Wednesday, March 10, 2010

যোগ্য নেতৃত্বের হাত ধরে এগিয়ে যাক -মামুন রশীদ

স্বাধীনতা অর্জনের আগে তিনি যখন ছাত্ররাজনীতি করতেন, তখনই প্রগতিশীল সব আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘অগ্নিকন্যা’ খেতাব পেয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজনীতিতেও তিনি প্রশ্নাতীত সততা, নৈতিকতা ও সাহসিকতা অব্যাহত রেখেছেন। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে বর্তমান ১৪ দলীয় জোট সরকারের কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে তিনি কৃষি খাতের শ্রমজীবী মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও খাদ্যশস্যের উত্পাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে নীতি সংস্কার, সহজে ও সময়মতো কৃষি উপকরণ বিতরণ ও উত্পাদন খরচ কমানোর ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন বলে জোরাল প্রতিশ্রুতি দেন। এরই আলোকে তিনি দেশের এক কোটি ৮২ লাখ কৃষকের কাছে সরকারের দেওয়া ভর্তুকি পৌঁছাতে তাঁদের মধ্যে পরিচয়পত্র বিতরণের কাজও শুরু করেছেন। সব মিলিয়ে এই প্রথমবারের মতো আমরা উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দেখতে পেলাম। প্রিয় পাঠক, নিশ্চয়ই এতক্ষণে বুঝে গেছেন যে আমি কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর কথাই বলছি। যেহেতু দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৮ শতাংশই কৃষি কাজে নিয়োজিত, সেহেতু এই খাতের নেতৃত্ব দিতে তাঁকে যোগ্যতম ব্যক্তিত্ব মনে করি। কারণ ১৯৯৬-২০০১ সময়েও তিনি সাফল্যের সঙ্গে তত্কালীন সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
সরকার চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরে দেশে খাদ্যশস্যের উত্পাদন বাড়ানোর বিষয়ে বেশ জোর দিয়েছে। সে অনুযায়ী এই অর্থবছরে খাদ্যশস্য উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা তিন কোটি ২২ লাখ মেট্রিক টনে প্রক্ষেপণ করেছে, যা আগের ২০০৮-০৯ অর্থবছরের চেয়ে ৮.১ শতাংশ বেশি। সরকার সত্যিকার অর্থেই কৃষিখাতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ বা প্রতিবন্ধকতার সমাধানেও মনোযোগ দিয়েছে। এর মধ্যে প্রথমেই সরকার সারের দাম সমন্বয় করে অর্থাত্ কমিয়ে তার একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে। নবনির্বাচিত সরকার সার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় ইউরিয়া-বহির্ভূত সারে ভর্তুকি প্রদান, সার সরবরাহের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা অপসারণ এবং ডিজেল ও কেরোসিনে অব্যাহতভাবে ভর্তুকি দিয়ে কৃষি খাতে উত্পাদন খরচ কমানোর মতো সময়োপযোগী কিছু সঠিক নীতি-পদক্ষেপ গ্রহণ করার পাশাপাশি তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সেদিকেও নিবিড় নজরদারির ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।
পুরো ২০০৯ সাল জুড়ে নতুন সরকার বারবার কৃষি খাতে নীতি-সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে প্রথমেই আসে সরকারের নেওয়া আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ বা কার্যক্রমের কথা, যেখানে কৃষিকে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তিন হাজার ৪২৪ কোটি টাকার এই আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ বা কার্যক্রমে দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয় কৃষি খাতে ভর্তুকি দেওয়ার জন্য। যা আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ বা কার্যক্রমের ৬৯ শতাংশ। চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরের ৩০ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ৭.৮ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করা হয় মত্স্য, পশুপালন ও পানিসম্পদসহ সার্বিকভাবে কৃষি খাতের জন্য। বাজেটে সেচ-ব্যবস্থার সম্প্রসারণসহ কৃষি খাতে অবকাঠামো জোরদারকরণ, আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ বাড়ানো ও নদীভাঙন রোধের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে কৃষি ও গ্রামীণ অবকাঠামো জোরদার করতে এডিপির আওতায় বরাদ্দ করা হয় এক হাজার ৩০৯ কোটি টাকা। কৃষি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিতে ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে এ জন্য বরাদ্দ করা হয় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা। সে আলোকে ২০০৯ সালের নভেম্বরে এসে আবার সারের দাম কমানো হয়। এবার প্রতি কেজি টিএসপি সার ২২, এমওপি ২৫ ও ডিএপি ৩০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়, যা একই বছরের এপ্রিলে দাম কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল যথাক্রমে ৪০, ৩৫ ও ৪০ টাকায়।
সরকার উচ্চফলনশীল (উফশী) বীজের উদ্ভাবন ও উন্নয়ন এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণের ক্ষমতা বাড়াতে ২৮০ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। শস্য উত্পাদনে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার কৃষি গবেষণা ও কৃষি খাতে পুনর্বাসন সহায়তা বাবদ ১৮৫ কোটি ২১ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন বাজেট মিলিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়কে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা।
নতুন সরকার কৃষি ঋণ বিতরণের পরিমাণ বাড়ানো এবং কৃষকেরা যাতে সহজে ও সময়মতো কৃষি ঋণ গ্রহণের সুযোগ পায়, সে বিষয়ে বিশেষভাবে জোর দিয়েছে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০৯ সালে ‘কৃষি/পল্লি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি নীতি-নির্দেশনা জারি করে। এই নীতি-কর্মসূচিতে এলাকা বা অঞ্চলভিত্তিক শস্য উত্পাদন, কৃষকদের মধ্যে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ, সফল কৃষকদের স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকাশ্যে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকার চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করেছে, যা এর আগের ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ছিল ৯ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা।
কৃষি খাতে আরো কিছু জরুরি নীতি-পদক্ষেপ গ্রহনের বিষয়টি লক্ষ্যনীয়। এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো, কৃষকদের নিয়ে একটি সহজে ব্যবহারযোগ্য সমন্বিত ডাটাবেজ বা উপাত্ত-ভান্ডার তৈরি করা। সরকার কৃষি খাত নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন কৌশল হাতে নিয়ে নিয়েছে এবং সে অনুযায়ী কৃষকদের দোরগোড়ায় সময়মতো সঠিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও উপকরণ পৌঁছে দেবে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সরকার কৃষি বাজারের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উত্পাদক ও ভোক্তা উভয়ের জন্য ন্যায্যদামে কৃষিপণ্যের বেচাকেনার প্রক্রিয়া খুঁজে বের করার লক্ষ্যেও কাজ করছে। আমরা যদ্দুর জানি, কৃষক ও ভোক্তাদের স্বার্থ সমুন্নত রেখে কৃষিপণ্যের বিপণন কার্যক্রম জোরদারের ব্যাপারে গাইডলাইন বা দিক-নির্দেশনা দিতে ‘এগ্রিকালচার প্রাইস কমিশন’ নামে একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
কৃষি খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকার সঠিক ইস্যুগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি নীতি-পদক্ষেপও গ্রহণ করে আসছে। কিন্তু তা কতটা কাজে লাগছে সেটিও কিন্তু দেখতে হবে। কারণ অতীতে বারবার দেখা গেছে, সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করলেও কার্যকর তদারকির অভাবে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। বাণিজ্য শর্ত (টার্মস অব ট্রেড) বিষয়েও সরকারের একটি সুসমন্বিত নীতিমালা গ্রহণ করা উচিত। তবে এই প্রক্রিয়ায় সরকারের সামনে কিছু বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে। যেমন—বিতরণ নেটওয়ার্কের ব্যবস্থাপনা, বাজারমূল্য ও ভোক্তাদের কাঙ্ক্ষিত দামের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার মাধ্যমে বাজারচালিত পথ ধরে সমাধানসূত্র খোঁজা। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সময়মতো সম্পদের জোগান নিশ্চিত করা।
সরকারের উচিত, কৃষি খাতের সংস্কার সাধন ও উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেসরকারি খাতকেও সম্পৃক্ত করা। সেই সঙ্গে বেসরকারি খাতকে ক্রমান্বয়ে বাণিজ্যিক কৃষিতে আকৃষ্ট করতে হবে, যাতে আবাদযোগ্য জমির সবটাই ব্যবহার করা যায় ও তাদের বিনিয়োগও হয়ে ওঠে লাভজনক। সময়মতো কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও বিতরণের ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কৃষকদের কাছে ভর্তুকি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এ ছাড়া দেশব্যাপী যেহেতু ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান (এমএফআই) ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) কার্যক্রম বিস্তৃত রয়েছে, সেহেতু কৃষি উপকরণ বিতরণে তাদেরও কাজে লাগানো যায়।
দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে উত্পাদকদের জন্য পর্যাপ্ত প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে অতীতের মতো নীতি ও সুশাসনের ব্যর্থতা যেন পরিলক্ষিত না হয়, সেদিকেও নিবিড় নজরদারি চালাতে হবে। আমি নিশ্চিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী সব সময়ই প্রবল উদ্দীপনা নিয়েই গ্রামীণ বাংলাদেশ তথা আমাদের প্রবৃদ্ধির নায়ক কৃষক-সমাজের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবেন এবং সোচ্চার থাকবেন।
[নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব]
মামুন রশীদ: ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক।

শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না -চরমপন্থীদের তৎপরতা

দেশের বিভিন্ন জেলায়, বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সক্রিয় চরমপন্থীদের তৎপরতা মাঝে তেমন লক্ষ করা যায়নি। নানা রাজনৈতিক সংগঠনের নামে চরমপন্থীদের তৎপরতা কমে যাওয়ার কারণ ছিল তাদের বিরুদ্ধে অব্যাহত অভিযান। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের অভিযান প্রকৃত অর্থে তেমন কাজে আসেনি, সংগঠিত হয়ে তারা আবার মাঠে নামার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি খুলনায় ফুলতলা উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়িতে বোমা হামলার ঘটনায় এর প্রমাণ মিলেছে। প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনেও তাদের সক্রিয় হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
বিপ্লবী ও বাম রাজনীতির নামে এই সংগঠনগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনার কথা বললেও কার্যত তা চাঁদাবাজির রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়। আর সে কারণেই এ ধরনের সংগঠনগুলো অঞ্চলভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারের জন্য খুনোখুনি, হামলা, অপহরণ, বোমাবাজির মতো অপরাধকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। গত জোট সরকারের আমলের শেষের দিকে ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এসব সংগঠনের অনেক নেতা-কর্মীর মৃত্যু ও আটক হওয়ার পর তারা স্বাভাবিকভাবেই চাপের মুখে পড়ে। এর পর থেকে তাদের তৎপরতা অনেকটা কমে যায়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার কথা বলা হয়েছিল। গত বছর এই সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী চরমপন্থীদের প্রতি আত্মসমর্পণের আহ্বান ও প্রয়োজনে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার বিষয়টি বিবেচনা করার কথাও বলেছিলেন।
আমরা মনে করি, চরমপন্থীদের তৎপরতার বিষয়টি একদিকে যেমন আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা, অন্যদিকে রাজনৈতিক-সামাজিকভাবেও বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। এ সংগঠনগুলো তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে রাজনীতির নামে; সমাজের শোষিত শ্রেণীর অধিকার রক্ষার কথা বলে তারা লোকজনকে তাদের দলে টানার চেষ্টা করে। বেকারত্ব ও অশিক্ষার এই দেশে এসব কথা বলে দলে লোক টানা অসম্ভব নয়। অন্যদিকে বিভিন্ন সময় দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা এই চরমপন্থীদের ব্যবহার করে এসেছে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে—কখনো প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে, কখনো নির্বাচনে জিততে, কখনো এলাকায় নিজেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার করতে আবার কখনো তা ধরে রাখতে। ফলে চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে শুধু অভিযান পরিচালনা করে কার্যকর ফল পাওয়া যাবে না। সেটা হলে এত ‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুকযুদ্ধ’, অভিযানের পর তাদের আবার সক্রিয় হওয়ার সুযোগ ছিল না।
চরমপন্থী-সমস্যার বিষয়টিকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযানের পাশাপাশি যারা রাজনীতির নামে খুন ও চাঁদাবাজির পথ বেছে নিয়েছে, তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। আওয়ামী লীগ গত মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সময় চরমপন্থীদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছিল। তখন প্রায় আড়াই হাজারের বেশি চরমপন্থী আত্মসমর্পণ করেছিল। অস্ত্র জমা পড়েছিল দুই হাজারের বেশি। উদ্যোগটি ভালো ছিল এতে সন্দেহ নেই, কিন্তু তা সফল হয়নি। আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থীদের অনেককে আনসারে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। তাদের অনেকেই পরবর্তী সময়ে চাকরি ছেড়ে পালিয়ে গেছে, অনেকে আবার চরমপন্থী দলের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে এখন এ সমস্যার সমাধান করতে গেলে শুধু সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা আর কয়েকজনকে চাকরি দিয়ে দায়িত্ব সারলে হবে না। চরমপন্থীদের নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করাটা সে কারণে খুবই জরুরি।
খুলনায় এক উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়িতে বোমা হামলা চালিয়ে গত শনিবার চরমপন্থীরা তাদের উপস্থিতির যেভাবে জানান দিল, তাতে আমরা শঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন। আমরা আশা করব, সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে এ সমস্যার একটি কার্যকর সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করবে।

পরমাণু যুদ্ধ শুরুর পূর্ব প্রস্তুতি বলে অভিযোগ উত্তর কোরিয়ার

উত্তর কোরিয়ার হুমকি সত্ত্বেও গতকাল সোমবার থেকে বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। উত্তর কোরিয়া এ মহড়াকে পরমাণু যুদ্ধ শুরুর প্রস্তুতি বলে অভিযোগ করেছে। এএফপি।
যৌথ ফোর্স কমান্ডের এক মুখপাত্র জানান, ১০ দিনের এ মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার ২০ হাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ হাজার সেনা অংশ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ হাজার সেনার মধ্যে ১০ হাজার সেনা কোরিয়াভিত্তিক নয়।
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য বলছে, আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থার জন্যই এ সামরিক মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।
তবে এ মহড়ার কঠোর সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। তারা একে উত্তর কোরিয়ার ওপর হামলা চালানোর পূর্ব-প্রস্তুতি বলে অভিযোগ করেছে। গত রোববার উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের ওপর হামলা হলে তারা এর কঠিন জবাব দেবে। ১৯৫০ থেকে ৫৩ সাল পর্যন্ত যুদ্ধের পর দুই কোরিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নেই বলেও উল্লেখ করে তারা। পাশাপাশি তারা পারমাণবিক অস্ত্রের ভান্ডার আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা দেয়।
পারমাণবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে ছয় জাতির আলোচনায় ফিরে যাওয়ার জন্য উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ রয়েছে। গত বছরের এপ্রিলে দেশটি ওই আলোচনা থেকে বেরিয়ে যায়। এর পরের মাসেই তারা দ্বিতীয়বারের মতো সফল পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়।

এক পার্সেলে তিন হাজার ৮০৮টি ডাকটিকিট

একটি পার্সেলে তিন হাজার ৮০৮টি ডাকটিকিট লাগিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর শহরের সুভাষনগরের যুবক মনোজ মণ্ডল। লন্ডনে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রতিনিধি মার্কো ফির্গাটির কাছে ওই পার্সেলটি পাঠানো হয় গত ৪ মার্চ ।
পার্সেলটির ওজন দুই কেজি ৮২৫ গ্রাম। দৈর্ঘ্যে এক মিটার, প্রস্থে ৭০ সেন্টিমিটার এবং উচ্চতায় ২০ সেন্টিমিটার। এতে লাগানো হয়েছে এক হাজার ৬৫৫ রুপির তিন হাজার ৮০৮টি ডাকটিকিট। মনোজের আশা, এবার নাম উঠবে গিনেস বুকে। মনোজ এর আগে ছোট প্রেশার কুকার বানিয়ে নাম উঠিয়েছিলেন লিমকা বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। এবার চাইছেন গিনেস বুকে নাম তুলতে।

‘পানচেন লামার সঙ্গে আন্তর্জাতিক নেতাদের দেখা করতে দেওয়া উচিত’

পানচেন লামা পদে তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার নির্বাচিত ছয় বছর বয়সী ওই বালকের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতাদের দেখা করতে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ভারতে তিব্বতের প্রবাসী পার্লামেন্টের স্পিকার পেমপা টিসেরিং।
তিব্বতে চীন সরকারের নবনিযুক্ত গভর্নর পদ্মা চোলিং গত রোববার দেওয়া এক বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় টিসেরিং এ মন্তব্য করেন। গভর্নর পদ্মা চোলিং ওই বিবৃতিতে বলেন, ‘পানচেন লামা নিরাপদ ও সুস্থ আছে। সে তিব্বতেই বাস করছে।’
স্পিকার টিসেরিং বলেন, গভর্নরের বক্তব্য সঠিক হলে পানচেন লামার সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও নিরপেক্ষ সংস্থার নেতাদের সাক্ষাত্ করতে দেওয়া হোক। তাঁরা দেখুক, পানচেন লামা কেমন আছে। টিসেরিং বলেন, ‘সে জীবিত আছে কি না, সে তথ্যও আমাদের কাছে নেই।’
আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা ছয় বছর বয়সী এক বালককে পানচেন লামা পদে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত করেন। এর পরপর ওই বালককে আটক করে চীন সরকার। পরে গিয়ালটেন নোরবুকে ১১তম পানচেন লামা হিসেবে নির্বাচিত করে চীন।

মার্কিন উপনিবেশে পরিণত হয়েছে পাকিস্তান: ইমরান খান

পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির নেতা ইমরান খান বলেছেন, পাকিস্তান ইসলামি রাষ্ট্র কিংবা কল্যাণরাষ্ট্র কোনোটাই নয়। দেশটি আসলে মার্কিন উপনিবেশে পরিণত হয়েছে।
ইমরান খান বলেন, কেন্দ্র ও পাঞ্জাব প্রদেশে শাসন দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ মার্কিন নীতি অনুসরণ করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিও এখন একই নীতি অনুসরণ করছেন। তাঁরা দেশকে একটি মার্কিন উপনিবেশে পরিণত করেছেন।
সম্প্রতি পাকিস্তানি তালেবান ও সরকারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইমরান খান। সাবেক এই ক্রিকেট-তারকা বলেন, তাঁর দল ক্ষমতায় গেলে দেশকে একটি সত্যিকারের ইসলামি কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করা হবে।
ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টিকে ইসলামপন্থী দল জামায়াত-ই-ইসলামির ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ দুই দলই ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচন বর্জন করে।
ইমরান খান বলেন, তাঁর দল পদ্ধতির পরিবর্তন করার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরিক-ই-ইনসাফ কখনই দেশের সুবিধাবাদী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে হাত মেলাবে না।
তিনি বলেন, ‘অল্প সময়ের চোরদের’ ওপর নির্যাতন চালানোর পরিবর্তে সরকারের উচিত অধুনালুপ্ত ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন অর্ডিন্যান্সের (এনআরও) সুবিধাভোগীদের বিচারের আওতায় আনা।

ইরাকের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী মালিকি এগিয়ে

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকের পার্লামেন্ট নির্বাচনে গতকাল সোমবার পর্যন্ত প্রাথমিক ভোট গণনার পর এগিয়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নূরি আল-মালিকি। ভোটকেন্দ্রগুলো ঘুরে এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইরাকে অভিযান শুরু করার পর গত রোববার দেশটিতে দ্বিতীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হয়।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বোমা ও রকেট হামলা সত্ত্বেও রোববার ভোটার উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। ভোটগ্রহণের দিন বাগদাদ, বাকুবা ও ফাল্লুজাসহ দেশের বেশ কয়েকটি শহরে বিদ্রোহীদের হামলায় কমপক্ষে ৩৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আহত হয়েছে আরও ১১০ জন। ভোটগ্রহণ উপলক্ষে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরাকের ১৮টি প্রদেশের নয়টিতেই এগিয়ে রয়েছেন মালিকি। তবে ফলাফল নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল রাজধানী বাগদাদে কে এগিয়ে রয়েছেন সে সম্পর্কে এখনো পরিষ্কার কোনো চিত্র পাওয়া যায়নি।
কর্মকর্তারা আরও জানান, শিয়া অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে মালিকির নেতৃত্বাধীন ‘স্টেট অব ল’ জোট এগিয়ে রয়েছে। আর সুন্নি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে এগিয়ে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইয়াদ আলাবির নেতৃত্বাধীন ‘ইরাকিয়া লিস্ট’ জোট। এ ছাড়া শিয়াপ্রধান দল সুপ্রিম ইরাকি ইসলামিক কাউন্সিল ও শিয়াধর্মীয় নেতা মুকতাদা আল-সদরের অনুসারীদের জোট ‘ইরাকি ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স’ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে ১৮ মার্চের আগে নির্বাচনের পূর্ণ ফল জানানো সম্ভব হবে না বলে উল্লেখ করেন কর্মকর্তারা।
এদিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বোমা ও মর্টার হামলা উপেক্ষা করে ভোট দেওয়ায় ইরাকি ভোটারদের সাধুবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। নির্বাচনের পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘সহিংসতাকে উপেক্ষা করে যেসব ইরাকি ভোট দিয়েছেন তাঁদের সাহসিকতাকে আমি সম্মান জানাই।’ এ নির্বাচনকে ইরাকের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। জাতিসংঘও ইরাকি ভোটারদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছে। ইরাকে জাতিসংঘের দূত অ্যাড মেলকার্ট বলেন, ‘নির্বাচনী-প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। যথাযথ পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।’ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরাও ভোটগ্রহণ-প্রক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
গতকাল ইরাকের নির্বাচন কমিশন আইএইচইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সারা দেশে ৬০ শতাংশের বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে স্বায়ত্তশাসিত উত্তরাঞ্চলীয় কুর্দি অঞ্চলের আরবিল এলাকায় এবং সহিংসতাপূর্ণ কিরকুক প্রদেশে ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। সুন্নি ভোটাররা ২০০৫ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচন বর্জন করলেও এবার তাঁদের যথেষ্ট উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। এবারের নির্বাচনে পার্লামেন্টের ৩২৫টি আসনের বিপরীতে ছয় হাজার ২০০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

নির্বাচনী আইন পাস করেছে মিয়ানমার

বহু প্রতীক্ষিত নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচনী আইন পাস করেছে মিয়ানমারের সামরিক সরকার। গতকাল সোমবার আইন পাসের ঘোষণা দেওয়া হলেও নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিনক্ষণের ব্যাপারে পরিষ্কার করে কিছু বলেনি জান্তা।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিও জানিয়েছে, নির্বাচনসংক্রান্ত পাঁচটি আইন স্টেট পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলে পাস হয়েছে। আইনের বিস্তারিত আজ মঙ্গলবার সংবাদপত্রে প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়া বই আকারেও আইনগুলো প্রকাশ করা হবে।
তবে আজ আইনগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হলেও সেখানে নির্বাচনী তারিখের বিষয়ে কিছু থাকবে কিনা সেটা জানা যায়নি।
জান্তাপ্রধান থান শুয়ে জানিয়েছেন, তাঁর গণতন্ত্রের রোডম্যাপের অংশ হিসেবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে সমালোচকেরা বলছেন, বিরোধীদলীয় নেত্রী অং সান সু চিকে গৃহবন্দী রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা হবে অর্থহীন।
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি)

নাইজেরিয়ায় দাঙ্গায় নিহত পাঁচ শতাধিক

নাইজেরিয়ায় গত রোববার ভোররাতে মুসলমান ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় পাঁচ শতাধিক লোক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কয়েক শ। হতাহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। কয়েকটি সূত্র প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা প্রায় এক শ বলে জানালেও গতকাল সোমবার স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা বলেছেন, প্লাতেউ প্রদেশের জোস শহরের পার্শ্ববর্তী তিনটি গ্রামে মুসলিম সম্প্রদায়ের ফিলানি গোত্রের লোকেরা তাদের প্রতিপক্ষ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বেরোম গোত্রের ওপর হামলা চালালে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নতুন করে যাতে কোনো সংঘাত না বাধে সে জন্য ওই এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। সাঁজোয়া যান ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেখানে সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে কমপক্ষে ৯৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার জের ধরে নাইজেরিয়ার অন্যান্য প্রদেশেও জাতিগত দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিবিসি, রয়টার্স ও এএফপি।
জানা গেছে, ঐতিহাসিকভাবেই মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত ফিলানি ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ভুক্ত বেরোম গোত্রের মধ্যে বহু বছর ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বহুবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে।
গত জানুয়ারিতে একটি গরু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের সংঘর্ষ হয়। ওই সময় বেরোম গোত্রের হামলায় ফিলানি গোত্রের শতাধিক লোক নিহত হয়। এ ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবেই ফিলানিরা রোববার ভোররাতে বেরোমদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গণহত্যা চালায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দা ফ্রাঙ্ক তাতগুন বলেছেন, ভোররাতে হামলাকারীরা তিনটি গ্রাম ঘিরে ফেলে। তাদের সবার হাতে চাপাতি জাতীয় ধারালো অস্ত্র। তারা শণ ও বাঁশের তৈরি কুঁড়েঘরে প্রথমে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রাণ বাঁচাতে লোকজন ছোটাছুটি শুরু করে। নারী ও শিশুসহ সবাই যখন পালাচ্ছিল, তখন তাদের বন্য জানোয়ার শিকারের জন্য ব্যবহার করার ফাঁদ ও মাছধরার জাল দিয়ে আটকে ফেলা হয়। এরপর নারী-শিশুনির্বিশেষে সবাইকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
প্রঘটনার দিন প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা প্রায় এক শ বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করলেও গতকাল প্লাতেউ প্রদেশের রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। রাজ্য সরকারের উপদেষ্টা ড্যান মানজাং বলেছেন, তাঁরা এ পর্যন্ত ৯৫ জনকে হামলাকারী সন্দেহে আটক করছেন। একই সঙ্গে তিনি এ হামলায় পাঁচ শতাধিক লোককে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকার করেন।
গণমাধ্যমকর্মীরা বলেছেন, সাধারণত নাইজেরিয়ার জাতিগত দাঙ্গায় নিহতদের সঠিক সংখ্যা জানা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। সর্বশেষ হামলার ঘটনায় বহু লোককে মেরে লাশ গুম করা হতে পারে এমন আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া সরকারি ছাড়পত্র ছাড়াই অসংখ্য মৃতদেহ তড়িঘড়ি করে কবর দিয়ে দেওয়া হয়। ফলে আসল তথ্য অনেক ক্ষেত্রেই ধামাচাপা পড়ে যায়। এদিকে পুনরায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় প্লাতেউ প্রদেশের রাস্তায় রাস্তায় নিরাপত্তাকর্মীরা টহল দিচ্ছে।
প্লাতেউর কমিশনার ফর ইনফরমেশন গ্রেগরি ইয়েনলং বলেন, সৈন্যরা সবখানে সতর্ক পাহারায় রয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত। তবে রেডক্রসের একজন মুখপাত্র বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো নাজুক। তাঁরা উদ্ধার-তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। গুরুতর আহতদের তাঁরা হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছেন।
আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ায় এমন এক সময় এ জাতিগত দাঙ্গার আগন জ্বলে উঠল, যখন সে দেশের প্রেসিডেন্ট উমারু ইয়ারআদুয়া অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী এবং ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে গুডলাক জোনাথন সরকার চালাচ্ছেন।
জোনাথনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, প্রেসিডেন্ট এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাকিস্তানে মার্কিন নাগরিক গ্রেপ্তার

আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাকিস্তানে এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এ কথা জানান। তবে ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের আল-কায়েদার মোস্ট ওয়ান্টেড মুখপাত্র বলে প্রথমে যে খবর বেরিয়েছিল, কর্মকর্তারা তা নাকচ করে দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের গোয়েন্দারা যাঁকে গ্রেপ্তার করেছেন, তিনি করাচি থেকে আসা আবু ইয়াহইয়া মাজাদান। আমরা যত দূর জেনেছি, তিনি একজন মার্কিন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা তাঁকে আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করছি। তবে আমরা তাঁর আল-কায়েদা ও অন্যান্য সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।’
অপর এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, ওই ব্যক্তি মার্কিন নাগরিক। তাঁকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে এর বেশি কিছু জানানো হয়নি। ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অবশ্য তাঁকে আল-কায়েদার মুখপাত্র অ্যাডাম ইয়াহিয়া গাদান বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। গাদানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও নাশকতামূলক তত্পরতার অভিযোগ আছে। তাঁকে গ্রেপ্তারে তথ্য দিতে পারলে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ কাউকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে কূটনীতিকদের কাছে কোনো তথ্য দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই বলেছে, ৩১ বছর বয়সী গাদান মার্কিন নাগরিক ‘আজম দ্য আমেরিকান’সহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে কাজ করে।

পশ্চিম তীরে শতাধিক বাড়ি নির্মাণের অনুমতি ইসরায়েলের

অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতিতে নতুন করে ১১২টি বাড়ি নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল। গতকাল সোমবার দেশটির একজন মন্ত্রী এ কথা জানিয়েছেন।
সরকারি রেডিওতে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে পরিবেশমন্ত্রী গিলাদ এরদান বলেন, বাড়িগুলো বেথেলহেমের কাছে বেইতার ইলিতে নির্মাণ করা হবে।
ফিলিস্তিন ইসরায়েলের সঙ্গে পরোক্ষ শান্তি আলোচনায় সম্মত হওয়ার এক দিন পর বসতি স্থাপনের নতুন প্রকল্পের বিষয়টি সামনে আসে। আলোচনায় সম্মত হলেও ইসরায়েলের বসতি স্থাপন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে মার্কিন মধ্যস্থতায় ওই শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ফিলিস্তিন।
ফিলিস্তিনিরা জোর দিয়ে বলেছে, ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন সম্পূর্ণ বন্ধ করলে, তবেই তারা সরাসরি সমঝোতায় ফিরে আসবে। ইসরায়েলের বসতি স্থাপন প্রক্রিয়া ফিলিস্তিনের সঙ্গে পুনরায় শান্তি আলোচনা শুরু করার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে।

রাজাপক্ষেকে পরাজিত করতে চেয়েছিল ‘র’

জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাহিন্দা রাজাপক্ষেকে পরাজিত করার চেষ্টা করেছিল ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’। ডেইলি মিরর পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে দেশটির একজন মন্ত্রী এ কথা বলেন। গতকাল সোমবার সাক্ষাত্কারটি প্রকাশিত হয়।
ডাকমন্ত্রী নান্দানা গুনাথিলেক বলেন, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র) ২৬ জানুয়ারির নির্বাচনে রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। এমনকি ভারত সরকারও ‘র’-কে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছে।
সাক্ষাত্কারে মন্ত্রী নান্দানা বলেন, ‘র’-এর কার্যক্রম কীভাবে চলে এবং ভারতের সরকারই বা কোন নীতিতে পরিচালিত হয়, মাঝেমধ্যে তা নির্ণয় করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, ভারতের সরকার রাজাপক্ষের পক্ষে থাকলেও ‘র’-এর কর্মকর্তারা তাঁর বিপক্ষেই কাজ করেছেন।
ডাকমন্ত্রী গুনাথিলেক এমন এক সময় এ মন্তব্য করলেন, যখন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাও শ্রীলঙ্কা সফর করছেন। গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী শ্রীলঙ্কার রাজনীতি নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে তিনি গত রোববার কলম্বো যান।
জানুয়ারিতে রাজাপক্ষে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ভারতের কোনো শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার এটাই প্রথম শ্রীলঙ্কা সফর।
প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নিরুপমা রাও গত বছর সরকারি সৈন্য ও তামিল গেরিলাদের মধ্যে শেষ দফা যুদ্ধে উদ্বাস্তু হয়ে পড়া জাতিগত তামিলদের পুনর্বাসনে শ্রীলঙ্কাকে আরও সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
নিরুপমা রাওয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে রাজাপক্ষের কার্যালয় সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে ভারত রাজি আছে।

নয় কোটি ৬০ লাখ নারীকে হারিয়েছে এশিয়া: জাতিসংঘ

স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বৈষম্য, উপেক্ষা বা সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্যের কারণে বর্তমানে এশিয়ায় যতসংখ্যক নারী থাকার কথা ছিল, তার চেয়ে নয় কোটি ৬০ লাখ নারী কম রয়েছে। এদের একটি বড় অংশেরই থাকার কথা ছিল চীন ও ভারতে। গতকাল সোমবার জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) একটি প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মেয়েশিশুর ভ্রূণ গর্ভপাত ঘটানোর কারণে এশিয়ায় বড় ধরনের লিঙ্গবৈষম্য দেখা দিয়েছে। এই অঞ্চলে ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেও সমস্যাটি প্রকট রূপ নিচ্ছে। প্রতিবেদনের প্রধান লেখক অনুরাধা রাজিভান বলেন, ‘ছেলেশিশু নেওয়ার ব্যাপারে প্রাচীন মানসিকতা এখন আধুনিক চিকিত্সা প্রযুক্তির সাহায্য পাচ্ছে। এখন দম্পতিরা আগে থেকেই জেনে যেতে পারছে, সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে এবং সে অনুযায়ী তারা মেয়েশিশু নেওয়া থেকে বিরত থাকছে।’
ইউএনডিপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এ প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে। ওই অঞ্চলে প্রতি এক শ কন্যাশিশুর বিপরীতে ১১৯টি ছেলেশিশু জন্ম নেয়। এই হার আন্তর্জাতিক গড় অনুপাতের চেয়ে অনেক বেশি। বিশ্বে গড়ে এক শ কন্যাশিশুর বিপরীতে জন্ম নেয় ১০৭টি ছেলেশিশু।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ‘কন্যাশিশুর ভ্রূণ গর্ভপাত, নবজাতকের মৃত্যু এবং অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও অপুষ্টির কারণে এশিয়ায় যত নারী থাকার কথা ছিল, তার চেয়ে নয় কোটি ৬০ লাখ নারী কম রয়েছে।’
ইউএনডিপির গবেষকেরা জানিয়েছেন, এশিয়ায় অর্থনৈতিক উন্নতি হলেও নারীরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। এখানকার নারীরা অনেক বেশি হারে সহিংসতার শিকার; পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও তারা অনেক পিছিয়ে।

৩০ দিন মেয়াদি বিলের নিলাম

বাংলাদেশ ব্যাংকে গতকাল সোমবার ৩০ দিন মেয়াদি বিলের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।
এতে ২৬০ কোটি টাকার চারটি দরপত্র পাওয়া যায়। এর মধ্য থেকে ২৫৫ কোটি টাকার তিনটি দরপত্র গৃহীত হয়। গৃহীত দরপত্রগুলোর গড়-ভারিত আয়ের হার ছিল শতকরা ২ দশমিক ৫৩ ভাগ।

ফুলবাড়ী-বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে শিগগিরই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য শুরুআসে।


ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জলপাইগুড়ি জেলার ফুলবাড়ী ও বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার বাংলাবান্ধা সীমান্ত পথে শিগগিরই উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য শুরু হবে।
পশ্চিমবঙ্গের পুরমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য গত শনিবার ফুলবাড়ী সীমান্তে ট্রাক পার্কিংয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে এ কথা বলেন।
অশোক ভট্টাচার্য বলেন, এক হাজার ৯০০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে নির্মাণ করা হচ্ছে এই ট্রাক পার্কিং এলাকা। এ ছাড়া সীমান্তের রাস্তাকে চার লেনের রাস্তায় রূপান্তর করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে গড়ে তোলা হবে একটি ফুড পার্কও। এ ছাড়া ১০ একর জায়গা নিয়ে তৈরি করা হবে ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন। এ জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে আট কোটি রুপি। মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী বছরই চালু হয়ে যাবে ফুলবাড়ী-বাংলাবান্ধা সীমান্ত পথ।
ফেডারেশন অব এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের সাধারণ সম্পাদক তপন দাস প্রথম আলোকে বলেন, এই সীমান্ত পথে বাণিজ্য শুরু হলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যিক লেনদেন হবে।
এদিকে একই দিনে ফুলবাড়ীতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের একটি প্রতিনিধিদলও সীমান্তের অবকাঠামো পরিদর্শনে আসে।

রাজনীতি-সংশ্লিষ্ট বিদেশিদের ব্যাংক হিসাব বিষয়ে সতর্ক হতে হবে

রাজনৈতিক-সংশ্লিষ্টতা আছে এমন বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এসব ব্যক্তির পরিবারের সদস্য ও নিকটজনের, যাঁদের সঙ্গে লেনদেন করলে ব্যাংকের সুনাম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, তাঁদের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।
গতকাল সোমবার জারি করা এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এ নির্দেশনা প্রদান করেছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন রোধে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০৯ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো পরিপালনে এসব নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
এতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিকভাবে পরিচিত বিদেশি ব্যক্তি (পলিটিক্যালি এক্সপোজড পারসনস) বলতে অন্য কোনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজে নিয়োজিত ছিলেন কিংবা রয়েছেন এমন লোকজনকে বোঝাবে। তাঁদের মধ্যে রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান, প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক অথবা বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বড় কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসব ব্যক্তির হিসাব খোলা ও পরিচালনা-সংক্রান্ত ঝুঁকি শনাক্তকরণের জন্য একটি ঝুঁকি-ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রবর্তন করতে হবে। তাঁদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনের আগেই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। তাঁদের হিসাবে লেনদেন করা অর্থ বা সম্পদের উত্স জানার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তাঁদের হিসাবের লেনদেন নিয়মিতভাবে তদারক করতে হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নির্দেশনায় অনিবাসীদের হিসাব খোলা ও পরিচালন-সংক্রান্ত যেসব বিধিবিধান রয়েছে, তাও এ ক্ষেত্রে যথারীতি পরিপালন করতে হবে। ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনের পর গ্রাহক রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিগণিত হলে অথবা হিসাবের প্রকৃত সুবিধাভোগী কেউ ওই পর্যায়ের ব্যক্তি হলে সেই হিসাবের ক্ষেত্রেও এসব নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।
অন্যদিকে কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যাতে কোনো ব্যাংক মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নবিষয়ক ঝুঁকির মুখোমুখি না হয়, সে জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা নিয়োগে যথাযথ বাছাই-প্রক্রিয়া অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবার ব্যাংকিং ব্যবস্থা যাতে মানি লন্ডারিংয়ের উদ্দেশ্যে ব্যবহূত হতে না পারে, সে জন্য বিদেশে অবস্থিত কোনো ব্যাংকের সঙ্গে করেসপনডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন ও অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রেও কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
করেসপনডেন্ট ব্যাংকিং বলতে এক ব্যাংক কর্তৃক অন্য ব্যাংককে ঋণ, আমানত, আদায়, পরিশোধ বা অনুরূপ অন্য কোনো সেবার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত সেবা প্রদানকে বোঝানো হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক যে দেশে নিবন্ধিত, সে দেশে তার কোনো শাখা বা কার্যক্রম না থাকলে (যা শেল ব্যাংক হিসেবে পরিচিত) ওই ব্যাংকের সঙ্গে কোনো ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না। এমনকি এ ধরনের ব্যাংকের সঙ্গে বিদেশের কোনো করেসপনডেন্ট ব্যাংকের ব্যাংকিং সম্পর্ক থাকলে তার সঙ্গেও করেসপনডেন্ট ব্যাংকিং করা যাবে না।
সার্কুলারের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রশ্নমালা সংযুক্ত করেছে। করেসপনডেন্ট ব্যাংকিং সেবা প্রদানের আগে প্রশ্নমালা অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশের রেসপনডেন্ট ব্যাংকের ব্যবসা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনার অনুমোদন নিতে হবে।
বিদেশের ব্যাংক যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কার্যকরভাবে তদারক করা হয়—এটা নিশ্চিত হয়েই কেবল কোনো বিদেশি ব্যাংকের সঙ্গে করেসপনডেন্ট সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে বা বজায় রাখা যাবে। যেসব দেশ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধের আন্তর্জাতিক মান পূরণ করেনি, তাদের সঙ্গে করেসপনডেন্ট সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক দাবা

গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ কাল কক্সবাজারে শুরু করলেন তাঁর ‘সিক্স সিজন’ দাবার প্রথম টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া ও রাশিয়ার পাঁচ জন পুরুষ ও পাঁচ জন মহিলাসহ মোট ১০ প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন এতে। প্রথম রাউন্ডে জিতেছেন রাশিয়ার মিনিনা ভেরোনিকা ও মাহফুজুর রহমান (ইমন)। ফিদে মাস্টার আবদুল মালেকের সঙ্গে ফিদে মাস্টার আবু সুফিয়ান (শাকিল), শামীমা আক্তারের (লিজা) সঙ্গে তনিমা পারভীন ও ভারতের কিরণ মনিষার সঙ্গে স্বদেশি ধ্যানি দাব ড্র করেছেন।

এবার পাক ক্রিকেটারদের সম্পত্তির হিসাব

পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে ওঠা ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না সে দেশের ক্রীড়াবিষয়ক সংসদীয় কমিটি। ‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’ জাতীয় সন্দেহ থেকে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সম্পদের হিসাব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংসদীয় কমিটির প্রধান জামশেদ আহমেদ দাস্তি পাকিস্তানের দ্য ডন পত্রিকাকে বলেছেন, ‘বিভিন্ন মহল থেকে ম্যাচ পাতানো নিয়ে যে কঠোর সমালোচনা হচ্ছে, আমরা তা নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। পিএমএল আইনজ্ঞ সৌদ মজিদকে প্রধান করে একটি সাবকমিটিকে এই ঘটনা তদন্ত করে দেখতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি সাবকমিটি খেলোয়াড়দের সম্পত্তি এবং কর প্রদানের হিসাবও নেবে।’ ওয়েবসাইট।
ওদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান ইজাজ বাট নাকি সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছেন, ম্যাচ পাতানোয় যাঁরা জড়িত ছিলেন তাঁদের কেউ পাকিস্তানের বর্তমান দলের সদস্য নয়।

দুইয়েই থাকছে ভারত

ওয়ানডের দুই নম্বর দল হিসেবে মৌসুম শেষ করার দৌড়ে ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে হেরে সে দৌড় থেকে ছিটকে পড়েছে ড্যানিয়েল ভেট্টোরির দল। অর্থাত্ ভারতই অস্ট্রেলিয়ার পর ওয়ানডের দ্বিতীয় সেরা দল হিসেবে মৌসুম শেষ করতে যাচ্ছে। ১ এপ্রিল র্যাঙ্কিংয়ের অবস্থানটাকে ধরেই এক নম্বর ও দুই নম্বর দলকে পুরস্কৃত করবে আইসিসি। ক্রিকেটের বিশ্ব সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে, ১ এপ্রিল ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে দুয়েই থাকছে ভারত। পুরস্কার হিসেবে পেতে যাচ্ছে ৭৫ হাজার ডলার। আর এক নম্বর অস্ট্রেলিয়া পাবে ১ লাখ ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার। টেস্ট ক্রিকেটে এক নম্বরে থাকায় পৌনে দুই লাখ ডলার পুরস্কারটা অবশ্য ভারতই পাচ্ছে। দুই নম্বরে থেকে ৭৫ হাজার ডলার পাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

হকির বিশেষ দলবদল শুরু

হকির বিশেষ দলবদলের প্রথম দিনে ৯ জন খেলোয়াড় দল বদল করেছেন। এর মধ্যে আবাহনী ছেড়ে মোহামেডানে নাম লিখিয়েছেন রাসেল মাহমুদ (জিমি), মামুনুর রহমান (চয়ন), রাজন ও হাসান। প্রথম দুজন আবাহনী থেকে গিয়েছেন। ঊষায় গেছেন পিন্টু, তাপস ও কৃষ্ণা। আবাহনীতে চন্দন। এঁরা সবাই এসএ গেমসের প্রস্তুতি নিতে ইউরোপ সফরের জাতীয় দলের সদস্য।
ওই দলের ১৯ খেলোয়াড়ের জন্য কাল শুরু হয়েছে বিশেষ দলবদল। এসএ গেমসে জাতীয় দলের অধিনায়ক মশিউর রহমান বিপ্লবসহ ৭ খেলোয়াড় কোনো দল পাননি বলে জানা গেছে। তবে আজই তাঁদের একটা ‘ব্যবস্থা’ হয়ে যাবে বলে আশাবাদী হকি ফেডারেশন।

নিউজিল্যান্ডের অন্য লড়াই

সিরিজে ১-১-এ সমতা। আজ তৃতীয় ম্যাচটি তাই অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড দুই দলের কাছেই এগিয়ে যাওয়ার লড়াই। হ্যামিল্টনের সেডন পার্কের ম্যাচটির গুরুত্ব তাই অনুমান করাই যায়। কিন্তু কতটা, সেটা নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরির কথাটা না শুনলে বোঝা যাবে না। ‘সম্ভবত এটাই এই সিরিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। যারা ২-১-এ এগিয়ে যাবে, সিরিজ জয়ের জন্য তাদের দরকার হবে আর মাত্র একটি জয়’—এই ম্যাচের গুরুত্বটা ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিলেন ভেট্টোরি।
অথচ এমন এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ভেট্টোরির দলকে লড়তে হচ্ছে ইনজুরির সঙ্গে। অবস্থা এমনই যে মাঠে এগারজন ক্রিকেটার নামানোই দায়! অনুশীলনে চোট পাওয়ায় প্রথম ওয়ানডে খেলা হয়নি ভেট্টোরির। দ্বিতীয় ম্যাচে ফিরলেও দলের বাইরে চলে যান প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেওয়া রস টেলর। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে আজও খেলা অনিশ্চিত তাঁর। একই চোট নিয়ে অনিশ্চিত জেমস ফ্র্যাঙ্কলিনও। আর সিরিজ শুরুর আগেই তো চোটআঘাত ছিটকে দিয়েছে জেসি রাইডার, গ্র্যান্ট ইলিয়ট, কাইল মিলস, ইয়ান বাটলারদের। অনেকটা বাধ্য হয়েই নির্বাচকেরা তাই তৃতীয় ওয়ানডের দলে রেখেছেন নতুন মুখ ক্যান্টারবুরির ব্যাটসম্যান শানান স্টুয়ার্টকে। তবে ইনজুরি-বিপর্যয়ের পরও আজ জয়ের আশা ভেট্টোরির, ‘এই ম্যাচে (জয়ের জন্য) সব চেষ্টাই করব আমরা।’
নিউজিল্যান্ডের জন্য সেডন পার্কও একটা প্রেরণা। এখানে ১৩টি ওয়ানডে খেলে ১০টিতেই জিতেছে তারা। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান—১৯৯৩ ও ২০০৭ সালে এই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ওয়ানডের দুটিতেই জয়ী দলের নাম নিউজিল্যান্ড।
ইনজুরি-টুরির সমস্যা নেই অস্ট্রেলীয় শিবিরে। তবে ব্যক্তিগত কারণে হঠাত্ করেই দেশে ফিরে যাচ্ছেন মাইকেল ক্লার্ক। গত সপ্তাহেই এক ম্যাগাজিনে নগ্ন ছবি ছাপা হয়েছিল ক্লার্কের বাগদত্তা লারা বিঙ্গলের। এ নিয়ে যখন বিতর্ক অস্ট্রেলিয়ায়, নিউজিল্যান্ডে দলকে রেখে দেশে ফিরে গেলেন ক্লার্ক। কত দিন থাকবেন, নিউজিল্যান্ডে আর ফিরবেন কি না সে সম্পর্কে কিছুই জানায়নি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
ক্লার্কের অনুপস্থিতিতে ব্যাটিংয়ের মিডল অর্ডারে অস্ট্রেলিয়ার ভরসা হতে পারেন ‘মিস্টার ক্রিকেট’ থেকে ‘মিস্টার কনসিসটেন্ট’ হয়ে যাওয়া মাইক হাসি। গত ১৯টি ম্যাচের সব কটিতেই দুই অঙ্কের রান করেছেন। এই সিরিজের দুই ম্যাচে ৫৯ ও ৫৬ রানের ইনিংসসহ নিয়ে মোট ফিফটি ৮টি। ব্যাটিং-গড় ৬৩.২১! আজও কি হাসবে হাসির ব্যাট?

ড্র করল ইন্টার মিলানও

সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেনি ইন্টার মিলান। এসি মিলান ও এএস রোমা নিজেদের আগের ম্যাচে ড্র করায় নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল ইন্টার। কিন্তু পরশু জেনোয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে সে সুযোগটা হারিয়ে ফেলল তারা। যদিও পয়েন্ট ব্যবধানে কোনো হেরফের হয়নি।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা এসি মিলানের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধানটা ইন্টারের সেই চারই আছে। ২৭ ম্যাচে ইন্টারের ৫৯, মিলানের ৫৫। ৫২ পয়েন্ট নিয়ে রোমা তৃতীয় স্থানে। তবে লিভর্নোকে ১-০ গোলে হারিয়ে জুভেন্টাসকে পেছনে ফেলেছে পালের্মো। ২৭ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে তারা। পঞ্চম স্থানে জুভেন্টাস (৪৪)।
মারিও বালোতেল্লি, জোরান পানদেভ ও ডিয়েগো মিলিতোর ত্রিফলা আক্রমণও জেনোয়ার শক্ত রক্ষণকে ভাঙতে পারেনি। এমনকি শেষ ১৫ মিনিটের আগে কখনো মনেই হয়নি ইন্টার জেনোয়ার পোস্টে বল পাঠাতে পারবে।
ইন্টার কোচ হোসে মরিনহো নিষেধাজ্ঞার কারণে ডাগআউটে থাকতে পারেননি। খেলা দেখতে হয়েছে তাঁকে গ্যালারিতে বসে। দল গোল পাচ্ছে না দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন ইন্টারের পর্তুগিজ কোচ। বসার জায়গা বদলাতে বদলাতে মাঠের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। ওখান থেকেই দিয়েছেন বিভিন্ন নির্দেশনা। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি।

রহমতগঞ্জের ৫ গোল মুক্তিযোদ্ধার জালে

আগের ৮ ম্যাচে তারা গোল করেছিল মাত্র ৩টি। কাল এক ম্যাচেই ৫ গোল করল রহমতগঞ্জ! প্রতিপক্ষ দলটার নাম মুক্তিযোদ্ধা।
শুকতারার সঙ্গে ড্র আর আরামবাগকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়া মুক্তিযোদ্ধাকে আবার ঘিরে ধরেছে দুঃসময়। আগের ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে ১-২ গোলে হারলেও কিছুটা লড়াই তারা করতে পেরেছিল। ঢাকা মোহামেডানের কাছে ০-৪ গোলে হারলেও আবাহনীর কাছে মুক্তিযোদ্ধা হেরেছিল মাত্র ০-১ গোলে। সেই দল রগমতগঞ্জের কাছে কাল ৫-১ গোলে উড়ে গেল!
১১ ও ২১ মিনিটে রাফায়েল দুই গোল করে জয়টা ম্যাচের প্রথমভাগেই নিশ্চিত করে ফেলেন। ২৩ মিনিটে টিপু ২-১ করেন। এরপর ৩১ মিনিটে ফেলিক্স, ৪০ মিনিটে মামুন ও ৮৭ মিনিটে পাশবনের গোল রহমতগঞ্জকে এবারের বাংলাদেশ লিগে এনে দিয়েছে দ্বিতীয় জয়। ৯ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৮। মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে অবনমন এড়ানো কঠিনই হয়ে উঠছে। এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তলানিতেই পড়ে আছে দলটি।
আজকের খেলা: ঢাকা মোহামেডান-বিয়ানীবাজার (সিলেট স্টেডিয়াম, শুরু বিকেল ৫টা), চট্টগ্রাম আবাহনী-আরামবাগ (চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডি., শুরু বেলা ৩-৩০ মি.)।

আর্সেনালের ‘প্রায়শ্চিত্তে’র রাত

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি পোর্তোতে আর্সেনালের রাতটা ছিল আসলে দুঃস্বপ্নের। রক্ষণ-ভুলের কারণে চ্যাম্পিয়নস লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম লেগে পোর্তোর কাছে ১-২ গোলে হেরে এসেছে আর্সেন ওয়েঙ্গারের দল। নিজেদের মাঠ এমিরেটসে আর্সেনালের আজ সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করার দিন। শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ের দ্বিতীয় পর্বে আজ এমিরেটসে মুখোমুখি হচ্ছে দু দল।
আর্সেনাল যতই প্রায়শ্চিত্তের কথা ভাবুক, লড়াইটা ইউরোপের বলে পোর্তোকে আপনি এগিয়ে না রেখে পারেন না। কারণ ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার শেষ আটে খেলার অভিজ্ঞতা পর্তুগালের এই ক্লাবটিরই বেশি। ইউরোপে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পোর্তো এ পর্যন্ত শেষ আটে খেলেছে ১৪ বার। আর্সেনাল ১২ বার। চ্যাম্পিয়নস লিগেও এদিক দিয়ে এগিয়ে পোর্তো। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটে ৬ বার খেলেছে পোর্তো। আর্সেনাল শেষ আটে খেলেছে ৫ বার।
চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনাল-পোর্তোর মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানটা অবশ্য ‘কেহ কারে নাহি ছাড়ে সমানে সমান’। এ পর্যন্ত পাঁচবার সাক্ষাতে দুবার জিতেছে আর্সেনাল, দুবার পোর্তো। ড্র হয়েছে বাকি ম্যাচটি। নকআউট পর্বে অবশ্য একবারই মুখোমুখি হয়েছে পোর্তো-আর্সেনাল। সর্বশেষ সেই ম্যাচে ২-১ গোলে জিতে আজকের লড়াইয়ে মানসিকভাবে এগিয়ে আছে পোর্তো।
আর্সেনাল দল অবশ্য এসব পরিসংখ্যান নিয়ে ভাবছে না। ‘গানার’রা অনুপ্রেরণা খুঁজছে অন্য দুটি দিক থেকে—আজকের ম্যাচটি হচ্ছে এমিরেটসে, যে মাঠে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার সর্বশেষ ৩২টি ম্যাচের মাত্র একটিতেই হেরেছে তারা। তাও আবার ইংল্যান্ডেরই ক্লাব ম্যানইউর কাছে। আর প্রথম লেগে পোর্তো থেকে হেরে এলেও নিয়ে এসেছে একটি অ্যাওয়ে গোল। আর্সেনালের ইংলিশ ডিফেন্ডার সল ক্যাম্পবেল অ্যাওয়ে গোলটিকেই দেখছেন বড় করে, ‘অ্যাওয়ে গোল করে আসাটা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা ০-১ গোলে হেরে আসতাম, তাহলে কাজটা কঠিন হতো। আর যে গোলটি আমরা পোর্তোতে পেয়েছি, সেটি দ্বিতীয় লেগে আমাদের জন্য বড় সুবিধা হয়ে আসবে।’
তবে একটি ব্যাপার নিয়ে ভাবতেই হচ্ছে আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারকে—ইনজুরি। ওয়েলস মিডফিল্ডার অ্যারন রামসে এবং ফরাসি ডিফেন্ডার উইলিয়াম গালাস চোটের কারণে আগে থেকেই মাঠের বাইরে। বার্নলির বিপক্ষে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সর্বশেষ ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়া সেস ফ্যাব্রিগাসেরও খেলা হচ্ছে না এ ম্যাচে। স্প্যানিশ প্লে-মেকারকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চান না আর্সোনাল কোচ ওয়েঙ্গার, ‘ওকে নিয়ে আমরা জুয়া খেলতে পারি না। ফ্যাব্রিগাসকে তাই এ ম্যাচে পাওয়া যাচ্ছে না।’
এসব জুয়া-টুয়ার কথা ভাবার দরকার পড়ছে না বায়ার্ন মিউনিখ কোচ লুই ফন গলের। তাঁর হিসেবটা খুব সোজা। বায়ার্নের নিজের মাঠে খেলা আজ। সঙ্গে বড় প্রেরণা তো প্রথম লেগে ফিওরেন্টিনা থেকে ২-১ গোলের জয় নিয়ে ফেরা। তবে এর পরও সতর্ক বায়ার্ন মিউনিখ কোচ। খেলোয়াড়দের সাবধান করে দিতে বলছেন—ম্যাচটি কিন্তু সহজ হবে না।
বায়ার্নের জন্য ম্যাচটি কঠিন করে তোলার প্রত্যয় ফিওরেন্টিনা খেলোয়াড়দেরও। ‘আমার মনে হচ্ছে এই ম্যাচটা বর্ষসেরাও হয়ে যেতে পারে’—বায়ার্নের বিপক্ষে কেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবে দল তা জানাতে গিয়ে বলেছেন ফিওরেন্টিনা কোচ সিজার প্রান্দেল্লি।

ঢাকায় আসছেন মরগান

২০১১ বিশ্বকাপের ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকতা হারুন লরগাতসহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অনেক রথী-মহারথী। এবার আসছেন খোদ আইসিসি সভাপতি ডেভিড মরগান। বিসিবি সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামালের আমন্ত্রণে আগামী ২২ মার্চ ঢাকা আসবেন তিনি।
তিন দিনের সফরে বোর্ড সভাপতি ছাড়াও মরগান সাক্ষাত্ করবেন বিসিবি পরিচালকদের সঙ্গে। ওই সময় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে চলবে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড দ্বিতীয় টেস্ট।

আজ মাশরাফির আইপিএল-যাত্রা

ভিসা পেয়ে গেছেন, আইপিএলে খেলতে আজ সকালেই ভারতে যাচ্ছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। মুম্বাইয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলের সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি। আইপিএলের তৃতীয় আসর শুরু হবে আগামী ১২ মার্চ থেকে।
আইপিএলে যাওয়ার আগে কালও জাতীয় দলের সঙ্গে মিরপুর ইনডোরে অনুশীলন করেছেন মাশরাফি। যাওয়ার আগে কোচ জেমি সিডন্সের কাছ থেকে নিয়ে গেছেন শুভকামনা। দীর্ঘ ইনজুরি থেকে ফেরা মাশরাফির কাছে এবারের আইপিএল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পরীক্ষা, ‘আইপিএলে যদি ভালো খেলতে পারি, ফিটনেসটা পুরো ফিরে পেতে পারি, আশা করি দ্রুতই আবার জাতীয় দলে ফিরতে পারব। কলকাতা নাইট রাইডার্সের কোচ ডেভ হোয়াটমোর, ওয়াসিম আকরামও থাকবেন। তাঁদের পরামর্শও আমার কাজে লাগবে।’
আগামী ১২ মার্চ থেকে দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ দল। আর তাতে মাশরাফি নেই। টেস্ট থেকে আপাতত দূরে থাকার সিদ্ধান্তটা নিজেই নিলেও এই সিরিজে বাংলাদেশের ভালো সম্ভাবনা দেখছেন তিনি, ‘দল এখনো ঘোষণা হয়নি। তবে আমার ধারণা স্পিন-নির্ভর দলই হবে এবং সেটা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কার্যকরও হবে আশা করি। তা ছাড়া আমাদের ব্যাটিংটাও এখন ভালো হচ্ছে।’
বোলিংয়ে যেমন মাশরাফি, একটা সময়ে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ দল বলতেই বোঝাত মোহাম্মদ আশরাফুলকে। মাশরাফির মতো সেই আশরাফুলেরও এখন খারাপ সময়, দলে ছিলেন না ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে। আইপিএলে যাওয়ার আগে আশরাফুলের মঙ্গল কামনা করে গেলেন মাশরাফি, ‘আশরাফুল টেস্ট দলে থাকবে কি না এখনো জানি না। আমি মনে করি তার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের প্রয়োজন আছে দলে। আশরাফুলের ফর্ম ফিরিয়ে আনতে সম্ভব যা কিছু করা দরকার আশা করি বোর্ড সেটা করবে।

বেল পড়ল কীভাবে

রাজশাহীর ফিল্ডারদের দাবি ইলিয়াস সানি বোল্ড। আম্পায়ার বলছেন, অফ স্পিনার ফরহাদ হোসেনের বল টার্ন করে এতটাই বেরিয়ে যাচ্ছিল যে বল স্টাম্পে লাগারই কথা নয়। এত দ্রুত সব ঘটে গেছে যে বল স্টাম্পে লেগেছে কি না সেটা বুঝতেই পারেননি লেগ আম্পায়ার। তবে উইকেটকিপার স্টাম্পিং করেননি, সেটা তিনি নিশ্চিত। তাহলে প্রশ্ন, বেল ফেলল কে?
কৌতূহলোদ্দীপক এই ঘটনা ঘটেছে কাল জাতীয় লিগের রাজশাহী-চট্টগ্রাম ফাইনালের দ্বিতীয় দিনে। দিনের শেষ ওভারটি করছিলেন রাজশাহীর অফ স্পিনার ফরহাদ হোসেন, ব্যাট করছিলেন চট্টগ্রামের বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ইলিয়াস সানি। ওভারের তৃতীয় বলে রাজশাহীর জোরালো আবেদন। আবেদন কট বিহাইন্ড বা স্টাম্পিংয়ের নয়, বোল্ডের! কিন্তু আম্পায়ার এনামুল হক বলছেন, ‘ব্যাটসম্যান অনেক সামনে ছিল বলে বল স্টাম্পে লেগেছে কি না দেখতে পাইনি। তবে বলটা যে রকম টার্ন করেছে, স্টাম্পে লাগার কথা না।’ দ্বিধা দূর করতে তিনি সাহায্য চাইলেন লেগ আম্পায়ার নাদির শাহর। কিন্তু ঘটনা অতি দ্রুত ঘটে যাওয়ায় বলটা স্টাম্পে লেগেছে কি না সেটা নাকি বুঝতে পারেননি তিনিও।
অগত্যা উপায় একটাই, ম্যাচ রেফারির সাহায্য চাওয়া। থার্ড আম্পায়ারের ব্যবস্থা না থাকলেও ম্যাচটা টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে বলে রকিবুল হাসান নিশ্চয়ই ঘটনাটা টেলিভিশনে দেখেছেন। তিনিও অসহায়, ওই সময় নাকি টিভিতে খেলাই দেখা যাচ্ছিল না! উইকেট আর বেলের ময়নাতদন্তও নিশ্চিত কিছু বলছিল না। ব্যাটসম্যান ইলিয়াস সানি তাই পেয়ে গেলেন বেনিফিট অব ডাউট। ‘বেল কীভাবে পড়ল, সেটা নিশ্চিত না হয়ে তো আমরা আউটের সিদ্ধান্ত দিতে পারি না’—বলেছেন আম্পায়ার এনামুল। বেল পড়ল কীভাবে, সেটা তাই রহস্য হয়েই থাকল।

দু দলই জয়ের আশায়

ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষে দুই অধিনায়কই মোটামুটি নিশ্চিত, জাতীয় লিগের পাঁচ দিনের ফাইনাল ফলাফল দেখবে। দুই অধিনায়কই সমীকরণ মেলাচ্ছেন ফলাফলটা নিজেদের দিকে আনার এবং সেই সমীকরণে প্রথম শর্তটাও দুই অধিনায়কের কাছে একই—লিড নিতে হবে প্রথম ইনিংসে।
১০৬ রানে এগিয়ে থেকে কাল পর্যন্ত সেই লিড রাজশাহীর। প্রথম ইনিংসে তাদের ৩৭২ রানের পর দ্বিতীয় দিন শেষে চট্টগ্রামের রান ৬ উইকেটে ২৬৬। চট্টগ্রাম অধিনায়ক নাজিমউদ্দিন তার পরও লিড নেওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, ‘কাল (আজ) যদি আমরা লাঞ্চ পর্যন্তও খেলতে পারি, আমার বিশ্বাস রাজশাহীর রান আমরা টপকে যাব। দলে ১১ জনই ব্যাটিং করতে পারে। এমনকি ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান কামরুলও গত প্রিমিয়ার লিগে তিনটা ৪০ রানের ওপরে ইনিংস খেলেছে।’ কিন্তু রাজশাহী অধিনায়ক খালেদ মাসুদ উল্টোভাবেই মেলাচ্ছেন সমীকরণ, ‘চট্টগ্রাম দলটা মূলত ওয়ানম্যান শো। ডিকেন্স (ফয়সাল হোসেন) ছাড়া দলে আর কোনো ব্যাটসম্যান নেই, আর ও তো আউটই।’
ফাইনালে জিতলে তো শিরোপা নিশ্চিতই। তবে এই ম্যাচ ড্র হলে চ্যাম্পিয়ন হবে আগের দুই রাউন্ডে এগিয়ে থাকা দল রাজশাহী। বিস্ময়কর হলো, এই নিয়মটা নাকি কাল এই প্রতিবেদকের কাছেই প্রথম জানলেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক নাজিমউদ্দিন! ‘খেলার আগে তো ম্যাচ রেফারি আমাদের বলেছেন ড্র হলে আগের মতো প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকা দলই চ্যাম্পিয়ন হবে। এখন সেটা না হলে তো আমাদের জেতার জন্যই খেলতে হবে।’ উল্টো দিকে রাজশাহী অধিনায়ক আগে থেকেই নিয়মটা জানেন বলে লক্ষ্যও স্থির করে রেখেছেন আগেই, ‘উইকেট একেবারেই ফ্ল্যাট। ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করাই কঠিন। তার পরও চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং করা সহজ হবে না চট্টগ্রামের পক্ষে। দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা তাই অল্প কিছু রান লিড নিয়েই ইনিংস ঘোষণা করব। ফাইনালে ড্র করলেই শিরোপা আমাদের, তার পরও আমরা চাই জিতে চ্যাম্পিয়ন হতে।’
শিরোপা শেষ পর্যন্ত কাদের হাতে উঠবে, আজই হয়তো অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যাবে তা। উইকেটে থাকা দুই ব্যাটসম্যান মোমিনুল হক আর ইলিয়াস সানির দিকে তাকিয়ে দিনের খেলা শুরু করবে চট্টগ্রাম। ২০১ রানে ষষ্ঠ উইকেট পড়ার পর কাল দিনশেষে ৬৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি তাদের। মোমিনুল ৭২ ও ইলিয়াস ২৯ রানে অপরাজিত। তবে ১১১ রানে পঞ্চম উইকেট পড়ার পর সম্ভাব্য বিপর্যয়টা সামলেছেন অধিনায়ক নাজিমউদ্দিন। ষষ্ঠ উইকেটে মোমিনুলের সঙ্গে ৯০ রানের জুটি গড়ার পর আউট হয়েছেন তিনি ৮০ রান করে।