিব হোসেন বলেন, ‘বিষয়টা ছিল জমি সংক্রান্ত।’ আসিফার পরিবারের সমর্থনে প্রতিবাদে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তালিব। তার ভাষ্য, প্রতিবাদ আয়োজন করায় তাকে গ্রেপ্তার করে হুমকি দিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। তবে অভিযুক্তদের পক্ষে প্রতিবাদকারী অন্যতম আইনজীবী অঙ্কুর শর্মা বলেন, জম্মুর জনতাত্বিক ভারসাম্য পরিবর্তন করতে চায় গুজার সম্প্রদায়। তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের বন ও পানি সম্পদ দখল করছে।’ তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তদের এই মামলায় সাজানো হয়েছে। প্রকৃত অপরাধীরা এখনও আড়ালে।
জম্মুতে বিষয়টি অত প্রচার না পেলেও, কাশ্মীর উপত্যাকার রাজধানী শ্রীনগরের পত্রপত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় স্থান পেয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য বিধানসভায়, প্রভাবশালী গুজার নেতা ও বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতা মিঁয়া আলতাফ পত্রিকা নিয়ে এসে তদন্তের দাবি জানান। অপরদিকে বিজেপি আইনপ্রণেতা রাজিব জাসরটিয়া বলেন, এই ঘটনা ‘পারিবারিক বিষয়।’ তিনি এই অপরাধ নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ তোলেন আলতাফের বিরুদ্ধে।
আসিফার দাফন নিয়েও জটিলতা
গুজার সম্প্রদায় চেয়েছিল আসিফাকে একটি কবরস্থানে দাফন করতে। কয়েক বছর আগে এই জমি তারা কিনে নেন। ইতিমধ্যে ৫ জনকে তারা সেখানে সমাহিতও করেছেন। কিন্তু আসিফাকে দাফন করতে এলে, তাদেরকে চারপাশে ঘিরে ফেলে হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা। তারা ইউসুফকে হুমকি দেন, আসিফকে সেখানে দাফন করা হলে সহিংসতা হবে।
ইউসুফ বলেন, ‘পরে তাকে সমাহিত করতে আমরা সাত মেইল হেটে আরেক গ্রামে যাই।’ ইউসুফের দুই মেয়ে ছিল, যারা কয়েক বছর আগে এক দুর্ঘটনায় মারা যান। আসিফা তার আপন মেয়ে নয়। স্ত্রীর জোরাজুরিতে তিনি তার শ্যালকের মেয়ে আসিফাকে দত্তক নিয়েছিলেন।
নাসিমা বিবি বলেন, আসিফা যেন চঞ্চল এক পাখি যে কিনা হরিণের মতো এদিক সেদিকে ছুটে বেড়াতো। নাসিমা ও ইউসুফ যখন বাইরে থাকতেন, তখন পালের পশুগুলোর দিকে খেয়াল রাখতো আসিফা। নাসিমা বলেন, ‘এ কারণে আমাদের পুরো সম্প্রদায়ের প্রিয় ছিল সে। আমাদের দুনিয়ার মধ্যমনি ছিল সে।’
(বিবিসি)

অব্যাহত গাজা বিক্ষোভ: ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত দুই ফিলিস্তিনি

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় টানা তৃতীয় শুক্রবারেও বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে ফিলিস্তিনিরা। ইসরাইলি বাহিনী এই ফিলিস্তিনি গণবিক্ষোভে সহিংসতার জন্য প্রস্তুত রেখেছে নিজেদের। সর্বশেষ প্রাপ্ত খবর অনুসারে, বিক্ষোভে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।  মোলোটভ ককটেল (পেট্রোল বোমা, বোতল বোমা) এর দিকে ইঙ্গিত করে বিক্ষোভের আয়োজনকারীরা আজকের দিনকে ‘মোলোটভ’ দিন বলে আখ্যায়িত করেছে বলে বিভিন্ন খবরে বলা হয়েছে। তবে আয়োজনকারীরা তা অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছেন, এই বিক্ষোভ অসহিংস। তাদের দাবি, ইসরাইল তাদের বিক্ষোভের দায়ভার হামাসের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে ও বিক্ষোভটিকে সহিংস রুপ দেয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা ও হারেৎস।
খবরে বলা হয়, আজ বিক্ষোভে সহিংসতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা পেট্রোল বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিক্ষোভের আয়োজনকারীদের একজন হারেৎসকে বলেছে, ‘ইসরাইল সবদিক দিয়ে এই পদযাত্রার দায়ভার হামাসের ওপর চাপাতে চাইছে। তাছাড়া ফিলিস্তিনি পক্ষ থেকে এই বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠলে তা তাদের জন্য সুবিধাজনক। তাই আমরা এমনটা ঘটতে দেবোনা।’ এসময় ওই আয়োজনকারী, দুই সপ্তাহ আগে হামাসের ওপর ইসরাইলি বিমান হামলার কথা টেনে আনেন। বলেন, ইসরাইল চেষ্টা করছে ফিলিস্তিনিদের, বিশেষ করে হামাস’কে একটি পুরোপুরি সহিংস যুদ্ধে নিয়ে যাবার। কিন্তু আয়োজনকারীদের অস্বীকৃতি সত্ত্বেও কয়েকজন বিক্ষোভকারীর মুখে দিনটিকে ‘মোটোলভ ককটেল দিবস’ হিসেবে বর্ণনা করতে শোনা গেছে বলে বলা হয়েছে হারেৎসের প্রতিবেদনে।  এদিকে আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে স্থানীয় সময় বৃহ¯পতিবার ও শুক্রবার মিলে বিক্ষোভ ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন দুই ফিলিস্তিনি। এদের মধ্যে একজন হচ্ছেন আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ আল-শুহরি(২৮)। তাকে খান ইউনুস শহরের নিকটবর্তী এলাকায় বুকে গুলি করা হয়। গাজা’র স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদর এক বিবৃতিতে এসব কথা জানিয়েছেন। আল শুহরি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই তাকে নিকটবর্তী ইউরোপিয়ান হসপিটালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গুলির আঘাত থেকে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। গ্রেট মার্চ অফ রিটার্ন নামের এই বিক্ষোভের অংশ হিসেবে এক ধর্মঘটে অংশ নিয়ে আন্দোলন করার সময় তাকে গুলি করা হয়। এর আগে বৃহ¯পতিবার, গাজা’র আল-শিফা হাসপাতালে বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। এতে প্রাণ হারান মোহাম্মদ আবু হাজেলা(৩১) নামের এক ব্যক্তি। ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ইসরাইলে নিজেদের ভ’মিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার দেয়ার দাবিতে ৩০শে মার্চ ‘গ্রেট মার্চ অফ রিটার্ন’ শুরু হওয়ার পর থেকে মোট ৩৪ জন ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী।

আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ হলেন নওয়াজ শরীফ

আজীবনের জন্য পাকিস্তানের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফে। পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে আগেই অযোগ্য ঘোষিত হয়েছেন তিনি। এবার নতুন করে সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে তাকে আজীবনের জন্য রাষ্ট্রীয় পদে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। রায় অনুসারে, এখন থেকে আর কখনো পার্লামেন্ট সদস্য বা সরকারি পদে আসীন হতে পারবেন না সাবেক এই পাক-প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের পাচ সদদ্যের একটি বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে এই রায় দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
খবরে বলা হয়, গত বছরের জুলাই মাসে পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অযোগ্য ঘোষিত হন নওয়াজ শরীফ। অভিযোগ উঠেছিল, তার ছেলের মালিকানাধীন সংযুক্ত আরব আমিরাত-ভিত্তিক একটি কো¤পানি থেকে বেতন গ্রহণ করেছিলেন তিনি। শরীফ অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে, তৎকালীন সময়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, তিনি বেতন গ্রহণ করেছিলেন কিনা তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তৎকালীন সময়ে তাকে অযোগ্য ঘোষিত করা হলেও, ঠিক কতদিনের জন্য অযোগ্য তা ¯পষ্ট করে বলা হয়নি। অবশেষে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে, সে সময়সীমার বিষয়টি ¯পষ্ট করে জানানো হয়। রায়ে বলা হয়, সংবিধানের আর্টিকেল ৬৮(১) (এফ) এর আওতায় যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন তারা আজীবনের জন্য অযোগ্য ঘোষিত হবেন। আর্টিকেল ৬৮(১) (এফ) অনুসারে, পার্লামেন্ট এর কোন সদস্যকে ‘সাদিক’ ও ‘আমিন’(সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ) হতে হবে। শুক্রবারের এই রায় অনুসারে, নওয়াজ শরীফ  ও তারিন আজীবনের জন্য সরকারি পদে নির্বাচন করার অধিকার হারিয়েছেন। রায়টি পড়ে শোনান বিচারক ওমার আতা বানিদাল। তিনি পোরে শোনান, আর্টিকেল ৬৮(১) (এফ)এর আওতায় কেউ অযোগ্য ঘোষিত হলে তা হবে স্থায়ী। এরকম কোন ব্যক্তি আর কখনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেনা বা পার্লামেন্টের সদস্য হতে পারবেনা।

‘আমি তো এত কাজ এখন করতে চাই না’ by কামরুজ্জামান মিলু

দেশীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা সওদাগর। খল অভিনেতা হিসেবে লম্বা সময় ঢালিউডে রাজত্ব করে যাচ্ছেন। চলতি বছরেও বেশকিছু ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন এই অভিনেতা। বর্তমানে মিশা সওদাগর বদিউল আলম খোকনের ‘হারজিৎ’, ‘আমার মা আমার বেহেশত’, ‘অন্ধকার জগৎ’, সোহানুর রহমান সোহানের ‘অবলা নারী’, ‘রাগি’, জি সরকারের ‘খোদার কসম’, ‘লাভ-২০১৪’, শাহিন সুমনের ‘মাতাল’, ওয়াজেদ আলী সুমনের ‘মনে  রেখো’, ‘ক্যাপ্টেন খান’, আশিকুর রহমান আশিকের ‘ওপারেশন অগ্নিপথ’, শফিক হাসানের ‘বাহাদুরী’, মাহমুদ হাসান শিকদারের ‘অবতার’, মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘আনন্দ অশ্রু’, বজলুর রাশেদ চৌধুরীর ‘দেশনায়ক’, গাজী জাহাঙ্গীরের ‘প্রেমের বাঁধন’, রবিন খানের ‘কানা গলি’সহ প্রায় দুই ডজন ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এরইমধ্যে আটশ’র বেশি ছবি মুক্তি পেয়েছে তার। মিশা সওদাগর বলেন, সম্প্রতি আমার অভিনীত ‘স্বপ্নজাল’ ও ‘পলকে পলকে তোমাকে চাই’ নামে দুটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। দুটি ছবি থেকেই বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। পুরো বছরে কাজের জন্য তেমন কোনো ছুটি মেলে না। প্রায় প্রতিদিনই শুটিং করতে হয়। পুরো বছরের মধ্যে দুই মাস এবার আমেরিকায় থাকব। তারপরও বলতে গেলে আমেরিকায় এক মাস ছবির শুটিং করব, বাকি এক মাস ঘুরব। এই রোজার মধ্যে আমেরিকায় মোহাম্মদ হোসেন জেমীর পরিচালনায় একটি ছবিতে কাজ করব। শুটিংয়ের বাইরে রোজার ঈদে আমার দুই সন্তানসহ আমেরিকায় ঘুরব এবং এরপর ঢাকায় ফিরব। রোজার মধ্যে আমেরিকায় শুটিং করব এবার। এত ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে কেমন লাগে জানতে চাইলে মিশা বলেন, আমি তো এত কাজ এখন করতে চাই না। আমি তো বলে দেই যে, গল্প ভালো না লাগলে ছবিতে কাজ করব না। তারপরও করতে গিয়ে দেখলাম এখন অনেক ছবি আমার হাতে। মিশা অভিনীত বেশকিছু ছবি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এসব ছবির মধ্যে আজ বড় পরিসরে তার অভিনীত এবং  ‘ইফতেখার চৌধুরীর পরিচালনায় ‘বিজলী’ ছবি মুক্তি পাচ্ছে। এছাড়া মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে শামীমুল ইসলাম শামীমের ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’, মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘জান্নাত’। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার একাধিক ছবিতে অভিনয় করলেও দীর্ঘ দিন ধরে এ প্রযোজনা সংস্থার কোনো ছবিতে দেখা যায় নি মিশাকে। গত ৬ই এপ্রিল রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে জাজের কর্ণধার প্রযোজক আব্দুল আজিজের জন্মদিনের কেক কাটা অনুষ্ঠান ও ‘বিজলী’ ছবির সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে আব্দুল আজিজকে সব মনমালিন্য ভুলে এফডিসিতে ফিরে আসার অনুরোধ করেন মিশা। এসময় প্রেক্ষাগৃহের মেশিনের ভাড়া কমানোর বিষয়েও আব্দুল আজিজকে অনুরোধ করেন এই অভিনেতা। জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের গল্প নিয়ে নির্মাণ পরিকল্পিত জাজ মাল্টিমিডিয়ার একটি নতুন ছবিতে কাজ করতে যাচ্ছেন তিনি। এমন সংবাদের বিষয়ে জানতে চাইলে মিশা সওদাগর বলেন, ছবির গল্প পছন্দ হলে আমি অবশ্যই কাজ করব। কারো সঙ্গে কাজ করতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আর জাজের আজিজ ভাই যে কোনো ছবি শুরু করার আগে আমাকে ফোন দেন। কারণ তিনি আমার অভিনয় ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন। জাজ থেকে সবশেষ ‘সুলতান’ ছবিরও প্রস্তাব পেয়েছিলাম, তবে কাজটা করিনি। আমি জাজের অনেক ছবিতে কাজের প্রস্তাব পাওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত করিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে হয়ত এ প্রতিষ্ঠানের নতুন ছবিতে আমি সামনে কাজ করব। তবে এখনো এই অভিনেতা জাজের নতুন কোনো ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হননি। শাকিব খানের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর ‘ক্যাপ্টেন খান’ ছবিতে কাজ করছেন মিশা সওদাগর। তবে এটা নিয়ে ইন্ডাস্ট্রির অনেকে জলঘোলা করার চেষ্টা করছেন বলে জানান মিশা। তিনি বলেন, একটা কথা সবার মনে রাখা উচিত সেটা হচ্ছে, আমার পেশা কিন্তু অভিনয় নেতাগীরি নয়। আর আমার জীবনে চাওয়ার আর কিছু নেই। কারণ দর্শকরা আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। বাকি জীবনটা সুন্দরভাবেই কাজ করে যেতে চাই।

থমকে গেছে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের কাজ

ইসরাইলে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেল আবিব থেকে পবিত্র নগরী জেরুজালেমে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া নিশ্চল হয়ে গেছে। জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন স্বীকৃতি দেওয়ার পর সেখানে অবস্থিত আমেরিকার কনস্যুলেট অফিসকে দূতাবাসে রূপান্তর করার কথা ছিল। ইসরাইল সরকার এজন্য বিল্ডিং পারমিট গ্রহণের বাধ্যবাধকতা শিথিল করে। এমনকি একজন ঠিকাদারকে কাজও বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তবে ইসরাইলের স্বাধীনতা দিবসের মধ্যে স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও, তা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ খবর দিয়েছে ইসরাইলের পত্রিকা দ্য হারেৎস।
কারণ হিসেবে খবরে বলা হয়েছে, দূতাবাসের চারপাশে দেওয়াল নির্মানের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসন দূতাবাসের নিরাপত্তার জন্য দেওয়াল নির্মানের দাবি জানিয়েছিল।
কয়েক সপ্তাহ আগে তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের মার্কিন ঘোষণা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। মে মাসে মার্কিন প্রশাসন এ ঘোষণা দেয়। ধারণা করা হয়েছিল, ইসরাইলের ৭০ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের দিন নতুন দূতাবাস উদ্বোধন করা হবে। পরিকল্পনা অনুসারে, আপাতত আরনোনা এলাকায় অবস্থিত কনস্যুলেটকে দূতাবাসে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই কাজ দ্রুত করার জন্য ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী মোশে কালনের হস্তক্ষেপে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতাও শিথিল করা হয়। এছাড়া পরবর্তীতে স্থায়ী দূতাবাস নির্মানের জন্য জায়গা বেছে নেওয়া হয়।
তবে তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রিডম্যান কিছু নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত জুড়ে দেন। এর মধ্যে রয়েছে ৭৫০ মিটার দীর্ঘ ও ৭ মিটার চওড়া বিশেষ পথ তৈরি ও ৩.২ মিটার উঁচু দেওয়াল নির্মান। এ কাজের জন্য আমেরিকা মোরিয়াহ জেরুজালেম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয়।
পরে ঠিক করা হয় দূতাবাসে বিশেষ বের হওয়ার রাস্তা তৈরির অর্থ দেওয়া হবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। আগামী সপ্তাহ থেকে এই কাজ শুরুর কথা রয়েছে। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে দেওয়াল নির্মান নিয়ে।
জেরুজালেম পৌরসভার মহাপরিচালক আমনন মেরহাভ সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি দূতাবাসের চারপাশে দেওয়াল নির্মানের বিপত্তির কথা বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, দূতাবাসের নীল নকশায় এই দেওয়াল নির্মানের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তিনি বলেন, ‘এর অর্থ হলো আগামী মে মাসের মাঝামাঝি এই কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।’ এছাড়া দেওয়াল নির্মানের অর্থায়নের ব্যাপারে রাষ্ট্রের কাছ থেকে যথোপযুক্ত অঙ্গীকার তিনি পাননি। তিনি চিঠিতে লিখেছেন, এ ধরণের অঙ্গিকার ছাড়া, কাজ শুরু হতে পারবে না।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মোরিয়ার আইনজীবী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও সময় সংক্রান্ত জটিলতায় প্রকল্পটি বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। তবে জেরুজালেম পৌরসভা বলেছে, রাস্তা তৈরির বাজেট দেওয়া হয়েছে, তাই কাজ শুরু হবে। তবে দেওয়ালের অর্থায়ন নিয়ে কথাবার্তা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ: প্রধানমন্ত্রী-জাতিসংঘ মহাসচিব ফোনালাপের ব্যাপারে ডুজাররিক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরার ফোনালাপের ব্যাপারে কথা বলেছেন সংস্থাটির মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিক। তিনি বলেছেন, আমি মনে করি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক স্পেইসের ব্যাপারে আমরা উদ্বেগ জানিয়েছি। মহাসচিব ফোন করেছিলেন এবং কথা বলেছেন। এতে রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্ব পেয়েছে। এবং আমি আরো মনে করি লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ায় মহাসচিব বাংলাদেশের জনগন এবং সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বর্ষাকাল আসছে। আশ্রয় শিবিরগুলোর ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নাও হতে পারে এমন উদ্বেগ আছে। নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কাজ করছে।
নিয়মিত ব্রিফিং এ এক প্রশ্নের জবাবে ডুজাররিক এসব কথা বলেন। তার কাছে প্রশ্ন করা হয়- বাংলাদেশের মিডিয়ায় রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে মহাসচিব বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেছেন এবং তারা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন। মহাসচিব কী বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কোন আলোচনা করেছেন, যখন বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দলের নেত্রী কারাগারে এবং তিনি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছেন।

হারিয়ে যাচ্ছে ল্যান্ড ফোন by মারুফ কিবরিয়া

২৮শে সেপ্টেম্বর ১৮৮৩। ঢাকার ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য দিন। ওইদিনই ঢাকায় প্রথম টেলিফোন ব্যবহার শুরু করেন নবাব আহসান উল্লাহ। দিনটি সম্পর্কে তিনি ডায়েরিতে লিখেছেন, আজ থেকে ঢাকায়  টেলিফোন লাইন চালু হয়েছে। ঢাকা থেকে দিলকুশায় হাফিজুল্লাহর সঙ্গে কথা বলেছি। এরপর বিবি সাহেবাগণও ফোনে কথা বলেন’। নবাব আহসান উল্লাহর হাত ধরে শুরু হওয়া টেলিফোন এক সময় ঢাকায় পায় বিপুল জনপ্রিয়তা। বাড়িতে বাড়িতে ল্যান্ড ফোনের একটা ঐতিহ্য ছিল কয়েক বছর আগেও। তবে সে ঐতিহ্যে অনেকটাই ভাটা পড়েছে মোবাইল ফোনের জনপ্রিয়তায়।
বাড়িঘরে টেলিফোনে চাহিদা কমার পাশাপাশি কমেছে অফিসপাড়ায়ও। একটা সময় অফিস- আদালতে জরুরি বার্তা আদান-প্রদানে টেলিফোনের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন কর্মকর্তারা। তবে সেটাও এখন তুলনামূলক কমে গেছে। একটি অফিসের যেকোনো তথ্য আদান-প্রদানে কর্মকর্তারা মোবাইল ফোন ব্যবহারেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
আদনান নামের এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, অফিসে টিএন্ডটির লাইন থাকলেও সেটি এখন খুব একটা ব্যবহার হয় না। আমার সহকর্মী কিংবা  কাজের ক্ষেত্রে অন্য সবার সঙ্গে আলাপে এখন মোবাইল ফোনই ব্যবহার করি। ল্যান্ডফোনটা এখন অকেজোই বলা চলে।
শাহরিয়ার নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকে টেলিফোনের ব্যবহার একেবারেই কমে গেছে। বছর কয়েক আগেও টেলিফোনের ওপর নির্ভর করতো সবাই। কিন্তু এখন মোবাইলেই যাবতীয় যোগাযোগ হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিটি ব্যাংক এখন মোবাইলে ব্যাংকিং সুবিধা দেয়ার কারণে গ্রাহকের সঙ্গে ওভাবেই সমন্বয় করছে। আর আমাদের সঙ্গে প্রধান শাখার কর্মকর্তাদেরও যোগাযোগ মোবাইলেই বেশি হচ্ছে।
বিটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সারা বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ গ্রাহক ল্যান্ডফোন ব্যবহার করছে। এদের বেশিরভাগই বিভিন্ন অফিস-আদালতের কাজে ব্যবহারের জন্য সংযোগ নেন। বাসাবাড়িতে সংযোগ থাকলেও সেটা সংখ্যায় অনেক কম। শুধু তাই নয়, আগে থেকে ল্যান্ড ফোন সংযোগ বাসায় নেয়া থাকলেও তা ব্যবহার করছেন না এমন গ্রাহকের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। এক কথায় ক্রমেই গ্রাহক হারাচ্ছে বাংলাদেশ  টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি বিটিসিএল’র ল্যান্ডফোন। হাতে হাতে মোবাইল ফোন আর আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঠিক পেরে উঠছে না এক সময়ের অতি প্রয়োজনীয় এই সেবা সংস্থাটি। ল্যান্ডফোনে গ্রাহক আগ্রহ বাড়াতে বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিতের কথা বলছেন সাধারণ মানুষ।
বিটিসিএল-এর কর্মকর্তা মীর মোহাম্মদ মোরশেদ জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ গ্রাহক ল্যান্ড ফোন ব্যবহার করছেন। দিন দিন গ্রাহক হ্রাস পাওয়া এবং  সেটি বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে এখনই কিছু বলতে পারছি না। আমার কাছে এ ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই। 
এদিকে টেলিফোনের সংযোগ সংখ্যা কমার দৌড়ে ব্যাপক হারে বেড়েছে মোবাইলের গ্রাহক। বিটিআরসি’র তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোবাইল ফোনের সক্রিয় সংযোগ বা সিম সংখ্যা ১৪ কোটি ৭ লাখেরও বেশি। আর মোবাইলে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৯২ লাখ। বিশেষ করে মোবাইলে ইন্টারনেটের সুবিধা পাওয়ার কারণেও মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে মোবাইলই ব্যবহার করে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আজকাল মোবাইল- ইন্টারনেটের কল্যাণে মানুষের শুধু কথা বলাই সহজ হয়নি। হয়েছে একে অপরকে ভিডিও কলের মাধ্যমে দেখার সুযোগও। এ কারণেই দিন দিন ল্যান্ড ফোনের গ্রহণযোগ্যতা কমে যাচ্ছে।
এই উপমহাদেশে ১৮৫৩ সালে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ল্যান্ড ফোনের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন বিভাগ। ১৯৭৬ সালে এ বিভাগটিকে একটি কর্পোরেট সংস্থায় রূপান্তরের পর, ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন বিভাগকে পুনর্গঠন করে প্রতিষ্ঠা করা হয় বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন বোর্ড (বিটিটিবি)। এরপর তারা দেশব্যাপী বাণিজ্যিক ভিত্তিতে টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদান শুরু করে। ২০০১ সালে টেলিযোগাযোগ আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) নামে আলাদা একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে টেলিযোগাযোগ খাতের নীতি নির্ধারণ ও তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয়।
এরপর ২০০৮ সালে বিটিটিবিকে লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত করে এর নতুন নাম দেয়া হয় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। বেসরকারি খাতেও ল্যান্ড ফোনের সেবা বিস্তৃত করা হয়। পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্ক (পিএসটিএন) নামের এক ধরনের ফোন কোম্পানির সংখ্যা বিটিসিএলসহ মোট আটটি। বিটিসিএল-এর শতভাগ শেয়ার রাষ্ট্রের। অন্যদের গ্রাহক তেমন নেই। সব মিলিয়ে দেড় লাখের মতো হবে। এছাড়া বিটিসিএল-এর ল্যান্ড ফোনের জন্য নাগরিকদের সেই অতীতের আগ্রহ আর নেই। এখন চাইলেই ল্যান্ড ফোনের কানেকশন পাওয়া যায়। বিলও অনেক কম। অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল, ন্যাশনওয়াইড ডায়ালিং, সারা দেশে একই কলরেট, তারপরও সাধারণ মানুষ মোবাইলের জনপ্রিয়তার কারণে এর প্রতি আর আগের মতো আগ্রহী নন।

‘আমি মরে গেলে লাশটি যেন দেশের মাটিতে পাঠায়’ by কামরুল ইসলাম

‘আমি আর নির্যাতন সহ্য করতে পারছি না। আমি মরে যাচ্ছি। ওরা আমাকে নির্যাতন করে শেষ করে দিচ্ছে। আমি মরে গেলেও আমার লাশটি যেন দেশের মাটিতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। গত ১১ বছর থেকে বদ্ধঘরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছি।’ কথাগুলো বাংলাদেশের এক নারী নিখোঁজ হওয়ার ১১ বছর পর মোবাইল ফোনে তার বাবাকে জানায়।
লাকসামের নারী পাচারকারী আলম। ২০০৭ সালের জুলাই মাসে সৌদি আরবে এক নারীকে নিয়ে বিক্রি করে দেয়। এরপর থেকে ওই নারী গত ১১ বছর পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ ওই মহিলার নাম তাসলিমা বেগম (৩০)। তার বৃদ্ধ বাবা-মা, আত্মীয়স্বজনরা ওই নারী ব্যবসায়ী আলমের কাছে মেয়ের খোঁজ নিতে গেলে হত্যার হুমকি দেয় বলে তারা জানায়। এ নিয়ে লাকসাম থানায় ২০১০ সালে একটি জিডি করেন তাছলিমার বাবা সামছুল হক। থানা পুলিশ ওই নারী ব্যবসায়ী আলমকে থানায় আটক করে নিয়ে আসে। আটকের পর তার মেয়েকে ফেরত ও ৫ লাখ টাকা দেয়ার অঙ্গীকার করে। এরপর লাকসাম থেকে পালিয়ে যায়। গত ২রা এপ্রিল ওই মহিলা সৌদি থেকে তার বাবার ফোনে ফোন করে।  ফোনে জানায়, সৌদি আরবে নিয়ে আলম তাকে এক লোকের কাছে বিক্রি করে দেয়। এরপর থেকে বন্দি অবস্থায় রয়েছে। এ ব্যাপারে নাঙ্গলকোট থানায় একটি জিডি করা হয়েছে গত ৪ঠা এপ্রিল। 
মামলার বিবরণ ও তার পিতা, আত্মীয়স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, লাকসাম উপজেলার শ্রীয়াং গ্রামের বেপারী বাড়ির আলম হোসেন। সে দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় দেশে তার বড় ভাই ইদ্রিছ, ছোট ভাই নজরুল ও তার ভাতিজা মাসুদ রহমান সুন্দরী নারী সংগ্রহ করে তার মাধ্যমে সৌদি আরবে পাঠায়। ২০০৭ সালে নাঙ্গলকোট উপজেলার মক্রমপুর গ্রামের তাসলিমা আক্তার, বানঘর গ্রামের আমেনা আক্তার ও হাফানিয়া এলাকার সেলিম খানের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেয় তাদেরকে সৌদি আরব নেয়ার জন্য। এদের ঠিক করে তাসলিমা আক্তার। আলম দেশে আসার পর ১ হাজার রিয়াল বেতনে তাসলিমা আক্তারকে সৌদি আরবে নেয়। বাকি দুজনকে সৌদিতে আর নেয়নি। তাসলিমার মোবাইলে জানা যায়, বাংলাদেশ এয়ারপোর্টে তার পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আলম নিয়ে যায়। সৌদি আরবে নেয়ার পর মালিকের ভাগিনার নিকট তাকে বিক্রি করে দেয়। প্রতি মাসে বেতনের টাকা তাসলিমার বাবা সামছুল হকের ব্যাংক একাউন্টে না গিয়ে ওই টাকা বাংলাদেশে আলমের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। তাসলিমার বাবা দিনমজুর অন্যের জমিতে কাজ করে কোনোরকমে সংসার চালায়। সামান্য জমি বিক্রি করে মেয়েকে ভাগ্যের চাকা ফিরানোর আশায় সৌদি আরবে পাঠায়। এরপর থেকে তাসলিমার কোনো খোঁজখবর নেই। টাকা পয়সা নেই। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস যায় কিন্তু তাসলিমার কোনো খোঁজ নেই। মেয়ের খোঁজখবর নেয়ার জন্য আলমকে ফোন দেয়। কিন্তু ফোন ধরে না আলম। এরপর লাকসাম থানা ২০১০ সালে আলমের বিরুদ্ধে একটি জিডি করেন। জিডির প্রেক্ষিতে আলমকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ এবং পুলিশের নিকট অঙ্গীকারনামা দেয় তাসলিমাকে সৌদি থেকে ফেরত নিয়ে আসবে এবং ৫ লাখ টাকা ফেরত  দেবে। এরপর থেকে আলম নিরুদ্দেশ। মেয়ের খোঁজখবর না পেয়ে আলমের বাড়িতে গেলে তার ভাইয়েরা হুমকি দেয় এবং মোবাইল ফোনে আলম তাদেরকে হত্যা করার কথা জানায়। গত ১লা এপ্রিল হঠাৎ করে সৌদি আরব থেকে তার বাবার মোবাইলে ফোন আসে। ফোন করার পর তার মেয়ের কণ্ঠ শুনে সবাই কাঁদতে থাকে। তাকে উদ্ধার করে দেশে আনার ব্যবস্থা করার কথা বলে। সৌদি আরব নিয়ে তাকে তার ভিসার কফিলের কাছে না নিয়ে অন্য লোকের নিকট বিক্রি করে দেয়। সুন্দরী তাসলিমাকে একটি বদ্ধঘরে আটকে রাখে এবং তাকে পাশবিক নির্যাতন করে আসছে। প্রতি মাসের বেতনের টাকা বাংলাদেশি ২২ হাজার টাকা। ওই টাকা আলম আত্মসাৎ করে আসছে। তাসলিমা জানায়, সৌদিতে কোন জায়গায় রাখা হয়েছে তা জানে না সে। তাকে বাড়িতে পাঠানোর জন্য কান্নাকাটি করলে, তারা জানায় তোকে ১২ বছরের জন্য ক্রয় করে এনেছি। ১২ বছর শেষ হলে তোকে দেশে পাঠাবো। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার ভাই ও আত্মীয়স্বজনদের মাধ্যমে সুন্দরী নারীদেরকে সংগ্রহ করে সৌদিতে নিয়ে আসে আলম। এবং মোটা অঙ্কের টাকার বেতনের আশ্বাস দেয়। সৌদিতে নিয়ে ওই সুন্দরী নারীদেরকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাদেরকে বিক্রি করে দেয়। দেশের বাড়িতে আলমের একটি বিলাসবহুল বাড়ি ও ঢাকা উত্তরায় একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়াও তার বড় ভাই ইদ্রিছ শ্রীয়াং হাইস্কুলের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী। তার বাড়িতেও একটি দ্বিতল ভবন রয়েছে। এলাকায় আলম ও তার ভাই নারী পাচারকারী হিসেবে চিহ্নিত। নাঙ্গলকোট উপজেলার মক্রমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা বলেন, তাসলিমা সৌদি আরবে গিয়ে গত ১১ বছর থেকে নিখোঁজ রয়েছে।
এ ব্যাপারে তাসলিমার বাবা সামছুল হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে  বলেন, আমার মেয়েকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে চাই। আলম দেশে আত্মগোপন অবস্থায় রয়েছে। আলমকে গ্রেপ্তার করলে তাসলিমা সৌদিতে কোথায় আছে সেটাও জানা যাবে। তাই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই।

সাঙ্গু নদীতে ভাসলো বিজুর ফুল! by নুরুল কবির

বান্দরবানে শুরু হলো চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান ফুল বিজু। বৃহস্পতিবার সকালে বান্দরবানের সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সমপ্রদায়ের বর্ষবরণ বিজু ও বিষু শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে ভোর থেকে তরুণ-তরুণীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে নানা সাজে সেজে ফুল বিজুতে অংশ নেয়। এ সময় তারা নানা রকমের ফুল নদীর জলে ভাসিয়ে দেয়। এদিকে পাড়ায় পাড়ায় চলছে পিঠা-পুলি তৈরির আয়োজন ও নানা রকমের সবজি দিয়ে পাচন রান্নার কাজ। চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের ফুল বিজু শুক্রবার মূল বিজু ও শনিবার গইজ্জা পইজ্জা। তিনদিন তারা বর্ষবরণ উৎসব পালন করে।

স্থানীয় হিমেল চাকমা বলেন, প্রতিবছরই বর্ষবরণে চাকমারা নানা আয়োজন করে থাকে। পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে ঘুরে পাচন খাওয়া, পিঠা তৈরিসহ নানা আয়োজনে তারা সবাই অংশগ্রহণ করে।  এদিকে তঞ্চঙ্গ্যা সমপ্রদায় বর্ষবরণে বালাঘাটায় ঐতিহ্যবাহী ঘিলা খেলায় মেতে উঠেছে। তরুণ-তরুণীরা দল বেঁধে এই খেলা খেলছে। ঘিলা পাহাড়ি একটি গাছের ফল। এটিকে তারা পবিত্র মনে করে। তাই নতুন বছরের শুরুতে বর্ষবরণে তঞ্চঙ্গ্যারা পাহাড়ে পাহাড়ে ঘিলা খেলার আয়োজন করে। এবার শহরের বালাঘাটা বিলকিস বেগম স্কুল মাঠে বড় আকারে ঘিলা খেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে তঞ্চঙ্গ্যারা।এদিকে, সাংগ্রাই কমিটি সাধারণ সম্পাদক কো কো চিং জানান, মারমাদের বর্ষবরণ সাংগ্রাইয়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার সকাল শোভযাত্রার মাধ্যমে সাংগ্রাই উৎসব শুরু হবে বান্দরবানে। শনিবার সাঙ্গু নদীর তীরে চন্দনের পানিতে বৌদ্ধমূর্তিকে স্নান করানো হবে।
রোববার শহরের রাজার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে সাংগ্রাইয়ের মৈত্রী পানি বর্ষণ বা জলকেলি উৎসব। মারমা তরুণ-তরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে বরণ করে নেবে নতুন বছরকে। স্বচ্ছ পানির ধারা ধুয়ে মুছে দিবে পুরনো বছরের যত দুঃখ গ্লানি। এছাড়া পাড়ায় পাড়ায় পিঠা তৈরির আয়োজনও থাকছে সাংগ্রাই উৎসবে। শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ত্রিপুরা সমপ্রদায়ের বৈসু উৎসব। তারা নেচে-গেয়ে  বৈসু পালন করে থাকে।

ফুরসৎ নেই লোকজ শিল্প কারিগরদের by সাদেকুল ইসলাম

পুরনো জীর্ণতা আর গ্লানি ধুয়ে-মুছে বৈশাখ বাঙালির জীবনে নিয়ে আসছে নতুন দিনের নতুন বছরের এক অনন্য আনন্দ উৎসব। আর এই  বৈশাখকে বরণ করার জন্য চলছে নানান প্রস্তুতি। এসো হে বৈশাখ, এসো এসো। রাত পোহালেই পহেলা বৈশাখ। তাই পহেলা বৈশাখ এবং মাসজুড়ে বৈশাখী বিভিন্ন মেলাকে সামনে রেখে মাটি দিয়ে তৈরি বর-কনে, পশু-পাখি, ব্যাংকসহ বিভিন্ন খেলনা, নানান রঙের ও প্রকারের বাহারি কাগজ, কাপড় ও শোলা দিয়ে গোলাপ, স্টার, সূর্যমুখী, কিরনমালা, মানিক চাঁদ, জবা, বিস্কুট, গাঁদাসহ বিভিন্ন নামের কৃত্রিম ফুল ও বাঁশি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নওগাঁর কারিগররা। নাওয়া-খাওয়া ভুলে পরিবার-পরিজন নিয়ে ব্যস্ত সুলতানপুর, দেবীপুর, শৌলগাছি ও আত্রাই উপজেলার জামগ্রামের কারিগররা। সারা বছরই তারা এসব তৈরির সঙ্গে জড়িত। আর এটিকে তারা পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তবে কাঁচামাল, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি সেই সঙ্গে আধুনিক প্লাস্টিক খেলনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকতে না পারায় মাটির খেলনা তৈরি ও বিক্রি অলাভজনক হয়ে পড়ায় বিশেষ দিবস ঈদ, পূজা, পার্বণ ও মেলা ছাড়া আর কুমারপাড়ায় খেলনা তৈরি করছেন না জেলার কারিগররা।

জেলার নওগাঁর সদর উপজেলার সুলতানপুর, রাণীনগর উপজেলার আতাইকুলা, মহাদেবপুর উপজেলার শিবপুর সুলতানপুর গ্রামের কুমারপাড়াগুলো মাটির খেলনা তৈরির জন্য বিখ্যাত। কিন্তু এসব গ্রামে ও এখন আর বিশেষ দিবস ও মেলা ছাড়া খেলনা তৈরি করেন না কারিগররা। তবে হাঁড়ি পাতিল ও রান্নার বাসনপত্র তৈরি করে কোনরকমে টিকিয়ে রেখেছেন তারা বাপ-দাদার এই পেশাকে।
কারিগর সমনাথ মহন্ত ও অরুণ কুমার পাল বলছেন, মাটির খেলনা তৈরির উপকরণ (কাঁচামাল) জ্বালানি কাঠ, মাটি, রং ইত্যাদির দাম ও পরিবহন খরচ ২/৩ গুণ বাড়লেও খেলনার দাম সেভাবে বাড়েনি আর কেনা-বেচাও খুবই কম। বিভিন্ন ধরনের ১ হাজার খেলনা মেলায় বিক্রি করে সব খরচ বাদে টেকে মাত্র ১ থেকে দেড় হাজার টাকা, যা দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাই অধিকাংশ কারিগর এখন জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে চলে যাচ্ছেন ভিন্ন পেশায়। মৃৎ শিল্প তথা ঐতিহ্যবাহী মাটির খেলনা শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে এ সব লোকজ শিল্পের কারিগরদের আর্থিকভাবে সহায়তা করা প্রয়োজন বলে জানান মৃৎ শিল্পের কারিগররা। নওগাঁর সদর উপজেলার দেবীপুর গ্রাম বাঁশি গ্রাম হিসেবে পরিচিত। বৈশাখের মেলাকে সামনে রেখে বাঁশি তৈরিতে নল কাটা, সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য জরি প্যাঁচানো ও বিভিন্ন রঙের বেলুন লাগানোর কাজে ব্যস্ত কারিগররা। এ গ্রামের প্রায় তিনশ’ পরিবারের মধ্যে আড়াইশ’ পরিবারই বাঁশি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। সারা বছরই বাঁশি তৈরি করা হয়। বাড়ির পুরুষরা বাঁশি নিয়ে বিভিন্ন জেলার মেলাতে ৭-১৫ দিনের জন্য বেরিয়ে যান। বিক্রি শেষে যা লাভ থাকে তাই চলে তাদের সংসার। আর মেয়েরা সাংসারিক কাজের পাশাপাশি বাঁশি তৈরি করেন। এতে পুরুষরাও সহযোগিতা করে থাকেন। এছাড়া পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবারকে সহযোগতিা করে থাকে।
আজিম উদ্দিন ও হেলাল হোসেন জানান, বৈশাখীর বিভিন্ন মেলা, ঈদ ও পূজা-পার্বণে বাঁশির চাহিদা থাকে বেশি। স্থানীয়দের কাছ পাইকারি ও খুরচা বাঁশি বিক্রি করে দেড় থেকে দুইশ’ টাকা লাভ হয়। এছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, ময়মনসিংহ, বগুড়া, পাবনা, দিনাজপুর, খুলনা ও চাঁপাই নবাবগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় পাইকারি বিক্রি করা হয়। এই গ্রাম থেকে বছরের প্রায় ৫০ লাখের মতো বাঁশি দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়ে থাকে। এমনকি বিদেশেও পাঠানো হয়। সঠিক পৃষ্ঠপোশকতা পেলে এসব কারিগর এ শিল্পের আরো উন্নয়ন ঘটাতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ভোঁপাড়া ইউনিয়নের একেবারেই অবহেলিত একটি গ্রাম জামগ্রাম। নেই কোনো ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা। বাংলাদেশের মধ্যে এটিই একমাত্র গ্রাম যেখানে কাগজ, কাপড় ও শোলার রঙ্গিন বাহারি বিভিন্ন রকমের কৃত্রিম ফুল তৈরি করা হয়। এখানকার তৈরি ফুলই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন উৎসব, ঈদ ও মেলাতে পুরুষরা নিয়ে গিয়ে ফেরি করে বিক্রয় করেন। লাভও হয় দ্বিগুণ। কিন্তু যোগ্য পৃৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এখনো এই হস্তশিল্প আধুনকিতার দোড়গোড়ায় পৌঁছেনি। গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়বে গাছের ছায়াঢাকা বিভিন্ন স্থানে কয়েকজন মিলে বসে তৈরি করছেন এই ফুলগুলো। বাংলাদেশের মধ্যে নানান রঙের মন মাতানো এসব বাহারি রঙিন ফুল তৈরিতে এই জামগ্রামই একমাত্র গ্রাম। শুধু এই গ্রামেই তৈরি করা হয় এসব ফুল। তৈরির পর পরিবারের পুরুষরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ফেরি করে বিক্রয় করেন। তবে দুই ঈদে, বিভিন্ন পূজা, মেলা ও পহেলা  বৈশাখে এই সব ফুলের চাহিদা অনেক বেশি। প্রায় ৫০-৬০ বছর পূর্বে গ্রামে এই ফুল তৈরি করা শুরু হয় কিছু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের হাত ধরে। এখন তা পুরো গ্রামের মানুষের বেঁচে থাকা ও আয়ের একমাত্র উৎসে পরিণত হয়েছে। এই ফুলে লাভ অনেক বেশি। একটি ফুল প্রায় দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রয় হয়। বর্তমানে এই গ্রামের প্রায় ৭শ’ পরিবার এই বাহারি ফুল তৈরি করার কাজে নিয়োজিত। সংসার দেখভাল করার পাশাপাশি এই গ্রামের মহিলা, পুরুষ ও ছোট-বড় সবাই এই ফুল তৈরি করার কাজ করে।
রফিকুল ইসলাম জানান, এক সময় এই গ্রাম খুবই অবহেলিত ছিল। রাস্তা-ঘাট কোনটিই ছিল না। কিন্তু বর্তমানে একটু হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। এই গ্রামে এখনো পর্যন্ত  বিদ্যুৎ আসেনি। তাই এসব কারিগর শত ইচ্ছে থাকলেও রাতে এই ফুল তৈরির কাজ করতে পারে না। তাই আমাদের এই শিল্পটিকে আরো গতিশীল করার জন্য প্রয়োজন আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ।
মোছা. নিশাত আনজুমান জানান, আমরা আমাদের সংসারের সব কাজ সম্পন্ন করে পরিবারের পুরুষদের এই ফুল তৈরিতে সাহায্য করি। এই ফুলগুলোতে লাভ অনেক বেশি। আগে পুরুষরা বাইরে গেলে দুর্বৃত্তরা মাঝে মাঝে সবকিছু ছিনতাই করে নিতো কিন্তু এখন আর তা হয় না। এখন শুধু আমাদের এই গ্রামটিকে আধুনিক মানসম্মত গ্রামে পরিণত করা প্রয়োজন।
জনি সোনার জানান, ফুল তৈরিতে পরিবারের গৃহিণীদের অবদান সবচেয়ে বেশি। এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ বিভিন্ন বেসরকারি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এই ব্যবসা করে আসছেন। তাই মাস শেষে লাভের বেশি ভাগই দিতে হয় এসব এনজিওকে। সরকার যদি এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিনা সুদে ঋণ দিত তাহলে এই হস্তশিল্পটি আগামীতে আরো বেশি সমপ্রসারিত হতো। তাই এই গ্রামবাসীর সরাসরি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত  প্রয়োজন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম জানান, এটি একটি ঐতিহ্যপূর্ণ শিল্প। যার কদর সারা দেশে। শৌখিন মানুষ ও শিশুদের কাছে এই বাহারি কৃত্রিম ফুলের চাহিদা অনেক বেশি। এই শিল্পকে আরো সম্প্রসারিত করার জন্য সরকারের কাজ করা উচিত। এই গ্রামের মানুষদের আর্থিকভাবে সহায়তা করতে পারলে তারা এই শিল্পটিকে আরো অনেক দূর নিয়ে যেতে পারবেন। এতে সরকার এই শিল্প থেকে অনেক অর্থ রাজস্ব আয় করতে পারবেন। এই কারিগরদের জন্য যদি হস্তশিল্পটির উপর উন্নতমানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেত তাহলে শিল্পটি আরো আধুনিক মানসম্মত হতো। আমি চেষ্টা করবো এই গ্রামের মানুষদের আরো বেশি সহযোগিতা করার জন্য।

সিলেটে বিএনপির প্রার্থী কে? by চৌধুরী মুমতাজ আহমদ

তারা দুজনেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। একজন হলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান। অন্যজন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুজ্জামান মনি। একজনের ভোটের ব্যবধান ছিল এক লাখ, অন্যজনের ৬০ হাজার। আওয়ামী লীগের জাঁদরেল প্রার্থীদের এমন বিশাল ব্যবধানে হারিয়েই বিএনপির এ দুই প্রার্থী নগরভবনের চাবি পেয়েছিলেন। গাজীপুরের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন এমএ মান্নান। আর মনিরুজ্জামান মনি আওয়ামী লীগের দখল থেকে কেড়ে নেন খুলনা সিটি করপোরেশনের কর্তৃত্ব। মেয়র পদে থাকাকালীন সময়ে তারা দুজনেই জেল খেটেছেন নাশকতা সৃষ্টিসহ বিভিন্ন অভিযোগে। তবুও তাদের দুজনের কারো উপরই এবার আস্থা রাখতে পারেনি দল। দুই সিটি করপোরেশনেই নতুন প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। দুই ক্ষেত্রেই তৃণমূলের   মতামত গুরুত্ব পাওয়ায়ই এমনটি ঘটেছে বলে দলটির বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রার্থী নির্বাচনে তৃণমূলের মতামতের গুরুত্ব পাওয়ার বিষয়টি দলের মধ্যে চাঙ্গাভাব এনে দেবে বলেই মনে করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীদের অনেকেই। তবে বিষয়টি কারো কারো কপালে চিন্তার রেখাও এঁকে দিয়েছে। ‘হেভিওয়েট’ তকমা থাকলেই দলের মনোনয়ন পাওয়া যে নিশ্চিত নয় সেটারই ইঙ্গিত দিয়েছে গাজীপুর ও খুলনায় প্রার্থী নির্বাচনে। এ দুই সিটিতে বর্তমান মেয়রদের বাদ দিয়ে নতুন প্রার্থী বেছে নেয়ার বিষয়টি রেড সিগন্যাল হয়ে দেখা দিয়েছে সিলেটের মেয়র বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরীর জন্যও। গাজীপুর ও খুলনার মেয়রদের মতো একই গল্প রয়েছে আরিফেরও। ২০১৩ সালের ১৫ই জুন অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ও সে সময়কার মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। পৌরসভা আমলের পর সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রতিষ্ঠা থেকেই নগরভবনের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। কিন্তু গেল নির্বাচনে আরিফের কাছে তিনি হার মানেন ৩৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে। নির্বাচনে আরিফ ভোট পেয়েছিলেন ১ লাখ ৭ হাজার ৩৩০টি। আর কামরান পেয়েছিলেন ৭২ হাজার ১৭৩টি ভোট। গাজীপুর ও খুলনার মেয়রের সঙ্গে আরিফের গল্পে আরো একটি মিল আছে। তিনিও মেয়র থাকাকালীন সময়ে জেল খেটেছেন হত্যা-বোমাবাজির অভিযোগে।
‘তৃণমূলের মতামত’ আরিফুল হক চৌধুরীর জন্যও মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারে। সিলেটের বিএনপি সংশ্লিষ্ট অনেকেরই অভিযোগ, আরিফুল হক তৃণমূল থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন। ‘সরকারঘেঁষা’ বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি দলকে খুশি রাখতে আরিফ দলের কর্মসূচি থেকে নিজেকে যথাসম্ভব ‘বাঁচিয়ে’ রাখেন বলেও কারও কারও অভিযোগ। তবে ইদানীং একটু গা-ঝাড়া দিয়ে আরিফুল হক তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করছেন বলে জানা গেছে। আগে দলীয় কর্মসূচিতে এতটা সক্রিয় না থাকলেও এখন তাকে সামনের কাতারেই দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সিলেটে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশেও আরিফুল হকের সক্রিয় অংশগ্রহণ অনেকেরই নজর কেড়েছে। তবে খুলনা ও গাজীপুরে প্রার্থী বদল ঠিকই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে-আরিফ কি পারবেন দলের সমর্থন ধরে রাখতে?
আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে আছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম। খুলনা ও গাজীপুরে প্রার্থী বদলকে তারা দুজনেই গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ হিসেবেই দেখছেন। সিলেটের ক্ষেত্রেও এমনটি হলে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই বলেই তাদের বক্তব্য।
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন মানবজমিনকে বলেন, তৃণমূল থেকে নতুন মুখের দাবি উঠেছে। তিনি জানান, তৃণমূলের এ চাওয়ার বিষয়টি কেন্দ্রও অবগত রয়েছে। গাজীপুর ও খুলনার মতো সিলেটেও তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হলে এখানেও নতুন মুখই আসার কথা। জানালেন, তৃণমূলের চাওয়াকে মূল্য দিতে তিনিও মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম মানবজমিনকে বলেন, দলের দুর্যোগের সময় অনেক নেতাকর্মীই আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। আমি কখনোই দলের সঙ্গ ছাড়িনি। গা-ঢাকা না দিয়ে সবসময়ই মাঠে ছিলাম। নির্যাতনের শিকার হয়েছি, তাছাড়া আমার মাঝে খাই খাই স্বভাবও নেই। তৃণমূল নতুন মুখ হিসেবে আমাকে চায়। নগরবাসীর চাপের মুখেই আমি প্রার্থিতা ঘোষণা করেছি। সেলিম জানান, আগের চেয়ে সিলেটে দল এখন অনেক সংগঠিত রয়েছে।
সকল অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমি তৃণমূলেরই নেতা। তৃণমূলের সমর্থনেই আমি আজ এ পর্যন্ত এসেছি। মাঠের নেতাকর্মীরা সব সময়ই আমার পাশে। আমিও সব সময়ই তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আরিফ আশাবাদী এবারো তিনিই দলের মনোনয়ন পাবেন। আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমি কারো সঙ্গে কখনো আপস করিনি। এ কারণে অন্যদের মতো বড় ব্যবসাও বাগাতে পারিনি, সিআইপিও হতে পারিনি। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে আপস করলে আমাকে তিন বছর জেল খাটতে হতো না। জনগণই ভালো জানে আমি কাদের জন্য কাজ করছি।
গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনের আগের নির্বাচনের খতিয়ান এখানে টেনে আনা বোধহয় অপ্রাসঙ্গিক হবে না। ২০১৩ সালের ৬ই জুলাই দেশের সবচেয়ে বড় সিটি করপোরেশনে প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক এম এ মান্নান এক লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আজমত উল্লা খানকে। এমএ মান্নান ভোট পেয়েছিলেন ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৪৪টি। অপরদিকে আজমতউল্লা খান পেয়েছিলেন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮৬৭ ভোট।
একই বছরের ১৫ই জুন অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ও সে সময়কার মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেককে পরাজিত করেছিলেন ৬০ হাজার ভোটের ব্যবধানে। মনিরুজ্জামান মনি পেয়েছিলেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৩  ভোট। আর তালুকদার আব্দুল খালেক পেয়েছিলেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৪২২ ভোট।

ঘুষের পাঁচ লাখ টাকাসহ প্রধান নৌ প্রকৌশলী আটক

ফাঁদ পেতে ঘুষের টাকাসহ নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এসএম নাজমুল হককে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে ৬টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকার সেগুন রেস্তরাঁ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছে ঘুষের পাঁচ লাখ টাকা পাওয়া যায়।  বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব ভট্টাচার্য। তিনি জানান, ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে নাজমুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুদকের পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
দুদক সূত্র জানায়, সৈয়দ শিপিং লাইন নামের একটি শিপিং প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়ে সব আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ফাঁদ পাতে দুদক। পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীকে সেগুন রেস্তরাঁয় আসার কথা বলেন নাজমুল হক। সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে ছিল দুদকের দলটি। ঘুষ নেয়ার পরপরই দুদকের দলটি হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে নাজমুল হককে। সৈয়দ শিপিং লাইনের জাহাজের রিসিভ নকশা অনুমোদন ও নতুন জাহাজের নামকরণের অনুমোদনের জন্য ১৫ লাখ টাকা ঘুষ চান নাজমুল। এর মধ্য থেকে পাঁচ লাখ টাকা আগেই নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় কিস্তির পাঁচ লাখ টাকা নিতে গিয়ে দুদকের ফাঁদে পড়লেন তিনি। দুদক সূত্র জানায়, এ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদক তার বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ অনুসন্ধান করছে।
এর আগে গত বছরের ১৭ই জুলাই একই দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী কেএম ফখরুল ইসলামকে ঘুষের টাকাসহ গ্রেপ্তার করেছিল দুদক। একটি জাহাজের নকশা অনুমোদন করতে মতিঝিলে বিআইডব্লিউটিএ ভবনের কার্যালয়ে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার সময় তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর এ ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তিনি জামিন নিয়ে মুক্তি পান। তবে নৌ পরিবহন অধিদপ্তর থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে করা মামলাটি বিচারাধীন। ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া নাজমুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক।

ধর্ষণ প্রমাণে টু ফিঙ্গার টেস্ট নিষিদ্ধ

ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশুর শারীরিক পরীক্ষার ‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’ ও ‘বায়ো ম্যানুয়াল টেস্ট’ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। পাঁচ বছর আগের এক রিট আবেদনের নিষ্পত্তি করে গতকাল বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি একেএম সাহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন, ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশুর শারীরিক পরীক্ষারক্ষেত্রে তথাকথিত ওই পরীক্ষার আইনি বা বিজ্ঞানসম্মত কোনো ভিত্তি নেই। রায়ে আদালত আরো বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্য বিধি অনুযায়ী গত বছর বাংলাদেশ সরকার যে হেলথ প্রটোকল করেছে, তাতে সেই বিধি মেনে রেপ ভিকটিমদের পরীক্ষা ও ভার্জিনিট টেস্ট করতে হবে। সরকারের ওই প্রটোকল দেশের সকল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং হাসপাতালে পাঠিয়ে তা অনুসরণ করতে বলেছেন হাইকোর্ট।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশুদের পরীক্ষা করার সময় একজন গাইনোকলজিস্ট, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, নারী পুলিশ কর্মকর্তা এবং প্রয়োজনে ভিকটিমের একজন নিকট আত্মীয়কে সেখানে রাখতে হবে। একই সঙ্গে আদালত বলেছেন, কোনো পক্ষের আইনজীবী যেন ভিকটিমকে মর্যাদাহানিকর কোনো প্রশ্ন না করে সেটি নারী  ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালকে নিশ্চিত করতে হবে। 
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার বিশেষজ্ঞরা বলে আসছিলেন, ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশুর (ভিকটিম) শারীরিক পরীক্ষায় টু ফিঙ্গার টেস্ট বা দুই আঙ্গুলের পরীক্ষার বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি  নেই। এ ধরনের পরীক্ষা অযৌক্তিক এবং এভাবে পরীক্ষা ভিকটিমকে আবার ধর্ষণ করার শামিল বলে উল্লেখ করেন তারা। একই সঙ্গে এ ধরনের পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশুকে দুই আঙ্গুলের মাধ্যমে ধর্ষণ পরীক্ষার পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ করে  ২০১৩ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ব্র্যাক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, নারীপক্ষ এবং দুই চিকিৎসক। রিট আবেদনে এ ধরনের পরীক্ষাকে সংবিধানের ২৭, ২৮, ৩১, ৩২ ও ৩৫ (৫) ও সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ ধারার  পরিপন্থি বলে উল্লেখ করা হয়। রিটের শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৯ই অক্টোবর রুল জারি করেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। ‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’ কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।
পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ও ফরেনসিক বিভাগের  প্রধানকে তলব করে এ বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা শোনেন আদালত। এ ছাড়া ধর্ষণ ও যৌন  নিপীড়নের শিকার নারীদের ডাক্তারি পরীক্ষার বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়নে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন আদালত। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গতকাল রায়ে ‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’ ও ‘বায়ো ম্যানুয়াল টেস্ট’ নিষিদ্ধ ঘোষণা করলো হাইকোর্ট। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী সারা হোসেন ও শারমিন আক্তার। গতকাল রায়ের পর শারমীন আক্তার বলেন, ধর্ষিতাদের টু ফিঙ্গার পরীক্ষার নামে ট্রমাটাইজ করে দেয়া হয়। এ ধরনের পরীক্ষায় ধর্ষিতা শারীরিক ও মানসিকভাবে আরো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। হাইকোর্টের এ রায়ের ফলে এখন থেকে টু ফিঙ্গার পদ্ধতিতে ধর্ষিতাদের পরীক্ষা করা যাবে না। হাইকোর্ট যে ভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন সেভাবেই পরীক্ষা করতে হবে।

‘পুলিশ বেষ্টনীতেই মঙ্গল শোভাযাত্রা ও ছায়ানটের বর্ষবরণ’

বাংলা নববর্ষের অন্যতম আকর্ষণ ইউনেস্কো স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মঙ্গল শোভাযাত্রা হবে পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যে। মাঝখানে কেউ তাতে যোগ দিতে পারবে না। এবার রমনা পার্কে ছায়ানটের বর্ষবরণও অনুষ্ঠিত হবে দু’স্তরের পুলিশ বেষ্টনীতে। এছাড়া রাজধানীর উন্মুক্ত স্থানে বর্ষবরণের সব অনুষ্ঠান ঘিরে থাকছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। থাকছে তল্লাশি, সিসি ক্যামেরা, আর্চওয়ে, ওয়াচ টাওয়ার। আয়োজনকে ধূমপান মুক্ত রাখতে থাকছে কড়াকড়ি। ধূমপান ও ইভটিজিং রোধে মাঠে থাকছে মোবাইল কোর্ট। মুখে নয়, মুখোশ রাখতে হবে হাতে। বাজবে না বিরক্তিকর ভুভুজেলা। আগামীাল শনিবার বিকাল ৫টার মধ্যেই উন্মুক্ত স্থানের সব অনুষ্ঠান সমাপ্ত করতে হবে। 
রাজধানীতে বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ বরণ অনুষ্ঠানকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে এসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। গতকাল দুপুরের দিকে ডিএমপি’র মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস বিভাগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ডিএমপি’র বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান বলেন, পহেলা বৈশাখ বাংলার প্রাণের মেলায় পরিণত হয়েছে। বৈশাখের পোশাক পরে সবাই মিলিত হবে। পুরো ঢাকা জনসমুদ্রে পরিণত হবে। পহেলা বৈশাখের আনন্দ সবার, নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের। ওইদিনে নগরবাসীর আনন্দ উদযাপন নিরাপদ ও নিশ্চিত করার জন্য আমরা সমন্বিত ও সুশৃঙ্খল নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে রাজধানী জুড়ে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হবে। একই সঙ্গে থাকবে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তবে একই দিন মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ দিন শবেমেরাজ। শনিবার রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এবাদত করবেন। যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে তাই বিকাল ৫টার মধ্যে উন্মুক্ত স্থানে আয়োজিত সব অনুষ্ঠান সমাপ্ত করে পাবলিক প্লেস খালি করতে হবে। তবে রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠান চলবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। অন্যদিকে বিকাল ৫টার মধ্যে ইনডোরে কেউ অনুষ্ঠান করতে চাইলে তাতে বাধা নেই বলেও জানান তিনি।
তবে এবার পহেলা বৈশাখ নববর্ষের অনুষ্ঠান নিয়ে কোনো হুমকি না থাকলেও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ সজাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমাদেরকে জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও বিভিন্ন ঝুঁকির বিষয় মাথায় নিয়ে কাজ করতে হয়। তাই আমরা আগে থেকে সজাগ। প্রতিটি ভেন্যু নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আসবে। ডগ স্কোয়াড দিয়ে সবগুলো ভেন্যু স্যুইপ করা হবে। গেটে থাকবে আর্চওয়ে। তল্লাশি করেই ঢুকানো হবে সবাইকে। ক্ষতিকর কাজে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে এমন কোনো ধাতব বস্তু দা, নেইল কাটার, ব্লেড ও দাহ্য পদার্থ যেমন দেশলাই ইত্যাদি বহন না করতে বলেন তিনি। রমনাসহ বিস্তৃত এলাকা থাকবে মাইকের আওতায়। কেউ হারানো গেলে সন্ধান দেয়ার ব্যবস্থা নিয়েও কাজ করবে পুলিশের একটি দল। তল্লাশির সময় অসুবিধা এড়াতে বড় ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে অনুষ্ঠানে না যেতেও অনুরোধ করেন তিনি।
তিনি আরো জানান, পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান ঘিরে আরো থাকছে সোয়াট টিম, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ও র‌্যাব’র বিশেষ দল। এছাড়া হাতির ঝিল, রবীন্দ্র সরোবরসহ যেসব স্থানে পানি রয়েছে সেখানে থাকছে নৌ-পুলিশের দল। প্রস্তুত থাকবে দমকল বাহিনী ও এম্বুলেন্স। প্রস্তুত রাখা হচ্ছে বিভিন্ন এলাকার হাসপাতালগুলো।
তবে এবার পুলিশ নাগরিকদের সঙ্গে মেলবন্ধন তৈরির উদ্যোগ হিসেবে বিভিন্ন পয়েন্টে আগতদের মাঝে ফুল ও বাতাসা বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। ৮টি স্থানে বিতরণ করা হবে সুপেয় পানি।
এদিকে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ওই দিন রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে। বেশকিছু রোডে যান চলাচল একমুখী হবে। ডাইভারশনও থাকবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রমনা পার্ক ও সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যান ও পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং রবীন্দ্র সরোবরে গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। হেঁটে চলাচল করতে হবে আগতদের।

পাঁচ দফা শর্ত আন্দোলন স্থগিত: প্রধানমন্ত্রীকে ‘মাদার অব এডুকেশন’ উপাধি

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির আগ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত  ঘোষণা করা হয়েছে। টানা চারদিন আন্দোলনের পর বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন হলেও কোটা বাতিলের ঘোষণা দেয়ায়  অনেকটা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে আন্দোলনকারীরা একদিন সময় নিয়ে গতকাল আন্দোলন স্থগিতের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে ‘মাদার অব এডুকেশন’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ-এর ব্যানারে চলা আন্দোলনে বুধবার উত্তাল ছিল সারা দেশ। বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করায় স্থবির হয়ে পড়েছিল রাজধানী। এমন পরিস্থিতিতে বিকালে সংসদে দেয়া দীর্ঘ বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা পদ্ধতিই বাতিলের ঘোষণা দেন। তার এ ঘোষণার পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক কোনো ঘোষণা না দিয়ে আলোচনার পর বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেন।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল সকাল সোয়া ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু স্মারক ভাস্কর্যের সামনে সাংবাদিকদের নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন। এসময় তিনি বলেন, গেজেট প্রকাশ না করা পর্যন্ত এ আন্দোলন স্থগিত থাকবে। তবে আন্দোলনকারী কোনো শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় কমিটির কাউকে হয়রানি করা হলে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। দাবি মেনে নেয়ায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব এডুকেশন’ উপাধি দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ সারা দেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে আনন্দ মিছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিলটি রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, টিএসসি, মধুর ক্যান্টিন, বিজনেস ফ্যাকাল্টি, ভিসি চত্বর হয়ে পুনরায় টিএসসিতে এসে শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, ফারুক হাসান ও নুরুল হক।
এর আগে আন্দোলনকারীরা নিজেদের ৫ দফা শর্ত উপস্থাপন করেন। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা দ্রুত গেজেট প্রকাশ করে বাস্তবায়ন; গ্রেপ্তার হওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিঃশর্ত মুক্তি; আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অজ্ঞাত আসামি করে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে কোনো প্রকার হয়রানি না করা। নুরুল হক নুরু বলেন, আমাদের দাবি মেনে নেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মাদার অব এডুকেশন উপাধিতে ভূষিত করা হলো। পরে আহ্বায়ক হাসান আল মামুন গেজেট না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনন্দ মিছিলেরও ঘোষণা দেন। এছাড়া কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের পাশাপাশি সংহতি প্রকাশ করা শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকসহ সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে।
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ গত রোববার শাহবাগে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা অবস্থানের পর রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। শাহবাগ থেকে সরে গেলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। এসময় পুলিশি অ্যাকশন,  সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনে নজিরবিহীন হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। রাতের ঘটনার প্রতিবাদে পরের দিন ভোর থেকেই থেমে থেমে বিক্ষোভ হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিকালে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সচিবালয়ে সমঝোতা বৈঠক করে কোটা সংস্কারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ৭ই মে পর্যন্ত সময় দিয়ে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন ছাত্র প্রতিনিধিরা। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরে আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে পড়েন তারা। আন্দোলনে দেখা দেয় বিভক্তি। তবে ওই দিন জাতীয় সংসদে দেয়া কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের দেয়া বক্তব্যে ফের ফুঁসে উঠে আন্দোলনকারীরা। মঙ্গলবার বিকালে বিভক্ত দুই পক্ষ এক হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ওই দিন রাতে কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগ সভাপতির মারধরের শিকার হন এক শিক্ষার্থী। তার রক্তাক্ত পায়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার পর রাতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামেন।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠে সারা দেশ। আন্দোলনে অচল হয়ে পড়ে ঢাকা। এমন অবস্থায় বিকালে জাতীয় সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুতি বিদ্রোহীরা

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আবারো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। হুতিরা দাবি করেছে, বুধবার একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের ৮শ’ কিলোমিটার ভেতরে আঘাত হেনেছে। তবে সৌদি আরবের দাবি, আঘাত হানার আগেই হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
খবরে বলা হয়, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে বুরকান২-এইচ নামক একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে, রিয়াদের আকাশে বিস্ফোরণের ধোঁয়া দেখা গেছে। হুতি বিদ্রোহীদের মুখপাত্র শারাখ লোকমান বলেন, হুতি নেতা সালেহ আল সামাদের ঘোষণার প্রেক্ষিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। সম্প্রতি তিনি ‘ব্যালিস্টিক মিসাইলের বছর’ শুরু করার ঘোষণা দেন। হুতি নিয়ন্ত্রিত আল মাসিরাহ টিভি চ্যানেলের খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বিখ্যাত তেল কোম্পানি আরমাকোর একটি শোধনাগারেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। এছাড়া দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে কাসিফ-১ ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
সৌদি আরব দাবি করেছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দুইটি অজ্ঞাত ড্রোন ভূপাতিত করেছে তারা। এছাড়া হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে সৌদি আরব। তবে সৌদির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেহরান। অস্ত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চ (সিএআর) বলেছে, কাসিফ-১ ড্রোনটি ইরানের আবাবিল-২ ড্রোনের মতো। এটি ৩০ কেজির মতো ‘ওয়ারহেড’ বহন করতে সক্ষম। এটি দিয়ে হুতি বিদ্রোহীরা গুরুত্বপূর্ণ বাব-আল মান্দেব প্রণালীতে অবস্থানরত জাহাজের ওপরও হামলা চালাতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করার পর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। হুতিদের উত্থানে শঙ্কিত হয়ে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট ২০১৫ সালে দেশটিতে হামলা শুরু করে। তিন বছর ধরে সেখানে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে সৌদি আরব। তারা ইয়েমেনের সৌদিপন্থি প্রেসিডেন্ট আব্দরাব্বু মানসুর হাদিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চায়। সৌদি আরবের বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ইয়েমেনের ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৪০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক। পাল্টা জবাবে হুতি বিদ্রোহীরা গত তিন বছরে সৌদি আরবে প্রায় ৯০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

শাহবাগ হারেনি কখনো by সাজেদুল হক ও মরিয়ম চম্পা

ইতিহাস তৈরির কারখানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আরো একবার ইতিহাসের দরজা খুললো এখান থেকে। নানা ‘যদি’, ‘কিন্তু’ এখনো আছে। ওরা যা   চেয়েছিল হয়তো ঠিক তাই পায়নি। তবে নয়া মডেলের এক আন্দোলনে অভাবনীয় বিজয়ই দেখেছে তারুণ্য। সময় কত কিছুই না বদলে দেয়। এই একই শাহবাগ। একই তারুণ্যের বিস্ফোরণ। কিন্তু দৃশ্যপট কতই না আলাদা। ওই শাহবাগ ছিল রীতিমতো সেলিব্রেটি শো। রাজনীতিবিদদের মধ্যে প্রতিযোগিতা। মিডিয়ার আকুণ্ঠ সমর্থন। যেন এক উৎসব। সংসদ আপ্লুত হয়েছে সে শাহবাগ নিয়ে। যদিও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এক থাকেনি। ২০১৩ টু ২০১৮। লম্বা ভ্রমণ। দুই ‘অভ্যুত্থানের’ শুরুই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দিয়ে। বিজয় দেখেছে দুই শাহবাগই। তবে এবারের আন্দোলন নানা দিক থেকেই একেবারে আলাদা। নতুন ধাঁচের এক আন্দোলনের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দিয়ে শুরু হলেও আগের শাহবাগ পরে আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমনির্ভর আন্দোলন ছিল না। সব টিভি দিনের পর দিন ওই আন্দোলন লাইভ সম্প্রচার করেছে। মোটা দাগে সব পত্রিকাও ছিল আন্দোলনের সমর্থক। এবার টিভি চ্যানেলে তেমন কোনো লাইভ সম্প্রচার দেখা যায়নি। এর প্রতিবাদে আন্দোলনকারীদের অনেকে ক্ষুব্ধ হন মিডিয়ার প্রতি। সাংবাদিকরা আক্রমণেরও শিকার হয়েছেন। সংবাদ বয়কটের ঘটনা ঘটেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরো আন্দোলনটিই ছিল ফেসবুকনির্ভর। আন্দোলকারীরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করেছেন ফেসবুকে। ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচার হয়েছে। পুরো আন্দোলনের তাৎক্ষণিক আপডেটও তারা পেয়েছেন ফেসবুকের মাধ্যমে। এটা করতে গিয়ে অবশ্য কিছু গুজবও ছড়িয়েছে। যার ফল ভালো হয়নি। তবে মূলধারার গণমাধ্যমকে ছাপিয়ে সামাজিক মাধ্যম যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, এ আন্দোলনে তা আরো একবার পরিষ্কার হয়ে গেল। কোনো কোনো পর্যবেক্ষক মনে করেন, গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা ন্যক্কারজনক ঘটনা। আবার মিডিয়ার এমন পক্ষপাতও লজ্জাজনক। এ আন্দোলন মিডিয়াকে কাঠগড়ায় তোলার কাজটি ভালোমতোই করেছে।
সাংবাদিক ও গবেষক আফসান চৌধুরী এ প্রসঙ্গে মানবজমিনকে বলেন, এই আন্দোলনে নিঃসন্দেহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কারণ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মালিক সকলেই। এটা নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি সকলের হাতে থাকে। এর যেমন সুবিধা আছে, তেমনি অসুবিধাও রয়েছে। কারণ ফেসবুকের মাধ্যমে যেমন সত্য খবর ভাইরাল হয়, তেমনি মিথ্যা খবরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের প্রথম দিকে আহত এক ছাত্রের মৃত্যুর মিথ্যা গুজব ছড়ানোর মধ্যদিয়ে আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হলেও তা ছিল সাময়িক। মোটা দাগে বলতে গেলে কোটা সংস্কারের এই আন্দোলনে গণমাধ্যমের তুলনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সবচেয়ে বেশি কার্যকর ও সক্রিয় ছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, অন্যান্য আন্দোলনে মূল ধারার গণমাধ্যমগুলো এগিয়ে থাকলেও এই আন্দোলনে সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষত ফেসবুক কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। আমরা লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবো যে, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো আন্দোলনটাই ছিল ফেসবুকনির্ভর। যেখানে মূল ধারার গণমাধ্যম পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। সংবাদকর্মীদের ওপর আন্দোলনকারীদের হামলার ঘটনা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। তবে এটাও মানতে হবে যে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর রাগ করে নিউজ কাভারেজ থেকে বিরত থেকে গণমাধ্যমকর্মীরাও তাদের অপেশাদার সুলভ আচরণের পরিচয় দিয়েছেন। একজন সংবাদকর্মীকে নানান প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে হয়। সব বাধাকে উপেক্ষা করে সংবাদ সংগ্রহ করাই তাদের প্রধান কাজ। তার মানে এই নয় যে, কতিপয় মূলধারার গণমাধ্যম নিউজ কাভারেজ না দেয়ায় ছাত্রদের আন্দোলন থেমে থেকেছে। আন্দোলন বরং সফল ও ভালোভাবেই এগিয়ে গেছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পুরো আন্দোলনই ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। আপাত পরস্পর বিচ্ছিন্ন তরুণরা একই উদ্দেশ্যে নিয়ে জড়ো হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন থেকেই আন্দোলন চলছে। নানা কর্মসূচি। তবে গত রোববার দুপুর থেকেই বিক্ষোভ নতুন দিকে মোড় নিতে থাকে। যখন শাহবাগে অবস্থান নেয়ার পর আন্দোলনকারীরা দাবি জানাতে থাকেন, কোটা সংস্কারের ব্যাপারে সংসদ থেকে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তারা জায়গা ছাড়বেন না। পুলিশ বাধা দিতে এলে তারা ফুল নিয়ে এগিয়ে যায়। ফুল অবশ্য ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাত ৮টার দিকেই অ্যাকশনে যায়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের শাহবাগ থেকে হটিয়ে দিতেও সক্ষম হয় তারা। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শক্ত অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। সারা রাত ধরেই চলে খণ্ড খণ্ড লড়াই। একপর্যায়ে এক ছাত্রের মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়ে পড়ে। আক্রমণের শিকার হয় ভিসির বাসভবন। বর্বরোচিত হামলা হয় সেখানে। আন্দোলনকারীরা অবশ্য এর দায় অস্বীকার করেন। তারা মনে করেন, বহিরাগতরা এ হামলা চালিয়েছে।
রাতভর তৎপর ছিল ছাত্রলীগ। দফায় দফায় তারা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। তবে রাতে একপর্যায়ে বিভিন্ন হল থেকে কয়েকশ’ ছাত্রী বের হয়ে এলে আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হয়। সোমবার দিনভর আন্দোলন চলে সারা দেশে। বিকালে ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলের নেতা আন্দোলন স্থগিতের কথা জানান। কিন্তু বেঁকে বসেন রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থানরত আন্দোলনকারীরা। পরিষ্কার ঘোষণা দাবি করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। কিছু সময়ের জন্য তাদের মুখপাত্রের ভূমিকা নেন বিপাশা। মঙ্গলবারের সকালের আন্দোলনে ছিল বিভক্তি। যদিও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও এদিন যোগ দেন আন্দোলনে। মতিয়া চৌধুরী ও আবুল মাল আবদুল মুহিতের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিকাল নাগাদ স্থগিত ঘোষণা করা অংশও আন্দোলনে যোগ দেয়। রাতে সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রলীগ নেত্রীর হাতে এক শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনা পুরো আন্দোলনের আগুনে ঘি ঢালে। বুধবারের পরিস্থিতি ছিল একেবারে আলাদা। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কোনো আন্দোলনে এত শিক্ষার্থী আর কোনো দিন যোগ দেননি। দিনের শেষভাগে আসে কোটা বাতিলের ঘোষণা।
ভিসির বাসায় হামলার ন্যক্কারজনক অধ্যায় বাদ দিলে পুরো আন্দোলন ছিল অহিংস চরিত্রের। কোথাও জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনা ঘটেনি। তবে পুলিশের আক্রমণের জবাব প্রথম রাতে তারা খুব শক্তভাবেই দিয়েছিল। আন্দোলনে কমিটি থাকলেও সে অর্থে কোনো নেতা ছিলেন না। আন্দোলনে যোগ দেয়া লাখ লাখ শিক্ষার্থী জানতেন না তাদের নেতা কে? অনেক পর্যবেক্ষক অবশ্য মনে করেন, এ আন্দোলন শুধু কোটা সংস্কারের নয়। চাকরি বঞ্চিত লাখ লাখ মধ্যবিত্ত তরুণ এর মাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভেরই প্রকাশ ঘটিয়েছেন। আন্দোলনে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল বিপুল। বাংলাদেশে অতীতে কোন আন্দোলনে এতো নারী শিক্ষার্থী অংশ নেয়ার নজির নেই। চারুকলার শিক্ষার্থী জ্যোতি বলেন, এটা কোনো নারী-পুরুষের একক আন্দোলন নয়। এটা আমাদের সব ছাত্র সমাজের আন্দোলন। নারীদের জন্য আলাদা কোটার ব্যবস্থা করে যে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে সেটাকে ভাঙতেই আমরা মূলত এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছি। আমরা মেয়েরা কোটার বাইরেও চাকরি পাওয়ার পর পুরুষদের কাছ থেকে বৈষম্যমূলক কথা শুনতে হয়। বলা হয়ে থাকে, আরে আপনাদের জন্য তো আলাদা নারী কোটার ব্যবস্থা আছে। যুগ এগিয়েছে, সময় এগিয়েছে। তাই আমরা কোনো কোটার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে কর্মক্ষেত্রে সমান তালে এগিয়ে যেতে চাই।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্দোলনের শুরু থেকেই সরকারের ভেতরে টেনশন কাজ করেছে। বিশেষ করে এতে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলের কোনো ষড়যন্ত্র কাজ করছে কি-না তা নিয়ে সরকারের নানা মহলে সংশয় ছিল। এ আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপান্তরের জন্য কেউ কাজ করছে কি-না তা নিয়েও অনুসন্ধান চলে। এ কারণেই শক্তি প্রয়োগ ছাড়াও আলাপ-আলোচনার পথও খোলা রাখা হয়। দলীয় সাধারণ সম্পাদককেই বিষয়টি ফয়সালার দায়িত্ব দেয়া হয়। তার পরও সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেয়া হয়। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আন্দোলন স্থগিত হওয়া সরকারের জন্য স্বস্তিদায়ক। তবে সরকার বিষয়টি যে ভাষায় মীমাংসা করেছে তা আন্দোলনকারী তরুণদের মধ্যে কোনো স্বস্তি দিতে পারেনি। দুপক্ষেই এ অস্বস্তি হয়তো দীর্ঘদিন থেকে যাবে।
অনেককেই এ তরুণরা ভুল প্রমাণ করেছে। বিশেষ করে আমরা যারা মনে করতাম, ‘এখনকার তরুণরা শুধু ফেসবুক আর স্মার্টফোনেই ব্যস্ত থাকে। তাদের প্রতিবাদের কোনো শক্তি নেই। রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলে তারা কোনো আন্দোলন করতে পারে না’ ইত্যাদি। বহু পুরনো কথা- ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো লোকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না। কোনো রাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্ম যদি লক্ষ্যে অবিচল থেকে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম করে তা কখনো ব্যর্থ হয় না। আপাত দৃষ্টিতে দ্বিতীয় শাহবাগ অভ্যুত্থানের এটাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

উন্নয়নশীল কাতারে দেশ, প্রধানমন্ত্রীকে সংসদের ধন্যবাদ

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের উন্নয়ন নীতি বিষয়ক কমিটি (সিডিপি)   বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের অগ্রযাত্রায় যুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছে জাতীয় সংসদ।
বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে সরকার ও বিরোধী দলের সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়। ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ, সাহসী ও প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে উন্নয়নের মহাসড়ক দিয়ে ধাবমান। একমাত্র তার যোগ্য নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের সামনে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের আর কোনো বিকল্প নেই। উন্নয়ন, অগ্রগতি ও আলোকিত এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে শেখ হাসিনা সরকারের কোনো বিকল্প নেই। তাই দেশবাসীকে আগামী নির্বাচনেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করতে হবে। কেননা, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনগণের জন্য আল্লাহ’র নিয়ামত। অগ্নিসন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, অর্থপাচারকারী ও স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় আসলে দেশ আবারো অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।
প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার  সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ধন্যবাদ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন স্বতন্ত্র দলীয় সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী। প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, সরকারি দলের ড. আবদুর রাজ্জাক, আবদুল মতিন খসরু, ডা. দীপু মনি, আবদুর রহমান, অধ্যাপক আলী আশরাফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ড. হাছান মাহমুদ, মৃণাল কান্তি দাস, মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, সানজিদা খানম, ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি, নাভানা আক্তার, সাবিনা আক্তার তুহিন, বজলুল হক হারুন, আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, বিএনএফের এস এম আবুল কালাম আজাদ, জাসদের শিরীন আখতার প্রমুখ।  আলোচনায় অংশ নিয়ে জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা উপহার দিয়েছেন, আর তার কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে গেছেন। দেশকে উপহার দিয়েছেন উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে। শেখ হাসিনার উন্নয়ন দূরদর্শী, প্রজ্ঞা ও সাহসী নেতৃত্বের ফসল আজকের এই স্বীকৃতি। প্রধানমন্ত্রীর এই যাত্রাপথ মসৃণ ছিল না, জঙ্গি, অগ্নিসন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে শক্ত হাতে দমন করতে পেরেছিলেন বলেই দেশের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে দৃশ্যনীয় উন্নয়ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তুলতে উন্নয়নের মহাসড়ক স্থাপন করেছেন। বিশ্ব নেতারা বাংলাদেশে আসেন উন্নয়নের গল্প শুনতে, উন্নয়নের ক্ষেত্রে সারাবিশ্বের সামনে বাংলাদেশ এখন একটি উদাহরণ।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে ফের নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের অভূতপূর্ব এ অর্জনের পর বসে থাকলে হবে না, আগামী তিন বছর এই উন্নয়নের ধারা আমাদের ধরে রাখতে হবে। তাই অগ্রগতির এ ধারা অব্যাহত রাখতে হলে একমাত্র পথ হলো শেখ হাসিনার সরকারকে অব্যাহত রাখা। তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে দেশের ক্ষমতা ছিল বলেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে পেরেছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, সারাবিশ্বেই সৎ, সাহসী ও মানবতার নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। নৌকা ছাড়া আমাদের গতি নেই, বাঙালিরও গতি নেই। বিএনএফের এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা এবং শেখ হাসিনার মতো একজন কন্যা জন্ম দিয়ে গেছেন। যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শুধু উন্নয়নশীল দেশ নয়, বিশ্বের সামনে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোলমডেল। শেখ হাসিনা শুধু দেশরত্ন নন, বিশ্বরত্ন তা প্রমাণিত হয়েছে। তাই বার বার দরকার নৌকা ও শেখ হাসিনার সরকার।
অধ্যাপক আলী আশরাফ বলেন, বাংলাদেশের এ অসামান্য অর্জন সারা পৃথিবীকে চমকে দিয়েছে। শেখ হাসিনার ভিশনারী নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ উন্নয়ন-অগ্রগতির মহাসড়ক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। খুব শিগগিরই বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উন্নত সোনার বাংলা হয়ে উঠবে। আবদুর রহমান বলেন, দেশবাসী ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন বলেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন-অগ্রগতির মহাসড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আরেকবার প্রধানমন্ত্রীকে বিজয়ী করুন, অবশ্যই বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর কাঙ্ক্ষিত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবেই। খালেদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়া-খালেদা জিয়ারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিলেন। সেই বাংলাদেশ এখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ফের ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তাই দেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বিকল্প নেই। লুটেরা-সন্ত্রাসী-অর্থ পাচারকারী ও এতিমের টাকা আত্মসাৎকারীদের দেশের জনগণ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। প্রস্তাবটি উত্থাপন করে রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার স্বল্প সময়ে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে সপরিবারে হত্যার পর দেশের উন্নয়ন থমকে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশের বর্তমান ঈর্ষণীয় এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন, যা বাস্তবায়ন করছেন তারই কন্যা শেখ হাসিনা। দেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই উন্নয়নের ধারা অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশের নন, তিনি এখন বিশ্বনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ বাঙালি জাতির জন্য অসামান্য অর্জন।

সারা দেশে রাস্তার অবস্থা খারাপ বদনাম এজন্যই -অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সারা দেশের রাস্তার অবস্থা   খারাপ। দেশের বদনামও এ জন্যই। রাস্তাগুলো নষ্ট হওয়ায় মানুষের কষ্ট সবচেয়ে বেশি। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরামর্শক কমিটির ৩৯তম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
এতে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া সভাপতিত্ব করেন। সভায় এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ছাড়াও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক ও বর্তমান নেতারা বক্তব্য রাখেন।
অর্থমন্ত্রী সড়ক উন্নত করতে উদ্যোগ নেয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, অধিকাংশ রাস্তা একই মাপের হওয়ায় ব্যবসায়ীরা কন্টেইনার আনতে অসুবিধায় পড়েন। সারা দেশেই এটা একটা বড় সমস্যা। এ কারণে রাস্তাগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা এর থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছি। এজন্য রাস্তার গ্রেডিং আন্তর্জাতিক মানের করা হচ্ছে। গাড়ি চলাচলে যাতে দেশে একটি সিস্টেম প্রবর্তিত হয় সেজন্য রাস্তায় বড় গাড়ি চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনারও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী ই-কমার্স ব্যবসাকে আইটিএস খাতের অন্তর্ভুক্ত করারও ঘোষণা দেন। পাশাপাশি পণ্য সরাসরি রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রণোদনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে বলে ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন। একই সঙ্গে বেকারি ও কৃষিজাত পণ্যে ভ্যাট প্রত্যাহার করা হতে পারে বলেও আভাস দিয়েছেন তিনি। তবে পোল্ট্রিতে কোনো প্রণোদনা দেয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের বছরে বাজেটে বড় কিছু করা যাবে না। আগে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তা ভালোভাবে করার ওপর জোর দেয়া হবে।
এদিকে একই অনুষ্ঠানে দেশে একটি দীর্ঘস্থায়ী সরকার থাকলে তারা অনেক কিছু পারে বলে মন্তব্য করেছেন এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, জাপানে একটি দল ৪৫ বছর ক্ষমতায় ছিল। লি কুয়ান ইউ সিঙ্গাপুরকে পাল্টে দিয়েছেন। এটা আপনাদের বিবেচনার জন্য উত্থাপন করলাম। এ সময় তিনি মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মহাথির মোহাম্মদের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। এ সময় এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে করসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি করপোরেট কর, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো, বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো, ব্যাংক খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি নিশ্চিত করা, ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমানো, এফবিসিসিআইয়ের ভবন নির্মাণে সরকারের সহায়তাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে করেন।
সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এ বছর রপ্তানি বাড়াতে উৎসাহ দেয়া হবে। নতুন নতুন পণ্যে বন্ডের লাইসেন্স দেয়া হবে। বন্ড কার্যালয়ে হয়রানি ও ভোগান্তি দূর করার উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি বিভিন্ন পণ্যে এখন সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আছে, তা থাকবে বলে জানান।

ইউএস-বাংলা ট্র্যাজেডি: বিধ্বস্ত হওয়ার আগের কথোপকথন অস্পষ্ট- নেপালের তদন্ত কমিশন

ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নেপালের তদন্ত কমিশন প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বিধ্বস্ত হওয়ার আগ মুহূর্তে পাইলট ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের মধ্যকার কথোপকথন অস্পষ্ট ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাতে দুর্ঘটনার কারণ উঠে আসেনি। পাঁচ পৃষ্ঠার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাকবক্সসহ গুরুত্বপূর্ণ সব সরঞ্জাম বিচার বিশ্লেষণের জন্য কানাডার ট্রান্সপোর্ট সেফটি বোর্ডের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। নেপালের কমিশন গত ৯ই এপ্রিল রিপোর্টটি প্রকাশ করার পর গত বুধবার সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের কাছে পাঠানো হয়। একাধিক কর্মকর্তা তা জানান। ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটির পর পরই তদন্তের জন্য নেপাল কর্তৃপক্ষ ‘এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন কমিশন, ২০১৮’ নামে ওই তদন্ত কমিশনটি গঠন করেন। ওই কমিশনের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বিমান ও টাওয়ার কন্ট্রোলের মধ্যকার যোগাযোগ একটা সময় পর্যন্ত স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু পরে উভয় পক্ষের খুবই সামান্য যে কথোপকথন শোনা যাচ্ছে তা অস্পষ্ট। এতে নিশ্চিত করা হয়েছে, বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ সীমান্ত বেড়ার কিছুটা বাইরে দুই নম্বর রানওয়ের পূর্বাংশে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে এবং অবতরণক্ষেত্র ইউএস-বাংলার বিমানটির কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত ছিল। এছাড়া ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে। আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয় তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান, বিধ্বস্ত বিমান থেকে পাওয়া সব ডকুমেন্ট বিচার বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং সেসব চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। গত ১২ই মার্চ নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। ওই দিনই উড়োজাহাজটি ৭১ জন আরোহী নিয়ে ঢাকা থেকে নেপালের উদ্দেশে যাত্রা করে। এতে ২৭ জন বাংলাদেশি, ২২ জন নেপালি ও একজন চীনের নাগরিক মারা যান।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেলে ব্যবস্থা নেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

কোটা বাতিলের নির্দেশ এখনো পায়নি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এজন্য মন্ত্রণালয়টিতে কোটা নিয়ে আলোচনা ছাড়া কোনো তৎপরতা নেই। কোটা বাতিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনার অপেক্ষায়   আছেন তারা। গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, কোটা বাতিল এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। এর আগে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার জাতীয় সংসদে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোটা নিয়ে যখন এতকিছু, তখন কোটাই থাকবে না। কোনো কোটারই দরকার নেই। যারা প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তাদের আমরা অন্যভাবে চাকরির ব্যবস্থা করে দেব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা বাতিলের কথা বলেছেন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের স্বার্থ সংরক্ষণের কথাও বলেছেন। এমন অবস্থায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা কী হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে মোজাম্মেল হক খান বলেন, আমি অপেক্ষায় আছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে যেভাবে অগ্রসর হতে বলবেন আমি সেভাবে বাকি কাজ করব। এখন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন হবে কিনা- এ বিষয়ে তিনি বলেন, হয়তো হবে কিন্তু সেটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আমি বলছি, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী নির্দেশনার জন্য প্রস্তুত আছি। সব চাকরিতেই কি প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা কার্যকর হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র সচিব বলেন, সেটি আমরা যখন প্রজ্ঞাপন জারি করব তখন হয়তো আরো বিশ্লেষণ করে পরিষ্কার করব। সেটি সরকার প্রধান থেকে সুস্পষ্ট পরামর্শ ও নির্দেশনা পাওয়ার পরই আমরা ব্যবস্থা নেব। কবে প্রজ্ঞাপন জারি হবে- এ বিষয়ে মোজাম্মেল হক খান বলেন,  এটা এখন জরুরি নয়, কারণ এখন কোনো নিয়োগ হচ্ছে না। কাজেই আমরা যদি একটু সময় নেই তাতে দেশের ক্ষতি হবে না। কোটা পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলা হয়েছিল- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সিনিয়র সচিব বলেন, আমরা সব সময় পরীক্ষার কাজ করি। সরকারি দপ্তর থেকে একটা কিছু বের হলে সেটা নিয়ে কেউ কথা বললে আরেকবার দেখি- কী কাজটা হলো, কেন কথাটা উঠেছে। সেটা চলছে, এখনো আমরা দেখছি। তিনি বলেন, আন্দোলন যেভাবে হয়েছিল, তাতে ৭ তারিখ (মে মাসের) পর্যন্ত আলটিমেটাম ছিল, তারপর আবার নতুন করে আন্দোলন হয়েছে। ফলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মনে করেছেন ঘোষণাটা দেয়া জরুরি, তাই দিয়েছেন। আমি মনে করি পরবর্তী কাজ হলো, এখন আমাদের নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করা। সেটা হলেই আমরা করে ফেলবো। অনেকে জানতে চাচ্ছেন, শুধু বিসিএসের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ক্ষেত্রে কোটা বাতিল হলো কিনা- এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, এখানে টেকনিক্যাল অনেক ব্যাপার আছে। আপনাদের এগুলোর জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

কানাডার পর আমেরিকায় বিদ্যা সিনহা

বিদ্যা সিনহা মিম বর্তমানে কানাডায় রয়েছেন। সম্প্রতি ‘কানাডা ট্যুর ২০১৮’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি এখন সেখানে অবস্থান করছেন। কানাডার মন্ট্রিয়লের একটি শো শেষ করে তিনি বর্তমানে টরন্টোতে রয়েছেন। সেখান থেকে ভ্যাঙ্কুভারে আসছে ২২শে এপ্রিল একটি শোতে অংশ নেয়ার পর আমেরিকায় ছুটবেন বলে মুঠোফোনে মানবজমিনকে জানান তিনি। বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, বেশ ভালো লাগছে এখানে এসে। বৈশাখ উপলক্ষে শো করার পাশাপাশি এখানকার বিভিন্ন দর্শনীয় জায়গা ঘুরেও দেখছি। মন্ট্রিয়লের একটি দর্শনীয় জায়গার নাম ‘সেন্ট জোসেফ ওরাটৈরি’। এটা ক্যাথলিকদের ধর্মীয় একটি জায়গা। ভবনটি অনেক সুন্দর। আমি আগামীকাল নায়াগ্রা জলপ্রপাত দেখতে যাব। কানাডার শো শেষ করে আমেরিকায় যাব। সেখানে থেকে ২রা মে ঢাকায় অর্থাৎ বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে আমার। নতুন এই বছর শুরু হওয়ার পর থেকেই বেশ খোশ মেজাজে আছেন বিদ্যা সিনহা মিম। কারণ, চলতি বছরের শুরুতে উত্তম আকাশের পরিচালনায় ‘আমি নেতা হবো’ ছবিতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেন এই চিত্রনায়িকা। এ ছবি মুক্তির কয়েকদিন পরই আবার নতুন একটি ছবি মুক্তি পায় তার। সৈকত নাসির পরিচালিত এ ছবির নাম ‘পাষাণ’। ২৩শে মার্চ মুক্তি পাওয়া এ ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন কলকাতার অভিনেতা ওম। এদিকে গত মাসে কলকাতার জনপ্রিয় মুখ জিতের বিপরীতে একটি নতুন ছবিতে কাজ শুরু করেছেন মিম। এই ছবির নাম ‘সুলতান’। ছবিটি যৌথভাবে পরিচালনা করছেন ভারতের পরিচালক রাজা চন্দ ও বাংলাদেশের আবদুল আজিজ। কয়েকদিন আগে ভারতে এ ছবির প্রথম ভাগের কাজ শেষ হয়েছে। সামনে এর বাকি কাজ শুরু হবে। ‘আমার আছে জল’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আসেন বিদ্যা সিনহা মিম। তবে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’ ছবিতে শাকিব খানের বিপরীতে কাজ করে দর্শকের মনে জায়গা করেন তিনি। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক ‘জোনাকীর আলো’, ‘তারকাঁটা’, ‘পদ্ম পাতার জল’, ‘ব্ল্যাক’, ‘সুইটহার্ট’, ‘ভালোবাসা এমনই হয়’, ‘আমি তোমার হতে চাই’, ‘ইয়াতি অভিযান’সহ বেশকিছু ছবিতে অভিনয় করেন। এসব ছবির মধ্যে খালিদ মাহমুদ মিঠু পরিচালিত ‘জোনাকির আলো’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য মিম প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন।

বিরক্ত শাকিব খান

ঢালিউডের শীর্ষ তারকা শাকিব খান বর্তমানে স্কটল্যান্ডে ‘ভাইজান এলো রে’ নামে একটি ছবির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত আছেন। এ ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী ও পায়েল সরকার। এদিকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র প্রিভিউ কমিটি থেকে যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র হিসেবে অনুমতি না পাওয়ায় আসছে পহেলা বৈশাখে শুধু কলকাতায় মুক্তি পাচ্ছে শাকিব খানের নতুন ছবি ‘চালবাজ’। শাকিব খান মুঠোফোনে মানবজমিনকে বলেন, আমি বিরক্ত। কারণ যখনই আমার ছবি মুক্তি দেয়ার সময় এখানে আসে তখনই দেখি নানান ঝামেলা। তাহলে কি শুধু শাকিব খানের ছবি আসতে চাইলেই এখানে সমস্যা শুরু হয়। এর আগে তো বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে কলকাতার ‘জিও পাগলা’, ‘ইন্সপেক্টর নটি.কে’সহ বেশকিছু ছবি মুক্তি পেয়েছে। তখন তো এখানকার কেউই এটা নিয়ে কথা বলেনি। তাহলে কি শুধু শাকিব খানের ছবি মুক্তির সময় এলেই কেন এমন হয়। এভাবে একটা ইন্ডাস্ট্রি কিভাবে এগিয়ে যাবে? শাকিব খান আরো বলেন, দিনের পর দিন ভালো ছবি দিয়েই তো সিনেমা হল টিকিয়ে রাখতে হবে। সিনেমা হল তো এখন একের পর এক শুধু বন্ধই হয়ে যাচ্ছে। দুই বাংলাতে ভালো কিছু ছবিতে কাজ করার চেষ্টা করছি আমি। উল্লেখ্য, শাকিব খান অভিনীত ‘চালবাজ’ ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কলকাতার এসকে মুভিজ। ছবিটির মুক্তি উপলক্ষে গান ও পোস্টার এরইমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। ছবিতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন কলকাতার অভিনেত্রী শুভশ্রী। এর আগে ‘নবাব’ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন এই জুটি। সেই ছবিটি মুক্তির পর বাংলাদেশ, ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের দর্শকরা বেশ পছন্দ করে। ‘চালবাজ’ যৌথ প্রযোজনার ছবি হিসেবে অনুমতি না পাওয়ার কারণেই ভারতে প্রথমে মুক্তি পাচ্ছে। ভারতের পরে সাফটা চুক্তির আওতায় বাংলাদেশেও ছবিটি মুক্তি পাবে বলে জানা যায়। ‘চালবাজ’ ছবিতে শাকিব খানকে দর্শকরা কখনো ঠকবাজ, কখনো রংবাজ বেশে দেখতে পাবেন। অ্যাকশন, কমেডি, সংলাপ আর রোমান্সে ভরপুর এ ছবিটি পরিচালনা করেছেন ভারতের জয়দ্বীপ মুখার্জি।

এক মাসে ৭০ কি.মি. অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস

চলতি বছরের গত মার্চ মাসেই প্রায় ৭০ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস পাইপ লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। এছাড়া ৭টি শিল্প, ২১টি বাণিজ্যিক, ১টি ক্যাপটিভ, ২৬,৫৩৩টি অবৈধ আবাসিক চুলা এবং গ্যাস বিল বকেয়ার কারণে ১২৫৮টি বৈধ চুলা ১২টি শিল্প, ৯টি বাণিজ্যিক, ১টি সিএনজি ও ১টি ক্যাপটিভের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাস। গতকাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অবৈধ গ্যাস ব্যবহার-গ্যাস কারচুপি রোধকল্পে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রচলিত কোম্পানির বিশেষ অভিযানে রাজধানীর কদমতলি এলাকায় ৫ই মার্চ একটি বেকারি ও একটি মশার কয়েল কারখানার গ্যাস সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করে তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া, অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করায় গাজীপুর ও কামরাঙ্গীচর এলাকায় ১৪, ২৭ ও ২৯শে মার্চ একটি টেক্সটাইল কোম্পানি, ১টি হোটেল, একটি কনফেকশনারির গ্যাস সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। এদিকে বিভাগীয় ভিজিল্যান্স টমি কর্তৃক অনুমোদন অতিরিক্ত লোড ব্যবহার করায় ২১শে মার্চ গাজীপুর টঙ্গীতে ১টি, কোনাবাড়ী এলাকায় ১টি ও ২৮শে মার্চ সোনারগাঁও এলাকায় ১টি ডেনিম টেক লি. এর গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এছাড়া, অবৈধ স্থাপনায় ও অবৈধ বুস্টারে গ্যাস ব্যবহার করায় ৮ই মার্চ গাজীপুর এলাকায় ২টি, ২১শে মার্চ টঙ্গী এলাকায় ১টি ও কম্প্রেসার ব্যবহার করায় ২৮শে মার্চ জিঞ্জিরা এলাকায় মেসার্স ইসমাইল প্রিন্ট নামে একটি কৌটার ফ্যাক্টরির গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে সংস্থাটি। তাছাড়া অবৈধ গ্যাস ব্যবহার করায় ৮, ১৪, ১৫ ও ১৮ই মার্চ সোনারগাঁও এবং বন্দর এলাকায় ১১টি হোটেল, ১টি কয়েল ফ্যাক্টরি, ১টি বেকারি ফ্যাক্টরি ও ১টি কেমিক্যাল প্রতিষ্ঠানের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। এছাড়া বকেয়া বিলের কারণে ৭, ১৩, ১৫, ১৪, ১৮, ১৯, ২০, ২৮ ও ২৯শে মার্চে আলাদা আলাদা অভিযানে ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর, তেজগাঁও, কোনাবাড়ী, কালিয়াকৈরে ৫টি হোটেল, ১টি বেকারি, ৬টি ইন্ডাস্ট্রিজ, ১টি ট্যানারি, ১টি কমপ্লেক্স, ১টি চিড়া মিল, ১টি ড্রেস কোম্পানি, ১টি সুয়েটার্স কোম্পানি, একটি রি-রোলিং মিলস, কোনাবাড়ীর বিসিক এলাকার মেসার্স আক্তার ক্যাপস, ফতুল্লা এলাকার মোল্লা পেপার প্রোডাক্টসহ জিঞ্জিরায় মেসার্স আসলাম নামে একটি লন্ড্রির গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তাছাড়া মানিকগঞ্জ এলাকায় গত ২৭শে মার্চ মেসার্স জে এন্ড জে সিএনজি ও ক্যাপিটিভ পাওয়ার এর গ্যাস সংযোগও বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এক মাসে বিভিন্ন ব্যাসের সর্বমোট ২,২৭,০৫২ ফুট অর্থাৎ ৬৯.২০ কি.মি. অবৈধ স্থাপিত গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা  অপসারণ করেছে সংস্থাটি।