Wednesday, March 24, 2010

এই চোখের জল: এই আতঙ্ক by সেলিনা হোসেন

গঙ্গারামমুখ পাহাড়ি এলাকায় আমরা একদল মানুষ যখন পৌঁছাই তখন দুপুর গড়ায়নি। রোদ ঝকঝকে দিন। রাস্তার দুপাশের মাথার ওপর ছাউনি দেওয়া দুপাশ খোলা তাঁবুর নিচে ওরা অনেকে গাদাগাদি করে বসেছিল। তাদের ঘর পুড়েছে, সঙ্গে সংসারের যাবতীয় দ্রব্যসামগ্রী। এখন তারা রিলিফ নিচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা থেকে রিলিফ দেওয়া হচ্ছে। ওরা পাহাড়ি আদিবাসী মানুষ। ওদের আছে ভিন্ন নৃতাত্ত্বিক-সাংস্কৃতিক পরিচয়। আছে নাগরিক হিসেবে সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার। তার পরও তছনছ হয়ে যায় ওদের জীবন। রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাত ওদের নির্মমভাবে আঘাত করে।
সে জন্য ওদের আর্তনাদ—আমরা খাদ্য চাই না, আমরা নিরাপত্তা চাই।
রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার কাছে এই আবেদন রাষ্ট্রের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে।
যে নিরাপত্তা চায় পাহাড়ের ওপরের দূরের সেনা ছাউনির দিকে দৃষ্টি চলে গেলে ওর সঙ্গে আমরাও সেদিকে তাকাই। চোখে ভেসে ওঠে পত্রিকার পৃষ্ঠায় দেখা বুদ্ধপুদির লুটিয়ে থাকা শরীর। গুলি ফুটো করে দিয়েছে বুদ্ধপুদির বুক-পিঠ, সংসার এবং তিনটি ফুলের মতো নিষ্পাপ ছেলেমেয়ের বেঁচে থাকার স্বপ্ন। নিহত মায়ের হত্যাকারীর বিচার চেয়ে রাষ্ট্রের সামনে দাঁড়ানোর সাধ্য কি ওদের আছে? এক কথায় নেই। নেই বলে অসংখ্য মানুষকে ছুটে আসতে হয়েছে নির্মমতার চিত্র দেখে। নির্যাতনকারীদের স্বরূপটি তুলে ধরার জন্য। রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের পরিসর থেকে গঙ্গারামমুখ গ্রামসহ পাহাড়ি জনপদের অন্যান্য গ্রাম কিংবা খাগড়াছড়ির সাতভাইয়াপাড়াসহ আরও কয়েকটি পাড়ার আদিবাসী মানুষের এই একটিই কথা। ঠিক একই ভাষায় নয়, হয়তো অন্য কোনো বাক্য গঠন, কিংবা নিজেদের মাতৃভাষায় পাহাড়ি আদিবাসীরা এই একই কথা বলছে। তাদের আতঙ্কিত দৃষ্টি স্থির হয়ে থাকে না কোনো নির্দিষ্ট বস্তুর দিকে। তাদের দৃষ্টি অনবরত পাক খায় চারদিকে। কখন একটি বুলেট ছুটে আসবে কোন দিক থেকে ওরা জানে না।
বাঙালি সেটেলাররা আগুন লাগানোর পরও নিশ্চুপ থাকে নিরাপত্তা বাহিনী। আর আক্রমণকারীরা নিরাপদে তছনছ করে তাদের ঘরবাড়ি, জিনিসপত্র। তারা কার কাছে নিরাপত্তা পাবে? তাই দিনের বেলা ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করে রাতের বেলা লুকিয়ে থাকে জঙ্গলে। অসংখ্য পোকামাকড়ের সঙ্গী হয়ে। খেয়ে না-খেয়ে দিনযাপনের প্রহসন ওদের জীবনকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে।
গাছের মাথার ওপর দিয়ে দূর আকাশের দিকে তাকান ছায়ারানী। চোখের জল মুছে বলেন, ‘আমার ছেলে রূপক। এখনো নিখোঁজ। জানি না মরে গেছে না বেঁচে আছে। বেঁচে থাকলে কতটুকু ভালো আছে?’
তাঁর চোখে বেদনার ছায়ার চেয়ে বেশি হয়ে ফুটে ওঠে আতঙ্ক। এই বুঝি আবার আগুন লাগবে। দাউ দাউ জ্বলে উঠবে ঘর। জমাটবাঁধা কালো ধোঁয়া উড়ে যাবে আকাশের দিকে। তাঁকে দেখে মনে হয় আতঙ্কের অপর নাম জীবন। না, ছায়ারানী একা নন, এখানে যাঁরা আছেন তাঁদের সবার কাছেই আতঙ্ক জীবনের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। আমাদের মনে হয়েছে আমরা ভিন্ন কোনো দেশে দাঁড়িয়ে অচেনা মানুষের কথা শুনছি। ওরা আমাদের কেউ না। ওদের আমরা চিনি না। ওরা নিজ দেশে পরবাসী।
তাঁবুর নিচে বসে থাকা প্রকাশজ্যোতি বলেন, ‘আমার ঘর পুড়ে যাওয়ার জন্য যে দুঃখ পেয়েছি, তার চেয়ে বেশি দুঃখ পেয়েছি আমার কেয়াং মন্দির পুড়ে যাওয়ায়। মন্দিরের দোষ কী? ওরা কেন মন্দিরে আগুন দিল?’
তাঁর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কেউ ছিল না। শুধু তাঁর আর্তনাদ ঘুরপাক খায় বাতাসে। বাতাস উড়ে যায় সমতল থেকে পাহাড়ের মাথায়। আবার ফিরে আসে গাছের ছায়ায়। আর আমাদের মনে হয়, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার এটাই নিয়তি। মানুষের বিশ্বাসকে আঘাত করলে হয়তো ঈশ্বরের পৃথিবী তার জন্য বাসযোগ্য থাকবে না। সেই জনগোষ্ঠী আর অধিকারের জন্য সোচ্চার হবে না। কিন্তু মানুষের প্রতিবাদী চেতনাকে বুঝে ওঠার বোধ হারিয়ে ফেলে অস্ত্রধারীরা। এই সত্য এখন ধ্বনিত হচ্ছে পাহাড়ি জনপদে। গ্রামগুলোর পোড়া ঘর, মৃত্যু, বিপন্ন মানুষের চেহারা এ কথাই প্রমাণ করে।
প্রতিবাদী মানুষের দিকে তাকিয়ে আবার স্থির বিশ্বাসে ফিরে আসি আমরা, যে জনপদের মানুষেরা রুখে দাঁড়াতে জানে। কতজনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে? অনেক। তাদের সংখ্যার হিসাব করতে চাই না। জানি তারা সমবেত মানুষ। তাদের কথা এক রকম। শুধু প্রকাশের ভিন্নতা আছে। অনুভবের ভিন্নতা আছে। ব্যক্তিগত শোকের ভিন্নতা এক হয়ে জমাট বেঁধে আছে। এখানেই ওদের শক্তি।
কথা হয় সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জ্যোৎস্নার সঙ্গে। অমপিকাও ছিলেন সঙ্গে। আমরা বসেছিলাম গাছের নিচে, পাহাড়ের ঢালু বেয়ে খানিক নিচে। দুজনই বললেন, ‘আমরা নারীরা প্রতিরোধের জায়গা গড়ে তুলেছি। আমাদের স্বামীদের ধরে নিয়ে নির্যাতন করে। আটকে রাখে। কয়েক দিন আগে দুজন মানুষকে বাজারের একটি ঘরে আটকে রাখলে আমরা নারীরা দলবেঁধে গিয়ে তাঁদের ছাড়িয়ে আনি। আমাদের চোখের সামনে আমরা তাঁদের মরতে দেখতে পারি না। এখন থেকে আমরা এভাবে পুরুষদের ছাড়িয়ে আনব বলে ঠিক করেছি। আমাদের কাছে রাইফেল নেই তো কী হয়েছে, আমাদের হাত-পা তো আছে।’
এ ঘটনার মাসখানেক আগে তাঁরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বাঘাইছড়ি উপজেলা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা বরাবর সাজেক এলাকায় নির্যাতন ও ভূমি বেদখলের ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি পেশ করেন।
আমরা যখন কথা বলছি তখন অমপিকার তিন বছরের মেয়েটি রাস্তার ওপর থেকে মা মা করে ডেকে মাকে খুঁজছিল। মায়ের সাড়া পেয়ে পাহাড়ের ঢালু বেয়ে নামতে থাকে মেয়েটি। ও যখন মায়ের কোলে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে তখন বুঝতে পারি পোড়া কাঠ, ছাই ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জেগে উঠেছে প্রাণ। তার পরও ওদের বুকের ভেতর থেকে আতঙ্ক কাটে না। ওরা বলতে থাকে—খাদ্য নয়, নিরাপত্তা চাই। আর কেউ যেন নির্যাতন না করে, ভূমি থেকে উচ্ছেদ না করে, গুলি না ছোড়ে। বুঝতে পারি বেঁচে থাকার জন্য নিরাপত্তা কত জরুরি। নিরাপত্তা একটি শব্দ মাত্র নয়, জীবনের আরেক নাম।
একজন বলল, ঘটনার সূত্রপাত কোথায় তা দেখলে আসেন।
সেই পথে যেতে পড়ে পাহাড়িদের নতুন গড়ে ওঠা বাজার। ওরা নতুন পসরা নিয়ে বসেছে। নানা কিছু আছে। আমরা পানির বোতল কিনি। খিরাই কিনি। চা খাই। আবার জেগে উঠছে জীবন। বাজার পেরিয়ে সামনে একটি জায়গা দেখিয়ে একজন বলল, ওই নিচুতে ধান চাষ করেছে লালু চাকমা। একজন বাঙালি পাহাড়ের এই জায়গাটুকু কেটে ভাসিয়ে দিয়েছে ধানখেত। এখানে বারো ঘর বাঙালি ছিল। ঘরগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। একটি ঘর অক্ষত ছিল। সেই চালার নিচে ভাত রান্না করছেন একজন পাহাড়ি নারী। তাঁর পাশে বসে ভাত খাচ্ছিল একজন পুরুষ ও একটি শিশু।
ফেরার পথে এসে দাঁড়াই রাস্তার দুপাশে তৈরি করা তাঁবুর সামনে। বেশ কয়েকজন বাঙালি গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে গাড়ি থামান। বেশির ভাগ কথা বলেন মোহাম্মদ আবদুল হাই আল সামছ। তিনি ২০০৫ সালে বাগেরহাট থেকে এই রিজার্ভ ফরেস্টে এসেছেন। বললেন, তিনি একজন দিনমজুর। ঘটনার দিন পাহাড়িরা প্রথমে তাঁদের আক্রমণ করে। তিনি বলেন, ‘আপনাগো কাছে আমাগো একটাই কথা। আপনোগো কাছে পাহাড়িরা ভালো। আর আমরা খারাপ। আপনেরা আমাগো কথাও লিখবেন। ইনসাফ কইরা লিখবেন। পুলিশ আর আর্মি ক্যাম্প আছে বইলা আমরা বাঁইচা আছি।’ তিনি কথা বলার সময় পেছনে হট্টগোল শুনতে পাই। বাঙালিরা অনেকে খুব উত্তেজিত। তাদের মূল অভিযোগ, তারাও যে নিগৃহীত হয়েছে সে কথাগুলো ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলো ঠিকভাবে লেখেনি।
রাস্তার দুপাশের তাঁবুতে বসতির চিহ্ন ছিল না। হয়তো তারাও দিনের বেলায় ত্রাণের আশায় আসে, আর রাতের বেলা জঙ্গলে ঘুমোতে যায়। কে জানে! তাদের বিপর্যস্ত চেহারা দেখা যায়নি বলে সঠিক চিত্রটি বোঝা যাচ্ছিল না।
বাঘাইহাট থেকে ফিরে খাগড়াছড়ির গ্রাম সাতভাই পাড়া দেখতে গেলে একই দৃশ্য চোখে পড়ে। পুড়ে গেছে ঘরবাড়িসহ নানা কিছু। মংমংলী মারমার ধান ভাঙার মেশিনটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সঙ্গে পুড়েছে কয়েক মণ সোনালি ধান। মংমংলী মারমা বলেন, ‘এখন আমি কী করব? আমার সব শেষ। সামান্য ত্রাণসামগ্রী পেলেই কি একজন মানুষ উঠে দাঁড়াতে পারে?’
এমন কতজনের কথা শুনব? শতমুখে বলতে চায় সবাই। আতঙ্ক থেকে মুক্তি চায়। নিরাপত্তা চায়। ওরা বিত্তশালী হতে চায় না। থালাভরা ভাত চায় না। বেঁচে থাকার অধিকার চায়। এমন অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে। যে কথা শেষ করতে কয়েকটি পৃষ্ঠা মাত্র যথেষ্ট নয়। যেখানে দাঁড়িয়ে কথা হচ্ছিল মারমা আদিবাসীদের সঙ্গে, সেখান থেকে ২০০ গজ দূরের পাড়াটির নাম শালবন মোহাম্মদপুর। সেটেলারপাড়া নামেও পরিচিত। পাড়ার অধিবাসী সুলতান জানান, এই পাড়ায় প্রায় পাঁচ হাজার বাঙালি পরিবার আছে। যেখানে দাঁড়িয়ে কয়েকজন বাঙালির সঙ্গে কথা হচ্ছিল, সেখানে ঘর পোড়ার কোনো চিহ্ন ছিল না। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে সুলতান বলেন, এদিকে ঘর পোড়েনি। চারটি ঘর পুড়েছে পুকুরের ওই দিকে।
কথা হয় মোহাম্মদ ইমান আলীর সঙ্গে। তিনি ২৭ বছর আগে বাগেরহাট থেকে পার্বত্য জেলায় আসেন। এই পাড়ায় আছেন সাত বছর ধরে। কথা বলার সময় আশপাশের বাড়ি থেকে আরও কয়েকজন নারী-পুরুষ-শিশু এসে দাঁড়াল। সবার চেহারায় শান্ত-স্নিগ্ধ ভাব ফুটে আছে। তারা কেউ আতঙ্কিত নয়। যদিও বলল, মারমাপাড়ার আগুন দেখে তারা জঙ্গলে পালিয়ে গিয়েছিল। পরে বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে থাকে।
যাদের ঘর পুড়েছে তারা কত টাকা সাহায্য পেয়েছে জানতে চাইলে তিনি চুপ করে থাকেন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক কিশোর বলে, দুই হাজার ১০০ টাকা। সঙ্গে সঙ্গে দুজন নারী-পুরুষ ওকে ধমক দিয়ে চুপ করে থাকতে বলেন।
হেলেনা খাতুন বলেন, পাহাড়িদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ায় আমরা খুব দুঃখ পেয়েছি। ওদের কাছ থেকে আমরা দুধ, আম, কাঁঠাল, তেঁতুল খাই। হাঁস-মুরগির জন্য কুঁড়া আনি। জানতে চাওয়া হয় যে তাহলে ওদের পাশে গিয়ে দাঁড়াননি কেন? ওদের কি কোনো সান্ত্বনার কথা বলেছেন?
থমকে গিয়ে তাঁরা একটুক্ষণ চুপ করে থেকে বলেন, ‘আমরা ভয়ে যাইনি।’
বললাম, যাদের কাছে অস্ত্র নাই, তাদের বুকে ভয় কেন? তাঁরা উত্তর দেন না।
ইমান আলী বলেন, ‘এটা পরিকল্পনা করে করা হয়েছে। আগুন দেওয়ার সময় অনেকে এসেছিল, যারা এই পাড়ার লোক না। আমি জিয়ার শাসন আমলে এখানে আসি। আমাদের পরে আর কোনো সেটেলার আসেনি। এত দিন এখানে কোনো কিছু হতে দেখিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা এমন কাজ করতে পারে, তারা মানুষ না।’
সাদা দাড়ি, পাকা চুল ইমান আলীর বয়স ষাটের মতো হবে। লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরেছিলেন। তিনি ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলন নামে একটি দল করেন।
এই বনের ভেতর ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলনের কথা শুনে চমকে ওঠার কথা। এবং সবার মনের মধ্যে তেমন অস্বস্তি জমাট হয়ে থাকে। ফিরতে হয় ধানখেতের আল দিয়ে। উঁচু একটি জায়গা ছিল ভাঙা, সেটি পার হতে হয় বেশ ঝামেলা করে। আবার ফিরে আসা হয় পুড়ে যাওয়া গ্রামটিতে। মুখোমুখি হই জবা কিংবা থুইম্রাচিং মারমার। ওদের বিষণ্ন চেহারা বুকে বিঁধে। ওরা সেটেলার বাঙালি নারী হেলেনা, আছিয়াদের মতো উজ্জ্বল বা প্রাণবন্ত নয়। ওরা বিপন্ন এবং আতঙ্কিত। ওদের চোখের জল ফুরোয় না আতঙ্কের কারণে।
গঙ্গারামমুখের পোড়া ঘরে পেয়েছিলাম শিশুদের বাংলা পাঠ্যবই আর খোয়াবনামার দুটো পৃষ্ঠা। পাঠ্যবইয়ের পৃষ্ঠা অর্ধেক পুড়ে গেছে। আর খোয়াবনামার পৃষ্ঠাগুলো পোড়েনি, তবে ছেঁড়া। পাঠ্যবই শিশুদের শিক্ষালাভের মূল উপকরণ। অন্যটি মানুষের বিশ্বাসের উপকরণ। দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এমনই সম্প্রীতির জায়গা চাই, যে জায়গাটুকু মানবজীবনের কল্যাণে স্থির থাকবে। কারও চোখের জল, কারও আতঙ্ক সেই জায়গাকে বিপর্যস্ত করে রাখবে না। আমাদের এও বিশ্বাস যে সোনার বাংলার কথা আদিবাসীদের জীবনকে বাদ দিয়ে উচ্চারিত হবে না। পার্বত্যভূমির বিশাল জনপদকে বাদ রেখে উচ্চারিত হবে না।
সেলিনা হোসেন: কথাসাহিত্যিক।

কেউ হাজতে আর কেউ হাসপাতালে by সৈয়দ আবুল মকসুদ

তাত্ক্ষণিক বিষয়ে অপূর্ব কবিতা লেখায় আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সারা পৃথিবীতে অদ্বিতীয়। উনিশ শ বিশের দশকে হিন্দু-মুসলমানে যখন মাথা ফাটাফাটি শুরু হয় এবং নেতারা আবার বন্ধুত্ব প্যাক্টও করেন, তখন তিনি লিখেছিলেন ‘প্যাক্ট’ নামে কমিক-গানটি। এখন কবি বেঁচে থাকলে লিখতেন:
বদনা-গাড়ুতে গলাগলি করে
নব-প্যাক্টের আস্নাই,
মুয়াজ্জিনের হাতে নাই ছুরি,
ইমামের হাতে বাঁশ নাই।
অবশ্য এখন লিখলে ভিন্ন শব্দ চয়ন করতে হতো। বাঁশ আসলে ইমামের হাতেই আছে। মুয়াজ্জিনের আছে শুধু হাত। তাই মাথাটা ফেটেছে তাঁরই। ঘটনার অকুস্থল বঙ্গভবনের স্টাফ কোয়ার্টার। বৃহস্পতিবারের জাতীয় দৈনিকগুলোর একটি খবরের শিরোনাম ছিল এ রকম: বঙ্গভবন মসজিদের মুয়াজ্জিনকে মারধর [প্রথম আলো], ইমাম হেল্ড ফলোইং স্কুফল উইথ মুয়াজ্জিন [ডেইলি স্টার], বঙ্গভবন স্টাফ কোয়ার্টার মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন মারামারি [কালের কণ্ঠ], ইমাম-মুয়াজ্জিন মারামারি দুই বউয়ে চুলাচুলি [বাংলাদেশ প্রতিদিন] প্রভৃতি।
পত্রপত্রিকা থেকে যা জানা গেছে, তা হলো: স্টাফ কোয়ার্টারের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বাসা পাশাপাশি। তাঁদের গোসলখানাও পাশাপাশি। বুধবার দুপুরের আগে ইমাম সাহেবের বেগম ঘরের সামনে কাপড় কাচছিলেন। তাঁর অভিযোগ, মুয়াজ্জিন তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলেন। এর পরের ঘটনাগুলো ঘটেছে পর্যায়ক্রমে। প্রথমে ‘কটূক্তি’, তারপর ‘গালাগালি’, তারপর ‘হাতাহাতি’, দুজনের বিবির মধ্যে ‘চুলাচুলি’ এবং অবশেষে ‘লাঠির আঘাত’। ইমামের লাঠ্যাঘাতে মুয়াজ্জিনের মাথা চৌচির। তারপর রক্তস্রোত। লাঠির আঘাত থেকে মুয়াজ্জিনের স্ত্রীও রেহাই পাননি। সপত্নীক মুয়াজ্জিনের স্থান হয়েছে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে এবং ইমাম সাহেবের ঠাঁই হয়েছে হাজতে।
মারামারি যখন কোনো সমাজের মানুষের প্রচলিত রীতি হয়, তখন বিদ্যালয় থেকে উপাসনালয়, সচিবালয় থেকে যেকোনো আলয়ে হতে পারে এবং মারামারিতে নারী-পুরুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। ঢাকা কলেজের সঙ্গে ইডেন কলেজের পার্থক্য থাকবে কেন? বঙ্গভবনের স্টাফ কোয়ার্টারের ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই জন, গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে, উদ্ধার করা হয়েছে বাঁশের লাঠি। একই দিন ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত হয়েছে ১০ জন, গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫৮ জনকে, উদ্ধার করা হয়েছে ৫২টি কার্তুজ। ছাত্রাবাস থেকে আটক করা ছাত্রদের ছবি বেরিয়েছে পত্রিকায়। মুখ ঢেকে আছে ওরা লজ্জায়। ইমাম সাহেবের কোনো ছবি ছাপা হয়নি। সুতরাং লজ্জায় মুখ ঢাকার প্রশ্নই আসে না। আসলে লজ্জায় মুখ ঢাকতে ইচ্ছা হচ্ছে আমাদের।
গালাগালি, হাতাহাতি বা মাথা ফাটানো তো দূরের কথা, কোনো সাংবাদিক যদি কোনো ইমাম বা মুয়াজ্জিনের সম্পর্কে সামান্য বিরূপ মন্তব্য করতেন, পরের দিন স্টেডিয়ামগেট থেকে পল্টন মোড় পর্যন্ত মিছিল হতো। উত্তাল হতো রাজপথ। উঠত জেহাদি স্লোগান এবং ফাঁসির দাবি। নিজেরা নিজেরা গোসলখানার সামনে মাথা ফাটানোর ফলে কে কার বিরুদ্ধে মিছিল করবেন? যিনি হাসপাতালে আছেন, আমরা তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। যিনি হাজতে আছেন, তাঁরও দ্রুত মুক্তি দাবি করি।
তবে জীবন থেমে থাকে না। যাঁর মাথা ফেটেছে, কয়েকটি সেলাই দিয়ে পাগড়ির মতো ব্যান্ডেজ বেঁধে তিনি কোয়ার্টারে ফিরে আসবেন। আবার মিনারে উঠে তিনি আজানও দেবেন। নেলসন ম্যান্ডেলাও যখন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। যিনি হাজতে আছেন তিনিও মুক্তি পাবেন। আবার ইমামতি করবেন। তাঁর পেছনেও মুসল্লিরা নামাজ আদায় করবেন। খুত্বা পাঠ করবেন। জামাতের সবাই তা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। যাঁর প্রমোশন অন্যায়ভাবে আটকে আছে, তিনি গভীর মনোযোগে শুনবেন। যে ঠিকাদারের কাজের বিল টেন পারসেন্ট দেওয়ার পরেও আটকে আছে, তিনিও অন্যমনস্কভাবে হলেও শুনবেন। তাঁদের হাসপাতালে ও হাজতে যাওয়ার কথা মানুষ ভুলে যাবে। এ সমাজে কেউ কাউকে প্রশ্ন করে না। চক্ষুলজ্জা বলে একটা কথা তো আছে।
কিছু কিছু পদ ও পোশাককে আমরা খুবই সম্মান করি ও মর্যাদা দিয়ে থাকি। যেমন কোনো আদালতের বিচারক, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রভৃতি। কোনো মানুষই মানবিক দুর্বলতা মুক্ত নয়। তবু ওই সব পেশার মানুষের চরিত্র অন্যদের চেয়ে বেশি নির্মল ও মাধুর্যমণ্ডিত থাকাই প্রত্যাশিত। তাঁদের হতে হয় দৃষ্টান্তস্থানীয়। তাই তাঁদের চরিত্রে যখন স্খলন ঘটে, তখন তাঁদের আর ওই পদে থাকার নৈতিক অধিকার থাকে না। সবচেয়ে ভালো হয়, যদি তাঁরা স্বেচ্ছায় সেখান থেকে সরে যান।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।

এই মার্চ ওরা কীভাবে পালন করছে by আনিসুল হক

সম্প্রতি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পলান সরকারের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। নারায়ণগঞ্জ সুধীজন পাঠাগার এই বইপ্রেমী মানুষটাকে সংবর্ধনা ও পদক দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ করে এনেছিল। সেখানেই, এই মার্চ মাসেই দেখা পলান সরকারের সঙ্গে। বর্তমানে তাঁর বয়স নাকি ৯০ বছর। পলান সরকার তাঁর এলাকার মানুষদের হেঁটে হেঁটে বই বিতরণ করেন। হাঁটেন বলেই তাঁর শরীরটা ভালো আছে। রাজশাহী থেকে ঢাকা হয়ে নারায়ণগঞ্জ এসেছেন, দিব্যি কথাবার্তা-চলাফেরায় বলিষ্ঠতা আছে।
একজন ৯০ বছরের মানুষ দিব্যি চলতে-ফিরতে পারছেন, দেখে ভালো লাগে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যদি বেঁচে থাকতেন, তাঁর বয়সও ৯০ বছর হতো। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছিল। এ বছর ১৭ মার্চ ছিল সরকারি ছুটির দিন। ১৭ মার্চের পত্রপত্রিকায় বঙ্গবন্ধুর ছবিসহ তাঁর জন্মদিনের খবর ছিল। ১৮ মার্চের পত্রিকায় ছিল তাঁর জন্মদিন পালনের খবর।
কিন্তু জন্মদিনের খবরের পাশেই ছিল ছাত্রলীগের আরও কিছু খবর। ১৭ মার্চের সংবাদপত্রের শিরোনাম: ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ। আহত ১০। ১০ জন আটক। ওই দিনের সব কাগজে ছিল আরেকটা খবর: এবার প্রথম হয়ে কাঁদালেন বকর। ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলে আহত হয়েছিলেন আবু বকর। ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান। তিনি কোনো দল করতেন না। নিম্নবিত্ত ঘরের এই ছেলের সাধনা ছিল লেখাপড়া। জীবনটা ছিল ঘামঝরা পরিশ্রমের। তিনি মারা গেছেন। এবার বেরিয়েছে তাঁর পরীক্ষার ফল। আবু বকর প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। ১৮ মার্চ তারিখের সংবাদপত্র আকীর্ণ ছিল ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সংঘর্ষ আর ৫৮ জন কর্মী গ্রেপ্তারের খবরে। প্রথম আলো আরেকটা খবরে ওই দিন লিখেছে: প্রান্ত থেকে কেন্দ্র একই অবস্থায় ছাত্রলীগ। ‘ইডেন কলেজে ভর্তি-বাণিজ্য, যশোর জেলা সম্মেলনে গুলি-বোমা, হবিগঞ্জে পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন, ঢাকা কলেজে সংঘর্ষ—সব মিলিয়ে আবারও উল্টো পথে ছাত্রলীগ।’ যশোরে ছাত্রলীগের নেতা হত্যা সম্পর্কিত খবরের বলা হয়েছে, ‘জড়িত পাঁচ ভাড়াটে খুনি, আ.লীগের দুই পক্ষ একে অপরকে দুষছে।’ ১২ মার্চের প্রথম আলোর খবর, চট্টগ্রাম মেডিকেল, দালালদের দৌরাত্ম্যের পেছনে ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি। সারা দেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রলীগ নামধারীরা যা করছে, এই কটা খবর তার সামান্য নিদর্শন মাত্র। এবং এই যে ছাত্রলীগের কোন্দল, দ্বন্দ্ব, সংঘাত, তার পেছনে আছে চাঁদাবাজি, ভর্তি-বাণিজ্য অর্থাৎ টাকার খেলা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, আওয়ামী লীগের মেনিফেস্টো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে এই দুষ্কর্মগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই, বরং আছে দুস্তর ব্যবধান।
মার্চ মাস বঙ্গবন্ধুর জন্মমাস। মার্চ মাস বাংলাদেশেরও জন্মমাস। স্বাধীনতার মাস মার্চে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি বলে গণ্য ছাত্রলীগাররা, আওয়ামী লীগাররা যদি পত্রপত্রিকার পাতাকে দুঃসংবাদে কণ্টকিত-রক্তাক্ত করে রাখে, সেই দুঃখ কোথায় রাখি?
এসব খবর পড়ে মনটা ভীষণ দমে যায়। বেশ কিছুদিন আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজের একজন ছাত্রলীগের নেতা নিহত হয়েছিলেন সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে, তার পেছনে ছিল মেডিকেল হাসপাতাল চত্বরে চাঁদাবাজির লাখ লাখ টাকার নিয়ন্ত্রণের লড়াই। সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় খবরের কাগজের শিরোনাম হয়ে এসেছে, ক্যান্টিনের ইজারাদারের কাছে চাঁদা দাবি করায় ক্যান্টিন বন্ধ। কারা দাবি করেছে? ছাত্রলীগের নেতারা। আমি নিজে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। সেও যে খুব বেশি দিন আগে, তা নয়। আমাদের সময় এটা তো আমাদের চিন্তারও অতীত ছিল যে কেউ ক্যান্টিনের ম্যানেজারের কাছে গিয়ে চাঁদা দাবি করবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে দেশের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্ররা, তারা কেন এই রকম অবৈধ আয়ের পেছনে ছুটবে। রাজনীতি আমাদের কালে আমরা করতাম আদর্শের জন্য, একটা সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলার বড় স্বপ্ন আমাদের ছাত্রকর্মী ও নেতাদের চোখমুখে টগবগ করত, একে মেরে ওকে ধরে দুটো টাকা পকেটে পোরার কথা তখন ছিল অকল্পনীয়।
এরা এতটা বিপথগামীই বা কেন হলো? আর এরা এতটা আশ্রয়-প্রশ্রয়ই বা পাচ্ছে কোথা থেকে? আমি বিশ্বাস করি না, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান যে সারা দেশে ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের কর্মীরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি, গুণ্ডামিতে জড়িয়ে পড়ুক। পত্রিকান্তরে পড়লাম, আওয়ামী লীগের নেতা ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ছাত্রলীগের এই দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পেছনে আছে বড় আওয়ামী লীগের নেতা ও কোনো কোনো মন্ত্রীর ইন্ধন। হায় হায়, এটা কী শুনলাম! অবশ্য খুব যে বিস্ময়কর খবর এটা, তা নয়। অতীতে এসব কাণ্ড এই দেশে বহু ঘটেছে। সেই রেওয়াজই চলছে আসলে। দিনবদল খুব সহজ কাজ নয়। এসব চাঁদাবাজি থেকে হাতবদল হয় লাখ লাখ টাকা, আর তার বখরা নাকি বহুদূর পর্যন্ত পৌঁছায়।
মার্চ মাসে এসব খবর পড়তে ভালো লাগে না। টেলিভিশনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচারিত হচ্ছে। সাতই মার্চের ভাষণ যতবার প্রচারিত হয়, ততবারই থমকে দাঁড়াই। এতবার শোনা হলো, এত দিন পরও শরীর রোমাঞ্চিত হয়। কী এক মহান নেতাই না আমরা পেয়েছিলাম আমাদের ইতিহাসে! আজকে যারা হাঙ্গামা, চাঁদাবাজি, খুনোখুনি করে বেড়াচ্ছে, তাদের মুখে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণও কি বেমানান নয়?
বারবার মনে পড়ে বঙ্গবন্ধুর লেখা একটা চিঠির কথা। ১৯৫৮ সালের নভেম্বর মাসে শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা কারাগার থেকে এই চিঠিটা লিখেছিলেন তাঁর আব্বাকে। আইয়ুব খান পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করেছেন, সামরিক আইন জারি করা হয়েছে, দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার নামে নানা ধরনের মামলা করা হচ্ছে। বেশির ভাগ নেতাই তখন কারাবন্দী। শেখ মুজিবুর রহমানের নামেও একটা দুর্নীতির মামলা করা হয়েছিল। চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল। পরে আদালতের রায়ে শেখ মুজিব বেকসুর খালাস পান। ওই মামলা দেওয়ার পরে শেখ মুজিব তাঁর বাবাকে এই চিঠিটা লিখেছিলেন।
চিঠিটা বাজেয়াপ্ত হয়েছিল, তাই এখনো সরকারি আর্কাইভে রয়ে গেছে।
ঢাকা জেল, ১২-১১-৫৮

আব্বা,
আমার ভক্তিপূর্ণ ছালাম গ্রহণ করবেন ও মাকে দিবেন। মা এবার খুব কষ্ট পেয়েছিলেন, কারণ এবার তাঁর সামনেই আমাকে গ্রেপ্তার করেছিল। দোয়া করবেন মিথ্যা মামলায় আমার কিছুই করতে পারবে না। আমাকে ডাকাতি মামলার আসামিও একবার করেছিল। আল্লাহ আছে, সত্যের জয় হবেই। আপনি জানেন, বাসায় কিছুই নাই। দয়া করে ছেলেমেয়েদের দিকে খেয়াল রাখবেন। বাড়ি যেতে বলে দিতাম। কিন্তু ওদের লেখাপড়া নষ্ট হয়ে যাবে। আমাকে আবার রাজবন্দী করেছে, দরকার ছিল না। কারণ রাজনীতি আর নাই এবং আর রাজনীতি করব না। সরকার অনুমতি দিলেও করব না। যে দেশের মানুষ বিশ্বাস করতে পারে যে আমি ঘুষ খেতে পারি, সে দেশে কাজই করা উচিত না। এ দেশে ত্যাগ ও সাধনার কোনো দামই নাই। যদি কোনো দিন জেল হতে বের হতে পারি, তবে কোনো কিছু একটা করে ছেলেমেয়ে ও আপনাদের নিয়ে ভালোভাবে সংসার করব। নিজেও কষ্ট করেছি, আপনাদেরও দিয়েছি। বাড়ির সকলকে আমার ছালাম দিবেন। দোয়া করতে বলবেন। আপনার ও মায়ের শরীরের প্রতি যত্ন নিবেন। চিন্তা করে মন খারাপ করবেন না। মাকে কাঁদতে নিষেধ করবেন। আমি ভালো আছি।
আপনার স্নেহের মুজিব
শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের ঝানু গোয়েন্দারা এর আগে অনেকবার কারাগারের ভেতরে চাপ দিয়েছেন, আর রাজনীতি করব না, এই মুচলেকায় সই করলে মুক্তি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছেন, কোনো দিনই তাঁকে নোয়াতে পারেননি। এই সরকারি গোয়েন্দারা তাঁদের প্রতিবেদনে বলেছেন, এই বন্দীর মনোবল খুব দৃঢ়, তাঁকে বশীভূত করা যায় না। সেই ইস্পাতদৃঢ় মানুষটা এই চিঠিতে কত অভিমানই না প্রকাশ করেছেন! কেন? হয়তো কারও কাছে শুনেছেন, কেউ বিশ্বাস করেছে যে শেখ মুজিব ঘুষ গ্রহণ করতে পারেন। যে দেশের মানুষ এ কথা বিশ্বাস করতে পারে, সেই দেশে তিনি রাজনীতি করতে চান না। কারণ তিনি সারাটা জীবন তো আত্মত্যাগ আর স্বার্থত্যাগই করেছেন।
সেই বঙ্গবন্ধুর নামে জয়ধ্বনি দিয়ে, সেই শেখ মুজিবের ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে চারদিকে এরা কী করছে? আর সেসব খবর পড়তে হচ্ছে ১৭ মার্চের সংবাদপত্রে? ১৮ মার্চের সংবাদপত্রে?
এর প্রতিবিধান কে করবে? শেখ হাসিনাকেই নির্দেশনা দিতে হবে। ছাত্রলীগকে অবশ্যই শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। ছাত্রদের সামনে অবশ্যই নগদ চাঁদার লোভ নয়, মহত্তর মানবিক স্বপ্ন ও আদর্শ তুলে ধরতে হবে, তাদের ব্যাপৃত করতে হবে দেশগড়ার কোনো একটা কর্মযজ্ঞে। মন্ত্রী, এমপি, নেতা, যুবনেতা, ছাত্রনেতা, তাঁদের আত্মীয়-পরিজন-ক্যাডারদের সংযত করতে হবে, আইনকানুনের আওতায় রাখতে হবে। দলীয়করণ, দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ-বাণিজ্য-টেন্ডার প্রদান ইত্যাদি বন্ধ করতে হবে। এটা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ওয়াদাও বটে।
দেশে অনেক সমস্যা। গরম বাড়ছে, সঙ্গে বাড়ছে বিদ্যুৎ-সংকট, পানিসংকট। জনশক্তি রপ্তানির হার কমছে। দেশে বিনিয়োগ কম। বেকার সমস্যা প্রকট। তবু বলব, সরকার আওয়ামী লীগ খারাপ চালায় না। এবং আওয়ামী লীগের সরকারের নীতি ও পদক্ষেপের মধ্যে গ্রাম, কৃষক, গরিব মানুষ, খেটেখাওয়া মানুষের প্রতি পক্ষপাতও প্রকাশ পায়। এসবই ভালো। কিন্তু আওয়ামী লীগের সমস্যা তার আচরণে। দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয় এই আচরণের অতি-আচারে। সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দল-কর্মী-নেতাদের আচরণে লাগাম টেনে ধরার কাজটাও একটা বড় কাজ। এবং খুবই জরুরি কাজ। এটা কেবল প্রশাসনিক বা পুলিশি পদক্ষেপ দিয়ে সম্ভব নয়, এটা করতে হবে একটা রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে। সরকারি দলের সেই রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই, সে ব্যাপারে কোনো উপলব্ধি নেই, কোনো গরজ নেই, এটাকে তারা প্রয়োজন বলে আদৌ মনেও করে কি না সন্দেহ। এ রকম চলতে থাকলে দল ও তার অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনগুলোর কারণেই সরকার দ্রুত তার জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলবে। দল সরকারের জন্য সম্পদ না হয়ে হয়ে উঠবে বিপদ। মার্চ মাসের সংবাদপত্রের পাতাগুলো সেই বিপদের সংকেতই যেন ঘোষণা করছে।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

সিলেটে কলেজশিক্ষক খুন -মানুষের নিরাপত্তা কোথায়

দিনদুপুরে কলেজশিক্ষক খুন হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতখানি নাজুক হয়ে পড়েছে। গত রোববার সিলেটে সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক হারুনুর রশীদ কলেজ থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে গৌড়গোবিন্দ টিলা এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা প্রথমে তাঁর মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাতে করে তাঁকে মাটিতে ফেলে দেয়; এরপর তারা উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পুলিশের মতে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
কলেজের ছাত্রীরা জানিয়েছেন, হারুনুর রশীদ ছিলেন তাঁদের প্রিয় শিক্ষক। মানিকগঞ্জে স্ত্রী-সন্তানদের রেখে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন শিক্ষকতা করতে, আর ফিরে এলেন লাশ হয়ে। পুলিশ যখন হত্যার মোটিভ বুঝতে পেরেছে, তখন এই শিক্ষকের হত্যাকারীদেরও তারা খুঁজে বের করতে পারবে। তবে সে জন্য সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রশ্ন হলো, সে কাজটি তারা করতে প্রস্তুত কি না।
এর আগে এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকায় সন্ত্রাসীরা খুন করেছে এক আইনজীবী ও এক সরকারি কর্মকর্তাকে। খিলগাঁওয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে এক তরুণী। খুলনায় খুন হয়েছেন বিদ্যুৎকেন্দ্রের নৈশপ্রহরী ও তাঁর স্ত্রী। এত সব গুরুতর অপরাধ সংঘটনের পরও সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা স্বীকার করতে চাইছে না। এই অস্বীকৃতিই যে আইনশৃঙ্খলার অবনতির অন্যতম কারণ, তাও তারা বুঝতে পারছে না।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসীদের যে তালিকা দিয়েছেন, তাতে বহু দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বাদ পড়লেও মৃত ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর কী ব্যাখ্যা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়? প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা এ রকম ব্যর্থতা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে। অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। এতে অপরাধীরা আরও আশকারা পেয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্যের সঙ্গে অপরাধীদের যোগসাজশ থাকার অভিযোগও অসত্য নয়।
অপরাধীরা ধরা না পড়ায় জনজীবনে শঙ্কা ও উত্কণ্ঠা বাড়ছে, যদিও এসব নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। তারা তোতা পাখির মতো কোন আমলে কতটি মামলা হয়েছে, তার তুলনামূলক হিসাব তুলে দিয়ে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলছে। এভাবে অপরাধ দমন কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো যাবে না। সিলেটে সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে পাকড়াও করে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে অপরাধের মাত্রা ও অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমাতে।

ভিওআইপির অবৈধ ব্যবহার -নিরীহ গ্রাহকেরা যেন হয়রানির শিকার না হন

সরকার একদিকে ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলছে, আর অন্যদিকে ভিওআইপির অবৈধ ব্যবহার রোধে এমন এক অবিবেচনাপ্রসূত পদক্ষেপ নিয়েছে, যার ফলে কয়েক লাখ গ্রাহকের ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। আধুনিক যুগে এটা কল্পনাতীত। কারণ যদি অপরাধ করে থাকে, তাহলে সেটা করেছে সেই সব কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান, যারা গোপনে অবৈধ কাজে লিপ্ত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এতে কেউ দ্বিমত করবে না। কিন্তু সাধারণ গ্রাহকেরা তো কোনো অপরাধ করেনি। তারা বিটিআরসির অনুমোদনপ্রাপ্ত বৈধ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সংযোগ নিয়ে ইন্টারনেট ও বেসরকারি ল্যান্ডফোন (পিএসটিএন) ব্যবহার করছে। এই গ্রাহকদের বঞ্চিত করার অর্থ হলো একের দোষে অপরকে শাস্তি দেওয়া।
ইন্টারনেটে টেলিফোনের মতো কথা বলা যায়। এ জন্য ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হয়। সহজে ও কম খরচে কথা বলা যায় বলে সবাই ভিওআইপি ব্যবহার করতে চায়। সরকারও চায় এই প্রযুক্তি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করতে। এ জন্য রয়েছে বিটিসিএলের ০১২ কোডের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদেশে ফোন করার ব্যবস্থা। কিন্তু সমস্যা হলো, এ ব্যবস্থায় বিশ্বের সব দেশে ফোন করা যায় না। তাই বিটিসিএলের পাশাপাশি দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে নির্দিষ্ট লাইসেন্স ফির বিনিময়ে ভিওআইপি পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে কারও অবৈধভাবে ভিওআইপি ব্যবহার করার সুযোগ নেই।
কিন্তু দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান লুকিয়ে ভিওআইপি ব্যবসা চালিয়ে আসছে। বিটিআরসি তাদের বিরুদ্ধে আগেও কয়েকবার ব্যবস্থা নিয়েছে। সেগুলো মূলত জরিমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার আরও কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে ২১টি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও চারটি বেসরকারি টেলিফোন কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ায় ভিওআইপির অবৈধ ব্যবহার রোধ হওয়ার পাশাপাশি কয়েক লাখ গ্রাহকের ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। টেলিফোন- ইন্টারনেটের মতো সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত কাম্য নয়।
এটা একটা বিরাট সমস্যা। অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে হবে ঠিকই, কিন্তু এর এ জন্য যদি নিরীহ গ্রাহকদের যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে হয়, তাহলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ইন্টারনেট ও টেলিফোন সেবাদান কার্যক্রম যেন অব্যাহত থাকে, সেটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ভিওআইপি প্রযুক্তি আজকাল এত সহজলভ্য ও সহজে পরিচালনযোগ্য যে তা শুধু আইন করে বন্ধ রাখা কঠিন। খুব ছোট যন্ত্রপাতি নিয়ে ছোট একটি ঘরে বসে এই ব্যবসা চালানো যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে এ ধরনের গোপন তৎপরতা বন্ধ করার চেষ্টা সব সময় ফলপ্রসূ হয় না। ব্যবস্থা নেওয়া হলেও পরে আবার ধীরে ধীরে সেই অবৈধ তৎপরতা শুরু হয়ে যায়। এ জন্যই বিভিন্ন দেশে একটি ন্যূনতম লাইসেন্স ফির বিনিময়ে সবার জন্য ভিওআইপি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এতে দুটি লাভ—একদিকে সরকার আয় থেকে বঞ্চিত হয় না, অন্যদিকে কাউকে অবৈধ কার্যক্রমে জড়াতে হয় না। আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সনাতন দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।
বিশেষত, তথ্যপ্রযুক্তিসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার ব্যাপক কর্মযজ্ঞের সূচনায় পাইকারি হারে ইন্টারনেট সংযোগ ছিন্ন করা একটি অপরিণামদর্শী কাজ। এ রকম পদক্ষেপ গ্রহণ না করাই ভালো।

অনুপ্রবেশকারী মার্কিন নাগরিকের বিচার করা হবে: উ. কোরিয়া

গত জানুয়ারি মাসে উত্তর কোরিয়ায় অনুপ্রবেশকারী মার্কিন নাগরিকের বিচার করা হবে। গতকাল সোমবার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
দ্য কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুপ্রবেশকারী মার্কিন নাগরিকের নাম আইজালন মাহলি গোমেজ। বোস্টনের বাসিন্দা গোমেজের বয়স ৩০ বছর। তাঁর ‘অপরাধের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে’। এক প্যারার ওই প্রতিবেদনে এর বেশি কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।
এর আগে উত্তর কোরিয়া জানিয়েছিল, অবৈধভাবে প্রবেশের দায়ে গত ২৫ জানুয়ারি একজন মার্কিন নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তখন তাঁর নাম-পরিচয় জানানো হয়নি।
এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, আটক ওই মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে দেখা করতে সুইডেনের কূটনীতিককে গত সপ্তাহে অনুমতি দিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। উল্লেখ্য, পিয়ং ইয়ংয়ে সুইডিশ দূতাবাস দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর প্রতিনিধিত্ব করে।

পর্যটক আকর্ষণে শীর্ষ দেশ হতে চায় চীন

২০১৫ সালের মধ্যে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনের মতো দেশকে টপকে শীর্ষ পর্যটক আকর্ষণকারী দেশ হতে যাচ্ছে চীন। পর্যটকেরা এখন এই তিনটি দেশ ভ্রমণেই বেশি আগ্রহী। জাতিসংঘের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।
জাতিসংঘ বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএনডব্লিউটিও) মহাসচিব তালেব রিফাই বলেন, আমরা আশা করছি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পর্যটক বেড়ানোর সবচেয়ে ভালো স্থান হিসেবে চীনকে বেছে নেবেন। সে হিসেবে তখন চীনই হবে বিশ্বের শীর্ষ পর্যটক আকর্ষণকারী দেশ।
রিফাইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, পর্যটকদের পছন্দের ক্ষেত্রে বর্তমানে চীনের অবস্থান চতুর্থ। তিনি বলেন, ফ্রান্সে এখন প্রতিবছর সর্বোচ্চ আট কোটি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনের প্রতিটি দেশে ছয় কোটি পর্যটক ভ্রমণ করেন। চীনের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি চার কোটি আশি লাখ।

অমঙ্গল কাটাতে কুকুরছানার সঙ্গে বিয়ে

শিশুর অমঙ্গল হবে, আর সেই অমঙ্গল কাটানোর জন্য আদিবাসী বিধানমতে একটি তিন বছরের শিশুকন্যার সঙ্গে বিয়ে হলো একটি কুকুরছানার। একেবারে শাস্ত্রমতে ব্রাহ্মণ ডেকে এনে গায়ে হলুদ, মন্ত্রপাঠ, মালা বদল, শুভদৃষ্টির মাধ্যমে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বেলদা থানার পূর্বসাগরনগর গ্রামে গত রোববার এ ঘটনা ঘটে। বিয়েতে আমন্ত্রণ জানানো হয় গ্রামের বহু মানুষকে।
পূর্বসাগরনগর গ্রামের বাপি হাঁসদা ও রেখা হাঁসদার তিন বছরের মেয়ে শকুন্তলার প্রথমে দাঁত ওঠে ওপরের পাটিতে। আর এটিই আদিবাসীদের মধ্যে অমঙ্গলের চিহ্ন। তারা বিশ্বাস করে, নিচের পাটিতে দাঁত উঠলেই তা শিশুকন্যার জন্য মঙ্গল বয়ে আনে।
এই অমঙ্গলের হাত থেকে রক্ষার জন্য শকুন্তলার বাবা-মা গ্রাম্য মোড়লের শরণাপন্ন হন। মোড়ল সুরেন্দ্রনাথ হেমব্রম বিধান দেন, কুকুরের ছানা অথবা সাবড়াগাছের সঙ্গে শকুন্তলার বিয়ে দিতে হবে। তাতে রাজি হয় শকুন্তলার বাবা-মা। ঠিক করে কুকুরের সঙ্গেই বিয়ে দেবেন তিনি। সেই মতো জোগাড় করা হয় একটি কুকুরছানা। আদিবাসীদের কথা অনুযায়ী বিয়ের কিছু দিনের মধ্যে যদি ওই কুকুরছানাটি মারা যায়, তবেই মঙ্গল হবে শকুন্তলার।

ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত ফিজিতে রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত ফিজিতে টাইফয়েড, কলেরাসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক একজন কর্মকর্তা। গতকাল সোমবার জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমন্বয়ক হামিশ ওয়েদারলি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ফিজিতে গত সপ্তাহে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় টমাসের আঘাতে তিনজন প্রাণ হারায় এবং ৩৭৬টির বেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এছাড়া ৪২৩টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৭৫ কিলোমিটার বেগে এই ঝড় বয়েযায়।
হামিশ জানান, বড় ধরনের ওই ঘূর্ণিঝড়ের পর ফিজিতে টাইফয়েডসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। অবশ্য ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগে ফিজিতে টাইফয়েডের প্রাদুর্ভাব ছিল।
হামিশ আরও জানান, এ মুহূর্তে তাঁরা পানি পয়োনিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতার ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন। কারণ, সামনে এসবের মাধ্যমেই কলেরা, টাইফয়েডের মতো পানিবাহিত রোগের বিস্তার লাভের আশঙ্কা রয়েছে।
ফিজির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই লোকজনকে পানি ফুটিয়ে এবং পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি ব্যবহার করে পানি পানের পরামর্শ দিয়েছে।

গণমাধ্যমে কথা বলা থেকে বিরত রাখুন কাদির খানকে

পাকিস্তানের বিশিষ্ট পরমাণুবিজ্ঞানী আবদুল কাদির খানকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা থেকে বিরত রাখতে আদালতে আবেদন করেছে সরকার। চলতি মাসে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট কাদির খানের বরাত দিয়ে দুটি নিবন্ধ প্রকাশ করে। নিবন্ধে প্রকাশিত তথ্য ‘পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট’ বলে ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
লাহোর হাইকোর্টে দেওয়া ওই আবেদনে বলা হয়েছে, নিবন্ধের বিষয়বস্তু পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। এতে পরমাণু কর্মসূচি ও পরমাণু সহযোগিতার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। এটা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এক ধরনের ষড়যন্ত্র। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত কাদির খানকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা থেকে বিরত রাখতে আবেদন জানানো হয়।
সরকার পক্ষের কৌঁসুলি আহমার বিলাল সুফি বলেন, নিবন্ধের বিষয়বস্তু নিয়ে কর্তৃপক্ষও বিজ্ঞানী কাদির খানের সঙ্গে কথা বলতে চায়। তবে কাদির খানের আইনজীবী আলী জাফর জানান, তাঁর মক্কেল ওয়াশিংটন পোস্টকে কোনো সাক্ষাত্কার দেননি।

সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন চতুর্থ শীর্ষ অস্ত্র আমদানিকারক দেশ

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এখন বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় অস্ত্র আমদানিকারক দেশ। চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার পরেই ইউএইর অবস্থান। দেশটি উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্র কিনেই চলেছে।
শান্তি গবেষণা গ্রুপ স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্স ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) নতুন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অস্ত্র স্থানান্তর বিষয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৫ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ইউএই সাড়ে ৬০০ কোটি মার্কিন ডলারের অস্ত্র আমদানি করেছে। এতে অস্ত্র আমদানিকারক দেশ হিসেবে ইসরায়েলকে ষষ্ঠ স্থানে দেখানো হয়েছে। মিসর রয়েছে ১৫তম স্থানে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউএই সবচেয়ে বেশি অস্ত্র আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র আমদানিকারক শীর্ষস্থানীয় দেশ ফ্রান্স। এখানে ইউএইর অবস্থান তৃতীয়।
আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের কাছে থেকে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে। দেশটি ফ্রান্স থেকে ৩৪টি মিরেজ ২০০০ যুদ্ধবিমান ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭২টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কিনেছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ফ্রান্স থেকে ক্ষেপণাস্ত্র আমদানি করেছে আমিরাত।

জারদারির ক্ষমতা কমানো হচ্ছে

জরুরি অবস্থা জারি ও বিচারক নিয়োগের ক্ষমতাসহ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটিতে আসন্ন সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে এ ধরনের ক্ষমতা হ্রাস করা হতে পারে। গত রোববার পাকিস্তানভিত্তিক দ্য নিউজ পত্রিকায় এ খবর জানানো হয়। খবর পিটিআইয়ের।
পত্রিকাটির খবরে বলা হয়, আসন্ন সংবিধান সংশোধনীর খসড়ায় বিচারক ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ, জরুরি অবস্থা জারি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিয়োগ ও কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের ব্যাপারে প্রেসিডেন্টের বর্তমান ক্ষমতা হ্রাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, খসড়াটি চূড়ান্ত করার সময় প্রেসিডেন্টের পার্লামেন্ট বিলুপ্ত ঘোষণা করা এবং তিন বাহিনীর প্রধান পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতাও বিলুপ্ত করার প্রস্তাব রাখা হতে পারে।
গত বছরের নভেম্বরে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির কাছে হস্তান্তর করেন জারদারি। এর পর থেকে বিরোধী দলগুলো প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা আরও কমানোর বিষয়ে চাপ দিয়ে আসছে।

ভেনেজুয়েলায় ৮০ প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের ৮০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সেবা দপ্তর এ কথা জানিয়েছে।
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এই প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যর্থ হওয়ায় গত রোববার এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে জ্বালানি ব্যবহার ২০ শতাংশ কমিয়ে আনতে না পারলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জানানো হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সচেষ্ট না হলে প্রথমত তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ তিন দিনের জন্য বিচ্ছিন্ন করা হবে। পরে তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
রাষ্ট্রীয় সেবা দপ্তর জানায়, সংযোগ বিচ্ছিন্নের তালিকায় আছে রেস্তোরাঁ, মদের দোকান, হোটেল, ব্যয়ামাগার, গাড়ির দোকান এবং একটি নৌকা মালিক ক্লাবের নাম। জাপানের প্রতিষ্ঠান সনি করপোরেশনের স্থানীয় ইউনিটের নামও ওই তালিকায় আছে।
প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের সরকার সে দেশের বিদ্যুতের রেশনিং চালু করেছে এবং দক্ষিণ আমেরিকার ওপেকভুক্ত দেশগুলোর প্রতি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের দাবি জানিয়েছে। সম্প্রতি ব্যাপক বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠাও দেশটির জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
ভেনেজুয়েলায় মোট বিদ্যুতের ৭০ শতাংশ উৎপাদন হয় জলবিদ্যুৎ খাত থেকে। খরার কারণে এ বছর জলবিদ্যুৎ থেকে বিদ্যুতের উৎপাদন বিঘ্নিত হয়েছে। চলতি সপ্তাহে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। ইতিমধ্যে কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টিপাতও হয়েছে। সরকার বলছে, বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় বিপর্যয়ের আশঙ্কা কেটে গেছে।
দেশটির বিরোধী দল ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের বিরুদ্ধে।
তবে জনমত জরিপে দেখা যায়, শাভেজ এমনিতেই জনপ্রিয়। বিশেষত বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল গরিব জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা আছে।

পশ্চিমবঙ্গে রেললাইন উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে

ভারতের মাওবাদী প্রভাবিত সাতটি রাজ্যে মাওবাদীদের ডাকে গতকাল সোমবার থেকে ৪৮ ঘণ্টার বন্ধ্ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় যৌথ বাহিনীর অত্যাচার এবং সরকারের ঘোষিত অপারেশন গ্রিন হান্টের প্রতিবাদেই মাওবাদীদের এই বনেধর আহ্বান। এই সাতটি রাজ্য হলো ঝাড়খণ্ড, বিহার, উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ, ছত্তিশগড়, অন্ধ্র প্রদেশ ও মহারাষ্ট্র। তবে মহারাষ্ট্রে তারা মাও প্রভাবিত মাত্র তিনটি জেলায় বন্ধ্ ডেকেছে।
এদিকে বন্ধ্ শুরুর প্রথম দিনেই মাওবাদীরা পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী-অধ্যুষিত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ভালুককোনিয়ায় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রেললাইন উড়িয়ে দিয়েছে। এ কারণে সকাল থেকে আদ্রা-মেদিনীপুর লাইনে বন্ধ হয়ে গেছে ট্রেন চলাচল। এ ছাড়া মাওবাদীরা পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহালের বিভিন্ন জায়গায় গাছ ফেলে রাস্তা অবরোধ করে রেখেছে। এতে ওই সব এলাকায় বন্ধ হয়ে গেছে যানবাহন চলাচল। পশ্চিমবঙ্গের অন্য কোথাও মাওবাদীদের এই ৪৮ ঘণ্টার বন্ধ্ তেমন কোনো সাড়া না ফেললেও জঙ্গলমহালে এর সাড়া পড়েছে। জঙ্গলমহালের বিভিন্ন হাটবাজার বন্ধ রয়েছে।
মাওবাদী দমনে ‘সেন্দ্রি’ কমিটি
পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহালের যে আদিবাসীরা মাওবাদী আন্দোলনে মাওবাদীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল, এবার সেই আদিবাসীরাই বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছে মাওবাদীদের ওপর। মাওবাদীরা বিশেষ করে নিরীহ গ্রামবাসীকে পুলিশের চর হিসেবে আখ্যায়িত করে যেভাবে হত্যা করছে, সেই হত্যাকে মেনে নিতে পারছে না আদিবাসী। তাই এসব হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে তাদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ দানা বেঁধে উঠেছে। এবার সেই আদিবাসীদের একাংশ এসে দাঁড়িয়েছে যৌথ বাহিনীর পাশে। তারা ইতিমধ্যে গড়েছে ‘সেন্দ্রি’ কমিটি। ইতিমধ্যে পুরুলিয়ার বান্দোয়ান, বাঘমুণ্ডি, ঝালদার ও ঝাড়খণ্ডের সীমান্ত গ্রামগুলোতে এই কমিটি গড়া হয়েছে। মাওবাদীরা যাতে ওই সব গ্রামে ঢুকতে না পারে, সে জন্য সেন্দ্রি কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন গ্রামে তীর, ধনুক, টাঙ্গি ও বল্লম নিয়ে রাত জাগছে।
সাঁওতালি ভাষায় সেন্দ্রির অর্থ শিকার। এই সেন্দ্রি কমিটির সদস্যদের মূল কাজ হচ্ছে পুলিশকে গহিন জঙ্গলের পথ দেখানো।
জঙ্গলমহালে শিগগিরই শুরু হচ্ছে অপারেশন গ্রিন হান্ট। এই গ্রিন হান্টে অংশগ্রহণকারী যৌথ বাহিনীর সদস্যদের সাহায্য করাই হবে সেন্দ্রি কমিটির মূল লক্ষ্য। নিমডির সেন্দ্রি কমিটির সম্পাদক মনোরঞ্জন সিং মুড়া বলেছেন, মাওবাদীরা জঙ্গলমহালে যখন এল, তখন অধিকাংশ আদিবাসীই তাদের সমর্থন জানিয়েছিল। তখন তাদের মুখে ছিল উন্নয়নের বুলি। এখন ওই সব কথা থেকে সরে এসেছে মাওবাদীরা। তারাই এখন জঙ্গলমহালের অধিকার কায়েম করছে।
ফলে আদিবাসীরা বুঝতে পারছে যে মাওবাদীদের তোপের মুখে পড়ে তারা তাদের অধিকার হারাতে চলেছে। এর পরই এই মাওবাদীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে গ্রামবাসী। গড়ে তুলেছে সেন্দ্রি কমিটি।

ব্যাংকক অচল করার হুমকি নিরাপত্তা জোরদার

অব্যাহত সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে গতকাল সোমবার রাজধানী ব্যাংককের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোর করেছে থাই সরকার। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থক ‘লাল শার্ট’ পরিহিত বিক্ষোভকারীরা সরকারের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ব্যাংককে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁরা আগামী শনিবার রাজধানীব্যাংকক অচলকরে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। দাবি আদায়ে তারা প্রধানমন্ত্রী অভিজিত্ ভেজ্জাজিভার পিছু নেওয়ার কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে। খবর পিটিআই অনলাইন ও এএফপির।
থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল সুসার্ন কায়েওকুমনার্দ বলেন, গত রোববার বিক্ষোভকারীদের শোভাযাত্রায় কয়েকটি ছোটখাটো গ্রেনেড হামলা হয়েছে। এতে সরকার বেশ উদ্বিগ্ন। প্রধানমন্ত্রী অভিজিত্ ভেজ্জাজিভার পদত্যাগ ও নির্বাচন দেওয়ার দাবিতে এই বিক্ষোভ করছে লাল শার্ট পরিহিত সমর্থকেরা।
বিক্ষোভের অংশ হিসেবে গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া মেলার মতো একটি সমাবেশ থেকে বিভিন্নভাবে সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো হচ্ছে। প্রায় ৬৫ হাজার বিক্ষোভকারীর ওই সমাবেশে কবিতা লিখে, ছবি এঁকে, রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে এবং এর আগে দান করা রক্ত দিয়ে ক্যানভাস রাঙিয়ে দাবি তুলে ধরা হচ্ছে।
কর্নেল সুসার্ন জানান, গতকাল থেকে বিভিন্ন তল্লাশি চৌকি, সরকারি ভবন ও সামরিক ঘাঁটিতে সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের যেকোনো ধরনের সহিংস বিক্ষোভ বা দুরভিসন্ধি ঠেকাতেই এই উদ্যোগ।
সুসার্ন জানান, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে শুধু সেনাসদস্যরা অস্ত্রসহ দায়িত্বে থাকবেন। ব্যাংককের শহরতলিতে আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভার বৈঠক পণ্ড করার চেষ্টা হলে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দেন তিনি। এর আগে বিক্ষোভ ঠেকাতে সেখানে ৩০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে সেনাদের হাতে অস্ত্র ছিল না।
উপপ্রধানমন্ত্রী সুথেপ থগসুবান বলেন, বিক্ষোভের কারণে আরও এক সপ্তাহের জন্য ব্যাংকক ও পাশের দুটি প্রদেশে কড়া নিরাপত্তা আইন বজায় রাখতে পারে সরকার। সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কারণে ১১ মার্চ থেকে থাইল্যান্ডের আটটি প্রদেশে ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আইন’ জারি করা হয়। এর আওতায় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চৌকি স্থাপন ও কারফিউ জারি করে। আজ এই আইন তুলে নেওয়ার কথা।
এদিকে সশস্ত্র সেনা মোতায়েনের প্রতিক্রিয়ায় বিক্ষোভকারীদের নেতা নাত্তাউত সাইকুর বলেন, ‘সরকার সব সময় বলে আসছে যে তারা জনগণকে আঘাত করবে না, তাদের ওপর হামলা করবে না। তাহলে জনগণের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সামনে কেন সশস্ত্র সেনা মোতায়েন করা হলো?’
তিনি বলেন, দাবি আদায়ে সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর পিছু নেওয়ার নতুন কর্মসূচি দিয়েছেন। ১০ হাজার সদস্যের একটি দল প্রধানমন্ত্রী যেখানেই যাবেন, তাঁর পিছু নেবে। দাবি না মানা পর্যন্ত এই পিছু নেওয়া কর্মসূচি চলবে। প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া নয় বরং দাবি মেনে নেওয়ার ব্যাপারে চাপ সৃষ্টি করাই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিক্ষোভকারীদের আরেক নেতা জতুপর্ন প্রোমপান বলেন, আগামী শনিবার বিক্ষোভের মাধ্যমে আমরা ব্যাংকক অচল করে দেব। এছাড়া ওই দিন দেশের সবকটি প্রদেশে বিক্ষোভসমাবেশ করা হবে।
এ ব্যাপারে ইনস্টিটিউট অব সাউথইস্ট এশিয়ান স্টাডিজের মাইকেল মন্তেসানো বলেন, ‘সরকার বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে—তাদের বর্তমান কর্মকাণ্ড এমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে।’ বিক্ষোভকারীরা গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে শুধু ভেজ্জাজিভার সঙ্গে কথা বলার দাবি জানিয়েছে তারা।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের অনুদান

মার্কেন্টাইল ব্যাংক ফাউন্ডেশন সম্প্রতি মৌলভীবাজার জেলা সদরের দ্য ফ্লাওয়ার্স কেজি অ্যান্ড হাইস্কুলের মরহুম শিক্ষক আতাউর রহমানের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকার অনুদান দিয়েছে।
ব্যাংকের পরিচালক মোহাম্মদ মনসুরুজ্জামান মৌলভীবাজার শাখায় মরহুমের স্ত্রী নাজমা আক্তারের কাছে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন। এ সময় ব্যাংকের পরিচালক এম আমানউল্লাহ ও ব্যাংকের মৌলভীবাজার শাখার প্রধান গোলাম মওলা এবং স্কুলের অধ্যক্ষ মায়া ওয়াহেদ উপস্থিত ছিলেন।

জাপানে খাদ্যপণ্য রপ্তানি করবে স্কয়ার

স্কয়ার কনজ্যুমার প্রডাক্টস লিমিটেড চলতি ২০১০ সালে জাপানে এক লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের ‘রাঁধুনি’ ও ‘রুচি’ ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্য রপ্তানি করবে।
এ ব্যাপারে সম্প্রতি টোকিওতে স্কয়ার কনজ্যুমার প্রডাক্টস লিমিটেড এবং সেই দেশের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পদ্মা কোম্পানি লিমিটেডের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে।
কনজ্যুমার প্রডাক্টস লিমিটেডের রপ্তানি ব্যবস্থাপক খুরশীদ আহমাদ ফরহাদ এবং পদ্মা কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাদল চাকলাদার ও পরিচালক কাজুমি চাকলাদার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জাপানের মাকুহারি-মেসে গত ২ থেকে ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত ‘ফুডেক্স জাপান-২০১০’ শীর্ষক খাদ্য মেলায় কনজ্যুমার প্রডাক্টস লিমিটেড যোগ দেয়। ওই মেলা শেষে কনজ্যুমার প্রডাক্টস লিমিটেডের খাদ্যপণ্য আমদানির ব্যাপারে জাপানের পদ্মা কোম্পানি লিমিটেড উল্লিখিত চুক্তিটি সই করে।

আইএসও সনদ পেল সিকিউরা বাংলাদেশ

সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সিকিউরার সঙ্গে যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানি সিকিউরা বাংলাদেশ লিমিটেড আইএসও সনদ অর্জন করেছে।
ঢাকায় সম্প্রতি ব্যুরো ভেরিটাস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের ব্যবস্থাপক গোলাম কিবরিয়া সিকিউরা বাংলাদেশের এমডি শামীম আহসান খানের হাতে সনদ তুলে দেন। এ সময় সিকিউরা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান খান মো. এহসান এবং সিকিউরা সিঙ্গাপুরের বিপণন ব্যবস্থাপক হেলেন ফক উপস্থিত ছিলেন।

সিন্ডিকেশন ঋণ প্রদানে প্রাইম ব্যাংকের এক দশক

প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড লিড অ্যারেঞ্জার বা নেতৃত্বে থেকে এ পর্যন্ত ২১টি প্রকল্পে মোট এক হাজার ১৫০ কোটি টাকার সিন্ডিকেশন ঋণ প্রদান করেছে।
প্রাইম ব্যাংকের সিন্ডিকেশন ঋণ প্রদানে নেতৃত্বে দেওয়ার এক দশক পূর্তি উপলক্ষে গতকাল সোমবার ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এহসানুল হক।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মেহমুদ হোসেন, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট তৌহিদুল আলম খান এবং সিন্ডিকেশন ও স্ট্রাকচারড ফাইন্যান্স ইউনিটের প্রধান সৈয়দ এ কে রাহাত জামান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাইম ব্যাংক সিন্ডিকেশন ঋণ প্রদানে নেতৃত্বে দেওয়ার ফলে দেশের গ্লাস ও সিরামিক, খনিজ ও লবণ, বস্ত্র, রসায়ন, ওষুধ, টেলিযোগাযোগ, খাদ্য, অবকাঠামো, পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে বেশ কিছু শিল্প স্থাপন সম্ভব হয়েছে।

প্রেক্ষিত পরিকল্পনার খসড়া এ মাসেই মন্ত্রিপরিষদে যাচ্ছে

প্রেক্ষিত পরিকল্পনার (২০১০-২১) খসড়া এ মাসের শেষের দিকেই মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে এই পরিকল্পনা প্রণীত হচ্ছে।
এই পরিকল্পনায় ২০১৫ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশে, ২০১৭ সালের মধ্যে ৯ শতাংশে এবং ২০২১ সালের মধ্যে ১০ শতাংশে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২১ সাল নাগাদ মাথাপিছু আয় এক হাজার ৮০০ ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম এ প্রসঙ্গে বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে জানান, ‘প্রেক্ষিত পরিকল্পনার খসড়া ইতিমধ্যে প্রণয়ন হয়ে গেছে। খসড়ার ওপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামতও নেওয়া হয়েছে। এখন মন্ত্রিপরিষদ সভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।’
শামসুল আলম আরও জানান, প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় মানবসম্পদ উন্নয়নের দিকে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে শিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষা। আর তাই ২০১৪ সালের মধ্যে দেশ থেকে নিরক্ষরতা পুরোপুরি দূর করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ষষ্ঠ ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এই প্রেক্ষিত পরিকল্পনার আলোকে প্রণীত ও বাস্তবায়িত হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে ১৯৯৫-২০১০ সময়কালের জন্য প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর করা যায়নি বলে জানান শামসুল আলম।
তবে এবারের পরিকল্পনাটিকে দেশের প্রথম অংশীদারিমূলক প্রেক্ষিত পরিকল্পনা হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
জাতীয় পর্যায়ে ১০টি ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ২২টি পরামর্শ সভা করা হয়েছে এই প্রেক্ষিত পরিকল্পনার খসড়া প্রণয়নের জন্য। এতে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ অংশগ্রহণ করেছে।
প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় সামষ্টিক অর্থনীতির যে সূচক দেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা যায় জিডিপিতে মোট বিনিয়োগের অংশ ২০২১ সাল নাগাদ ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে।
অন্যদিকে বেকারত্বের হার ১০ শতাংশে এবং দারিদ্র্যের হার ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রাও ধার্য করা হয়েছে এতে।
কার্যকর রাজস্ব ও মুদ্রানীতির মাধ্যমে ২০২১ সাল নাগাদ মূল্যস্ফীতির হার ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার কথা বলা হয়েছে এতে।
প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান বাড়ানোর ওপর কিছুটা জোর দেওয়া হয়েছে। আর তাই জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ২০১৫ সালের মধ্যে জিডিপির ৩০ শতাংশ ও ২০২১ সালে জিডিপির ৩৬ শতাংশে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে জিডিপিতে সেবা খাতের অবদান ২০১৫ সালের মধ্যে ৫৪ শতাংশ এবং ২০২১ সালের মধ্যে ৫২ শতাংশে নামিয়ে আনতে চায় সরকার।
প্রেক্ষিত পরিকল্পনার খসড়াতে বিদ্যুৎ খাতের অগ্রগতি ঘটানোর জন্য জোর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের মধ্যে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সাত হাজার মেগাওয়াট এবং ২০১৫ সালের মধ্যে আট হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করতে হবে।
২০২১ সাল নাগাদ দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হবে ধরে নিয়ে পরিকল্পনা দলিলে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসভিত্তিক উৎপাদন কমিয়ে ৩০ শতাংশ এবং কয়লাভিত্তিক উৎপাদন বাড়িয়ে ৫৩ শতাংশে আনার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া পরমাণু বিদ্যুৎ মোট উৎপাদনের ১০ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে।
সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্য তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ ও ব্যবহার জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আর তাই এতে ২০১৩ সালের মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে ও ২০২১ সালের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের ৫০ শতাংশ ইউনিয়নে ২০১৫ সালের মধ্যে, ২০২০ সালের মধ্যে শতভাগ ইউনিয়নে ইন্টারনেটের প্রসার ঘটানোর কথা বলা হয়েছে।

এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে

দেশের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) দুই বছর মেয়াদি পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনের তফসিল গতকাল সোমবার ঘোষণা করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার নির্বাচনী বোর্ড নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। তফসিল অনুসারে আগামী ১৭ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৫ এপ্রিল প্রাথমিক এবং ৫ মে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১০ মে পরিচালক পদে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনী বোর্ড ২৭ মে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করবে। সাধারণ ভোটাররা ১৭ জুন ভোটের মাধ্যমে পরিচালক নির্বাচন করবেন। এ ছাড়া ১৯ জুন পরিচালকদের ভোটে সভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচিত হবেন। পরিচালক পদে মনোনয়ন ফি বাবদ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এ ফি ছিল ২০ হাজার টাকা।
সংঘবিধি অনুযায়ী এফবিসিসিআইয়ের ৪৪ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদে চেম্বার গ্রুপ থেকে ১৪ এবং অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে ১৪সহ মোট ২৮ জন পরিচালক পদে সরাসরি নির্বাচিত হবেন। এ ছাড়া পরিচালনা পর্ষদে দেশের গুরুত্বপূর্ণ আটটি শীর্ষ চেম্বার ও আটটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসোসিয়েশন থেকে একজন করে মোট ১৬ জন পরিচালকের সরাসরি মনোনয়নের বিধান রয়েছে।
সব মিলিয়ে ৪৪ জন পরিচালকের ভোটে একজন সভাপতি, একজন প্রথম সহসভাপতি ও একজন সহসভাপতি নির্বাচত হবেন। এবার চেম্বার গ্রুপ থেকে সভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচিত করা হবে। আর অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে সহসভাপতি নির্বাচিত করা হবে।
এই আট শীর্ষ চেম্বার হলো মেট্রোপলিটন চেম্বার, ঢাকা চেম্বার, চট্টগ্রাম চেম্বার, রাজশাহী চেম্বার, খুলনা চেম্বার, সিলেট চেম্বার, বরিশাল চেম্বার ও বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ। আট শীর্ষ সমিতি হলো বাংলাদেশ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএবি), বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতি, বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্য, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুরকে বিভাগ ঘোষণা করার পর ওই চেম্বারের পক্ষ থেকে এফবিসিসিআইয়ের মনোনীত পরিচালক করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দুবার আবেদন করা হয়। কিন্তু মন্ত্রণালয় দুবার আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। এ অবস্থায় কতিপয় ব্যবসায়ী নেতা ওই চেম্বারকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
তবে কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা প্রথম আলোকে জানান, ২০০২ সালের সংশোধিত সংঘবিধি অনুযায়ী বিভাগীয় চেম্বার থেকে মনোনীত পরিচালক করার বিধান ছিল। কিন্তু গত ১২ জানুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনে মনোনীত পরিচালক করার জন্য সুনির্দিষ্ট চেম্বারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাই রংপুর চেম্বারকে বিভাগীয় চেম্বার হিসেবে মনোনীত পরিচালক করার বিষয়টি এখন আইনগত বাধ্যবাধকতা নয়।
এফবিসিসিআই সূত্র জানায়, বর্তমানে সংগঠনের অধিভুক্ত ৭০টি চেম্বার ও ২৭৫টি সমিতি রয়েছে। আগের নির্বাচনের সময় সংগঠনের অধিভুক্ত ৬৮টি চেম্বার ও সমিতির সংখ্যা ছিল ২৫৬।
ব্যবসায়ী নেতারা জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে ভুয়া ভোটার অনেক কমে যাবে। কারণ, সরকার বাণিজ্য সংগঠনের সংঘবিধিতে কিছু সংস্কার এনেছে। ফলে এফবিসিসিআই ব্যতীত অন্য যেকোনো বাণিজ্য সংগঠনের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদনকারীকে চেম্বারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার এবং সমিতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট খাতের ট্রেড লাইসেন্সধারী হতে হবে।
পরবর্তী সময়ে প্রতিবছর সংশ্লিষ্ট সংগঠন কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই ট্রেড লাইসেন্স ও আয়কর বিবরণীর হালনাগাদ অনুলিপি দাখিল করতে হবে, তা না হলে সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে।
তা ছাড়া ঋণখেলাপি, করখেলাপি, দুর্নীতিবাজ ও ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরা এবারও এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। তবে ঋণ ও করখেলাপি, ফৌজদারি বা দুর্নীতি মামলায় অথবা নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দণ্ডিত হলে এবং মুক্তি পাওয়ার পর পাঁচ বছর সময় অতিবাহিত হলে এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচনে অংশ নিতে বা পদে অধিষ্ঠিত হতে পারবেন।

ডিএসইতে এক হাজার কোটি টাকার লেনদেন

দেশের দুই শেয়ারবাজারেই গতকাল সোমবার মূল্যসূচক বেড়েছে। বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও।
বাজার-বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নির্বাচন নিয়ে বিনিয়োগকারীসহ বাজার-সংশ্লিষ্টদের মনে এক ধরনের শঙ্কা ছিল। কিন্তু গত রোববার নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফলাফল আসায় সে শঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটা আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে।
ডিএসইর একজন পরিচালক বলেন, বিনিয়োগকারীরা হয়তো ধারণা করছেন, নির্বাচনের পর বাজার আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। এ কারণে তাঁরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। ফলে গত দুই দিন বাজারে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। তবে আরও কয়েক দিন না গেলে এ ব্যাপারে চূড়ান্তভাবে কিছুই বলা যাবে না।
বেসরকারি বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আরগুস রিসার্চ জানিয়েছে, গতকালের বাজারে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়লেও সূচকের ওঠানামা ছিল বেশি। গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম ওঠানামার কারণেই এমনটি ঘটেছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
বাজার পরিস্থিতি: ডিএসইতে শেয়ারের দাম, সাধারণ সূচক, বাজার মূলধন—সবকিছুই ছিল ঊর্ধ্বমুখী। সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দিয়েই বেলা ১১টায় লেনদেন শুরু হয়। লেনদেন শুরুর ১৫ মিনিটের মধ্যে সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৩২ পয়েন্ট বাড়ে। এরপর দিনভর সূচকের উত্থান-পতনের মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে লেনদেন। দিনশেষে ডিএসইর সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে ১৪ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৫৬২ পয়েন্টে এসে ঠেকেছে। আর লেনদেন হয়েছে এক হাজার ১২ কোটি টাকার শেয়ার। প্রায় এক মাস পর ডিএসইর লেনদেন আবার এক হাজার কোটি টাকার ঘরে পৌঁছাল।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৬ হাজার ৯২ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৯০ কোটি টাকার শেয়ার।
দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোমপানি: ইমাম বাটন, এসিআই জিরো কুপন, আলহাজ টেক্সটাইল, কে অ্যান্ড কিউ, মেট্রো স্পিনিং, প্রগতি লাইফ, এনসিসি ব্যাংক, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স, দুলামিয়া কটন ও মিথুন নিটিং।
দাম কমার শীর্ষ ১০টি কোম্পানি: বিডিকম, রহিম টেক্সটাইল, প্রথম বিএসআরএস মিউচুয়াল ফান্ড, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, সামিট পোর্ট অ্যালায়েন্স, বিডি ওয়েল্ডিং, অষ্টম আইসিবি, উসমানিয়া গ্লাস, ফাইন ফুডস ও আইসিবি ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড।
লেনদেনের শীর্ষ ১০টি কোম্পানি: বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সটেক্স, গ্রামীণফোন, সামিট পাওয়ার, লংকাবাংলা, ডেসকো, বেক্সিমকো ফার্মা, শাইনপুকুর সিরামিকস, নাভানা সিএনজি ও সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটিড।

অল্পেই পরিণত

২১ বছর বয়সে একজন মানুষ কতটাই বা পরিণত হয়? আর এই বয়সেই যদি ক্রিকেটের মতো খেলায় (যেখানে অধিনায়ক অন্য সব খেলার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ) নেতৃত্ব দিতে হয় দেশকে এবং সেটিও যদি হয় ভারতের মতো দেশের, চাপটা পাহাড়সমানই হওয়ার কথা। ৪৮ বছর আগে আজকের দিনে এমন অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল মনসুর আলী খান পতৌদির। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বার্বাডোজ টেস্টে যখন টস করতে নামলেন, ছোট নবাবের বয়স তখন ২১ বছর ৭৭ দিন! সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট অধিনায়কের এই রেকর্ড টিকে ছিল ৪৮ বছর। ২০০৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০ বছর ২৫৮ দিন বয়সে জিম্বাবুয়েকে নেতৃত্ব দেন টাটেন্ডা টাইবু। গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বে অভিষেক ২২ বছর ৮২ দিন বয়সে। গত বছর গ্রেনাডায় সাকিব আল হাসান যখন টস করতে নামেন, তাঁর বয়স ছিল ২২ বছর ১১৫ দিন।

আফ্রিদি না অন্য কেউ

আজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলের অধিনায়কের নাম ঘোষণা করবে পাকিস্তান। নতুন অধিনায়কের নেতৃত্বেই পাকিস্তানের সিনিয়র দল খেলবে ‘পাকিস্তান ডে টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ ট্রফি’তে। এক দিনের এই টুর্নামেন্টে প্রথমে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ‘এ’ ও অনূর্ধ্ব-১৯। ম্যাচের বিজয়ীদের সঙ্গে খেলবে সিনিয়র দল। নতুন অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে শহীদ আফ্রিদি এগিয়ে থাকলেও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) অন্য কাউকে অধিনায়ক ঘোষণা করে চমক দিতে পারে।

টেন্ডুলকারের কাছে কলকাতার হার

আইপিএলের তৃতীয় আসরে কাল প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে নিজের উপস্থিতিটা জানিয়ে দিয়েছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের ক্রিস গেইল। ৭টি চার ও ২টি ছয়ে ৬০ বলে করেছেন ৭৫ রান। কিন্তু তাঁর এই ইনিংসও কাল মুম্বাইয়ে জেতাতে পারেনি কলকাতাকে। ৭ উইকেটে গেইলরা হেরে গেছেন মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের কাছে।
আসলে কলকাতা হেরেছে শচীন টেন্ডুলকারের কাছে। ইনিংসে উদ্বোধন করতে এসে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেছেন টেন্ডুলকার। ফিফটি পূর্ণ করেছেন ৩৫ বলে। আর ৯ বল বাকি থাকতে যখন জয়ের বন্দরে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস, টেন্ডুলকার তখন অপরাজিত ৭১ রানে। ৪৮ বলের এই ইনিংসে আছে ১০টি চার। ম্যাচসেরাও টেন্ডুলকার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: কলকাতা: ২০ ওভারে ১৫৫/৩ (গেইল ৭৫, সৌরভ ৩১, ওয়াইজ ৩১; জহির ২/২৭)। মুম্বাই: ১৮.৩ ওভারে ১৫৬/৩ (টেন্ডুলকার ৭১*, তিওয়ারি ৩০; ইশান্ত ২/৪৪)।

সিক্স সিজনস দাবা চালিয়ে যেতে চান নিয়াজ

হাঙ্গেরির ফার্স্ট স্যাটারডে টুর্নামেন্ট থেকে আইডিয়াটা নিয়েছিলেন গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ। বছরে ছয়টা গ্র্যান্ডমাস্টার্স টুর্নামেন্ট করবেন বলে এটির নামও দেন সিক্স সিজনস গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা। কাল প্রথম টুর্নামেন্টটা শেষ করতে পারায় নিয়াজ বেশ খুশি, ‘হ্যাঁ, আমি খুব খুশি। আগামী এক বছর টুর্নামেন্টটা নিয়মিত চালিয়ে যেতে চাই। আগামী এপ্রিলে একই সঙ্গে ডব্লুআইএম (মহিলা আন্তর্জাতিক মাস্টার) টুর্নামেন্ট করার চিন্তাভাবনাও আছে আমার।’
জুনে স্কুল দাবার সঙ্গে এই ইভেন্টটাও আরও বড় পরিসরে আয়োজনের কথা ভাবছেন নিয়াজ। বাংলাদেশের দাবাড়ুদের নর্ম বাড়ানোই টুর্নামেন্টের উদ্দেশ্য। প্রথমবারের অর্জন কক্সবাজারে শামীমা আক্তারের (লিজা) প্রথম আন্তর্জাতিক মাস্টার নর্ম পাওয়া। ঢাকায় শেষ জি এম নর্ম পূরণ করেছেন ভারতের আন্তর্জাতিক মাস্টার সপ্তর্ষি রায়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি ভালোই সাড়া ফেলেছে বলে দাবি নিয়াজের, ‘এখানে প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অনেকে পরের টুর্নামেন্টের তারিখ জানতে চেয়েছে। কারণ তারা বুঝতে পেরেছে এখানে এলে নর্ম হবে।’
কাল উত্তরার টিউলিপ হলে প্রতিযোগিতার শেষ রাউন্ডের খেলায় ভারতের দিব্যেন্দু বড়ুয়ার সঙ্গে ড্র করে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন সপ্তর্ষি রায়। ৯ খেলায় পেয়েছেন ৭ পয়েন্ট তিনি। সাড়ে ছয় পয়েন্ট পেয়ে রানারআপ উজবেকিস্তানের গ্র্যান্ডমাস্টার ইউলদাশেভ সাইদালি। শেষ রাউন্ডে সাইদালি ড্র করেছেন নিয়াজের সঙ্গে। গ্র্যান্ডমাস্টার দিব্যেন্দু সাড়ে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় ও সমান পয়েন্ট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন নিয়াজ।

হাবিবুলের আনুষ্ঠানিক অবসর ঘোষণা

অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে ‘খেলোয়াড়’ হাবিবুল বাশারের অধ্যায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অনানুষ্ঠানিক অবসর আগেই নিয়েছেন। কাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) চিঠি লিখে আনুষ্ঠানিকতাও সেরে ফেললেন। আগামী পিসিএল খেলে ক্রিকেট থেকেই নিয়ে নেবেন অবসর।
‘আমরা জন্য এটা ছিল দারুণ এক যাত্রা। আন্তর্জাতিক, প্রথম শ্রেণী আর ক্লাব ক্রিকেটে দুই দশক ধরে খেলার পর মনে হচ্ছে, আমি পথের শেষ প্রান্তে। আগামী সপ্তাহে শারজায় অনুষ্ঠেয় পিসিএল হবে খেলোয়াড় হিসেবে আমার শেষ টুর্নামেন্ট’—বিসিবিকে লেখা চিঠিতে জানিয়েছেন বাংলাদেশের সফলতম অধিনায়ক। তাঁর নেতৃত্বেই প্রথম টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারত আর দক্ষিণ আফ্রিকা-বধও হাবিবুলের নেতৃত্বে।
শুধু সফল অধিনায়কই নন, এখনো বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে সর্বোচ্চ রান (৩০২৬) তাঁর। সর্বোচ্চ ফিফটিও (২৪)। তিনটি টেস্ট সেঞ্চুরি করা হাবিবুল অবশ্য ওয়ানডেতে ব্যাটসম্যান হিসেবে ছিলেন সাধারণ। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি দুটোই ছিল তাঁর ক্যারিয়ারে। আর তাই আনন্দের পাশাপাশি সঙ্গী হয়েছে আক্ষেপও।
কিন্তু বিদায়বেলায় কোনো অতৃপ্তির কথা তিনি বলেননি। বরং এই দীর্ঘ যাত্রাপথে সমর্থন দেওয়ায় সবাইকে জানিয়েছেন কৃতজ্ঞতা। বিসিবিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে তাঁকে। সেই সঙ্গে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের ক্রিকেটে যুক্ত থাকবেন তিনি।

আর কী বিশেষণ দেবেন তাঁর

নিজেই নিজেকে অতিক্রম করে চলেছেন লিওনেল মেসি। স্প্যানিশ লিগে গত সপ্তায় ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করলেন। পরের ম্যাচে চ্যাম্পিয়নস লিগে জোড়া গোল করে জেতালেন বার্সেলোনাকে। পরশু আবার হ্যাটট্রিক করলেন। লিগের দুই ম্যাচে দুই হ্যাটট্রিক। বার্সেলোনার জার্সি গায়ে যেটি তাঁর পঞ্চম।
ফুটবল-বিশ্ব আরেকবার যে মেসি-বন্দনায় মাতবে, এটাই তো স্বাভাবিক। পরশুর হ্যাটট্রিকের পর মেসি প্রথম প্রশংসাটা পেলেন বার্সা কোচ পেপ গার্দিওলার কাছ থেকে, ‘মেসি দুর্দান্ত খেলেছে।’
এ তো গার্দিওলা প্রতি ম্যাচের পরই বলেন, এ আর এমন কী প্রশংসা! প্রতি সপ্তাহেই ভালো খেলবেন, বার্সেলোনার ম্যাচ থাকলেই সেটিকে নিজের করে নেবেন—একজনের প্রশংসা আর কত করা যায়!
গত মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সার জার্সি গায়ে ৩৮ গোল করেছেন। এবার এখনই কাছাকাছি (৩৪ গোল) পৌঁছে গেছেন। নিয়মিত এমন একজন খেলোয়াড়ের প্রশংসা করে যাওয়া কেমন ক্লিশে লাগে। প্রশংসার ভাষা আর বিশেষণের ভান্ডার ফুরিয়ে যায়। গার্দিওলারও হয়েছে তা-ই। মেসিকে প্রশংসার সঠিক বিশেষণ পাচ্ছেন না। এ দায়িত্ব তাই ছেড়ে দিলেন অন্যদের ওপর, ‘মেসিকে বিশেষায়িত করার কাজটা আমি অন্যদের ওপরই ছেড়ে দিলাম।’
ডিয়েগো ম্যারাডোনার তুলনা টানা হচ্ছে অনেক দিন ধরেই। এতেও নতুনত্ব কিছু নেই। জারাগোজা কোচ হোসে অরেলিও গেও জানেন। তবু পরশুর মেসির বর্ণনায় ম্যারাডোনাকেই টেনেছেন তিনি, ‘মনে হচ্ছিল যেন ম্যারাডোনাকেই আবার খেলতে দেখছি। তবে এই ম্যারাডোনা আরও বেশি দ্রুত। আমরা আসলে একজন অসাধারণ খেলোয়াড়কে থামাতেই পারছিলাম না।’ ওয়েবসাইট।
জারাগোজার আর কী দোষ! মেসিকে তো থামাতে পারছেন না কেউই। বার্সেলোনার সর্বশেষ ১৪ গোলের ১১টিই মেসির। এই ১১ গোল আবার করেছেন সর্বশেষ ৫ ম্যাচে। বলতে গেলে মেসি একাই বার্সেলোনাকে রেখেছেন স্প্যানিশ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপার দৌড়ে।
মেসির এই পারফরম্যান্সে বার্সেলোনা সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা বিমুগ্ধ। মেসিকে ফুটবল ইতিহাসেরই সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি দিয়ে দিলেন তিনি, ‘মেসি বিশ্বের এবং ফুটবল ইতিহাসেরই সেরা খেলোয়াড়। আমরা বার্সেলোনায় এ পর্যন্ত যাদের দেখেছি, তাদের মধ্যে তো অবশ্যই সেরা।’

আকবরের ৪ গোলে চট্টগ্রাম মোহামেডানের বড় জয়

‘অনেক দিন পর দল একটি বড় জয় পেল। এটা খুব দরকার ছিল’—ম্যাচ শেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন যেন চট্টগ্রাম মোহামেডান কর্মকর্তারা। শুকতারা ক্লাবের বিপক্ষে গতকাল মোহামেডান জিতেছে ৫-১ গোলে। চারটি গোলই করেছেন আকবর হোসেন (রিদন)।
প্রথম পর্বের এক ম্যাচ তাদের বাকি, ১১ খেলায় মোহামেডানের পয়েন্ট হলো ৯। ১২ ম্যাচে শুকতারার সংগ্রহ ৭ পয়েন্ট।
প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে যাওয়া মোহামেডানের গোল-দৌড়ের সূচনা ১৯ মিনিটে। লিংকনের পাসে তীব্র শটে বল জালে জড়ান আকবর। ৮ মিনিট পর তাঁর দ্বিতীয় গোলের উত্স ছিলেন শরীফুল। ৩০ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ফেলেন আকবর। তবে শুকতারা গোলরক্ষক আল আমিন সামনে এগিয়ে না এলে হ্যাটট্রিক এত দ্রুত নাও পেতে পারতেন।
৫৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে লিটন গোল করে ব্যবধান কমান। মিনিট চারেক পর কর্নার থেকে তৌহিদ গোল করে ব্যবধান ৪-১ করে দেন। ৬৪ মিনিটে শুকতারার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ম্যাচের নায়ক আকবর।
বড় জয়ে চাঙা চট্টগ্রাম মোহামেডানের সামনে আগামীকাল ‘বড় ভাই’ ঢাকা মোহামেডান; যাদের জন্য জয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আরামবাগ-ফরাশগঞ্জ ম্যাচ ড্র: জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার আলফাজ আহমেদ মাঝেমধ্যেই তাঁর ঝলক দেখান। কদিন আগেই চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে কাল ফরাশগঞ্জের বিপক্ষে করলেন দুই গোল। শেষ মুহূর্তে তাঁর দেওয়া গোলেই ‘হারা ম্যাচ’ ২-২ গোলে ড্র করে ফিরেছে আরামবাগ। এই মৌসুমে ১২ ম্যাচে ৯ গোল হয়ে গেল আলফাজের।
২৫ মিনিটে সবুজের গোলে এগিয়ে যাওয়া ফরাশগঞ্জকে আলফাজ সমতায় আনেন ৫০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে। ৭৪ মিনিটে মোখলেসুরের গোলে এগিয়ে যায় ফরাশগঞ্জ। ইনজুরি সময়ে ডোমিনিকের পাসে হেডে গোল করে হার এড়ান আলফাজ। ১২ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট হলো আরামবাগের, সমান ম্যাচে ফরাশগঞ্জের পয়েন্ট ১১ ।
আজকের খেলা: চট্টগ্রাম আবাহনী-রহমতগঞ্জ (চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়াম; বিকেল ৩-৩০ মি.), মুক্তিযোদ্ধা-বিয়ানীবাজার (কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম; বিকেল ৩-৩০ মি.)।

আম্পায়ারিং নিয়ে মরগানও অসন্তুষ্ট!

আর সবার মতো ব্যাপারটা ধরা পড়েছে তাঁর চোখেও। টেলিভিশনে ধারাভাষ্য শুনেও যা বোঝার বুঝেছেন। বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ঢাকা টেস্টের আম্পায়ারিংটা যে ঠিক মানসম্মত হচ্ছে না, সেটা এখন তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসা আইসিসির সভাপতি ডেভিড মরগানেরও জানা।
বোর্ড সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল ‘না, উনি এ রকম কিছু বলেননি’ বলে ব্যাপারটা এড়িয়ে গেলেও প্রেসিডেন্ট বক্স থেকে আসা খবর, রড টাকার আর টনি হিলের আম্পায়ারিং নিয়ে অসন্তুষ্ট আইসিসি সভাপতি। একই অসন্তুষ্টি বিসিবি কর্মকর্তাদের মধ্যেও। রাগে-ক্ষোভে এক কর্মকর্তা তো এমনও বলে দিলেন, ‘ওরা (আম্পায়াররা) আমাদের হারিয়ে দিচ্ছে!’
কিন্তু বাজে আম্পায়ারিং নিয়ে কেবল ক্ষোভ প্রকাশ ছাড়া আর কিছুই করার নেই বিসিবির। বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান এনায়েত হোসেন একরকম আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতেই বললেন, ‘খেলা শেষে অধিনায়ক-ম্যানেজার ম্যাচ রেফারির কাছে যে রিপোর্ট দেয়, সেটায় হয়তো এ নিয়ে অসন্তুষ্টির কথা উল্লেখ থাকবে। আর টেলিভিশনে ব্যাপারটা যেহেতু সবাই-ই দেখেছে, ভবিষ্যতে হয়তো এই দুই আম্পায়ারের সুযোগ কমে যাবে। তবে বোর্ডের এখানে কিছু করার নেই।’
বিসিবির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা অবশ্য বলেছেন, আইসিসির সভায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুললে টানা বাজে আম্পায়ারিংয়ের শিকার হওয়ার ব্যাপারটা সামনে নিয়ে আসতে পারেন তাঁরা।

বিচারপতি তোমার বিচার...

প্রথম ইনিংসে ১০৮ রানের লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ২২৭। চতুর্থ ইনিংসে ৩৩৬ রান তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড ২৮৭ রানে অলআউট। বাংলাদেশ ৪৮ রানে জয়ী।
এটা কী? কেন, ঢাকা টেস্টের চূড়ান্ত ফলাফলের সংক্ষিপ্তসার! দ্বিতীয় অংশটা অবশ্যই কল্পনা। স্কোরকার্ড আপনাকে জানাবে, কল্পনার রং মেশানো পুরোটাতেই। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে লিড নেবে কি, উল্টো তৃতীয় দিন শেষে ইংল্যান্ডই ২১ রানে এগিয়ে।
কল্পনা, আবার কল্পনাও নয়। রড টাকার ও টনি হিল অমন প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়ে না গেলে বাংলাদেশ তো শ-খানেক রানের লিড পেতই। ইয়ান বেল, ম্যাট প্রিয়র, টিম ব্রেসনান—কাল ইংল্যান্ডের যে তিন ব্যাটসম্যান রান করলেন, তিনজনেরই তো দুই আম্পায়ারকে ডিনার খাওয়ানো উচিত।
দুই অঙ্কে যাওয়ার আগেই আউট ছিলেন প্রিয়র-ব্রেসনান, ৮২ রানেই ফিরে যাওয়ার কথা বেলের। এমনিতে আম্পায়ারিং সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে এলবিডব্লুর ক্ষেত্রে মন্তব্য করার সময় ‘হয়তো-টয়তো’ বলার নিয়ম। কিন্তু টাকার-হিলের ‘ভুল’গুলো এমনই যে, নিয়মের ব্যতিক্রম হয়ে ইয়ান বেল পর্যন্ত সংবাদ সম্মেলনে নিজের সৌভাগ্যের কথা স্বীকার করে ফেললেন।
আম্পায়ারিং নিয়ে অনেক কৌতুক চালু আছে। তার একটি কালকের টাকার-হিলের সঙ্গে খুব যায়—স্টাম্পের একেবারে সামনে ব্যাটসম্যানের প্যাডে লেগেছে বল। বোলারের তারস্বরে ‘হাউজ দ্যাট’ চিত্কারে আম্পায়ার বলছেন, ‘আমি তো কিছু দেখতে পাইনি। সামনে প্যাড এসে গেল যে!’
নিশ্চয়ই বানানো গল্প। এবার একটা সত্যি গল্প বলি। ১৯৯৩ সালে ভারতের শ্রীলঙ্কা সফর। তখনো নিরপেক্ষ আম্পায়ারের চল হয়নি এবং শ্রীলঙ্কান আম্পায়াররা পণ করেছেন স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের এলবিডব্লু দেবেন না। হোটেলের লবিতে আম্পায়ার বিসি কুরের সঙ্গে দেখা ভারতীয় ম্যানেজার অজিত ওয়াদেকারের। ওয়াদেকার বললেন, ‘মিস্টার কুরে, আমার বাবা কিছুদিন আগে মারা গেছেন। উনার নাম ছিল লক্ষ্মণ বিজয় ওয়াদেকার। আমি বুঝতে পারিনি, উনার নামের আদ্যক্ষরগুলো দিয়ে যে আউটটা হয়, মৃত্যুর সময় সেটি তিনি সঙ্গে নিয়ে গেছেন।’
টনি হিল ও রড টাকারও বোধহয় এলবিডব্লু বলে যে একটা আউট আছে, সেটি ভুলে গিয়েছিলেন। তবে নিশ্চিত থাকতে পারেন, বাংলাদেশের ইনিংসে ঠিকই তা মনে পড়বে। টাকার অবশ্য প্রতিবাদ করতে পারেন, শুধু এলবিডব্লু বলছেন কেন, ব্রেসনানের ব্যাট-প্যাড ক্যাচও তো আমি দিইনি। হু হু!
খেলোয়াড়েরা যেমন ভুল করেন, তেমনি আম্পায়াররাও করেন—এই জ্ঞানের কথাও বাংলাদেশের দুঃখে বিন্দুমাত্র প্রলেপ হতে পারছে না। আম্পায়ারের ভুলগুলো যে বাংলাদেশের বিপক্ষেই বেশি হয়! ‘বাংলাদেশের’ জায়গায় অবশ্য ‘দুর্বলতর’ দল পড়তে পারেন। বাংলাদেশকে এমন আম্পায়ারিং অবিচারের শিকার হতে দেখে সাবেক ইংল্যান্ড-অধিনায়ক মাইকেল আথারটনের যেমন মনে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কথা। কাউন্টি দলগুলোর বিপক্ষে ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলার সময় আম্পায়ারদের ভুলগুলো নাকি শুধু কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষেই হতো।
জেমি সিডন্সও এটি খুব ভালো টের পাচ্ছেন। আগে ছিলেন অস্ট্রেলিয়া দলের সঙ্গে। তখন আম্পায়ারদের বড় দলপ্রীতি খুব ভালো লেগেছে। এখন বুঝতে পারছেন দুর্বলের যন্ত্রণা। ড্রেসিংরুমের সামনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় সারা দিনই বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁর মনোভাব। সোজাসাপটা লোক, পরে স্কাই স্পোর্টসকে সরাসরি বলেও দিয়েছেন মনের কথা।
কাজী নজরুল ইসলামের ক্রিকেটপ্রীতি ছিল বলে কখনো শুনিনি। তার পরও তাঁর কবিতার একটা লাইন দিব্যি বাংলাদেশ দলকে নিয়ে লেখা বলে চালিয়ে দেওয়া যায়—এমন করিয়া জগত্ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল? তবে ঢাকা টেস্টে যা হচ্ছে, তাতে ‘দুর্বল’-এরও দায় আছে। এই টেস্টে রেফারেল সিস্টেম থাকলেই তো ইংল্যান্ডের ইনিংস ৩০০ রানে শেষ হয়ে যায়। নেই কেন? কারণ বাড়তি কিছু খরচ হবে বলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সেই ব্যবস্থা রাখেনি। রেফারেল না থাকায় সাকিবের আক্ষেপ শুনে এক সাংবাদিক জিজ্ঞেসই করে বসলেন, আইসিসি প্রেসিডেন্ট ডেভিড মরগানকে খুশি করতে এত ব্যানার-ফুলের পেছনে টাকা খরচ না করে রেফারেলের পেছনে করাটাই বেশি জরুরি ছিল কি না! মনের কথা বলে ফেলায় সাকিবও সিডন্সের অনুসারী। সরাসরি বলে দিলেন, ‘হ্যাঁ, ছিল।’
বিতর্কের ভয়ে জড়োসড়ো ক্রিকেটারদের বিরক্তিকর সংবাদ সম্মেলনের ভিড়ে সাকিব আল হাসান যেন এক ঝলক তাজা বাতাস!