Wednesday, July 5, 2017

রণবীর-কাটরিনার নগ্ন ছবি নিয়ে তোলপাড়

কাচের ওপারে রণবীর কাপুরের মুখ স্পষ্ট। যতদূর দেখা যায়, গায়ে কোনও পোশাক নেই নায়কের। ঠিক তাঁর পাশটিতে যিনি বসে, গাড়ির কাচে আলো পড়ার দরুণ তাঁর মুখ অনেকটাই ঝাপসা। তবে সিনেপ্রেমীদের বুঝতে অসুবিধা হয় না যে তিনি কাটরিনা কাইফ। তাঁর পরনেও বেশভূষা বেশ এলেমেলো। সম্প্রতি এমনই এক নগ্ন ছবিকে ঘিরে সরগরম  নেটদুনিয়া। তাঁদের বিচ্ছেদ ঘিরে দেদার খবর প্রকাশ হয়েছে। এই সেদিন দীপিকাকে টপকে রণবীরের জীবনে প্রবেশ করেছিলেন কাটরিনা। কটাদিন বেশ ভালই কেটেছিল। অন্তত নায়ক-নায়িকার হাবেভাবে তাই-ই মনে হয়েছিল। কিন্তু সুখের দিন বেশিদিন টেকেনি। পারিবারিক কারণে হোক বা অন্য যা কিছু, সম্পর্কের গাঁটছড়া ছিড়েছে। তাতে অবশ্য প্রফেশনাল সম্পর্কে  কোনও প্রভাব পড়েনি। রণবীর কাপুরই বোধহয় সেই অভিনেতা, যিনি ব্রেকআপের পরও তার দুই প্রাক্তন প্রেমিকার সঙ্গে কাজ করলেন। এর আগে দীপিকার সঙ্গে তার ছবি সুপারহিট হয়েছিল। এবার পালা কাটরিনার। ‘জগ্গা জাসুস’ ছবিতে রণবীর-কাটরিনাকে একসঙ্গে দেখা যাবে। তার প্রমোশনে বিভিন্ন স্থানে হাজিরও হচ্ছেন দুজনে। এর মধ্যেই শোরগোল নতুন এই ছবিকে ঘিরে। নানামহলের প্রশ্ন, তবে কি এই ঘনিষ্ঠতা সম্পর্কের পুনর্জন্মের ইঙ্গিত দিচ্ছে?  কোথা থেকে এল ছবি। জানা যাচ্ছে, ‘জগ্গা জাসুস’ ছবিরই একটি গানের কারণে এভাবে ধরা দিয়েছিলেন নায়ক-নায়িকা। গায়ে জামা রাখেননি রণবীর। কাটরিনাও অনেকটাই নগ্ন।   সেভাবেই তৈরি হয়েছে গানের দৃশ্যটি। এই গানেরই বেশ কয়েকটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায়  প্রকাশ হয়েছে। তোলপাড় শুরু হয় নেটদুনিয়ায়। নগ্ন অবস্থায় রণবীর-কাটরিনাকে দেখা গিয়েছে, ভেবেই অনেকে অবাক হচ্ছেন। অনেকেই আবার এ ছবিতে তঁদের পারস্পরিক  কেমিস্ট্রি দেখে ভাবছেন, এদের ব্রেকআপ না হলেই হত। রণবীর এখনও কোনও নতুন সম্পর্কে জড়াননি। কাটরিনাও তাই। ছবি যে জল্পনার জন্ম দিয়েছে তা যদি সত্যি হয়ে ওঠে, তবে মন্দ কী!

যুক্তরাষ্ট্রে ছুটি কাটাচ্ছেন হৃতিক-সুজান!

বলিউড তারকা হৃতিক রোশন ও তার সাবেক স্ত্রী সুজান খান এখন যুক্তরাষ্ট্রে ছুটি কাটাচ্ছেন। এই ভ্রমণে তাদের সঙ্গে দুই ছেলে রিদান ও রিহানও আছে। বলিউড অভিনেত্রী সোনালি বেন্দ্রেকেও দেখা গেল তাদের দলে। সম্প্রতি এই অভিনেত্রী নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে অরলান্ডার ইউনিভার্সেল স্টুডিওতে তোলা একটি ছবি প্রকাশ করেছেন। সোনালি বেন্দ্রে সেই ছবির ক্যাপশন দিয়েছেন, ‘বন্ধু, আনন্দ। গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে ইউনিভার্সেল স্টুডিওতে।’ সেখানে শাহরুখ খানের ‘স্বদেশ’ ছবির নায়িকা গায়ত্রী ওবেরয়, সুজান খান ও হৃতিক রোশনকে দেখা গেছে তার সঙ্গে। হৃতিক-সুজানের বিচ্ছেদের কথা কে না জানে। তবু এর আগে ২০১৬ সালের শেষদিকে পরিবারের সঙ্গে কাটাতে বলিউড তারকা হৃতিক রোশন আর তার সাবেক স্ত্রী সুজান খান তাদের সন্তানদের নিয়ে দুবাইয়ে গিয়েছিলেন। এদিবে এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয়টি সুজান খান তার ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে অরলান্ডা ভ্রমণের বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন। তবে, হৃতিক আছেন এমন কোনো ছবি তাকে এখনো প্রকাশ করতে দেখা যায়নি। উল্লেখ্য, হৃতিক-সুজানের দেখানো পথে হাঁটছেন বলিউডের আরেক সাবেক দম্পতি। তারা হলেন আরবাজ-মালাইকা। এই ঈদে বলিউড অভিনেতা সালমান খানের বাড়িতে আয়োজিত ঈদ পার্টিতে সাবেক স্ত্রী মালাইকা অরোরা ও তার বোন অমৃতা অরোরার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সময় কাটাতে দেখা গেছে আরবাজ খানকে। এ বছরই আরবাজ-মালাইকার আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়েছে।

টেক্সাসে নাচের স্কুল চালান মীনাক্ষী শেষাদ্রি

১৯৯৬ সালের পর বড় পর্দায় আর দেখা যায়নি তাকে। সিনেমাতো ছেড়েছেনই। সেসঙ্গে দেশও। বলা হচ্ছে বলিউডের একসময়ের দাপুটে নায়িকা মীনাক্ষী শেষাদ্রির কথা। নব্বইয়ের দশকে যার উজ্জ্বল উপস্থিতি দারুণভাবে চোখ টেনেছিল দর্শকদের। ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন মডেলিং দিয়ে। বড় পর্দায় পা রেখেছিলেন আশির দশকে। কিন্তু সাফল্যের মধ্যগগনে পৌঁছান নব্বইয়ের দশকে। ১৯৯৩ সালে ‘দামিনী’ ছবিতে তার অভিনয় কাঁপিয়ে দিয়েছিল সিনে জগতকে। ১৯৯৫-এ বিয়ে করেন হরিশ মেসোরকে। ১৯৯৬ সালে ‘ঘাতক’ ছবিতে সানি দেওলের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন মীনাক্ষী। ‘ঘাতক’ই তার শেষ ছবি। এরপরেই অভিনয় থেকে সরে গিয়েছিলেন মীনাক্ষী। তারপর থেকে সেভাবে আর কখনো সংবাদমাধ্যমের সামনেও আসেননি তিনি। এমনকি বলিউডে ফিরে আসার অফারও ফিরিয়ে দিয়েছেন একাধিকবার। নাচে বরাবরই পারদর্শী ছিলেন মীনাক্ষী। ‘হিরো’ ছবিতে তার ‘তু মেরা হিরো হ্যায়’ নাচটি সে সময় আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পেয়েছিল শুধু তার নাচের জন্যই। ‘দামিনী’ ছবিতেও তার নাচ আজও সিনেপ্রেমীদের মধ্যে অনেক জনপ্রিয়। বিয়ের পর থেকে টেক্সাসের প্লানো শহরেই তিন ছেলেমেয়ে আর স্বামীর সঙ্গে থাকেন মীনাক্ষী। সেখানে তিনি একটি নাচের স্কুল চালান। ভারতনাট্যম, কত্থক, ওড়িশি নাচের শিক্ষিকা হিসেবে সেখানে ব্যাপক জনপ্রিয় তিনি।

‘নগ্ন হতে আপত্তি নেই’

‘বেওয়াচ’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে হলিউডে অভিষেক হয় বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াংকা চোপড়ার। তবে তার আগেই ‘কোয়ান্টিকো’ সিরিজের মাধ্যমে হলিউডে একটি পরিচিতি পান এ অভিনেত্রী। এদিকে এরই মধ্যে ‘বেওয়াচ’ ছবিটি ভালো ব্যবসায়িক সফলতাও পেয়েছে। এ ছবিতে ভিক্টোরিয়া লিডস শীর্ষক চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে প্রশংসিত হয়েছেন প্রিয়াংকা। ব্যাপক খোলামেলা হয়েও এ ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। বেশ কয়েকটি দৃশ্যে বিকিনি পরে বেশ সাবলীলভাবে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন তিনি। কদিন আগেই প্রিয়াংকা বলেছিলেন, বিকিনি পরে সাগর পাড়ে অভিনয় করার সময় বেশ লজ্জা লাগছিল তার। কিন্তু অভিনয়ের জন্য সেটি করে গেছেন তিনি। তবে এবার সুর বদলালেন তিনি। অভিনয়ের জন্য নগ্ন হয়ে ক্যামেরাবন্দি হতেও আপত্তি নেই তার। সম্প্রতি হলিউডভিত্তিক একটি পত্রিকায় দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রিয়াংকা বলেন, অভিনয়ের জন্য সব করতে পারি আমি। কারণ আমার পেশাই এটা। অনেকেরই হয়তো চোখ বড় হয়েছে ‘বেওয়াচ’-এ আমার খোলামেলা রূপ দেখে। কিন্তু আমি বিষয়টি নিয়ে হ্যাপি। সত্যি বলতে অভিনয়ের জন্য নগ্ন হতেও আমার আপত্তি নেই। যদিও অযথাই নগ্ন হওয়াটা আমার পছন্দ নয়। তবে চরিত্রের প্রয়োজনে এটা করাই যায়। এদিকে প্রিয়াংকার এমন বক্তব্য নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। বিশেষ করে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো ফলাও করে প্রচার করছে এ সংবাদটি। যার মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় আসলেন প্রিয়াংকা।

চীন-ভারত দ্বন্দ্বের শুরু যে কারণে

চার সপ্তাহ যাবত ভারত ও চীনের মধ্যেকার সীমান্তে দুদেশের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা চলছে। উভয় দেশের মাঝে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। সীমান্ত বিরোধী নিয়ে ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধও হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও বিভিন্ন জায়গায় বিরোধ এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে এবং মাঝে-মধ্যেই সেটি মাথাচাড়া দেয়। চীন, ভুটান আর ভারতের সিকিম প্রদেশের সংযোগস্থলে একটি উপত্যকার ভেতর দিয়ে রাস্তা তৈরি করাকে কেন্দ্র করে নতুন বিরোধের সূচনা। চীন চায় সেখানে একটি রাস্তা তৈরি করতে। কিন্তু যে জায়গাটিতে চীন রাস্তা তৈরি করতে চাইছে সেটি ভুটান ও চীনের মধ্যকার একটি বিরোধপূর্ণ এলাকা। সে উপত্যকাকে চীন এবং ভুটান-উভয় দেশই দাবি করে। এক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান ভুটানের পক্ষে। ভারত মনে করে, চীন যদি এ রাস্তাটি তৈরি করে তাহলে কৌশলগতভাবে ভারত পিছিয়ে পড়বে। এ রাস্তাটির মাধ্যমে চীন এমন একটি জায়গায় পৌঁছে যাবে যেটি ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
চীন এমন জায়গায় সড়ক নির্মাণ করতে চাইছে যার পাশেই ভারতের ২০ কিলোমিটার চওড়া একটি করিডোর আছে। এ করিডোরের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলো মূল ভারতের সাথে সংযোগ রক্ষা করে। উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে উভয় দেশ সীমান্তে তাদের সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে এবং একটি মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে সড়ক নির্মাণ না করার জন্য ভুটানের তরফ থেকে চীনকে আহবান জানানো হয়েছে। ভুটান বলছে, এ ধরনের সড়ক নির্মাণের মধ্য দিয়ে চীন আন্তর্জাতিক চুক্তির লঙ্ঘন করছে। ভারত মনে করে সিকিম রাজ্যটি তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সিকিম অঞ্চলের মধ্য দিয়ে ভারত চীনের যে কোন আগ্রাসনের জবাব দিতে পারে। চীন এ বিষয়টি অনুধাবন করতে পারে বলেই সেখানে তাদের কৌশলগত অবস্থান

পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ সুইটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি

চলমান সফরে ইসরাইলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে যে সুইটে রাখা হয়েছে, সেটি এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ সুইট। হ্যাঁ, কিং ডেভিড হোটেলের ডিরেক্টর শেলডন রিৎজ ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, ‘বোমা, রাসায়নিক-সহ যে কোনো হামলা বা বিস্ফোরণ থেকে নিরাপদ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সুইট।’ এই গ্রহে ওই সুইটের চেয়ে নিরাপদ জায়গা আর নেই। রিৎজের কথায়, ‘যদি গোটা হোটেলেও বোমা বিস্ফোরণ হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর সুইট স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি পডের মধ্যে ঢুকে পড়বে। এবং তা অক্ষত থাকবে।’ জেরুসালেমের ওই বিলাসবহুল হোটেলটি মোদির জন্য পুরোপুরি খালি করে দেওয়া হয়েছে।
১১০টি ঘরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে শুধুমাত্র ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের জন্য। রিৎজ বলছেন, ‘আমরা এই শতাব্দীর সব মার্কিন রাষ্ট্রপতির আপ্যায়ন করেছি। ক্লিনটন, বুশ, ওবামা ও সপ্তাহ তিনেক আগে ট্রাম্প। এবার আমরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আপ্যায়ন করছি।’ মোদি যেহেতু শাকাহারি, তাই তার সুইটে যেসব কুকিজ পাঠানো হচ্ছে, তা ডিম ও সুগারলেস। এমনকী সেই ফুলই রাখা হচ্ছে ঘরে, যা প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের ব্যক্তিগত পছন্দের। প্রধানমন্ত্রীর জন্য হোটেলে আলাদা রান্নাঘরের বরাদ্দ করা হয়েছে, যাতে হঠাৎ প্রধানমন্ত্রীর কিছু খেতে ইচ্ছে করলেই যখন তখন তা তৈরি করে দেওয়া যায়।

চীন সীমান্তে ভারতীয় যুদ্ধবিমান নিখোঁজ

চীন সীমান্তের ‌অরুণাচল প্রদেশের কাছে তিন সদস্যকে নিয়ে নিখোঁজ ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিমান। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, অরুণাচল প্রদেশের পাপুম পারে জেলার সাংলির কাছে বিমানটির আর কোরো খোঁজ পাওয়া যায় না। সাংলিতে বন্যা দুর্গতদের উদ্ধার করতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর এই বিমানটি পাঠানো হয়েছিল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল সম্বিত ঘোষ জানান, সাংলিতে উদ্ধার কার্যের আগেই দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ অ্যাডভান্স লাইট হেলিকপ্টারের (‌এএলএইচ)‌ সঙ্গে ওই বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইটানগরে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী প্রেমা খাণ্ডু গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। বিমানবাহিনীর বিমানটির খোঁজ করছে পুলিস–প্রশাসন। নিখোঁজ বিমানটির বিষয়ে গ্রামবাসীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সূত্র : ওয়েবসাইট

আরবদের তেল অবরোধ যেভাবে সঙ্কটে ফেলেছিল পশ্চিমা দেশগুলোকে

১৯৭৩ সালে তেল রফতানিকারী আরব দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু শিল্পোন্নত দেশের বিরুদ্ধে তেল নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে ইসরাইলকে সমর্থন দেয়ায় তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছিল। এর পরিণামে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল কয়েকগুণ। যার সুদুরপ্রসারী প্রভাব পড়েছিল বিশ্ব রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে। ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে বিশ্বের তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণের জন্য শুরু হলো এক নতুন লড়াই। তেল উৎপাদনকারী আরব দেশগুলো তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা শুরু করার পর আতংক ছড়িয়ে পড়লো শিল্পোন্নত দেশগুলোতে। সৌদী আরবের তেলমন্ত্রী আহমেদ জাকি ইয়ামানি ঘোষণা করলেন, একেবারে পানির দামে জ্বালানি তেল পাওয়ার দিন শেষ। তিনি বললেন, বিশ্বে এক নতুন যুগ শুরু হতে যাচ্ছে। জ্বালানী তেলের যে বাজার মূল্য, তার চেয়ে কম দামে যদি কেউ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে তেল কিনতে চায়, সেটা আর হবে না। বিংশ শতাব্দীর বেশিরভাগ সময় জুড়ে বিশ্বের তেলের বাজার একচেটিয়াভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে সাতটি বড় পশ্চিমা তেলকোম্পানীর এক জোট। এদেরকে বলা হতো সেভেন সিস্টার্স। বিশ্বের ৮৫ শতাংশ তেলের রিজার্ভ ছিল তাদের নিয়ন্ত্রণে। এরাই তেলের দাম ঠিক করতো, এরাই কৃত্রিমভাবে তেলের দাম কমিয়ে রাখতো। কিন্তু ৫০ এর দশক থেকে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো তেলের দাম নির্ধারণে তাদের অধিকার দাবি করলো। ১৯৬০ সালে সৌদী আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত এবং ভেনেজুয়েলা গঠন করলো তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক। শীঘ্রই এতে যোগ দিল আরও অনেক দেশ। ১৯৭৩ সালে ডক্টর ফাডহিল চালাবি ছিলেন ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের পার্মানেন্ট আন্ডার সেক্রেটারি। ইরাক তখন মাত্র তাদের তেল শিল্প জাতীয়করণ করেছে। কার্যত ইরাকের পুরো তেল শিল্পের দায়িত্ব তাঁর ওপর: "তেলের বাজার নিয়ে আগে যা চলছিল, আমি তার বিপক্ষে ছিলাম। কারণ এই ব্যবস্থাটা তেলউৎপাদনকারী দেশগুলোর স্বার্থের পক্ষে ছিল না। এতে তারা বঞ্চিত হচ্ছিল। কারণ তেলের দাম ছিল খুবই সস্তা।" আরব দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েলের পক্ষ নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তার পরেই শুরু হয় আরবদের তেল অবরোধ। ওপেক সিদ্ধান্ত নিল যে তারা তেল শিল্পের জন্য একটা নতুন নীতি অবলম্বন করবে। তারা ঠিক করলো, তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোই তেলের দাম নির্ধারণ করবে, সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত সাতটি তেল কোম্পানি নয়। ১৯৭৩ সাল নাগাদ ওপেকের চাপের মুখে তেল কোম্পানিগুলোকে অনেক ছাড় দিতে হলো। তখন যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিম ইউরোপ আর জাপানে তেলের চাহিদা বছর বছর বাড়ছে। সে বছরই ওপেকের এর বৈঠকে ডক্টর ফাডহিল চালাবি তেলের দাম এক লাফে ৭০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেন। কিন্তু তেল কোম্পানি গুলো এই প্রস্তাব শুনে আঁতকে উঠলো। ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে ভিয়েনায় ওপেকের এক তেল মন্ত্রীদের এক বৈঠক ডাকা হলো, সেখানে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু তখনই অপ্রত্যাশিতভাবে শুরু হলো এক যুদ্ধ, যা সব কিছুর মোড় ঘুরিয়ে দিল। ডক্টর ফাডহিল চালাবি বলেন, " ভিয়েনায় যাওয়ার আগে আমার সঙ্গে সাদ্দাম হোসেনের খুবই ঘনিষ্ঠ এক লোকের সঙ্গে দেখা হলো। তার সঙ্গে কথাবার্তা থেকে আমি ধারণা পেলাম যে একটা যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে। তিনি আমাকে বললেন, খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা কিছু ঘটতে যাচ্ছে।" ১৯৭৩ সালের ৬ অক্টোবর মিশর এবং সিরিয়া যুদ্ধ শুরু করলো ইসরাইলের বিরুদ্ধে। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধে যে ভূমি তারা হারিয়েছিল, সেটা পুনর্দখল তাদের লক্ষ্য। শুরুতে এই যুদ্ধে আরব সেনাবাহিনী বেশ ভালোই করছিল। যখন এই যুদ্ধ চলছে, তখন ভিয়েনায় তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ওপেকের বৈঠকে চলছে অচলাবস্থা। তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে কোন সমঝোতা হলো না। তাই তেল মন্ত্রীরা কুয়েতে আরেকটি বৈঠকে বসলেন। সেখান ১৯৭৩ সালের ১৬ই অক্টোবর তারা এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিলেন। এই প্রথম তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো তেল কোম্পানিগুলোকে বাদ দিয়ে একতরফাভাবে তেলের দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলো। শুধু তাই নয়, তারা তেলের দাম ৭০ শতাংশ বাড়ানোরও ঘোষণা দিল। বিশ্ব রাজনীতিতে আরব দেশগুলো শক্তিশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো। সৌদি তেলমন্ত্রী জাকি ইয়ামানি হয়ে উঠলেন তাদের মুখপাত্র। "এই প্রথম তেল কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ক্ষমতা চলে গেল ওপেকভুক্ত তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর হাতে। আমি স্বভাবতই এতে খুশি হলাম। কারণ ওপেকের ভিয়েনা বৈঠকে এর আগে আমি যে প্রস্তাব করেছিলাম, তাই এখন ঘটলো", বলছিলেন ডক্টর চালাবি। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকলো না ওপেক। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে তেল সম্পদকে একটি কার্যকর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের কথা চলছিল বহুদিন ধরে।
১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে বিষয়টা আবার আলোচনায় চলে আসলো। যুদ্ধ শুরুর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র যখন ইসরায়েলে জরুরী সামরিক সাহায্য পাঠাতে শুরু করলো, আরব দেশগুলো সিদ্ধান্ত নিল, এবার তাদের একটা কিছু করতে হবে। ওপেকের আরব তেল মন্ত্রীরা কুয়েতে থেকে গেলেন, এবং পরদিন ১৭ই অক্টোবর তারা আবার বৈঠকে বসলেন। এই বৈঠকে সৌদী আরবের তেলমন্ত্রী ইসরায়েলের মিত্র দেশগুলোতে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার প্রস্তাব দিলেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং নেদারল্যান্ডসে, যারা ইসরায়েলে জরুরী ভিত্তিতে সামরিক সাহায্য পাঠিয়েছে। ইরাক অবশ্য তেল নিষেধাজ্ঞার চেয়ে আরও কঠোর ব্যবস্থার প্রস্তাব দিল। ডক্টর চালাবি জানান, তাদের প্রস্তাব ছিল, সমস্ত আরব দেশে যেসব মার্কিন তেল কোম্পানি আছে, সেগুলো জাতীয়করণ করা। "আমাদের তেলমন্ত্রী হামাদি বললেন, এই নিষেধাজ্ঞার আমরা বিরোধিতা করছি এই কারণে যে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের খুব একটা ক্ষতি হবে না, এতে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোই বেশি ভুগবে। যদি সত্যি সত্যি আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে একটা জবাব দিতে চাই, আমাদের উচিত তাদের সব তেল কোম্পানি জাতীয়করণ করা। কিন্তু ইরাকের এই প্রস্তাব অন্যদেশগুলো গ্রহণ করলো না।" ১৯৭৩ সালের ১৭ অক্টোবরের ঐ বৈঠকের পরিবেশটা কেমন ছিল? ডক্টর চালাবি জানাচ্ছেন, তেল নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সৌদী আরব এবং কুয়েতের নেতৃত্বে জোরালো সমর্থন দেখা গেল। তবে ডক্টর চালাবি ব্যক্তিগতভাবে এরকম নিষেধাজ্ঞার বিরোধী ছিলেন : "আমি এর বিরুদ্ধে ছিলাম। কিন্তু এটি ছিল খুব স্পর্শকাতর একটি রাজনৈতিক বিষয়। কাজেই যখন আমি আমার মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছিলাম, তখন আমাকে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হয়েছে। আমি ইরাকের বাথ পার্টির সদস্য ছিলাম না, কাজেই আমার অবস্থান ছিল খুব নাজুক। কিন্তু তারপরও আমি ঝুঁকি নিলাম এবং আমার মন্ত্রীকে বললাম, এটা পুরো বিশ্বের তেল শিল্পে একটা অস্থিরতা তৈরি করবে। যথারীতি আমার মন্ত্রী কিছু্ই বললেন না।" ইরাক ছাড়া ওপেকের বাকী সব আরব সদস্য যুক্তরাষ্ট্র এবং নেদারল্যান্ডসে তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দিতে রাজী হলো। দিনে দিনে এই নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা হলো। এর আওতায় এলো পর্তুগাল এবং দক্ষিণ আফ্রিকাও। এসব কিছুর ফলে তেলের দাম বেড়ে গেলো চার গুন, কোনো কোনো দেশে তারও বেশি। পশ্চিমা দেশগুলোতে তেলের তীব্র সংকট দেখা দিল। পেট্রোল পাম্প গুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন। তেল রেশনিং করা শুরু হলো। যুক্তরাষ্ট্রে এমনটি ঘন্টায় ৫৫ মাইলের বেশি গতিতে গাড়ী চালানোর ওপর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলো। এবারে সত্যি সত্যি পানির দরে তেল কেনার যুগের অবসান ঘটলো। সৌদি আরবের তেল মন্ত্রী শেখ আহমেদ জাকি ইয়ামানি বললেন, ইসরাইল যদি সব আরব ভূমি থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়, তবেই কেবল এই নিষেধাজ্ঞা তোলা হবে, তার আগে নয়। তারপরেই কেবল বিশ্ব ১৭ অক্টোবরের আগের দরে তেল পাওয়ার আশা করতে পারে। বিশ্বে এই প্রথম এক শক্তিশালী জোট হিসেবে আবির্ভূত হলো তেলরফতানিকারী আরব দেশগুলো। সৌদি তেল মন্ত্রী শেখ আহমেদ জাকি ইয়ামানি হয়ে উঠলেন তাদের মুখপাত্র। তিনি ঘোষণা করলেন, "আমাদের নীতি হচ্ছে, আমরা তেলের দাম বাড়াবো, তবে সেটা যুক্তিসঙ্গত হারে।" একজন সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করলেন, যদি তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি দশডলার করা হয়, তাতে পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়ব, তাদের শত কোটি ডলারের ক্ষতি গুনতে হবে। ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতে এর কি প্রভাব পড়বে, সেটা কি তিনি ভেবে দেখেছেন। জবাবে শেখ আহমেদ জাকি ইয়ামানি বললেন: "তাহলে আপনার পরামর্শটা কি? আমাদেরকে কি আপনি আমাদেরকে বাজার মূল্যের চেয়ে কমে তেল বিক্রি করতে বলছেন। আপনি নিশ্চয়ই আমাদেরকে তা করতে বলছেন না। সেটাই আমি ধরে নেব। আর আপনি যদি এই সংকট নিয়ে আমাদেরকে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে বলেন, সেজন্য আমরা প্রস্তুত আছি।" হঠাৎ করে তেলের এই উচ্চ মূল্যে নাটকীয়ভাবে বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্যে একটা পরিবর্তন নিয়ে এলো। শিল্পোন্নত পশ্চিমা বিশ্ব এতদিন যে একচ্ছত্র ক্ষমতা এবং কর্তৃত্ব দেখিয়ে এসেছে, তাদের জন্য এ ছিল এক বিরাট ধাক্কা। এই তেল নিষেধাজ্ঞা বজায় ছিল ১৯৭৪ সালের শুরু পর্যন্ত। কিন্তু ওপেক তেলের দাম বাড়িয়েই চললো এবং তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো বিপুল সম্পদশালী হয়ে উঠলো। কিন্তু ডক্টর চালাবি মনে করেন, তেলের এই উচ্চ মূল্য আসলে শেষ পর্যন্ত ওপেকের জন্য ভালো হয়নি। এটা শেষ পর্যন্ত পশ্চিমা তেল কোম্পানিগুলোর স্বার্থের পক্ষেই গেছে। কারণ তারা বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে তেলের নতুন উৎস খুঁজছিল। তেলের উচ্চমূল্য এখন তাদের এই নতুন প্রকল্পগুলোকে লাভজনক করে তুললো। "তেলের এই উচ্চমূল্যের ফলে তেল কোম্পানিগুলো অন্যত্র তেলের সন্ধান শুরু করলো। যেমন ধরুণ নর্থ সী-তে। বিশ্বের নানা জায়গায় তেলের অনুসন্ধান শুরু হলো। উত্তর আফ্রিকায়, ল্যাটিন আমেরিকায়, যুক্তরাষ্ট্রে। আমি বলেছিলাম, তেলের উচ্চমূল্য থেকে তাৎক্ষিণভাবে হয়তো ওপেক দেশগুলো লাভবান হবে। কিন্তু এর পরিণামে পরবর্তীকালে বিশ্ববাজারের তেলের সরবরাহে ওপেকের গুরুত্ব কমে যাবে। শেষ পর্যন্ত কিন্তু সেটাই হয়েছে।" সূত্র : বিবিসি

কবর থেকে উদ্ধার জীবন্ত সদ্যোজাত

কবর থেকে উদ্ধার হল জীবন্ত সদ্যোজাত শিশু! ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশে। খবরে প্রকাশ, সোমবার বারওয়ানি জেলার ঘুস গ্রামে কবরস্থানের পাশে খেলা করছিল কয়েকজন বালক। এমন সময়ে তারা একটি শিশুর কান্না শুনতে পায়। সঙ্গে সঙ্গে তারা গ্রামে গিয়ে খবর দেয়। গ্রামের বাসিন্দা ৩২ বছরের শের সিংহ জানান, তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন মাটির নিচ থেকে এক শিশুর কান্নার আওয়াজ আসছে। শের সিংহের দাবি, তিনি স্ত্রী-র সঙ্গে মিলে একটি জায়গায় মাটির তাল সরিয়ে জীবন্ত অবস্থায় ওই সদ্যোজাত শিশুপুত্রকে উদ্ধার করেন। শের সিংহ বলেন, মাটির মাত্র এক ফুট নিচে কবর দেওয়া হয়েছিল শিশুটিকে। উদ্ধারের পর খবর দেয়া হয় পুলিশ ফাঁড়িতে। পরে, শিশুটিকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার টি এস বাঘেল জানান, শিশুটির বাবা-মার খোঁজ করা হচ্ছে। এদিকে, শিশুটিকে দত্তক নিতে চেয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন শের সিংহ ও তাঁর ২৮ বছরের স্ত্রী সুনীতা। জেলা হাসপাতালের শিশু-বিশেষজ্ঞ রূপসিংহ ভাডালে জানান, দেখে মনে হচ্ছে, শিশুটির বয়স ১০ দিন। তিনি বলেন, শিশুর গায়ে পোকার কামড়ের দাগ রয়েছে। এছাড়া, ঠান্ডা-জ্বরে আক্রান্ত ছোট্ট প্রাণ। তবে, বিপদের কিছু নেই বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

ভালুকায় ৩৪০ টাকার আমন বীজ ৭৫০ টাকা

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার সর্বত্রই আমন বীজের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। মোট চাহিদার চেয়ে বিএডিসির বীজের বরাদ্দ কম থাকায় এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের তদারকির অভাবে ৩৪০ টাকার প্রতি বস্তা আমন বীজ কৃষকদের কিনতে হচ্ছে ৭৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায়। খোঁজ নিয়ে ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভালুকার সর্বত্রই আমন বীজের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সুষ্ঠু বাজার তদারকি ও চাহিদার চেয়ে বিএডিসির আমন বীজের বরাদ্দ কম থাকায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে ১০ কেজির প্রতি বস্তা ব্রী ধান ৪৯ বীজ ৩৪০ টাকার স্থলে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আসন্ন মৌসুমে ভালুকা পৌরসভাসহ ১১ ইউনিয়নে ১৯ হাজার ৪৫ হেক্টর জমি আমন ধান আবাদের জন্য লক্ষমত্রাা নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মাঝে উফসি ১৬ হাজার ৫৮০ হেক্টর ও স্থানীয় দুই হাজার ৪৬৫ হেক্টর চাষাবাদ করার কথা এবং এতে উৎপাদন লক্ষমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন ধান। আর এই পরিমান জমির জন্য আমন বীজের চাহিদা দেয়া হয়েছিল ৪৭৭ মেট্রিক টন কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ৯৭.৭৫ মেট্রিক টন।
যা চাহিদার তুলনায় মাত্র ২০ ভাগ। পৌরসভাসহ ১১ ইউনিয়নে মোট ২৩ জন ডিলার যথা সময়ে এই বীজ উত্তোলন করে তা সরবরাহ করার কথা থাকলেও ১৬ জন ডিলার নির্ধারীত তারিখের শেষ সময়ে বীজ উত্তোলন করেছে। আগে আসলে আগে পাবে এই শর্তে ডিলারদের বীজ উত্তোলনের চিঠি দেয়া হলেও নির্ধারীত ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে সকল ডিলার বীজ উত্তোলন না করায় বরাদ্দকৃত ৯৭.৭৫ মেট্রিক টন বীজের মাঝে ৪০ মেট্রিক টন বীজ উত্তোলন করা সম্ভব হয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। ভালুকায় গত বোরো মৌসুমে জলাবদ্দতার সৃষ্টি হয়ে ও ব্লাস্টসহ বিভিন্ন পোকায় আক্রমনের কারণে ফলন কম হওয়ায় এমনিতেই ধান আবাদে কৃষকদের মনোবল অনেকটাই দুর্বল, আর আসন্ন আমন মৌসুমে বিএডিসির বীজ সংকট ও চড়া দামে তা কেনার কারণে আবাদের লক্ষমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উপজেলার চান্দাব গ্রামের কৃষক মফিজ উদ্দিন তালুকদার, শামছুদ্দিন, আব্দুস সাত্তার মড়ল এবং সোহাল গ্রামের রহিম সরকার ও আবুল হাসেনসহ অনেকেই জানান, ভালুকা বাজার থেকে ১০ কেজির প্রতি বস্তা আমন বীজ ৭০০ টাকায় কিনতে হয়েছে, হবিরবাড়ি ও মেদুয়ারী ইউনিয়নের বগাজান গ্রামের অনেক কৃষক একই অভিযোগ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক কৃষক জানান, বিএডিসির বীজের অভাব নেই, যদি টাকা ৭৫০ টাকা পকেটে থাকে। উপজেলার বগাজান গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান, উথুরা বাজারের ডিলারের দোকানে বিএডিসির বীজের অভাব নেই কিন্তু ৩৪০ টাকার স্থলে ৭৫০ বা ৮০০ টাকা দিয়ে ১০ কেজির এক বস্তা বীজ আনতে হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার সর্তে এক ডিলার জানান, চাহিদার চেয়ে যে পরিমাণ বিএডিসির বীজের বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। তাই বিভিন্ন উপজেলা থেকে বেশি দামে বীজ সংগ্রহ করে ডিলারগণ এই উপজেলার কৃষকদের সরবরাহ করে যাচ্ছেন। তারপরও চাহিদা মেটাতে না পারায় বেসরকারী সংস্থার বীজ দিয়ে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: সাইফুল আজম খান জানান, আসন্ন আমন মৌসুমে ভালুকায় আমন বীজের চাহিদা দেয়া হয়েছিল ৪৭৭ মেট্রিক টন কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ৯৭.৭৫ মেট্রিক টন। যা চাহিদার তুলনায় মাত্র ২০ ভাগ। আর ৮০ ভাগ বীজের চাহিদা মেটাতে হচ্ছে বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থার বীজ দিয়ে। এক প্রশ্নের জাবাবে কৃষি অফিসার জানান, যে সকল ডিলার বীজ উত্তোল করেননি, তাদের ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নোট দেয়া হবে।

রংপুর সিটি মেয়রের ওপর হামলায় মানববন্ধন

সিটি মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টুর ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার নগরীতে দাবী আদায়ে মানববন্ধন হয়েছে। এসময় সিটি মেয়র অভিযোগ করেছেন আগামী নির্বাচন থেকে বিরত রাখতেই তার ওপর হামলা হয়েছে। হামলাকারী জেএমবি অথবা জঙ্গি সদস্য হতে পারে। রংপুর থেকে সরকার মাজহারুল মান্নানের প্রতিবেদন। রোববার আসরের নামাজের পর নিজ বাড়ির সামনে একটি ফার্নিচারের দোকানে গল্পরত মেয়রের ওপর হামলা চালায় সাদ্দাম নামের এক যুবক। উপস্থিত লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে দেয়। এ ঘটনার পর প্রথম আন্দোলনে যায় সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একারনে সোম ও মঙ্গলবার করপোরেশনে কোন কাজ হয় নি। বুধবার এ ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠে রংপুর। শাপলা চত্বর থেকে সিটি করপোরেশন গেট পর্যন্ত মানববন্ধনে অংশ নেন হাজার হাজার মানুষ। তারা এ ঘটনার পেছনের কারন ও  কারা জড়িত তা জনসমুখে প্রকাশের দাবি জানান। এসময় সিটি মেয়র ছাড়াও কাউন্সিলরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা  ঘটনার মাস্টারমাইন্ডদের সনাক্ত না করায় আশংকা প্রকাশ করেন কাউন্সিলরার। এদিকে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে অংশগ্রহনকারীদের সাথে হাত মেলান মেয়র। এসময় আবেগঘন বক্তৃতায় বলেন,  মেরে ফেলার জন্যই হামলা চালানো হয়েছিল। হামলাকারী যুবক জঙ্গি অথবা জেএমবি সদস্য হতে পারে। নির্বাচন থেকে দুরে রাখতেই এই হামলা করা হয়েছে। কারন ৭ ফুট দুর থেকে আমার বুকে লাথি মারা হয়েছে। আমি পড়ে গেলে আমাকে মেরে ফেলতো। হামলার ঘটনায় মেয়রের একান্ত সচিব বাদী হয়ে মামলা করেন। পুলিশ আদালতের মাধ্যমে আটক যুবককে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে এখনও কোন ক্লু উদ্ধার হয় নি।

মনোহরগঞ্জে ছাত্রদল কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে কাজী ইউসুফ (১৮) নামে এক ছাত্রদল কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার ঝলম উত্তর ইউনিয়নের লাল চাঁদপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইউসুফ ওই এলাকার ওয়াদুদ মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামছুজ্জামান জানান, ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে একই গ্রামের রহমত নামের এক ব্যক্তি ধারালো ছুরি দিয়ে ইউসুফকে আঘাত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

নওগাঁয় ৬টি আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে ব্এিনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যাপক তৎপর হয়ে উঠেছেন। আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোসয়স পেতে এলাকার নেতাকর্মী,এলাকাবাসীসহ দলীয় হাইকমান্ডের ব্যাপক দৌড়-ঝাপ করছেন।যারা মাঠে ব্যাপক দৌড়-ঝাপ তারা হলেন,নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি,নওগাঁ পৌরসভার পরপর দুইবার মেয়র ও কেন্দ্রীয় বিএনপির অন্যতম সদস্য নজমুল হক সনি,কেন্দ্রীয় বিএসপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক কর্ণেল (অব:) আব্দুল লতিফ খান,জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধুলু,জেলা বিএসপির সহ সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী,সাবেক এমপি ও নিয়ামতপুর থানা বিএনপির সভাপতি ডা: ছালেক চৌধুরী, সাপাহার থানা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ(অব:) আব্দুন নুর এবং বদলগাছী থানা বিএনপির সভাপতি,সাবেক ছাত্রনেতা ও তরুণ নেতা ফজলে হুদা বাবুল। গত মে মাস থেকে মনোনয়ন প্রাপ্তির আশায় সম্ভাব্য প্রার্থীদেও তৎপরতা বেড়ে যায়। গোটা রমজান মানে প্রার্থীদের পদাচারণায় মুখরিত হয় গোটা নওগাঁয়। হাইকমান্ডের যোগাযোগের পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকার জনবহুল স্থলে গণসংযোগ চালাচ্ছে।নেতাকর্মীদের নিয়ে কর্মীসভা,ইপতার মাহফিল,আলোচনাসভা,নেতাকর্মীনহ সকল জনসাধারণের মাঝে বিএনপির চেয়ারপারর্সন বেগম খালেদা জিয়ার ছবি সম্বলিত ভিশন-২০৩০ একটি বই বিতরণ করছেন। তবে সাবেক ডেপুটি স্পীকার আখতার হামিদ সিদ্দিকী অসুস্থতার কারণে তিনি মাঠে থাকতে পারছেন না বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। বিএনপির দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটার বিশেষ করে যুবক ভোটাররা প্রার্থী বাছাইয়ে নতুন মুখ ও তরুণ নেতাদের বেশি পছন্দ করছেন।
আসন ভিত্তিক সম্ভাব্য প্রার্থীদেও নামের তালিকা:-
নওগাঁ-১(সাপাহার,পোরশ,নিয়ামতপুর),সাপাহার,পোরশা ও নিয়ামতপুর থানা নিয়ে নওগাঁ-১ আসন গঠিত। এ আসন বিএনপির ঘাঁটি। এ আসনে আগামী নির্বাচনে যারা মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে,তারা হলেন,সাবেক এমপি ও নিয়ামতপুর থানা বিএনপির সভাপতি ডা: ছালেক চৌধুরী। তিনি এ আসন থেকে পরপর তিনবার নিবৃাচিত হয়েছেন। তিনি তার নিবৃাচনী ্এলাকায় দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি আবারো এ আসন থেকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন। সাপাহার থানা বিএনপির সভাপতি ও অধ্যক্ষ (অব:) আব্দুন নুর এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন। তিনি মনোনয়ন পাওযার আশায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। গণসংযোগ,কর্মীসভা,নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগসহ হাইকমান্ডের সাথে লবিং রক্ষা কওে চলেছেন। এছাড়া পোরশা থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদরানা ও মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও মনোনয়ন প্রত্যাশী।
নওগাঁ-২(পতœীতলা,ধামুরইহাট) পতœীতলা ও ধামুরইহাট থানা নিয়ে নওগাঁ-২ আসন গঠিত। কেন্দ্রীয় কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি সামসুজ্জোহা খান এ আসন থেকে এবার আবারো মনোনয়ন চাইবেন। নওগাঁ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা তরুণ নেতা খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরি আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন্ । তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে প্রতিবারই মনোনয়ন চেয়ে আসছেন। এবার মনোনয়ন পাওয়ার আশার দীর্ঘদিন থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। গণসংযোগ,দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ,কর্মীসভাসহ পাশাপাশি হাইকমান্ডের সাথে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। নওগাঁ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লিটন ও আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন।
নওগাঁ-৩(মহাদেবপর,বদলগাছী),মহাদেবপুর ও বদলগাছী থানা নিয়ে নওগাঁ ৩ আসন গঠিত। এ আসন থেকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন সাবেক ডেপুটি স্পীকার ও চেয়ারপারর্সনের উপদেষ্টা ও মহাদেবপুর থানা বিএনপির সভাপতি আখতার হামিদ সিদ্দিকী নানউ। তিনি এ আসন থেকে পরপর তিনবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি অসুস্থ হওয়ায় তার ছেলে মহাদবপুর থানা বিএনপির সদস্য আরেফিন সিদ্দিকী জনি বাবর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন। এ আসন থেকে বদলগাছী থানা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা ও তরুণনেতা ফজলে হুদা বাবুল আগামী নির্বাচনে এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন। মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় তিনি রাতদিন নির্বাচনী মাঠে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। িিতনি মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে ২০০৪ইং সাল কাজ করে আসছেন। গত মে মাসের শুরু থেকে তিনি নির্বাচনী গণসংযোগ চালিয়ে আসছেন। তিনি ঈদুল ফিতর এ আগে ও পরে মহাদেবপুর ও বদলগাছী থানার বিএনপি,যুবষদল,স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ,তাদের নিয়ে কর্মীসভা,কর্মী,সমর্থক ও জনগণের মাঝে লুঙ্গি,খালেদা জিয়ার ছবি সম্বলিত ভিশন-২০৩০ একটি বই বিতরণসহ নানা কর্মীসূচী চালিয়ে যাচ্ছেন।
নওগাঁ-৪(মান্দ),মান্দা থানার ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে নওগাঁ-৪ আসন গঠিত। মান্দা থানা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি সামসুল আলম প্রামানিক আগামী নির্বাচনে এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন । জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল বারী টিপু ,কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বহিী কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা এম,এ মতিন ও জেলা বিএনপির সদস্য ইজ্ঞি:আক্কাস আলী এ আসন থেকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন।
নওগাঁ-৫(সদর),নওগাঁ সদর উপজেলা নিয়ে নওগাঁ সদর -৫ আসন গঠিত। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য,জেলা বিএনপির সভাপতি ও নওগাঁ পৌরসভার মেয়র নজমুল হক সনি এ আসন থেকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন। তিনি নওগাঁ পৌরসভা থেকে পরপর দুইবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশায় নিরলসভাবে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধুলু,কেন্দ্রীয় বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক কর্ণেল (অব:) আব্দুল লতিফ খান আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ার¤্রান ও সাবেক জেলা বিএনপি আহবায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু ও মনোনয়ন চাইবেন।
নওগাঁ-৬(আত্রাই-রানীনগর),আত্রাই ও রানীনগর উপজেলা নিয়ে নওগাঁ-৬ আসন গঠিত। রানীনগর থানা বিএনপির সভাপতি ্আনোয়ার হোসেন বুলু,জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা কমিটি সভাপতি এচহাক আলী ও সিরাজুল ইসলাম এ আসন থেকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী।

কালিয়াকৈরে তিনজনের ফাঁসির আদেশ

অটোরিকশাচালককে হত্যার দায়ে কালিয়াকৈর উপজেলায় তিনজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন গাজীপুরের একটি আদালত। এ সময় তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন আলমগীর হোসেন, দেলোয়ার হোসেন ও মেহেদী হাসান বাবু।  আজ বুধবার বেলা ১১টায় গাজীপুরের জেলা জজ এ কে এম এনামুল হক আসামিদের উপস্থিতিতে এ আদেশ দেন।  আদালতের (পিপি) জানান, ২০১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় কালিয়াকৈর থেকে অপহরণ করা অটোরিকশাচালক হায়দার আলীকে। এ সময় তাঁর অটোরিকশাটিও ছিনতাই করা হয়। পরের দিন পাশের এলাকা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। অপহরণের ঘটনার পর নিহতের ভাই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় বিচারকাজ শেষে আজ তিনজনের ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেন আদালত।

উজিরপুরে রাস্তার মাঝেই মা-মেয়ের শ্লীলতাহানি

বরিশালের উজিরপুর পৌর এলাকায় মা-মেয়েকে শ্লীলতাহানি ও মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে শ্লীলতাহানির শিকার ওই স্কুল ছাত্রীর মা নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় এবং রোববার (২ জুলাই) সকালে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা ঝুমুর বালার নিকট অভিযুক্ত চার বখাটের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তারা হলেন, পৌর এলাকার উত্তর রাখালতলা গ্রামের বাবুল বেপারীর বখাটে পুত্র শাওন বেপারী (২৩),হানিফ হাওলাদারের বখাটে পুত্র সেন্টু (২৪),মিন্টু ও লিটন হাওলাদার। স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মকবুল হাওলাদারের শিশু কন্যা ও শেরে বাংলা বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনির ছাত্রীকে (১৩) দীর্ঘদিন ধরে একই ওয়ার্ডের উত্তর রাখালতলা গ্রামের বাবুল বেপারীর বখাটে পুত্র শাওন প্রেম প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। প্রস্তাব প্রত্যাখান করলে বখাটে শাওন ওই স্কুল ছাত্রীকে প্রতিদিন স্কুলে ও প্রাইভেট পড়তে যাওয়া আসার পথে ইভটিজিং শুরু করে। পরে বিষয়টি ওই ছাত্রী তার মায়ের কাছে জানায়। কিন্তু ইজ্জতের কথা ভেবে ওই ছাত্রীর পরিবার বিষয়টি নিয়ে নিশ্চুপ হয়ে যায়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ জুন বিকাল ৩টার দিকে বখাটে শাওনদের বাড়ির পাশ্ববর্তী রাস্তা দিয়ে ওই স্কুল ছাত্রী তার মায়ের সাথে নানা বাড়ি যাচ্ছিল। পথিমধ্যে উত্তর রাখালতলা এলাকা অতিক্রমকালে বখাটে শাওনসহ তার সহযোগী সেন্টু ওই স্কুল ছাত্রীর হাত ধরে টানাহেচড়া ও শ্লীলতাহানি করে। তখন ওই ছাত্রীর মা প্রতিবাদ করলে শাওন ও সেন্টু তাকে মারধর করে। এ সময় তাদের ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসলে বখাটেরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই পরিবারটি পুরোপুরি আতংকগ্রস্থ হয়ে পরে। বখাটেদের আতংকে ওই ঘটনার দুই দিন পরে ২৯ জুন ওই ছাত্রীর মা ও তার ভাই একসাথে কালিরবাজার যায়। এ সময় পূর্বের হামলাকারী বখাটে সেন্টুর সহোদর লিটন এবং ওই এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবী-বিক্রেতা মিন্টু হাওলাদার তাদেরকে বেধরক মারধর করে। পরে স্থানীয়রা ধাওয়া দিলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করলে উজিরপুর মডেল থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলেন। উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সরোয়ার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রৌমারীতে ব্রষ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ব্যাপক নদী ভাঙ্গন

রৌমারীতে সপ্তাহ ব্যাপি টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে ব্রষ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেখা দিয়েছে ব্যাপক নদী ভাঙ্গন। উত্তরে সাহেবের আলগা হতে রাজিবপুর পর্যন্ত ব্রষ্মপুত্র নদ কূলীয় এলাকা জুড়ে দেখা দিয়েছে এমন ভাঙ্গন। এমন ভাঙ্গনে শত-শত একর ফসলী জমি,বসত ভিটা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেরী বাঁধ ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং আবাস স্থল হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার পরিবার। রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার ৩ লাখ মানুষের জীবনে একমাত্র অভিশাপ ব্রষ্মপুত্র নদ। আজ থেকে ১০বছর আগে ২টি উপজেলা শহর থেকে ব্রষ্মপুত্র নদের দুরত্ব ছিল ২০কিলোমিটার দুরে। ব্রষ্মপুত্র নদসহ ১৫টি নদ-নদী কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যমুনার সাথে মিলিত হয়েছে। যে নদ-নদীর ভাঙ্গনে সর্বশান্ত হয়েছে ৩টি উপজেলার মানুষ। এসব নদের ভয়াল থাবার কড়াল গ্রাস থেকে বসত বাড়ি ও ফসলী জমিজিরাত রক্ষার জন্য যুগযুগ ধরে আন্দোলন ও মানব বন্ধন করে আসছিল এ অঞ্চলের মানুষ।
কে শোনে এ অঞ্চলের মানুষের আত্তনার্ত। আজ আর এ অঞ্চলের মানুষ, বসত ভিটা জমিজিরাত বাঁচাতে চায়না। এখন বাচাতে চায় মাতৃভূমির মানচিত্র। যেভাবে দুর্বার গতিতে ভাঙ্গনের ফলে ধেয়ে আসছে ব্রষ্মপুত্র নদ, যার ভাঙ্গন রোধ না করলে, কয়েক বছরের মধ্যে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে রৌমারী রাজিবপুরের বসতী স্থাপনা। মিশে যাবে ভারতের আসাম সীমান্তের সাথে। বর্তমানে ব্রষ্মপুত্রের কিনার থেকে আসামের মানকার চরের দূরত্ব শুন্য থেকে ৭ কিলোমিটার। এবছর শুরুতেই ভাঙ্গনের মারাত্বক আকার ধারণ করেছে। গত ২দিন আগে যাদুরচরের দিঘলাপারা পাউবোর বেরী-বাঁধটি ভেঙ্গে নি¤œা অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বাঁধটি ভাঙ্গার কারনে ঝুকিতে পড়েছে উপজেলার একমাত্র ঢাকা গামী ডিসি সরকটি। বাঁধটি ভাঙ্গার খবর পেয়ে জেলা থেকে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম, সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে ভাঙ্গন কবলিত বাঁধটি পরিদর্শন করেন। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২৮-কুড়িগ্রাম ৪ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন এমপি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, রৌমারী উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবর রহমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্জ আজিজুর রহমান ও সরকার দলীয় নেতৃবৃন্দ। অত্র অঞ্চলের মানুষের প্রানের দাবী ব্রষ্মপুত্র নদের ভাঙ্গন থেকে রৌমারী ও রাজিবপুরকে রক্ষায় সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

কাঁঠালিয়ায় ব্রিজ ভেঙ্গে ৫ বছর ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার চেচঁরীরামপুর ইউনিয়নের বানাই মহিষকান্দি বাকের খালের ওপর আয়রন ব্রীজটি ভেঙ্গে ৫ বছর ধরে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে । ২০১২ সনের ৭ সেপ্টেম্বর সকাল বেলা হঠাৎ করেই ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়ে তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ব্রীজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া বানাই -পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া-মঠবাড়ীয়ার সাথে সড়ক পথের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কাঁঠালিয়া তফাজ্জল হোসেন (মানিক মিয়া) ডিগ্রি কলেজ, বানাই স্কুল এন্ড কলেজ, বানাই বালিকা বিদ্যালয়সহ ১০-১২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থীসহ প্রায় ২ লক্ষ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। স্কুল শিক্ষক বজলুর রশীদ খান খোকন বলেন ব্রীজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় ২০ কিলোমিটার ঘুরে ভান্ডারিয়া হয়ে কাঁঠালিয়ায় শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। এতে সময় অর্থ দুটিই অপচয় হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্রীজটি ভেঙ্গে সম্পুর্ন পানিতে ডুবে না যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগের সঙ্গে নৌ যোগাযোগও অনেকটা বন্ধ হয়ে গেছে। নদী সরু হয়ে নৌকা, ট্রলার ও লঞ্চ চলাচলেও বিঘœ ঘটছে। চেঁচরীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ফরাজী জানান, বিগত ৫-৬ বছর পূর্বে একটি কাঠ বোঝাই ট্রলারের থাক্কায় ব্রীজের তিনটি খুটি ভেঙ্গে যায়।
তখন থেকে ঝুকিপূর্ন ব্রীজটিতে হালকা যানবাহন চলাচল করলেও ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়টি এলজিইডি ও সড়ক জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীদের সাথে বহুবার যোগাযোগ করা হলেও কোন কাজ হয়নি। কাঁঠালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এম আর শওকত আনোয়ার জানান, সেতুটি বিধ্বস্ত হওয়ায় পুলিশের টহল গাড়ি নিয়ে বানাই পশ্চিম চেঁচরী, ভায়েলাবুনিয়া কালিশংকর এলাকায় যেতে না পারায় আইন শৃংখলা রক্ষা কাজ ব্যাহত হচ্ছে। কাঁঠালিয়া এলজিইডির প্রকৌশলী অমল চন্দ্র রায় জানান, ১৯৯২ সালে এলজিইডি এ সেতুটি নির্মান করে ১৯৯৮ সালে এ রাস্তাটি সওজের আওতায় চলে যাওয়ায় এ ব্রীজের দেখভাল করার দায়িত্ব এখন তাদের। ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম হামিদুর রহমান বলেন, ব্রীজটি নির্মাণের প্রাক্কলন এবং ডিজাইন চুরান্ত করে গত অর্থ বছরে মন্ত্রাণলয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও ব্রীজটি দ্রুত নির্মাণের জন্য সাংসদ বজলুল হক হারুন মহোদয় ডিও লেটার দিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই টেন্ডার আহবান করে দ্রুত ব্রীজটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

কক্সবাজারে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত : ঢলও পাহাড় ধসে মৃত্যু-২



ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষত না শুকাতে আবারো জেলার নিম্নঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ী ঢলের পানিতে উপকূলীয় এলাকা পানির সাথে একাকার হয়ে গেছে। বিপদসীমার উপর পানি চলাচল করছে। ঢলের পানি ও পাহাড় ধসে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। অবিরত বর্ষণে ভেঙে খানখান হয়ে গেছে চলাচলের রাস্তাঘাট। বসতবাড়ীতে ঢুকে পড়েছে ঢলের পানি। টানা বর্ষণে অনেক জায়গায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। উপড়ে গেছে গাছপালা-ক্ষেতখামার। স্বাভাবিকের চেয়ে বানি বেড়েছে ৪/৫ ফুট। ৩দিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে চকরিয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক। উপজেলার শতাধিক গ্রামের ৩ লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। পেকুয়া ও মহেশখালী উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় এবং পাহাড় থেকে পানি নিচের দিকে নেমে আসায় মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদ সামীর উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চকরিয়া শহরক্ষাবাধঁ হুমকির মূখে রয়েছে, যে কোন মূহুর্তে বড় ধরনের বিপদ আশংক্ষা রয়েছে বলে সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। মাতামুহুরীর নদীর তীরভর্তি ঘুণিয়া এলাকায় ৬টি বাড়ী নদীর গর্তে বিলীন হয়ে গেছে। অপরদিকে মাতামুহুরী নদী দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানিতে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা, মোরার পাড়া ও শীলখালী ইউনিয়নের হাজীর ঘোনা, মাঝের ঘোনা, জারুলবনিয়া গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। বরইতলি-মগনামা সড়কের ১কিলোমিটার অংশ (সালাউদ্দিন ব্রীজ এলাকা থেকে পঁহরচাদা মাদ্রাসা পর্যন্ত) পানিতে ডুবে থাকায় বন্ধ রয়েছে চকরিয়া-পেকুয়ার যান চলাচল। ১কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে গুনতে হচ্ছে ৩০-৪০টাকা ভাড়া। চকরিয়া থেকে পেকুয়া যেতে বিভিন্ন বাহনে স্বাভাবিকভাবে ভাড়া দিতে হয় ৪০টাকা। বর্তমানে মৌসুমি ভ্যান চালকরা যাত্রীদের জিম্মি করে আদায় করছেন এ অতিরিক্ত ভাড়া।আবহাওয়া অধিদফতর কক্সবাজার স্টেশনের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, রোববার সকাল থেকেই ভারি বর্ষণ শুরু হয়েছে। এটি মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অতি ভারি বর্ষণ হিসেবে অব্যাহত ছিল। রোববার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৩১ মিলিমিটার। এভাবে বর্ষণ আরও দুইদিন অব্যাহত থাকতে পারে। অতিবৃষ্টির তোড়ে জেলার মিঠাপানির তিন নদী চকরিয়ার মাতামুহুরি, ঈদগাঁওর ফুলেশ্বরী ও কক্সবাজারের বাঁকখালীতে নেমেছে পাহাড়ি ঢল। ঢলের তীব্রতায় ভেঙে গেছে ঈদগাঁওর রাবার ড্যাম এলাকার নদীর বাঁধ। এতে প্লাবিত হচ্ছে বৃহত্তর ঈদগাঁওর জালালাবাদ, ঈদগাঁও, চৌফলদন্ডী, পোকখালী ও ইসলামাবাদ এলাকার অর্ধশত গ্রামের রাস্তা-ঘাট, বাসা-বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলের মাঠ। ভাঙনের কবলে পড়েছে আভ্যন্তরীণ সড়কও। একই অবস্থা বিরাজ করছে কক্সবাজার শহরসহ চকরিয়া, পেকুয়াসহ বেশ কয়েক উপজেলার নিুাঞ্চল। ঢলের তীব্রতা বাড়তে থাকায় নামতে পারছে না সমতলের বৃষ্টির পানি। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়ছে জেলার নিুাঞ্চলের শতাধিক গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ। পাউবোর নিয়ন্ত্রণাধীন ২৭নং ¯¬ুইচ গেইটটি বন্ধ করে রাখায় উজান থেকে নেমে আসা পানি বের হতে পারছে না। পাউবোকে একাধিকবার তাগাদা দিলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় বৃহত্তর ঈদগাঁওর প্রায় অর্ধশত গ্রাম পানিবন্দি। অনেক স্থানে নদীর বেড়িবাঁধ ভাঙন শুরু হয়েছে। মেরামত সম্ভব হয়ে না উঠায় সহজে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। প্লাবিত হচ্ছে কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোন, ঝিলংজা ইউনিয়নের চান্দেরপাড়া, সদরের খরুলিয়া, দরগাহপাড়া, পোকখালীর মধ্যম পোকখালী, নাইক্ষংদিয়া, চৌফলদন্ডী, নতুনমহাল, ফুলছড়ি, ইসলামপুর, ঈদগাঁওর মাইজপাড়া, ভাদিতলা, ভোমরিয়াঘোনা, কানিয়ারছরা, ঈদগাঁও বাজার এলাকা, কালিরছড়া, রামুর উপজেলার ধলিরছরা, রামুর রশিদনগর, জোয়ারিয়ানালা, উত্তর মিঠাছড়ি, পূর্ব ও পশ্চিম মেরংলোয়া, চাকমারকুল, কলঘর, লিংকরোড়, চকরিয়ার উপজেলার খুটাখালী, চিরিঙ্গার ভাঙারমুখ, ফাঁসিয়াখালী, মালুমঘাট, ডুলাহাজারা ও পেকুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। প্লাবিত হয়েছে মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার অধিকাংশ নি¤œাঞ্চল। পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা, মোরার পাড়া ও শীলখালী ইউনিয়নের হাজীর ঘোনা, মাঝের ঘোনা, জারুলবনিয়া গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। বরইতলি-মগনামা সড়কের ১কিলোমিটার অংশ (সালাউদ্দিন ব্রীজ এলাকা থেকে পঁহরচাদা মাদ্রাসা পর্যন্ত) পানিতে ডুবে থাকায় বন্ধ রয়েছে চকরিয়া-পেকুয়ার যান চলাচল। চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী জানিয়েছেন, পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষেত্রপাল মন্দির এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মানাধীন তীর সংরক্ষন কাজ যথাসময়ে (জুন মাসে) শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। নদীতে ব্লক বসাতে দেরী করার কারনে গতকাল মঙ্গলবার ওই এলাকার পানির প্রবল ধাক্কায় অন্তত ৬টি বসতঘর নতুন করে মাতামুহুরীর নদীর গর্ভে তলিয়ে গেছে। মেয়র বলেন, ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকার কারনে একদিকে বৃষ্টির পানি , অপরদিকে পাহাড়ি ঢলে পৌরসভার প্রতিটি এলাকায় জনগনের মাঝে ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে এসেছে। মজিদিয়া মাদারাসা পয়েন্ট দিয়ে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে গতকাল ভোরে পৌরসভার ভাঙ্গারমুখ এলাকার অন্তত শতাধিক বসতঘর পানিতে ডুবে গেছে।পৌরসভার পক্ষ থেকে কাউন্সিলর ও এলাকার লোকজনের সহায়তায় দুর্গত এসব এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাটি ও বালু বস্তা ফেলে জনসাধারণের বসতঘর নদী থেকে রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে মঙ্গলবার সকালে অতি বৃষ্টিপাতে পাহাড়ের মাটি চাপায় মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের মোহরাকাটা গ্রামের জুমপাড়ার মনোয়ার আলম (৩৮) মারা গেছেন। বাড়ি রক্ষা করতে গিয়ে তিনি মাটিচাপা পড়েন।পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানি উপচে পড়ে প্লাবিত হয়েছে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা ও শীলখালী ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা। সড়ক প্লাবিত হয়ে বন্ধ রয়েছে চকরিয়া-পেকুয়া সড়কে যান চলাচল। ঢলের পানিতে ডুবে উম্মে সালমা (৭) নামের এক স্কুলছাত্রী মারা গেছে। সে ইসলামাবাদ পূর্ব ইউছুপেরখীল এলাকার আলী আব্বাসের মেয়ে ও ইউছুপেরখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সদরের জালালাবাদ রাবার ড্যাম সংলগ্ন বিরাট এলাকা এখন পুরোপুরি ঝুঁকির মুখে। প্রবল স্রোতে স্থানীয় মনজুর মেম্বারের ঘাটা পয়েন্ট ভেঙ্গে গেছে। ভাঙ্গন এলাকা দিয়ে ঈদগাঁও খালের বন্যার পানি অনুপ্রবেশ করায় ২ নং ওয়ার্ডের পূর্ব লরাবাক, ছাতিপাড়া এবং বৃহত্তর পালাকাটা ও বাহারছড়া এলাকার শত শত ঘরবাড়ী পানিতে তলিয়ে যায়। জলছেনা চুলার আগুন। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও পানীয় জলের সংকট। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে ওই ইউনিয়নের ৯ ওয়ার্ড এবং ১নং ওয়ার্ডের তেলী পাড়া ও মাছুয়াপাড়ার বেড়ীবাঁধ সংলগ্ন এলাকা। জালালাবাদের রাবার ড্যাম এলাকার ভাঙ্গন এলাকাটি শ্রীঘ্রই মেরামতের ব্যবস্থা করা না হলে ২ নং ওয়ার্ডের কয়েকশ পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশংকা প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা। প্লাবিত এসব এলাকা গতকাল পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমেদ, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম রহিমুল্লাহ, পানি উন্নয়নবোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান। কবলিত এলাকা রক্ষায় তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে জানান। এসময় জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরী, জালালাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান রাশেদ, কক্সবাজার সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিবুল হক চৌধুরী রিকো, ঈদগাহ্ পৌরসভা বাস্তবায়নের আন্দোলনের সভাপতি কাফি আনোয়ার, জালালাবাদ ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান ওসমান সরওয়ার ডিপো, সদস্য আরমান উদ্দিন, সাইফুল হক, মোফাচ্ছেল, সেলিম উদ্দিন, মোক্তার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন। একইদিন বিকেলে রাবারড্যাম ভাঙ্গন আর ভোমরিয়াঘোনা পানিবন্দি এলাকা পরিদর্শন করেন কক্সবাজার সদর রামু আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফুর রহমান কাজল। জালালাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান রাশেদ জানান, ঈদগাঁও বাজার ফরাজীপাড়া সড়কের পূর্ব লরাবাগের হাফেজখানা পয়েন্ট দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ার কারণে যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচলে চরম বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। ভেঙ্গে গেছে জালালাবাদের পালাকাটা এলাকায় অনেকের বসত বাড়ি। ভেসে গেছে গৃহস্থালী সামগ্রী। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে জরুরী ভিত্তিতে ত্রাণ তৎপরতা শুরুর দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী। এদিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় ঈদগাঁও বাজারের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। সড়ক, উপ-সড়কগুলোতে জমে আছে ময়লাক্ত পানি। ডিসি সড়কের তেলীপাড়া রাস্তার মাথা থেকে বঙ্খিম বাজার পয়েন্টটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ। এই সড়কে বড় বড় গর্তের কারণে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। আলমাছিয়া মাদ্রাসা গেইট পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা খুব নাজুক। উপকুলীয় জনপদ পোকখালী ইউনিয়নের গোমাতলী গ্রাম জোয়ারের পানিতে আবারও তলিয়ে গেছে। বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার কারনে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কার্যত পানিবন্দী অবস্থায় জীবন যাপন করছেন। ইসলামপুর, চৌফলদন্ডী এবং ভারুয়াখালীর নি¤œাঞ্চল এখন পানির নিচে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন। এদিকে টানা ভারী বর্ষণে মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে পাহাড়ি ঢলে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মাতামুহুরীরর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন উপজেলার হাজারো পরিবার। চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে পৌরসভার একাধিক নিমাঞ্চল। গতকাল দুপুর থেকে এক নম্বর বাঁধ এলাকা হয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে নদীর পানি। স্থানীয় মজিদিয়া মাদরাসাসহ আশপাশ এলাকার অন্তত শতাধিক পরিবারের বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ার কারনে লোকজন দুর্ভোগে পড়েছে। উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম বলেন, ভারী বর্ষণের কারনে মাতামুহুরী নদীতে বেড়ে চলছে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি। ইতোমধ্যে নদীর পানি ঢুকে তাঁর ইউনিয়নের শতাধিক পরিবারের বসতঘর প্লাবিত হয়ে পড়েছে। বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতে মাতামুহুরী নদীতে গতকাল সকাল থেকে পানি প্রবাহ বেড়েছে। এ অবস্থার কারনে নদীর শাখা খাল হয়ে তাঁর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, ডেইঙ্গাকাটা, রসুলাবাদসহ একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে গেছে। এলাকার দুর্গত জনসাধারণ বর্তমানে পানিবন্দি হয়ে পড়ার কারনে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। কোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার ও বিএমচর ইউপি চেয়ারম্যান এসএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভারী বর্ষণের ফলে মাতামুহুরী নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় নদীর তীরবর্তী নীচু এলাকার লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে পানি। এ অবস্থার কারনে দুই ইউনিয়নের হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চিরিঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন বলেন, দুইদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে মাতামুহুরী নদীতে পাহাড়ি ঢলের প্রবাহ বেড়েছে। এ অবস্থার কারনে উপজেলার চিংড়িজোনের শত শত চিংড়ি প্রকল্প পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি বলেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে চিংড়ি প্রকল্প তলিয়ে গেলে মাছ ভেসে গিয়ে বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হবে চিংড়িজোনের হাজারো চাষী। কক্সবাজার পানি উন্নয়নবোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সবিবুর রহমান জানান, হঠাৎ ভারী বর্ষণের কারণে পুরো জেলার অধিকাংশ নি¤œাঞ্চল পানিতে ডুবে গেছে। সদরের বৃহত্তর ঈদগাঁও এলাকায় প্রায় দেড়শ ফিট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। চকরিয়ার মাতামুহুরীর নদীর পানি ৯৬ সে.মি এর উপরে বেড়েছে। প্লাবিত এলাকার খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। একটু পানি কমলে সংস্কার করা হবে বলে তিনি জানান।

গাইবান্ধার চরাঞ্চলে উগ্রবাদী আস্তানার খোঁজে অভিযান

গাইবান্ধা সদর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় উগ্রবাদী আস্তানার খোঁজে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আজ বুধবার ভোর থেকে সদর উপজেলার কামারজানি ও মোল্লারচরের চরাঞ্চলে এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়। কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, ডিবি, থানা ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে শতাধিক সদস্যের একটি দল এই অভিযানে অংশ নিয়েছে। অভিযান চলাকালে সকাল নয়টা পর্যন্ত কোনো উগ্রবাদী আস্তানার সন্ধান পায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

দেশের প্রথম নারী বিচারপতি নাজমুন আরার শেষ কর্মদিবস কাল

সর্বোচ্চ আদালতে দেশের প্রথম নারী বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার শেষ কর্মদিবস কাল বৃহস্পতিবার। সুপ্রিমকোর্টের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৭ জুলাই তার শেষ কর্মদিবস ছিলো। ওইদিন সরকারি সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় কালই তার শেষ কর্মদিবস। রীতি অনুযায়ী কাল তাকে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ও এটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়া হবে বলে সূত্র জানায়।
তিনি হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে দেশের প্রথম নারী বিচারপতি। ১৯৭৫ সালে তিনি বিচার বিভাগে যোগদান করেন। ২০০০ সালে তিনি হাইকোর্টে বিচারপতি হিসেবে নিয়েগ পান। এর দুই বছর পর স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্টে তিনি নিয়োগ পান। ২০১১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তিনি আপিল বিভাগ নিয়োগ পান। বর্ণাঢ্য বিচারিক ক্যারিয়ার কাল শেষ হচ্ছে এ বিচারপতির।

গুলশান-বনানী-ধানমন্ডির অবৈধ স্থাপনা ১০ মাসের মধ্যে সরানোর নির্দেশ

রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি এলাকার সকল অবৈধ স্থাপনা ১০ মাসের মধ্যে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ আজ এ রায় দেয়। এ বিষয়ে দায়ের করা আলাদা ২৩৩টি রিট নিষ্পত্তি করে আজ এ রায় দেয় সর্বোচ্চ আদালত। আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ বিএম আলতাফ হোসেন। রাজউকের পক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বাসস

১৮ জুলাই খুলনায় স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন

নির্বাচন কমিশন (ইসি) খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আগামী ১৮ জুলাই থেকে স্মার্ট কার্ড বিতরণ শুরু করবে। নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী খুলনার স্মার্ট কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন বিভাগ (এনআইডি) শাখার যোগাযোগ কর্মকর্তা আশিকুর রহমান বাসস’কে একথা জানান। তিনি জানান, কমিশন ১৮ জুলাই থেকে খুলনা সিটি কর্পোরেশনে স্মার্ট কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরবর্তিতে ৩০ জুলাই রংপুর সিটি কর্পোরেশনেও স্মার্ট কার্ড বিতরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে রংপুরে স্মার্ট কার্ড বিতরণের তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র আছে, তারাই পর্যায়ক্রমে এই ‘স্মার্ট’ পরিচয়পত্র পাবেন বলে তিনি জানান। ইসি সূত্র জানায়, স্মার্ট কার্ড বিতরণের তারিখ ও স্থান নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন কমিশন গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এবং মাইকিং, ব্যানার, ফেস্টুনের মাধ্যমে প্রচার করে জানিয়ে দেয়া হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত যে কোন তথ্য জানাতে এনআইডি উইংয়ে একটি হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছে। যে কোন ফোন থেকে ১০৫ নম্বরে কল করলে নাগরিকদের তথ্য জানিয়ে দেবেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন বিভাগের কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এসএমএসএর মাধ্যমে বিতরণের তারিখ ও কেন্দ্র জানতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে SC লিখে স্পেস দিয়ে NID লিখে স্পেস দিয়ে ১৭ ডিজিটের এনআইডি নম্বর বসিয়ে (যাদের এনআইডি নম্বর ১৩ ডিজিটের তারা প্রথমে জন্মসাল যুক্ত করে) ১০৫ নম্বরে পাঠাতে হবে। যারা ভোটার হয়ে এখনো এনআইডি পায়নি তাদের প্রথমে SC লিখে স্পেস দিয়ে F লিখে স্পেস দিয়ে নিবন্ধন স্লিপের ফরম নম্বর স্পেস দিয়ে D লিখে YYY-MMM-DDD ফরম্যাটে জন্মতারিখ লিখে ১০৫ নম্বরে মেসেজ পাঠাতে হবে। ফিরতি মেসেজে বিতরণের তারিখ ও বিতরণকেন্দ্র জানিয়ে দেবে এনআইডি উইং। গত বছরের ২ অক্টোবর ওসমানী মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ওই দিন রাজধানীর পাশাপাশি কুড়িগ্রামে স্মার্ট কার্ড বিতরণ শুরু হয়। এরপর চলতি বছরের ১৩ মার্চ চট্টগ্রামে স্মার্ট কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম ২ এপ্রিলে রাজশাহীতে স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন এবং ১০ জুনে বরিশালে কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। দেশে বর্তমানে মোট ১০ কোটি ৩০ লাখ ভোটার রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৯ কোটি ভোটারকে স্মার্ট কার্ড দেবে ইসি। পরবর্তিতে পর্যায়ক্রমে দেশের সব নাগরিকদের স্মার্ট কার্ড দেয়া হবে।

মাঝারী থেকে ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে

রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর একথা জানিয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়, সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, মৌসুমী বায়ুর অক্ষ ভারতের রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিক ভারতের আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারী থেকে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। আজ বুধবার সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল : ৯৭%। বুধবার ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার সূর্যোদয় ভোর ৫টা ১৬ মিনিটে।

দুই মাসে এক কোটি সদস্য সংগ্রহের টার্গেট

দল পুনর্গঠনের পাশাপাশি এবার প্রাথমিক সদস্য পদ নবায়ন এবং নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানে নেমেছে বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি। দুই মাসব্যাপী এ কর্মসূচি চলবে আগামী পয়লা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এ দুই মাসে অন্ততপক্ষে এক কোটি সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে দলটি। গত শনিবার রাতে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি নেতাকর্মীদের সদস্য সংগ্রহ অভিযানে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গতবার আমাদের সদস্য সংগ্রহের ল্যমাত্রা ছিল ৫০ লাখ। এবার আমাদের টার্গেট এক কোটি। সকলে সদস্য হোন, দলের জন্য কাজ করুন। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এ কর্মসূচি পুরোদমে শুরু হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় বেগম খালেদা জিয়া ১০ টাকার বিনিময়ে সদস্য রশিদে স্বার করে নিজের সদস্যপদ নবায়ন করেন। এরপর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম মিয়া, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাদের সদস্যপদ নবায়ন করেন। এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দেিণর ছয়জন নতুন সদস্যপদ সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন শিক্ষক, একজন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক যুগ্ম পরিচালক, একজন সাংবাদিক এবং একজন ব্যবসায়ী। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ জন সদস্য হন বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান। প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০০৯ সালে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান হয়েছিল। কিন্তু তা শেষ হয়নি। এর আগে ২০১২ সালে তা আবারো শুরু হয়। বিএনপি নেতারা জানান, আন্দোলনের কারণে পরে এ সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি করা যায়নি। জানা গেছে, বর্তমানে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য আছে প্রায় পঞ্চাশ লাখ।
নতুনভাবে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। গতকাল সোমবার দলের নয়া পল্টন কার্যালয়ে অনেককে নতুন সদস্য ফরম সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। তবে সব জেলায় এখনো এই কার্যক্রম শুরু না হলেও অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তা শুরু হবে। জানতে চাইলে বিএনপির দফতরের দায়িত্বে নিয়োজিত সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপির সদস্য সংগ্রহ এবং নবায়ন কার্যক্রম দীর্ঘ দিন ধরে চলমান। এ লক্ষ্যে নতুনভাবে দুই মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো নেতাকর্মীদের মধ্যে আরো বেশি কর্মস্পৃহা তৈরি এবং নতুন সদস্য সংগ্রহ করা, যা ইতোমধ্যে আমাদের দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া উদ্বোধন করেছেন। কিছু দিনের মধ্যেই সারা দেশে এ কর্মসূচি পুরোদমে শুরু হবে। বর্তমানে বিএনপির প্রায় ৫০ লাখ প্রাথমিক সদস্য রয়েছেন। আমরা আগামী দুই মাসের মধ্যে নতুন করে এক কোটি সদস্য সংগ্রহের টার্গেট নিয়ে কাজ করছি। নয়া পল্টন কার্যালয়ে অনেকেই এসে সদস্য ফরম সংগ্রহ করছেন। বিএনপি তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে বলে প্রত্যাশা করেন রিজভী। এ দিকে গতকাল বগুড়াতে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পয়লা জুলাই থেকে আগামী পয়লা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম চলবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবার এক কোটি নতুন সদস্য সংগ্রহের টার্গেট নির্ধারণ করেছেন। নেত্রীর এ টার্গেট পূরণ এবং কার্যক্রম সফল করার জন্য বগুড়াবাসী যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। সুনির্দিষ্ট টার্গেটের কথা উল্লেখ না করলেও বগুড়াতে এবার নতুন সদস্য সংগ্রহের সংখ্যা ‘একটি বড় ফিগারের’ হবে বলে তিনি জানান। ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতর থেকে পাঠানো সদস্য সংগ্রহ ফরম এখনো হাতে না পাওয়ায় আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম শুরু করতে পারিনি। ফরম হাতে পেলেই কার্যক্রম শুরু করব। এই কার্যক্রম ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে বলে তিনি জানান। এ দিকে খুলনা মহানগরীতে বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি এখনো শুরু হয়নি। আগামী ৮ জুলাই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এবং খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু ও অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগরের সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, সর্বশেষ ২০০৯ সালে পরিচালিত কর্মসূচির সময় থেকে খুলনা মহানগরীতে ২৫ হাজার নতুন সদস্য সংগ্রহ করা হয়। এবার মহানগরীতে ৫০ হাজার নতুন সদস্য সংগ্রহ করা আমাদের টার্গেট। সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদেরও এবার নতুন সদস্য করার টার্গেট নেয়া হয়েছে। মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড এই তিনটি ধাপে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে এ কর্মসূচির মাধ্যমে দল আরো বেশি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে বলে তিনি মনে করেন। যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, বিএনপিকে আরো গতিশীল ও শক্তিশালী করতে জেলা নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা ইতোমধ্যে যশোর জেলায় এক লাখ ৪৭ হাজার নতুন সদস্য সংগ্রহ করেছি। কেন্দ্রকে অবহিত করে গত এক বছর ধরে আমরা এ কার্যক্রম পরিচালনা করি, যা গত মে মাসে সমাপ্ত হয়েছে। তবে গত ছয় মাস ধরে জেলায় যুবদল-ছাত্রদলসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে। তিনি জানান, আমরা ইতোমধ্যে কেন্দ্র থেকে পাঠানো বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ ফরম হাতে পেয়েছি। ফলে আগে থেকে সংগৃহীত এসব সদস্য এখন নবায়ন করা হবে। এ ছাড়া শনিবার থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন করে সদস্য সংগ্রহ করা হবে। সবমিলিয়ে প্রায় দুই লাখ সদস্য আমরা সংগ্রহ করতে পারব।

বয়লার বিস্ফোরণে মৃত তিনজনকে আসামি করে মামলা

গাজীপুরের কাশিমপুরে পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে হতাহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে জয়দেবপুর থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদী জয়দেবপুর থানার অধীন চক্রবর্তী পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুর রশিদ। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ থাকা তিন আসামি হলেন কারখানার বয়লার অপারেট আব্দুস সালাম, এরশাদ হোসেন ও মনছুরুল হক। তাঁরা বিস্ফোরণের ঘটনায় মারা গেছেন। মামলায় বলা হয়, বয়লারের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া ও ঝুঁকিপূর্ণ জানার পরও আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে তা চালু করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে ৩০২, ৩০৭, ৩২৬, ৩৩৬, ৩৩৮ ও ৪২৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বাদী এএসআই আবদুর রশিদ বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুসারে মামলাটি দায়ের করেছেন তিনি। জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম মামলার সত্যতা স্বিকার করেছেন।

মৃত্যুফাঁদ পেরিয়ে ইতালিতে যাওয়া এক বাংলাদেশীর গল্প

৫ই মে রাত একটা। লিবিয়ার উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেবার জন্য একটি ছোট ট্রলারে উঠেছিলেন প্রায় ৯০০ যাত্রী। তিল ধারণের জায়গা ছিলনা সে ট্রলারে। গাদাগাদি করে বসে থাকা ট্রলারের যাত্রীদের দম বন্ধ হয়ে আসার মতো অবস্থা। এ যাত্রীদের ভিড়ে ছিলেন বাংলাদেশের বাকের হোসাইন। ট্রলারের সব যাত্রীর মতো মি: হোসাইনের লক্ষ্য ছিল ভূ-মধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইটালিতে ঢুকবেন। আর্থিক সচ্ছলতার আশায় স্বপ্নের ইউরোপে পৌঁছতে যে কোন পরিণতির জন্য তৈরি ছিলেন বাকের হোসাইন। তার সামনে নিয়তির দু'টো দরজা খোলা ছিল। হয়তো সাগরে ডুবে মৃত্যু নয়তো ইটালিতে পৌঁছানো। শুধু বাকের হোসাইন নয়, তার মতো আরো প্রায় ২৫০জন বাংলাদেশী ছিলেন সে ট্রলারে। "জীবনে কিছু করতে পারতেছি না। অনেক কষ্ট ছিল বুকে। চিন্তা করলাম একটা ঝুঁকি নিয়ে দেখি। বাঁচলে তো বাঁচলাম, আর মারা গেলে তো কিছু করার নাই," বলছিলেন বাকের হোসাইন। ট্রলারটি লিবিয়া উপকূল ছেড়ে আসার ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই উত্তাল সমুদ্রের রূপ দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। জীবনের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন যাত্রীরা। ভয়ঙ্কর সে যাত্রার কথা আমৃত্যু মনে থাকবে বাকের হোসাইনের। তিনি বলছিলেন, " অনেকে অজ্ঞান হয়ে গেছে। বমি করতেছে।
সাগর দেখে অনেকে ভয় পাইছে। মনে হয় নতুন জন্ম নিয়ে আসছি এখানে।" লিবিয়া উপকুল থেকে ট্রলারে যাত্রা শুরুর পাঁচ ঘণ্টা পরে সেটি ইটালির সমুদ্র সীমায় ঢোকে। কিন্তু সেখানে ইটালির উপকূল রক্ষীদের জাহাজের সামনে পড়ে নৌকাটি। প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর ইটালির উপকূল রক্ষীরা সে ট্রলারের যাত্রীদের বড় জাহাজে তুলে আনা শুরু করে। প্রায় ৫০০ যাত্রীকে বড় জাহাজে তোলার পর সে কাজ বন্ধ করে দেয় ইটালির উপকূল রক্ষীরা। ১০ ঘণ্টা সমুদ্রে ভাসমান থাকার পর ইটালির সময় রাত তিনটার দিকে একটি বড় জাহাজে তোলা হয় বাকি যাত্রীদের। বর্তমানে ইটালির একটি আশ্রয় শিবিরে আছেন বাকের হোসাইন। নোয়াখালীর বাসিন্দা মি: হোসাইন বাংলাদেশ থেকে প্রথমে শ্রীলংকা এবং তারপর কাতার পৌঁছান। কাতার থেকে তুরস্ক হয়ে তিনি লিবিয়ায় পৌঁছেছিলেন। এ পুরো যাত্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করে তিনি শেষ পর্যন্ত ইটালিতে পৌঁছেছেন। লিবিয়া থেকে ভূ-মধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইটালিতে পৌঁছনোর এ পথ কিভাবে চিনলেন বাকের হোসাইন? তিনি বলেন, " অনেক নিউজে দেখছি যে লিবিয়া থেকে ইটালিতে যাওয়া যায়। তখন আমাদের এলাকার এক দালালের সাথে চুক্তি করলাম।" মি: হোসাইনের মতো শত-শত বাংলাদেশী গত কয়েক বছরে এভাবেই ভূ-মধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইটালি গিয়েছেন। আবার ভূ-মধ্যসাগরে নৌকা ডুবিতে অনেকেরই সলিল সমাধি হয়েছে। বিবিসি বাংলা

রাজধানীতে পাইপলাইন বিস্ফোরণে দগ্ধ ৭

রাজধানীতে গ্যাসের পাইপলাইন বিস্ফোরণে একই পরিবারের সাতজন দগ্ধ হয়েছেন। আজ বুধবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে গেণ্ডারিয়ায় ঢালকানগর ৫৭/বি নম্বর টিনশেট বাসায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। দগ্ধরা হলেন আলেয়া বেগম (৬৫), মেয়ে শাহীদা বেগম (৩০), জামাতা শরিফুল ইসলাস (৩৫), নাতনি শরিফা (১৩), নাতি শুভ (৮), আরেক মেয়ে শাহনাজ (৩৫) ও জামাতা আলী আকবর (৫০)। দগ্ধ কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। প্রতিবেশী জনি জানান, ভোরে ওই টিনশেট বাসায় সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। দুই রুমের ওই বাসার মধ্য দিয়ে গ্যাসের পাইপলাইন লাগানো ছিল। গ্যাসলাইন লিকেজ থেকে হঠাৎ বিস্ফোরণে তাঁরা সবাই দগ্ধ হয়েছেন বলে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হোলে আর্টিজানে নিহতদের পরিবারকে দেয়া হবে ১৫ হাজার ইউরো

গুলশানের হোলে আর্টিজান বেকারিতে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১৫ হাজার ইউরো (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১৪ লাখ টাকা) করে দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন করা হয়েছে। গত সোমবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এটি অনুমোদন করেন বলে জানা গেছে। উগ্রবাদী হামলায় গত বছর ১ জুলাই দেশী-বিদেশী মিলিয়ে ২০ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এর মধ্যে ৯ জন ইতালীয়, সাতজন জাপানি, তিন বাংলাদেশী ও এক ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় দু’জন পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হন। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গুলশানের হোলে আর্টিজানে হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। এ প্রস্তাবে শুধু নিহত ইতালীয় ৯ নাগরিককে এক লাখ ৩৫ হাজার ইউরোর সমপরিমাণ এক কোটি ২৩ লাখ টাকা দেয়ার সুপারিশ করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনও নিয়েছিল। পরে বিষয়টি অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হলে তিনি এ সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে এতে আপত্তি জানান। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী তার মন্তব্যে লেখেন, ‘আমার প্রস্তাব হবে এই ক্ষতিপূরণ সব ক্ষতিগ্রস্ত নিরীহ পরিবারকে দেয়া হবে এবং এই ব্যয়টি সরকারি কোষাগার থেকে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যেকোনো দেশেরই হোক না কেন (বাঙালিসহ) তারা সবাই এই সহায়তা পাবেন।’ অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিতে আনলে তিনি অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবের সাথে একমত পোষণ করেন এবং জঙ্গি হামলায় নিহত সবার পরিবারকে আর্থিক সুবিধা দেয়ার নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে একনোটে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘মাননীয় অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবের সাথে একমত পোষণ করি। যারা আক্রমণের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন তারা যে দেশেরই হোক সবাইকে আমরা সহায়তা করব।’ প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশের ভিত্তিতে নিহতের প্রত্যেককে ১৫ হাজার ইউরো দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গুলশানের হোলে আর্টিজান বেকারিতে গত বছর ১ জুলাই রাতে উগ্রবাদীরা ২০ জনকে হত্যা করে। তাদের মধ্যে ৯ জন ইতালীয়, সাতজন জাপানি, তিনজন বাংলাদেশী এবং একজন ভারতীয় নাগরিক। এ ছাড়া সন্ত্রাসীদের হামলায় দু’জন পুলিশও প্রাণ হারান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানায়, ইতালির পক্ষ থেকে প্রথমে তাদের নিহত নাগরিকদের ক্ষতিপূরণের জন্য অনুরোধ করা হয়। পরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করে।  সূত্র জানায়, অপ্রত্যাশিত খাতে এ পরিমাণ অর্থ না থাকায় অর্থ বিভাগ জননিরাপত্তা বিভাগকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে তা জোগান দেয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বিষয়টিতে আপত্তি জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি এক নোটে লিখেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিলেন যে হোলে আর্টিজানের সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ইতালীয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। তাদের মনেই হলো না যে এই সুবিধা সব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দেয়া উচিত। এই বিষয়ে জাপান সফরকালে কানাঘুষায় শুনতে পাই যে এ রকম একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এটি তখনই একটি বৈষম্যমূলক পদক্ষেপের নিন্দার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। গত ১৪ মে অর্থমন্ত্রীর দেয়া নোটের সাথে একমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একই দিন প্রস্তাবে অনুমোদন দেন। ওই দিন তিনি অপর নোটে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে নিহত সব পরিবারকে আর্থিক সুবিধা দেয়ার নির্দেশ দেন। জানা গেছে, শিগগিরই ক্ষতিপূরণের অর্থ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এমপি-মন্ত্রীদের সাথে দূরত্ব কমেনি তৃণমূলের

বেশির ভাগ এমপি-মন্ত্রীর সাথে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের দূরত্ব এখনো কমেনি; বরং আগের মতোই সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়েই নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন তারা। এমপি-মন্ত্রীদের অনেকেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে এলাকায় নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করে রেখেছেনÑ যা নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা তৃণমূলকে গুরুত্ব দেয়ার পরই এমপি-মন্ত্রীরা এলাকায় যাওয়া-আসা বাড়িয়ে দিলেও গণমুখী হতে পারেননি। নির্দিষ্ট সীমারেখার মধ্যে আর্থিক অনুদান-সহযোগিতা করলেও তা লোক দেখানো এবং নামকাওয়াস্তে। একাধিক উপজেলা নেতার সাথে কথা বলে এসব কথা জানা গেছে। তৃণমূল নেতাদের অভিযোগÑ অনেকের এমপি-মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে তৃণমূলের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর থেকেই এমপি-মন্ত্রীরা রাজধানীকেন্দ্রিক ব্যবসাবাণিজ্য গড়ে তুলেছেন। অনেকে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দিয়ে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলে নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। তখন থেকেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে এমপি-মন্ত্রীদের একটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। এখন এমপিদের ওঠাবসা এলাকার হাইব্রিড নেতাদের সাথে। তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের তারা গুরুত্ব দেন না। অনেকেই এলাকার জনগণ থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। নড়াইল-১ আসনের এমপি কবিরুল হক মুক্তি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন। এর আগেরবার মুক্তি স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়লাভ করেন। এর পর থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে নিজস্ব বলয় গড়ে তোলেন আওয়ামী লীগের এই এমপি। এলাকার সাথে যোগাযোগও তেমন নেই।
মাঝেমধ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদানের পর তড়িঘড়ি করে রাজধানীতে ফেরেন। ওই আসন থেকে এবার লড়তে চান নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, নেতাকর্মীদের সাথে এমপির কোনো সুসম্পর্ক নেই। বিএনপি-জামায়াতের সাথে হলো তার সম্পর্ক। এমপি তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে, মামলা দিয়ে বিপর্যস্ত করে রেখেছে। নিজাম উদ্দিন খান নিলু বলেন, আওয়ামী লীগের প্রকৃত, ত্যাগী নেতাকর্মীরা অবহেলিত। অথচ তিনি কাউকে পরোয়া করেন না। একটা ড্যাম কেয়ার ভাব আছে। একই চিত্র দেখা যায় যশোর-৫ আসনের এমপি স্বপন ভট্টাচার্যের ক্ষেত্রে। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী টিপু সুলতানের সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এমপি নির্বাচিত হন। কিন্তু স্বপন ভট্টাচার্য এক সময় জেলা আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এ প্রসঙ্গে যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ কাজী মাহমুদুল হাসান বলেন, এমপি সাহেব স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। এর পর থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে এমপি সাহেবের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি এলাকার কিছু সুবিধাভোগী লোকজন নিয়ে চলাফেরা করেন। এখন কোনো পর্যায়ের কোনো কমিটিতে তিনি নেই। তৃণমূল নেতাকর্মীরা তার কাছে বরাবরই উপেক্ষিত। এখান থেকে আগামী নির্বাচনে অধ্যক্ষ কাজী মাহমুদুল হাসান নৌকা মার্কার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ জন্য তিনি এলাকায় নির্বাচনী কার্যক্রমও শুরু করেছেন। কক্সবাজার জেলার টেকনাফ-উখিয়ার এমপি আব্দুর রহমান বদিও তৃণমূল নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করে রেখেছেন। এলাকার নেতাকর্মীদের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। স্থানীয় নেতাকর্মীদের কোনো গুরুত্ব নেই তার কাছে। এমপির ইচ্ছেতেই সব কিছু হয় এলাকায়। জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, তৃণমূলের সাথে এমপির দূরত্ব রয়ে গেছে। এখানে এমপি সাহেবের সাথে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সম্পর্ক ভালো না। তিনি নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করেছেন। যাকে বলে বদি বলয়। তাদের নিয়েই এমপি সাহেবের ওঠাবসা। তিনি বলেন, দূরত্ব কমানোর চেষ্টাও এমপি সাহেবের নেই। প্রকৃতপক্ষে তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীরা অবহেলিত। বাগেরহাট-৪ আসনের এমপি ডা: মোজাম্মেল। এমপি হওয়ার পর থেকেই এলাকার নেতাকর্মীর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এলাকায় কখন যান কখন আসেন নেতাকর্মীরা বলতে পারেন না। এলাকার হাইব্রিড ও নব্য আওয়ামী লীগ নিয়ে ওঠাবসা এমপি সাহেবের। এসব কথা জানান, বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামালউদ্দিন আকন। তিনি আরো বলেন, এমপির সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি এলাকায় কখন আসেন আর কখন যান তা আমরা জানতেও পারি না। এলাকার ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোনো প্রয়োজন তার আছে বলে মনে হয় না। প্রয়োজন থাকলে তো আমাদের ডাকত, খোঁজখবর নিত। শেরপুর-২ আসনের এমপি হলেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। তিনি এমপি হওয়ার পর থেকে এলাকায় বিভক্তির দেয়াল সৃষ্টি হয়েছে। একটি মতিয়া গ্রুপ আরেকটি বাদশা গ্রুপ নামে পরিচিত। মতিয়া চৌধুরী এলাকার জনগণ থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বাদশা বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা।  শেরপুর-৩ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল হক। তিনিও এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। সাধারণ মানুষের সাথে তেমন ওঠাবসা নেই,
যা আছে তা নিজের কিছু আত্মীয়স্বজন ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক। এসব কথা জানালেন ওই এলাকার বাসিন্দা ও যুব শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো: রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে এমপি সাহেবের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। শুধু আওয়ামী লীগের তৃণমূল নয়, এলাকার জনগণ থেকেও তিনি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। রফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতি, ঘুষবাণিজ্যসহ এমন কোনো কাজ নেই, যা এমপি করেননি। তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীসহ তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অনেক অভিযোগ রয়েছে। আগামী নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাবেন না তা নিশ্চিত। দলীয়ভাবে নতুন কাউকে মনোনয়ন দেয়া হবে বলে তৃণমূলেরও প্রত্যাশা। তৃণমূলের সাথে এমপি-মন্ত্রীদের দূরত্ব না কমা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ এমপি নয়া দিগন্তকে বলেন, অনেক জায়গায় এমপি বা মন্ত্রীদের সাথে নেতাকর্মীদের দূরত্ব আছে তা ঠিক। যারা আগামীতে নির্বাচন করতে চায় অথবা নির্বাচন করুক বা না করুক তাদের অবশ্যই তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন। তাদের অভাব, অভিযোগ শোনা প্রয়োজন। প্রয়োজনে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তাদের কারণেই তারা এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন, তাদের কারণেই দল আজ রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে। সুতরাং যেখানে যেখানে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে তাদের উচিত দূরত্ব কমিয়ে আনা। তিনি বলেন, যেসব কেন্দ্রীয় নেতা, যারা বর্তমানে এমপি-মন্ত্রী আছেন তাদের আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে দল এসব বিষয় অবশ্যই গুরুত্ব দেবে। যেসব নেতা-মন্ত্রী তৃণমূল থেকে বিচ্ছিন্ন তারা এবার অবশ্যই মনোনয়ন পাবেন না।

নীলফামারীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৩২

নীলফামারীতে বিভিন্ন মামলা ও চার্জশিটভুক্ত পলাতক জামায়াত-শিবিরের ১৩ জনসহ ৩২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে জিআর মামলায় ৮ জন, সিআর মামলায় ৭ জন, অন্যান্য মামলায় ১৬ জন এবং ১৫১ ধারায় একজন রয়েছে। নীলফামারী পুলিশের কন্ট্রোল রুম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়,  পুলিশের বিশেষ অভিযানে জামায়াত শিবিরের ১৩ জন নেতাকর্মী আটক রয়েছে। তারা হলো- জেলার ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাবিবুলল্লাহ কাজী (৪০), পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়েনর আমির জাহেদ আলী (৪২), জামায়াত কর্মী রফিকুল ইসলাম (৪৫), আব্দুল মমিন (৪০), আবুল কালাম (৩৮) ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের সক্রিয় শিবির কর্মী সাব্বির আহমেদ (২০),  মাহমুদ আল হাসান (১৮), আবেদ আলী (১৮), তরিকুল ইসলাম (১৯), গোলাম রব্বানী (১৯) আশরাফুল ইসলাম (১৮) রেজাউল করিম (২০) ও আব্দুল্লাহ (১৮)। অপরদিক ১৯ জন আসামি আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত। গ্রেফতারতদের বিরুদ্ধে নাশকতা, সন্ত্রাস বিরোধী আইন ও চুরি ডাকাতির মামলা রয়েছে।

সবজি আহার স্বাস্থ্যকর

নিরামিষ আহার একটি স্বাস্থ্যকর জীবনরীতি। আমাদের এ অঞ্চলে সবজি খাওয়ার, নিরামিষ খাওয়ার চল ছিল, এখনও আছে। আমেরিকাতেও এখন ৪০ লাখ লোক নিরামিষাশী। নিরামিষ আহারে বড়ই স্বাস্থ্য সুবিধা, কোলেস্টেরল কম, মোট চর্বি, স্যাচুরেটেড চর্বি ও কম; করোনারি হৃদরোগ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমবে। আমিষ বেছে নিন- মাংসের আমিষে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় সব রকমের এমিনো এসিডই আছে; কিন্তু সবজির আমিষে সব অত্যাবশ্যক এমিনো এসিড থাকে না। তাই নানা রকমের উদ্ভিজ্জ খাবার খেয়ে এমিনো এসিডগুলোর চাহিদা মিটাতে হয়। নানারকমের এমিনো এসিড পেতে গেলে নিরামিষাশীদের খেতে হয় নানারকম বাদাম, বীজ, শুঁটি, ডাল, শস্য, সয়াবিন। ভাত ও মটরশুঁটি, শিম, ডাল এসব দিয়ে খিচুড়ি খেলে আমিষের চাহিদা পূরণ হল।
সোয়া দিয়ে পরিপূর্ণ করুন : সোয়া দ্রব্য হল প্রোটিনের বিশাল উৎস। মাংসের পরিপূরক বটে। করতে পারেন টফু কাবাব। এ ছাড়া সোয়া দিয়ে নানা খাবার তৈরি করা যায়। ধোঁকাও তৈরি হয় সোয়া ও ডাল দিয়ে। সবজি দিয়ে করা যায় নানা প্রিয় রেসিপি : নানারকম রান্না। ভাপে সিদ্ধ সবজি। সরষে, পোস্ত, হলুদ কাঁচা লঙ্কা, জিরা, তেজপাতা দিয়ে নিরামিষ, ধোঁকার ডালনা, সয়াবিনের তরকারি। উচ্ছে ভাজা, শাক ভাজা, থোড়ের চচ্চড়ি, কত যে রেসিপি। খেতে সুস্বাদুও বটে।
হারবাল গবেষক ও চিকিৎসক
মডার্ন হারবাল গ্রুপ, ঢাকা।
মোবাইল : ০১৯১১৩৮৬৬১৭

গাজীপুরে চালক হত্যায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

গাজীপুরে অটোরিকশাচালক হত্যার দায়ে দুই ভাইসহ তিন আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া মামলার অপর একটি ধারায় (দস্যুতা) প্রতেককে ১০ বছর করে সশ্রম করাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাস করে সশ্রম করাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বুধবার সকালে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক একেএম এনামুল হক এ দণ্ডাদেশ দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে মেহেদী হাসান ওরফে বাবু, কালিয়াকৈরের জাথালিয়া এলাকার মৃত আমির হামজা ওরফে মো. ওমর আলীল ছেলে মো. আলমগীর হোসেন ও দেলোয়ার হোসেন। রায় ঘোষণার সময় আলমগীর হোসেন ও মেহেদী হাসান ওরফে বাবু আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দেলোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাটের বাসিন্দা হায়দার আলী গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ভাড়া থেকে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালাতেন।
২০১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিকালে অটোরিকশা নিয়ে বের হন তিনি। এরপর থেকে হায়দার আলী নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন কালিয়াকৈর রতনপুর এলাকায় হায়দারের লাশ পাওয়া যায়। তার শরীরের বহু আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে এ ব্যাপারে নিহতের বড়ভাই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকার সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক নজমুল হক ওই তিনজনকে বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। পরে চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গঠন করা হয়। ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং শুনানি শেষে বুধবার ওই আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। মামলায় রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী ছিলেন পিপি মো. হারিজ উদ্দিদন আহমেদ এবং আসামি পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মো. লাবিব উদ্দিন সিদ্দিক ও ওয়াহিদুজ্জামান আকন।

মন্ত্রীর হুংকার: তোকে এখানেই গণপিটুনি দেব

ভারতে জিএসটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে। এক দেশ, এক কর প্রথার আলোকে কর ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা উঠেছে বিভিন্ন প্রদেশে। এরই মধ্যে সম্প্রতি বিধান সভায় জিএসটি নিয়ে বিতর্কের জেরে এক সদস্যকে গণপিটুনি দেয়ার হুমকি দিয়েছেন এক মন্ত্রী। এ নিয়ে বিধান সভার বাইরে ও ভেতরে চলছে তুমুল উত্তেজনা, আলোচনা ও সমালোচনা। ভারতের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিধানসভায় জিএসটি নিয়ে আলোচনার সময় মেজাজ হারিয়ে ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা দেবেন্দর রানাকে আক্রমণ করেন জম্মু ও কাশ্মীরের মন্ত্রী ইমরান আনসারি। তিনি বলেন, 'আমি আপনাকে এখানেই গণপিটুনি দিতে পারি।' ৩০ জুন মধ্যরাত থেকে দেশে জিএসটি কর ব্যবস্থা চালু হয়েছে। তবে অশান্ত জম্মু ও কাশ্মীরে এখনও পর্যন্ত জিএসটি চালু হয়নি। সেখানে জিএসটি বসানোর বিরুদ্ধে বিধান সভায় প্রশ্ন তুলেন দেবেন্দর রানা।তিনি বলেন, 'বর্তমান জিএসটি প্রথায় অনেক গলদ রয়েছে। রাজনীতিকে সরিয়ে রেখে প্রত্যেকের উচিত রাজ্য ও সেখানকার সাধারণ মানুষের পক্ষে যা ভাল, সেটাকেই মেনে নেয়া। তাই জম্মু ও কাশ্মীরে পণ্য ও পরিষেবা কর না চালু করাই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।' রানার বিরোধিতা করে বিধানসভায় সরব হন সেই রাজ্যের তথ্য প্রযুক্তি, প্রযুক্তিগত শিক্ষা ও যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রী আনসারি। তিনি বলেন, 'রানা দ্বিচারিতা করছেন। নিজে ব্যবসার খাতিরে জিএসটি-কে মেনে নিয়েছেন। সমস্ত পণ্য বিক্রি করছেন নতুন কর ব্যবস্থা মেনেই। অথচ বিধানসভায় জিএসটি-র বিরোধিতা করছেন।' তবে এমন অভিযোগের বিরুদ্ধে সরব হয়ে ওঠেন ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা রানা। তার দাবি, তিনি কোনও অন্যায় করেননি। কর ফাঁকিও দেননি। শাসক দল ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে এসময় হট্টগোল বেধে গেলে ইমরান আনসারি বলে ওঠেন, 'আমি এখানেই আপনাকে গণপিটুনি দিতে পারি। আপনার বেআইনি ব্যবসার খবর খুব ভালোভাবেই জানা আছে। আপনার থেকে বড় চোর আর নেই। নইলে মবিল বিক্রি করে কীভাবে এমন বিপুল অর্থের মালিক হয়ে উঠলেন?' আনসারির এমন মন্তব্যের পরই তুমুল বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। শেষমেশ ডেপুটি স্পিকার নাজির আহমেদ গুরেজি পরিস্থিতি সামাল দেন।

গুয়ান্তানামোর এক বন্দিকে কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ

কুখ্যাত গুয়ান্তানামো বে’ কারাগারের সাবেক এক বন্দিকে ১ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে যাচ্ছে কানাডা সরকার। তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমাও চাওয়া হবে। আফগানিস্তানে এক আমেরিকান সেনাকে হত্যার অভিযোগে তাকে বন্দি করা হয়েছিল। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। কানাডার সুপ্রিমকোর্ট পরবর্তী সময় মন্তব্য করেন, ওই ব্যক্তিকে কর্মকর্তারা ‘অত্যাচারমূলক পরিস্থিতিতে’ জিজ্ঞাসাবাদ করে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। মঙ্গলবার এই মামলা সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ওমর খাদর নামের ওই বন্দি কানাডা সরকারের কাছ থেকে ১ কোটি ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ পাবেন। জনসমক্ষে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলার অনুমতি নেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগে তা নিয়ে তথ্য প্রকাশ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। গত মাসে কানাডা সরকার ও ওমরের আইনজীবীরা মধ্যস্থতা করে।
২০০৩ সালে কানাডা বংশোদ্ভূত ওমরকে ১৫ বছর বয়সে আফগানিস্তানে আল কায়দার এক এলাকা থেকে মার্কিন সেনারা আটক করে। আমেরিকান স্পেশাল ফোর্সেস মেডিক সার্জেন্ট ক্রিস্টোফার স্পিরের মৃত্যুর দায় চাপানো হয় তার ওপর। অভিযোগে বলা হয়, ওমরের ছোড়া গ্রেনেডে ক্রিস্টোফার নিহত হন। পরে ওমরকে গুয়ান্তানামোতে নিয়ে এক মিলিটারি কমিশনে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তোলা হয়। ২০১০ সালে খুনের দায় পড়ে তার ঘাড়ে এবং ৮ বছরের সাজা দেয়া হয়। এরই মধ্যে তিনি সাজা কাটিয়েছেন। দুই বছরের সাজা বাকি থাকতে ২০১৩ সালে তাকে কানাডায় আনা হয়। ২০১৫ সালের মে মাসে তাকে মুক্তি দেয়া হয় এবং সাজার বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন। গুয়ান্তানামো কারাগারে সব মিলিয়ে ১০ বছর ছিলেন ওমর। তার মামলাটি আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি কাড়ে। যদিও অনেকের চোখে তিনি আফগানিস্তানে যুদ্ধচলাকালীন এক শিশু সেনা বিবেচিত হয়েছেন। ২০১০ সালে কানাডিয়ান আদালতের এক রুলের ভিত্তিতে দেশটির ইন্টেলিজেন্স বিভাগ ওমরের বিষয়ে প্রমাণপত্র সংগ্রহ করেন। তারা জানান, ২০০৩ সাল থেকে ওমরকে অত্যাচারপূর্ণ পরিস্থিতিতে রাখা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলে বিশ্ব ধ্বংসের মুখে পড়বে

পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত প্যারিস চুক্তি থেকে নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পৃথিবীকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে। জলবায়ুর পরিবর্তন এমনভাবে ঘটতে পারে যে, পরিস্থিতি হবে ‘অপরিবর্তনীয়’। ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্ত পৃথিবীকে শুক্র গ্রহের মতো উত্তপ্ত গ্রহে পরিণত করবে। সোমবার যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর স্টিফেন হকিংয়ের ৭৫তম জন্মদিন পালন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। বিখ্যাত এই বিজ্ঞানী বলেন, ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আমরা বৈশ্বিক উষ্ণতার এমন এক পর্যায়ে আছি যা আরেকটু বেশি হলে সেখান থেকে ফিরে আসা সম্ভব নয়। ট্রাম্পের এমন ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত পৃথিবীকে আরেকটি শুক্র গ্রহে রূপান্তরিত করতে পারে, যেখানে থাকবে ২৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রা এবং সালফিউরিক এসিডের বৃষ্টিপাত। জলবায়ু পরিবর্তনকে তিনি পৃথিবীতে বিদ্যমান ‘সবচেয়ে বড় বিপদ’ বলে উল্লেখ করেন। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য তিনি পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও বলেন। হকিং বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের বড় বিপদগুলোর মধ্যে একটি এবং এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিলে আমরা ক্ষতি রোধ করতে পারি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রমাণ অস্বীকার করে এবং প্যারিস চুক্তি থেকে বের হয়ে ট্রাম্প পরিবেশের ক্ষতি সাধনের মাধ্যমে আমাদের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর পৃথিবীটাকে বিপজ্জনক করে তুলেছেন। এদিকে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আলোচকদের প্যানেল আইপিসিসিতে পৃথিবীতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ও এর সম্ভাব্য ঝুঁকি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। আইপিসিসি লেখকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট মাত্রাটি (অচলাবস্থান বা অপরিবর্তনীয় অবস্থার সর্বোচ্চ মান) নিশ্চিত করতে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কিন্তু পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমে বৃদ্ধি পেয়ে অচলাবস্থার দিকেই যাচ্ছে, যা মানুষ এবং প্রাকৃতিক কারণেই হচ্ছে। আমরা কি কখনও আমাদের পরিবেশগত সমস্যা ও মানবসংঘাত সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হতে পারব? এমন প্রশ্নের উত্তরে হকিং বলেন, পৃথিবীতে আমাদের দিন হিসাবের। আমার মনে হয় বিবর্তন মানুষের মনের লোভ ও সহিংসতা জাগিয়ে তুলছে। মানবসংঘাত কমার কোনো লক্ষণ নেই। যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির বিকাশ এবং মারাত্মক অস্ত্রগুলো মানুষের জন্য ধ্বংসাত্মক হতে পারে যেকোনো সময়। মানবজাতির বেঁচে থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় হতে পারে মহাকাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে স্বাধীনভাবে উপনিবেশ স্থাপন।

ব্রিটেনের সেনাবাহিনীতে ৩৫০ যৌন হয়রানির অভিযোগ

ব্রিটেনের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গত পাঁচ বছরে ৩৫০টিরও বেশি যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সামরিক বাহিনীর মধ্যে ৩৬৩টি যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এগুলোর মধ্যে ২৮২টি অভিযোগ পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে।
খবর দ্য গার্ডিয়ানের। প্রতিবেদনে বলা হয়, যৌন হয়রানির অভিযোগে সামরিক বাহিনীর সেনা, বিমান ও নৌ- এ তিনটি শাখার মোট ৯৯ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ব্রিটেনের হোয়াইট হল ভুক্তভোগীদের প্রায় ২০ লাখ পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিবিসি ওয়ানের প্যানোরামা প্রোগ্রামে সামরিক বাহিনীতে যৌন হয়রানির ওই অভিযোগ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে। দীর্ঘ তদন্তের পর বহু সাক্ষী ও যৌন হয়রানির শিকার নারীদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ওই প্রতিবেদন তৈরি করেছেন প্রোগ্রাম সাংবাদিকরা। তথ্য আইনের স্বাধীনতার আলোকে যৌন হয়রানির এ সংখ্যা প্রকাশ করেছে বিবিসি। এতে দেখা গেছে, যৌন হেনস্থার অভিযোগের মধ্যে সেনাবাহিনীর ক্যাডেটরা ৫৫ শতাংশ, বিমানবাহিনী ক্যাডেটরা দুই-তৃতীয়াংশ এবং নৌবাহিনীর ক্যাডেটরা ৮ শতাংশের জন্য দায়ী।

আরবদের তেল অবরোধ যেভাবে সঙ্কটে ফেলেছিল পশ্চিমা দেশগুলোকে

১৯৭৩ সালে তেল রফতানিকারী আরব দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু শিল্পোন্নত দেশের বিরুদ্ধে তেল নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে ইসরাইলকে সমর্থন দেয়ায় তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছিল। এর পরিণামে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল কয়েকগুণ। যার সুদুরপ্রসারী প্রভাব পড়েছিল বিশ্ব রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে।
১৯৭০-এর দশকের শুরুতে বিশ্বের তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণের জন্য শুরু হলো এক নতুন লড়াই। তেল উৎপাদনকারী আরব দেশগুলো তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা শুরু করার পর আতংক ছড়িয়ে পড়লো শিল্পোন্নত দেশগুলোতে।
সৌদী আরবের তেলমন্ত্রী আহমেদ জাকি ইয়ামানি ঘোষণা করলেন, একেবারে পানির দামে জ্বালানি তেল পাওয়ার দিন শেষ। তিনি বললেন, বিশ্বে এক নতুন যুগ শুরু হতে যাচ্ছে। জ্বালানী তেলের যে বাজার মূল্য, তার চেয়ে কম দামে যদি কেউ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে তেল কিনতে চায়, সেটা আর হবে না।
বিংশ শতাব্দীর বেশিরভাগ সময় জুড়ে বিশ্বের তেলের বাজার একচেটিয়াভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে সাতটি বড় পশ্চিমা তেলকোম্পানীর এক জোট। এদেরকে বলা হতো সেভেন সিস্টার্স। বিশ্বের ৮৫ শতাংশ তেলের রিজার্ভ ছিল তাদের নিয়ন্ত্রণে।
এরাই তেলের দাম ঠিক করতো, এরাই কৃত্রিমভাবে তেলের দাম কমিয়ে রাখতো।
কিন্তু ৫০ এর দশক থেকে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো তেলের দাম নির্ধারণে তাদের অধিকার দাবি করলো। ১৯৬০ সালে সৌদী আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত এবং ভেনেজুয়েলা গঠন করলো তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক। শীঘ্রই এতে যোগ দিল আরও অনেক দেশ।
১৯৭৩ সালে ডক্টর ফাডহিল চালাবি ছিলেন ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের পার্মানেন্ট আন্ডার সেক্রেটারি। ইরাক তখন মাত্র তাদের তেল শিল্প জাতীয়করণ করেছে। কার্যত ইরাকের পুরো তেল শিল্পের দায়িত্ব তাঁর ওপর:
"তেলের বাজার নিয়ে আগে যা চলছিল, আমি তার বিপক্ষে ছিলাম। কারণ এই ব্যবস্থাটা তেলউৎপাদনকারী দেশগুলোর স্বার্থের পক্ষে ছিল না। এতে তারা বঞ্চিত হচ্ছিল। কারণ তেলের দাম ছিল খুবই সস্তা।"
আরব দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েলের পক্ষ নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তার পরেই শুরু হয় আরবদের তেল অবরোধ।
ওপেক সিদ্ধান্ত নিল যে তারা তেল শিল্পের জন্য একটা নতুন নীতি অবলম্বন করবে। তারা ঠিক করলো, তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোই তেলের দাম নির্ধারণ করবে, সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত সাতটি তেল কোম্পানি নয়।
১৯৭৩ সাল নাগাদ ওপেকের চাপের মুখে তেল কোম্পানিগুলোকে অনেক ছাড় দিতে হলো। তখন যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিম ইউরোপ আর জাপানে তেলের চাহিদা বছর বছর বাড়ছে। সে বছরই ওপেকের এর বৈঠকে ডক্টর ফাডহিল চালাবি তেলের দাম এক লাফে ৭০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেন।
কিন্তু তেল কোম্পানি গুলো এই প্রস্তাব শুনে আঁতকে উঠলো। ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে ভিয়েনায় ওপেকের এক তেল মন্ত্রীদের এক বৈঠক ডাকা হলো, সেখানে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু তখনই অপ্রত্যাশিতভাবে শুরু হলো এক যুদ্ধ, যা সব কিছুর মোড় ঘুরিয়ে দিল।
ডক্টর ফাডহিল চালাবি বলেন, " ভিয়েনায় যাওয়ার আগে আমার সঙ্গে সাদ্দাম হোসেনের খুবই ঘনিষ্ঠ এক লোকের সঙ্গে দেখা হলো। তার সঙ্গে কথাবার্তা থেকে আমি ধারণা পেলাম যে একটা যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে। তিনি আমাকে বললেন, খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা কিছু ঘটতে যাচ্ছে।"
১৯৭৩ সালের ৬ অক্টোবর মিশর এবং সিরিয়া যুদ্ধ শুরু করলো ইসরাইলের বিরুদ্ধে। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধে যে ভূমি তারা হারিয়েছিল, সেটা পুনর্দখল তাদের লক্ষ্য। শুরুতে এই যুদ্ধে আরব সেনাবাহিনী বেশ ভালোই করছিল।
যখন এই যুদ্ধ চলছে, তখন ভিয়েনায় তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ওপেকের বৈঠকে চলছে অচলাবস্থা। তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে কোন সমঝোতা হলো না। তাই তেল মন্ত্রীরা কুয়েতে আরেকটি বৈঠকে বসলেন।
সেখান ১৯৭৩ সালের ১৬ই অক্টোবর তারা এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিলেন। এই প্রথম তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো তেল কোম্পানিগুলোকে বাদ দিয়ে একতরফাভাবে তেলের দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলো। শুধু তাই নয়, তারা তেলের দাম ৭০ শতাংশ বাড়ানোরও ঘোষণা দিল।
বিশ্ব রাজনীতিতে আরব দেশগুলো শক্তিশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো। সৌদি তেলমন্ত্রী জাকি ইয়ামানি হয়ে উঠলেন তাদের মুখপাত্র।
"এই প্রথম তেল কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ক্ষমতা চলে গেল ওপেকভুক্ত তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর হাতে। আমি স্বভাবতই এতে খুশি হলাম। কারণ ওপেকের ভিয়েনা বৈঠকে এর আগে আমি যে প্রস্তাব করেছিলাম, তাই এখন ঘটলো", বলছিলেন ডক্টর চালাবি।
কিন্তু সেখানেই থেমে থাকলো না ওপেক। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে তেল সম্পদকে একটি কার্যকর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের কথা চলছিল বহুদিন ধরে। ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে বিষয়টা আবার আলোচনায় চলে আসলো। যুদ্ধ শুরুর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র যখন ইসরায়েলে জরুরী সামরিক সাহায্য পাঠাতে শুরু করলো, আরব দেশগুলো সিদ্ধান্ত নিল, এবার তাদের একটা কিছু করতে হবে।
ওপেকের আরব তেল মন্ত্রীরা কুয়েতে থেকে গেলেন, এবং পরদিন ১৭ই অক্টোবর তারা আবার বৈঠকে বসলেন। এই বৈঠকে সৌদী আরবের তেলমন্ত্রী ইসরায়েলের মিত্র দেশগুলোতে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার প্রস্তাব দিলেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং নেদারল্যান্ডসে, যারা ইসরায়েলে জরুরী ভিত্তিতে সামরিক সাহায্য পাঠিয়েছে।
ইরাক অবশ্য তেল নিষেধাজ্ঞার চেয়ে আরও কঠোর ব্যবস্থার প্রস্তাব দিল। ডক্টর চালাবি জানান, তাদের প্রস্তাব ছিল, সমস্ত আরব দেশে যেসব মার্কিন তেল কোম্পানি আছে, সেগুলো জাতীয়করণ করা।
"আমাদের তেলমন্ত্রী হামাদি বললেন, এই নিষেধাজ্ঞার আমরা বিরোধিতা করছি এই কারণে যে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের খুব একটা ক্ষতি হবে না, এতে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোই বেশি ভুগবে। যদি সত্যি সত্যি আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে একটা জবাব দিতে চাই, আমাদের উচিত তাদের সব তেল কোম্পানি জাতীয়করণ করা। কিন্তু ইরাকের এই প্রস্তাব অন্যদেশগুলো গ্রহণ করলো না।"
১৯৭৩ সালের ১৭ অক্টোবরের ঐ বৈঠকের পরিবেশটা কেমন ছিল? ডক্টর চালাবি জানাচ্ছেন, তেল নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সৌদী আরব এবং কুয়েতের নেতৃত্বে জোরালো সমর্থন দেখা গেল। তবে ডক্টর চালাবি ব্যক্তিগতভাবে এরকম নিষেধাজ্ঞার বিরোধী ছিলেন :
"আমি এর বিরুদ্ধে ছিলাম। কিন্তু এটি ছিল খুব স্পর্শকাতর একটি রাজনৈতিক বিষয়। কাজেই যখন আমি আমার মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছিলাম, তখন আমাকে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হয়েছে। আমি ইরাকের বাথ পার্টির সদস্য ছিলাম না, কাজেই আমার অবস্থান ছিল খুব নাজুক। কিন্তু তারপরও আমি ঝুঁকি নিলাম এবং আমার মন্ত্রীকে বললাম, এটা পুরো বিশ্বের তেল শিল্পে একটা অস্থিরতা তৈরি করবে। যথারীতি আমার মন্ত্রী কিছু্ই বললেন না।"
ইরাক ছাড়া ওপেকের বাকী সব আরব সদস্য যুক্তরাষ্ট্র এবং নেদারল্যান্ডসে তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দিতে রাজী হলো। দিনে দিনে এই নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা হলো। এর আওতায় এলো পর্তুগাল এবং দক্ষিণ আফ্রিকাও। এসব কিছুর ফলে তেলের দাম বেড়ে গেলো চার গুন, কোনো কোনো দেশে তারও বেশি। পশ্চিমা দেশগুলোতে তেলের তীব্র সংকট দেখা দিল। পেট্রোল পাম্প গুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন। তেল রেশনিং করা শুরু হলো। যুক্তরাষ্ট্রে এমনটি ঘন্টায় ৫৫ মাইলের বেশি গতিতে গাড়ী চালানোর ওপর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলো।
এবারে সত্যি সত্যি পানির দরে তেল কেনার যুগের অবসান ঘটলো। সৌদি আরবের তেল মন্ত্রী শেখ আহমেদ জাকি ইয়ামানি বললেন, ইসরাইল যদি সব আরব ভূমি থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়, তবেই কেবল এই নিষেধাজ্ঞা তোলা হবে, তার আগে নয়। তারপরেই কেবল বিশ্ব ১৭ অক্টোবরের আগের দরে তেল পাওয়ার আশা করতে পারে।
বিশ্বে এই প্রথম এক শক্তিশালী জোট হিসেবে আবির্ভূত হলো তেলরফতানিকারী আরব দেশগুলো। সৌদি তেল মন্ত্রী শেখ আহমেদ জাকি ইয়ামানি হয়ে উঠলেন তাদের মুখপাত্র।
তিনি ঘোষণা করলেন, "আমাদের নীতি হচ্ছে, আমরা তেলের দাম বাড়াবো, তবে সেটা যুক্তিসঙ্গত হারে।"
একজন সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করলেন, যদি তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি দশডলার করা হয়, তাতে পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়ব, তাদের শত কোটি ডলারের ক্ষতি গুনতে হবে। ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতে এর কি প্রভাব পড়বে, সেটা কি তিনি ভেবে দেখেছেন। জবাবে শেখ আহমেদ জাকি ইয়ামানি বললেন:
"তাহলে আপনার পরামর্শটা কি? আমাদেরকে কি আপনি আমাদেরকে বাজার মূল্যের চেয়ে কমে তেল বিক্রি করতে বলছেন। আপনি নিশ্চয়ই আমাদেরকে তা করতে বলছেন না। সেটাই আমি ধরে নেব। আর আপনি যদি এই সংকট নিয়ে আমাদেরকে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে বলেন, সেজন্য আমরা প্রস্তুত আছি।"
হঠাৎ করে তেলের এই উচ্চ মূল্যে নাটকীয়ভাবে বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্যে একটা পরিবর্তন নিয়ে এলো। শিল্পোন্নত পশ্চিমা বিশ্ব এতদিন যে একচ্ছত্র ক্ষমতা এবং কর্তৃত্ব দেখিয়ে এসেছে, তাদের জন্য এ ছিল এক বিরাট ধাক্কা। এই তেল নিষেধাজ্ঞা বজায় ছিল ১৯৭৪ সালের শুরু পর্যন্ত। কিন্তু ওপেক তেলের দাম বাড়িয়েই চললো এবং তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো বিপুল সম্পদশালী হয়ে উঠলো।
কিন্তু ডক্টর চালাবি মনে করেন, তেলের এই উচ্চ মূল্য আসলে শেষ পর্যন্ত ওপেকের জন্য ভালো হয়নি। এটা শেষ পর্যন্ত পশ্চিমা তেল কোম্পানিগুলোর স্বার্থের পক্ষেই গেছে। কারণ তারা বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে তেলের নতুন উৎস খুঁজছিল। তেলের উচ্চমূল্য এখন তাদের এই নতুন প্রকল্পগুলোকে লাভজনক করে তুললো।
"তেলের এই উচ্চমূল্যের ফলে তেল কোম্পানিগুলো অন্যত্র তেলের সন্ধান শুরু করলো। যেমন ধরুণ নর্থ সী-তে। বিশ্বের নানা জায়গায় তেলের অনুসন্ধান শুরু হলো। উত্তর আফ্রিকায়, ল্যাটিন আমেরিকায়, যুক্তরাষ্ট্রে। আমি বলেছিলাম, তেলের উচ্চমূল্য থেকে তাৎক্ষিণভাবে হয়তো ওপেক দেশগুলো লাভবান হবে। কিন্তু এর পরিণামে পরবর্তীকালে বিশ্ববাজারের তেলের সরবরাহে ওপেকের গুরুত্ব কমে যাবে। শেষ পর্যন্ত কিন্তু সেটাই হয়েছে।"
সূত্র : বিবিসি